(খণ্ড: ১) আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল ত আজ্জাজ (পৃষ্ঠা: -)
المحدث الفاصل ت عجاج   (الرامهرمزي)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: المحدث الفاصل بين الراوي والواعي

المؤلف: أبو محمد الحسن بن عبد الرحمن بن خلاد الرامهرمزي الفارسي (ت 360 هـ)

المحقق: د. محمد عجاج الخطيب

الناشر: دار الفكر - بيروت

الطبعة: الثالثة، 1404

عدد الصفحات: 624

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল, তাহকিক: আজ্জাজ   (আর-রামাহুরমুজি)

বিভাগ: হাদিস বিজ্ঞান


বই: আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল বাইনার রাউয়ি ওয়াল ওয়ায়ি

লেখক: আবু মুহাম্মদ হাসান ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে খাল্লাদ আর-রামাহুরমুজি আল-ফারিসি (মৃত্যু: ৩৬০ হিজরি)

সম্পাদক: ড. মুহাম্মদ আজ্জাজ আল-খতিব

প্রকাশক: দারুল ফিকর - বৈরুত

সংস্করণ: তৃতীয়، ১৪০৪

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬২৪

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল ত আজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ১)
الْمُحَدِّثُ الْفَاصِلُ بَيْنَ الرَّاوِي وَالْوَاعِي لِلرَّامَهُرْمُزِيِّ ⦗ص: 159⦘ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

 

1 - الْحَمْدُ لِلَّهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَعَلَى مُحَمَّدٍ نَبِيِّ اللَّهِ وَآلِهِ صَلَوَاتُ اللَّهِ. اعْتَرَضَتْ طَائِفَةٌ مِمَّنْ يَشْنَأُ الْحَدِيثَ وَيُبْغِضُ أَهْلَهُ، فَقَالُوا بِتَنَقُّصِ أَصْحَابِ الْحَدِيثِ وَالْإِزْرَاءِ بِهِمْ، وَأَسْرَفُوا فِي ذَمِّهِمْ وَالتَّقَوُّلِ عَلَيْهِمْ، وَقَدْ شَرَّفَ اللَّهُ الْحَدِيثَ وَفَضَّلَ أَهْلَهُ، وَأَعْلَى مَنْزِلَتَهُ، وَحَكَّمَهُ عَلَى كُلِّ نِحْلَةٍ، وَقَدَّمَهُ عَلَى كُلِّ عَلْمٍ، وَرَفَعَ مِنْ ذِكْرِ مَنْ حَمَلَهُ وَعُنِيَ بِهِ، فَهُمْ بَيْضَةُ الدِّينِ وَمَنَارُ الْحُجَّةِ، وَكَيْفَ لَا يَسْتَوْجِبُونَ الْفَضِيلَةَ، وَلَا يَسْتَحِقُّونَ الرُّتْبَةَ الرَّفِيعَةَ، وَهُمُ الَّذِينَ حَفِظُوا عَلَى الْأُمَّةِ هَذَا الدِّينَ، وَأَخْبَرُوا عَنْ أَنْبَاءِ التَّنْزِيلِ، وَأَثْبَتُوا نَاسِخَهُ وَمَنْسُوخَهُ، وَمُحْكَمَهُ وَمُتَشَابِهَهُ، وَمَا عَظَّمَهُ اللَّهُ عز وجل بِهِ مِنْ شَأْنِ الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم، فَنَقَلُوا شَرَائِعَهُ، وَدَوَّنُوا مَشَاهِدَهُ، وَصَنَّفُوا أَعْلَامَهُ وَدَلَائِلَهُ، وَحَقَّقُوا مَنَاقِبَ عِتْرَتِهِ، وَمَآثِرَ آبَائِهِ وَعَشِيرَتِهِ، وَجَاؤوا بِسِيَرِ الْأَنْبِيَاءِ، وَمَقَامَاتِ الْأَوْلِيَاءِ، وَأَخْبَارِ الشُّهَدَاءِ وَالصِّدِّيقِينَ، وَعَبَّرُوا عَنْ جَمِيعِ فِعْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فِي سَفَرِهِ وَحَضَرِهِ، وَظَعْنِهِ وَإِقَامَتِهِ، وَسَائِرِ أَحْوَالِهِ، مِنْ مَنَامٍ وَيَقَظَةٍ، وَإِشَارَةٍ وَتَصْرِيحٍ، وَصَمْتٍ وَنُطْقٍ، وَنُهُوضٍ وَقُعُودٍ، وَمَأْكَلٍ وَمَشْرَبٍ وَمَلْبَسٍ وَمَرْكَبٍ، وَمَا كَانَ سَبِيلَهُ فِي حَالِ الرِّضَا وَالسُّخْطِ، وَالْإِنْكَارِ وَالْقَبُولِ، حَتَّى الْقُلَامَةَ مِنْ ظُفُرِهِ، مَا كَانَ يَصْنَعُ بِهَا، وَالنُّخَاعَةَ مِنْ فِيهِ ⦗ص: 160⦘ أَيْنَ كَانَتْ وِجْهَتُهَا، وَمَا كَانَ يَقُولُهُ عِنْدَ كُلِّ فِعْلٍ يُحْدِثُهُ وَيَفْعَلُهُ عِنْدَ كُلِّ مَوْقِفٍ وَمَشْهَدٍ يَشْهَدُهُ، تَعْظِيمًا لَهُ صلى الله عليه وسلم، وَمَعْرِفَةً بِأَقْدَارِ مَا ذُكِرَ عَنْهُ وَأُسْنِدَ إِلَيْهِ، فَمَنْ عَرَفَ لِلْإِسْلَامِ حَقَّهُ، وَأَوْجَبَ لِلرَّسُولِ حُرْمَتُهُ، أَكْبَرَ أَنْ يَحْتَقِرَ مَنْ عَظَّمَ اللَّهُ شَأْنَهُ، وَأَعْلَى مَكَانَهُ، وَأَظْهَرَ حُجَّتَهُ وإبَانَ فَضِيلَتَهُ، وَلَمْ يَرْتَقِ بِطَعْنِهِ إِلَى حِزْبِ الرَّسُولِ وَأَتْبَاعِ الْوَحْيِ، وَأَوْعِيَةِ الدِّينِ، وَنَقَلَةِ الْأَحْكَامِ وَالْقُرْآنِ، الَّذِينَ ذَكَرَهُمُ اللَّهُ عز وجل فِي التَّنْزِيلِ، فَقَالَ: {وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ} [سورة: التوبة، آية رقم: 100] فَإِنَّكَ إِنْ أَرَدْتَ التَّوَصُّلَ إِلَى مَعْرِفَةِ هَذَا الْقَرْنِ، لَمْ يَذْكُرْهُمْ لَكَ إِلَّا رَاوٍ لِلْحَدِيثِ، مُتَحَقِّقٌ بِهِ، أَوْ دَاخِلٌ فِي حَيِّزِ أَهْلِهِ، وَمَنْ سِوَى ذَلِكَ فَرَبُّكَ بِهِمْ أَعْلَمُ، وَقَدْ كَانَ بَعْضُ شُيُوخِ الْعِلْمِ، مِمَّنْ جَلَسَ مَجْلِسَ الرِّيَاسَةِ، وَاسْتَحَقَّهَا لِعِلْمِهِ وَفَضْلِهِ، لَحِقَهُ بِمَدِينَةِ السَّلَامِ مِنْ أَهْلِ الْحَدِيثِ جَفَاءٌ، قَلِقَ عِنْدَهُ، وَغَمَّهُ مَا شَاهَدَ مِنْ عَقْدِ الْمَجَالِسِ وَنَصْبِ الْمَنَابِرِ لِغَيْرِهِ، وَتَكَاثُفِ النَّاسِ فِي مَجْلِسِ مَنْ لَا يُدَانِيهِ فِي عِلْمِهِ وَمَحَلِّهِ، فَعَرَّضَ بِأَصْحَابِ الْحَدِيثِ فِي كَلَامٍ لَهُ، يَفْتَتِحُ بِهِ بَعْضَ مَا صَنَّفَ، فَقَالَ: «يُتْرَكُ الْمُحَدِّثُ حَتَّى إِذَا بَلَغَ الثَّمَانِينَ مِنْ عُمْرِهِ وَكَانَ مَصِيرُهُ إِلَى قَبْرِهِ قِيلَ عِنْدَ الشَّيْخِ حَدِيثٌ غَرِيبٌ فَاكْتُبُوهُ» ، فَلَمْ يَنْقُصْ هَذَا الْقَوْلُ مِنْ غَيْرِهِ مَا نَقَصَ مِنْ نَفْسِهِ، لِظُهُورِ الْعَصَبِيَّةِ فِيهِ، وَلَأَنَّهُ عَوَّلَ فِي أَكْثَرِ مَا أَوْدَعَهُ كُتُبَهُ وَأَكْثَرَ الرِّوَايَةَ عَنْهُ عَلَى طَبَقَةٍ لَا يَعْرِفُونَ إلا الْحَدِيثَ، وَلَا يَنْتَحِلُونَ سِوَاهُ، وَهُمْ عُيُونُ رِجَالِهِ، لَيْسَ فِيهِمْ أَحَدٌ يُذْكَرُ بِالدِّرَايَةِ وَلَا يُحْسِنُ غَيْرَ الرِّوَايَةِ، فَإِلَّا تَأَدَّبَ بِأَدَبِ الْعِلْمِ ⦗ص: 161⦘، وَخَفَضَ جَنَاحَهُ لِمَنْ تَعَلَّقَ بِشَيْءٍ مِنْهُ، وَلَمْ يُبَهْرِجْ شُيُوخَهُ الَّذِينَ عَنْهُمْ أَخَذَ، وَبِهِمْ تَصَدَّرَ، وَوَفَّى الْفُقَهَاءَ حُقُوقَهُمْ مِنَ الْفَضْلِ، وَلَمْ يَبْخَسِ الرُّوَاةَ حُظُوظَهُمْ مِنَ النَّقْلِ، وَرَغَّبَ الرُّوَاةَ فِي التَّفَقُّهِ، وَالْمُتَفَقِّهَةَ فِي الْحَدِيثِ، وَقَالَ بِفَضْلِ الْفَرِيقَيْنِ، وَحَضَّ عَلَى سُلُوكِ الطَّرِيقَيْنِ؟ فَإِنَّهُمَا يَكْمُلَانِ إِذَا اجْتَمَعَا وَيَنْقُصَانِ إِذَا افْتَرَقَا. فَتَمَسَّكُوا ـ جَبَرَكُمُ اللَّهُ ـ بِحَدِيثِ نَبِيِّكُمْ صلى الله عليه وسلم، وَتَبَيَّنُوا مَعَانِيَهِ، وَتَفَقَّهُوا بِهِ، وَتَأَدَّبُوا بِآدَابِهِ، وَدَعُوا مَا بِهِ تُعَيَّرُونَ مِنْ تَتَبُّعِ الطُّرُقِ وَتَكْثِيرِ الْأَسَانِيدِ، وَتَطَلُّبِ شَوَاذِّ الْأَحَادِيثِ، وَمَا دَلَّسَهُ الْمَجَانِينُ، وَتَبَلْبَلَ فِيهِ الْمُغَفَّلُونَ، وَاجْتَهِدُوا فِي أَنْ تُوفُوهُ حَقَّهُ مِنَ التَّهْذِيبِ وَالضَّبْطِ وَالتَّقْوِيمِ، لِتَشْرُفُوا بِهِ فِي الْمَشَاهِدِ، وَتَنْطَلِقُ أَلْسِنَتُكُمْ فِي الْمَجَالِسِ، وَلَا تَحْفلوا بِمَنْ يَعْتَرِضُ عَلَيْكُمْ حَسَدًا عَلَى مَا آتَاكُمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ، فَإِنَّ الْحَدِيثَ ذَكَرٌ لَا يُحِبُّهُ إِلَّا الذُّكْرَانُ، وَنَسَبٌ لَا يُجْهَلُ بِكُلِّ مَكَانٍ، وَكَفَى بِالْمُحَدِّثِ شَرَفًا أَنْ يَكُونَ اسْمُهُ مَقْرُونًا بِاسْمِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وَذِكْرُهُ مُتَّصِلًا بِذِكْرِهِ، وَذِكْرِ أَهْلِ بَيْتِهِ وَأَصْحَابِهِ، وَلِذَلِكَ قِيلَ لِبَعْضِ الْأَشْرَافِ: نَرَاكَ تَشْتَهِي أَنْ تُحَدِّثَ فَقَالَ: أَوَلَاً أُحِبُّ أَنْ يَجْتَمِعَ اسْمِي وَاسْمُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي سَطْرٍ وَاحِدٍ. وَحَسْبُكَ جَمَالًا عَصَبَةٌ مِنْهُمْ عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ عَلِيٍّ عليهم السلام، وَمَنْ يَلِيهِ مِنْ ذُرِّيَّتِهِ، وَأَهْلِ بَيْتِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وَأَبْنَاءِ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ، وَالتَّابِعِينَ بِإِحْسَانٍ، وَأَهْلِ الزَّهَادَةِ وَالْعِبَادَةِ، وَالْفُقَهَاءِ وَأَكْثَرِ الْخُلَفَاءِ، وَمَنْ لَا يُدْرِكُهُ الْإِحْصَاءُ، مِنَ الْعُلَمَاءِ وَالنُّبَلَاءِ وَالْفُضَلَاءِ، وَالْأَشْرَافِ وَذَوِي الْأَخْطَارِ، فَكَيْفَ بِمَنْ يُسَمِّيهِمُ الْحَشْوِيَّةُ وَالرَّعَاعُ، وَيَزْعُمُ أَنَّهُمْ أَغْثَارٌ وَحَمَلَةُ أَسْفَارٍ؟ وَاللَّهُ الْمُسْتَعَانُ.
আল-রামাহুরমুজি রচিত 'আল-মুহাদ্দিস আল-ফাসিল বাইনাল রাবি ওয়াল ওয়াঈ' ⦗পৃষ্ঠা: ১৫৯⦘ পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

1 - সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই এবং আল্লাহর নবী মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবারের প্রতি আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। যারা হাদিসকে ঘৃণা করে এবং হাদিসবেত্তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে, তাদের একটি দল হাদিস অনুসারীদের অবমাননা ও তুচ্ছজ্ঞান করার উদ্দেশ্যে আপত্তি তুলেছে। তারা তাদের নিন্দায় এবং তাদের বিরুদ্ধে অপবাদ রটনায় সীমা লঙ্ঘন করেছে। অথচ আল্লাহ হাদিসকে সম্মানিত করেছেন, এর অনুসারীদের শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং এর মর্যাদাকে উচ্চকিত করেছেন। তিনি একে প্রতিটি মতাদর্শের উপর বিজয়ী করেছেন, প্রতিটি জ্ঞানের উপর অগ্রাধিকার দিয়েছেন এবং যারা এটি বহন করে ও এর প্রতি মনোনিবেশ করে তাদের স্মরণকে উচ্চ মর্যাদায় আসীন করেছেন। তারা হলেন দ্বীনের মূল ভিত্তি এবং প্রমাণের আলোকবর্তিকা। তারা কেনই বা শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার হবেন না এবং উচ্চ মর্যাদার যোগ্য হবেন না? তারাই তো উম্মতের জন্য এই দ্বীনকে সংরক্ষণ করেছেন এবং ওহী নাযিলের সংবাদ প্রদান করেছেন। তারাই এর রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ), এবং সুস্পষ্ট (محكم) ও অস্পষ্ট (متشابه) বিষয়গুলো সাব্যস্ত করেছেন। আল্লাহ عز وجل রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে যে সুমহান মর্যাদা দান করেছেন, তাঁরা তা বর্ণনা করেছেন। তাঁরা তাঁর শরীয়তের বিধানসমূহ পৌঁছে দিয়েছেন, তাঁর যুদ্ধবিগ্রহের ঘটনাবলি লিপিবদ্ধ করেছেন এবং তাঁর মুজিজা ও নিদর্শনাবলি সংকলিত করেছেন। তাঁরা তাঁর বংশধরদের মর্যাদা এবং তাঁর পূর্বপুরুষ ও গোত্রের গৌরবগাঁথা সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাঁরা নবীদের জীবনী, পুণ্যবানদের মর্যাদা এবং শহীদ ও সত্যবাদীদের সংবাদ নিয়ে এসেছেন। তাঁরা সফর ও অবস্থানকালে, প্রবাসে ও নিজ বাসস্থানে এবং ঘুম-জাগরণ, ইশারা ও স্পষ্ট উক্তি, নীরবতা ও কথা বলা, দাঁড়ানো ও বসা, পানাহার, পোশাক ও সওয়ারি সহ নবী ﷺ-এর যাবতীয় অবস্থা বর্ণনা করেছেন। এমনকি সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টির সময়, কোনো কিছু প্রত্যাখ্যান ও গ্রহণের সময় তাঁর পদ্ধতি কেমন ছিল—তাও বর্ণনা করেছেন। এমনকি তাঁর নখের খণ্ডাংশ নিয়ে তিনি কী করতেন এবং তাঁর পবিত্র মুখনিঃসৃত লালা ⦗পৃষ্ঠা: ১৬০⦘ কোন দিকে যেত, তাও তাঁরা বর্ণনা করেছেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং তাঁর থেকে বর্ণিত ও তাঁর দিকে সম্বন্ধযুক্ত (مسند) বিষয়গুলোর গুরুত্ব অনুধাবনের জন্যই তাঁরা তাঁর প্রতিটি কাজ এবং প্রতিটি উপস্থিতির সময় যা বলতেন, তা সংরক্ষণ করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি ইসলামের প্রকৃত হক চিনেছে এবং রাসূলের মর্যাদা রক্ষা করা আবশ্যক মনে করে, আল্লাহ যার শান সুউচ্চ করেছেন, স্থান সমুন্নত করেছেন এবং যার দলিল প্রকাশ করে শ্রেষ্ঠত্ব স্পষ্ট করেছেন, তাকে তুচ্ছজ্ঞান করা সেই ব্যক্তির পক্ষে অসম্ভব। যে ব্যক্তি রাসূলের দল, ওহীর অনুসারী, দ্বীনের ধারক এবং আহকাম ও কুরআনের বর্ণনাকারীদের সমালোচনা করে, সে আসলে উচ্চ মার্গে পৌঁছাতে পারেনি। আল্লাহ عز وجل যাদের সম্পর্কে কুরআনে বলেছেন: "এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করে" [সূরা তওবা, আয়াত: ১০০]। আপনি যদি এই প্রজন্মের পরিচয় জানতে চান, তবে একজন হাদিস বর্ণনাকারী (راو) ব্যতীত কেউ আপনাকে তা জানাবে না, যিনি এতে পারদর্শী বা তাদের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া অন্য যারা আছে, তাদের সম্পর্কে আপনার প্রতিপালকই ভালো জানেন। জ্ঞানের কতিপয় প্রবীণ ব্যক্তি, যারা নেতৃত্বের আসনে আসীন ছিলেন এবং নিজেদের জ্ঞান ও শ্রেষ্ঠত্বের কারণে তার যোগ্যও ছিলেন, বাগদাদ শহরে হাদিসওয়ালাদের পক্ষ থেকে কিছু কঠোরতার সম্মুখীন হয়েছিলেন। তিনি এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন এবং নিজের পরিবর্তে অন্যদের জন্য ইলমি মজলিস ও মিম্বর স্থাপন এবং তাঁর চেয়ে ইলম ও মর্যাদায় পিছিয়ে থাকা ব্যক্তিদের মজলিসে মানুষের ভিড় দেখে মর্মাহত হন। ফলে তিনি তাঁর রচিত একটি গ্রন্থের শুরুতে হাদিসবেত্তাদের প্রতি ইঙ্গিত করে সমালোচনা করে বলেন: "মুহাদ্দিসকে ততক্ষণ পর্যন্ত ছেড়ে রাখা হয়, যতক্ষণ না সে আশি বছরে উপনীত হয় এবং কবরের নিকটবর্তী হয়, তখন বলা হয় যে, শায়খের নিকট একটি অপ্রসিদ্ধ (غريب) হাদিস আছে, সুতরাং তোমরা তা লিখে নাও।" এই মন্তব্য অন্যের যতটুকু না ক্ষতি করেছে, তার চেয়ে বেশি তাঁর নিজেরই ক্ষতি করেছে। কারণ এতে তাঁর গোঁড়ামি প্রকাশ পেয়েছে এবং তিনি তাঁর বইগুলোতে যা কিছু সন্নিবেশিত করেছেন তার অধিকাংশের ক্ষেত্রে এবং বর্ণনার ক্ষেত্রে এমন এক শ্রেণীর উপর নির্ভর করেছেন যারা হাদিস ব্যতীত আর কিছু জানে না এবং অন্য কিছু গ্রহণও করে না। তারাই হলো তাঁর বর্ণনাকারীদের মূল উৎস। তাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যিনি সূক্ষ্ম জ্ঞান বা দিরায়াতের জন্য পরিচিত, বরং তারা কেবল বর্ণনাতেই পারদর্শী। তিনি যদি জ্ঞানের আদব ⦗পৃষ্ঠা: ১৬১⦘ গ্রহণ করতেন এবং যারা এর সাথে সম্পৃক্ত তাদের প্রতি বিনয়ী হতেন! তিনি যদি সেই শায়খদের কলঙ্কিত না করতেন যাদের কাছ থেকে তিনি ইলম নিয়েছেন এবং যাদের উসিলায় তিনি নেতৃত্বের আসনে বসেছেন! তিনি যদি ফকীহদের শ্রেষ্ঠত্বের অধিকার প্রদান করতেন এবং বর্ণনাকারীদের বর্ণনার হক থেকে বঞ্চিত না করতেন! তিনি যদি বর্ণনাকারীদের ফিকহ অর্জনে এবং ফকীহদের হাদিস চর্চায় উৎসাহিত করতেন এবং উভয় দলের শ্রেষ্ঠত্বের কথা বলতেন এবং উভয় পথ অবলম্বনের আহ্বান জানাতেন! কারণ এই দুই পথ যখন একত্রিত হয় তখন পূর্ণতা পায়, আর যখন বিচ্ছিন্ন হয় তখন অপূর্ণ থেকে যায়। সুতরাং আপনারা আপনাদের নবী ﷺ-এর হাদিসকে আঁকড়ে ধরুন—আল্লাহ আপনাদের সংশোধন করে দিন—এর অর্থগুলো অনুধাবন করুন, এর মাধ্যমে ফিকহ অর্জন করুন এবং এর শিষ্টাচার গ্রহণ করুন। আর যেসব কারণে আপনাদের নিন্দা করা হয় তা বর্জন করুন, যেমন: অধিক মাত্রায় সূত্রসমূহ (طرق) অনুসন্ধান করা, সনদসমূহ (أسانيد) বৃদ্ধি করা, অস্বাভাবিক বা বিচ্ছিন্ন (شواذ) হাদিসের খোঁজ করা, এবং যা কিছু মূর্খরা তাদলিসকৃত (دلسه) করেছে এবং যা নিয়ে গাফেলরা বিভ্রান্তিতে পড়েছে। আপনারা হাদিসকে যথাযথভাবে সংস্কার, নির্ভুলভাবে সংরক্ষণ (ضبط) ও সঠিক করার ক্ষেত্রে সচেষ্ট হোন, যাতে মজলিসগুলোতে আপনাদের সম্মান বৃদ্ধি পায় এবং সভাগুলোতে আপনাদের জিহ্বা সাবলীল হয়। আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহে আপনাদের যা দান করেছেন, সে কারণে যারা হিংসাবশত আপনাদের বিরোধিতা করে তাদের পরোয়া করবেন না। নিশ্চয়ই হাদিস হলো একটি পৌরুষদীপ্ত বিষয় যা কেবল পুরুষত্বসম্পন্ন ব্যক্তিরাই পছন্দ করে এবং এটি এমন এক বংশীয় পরিচয় যা সর্বজনবিদিত। একজন মুহাদ্দিসের জন্য সম্মানের বিষয় হিসেবে এটাই যথেষ্ট যে, তার নাম নবী ﷺ-এর নামের সাথে যুক্ত হয় এবং তার উল্লেখ নবী ﷺ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের স্মরণের সাথে অবিচ্ছিন্ন (متصل) থাকে। এই কারণেই কোনো এক অভিজাত ব্যক্তিকে বলা হয়েছিল: "আমরা দেখছি আপনি হাদিস বর্ণনা করতে পছন্দ করেন।" তিনি উত্তর দিলেন: "আমি কি এটা পছন্দ করব না যে, আমার নাম এবং নবী ﷺ-এর নাম একই লাইনে একত্রিত হোক?" আপনাদের সৌন্দর্যের জন্য একদল বরেণ্য ব্যক্তিই যথেষ্ট, যাদের মধ্যে রয়েছেন আলী বিন হুসাইন বিন আলী আলাইহিমুস সালাম এবং তাঁর পরবর্তী বংশধরগণ, নবী ﷺ-এর পরিবারবর্গ, মুহাজির ও আনসারদের সন্তানগণ, নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীগণ, দুনিয়াবিমুখ ও ইবাদতগুজারগণ, ফকীহগণ এবং অধিকাংশ খলিফাগণ। এছাড়া অগণিত আলেম, মহৎ ব্যক্তি, শ্রেষ্ঠজন, সম্ভ্রান্ত ও প্রভাবশালী ব্যক্তিগণ তো রয়েইছেন। তবে যারা তাদের 'হাশবিয়্যাহ' ও সাধারণ নিচু শ্রেণী বলে ডাকবে এবং দাবি করবে যে তারা স্থূলবুদ্ধিসম্পন্ন ও কিতাব বহনকারী গাধা সদৃশ, তাদের অবস্থা কেমন হবে? আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১) আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল ত আজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ১৬২)
‌‌مُقَدِّمَةٌ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ الْحَمْدُ لِلَّهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَعَلَى مُحَمَّدٍ نَبِيِّ اللَّهِ وَآلِهِ صَلَوَاتُ اللَّهِ اعْتَرَضَتْ طَائِفَةٌ مِمَّنْ يَشْنَأُ الْحَدِيثَ وَيُبْغِضُ أَهْلَهُ، فَقَالُوا بِتَنَقُّصِ أَصْحَابِ الْحَدِيثِ وَالْإِزْرَاءِ بِهِمْ، وَأَسْرَفُوا فِي ذَمِّهِمْ وَالتَّقَوُّلِ عَلَيْهِمْ، وَقَدْ شَرَّفَ اللَّهُ الْحَدِيثَ وَفَضَّلَ أَهْلَهُ، وَأَعْلَى مَنْزِلَتَهُ، وَحَكَّمَهُ عَلَى كُلِّ نِحْلَةٍ، وَقَدَّمَهُ عَلَى كُلِّ عَلْمٍ، وَرَفَعَ مِنْ ذِكْرِ مَنْ حَمَلَهُ وَعُنِيَ بِهِ، فَهُمْ بَيْضَةُ الدِّينِ وَمَنَارُ الْحُجَّةِ، وَكَيْفَ لَا يَسْتَوْجِبُونَ الْفَضِيلَةَ، وَلَا يَسْتَحِقُّونَ الرُّتْبَةَ الرَّفِيعَةَ، وَهُمُ الَّذِينَ حَفِظُوا عَلَى الْأُمَّةِ هَذَا الدِّينَ، وَأَخْبَرُوا عَنْ أَنْبَاءِ التَّنْزِيلِ، وَأَثْبَتُوا نَاسِخَهُ وَمَنْسُوخَهُ وَمُحْكَمَهُ وَمُتَشَابِهَهُ، وَمَا عَظَّمَهُ اللَّهُ عز وجل بِهِ مِنْ شَأْنِ الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم، فَنَقَلُوا شَرَائِعَهُ، وَدَوَّنُوا مَشَاهِدَهُ، وَصَنَّفُوا أَعْلَامَهُ وَدَلَائِلَهُ، وَحَقَّقُوا مَنَاقِبَ عِتْرَتِهِ، وَمَآثِرَ آبَائِهِ وَعَشِيرَتِهِ، وَجَاءُوا بِسِيَرِ الْأَنْبِيَاءِ، وَمَقَامَاتِ الْأَوْلِيَاءِ، وَأَخْبَارِ الشُّهَدَاءِ وَالصِّدِّيقِينَ، وَعَبَّرُوا عَنْ جَمِيعِ فِعْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فِي سَفَرِهِ وَحَضَرِهِ، وَظَعْنِهِ وَإِقَامَتِهِ، وَسَائِرِ أَحْوَالِهِ، مِنْ مَنَامٍ وَيَقَظَةٍ، وَإِشَارَةٍ وَتَصْرِيحٍ، وَصَمْتٍ وَنُطْقٍ، وَنُهُوضٍ وَقُعُودٍ، وَمَأْكَلٍ وَمَشْرَبٍ، وَمَلْبَسٍ وَمَرْكَبٍ، وَمَا كَانَ سَبِيلَهُ فِي حَالِ الرِّضَا وَالسُّخْطِ، وَالْإِنْكَارِ وَالْقَبُولِ، حَتَّى الْقُلَامَةَ مِنْ ظُفُرِهِ، مَا كَانَ يَصْنَعُ بِهَا، وَالنُّخَاعَةَ مِنْ فِيهِ أَيْنَ كَانَتْ وِجْهَتُهَا، وَمَا كَانَ يَقُولُهُ عِنْدَ كُلِّ فِعْلٍ يُحْدِثُهُ وَيَفْعَلُهُ عِنْدَ كُلِّ مَوْقِفٍ وَمَشْهَدٍ يَشْهَدُهُ تَعْظِيمًا لَهُ صلى الله عليه وسلم، وَمَعْرِفَةً بِأَقْدَارِ مَا ذُكِرَ عَنْهُ وَأُسْنِدَ إِلَيْهِ، فَمَنْ عَرَفَ لِلْإِسْلَامِ حَقَّهُ، وَأَوْجَبَ لِلرَّسُولِ حُرْمَتُهُ، أَكْبَرَ أَنْ يَحْتَقِرَ مَنْ عَظَّمَ اللَّهُ شَأْنَهُ، وَأَعْلَى مَكَانَهُ، وَأَظْهَرَ حُجَّتَهُ وَأَبَانَ فَضِيلَتَهُ، وَلَمْ يَرْتَقِ بِطَعْنِهِ إِلَى حِزْبِ الرَّسُولِ وَأَتْبَاعِ الْوَحْيِ، وَأَوْعِيَةِ الدِّينِ، وَنَقَلَةِ الْأَحْكَامِ وَالْقُرْآنِ، الَّذِينَ ذَكَرَهُمُ اللَّهُ عز وجل فِي التَّنْزِيلِ، فَقَالَ: {وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ} [التوبة: 100] فَإِنَّكَ إِنْ أَرَدْتَ التَّوَصُّلَ إِلَى مَعْرِفَةِ هَذَا الْقَرْنِ، لَمْ يَذْكُرْهُمْ لَكَ إِلَّا رَاوٍ لِلْحَدِيثِ، مُتَحَقِّقٌ بِهِ، أَوْ دَاخِلٌ فِي حَيِّزِ أَهْلِهِ، وَمَنْ سِوَى ذَلِكَ فَرَبُّكَ بِهِمْ أَعْلَمُ وَقَدْ كَانَ بَعْضُ شُيُوخِ الْعِلْمِ مِمَّنْ جَلَسَ مَجْلِسَ الرِّيَاسَةِ وَاسْتَحَقَّهَا لِعِلْمِهِ وَفَضْلِهِ، لَحِقَهُ بِمَدِينَةِ السَّلَامِ مِنْ أَهْلِ الْحَدِيثِ جَفَاءٌ، قَلِقَ عِنْدَهُ، وَغَمَّهُ مَا شَاهَدَ مِنْ عَقْدِ الْمَجَالِسِ وَنَصْبِ الْمَنَابِرِ لِغَيْرِهِ، وَتَكَاثُفِ النَّاسِ فِي مَجْلِسِ مَنْ لَا يُدَانِيهِ فِي عِلْمِهِ وَمَحَلِّهِ، فَعَرَّضَ بِأَصْحَابِ الْحَدِيثِ فِي كَلَامٍ لَهُ، يَفْتَتِحُ بِهِ بَعْضَ مَا صَنَّفَ، فَقَالَ: يُتْرَكُ الْمُحَدِّثُ حَتَّى إِذَا بَلَغَ الثَّمَانِينَ مِنْ عُمْرِهِ وَكَانَ مَصِيرُهُ إِلَى قَبْرِهِ قِيلَ عِنْدَ الشَّيْخِ حَدِيثٌ غَرِيبٌ فَاكْتُبُوهُ فَلَمْ يَنْقُصْ هَذَا الْقَوْلُ مِنْ غَيْرِهِ مَا نَقَصَ مِنْ نَفْسِهِ، لِظُهُورِ الْعَصَبِيَّةِ فِيهِ، وَلَأَنَّهُ عَوَّلَ فِي أَكْثَرِ مَا أَوْدَعَهُ كُتُبَهُ وَأَكْثَرَ الرِّوَايَةَ عَنْهُ عَلَى طَبَقَةٍ لَا يَعْرِفُونَ الْحَدِيثَ، وَلَا يَنْتَحِلُونَ سِوَاهُ، وَهُمْ عُيُونُ رِجَالِهِ، لَيْسَ فِيهِمْ أَحَدٌ يُذْكَرُ بِالدِّرَايَةِ وَلَا يُحْسِنُ غَيْرَ الرِّوَايَةِ، فَإِلَّا تَأَدَّبَ بِأَدَبِ الْعِلْمِ، وَخَفَضَ جَنَاحَهُ لِمَنْ تَعَلَّقَ بِشَيْءٍ مِنْهُ، وَلَمْ يُبَهْرِجْ شُيُوخَهُ الَّذِينَ عَنْهُمْ أَخَذَ، وَبِهِمْ تَصَدَّرَ، وَوَفَّى الْفُقَهَاءَ حُقُوقَهُمْ مِنَ الْفَضْلِ، وَلَمْ يَبْخَسِ الرُّوَاةَ حُظُوظَهُمْ مِنَ النَّقْلِ، وَرَغَّبَ الرُّوَاةَ فِي التَّفَقُّهِ، وَالْمُتَفَقِّهَةَ فِي الْحَدِيثِ، وَقَالَ بِفَضْلِ الْفَرِيقَيْنِ، وَحَضَّ عَلَى سُلُوكِ الطَّرِيقَيْنِ، فَإِنَّهُمَا يَكْمُلَانِ إِذَا اجْتَمَعَا وَيَنْقُصَانِ إِذَا افْتَرَقَا فَتَمَسَّكُوا جَبَرَكُمُ اللَّهُ بِحَدِيثِ نَبِيِّكُمْ صلى الله عليه وسلم، وَتَبَيَّنُوا مَعَانِيَهِ، وَتَفَقَّهُوا بِهِ، وَتَأَدَّبُوا بِآدَابِهِ، وَدَعُوا مَا بِهِ تُعَيَّرُونَ مِنْ تَتَبُّعِ الطُّرُقِ وَتَكْثِيرِ الْأَسَانِيدِ، وَتَطَلُّبِ شَوَاذِّ الْأَحَادِيثِ، وَمَا دَلَّسَهُ الْمَجَانِينُ، وَتَبَلْبَلَ فِيهِ الْمُغَفَّلُونَ، وَاجْتَهِدُوا فِي أَنْ تُوفُوهُ حَقَّهُ مِنَ التَّهْذِيبِ وَالضَّبْطِ وَالتَّقْوِيمِ، لِتَشْرُفُوا بِهِ فِي الْمَشَاهِدِ، وَتَنْطَلِقُ أَلْسِنَتُكُمْ فِي الْمَجَالِسِ، وَلَا تَحْلِفُوا بِمَنْ يَعْتَرِضُ عَلَيْكُمْ حَسَدًا عَلَى مَا آتَاكُمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ، فَإِنَّ الْحَدِيثَ ذَكَرٌ لَا يُحِبُّهُ إِلَّا الذُّكْرَانُ، وَنَسَبٌ لَا يُجْهَلُ بِكُلِّ مَكَانٍ، وَكَفَى بِالْمُحَدِّثِ شَرَفًا أَنْ يَكُونَ اسْمُهُ مَقْرُونًا بِاسْمِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَذِكْرُهُ مُتَّصِلًا بِذِكْرِهِ وَذِكْرِ أَهْلِ بَيْتِهِ وَأَصْحَابِهِ، وَلِذَلِكَ قِيلَ لِبَعْضِ الْأَشْرَافِ: نَرَاكَ تَشْتَهِي أَنْ تُحَدِّثَ فَقَالَ: أَوَلَا أُحِبُّ أَنْ يَجْتَمِعَ اسْمِي وَاسْمُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي سَطْرٍ وَاحِدٍ وَحَسْبُكَ جَمَالًا عَصَبَةٌ مِنْهُمْ عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ عَلِيٍّ عليهم السلام، وَمَنْ يَلِيهِ مِنْ ذُرِّيَّتِهِ وَأَهْلِ بَيْتِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وَأَبْنَاءِ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ، وَالتَّابِعِينَ بِإِحْسَانٍ، وَأَهْلِ الزَّهَادَةِ وَالْعِبَادَةِ، وَالْفُقَهَاءِ وَأَكْثَرِ الْخُلَفَاءِ، وَمَنْ لَا يُدْرِكُهُ الْإِحْصَاءُ مِنَ الْعُلَمَاءِ وَالنُّبَلَاءِ وَالْفُضَلَاءِ، وَالْأَشْرَافِ وَذَوِي الْأَخْطَارِ، فَكَيْفَ بِمَنْ يُسَمِّيهِمُ الْحَشْوِيَّةُ وَالرَّعَاعُ، وَيَزْعُمُ أَنَّهُمْ أَغْثَارٌ وَحَمَلَةُ أَسْفَارٍ، وَاللَّهُ الْمُسْتَعَانُ
‌‌ভূমিকা পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই। আল্লাহর নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গের প্রতি আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। হাদিসের প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারী এবং হাদিসবিশারদদের প্রতি ঘৃণা পোষণকারী একটি দল আপত্তি তুলেছে। তারা হাদিসের অনুসারীদের (আসহাবুল হাদিস) দোষারোপ ও তুচ্ছজ্ঞান করার প্রয়াস পেয়েছে এবং তাদের নিন্দা ও অপবাদে সীমালঙ্ঘন করেছে। অথচ আল্লাহ হাদিসকে সম্মানিত করেছেন, এর অনুসারীদের শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং এর মর্যাদাকে উচ্চকিত করেছেন। তিনি একে প্রতিটি মতাদর্শের ওপর বিচারক নিযুক্ত করেছেন, প্রতিটি ইলমের ওপর অগ্রাধিকার দিয়েছেন এবং যারা একে বহন করে ও এর প্রতি যত্নবান হয় তাদের স্মরণকে সমুন্নত করেছেন। তাঁরাই দ্বীনের মূল ভিত্তি এবং প্রমাণের আলোকবর্তিকা। কেনইবা তাঁরা ফজিলতের অধিকারী হবেন না এবং উচ্চ মর্যাদার যোগ্য হবেন না, অথচ তাঁরাই উম্মতের জন্য এই দ্বীনকে সংরক্ষণ করেছেন? তাঁরা ওহী অবতরণের সংবাদ প্রদান করেছেন এবং এর রহিতকারী (ناسخ), রহিত (منسوخ), সুস্পষ্ট (محكم) ও অস্পষ্ট (متشابه) বিষয়সমূহ সাব্যস্ত করেছেন। আর মহান আল্লাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যে সুমহান মর্যাদা দান করেছেন, তাঁরা তাঁর সেই শরিয়তসমূহ বর্ণনা করেছেন, তাঁর জীবনের ঘটনাবলি সংকলন করেছেন এবং তাঁর নবুওয়তের নিদর্শন ও প্রমাণসমূহ শ্রেণীবদ্ধ করেছেন। তাঁরা তাঁর বংশধরের গুণাবলি এবং তাঁর পূর্বপুরুষ ও গোত্রের গৌরবগাথা যাচাই-বাছাই করেছেন। তাঁরা নবীদের জীবনী, ওলীদের মাকাম এবং শহীদ ও সিদ্দিকদের সংবাদ নিয়ে এসেছেন। তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সকল কর্মকাণ্ড বর্ণনা করেছেন—সফরে ও আবস্থানে, প্রস্থানে ও অবস্থানকালে এবং তাঁর সকল অবস্থায়; তাঁর ঘুম ও জাগরণ, ইঙ্গিত ও সুস্পষ্ট ভাষণ, নীরবতা ও কথা বলা, ওঠা ও বসা, পানাহার, পোশাক ও সওয়ারি এবং সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টিতে, প্রতিবাদ ও সম্মতিতে তাঁর পন্থা কী ছিল তা ব্যক্ত করেছেন। এমনকি তাঁর নখের কর্তিত অংশ নিয়ে তিনি কী করতেন এবং তাঁর মুখনিঃসৃত শ্লেষ্মা কোন দিকে যেত—তাও তাঁরা বর্ণনা করেছেন। তাঁর প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং তাঁর থেকে যা বর্ণিত ও তাঁর দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয়েছে তার গুরুত্ব অনুধাবনের উদ্দেশ্যে তিনি প্রতিটি কাজ করার সময় এবং প্রতিটি উপস্থিত হওয়ার স্থানে কী বলতেন, তাও তাঁরা বর্ণনা করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি ইসলামের হক চিনেছে এবং রাসূলের মর্যাদা রক্ষা করা আবশ্যক মনে করেছে, সে আল্লাহ যাকে সম্মানিত করেছেন, যার মর্যাদা উচ্চ করেছেন, যার প্রমাণ জাহির করেছেন এবং শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করেছেন—তাকে তুচ্ছজ্ঞান করতে পারে না। সে রাসূলের দল, ওহীর অনুসারী, দ্বীনের আধার এবং আহকাম ও কুরআনের বর্ণনাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করে না; যাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করেছেন: "এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করে" [সূরা আত-তাওবা: ১০০]। কেননা আপনি যদি সেই প্রজন্মের পরিচয় জানতে চান, তবে একজন হাদিস বর্ণনাকারী (راوي) ব্যতীত অন্য কেউ আপনার কাছে তাদের কথা উল্লেখ করবে না, যিনি হাদিসে দক্ষ অথবা হাদিসবিদদের অন্তর্ভুক্ত। এ ছাড়া অন্যদের অবস্থা আপনার প্রতিপালকই ভালো জানেন। ইলমের কিছু শাইখ, যারা তাঁদের ইলম ও ফজিলতের কারণে নেতৃত্বের আসনে সমাসীন ছিলেন এবং এর যোগ্যও ছিলেন, বাগদাদ শহরে হাদিসবিদদের পক্ষ থেকে কিছু রূঢ় আচরণের শিকার হন। এতে তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তিনি যখন দেখলেন যে অন্য কারো জন্য মজলিস ও মিম্বর স্থাপন করা হচ্ছে এবং এমন সব লোকের মজলিসে মানুষের ভিড় বাড়ছে যারা ইলম ও মর্যাদায় তাঁর সমকক্ষ নয়, তখন তিনি মর্মাহত হলেন। ফলে তিনি তাঁর কোনো একটি কিতাবের ভূমিকায় হাদিসবিশারদদের প্রতি কটাক্ষ করে বললেন: "মুহাদ্দিসকে ততক্ষণ পর্যন্ত ছেড়ে রাখা হয় যতক্ষণ না সে আশি বছরে পৌঁছায় এবং কবরের কিনারে গিয়ে দাঁড়ায়, তখন বলা হয় যে এই শাইখের কাছে একটি বিরল (غريب) হাদিস আছে, তা লিখে নাও।" তাঁর এই কথা অন্যের যতটুকু ক্ষতি না করেছে, তার চেয়ে বেশি নিজের ক্ষতি করেছে। কারণ এতে তাঁর গোঁড়ামি প্রকাশ পেয়েছে। তাছাড়া তিনি তাঁর কিতাবসমূহে যেসব তথ্য লিপিবদ্ধ করেছেন এবং যাদের থেকে অধিক বর্ণনা করেছেন, তারা মূলত এমন এক স্তরের লোক যারা হাদিস চেনে না এবং হাদিস ছাড়া অন্য কিছু দাবিও করে না। তারাই তাঁর বর্ণনার মূল ভিত্তি, অথচ তাদের মধ্যে ইলম ও বিচারবুদ্ধির (دراية) অধিকারী হিসেবে উল্লেখযোগ্য কেউ নেই এবং বর্ণনা (رواية) ছাড়া তারা অন্য কিছু ভালোভাবে জানত না। তিনি যদি ইলমের আদব অর্জন করতেন এবং যারা এর সাথে সম্পৃক্ত তাদের প্রতি বিনয়ী হতেন, আর যেসব শাইখের কাছ থেকে তিনি জ্ঞান গ্রহণ করেছেন এবং যাদের মাধ্যমে প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন তাদের অমর্যাদা না করতেন, তবে তা উত্তম হতো। তিনি যদি ফকিহদের যথাযথ সম্মান দিতেন এবং বর্ণনাকারীদের (رواة) বর্ণনার যথাযথ মূল্যায়ন করতেন, আর বর্ণনাকারীদের ফিকহ অর্জনে এবং ফকিহদের হাদিস অর্জনে উদ্বুদ্ধ করতেন এবং উভয় দলের শ্রেষ্ঠত্বের কথা বলতেন ও উভয় পথে চলার আহ্বান জানাতেন—তবে তাই হতো সমীচীন। কারণ এ দুটি বিষয় যখন একত্রিত হয় তখন পূর্ণতা পায়, আর যখন বিচ্ছিন্ন হয় তখন ঘাটতি দেখা দেয়। অতএব, আল্লাহ আপনাদের সহায় হোন, আপনারা আপনাদের নবীর হাদিসকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরুন, এর মর্মার্থ অনুধাবন করুন, এর মাধ্যমে ফিকহ অর্জন করুন এবং এর আদবে আদবপ্রাপ্ত হন। যে কারণে আপনাদের বিদ্রূপ করা হয়—যেমন সনদের বিভিন্ন সূত্র অন্বেষণ করা, সনদসমূহের (أسانيد) সংখ্যাধিক্য খোঁজা, ব্যতিক্রমী (شواذ) হাদিস তালাশ করা, যা মস্তিষ্কবিকৃতরা তান্দলিস (دلسه) করেছে এবং অমনোযোগীরা যাতে বিভ্রান্ত হয়েছে—সেগুলো পরিহার করুন। হাদিসকে পরিমার্জন, নির্ভুলভাবে সংরক্ষণ (ضبط) ও সঠিক রূপ দানের মাধ্যমে এর যথাযথ হক আদায়ে সচেষ্ট হোন, যাতে আপনারা মজলিসসমূহে সম্মানিত হতে পারেন এবং সভা-সমিতিগুলোতে আপনাদের মুখ সাবলীল হয়। আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহ থেকে আপনাদের যা দান করেছেন, সে বিষয়ে যারা হিংসাবশত আপনাদের বিরোধিতা করে, তাদের কারণে আপনারা বিচলিত হবেন না। কেননা হাদিস এমন এক আভিজাত্য যা কেবল পুরুষোচিত গুণসম্পন্ন ব্যক্তিরাই পছন্দ করে এবং এটি এমন এক বংশীয় পরিচয় যা সব জায়গায় সুপরিচিত। একজন মুহাদ্দিসের জন্য এটিই সম্মানের বিষয় যে, তাঁর নাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামের সাথে যুক্ত থাকে এবং তাঁর আলোচনা নবী, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের আলোচনার সাথে অবিচ্ছিন্ন থাকে। এই কারণেই কোনো এক উচ্চবংশীয় ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: "আমরা দেখছি আপনি হাদিস বর্ণনা করতে পছন্দ করছেন?" তিনি উত্তরে বললেন: "আমি কি এটা পছন্দ করব না যে, আমার নাম এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাম একই লাইনে একত্রিত হোক?" আপনাদের সৌন্দর্যের জন্য একদল মানুষের উপস্থিতিই যথেষ্ট, যাদের মধ্যে আলী ইবনুল হুসাইন ইবনে আলী আলাইহিমুস সালাম এবং তাঁর পরবর্তী বংশধর ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিবারবর্গ, মুহাজির ও আনসারদের সন্তান-সন্ততি, নিষ্ঠার সাথে অনুসরণকারী তাবেয়ীগণ, যুহদ ও ইবাদতগুজার ব্যক্তিগণ, ফকিহগণ এবং অধিকাংশ খলিফাগণ রয়েছেন। এছাড়াও অসংখ্য আলেম, সজ্জন, গুণী, অভিজাত ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ রয়েছেন যাদের গণনা করে শেষ করা যাবে না। তবে কেন তাদের 'হাশউয়্যাহ' (গোঁড়া ও অসারপন্থী) ও 'রাআ' (ইতর লোক) বলা হবে এবং দাবি করা হবে যে তারা অকর্মণ্য ও কেবল কিতাব বহনকারী মাত্র? আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১) আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল ত আজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ১৬২)
بَابُ ⦗ص: 163⦘ فَضْلِ النَّاقِلِ لِسُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
পরিচ্ছেদ: ⦗পৃষ্ঠা: ১৬৩⦘ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ (سنة) বর্ণনাকারীর (الناقل) মর্যাদা
(খণ্ড: ১) আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল ত আজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ১৬৩)
2 - حَدَّثَنَا أَبُو حُصَيْنٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ الْوَادِعِيُّ قَاضِي الْكُوفَةِ، ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عِيسَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ أَبُو طَاهِرٍ، ثَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ، ثَنَا هِشَامُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: سَمِعْتُ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه، يَقُولُ: خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: «اللَّهُمَّ ارْحَمْ خُلَفَائِي» قُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَنْ خُلَفَاؤُكَ؟ قَالَ: «الَّذِينَ يَرْوُونَ أَحَادِيثِي، وَسُنَّتِي وَيُعَلِّمُونَهَا لِلنَّاسِ»
2 - আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) কুফার বিচারক আবু হুসাইন মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন আল-ওয়াদিঈ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا) আহমদ ইবনে ঈসা ইবনে আব্দুল্লাহ আবু তাহির, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا) ইবনে আবি ফুদাইক, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا) হিশাম ইবনে সাদ, তিনি যায়ের ইবনে আসলাম থেকে, তিনি আতা ইবনে ইয়াসার থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের নিকট বের হয়ে আসলেন এবং বললেন: «হে আল্লাহ! আমার উত্তরসূরিদের (خلفائي) ওপর রহম করুন» আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনার উত্তরসূরি (خلفاؤك) কারা? তিনি বললেন: «যারা আমার হাদিস ও সুন্নাহ (سنتي) বর্ণনা করে (يروون) এবং তা মানুষের নিকট শিক্ষা দেয়»
(খণ্ড: ১) আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল ত আজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ১৬৪)
3 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ الشَّيْبَانِيُّ، ثَنَا عُمَرُو بْنُ مَرْزُوقٍ، أنا شُعْبَةُ، عَنْ عُمَرَ بْنِ سُلَيْمَانَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبَانَ بْنِ عُثْمَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: " نَضَّرَ اللَّهُ امْرَأً سَمِعَ مِنَّا حَدِيثًا فَبَلَّغَهُ غَيْرَهُ، فَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ غَيْرُ فَقِيهٍ، وَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ إِلَى مَنْ هُوَ أَفْقَهُ مِنْهُ، ثَلَاثٌ لَا يَغِلُّ عَلَيْهِنَّ قَلْبُ مُسْلِمٍ: إِخْلَاصُ الْعَمَلِ لِلَّهِ، وَمُنَاصَحَةُ أُولِي الْأَمْرِ، وَلُزُومُ الْجَمَاعَةِ، فَإِنَّ دَعْوَتَهُمْ تُحِيطُ مَنْ وَرَاءَهُمْ" يُقَالُ: يَغِلُّ وَيُغِلُّ، غَلَّ عَلَى قَلْبِهِ يَغِلُّ، إِذَا كَانَ ذَا غِشٍّ، وَأَغَلَّ يُغِلُّ إِذَا كَانَ ذَا غَدْرٍ، وَيُقَالُ: لَيْسَ عَلَى الْمُؤْتَمِنِ غَيْرِ الْمُغِلِّ ضَمَانٌ بِمَعْنَى: غَيْرِ الْخَائِنِ، وَأَنْشَدَ:

[البحر الكامل]

حَدَّثْتَ نَفْسَكَ بِالْوَفَاءِ وَلَمْ تَكُنْ … بِالْغَدْرِ خَائِنَةً مُغِلَّ الْأُصْبُعِ

فَمَنْ قَالَ: يَغِلُّ جَعَلَهُ مِنَ الْغِلِّ وَهُوَ الضَّغْنُ وَالْعَدَاوَةُ، وَمَنْ قَالَ: يُغِلُّ جَعَلَهُ مِنَ الْإِغْلَالِ مِنَ الْخِيَانَةِ

 

4 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مَعْدَانَ الْغزَّاءُ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ غَالِبٍ الْأَنْطَاكِيُّ، ثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنِي شُعْبَةُ، عَنْ عُمَرَ بْنِ سُلَيْمَانَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبَانَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: خَرَجَ زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ مِنْ عِنْدِ مَرْوَانَ بْنِ الْحَكَمِ نِصْفَ النَّهَارِ، فَقُلْنَا: مَا خَرَجَ هَذِهِ السَّاعَةَ إِلَّا لِشَيْءٍ سَأَلَهُ عَنْهُ قَالَ: أَجَلْ، سَأَلَنِي عَنْ أَشْيَاءَ سَمِعْتُهَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، سَمِعْتُ ⦗ص: 165⦘ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «نَضَّرَ اللَّهُ امْرَأً سَمِعَ مِنَّا حَدِيثًا فَبَلَّغَهُ» ثُمَّ ذَكَرَ نَحْوَهُ
3 - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ ইবন যিয়াদ আল-শায়বানী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর ইবন মারযূক, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শু’বাহ, উমর ইবন সুলাইমান থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবন আবান ইবন উসমান থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি যায়িদ ইবন সাবিত (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও উজ্জ্বল (نضر) করুন, যে আমাদের নিকট থেকে কোনো হাদিস শ্রবণ করল এবং তা অন্যের নিকট পৌঁছে দিল। কেননা অনেক জ্ঞান বহনকারী (حامل فقه) নিজে প্রজ্ঞাবান (فقيه) নন, আবার অনেক জ্ঞান বহনকারী এমন ব্যক্তির নিকট তা পৌঁছে দেন যিনি তার চেয়েও অধিক প্রজ্ঞাবান (أفقه)। তিনটি বিষয়ে একজন মুসলিমের অন্তর খিয়ানত বা বিদ্বেষ (يغل) পোষণ করে না: আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একনিষ্ঠভাবে আমল করা (إخلاص العمل لله), শাসকবর্গের কল্যাণকামনা করা (مناصحة أولي الأمر) এবং মুসলিম জামাতের সাথে সংহতি বজায় রাখা (لزوم الجماعة); কেননা তাদের দাওয়াত তাদের পশ্চাদ্বর্তীদেরও বেষ্টন করে রাখে।” বলা হয়ে থাকে: يَغِلُّ (ইয়াগিলু) এবং يُغِلُّ (ইউগিলু)। ‘গাল্লা আলা কালবিহি ইয়াগিলু’ তখন বলা হয় যখন কেউ প্রতারক (غش) হয়। আর ‘আগাল্লা ইয়ুগিল্লু’ তখন বলা হয় যখন কেউ বিশ্বাসঘাতক (غدر) হয়। আরও বলা হয়: ‘আমানত গ্রহণকারীর ওপর কোনো জরিমানা নেই যদি সে খিয়ানতকারী (غير المغل) না হয়’, অর্থাৎ বিশ্বাসঘাতক (غير الخائن) না হয়। কবি ছন্দোবদ্ধ কবিতায় আবৃত্তি করেছেন:

[কামিল ছন্দ]

তুমি নিজের অন্তরের সাথে আনুগত্যের অঙ্গীকার করেছিলে এবং তুমি বিশ্বাসঘাতকতার মাধ্যমে … প্রতারক ও খিয়ানতকারী (مغل) হওনি।

সুতরাং যারা ‘ইয়াগিলু’ (يغل) পাঠ করেছেন, তারা একে বিদ্বেষ (الغل) থেকে উদ্ভূত মনে করেন যার অর্থ হলো অন্তরের ঘৃণা ও শত্রুতা। আর যারা ‘ইউগিলু’ (يغل) পাঠ করেছেন, তারা একে খিয়ানত বা বিশ্বাসঘাতকতা (الإغلال) থেকে উদ্ভূত মনে করেন।

 

4 - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবন আহমদ ইবন মা’দান আল-গাযযা, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবন গালিব আল-আন্তাকী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাজ্জাজ ইবন মুহাম্মদ, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন শু’বাহ, উমর ইবন সুলাইমান থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবন আবান থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যায়িদ ইবন সাবিত (রা.) দুপুর বেলা মারওয়ান ইবনুল হাকামের নিকট থেকে বের হলেন। আমরা বললাম: তিনি এই সময়ে নিশ্চয়ই বিশেষ কোনো কারণেই বের হয়েছেন যে বিষয়ে মারওয়ান তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তিনি বললেন: হ্যাঁ, তিনি আমাকে এমন কিছু বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যা আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি। আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ⦗পৃষ্ঠা: ১৬৫⦘ বলতে শুনেছি: “আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও উজ্জ্বল (نضر) করুন যে আমাদের নিকট থেকে কোনো হাদিস শ্রবণ করল এবং তা পৌঁছে দিল...” এরপর তিনি পূর্বোক্ত হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করলেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল ত আজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ১৬৫)
5 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَضْرَمِيُّ، ثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْبَغَوِيُّ، ثَنَا دَاوُدُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ، ثَنَا عَمْرُو بْنُ قَيْسٍ، عَنْ عَطِيَّةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ: خَطَبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: «نَضَّرَ اللَّهُ عَبْدًا سَمِعَ مِنَّا حَدِيثًا فَبَلَّغَهُ كَمَا سَمِعَهُ»
৫ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حَدَّثَنَا) মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হাদরামি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثَنَا) ইসহাক বিন ইব্রাহিম আল-বাগাবি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثَنَا) দাউদ বিন আব্দুল হামিদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثَنَا) আমর বিন কাইস, আতিয়্যাহ থেকে (عَنْ), তিনি আবু সাঈদ (রা.) থেকে (عَنْ) বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভাষণ প্রদানকালে বললেন: «আল্লাহ সেই বান্দাকে উজ্জ্বল ও সতেজ রাখুন যে আমাদের থেকে কোনো হাদিস শুনেছে, অতঃপর তা যেভাবে শুনেছে ঠিক সেভাবেই পৌঁছে দিয়েছে।»
(খণ্ড: ১) আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল ত আজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ১৬৫)
6 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ الْخَثْعَمِيُّ، ثَنَا عَبَّادُ بْنُ يَعْقُوبَ، ثَنَا عَمْرٌو، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «نَضَّرَ اللَّهُ امْرَأً سَمِعَ مِنَّا حَدِيثًا، فَبَلَّغَهُ كَمَا سَمِعَ، فَإِنَّهُ رُبَّ مُبَلَّغٍ هُوَ أَوْعَى لَهُ مِنْ سَامِعٍ»
৬ - আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন আল-খাসআমি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আব্বাদ ইবনে ইয়াকুব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আমর বর্ণনা করেছেন, তিনি সিমাক থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও উজ্জ্বল করুন যে আমাদের থেকে কোনো হাদিস শুনেছে, অতঃপর তা ঠিক সেভাবেই পৌঁছে দিয়েছে যেভাবে সে তা শুনেছে; কেননা অনেক সময় যাকে পৌঁছে দেওয়া হয়, সে শ্রবণকারীর তুলনায় অধিক সংরক্ষণকারী হয়ে থাকে।»
(খণ্ড: ১) আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল ত আজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ১৬৫)
حَدَّثَنَا الْحَضْرَمِيُّ، ثَنَا يَحْيَى الْحِمَّانِيُّ، ثَنَا أَبُو الْأَحْوَصِ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «نَضَّرَ ⦗ص: 166⦘ اللَّهُ امْرَأً سَمِعَ مَقَالَتِي فَبَلَّغَهَا، فَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ إِلَى مَنْ هُوَ أَفْقَهُ مِنْهُ، وَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ غَيْرِ فَقِيهٍ»
আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আল-হাদরামি, তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا) ইয়াহইয়া আল-হিমমানি, তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا) আবু আল-আহওয়াস, তিনি সিমাক হতে (عن), তিনি আবদুর রহমান ইবনে আবদুল্লাহ হতে (عن), তিনি তাঁর পিতা হতে (عن) বর্ণনা করেন; তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও উজ্জ্বল রাখুন ⦗পৃষ্ঠা: ১৬৬⦘ যে আমার কথা শুনেছে এবং তা পৌঁছে দিয়েছে। কেননা অনেক জ্ঞানের বাহক এমন ব্যক্তির নিকট তা পৌঁছে দেয় যে তার চেয়ে অধিক সমঝদার (أفقه), আর অনেক জ্ঞানের বাহক নিজে সমঝদার (فقيه) নয়।»
(খণ্ড: ১) আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল ত আজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ১৬৬)
8 - حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ أَيُّوبَ، ثَنَا عَبْدُ الْأَعْلَى النَّرْسِيُّ، ثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «نَضَّرَ اللَّهُ رَجُلًا سَمِعَ مِنَّا كَلِمَةٍ فَبَلَّغَهَا كَمَا سَمِعَ، فَإِنَّهُ رُبَّ مُبَلَّغٍ أَوْعَى مِنْ سَامِعٍ»
8 - আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) ওমর ইবনুল আইয়ুব, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আব্দুল আলা আন-নারসি, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) হাম্মাদ ইবনে সালামাহ, তিনি সিমাক থেকে (عن), তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে (عن) বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সতেজ ও প্রফুল্ল রাখুন যে আমাদের থেকে কোনো কথা শুনেছে এবং তা যেভাবে শুনেছে ঠিক সেভাবেই পৌঁছে দিয়েছে। কেননা অনেক সময় যাকে সংবাদটি পৌঁছে দেওয়া হয়, সে শ্রবণকারীর তুলনায় অধিক সংরক্ষণকারী হয়ে থাকে।»
(খণ্ড: ১) আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল ত আজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ১৬৬)
9 - حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ زَكَرِيَّا، ثَنَا شَبَابٌ، ثَنَا عَبْدُ الْمَجِيدِ أَبُو خِدَاشٍ، ثَنَا مَنْصُورُ بْنُ وَرْدَانَ، ثَنَا أَبُو حَمْزَةَ الثُّمَالِيُّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي مَسْجِدِ الْخَيْفِ، فَحَمِدَ اللَّهَ، وَأَثْنَى عَلَيْهِ بِمَا هُوَ أَهْلُهُ، ثُمَّ قَالَ: " نَضَّرَ اللَّهُ امْرَأً سَمِعَ مَقَالَتِي، فَوَعَاهَا، ثُمَّ بَلَّغَهَا مَنْ لَمْ يَسْمَعْهَا، فَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ غَيْرِ فَقِيهٍ، وَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ إِلَى مَنْ هُوَ أَفْقَهُ مِنْهُ، ثَلَاثٌ لَا يَغُلُّ عَلَيْهِنَّ قَلْبُ مُسْلِمٍ: إِخْلَاصُ الْعَمَلِ لِلَّهِ، وَالنَّصِيحَةُ ⦗ص: 167⦘ لِأَئِمَّةِ الْمُسْلِمِينَ، وَالدَّعْوَةُ لِأَئِمَّتِهِمْ، فَإِنَّ الدَّعْوَةَ تُحِيطُ مِنْ وَرَائِهِمْ، مَنْ تَكُنِ الدُّنْيَا نِيَّتُهُ وَأَكْبَرُ هَمِّهِ، جَعَلَ اللَّهُ فَقْرَهُ بَيْنَ عَيْنَيْهِ، وَفَرَّقَ عَلَيْهِ شَمْلَهُ، وَلَمْ يَأْتِهِ مِنَ الدُّنْيَا إِلَّا مَا كَتَبَ لَهُ، وَمَنْ تَكُنِ الْآخِرَةُ نِيَّتَهُ وَأَكْبَرَ هَمِّهِ جَعَلَ اللَّهُ غِنَاهُ بَيْنَ عَيْنَيْهِ، وَلَمْ يُفَرِّقْ عَلَيْهِ شَمْلَهُ، وَتَأْتِيهِ الدُّنْيَا وَهِيَ رَاغِمَةٌ"

 

10 - قَالَ الْقَاضِي: قَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم: «نَضَّرَ اللَّهُ امْرَأً» مُخَفَّفٌ، وَأَكْثَرُ الْمُحَدِّثِينَ يَقُولُهُ بِالتَّثْقِيلِ إِلَّا مَنْ ضَبَطَ مِنْهُمْ، وَالصَّوَابُ التَّخْفِيفُ، وَيَحْتَمِلُ مَعْنَاهُ وَجْهَيْنِ: أَحَدُهُمَا: يَكُونُ فِي مَعْنَى: أَلْبَسَهُ اللَّهُ النَّضْرَةَ، وَهِيَ الْحُسْنُ وَخَلُوصُ اللَّوْنِ، فَيَكُونُ تَقْدِيرُهُ: جَمَّلَهُ اللَّهُ وَزَيَّنَهُ وَالْوَجْهُ الثَّانِي: أَنْ يَكُونَ فِي مَعْنَى: أَوْصَلَهُ اللَّهُ إِلَى نَضْرَةِ الْجَنَّةِ، وَهِيَ نِعْمَتُهَا وَنَضَارَتُهَا؛ قَالَ اللَّهُ عز وجل: {تَعْرِفُ فِي وُجُوهِهِمْ نَضْرَةَ النَّعِيمِ} [المطففين: 24] ، وَقَالَ: {وَلَقَّاهُمْ نَضْرَةً وَسُرُورًا} [الإنسان: 11] وَفِيهِ لُغَتَانِ ⦗ص: 168⦘ تَقُولُ: «نَضِرَ وَجْهُ فُلَانٍ» ، بِكَسْرِ الضَّادِ يَنْضَرُ نَضْرَةً، وَنَضَارَةً وَنُضُورًا وَنَضَرَ اللَّهُ وَجْهَهُ وَأَنْضَرَهُ لُغَتَانِ، تَقُولُ: نَضَرَ اللَّهُ وَجْهَ فُلَانٍ، فَنَضِرَ، فَالْوَجْهُ نَضِيرٌ، وَنَاضِرٌ، قَالَ اللَّهُ عز وجل: {وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ نَاضِرَةٌ} [القيامة: 22] وَهُوَ مِنْ قَوْلِهِمْ: نَضِرَ وَجْهُهُ فَهُوَ نَاضِرٌ مِنْ فِعْلِهِ، قَالَ جَرِيرٌ:

[البحر الكامل]

طَرِبَ الْحَمَامُ بِذِي الْأَرَاكِ فَشَاقَنِي … لَا زِلْتُ فِي فَنَنٍ وَأَيْكٍ نَاضِرٍ

يَعْنِي «بِالنَّاضِرِ» : الْمَوْرَقُ الْغَضُّ وَرَوَاهُ النُّعْمَانُ بْنُ بَشِيرٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: «نَضَّرَ اللَّهُ وَجْهَ عَبْدٍ»
৯ - আমাদের নিকট মুসা ইবনে জাকারিয়া বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট শাবাব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আব্দুল মাজীদ আবু খিদাশ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট মনসুর ইবনে ওয়ারদান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আবু হামজাহ আল-সুমালি বর্ণনা করেছেন, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাসজিদুল খাইফে আমাদের উদ্দেশে ভাষণ দিলেন। তিনি আল্লাহর প্রশংসা করলেন এবং তাঁর যথাযোগ্য গুণগান করলেন। অতঃপর বললেন: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে উজ্জ্বল ও সজীব করুন যে আমার কথা শুনল, তা স্মরণ রাখল, অতঃপর যে তা শোনেনি তার নিকট তা পৌঁছে দিল। কেননা অনেক ইলম বহনকারী নিজে ফকিহ (বিজ্ঞ) নয়, আবার অনেক ইলম বহনকারী এমন ব্যক্তির নিকট তা নিয়ে যায় যে তার চেয়েও অধিক ফকিহ। তিনটি বিষয় এমন রয়েছে যাতে কোনো মুসলিমের অন্তর খিয়ানত করতে পারে না: আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একনিষ্ঠভাবে আমল করা, মুসলিমদের ইমামদের প্রতি কল্যাণকামিতা ⦗পৃষ্ঠা: ১৬৭⦘ এবং তাদের জামাআতের সাথে থাকা (বা তাদের জন্য দোয়া করা); কেননা তাদের আহ্বান তাদেরকে চারপাশ থেকে হেফাযত করে। যার নিয়ত ও প্রধান চিন্তা হবে দুনিয়া, আল্লাহ তার অভাব-অনটন তার চোখের সামনে বসিয়ে দেন, তার কাজসমূহ এলোমেলো করে দেন এবং তার জন্য নির্ধারিত তকদিরের অতিরিক্ত কিছু দুনিয়া থেকে সে পায় না। আর যার নিয়ত ও প্রধান চিন্তা হবে আখিরাত, আল্লাহ তার সচ্ছলতা তার অন্তরে (চোখের সামনে) দান করেন, তার কাজসমূহ গুছিয়ে দেন এবং দুনিয়া তার নিকট লাঞ্ছিত ও অনুগত হয়ে আসে।"

 

১০ - আল-কাজি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: «নাল্লাহু ইমরাআন» শব্দটি হালকাভাবে (তাজদিদ ছাড়া) উচ্চারিত, যদিও অধিকাংশ হাদিস বিশারদগণ (المحدثون) এটি ভারীভাবে (তাজদিদসহ) উচ্চারণ করেন, কেবল তারা ব্যতীত যারা এটি নির্ভুলভাবে সংরক্ষণ (ضبط) করেছেন। তবে সঠিক হলো তাজদিদ ছাড়া পড়া। এর অর্থের দুটি দিক হতে পারে: প্রথমটি হলো, এটি 'আল্লাহ তাকে উজ্জ্বলতা দান করুন' অর্থে ব্যবহৃত, যা হলো সৌন্দর্য ও রঙের বিশুদ্ধতা; এমতাবস্থায় এর মর্মার্থ হবে: আল্লাহ তাকে সুন্দর ও সুসজ্জিত করুন। দ্বিতীয় দিকটি হলো: আল্লাহ তাকে জান্নাতের উজ্জ্বলতার নিকট পৌঁছে দিন, যা হলো জান্নাতের নেয়ামত ও সজীবতা। মহান আল্লাহ বলেন: {তুমি তাদের মুখমণ্ডলে নেয়ামতের সজীবতা দেখতে পাবে} [আল-মুতাফফিফিন: ২৪], এবং তিনি বলেন: {তিনি তাদের প্রদান করবেন সজীবতা ও আনন্দ} [আল-ইনসান: ১১]। শব্দটির ব্যবহারের ক্ষেত্রে দুটি ভাষাগত রূপ ⦗পৃষ্ঠা: ১৬৮⦘ রয়েছে; আপনি বলতে পারেন: «নাদিরা ওয়াজহু ফুলান» (অমুকের চেহারা উজ্জ্বল হয়েছে), 'দদ' অক্ষরে কাসরা (জের) যোগে, যা থেকে ক্রিয়াপদটি হয় 'ইয়ানজারু', আর বিশেষ্য হলো 'নাদরাহ', 'নাদারাহ' ও 'নুযুর'। আর 'নাদারা' ও 'আনদারা'—উভয় রূপই ভাষাগতভাবে শুদ্ধ। আপনি বলবেন: 'নাদারাল্লাহু ওয়াজহা ফুলান', তখন তার মুখমণ্ডল উজ্জ্বল হয়; সুতরাং মুখমণ্ডলটি হলো 'নাদীর' ও 'নাদির'। মহান আল্লাহ বলেন: {সেদিন অনেক মুখমণ্ডল হবে সজীব ও উজ্জ্বল} [আল-কিয়ামাহ: ২২]। এটি মূলত তাদের কথা 'নাদিরা ওয়াজহুহু ফাহুয়া নাদির' থেকে গৃহীত। কবি জারীর বলেছেন:

[কামিল ছন্দ]

আরাক বৃক্ষে কপোত কূজন করল যা আমাকে ব্যাকুল করে তুলল … যেন আমি সর্বদা সজীব পল্লব ও কুঞ্জবনের মাঝে থাকি

এখানে «নাদির» দ্বারা উদ্দেশ্য হলো পত্রপল্লবিত ও সজীব। নুমান ইবনে বশির নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "আল্লাহ কোনো বান্দার মুখমণ্ডল উজ্জ্বল করুন।"
(খণ্ড: ১) আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল ত আজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ১৬৮)
11 - حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ زَكَرِيَّا، ثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخٍ، ثَنَا أَبُو أُمَيَّةَ بْنُ يَعْلَى، ثَنَا عِيسَى بْنُ أَبِي عِيسَى الْخَيَّاطُ، عَنِ الشَّعْبِيِّ قَالَ: خَطَبَنَا النُّعْمَانُ بْنُ بَشِيرٍ، فَقَالَ فِي خُطْبَتِهِ: خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي مَسْجِدِ الْخَيْفِ فَقَالَ: " نَضَّرَ اللَّهُ وَجْهَ عَبْدٍ سَمِعَ مَقَالَتِي فَحَمَلَهَا، فَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ غَيْرِ فَقِيهٍ، وَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ إِلَى مَنْ هُوَ أَفْقَهُ مِنْهُ، ثَلَاثٌ لَا يَغُلُّ عَلَيْهِنَّ قَلْبُ ⦗ص: 169⦘ مُسْلِمٍ: إِخْلَاصُ الْعَمَلِ لِلَّهِ، وَمُنَاصَحَةُ وُلَاةِ الْأَمْرِ، وَلُزُومُ جَمَاعَةِ الْمُسْلِمِينَ فَإِنَّ دَعْوَتَهُمْ تُحِيطُ مِنْ وَرَائِهِمْ " فَفَرَّقَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بَيْنَ نَاقِلِ السُّنَّةِ وَوَاعِيهَا، وَدَلَّ عَلَى فَضْلِ الْوَاعِي بِقَوْلِهِ: «فَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ إِلَى مَنْ هُوَ أَفْقَهُ مِنْهُ، وَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ غَيْرِ فَقِيهٍ» وَبِوُجُوبِ الْفَضْلِ لِأَحَدِهِمَا يَثْبُتُ الْفَضْلُ لِلْآخَرِ مِثَالُ ذَلِكَ: أَنْ تُمَثِّلَ بَيْنَ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ وَعُبَيْدِ اللَّهِ الْعُمَرِيِّ، وَبَيْنَ الشَّافِعِيِّ وَعَبْدِ ⦗ص: 170⦘ الرَّحْمَنِ بْنِ مَهْدِيٍّ، وَبَيْنَ أَبِي ثَوْرٍ وَابْنِ أَبِي شَيْبَةَ، فَإِنَّ الْحَقَّ يَقُودُكَ إِلَى أَنْ تَقْضِيَ لِكُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمْ بِالْفَضْلِ، وَهَذَا طَرِيقُ الْإِنْصَافِ لِمَنْ سَلَكَهُ، وَعَلَّمَ الْحَقَّ لِمَنْ أَمَّهُ، وَلَمْ يَتَعَدَّهُ
১১ - মুসা ইবনে যাকারিয়া আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, শায়বান ইবনে ফাররুখ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু উমাইয়া ইবনে ইয়ালা আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ঈসা ইবনে আবি ঈসা আল-খাইয়াত আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি শাবি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নুমান ইবনে বশির আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছেন, তিনি তাঁর ভাষণে বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাসজিদুল খাইফে আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ প্রদানকালে বলেন: "আল্লাহ সেই বান্দার চেহারা উজ্জ্বল করুন যে আমার কথা শুনেছে এবং তা স্মরণ রেখেছে; কেননা অনেক ফিকহ (فقه) বহনকারী নিজে ফকিহ (فقيه) নন, আবার অনেকে ফিকহ (فقه) বহন করে নিয়ে যায় এমন ব্যক্তির কাছে যে তার চেয়েও অধিক সমঝদার (أفقه)। তিনটি বিষয়ে কোনো ⦗পৃষ্ঠা: ১৬৯⦘ মুসলিমের অন্তর খিয়ানত করতে পারে না: আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠভাবে আমল করা, শাসকবর্গের কল্যাণ কামনা করা এবং মুসলিম জামাতের সাথে সংহতি বজায় রাখা; কারণ তাদের আহ্বান তাদেরকে পেছন থেকে বেষ্টন করে রাখে।" সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুন্নাহ (سنة) বর্ণনাকারী এবং এর অনুধাবনকারীর মধ্যে পার্থক্য করেছেন। তিনি তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে অনুধাবনকারীর শ্রেষ্ঠত্বের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন: "অনেকে ফিকহ (فقه) বহন করে নিয়ে যায় এমন ব্যক্তির কাছে যে তার চেয়েও অধিক সমঝদার (أفقه), আবার অনেক ফিকহ (فقه) বহনকারী নিজে ফকিহ (فقيه) নন।" আর তাদের একজনের জন্য শ্রেষ্ঠত্ব অবধারিত হওয়ার দ্বারা অন্যজনের জন্যও শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিত হয়। এর উদাহরণ হলো: মালিক ইবনে আনাস এবং উবায়দুল্লাহ আল-উমারির মধ্যে তুলনা করা, অথবা শাফিঈ এবং আবদুর ⦗পৃষ্ঠা: ১৭০⦘ রহমান ইবনে মাহদির মধ্যে, কিংবা আবু সাওর এবং ইবনে আবি শায়বার মধ্যে তুলনা করা। সত্য আপনাকে এই সিদ্ধান্তের দিকেই পরিচালিত করবে যে আপনি তাদের প্রত্যেকের জন্যই শ্রেষ্ঠত্বের ফয়সালা দেবেন। আর এটিই হলো ন্যায়নিষ্ঠার পথ তার জন্য যে এই পথে চলে, এবং সত্যের জ্ঞান তার জন্য যে সত্যকে অন্বেষণ করে এবং তা থেকে বিচ্যুত হয় না।
(খণ্ড: ১) আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল ত আজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ১৭০)
12 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَعْدَانَ الْغَزَّاءُ، ثَنَا يُوسُفُ بْنُ مُسْلِمٍ الْمِصِّيصِيُّ، ثنا رُوحُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَرَّانِيُّ، عَنْ خُلَيْدِ بْنِ دَعْلَجٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يَا حَبَّذَا كُلُّ عَالِمٍ نَاطِقٌ وَمُسْتَمِعٌ وَاعٍ»
12 - আবদুল্লাহ বিন মা'দান আল-গাজ্জা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), ইউসুফ বিন মুসলিম আল-মিসসিসি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا), রুহ বিন আব্দুল্লাহ আল-হাররানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا), খুলাইদ বিন দ'লাজ হতে (عن), কাতাদাহ হতে (عن), আনাস হতে (عن) বর্ণিত; তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "প্রত্যেক বাকপটু আলেম এবং মনোযোগী শ্রোতা কতই না চমৎকার!"
(খণ্ড: ১) আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল ত আজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ১৭১)
13 - حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُفَيْرٍ الْأَنْصَارِيُّ، ثَنَا الْحَجَّاجُ بْنُ يُوسُفَ بْنِ قُتَيْبَةَ، ثَنَا بِشْرُ بْنُ الْحُسَيْنِ، ثَنَا الزُّبَيْرُ بْنُ عَدِيٍّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " لَا خَيْرَ فِي الْعَيْشِ إِلَّا لِرَجُلَيْنِ: مُسْتَمِعٌ وَاعٍ أَوْ عَالِمٌ نَاطِقٌ "
১৩ - আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে উফাইর আল-আনসারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), আল-হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ ইবনে কুতাইবাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا), বিশর ইবনুল হুসাইন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا), আয-যুবাইর ইবনে আদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا), আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে (عن) বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "দুই ব্যক্তি ব্যতীত জীবন ধারণে কোনো কল্যাণ নেই: সচেতন শ্রোতা অথবা জ্ঞানদানকারী আলেম।"
(খণ্ড: ১) আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল ত আজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ১৭১)
حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْفِرْيَابِيُّ، ثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ عُتْبَةَ الدِّمَشْقِيُّ، ثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنِي أَبُو مُحَمَّدٍ عِيسَى بْنُ مُوسَى، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ الْحَارِثِ الْمَذْحِجِيُّ أَنَّهُ سَمِعَ عُبَادَةَ بْنَ الصَّامِتِ يَقُولُ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ: «إِنِّي أُحَدِّثُكُمْ بِالْحَدِيثِ، فَلْيُحَدِّثِ الْحَاضِرُ مِنْكُمُ الْغَائِبَ»
জাফর ইবনে মুহাম্মদ আল-ফিরইয়াবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), ওয়ালিদ ইবনে উতবা আদ-দিমাশকি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا), ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا), আবু মুহাম্মদ ঈসা ইবনে মুসা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني), ইসমাইল ইবনে আল-হারিস আল-মাযহিজী থেকে (عن) বর্ণিত যে, তিনি উবাদাহ ইবনে আস-সামিত (রা.)-কে বলতে শুনেছেন (سمع), আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতেন: "নিশ্চয়ই আমি তোমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করছি; সুতরাং তোমাদের মধ্যে উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির নিকট তা পৌঁছে দেয়।"
(খণ্ড: ১) আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল ত আজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ১৭১)
حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحُسَيْنِ، بِمَدِينَةِ كَازَرُونَ مِنْ فَارِسَ ثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ فُضَيْلٍ الرَّسْعَنِيُّ، ثَنَا عَبْدُ الْغَفَّارِ، ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ لَهِيعَةَ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَرْثِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ مَيْمُونٍ، عَنْ وَدَاعَةَ الْغَافِقِيِّ قَالَ ⦗ص: 172⦘: كُنْتُ بِجَنْبِ مَالِكِ بْنِ عَتَاهِيَةَ الْغَافِقِيِّ، وَعُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ إِلَى جَنْبِهِ يُحَدِّثُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَالِكٌ: إِنَّ صَاحِبَكُمْ هَذَا لَغَافِلٌ أَوْ هَالِكٌ، إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَهِدَ إِلَيْنَا فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ، فَقَالَ: «عَلَيْكُمْ بِالْقُرْآنِ، وَسَتَرْجِعُونَ إِلَى أَقْوَامٍ سَيُبَلِّغُونَ الْحَدِيثَ عَنِّي، فَمَنْ عَقِلَ شَيْئًا فَلْيُحَدِّثْ بِهِ، وَمَنْ قَالَ عَلَيَّ مَا لَمْ أَقُلْ فَلْيَتَبَوَّأَ بَيْتًا، أَوْ مَقْعَدَهُ فِي جَهَنَّمَ»
আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন পারস্যের কাযেরুন শহরে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, জা’ফর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ফুযাইল আর-রাস’আনী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল গাফফার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে লাহিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনুল হারিস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে মাইমুন থেকে বর্ণিত, ওয়াদাআ আল-গাফিকী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন ⦗পৃষ্ঠা: ১৭২⦘: আমি মালিক ইবনে আতাহিয়াহ আল-গাফিকীর পাশে ছিলাম এবং উকবা ইবনে আমির তাঁর পাশে বসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদিস বর্ণনা করছিলেন। তখন মালিক বললেন: তোমাদের এই সাথী হয়তো উদাসীন অথবা ধ্বংসশীল। নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজের সময় আমাদের নিকট অঙ্গীকার নিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন: «তোমরা কুরআনকে আঁকড়ে ধরো; অচিরেই তোমরা এমন সব কওমের নিকট ফিরে যাবে যারা আমার পক্ষ থেকে হাদিস পৌঁছাবে। সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো কিছু সঠিকভাবে অনুধাবন করবে, সে যেন তা বর্ণনা করে। আর যে ব্যক্তি আমার নামে এমন কিছু বলবে যা আমি বলিনি, সে যেন জাহান্নামে তার ঘর বা আবাসস্থল নির্ধারণ করে নেয়।»
(খণ্ড: ১) আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল ত আজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ১৭২)
16 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ الْأَهْوَازِيُّ، ثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ الضَّيْفِ، ثَنَا أَيُّوبُ بْنُ عَلِيٍّ قَالَ: ثَنَا زِيَادُ بْنُ سَيَّارٍ قَالَ: حَدَّثَتْنِي عَزَّةُ بِنْتُ عِيَاضٍ أَنَّهَا سَمِعَتْ جَدَّهَا أَبَا قِرْصَافَةَ، وَاسْمُهُ جَنْدَرَةُ بْنُ خَيْشَنَةَ يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «حَدِّثُوا عَنِّي مَا تَسْمَعُونَ مِنِّي، وَلَا تَقُولُوا إِلَّا حَقًّا، وَمَنْ قَالَ عَلَيَّ مَا لَمْ أَقُلْ بُنِيَ لَهُ فِي جَهَنَّمَ بَيْتٌ يُوقَعُ فِيهِ»
১৬ - মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আল-আহওয়াজি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), ইসহাক ইবনে আদ-দয়ফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), আইয়ুব ইবনে আলি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا); তিনি বলেন: জিয়াদ ইবনে সাইয়্যার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا); তিনি বলেন: আযযাহ বিনতে ইয়াদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثتني) যে, তিনি তাঁর দাদা আবু কিরসাফাহ—তাঁর নাম হলো জানদারাহ ইবনে খাইশানাহ—কে বলতে শুনেছেন (سمعت): আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা আমার পক্ষ থেকে তা-ই বর্ণনা করো যা আমার থেকে শ্রবণ করছ, এবং সত্য ছাড়া অন্য কিছু বলো না। আর যে ব্যক্তি আমার ওপর এমন কিছু আরোপ করবে যা আমি বলিনি, তার জন্য জাহান্নামে একটি ঘর নির্মাণ করা হবে যাতে তাকে নিক্ষেপ করা হবে।»
(খণ্ড: ১) আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল ত আজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ১৭২)
17 - حَدَّثَنَا الْحَضْرَمِيُّ، ثَنَا عَبَّادُ بْنُ يَعْقُوبَ، ثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ شُعَيْبِ بْنِ سُلَيْمَانَ السُّلَمِيُّ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ زِيَادٍ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ ⦗ص: 173⦘ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ حَفِظَ عَلَى أُمَّتِي أَرْبَعِينَ حَدِيثًا مِنْ أَمْرِ دِينِهَا، بَعَثَهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَقِيهًا عَالِمًا»
১৭ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) হাজরামি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا) আব্বাদ বিন ইয়াকুব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا) হাতিম বিন ইসমাইল, শুআইব বিন সুলাইমান আস-সুলামি থেকে বর্ণিত (عن), ইসমাইল বিন যিয়াদ থেকে বর্ণিত (عন), মুআয বিন জাবাল থেকে বর্ণিত (عن) ⦗পৃষ্ঠা: ১৭৩⦘ তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি আমার উম্মতের জন্য দ্বীনি বিষয় সম্পর্কিত চল্লিশটি হাদিস সংরক্ষণ করবে, আল্লাহ তাকে কিয়ামতের দিন ফকিহ ও আলেম হিসেবে পুনরুত্থিত করবেন।»
(খণ্ড: ১) আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল ত আজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ১৭৩)
18 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ الْغَزَّاءُ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدٍ، ثَنَا عَبْدُ الْمَجِيدِ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ أَبِي رَوَّادٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ حَفِظَ عَلَى أُمَّتِي أَرْبَعِينَ حَدِيثًا مِنْ أَمْرِ دِينِهَا، بَعَثَهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِي زُمْرَةِ الْفُقَهَاءِ وَالْعُلَمَاءِ»
১৮ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ আল-গাজ্জা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا) মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا) আবদুল মাজিদ ইবনে আবদুল আজিজ ইবনে আবি রাওয়াদ, তিনি তাঁর পিতা হতে (عن), তিনি আতা হতে (عن), তিনি ইবনে আব্বাস হতে (عن), তিনি মুয়াজ ইবনে জাবাল হতে (عن) বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: «যে ব্যক্তি আমার উম্মতের জন্য তাদের দ্বীন সংক্রান্ত চল্লিশটি হাদিস সংরক্ষণ (حفظ) করবে, আল্লাহ তাকে কিয়ামতের দিন ফকিহ (الفقهاء) ও আলেমদের (العلماء) অন্তর্ভুক্ত করে পুনরুত্থিত (بعثه) করবেন।»
(খণ্ড: ১) আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল ত আজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ১৭৩)
19 - حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ زَكَرِيَّاءَ، ثَنَا عَمْرُو بْنُ الْحُصَيْنِ الْعُقَيْلِيُّ، ثَنَا ابْنُ عُلَاثَةَ، ثَنَا خُصَيْفٌ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ حَفِظَ عَلَى أُمَّتِي أَرْبَعِينَ حَدِيثًا، فِيمَا يَنْفَعُهُمْ فِي أَمْرِ دِينِهِمْ، بُعِثَ يَوْمَ ⦗ص: 174⦘ الْقِيَامَةِ مِنَ الْعُلَمَاءِ، وَفَضْلُ الْعَالِمِ عَلَى الْعَابِدِ بِأَرْبَعِينَ دَرَجَةً، اللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا بَيْنَ كُلِّ دَرَجَتَيْنِ»
১৯ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) মূসা ইবনে যাকারিয়া, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا) আমর ইবনুল হুসাইন আল-উকায়লি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا) ইবনে উলাসাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثনা) খুসাইফ, মুজাহিদ থেকে (عن), তিনি আবু হুরায়রা থেকে (عن) বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি আমার উম্মতের জন্য তাদের দ্বীনি বিষয়ে উপকারী চল্লিশটি হাদিস সংরক্ষণ করবে, কিয়ামতের দিন তাকে ⦗পৃষ্ঠা: ১৭৪⦘ আলেমদের অন্তর্ভুক্ত করে পুনরুত্থিত করা হবে। আর ইবাদতকারীর তুলনায় আলেমের শ্রেষ্ঠত্ব হলো চল্লিশ স্তর (درجة) পরিমাণ; আল্লাহ তাআলাই প্রতিটি স্তরের মধ্যবর্তী ব্যবধান সম্পর্কে অধিক অবগত।»
(খণ্ড: ১) আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল ত আজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ১৭৫)
‌‌بَابُ فَضْلِ الطَّالِبِ لِسُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالرَّاغِبِ فِيهَا وَالْمُسْتَنِّ بِهَا
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অন্বেষণকারী, সুন্নাহর প্রতি অনুরাগী এবং তদনুযায়ী আমলকারীর ফজিলত সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ
(খণ্ড: ১) আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল ত আজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ১৭৫)
20 - حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ زَكَرِيَّاءَ، ثَنَا بِشْرُ بْنُ مُعَاذٍ الْعَقَدِيُّ، ثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ، شَيْخٌ يَنْزِلُ وَرَاءَ مَنْزِلِ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ، ثَنَا الْجُرَيْرِيُّ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّهُ كَانَ إِذَا رَأَى الشَّبَابَ قَالَ: «مَرْحَبًا بِوَصِيَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، أَمَرَنَا أَنْ نُحَفِّظَكُمُ الْحَدِيثَ، وَنُوَسِّعَ لَكُمْ فِي الْمَجَالِسِ»
20 - মুসা ইবনে যাকারিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, বিশর ইবনে মুআয আল-আকাদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন—যিনি একজন শাইখ (شيخ) এবং হাম্মাদ ইবনে যায়দ-এর বাসভবনের পেছনে বসবাস করতেন—আল-জুরায়রি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু নাদরাহ থেকে বর্ণিত (عن), আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে বর্ণিত যে, তিনি যখনই যুবকদের দেখতেন তখন বলতেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অসিয়ত বা উপদেশের প্রতি স্বাগতম; তিনি আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমরা তোমাদের হাদিস মুখস্থ করাই এবং মজলিসগুলোতে (المجالس) তোমাদের জন্য স্থান প্রশস্ত করে দিই।"
(খণ্ড: ১) আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল ত আজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ১৭৫)
21 - وَحَدَّثَنَا الْحَضْرَمِيُّ، ثَنَا ابْنُ إِشْكَابٍ، ثَنَا سَعِيدُ بْنُ سُلَيْمَانَ ⦗ص: 176⦘، ثَنَا عَبَّادُ بْنُ الْعَوَّامِ، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ: «مَرْحَبًا بِوَصِيَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُوصِينَا بِكُمْ»
২১ - আল-হাদরামি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), ইবন ইশকাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), সাঈদ ইবন সুলায়মান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) ⦗পৃষ্ঠা: ১৭৬⦘, আব্বাদ ইবনুল আওয়াম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি আল-জুরাইরি থেকে (عن), তিনি আবু নাদরা থেকে (عن), তিনি আবু সাঈদ থেকে (عن) বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অসিয়তের (উপদেশের) প্রতি স্বাগতম; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদের ব্যাপারে আমাদের অসিয়ত করতেন (উপদেশ দিতেন)।’
(খণ্ড: ১) আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল ত আজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ১৭৬)
22 - حَدَّثَنَا أَبِي، ثَنَا يَحْيَى بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ، ثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَاصِمٍ، ثَنَا أَبُو هَارُونَ الْعَبْدِيُّ قَالَ: كُنَّا إِذَا أَتَيْنَا أَبَا سَعِيدٍ، قَالَ: مَرْحَبًا بِوَصِيَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قُلْنَا: وَمَا وَصِيَّةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم؟ قَالَ: قَالَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «سَيَأْتِي مِنْ بَعْدِي قَوْمٌ يَسْأَلُونَكُمُ الْحَدِيثَ عَنِّي، فَإِذَا جَاءُوكُمْ فَأَلْطِفُوهُمْ وَحَدِّثُوهُمْ»
২২ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আমার পিতা, ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا), আলী ইবনে আসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا), আবু হারুন আল-আবদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا); তিনি বলেন: আমরা যখন আবু সাঈদের নিকট আসতাম, তখন তিনি বলতেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অসিয়তকৃতদের প্রতি স্বাগতম। আমরা বললাম: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অসিয়ত কী? তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের বলেছেন: «আমার পরে অচিরেই এমন একদল লোক আসবে যারা তোমাদের নিকট আমার হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে। সুতরাং যখন তারা তোমাদের নিকট আসবে, তখন তোমরা তাদের প্রতি কোমল আচরণ করো এবং তাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করো।»
(খণ্ড: ১) আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল ত আজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ১৭৬)
23 - حَدَّثَنَا الْحَضْرَمِيُّ، ثَنَا يَحْيَى الْحِمَّانِيُّ، ثَنَا ابْنُ الْغَسِيلِ، عَنْ أَبِي خَالِدٍ مَوْلَى ابْنِ الصَّبَّاحِ الْأَسَدِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ: «مَرْحَبًا بِوَصِيَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا جَاءُوهُ فِي الْعِلْمِ»
২৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আল-হাদরামি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) ইয়াহইয়া আল-হিমমানি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) ইবনুল গাসিল, তিনি আবু খালিদ—যিনি ইবনুল সাব্বাহ আল-আসাদির মুক্ত দাস ছিলেন—হতে বর্ণিত (عن), তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.) হতে বর্ণিত (عن) যে, তিনি বলতেন: "আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অসিয়তের (وصية) প্রতি স্বাগতম, যখন তারা ইলম অর্জনের উদ্দেশ্যে তাঁর কাছে আসত।"
(খণ্ড: ১) আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল ত আজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ১৭৬)
24 - حَدَّثَنَا أَبِي، ثَنَا نَهْشَلُ الدَّارِمِيُّ، ثَنَا زُنْبُورٌ الْكُوفِيُّ، ثَنَا رَوَّادُ بْنُ الْجَرَّاحِ، عَنِ الْمِنْهَالِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ رَجُلٍ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ⦗ص: 177⦘ لِأَصْحَابِهِ: «إِنَّهُ سَيَضْرِبُ إِلَيْكُمْ فِي طَلَبِ الْعِلْمِ، فَرَحِّبُوا وَيَسِّرُوا وَقَارِبُوا»
২৪ - আমাদের নিকট আমার পিতা বর্ণনা করেছেন (حدثنا), আমাদের নিকট নাহশাল আদ-দারিমি বর্ণনা করেছেন (ثنا), আমাদের নিকট যুনবুর আল-কুফি বর্ণনা করেছেন (ثنا), আমাদের নিকট রাওয়াদ ইবনুল জাররাহ বর্ণনা করেছেন (ثنا), আল-মিনহাল ইবনে আমরের সূত্রে (عن), একজন ব্যক্তি (رجل) থেকে (عن), জাবির (রা.) থেকে (عن) বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ⦗পৃষ্ঠা: ১৭৭⦘ তাঁর সাহাবীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন: «নিশ্চয়ই জ্ঞান অর্জনের সন্ধানে তারা তোমাদের নিকট আসবে; অতএব তোমরা তাদের স্বাগত জানাবে, সহজ করবে এবং নিকটবর্তী করবে।»
(খণ্ড: ১) আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল ত আজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ১৭৭)
25 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ غَنَّامٍ الْكُوفِيُّ، ثَنَا عَلِيُّ بْنُ حَكِيمٍ الْأَوْدِيُّ قَالَ: سَمِعْتُ وَكِيعًا يَقُولُ: سَمِعْتُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيَّ يَقُولُ: «مَا شَيْءٌ أَخْوَفُ عِنْدِي مِنَ الْحَدِيثِ، وَلَا شَيْءَ أَفْضَلُ مِنْهُ لِمَنْ أَرَادَ بِهِ مَا عِنْدَ اللَّهِ»
২৫ - আবদুল্লাহ ইবনে গান্নাম আল-কুফি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনে হাকিম আল-আওদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আমি ওয়াকিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি সুফিয়ান আস-সাওরিকে বলতে শুনেছি: «আমার নিকট হাদিসের চেয়ে অধিক ভীতিপ্রদ আর কিছু নেই, আর যে ব্যক্তি এর মাধ্যমে আল্লাহর নিকট যা রয়েছে তা অন্বেষণ করে, তার জন্য এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ আর কিছু নেই।»
(খণ্ড: ১) আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল ত আজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ১৭৭)
26 - حَدَّثَنَا عَبْدَانُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي صَالِحٍ صَاحِبُ التَّفْسِيرِ، ثَنَا أَبُو حَاتِمٍ الرَّازِيُّ، ثَنَا عُبَيْدُ بْنُ هِشَامٍ، ثَنَا عَطَاءُ بْنُ مُسْلِمٍ قَالَ: كَانَ الْأَعْمَشُ يَقُولُ: «لَا أَعْلَمُ لِلَّهِ قَوْمًا أَفْضَلَ مِنْ قَوْمٍ يَطْلُبُونَ هَذَا الْحَدِيثَ، وَيُحِبُّونَ هَذِهِ السُّنَّةَ، وَكَمْ أَنْتُمْ فِي النَّاسِ وَاللَّهِ لَأَنْتُمْ أَقَلُّ مِنَ الذَّهَبِ»
26 - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবদান ইবনে আহমাদ ইবনে আবি সালেহ—যিনি তাফসির শাস্ত্রের পণ্ডিত ছিলেন—তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا) আবু হাতিম আর-রাজি, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا) উবাইদ ইবনে হিশাম, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا) আতা ইবনে মুসলিম; তিনি বলেন: আ’মাশ বলতেন, “আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে এমন কোনো সম্প্রদায় সম্পর্কে অবগত নই যারা এই হাদিস অন্বেষণকারী এবং এই সুন্নাহ (سنة)-কে ভালোবাসে এমন লোকদের চেয়ে অধিক শ্রেষ্ঠ। আর সাধারণ মানুষের ভিড়ে তোমাদের সংখ্যা কতই না নগণ্য! আল্লাহর কসম, তোমরা তো স্বর্ণের চেয়েও অধিক দুর্লভ।”
(খণ্ড: ১) আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল ত আজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ১৭৭)
27 - حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عُثْمَانَ التُّسْتَرِيُّ، ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي سُرَيْجٍ الرَّازِيُّ، ثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، ثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ مُطَرِّفٍ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا تَزَالُ ⦗ص: 178⦘ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي ظَاهِرِينَ عَلَى الْحَقِّ حَتَّى تَقُومَ السَّاعَةُ» قَالَ يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ: إِنْ لَمْ يَكُونُوا أَصْحَابَ الْحَدِيثِ، فَلَا أَدْرِي مَنْ هُمْ؟
২৭ - আমাদের নিকট আল-হাসান ইবনে উসমান আত-তুস্তারি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আহমাদ ইবনে আবি সুরাইজ আর-রাজি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াজিদ ইবনে হারুন বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাম্মাদ ইবনে সালামাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি মুতাররিফ থেকে, তিনি ইমরান ইবনে হুসাইন থেকে বর্ণনা করেন; তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা ⦗পৃষ্ঠা: ১৭৮⦘ সত্যের ওপর বিজয়ী থাকবে, যতক্ষণ না কিয়ামত সংঘটিত হয়।» ইয়াজিদ ইবনে হারুন বলেন: "তারা যদি হাদিসের অনুসারী (أصحاب الحديث) না হন, তবে তারা কারা তা আমি জানি না।"
(খণ্ড: ১) আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল ত আজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ১৭৮)
28 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ قَيْسٍ الصَّفَّارُ، ثَنَا ابْنُ أَبِي الْحُنَيْنِ، ثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصِ بْنِ غِيَاثٍ، قَالَ: قُلْتُ لِأَبِي: يَا أَبَةِ أَمَا تَرَى أَصْحَابَ الْحَدِيثِ كَيْفَ تَغَيَّرُوا؟ فَقَالَ: «يَا بُنَيَّ هُمْ عَلَى مَا هُمْ فِيهِ خِيَارُ الْقَبَائِلِ»
২৮ - ইব্রাহিম ইবনে কায়স আস-সাফফার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), ইবনে আবি আল-হুনাইন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا), উমর ইবনে হাফস ইবনে গিয়াস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا); তিনি বললেন: আমি আমার পিতাকে বললাম, "হে আব্বাজান! আপনি কি দেখছেন না হাদিস অন্বেষণকারীরা কীভাবে পরিবর্তিত হয়ে গেছেন?" তিনি বললেন, "হে বৎস! তারা যে বিষয়ের (ইলমে হাদিস) ওপর নিবিষ্ট রয়েছে, তার ভিত্তিতে তারা সকল গোত্রের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।"