(খণ্ড: ১) আস-সামত ওয়া আদাবুল লিসান (পৃষ্ঠা: -)
الصمت وآداب اللسان   (ابن أبي الدنيا)

القسم: كتب السنة


الكتاب: الصمت وآداب اللسان

المؤلف: أبو بكر، عبد الله بن محمد بن عبيد، ابن أبي الدنيا (ت 281 هـ)

حققه وخرج أحاديثه: أبو إسحاق الحويني الأثري

الناشر: دار الكتاب العربي - بيروت

الطبعة: الأولى، 1410 هـ - 1990 م

عدد الصفحات: 313

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

নিরবতা ও জিহ্বার আদবসমূহ   (ইবনু আবিদ দুনইয়া)

বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ


গ্রন্থ: নিরবতা ও জিহ্বার আদবসমূহ

লেখক: আবু বকর, আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদ, ইবনু আবিদ দুনইয়া (মৃত্যু ২৮১ হি.)

সম্পাদনা ও হাদিস তখরিজ করেছেন: আবু ইসহাক আল-হুওয়াইনি আল-আসারি

প্রকাশক: দারুল কিতাব আল-আরাবি - বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১০ হি. - ১৯৯০ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩১৩

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আস-সামত ওয়া আদাবুল লিসান (পৃষ্ঠা: ٤١)
‌‌بَابُ حِفْظِ اللِّسَانِ وَفَضْلِ الصَّمْتِ
জিহ্বা নিয়ন্ত্রণ ও নীরবতার ফযীলত সংক্রান্ত অধ্যায়
(খণ্ড: ১) আস-সামত ওয়া আদাবুল লিসান (পৃষ্ঠা: ٤١)
1 - أَخْبَرَنَا سَيِّدُنَا الشَّيْخُ الْإِمَامُ الْأَوْحَدُ الْقُدْوَةُ جَمَالُ الدِّينِ عُمْدَةُ الْحُفَاَّظِ رِحْلَةُ الْوَقْتِ، بَرَكَةُ الْمُسْلِمِينَ، شَرَفُ الدِّينِ أَبُو مُحَمَّدٍ، وَأَحْمَدَ عَبْدُ الْمُؤْمِنِ بْنُ خَلَفِ بْنِ أَبِي الْحَسَنِ الدِّمْيَاطِيُّ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى قِرَاءَةً مِنِّي عَلَيْهِ وَهُوَ يَسْمَعُ وَيَنْظُرُ فِي أَصْلِهِ فِي الْعَاشِرَةِ مِنْ رَمَضَانَ، سَنَةَ اثْنَتَيْنِ وَسَبْعِمِائَةٍ بِالْقَاهِرَةِ الْمُعِزِّيَّةِ، قَالَ أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الصَّالِحُ الْمُعَمَّرُ أَبُو الْحَسَنِ بْنُ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُقَيِّرِ الْبَغْدَادِيُّ الْحَنْبَلِيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، قِيلَ لَهُ: أَخْبَرَتْكُمُ الشَّيْخَةُ الْكَاتِبَةُ فَخْرُ النِّسَاءِ شُهْدَةُ بِنْتُ أَبِي نَصْرٍ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي الْفَرَجِ اْلِإبْرِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهَا وَأَنْتَ تَسْمَعُ، وَأَجَازَ لَكَ الْأَشْيَاخُ الْحَافِظُ بْنُ الْفَضْلِ مُحَمَّدُ ْبُن نَاصِرِ بِنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ السُّلَامِيُّ، وَأَبُو الْكَرَمِ الْمُبَارَكُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ أَحْمَدَ الشَّهْرَزُورِيُّ، وَأَبُو الْفَتْحِ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ هِبَةِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ السَّلَامِ، وَأَبُو مُحَمَّدٍ الْمُبَارَكُ بْنُ الْمُبَارَكِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ نَصْرٍ السَّرَّاجُ الْمَعْرُوفُ بِابْنِ التَّعَاوِيذِيِّ، وَالرَّئِيسُ أَبُو مَنْصُورٍ مَسْعُودُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْحُصَيْنِ النِّعَالِيُّ، قِرَاءَةُ عَلَيْهِ وَنَحْنُ نَسْمَعُ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ صَالِحِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عُثْمَانَ النِّعَالِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ الْحَسَنُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ الْمُنْدِرِ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحُسَيْنُ بْنُ صَفْوَانَ الْبَرْذَعِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدٍ الْقُرَشِيُّ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى، قَالَ الشَّيْخُ شَرَفُ الدِّينِ عَبْدُ الْمُؤْمِنِ الدِّمْيَاطِيُّ حَرَسَهُ اللهُ، قَالَ: وَقَرَأْتُ عَلَى أَبِي الْقَاسِمِ يَحْيَى بْنِ أَبِي السُّعُودِ نَصْرِ بْنِ أَبِي الْقَاسِمِ بْنِ أَبِي الْحَسَنِ الْقُمُصِيِّ التَّمِيمِيِّ الْبَغْدَادِيِّ بِجَامِعِ الْأَزْهَرِ بِالْقَاهِرَةِ، قُلْتُ لَهُ: أَخْبَرَتْكَ أُمُّ عَتْبٍ تَجْنِى بِنْتُ عَبْدِ اللَّهِ الْوَهَّانِيَّةُ، قُرِئَ عَلَيْهَا وَأَنْتَ تَسْمَعُ، قَالَتْ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ الْحُسَيْنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ طَلْحَةَ النِّعَالِيُّ بِسَنَدِهِ الْمُتَقَدِّمِ، قَالَ الْمُصَنِّفُ رحمه الله: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ الْقُرَشِيُّ قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْجُشَمِيُّ، قَالَا: حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ يَعْلَى بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَخْبِرْنِي عَنِ الْإِسْلَامِ بِأَمْرٍ لَا أَسْأَلُ عَنْهُ أَحَدًا بَعْدَكَ، قَالَ: " قُلْ: آمَنْتُ بِاللَّهِ ثُمَّ اسْتَقِمْ "، قُلْتُ: فَمَا أَتَّقِي؟ فَأَوْمَأَ بِيَدِهِ إِلَى لِسَانِهِ
১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমাদের সায়্যিদ, অদ্বিতীয় ইমাম, আদর্শ ব্যক্তিত্ব, জামালুদ্দীন, হাফেজদের প্রধান অবলম্বন, সময়ের শ্রেষ্ঠ পর্যটক, মুসলমানদের বরকত, শরফুদ্দীন আবু মুহাম্মাদ আহমদ আব্দুল মুমিন বিন খালাফ বিন আবিল হাসান আদ-দিমইয়াতি (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন)। কায়রোতে সাতাশ হিজরীর দশই রমজান তারিখে আমি তাঁর নিকট পাঠ করছিলাম এবং তিনি তা শুনছিলেন ও তাঁর মূল পাণ্ডুলিপির দিকে তাকাচ্ছিলেন। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন নেককার ও দীর্ঘজীবী শাইখ আবু হাসান বিন আবু আব্দুল্লাহ বিন আল-মুকাইয়ির আল-বাগদাদী আল-হাম্বলী, আমি শোনার অবস্থায় তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে। তাঁকে বলা হয়েছিল: আপনাকে সংবাদ দিয়েছেন লেখিকা শাইখা ফখরুন নিসা শুহদাহ বিনতে আবি নাসর আহমদ বিন আবিল ফারাজ আল-ইবরী, তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আপনি তা শুনছিলেন। আর আপনাকে হাফেজ বিন আল-ফদল মুহাম্মাদ ইবনে নাসির বিন মুহাম্মাদ বিন আলী আস-সুলামী, আবুল কারাম আল-মুবারক বিন আল-হাসান বিন আহমদ আশ-শাহরাজূরী, আবুল ফাতহ মুহাম্মাদ বিন আলী বিন হিবাতুল্লাহ বিন আব্দুল সালাম, আবু মুহাম্মাদ আল-মুবারক বিন আল-মুবারক বিন আলী বিন নাসর আস-সাররাজ (যিনি ইবনুত তাউয়িযী নামে পরিচিত) এবং প্রধান আবু মনসুর মাসউদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন মুহাম্মাদ বিন আল-হুসাইন আন-নিআলী অনুমতি (ইজাযাহ) দিয়েছেন। আমরা শোনার অবস্থায় তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে যে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আহমদ বিন মুহাম্মাদ বিন সালিহ বিন মুহাম্মাদ বিন উসমান আন-নিআলী। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম আল-হাসান বিন আল-হাসান বিন আলী বিন আল-মুনজির। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আল-হুসাইন বিন সাফওয়ান আল-বারযাঈ। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন উবাইদ আল-কুরাশী (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন)। শাইখ শরফুদ্দীন আব্দুল মুমিন আদ-দিমইয়াতি (আল্লাহ তাঁকে হেফাযত করুন) বলেন: আমি কায়রোর জামে আল-আজহারে আবুল কাসিম ইয়াহইয়া বিন আবিস সাউদ নাসর বিন আবিল কাসিম বিন আবিল হাসান আল-কুমুসী আত-তামীমী আল-বাগদাদীর নিকট পাঠ করেছি। আমি তাঁকে বললাম: উম্মু আতাব তাজনি বিনতে আব্দুল্লাহ আল-ওয়াহহানিয়াহ কি আপনাকে সংবাদ দিয়েছেন? তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছিল এবং আপনি তা শুনছিলেন। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আহমদ বিন মুহাম্মাদ বিন তালহা আন-নিআলী তাঁর পূর্ববর্তী সনদে। গ্রন্থকার (রহমতুল্লাহি আলাইহি) বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন উবাইদুল্লাহ আল-কুরাশী। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা এবং উবাইদুল্লাহ বিন উমর আল-জুশামী। তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুশাইম, ইয়ালা বিন আতা থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন সুফিয়ান থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসুল! আমাকে ইসলাম সম্পর্কে এমন একটি কথা বলুন, যে বিষয়ে আপনার পরে আমি আর কাউকে জিজ্ঞাসা করব না। তিনি বললেন: "বলো: আমি আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি, এরপর অবিচল থাকো।" আমি বললাম: আমি কোন বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করব (কী থেকে বেঁচে থাকব)? তখন তিনি তাঁর হাত দিয়ে তাঁর জিহ্বার দিকে ইশারা করলেন।
(খণ্ড: ১) আস-সামত ওয়া আদাবুল লিসান (পৃষ্ঠা: ٤١)
2 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، ثَنَا دَاوُدُ بْنُ عَمْرٍو الضَّبِّيُّ، وَسَعْدَوَيْهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ، عَنْ ⦗ص: 42⦘ يَحْيَى بْنِ أَيُّوبَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ زَحْرٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ يَزِيدَ، عَنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِي ⦗ص: 43⦘ أُمَامَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ عُقْبَةُ بْنُ عَامِرٍ رضي الله عنه: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا النَّجَاةُ؟ قَالَ: «أَمْلِكْ عَلَيْكَ لِسَانَكَ، وَلْيَسَعْكَ بَيْتُكَ، وَابْكِ عَلَى خَطِيئَتِكَ»
২ - আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট দাউদ ইবনে আমর আদ-দব্বি এবং সাদাওয়াইহ বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক থেকে, তিনি ⦗পৃষ্ঠা: ৪২⦘ ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে যাহর থেকে, তিনি আলী ইবনে ইয়াজিদ থেকে, তিনি আল-কাসিম থেকে, তিনি আবু ⦗পৃষ্ঠা: ৪৩⦘ উমামাহ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: উকবাহ ইবনে আমির (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেছেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, মুক্তি কীসে? তিনি বললেন: «তোমার জিহ্বা নিয়ন্ত্রণে রাখো, তোমার ঘর যেন তোমার জন্য প্রশস্ত হয় এবং নিজের পাপের জন্য ক্রন্দন করো»
(খণ্ড: ১) আস-সামত ওয়া আদাবুল লিসান (পৃষ্ঠা: ٤٣)
3 - حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ عُمَرَ بْنِ عَلِيٍّ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ أَبِي حَازِمٍ الْمَدَنِيِّ ⦗ص: 44⦘، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيِّ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ يَتَوَكَّلْ لِي بِمَا بَيْنَ لَحْيَيْهِ وَرِجْلَيْهِ أَتَوَكَّلُ لَهُ بِالْجَنَّةِ»
৩ - আসিম ইবনে উমর ইবনে আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবু হাজিম আল-মাদানি থেকে ⦗পৃষ্ঠা: ৪৪⦘, সাহল ইবনে সাদ আস-সাঈদী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি আমার জন্য তার দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী অংশ এবং তার দুই পায়ের মধ্যবর্তী অংশের জিম্মাদার হবে, আমি তার জন্য জান্নাতের জিম্মাদার হব।»
(খণ্ড: ১) আস-সামত ওয়া আদাবুল লিসান (পৃষ্ঠা: ٤٤)
4 - حَدَّثَنَا أَبُو مُسْلِمٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ ⦗ص: 45⦘، أَخْبَرَنِي أَبِي وَعَمِّي، عَنْ جَدِّي، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ أَكْثَرِ مَا يُدْخِلُ النَّاسَ الْجَنَّةَ؟ قَالَ: «تَقْوَى اللَّهِ، وَحُسْنُ الْخُلُقِ» ، وَسُئِلَ عَنْ أَكْثَرِ مَا يُدْخِلُ النَّاسَ النَّارَ، قَالَ: " الْأَجْوَفَانِ: الْفَمُ وَالْفَرْجُ "
৪ - আমাদের নিকট আবু মুসলিম আবদুর রহমান ইবনে ইউনুস বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবনে ইদরিস বর্ণনা করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ৪৫⦘, আমাকে আমার পিতা ও আমার চাচা আমার দাদা সূত্রে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এমন বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো যা মানুষকে সবচেয়ে বেশি জান্নাতে প্রবেশ করায়? তিনি বললেন: «আল্লাহর তাকওয়া এবং উত্তম চরিত্র»। আর তাঁকে এমন বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো যা মানুষকে সবচেয়ে বেশি জাহান্নামে প্রবেশ করায়? তিনি বললেন: "দুটি ফাঁপা অঙ্গ: মুখ এবং লজ্জাস্থান।"
(খণ্ড: ১) আস-সামত ওয়া আদাবুল লিসান (পৃষ্ঠা: ٤٥)
5 - حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ الْعَسْقَلَانِيُّ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ صَدَقَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَلِيٍّ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ حَبِيبٍ، حَدَّثَنِي أَسْوَدُ بْنُ أَصْرَمَ الْمُحَارِبِيُّ رضي الله عنه قَالَ: قُلْتُ: أَوْصِنِي يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: «أَتَمْلِكُ يَدَكَ؟» قَالَ: قُلْتُ: فَمَا أَمْلِكُ إِذَا لَمْ أَمْلِكْ يَدِي؟ قَالَ: «أَتَمْلِكُ لِسَانَكَ؟» قَالَ: فَمَا أَمْلِكُ إِذَا لَمْ أَمْلِكْ لِسَانِي؟ قَالَ: «فَلَا تَبْسُطْ يَدَكَ إِلَّا إِلَى خَيْرٍ، وَلَا تَقُلْ بِلِسَانِكَ إِلَّا مَعْرُوفًا»
৫ - আমাদের নিকট ইউনুস ইবনে আবদুর রহীম আল-আসকালানি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আমর ইবনে আবি সালামাহ বর্ণনা করেছেন সাদাকাহ ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আলী থেকে, তিনি সুলায়মান ইবনে হাবীব থেকে, আমার নিকট আসওয়াদ ইবনে আসরাম আল-মুহারিবি (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমাকে উপদেশ দিন। তিনি বললেন: «তুমি কি তোমার হাতের মালিক (অর্থাৎ নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম)?» তিনি বলেন: আমি বললাম: আমি যদি আমার হাতেরই মালিক না হই তবে আমি আর কিসের মালিক হব? তিনি বললেন: «তুমি কি তোমার জিহ্বার মালিক?» তিনি বলেন: আমি যদি আমার জিহ্বারই মালিক না হই তবে আমি আর কিসের মালিক হব? তিনি বললেন: «তবে তুমি কল্যাণকর কাজ ছাড়া অন্য কোনো দিকে তোমার হাত প্রসারিত করো না এবং তোমার জিহ্বা দ্বারা ন্যায়সংগত কথা ছাড়া অন্য কিছু বলো না।»
(খণ্ড: ১) আস-সামত ওয়া আদাবুল লিসান (পৃষ্ঠা: ٤٦)
6 - حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَا: حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنِ الْحَكَمِ بْنِ عُتَيْبَةَ، وَحَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ مَيْمُونِ بْنِ أَبِي شَبِيبٍ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ رضي الله عنه قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَنُؤَاخَذُ بِمَا نَقُولُ؟ قَالَ: «ثَكِلَتْكَ أُمُّكَ يَا ابْنَ جَبَلٍ، وَهَلْ يَكُبُّ النَّاسَ فِي النَّارِ عَلَى مَنَاخِرِهِمْ إِلَّا حَصَائِدُ أَلْسِنَتِهِمْ؟» قَالَ حَبِيبٌ فِي هَذَا الْحَدِيثِ: «وَهَلْ تَقُولُ شَيْئًا إِلَّا لَكَ أَوْ عَلَيْكَ»
৬ - আবু খাইসামাহ এবং ইসহাক বিন ইসমাইল আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: জারীর আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আ'মাশ থেকে, তিনি হাকাম বিন উতাইবাহ এবং হাবীব বিন আবু সাবিত থেকে, তিনি মাইমুন বিন আবু শাবীব থেকে, তিনি মু'আজ বিন জাবাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা যা বলি সে কারণে কি আমাদের পাকড়াও করা হবে? তিনি বললেন: «তোমার মা তোমাকে হারাক হে ইবনে জাবাল! মানুষের জিহ্বার উপার্জিত ফসল ছাড়া আর কি কোনো কিছু তাদের নাসারন্ধ্রে ভর করে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করবে?» হাবীব এই হাদিসে (আরও বর্ণনা করেন): «তুমি কি এমন কিছু বলো যা তোমার পক্ষে অথবা তোমার বিপক্ষে যায় না?»
(খণ্ড: ১) আস-সামত ওয়া আদাবুল লিসান (পৃষ্ঠা: ٤٧)
7 - حَدَّثَنِي حَمْزَةُ بْنُ الْعَبَّاسِ، أَخْبَرَنَا عَبْدَانُ بْنُ عُثْمَانَ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، أَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَاعِزٍ، عَنْ سُفْيَانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الثَّقَفِيِّ قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، حَدِّثْنِي بِأَمْرٍ أَعْتَصِمُ بِهِ. قَالَ: " قُلْ: رَبِّيَ اللَّهُ ثُمَّ اسْتَقِمْ ". قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا أَخْوَفُ مَا تَخَافُ عَلَيَّ؟ فَأَخَذَ بِلِسَانِهِ ثُمَّ قَالَ: «هَذَا»
৭ - হামযাহ ইবনুল আব্বাস আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদান ইবনু উসমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মা'মার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যুহরী থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনু মা'ইয থেকে, তিনি সুফিয়ান ইবনু আবদুল্লাহ আস-সাকাফী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমাকে এমন একটি বিষয়ের কথা বলুন যা আমি দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরব। তিনি বললেন: "বল: 'আমার রব আল্লাহ', অতঃপর অবিচল থাক।" তিনি বলেন, আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি আমার ওপর সবচেয়ে বেশি কিসের আশঙ্কা করেন? তখন তিনি নিজের জিহ্বা ধরলেন এবং বললেন: "এটির।"
(খণ্ড: ১) আস-সামত ওয়া আদাবুল লিসান (পৃষ্ঠা: ٤٧)
8 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ بَهْرَامَ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، حَدَّثَنِي ابْنُ غَنْمٍ: أَنَّ مُعَاذًا رضي الله عنه قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَيُّ الْأَعْمَالِ أَفْضَلُ؟ «فَأَخْرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِسَانَهُ، ثُمَّ وَضَعَ عَلَيْهِ أُصْبُعَيْهِ»
৮ - আলী ইবনে আল-জাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল হামিদ ইবনে বাহরাম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাহর ইবনে হাওশাব থেকে, ইবনে গানাম আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, মু'আয (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) বলেছেন: হে আল্লাহর রাসূল, কোন আমলটি সর্বোত্তম? তখন আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) তাঁর জিহ্বা বের করলেন, অতঃপর তার ওপর তাঁর দুটি আঙুল রাখলেন।
(খণ্ড: ১) আস-সামত ওয়া আদাবুল লিসান (পৃষ্ঠা: ٤٨)
9 - حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مُحَمَّدٍ النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مَسْعَدَةَ الْبَاهِلِيُّ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا يَسْتَقِيمُ إِيمَانُ عَبْدٍ حَتَّى يَسْتَقِيمَ قَلْبُهُ، وَلَا يَسْتَقِيمُ قَلْبُهُ حَتَّى يَسْتَقِيمَ لِسَانُهُ، وَلَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ رَجُلٌ لَا يَأْمَنُ جَارُهُ بَوَائِقَهُ»
৯ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর ইবনু মুহাম্মাদ আন-নাক্বিদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যাইদ ইবনুল হুবাব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনু মাসআদাহ আল-বাহিলী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাতাদাহ্, আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «কোনো বান্দার ঈমান ততক্ষণ পর্যন্ত সঠিক হয় না, যতক্ষণ না তার অন্তর সঠিক হয়; এবং তার অন্তর ততক্ষণ পর্যন্ত সঠিক হয় না, যতক্ষণ না তার জিহ্বা সঠিক হয়। আর সেই ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যার অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ থাকে না।»
(খণ্ড: ১) আস-সামত ওয়া আদাবুল লিসান (পৃষ্ঠা: ٤٨)
10 - حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ لَهِيعَةَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَمْرٍو، وَعَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو رضي الله عنهما قَالَ: «مَنْ صَمَتَ نَجَا»
১০ - আমাদের নিকট আবু খাইসামাহ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বিন ইয়াযীদ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবনে লাহীআহ থেকে, তিনি ইয়াযীদ বিন আমর থেকে এবং আবু আবদুর রহমান আল-হুবুলী থেকে, তাঁরা আবদুল্লাহ বিন আমর (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "যে নীরব থাকল সে মুক্তি পেল।"
(খণ্ড: ১) আস-সামত ওয়া আদাবুল লিসান (পৃষ্ঠা: ٤٩)
11 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي فُدَيْكٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ حَفْصٍ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَسْلَمَ فَلْيَلْزَمِ الصَّمْتَ»
১১ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হারুন ইবনে আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল ইবনে আবি ফুদাইক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ওমর ইবনে হাফস থেকে, উসমান ইবনে আবদুর রহমান থেকে, যুহরী থেকে, আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি নিরাপদ থাকতে পছন্দ করে, সে যেন নীরবতা অবলম্বন করে»
(খণ্ড: ১) আস-সামত ওয়া আদাবুল লিসান (পৃষ্ঠা: ٤٩)
12 - حَدَّثَنِي عِمْرَانُ بْنُ مُوسَى يَعْنِي الْقَزَّازَ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَبِي الصَّهْبَاءِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ، أُرَاهُ رَفَعَهُ قَالَ: " إِذَا أَصْبَحَ ابْنُ آدَمَ أَصْبَحَتِ الْأَعْضَاءُ كُلُّهَا تُكَفِّرُ اللِّسَانَ تَقُولُ: اتَّقِ اللَّهَ فِينَا، فَإِنَّكَ إِنِ اسْتَقَمْتَ اسْتَقَمْنَا، وَإِنِ اعْوَجَجْتَ اعْوَجَجْنَا "
১২ - ইমরান ইবন মূসা অর্থাৎ আল-কাযযায আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ ইবন যায়দ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবুস সাহবা থেকে, সাঈদ ইবন জুবাইর থেকে, আবু সাঈদ (রাযি.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন—আমার মনে হয় তিনি এটি মারফূ হিসেবে বর্ণনা করেছেন—তিনি বলেন: "আদম সন্তান যখন সকালে উপনীত হয়, তখন শরীরের সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ জিহ্বার সামনে অবনত হয় এবং বলে: আমাদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো, কেননা তুমি যদি সঠিক পথে থাকো তবে আমরাও সঠিক পথে থাকব, আর তুমি যদি বক্রতা অবলম্বন করো তবে আমরাও বক্র হয়ে যাব।"
(খণ্ড: ১) আস-সামত ওয়া আদাবুল লিসান (পৃষ্ঠা: ٥٠)
13 - حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زَبَّانَ بْنِ الْحَكَمِ الطَّائِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ ⦗ص: 51⦘ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رضي الله عنه اطَّلَعَ عَلَى أَبِي بَكْرٍ رضي الله عنه وَهُو يَمُدُّ لِسَانَهُ فَقَالَ: مَا تَصْنَعُ يَا خَلِيفَةَ رَسُولِ اللَّهِ؟ فَقَالَ: إِنَّ هَذَا أَوْرَدَنِي الْمَوَارِدَ، وَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَيْسَ شَيْءٌ مِنَ الْجَسَدِ إِلَّا يَشْكُو إِلَى اللَّهِ اللِّسَانَ عَلَى حِدَّتِهِ»
১৩ - আব্দুর রহমান ইবন যাব্বান ইবনুল হাকাম আত-তাঈ আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, আবদুস সামাদ ⦗পৃষ্ঠা: ৫১⦘ ইবন আব্দুল ওয়ারিস আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি আব্দুল আযীয ইবন মুহাম্মাদ থেকে, তিনি যায়িদ ইবন আসলাম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আবূ বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট আসলেন এবং দেখলেন তিনি তাঁর জিহ্বা টেনে ধরছেন। তখন তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূলের খলীফা! আপনি কী করছেন? তিনি বললেন: নিশ্চয় এটি আমাকে ধ্বংসের স্থানসমূহে উপনীত করেছে। আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «শরীরের প্রতিটি অঙ্গই আল্লাহর নিকট জিহ্বার প্রখরতা সম্পর্কে অভিযোগ করে»
(খণ্ড: ১) আস-সামত ওয়া আদাবুল লিসান (পৃষ্ঠা: ٥٢)
14 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، وَسَعْدَوَيْهِ، وَغَيْرُهُمَا، - وَهَذَا لَفْظُ إِسْحَاقَ بْنِ إِسْمَاعِيلَ -، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ خُنَيْسٍ، قَالَ: دَخَلْنَا عَلَى سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ نَعُودُهُ، فَدَخَلَ عَلَيْهِ سَعِيدُ بْنُ حَسَّانَ، فَقَالَ سُفْيَانُ: الْحَدِيثُ الَّذِي حَدَّثْتَنِي بِهِ عَنْ أُمِّ صَالِحٍ، عَنْ صَفِيَّةَ بِنْتِ شَيْبَةَ، عَنْ أُمِّ حَبِيبَةَ رضي الله عنها قَالَتْ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «كُلُّ كَلَامِ ابْنِ آدَمَ هُوَ عَلَيْهِ إِلَّا أَمْرًا بِمَعْرُوفٍ، أَوْ نَهْيًا عَنْ مُنْكَرٍ، أَوْ ذِكْرًا لِلَّهِ» قَالَ: فَقَالَ رَجُلٌ: مَا أَشَدَّ هَذَا الْحَدِيثَ. قَالَ: فَقَالَ سُفْيَانُ: " وَأَيْنَ شِدَّتُهُ؟ أَلَيْسَ يَقُولُ: {يَوْمَ يَقُومُ الرُّوحُ وَالْمَلَائِكَةُ صَفًّا لَا يَتَكَلَّمُونَ إِلَّا مَنْ أَذِنَ لَهُ الرَّحْمَنُ وَقَالَ صَوَابًا} [النبأ: 38] ؟ أَلَيْسَ يَقُولُ اللَّهُ: {لَا خَيْرَ فِي كَثِيرٍ مِنْ نَجْوَاهُمْ} [النساء: 114] إِلَّا مَنْ أَمَرَ بِصَدَقَةٍ أَوْ مَعْرُوفٍ أَوْ إِصْلَاحٍ بَيْنَ النَّاسِ؟ أَلَيْسَ اللَّهُ عز وجل يَقُولُ: {وَلَا تَنْفَعُ الشَّفَاعَةُ عِنْدَهُ إِلَّا لِمَنْ أَذِنَ لَهُ حَتَّى إِذَا فُزِّعَ عَنْ قُلُوبِهِمْ قَالُوا مَاذَا قَالَ رَبُّكُمْ قَالُوا الْحَقَّ وَهُوَ الْعَلِيُّ الْكَبِيرُ} [سبأ: 23] "
১৪ - ইসহাক বিন ইসমাইল, সাদওয়াইহ এবং আরও অনেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন - আর এটি ইসহাক বিন ইসমাইলের শব্দবিন্যাস -, তারা মুহাম্মদ বিন ইয়াজিদ বিন খুনাইস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা সুফিয়ান সাওরিকে দেখতে (অসুস্থ অবস্থায় দেখতে) তাঁর নিকট প্রবেশ করলাম। তখন সাঈদ বিন হাসসান তাঁর নিকট প্রবেশ করলেন। সুফিয়ান বললেন: সেই হাদিসটি যা তুমি আমার নিকট উম্মে সালিহ থেকে, তিনি সাফিয়্যাহ বিনতে শাইবাহ থেকে, তিনি উম্মে হাবিবা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেছিলে, তিনি বলেন: নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) বলেছেন: «আদম সন্তানের প্রতিটি কথাই তার বিপক্ষে যাবে, কেবল সৎকাজের আদেশ, অসৎকাজ থেকে নিষেধ অথবা আল্লাহর জিকির ব্যতীত।» তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: তখন এক ব্যক্তি বলল: এই হাদিসটি কতই না কঠোর! তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: তখন সুফিয়ান বললেন: "আর এর কঠোরতা কোথায়? তিনি কি বলেননি: {যেদিন রূহ ও ফেরেশতারা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াবে, তারা কথা বলবে না, তবে যাকে পরম দয়াময় অনুমতি দেবেন সে ব্যতীত, এবং সে সঠিক কথা বলবে} [আন-নাবা: ৩৮]? আল্লাহ কি বলেননি: {তাদের অধিকাংশ গোপন পরামর্শে কোনো কল্যাণ নেই; তবে যে ব্যক্তি সদকা, সৎকাজ কিংবা মানুষের মধ্যে বিবাদ মিমাংসার নির্দেশ দেয় (তার কথা ভিন্ন)} [আন-নিসা: ১১৪]? মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ কি বলেননি: {যাকে তিনি অনুমতি দেন সে ব্যতীত তাঁর নিকট কোনো সুপারিশ ফলপ্রসূ হবে না; এমনকি যখন তাদের অন্তর থেকে আতঙ্ক দূর করা হবে, তখন তারা বলবে, 'তোমাদের রব কী বলেছেন?' তারা বলবে, 'তিনি সত্য বলেছেন, আর তিনিই সমুচ্চ, মহান'} [সাবা: ২৩]।"
(খণ্ড: ১) আস-সামত ওয়া আদাবুল লিসান (পৃষ্ঠা: ٥٢)
15 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ قَالَ: " قَالَ عِيسَى عليه السلام: طُوبَى عَلَى مَنْ بَكَى عَلَى خَطِيئَتِهِ، وَخَزَنَ لِسَانَهُ، وَوَسِعَهُ بَيْتُهُ "
১৫ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবনে ইসমাইল, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ওয়াকি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান, তিনি মানসুর থেকে, তিনি সালিম ইবনে আবিল জাদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "ঈসা আলাইহিস সালাম বলেছেন: সেই ব্যক্তির জন্য সুসংবাদ, যে নিজের পাপের জন্য ক্রন্দন করে, নিজের জিহ্বাকে সংযত রাখে এবং যার নিজ গৃহ তার জন্য প্রশস্ত হয়।"
(খণ্ড: ১) আস-সামত ওয়া আদাবুল লিসান (পৃষ্ঠা: ٥٣)
16 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، وَأَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ حَيَّانَ، عَنْ عَنْبَسِ بْنِ عُقْبَةَ التَّيْمِيِّ قَالَ: قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ رضي الله عنه: " وَالَّذِي لَا إِلَهَ غَيْرُهُ مَا عَلَى الْأَرْضِ شَيْءٌ أَفْقَرَ - وَقَالَ أَبُو مُعَاوِيَةَ: أَحْوَجَ - إِلَى طُولِ سِجْنٍ مِنْ لِسَانٍ "
১৬ - আমাদের নিকট ইসহাক বিন ইসমাঈল হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি জারীর ও আবু মুয়াবিয়া থেকে, তারা আমাশ থেকে, তিনি ইয়াযীদ বিন হাইয়ান থেকে, তিনি আমবাস বিন উকবাহ আত-তাইমী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: "সেই সত্তার শপথ, যিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই, ভূপৃষ্ঠে জিহ্বার চেয়ে দীর্ঘ কারাবাসের অধিক মুখাপেক্ষী —আর আবু মুয়াবিয়া ‘অধিক মুখাপেক্ষী’ শব্দ ব্যবহার করেছেন— এমন আর কিছুই নেই।"
(খণ্ড: ১) আস-সামত ওয়া আদাবুল লিসান (পৃষ্ঠা: ٥٣)
17 - حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُلَيْمُ بْنُ أَخْضَرَ، حَدَّثَنَا ابْنُ عَوْنٍ، حَدَّثَنِي عَطَاءٌ الْبَزَّازُ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه قَالَ: «لَا يَتَّقِي اللَّهَ عز وجل رَجُلٌ أَوْ أَحَدٌ حَقَّ تُقَاتِهِ حَتَّى يَخْزِنَ مِنْ لِسَانِهِ»
১৭ - আমাদের নিকট উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট সুলাইম ইবনে আখদার বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইবনে আওন বর্ণনা করেছেন, আমার নিকট আতা আল-বাজ্জার বর্ণনা করেছেন আনাস ইবনে মালিক (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে, তিনি বলেন: «কোনো ব্যক্তি বা কোনো মানুষ মহাপরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহকে ততক্ষণ পর্যন্ত যথাযথভাবে ভয় করতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার জিহ্বাকে সংযত করে»
(খণ্ড: ১) আস-সামত ওয়া আদাবুল লিসান (পৃষ্ঠা: ٥٣)
18 - حَدَّثَنَا أَبُو عُمَرَ التَّمِيمِيُّ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ أَبِي بَكْرٍ النَّهْشَلِيِّ، عَنِ ⦗ص: 54⦘ الْأَعْمَشِ، عَنْ شَقِيقٍ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رضي الله عنه، أَنَّهُ كَانَ عَلَى الصَّفَا يُلَبِّي وَيَقُولُ: يَا لِسَانُ، قُلْ خَيْرًا تَغْنَمْ، أَوْ أَنْصِتْ تَسْلَمْ، مِنْ قَبْلِ أَنْ تَنْدَمَ، قَالُوا: يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ، هَذَا شَيْءٌ تَقُولُهُ، أَوْ شَيْءٌ سَمِعْتَهُ؟ قَالَ: لَا، بَلُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «إِنَّ أَكْثَرَ خَطَايَا ابْنِ آدَمَ فِي لِسَانِهِ»
১৮ - আবু উমর আত-তামিমি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু বকর আন-নাহশালি থেকে, ⦗পৃষ্ঠা: ৫৪⦘ তিনি আল-আমাশ থেকে, তিনি শাকিক থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি সাফা পাহাড়ের ওপর তালবিয়া পাঠ করছিলেন এবং বলছিলেন: হে জবান! ভালো কথা বলো, লাভবান হবে; অথবা নীরব থাকো, নিরাপদ থাকবে, অনুতপ্ত হওয়ার পূর্বেই। তারা বলল: হে আবু আব্দুর রহমান! এটি কি আপনার নিজের কোনো কথা, নাকি আপনি এটি শুনেছেন? তিনি বললেন: না, বরং আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই আদম সন্তানের অধিকাংশ গুনাহ তার জবানের মধ্যে নিহিত।"
(খণ্ড: ১) আস-সামত ওয়া আদাবুল লিসান (পৃষ্ঠা: ٥٥)
19 - حَدَّثَنَا الْفُضَيْلُ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ، وَعَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ، وَأَحْمَدُ بْنُ عِمْرَانَ الْأَخْنَسِيُّ، قَالُوا: حَدَّثَنَا النَّضْرُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ قَيْسٍ قَالَ: رَأَيْتُ أَبَا بَكْرٍ رضي الله عنه آخِذًا بِطَرَفِ لِسَانِهِ وَهُوَ يَقُولُ: «هَذَا أَوْرَدَنِي الْمَوَارِدَ»
১৯ - আমাদের নিকট ফুযাইল ইবন আব্দুল ওয়াহহাব, আলী ইবনুল জা'দ এবং আহমাদ ইবনে ইমরান আল-আখনাসি বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট নাযর ইবনে ইসমাইল বর্ণনা করেছেন, তিনি ইসমাইল ইবনে আবি খালিদ থেকে, তিনি কাইস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে তাঁর জিহ্বার অগ্রভাগ ধরে রাখা অবস্থায় দেখেছি এবং তিনি বলছিলেন: «এটিই আমাকে বিপদসংকুল স্থানে নিপতিত করেছে»
(খণ্ড: ১) আস-সামত ওয়া আদাবুল লিসান (পৃষ্ঠা: ٥٥)
20 - حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِيهِ رضي الله عنهما قَالَ: أَخَذَ أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ رضي الله عنه لِسَانَهُ وَقَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ وَقَاهُ اللَّهُ عز وجل شَرَّ مَا بَيْنَ لَحْيَيْهِ وَمَا بَيْنَ رِجْلَيْهِ دَخَلَ الْجَنَّةَ»
২০ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু খাইসামাহ, তিনি বর্ণনা করেছেন ওকী’ থেকে, তিনি সুফিয়ান আস-সাওরী থেকে, তিনি যায়দ বিন আসলাম থেকে, তিনি তাঁর পিতা (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হন) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবু বকর আস-সিদ্দিক (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন) তাঁর জিহ্বা ধরলেন এবং বললেন: আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বলেছেন: «যাকে আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী তাঁর দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী জিনিসের অনিষ্ট এবং তাঁর দুই পায়ের মধ্যবর্তী জিনিসের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করবেন, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।»
(খণ্ড: ১) আস-সামত ওয়া আদাবুল লিসান (পৃষ্ঠা: ٥٥)
21 - حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا شَبَابَةُ بْنُ سَوَّارٍ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ أَبِي إِبْرَاهِيمَ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ كَفَّ لِسَانَهُ سَتَرَ اللَّهُ عز وجل عَوْرَتَهُ، وَمَنْ مَلَكَ غَضَبَهُ وَقَاهُ اللَّهُ عز وجل عَذَابَهُ، وَمَنِ اعْتَذَرَ إِلَى اللَّهِ عز وجل قَبِلَ عُذْرَهُ»
২১ - জুহাইর ইবন হারব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি শাবাবাহ ইবন সাউওয়ার থেকে, তিনি মুগীরাহ ইবন মুসলিম থেকে, তিনি হিশাম ইবন আবি ইবরাহীম থেকে, তিনি ইবন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি নিজের জিহ্বা সংযত রাখবে, মহান আল্লাহ তার দোষ-ত্রুটি ঢেকে রাখবেন। যে ব্যক্তি নিজের ক্রোধ নিয়ন্ত্রণ করবে, মহান আল্লাহ তাকে তাঁর আজাব থেকে রক্ষা করবেন। আর যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর নিকট ওজর পেশ করবে, তিনি তার ওজর কবুল করবেন।»
(খণ্ড: ১) আস-সামত ওয়া আদাবুল লিসান (পৃষ্ঠা: ٥٦)
22 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ: أَنَّ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ، رضي الله عنه قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَوْصِنِي. قَالَ: «اعْبُدِ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ، وَاعْدُدْ نَفْسَكَ فِي الْمَوْتَى، وَإِنْ شِئْتَ أَنْبَأْتُكَ بِمَا هُوَ أَمْلَكُ بِكَ مِنْ هَذَا كُلِّهِ» قَالَ: «هَذَا» وَأَتَى بِيَدِهِ إِلَى لِسَانِهِ
২২ - আহমাদ ইবনে মানী‘ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইয়াযীদ ইবনে হারূন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে আমর আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবূ সালামাহ থেকে বর্ণিত যে, মুআয ইবনে জাবাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমাকে উপদেশ দিন। তিনি বললেন: «তুমি আল্লাহর ইবাদত এমনভাবে করো যেন তুমি তাঁকে দেখতে পাচ্ছ, এবং নিজেকে মৃতদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করো। আর তুমি চাইলে আমি তোমাকে এমন বিষয় সম্পর্কে সংবাদ দিব যা এই সবকিছুর চেয়ে তোমার অধিক আয়ত্তে থাকা আবশ্যক।’ তিনি বললেন: ‘এটি’, এবং তিনি তাঁর হাত নিজের জিহ্বার দিকে নিয়ে গেলেন।
(খণ্ড: ১) আস-সামত ওয়া আদাবুল লিসান (পৃষ্ঠা: ٥٦)
23 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا أَبُو نَصْرٍ التَّمَّارُ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رضي الله عنه قَالَ: «مَا شَيْءٌ أَحَقَّ بِطُولِ سِجْنٍ مِنَ اللِّسَانِ»
২৩ - আমাদের নিকট আহমাদ ইবন মানী‘ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবু নাসর আত-তাম্মার হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাম্মাদ হাদীস বর্ণনা করেছেন আসিম থেকে, তিনি আবু ওয়াইল থেকে, তিনি ইবন মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «দীর্ঘ কারাবাসের জন্য জিহ্বার চেয়ে অধিক হকদার আর কোনো বস্তু নেই।»
(খণ্ড: ১) আস-সামত ওয়া আদাবুল লিসান (পৃষ্ঠা: ٥٧)
24 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ وَاصِلٍ أَبُو عُبَيْدَةَ الْحَدَّادُ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ هِلَالٍ، قَالَ: قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو: «دَعْ مَا لَسْتَ مِنْهُ فِي شَيْءٍ، وَلَا تَنْطِقْ فِيمَا لَا يَعْنِيكَ، وَاخْزِنْ لِسَانَكَ كَمَا تَخْزِنُ وَرِقَكَ»
২৪ - আহমাদ ইবনে মানী' আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে ওয়াসিল আবু উবায়দাহ আল-হাদ্দাদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, সুলায়মান ইবনুল মুগীরাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হুমাইদ ইবনে হিলাল থেকে, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনে আমর বলেছেন: «সেই সব বিষয় বর্জন করো যার সাথে তোমার কোনো সংশ্রব নেই, এবং এমন বিষয়ে কথা বলো না যা তোমার কোনো প্রয়োজনে আসে না। আর তোমার জিহ্বাকে সেভাবেই সংরক্ষণ করো যেভাবে তুমি তোমার অর্থকড়ি সংরক্ষণ করো।»
(খণ্ড: ১) আস-সামত ওয়া আদাবুল লিসান (পৃষ্ঠা: ٥٧)
25 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ، أَخْبَرَنَا الْمَسْعُودِيُّ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ هَمْدَانَ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، قَالَ: قُلْتُ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو: حَدِّثْنِي مَا سَمِعْتَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَدَعِ الْكُتُبَ؛ فَإِنِّي لَا أَعْبَأُ بِهَا شَيْئًا. فَقَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «الْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ، وَالْمُهَاجِرُ مَنْ هَجَرَ مَا كَرِهَ رَبُّهُ»
২৫ - আমাদের নিকট আলী ইবনুল জা'দ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-মাসউদী, তিনি হামদানের জনৈক ব্যক্তি থেকে, তিনি আশ-শা’বী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনে আমরকে বললাম: আপনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট থেকে যা শুনেছেন তা আমাকে বর্ণনা করুন এবং কিতাবসমূহ (পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবসমূহ) ত্যাগ করুন; কেননা আমি সেগুলোর কোনো পরোয়া করি না। তখন তিনি বললেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: «প্রকৃত মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমগণ নিরাপদ থাকে। আর প্রকৃত মুহাজির সেই ব্যক্তি, যে তা বর্জন করে যা তার রব অপছন্দ করেন।»
(খণ্ড: ১) আস-সামত ওয়া আদাবুল লিসান (পৃষ্ঠা: ٥٧)
26 - حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ هِلَالٍ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ كَسَبَ طَيِّبًا، وَعَمِلَ فِي سُنَّةٍ، وَأَمِنَ النَّاسُ بَوَائِقَهُ دَخَلَ الْجَنَّةَ»
২৬ - আল-আব্বাস আল-আনবারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া বিন আবু বুকাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসরাঈল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি হিলাল থেকে, তিনি আবু বিশর থেকে, তিনি আবু ওয়ায়েল থেকে এবং তিনি আবু সাঈদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি পবিত্র উপায়ে উপার্জন করল, সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করল এবং মানুষ যার অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকল, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।"
(খণ্ড: ১) আস-সামত ওয়া আদাবুল লিসান (পৃষ্ঠা: ٥٨)
27 - حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ سُلَيْمٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِأَيْسَرِ الْعِبَادَةِ وَأَهْوَنِهَا عَلَى الْبَدَنِ: الصَّمْتُ وَحُسْنُ الْخُلُقِ "
২৭ - আমাদের নিকট হারুন ইবনে আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইবনে আবি ফুদাইক বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে আবি বকর থেকে, তিনি সাফওয়ান ইবনে সুলাইম রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি কি তোমাদের সবচেয়ে সহজ ইবাদত এবং যা শরীরের জন্য সবচেয়ে হালকা, সে সম্পর্কে জানাব না? তা হলো: নীরবতা এবং সুন্দর চরিত্র।"
(খণ্ড: ১) আস-সামত ওয়া আদাবুল লিসান (পৃষ্ঠা: ٥٨)
28 - حَدَّثَنَا أَبُو نَصْرٍ التَّمَّارُ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ، وَحُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «الْمُؤْمِنُ مَنْ أَمِنَهُ النَّاسُ، وَالْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ، وَالْمُهَاجِرُ مَنْ هَجَرَ السُّوءَ، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ عَبْدٌ لَا يَأْمَنُ جَارُهُ بَوَائِقَهُ»
২৮ - আমাদের নিকট আবু নাসর আত-তাম্মার বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হাম্মাদ ইবনে সালামাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি আলী ইবনে যায়দ ও হুমাইদ থেকে, তাঁরা আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: «মুমিন সেই ব্যক্তি যার থেকে মানুষ নিরাপদ থাকে, আর মুসলিম সেই ব্যক্তি যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে, আর মুহাজির সেই ব্যক্তি যে মন্দ কাজ বর্জন করে। আর যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম, কোনো বান্দা জান্নাতে প্রবেশ করবে না যার প্রতিবেশী তার অন্যায় ও উপদ্রব থেকে নিরাপদ নয়।»