(খণ্ড: ১) আল-মুযাক্কির ওয়াত তাযকীর লিবনি আবী আসিম (পৃষ্ঠা: -)
المذكر والتذكير لابن أبي عاصم   (ابن أبي عاصم)

القسم: كتب السنة


الكتاب: المذكر والتذكير والذكر

المؤلف: أبو بكر بن أبي عاصم وهو أحمد بن عمرو بن الضحاك بن مخلد الشيباني (ت 287هـ)

تحقيق: ياسر خالد بن قاسم الردادي

الناشر: دار المنار - الرياض

تاريخ النشر: 1413هـ

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 103

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-মুজাক্কির ওয়াত-তাযকির - ইবনু আবি আসিম   (ইবনু আবি আসিম)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: আল-মুজাক্কির ওয়াত-তাযকির ওয়াজ-জিকর

লেখক: আবু বকর বিন আবি আসিম, তিনি হলেন আহমাদ বিন আমর বিন আদ-দাহহাক বিন মাখলাদ আশ-শাইবানি (মৃত্যু ২৮৭ হিজরি)

তাহকিক: ইয়াসির খালিদ বিন কাসিম আর-রাদ্দাদি

প্রকাশক: দার আল-মানার - রিয়াদ

প্রকাশকাল: ১৪১৩ হিজরি

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১০৩

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-মুযাক্কির ওয়াত তাযকীর লিবনি আবী আসিম (পৃষ্ঠা: ৫৩)
أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْمُوَفَّقُ أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ نَصْرٍ الصَّيْدَلَانِيُّ سِبْطُ حُسَيْنِ بْنِ مَنْدَهِ الْأَصْبَهَانِيُّ بِهَا، وَالشَّيْخُ أَبُو سَعِيدٍ خَلِيلُ بْنُ بَدْرِ بْنِ ثَابِتِ بْنِ رَوْحٍ الرَّارَانِيُّ الْأَصْبَهَانِيُّ بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ فِي سَنَةِ سِتٍّ وَتِسْعِينَ وَخْمِسِ مِائَةٍ قَالَا: أَخْبَرَنَا السَّيِّدُ أَبُو مُحَمَّدٍ حَمْزَةُ بْنُ الْعَبَّاسِ بْنِ عَلِيٍّ الْعَلَوِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو سَعْدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عُمَرَ الصَّفَّارُ إِجَازَةً، أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ أَحْمَدُ بْنُ بُنْدَارِ بْنِ إِسْحَاقَ الْفَقِيهُ الْمَعْرُوفُ بِالشِّعَارِ قَالَ: قَالَ أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ أَبِي عَاصِمٍ: قَالَ اللَّهُ تبارك وتعالى مِنْ قَائِلٍ لِنَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم: {فَذَكِّرْ إِنَّمَا أَنْتَ مُذَكِّرٌ، لَسْتَ عَلَيْهِمْ بِمُصَيْطِرٍ} [الغاشية: 22] ، وَقَالَ جَلَّ ثَنَاؤُهُ: {وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ} [القمر: 17]

⦗ص: 54⦘، وَقَالَ عز وجل: {وَذَكِّرْهُمْ بِأَيَّامِ اللَّهِ} [إبراهيم: 5] ، وَقَالَ تَقَدَّسَتْ أَسْمَاؤُهُ: {وَذَكِّرْ فَإِنَّ الذِّكْرَى تَنْفَعُ الْمُؤْمِنِينَ} [الذاريات: 55] ، وَقَالَ: {فَذَكِّرْ بِالْقُرْآنِ مَنْ يَخَافُ وَعِيدِ} [ق: 45] ، وَقَالَ: {تَبْصِرَةً وَذِكْرَى لِكُلِّ عَبْدٍ مُنِيبٍ} [ق: 8] ، وَقَالَ: {إِنَّ الَّذِينَ اتَّقُوا إِذَا مَسَّهُمْ طَائِفٌ مِنَ الشَّيْطَانِ تَذَكَّرُوا فَإِذَا هُمْ مُبْصِرُونَ} [الأعراف: 201] ، وَقَالَ: {لَعَلَّهُ يَتَذَكَّرُ أَوْ يَخْشَى} [طه: 44] ، وَقَالَ: {كَلَّا إِنَّهَا تَذْكِرَةٌ فَمَنْ شَاءَ ذَكَرَهُ فِي صُحُفٍ مُكَرَّمَةٍ} [عبس: 11] ، وَقَالَ: {كَلَّا إِنَّهُ تَذْكِرَةٌ فَمَنْ شَاءَ ذَكَرَهُ وَمَا يَذْكُرُونَ إِلَّا أَنْ يَشَاءَ اللَّهُ} [المدثر: 54]

⦗ص: 55⦘،

 

1 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدٍ الشَّافِعِيُّ، حَدَّثَنَا فُضَيْلُ بْنُ عِيَاضٍ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ» لِلَّهِ عز وجل مَلَائِكَةً فَضْلًا عَنْ كُتَّابِ النَّاسِ يَطُوفُونَ فِي ⦗ص: 56⦘ الطُّرُقِ وَيَتَّبِعُونَ الذِّكْرَ فَإِذَا رَأَوْا قَوْمًا يَذْكُرُونَ اللَّهَ تَعَالَى تَنَادَوْا إِلَى حَاجَاتِكُمْ " قَالَ: " فَيَقُولُ اللَّهُ عز وجل وَهُوَ أَعْلَمُ: مَا يَقُولُ عِبَادِي؟ قَالُوا: يَحْمَدُونَكَ وَيُسَبِّحُونَكَ وَيُمَجِّدُونَكَ. فَيَقُولُ: هَلْ رَأَوْنِي؟ فَيَقُولُونَ: لَا، فَيَقُولُ عَزَّ جَلَّ: كَيْفَ وَلَوْ رَأَوْنِي؟ قَالُوا: لَوْ رَأَوْكَ كَانُوا أَشَدَّ لَكَ تَسْبِيحًا وَتَحْمِيدًا وَتَمْجِيدًا " قَالَ: " فَيَقُولُ: مَا يَسْأَلُونِي؟ قَالُوا: يَسْأَلُونَكَ الْجَنَّةَ، قَالَ: " فَيَقُولُ: هَلْ رَأَوْهَا؟ فَيَقُولُونَ: لَا، فَيَقُولُ: كَيْفَ وَلَوْ رَأَوْهَا؟ قَالُوا: لَوْ رَأَوْهَا كَانُوا أَشَدَّ لَهَا طَلَبًا وَعَلَيْهَا أَشَدَّ حِرْصًا، قَالُوا: وَيَتَعَوَّذُونَ مِنَ النَّارِ، قَالَ: كَيْفَ لَوْ رَأَوْهَا؟ " قَالَ: " فَيَقُولُونَ: لَوْ رَأَوْهَا كَانُوا مِنْهَا أَشَدَّ تَعَوُّذًا وَأَشَدَّ فِرَارًا، قَالَ: " فَيَقُولُ اللَّهُ عز وجل: أُشْهِدُكُمْ أَنِّي قَدْ غَفَرْتُ لَهُمْ، قَالَ: " فَيَقُولُ مَلَكٌ: فِيهِمْ فُلَانٌ لَيْسَ مِنْهُمْ إِنَّمَا جَاءَ لِحَاجَةٍ، قَالَ: " فَيَقُولُ: هُمُ الْجُلَسَاءُ لَا يَشْقَى جَلِيسُهُمْ
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সফল শাইখ আবু জাফর মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন নাসর আস-সায়দালানি, যিনি আল-আসবাহানের হুসাইন বিন মানদাহর দৌহিত্র, সেখানে; এবং শাইখ আবু সাঈদ খলিল বিন বদর বিন সাবিত বিন রুহ আর-ররানি আল-আসবাহানি, পাঁচশত ছিয়ানব্বই হিজরি সনে তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সাইয়্যিদ আবু মুহাম্মদ হামযা বিন আল-আব্বাস বিন আলী আল-আলাভি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সা'দ আবদুর রহমান বিন আহমদ বিন উমর আস-সাফফার ইজাজতসূত্রে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ আহমদ বিন বুন্দার বিন ইসহাক আল-ফকিহ, যিনি আল-শিআর নামে পরিচিত, তিনি বলেন: আবু বকর আহমদ বিন আমর বিন আবি আসিম বলেছেন: আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উদ্দেশ্যে বলেছেন: {অতএব আপনি উপদেশ দিন, আপনি তো কেবল একজন উপদেশদাতা, আপনি তাদের ওপর দারোগা নন} [আল-গাশিয়াহ: ২২], এবং তিনি—যাঁর প্রশংসা মহিমান্বিত—বলেছেন: {আর আমি তো কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি উপদেশ গ্রহণের জন্য, অতএব কোনো উপদেশ গ্রহণকারী আছে কি?} [আল-কামার: ১৭]

⦗পৃষ্ঠা: ৫৪⦘، এবং তিনি—যিনি পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত—বলেছেন: {আর আপনি তাদেরকে আল্লাহর দিবসসমূহ স্মরণ করিয়ে দিন} [ইব্রাহিম: ৫], এবং তিনি—যাঁর নামসমূহ পবিত্র—বলেছেন: {আর আপনি উপদেশ দিতে থাকুন, কেননা উপদেশ মুমিনদের উপকারে আসে} [আদ-দারিয়াত: ৫৫], এবং তিনি বলেছেন: {সুতরাং যে আমার শাস্তিকে ভয় করে, তাকে কুরআনের মাধ্যমে উপদেশ দিন} [কাফ: ৪৫], এবং তিনি বলেছেন: {এটি প্রতিটি অনুরাগী দাসের জন্য চাক্ষুষ জ্ঞান ও উপদেশস্বরূপ} [কাফ: ৮], এবং তিনি বলেছেন: {নিশ্চয়ই যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছে, শয়তানের পক্ষ থেকে কোনো কুমন্ত্রণা যখন তাদের স্পর্শ করে, তখন তারা (আল্লাহকে) স্মরণ করে; ফলে তৎক্ষণাৎ তাদের চোখ খুলে যায়} [আল-আরাফ: ২০১], এবং তিনি বলেছেন: {হয়তো সে উপদেশ গ্রহণ করবে অথবা ভয় করবে} [ত্বহা: ৪৪], এবং তিনি বলেছেন: {কখনোই না, এটি তো একটি উপদেশ; সুতরাং যার ইচ্ছা সে এটি স্মরণ রাখবে, এটি সম্মানিত পত্রসমূহে লিপিবদ্ধ} [আবাসা: ১১], এবং তিনি বলেছেন: {কখনোই না, এটি তো একটি উপদেশ; সুতরাং যার ইচ্ছা সে এটি স্মরণ রাখবে। আর তারা স্মরণ করবে না আল্লাহ না চাইলে} [আল-মুদ্দাসসির: ৫৪]

⦗পৃষ্ঠা: ৫৫⦘،

 

১ - ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ আশ-শাফিঈ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন ফুদাইল বিন ইয়াদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আমাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহর এমন কিছু অতিরিক্ত ফেরেশতা রয়েছেন যারা মানুষের আমল লিপিবিদ্ধকারী ফেরেশতাদের বাইরে ⦗পৃষ্ঠা: ৫৬⦘ পথে পথে ঘুরে বেড়ান এবং জিকিরের মজলিস তালাশ করেন। যখন তারা এমন কোন কওমকে দেখেন যারা আল্লাহর জিকির করছে, তখন তারা একে অপরকে ডেকে বলেন: তোমাদের কাঙ্ক্ষিত বিষয়ের দিকে এসো।" তিনি বলেন: "তখন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাদের জিজ্ঞাসা করেন—অথচ তিনি তাদের চেয়ে অধিক অবগত—: আমার বান্দারা কী বলছে? ফেরেশতারা বলেন: তারা আপনার প্রশংসা করছে, আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছে এবং আপনার মহিমা বর্ণনা করছে। তখন তিনি বলেন: তারা কি আমাকে দেখেছে? ফেরেশতারা বলেন: না। তখন পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহ বলেন: তারা যদি আমাকে দেখত তবে কেমন হতো? তারা বলেন: যদি তারা আপনাকে দেখত তবে তারা আরও অধিকরূপে আপনার পবিত্রতা, প্রশংসা ও মহিমা বর্ণনা করত।" তিনি বলেন: "অতঃপর আল্লাহ জিজ্ঞাসা করেন: তারা আমার কাছে কী চায়? ফেরেশতারা বলেন: তারা আপনার কাছে জান্নাত চায়। তিনি বলেন: তারা কি তা দেখেছে? ফেরেশতারা বলেন: না। তিনি বলেন: তারা যদি তা দেখত তবে কেমন হতো? তারা বলেন: যদি তারা তা দেখত তবে তারা জান্নাত পাওয়ার জন্য আরও বেশি লালায়িত ও অধিক যত্নবান হতো। ফেরেশতারা বলেন: এবং তারা জাহান্নাম থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছে। আল্লাহ বলেন: তারা যদি তা দেখত তবে কেমন হতো?" তিনি বলেন: "ফেরেশতারা বলেন: তারা যদি তা দেখত তবে তারা তা থেকে আরও বেশি আশ্রয় প্রার্থনা করত এবং আরও বেশি পলায়ন করত।" তিনি বলেন: "তখন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: আমি তোমাদের সাক্ষী রাখছি যে, আমি তাদের ক্ষমা করে দিয়েছি।" তিনি বলেন: "তখন জনৈক ফেরেশতা বলেন: তাদের মধ্যে অমুক ব্যক্তি রয়েছে যে তাদের অন্তর্ভুক্ত নয়, সে কেবল তার প্রয়োজনে এসেছিল। আল্লাহ বলেন: তারা এমন মজলিসের লোক যাদের সঙ্গী দুর্ভাগা হয় না।"
(খণ্ড: ১) আল-মুযাক্কির ওয়াত তাযকীর লিবনি আবী আসিম (পৃষ্ঠা: ৫৮)
2 - حَدَّثَنَا أُمَيَّةُ بْنُ بِسْطَامٍ أَبُو بَكْرٍ الْعَيْشِيُّ ابْنُ عَمِّ يَزِيدَ بْنِ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ الْقَاسِمِ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " إِنَّ لِلَّهِ مَلَائِكَةً فَضْلًا يَتْبَعُونَ مَجَالِسَ الذِّكْرِ فَإِذَا وَجَدُوا مَجْلِسًا فِيهِ الذِّكْرُ جَلَسُوا مَعَهُمْ حَتَّى يَمْلَؤُوا مَا بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ سَمَاءِ الدُّنْيَا فَلَا يَزَالُونَ مَعَهُمْ حَتَّى يَتَفَرَّقُوا فَإِذَا تَفَرَّقُوا صَعِدُوا أَوْ عَرَجُوا إِلَى السَّمَاءِ فَيَسْأَلُهُمُ اللَّهُ عز وجل وَهُوَ أَعْلَمُ مِنْ أَيْنَ جِئْتُمْ؟ فَيَقُولُونَ: أَتَيْنَاكَ مِنْ عِنْدِ عِبَادٍ لَكَ فِي الْأَرْضِ يَحْمَدُونَكَ وَيُهَلِّلُونَكَ وَيُكَبِّرُونَكَ وَيُسَبِّحُونَكَ وَيَسْأَلُونَكَ، قَالَ: وَمَا ⦗ص: 59⦘ يَسْأَلُونِي؟ قَالُوا: يَسْأَلُونَكَ جَنَّتَكَ، قَالَ: " فَيَقُولُ عز وجل:‌‌ هَلْ رَأَوْا جَنَّتِي؟ وَمِمَّ يَسْتَجِيرُونِي؟ قَالَ: " يَقُولُونَ: مِنْ نَارِكَ " قَالَ: " فَيَقُولُ هَلْ رَأَوْهَا؟ قَالَ: " فَيَقُولُونَ: لَا أَيْ رَبِّ قَالُوا: وَيَسْتَغْفِرُونَكَ قَالَ: " فَيَقُولُ: قَدْ غَفَرْتُ لَهُمْ وَأَعْطَيْتُهُمْ مَا سَأَلُوا وَأَجَرْتُهُمْ مِمَّا اسْتَجَارُوا، قَالَ: " فَيَقُولُونَ: فِيهِمْ فُلَانٌ الْخَطَّاءُ قَالَ: وَلَهُ قَدْ غَفَرْتُ الْقَوْمُ لَا يَشْقَى جَلِيسُهُمْ " قَالَ أَبُو بَكْرٍ: فَمِمَّا حَوَى حَدِيثُ الْأَعْمَشِ مِنَ الْمَعَانِي وَدَلَّ عَلَيْهَا النَّدْبُ إِلَى الِاجْتِمَاعِ عَلَى الذِّكْرِ وَفَضْلِ الذِّكْرِ وَالِاجْتِمَاعِ عَلَيْهِ لِقَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم: «حَفَّتْهُمُ الْمَلَائِكَةُ بِأَجْنِحَتِهَا» وَدَلَّ عَلَى أَنَّ اللَّهَ عز وجل فِي السَّمَاءِ وَعِلْمَهُ فِي الْأَرْضِ وَفِي كُلِّ مَوْضِعٍ لِقَوْلِهِ: مِنْ أَيْنَ جِئْتُمْ؟ ⦗ص: 60⦘ وَدَلَّ عَلَى أَنَّ اللَّهَ عز وجل يُرَى وَأَنَّهُ سَوْفَ يَرَاهُ أَوْلِيَاؤُهُ لِقَوْلِهِ عز وجل: «هَلْ رَأَوْنِي؟» وَقَوْلِهِمْ: «لَا» وَلَوْ كَانَ جَلَّ ثَنَاؤُهُ لَمْ يُرَ لَمَا كَانَ لِقَوْلِهِ: «هَلْ رَأَوْنِي» وَفِي قَوْلِهِ: «كَيْفَ لَوْ رَأَوْنِي؟» وَلَوْ كَانَ لَا يَرَاهُ أَوْلِيَاؤُهُ فِي حَالٍ لَمَا كَانَ فِي قَوْلِهِ: «كَيْفَ لَوْ رَأَوْنِي؟» مَعْنًى وَفِي قَوْلِهِ: «لَوْ رَأَوْكَ كَانُوا أَشَدَّ لَكَ تَحْمِيدًا وَتَسْبِيحًا وَتَمْجِيدًا» مُؤَكِّدٌ لِلرُّؤْيَةِ وَدَلَّ عَلَى أَنَّ الْمُعَايَنَةَ أَكْثَرُ مِنَ الْخَبَرِ وَفِي قَوْلِهِ فِي سُؤَالِهِمُ الْجَنَّةَ: «كَيْفَ لَوْ رَأَوْهَا؟» دَلِيلٌ عَلَى أَنَّ الْجَنَّةَ مَوْجُودَةٌ مَخْلُوقَةٌ لِقَوْلِهِ جَلَّ ثَنَاؤُهُ: «كَيْفَ لَوْ رَأَوْهَا؟» وَكَذَلِكَ النَّارُ وَأَنَّ الْخَبَرَ عَنِ الشَّيْءِ وَصِفَتِهِ لَيْسَ كَمُعَايَنَتِهِ، وَدَلِيلٌ عَلَى أَنَّ أَهْلَ الْخَيْرِ وَالْفِقْهِ وَالْعِلْمِ يُسْعَدُ بِمُجَالَسَتِهِمْ وَفِي قَوْلِهِ: «اشْهَدُوا أَنِّي قَدْ غَفَرْتُ لَهُمْ» تَأْكِيدٌ لِمَا تَفَضَّلَ عَلَيْهِمْ بِهِ مِنْ مَغْفِرَتِهِ
২ - উমাইয়্যাহ ইবনে বিসতাম আবু বকর আল-আইশি—যিনি ইয়াজিদ ইবনে জুরাই'র চাচাতো ভাই—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াজিদ ইবনে জুরাই' আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, রাওহ ইবনে কাসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুহাইল ইবনে আবি সালিহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহর কিছু অতিরিক্ত ফেরেশতা রয়েছেন যারা যিকিরের মজলিসগুলো খুঁজে বেড়ান। যখন তারা এমন কোনো মজলিস পান যেখানে যিকির করা হচ্ছে, তখন তারা তাদের সাথে বসে পড়েন এবং তারা নিজেদের এবং দুনিয়ার আসমানের মধ্যবর্তী স্থান পূর্ণ করে দেন। তারা তাদের সাথেই থাকেন যতক্ষণ না তারা বিচ্ছিন্ন হন। যখন তারা বিচ্ছিন্ন হন, তখন তারা আসমানের দিকে উঠে যান বা আরোহণ করেন। তখন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্ল—অথচ তিনি অধিক অবগত—তাদের জিজ্ঞেস করেন: তোমরা কোথা থেকে এসেছ? তারা বলে: আমরা যমিনে আপনার কিছু বান্দার নিকট থেকে এসেছি যারা আপনার প্রশংসা (তাহমীদ) করছিল, আপনার একত্ববাদ (তাহলীল) ঘোষণা করছিল, আপনার মহিমা (তাকবীর) বর্ণনা করছিল, আপনার পবিত্রতা (তাসবীহ) ঘোষণা করছিল এবং আপনার কাছে প্রার্থনা করছিল। তিনি বললেন: তারা ⦗পৃষ্ঠা: ৫৯⦘ আমার কাছে কী প্রার্থনা করছিল? তারা বলল: তারা আপনার কাছে আপনার জান্নাত প্রার্থনা করছিল। তিনি বললেন: "অতঃপর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্ল বলেন:‌‌ তারা কি আমার জান্নাত দেখেছে? আর তারা কী থেকে আমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছিল? তিনি বললেন: "তারা বলে: আপনার জাহান্নাম থেকে।" তিনি বললেন: "তখন তিনি বলেন: তারা কি তা দেখেছে? তিনি বললেন: "তারা বলে: না, হে রব।" তারা বলল: এবং তারা আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছিল। তিনি বললেন: "অতঃপর তিনি বলেন: আমি তাদের ক্ষমা করে দিয়েছি, তারা যা চেয়েছে তা তাদের দান করেছি এবং তারা যা থেকে আশ্রয় চেয়েছে তা থেকে তাদের আশ্রয় দিয়েছি। তিনি বললেন: "তখন তারা বলে: তাদের মধ্যে অমুক পাপিষ্ঠ ব্যক্তিও ছিল। তিনি বললেন: তাকেও আমি ক্ষমা করে দিয়েছি; তারা এমন এক সম্প্রদায় যাদের সঙ্গী দুর্ভাগা হয় না।" আবু বকর বলেন: আল-আ’মাশ বর্ণিত হাদীসটি যেসব অর্থ বহন করে এবং যার প্রতি ইঙ্গিত করে তা হলো যিকিরের জন্য একত্রিত হওয়ার উৎসাহ প্রদান এবং যিকির ও তার জন্য একত্রিত হওয়ার ফযীলত; যেহেতু নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «ফেরেশতারা তাদের ডানা দিয়ে তাদের ঘিরে রাখে»। এটি আরও প্রমাণ করে যে, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্ল আসমানে আছেন এবং তাঁর ইলম (জ্ঞান) যমিনে ও প্রতিটি স্থানে বিদ্যমান; কারণ তিনি বলেছেন: তোমরা কোথা থেকে এসেছ? ⦗পৃষ্ঠা: ৬০⦘ এটি আরও প্রমাণ করে যে, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্ল-কে দেখা যাবে এবং তাঁর প্রিয় বান্দারা শীঘ্রই তাঁকে দেখতে পাবেন; কারণ মহান আল্লাহ বলেছেন: «তারা কি আমাকে দেখেছে?» এবং তাদের উত্তর: «না»। মহান মহিমান্বিত আল্লাহ যদি দৃশ্যমান না হতেন, তবে তাঁর এই কথা: «তারা কি আমাকে দেখেছে» বলার কোনো অর্থ থাকত না। তেমনিভাবে তাঁর এই কথা: «যদি তারা আমাকে দেখত তবে কেমন হতো?» এবং যদি তাঁর প্রিয় বান্দারা কোনো অবস্থাতেই তাঁকে দেখতে না পেতেন, তবে তাঁর এই কথা: «যদি তারা আমাকে দেখত তবে কেমন হতো?»-এর কোনো অর্থ থাকত না। আর তাঁর এই কথা: «যদি তারা তোমাকে দেখত তবে তারা তোমার আরও অধিক প্রশংসা, তাসবীহ ও মহিমা বর্ণনা করত» আল্লাহর দর্শন লাভের বিষয়টিকে সুনিশ্চিত করে। এটি আরও প্রমাণ করে যে, চাক্ষুষ দর্শন সংবাদ শ্রবণের চেয়েও অধিক প্রভাবশালী। জান্নাত প্রার্থনা সম্পর্কে তাঁর কথা: «যদি তারা তা দেখত তবে কেমন হতো?» এটি প্রমাণ করে যে জান্নাত বিদ্যমান ও সৃষ্ট; কারণ মহান আল্লাহ বলেছেন: «যদি তারা তা দেখত তবে কেমন হতো?»। জাহান্নামের ক্ষেত্রেও একই কথা। আর কোনো বস্তু ও তার গুণাবলী সম্পর্কে সংবাদ পাওয়া সেটিকে চাক্ষুষ দেখার মতো নয়। এটি আরও প্রমাণ যে, পুণ্যবান, ফকীহ ও জ্ঞানীদের মজলিসে বসার মাধ্যমে সৌভাগ্য লাভ হয়। আর তাঁর এই কথা: «তোমরা সাক্ষী থাক যে আমি তাদের ক্ষমা করে দিয়েছি» তাদের ওপর তাঁর ক্ষমার যে অনুগ্রহ করেছেন সেটিকে আরও জোরালোভাবে নিশ্চিত করে।
(খণ্ড: ১) আল-মুযাক্কির ওয়াত তাযকীর লিবনি আবী আসিম (পৃষ্ঠা: ৬০)
ذِكْرُ الْقُصَّاصِ سُئِلْتُ عَنْ قَوْمٍ نُسِبُوا إِلَى الْبِدَعِ ابْتَنَوْا دُورًا وَبَنَوْا فِيهَا مَسَاجِدَ ، كُلُّ دَارٍ مَنْسُوبَةٌ إِلَى رَأْسٍ مِنْهُمْ يَقُصُّ وَيَجْتَمِعُ إِلَيْهِ مِنَ النَّاسِ النِّسَاءُ وَضَعَفَةٌ مِنَ الرِّجَالِ فَيُمَوِّهُ عَلَيْهِمْ بِكَلَامٍ قَدْ زَخْرَفَهُ وَيَدْعُوهُمْ إِلَى بِدْعَتِهِ حَتَّى كَثُرَ أَتْبَاعُ هَؤُلَاءِ الْقَوْمِ مَا الَّذِي يَجِبُ عَلَى أَمِيرِ ذَلِكَ الْمِصْرِ أَنْ يَفْعَلَهُ بِهِمْ وَيَفْعَلَهُ فِيهِمْ، وَاعْلَمْ أَكْرَمَكَ اللَّهُ أَنَّ الَّذِيَ يَجِبُ عَلَى الْوَالِي
কিচ্ছাকারদের আলোচনা। আমাকে এমন একদল লোক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে যারা বিদআতের সাথে সম্পৃক্ত। তারা কিছু গৃহ নির্মাণ করেছে এবং তাতে মসজিদ স্থাপন করেছে; প্রতিটি গৃহ তাদের মধ্য হতে এমন একজন নেতার নামে পরিচিত যে কিচ্ছা শোনায় এবং তার নিকট নারী ও দুর্বল পুরুষেরা সমবেত হয়। সে তাদের নিকট সুসজ্জিত বাক্যের মাধ্যমে সত্য-মিথ্যার মিশ্রণ ঘটায় এবং তাদের নিজের বিদআতের দিকে আহ্বান জানায়, যার ফলে এই সম্প্রদায়ের অনুসারী সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এমতাবস্থায় উক্ত শহরের আমিরের জন্য তাদের ব্যাপারে কী করা ওয়াজিব এবং তাদের ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক? জেনে রাখুন, আল্লাহ আপনাকে সম্মানিত করুন, শাসকের ওপর যা ওয়াজিব তা হলো...
(খণ্ড: ১) আল-মুযাক্কির ওয়াত তাযকীর লিবনি আবী আসিম (পৃষ্ঠা: ৬১)
أَنْ يُرْسِلَ إِلَى كُلِّ رَأْسٍ مِنْ هَؤُلَاءِ فَيُحْضِرَهُمْ وَيُحْضِرَ جَمَاعَةً مِنْ أَهْلِ السِّتْرِ وَمَنْ كَانَ مِنْ أَسْبَابِ السُّلْطَانِ بِالْبَلَدِ، فَيَقُولُ الْوَالِي بِحَضْرَتِهِمْ لِلرَّأْسِ الَّذِي دَعَاهُ: أَنْهَاكَ أَنْ تَجْلِسَ لِلنَّاسِ وَتَقُصَّ أَوْ تَجْلِسَ بِعَقِبِ الصَّلَاةِ مَجْلِسًا يَجْتَمِعُ النَّاسُ إِلَيْكَ فِيهِ قَدْ تَقَدَّمْتُ إِلَيْكَ فِي هَذَا فَمَتَى خَالَفْتَ عَاقَبْتُكَ فَيَقُولُ الْوَالِي لِلَّذِينَ حَضَرُوا: اشْهَدُوا عَلَيْهِ أَنِّي قَدْ تَقَدَّمْتُ إِلَيْهِ وَنَهَيْتُهُ مُشَافَهَةً بِحَضْرَتِكُمْ فَاحْفَظُوا الْيَوْمَ الَّذِي خَاطَبْتُهُ فِيهِ فَإِنِّي أَكْرَهُ الْعُقُوبَةَ قَبْلَ التَّقْدِمَةِ ثُمَّ يُرْسِلُ الْوَالِي إِلَى رَأْسٍ رَأْسٍ فَيَتَقَدَّمُ إِلَيْهِ بِمِثْلِ هَذَا فَإِنْ عَادَ بَعْدَ ذَلِكَ لِمِثْلِ ذَلِكَ وَجَبَتْ عُقُوبَتُهُمْ لِخِلَافِ السُّلْطَانِ فَإِنَّ هَذَا أَبْلَغُ ثُمَّ يَأْمُرُ الْوَالِي مُنَادِيًا فَيُنَادِي نِدَاءً ظَاهِرًا أَنَّا قَدْ تَقَدَّمْنَا إِلَى فُلَانِ بْنِ فُلَانٍ وَنَهَيْنَاهُ أَنْ يَجْلِسَ وَيَقُصَّ وَأَنْ يَجْتَمِعَ إِلَيْهِ النَّاسُ وَيَجْلِسَ بِعَقِبِ الصَّلَاةِ وَيَجْلِسَ مَجْلِسًا يَجْتَمِعُ النَّاسُ إِلَيْهِ فِيهِ وَقَدْ بَرَأَتِ الذِّمَّةُ مِمَّنْ أَتَاهُ وَجَلَسَ إِلَيْهِ فَإِنْ عَادُوا بَعْدَ ذَلِكَ لِمَا نَهَاهُمْ عَنْهُ وَلِمَا قَدْ تَقَدَّمَ إِلَيْهِمْ فِي النَّهْيِ عَنْهُ كَانَ لِلسُّلْطَانِ أَنْ يُعَاقِبَهُمْ وَأَنْ يَهْدِمَ الدُّورَ، وَأَمَّا الْمَسَاجِدُ فَإِنْ كَانَتْ بُنِيَتْ لِلَّهِ فَلَا يَجِبُ هَدْمُهَا وَلَا يُسَمِّرُ أَبْوَابَهَا بَلْ يُقِيمُ الْوَالِي مَنْ يَصْلُحُ لِلْأَذَانِ وَالْإِقَامَةِ مِنْ أَهْلِ الْخَيْرِ فَيُقَامُ فِيهَا الصَّلَوَاتُ وَإِنْ شَاءَ الْوَالِي أَنْ يَأْمُرَ مَنْ يَمْتَحِنُهُمْ بِحَضْرَةِ الْوَالِي وَبِحَضْرَةِ مَنْ حَضَرَ بِمَسَائِلَ يَسْأَلُهُمْ عَنْهَا مِنْ أَمْرِ الْوُضُوءِ وَالصَّلَاةِ مِمَّا لَا يَسَعُ جَهْلُهُ لِيَعْلَمَ مَنْ حَضَرَ وَمَنْ نَأَى أَنَّهُمْ يَسْتَحِقُّونَ مَا فَعَلَ بِهِمْ
ওয়ালি এই দলগুলোর প্রত্যেক প্রধানের নিকট লোক পাঠাবেন এবং তাদের উপস্থিত করবেন; সাথে শহরের পর্দানশীন সচ্চরিত্র ব্যক্তিবর্গ এবং সুলতানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও উপস্থিত করবেন। অতঃপর ওয়ালি তাদের উপস্থিতিতে সেই প্রধানকে বলবেন যাকে তিনি ডেকেছেন: "আমি তোমাকে লোকদের নিয়ে বসতে এবং কিচ্ছা শোনাতে অথবা সালাতের পর এমন মজলিস করতে নিষেধ করছি যেখানে লোকেরা তোমার নিকট সমবেত হয়। আমি তোমাকে এ বিষয়ে ইতিপূর্বেই সতর্ক করেছি; সুতরাং যখনই তুমি এর বিরুদ্ধাচরণ করবে, আমি তোমাকে শাস্তি দেব।" অতঃপর ওয়ালি উপস্থিত ব্যক্তিদের বলবেন: "আপনারা তার ব্যাপারে সাক্ষী থাকুন যে, আমি তাকে সতর্ক করেছি এবং আপনাদের উপস্থিতিতে মৌখিকভাবে তাকে নিষেধ করেছি। আমি তাকে যে দিন সম্বোধন করেছি সেই দিনটি আপনারা স্মরণ রাখুন; কেননা আমি সতর্ক করার পূর্বে শাস্তি প্রদান করা অপছন্দ করি।" এরপর ওয়ালি প্রত্যেক প্রধানের নিকট লোক পাঠাবেন এবং তাদের সাথেও অনুরূপ আচরণ করবেন। যদি তারা এরপরও পুনরায় এমন কাজ করে, তবে সুলতানের অবাধ্যতার কারণে তাদের শাস্তি প্রদান করা আবশ্যক হবে; কারণ এই সতর্কবার্তা অত্যন্ত জোরালো। অতঃপর ওয়ালি একজন ঘোষণাকারীকে নির্দেশ দেবেন এবং সে উচ্চস্বরে ঘোষণা করবে যে: "আমরা অমুকের পুত্র অমুককে সতর্ক করেছি এবং তাকে (লোকদের সামনে) বসতে ও কিচ্ছা শোনাতে এবং তার নিকট মানুষের সমবেত হওয়া ও সালাতের পর এমন মজলিস করা থেকে নিষেধ করেছি যেখানে মানুষ তার কাছে একত্রিত হয়। এরপরও যে ব্যক্তি তার নিকট আসবে এবং তার সাথে বসবে, তার ব্যাপারে দায়মুক্তি ঘটল।" অতঃপর তারা যদি সেই নিষিদ্ধ কাজের দিকে ফিরে যায় যে ব্যাপারে তাদের আগে নিষেধ করা হয়েছিল, তবে সুলতানের জন্য তাদের শাস্তি প্রদান করা এবং ঘরবাড়ি ধ্বংস করার অধিকার থাকবে। তবে মসজিদগুলোর ব্যাপারে কথা হলো, যদি সেগুলো আল্লাহর জন্য নির্মিত হয়ে থাকে, তবে তা ধ্বংস করা যাবে না এবং সেগুলোর দরজায় পেরেক মারা যাবে না। বরং ওয়ালি সেখানে সৎ ব্যক্তিদের মধ্য থেকে আযান ও ইকামতের জন্য যোগ্য ব্যক্তি নিয়োগ করবেন, যেন সেখানে সালাতসমূহ কায়েম করা হয়। আর ওয়ালি যদি চান তবে এমন কাউকে নির্দেশ দিতে পারেন যে ওয়ালির এবং উপস্থিত ব্যক্তিদের সামনে তাদেরকে অযু ও সালাতের এমন সব মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে পরীক্ষা করবে যা প্রতিটি মুসলিমের জানা আবশ্যক; যাতে উপস্থিত ও অনুপস্থিত সকলে জানতে পারে যে তাদের সাথে যা করা হয়েছে তারা প্রকৃতপক্ষে তারই যোগ্য ছিল।
(খণ্ড: ১) আল-মুযাক্কির ওয়াত তাযকীর লিবনি আবী আসিম (পৃষ্ঠা: ৬২)
3 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ نَجْدَةَ الْحَوْطِيُّ، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ بْنُ الْوَلِيدِ، عَنِ الزُّبَيْدِيِّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ، قَالَ: " لَمْ يُقَصَّ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلَا عَهْدِ أَبِي بَكْرٍ وَلَا عَهْدِ عُمَرَ ⦗ص: 63⦘ رضي الله عنهما، وَأَوَّلُ مَنْ قَصَّ تَمِيمٌ الدَّارِيُّ اسْتَأْذَنَ عُمَرَ أَنْ يَقُصَّ فَأَذِنَ لَهُ أَنْ يَقُصَّ قَائِمًا عَلَى رِجْلَيْهِ
৩ - আবদুল ওয়াহহাব বিন নাজদাহ আল-হাউতি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, বাকিয়্যাহ বিন আল-ওয়ালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-জুবাইদি থেকে, তিনি আল-জুহরি থেকে, তিনি আস-সাইব বিন ইয়াজিদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে, আবু বকরের যুগে কিংবা উমরের যুগে ⦗পৃষ্ঠা: ৬৩⦘ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) কোনো কিসসা (ধর্মীয় কাহিনী) বর্ণনা করা হতো না। সর্বপ্রথম যিনি কিসসা বর্ণনা করেন তিনি হলেন তামীম আদ-দারি; তিনি উমরের নিকট কিসসা বর্ণনা করার অনুমতি প্রার্থনা করলে তিনি তাঁকে নিজের দুই পায়ে দাঁড়িয়ে কিসসা বর্ণনা করার অনুমতি প্রদান করেন।"
(খণ্ড: ১) আল-মুযাক্কির ওয়াত তাযকীর লিবনি আবী আসিম (পৃষ্ঠা: ৬৪)
4 - حَدَّثَنَا الْمُقَدَّمِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ الْبَلْخِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ:‌‌ لَمْ يَكُنْ يُقَصُّ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلَا عَهْدِ أَبِي بَكْرٍ وَلَا عَهْدِ عُمَرَ وَلَا عَهْدِ عُثْمَانَ رضي الله عنهم وَإِنَّمَا هُوَ شَيْءٌ أُحْدِثَ بَعْدَ مَا وَقَعَتِ الْفِتْنَةُ
৪ - আল-মুকাদ্দামী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু সাঈদ আল-বালখী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উবাইদুল্লাহ থেকে, তিনি নাফে’ থেকে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে, আবু বকর (রা.)-এর যুগে, উমর (রা.)-এর যুগে এবং উসমান (রা.)-এর যুগে কিসসা-কাহিনী বর্ণনা করা হতো না —আল্লাহ তাদের সবার প্রতি সন্তুষ্ট হোন— বরং এটি মূলত এমন এক বিষয় যা ফিতনা সংঘটিত হওয়ার পর উদ্ভাবন করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-মুযাক্কির ওয়াত তাযকীর লিবনি আবী আসিম (পৃষ্ঠা: ৬৫)
5 - حَدَّثَنَا دُحَيْمٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نَافِعٍ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ، عَنِ ⦗ص: 66⦘ الزُّهْرِيِّ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنْ تَمِيمًا الدَّارِيَّ اسْتَأْذَنَ عُمَرَ رضي الله عنه أَنْ يَقُصَّ فَلَمْ يَأْذَنْ لَهُ ثُمَّ اسْتَأْذَنَهُ فَقَالَ لَهُ عُمَرُ: تَقُولُ مَاذَا؟ فَقَالَ: "‌‌ أَقْرَأُ عَلَيْهِمُ الْقُرْآنَ وَأُذَكِّرُهُمْ وَأَعِظُهُمْ، قَالَ: فَأَذِنَ لَهُ فِي الْأُسْبُوعِ يَوْمًا وَاحِدًا ثُمَّ اسْتَأْذَنَ عُثْمَانُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَأَذِنَ لَهُ ثُمَّ اسْتَزَادَهُ فَزَادَهُ يَوْمًا وَاحِدًا وَقَدْ كَانَ اسْتَزَادَ عُمَرَ يَوْمًا وَاحِدًا فَلَمْ يَأْذَنْ لَهُ "
৫ - আমাদের নিকট দুহাইম বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বিন নাফি বর্ণনা করেছেন উসামা বিন যায়েদ থেকে, তিনি ⦗পৃষ্ঠা: ৬৬⦘ যুহরি থেকে, তিনি হুমায়িদ বিন আবদুর রহমান থেকে বর্ণনা করেন যে, তামীম আদ-দারি উমর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর নিকট নসিহত করার অনুমতি চাইলেন, কিন্তু তিনি তাঁকে অনুমতি দিলেন না। এরপর তিনি পুনরায় তাঁর কাছে অনুমতি চাইলেন। তখন উমর তাঁকে বললেন: তুমি কী বলবে? তিনি বললেন: "‌‌আমি তাদের নিকট কুরআন তিলাওয়াত করব, তাদের (আল্লাহর কথা) স্মরণ করিয়ে দেব এবং তাদের উপদেশ দান করব। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: তখন তিনি তাঁকে সপ্তাহে একদিনের অনুমতি দিলেন। এরপর উসমান (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর নিকট অনুমতি চাওয়া হলে তিনি তাঁকে অনুমতি দিলেন। এরপর তিনি তাঁর কাছে (দিনের সংখ্যা) বৃদ্ধির আবেদন করলে তিনি তাঁকে আরও একদিন বাড়িয়ে দিলেন। অথচ তিনি ইতিপূর্বে উমরের কাছেও একদিন বৃদ্ধির আবেদন করেছিলেন, কিন্তু তিনি তাঁকে অনুমতি দেননি।"
(খণ্ড: ১) আল-মুযাক্কির ওয়াত তাযকীর লিবনি আবী আসিম (পৃষ্ঠা: ৬৭)
6 - حَدَّثَنَا أَبُو مُوسَى، حَدَّثَنَا الضَّحَّاكُ بْنُ مَخْلَدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا صَالِحُ بْنُ أَبِي عُرَيْبٍ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ مُرَّةَ، قَالَ: دَخَلَ عَوْفُ بْنُ مَالِكٍ الْمَسْجِدَ وَابْنُ عَبْدِ كُلَالٍ فَإِذَا جَمَاعَةٌ قَالَ: فَقَالَ عَوْفٌ: مَا هَذِهِ الْجَمَاعَةُ؟ قَالُوا: كَعْبٌ يَقُصُّ. قَالَ: يَا وَيْحَهُ، أَمَا سَمِعَ قَوْلَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ⦗ص: 68⦘: ‌‌«لَا يَقُصُّ إِلَّا أَمِيرٌ أَوْ مَأْمُورٌ أَوْ مُرَاءٍ أَوْ مُخْتَالٌ»
৬ - আবু মূসা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, দাহহাক ইবনে মাখলাদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবদুল হামীদ ইবনে জাফর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, সালেহ ইবনে আবি উরাইব আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, কাসীর ইবনে মুররাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আউফ ইবনে মালিক এবং ইবনে আবদ কুলাল মসজিদে প্রবেশ করলেন এবং সেখানে একদল লোক দেখতে পেলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আউফ জিজ্ঞেস করলেন: এই জনসমাবেশ কিসের? তারা বললেন: কা’ব নসীহত করছেন। আউফ বললেন: তার জন্য আফসোস! সে কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী শোনেনি? ⦗পৃষ্ঠা: ৬৮⦘: ‌‌«আমীর, কিংবা আদিষ্ট ব্যক্তি, অথবা রিয়াকার কিংবা অহংকারী ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ যেন নসীহত বা কাহিনী বর্ণনা না করে»
(খণ্ড: ১) আল-মুযাক্কির ওয়াত তাযকীর লিবনি আবী আসিম (পৃষ্ঠা: ৬৯)
7 - حَدَّثَنِي يَعْقُوبُ بْنُ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا أَبُو صَالِحٍ، حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ ⦗ص: 70⦘ مُضَرَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ بُكَيْرٍ، أَنَّ يَعْقُوبَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ الْأَشَجَّ، وَابْنَ أَبِي حَفْصَةَ، حَدَّثَاهُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ زَيْدٍ قَاصَّ مَسْلَمَةَ ⦗ص: 71⦘ بِالْقُسْطَنْطِينِيَّةِ حَدَّثَهُمَا أَنَّ عَوْفَ بْنَ مَالِكٍ الْأَشْجَعِيَّ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: ‌‌«لَا يَقُصُّ عَلَى النَّاسِ إِلَّا أَمِيرٌ أَوْ مَأْمُورٌ أَوْ مُخْتَالٌ»
৭ - ইয়াকুব ইবনে সুফিয়ান আমাকে বর্ণনা করেছেন, আবু সালিহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, বকর ইবনে ⦗পৃষ্ঠা: ৭০⦘ মুদার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর ইবনুল হারিস থেকে, তিনি বুকাইর থেকে বর্ণনা করেন যে, ইয়াকুব ইবনে আবদুল্লাহ আল-আশাজ এবং ইবনে আবি হাফসাহ তাকে বর্ণনা করেছেন যে, কুস্তুনতিনিয়ায় মাসলামার ধর্মোপদেশক আবদুল্লাহ ইবনে যায়েদ ⦗পৃষ্ঠা: ৭১⦘ তাদের দুজনকে বর্ণনা করেছেন যে, আউফ ইবনে মালিক আল-আশজাঈ বলেছেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «শাসক, অথবা আদিষ্ট ব্যক্তি কিংবা অহঙ্কারী ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কেউ মানুষের নিকট কাহিনী বা উপদেশ বর্ণনা করে না»
(খণ্ড: ১) আল-মুযাক্কির ওয়াত তাযকীর লিবনি আবী আসিম (পৃষ্ঠা: ৭২)
8 - حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حُمَيْدٍ، عَنْ ابْنِ أَبِي عَبْلَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي عَمْرٍو السَّيْبَانِيِّ، عَنْ عَوْفِ بْنِ مَالِكٍ، رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ:‌‌ لَا يَقُصُّ عَلَى النَّاسِ إِلَّا أَمِيرٌ أَوْ مَأْمُورٌ أَوْ مُخْتَالٌ "
৮ - হিশাম ইবনে আম্মার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে হুমাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবনে আবি আবলাহ থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আবি আমর আস-সাইবানী থেকে, তিনি আওফ ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “আমীর (শাসক), অথবা আদিষ্ট ব্যক্তি, কিংবা অহংকারী ব্যক্তি ব্যতীত আর কেউ মানুষের নিকট ওয়াজ-নসীহত করবে না।”
(খণ্ড: ১) আল-মুযাক্কির ওয়াত তাযকীর লিবনি আবী আসিম (পৃষ্ঠা: ৭৪)
9 - حَدَّثَنَا دُحَيْمٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَحْيَى، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ أَبِي الزَّاهِرِيَّةِ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنْ كَعْبِ بْنِ عِيَاضٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ⦗ص: 75⦘ قَالَ:‌‌ الْقُصَّاصُ ثَلَاثَةٌ أَمِيرٌ أَوْ مَأْمُورٌ أَوْ مُخْتَالٌ "
৯ - দুহাইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুআবিয়াহ ইবনে সালিহ থেকে বর্ণিত, তিনি আবুয যাহিরিয়্যাহ থেকে, তিনি জুবায়ের ইবনে নুফাইর থেকে, তিনি কাব ইবনে ইয়াদ থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ৭৫⦘ যে, তিনি বলেছেন: কাহিনীকার বা ওয়ায়েজগণ তিন প্রকার: আমির (শাসক), অথবা আদিষ্ট ব্যক্তি, নতুবা অহংকারী।
(খণ্ড: ১) আল-মুযাক্কির ওয়াত তাযকীর লিবনি আবী আসিম (পৃষ্ঠা: ৭৬)
10 - حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا هِقْلُ بْنُ زِيَادٍ، عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَامِرٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ⦗ص: 77⦘ قَالَ: ‌‌«لَا يَقُصُّ عَلَى النَّاسِ إِلَّا أَمِيرٌ أَوْ مَأْمُورٌ»
১০ - হিশাম ইবনে আম্মার আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, হিকল ইবনে যিয়াদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আওযাঈ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আমির থেকে, তিনি আমর ইবনে শুয়াইব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে ⦗পৃষ্ঠা: ৭৭⦘ বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: «আমির (শাসক) অথবা নির্দেশপ্রাপ্ত ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কেউ জনগণের নিকট উপদেশ বা কিচ্ছা বর্ণনা করবে না»
(খণ্ড: ১) আল-মুযাক্কির ওয়াত তাযকীর লিবনি আবী আসিম (পৃষ্ঠা: ৭৮)
11 - حَدَّثَنَا ابْنُ مُصَفَّى، حَدَّثَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عَيَّاشٍ، عَنْ ثَعْلَبَةَ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ أَبِي عِمْرَانَ الْأَنْصَارِيِّ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ⦗ص: 79⦘ قَالَ: ‌‌«لَا يَقُصُّ عَلَى النَّاسِ إِلَّا أَمِيرٌ أَوْ مَأْمُورٌ أَوْ مُتَكَلِّفٌ»
১১ - আমাদের নিকট ইবন মুসাফফা বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু আল-মুগীরা বর্ণনা করেছেন, ইসমাঈল ইবন আইয়াশ থেকে, তিনি ছালাবা ইবন মুসলিম থেকে, তিনি আবু ইমরান আল-আনসারী থেকে, তিনি উবাদাহ ইবনুস সামিত থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ৭৯⦘ তিনি বলেছেন: «আমীর, অথবা আদিষ্ট ব্যক্তি, অথবা লৌকিকতা প্রদর্শনকারী ব্যতীত অন্য কেউ মানুষের নিকট বয়ান করবে না»
(খণ্ড: ১) আল-মুযাক্কির ওয়াত তাযকীর লিবনি আবী আসিম (পৃষ্ঠা: ৮০)
12 - حَدَّثَنَا ابْنُ مُصَفَّى، حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ زُهَيْرٍ، عَنِ ابْنِ حَرْمَلَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«لَا يَقُصُّ إِلَّا أَمِيرٌ أَوْ مَأْمُورٌ أَوْ مُرَاءٍ»

⦗ص: 81⦘

 

13 - حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ الْوَلِيدِ الْخَلَّالُ الدِّمَشْقِيُّ، وَكَانَ فِي هَيْئَتِهِ وَنَفْسِهِ يُشَبَّهُ بِالنُّسَّاكِ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عُمَرَ بْنِ ذَرٍّ عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَا يَقُصُّ عَلَى النَّاسِ إِلَّا ثَلَاثَةٌ» فَذَكَرَهُ
১২ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইবনে মুসাফফা, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সুওয়াইদ ইবনে আব্দুল আযীয, যুহাইর থেকে বর্ণিত, তিনি ইবনে হারমালা থেকে, তিনি আমর ইবনে শুআইব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমীর, অথবা আদিষ্ট ব্যক্তি, অথবা লোক প্রদর্শনকারী (রিয়াকার) ব্যতীত কেউ ওয়াজ-নসীহত করবে না»

⦗পৃষ্ঠা: ৮১⦘

 

১৩ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্বাস ইবনুল ওয়ালীদ আল-খাল্লাল আদ-দিমাশকী—তিনি তাঁর বাহ্যিক বেশভূষা ও স্বভাব-চরিত্রে আবেদগণের (ইবাদতগুজার) সদৃশ ছিলেন—আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন খালিদ ইবনে আব্দুর রহমান, উমর ইবনে যার থেকে বর্ণিত, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: «তিন প্রকার ব্যক্তি ব্যতীত মানুষের নিকট কেউ ওয়াজ-নসীহত করবে না» অতঃপর তিনি পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুযাক্কির ওয়াত তাযকীর লিবনি আবী আসিম (পৃষ্ঠা: ৮২)
14 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِي حُصَيْنٍ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ عَلِيًّا، رضي الله عنه رَأَى رَجُلًا يَقُصُّ فَقَالَ: عَلِمْتَ النَّاسِخَ مِنَ الْمَنْسُوخِ؟ فَقَالَ: لَا، قَالَ: هَلَكْتَ وَأَهْلَكْتَ ⦗ص: 83⦘. وَهَذَا دَلِيلٌ عَلَى امْتِحَانِ الْقَاصِّ
১৪ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইবন আবি শায়বাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি আবু হুসাইন থেকে, তিনি আবু আবদুর রহমান থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) জনৈক ব্যক্তিকে ধর্মীয় গল্প বা ওয়াজ শোনাতে দেখলেন। তখন তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন: "তুমি কি নাসিখ (রহিতকারী) এবং মানসুখ (রহিত) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করেছ?" সে বলল: "না।" তিনি বললেন: "তুমি নিজেও ধ্বংস হয়েছ এবং অন্যদেরও ধ্বংস করেছ।" ⦗পৃষ্ঠা: ৮৩⦘। আর এটি একজন গল্পকার বা বক্তাকে পরীক্ষা করার একটি দলিল।
(খণ্ড: ১) আল-মুযাক্কির ওয়াত তাযকীর লিবনি আবী আসিম (পৃষ্ঠা: ৮৪)
15 - حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ عَمْرٍو، عَنِ الْأَزْهَرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْهَوْزَنِيِّ، عَنْ أَبِي عَامِرٍ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ لُحَيّ الْهَوْزَنِيِّ أَنَّهُ سَمِعَهُ يَقُولُ: حَجَجْنَا مَعَ مُعَاوِيَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ رضي الله عنهما فَلَمَّا قَدِمْنَا مَكَّةَ أُخْبِرَ بِأَنَّ قَاصًّا يَقُصُّ عَلَى أَهْلِ مَكَّةَ مَوْلًى لِبَنِي مَخْزُومٍ فَأَرْسَلَ إِلَيْهِ مُعَاوِيَةُ فَقَالَ: أُمِرْتَ بِالْقَصَصِ؟ قَالَ: لَا، قَالَ: فَمَا حَمَلَكَ عَلَى أَنْ تَقُصَّ بِغَيْرِ إِذْنٍ؟ قَالَ: نَنْشُرُ عِلْمًا عَلَّمَنَاهُ اللَّهُ قَالَ: لَوْ كُنْتُ تَقَدَّمْتُ إِلَيْكَ قَبْلَ مَرَّتِي هَذِهِ لَقَطَعْتُ مِنْكَ طَابِقًا ثُمَّ قَامَ حِينَ صَلَّى الظُّهْرَ بِمَكَّةَ فَقَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ⦗ص: 85⦘: ‌‌«إِنَّ أَهْلَ الْكِتَابَيْنِ افْتَرَقُوا فِي دِينِهِمْ عَلَى ثِنْتَيْنِ وَسَبْعِينَ مِلَّةً وَإِنَّ هَذِهِ الْأُمَّةَ سَتَفْتَرِقُ عَلَى ثَلَاثٍ وَسَبْعِينَ مِلَّةً فِي الْأَهْوَاءِ، كُلُّهَا فِي النَّارِ إِلَّا وَاحِدَةً وَإِنَّهَا الْجَمَاعَةُ وَإِنَّهُ سَيَخْرُجُ فِي أُمَّتِي قَوْمٌ تَتَجَارَى بِهِمْ تِلْكَ الْأَهْوَاءُ كَمَا يَتَجَارَى الْكَلْبُ بِصَاحِبِهِ وَلَا يَبْقَى مِنْهُ عِرْقٌ وَلَا مَفْصِلٌ إِلَّا دَخَلَهُ» وَاللَّهِ يَا مَعْشَرَ الْعَرَبِ لَئِنْ لَمْ تَقُومُوا بِمَا جَاءَ بِهِ نَبِيُّكُمْ صلى الله عليه وسلم لَغَيْرُكُمْ مِنَ النَّاسِ أَحْرَى أَنْ لَا يَقُومَ بِهِ
১৫ - হিশাম বিন আম্মার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসমাইল বিন আইয়াশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাফওয়ান বিন আমর থেকে, তিনি আল-আযহার বিন আব্দুল্লাহ আল-হাওযানী থেকে, তিনি আবু আমির আব্দুল্লাহ বিন লুহাই আল-হাওযানী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাকে বলতে শুনেছেন: আমরা মুয়াবিয়া বিন আবু সুফিয়ান (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সাথে হজ পালন করলাম। যখন আমরা মক্কায় পৌঁছলাম, তখন তাকে জানানো হলো যে, বনু মাখযুম গোত্রের একজন আযাদকৃত দাস মক্কাবাসীদের নিকট কিচ্ছা-কাহিনী বর্ণনা (ওয়াজ) করছে। তখন মুয়াবিয়া তার নিকট লোক পাঠালেন এবং বললেন: তোমাকে কি কিচ্ছা বর্ণনা করার আদেশ দেওয়া হয়েছে? তিনি বললেন: না। মুয়াবিয়া বললেন: তবে অনুমতি ব্যতীত কিসে তোমাকে কিচ্ছা বর্ণনা করতে উদ্বুদ্ধ করল? তিনি বললেন: আল্লাহ আমাদের যে ইলম শিক্ষা দিয়েছেন আমরা তা প্রচার করছি। তিনি বললেন: আমি যদি এর আগে তোমাকে এ ব্যাপারে সতর্ক করতাম, তবে তোমার দেহের একটি অঙ্গ কেটে ফেলতাম। অতঃপর তিনি মক্কায় যোহরের নামায আদায়ের পর দাঁড়িয়ে বললেন: নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ৮৫⦘: «নিশ্চয়ই দুই কিতাবধারী জাতি (ইহুদি ও নাসারা) তাদের দ্বীনের ব্যাপারে বাহাত্তরটি দলে বিভক্ত হয়েছিল। আর অচিরেই এই উম্মত তিয়াত্তরটি দলে বিভক্ত হবে প্রবৃত্তির বশবর্তী হওয়ার কারণে; যার প্রতিটিই জাহান্নামী হবে একটি দল ব্যতীত, আর সেটি হলো ‘আল-জামাআহ’। অচিরেই আমার উম্মতের মধ্যে এমন এক সম্প্রদায়ের উদ্ভব ঘটবে যাদের মধ্যে সেই সব প্রবৃত্তি এমনভাবে মিশে যাবে যেমন জলাতঙ্ক রোগীর শরীরে বিষ মিশে যায়, যার ফলে তার কোনো শিরা বা কোনো জোড়া বাকি থাকে না যেখানে তা প্রবেশ করে না।» আল্লাহর কসম, হে আরব জাতি! তোমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা নিয়ে এসেছেন তা যদি তোমরা প্রতিষ্ঠা না করো, তবে তোমাদের ছাড়া অন্য মানুষেরা তা প্রতিষ্ঠা না করার ক্ষেত্রে আরও বেশি অগ্রগণ্য হবে।
(খণ্ড: ১) আল-মুযাক্কির ওয়াত তাযকীর লিবনি আবী আসিম (পৃষ্ঠা: ৮৬)
16 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ مُصَفَّى، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ عَمْرٍو، حَدَّثَنِي الْأَزْهَرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَرَازِيُّ، عَنْ أَبِي عَامِرٍ الْهَوْزَنِيِّ، قَالَ: حَجَجْتُ مَعَ مُعَاوِيَةَ فَلَمَّا قَدِمْنَا مَكَّةَ حُدِّثَ بِرَجُلٍ يَقُصُّ وَيُفْتِي مَوْلًى لِبَنِي مَخْزُومٍ فَأَرْسَلَ إِلَيْهِ فَقَالَ: أُمِرْتَ بِهَذَا؟ قَالَ: لَا، قَالَ: فَمَا حَمَلَكَ عَلَيْهِ؟ قَالَ نُفْتِي وَنَنْشُرُ عِلْمًا عِنْدَنَا، قَالَ مُعَاوِيَةُ لَوْ تَقَدَّمْتُ إِلَيْكَ قَبْلَ مَرَّتِي هَذِهِ لَقَطَعْتُ مِنْكَ طَابِقًا قَالَ: فَلَمَّا صَلَّى صَلَاةَ الظُّهْرِ قَعَدَ عَلَى الْمِنْبَرِ فَقَالَ: يَا مَعْشَرَ الْعَرَبِ، وَاللَّهِ لَئِنْ لَمْ تَقُومُوا بِمَا جَاءَ بِهِ نَبِيُّكُمْ صلى الله عليه وسلم لَغَيْرُكُمْ مِنَ النَّاسِ أَحْرَى أَنْ لَا يَقُومَ بِهِ، أَلَا إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَامَ يَوْمًا فَذَكَرَ أَنَّ أَهْلَ الْكِتَابِ قَبْلَكُمْ قَدِ افْتَرَقُوا عَلَى اثْنَتَيْنِ وَسَبْعِينَ فِرْقَةً فِي الْأَهْوَاءِ أَلَا وَإِنَّ هَذِهِ الْأُمَّةَ‌‌ سَتَفْتَرِقُ عَلَى ثَلَاثٍ وَسَبْعِينَ فِرْقَةً كُلُّهَا فِي النَّارِ إِلَّا وَاحِدَةً وَهِيَ الْجَمَاعَةُ، أَلَا إِنَّهُ سَيَخْرُجُ فِي أُمَّتِي أَقْوَامٌ يَهْوُونَ هَوًى تَتَجَارَى بِهِمْ تِلْكَ الْأَهْوَاءُ كَمَا يَتَجَارَى ⦗ص: 87⦘ الْكَلْبُ بِصَاحِبِهِ لَا يَبْقَى مِنْهُ عِرْقٌ وَلَا مَفْصِلٌ إِلَّا دَخَلَهُ

⦗ص: 88⦘

 

17 - حَدَّثَنَا دُحَيْمٌ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا صَفْوَانُ، حَدَّثَنَا الْأَزْهَرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ لُحَيٍّ أَبُو عَامِرٍ، قَالَ: حَجَجْتُ مَعَ مُعَاوِيَةَ، يَعْنِي فَذَكَرَهُ
১৬ - মুহাম্মদ ইবনে মুসাফ্ফা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, বাকিয়্যাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাফওয়ান ইবনে আমর থেকে, আল-আযহার ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হারাজি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আমির আল-হাওযানি থেকে, তিনি বলেন: আমি মুয়াবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে হজ্জ করেছি। যখন আমরা মক্কায় পৌঁছলাম, বনু মাখযুমের এক মুক্তদাস সম্পর্কে জানানো হলো যে সে কিচ্ছা শোনায় এবং ফতোয়া দেয়। তখন মুয়াবিয়া তাকে ডেকে পাঠালেন এবং বললেন: তোমাকে কি এর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে? সে বলল: না। তিনি বললেন: তবে কোন বিষয় তোমাকে এতে উদ্বুদ্ধ করল? সে বলল: আমরা ফতোয়া দেই এবং আমাদের নিকট থাকা ইলম প্রচার করি। মুয়াবিয়া বললেন: আমি যদি এর আগে তোমাকে সতর্ক করতাম, তবে আমি তোমার শরীরের একটি অংশ বিচ্ছিন্ন করতাম। বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর তিনি যখন যোহরের সালাত আদায় করলেন, মিম্বরে বসলেন এবং বললেন: হে আরব সম্প্রদায়, আল্লাহর কসম, যদি তোমরা তোমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা নিয়ে এসেছেন তা প্রতিষ্ঠা না করো, তবে তোমাদের ছাড়া অন্যান্য মানুষ তা না করারই অধিক যোগ্য। জেনে রাখো, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদিন দাঁড়িয়েছিলেন এবং উল্লেখ করেছিলেন যে, তোমাদের পূর্ববর্তী আহলে কিতাবরা বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছিল। জেনে রাখো, এই উম্মত‌ অচিরেই তেয়াত্তর দলে বিভক্ত হবে, যার সবকটিই জাহান্নামে যাবে কেবল একটি ছাড়া; আর সেটি হলো আল-জামাআহ। জেনে রাখো, আমার উম্মতের মধ্যে এমন কিছু সম্প্রদায়ের বহিপ্রকাশ ঘটবে যারা এমন সব কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করবে যা তাদের মধ্যে এমনভাবে সঞ্চারিত হবে যেমন ⦗পৃষ্ঠা: ৮৭⦘ জলাতঙ্কগ্রস্ত কুকুরের বিষ আক্রান্ত ব্যক্তির দেহে সঞ্চারিত হয়; তার কোনো রগ বা জোড়া বাকি থাকে না যেখানে তা প্রবেশ করে না।

⦗পৃষ্ঠা: ৮৮⦘

 

১৭ - দুহাইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাফওয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-আযহার ইবনে আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে লুহাই আবু আমির আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মুয়াবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে হজ্জ করেছি—অতঃপর তিনি পূর্বোক্ত হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুযাক্কির ওয়াত তাযকীর লিবনি আবী আসিম (পৃষ্ঠা: ৮৯)
18 - حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ الصَّبَّاحِ الْبَزَّارُ، حَدَّثَنَا الْهَيْثَمُ بْنُ خَارِجَةَ، حَدَّثَنَا شِهَابُ بْنُ خِرَاشٍ، عَنْ حَجَّاجِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ أَبِي مَعْشَرٍ، عَنْ ⦗ص: 90⦘ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، قَالَ سَمِعْتُ عَلِيًّا، عَلَى الْمِنْبَرِ وَضَرَبَ يَدَهُ عَلَى مِنْبَرِ الْكُوفَةِ يَقُولُ:‌‌ بَلَغَنِي أَنَّ قَوْمًا يُفَضِّلُونَنِي عَلَى أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ وَلَوْ كُنْتُ تَقَدَّمْتُ فِي ذَلِكَ لَعَاقَبْتُ وَلَكِنِّي أَكْرَهُ الْعُقُوبَةَ قَبْلَ التَّقْدِمَةِ، مَنْ قَالَ شَيْئًا مِنْ هَذَا فَهُوَ مُفْتَرٍ عَلَيْهِ مَا عَلَى الْمُفْتَرِي
১৮ - হাসান ইবন আস-সাব্বাহ আল-বাযযার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-হাইসাম ইবন খারিজাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শিহাব ইবন খিরাশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাজ্জাজ ইবন দীনার থেকে, আবু মা'শার থেকে, ⦗পৃষ্ঠা: ৯০⦘ ইবরাহীম থেকে, আলকামাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে মিম্বারের ওপর বলতে শুনেছি—এমতাবস্থায় তিনি কুফার মিম্বারের ওপর হাত মেরে বলছিলেন—: আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, একদল লোক আমাকে আবু বকর ও উমরের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিচ্ছে। যদি আমি এ বিষয়ে আগে কোনো সিদ্ধান্ত দিতাম তবে অবশ্যই শাস্তি দিতাম; কিন্তু আমি শাস্তি প্রদান করা অপছন্দ করি ঘোষণার পূর্বে; যে ব্যক্তি এরুপ কোনো কথা বলবে সে একজন অপবাদদাতা, আর অপবাদদাতার ওপর যা (শাস্তি) বর্তায় তার ওপরও তাই বর্তাবে।
(খণ্ড: ১) আল-মুযাক্কির ওয়াত তাযকীর লিবনি আবী আসিম (পৃষ্ঠা: ৯১)
19 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: بَلَغَ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ أَنَّ نَاسًا، يَجْتَمِعُونَ فِي بَيْتِ فَاطِمَةَ فَأَتَاهَا فَقَالَ: يَا بِنْتَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا كَانَ أَحَدٌ مِنَ النَّاسِ‌‌ أَحَبَّ إِلَيْنَا مِنْ أَبِيكِ وَلَا بَعْدَ أَبِيكِ أَحَبَّ إِلَيْنَا مِنْكِ فَقَدْ بَلَغَنِي أَنَّ هَؤُلَاءِ النَّفْرَ يَجْتَمِعُونَ عِنْدَكِ وَايْمُ اللَّهِ لَئِنْ بَلَغَنِي ذَلِكَ لَأُحَرِّقَنَّ عَلَيْهِمُ الْبَيْتَ فَلَمَّا جَاءُوا فَاطِمَةَ قَالَتْ: إِنَّ ابْنَ الْخَطَّابِ قَالَ كَذَا وَكَذَا فَإِنَّهُ فَاعِلٌ ذَلِكَ، فَتَفَرَّقُوا حَتَّى بُويِعَ لِأَبِي بَكْرٍ رضي الله عنه فَفِي قَوْلِ مُعَاوِيَةَ لِلْقَاصِّ: لَوْ كُنْتُ تَقَدَّمْتُ إِلَيْكَ لَقَطَعْتُ مِنْكَ ⦗ص: 92⦘ طَابِقًا دَلَّ بِذَلِكَ عَلَى أَنَّ الْمُخَالِفَ إِذَا خَالَفَ لِمَا نُهِيَ عَنْهُ أَوْجَبَ ذَلِكَ عُقُوبَتَهُ
১৯ - আবু বকর ইবন আবি শায়বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবন বিশর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উবায়দুল্লাহ ইবন উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যায়দ ইবন আসলাম হতে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাবের নিকট সংবাদ পৌঁছাল যে, কিছু লোক ফাতিমার ঘরে একত্রিত হচ্ছে। তখন তিনি তাঁর নিকট আসলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা! মানুষের মাঝে কেউ আমাদের নিকট আপনার পিতার চেয়ে অধিক প্রিয় ছিল না এবং আপনার পিতার পর আপনার চেয়ে অধিক প্রিয় আমাদের নিকট আর কেউ নেই। আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, এই একদল লোক আপনার নিকট একত্রিত হচ্ছে। আল্লাহর কসম! যদি পুনরায় আমার নিকট এমন সংবাদ পৌঁছে, তবে আমি অবশ্যই তাদের ওপর ঘরটি জ্বালিয়ে দেব। অতঃপর যখন তারা ফাতিমার নিকট আসলেন, তিনি বললেন: ইবনুল খাত্তাব এমন এমন কথা বলেছেন এবং তিনি সত্যিই তা করবেন। ফলে তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেন যতক্ষণ না আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর অনুকূলে বায়আত সম্পন্ন হলো। আর গল্পকারের প্রতি মুয়াবিয়ার এই উক্তিতে: "যদি আমি তোমাকে আগেই সতর্ক করতাম, তবে আমি তোমার থেকে ⦗পৃষ্ঠা: ৯২⦘ একটি অঙ্গ কেটে নিতাম"—এটি প্রমাণ করে যে, বিরুদ্ধাচরণকারী যখন নিষিদ্ধ বিষয়ের বিরুদ্ধাচরণ করে, তখন তা তার জন্য শাস্তিকে অবধারিত করে দেয়।
(খণ্ড: ১) আল-মুযাক্কির ওয়াত তাযকীর লিবনি আবী আসিম (পৃষ্ঠা: ৯৩)
20 - حَدَّثَنَا هُدْبَةُ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ يَعْلَى بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ أَبِي عَلْقَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: ‌‌«مَنْ أَطَاعَنِي فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ وَمَنْ عَصَانِي فَقَدْ عَصَى اللَّهَ وَمَنْ أَطَاعَ الْأَمِيرَ فَقَدْ أَطَاعَنِي وَمَنْ عَصَى الْأَمِيرَ فَقَدْ عَصَانِي وَالْأَمِيرُ مِجَنٌّ»
২০ - হুদবাহ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ ইবনে সালামাহ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, ইয়ালা ইবনে আতা থেকে, তিনি আবু আলকামাহ থেকে, তিনি আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি আমার আনুগত্য করল সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল, আর যে আমার অবাধ্যতা করল সে মূলত আল্লাহরই অবাধ্যতা করল। যে আমীরের আনুগত্য করল সে মূলত আমারই আনুগত্য করল এবং যে আমীরের অবাধ্যতা করল সে মূলত আমারই অবাধ্যতা করল। আর আমীর হচ্ছেন ঢালস্বরূপ।»
(খণ্ড: ১) আল-মুযাক্কির ওয়াত তাযকীর লিবনি আবী আসিম (পৃষ্ঠা: ৯৪)
21 - حَدَّثَنَا ابْنُ كَاسِبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ⦗ص: 95⦘: ‌‌«مَنْ أَطَاعَنِي فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ وَمَنْ أَطَاعَ أَمِيرِي فَقَدْ أَطَاعَنِي وَمَنْ عَصَانِي فَقَدْ عَصَى اللَّهَ وَمَنْ عَصَى أَمِيرِي فَقَدْ عَصَانِي»
২১ - ইবনে কাসিব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুর রাজ্জাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি মা'মার থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ⦗পৃষ্ঠা: ৯৫⦘: ‌‌«যে ব্যক্তি আমার আনুগত্য করল, সে আল্লাহরই আনুগত্য করল; আর যে ব্যক্তি আমার আমিরের আনুগত্য করল, সে আমারই আনুগত্য করল; এবং যে ব্যক্তি আমার অবাধ্যতা করল, সে আল্লাহরই অবাধ্যতা করল; আর যে ব্যক্তি আমার আমিরের অবাধ্যতা করল, সে আমারই অবাধ্যতা করল।»
(খণ্ড: ১) আল-মুযাক্কির ওয়াত তাযকীর লিবনি আবী আসিম (পৃষ্ঠা: ৯৬)
22 - حَدَّثَنَا أَبُو مُوسَى، حَدَّثَنَا مَكِّيُّ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، ثنا ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنْ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَنْ أَطَاعَنِي فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ وَمَنْ عَصَانِي فَقَدْ عَصَى اللَّهَ وَمَنْ عَصَى أَمِيرِي فَقَدْ عَصَانِي» ⦗ص: 97⦘ وَمِمَّا دَلَّتْ عَلَيْهِ الْأَخْبَارُ الَّتِي ضَمَّنَّا هَذَا الْكِتَابَ قَوْلُهُ: «مَنْ أَطَاعَنِي فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ وَمَنْ عَصَانِي فَقَدْ عَصَى اللَّهَ وَمَنْ أَطَاعَ أَمِيرِي فَقَدْ أَطَاعَنِي وَمَنْ عَصَى أَمِيرِي فَقَدْ عَصَانِي» مُؤَكِّدٌ بِذَلِكَ طَاعَةَ الْأُمَرَاءِ حَضًّا مِنْهُ عَلَى طَاعَةِ الْأُمَرَاءِ وَزَجْرًا مِنْهُ عَلَى خِلَافِهِمْ فَإِذَا قَصَّ الْقَاصُّ بِغَيْرِ إِذْنِ الْأَمِيرِ وَجَبَ عَلَى الْأَمِيرِ مَنْعُهُ مِنْ ذَلِكَ إِذِ الْقَاصُّ بِغَيْرِ إِذْنِ الْأَمِيرِ مُتَكَلِّفٌ أَوْ مُخْتَالٌ أَوْ مُرَاءٍ، وَهَذِهِ الْأَحْوَالُ مَذْمُومَةٌ كُلُّهَا فَيَجِبُ عَلَى الْإِمَامِ الْمَنْعُ مِنْهَا، وَفِي حَدِيثِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنه مَا يَدُلُّ عَلَى أَنَّ الْإِمَامَ إِذَا بَلَغَهُ أَنَّ قَوْمًا يَجْتَمِعُونَ عَلَى أَمْرٍ يَخَافُ أَنْ يَحْدُثَ عَنِ اجْتِمَاعِهِمْ مَا يَكُونُ فِيهِ فَسَادٌ أَنْ يَتَقَدَّمَ إِلَيْهِمْ وَيُوعِدَهُمْ فِي ذَلِكَ وَعِيدًا يُرَهَّبُونَ بِهِ مَعَ اعْتِرَافِ عُمَرَ بِحَقِّ فَاطِمَةَ رضي الله عنها وَأَنَّهَا أَحَبُّ النَّاسِ إِلَيْهِ بَعْدَ أَبِيهَا صلى الله عليه وسلم لَمْ يَمْنَعْهُ ذَلِكَ مِنْ أَنْ تَقَدَّمَ إِلَيْهَا وَأَخْبَرَهَا بِمَا هُوَ عَلَيْهِ وَمَعْرِفَةُ فَاطِمَةَ بِحَقِّ عُمَرَ رضي الله عنهما وَأَنَّهُ يَفِي بِمَوْعِدِهِ، وَفِي حَدِيثِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّهُ لَمْ يُقَصَّ عَلَى ⦗ص: 98⦘ عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلَا عَهْدِ أَبِي بَكْرٍ وَلَا عَهْدِ عُمَرَ وَلَا عَهْدِ عُثْمَانَ رضي الله عنهم دَلِيلٌ عَلَى أَنَّهُ أَحْدَثَ بَعْدَهُمْ وَقَالَ صلى الله عليه وسلم: «إِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الْأُمُورِ فَإِنَّ كُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ» وَفِي قَوْلِ مُعَاوِيَةَ لِلْقَاصِّ الَّذِي أُخْبِرَ بِهِ: أَبِإِذْنٍ تَقُصُّ؟ قَالَ: لَا ⦗ص: 99⦘، قَالَ: لَوْ كُنْتُ تَقَدَّمْتُ إِلَيْكِ لَقَطَعْتُ مِنْكَ طَابِقًا. مُوَافِقٌ لِقَوْلِ عَلِيٍّ: إِنِّي أَكْرَهُ الْعُقُوبَةَ قَبْلَ التَّقْدِمَةِ فَإِنْ عَادُوا بَعْدَ التَّقْدِمَةِ وَجَبَتْ عَلَيْهِمُ الْعُقُوبَةُ، وَفِي قَوْلِ عَلِيٍّ رضي الله عنه لِلْقَاصِّ: أَعَلِمْتَ النَّاسِخَ مِنَ الْمَنْسُوخِ؟ دَلِيلٌ عَلَى امْتِحَانِ الْقُصَّاصِ الْمَأْذُونِ لَهُمْ فِي الْقَصَصِ وَفِي حَدِيثِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ مَا يَدُلُّ عَلَى أَنَّ الْإِمَامَ إِذَا أَذِنَ لِلْقَاصِّ أَنْ يَقُصَّ بَعْدَ امْتِحَانِهِ أَنْ يَقُصَّ عَلَى رِجْلَيْهِ قَائِمًا وَأَنْ لَا يُطِيلَ الْمُكْثَ لِئَلَّا يَمَلَّ النَّاسُ، وَقَالَتْ عَائِشَةُ لِابْنِ السَّائِبِ الْقَاصِّ قُصَّ عَلَيْهِمْ فِي الْأُسْبُوعِ يَوْمَيْنِ أَوْ ثَلَاثَةً
২২ - আবু মুসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মাক্কী বিন ইবরাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবন জুরাইজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যুহরি থেকে, তিনি আবু সালামা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমার আনুগত্য করল, সে আল্লাহর আনুগত্য করল। আর যে ব্যক্তি আমার অবাধ্য হলো, সে আল্লাহর অবাধ্য হলো। আর যে ব্যক্তি আমার (নিযুক্ত) আমিরের অবাধ্য হলো, সে আমার অবাধ্য হলো।" ⦗পৃষ্ঠা: ৯৭⦘ আমরা এই গ্রন্থে যেসকল বর্ণনা অন্তর্ভুক্ত করেছি, তার মধ্য থেকে রাসূলুল্লাহর এই বাণী: "যে ব্যক্তি আমার আনুগত্য করল, সে আল্লাহর আনুগত্য করল। আর যে ব্যক্তি আমার অবাধ্য হলো, সে আল্লাহর অবাধ্য হলো। আর যে ব্যক্তি আমার আমিরের আনুগত্য করল, সে আমার আনুগত্য করল। আর যে ব্যক্তি আমার আমিরের অবাধ্য হলো, সে আমার অবাধ্য হলো।" এর মাধ্যমে তিনি আমিরের আনুগত্যকে সুদৃঢ় করেছেন, তাদের আনুগত্য করার প্রতি উৎসাহিত করেছেন এবং তাদের বিরোধিতা করার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। সুতরাং যখন কোনো কাহিনীকার আমিরের অনুমতি ব্যতীত কাহিনী বর্ণনা করে, তখন আমিরের জন্য তাকে তা থেকে বিরত রাখা আবশ্যক। কেননা আমিরের অনুমতি ব্যতীত কাহিনী বর্ণনা করা ব্যক্তি হয় কৃত্রিমতাকারী, অথবা দাম্ভিক, অথবা লোকদেখানো আমলকারী। আর এই সবকটি অবস্থাই নিন্দনীয়, তাই ইমামের (শাসকের) ওপর কর্তব্য হলো এগুলো প্রতিরোধ করা। উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর হাদিসে এমন প্রমাণ রয়েছে যে, ইমামের কাছে যখন সংবাদ পৌঁছে যে, একদল লোক এমন কোনো বিষয়ে একত্রিত হচ্ছে যে বিষয়ে তিনি আশঙ্কা করেন যে তাদের এই একত্রিত হওয়ার ফলে কোনো ফিতনা বা অনিষ্ট সৃষ্টি হতে পারে, তবে তিনি তাদের কাছে আগেভাগে গিয়ে সতর্ক করবেন এবং এমন ভীতি প্রদর্শন করবেন যাতে তারা ভীত হয়। ফাতিমা (রা.)-এর প্রাপ্য হকের ব্যাপারে উমর (রা.)-এর স্বীকৃতি থাকা সত্ত্বেও এবং তাঁর পিতার (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পর তিনি তাঁর নিকট সবচেয়ে প্রিয় মানুষ হওয়া সত্ত্বেও, এই ভালোবাসা তাকে তাঁর কাছে যেতে এবং তাঁর সংকল্প সম্পর্কে জানাতে বাধা দেয়নি। আর ফাতিমা (রা.) উমরের হক সম্পর্কে জানতেন এবং এটিও জানতেন যে তিনি তাঁর প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবেন। সায়েব বিন ইয়াজিদ এবং আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.)-এর হাদিসে যে উল্লেখ আছে যে, ⦗পৃষ্ঠা: ৯৮⦘ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে, আবু বকরের যুগে, উমরের যুগে কিংবা উসমানের যুগে (রা.) কাহিনী বর্ণনা করা হতো না, তা এই প্রমাণ বহন করে যে এটি তাদের পরে উদ্ভাবিত হয়েছে। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা নতুন উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ থেকে বেঁচে থাকো, কারণ প্রতিটি নতুন উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত।" মুআবিয়া (রা.)-কে যখন একজন কাহিনীকার সম্পর্কে জানানো হলো এবং তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন: "তুমি কি অনুমতি নিয়ে বর্ণনা করছ?" সে বলল: "না" ⦗পৃষ্ঠা: ৯৯⦘, তখন তিনি বললেন: "আমি যদি আগে তোমাকে সতর্ক করতাম, তবে তোমার একটি অঙ্গ কেটে দিতাম।" এটি আলী (রা.)-এর বাণীর সাথে সংগতিপূর্ণ: "আমি সতর্ক করার আগে শাস্তি প্রদান অপছন্দ করি। তবে সতর্ক করার পরও যদি তারা পুনরায় তা করে, তখন তাদের ওপর শাস্তি প্রদান ওয়াজিব হয়ে যায়।" আর কাহিনীকারের প্রতি আলী (রা.)-এর এই উক্তি: "তুমি কি নাসিখ (রহিতকারী) ও মানসুখ (রহিত) সম্পর্কে জ্ঞান রাখো?" এটি কাহিনী বর্ণনার অনুমতিপ্রাপ্ত কাহিনীকারদের পরীক্ষার প্রমাণস্বরূপ। সায়েব বিন ইয়াজিদের হাদিসে এমন প্রমাণ রয়েছে যে, ইমাম যখন পরীক্ষার পর কোনো কাহিনীকারকে কাহিনী বর্ণনার অনুমতি দেবেন, তখন সে যেন দাঁড়িয়ে বর্ণনা করে এবং বেশিক্ষণ সময় না নেয়, যাতে মানুষ বিরক্ত না হয়। আয়েশা (রা.) কাহিনীকার ইবনে সায়েবকে বলেছিলেন: "তাদের কাছে সপ্তাহে দুই দিন অথবা তিন দিন কাহিনী বর্ণনা করো।"
(খণ্ড: ১) আল-মুযাক্কির ওয়াত তাযকীর লিবনি আবী আসিম (পৃষ্ঠা: ১০১)
23 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، وَأَبُو مُعَاوِيَةَ، وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ شَقِيقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم «يَتَخَوَّلُنَا بِالْمَوْعِظَةِ فِي الْأَيَّامِ مَخَافَةَ السَّآمَةِ ⦗ص: 102⦘ عَلَيْنَا» ⦗ص: 103⦘ وَفِي قَوْلِ مُعَاوِيَةَ: يَا مَعْشَرَ الْعَرَبِ، إِنَّكُمْ إِنْ لَمْ تَقُومُوا بِمَا جَاءَ بِهِ نَبِيُّكُمْ صلى الله عليه وسلم فَغَيْرُكُمْ مِنَ النَّاسِ أَحْرَى أَنْ لَا يَقُومُوا بِهِ إِنَّ الْعَرَبَ أَوْلَى بِالْقِيَامِ بِمَا جَاءَ بِهِ نَبِيُّهَا صلى الله عليه وسلم مِنْ غَيْرِهِمْ وَأَنَّهَا إِنْ تَرَكَتْ ذَلِكَ مَعَ حَالِهَا فَغَيْرُهُمْ أَحْرَى أَنْ يَكُونُوا أَتْرَكَ لَهُ وَكَانَتِ الْحُجَّةُ عَلَى الْعَرَبِ فِي تَرْكِهَا الْقِيَامَ بِذَلِكَ أَعْظَمَ مِنْهَا عَلَى غَيْرِهَا وَالْأَمِيرُ جَائِزٌ لَهُ أَنْ يَقُصَّ وَأَنَّ الْقَاصَّ إِذَا لَمْ يَكُنْ عَنْ غَيْرِ أَمْرِ أَمِيرٍ لَمْ يُخْطِئْهُ إِحْدَى ثَلَاثٍ إِمَّا مُتَكَلِّفٌ أَوْ مُخْتَالٌ أَوْ مُرَاءٍ
২৩ - আবু বকর ইবনে আবি শায়বা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ওয়াকি এবং আবু মুয়াবিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; এবং ইবনে নুমাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু মুয়াবিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আমাশ থেকে, তিনি শাকীক থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের বিরক্তির আশঙ্কায় নির্দিষ্ট দিনগুলোতে বিরতি দিয়ে দিয়ে নসিহত করতেন। ⦗পৃষ্ঠা: ১০২⦘ ⦗পৃষ্ঠা: ১০৩⦘ এবং মুয়াবিয়ার উক্তি অনুসারে: হে আরব সম্প্রদায়! তোমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা নিয়ে এসেছেন তা যদি তোমরা প্রতিষ্ঠা না করো, তবে তোমাদের ব্যতীত অন্য মানুষেরা তা প্রতিষ্ঠা না করার ক্ষেত্রে অধিকতর উপযুক্ত হবে। নিশ্চয়ই আরবরা তাদের নবীর আনীত বিধান পালনে অন্যদের তুলনায় অধিক হকদার। আর তারা যদি তাদের এই বিদ্যমান অবস্থায় তা বর্জন করে, তবে অন্যরা তা বর্জন করার ক্ষেত্রে আরও অধিক অগ্রগামী হবে। আর আরবদের এই বিধান পালনে অবহেলার কারণে তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ অন্যদের তুলনায় হবে অধিকতর গুরুতর। এবং আমিরের জন্য কাহিনী বা নসিহত বর্ণনা করা বৈধ। আর কোনো কাহিনীকার যখন আমিরের নির্দেশ ব্যতীত বয়ান করে, তখন সে তিন প্রকারের কোনো এক প্রকার হতে মুক্ত নয়: হয় সে কৃত্রিমতাপূর্ণ বা অনধিকারচর্চাকারী, অথবা সে অহংকারী, অথবা সে লোক-দেখানো প্রদর্শনকারী।
(খণ্ড: ১) আল-মুযাক্কির ওয়াত তাযকীর লিবনি আবী আসিম (পৃষ্ঠা: ১০৩)
حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ الْأَسْوَدِ حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مُحَمَّدٍ الْعَنْقَزِيُّ حَدَّثَنَا خَلَّادٌ الصَّفَّارُ عَنْ عَمْرِو بْنِ قَيْسٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ:‌‌ قَرَأَ عَلَيْهِمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الْقُرْآنَ زَمَانًا، فَقَالُوا لَهُ لَوْ قَصَصْتَ عَلَيْنَا فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى: {" نَحْنُ نَقُصُّ عَلَيْكَ أَحْسَنَ الْقَصَصِ} [يوسف: 3] "، ثُمَّ قَالُوا لَوْ حَدَّثْتَنَا فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى: { «اللَّهُ نَزَّلَ أَحْسَنَ الْحَدِيثِ» } [الزمر: 23]
হুসাইন ইবনুল আসওয়াদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমর ইবনে মুহাম্মাদ আল-আনকাযী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, খাল্লাদ আস-সাফফার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে কায়েস থেকে, তিনি আমর ইবনে মুররাহ থেকে, তিনি মুসআব ইবনে সাদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি দীর্ঘ সময় ধরে তাঁদের নিকট কুরআন তিলাওয়াত করলেন। তখন তাঁরা তাঁকে বললেন: আপনি যদি আমাদের নিকট কিছু কাহিনী বর্ণনা করতেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বরকতময় ও মহান আল্লাহ নাযিল করেন: {আমরা আপনার নিকট সর্বোত্তম কাহিনী বর্ণনা করছি} [ইউসুফ: ৩]। এরপর তাঁরা বললেন: আপনি যদি আমাদের নিকট কিছু আলোচনা করতেন। তখন মহান আল্লাহ নাযিল করলেন: {আল্লাহ সর্বোত্তম বাণী নাযিল করেছেন} [আয-যুমার: ২৩]।