(খণ্ড: ১) আল-মারাদ ওয়াল কাফফারাত লিবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: -)
المرض والكفارات لابن أبي الدنيا   (ابن أبي الدنيا)

القسم: كتب السنة


الكتاب: المرض والكفارات

المؤلف: أبو بكر عبد الله بن محمد بن عبيد بن سفيان بن قيس البغدادي الأموي القرشي المعروف بابن أبي الدنيا (ت 281هـ)

المحقق: عبد الوكيل الندوي

الناشر: الدار السلفية - بومباي

الطبعة: الأولى، 1411 - 1991

عدد الصفحات: 201

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইবনে আবি আদ-দুনিয়া রচিত রোগ ও কাফফারা   (ইবনে আবি আদ-দুনিয়া)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: রোগ ও কাফফারা

লেখক: আবু বকর আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন উবাইদ বিন সুফিয়ান বিন কায়েস আল-বাগদাদি আল-উমাবি আল-কুরাশি, যিনি ইবনে আবি আদ-দুনিয়া নামে পরিচিত (মৃত্যু ২৮১ হিজরি)

সম্পাদক: আব্দুল ওয়াকিল আন-নাদবি

প্রকাশক: আদ-দার আস-সালাফিয়্যাহ - বোম্বে

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১১ - ১৯৯১

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২০১

[কিতাবের নম্বরবিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-মারাদ ওয়াল কাফফারাত লিবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ١٤)
أَخْبَرَنَا الْقَاضِي الْإِمَامُ الْعَالِمُ جَمَالُ الدِّينِ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ وَذَلِكَ. قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْإِمَامُ أَبُو سَعْدٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْخَلِيلِ الْأَبْيُورِدِيُّ، ثُمَّ الطُّوسِيُّ الْفَقِيهُ ، قَالَ: أَخْبَرَنَا خَالِي الشَّيْخُ أَبُو الْفَضْلِ مُحَمَّدُ بْنث أَحْمَدَ بْنِ أَبِي الْحُسَيْنِ الْعَارِفُ الْمُهَلَّبِيُّ ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الثِّقَةُ أَبُو سَعِيدٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُوسَى بْنِ الْفَضْلِ بْنِ شَاذَانَ الصَّيْرَفِيُّ ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْأَصْبَهَانِيُّ الصَّفَّارُ، بِنَيْسَابُورَ سَنَةَ سَبْعٍ وَسَبْعِينَ وَثَلَاثِمِائَةٍ ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدٍ الْقُرَشِيُّ الْمَعْرُوفُ بِابْنِ أَبِي الدُّنْيَا،

 

1 - حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ خِدَاشِ بْنِ عَجْلَانَ الْمُهَلَّبِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ ⦗ص: 15⦘ وَهْبٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ مَحْمُومٌ فَوَضَعْتُ يَدِي فَوْقَ الْقَطِيفَةِ فَوَجَدْتُ حَرَارَةَ الْحُمَّى فَقُلْتُ: مَا أَشَدَّ حُمَّاكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ: «إِنَّا كَذَلِكَ مَعْشَرَ الْأَنْبِيَاءِ يُضَاعَفُ عَلَيْنَا الْوَجَعُ لِيُضَاعَفَ لَنَا الْأَجْرُ» قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ‌‌ فَأَيُّ النَّاسِ أَشَدُّ بَلَاءً قَالَ: «الْأَنْبِيَاءُ» قُلْتُ: ثُمَّ مَنْ؟ قَالَ: «ثُمَّ الصَّالِحُونَ إِنْ كَانَ لَيُبْتَلَى بِالْفَقْرِ حَتَّى مَا يَجِدُ إِلَّا الْعَبَاءَةَ فَيَجُوبُهَا وَيَلْبَسُهَا، وَإِنْ كَانَ أَحَدُهُمْ لَيُبْتَلَى بِالْقُمَّلِ حَتَّى يَقْتُلَهُ الْقُمَّلُ وَكَانَ ذَلِكَ أَحَبَّ إِلَيْهِمْ مِنَ الْعَطَاءِ»
বিচারক ইমাম আলিম জামালুদ্দিন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন তাঁর নিকট পাঠ করা অবস্থায় এবং আমি তা শ্রবণ করছিলাম। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ ইমাম আবু সাদ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-খলীল আল-আবিওয়ার্দি, অতঃপর আত-তুসি আল-ফকিহ। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার মামা শায়খ আবুল ফজল মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আবিল হুসাইন আল-আরিফ আল-মুহাল্লাবি। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন নির্ভরযোগ্য শায়খ আবু সাঈদ মুহাম্মদ বিন মুসা বিন আল-ফজল বিন শাযান আস-সাইরাফি। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আসফাহানি আস-সাফফার, নিশাপুরে তিনশত সাতাত্তর হিজরি সনে। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন উবাইদ আল-কুরাশি, যিনি ইবনু আবিদ দুনিয়া নামে পরিচিত।

 

১ - আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন খালিদ বিন খিদাশ বিন আজলান আল-মুহাল্লাবি, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন ⦗পৃষ্ঠা: ১৫⦘ ওয়াহাব, হিশাম বিন সাদ থেকে, তিনি যায়েদ বিন আসলাম থেকে, তিনি আতা বিন ইয়াসার থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট প্রবেশ করলাম যখন তিনি জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন। আমি চাদরের ওপর দিয়ে আমার হাত রাখলাম এবং জ্বরের তীব্র তাপ অনুভব করলাম। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনার জ্বর কতই না তীব্র! তিনি বললেন: «আমাদের অর্থাৎ নবীগণের অবস্থা এমনই হয়ে থাকে; আমাদের ওপর কষ্ট দ্বিগুণ করা হয় যাতে আমাদের পুরস্কারও দ্বিগুণ করা হয়।» আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! মানুষের মধ্যে কার পরীক্ষা সবচেয়ে কঠিন? তিনি বললেন: «নবীগণের।» আমি বললাম: তারপর কার? তিনি বললেন: «তারপর নেককার বান্দাদের। তাদের কাউকে দারিদ্র্য দ্বারা এমনভাবে পরীক্ষা করা হতো যে, সে একটি জীর্ণ কম্বল ছাড়া আর কিছুই পেত না, যা সে ছিদ্র করে পরিধান করত। এবং তাদের কাউকে উকুন দ্বারা এমনভাবে পরীক্ষা করা হতো যে, শেষ পর্যন্ত উকুনই তাকে মেরে ফেলত। আর এই পরীক্ষা বা বিপদ তাদের নিকট দান-উপহারের চেয়েও বেশি প্রিয় ছিল।»
(খণ্ড: ১) আল-মারাদ ওয়াল কাফফারাত লিবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ١٦)
2 - حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ سُوَيْدٍ، قَالَ: قَالَ عَبْدُ اللَّهِ: دَخَلْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يُوعَكُ فَمَسِسْتُهُ بِيَدِي فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّكَ لَتُوعَكُ وَعْكًا شَدِيدًا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنِّي أُوعَكُ كَمَا يُوعَكُ رَجُلَانِ مِنْكُمْ» قَالَ: قُلْتُ ذَلِكَ أَنَّ لَكَ أَجْرَيْنِ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَجَلْ» ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَا مِنْ مُسْلِمٍ يُصِيبُهُ أَذًى مِنْ مَرَضٍ فَمَا سِوَاهُ إِلَّا حَطَّ اللَّهُ بِهِ سَيِّئَاتِهِ كَمَا تَحُطُّ الشَّجَرَةُ وَرَقَهَا»
২ - আমাদের নিকট আবু খাইসামা বর্ণনা করেছেন, তিনি জারির থেকে, তিনি আমাশ থেকে, তিনি ইবরাহিম আত-তৈমি থেকে, তিনি হারিস ইবনে সুওয়াইদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ বলেছেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট প্রবেশ করলাম যখন তিনি জ্বরে ভুগছিলেন। তখন আমি আমার হাত দিয়ে তাঁকে স্পর্শ করলাম এবং বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তো অত্যন্ত তীব্র জ্বরে আক্রান্ত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «আমি তোমাদের দুইজন ব্যক্তির সমপরিমাণ জ্বরে আক্রান্ত হই» তিনি বলেন, আমি বললাম: এটি কি একারণে যে আপনার জন্য দ্বিগুণ প্রতিদান রয়েছে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «হ্যাঁ» এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «কোনো মুসলিম যখন রোগ বা অন্য কোনো কষ্টের শিকার হয়, আল্লাহ তার মাধ্যমে তার পাপসমূহ ঝরিয়ে দেন, যেমন বৃক্ষ তার পাতা ঝরিয়ে দেয়»
(খণ্ড: ১) আল-মারাদ ওয়াল কাফফারাত লিবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ١٧)
3 - حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْجُشَمِيُّ، وَغَيْرُهُ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ بَهْدَلَةَ، عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ‌‌ أَيُّ النَّاسِ أَشَدُّ بَلَاءً؟ قَالَ: «الْأَنْبِيَاءُ ثُمَّ الْأَمْثَلُ فَالْأَمْثَلُ يُبْتَلَى الرَّجُلُ عَلَى حَسَبِ دِينِهِ فَإِنْ كَانَ دِينُهُ صُلْبًا اشْتَدَّ بَلَاؤُهُ، وَإِنْ كَانَ فِي دِينِهِ رِقَّةٌ ابْتُلِيَ عَلَى حَسَبِ ذَلِكَ، فَمَا يَبْرَحُ الْبَلَاءُ بِالْعَبْدِ حَتَّى يَتْرُكَهُ يَمْشِي عَلَى الْأَرْضِ مَا عَلَيْهِ خَطِيئَةٌ»
3 - আমাদের নিকট উবায়দুল্লাহ ইবন উমর আল-জুশামি এবং অন্যরা বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট হাম্মাদ ইবন যায়িদ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আসিম ইবন বাহদালা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসআব ইবন সাদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আরজ করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! মানুষের মধ্যে কার পরীক্ষা সবচেয়ে কঠিন? তিনি বললেন: «নবীদের, অতঃপর তাঁদের পরবর্তী শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের, এরপর তাঁদের পরবর্তী শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের। ব্যক্তিকে তার দ্বীনদারির স্তর অনুযায়ী পরীক্ষা করা হয়। সুতরাং যদি তার দ্বীনদারি দৃঢ় হয়, তবে তার পরীক্ষাও কঠিন হয়। আর যদি তার দ্বীনদারিতে শিথিলতা থাকে, তবে তাকে সেই পরিমাণ পরীক্ষা করা হয়। এভাবে বান্দার ওপর পরীক্ষা চলতেই থাকে, যতক্ষণ না তা তাকে এমন অবস্থায় ছেড়ে দেয় যে, সে জমিনে বিচরণ করে অথচ তার কোনো গুনাহ থাকে না।»
(খণ্ড: ১) আল-মারাদ ওয়াল কাফফারাত লিবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ١٨)
4 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، وَمُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ لَيْثٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: سُئِلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مَنْ‌‌ أَشَدُّ النَّاسِ بَلَاءً؟ قَالَ: «النَّبِيُّونَ ثُمَّ الصَّالِحُونَ»
৪ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক বিন ইসমাঈল, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জারীর এবং মুহাম্মাদ বিন ফুযাইল, তাঁরা লাইস থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, মানুষের মধ্যে কার পরীক্ষা সবচেয়ে কঠিন? তিনি বললেন: «নবীগণের, অতঃপর নেককার বান্দাদের»
(খণ্ড: ১) আল-মারাদ ওয়াল কাফফারাত লিবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ١٩)
5 - حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْجُشَمِيُّ، وَغَيْرُهُ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سُلَيْمٍ الطَّائِفِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ كَثِيرٍ، عَنْ زِيَادِ بْنِ أَبِي زِيَادٍ، مَوْلَى ابْنِ عَيَّاشٍ، عَنْ بَعْضِ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: دَخَلْنَا عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ مَوْعُوكٌ فَقُلْنَا: أَخْ أَخْ بِآبَائِنَا وَأُمَّهَاتِنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا أَشَدَّ وَعْكَكَ فَقَالَ: «إِنَّا مَعْشَرَ الْأَنْبِيَاءِ يُضَاعَفُ عَلَيْنَا الْبَلَاءُ تَضْعِيفًا» ، قَالَ: قُلْنَا سُبْحَانَ اللَّهِ، قَالَ: «أَفَعَجِبْتُمْ إِنَّ‌‌ أَشَدَّ النَّاسِ بَلَاءً الْأَنْبِيَاءُ وَالصَّالِحُونَ الْأَمْثَلُ فَالْأَمْثَلُ» ، قُلْنَا: سُبْحَانَ اللَّهِ، قَالَ: «أَفَعَجِبْتُمْ أَنْ كَانَ النَّبِيُّ مِنَ الْأَنْبِيَاءِ لَيَدْرَعُ الْعَبَاءَةَ مِنَ الْحَاجَةِ لَا يَجِدُ غَيْرَهَا» قُلْنَا: سُبْحَانَ اللَّهِ، قَالَ: «أَفَعَجِبْتُمْ إِنْ كَانَ النَّبِيُّ مِنَ الْأَنْبِيَاءِ لَيَقْتُلُهُ الْقُمَّلُ» ، قُلْنَا: سُبْحَانَ اللَّهِ، قَالَ: «أَفَعَجِبْتُمْ إِنْ كَانُوا لَيَفْرَحُونَ بِالْبَلَاءِ كَمَا تَفْرَحُونَ بِالرَّخَاءِ»
৫ - উবায়দুল্লাহ ইবনে উমর আল-জুশামি এবং অন্যান্যরা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে সুলাইম আত-তায়েফি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইসমাঈল ইবনে কাসির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জিয়াদ ইবনে আবি জিয়াদ থেকে, যিনি ইবনে আইয়াশের মুক্তদাস ছিলেন, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জনৈক সাহাবী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট প্রবেশ করলাম যখন তিনি প্রচণ্ড জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন। আমরা বললাম: আক্ষেপ! আক্ষেপ! হে আল্লাহর রাসূল, আমাদের পিতা ও মাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক! আপনার জ্বর কতই না তীব্র! তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আমাদের নবীগণের দলভুক্তদের ওপর বিপদ-আপদ বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়।" তিনি (সাহাবী) বলেন: আমরা বললাম: সুবহানাল্লাহ! তিনি বললেন: "তোমরা কি বিস্মিত হচ্ছো? নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হন নবীগণ, অতঃপর নেককার ব্যক্তিবর্গ, এরপর যারা তাদের পরের স্তরের এবং যারা তাদের পরের স্তরের।" আমরা বললাম: সুবহানাল্লাহ! তিনি বললেন: "তোমরা কি বিস্মিত হচ্ছো? এমনও হয়েছে যে, নবীগণের মধ্য হতে কোনো নবী অভাবের তাড়নায় কেবল একটি কম্বল পরিধান করতেন, তা ছাড়া অন্য কিছু তিনি পেতেন না।" আমরা বললাম: সুবহানাল্লাহ! তিনি বললেন: "তোমরা কি বিস্মিত হচ্ছো? নবীগণের মধ্য হতে কোনো নবীকে উকুনে মেরে ফেলেছিল।" আমরা বললাম: সুবহানাল্লাহ! তিনি বললেন: "তোমরা কি বিস্মিত হচ্ছো? তাঁরা বিপদে এমনভাবে আনন্দিত হতেন যেমনটি তোমরা সচ্ছলতায় আনন্দিত হও।"
(খণ্ড: ১) আল-মারাদ ওয়াল কাফফারাত লিবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٢٠)
6 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ حُصَيْنِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، سَمِعْتُ أَبَا عُبَيْدَةَ بْنَ حُذَيْفَةَ، يُحَدِّثُ عَنْ عَمَّتِهِ، قَالَتْ: أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فِي نِسْوَةٍ نَعُودُهُ فَإِذَا سِقَاءٌ مُعَلَّقَةٌ يَقْطُرُ مَاؤُهَا عَلَيْهِ مِنْ شِدَّةِ مَا يَجِدُ مِنَ الْحُمَّى فَقُلْنَا: لَوْ دَعَوْتَ اللَّهَ أَنْ يَرْفَعَهَا عَنْكَ، قَالَتْ: فَقَالَ: «إِنَّ‌‌ أَشَدَّ النَّاسِ بَلَاءً الْأَنْبِيَاءُ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ»
৬ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবনে ইবরাহিম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাজ্জাজ ইবনে মুহাম্মদ, শু'বাহ হতে, তিনি হুসাইন ইবনে আবদুর রহমান হতে, আমি আবু উবাইদাহ ইবনে হুযাইফাকে তাঁর ফুফুর নিকট থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি কয়েকজন মহিলার সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে দেখতে (অসুস্থাবস্থায় সেবা করতে) গেলাম; তখন জ্বরের তীব্রতার কারণে তাঁর ওপর একটি ঝুলন্ত মশক হতে পানি ফোঁটায় ফোঁটায় পড়ছিল। আমরা বললাম: আপনি যদি আল্লাহর নিকট দুআ করতেন যেন তিনি আপনার থেকে এটি দূর করে দেন! তিনি বললেন: “নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন বিপদের সম্মুখীন হন নবীগণ, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী স্তরের, তারপর যারা তাদের পরবর্তী স্তরের।”
(খণ্ড: ১) আল-মারাদ ওয়াল কাফফারাত লিবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٢١)
7 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، قَالَ: قَالَتْ عَائِشَةُ: ‌‌«مَا رَأَيْتُ أَشَدَّ وَجَعًا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم»
৭ - ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, জারীর আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আমাশ থেকে, তিনি আবু ওয়ায়েল থেকে, তিনি মাসরুক থেকে, তিনি বলেন: আয়েশা (রা.) বলেছেন: «আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চেয়ে অধিক তীব্র ব্যথা আর কারো দেখিনি»
(খণ্ড: ১) আল-মারাদ ওয়াল কাফফারাত লিবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٢٢)
8 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ جَمِيلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَ: فَقَالَتْ: ‌‌«مَا رَأَيْتُ الْوَجَعَ عَلَى أَحَدٍ أَشَدَّ مِنْهُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم»
৮ - আমাদের নিকট আহমাদ ইবনে জামিল বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট শু’বাহ বর্ণনা করেছেন, আমাশ থেকে, তিনি আবু ওয়াইল থেকে, তিনি মাসরুক থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি (মাসরুক) বলেন, অতঃপর তিনি (আয়েশা) বলেছেন: “আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চেয়ে অধিক তীব্র রোগযন্ত্রণা আর কারো মধ্যে দেখিনি।”
(খণ্ড: ১) আল-মারাদ ওয়াল কাফফারাত লিবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٢٢)
9 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ، حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُشَدَّدُ عَلَيْهِ إِذَا مَرِضَ حَتَّى أَنَّهُ لَرُبَّمَا مَكَثَ خَمْسَ عَشْرَةَ لَا يَنَامُ، وَكَانَ يَأْخُذُهُ عِرْقُ الْكُلْيَةِ وَهُوَ الْخَاصِرَةُ، فَقُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ لَوْ دَعَوْتَ اللَّهَ فَيَكْشِفُ عَنْكَ؟، قَالَ: «إِنَّا مَعْشَرَ الْأَنْبِيَاءِ‌‌ يُشَدَّدُ عَلَيْنَا الْوَجَعُ لِيُكَفَّرَ عَنَّا»
৯ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবরাহিম, তিনি বলেন, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে লাহিয়া, তিনি বলেন, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান, উরওয়াহ থেকে বর্ণিত, তিনি আয়েশা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন অসুস্থ হতেন তখন তাঁর ওপর অত্যন্ত কঠোরতা নেমে আসত, এমনকি কখনও কখনও তিনি পনের দিন পর্যন্ত না ঘুমিয়ে অতিবাহিত করতেন। তিনি বৃক্কের ব্যথায় আক্রান্ত হতেন, যা পার্শ্বদেশের ব্যথা। আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যদি আল্লাহর নিকট দুআ করতেন তবে তিনি আপনার থেকে এটি দূর করে দিতেন? তিনি বললেন: «আমরা নবী সমাজ, ‌আমাদের ওপর যন্ত্রণার তীব্রতা বাড়িয়ে দেওয়া হয় যাতে তা আমাদের জন্য (ত্রুটি-বিচ্যুতির) কাফফারা হয়।»
(খণ্ড: ১) আল-মারাদ ওয়াল কাফফারাত লিবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٢٣)
10 - حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْجُشَمِيُّ، وَأَبُو خَيْثَمَةَ وَغَيْرُهُمَا، قَالُوا: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ كَعْبِ بنِ عُجْرَةَ، عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ كَعْبٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ هَذِهِ الْأَمْرَاضَ الَّتِي تُصِيبُنَا مَاذَا لَنَا بِهَا؟ قَالَ: «كَفَّارَاتٌ» قَالَ أُبَيُّ بْنُ كَعْبٍ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَإِنْ قَلَّتْ؟ قَالَ: ‌‌«شَوْكَةٌ فَمَا فَوْقَهَا» . قَالَ: فَدَعَا أُبَيٌّ عَلَى نَفْسِهِ أَلَّا يُفَارِقُهُ الْوَعْكُ حَتَّى يَمُوتَ فِي أَلَّا يَشْغَلُهُ عَنْ حَجٍّ وَلَا عُمْرَةٍ وَلَا جِهَادٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلَا صَلَاةٍ مَكْتُوبَةٍ فِي جَمَاعَةٍ، قَالَ: فَمَا بَاشَرَ رَجُلٌ جِلْدَهُ بَعْدَهَا إِلَّا وَجَدَ حَرَّهَا حَتَّى مَاتَ
১০ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর আল-জুশামি, আবু খাইসামাহ এবং আরও অনেকে। তাঁরা বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ, সাদ ইবনে ইসহাক ইবনে কাব ইবনে উজরাহ থেকে, তিনি যয়নাব বিনতে কাব থেকে, আর তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের যেসব রোগ-ব্যাধি হয় সে সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? এতে আমাদের জন্য কী প্রতিদান রয়েছে? তিনি বললেন: “তা হলো কাফফারা (পাপমোচনকারী)।” উবাই ইবনে কাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! যদিও তা সামান্য হয়? তিনি বললেন: ‌‌“একটি কাঁটা কিংবা তার চেয়ে বেশি কিছু হলেও।” তিনি বলেন: অতঃপর উবাই নিজের জন্য এই দুআ করলেন যেন মৃত্যু পর্যন্ত জ্বর তাঁকে ছেড়ে না যায়, তবে তা যেন তাঁকে হজ্জ এবং ওমরাহ, আল্লাহর পথে জিহাদ এবং জামাতের সাথে ফরজ সালাত হতে বিমুখ না করে। তিনি বলেন: এরপর থেকে কোনো ব্যক্তি তাঁর শরীর স্পর্শ করলেই সেই জ্বরের উত্তাপ অনুভব করত, আর এভাবেই তাঁর মৃত্যু হয়।
(খণ্ড: ১) আল-মারাদ ওয়াল কাফফারাত লিবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٢٤)
11 - حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْجُشَمِيُّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنِي حَجَّاجٌ الصَّوَّافُ، حَدَّثَنَا أَبُو الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ عَلَى أُمِّ السَّائِبِ أَوْ أُمِّ الْمُسَيِّبِ - أَبُو الزُّبَيْرِ شَكَّ - وَهِيَ تُزَفْزِفُ فَقَالَ: «مَا لَكِ تُزَفْزِفِينَ» ، قَالَتِ: الْحُمَّى لَا بَارَكَ اللَّهُ فِيهَا، قَالَ: ‌‌«لَا تَسُبِّي الْحُمَّى فَإِنَّهَا تُذْهِبُ خَطَايَا بَنِي آدَمَ كَمَا يُذْهِبُ الْكِيرُ خَبَثَ الْحَدِيدِ»
১১ - উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর আল-জুশামি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াযিদ ইবনে যুরাই‘ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাজ্জাজ আস-সাওয়াফ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু যুবাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উম্মুস সায়িব অথবা উম্মুল মুসাইয়িবের নিকট প্রবেশ করলেন—আবু যুবাইর সন্দেহ করেছেন—সে সময় তিনি কাঁপছিলেন। তখন তিনি বললেন: «তোমার কী হয়েছে যে তুমি কাঁপছ?», তিনি বললেন: জ্বর, আল্লাহ এতে বরকত না দিন। তিনি বললেন: «জ্বরকে গালি দিও না, কেননা তা বনী আদমের পাপসমূহকে এমনভাবে দূর করে দেয় যেমন হাপর লোহার ময়লা দূর করে দেয়»
(খণ্ড: ১) আল-মারাদ ওয়াল কাফফারাত লিবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٢٥)
12 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ جَمِيلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، حَدَّثَنِي يَزِيدُ، أَنَّ أَبَا الْخَيْرِ حَدَّثَهُ، أَنَّهُ سَمِعَ عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ الْجُهَنِيَّ، يُحَدِّثُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " لَيْسَ مِنْ عَمَلِ يَوْمٍ إِلَّا وَهُوَ يُخْتَمُ عَلَيْهِ فَإِذَا مَرِضَ الْمُؤْمِنُ قَالَتِ الْمَلَائِكَةُ: يَا رَبَّنَا عَبْدُكَ فُلَانٌ قَدْ حَبَسْتَهُ فَيَقُولُ الرَّبُّ: ‌‌«اخْتِمُوا لَهُ عَلَى مِثْلِ عَمَلِهِ حَتَّى يَبْرَأَ أَوْ يَمُوتَ»
১২ - আহমদ ইবনে জামিল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে লাহীআ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইয়াযীদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আবুল খাইর তাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি উকবা ইবনে আমির আল-জুহানীকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করতে শুনেছেন, তিনি বলেছেন: "প্রতিদিনের আমলই দিনের শেষে সিলগালা করা হয়। যখন মুমিন ব্যক্তি অসুস্থ হয়, তখন ফেরেশতারা বলেন: হে আমাদের রব! আপনার অমুক বান্দাকে আপনি আটকে দিয়েছেন। তখন রব বলেন: «তার জন্য তার (পূর্বের) আমলের অনুরূপ সওয়াব লিপিবদ্ধ করো, যতক্ষণ না সে আরোগ্য লাভ করে অথবা মৃত্যুবরণ করে»"
(খণ্ড: ১) আল-মারাদ ওয়াল কাফফারাত লিবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٢٦)
13 - حَدَّثَنَا ابْنُ جَمِيلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " إِذَا ابْتَلَى اللَّهُ الْعَبْدَ بِالسَّقَمِ أَرْسَلَ اللَّهُ إِلَيْهِ مَلَكَيْنِ قَالَ: «اسْمَعَا مَا يَقُولُ عَبْدِي هَذَا لِعُوَّادِهِ فَإِنْ حَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ خَيْرًا بَلِّغَا ذَلِكَ عَنْهُ، فَيَقُولُ اللَّهُ إِنَّ لِعَبْدِي هَذَا عَلَيَّ‌‌ إِنْ أَنَا تَوَفَّيْتُهُ أُدْخِلُهُ الْجَنَّةَ، وَإِنْ أَنَا رَفَعْتُهُ أَنْ أُبَدِّلَ لَهُ لَحْمًا خَيْرًا مِنْ لَحْمِهِ وَدَمًا خَيْرًا مِنْ دَمِهِ وَأَغْفِرُ لَهُ»
১৩ - ইবনে জামিল আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, হিশাম ইবনে সাদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি যায়িদ ইবনে আসলাম থেকে, তিনি আতা ইবনে ইয়াসার থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "যখন আল্লাহ কোনো বান্দাকে অসুস্থতার মাধ্যমে পরীক্ষা করেন, তখন আল্লাহ তার কাছে দুইজন ফেরেশতা পাঠান এবং বলেন: «তোমরা শোনো আমার এই বান্দা তার দর্শনার্থীদের কী বলে। যদি সে আল্লাহর প্রশংসা করে এবং তাঁর উত্তম গুণগান করে, তবে তোমরা তা তাঁর পক্ষ থেকে পৌঁছে দাও।» তখন আল্লাহ বলেন: 'আমার এই বান্দার জন্য আমার ওপর এই দায়িত্ব রয়েছে যে, যদি আমি তাকে মৃত্যু দান করি তবে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাব, আর যদি তাকে আরোগ্য দান করি তবে তাকে তার মাংসের চেয়ে উত্তম মাংস এবং তার রক্তের চেয়ে উত্তম রক্ত দান করব এবং তাকে ক্ষমা করে দেব'।"
(খণ্ড: ১) আল-মারাদ ওয়াল কাফফারাত লিবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٢٦)
14 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ جَمِيلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ، عَنْ حَسَّانَ بْنِ عَطِيَّةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ إِذَا مَرِضَ الْعَبْدُ الْمُسْلِمُ يُقَالُ لِصَاحِبِ الْيَمِينِ: ‌‌«اكْتُبْ عَلَى عَبْدِي صَالِحَ مَا كَانَ يَعْمَلُ» ، وَيُقَالُ لِصَاحِبِ الشِّمَالِ: «اقْضِ عَنْ عَبْدِي مَا كَانَ فِي وَثَاقِي» ، فَقَالَ رَجُلٌ عِنْدَ أَبِي هُرَيْرَةَ: يَا لَيْتَنِي لَا أَزَالُ ضَاجِعًا فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: «كَرِهَ الْعَبْدُ الْخَطَايَا»
14 - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন জামিল, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আওযায়ী, হাসসান বিন আতিয়্যাহ থেকে বর্ণিত, আবু হুরায়রা (রা.) বলেন: যখন কোনো মুসলিম বান্দা অসুস্থ হয়, তখন ডান পাশের সাথীকে (ফেরেশতাকে) বলা হয়: ‌‌«আমার বান্দার জন্য সেই সব সৎ আমল লেখো যা সে (সুস্থ অবস্থায়) করত», আর বাম পাশের সাথীকে বলা হয়: «আমার বান্দা যতক্ষণ আমার বন্ধনে (অসুস্থতায়) রয়েছে, ততক্ষণ তার (গুনাহ লেখা) হতে বিরত থাকো», তখন এক ব্যক্তি আবু হুরায়রার নিকট বললেন: হায়! আমি যদি সর্বদা শয্যাশায়ী থাকতাম! তখন আবু হুরায়রা বললেন: «বান্দাটি পাপসমূহকে অপছন্দ করেছে»
(খণ্ড: ১) আল-মারাদ ওয়াল কাফফারাত লিবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٢٧)
15 - حَدَّثَنَا ابْنُ جَمِيلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ رَبِيعِ بْنِ عَمِيلَةَ، قَالَ شُعْبَةُ: قُلْتُ أَسَمِعْتَهُ مِنْهُ قَالَ: حَدَّثَنِي هِلَالُ بْنُ يَسَافٍ أَوْ بَعْضُ أَصْحَابِنَا عَنْهُ، قَالَ: كُنَّا قُعُودًا عِنْدَ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ فَذَكَرُوا الْأَوْجَاعَ فَقَالَ أَعْرَابِيُّ: مَا اشْتَكَيْتُ قَطُّ، فَقَالَ عَمَّارٌ: «مَا أَنْتَ مِنَّا أَوْ لَسْتَ مِنَّا إِنَّ‌‌ الْمُسْلِمَ لَيُبْتَلَى بِبَلَاءٍ فَتُحَطُّ عَنْهُ ذُنُوبُهُ كَمَا يُحَطُّ الْوَرَقُ مِنَ الشَّجَرِ، وَإِنَّ الْكَافِرَ أَوْ قَالَ الْفَاجِرَ - شُعْبَةُ - شَكَّ، يُبْتَلَى بِبَلَاءٍ فَمَثَلُهُ مَثَلُ بَعِيرٍ أُطْلِقَ فَلَمْ يَدْرِ لِمَ أُطْلِقَ وَعُقِلَ فَلَمْ يَدْرِ لِمَ عُقِلَ»
১৫ - ইবনে জামিল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শু'বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি হাকাম থেকে, তিনি রাবী' বিন আমীলাহ থেকে বর্ণনা করেন। শু'বাহ বলেন: আমি (হাকামকে) জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি এটি তার থেকে শুনেছেন? তিনি বললেন: হিলাল বিন ইয়াসাফ অথবা আমাদের কোনো সঙ্গী তার থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমরা আম্মার বিন ইয়াসিরের নিকট বসা ছিলাম, তখন উপস্থিত ব্যক্তিগণ বিভিন্ন রোগ-ব্যাধি ও কষ্টের কথা আলোচনা করছিলেন। তখন জনৈক বেদুঈন বলল: আমি কখনোই অসুস্থ হইনি। আম্মার বললেন: তুমি আমাদের অন্তর্ভুক্ত নও অথবা তুমি আমাদের দলভুক্ত নও। নিশ্চয়ই একজন মুসলিম যখন কোনো বিপদে পতিত হয়, তখন তার গুনাহসমূহ এমনভাবে ঝরে যায় যেমন গাছ থেকে পাতা ঝরে যায়; আর নিশ্চয়ই কাফির—অথবা তিনি বলেছেন পাপাচারী—শু'বাহ এখানে শব্দটির ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করেছেন—যখন কোনো বিপদে আক্রান্ত হয়, তখন তার উদাহরণ সেই উটের ন্যায় যাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে অথচ সে জানে না কেন তাকে ছেড়ে দেওয়া হলো, আবার তাকে বেঁধে রাখা হয়েছে অথচ সে জানে না কেন তাকে বেঁধে রাখা হলো।
(খণ্ড: ১) আল-মারাদ ওয়াল কাফফারাত লিবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٢٨)
16 - حَدَّثَنَا ابْنُ جَمِيلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، حَدَّثَنَا الْمَسْعُودِيُّ، عَنْ جَامِعِ بْنِ شَدَّادٍ، عَنْ تَمِيمِ بْنِ سَلَمَةَ، قَالَ: قَالَ أَبُو مَعْمَرٍ الْأَزْدِيُّ: كُنَّا إِذَا سَمِعْنَا مِنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، شَيْئًا نَكْرَهُهُ سَكَتْنَا حَتَّى يُفَسِّرَهُ لَنَا، فَقَالَ لَنَا ذَاتَ يَوْمٍ: " أَلَا إِنَّ‌‌ السَّقَمَ لَا يُكْتَبُ لَهُ أَجْرٌ فَسَاءَنَا ذَلِكَ وَكَبُرَ عَلَيْنَا، قَالَ: «وَلَكِنْ يُكَفَّرُ بِهِ الْخَطَايَا» ، قَالَ: فَسَرَّنَا ذَلِكَ وَأَعْجَبَنَا
১৬ - ইবনে জামিল আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আল-মাসউদী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, জামে‘ ইবনে শাদ্দাদ থেকে বর্ণিত, তামীম ইবনে সালামাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবু মা‘মার আল-আজদী বলেছেন: আমরা যখন ইবনে মাসউদ থেকে এমন কিছু শুনতাম যা আমাদের নিকট অপ্রীতিকর মনে হতো, তখন তিনি তা আমাদের নিকট ব্যাখ্যা না করা পর্যন্ত আমরা চুপ থাকতাম। একদিন তিনি আমাদের বললেন: "জেনে রেখো, অসুস্থতার জন্য কোনো সওয়াব লেখা হয় না।" এতে আমরা ব্যথিত হলাম এবং বিষয়টি আমাদের নিকট গুরুতর মনে হলো। তিনি বললেন: "তবে এর মাধ্যমে পাপসমূহ মোচন করা হয়।" তিনি বলেন: এতে আমরা আনন্দিত হলাম এবং বিষয়টি আমাদের চমৎকার লাগল।
(খণ্ড: ১) আল-মারাদ ওয়াল কাফফারাত লিবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٢٨)
17 - حَدَّثَنَا ابْنُ جَمِيلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ الْحِمْصِيُّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ جَابِرٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ مَيْسَرَةَ، قَالَ: «إِنَّ‌‌ الْعَبْدَ لَيَمْرَضُ الْمَرَضَ مَا لَهُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ خَيْرٍ، فَقَدْ كَرِهَ اللَّهُ بَعْضَ مَا سَلَفَ مِنْ خَطَايَاهُ فَيَخْرُجُ مِنْ عَيْنِهِ مِثْلُ رَأْسِ الذُّبَابِ مِنْ خَشْيَةِ اللَّهِ فَيَبْعَثُهُ اللَّهُ إِنْ بَعَثَهُ اللَّهُ أَوْ يَقْبِضَهُ إِنْ قَبَضَهُ عَلَى ذَلِكَ»
১৭ - ইবনে জামিল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসমাইল বিন আইয়াশ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু সালামাহ আল-হিমসি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন জাবির থেকে, তিনি ইয়াজিদ বিন মাইসারাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «নিশ্চয়ই বান্দা এমন রোগে আক্রান্ত হয় যখন আল্লাহর নিকট তার কোনো (পূর্ববর্তী) কল্যাণ থাকে না, বস্তুত আল্লাহ তার অতীত পাপসমূহের কিছু অংশ অপছন্দ করেছেন। অতঃপর আল্লাহর ভয়ে তার চোখ থেকে মাছির মাথার ন্যায় (অশ্রু) নির্গত হয়। এমতাবস্থায় আল্লাহ তাকে সুস্থ করে উঠান যদি তিনি তাকে পুনরায় জীবিত রাখতে চান, অথবা তার প্রাণ হরণ করেন যদি তিনি তাকে সেই অবস্থার উপরেই মৃত্যু দান করতে চান।»
(খণ্ড: ১) আল-মারাদ ওয়াল কাফফারাত লিবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٢٩)
18 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ الْعِجْلِيُّ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي حَبِيبَةَ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ الْحُصَيْنِ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُعَلِّمُنَا مِنَ الْأَوْجَاعِ كُلِّهَا: ‌‌«بِسْمِ اللَّهِ الْكَبِيرِ أَعُوذُ بِاللَّهِ الْعَظِيمِ مِنْ كُلِّ عِرْقٍ نَعَّارٍ وَمِنْ حَرِّ النَّارِ»
১৮ - মুহাম্মাদ ইবনে উসমান আল-ইজলি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, খালিদ ইবনে মাখলাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইব্রাহিম ইবনে ইসমাইল ইবনে আবি হাবিবা থেকে, দাউদ ইবনুল হুসাইন থেকে, ইকরিমা থেকে, ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সকল প্রকার ব্যথার জন্য এই দুআ শেখাতেন: «মহান আল্লাহর নামে; আমি সুমহান আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি প্রতিটি রক্তক্ষরণকারী শিরা এবং আগুনের উত্তাপ থেকে»
(খণ্ড: ১) আল-মারাদ ওয়াল কাফফারাত লিবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٣٠)
19 - حَدَّثَنَا أَبُو هِشَامٍ، مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ الرِّفَاعِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ الْأَشْعَرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ عَادَ مَرِيضًا فَقَالَ لَهُ: إِنَّ ⦗ص: 31⦘ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِنَّ اللَّهَ يَقُولُ هِيَ‌‌ نَارِي أُسَلِّطُهَا عَلَى عَبْدِي الْمُؤْمِنِ فِي الدُّنْيَا فَتَكُونُ حَظَّهُ مِنَ النَّارِ فِي الْآخِرَةِ»
১৯ - আবু হিশাম মুহাম্মদ বিন ইয়াজিদ আর-রিফাঈ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু উসামা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুর রহমান বিন ইয়াজিদ বিন জাবির থেকে, ইসমাঈল বিন উবায়দুল্লাহ থেকে, আবু সালিহ আল-আশআরি থেকে, আবু হুরাইরাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, তিনি একজন অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে গেলেন এবং তাকে বললেন: নিশ্চয়ই ⦗পৃষ্ঠা: ৩১⦘ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ বলেন: এটি আমার আগুন, যা আমি দুনিয়াতে আমার মুমিন বান্দার ওপর চাপিয়ে দিই, যেন তা আখিরাতে আগুনের বিনিময়ে তার প্রাপ্য অংশ হয়।»
(খণ্ড: ১) আল-মারাদ ওয়াল কাফফারাত লিবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٣٢)
20 - حَدَّثَنَا أَبُو هِشَامٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ الْيَمَانِ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ الْأَسْوَدِ، عَنْ مُجَاهِدٍ، قَالَ: "‌‌ الْحُمَّى حَظُّ كُلِّ مُؤْمِنٍ مِنَ النَّارِ ثُمَّ قَرَأَ: {وَإِنْ مِنْكُمْ إِلَّا وَارِدُهَا كَانَ عَلَى رَبِّكَ حَتْمًا مَقْضِيًّا} [مريم: 71] وَالْوُرُودُ فِي الدُّنْيَا هُوَ الْوُرُودُ فِي الْآخِرَةِ "
২০ - আবু হিশাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনুল ইয়ামান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উসমান ইবনুল আসওয়াদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুজাহিদ থেকে, তিনি বলেছেন: "‌‌জ্বর হলো জাহান্নামের আগুন থেকে প্রত্যেক মুমিনের অংশ। অতঃপর তিনি পাঠ করলেন: {তোমাদের প্রত্যেকেই তা অতিক্রম করবে; এটা তোমার রবের এক অনিবার্য ফয়সালা।} [মারইয়াম: ৭১] আর দুনিয়াতে এই অতিক্রম করাই হলো আখিরাতে অতিক্রম করা।"
(খণ্ড: ১) আল-মারাদ ওয়াল কাফফারাত লিবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٣٣)
21 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ سَهْلٍ التَّمِيمِيُّ، حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا عِصْمَةُ بْنُ سَالِمٍ الْهُنَائِيُّ، أَخْبَرَنَا أَشْعَثُ بْنُ جَابِرٍ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، عَنْ أَبِي رَيْحَانَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«الْحُمَّى كِيرٌ مِنْ حَرِّ جَهَنَّمَ، وَهِيَ نَصِيبُ الْمُؤْمِنِ مِنَ النَّارِ»
২১ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর বিন সাহল আত-তামিমি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসলিম বিন ইব্রাহিম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাহ বিন সালিম আল-হুনাই, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আশআশ বিন জাবির, তিনি শাহর বিন হাওশাব থেকে, তিনি আবু রায়হানাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «জ্বর হলো জাহান্নামের উত্তাপের একটি হাপর, আর এটি আগুনের মধ্য থেকে মুমিনের প্রাপ্য অংশ»
(খণ্ড: ১) আল-মারাদ ওয়াল কাফফারাত লিবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٣٤)
22 - حَدَّثَنَا حَاجِبُ بْنُ الْوَلِيدِ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمُوقَرِيُّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَثَلُ الْمُؤْمِنِ إِذَا بَرَأَ وَصَحَّ مِنْ مَرَضِهِ كَمَثَلِ الْبَرَدَةِ تَقَعُ مِنَ السَّمَاءِ فِي صَفَائِهَا وَلَوْنِهَا»
২২ - হাজিব ইবনুল ওয়ালীদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ওয়ালীদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-মুক্বারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যুহরী থেকে বর্ণিত, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “একজন মুমিনের উদাহরণ যখন সে রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করে এবং সুস্থ হয়, তা আকাশ থেকে পড়া শিলাবৃষ্টির দানার ন্যায় যা তার স্বচ্ছতা এবং বর্ণের দিক থেকে (নির্মল)।”
(খণ্ড: ১) আল-মারাদ ওয়াল কাফফারাত লিবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٣٥)
23 - حَدَّثَنَا أَبُو جَعْفَرٍ الْأَدَمِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو مُسْهِرٍ عَبْدُ الْأَعْلَى بْنُ مُسْهِرٍ، عَنْ خَالِدِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ حَبِيبٍ الْمُحَارِبِيِّ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: ‌‌«مَا مِنْ مُسْلِمٍ يُصْرَعُ صَرْعَةً مِنْ مَرَضٍ إِلَّا بُعِثَ مِنْهُ طَاهِرًا»
২৩ - আমাদের নিকট আবু জাফর আল-আদামী হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আবু মুশহির আব্দুল আ'লা ইবনে মুশহির হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি খালেদ ইবনে ইয়াজিদ থেকে, তিনি সালেম ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি সুলাইমান ইবনে হাবিব আল-মুহারিবি থেকে, তিনি আবু উমামা থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «এমন কোনো মুসলিম নেই যে কোনো রোগের কারণে শয্যাশায়ী হয়, তবে তাকে তা থেকে পবিত্রাবস্থায় পুনরুত্থিত করা হয়।»
(খণ্ড: ১) আল-মারাদ ওয়াল কাফফারাত লিবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٣٦)
24 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَهْلٍ التَّمِيمِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ، عَنْ نَافِعِ بْنِ يَزِيدَ، حَدَّثَنِي جَعْفَرُ بْنُ رَبِيعَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَزْهَرَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَثَلُ الْمُؤْمِنِ حِينَ يُصِيبُهُ الْحُمَّى أَوِ الْوَعْكُ مَثَلُ حَدِيدَةٍ تَدْخُلُ النَّارَ فَيَذْهَبُ خَبَثُهَا وَيَبْقَى طَيِّبُهَا»
২৪ - মুহাম্মাদ ইবনে সাহল আত-তামিমী আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, ইবনে আবি মারইয়াম আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন নাফি ইবনে ইয়াযিদ থেকে, জাফর ইবনে রাবিয়াহ আমার নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন উবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আস-সাইব থেকে, তিনি আবদুল হামিদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আযহার থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‌‌«মুমিনের উদাহরণ যখন সে জ্বর বা ব্যথায় আক্রান্ত হয়, তখন তা আগুনের ভেতর প্রবেশ করানো লোহার টুকরোর মতো; যার মরিচা দূর হয়ে যায় এবং তার বিশুদ্ধ অংশ অবশিষ্ট থাকে।»
(খণ্ড: ১) আল-মারাদ ওয়াল কাফফারাত লিবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٣٧)
25 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ، حَدَّثَنَا عُفَيْرٌ، عَنْ سُلَيْمٍ يَعْنِي ابْنَ عَامِرٍ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا مَرِضَ أَوْحَى اللَّهُ إِلَى مَلَائِكَتِهِ: «يَا مَلَائِكَتِي أَنَا‌‌ قَيَّدْتُ عَبْدِي بِقَيْدٍ مِنْ قُيُودِي فَإِنْ أَقْبِضْهُ أَغْفِرْ لَهُ، وَإِنْ أُعَافِهِ فَجَسَدٌ مَغْفُورٌ لَهُ لَا ذَنْبَ لَهُ»
২৫ - আবু বকর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-হাকাম ইবনে নাফি‘ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উফাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুলাইম অর্থাৎ ইবনে আমির থেকে, তিনি আবু উমামা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই বান্দা যখন অসুস্থ হয়, তখন আল্লাহ তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি ওহী করেন: «হে আমার ফেরেশতারা! আমি আমার বান্দাকে আমার শৃঙ্খলসমূহের একটি শৃঙ্খল দ্বারা আবদ্ধ করেছি; অতএব আমি যদি তার প্রাণ কবজ করি তবে তাকে ক্ষমা করে দেব, আর যদি তাকে সুস্থতা দান করি তবে সে এমন এক ক্ষমাপ্রাপ্ত দেহ নিয়ে থাকবে যার কোনো গুনাহ নেই»।"
(খণ্ড: ১) আল-মারাদ ওয়াল কাফফারাত লিবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٣٨)
26 - حَدَّثَنِي أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ أَبِي النَّجُودِ، عَنْ خُثَيْمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ‌‌ الْعَبْدَ إِذَا كَانَ عَلَى طَرِيقَةٍ حَسَنَةٍ مِنَ الْعِبَادَةِ ثُمَّ يَمْرَضُ قِيلَ لِلْمَلَكِ الْمُوَكَّلِ عَلَيْهِ اكْتُبْ لَهُ مِثْلَ عَمَلِهِ إِذَا كَانَ طَلِيقًا حَتَّى أُطْلِقَهُ أَوْ أَكْفِتَهُ إِلَيَّ»
২৬ - আবু বকর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুর রাজ্জাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মা'মার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আসিম বিন আবিল নাজুদ থেকে, তিনি খুসাইমা বিন আব্দুর রহমান থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন আমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই বান্দা যখন ইবাদতের কোনো উত্তম পদ্ধতিতে থাকে এবং এরপর অসুস্থ হয়ে পড়ে, তখন তার ওপর নিয়োজিত ফেরেশতাকে বলা হয়: তার জন্য তার সেই আমলের অনুরূপ লেখো যা সে সুস্থ ও মুক্ত অবস্থায় করত, যতক্ষণ না আমি তাকে মুক্তি দেই অথবা তাকে আমার নিকট নিয়ে নেই (মৃত্যু দান করি)।’»
(খণ্ড: ১) আল-মারাদ ওয়াল কাফফারাত লিবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٣٨)
27 - حَدَّثَنِي أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ، حَدَّثَنَا عُفَيْرُ بْنُ مَعْدَانَ، عَنْ سُلَيْمِ بْنِ عَامِرٍ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«إِنَّ اللَّهَ لَيُجَرِّبُ أَحَدَكُمْ بِالْبَلَاءِ وَهُوَ أَعْلَمُ بِهِ كَمَا يُجَرِّبُ أَحَدُكُمْ ذَهَبَهُ بِالنَّارِ فَمِنْهُمْ مَنْ يَخْرُجُ كَالذَّهَبِ الْإِبْرِيزِ فَذَلِكَ الَّذِي نَجَّاهُ اللَّهُ مِنَ السَّيِّئَاتِ، وَمِنْهُمْ مَنْ يَخْرُجُ كَالذَّهَبِ دُونَ ذَلِكَ فَذَلِكَ الَّذِي يَشُكُّ بَعْضَ الشَّكِّ، وَمِنْهُمْ مَنْ يَخْرُجُ كَالذَّهَبِ الْأَسْوَدِ فَذَلِكَ الَّذِي قَدِ افْتُتِنَ»
২৭ - আবু বকর আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, আল-হাকাম ইবন নাফি‘ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, উফায়র ইবন মা‘দান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, সুলায়ম ইবন আমির থেকে, তিনি আবু উমামাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের কাউকে বিপদের মাধ্যমে পরীক্ষা করেন অথচ তিনি তার সম্পর্কে সম্যক অবগত, যেমন তোমাদের কেউ আগুনের সাহায্যে তার স্বর্ণ পরীক্ষা করে থাকে। অতঃপর তাদের মধ্যে কেউ বিশুদ্ধ স্বর্ণের ন্যায় বের হয়ে আসে; সে-ই ওই ব্যক্তি যাকে আল্লাহ পাপাচার থেকে মুক্তি দিয়েছেন। আবার তাদের মধ্যে কেউ তার চেয়ে নিম্নমানের স্বর্ণের ন্যায় বের হয়ে আসে; সে ওই ব্যক্তি যে কিছুটা সন্দেহে লিপ্ত হয়। আর তাদের মধ্যে কেউ কালো স্বর্ণের ন্যায় বের হয়ে আসে; সে হচ্ছে ওই ব্যক্তি যে ফিতনায় নিপতিত হয়েছে।»
(খণ্ড: ১) আল-মারাদ ওয়াল কাফফারাত লিবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٣٩)
28 - حَدَّثَنَا أَبُو يَعْقُوبَ التَّمِيمِيُّ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ يَعْقُوبَ الطَّالَقَانِيُّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْمُغِيرَةِ الصَّغَانِيِّ، عَنْ حَوْشَبٍ، عَنِ الْحَسَنِ، يَرْفَعُهُ قَالَ: «إِنَّ اللَّهَ‌‌ لَيُكَفِّرُ عَنِ الْمُؤْمِنِ، خَطَايَاهُ كُلَّهَا بِحُمَّى لَيْلَةٍ» قَالَ ابْنُ الْمُبَارَكِ: هَذَا مِنْ جَيِّدِ الْحَدِيثِ
২৮ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইয়াকুব আত-তামিমী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনে ইয়াকুব আত-তালাকানী, আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক থেকে, তিনি উমর ইবনুল মুগীরা আস-সাগানী থেকে, তিনি হাওশাব থেকে, তিনি হাসান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি এটি মারফূ হিসেবে (রাসূলুল্লাহ ﷺ এর বরাতে) বর্ণনা করে বলেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ‌‌ এক রাতের জ্বরের বিনিময়ে মুমিনের সমস্ত গুনাহ মোচন করে দেন।» ইবনুল মুবারক বলেন: এটি উৎকৃষ্ট হাদীস।
(খণ্ড: ১) আল-মারাদ ওয়াল কাফফারাত লিবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٤٠)
29 - حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ خِدَاشٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ هِشَامٍ، عَنِ الْحَسَنِ، قَالَ: كَانُوا‌‌ يَرْجُونَ فِي حُمَّى لَيْلَةٍ كَفَّارَةً لِمَا مَضَى مِنَ الذُّنُوبِ
২৯ - আমাদের নিকট খালিদ ইবন খিদাশ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হাম্মাদ ইবন যায়দ হিশাম থেকে, তিনি হাসান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তাঁরা এক রাতের জ্বরের বিনিময়ে অতীত পাপসমূহের কাফফারা হওয়ার আশা করতেন।