(খণ্ড: ১) আশ-শারীয়াহ লিল আজুররী (পৃষ্ঠা: -)
الشريعة للآجري   (الآجري)

القسم: كتب السنة


الكتاب: الشريعة

المؤلف: أبو بكر محمد بن الحسين بن عبد الله الآجُرِّيُّ البغدادي (ت 360 هـ)

المحقق: الدكتور عبد الله بن عمر بن سليمان الدميجي

الناشر: دار الوطن - الرياض

الطبعة: الثانية، 1420 هـ - 1999 م

عدد الأجزاء: 5

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-আজুররির আশ-শারীয়াহ   (আল-আজুররি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: আশ-শারীয়াহ

লেখক: আবু বকর মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন ইবনে আবদুল্লাহ আল-আজুররি আল-বাগদাদি (মৃত্যু ৩৬০ হিজরি)

সম্পাদক: ডক্টর আবদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনে সুলাইমান আদ-দুমাইজি

প্রকাশক: দারুল ওয়াতান - রিয়াদ

সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৪২০ হিজরি - ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৫

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ١) আশ-শারীয়াহ লিল আজুররী (পৃষ্ঠা: ٢٦٧)
‌‌الشَّرِيعَةُ لِلْآجُرِّيِّ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ النَّبِيِّ، وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ وَصَحْبِهِ وَسَلِّمْ، عُمَرُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ عَفَا اللَّهُ عَنْهُ، أَخْبَرنَا الْفَقِيهُ الْإِمَاُم أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ مُقْبِلٍ أَيَّدَهُ اللَّهُ وَسَدَّدَهُ قَالَ: أَنَا الْفَقِيهُ الْإِمَامُ أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ الْبُرَيْهِيُّ رحمه الله قَالَ: أَخْبَرَنَا الْفَقِيهُ الْحَافِظُ أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَبِي بَكْرِ بْنُ حِمْيَرِ بْنِ تًبَّعِ بْنِ فَضْلٍ قَالَ: أَنَا الشَّيْخُ الْفَقِيهُ أَسْعَدُ بْنُ خَيْرِ بْنِ يَحْيَى بْنِ عِيسَى بْنِ مُلَامِسٍ رحمه الله عَنْ أَبِيهِ خَيْرِ بْنِ يَحْيَى قَالَ: أَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْبَزَّارُ الْمَكِّيُّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْحُسَيْنِ الْآجُرِّيِّ - رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِ -، قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ الْآجُرِّيُّ رحمه الله: أَحَقُّ مَا ابْتَدَأْتُ بِهِ الْكَلَامَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ مَوْلَانا الْكَرِيمِ، وَأَجَلُّ الْحَمْدِ مَا حَمِدَ بِهِ الْكَرِيمُ نَفْسَهُ، فَأَنَا أَحْمَدُهُ بِهِ: {الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ} [سورة: الفاتحة] ، وَ {الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ، وَلَهُ الْحَمْدُ فِي الْآخِرَةِ، وَهُوَ الْحَكِيمُ الْخَبِيرُ، يَعْلَمُ مَا يَلِجُ فِي الْأَرْضِ، وَمَا يَخْرُجُ مِنْهَا، وَمَا يَنْزِلُ مِنَ السَّمَاءِ، وَمَا يَعْرُجُ فِيهَا، وَهُوَ الرَّحِيمُ الْغَفُورُ} [سورة: سبأ، آية رقم: 2] ، وَ {الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَجَعَلَ الظُّلُمَاتِ وَالنُّورَ، ثُمَّ الَّذِينَ كَفُرُوا بِرَبِّهِمْ يَعْدِلُونَ} [سورة: الأنعام، آية رقم: 1] ، وَ {الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي لَمْ يَتَّخِذْ وَلَدًا، وَلَمْ يَكُنْ لَهُ شَرِيكٌ فِي الْمُلْكِ، وَلَمْ يَكُنْ لَهُ وَلِيٌّ مِنَ الذُّلِّ، وَكَبِّرْهُ تَكْبِيرًا} [سورة: الإسراء، آية رقم: 111] ، أَحْمَدُهُ شُكْرًا لِمَا تَفَضَّلَ بِهِ عَلَيْنَا مِنْ نِعَمِهِ الدَّائِمَةِ، وَأَيَادِيهِ الْقَدِيمَةِ، حَمْدَ مَنْ يَعْلَمُ أَنَّ مَوْلَاهُ الْكَرِيمَ يُحِبُّ الْحَمْدَ، فَلَهُ الْحَمْدُ عَلَى كُلِّ حَالٍ، وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى الْبَشِيرِ النَّذِيرِ السِّرَاجِ الْمُنِيرِ، سَيِّدِ وَلَدِ آدَمَ عليه السلام، الْمَذْكُورِ نَعْتُهُ فِي التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ، الْخَاتِمِ لِجَمِيعِ الْأَنْبِيَاءِ، ذَلِكَ مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم وَعَلى آلِهِ الطَّيِّبِينَ، وَعَلَى أَصْحَابِهِ الْمُنْتَخَبِينَ، وَعَلَى أَزْوَاجِهِ أُمَّهَاتِ الْمُؤْمِنِينَ، يَرْزُقُنَا اللَّهُ وَإِيَّاكُمُ التَّمَسُّكَ بِطَاعَتِهِ، وَبِطَاعَةِ رَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم، وَبِمَا كَانَ عَلَيْهِ صِحَابَتُهُ وَالتَّابِعُونَ لَهُمْ بِإِحْسَانٍ، وَبِمَا كَانَ عَلَيْهِ الْأَئِمَّةُ مِنْ عُلَمَاءِ الْمُسْلِمِينَ، وَعَصَمَنَا وَإِيَّاكُمْ مِنَ الْأَهْوَاءِ الْمُضِلَّةِ، إِنَّهُ سَمِيعٌ قَرِيبٌ
আল-আজুররি বিরচিত আশ-শারিয়াহ। পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর আল্লাহ রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন আমাদের নেতা নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সাহাবীদের ওপর। ওমর ইবনে ইব্রাহিম (আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, ফকিহ ইমাম আবুল হাসান আহমদ ইবনে মুকবিল (আল্লাহ তাকে সাহায্য করুন ও সঠিক পথে পরিচালিত করুন) বলেছেন: আমাকে ফকিহ ইমাম আবুল হাসান আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ আল-বুরাইহি (রহ.) জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ফকিহ হাফেজ আবুল হাসান আলী ইবনে আবি বকর ইবনে হিমইয়ার ইবনে তাব্বা ইবনে ফদল, তিনি বলেন: আমাকে শায়খ ফকিহ আসআদ ইবনে খায়র ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে ঈসা ইবনে মুলামিস (রহ.) তাঁর পিতা খায়র ইবনে ইয়াহইয়া থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে আবু বকর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-বাজার আল-মাক্কি মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন আল-আজুররি (রহ.)-এর সূত্রে সংবাদ দিয়েছেন। মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন আল-আজুররি (রহ.) বলেন: আলোচনার শুরুতে যা বলা সবচেয়ে বেশি যুক্তিযুক্ত তা হলো: আমাদের মহীয়ান অভিভাবক আল্লাহর প্রশংসা। আর সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ প্রশংসা হলো যার মাধ্যমে মহান আল্লাহ নিজেই নিজের প্রশংসা করেছেন। সুতরাং আমি তাঁর প্রশংসা করছি সেভাবেই: {সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক। পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু। বিচার দিবসের মালিক।} [সুরা আল-ফাতিহা], এবং {সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই জন্য, আসমানসমূহে ও জমিনে যা কিছু আছে সব তাঁরই। পরকালেও সমস্ত প্রশংসা তাঁরই। তিনি প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ। জমিনে যা প্রবেশ করে এবং তা থেকে যা নির্গত হয়, আকাশ থেকে যা অবতীর্ণ হয় এবং তাতে যা আরোহণ করে, তিনি তা জানেন। তিনি পরম দয়ালু, অতি ক্ষমাশীল।} [সুরা সাবা, আয়াত: ১-২], এবং {সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং অন্ধকার ও আলো তৈরি করেছেন। তবুও যারা কুফরি করে তারা তাদের প্রতিপালকের সমকক্ষ নির্ধারণ করে।} [সুরা আল-আনআম, আয়াত: ১], এবং {বলুন, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি, রাজত্বে যাঁর কোনো অংশীদার নেই এবং যিনি হীনতা থেকে রক্ষার জন্য কোনো অভিভাবকের মুখাপেক্ষী নন। সুতরাং আপনি তাঁর মহিমা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বর্ণনা করুন।} [সুরা আল-ইসরা, আয়াত: ১১১]। আমি তাঁর প্রশংসা করি তাঁর পক্ষ থেকে আমাদের ওপর বর্ষিত স্থায়ী নেয়ামত এবং তাঁর আদি অনুগ্রহসমূহের শুকরিয়া স্বরূপ—এমন ব্যক্তির প্রশংসা যে জানে যে তার মহীয়ান অভিভাবক প্রশংসা পছন্দ করেন। সুতরাং সর্বাবস্থায় তাঁরই প্রশংসা। আর আল্লাহ রহমত বর্ষণ করুন সুসংবাদদাতা, সতর্ককারী ও প্রদীপ্ত চেরাগের ওপর, যিনি আদম সন্তানদের নেতা (আলাইহিস সালাম), যাঁর গুণাবলি তাওরাত ও ইঞ্জিলে বর্ণিত হয়েছে এবং যিনি সকল নবীর সমাপ্তিদানকারী; তিনি হলেন মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। আর রহমত বর্ষিত হোক তাঁর পবিত্র পরিবারবর্গ, তাঁর নির্বাচিত সাহাবীগণ এবং মুমিনদের জননী তাঁর পত্নীদের ওপর। আল্লাহ আমাদের এবং আপনাদের তাঁর আনুগত্যের ওপর এবং তাঁর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আনুগত্যের ওপর সুদৃঢ় থাকার তাওফিক দান করুন, আর তাঁর সাহাবী ও নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী তাবিঈন এবং মুসলিম আলেমদের মধ্য থেকে ইমামগণ যে বিষয়ের ওপর ছিলেন তার ওপর প্রতিষ্ঠিত রাখুন। আর তিনি আমাদের ও আপনাদের পথভ্রষ্ট প্রবৃত্তি থেকে রক্ষা করুন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও অতি নিকটবর্তী।
(খণ্ড: ١) আশ-শারীয়াহ লিল আজুররী (পৃষ্ঠা: ٢٦٨)
أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْفِرْيَابِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ قَالَ: ثنا سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ الْحِمْصِيُّ قَالَ: ثنا مُعَانُ بْنُ رِفَاعَةَ السَّلَامِيُّ قَالَ: نا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْعُذْرِيُّ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «يَتَحَمَّلُ هَذَا الْعِلْمَ مِنْ كُلِّ خَلَفٍ عُدُولُهُ يَنْفُونَ عَنْهُ تَحْرِيفَ الْغَالِينَ، وَانْتِحَالَ الْمُبْطِلِينَ، وَتَأْوِيلَ الْجَاهِلِينَ»
আবু বকর জাফর বিন মুহাম্মদ আল-ফিরইয়াবি আমাদের অবহিত করেছেন, তিনি বলেছেন: কুতাইবা বিন সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: সাঈদ বিন আব্দুল জব্বার আল-হিমসি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: মুআন বিন রিফাআহ আস-সালামি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ইব্রাহিম বিন আব্দুর রহমান আল-উযরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «প্রত্যেক প্রজন্মের নির্ভরযোগ্য ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিরাই এই ইলম বহন করবে; তারা তা থেকে সীমালঙ্ঘনকারীদের বিকৃতি, বাতিলপন্থীদের মিথ্যা দাবি এবং মূর্খদের অপব্যাখ্যা দূর করবে»।
(খণ্ড: ١) আশ-শারীয়াহ লিল আজুররী (পৃষ্ঠা: ٢٦٩)
أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عَبْدِ الْجَبَّارِ الصُّوفِيُّ قَالَ: ثنا أَبُو الرَّبِيعِ الزَّهْرَانِيُّ قَالَ: نا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ بَقِيَّةَ بْنِ الْوَلِيدِ، عَنْ مُعَانِ بْنِ رِفَاعَةَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْعُذْرِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يَحْمِلُ هَذَا الْعِلْمَ مِنْ كُلِّ خَلَفٍ عُدُولُهُ يَنْفُونَ عَنْهُ تَحْرِيفَ الْغَالِينَ، وَانْتِحَالَ الْمُبْطِلِينَ، وَتَأْوِيلَ الْجَاهِلِينَ»
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ আহমদ বিন আল-হাসান বিন আব্দুল জাব্বার আল-সুফী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-রাবী‘ আল-যাহরানী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ বিন যায়িদ, বকিয়্যাহ বিন আল-ওয়ালিদ থেকে, তিনি মু‘আন বিন রিফা‘আহ থেকে, তিনি ইবরাহিম বিন আব্দুর রহমান আল-উযরী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «প্রত্যেক প্রজন্মের নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিবর্গ এই জ্ঞান বহন করবেন; তারা তা থেকে অতিবাদীদের বিকৃতি, বাতিলপন্থীদের মিথ্যা দাবি এবং মূর্খদের অপব্যাখ্যা দূর করবেন।»
(খণ্ড: ١) আশ-শারীয়াহ লিল আজুররী (পৃষ্ঠা: ٢٧٠)
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بُكَيْرٍ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ سُلَيْمَانَ، عَنْ عَبْدِ الصَّمَدِ بْنِ مَعْقِلٍ، عَنْ وَهْبِ بْنِ مُنَبِّهٍ قَالَ:: الْفَقِيهُ الْعَفِيفُ الزَّاهِدُ الْمُتَمَسِّكُ بِالسُّنَّةِ: أُولَئِكَ أَتْبَاعُ الْأَنْبِيَاءِ فِي كُلِّ زَمَانٍ قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ: جَعَلَنَا اللَّهُ وَإِيَّاكُمْ مِمَّنْ تَحْيَا بِهِمُ السُّنَنُ، وَتَمُوتُ بِهِمُ الْبِدَعُ، وَتَقْوَى بِهِمْ قُلُوبُ أَهْلِ الْحَقِّ، وَتَنْقَمِعُ بِهِمْ نُفُوسُ أَهْلِ الْأَهْوَاءِ، بِمَنِّهِ وَكَرَمِهِ

মুহাম্মদ ইবনে বুকাঈর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জাফর ইবনে সুলাইমান থেকে, তিনি আবদুস সামাদ ইবনে মাকিল থেকে এবং তিনি ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "পবিত্র ও আত্মসংযমী ফকিহ, পার্থিব বিমুখ যাহিদ এবং সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধারণকারী ব্যক্তিগণই প্রতিটি যুগে নবীদের প্রকৃত অনুসারী।"

মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন বলেন: আল্লাহ আমাদের এবং আপনাদেরকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন যাদের মাধ্যমে সুন্নাহসমূহ পুনর্জীবিত হয় ও বিদআতসমূহ বিলুপ্ত হয়, যাদের দ্বারা সত্যপন্থীদের অন্তরসমূহ শক্তিশালী হয় এবং প্রবৃত্তিপূজারীদের আত্মা অবদমিত হয়—তাঁরই বিশেষ অনুগ্রহ ও মহানুভবতায়।

(খণ্ড: ١) আশ-শারীয়াহ লিল আজুররী (পৃষ্ঠা: ٢٧٠)
1 -‌‌ بَابُ ذِكْرِ الْأَمْرِ بِلُزُومِ الْجَمَاعَةِ وَالنَّهْيِ عَنِ الْفُرْقَةِ بَلِ الِاتِّبَاعُ وَتَرْكُ الِابْتِدَاعِ قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ رحمه الله: إِنَّ اللَّهَ عز وجل بِمَنِّهِ وَفَضْلِهِ أَخْبَرَنَا فِي كِتَابِهِ عَمَّنْ تَقَدَّمَ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابَيْنِ الْيَهُودِ وَالنَّصَارَى أَنَّهُمْ إِنَّمَا هَلَكُوا لَمَّا افْتَرَقُوا فِي دِينِهِمْ، وَأَعْلَمَنَا مَوْلَانَا الْكَرِيمُ أَنَّ الَّذِي حَمَلَهُمْ عَلَى الْفُرْقَةِ عَنِ الْجَمَاعَةِ وَالْمَيْلِ إِلَى الْبَاطِلِ الَّذِي نُهُوا عَنْهُ إِنَّمَا هُوَ الْبَغْيُ وَالْحَسَدُ بَعْدَ أَنْ عَلِمُوا مَا لَمْ يَعْلَمْ غَيْرُهُمْ، فَحَمَلَهُمْ شِدَّةُ الْبَغْيِ وَالْحَسَدِ إِلَى أَنْ صَارُوا فِرَقًا فَهَلَكُوا فَحَذَّرَنَا مَوْلَانَا الْكَرِيمُ أَنْ نَكُونَ مِثْلَهُمْ فَنَهْلِكَ كَمَا هَلَكُوا بَلْ أَمَرَنَا عز وجل بِلُزُومِ الْجَمَاعَةِ، وَنَهَانَا عَنِ الْفُرْقَةِ، وَكَذَلِكَ حَذَّرَنَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِنَ الْفُرْقَةِ وَأَمَرَنَا بِالْجَمَاعَةِ، وَكَذَلِكَ حَذَّرَنَا أَئِمَّتُنَا مِمَّنْ سَلَفَ مِنْ عُلَمَاءِ الْمُسْلِمِينَ كُلِّهِمْ يَأْمُرُونَ بِلُزُومِ الْجَمَاعَةِ ، وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْفُرْقَةِ، فَإِنْ قَالَ قَائِلٌ: فَاذْكُرْ لَنَا ذَلِكَ لِنَحْذَرَ مَا تَقُولُهُ، وَاللَّهُ الْمُوَفِّقُ لَنَا إِلَى سَبِيلِ الرَّشَادِ، قِيلَ لَهُ: سَأَذْكُرُ مِنْ ذَلِكَ مَا حَضَرَنِي ذِكْرُهُ مَبْلَغَ عِلْمِيَ الَّذِي عَلَّمَنِيَ اللَّهُ عز وجل، نَصِيحَةً لِإِخْوَانِي مِنْ أَهْلِ الْقُرْآنِ وَأَهْلِ الْحَدِيثِ، وَأَهْلِ الْفِقْهِ وَغَيْرِهِمْ مِنْ سَائِرِ الْمُسْلِمِينَ، وَاللَّهُ الْمُوَفِّقُ لِمَا قَصَدْتُ لَهُ ، وَالْمُعِينُ عَلَيْهِ إِنْ شَاءَ اللَّهُ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى فِي سُورَةِ الْبَقَرَةِ: {كَانَ النَّاسُ أُمَّةً وَاحِدَةً فَبَعَثَ اللَّهُ النَّبِيِّينَ مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ وَأَنْزَلَ مَعَهُمُ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ لِيَحْكُمَ بَيْنَ النَّاسِ فِيمَا اخْتَلَفُوا فِيهِ وَمَا اخْتَلَفَ فِيهِ إِلَّا الَّذِينَ أُوتُوهُ مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَتْهُمُ الْبَيِّنَاتُ بَغْيًا بَيْنَهُمْ فَهَدَى اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا لِمَا اخْتَلَفُوا فِيهِ مِنَ الْحَقِّ بِإِذْنِهِ وَاللَّهُ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} [البقرة: 213] وَقَالَ عز وجل: {تِلْكَ الرُّسُلُ فَضَّلْنَا بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ مِنْهُمْ مَنْ كَلَّمَ اللَّهُ وَرَفَعَ بَعْضَهُمْ دَرَجَاتٍ وَآتَيْنَا عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ الْبَيِّنَاتِ وَأَيَّدْنَاهُ بِرُوحِ الْقُدُسِ وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ مَا اقْتَتَلَ الَّذِينَ مِنْ بَعْدِهِمْ مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَتْهُمُ الْبَيِّنَاتُ، وَلَكِنِ اخْتَلَفُوا فَمِنْهُمْ مَنْ آمَنَ وَمِنْهُمْ مَنْ كَفَرَ وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ مَا اقْتَتَلُوا وَلَكِنَّ اللَّهَ يَفْعَلُ مَا يُرِيدُ} [البقرة: 253] وَقَالَ تَعَالَى فِي سُورَةِ آلِ عِمْرَانَ: {إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ وَمَا اخْتَلَفَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ إِلَّا مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْعِلْمُ بَغْيًا بَيْنَهُمْ وَمَنْ يَكْفُرْ بِآيَاتِ اللَّهِ فَإِنَّ اللَّهَ سَرِيعُ الْحِسَابِ} [آل عمران: 19] وَقَالَ تَعَالَى فِي سُورَةِ الْأَنْعَامِ: {إِنَّ الَّذِينَ فَرَّقُوا دِينَهُمْ وَكَانُوا شِيَعًا لَسْتَ مِنْهُمْ فِي شَيْءٍ إِنَّمَا أَمْرُهُمْ إِلَى اللَّهِ ثُمَّ يُنَبِّئُهُمْ بِمَا كَانُوا يَفْعَلُونَ} [الأنعام: 159] وَقَالَ تَعَالَى فِي سُورَةِ يُونُسَ: {وَلَقَدْ بَوَّأْنَا بَنِي إِسْرَائِيلَ مُبَوَّأَ صِدْقٍ وَرَزَقْنَاهُمْ مِنَ الطَّيِّبَاتِ فَمَا اخْتَلَفُوا حَتَّى جَاءَهُمُ الْعِلْمُ إِنَّ رَبَّكَ يَقْضِي بَيْنَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِيمَا كَانُوا فِيهِ يَخْتَلِفُونَ} [يونس: 93] قَالَ تَعَالَى فِي سُورَةِ حم عسق: {وَمَا تَفَرَّقُوا إِلَّا مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْعِلْمُ بَغْيًا بَيْنَهُمْ وَلَوْلَا كَلِمَةٌ سَبَقَتْ مِنْ رَبِّكَ إِلَى أَجَلٍ مُسَمًّى لَقُضِيَ بَيْنَهُمْ وَإِنَّ الَّذِينَ أُورِثُوا الْكِتَابَ مِنْ بَعْدِهِمْ لَفِي شَكٍّ مِنْهُ مُرِيبٍ} [الشورى: 14] وَقَالَ تَعَالَى فِي سُورَةِ لَمْ يَكُنِ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ قَوْلُهُ تَعَالَى: {وَمَا تَفَرَّقَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ إِلَّا مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَتْهُمُ الْبَيِّنَةُ وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ وَيُقِيمُوا الصَّلَاةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ وَذَلِكَ دِينُ الْقَيِّمَةِ} [البينة: 5] قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ رحمه الله: فَأَعْلَمَنَا مَوْلَانَا الْكَرِيمُ أَنَّهُمْ أُوتُوا عِلْمًا، فَبَغَى بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ، وَحَسَدَ بَعْضُهُمْ بَعْضًا، حَتَّى أَخْرَجَهُمْ ذَلِكَ إِلَى أَنْ تَفَرَّقُوا فَهَلَكُوا فَإِنْ قَالَ قَائِلٌ: فَأَيْنَ الْمَوَاضِعُ مِنَ الْقُرْآنِ الَّتِي فِيهَا نَهَانَا اللَّهُ تَعَالَى أَنْ نَكُونَ مِثْلَهُمْ حَتَّى نَحْذَرَ مَا حَذَّرَنَا مَوْلَانَا الْكَرِيمُ مِنَ الْفُرْقَةِ بَلْ نَلْزَمُ الْجَمَاعَةَ؟ قِيلَ لَهُ: قَالَ اللَّهُ تَعَالَى فِي سُورَةِ آلِ عِمْرَانَ: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا وَاذْكُرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ كُنْتُمْ أَعْدَاءً فَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِكُمْ فَأَصْبَحْتُمْ بِنِعْمَتِهِ إِخْوَانًا وَكُنْتُمْ عَلَى شَفَا حُفْرَةٍ مِنَ النَّارِ فَأَنْقَذَكُمْ مِنْهَا كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمْ آيَاتِهِ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ، وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ وَلَا تَكُونُوا كَالَّذِينَ تَفَرَّقُوا وَاخْتَلَفُوا مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْبَيِّنَاتُ وَأُولَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ} [آل عمران: 102] ، وَقَالَ تَعَالَى فِي سُورَةِ الْأَنْعَامِ: {وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ} [الأنعام: 153] وَقَالَ تَعَالَى فِي سُورَةِ الرُّومِ: {فَأَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّينِ حَنِيفًا فِطْرَةَ اللَّهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا لَا تَبْدِيلَ لِخَلْقِ اللَّهِ ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ مُنِيبِينَ إِلَيْهِ وَاتَّقُوهُ وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَلَا تَكُونُوا مِنَ الْمُشْرِكِينَ مِنَ الَّذِينَ فَرَّقُوا دِينَهُمْ وَكَانُوا شِيَعًا كُلُّ حِزْبٍ بِمَا لَدَيْهِمْ فَرِحُونَ} [الروم: 30] وَقَالَ تَعَالَى فِي سُورَةِ حم عسق: {شَرَعَ لَكُمْ مِنَ الدِّينِ مَا وَصَّى بِهِ نُوحًا وَالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ وَمَا وَصَّيْنَا بِهِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلَا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ كَبُرَ عَلَى الْمُشْرِكِينَ مَا تَدْعُوهُمْ إِلَيْهِ اللَّهُ يَجْتَبِي إِلَيْهِ مَنْ يَشَاءُ وَيَهْدِي إِلَيْهِ مَنْ يُنِيبُ} [الشورى: 13] قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ رحمه الله: فَهَلْ يَكُونُ مِنَ الْبَيَانِ أَشْفَى مِنْ هَذَا عِنْدَ مَنْ عَقَلَ عَنِ اللَّهِ تَعَالَى وَتَدَبَّرَ مَا بِهِ حَذَّرَهُ مَوْلَاهُ الْكَرِيمُ مِنَ الْفُرْقَةِ؟ ثُمَّ اعْلَمُوا رَحِمَنَا اللَّهُ تَعَالَى وَإِيَّاكُمْ أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى قَدْ أَعْلَمَنَا وَإِيَّاكُمْ فِي كِتَابِهِ أَنَّهُ لَا بُدَّ مِنْ أَنْ يَكُونَ الِاخْتِلَافُ بَيْنَ خَلْقِهِ لِيُضِلَّ مَنْ يَشَاءُ، وَيَهْدِي مَنْ يَشَاءُ جَعَلَ اللَّهُ عز وجل ذَلِكَ مَوْعِظَةً يَتَذَكَّرُ بِهَا الْمُؤْمِنُونَ، فَيَحْذَرُونَ الْفُرْقَةَ، وَيَلْزَمُونَ الْجَمَاعَةَ وَيَدَعُونَ الْمِرَاءَ وَالْخُصُومَاتِ فِي الدِّينِ ، وَيَتَّبِعُونَ وَلَا يَبْتَدِعُونَ، فَإِنْ قَالَ قَائِلٌ: أَيْنَ هَذَا مِنْ كِتَابِ اللَّهِ تَعَالَى؟ قِيلَ لَهُ: قَالَ اللَّهُ تَعَالَى فِي سُورَةِ هُودَ: {وَلَوْ شَاءَ رَبُّكَ لَجَعَلَ النَّاسَ أُمَّةً وَاحِدَةً وَلَا يَزَالُونَ مُخْتَلِفِينَ إِلَّا مَنْ رَحِمَ رَبُّكَ وَلِذَلِكَ خَلَقَهُمْ وَتَمَّتْ كَلِمَةُ رَبِّكَ لَأَمْلَأَنَّ جَهَنَّمَ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ وَكُلًّا نَقَصُّ عَلَيْكَ مِنْ أَنْبَاءِ الرُّسُلِ مَا نُثَبِّتُ بِهِ فُؤَادَكَ وَجَاءَكَ فِي هَذِهِ الْحَقُّ وَمَوْعِظَةٌ وَذِكْرَى لِلْمُؤْمِنِينَ} [هود: 118] ثُمَّ إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى أَمَرَ نَبِيَّهُ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَتَّبِعَ مَا أَنْزَلَهُ إِلَيْهِ، وَلَا يَتَّبِعَ أَهْوَاءَ مَنْ تَقَدَّمَ مِنَ الْأُمَمِ فِيمَا اخْتَلَفُوا فِيهِ، فَفَعَلَ صلى الله عليه وسلم، وَحَذَّرَ أُمَّتَهُ الِاخْتِلَافَ وَالْإِعْجَابَ وَاتِّبَاعَ الْهَوَى، قَالَ اللَّهُ تَعَالَى فِي سُورَةِ حم الْجَاثِيَةِ: {وَلَقَدْ آتَيْنَا بَنِي إِسْرَائِيلَ الْكِتَابَ وَالْحُكْمَ وَالنُّبُوَّةَ وَرَزَقْنَاهُمْ مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَفَضَّلْنَاهُمْ عَلَى الْعَالَمِينَ وَآتَيْنَاهُمْ بَيِّنَاتٍ مِنَ الْأَمْرِ فَمَا اخْتَلَفُوا إِلَّا مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْعِلْمُ بَغْيًا بَيْنَهُمْ إِنَّ رَبَّكَ يَقْضِي بَيْنَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِيمَا كَانُوا فِيهِ يَخْتَلِفُونَ ثُمَّ جَعَلْنَاكَ عَلَى شَرِيعَةٍ مِنَ الْأَمْرِ فَاتَّبِعْهَا وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَ الَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ إِنَّهُمْ لَنْ يُغْنُوا عَنْكَ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا، وَإِنَّ الظَّالِمِينَ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ، وَاللَّهُ وَلِيُّ الْمُتَّقِينَ} [الجاثية: 16] ، ثُمَّ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {هَذَا بَصَائِرُ لِلنَّاسِ وَهَدًى وَرَحْمَةٌ لِقَوْمٍ يُوقِنُونَ} [الجاثية: 20]
১ -‌‌ জামায়াত (মুসলিম ঐক্য) আঁকড়ে ধরার নির্দেশ এবং দলাদলি থেকে নিষেধ, বরং অনুসরণ করা এবং বিদআত বর্জনের বিবরণের অধ্যায়। মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেন: নিশ্চয়ই মহান ও প্রতাপশালী আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ায় তাঁর কিতাবে আমাদের পূর্ববর্তী দুই কিতাবধারী—ইহুদি ও নাসারাদের সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে, তারা কেবল তখনই ধ্বংস হয়েছে যখন তারা তাদের দ্বীনের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছিল। আমাদের মহান প্রতিপালক আমাদের জানিয়েছেন যে, যা তাদের জামায়াত থেকে বিচ্ছিন্ন হতে এবং বাত্বিল বা মিথ্যার দিকে ঝুঁকে পড়তে প্ররোচিত করেছিল—যা থেকে তাদের নিষেধ করা হয়েছিল—তা ছিল মূলত সীমালঙ্ঘন ও পারস্পরিক হিংসা, অথচ তারা এমন জ্ঞানপ্রাপ্ত হয়েছিল যা অন্যরা জানত না। এই চরম সীমালঙ্ঘন ও হিংসা তাদের বিভিন্ন দলে বিভক্ত হতে বাধ্য করেছিল, ফলে তারা ধ্বংস হয়ে গেল। আমাদের মহান প্রতিপালক আমাদের সতর্ক করেছেন যেন আমরা তাদের মতো না হই, ফলে তারা যেভাবে ধ্বংস হয়েছে আমরাও যেন সেভাবে ধ্বংস না হই। বরং তিনি আমাদের জামায়াত আঁকড়ে ধরার নির্দেশ দিয়েছেন এবং দলাদলি থেকে নিষেধ করেছেন। একইভাবে নবী (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর উপর বর্ষিত হোক) আমাদের বিচ্ছিন্নতা থেকে সতর্ক করেছেন এবং জামায়াতের নির্দেশ দিয়েছেন। অনুরূপভাবে আমাদের পূর্বসূরি মুসলিম আলেমগণও আমাদের সতর্ক করেছেন; তারা সবাই জামায়াত আঁকড়ে ধরার নির্দেশ দিতেন এবং দলাদলি থেকে নিষেধ করতেন। এখন যদি কেউ প্রশ্ন করে: আপনি আমাদের কাছে সেই বিষয়গুলো বর্ণনা করুন যাতে আপনি যা বলছেন তা থেকে আমরা সতর্ক থাকতে পারি; আর আল্লাহই সঠিক পথের তাওফিক দাতা। তাকে বলা হবে: আমার কাছে আল্লাহ তাআলা আমাকে যে জ্ঞান দান করেছেন, তার যতটুকু স্মরণে আছে এবং আমার ইলমের পরিসীমা অনুযায়ী তা বর্ণনা করছি। এটি আমার কুরআনের ধারক-বাহক, হাদিসের অনুসারী, ফিকহ শাস্ত্রের পণ্ডিত এবং অন্যান্য সকল মুসলিম ভাইদের প্রতি নসিহত স্বরূপ। আল্লাহই আমার উদ্দেশ্যের তাওফিক দাতা এবং এর জন্য সাহায্যকারী, ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ তাআলা সূরা আল-বাকারায় ইরশাদ করেন: {মানুষ ছিল এক উম্মত, অতঃপর আল্লাহ নবীগণকে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে পাঠালেন এবং তাদের সাথে সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করলেন যেন তা মানুষের মধ্যে যে বিষয়ে তারা মতভেদ করছিল তার ফয়সালা করে দেয়। আর যাদের কিতাব দেওয়া হয়েছিল তারাই কেবল তাতে মতভেদ করেছিল তাদের কাছে সুস্পষ্ট নিদর্শন আসার পর, পরস্পর সীমালঙ্ঘনবশত। অতঃপর আল্লাহ তাঁর নির্দেশে মুমিনদের হেদায়েত দান করলেন যে সত্য বিষয়ে তারা মতভেদ করছিল। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সঠিক পথে পরিচালিত করেন।} [সূরা আল-বাকারা: ২১৩] এবং মহান আল্লাহ আরও বলেন: {এই রাসূলগণ, আমি তাদের একজনকে অন্যজনের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি। তাদের মধ্যে এমন কেউ আছে যার সাথে আল্লাহ কথা বলেছেন এবং তাদের কাউকে পদমর্যাদায় উন্নত করেছেন। আর আমি মারইয়াম তনয় ঈসাকে স্পষ্ট নিদর্শনসমূহ দিয়েছি এবং তাকে পবিত্র আত্মা (জিবরাঈল) দিয়ে শক্তিশালী করেছি। আর আল্লাহ ইচ্ছা করলে তাদের পরবর্তী লোকেরা স্পষ্ট নিদর্শনসমূহ আসার পর একে অন্যের সাথে যুদ্ধ করত না। কিন্তু তারা মতভেদ করল; ফলে তাদের কেউ ঈমান আনল এবং কেউ কুফরি করল। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তারা পরস্পর যুদ্ধ করত না, কিন্তু আল্লাহ যা চান তা-ই করেন।} [সূরা আল-বাকারা: ২৫৩] আল্লাহ তাআলা সূরা আলে-ইমরানে বলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট দ্বীন হলো একমাত্র ইসলাম। আর যাদের কিতাব দেওয়া হয়েছে, তারা তাদের নিকট জ্ঞান আসার পরই কেবল মতভেদ করেছে নিজেদের মধ্যে পরস্পর সীমালঙ্ঘন ও বিদ্বেষবশত। আর যে আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে, নিশ্চয়ই আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।} [সূরা আলে-ইমরান: ১৯] এবং আল্লাহ তাআলা সূরা আল-আনআমে বলেন: {নিশ্চয়ই যারা তাদের দ্বীনকে খণ্ড-বিখণ্ড করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে, তাদের সাথে আপনার কোনো সম্পর্ক নেই। তাদের বিষয়টি কেবল আল্লাহর নিকট। অতঃপর তিনি তাদের জানিয়ে দেবেন যা তারা করত।} [সূরা আল-আনআম: ১৫৯] সূরা ইউনুসে আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর আমি বনী ইসরাঈলকে উত্তম স্থানে বসবাসের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলাম এবং তাদের পবিত্র রিযিক দান করেছিলাম। অতঃপর তারা মতভেদে লিপ্ত হয়নি যতক্ষণ না তাদের কাছে জ্ঞান আসল। নিশ্চয়ই আপনার প্রতিপালক কিয়ামতের দিন তাদের মধ্যে সেই বিষয়ের ফয়সালা করে দেবেন যা নিয়ে তারা মতভেদ করত।} [সূরা ইউনুস: ৯৩] সূরা হা-মিম-আইন-সিন-ক্বাফ-এ (শূরা) আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তারা কেবল তাদের নিকট জ্ঞান আসার পরেই সীমালঙ্ঘনবশত একে অপরের সাথে বিভেদে লিপ্ত হয়েছে। আর যদি আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অবকাশ দেওয়ার পূর্ব সিদ্ধান্ত না থাকত, তবে তাদের মধ্যে ফয়সালা হয়ে যেত। আর নিশ্চয়ই তাদের পর যারা কিতাবের উত্তরাধিকারী হয়েছে, তারা এ সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর সন্দেহে রয়েছে।} [সূরা আশ-শূরা: ১৪] এবং সূরা 'লাম ইয়াকুনিল্লাযিনা কাফারু মিন আহলিল কিতাব'-এ (আল-বাইয়্যিনাহ) আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: {যাদের কিতাব দেওয়া হয়েছে, তারা কেবল তাদের নিকট স্পষ্ট প্রমাণ আসার পরই বিচ্ছিন্ন হয়েছে। আর তাদের কেবল এই আদেশ দেওয়া হয়েছিল যে, তারা যেন আল্লাহর ইবাদত করে তাঁর প্রতি আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে এবং নামাজ কায়েম করে ও জাকাত প্রদান করে; আর এটাই হলো সঠিক দ্বীন।} [সূরা আল-বাইয়্যিনাহ: ৫] মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেন: আমাদের মহান প্রতিপালক আমাদের জানিয়েছেন যে, তাদের জ্ঞান দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তাদের একজন অন্যজনের ওপর সীমালঙ্ঘন ও হিংসা করেছিল, যা শেষ পর্যন্ত তাদের দলাদলি ও বিচ্ছিন্নতার দিকে নিয়ে গিয়েছিল এবং তারা ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। এখন যদি কেউ প্রশ্ন করে: কুরআনের সেই জায়গাগুলো কোথায় যেখানে আল্লাহ তাআলা আমাদের তাদের মতো হতে নিষেধ করেছেন যাতে আমাদের মহান প্রতিপালক আমাদের যে বিচ্ছিন্নতা থেকে সতর্ক করেছেন তা থেকে আমরা বেঁচে থাকি এবং জামায়াত আঁকড়ে ধরি? তাকে বলা হবে: আল্লাহ তাআলা সূরা আলে-ইমরানে ইরশাদ করেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। আর তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরো এবং বিচ্ছিন্ন হয়ো না। আর তোমাদের ওপর আল্লাহর সেই নেয়ামতকে স্মরণ করো যখন তোমরা একে অপরের শত্রু ছিলে, অতঃপর তিনি তোমাদের অন্তরের মধ্যে প্রীতি স্থাপন করে দিলেন, ফলে তোমরা তাঁর অনুগ্রহে ভাই ভাই হয়ে গেলে। আর তোমরা ছিলে আগুনের গর্তের কিনারে, অতঃপর তিনি তোমাদের সেখান থেকে রক্ষা করলেন। এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর আয়াতসমূহ স্পষ্ট করে বর্ণনা করেন যাতে তোমরা হেদায়েত প্রাপ্ত হও। আর তোমাদের মধ্যে এমন এক দল থাকা উচিত যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে, সৎকাজের নির্দেশ দেবে এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে; আর তারাই হলো সফলকাম। আর তোমরা তাদের মতো হয়ো না যারা তাদের কাছে স্পষ্ট নিদর্শন আসার পর বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং মতভেদে লিপ্ত হয়েছে; তাদের জন্য রয়েছে মহাশাস্তি।} [সূরা আলে-ইমরান: ১০২-১০৫] আল্লাহ তাআলা সূরা আল-আনআমে বলেন: {আর নিশ্চয়ই এটিই আমার সঠিক পথ, সুতরাং তোমরা এর অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, অন্যথায় তা তোমাদের তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে। তিনি তোমাদের এ নির্দেশ দিলেন যেন তোমরা মুত্তাকী হতে পারো।} [সূরা আল-আনআম: ১৫৩] সূরা আর-রূমে আল্লাহ তাআলা বলেন: {সুতরাং আপনি একনিষ্ঠ হয়ে নিজেকে দ্বীনে প্রতিষ্ঠিত রাখুন; এটাই আল্লাহর প্রকৃতি (ফিতরাত) যার ওপর তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টির কোনো পরিবর্তন নেই। এটাই প্রতিষ্ঠিত দ্বীন, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না। আল্লাহর অভিমুখী হয়ে এবং তাঁকে ভয় করো, আর নামাজ কায়েম করো এবং মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না। যারা তাদের দ্বীনকে খণ্ড-বিখণ্ড করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে, প্রত্যেক দলই তাদের কাছে যা আছে তা নিয়েই আনন্দিত।} [সূরা আর-রূম: ৩০-৩২] সূরা হা-মিম-আইন-সিন-ক্বাফ-এ (শূরা) আল্লাহ তাআলা বলেন: {তিনি তোমাদের জন্য দ্বীনের সেই বিধানই নির্ধারিত করেছেন যার নির্দেশ তিনি নূহকে দিয়েছিলেন এবং যা আমি আপনার প্রতি ওহি করেছি, আর যার নির্দেশ আমি ইব্রাহিম, মুসা ও ঈসাকে দিয়েছিলাম—এই বলে যে, তোমরা দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করো এবং এতে মতভেদ করো না। মুশরিকদের নিকট আপনি যার দিকে তাদের আহ্বান করছেন তা অত্যন্ত কঠিন মনে হয়। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা আপন করে নেন এবং যে তাঁর অভিমুখী হয় তাকে হেদায়েত দান করেন।} [সূরা আশ-শূরা: ১৩] মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর পক্ষ থেকে উপলব্ধিবোধ লাভ করেছে এবং তাঁর মহান প্রতিপালক তাকে বিচ্ছিন্নতা সম্পর্কে যেভাবে সতর্ক করেছেন তা নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করেছে, তার জন্য এর চেয়ে স্পষ্ট বর্ণনা আর কী হতে পারে? এরপর আপনারা জেনে রাখুন—আল্লাহ আমাদের ও আপনাদের প্রতি রহম করুন—নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে আমাদের ও আপনাদের জানিয়েছেন যে, তাঁর সৃষ্টির মধ্যে মতভেদ হওয়া অনিবার্য যেন তিনি যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা হেদায়েত দান করেন। মহান আল্লাহ তাআলা একে নসিহত হিসেবে নির্ধারণ করেছেন যাতে মুমিনগণ এর দ্বারা উপদেশ গ্রহণ করে, ফলে তারা বিচ্ছিন্নতা থেকে সতর্ক হয়, জামায়াত আঁকড়ে ধরে এবং দ্বীনের ব্যাপারে বিতর্ক ও ঝগড়া-বিবাদ ত্যাগ করে; তারা অনুসরণ করবে এবং নতুন কিছু (বিদআত) তৈরি করবে না। এখন যদি কেউ প্রশ্ন করে: আল্লাহর কিতাবে এটি কোথায় আছে? তাকে বলা হবে: আল্লাহ তাআলা সূরা হুদে ইরশাদ করেছেন: {আর আপনার প্রতিপালক ইচ্ছা করলে সমস্ত মানুষকে এক উম্মত করতে পারতেন, কিন্তু তারা মতভেদ করতেই থাকবে; তবে তারা নয় যাদের ওপর আপনার প্রতিপালক রহমত করেছেন এবং এ জন্যই তিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন। আর আপনার প্রতিপালকের সেই কথা পূর্ণ হয়েছে যে, নিশ্চয়ই আমি জাহান্নামকে জিন ও মানুষ উভয় দ্বারা পূর্ণ করব। আর আমি রাসূলদের সংবাদের মধ্য থেকে সবকিছুই আপনার কাছে বর্ণনা করছি যা দ্বারা আমি আপনার অন্তরকে সুদৃঢ় করি; আর এর মাধ্যমে আপনার কাছে এসেছে সত্য এবং মুমিনদের জন্য নসিহত ও উপদেশ।} [সূরা হুদ: ১১৮-১২০] এরপর আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীকে (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর উপর বর্ষিত হোক) নির্দেশ দিয়েছেন তাঁর প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা অনুসরণ করতে এবং পূর্ববর্তী উম্মতগণ যে বিষয়ে মতভেদ করেছিল তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ না করতে। নবী (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর উপর বর্ষিত হোক) তা-ই করেছিলেন এবং তাঁর উম্মতকে মতভেদ করা, আত্মমুগ্ধতা ও খেয়াল-খুশির অনুসরণ থেকে সতর্ক করেছেন। আল্লাহ তাআলা সূরা হা-মিম আল-জাসিয়াতে বলেন: {আর আমি অবশ্যই বনী ইসরাঈলকে কিতাব, হিকমত ও নবুওয়াত দান করেছিলাম এবং তাদের উত্তম রিযিক দিয়েছিলাম এবং বিশ্ববাসীর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছিলাম। আর আমি তাদের দ্বীনি বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি দিয়েছিলাম। অতঃপর তাদের নিকট জ্ঞান আসার পরই কেবল তারা পরস্পর সীমালঙ্ঘনবশত মতভেদ করেছিল। নিশ্চয়ই আপনার প্রতিপালক কিয়ামতের দিন তাদের মধ্যে সেই বিষয়ের ফয়সালা করে দেবেন যা নিয়ে তারা মতভেদ করত। এরপর আমি আপনাকে দ্বীনের এক বিশেষ শরিয়তের ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছি, সুতরাং আপনি তার অনুসরণ করুন এবং যারা জানে না তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করবেন না। নিশ্চয়ই তারা আল্লাহর মোকাবেলায় আপনার কোনো উপকারে আসবে না। আর নিশ্চয়ই জালেমরা একে অপরের বন্ধু, আর আল্লাহ মুত্তাকীদের বন্ধু।} [সূরা আল-জাসিয়াহ: ১৬-১৯] অতঃপর আল্লাহ তাআলা বলেন: {এটি মানুষের জন্য সুস্পষ্ট দলিল এবং নিশ্চিত বিশ্বাসী কওমের জন্য হেদায়েত ও রহমত।} [সূরা আল-জাসিয়াহ: ২০]
(খণ্ড: ١) আশ-শারীয়াহ লিল আজুররী (পৃষ্ঠা: ٢٧١)
أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ عُمَرُ بْنُ سَعِيدٍ الْقَرَاطِيسِيُّ قَالَ: ثنا أَحْمَدُ بْنُ مَنْصُورٍ الرَّمَادِيُّ قَالَ: أنا أَبُو صَالِحٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ قَالَ: ثنا مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما فِي قَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: {إِنَّ الَّذِينَ فَرَّقُوا دِينَهُمْ وَكَانُوا شِيَعًا} [الأنعام: 159] وَقَوْلُهُ: {وَلَا تَكُونُوا كَالَّذِينَ تَفَرَّقُوا وَاخْتَلَفُوا} [آل عمران: 105] وَقَوْلُهُ: {فَأَمَّا الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ زَيْغٌ فَيَتَّبِعُونَ مَا تَشَابَهَ مِنْهُ} [آل عمران: 7] وَقَوْلُهُ: {وَقَدْ نَزَّلَ عَلَيْكُمْ فِي الْكِتَابِ أَنْ إِذَا سَمِعْتُمْ آيَاتِ اللَّهِ يُكْفَرُ بِهَا وَيُسْتَهْزَأُ بِهَا فَلَا تَقْعُدُوا مَعَهُمْ} [النساء: 140] وَقَوْلُهُ: {وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ} [الأنعام: 153] وَقَوْلُهُ: {أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلَا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ} [الشورى: 13] قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: أَمَرَ اللَّهُ الْمُؤْمِنِينَ بِالْجَمَاعَةِ وَنَهَاهُمْ عَنِ الِاخْتِلَافِ وَالْفُرْقَةِ وَأَخْبَرَهُمْ أَنَّهُ إِنَّمَا هَلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَهُمْ بِالْمِرَاءِ وَالْخُصُومَاتِ فِي دِينِ اللَّهِ تَعَالَى قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ: هَذَا مَا حَضَرَنِي ذِكْرُهُ مِمَّا أَمَرَ اللَّهُ تَعَالَى بِهِ أُمَّةَ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَلْزَمُوا الْجَمَاعَةَ وَيَحْذَرُوا الْفُرْقَةَ فَإِنْ قَالَ قَائِلٌ: فَاذْكُرْ مِنْ سُنَنِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ حَذَّرَ أُمَّتَهُ ذَلِكَ قِيلَ لَهُ: نَعَمْ، وَوَاجِبٌ عَلَيْكَ أَنْ تَسْمَعَهُ، وَتَحْذَرَ الْفُرْقَةَ وَتَلْزَمَ الْجَمَاعَةَ وَتَسْتَعِينَ بِاللَّهِ الْعَظِيمِ عَلَى ذَلِكَ
আবু বকর উমর ইবনুল সাঈদ আল-কারাতিসি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনু মানসুর আল-রামাদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু সালেহ আব্দুল্লাহ ইবনু সালেহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুয়াবিয়া ইবনু সালেহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনু আবি তালহা থেকে, তিনি ইবনু আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে মহান আল্লাহর এই বাণী প্রসঙ্গে বর্ণনা করেন: "নিশ্চয়ই যারা তাদের দ্বীনকে খণ্ড-বিখণ্ড করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে" [আল-আন'আম: ১৫৯]; এবং তাঁর বাণী: "তোমরা তাদের মতো হয়ো না যারা বিভক্ত হয়েছে এবং মতভেদ করেছে" [আলে ইমরান: ১০৫]; এবং তাঁর বাণী: "অতঃপর যাদের অন্তরে বক্রতা রয়েছে তারা ফিতনা সৃষ্টি এবং ভুল ব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে মুতাশাবিহ (অস্পষ্ট) আয়াতসমূহের অনুসরণ করে" [আলে ইমরান: ৭]; এবং তাঁর বাণী: "আর কিতাবে তিনি তোমাদের প্রতি (এই নির্দেশ) নাযিল করেছেন যে, যখন তোমরা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার ও উপহাস করতে শুনবে, তখন তোমরা তাদের সাথে বসো না" [আন-নিসা: ১৪০]; এবং তাঁর বাণী: "এবং তোমরা অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, কেননা তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত করে দেবে" [আল-আন'আম: ১৫৩]; এবং তাঁর বাণী: "তোমরা দ্বীন কায়েম করো এবং তাতে অনৈক্য সৃষ্টি করো না" [আশ-শূরা: ১৩]। ইবনু আব্বাস বলেন: আল্লাহ মুমিনদের জামাআতবদ্ধ (ঐক্যবদ্ধ) থাকার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাদেরকে মতভেদ ও বিভক্তি থেকে নিষেধ করেছেন; আর তিনি তাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, তাদের পূর্ববর্তীরা আল্লাহর দ্বীন নিয়ে ঝগড়া-বিবাদ ও বাকবিতণ্ডার কারণেই ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন বলেন: মহান আল্লাহ মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উম্মতকে জামাআতকে আঁকড়ে ধরতে এবং বিভক্তি সম্পর্কে সতর্ক হতে যে নির্দেশ দিয়েছেন, তা থেকে এগুলোই এই মুহূর্তে আমার স্মরণে এল। যদি কেউ প্রশ্ন করে: তবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহ থেকে এমন কিছু উল্লেখ করুন যেখানে তিনি তাঁর উম্মতকে এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন? তাকে উত্তরে বলা হবে: হ্যাঁ, (অবশ্যই উল্লেখ করা হবে); আর তা শোনা, বিভক্তি থেকে সতর্ক থাকা, জামাআতকে আঁকড়ে ধরা এবং এ ব্যাপারে মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করা আপনার ওপর ওয়াজিব।
(খণ্ড: ١) আশ-শারীয়াহ লিল আজুররী (পৃষ্ঠা: ٢٧٢)
‌‌بَابُ ذِكْرِ أَمْرِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أُمَّتَهُ بِلُزُومِ الْجَمَاعَةِ وَتَحْذِيرِهِ إِيَّاهُمُ الْفُرْقَةَ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক তাঁর উম্মতকে জামাআতের সাথে সংবদ্ধ থাকার নির্দেশ প্রদান এবং তাদের অনৈক্য হতে সতর্ক করা সংক্রান্ত অধ্যায়
(খণ্ড: ١) আশ-শারীয়াহ লিল আজুররী (পৃষ্ঠা: ٢٧٢)
2 - حَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْعَبَّاسِ الطَّيَالِسِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ يَحْيَى الْأُمَوِيُّ قَالَ: نا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ زِرٍّ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ أَرَادَ بُحْبُوحَةَ الْجَنَّةِ فَلْيَلْزَمِ الْجَمَاعَةَ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ مَعَ الْوَاحِدِ وَهُوَ مِنَ الِاثْنَيْنِ أَبْعَدُ»
২ - আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ ইবনুল আব্বাস আত-তায়ালিসি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: সাঈদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-উমাবী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আবু বকর ইবনে আইয়াশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আসিম থেকে, তিনি জিরর থেকে, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি জান্নাতের সুপ্রশস্ত মধ্যভাগ কামনা করে, সে যেন জামাআতকে আঁকড়ে ধরে; কেননা শয়তান একজনের সাথে থাকে এবং সে দুইজন থেকে আরও দূরে থাকে।»
(খণ্ড: ١) আশ-শারীয়াহ লিল আজুররী (পৃষ্ঠা: ٢٧٣)
أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ صَاعِدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ يَحْيَى الْأُمَوِيُّ قَالَ: نا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ زِرٍّ قَالَ: خَطَبَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضي الله عنه بِالشَّامِ فَقَالَ: قَامَ فِينَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِثْلَ قِيَامِي فِيكُمْ، فَقَالَ: «مَنْ أَرَادَ بُحْبُوحَةَ الْجَنَّةِ فَلْيَلْزَمِ الْجَمَاعَةَ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ مَعَ الْوَاحِدِ ، وَهُوَ مِنَ الِاثْنَيْنِ أَبْعَدُ»

আবু মুহাম্মাদ ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সায়িদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: সাঈদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-উমাবী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর ইবনে আয়্যাশ আমাদের নিকট আসিম থেকে, তিনি যির থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) শাম দেশে ভাষণ দানকালে বললেন: আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) আমাদের মাঝে সেভাবেই দাঁড়িয়েছিলেন যেভাবে আমি তোমাদের মাঝে দাঁড়িয়েছি। অতঃপর তিনি বললেন: "যে ব্যক্তি জান্নাতের মধ্যভাগ কামনা করে, সে যেন জামায়াতকে আঁকড়ে ধরে। কেননা শয়তান একজনের সাথে থাকে এবং সে দুইজনের থেকে অধিক দূরে থাকে।"

(খণ্ড: ١) আশ-শারীয়াহ লিল আজুররী (পৃষ্ঠা: ٢٧٣)
4 - وَأَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْفِرْيَابيُّ قَالَ: ثنا هُدْبَةُ بْنُ خَالِدٍ قَالَ: نا أَبَانُ بْنُ يَزِيدَ قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ أَنَّ زَيْدًا حَدَّثَهُ، أَنَّ أَبَا سَلَّامٍ حَدَّثَهُ، أَنَّ الْحَارِثَ الْأَشْعَرِيَّ حَدَّثَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى أَمَرَ يَحْيَى بْنَ زَكَرِيَّا بِخَمْسِ كَلِمَاتٍ يَعْمَلُ بِهِنَّ وَيَأْمُرُ بَنِي إِسْرَائِيلَ يَعْمَلُونَ بِهِنَّ» وَذَكَرَ الْحَدِيثَ بِطُولِهِ وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " وَأَنَا آمُرُكُمْ بِخَمْسٍ أَمَرَنِي اللَّهُ تَعَالَى بِهِنَّ: الْجَمَاعَةُ، وَالسَّمْعُ وَالطَّاعَةُ، وَالْهِجْرَةُ، وَالْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، فَمَنْ فَارَقَ الْجَمَاعَةَ شِبْرًا فَقَدْ خَلَعَ رِبْقَةَ الْإِسْلَامِ مِنْ رَأْسِهِ إِلَّا أَنْ يُرَاجِعَ "
৪ - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর জাফর ইবন মুহাম্মদ আল-ফিরইয়াবি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুদবাহ ইবন খালিদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবান ইবন ইয়াযিদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবন আবি কাসির বর্ণনা করেছেন যে, তাকে যায়দ বর্ণনা করেছেন, তাকে আবু সাল্লাম বর্ণনা করেছেন, তাকে আল-হারিস আল-আশআরি বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা ইয়াহইয়া ইবন যাকারিয়াকে পাঁচটি বিষয়ের নির্দেশ দিয়েছেন যেন তিনি সে অনুযায়ী আমল করেন এবং বনী ইসরাঈলকে নির্দেশ দেন যেন তারাও সে অনুযায়ী আমল করে» এবং তিনি পূর্ণ দীর্ঘ হাদিসটি উল্লেখ করেন। আর আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: "আমি তোমাদের পাঁচটি বিষয়ের নির্দেশ দিচ্ছি যার নির্দেশ আল্লাহ তাআলা আমাকে দিয়েছেন: জামাতবদ্ধ থাকা, শোনা, আনুগত্য করা, হিজরত করা এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করা। অতএব যে ব্যক্তি জামাত থেকে এক বিঘত পরিমাণ বিচ্ছিন্ন হলো, সে তার মাথা থেকে ইসলামের বন্ধন খুলে ফেলল, যতক্ষণ না সে পুনরায় ফিরে আসে।"
(খণ্ড: ١) আশ-শারীয়াহ লিল আজুররী (পৃষ্ঠা: ٢٧٤)
وَحَدَّثَنَا الْفِرْيَابِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْقَوَارِيرِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ قَالَ: نا أَيُّوبُ، عَنْ غَيْلَانَ بْنِ جَرِيرٍ، عَنْ زِيَادِ بْنِ رِيَاحٍ الْقَيْسِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ خَرَجَ مِنَ الطَّاعَةِ وَفَارَقَ الْجَمَاعَةَ فَمَاتَ ، فَمِيتَةٌ جَاهِلِيَّةٌ»
এবং আল-ফিরইয়াবী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর আল-কাওয়ারীরী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাম্মাদ ইবনে যাইদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আইয়ুব বর্ণনা করেছেন গাইলান ইবনে জারীর থেকে, তিনি যিয়াদ ইবনে রিয়াহ আল-কায়সী থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর প্রতি বর্ষিত হোক) বলেছেন: «যে ব্যক্তি আনুগত্য থেকে বের হয়ে গেল এবং জামায়াত থেকে বিচ্ছিন্ন হলো, অতঃপর মৃত্যুবরণ করল, তবে তার মৃত্যু হবে জাহেলিয়াতের মৃত্যু।»
(খণ্ড: ١) আশ-শারীয়াহ লিল আজুররী (পৃষ্ঠা: ٢٨٨)
9 - وَأَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي دَاوُدَ السِّجِسْتَانِيُّ قَالَ: نا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ جَعْفَرٍ، حَدَّثَهُمْ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ غَيْلَانَ بْنِ جَرِيرٍ، عَنْ زِيَادِ بْنِ رِيَاحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ: «مَنْ فَارَقَ الْجَمَاعَةَ وَخَالَفَ الطَّاعَةَ مَاتَ مِيتَةً جَاهِلِيَّةً وَمَنِ اعْتَرَضَ أُمَّتِي بَرَّهَا وَفَاجِرَهَا لَا يَحْتَشِمُ مِنْ مُؤْمِنِهَا ، وَلَا يَفِي لِذِي عَهْدِهَا، فَلَيْسَ مِنْ أُمَّتِي، وَمَنْ قُتِلَ تَحْتَ رَايَةٍ عِمِّيَّةٍ، يَغْضَبُ لِلْعَصَبِيَّةِ وَيُقَاتِلُ لِلْعَصَبِيَّةِ وَيَدْعُو لِعَصَبَةٍ لَهُ وَوَالَى لِعَصَبَةٍ مَاتَ مِيتَةً جَاهِلِيَّةً» لَفْظُ حَدِيثِ أَبِي مُوسَى
৯ - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে বাশশার এবং মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না যে, মুহাম্মদ ইবনে জাফর তাঁদের নিকট বর্ণনা করেছেন শু’বাহ থেকে, তিনি গায়লান ইবনে জারীর থেকে, তিনি যিয়াদ ইবনে রিয়াহ থেকে, তিনি আবু হুরাইরা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি জামাআত ত্যাগ করল এবং আনুগত্য থেকে বিচ্যুত হলো, সে জাহিলিয়্যাতের মৃত্যু বরণ করল। আর যে ব্যক্তি আমার উম্মতের নেককার ও বদকার নির্বিশেষে সকলের ওপর আক্রমণ করল, মুমিনদের পরোয়া করল না এবং চুক্তিবদ্ধ ব্যক্তির অঙ্গীকার রক্ষা করল না, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়। আর যে ব্যক্তি কোনো উদ্দেশ্যহীন পতাকাতলে নিহত হলো, যে কি না গোত্রপ্রীতির কারণে রাগান্বিত হয়, গোত্রপ্রীতির জন্য লড়াই করে, নিজ গোত্রের দিকে আহ্বান করে এবং গোত্রপ্রীতির ভিত্তিতে বন্ধুত্ব স্থাপন করে, সে জাহিলিয়্যাতের মৃত্যু বরণ করল» এটি আবু মুসা-র বর্ণিত হাদিসের শব্দ।
(খণ্ড: ١) আশ-শারীয়াহ লিল আজুররী (পৃষ্ঠা: ٢٩٠)
10 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ صَاعِدٍ قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ لُوَيْنٌ قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ غَيْلَانَ بْنِ جَرِيرٍ، عَنْ زِيَادِ بْنِ رِيَاحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ خَرَجَ مِنَ الطَّاعَةِ وَفَارَقَ الْجَمَاعَةَ، مَاتَ مِيتَةً جَاهِلِيَّةً»
১০ - আবু মুহাম্মদ ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে সুলায়মান লুওয়াইন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাম্মাদ ইবনে যাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আইয়ুব থেকে, তিনি গাইলান ইবনে জারীর থেকে, তিনি যিয়াদ ইবনে রিয়াহ থেকে, তিনি আবু হুরাইরাহ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি আনুগত্য থেকে বের হয়ে গেল এবং জামায়াত ত্যাগ করল, সে জাহিলিয়াতের মৃত্যুতে মৃত্যুবরণ করল।»
(খণ্ড: ١) আশ-শারীয়াহ লিল আজুররী (পৃষ্ঠা: ٢٩٠)
11 - وَأَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْحَمِيدِ الْوَاسِطِيُّ قَالَ: نا أَبُو هِشَامٍ الرِّفَاعِيُّ قَالَ: نا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ قَالَ: نا عَاصِمٌ، عَنْ زِرٍّ عَنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: كُنَّا جُلُوسًا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ⦗ص: 291⦘ فَقَرَأَ: {وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ} [الأنعام: 153] فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ فَخَطَّ خَطًّا فَقَالَ: «هَذَا الصِّرَاطُ» ثُمَّ خَطَّ حَوْلَهُ خِطَطًا، فَقَالَ: «وَهَذِهِ السُّبُلُ، فَمَا مِنْهَا سَبِيلٌ إِلَّا وَعَلَيْهِ شَيْطَانٌ يَدْعُو إِلَيْهِ»
১১ - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল হামিদ আল-ওয়াসিতি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু হিশাম আল-রিফাঈ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইবনে আইয়াশ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আসিম, তিনি জির থেকে, আর তিনি আবদুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট বসা ছিলাম ⦗পৃষ্ঠা: ২৯১⦘ তখন তিনি পাঠ করলেন: {আর এটিই আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, অন্যথায় তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত করে দেবে} [আল-আন’আম: ১৫৩]। অতঃপর তিনি একটি রেখা টানলেন এবং বললেন: «এটি হলো আল্লাহর পথ», এরপর তিনি তার চারপাশে আরও কিছু রেখা টানলেন এবং বললেন: «আর এগুলো হলো অন্যান্য নানা পথ, যার প্রতিটি পথের ওপর একজন শয়তান রয়েছে যে সেদিকে আহ্বান করছে।»
(খণ্ড: ١) আশ-শারীয়াহ লিল আজুররী (পৃষ্ঠা: ٢٩٢)
12 - وَأَخْبَرَنَا ابْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ أَيْضًا قَالَ: نا زُهَيْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمَرْوَزِيُّ قَالَ: أنا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ بَهْدَلَةَ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: خَطَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا خَطًّا وَقَالَ بِأُصْبُعِهِ عَلَى الْأَرْضِ خِطَّةً قَالَ: «هَذَا سَبِيلُ اللَّهِ» ثُمَّ خَطَّ خُطُوطًا عَنْ يَمِينِ الْخَطِّ وَيَسَارِهِ، وَقَالَ: «هَذِهِ سُبُلٌ عَلَى كُلِّ سَبِيلٍ مِنْهَا ⦗ص: 293⦘ شَيْطَانٌ يَدْعُو إِلَيْهِ» ثُمَّ تَلَا: {وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ} [الأنعام: 153] فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ الْخُطُوطُ الَّتِي عَنْ يَمِنِيهِ وَيَسَارِهِ
১২ - এবং ইবনে আব্দুল হামীদও আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট যুহায়র বিন মুহাম্মদ আল-মারওয়াযী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুলায়মান বিন হারব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাম্মাদ বিন যায়েদ বর্ণনা করেছেন আসিম বিন বাহদালাহ থেকে, তিনি আবু ওয়ায়িল থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: একদিন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি রেখা টানলেন এবং তাঁর আঙুল দিয়ে জমিনের ওপর একটি রেখা অঙ্কন করে বললেন: «এটি আল্লাহর পথ»; এরপর তিনি সেই রেখার ডানে ও বামে আরও কিছু রেখা টানলেন এবং বললেন: «এগুলো হলো নানাবিধ পথ, এগুলোর প্রত্যেকটি পথের ওপর ⦗পৃষ্ঠা: ২৯৩⦘ একজন শয়তান রয়েছে যে সেদিকে আহ্বান করছে»; এরপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: {আর এটিই আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, নতুবা তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে। তিনি তোমাদেরকে এই নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করো।} [আল-আন'আম: ১৫৩] সেই রেখাগুলো যা তার ডানে ও বামে ছিল।
(খণ্ড: ١) আশ-শারীয়াহ লিল আজুররী (পৃষ্ঠা: ٢٩٣)
13 - وَحَدَّثَنَا أَبُو جَعْفَرٍ أَحْمَدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ الْبُهْلُولِ الْقَاضِي قَالَ: ثنا أَبُو سَعِيدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ الْأَشَجُّ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الْأَحْمَرُ، عَنْ مُجَالِدٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ جَابِرٍ قَالَ: كُنَّا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَخَطَّ خَطًّا، وَخَطَّ خَطَّيْنِ عَنْ يَمِينِهِ، وَخَطَّ خَطَّيْنِ عَنْ يَسَارِهِ ثُمَّ وَضَعَ يَدَهُ فِي الْخَطِّ الْأَوْسَطِ، فَقَالَ: «هَذَا سَبِيلُ اللَّهِ» ، ثُمَّ تَلَا هَذِهِ الْآيَةَ: {وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ} [الأنعام: 153]
১৩ - এবং আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু জাফর আহমাদ ইবনে ইসহাক ইবনুল বাহলুল আল-কাদী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু সাঈদ আব্দুল্লাহ ইবনে সাঈদ আল-আশাজ্জ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু খালিদ আল-আহমার, মুজালিদ থেকে, তিনি আশ-শা’বী থেকে, তিনি জাবির থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট ছিলাম, তখন তিনি একটি রেখা অঙ্কন করলেন এবং তাঁর ডান দিকে দুটি রেখা ও বাম দিকে দুটি রেখা অঙ্কন করলেন, অতঃপর তিনি মাঝখানের রেখাটির ওপর নিজের হাত রাখলেন এবং বললেন: «এটি আল্লাহর পথ», অতঃপর তিনি এই আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন: {আর নিশ্চয়ই এটি আমার সরল পথ, অতএব তোমরা এরই অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, অন্যথায় তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে।} [আল-আন’আম: ১৫৩]
(খণ্ড: ١) আশ-শারীয়াহ লিল আজুররী (পৃষ্ঠা: ٢٩٤)
14 - وَحَدَّثَنَا الْفِرْيَابِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا مَيْمُونُ بنُ الْأَصْبَغِ، وَأَبُو مَسْعُودٍ أَحْمَدُ بْنُ الْفُرَاتِ قَالَا: نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ أَبُو صَالِحٍ قَالَ: نا مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ جُبَيْرٍ، حَدَّثَهُ عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّوَّاسِ بْنِ سَمْعَانَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " ضَرَبَ اللَّهُ مَثَلًا صِرَاطًا مُسْتَقِيمًا ⦗ص: 295⦘، وَعَلَى جَنَبَتَيِ الصِّرَاطِ سُورَانِ بَيْنَهُمَا ، وَأَبْوبٌ مُفَتَّحَةٌ وَعَلَى الْأَبْوَابِ سُتُورٌ مُرْخَاةٌ، وَعَلَى بَابِ الصِّرَاطِ دَاعٍ يَقُولُ: يَا أَيُّهَا النَّاسُ ادْخُلُوا الصِّرَاطَ جَمِيعًا وَلَا تَعْوَجُّوا، وَدَاعٍ يَدْعُو مِنْ فَوْقِ الصِّرَاطِ، فَإِذَا أَرَادَ إِنْسَانٌ فَتْحَ شَيْءٍ مِنْ تِلْكِ الْأَبْوَابِ قَالَ: وَيْحَكَ لَا تَفْتَحْهُ، فَإِنَّكَ إِنْ تَفْتَحْهُ تَلِجْهُ فَالصِّرَاطُ الْإِسْلَامُ، وَالسُّتُورُ: حُدُودُ اللَّهِ، وَالْأَبْوَابُ الْمُفَتَّحَةُ مَحَارِمُ اللَّهِ، وَذَلِكَ الدَّاعِي عَلَى رَأْسِ الصِّرَاطِ كِتَابُ اللَّهِ، وَالدَّاعِي مِنْ فَوْقِ الصِّرَاطِ وَاعِظُ اللَّهِ فِي قَلْبِ كُلِّ مُسْلِمٍ "
১৪ - আল-ফিরইয়াবী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মাইমুন ইবনুল আসবাগ এবং আবু মাসউদ আহমাদ ইবনুল ফুরাত বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবনে সালিহ আবু সালিহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুয়াবিয়া ইবনে সালিহ বর্ণনা করেছেন যে, আবদুর রহমান ইবনে জুবায়ের তাঁর নিকট তাঁর পিতার সূত্রে আন-নাওয়াস ইবনে সামআন থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “আল্লাহ তাআলা একটি সরল পথের উদাহরণ দিয়েছেন ⦗পৃষ্ঠা: ২৯৫⦘, সেই পথের দুই পাশে দুটি প্রাচীর রয়েছে, যার মাঝে রয়েছে উন্মুক্ত বহু দরজা। আর সেই দরজাগুলোর ওপর পর্দা ঝোলানো রয়েছে। পথের মাথায় একজন আহ্বানকারী দাঁড়িয়ে বলছেন: হে লোকসকল! তোমরা সবাই সরল পথে প্রবেশ করো এবং বক্র পথে যেয়ো না। আর পথের উপর থেকে একজন আহ্বানকারী আহ্বান করছেন; যখনই কোনো ব্যক্তি সেই দরজাগুলোর কোনো একটি খুলতে চায়, তখন তিনি বলেন: তোমার দুর্ভোগ! এটি খুলো না, কারণ তুমি যদি এটি খোলো তবে তাতে প্রবেশ করে ফেলবে। সুতরাং এই সরল পথটি হলো ইসলাম, আর পর্দাগুলো হলো আল্লাহর সীমারেখা, আর উন্মুক্ত দরজাগুলো হলো আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ। আর পথের মাথায় অবস্থানকারী আহ্বানকারী হলো আল্লাহর কিতাব, আর পথের উপর থেকে আহ্বানকারী হলো প্রত্যেক মুসলিমের অন্তরে আল্লাহর পক্ষ থেকে অবস্থানকারী উপদেশদাতা।”
(খণ্ড: ١) আশ-শারীয়াহ লিল আজুররী (পৃষ্ঠা: ٢٩٦)
15 - وَأَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي دَاوُدَ قَالَ: ثنا يَزِيدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الصَّمَدِ قَالَ: حَدَّثَنَا آدَمُ بْنُ أَبِي إِيَاسٍ قَالَ نا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ صَالِحٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جُبْيَرٍ عَنْ أَبِيهِ عَنِ النَّوَّاسِ بْنِ سَمْعَانَ الْأَنْصَارِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " ضَرَبَ اللَّهُ مَثَلًا ِصَراطًا مُسْتَقِيمًا وَعَلَى جَنَبَتَيِ الصِّرَاطِ سُورَانَ، بَيْنَهُمَا أَبْوَابٌ مُفَتَّحَةٌ، وَعَلَى الْأَبْوَابِ سُتُورٌ مُرْخَاةٌ، وَعَلَى بَابِ الصِّرَاطِ دَاعٍ يَقُولُ: يَا أَيُّهَا النَّاسُ ادْخُلُوا الصِّرَاطَ جَمِيعًا وَلَا تَتَفَرَّقُوا ، وَدَاعٍ يَدْعُو مِنْ فَوْقِ الصِّرَاطِ، فَإِذَا أَرَادَ إِنْسَانٌ فَتْحَ شَيْءٍ مِنْ تِلْكَ الْأَبْوَابِ قَالَ لَهُ: وَيْحَكَ لَا تَفْتَحْهُ، فَإِنَّكَ إِنْ تَفْتَحْهُ تَلِجْهُ، فَالصِّرَاطُ: الْإِسْلَامُ، وَالسُّتُورُ: حُدُودُ اللَّهِ ، وَالْأَبْوَابُ: مَحَارِمُ اللَّهِ تَعَالَى، وَالدَّاعِي عَلَى رَأْسِ الصِّرَاطِ: كِتَابُ اللَّهِ، وَالدَّاعِي مِنْ فَوْقِ الصِّرَاطِ: وَاعِظُ اللَّهِ فِي قَلْبِ كُلِّ مُسْلِمٍ "
১৫ - আবু বকর বিন আবু দাউদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইয়াজিদ বিন মুহাম্মদ বিন আবদুস সামাদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আদম বিন আবু ইয়াস আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: লাইস বিন সাদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মুয়াবিয়া বিন সালেহ থেকে, তিনি আবদুর রহমান বিন জুবাইর থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি নাওয়াস বিন সামআন আল-আনসারি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ তাআলা একটি সরল পথের উদাহরণ পেশ করেছেন, যার দুই পাশে দুটি প্রাচীর রয়েছে। সেই প্রাচীরদ্বয়ে অনেকগুলো উন্মুক্ত দরজা রয়েছে এবং দরজাগুলোর ওপর পর্দা ঝোলানো আছে। সেই পথের প্রবেশমুখে একজন আহ্বানকারী বলছেন: হে লোকসকল! তোমরা সকলে এই সরল পথে প্রবেশ করো এবং বিচ্ছিন্ন হয়ো না। আর একজন আহ্বানকারী পথের ওপর থেকে আহ্বান জানাচ্ছেন। যখন কোনো ব্যক্তি সেই দরজাগুলোর কোনো একটি খুলতে চায়, তখন তিনি তাকে বলেন: তোমার দুর্ভোগ হোক! তুমি এটি খুলো না। কারণ তুমি যদি এটি খুলো, তবে তাতে প্রবেশ করে ফেলবে। সুতরাং সরল পথটি হলো ইসলাম, পর্দাগুলো হলো আল্লাহর সীমারেখা এবং দরজাগুলো হলো আল্লাহর হারামকৃত বিষয়সমূহ। আর পথের মাথায় অবস্থানকারী আহ্বানকারী হলেন আল্লাহর কিতাব এবং পথের ওপর থেকে আহ্বানকারী হলেন প্রত্যেক মুসলিমের হৃদয়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে অবস্থানকারী উপদেশদাতা।"
(খণ্ড: ١) আশ-শারীয়াহ লিল আজুররী (পৃষ্ঠা: ٢٩٧)
16 - وَأَخْبَرَنَا الْفِرْيَابِيُّ قَالَ: أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ قَالَ: نا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ قَالَ: قَالَ عَبْدُ اللَّهِ: " إِنَّ هَذَا الصِّرَاطَ مُحْتَضَرٌ يَحْضُرُهُ الشَّيَاطِينُ يُنَادُونَ: يَا عَبْدَ اللَّهِ هَلُمَّ هَذَا الصِّرَاطَ لِيَصُدُّوا عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ، فَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ فَإِنَّ حَبْلَ اللَّهِ هُوَ كِتَابُ اللَّهِ "
১৬ - আল-ফিরইয়াবি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: উসমান ইবনে আবি শায়বাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: জারির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মানসুর থেকে, তিনি আবু ওয়াইল থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ বলেছেন: "নিশ্চয়ই এই পথটি (শয়তানদের দ্বারা) উপস্থিতকৃত, শয়তানরা সেখানে উপস্থিত হয়ে ডাকতে থাকে: হে আল্লাহর বান্দা, এদিকে এসো, এটাই পথ—যাতে তারা আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারে। অতএব তোমরা আল্লাহর রশিকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরো, কারণ আল্লাহর রশি হলো আল্লাহর কিতাব।"
(খণ্ড: ١) আশ-শারীয়াহ লিল আজুররী (পৃষ্ঠা: ٢٩٨)
17 - أَخْبَرَنَا أَبُو شُعَيْبٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْحَسَنِ الْحَرَّانِيُّ قَالَ: نا جَدِّي قَالَ: نا مُوسَى بْنُ أَعْيَنَ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ مُجَالِدِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ ثَابِتِ بْنِ قُطْبَةَ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ قَالَ فِي خُطْبَتِهِ: «يَا أَيُّهَا النَّاسُ، عَلَيْكُمْ بِالطَّاعَةِ وَالْجَمَاعَةِ، فَإِنَّهَا حَبْلُ اللَّهِ الَّذِي أَمَرَ بِهِ، وَمَا تَكْرَهُونَ فِي الْجَمَاعَةِ خَيْرٌ مِمَّا تُحِبُّونَ فِي الْفُرْقَةِ»
১৭ - আবু শুআইব আবদুল্লাহ ইবনুল হাসান আল-হাররানী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার দাদা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুসা ইবনে আ’ইয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি ইসমাঈল ইবনে আবি খালিদ থেকে, তিনি মুজালিদ ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি আশ-শা’বী থেকে, তিনি সাবিত ইবনে কুতবাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর খুতবায় বলেছেন: «হে লোকসকল, তোমরা আনুগত্য ও জামাআতের (ঐক্যবদ্ধতা) ওপর অটল থাকো, কারণ এটিই আল্লাহর সেই রশি যার নির্দেশ তিনি দিয়েছেন। আর জামাআতের মধ্যে তোমরা যা অপছন্দ করো তা বিছিন্নতার মধ্যে তোমাদের পছন্দনীয় বিষয়ের চেয়েও উত্তম‌।»
(খণ্ড: ١) আশ-শারীয়াহ লিল আজুররী (পৃষ্ঠা: ٢٩٩)
18 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْحَمِيدِ الْوَاسِطِيُّ قَالَ: نا زُهَيْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمَرْوَزِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، عَنْ ⦗ص: 300⦘ عِيسَى الْحَنَّاطِ، عَنِ الشَّعْبِيِّ قَالَ: كَانَ يُقَالُ: «مَنْ أَرَادَ بُحْبَحَةَ الْجَنَّةِ فَعَلَيْهِ بِجَمَاعَةِ الْمُسْلِمِينَ»
১৮ - আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল হামিদ আল-ওয়াসিতি আমাদের অবহিত করেছেন, তিনি বলেছেন: যুহাইর ইবনে মুহাম্মদ আল-মারওয়াযি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আবদুল্লাহ ইবনে মুসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ⦗পৃষ্ঠা: ৩০০⦘ ঈসা আল-হান্নাত থেকে, তিনি আশ-শা'বি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: বলা হতো: «যে ব্যক্তি জান্নাতের মধ্যবর্তী সর্বোত্তম স্থান কামনা করে, তার উচিত মুসলিমদের জামাআতকে (ঐক্যবদ্ধ দলকে) আঁকড়ে ধরা।’
(খণ্ড: ١) আশ-শারীয়াহ লিল আজুররী (পৃষ্ঠা: ٣٠٠)
19 - وَأَخْبَرَنَا ابْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ أَيْضًا قَالَ نا زُهَيْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عَاصِمٍ الْأَحْوَلِ قَالَ: قَالَ أَبُو الْعَالِيَةِ: " تَعَلَّمُوا الْإِسْلَامَ، فَإِذَا تَعَلَّمْتُمُوهُ فَلَا تَرْغَبُوا عَنْهُ، وَعَلَيْكُمْ بِالصِّرَاطِ الْمُسْتَقِيمِ فَإِنَّهُ الْإِسْلَامُ، وَلَا تُحَرِّفُوا الصِّرَاطَ يَمِينًا وَلَا شِمَالًا، وَعَلَيْكُمْ بِسُنَّةِ نَبِيِّكُمْ صلى الله عليه وسلم وَالَّذِي عَلَيْهَا أَصْحَابُهُ، فَإِنَّا قَدْ قَرَأْنَا الْقُرْآنَ مِنْ ⦗ص: 301⦘ قَبْلِ أَنْ يَفْعَلُوا الَّذِي فَعَلُوهُ خَمْسَ عَشْرَةَ سَنَةً، وَإِيَّاكُمْ وَهَذِهِ الْأَهْوَاءَ الَّتِي تُلْقِي بَيْنَ النَّاسِ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ قَالَ: فَحَدَّثْتُ بِهِ الْحَسَنَ فَقَالَ: صَدَقَ وَنَصَحَ، وَحَدَّثْتُ بِهِ حَفْصَةَ بِنْتَ سِيرِينَ، فَقَالَتْ: يَا بُنَيَّ أَحَدَّثْتَ بِهَذَا مُحَمَّدًا؟ قُلْتُ: لَا، قَالَتْ: فَحَدِّثْهُ إِذَنْ قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ: عَلَامَةُ مَنْ أَرَادَ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا: سُلُوكُ هَذَا الطَّرِيقِ ، كِتَابُ اللَّهِ، وَسُنَنُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَسُنَنُ أَصْحَابِهِ رضي الله عنهم وَمَنْ تَبِعَهُمْ بِإِحْسَانٍ، وَمَا كَانَ عَلَيْهِ أَئِمَّةُ الْمُسْلِمِينَ فِي كُلِّ بَلَدٍ إِلَى آخِرِ مَا كَانَ مِنَ الْعُلَمَاءِ مِثْلَ الْأَوْزَاعِيِّ وَسُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَمَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، وَالشَّافِعِيِّ، وَأَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ، وَالْقَاسِمِ بْنِ سَلَّامٍ، وَمَنْ كَانَ عَلَى مِثْلِ طَرِيقَتِهِمْ، وَمُجَانَبَةُ كُلِّ مَذْهَبٍ يَذُمُّهُ هَؤُلَاءِ الْعُلَمَاءُ، وَسَنُبَيِّنُ مَا يَرْضَوْنَهُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى
১৯ - এবং ইবনে আব্দুল হামিদও আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, যুহাইর ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, সুলাইমান ইবনে হারব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, হাম্মাদ ইবনে যাইদ আসিম আল-আহওয়াল থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবুল আলিয়া বলেছেন: "তোমরা ইসলাম শিক্ষা করো; যখন তোমরা তা শিখে নেবে, তখন তা থেকে বিমুখ হয়ো না। তোমরা সরল পথ (সিরাতুম মুস্তাকিম) অবলম্বন করো, কেননা তা-ই ইসলাম। আর এই সরল পথকে ডানে বা বামে বিচ্যুত করো না। তোমরা তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ এবং তাঁর সাহাবাগণ যে আদর্শের ওপর ছিলেন তা আঁকড়ে ধরো। কেননা মানুষ যা করেছে, তা করার পনের বছর আগেই আমরা কুরআন পাঠ করেছি ⦗পৃষ্ঠা: ৩০১⦘। আর তোমরা সেসব প্রবৃত্তি (মনগড়া মতবাদ) থেকে বেঁচে থাকো, যা মানুষের মাঝে শত্রুতা ও ঘৃণা ছড়ায়।" তিনি বলেন, আমি হাসান বসরির নিকট এটি বর্ণনা করলে তিনি বললেন, "তিনি সত্য বলেছেন এবং সঠিক উপদেশ দিয়েছেন।" আমি হাফসা বিনতে সিরিনের নিকট এটি বর্ণনা করলে তিনি বললেন, "হে বৎস, তুমি কি এটি মুহাম্মদকে শুনিয়েছ?" আমি বললাম, "না।" তিনি বললেন, "তবে তাকে এটি শুনিও।" মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন বলেন: আল্লাহ যার মঙ্গল চান তার নিদর্শন হলো এই পথে চলা: আল্লাহর কিতাব, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহসমূহ, তাঁর সাহাবাগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) ও যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন তাঁদের সুন্নাহসমূহ এবং প্রতিটি জনপদে মুসলিমদের ইমামগণ যে আদর্শের ওপর ছিলেন—যেমন পরবর্তী আলেমদের মধ্যে আওজায়ি, সুফিয়ান সাওরি, মালিক ইবনে আনাস, শাফেয়ি, আহমাদ ইবনে হাম্বল, কাসিম ইবনে সাল্লাম এবং যারা তাঁদের আদর্শের ওপর ছিলেন। আর এই আলেমগণ যে সকল মতবাদের নিন্দা করেছেন তা পরিহার করা। ইনশাআল্লাহ তাআলা, তাঁরা যা পছন্দ করতেন তা আমরা অচিরেই বর্ণনা করব।
(খণ্ড: ١) আশ-শারীয়াহ লিল আজুররী (পৃষ্ঠা: ٣٠٢)
‌‌بَابُ ذِكْرِ افْتِرَاقِ الْأُمَمِ فِي دِينِهِمْ وَعَلَى كَمْ تَفْتَرِقُ هَذِهِ الْأُمَّةُ؟ قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ رحمه الله: أَخْبَرَنَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: عَنْ أُمَّةِ مُوسَى عليه السلام: «أَنَّهُمُ اخْتَلَفُوا عَلَى إِحْدَى وَسَبْعِينَ مِلَّةً، كُلُّهَا فِي النَّارِ إِلَّا وَاحِدَةً» ، وَأَخْبَرَنَا عَنْ أُمَّةِ عِيسَى عليه السلام أَنَّهُمُ اخْتَلَفُوا عَلَيْهِ عَلَى اثْنَتَيْنِ وَسَبْعِينَ مِلَّةً، إِحْدَى وَسَبْعُونَ مِنْهَا فِي النَّارِ وَوَاحِدَةٌ فِي الْجَنَّةِ، قَالَ صلى الله عليه وسلم: «وَتَعْلُو أُمَّتِي الْفَرِيقَيْنِ جَمِيعًا تَزِيدُ عَلَيْهِمْ فِرْقَةً وَاحِدَةً، ثِنْتَانِ وَسَبْعُونَ مِنْهَا فِي النَّارِ وَوَاحِدَةٌ فِي الْجَنَّةِ» ثُمَّ إِنَّهُ سُئِلَ صلى الله عليه وسلم: «مَنِ النَّاجِيَةُ؟» فَقَالَ فِي حَدِيثٍ: «مَا أَنَا عَلَيْهِ وَأَصْحَابِي» وَفِي حَدِيثٍ قَالَ: «السَّوَادُ الْأَعْظَمُ» وَفِي حَدِيثٍ قَالَ: «وَاحِدَةٌ فِي الْجَنَّةِ، وَهِيَ الْجَمَاعَةُ» قُلْتُ أَنَا: وَمَعَانِيهَا وَاحِدَةٌ إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى
পরিচ্ছেদ: উম্মতগণের তাদের দ্বীনের ব্যাপারে দলাদলি হওয়া এবং এই উম্মত কত দলে বিভক্ত হবে তার বর্ণনা। মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর উম্মত সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন: «তারা একাত্তরটি দলে বিভক্ত হয়েছিল, একটি ছাড়া যার প্রতিটিই জাহান্নামে», এবং তিনি আমাদের ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর উম্মত সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে তারা তাঁর বিষয়ে বাহাত্তরটি দলে বিভক্ত হয়েছিল, যার মধ্যে একাত্তরটি জাহান্নামে এবং একটি জান্নাতে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আর আমার উম্মত উভয় দলের ওপর সংখ্যায় বৃদ্ধি পাবে, তাদের চেয়ে এক দল বেশি হবে; তাদের বাহাত্তরটি জাহান্নামে এবং একটি জান্নাতে যাবে»। অতঃপর তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিজ্ঞাসা করা হলো: «কারা মুক্তিপ্রাপ্ত দল?» তিনি এক হাদীসে বলেছেন: «আমি এবং আমার সাহাবীগণ যার ওপর রয়েছি»। অন্য এক হাদীসে তিনি বলেছেন: «সাওয়াদে আজম (সবচেয়ে বড় জনগোষ্ঠী)»। আর এক হাদীসে তিনি বলেছেন: «একটি দল জান্নাতে যাবে, আর সেটি হলো আল-জামা'আত»। আমি বলছি: এগুলোর অর্থ একই, ইনশাআল্লাহ তা'আলা।
(খণ্ড: ١) আশ-শারীয়াহ লিল আজুররী (পৃষ্ঠা: ٣٠٣)
20 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي دَاوُدَ قَالَ: حَدَّثَنَا الْمُسَيَّبُ بْنُ وَاضِحٍ قَالَ ⦗ص: 304⦘: سَمِعْتُ يُوسُفَ بْنَ أَسْبَاطٍ يَقُولُ: " أُصُولُ الْبِدَعِ أَرْبَعٌ: الرَّوَافِضُ، وَالْخَوَارِجُ، وَالْقَدَرِيَّةُ ، وَالْمُرْجِئَةُ، ثُمَّ تَتَشَعَّبُ كُلُّ فِرْقَةٍ ثَمَانِيَ عَشْرَةَ طَائِفَةً، فَتِلْكَ اثْنَتَانِ وَسَبْعُونَ فِرْقَةً، وَالثَّالِثَةُ وَالسَّبْعُونَ الْجَمَاعَةُ الَّتِي قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّهَا النَّاجِيَةُ»
২০ - আমাদের কাছে আবু বকর ইবন আবি দাউদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে মুসাইয়িব ইবন ওয়াদিহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন ⦗পৃষ্ঠা: ৩০৪⦘: আমি ইউসুফ ইবন আসবাতকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: "বিদআতের মূল ভিত্তি চারটি: রাফেজি, খারিজি, কাদারিয়া এবং মুরজিয়া। অতঃপর প্রতিটি দল আঠারোটি উপদলে বিভক্ত হয়েছে, ফলে সেগুলো বাহাত্তরটি দলে পরিণত হয়েছে। আর তিয়াত্তরতম দল হলো আল-জামাআহ, যাদের সম্পর্কে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই সেটি মুক্তিপ্রাপ্ত»"
(খণ্ড: ١) আশ-শারীয়াহ লিল আজুররী (পৃষ্ঠা: ٣٠٤)
21 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ الْبُخَارِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ الْمَرْوَزِيُّ قَالَ: نا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ قَالَ: نا ⦗ص: 306⦘ مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «تَفَرَّقَ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى عَلَى إِحْدَى، أَوِ اثْنَتَيْنِ وَسَبْعِينَ فِرْقَةً وَتَفْتَرِقُ أُمَّتِي عَلَى ثَلَاثٍ وَسَبْعِينَ فِرْقَةً»
২১ - আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে সালেহ আল-বুখারী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আবদাহ ইবনে আবদুর রহীম আল-মারওয়াযী আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেছেন: নাযর ইবনে শুমাইল আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ⦗পৃষ্ঠা: ৩০৬⦘ মুহাম্মদ ইবনে আমর, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «ইয়াহুদি ও খ্রিস্টানরা একাত্তর বা বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছে এবং আমার উম্মত তেহাত্তর দলে বিভক্ত হবে»
(খণ্ড: ١) আশ-শারীয়াহ লিল আজুররী (পৃষ্ঠা: ٣٠٦)
22 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي دَاوُدَ قَالَ: حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ خَشْرَمٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «تَفَرَّقَتِ الْيَهُودُ عَلَى إِحْدَى أَوِ اثْنَتَيْنِ وَسَبْعِينَ فِرْقَةً، وَاخْتَلَفَ النَّصَارَى عَلَى إِحْدَى أَوِ اثْنَتَيْنِ وَسَبْعِينَ فِرْقَةً ، وَتَفْتَرِقُ أُمَّتِي عَلَى ثَلَاثٍ وَسَبْعِينَ فِرْقَةً»
২২ - আমাদের নিকট আবু বকর বিন আবি দাউদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আলী বিন খাশরাম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ফাদল বিন মুসা, মুহাম্মদ বিন আমর থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরাইরাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «ইহুদিরা একাত্তর বা বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছিল, এবং খ্রিস্টানরা একাত্তর বা বাহাত্তর দলে মতভেদ করে বিভক্ত হয়েছিল, আর আমার উম্মত তিয়াত্তর দলে বিভক্ত হবে।»
(খণ্ড: ١) আশ-শারীয়াহ লিল আজুররী (পৃষ্ঠা: ٣٠٧)
23 - وَأَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عَبْدِ الْجَبَّارِ الصُّوفِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا الْهَيْثَمُ بْنُ خَارِجَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زِيَادِ بْنِ أَنْعَمَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو رضي الله عنهما أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " لَيَأْتِيَنَّ عَلَى أُمَّتِي مَا أَتَى عَلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ: تَفَرَّقَ بَنُو إِسْرَائِيلَ عَلَى اثْنَتَيْنِ وَسَبْعِينَ مِلَّةً وَسَتَفْتَرِقُ أُمَّتِي عَلَى ثَلَاثٍ وَسَبْعِينَ ⦗ص: 308⦘، تَزِيدُ عَلَيْهِمْ، كُلُّهَا فِي النَّارِ إِلَّا مِلَّةً وَاحِدَةً، فَقَالُوا: مَنْ هَذِهِ الْمِلَّةُ الْوَاحِدَةُ؟ قَالَ: مَا أَنَا عَلَيْهَا وَأَصْحَابِي "
২৩ - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আহমদ ইবনুল হাসান ইবনে আব্দুল জাব্বার আস-সুফি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আল-হাইসাম ইবনে খারিজাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল ইবনে আইয়াশ, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে যিয়াদ ইবনে আনউম থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াযীদ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমার উম্মতের উপর তা-ই আসবে যা বনী ইসরাঈলের উপর এসেছিল: বনী ইসরাঈল বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছিল এবং আমার উম্মত তেহাত্তর দলে বিভক্ত হবে ⦗পৃষ্ঠা: ৩০৮⦘, যা তাদের চেয়েও একটি বেশি; এর প্রতিটিই হবে জাহান্নামী কেবল একটি দল ব্যতীত। তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন: সেই একটি দল কোনটি? তিনি বললেন: আমি এবং আমার সাহাবীগণ বর্তমানে যার ওপর রয়েছি।"
(খণ্ড: ١) আশ-শারীয়াহ লিল আজুররী (পৃষ্ঠা: ٣٠٨)
24 - حَدَّثَنَا أَبُو الْفَضْلِ جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّنْدَلِيُّ قَالَ: نا أَبُو بَكْرِ بْنُ زَنْجُوَيْهِ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ الْفِرْيَابِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ يَعْنِي الثَّوْرِيَّ ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زِيَادٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ ⦗ص: 309⦘ يَزِيدَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَيَأْتِيَنَّ عَلَى أُمَّتِي مِثْلُ مَا أَتَى عَلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ مِثْلًا بِمِثْلٍ حَذْوَ النَّعْلِ بِالنَّعْلِ، وَإِنَّ بَنِي إِسْرَائِيلَ تَفَرَّقُوا عَلَى اثْنَتَيْنِ وَسَبْعِينَ مِلَّةً، وَإِنَّ أُمَّتِي سَتَفْتَرِقُ عَلَى ثَلَاثٍ وَسَبْعِينَ مِلَّةً، كُلُّهَا فِي النَّارِ إِلَّا مِلَّةً وَاحِدَةً» قِيلَ: مَنْ هِيَ يَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم؟ قَالَ عليه السلام: «مَا أَنَا عَلَيْهِ الْيَوْمَ وَأَصْحَابِي»
২৪ - আবু আল-ফজল জাফর ইবনে মুহাম্মদ আস-সানদালি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর ইবনে জানজুওয়াইহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-ফিরইয়াবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান—অর্থাৎ আস-সাওরি—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুর রহমান ইবনে জিয়াদ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে ⦗পৃষ্ঠা: ৩০৯⦘ ইয়াজিদ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «অবশ্যই আমার উম্মতের ওপর তেমন পরিস্থিতি আসবে যেমনটি বনী ইসরাঈলের ওপর এসেছিল—একেবারে হুবহু, যেমন এক জোড়া জুতার একটি অপরটির সমান হয়। আর নিশ্চয়ই বনী ইসরাঈল বাহাত্তরটি দলে বিভক্ত হয়েছিল, আর আমার উম্মত অচিরেই তিয়াত্তরটি দলে বিভক্ত হবে, যার একটি ছাড়া সবকটিই জাহান্নামে যাবে।» জিজ্ঞাসা করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তারা কারা? তিনি আলাইহিস সালাম বললেন: «আমি এবং আমার সাহাবীগণ আজ যার ওপর রয়েছি (তারা তারই অনুসারী)‌।»
(খণ্ড: ١) আশ-শারীয়াহ লিল আজুররী (পৃষ্ঠা: ٣٠٩)
حَدَّثَنَا أَبُو شُعَيْبٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْحَسَنِ الْحَرَّانِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا ⦗ص: 310⦘ عَاصِمُ بْنُ عَلِيٍّ قَالَ: نا أَبُو مَعْشَرٍ وَأَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عَبْدِ الْجَبَّارِ الصُّوفِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ بَكَّارٍ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو مَعْشَرٍ، عَنْ يَعْقُوبَ بْنِ زَيْدِ بْنِ طَلْحَةَ ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه ذَكَرَ حَدِيثًا طَوِيلًا قَالَ فِيهِ: وَحَدَّثَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْأُمَمِ فَقَالَ: «تَفَرَّقَتْ أُمَّةُ مُوسَى عليه السلام عَلَى إِحْدَى وَسَبْعِينَ مِلَّةً، سَبْعُونَ مِنْهَا فِي النَّارِ وَوَاحِدَةٌ فِي الْجَنَّةِ، وَتَفَرَّقَتْ أُمَّةُ عِيسَى عليه السلام عَلَى اثْنَتَيْنِ وَسَبْعِينَ مِلَّةً، إِحْدَى وَسَبْعُونَ مِنْهَا فِي النَّارِ وَوَاحِدَةٌ فِي الْجَنَّةِ» وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «وَتَعْلُو أُمَّتِي عَلَى الْفِرْقَتَيْنِ جَمِيعًا بِمِلَّةٍ وَاحِدَةٍ، اثْنَتَانِ وَسَبْعُونَ مِنْهَا فِي النَّارِ، وَوَاحِدَةٌ فِي الْجَنَّةِ» ، قَالُوا: مَنْ هُمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «الْجَمَاعَةُ» ⦗ص: 311⦘ قَالَ يَعْقُوبُ بْنُ زَيْدٍ: فَكَانَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه إِذَا حَدَّثَ بِهَذَا الْحَدِيثِ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَلَا فِيهِ قُرْآنًا {وَمِنْ قَوْمِ مُوسَى أُمَّةٌ يَهْدُونَ بِالْحَقِّ وَبِهِ يَعْدِلُونَ} [الأعراف: 159] ثُمَّ ذَكَرَ أُمَّةَ عِيسَى فَقَرَأَ {وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْكِتَابِ آمَنُوا وَاتَّقَوْا لَكَفَّرْنَا عَنْهُمْ سَيِّئَاتِهِمْ وَلَأَدْخَلْنَاهُمْ جَنَّاتِ النَّعِيمِ وَلَوْ أَنَّهُمْ أَقَامُوا التَّوْرَاةَ وَالْإِنْجِيلَ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِمْ مِنْ رَبِّهِمْ لَأَكَلُوا مِنْ فَوْقِهِمْ وَمِنْ تَحْتِ أَرْجُلِهِمْ، مِنْهُمْ أُمَّةٌ مُقَتَصِدَةٌ وَكَثِيرٌ مِنْهُمْ سَاءَ مَا يَعْمَلُونَ} [المائدة: 66] قَالَ: ثُمَّ ذَكَرَ أُمَّتَنَا فَقَرَأَ {وَمِمَّنْ خَلَقْنَا أُمَّةٌ يَهْدُونَ بِالْحَقِّ وَبِهِ يَعْدِلُونَ} [الأعراف: 181]
আবু শুয়াইব আব্দুল্লাহ ইবনে হাসান আল-হাররানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৩১০⦘ আসিম ইবনে আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু মা'শার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। এবং আবু আব্দুল্লাহ আহমদ ইবনে হাসান ইবনে আব্দুল জাব্বার আস-সুফি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবনে বাক্কার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু মা'শার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াকুব ইবনে যায়েদ ইবনে তালহা থেকে, তিনি যায়েদ ইবনে আসলাম থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি একটি দীর্ঘ হাদিস উল্লেখ করেছেন যাতে তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের নিকট জাতিসমূহ সম্পর্কে আলোচনা করলেন এবং বললেন: «মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর উম্মত একাত্তরটি দলে বিভক্ত হয়েছিল, যার মধ্যে সত্তরটি জাহান্নামে এবং একটি জান্নাতে। আর ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর উম্মত বাহাত্তরটি দলে বিভক্ত হয়েছিল, যার মধ্যে একাত্তরটি জাহান্নামে এবং একটি জান্নাতে।» রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরও বললেন: «আর আমার উম্মত উভয় দলের সংখ্যার চেয়ে আরও একটি দল বৃদ্ধি পেয়ে বিভক্ত হবে, যার মধ্যে বাহাত্তরটি জাহান্নামে এবং একটি জান্নাতে।» তারা জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল, তারা কারা? তিনি বললেন: «আল-জামা'আত» ⦗পৃষ্ঠা: ৩১১⦘ ইয়াকুব ইবনে যায়েদ বলেন: আলী ইবনে আবু তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এই হাদিসটি বর্ণনা করতেন, তখন তিনি এই বিষয়ে কুরআনের আয়াত পাঠ করতেন: {মূসার সম্প্রদায়ের মধ্যে এমন একটি দল রয়েছে যারা সত্যের পথ দেখায় এবং সে অনুযায়ী ন্যায়বিচার করে} [আরাফ: ১৫৯]। এরপর তিনি ঈসার উম্মত সম্পর্কে উল্লেখ করে পাঠ করলেন: {আর যদি আহলে কিতাবগণ ঈমান আনত এবং তাকওয়া অবলম্বন করত, তবে অবশ্যই আমরা তাদের পাপসমূহ মোচন করে দিতাম এবং অবশ্যই তাদেরকে নি'য়ামতে ভরপুর জান্নাতে প্রবেশ করাতাম। আর যদি তারা তাওরাত, ইনজীল এবং তাদের রবের পক্ষ থেকে তাদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা প্রতিষ্ঠিত করত, তবে তারা তাদের উপর থেকে এবং তাদের পায়ের নিচ থেকে আহার করত। তাদের মধ্যে একটি পরিমিতিবোধ সম্পন্ন দল রয়েছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশের কৃতকর্ম খুবই মন্দ} [মায়েদা: ৬৬]। তিনি বলেন: এরপর তিনি আমাদের উম্মত সম্পর্কে উল্লেখ করে পাঠ করলেন: {আর যাদেরকে আমি সৃষ্টি করেছি তাদের মধ্যে এমন একটি দল রয়েছে যারা সত্যের পথ দেখায় এবং সে অনুযায়ী ন্যায়বিচার করে} [আরাফ: ১৮১]।