(খণ্ড: ১) আল-মুহতাযারীন লিবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: -)
المحتضرين لابن أبي الدنيا   (ابن أبي الدنيا)

القسم: كتب السنة


الكتاب: المحتضرين

المؤلف: أبو بكر عبد الله بن محمد بن عبيد بن سفيان بن قيس البغدادي الأموي القرشي المعروف بابن أبي الدنيا (ت 281هـ)

المحقق: محمد خير رمضان يوسف

الناشر: دار ابن حزم - بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1417هـ - 1997م

عدد الصفحات: 241

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইবন আবিদ দুনিয়ার আল-মুহতারিন (মৃত্যুশয্যায় শায়িত ব্যক্তিগণ)   (ইবন আবিদ দুনিয়া)

বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ


গ্রন্থ: আল-মুহতারিন

লেখক: আবু বকর আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন উবাইদ বিন সুফিয়ান বিন কায়েস আল-বাগদাদি আল-উমাবি আল-কুরাশি, যিনি ইবন আবিদ দুনিয়া নামে পরিচিত (মৃ. ২৮১ হিজরি)

সম্পাদক: মুহাম্মদ খাইর রমাদান ইউসুফ

প্রকাশক: দার ইবন হাযম - বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৭ হিজরি - ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৪১

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-মুহতাযারীন লিবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ١٥)
1 -‌‌ أَحَادِيثُ وَآثَارٌ فِي الِاحْتِضَارِ
১ -‌‌ মুমূর্ষু অবস্থা বিষয়ক হাদিস ও আসারসমূহ
(খণ্ড: ১) আল-মুহতাযারীন লিবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ١٧)
حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْهَرَوِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدِ بْنِ سُفْيَانَ الْقُرَشِيُّ الْمَعْرُوفُ بِابْنِ أَبِي الدُّنْيَا قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَاتِمٍ الطَّوِيلُ، وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْجُشَمِيُّ، وَغَيْرُهُمَا قَالُوا: حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ غَزِيَّةَ قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ عُمَارَةَ قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَقِّنُوا مَوْتَاكُمْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ»

আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহিম আল-হারাউয়ি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদ ইবনে সুফিয়ান আল-কুরাশি—যিনি ইবনে আবিদ দুনিয়া নামে পরিচিত—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমদ ইবনে হাতিম আত-তবিল এবং উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর আল-জুশামি ও অন্যান্যরা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: বিশর ইবনুল মুফাদ্দাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উমারা ইবনে গাজিয়্যাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে উমারা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু সাঈদ আল-খুদরিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমরা তোমাদের মুমূর্ষু ব্যক্তিদের 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর তালকিন প্রদান করো (অর্থাৎ এটি পাঠ করতে উৎসাহিত করো)»।

(খণ্ড: ১) আল-মুহতাযারীন লিবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ١٨)
2 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ قَالَ: حَدَّثَنَا مَنْصُورُ بْنُ سُقَيْرٍ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو مَعْشَرٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَاصِمِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عُرْوَةَ بْنِ مَسْعُودٍ الثَّقَفِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ الْيَمَانِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَقِّنُوا مَوْتَاكُمْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، فَإِنَّهَا تَهْدِمُ كُلَّ مَا كَانَ قَبْلَهَا مِنَ الْخَطَايَا»
২ - আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন আমাকে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মানসুর ইবনে সুকাইর আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু মা'শার আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আসিম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে উরওয়াহ ইবনে মাসউদ আস-সাকাফি থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা তোমাদের মৃতপ্রায় ব্যক্তিদের ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর তালকিন দাও; কারণ এটি তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহকে মিটিয়ে দেয়।»
(খণ্ড: ১) আল-মুহতাযারীন লিবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ١٩)
.

 

3 - أَبُو نَصْرٍ التَّمَّارُ قَالَ: حَدَّثَنَا. . .، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ عِنْدَ الْمَوْتِ، هَدَمَتْ مَا قَبْلَهَا» قَالُوا: وَكَيْفَ هِيَ فِي الْحَيَاةِ؟ قَالَ: «أَهْدَمُ وَأَهْدَمُ»

 

৩ - আবু নাসর আত-তাম্মার বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন..., আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি মৃত্যুর সময় 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলবে, তা তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহকে ধূলিসাৎ করে দেয়» তারা জিজ্ঞেস করলেন: আর জীবদ্দশায় এর প্রভাব কেমন? তিনি বললেন: «তা আরও অধিক এবং আরও অধিক ধূলিসাৎকারী»
(খণ্ড: ১) আল-মুহতাযারীন লিবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ١٩)
4 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ قَالَا: حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ، عَنِ ⦗ص: 20⦘ الْوَلِيدِ بْنِ أَبِي بِشْرٍ قَالَ: سَمِعْتُ حُمْرَانَ يَقُولُ: سَمِعْتُ عُثْمَانَ يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «مَنْ مَاتَ وَهُوَ يَعْلَمُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ دَخَلَ الْجَنَّةَ» وَقَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ: «هُوَ يَشْهَدُ»
৪ - আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর এবং ইসহাক ইবনে ইবরাহিম বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট বিশর ইবনুল মুফাযযাল বর্ণনা করেছেন, খালিদ আল-হায্যা থেকে, তিনি ⦗পৃষ্ঠা: ২০⦘ আল-ওয়ালিদ ইবনে আবি বিশর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি হুমরানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি উসমানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি ইরশাদ করেন: «যে ব্যক্তি এমতাবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে যে সে জানে আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে»। এবং উবাইদুল্লাহ বলেন: «সে সাক্ষ্য দেয় (শব্দে বর্ণিত)»।
(খণ্ড: ১) আল-মুহতাযারীন লিবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٢٠)
5 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْمَاجِشُونُ قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ قَالَ: قَالَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ: «إِذَا احْتُضِرَ الْمَيِّتُ فَلَقِّنُوهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، فَإِنَّهُ مَا مِنْ عَبْدٍ يُخْتَمُ لَهُ بِهَا عِنْدَ مَوْتِهِ إِلَّا كَانَتْ زَادَهُ إِلَى الْجَنَّةِ»
৫ - আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল মালিক ইবনে আব্দুল আজিজ আল-মাজিশুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যায়েদ ইবনে আসলাম থেকে, তিনি বলেন: উসমান ইবনে আফফান বলেছেন: «যখন কোনো ব্যক্তি মুমূর্ষু অবস্থায় উপনীত হয়, তখন তোমরা তাকে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পাঠের তালকিন প্রদান করো। কেননা, যে বান্দার জীবনের পরিসমাপ্তি তার মৃত্যুকালে এই কালিমার মাধ্যমে ঘটে, এটি অবশ্যই তার জান্নাতের পাথেয় হয়।’»
(খণ্ড: ১) আল-মুহতাযারীন লিবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٢٠)
6 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنِي مُحَمَّدٌ قَالَ: حَدَّثَنِي دَاوُدُ بْنُ الْمُحَبَّرِ قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ دِينَارٍ قَالَ: سَمِعْتُ ⦗ص: 21⦘. . . .: احْتُضِرَ رَجُلٌ مِنْ. . . . عِنْدَ رَأْسِي. . . . . . .، فَلَقِّنِّي: «لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ» فَنِعْمَ الزَّادُ هِيَ إِلَى الْآخِرَةِ
৬ - আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: দাউদ ইবনুল মুহাব্বার আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাসান ইবনে দিনার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি শুনেছি ⦗পৃষ্ঠা: ২১⦘ . . . .: . . . . থেকে একজন লোকের মৃত্যু উপস্থিত হলো . . . আমার মাথার নিকট . . . . . . . , সুতরাং আমাকে তালকিন করো: 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই'; কেননা পরকালের পাথেয় হিসেবে এটি কতই না চমৎকার।
(খণ্ড: ১) আল-মুহতাযারীন লিবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٢١)
7 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنِي الْحَسَنُ بْنُ حَمَّادٍ الضَّبِّيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الْأَحْمَرُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ كَيْسَانَ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَقِّنُوا مَوْتَاكُمْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ»
৭ - আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট হাসান ইবনে হাম্মাদ আদ-দাব্বি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু খালিদ আল-আহমার বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ ইবনে কায়সান থেকে, তিনি আবু হাজিম থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমাদের মৃত্যুশয্যায় থাকা ব্যক্তিদের লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর তালকিন দাও»
(খণ্ড: ১) আল-মুহতাযারীন লিবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٢٢)
8 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ قَالَ: أَخْبَرَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ ثَابِتِ بْنِ ثَوْبَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مَكْحُولٍ قَالَ: قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ: «احْضُرُوا مَوْتَاكُمْ وَذَكِّرُوهُمْ، فَإِنَّهُمْ يَرَوْنَ مَا لَا تَرَوْنَ، وَلَقِّنُوهُمْ شَهَادَةَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ»
৮ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আলী ইবনুল জাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আবদুর রহমান ইবনে সাবিত ইবনে সাওবান আমাকে সংবাদ দিয়েছেন তাঁর পিতা থেকে, তিনি মাকহুল থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: উমর ইবনুল খাত্তাব বলেছেন: "তোমাদের মুমূর্ষু ব্যক্তিদের নিকট উপস্থিত হও এবং তাদের স্মরণ করিয়ে দাও, কারণ তারা এমন কিছু দেখতে পায় যা তোমরা দেখতে পাও না। আর তাদের 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই'—এই সাক্ষ্যদানের তালকিন করো।"
(খণ্ড: ১) আল-মুহতাযারীন লিবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٢٢)
9 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ رَجُلٍ مِنْ آلِ عُمَارَةَ قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبُو هُرَيْرَةَ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: " حَضَرَ مَلَكُ الْمَوْتِ رَجُلًا يَمُوتُ، فَنَظَرَ فِي قَلْبِهِ فَلَمْ يَجِدْ فِيهِ شَيْئًا، فَفَكَّ لَحْيَيْهِ، فَوَجَدَ طَرَفَ لِسَانِهِ لَاصِقًا بِحَنَكِهِ يَقُولُ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، فَغُفِرَ لَهُ بِكَلِمَةِ الْإِخْلَاصِ "
৯ - আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনুল সাব্বাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট আব্দুর রহমান ইবনে আবিয যিনাদ বর্ণনা করেছেন, মুসা ইবনে উকবা থেকে, উমারা পরিবারের এক ব্যক্তি থেকে, তিনি বলেছেন: আমাকে আবু হুরায়রা সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "এক মুমূর্ষু ব্যক্তির নিকট মৃত্যুর ফেরেশতা উপস্থিত হলেন। তিনি তার হৃদয়ে লক্ষ্য করলেন, কিন্তু তাতে কিছুই পেলেন না। অতঃপর তিনি তার চোয়ালদ্বয় উন্মুক্ত করলেন এবং দেখতে পেলেন তার জিহ্বার অগ্রভাগ তালুর সাথে লেগে আছে, সে বলছে: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। অতঃপর নিষ্ঠাপূর্ণ এই বাণীর কারণে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হলো।"
(খণ্ড: ১) আল-মুহতাযারীন লিবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٢٣)
10 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ قَالَ: حَدَّثَنَا حَبَّانُ بْنُ هِلَالٍ قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: «لَقِّنُوا مَوْتَاكُمْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ»
১০ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাব্বান ইবনু হিলাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাম্মাদ ইবনু যায়দ আসিম থেকে, তিনি আবু ওয়াইল থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «তোমরা তোমাদের মুমূর্ষু ব্যক্তিদের ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই)-এর তালকিন প্রদান করো।»
(খণ্ড: ১) আল-মুহতাযারীন লিবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٢٣)
11 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنِي مُحَمَّدٌ قَالَ: حَدَّثَنَا فَهْدُ بْنُ حَيَّانَ قَالَ: حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ قَالَ: سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ سِيرِينَ يَقُولُ: شَهِدْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، وَحَضَرَهُ الْمَوْتُ، فَجَعَلَ يَقُولُ: «لَقِّنُونِي لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، فَلَمْ يَزَلْ يَقُولُهَا حَتَّى قُبِضَ. رحمه الله»
১১ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ফাহদ ইবনে হাইয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাফস ইবনে আব্দুল মালিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আনাস ইবনে সীরীনকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আনাস ইবনে মালিকের নিকট উপস্থিত ছিলাম যখন তাঁর মৃত্যু উপস্থিত হয়েছিল। তখন তিনি বলতে লাগলেন: «তোমরা আমাকে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' পাঠ করাও। অতঃপর তাঁর প্রাণ সংহার হওয়া পর্যন্ত তিনি তা অবিরাম বলতে থাকলেন। আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন।»
(খণ্ড: ১) আল-মুহতাযারীন লিবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٢٣)
12 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنِي مُحَمَّدٌ قَالَ: حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ الْمُحَبَّرِ قَالَ: حَدَّثَنَا صَالِحٌ الْمُرِّيُّ قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا عِمْرَانَ الْجَوْنِيَّ يَقُولُ ⦗ص: 24⦘: " أَوْصَانِي أَبُو الْجَلْدِ أَنْ أُلَقِّنَهُ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، فَكُنْتُ عِنْدَ رَأْسِهِ وَقَدْ أَخَذَهُ كَرْبُ الْمَوْتِ، فَجَعَلْتُ أَقُولُ: يَا أَبَا الْجَلْدِ، قُلْ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، فَقَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، بِهَا أَرْجُو نَجَاةَ نَفْسِي، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، ثُمَّ قُبِضَ "
১২ - আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট দাউদ ইবনুল মুহাব্বার বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সালিহ আল-মুররি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু ইমরান আল-জাওনিকে বলতে শুনেছি ⦗পৃষ্ঠা: ২৪⦘: "আবু আল-জালদ আমাকে অসিয়ত করেছিলেন যেন আমি তাকে তালকিন করি: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। অতঃপর আমি তার শিয়রে উপস্থিত ছিলাম যখন তাকে মৃত্যুর তীব্র যন্ত্রণা গ্রাস করেছিল। তখন আমি বলতে লাগলাম: হে আবু আল-জালদ, বলুন: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। তখন তিনি বললেন: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, এর মাধ্যমেই আমি আমার আত্মার মুক্তির আশা করি, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। এরপর তার রূহ কবজ করা হলো।"
(খণ্ড: ১) আল-মুহতাযারীন লিবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٢٤)
13 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ قُدَامَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ أَبِي صَخْرٍ الْعُقَيْلِيِّ قَالَ: حَدَّثَنِي رَجُلٌ مِنَ الْأَعْرَابِ قَالَ: جَلَبْتُ جَلُوبَةً إِلَى الْمَدِينَةِ فِي حَيَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَلَمَّا فَرَغْتُ مِنْ ضَيْعَتِي قُلْتُ: لَأَلْقَيَنَّ هَذَا الرَّجُلَ فَلَأَسَمَعَنَّ مِنْهُ ⦗ص: 25⦘، فَتَلَقَّانِي بَيْنَ أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ يَمْشُونَ، فَتَبِعْتُهُمْ، حَتَّى أَتَوْا عَلَى رَجُلٍ مِنَ الْيَهُودِ، وَقَدْ نَشَرَ التَّوْرَاةَ يُعَزِّي بِهَا نَفْسَهُ عَنِ ابْنٍ لَهُ فِي الْمَوْتِ، كَأَحْسَنِ الْفِتْيَانِ وَأَجْمَلِهِمْ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَسْأَلُكَ بِالَّذِي أَنْزَلَ التَّوْرَاةَ عَلَى مُوسَى عليه السلام، هَلْ تَجِدُ فِي كِتَابِ اللَّهِ صِفَتِي وَمَخْرَجِي؟» فَقَالَ بِرَأْسِهِ، أَيْ: لَا. فَقَالَ ابْنُهُ: إِي وَالَّذِي أَنْزَلَ التَّوْرَاةَ عَلَى مُوسَى، إِنَّهُ لَيَجِدُكَ فِي التَّوْرَاةِ، صِفَتَكَ وَمَخْرَجَكَ، فَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنَّكَ رَسُولُ اللَّهِ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَقِيمُوا الْيَهُودِيَّ عَنْ أَخِيكُمْ» . ثُمَّ وَلِيَ عليه السلام كَفَنَهُ وَالصَّلَاةَ عَلَيْهِ
১৩ - আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে কুদামা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইবনে উলাইয়্যাহ বর্ণনা করেছেন, আল-জুরায়রী থেকে, তিনি আবু সাখর আল-উকায়লী থেকে, তিনি বলেন: জনৈক গ্রাম্য ব্যক্তি আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় মদিনায় কিছু পণ্য নিয়ে এসেছিলাম। যখন আমি আমার কাজ থেকে অবসর হলাম, তখন আমি মনে মনে বললাম: আমি অবশ্যই এই ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ করব এবং তাঁর থেকে কিছু শুনব। ⦗পৃষ্ঠা: ২৫⦘ অতঃপর তিনি আবু বকর ও উমরের মাঝখানে হাঁটছিলেন এমন অবস্থায় আমার সাথে তাঁর দেখা হলো। আমি তাঁদের অনুসরণ করলাম, যতক্ষণ না তাঁরা জনৈক ইহুদি ব্যক্তির নিকট পৌঁছালেন। সে তখন তাওরাত খুলে বসে ছিল এবং মৃত্যুশয্যায় শায়িত তার এক পুত্রের শোকে নিজেকে সান্ত্বনা দিচ্ছিল, যে ছিল যুবকদের মধ্যে অত্যন্ত সুদর্শন ও সুন্দরতম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «আমি তোমাকে সেই সত্তার কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, যিনি মুসা আলাইহিস সালামের ওপর তাওরাত নাজিল করেছেন, তুমি কি আল্লাহর কিতাবে আমার গুণাবলি এবং আমার আগমনের বিবরণ পাও?» সে মাথা নেড়ে ইশারা করল, অর্থাৎ: না। তখন তার পুত্র বলল: হ্যাঁ, সেই সত্তার কসম যিনি মুসা আলাইহিস সালামের ওপর তাওরাত নাজিল করেছেন, তিনি অবশ্যই তাওরাতে আপনার গুণাবলি ও আপনার আগমনের বিবরণ পাচ্ছেন। অতঃপর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আপনি আল্লাহর রাসূল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «এই ইহুদি ব্যক্তিকে তোমাদের ভাইয়ের নিকট থেকে সরিয়ে দাও»। এরপর তিনি আলাইহিস সালাম নিজে তার কাফন ও জানাজার দায়িত্ব পালন করলেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুহতাযারীন লিবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٢٥)
14 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ خِدَاشٍ قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ ثَابِتٍ ⦗ص: 26⦘: أَنَّ غُلَامًا مِنَ الْيَهُودِ كَانَ يَخْدُمُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، فَأَتَاهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَعُودُهُ وَأَبُوهُ عِنْدَ رَأْسِهِ، فَدَعَاهُ إِلَى الْإِسْلَامِ، فَنَظَرَ الْغُلَامُ إِلَى أَبِيهِ، فَقَالَ لَهُ: أَطِعْ أَبَا الْقَاسِمِ. فَأَسْلَمَ. ثُمَّ مَاتَ. فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَقُولُ: «الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَنْقَذَهُ مِنَ النَّارِ»
১৪ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: খালিদ ইবনে খিদাশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাম্মাদ ইবনে যাইদ আমাদের নিকট সাবিত থেকে বর্ণনা করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ২৬⦘: জনৈক ইহুদি কিশোর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খিদমত করত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখতে (অসুস্থ অবস্থায়) তার কাছে আসলেন, তখন তার পিতা তার মাথার শিয়রে বসা ছিল। তিনি তাকে ইসলামের দাওয়াত দিলেন। কিশোরটি তখন তার পিতার দিকে তাকালো। তখন তার পিতা তাকে বলল: তুমি আবুল কাসিমের আনুগত্য করো। ফলে সে ইসলাম গ্রহণ করল। এরপর সে মৃত্যুবরণ করল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হলেন এবং তিনি বলছিলেন: «সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করেছেন।»
(খণ্ড: ১) আল-মুহতাযারীন লিবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٢٦)
15 - حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْهَرَوِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ الْبَكَّارِيُّ أَبُو جَعْفَرٍ الشِّيرَازِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ أَسْلَمَ قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي الْوَرْقَاءِ، عَنْ ⦗ص: 27⦘ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي أَوْفَى: أَنَّ فَتًى مَرِضَ، قَالَ: فَكَانَ يَقُولُ لَهُ: قُلْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ. فَلَا يَسْتَطِيعُ أَنْ يَقُولَ. قَالَ: فَقِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ هَا هُنَا فَتًى لَا يَسْتَطِيعُ أَنْ يَقُولَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ. فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «انْطَلِقُوا بِنَا إِلَيْهِ» . فَأَتَاهُ، فَقَالَ: «قُلْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ» . قَالَ: لَا أَسْتَطِيعُ أَنْ أَقُولَهَا، إِنَّ عَلَى قَلْبِي قُفْلًا. قَالَ: «وَمِمَّ ذَاكَ؟» قَالَ: لِعُقُوقِي وَالِدَتِي. قَالَ: فَبَعَثَ إِلَيْهَا، فَجَاءَتْ، فَقَالَ لَهَا: «أَرَأَيْتِ لَوْ أُجِّجَتْ نَارٌ عَظِيمَةٌ، فَأَرَادُوا أَنْ يَقْذِفُوهُ فِيهَا، أَكُنْتِ مُقْذِفِيهِ أَوْ مُخَلِّصِيهِ مِنْ تِلْكَ النَّارِ؟» قَالَتْ: نَعَمْ. قَالَ: «فَأَشْهِدِي اللَّهَ، وَأَشْهِدِينِي أَنَّكِ رَضِيتِ عَنْهُ» . قَالَتْ: فَإِنِّي أُشْهِدُ اللَّهَ وَأُشْهِدُكُمْ أَنِّي قَدْ رَضِيتُ عَنْهُ ⦗ص: 28⦘. فَقَالَ: «قُلْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ» . فَقَالَهَا
১৫ - আবু আবদুল্লাহ আল-হারাবী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আল-বাক্কারি আবু জাফর আশ-শিরাজি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-হাকাম ইবনে আসলাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাম্মাদ ইবনে সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল ওয়ারকা থেকে, তিনি ⦗পৃষ্ঠা: ২৭⦘ আব্দুল্লাহ ইবনে আবি আউফা থেকে বর্ণনা করেন: জনৈক যুবক অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। তিনি বলেন: তাকে বলা হতো—তুমি বলো, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। কিন্তু সে তা বলতে সক্ষম হচ্ছিল না। তিনি বলেন: অতঃপর বলা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! এখানে এক যুবক আছে যে "আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই" বলতে পারছে না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «আমাদেরকে তার নিকট নিয়ে চলো»। অতঃপর তিনি তার কাছে আসলেন এবং বললেন: «বলো, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই»। সে বলল: আমি তা বলতে পারছি না, নিশ্চয়ই আমার হৃদয়ে তালা লেগে আছে। তিনি বললেন: «তা কী কারণে?» সে বলল: আমার মায়ের অবাধ্য হওয়ার কারণে। তিনি বলেন: অতঃপর তিনি তার মায়ের নিকট লোক পাঠালেন এবং তিনি আসলেন। তিনি তাঁকে বললেন: «আপনি কি মনে করেন, যদি এক বিশাল অগ্নি প্রজ্বলিত করা হয় এবং তারা তাকে তাতে নিক্ষেপ করতে চায়, তবে আপনি কি তাকে নিক্ষেপ হতে দেবেন নাকি তাকে সেই অগ্নি থেকে উদ্ধার করবেন?» তিনি বললেন: হাঁ। তিনি বললেন: «তাহলে আল্লাহকে সাক্ষী রাখুন এবং আমাকে সাক্ষী রাখুন যে আপনি তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন»। তিনি বললেন: আমি আল্লাহকে সাক্ষী রাখছি এবং আপনাদেরকে সাক্ষী রাখছি যে আমি তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছি ⦗পৃষ্ঠা: ২৮⦘। অতঃপর তিনি বললেন: «বলো, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই»। তখন সে তা বলল।
(খণ্ড: ১) আল-মুহতাযারীন লিবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٢٩)
‌‌بَابُ حُسْنِ الظَّنِّ بِاللَّهِ عِنْدَ نُزُولِ الْمَوْتِ
মৃত্যুর সময় আল্লাহর প্রতি সুধারণা পোষণ করার অধ্যায়
(খণ্ড: ১) আল-মুহতাযারীন লিবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٣١)
16 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا شَبَابَةُ بْنُ سَوَّارٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ الْغَازِ قَالَ: حَدَّثَنِي حَيَّانُ أَبُو النَّضْرِ قَالَ: قَالَ لِي وَاثِلَةُ بْنُ الْأَسْقَعِ: قُدْنِي إِلَى يَزِيدَ بْنِ الْأَسْوَدِ، فَإِنَّهُ قَدْ بَلَغَنِي أَنَّهُ لِمَا بِهِ. قَالَ: فَقَدْتُهُ، فَدَخَلَ عَلَيْهِ وَهُوَ ثَقِيلٌ وَقَدْ وُجِّهَ، وَقَدْ ذَهَبَ عَقْلُهُ، قَالَ: فَنَادَوْهُ ⦗ص: 32⦘، فَقُلْتُ: إِنَّ هَذَا وَاثِلَةُ أَخُوكَ. قَالَ: فَأَبْقَى اللَّهُ مِنْ عَقْلِهِ مَا سَمِعَ أَنَّ وَاثِلَةَ قَدْ جَاءَ، قَالَ: فَمَدَّ يَدَهُ، فَجَعَلَ يَلْمِسُ بِهَا، فَعَرَفْتُ مَا يُرِيدُ، فَأَخَذْتُ كَفَّ وَاثِلَةَ فَجَعَلْتُهَا فِي كَفِّهِ. وَإِنَّمَا أَرَادَ أَنْ يَضَعَ يَدَهُ فِي يَدِ وَاثِلَةَ ذَاكَ، لِمَوْضِعِ يَدِ وَاثِلَةَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَجَعَلَ يَضَعُ مَرَّةً عَلَى صَدْرِهِ، وَمَرَّةً عَلَى وَجْهِهِ، وَمَرَّةً عَلَى فِيهِ. فَقَالَ وَاثِلَةُ: أَمَا تُخْبِرُنِي عَنْ شَيْءٍ أَسْأَلُكَ عَنْهُ؟ كَيْفَ ظَنُّكَ بِاللَّهِ؟ قَالَ: أَغْرَقَتْنِي ذُنُوبٌ، وَأَشْفَيْتُ عَلَى هَلَكَةٍ، وَلَكِنْ أَرْجُو رَحْمَةَ اللَّهِ. فَكَبَّرَ وَاثِلَةُ، وَكَبَّرَ أَهْلُ الْبَيْتِ تَكْبِيرَةً. وَقَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: " يَقُولُ اللَّهُ: أَنَا عِنْدَ ظَنِّ عَبْدِي، فَلْيَظُنَّ بِي مَا شَاءَ "
১৬ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু খাইসামা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শাবাবাহ বিন সাওয়ার হিশাম বিন আল-গায থেকে আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হায়্যান আবু আন-নাদর আমাকে বলেছেন, তিনি বলেন: ওয়াসিলা বিন আল-আসকা‘ আমাকে বলেছেন: আমাকে ইয়াজিদ বিন আল-আসওয়াদের কাছে নিয়ে চলো, কারণ আমি সংবাদ পেয়েছি যে তার অন্তিম সময় উপস্থিত। তিনি বলেন: আমি তাকে নিয়ে গেলাম এবং তার নিকট প্রবেশ করলাম। সে তখন অত্যন্ত অসুস্থ ছিল এবং তাকে কিবলার দিকে মুখ করে শোয়ানো হয়েছিল, তার হিতাহিত জ্ঞানও লোপ পেয়েছিল। তিনি বলেন: লোকেরা তাকে সম্বোধন করল ⦗পৃষ্ঠা: ৩২⦘, তখন আমি বললাম: এই তো আপনার ভাই ওয়াসিলা এসেছেন। তিনি বলেন: আল্লাহ তার চেতনার ততটুকু অবশিষ্ট রেখেছিলেন যাতে সে ওয়াসিলার আগমনের কথা শুনতে পায়। তিনি বলেন: তখন সে তার হাত প্রসারিত করল এবং তা দিয়ে স্পর্শ করতে চাইল। আমি বুঝতে পারলাম সে কী চাচ্ছে, তাই আমি ওয়াসিলার হাত ধরে তার হাতের ওপর রাখলাম। সে মূলত ওয়াসিলার হাতে নিজের হাত এ কারণেই রাখতে চেয়েছিল যে, ওয়াসিলার হাত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সংস্পর্শ পেয়েছিল। এরপর সে সেই হাতটি একবার তার বুকে, একবার তার মুখে এবং একবার তার ঠোঁটের ওপর রাখতে লাগল। তখন ওয়াসিলা বললেন: আমি আপনাকে যা জিজ্ঞাসা করছি সে সম্পর্কে কি আমাকে জানাবেন? আল্লাহর প্রতি আপনার ধারণা কেমন? সে বলল: পাপরাশি আমাকে নিমজ্জিত করেছে এবং আমি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছি, তবে আমি আল্লাহর রহমতের আশা করি। তখন ওয়াসিলা ‘আল্লাহু আকবার’ বলে তাকবীর দিলেন এবং ঘরের লোকজনও উচ্চস্বরে তাকবীর দিলেন। তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "আল্লাহ বলেন: আমার প্রতি আমার বান্দার ধারণা যেরূপ, আমি তার নিকট সেইরূপই। সুতরাং সে আমার প্রতি যা ইচ্ছা ধারণা পোষণ করুক।"
(খণ্ড: ১) আল-মুহতাযারীন লিবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٣٣)
17 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: وَحَدَّثَنِي هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي زِيَادٍ قَالَا: حَدَّثَنَا سَيَّارُ بْنُ حَاتِمٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا جَعْفَرٌ يَعْنِي ابْنَ سُلَيْمَانَ قَالَ: حَدَّثَنَا ثَابِتٌ الْبُنَانِيُّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى شَابٍّ وَهُوَ فِي الْمَوْتِ، فَقَالَ: «كَيْفَ تَجِدُكَ؟» قَالَ: أَرْجُو اللَّهَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَأَخَافُ ذُنُوبِي، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا تَجْتَمِعَانِ فِي قَلْبِ عَبْدٍ فِي مِثْلِ هَذَا الْمَوْطِنِ إِلَّا أَعْطَاهُ اللَّهُ الَّذِي يَرْجُو، وَآمَنَهُ مِنَ الَّذِي يَخَافُ»
১৭ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হারুন ইবনে আবদুল্লাহ এবং আবদুল্লাহ ইবনে আবি যিয়াদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: সাইয়্যার ইবনে হাতিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জাফর অর্থাৎ ইবনে সুলাইমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: সাবিত আল-বুনানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন যুবকের নিকট প্রবেশ করলেন যখন সে মৃত্যুশয্যায় ছিল। তখন তিনি বললেন: «তুমি নিজেকে কেমন অনুভব করছ?» সে বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আমি আল্লাহর নিকট আশা রাখি এবং আমার গুনাহসমূহের কারণে ভয় করছি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «এইরূপ পরিস্থিতিতে কোনো বান্দার অন্তরে এই দুইটি বিষয় (আশা ও ভয়) একত্রিত হয় না, তবে আল্লাহ তাকে তা-ই দান করেন যা সে আশা করে এবং তাকে তা থেকে নিরাপদ রাখেন যা সে ভয় করে।’»
(খণ্ড: ১) আল-মুহতাযারীন লিবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٣٣)
18 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي زِيَادٍ، وَهَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ قَالَا: حَدَّثَنَا سَيَّارٌ قَالَ: حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ قَالَ ⦗ص: 34⦘: سَمِعْتُ ثَابِتَ الْبُنَانِيَّ قَالَ: " كَانَ شَابٌّ لَهُ رَهَقٌ، وَكَانَتْ أُمُّهُ تَعِظُهُ، تَقُولُ: يَابُنَيَّ، إِنَّ لَكَ يَوْمًا، فَاذْكُرْ يَوْمَكَ، إِنَّ لَكَ يَوْمًا فَاذْكُرْ يَوْمَكَ. فَلَمَّا نَزَلَ أَمْرُ اللَّهِ، انْكَبَّتْ عَلَيْهِ أُمُّهُ فَجَعَلَتْ تَقُولُ: يَابُنَيَّ، قَدْ كُنْتُ أُحَذِّرُكَ مَصْرَعَكَ هَذَا وَأَقُولُ لَكَ: إِنَّ لَكَ يَوْمًا فَاذْكُرْ يَوْمَكَ. قَالَ: يَا أُمَّهْ، إِنَّ لِي رَبًّا كَثِيرَ الْمَعْرُوفِ، وَإِنِّي لَأَرْجُو أَنْ لَا يَعْدِمَنِي الْيَوْمَ بَعْضُ مَعْرُوفِ رَبِّي أَنْ يَغْفِرَ لِي. قَالَ: يَقُولُ ثَابِتٌ: فَرَحِمَهُ اللَّهُ لِحُسْنِ ظَنِّهِ بِرَبِّهِ فِي حَالِهِ تِلْكَ "
১৮ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে আবু যিয়াদ এবং হারুন ইবনে আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: সাইয়্যার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন ⦗পৃষ্ঠা: ৩৪⦘: আমি সাবিত আল-বুনানিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: "এক যুবক ছিল যে পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত ছিল। তার মা তাকে নসিহত করতেন এবং বলতেন: হে বৎস! তোমার জন্য একটি দিন (মৃত্যু) নির্ধারিত রয়েছে, সুতরাং তোমার সেই দিনের কথা স্মরণ করো; নিশ্চয়ই তোমার জন্য একটি দিন রয়েছে, সুতরাং তোমার সেই দিনের কথা স্মরণ করো। অতঃপর যখন আল্লাহর নির্দেশ (মৃত্যু) অবতীর্ণ হলো, তখন তার মা তার ওপর ঝুঁকে পড়লেন এবং বলতে লাগলেন: হে বৎস! আমি তোমাকে তোমার এই মৃত্যুশয্যা সম্পর্কে সতর্ক করতাম এবং বলতাম: তোমার জন্য একটি দিন রয়েছে, সুতরাং তোমার সেই দিনের কথা স্মরণ করো। সে বলল: হে জননী! নিশ্চয়ই আমার এমন একজন প্রতিপালক রয়েছেন যিনি পরম দয়ালু ও কল্যাণময়। আর আমি আশা করি যে, আজ আমার প্রতিপালকের দয়া ও কল্যাণ আমাকে বঞ্চিত করবে না—অর্থাৎ তিনি আমাকে ক্ষমা করে দেবেন। বর্ণনাকারী বলেন: সাবিত বলতেন: সেই কঠিন মুহূর্তে আল্লাহর প্রতি তার এই সুধারণা পোষণ করার কারণে আল্লাহ তাকে দয়া করেছেন।"
(খণ্ড: ১) আল-মুহতাযারীন লিবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٣٤)
19 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْمَرْوَزِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ شَفِيقٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ وَاقِدٍ، عَنْ أَبِي غَالِبٍ قَالَ: " كُنْتُ أَخْتَلِفُ إِلَى الشَّامِ فِي تِجَارَةٍ، وَعُظْمُ مَا كُنْتُ أَخْتَلِفُ مِنْ أَجْلِ أَبِي أُمَامَةَ. فَإِذَا فِيهَا رَجُلٌ مِنْ قَيْسٍ، مِنْ خِيَارِ النَّاسِ. فَكُنْتُ ⦗ص: 35⦘ أَنْزِلُ عَلَيْهِ، وَمَعَنَا ابْنُ أَخٍ لَهُ مُخَالِفٌ، يَأْمُرُهُ وَيَنْهَاهُ وَيَضْرِبُهُ، فَلَا يُطِيعُهُ. فَمَرِضَ الْفَتَى، فَبَعَثَ إِلَى عَمِّهِ، فَأَبَى أَنْ يَأْتِيَهُ. فَأَتَيْتُهُ أَنَا بِهِ، حَتَّى أَدْخَلْتُهُ عَلَيْهِ، فَأَقْبَلَ عَلَيْهِ يَشْتُمُهُ وَيَقُولُ: أَيْ عَدُوَّ اللَّهِ، الْخَبِيثَ، أَلَمْ تَفْعَلْ كَذَا؟ أَلَمْ تَفْعَلْ كَذَا؟ قَالَ: أَفْرَغْتَ أَيْ عَمِّ؟ قَالَ: نَعَمْ. قَالَ: أَرَأَيْتَ لَوْ أَنَّ اللَّهَ دَفَعَنِي إِلَى وَالِدَتِي، مَا كَانَتْ صَانِعَةً بِي؟ قَالَ: إِذًا وَاللَّهِ كَانَتْ تُدْخِلُكَ الْجَنَّةَ قَالَ: فَوَاللَّهِ لَلَّهُ أَرْحَمُ بِي مِنْ وَالِدَتِي. فَقُبِضَ الْفَتَى. فَخَرَجَ عَلَيْهِ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مَرْوَانَ. فَدَخَلْتُ الْقَبْرَ مَعَ عَمِّهِ، فَخَطُّوا لَهُ خَطًّا. وَلَمْ يَلْحِدُوا لَهُ، قَالَ: فَقُلْنَا بِاللَّبِنِ، فَسَوَّيْنَاهُ. قَالَ: فَسَقَطَتْ مِنْهَا لَبِنَةٌ، فَوَثَبَ عَمُّهُ فَتَأَخَّرَ. فَقُلْتُ: مَا شَأْنُكَ؟ قَالَ: مُلِئَ قَبْرُهُ نُورًا، وَفُسِحَ فِيهِ مِثْلُ مَدِّ الْبَصَرِ "
১৯ - আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল আজিজ আল-মারওয়াযী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আলী ইবনে শফিক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হুসাইন ইবনে ওয়াকিদ সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আবু গালিব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "আমি ব্যবসার উদ্দেশ্যে সিরিয়ায় যাতায়াত করতাম। আর আমার যাতায়াতের মূল কারণ ছিল আবু উমামার সাথে সাক্ষাৎ করা। সেখানে কায়স গোত্রের একজন লোক ছিলেন, যিনি ছিলেন সর্বোত্তম ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত। আমি ⦗পৃষ্ঠা: ৩৫⦘ তার কাছেই অবস্থান করতাম। আমাদের সাথে তার এক ভ্রাতুষ্পুত্র ছিল যে ছিল অবাধ্য। তিনি তাকে আদেশ করতেন, নিষেধ করতেন এবং মারধর করতেন, কিন্তু সে তার আনুগত্য করত না। অতপর যুবকটি অসুস্থ হয়ে পড়ল। সে তার চাচার কাছে সংবাদ পাঠাল, কিন্তু তিনি আসতে অস্বীকার করলেন। তখন আমি তাকে তার কাছে নিয়ে আসলাম এবং তাকে তার সামনে প্রবেশ করালাম। তিনি তার দিকে মুখ ফিরিয়ে তাকে গালি দিতে লাগলেন এবং বলছিলেন: হে আল্লাহর শত্রু! হে অপবিত্র! তুমি কি অমুক কাজ করনি? তুমি কি অমুক কাজ করনি? সে বলল: হে চাচা! আপনি কি শেষ করেছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। সে বলল: আপনি কি মনে করেন, যদি আল্লাহ আমাকে আমার মায়ের কাছে সোপর্দ করতেন, তবে তিনি আমার সাথে কী করতেন? তিনি বললেন: তবে আল্লাহর শপথ, তিনি তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাতেন। সে বলল: তবে আল্লাহর শপথ, আল্লাহ আমার প্রতি আমার মায়ের চেয়েও বেশি দয়ালু। এরপর যুবকটি মৃত্যুবরণ করল। আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান তার জানাজায় বের হলেন। আমি তার চাচার সাথে কবরে নামলাম। তারা তার জন্য কবরের তলদেশে সোজা গর্ত খুঁড়লেন এবং তারা তার জন্য লাহাদ (পার্শ্ব-খাত) তৈরি করেননি। বর্ণনাকারী বলেন: আমরা কাঁচা ইট দিয়ে তা সমান করলাম। তিনি বলেন: সেখান থেকে একটি ইট খসে পড়ল, তখন তার চাচা চমকে উঠে পিছিয়ে আসলেন। আমি বললাম: আপনার কী হয়েছে? তিনি বললেন: তার কবর নূরে পরিপূর্ণ হয়ে গিয়েছে এবং দৃষ্টির সীমা পর্যন্ত তা প্রশস্ত করে দেয়া হয়েছে।"
(খণ্ড: ১) আল-মুহতাযারীন লিবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٣٥)
20 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنِي الْحُسَيْنُ بْنُ عَمْرِو بْنِ مُحَمَّدٍ الْقُرَشِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ بْنُ رِفَاعَةَ، عَنِ الْحُسَيْنِ بْنِ عَلِيٍّ الْجُعْفِيِّ ⦗ص: 36⦘، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبَانَ، عَنْ حُمَيْدٍ قَالَ: " كَانَ لِيَ ابْنُ أُخْتٍ مُرَهَّقٌ، فَمَرِضَ، فَأَرْسَلَتْ إِلَيَّ أُمُّهُ، فَأَتَيْتُهَا، فَإِذَا هِيَ عِنْدَ رَأْسِهِ تَبْكِي، فَقَالَ: يَا خَالِي، مَا يُبْكِيهَا؟ قُلْتُ: مَا تَعْلَمُ مِنْكَ، قَالَ: أَلَيْسَ إِنَّمَا تَرْحَمُنِي؟ قُلْتُ: بَلَى، قَالَ: فَإِنَّ اللَّهَ أَرْحَمُ بِي مِنْهَا. فَلَمَّا مَاتَ أَنْزَلْتُهُ الْقَبْرَ مَعَ غَيْرِي، فَذَهَبْتُ أُسَوِّي لَبِنَهُ، فَاطَّلَعْتُ فِي اللَّحْدِ، فإِذَا هُوَ مَدُّ بَصَرِي، فَقُلْتُ لِصَاحِبِي: رَأَيْتَ مَا رَأَيْتُ؟ قَالَ: نَعَمْ، فَلْيُهْنِئْكَ ذَاكَ، فَظَنَنْتُ أَنَّهُ بِالْكَلِمَةِ الَّتِي قَالَهَا "
২০ - আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট আল-হুসাইন বিন আমর বিন মুহাম্মদ আল-কুরাশি এবং মুহাম্মদ বিন ইয়াজিদ বিন রিফাহ বর্ণনা করেছেন, তারা আল-হুসাইন বিন আলী আল-জু'ফি থেকে ⦗পৃষ্ঠা: ৩৬⦘, তিনি মুহাম্মদ বিন আবান থেকে, তিনি হুমাইদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমার এক ভাগ্নে ছিল যে প্রায় প্রাপ্তবয়স্ক হয়েছিল, সে অসুস্থ হয়ে পড়ল। তখন তার মা আমার নিকট লোক পাঠাল, ফলে আমি তার নিকট আসলাম। তখন সে (মা) তার মাথার কাছে বসে কাঁদছিল। সে (ছেলেটি) বলল: হে মামা, তাকে কিসে কাঁদাচ্ছে? আমি বললাম: সে তোমার অবস্থা সম্পর্কে যা জানে (তাই তাকে কাঁদাচ্ছে)। সে বলল: সে কি কেবল আমার প্রতি দয়া করার কারণেই কাঁদছে না? আমি বললাম: অবশ্যই। সে বলল: তবে আল্লাহ আমার প্রতি তার চেয়েও বেশি দয়ালু। অতঃপর যখন সে মারা গেল, আমি তাকে অন্য একজনের সাথে কবরে নামালাম। আমি তার কবরের কাঁচা ইটগুলো সমান করতে যাচ্ছিলাম, তখন আমি লাহাদের (কবরের পার্শ্বখাত) দিকে তাকিয়ে দেখলাম তা আমার দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে আছে। আমি আমার সঙ্গীকে বললাম: আমি যা দেখেছি আপনিও কি তা দেখেছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, এটি আপনার জন্য আনন্দদায়ক হোক। আমি ধারণা করলাম যে, এটি সে যে কথাটি বলেছিল সেই কারণেই হয়েছে।"
(খণ্ড: ১) আল-মুহতাযারীন লিবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٣٦)
21 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنِي الْحُسَيْنُ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَمَانٍ قَالَ: قَالَ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ ⦗ص: 37⦘: «مَا أُحِبُّ أَنَّ حِسَابِي جُعِلَ إِلَى وَالِدَتِي، رَبِّي خَيْرٌ لِي مِنْ وَالِدَتِي»
২১ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-হুসাইন ইবনে আমর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: সুফিয়ান আস-সাওরী ⦗পৃষ্ঠা: ৩৭⦘ বলেছেন: "আমি এটা পছন্দ করি না যে আমার হিসাব-নিকাশ আমার মায়ের নিকট সোপর্দ করা হোক; আমার প্রতিপালক আমার জন্য আমার মায়ের চেয়েও অধিক উত্তম।"
(খণ্ড: ১) আল-মুহতাযারীন লিবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٣٧)
22 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو إِسْحَاقَ الرِّيَاحِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا مُرَجَّى بْنُ وَدَاعٍ قَالَ: " كَانَ فَتًى بِهِ رَهَقٌ، فَاحْتُضِرَ، فَقَالَتْ لَهُ أُمُّهُ: أَيْ بُنَيَّ، تُوصِي بِشَيْءٍ؟ قَالَ: نَعَمْ، خَاتَمِي، لَا تَسْلِبِينِيهِ؛ فَإِنَّ فِيهِ ذِكْرَ اللَّهِ تَعَالَى، لَعَلَّ اللَّهَ أَنْ يَرْحَمَنِي، فَرُئِيَ فِي النَّوْمِ، قَالَ: أَخْبِرُوا أُمِّي أَنَّ الْكَلِمَةَ قَدْ نَفَعَتْنِي، وَأَنَّ اللَّهَ قَدْ غَفَرَ لِي "
২২ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু ইসহাক আর-রিয়াহি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুরজি ইবনে ওয়াদা' আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "এক যুবক ছিল যে পাপাচারে লিপ্ত ছিল। সে যখন মুমূর্ষু অবস্থায় উপনীত হলো, তখন তার মা তাকে বললেন: হে বৎস! তুমি কি কোনো অসিয়ত করবে? সে বলল: হ্যাঁ, আমার এই আংটিটি; এটি আমার থেকে খুলে নেবেন না; কারণ এতে মহান আল্লাহর জিকির রয়েছে, সম্ভবত আল্লাহ আমাকে দয়া করবেন। অতঃপর তাকে স্বপ্নে দেখা গেল, সে বলল: আমার মাকে সংবাদ দিন যে, ওই শব্দটি আমার উপকারে এসেছে এবং আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।"
(খণ্ড: ১) আল-মুহতাযারীন লিবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٣٧)
23 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنِي الْمُفَضَّلُ بْنُ غَسَّانَ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: احْتُضِرَ النَّضْرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَازِمٍ، فَقِيلَ لَهُ: أَبْشِرْ. فَقَالَ: «وَاللَّهِ مَا أُبَالِي، أَمُتُّ، أَمْ ذُهِبَ بِي إِلَى الْأُبُلَّةِ، وَاللَّهِ مَا ⦗ص: 38⦘ أَخْرُجُ مِنْ سُلْطَانِ رَبِّي إِلَى غَيْرِهِ، وَمَا نَقَلَنِي رَبِّي مِنْ حَالٍ قَطُّ إِلَى حَالٍ إِلَّا كَانَ مَا نَقَلَنِي إِلَيْهِ خَيْرًا لِي مِمَّا نَقَلَنِي عَنْهُ»
২৩ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-মুফাদদ্বাল বিন গাসসান আমার নিকট তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আন-নাদর ইবন আবদিল্লাহ ইবন হাযিম যখন মৃত্যুশয্যায় ছিলেন, তখন তাঁকে বলা হলো: সুসংবাদ গ্রহণ করুন। তিনি বললেন: «আল্লাহর কসম, আমি পরোয়া করি না যে আমি মারা গেলাম, নাকি আমাকে উবুল্লাহতে নিয়ে যাওয়া হলো। আল্লাহর কসম, আমি ⦗পৃষ্ঠা: ৩৮⦘ আমার রবের কর্তৃত্ব থেকে বের হয়ে অন্য কারো নিকট যাচ্ছি না। আর আমার রব আমাকে কখনোই এক অবস্থা থেকে অন্য কোনো অবস্থায় স্থানান্তরিত করেননি, তবে তিনি আমাকে যার দিকে স্থানান্তরিত করেছেন তা আমার জন্য সেই অবস্থার চেয়ে উত্তমই হয়েছে যা থেকে তিনি আমাকে সরিয়ে নিয়েছেন।»
(খণ্ড: ১) আল-মুহতাযারীন লিবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٣٨)
24 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنِي الْحَسَنُ بْنُ جَهُورٍ، عَنْ إِدْرِيسَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمَرْوَزِيِّ قَالَ: " مَرِضَ أَعْرَابِيٌّ، فَقِيلَ لَهُ: إِنَّكَ تَمُوتُ. قَالَ: إِلَى أَيْنَ يُذْهَبُ بِي؟ قَالَ: إِلَى اللَّهِ. قَالَ: فَمَا كَرَاهَتِي أَنْ أَذْهَبَ إِلَى مَنْ لَا أَرَى الْخَيْرَ إِلَّا مِنْهُ؟ "
২৪ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-হাসান ইবনে জাহুর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ইদ্রিস ইবনে আবদুল্লাহ আল-মারওয়াযী হতে, তিনি বলেন: "এক বেদুইন অসুস্থ হলেন, তাকে বলা হলো: আপনি তো মারা যাবেন। তিনি বললেন: আমাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হবে? বলা হলো: আল্লাহর কাছে। তিনি বললেন: তবে তাঁর কাছে যেতে আমার কেন অনীহা থাকবে, যাঁর নিকট থেকে কল্যাণ ব্যতীত অন্য কিছুর দেখা আমি পাই না?"
(খণ্ড: ১) আল-মুহতাযারীন লিবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٣٨)
25 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِدْرِيسَ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو أُمَيَّةَ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْخُزَاعِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ غَزْوَانَ بْنِ عَاصِمٍ قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ قَالَ: " أرَدْتُ غَزَاةً لِي، وَكَانَ لِيَ ابْنُ أَخٍ مُرَهَّقٌ، فَكَرِهْتُ أَنْ أُخَلِّفَهُ، فَغَزَوْتُ لَهُ مَعِي، فَلَمَّا قَفَلْنَا مَرِضَ مَرَضًا شَدِيدًا، قَالَ: فَدَخَلْتُ بَعْضَ تِلْكَ الصَّوَامِعِ، فَقُمْتُ أُصَلِّي، فَانْشَقَّتِ الصَّوْمَعَةُ، فَدَخَلَ مَلَكَانِ أَبْيَضَانِ وَمَلَكَانِ أَسْوَدَانِ، فَقَعَدَ الْأَبْيَضَانِ عَنْ يَمِينِهِ، وَقَعَدَ الْأَسْوَدَانِ عَنْ يَسَارِهِ، فَلَمَسَهُ الْأَبْيَضَانِ بِأَيْدِيهِمَا، فَقَالَ الْأَسْوَدَانِ: نَحْنُ أَحَقُّ بِهِ، وَقَالَ ⦗ص: 39⦘ الْأَبْيَضَانِ: كَلَّا، فَأَخَذَ أَحَدُ الْأَبْيَضَيْنِ أُصْبَعَيْهِ فَأَدْخَلَهُمَا فِي فِيهِ فَقَلَبَ لِسَانَهُ، فَقَالَ: اللَّهُ أَكْبَرُ، نَحْنُ أَحَقُّ بِهِ، قُومَا، كَبَّرَ تَكْبِيرَةً يَوْمَ فَتْحِ أَنْطَاكِيَةَ. فَخَرَجَ شَهْرٌ فَنَادَى: مَنْ أَرَادَ أَنْ يَحْضُرَ جَنَازَةَ رَجُلٍ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ فَلْيَحْضُرْ جَنَازَةَ ابْنِ أَخِي، فَقَالَ النَّاسُ: جُنَّ شَهْرٌ، بِالْأَمْسِ يَقُولُ مَا يَقُولُ، وَالْيَوْمَ يَقُولُ: رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ، فَبَلَغَ ذَلِكَ الْأَمِيرَ، فَبَعَثَ إِلَيْهِ الْأَمِيرُ، فَأَخْبَرَهُ بِمَا رَآهُ، فَصَلَّى عَلَيْهِ وَالنَّاسُ "
২৫ - আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে ইদরীস আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু উমাইয়্যাহ মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহীম আল-খুযাঈ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর ইবনে গাযওয়ান ইবনে আসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, শাহর ইবনে হাওশাব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি আমার একটি যুদ্ধে গমনের ইচ্ছা করলাম। আমার এক ভ্রাতুষ্পুত্র ছিল যে পাপাচারের কারণে পথভ্রষ্ট ছিল, তাকে পেছনে ফেলে যেতে আমি অপছন্দ করলাম। তাই আমি তাকে আমার সাথে যুদ্ধে নিয়ে গেলাম। যখন আমরা ফিরে আসলাম, সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ল। তিনি বলেন: এরপর আমি সেই সব নির্জন ইবাদতখানার কোনো একটিতে প্রবেশ করলাম এবং সালাত আদায়ের জন্য দাঁড়ালাম। তখন সেই ইবাদতখানাটি বিদীর্ণ হলো এবং দুইজন সাদা ফেরেশতা ও দুইজন কালো ফেরেশতা প্রবেশ করলেন। সাদা ফেরেশতাদ্বয় তার ডান দিকে বসলেন এবং কালো ফেরেশতাদ্বয় তার বাম দিকে বসলেন। এরপর সাদা ফেরেশতাদ্বয় তাদের হাত দিয়ে তাকে স্পর্শ করলেন। তখন কালো ফেরেশতাদ্বয় বললেন: আমরাই তার অধিক হকদার। এবং ⦗পৃষ্ঠা: ৩৯⦘ সাদা ফেরেশতাদ্বয় বললেন: কখনোই না। এরপর সাদা ফেরেশতাদ্বয়ের একজন তার দুই আঙুল নিয়ে তার মুখের ভেতর প্রবেশ করিয়ে তার জিহ্বা উল্টিয়ে দিলেন। তখন সে (ভ্রাতুষ্পুত্র) বলে উঠল: আল্লাহু আকবার, আমরাই তার অধিক হকদার, তোমরা দু’জন সরে যাও। সে আন্টাঁকিয়া বিজয়ের দিনের মতো সজোরে তাকবীর ধ্বনি দিল। এরপর শাহর বের হয়ে ঘোষণা করলেন: যে ব্যক্তি জান্নাতী কোনো ব্যক্তির জানাজায় উপস্থিত হতে চায়, সে যেন আমার ভ্রাতুষ্পুত্রের জানাজায় উপস্থিত হয়। তখন লোকজন বলতে লাগল: শাহর পাগল হয়ে গেছে; গতকাল সে তার সম্পর্কে যা বলার বলছিল, আর আজ বলছে: জান্নাতী এক ব্যক্তি! এই সংবাদ আমীরের নিকট পৌঁছাল, তখন আমীর তাকে ডেকে পাঠালেন। তিনি যা দেখেছিলেন তা তাকে জানালেন। এরপর আমীর এবং সাধারণ মানুষ তার জানাজার সালাত আদায় করলেন।"
(খণ্ড: ১) আল-মুহতাযারীন লিবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٣٩)
26 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنَا سَوَّارُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْعَنْبَرِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ قَالَ: قَالَ أَبِي حِينَ حَضَرَتْهُ الْوَفَاةُ: «يَا مُعْتَمِرُ، حَدِّثْنِي بِالرُّخَصِ، لَعَلِّي أَلْقَى اللَّهَ وَأَنَا حَسَنُ الظَّنِّ بِهِ»
২৬ - আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাওয়ার ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আনবারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুতামির ইবনে সুলাইমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা তাঁর মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলে বলেছিলেন: «হে মুতামির! আমাকে সহজ বিষয়গুলো (রুখসত) সম্পর্কে হাদিস শোনাও, যাতে আমি আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করতে পারি যে, আমি তাঁর প্রতি সুধারণা পোষণ করছি।’»
(খণ্ড: ১) আল-মুহতাযারীন লিবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٣٩)
27 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا ⦗ص: 40⦘ خَلْفُ بْنُ خَلِيفَةَ، عَنْ حُصَيْنٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ قَالَ: «كَانُوا يَسْتَحِبُّونَ أَنْ يُلَقِّنُوا الْعَبْدَ مَحَاسِنَ عَمَلِهِ عِنْدَ مَوْتِهِ؛ لِكَيْ يُحْسِنَ ظَنَّهُ بِرَبِّهِ»
২৭ - আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আমর ইবনে মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৪০⦘ খালাফ ইবনে খলিফা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি হুসাইন থেকে, তিনি ইব্রাহিম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "তাঁরা (সালাফগণ) মৃত্যুকালে বান্দাকে তার উত্তম আমলসমূহ স্মরণ করিয়ে দেওয়া পছন্দ করতেন; যাতে সে তার রব্ব সম্পর্কে সুধারণা পোষণ করতে পারে।"