(খণ্ড: ১) আল-ক্বানাআত লি ইবনিস সুন্নী (পৃষ্ঠা: -)
القناعة لابن السني   (ابن السني)

القسم: كتب السنة


الكتاب: القناعة السني

المؤلف: أحمد بن محمد بن إسحاق بن إبراهيم بن أسباط بن عبد الله بن إبراهيم بن بُدَيْح، الدِّيْنَوَريُّ، المعروف بـ «ابن السُّنِّي» (ت 364هـ)

المحقق: عبد الله بن يوسف الجديع

الناشر: مكتبة الرشد - الرياض

الطبعة: الأولى، 1409

عدد الصفحات: 90

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইবনুস সুন্নীর আল-কানায়াত   (ইবনুস সুন্নী)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: আল-কানায়াতুস সুন্নী

লেখক: আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন ইসহাক বিন ইবরাহিম বিন আসবাত বিন আব্দুল্লাহ বিন ইবরাহিম বিন বুদাইহ, আদ-দিনাওয়ারি, যিনি «ইবনুস সুন্নী» নামে পরিচিত (মৃত্যু: ৩৬৪ হিজরি)

সম্পাদক: আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ আল-জুদি’

প্রকাশক: মাকতাবাতুর রুশদ - রিয়াদ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৯

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯০

[কিতাবের নম্বরবিন্যাস মুদ্রণকপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-ক্বানাআত লি ইবনিস সুন্নী (পৃষ্ঠা: ৪০)
الْقَنَاعَةُ لِابْنِ السُّنِّيِّ أَخْبَرَنا الشَّيْخُ الْإِمَامُ الْحَافِظُ أَبُو طَاهِرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ السِّلَفِيُّ الْأََصْبَهَانِيُّ رضي الله عنه قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ، عَاشِرِ جُمَادَى الْأُولَى مِنْ سَنَةِ ثَلَاثٍ وَسَبْعِينَ وَخَمْسِمِائَةٍ بِثُغْرِ الْإِسْكَنْدَرِيَّةِ قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مُوسَى بْنِ مَرْدَوَيْهِ بْنِ فُورَكَ بْنِ جَعْفَرٍ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ بِأَصْبَهَانَ سَنَةَ إِحْدَى وَتِسْعِينَ وَأَرْبَعِمِائَةٍ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَلِيُّ بْنُ عُمَرَ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْأسَدَآبَاذِيُّ الْهَمَذَانِيُّ قِرَاءَةًُ عَلَيْهِ فِي شَعْبَانَ تِسْعَ عَشْرَةَ وَأَرْبَعِمِائَةٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ ابْنُ السٌُّنِّيِّ الْحَافِظُ قَالَ: هَذَا كِتَابٌ ذَكَرْتُ فِيهِ فَضْلَ الْقَنَاعَةِ وَصِفَتَهَا

 

1 - الْقَنَاعَةُ: الرِّضَا بِالْقَسْمِ يُقَالُ: قَنِعَ الرَّجُلُ قَنَاعَةً، إِذَا رَضِيَ

 

2 - وَقَالَ أَبُو ذُؤَيْبٍ الْهُذَلِيُّ:

وَالنَّفْسُ رَاغِبَةٌ إِذَا رَغَّبْتَهَا … وَإِذَا تُرَدُّ إِلَى قَلِيلٍ تَقْنَعُ

 

3 - وَقَالَ لَبِيدٌ:

فَمِنْهُمْ سَعِيدٌ آخِذٌ بِنَصِيبِهِ … وَمِنهُمْ شَقِيٌّ بِالْمَعِيشَةِ قَانِعُ

⦗ص: 41⦘

 

4 - وَقَالَ آخَرُ:

وَلِلرِّزْقِ أَسْبَابٌ تَرُوحُ وَتَغْتَدِي … وَإِنِّي مِنْهَا بَيْنَ غَادٍ وَرَائِحِ

قَنَعْتُ بِثَوْبِ الْعُدْمِ مِنْ حُلَّةِ الْغِنَا … وَمِنْ بَارِدٍ عَذْبٍ زُلَالٍ بِمَالِحِ

 

5 - وَقَالَ آخَرُ:

كُنْ بِمَا أُوتِيتَهُ مُقْتَنِعًا … تَقْتَفِي عَيْشَ الْقَنُوعِ الْمُكْتَفِي

كَسِرَاجٍ دُهْنُهُ قُوتٌ لَهُ … فَإَذَا غَرَّقْتَهُ فِيهِ طُفِي
ইবনুস সুন্নীর আল-কানায়াত (অল্পে তুষ্টি): শায়খ ইমাম হাফেয আবু তাহির আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আস-সিলাফী আল-আসবাহানী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) পাঠ করে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন এবং আমি তা শুনছিলাম শুক্রবার, ৫৭৩ হিজরি সনের ১০ই জুমাদাল উলা তারিখে আলেকজান্দ্রিয়া বন্দরে। তিনি বলেন: শায়খ আবু বকর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুসা ইবনে মারদাওয়াইহ ইবনে ফুরাক ইবনে জাফর পাঠ করে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন এবং আমি ৪৯১ হিজরি সনে আসবাহানে তা শুনছিলাম। আবুল কাসিম আলী ইবনে উমর ইবনে ইসহাক ইবনে ইবরাহিম আল-আসাদাবাদী আল-হামাদানী ৪১৯ হিজরির শাবান মাসে পাঠ করে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আবু বকর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে সুন্নী আল-হাফেয বলেন: এটি এমন একটি গ্রন্থ যাতে আমি অল্পে তুষ্টির ফযীলত ও এর স্বরূপ বর্ণনা করেছি।

 

১ - আল-কানায়াত: বন্টনকৃত রিযিকের ওপর সন্তুষ্ট থাকা। বলা হয়: 'লোকটি তুষ্ট হয়েছে', যখন সে সন্তুষ্ট হয়।

 

২ - আবু যুয়ায়েব আল-হুযালী বলেন:

নফস আকাঙ্ক্ষা করে যখন আপনি তাকে আকাঙ্ক্ষা করান … আর যখন তাকে অল্পের দিকে ফিরিয়ে আনা হয়, তখন সে তুষ্ট হয়।

 

৩ - লাবিদ বলেন:

তাদের মধ্যে কেউ সৌভাগ্যবান যে নিজের অংশ গ্রহণকারী … আর কেউ জীবিকার কষ্টে অল্পে তুষ্ট দুর্ভাগা।

⦗পৃষ্ঠা: ৪১⦘

 

৪ - অন্য একজন বলেন:

রিযিকের নানা মাধ্যম রয়েছে যা সকাল-সন্ধ্যায় আসা-যাওয়া করে … আর আমি সেগুলোর সকাল ও সন্ধ্যার মাঝে রয়েছি।

আমি ধনীদের রেশমি পোশাকের বদলে অভাবের বস্ত্রে সন্তুষ্ট হয়েছি … আর সুমিষ্ট সুশীতল স্বচ্ছ পানির বদলে নোনা পানিতে তুষ্ট হয়েছি।

 

৫ - অন্য একজন বলেন:

তোমাকে যা দান করা হয়েছে তাতে তুষ্ট থাকো … তবেই তুমি অল্পে তুষ্ট ও স্বাবলম্বী ব্যক্তির জীবন অনুসরণ করতে পারবে।

যেমন একটি প্রদীপ যার তেলই তার খাদ্য … কিন্তু যখন তুমি তাকে তাতে ডুবিয়ে দেবে, তখন সে নিভে যাবে।
(খণ্ড: ১) আল-ক্বানাআত লি ইবনিস সুন্নী (পৃষ্ঠা: ৪১)
6 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى الْمَوْصِلِيُّ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عِيسَى الْمِصْرِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ أَبِي هَانِي حُمَيْدِ بْنِ هَانِي، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَالِكٍ، عَنْ فَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ الْأَنْصَارِيِّ، سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «قَدْ أَفْلَحَ مَنْ هُدِيَ إِلَى الْإِسْلَامِ وَكَانَ عَيْشُهُ كَفَافًا وَقَنِعَ بِهِ»
৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইয়ালা আহমাদ ইবনে আলী ইবনুল মুসান্না আল-মাওসিলি, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে ঈসা আল-মিসরি, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে ওয়াহাব, তিনি আবু হানি হুমাইদ ইবনে হানি থেকে, তিনি আমর ইবনে মালিক থেকে, তিনি ফাদালা ইবনে উবাইদ আল-আনসারি থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: «সেই ব্যক্তি সফলকাম হয়েছে যাকে ইসলামের হিদায়াত দেওয়া হয়েছে, যার জীবনোপকরণ ছিল প্রয়োজন মাফিক এবং সে তাতেই তুষ্ট ছিল।»
(খণ্ড: ১) আল-ক্বানাআত লি ইবনিস সুন্নী (পৃষ্ঠা: ৪২)
7 - حَدَّثَنِي عِيسَى بْنُ أَحْمَدَ الصَّدَفِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَيْمُونٍ الْفَخَّارِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَحْيَى الْمَعَافِرِيُّ، حَدَّثَنَا حَيْوَةُ بْنُ شُرَيْحٍ، عَنْ أَبِي هَانِي، عَنْ أَبِي عَلِيٍّ الْجَنَبِيِّ، أَنَّهُ سَمِعَ فَضَالَةَ بْنَ عُبَيْدٍ، يَقُولُ أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «طُوبَى لِمَنْ هُدِيَ إِلَى الْإِسْلَامِ وَكَانَ عَيْشُهُ كَفَافًا وَقَنِعَ بِهِ»
৭ - ঈসা ইবনে আহমদ আস-সাদাফী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে মাইমুন আল-ফাখ্খারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াহইয়া আল-মাআফিরী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাইওয়াহ ইবনে শুরাইহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু হানি থেকে বর্ণিত, তিনি আবু আলী আল-জানাবী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ফাদালাহ ইবনে উবাইদকে বলতে শুনেছেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: «সেই ব্যক্তির জন্য সুসংবাদ যাকে ইসলামের পথে পরিচালিত করা হয়েছে, যার জীবনধারণের উপকরণ ছিল পর্যাপ্ত এবং সে তাতেই সন্তুষ্ট ছিল।»
(খণ্ড: ১) আল-ক্বানাআত লি ইবনিস সুন্নী (পৃষ্ঠা: ৪২)
8 - حَدَّثَنِي يُوسُفُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْفَرَجِ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ عَبْدَكَ، حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُقْرِيُّ، حَدَّثَنَا حَيْوَةُ، أَخْبَرَنِي أَبُو هَانِي، أَنَّ أَبَا عَلِيٍّ الْجَنَبِيَّ، أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ فَضَالَةَ بْنَ عُبَيْدٍ، يَقُولُ: أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «طُوبَى لِمَنْ هُدِيَ إِلَى الْإِسْلَامِ وَكَانَ عَيْشُهُ كَفَافًا وَقَنَّعَهُ اللَّهُ بِمَا آتَاهُ»
৮ - ইউসুফ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল ফারাজ আমাকে বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে আবদাক আমাদের বর্ণনা করেছেন, আবু আবদুর রহমান আল-মুকরি আমাদের বর্ণনা করেছেন, হাইওয়াহ আমাদের বর্ণনা করেছেন, আবু হানি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু আলী আল-জানাবি তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি ফাদালাহ ইবনে উবাইদকে বলতে শুনেছেন যে, তিনি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: «সুসংবাদ সেই ব্যক্তির জন্য যাকে ইসলামের দিশা দেওয়া হয়েছে, যার জীবনোপকরণ পর্যাপ্ত এবং আল্লাহ তাকে যা দান করেছেন তাতে তাকে তুষ্ট রেখেছেন»
(খণ্ড: ১) আল-ক্বানাআত লি ইবনিস সুন্নী (পৃষ্ঠা: ৪৩)
9 - أَنْشَدَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ أَبُو عُمَرَ، أَنْشَدَنَا ثَعْلَبٌ عَنِ ابْنِ الْأَعْرَابِيِّ:

[البحر الرجز]

لَا تَحْسَبِي دَرَاهِمَ ابْنَيْ مُدلِجِ … تَأْتِيكِ حَتَّى تُدْلِجِي وَتُولَجِي

فَاقْتَنِعِي بِالْعَرْفَج الْمُسَحَّجِ … وَبِالثُّمامِ وَعُرَامِ الْعَوْسَج
৯ - মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আবু উমর আমাকে কবিতা আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: ছালাব ইবনুল আরাবী থেকে আমাদের নিকট আবৃত্তি করেছেন:

[রাজায ছন্দ]

তুমি মনে করো না যে মুদলিযের দুই পুত্রের দিরহামসমূহ … তোমার কাছে আসবে যতক্ষণ না তুমি শেষ রাতে পথ চলো এবং (পরিশ্রমে) নিবিষ্ট হও

সুতরাং তুমি চূর্ণ-বিচূর্ণ আরফাজ উদ্ভিদ নিয়েই সন্তুষ্ট থাকো … এবং ছুমাম ও আওসাজ বৃক্ষের ছাল নিয়ে তুষ্ট থাকো
(খণ্ড: ১) আল-ক্বানাআত লি ইবনিস সুন্নী (পৃষ্ঠা: ৪৩)
10 - حَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ سَهْلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ، حَدَّثَنَا زَمْعَةُ بْنُ صَالِحٍ، قَالَ: كَتَبَ إِلَى أَبِي حَازِمٍ بَعْضُ بَنِي أُمَيَّةَ يَعْزِمُ عَلَيْهِ إِلَّا رَفَعَ إِلَيْهِ حَوَائِجَهُ، فَكَتَبَ إِلَيْهِ: أَمَّا بَعْدُ، فَقَدْ جَاءَنِي كِتَابَكَ تَعْزِمُ عَلَيَّ أَنْ أَرْفَعَ إِلَيْكَ حَوَائِجِي وَهَيْهَاتَ قَ قَدْ رَفَعْتُ حَوَائِجِي إِلَى رَبِّي، مَا أَعْطَانِي مِنْهَا قَبِلْتُ، وَمَا أَمْسَكَ عَلَيَّ مِنْهَا قَنِعْتُ
১০ - উমর বিন সাহল আমাকে বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন হাম্বল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমাকে বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া বিন আব্দুল মালিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যাম'আ বিন সালিহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বনু উমাইয়্যার জনৈক ব্যক্তি আবু হাজিমের নিকট পত্র লিখলেন এবং তাঁকে জোরালো অনুরোধ করলেন যে তিনি যেন তাঁর নিকট নিজের প্রয়োজনসমূহ পেশ করেন। তখন তিনি তাঁকে লিখে পাঠালেন: অতঃপর, আপনার পত্রটি আমার নিকট পৌঁছেছে যাতে আপনি আপনার নিকট আমার প্রয়োজনগুলো পেশ করতে আমাকে তাকিদ দিয়েছেন। হায়, কতোই না অসম্ভব! আমি তো আমার প্রয়োজনসমূহ আমার রবের নিকট পেশ করেছি। তিনি এর মধ্য থেকে আমাকে যা দান করেছেন তা আমি গ্রহণ করেছি, আর যা তিনি আমার জন্য আটকে রেখেছেন তাতে আমি তুষ্ট হয়েছি।
(খণ্ড: ১) আল-ক্বানাআত লি ইবনিস সুন্নী (পৃষ্ঠা: ৪৪)
‌‌بَابُ دُعَاءِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِالْقَنَاعَةِ
পরিচ্ছেদ: অল্পেতুষ্টির জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দোয়া
(খণ্ড: ১) আল-ক্বানাআত লি ইবনিস সুন্নী (পৃষ্ঠা: ৪৪)
11 - أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدٍ الْجَمَّالُ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمَّارٍ الرَّازِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الدَّشْتَكِيُّ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ أَبِي قَيْسٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عُمَارَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَدْعُو: «اللَّهُم قَنِّعْنِي بِمَا رَزَقْتَنِي، وَبَارِكْ لِي فِيهِ، وَاخْلُفْ عَلَى كُلِّ غَائِبَةٍ لِي بِخَيْرٍ»
১১ - আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ আল-জাম্মাল আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন মুহাম্মদ ইবনে আম্মার আর-রাজি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আবদুর রহমান ইবনে আবদুল্লাহ আদ-দাশতাকি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমর ইবনে আবি কাইস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আতা ইবনে আস-সাইব থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে উমারা থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবাইর থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই বলে দোয়া করতেন: «হে আল্লাহ, আপনি আমাকে যা রিযিক দিয়েছেন তাতে আমাকে তুষ্ট করুন, তাতে আমার জন্য বরকত দান করুন এবং আমার প্রতিটি অনুপস্থিত বিষয়ের বিপরীতে আমাকে কল্যাণের সাথে উত্তম বিনিময় দান করুন»
(খণ্ড: ১) আল-ক্বানাআত লি ইবনিস সুন্নী (পৃষ্ঠা: ৪৪)
12 - أَخْبَرَنِي أَبُو يَحْيَى، زَكَرِيَّا بْنُ يَحْيَى السَّاجِيُّ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَعِيدٍ الْهَمْدَانِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنَا الْحَارِثُ بْنُ نَبْهَانَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَدْعُو: «اللَّهُمَّ قَنِّعْنِي بِمَا رَزَقْتَنِي، وَبَارِكْ لِي فِيهِ، وَاخْلُفْنِي فِي كُلِّ غَائِبَةٍ لِي بِخَيْرٍ» وَكَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ يَدْعُو بِهَذَا الدُّعَاءِ
১২ - আবু ইয়াহইয়া যাকারিয়া ইবনে ইয়াহইয়া আস-সাজি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আহমাদ ইবনে সাঈদ আল-হামদানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে ওয়াহব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-হারিস ইবনে নাবহান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আতা ইবনে আস-সাইব থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবাইর থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই বলে দুআ করতেন: «হে আল্লাহ! আপনি আমাকে যে রিযিক দান করেছেন তাতে আমাকে তুষ্ট করুন, তাতে আমার জন্য বরকত দান করুন এবং আমার অগোচরে থাকা প্রতিটি বিষয়ে কল্যাণের সাথে আমার স্থলাভিষিক্ত হোন» এবং ইবনে আব্বাসও এই দুআটি করতেন।
(খণ্ড: ১) আল-ক্বানাআত লি ইবনিস সুন্নী (পৃষ্ঠা: ৪৫)
13 - أَخْبَرَنِي جَعْفَرُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ الْمَرْوَزِيُّ، حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ سَعِيدِ ابْنِ ابْنَةِ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ بْنِ وَاقِدٍ، حَدَّثَنِي جَدِّي عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ وَاقِدٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، حَدَّثَنِي عَطَاءُ بْنُ السَّائِبِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ: «اللَّهُمَّ قَنِّعْنِي بِمَا رَزَقْتَنِي، وَبَارِكْ لِي فِيهِ، وَاخْلُفْ عَلَى كُلِّ غَائِبَةٍ لِي بِخَيْرٍ»
১৩ - জাফর ইবনে ঈসা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, খালিদ ইবনে মাখলাদ আল-মারওয়াজি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, হুসাইন ইবনে সাঈদ—যিনি আলী ইবনে আল-হুসাইন ইবনে ওয়াকিদ-এর মেয়ের ঘরের পুত্র—আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আমার দাদা আলী ইবনে আল-হুসাইন ইবনে ওয়াকিদ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, আতা ইবনে আস-সাইব আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণিত, ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলতেন: «হে আল্লাহ! আপনি আমাকে যা রিযিক দিয়েছেন তাতে আমাকে তুষ্ট রাখুন, তাতে আমার জন্য বরকত দান করুন এবং আমার প্রতিটি অনুপস্থিত বিষয়ের বদলে আমাকে কল্যাণ দান করুন।»
(খণ্ড: ১) আল-ক্বানাআত লি ইবনিস সুন্নী (পৃষ্ঠা: ৪৫)
14 - أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ غَيْلَانَ، حَدَّثَنَا أَبُو هِشَامٍ الرِّفَاعِيُّ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ بُرْقَانَ، عَنْ مُعَاوِيَةَ، وَمَا بَعْدَهُ مُنْقَطِعٌ فِي كِتَابِ ابْنِ غَيْلَانَ، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، عَلِّمْنِي دُعَاءً أَنْتَفِعُ بِهِ قَالَ: «قُلِ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي، وَوَسِّعْ فِي خَلْقِي، وَبَارِكْ لِي فِي كَسْبِي، وَقَنِّعْنِي بِمَا رَزَقْتَنِي، وَلَا تَفْتِنِّي بِمَا زَوَيْتَ عَنِّي»

⦗ص: 46⦘

 

15 - وَأَنْشَدَ:

[البحر البسيط]

اصْبِرْ عَلَى كِسْرَةٍ وَمِلْحِ … فَالصَّبْرُ مِفْتَاحُ كُلِّ دَيْنِ

وَلَا تَعْرِضْ لِمَدْحِ قَومٍ … يَدْعُ إِلَى ذِلَّةٍ وَشَيْنِ

وَاقْنَعْ فَإِنَّ الْقَنُوعَ عِزٌّ … وَالذُلُّ فِي شَهْوَةٍ بِدَيْنِ
১৪ - মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন গাইলান আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আবু হিশাম আল-রিফায়ি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ওকি‘ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জাফর বিন বুরকান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুয়াবিয়া থেকে বর্ণিত—আর ইবনে গাইলানের কিতাবে এর পরবর্তী অংশটি বিচ্ছিন্ন (মুনকাতি‘)—তিনি বলেন: জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমাকে এমন একটি দোয়া শিখিয়ে দিন যার দ্বারা আমি উপকৃত হতে পারি। তিনি বললেন: «তুমি বলো: হে আল্লাহ, আপনি আমার গুনাহ ক্ষমা করুন, আমার শারীরিক অবস্থা ও চরিত্রে প্রশস্ততা দান করুন, আমার উপার্জনে বরকত দান করুন, আমাকে আপনি যা দান করেছেন তাতে তুষ্ট রাখুন, আর যা আমার থেকে সরিয়ে নিয়েছেন তা নিয়ে আমাকে ফিতনায় ফেলবেন না»

⦗পৃষ্ঠা: ৪৬⦘

 

১৫ - এবং তিনি আবৃত্তি করেছেন:

[আল-বাহরুল বাসিত]

এক টুকরো শুকনো রুটি আর লবণের ওপর ধৈর্য ধরুন … কেননা ধৈর্যই হলো সকল ঋণের (বা দায়বদ্ধতার) চাবিকাঠি

আর লোকজনের প্রশংসার মোহে পড়বেন না … যা আপনাকে লাঞ্ছনা ও কলঙ্কের দিকেই টেনে নেবে

অল্পে তুষ্ট থাকুন, কেননা অল্পে তুষ্টিই হলো সম্মান … আর ঋণের মাধ্যমে লালসা পূরণ করাই হলো লাঞ্ছনা
(খণ্ড: ১) আল-ক্বানাআত লি ইবনিস সুন্নী (পৃষ্ঠা: ৪৬)
‌‌بَابُ الْحَثِّ عَلَى لُزُومِ الْقَنَاعَةِ وَالصَّبْرِ عَلَيْهَا
অল্পে তুষ্টির প্রতি অবিচল থাকা এবং এর ওপর ধৈর্য ধারণ করার প্রতি উৎসাহ প্রদানের অধ্যায়
(খণ্ড: ১) আল-ক্বানাআত লি ইবনিস সুন্নী (পৃষ্ঠা: ৪৬)
16 - أَخْبَرَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الضَّحَّاكِ، أَخْبَرَنَا نَصْرُ بْنُ مَرْزُوقٍ، حَدَّثَنَا أَسَدُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ الدَّاهِرِيُّ، عَنْ ثَوْرِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ خَالِدِ بْنِ مُهَاجِرٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «ابْنَ آدَمَ، عِنْدَكَ مَا يَكْفِيكَ، وَأَنْتَ تَطْلُبُ ما يُطْغِيكَ، ابْنَ آدَمَ، لَا بِقَلِيلٍ تَقْنَعُ، وَلَا بِكَثِيرٍ تَشْبَعُ، ابْنَ آدَمَ، إِذَا أَصْبَحْتَ مُعَافًى فِي جَسَدِكَ، آمِنًا فِي سِرْبِكَ، عِنْدَكَ قُوتُ يَوْمِكَ، فَعَلَى الدُّنْيَا الْعَفَاءُ»

⦗ص: 47⦘

 

17 - وَأَنْشَدَ:

[البحر الطويل]

رَضِيتُ مِنَ الدُّنْيَا بِقُوتٍ يُقِيمُنِي … فَلَا أَبْتَغِي مِنْ بَعْدِهِ أَبَدًا فَضْلَا

وَلَسْتُ أَرُومُ الْقُوتَ إِلَّا لِأَنَّهُ … يُعِينُ عَلَى عِلْمٍ أَرُدُّ بِهِ جَهْلَا

فَمَا هَذِهِ الدُّنْيَا بِطِيبِ نَعِيمِهَا … لِأَيْسَرَ مَا فِي الْعِلْمِ مِنْ نُكْتَةٍ عِدْلَا
১৬ - ইব্রাহিম বিন মুহাম্মাদ বিন আদ-দাহহাক আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, নাসর বিন মারযূক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আসাদ বিন মূসা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবু বকর আদ-দাহিরি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন সাওর বিন ইয়াযীদ থেকে, তিনি খালিদ বিন মুহাজির থেকে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «হে আদম সন্তান, তোমার কাছে তা আছে যা তোমার জন্য যথেষ্ট, অথচ তুমি এমন কিছু তালাশ করছ যা তোমাকে সীমালঙ্ঘনকারী করে দেয়। হে আদম সন্তান, তুমি অল্পতে তুষ্ট হও না এবং বেশিতেও তোমার তৃপ্তি হয় না। হে আদম সন্তান, যখন তুমি সকালে সুস্থ শরীরে, নিজের অবস্থানে নিরাপদ অবস্থায় উপনীত হও এবং তোমার কাছে তোমার একদিনের খাবার থাকে, তবে দুনিয়ার অবশিষ্ট সব কিছুর পরোয়া নেই»

⦗পৃষ্ঠা: ৪৭⦘

 

১৭ - এবং তিনি আবৃত্তি করেছেন:

[আল-বাহরুত তাবীল ছন্দ]

আমি দুনিয়ার সেই খাদ্যে সন্তুষ্ট যা আমাকে টিকিয়ে রাখে … এরপর আমি আর কখনোই অতিরিক্ত কিছু কামনা করি না।

আমি এই খাদ্যের প্রত্যাশী কেবল এই কারণেই যে … তা আমাকে এমন ইলম অর্জনে সাহায্য করে যার দ্বারা আমি মূর্খতাকে দূরীভূত করি।

এই দুনিয়া তার যাবতীয় সুখ-বিলাসিতা নিয়ে … ইলমের সূক্ষ্মতম কোনো বিষয়েরও সমকক্ষ নয়।
(খণ্ড: ১) আল-ক্বানাআত লি ইবনিস সুন্নী (পৃষ্ঠা: ৪৭)
‌‌بَابٌ فِي ذِكْرِ مَا يَبْعَثُ عَلَى اسْتِعْمَالِ الْقَنَاعَةِ
অল্পেতুষ্টির অনুশীলনে উদ্বুদ্ধকারী বিষয়াবলির বর্ণনায় একটি পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১) আল-ক্বানাআত লি ইবনিস সুন্নী (পৃষ্ঠা: ৪৭)
18 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عُمَيْرٍ أَبُو الْحَسَنِ بْنُ جَوْصَا، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدِ بْنِ عُفَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ وَهْبِ بْنِ مُسْلِمٍ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ شَابُورَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي مُسْلِمٍ الْهِلَالِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ فَرْقَدٍ، عَنْ أَبِي الْجَوْزَاءِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِنْ أَرَدْتُمْ أَنْ تُدْرِكُوا مَا عِنْدَ اللَّهِ عز وجل، كُونُوا فِي الدُّنْيَا بِمَنْزِلَةِ الْأَضْيَافِ»
১৮ - আহমদ বিন উমাইর আবুল হাসান বিন জাওসা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, উবাইদুল্লাহ বিন সাঈদ বিন উফাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন ওয়াহাব বিন মুসলিম আদ-দিমাশকি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন শুয়াইব বিন শাবুর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মদ বিন আবি মুসলিম আল-হিলালি থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি হাসান থেকে, তিনি ফারকাদ থেকে, তিনি আবুল জাওযা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "তোমরা যদি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর নিকট যা রয়েছে তা লাভ করতে চাও, তবে দুনিয়াতে মেহমানদের ন্যায় অবস্থান করো।"
(খণ্ড: ১) আল-ক্বানাআত লি ইবনিস সুন্নী (পৃষ্ঠা: ৪৮)
19 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخَ، حَدَّثَنَا أَبُو الْأَشْهَبِ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ، قَالَ: لَمَّا نَزَلَ بِسَلْمَانَ الْمَوْتُ بَكَى، قَالَ: فَقِيلَ لَهُ: مَا يُبْكِيكَ يَا أَبَا عَبْدِ اللَّهِ؟، قَالَ: أَخْشَى أَنْ لَا نَكُونَ حَفِظْنَا وَصِيَّةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، إِنَّهُ كَانَ يَقُولُ: «لِيَكْنُ بَلَاغُكُمْ مِنَ الدُّنْيَا كَزَادِ الرَّاكِبِ»
১৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইয়ালা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শাইবান ইবনে ফাররুখ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল আশহাব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাসান, তিনি বলেন: যখন সালমানের নিকট মৃত্যু উপস্থিত হলো, তখন তিনি কাঁদতে লাগলেন। তিনি বলেন: তাকে বলা হলো: হে আবু আব্দুল্লাহ! আপনি কেন কাঁদছেন? তিনি বললেন: আমি আশঙ্কা করছি যে, আমরা হয়তো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপদেশটি রক্ষা করতে পারিনি; নিশ্চয়ই তিনি বলতেন: "দুনিয়া থেকে তোমাদের পাথেয় যেন একজন আরোহীর পাথেয়-র মতো হয়।"
(খণ্ড: ১) আল-ক্বানাআত লি ইবনিস সুন্নী (পৃষ্ঠা: ৫১)
20 - أَخْبَرَنَا حَامِدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ شُعَيْبٍ الْبَلْخِيُّ، حَدَّثَنَا سُرَيْجُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنِ الْحَسَنِ، قَالَ: لَمَّا حَضَرَ سَلْمَانَ الْمَوْتُ بَكَى، فَقِيلَ لَهُ مَا يُبْكِيكَ يَا أَبَا عَبْدِ اللَّهِ، وَأَنْتَ صَاحِبُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم؟ فَقَالَ: أَمَا إِنِّي لَا أَبْكِي جَزَعًا عَلَى الدُّنْيَا، وَلَكِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَهِدَ إِلَيْنَا، فَتَرَكْنَا عَهْدَهُ: أَنْ تَكُونَ بُلْغَةُ أَحَدِنَا مِنَ الدُّنْيَا كَزَادِ الرَّاكِبِ قَالَ: فَلَمَّا مَاتَ نَظَرُوا فَإِذَا نَحْوٌ مِنْ قِيمَةِ ثَلَاثِينَ دِرْهَمًا
২০ - হামিদ ইবন মুহাম্মদ ইবন শুয়াইব আল-বালখী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, সুরাইজ ইবন ইউনুস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুশাইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মানসুর থেকে বর্ণিত, হাসান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন সালমান (রা.)-এর নিকট মৃত্যু উপস্থিত হলো, তিনি কাঁদতে লাগলেন। তাকে বলা হলো, "হে আবু আবদুল্লাহ, আপনি কেন কাঁদছেন? অথচ আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহচর ছিলেন।" তিনি বললেন, "জেনে রেখো, আমি দুনিয়ার মোহে বিচলিত হয়ে কাঁদছি না; বরং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট থেকে একটি অঙ্গীকার নিয়েছিলেন, কিন্তু আমরা সেই অঙ্গীকার রক্ষা করতে পারিনি: যেন আমাদের প্রত্যেকের পার্থিব পাথেয় একজন আরোহীর পাথেয় সদৃশ হয়।" বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর তিনি যখন ইন্তেকাল করলেন, তারা দেখল যে তার নিকট রক্ষিত সম্পদের মূল্য প্রায় ত্রিশ দিরহামের সমতুল্য ছিল।
(খণ্ড: ১) আল-ক্বানাআত লি ইবনিস সুন্নী (পৃষ্ঠা: ৫১)
‌‌بَابٌ أَقْنَعُ النَّاسِ هُمْ أَغْنَى النَّاسِ
পরিচ্ছেদ: মানুষের মধ্যে যারা সর্বাধিক তুষ্ট, তারাই সর্বাধিক ধনী
(খণ্ড: ১) আল-ক্বানাআত লি ইবনিস সুন্নী (পৃষ্ঠা: ৫১)
21 - أَخْبَرَنِي أَبُو أَحْمَدَ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ شَبَّةَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ أَبِي عَمْرٍو الشَّيْبَانِيِّ، قَالَ: سَأَلَ مُوسَى عليه السلام رَبَّهُ عز وجل: أَيْ رَبِّ، أَيُّ عِبَادِكَ أَحَبُّ إِلَيْكَ؟ قَالَ: أَكْثَرُهُمْ لِي ذِكْرًا قَالَ: يَا رَبِّ فَأَيُّ عِبَادِكَ أَغْنَى؟ قَالَ: أَقْنَعُهُمْ بِمَا أَعْطَيْتُهُ قَالَ: يَا رَبِّ، فَأَيُّ عِبَادِكَ أَعْدَلُ؟ قَالَ: مَنْ دَانَ مِنْ نَفْسِهِ
২১ - আবু আহমাদ বিন ঈসা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, উমর বিন শাব্বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসমাঈল বিন আবি খালিদ থেকে বর্ণিত, তিনি আবু আমর আশ-শায়বানী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: মূসা আলাইহিস সালাম তাঁর মহা ও মহিমান্বিত রবকে জিজ্ঞাসা করলেন: হে আমার রব, আপনার বান্দাদের মধ্যে আপনার নিকট কে সবচেয়ে বেশি প্রিয়? তিনি বললেন: তাদের মধ্যে যে আমাকে সবচেয়ে বেশি স্মরণ করে। তিনি বললেন: হে আমার রব, তবে আপনার বান্দাদের মধ্যে কে সবচেয়ে বেশি ধনী? তিনি বললেন: আমি তাকে যা প্রদান করেছি, তার ওপর যে সবচেয়ে বেশি সন্তুষ্ট। তিনি বললেন: হে আমার রব, তবে আপনার বান্দাদের মধ্যে কে সবচেয়ে বেশি ন্যায়পরায়ণ? তিনি বললেন: যে নিজের বিরুদ্ধে ইনসাফ করে।
(খণ্ড: ১) আল-ক্বানাআত লি ইবনিস সুন্নী (পৃষ্ঠা: ৫২)
22 - حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْمَحَامِلِيُّ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُجَشِّرٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ قَابُوسَ بْنِ أَبِي ظَبْيَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَالَ مُوسَى عليه السلام: أَيُّ عِبَادِكَ أَغْنَى؟ قَالَ: الرَّاضِي بِمَا أَعْطَيْتُهُ قَالَ: فَأَيُّ عِبَادِكَ أَحَبُّ إِلَيْكَ؟ قَالَ: أَكْثَرُهُمْ لِي ذِكْرًا قَالَ: يَا رَبِّ فَأَيُّ عِبَادِكَ أَحْكَمُ؟ قَالَ: الَّذِي يَحْكُمُ عَلَى نَفْسِهِ بِمَا يَحْكُمُ عَلَى النَّاسِ
২২ - হুসাইন ইবনে ইসমাঈল আল-মাহামিলি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবরাহীম ইবনে মুজাশশির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জারীর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, কাবুস ইবনে আবু জবইয়ান থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: মূসা আলাইহিস সালাম বললেন: হে আমার রব, আপনার বান্দাদের মধ্যে সবচেয়ে ধনী কে? তিনি (আল্লাহ) বললেন: আমি তাকে যা দান করেছি তাতে যে সন্তুষ্ট। তিনি বললেন: তবে আপনার বান্দাদের মধ্যে আপনার নিকট সবচেয়ে প্রিয় কে? তিনি বললেন: তাদের মধ্যে যারা আমাকে সবচেয়ে বেশি স্মরণ করে। তিনি বললেন: হে আমার রব! তবে আপনার বান্দাদের মধ্যে সবচেয়ে ন্যায়বিচারক কে? তিনি বললেন: যে নিজের ওপর সেই ফয়সালা করে যা সে মানুষের ওপর করে।
(খণ্ড: ১) আল-ক্বানাআত লি ইবনিস সুন্নী (পৃষ্ঠা: ৫২)
‌‌بَابُ مَا يُحَبِّبُ إِلَى الْإِنْسَانِ الْقَنَاعَةَ
মানুষের নিকট অল্পে তুষ্টিকে যা প্রিয় করে তোলে সেই সম্পর্কিত অধ্যায়
(খণ্ড: ১) আল-ক্বানাআত লি ইবনিস সুন্নী (পৃষ্ঠা: ৫২)
23 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَجَّاجِ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، وَعَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ مُوَرِّقٍ الْعِجْلِيِّ، أَنَّ سَعْدَ بْنَ مَالِكٍ، وَعَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ، دَخَلَا عَلَى سَلْمَانَ يَعُودَانِهِ فَبَكَى، فَقَالَا: مَا يُبْكِيكَ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ؟، قَالَ: عَهْدٌ عَهِدَهُ إِلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، لَمْ يَحْفَظْهُ أَحَدٌ مِنَّا، قَالَ: «لِيَكُنْ بَلَاغُ أَحَدِكُمْ مِنَ الدُّنْيَا كَزَادِ الرَّاكِبِ» قَالَ مُوَرِّقٌ: فَنَظَرُوا فِي بَيْتِهِ فَإِذَا إِكَافٌ وَقُرْطَاطٌ وَقِيمَةُ عِشْرِينَ دِرْهَمًا
২৩ - আবু ইয়ালা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইব্রাহীম ইবনুল হাজ্জাজ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, হাম্মাদ ইবনে সালামাহ আলী ইবনে যায়েদ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব থেকে এবং হুমাইদ থেকে, তিনি মুররিক আল-ইজলি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, সা’দ ইবনে মালিক এবং আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর অসুস্থতার সময় তাঁকে দেখতে গেলেন। তখন তিনি কেঁদে দিলেন। তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন, "হে আবু আব্দুল্লাহ, আপনি কেন কাঁদছেন?" তিনি বললেন, "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের নিকট একটি অঙ্গীকার করেছিলেন যা আমাদের কেউ রক্ষা করতে পারেনি।" তিনি বলেছিলেন, "দুনিয়া থেকে তোমাদের প্রত্যেকের সম্বল যেন একজন আরোহীর পাথেয়-র মতো হয়।" মুররিক বলেন, অতঃপর তাঁরা তাঁর ঘরে তল্লাশি চালিয়ে কেবল একটি জীন এবং একটি পাত্র পেলেন, যার মূল্য ছিল মাত্র বিশ দিরহাম।
(খণ্ড: ১) আল-ক্বানাআত লি ইবনিস সুন্নী (পৃষ্ঠা: ৫৩)
24 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَحْيَى السَّاجِيُّ، حَدَّثَنَا هُدْبَةُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، أَنَّ سَعْدَ بْنَ مَالِكٍ، وَعَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ، دَخَلَا عَلَى سَلْمَانَ يَعُودَانِهِ فَبَكَى، فَقَالَا لَهُ: مَا يُبْكِيكَ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ؟، قَالَ: عَهْدٌ عَهِدَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، لَمْ يَحْفَظْهُ أَحَدٌ مِنَّا، قَالَ: «لِيَكُنْ بَلَاغُ أَحَدِكُمْ كَزَادِ الرَّاكِبِ»
২৪ - আবু ইয়াহইয়া আস-সাজি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হুদবা বিন খালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ বিন সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলি বিন যায়েদ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব থেকে বর্ণনা করেন যে, সা’দ বিন মালিক এবং আবদুল্লাহ বিন মাসউদ সালমান (রা.)-এর অসুস্থতায় তাঁকে দেখতে গেলেন। তখন তিনি কাঁদতে শুরু করলেন। তাঁরা তাঁকে বললেন: হে আবু আবদুল্লাহ! আপনাকে কিসে কাঁদাচ্ছে? তিনি বললেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি অঙ্গীকার করেছিলেন যা আমাদের মধ্যে কেউ রক্ষা করতে পারেনি। তিনি বলেছিলেন: «তোমাদের কারো পার্থিব সামগ্রী যেন একজন আরোহীর পাথেয় সদৃশ হয়»।
(খণ্ড: ১) আল-ক্বানাআত লি ইবনিস সুন্নী (পৃষ্ঠা: ৫৩)
25 - حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي أَبُو هَانِي، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيِّ، عَنْ عَامِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ سَلْمَانَ الْخَيْرِ، حِينَ حَضَرَهُ الْمَوْتُ عَرَفُوا فِيهِ بَعْضَ الْجَزَعِ فَقَالُوا لَهُ: مَا يُجْزِعُكَ يَا أَبَا عَبْدِ اللَّهِ، قَدْ كَانَتْ لَكَ سَابِقَةٌ فِي الْخَيْرِ، شَهَدْتَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي مَغَازِي حِسَانٍ وَفُتُوحٍ عِظَامٍ قَالَ: يُجْزِعُني أَنَّ نَبِيَّنَا مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم حِينَ فَارَقَنَا عَهِدَ إِلَيْنَا فَقَالَ: «لِيَكْفِ الْمَرْءَ مِنْكُمْ كَزَادِ الرَّاكِبِ» فَهَذَا الَّذِي أَحْزَنَنِي فَجُمِعَ مَالُ سَلْمَانَ فَكَانَتْ قِيمَتُهُ عِشْرِينَ دِرْهَمًا
২৫ - আলি বিন আহমাদ বিন সুলাইমান আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, হারুন বিন সাঈদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ইবনে ওয়াহাব আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবু হানি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আবু আব্দুর রহমান আল-হুবুলি থেকে বর্ণিত, তিনি আমির বিন আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি সালমান আল-খাইর থেকে বর্ণনা করেন যে, যখন তাঁর মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলো, তখন লোকেরা তাঁর মধ্যে কিছুটা অস্থিরতা লক্ষ্য করল। তারা তাকে বলল: হে আবু আব্দুল্লাহ, আপনাকে কিসে অস্থির করছে? আপনার তো কল্যাণের ক্ষেত্রে অগ্রগামিতা রয়েছে, আপনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে অনেক উত্তম যুদ্ধ ও মহান বিজয়ে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি বললেন: আমাকে যা অস্থির করছে তা হলো, আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আমাদের থেকে বিদায় নিয়েছিলেন, তখন তিনি আমাদের প্রতি অঙ্গীকার করেছিলেন এবং বলেছিলেন: "তোমাদের প্রত্যেকের জন্য একজন আরোহীর পাথেয় পরিমাণই যেন যথেষ্ট হয়।" এটাই আমাকে ব্যথিত করছে। অতঃপর সালমানের সম্পদ একত্রিত করা হলো এবং তার মূল্যমান ছিল মাত্র বিশ দিরহাম।
(খণ্ড: ১) আল-ক্বানাআত লি ইবনিস সুন্নী (পৃষ্ঠা: ৫৪)
26 - أَخْبَرَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ حَمْدَانَ، وَبَكْرُ بْنُ أَحْمَدَ، قَالَا: حَدَّثَنَا الْحَارِثُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا كَثِيرُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ بُرْقَانَ، حَدَّثَنَا حَفْصٌ الْبَصْرِي، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ أَبِي الْحَسَنِ، قَالَ: مَرَّ سَعْدُ بْنُ أَبِي وَقَّاصٍ عَلَى سَلْمَانَ، وَعَلَيْهِ قَمِيصٌ قَطَرِيُّ، فَلَمَّا رَآهُ سَلْمَانَ بَكَى، فَقَالَ: مَا يُبْكِيكَ يَا أَبَا عَبْدِ اللَّهِ؟، قَالَ: وَصِيَّةٌ أَوْصَانَا بِهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، أَخَافُ أَلَّا أَكُونُ حَفِظْتُهَا قَالَ سَعْدٌ: وَمَا هِيَ؟، قَالَ: قُلْتُ: مَا يَكْفِينِي مِنَ الدُّنْيَا؟ قَالَ: «مِثْلُ زَادِ الرَّاكِبِ» قَالَ سَعْدٌ: أَوْصِنِي يَا أَبَا عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: اذْكُرِ اللَّهَ عِنْدَ هَمِّكَ إِذَا هَمَمْتَ، وَعِنْدَ حُكْمِكَ إِذَا حَكَمْتَ، وَعِنْدَ يَدِكَ إِذَا قَسَمْتَ قَالَ: وَكَانَ الْحَسَنُ يَقُولُ: يَا سُبْحَانَ اللَّهِ، كَانُوا فُقَهَاءَ عُلَمَاءَ، عَلِمَ أَنَّهُ لَا يَكُونُ عَمَلٌ حَتَّى يَكُونَ هَمٌّ يَا ابْنَ آدَمَ، إِذَا هَمَمْتَ هَمًّا فَإِنْ كَانَ هَمَّ خَيْرٍ فَامْضِ لَهُ، وَإِنْ كَانَ هَمَّ شَرٍّ فَأَمْسِكْ عَنْهُ، فَإِنَّ الْمُؤْمِنَ هُوَ الْوَقَّافُ
২৬ - আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আব্দুর রহমান বিন হামদান এবং বকর বিন আহমদ, তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আল-হারিস বিন মুহাম্মদ, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন কাসীর বিন হিশাম, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন জাফর বিন বুরকান, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হাফস আল-বাসরী, তিনি হাসান বিন আবুল হাসান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস সালমান (আল-ফারসী) এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন, এমতাবস্থায় তাঁর (সালমানের) পরিধানে একটি কাতারি জামা ছিল। যখন সালমান তাঁকে দেখলেন, তখন তিনি কেঁদে ফেললেন। সাদ বললেন: হে আবু আব্দুল্লাহ, আপনাকে কিসে কাঁদাচ্ছে? তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের একটি অসিয়ত করেছিলেন, আমি ভয় পাচ্ছি যে আমি হয়তো তা রক্ষা করতে পারিনি। সাদ বললেন: সেটি কী? তিনি বললেন: আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, দুনিয়া থেকে আমার জন্য কতটুকু যথেষ্ট? তিনি (রাসূলুল্লাহ) বললেন: "এক জন আরোহীর পাথেয় যতটুকু হয়।" সাদ বললেন: হে আবু আব্দুল্লাহ, আমাকে উপদেশ দিন। তিনি বললেন: যখন তুমি কোনো কিছুর সংকল্প করবে তখন আল্লাহকে স্মরণ করো, যখন তুমি বিচার ফয়সালা করবে তখন আল্লাহকে স্মরণ করো, এবং যখন তুমি (সম্পদ) বণ্টন করবে তখন তোমার হাতের নিকটে আল্লাহকে স্মরণ করো। বর্ণনাকারী বলেন: হাসান (আল-বাসরী) বলতেন: সুবহানাল্লাহ, তাঁরা ছিলেন প্রাজ্ঞ আলিম। তিনি জানতেন যে সংকল্প ছাড়া কোনো আমল হয় না। হে আদম সন্তান, যখন তুমি কোনো কিছুর সংকল্প করবে, যদি তা কল্যাণের সংকল্প হয় তবে তা সম্পাদন করো, আর যদি তা অকল্যাণের সংকল্প হয় তবে তা থেকে বিরত থাকো; কেননা মুমিন তো সেই ব্যক্তি যে (মন্দ বা সংশয়ের সামনে) থমকে দাঁড়ায়।
(খণ্ড: ১) আল-ক্বানাআত লি ইবনিস সুন্নী (পৃষ্ঠা: ৫৪)
‌‌بَابُ الْأَسْبَابِ الَّتِي تُهَوِّنُ الْقَنَاعَةَ عَلَى الْإِنْسَانِ
মানুষের জন্য অল্পে তুষ্টি অর্জন করাকে সহজতর করে তোলে এমন কারণসমূহের অধ্যায়
(খণ্ড: ১) আল-ক্বানাআত লি ইবনিস সুন্নী (পৃষ্ঠা: ৫৫)
27 - أَخْبَرَنِي عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَامِرٍ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى الْحَضْرَمِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ يَزِيدُ بْنُ سَعِيدٍ الصَّبَّاحِيُّ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ وَاقِدٍ الْبَصْرِيُّ، فِي أَيَّامِ هَارُونَ، قَالَ: سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ عَمْرِو بْنِ عَلْقَمَةَ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِذَا انْسَدَّ كَلَبُ الْجُوعِ عَنْكَ بِرَغِيفٍ وَكُوزٍ مِنْ مَاءِ الْقَرَاحِ فَقُلْ عَلَى الدُّنْيَا وَأَهْلِهَا الدَّبَارُ»
২৭ - আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আমির আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আহমাদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-হাদরামি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু খালিদ ইয়াযিদ ইবনে সাঈদ আস-সাব্বাহি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ঈসা ইবনে ওয়াকিদ আল-বাসরি হারুনের শাসনামলে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে আলকামাহ-কে বলতে শুনেছি, তিনি আবু সালামাহ ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যখন তোমার ক্ষুধার তীব্র জ্বালা একটি রুটি এবং এক জগ স্বচ্ছ পানির মাধ্যমে নিবারিত হয়, তখন তুমি দুনিয়া ও তার অধিবাসীদের বলে দাও: তোমাদের প্রতি বিমুখতা (বা উপেক্ষা) হোক।»
(খণ্ড: ১) আল-ক্বানাআত লি ইবনিস সুন্নী (পৃষ্ঠা: ৫৬)
28 - حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ سَائِقِ بْنِ أَبِي خَدِيجَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنِ الْمَاضِي بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يَا أَبَا هُرَيْرَةَ، إِذَا سَدَدْتَ كَلَبَ الْجُوعِ بِرَغِيفٍ وَكُوزٍ مِنْ مَاءِ الْقرَاحَ فعَلَى الدُّنْيَا وَأَهْلِهَا الدَّبَارُ»
২৮ - আলী ইবনে আহমাদ ইবনে সুলায়মান আমাকে বর্ণনা করেছেন, মূসা ইবনে সাইক ইবনে আবি খাদিজাহ আমাদের বর্ণনা করেছেন, ইবনে ওয়াহাব আমাদের বর্ণনা করেছেন, আল-মাদি ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আমর থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «হে আবু হুরায়রা, যখন তুমি এক টুকরো রুটি এবং এক জগ স্বচ্ছ পানি দ্বারা ক্ষুধার তীব্রতা নিবারণ করলে, তখন দুনিয়া এবং তার অধিবাসীদের ওপর ধ্বংস আসুক।»
(খণ্ড: ১) আল-ক্বানাআত লি ইবনিস সুন্নী (পৃষ্ঠা: ৫৬)
29 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدِ بْنِ عُفَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ شَابُورَ مُحَمَّدُ بْنُ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ عَائِشَةَ، رضي الله عنها كَانَتْ تَتَصَدَّقُ بِعَشَرَةِ آلَافٍ وَدِرْعُهَا مَخْرُوقٌ، وكَانَتْ تَقُولُ: لَا حَاجَةَ لِي فِي الدُّنْيَا بَعْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
২৯ - আহমাদ বিন উমায়ের আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, উবায়দুল্লাহ বিন সাঈদ বিন উফাইর আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ বিন ওয়াহব আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইবনু শাবুর মুহাম্মাদ বিন শুআইব আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আতা বিন আবি রাবাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) দশ হাজার (দিরহাম) সদকাহ করতেন অথচ তাঁর পরিধেয় বস্ত্র ছিল তালি দেওয়া বা ছেঁড়া, এবং তিনি বলতেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পর এই দুনিয়াতে আমার আর কোনো প্রয়োজন নেই।"