(খণ্ড: ১) আল-ফিতান লি-নুআইম বিন হাম্মাদ (পৃষ্ঠা: -)
الفتن لنعيم بن حماد   (نعيم بن حماد المروزي)

القسم: كتب السنة

الكتاب: كتاب الفتن

المؤلف: أبو عبد الله نعيم بن حماد بن معاوية بن الحارث الخزاعي المروزي (ت 228هـ)

المحقق: سمير أمين الزهيري

الناشر: مكتبة التوحيد - القاهرة

الطبعة: الأولى، 1412

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

নুআইম বিন হাম্মাদের কিতাবুল ফিতান   (নুআইম বিন হাম্মাদ আল-মারওয়াযী)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ

কিতাব: কিতাবুল ফিতান

গ্রন্থকার: আবু আব্দুল্লাহ নুআইম বিন হাম্মাদ বিন মুয়াবিয়া বিন আল-হারিস আল-খুযাঈ আল-মারওয়াযী (মৃত্যু ২২৮ হিজরী)

মুহাক্কিক: সামীর আমীন আয-যুহাইরী

প্রকাশক: মাকতাবাতুত তাওহীদ - কায়রো

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১২

খণ্ড সংখ্যা: ২

[কিতাবের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল হিজ্জাহ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-ফিতান লি-নুআইম বিন হাম্মাদ (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌مَا كَانَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ التَّقَدُّمِ وَمِنْ أَصْحَابِهِ بَعْدَهُ فِي الْفِتَنِ الَّتِي هِيَ كَائِنَةٌ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর পরবর্তী সময়ে তাঁর সাহাবীগণের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে সংঘটিতব্য ফিতনাসমূহ সম্পর্কে যা পূর্বেই বর্ণিত হয়েছে
(খণ্ড: ১) আল-ফিতান লি-নুআইম বিন হাম্মাদ (পৃষ্ঠা: ২৭)
أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ الْغَفَّارِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحُسَيْنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ الْحَسَنِ الشِّيرَوِيُّ، بِقَرَاءَتِي عَلَيْهِ، بِنَيْسَابُورَ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ رِيذَةَ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَيُّوبَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ حَاتِمٍ الْمُرَادِيُّ بِمِصْرَ أَبُو زَيْدٍ سَنَةَ ثَمَانِينَ وَمِائَتَيْنِ،

 

‌‌1 - حَدَّثَنَا نُعَيْمُ بْنُ حَمَّادٍ الْمَرْوَزِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، وَابْنِ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رضي الله عنه قَالَ: «صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلَاةَ الْعَصْرِ نَهَارًا، ثُمَّ خَطَبَ إِلَى أَنْ غَابَتِ الشَّمْسُ، فَلَمْ يَدَعْ شَيْئًا هُوَ كَائِنٌ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ إِلَّا حَدَّثَنَا بِهِ، حَفِظَهُ مَنْ حَفِظَهُ، وَنَسِيَهُ مَنْ نَسِيَهُ»
শায়খ আবু বকর আব্দুল গাফফার ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন ইবনে আলী ইবনুল হাসান আশ-শিরাওয়ী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—নিশাপুরে তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে—তিনি বলেন: আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে রিযাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; তিনি বলেন: আবুল কাসিম সুলায়মান ইবনে আহমাদ ইবনে আইয়ুব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; তিনি বলেন: আবু যায়েদ আব্দুর রহমান ইবনে হাতিম আল-মুরাদী দুইশত আশি হিজরী সালে মিসরে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন,

 

‌‌১ - নুআইম ইবনে হাম্মাদ আল-মারওয়াযী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক মা’মার থেকে, তিনি আলী ইবনে যায়েদ থেকে, তিনি আবু নাযরাহ থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন। এবং ইবনে উয়াইনাহ আলী ইবনে যায়েদ থেকে, তিনি আবু নাযরাহ থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দিনের বেলা আমাদের নিয়ে আসরের সালাত আদায় করলেন, এরপর তিনি সূর্যাস্ত পর্যন্ত ভাষণ দিলেন। কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু ঘটবে তার কোনো কিছুই তিনি বাদ দেননি বরং আমাদের নিকট তা বর্ণনা করেছেন। যে তা স্মরণ রাখার সে তা স্মরণ রেখেছে, আর যে তা ভুলে যাওয়ার সে তা ভুলে গেছে।’
(খণ্ড: ১) আল-ফিতান লি-নুআইম বিন হাম্মাদ (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌2 - حَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ سِنَانٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو الزَّاهِرِيَّةِ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ مُرَّةَ أَبِي شَجَرَةَ الْحَضْرَمِيِّ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، رضي الله عنهما قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ اللَّهَ رَفَعَ لِي الدُّنْيَا فَأَنَا أَنْظُرُ إِلَيْهَا وَإِلَى مَا هُوَ كَائِنٌ فِيهَا إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ كَمَا أَنْظُرُ إِلَى كَفِّي هَذِهِ، جِيِلَانٌْ مِنَ اللَّهِ جَلَّاهُ لِنَبِيِّهِ كَمَا جَلَا لِلنَّبِيِّينَ قَبْلَهُ»
২ - আল-হাকাম ইবনে নাফি‘ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনে সিনান থেকে, তিনি বলেন, আবু আল-জাহিরিয়্যাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাসীর ইবনে মুররাহ আবু শাজারাহ আল-হাদরামি থেকে, তিনি ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার সামনে দুনিয়াকে তুলে ধরেছেন, ফলে আমি দুনিয়ার দিকে এবং কিয়ামত দিবস পর্যন্ত এতে যা কিছু ঘটবে তার দিকে তাকাচ্ছি, যেমন আমি আমার এই হাতের তালুর দিকে তাকাচ্ছি। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে এক উন্মোচন যা তিনি তাঁর নবীর জন্য সুস্পষ্ট করেছেন, যেমনটি তিনি তাঁর পূর্ববর্তী নবীদের জন্য সুস্পষ্ট করেছিলেন»।
(খণ্ড: ১) আল-ফিতান লি-নুআইম বিন হাম্মাদ (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌3 - حَدَّثَنَا نُعَيْمٌ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنِ وَهْبٍ، عَنِ ابْنِ لَهِيعَةَ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ الْخَوْلَانِيِّ، عَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ الْيَمَانِ، رضي الله عنه قَالَ: «أَنَا أَعْلَمُ النَّاسِ بِكُلِّ فِتْنَةٍ هِيَ كَائِنَةٌ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ، وَمَا بِي أَنْ يَكُونَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَسَرَّ إِلَيَّ فِي ذَلِكَ شَيْئًا لَمْ يُحَدِّثْ بِهِ غَيْرِي، وَلَكِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَدَّثَ مَجْلِسًا أَنَا فِيهِ عَنِ الْفِتَنِ الَّتِي تَكُونُ مِنْهَا صِغَارٌ، وَمِنْهَا كِبَارٌ، فَذَهَبَ أُولَئِكَ الرَّهْطِ كُلُّهُمْ غَيْرِي»
৩ - নুআইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব আমাদের নিকট ইবনে লাহিয়াহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি উকাইল থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি আবু ইদ্রিস আল-খাওলানী থেকে, তিনি হুজায়ফা ইবনুল ইয়ামান (রা.) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «আমি কিয়ামত পর্যন্ত সংঘটিতব্য প্রতিটি ফিতনা সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবগত। বিষয়টি এমন নয় যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ বিষয়ে আমাকে গোপনে এমন কিছু বলেছিলেন যা তিনি অন্য কারো কাছে বলেননি; বরং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি মজলিসে ফিতনা সম্পর্কে আলোচনা করেছিলেন যেখানে আমি উপস্থিত ছিলাম, সেগুলোর মধ্যে কিছু ছিল ছোট আর কিছু বড়। অতঃপর সেই দলের আমি ছাড়া বাকি সকলে গত হয়ে গেছেন (অর্থাৎ ইন্তেকাল করেছেন)»
(খণ্ড: ১) আল-ফিতান লি-নুআইম বিন হাম্মাদ (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌4 - حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ بْنُ الْوَلِيدِ وَأَبُو الْمُغِيرَةِ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ: حَدَّثَنِي السَّفَرُ بْنُ نُسَيْرٍ الْأَزْدِيُّ، عَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ الْيَمَانِ، رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «تَكُونُ فِتَنٌ كَقِطَعِ اللَّيْلِ الْمُظْلِمِ، يَتْبَعُ بَعْضُهَا بَعْضًا، تَأْتِيكُمْ مُشْتَبِهَةً كَوجُوهِ الْبَقَرِ، لَا تَدْرُونَ أَيُّهَا مِنْ أَيٍّ»
৪ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বাকিয়্যাহ ইবনুল ওয়ালিদ এবং আবু আল-মুগিরাহ, তাঁরা সাফওয়ান ইবনে আমর থেকে, তিনি বলেন: আমাকে সাফফার ইবনে নুসাইর আল-আজদি বর্ণনা করেছেন হুযাইফাহ ইবনুল ইয়ামান (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «অন্ধকার রাতের টুকরোর ন্যায় ফিতনাসমূহ দেখা দেবে, যার একটির পর অন্যটি আসতে থাকবে। সেগুলো তোমাদের নিকট গরুর চেহারার ন্যায় সদৃশ হয়ে আসবে, তোমরা বুঝতে পারবে না কোনটি কার থেকে আলাদা (বা কোনটি কোনটি হতে পৃথক)।’»
(খণ্ড: ১) আল-ফিতান লি-নুআইম বিন হাম্মাদ (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌5 - حَدَّثَنَا نُعَيْمٌ قَالَ: حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ، عَنْ حَسَّانَ بْنِ عَطِيَّةَ، عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ الْخَوْلَانِيِّ، عَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ الْيَمَانِ، قَالَ: «هَذِهِ فِتَنٌ قَدْ أَظَلَّتْ كَجِبِاهِ الْبَقَرِ، يَهْلِكُ فِيهَا أَكْثَرُ النَّاسِ إِلَّا مَنْ كَانَ يَعْرِفُهَا قَبْلَ ذَلِكَ»
‌৫ - আমাদের নিকট নুআইম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ঈসা ইবনে ইউনুস বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আওযায়ী বর্ণনা করেছেন হাসসান ইবনে আতিয়্যাহ থেকে, তিনি আবু ইদরীস আল-খাওলানী থেকে, তিনি হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «এসব ফিতনা গাভীর কপালের ন্যায় আমাদের ওপর ছায়া ফেলেছে, এতে অধিকাংশ মানুষ ধ্বংস হয়ে যাবে, তবে তারা ব্যতীত যারা আগে থেকেই এটি সম্পর্কে জানত।»
(খণ্ড: ১) আল-ফিতান লি-নুআইম বিন হাম্মাদ (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌6 - حَدَّثَنَا نُعَيْمٌ قَالَ: حَدَّثَنَا رِشْدِينُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ لَهِيعَةَ، قَالَ: حَدَّثَنِي سَلَامَانُ بْنُ عَامِرٍ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ الْأَصْبَحِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِذَا تَقَارَبَ الزَّمَانُ أَنَاخَ بِكُمُ الشُّرْفُ الْجُونُ، فِتَنٌ كَقِطَعِ اللَّيْلِ الْمُظْلِمِ»
৬ - আমাদের নিকট নুআইম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট রিশদিন ইবনে সাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবনে লাহিয়াহ্ থেকে, তিনি বলেন: সালামাহ্ ইবনে আমির আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি আবু উসমান আল-আসবাহি থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যখন সময় নিকটবর্তী হবে, তখন মিশকালো বৃহৎ কুঁজবিশিষ্ট উটগুলো তোমাদের নিকট এসে হাঁটু গেড়ে বসবে; (তা হলো) অন্ধকার রাতের টুকরোর ন্যায় ফিতনাসমূহ।»
(খণ্ড: ১) আল-ফিতান লি-নুআইম বিন হাম্মাদ (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌7 - حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ كُرْزِ بْنِ عَلْقَمَةَ الْخُزَاعِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَسَأَلَهُ رَجُلٌ: هَلْ لِلْإِسْلَامِ مِنْ مُنْتَهًى؟ قَالَ: «نَعَمْ، أَيُّمَا أَهْلِ بَيْتٍ مِنَ الْعَرَبِ أَوِ الْعَجَمِ أَرَادَ اللَّهُ بِهِمْ خَيْرًا أَدْخَلَ عَلَيْهِمُ الْإِسْلَامَ» قَالَ: ثُمَّ مَهْ؟ قَالَ: «ثُمَّ تَكُونُ فِتَنٌ كَأَنَّهَا الظُّلَلُ» فَقَالَ الرَّجُلُ: كَلَّا وَاللَّهِ، إِنْ شَاءَ اللَّهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ: «بَلَى، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، ثُمَّ لَتَعُودُنَّ فِيهَا أَسَاوِدَ صُبًّا، يَضْرِبُ بَعْضُكُمْ رِقَابَ بَعْضٍ» قَالَ الزُّهْرِيُّ: الْأَسْوَدُ الْحَيَّةُ إِذَا نَهَشَتْ نَزَتْ ثُمَّ تَرْفَعُ رَأْسَهَا ثُمَّ تَنْصِبُ

 

‌‌8 - حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ، عَنْ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ كُرْزِ بْنِ عَلْقَمَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَ ذَلِكَ

 

‌‌9 - حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ كُرْزِ بْنِ عَلْقَمَةَ، بِمِثْلِ حَدِيثِ سُفْيَانَ، إِلَّا أَنَّهُ قَالَ: قَالَ أَعْرَابِيٌّ: يَا رَسُولَ اللَّهِ
৭ - সুফিয়ান বিন উয়াইনা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি যুহরী থেকে, তিনি উরওয়া বিন যুবায়র থেকে, তিনি কুরয বিন আলক্বামা আল-খুযাঈ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞেস করল: ইসলামের কি কোনো সমাপ্তি আছে? তিনি বললেন: «হ্যাঁ, আরব বা অনারবদের যে কোনো পরিবারের জন্য আল্লাহ যখন কল্যাণের ইচ্ছা করেন, তখন তাদের নিকট ইসলামকে প্রবেশ করিয়ে দেন।» সে বলল: তারপর কী হবে? তিনি বললেন: «তারপর এমন ফিতনা দেখা দেবে যা মেঘমালার মতো আচ্ছন্নকারী হবে।» তখন লোকটি বলল: কক্ষনো নয়, আল্লাহর শপথ, ইনশাআল্লাহ, হে আল্লাহর রাসূল! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «অবশ্যই হবে, সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, তারপর তোমরা অবশ্যই এমনভাবে ফিরে যাবে যেন তোমরা একে অপরকে আক্রমণকারী কৃষ্ণসর্প, তোমরা একে অপরের গর্দান কর্তন করবে।» যুহরী বলেন: ‘আল-আসওয়াদ’ (কৃষ্ণসর্প) হলো সেই সাপ যা দংশন করলে লাফিয়ে ওঠে, তারপর মাথা উঁচু করে এবং স্থির হয়ে দাঁড়ায়।

 

৮ - ওয়ালীদ বিন মুসলিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আওযাঈ থেকে, তিনি আব্দুল ওয়াহিদ বিন কায়স থেকে, তিনি উরওয়া বিন যুবায়র থেকে, তিনি কুরয বিন আলক্বামা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

 

৯ - ইবনুল মুবারক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি মা'মার থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি উরওয়া বিন যুবায়র থেকে, তিনি কুরয বিন আলক্বামা থেকে সুফিয়ানের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন; তবে তিনি বলেছেন: এক বেদুইন বলল: হে আল্লাহর রাসূল!
(খণ্ড: ১) আল-ফিতান লি-নুআইম বিন হাম্মাদ (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌10 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ الثَّقَفِيُّ، حَدَّثَنَا يُونُسُ ‌‌⦗ص: 30⦘ بْنُ عُبَيْدٍ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ، رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ بَيْنَ يَدَيِّ السَّاعَةِ لَهَرْجًا» قَالُوا: وَمَا الْهَرْجُ؟ قَالَ: «الْقَتْلُ وَالْكَذِبُ» قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَتْلٌ أَكْثَرُ مِمَّا يَقْتُلُ الْآنَ مِنَ الْكُفَّارِ؟ قَالَ: «إِنَّهُ لَيْسَ بِقَتْلِكُمْ لِلْكُفَّارِ، وَلَكِنْ يَقْتُلُ الرَّجُلُ جَدُّهُ وَأَخَاهُ وَابْنَ عَمِّهِ»
১০ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে আব্দুল মাজীদ আস-সাকাফী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইউনুস ⦗পৃষ্ঠা: ৩০⦘ ইবনে উবাইদ, হাসান থেকে বর্ণিত, আবু মূসা আল-আশআরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই কিয়ামতের প্রাক্কালে 'হারজ' সংঘটিত হবে» তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন: 'হারজ' কী? তিনি বললেন: «হত্যা এবং মিথ্যা» তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! বর্তমানে কাফেরদের যে পরিমাণ হত্যা করা হচ্ছে তার চেয়েও কি বেশি হত্যা হবে? তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই তা তোমাদের কাফেরদের হত্যা করা নয়, বরং ব্যক্তি তার দাদাকে, তার ভাইকে এবং তার চাচাতো ভাইকে হত্যা করবে»
(খণ্ড: ১) আল-ফিতান লি-নুআইম বিন হাম্মাদ (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌11 - حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، أَخْبَرَنَا الْمُبَارَكُ بْنُ فَضَالَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أَسِيدِ بْنِ الْمُتَشَمِّسِ بْنِ مُعَاوِيَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا مُوسَى، يَقُولُ: «لَيَكُونَنَّ مِنْ أَهْلِ الْإِسْلَامِ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ الْهَرْجُ وَالْقَتْلُ، حَتَّى يَقْتُلَ الرَّجُلُ جَدَّهُ وَابْنَ عَمِّهِ وَأَبَاهُ وَأَخَاهُ، وَايْمُ اللَّهِ، لَقَدْ خَشِيتُ أَنْ تُدْرِكَنِي وَإِيَّاكُمْ»
‌১১ - ইবনুল মুবারাক আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মুবারাক ইবনু ফাদালা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি হাসান থেকে, তিনি আসীয়দ ইবনুল মুতাশাম্মিস ইবনে মুয়াবিয়া থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আবু মুসাকে বলতে শুনেছি: «কিয়ামতের প্রাক্কালে অবশ্যই মুসলিমদের মধ্যে হারজ (বিশৃঙ্খলা) ও হত্যাকাণ্ড ঘটবে, এমনকি ব্যক্তি তার দাদা, তার চাচাতো ভাই, তার পিতা এবং তার ভাইকে হত্যা করবে। আল্লাহর শপথ! আমি নিশ্চয়ই আশঙ্কা করছি যে, তা আমাকে এবং তোমাদেরকে পেয়ে বসবে।»
(খণ্ড: ১) আল-ফিতান লি-নুআইম বিন হাম্মাদ (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌12 - حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ، عَنْ عَاصِمٍ الْأَحْوَلِ، قَالَ: حَدَّثَنِي شَيْخٌ، عَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ، رضي الله عنه قَالَ: «إِنَّ بَعْدَكُمْ فِتَنًا كَقِطَعِ اللَّيْلِ الْمُظْلِمِ، يُصْبِحُ الرَّجُلُ فِيهَا مُؤْمِنًا وَيُمْسِي كَافِرًا، وَيُمْسِي مُؤْمِنًا وَيُصْبِحُ كَافِرًا»
12 - জারীর ইবনে আব্দুল হামীদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আসেম আল-আহওয়াল থেকে, তিনি বলেন: আমাকে একজন শাইখ হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু মুসা আল-আশআরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) হতে, তিনি বলেন: «নিশ্চয়ই তোমাদের পরে অন্ধকার রাতের টুকরোগুলোর ন্যায় ফিতনা আসবে, যাতে কোনো ব্যক্তি সকালে মুমিন অবস্থায় উপনীত হবে এবং সন্ধ্যায় কাফির হয়ে যাবে, আবার সন্ধ্যায় মুমিন থাকবে এবং সকালে কাফির হয়ে যাবে।»
(খণ্ড: ১) আল-ফিতান লি-নুআইম বিন হাম্মাদ (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌13 - حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ، عَنْ لَيْثِ بْنِ أَبِي سُلَيْمٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ فِتَنٌ كَقِطَعِ اللَّيْلِ الْمُظْلِمِ، يُمْسِي الرَّجُلُ فِيهَا مُؤْمِنًا وَيُصْبِحُ كَافِرًا، وَيُصْبِحُ مُؤْمِنًا وَيُمْسِي كَافِرًا، يَبِيعُ أَحَدُهُمْ دِينَهُ بِعَرَضٍ مِنَ الدُّنْيَا قَلِيلٍ»
১৩ - আমাদের কাছে জারীর ইবন আবদিল হামীদ বর্ণনা করেছেন, তিনি লাইছ ইবন আবী সুলাইম থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “কিয়ামতের প্রাক্কালে অন্ধকার রজনীর খণ্ডের ন্যায় নানাবিধ ফিতনা দেখা দেবে। সে সময় ব্যক্তি সন্ধ্যায় মুমিন থাকবে এবং সকালে কাফির হয়ে যাবে, আবার সকালে মুমিন থাকবে এবং সন্ধ্যায় কাফির হয়ে যাবে। তাদের কেউ দুনিয়ার সামান্য তুচ্ছ উপকরণের বিনিময়ে নিজের দীন বিক্রি করে দেবে।”
(খণ্ড: ১) আল-ফিতান লি-নুআইম বিন হাম্মাদ (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌14 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْفَزَارِيُّ، عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، رضي الله عنه قَالَ: «هَذِهِ فِتَنٌ قَدْ أَظَلَّتْ كَقِطَعِ اللَّيْلِ الْمُظْلِمِ، كُلَّمَا ذَهَبَ مِنْهَا رَسَلٌ بَدَا رَسَلٌ آخَرُ، يُصْبِحُ الرَّجُلُ فِيهَا مُؤْمِنًا وَيُمْسِي كَافِرًا، وَيُمْسِي مُؤْمِنًا وَيُصْبِحُ كَافِرًا، يَبِيعُ فِيهَا أَقْوَامٌ دِينَهُمْ بِعَرَضٍ مِنَ الدُّنْيَا قَلِيلٍ»
১৪ - ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মদ আল-ফাযারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আওযায়ী থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: «এগুলো এমন সব ফিতনা যা অন্ধকার রাতের খণ্ডের ন্যায় ছেয়ে গেছে; যখনই এর একটি অংশ অতিবাহিত হয়, অন্য একটি অংশ আত্মপ্রকাশ করে। সে সময় মানুষ সকালে মুমিন থাকে এবং সন্ধ্যায় কাফির হয়ে যায়, আবার সন্ধ্যায় মুমিন থাকে এবং সকালে কাফির হয়ে যায়। একদল লোক দুনিয়ার নগণ্য সম্পদের বিনিময়ে তাদের দ্বীন বিক্রি করে দিবে।»
(খণ্ড: ১) আল-ফিতান লি-নুআইম বিন হাম্মাদ (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌15 - قَالَ أَبُو الزَّاهِرِيَّةِ، وَحَدَّثَنَا جُبَيْرُ بْنُ نُفَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، رضي الله عنهما قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ الْفِتْنَةَ رَاتِعَةٌ فِي بِلَادِ اللَّهِ، تَطَأُ فِي خِطَامِهَا، لَا يَحِلُّ لِأَحَدٍ أَنْ يُوقِظَهَا، وَيْلٌ لِمَنْ أَخَذَ بِخِطَامِهَا»
‌15 - আবু যাহিরিয়্যাহ বলেন, এবং জুবাইর ইবনে নুফাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই ফিতনা আল্লাহর দেশসমূহে বিচরণ করছে, যা তার লাগাম মাড়াচ্ছে। একে জাগিয়ে তোলা কারো জন্য হালাল নয়। ধ্বংস তার জন্য যে এর লাগাম ধারণ করবে।»
(খণ্ড: ১) আল-ফিতান লি-নুআইম বিন হাম্মাদ (পৃষ্ঠা: ৩১)
قَالَ أَبُو الزَّاهِرِيَّةِ: وَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ: «وَإِنَّكُمْ لَنْ تَرَوْا مِنَ الدُّنْيَا إِلَّا بَلَاءً وَفِتْنَةً، وَلَنْ تَزْدَادَ الْأُمُورُ إِلَّا شِدَّةً»
আবু আয-যাহিরিয়্যাহ বলেন: এবং আব্দুল্লাহ ইবনে উমর বলেন: "এবং তোমরা এই দুনিয়াতে পরীক্ষা ও ফিতনা ব্যতীত কিছুই দেখবে না, আর বিষয়সমূহ উত্তরোত্তর কেবল কঠিনই হতে থাকবে।"
(খণ্ড: ১) আল-ফিতান লি-নুআইম বিন হাম্মাদ (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌16 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الْخَالِقِ بْنُ زَيْدٍ الدِّمَشْقِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ الْيَمَانِ، رضي الله عنه قَالَ: «مَا مِنْ صَاحِبِ فِتْنَةٍ يَبْلُغُونَ ثَلَاثَمِائَةِ إِنْسَانٍ إِلَّا وَلَوْ شِئْتُ أَنْ أُسَمِّيَهُ بِاسْمِهِ وَاسْمِ أَبِيهِ وَمَسْكَنِهِ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ» ، كُلُّ ذَلِكَ مِمَّا عَلَّمَنِيهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‌‌⦗ص: 32⦘، قَالُوا: بِأَعْيَانِهَا؟ قَالَ: أَوْ أَشْبَاهِهَا، يَعْرِفُهَا الْفُقَهَاءُ، أَوْ قَالَ: الْعُلَمَاءُ، إِنَّكُمْ كُنْتُمْ تُسْأَلُونَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْخَيْرِ وَأَسْأَلُهُ عَنِ الشَّرِّ، وَتَسْأَلُونَهُ عَمَّا كَانَ، وَأَسْأَلُهُ عَمَّا يَكُونُ
‌‌১৬ - আব্দুল খালিক বিন যায়িদ আদ-দিমাশকী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন তাঁর পিতা থেকে, তিনি মাকহুল থেকে, তিনি হুযাইফাহ বিন আল-ইয়ামান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «ফিতনার এমন কোনো হোতা নেই যাদের অনুসারী সংখ্যা তিনশ মানুষে পৌঁছেছে, কিন্তু আমি চাইলে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তার নাম, তার পিতার নাম এবং তার বাসস্থানের নাম উল্লেখ করতে পারতাম», এসবই সেই বিষয় যা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে শিখিয়েছেন ‌‌⦗পৃষ্ঠা: ৩২⦘, তারা বললেন: সুনির্দিষ্টভাবে তাদের পরিচয়সহ? তিনি বললেন: অথবা তাদের সাদৃশ্যপূর্ণ আলামতসমূহ, যা ফকিহগণ—অথবা তিনি বলেছেন: আলেমগণ—চিনতে পারেন; নিশ্চয়ই তোমরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে কল্যাণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে, আর আমি তাঁকে অকল্যাণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতাম; এবং তোমরা তাঁকে যা ঘটে গেছে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে, আর আমি তাঁকে যা ঘটবে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতাম।
(খণ্ড: ১) আল-ফিতান লি-নুআইম বিন হাম্মাদ (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌17 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الْقُدُّوسِ، عَنْ عُفَيْرِ بْنِ مَعْدَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، قَالَ: قَالَ حُذَيْفَةُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «لَيَخْرُجَنَّ مِنْ أُمَّتِي ثَلَاثُمِائَةِ رَجُلٍ مَعَهُمْ ثَلَاثُمِائَةِ رَايَةٍ، يُعْرَفُونَ وَتُعْرَفُ قَبَائِلُهُمْ، يَبْتَغُونَ وَجْهَ اللَّهِ، يُقْتَلُونَ عَلَى الضَّلَالَةِ»
১৭ - আমাদের নিকট আব্দুল কুদ্দুস বর্ণনা করেছেন উফাইর ইবনে মা’দান থেকে, তিনি বলেন: কাতাদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হুযায়ফা (রা.) বলেছেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “অবশ্যই আমার উম্মত থেকে তিনশত লোক বের হবে যাদের সাথে থাকবে তিনশত ঝাণ্ডা। তারা সুপরিচিত এবং তাদের গোত্রসমূহও সুপরিচিত। তারা আল্লাহর চেহারা অন্বেষণ করবে এবং ভ্রষ্টতার বিরুদ্ধে (লড়াইরত অবস্থায়) নিহত হবে।”
(খণ্ড: ১) আল-ফিতান লি-নুআইম বিন হাম্মাদ (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌18 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الْقُدُّوسِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ سِنَانٍ، عَنْ أَبِي الزَّاهِرِيَّةِ، عَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ الْيَمَانِ، قَالَ: «لَوْ حَدَّثْتُكُمْ بِكُلِّ، مَا أَعْلَمُ مَا رَقِبْتُمْ بِيَ اللَّيْلَ»
১৮ - আমাদের নিকট আব্দুল কুদ্দুস বর্ণনা করেছেন, তিনি সাঈদ ইবনে সিনান থেকে, তিনি আবুয যাহিরিয়্যাহ থেকে, তিনি হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «আমি যা জানি তার সবটুকু যদি তোমাদের কাছে বর্ণনা করতাম, তবে তোমরা আমাকে নিয়ে রাত অতিবাহিত করতে না (অর্থাৎ আমাকে জীবিত থাকতে দিতে না)।’»
(খণ্ড: ১) আল-ফিতান লি-নুআইম বিন হাম্মাদ (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌19 - قَالَ أَبُو الزَّاهِرِيَّةِ: وَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو: «لَا تَزَالُوا فِي بَلَاءٍ وَفِتْنَةٍ، وَلَا يَزْدَادُ الْأَمْرُ إِلَّا شِدَّةً، فَإِذَا لَمْ يَلِ الْوَالِي للَّهِ، وَلَمْ يُؤَدِّ الْمُوَلَّى عَلَيْهِ طَاعَةَ اللَّهِ، فَأَوْشَكُوا بِكُرْهِ اللَّهِ، فَإِنَّ كُرْهَ اللَّهِ أَشَدُّ مِنْ كُرْهِ النَّاسِ»
19 - আবু আজ-জাহিরিয়্যাহ বলেছেন: এবং আবদুল্লাহ ইবনে আমর বলেছেন: "তোমরা সর্বদা বিপদ ও ফিতনার মধ্যে থাকবে এবং বিষয়গুলো কেবল কঠিনতরই হতে থাকবে। অতঃপর যখন শাসক আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে শাসনকার্য পরিচালনা করবেন না এবং প্রজাসাধারণ আল্লাহর আনুগত্য পালন করবে না, তখন তারা আল্লাহর ঘৃণার নিকটবর্তী হবে। আর নিশ্চয়ই আল্লাহর ঘৃণা মানুষের ঘৃণার চেয়েও অধিক কঠোর।"
(খণ্ড: ১) আল-ফিতান লি-নুআইম বিন হাম্মাদ (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌20 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ، عَنْ أَيُّوبَ السَّخْتِيَانِيِّ، عَنْ أَبِي قِلَابَةَ، عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ، قَالَ: كُنْتُ أَنَا، وَأَبُو صَالِحٍ، وَأَبُو مُسْلِمٍ، فَقَالَ أَحَدُهُمَا ‌‌⦗ص: 33⦘ لِصَاحِبِهِ: «هَلْ تَخَافُونَ مِنْ شَيْءٍ؟» قَالُوا: «نَخَافُ الطَّلَبَ» ، قَالَ: فَقُلْتُ: إِنَّ الطَّلَبَ لَا يُدْرِكُ إِلَّا أُخْرَيَاتِ النَّاسِ، قَالُوا: «صَدَقْتَ، إِنَّهُ لَمْ يَكُنْ نَهْبٌ قَطُّ إِلَّا كَانَ لَهُ طَلَبٌ، وَإِنَّ النَّاسَ لَمْ يُصِيبُوا نَهْبًا قَطُّ أَعْظَمَ مِنَ الْإِسْلَامِ، وَإِنَّ الْفِتْنَةَ تَطْلُبُهُ، وَإِنَّهَا لَا تُدْرِكُ إِلَّا أُخْرَيَاتِ النَّاسِ»
২০ - আব্দুল ওয়াহহাব আস-সাকাফী আমাদের নিকট আইয়ুব আস-সাখতিয়ানী থেকে, তিনি আবু কিলাবা থেকে এবং তিনি আবু ইদরীস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি, আবু সালেহ এবং আবু মুসলিম ছিলাম। তখন তাদের একজন ⦗পৃষ্ঠা: ৩৩⦘ তার সাথীকে বললেন: «তোমরা কি কোনো কিছুকে ভয় পাচ্ছ?» তারা বললেন: «আমরা ধাওয়া বা অনুসন্ধানের ভয় করছি।’ তিনি বলেন, আমি বললাম: ‘নিশ্চয়ই অনুসন্ধান কেবল মানুষের শেষাংশকেই নাগাল পায়।’ তারা বললেন: «আপনি সত্য বলেছেন, কখনোই কোনো লুণ্ঠন ঘটেনি যার পেছনে কোনো অনুসন্ধান ছিল না। আর মানুষ ইসলামের চেয়ে মহান কোনো সম্পদ বা গনীমত কখনোই লাভ করেনি। আর ফিতনা একেই তালাশ করছে এবং তা কেবল মানুষের শেষাংশকেই নাগাল পাবে।»
(খণ্ড: ১) আল-ফিতান লি-নুআইম বিন হাম্মাদ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌21 - حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «تُرْسِلُ عَلَى الْأَرْضِ الْفِتَنُ إِرْسَالَ الْقَطْرِ»
২১ - হুশাইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে আবি খালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কায়স ইবনে আবি হাযিম থেকে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "পৃথিবীতে বৃষ্টির পতনের ন্যায় ফিতনাগুলো প্রেরিত হবে।"
(খণ্ড: ১) আল-ফিতান লি-নুআইম বিন হাম্মাদ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌22 - حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، وَابْنُ وَهْبٍ، عَنِ ابْنِ لَهِيعَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي جَعْفَرٍ، قَالَ: " لَمَّا قَصَّ اللَّهُ تَعَالَى عَلَى مُوسَى عليه السلام شَأْنَ هَذِهِ الْأُمَّةِ تَمَنَّى أَنْ يَكُونَ رَجُلًا مِنْهُمْ، فَقَالَ اللَّهُ: يَا مُوسَى، إِنَّهُ يُصِيبُ آخِرَهَا بَلَاءٌ وَشِدَّةٌ "، قَالَ أَحَدُهُمَا: " مِنَ الْفِتَنِ، فَقَالَ مُوسَى: يَا رَبِّ، وَمَنْ يَصْبِرُ عَلَى هَذَا؟ قَالَ اللَّهُ: إِنِّي أَعْطَيْتُهُمْ مِنَ الصَّبْرِ وَالْإِيمَانِ مَا يُهَوِّنُ عَلَيْهِمُ الْبَلَاءَ "
২২ - আল-ওয়ালীদ ইবনু মুসলিম এবং ইবনু ওয়াহব আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইবনু লাহীআহ থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনু আবী জাফর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "যখন আল্লাহ তাআলা মূসা আলাইহিস সালাম-এর নিকট এই উম্মতের অবস্থা বর্ণনা করলেন, তখন তিনি তাঁদের একজন হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করলেন। তখন আল্লাহ বললেন: হে মূসা, নিশ্চয়ই এই উম্মতের শেষভাগের লোকদের ওপর পরীক্ষা ও কঠোরতা আপতিত হবে।" তাঁদের একজন (বর্ণনাকারী) বলেছেন: "ফিতনা হতে।" তখন মূসা বললেন: হে প্রতিপালক, এর ওপর কে ধৈর্য ধরবে? আল্লাহ বললেন: "নিশ্চয়ই আমি তাদেরকে এমন ধৈর্য ও ঈমান দান করেছি যা তাদের ওপর এই পরীক্ষাকে সহজ করে দেবে।"
(খণ্ড: ১) আল-ফিতান লি-নুআইম বিন হাম্মাদ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌23 - حَدَّثَنَا رِشْدِينُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ لَهِيعَةَ، عَنْ أَبِي قَبِيلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، رضي الله عنهما قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «سَتَكُونُ فِتَنٌ فِي أُمَّتِي حَتَّى يُفَارِقَ الرَّجُلُ فِيهَا أَبَاهُ وَأَخَاهُ، حَتَّى يُعَيَّرَ الرَّجُلُ بِبَلَائِهِ كَمَا تُعَيَّرُ الزَّانِيَةُ بِزِنَاهَا»
২৩ - আমাদের নিকট রিশদীন বিন সাদ বর্ণনা করেছেন, ইবন লাহিয়াহ থেকে, তিনি আবু কাবীল থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন আমর ইবনুল আস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «অচিরেই আমার উম্মতের মধ্যে এমন সব ফিতনা দেখা দেবে যে, তাতে মানুষ তার পিতা ও ভাই থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে, এমনকি মানুষকে তার বিপদের (বা পরীক্ষার) কারণে এমনভাবে লজ্জিত করা হবে যেভাবে ব্যভিচারিণীকে তার ব্যভিচারের জন্য লজ্জিত করা হয়।»
(খণ্ড: ১) আল-ফিতান লি-নুআইম বিন হাম্মাদ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
‌‌24 - حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنِ ابْنِ لَهِيعَةَ، أَنَّ ابْنَ هُبَيْرَةَ السَّبَئِيَّ، حَدَّثَهُ قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا تَمِيمٍ الْجَيْشَانِيَّ، يَقُولُ: «أَتَتْكُمُ الْفِتَنُ دِيَمًا كَدِيَمِ الْمَطَرِ»
24 - ইবন ওয়াহব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবন লাহীয়াহ থেকে, ইবন হুবায়রা আস-সাবাঈ তাঁকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু তামীম আল-জায়শানীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন: "তোমাদের নিকট ফিতনাসমূহ বৃষ্টির অবিরাম ধারার ন্যায় নিরবচ্ছিন্নভাবে আসবে।"
(খণ্ড: ১) আল-ফিতান লি-নুআইম বিন হাম্মাদ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
‌‌25 - حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ، رضي الله عنه قَالَ: أَشْرَفَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَى أُطُمٍ، فَقَالَ: «هَلْ تَرَوْنَ مَا أَرَى؟ إِنِّي لَأَرَى مَوَاقِعَ الْفِتَنِ خِلَالَ بُيُوتِكُمْ كَمَوَاقِعِ الْقَطْرِ»
২৫ - ইবনে উয়াইনা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন যুহরী থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি উসামা ইবনে যায়েদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদীনার একটি দুর্গের ওপর উঠলেন, অতঃপর বললেন: «আমি যা দেখছি তোমরা কি তা দেখতে পাচ্ছ? নিশ্চয়ই আমি তোমাদের ঘরবাড়ির ফাঁকে ফাঁকে ফিতনাসমূহের পতনের স্থানগুলো বৃষ্টির ফোঁটা পড়ার স্থানের মতো দেখতে পাচ্ছি।»
(খণ্ড: ১) আল-ফিতান লি-নুআইম বিন হাম্মাদ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
‌‌26 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ التِّيهِرْتِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَنْعُمَ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ أَبِي ثَعْلَبَةَ، عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ، عَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ الْيَمَانِ، رضي الله عنه قَالَ: «مَا أَنَا إِلَى طَرِيقٍ مِنْ طُرُقِكُمْ بِأَهْدَى مِنِّي بِكُلِّ فِتْنَةٍ هِيَ كَائِنَةٌ وَبِنَاعِقِهَا وَقَائِدِهَا إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ»
26 - আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আত-তিহিরতি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইবনে আনআম বর্ণনা করেছেন, তিনি মাকহুল থেকে, তিনি আবু সা'লাবা থেকে, তিনি আবু ইদরিস থেকে এবং তিনি হুজায়ফা বিন আল-ইয়ামান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «তোমাদের কোনো পথ সম্পর্কে আমি ততটা অবগত নই, যতটা আমি কিয়ামত পর্যন্ত সংঘটিতব্য প্রতিটি ফিতনা এবং তার আহ্বানকারী ও তার পরিচালক সম্পর্কে অবগত।»
(খণ্ড: ১) আল-ফিতান লি-নুআইম বিন হাম্মাদ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
‌‌27 - حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ حَجَّاجٍ الصَّوَّافِ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ هِلَالٍ الْعَدَوِيِّ، عَنْ يَعْلَى بْنِ الْوَلِيدِ، عَنْ جُنْدُبِ الْخَيْرِ، عَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ الْيَمَانِ، قَالَ: «وَاللَّهِ» مَا أَنَا بِالطَّرِيقِ، إِلَى قَرْيَةٍ مِنَ الْقُرَى وَلَا إِلَى مِصْرَ مِنَ الْأَمْصَارِ بِأَعْلَمَ مِنِّي بِمَا يَكُونُ مِنْ بَعْدِ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ "
২৭ - আবু মুয়াবিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাজ্জাজ আস-সাওয়াফ থেকে, তিনি হুমাইদ ইবন হিলাল আল-আদাউয়ি থেকে, তিনি ইয়ালা ইবনুল ওয়ালিদ থেকে, তিনি জুনদুব আল-খাইর থেকে এবং তিনি হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: “আল্লাহর কসম! কোনো জনপদ কিংবা কোনো নগরের পথ সম্পর্কে আমি যতটা জানি, উসমান ইবন আফফানের পর যা ঘটবে সে সম্পর্কে আমি তার চেয়ে বেশি জানি।”
(খণ্ড: ১) আল-ফিতান লি-নুআইম বিন হাম্মাদ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
‌‌28 - حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ عِمْرَانَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ سَالِمٍ، عَنْ أَبِي سَالِمٍ الْجَيْشَانِيِّ، قَالَ: سَمِعْتُ عَلِيًّا، رضي الله عنه يَقُولُ بِالْكُوفَةِ: «مَا مِنْ ثَلَاثِمِائَةٍ تَخْرُجُ إِلَّا وَلَوْ شِئْتُ سَمَّيْتُ سَائِقَهَا وَنَاعِقَهَا إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ»
২৮ - ইবনে ওয়াহাব আমাদের বর্ণনা করেছেন, হারমালা বিন ইমরান আমাকে বর্ণনা করেছেন, সাঈদ বিন সালিম থেকে, আবু সালিম আল-জায়শানি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আলীকে (রাযিয়াল্লাহু আনহু) কুফায় বলতে শুনেছি: «তিনশ (সদস্যের) এমন কোনো দল বের হবে না যাদের সম্পর্কে আমি যদি চাইতাম তবে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তাদের চালক ও আহ্বানকারীর নাম বলে দিতে পারতাম।»
(খণ্ড: ১) আল-ফিতান লি-নুআইম বিন হাম্মাদ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
‌‌29 - حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، عَنِ ابْنِ جَابِرٍ، عَنْ بُسْرِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ الْحَضْرَمِيِّ، عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ الْخَوْلَانِيِّ، قَالَ: سَمِعْتُ حُذَيْفَةَ بْنَ الْيَمَانِ، يَقُولُ: كَانَ النَّاسُ يَسْأَلُونَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْخَيْرِ، وَكُنْتُ أَسْأَلُهُ عَنِ الشَّرِّ مَخَافَةَ أَنْ يُدْرِكَنِي، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّا كُنَّا أَهْلَ جَاهِلِيَّةٍ وَشَرٍّ، فَقَدْ جَاءَ اللَّهُ بِهَذَا الْخَيْرِ، فَهَلْ بَعْدَ هَذَا الْخَيْرِ مِنْ شَرٍّ؟ قَالَ: «نَعَمْ» قَالَ: فَقُلْتُ: فَهَلْ بَعْدَ ذَلِكَ الشَّرِّ مِنْ خَيْرٍ؟ قَالَ: «نَعَمْ» قَالَ: قُلْتُ: فَهَلْ بَعْدَ ذَلِكَ الشَّرِّ مِنْ خَيْرٍ؟ قَالَ: «نَعَمْ، وَفِيهِ دَخَنٌ» قُلْتُ: وَمَا دَخَنُهُ؟ قَالَ: «قَوْمٌ يَسْتَنُّونَ بِغَيْرِ سُنَّتِي، وَيَهْتَدُونَ بِغَيْرِ هَدْيِ، تَعْرِفُ مِنْهُمْ وَتُنْكِرُ» قُلْتُ: فَهَلْ بَعْدَ ذَلِكَ الْخَيْرِ مِنْ شَرٍّ؟ قَالَ: «نَعَمْ، دُعَاةٌ إِلَى أَبْوَابِ جَهَنَّمَ، مَنْ أَجَابَهُمْ إِلَيْهَا قَذَفُوهُ فِيهَا» قَالَ: قُلْتُ: صِفْهُمْ لِي يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «هُمْ مِنْ جِلْدَتِنَا، وَيَتَكَلَّمُونَ بِأَلْسِنَتِنَا»

‌‌⦗ص: 36⦘

 

‌‌30 - حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، وَأَخْبَرَنَا الْأَوْزَاعِيُّ، عَنْ حَسَّانَ بْنِ عَطِيَّةَ، عَنْ حُذَيْفَةَ، مِثْلَ ذَلِكَ
29 - আল-ওয়ালিদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবনে জাবির থেকে, তিনি বুসর বিন উবায়দুল্লাহ আল-হাদরামি থেকে, তিনি আবু ইদরীস আল-খাওলানি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি হুযায়ফাহ বিন আল-ইয়ামানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: মানুষ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কল্যাণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করত, আর আমি তাঁকে অকল্যাণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতাম এই ভয়ে যে, তা যেন আমাকে পেয়ে না বসে। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা জাহিলিয়াত ও অকল্যাণের মধ্যে ছিলাম, অতঃপর আল্লাহ এই কল্যাণ নিয়ে এসেছেন। এই কল্যাণের পর কি কোনো অকল্যাণ আসবে? তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" আমি বললাম: সেই অকল্যাণের পর কি কোনো কল্যাণ আসবে? তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" আমি বললাম: সেই অকল্যাণের পর কি কোনো কল্যাণ আসবে? তিনি বললেন: "হ্যাঁ, তবে তাতে কিছুটা ধোঁয়াশা থাকবে।" আমি বললাম: সেই ধোঁয়াশা কী? তিনি বললেন: "এমন এক সম্প্রদায় যারা আমার সুন্নাহ বহির্ভূত পথ অবলম্বন করবে এবং আমার হিদায়াত ব্যতীত অন্য পথে পরিচালিত হবে। তুমি তাদের কিছু কাজকে ভালো দেখবে এবং কিছু কাজকে মন্দ (প্রত্যাখ্যানযোগ্য) দেখবে।" আমি বললাম: সেই কল্যাণের পর কি কোনো অকল্যাণ আসবে? তিনি বললেন: "হ্যাঁ, জাহান্নামের দরজাসমূহের দিকে আহ্বানকারী একদল লোক; যে ব্যক্তি তাদের সেই আহ্বানে সাড়া দেবে, তারা তাকে তাতে নিক্ষেপ করবে।" আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কাছে তাদের পরিচয় বর্ণনা করুন। তিনি বললেন: "তারা আমাদেরই স্বজাতীয় এবং তারা আমাদেরই ভাষায় কথা বলবে।"

⦗পৃষ্ঠা: ৩৬⦘

 

30 - আল-ওয়ালিদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং আল-আওযাঈ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাসান বিন আতিয়্যাহ থেকে, তিনি হুযায়ফাহ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।