(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলাস সুনানিল কুবরা - বায়হাকী - ত আল-আযমী
(পৃষ্ঠা: -)
المدخل إلى السنن الكبرى - البيهقي - ت الأعظمي (أبو بكر البيهقي)
القسم: كتب السنة
الكتاب: المدخل إلى السنن الكبرى
المؤلف: أبو بكر البيهقي (ت 458 هـ)
المحقق: د محمد ضياء الرحمن الأعظمي
الناشر: دار الخلفاء للكتاب الإسلامي - الكويت
عدد الصفحات: 454
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-মাদখাল ইলাস সুনানিল কুবরা - আল-বাইহাকী - তাহকীক আল-আজমী (আবু বকর আল-বাইহাকী)
বিভাগ: হাদীস শাস্ত্রের কিতাবসমূহ
কিতাব: আল-মাদখাল ইলাস সুনানিল কুবরা
লেখক: আবু বকর আল-বাইহাকী (মৃত্যু ৪৫৮ হিজরী)
তাহকীককারী: ড. মুহাম্মদ যিয়াউর রহমান আল-আজমী
প্রকাশক: দারুল খুলাফা লিল কিতাবিল ইসলামী - কুয়েত
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৫৪
[কিতাবের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলাস সুনানিল কুবরা - বায়হাকী - ত আল-আযমী
(পৃষ্ঠা: ٨٩)
1 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، ثنا أَبُو بَكْرِ بْنُ إِسْحَاقَ، أنا بِشْرُ بْنُ مُوسَى، ثنا الْحُمَيْدِيٌّ، ثنا سُفْيَانُ، ثنا عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو صَالِحٍ السَّمَّانُ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ، يُحَدِّثُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «الدِّرْهَمُ بِالدِّرْهَمِ وَالدِّينَارُ بِالدِّينَارِ مِثْلًا بِمِثْلٍ لَيْسَ بَيْنَهُمَا فَضْلٌ»
১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ আল-হাফিজ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইবনে ইসহাক, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বিশর ইবনে মুসা, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হুমাইদি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে দিনার, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবু সালিহ আস-সাম্মান, তিনি বলেন: আমি আবু সাঈদ আল-খুদরিকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «দিরহামের বিনিময়ে দিরহাম এবং দিনারের বিনিময়ে দিনার সমান সমান হতে হবে, তাদের উভয়ের মধ্যে কোনো কম-বেশি নেই»।
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলাস সুনানিল কুবরা - বায়হাকী - ত আল-আযমী
(পৃষ্ঠা: ٨٩)
قُلْتُ لِأَبِي سَعِيدٍ: كَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ لَا يَرَى بِهِ بَأْسًا ، فَقَالَ أَبُو سَعِيدٍ: قَدْ لَقِيتُ ابْنَ عَبَّاسٍ فَقُلْتُ لَهُ: أَخْبِرْنِي عَنْ هَذَا الَّذِي تَقُولُ أَشَيْءٌ وَجَدْتَهُ فِي كِتَابِ اللَّهِ أَوْ شَيْءٌ سَمِعْتَهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهُ صلى الله عليه وسلم؟ فَقَالَ: مَا وَجَدْتُهُ فِي كِتَابِ اللَّهِ وَلَا سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلَأَنْتُمْ أَعْلَمُ بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنِّي ، وَلَكِنْ أَخْبَرَنِي أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِنَّ الرِّبَا فِي النَّسِيئَةِ» 2 - فَاعْتَرَفَ ابْنُ عَبَّاسٍ بِأَنَّهُمْ أَعْلَمُ بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْهُ لِتَقَدُّمِهِمْ بِالسِّنِّ وَالصُّحْبَةِ 3 - وَرَوَيْنَا عَنْهُ، أَنَّهُ رَجَعَ عَنْ قَوْلِهِ فِي الصَّرْفِ وَكَأَنَّهُ رَجَّحَ رِوَايَةَ غَيْرِ أُسَامَةَ بِبَعْضِ مَا ذَكَرْنَاهُ وَاللَّهُ أَعْلَمُ
আমি আবু সাঈদকে বললাম: ইবনে আব্বাস এতে কোনো সমস্যা মনে করতেন না। তখন আবু সাঈদ বললেন: আমি ইবনে আব্বাসের সাথে সাক্ষাৎ করেছি এবং তাকে বলেছি: আপনি যা বলছেন সে সম্পর্কে আমাকে সংবাদ দিন, এটি কি এমন কিছু যা আপনি আল্লাহর কিতাবে পেয়েছেন নাকি এমন কিছু যা আপনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছেন? তিনি বললেন: আমি এটি আল্লাহর কিতাবে পাইনি এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকেও শুনিনি; আর তোমরা আমার চেয়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে অধিক পরিজ্ঞাত। তবে উসামা ইবনে যায়েদ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই সুদ হচ্ছে বাকিতে।" ২ - সুতরাং ইবনে আব্বাস স্বীকার করেছেন যে, তারা তাঁর চেয়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে অধিক পরিজ্ঞাত ছিলেন, তাঁদের বয়োজ্যেষ্ঠতা এবং সাহচর্য লাভের অগ্রগণ্যতার কারণে। ৩ - আমরা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছি যে, তিনি মুদ্রা বিনিময় (সরফ) সংক্রান্ত তাঁর অভিমত থেকে ফিরে এসেছেন; এবং মনে হচ্ছে যে, আমরা যা উল্লেখ করেছি তার কিছুর ভিত্তিতে তিনি উসামা ব্যতীত অন্যদের বর্ণনাকে প্রাধান্য দিয়েছেন। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলাস সুনানিল কুবরা - বায়হাকী - ত আল-আযমী
(পৃষ্ঠা: ٩١)
4 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ بْنُ الْفَضْلِ، أبنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ، ثنا يَعْقُوبُ بْنُ سُفْيَانَ، ثنا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، ثنا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ قَالَ: إِذَا بَلَغَكَ اخْتِلَافٌ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ، فَوَجَدْتَ فِي ذَلِكَ الِاخْتِلَافِ أَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ رضي الله عنهما فَشُدَّ يدَكَ بِهِ فَإِنَّهُ الْحَقُّ وَهُوَ السُّنَّةُ⦗ص: 92⦘ 5 - قَالَ الْإِمَامُ أَحْمَدُ الْبَيْهَقِيُّ رضي الله عنه: وَتَرْجِيحُ الْأَخْبَارِ إِذَا اخْتَلَفَتْ بِكَثْرَةِ الرُّوَاةِ وَزِيَادَةِ الْحِفْظِ وَالْمَعْرِفَةِ وَتَقَدُّمِ الصُّحْبَةِ مِنَ الْأُمُورِ الْمَعْرُوفَةِ فِيمَا بَيْنَ أَهْلِ الْمَعْرِفَةِ بِالْحَدِيثِ وَقَدْ أَخْبَرَ ذُو الْيدَيْنِ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِسَهْوِهِ ، فَأَقْبَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْقَوْمِ فَقَالَ: «أَصَدَقَ ذُو الْيدَيْنِ؟» فَقَالُوا: نَعَمْ. 6 - وَفِي رِوَايَةٍ أُخْرَى: فَأَوْمَئُوا أَيْ نَعَمْ، فَإِنْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَعْرِفْ مِنْ حَالِ ذِي الْيدَيْنِ مَا يُوجِبُ قَبُولَ خَبَرِهِ فَلِذَلِكَ سَأَلَ الْقَوْمَ،⦗ص: 93⦘ 7 - وَفِيهِ دَلَالَةٌ عَلَى أَنَّهُ لَا يَجُوزُ قَبُولُ خَبَرِ الْمَجْهُولِينَ حَتَّى يُعْلَمَ مِنْ أَحْوَالِهِمْ مَا يُوجِبُ قَبُولَ أَخْبَارِهِمْ، 8 - وَإِنْ كَانَ عَرَفَ ذَلِكَ وَلَكِنَّهُ أَحَبَّ الِاسْتِظْهَارَ؛ لِأَنَّ الْأَخْبَارَ كُلَّمَا تَظَاهَرَتْ كَانَ أَثْبَتَ لِلْحُجَّةِ وَأَطْيبَ لِنَفْيِ السَّامِعِ، 9 - فَفِيهِ دَلَالَةٌ عَلَى وُقُوعِ التَّرْجِيحِ بِكَثْرَةِ الرُّوَاةِ وَاللَّهُ أَعْلَمُ، 10 - وَرُوِّينَا عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، أَنَّ سَعْدَ بْنَ أَبِي وَقَّاصٍ أَخْبَرَهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ مَسَحَ عَلَى الْخُفَّيْنِ وَأَنَّ ابْنَ عُمَرَ سَأَلَ عُمَرَ عَنْ ذَلِكَ؟ فَقَالَ: نَعَمْ ، إِذَا حَدَّثَكَ سَعْدٌ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَيْئًا فَلَا تَسْأَلْ غَيْرَهُ، 11 - وَحِينَ أَخْبَرَهُ الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الْقَضَاءِ فِي الْجَنِينِ بِغُرَّةِ عَبْدٍ أَوْ أَمَةٍ مَعَ خَبَرِ حَمْلِ بْنِ مَالِكِ بْنِ النَّابِغَةِ بِمِثْلِ ذَلِكَ فَقَالَ لِلْمُغِيرَةِ: ائْتِنِي بِمَنْ يشْهَدُ مَعَكَ، فَشَهِدَ مُحَمَّدُ بْنُ مَسْلَمَةَ،⦗ص: 94⦘ 12 - وَفِي ذَلِكَ دَلَالَةٌ عَلَى أَنَّهُ كَانَ يُرَجِّحُ رِوَايَةَ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ لِتَقَدُّمِهِ وَعِلْمِهِ عَلَى رِوَايَةِ مَنْ هُوَ أَقَلُّ دَرَجَةً فَلَا يَطْلُبُ مَعَ خَبَرِهِ خَبَرَ غَيْرِهِ ، وَيجِبُ الِاحْتِيَاطُ فِي خَبَرِ غَيْرِهِ بِالِاسْتِظْهَارِ فِيهِ، 13 - وَكَذَلِكَ فِيمَا رُوِّينَاهُ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، رضي الله عنه مِنِ اسْتِحْلَافِهِ مَنْ حَدَّثَهُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم دُونَ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ لِمَا كَانَ عِنْدَهُ مِنْ تَقَدُّمِ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ وَزِيَادَةِ فَضْلِهِ وَعِلْمِهِ وَبِاللَّهِ التَّوْفِيقُ
৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন ইবনুল ফজল, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে জাফর, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াকুব ইবনে সুফিয়ান, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুলাইমান ইবনে হারব, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনে যায়েদ, আইয়ুব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন তোমার কাছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোনো মতভেদ (হাদীস বর্ণনায় ভিন্নতা) পৌঁছে এবং সেই মতভেদের মধ্যে তুমি আবু বকর ও উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমাকে পাও, তবে তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো। কেননা তা-ই সত্য এবং তা-ই সুন্নাহ।⦗পৃষ্ঠা: ৯২⦘ ৫ - ইমাম আহমদ আল-বায়হাকী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: বর্ণনাকারীর আধিক্য, অধিক মুখস্থশক্তি, গভীর জ্ঞান এবং দীর্ঘ সাহচর্যের ভিত্তিতে কোনো বর্ণনার ভিন্নতার সময় একটিকে অন্যটির ওপর প্রাধান্য দেওয়া হাদীস বিশারদদের নিকট একটি সুপরিচিত বিষয়। যুল ইয়াদাইন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর সালাতের ভুলের বিষয়ে অবহিত করেছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপস্থিত লোকদের দিকে ফিরে বললেন: «যুল ইয়াদাইন কি সত্য বলেছে?» তারা বললেন: হ্যাঁ। ৬ - অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: তারা ইশারায় সম্মতি জানালেন অর্থাৎ হ্যাঁ। যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুল ইয়াদাইনের অবস্থা সম্পর্কে এমন কিছু না জানতেন যা তাঁর সংবাদ গ্রহণ করাকে অপরিহার্য করে, তবে সে কারণেই তিনি উপস্থিত লোকদের জিজ্ঞাসা করেছিলেন।⦗পৃষ্ঠা: ৯৩⦘ ৭ - এতে এ বিষয়ের দলীল রয়েছে যে, অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের (মাজহুল) সংবাদ গ্রহণ করা বৈধ নয় যতক্ষণ না তাদের অবস্থা সম্পর্কে এমন কিছু জানা যায় যা তাদের সংবাদ গ্রহণ করাকে অপরিহার্য করে। ৮ - আর যদি তিনি তা জানতেনও, তবুও তিনি বিষয়টি আরও সুনিশ্চিত করতে পছন্দ করেছিলেন; কারণ সংবাদ যখন পরস্পর সমর্থিত ও সংখ্যায় বৃদ্ধি পায় তখন তা দলীল হিসেবে অধিক সুপ্রতিষ্ঠিত হয় এবং শ্রবণকারীর মনের জন্য অধিক প্রশান্তিদায়ক হয়। ৯ - সুতরাং এতে বর্ণনাকারীর আধিক্যের মাধ্যমে প্রাধান্য (তারজীহ) সাব্যস্ত হওয়ার প্রমাণ রয়েছে এবং আল্লাহই সর্বজ্ঞ। ১০ - আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনুল খাত্তাব থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস তাঁকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি মোজার ওপর মাসাহ করেছেন। তখন ইবনে উমর এ বিষয়ে উমরকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: হ্যাঁ, সা'দ যখন তোমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোনো বিষয়ে বর্ণনা করে, তখন তাকে ছাড়া আর কাউকে জিজ্ঞাসা করো না। ১১ - এবং যখন মুগীরা ইবনে শু'বা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে গর্ভস্থ সন্তানের হত্যার জড়িমানার ফয়সালার ব্যাপারে একজন দাস বা দাসী প্রদানের সংবাদ দিলেন, আর সাথে হামল ইবনে মালিক ইবনে নাবিকাও একই রূপ সংবাদ দিলেন, তখন তিনি মুগীরাকে বললেন: এমন কাউকে নিয়ে এসো যে তোমার সাথে এ ব্যাপারে সাক্ষ্য দিবে। তখন মুহাম্মদ ইবনে মাসলামা সাক্ষ্য প্রদান করলেন।⦗পৃষ্ঠা: ৯৪⦘ ১২ - এতে এ বিষয়ের প্রমাণ রয়েছে যে, তিনি (উমর) সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস-এর অগ্রগণ্যতা ও জ্ঞানের কারণে তাঁর বর্ণনাকে অন্যের বর্ণনার ওপর প্রাধান্য দিতেন যিনি তাঁর অপেক্ষা নিম্নস্তরের, তাই তিনি তাঁর সংবাদের সাথে অন্যের সংবাদ তলব করতেন না। কিন্তু অন্যের সংবাদের ক্ষেত্রে অধিক সতর্কতা অবলম্বন ও বিষয়টি সুনিশ্চিত করার প্রয়োজন মনে করতেন। ১৩ - অনুরূপভাবে আমাদের নিকট আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি আবু বকর সিদ্দীক ছাড়া অন্য যে কেউ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তাঁর নিকট হাদীস বর্ণনা করত তার থেকে কসম নিতেন। কারণ তাঁর নিকট আবু বকর সিদ্দীকের অগ্রগণ্যতা এবং তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও জ্ঞানের আধিক্য স্বীকৃত ছিল। আর আল্লাহর মাধ্যমেই তাওফীক লাভ হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলাস সুনানিল কুবরা - বায়হাকী - ত আল-আযমী
(পৃষ্ঠা: ٩٤)
14 - سَمِعْتُ أَبَا مُحَمَّدٍ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ يُوسُفَ، يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبَا بَكْرِ بْنَ إِسْحَاقَ ⦗ص: 95⦘، يَقُولُ: سَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ سَلَمَةَ يَقُولُ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ هَاشِمٍ قَالَ: قَالَ وَكِيعٌ: أَيُّ الْإِسْنَادَيْنِ أَحَبُّ إِلَيْكُمْ: الْأَعْمَشُ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ أَوْ سُفْيَانُ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ؟ قَالَ: فَقُلْنَا: الْأَعْمَشُ ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ. فَقَالَ: الْأَعْمَشُ شَيْخٌ ، وَأَبُو وَائِلٍ شَيْخٌ ، وَسُفْيَانُ فَقِيهٌ ، وَمَنْصُورٌ فَقِيهٌ ، وَإِبْرَاهِيمُ فَقِيهٌ ، وَعَلْقَمَةُ فَقِيهٌ ، وَهَذَا حَدِيثٌ قَدْ تَدَاوَلَهُ الْفُقَهَاءُ رحمهم الله⦗ص: 96⦘ 15 - وَأَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، أنبا أَبُو زَكَرِيَّا يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدٍ الْعَنْبَرِيُّ ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ سَلَمَةَ، أنبا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ هَاشِمٍ، فَذَكَرَهُ بِنَحْوِهِ، إِلَّا أَنَّهُ قَالَ: وَحَدِيثٌ يتَدَاوَلُهُ الْفُقَهَاءُ خَيْرٌ مِمَّا يتَدَاوَلُهُ الشُيُوخُ
১৪ - আমি আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ ইবন ইউসুফকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু বকর ইবন ইসহাককে ⦗পৃষ্ঠা: ৯৫⦘ বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আহমাদ ইবন সালামাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আব্দুল্লাহ ইবন হাশিমকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: ওয়াকি' বলেছেন: তোমাদের নিকট এই দুটি সনদের মধ্যে কোনটি অধিক পছন্দনীয়: আ'মাশ, আবু ওয়াইল থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ থেকে; নাকি সুফিয়ান, মানসুর থেকে, তিনি ইবরাহিম থেকে, তিনি আলক্বামাহ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ থেকে? তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: আমরা বললাম: আ'মাশ, আবু ওয়াইল থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ থেকে। তখন তিনি (ওয়াকি') বললেন: আ'মাশ একজন শাইখ এবং আবু ওয়াইল একজন শাইখ। আর সুফিয়ান একজন ফকিহ (আইনজ্ঞ), মানসুর একজন ফকিহ, ইবরাহিম একজন ফকিহ এবং আলক্বামাহ একজন ফকিহ। আর এটি এমন এক হাদিস যা ফকিহগণ (আল্লাহ তাঁদের ওপর দয়া করুন) একে অপরের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন।⦗পৃষ্ঠা: ৯৬⦘ ১৫ - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ, আমাদের জানিয়েছেন আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবন মুহাম্মাদ আল-আম্বারি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবন সালামাহ, আমাদের জানিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবন হাশিম, অতঃপর তিনি এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন; তবে তিনি বলেছেন: ফকিহদের মাধ্যমে আবর্তিত হাদিস শাইখদের মাধ্যমে আবর্তিত হাদিসের চেয়ে উত্তম।
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলাস সুনানিল কুবরা - বায়হাকী - ত আল-আযমী
(পৃষ্ঠা: ٩٧)
16 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدُ اللَّهِ الْحَافِظُ، أبنا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَفِيدُ ، ثنا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ الصَّمَدِ الرَّخَى، ثنا عَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ قَالَ: سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ سَعِيدٍ هُوَ ابْنُ الْقَطَّانِ ، يَقُولُ: لَيْسَ أَحَدٌ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ شُعْبَةَ وَلَا يعْدِلُهُ أَحَدٌ عِنْدِي ، وَإِذَا خَالَفَهُ سُفْيَانُ أَخَذْتُ بِقَوْلِ سُفْيَانَ
১৬ - আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিয আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হাফিদ আমাদের জানিয়েছেন, হারুন বিন আব্দুস সামাদ আল-রাখি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনুল মাদিনী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইয়াহইয়া বিন সাঈদকে—যিনি ইবনুল কাত্তান—বলতে শুনেছি: আমার নিকট শু'বাহর চেয়ে অধিক প্রিয় কেউ নেই এবং আমার কাছে তাঁর সমতুল্যও কেউ নেই। তবে যখন সুফইয়ান তাঁর বিরোধিতা করেন, তখন আমি সুফইয়ানের বক্তব্য গ্রহণ করি।
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলাস সুনানিল কুবরা - বায়হাকী - ত আল-আযমী
(পৃষ্ঠা: ٩٧)
17 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا الْحُسَيْنِ بْنَ يَعْقُوبَ الْحَافِظَ يَقُولُ: سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْحَاقَ بْنَ إِبْرَاهِيمَ يَقُولُ: سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنَ أَبِي رِزْمَةَ يَقُولُ: سَمِعْتُ وَكِيعًا يَقُولُ: رَوَى شُعْبَةُ يوْمًا حَدِيثًا فَقُلْتُ لَهُ: تَخَالَفَ فِي هَذَا الْحَدِيثِ؟ فَقَالَ: مَنْ؟ قِيلَ: سُفْيَانُ ، قَالَ: دَعُوهُ سُفْيَانُ أَحْفَظُ مِنِّي
১৭ - আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আমি আবুল হুসাইন বিন ইয়াকুব আল-হাফিজকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমি মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন ইব্রাহিমকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমি মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ বিন আবি রিজমাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমি ওয়াকি’কে বলতে শুনেছি: একদিন শু’বাহ একটি হাদিস বর্ণনা করলেন, তখন আমি তাকে বললাম: এই হাদিসটির ক্ষেত্রে কি আপনার বিরোধিতা করা হয়েছে? তিনি বললেন: কে? বলা হলো: সুফিয়ান। তিনি বললেন: তাকে ছেড়ে দাও, সুফিয়ান আমার চেয়েও বড় হাফিজ (অধিক মুখস্থকারী)।
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলাস সুনানিল কুবরা - বায়হাকী - ত আল-আযমী
(পৃষ্ঠা: ٩٧)
18 - أَخْبَرَنَا أَبُو سَعْدٍ الْمَالِينِيُّ، أبنا أَبُو أَحْمَدَ بْنُ عَدِيٍّ الْحَافِظُ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ خَلَفٍ، ثنا يُوسُفُ بْنُ مُوسَى، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا الْوَلِيدِ يَقُولُ: قَالَ حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ: إِذَا خَالَفَنِي شُعْبَةُ فِي الْحَدِيثِ تَبِعْتُهُ ، قَالَ: قُلْتُ لَهُ: وَلِمَ يَا أَبَا إِسْمَاعِيلَ؟ قَالَ: «إِنَّ شُعْبَةَ كَانَ يَسْمَعُ وَيُعِيدُ وَيُبْدِئُ، وَكُنْتُ أَنَا أَسْمَعُ مَرَّةً وَاحِدَةً»
১৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সা’দ আল-মালিনী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আহমাদ ইবন আদি আল-হাফিজ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবন খালাফ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইউসুফ ইবন মুসা, তিনি বলেন: আমি আবুল ওয়ালিদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: হাম্মাদ ইবন যায়েদ বলেছেন: হাদিসের ক্ষেত্রে শু’বাহ যদি আমার বিরোধিতা করেন, তবে আমি তাকেই অনুসরণ করি। তিনি বলেন: আমি তাকে বললাম: হে আবু ইসমাঈল, কেন? তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই শু’বাহ (হাদিস) শুনতেন এবং বারবার তার পুনরাবৃত্তি করতেন, আর আমি কেবল একবারই শুনতাম»
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলাস সুনানিল কুবরা - বায়হাকী - ত আল-আযমী
(পৃষ্ঠা: ٩٨)
19 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ بْنُ بِشْرَانَ، أبنا أَبُو عَمْرِو بْنُ السَّمَّاكِ، ثنا حَنْبَلُ بْنُ إِسْحَاقَ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ الْمِنْهَالِ قَالَ: شَهِدْتُ سُفْيَانَ الرُّوَاسِيَّ سَأَلَ يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ وَحَوْلَهُ جَمَاعَةٌ: مَا تَقُولُ فِي حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ وَحَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ فِي الْحَدِيثِ أَيُّهُمَا أَثْبَتُ؟ قَالَ: ابْنُ زَيْدٍ
১৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন বিন বিশরান, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর বিন আস-সাম্মাক, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন হাম্বল বিন ইসহাক, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন আল-মিনহাল, তিনি বলেন: আমি সুফিয়ান আর-রুওয়াসিকে দেখেছি যে, তিনি ইয়াজিদ বিন জুরাই'কে জিজ্ঞাসা করছিলেন—সে সময় তাঁর চারপাশে একদল লোক উপস্থিত ছিল—"হাদিসের ক্ষেত্রে হাম্মাদ বিন সালামাহ এবং হাম্মাদ বিন যায়েদ সম্পর্কে আপনি কী বলেন? তাঁদের দুজনের মধ্যে কে বেশি সুদৃঢ়?" তিনি বললেন: "ইবনে যায়েদ।"
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলাস সুনানিল কুবরা - বায়হাকী - ত আল-আযমী
(পৃষ্ঠা: ٩٩)
20 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، قَالَ: سَمِعْتُ عَلِيَّ بْنَ عِيسَى، يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبَا الْعَبَّاسِ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْحَاقَ يَقُولُ: سَمِعْتُ الْفَضْلَ بْنَ سَهْلٍ الْأَعْرَجَ، يَقُولُ: سَمِعْتُ عُبَيْدَ اللَّهِ الْقَوَارِيرِيَّ، يَقُولُ: لَمْ يَكُنْ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ يُقَدِّمُ أَحَدًا فِي الْحَدِيثِ عَلَى مَالِكٍ وَابْنِ الْمُبَارَكِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا
২০ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ আল-হাফিয, তিনি বলেন: আমি আলী বিন ঈসাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবুল আব্বাস মুহাম্মাদ বিন ইসহাককে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ফাযল বিন সাহল আল-আরাজকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি উবাইদুল্লাহ আল-কাওয়ারীরীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আব্দুর রহমান বিন মাহদী হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে মালিক এবং ইবনুল মুবারক (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর ওপর অন্য কাউকে প্রাধান্য দিতেন না।
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলাস সুনানিল কুবরা - বায়হাকী - ত আল-আযমী
(পৃষ্ঠা: ٩٩)
21 - أَخْبَرَنَا أَبُو طَاهِرٍ الْفَقِيهُ، أبنا عَلِيُّ بْنُ حَمْشَاذٍ الْعَدْلُ قَالَ: سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ غَالِبٍ يَقُولُ: سَمِعْتُ عَلِيَّ بْنَ الْمَدِينِيَّ يَقُولُ: قَالَ لِي سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ: يَا عَلِيُّ لَا تُحَابِ أَنَا أَحْفَظُ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، أَوْ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ؟ فَقُلْتُ: لَا، بَلْ يَا أَبَا مُحَمَّدٍ أَنْتَ ، فَقَالَ سُفْيَانُ: نَحْنُ كُنَّا أَعْلَمُ بِعَمْرٍو ، وَكَانَ عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ رَجُلًا قَدْ ذَهَبَ أَسْنَانُهُ وَكَانَ لَا يُبَيِّنُ الْكَلَامَ فَكُنَّا نَرُدُّ عَلَيْهِ حَتَّى نَفْهَمَ. قَالَ: وَسَمِعْتُ مُحَمَّدًا يَقُولُ: سَمِعْتُ عَفَّانَ يَقُولُ: قَالَ يَحْيَى: أَثْبَتُ النَّاسِ فِي ثَابِتٍ سُلَيْمَانُ ، يَعْنِي ابْنَ الْمُغِيرَةِ ، وَأَنَا أَقُولُ حَمَّادٌ
21 - আবু তাহির আল-ফকিহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আলী বিন হামশায আল-আদল আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ বিন গালিবকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আলী বিন আল-মাদিনীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: সুফিয়ান বিন উয়াইনা আমাকে বললেন: হে আলী, তুমি পক্ষপাতিত্ব করো না; আমি কি আমর বিন দিনার থেকে (হাদিস) বেশি মুখস্থ রাখি, নাকি হাম্মাদ বিন যায়েদ? আমি বললাম: না, বরং হে আবু মুহাম্মদ, আপনিই। তখন সুফিয়ান বললেন: আমরা আমর সম্পর্কে অধিক অবগত ছিলাম। আমর বিন দিনার এমন এক ব্যক্তি ছিলেন যার দাঁত পড়ে গিয়েছিল এবং তিনি স্পষ্টভাবে কথা বলতে পারতেন না, ফলে আমরা বিষয়টি বুঝতে না পারা পর্যন্ত তাঁর কথাটি পুনরায় বলতে বলতাম। তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আফফানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া বলেছেন: সাবেতের বর্ণনায় সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি হলেন সুলাইমান—অর্থাৎ ইবনুল মুগীরা—তবে আমি বলছি হাম্মাদ।
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলাস সুনানিল কুবরা - বায়হাকী - ত আল-আযমী
(পৃষ্ঠা: ١٠٠)
22 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، وَأَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيُّ، وَأَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَشْنَانِيُّ قَالُوا: أَنْبَأَ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدُوسٍ الطَّرَايِفِيُّ قَالَ: سَمِعْتُ عُثْمَانَ بْنَ سَعِيدٍ الدَّارِمِيَّ يَقُولُ: سَأَلْتُ يَحْيَى بْنَ مَعِينٍ عَنْ أَصْحَابِ الزُّهْرِيِّ قُلْتُ لَهُ: مَعْمَرٌ أَحَبُّ إِلَيْكَ فِي الزُّهْرِيِّ أَوْ مَالِكٌ؟ فَقَالَ: مَالِكٌ ، قُلْتُ: يُونُسُ أَحَبُّ إِلَيْكَ أَوْ عَقِيلٌ أَوْ مَالِكٌ؟ فَقَالَ: مَالِكٌ قُلْتُ: فَابْنُ عُيَيْنَةَ أَحَبُّ إِلَيْكَ أَوْ مَعْمَرٌ؟ فَقَالَ: مَعْمَرٌ. قُلْتُ: فَمَعْمَرٌ أَحَبُّ إِلَيْكَ أَوْ يُونُسُ؟ قَالَ: مَعْمَرٌ ، قُلْتُ: فَيُونُسُ أَحَبُّ إِلَيْكَ أَمْ عَقِيلٌ؟ فَقَالَ: يُونُسُ ثِقَةٌ وَعُقَيْلٌ ثِقَةٌ نَبِيلٌ الْحَدِيثِ عَنِ الزُّهْرِيِّ ⦗ص: 101⦘. قَالَ: وَسَأَلْتُهُ عَنْ أَصْحَابِ قَتَادَةَ. قُلْتُ لَهُ: الدَّسْتُوَائِيُّ أَحَبُّ إِلَيْكَ فِي قَتَادَةَ أَوْ سَعِيدٌ؟ فَقَالَ: كِلَاهُمَا ، قُلْتُ: فَحَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ أَحَبُّ إِلَيْكَ أَمْ أَبُو هِلَالٍ؟ فَقَالَ: حَمَّادٌ أَحَبُّ إِلَيَّ ، وَأَبُو هِلَالٍ صَدُوقٌ ، قُلْتُ: فَهَمَّامٌ أَحَبُّ إِلَيْكَ فِي قَتَادَةَ أَوْ أَبُو عَوَانَةَ؟ فَقَالَ: هَمَّامٌ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَبِي عَوَانَةَ وَأَبُو عَوَانَةَ قَرِيبٌ مِنْ حَمَّادٍ ، قُلْتُ: شُعْبَةُ أَحَبُّ إِلَيْكَ فِي قَتَادَةَ أَوْ هِشَامٌ؟ فَقَالَ: كِلَاهُمَا قَالَ: وَسَأَلْتُهُ عَنْ أَصْحَابِ الْأَعْمَشِ قُلْتُ: سُفْيَانُ أَحَبُّ إِلَيْكَ فِي الْأَعْمَشِ أَوْ شُعْبَةُ؟ فَقَالَ: سُفْيَانُ ، قُلْتُ: فَأَبُو مُعَاوِيَةَ أَحَبُّ إِلَيْكَ أَمْ وَكِيعٌ فَقَالَ: أَبُو مُعَاوِيَةَ أَعْلَمُ بِهِ ، وَوَكِيعٌ ثِقَةٌ ، قُلْتُ: فَأَبُو عَوَانَةَ أَحَبُّ إِلَيْكَ فِيهِ أَوْ عَبْدُ الْوَاحِدِ؟ ⦗ص: 102⦘ فَقَالَ: أَبُو عَوَانَةَ أَحَبُّ إِلَيَّ وَعَبْدُ الْوَاحِدِ ثِقَةٌ ، قَالَ: وَسَأَلْتُهُ عَنْ أَصْحَابِ أَيُّوبَ السَّخْتِيَانِيِّ ، قُلْتُ: حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ أَحَبُّ إِلَيْكَ فِي أَيُّوبَ أَوِ ابْنُ عُلَيَّةَ؟ فَقَالَ: حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ ، قُلْتُ: فَعَبْدُ الْوَارِثِ؟ فَقَالَ: هُوَ مِثْلُ حَمَّادٍ ، قُلْتُ فَالثَّقَفِيُّ؟ فَقَالَ: ثِقَةٌ ، قُلْتُ هُوَ أَحَبُّ إِلَيْكَ فِي أَيُّوبَ أَوْ عَبْدُ الْوَارِثِ؟ فَقَالَ: عَبْدُ الْوَارِثِ ، قُلْتُ: فَابْنُ عُيَيْنَةَ أَحَبُّ إِلَيْكَ فِي أَيُّوبَ أَوْ عَبْدُ الْوَارِثِ؟ فَقَالَ: عَبْدُ الْوَارِثِ ، قَالَ: وَسَأَلْتُهُ عَنْ أَصْحَابِ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ ، قُلْتُ لَهُ: ابْنُ عُيَيْنَةَ أَحَبُّ إِلَيْكَ فِي عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ أَوِ الثَّوْرِيُّ؟ فَقَالَ: ابْنُ عُيَيْنَةَ أَعْلَمُ بِهِ ، قُلْتُ: فَابْنُ عُيَيْنَةَ أَوْ حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ؟ فَقَالَ: ابْنُ عُيَيْنَةَ أَعْلَمُ بِهِ ، وَسَأَلْتُهُ عَنْ أَصْحَابِ إِبْرَاهِيمَ النَّخَعِيِّ قُلْتُ لَهُ: الْأَعْمَشُ أَحَبُّ إِلَيْكَ فِي إِبْرَاهِيمَ أَوْ مَنْصُورٌ؟ فَقَالَ: مَنْصُورٌ ⦗ص: 103⦘ قُلْتُ: فَمَنْصُورٌ أَحَبُّ إِلَيْكَ فِيهِ أَوِ الْحَكَمُ؟ قَالَ: مَنْصُورٌ ، قُلْتُ: فَمَنْصُورٌ أَوِ الْمُغِيرَةُ؟ فَقَالَ: مَنْصُورٌ وَسَأَلْتُهُ عَنْ أَصْحَابِ أَبِي إِسْحَاقَ قُلْتُ لَهُ: شُعْبَةُ أَحَبُّ إِلَيْكَ فِي أَبِي إِسْحَاقَ أَوْ سُفْيَانُ؟ فَقَالَ: سُفْيَانُ قُلْتُ: فَهُمَا أَوْ زُهَيْرٌ؟ قَالَ: لَيْسَ أَحَدٌ أَعْلَمُ بِأَبِي إِسْحَاقَ مِنْ سُفْيَانَ وَشُعْبَةَ وَذَكَرَ مَعَ هَذَا غَيْرَ هَذَا مِمَّا يَطَوُلُ الْكِتَابُ بِنَقْلِهِ 23 - وَكَذَلِكَ رَوِينَا عَنْ غَيْرِهِ، مِنْ أَئِمَّةِ أَهْلِ النَّقْلِ فِي تَرْجِيحِ الْأَخْبَارِ بِأَثْبَتِهَا مَا دَلَّ عَلَى إِجْمَاعِهِمْ عَلَى ذَلِكَ مَعَ صَاحِبِنَا الْمُطَّلِبِيِّ رضي الله عنه، وَدَلَّ عَلَى شِدَّةِ جُهْدِهِمْ فِي مَعْرِفَةِ الرُّوَاةِ وَمَعْرِفَةِ مَدَارِجِهِمْ فِي الْعَدَالَةِ، وَالْمَعْرِفَةِ، وَالْحِفْظِ، وَالْإِتْقَانِ فِي الرِّوَايةِ، حَتَّى يُمْكِنَ تَرْجِيحُ رِوَايَةِ أَحْفَظِ الرَّاوِيَيْنِ وَأَتْقَنِهِمَا عَلَى رِوَايَةِ دُونِهِ فِي الْحِفْظِ وَالْإِتْقَانِ رضي الله عنهم، وَجَزَاهُمْ عَنْ نَبِيِّهِمْ خَيْرًا، وَوَفَّقَنَا لِمُتَابَعَةِ مَنْ سَلَكَ سَبِيلَ الْهُدَى وَبِاللَّهِ التَّوْفِيقُ
২২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ, আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামী এবং আবু বকর আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-আশনানী। তাঁরা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুস আত-তারাইফি, তিনি বলেন: আমি উসমান ইবনে সাঈদ আদ-দারিমীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনকে যুহরীর ছাত্রদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। আমি তাঁকে বললাম: যুহরীর বর্ণনার ক্ষেত্রে আপনার কাছে মামার বেশি প্রিয় না মালিক? তিনি বললেন: মালিক। আমি বললাম: আপনার কাছে ইউনুস বেশি প্রিয়, নাকি আকীল, নাকি মালিক? তিনি বললেন: মালিক। আমি বললাম: ইবনে উয়াইনাহ কি আপনার কাছে বেশি প্রিয় নাকি মামার? তিনি বললেন: মামার। আমি বললাম: মামার কি আপনার কাছে বেশি প্রিয় নাকি ইউনুস? তিনি বললেন: মামার। আমি বললাম: ইউনুস কি আপনার কাছে বেশি প্রিয় নাকি আকীল? তিনি বললেন: ইউনুস নির্ভরযোগ্য এবং আকীল নির্ভরযোগ্য, যুহরীর থেকে হাদিস বর্ণনায় তিনি শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী ⦗পৃষ্ঠা: ১০১⦘। তিনি বলেন: আমি তাঁকে কাতাদাহর ছাত্রদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। আমি তাঁকে বললাম: কাতাদাহর বর্ণনার ক্ষেত্রে আদ-দাস্তুওয়ায়ী কি আপনার কাছে বেশি প্রিয় নাকি সাঈদ? তিনি বললেন: উভয়েই। আমি বললাম: হাম্মাদ ইবনে সালামাহ কি আপনার কাছে বেশি প্রিয় নাকি আবু হিলাল? তিনি বললেন: হাম্মাদ আমার কাছে বেশি প্রিয়, আর আবু হিলাল সত্যবাদী। আমি বললাম: কাতাদাহর বর্ণনার ক্ষেত্রে হাম্মাম কি আপনার কাছে বেশি প্রিয় নাকি আবু আওয়ানাহ? তিনি বললেন: আবু আওয়ানাহর চেয়ে হাম্মাম আমার কাছে বেশি প্রিয়, আর আবু আওয়ানাহ হাম্মাদের কাছাকাছি। আমি বললাম: কাতাদাহর বর্ণনায় শু'বাহ কি আপনার কাছে বেশি প্রিয় নাকি হিশাম? তিনি বললেন: উভয়েই। তিনি বলেন: আমি তাঁকে আল-আ'মাশ-এর ছাত্রদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। আমি বললাম: আল-আ'মাশ-এর বর্ণনায় সুফিয়ান কি আপনার কাছে বেশি প্রিয় নাকি শু'বাহ? তিনি বললেন: সুফিয়ান। আমি বললাম: আবু মুয়াবিয়া কি আপনার কাছে বেশি প্রিয় নাকি ওয়াকী? তিনি বললেন: আবু মুয়াবিয়া তাঁর সম্পর্কে অধিক অবগত, আর ওয়াকী নির্ভরযোগ্য। আমি বললাম: তাঁর বর্ণনায় আবু আওয়ানাহ কি আপনার কাছে বেশি প্রিয় নাকি আব্দুল ওয়াহিদ? ⦗পৃষ্ঠা: ১০২⦘ তিনি বললেন: আবু আওয়ানাহ আমার কাছে বেশি প্রিয়, আর আব্দুল ওয়াহিদ নির্ভরযোগ্য। তিনি বলেন: আমি তাঁকে আইয়ুব আস-সাখতিয়ানী-এর ছাত্রদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। আমি বললাম: আইয়ুবের বর্ণনায় হাম্মাদ ইবনে যায়দ কি আপনার কাছে বেশি প্রিয় নাকি ইবনে উলাইয়্যাহ? তিনি বললেন: হাম্মাদ ইবনে যায়দ। আমি বললাম: তবে আব্দুল ওয়ারিস? তিনি বললেন: তিনি হাম্মাদের মতোই। আমি বললাম: তবে আস-সাকাফী? তিনি বললেন: নির্ভরযোগ্য। আমি বললাম: আইয়ুবের বর্ণনায় তিনি আপনার কাছে বেশি প্রিয় নাকি আব্দুল ওয়ারিস? তিনি বললেন: আব্দুল ওয়ারিস। আমি বললাম: আইয়ুবের বর্ণনায় ইবনে উয়াইনাহ কি আপনার কাছে বেশি প্রিয় নাকি আব্দুল ওয়ারিস? তিনি বললেন: আব্দুল ওয়ারিস। তিনি বলেন: আমি তাঁকে আমর ইবনে দীনার-এর ছাত্রদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। আমি তাঁকে বললাম: আমর ইবনে দীনার-এর বর্ণনায় ইবনে উয়াইনাহ কি আপনার কাছে বেশি প্রিয় নাকি আস-সাওরী? তিনি বললেন: ইবনে উয়াইনাহ তাঁর সম্পর্কে অধিক অবগত। আমি বললাম: ইবনে উয়াইনাহ নাকি হাম্মাদ ইবনে যায়দ? তিনি বললেন: ইবনে উয়াইনাহ তাঁর সম্পর্কে অধিক অবগত। আমি তাঁকে ইবরাহীম আন-নাখায়ী-এর ছাত্রদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। আমি তাঁকে বললাম: ইবরাহীমের বর্ণনায় আল-আ'মাশ কি আপনার কাছে বেশি প্রিয় নাকি মানসূর? তিনি বললেন: মানসূর ⦗পৃষ্ঠা: ১০৩⦘ আমি বললাম: তাঁর বর্ণনায় মানসূর কি আপনার কাছে বেশি প্রিয় নাকি আল-হাকাম? তিনি বললেন: মানসূর। আমি বললাম: মানসূর নাকি আল-মুগীরাহ? তিনি বললেন: মানসূর। আমি তাঁকে আবু ইসহাক-এর ছাত্রদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। আমি তাঁকে বললাম: আবু ইসহাক-এর বর্ণনায় শু'বাহ কি আপনার কাছে বেশি প্রিয় নাকি সুফিয়ান? তিনি বললেন: সুফিয়ান। আমি বললাম: তাঁরা দুইজন কি বেশি প্রিয় নাকি যুহায়ের? তিনি বললেন: সুফিয়ান ও শু'বাহর চেয়ে আবু ইসহাক সম্পর্কে অধিক অবগত আর কেউ নেই। তিনি এর সাথে আরও অনেক কিছু উল্লেখ করেছেন যা এই গ্রন্থে উদ্ধৃত করলে তা দীর্ঘ হয়ে যাবে। ২৩ - একইভাবে আমরা অন্যান্য হাদিস বিশারদ ইমামদের থেকেও সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর মাধ্যমে বর্ণনাকে প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়ে যা বর্ণনা করেছি, তা আমাদের সাথী আল-মুত্তালিবী (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন) এর সাথে এ বিষয়ে তাঁদের ঐকমত্যের প্রমাণ দেয়। এটি আরও প্রমাণ করে যে, বর্ণনাকারীদের পরিচয় জানা এবং তাঁদের ন্যায়পরায়ণতা, ইলম, মুখস্থ শক্তি ও বর্ণনার নির্ভুলতার স্তরসমূহ নির্ণয়ে তাঁরা কতটা কঠোর পরিশ্রম করেছেন। যাতে করে দুইজন বর্ণনাকারীর মধ্যে যার মুখস্থ শক্তি ও নির্ভুলতা বেশি, তার বর্ণনাকে তার চেয়ে নিম্নস্তরের বর্ণনাকারীর বর্ণনার ওপর প্রাধান্য দেওয়া সম্ভব হয় (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হন)। আল্লাহ তাঁদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে তাঁদের সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং আমাদের হেদায়েতের পথ অনুসরণকারীদের অনুগামী হওয়ার তাওফিক দান করুন। আর আল্লাহর পক্ষ থেকেই সকল তাওফিক আসে।
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলাস সুনানিল কুবরা - বায়হাকী - ত আল-আযমী
(পৃষ্ঠা: ١٠٤)
بَابُ الْحَدِيثِ الَّذِي يُرْوَى خِلَافُهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যে হাদিসের বিপরীত হাদিস বর্ণিত হয়েছে সেই সংক্রান্ত অধ্যায়
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলাস সুনানিল কুবরা - বায়হাকী - ত আল-আযমী
(পৃষ্ঠা: ١٠٤)
24 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، وَأَبُو سَعِيدٍ قَالَا: ثنا أَبُو الْعَبَّاسِ، أَنْبَأَ الرَّبِيعُ قَالَ: أَنْبَأَ الشَّافِعِيُّ رضي الله عنه قَالَ: إِذَا حَدَّثَ الثِّقَةُ عَنِ الثِّقَةِ حَتَّى يَنْتَهِيَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَهُوَ ثَابِتٌ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَلَا يُتْرَكُ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَدِيثٌ أَبَدًا إِلَّا حَدِيثٌ وُجِدَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَدِيثٌ يُخَالِفُهُ. . . ، ثُمَّ ذَكَرَ فِي الْأَحَادِيثِ إِذَا اخْتَلَفَتْ مَعْنَى مَا مَضَى. قَالَ الشَّافِعِيُّ رضي الله عنه: إِذَا كَانَ الْحَدِيثُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَا مُخَالِفَ لَهُ عَنْهُ وَكَانَ يُرْوَى عَنْ مَنْ دُونَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَدِيثٌ يُوَافِقُهُ لَمْ يَزِدْهُ قُوَّةً وَحَدِيثُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُسْتَغْنٍ بِنَفْسِهِ. وَإِنْ كَانَ ذَلِكَ يُرْوَى عَمَّنْ دُونَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَدِيثٌ يُخَالِفُهُ لَمْ نَلْتَفِتْ إِلَى مَا خَالَفَهُ، وَحَدِيثُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَوْلَى أَنْ يُؤْخَذَ بِهِ، وَلَوْ عَلِمَ مَنْ رَوَى عَنْهُ خِلَافَهُ سُنَّةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اتَّبَعَهَا إِنْ شَاءَ اللَّهُ
২৪ - আবু আবদুল্লাহ আল-হাফিজ এবং আবু সাঈদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা বলেছেন: আবু আল-আব্বাস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, রাবি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: শাফেয়ী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: যখন একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী অপর একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী থেকে বর্ণনা করেন এবং তা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছে, তবে তা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে প্রমাণিত। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কোনো হাদীস কখনোই পরিত্যাগ করা যাবে না, যতক্ষণ না আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এমন কোনো হাদীস পাওয়া যায় যা এর পরিপন্থী হয়... অতঃপর তিনি হাদীসসমূহের পারস্পরিক পার্থক্যের ক্ষেত্রে ইতিপূর্বে আলোচিত অর্থের অনুরূপ উল্লেখ করেন। শাফেয়ী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: যখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে কোনো হাদীস বর্ণিত হয় যার বিপরীতে তাঁর থেকে অন্য কোনো বর্ণনা নেই, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পরবর্তী স্তরের কারো থেকে এর অনুকূলে কোনো বর্ণনা পাওয়া গেলে তা হাদীসটিকে অতিরিক্ত শক্তিশালী করে না; বরং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদীস নিজেই স্বয়ংসম্পূর্ণ। আর যদি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পরবর্তী স্তরের কারো থেকে এর পরিপন্থী কোনো বর্ণনা থাকে, তবে আমরা সেই পরিপন্থী বর্ণনার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করব না; বরং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদীস গ্রহণ করাই অধিক যুক্তিযুক্ত। আর যাঁর থেকে বিপরীত মত বর্ণিত হয়েছে, তিনি যদি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ সম্পর্কে অবগত হতেন, তবে ইনশাআল্লাহ তিনি তা-ই অনুসরণ করতেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলাস সুনানিল কুবরা - বায়হাকী - ত আল-আযমী
(পৃষ্ঠা: ١٠٤)
25 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، ثنا أَبُو الْعَبَّاسِ هُوَ الْأَصَمُّ ثنا الْحَسَنُ بْنُ مُكْرَمٍ، ثنا أَبُو النَّضْرِ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ رَاشِدٍ، عَنْ عَبْدَةَ بْنِ أَبِي لُبَابَةَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ يَحْيَى الْمَخْزُومِيِّ أَنَّ رَجُلًا مِنْ ثَقِيفٍ أَتَى عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رضي الله عنه فَسَأَلَهُ عَنِ امْرَأَةٍ حَاضَتْ، وَقَدْ كَانَتْ زَارَتِ الْبَيْتَ يَوْمَ النَّحْرِ ، أَلَهَا أَنْ تَنْفِرَ قَبْلَ أَنْ تَطْهُرَ؟ فَقَالَ عُمَرُ رضي الله عنه: لَا ، فَقَالَ لَهُ الثَّقَفِيُّ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَفْتَانِي فِي مِثْلِ هَذِهِ الْمَرْأَةِ بِغَيْرِ مَا أَفْتَيْتَ ، قَالَ: فَقَامَ إِلَيْهِ عُمَرُ رضي الله عنه يضْرِبُهُ بِالدِّرَّةِ وَيَقُولُ: لِمَ تَسْتَفْتُونِي فِي شَيْءٍ قَدْ أَفْتَى فِيهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
২৫ - আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিয আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল আব্বাস (যিনি আল-আসাম নামে পরিচিত) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাসান ইবনে মুকরাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আন-নাদর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে রাশিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদাহ ইবনে আবি লুবাবাহ থেকে বর্ণিত, তিনি হিশাম ইবনে ইয়াহইয়া আল-মাখযুমি থেকে বর্ণনা করেন যে, সাকীফ গোত্রের এক ব্যক্তি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট আসলেন। অতঃপর তিনি তাকে এমন এক নারী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন যার ঋতুস্রাব শুরু হয়েছে, অথচ তিনি কুরবানির দিন বায়তুল্লাহ যিয়ারত (তাওয়াফে যিয়ারাতে) করেছিলেন। পবিত্র হওয়ার আগেই কি তিনি প্রস্থান করতে পারবেন? উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: না। তখন সাকীফ ব্যক্তিটি তাকে বললেন: নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ ধরনের নারীর ক্ষেত্রে আপনি যা ফতোয়া দিয়েছেন তার বিপরীতে আমাকে ফতোয়া দিয়েছেন। বর্ণনাকারী বলেন: তখন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাকে চাবুক দিয়ে মারতে উদ্যত হলেন এবং বলতে লাগলেন: যে বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফতোয়া প্রদান করেছেন, সে বিষয়ে কেন তোমরা আমার কাছে ফতোয়া জিজ্ঞাসা করছ?
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলাস সুনানিল কুবরা - বায়হাকী - ত আল-আযমী
(পৃষ্ঠা: ١٠٥)
26 - وَرُوِيَ مِنْ وَجْهٍ آخَرَ عَنِ الْحَارِثِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَوْسٍ الثَّقَفِيِّ، أَنَّهُ أَتَى عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رضي الله عنه فَسَأَلَهُ عَنِ امْرَأَةٍ، تَطُوفُ بِالْبَيْتِ ثُمَّ تَحِيضُ؟ قَالَ: لِيَكُنْ آخِرُ عَهْدِهَا بِالْبَيْتِ ، فَقَالَ الْحَارِثُ: كَذَا أَفْتَانِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، فَقَالَ عُمَرُ رضي الله عنه: أَرِبْتَ عَنْ يدَيْكَ ، سَأَلْتَنِي عَنْ شَيْءٍ سَأَلْتَ عَنْهُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِكَيْمَا أُخَالِفَ 27 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الرُّوذْبَارِيُّ، أَنْبَأَ ابْنُ دَاسَةَ، أَنْبَأَ أَبُو دَاوُدَ، ثنا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ، أَنْبَأَ أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ يَعْلَى بْنِ عَطَاءٍ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَوْسٍ فَذَكَرَهُ⦗ص: 106⦘ 28 - وَالرِّوَايةُ الْأُولَى أَشْبَهُ بِالرِّوَايَةِ الصَّحِيحَةِ فِي الرُّخْصَةِ لِلْحَائِضِ وَالْمَقْصُودُ مِنْهُ إِشَارَةُ عُمَرَ رضي الله عنه إِلَى الِاسْتِغْنَاءِ بِالسُّنَّةِ عَنْ غَيْرِهَا
২৬ - হারিছ ইবন আবদুল্লাহ ইবন আওস আস-সাকাফী থেকে অন্য সূত্রে বর্ণিত যে, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট এসে তাকে এমন এক নারী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, যে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করেছে এবং এরপর তার ঋতুস্রাব শুরু হয়েছে। তিনি (উমর) বললেন: বায়তুল্লাহর সাথে তার শেষ সময়টি যেন অতিবাহিত হয় (অর্থাৎ সে যেন বিদায়ী তাওয়াফ করে)। হারিছ বললেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে অনুরূপ ফতোয়াই দিয়েছিলেন। তখন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: তোমার হাত ক্ষতিগ্রস্ত হোক! তুমি আমাকে এমন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে যা তুমি ইতিপূর্বেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করেছো, যাতে আমি (তাঁর) বিরোধিতা করি (তা দেখার জন্য)? ২৭ - আবু আলী আর-রুজবারী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবন দাসাহ আমাদের জানিয়েছেন, আবু দাউদ আমাদের জানিয়েছেন, আমর ইবন আউন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবু আওয়ানাহ ইয়াহলা ইবন আতা থেকে, তিনি ওয়ালিদ ইবন আবদুর রহমান থেকে, তিনি হারিছ ইবন আবদুল্লাহ ইবন আওস থেকে বর্ণনা করেছেন—অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেছেন।⦗পৃষ্ঠা: ১০৬⦘ ২৮ - আর প্রথম বর্ণনাটি ঋতুবতী নারীর জন্য (বিদায়ী তাওয়াফ ত্যাগের) অনুমতির বিষয়ে সহীহ বর্ণনার সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ। আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর পক্ষ থেকে সুন্নাহর উপস্থিতিতে অন্য কিছুর মুখাপেক্ষী না হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করা।
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলাস সুনানিল কুবরা - বায়হাকী - ত আল-আযমী
(পৃষ্ঠা: ١٠٦)
29 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا زَكَرِيَّا الْعَنْبَرِيَّ يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبَا بَكْرِ بْنَ خُزَيْمَةَ يَقُولُ: لَيْسَ لِأَحَدٍ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَوْلٌ إِذَا صَحَّ الْخَبَرُ عَنْهُ ، سَمِعْتُ أَبَا هِشَامٍ الرِّفَاعِيَّ يَقُولُ: سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ آدَمَ يَقُولُ: لَا يُحْتَاجُ مَعَ قَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلَى قَوْلِ أَحَدٍ وَإِنَّمَا كَانَ يُقَالُ: سُنَّةُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ رضي الله عنهما لِيُعْلَمَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مَاتَ وَهُوَ عَلَيْهَا
২৯ - আমাদের আবু আব্দুল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আবু জাকারিয়া আল-আনবারিকে বলতে শুনেছি: আমি আবু বকর বিন খুজায়মাহকে বলতে শুনেছি: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যখন কোনো বর্ণনা সহিহ প্রমাণিত হয়, তখন তাঁর বাণীর বিপরীতে অন্য কারও কোনো বক্তব্য গ্রাহ্য নয়। আমি আবু হিশাম আল-রিফায়িকে বলতে শুনেছি: আমি ইয়াহইয়া বিন আদমকে বলতে শুনেছি: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর উপস্থিতিতে অন্য কারো বাণীর প্রয়োজন নেই। মূলত "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবু বকর এবং উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সুন্নাহ" বলা হতো কেবল এটি বোঝানোর জন্য যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকা অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলাস সুনানিল কুবরা - বায়হাকী - ত আল-আযমী
(পৃষ্ঠা: ١٠٧)
30 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ الْحَارِثِ، أبنا أَبُو مُحَمَّدِ بْنُ حَيَّانَ، ثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ، ثنا عَبْدُ الْجَبَّارِ، ثنا سَفَرٌ، عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ، عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ: «لَيْسَ أَحَدٌ إِلَّا يُؤْخَذُ مِنْ قَوْلِهِ وَيُتْرَكُ مِنْ قَوْلِهِ إِلَّا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم» 31 - وَرُوِّينَا مَعْنَاهُ عَنْ عَامِرٍ الشَّعْبِيِّ
৩০ - আবু বকর ইবনুল হারিস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু মুহাম্মদ ইবনু হাইয়্যান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইব্রাহিম ইবনু মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুজ্জাব্বার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাফার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল কারীম থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ব্যতীত এমন কেউ নেই যার কথা গ্রহণও করা হয় এবং বর্জনও করা হয়।" ৩১ - এবং আমরা আমির আশ-শা’বি থেকেও একই অর্থবোধক বর্ণনা লাভ করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলাস সুনানিল কুবরা - বায়হাকী - ত আল-আযমী
(পৃষ্ঠা: ١٠٧)
32 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ الْحَارِثِ، أَنْبَأَ أَبُو مُحَمَّدِ بْنُ حَيَّانَ، ثنا ابْنُ أَبِي عَاصِمٍ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ مُصَفَّى، ثنا أَبُو الْمُغِيرَةِ، عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ، قَالَ الْقَاسِمُ بْنُ مُخَيْمِرَةَ: مَا قَبَضَ اللَّهُ عَلَيْهِ نَبِيَّهُ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ حَرَامٌ فَهُوَ حَرَامٌ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ ، وَمَا قَبَضَ اللَّهُ عَلَيْهِ رَسُولَهُ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ حَلَالٌ فَهُوَ حَلَالٌ يَعْنِي إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ
৩২ - আবু বকর ইবনুল হারিস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু মুহাম্মদ ইবনে হাইয়ান আমাদের অবহিত করেছেন, ইবনে আবি আসিম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে মুসাফফা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু আল-মুগিরা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আওযায়ী থেকে বর্ণিত, আল-কাসিম ইবনে মুখাইমিরাহ বলেন: আল্লাহ তাঁর নবীকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যে অবস্থায় মৃত্যু দান করেছেন এবং যা হারাম ছিল, তা কিয়ামত পর্যন্ত হারামই থাকবে; এবং আল্লাহ তাঁর রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যে অবস্থায় মৃত্যু দান করেছেন এবং যা হালাল ছিল, তা হালালই থাকবে—অর্থাৎ কিয়ামত পর্যন্ত।
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলাস সুনানিল কুবরা - বায়হাকী - ত আল-আযমী
(পৃষ্ঠা: ١٠٧)
33 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ بْنُ الْفَضْلِ الْقَطَّانُ، بِبَغْدَادَ ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ، ثنا ⦗ص: 108⦘ يَعْقُوبُ بْنُ سُفْيَانَ، ثنا ابْنُ بُكَيْرٍ، حَدَّثَنِي اللَّيْثُ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ بْنِ حَفْصٍ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ أَهْلِ وَاسِطٍ يُقَالُ لَهُ: شَيْبَةُ بْنُ مُسَاوِرٍ ، أَنَّهُ قَالَ: سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ رضي الله عنه يُحَدِّثُ زَمَانَ اسْتُخْلِفَ وَجَلَسَ عَلَى الْمِنْبَرِ فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ: " أَمَّا بَعْدُ أَيُّهَا النَّاسُ فَإِنَّ اللَّهَ عز وجل لَمْ يُرْسِلْ رَسُولًا بَعْدَ رَسُولِكُمْ، وَلَمْ يُنَزِّلْ بَعْدَ الْكِتَابِ الَّذِي أَنْزَلَ عَلَيْهِ كِتَابًا، فَمَا أَحَلَّ اللَّهُ عَلَى لِسَانِ رَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم فَهُوَ حَلَالٌ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ، وَمَا حَرَّمَ اللَّهُ عَلَى لِسَانِ رَسُولِهِ فَهُوَ حَرَامٌ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ ، أَلَا وَإِنِّي لَسْتُ بِمُبْتَدِعٍ وَلَكِنِّي مُتَّبِعٌ ، وَلَسْتُ بِقَاضٍ وَلَكِنِّي مَنَفِّذٌ ، وَلَسْتُ بِخَيْرٍ مِنْ وَاحِدٍ مِنْكُمْ ، وَلَكِنِّي أَثْقَلُكُمْ حِمْلًا ، أَلَا وَإِنَّهُ لَيْسَ لِأَحَدٍ أَنْ يُطَاعَ فِي مَعَاصِي اللَّهِ أَلَا هَلْ أَسْمَعْتُ؟ أَلَا هَلْ أَسْمَعْتُ؟
৩৩ - আবুল হুসাইন বিন আল-ফাদল আল-কাত্তান বাগদাদে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ বিন জাফর আমাদের বর্ণনা করেছেন, ⦗পৃষ্ঠা: ১০৮⦘ ইয়াকুব বিন সুফিয়ান আমাদের বর্ণনা করেছেন, ইবনে বুকাইর আমাদের বর্ণনা করেছেন, আল-লাইস আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুল আজিজ বিন আবি সালামাহ থেকে, তিনি উবাইদুল্লাহ বিন উমর বিন হাফস থেকে, তিনি ওয়াসিত নগরীর শায়বাহ বিন মুসাওয়ির নামক এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: আমি উমর বিন আবদুল আজিজ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে তাঁর খলিফা নিযুক্ত হওয়ার সময় মিম্বরে বসে আলোচনা করতে শুনেছি। তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করলেন, অতঃপর বললেন: "অতঃপর হে লোকসকল! নিশ্চয়ই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তোমাদের রাসুলের পর আর কোনো রাসুল পাঠাননি এবং তাঁর ওপর যে কিতাব নাজিল করেছেন তার পর আর কোনো কিতাব নাজিল করেননি। সুতরাং আল্লাহ তাঁর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুখে যা হালাল করেছেন তা কিয়ামত পর্যন্ত হালাল, আর আল্লাহ তাঁর রাসুলের মুখে যা হারাম করেছেন তা কিয়ামত পর্যন্ত হারাম। জেনে রেখো, আমি কোনো নব-উদ্ভাবক নই বরং আমি একজন অনুসারী মাত্র; আমি কোনো (নতুন) ফয়সালাকারী নই বরং আমি কেবল একজন বাস্তবায়নকারী। আমি তোমাদের কারো চেয়ে শ্রেষ্ঠ নই, তবে আমি তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে ভারী বোঝা বহনকারী। জেনে রেখো, আল্লাহর নাফরমানি করে কারো আনুগত্য করা যাবে না। আমি কি তোমাদের পৌঁছাতে পেরেছি? আমি কি তোমাদের পৌঁছাতে পেরেছি?"
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলাস সুনানিল কুবরা - বায়হাকী - ত আল-আযমী
(পৃষ্ঠা: ١٠٩)
بَابُ أَقَاوِيلِ الصَّحَابَةِ رضي الله عنهم إِذَا تَفَرَّقُوا فِيهَا وَيُسْتَدَلُّ بِهِ عَلَى مَعْرِفَةِ الصَّحَابَةِ وَالتَّابِعِينَ وَمَنْ بَعْدَهُمْ مِنْ أَكَابِرِ فُقَهَاءِ الْأَمْصَارِ
অধ্যায়: সাহাবীগণের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) সেইসব বক্তব্য যখন তাঁরা এই বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করেছেন এবং এর দ্বারা সাহাবী, তাবিঈ ও তাঁদের পরবর্তী বিভিন্ন অঞ্চলের প্রখ্যাত ফকীহগণের অবস্থান সম্পর্কে দলিল গ্রহণ করা হয়
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলাস সুনানিল কুবরা - বায়হাকী - ত আল-আযমী
(পৃষ্ঠা: ١٠٩)
34 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، فِي كِتَابِ الرِّسَالَةِ الْجَدِيدَةِ: ثنا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ ، أَبْنَا الرَّبِيعُ قَالَ: قَالَ الشَّافِعِيُّ رضي الله عنه فِي أَقَاوِيلِ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَرَضِيَ عَنْهُمْ: " إِذَا تَفَرَّقُوا فِيهَا نَصِيرُ إِلَى مَا وَافَقَ الْكِتَابَ أَوِ السُّنَّةَ أَوِ الْإِجْمَاعَ، أَوْ كَانَ أَصَحَّ فِي الْقِيَاسِ ، وَإِذَا قَالَ الْوَاحِدُ مِنْهُمُ الْقَوْلَ لَا نَحْفَظُ عَنْ غَيْرِهِ مِنْهُمْ فِيهِ لَهُ مُوَافَقَةً وَلَا خِلَافًا ، صِرْتُ إِلَى اتِّبَاعِ قَوْلِ وَاحِدِهِمْ، إِذَا لَمْ أَجِدْ كِتَابًا وَلَا سُنَّةً وَلَا إِجْمَاعًا وَلَا شَيْئًا فِي مَعْنَاهُ يُحْكَمُ لَهُ بِحُكْمِهِ أَوْ وُجِدَ مَعَهُ قِيَاسٌ
৩৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ আল-হাফিয, 'আর-রিসালা আল-জাদিদাহ' গ্রন্থে: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আর-রাবি', তিনি বলেন: শাফিঈ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) বক্তব্যসমূহ সম্পর্কে বলেছেন: "যখন তাঁরা কোনো বিষয়ে মতভেদ করেন, তখন আমরা সেই মতটির দিকেই ফিরে যাই যা কিতাব, সুন্নাহ অথবা ইজমার সাথে সংগতিপূর্ণ হয়, অথবা যা কিয়াসের ক্ষেত্রে অধিকতর সঠিক। আর যখন তাঁদের মধ্য থেকে কেউ কোনো কথা বলেন এবং এ বিষয়ে তাঁদের অন্য কারো পক্ষ থেকে কোনো সমর্থন বা বিরোধিতার কথা আমাদের জানা না থাকে, তখন আমি সেই একজনের কথা অনুসরণের দিকেই ফিরে যাই; যদি আমি (এ বিষয়ে) কোনো কিতাব, সুন্নাহ, ইজমা অথবা এমন কোনো কিছু না পাই যার অর্থ দ্বারা এর বিধান নির্ধারণ করা যায়, অথবা যদি তার সপক্ষে কোনো কিয়াস পাওয়া যায়।"
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলাস সুনানিল কুবরা - বায়হাকী - ত আল-আযমী
(পৃষ্ঠা: ١٠٩)
35 - أَخْبَرَنَا أَبُو سَعِيدِ بْنُ أَبِي عَمْرٍو، فِي كِتَابِ اخْتِلَافِ مَالِكٍ وَالشَّافِعِيِّ رضي الله عنهما، ثنا أَبُو الْعَبَّاسِ ، أَبْنَا الرَّبِيعُ قَالَ: قَالَ الشَّافِعِيُّ رضي الله عنه: " مَا كَانَ الْكِتَابُ أَوِ السُّنَّةُ مَوْجُودَيْنِ فَالْعُذْرُ عَلَى مَنْ سَمِعَهُمَا مَقْطُوعٌ إِلَّا بِاتِّبَاعِهِمَا ، فَإِذَا لَمْ يَكُنْ ذَلِكَ صِرْنَا إِلَى أَقَاوِيلِ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَوْ وَاحِدِهِمْ ، ثُمَّ كَانَ قَوْلُ الْأَئِمَّةِ: أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ وَعُثْمَانَ رضي الله عنهم، «إِذَا صِرْنَا إِلَى التَّقْلِيدِ أَحَبَّ إِلَيْنَا وَذَلِكَ إِذَا لَمْ نَجِدْ دَلَالَةً فِي الِاخْتِلَافِ تَدُلُّ عَلَى أَقْرَبِ الِاخْتِلَافِ مِنَ الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ، فَنَتَّبِعُ الْقَوْلَ الَّذِي مَعَهُ الدَّلَالَةُ لِأَنَّ قَوْلَ الْإِمَامِ مَشْهُورٌ مَا يَلْزَمُ النَّاسَ ، وَمَنْ لَزِمَ قَوْلُهُ النَّاسَ كَانَ أَشْهَرَ مِمَّنْ يُفْتِي الرَّجُلَ أَوِ النَّفْرَ، وَقَدْ يَأْخُذُ بُفُتْيَاهُ وَيدَعُهَا وَأَكْثَرُ الْمُفْتِينَ يُفْتُونَ الْخَاصَّةَ فِي بُيوتِهِمْ وَمَجَالِسِهِمْ ، وَلَا يُعْنَى الْعَامَّةُ بِمَا قَالُوا عِنَايَتَهُمْ بِمَا قَالَ الْإِمَامُ ، وَقَدْ وَجَدْنَا الْأَئِمَّةَ يُنْتَدَبُونَ فَيُسْأَلُونَ عَنِ الْعِلْمِ مِنَ الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ فِيمَا أَرَادُوا ، وَأَنْ يَقُولُوا فِيهِ وَيَقُولُونَ، فَيُخْبَرُونَ بِخِلَافِ قَوْلِهِمْ فَيَقْبَلُونَ مِنَ الْمُخْبِرِ وَلَا يَسْتَنْكِفُونَ ⦗ص: 110⦘ عَنْ أَنْ يَرْجِعُوا لِتَقْوَاهُمُ اللَّهَ وَفَضْلِهِمْ فِي حَالَاتِهِمْ ، فَإِذَا لَمْ يُوجَدْ عَنِ الْأَئِمَّةِ فَأَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الدِّينِ فِي مَوْضِعِ الْأَمَانَةِ أَخَذْنَا بِقَوْلِهِمْ وَكَانَ اتِّبَاعُهُمْ أَوْلَى بِنَا مِنَ اتِّبَاعِ مَنْ بَعْدَهُمْ» 36 - قَالَ: وَالْعِلْمُ طَبَقَاتٌ: الْأُولَى: الْكِتَابُ وَالسُّنَّةُ إِذَا ثَبَتَتِ السُّنَّةُ ، ثُمَّ الثَّانِيةُ: الْإِجْمَاعُ فِيمَا لَيْسَ فِيهِ كِتَابٌ وَلَا سَنَةٌ ، وَالثَّالِثَةُ: أَنْ يَقُولَ بَعْضُ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَلَا نَعْلَمُ لَهُ مُخَالِفًا مِنْهُمْ ، وَالرَّابِعَةُ: اخْتِلَافُ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَرَضِيَ عَنْهُمْ ، وَالْخَامِسَةُ: الْقِيَاسُ عَلَى بَعْضِ هَذِهِ الطَّبَقَاتِ وَلَا يُصَارُ إِلَى شَيْءٍ غَيْرِ الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ 37 - وَهُمَا مَوْجُودَانِ ، وَإِنَّمَا يُؤْخَذُ الْعِلْمُ مِنْ أَعْلَى وَذَكَرَ الشَّافِعِيُّ رضي الله عنه فِي كِتَابِ الرِّسَالَةِ الْقَدِيمَةِ ، بَعْدَ ذِكْرِ الصَّحَابَةِ رضي الله عنهم وَالثَّنَاءِ عَلَيْهِمْ بِمَا هُمْ أَهْلُهُ، فَقَالَ: " وَهُمْ فَوْقَنَا فِي كُلِّ عِلْمٍ وَاجْتِهَادٍ وَوَرِعٍ وَعَقْلٍ وَأَمْرٍ اسْتُدْرِكَ بِهِ عِلْمٌ وَاسْتُنْبِطَ بِهِ ، وَآرَاؤُهُمْ لَنَا أَحْمَدُ وَأَوْلَى بِنَا مِنْ آرَائِنَا عِنْدَنَا لِأَنْفُسِنَا ، وَاللَّهُ أَعْلَمُ ، وَمَنْ أَدْرَكْنَا مِمَّنْ أَرْضِي أَوْ حُكِيَ لَنَا عَنْهُ بِبَلَدِنَا صَارُوا فِيمَا لَمْ يَعْلَمُوا لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِيهِ سَنَةً إِلَى قَوْلِهِمْ إِنِ اجْتَمِعُوا، وَقَوْلِ بَعْضِهِمْ إِنْ تَفَرَّقُوا، فَهَكَذَا نَقُولُ إِذَا اجْتَمَعُوا أَخَذْنَا بِاجْتِمَاعِهِمْ، وَإِنْ قَالَ وَاحِدُهُمْ وَلَمْ يُخَالِفْهُ غَيْرُهُ أَخَذْنَا بِقَوْلِهِ ، فَإِنِ اخْتَلَفُوا أَخَذْنَا بِقَوْلِ بَعْضِهِمْ وَلَمْ نُخَرِّجْ مِنْ أَقَاوِيلِهِمْ كُلِّهِمْ 38 - قَالَ الشَّافِعِيُّ رضي الله عنه: وَإِذَا قَالَ الرَّجُلَانِ مِنْهُمْ فِي شَيْءٍ قَوْلَيْنِ مُخْتَلِفَيْنِ نَظَرْتُ، فَإِنْ كَانَ قَوْلُ أَحَدِهِمَا أَشْبَهُ بِكِتَابِ اللَّهِ أَوْ أَشْبَهُ بِسُنَّةٍ مِنْ سُنَنِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَخَذْتُ بِهِ ، لِأَنَّ مَعَهُ شَيْئًا يَقْوَى بِمِثْلِهِ لَيْسَ مَعَ الَّذِي يُخَالِفُهُ مِثْلُهُ، فَإِنْ لَمْ يَكُنْ عَلَى وَاحِدٍ مِنَ الْقَوْلَيْنِ دَلَالَةٌ بِمَا وَصَفْتُ كَانَ قَوْلُ الْأَئِمَّةِ أَبِي بَكْرٍ أَوْ عُمَرَ أَوْ عُثْمَانَ رضي الله عنهم أَرْجَحُ عِنْدَنَا مِنْ أَحَدٍ، لَوْ خَالَفَهُمْ غَيْرُ إِمَامٍ وَذَلِكَ ذَكَرَهُ فِي مَوْضِعٍ آخَرَ مِنْ هَذَا الْكِتَابِ 39 - وَقَالَ: فَإِنْ لَمْ يَكُنْ عَلَى الْقَوْلِ دَلَالَةٌ مِنْ كِتَابٍ وَلَا سَنَةٍ كَانَ قَوْلُ أَبِي بَكْرٍ، أَوْ عُمَرَ، أَوْ عُثْمَانَ، أَوْ عَلِيٍّ رضي الله عنهم أَحَبُّ إِلَيَّ أَنْ أَقُولَ بِهِ مِنْ قَوْلِ غَيْرِهِمْ إِنْ خَالَفَهُمْ، مِنْ قِبَلِ أَنَّهُمْ أَهْلُ عِلْمٍ وَحُكَّامٌ، ثُمَّ سَاقَ الْكَلَامَ إِلَى أَنْ قَالَ: فَإِنِ اخْتَلَفَ الْحُكَّامُ اسْتَدْلَلْنَا الْكِتَابَ وَالسُّنَّةَ فِي اخْتِلَافِهِمْ فَصِرْنَا إِلَى الْقَوْلِ الَّذِي عَلَيْهِ الدَّلَالَةُ مِنَ الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ، وَقَلَّ مَا يَخْلُو اخْتِلَافُهُمْ مِنْ دَلَائِلِ كِتَابٍ أَوْ سُنَّةٍ ، وَإِنِ اخْتَلَفَ الْمَفْتُونَ يَعْنِي مِنَ الصَّحَابَةِ بَعْدَ الْأَئِمَّةِ بِلَا دَلَالَةٍ فِيمَا اخْتَلَفُوا فِيهِ نَظَرْنَا إِلَى الْأَكْثَرِ ، ⦗ص: 111⦘ فَإِنْ تَكَافَؤُوا نَظَرْنَا إِلَى أَحْسَنِ أَقَاوِيلِهِمْ مَخْرَجًا عِنْدَنَا، وَإِنْ وَجَدْنَا لِلْمُفْتِينَ فِي زَمَانِنَا وَقَبْلَهُ اجْتِمَاعًا فِي شَيْءٍ لَا يَخْتَلِفُونَ فِيهِ تَبِعْنَاهُ، وَكَانَ أَحَدَ طُرُقِ الْأَخْبَارِ الْأَرْبَعَةِ وَهِيَ: كِتَابُ اللَّهِ ، ثُمَّ سَنَةُ نَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم ، ثُمَّ الْقَوْلُ لِبَعْضِ أَصْحَابِهِ ، ثُمَّ اجْتِمَاعُ الْفُقَهَاءِ ، فَإِذَا نَزَلَتْ نَازِلَةٌ لَمْ نَجِدْ فِيهَا وَاحِدَةً مِنْ هَذِهِ الْأَرْبَعَةِ الْأَخْبَارِ فَلَيْسَ السَّبِيلُ فِي الْكَلَامِ فِي النَّازِلَةِ إِلَّا اجْتِهَادُ الرَّأْيِ
৩৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাঈদ ইবনে আবি আমর, মালিক ও শাফিঈর ইখতিলাফ বিষয়ক গ্রন্থে, আমাদের বর্ণনা করেছেন আবুল আব্বাস, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন রাবি’, তিনি বলেন: শাফিঈ (রা.) বলেছেন: "যতক্ষণ পর্যন্ত কিতাব (আল্লাহর কিতাব) অথবা সুন্নাহ বিদ্যমান থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত যে ব্যক্তি তা শুনেছে তার জন্য সেগুলো অনুসরণ করা ছাড়া অন্য কোনো ওজর বা অজুহাত অবশিষ্ট থাকে না। আর যখন তা পাওয়া যায় না, তখন আমরা আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাহাবীগণের অথবা তাঁদের মধ্য থেকে কোনো একজনের বক্তব্যের দিকে ফিরে যাই। অতঃপর ইমাম আবু বকর, উমর ও উসমান (রা.)-এর বক্তব্য; যখন আমরা অনুকরণের আশ্রয় নিই তখন এটিই আমাদের নিকট অধিক প্রিয়। আর এটি তখন, যখন আমরা ইখতিলাফ বা মতভেদের মাঝে এমন কোনো প্রমাণ পাই না যা কিতাব ও সুন্নাহর অধিক নিকটবর্তী হওয়ার পথ দেখায়। সুতরাং আমরা সেই মতটিই অনুসরণ করি যার পক্ষে দলিল বিদ্যমান। কারণ ইমামের বক্তব্য সুপ্রসিদ্ধ যা মানুষের জন্য মান্য করা আবশ্যক। আর যার কথা মানুষের জন্য অপরিহার্য হয়, তা সেই ব্যক্তির চেয়ে অধিক প্রসিদ্ধ যে কোনো একজন ব্যক্তি বা ক্ষুদ্র দলকে ফতোয়া প্রদান করে। কেননা মানুষ কখনো তার ফতোয়া গ্রহণ করে আবার কখনো তা বর্জন করে। অধিকাংশ মুফতি তাঁদের ঘরে ও মজলিসে নির্দিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে ফতোয়া দিয়ে থাকেন। সাধারণ মানুষ ইমামের বক্তব্যের প্রতি যতটা গুরুত্ব দেয়, এই মুফতিদের বক্তব্যের প্রতি ততটা দেয় না। আমরা ইমামদের এমন পেয়েছি যে, তাঁদের যখন কোনো বিষয়ে আহ্বান করা হতো, তখন তাঁরা কিতাব ও সুন্নাহ থেকে ইলম সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হতেন এবং তাঁরা যা বলতে চাইতেন তা বলতেন। অতঃপর যখন তাঁদেরকে তাঁদের মতের বিপরীত কোনো সংবাদ দেওয়া হতো, তখন তাঁরা সংবাদদাতার পক্ষ থেকে তা গ্রহণ করে নিতেন। তাঁরা ⦗পৃষ্ঠা: ১১০⦘ হক কথা মেনে নিতে এবং নিজেদের ভুল থেকে ফিরে আসতে কুণ্ঠাবোধ করতেন না; কারণ আল্লাহর প্রতি তাঁদের তাকওয়া এবং তাঁদের সুউচ্চ মর্যাদা। সুতরাং যখন ইমামদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায় না, তখন দ্বীনের বিষয়ে আমানতদারিতার স্থানে আসীন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাহাবীগণের বক্তব্য আমরা গ্রহণ করি এবং তাঁদের পরবর্তী লোকদের অনুসরণের চেয়ে তাঁদের অনুসরণ করা আমাদের জন্য অধিক শ্রেয়।" ৩৬ - তিনি বলেন: ইলম বা জ্ঞান হলো কয়েকটি স্তরের: প্রথমটি হলো কিতাব ও সুন্নাহ, যখন সুন্নাহ প্রমাণিত হয়। দ্বিতীয়টি হলো ইজমা (ঐক্যমত), যেখানে কিতাব ও সুন্নাহ থেকে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য নেই। তৃতীয়টি হলো আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কোনো সাহাবীর বক্তব্য, যার কোনো বিরোধিতাকারী সম্পর্কে আমাদের জানা নেই। চতুর্থটি হলো আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাহাবীগণের মধ্যকার মতভেদ। পঞ্চমটি হলো এই স্তরগুলোর কোনো একটির ওপর কিয়াস (অনুমান) করা। কিতাব ও সুন্নাহ থাকা অবস্থায় অন্য কিছুর দিকে প্রত্যাবর্তন করা যাবে না। ৩৭ - আর এই দুটি (কিতাব ও সুন্নাহ) বিদ্যমান রয়েছে। ইলম উচ্চতর উৎস থেকেই গ্রহণ করা হয়। ইমাম শাফিঈ (রা.) তাঁর 'রিসালাহ কদিমাহ' গ্রন্থে সাহাবীগণের (রা.) কথা উল্লেখ করার পর এবং তাঁদের যথাযথ প্রশংসা করার পর বলেছেন: "ইলম, ইজতিহাদ, তাকওয়া, বুদ্ধি এবং প্রতিটি বিষয়ে যা দ্বারা ইলম অনুধাবন করা যায় ও রহস্য উদ্ঘাটন করা যায়—সেসব ক্ষেত্রে তাঁরা আমাদের চেয়ে ঊর্ধ্বে। তাঁদের মতামত আমাদের নিজেদের মতামতের চেয়ে আমাদের কাছে অধিক প্রশংসনীয় এবং অধিক অগ্রগণ্য। আল্লাহই ভালো জানেন। আমাদের শহরে যাঁদের আমরা পেয়েছি এবং যাঁদের নিকট থেকে সন্তোষজনক বর্ণনা আমাদের কাছে পৌঁছেছে, তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কোনো সুন্নাহ না জানা থাকলে সাহাবীগণের ঐকমত্যের ভিত্তিতে দেওয়া সিদ্ধান্তের দিকে ফিরে যেতেন। আর সাহাবীরা ভিন্ন ভিন্ন মত দিলে তাঁরা কোনো একজনের মতের দিকে ফিরে যেতেন। আমরাও তেমনি বলি; যদি সাহাবীগণ ঐক্যবদ্ধ হন তবে আমরা তাঁদের ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। আর যদি তাঁদের কেউ কিছু বলেন এবং অন্য কেউ তার বিরোধিতা না করেন, তবে আমরা তাঁর কথা গ্রহণ করি। আর যদি তাঁরা মতভেদ করেন, তবে আমরা তাঁদের কারো কারো বক্তব্য গ্রহণ করি এবং তাঁদের সবার বক্তব্যের বাইরে যাই না।" ৩৮ - ইমাম শাফিঈ (রা.) বলেন: যখন তাঁদের (সাহাবীদের) মধ্য থেকে দুইজন কোনো বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করেন, তখন আমি লক্ষ করি—যদি তাঁদের কোনো একজনের কথা আল্লাহর কিতাব অথবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কোনো সুন্নাহর সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ হয়, তবে আমি তা গ্রহণ করি। কারণ সেই মতের সাথে এমন কিছু থাকে যা তাকে শক্তিশালী করে, যা তার বিপরীত মতের সাথে থাকে না। যদি বর্ণিত পদ্ধতির কোনো দলিল উক্ত দুই মতের কোনোটির পক্ষেই না পাওয়া যায়, তবে আমাদের নিকট ইমাম আবু বকর, উমর অথবা উসমান (রা.)-এর বক্তব্য অন্য কারো বক্তব্যের চেয়ে অধিক অগ্রাধিকারযোগ্য হবে, এমনকি যদি অন্য কেউ তাঁদের বিরোধিতা করেনও। তিনি এ গ্রন্থের অন্য স্থানেও এটি উল্লেখ করেছেন। ৩৯ - তিনি বলেন: যদি কোনো বক্তব্যের পক্ষে কিতাব বা সুন্নাহর কোনো দলিল না থাকে, তবে আবু বকর, উমর, উসমান অথবা আলী (রা.)-এর বক্তব্য অনুযায়ী কথা বলা আমার নিকট অন্য কারো বক্তব্য অনুযায়ী বলার চেয়ে অধিক পছন্দনীয়, যদি অন্য কেউ তাঁদের বিরোধিতা করে থাকে। কেননা তাঁরা ছিলেন ইলমের অধিকারী এবং শাসক। অতঃপর তিনি তাঁর কথা দীর্ঘায়িত করে বলেন: যখন শাসকগণ মতভেদ করেন, তখন আমরা তাঁদের মতভেদের ক্ষেত্রে কিতাব ও সুন্নাহ থেকে দলিল খুঁজি এবং সেই মতের দিকে ফিরে যাই যার স্বপক্ষে কিতাব ও সুন্নাহর দলিল পাওয়া যায়। তাঁদের মতভেদ কিতাব বা সুন্নাহর দলিল বর্জিত হওয়া অত্যন্ত বিরল। আর যদি মুফতিগণ—অর্থাৎ ইমামগণের পরবর্তী সাহাবীগণ—এমন বিষয়ে মতভেদ করেন যাতে কোনো স্পষ্ট দলিল নেই, তবে আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের দিকে লক্ষ করি। ⦗পৃষ্ঠা: ১১১⦘ আর যদি উভয় পক্ষ সমান হয়, তবে আমাদের নিকট তাঁদের যে মতটি উৎসের দিক থেকে উত্তম মনে হয় আমরা সেটি গ্রহণ করি। আর যদি আমরা আমাদের সময়ের বা তার পূর্বের মুফতিগণের মাঝে এমন কোনো বিষয়ে ঐক্যমত দেখি যাতে তাঁরা মতভেদ করেননি, তবে আমরা সেটি অনুসরণ করি। আর এটি হলো খবরের (বর্ণনার) চারটি পথের একটি। সেগুলো হলো: আল্লাহর কিতাব, অতঃপর তাঁর নবীর সুন্নাহ, অতঃপর সাহাবীগণের কোনো একজনের বক্তব্য, অতঃপর ফুকাহাগণের ঐক্যমত। যখন এমন কোনো নতুন সমস্যা দেখা দেয় যার সমাধান এই চারটি খবরের কোনোটিতেই পাওয়া যায় না, তখন সেই সমস্যা সম্পর্কে কথা বলার পথ কেবল 'ইজতিহাদ আর-রায়' (গবেষণালব্ধ রায়) ছাড়া আর কিছু নয়।
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলাস সুনানিল কুবরা - বায়হাকী - ত আল-আযমী
(পৃষ্ঠা: ١١١)
40 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ قَالَ: سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ أَحْمَدَ بْنِ بَالَوَيْهِ، يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبَا بَكْرٍ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْحَاقَ بْنِ خُزَيْمَةَ يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبَا بَكْرٍ الطَّبَرِيَّ يَقُولُ: سَمِعْتُ نُعَيْمَ بْنَ حَمَّادٍ يَقُولُ: سَمِعْتُ ابْنَ الْمُبَارَكِ يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبَا حَنِيفَةَ يَقُولُ: إِذَا جَاءَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَعَلَى الرَّأْسِ وَالْعَيْنِ وَإِذَا جَاءَ عَنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَخْتَارُ مِنْ قَوْلِهِمْ وَإِذَا جَاءَ عَنِ التَّابِعِينَ زَاحَمْنَاهُمْ 41 - قَالَ الشَّافِعِيُّ رضي الله عنه: وَقَدْ أَثْنَى اللَّهُ تَعَالَى عَلَى أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَرَضِيَ عَنْهُمْ فِي الْقُرْآنِ، وَالتَّوْرَاةِ، وَالْإِنْجِيلِ 42 - كَأَنَّهُ عَنَى قَوْلَ اللَّهِ تَعَالَى {مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ} [الفتح: 29] الْآيَةَ 43 - قَالَ الشَّافِعِيُّ رضي الله عنه: وَسَبَقَ لَهُمْ عَلَى لِسَانِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ الْفَضْلِ مَا لَيْسَ لِأَحَدٍ بَعْدَهُمْ فَرَحِمَهُمُ اللَّهُ وَهَنَّأَهُمْ مَا آتَاهُمْ مِنْ ذَلِكَ بِبُلُوغِ أَعْلَى مَنَازِلِ الصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ
40 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে বালাওয়াইহ-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে খুযায়মাহ-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু বকর আত-তাবারী-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি নুআইম ইবনে হাম্মাদ-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইবনুল মুবারক-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু হানিফাহ-কে বলতে শুনেছি: "যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে কোনো বর্ণনা আসে, তা শিরোধার্য। আর যখন নবীর সাহাবীগণ থেকে কোনো বর্ণনা আসে, আমরা তাঁদের কথা থেকে পছন্দমতো গ্রহণ করি। আর যখন তাবিঈদের থেকে কোনো বর্ণনা আসে, তখন আমরা তাঁদের সাথে (গবেষণায়) প্রতিযোগিতা করি।" 41 - ইমাম শাফিঈ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: আল্লাহ তাআলা কুরআনে, তাওরাতে এবং ইনজিলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীদের প্রশংসা করেছেন এবং তাঁদের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। 42 - যেন তিনি আল্লাহ তাআলার এই বাণীকে উদ্দেশ্য করেছেন: {মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর সাথে যারা আছে তারা কাফিরদের প্রতি কঠোর...} [সূরা আল-ফাতহ: ২৯] আয়াতের শেষ পর্যন্ত। 43 - ইমাম শাফিঈ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মুখে তাঁদের জন্য এমন শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণিত হয়েছে যা তাঁদের পরে আর কারো জন্য নেই। সুতরাং আল্লাহ তাঁদের প্রতি দয়া করুন এবং তাঁদের যা দান করেছেন তার মাধ্যমে সিদ্দিকীন, শহীদ ও নেককারদের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছানোর জন্য তাঁদের মোবারকবাদ দান করুন।
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলাস সুনানিল কুবরা - বায়হাকী - ত আল-আযমী
(পৃষ্ঠা: ١١١)
44 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، أَخْبَرَنِي أَبُو النَّضْرِ الْفَقِيهُ، ثنا عُثْمَانُ بْنُ سَعِيدٍ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ الْعَبْدِيُّ، أَنْبَأَ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَبِيْدَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «خَيْرُ النَّاسِ قَرْنِي ، ثُمَّ الَّذِينَ يلُونَهُمْ ، ثُمَّ الَّذِينَ يلُونَهُمْ ، ثُمَّ يَجِيءُ قَوْمٌ تَسْبِقُ شَهَادَةُ أَحَدِهِمْ يَمِينَهُ وَيمِينُهُ شَهَادَتَهُ» رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ فِي الصَّحِيحِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ كَثِيرٍ وَأَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ مِنْ وَجْهٍ آخَرَ عَنْ سُفْيَانَ
৪৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিয, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবুল নাযর আল-ফকিহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উসমান ইবনে সাঈদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে কাসীর আল-আবদী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সুফিয়ান আল-সাওরী, মানসূর থেকে, তিনি ইব্রাহীম থেকে, তিনি আবিদাহ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «মানুষদের মাঝে সর্বোত্তম হলো আমার যুগের লোকরা, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী। এরপর এমন এক সম্প্রদায়ের আগমন ঘটবে যাদের একজনের সাক্ষ্য তার শপথের আগে চলে যাবে এবং তার শপথ তার সাক্ষ্যের আগে চলে যাবে।» বুখারী এটি সহীহ গ্রন্থে মুহাম্মাদ ইবনে কাসীর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং মুসলিম এটি সুফিয়ান থেকে অন্য সূত্রে সংকলন করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলাস সুনানিল কুবরা - বায়হাকী - ত আল-আযমী
(পৃষ্ঠা: ١١٢)
45 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْقَاسِمِ الْغَضَائِرِيُّ، بِبَغْدَادَ ، أبنا أَبُو عَمْرٍو عُثْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ السَّمَّاكِ ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ الْعُطَارِدِيُّ، ثنا أَبُو مُعَاوِيَةَ الضَّرِيرُ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، ح وَأَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الرُّوذْبَارِيُّ، أبنا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مَحْمَوَيْهِ الْعَسْكَرِيُّ ، ثنا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْقَلَانِسِيُّ، ثنا آدَمُ بْنُ أَبِي إِيَاسٍ، ثنا شُعْبَةُ، عَنِ الْأَعْمَشِ قَالَ: سَمِعْتُ ذَكْوَانَ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ ⦗ص: 113⦘ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا تَسُبُّوا أَصْحَابِي ، فَلَوْ أَنَّ أَحَدَكُمْ أَنْفَقَ مِثْلَ أُحُدٍ ذَهَبًا مَا بَلَغَ مُدَّ أَحَدِهِمْ وَلَا نُصَيْفَهُ» وَفِي رِوَايَةِ أَبِي مُعَاوِيَةَ «فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيدِهِ لَوْ أَنَّ أَحَدَكُمْ» زَادَ شُعْبَةُ فِي رِوَايتِهِ: " وَلَا يُبْغِضُ الْأَنْصَارَ رَجُلٌ يؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ فِي الصَّحِيحِ عَنْ آدَمَ قَالَ: وَتَابَعَهُ أَبُو مُعَاوِيَةَ وَغَيْرُهُ. 46 - وَرَوَاهُ مُسْلِمٌ مِنْ وَجْهٍ آخَرَ عَنْ شُعْبَةَ، وَعَنْ يَحْيَى بْنِ يَحْيَى، وَغَيْرِهِ عَنْ أَبِي مُعَاوِيَةَ، إِلَّا أَنَّهُ قَالَ فِي رِوَايَةِ أَبِي مُعَاوِيَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَهُوَ وَهْمٌ
45 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আল-হাসান বিন মুহাম্মদ বিন আল-কাসিম আল-গাদাইরি, বাগদাদে; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর উসমান বিন আহমদ বিন আস-সাম্মাক; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন আব্দুল জাব্বার আল-উতারিদি; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুয়াবিয়া আদ-দারির, আল-আমাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে। (হ) এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলি আর-রুজবারি; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মাহমাওয়াইহ আল-আসকারি; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জাফর বিন মুহাম্মদ আল-কালানিসি; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আদম বিন আবি ইয়াস; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শু’বা, আল-আমাশ থেকে; তিনি বলেন: আমি যাকওয়ানকে আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল ⦗পৃষ্ঠা: ১১৩⦘ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমরা আমার সাহাবীদের গালি দিও না। তোমাদের কেউ যদি উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণও ব্যয় করে, তবুও তা তাদের কারো এক মুদ্দ (একটি পরিমাপ) কিংবা তার অর্ধেকের সমতুল্য হবে না।» আর আবু মুয়াবিয়ার বর্ণনায় রয়েছে: «সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, যদি তোমাদের কেউ...»। শু’বা তাঁর বর্ণনায় অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন: "আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী কোনো ব্যক্তি আনসারদের সাথে বিদ্বেষ পোষণ করবে না।" ইমাম বুখারি এটি তাঁর ‘সহিহ’ গ্রন্থে আদমের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আবু মুয়াবিয়া এবং অন্যরা তাঁর অনুসরণ করেছেন। 46 - আর ইমাম মুসলিম এটি শু’বা থেকে অন্য সূত্রে এবং ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া ও অন্যান্যদের সূত্রে আবু মুয়াবিয়া থেকে বর্ণনা করেছেন; তবে তিনি আবু মুয়াবিয়ার বর্ণনায় আবু হুরায়রা থেকে উল্লেখ করেছেন, যা মূলত একটি ভ্রম।
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলাস সুনানিল কুবরা - বায়হাকী - ত আল-আযমী
(পৃষ্ঠা: ١١٣)
47 - أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدانَ، أبنا أَحْمَدُ بْنُ عُبَيْدٍ الصَّفَّارُ، ، ثنا خَلَفُ بْنُ عَمْرٍو الْعَكْبَرِيُّ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الزُّبَيْرِ الْحُمَيْدِيُّ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ طَلْحَةَ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عُوَيْمِ بْنِ سَاعِدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِنَّ اللَّهَ عز وجل اخْتَارَنِي، وَاخْتَارَ لِي أَصْحَابًا، فَجَعَلَ مِنْهُمْ وُزَرَاءَ، وَأَنْصَارًا، وَأَصْهَارًا، فَمَنْ سَبَّهُمْ فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ، لَا يَقْبَلُ اللَّهُ مِنْهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ صَرْفًا وَلَا عَدْلًا» 48 - تَفَرَّدَ بِهِ مُحَمَّدُ بْنُ طَلْحَةَ، وَفِيهِ إِرْسَالٌ، لِأَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عُوَيْمٍ لَيْسَتْ لَهُ صُحْبَةٌ، وَيُؤَكِدُهُ مَا مَضَى مِنَ الْحَدِيثِ الصَّحِيحِ، وَمَا رُوِي عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ مِنْ قَوْلِهِ
৪৭ - আলী ইবনে আহমাদ ইবনে আবদান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আহমাদ ইবনে উবাইদ আস-সাফফার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন খালাফ ইবনে আমর আল-আকবারি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন আবদুল্লাহ ইবনে আজ-জুবাইর আল-হুমাইদি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন মুহাম্মদ ইবনে তালহা আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন আব্দুর রহমান ইবনে সালিম ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে উওয়াইম ইবনে সাঈদা আমার কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ আমাকে মনোনীত করেছেন এবং আমার জন্য কিছু সাথী (সাহাবী) মনোনীত করেছেন। অতঃপর তাঁদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে উজির (সহকারী), আনসার (সাহায্যকারী) ও আত্মীয় বানিয়েছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি তাঁদের গালি দেবে, তাঁর ওপর আল্লাহ, ফেরেশতাকুল এবং সকল মানুষের অভিশাপ বর্ষিত হোক। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাঁর কাছ থেকে কোনো ফরজ কিংবা নফল ইবাদত কবুল করবেন না।" ৪৮ - মুহাম্মদ ইবনে তালহা এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন এবং এতে ইরসাল (সূত্রে বিচ্ছিন্নতা) রয়েছে; কারণ আব্দুর রহমান ইবনে উওয়াইম সাহাবী ছিলেন না। তবে পূর্বে অতিক্রান্ত সহীহ হাদিস এবং ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত তাঁর উক্তি একে শক্তিশালী করে।
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলাস সুনানিল কুবরা - বায়হাকী - ত আল-আযমী
(পৃষ্ঠা: ١١٤)
49 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ بْنُ بِشْرَانَ، بِبَغْدَادَ أبنا أَبُو سَهْلٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَوْحٍ، ثنا شَبَابَةُ بْنُ سَوَّارٍ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ فُورَكٍ، أبنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ، ، ثنا يُونُسُ بْنُ حَبِيبٍ، ثنا أَبُو دَاوُدَ، قَالَا حَدَّثَنَا الْمَسْعُودِيُّ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: «إِنَّ اللَّهَ عز وجل نَظَرَ فِي قُلُوبِ الْعِبَادِ» وَفِي رِوَايَةِ شَبَابَةَ فِي قُلُوبِ النَّاسِ فَوَجَدَ قَلْبَ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم خَيْرَ قُلُوبِ النَّاسِ فَبَعَثَهُ بِرِسَالَتِهِ ، وَفِي رِوَايَةِ أَبِي دَاوُدَ فَاخْتَارَ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم بِرِسَالَتِهِ وَانْتَخَبَهُ بِعِلْمِهِ ثُمَّ نَظَرَ فِي قُلُوبِ النَّاسِ بَعْدَهُ فَاخْتَارَ لَهُ أَصْحَابَهُ فَجَعَلَهُمْ أَنْصَارَ دِينِهِ وَوُزَرَاءِ نَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم فَمَا رَآهُ الْمُؤْمِنُونَ حَسَنًا فَهُوَ عِنْدَ اللَّهِ حَسَنٌ وَمَا رَأَوْهُ قَبِيحًا فَهُوَ عِنْدَ اللَّهِ قَبِيحٌ
৪৯ - আমাদের নিকট আবুল হুসাইন বিন বিশরান বাগদাদে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আমাদেরকে আবু সাহল আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন যিয়াদ সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বিন রাওহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট শাবাবাহ বিন সাওয়ার বর্ণনা করেছেন, (হাওলা) এবং আমাদের নিকট আবু বকর বিন ফুরক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ বিন জাফর, তিনি বলেন আমাদের নিকট ইউনুস বিন হাবিব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ই বলেন আমাদের নিকট আল-মাসউদী বর্ণনা করেছেন আসিম থেকে, তিনি আবু ওয়াঈল থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ মহিমান্বিত ও পরাক্রমশালী বান্দাদের অন্তরের প্রতি দৃষ্টিপাত করেছেন» আর শাবাবাহ-র বর্ণনায় রয়েছে: মানুষের অন্তরের প্রতি, অতঃপর তিনি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্তরকে মানুষের অন্তরের মধ্যে সর্বোত্তম হিসেবে পেয়েছেন, তাই তাঁকে তাঁর রিসালাত দিয়ে পাঠিয়েছেন। আর আবু দাউদের বর্ণনায় রয়েছে: অতঃপর তিনি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর রিসালাতের জন্য মনোনীত করেছেন এবং নিজ জ্ঞান অনুযায়ী তাঁকে নির্বাচন করেছেন। এরপর তিনি তাঁর (মুহাম্মদের) পরে মানুষের অন্তরের প্রতি দৃষ্টিপাত করেছেন এবং তাঁর জন্য তাঁর সাহাবীদের মনোনীত করেছেন। অতঃপর তাঁদেরকে তাঁর দ্বীনের সাহায্যকারী এবং তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহযোগী বানিয়েছেন। সুতরাং মুমিনগণ যা উত্তম মনে করেন, তা আল্লাহর নিকটও উত্তম। আর তাঁরা যা মন্দ মনে করেন, তা আল্লাহর নিকটও মন্দ।
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলাস সুনানিল কুবরা - বায়হাকী - ত আল-আযমী
(পৃষ্ঠা: ١١٥)
50 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، أبنا أَبُو زَكَرِيَّا يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدٍ الْعَنْبَرِيُّ ، ثنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْعَبْدِيُّ ، ثنا مُوسَى بْنُ أَيُّوبَ النَّصِيبِيُّ، وَصَفْوَانُ بْنُ صَالِحٍ الدِّمَشْقِيُّ، قَالَا: ثنا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، ثنا ثَوْرُ بْنُ يَزِيدَ، حَدَّثَنِي خَالِدُ بْنُ مَعْدَانَ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَمْرٍو السُّلَمِيُّ، وَحُجْرُ بْنُ حُجْرٍ الْكُلَاعِيُّ قَالَا: أَتَيْنَا الْعِرْبَاضَ بْنَ سَارِيَةَ وَهُوَ مِمَّنْ نَزَلَ فِيهِ: {وَلَا عَلَى الَّذِينَ إِذَا مَا أَتَوْكَ لِتَحْمِلَهُمْ قُلْتَ لَا أَجِدُ مَا أَحْمِلُكُمْ عَلَيْهِ تَوَلَّوْا وَأَعْيُنُهُمْ تُفِيضُ مِنَ الدَّمْعِ حُزْنًا أَلَّا يَجِدُوا مَا يُنْفِقُونَ} [التوبة: 92] فَسَلَّمْنَا، وَقُلْنَا أَتَيْنَاكَ زَائِرِينَ وَمُقْتَبِسِينَ فَقَالَ الْعِرْبَاضُ: صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الصُّبْحَ ذَاتَ يَوْمٍ ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْنَا فَوَعَظَنَا مَوْعِظَةً بَلِيغَةً ذَرَفَتْ مِنْهَا الْعُيونُ وَوَجِلَتْ مِنْهَا الْقُلُوبُ فَقَالَ قَائِلٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ كَأَنَّهَا مَوْعِظَةُ مُوَدَّعٍ فَمَا تَعْهَدُ إِلَيْنَا؟ قَالَ: «أُوصِيكُمْ بِتَقْوَى اللَّهِ وَالسَّمْعِ وَالطَّاعَةِ وَإِنْ عَبْدًا حَبَشِيًّا ، فَإِنَّهُ مَنْ يَعِشْ مِنْكُمْ فَسَيرَى اخْتِلَافًا كَثِيرًا، فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيِّينَ، فَتَمَسَّكُوا بِهَا وَعَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ، وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الْأُمُورِ، ، فَإِنَّ كُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ، وَكُلَّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ»
৫০ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিয, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মদ আল-আনবারি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম আল-আবদি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসা ইবনে আইয়ুব আন-নাসিবি এবং সাফওয়ান ইবনে সালিহ আদ-দিমাশকি, তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাওর ইবনে ইয়াযিদ, তিনি বলেন আমার নিকট বর্ণনা করেছেন খালিদ ইবনে মা’দান, তিনি বলেন আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান ইবনে আমর আস-সুলামি এবং হুজর ইবনে হুজর আল-কুলাই। তাঁরা উভয়ে বলেন: আমরা ইরবায ইবনে সারিয়ার নিকট আসলাম, তিনি তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যাদের ব্যাপারে নাযিল হয়েছে: "আর তাদের ওপরও কোনো পাপ নেই, যারা তোমার কাছে বাহনের জন্য এসেছিল এবং তুমি বলেছিলে: ‘তোমাদের জন্য কোনো বাহন আমি পাচ্ছি না’, তখন তারা ফিরে গিয়েছিল এমন অবস্থায় যে, তাদের চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরছিল এই দুঃখে যে, তারা ব্যয় করার মতো কিছু পাচ্ছে না।" [আত-তাওবাহ: ৯২]। আমরা তাঁকে সালাম দিলাম এবং বললাম, আমরা আপনার কাছে যিয়ারতকারী ও জ্ঞান অর্জনকারী হিসেবে এসেছি। অতঃপর ইরবায বললেন: একদিন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের নিয়ে সুবহে (ফজরের) সালাত আদায় করলেন, এরপর আমাদের দিকে মুখ ফিরালেন এবং আমাদের এক মর্মস্পর্শী উপদেশ দিলেন, যাতে চোখ দিয়ে অশ্রু প্রবাহিত হলো এবং অন্তরসমূহ প্রকম্পিত হলো। তখন এক ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহর রাসূল! মনে হচ্ছে এটি যেন বিদায়ী ভাষণ, সুতরাং আপনি আমাদের কী নির্দেশ দিচ্ছেন? তিনি বললেন: "আমি তোমাদের আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করার এবং (নেতার কথা) শোনার ও আনুগত্য করার অসিয়ত করছি, যদিও সে একজন হাবশি গোলাম হয়। কেননা তোমাদের মধ্যে যারা আমার পরে বেঁচে থাকবে, তারা অনেক মতপার্থক্য দেখবে। সুতরাং তোমরা আমার সুন্নাহ এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাহ আঁকড়ে ধরবে। তোমরা তা শক্তভাবে ধারণ করবে এবং চোয়ালের দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাকবে। আর দ্বীনের মধ্যে নতুন উদ্ভাবিত বিষয়গুলো থেকে বেঁচে থাকবে, কারণ প্রতিটি নতুন উদ্ভাবিত বিষয়ই হলো বিদআত, আর প্রতিটি বিদআতই হলো পথভ্রষ্টতা।"
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলাস সুনানিল কুবরা - বায়হাকী - ত আল-আযমী
(পৃষ্ঠা: ١١٥)
51 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، ثنا أَبُو الْحَسَنِ الْعَنَزِيُّ، ثنا عُثْمَانُ بْنُ سَعِيدٍ ⦗ص: 116⦘، ثنا أَبُو صَالِحٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ صَالِحٍ، ح وَأَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ، أبنا أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرٍ الْقَطِيعِيُّ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، ثنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ ضَمْرَةَ بْنِ حَبِيبٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَمْرٍو السُّلَمِيِّ، أَنَّهُ سَمِعَ الْعِرْبَاضَ بْنَ سَارِيَةَ قَالَ: وَعَظَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَوْعِظَةً ذَرَفَتْ مِنْهَا الْعُيونُ وَوَجِلَتْ مِنْهَا الْقُلُوبُ فَقُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ هَذِهِ لَمَوْعِظَةُ مُوَدِّعٍ فَمَاذَا تَعْهَدُ إِلَيْنَا؟ قَالَ: «قَدْ تَرَكْتُكُمْ عَلَى الْبَيْضَاءِ، لَيْلُهَا كَنَهَارِهَا، لَا يَزِيغُ عَنْهَا بَعْدِي إِلَّا هَالِكٌ ، مَنْ يَعِشْ مِنْكُمْ فَسَيرَى اخْتِلَافًا كَثِيرًا، فَعَلَيْكُمْ بِمَا عَرَفْتُمْ مِنْ سُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيِّينَ مِنْ بَعْدِي، وَعَلَيْكُمْ بِالطَّاعَةِ وَإِنْ عَبْدًا حَبَشِيًّا، عَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ» وَكَانَ أَسَدُ بْنُ وَدَاعَةَ يَزِيدُ فِي هَذَا الْحَدِيثِ: «فَإِنَّ الْمُؤْمِنَ كَالْجَمَلِ الْأَنِفِ حَيْثُ مَا قِيدَ انْقَادَ»
৫১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিয, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল হাসান আল-আনাযি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উসমান ইবনে সাঈদ ⦗পৃষ্ঠা: ১১৬⦘, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সালিহ, মুয়াবিয়া ইবনে সালিহ থেকে। (হ) এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ ইবনে জাফর আল-কাতিয়ি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে হাম্বল, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান ইবনে মাহদি, মুয়াবিয়া ইবনে সালিহ থেকে, তিনি দামরাহ ইবনে হাবিব থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আমর আস-সুলামি থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি ইরবায ইবনে সারিয়াহ-কে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের এমন এক উপদেশ দিলেন যাতে চোখগুলো অশ্রুসিক্ত হলো এবং অন্তরসমূহ প্রকম্পিত হলো। আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসুল! এটি তো বিদায়ী ব্যক্তির উপদেশের মতো মনে হচ্ছে, সুতরাং আপনি আমাদের কী নির্দেশ দিচ্ছেন? তিনি বললেন: «আমি তোমাদের এক উজ্জ্বল ও স্বচ্ছ দ্বীনের ওপর রেখে যাচ্ছি, যার রাতও দিনের মতো পরিষ্কার। আমার পর ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ তা থেকে বিচ্যুত হবে না। তোমাদের মধ্যে যারা বেঁচে থাকবে, তারা অচিরেই অনেক মতভেদ দেখতে পাবে। তখন তোমাদের ওপর আবশ্যক হলো আমার সুন্নাহ এবং আমার পরবর্তী হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাহর মধ্য হতে যা তোমরা চিনতে পেরেছ তা আঁকড়ে ধরা। আর আনুগত্য করা তোমাদের জন্য আবশ্যক, যদিও সে একজন হাবশি ক্রীতদাস হয়। তোমরা একে মাড়ির দাঁত দিয়ে শক্তভাবে কামড়ে ধরে থাকো।’ আর আসাদ ইবনে ওয়াদাআহ এই হাদিসে আরও বর্ধিত করতেন: «কেননা মুমিন হলো সেই অনুগত উটের ন্যায় যার নাকে লাগাম পরানো হয়েছে, তাকে যেখানেই টেনে নেওয়া হয় সে সেখানেই পরিচালিত হয়।»