(খণ্ড: ১) আল-ক্বাযা ওয়াল ক্বাদর - বায়হাকী (পৃষ্ঠা: -)
القضاء والقدر - البيهقي   (أبو بكر البيهقي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: القضاء والقدر

المؤلف: أبو بكر أحمد بن الحسين بن علي بن موسى البيهقي (384 - 458 هـ)

المحقق: محمد بن عبد الله آل عامر

الناشر: مكتبة العبيكان - الرياض، السعودية

الطبعة: الأولى، 1421 هـ - 2000 م

عدد الصفحات: 362

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-কাদা ওয়াল কাদার - আল-বাইহাকী   (আবু বকর আল-বাইহাকী)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


বই: আল-কাদা ওয়াল কাদার

লেখক: আবু বকর আহমদ বিন আল-হুসাইন বিন আলী বিন মুসা আল-বাইহাকী (৩৮৪ - ৪৫৮ হিজরি)

গবেষক: মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল আমের

প্রকাশক: মাকতাবাতুল ওবাইকান - রিয়াদ, সৌদি আরব

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২১ হিজরি - ২০০০ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৬২

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-ক্বাযা ওয়াল ক্বাদর - বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ١٠٧)
الْقَضَاءُ وَالْقَدَرُ لِلْبَيْهَقِيِّ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، شُكْرًا لِنِعْمَتِهِ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ إِقْرَارًا بِرُبُوبِيَّتِهِ وَوَحْدَانِيَّتِهِ، وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى خِيرَتِهِ مِنْ خَلْقِهِ مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِهِ الطَّيِّبِينَ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيمِ. كِتَابُ إِثْبَاتِ الْقَدَرِ وَالْبَيَانُ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ جَلَّ ثَنَاؤُهُ وَسُنَّةِ رَسُولِهِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم وَعَلَى آلِهِ، وَأَقَاوِيلِ الصَّحَابَةِ وَالتَّابِعِينَ وَأَئِمَّةِ الْمُسْلِمِينَ رضي الله عنهم أَجْمَعِينَ - أَنَّ أَفْعَالَ الْخَلْقِ كُلُّهَا مُقَدَّرَةٌ لِلَّهِ عز وجل مَكْتُوبَةٌ لَهُ وَأَنَّ اللَّهَ عز وجل لَمْ يَزَلْ عَالِمًا بِمَا يَكُونُ وَلَا يَزَالُ عَالِمًا بِمَا كَانَ وَيَكُونُ، قَالَ اللَّهُ: أَلَا يَعْلَمُ مَنْ خَلَقَ وَهُوَ اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ وَقَالَ: ذَلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ وَقَالَ: وَهُوَ الْفَتَّاحُ الْعَلِيمُ فَقَدَّرَ مَا عَلِمَ أَنَّهُ يَكُونُ، وَهُوَ أَنْ كَتَبَ مَا عَلِمَ، ثُمَّ خَلَقَ مَا كَتَبَ، فَمَضَى الْخَلْقُ عَلَى كِتَابِهِ وَتَقْدِيرِهِ وَعِلْمِهِ لَا رَادَّ لِقَضَائِهِ، وَلَا مَرَدَّ لِحُكْمِهِ وَلَا تَبْدِيلَ لِخَلْقِهِ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِهِ

বাইহাকী রচিত আল-কাদাউ ওয়াল কাদার (ভাগ্য ও ফয়সালা)। পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, তাঁর নেয়ামতের শুকরিয়াস্বরূপ। আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই; তাঁর রুবুবিয়াত ও একত্বের স্বীকৃতিরূপে। আল্লাহর সৃষ্টিজীবের মধ্যে তাঁর মনোনীত মুহাম্মাদ এবং তাঁর পবিত্র বংশধরদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। সুউচ্চ ও সুমহান আল্লাহ ছাড়া কোনো ক্ষমতা ও শক্তি নেই। এটি তাকদীর বা ভাগ্য নির্ধারণের প্রমাণ এবং মহান আল্লাহর কিতাব, তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর পরিবারের সুন্নাহ এবং সাহাবী, তাবেয়ীন ও মুসলিম ইমামগণের (আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর সন্তুষ্ট হোন) বক্তব্য থেকে তার বর্ণনার কিতাব—নিশ্চয়ই সৃষ্টির সকল কর্মকাণ্ড মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত ও তাঁর নিকট লিখিত। মহান আল্লাহ অনাদিকাল থেকেই যা ঘটবে তা জানেন এবং যা হয়েছে ও যা হবে সে সম্পর্কে তিনি সর্বদা অবগত। আল্লাহ বলেছেন: "যিনি সৃষ্টি করেছেন তিনি কি জানবেন না? অথচ তিনি অতি সূক্ষ্মদর্শী ও সম্যক অবহিত।" তিনি আরও বলেছেন: "এটি মহাপরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞের নির্ধারণ।" তিনি আরও বলেছেন: "আর তিনি মহান ফয়সালাকারী, সর্বজ্ঞ।" সুতরাং যা ঘটবে বলে তিনি জেনেছেন তা তিনি নির্ধারণ করেছেন; আর তা হলো তিনি যা জেনেছেন তা লিপিবদ্ধ করেছেন, অতঃপর যা লিপিবদ্ধ করেছেন তা সৃষ্টি করেছেন। ফলে সৃষ্টিজগত তাঁর লিখন, নির্ধারণ এবং জ্ঞান অনুযায়ী পরিচালিত হয়েছে; তাঁর ফয়সালা রদ করার কেউ নেই, তাঁর বিধানকে প্রতিহত করার কেউ নেই এবং তাঁর সৃষ্টিতে কোনো পরিবর্তন নেই। আর তাঁর সাহায্য ছাড়া কোনো ক্ষমতা ও শক্তি নেই।

(খণ্ড: ১) আল-ক্বাযা ওয়াল ক্বাদর - বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ١٠٨)
بَابُ ذِكْرِ الْبَيَانِ أَنَّ اللَّهَ جَلَّ ثَنَاؤُهُ قَدَّرَ الْمَقَادِيرَ كُلَّهَا قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ قَالَ اللَّهُ عز وجل: {إِنَّا كُلَّ شَيْءٍ خَلَقْنَاهُ بِقَدَرٍ} [القمر: 49] ، فَأَخْبَرَ أَنَّ كُلَّ شَيْءٍ خَلَقَهُ إِنَّمَا هُوَ بِحَسْبِ مَا قَدَّرَهُ قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَهُ، فَجَرَى الْخَلْقُ عَلَى مَا قَدَّرَ، وَجَرَى الْقَدَرُ عَلَى مَا عَلِمَ. وَالْقَدْرُ بِتَسْكِينِ الدَّالِ هُوَ: الْفِعْلُ وَهُوَ: التَّقْدِيرُ، وَالْقَدَرُ بِتَحْرِيكِ الدَّالِ هُوَ: الْمَقْدُورُ

অধ্যায়: এই বর্ণনার উল্লেখ যে, মহান আল্লাহ আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির পূর্বেই সকল কিছুর পরিমাণ নির্ধারণ করেছেন। আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেন: ‘নিশ্চয়ই আমি প্রত্যেকটি জিনিস সৃষ্টি করেছি নির্ধারিত পরিমাপ অনুযায়ী।’ [আল-কামার: ৪৯]। তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি যা কিছু সৃষ্টি করেছেন তা মূলত সৃষ্টির পূর্বে তাঁর নির্ধারিত পরিমাপ অনুসারেই হয়েছে। ফলে সৃষ্টিজগত তাঁর নির্ধারণ অনুযায়ী পরিচালিত হয়েছে এবং নির্ধারণ তাঁর জ্ঞান অনুযায়ী অতিবাহিত হয়েছে। আর ‘দাল’ বর্ণটি সুকুন বা স্থির অবস্থায় উচ্চারণ করলে তা ক্রিয়া বা নির্ধারণ করাকে বোঝায়, আর ‘দাল’ বর্ণটি হরকত বা স্বরচিহ্ন সহকারে উচ্চারণ করলে তা নির্ধারিত বিষয়কে বোঝায়।

(খণ্ড: ১) আল-ক্বাযা ওয়াল ক্বাদর - বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ١٠٨)
1 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الرُّوذْبَارِيُّ، رحمه الله قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَسَنُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ أَيُّوبَ الطُّوسِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ يَزِيدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَمَّادٍ الْعُقَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ حَفْصٍ الْأَصْبَهَانِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، عَنْ زِيَادِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ السَّهْمِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبَّادٍ الْمَخْزُومِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: " جَاءَتْ مُشْرِكُو قُرَيْشٍ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُخَاصِمُونَهُ فِي الْقَدَرِ. قَالَ: فَنَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ: {إِنَّ الْمُجْرِمِينَ فِي ضَلَالٍ وَسُعُرٍ يَوْمَ يُسْحَبُونَ فِي النَّارِ عَلَى وُجُوهِهِمْ ذُوقُوا مَسَّ سَقَرَ إِنَّا كُلَّ شَيْءٍ خَلَقْنَاهُ بِقَدَرٍ} [القمر: 48]

 

2 - وَأَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ رحمه الله قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبُو الْوَلِيدِ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، ح.

 

3 - وَأَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمُقْرِئُ، أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ ⦗ص: 109⦘ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ يَعْقُوبَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، فَذَكَرَهُ بِإِسْنَادِهِ نَحْوَهُ. رَوَاهُ أَبُو الْحُسَيْنِ مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ النَّيْسَابُورِيُّ رحمه الله فِي الصَّحِيحِ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبِي كُرَيْبٍ
১ - আবু আলী হাসান ইবন মুহাম্মাদ ইবন আলী আর-রুজবারী (রহিমাহুল্লাহ) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আবদুল্লাহ হাসান ইবন হাসান ইবন আইয়ুব আত-তুসী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু খালিদ ইয়াযিদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন হাম্মাদ আল-উকাইলি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুসাইন ইবন হাফস আল-আসফাহানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আস-সাওরী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যিয়াদ ইবন ইসমাঈল আস-সাহমি থেকে, তিনি মুহাম্মাদ ইবন আব্বাদ আল-মাখযুমি থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "কুরাইশ মুশরিকরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে তাকদির (ভাগ্য) বিষয়ে তাঁর সাথে বিতর্কে লিপ্ত হলো। তখন এই আয়াতটি অবতীর্ণ হলো: {নিশ্চয়ই অপরাধীরা বিভ্রান্তি ও উন্মাদনায় রয়েছে। যেদিন তাদের উপুড় করে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে জাহান্নামের আগুনের দিকে; (তাদের বলা হবে) আস্বাদন করো সাকার-এর (জাহান্নামের) ছোঁয়া। নিশ্চয়ই আমি প্রত্যেকটি বস্তু সৃষ্টি করেছি একটি নির্ধারিত পরিমাপে (তাকদির অনুযায়ী)}।" [আল-কামার: ৪৭-৪৯]

 

২ - এবং আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ আল-হাফিয (রহিমাহুল্লাহ) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল ওয়ালিদ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, হাসান ইবন সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু বকর ইবন আবি শাইবাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ওয়াকি' আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (হ)।

 

৩ - এবং আলী ইবন মুহাম্মাদ আল-মুকরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হাসান ইবন ⦗পৃষ্ঠা: ১০৯⦘ মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইউসুফ ইবন ইয়াকুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবন আবু বকর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ওয়াকি' সুফিয়ান থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি এর অনুরূপ সনদসহ তা উল্লেখ করেছেন। আবু হুসাইন মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ আন-নিশাপুরী (রহিমাহুল্লাহ) এটি তাঁর সহীহ গ্রন্থে আবু বকর ইবন আবি শাইবাহ ও আবু কুরাইব থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ক্বাযা ওয়াল ক্বাদর - বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ١٠٩)
4 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْفَضْلِ الْقَطَّانُ بِبَغْدَادَ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ دُرُسْتَوَيْهِ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُقْرِئُ، ح

 

5 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ الْأَصْبَهَانِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ يَحْيَى الزُّهْرِيُّ الْقَاضِي، بِمَكَّةَ، حَدَّثَنَا أَبُو يَحْيَى بْنُ أَبِي مَسَرَّةَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ الْمُقْرِئِ حَدَّثَنَا حَيْوَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو هَانِئٍ الْخَوْلَانِيُّ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيَّ،. وَفِي رِوَايَةِ الْقَطَّانِ: عَنْ أَبِي هَانِئٍ حُمَيْدِ بْنِ هَانِئٍ الْخَوْلَانِيِّ قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيَّ، يَقُولُ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «قَدَّرَ اللَّهُ الْمَقَادِيرَ قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ بِخَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ» رَوَاهُ مُسْلِمٌ فِي الصَّحِيحِ عَنِ ابْنِ أَبِي عُمَرَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ
৪ - বাগদাদে আবু আল-হুসাইন মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল ফজল আল-কাত্তান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনে জাফর ইবনে দুরুস্তাওয়াইহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইয়াকুব ইবনে সুফিয়ান আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আবু আবদুর রহমান আল-মুকরি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন। (হ)

 

৫ - আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ আল-আসবাহানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মক্কায় আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান ইবনে ইয়াহইয়া আজ-জুহরি আল-কাজি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু ইয়াহইয়া ইবনে আবি মাসাররাহ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াজিদ আল-মুকরি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, হাইওয়াহ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আবু হানি আল-খাওলানি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আবু আবদুর রহমান আল-হুবুলিকে শুনেছেন। এবং আল-কাত্তানের বর্ণনায় রয়েছে: আবু হানি হুমাইদ ইবনে হানি আল-খাওলানি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আবু আবদুর রহমান আল-হুবুলিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আসকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «আল্লাহ তাআলা আসমান ও জমিন সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর পূর্বে তাকদিরসমূহ নির্ধারণ করেছেন»। এটি মুসলিম তার সহিহ গ্রন্থে ইবনে আবি উমর থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াজিদ থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ক্বাযা ওয়াল ক্বাদর - বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ١٠٩)
6 - وَأَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ نُصَيْرٍ الْخَوَّاصُ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ التُّجِيبِيُّ، بِمِصْرَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، وَحَدَّثَنَا فَتْحُ بْنُ يَزِيدَ، قَالَا: حَدَّثَنَا أَبُو هَانِئٍ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «فَرَغَ اللَّهُ مِنَ الْمَقَادِيرِ وَأُمُورِ الدُّنْيَا قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ وَعَرْشُهُ عَلَى الْمَاءِ بِخَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ» رَوَاهُ مُسْلِمٌ فِي الصَّحِيحِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سَهْلٍ التَّمِيمِيِّ، عَنِ ابْنِ أَبِي مَرْيَمَ
৬ - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-হাফিয, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জাফর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে নুসাইর আল-খাওওয়াস, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আত-তুজিবি মিসরে, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি মারইয়াম, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আল-লাইস এবং আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ফাতহ ইবনে ইয়াজিদ; তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু হানি, আবু আবদুর রহমান আল-হুবুলি থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ তাআলা আসমান ও জমিন সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর আগে তাকদিরসমূহ ও দুনিয়ার বিষয়াবলি নির্ধারণ সমাপ্ত করেছেন এবং তখন তাঁর আরশ ছিল পানির উপরে।" এটি মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে মুহাম্মদ ইবনে সাহল আত-তামিমি থেকে, ইবনে আবি মারইয়াম সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ক্বাযা ওয়াল ক্বাদর - বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ١١٠)
7 - أَخْبَرَنَا أَبُو زَكَرِيَّا يَحْيَى بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى الْمُزَكِّي أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدُوسٍ حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ سَعِيدٍ الدَّارِمِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ صَالِحٍ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ فِي قَوْلِهِ عز وجل {إِنَّا كُلَّ شَيْءٍ خَلَقْنَاهُ بِقَدَرٍ} [القمر: 49] قَالَ: «خَلَقَ الْخَلْقَ كُلَّهُمْ بِقَدَرٍ وَخَلَقَ لَهُمُ الْخَيْرَ وَالشَّرَّ بِقَدَرٍ فَخَيْرُ الْخَيْرِ السَّعَادَةُ وَشَرُّ الشَّرِّ الشَّقَاءُ»
৭ - আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবন ইবরাহিম ইবন মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহইয়া আল-মুযাক্কি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আল-হাসান আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আবদুস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, উসমান ইবন সাঈদ আদ-দারিমি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবন সালিহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুয়াবিয়া ইবন সালিহ থেকে, তিনি আলি ইবন আবি তালহা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেন: {নিশ্চয়ই আমি প্রতিটি বস্তু সৃষ্টি করেছি তাকদীর অনুযায়ী} [আল-ক্বামার: ৪৯]। তিনি বলেন: «তিনি সকল সৃষ্টিকে তাকদীর অনুযায়ী সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের জন্য কল্যাণ ও অকল্যাণ তাকদীর অনুযায়ী সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং কল্যাণের শ্রেষ্ঠ হলো সৌভাগ্য এবং মন্দের নিকৃষ্টতম হলো দুর্ভাগ্য।’»
(খণ্ড: ১) আল-ক্বাযা ওয়াল ক্বাদর - বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ١١١)
بَابُ ذِكْرِ الْبَيَانِ أَنَّ اللَّهَ عز وجل كَتَبَ الْمَقَادِيرَ كُلَّهَا فِي الذِّكْرِ وَهُوَ الْمُرَادُ بِتَقْدِيرِ الْمَقَادِيرِ عَلَى مَا لَمْ يَزَلْ بِهِ عَالِمًا، قَالَ اللَّهُ عز وجل: {وَكُلَّ شَيْءٍ أَحْصَيْنَاهُ فِي إِمَامٍ مُبِينٍ} [يس: 12] ، وَقَالَ: {مَا أَصَابَ مِنْ مُصِيبَةٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي أَنْفُسِكُمْ إِلَّا فِي كِتَابٍ مِنْ قَبْلِ أَنْ نَبْرَأَهَا} [الحديد: 22] ، وَقَالَ: {وَإِنْ مِنْ قَرْيَةٍ إِلَّا نَحْنُ مُهْلِكُوهَا قَبْلَ يَوْمِ الْقِيَامَةِ أَوْ مُعَذِّبُوهَا عَذَابًا شَدِيدًا كَانَ ذَلِكَ فِي الْكِتَابِ مَسْطُورًا} [الإسراء: 58] ، وَقَالَ: {وَلَقَدْ كَتَبْنَا فِي الزَّبُورِ مِنْ بَعْدِ الذِّكْرِ أَنَّ الْأَرْضَ يَرِثُهَا عِبَادِيَ الصَّالِحُونَ} [الأنبياء: 105]

অধ্যায়: এই বিষয়ের বর্ণনা যে, মহান আল্লাহ সকল ভাগ্যলিপি ‘যিকর’-এ লিপিবদ্ধ করেছেন; আর এটিই হলো সেই তকদির বা পরিমাপ নির্ধারণ যা সম্পর্কে তিনি অনাদি কাল থেকেই অবগত। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর আমি প্রতিটি বিষয় এক সুস্পষ্ট কিতাবে সংরক্ষিত করেছি} [ইয়াসীন: ১২]। তিনি আরও বলেছেন: {পৃথিবীতে কিংবা তোমাদের নিজেদের ওপর যে বিপদই আপতিত হয়, তা আমি সৃষ্টি করার পূর্বেই একটি কিতাবে লিপিবদ্ধ থাকে} [আল-হাদীদ: ২২]। তিনি আরও বলেছেন: {এমন কোনো জনপদ নেই যা আমি কিয়ামত দিবসের পূর্বে ধ্বংস করব না অথবা যাকে কঠোর শাস্তি দেব না; এটি কিতাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে} [আল-ইসরা: ৫৮]। তিনি আরও বলেছেন: {আর আমি যিকরের পর যাবূরে লিখে দিয়েছি যে, আমার সৎকর্মশীল বান্দারাই পৃথিবীর উত্তরাধিকারী হবে} [আল-আম্বিয়া: ১০৫]

(খণ্ড: ১) আল-ক্বাযা ওয়াল ক্বাদর - বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ١١١)
8 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْفَضْلِ الْقَطَّانُ بِبَغْدَادَ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ دُرُسْتَوَيْهِ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ، حَدَّثَنَا جَامِعُ بْنُ شَدَّادٍ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ مُحْرِزٍ أَنَّهُ حَدَّثَهُ عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم. فَذَكَرَ الْحَدِيثِ، قَالَ فِيهِ: قَالُوا: إِنَّا جِئْنَاكَ نَسْأَلُكَ عَنْ هَذَا الْأَمْرِ. قَالَ: «كَانَ اللَّهُ عز وجل وَلَمْ يَكُنْ شَيْءٌ غَيْرُهُ، وَعَرْشُهُ عَلَى الْمَاءِ، وَكَتَبَ فِي الذِّكْرِ كُلَّ شَيْءٍ، وَخَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ» رَوَاهُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْبُخَارِيُّ رحمه الله فِي الصَّحِيحِ عَنْ عُمَرَ بْنِ حَفْصِ بْنِ غِيَاثٍ
৮ - বাগদাদে আবু আল-হুসাইন মুহাম্মাদ ইবন আল-হুসাইন ইবন মুহাম্মাদ ইবন আল-ফজল আল-কাত্তান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবন জাফর ইবন দুরুসতাওয়াইহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইয়াকুব ইবন সুফিয়ান আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, উমর ইবন হাফস আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আমার পিতা আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আল-আমাশ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, জামি ইবন শাদ্দাদ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, সাফওয়ান ইবন মুহরিজ থেকে বর্ণিত যে, তিনি ইমরান ইবন হুসাইন থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট প্রবেশ করলাম। এরপর বর্ণনাকারী হাদিসটি উল্লেখ করলেন, তাতে তিনি বলেন: তারা বলল: ‘আমরা আপনার নিকট এই সৃষ্টিতত্ত্বের বিষয়টি জিজ্ঞাসা করতে এসেছি।’ তিনি বললেন: «আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী ছিলেন এবং তখন তিনি ছাড়া আর কিছুই বিদ্যমান ছিল না, আর তাঁর আরশ ছিল পানির উপরে, তিনি লওহে মাহফুজে (স্মারক গ্রন্থে) সবকিছু লিপিবদ্ধ করেছেন এবং আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন»। এটি আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন ইসমাইল আল-বুখারি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'সহিহ' গ্রন্থে উমর ইবন হাফস ইবন গিয়াস থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ক্বাযা ওয়াল ক্বাদর - বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ١١٢)
9 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ عَفَّانَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي ظَبْيَانَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: " أَوَّلُ مَا خَلَقَ اللَّهُ الْقَلَمُ، فَقَالَ لَهُ: اكْتُبْ، قَالَ: وَمَا أَكْتُبْ قَالَ: اكْتُبِ الْقَدَرَ فَجَرَى بِمَا هُوَ كَائِنٌ إِلَى أَنْ تَقُومَ السَّاعَةُ ثُمَّ ارْتَفَعَ بُخَارُ الْمَاءِ، فَفُتِقَتْ مِنْهُ السَّمَوَاتُ قَالَ: ثُمَّ خَلَقَ النُّونَ ثُمَّ بَسَطَ الْأَرْضَ عَلَى ظَهْرِهِ فَاضْطَرَبَ. . فَمَادَتِ الْأَرْضُ فَأُثْبِتَتْ بِالْجِبَالِ فَإِنَّهَا لَتَفْخَرُ عَلَيْهَا "
৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ আল-হাফিয, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-আব্বাস মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হাসান বিন আলী বিন আফফান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন নুমাইর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আমাশ, আবু জাবিয়ান থেকে, ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আল্লাহ সর্বপ্রথম যা সৃষ্টি করেছেন তা হলো কলম। অতঃপর তিনি তাকে বললেন: লেখ। সে বলল: আমি কী লিখব? তিনি বললেন: তুমি তাকদীর লেখ। ফলে কিয়ামত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত যা কিছু ঘটবে তা লিপিবদ্ধ হয়ে গেল। তারপর পানির বাষ্প উপরে উঠল, অতঃপর তা থেকে আসমানসমূহ পৃথক করা হলো। তিনি বলেন: এরপর তিনি নূন (বিশাল মাছ) সৃষ্টি করলেন, তারপর তার পিঠের ওপর জমিনকে বিছিয়ে দিলেন, ফলে তা আন্দোলিত হলো। অতঃপর জমিন দুলতে লাগল, তখন পাহাড়সমূহ দ্বারা একে স্থির করা হলো; আর নিশ্চয়ই পাহাড়গুলো জমিনের ওপর গর্ব করে।"
(খণ্ড: ১) আল-ক্বাযা ওয়াল ক্বাদর - বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ١١٢)
10 - حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ السُّلَمِيُّ إِمْلَاءً، أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ الْحَافِظُ، أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ جَمِيلٍ الْمَرْوَزِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ رَبَاحِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ حَبِيبٍ الْمَكِّيِّ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ أَبِي بَزَّةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّهُ كَانَ يُحَدِّثُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِنَّ أَوَّلَ مَا خَلَقَ اللَّهُ الْقَلَمُ، وَأَمَرَهُ أَنْ يَكْتُبَ كُلَّ شَيْءٍ يَكُونُ» قَالَ أَبُو عَلِيٍّ: لَمْ يُسْنِدْهُ عَنِ الْقَاسِمِ غَيْرُ عُمَرَ بْنِ حَبِيبٍ وَهُوَ مَكِّيٌّ يُجْمَعُ حَدِيثُهُ
10 - আবু আবদুর রহমান মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন আস-সুলামী আমাদের নিকট শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, আবু আলী আল-হুসাইন ইবনে আলী আল-হাফিয আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমাদ ইবনে আলী ইবনুল মুসান্না আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমাদ ইবনে জামিল আল-মারওয়াযী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন রাবাহ ইবনে যায়িদ থেকে, তিনি উমর ইবনে হাবিব আল-মাক্কী থেকে, তিনি আল-কাসিম ইবনে আবি বায্যাহ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে, ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত যে, তিনি বর্ণনা করতেন যে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয় আল্লাহ সর্বপ্রথম যা সৃষ্টি করেছেন তা হলো কলম, এবং তিনি তাকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন সে যা কিছু ঘটবে তার সবকিছু লিখে রাখে।" আবু আলী বলেন: উমর ইবনে হাবিব ব্যতীত অন্য কেউ এটি আল-কাসিম থেকে মুসনাদ হিসেবে বর্ণনা করেননি; আর তিনি একজন মক্কী বর্ণনাকারী যার হাদিস সংগ্রহ করা হয়।
(খণ্ড: ১) আল-ক্বাযা ওয়াল ক্বাদর - বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ١١٢)
11 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عِيسَى الرُّوذْبَارِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّزَّاقِ الْمَعْرُوفُ بِابْنِ دَاسَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ السِّجِسْتَانِيُّ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُسَافِرٍ الْهُذَلِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ رَبَاحٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَبِي عُلْبَةَ، عَنْ أَبِي حَفْصَةَ، قَالَ: قَالَ عُبَادَةُ بْنُ الصَّامِتِ لِابْنِهِ: يَا بُنَيَّ، إِنَّكَ لَنْ تَجِدَ طَعْمَ حَقِيقَةِ الْإِيمَانِ حَتَّى تَعْلَمَ أَنَّ مَا أَصَابَكَ لَمْ يَكُنْ لِيُخْطِئَكَ، وَمَا أَخْطَأَكَ لَمْ يَكُنْ لِيُصِيبَكَ، سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: " إِنَّ أَوَّلَ مَا خَلَقَ اللَّهُ جَلَّ ثَنَاؤُهُ الْقَلَمُ فَقَالَ لَهُ: اكْتُبْ، قَالَ: رَبِّ وَمَاذَا أَكْتُبْ؟ قَالَ: اكْتُبْ مَقَادِيرَ كُلِّ شَيْءٍ حَتَّى تَقُومَ السَّاعَةُ " يَا بُنَيَّ، إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «مَنْ مَاتَ عَلَى غَيْرِ هَذَا فَلَيْسَ مِنِّي»
১১ - আমাদের জানিয়েছেন আবু আলী আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ঈসা আর-রূজবারী, আমাদের জানিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে বকর ইবনে আবদিল রাজ্জাক, যিনি ইবনে দাসা নামে পরিচিত, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন জাফর ইবনে মুসাফির আল-হুজালি, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইয়াহইয়া ইবনে হাসান, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আল-ওয়ালিদ ইবনে রাবাহ, ইব্রাহিম ইবনে আবি উলবাহর সূত্রে আবু হাফসাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: উবাদাহ ইবনুস সামিত তার পুত্রকে বললেন: হে বৎস, তুমি ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানের প্রকৃত হাকিকতের স্বাদ পাবে না, যতক্ষণ না তুমি জানবে যে, তোমার ওপর যা আপতিত হয়েছে তা তোমাকে এড়িয়ে যাওয়ার ছিল না, আর যা তোমাকে এড়িয়ে গেছে তা তোমার ওপর আপতিত হওয়ার ছিল না। আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই আল্লাহ—যাঁর প্রশংসা মহান—সর্বপ্রথম যা সৃষ্টি করেছেন তা হলো কলম। অতঃপর তিনি তাকে বললেন: লেখো। সে বলল: হে আমার রব, আমি কী লিখব? তিনি বললেন: কিয়ামত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি জিনিসের তকদির লিখে ফেলো।" হে বৎস, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «যে ব্যক্তি এর বিপরীত বিশ্বাসের ওপর মৃত্যুবরণ করবে, সে আমার দলভুক্ত নয়»
(খণ্ড: ১) আল-ক্বাযা ওয়াল ক্বাদর - বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ١١٣)
12 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ دَاوُدَ الْعَلَوِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو حَامِدٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى الْبَزَّازُ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ، حَدَّثَنَا حَسَّانُ بْنُ حَسَّانَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «سَبَقَ الْعِلْمُ، وَجَفَّ الْقَلَمُ، وَمَضَى الْقَضَاءُ، وَتَمَّ الْقَدَرُ» تَفَرَّدَ بِهِ حَسَّانُ بْنُ حَسَّانَ، وَمَعْنَاهُ مَوْجُودٌ فِي الْأَحَادِيثِ الثَّابِتَةِ
১২ - আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন ইবনে দাউদ আল-আলাওয়ী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু হামিদ আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-বাযযার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে ইয়াযিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাসসান ইবনে হাসসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসমাইল ইবনে ইবরাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে আউন থেকে, তিনি ইবনে সীরীন থেকে এবং তিনি আবু হুরাইরা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "জ্ঞান অগ্রসর হয়ে গেছে, কলম শুকিয়ে গেছে, ফয়সালা কার্যকর হয়েছে এবং তকদীর পূর্ণ হয়েছে।" হাসসান ইবনে হাসসান এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন, তবে এর অর্থ অন্যান্য প্রমাণিত হাদীসসমূহে বিদ্যমান রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ক্বাযা ওয়াল ক্বাদর - বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ١١٣)
13 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ إِسْحَاقَ، أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ زِيَادٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا حَازِمٍ، يَقُولُ: «إِنَّ اللَّهَ عز وجل عَلِمَ قَبْلَ أَنْ يَكْتُبَ، وَكَتَبَ قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَ، فَمَضَى الْخَلْقُ عَلَى عِلْمِهِ وَكِتَابِهِ»
১৩ - আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর বিন ইসহাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-হাসান বিন আলী বিন যিয়াদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, সাঈদ বিন সুলায়মান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাঈদ বিন আব্দুর রহমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু হাযিমকে বলতে শুনেছি: «নিশ্চয়ই আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী লিপিদ্ধ করার পূর্বেই জানতেন এবং সৃষ্টি করার পূর্বেই লিপিদ্ধ করেছেন; অতঃপর সৃষ্টি তাঁর জ্ঞান ও লেখনী অনুযায়ী পরিচালিত হয়েছে।»
(খণ্ড: ১) আল-ক্বাযা ওয়াল ক্বাদর - বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ١١٣)
14 - أَخْبَرَنَا أَبُو زَكَرِيَّا بْنُ أَبِي إِسْحَاقَ الْمُزَكِّيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ الطَّرَائِفِيُّ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، فِي قَوْلِهِ: " {مَا أَصَابَ مِنْ مُصِيبَةٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي أَنْفُسِكُمْ إِلَّا فِي كِتَابٍ مِنْ قَبْلِ أَنْ نَبْرَأَهَا} [الحديد: 22] يَقُولُ: فِي الدِّينِ وَالدُّنْيَا {إِلَّا فِي كِتَابٍ مِنْ قَبْلِ أَنْ نَبْرَأَهَا} [الحديد: 22] نَخْلُقُهَا ثُمَّ قَالَ: {لِكَيْلَا تَأْسَوْا عَلَى مَا فَاتَكُمْ} [الحديد: 23] مِنَ الدُّنْيَا {وَلَا تَفْرَحُوا بِمَا آتَاكُمْ} [الحديد: 23] مِنْهَا وَفِي قَوْلِهِ: {وَلَقَدْ كَتَبْنَا فِي الزَّبُورِ مِنْ بَعْدِ الذِّكْرِ أَنَّ الْأَرْضَ يَرِثُهَا عِبَادِيَ الصَّالِحُونَ} [الأنبياء: 105] قَالَ: أَخْبَرَ اللَّهُ عز وجل فِي التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ بِمَا فِي سَابِقِ عِلْمِهِ قَبْلَ أَنْ تَكُونَ السَّمَوَاتُ وَالْأَرْضُ أَنْ يُوَرِّثَ اللَّهُ أُمَّةَ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم الْأَرْضَ وَيُدْخِلَهُمُ الْجَنَّةَ وَهُمُ الصَّالِحُونَ "
১৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু জাকারিয়া বিন আবি ইসহাক আল-মুজাক্কি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হাসান আল-তারাইফি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উসমান বিন সাঈদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন সালিহ, মুয়াবিয়া বিন সালিহ থেকে, তিনি আলি বিন আবি তালহা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেন: "{পৃথিবীতে এবং তোমাদের নিজেদের ওপর যে বিপদই আপতিত হয়, তা আমি সৃষ্টি করার পূর্বেই একটি কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে} [আল-হাদিদ: ২২]। তিনি বলেন: দ্বীন এবং দুনিয়ার ক্ষেত্রে। {তা আমি সৃষ্টি করার পূর্বেই একটি কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে} অর্থাৎ আমরা তা সৃষ্টি করি; এরপর তিনি বলেন: {যাতে তোমরা যা হারিয়েছ তার জন্য দুঃখিত না হও} অর্থাৎ দুনিয়ার বিষয়াদি হতে, {এবং তোমাদের তিনি যা দিয়েছেন তার জন্য তোমরা আনন্দিত না হও} অর্থাৎ দুনিয়া হতে। আর তাঁর এই বাণী সম্পর্কে: {আর আমি তো যবূরে উপদেশের পর লিখে দিয়েছি যে, আমার সৎকর্মশীল বান্দারাই যমীনের উত্তরাধিকারী হবে} [আল-আম্বিয়া: ১০৫]। তিনি বলেন: আল্লাহ মহিয়ান ও গরিয়ান আসমান ও জমিন সৃষ্টির পূর্বেই তাঁর অনাদি জ্ঞানে যা ছিল তা তাওরাত ও ইঞ্জিলে সংবাদ দিয়েছেন যে, আল্লাহ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উম্মতকে যমীনের উত্তরাধিকারী করবেন এবং তাদের জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, আর তারাই হলো সৎকর্মশীল।"
(খণ্ড: ১) আল-ক্বাযা ওয়াল ক্বাদর - বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ١١٤)
بَابُ ذِكْرِ الْبَيَانِ أَنَّ الْقَلَمَ لَمَّا جَرَى بِمَا هُوَ كَائِنٌ كَانَ فِيمَا جَرَى {وَعَصَى آدَمُ رَبَّهُ فَغَوَى ثُمَّ اجْتَبَاهُ رَبُّهُ فَتَابَ عَلَيْهِ وَهَدَى} [طه: 122] وَإِذَا كَانَ قَدْ قَدَّرَ وَقَضَى وَكَتَبَ عَلَى آدَمَ عليه السلام قَبْلَ أَنْ يُخْلَقَ أَنَّهُ يَأْكُلُ مِنْ شَجَرَةٍ يُنْهَى عَنْ أَكْلِهَا، لَمْ يَجِدْ آدَمُ عليه السلام بُدًّا مِنْ فِعْلِهِ، وَلَمْ يَتَهَيَّأْ لَهُ دَفْعُهُ عَنْ نَفْسِهِ، لِأَنَّ خِلَافَ مَا كَتَبَ عَلَيْهِ يُوجِبُ خِلَافَ مَا عَلِمَ مِنْهُ، وَخِلَافَ مَا أَخْبَرَ عَنْ كَوْنِهِ، وَخَبَرُ اللَّهِ تَعَالَى صِدْقٌ، وَعِلْمُهُ حَقٌّ فَمَا عَلِمَ أَنَّهُ كَائِنٌ لَا يَجُوزُ أَنْ يَكُونَ غَيْرَ كَائِنٍ، وَمَا أَخْبَرَ عَنْ كَوْنِهِ فَهُوَ كَائِنٌ فِي حِينِهِ، لَا خُلْفَ فِيهِ
পরিচ্ছেদ: এই বিষয়ের বর্ণনা যে, কলম যখন ভবিষ্যতে যা কিছু ঘটবে তা লিপিবদ্ধ করেছে, তখন সেই লিখিত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত ছিল: {আর আদম তাঁর প্রতিপালকের অবাধ্য হলেন, ফলে তিনি পথভ্রষ্ট হলেন; অতঃপর তাঁর প্রতিপালক তাঁকে মনোনীত করলেন, ফলে তাঁর তাওবা কবুল করলেন এবং তাঁকে সুপথ প্রদর্শন করলেন} [ত্বহা: ১২২]। আর যখন আল্লাহ তাআলা আদম আলাইহিস সালাম-কে সৃষ্টি করার পূর্বেই তাঁর ব্যাপারে এই নির্ধারণ ও ফয়সালা করেছেন এবং লিখে রেখেছেন যে তিনি এমন একটি বৃক্ষ থেকে আহার করবেন যা থেকে আহার করতে তাঁকে নিষেধ করা হয়েছিল, তখন আদম আলাইহিস সালাম-এর জন্য উক্ত কাজটি করা ব্যতিরেকে কোনো উপায় ছিল না এবং তা নিজের থেকে প্রতিহত করার সামর্থ্যও তাঁর ছিল না। কারণ তাঁর ওপর যা লিপিবদ্ধ ছিল তার পরিপন্থী কিছু ঘটা মানে তাঁর সম্পর্কে আল্লাহর ইলমের বিপরীত হওয়া এবং যা ঘটবে বলে তিনি সংবাদ দিয়েছিলেন তারও পরিপন্থী হওয়া। অথচ আল্লাহ তাআলার সংবাদ ধ্রুব সত্য এবং তাঁর জ্ঞান অকাট্য। সুতরাং তিনি যা ঘটবে বলে জেনেছেন, তা না ঘটা অসম্ভব; আর তিনি যা হওয়ার সংবাদ দিয়েছেন, তা তার নির্ধারিত সময়ে সংঘটিত হবেই, এতে কোনো ব্যত্যয় নেই।
(খণ্ড: ১) আল-ক্বাযা ওয়াল ক্বাদর - বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ١١٤)
15 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ الْأَصْبَهَانِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو سَعِيدٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ الْبَصْرِيُّ بِمَكَّةَ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الزَّعْفَرَانِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، ح

 

16 - وَأَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَافِظُ، أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مُحَمَّدٍ النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، سَمِعَ طَاوُسًا، يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يُخْبِرُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " احْتَجَّ آدَمُ وَمُوسَى فَقَالَ مُوسَى يَا آدَمُ أَنْتَ أَبُونَا خَيَّبْتَنَا وَأَخْرَجْتَنَا مِنَ الْجَنَّةِ، فَقَالَ لَهُ آدَمُ: أَنْتَ مُوسَى الَّذِي اصْطَفَاكَ اللَّهُ بِكَلَامِهِ وَخَطَّ لَكَ التَّوْرَاةَ بِيَدِهِ، أَتَلُومُنِي عَلَى أَمْرٍ قَدَّرَهُ اللَّهُ عَلَيَّ قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَنِي بِأَرْبَعِينَ سَنَةً؟ فَحَجَّ آدَمُ مُوسَى، فَحَجَّ آدَمُ مُوسَى " رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ فِي الصَّحِيحِ عَنْ عَلِيٍّ وَغَيْرِهِ عَنْ سُفْيَانَ ، وَرَوَاهُ مُسْلِمٌ عَنْ عَمْرِو بْنِ مُحَمَّدٍ النَّاقِدِ وَغَيْرِهِ
১৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ ইবন ইউসুফ আল-আসবাহানী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাঈদ আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন যিয়াদ আল-বাসরী মক্কায়, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হাসান ইবন মুহাম্মাদ আয-যাফরানী, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন সুফইয়ান ইবন উয়ায়নাহ। (হা)

 

১৬ - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিয, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আল-হাফিয, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইয়ালা, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আমর ইবন মুহাম্মাদ আন-নাকিদ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন সুফইয়ান, আমর ইবন দীনার থেকে, তিনি তাউসকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু হুরায়রাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: "আদম ও মূসা বিতর্কে লিপ্ত হলেন। মূসা বললেন, 'হে আদম! আপনি আমাদের পিতা, আপনি আমাদের বঞ্চিত করেছেন এবং জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছেন।' আদম তাঁকে বললেন, 'আপনিই তো সেই মূসা যাকে আল্লাহ তাঁর বাণীর মাধ্যমে মনোনীত করেছেন এবং আপনার জন্য তাওরাত আল্লাহর হাত দিয়ে লিখেছেন। আপনি কি আমাকে এমন একটি বিষয়ে তিরস্কার করছেন যা আল্লাহ আমাকে সৃষ্টি করার চল্লিশ বছর পূর্বেই নির্ধারণ করে রেখেছেন?' এভাবে আদম মূসার বিপরীতে তর্কে জয়ী হলেন, আদম মূসার বিপরীতে তর্কে জয়ী হলেন।" ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে আলী এবং অন্যদের সূত্রে সুফইয়ান থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম মুসলিম আমর ইবন মুহাম্মাদ আন-নাকিদ ও অন্যদের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ক্বাযা ওয়াল ক্বাদর - বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ١١٥)
17 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدَانَ، أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عُبَيْدٍ الصَّفَّارُ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِسْحَاقَ الْقَاضِي، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الْأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " تَحَاجَّ آدَمُ وَمُوسَى، فَحَجَّ آدَمُ مُوسَى فَقَالَ لَهُ مُوسَى: أَنْتَ آدَمُ الَّذِي أَغْوَيْتَ النَّاسَ وَأَخْرَجْتَهُمْ مِنَ الْجَنَّةِ، فَقَالَ لَهُ آدَمُ: أَنْتَ مُوسَى الَّذِي أَعْطَاهُ اللَّهُ عِلْمَ كُلِّ شَيْءٍ وَاصْطَفَاهُ عَلَى النَّاسِ بِرِسَالَتِهِ؟ قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: فَتَلُومُنِي عَلَى أَمْرٍ قُدِّرَ عَلَيَّ قَبْلَ أَنْ أُخْلَقَ " رَوَاهُ مُسْلِمٌ فِي الصَّحِيحِ عَنْ قُتَيْبَةَ عَنْ مَالِكٍ، وَأَخْرَجَاهُ مِنْ حَدِيثِ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ
১৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আলী বিন আহমাদ বিন আবদান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ বিন উবাইদ আস-সাফফার, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাইল বিন ইসহাক আল-কাদি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন মাসলামাহ, মালিকের সূত্রে, তিনি আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আল-আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আদম ও মূসা বিতর্কে লিপ্ত হলেন, অতঃপর আদম মূসার ওপর তর্কে জয়ী হলেন। মূসা তাঁকে বললেন: আপনিই কি সেই আদম, যিনি মানুষকে বিপথগামী করেছেন এবং তাঁদের জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছেন? আদম তাঁকে বললেন: আপনিই কি সেই মূসা, যাকে আল্লাহ সকল বিষয়ের জ্ঞান দান করেছেন এবং তাঁর রিসালাতের মাধ্যমে মানুষের ওপর মনোনীত করেছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। আদম বললেন: তবে আপনি কি আমাকে এমন এক বিষয়ের জন্য তিরস্কার করছেন যা আমি সৃষ্টি হওয়ার পূর্বেই আমার ওপর নির্ধারিত করা হয়েছিল?" মুসলিম এটি তাঁর সহীহ গ্রন্থে কুতাইবাহ থেকে, তিনি মালিকের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এবং তাঁরা উভয়ে (বুখারী ও মুসলিম) সুফিয়ান বিন উয়াইনাহ-এর বর্ণিত হাদিস থেকে আবুয যিনাদ-এর সূত্রে এটি উদ্ধৃত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ক্বাযা ওয়াল ক্বাদর - বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ١١٥)
18 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ بْنُ يَعْقُوبَ، وَأَبُو الْفَضْلِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَا: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَسْلَمَةَ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مُوسَى الْأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ عِيَاضٍ، حَدَّثَنِي الْحَارِثُ بْنُ أَبِي ذِيَابٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ هُرْمُزَ، وَعَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْأَعْرَجِ، قَالَا: سَمِعْنَا أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «احْتَجَّ آدَمُ وَمُوسَى عِنْدَ رَبِّهِمَا» فَذَكَرَ الْحَدِيثَ قَالَ فِيهِ: " قَالَ آدَمُ لِمُوسَى: وُجِدَتِ التَّوْرَاةُ قَبْلَ أَنْ أُخْلَقَ فَهَلْ وَجَدْتَ فِيهَا {وَعَصَى آدَمُ رَبُّهُ فَغَوَى} [طه: 121] قَالَ: نَعَمْ قَالَ: أَفَتَلُومُنِي أَنْ أَعْمَلَ عَمَلًا كَتَبَهُ اللَّهُ عَلَيَّ أَعْمَلُهُ قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَنِيَ "، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «فَحَجَّ آدَمُ مُوسَى» رَوَاهُ مُسْلِمٌ فِي الصَّحِيحِ عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ مُوسَى
১৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিয, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ বিন ইয়াকুব এবং আবুল ফযল বিন ইব্রাহিম; তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন মাসলামাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক বিন মূসা আল-আনসারী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আনাস বিন ইয়াদ, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হারিস বিন আবু দিয়াব, ইয়াযীদ বিন হুরমুয থেকে এবং আব্দুর রহমান আল-আরাজ থেকে; তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমরা আবু হুরায়রাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আদম এবং মূসা তাঁদের রবের নিকট বিতর্কে লিপ্ত হলেন», অতঃপর তিনি হাদীসটি উল্লেখ করলেন, তাতে তিনি বলেছেন: "আদম মূসাকে বললেন: আমি সৃষ্টির পূর্বেই তাওরাত বিদ্যমান ছিল, তবে কি তুমি তাতে পেয়েছ যে— {আদম তাঁর রবের অবাধ্য হলেন, ফলে তিনি পথভ্রষ্ট হলেন} [ত্বহা: ১২১]? তিনি বললেন: হ্যাঁ। আদম বললেন: তবে কি তুমি আমাকে এমন কাজের জন্য তিরস্কার করছ, যা আল্লাহ আমার সৃষ্টির পূর্বেই আমার ওপর লিখে রেখেছিলেন?" আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «এভাবে আদম মূসার ওপর তর্কে জয়ী হলেন»। ইমাম মুসলিম এটি তাঁর সহীহ গ্রন্থে ইসহাক বিন মূসা থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ক্বাযা ওয়াল ক্বাদর - বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ١١٥)
19 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَمْرٍو مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْأَدِيبُ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ الْإِسْمَاعِيلِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدِ بْنُ يَحْيَى بْنِ سُلَيْمَانَ الْمَرْوَزِيُّ ⦗ص: 116⦘، حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " احْتَجَّ آدَمُ وَمُوسَى فَقَالَ مُوسَى: أَنْتَ آدَمُ الَّذِي أَخْرَجَتْكَ خَطِيئَتُكَ مِنَ الْجَنَّةِ، فَقَالَ آدَمُ: أَنْتَ مُوسَى الَّذِي اصْطَفَاكَ اللَّهُ بِرِسَالَاتِهِ وَبِكَلَامِهِ تَلُومُنِي عَلَى أَمْرٍ قَدْ قُدِّرَ عَلَيَّ قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَنِيَ " قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «فَحَجَّ آدَمُ مُوسَى، فَحَجَّ آدَمُ مُوسَى» رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ فِي الصَّحِيحِ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، وَأَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ مِنْ وَجْهٍ آخَرَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ
১৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আদিব, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আল-ইসমাঈলি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বিন সুলায়মান আল-মারওয়াযি ⦗পৃষ্ঠা: ১১৬⦘, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আসিম বিন আলি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম বিন সাদ, ইবনে শিহাব থেকে, তিনি হুমাইদ বিন আব্দুর রহমান থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আদম ও মুসা বিতর্ক করলেন। মুসা বললেন: আপনিই সেই আদম যাঁকে আপনার ত্রুটি জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছিল। তখন আদম বললেন: আপনিই সেই মুসা যাঁকে আল্লাহ তাঁর রিসালাত ও তাঁর কালামের (সরাসরি কথা বলা) মাধ্যমে মনোনীত করেছেন। আপনি কি আমাকে এমন এক বিষয়ের জন্য তিরস্কার করছেন যা আমাকে সৃষ্টি করার পূর্বেই আমার ওপর নির্ধারিত ছিল?" রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "এভাবে আদম মুসার ওপর তর্কে প্রবল হলেন, আদম মুসার ওপর তর্কে প্রবল হলেন।" এটি বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহর সূত্রে ইব্রাহিম থেকে বর্ণনা করেছেন এবং মুসলিম অন্য সূত্রে ইব্রাহিম থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ক্বাযা ওয়াল ক্বাদর - বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ١١٦)
20 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ؟ مُحَمَّدِ بْنِ شَاذَانَ، حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ بْنُ النَّجَّارِ الْيَمَامِيُّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " حَاجَّ مُوسَى آدَمَ فَقَالَ لَهُ: أَنْتَ الَّذِي أَخْرَجْتَ النَّاسَ مِنَ الْجَنَّةِ بِذَنْبِكَ وَأَشْقَيْتَهُمْ؟ قَالَ فَقَالَ آدَمُ: يَا مُوسَى أَنْتَ الَّذِي اصْطَفَاكَ اللَّهُ بِرِسَالَاتِهِ وَبِكَلَامِهِ أَتَلُومُنِي عَلَى أَمْرٍ كَتَبَهُ اللَّهُ عَلَيَّ قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَنِي أَوْ قَدَّرَهُ قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَنِي؟ "، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «فَحَجَّ آدَمُ مُوسَى» رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ فِي الصَّحِيحِ عَنْ قُتَيْبَةَ، وَرَوَاهُ مُسْلِمٌ عَنْ عَمْرٍو النَّاقِدِ عَنْ أَيُّوبَ
২০ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন ইয়াকুব ইবন মুহাম্মদ ইবন শাযান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কুতাইবাহ ইবন সাঈদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আইয়ুব ইবনুন নাজ্জার আল-ইয়ামামী, ইয়াহইয়া ইবনু আবি কাসীর থেকে, তিনি আবু সালামাহ ইবনু আবদুর রহমান থেকে, তিনি আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "মূসা এবং আদামের মধ্যে বিতর্ক হলো, তখন মূসা তাঁকে বললেন: আপনিই কি সেই ব্যক্তি যিনি আপনার ত্রুটির কারণে মানুষকে জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছেন এবং তাদের কষ্টে ফেলেছেন? তিনি বলেন: তখন আদম বললেন: হে মূসা, আপনি কি সেই ব্যক্তি যাকে আল্লাহ তাঁর রিসালাত এবং তাঁর কালামের মাধ্যমে নির্বাচিত করেছেন? আপনি কি আমাকে এমন এক বিষয়ে দোষারোপ করছেন যা আল্লাহ আমাকে সৃষ্টি করার পূর্বেই আমার ওপর লিখে রেখেছিলেন অথবা আমাকে সৃষ্টি করার পূর্বেই তা নির্ধারণ করেছিলেন?" আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "অতঃপর আদম তর্কে মূসার ওপর প্রবল হলেন।" ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে কুতাইবাহ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম মুসলিম আমর আন-নাকিদ থেকে আইয়ুবের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ক্বাযা ওয়াল ক্বাদর - বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ١١٦)
21 - أَخْبَرَنَا أَبُو طَاهِرٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَحْمَشٍ الْفَقِيهُ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ حُسَيْنٍ الْقَطَّانُ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُوسُفَ السُّلَمِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، قَالَ: هَذَا مَا حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " تَحَاجَّ آدَمُ وَمُوسَى فَقَالَ لَهُ مُوسَى: أَنْتَ آدَمُ الَّذِي أَغْوَيْتَ النَّاسَ وَأَخْرَجْتَهُمْ مِنَ الْجَنَّةِ إِلَى الْأَرْضِ، فَقَالَ لَهُ آدَمُ: أَنْتَ مُوسَى الَّذِي أَعْطَاكَ اللَّهُ عِلْمَ كُلِّ شَيْءٍ، وَاصْطَفَاكَ عَلَى النَّاسِ بِرِسَالَاتِهِ؟ فَقَالَ: نَعَمْ فَقَالَ: أَتَلُومُنِي عَلَى أَمْرٍ قَدْ ⦗ص: 117⦘ كَانَ عَلَيَّ أَنْ أَفْعَلَ مِنْ قَبْلِ أَنْ أُخْلَقَ؟ قَالَ: «فَحَجَّ آدَمُ مُوسَى» رَوَاهُ مُسْلِمٌ فِي الصَّحِيحِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ رَافِعٍ عَنْ عَبْدِ الرَّزَّاقِ
২১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহির মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন মাহমাশ আল-ফাকিহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমাদ বিন হুসাইন আল-কাত্তান, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন ইউসুফ আস-সুলামী, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাজ্জাক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা’মার, হাম্মাম বিন মুনাব্বিহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এটি সেই হাদীস যা আবু হুরাইরা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আদম ও মুসা (আলাইহিমুস সালাম) তর্কে লিপ্ত হলেন। মুসা তাকে বললেন: আপনিই কি সেই আদম যিনি মানুষকে বিভ্রান্ত করেছেন এবং তাদেরকে জান্নাত থেকে বের করে পৃথিবীতে নিয়ে এসেছেন? তখন আদম তাকে বললেন: আপনিই কি সেই মুসা যাকে আল্লাহ সবকিছুর জ্ঞান দান করেছেন এবং তাঁর রিসালাতের মাধ্যমে আপনাকে মানুষের উপর মনোনীত করেছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। আদম বললেন: তবে কি আপনি আমাকে এমন একটি বিষয়ের জন্য তিরস্কার করছেন যা ⦗পৃষ্ঠা: ১১৭⦘ আমার সৃষ্টির পূর্বেই আমার উপর অবধারিত ছিল? তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: 'এভাবে আদম মুসার সাথে তর্কে জয়ী হলেন'।" ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে মুহাম্মাদ বিন রাফি থেকে, তিনি আব্দুর রাজ্জাক থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ক্বাযা ওয়াল ক্বাদর - বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ١١٧)
22 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدَانَ، أَخْبَرَنِي أَحْمَدُ بْنُ عُبَيْدٍ الصَّفَّارُ، حَدَّثَنَا أَبُو مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ هُوَ ابْنُ مِنْهَالٍ، حَدَّثَنَا مَهْدِيُّ بْنُ مَيْمُونٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " الْتَقَى آدَمُ وَمُوسَى، فَقَالَ مُوسَى لِآدَمَ: أَنْتَ آدَمُ الَّذِي أَغْوَيْتَ النَّاسَ وَأَخْرَجْتَهُمْ مِنَ الْجَنَّةِ؟ فَقَالَ آدَمُ لِمُوسَى: أَنْتَ مُوسَى الَّذِي اصْطَفَاكَ اللَّهُ بِرِسَالَتِهِ وَاصْطَفَاكَ لِنَفْسِهِ وَأَنْزَلَ عَلَيْكَ التَّوْرَاةَ؟ قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: فَهَلْ وَجَدْتَهُ كَتَبَهُ عَلَيَّ قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَنِي؟ قَالَ: نَعَمْ «قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم» فَحَجَّ آدَمُ مُوسَى، فَحَجَّ آدَمُ مُوسَى " رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ فِي الصَّحِيحِ عَنِ الصَّلْتِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ مَهْدِيِّ بْنِ مَيْمُونٍ، وَأَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ مِنْ حَدِيثِ هِشَامِ بْنِ حَسَّانَ عَنِ ابْنِ سِيرِينَ

 

23 - حَدَّثَنَا أَبُو طَاهِرٍ الْفَقِيهُ، لَفْظًا، وَأَبُو بَكْرٍ الْقَاضِي، وَأَبُو سَعِيدِ بْنُ أَبِي عَمْرٍو قِرَاءَةً قَالُوا: حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ الْأَصَمُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي طَالِبٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَطَاءٍ، أَخْبَرَنَا دَاوُدُ بْنُ أَبِي هِنْدٍ، ح
২২ - আবু আল-হাসান আলী বিন আহমাদ বিন আবদান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমাদ বিন উবাইদ আস-সাফফার আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আবু মুসলিম আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, হাজ্জাজ—যিনি ইবনে মিনহাল—আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, মাহদী বিন মাইমুন আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন সীরীন থেকে, তিনি আবু হুরাইরাহ থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "আদম ও মুসার সাক্ষাৎ হলো। তখন মুসা আদমকে বললেন: আপনিই কি সেই আদম, যিনি মানুষকে পথভ্রষ্ট করেছেন এবং তাদের জান্নাত থেকে বের করে এনেছেন? আদম মুসাকে বললেন: আপনিই কি সেই মুসা, যাকে আল্লাহ তাঁর রিসালাতের মাধ্যমে মনোনীত করেছেন এবং নিজের জন্য চয়ন করেছেন এবং আপনার ওপর তাওরাত অবতীর্ণ করেছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। আদম বললেন: তবে কি আপনি এটি পেয়েছেন যে, তিনি আমাকে সৃষ্টি করার পূর্বেই তা আমার ভাগ্যে লিখে রেখেছিলেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: অতঃপর আদম মুসাকে তর্কে পরাজিত করলেন, আদম মুসাকে তর্কে পরাজিত করলেন।" ইমাম বুখারী এটি তাঁর সহীহ গ্রন্থে আল-সালত বিন মুহাম্মাদ থেকে, তিনি মাহদী বিন মাইমুন সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম মুসলিম এটি হিশাম বিন হাসসানের হাদিস থেকে ইবনে সীরীন সূত্রে উদ্ধৃত করেছেন।

 

২৩ - আবু তাহির আল-ফকীহ মৌখিকভাবে এবং আবু বকর আল-কাজী ও আবু সাঈদ বিন আবি আমর পঠনের মাধ্যমে আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন; তাঁরা বলেছেন: আবু আল-আব্বাস আল-আসাম্ম আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, ইয়াহইয়া বিন আবি তালিব আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আব্দুল ওয়াহহাব বিন আতা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, দাউদ বিন আবি হিন্দ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, (হ) [সনদ পরিবর্তন]
(খণ্ড: ১) আল-ক্বাযা ওয়াল ক্বাদর - বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ١١٧)
24 - وَأَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمُقْرِئُ، أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ يَعْقُوبَ الْقَاضِي، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ بْنِ حَسَّابٍ حَدَّثَنَا سِيرِينُ الْمُفَضَّلُ عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، عَنْ عَامِرٍ الشَّعْبِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " إِنَّ مُوسَى لَقِيَ آدَمَ فَقَالَ: أَنْتَ آدَمُ أَبُو الْبَشَرِ أَشْقَيْتَ النَّاسَ وَأَخْرَجْتَهُمْ مِنَ الْجَنَّةِ؟ قَالَ: فَقَالَ آدَمُ: أَنْتَ الَّذِي اصْطَفَاكَ اللَّهُ عَلَى النَّاسِ بِرِسَالَاتِهِ وَبِكَلَامِهِ؟ قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: فَبِكَمْ تَجِدُ فِيمَا نَزَّلَ اللَّهُ عَلَيْكَ أَنَّهُ سَيُخْرِجُنِي مِنْهَا قَبْلَ أَنْ ⦗ص: 118⦘ يُدْخِلَنِيهَا قَالَ: بِكَذَا وَكَذَا " قَالَ: «فَحَجَّ آدَمُ مُوسَى» لَفْظُ حَدِيثِ الْجَمَاعَةِ إِلَّا أَنَّهُمْ لَمْ يَذْكُرُوا قَوْلَهُ «أَبُو الْبَشَرِ» وَذَكَرَهُ الْمُقْرِئُ
২৪ - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হাসান আলী বিন মুহাম্মদ আল-মুকরি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হাসান বিন মুহাম্মদ বিন ইসহাক, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইউসুফ বিন ইয়াকুব আল-কাজী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন উবাইদ বিন হাসসাব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সিরীন আল-মুফাদ্দাল, দাউদ বিন আবি হিন্দ থেকে, তিনি আমির আশ-শা’বী থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই মূসা আদমের সাথে সাক্ষাৎ করলেন এবং বললেন: আপনি কি আদম, মানবজাতির পিতা? আপনি মানুষকে কষ্টে ফেলেছেন এবং তাদের জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছেন? তিনি (নবী) বলেন: তখন আদম বললেন: আপনি কি সেই ব্যক্তি যাকে আল্লাহ তাঁর রিসালাতসমূহ এবং তাঁর কালামের মাধ্যমে মানুষের ওপর মনোনীত করেছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। আদম বললেন: তবে আল্লাহ আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ করেছেন তাতে কত কাল আগে লেখা পেয়েছেন যে, তিনি আমাকে জান্নাতে ⦗পৃষ্ঠা: ১১৮⦘ প্রবেশ করানোর পূর্বেই সেখান থেকে বের করে দেবেন? তিনি বললেন: এত এত কাল আগে।" নবীজি বললেন: "অতঃপর আদম যুক্তির মাধ্যমে মূসাকে পরাস্ত করলেন।" এটি জামাআতের বর্ণিত হাদীসের শব্দাবলী, তবে তারা 'মানবজাতির পিতা' কথাটি উল্লেখ করেননি, যা আল-মুকরি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ক্বাযা ওয়াল ক্বাদর - বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ١١٨)
25 - وَأَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ جَنَاحُ بْنُ يَزِيدَ بْنِ جَنَاحٍ الْمُحَارِبِيُّ بِالْكُوفَةِ، أَخْبَرَنَا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ دُحَيْمٍ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَازِمِ بْنِ أَبِي غَرَزَةَ، أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، أَخْبَرَنَا الْأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَأَبِي سَعِيدٍ قَالَا: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " حَاجَّ آدَمُ مُوسَى فَقَالَ مُوسَى: يَا آدَمُ أَنْتَ الَّذِي خَلَقَكَ اللَّهُ بِيَدِهِ، وَنَفَخَ فِيكَ مِنْ رُوحِهِ، وَأَمَرَ الْمَلَائِكَةَ فَسَجَدُوا لَكَ، ثُمَّ أَخْرَجْتَ النَّاسَ مِنَ الْجَنَّةِ، وَفَتَنْتَهُمْ وَأَغْوَيْتَهُمْ، فَنُهِيتَ عَنِ الشَّجَرَةِ فَأَكَلْتَ مِنْهَا، فَأَخْرَجْتَ النَّاسَ مِنْهَا؟ قَالَ: يَا مُوسَى: أَنْتَ الَّذِي كَلَّمَكَ اللَّهُ تَكْلِيمًا، وَأَنْزَلَ عَلَيْكَ التَّوْرَاةَ، تَلُومُنِي فِي شَيْءٍ كَتَبَهُ اللَّهُ عَلَيَّ قَبْلَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ، فَحَجَّ آدَمُ مُوسَى "

 

26 - وَأَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ بْنُ الْفَضْلِ الْقَطَّانُ، بِبَغْدَادَ، وَسَهْلُ بْنُ زِيَادٍ الْقَطَّانُ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ وَهُوَ ابْنُ أَبِي الْحُنَيْنِ حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصِ بْنِ غِيَاثٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ، حَدَّثَنَا أَبُو صَالِحٍ، حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ، قَالَ: وَأُرَاهُ قَدْ ذَكَرَ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ قَالَا: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «احْتَجَّ آدَمُ وَمُوسَى» فَذَكَرَ الْحَدِيثَ بِمَعْنَاهُ وَرَوَاهُ عَمَّارُ بْنُ أَبِي عَمَّارٍ فِي آخَرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَهَؤُلَاءِ عَشْرَةٌ سَمَّيْنَاهُمْ فِي آخَرِينَ لَمْ نُسَمِّهِمْ قَدْ رَوَوْهُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَرَوَاهُ أَبُو صَالِحٍ عَنْهُ وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ وَرَوَاهُ أَبُو الْحَسَنِ الْبَصْرِيُّ عَنْ جَرِيرٍ وَغَيْرِهِ كُلُّهُمْ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَرَوَاهُ أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ
২৫ - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কুফার আবু মুহাম্মদ জানাহ ইবনে ইয়াজিদ ইবনে জানাহ আল-মুহারিবি, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে দুহাইম, তিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আহমদ ইবনে হাযিম ইবনে আবি গারাজাহ, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উবাইদুল্লাহ ইবনে মুসা, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-আ'মাশ, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা এবং আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আদম ও মুসা পরস্পর বিতর্ক করলেন। তখন মুসা বললেন: হে আদম, আপনিই কি সেই ব্যক্তি যাকে আল্লাহ আল্লাহর হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, আপনার মধ্যে তাঁর রূহ ফুঁকে দিয়েছেন, এবং ফেরেশতাদের নির্দেশ দিয়েছেন ফলে তাঁরা আপনাকে সিজদা করেছেন? এরপর আপনি মানুষদের জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছেন, এবং তাঁদের পরীক্ষায় ফেলেছেন ও পথভ্রষ্ট করেছেন। আপনাকে তো সেই গাছ থেকে নিষেধ করা হয়েছিল কিন্তু আপনি তা থেকে আহার করেছেন, ফলে আপনি মানুষদের সেখান থেকে বের করে দিয়েছেন? আদম বললেন: হে মুসা, আপনিই কি সেই ব্যক্তি যাঁর সাথে আল্লাহ সরাসরি কথা বলেছেন এবং আপনার ওপর তাওরাত অবতীর্ণ করেছেন? আপনি কি আমাকে এমন একটি বিষয়ে নিন্দা করছেন যা আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টির পূর্বেই আল্লাহ আমার ভাগ্যে লিখে রেখেছিলেন? এভাবে আদম মুসার ওপর তর্কে জয়ী হলেন।"

 

২৬ - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বাগদাদের আবু আল-হুসাইন ইবনুল ফাযল আল-কাত্তান এবং সাহল ইবনে যিয়াদ আল-কাত্তান, তাঁরা বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন—যিনি ইবনে আবিল হুনাইন নামে পরিচিত—তিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন উমর ইবনে হাফস ইবনে গিয়াস, তিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আমার পিতা, তিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আল-আ'মাশ, তিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু সালিহ, তিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু হুরায়রা (রা.)। বর্ণনাকারী বলেন: এবং আমি মনে করি তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.)-এর কথাও উল্লেখ করেছেন। তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আদম ও মুসা বিতর্ক করলেন"—অতঃপর তিনি সমার্থবোধক হাদীসটি উল্লেখ করেন। আর আম্মার ইবনে আবি আম্মার সহ আরও অনেকে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে। এঁরা হলেন সেই দশজন যাদের নাম আমরা উল্লেখ করেছি এবং আরও অনেকে রয়েছেন যাদের নাম আমরা উল্লেখ করিনি, যারা আবু হুরায়রা (রা.) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আর আবু সালিহ এটি তাঁর (আবু হুরায়রা) থেকে এবং আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.) থেকেও বর্ণনা করেছেন। এবং আবু আল-হাসান আল-বাসরি এটি জারির এবং আরও অনেকের মাধ্যমে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন। আর এটি আমিরুল মুমিনিন আবু হাফস উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-ও বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ক্বাযা ওয়াল ক্বাদর - বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ١١٨)
وَذَلِكَ فِيمَا

 

27 - أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدَانَ، أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عُبَيْدٍ الصَّفَّارُ، حَدَّثَنَا زِيَادُ بْنُ الْخَلِيلِ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي هِشَامُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُمَرَ، رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " إِنَّ مُوسَى عليه السلام قَالَ: يَا رَبِّ أَرِنِي أَبَانَا آدَمَ الَّذِي أَخْرَجَنَا وَنَفْسَهُ مِنَ الْجَنَّةِ فَأَرَاهُ آدَمَ عليه السلام فَقَالَ لَهُ: أَنْتَ آدَمُ؟ قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: أَنْتَ الَّذِي نَفَخَ اللَّهُ فِيكَ مِنْ رُوحِهِ وَعَلَّمَكَ الْأَسْمَاءَ كُلَّهَا، وَأَمَرَ الْمَلَائِكَةَ فَسَجَدُوا ⦗ص: 119⦘ لَكَ؟ قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: فَمَا حَمَلَكَ عَلَى أنْ أَخْرَجْتَنَا وَنَفْسَكَ مِنَ الْجَنَّةِ، فَقَالَ لَهُ آدَمُ: وَمَنْ أَنْتَ؟ قَالَ: مُوسَى قَالَ: أَنْتَ مُوسَى نَبِيُّ بَنِي إِسْرَائِيلَ الَّذِي كَلَّمَكَ اللَّهُ عز وجل مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ، وَلَمْ يَجْعَلْ بَيْنَكَ وَبَيْنَهُ رَسُولًا مِنْ خَلْقِهِ؟ قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: فَمَا وَجَدْتَ فِي كِتَابِ اللَّهِ عز وجل أَنَّ ذَلِكَ كَائِنٌ قَبْلَ أَنْ أُخْلَقَ؟ قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: فَبِمَ تَلُومُنِي فِي شَيْءٍ سَبَقَ مِنَ اللَّهِ عز وجل فِيهِ الْقَضَاءُ قَبْلِي «قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم» فَحَجَّ آدَمُ مُوسَى عليهما السلام " أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ سُلَيْمَانُ بْنُ الْأَشْعَثِ السِّجِسْتَانِيُّ فِي كِتَابِ السُّنَنِ عَنْ أَحْمَدَ بْنِ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ وَهْبٍ رَوَاهُ أَيْضًا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، عَنْ أَبِيهِ مَرْفُوعًا وَمَوْقُوفًا قَالَ أَبُو سُلَيْمَانَ حَمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْخَطَّابِيُّ رحمه الله: مَعْنَاهُ الْإِخْبَارُ عَنْ تَقَدُّمِ عِلْمِ اللَّهِ بِمَا يَكُونُ مِنْ أَفْعَالِ الْعِبَادِ وَأَكْسَابِهِمْ وَصُدُورِهَا عَنْ تَقْدِيرٍ مِنْهُ وَخَلْقٍ لَهَا، خَيْرِهَا وَشَرِّهَا، وَالْقَدَرُ اسْمٌ لِمَا صَدَرَ مُقَدَّرًا عَنْ فِعْلِ الْقَادِرِ، يُقَالُ: قَدَرْتُ الشَّيْءَ وَقَدَّرْتُ - خَفِيفَةً وَثَقِيلَةً - بِمَعْنًى وَاحِدٍ، وَالْقَضَاءُ فِي هَذَا مَعْنَاهُ الْخَلْقُ ⦗ص: 120⦘، كَقَوْلِهِ تَعَالَى: {فَقَضَاهُنَّ سَبْعَ سَمَوَاتٍ فِي يَوْمَيْنِ} أَيْ: خَلَقَهُنَّ. قَالَ أَبُو سُلَيْمَانَ: وَإِنَّمَا حَجَّهُ آدَمُ عليهما السلام فِي دَفْعِ اللَّوْمِ، إِذْ لَيْسَ لِأَحَدٍ مِنَ الْآدَمِيِّينَ أَنْ يَلُومَ أَحَدًا، وَقَدْ جَاءَ فِي الْحَدِيثِ: «انْظُرُوا إِلَى النَّاسِ كَأَنَّكُمْ عَبِيدٌ وَلَا تَنْظُرُوا إِلَيْهِمْ كَأَنَّكُمْ أَرْبَابٌ» . فَأَمَّا الْحُكْمُ الَّذِي تَنَازَعَاهُ فَهُمَا فِي ذَلِكَ عَلَى السَّوَاءِ، لَا يَقْدِرُ أَحَدٌ أَنْ يُسْقِطَ الْأَصْلُ الَّذِي هُوَ الْقَدَرُ، وَلَا أَنْ يُبْطِلَ الْكَسْبَ الَّذِي هُوَ السَّبَبُ، وَمَنْ فَعَلَ وَاحِدًا مِنْهُمَا خَرَجَ عَنِ الْقَصْدِ إِلَى أَحَدِ الطَّرَفَيْنِ مِنْ مَذْهَبِ الْقَدَرِ أَوِ الْجَبْرِ. وَفِي قَوْلِ آدَمَ أَنْتَ مُوسَى الَّذِي اصْطَفَاكَ اللَّهُ بِرِسَالَتِهِ وَبِكَلَامِهِ أَتَلُومُنِي عَلَى أَمْرٍ قُدِّرَ عَلَيَّ قَبْلَ أَنْ أُخْلَقَ؟ اسْتِقْصَارًا لِعِلْمِ مُوسَى يَقُولُ: إِذْ قَدْ جَعَلَكَ اللَّهُ بِالصِّفَةِ الَّتِي أَنْتَ بِهَا مِنَ الِاصْطِفَاءِ بِالرِّسَالَاتِ وَالْكَلَامِ، كَيْفَ يَسَعُكَ أَنْ تَلُومَنِي عَلَى الْقَدَرِ الْمَقْدُورِ الَّذِي لَا مَدْفَعَ لَهُ؟ فَقَالَ صلى الله عليه وسلم: «فَحَجَّ آدَمُ مُوسَى» وَحَقِيقَتُهُ: أَنَّهُ دَفَعَ حُجَّةَ مُوسَى الَّتِي أَلْزَمَهُ بِهَا اللَّوْمَ، وَذَلِكَ أَنَّ الِابْتِدَاءَ بِالْمَسْأَلَةِ وَالِاعْتِرَاضِ إِنَّمَا كَانَ مِنْ مُوسَى، وَلَمْ يَكُنْ مِنْ آدَمَ إِنْكَارًا لِمَا اقْتَرَفَهُ مِنَ الذَّنْبِ إِنَّمَا عَارَضَهُ بِأَمْرٍ كَانَ فِيهِ دَفْعُ اللَّوْمِ، فَكَانَ أَصَوْبُ الرَّأْيَيْنِ مَا ذَهَبَ إِلَيْهِ آدَمُ، فَقَصَّهُ الْمُصْطَفَى صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
আর এটি সে বিষয় যা সম্পর্কে

 

২৭ - আলী ইবনে আহমাদ ইবনে আবদান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমাদ ইবনে উবাইদ আস-সাফফার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, যিয়াদ ইবনে আল-খালীল আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইব্রাহীম ইবনুল মুনযির আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহব আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হিশাম ইবনে সাদ আমার কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি যায়েদ ইবনে আসলাম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই মূসা (আলাইহিস সালাম) বললেন: হে আমার রব! আপনি আমাদের পিতা আদমকে আমাকে দেখান, যিনি নিজেকে এবং আমাদের জান্নাত থেকে বের করেছেন। অতঃপর তিনি তাকে আদম (আলাইহিস সালাম)-কে দেখালেন। তিনি তাঁকে বললেন: আপনিই কি আদম? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: আপনিই কি সেই ব্যক্তি যাঁর মধ্যে আল্লাহ তাঁর রূহ ফুঁকে দিয়েছেন এবং আপনাকে সমস্ত নাম শিক্ষা দিয়েছেন এবং ফেরেশতাদের নির্দেশ দিয়েছেন ফলে তারা আপনাকে ⦗পৃষ্ঠা: ১১৯⦘ সিজদা করেছিল? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তবে কিসে আপনাকে প্ররোচিত করল যে আপনি আমাদেরকে এবং নিজেকে জান্নাত থেকে বের করে দিলেন? তখন আদম তাঁকে বললেন: আপনি কে? তিনি বললেন: মূসা। তিনি বললেন: আপনি কি বনী ইসরাঈলের নবী মূসা যাঁকে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা পর্দার আড়াল থেকে কথা বলেছেন এবং আপনার ও তাঁর মাঝে তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে কোনো রাসূল (মাধ্যম) রাখেননি? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তবে আপনি আল্লাহর কিতাবে কি পাননি যে, আমি সৃষ্টি হওয়ার পূর্বেই এটি নির্ধারিত ছিল? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তবে আপনি আমাকে এমন বিষয়ে কেন তিরস্কার করছেন যাতে আমার সৃষ্টির পূর্বেই আল্লাহর পক্ষ থেকে ফয়সালা হয়ে গিয়েছিল? «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন:» এভাবে আদম মূসা (আলাইহিমাস সালাম)-এর উপর যুক্তিতে জয়ী হলেন।" এটি আবু দাউদ সুলাইমান ইবনুল আশআস আস-সিজিস্তানি তাঁর কিতাবুস সুন্নাহ-তে আহমাদ ইবনে সালিহ থেকে, তিনি ইবনে ওয়াহব থেকে বর্ণনা করেছেন। এটি আবদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনুল খাত্তাবও তাঁর পিতা থেকে মারফু ও মাওকুফ উভয় সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আবু সুলাইমান হামদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহীম আল-খাত্তাবি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: এর অর্থ হলো বান্দাদের আমল এবং তাদের উপার্জনের বিষয়ে আল্লাহর পূর্বজ্ঞানের সংবাদ প্রদান এবং তা তাঁর পক্ষ থেকে নির্ধারণ ও সৃষ্টির মাধ্যমে প্রকাশ হওয়া, চাই তা ভালো হোক বা মন্দ। আর কদর (তকদীর) হলো সেই বিষয়ের নাম যা সক্ষম সত্তার (আল্লাহর) কাজ থেকে নির্ধারিত হয়ে প্রকাশ পায়। বলা হয়: আমি বিষয়টি নির্ধারণ করেছি (কাদারতু বা কাদ্দারতু) - হালকা বা ভারী উভয় উচ্চারণে একই অর্থ। আর এই ক্ষেত্রে কাদা (ফয়সালা) মানে হলো সৃষ্টি করা ⦗পৃষ্ঠা: ১২০⦘, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর তিনি সেগুলোকে দুই দিনে সাত আসমানে পরিণত করলেন} অর্থাৎ: সেগুলোকে সৃষ্টি করলেন। আবু সুলাইমান বলেন: আদম (আলাইহিমাস সালাম) কেবল তিরস্কার প্রতিরোধের ক্ষেত্রে যুক্তিতে জয়ী হয়েছেন, কেননা কোনো মানুষের জন্য অন্য কাউকে তিরস্কার করা শোভনীয় নয়। হাদীসে এসেছে: «তোমরা মানুষের দিকে এমনভাবে তাকাও যেন তোমরা দাস, তাদের দিকে এমনভাবে তাকিও না যেন তোমরা প্রতিপালক»। আর যে বিধান নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিতর্ক হয়েছে, সে বিষয়ে তাঁরা উভয়েই সমান অবস্থানে ছিলেন। তকদীর নামক মূল ভিত্তিটিকে বাতিল করার ক্ষমতা কারো নেই, আর মানুষের উপার্জন বা মাধ্যমকেও (কাসব) কেউ অসার করতে পারে পারে না। যে ব্যক্তি এ দুটির একটিকে অস্বীকার করবে, সে পরিমিত অবস্থান থেকে বিচ্যুত হয়ে কাদারিয়্যাহ অথবা জাবরিয়্যাহ মতবাদের যেকোনো এক প্রান্তে চলে যাবে। আর আদমের এই উক্তি: "আপনি কি সেই মূসা যাঁকে আল্লাহ তাঁর রিসালাত ও কালামের মাধ্যমে মনোনীত করেছেন? আপনি কি আমাকে এমন বিষয়ে তিরস্কার করছেন যা আমি সৃষ্টি হওয়ার পূর্বেই আমার ওপর নির্ধারিত ছিল?" - এটি ছিল মূসার ইলমের সীমাবদ্ধতা নির্দেশক। তিনি বলতে চাচ্ছেন: যেহেতু আল্লাহ আপনাকে রিসালাত ও কালামের মাধ্যমে মনোনীত করার মতো বিশেষ বৈশিষ্ট্য দান করেছেন, তবে আপনি আমাকে সেই নির্ধারিত তকদীরের বিষয়ে কীভাবে তিরস্কার করতে পারেন যা প্রতিহত করার কোনো উপায় ছিল না? অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: «আদম মূসার ওপর যুক্তিতে জয়ী হলেন» এবং এর হাকীকত হলো: তিনি মূসার সেই যুক্তিটি খণ্ডন করেছেন যার মাধ্যমে তিনি তিরস্কার করতে চেয়েছিলেন। আর এর কারণ হলো প্রশ্ন ও আপত্তির সূচনা মূসাই করেছিলেন। আর আদমের পক্ষ থেকে তাঁর কৃত পাপের কোনো অস্বীকার ছিল না, বরং তিনি এমন একটি বিষয়ের মাধ্যমে তাঁর মোকাবিলা করেছিলেন যাতে তিরস্কার থেকে আত্মরক্ষা ছিল। ফলে আদমের গৃহীত পথটিই ছিল অধিকতর সঠিক সিদ্ধান্ত, যা মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ক্বাযা ওয়াল ক্বাদর - বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ١٢١)
بَابُ ذِكْرِ الْبَيَانِ أَنَّ الْقَلَمَ لَمَّا جَرَى بِمَا هُوَ كَائِنٌ كَانَ فِيمَا جَرَى مَا يَفْعَلُهُ بَنُو آدَمَ مِنْ خَيْرٍ وَشَرٍّ قَالَ اللَّهُ عز وجل: {وَكُلُّ شَيْءٍ فَعَلُوهُ فِي الزُّبُرِ وَكُلُّ صَغِيرٍ وَكَبِيرٍ مُسْتَطَرٌ} [القمر: 53] قُلْتُ وَمَا جَفَّتْ بِهِ الْأَقْلَامُ وَجَرَتْ بِهِ الْمَقَادِيرُ عَلَى عِلْمِ اللَّهِ عز وجل فَكُلُّ امْرِئٍ مُيَسَّرٌ لِمَا خُلِقَ لَهُ، لَا يَجُوزُ وُقُوعُ الْخُلْفِ فِيهِ. قَالَ اللَّهُ عز وجل: {وَنَفَسٍ وَمَا سَوَّاهَا فَأَلْهَمَهَا فُجُورَهَا وَتَقْوَاهَا} [الشمس: 7]
পরিচ্ছেদ: এ বিষয়ের বিবরণ যে, কলম যখন ভবিষ্যতে যা কিছু ঘটবে তা লিপিবদ্ধ করেছে, তখন সেই লেখনীর অন্তর্ভুক্ত ছিল আদম সন্তানরা যা কিছু ভালো ও মন্দ কাজ করবে। আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা বলেছেন: "এবং তারা যা কিছু করেছে তা আমলনামায় রয়েছে। আর প্রত্যেক ছোট ও বড় বিষয়ই লিপিবদ্ধ।" [সূরা আল-কামার: ৫৩] আমি বলছি, কলম যা লিখে শুকিয়ে গিয়েছে এবং মহান আল্লাহর জ্ঞান অনুযায়ী তাকদীরসমূহ যেভাবে নির্ধারিত হয়েছে, সে অনুযায়ী প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য তা-ই সহজ করে দেওয়া হয়েছে যার জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে; এর কোনো ব্যতিক্রম হওয়া সম্ভব নয়। আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা বলেছেন: "শপথ প্রাণের এবং তাঁর, যিনি তাকে সুঠাম করেছেন। অতঃপর তিনি তাকে তার পাপাচার ও তার তাকওয়ার জ্ঞান দান করেছেন।" [সূরা আশ-শামস: ৭-৮]
(খণ্ড: ১) আল-ক্বাযা ওয়াল ক্বাদর - বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ١٢١)
28 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الرُّوذْبَارِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ دَاسَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ غِيَاثٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بُرَيْدَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمَرَ، وَحُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَا: لَقِينَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ فَذَكَرْنَا لَهُ الْقَدَرَ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: وَسَأَلَهُ رَجُلٌ مِنْ مُزَيْنَةَ أَوْ جُهَيْنَةَ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ فِيمَ نَعْمَلُ الْعَمَلَ، فِي شَيْءٍ خَلَا أَوْ مَضَى، أَوْ شَيْءٍ نَسْتَأْنِفُ الْآنَ؟ قَالَ: «فِي شَيْءٍ خَلَا وَمَضَى» فَقَالَ الرَّجُلُ وَبَعْضُ الْقَوْمِ: فَفِيمَ الْعَمَلُ؟ قَالَ: «إِنَّ أَهْلَ الْجَنَّةِ مُيَسَّرُونَ لِعَمَلِ أَهْلِ الْجَنَّةِ، وَإِنَّ أَهْلَ النَّارِ مُيَسَّرُونَ لِعَمَلِ أَهْلِ النَّارِ» رَوَاهُ مُسْلِمٌ فِي الصَّحِيحِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ حَاتِمٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ
২৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ আল-রুজবারী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর ইবনে দাসাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া, উসমান ইবনে গিয়াস থেকে, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহ, ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামুর এবং হুমায়দ ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তাঁরা উভয়ে বলেন: আমরা আবদুল্লাহ ইবনে উমরের সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং তাঁর নিকট তাকদির সম্পর্কে আলোচনা করলাম। তখন তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব থেকে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সূত্রে হাদিসটি বর্ণনা করেন। তিনি (রাবি) বলেন: মুযায়না অথবা জুহায়না গোত্রের এক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা যে আমল করছি তা কিসের ভিত্তিতে? এমন কিছু যা পূর্বেই নির্ধারিত ও অতিক্রান্ত হয়ে গেছে, নাকি এমন কিছু যা আমরা এখন নতুনভাবে শুরু করছি? তিনি বললেন: «বরং এমন কিছু যা পূর্বেই নির্ধারিত ও অতিক্রান্ত হয়ে গেছে।» তখন সেই ব্যক্তি এবং উপস্থিত লোকদের কেউ কেউ বললেন: তাহলে আমল করার সার্থকতা কী? তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই জান্নাতবাসীদের জন্য জান্নাতবাসীদের উপযোগী আমল সহজ করে দেওয়া হয়, আর জাহান্নামবাসীদের জন্য জাহান্নামবাসীদের উপযোগী আমল সহজ করে দেওয়া হয়।» ইমাম মুসলিম এটি তাঁর সহিহ গ্রন্থে মুহাম্মদ ইবনে হাতিম থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ক্বাযা ওয়াল ক্বাদর - বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ١٢١)
29 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدَانَ، أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عُبَيْدٍ الصَّفَّارُ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِسْحَاقَ الْقَاضِي، حَدَّثَنَا ⦗ص: 122⦘ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: جَاءَ سُرَاقَةُ بْنُ مَالِكِ بْنِ جُعْشُمٍ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ بَيِّنْ لَنَا يَعْنِي دِينَنَا، كَأَنَّا خُلِقْنَا الْآنَ، فِيمَ الْعَمَلُ الْيَوْمَ؟ فِيمَا جَفَّتْ بِهِ الْأَقْلَامُ وَجَرَتْ بِهِ الْمَقَادِيرُ أَوْ شَيْءٌ نَسْتَقْبِلُ؟ قَالَ: «لَا بَلْ فِيمَا جَفَّتْ بِهِ الْأَقْلَامُ وَجَرَتْ بِهِ الْمَقَادِيرُ» فَقَالَ: فِيمَ الْعَمَلُ؟ ثُمَّ تَكَلَّمَ أَبُو الزُّبَيْرِ بِشَيْءٍ لَمْ أَفْهَمْهُ فَسَأَلْتُ يَاسِينَ الزَّيَّاتَ عَمَّا قَالَ، فَقَالَ: اعْمَلُوا فَكُلٌّ مُيَسَّرٌ

 

30 - وَأَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبُو الْوَلِيدِ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحُسَيْنِ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ وَهُوَ زُهَيْرُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، فَذَكَرَهُ بِإِسْنَادِهِ وَمَعْنَاهُ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ فِي الصَّحِيحِ عَنْ يَحْيَى بْنِ يَحْيَى، وَأَحْمَدَ بْنِ يُونُسَ
২৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আলী ইবনে আহমদ ইবনে আবদান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ ইবনে উবাইদ আস-সাফফার, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইসমাইল ইবনে ইসহাক আল-কাজী, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ১২২⦘ আহমদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে ইউনুস, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন জুহাইর, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবুয যুবাইর, জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: সুরাকা ইবনে মালিক ইবনে জু'শুম এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমাদের কাছে আমাদের দ্বীন এমনভাবে বর্ণনা করুন যেন আমরা এইমাত্র সৃষ্টি হয়েছি। আজকের আমল বা কর্ম কিসের ভিত্তিতে হচ্ছে? যা কলম লিখে শুকিয়ে গেছে এবং তাকদীর নির্ধারিত হয়ে গেছে তার ভিত্তিতে, নাকি এমন বিষয়ের ভিত্তিতে যা ভবিষ্যতে ঘটবে? তিনি বললেন: "না, বরং যা কলম লিখে শুকিয়ে গেছে এবং তাকদীর নির্ধারিত হয়ে গেছে তার ভিত্তিতে।" তিনি বললেন: তাহলে আমল করে কী লাভ? অতঃপর আবুয যুবাইর এমন কিছু বললেন যা আমি বুঝতে পারিনি, তাই আমি ইয়াসিন আয-যাইয়াতকে জিজ্ঞেস করলাম তিনি কী বলেছেন। তিনি বললেন: (রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন) "তোমরা আমল করতে থাকো, কেননা প্রত্যেকের জন্যই (তার গন্তব্য) সহজসাধ্য করা হয়েছে।"

 

৩০ - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ আল-হাফিয, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবুল ওয়ালিদ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হাফস ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু খাইসামা—আর তিনি হলেন জুহাইর ইবনে মুয়াবিয়া—অতঃপর তিনি এটি এর সনদ ও অর্থসহ উল্লেখ করেছেন। ইমাম মুসলিম এটি তাঁর সহীহ গ্রন্থে ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া এবং আহমদ ইবনে ইউনুস থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ক্বাযা ওয়াল ক্বাদর - বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ١٢٢)
31 - أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدَانَ، أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عُبَيْدٍ الصَّفَّارُ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُقْرِئُ، حَدَّثَنَا أَبُو حَنِيفَةَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ سُرَاقَةَ بْنَ مَالِكِ بْنِ جُعْشُمٍ الْمُدْلِجِيَّ قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَخْبِرْنَا عَنْ دِينِنَا، هَذَا كَأَنَّا خُلِقْنَا لَهُ السَّاعَةَ فِي أَيِّ شَيْءٍ نَعْمَلُ، فِي شَيْءٍ ثَبَتَتْ فِيهِ الْمَقَادِيرُ وَجَرَتْ بِهِ الْأَقْلَامُ، أَمْ فِي شَيْءٍ نَسْتَقْبِلُ فِيهِ الْعَمَلَ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " اعْمَلُوا فَكُلُّ عَامِلٍ مُيَسَّرٌ لِمَا خُلِقَ لَهُ - وَقَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم هَذِهِ الْآيَةَ -: {فَأَمَّا مَنْ أَعْطَى وَاتَّقَى وَصَدَّقَ بِالْحُسْنَى} [الليل: 6] ، بِلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، {فَسَنُيَسِّرُهُ لِلْيُسْرَى} [الليل: 7] ، {وَأَمَّا مَنْ بَخِلَ وَاسْتَغْنَى وَكَذَّبَ بِالْحُسْنَى} [الليل: 8] ، بِلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، {فَسَنُيَسِّرُهُ لِلْعُسْرَى} [الليل: 10] "

 

32 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ أَعْسَرَ الْفَقِيهُ بِبَغْدَادَ إِمْلَاءً وَقِرَاءَةً، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مُحَمَّدٍ الرَّقَاشِيُّ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ، ح
৩১ - আলী বিন আহমাদ বিন আবদান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমাদ বিন উবাইদ আস-সাফফার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, বিশর বিন মুসা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবু আবদুর রহমান আল-মুকরি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবু হানিফা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু আল-যুবাইর থেকে, তিনি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, সুরাকা বিন মালিক বিন জু'শুম আল-মুদলিজি বলেছেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের দ্বীন সম্পর্কে আমাদের জানান, যেন আমরা এই মাত্র তার জন্য সৃষ্টি হয়েছি। আমরা কিসের ভিত্তিতে আমল করছি? এমন বিষয়ে কি যার তাকদীর নির্ধারিত হয়ে গেছে এবং কলমসমূহ তাতে চলে (স্থির হয়ে) গেছে, নাকি এমন বিষয়ে যা আমরা নতুনভাবে করছি? তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তোমরা আমল করে যাও, কেননা প্রত্যেক আমলকারীর জন্য সেই পথ সহজ করে দেওয়া হয় যার জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে।" অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই আয়াত পাঠ করলেন: {অতঃপর যে দান করে ও তাকওয়া অবলম্বন করে, এবং উত্তম বিষয়কে (অর্থাৎ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহকে) সত্য বলে বিশ্বাস করে, আমি তার জন্য সুগম করে দেব সহজ পথ। আর যে কৃপণতা করে ও নিজেকে অভাবমুক্ত মনে করে, এবং উত্তম বিষয়কে (অর্থাৎ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহকে) অস্বীকার করে, আমি তার জন্য সুগম করে দেব কঠোর পথ।}

 

৩২ - আবু আবদুল্লাহ আল-হাফিয আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, বাগদাদে শ্রুতলিপি ও পাঠের মাধ্যমে আবু বকর আহমাদ বিন সুলাইমান বিন আসার আল-ফকিহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবদুল মালিক বিন মুহাম্মদ আর-রাকাশি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, উসমান বিন উমর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন...