(খণ্ড: ১)
আল-আজমাহ লি-আবীয়িশ শাইখ আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: -)
العظمة لأبي الشيخ الأصبهاني (أبو الشيخ الأصبهاني)
القسم: كتب السنة
الكتاب: العظمة
المؤلف: أبو محمد عبد الله بن محمد بن جعفر بن حيان الأنصاري المعروف بأبِي الشيخ الأصبهاني (ت 369هـ)
المحقق: رضاء الله بن محمد إدريس المباركفوري
الناشر: دار العاصمة - الرياض
الطبعة: الأولى، 1408
عدد الأجزاء: 5
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আবুশ শাইখ আল-আসবাহানী রচিত আল-আজামাহ (আবুশ শাইখ আল-আসবাহানী)
বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
গ্রন্থ: আল-আজামাহ
লেখক: আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন জাফর বিন হাইয়ান আল-আনসারী, যিনি আবুশ শাইখ আল-আসবাহানী নামে প্রসিদ্ধ (মৃত্যু ৩৬৯ হিজরি)
গবেষণা ও সম্পাদনা: রিদাউল্লাহ বিন মুহাম্মদ ইদ্রিস আল-মুবারকপুরী
প্রকাশক: দারুল আসিমাহ - রিয়াদ
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৮ হিজরি
খণ্ড সংখ্যা: ৫
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরি
(খণ্ড: ١)
আল-আজমাহ লি-আবীয়িশ শাইখ আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢٠٩)
بَابُ الْأَمْرِ بِالتَّفَكُّرِ فِي آيَاتِ اللَّهِ عز وجل وَقُدْرَتِهِ وَمُلْكِهِ وَسُلْطَانِهِ وَعَظَمَتِهِ وَوَحْدَانِيَّتِهِ
মহান আল্লাহর নিদর্শনাদি এবং তাঁর ক্ষমতা, রাজত্ব, আধিপত্য, মাহাত্ম্য ও একত্ববাদের ওপর চিন্তা-গবেষণা করার নির্দেশ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ١)
আল-আজমাহ লি-আবীয়িশ শাইখ আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢١٠)
1 - قُلْت رَضِيَ اللَّهُ عَنْكَ: أَخْبَرَكَ الشَّيْخُ الزَّكِيُّ أَبُو الرَّجَاءِ إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدٍ الْحَدَّادُ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ فَاذَوَيْهِ الْأَصْبَهَانِيُّ ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرِ بْنِ حَيَّانَ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى الْمَرْوَزِيُّ، أَنَا بِشْرُ بْنُ الْوَلِيدِ الْكِنْدِيُّ، أَنَا عَلِيُّ بْنُ ثَابِتٍ الْجَزَرِيُّ، عَنِ الْوَازِعِ بْنِ نَافِعٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «تَفَكَّرُوا فِي آلَاءِ اللَّهِ، وَلَا تَفَكَّرُوا فِي اللَّهِ»
1 - আমি বললাম, আল্লাহ আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হোন: পবিত্র শায়খ আবু আল-রাজা ইসমাইল বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-হাদ্দাদ আপনাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল কাসিম আবদুল আজিজ বিন আহমদ বিন আবদুল্লাহ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ফাযওয়াইহ আল-আসবাহানী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন জাফর বিন হাইয়্যান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আল-মারওয়াযী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, বিশর বিন আল-ওয়ালিদ আল-কিন্দি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আলী বিন সাবিত আল-জাযারী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি ওয়াযি বিন নাফি হতে, তিনি সালেম বিন আবদুল্লাহ বিন উমর হতে এবং তিনি তাঁর পিতা (আবদুল্লাহ বিন উমর) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: «তোমরা আল্লাহর নিআমতসমূহ নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করো, আর আল্লাহর সত্তা নিয়ে চিন্তা করো না»
(খণ্ড: ١)
আল-আজমাহ লি-আবীয়িশ শাইখ আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢١٢)
2 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى الْمَرْوَزِيُّ، أَنَا عَاصِمُ بْنُ عَلِيٍّ، أَنَا أَبِي، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما، قَالَ: «تَفَكَّرُوا فِي كُلِّ شَيْءٍ، وَلَا تَفَكَّرُوا فِي اللَّهِ، فَإِنَّ بَيْنَ السَّمَاءِ السَّابِعَةِ إِلَى كُرْسِيِّهِ سَبْعَةَ آلَافِ سَنَةٍ نُورٌ، وَهُوَ فَوْقَ ذَلِكَ تبارك وتعالى»⦗ص: 213⦘ 3 - حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ أَبَانَ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ ⦗ص: 214⦘ مَهْدِيٍّ، أَنَا عَاصِمُ بْنُ عَلِيٍّ، أَنَا أَبِي، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ
২ - মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আল-মারওয়াযি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আসিম বিন আলী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন যে আমার পিতা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আতা বিন আস-সাইব থেকে, তিনি সাঈদ বিন জুবাইর থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «তোমরা প্রতিটি বস্তু সম্পর্কে চিন্তা-গবেষণা করো, কিন্তু আল্লাহ সম্পর্কে চিন্তা করো না; কারণ সপ্তম আসমান থেকে তাঁর কুরসি পর্যন্ত সাত হাজার বছরের নূরের পথ রয়েছে, আর তিনি তারও ঊর্ধ্বে, তিনি বরকতময় ও সুউচ্চ»⦗পৃষ্ঠা: ২১৩⦘ ৩ - আল-ওয়ালিদ বিন আবান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ বিন ⦗পৃষ্ঠা: ২১৪⦘ মাহদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আসিম বিন আলী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন যে আমার পিতা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আতা বিন আস-সাইব থেকে, তিনি সাঈদ বিন জুবাইর থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে, নবী (আল্লাহর রহমত ও শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ١)
আল-আজমাহ লি-আবীয়িশ শাইখ আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢١٤)
4 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدٍ الْعَسَّالُ، حَدَّثَنَا أَبُو سُلَيْمَانَ السُّغْدِيُّ ⦗ص: 215⦘، بِعُجْمَةِ غَيْنٍ، أَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُوسَى أَبُو رَوْحٍ، أَنَا سَيْفُ ابْنُ أُخْتِ سُفْيَانَ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «تَفَكَّرُوا فِي خَلْقِ اللَّهِ، وَلَا تَفَكَّرُوا فِي اللَّهِ فَتَهْلِكُوا»
৪ - মুহাম্মাদ বিন সাঈদ আল-আসসাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু সুলাইমান আস-সুগদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ২১৫⦘, (সুগদি শব্দটি) ‘গাইন’ বর্ণের নুকতাযুক্ত উচ্চারণে; আবদুল আজিজ বিন মুসা আবু রাওহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, সুফিয়ানের ভাগ্নে সাইফ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-আমাশ থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি আবু যার (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: «তোমরা আল্লাহর সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা-গবেষণা করো, কিন্তু আল্লাহর সত্তা সম্পর্কে চিন্তা করো না, নতুবা তোমরা ধ্বংস হয়ে যাবে»
(খণ্ড: ١)
আল-আজমাহ লি-আবীয়িশ শাইখ আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢١٦)
5 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي يَعْلَى، أَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَنَا سَعْدُ بْنُ الصَّلْتِ، أَنَا الْأَعْمَشُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ رَجُلٍ، حَدَّثَهُ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما، قَالَ: مَرَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَى قَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ فِي اللَّهِ، فَقَالَ: «تَفَكَّرُوا فِي الْخَلْقِ، وَلَا تَفَكَّرُوا فِي الْخَالِقِ، فَإِنَّكُمْ لَا تَقْدُرُونَ قَدْرَهَ»
৫ - মুহাম্মদ বিন আবি ইয়ালা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইসহাক বিন ইব্রাহিম আমাদের জানিয়েছেন, সাদ বিন সালত আমাদের জানিয়েছেন, আল-আমাশ আমাদের জানিয়েছেন, আমর বিন মুররাহ থেকে জনৈক ব্যক্তি সূত্রে বর্ণিত, যিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমন এক সম্প্রদায়ের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যারা আল্লাহ সম্পর্কে চিন্তা-গবেষণা করছিল, তখন তিনি বললেন: «তোমরা সৃষ্টিজগত সম্পর্কে চিন্তা করো, কিন্তু স্রষ্টা সম্পর্কে চিন্তা করো না; কেননা তোমরা তাঁর যথাযথ মর্যাদা উপলব্ধি করতে পারবে না»
(খণ্ড: ١)
আল-আজমাহ লি-আবীয়িশ শাইখ আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢١٧)
6 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ الْأَشْعَثِ، أَنَا مُوسَى بْنُ حِزَامٍ ⦗ص: 218⦘، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ خَالِدٍ، عَنْ سُفْيَانَ، فِي قَوْلِهِ عز وجل {وَأَنَّ إِلَى رَبِّكَ الْمُنْتَهَى} [النجم: 42] ، قَالَ: «لَا فِكْرَةَ فِي الرَّبِّ عز وجل»
৬ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে সুলায়মান ইবনুল আশআস, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুসা ইবনে হিযাম ⦗পৃষ্ঠা: ২১৮⦘, আবদুল আজিজ ইবনে খালিদ হতে বর্ণিত, তিনি সুফিয়ান থেকে বর্ণনা করেন, মহাপরাক্রমশালী ও মহান আল্লাহর বাণী: {আর নিশ্চয় আপনার রবের কাছেই সবকিছুর সমাপ্তি} [আন-নাজম: ৪২] প্রসঙ্গে তিনি বলেন: "মহাপরাক্রমশালী ও মহান প্রতিপালকের (সত্তা) বিষয়ে কোনো চিন্তা-গবেষণা চলে না।"
(খণ্ড: ١)
আল-আজমাহ লি-আবীয়িশ শাইখ আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢١٩)
7 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْأَنْمَاطِيُّ، نَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي الْحَوَارِيِّ، أَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَطَّافِ بْنِ خَالِدٍ الْمَخْزُومِيِّ، عَنْ صَالِحِ بْنِ مُحَمَّدٍ اللَّيْثِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ رضي الله عنه ⦗ص: 220⦘ قَالَ: «عِبَادَةُ اللَّهِ عز وجل لَيْسَ بِالصَّوْمِ، وَالصَّلَاةِ، وَلَكِنْ بِالتَّفَقُّهِ فِي دِينِهِ، وَالتَّفَكُّرِ فِي أَمْرِهِ»
৭ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আল-আনমাতি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে আবিল হাওয়ারি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মারওয়ান ইবনে মুহাম্মদ, তিনি বর্ণনা করেছেন আত্তাফ ইবনে খালিদ আল-মাখজুমি থেকে, তিনি সালিহ ইবনে মুহাম্মদ আল-লাইসি থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন ⦗পৃষ্ঠা: ২২০⦘ তিনি বলেন: «মহাপরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহর ইবাদত কেবল রোজা ও নামাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং প্রকৃত ইবাদত হলো তাঁর দ্বীন সম্পর্কে গভীর প্রজ্ঞা ও জ্ঞান অর্জন এবং তাঁর নির্দেশাবলি নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করা»
(খণ্ড: ١)
আল-আজমাহ লি-আবীয়িশ শাইখ আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢٢٠)
8 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، أَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي الْحَوَارِيِّ، أَنَا يُونُسُ الْحَذَّاءُ، عَنْ ⦗ص: 221⦘ حَمْزَةَ النَّيْسَابُورِيِّ، قَالَ: «إِنَّ صَاحِبَ الدِّينِ تَفَكَّرَ فَعَلَتْهُ السَّكِينَةُ، وَسَكَنَ فَتَوَاضَعَ وَرَضِيَ، فَلَمْ يَهْتَمَّ، وَخَلَّى الدُّنْيَا، فَنَجَا مِنَ الشَّرِّ، وَتَفَرَّدَ فَكُفِيَ الْأَحْزَانَ، وَتَرَكَ الشَّهَوَاتِ فَصَارَ حُرًّا، وَتَرَكَ الْحَسَدَ فَظَهَرَتْ لَهُ الْمَحَبَّةُ، وَسَخَتْ نَفْسُهُ عَنْ كُلِّ فَانٍ، فَاسْتَكْمَلَ الْعَقْلَ»
৮ - ইসহাক আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আহমদ বিন আবিল হাওয়ারী আমাদের অবহিত করেছেন, ইউনুস আল-হাদ্দাহ আমাদের অবহিত করেছেন, ⦗পৃষ্ঠা: ২২১⦘ হামজা আন-নায়সাবুরী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «নিশ্চয়ই দ্বীনদার ব্যক্তি চিন্তা-গবেষণা করে, ফলে তার ওপর প্রশান্তি ছেয়ে যায়; সে স্থির হয়, ফলে সে বিনয়ী হয় ও সন্তুষ্ট থাকে; ফলে সে উদ্বিগ্ন হয় না। সে দুনিয়া বিসর্জন দেয়, ফলে অনিষ্ট থেকে মুক্তি পায়। সে নির্জনতা অবলম্বন করে, ফলে তার দুঃখ-কষ্ট লাঘব হয়। সে কুপ্রবৃত্তি বর্জন করে, ফলে সে স্বাধীন হয়ে যায়। সে হিংসা পরিহার করে, ফলে তার নিকট ভালোবাসা প্রকাশ পায়। আর নশ্বর সকল বস্তু থেকে তার আত্মা বিমুখ হয়, ফলে তার বিবেক পূর্ণতা লাভ করে।»
(খণ্ড: ١)
আল-আজমাহ লি-আবীয়িশ শাইখ আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢٢١)
9 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ هَارُونَ الْبَرْذَعِيُّ، أَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ ⦗ص: 222⦘ هُذَيْلٍ، أَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ بَهْرَامَ، أَنَا الْأَشْجَعِيُّ وَهُوَ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، فِي قَوْلِهِ عز وجل {، وَأَنَّ إِلَى رَبِّكَ الْمُنْتَهَى} [النجم: 42] ، قَالَ: «الْفِكْرَةُ فِي اللَّهِ عز وجل»
৯ - আহমদ ইবনে হারুন আল-বারযাঈ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জাফর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ⦗পৃষ্ঠা: ২২২⦘ হুযায়ল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইসমাঈল ইবনে বাহরাম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-আশজাঈ—যিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান—আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, সুফিয়ান সাওরী থেকে বর্ণিত, মহান আল্লাহর বাণী {আর নিশ্চয় আপনার রবের নিকটই সবকিছুর সমাপ্তি} [আন-নাজম: ৪২] প্রসঙ্গে তিনি বলেন: «মহান আল্লাহ সম্পর্কে চিন্তা-গবেষণা (র পরিসমাপ্তি এখানেই)»
(খণ্ড: ١)
আল-আজমাহ লি-আবীয়িশ শাইখ আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢٢٢)
10 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْحَسَنِ، أَنَا رَجَاءُ بْنُ الْجَارُودِ ⦗ص: 223⦘ الْبَغْدَادِيُّ، عَنْ زَكَرِيَّا بْنِ عَدِيٍّ، عَنْ عَمْرٍو الْعَنْقَزِيِّ، عَنْ أَسْبَاطِ بْنِ نَصْرٍ، عَنِ السُّدِّيِّ، {سَأَصْرِفُ عَنْ آيَاتِي الَّذِينَ، يَتَكَبَّرُونَ فِي الْأَرْضِ بِغَيْرِ الْحَقِّ} [الأعراف: 146] ⦗ص: 224⦘ عَنْ أَنْ يَتَفَكَّرُوا فِيهَا "
১০ - আমাদের নিকট আব্দুর রহমান ইবনুল হাসান বর্ণনা করেছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন রাজা ইবনুল জারুদ ⦗পৃষ্ঠা: ২২৩⦘ আল-বাগদাদী, তিনি জাকারিয়া ইবনে আদি থেকে, তিনি আমর আল-আনকাজি থেকে, তিনি আসবাত ইবনে নাসর থেকে, তিনি আস-সুদ্দী থেকে (আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে) বর্ণনা করেন: {আমি আমার নিদর্শনসমূহ থেকে ওই ব্যক্তিদের বিমুখ রাখব, যারা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে অহংকার করে} [আল-আ’রাফ: ১৪৬] ⦗পৃষ্ঠা: ২২৪⦘ (অর্থাৎ) সেগুলোতে চিন্তা-গবেষণা করা থেকে। "
(খণ্ড: ١)
আল-আজমাহ লি-আবীয়িশ শাইখ আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢٢٤)
11 - حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ أَبَانَ، أَبنَا أَبُو حَاتِمٍ، أَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي الْحَوَارِيِّ، أَنَا الْوَلِيدُ بْنُ عُتْبَةَ، قَالَ سَمِعْتُ ⦗ص: 225⦘ الْفِرْيَابِيَّ فِي قَوْلِهِ عز وجل {سَأَصْرِفُ عَنْ آيَاتِيَ الَّذِينَ يَتَكَبَّرُونَ فِي الْأَرْضِ بِغَيْرِ الْحَقِّ} [الأعراف: 146] قَالَ «أَمْنَعُ قُلُوبَهُمْ عَنِ التَّفَكُّرِ فِي أَمْرِي»
১১ - ওয়ালিদ বিন আবান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু হাতিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমাদ বিন আবিল হাওয়ারি আমাদের জানিয়েছেন, ওয়ালিদ বিন উতবা আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন, আমি ⦗পৃষ্ঠা: ২২৫⦘ আল-ফিরইয়াবিকে মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর বাণী— {আমি আমার নিদর্শনসমূহ থেকে তাদের বিমুখ করে দেব, যারা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে অহংকার করে} [সূরা আল-আরাফ: ১৪৬] —প্রসঙ্গে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: “আমি তাদের অন্তরসমূহকে আমার কুদরত ও নিদর্শনাবলি নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করা থেকে বিরত রাখি।”
(খণ্ড: ١)
আল-আজমাহ লি-আবীয়িশ শাইখ আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢٢٥)
12 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عُمَرَ، قَالَ: أَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدٍ ⦗ص: 226⦘، قَالَ: أَنَا عَبْدُ الْأَعْلَى بْنُ وَاصِلٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ عَاصِمٍ الْعَبَّادَانِيُّ، أَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ بْنِ مَيْمُونٍ، عَنْ عَنْبَسَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْكُوفِيِّ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَعْطُوا أَعْيُنَكُمْ حَظَّهَا مِنَ الْعِبَادَةِ» ، قِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا حَظُّهَا مِنَ الْعِبَادَةِ؟، قَالَ: «النَّظَرُ فِي الْمُصْحَفِ، وَالتَّفَكُّرُ فِيهِ، والِاعْتِبَارُ عِنْدَ عَجَائِبِهِ»
১২ - আমাদের নিকট আহমাদ ইবনে উমর হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ সংবাদ দিয়েছেন ⦗পৃষ্ঠা: ২২৬⦘, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবদুল আ'লা ইবনে ওয়াসিল সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট আহমাদ ইবনে আসিম আল-আব্বাদানি হাদীস বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হাফস ইবনে উমর ইবনে মাইমুন সংবাদ দিয়েছেন, আনবাসাহ ইবনে আবদুর রহমান আল-কুফি থেকে, তিনি যায়েদ ইবনে আসলাম থেকে, তিনি আতা ইবনে ইয়াসার থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: «তোমরা তোমাদের চক্ষুকে ইবাদতের অংশ প্রদান করো», জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল, ইবাদতে তাদের অংশ কী?, তিনি বললেন: «মুসহাফের (কুরআনের পাণ্ডুলিপি) দিকে তাকানো, তা নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করা এবং এর বিস্ময়কর বিষয়াবলি থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা»
(খণ্ড: ١)
আল-আজমাহ লি-আবীয়িশ শাইখ আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢٢٧)
13 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى الْمَوْصِلِيُّ، أَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ، قَالَ: سَمِعْتُ الْفُضَيْلَ، يَقُولُ ⦗ص: 228⦘: قَالَ الْحَسَنُ: «التَّفَكُّرُ مِرْآةٌ تُرِيكَ حَسَنَاتِكَ وَسَيِّئَاتِكَ»
১৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইয়ালা আল-মাওসিলি, (তিনি বলেন) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুস সামাদ, তিনি বলেন: আমি আল-ফুদাইলকে বলতে শুনেছি ⦗পৃষ্ঠা: ২২৮⦘: হাসান বলেছেন: “চিন্তা-গবেষণা হলো এমন এক দর্পণ, যা তোমাকে তোমার পুণ্য ও পাপাচারগুলো প্রদর্শন করে।”
(খণ্ড: ١)
আল-আজমাহ লি-আবীয়িশ শাইখ আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢٢٨)
14 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْجَرَوِيُّ، حَدَّثَنَا الْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ ⦗ص: 229⦘، قَالَ: سَمِعْتُهُ يَعْنِي عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، يَقُولُ: " مَا رَأْسُ هَذَا الدِّينِ وَصَلَاحُهُ إِلَّا التَّفَكُّرُ، تَتَفَكَّرُ فَتَنْظُرُ أَنَّهُ أَخَذَ مِنْكَ قَلِيلًا مِنَ الْعَمَلِ، وَرَضِيَ بِهِ لِنَفْسِهِ، وَهُوَ الرَّبُّ تبارك وتعالى، فَأَنْتَ الْعَبْدُ مَا كَلَّفَكَ وَاحِدَةً مِنْ ثِنْتَيْنِ، مَا كَلَّفَكَ قَدْرَ حَقِّهِ فَلَا تُطِيقُهُ، وَمَا كَلَّفَكَ مَا لَا تَسْتَطِيعُ، فَقَالَ: اعْمَلْ عَلَى قَدْرِ حَقِّي، فَأَعْطَاكَ الثَّوَابَ عَلَى قَدْرِ كَرَمِهِ، وَتَوَسُّعِهِ، وَقَبِلَ مِنْكَ الْعَمَلَ عَلَى ضَعْفِ بَنِي آدَمَ "
১৪ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে উমর, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হাসান ইবনে আবদিল আজিজ আল-জারাবী, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হারিস ইবনে মিসকিন, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে ওয়াহাব ⦗পৃষ্ঠা: ২২৯⦘, তিনি বলেন: আমি তাঁকে অর্থাৎ আবদুর রহমান ইবনে যায়েদ ইবনে আসলামকে বলতে শুনেছি: "এই দ্বীনের শীর্ষ বিষয় এবং এর সংশোধন হচ্ছে কেবল চিন্তা-গবেষণা বা তাফাক্কুর। তুমি চিন্তা করলে দেখতে পাবে যে, তিনি তোমার থেকে যৎসামান্য আমল গ্রহণ করেছেন এবং তাতেই তিনি সন্তুষ্ট হয়েছেন; অথচ তিনি বরকতময় ও সুউচ্চ পালনকর্তা, আর তুমি হলে সামান্য বান্দা। তিনি তোমাকে (কঠিন) দুটি বিষয়ের কোনোটিই চাপিয়ে দেননি: তিনি তাঁর হকের পূর্ণ মর্যাদা অনুযায়ী কোনো কাজ তোমার ওপর আবশ্যক করেননি যা বহন করার সক্ষমতা তোমার নেই, আবার তিনি তোমাকে এমন কোনো কাজের নির্দেশ দেননি যা তোমার সামর্থ্যের বাইরে। বরং তিনি বলেছেন: আমার হকের (সাধ্যমতো) আমল করো; অতঃপর তিনি তাঁর বদান্যতা ও প্রশস্ততা অনুযায়ী তোমাকে প্রতিদান দান করেছেন এবং আদম সন্তানের দুর্বলতা সত্ত্বেও তোমার থেকে আমল কবুল করে নিয়েছেন।"
(খণ্ড: ١)
আল-আজমাহ লি-আবীয়িশ শাইখ আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢٢٩)
15 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَبِي حَسَّانَ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي الْحَوَارِيِّ، قَالَ: قُلْتُ لِأَبِي صَفْوَانَ: أَيُّمَا أَحَبُّ إِلَيْكَ يَجُوعُ ⦗ص: 230⦘ الرَّجُلُ فَيَجْلِسُ يَتَفَكَّرُ، أَوْ يَأْكُلُ فَيَقُومُ فَيُصَلِّي؟ قَالَ: «يَأْكُلُ وَيَقُومُ، وَيَتَفَكَّرُ فِي صَلَاتِهِ أَحَبُّ إِلَيَّ» ، فَحَدَّثْتُ بِهِ أَبَا سُلَيْمَانَ، فَقَالَ: «صَدَقَ الْفِكْرَةُ فِي الصَّلَاةِ أَفْضَلُ مِنَ الْفِكْرَةِ فِي غَيْرِ صَلَاةٍ، لِأَنَّ الْفِكْرَةَ فِي الصَّلَاةِ عَمَلَانِ، وَعَمَلَانِ أَفْضَلُ مِنْ عَمَلٍ»
১৫ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবনে ইবরাহিম ইবনে আবি হাসান, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে আবিল হাওয়ারী, তিনি বলেন: আমি আবু সাফওয়ানকে বললাম: আপনার নিকট কোনটি অধিক পছন্দনীয়: কোনো ব্যক্তি ক্ষুধার্ত থাকবে ⦗পৃষ্ঠা: ২৩০⦘ এবং বসে চিন্তা-গবেষণা করবে, নাকি সে আহার করবে এবং দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবে? তিনি বললেন: «সে আহার করবে এবং (সালাতে) দাঁড়াবে; আর সালাতের মধ্যে তার চিন্তা-গবেষণা করা আমার নিকট অধিক পছন্দনীয়», অতঃপর আমি বিষয়টি আবু সুলাইমানের নিকট বর্ণনা করলাম। তিনি বললেন: «তিনি সত্য বলেছেন; সালাতের মধ্যে চিন্তা-গবেষণা করা সালাতের বাইরের চিন্তা-গবেষণার চেয়ে শ্রেষ্ঠ, কেননা সালাতের মধ্যে চিন্তা করা হলো দু’টি আমল (সালাত ও চিন্তা), আর দু’টি আমল একটি আমলের চেয়ে শ্রেষ্ঠ»
(খণ্ড: ١)
আল-আজমাহ লি-আবীয়িশ শাইখ আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢٣١)
16 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي الْحَوَارِيِّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا سُلَيْمَانَ، يَقُولُ: «رُبَّمَا أَتَتْ عَلَيَّ سَاعَةٌ لَا أُحِبُّ أَنْ يُفْتَحَ لِي الْفِكْرُ فِيهَا» ، قَالَ أَحْمَدُ: مَعْنَى هَذَا إِذَا تَفَكَّرَ ظَهَرَ مِنْهُ مَا لَا يُحِبُّ أَنْ يَظْهَرَ مِنْهُ بَيْنَ النَّاسِ
১৬ - ইসহাক ইবনে ইবরাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ ইবনে আবিল হাওয়ারী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আবু সুলাইমানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন: «কখনো কখনো আমার নিকট এমন মুহূর্ত উপস্থিত হয় যখন আমি চাই না যে আমার চিন্তার দ্বার উন্মোচিত হোক», আহমাদ বলেন: এর অর্থ হলো, যখন তিনি চিন্তা করেন তখন তাঁর থেকে এমন কিছু প্রকাশ পায় যা তিনি মানুষের মাঝে প্রকাশ পাওয়া পছন্দ করেন না।
(খণ্ড: ١)
আল-আজমাহ লি-আবীয়িশ শাইখ আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢٣١)
17 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ بَحْرٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ ⦗ص: 232⦘ عَبْدِ الْأَعْلَى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ ثَوْرٍ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ قَتَادَةَ، فِي قَوْلِهِ عز وجل " {وَفِي الْأَرْضِ آيَاتٌ لِلْمُوقِنِينَ} [الذاريات: 20] ، يَقُولُ مُعْتَبَرٌ لِمَنِ اعْتَبَرَ {وَفِي أَنْفُسِكُمْ} [الذاريات: 21] ، يَقُولُ: وَفِي خَلْقِهِ أَيْضًا، إِذَا فَكَّرَ فِيهِ مُعْتَبِرٌ "
১৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনুল হাসান ইবনে আলী ইবনে বাহর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ⦗পৃষ্ঠা: ২৩২⦘ আবদুল আলা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে সাওর, তিনি মা'মার থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে মহান আল্লাহর এই বাণী প্রসঙ্গে বর্ণনা করেন: "{এবং নিশ্চিত বিশ্বাসীদের জন্য পৃথিবীতে বহু নিদর্শন রয়েছে}" [আয-যারিয়াত: ২০], তিনি (কাতাদাহ) বলেন: "উপদেশ গ্রহণকারীদের জন্য এতে শিক্ষা রয়েছে।" "{এবং তোমাদের নিজেদের মধ্যেও}" [আয-যারিয়াত: ২১], তিনি বলেন: "অর্থাৎ তাঁর সৃষ্টির মাঝেও (নিদর্শন রয়েছে), যখন কোনো উপদেশ গ্রহণকারী ব্যক্তি তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে।"
(খণ্ড: ١)
আল-আজমাহ লি-আবীয়িশ শাইখ আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢٣٣)
18 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ دَاوُدَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا ⦗ص: 234⦘ أَبُو الْجُمَاهِرِ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، وَعَنْ قَوْلِهِ {وَفِي أَنْفُسِكُمْ أَفَلَا تُبْصِرُونَ} [الذاريات: 21] قَالَ: «مَنْ تَفَكَّرَ فِي نَفْسِهِ عَرَفَ أَنَّمَا لُيِّنَتْ مَفَاصِلُهُ لِلْعِبَادَةِ»
১৮ - আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান ইবনে দাউদ, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন উবাইদ ইবনে মুহাম্মদ, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ২৩৪⦘ আবুল জুমাহির, তিনি সাঈদ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে আল্লাহর এই বাণী— {এবং তোমাদের নিজেদের মধ্যেও, তবে কি তোমরা লক্ষ্য করবে না?} [আদ-যারিয়াত: ২১]—প্রসঙ্গে বর্ণনা করেন যে, তিনি (কাতাদাহ) বলেছেন: "যে ব্যক্তি নিজের সম্পর্কে চিন্তা-গবেষণা করবে, সে বুঝতে পারবে যে তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের জোড়াগুলোকে কেবল ইবাদতের জন্যই নমনীয় করা হয়েছে।"
(খণ্ড: ١)
আল-আজমাহ লি-আবীয়িশ শাইখ আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢٣٤)
19 - حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ بَحْرٍ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي الْحَوَارِيِّ، حَدَّثَنَا ⦗ص: 235⦘ الْقُرْقُسَانِيُّ، قَالَ: أَتَى يُوسُفُ بْنُ أَسْبَاطٍ بِبَاكُورِ تَمْرَةٍ، فَقَلَّبَهَا، ثُمَّ وَضَعَهَا بَيْنَ يَدَيْهِ، وَقَالَ: «إِنَّ الدُّنْيَا لَمْ تُخْلَقْ لِتَنْظُرَ إِلَيْهَا، وَإِنَّمَا خُلِقَتْ لِتَنْظُرَ بِهَا إِلَى الْآخِرَةِ»
১৯ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উমর ইবনে বাহর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে আবিল হাওয়ারী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ২৩৫⦘ আল-কুরকুসানী। তিনি বলেন: ইউসুফ ইবনে আসবাতের নিকট মৌসুমের প্রথম পাকা একটি খেজুর আনা হলো। তিনি সেটি হাতে নিয়ে উল্টেপাল্টে দেখলেন, অতঃপর তা নিজের সামনে রাখলেন এবং বললেন: «নিশ্চয়ই দুনিয়া কেবল এর দিকে তাকিয়ে থাকার জন্য সৃষ্টি করা হয়নি; বরং এটি সৃষ্টি করা হয়েছে যাতে তুমি এর মাধ্যমে পরকালের প্রতি দৃষ্টিপাত করতে পারো।»
(খণ্ড: ١)
আল-আজমাহ লি-আবীয়িশ শাইখ আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢٣٦)
20 - حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ أَبَانَ، قَالَ: حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ يَحْيَى، عَنْ يُونُسَ بْنِ مَيْسَرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى أَصْحَابِهِ وَهُمْ يَذْكُرُونَ عَظَمَةَ اللَّهِ عز وجل فَقَالَ: «مَا كُنْتُمْ تَذْكُرُونَ؟» قَالُوا: كُنَّا نَتَفَكَّرُ فِي عَظَمَةِ اللَّهِ عز وجل، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَلَا حَقٌّ فِي اللَّهِ، فَلَا تَفَكَّرُوا» ثَلَاثًا «أَلَا فَتَفَكَّرُوا فِي عِظَمِ مَا خَلَقَ» ثَلَاثًا.
২০ - আল-ওয়ালিদ ইবনে আবান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আম্মার আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসহাক ইবনে সুলায়মান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুআবিয়া ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইউনুস ইবনে মায়সারাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সাহাবীদের নিকট বের হয়ে আসলেন যখন তাঁরা মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর মহিমা নিয়ে আলোচনা করছিলেন। তখন তিনি বললেন: «তোমরা কী বিষয়ে আলোচনা করছিলে?» তাঁরা বললেন: «আমরা মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর মহিমা সম্পর্কে চিন্তা-গবেষণা করছিলাম।» তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «সাবধান! আল্লাহর সত্তার স্বরূপ নিয়ে তোমরা চিন্তা করো না» —এ কথাটি তিনি তিনবার বললেন। «সাবধান! বরং তোমরা তাঁর সৃষ্টির বিশালত্ব নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করো» —এ কথাটিও তিনি তিনবার বললেন।
(খণ্ড: ١)
আল-আজমাহ লি-আবীয়িশ শাইখ আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢٣٧)
21 - حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ يَعْقُوبَ النَّيْسَابُورِيُّ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عُثْمَانَ أَبُو الْجَوْزَاءِ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْجَلِيلِ بْنُ عَطِيَّةَ الْقَيْسِيُّ، حَدَّثَنَا شَهْرُ بْنُ حَوْشَبٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ ⦗ص: 238⦘ سَلَّامٍ رضي الله عنه، قَالَ: خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى نَاسٍ مِنْ أَصْحَابِهِ، وَهُمْ يَتَفَكَّرُونَ فِي خَلْقِ اللَّهِ عز وجل، فَقَالَ صلى الله عليه وسلم: «فِيمَ تَتَفَكَّرُونَ؟» ، قَالُوا: نَتَفَكَّرُ فِي خَلْقِ اللَّهِ تبارك وتعالى، قَالَ: «فَلَا تَفَكَّرُوا فِي اللَّهِ، وَلَكِنْ تَفَكَّرُوا فِيمَا خَلَقَ اللَّهُ، فَإِنَّهُ خَلَقُ خَلْقًا قَدَمَاهُ فِي الْأَرْضِ السَّابِعَةِ السُّفْلَى، وَرَأْسُهُ قَدْ جَاوَزَ السَّمَاءَ الْعُلْيَا مَا بَيْنَ قَدَمَيْهِ إِلَى مَنْكِبَيْهِ مَسِيرَةُ ثَلَاثِ مِائَةِ عَامٍ، وَمَا بَيْنَ كَتِفَيْهِ إِلَى أَخْمَصِ قَدَمَيْهِ مَسِيرَةُ ثَلَاثِ مِائَةِ عَامٍ، فَالْخَالِقُ أَعْلَمُ مِنَ الْمَخْلُوقِ، سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ»
২১ - আমাদের কাছে ইউসুফ ইবনে ইয়াকুব আন-নায়সাবুরি বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে আহমাদ ইবনে উসমান আবুল জাওযা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আবদুস সামাদ ইবনে আবদুল ওয়ারিস বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে আবদুল জলীল ইবনে আতিয়্যাহ আল-কাইসি বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে শাহর ইবনে হাওশাব বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে ⦗পৃষ্ঠা: ২৩৮⦘ সালাম (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর একদল সাহাবীর নিকট আসলেন, এমতাবস্থায় তারা মহান আল্লাহর সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা-গবেষণা করছিলেন। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "তোমরা কী বিষয়ে চিন্তা করছ?" তারা বললেন: "আমরা বরকতময় ও সুউচ্চ আল্লাহর সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা করছি।" তিনি বললেন: "তোমরা আল্লাহ (এর সত্তা) সম্পর্কে চিন্তা করো না, বরং আল্লাহর সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা করো। কেননা তিনি এমন এক সৃষ্টি সৃষ্টি করেছেন যার দুই পা সর্বনিম্ন সপ্তম জমিনে এবং যার মাথা ঊর্ধ্ব আকাশকেও অতিক্রম করে গেছে। তার দুই পা থেকে কাঁধ পর্যন্ত দূরত্ব তিনশত বছরের পথ, এবং তার দুই কাঁধ থেকে পদতল পর্যন্ত দূরত্ব তিনশত বছরের পথ। সুতরাং স্রষ্টা সৃষ্টি অপেক্ষা অধিক পরিজ্ঞাত; মহান আল্লাহ অতি পবিত্র ও সুমহান।"
(খণ্ড: ١)
আল-আজমাহ লি-আবীয়িশ শাইখ আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢٤٠)
22 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَبَّاسِ بْنِ أَيُّوبَ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَبْدِ الْحَكَمِ الْوَرَّاقُ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَاصِمٍ، حَدَّثَنَا عَطَاءُ بْنُ السَّائِبِ ⦗ص: 241⦘، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما، قَالَ: «فَكِّرُوا فِي كُلِّ شَيْءٍ، وَلَا تُفَكِّرُوا فِي ذَاتِ اللَّهِ تَعَالَى، فَإِنَّ مَا بَيْنَ كُرْسِيِّهِ إِلَى السَّمَاءِ السَّابِعَةِ سَبْعَةَ آلَافِ نُورٍ، وَهُوَ فَوْقَ ذَلِكَ تبارك وتعالى»
২২ - আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনুল আব্বাস ইবনে আইয়ুব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে আব্দুল হাকাম আল-ওয়াররাক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আলী ইবনে আসিম বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আতা ইবনে সাইব বর্ণনা করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ২৪১⦘, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «তোমরা প্রতিটি বস্তু সম্পর্কে চিন্তা করো, কিন্তু মহান আল্লাহর সত্তা সম্পর্কে চিন্তা করো না। কেননা তাঁর কুরসি ও সপ্তম আসমানের মাঝে সাত হাজার নূরের পর্দা রয়েছে, আর তিনি তারও ঊর্ধ্বে, তিনি বরকতময় ও সুউচ্চ।»
(খণ্ড: ١)
আল-আজমাহ লি-আবীয়িশ শাইখ আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢٤١)
23 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي الْحَوَارِيِّ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: كَانَ عُتْبَةُ الْغُلَامُ يَقْطَعُ اللَّيْلَ بِثَلَاثِ صَيْحَاتٍ، يُصَلِّي الْعَتَمَةَ، ثُمَّ يَضَعُ رَأْسَهُ بَيْنَ رُكْبَتَيْهِ يُفَكِّرُ، فَإِذَا مَضَى ⦗ص: 242⦘ ثُلُثُ اللَّيْلِ صَاحَ صَيْحَةً، ثُمَّ يَضَعُ رَأْسَهُ بَيْنَ رُكْبَتَيْهِ يَتَفَكَّرُ، فَإِذَا كَانَ السَّحَرُ صَاحَ صَيْحَةً " قَالَ أَحْمَدُ: فَحَدَّثْتُ بِهِ عَبْدَ الْعَزِيزِ، فَقَالَ لِي: حَدَّثْتُ بِهِ بَعْضَ الْبَصْرِيِّينَ، فَقَالَ: لَا تَنْظُرْ إِلَى الصَّيْحَةِ، وَلَكِنِ انْظُرْ إِلَى الْأَمْرِ الَّذِي كَانَ مِنْهُ فِيمَا بَيْنَ الصَّيْحَةِ الَّذِي صَاحَ مِنْهُ
২৩ - ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ ইবনে আবিল হাওয়ারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জাফর ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উতবাহ আল-গুলাম তিনটি আর্তচিৎকারের মাধ্যমে রাত অতিবাহিত করতেন; তিনি ইশার সালাত আদায় করতেন, তারপর দুই হাঁটুর মাঝে মাথা রেখে গভীর চিন্তায় নিমগ্ন হতেন। যখন রাতের ⦗পৃষ্ঠা: ২৪২⦘ এক-তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হতো, তিনি একটি চিৎকার দিতেন। পুনরায় দুই হাঁটুর মাঝে মাথা রেখে ধ্যানমগ্ন হতেন। অতঃপর যখন শেষ রাত হতো, তখন তিনি আরেকটি চিৎকার দিতেন। আহমাদ বলেন: আমি আব্দুল আজিজের নিকট এটি বর্ণনা করলাম, তখন তিনি আমাকে বললেন: আমি বসরার জনৈক ব্যক্তির নিকট এটি বর্ণনা করেছিলাম, তিনি বলেছিলেন: আর্তচিৎকারের দিকে তাকিও না, বরং চিৎকারের অন্তর্বর্তী সময়ে তাঁর যে অবস্থা ছিল এবং যার কারণে তিনি চিৎকার দিয়েছিলেন, সেই বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য করো।
(খণ্ড: ١)
আল-আজমাহ লি-আবীয়িশ শাইখ আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢٤٢)
24 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْحُسَيْنِ الْحَذَّاءُ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ الدَّوْرَقِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عِيسَى الطُّفَاوِيُّ، أَخْبَرَنِي أَبُو عَبْدِ اللَّهِ ⦗ص: 243⦘ الشَّحَّامُ، قَالَ: قُلْتُ لَهُ: " مَا كَانَتْ عِبَادَتُهُ؟ يَعْنِي عُتْبَةَ الْغُلَامَ، قَالَ: كَانَ يَسْتَقْبِلُ الْقِبْلَةَ، فَلَا يَزَالُ فِي فِكْرَةٍ وَبُكَاءٍ حَتَّى يُصْبِحَ "
২৪ - আমাদের নিকট আহমদ ইবনুল হুসাইন আল-হাদ্দযা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আহমদ আদ-দাওরাকী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবনে ঈসা আত-তুফাবী বর্ণনা করেছেন, আমাকে আবু আবদুল্লাহ ⦗পৃষ্ঠা: ২৪৩⦘ আশ-শাহহাম অবহিত করেছেন, তিনি বলেন: আমি তাঁকে বললাম, "তাঁর ইবাদত কেমন ছিল?" অর্থাৎ উতবাহ আল-গুলামের ইবাদত। তিনি বললেন, "তিনি কিবলামুখী হয়ে বসতেন এবং প্রভাত হওয়া পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে চিন্তা ও ক্রন্দনে মগ্ন থাকতেন।"
(খণ্ড: ١)
আল-আজমাহ লি-আবীয়িশ শাইখ আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢٤٣)
25 - حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبُو حَاتِمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو صَالِحٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ ⦗ص: 244⦘، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما، قَالَ: " {كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمُ الْآيَاتِ لَعَلَّكُمْ تَتَفَكَّرُونَ} [البقرة: 219] {فِي الدُّنْيَا} [البقرة: 220] يَعْنِي زَوَالِ الدُّنْيَا وَفَنَائِهَا، وَإِقْبَالِ الْآخِرَةِ وَبَقَائِهَا "
২৫ - আল-ওয়ালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু হাতিম আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু সালিহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুয়াবিয়া ইবনে সালিহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে আবি তালহা থেকে ⦗পৃষ্ঠা: ২৪৪⦘, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "{এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্য নিদর্শনসমূহ সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন যাতে তোমরা চিন্তা-ভাবনা করতে পার} [বাকারা: ২১৯] {দুনিয়ার বিষয়ে} [বাকারা: ২২০] অর্থাৎ দুনিয়ার বিলুপ্তি ও এর নশ্বরতা এবং আখিরাতের আগমন ও এর স্থায়িত্ব সম্পর্কে।"
(খণ্ড: ١)
আল-আজমাহ লি-আবীয়িশ শাইখ আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢٤٤)
26 - حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ الْكِسَائِيُّ، حَدَّثَنَا مِنْجَابٌ ⦗ص: 245⦘، أَخْبَرَنَا بِشْرٌ، عَنْ أَبِي رَوْقٍ، عَنِ الضَّحَّاكِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما، ثُمَّ قَالَ: {وَمَنْ كَانَ فِي هَذِهِ أَعْمَى} [الإسراء: 72] ، يَقُولُ: مَنْ كَانَ فِي الدُّنْيَا أَعْمَى عَمَّا يَرَى مِنْ قُدْرَتِي مِنْ خَلْقِ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ وَالْجِبَالِ وَالْبِحَارِ وَالنَّاسِ وَالدَّوَابِّ، وَأَشْبَاهِ هَذَا، فَهُوَ عَمَّا وَصَفْتُ لَهُ فِي الْآخِرَةِ وَلَمْ يَرَهُ أَعْمَى وَأَضَلُّ سَبِيلًا يَقُولُ: وَأَبْعَدُ حُجَّةً "
২৬ - আমাদের নিকট আল-ওয়ালিদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু সাঈদ আল-কিসায়ী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মিনজাব বর্ণনা করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ২৪৫⦘, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বিশর, তিনি আবু রওক থেকে, তিনি আদ-দাহহাক থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, অতঃপর তিনি বলেন: {আর যে ব্যক্তি এই দুনিয়াতে অন্ধ ছিল} [আল-ইসরা: ৭২], তিনি বলেন: যে ব্যক্তি এই দুনিয়ায় আমার কুদরতের নিদর্শনাবলী যা সে প্রত্যক্ষ করে—যেমন আসমান, জমিন, পাহাড়, সমুদ্র, মানুষ, চতুষ্পদ জন্তু এবং এই জাতীয় সৃষ্টিসমূহ—তা দেখা থেকে অন্ধ থাকে, তবে পরকালে আমি যা বর্ণনা করেছি এবং যা সে দেখেনি, সে বিষয়ে সে আরও বেশি অন্ধ এবং অধিকতর পথভ্রষ্ট হবে। তিনি বলেন: অর্থাৎ সে সত্যের প্রমাণ ও যুক্তির দিক থেকে আরও দূরে থাকবে।
(খণ্ড: ١)
আল-আজমাহ লি-আবীয়িশ শাইখ আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢٤٦)
27 - وَأَبُو الطَّيِّبِ أَحْمَدُ بْنُ رَوْحٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ خَالِدِ بْنِ مِرْدَاسٍ الْبَاهِلِيُّ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ الْأَشْعَثِ الْخُزَاعِيُّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْجَعْدِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ بُدَيْلٍ الْعُقَيْلِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ صَاحِبِ اللُّؤْلُؤِ، عَنِ الْحَسَنِ، قَالَ: كَتَبَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضي الله عنه، إِلَى ⦗ص: 247⦘ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ رضي الله عنه: " وَإِذَا أَحْبَبْتَ أَنْ تَحْقِرَ عَمَلَكَ، فَتَفَكَّرْ فِيمَا أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْكَ، وَقَدِّرْ مَا عَمِلَ الصَّالِحُونَ قَبْلَكَ، وَقَدِّرْ عُقُوبَتَهُ فِي الذُّنُوبِ، إِنَّمَا فُعِلَ بِآدَمَ الَّذِي فُعِلَ بِأُكْلَةٍ أَكَلَهَا، فَقَالَ: {وَعَصَى آدَمُ رَبَّهُ فَغَوَى} [طه: 121] ، وَإِنَّمَا لَعَنَ إِبْلِيسَ وَجَعَلَهُ شَيْطَانًا رَجِيمًا مِنْ أَجْلِ سَجْدَةٍ أَبَى أَنْ يَسْجُدَهَا، وَجَعَلَ مِنْهُمْ قِرَدَةً وَخَنَازِيرَ مِنْ أَجْلِ حِيتَانٍ أَصَابُوهَا يَوْمَ السَّبْتِ، وَقَدْ نُهُوا أَنْ يَعْدُوا فِيهِ، فَتَفَكَّرْ فِي نَعِيمِ الْجَنَّةِ، وَمُلْكِهَا وَكَرَامَتِهَا، فَإِذَا فَكَّرْتَ فِي هَذَا كُلِّهِ عَرَفْتَ نَفْسَكَ، وَحَقَرْتَ عَمَلَكَ، وَعَلِمْتَ أَنَّ عَمَلَكَ لَنْ يُغْنِيَ عَنْكَ شَيْئًا إِلَّا أَنْ يَتَغَمَّدَكَ اللَّهُ بِرَحْمَتِهِ، وَبِعَفْوِهِ "
২৭ - আবু তাইয়িব আহমদ ইবনে রাওহ বলেন: আমাকে আহমদ ইবনে খালিদ ইবনে মিরদাস আল-বাহিলি হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সাঈদ ইবনুল আশআস আল-খুজায়ি হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মাদ ইবনুল জা'দ থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে বুদাইল আল-উকাইলি থেকে, তিনি মুক্তা ব্যবসায়ী আবু সালামাহ থেকে, তিনি হাসান (বসরী) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) ⦗পৃ: ২৪৭⦘ আবু মুসা আল-াশ'আরি (রা.)-এর নিকট লিখেছিলেন: "তুমি যখন তোমার আমলকে তুচ্ছ মনে করতে চাও, তখন তোমার প্রতি আল্লাহর প্রদত্ত নেয়ামতরাজি সম্পর্কে চিন্তা করো; তোমার পূর্ববর্তী নেককার বান্দাগণ কী আমল করেছেন তা স্মরণ করো; আর গুনাহের শাস্তির স্বরূপ উপলব্ধি করো। আদমের সাথে যা করা হয়েছিল তা কেবল একটি লোকমা আহারের কারণেই হয়েছিল, যে সম্পর্কে তিনি বলেছেন: {আদম তাঁর রবের অবাধ্য হলেন এবং তিনি পথভ্রষ্ট হলেন} [ত্বহা: ১২১]। আর ইবলিসকে অভিশপ্ত করা হয়েছিল এবং তাকে বিতাড়িত শয়তানে পরিণত করা হয়েছিল কেবল একটি সিজদা করতে অস্বীকার করার কারণে। আর তাদের মধ্য থেকে একদলকে বানর ও শূকরে রূপান্তরিত করা হয়েছিল সেই মাছগুলোর কারণে যা তারা শনিবারের দিন শিকার করেছিল, অথচ তাদের সেদিন সীমা লঙ্ঘন করতে নিষেধ করা হয়েছিল। সুতরাং তুমি জান্নাতের নেয়ামত, তার রাজত্ব এবং সম্মান সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা করো। যখন তুমি এসকল বিষয়ে চিন্তা করবে, তখন তুমি নিজেকে চিনতে পারবে, নিজের আমলকে অতি সামান্য মনে করবে এবং বুঝতে পারবে যে, তোমার আমল তোমার কোনোই উপকারে আসবে না, যদি না আল্লাহ তোমাকে তাঁর রহমত ও ক্ষমা দ্বারা আবৃত করে নেন।"
(খণ্ড: ١)
আল-আজমাহ লি-আবীয়িশ শাইখ আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢٤٨)
28 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْحُسَيْنِ، قَالَ: حَدَّثَنِي وَلِيدُ بْنُ صَالِحٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو كَثِيرٍ الْيَمَانِيُّ، قَالَ: قَالَ وَهْبُ بْنُ مُنَبِّهٍ: " الْمُؤْمِنُ مُفَكِّرٌ، مُذَّكِرٌ مُزْدَجِرٌ تَفَكَّرَ فَعَلَتْهُ السَّكِينَةُ، فَسَكَنَ فَتَوَاضَعَ، قَنَعَ فَلَمْ يَهْتَمَّ، رَفَضَ الشَّهَوَاتِ فَصَارَ حُرًّا، أَلْقَى الْحَسَدَ فَصَارَتْ لَهُ الْمَحَبَّةُ، زَهِدَ فِي كُلِّ فَانٍ فَاسْتَكْمَلَ الْعَقْلَ، فَقَلْبُهُ ⦗ص: 249⦘ مُتَعَلِّقٌ بَهَمِّهِ وَهَمِّهِ، مُوَكَّلٌ بِمَعَادِهِ، لَا يَفْرَحُ إِذَا فَرِحَ أَهْلُ الدُّنْيَا لِفَرَحِهِمْ بَلْ حُزْنُهُ عَلَيْهِمْ سَرْمَدٌ، فَهُوَ دَهْرَهُ مَحْزُونٌ، وَفَرْحَهُ إِذَا نَامَتِ الْعُيُونُ يَتْلُو كِتَابَ اللَّهِ تَعَالَى يُرَدِّدُهُ عَلَى قَلْبِهِ، فَمَرَّةً يَفْزَعُ قَلْبُهُ، وَمَرَّةً تَهْمُلُ عَيْنَاهُ، يَقْطَعُ عَنْهُ اللَّيْلَ بِالتِّلَاوَةِ، وَيَقْطَعُ عَنْهُ النَّهَارَ بِالْخُلْوَةِ مُفَكِّرًا فِي ذُنُوبِهِ مُسْتَصْغِرًا لِأَعْمَالِهِ، قَالَ وَهْبٌ: هَذَا يُنَادَى يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِي ذَلِكَ الْجَمْعِ الْعَظِيمِ عَلَى رُءُوسِ الْخَلَايِقِ، قُمْ أَيُّهَا الْكَرِيمُ، فَادْخُلِ الْجَنَّةَ "
২৮ - আহমদ ইবনে উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ওয়ালিদ ইবনে সালিহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু কাসীর আল-ইয়ামানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ বলেছেন: "মুমিন ব্যক্তি চিন্তাশীল, উপদেশ গ্রহণকারী ও আত্মসংযমী। সে চিন্তা-গবেষণা করে, ফলে তার ওপর প্রশান্তি ছেয়ে যায়; সে স্থির হয় এবং বিনয়ী হয়। সে অল্পে তুষ্ট থাকে, তাই সে উদ্বিগ্ন হয় না। সে কুপ্রবৃত্তিকে বর্জন করে, ফলে সে স্বাধীন হয়ে যায়। সে হিংসা ছুড়ে ফেলে দেয়, ফলে তার জন্য ভালোবাসা অর্জিত হয়। সে নশ্বর সবকিছুর প্রতি বিরাগ প্রদর্শন করে, ফলে তার বুদ্ধিবৃত্তি পূর্ণতা পায়। তার অন্তর ⦗পৃষ্ঠা: ২৪৯⦘ তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সাথে যুক্ত থাকে এবং সে তার পরকালীন গন্তব্য নিয়ে ব্যাপৃত থাকে। দুনিয়াদাররা যখন তাদের পার্থিব অর্জনে আনন্দিত হয়, তখন সে তাদের আনন্দে আনন্দিত হয় না; বরং তাদের জন্য তার দুঃখ হয় চিরন্তন। সে তার সারা জীবন বিষাদগ্রস্ত থাকে, আর তার আনন্দের মুহূর্ত হলো যখন মানুষের চোখ ঘুমিয়ে পড়ে—তখন সে মহান আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করে এবং তা হৃদয়ে বারবার আউড়ায়। ফলে কখনও তার অন্তর ভীত-কম্পিত হয়, আবার কখনও তার দুচোখ বেয়ে অশ্রু ঝরে। সে তিলাওয়াতের মাধ্যমে রাত অতিবাহিত করে এবং নির্জনে নিজের পাপসমূহ নিয়ে চিন্তিত হয়ে ও নিজের আমলসমূহকে তুচ্ছ জ্ঞান করে দিন অতিবাহিত করে।" ওয়াহাব বলেন: "এই ব্যক্তিকে কিয়ামতের দিন সেই বিশাল সমাবেশে সকল সৃষ্টির সামনে এই বলে আহ্বান করা হবে: 'হে সম্মানিত ব্যক্তি! দাঁড়ান এবং জান্নাতে প্রবেশ করুন'।"
(খণ্ড: ١)
আল-আজমাহ লি-আবীয়িশ শাইখ আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢٥٠)
29 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، قَالَ: حَدَّثَنِي يُوسُفُ بْنُ الْحَكَمِ، قَالَ: حَدَّثَنِي فَيَّاضُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْقُرَشِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي شَيْخٌ مِنْ قُرَيْشٍ مِنْ بَنِي أُمَيَّةَ، قَالَ: كَانَ مُغِيثُ بْنُ الْأَسْوَدِ يَقُولُ: «زُورُوا الْقُبُورَ كُلَّ يَوْمٍ تُذَكِّرْكُمُ الْمَوْتَ، وَتَوَهَّمُوا جَوَامِعَ الْخَيْرِ كُلَّ يَوْمٍ فِي الْجَنَّةِ بِعُقُولِكُمْ، وَشَاهِدُوا ⦗ص: 251⦘ الْمَوْقِفَ كُلَّ يَوْمٍ بِقُلُوبِكُمْ، وَانْظُرُوا إِلَى الْمُتَصَرِّفِ بِالْفَرِيقَيْنِ إِلَى الْجَنَّةِ أَوِ النَّارِ بِهِمَمِكُمْ، وَأَشْعِرُوا قُلُوبَكُمْ، وَأَبْدَانَكُمْ ذِكْرَ النَّارِ وَمَقَامِعِهَا وَأَطْبَاقِهَا»
২৯ - আমাদের নিকট আহমদ ইবনে উমর হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাকে মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাকে ইউসুফ ইবনুল হাকাম হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাকে ফায়্যাদ ইবনে মুহাম্মদ আল-কুরাশী হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাকে কুরায়শ বংশের বনু উমাইয়া গোত্রের জনৈক শায়খ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুগীস ইবনুল আসওয়াদ বলতেন: «তোমরা প্রতিদিন কবর যিয়ারত করো, যা তোমাদের মৃত্যুকে স্মরণ করিয়ে দেবে; প্রতিদিন তোমাদের বিচারবুদ্ধি দ্বারা জান্নাতের সামগ্রিক কল্যাণসমূহ কল্পনা করো; প্রতিদিন তোমাদের হৃদয়ে ⦗পৃষ্ঠা: ২৫১⦘ হাশরের ময়দান প্রত্যক্ষ করো; তোমাদের সংকল্পের সাথে দুই দলের জান্নাত বা জাহান্নামের দিকে গমনাগমন পর্যবেক্ষণ করো; এবং তোমাদের অন্তর ও দেহকে জাহান্নামের আগুন, এর লৌহদণ্ড ও স্তরসমূহের স্মরণে সজাগ রাখো (বা শিউরে উঠতে দাও)»