(খণ্ড: ১) আল-কিফায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ লিল খাতীব আল-বাগদাদী (পৃষ্ঠা: -)
الكفاية في علم الرواية للخطيب البغدادي   (الخطيب البغدادي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: الكفاية في علم الرواية

المؤلف: أبو بكر أحمد بن علي بن ثابت بن أحمد بن مهدي الخطيب البغدادي (ت 463 هـ)

صححه: أبو عبدالله السورقي

قابله: إبراهيم حمدي المدني

الناشر: جمعية دائرة المعارف العثمانية - حيدر آباد، الدكن

الطبعة: الأولى، 1357 هـ

(صَوّرتْها المكتبة العلمية - المدينة المنورة، وغيرها)

عدد الصفحات: 437

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-খাতীব আল-বাগদাদী প্রণীত আল-কিফায়া ফী ইলমির রিওয়ায়াহ   (আল-খাতীব আল-বাগদাদী)

বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ


গ্রন্থ: আল-কিফায়া ফী ইলমির রিওয়ায়াহ

লেখক: আবু বকর আহমদ বিন আলী বিন সাবিত বিন আহমদ বিন মাহদী আল-খাতীব আল-বাগদাদী (মৃত্যু ৪৬৩ হিজরী)

সম্পাদনা: আবু আব্দুল্লাহ আস-সাওরাকী

পাণ্ডুলিপির সাথে যাচাইকরণ: ইব্রাহীম হামদী আল-মাদানী

প্রকাশক: জামঈয়াতু দাইরাতিল মাআরিফ আল-উসমানিয়্যাহ - হায়দারাবাদ, ডেকান

সংস্করণ: প্রথম, ১৩৫৭ হিজরী

(মাকতাবাতুল ইলমিয়্যাহ - মদীনা মুনাওয়ারা এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃক এটি চিত্রায়িত বা ফটোকপি করা হয়েছে)

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৩৭

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-কিফায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ লিল খাতীব আল-বাগদাদী (পৃষ্ঠা: ١)
الْكِفَايَةُ فِي عِلْمِ الرِّوَايَةِ لِلْخَطِيبِ الْبَغْدَادِيِّ
আল-খতীব আল-বাগদাদী রচিত হাদিস বর্ণনা শাস্ত্রের পর্যাপ্ততা (আল-কিফায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ)
(খণ্ড: ১) আল-কিফায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ লিল খাতীব আল-বাগদাদী (পৃষ্ঠা: ٢)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، وَبِهِ نَسْتَعِينُ، أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ بْنُ عَلِيِّ بْنِ أَبِي الْعَلَاءِ الْمِصِّيصِيُّ بِدِمِشْقَ نا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ ثَابِتٍ الْخَطِيبُ الْبَغْدَادِيُّ الْحَافِظُ قَدِمَ عَلَيْنَا مِنْ لَفْظِهِ قَالَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي هَدَانَا لِدِينِهِ الْقَوِيمِ، وَأَرْشَدَنَا إِلَى صِرَاطِهِ الْمُسْتَقِيمِ، وَأَلْهَمَنَا الْحَمْدَ لَهُ عَلَى مَا خَوَّلَنَا مِنْ جَزِيلِ نِعَمِهِ، وَجَعَلَهُ نِعْمَةً عَلَيْنَا مُضَافَةً إِلَى سَائِرِ مِنَنِهِ، أَحْمَدُهُ حَمْدَ مُعْتَرِفٍ بِالتَّقْصِيرِ فِيمَا يَلْزَمُهُ مِنْ شُكْرِ هِبَاتِهِ، وَأَسْأَلُهُ التَّوْفِيقَ لِلْعَمَلِ بِمَا يُقَرِّبُ إِلَى مَرْضَاتِهِ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، شَهَادَةً تُبَلِّغُ مُعْتَقِدَهَا أَمَلَهُ، وَيَخْتِمُ اللَّهُ لِقَائِلِهَا بِالسَّعَادَةِ عَمَلَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ الْمُنْتَخَبُ مِنْ بَرِيَّتِهِ، وَرَسُولُهُ الدَّاعِي لِخَلْقِهِ إِلَى طَاعَتِهِ، أَرْسَلَهُ بِالْحَقِّ الْمُبِينِ، وَابْتَعَثَهُ بِالشَّرْعِ الْمَتِينِ، فَجَلَى غَوَامِضَ الشُّبُهَاتِ، وَأَنَارَ حَنَادِسَ الظُّلُمَاتِ، وَأَبَادَ حِزْبَ الْكُفْرِ وَأَنْصَارَهُ، وَشَيَّدَ أَعْلَامَ الدِّينِ وَمَنَارَهُ، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ صَلَاةً يُعْطِيهِ فِيهَا أُمْنِيَّتَهُ، وَيَرْفَعُ بِهَا فِي الْآخِرَةِ دَرَجَتَهُ، وَعَلَى إِخْوَانِهِ مِنَ النَّبِيِّينَ وَآلِهِ الْأَخْيَارِ الْمُنْتَخَبِينَ، وَتَابِعِيهِمْ بِالْإِحْسَانِ أَجْمَعِينَ. أَمَّا بَعْدُ، فَإِنَّ اللَّهَ تبارك وتعالى أَنْقَذَ الْخَلْقَ مِنْ ثَائِرَةِ الْجَهْلِ، وَخَلَّصَ الْوَرَقَ مِنْ زَخَارِفِ الضَّلَالَةِ بِالْكِتَابِ النَّاطِقِ وَالْوَحْيِ الصَّادِقِ، الْمُنَزَّلَيْنِ عَلَى سَيِّدِ الْوَرَى نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ الْمُصْطَفَى، ثُمَّ أَوْجَبَ النَّجَاةَ مِنْ النَّارِ، وَالْبُعْدَ عَنْ مَنْزِلِ

পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে, এবং আমরা তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি। দামেস্কে শায়খ আবু আব্দুল্লাহ বিন আলী বিন আবুল আলা আল-মিসসীসী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, হাফেয আবু বকর আহমাদ বিন আলী বিন সাবিত আল-খতীব আল-বাগদাদী আমাদের নিকট আগমন করে নিজ মুখে বলেছেন: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের তাঁর সুদৃঢ় দ্বীনের হিদায়াত দিয়েছেন, আমাদের তাঁর সরল পথের দিকে পরিচালিত করেছেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে আমাদের যে বিপুল নিয়ামত দান করেছেন তার জন্য তাঁর প্রশংসা করার অনুপ্রেরণা দিয়েছেন; আর সেই প্রশংসাকেই তিনি আমাদের ওপর তাঁর অন্যান্য অনুগ্রহের সাথে আরও একটি অতিরিক্ত নিয়ামত হিসেবে গণ্য করেছেন। আমি তাঁর প্রশংসা করছি এমন এক ব্যক্তির ন্যায় যে তাঁর দানসমূহের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অপরিহার্য কর্তব্যে নিজের ত্রুটি স্বীকার করে, এবং আমি তাঁর নিকট সেই সকল আমল করার তাওফীক প্রার্থনা করছি যা তাঁর সন্তুষ্টির নিকটবর্তী করে দেয়। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো (সত্য) ইলাহ নেই—এমন এক সাক্ষ্য যা এর পোষণকারীকে তাঁর লক্ষ্যে পৌঁছে দেবে এবং আল্লাহ এর বক্তার আমলকে সৌভাগ্যের সাথে সমাপ্ত করবেন। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে মনোনীত বান্দা এবং তাঁর রাসূল, যিনি তাঁর মাখলুকাতকে তাঁর আনুগত্যের দিকে আহ্বানকারী। তিনি তাঁকে সুস্পষ্ট সত্যসহ প্রেরণ করেছেন এবং সুদৃঢ় শরীয়তসহ পাঠিয়েছেন। ফলে তিনি সংশয়ের অস্পষ্টতাসমূহ দূর করেছেন, ঘোর অন্ধকারকে আলোকিত করেছেন, কুফরীর দল ও তাদের সাহায্যকারীদের বিনাশ করেছেন এবং দ্বীনের নিদর্শন ও মিনারসমূহকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। আল্লাহ তাঁর ওপর এমন রহমত বর্ষণ করুন যার মাধ্যমে তিনি তাঁকে তাঁর আকাঙ্ক্ষিত বস্তু দান করবেন এবং আখিরাতে তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন; এবং তাঁর নবী ভ্রাতৃগণ, তাঁর উত্তম ও মনোনীত পরিবারবর্গ এবং তাঁদের নিষ্ঠাবান অনুসারী সকলের ওপরও রহমত বর্ষিত হোক। অতঃপর, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা সৃষ্টিজগতকে মূর্খতার উন্মাদনা থেকে রক্ষা করেছেন এবং সৃষ্টির সারাংশকে ভ্রষ্টতার চাকচিক্য থেকে সত্যবাদী কিতাব ও সত্য ওহীর মাধ্যমে মুক্তি দিয়েছেন, যা সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ নেতা আমাদের নবী মুহাম্মাদ আল-মুস্তফার ওপর নাযিল করা হয়েছে। অতঃপর তিনি জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি এবং সেই আবাস থেকে দূরত্ব বজায় রাখাকে আবশ্যক করেছেন যা...

(খণ্ড: ১) আল-কিফায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ লিল খাতীব আল-বাগদাদী (পৃষ্ঠা: ٣)
الذُّلِ وَالخَسَارِ، لِمَنْ أَطَاعَهُ فِي امْتِثَالِ مَا أَمَرَ وَالْكَفِّ عَمَّا عَنْهُ نَهَى وَزَجَرَ، فَقَالَ: {وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَخْشَ اللَّهَ وَيَتَّقِهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْفَائِزُونَ} [سورة: النور، آية رقم: 52] وَطَاعَةُ اللَّهِ فِي طَاعَةِ رَسُولِهِ، وَطَاعَةُ رَسُولِهِ فِي اتِّبَاعِ سُنَّتِهِ، إِذْ هِيَ النُّورُ الْبَهِيُّ وَالْأَمْرُ الْجَلِيُّ وَالْحُجَّةُ الْوَاضِحَةُ وَالْمَحَجَّةُ الْلَائِحَةُ، مَنْ تَمَسَّكَ بِهَا اهْتَدَى، وَمَنْ عَدَلَ عَنْهَا ضَلَّ وَغَوَى. وَلَمَّا كَانَ ثَابِتُ السُّنَنِ وَالْآثَارِ وَصِحَاحُ الْأَحَادِيثِ الْمَنْقُولَةِ وَالْأَخْبَارِ مَلْجَأَ الْمُسْلِمِينَ فِي الْأَحْوَالِ، وَمَرْكَزَ الْمُؤْمِنِينَ فِي الْأَعْمَالِ، إِذْ لَا قِوَامَ لِلْإِسْلَامِ إِلَّا بِاسْتِعْمَالِهَا، وَلَا ثَبَاتَ لِأَمْرِ الدِّينِ إِلَّا بِانْتِحَالِهَا، وَجَبَ الِاجْتِهَادُ فِي حِفْظِ أُصُولِهَا، وَلَزَمَ الْحَثُّ عَلَى مَا عَادَ بِعِمَارَةِ سَبِيلِهَا، وَقَدِ اسْتَفْرَغَتْ طَائِفَةٌ مِنْ أَهْلِ زَمَانِنَا وُسْعَهَا فِي كُتُبِ الْأَحَادِيثِ وَالْمُثَابَرَةِ عَلَى جَمْعِهَا مِنْ غَيْرِ أَنْ يَسْلُكُوا مَسْلَكَ الْمُتَقَدِّمِينَ، وَيَنْظُرُوا نَظَرَ السَّلَفِ الْمَاضِينَ فِي حَالِ الرَّاوِي وَالْمَرْوِيِّ، وَتَمْيِيزِ سَبِيلِ الْمَرْذُولِ وَالرَّضِيِّ، وَاسْتِنْبَاطِ مَا فِي السُّنَنِ مِنْ الْأَحْكَامِ، وَإِثَارَةِ الْمُسْتَوْدَعِ فِيهَا مِنَ الْفِقْهِ بِالْحَلَالِ وَالْحَرَامِ، بَلْ قَنَعُوا مِنَ الْحَدِيثِ بِاسْمِهِ، وَاقْتَصَرُوا عَلَى كَتْبِهِ فِي الصُّحُفِ وَرَسْمِهِ، فَهُمْ أَغْمَارٌ، وَحَمَلَةُ أَسْفَارٍ، قَدْ تَحَمَّلُوا الْمَشَاقَّ الشَّدِيدَةَ، وَسَافَرُوا إِلَى الْبِلْدَانِ الْبَعِيدَةِ، وَهَانَ عَلَيْهِمُ الدَّأَبُ وَالْكَلَالُ، وَاسْتَوطَئُوا مَرَاكِبَ الْحِلِّ وَالِارْتِحَالِ، وَبَذَلُوا الْأَنْفُسَ وَالْأَمْوَالَ، وَرَكِبُوا الْمَخَاوِفَ وَالْأَهْوَالَ، شُعْثَ الرُّءُوسِ، شُحْبَ الْأَلْوَانِ، خُمْصَ الْبُطُونِ، نَوَاحِلَ الْأَبْدَانِ، يَقْطَعُونَ أَوْقَاتَهُمْ بِالسَّيْرِ فِي الْبِلَادِ لِمَا عَلَا مِنَ الْإِسْنَادِ، لَا يُرِيدُونَ شَيْئًا سِوَاهُ وَلَا يَبْتَغُونَ إِلَّا إِيَّاهُ، يَحْمِلُونَ عَمَّنْ لَا تَثْبُتُ عَدَالَتُهُ، وَيَسْمَعُونَ مِمَّنْ لَا تَجُوزُ أَمَانَتُهُ، وَيَرْوُونَ عَمَّنْ لَا يَعْرِفُونَ صِحَّةَ حَدِيثِهِ، وَلَا يَتَيَقَّنُ ثُبُوتُ مَسْمُوعِهِ، وَيَحْتَجُّونَ

লাঞ্ছনা ও ক্ষতি থেকে (সুরক্ষাস্বরূপ) তার জন্য, যে তাঁর আদেশ পালনে এবং যা থেকে তিনি বারণ ও নিষেধ করেছেন তা পরিহার করার মাধ্যমে তাঁর আনুগত্য করেছে। অতঃপর তিনি বলেছেন: {আর যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, আল্লাহকে ভয় করে এবং তাঁর তাকওয়া অবলম্বন করে, তারাই সফলকাম।} [সূরা: আন-নূর, আয়াত নম্বর: ৫২]। আর আল্লাহর আনুগত্য নিহিত রয়েছে তাঁর রাসূলের আনুগত্যের মধ্যে, আর রাসূলের আনুগত্য নিহিত রয়েছে তাঁর সুন্নাহ অনুসরণের মধ্যে; যেহেতু তা হলো উজ্জ্বল জ্যোতি, সুস্পষ্ট বিষয়, প্রাঞ্জল প্রমাণ এবং দেদীপ্যমান রাজপথ। যে ব্যক্তি তা আঁকড়ে ধরবে সে হেদায়েত প্রাপ্ত হবে, আর যে ব্যক্তি তা থেকে বিমুখ হবে সে পথভ্রষ্ট ও বিভ্রান্ত হবে। আর যেহেতু সুপ্রতিষ্ঠিত সুন্নাহসমূহ, আছারসমূহ এবং বর্ণিত সহীহ হাদীস ও সংবাদসমূহ সকল অবস্থায় মুসলিমদের আশ্রয়স্থল এবং সকল কর্মে মুমিনদের কেন্দ্রবিন্দু; কারণ সুন্নাহর প্রয়োগ ছাড়া ইসলামের কোনো ভিত্তি নেই এবং তা গ্রহণ করা ছাড়া দ্বীনের কোনো স্থায়িত্ব নেই; তাই এর মূলনীতিসমূহ সংরক্ষণে প্রচেষ্টা চালানো ওয়াজিব হয়ে পড়েছে এবং এর পথকে আবাদ করার বিষয়ে উৎসাহ প্রদান করা আবশ্যক হয়েছে। আমাদের যুগের একদল লোক হাদীসের কিতাবসমূহের পিছনে এবং সেগুলো সংকলনের নিরলস প্রচেষ্টায় নিজেদের সর্বস্ব নিয়োগ করেছেন, তবে তারা পূর্ববর্তীদের পথ অনুসরণ করেননি। বর্ণনাকারী ও বর্ণিত বিষয়ের অবস্থা পর্যালোচনায়, মন্দ ও গ্রহণযোগ্যর মধ্যে পার্থক্য নিরূপণে, সুন্নাহ থেকে বিধিবিধান উদ্ভাবনে এবং সুন্নাহর মাঝে নিহিত হালাল ও হারাম সংক্রান্ত ফিকহ উদ্ঘাটনে তারা অতীত সালাফদের ন্যায় দৃষ্টিপাত করেননি। বরং তারা হাদীসের কেবল নামের ওপর তুষ্ট হয়েছেন এবং খাতায় তা লিপিবদ্ধ ও সংরক্ষণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছেন। তারা নিছক অনভিজ্ঞ এবং কিতাব বহনকারী মাত্র। তারা চরম কষ্ট সহ্য করেছেন, দূর-দূরান্তের দেশসমূহে সফর করেছেন, ক্লান্তি ও পরিশ্রমকে তুচ্ছ জ্ঞান করেছেন এবং অবিরাম সফরের বাহনসমূহকে আপন করে নিয়েছেন। তারা নিজেদের জান ও মাল বিলিয়ে দিয়েছেন এবং ভয় ও শঙ্কার পথ পাড়ি দিয়েছেন। তারা উস্কোখুস্কো চুলধারী, বিবর্ণ গায়ের রঙের অধিকারী, ক্ষুধার্ত উদর এবং জীর্ণ শরীরের অধিকারী। উচ্চতর সনদের সন্ধানে দেশ-বিদেশে ভ্রমণের মাধ্যমে তারা তাদের সময় অতিবাহিত করেন। এটি ছাড়া তারা অন্য কিছু চান না এবং এটি ছাড়া আর কিছু অন্বেষণ করেন না। তারা এমন ব্যক্তিদের নিকট থেকে বর্ণনা গ্রহণ করেন যাদের ন্যায়পরায়ণতা প্রমাণিত নয়, এমন ব্যক্তিদের নিকট থেকে শ্রবণ করেন যাদের বিশ্বস্ততা নির্ভরযোগ্য নয়, এবং এমন ব্যক্তিদের থেকে বর্ণনা করেন যাদের হাদীসের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে তারা জ্ঞাত নন এবং যাদের থেকে শোনা বিষয়ের সাব্যস্ততা সম্পর্কে তারা নিশ্চিত নন। আর তারা দলিল পেশ করেন...

(খণ্ড: ১) আল-কিফায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ লিল খাতীব আল-বাগদাদী (পৃষ্ঠা: ٤)
بِمَنْ لَا يُحْسِنُ قِرَاءَةَ صَحِيفَتِهِ، وَلَا يَقُومُ بِشَيْءٍ مِنْ شَرَائِطِ الرِّوَايَةِ، وَلَا يُفَرِّقُ بَيْنَ السَّمَاعِ وَالْإِجَازَةِ، وَلَا يُمَيِّزُ بَيْنَ الْمُسْنَدِ وَالْمُرْسَلِ وَالْمَقْطُوعِ وَالْمُتَّصِلِ، وَلَا يَحْفَظُ اسْمَ شَيْخِهِ الَّذِي حَدَّثَهُ حَتَّى يَسْتَثْبِتَهُ مِنْ غَيْرِهِ، وَيَكْتُبُونَ عَنِ الْفَاسِقِ فِي فِعْلِهِ، الْمَذْمُومِ فِي مَذْهَبِهِ، وَعَنِ الْمُبْتَدِعِ فِي دِينِهِ، الْمَقْطُوعُ عَلَى فَسَادِ اعْتِقَادِهِ، وَيَرَوْنَ ذَلِكَ جَائِزًا، وَالْعَمَلُ بِرِوَايَتِهِ وَاجِبًا، إِذَا كَانَ السَّمَاعُ ثَابِتًا وَالْإِسْنَادُ مُتَقَدِّمًا عَالِيًا، فَجَرَّ هَذَا الْفِعْلُ مِنْهُمُ الْوَقِيعَةَ فِي سَلَفِ الْعُلَمَاءِ، وَسَهَّلَ طَرِيقَ الطَّعْنِ عَلَيْهِمْ لِأَهْلِ الْبِدَعِ وَالْأَهْوَاءِ، حَتَّى ذَمَّ الْحَدِيثَ وَأَهْلَهُ بَعْضُ مَنِ ارْتَسَمَ بِالْفَتْوَى فِي الدِّينِ، وَرَأَى عِنْدَ إِعْجَابِهِ بِنَفْسِهِ أَنَّهُ أَحَدُ الْأَئِمَّةِ الْمُجْتَهِدِينَ، بِصُدُوفِهِ عَنِ الْآثَارِ إِلَى الرَّأْيِ الْمَرْذُولِ، وَتَحَكُّمِهِ فِي الدِّينِ بِاجْتِهَادِهِ الْمَعْلُولِ، وَذَلِكَ مِنْهُ غَايَةُ الْجَهْلِ وَنِهَايَةُ التَّقْصِيرِ عَنْ مَرْتَبَةِ الْفَضْلِ، يَنْتَسِبُ إِلَى قَوْمٍ تَهَيَّبُوا كَدَّ الطَّلَبِ وَمُعَانَاةَ مَا فِيهِ مِنَ الْمَشَقَّةِ وَالنَّصَبِ، وَأَعْيَتْهُمُ الْأَحَادِيثُ أَنْ يَحْفَظُوهَا، وَاخْتَلَفَتْ عَلَيْهِمُ الْأَسَانِيدُ فَلَمْ يَضْبِطُوهَا، فَجَانَبُوا مَا اسْتَثْقَلُوا، وَعَادُوا مَا جَهِلُوا، وَآثَرُوا الدَّعَةَ وَاسْتَلَّذُوا الرَّاحَةَ، ثُمَّ تَصَدَّرُوا فِي الْمَجَالِسِ قَبْلَ الْحِينِ الَّذِي يَسْتَحِقُّونَهُ، وَأَخَذُوا أَنْفُسَهُمْ بِالطَّعْنِ عَلَى الْعِلْمِ الَّذِي لَا يُحْسِنُونَهُ ، إِنْ تَعَاطَى أَحَدُهُمْ رِوَايَةَ حَدِيثٍ فَمِنْ صُحُفٍ ابْتَاعَهَا، كُفِيَ مَئُونَةَ جَمْعِهَا مِنْ غَيْرِ سَمَاعٍ لَهَا وَلَا مَعْرِفَةٍ بِحَالِ نَاقِلِهَا، وَإِنْ حَفِظَ شَيْئًا مِنْهَا خَلَطَ الْغَثَّ بِالسَّمِينِ، وَأَلْحَقَ الصَّحِيحَ بِالسَّقِيمِ، وَإِنْ قُلِبَ عَلَيْهِ إِسْنَادُ خَبَرٍ أَوْ سُئِلَ عَنْ عِلَّةٍ تَتَعَلَّقُ بِأَثَرٍ؛ تَحَيَّرَ وَاخْتَلَطَ وَعَبَثَ بِلِحْيَتِهِ وَامْتَخَطَ، تَوْرِيَةً عَنْ مَسْتُورِ جَهَالَتِهِ، فَهُوَ كَالْحِمَارِ فِي طَاحُونَتِهِ، ثُمَّ رَأَى مِمَّنْ يَحْفَظُ الْحَدِيثَ وَيُعَانِيهِ مَا لَيْسَ فِي وُسْعِهِ الْجَرَيَانُ فِيهِ، فَلَجَأَ إِلَى الِازْدِرَاءِ بِفِرْسَانِهِ، وَاعْتَصَمَ بِالطَّعْنِ عَلَى الرَّاكِضِينَ فِي مَيْدَانِهِ
এমন ব্যক্তির মাধ্যমে যে নিজের পাণ্ডুলিপিই ঠিকমতো পড়তে পারে না এবং রিওয়ায়াতের কোনো শর্তই পালন করে না; এমনকি সে শ্রবণ (সামা') ও ইজাযতের মাঝে কোনো পার্থক্য করতে পারে না এবং মুসনাদ, মুরসাল, মাকতু ও মুত্তাসিল হাদীসের মাঝেও বিভেদ করতে জানে না। সে তার সেই শায়খের নামও স্মরণ রাখে না যিনি তাকে হাদীস শুনিয়েছেন, যতক্ষণ না সে অন্য কারো থেকে তা নিশ্চিত হয়। তারা এমন ব্যক্তির থেকে হাদীস লিখে নেয় যে তার কর্মে পাপাচারী, তার মাযহাবে নিন্দনীয় এবং তার দ্বীনের ক্ষেত্রে বিদআতী, যার আকিদার ভ্রষ্টতা সুনিশ্চিত। তারা একে বৈধ মনে করে এবং তার বর্ণিত হাদীসের ওপর আমল করা ওয়াজিব বলে গণ্য করে, যদি শ্রবণ সাব্যস্ত থাকে এবং সনদ প্রাচীন ও উচ্চপর্যায়ের হয়। তাদের এই কর্মকাণ্ড পূর্ববর্তী আলেমদের (সালাফ) প্রতি কটূক্তির পথ তৈরি করে দিয়েছে এবং বিদআতী ও কুপ্রবৃত্তির অনুসারীদের জন্য তাদের ওপর অপবাদ দেওয়ার পথ সুগম করে দিয়েছে। এমনকি দ্বীনের ফতোয়া প্রদানের দায়িত্বে নিয়োজিত এমন কিছু ব্যক্তিও হাদীস ও এর অনুসারীদের নিন্দা করতে শুরু করেছে, যারা আত্মমুগ্ধতায় বিভোর হয়ে নিজেদেরকে মুজতাহিদ ইমামদের অন্তর্ভুক্ত মনে করে। তারা আসার (হাদীস ও বর্ণনা) থেকে মুখ ফিরিয়ে তুচ্ছ রায়ের (ব্যক্তিগত অভিমত) দিকে ঝুঁকে পড়েছে এবং তাদের ত্রুটিপূর্ণ ইজতিহাদের মাধ্যমে দ্বীনের ওপর হুকুম জারি করছে। এটি তাদের চরম মূর্খতা এবং শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা থেকে বিচ্যুত হওয়ার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। তারা এমন এক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত যারা জ্ঞান অন্বেষণের পরিশ্রম এবং এর পথে কষ্ট ও ক্লান্তি সহ্য করতে ভয় পায়। হাদীস মুখস্থ করা তাদের জন্য দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে এবং সনদসমূহের বিভিন্নতা তাদের বিভ্রান্তিতে ফেলেছে, ফলে তারা তা আয়ত্ত করতে পারেনি। তাই যা তারা কষ্টকর মনে করেছে তা এড়িয়ে চলেছে, আর যে বিষয়ে তারা অজ্ঞ ছিল তার শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা আয়েশ ও আরাম-আয়েশকে প্রাধান্য দিয়েছে। অতঃপর তারা যোগ্য হওয়ার পূর্বেই মজলিসসমূহে প্রধানের আসন দখল করেছে এবং যে ইলম তারা ভালোভাবে আয়ত্ত করতে পারেনি, তা নিয়েই সমালোচনা শুরু করেছে। যদি তাদের কেউ কোনো হাদীস বর্ণনা করতে চায়, তবে তা তার ক্রয়কৃত বইপত্র থেকে করে; কোনো শ্রবণ (সামা') বা বর্ণনাকারীর অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা ছাড়াই তা সংগ্রহের কষ্ট থেকে মুক্ত হয়ে সরাসরি তার হস্তগত হয়েছে। আর যদি সে এর কিছু অংশ মুখস্থও করে, তবে সে অসার বিষয়কে সারবান বিষয়ের সাথে মিশিয়ে ফেলে এবং সহীহ হাদীসকে ত্রুটিপূর্ণ হাদীসের সাথে গুলিয়ে ফেলে। আর যদি তার সামনে কোনো সংবাদের সনদ উল্টে দেওয়া হয় অথবা কোনো বর্ণনা সংশ্লিষ্ট সূক্ষ্ম ত্রুটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়, তবে সে কিংকর্তব্যবিমূঢ় ও বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে এবং নিজের লুক্কায়িত মূর্খতা ঢাকতে দাড়ি নিয়ে নাড়াচাড়া করে ও নাক ঝাড়ে। সে যেন তার ঘানির ওপর ঘুরপাক খাওয়া এক গাধা। অতঃপর সে যখন হাদীস মুখস্থকারী ও এর পেছনে কঠোর শ্রম দানকারীদের এমন সাফল্য দেখতে পায় যা অর্জন করা তার সাধ্যাতীত, তখন সে এই ময়দানের বীরদের তুচ্ছজ্ঞান করার আশ্রয় নেয় এবং এই ময়দানে ধাবমান অশ্বারোহীদের সমালোচনায় লিপ্ত হয়।
(খণ্ড: ১) আল-কিফায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ লিল খাতীব আল-বাগদাদী (পৃষ্ঠা: ٤)
كَمَا أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ جَعْفَرٍ الْخِرَقِيُّ أنا أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ سَلْمٍ الْخُتُلِّيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ الْأَبَّارُ ، قَالَ: " رَأَيْتُ بِالْأَهْوَازِ رَجُلًا قَدْ
যেমন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মাদ ইবন উমর ইবন জাফর আল-খিরাকি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ ইবন জাফর ইবন মুহাম্মাদ ইবন সালম আল-খুতুল্লি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল আব্বাস আহমাদ ইবন আলি আল-আব্বার, তিনি বলেন: "আমি আহওয়াজে এমন এক ব্যক্তিকে দেখেছি যে...
(খণ্ড: ১) আল-কিফায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ লিল খাতীব আল-বাগদাদী (পৃষ্ঠা: ٥)
حَفَّ شَارِبَهُ ، وَأَظُنُّهُ قَدِ اشْتَرَى كُتُبًا وَتَعَبَّأَ لِلْفُتْيَا ، فَذَكَرُوا أَصْحَابَ الْحَدِيثِ ، فَقَالَ: لَيْسُوا بِشَيْءٍ ، وَلَيْسَ يَسْوُونَ شَيْئًا ، فَقُلْتُ لَهُ: أَنْتَ لَا تُحْسِنُ تُصَلِّي. قَالَ: أَنَا؟ قُلْتُ: نَعَمْ. قُلْتُ: إِيشْ تَحْفَظُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا افْتَتَحْتَ الصَّلَاةَ وَرَفَعْتَ يَدَيْكَ؟ فَسَكَتَ ، فَقُلْتُ: فَإِيشْ تَحْفَظُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا وَضَعْتَ يَدَيْكَ عَلَى رُكْبَتَيْكَ؟ فَسَكَتَ ، قُلْتُ: إِيشْ تَحْفَظُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا سَجَدْتَ؟ فَسَكَتَ ، قُلْتُ: مَا لَكَ لَا تَتَكَلَّمُ؟ أَلَمْ أَقُلْ لَكَ: إِنَّكَ لَا تُحْسِنُ تُصَلِّي؟ أَنْتَ إِنَّمَا قِيلَ لَكَ: تُصَلَّى الْغَدَاةُ رَكْعَتَيْنِ ، وَالظُّهْرُ أَرْبَعًا ، فَالْزَمْ ذَا خَيْرٌ لَكَ مِنْ أَنْ تَذْكُرَ أَصْحَابَ الْحَدِيثِ ، فَلَسْتَ بِشَيْءٍ وَلَا تُحْسِنُ شَيْئًا " فَهَذَا الْمَذْكُورُ مَثَلُهُ فِي الْفُقَهَاءِ كَمَثَلِ مَنْ تَقَدَّمَ ذِكْرُنَا لَهُ مِمَّنِ انْتَسَبَ إِلَى الْحَدِيثِ وَلَمْ يَعْلَقْ بِهِ مِنْهُ غَيْرُ سَمَاعِهِ وَكُتُبِهِ ، دُونَ نَظَرِهِ فِي أَنْوَاعِ عِلْمِهِ. وَأَمَّا الْمُحَقِّقُونَ فِيهِ الْمُتَخَصِّصُونَ بِهِ فَهُمُ الْأَئِمَّةُ الْعُلَمَاءُ ، وَالسَّادَةُ الْفُهَمَاءُ ، أَهْلُ الْفَضْلِ وَالْفَضِيلَةِ وَالْمَرْتَبَةِ الرَّفِيعَةِ ، حَفِظُوا عَلَى الْأُمَّةِ أَحْكَامَ الرَّسُولِ ، وَأَخْبَرُوا عَنْ أَنْبَاءِ التَّنْزِيلِ ، وَأَثْبَتُوا نَاسِخَهُ وَمَنْسُوخَهُ ، وَمَيَّزُوا مُحْكَمَهُ وَمُتَشَابِهَهُ ، وَدَوَّنُوا أَقْوَالَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأَفْعَالَهُ ، وَضَبَطُوا عَلَى اخْتِلَافِ الْأُمُورِ أَحْوَالَهُ ، فِي يَقَظَتِهِ وَمَنَامِهِ ، وَقُعُودِهِ وَقِيَامِهِ ، وَمَلْبَسِهِ وَمَرْكَبِهِ ، وَمَأْكَلِهِ وَمَشْرَبِهِ ، حَتَّى الْقُلَامَةِ مِنْ ظُفْرِهِ مَا كَانَ يَصْنَعُ بِهَا ، وَالنُّخَاعَةِ مِنْ فِيهِ كَيْفَ كَانَ يَلْفِظُهَا ، وَقَوْلِهِ عِنْدَ كُلِّ فِعْلٍ يُحْدِثُهُ ، وَكَذَا كُلُّ مَوْقِفٍ يَشْهَدُهُ ، تَعْظِيمًا لِقَدْرِهِ صلى الله عليه وسلم ، وَمَعْرِفَةً بِشَرَفِ مَا ذُكِرَ عَنْهُ ، وَعُزِيَ إِلَيْهِ ، وَحَفِظُوا مَنَاقِبَ صَحَابَتِهِ ، وَمَآثِرَ عَشِيرَتِهِ ، وَجَاءُوا بِسِيَرِ الْأَنْبِيَاءِ ، وَمَقَامَاتِ الْأَوْلِيَاءِ ، وَاخْتِلَافِ الْفُقَهَاءِ ، وَلَوْلَا عِنَايَةُ أَصْحَابِ الْحَدِيثِ بِضَبْطِ السُّنَنِ وَجَمْعِهَا وَاسْتِنْبَاطِهَا مِنْ مَعَادِنِهَا وَالنَّظَرِ فِي طُرُقِهَا ، لَبَطَلَتِ الشَّرِيعَةُ ، وَتَعَطَّلَتْ أَحْكَامُهَا ، إِذْ كَانَتْ مَسْتَخْرَجَةً مِنَ الْآثَارِ الْمَحْفُوظَةِ ، وَمُسْتَفَادَةً مِنَ السُّنَنِ الْمَنْقُولَةِ ، فَمَنْ عَرَفَ لِلْإِسْلَامِ حَقَّهُ وَأَوْجَبَ لِلدِّينِ حُرْمَتَهُ ، أَكْبَرَ أَنْ يَحْتَقِرَ مَنْ عَظَّمَ اللَّهُ

সে তার গোঁফ ছেঁটেছিল এবং আমার ধারণা সে কিছু বই কিনেছিল এবং ফতোয়া দেওয়ার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেছিল। অতঃপর তারা আহলে হাদিসের (হাদিস বিশারদদের) কথা উল্লেখ করলে সে বলল: তারা কিছুই নয় এবং তারা কোনো কিছুরই যোগ্য নয়। আমি তাকে বললাম: তুমি তো ঠিকমতো সালাত আদায় করতেই পারো না। সে বলল: আমি? আমি বললাম: হ্যাঁ। আমি বললাম: তুমি যখন সালাত শুরু করো এবং তোমার হাত উঠাও, তখন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে কী মুখস্থ রেখেছ? সে চুপ থাকল। আমি বললাম: তবে তুমি যখন তোমার দুই হাত হাঁটুর ওপর রাখো, তখন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে কী মুখস্থ রেখেছ? সে চুপ থাকল। আমি বললাম: তুমি যখন সাজদাহ করো, তখন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে কী মুখস্থ রেখেছ? সে চুপ থাকল। আমি বললাম: তোমার কী হয়েছে যে কথা বলছ না? আমি কি তোমাকে বলিনি যে তুমি ঠিকমতো সালাত আদায় করতে পারো না? তোমাকে তো কেবল বলা হয়েছে যে, ফজরের সালাত দুই রাকাত এবং জোহরের সালাত চার রাকাত; সুতরাং এটিই আঁকড়ে ধরো, এটি আহলে হাদিসের সমালোচনা করার চেয়ে তোমার জন্য উত্তম। তুমি তো কিছুই নও এবং তুমি কোনো কিছুতেই দক্ষ নও। ফকিহদের মধ্যে এই ব্যক্তির উদাহরণ ঠিক তেমনই যেমনটা আমরা ইতিপূর্বে হাদিসের সাথে সম্পৃক্ত সেই ব্যক্তিদের কথা উল্লেখ করেছি, যাদের কাজ কেবল শোনা এবং কিতাব জমা করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, কিন্তু তারা হাদিসের বিভিন্ন প্রকার জ্ঞান নিয়ে গবেষণা করেনি। আর যারা এতে প্রকৃত গবেষক ও বিশেষজ্ঞ, তারাই হলেন ইমাম, আলিম এবং প্রাজ্ঞ নেতৃবৃন্দ; তারা মর্যাদা, শ্রেষ্ঠত্ব ও সুউচ্চ মাকামের অধিকারী। তারা উম্মতের জন্য রাসুলের বিধানসমূহ সংরক্ষণ করেছেন, ওহির সংবাদসমূহ বর্ণনা করেছেন, এর নাসেখ (রহিতকারী) ও মানসুখ (রহিত) প্রমাণ করেছেন এবং এর মুহকাম (সুস্পষ্ট) ও মুতাশাবিহ (অস্পষ্ট) এর মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করেছেন। তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণী ও কার্যাবলি লিপিবদ্ধ করেছেন এবং তাঁর জীবনের প্রতিটি বিষয়ের অবস্থা নিখুঁতভাবে সংরক্ষণ করেছেন—তাঁর জাগ্রত ও নিদ্রিত অবস্থা, তাঁর উপবেশন ও দণ্ডায়মান অবস্থা, তাঁর পোশাক ও বাহন এবং তাঁর পানাহার; এমনকি তাঁর নখের কর্তিত অংশ নিয়ে তিনি কী করতেন এবং তাঁর মুখনিঃসৃত কফ তিনি কীভাবে ফেলতেন তাও তারা বাদ দেননি। প্রতিটি কাজ করার সময় এবং প্রতিটি অবস্থানে উপস্থিতির সময়কার তাঁর বাণীসমূহ তারা সংরক্ষণ করেছেন কেবল তাঁর সুমহান মর্যাদার প্রতি সম্মান প্রদর্শনপূর্বক এবং তাঁর থেকে যা বর্ণিত ও সম্পৃক্ত হয়েছে তার শ্রেষ্ঠত্ব উপলব্ধির কারণে। তারা তাঁর সাহাবিদের গুণাবলি এবং তাঁর আত্মীয়-স্বজনের অবদানসমূহ সংরক্ষণ করেছেন। তারা নবীদের জীবনচরিত, আউলিয়াদের মাকামাত এবং ফকিহদের মতপার্থক্যসমূহ বর্ণনা করেছেন। আহলে হাদিসগণ যদি সুন্নাহসমূহ যথাযথভাবে সংরক্ষণ, সংকলন, তার উৎস থেকে তা আহরণ এবং সেগুলোর সূত্রসমূহ পর্যালোচনায় যত্নবান না হতেন, তবে শরিয়ত বিলুপ্ত হয়ে যেত এবং এর বিধানসমূহ অকেজো হয়ে পড়ত। কেননা শরিয়তের বিধানসমূহ তো সংরক্ষিত বর্ণনা থেকেই উদ্ভূত এবং বর্ণিত সুন্নাহ থেকেই গৃহীত। সুতরাং যে ব্যক্তি ইসলামের হক চেনে এবং দ্বীনের সম্মান রক্ষাকে আবশ্যক মনে করে, সে আল্লাহ যাদের সম্মানিত করেছেন তাদের তুচ্ছ জ্ঞান করাকে গুরুতর অপরাধ মনে করবে।

(খণ্ড: ১) আল-কিফায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ লিল খাতীব আল-বাগদাদী (পৃষ্ঠা: ٦)
شَأْنَهُ وَأَعْلَى مَكَانَهُ ، وَأَظْهَرَ حُجَّتَهُ وَأَبَانَ فَضِيلَتَهُ ، وَلَمْ يَرْتَقِ بِطَعْنِهِ إِلَى حِزْبِ الرَّسُولِ وَأَتْبَاعِ الْوَحْيِ وَأَوْعِيَةِ الدِّينِ ، وَخَزَنَةِ الْعِلْمِ ، الَّذِينَ ذَكَرَهُمُ اللَّهُ تَعَالَى فِي كِتَابِهِ ، فَقَالَ {وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ} [التوبة: 100] وَكَفَى الْمُحَدِّثَ شَرَفًا أَنْ يَكُونَ اسْمُهُ مَقْرُونًا بِاسْمِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، وَذِكْرُهُ مُتَّصِلًا بِذِكْرِهِ {ذَلِكَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ} [الحديد: 21] ، وَالْوَاجِبُ عَلَى مَنْ خَصَّهُ اللَّهُ تَعَالَى بِهَذِهِ الْمَرْتَبَةِ ، وَبَلَّغَهُ إِلَى هَذِهِ الْمَنْزِلَةِ ، أَنْ يَبْذُلَ مَجْهُودَهُ فِي تَتَبُّعِ آثَارِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَسُنَّتِهِ ، وَطَلَبِهَا مِنْ مَظَانِّهَا ، وَحَمْلِهَا عَنْ أَهْلِهَا ، وَالتَّفَقُّهِ بِهَا وَالنَّظَرِ فِي أَحْكَامِهَا ، وَالْبَحْثِ عَنْ مَعَانِيهَا وَالتَّأَدُّبِ بِآدَابِهَا ، وَيَصْدِفَ عَمَّا يَقِلُّ نَفْعُهُ وَتَبْعُدُ فَائِدَتُهُ ، مِنْ طَلَبِ الشَّوَاذِّ وَالْمُنْكَرَاتِ ، وَتَتَبُّعِ الْأَبَاطِيلِ وَالْمَوْضُوعَاتِ ، وَيُوَفِّيَ الْحَدِيثَ حَقَّهُ مِنَ الدِّرَاسَةِ وَالْحِفْظِ وَالتَّهْذِيبِ وَالضَّبْطِ ، وَيَتَمَيَّزَ بِمَا تَقْتَضِيهِ حَالُهُ ، وَيَعُودُ عَلَيْهِ زَيْنُهُ وَجَمَالُهُ ، فَقَدْ
তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করেছেন এবং তাঁর স্থানকে উচ্চ করেছেন, তাঁর প্রমাণকে প্রকাশ করেছেন এবং তাঁর শ্রেষ্ঠত্বকে স্পষ্ট করেছেন। আর তাঁর নিন্দা রাসূলের দল, ওহীর অনুসারী, দ্বীনের ধারক এবং ইলমের ভাণ্ডারীদের পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি, যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: "আর যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তাঁরাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন" [আত-তাওবাহ: ১০০]। একজন মুহাদ্দিসের সম্মানের জন্য এটাই যথেষ্ট যে, তাঁর নাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামের সাথে যুক্ত এবং তাঁর আলোচনা রাসূলের আলোচনার সাথে সংশ্লিষ্ট। "এটা আল্লাহর অনুগ্রহ, যাকে ইচ্ছা তিনি তা দান করেন এবং আল্লাহ মহা অনুগ্রহের অধিকারী" [আল-হাদীদ: ২১]। আর আল্লাহ তাআলা যাকে এই মর্যাদায় ভূষিত করেছেন এবং এই উচ্চাসনে পৌঁছে দিয়েছেন, তাঁর ওপর অপরিহার্য হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আসার (নিদর্শন) এবং সুন্নাহ অনুসরণে নিজের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করা, এর সম্ভাব্য উৎসস্থল থেকে তা অন্বেষণ করা, এর যোগ্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে তা গ্রহণ করা, এর মাধ্যমে গভীর জ্ঞান অর্জন করা, এর বিধানসমূহ পর্যবেক্ষণ করা, এর অর্থ নিয়ে গবেষণা করা এবং এর আদবসমূহ দ্বারা সুশোভিত হওয়া। আর যার উপকার নগণ্য এবং যার সার্থকতা সুদূরপরাহত তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া—যেমন শায (দুর্লভ) ও মুনকার বর্ণনা অন্বেষণ করা এবং বাতিল ও জাল বর্ণনার অনুসরণ করা—এবং হাদীস চর্চা, মুখস্থ করা, পরিমার্জন ও যথাযথ সংরক্ষণের মাধ্যমে এর হক আদায় করা। আর তাঁর অবস্থার জন্য যা প্রয়োজন তা দ্বারা নিজেকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করা, যাতে এর শ্রী ও সৌন্দর্য তাঁর মাঝে ফুটে ওঠে। কেননা...
(খণ্ড: ১) আল-কিফায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ লিল খাতীব আল-বাগদাদী (পৃষ্ঠা: ٦)
أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ غَالِبٍ الْخُوَارَزْمِيُّ ، قَالَ: قُرِئَ عَلَى أَبِي أَحْمَدَ الْحُسَيْنِ بْنِ عَلِيٍّ التَّمِيمِيِّ وَأَنَا أَسْمَعُ حَدَّثَكُمْ مُحَمَّدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ، حَدَّثَنَا أَبُو الْخَصِيبِ الْمِصِّيصِيُّ إِمْلَاءً قَالَ: سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ الْمُغِيرَةِ يَقُولُ: سَمِعْتُ مَخْلَدَ بْنَ الْحُسَيْنِ يَقُولُ: «إِنْ كَانَ الرَّجُلُ لَيَسْمَعُ الْعِلْمَ الْيَسِيرَ فَيَسُودُ بِهِ أَهْلَ زَمَانِهِ ، يُعْرَفُ ذَلِكَ فِي صِدْقِهِ وَفِي وَرَعِهِ ، وَإِنَّهُ لَيَرْوِي الْيَوْمَ خَمْسِينَ أَلْفَ حَدِيثٍ لَا تَجُوزُ شَهَادَتُهُ عَلَى قَلَنْسُوَتِهِ»

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ ইবন মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন গালিব আল-খাওয়ারিজমি, তিনি বলেন: আবু আহমদ আল-হুসাইন ইবন আলী আত-তামিমীর নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শুনছিলাম, আপনাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবন আল-মুসাইয়্যিব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-খাসিব আল-মিসসীসী শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে, তিনি বলেন: আমি সাঈদ ইবন আল-মুগীরাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি মাখলাদ ইবন আল-হুসাইনকে বলতে শুনেছি: «নিশ্চয়ই এমন এক সময় ছিল যখন কোনো ব্যক্তি সামান্য ইলম বা জ্ঞান অর্জন করতেন এবং এর মাধ্যমেই তিনি তাঁর সমসাময়িকদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতেন; যা তাঁর সত্যবাদিতা ও পরহেজগারির মাধ্যমে প্রকাশ পেত। আর বর্তমানকালে কেউ হয়তো পঞ্চাশ হাজার হাদীস বর্ণনা করে, অথচ তার নিজের টুপির ব্যাপারেও তার সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়»

(খণ্ড: ১) আল-কিফায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ লিল খাতীব আল-বাগদাদী (পৃষ্ঠা: ٦)
أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْأُشْنَانِيُّ بِنَيْسَابُورَ، ثنا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ الْأَصَمُّ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الْحَكَمِ الْمِصْرِيُّ، أَنْبَأَنَا ابْنُ وَهْبٍ ، وَأَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ الْقَاسِمِ بْنِ الْحَسَنِ الشَّاهِدُ بِالْبَصْرَةِ وَاللَّفْظُ لَهُ، ثنا أَبُو رَوْقٍ الْهِزَّانِيُّ، ثنا بَحْرُ بْنُ نَصْرٍ الْخَوْلَانِيُّ، ثنا ابْنُ وَهْبٍ، ثنا يَحْيَى بْنُ سَلَّامٍ ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ مِقْسَمٍ ، عَنِ الْمَقْبُرِيِّ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ⦗ص: 7⦘: «أَشَدُّ النَّاسِ عَذَابًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَالِمٌ لَا يَنْفَعُهُ اللَّهُ بِعِلْمِهِ»
নিশাপুরে আবুবকর আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আল-উশনানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল আব্বাস মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব আল-আসাম্ম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুল হাকাম আল-মিসরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবন ওয়াহাব আমাদের অবহিত করেছেন। এবং বসরার আবু আল-হাসান আলী বিন আল-কাসিম বিন আল-হাসান আশ-শাহিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন এবং শব্দাবলী তাঁর, আবু রওক আল-হিজানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, বাহর বিন নাসর আল-খাওলানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবন ওয়াহাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া বিন সাল্লাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উসমান বিন মিকসাম থেকে, তিনি আল-মাকবুরি থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ৭⦘: «কিয়ামতের দিন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হবে সেই আলেম, যাকে আল্লাহ তাঁর জ্ঞান দ্বারা কোনো উপকার দান করেননি»।
(খণ্ড: ১) আল-কিফায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ লিল খাতীব আল-বাগদাদী (পৃষ্ঠা: ٧)
أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ حَمَّادٍ الْوَاعِظُ مَوْلَى بَنِي هَاشِمٍ قَالَ: ثنا أَبُو بَكْرٍ يُوسُفُ بْنُ يَعْقُوبَ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ الْبُهْلُولِ الْأَزْرَقُ إِمْلَاءً، حَدَّثَنِي جَدِّي أَبُو يَعْقُوبَ إِسْحَاقُ بْنُ الْبُهْلُولِ، ثنا سُفْيَانُ ، وَيَعْلَى ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ يَعْنِي ابْنَ أَبِي خَالِدٍ ، عَنْ قَيْسٍ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ـ رَفَعَهُ يَعْلَى وَوَقَفَهُ سُفْيَانُ ـ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا حَسَدَ إِلَّا فِي اثْنَتَيْنِ ، رَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ حِكْمَةً فَهُوَ يَقُولُ بِهَا ، وَرَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ مَا لًا فَهُوَ يُنْفِقُهُ فِي حَقِّهِ» وَأَنَا أَذْكُرُ بِمَشِيئَةِ اللَّهِ تَعَالَى وَتَوْفِيقِهِ فِي هَذَا الْكِتَابِ مَا بِطَالِبِ الْحَدِيثِ حَاجَةٌ إِلَى مَعْرِفَتِهِ ، وَبِالْمُتَفَقِّهِ فَاقَةٌ إِلَى حِفْظِهِ وَدِرَاسَتِهِ ، مِنْ بَيَانِ أُصُولِ عَلْمِ الْحَدِيثِ وَشَرَائِطِهِ ، وَأَشْرَحُ مِنْ مَذَاهِبِ سَلَفِ الرُّوَاةِ وَالنَّقَلَةِ فِي ذَلِكَ مَا يَكْثُرُ نَفْعُهُ وُتَعُمُّ فَائِدَتُهُ ، وَيُسْتَدَلُّ بِهِ عَلَى فَضْلِ الْمُحَدِّثِينَ وَاجْتِهَادِهِمْ فِي حِفْظِ الدِّينِ ، وَنَفْيِهِمْ تَحْرِيفَ الْغَالِينَ ، وَانْتِحَالَ الْمُبْطِلِينَ ، بِبَيَانِ الْأُصُولِ مِنَ الْجَرْحِ وَالتَّعْدِيلِ ، وَالتَّصْحِيحِ وَالتَّعْلِيلِ ، وَأَقْوَالِ الْحُفَّاظِ فِي مُرَاعَاةِ الْأَلْفَاظِ ، وَحُكْمِ التَّدْلِيسِ وَالِاحْتِجَاجِ بِالْمَرَاسِيلِ ، وَالنَّقْلِ عَنْ أَهْلِ الْغَفْلَةِ وَمَنْ لَا يَضْبِطُ الرِّوَايَةَ ، وَذِكْرِ مَنْ يُرْغَبُ عَنِ السَّمَاعِ مِنْهُ لِسُوءِ مَذْهَبِهِ ، وَالْعَرْضِ عَلَى الرَّاوِي ، وَالْفَرَقِ بَيْنَ قَوْلِ «حَدَّثَنَا» وَأَخْبَرَنَا «وَأَنْبَأَنَا» ، وَجَوَازِ إِصْلَاحِ اللَّحْنِ وَالْخَطَأِ فِي الْحَدِيثِ ، وَوُجُوبِ الْعَمَلِ بِأَخْبَارِ الْآحَادِ ، وَالْحُجَّةِ عَلَى مَنْ أَنْكَرَ ذَلِكَ ، وَحُكْمِ الرِّوَايَةِ عَلَى الشَّكِّ وَغَلَبَةِ الظَّنِّ ، وَاخْتِلَافِ الرِّوَايَاتِ بِتَغَايُرِ الْعِبَارَاتِ ، وَمَتَى يَصِحُّ سَمَاعُ الصَّغِيرِ ، وَمَا جَاءَ فِي الْمُنَاوَلَةِ وَشَرَائِطِ صِحَّةِ الْإِجَازَةِ وَالْمُكَاتَبَةِ ، وَغَيْرِ ذَلِكَ مِمَّا يَقِفُ عَلَيْهِ مَنْ تَأَمَّلَهُ ، وَنَظَرَ فِيهِ إِذَا انْتَهَى إِلَيْهِ ، وَبِاللَّهِ أَسْتَعِينُ وَهُوَ حَسْبِي وَنِعْمَ الْوَكِيلُ

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবন হাম্মাদ আল-ওয়াইয, যিনি বনু হাশিমের আযাদকৃত দাস; তিনি বলেছেন: আমাদের কাছে আবু বকর ইউসুফ ইবন ইয়াকুব ইবন ইসহাক ইবন আল-বুহলুল আল-আযরাক শ্রুতলিপি প্রদানের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমার দাদা আবু ইয়াকুব ইসহাক ইবন আল-বুহলুল আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের কাছে সুফিয়ান এবং ইয়া’লা বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল অর্থাৎ ইবন আবি খালিদ থেকে, তিনি কায়স থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে—ইয়া’লা একে মারফু হিসেবে (রাসূল ﷺ পর্যন্ত) বর্ণনা করেছেন এবং সুফিয়ান একে মাওকুফ (সাহাবীর বক্তব্য হিসেবে) রেখেছেন—তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «কেবল দুটি বিষয়ে ঈর্ষা করা যায়: এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ হিকমত (প্রজ্ঞা) দান করেছেন এবং সে তা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয় (বা কথা বলে), আর অন্য এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ সম্পদ দান করেছেন এবং সে তা হকের পথে ব্যয় করে।» আর আমি মহান আল্লাহর ইচ্ছা ও তাওফিকে এই কিতাবে এমন সব বিষয় উল্লেখ করব যা একজন হাদিস অন্বেষণকারীর জন্য জানা প্রয়োজন এবং একজন ফকিহ বা আইনজ্ঞের জন্য যা মুখস্থ রাখা ও অধ্যয়ন করা জরুরি; যার মধ্যে থাকবে ইলমে হাদিসের মূলনীতি ও এর শর্তাবলীর বর্ণনা। এবং আমি বর্ণনাকারী ও সংগ্রাহক পূর্বসূরিদের (সালাফ) মাযহাবসমূহ হতে এমন বিষয় ব্যাখ্যা করব যা অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও ব্যাপকভাবে উপকারী হবে। এর মাধ্যমে মুহাদ্দিসগণের শ্রেষ্ঠত্ব এবং দ্বীন সংরক্ষণে তাদের কঠোর পরিশ্রমের প্রমাণ পাওয়া যাবে, এবং চরমপন্থীদের বিকৃতি ও বাতিলপন্থীদের মিথ্যাচার দূরীকরণে তাদের ভূমিকা প্রকাশ পাবে। এতে জারহ ও তা’দিল (সমালোচনা ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই), সহিহ ও ইলাল (ত্রুটিযুক্ত হাদিস) নির্ধারণের মূলনীতিসমূহ এবং শব্দ ও লফযের সংরক্ষণে হাফেজগণের বক্তব্য বর্ণিত হবে। আরও থাকবে তাদলিসের বিধান ও মুরসাল হাদিসের মাধ্যমে দলিল পেশ করার নিয়ম, এবং অমনোযোগী ও যাদের বর্ণনা নির্ভুল নয় তাদের থেকে হাদিস সংগ্রহের বিষয়টি। আরও উল্লেখ থাকবে তাদের কথা যাদের থেকে তাদের ভ্রান্ত মাযহাবের কারণে হাদিস শোনা বর্জন করা হয়, রাবীর কাছে হাদিস পেশ করার পদ্ধতি (আরয), এবং ‘হাদ্দাসানা’, ‘আখবারানা’ ও ‘আনবাআনা’ শব্দগুলোর প্রয়োগের মধ্যে পার্থক্য। হাদিসের ভাষাগত ভুল ও ত্রুটি সংশোধন করার বৈধতা, আখবারে আহাদ বা একক বর্ণনার ওপর আমল করা ওয়াজিব হওয়া এবং যারা এটি অস্বীকার করে তাদের বিরুদ্ধে দলিলসমূহও এখানে আলোচিত হবে। আরও থাকবে সন্দেহ ও প্রবল ধারণার ওপর ভিত্তি করে হাদিস বর্ণনার বিধান, শব্দের ভিন্নতার কারণে বর্ণনার ভিন্নতা, কখন অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুর হাদিস শ্রবণ শুদ্ধ হয়, এবং মুনওয়ালাহ ও ইজাযাহ ও মুকাতাবাহ শুদ্ধ হওয়ার শর্তাবলীসহ অন্যান্য বিষয়সমূহ যা পাঠকারী মনোযোগ সহকারে লক্ষ্য করলে বিস্তারিত জানতে পারবেন। আল্লাহর কাছেই আমি সাহায্য চাই, তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।

(খণ্ড: ১) আল-কিফায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ লিল খাতীব আল-বাগদাদী (পৃষ্ঠা: ٨)
‌‌بَابُ مَا جَاءَ فِي التَّسْوِيَةِ بَيْنَ حُكْمِ كِتَابِ اللَّهِ تَعَالَى وَحُكْمِ سَنَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، فِي وُجُوبِ الْعَمَلِ وَلُزُومِ التَّكْلِيفِ
আমল করা ওয়াজিব হওয়া এবং শরয়ী দায়িত্ব পালনের আবশ্যকতার ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর কিতাবের বিধান ও আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর বিধানের মধ্যে সমতা বিধান বিষয়ক পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১) আল-কিফায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ লিল খাতীব আল-বাগদাদী (পৃষ্ঠা: ٨)
أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ بَشَّارٍ النَّيْسَابُورِيُّ ، بِالْبَصْرَةِ، ثنا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مَحْمَوَيْهِ الْعَسْكَرِيُّ، ثنا سُلَيْمَانُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ الْبَهْرَانِيُّ، ثنا عَلِيُّ بْنُ عَيَّاشٍ ، وَأَبُو الْيَمَانِ ، قَالَا: حَدَّثَنَا حَرِيزُ بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي عَوْفٍ الْجُرَشِيُّ ، عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ مَعْدِ يكَرِبٍ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: " أَلَا إِنِّي أُوتِيتُ الْكِتَابَ وَمِثْلَهُ مَعَهُ ، أَلَا إِنِّي قَدْ أُوتِيتُ الْقُرْآنَ وَمِثْلَهُ ، أَلَا يُوشِكُ رَجُلٌ شَبْعَانُ عَلَى أَرِيكَتِهِ يَقُولُ: عَلَيْكُمْ بِهَذَا الْقُرْآنِ ، فَمَا وَجَدْتُمْ فِيهِ مِنْ حَلَالٍ فَأَحِلُّوهُ ، وَمَا وَجَدْتُمْ فِيهِ مِنْ حَرَامٍ فَحَرِّمُوهُ ، أَلَا لَا يَحِلُّ لَكُمْ لَحْمُ الْحِمَارِ الْأَهْلِيِّ ، وَلَا كُلُّ ذِي نَابٍ مِنَ السِّبَاعِ ، وَلَا لُقْطَةٌ مِنْ مَالِ مُعَاهَدٍ ، إِلَّا أَنْ يَسْتَغْنِيَ عَنْهَا صَاحِبُهَا "

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ আল-হাসান ইবন আলী ইবন আহমাদ ইবন বাশার আন-নাইসাবুরী, বসরায়; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবন মাহমাওয়াইহ আল-আসকারী; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুলাইমান ইবন আব্দুল হামিদ আল-বাহরানী; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবন আইয়াশ ও আবু আল-ইয়ামান; তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হারীজ ইবন উসমান; তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান ইবন আবী আওফ আল-জুরাশী, আল-মিকদাম ইবন মা’দিকারিব থেকে বর্ণিত, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "সাবধান! আমাকে কিতাব এবং তার সাথে তার অনুরূপ বস্তু দেওয়া হয়েছে। সাবধান! আমাকে কুরআন এবং তার অনুরূপ জিনিস প্রদান করা হয়েছে। সাবধান! অচিরেই এমন এক পেটভরা লোক আসবে, যে তার সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বসে বলবে: ‘তোমরা এই কুরআনকেই আঁকড়ে ধরো; এতে যা হালাল পাবে কেবল তাকেই হালাল মানবে এবং যা হারাম পাবে কেবল তাকেই হারাম মানবে।’ সাবধান! তোমাদের জন্য গৃহপালিত গাধার গোশত হালাল নয়, এবং হিংস্র পশুদের মধ্যে ছেদন দাঁত বিশিষ্ট কোনো প্রাণীও হালাল নয়, আর কোনো চুক্তিবদ্ধ অমুসলিমের হারানো প্রাপ্ত সম্পদও হালাল নয়, যতক্ষণ না তার মালিক তা থেকে অমুখাপেক্ষী হয় (বা তা বর্জন করে)।"

(খণ্ড: ১) আল-কিফায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ লিল খাতীব আল-বাগদাদী (পৃষ্ঠা: ٨)
أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بِشْرَانَ الْمُعَدِّلُ ، قَالَ: أنا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ الْبَخْتَرِيِّ الرَّزَّازُ ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ جَعْفَرِ بْنِ الزِّبْرِقَانِ، أنا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، ثنا مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، أَخْبَرَنِي الْحَسَنُ بْنُ جَابِرٍ ، أَنَّهُ سَمِعَ الْمِقْدَامَ بْنَ مَعْدِ يكَرِبٍ الْكِنْدِيَّ يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَرَّمَ أَشْيَاءَ ، فَذَكَرَ الْحُمُرَ الْإِنْسِيَّةَ ثُمَّ قَالَ: " يُوشِكُ رَجُلٌ مُتَّكِئٌ عَلَى أَرِيكَتِهِ يُحَدَّثُ بِالْحَدِيثِ مِنْ حَدِيثِي فَيَقُولُ: بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ كِتَابُ اللَّهِ ، فَمَا وَجَدْنَا حَلَالًا أَحْلَلْنَاهُ ، وَمَا وَجَدْنَا حَرَامًا حَرَّمْنَاهُ ، أَلَا وَإِنَّ مَا حَرَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِثْلُ مَا حَرَّمَ اللَّهُ عز وجل "

আবু আল-হুসাইন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন বিশরান আল-মুয়াদদিল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু জাফর মুহাম্মদ বিন আমর বিন আল-বাখতারী আর-রাজজাজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া বিন জাফর বিন আল-জিবরিকান আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, যায়িদ বিন আল-হুবাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুয়াবিয়া বিন সালিহ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আল-হাসান বিন জাবির আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি মিকদাম বিন মাদি কারিব আল-কিন্দিকে বলতে শুনেছেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কিছু বিষয় হারাম করতে শুনেছি, অতঃপর তিনি গৃহপালিত গাধার কথা উল্লেখ করলেন। এরপর তিনি বললেন: "শীঘ্রই এমন এক ব্যক্তি দেখা যাবে যে তার সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বসে থাকবে, তার নিকট আমার হাদিসসমূহের মধ্য হতে কোনো হাদিস বর্ণনা করা হলে সে বলবে: আমাদের ও তোমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাবই রয়েছে; তাতে আমরা যা হালাল পাবো তাকেই হালাল গণ্য করবো এবং যা হারাম পাবো তাকেই হারাম গণ্য করবো। সাবধান! নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা হারাম করেছেন তা মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর হারামকৃত বিষয়ের মতোই।"

(খণ্ড: ১) আল-কিফায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ লিল খাতীব আল-বাগদাদী (পৃষ্ঠা: ٨)
أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ أَيْضًا، أنا دَعْلَجُ بْنُ أَحْمَدَ، ثنا ابْنُ شِيرَوَيْهِ، ثنا إِسْحَاقُ وَهُوَ ابْنُ رَاهَوَيْهِ، أنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ ، ح وَأَخْبَرَنِي ⦗ص: 9⦘ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي الْفَتْحِ الْفَارِسِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ الزَّيَّاتِ ح وَأَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ طَلْحَةَ بْنِ مُحَمَّدٍ الْمُقْرِئُ ، وَأَبُو الْحُسَيْنِ أَحْمَدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ رَوْحٍ النَّهْرَوَانِيُّ وَاللَّفْظُ لِحَدِيثِهِمَا قَالَا: أنا أَبُو حَفْصِ بْنُ الزَّيَّاتِ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ نَاجِيَةَ، ثنا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ أَبُو حَفْصٍ الصَّيْرَفِيُّ، ثنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، ثنا مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ جَابِرٍ ، قَالَ: سَمِعْتُ الْمِقْدَامَ بْنَ مَعْدِ يكَرِبٍ يَقُولُ: حَرَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَشْيَاءَ يَوْمَ خَيْبَرَ ثُمَّ قَالَ: " يُوشِكُ رَجُلٌ مُتَّكِئٌ عَلَى أَرِيكَتِهِ يُحَدَّثُ بِحَدِيثِي فَيَقُولُ: بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ كِتَابُ اللَّهِ ، فَمَا وَجَدْنَا فِيهِ مِنْ حَلَالٍ اسْتَحْلَلْنَاهُ ، وَمَا وَجَدْنَا فِيهِ مِنْ حَرَامٍ حَرَّمْنَاهُ ، وَإِنَّ مَا حَرَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِثْلُ مَا حَرَّمَ اللَّهُ عز وجل "
আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহও আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, দালাজ ইবনে আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে শিরওয়াইহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসহাক—যিনি ইবনে রাহওয়াইহ—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, (হা) এবং আমাকে সংবাদ দিয়েছেন ⦗পৃষ্ঠা: ৯⦘ উবাইদুল্লাহ ইবনে আবুল ফাতহ আল-ফারিসী, আবু হাফস উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনুল যায়্যাত আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, (হা) এবং আবুল হাসান আলী ইবনে তালহা ইবনে মুহাম্মদ আল-মুকরী এবং আবুল হুসাইন আহমদ ইবনে উমর ইবনে রাউহ আন-নাহরাওয়ানী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—এবং হাদীসের শব্দাবলি তাঁদের বর্ণনারই—তাঁরা উভয়ে বলেন: আবু হাফস ইবনুল যায়্যাত আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে নাজিয়াহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উমর ইবনে আলী আবু হাফস আস-সাইরাফী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুআবিয়াহ ইবনে সালিহ আল-হাসান ইবনে জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মিকদাম ইবনে মাদী কারিবকে বলতে শুনেছি: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারের দিন বেশ কিছু জিনিস নিষিদ্ধ করেছিলেন, এরপর তিনি বললেন: "শীঘ্রই এমন একজন লোক আসবে যে তার সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বসে থাকবে, তার কাছে আমার কোনো হাদীস পৌঁছালে সে বলবে: 'আমাদের ও তোমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব বিদ্যমান, তাতে যা আমরা হালাল পাব কেবল সেটাকেই হালাল গণ্য করব এবং যা আমরা তাতে হারাম পাব কেবল সেটাকেই হারাম গণ্য করব।' অথচ নিশ্চিতভাবে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা হারাম করেছেন, তা মহান আল্লাহর হারাম করার অনুরূপ।"
(খণ্ড: ১) আল-কিফায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ লিল খাতীব আল-বাগদাদী (পৃষ্ঠা: ٩)
أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ أَبِي بَكْرِ بْنِ شَاذَانَ، أنا مُكْرَمُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ مُكْرَمٍ الْقَاضِي، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْوَلِيدِ بْنِ بُرْدٍ الْأَنْطَاكِيُّ ، قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى يَعْنِي ابْنَ الطَّبَّاعِ ، قَالَ: ثنا أَشْعَثُ بْنُ شُعْبَةَ الْمِصِّيصِيُّ، حَدَّثَنَا أَرْطَأَةُ بْنُ الْمُنْذِرِ ، قَالَ: سَمِعْتُ حَكِيمَ بْنَ عُمَيْرٍ ، يُحَدِّثُ عَنِ الْعِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَزَلَ خَيْبَرَ وَمَعَهُ مَنْ مَعَهُ مِنْ أَصْحَابِهِ ، وَمَكَرَ صَاحِبُ خَيْبَرَ مَكْرًا مَارِدًا فَأَقْبَلَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ ، أَلَكُمْ أَنْ تَذْبَحُوا حُمُرَنَا وَتَأْكُلُوا بَقَرَنَا وَتَضْرِبُوا نِسَاءَنَا وَتَدْخُلُوا بُيُوتَنَا ، فَغَضِبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ، فَقَالَ: " يَا ابْنَ عَوْفٍ ، قُمْ فَارْكَبْ فَرَسَكَ ، فَنَادِ فِي النَّاسِ: أَلَا إِنَّ الْجَنَّةَ لَا تَحِلُّ إِلَّا لمُؤْمِنٍ ، وَأَنِ اجْتَمِعُوا إِلَى الصَّلَاةِ " فَاجْتَمَعُوا فَصَلَّى بِهِمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قَامَ فَقَالَ: «بِحَسْبِ امْرِئٍ قَدْ شَبِعَ وَبَطِنَ وَهُوَ مُتَّكِئٌ عَلَى أَرِيكَتِهِ ، لَا يَظُنُّ أَنَّ لِلَّهِ حَرَامًا إِلَّا مَا فِي الْقُرْآنِ ، وَإِنِّي وَاللَّهِ قَدْ حَرَّمْتُ وَنَهَيْتُ وَوَعَظْتُ بِأَشْيَاءَ إِنَّهَا لَمِثْلُ الْقُرْآنِ أَوْ أَكْثَرُ ، لَا يَحِلُّ لَكُمْ مِنَ السِّبَاعِ كُلَّ ذِي نَابٍ ، وَلَا الْحُمُرَ الْأَهْلِيَّةَ وَلَا أَنْ تَدْخُلُوا بُيُوتَ أَهْلِ الْكِتَابِ ⦗ص: 10⦘ إِلَّا بِإِذْنٍ ، وَلَا أَكْلَ أَمْوَالِهِمْ إِلَّا مَا طَابُوا بِهِ نَفْسًا ، وَلَا ضَرْبَ نِسَائِهِمْ إِذَا أَعْطَوُا الَّذِي عَلَيْهِمْ»
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আল-হাসান ইবন আবি বকর ইবন শাযান, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুকরাম ইবন আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন মুকরাম আল-কাজী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবন আল-ওয়ালীদ ইবন বুরদ আল-আনতাকী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবন ঈসা অর্থাৎ ইবনুত তিব্বা‘, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আশআছ ইবন শু‘বা আল-মিসসীসী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আরত্বআহ ইবনুল মুনযির, তিনি বলেন: আমি হাকীম ইবন উমাইরকে আল-ইরবায ইবন সারিয়াহ থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারে অবতরণ করলেন এবং তাঁর সাথে তাঁর সাহাবীগণের যারা থাকার তাঁরাও ছিলেন। তখন খায়বারের অধিপতি অত্যন্ত ধূর্ততা ও অবাধ্যতা প্রদর্শন করল। সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বলল: হে মুহাম্মাদ, আপনাদের জন্য কি আমাদের গাধা জবাই করা, আমাদের গবাদিপশু ভক্ষণ করা, আমাদের নারীদের প্রহার করা এবং আমাদের গৃহে প্রবেশ করা বৈধ? এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাগান্বিত হলেন এবং বললেন: "হে ইবন আউফ, ওঠো এবং তোমার ঘোড়ায় আরোহণ করো, অতঃপর মানুষের মাঝে ঘোষণা করে দাও: জেনে রেখো, জান্নাত কেবল মুমিন ব্যতীত আর কারো জন্য বৈধ নয়, এবং তোমরা সালাতের জন্য সমবেত হও।" অতঃপর তারা সমবেত হলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। এরপর তিনি দাঁড়িয়ে বললেন: "সেই ব্যক্তির (বিপথগামিতার) জন্য এটাই যথেষ্ট যে, সে উদরপূর্তি করে তৃপ্ত অবস্থায় নিজ পালঙ্কে হেলান দিয়ে বসে থাকে এবং মনে করে যে, আল্লাহ তাআলা কুরআনে যা হারাম করেছেন তা ব্যতীত আর কোনো হারাম নেই। অথচ আল্লাহর শপথ! নিশ্চয়ই আমি অনেক বিষয় হারাম করেছি, নিষেধ করেছি এবং নসিহত করেছি যা কুরআনের সমতুল্য কিংবা তার চেয়েও অধিক। তোমাদের জন্য শিকারি দাঁত বিশিষ্ট কোনো হিংস্র প্রাণী হালাল নয়, গৃহপালিত গাধাও হালাল নয়, আর আহলে কিতাবদের গৃহে প্রবেশ করাও বৈধ নয় ⦗পৃষ্ঠা: ১০⦘ তাদের অনুমতি ব্যতীত। তদ্রূপ তাদের সম্পদ গ্রহণ করাও বৈধ নয় যতক্ষণ না তারা সন্তুষ্টচিত্তে তা প্রদান করে, আর তাদের নারীদের প্রহার করাও বৈধ নয় যখন তারা তাদের ওপর অর্পিত পাওনা পরিশোধ করে।"
(খণ্ড: ১) আল-কিফায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ লিল খাতীব আল-বাগদাদী (পৃষ্ঠা: ١٠)
أَخْبَرَنَا الْقَاضِي أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ أَحْمَدَ الْحِيرِيُّ بِنَيْسَابُورَ، ثنا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ الْأَصَمُّ، أنا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ ، قَالَ: نا الشَّافِعِيُّ، أنا سُفْيَانُ ، ح وَأَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ إِسْحَاقَ الْحَافِظُ بِأَصْبَهَانَ، ثنا أَبُو عَلِيٍّ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ الصَّوَّافُ ثنا بِشْرُ بْنُ مُوسَى، ثنا الْحُمَيْدِيُّ، ثنا سُفْيَانُ ، قَالَ: ثنا سَالِمٌ أَبُو النَّضْرِ ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي رَافِعٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " لَا أُلْفِيَنَّ أَحَدَكُمْ مُتَّكِئًا عَلَى أَرِيكَتِهِ ، يَأْتِيِهِ الْأَمْرُ مِنْ أَمْرِي مِمَّا أَمَرْتُ بِهِ أَوْ نَهَيْتُ عَنْهُ ، فَيَقُولُ: لَا نَدْرِي ، مَا وَجَدْنَا فِي كِتَابِ اللَّهِ اتَّبَعْنَاهُ " - لَفْظُ الْحُمَيْدِيِّ

নিশাপুরে কাজী আবু বকর আহমদ ইবনুল হাসান ইবনে আহমদ আল-হীরী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আল-আসাম আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, রাবী ইবনে সুলাইমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আশ-শাফিঈ আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। (অন্য সূত্রে) এবং ইসফাহানে হাফিয আবু নুআইম আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে ইসহাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আলী মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনুল হাসান আস-সাওওয়াফ আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, বিশর ইবনে মুসা আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, আল-হুমায়দী আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সালিম আবু আন-নাদর আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন উবাইদুল্লাহ ইবনে আবু রাফি থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমি যেন তোমাদের কাউকে তার সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বসা অবস্থায় এমন না পাই যে, তার নিকট আমার নির্দেশসমূহের মধ্য হতে কোনো বিষয় আসলো যা আমি করার আদেশ দিয়েছি অথবা যা হতে নিষেধ করেছি, আর সে তখন বলতে লাগলো: 'আমরা জানি না; আল্লাহর কিতাবে আমরা যা পাবো, আমরা কেবল তারই অনুসরণ করবো'।" - এটি হুমায়দীর বর্ণিত শব্দসমষ্টি।

(খণ্ড: ১) আল-কিফায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ লিল খাতীব আল-বাগদাদী (পৃষ্ঠা: ١٠)
أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْفَضْلِ الْقَطَّانُ، أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْبَغَوِيُّ، ثنا عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ النَّضْرِ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَهْمٍ الْأَنْطَاكِيُّ، ثنا أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَسْمَاءَ بْنِ خَارِجَةَ بْنِ حِصْنِ بْنِ حُذَيْفَةَ بْنِ بَدْرٍ (ح) وَأَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِسْحَاقَ الْخُرَاسَانِيُّ، ثنا أَبُو عَلِيٍّ الْحُسَيْنُ بْنُ أَحْمَدَ السَّرَّاجُ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَهْمٍ الْأَنْطَاكِيُّ، ثنا أَبُو إِسْحَاقَ الْفَزَارِيُّ ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ ، عَنْ سَالِمٍ أَبِي النَّضْرِ ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي رَافِعٍ ، عَنْ أَبِيهِ أَبِي رَافِعٍ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " لَا أَعْرِفَنَّ الرَّجُلَ يَأْتِيهِ الْأَمْرُ مِنْ أَمْرِي إِمَّا أَمَرْتُ بِهِ وَإِمَّا نَهَيْتُ عَنْهُ، فَيَقُولُ: مَا أَدْرِي مَا هَذَا؟ عِنْدَنَا كِتَابُ اللَّهِ لَيْسَ هَذَا فِيهِ " وَاللَّفْظُ لِابْنِ الْفَضْلِ

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন আল-ফদল আল-কাত্তান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন ইসহাক বিন ইব্রাহিম আল-বাগাভী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী বিন আহমাদ বিন আন-নাদর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন সাহম আল-আন্তাকী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইসহাক ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন আসমা বিন খারিজাহ বিন হিসন বিন হুজাইফাহ বিন বদর। (হ) এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হাসান বিন আবি বকর, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন ইসহাক আল-খুরাসানী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আলী আল-হুসাইন বিন আহমাদ আস-সাররাজ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন সাহম আল-আন্তাকী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইসহাক আল-ফাযারী, তিনি মালিক বিন আনাস হতে, তিনি সালিম আবি আন-নাদর হতে, তিনি উবাইদুল্লাহ বিন আবি রাফে হতে, তিনি তাঁর পিতা আবু রাফে হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি যেন অবশ্যই এমন কোনো ব্যক্তিকে না পাই যার নিকট আমার আদেশের কোনো বিষয় পৌঁছাবে—চাই আমি তা করার আদেশ দিয়েছি অথবা তা থেকে নিষেধ করেছি—অতঃপর সে বলবে: 'আমি জানি না এটি কী? আমাদের নিকট আল্লাহর কিতাব রয়েছে, এতে তো এটি নেই'।" আর শব্দাবলি ইবনুল ফদলের।

(খণ্ড: ১) আল-কিফায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ লিল খাতীব আল-বাগদাদী (পৃষ্ঠা: ١٠)
أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَسْنَوَيْهِ أَبُو سَعِيدٍ الْأَصْبَهَانِيُّ ، بِهَا ، قَالَ: ثنا أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ مَعْبَدٍ السِّمْسَارُ، ثنا عُمَرُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ السُّنِّيِّ أَبُو الْحُسَيْنِ الْبَغْدَادِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَعْيَنَ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْأَنْصَارِيُّ، ثنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُسْلِمٍ ، عَنِ الْحَسَنِ ، عَنْ يَزِيدَ الرَّقَاشِيِّ ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ ، قَالَ: قَالَ ⦗ص: 11⦘ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " لَعَلَّ أَحَدَكُمْ أَنْ يَأْتِيَهُ حَدِيثٌ مِنْ حَدِيثِي وَهُوَ مُتَّكِئٌ عَلَى أَرِيكَتِهِ فَيَقُولُ: دَعُونَا مِنْ هَذَا ، مَا وَجَدْنَا فِي كِتَابِ اللَّهِ اتَّبَعْنَا "
আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে হাসনাওয়াইহ আবু সাঈদ আল-আসফাহানি সেখানে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আহমাদ ইবনে জাফর ইবনে মাবাদ আস-সিমসার, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন উমর ইবনে আহমাদ ইবনে আস-সুন্নি আবু আল-হুসাইন আল-বাগদাদি, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আইয়ান, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-আনসারি, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইসমাইল ইবনে মুসলিম, হাসান থেকে, তিনি ইয়াজিদ আর-রাকাশি থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আল-মুনকাদির থেকে, তিনি জাবির ইবনে আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ⦗পৃষ্ঠা: ১১⦘ আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "সম্ভবত তোমাদের কারো নিকট আমার কোনো হাদিস পৌঁছাবে এমতাবস্থায় যে সে তার আসনে হেলান দিয়ে থাকবে, তখন সে বলবে: 'এসব ছাড়ো, আমরা আল্লাহর কিতাবে যা পেয়েছি কেবল তারই অনুসরণ করেছি'।"
(খণ্ড: ১) আল-কিফায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ লিল খাতীব আল-বাগদাদী (পৃষ্ঠা: ١١)
أَخْبَرَنِي أَبُو الْقَاسِمِ الْأَزْهَرِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُظَفَّرِ الْحَافِظُ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ خَلَّادٍ الْعَسْكَرِيُّ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ مُوسَى الدُّولَابِيُّ، حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ صُهَيْبٍ، ثنا عَبَّادُ بْنُ كَثِيرٍ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُنْكَدِرِ ، قَالَ: سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " أَلَا عَسَى رَجُلٌ أَنْ يَبْلُغَهُ عَنِّي حَدِيثٌ وَهُوَ مُتَّكِئٌ عَلَى أَرِيكَتِهِ فَيَقُولُ: لَا أَدْرِي مَا هَذَا ، عَلَيْكُمْ بِالْقُرْآنِ ، فَمَنْ بَلَغَهُ عَنِّي حَدِيثٌ فَكَذَّبَ بِهِ أَوْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ "

আবু আল-কাসিম আল-আজহারী আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, হাফিজ মুহাম্মদ ইবনুল মুজাফ্ফার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে খাল্লাদ আল-আসকারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে মুসা আদ-দুলাবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্বাদ ইবনে সুহাইব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্বাদ ইবনে কাসীর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহকে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "সাবধান! অচিরেই এমন এক ব্যক্তির দেখা মিলবে যার নিকট আমার পক্ষ থেকে কোনো হাদীস পৌঁছাবে, এমতাবস্থায় সে তার সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বসে থাকবে। অতঃপর সে বলবে: 'আমি জানি না এটা কী, তোমরা কেবল কুরআনকেই আঁকড়ে ধরো'। সুতরাং যার নিকট আমার পক্ষ থেকে কোনো হাদীস পৌঁছেছে এবং সে তা অস্বীকার করেছে অথবা আমার ওপর ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা আরোপ করেছে, সে যেন জাহান্নামে তার আবাসস্থল নির্ধারণ করে নেয়।"

(খণ্ড: ১) আল-কিফায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ লিল খাতীব আল-বাগদাদী (পৃষ্ঠা: ١١)
أَخْبَرَنِي الْحَسَنُ بْنُ أَبِي طَالِبٍ ، قَالَ: ثنا عُمَرُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عُثْمَانَ الْوَاعِظُ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ الْبُهْلُولِ، ثنا أَبِي، ثنا سَمُرَةُ بْنُ حُجْرٍ ، عَنْ حَمْزَةَ بْنِ أَبِي حَمْزَةَ النَّصِيبِيِّ ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، رضي الله عنهما قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " مَا بَالُ أَصْحَابِ الْحَشَايَا يُكَذِّبُونِي ، عَسَى أَحَدُكُمْ يَتَّكِئُ عَلَى فِرَاشِهِ يَأْكُلُ مِمَّا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَيْهِ ، فَيُؤْتَى يُحَدَّثُ عَنِّيَ الْأَحَادِيثَ ، يَقُولُ: لَا أَرَبَ لِي فِيهَا ، عِنْدَنَا كِتَابُ اللَّهِ ، مَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا ، وَمَا أَمَرَكُمْ بِهِ فَاتَّبِعُوهُ "

আল-হাসান ইবনে আবি তালিব আমাকে অবহিত করেছেন, তিনি বলেন: উমর ইবনে আহমাদ ইবনে উসমান আল-ওয়ায়িজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ ইবনে ইসহাক ইবনুল বুহলুল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সামুরাহ ইবনে হুজর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হামজাহ ইবনে আবি হামজাহ আন-নাসিবি থেকে, তিনি আমর ইবনে দিনার থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "বিছানায় হেলান দিয়ে থাকা আরামপ্রিয় লোকদের কী হলো যে তারা আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করছে? তোমাদের কেউ হয়তো তার বিছানায় হেলান দিয়ে বসে আল্লাহ তাকে যা দান করেছেন তা থেকে আহার করবে, এমতাবস্থায় তার কাছে আমার কোনো হাদীস বর্ণনা করা হলে সে বলবে: 'এতে আমার কোনো প্রয়োজন নেই; আমাদের কাছে আল্লাহর কিতাব রয়েছে। তিনি (আল্লাহ) তোমাদের যা নিষেধ করেছেন তা বর্জন করো এবং যা আদেশ করেছেন তা অনুসরণ করো'।"

(খণ্ড: ১) আল-কিফায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ লিল খাতীব আল-বাগদাদী (পৃষ্ঠা: ١١)
أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، أنا أَبُو سَهْلٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زِيَادٍ الْقَطَّانُ، ثنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِسْحَاقَ الْقَاضِي، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَسْمَاءَ ، قَالَ: ثنا جُوَيْرِيَّةُ بْنُ أَسْمَاءَ ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ ، عَنِ الزُّهْرِيِّ ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ ، أَخْبَرَهُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ أَخْبَرَهُ قَالَ: قَالَ عُمَرُ: " إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى بَعَثَ مُحَمَّدًا ، وَأَنْزَلَ عَلَيْهِ الْكِتَابَ ، فَكَانَ فِيمَا أَنْزَلَ عَلَيْهِ آيَةُ الرَّجْمِ ، فَقَرَأْنَاهَا وَعَقَلْنَاهَا وَوَعَيْنَاهَا ، وَرَجَمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَرَجَمْنَا بَعْدَهُ ، وَأَخْشَى إِنْ طَالَ بِالنَّاسِ زَمَانٌ يَقُولُ رَجُلٌ: وَاللَّهِ مَا نَجِدُ آيَةَ الرَّجْمِ فِي كِتَابِ اللَّهِ؛ فَتُتْرَكَ فَرِيضَةٌ أَنْزَلَهَا اللَّهُ ، فَإِنَّ الرَّجْمَ فِي كِتَابِ اللَّهِ تَعَالَى حَقٌّ عَلَى مَنْ زَنَى إِذَا أُحْصِنَ مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ ، إِذَا قَامَتْ عَلَيْهِ الْبَيِّنَةُ أَوْ كَانَ الْحَبَلُ أَوِ الِاعْتِرَافُ "
আল-হাসান ইবনে আবু বকর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু সাহল আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে জিয়াদ আল-কাত্তান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইসমাঈল ইবনে ইসহাক আল-কাজী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আসমা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জুয়াইরিয়াহ ইবনে আসমা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মালিক ইবনে আনাস থেকে, তিনি আয-যুহরী থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উতবাহ ইবনে মাসউদ থেকে, তিনি তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস তাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: উমর (রা.) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা মুহাম্মদ (সা.)-কে পাঠিয়েছেন এবং তাঁর প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন। তাঁর প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তার মধ্যে রজমের (পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড) আয়াত ছিল। আমরা তা পাঠ করেছি, অনুধাবন করেছি এবং তা সংরক্ষণ করেছি। রাসূলুল্লাহ (সা.) রজম করেছেন এবং তাঁর পরে আমরাও রজম করেছি। আমার আশঙ্কা হয় যে, যদি মানুষের ওপর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয় তবে কোনো ব্যক্তি বলবে: 'আল্লাহর কসম! আমরা আল্লাহর কিতাবে রজমের আয়াত খুঁজে পাচ্ছি না'; ফলে তারা আল্লাহ কর্তৃক অবতীর্ণ একটি ফরয বিধান পরিত্যাগ করবে। নিশ্চয়ই আল্লাহর কিতাবে রজম করা ওই ব্যক্তির জন্য একটি অবধারিত হক, যে পুরুষ বা নারীর মধ্য থেকে বিবাহিত (মুহসান) অবস্থায় ব্যভিচার করেছে; যখন তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য-প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয় অথবা গর্ভধারণ পরিলক্ষিত হয় অথবা সে নিজে স্বীকারোক্তি প্রদান করে।"
(খণ্ড: ১) আল-কিফায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ লিল খাতীব আল-বাগদাদী (পৃষ্ঠা: ١٢)
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعْيَمٍ الْحَافِظُ ، نا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ، ثنا بِشْرُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ، ثنا سُفْيَانُ ، عَنْ مَنْصُورِ بْنِ الْمُعْتَمِرِ ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ النَّخَعِيِّ ، عَنْ عَلْقَمَةَ ، " أَنَّ امْرَأَةً ، مِنْ بَنِي أَسَدٍ أَتَتْ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ فَقَالَتْ: إِنَّهُ بَلَغَنِي أَنَّكَ لَعَنْتَ ذَيْتَ وَذَيْتَ وَالْوَاشِمَةَ وَالْمُسْتَوْشِمَةَ ، وَإِنِّي قَرَأْتُ مَا بَيْنَ اللَّوْحَيْنِ فَلَمْ أَجِدِ الَّذِي تَقُولُ ، وَإِنِّي لَأَظُنُّ عَلَى أَهْلِكَ مِنْهَا ، قَالَ: فَقَالَ لَهَا عَبْدُ اللَّهِ فَادْخُلِي فَانْظُرِي ، فَدَخَلَتْ فَنَظَرَتْ فَلَمْ تَرَ شَيْئًا ، ثُمَّ خَرَجَتْ فَقَالَتْ: لَمْ أَرَ شَيْئًا ، فَقَالَ لَهَا عَبْدُ اللَّهِ: أَمَا قَرَأْتِ {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} [الحشر: 7] قَالَتْ: بَلَى ، قَالَ: فَهُوَ ذَاكِ "
আবু নুআইম আল-হাফিজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মাদ ইবনে আহমদ ইবনুল হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, বিশর ইবনে মুসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-হুমাইদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি মনসুর ইবনুল মুতামির হতে, তিনি ইব্রাহিম আন-নাখয়ি হতে এবং তিনি আলকামা হতে বর্ণনা করেন যে, "বনু আসাদ গোত্রের এক নারী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদের নিকট এসে বললেন: আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে আপনি অমুক অমুককে এবং উলকি অংকনকারিণী ও উলকি গ্রহণকারিণীকে অভিশাপ দিয়েছেন। অথচ আমি দুই মলাটের মধ্যবর্তী সবটুকু (কুরআন) পড়েছি কিন্তু আপনি যা বলছেন তা পাইনি। আর আমি মনে করি আপনার স্ত্রীও এটি করেন। বর্ণনাকারী বলেন: তখন আব্দুল্লাহ তাকে বললেন, ‘তবে ভিতরে গিয়ে দেখ।’ এরপর নারীটি ভিতরে প্রবেশ করে দেখলেন কিন্তু কিছুই দেখতে পেলেন না। তারপর বের হয়ে এসে বললেন, ‘আমি তো কিছুই দেখতে পেলাম না।’ তখন আব্দুল্লাহ তাকে বললেন: ‘তুমি কি পড়নি— {রাসুল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো} [আল-হাশর: ৭]?’ তিনি বললেন: ‘হ্যাঁ, পড়েছি।’ আব্দুল্লাহ বললেন: ‘তবে এটিই সেই বিষয়’।"
(খণ্ড: ১) আল-কিফায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ লিল খাতীব আল-বাগদাদী (পৃষ্ঠা: ١٢)
أَخْبَرَنَا أَبُو سَعِيدٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُوسَى بْنِ الْفَضْلِ بْنِ شَاذَانَ الصَّيْرَفِيُّ بِنَيْسَابُورَ، حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ الْأَصَمُّ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ الصَّغَانِيُّ، حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، ثنا الْأَوْزَاعِيُّ ، عَنْ حَسَّانَ بْنِ عَطِيَّةَ ، قَالَ: «كَانَ جِبْرِيلُ يَنْزِلُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالسُّنَّةِ كَمَا يَنْزِلُ عَلَيْهِ بِالْقُرْآنِ ، يُعَلِّمُهُ إِيَّاهَا كَمَا يُعَلِّمُهُ الْقُرْآنَ»

নিশাপুরে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাঈদ মুহাম্মদ ইবনে মূসা ইবনুল ফদল ইবনে শাযান আস-সাইরাফী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আল-আসাম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আস-সাগানী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন রাওহ ইবনে উবাদাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আওযাঈ, হাসসান ইবনে আতিয়্যাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "জিবরাঈল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট সুন্নাহ নিয়ে অবতরণ করতেন যেভাবে তিনি তাঁর নিকট কুরআন নিয়ে অবতরণ করতেন এবং তিনি তাঁকে সুন্নাহ শিক্ষা দিতেন যেভাবে তাঁকে কুরআন শিক্ষা দিতেন।"

(খণ্ড: ১) আল-কিফায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ লিল খাতীব আল-বাগদাদী (পৃষ্ঠা: ١٢)
أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي طَاهِرٍ الدَّقَّاقُ، أنا أَبُو بَكْرٍ النَّجَّادُ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سُلَيْمَانَ، ثنا سَهْلُ بْنُ صَالِحٍ الْأَنْطَاكِيُّ، ثنا الْهَيْثَمُ بْنُ خَارِجَةَ، ثنا الْهَيْثَمُ بْنُ عِمْرَانَ ، قَالَ: سَمِعْتُ إِسْمَاعِيلَ بْنَ عُبَيْدِ اللَّهِ ، يَقُولُ: «يَنْبَغِي لَنَا أَنْ نَحْفَظَ حَدِيثَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَمَا نَحْفَظُ الْقُرْآنَ ، لِأَنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَقُولُ وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ»
আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন আবি তাহির আদ-দাক্কাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর আন-নাজ্জাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ বিন সুলাইমান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, সাহল বিন সলিহ আল-আন্তাকি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আল-হায়সাম বিন খারিজাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আল-হায়সাম বিন ইমরান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইসমাইল বিন উবাইদুল্লাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলতেন: "আমাদের উচিত আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস সেভাবে মুখস্থ করা যেভাবে আমরা কুরআন মুখস্থ করি, কারণ আল্লাহ তাআলা বলেন: 'আর রাসূল তোমাদের যা প্রদান করেন তা তোমরা গ্রহণ করো'।"
(খণ্ড: ১) আল-কিফায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ লিল খাতীব আল-বাগদাদী (পৃষ্ঠা: ١٢)
بَابُ تَخْصِيصِ السُّنَنِ لِعُمُومِ مُحْكَمِ الْقُرْآنِ وَذِكْرُ الْحَاجَةِ فِي الْمُجْمَلِ إِلَى التَّفْسِيرِ وَالْبَيَانِ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى {يُوصِيكُمُ اللَّهُ فِي أَوْلَادِكُمْ لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْأُنْثَيَيْنِ ، فَإِنْ كُنَّ ⦗ص: 13⦘ نِسَاءً فَوْقَ اثْنَتَيْنِ فَلَهُنَّ ثُلُثَا مَا تَرَكَ ، وَإِنْ كَانَتْ وَاحِدَةً فَلَهَا النِّصْفُ ، وَلِأَبَوَيْهِ لِكُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا السُّدُسُ مِمَّا تَرَكَ إِنْ كَانَ لَهُ وَلَدٌ ، فَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ وَلَدٌ وَوَرِثَهُ أَبَوَاهُ فَلِأُمِّهِ الثُّلُثُ} [النساء: 11] ، فَكَانَ ظَاهِرُ هَذِهِ الْآيَةِ يَدُلُّ عَلَى أَنَّ كُلَّ وَالِدٍ يَرِثُ وَلَدَهُ ، وَكُلَّ مَوْلُودٍ يَرِثُ وَالِدَهُ ، حَتَّى جَاءَتِ السُّنَّةُ بِأَنَّ الْمُرَادَ ذَلِكَ مَعَ اتِّفَاقِ الدِّينِ بَيْنَ الْوَالِدَيْنَ وَالْمَوْلُودِينَ ، وَأَمَّا إِذَا اخْتَلَفَ الدِّينَانِ فَإِنَّهُ مَانِعٌ مِنَ التَّوَارُثِ ، وَاسْتَقَرَّ الْعَمَلُ عَلَى مَا وَرَدَتْ بِهِ السُّنَّةُ فِي ذَلِكَ
সুন্নাহর মাধ্যমে কুরআনের অকাট্য সাধারণ বিধানকে সুনির্দিষ্টকরণ এবং অস্পষ্ট বিষয়ের ব্যাখ্যা ও বিবরণের প্রয়োজনীয়তা সংক্রান্ত অধ্যায়। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে নির্দেশ দিচ্ছেন—এক পুত্রের অংশ দুই কন্যার অংশের সমান; যদি ⦗পৃষ্ঠা: ১৩⦘ তারা দুইয়ের অধিক নারী হয় তবে তাদের জন্য ঐ সম্পদের দুই-তৃতীয়াংশ যা সে রেখে গেছে, আর যদি সে একজন হয় তবে তার জন্য অর্ধেক। আর তার পিতা-মাতার প্রত্যেকের জন্য ষষ্ঠাংশ ওই সম্পদ থেকে যা সে রেখে গেছে যদি তার সন্তান থাকে। আর যদি তার সন্তান না থাকে এবং তার পিতা-মাতাই তার উত্তরাধিকারী হয় তবে তার মায়ের জন্য এক-তৃতীয়াংশ।} [আন-নিসা: ১১]। এই আয়াতের বাহ্যিক অর্থ এই নির্দেশ দিচ্ছিল যে, প্রত্যেক পিতা তার সন্তানের এবং প্রত্যেক সন্তান তার পিতার উত্তরাধিকারী হবে, যতক্ষণ না সুন্নাহ এসে এটি স্পষ্ট করেছে যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যখন পিতা-মাতা ও সন্তানের ধর্ম এক হবে। আর যদি ধর্ম ভিন্ন হয়, তবে তা উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক। আর সুন্নাহর মাধ্যমে যা বর্ণিত হয়েছে তার ওপরই আমল সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-কিফায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ লিল খাতীব আল-বাগদাদী (পৃষ্ঠা: ١٣)
أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ رِزْقٍ الثَّانِي بِبَغْدَادَ، وَأَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي عَمْرٍو الْبَزَّازُ بِعُكْبَرَا وَأَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ هَارُونَ الْمُعَدِّلُ بِالنَّهْرَوَانِ قَالُوا: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ عُمَرَ بْنِ عَلِيِّ بْنِ حَرْبٍ الطَّائِيُّ، ثنا عَلِيُّ بْنُ حَرْبٍ، ثنا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ ، عَنِ الزُّهْرِيِّ ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ ، ح وَأَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ الْجَبَّارِ السُّكَّرِيُّ، أنا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ الصَّوَّافُ ، قَالَ: ثنا بِشْرُ بْنُ مُوسَى، ثنا الْحُمَيْدِيُّ، ثنا سُفْيَانُ، ثنا الزُّهْرِيُّ، أَخْبَرَنِي عَلِيُّ بْنُ حُسَيْنٍ ، عَنْ عَمْرِو بْنِ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا يَرِثُ الْمُسْلِمُ الْكَافِرَ وَلَا الْكَافِرُ الْمُسْلِمَ» وَقَالَ اللَّهُ تَعَالَى فِي الْمَرْأَةِ يُطَلِّقُهَا زَوْجُهَا ثَلَاثًا {فَلَا تَحِلُّ لَهُ مِنْ بَعْدُ حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ} [البقرة: 230] ، وَاحْتَمَلَ ذَلِكَ أَنْ يَكُونَ الْمُرَادُ بِهِ عَقْدَ النِّكَاحِ وَحْدَهُ ، وَاحْتَمَلَ أَنْ يَكُونَ الْمُرَادُ بِهِ الْعَقْدَ وَالْإِصَابَةَ مَعًا ، فَبَيَّنَتِ السُّنَّةُ أَنَّ الْمُرَادَ بِهِ الْإِصَابَةُ بَعْدَ الْعَقْدِ

আমাদেরকে বাগদাদে আবুল হাসান মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন রিজক আস-সানি, উকবারাতে আবু হাফস ওমর বিন আহমদ বিন আবি আমর আল-বাজজার এবং নাহরাওয়ানে আবুল হাসান আলী বিন আহমদ বিন হারুন আল-মুআদ্দিল সংবাদ দিয়েছেন; তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বিন ওমর বিন আলী বিন হারব আত-তাঈ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী বিন হারব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান বিন উয়াইনা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি যুহরী থেকে, তিনি আলী বিন আল-হুসাইন থেকে বর্ণনা করেছেন। (অন্য সূত্রে) এবং আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন ইয়াহইয়া বিন আব্দুল জব্বার আস-সুককারী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আল-হাসান আস-সাওয়াফ আমাদের অবহিত করেছেন, তিনি বলেন: বিশর বিন মুসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-হুমাইদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যুহরী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী বিন হুসাইন আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আমর বিন উসমান বিন আফফান থেকে, তিনি উসামা বিন যায়েদ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «একজন মুসলিম কোনো কাফিরের উত্তরাধিকারী হবে না এবং কোনো কাফিরও কোনো মুসলিমের উত্তরাধিকারী হবে না।» এবং মহান আল্লাহ সেই মহিলার বিষয়ে বলেছেন যাকে তার স্বামী তিন তালাক দিয়েছে: {সে তার জন্য আর বৈধ হবে না, যতক্ষণ না সে অন্য স্বামী গ্রহণ (নিকাহ) করে} [আল-বাকারা: ২৩০]। এক্ষেত্রে সম্ভাবনা ছিল যে, এর দ্বারা কেবল নিকাহর চুক্তি উদ্দেশ্য, আবার এটিও সম্ভব ছিল যে এর দ্বারা চুক্তি ও সহবাস উভয়ই উদ্দেশ্য। অতঃপর সুন্নাহ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো বিবাহের চুক্তির পর সহবাস।

(খণ্ড: ১) আল-কিফায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ লিল খাতীব আল-বাগদাদী (পৃষ্ঠা: ١٣)
أَخْبَرَنَا بِذَلِكَ الْقَاضِي أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ أَحْمَدَ الْحِرَشِيُّ، ثنا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ الْأَصَمُّ، أنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الْحَكَمِ، أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، حَدَّثَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ ، أَنَّ عَائِشَةَ ، زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَخْبَرَتْهُ أَنَّ رِفَاعَةَ الْقُرَظِيَّ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ فَبَتَّ طَلَاقَهَا ، فَتَزَوَّجَتْ بَعْدَهُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ الزُّبَيْرِ ، فَجَاءَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ⦗ص: 14⦘ فَقَالَتْ: " إِنَّهَا كَانَتْ تَحْتَ رِفَاعَةَ فَطَلَّقَهَا آخِرَ ثَلَاثِ تَطْلِيقَاتٍ ، فَتَزَوَّجَتْ بَعْدَهُ بِعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الزُّبَيْرِ وَإِنَّهُ وَاللَّهِ مَا مَعَهُ إِلَّا مِثْلُ هَذِهِ الْهُدْبَةِ وَأَخَذَتْ بِهُدْبَةٍ مِنْ جِلْبَابِهَا ، قَالَ: فَتَبَسَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ضَاحِكًا وَقَالَ: «لَعَلَّكِ تُرِيدِينَ أَنْ تَرْجِعِي إِلَى رِفَاعَةَ ، لَا ، حَتَّى يَذُوقَ عُسَيْلَتَكِ وَتَذُوقِي عُسَيْلَتَهُ» قَالَتْ: وَأَبُو بَكْرٍ جَالِسٌ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَخَالِدُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ الْعَاصِ جَالِسٌ بِبَابِ الْحُجْرَةِ ، لَمْ يُؤْذَنْ لَهُ فَطَفِقَ خَالِدٌ يُنَادِي أَبَا بَكْرٍ: أَلَا تَزْجُرُ هَذِهِ عَمَّا تَجْهَرُ بِهِ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُوا أَيْدِيَهُمَا} [المائدة: 38] ، فَكَانَ ظَاهِرُ هَذَا الْقَوْلِ يُوجِبُ الْقَطْعَ عَلَى كُلِّ سَارِقٍ بِسَرِقَتِهِ كَثُرَتْ أَوْ قَلَّتْ ، حَتَّى دَلَّتِ السُّنَّةُ أَنَّ الْمُرَادَ بِهِ بَعْضُ السُّرَّاقِ ، وَهُوَ مَنْ بَلَغَتْ سَرِقَتُهُ فِي الْقِيمَةِ رُبْعَ دِينَارٍ فَصَاعِدًا ، وَأَمَّا مَنْ لَمْ تَبْلُغْ قِيمَةُ سَرِقَتِهِ هَذَا الْقَدْرَ فَلَا قَطْعَ فِيهِ
বিচারক আবু বকর আহমদ বিন হাসান বিন আহমদ আল-হিরাশি আমাদের এই সংবাদ দিয়েছেন, আবু আল-আব্বাস মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব আল-আসাম আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন আবদিল হাকাম আমাদের জানিয়েছেন, আবদুল্লাহ বিন ওয়াহব আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, ইউনুস বিন ইয়াজিদ ইবনে শিহাব থেকে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, উরওয়াহ বিন যুবাইর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী আয়েশা তাকে জানিয়েছেন যে, রিফাআহ আল-কুরাজি তার স্ত্রীকে তালাক দিয়ে সম্পর্ক চূড়ান্তভাবে ছিন্ন করেন। এরপর তিনি তার পরিবর্তে আবদুর রহমান বিন যুবাইরকে বিবাহ করেন। অতঃপর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলেন ⦗পৃষ্ঠা: ১৪⦘ এবং বললেন: "আমি রিফাআহর বিবাহাধীনে ছিলাম, সে আমাকে তিন তালাকের শেষ তালাকটি দিয়ে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। এরপর আমি আবদুর রহমান বিন যুবাইরকে বিবাহ করেছি। আল্লাহর কসম, তার কাছে এই আঁচলের ঝালরের মতো (অক্ষম অঙ্গ) ছাড়া আর কিছুই নেই।" এই বলে তিনি নিজের চাদরের একটি ঝালর ধরলেন। রাবী বলেন: এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হাসলেন এবং বললেন: "সম্ভবত তুমি রিফাআহর কাছে ফিরে যেতে চাও? না, যতক্ষণ না সে তোমার মধুর স্বাদ গ্রহণ করে এবং তুমি তার মধুর স্বাদ গ্রহণ করো।" আয়েশা বলেন: তখন আবু বকর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপবিষ্ট ছিলেন এবং খালিদ বিন সাঈদ বিন আল-আস কক্ষের দরজায় বসা ছিলেন, তাকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তখন খালিদ আবু বকরকে ডেকে বলতে লাগলেন: "আপনি কি এই মহিলাকে বাধা দেবেন না সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে যা প্রকাশ করছে তা থেকে?" আর মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {পুরুষ চোর এবং নারী চোর, তাদের উভয়ের হাত কেটে দাও} [আল-মায়িদাহ: ৩৮]। এই বাণীর বাহ্যিক দাবি হলো প্রত্যেক চোরকেই তার চুরির কারণে হাত কাটার আওতাভুক্ত করা, চুরিকৃত মালের পরিমাণ কম হোক বা বেশি। শেষ পর্যন্ত সুন্নাহর প্রমাণাদি স্পষ্ট করেছে যে, এর দ্বারা নির্দিষ্ট কিছু চোর উদ্দেশ্য; আর সে হচ্ছে ওই ব্যক্তি যার চুরিকৃত মালের মূল্য এক চতুর্থাংশ দিনার বা তার অধিক হয়। পক্ষান্তরে যার চুরিকৃত মালের মূল্য এই পরিমাণে পৌঁছাবে না, তার ক্ষেত্রে হাত কাটার বিধান নেই।
(খণ্ড: ১) আল-কিফায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ লিল খাতীব আল-বাগদাদী (পৃষ্ঠা: ١٤)
أَخْبَرَنَا الْقَاضِي أَبُو عُمَرَ الْقَاسِمُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ الْهَاشِمِيُّ ، بِالْبَصْرَةِ، حَدَّثَنَا أَبُو عَلِيٍّ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَمْرٍو اللُّؤْلُؤِيُّ، ثنا أَبُو دَاوُدَ سُلَيْمَانُ بْنُ الْأَشْعَثِ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ ، وَوَهْبُ بْنُ بَيَانٍ ، قَالَا: ثنا قَالَ أَبُو دَاوُدَ: وَحَدَّثَنَا ابْنُ السَّرْحِ، أنا ابْنُ وَهْبٍ ، قَالَ: أَخْبَرَنِي يُونُسُ ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ ، عَنْ عُرْوَةَ ، وَعَمْرَةَ ، عَنْ عَائِشَةَ ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «تُقْطَعُ يَدُ السَّارِقِ فِي رُبْعِ دِينَارٍ فَصَاعِدًا» قَالَ أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ: «الْقَطْعُ فِي رُبْعِ دِينَارٍ فَصَاعِدًا» وَلِمَا ذَكَرْنَاهُ نَظَائِرُ كَثِيرَةٌ فِي الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ ، اقْتَصَرْنَا مِنْهَا عَلَى مَا أَوْرَدْنَاهُ
বিচারক আবু উমর আল-কাসিম ইবনে জাফর ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আল-হাশিমী বসরায় আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আলী মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে আমর আল-লু’লুয়ী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু দাউদ সুলাইমান ইবনুল আশ’আদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ ইবনে সালিহ এবং ওয়াহাব ইবনে বায়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেন: আবু দাউদ বলেছেন: এবং ইবনুস সারহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে ওয়াহাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইউনুস আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, ইবনে শিহাব থেকে, তিনি উরওয়াহ ও আমরাহ থেকে, তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «চোরের হাত কাটা হবে এক চতুর্থাংশ দিনার বা তদূর্ধ্ব মূল্যের সম্পদ চুরির ক্ষেত্রে।» আহমাদ ইবনে সালিহ বলেন: «হাত কাটা হবে এক চতুর্থাংশ দিনার বা তদূর্ধ্বের ক্ষেত্রে।» এবং আমরা যা উল্লেখ করেছি কিতাব ও সুন্নাহতে তার আরও অনেক অনুরূপ উদাহরণ রয়েছে; আমরা কেবল যা এখানে উপস্থাপন করেছি তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলাম।
(খণ্ড: ১) আল-কিফায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ লিল খাতীব আল-বাগদাদী (পৃষ্ঠা: ١٤)
أَخْبَرَنَا أَبُو سَعِيدٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُوسَى الصَّيْرَفِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ الْأَصَمُّ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ الصَّغَانِيُّ، حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ ، قَالَ: ثنا الْأَوْزَاعِيُّ ، عَنْ مَكْحُولٍ ، قَالَ: «الْقُرْآنُ أَحْوَجُ إِلَى السُّنَّةِ مِنَ السُّنَّةِ إِلَى الْقُرْآنِ» ، قَالَ: وَقَالَ يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ: السُّنَّةُ قَاضِيَةٌ عَلَى الْكِتَابِ وَلَيْسَ الْكِتَابُ قَاضِيًا عَلَى السُّنَّةِ "
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাঈদ মুহাম্মাদ ইবনে মুসা আস-সাইরাফি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল আব্বাস মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াকুব আল-আসাম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক আস-সাগানি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন রাওহ ইবনে উবাদাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আল-আওযায়ী বর্ণনা করেছেন মাকহুল থেকে, তিনি বলেন: “সুন্নাহর প্রতি কুরআনের মুখাপেক্ষিতা, কুরআনের প্রতি সুন্নাহর মুখাপেক্ষিতার চেয়েও অধিক।” তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর বলেছেন: “সুন্নাহ হলো কিতাবের ওপর ফয়সালাকারী, আর কিতাব সুন্নাহর ওপর ফয়সালাকারী নয়।”