(খণ্ড: ১) আল-ফিতান লি-হাম্বল বিন ইসহাক (পৃষ্ঠা: -)
الفتن لحنبل بن إسحاق   (حنبل بن إسحاق)

القسم: كتب السنة


الكتاب: الفتن

المؤلف: أبو علي حنبل بن إسحاق بن حنبل بن هلال بن أسد الشيباني (ت 273هـ)

المحقق: عامر حسن صبري

الناشر: دار البشائر الإسلامية - لبنان

الطبعة: الأولى، 1419هـ - 1998م

عدد الصفحات: 165

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

হাম্বল বিন ইসহাকের আল-ফিতান   (হাম্বল বিন ইসহাক)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


গ্রন্থ: আল-ফিতান

লেখক: আবু আলী হাম্বল বিন ইসহাক বিন হাম্বল বিন হিলাল বিন আসাদ আশ-শায়বানী (মৃত্যু ২৭৩ হি.)

সম্পাদক: আমের হাসান সাবরি

প্রকাশক: দারুল বাশায়ের আল-ইসলামিয়া - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৯ হি. - ১৯৯৮ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬৫

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-ফিতান লি-হাম্বল বিন ইসহাক (পৃষ্ঠা: ৮৭)
قُرِئَ عَلَى الشَّيْخِ أَبِي الْحُسَيْنِ عَبْدِ الْحَقِّ بْنِ عَبْدِ الْخَالِقِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ يُوسُفَ، وَأَنَا أَسْمَعُ سَنَةَ أَرْبَعٍ وَسَبْعِينَ وَخَمْسِمِائَةٍ أَخْبَرَكُمْ أَبُو سَعْدٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْكَرِيمِ بْنِ خُشَيْشٍ فَأَقَرَّ بِهِ، أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ شَاذَانَ البْزَّازُ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنْتَ تَسْمَعُ فِي رَبِيعٍ الْآخِرِ سَنَةَ خَمْسٍ وَعِشْرِينَ وَأَرْبَعِمِائَةٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو عَمْرٍو عُثْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الدَّقَّاقُ الْمَعْرُوفُ بِابْنِ السَّمَّاكِ فِي دَرْبِ الضَّفَادِعِ فِي يَوْمِ الْأَرْبِعَاءِ لِتِسْعٍ بَقِينَ مِنَ الْمُحَرَّمِ، سَنَةَ أَرْبَعٍ وَأَرْبَعِينَ وَثَلَاثِمِائِةٍ قِرَاءَةً عَلَيْهِ فَأَقَرَّ بِهِ، حَدَّثَنَا حَنْبلُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ حَنْبَلٍ الشَّيْبَانِيُّ،

 

1 - حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ الْمِنْهَالِ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، أَخْبَرَنَا دَاوُدُ بْنُ أَبِي هِنْدَ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ، أَنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم جَاءَ يَوْمًا مُتَسَرِّعًا، فَصَعِدَ الْمِنْبَرَ، فَنُودِيَ فِي النَّاسِ: الصَّلَاةُ جَامِعَةٌ، فَاجْتَمَعَ النَّاسُ، فَقَالَ: يَا أَيُّهَا النَّاسُ، إِنِّي لَمْ أَدْعُكُمْ لِرَغْبَةٍ وَلَا لِرَهْبَةٍ نَزَلَتْ، وَلَكِنْ ⦗ص: 88⦘ تَمِيمٌ الدَّارِيُّ أَخْبَرَنِي أَنَّ نَاسًا مِنْ أَهْلِ فِلَسْطِينَ رَكِبُوا الْبَحْرَ فَقَذَفَتْهُمُ الرِّيحُ إِلَى جَزِيرَةٍ مِنْ جَزَائِرِ الْبَحْرِ، فَإِذَا هُمْ بِدَابَّةٍ أَشْعَرَ لَا يُدْرَى أَذَكَرٌ هُوَ أَمْ أُنْثَى مِنْ كَثْرَةِ الشَّعْرِ، قَالُوا: مَا أَنْتِ؟ قَالَتْ: أَنَا الْجَسَّاسَةُ، قَالُوا: أَخْبِرِينَا، قَالَتْ: مَا أَنَا بِمُخْبِرَتِكُمْ وَلَا مُسْتَخْبِرَتِكُمْ، وَلَكِنْ هَاهُنَا فِي هَذَا الدَّيْرِ مَنْ هُوَ فَقِيرٌ إِلَى أَنْ يُخْبِرَكُمْ وَإِلَى أَنْ يَسْتَخْبِرَكُمْ. فَأَتَوُا الدَّيْرَ، فَإِذَا هُمْ بِرَجُلٍ مُصَفَّدٍ فِي الْحَدِيدِ، فَقَالَ: مَنْ أَنْتُمْ؟ ⦗ص: 89⦘ قَالُوا: نَحْنُ مِنَ الْعَرَبِ، قَالَ: هَلْ بُعِثَ النَّبِيُّ؟ قَالُوا: نَعَمْ، قَالَ: فَهَلِ اتَّبَعَهُ الْعَرَبُ؟ قَالُوا: نَعَمْ، قَالَ: ذلكَ خَيْرٌ لَهُمْ، قَالَ: مَا فَعَلَتْ فَارِسُ؟ قَالُوا: لَمْ يَظْهَرْ عَلَيْهَا بَعْدُ، قَالَ: أَمَا إِنَّهُ سَيَظْهَرُ عَلَيْهَا، قَالَ: مَا فَعَلَتْ عَيْنُ زُغَرَ؟ قَالُوا: تَدَفَّقُ مَاءً، قَالَ: فَمَا فَعَلَتْ بُحَيْرَةُ الطَّبَرِيَّةِ؟ ⦗ص: 90⦘ قَالُوا: هِيَ تَدَفَّقُ مَاءً، قَالَ: فَمَا فَعَلَ نَخْلُ بَيْسَانَ؟ قَالُوا: قَدْ أَطْعَمَ أَوَائِلُهُ، فَوَثَبَ وَثْبَةً حَتَّى حَسِبْنَا أَنَّهُ سَيَفْلِتُ، فَقُلْنَا: مَنْ أَنْتَ؟ قَالَ: أَنَا الدَّجَّاُل، قَالَ: أَمَا إِنِّي سَأَطَأُ الْأَرْضَ كَلَّهَا إِلَّا مَكَّةَ وَطَيْبَةَ. فَقَالَ رسول الله: «فَأَبْشِرُوا مَعَاشِرَ الْمُسْلِمِينَ، هَذِهِ طَيْبَةُ لَا يَدْخُلُهَا»
শেখ আবু আল-হুসাইন আব্দুল হক বিন আব্দুল খালিক বিন আহমদ বিন ইউসুফের নিকট এটি পাঠ করা হয়েছে, আর আমি তা শ্রবণ করছিলাম পাঁচশত চুয়াত্তর হিজরি সনে। আবু সাদ মুহাম্মদ বিন আব্দুল কারীম বিন খুশাইশ আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন এবং তিনি তা স্বীকার করেছেন। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শেখ আবু আলী আল-হাসান বিন আহমদ বিন ইব্রাহিম বিন আল-হাসান বিন শাযান আল-বাযযা। চারশত পঁচিশ হিজরি সনের রবিউস সানি মাসে তার নিকট পাঠ করার সময় আপনি শ্রবণ করছিলেন। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর উসমান বিন আহমদ বিন আব্দুল্লাহ আদ-দাক্কাক, যিনি ইবনুস সাম্মাক নামে পরিচিত, 'দারবুদ দাফাদি' নামক স্থানে তিনশত চুয়াল্লিশ হিজরি সনের মুহাররম মাসের নয় দিন বাকি থাকতে বুধবার দিন, তার নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং তিনি তা স্বীকার করেছেন। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হানবাল বিন ইসহাক বিন হানবাল আশ-শায়বানি,

 

১ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাজ্জাজ বিন মিনহাল, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ বিন সালামাহ। তিনি দাউদ বিন আবি হিন্দ থেকে, তিনি শাবি থেকে, তিনি ফাতিমা বিনতে কায়স থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একদিন অত্যন্ত দ্রুতবেগে আসলেন এবং মিম্বরে উঠলেন। এরপর মানুষের মধ্যে ঘোষণা দেওয়া হলো: নামাজ সমবেত হওয়ার আহ্বান দিচ্ছে। ফলে মানুষ সমবেত হলো। তিনি বললেন: "হে লোকসকল, আমি তোমাদের কাছে আসা কোনো পার্থিব আশা বা ভয়ের কারণে ডাকিনি, বরং ⦗পৃষ্ঠা: ৮৮⦘ তামীম আদ-দারি আমাকে সংবাদ দিয়েছে যে, ফিলিস্তিনের কিছু লোক সমুদ্রযাত্রা করেছিল। পথিমধ্যে প্রবল বাতাস তাদের সমুদ্রের একটি দ্বীপে নিক্ষেপ করে। সেখানে তারা প্রচুর পশমযুক্ত একটি প্রাণীর দেখা পায়, যার অতিরিক্ত পশমের কারণে এটি পুরুষ না নারী তা বোঝা যাচ্ছিল না। তারা বলল: তুমি কে? প্রাণীটি বলল: আমি জাসসাসাহ। তারা বলল: আমাদের কিছু সংবাদ দাও। সে বলল: আমি তোমাদের কোনো সংবাদ দেব না এবং তোমাদের কাছে কিছু জানতেও চাইব না। তবে এই মঠের (গির্জা) ভেতরে এমন এক ব্যক্তি আছে যে তোমাদের কাছ থেকে সংবাদ পাওয়ার এবং তোমাদের সংবাদ দেওয়ার জন্য অত্যন্ত ব্যাকুল হয়ে আছে। তারা সেই মঠে প্রবেশ করল এবং সেখানে শিকল দিয়ে লোহার সাথে শক্ত করে বাঁধা এক ব্যক্তিকে দেখতে পেল। সে বলল: তোমরা কারা? ⦗পৃষ্ঠা: ৮৯⦘ তারা বলল: আমরা আরব থেকে এসেছি। সে বলল: সেই নবী কি আবির্ভূত হয়েছেন? তারা বলল: হ্যাঁ। সে বলল: আরবরা কি তার অনুসরণ করেছে? তারা বলল: হ্যাঁ। সে বলল: এটিই তাদের জন্য মঙ্গলজনক। সে বলল: পারস্যের কী খবর? তারা বলল: তিনি এখনো পারস্য জয় করেননি। সে বলল: জেনে রেখো, তিনি শীঘ্রই পারস্য বিজয় করবেন। সে বলল: জুগারের ঝরনার কী অবস্থা? তারা বলল: সেখান থেকে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। সে বলল: তাবারিয়া হ্রদের কী অবস্থা? ⦗পৃষ্ঠা: ৯০⦘ তারা বলল: সেখান থেকেও পানি প্রবাহিত হচ্ছে। সে বলল: বায়সানের খেজুর বাগানের কী খবর? তারা বলল: তার শুরুর দিকের গাছগুলো ফল দেওয়া শুরু করেছে। তখন সে এমন এক লাফ দিল যে আমরা মনে করলাম সে এখনই মুক্ত হয়ে বেরিয়ে আসবে। আমরা বললাম: তুমি কে? সে বলল: আমি দাজ্জাল। সে আরও বলল: আমি মক্কা ও তায়বা (মদিনা) ছাড়া পৃথিবীর সকল জনপদ পদদলিত করব।" তখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "হে মুসলিম সম্প্রদায়, তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো, এটিই সেই তায়বা, যেখানে সে প্রবেশ করতে পারবে না।"
(খণ্ড: ১) আল-ফিতান লি-হাম্বল বিন ইসহাক (পৃষ্ঠা: ৯৩)
2 - حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم‌‌ ذَكَرَ الدَّجَّالَ فَقَالَ: «أَعْوَرُ هِجَانٌ أَزْهَرُ جُفَالٌ ، كَأَنَّ رَأْسَهُ أَصَلَةٌ أَشْبَهُ النَّاسِ بِعَبْدِ الْعُزَّى بْنِ قَطَنٍ ، وَلَكِنَّ الْهُلَّكَ كُلَّ الْهُلَّكِ أَنَّ رَبَّكُمْ لَيْسَ بِأَعْوَرَ»
২ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসলিম বিন ইবরাহীম, তিনি বর্ণনা করেছেন শু'বাহ থেকে, তিনি সিমাক বিন হারব থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনা করলেন এবং বললেন: “সে এক চোখ কানা, ধবধবে ফর্সা, উজ্জ্বল ও প্রচুর চুলবিশিষ্ট, তার মাথা যেন অজগর সাপের মতো, মানুষের মধ্যে সে আব্দুল উযযা বিন কাতানের সাথে সর্বাধিক সাদৃশ্যপূর্ণ; কিন্তু ধ্বংস কেবল তাদের জন্য যারা এতে ধ্বংস হবে যে, তোমাদের রব এক চোখ কানা নন।”
(খণ্ড: ১) আল-ফিতান লি-হাম্বল বিন ইসহাক (পৃষ্ঠা: ৯৪)
3 - حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِنَّ‌‌ الدَّجَّالَ أَعْوَرُ عَيْنِ الْيُمْنَى ، وَعَيْنُهُ الْأُخْرَى كَأَنَّهَا عِنَبَةٌ طَافِيَةٌ»
৩ - হাজ্জাজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ ইবনে সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আইয়ুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, নাফে' থেকে বর্ণিত, ইবনে উমর থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই দাজ্জাল ডান চোখে অন্ধ, আর তার অন্য চোখটি যেন একটি ভেসে ওঠা আঙুর।»
(খণ্ড: ১) আল-ফিতান লি-হাম্বল বিন ইসহাক (পৃষ্ঠা: ৯৫)
4 - حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ الْمِنْهَالِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ بَهْرَامَ الْفَزَارِيُّ، حَدَّثَنَا شَهْرُ بْنُ حَوْشَبٍ، حَدَّثَتْنِي أَسْمَاءُ بِنْتُ يَزِيدَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَلَسَ مَجْلِسًا مَرَّةً‌‌ فَحَدَّثَهُمْ عَنِ الْأَعْوَرِ الدَّجَّالِ ، حَتَّى خَلَعَ قُلُوبَنَا فَرَقًا مِنَ الدَّجَّالِ، فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى الْخَلَاءِ ، وَالْقَوْمُ فِي الْبَيْتِ ، فَرَجَعَ إِلَيْهِمْ ⦗ص: 96⦘ وَلَهُمْ خَنِينٌ فِي الْبَيْتِ، يَبْكُونَ فَرَقًا مِنَ الدَّجَّالِ ، فَلَمَّا هَمَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَدْخُلَ رَأَيْتُ انْكِبَابَ الْقَوْمِ فَقَالَ: «مَهْيَمْ؟» وَكَانَتْ كَلِمَةً مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا سَأَلَ عَنْ أَمْرٍ يَقُولُ: «مَهْيَمْ» . قَالَتْ أَسْمَاءُ: فَاسْتَقْبَلْتُهُ ، فَقُلْتُ: مَهْيَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ خَلَعْتَ قُلُوبَنَا فَرَقًا مِنَ الدَّجَّالِ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ: «لَيْسَ عَلَيْكُمْ بَأْسٌ ، إِنْ يَأْتِ وَأَنَا فِيكُمْ فَأَنَا حَجِيجُهُ ، وَإِنْ يَأْتِ بَعْدُ فَاللَّهُ خَلِيفَتِي عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ» . قَالَتْ: قُلْتُ: أَمَعَنَا يَوْمَئِذٍ قُلُوبُنَا هَذِهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «نَعَمْ أَوْ خَيْرٌ ، إِنَّهُ تُوَفَّى إِلَيْهِ ثَمَرَاتُ الْأَرَضِينَ وَأَطْعِمَتُهَا» . قَالَتْ: وَاللَّهِ إِنَّ أَهْلِي لَيَخْتَمِرُونَ خَمِيرَتَهُمْ ، فَمَا نُدْرِكُ حَتَّى أَخْشَى أَنْ أَفْحَشَ مِنَ الْجُوعِ. قَالَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ الْمُؤْمِنَ يَوْمَئِذٍ يُغْنِي أَحَدَهُمْ مَا يُغْنِي الْمَلَائِكَةَ» ⦗ص: 97⦘. قُلْتُ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ، وَلَقَدْ عَلِمْنَا أَنْ لَا تَأْكُلَ الْمَلَائِكَةُ وَلَا تَشْرَبَ. قَالَ: " وَلَكِنَّهُمْ يُسَبِّحُونَ وَيُقَدِّسُونَ ، وَهُوَ طَعَامُ الْمُؤْمِنِينَ يَوْمَئِذٍ ، وَشَرَابِهِمُ التَّسْبِيحُ وَالتَّقْدِيسُ ، فَمَنْ حَضَرَ مَجْلِسِي وَسَمِعَ قَوْلِي فَلْيُبَلِّغِ الشَّاهِدُ الْغَائِبَ ، وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ صَحِيحٌ لَيْسَ بِأَعْوَرَ ، وَأَنَّ الدَّجَّالَ أَعْوَرُ مَمْسُوحُ الْعَيْنِ بَيْنَ عَيْنَيْهِ مَكْتُوبٌ: كَافِرٌ يَقْرَؤُهُ كُلُّ مُؤْمِنٍ كَاتِبٍ أَوْ غَيْرِ كَاتِبٍ "
৪ - হাজ্জাজ ইবনুল মিনহাল আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবদুল হামিদ ইবনু বাহরাম আল-ফাজারি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, শাহর ইবনু হাওশাব আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আসমা বিনতু ইয়াজিদ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার এক মজলিসে বসলেন। অতঃপর তিনি তাদের কাছে কানা দাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনা করলেন, এমনকি দাজ্জালের ভয়ে আমাদের অন্তরসমূহ যেন ফেটে যাওয়ার উপক্রম হলো। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শৌচাগারে গেলেন, আর লোকজন ঘরের মধ্যেই রয়ে গেল। এরপর তিনি তাদের কাছে ফিরে আসলেন ⦗পৃষ্ঠা: ৯৬⦘ ঘরে তখন কান্নার আওয়াজ হচ্ছিল; তারা দাজ্জালের ভয়ে কাঁদছিল। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রবেশ করার উপক্রম করলেন, আমি লোকদের কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখলাম। তিনি বললেন: "তোমাদের কী হয়েছে?" রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতেন তখন এই শব্দ (মাহয়াম) ব্যবহার করতেন। আসমা বললেন: আমি তাঁর সামনে এগিয়ে গেলাম এবং বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, কী হয়েছে? দাজ্জালের ভয়ে আপনি তো আমাদের কলিজা ছিঁড়ে ফেলেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তোমাদের কোনো ভয় নেই। যদি সে বের হয় এবং আমি তোমাদের মধ্যে থাকি, তবে আমিই তার মোকাবিলা করব। আর যদি সে আমার পরে বের হয়, তবে আল্লাহ প্রতিটি মুসলিমের জন্য আমার পক্ষ থেকে দেখাশোনা করবেন।" আসমা বললেন: আমি জিজ্ঞেস করলাম: হে আল্লাহর রাসূল, সেদিন কি আমাদের এই অন্তরগুলো আমাদের সাথে থাকবে? তিনি বললেন: "হ্যাঁ, অথবা তার চেয়েও উত্তম। নিশ্চয়ই যমীনের সমস্ত ফল-ফসল ও খাদ্যসামগ্রী তার (দাজ্জালের) নিয়ন্ত্রণে দিয়ে দেওয়া হবে।" তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, আমার পরিবারের লোকেরা যখন আটা মাখায়, তারা তা শেষ করার আগেই আমি ক্ষুধার তীব্রতায় কষ্ট পেতে থাকি। আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "সেদিন মুমিনদের জন্য তা-ই যথেষ্ট হবে যা ফেরেশতাদের জন্য যথেষ্ট হয়।" ⦗পৃষ্ঠা: ৯৭⦘। আমি বললাম: হে আল্লাহর নবী, আমরা তো জানি যে ফেরেশতারা পানাহার করে না। তিনি বললেন: "কিন্তু তারা তাসবীহ ও তাকদিস (আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা) করে। সেদিন মুমিনদের খাবার ও পানীয় হবে এই তাসবীহ ও তাকদিস। সুতরাং যে আমার মজলিসে উপস্থিত আছে এবং আমার কথা শুনেছে, সে যেন অনুপস্থিতদের কাছে তা পৌঁছে দেয়। আর জেনে রেখো, নিশ্চয়ই আল্লাহ সুস্থ (ত্রুটিমুক্ত), তিনি কানা নন। আর দাজ্জাল হলো কানা, তার এক চোখ মোছা (অন্ধ)। তার দুই চোখের মাঝখানে 'কাফির' লেখা থাকবে, যা প্রত্যেক মুমিন ব্যক্তি পড়তে পারবে—সে শিক্ষিত হোক বা অশিক্ষিত।"
(খণ্ড: ১) আল-ফিতান লি-হাম্বল বিন ইসহাক (পৃষ্ঠা: ৯৭)
قَالَ شَهْرٌ: وَحَدَّثَتْنَا أَسْمَاءُ أَنَّهُ يُرْسَلُ مَعَهُ الشَّيْطَانُ يُمَثَّلُ الرَّجُلَ بِأَبِيهِ وَقَدْ مَاتَ ، أَوْ بِأُمِّهِ ، أَوْ بِعَمِّهِ وَقَدْ مَاتَ ،‌‌ وَفِتْنَتُهُ شَدِيدَةٌ نَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شَرِّهَا
শাহর বলেন: আসমা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তার সাথে শয়তান প্রেরিত হবে, যে কোনো ব্যক্তির নিকট তার মৃত পিতার রূপ ধারণ করে আসবে, অথবা তার মাতার রূপে, অথবা তার মৃত চাচার রূপে, তার ফিতনা অত্যন্ত ভয়াবহ; আমরা আল্লাহর নিকট এর অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১) আল-ফিতান লি-হাম্বল বিন ইসহাক (পৃষ্ঠা: ৯৮)
5 - حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ، حَدَّثَنَا شَهْرٌ، حَدَّثَتْنِي أَسْمَاءُ، أَنَّ‌‌ عَامَّةَ أَتْبَاعِهِ بَعْدَ الْيَهُودِ أَعَارِيبُ النَّاسِ ، وَنَصَارَى الْعَرَبِ وَالنِّسَاءُ ، يَسْحَرُونَ أَعْيُنَ النَّاسِ ، وَيَخْرُجُ حِينَ يَخْرُجُ عِنْدَ بَوَارِ النَّعَمِ ، وَلَا يَكُونُ فِي الْأَرْضِ بَعِيرٌ، فَيَقُولُ لِلْأَعْرَابِ: مَا تَنْقِمُونَ مِنِّي إِلَّا أَنْ أُحْيِيَ لَكُمْ أَنْعَامَكُمْ ، تَعْظُمُ دَرَرُهَا ، يَرَاهَا وَتَنْتَفِخُ خَوَاصِرُهَا ، وَتَدُرُّ أَلْبَانُهَا ، وَيَمُرُّ عَلَى الْحَرْثِ فَيَقُولُ: أَنْبِتْ مَا فِيكَ ، فَلَا ⦗ص: 99⦘ يَدَعْ فِي بَطْنِهَا شَيْئًا إِلَّا أَخْرَجَتْهُ
৫ - আমাদের নিকট হাজ্জাজ বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্দুল হামিদ থেকে, তিনি শাহর থেকে, আর আসমা (রা.) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, ইহুদিদের পর তার সাধারণ অনুসারী হবে গ্রাম্য আরবরা, আরব খ্রিস্টান এবং মহিলারা; তারা মানুষের চোখে জাদু করবে। আর সে বের হবে এমন এক সময়ে যখন গবাদি পশু ধ্বংস হয়ে যাবে এবং পৃথিবীতে কোনো উট অবশিষ্ট থাকবে না। তখন সে গ্রাম্য আরবদের বলবে: "তোমরা আমার মাঝে কী ত্রুটি পাও যদি আমি তোমাদের গবাদি পশুগুলোকে জীবিত করে দেই?" তখন সেগুলোর ওলান বড় হয়ে যাবে, মানুষ তা দেখবে এবং সেগুলোর কটিদেশ ফুলে উঠবে ও প্রচুর দুধ প্রবাহিত হবে। এরপর সে আবাদি জমির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বলবে: "তোমার ভেতরে যা আছে তা উৎপন্ন করো।" ফলে ⦗পৃষ্ঠা: ৯৯⦘ জমিন তার পেটের ভেতরে যা কিছু আছে তার কোনো কিছুই অবশিষ্ট রাখবে না বরং সব বের করে দেবে।
(খণ্ড: ১) আল-ফিতান লি-হাম্বল বিন ইসহাক (পৃষ্ঠা: ৯৯)
6 - حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ ثَابِتٍ، وَقَتَادَةَ، وَالْحَجَّاجِ الْأَسْوَدِ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، عَنْ أَسْمَاءِ بِنْتِ يَزِيدَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ فِي بَيْتٍ مَعَ أَصْحَابِهِ ، فَذَكَرَ الدَّجَّالَ: فَقَالَ: " إِنَّ‌‌ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ ثَلَاثَ سَنَوَاتٍ ، تُمْسِكُ السَّمَاءُ أَوَّلَ سَنَةٍ ثُلُثَ قَطْرِهَا ، وَالْأَرْضُ ثُلُثَ نَبَاتِهَا ، وَالسَّنَةُ الثَّانِيَةُ تُمْسِكُ السَّمَاءُ ثُلُثَيْ قَطْرِهَا ، وَالْأَرْضُ ثُلُثَيْ نَبَاتِهَا ، وَالسُّنَّةُ الثَّالِثَةُ تُمْسِكُ السَّمَاءَ قَطْرَهَا ، وَالْأَرْضُ نَبَاتَهَا ، حَتَّى لَا يَبْقَى ذُو خُفٍّ وَلَا حَافِرٍ ثُمَّ خَرَجَ لِحَاجَةٍ ثُمَّ رَجَعَ وَلَهُمْ خَنِينٌ ، فَأَخَذَ بِعِضَادَتَيِ الْبَابِ. فَقَالَ: «مَا شَأْنُكُمْ؟» فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أَحَدَنَا لَيَعْجِنُ عَجِينَهُ فَمَا يَصْبِرُ حَتَّى يَخْتَمِرَ ⦗ص: 100⦘. قَالَ: «إِنْ يَخْرُجْ وَأَنَا فِيكُمْ فَأَنَا حَجِيجُهُ ، وَإِلَّا فَإِنَّ اللَّهَ خَلِيفَتِي عَلَى كُلِّ مُؤْمِنٍ» قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ فَمَا يُجْزِئُ الْمُؤْمِنَ يَوْمَئِذٍ؟ قَالَ: " مَا يُجْزِئُ الْمَلَائِكَةَ: التَّسْبِيحُ وَالتَّحْمِيدُ وَالتَّهْلِيلُ "
৬ - হাজ্জাজ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন হাম্মাদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন সাবিত, কাতাদাহ এবং হাজ্জাজ আল-আসওয়াদ থেকে, তাঁরা শাহর ইবনে হাওশাব থেকে, তিনি আসমা বিনতে ইয়াযীদ থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সাহাবীদের সাথে একটি ঘরে ছিলেন, তখন তিনি দাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনা করলেন। তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই কিয়ামতের আগে তিনটি বছর আসবে; প্রথম বছর আকাশ তার বৃষ্টির এক-তৃতীয়াংশ আটকে রাখবে এবং যমীন তার উদ্ভিদের এক-তৃতীয়াংশ আটকে রাখবে। দ্বিতীয় বছর আকাশ তার বৃষ্টির দুই-তৃতীয়াংশ আটকে রাখবে এবং যমীন তার উদ্ভিদের দুই-তৃতীয়াংশ আটকে রাখবে। আর তৃতীয় বছর আকাশ তার সমস্ত বৃষ্টি আটকে রাখবে এবং যমীন তার সমস্ত উদ্ভিদ আটকে রাখবে, ফলে খুর বিশিষ্ট বা নখ বিশিষ্ট কোনো প্রাণীই আর অবশিষ্ট থাকবে না।" এরপর তিনি প্রয়োজনে বাইরে গেলেন, অতঃপর যখন ফিরে আসলেন তখন তারা কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন। তিনি দরজার দুই বাজু ধরলেন এবং বললেন: «তোমাদের কী হয়েছে?» তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কেউ যখন আটা মাখে, তখন তা খামিরে পরিণত হওয়া পর্যন্ত সে ধৈর্য ধরতে পারে না ⦗পৃষ্ঠা: ১০০⦘। তিনি বললেন: «যদি সে বের হয় আর আমি তোমাদের মাঝে থাকি, তবে আমিই তার মোকাবিলা করব। অন্যথায় প্রত্যেক মুমিনের জন্য আল্লাহই আমার স্থলাভিষিক্ত (অভিভাবক)।’ তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! সেদিন মুমিনদের জন্য কী যথেষ্ট হবে? তিনি বললেন: "ফেরেশতাদের জন্য যা যথেষ্ট হয়: তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ), তাহমীদ (আলহামদুলিল্লাহ) এবং তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ)।"
(খণ্ড: ১) আল-ফিতান লি-হাম্বল বিন ইসহাক (পৃষ্ঠা: ১০০)
7 - حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنِ أَبِي قِلَابَةَ، قَالَ: دَخَلْتُ الْمَسْجِدَ فَإِذَا النَّاسُ قَدْ تَكَابُّوا عَلَى رَجُلٍ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ ، فَدَنَوْتُ مِنْهُ، فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: " إِنَّ‌‌ بَعْدِي الْكَذَّابَ الْمُضِلَّ ، وَإِنَّ رَأْسَهُ مِنْ وَرَائِهِ حُبُكٌ حُبُكٌ ، يَقُولُ: أَنَا رَبُّكُمْ ، وَمَنْ قَالَ: رَبِّيَ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ أُنِيبُ ، فَلَا سَبِيلَ لَهُ عَلَيْهِ "
৭ - আমাদের নিকট হাজ্জাজ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হাম্মাদ বর্ণনা করেছেন আইয়ুব থেকে, তিনি আবু কিলাবা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি মসজিদে প্রবেশ করলাম এবং দেখলাম যে মানুষ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একজন সাহাবীর নিকট ভিড় করে আছে। আমি তাঁর নিকটবর্তী হলাম এবং তাঁকে বলতে শুনলাম: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই‌‌ আমার পরে চরম মিথ্যাবাদী পথভ্রষ্টকারী আসবে। আর তার মাথার পিছন দিকটা ঘন কুঞ্চিত চুলের মতো হবে। সে বলবে: আমি তোমাদের প্রভু। আর যে ব্যক্তি বলবে: আমার রব আল্লাহ, কোনো উপাস্য নেই তিনি ব্যতীত, তাঁরই ওপর আমি ভরসা করেছি এবং তাঁরই দিকে আমি প্রত্যাবর্তন করি, তবে তার (দাজ্জালের) জন্য ওই ব্যক্তির ওপর কোনো পথ থাকবে না।"
(খণ্ড: ১) আল-ফিতান লি-হাম্বল বিন ইসহাক (পৃষ্ঠা: ১০১)
8 - حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ هِشَامُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، عَنْ رَجَاءِ بْنِ أَبِي رَجَاءٍ الْبَاهِلِيِّ، عَنْ مِحْجَنِ بْنِ الْأَدْرَعِ الْأَسْلَمِيِّ، قَالَ: أَخَذَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِيَدِي فَصَعِدَ أُحُدًا ، ثُمَّ أَشْرَفَ عَلَى الْمَدِينَةِ فَقَالَ: «وَيْلَ أُمِّهَا مِنْ قَرْيَةٍ يَتْرُكُهَا أَهْلُهَا أَعْمَرَ مَا تَكُونُ ، يَأْتِيهَا الدَّجَّالُ ، ⦗ص: 102⦘ فَيَجِدُ عَلَى كُلِّ بَابٍ مِنْ أَبْوَابِهَا مَلَكًا مُصْلِتًا فَلَا يَدْخُلُهَا» ثُمَّ انْحَدَرَ حَتَّى إِذَا كَانَ بِسُدَّةِ الْمَسْجِدِ إِذَا رَجُلٌ قَائِمٌ يُصَلِّي يَرْكَعُ وَيَسْجُدُ فَقَالَ: «مَنْ هَذَا؟» قُلْتُ: هَذَا فُلَانٌ هَذَا هَذَا ، فَجَعَلْتُ أُطْرِيهِ ، فَقَالَ: «اسْكُتْ لَا تُسْمِعْهُ فَتُهْلِكَهُ» ثُمَّ انْطَلَقَ يَمْشِي ، فَلَمَّا دَنَا مِنْ حُجَرِ نِسَائِهِ نَزَعَ مِنْ يَدَيَّ، ثُمَّ قَالَ: «خَيْرُ دِينِكُمْ أَيْسَرُهُ»
৮ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবুল ওয়ালীদ হিশাম ইবনে আবদুল মালিক, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু আওয়ানা, আবু বিশর থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে শাকীক থেকে, তিনি রাজা ইবনে আবি রাজা আল-বাহিলী থেকে, তিনি মিহজান ইবনে আদরা আল-আসলামী থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার হাত ধরলেন এবং উহুদ পাহাড়ে আরোহণ করলেন। অতঃপর তিনি মদীনার দিকে দৃষ্টিপাত করলেন এবং বললেন: “এই জনপদটির ধ্বংস হোক, যা তার অধিবাসীরা অত্যন্ত আবাদ থাকা অবস্থায় ছেড়ে যাবে। সেখানে দাজ্জাল আসবে, ⦗পৃষ্ঠা: ১০২⦘ কিন্তু সে তার প্রতিটি প্রবেশদ্বারে একজন করে উন্মুক্ত তলোয়ারধারী ফেরেশতা দেখতে পাবে, ফলে সে সেখানে প্রবেশ করতে পারবে না।” অতঃপর তিনি নিচে নামলেন, এমনকি যখন তিনি মসজিদের আঙ্গিনায় পৌঁছালেন, তখন একজন ব্যক্তিকে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতে, রুকু ও সাজদাহ করতে দেখলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: “এ কে?” আমি বললাম: “ইনি অমুক, ইনি এমন এবং এমন...”, এভাবে আমি তার প্রশংসা করতে লাগলাম। তিনি বললেন: “চুপ করো, তাকে শুনিও না, নতুবা তুমি তাকে ধ্বংস করে দেবে।” অতঃপর তিনি হেঁটে চললেন। যখন তিনি তাঁর স্ত্রীদের কক্ষগুলোর নিকটবর্তী হলেন, তখন তিনি আমার হাত ছেড়ে দিলেন এবং বললেন: “তোমাদের দ্বীনের সর্বোত্তম অংশ হলো যা সহজ।”
(খণ্ড: ১) আল-ফিতান লি-হাম্বল বিন ইসহাক (পৃষ্ঠা: ১০৩)
9 - حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ:‌‌ يَمْكُثُ أَبَوَا الدَّجَّالِ لَا يُولَدُ لَهُمَا ثَلَاثِينَ عَامًا ، ثُمَّ يُولَدُ لَهُمَا غُلَامٌ أَعْوَرُ أَضَرُّ شَيْءٍ وَأَقَلُّهُ نَفْعًا ، تَنَامُ عَيْنَاهُ وَلَا يَنَامُ قَلْبُهُ ثُمَّ نَعَتَ أَبَوَيْهِ فَقَالَ: «أَبُوهُ رَجُلٌ طُوَالٌ ، مُضْطَرِبُ اللَّحْمِ ، طَوِيلُ الْأَنْفِ ، كَأَنَّ أَنْفَهُ مِنْقَارٌ ، وَأُمُّهُ امْرَأَةٌ فِرْضَاخِيَّةٌ ، عَظِيمَةُ الثَّدْيَيْنِ»
৯ - মুসলিম ইবনে ইবরাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ ইবনে সালামা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনে যায়েদ থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে আবি বাকরা থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: দাজ্জালের পিতা-মাতা ত্রিশ বছর যাবত এমনভাবে অতিবাহিত করবে যে তাদের কোনো সন্তান জন্ম নেবে না। এরপর তাদের এক একচোখা পুত্র সন্তান জন্ম নেবে, যে হবে অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং সবচেয়ে কম উপকারী। তার দুই চোখ ঘুমাবে কিন্তু তার অন্তর ঘুমাবে না। এরপর তিনি তার পিতা-মাতার বর্ণনা দিয়ে বললেন: "তার পিতা হবে দীর্ঘকায় এক ব্যক্তি, থলথলে মাংসবিশিষ্ট, দীর্ঘ নাসিকা বিশিষ্ট, যেন তার নাকটি পাখির ঠোঁট। আর তার মা হবে স্থূলকায় এক নারী, যার স্তনদ্বয় হবে অত্যন্ত বড়।"
(খণ্ড: ১) আল-ফিতান লি-হাম্বল বিন ইসহাক (পৃষ্ঠা: ১০৪)
10 - حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ، قَالَ: سَمِعْتُ حُمَيْدَ بْنَ هِلَالٍ، يُحَدِّثُ قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو الدَّهْمَاءِ، حَدَّثَنِي عِمْرَانُ بْنُ حُصَيْنٍ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: ‌‌«مَنْ سَمِعَ بِالدَّجَّالِ فَلْيَنْأَ عَنْهُ ، فَإِنَّ الرَّجُلَ يَأْتِيهِ، وَهُوَ يَحْسَبُ أَنَّهُ مُؤْمِنٌ فَمَا يَزَالُ بِهِ حَتَّى يَتَّبِعَهُ مِمَّا يَبْعَثُ مَعَهُ مِنَ الشُّبُهَاتِ»
১০ - হাজ্জাজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জারীর ইবনে হাযিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি হুমাইদ ইবনে হিলালকে হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: আবু আদ-দাহমা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ইমরান ইবনে হুসাইন আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «যে ব্যক্তি দাজ্জালের কথা শুনবে, সে যেন তার থেকে দূরে থাকে। কেননা, কোনো লোক তার নিকট আসবে এই বিশ্বাস নিয়ে যে সে একজন মুমিন, অতঃপর সে ক্রমাগত তার সাথে অবস্থান করবে যতক্ষণ না সে তার অনুসারী হয়ে যাবে সেইসব সংশয়ের কারণে যা তার সাথে প্রেরণ করা হবে।»
(খণ্ড: ১) আল-ফিতান লি-হাম্বল বিন ইসহাক (পৃষ্ঠা: ১০৫)
11 - حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ مُطَرِّفٍ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: ‌‌«لَا تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي يُقَاتِلُونَ عَلَى الْحَقِّ ، ظَاهِرِينَ عَلَى مِنْ نَاوَأَهُمْ ، حَتَّى يُقَاتِلَ آخِرُهُمُ الْمَسِيحَ الدَّجَّالَ»

⦗ص: 106⦘

 

12 - وَحَدَّثَنَاهُ قَبِيصَةُ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، بِإِسْنَادِهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِهِ ، وَزَادَ فِيهِ: وَكَانُوا يَرَوْنَ أَنَّهُمْ بِالسِّبَاخِ
১১ - হাজ্জাজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ ইবনে সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, কাতাদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুতাররিফ থেকে, তিনি ইমরান ইবনে হুসাইন থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা সত্যের ওপর যুদ্ধ করতে থাকবে, যারা তাদের বিরোধিতা করবে তাদের ওপর তারা বিজয়ী থাকবে, যতক্ষণ না তাদের শেষ দলটি মাসীহ দাজ্জালের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে।»

⦗পৃষ্ঠা: ১০৬⦘

 

১২ - এটি আমাদের নিকট কাবীসাহ বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ ইবনে সালামাহ আমাদের নিকট তাঁর সনদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, এবং তিনি এতে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন: "তারা মনে করতেন যে তারা সিবাহ (লবণাক্ত প্রান্তর)-এ থাকবে।"
(খণ্ড: ১) আল-ফিতান লি-হাম্বল বিন ইসহাক (পৃষ্ঠা: ১০৭)
13 - حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، أَخْبَرَنَا سَعِيدٌ الْجُرَيْرِيُّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، عَنْ مِحْجَنِ بْنِ الْأَدْرَعِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَطَبَ النَّاسَ ذَاتَ يَوْمٍ فَقَالَ: «يَوْمُ الْخَلَاصِ ،‌‌ وَمَا يَوْمُ الْخَلَاصِ؟» فَجَعَلَ يُرَدِّدُهَا فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ ، وَمَا يَوْمُ الْخَلَاصِ؟ قَالَ يَجِيءُ الدَّجَّالُ حَتَّى يَصْعَدَ أُحُدًا ، فَيَنْظُرُ إِلَى الْمَدِينَةَ فَيَقُولُ: «أَتَرَوْنَ هَذَا الْقَصْرَ الْأَبْيَضَ ، هَذَا مَسْجِدُ أَحْمَدَ ، ثُمَّ يَأْتِي الْمَدِينَةَ ، فَيَجِدُ بِكُلِّ نَقْبٍ مِنْ نِقَابِهَا مَلَكًا مُصْلِتًا ، فَيَأْتِي سَبَخَةَ الْجُرُفِ ، فَيَضْرِبُ رِوَاقَهُ ، فَتَرْجُفُ الْمَدِينَةُ ثَلَاثَ رَجَفَاتٍ ، فَلَا يَبْقَى مُنَافِقٌ وَلَا مُنَافِقَةٌ ، وَلَا فَاسِقٌ وَلَا فَاسِقَةٌ ، إِلَّا خَرَجَ فَتَخْلُصُ يَوْمَئِذٍ»
১৩ - হাজ্জাজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ ইবনে সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাঈদ আল-জুরাইরী আবদুল্লাহ ইবনে শাকীক থেকে এবং তিনি মিহজান ইবনুল আদরা থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন মানুষের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন এবং বললেন: «মুক্তির দিন, আর মুক্তির দিন কী?» তিনি এটি বারবার বলতে থাকলেন। তখন তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, মুক্তির দিন কী? তিনি বললেন: দাজ্জাল আসবে এবং এমনকি সে উহুদ পাহাড়ে আরোহণ করবে, অতঃপর মদীনার দিকে তাকিয়ে বলবে: «তোমরা কি এই সাদা প্রাসাদটি দেখতে পাচ্ছ? এটি আহমদের মসজিদ।’ এরপর সে মদীনার দিকে অগ্রসর হবে, কিন্তু এর প্রতিটি প্রবেশপথে একজন করে ফেরেশতাকে উন্মুক্ত তলোয়ার হাতে দণ্ডায়মান পাবে। তখন সে জুরুফের লোনা প্রান্তরে আসবে এবং সেখানে তার তাঁবু খাটবে। অতঃপর মদীনা তিনবার প্রকম্পিত হবে, যার ফলে কোনো মুনাফিক নারী ও পুরুষ এবং কোনো ফাসিক নারী ও পুরুষ আর অবশিষ্ট থাকবে না, বরং তারা সকলে (মদীনা থেকে) বেরিয়ে আসবে। এভাবেই সেদিন মদীনা কলুষমুক্ত হয়ে খাঁটি হবে।»
(খণ্ড: ১) আল-ফিতান লি-হাম্বল বিন ইসহাক (পৃষ্ঠা: ১০৭)
14 - حَدَّثَنَا قَبِيصَةُ بْنُ عُقْبَةَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ جَرِيرِ بْنِ حَازِمٍ، عَنْ أَبِي نَصْرٍ الْعَدَوِيِّ، عَنْ أَبِي الدَّهْمَاءِ الْعَدَوِيِّ ⦗ص: 108⦘، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَنْ سَمِعَ مِنْكُمْ بِالدَّجَّالِ فَلْيَفِرَّ مِنْهُ ، فَإِنَّهُ يَأْتِيهِ الرَّجُلُ يَحْسَبُ أَنَّهُ مُؤْمِنٌ ، فَيَتَّبِعُهُ مِمَّا يَرَى مَعَهُ مِنَ الشُّبُهَاتِ»
১৪ - আমাদের নিকট কাবিসাহ ইবনে উকবাহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন, তিনি জারির ইবনে হাযিম থেকে, তিনি আবু নাসর আল-আদাউয়ি থেকে, তিনি আবু আদ-দাহমা আল-আদাউয়ি থেকে ⦗পৃষ্ঠা: ১০৮⦘, ইমরান ইবনে হুসাইন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি দাজ্জাল সম্পর্কে শুনবে, সে যেন তার থেকে দূরে পালিয়ে থাকে। কারণ, কোনো ব্যক্তি নিজেকে মুমিন মনে করে তার নিকট আসবে, অতঃপর তার সাথে থাকা সংশয়গুলোর কারণে সে তার অনুসারী হয়ে পড়বে।»
(খণ্ড: ১) আল-ফিতান লি-হাম্বল বিন ইসহাক (পৃষ্ঠা: ১০৮)
15 - حَدَّثَنَا قَبِيصَةُ، وَحَجَّاجٌ، قَالَا: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم‌‌ يَتَعَوَّذُ بِاللَّهِ مِنْ شَرِّ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ وَمِنْ شَرِّ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ
১৫ - আমাদের নিকট ক্বাবীসাহ ও হাজ্জাজ বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট হাম্মাদ ইবনে সালামাহ বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে যিয়াদ থেকে, তিনি বলেন: আমি আবু হুরায়রাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে শুনেছি জীবন ও মরণ এবং মাসীহ দাজ্জালের অনিষ্ট হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করতে।
(খণ্ড: ১) আল-ফিতান লি-হাম্বল বিন ইসহাক (পৃষ্ঠা: ১০৯)
16 - حَدَّثَنَا قَبِيصَةُ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ شُعَيْبِ بْنِ الْحَبْحَابِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "‌‌ الدَّجَّالُ أَعْوَرُ ، وَرَبُّكُمْ لَيْسَ بِأَعْوَرَ ، مَكْتُوبٌ بَيْنَ عَيْنَيْهِ: كَافِرٌ ، يَقْرَؤُهُ كُلُّ مُؤْمِنٍ قَارِئٍ أَوْ غَيْرِ قَارِئٍ "
১৬ - ক্বাবিসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ ইবনে সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শুয়াইব ইবনুল হাবহাব থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "‌‌ দাজ্জাল একচোখা, আর তোমাদের রব একচোখা নন; তার দুই চোখের মাঝে লেখা আছে: ‘কাফির’, যা প্রত্যেক মুমিন ব্যক্তি পড়তে পারবে, চাই সে শিক্ষিত হোক বা অশিক্ষিত।"
(খণ্ড: ১) আল-ফিতান লি-হাম্বল বিন ইসহাক (পৃষ্ঠা: ১০৯)
17 - حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، حَدَّثَنَا الْحَجَّاجُ، عَنْ عَطِيَّةَ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ: أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " إِنَّهُ لَمْ يَكُنْ نَبِيٌّ إِلَّا وَقَدْ أَنْذَرَ الدَّجَّالَ أُمَّتَهُ ، وَإِنِّي أُنْذِرُكُمُوهُ ، إِنَّهُ أَعْوَرُ ذُو حَدَقَةٍ جَاحِظَةٍ ، ⦗ص: 110⦘ لَا تَخْفَى ، كَأَنَّهَا نُخَاعَةٌ فِي جَنْبِ جِدَارٍ ، وَعَيْنُهُ الْيُسْرَى كَأَنَّهَا كَوْكَبٌ دُرِّيٌّ ، وَمَعَهُ مِثْلُ الْجَنَّةِ ، وَمَثَلُ النَّارِ ، وَجَنَّتُهُ عَيْنٌ ذَاتُ دُخَانٍ ، وَنَارُهُ رَوْضَةٌ خَضْرَاءُ ، وَبَيْنَ يَدَيْهِ رَجُلَانِ يُنْذِرَانِ أَهْلَ الْقُرَى ، كُلَّمَا خَرَجَا مِنْ قَرْيَةٍ دَخَلَ أَوَائِلُهُمْ ، فَيُسَلَّطُ عَلَى رَجُلٍ لَا يُسَلَّطُ عَلَى غَيْرِهِ ، فَيَذْبَحُهُ ، ثُمَّ يَضْرِبُهُ بِعَصًا ، ثُمَّ يَقُولُ: قُمْ فَيَقُومُ ، فَيَقُولُ لِأَصْحَابِهِ: كَيْفَ تَرَوْنَ؟ فَيَشْهَدُونَ لَهُ بِالشِّرْكِ ، فَيَقُولُ الْمَذْبُوحُ: يَا أَيُّهَا النَّاسُ ، هَا إِنَّ هَذَا الْمَسِيحَ الدَّجَّالَ الَّذِي أَنْذَرْنَاهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: وَاللَّهِ مَا زَادَ بِي هَذَا فِيكَ إِلَّا بَصِيرَةً قَالَ: فَيَعُودُ فَيَذْبَحُهُ ، فَيَضْرِبُهُ بِعَصًا مَعَهُ ، فَيَقُولُ لَهُ: قُمْ فَيَقُومُ فَيَقُولُ: كَيْفَ تَرَوْنَ؟ فَيَشْهَدُونَ لَهُ بِالشِّرْكِ. فَيَقُولُ الرَّجُلُ: يَا أَيُّهَا النَّاسُ ، هَا إِنَّ هَذَا الدَّجَّالَ الْمَسِيحَ الَّذِي أَنْذَرْنَاهُ رَسُولُ اللَّهِ ، وَاللَّهِ مَا زَادَنِي هَذَا فِيكَ لَا بَصِيرَةً ، قَالَ: فَيَعُودُ فَيَذْبَحُهُ ، فَيَضْرِبُهُ بِعَصًا مَعَهُ ، فَيَعُودُ الرَّابِعَةَ لِيَذْبَحَهُ ، فَيَضْرِبُ اللَّهُ عَلَى حَلْقِهِ بِصَحِيفَةٍ مِنْ نُحَاسٍ ، فَيُرِيدُ أَنْ يَذْبَحَهُ فَلَا يَسْتَطِيعُ. قَالَ أَبُو سَعِيدٍ: فَمَا دَرَيْتُ مَا النُّحَاسُ إِلَّا يَوْمَئِذٍ ، فَكُنَّا نَرَى ذَلِكَ الرَّجُلَ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رحمه الله ، حَتَّى مَاتَ. قَالَ: وَيَغْرِسُ النَّاسُ بَعْدَ ذَلِكَ وَيَزْرَعُونَ
১৭ - হাজ্জাজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ ইবনে সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাজ্জাজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আতিয়্যাহ ইবনে সা'দ থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে: আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই এমন কোনো নবী অতিক্রান্ত হননি যিনি তাঁর উম্মতকে দাজ্জাল সম্পর্কে সতর্ক করেননি, আর আমিও তোমাদেরকে সে সম্পর্কে সতর্ক করছি। সে হবে একচোখা, যার চোখের মণি হবে কোটর হতে নির্গত বা বিস্ফোরিত, ⦗পৃষ্ঠা: ১১০⦘ যা অস্পষ্ট থাকবে না; যেন তা দেয়ালের পাশে লেগে থাকা শ্লেষ্মা। আর তার বাম চোখটি হবে যেন একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র। তার সাথে জান্নাত ও জাহান্নামের সদৃশ বস্তু থাকবে। তার জান্নাত হবে ধোঁয়াচ্ছন্ন একটি প্রস্রবণ, আর তার জাহান্নাম হবে একটি সবুজ উদ্যান। তার সামনে দুইজন লোক থাকবে যারা জনপদবাসীদের সতর্ক করতে থাকবে। তারা যখনই কোনো জনপদ থেকে বের হবে, তখনই দাজ্জালের অগ্রবর্তী দল সেখানে প্রবেশ করবে। অতঃপর তাকে (দাজ্জালকে) একজন লোকের ওপর আধিপত্য দেওয়া হবে, সে ছাড়া অন্য কারো ওপর তাকে আধিপত্য দেওয়া হবে না। সে তাকে জবেহ করবে, অতঃপর তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করবে, এরপর বলবে: ‘দাঁড়াও’, তখন সে দাঁড়িয়ে যাবে। অতঃপর সে তার সাথীদের বলবে: ‘তোমরা কী দেখছ?’ তারা শিরকের মাধ্যমে তার পক্ষে সাক্ষ্য দেবে। তখন জবেহকৃত ব্যক্তিটি বলবে: ‘হে লোকসকল! শোনো, এই সেই মসীহ দাজ্জাল যার সম্পর্কে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের সতর্ক করেছিলেন।’ সে বলবে: ‘আল্লাহর কসম, তোমার এই কর্মকাণ্ড তোমার ব্যাপারে আমার কেবল অন্তর্দৃষ্টিই বৃদ্ধি করেছে।’ নবী (সা.) বলেন: ‘অতঃপর সে পুনরায় তাকে জবেহ করবে এবং তার কাছে থাকা লাঠি দিয়ে তাকে আঘাত করবে। এরপর তাকে বলবে: ‘দাঁড়াও’, সে দাঁড়িয়ে যাবে। দাজ্জাল বলবে: ‘তোমরা কী দেখছ?’ তারা শিরকের মাধ্যমে তার পক্ষে সাক্ষ্য দেবে। সেই লোকটি বলবে: ‘হে লোকসকল! শোনো, এই সেই দাজ্জাল মসীহ যার সম্পর্কে আল্লাহর রাসূল আমাদের সতর্ক করেছিলেন। আল্লাহর কসম, তোমার এই কর্মকাণ্ড তোমার ব্যাপারে আমার কেবল অন্তর্দৃষ্টিই বৃদ্ধি করেছে।’ নবী (সা.) বলেন: ‘অতঃপর সে পুনরায় তাকে জবেহ করার জন্য উদ্যত হবে এবং তার কাছে থাকা লাঠি দিয়ে তাকে আঘাত করবে। যখন চতুর্থবার সে তাকে জবেহ করতে যাবে, তখন আল্লাহ তার গলায় তামার একটি পাত স্থাপন করে দেবেন; ফলে সে তাকে জবেহ করার চেষ্টা করেও আর সক্ষম হবে না।’" আবু সাঈদ (রা.) বলেন: "আমি সেদিনই কেবল তামার স্বরূপ জানতে পেরেছিলাম। আমরা মনে করতাম সেই লোকটি উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.), তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত আমরা এটাই মনে করতাম।" নবী (সা.) বলেন: "এরপর মানুষ পুনরায় বৃক্ষ রোপণ করবে এবং চাষাবাদ করবে।"
(খণ্ড: ১) আল-ফিতান লি-হাম্বল বিন ইসহাক (পৃষ্ঠা: ১১১)
18 - حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَكَرَ جَهْدًا شَدِيدًا يَكُونُ بَيْنَ يَدَيِ الدَّجَّالِ فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيْنَ الْعَرَبُ يَوْمَئِذٍ؟ ⦗ص: 112⦘ قَالَ: «يَا عَائِشَةُ إِنَّ الْعَرَبَ يَوْمَئِذٍ لَقَلِيلٌ» . قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ ، فَمَا يُجْزِئُ الْمُؤْمِنَ يَوْمَئِذٍ؟ قَالَ: «التَّسْبِيحُ وَالتَّحْمِيدُ وَالتَّكْبِيرُ وَالتَّهْلِيلُ» . قُلْتُ: فَأَيُّ الْمَالِ يَوْمَئِذٍ خَيْرٌ؟ قَالَ: " غُلَامٌ شَدِيدٌ يَسْقِي أَهْلَهُ مِنَ الْمَاءِ ، وَأَمَّا الطَّعَامُ فَلَا طَعَامَ
১৮ - হাজ্জাজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ ইবনে সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনে যাইদ থেকে বর্ণিত, তিনি হাসান থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাজ্জালের আগমনের পূর্বে সংঘটিতব্য এক চরম কষ্টের কথা উল্লেখ করলেন। আমি আরজ করলাম: হে আল্লাহর রাসূল, সেদিন আরবরা কোথায় থাকবে? ⦗পৃষ্ঠা: ১১২⦘ তিনি বললেন: “হে আয়েশা, সেদিন আরবদের সংখ্যা হবে অতি সামান্য।” আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, তবে সেদিন মুমিনদের জন্য কোন জিনিসটি যথেষ্ট হবে? তিনি বললেন: “তাসবিহ, তাহমিদ, তাকবীর এবং তাহলীল।” আমি জিজ্ঞাসা করলাম: তবে সেদিন কোন সম্পদটি সর্বোত্তম হবে? তিনি বললেন: “একজন শক্তিশালী কিশোর যে তার পরিবারকে পানি পান করাবে; আর খাবারের কথা যদি বলো, তবে সেদিন কোনো খাবার থাকবে না।”
(খণ্ড: ১) আল-ফিতান লি-হাম্বল বিন ইসহাক (পৃষ্ঠা: ১১২)
19 - حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «الدَّجَّالُ يَطَأُ الْأَرْضَ كُلَّهَا إِلَّا مَكَّةَ وَالْمَدِينَةَ ، فَيَأْتِي الْمَدِينَةَ فَيَجِدُ بِكُلِّ نَقْبٍ مِنْ نِقَابِهَا صُفُوفًا مِنَ ⦗ص: 113⦘ الْمَلَائِكَةِ ، فَيَأْتِي سَبَخَةَ الْجُرُفِ ، فَيَضْرِبُ رِوَاقَهُ ، ثُمَّ تَرْجُفُ الْمَدِينَةُ ثَلَاثَ رَجَفَاتٍ ، فَيَخْرُجُ إِلَيْهِ كُلُّ مُنَافِقٍ وَمُنَافِقَةٍ»
১৯ - হাজ্জাজ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইসহাক ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবু তালহা আমাদের নিকট আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «দাজ্জাল মক্কা ও মদিনা ব্যতীত সমগ্র যমীন পদদলিত করবে। অতঃপর সে মদিনার নিকট আসবে এবং এর প্রতিটি প্রবেশপথে ⦗পৃষ্ঠা: ১১৩⦘ ফেরেশতাদের সারিবদ্ধ কাতার দেখতে পাবে। এরপর সে জুরুফের লোনা প্রান্তরে এসে তার তাবু স্থাপন করবে। অতঃপর মদিনা তিনবার প্রকম্পিত হবে, যার ফলে প্রত্যেক মুনাফিক নর-নারী তার নিকট বেরিয়ে আসবে।»
(খণ্ড: ১) আল-ফিতান লি-হাম্বল বিন ইসহাক (পৃষ্ঠা: ১১৩)
20 - حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الْأَحْوَصِ، عَنْ فُرَاتٍ الْقَزَّازِ، عَنْ عَامِرِ بْنِ وَاثِلَةَ، عَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ أُسَيْدٍ الْغِفَارِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " لَنْ تَكُونَ ، أَوْ‌‌ لَنْ تَقُومَ - يَعْنِي السَّاعَةَ - حَتَّى يَكُونَ قَبْلَهَا الدَّجَّالُ ، وَعِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
২০ - আমাদের নিকট মুসাদ্দাদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবুল আহওয়াস বর্ণনা করেছেন, ফুরাত আল-কাযযায থেকে, তিনি আমির ইবন ওয়াছিলাহ থেকে, তিনি হুযায়ফাহ ইবন আসীদ আল-গিফারী থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "ততক্ষণ হবে না, অথবা ততক্ষণ পর্যন্ত সংঘটিত হবে না - অর্থাৎ কিয়ামত - যতক্ষণ না তার পূর্বে দাজ্জাল এবং ঈসা ইবন মারইয়াম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর আবির্ভাব ঘটে।"
(খণ্ড: ১) আল-ফিতান লি-হাম্বল বিন ইসহাক (পৃষ্ঠা: ১১৫)
21 - حَدَّثَنَا دُحَيْمٌ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَحْيَى الْمَعَافِرِيُّ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ صَالِحٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو الْوَازِعِ، أَنَّهُ سَمِعَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ بُسْرٍ، يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: ‌‌«لَيُدْرِكَنَّ الدَّجَّالُ مَنْ رَآنِي أَوْ لَيَكُونَنَّ قَرِيبًا مِنْ مَوْتِي»
২১ - আমাদের নিকট দুহাইম আবদুর রহমান ইবনে ইব্রাহিম আদ-দিমাশকী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াহইয়া আল-মাআফিরী বর্ণনা করেছেন মুআবিয়াহ ইবনে সালিহ থেকে, তিনি বলেন: আমাকে আবুল ওয়াযি’ বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে বুসরকে বলতে শুনেছেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «অবশ্যই দাজ্জাল এমন ব্যক্তিকে পেয়ে যাবে যে আমাকে দেখেছে অথবা তার আবির্ভাব অবশ্যই আমার মৃত্যুর নিকটবর্তী সময়ে হবে।»
(খণ্ড: ১) আল-ফিতান লি-হাম্বল বিন ইসহাক (পৃষ্ঠা: ১১৫)
22 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُونُسَ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّهُ سَمِعَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ ثَعْلَبَةَ الْأَنْصَارِيَّ، يُحَدِّثُ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ الْأَنْصَارِيِّ، قَالَ ⦗ص: 116⦘: سَمِعْتُ عَمِّي مُجَمِّعَ بْنَ جَارِيَةَ يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: ‌‌«يَقْتُلُ ابْنُ مَرْيَمَ الدَّجَّالَ بِبَابِ لُدٍّ»
২২ - আমাদের নিকট আহমাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে ইউনুস বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট লাইস ইবনে সাদ বর্ণনা করেছেন, ইবনে শিহাব থেকে বর্ণিত যে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে সা’লাবা আল-আনসারিকে আবদুর রহমান ইবনে ইয়াজিদ আল-আনসারি থেকে বর্ণনা করতে শুনেছেন, তিনি বলেন ⦗পৃষ্ঠা: ১১৬⦘: আমি আমার চাচা মুজাম্মি’ ইবনে জারিয়াকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «মরিয়ম-পুত্র দাজ্জালকে লুদ ফটকে হত্যা করবেন»
(খণ্ড: ১) আল-ফিতান লি-হাম্বল বিন ইসহাক (পৃষ্ঠা: ১১৭)
23 - حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ رَبِيعٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، عَنِ ابْنِ شَوْذَبٍ، عَنْ أَبِي التَّيَّاحِ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ سُبَيْعٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ حُرَيْثٍ، قَالَ: مَرِضَ أَبُو بَكْرٍ رضي الله عنه ، ثُمَّ كُشِفَ عَنْهُ ، فَخَرَجَ فَصَلَّى بِالنَّاسِ ، ثُمَّ قَالَ: أَيُّهَا النَّاسُ ، إِنَّا لَا نَأْلُوكُمْ نُصْحًا ، سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: "‌‌ يَخْرُجُ الدَّجَّالُ مِنْ أَرْضٍ يُقَالُ لَهَا: خُرَاسَانُ ، وَأَشَارَ بِيَدِهِ نَحْوَ الْمَشْرِقِ ، وَمَعَهُ قَوْمٌ كَأَنَّ وُجُوهَهُمُ الْمَجَانُّ "
২৩ - হাসান ইবনে রাবী' আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে কাসীর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে শাওযাব থেকে, তিনি আবু আত-তায়্যাহ থেকে, তিনি মুগীরা ইবনে সুবাই' থেকে, তিনি আমর ইবনে হুরায়স থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) অসুস্থ হয়ে পড়েন, অতঃপর তাঁর অসুস্থতা লাঘব হয়। এরপর তিনি বের হয়ে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন এবং বললেন: হে লোকসকল! আমি তোমাদের সদুপদেশ প্রদানে কোনো ত্রুটি করি না। আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "‌‌দাজ্জাল খুরাসান নামক এক ভূখণ্ড থেকে আত্মপ্রকাশ করবে — এবং তিনি তাঁর হাত দ্বারা পূর্বদিকের দিকে ইশারা করলেন — তার সাথে এমন এক সম্প্রদায় থাকবে যাদের মুখমণ্ডল যেন পেটানো ঢাল।"
(খণ্ড: ১) আল-ফিতান লি-হাম্বল বিন ইসহাক (পৃষ্ঠা: ১১৮)
24 - حَدَّثَنِي أَبُو عَبْدِ اللَّهِ أَحْمَدُ ، حَدَّثَنَا رَوْحٌ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ أَبِي التَّيَّاحِ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ سُبَيْعٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ حُرَيْثٍ، أَنَّ أَبَا بَكْرٍ، رحمه الله أَفَاقَ مِنْ مَرْضَةٍ لَهُ ، فَخَرَجَ إِلَى النَّاسِ ، فَاعْتَذَرَ بِشَيْءٍ ، ثُمَّ قَالَ: حَدَّثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " إِنَّ‌‌ الدَّجَّالَ يَخْرُجُ مِنَ أَرْضٍ يُقَالُ لَهَا: خُرَاسَانُ ، يَتْبَعُهُ قَوْمٌ كَأَنَّ وُجُوهَهُمُ الْمَجَانُّ الْمُطْرَقَةُ "
২৪ - আবু আব্দুল্লাহ আহমদ আমাকে বর্ণনা করেছেন, রওহ আমাদের বর্ণনা করেছেন, সাঈদ ইবনে আবি আরুবাহ আমাদের বর্ণনা করেছেন আবু আত-তাইয়াহ থেকে, তিনি মুগীরাহ ইবনে সুবাই থেকে, তিনি আমর ইবনে হুরাইস থেকে বর্ণনা করেন যে, আবু বকর (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর এক অসুস্থতা থেকে সুস্থ হলেন, এরপর তিনি লোকজনের নিকট বের হলেন এবং কোনো একটি বিষয়ে ওজর পেশ করলেন। অতঃপর তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: " নিশ্চয়ই দাজ্জাল খোরাসান নামক এক ভূখণ্ড থেকে আত্মপ্রকাশ করবে; একদল লোক তার অনুসরণ করবে যাদের চেহারা হবে পিটানো ঢালের ন্যায়। "
(খণ্ড: ১) আল-ফিতান লি-হাম্বল বিন ইসহাক (পৃষ্ঠা: ১১৯)
25 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ ثَوْبَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ يُخَامِرَ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «خُرُوجُ الْمَلْحَمَةُ فَتْحُ الْقُسْطَنْطِينِيَّةِ ، وَفَتْحُ الْقُسْطَنْطِينِيَّةِ خُرُوجُ الدَّجَّالِ» ⦗ص: 120⦘ ثُمَّ ضَرَبَ عَلَى فَخِذِ الَّذِي حَدَّثَهُ - يَعْنِي مُعَاذًا - أَوْ عَلَى مَنْكِبِهِ ، فَقَالَ: «إِنَّ هَذَا الْحَقُّ كَمَا أَنَّكَ هَاهُنَا»
২৫ - আলী ইবনুল জা'দ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুর রহমান ইবনে সাওবান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি মাকহুল থেকে, তিনি জুবাইর ইবনে নুফাইর থেকে, তিনি মালিক ইবনে ইউখামির থেকে, তিনি মুআয ইবনে জাবাল থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «মহাযুদ্ধের বহিঃপ্রকাশ হলো কনস্টান্টিনোপল বিজয়, আর কনস্টান্টিনোপল বিজয় হলো দাজ্জালের বহিঃপ্রকাশ» ⦗পৃষ্ঠা: ১২০⦘ অতঃপর তিনি যাঁর সাথে কথা বলছিলেন—অর্থাৎ মুআয—তাঁর উরুতে অথবা তাঁর কাঁধে আঘাত করলেন এবং বললেন: «নিশ্চয়ই এটি সত্য, যেমন তুমি এখানে আছো»
(খণ্ড: ১) আল-ফিতান লি-হাম্বল বিন ইসহাক (পৃষ্ঠা: ১২১)
26 - حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ أَبُو سَلَمَةَ، حَدَّثَنَا حَبَّانُ بْنُ يَسَارٍ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ:‌‌ انْطَلَقَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى ابْنِ صَائِدٍ ، فَلَمْ يَجِدْهُ ، فَرَأَى أُمَّهُ فَسَأَلَهَا عَنْهُ فَقَالَتْ: وَلَدْتُهُ أَعْوَرَ مَخْتُونًا ، أَلَا أَدْعُوهُ لَكَ؟ قَالَ: «بَلَى» قَالَ: فَدَعَتْهُ: وَمَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضي الله عنه ، فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: " أَتَشْهَدُ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ؟ فَقَالَ: أَشْهَدُ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «قَدْ آمَنْتُ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ» ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَتَشْهَدُ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ؟» . فَقَالَ: أَشْهَدُ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ ⦗ص: 122⦘. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " قَدْ آمَنْتُ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «إِنِّي قَدْ خَبَّأْتُ لَكَ خَبِيئًا» . قَالَ: وَخَبَّأَ لَهُ الدُّخَانَ ، فَقَالَ: ابْنُ صَائِدٍ: دُخٌّ دُخٌّ ، فَقَالَ عُمَرُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ ، أَلَا أَضْرِبُ عُنُقَهُ؟ فَقَالَ: «لَا ، إِنَّ يَكُنْ هُوَ فَسَيَكْفِيكَهُ اللَّهُ عز وجل بِي»
২৬ - আমাদের নিকট মূসা ইবনে ইসমাঈল আবু সালামাহ হাদীস বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হাব্বান ইবনে ইয়াসার হাদীস বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হিশাম ইবনে উরওয়াহ হাদীস বর্ণনা করেছেন তাঁর পিতা হতে, তিনি আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইবনে সায়িদের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন, কিন্তু তাকে পেলেন না। অতঃপর তিনি তার মাকে দেখলেন এবং তাকে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। সে বলল: আমি তাকে এক চোখ কানা এবং খতনাকৃত অবস্থায় জন্ম দিয়েছি। আমি কি তাকে আপনার জন্য ডাকব? তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর সে তাকে ডাকল। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ছিলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বললেন: "তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে আমি আল্লাহর রাসূল?" সে বলল: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আমি আল্লাহর রাসূল। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "আমি আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান এনেছি।" অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে আমি আল্লাহর রাসূল?" সে বলল: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আমি আল্লাহর রাসূল ⦗পৃষ্ঠা: ১২২⦘। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "আমি আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান এনেছি।" অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "আমি তোমার জন্য একটি বিষয় মনে মনে গোপন রেখেছি।" বর্ণনাকারী বলেন: তিনি তার জন্য 'আদ-দুখান' (ধোঁয়া) বিষয়টি মনে মনে গোপন রেখেছিলেন। তখন ইবনে সায়িদ বলল: দুখ্খ্ দুখ্খ্। উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি তার গর্দান উড়িয়ে দেব না? তিনি বললেন: "না, যদি সে-ই সেই ব্যক্তি (দাজ্জাল) হয়ে থাকে, তবে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল আমার মাধ্যমেই তাকে তোমার জন্য যথেষ্ট করবেন।"
(খণ্ড: ১) আল-ফিতান লি-হাম্বল বিন ইসহাক (পৃষ্ঠা: ১২৫)
27 - حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا حَشْرَجُ بْنُ نُبَاتَةَ، قَالَ: حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ جُمْهَانَ، عَنْ سَفِينَةَ، مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: أَلَا إِنَّهُ لَمْ يَكُنْ نَبِيٌّ قَبْلِي إِلَّا قَدْ حَذَّرَ أُمَّتَهُ الدَّجَّالَ ، هُوَ أَعْوَرُ عَيْنِهِ الْيُسْرَى ، بِعَيْنِهِ الْيُمْنَى ظَفَرَةٌ غَلِيظَةٌ بَيْنَ عَيْنَيْهِ: كَافِرٌ. مَعَهُ وَادِيَانِ: أَحَدُهُمَا جُنَّةٌ ، وَالْآخَرُ نَارٌ ،‌‌ فَنَارُهُ جُنَّةٌ ، وَجَنَّتُهُ نَارٌ مَعَهُ مَلَكَانِ مِنَ الْمَلَائِكَةِ يُشْبِهَانِ نَبِيَّيْنِ مِنَ الْأَنْبِيَاءِ ، لَوْ شِئْتُ سَمَّيْتُهَا بِأَسْمَائِهَا وَأَسْمَاءِ آبَائِهِمَا ، أَحَدُهُمَا عَنْ يَمِينِهِ وَالْآخَرُ عَنْ شِمَالِهِ ، فَيَقُولُ الدَّجَّالُ لِلنَّاسِ: أَلَسْتُ رَبَّكُمْ؟ أَلَسْتُ أُحْيِي وَأُمِيتُ؟ فَيَقُولُ أَحَدُ الْمَلَكَيْنِ: كَذَبْتَ ، فَمَا سَمِعَهُ أَحَدٌ مِنَ النَّاسِ إِلَّا صَاحِبُهُ ، فَيَقُولُ لَهُ صَدَقْتَ ، فَيَسْمَعُهُ النَّاسُ فَيَظُنُّونَ إِنَّمَا صَدَّقَ الدَّجَّالَ ، فَذَلِكَ فِتْنَتُهُ ، ثُمَّ يَسِيرُ حَتَّى يَأْتِيَ الشَّامَ ، فَيُهْلِكُهُ اللَّهُ عِنْدَ عَقَبَةِ أَفِيقَ "
২৭ - আসেম ইবনে আলী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, হাশরাজ ইবনে নুবাতাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাঈদ ইবনে জুমহান আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুক্ত দাস সাফীনাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ প্রদান করলেন এবং বললেন: "সাবধান! নিশ্চয়ই আমার পূর্বে এমন কোনো নবী অতিবাহিত হননি যিনি তাঁর উম্মতকে দাজ্জাল সম্পর্কে সতর্ক করেননি। সে তার বাম চোখে কানা, তার ডান চোখে একটি পুরু মাংসপিণ্ড (বা পর্দা) রয়েছে এবং তার দুই চোখের মাঝখানে লেখা আছে: 'কাফির'। তার সাথে দুটি উপত্যকা থাকবে: একটি জান্নাত এবং অন্যটি জাহান্নাম।‌‌অতঃপর তার জাহান্নাম হবে জান্নাত এবং তার জান্নাত হবে জাহান্নাম। তার সাথে ফেরেশতাদের মধ্য থেকে দুইজন ফেরেশতা থাকবেন যারা নবীদের মধ্য থেকে দুইজন নবীর সদৃশ; আমি চাইলে তাঁদের নাম ও তাঁদের পিতৃপুরুষদের নাম বলতে পারতাম। তাঁদের একজন তার ডান দিকে এবং অন্যজন তার বাম দিকে থাকবেন। অতঃপর দাজ্জাল মানুষদের বলবে: 'আমি কি তোমাদের রব নই? আমি কি জীবিত করি না এবং মৃত্যু দান করি না?' তখন ফেরেশতাদ্বয়ের একজন বলবেন: 'তুমি মিথ্যা বলেছ', কিন্তু মানুষের মধ্যে তাঁর সাথী (অন্য ফেরেশতা) ব্যতীত আর কেউ তা শুনতে পাবে না। তখন তিনি (সাথী ফেরেশতা) তাঁকে বলবেন: 'আপনি সত্য বলেছেন'। তা মানুষেরা শুনতে পাবে এবং তারা ধারণা করবে যে তিনি (ফেরেশতা) দাজ্জালকেই সত্যবাদী বলছেন। আর এটাই হলো তার ফিতনা। এরপর সে চলতে থাকবে যতক্ষণ না সে শাম (সিরিয়া) দেশে পৌঁছাবে, অতঃপর আল্লাহ তাকে আফিকের গিরিপথে ধ্বংস করবেন।"
(খণ্ড: ১) আল-ফিতান লি-হাম্বল বিন ইসহাক (পৃষ্ঠা: ১২৬)
28 - حَدَّثَنَا سُرَيْجُ بْنُ النُّعْمَانِ، حَدَّثَنَا فُلَيْحُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ فُضَيْلٍ، عَنْ زِيَادِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: ذُكِرَ الدَّجَّالُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَخَطَبَ النَّاسَ ، وَذَكَرَ الدَّجَّالَ فَقَالَ: " أَيُّهَا النَّاسُ ، إِنَّهُ‌‌ لَمْ يَكُنْ نَبِيٌّ قَبْلِي إِلَّا حَذَّرَهُ أُمَّتَهُ ، وَسَأَصِفُهُ لَكُمْ بِمَا لَمْ يَصِفْهُ نَبِيٌّ قَبْلِي: إِنَّهُ أَعْوَرُ ، مَكْتُوبٌ بَيْنَ عَيْنَيْهِ كَافِرٌ ، يَقْرَؤُهُ كُلُّ مُؤْمِنٍ يَكْتُبُ أَوْ لَا يَكْتُبُ "
২৮ - সুরাইজ ইবনে নুমান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ফুলাইহ ইবনে সুলাইমান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, হারিস ইবনে ফুযাইল থেকে, তিনি যিয়াদ ইবনে সাদ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট দাজ্জালের আলোচনা করা হলো। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দাঁড়িয়ে লোকেদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন এবং দাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনা করে বললেন: “হে লোকসকল! নিশ্চয়ই আমার পূর্বে এমন কোনো নবী অতিবাহিত হননি যিনি তাঁর উম্মতকে এ বিষয়ে সতর্ক করেননি। আর আমি তোমাদের নিকট তার এমন একটি বর্ণনা দেব যা আমার পূর্ববর্তী কোনো নবী দেননি: সে একচোখা, আর তার মাঝখানে দুই চোখের ‘কাফির’ লেখা থাকবে, যা প্রত্যেক মুমিন পাঠ করতে পারবে—সে লিখতে জানুক বা না জানুক।”
(খণ্ড: ১) আল-ফিতান লি-হাম্বল বিন ইসহাক (পৃষ্ঠা: ১২৭)
29 - حَدَّثَنَا الْهَيْثَمُ بْنُ خَارِجَةَ أَبُو أَحْمَدَ الْمَرْوَزِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبِي عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ، يُحَدِّثُ عَنْ يَحْيَى بْنِ جَابِرٍ الطَّائِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّوَّاسِ بْنِ سَمْعَانَ الْكِلَابِيِّ، قَالَ:‌‌ ذَكَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الدَّجَّالَ ذَاتَ غَدَاةٍ ، فَخَفَّضَ فِيهِ وَرَفَّعَ ، حَتَّى ظَنَنَّاهُ فِي طَائِفَةِ النَّخْلِ ⦗ص: 128⦘ ثُمَّ انْصَرَفْنَا مِنْ عِنْدِ رَسُولِ اللَّهِ ، ثُمَّ رَجَعْنَا ، فَعَرَفَ ذَلِكَ فِينَا فَقَالَ: «مَا شَأْنُكُمْ؟» قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ ذَكَرْتَ الدَّجَّالَ ، فَخَفَّضْتَ فِيهِ وَرَفَّعْتَ ، حَتَّى ظَنَنَّاهُ فِي طَائِفَةِ النَّخْلِ. قَالَ: «غَيْرُ الدَّجَّالِ أَخْوَفُنِي عَلَيْكُمْ ، إِنْ يَخْرُجْ وَأَنَا فِيكُمْ فَأَنَا حَجِيجُهُ دُونَكُمْ ، وَإِنْ يَخْرُجْ وَلَسْتُ فِيكُمْ فَأَمْرُؤٌ حَجِيجُ نَفْسِهِ ، وَاللَّهُ خَلِيفَتِي عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ ، إِنَّهُ شَابٌّ قَطَطٌ ، عَيْنُهُ قَائِمَةٌ ، كَأَنْ يُشَبَّهُ بِعَبْدِ الْعُزَّى بْنِ قَطَنٍ فَمَنْ رَآهُ مِنْكُمْ فَلْيَقْرَأْ خَوَاتِمَ أَصْحَابِ الْكَهْفِ» ، ⦗ص: 129⦘ ثُمَّ قَالَ: «خَرَجَ خَلَّتَهَا بَيْنَ الشَّامِ وَالْعِرَاقِ ، فَعَاثَ يَمِينًا وَعَاثَ شِمَالًا ، يَا عِبَادَ اللَّهِ اثْبُتُوا» قَالَ أَبُو أَحْمَدَ الْهَيْثَمُ: وَقَالَ الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ: يَا عِبَادَ اللَّهِ الْبَثُوا. قَالَ: قُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا لُبْثُهُ فِي الْأَرْضِ؟ قَالَ: «أَرْبَعُونَ يَوْمًا ، فَيَوْمٌ كَسَنَةٍ ، وَيَوْمٌ كَشَهْرٍ ، وَيَوْمٌ كَجُمُعَةٍ ، وَسَائِرُ أَيَّامِهِ كَأَيَّامِكُمْ» . قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَرَأَيْتَ الْيَوْمَ الَّذِي كَالسَّنَةِ تَكْفِينَا فِيهِ صَلَاةُ يَوْمٍ؟ ⦗ص: 130⦘. قَالَ: «لَا ، وَلَكِنِ اقْدُرُوا لَهُ قَدْرَهُ» . قَالَ: قُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ فَمَا سُرْعَتُهُ فِي الْأَرْضِ؟ . قَالَ: " كَالْغَيْثِ ، اسْتَدْبَرَتْهُ الرِّيحُ ، فَيَأْتِي الْقَوْمَ فَيَدْعُوهُمْ فَيُكَذِّبُونَهُ ، وَيَرُدُّونَ عَلَيْهِ قَوْلَهُ ، فَيَنْصَرِفُ عَنْهُمْ وَتَتْبَعُهُ أَمْوَالُهُمْ ، فَيُصْبِحُوا مُمْلِحِينَ ، لَيْسَ بِأَيْدِيهِمْ شَيْءٌ ، ثُمَّ يَأْتِي الْقَوْمَ فَيَدْعُوهُمْ ، وَيَسْتَجِيبُونَ لَهُ ، وَيُصَدِّقُونَهُ ، فَيَأْمُرُ السَّمَاءَ أَنْ تُمْطِرَ فَتُمْطِرُ ، وَيَأْمُرُ الْأَرْضَ أَنْ تُنْبِتَ فَتُنْبِتُ ، حَتَّى تَرُوحَ عَلَيْهِمْ سَارِحَتُهُمْ مِنْ يَوْمِهِمْ ذَلِكَ أَطْوَلَهُ ذُرًا، وَأَمَدَّهُ خَوَاصِرَ ، ثُمَّ يَأْتِي الْخَرْبَةَ فَيَقُولُ لَهَا: أَخْرِجِي كُنُوزَكِ ، ثُمَّ يَنْصَرِفُ عَنْهَا فَتَتْبَعُهُ كُنُوزُهَا كَيَعَاسِيبِ النَّحْلِ ، ثُمَّ يَدْعُو رَجُلًا شَابًّا مُمْتَلِئًا ⦗ص: 131⦘ شَبَابًا ، ثُمَّ يَضْرِبُهُ بِالسَّيْفِ فَيَقْطَعُهُ جِزْلَتَيْنِ ، ثُمَّ يَدْعُوهُ فَيُقْبِلُ مُمْتَلِئًا ضَحِكًا ، فَبَيْنَمَا هُوَ كَذَلِكَ ، إِذْ هَبَطَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ شَرْقِيَّ دِمَشْقَ عِنْدَ الْمَنَارَةِ الْبَيْضَاءِ بَيْنَ مَهْرُودَتَيْنِ وَاضِعًا يَدَيْهِ عَلَى جَنَاحِ مَلَكٍ ، إِذَا طَأْطَأَ رَأْسَهُ قَطَرَ ، وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ تَحَدَّرَ مِنْهُ مِثْلُ اللُّؤْلُؤِ ، لَا يَحِلُّ لِكَافِرٍ يَجِدُ رِيحَ نَفْسِهِ إِلَّا مَاتَ ، وَرِيحُ نَفْسِهِ مُنْتَهَى طَرَفِهِ ⦗ص: 132⦘ قَالَ: فَيُوحِي اللَّهُ إِلَى عِيسَى عليه السلام: أَنْ حَرِّزْ عِبَادِي إِلَى الطُّورِ ، فَيَبْعَثُ اللَّهُ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ ، وَهُوَ كَمَا قَضَى: مِنْ كُلِّ حَدَبٍ يَنْسِلُونَ ، فَيَمُرُّ أَوَّلُهُمْ بِبُحَيْرَةِ طَبَرِيَّةَ ، فَيَشْرَبُونَ مَا فِيهَا ، ثُمَّ يَمُرُّ آخِرُهُمْ فَيَقُولُ: قَدْ كَانَ بِهَذِهِ مَرَّةً مَاءً ، ثُمَّ يَخْرُجُونَ حَتَّى يَنْتَهُوا إِلَى جَبَلِ ⦗ص: 133⦘ الْخَمَرِ ، وَهُوَ جَبَلُ بِبَيْتِ الْمَقْدِسِ ، فَيَقُولُونَ: قَدْ قَتَلْنَا مَنْ فِي الْأَرْضِ ، فَهَلُمُّوا نَقْتُلُ مَنْ فِي السَّمَاءِ ، فَيَرْمُونَ بِنُشَّابِهِمْ إِلَى السَّمَاءِ فَيَرُدُّهَا اللَّهُ عَلَيْهِمْ مَخْضُوبَةً دَمًا ، فَيُحَاصَرُ عِيسَى عليه السلام وَأَصْحَابُهُ ، حَتَّى يَكُونَ رَأْسُ الثَّوْرِ خَيْرًا يَوْمَئِذٍ مِنْ مِائَةِ دِينَارٍ لِأَحَدِكُمْ ، فَيَرْغَبُ عِيسَى وَأَصْحَابُهُ إِلَى اللَّهِ ، فَيُرْسِلُ عَلَيْهِمُ النَّغَفَ فِي رِقَابِهِمْ ، فَيُصْبِحُونَ فَرَسَى مَوْتَ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ فَيَهْبِطُ عِيسَى وَأَصْحَابُهُ ، فَلَا يَجِدُونَ مَوْضِعَ شِبْرٍ مِنَ الْأَرْضِ إِلَّا قَدْ مَلَأَهُ زَهَمُهُمْ وَنَتْنُهُمْ وَدِمَائُهُمْ ، فَيَرْغَبُ عِيسَى إِلَى ⦗ص: 134⦘ اللَّهِ تَعَالَى وَأَصْحَابُهُ ، فَيُرْسِلُ اللَّهُ عَلَيْهِمْ طَيْرًا كَأَعْنَاقِ الْبُخْتِ ، فَتَحْمِلُهُمْ فَتَطْرَحُهُمْ بِالْمَهْبِلِ وَيَسْتَوْقِدُ الْمُسْلِمُونَ مِنْ جِعَابِهِمْ وَنُشَّابِهِمْ وَقِسِيِّهِمْ وَأَتْرِسَتِهِمْ سَبْعَ سِنِينَ ، فَيُرْسِلُ اللَّهُ مَطَرًا لَا يُكَنُّ مِنْهُ بَيْتُ مَدَرٍ وَلَا وَبَرٍّ فَيَغْسِلَهَا حَتَّى يَتْرُكَهَا كَالزَّلَفَةِ ، ثُمَّ يُقَالُ لِلْأَرْضِ: أَخْرِجِي بَرَكَتَكَ وَرُدِّي ثَمَرَتَكِ ، فَيَوْمَئِذٍ تَخْضَارُّ فَلَا تَيْبَسُ ، وَتَيْنَعُ فَلَا تَذْهَبُ ثَمَرَتُهَا حَتَّى إِنَّ الْعِصَابَةَ لَتُشْبِعُهُمُ الرُّمَّانَةُ ، وَيَسْتَظِلُّونَ فِي ⦗ص: 135⦘ قِحْفِهَا ، وَيُبَارَكُ فِي الرِّسْلِ ، حَتَّى إِنَّ اللِّقْحَةَ مِنَ الْبَقَرِ لَتَكْفِي الْقَبِيلَةَ ، وَحَتَّى إِنَّ اللِّقْحَةَ مِنَ الْغَنَمِ لَتَكْفِي الْفَخِذَ ، فَبَيْنَمَا هُمْ كَذَلِكَ إِذْ أَرْسَلَ اللَّهُ رِيحًا طَيِّبَةً فَقَبَضَتْ نَفْسَ كُلِّ مُؤْمِنٍ ، أَوْ رَوْحَ كُلِّ مُؤْمِنٍ ، وَيَبْقَى سَائِرُ النَّاسِ يَتَهَارَجُونَ كَمَا تَتَهَارَجُ الْحُمُرُ ، فَعَلَيْهِمْ تَقُومُ السَّاعَةُ "
২৯ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হায়সাম ইবন খারিজাহ আবু আহমাদ আল-মারওয়াযী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান ইবন ইয়াযীদ ইবন জাবির, তিনি বলেন: আমি আমার পিতা আবদুর রহমান ইবন ইয়াযীদ ইবন জাবিরকে বলতে শুনেছি, তিনি ইয়াহইয়া ইবন জাবির আত-তাঈ থেকে বর্ণনা করছিলেন, তিনি আবদুর রহমান ইবন জুবায়র ইবন নুফায়র থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি নাওয়াস ইবন সামআন আল-কিলাবি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:‌ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সকালে দাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনা করলেন। তিনি তার কথা বলতে গিয়ে কখনো কণ্ঠস্বর নিচু করলেন আবার কখনো উঁচু করলেন, এমনকি আমরা মনে করলাম সে হয়তো খেজুর বাগানের কোনো এক পাশে রয়েছে। ⦗পৃষ্ঠা: ১২৮⦘ অতঃপর আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে চলে গেলাম। পরে যখন আমরা পুনরায় তাঁর কাছে ফিরে এলাম, তখন তিনি আমাদের চেহারায় সেই প্রভাব লক্ষ্য করলেন এবং বললেন: «তোমাদের কী হয়েছে?» তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি দাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং কণ্ঠস্বর নিচু ও উঁচু করেছেন, এমনকি আমরা মনে করেছি সে হয়তো খেজুর বাগানের কোনো এক পাশে রয়েছে। তিনি বললেন: «দাজ্জাল ছাড়া অন্য কিছুতেই আমি তোমাদের ব্যাপারে অধিক আশঙ্কাবোধ করছি। সে যদি বের হয় আর আমি তোমাদের মাঝে থাকি, তবে তোমাদের পরিবর্তে আমিই তার মোকাবিলা করব। আর যদি সে বের হয় অথচ আমি তোমাদের মাঝে না থাকি, তবে প্রত্যেক ব্যক্তি নিজেই নিজের পক্ষ থেকে মোকাবিলা করবে; আর আল্লাহ প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আমার পক্ষ থেকে প্রতিনিধি। সে অত্যন্ত কোঁকড়ানো চুলবিশিষ্ট এক যুবক, তার চোখটি ফুটে ওঠা আঙ্গুরের মতো। তাকে দেখতে অনেকটা আবদুল উযযা ইবন ক্বাতানের মতো মনে হয়। তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তাকে পাবে, সে যেন সূরা কাহাফের শেষ আয়াতগুলো পাঠ করে।» ⦗পৃষ্ঠা: ১২৯⦘ অতঃপর তিনি বললেন: «সে সিরিয়া ও ইরাকের মধ্যবর্তী একটি পথ দিয়ে বের হবে এবং ডানে-বামে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে। হে আল্লাহর বান্দারা! তোমরা অটল থেকো।» আবু আহমাদ আল-হায়সাম বলেন: ওয়ালীদ ইবন মুসলিম বলেছেন: (হে আল্লাহর বান্দারা! তোমরা সেখানে অবস্থান করো/অটল থেকো)। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! পৃথিবীতে তার অবস্থান কতদিন হবে? তিনি বললেন: «চল্লিশ দিন; যার একদিন হবে এক বছরের মতো, একদিন এক মাসের মতো, একদিন এক সপ্তাহের মতো এবং তার অবশিষ্ট দিনগুলো হবে তোমাদের সাধারণ দিনগুলোর মতো।» তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি মনে করেন যে দিনটি এক বছরের মতো হবে, তাতে কি আমাদের জন্য একদিনের নামাযই যথেষ্ট হবে? ⦗পৃষ্ঠা: ১৩০⦘। তিনি বললেন: «না, বরং তোমরা সেই দিনের সময়ের পরিমাণ অনুযায়ী আন্দাজ করে নামায পড়ে নিবে।» তিনি বলেন: আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! পৃথিবীতে তার গতির তীব্রতা কেমন হবে? তিনি বললেন: «সেই বৃষ্টির মতো যার পেছনে বাতাস চালিত হয়। সে একটি জাতির নিকট আসবে এবং তাদের আহ্বান করবে, কিন্তু তারা তাকে অস্বীকার করবে এবং তার কথা প্রত্যাখ্যান করবে। সে তাদের নিকট থেকে চলে যাবে এবং তাদের ধন-সম্পদ তার পিছু নেবে। ফলে তারা রিক্তহস্ত হয়ে পড়বে, তাদের হাতে কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। অতঃপর সে অন্য একটি জাতির নিকট আসবে এবং তাদের আহ্বান করবে; তারা তার ডাকে সাড়া দেবে এবং তাকে বিশ্বাস করবে। তখন সে আকাশকে নির্দেশ দিবে বৃষ্টি বর্ষণ করতে, ফলে আকাশ বৃষ্টি বর্ষণ করবে। সে জমিনকে নির্দেশ দিবে ফসল উৎপাদন করতে, ফলে জমিন ফসল উৎপাদন করবে। এমনকি তাদের চতুষ্পদ জন্তুগুলো তাদের নিকট ফিরে আসবে অত্যন্ত উঁচু কুঁজবিশিষ্ট, দুধে পূর্ণ প্রশস্ত স্তন এবং লম্বা পার্শ্ববিশিষ্ট হয়ে। অতঃপর সে একটি ধ্বংসস্তূপের নিকট আসবে এবং তাকে বলবে: তোমার ভূগর্ভস্থ সম্পদ বের করে দাও। অতঃপর সে সেখান থেকে ফিরে যাবে এবং সেই ধ্বংসস্তূপের সম্পদগুলো মৌমাছির দলের মতো তার পিছু পিছু যাবে। অতঃপর সে একজন পূর্ণ যৌবনপ্রাপ্ত শক্তিশালী যুবককে ডাকবে ⦗পৃষ্ঠা: ১৩১⦘ এবং তাকে তরবারি দিয়ে আঘাত করে দুই খণ্ডে বিভক্ত করে ফেলবে। অতঃপর তাকে পুনরায় ডাকবে, তখন সে হাসতে হাসতে উজ্জ্বল চেহারায় এগিয়ে আসবে। এমতাবস্থায় ঈসা ইবন মারইয়াম দামেস্কের পূর্ব প্রান্তে সাদা মিনারের নিকট দুজন ফেরেশতার ডানার ওপর হাত রেখে জাফরান রাঙানো দুটি চাদর পরিহিত অবস্থায় অবতরণ করবেন। তিনি যখন তাঁর মাথা নিচু করবেন তখন ঘাম ঝরবে, আর যখন মাথা উঁচু করবেন তখন তাঁর মাথা থেকে মুক্তার দানার মতো স্বচ্ছ পানির বিন্দু ঝরবে। তাঁর নিঃশ্বাসের সুগন্ধি যে কাফিরের নাকে পৌঁছাবে সে মারা যাবে, আর তাঁর নিঃশ্বাসের সুগন্ধি তাঁর দৃষ্টির শেষ সীমা পর্যন্ত পৌঁছাবে।» ⦗পৃষ্ঠা: ১৩২⦘ তিনি বলেন: «অতঃপর আল্লাহ ঈসা আলাইহিস সালামের প্রতি ওহী পাঠাবেন: আমার বান্দাদের তূর পাহাড়ে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাও। এরপর আল্লাহ ইয়াজুজ ও মাজুজকে প্রেরণ করবেন। তারা আল্লাহর ফয়সালা অনুযায়ী প্রত্যেক উচ্চভূমি থেকে দ্রুতবেগে ছুটে আসবে। তাদের প্রথম দলটি তাবারিয়াহ হ্রদ অতিক্রম করার সময় তার সমস্ত পানি পান করে ফেলবে। অতঃপর তাদের শেষ দলটি যখন সেখান দিয়ে যাবে তখন তারা বলবে: একসময় এখানে পানি ছিল। অতঃপর তারা চলতে চলতে ⦗পৃষ্ঠা: ১৩৩⦘ জাবালুল খামার পর্যন্ত পৌঁছাবে, যা বাইতুল মাকদিসের একটি পাহাড়। তারা বলবে: আমরা জমিনে যারা ছিল তাদের হত্যা করেছি, এসো এখন আকাশে যারা আছে তাদের হত্যা করি। অতঃপর তারা আকাশের দিকে তাদের তীর নিক্ষেপ করবে এবং আল্লাহ তাদের তীরগুলোকে রক্তমাখা অবস্থায় তাদের কাছে ফেরত পাঠাবেন। ঈসা আলাইহিস সালাম ও তাঁর সাথীরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়বেন, এমনকি তখন একটি ষাঁড়ের মাথা তোমাদের কারও নিকট একশ দীনারের চেয়েও বেশি মূল্যবান হবে। অতঃপর ঈসা আলাইহিস সালাম ও তাঁর সাথীরা আল্লাহর নিকট ব্যাকুল হয়ে প্রার্থনা করবেন। তখন আল্লাহ তাদের (ইয়াজুজ-মাজুজের) ঘাড়ের ওপর 'নাগাফ' নামক এক প্রকার পোকা পাঠাবেন, যার ফলে তারা সবাই একসাথে একটি প্রাণের মৃত্যুর মতো মারা যাবে। অতঃপর ঈসা আলাইহিস সালাম ও তাঁর সাথীরা সমতলে নেমে আসবেন, কিন্তু তাঁরা জমিনে এক বিঘত জায়গাও পাবেন না যা তাদের লাশের চর্বি, দুর্গন্ধ ও রক্তে পরিপূর্ণ নয়। অতঃপর ঈসা আলাইহিস সালাম ও তাঁর সাথীরা ⦗পৃষ্ঠা: ১৩৪⦘ মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করবেন। তখন আল্লাহ তাদের ওপর উটের গলার মতো বড় বড় পাখি পাঠাবেন। পাখিগুলো তাদেরকে বহন করে 'মাহবিল' নামক স্থানে ফেলে দিয়ে আসবে। আর মুসলিমরা তাদের (ইয়াজুজ-মাজুজের) তূণীর, তীর, ধনুক ও ঢাল সাত বছর পর্যন্ত জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করবে। এরপর আল্লাহ এমন বৃষ্টি বর্ষণ করবেন যা মাটির তৈরি ঘর বা পশমের তাঁবু কোনো কিছুকেই বাদ দেবে না এবং তা জমিনকে ধুয়ে আয়নার মতো পরিষ্কার করে দেবে। এরপর জমিনকে বলা হবে: তোমার বরকত বের করো এবং তোমার ফল ফিরিয়ে দাও। সেদিন গাছপালা এমন সবুজ হবে যে কখনো শুকাবে না এবং ফল এমন পরিপক্ব হবে যে কখনো শেষ হবে না। এমনকি এক দল মানুষ একটি ডালিম খেয়েই তৃপ্ত হবে এবং তারা ⦗পৃষ্ঠা: ১৩৫⦘ তার খোসার নিচে ছায়া গ্রহণ করতে পারবে। দুধে বরকত দেওয়া হবে, এমনকি একটি দুগ্ধবতী উট এক বিশাল গোত্রের জন্য যথেষ্ট হবে এবং একটি দুগ্ধবতী গাভী এক বংশের জন্য যথেষ্ট হবে এবং একটি দুগ্ধবতী ছাগল এক পরিবারের জন্য যথেষ্ট হবে। এমতাবস্থায় আল্লাহ এক পবিত্র বায়ু প্রবাহিত করবেন যা প্রত্যেক মুমিনের রূহ কবজ করে নেবে। এরপর কেবল নিকৃষ্ট মানুষরাই অবশিষ্ট থাকবে, যারা গাধাদের মতো প্রকাশ্যে কামাচারে লিপ্ত হবে। আর তাদের ওপরই কিয়ামত সংঘটিত হবে।»