(খণ্ড: ১)
আস-সুনানুল মাসুরাতু লিশ-শাফিয়ি
(পৃষ্ঠা: -)
السنن المأثورة للشافعي القسم: كتب السنة
الكتاب: السنن المأثورة - للإمام محمد بن إدريس الشافعي (150 - 204 هـ)
رِواية: أبي جعفر الطحاوي الحنفي
عن خاله: إسماعيل بن يحيى المزني (تلميذ الشافعي)
تحقيق: د عبد المعطي أمين قلعجي
الناشر: دار المعرفة - بيروت
الطبعة: الأولى، 1406 هـ - 1986 م
عدد الصفحات: 445
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
শাফিঈর আস-সুনানুল মাসুরাত বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: আস-সুনানুল মাসুরাত - ইমাম মুহাম্মদ বিন ইদরিস আশ-শাফিঈর (১৫০ - ২০৪ হিজরি)
বর্ণনা করেছেন: আবু জাফর আত-তাহাবী আল-হানাফী
তাঁর মামার সূত্রে: ইসমাইল বিন ইয়াহইয়া আল-মুজানি (শাফিঈর ছাত্র)
সম্পাদনা: ডক্টর আব্দুল মু'তি আমিন কালআজি
প্রকাশক: দারুল মা'রিফাহ - বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৬ হিজরি - ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৪৫
[কিতাবের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরি
(খণ্ড: ১)
আস-সুনানুল মাসুরাতু লিশ-শাফিয়ি
(পৃষ্ঠা: ١٠٩)
قَرَأت على الشَّيْخ ابْن أبي المكارم عبد الْوَاحِد بن مُحَمَّد بن هِلَال فِي شهور سنة ثَلَاث وَسِتِّينَ وَخَمْسمِائة قلت
أخْبركُم الشريف النسيب أَبُو الْقَاسِم عَليّ بن ابراهيم بن الْعَبَّاس بن الْحسن بن الْعَبَّاس بن الْحسن بن أبي الْحسن قَالَ
أخبرنَا أَبُو الْحسن رشاد بن لطيف رضي الله عنه إجَازَة قَالَ
حَدثنَا الشريف أَبُو الْقَاسِم الميمون بن حمزه بن الْحُسَيْن الْحُسَيْنِي الْعدْل
قَرَأَهُ عَلَيْهِ وَأَنا اسْمَع سنة تسعين وَثَلَاث مائَة قَالَ حَدثنَا أَبُو جَعْفَر احْمَد بن مُحَمَّد سَلامَة الازدي الطَّحَاوِيّ قَالَ
حَدثنَا أَبُو ابراهيم اسماعيل بن
আমি পাঁচশ তেষট্টি হিজরি সনের মাসগুলোতে শেখ ইবনে আবিল মাকারিম আব্দুল ওয়াহিদ বিন মুহাম্মদ বিন হিলাল-এর নিকট পাঠ করেছি। আমি বললাম—
আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন উচ্চবংশীয় শরিফ আবুল কাসিম আলী বিন ইবরাহিম বিন আল-আব্বাস বিন আল-হাসান বিন আল-আব্বাস বিন আল-হাসান বিন আবিল হাসান। তিনি বলেন—
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান রাশাদ বিন লতিফ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বর্ণনার অনুমতিক্রমে। তিনি বলেন—
আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ন্যায়পরায়ণ শরিফ আবুল কাসিম আল-মায়মুন বিন হামজাহ বিন আল-হুসাইন আল-হুসাইনি।
তিনশ নব্বই হিজরি সনে আমি শ্রবণরত থাকাবস্থায় তাঁর নিকট এটি পাঠ করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু জাফর আহমদ বিন মুহাম্মদ সালামাহ আল-আজদি আত-তাহাবি। তিনি বলেন—
আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু ইবরাহিম ইসমাইল বিন
(খণ্ড: ১)
আস-সুনানুল মাসুরাতু লিশ-শাফিয়ি
(পৃষ্ঠা: ١١٠)
يحيى الْمُزنِيّ فِي ذِي الْقعدَة سنة اثْنَيْنِ وَخمسين وَمِائَتَيْنِ قِرَاءَة
ইয়াহইয়া আল-মুযানী দুইশত বাহান্ন হিজরি সনের যিলকদ মাসে পাঠ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আস-সুনানুল মাসুরাতু লিশ-শাফিয়ি
(পৃষ্ঠা: ١١١)
مِنْهُ علينا
আমাদের ওপর তাঁর পক্ষ থেকে
(খণ্ড: ১)
আস-সুনানুল মাসুরাতু লিশ-শাফিয়ি
(পৃষ্ঠা: ١١١)
1 - قَالَ
حَدثنَا أَبُو عبد الله مُحَمَّد بن ادريس الشَّافِعِي رَحمَه الله تَعَالَى قَالَ
১ - তিনি বলেন
আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন ইদরীস আশ-শাফিঈ (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন), তিনি বলেন
(খণ্ড: ১)
আস-সুনানুল মাসুরাতু লিশ-শাফিয়ি
(পৃষ্ঠা: ١١١)
أَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بنِ أَبِي فُدَيْكٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ، عَنِ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: حُبِسْنَا يَوْمَ الْخَنْدَقِ عَنِ الصَّلَاةِ ، حَتَّى كَانَ بَعْدَ الْمَغْرِبِ بِهَوِيٍّ مِنَ اللَّيْلِ ، حَتَّى كُفِينَا ، وَذَلِكَ قَوْلُ اللَّهِ تَعَالَى: {وَكَفَى اللَّهُ الْمُؤْمِنِينَ الْقِتَالَ وَكَانَ اللَّهُ قَوِيًّا عَزِيزًا} [الْأَحْزَاب: 25] ، قَالَ: فَدَعَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِلَالًا ، فَأَمَرَهُ فَأَقَامَ الظُّهْرَ ، فَصَلَّاهَا فَأَحْسَنَ صَلَاتَهَا كَمَا كَانَ يُصَلِّيهَا فِي وَقْتِهَا ، ثُمَّ أَقَامَ الْعَصْرَ فَصَلَّاهَا كَذَلِكَ ، ثُمَّ أَقَامَ الْمَغْرِبَ فَصَلَّاهَا كَذَلِكَ ، ثُمَّ أَقَامَ الْعِشَاءَ فَصَلَّاهَا كَذَلِكَ أَيْضًا ، قَالَ: وَذَلِكَ قَبْلَ أَنْ يُنْزِلَ اللَّهُ عز وجل فِي صَلَاةِ الْخَوْفِ: {فَرِجَالًا أَوْ رُكْبَانًا} [الْبَقَرَة: 239]
মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল ইবনে আবি ফুদাইক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি ইবনে আবি যি'ব থেকে, তিনি মাকবুরী থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে আবি সাঈদ থেকে এবং তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: খন্দকের যুদ্ধের দিন আমরা সালাত আদায়ে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছিলাম, এমনকি মাগরিবের পর রাতের বেশ কিছু সময় অতিবাহিত হয়ে গিয়েছিল, যতক্ষণ না আল্লাহ আমাদের জন্য (শত্রু দমনে) যথেষ্ট হলেন। আর এটিই মহান আল্লাহর বাণী: "আর আল্লাহ মুমিনদের জন্য যুদ্ধে যথেষ্ট হয়ে গেলেন, এবং আল্লাহ হলেন শক্তিশালী ও পরাক্রমশালী" [আল-আহযাব: ২৫]। তিনি বলেন: অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিলালকে ডাকলেন এবং তাকে নির্দেশ দিলেন; ফলে তিনি যুহরের ইকামাত দিলেন। এরপর তিনি সালাত আদায় করলেন এবং তা অত্যন্ত সুন্দরভাবে সম্পন্ন করলেন যেভাবে তিনি নিয়মিত সময়ে সালাত আদায় করতেন। এরপর তিনি আসরের ইকামাত দিলেন এবং একইভাবে সালাত আদায় করলেন। তারপর মাগরিবের ইকামাত দিলেন এবং একইভাবে সালাত আদায় করলেন। এরপর এশার ইকামাত দিলেন এবং সেটিও একইভাবে আদায় করলেন। তিনি বলেন: আর এটি ছিল মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ কর্তৃক 'সালাতুল খাওফ' (ভীতিপূর্ণ অবস্থার সালাত) সম্পর্কে এই আয়াত নাযিল করার পূর্বের ঘটনা: "অতঃপর তোমরা পদব্রজে অথবা আরোহী অবস্থায় (সালাত আদায় করো)" [আল-বাকারাহ: ২৩৯]।
(খণ্ড: ১)
আস-সুনানুল মাসুরাতু লিশ-শাফিয়ি
(পৃষ্ঠা: ١١٢)
2 - أَنْبَأَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ عَمِّهِ أَبِي سُهَيْلِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ سَمِعَ طَلْحَةَ بْنَ عُبَيْدِ اللَّهِ، يَقُولُ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ أَهْلِ نَجْدٍ ثَائِرَ ⦗ص: 113⦘ الرَّأْسِ ، يُسْمَعُ دَوِيُّ صَوْتِهِ ، وَلَا يُفْقَهُ مَا يَقُولُ ، حَتَّى دَنَا ، فَإِذَا هُوَ يَسْأَلُ عَنِ الْإِسْلَامِ ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «خَمْسُ صَلَوَاتٍ فِي الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ» ، فَقَالَ: هَلْ عَلَيَّ غَيْرُهَا؟ قَالَ: «لَا ، إِلَّا أَنْ تَطَوَّعَ» ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «وَصِيَامُ شَهْرِ رَمَضَانَ» ، قَالَ: هَلْ عَلَيَّ غَيْرُهُ؟ قَالَ: «لَا إِلَّا أَنْ تَطَوَّعَ» ، قَالَ: وَذَكَرَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الصَّدَقَةَ ، قَالَ: هَلْ عَلَيَّ غَيْرُهَا؟ قَالَ: «لَا ، إِلَّا أَنْ تَطَوَّعَ» ، فَأَدْبَرَ الرَّجُلُ وَهُوَ يَقُولُ: وَاللَّهِ لَا أَزِيدُ عَلَى هَذَا ، وَلَا أَنْقُصُ مِنْهُ ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَفْلَحَ إِنْ صَدَقَ»
২ - মালিক ইবনে আনাস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি তার চাচা আবু সুহাইল ইবনে মালিক থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহকে বলতে শুনেছেন: নজদবাসীদের মধ্য থেকে উষ্কখুষ্ক চুলে এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন। ⦗পৃষ্ঠা: ১১৩⦘ তার কণ্ঠস্বরের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল, কিন্তু তিনি কী বলছিলেন তা বোঝা যাচ্ছিল না, যতক্ষণ না তিনি নিকটে আসলেন। তখন দেখা গেল তিনি ইসলাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «দিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা।» সে ব্যক্তি বলল: আমার ওপর কি এর বাইরে অন্য কিছু আছে? তিনি বললেন: «না, তবে তুমি যদি নফল (স্বেচ্ছামূলক) কিছু করতে চাও।» আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «এবং রমজান মাসের সিয়াম (রোজা) পালন করা।» সে বলল: আমার ওপর কি এর বাইরে অন্য কিছু আছে? তিনি বললেন: «না, তবে তুমি যদি নফল কিছু করতে চাও।» বর্ণনাকারী বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিকট সদকার (যাকাত) কথা উল্লেখ করলেন। সে বলল: আমার ওপর কি এর বাইরে অন্য কিছু আছে? তিনি বললেন: «না, তবে তুমি যদি নফল কিছু করতে চাও।» এরপর লোকটি এই বলতে বলতে প্রস্থান করল: আল্লাহর কসম, আমি এর চেয়ে বৃদ্ধি করব না এবং এর থেকে হ্রাসও করব না। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «যদি সে সত্য বলে থাকে, তবে সে সফলকাম হলো।»
(খণ্ড: ১)
আস-সুনানুল মাসুরাতু লিশ-শাফিয়ি
(পৃষ্ঠা: ١١٤)
3 - أَنْبَأَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أُمِرَ أَنْ يَسْجُدَ عَلَى سَبْعَةِ أَعْظُمٍ ، وَنُهِيَ أَنْ يَكُفَّ ثِيَابَهُ وَشَعْرَهُ ".
أخبرنَا الطَّحَاوِيُّ: قَالَ أخبرنَا الْمُزَنِيُّ: وَهِيَ عِنْدِي: يَكْفِتَ
৩ - সুফিয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমর ইবন দীনার থেকে, তিনি তাউস থেকে, তিনি ইবন আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সাতটি অস্থির ওপর সিজদা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং কাপড় ও চুল গুটিয়ে নিতে নিষেধ করা হয়েছে।
তাহাবি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: তিনি বলেন, মুযানী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: আর আমার নিকট এটি হলো: একফিতা (গুটিয়ে রাখা)।
(খণ্ড: ১)
আস-সুনানুল মাসুরাতু লিশ-শাফিয়ি
(পৃষ্ঠা: ١١٤)
4 - أَنْبَأَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: أُمِرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَسْجُدَ عَلَى سَبْعٍ: عَلَى ⦗ص: 115⦘ يَدَيْهِ ، وَجَبْهَتِهِ ، وَأَنْفِهِ، وَرُكْبَتَيْهِ ، وَأَطْرَافِ أَصَابِعِهِ ، وَنُهِيَ أَنْ يَكْفِتَ الشَّعْرَ وَالثِّيَابَ. قَالَ سُفْيَانُ: وَأَرَانَا ابْنُ طَاوُسٍ ، فَوَضَعَ يَدَهُ عَلَى جَبْهَتِهِ ، ثُمَّ مَرَّ بِهَا عَلَى أَنْفِهِ ، حَتَّى بَلَغَ طَرَفَ أَنْفِهِ ، فَقَالَ: كَانَ أَبِي يَعُدُّ هَذَا وَاحِدًا
৪ - সুফিয়ান ইবন উয়ায়নাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবন তাউস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতার সূত্রে, তিনি ইবন আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সাতটি অঙ্গের উপর সিজদা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে: তাঁর ⦗পৃষ্ঠা: ১১৫⦘ দুই হাত, তাঁর কপাল, তাঁর নাক, তাঁর দুই হাঁটু এবং তাঁর আঙুলের অগ্রভাগ; এবং তাঁকে চুল ও কাপড় গুটিয়ে রাখতে নিষেধ করা হয়েছে। সুফিয়ান বলেন: ইবন তাউস আমাদের দেখিয়েছেন; তিনি তাঁর হাত তাঁর কপালে রাখলেন, অতঃপর তা নাকের ওপর দিয়ে চালিয়ে নাকের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত নিয়ে গেলেন এবং বললেন: আমার পিতা এটিকে একটি হিসেবে গণ্য করতেন।
(খণ্ড: ১)
আস-সুনানুল মাসুরাতু লিশ-শাফিয়ি
(পৃষ্ঠা: ١١٥)
5 - وَأَنْبَأَنَا عَبْدُ الْمَجِيدِ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عِمْرَانُ بْنُ مُوسَى، قَالَ: أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيُّ، أَنَّهُ رَأَى أَبَا رَافِعٍ مَوْلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مَرَّ بِحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ عليهما السلام يُصَلِّي ، قَدْ غَرَزَ ضَفْرَتَهُ فِي قَفَاهُ ، فَحَلَّهَا أَبُو رَافِعٍ ، فَالْتَفَتَ حَسَنٌ إِلَيْهِ مُغْضَبًا ، فَقَالَ أَبُو رَافِعٍ: أَقْبِلْ عَلَى صَلَاتِكَ وَلَا تَغْضَبْ ، فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «ذَلِكَ كِفْلُ الشَّيْطَانِ» . يَقُولُ: مَقْعَدُ الشَّيْطَانِ ، يَعْنِي مَغْرَزَ ضَفْرَتِهِ
৫ - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদাল মাজিদ ইবনে আবদাল আজিজ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইবনে জুরাইজ, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন ইমরান ইবনে মূসা, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন সাঈদ ইবনে আবি সাঈদ আল-মাকবুরী যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মুক্ত দাস আবু রাফি-কে হাসান ইবনে আলী (তাদের উভয়ের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)-এর পাশ দিয়ে অতিক্রম করতে দেখলেন যখন তিনি সালাত আদায় করছিলেন। এমতাবস্থায় তিনি তাঁর চুলের বেণী বা ঝুঁটি ঘাড়ের পেছনে গুঁজে রেখেছিলেন। আবু রাফি তা খুলে দিলেন, তখন হাসান রাগান্বিত হয়ে তাঁর দিকে তাকালেন। আবু রাফি বললেন: আপনার সালাতে মনোনিবেশ করুন এবং রাগান্বিত হবেন না, কেননা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: "তা হলো শয়তানের অংশ (বোঝা)"। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: শয়তানের বসার জায়গা, অর্থাৎ তাঁর চুলের ঝুঁটি গুঁজে রাখার স্থানটি।
(খণ্ড: ১)
আস-সুনানুল মাসুরাতু লিশ-শাফিয়ি
(পৃষ্ঠা: ١١٥)
6 - حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ ⦗ص: 116⦘، عَنْ رَجُلٍ مِنْ بَنِي الدِّيلِ يُقَالُ لَهُ: بُسْرُ بْنُ مِحْجَنٍ ، عَنْ أَبِيهِ مِحْجَنٍ أَنَّهُ كَانَ فِي مَجْلِسٍ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، فَأُذِّنَ بِالصَّلَاةِ ، فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَصَلَّى ، ثُمَّ رَجَعَ وَمِحْجَنٌ فِي مَجْلِسِهِ ، فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَا مَنَعَكَ أَنْ تُصَلِّيَ مَعَ النَّاسِ؟ أَلَسْتَ بِرَجُلٍ مُسْلِمٍ؟ » قَالَ: بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ ، وَلَكِنِّي قَدْ كُنْتُ صَلَّيْتُ فِي أَهْلِي ، فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِذَا جِئْتَ فَصَلِّ مَعَ النَّاسِ ، وَإِنْ كُنْتَ قَدْ صَلَّيْتَ» . قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: النَّاسُ كُلُّهُمْ يَقُولُونَ: بُسْرُ بْنُ مِحْجَنٍ غَيْرُ الثَّوْرِيِّ ، فَإِنَّهُ يَقُولُ: بِشْرُ بْنُ مِحْجَنٍ. حَدَّثَنَا أَحْمَدُ قَالَ: سَمِعْتُ إِبْرَاهِيمَ بْنَ أَبِي دَاوُدَ الْبُرُلُّسِيَّ يَقُولُ: سَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ صَالِحٍ فِي مَسْجِدِ الْجَامِعِ قَبْلَ أَنْ يَلْزَمَ بَيْتَهُ يَقُولُ: سَأَلْتُ جَمَاعَةً مِنْ وَلَدِ ابْنِ مِحْجَنٍ هَذَا وَمِنْ رَهْطِهِ عَنِ اسْمِهِ فَمَا اخْتَلَفَ عَلَيَّ مِنْهُمُ اثْنَانِ أَنَّهُ بِشْرٌ كَمَا قَالَ الثَّوْرِيُّ وَلَيْسَ كَمَا قَالَ مَالِكٌ
৬ - মালিক ইবনে আনাস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যায়িদ ইবনে আসলাম থেকে ⦗পৃষ্ঠা: ১১৬⦘, তিনি বনু আদ-দীল গোত্রের জনৈক ব্যক্তি থেকে যাকে বুসর ইবনে মিহজান বলা হয়, তিনি তাঁর পিতা মিহজান থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে এক মজলিসে উপস্থিত ছিলেন। এমতাবস্থায় সালাতের আযান দেওয়া হলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করলেন এবং ফিরে আসলেন, আর মিহজান তাঁর মজলিসেই (বসে) ছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন: «মানুষের সাথে সালাত আদায় করতে তোমাকে কিসে বাধা দিল? তুমি কি একজন মুসলিম ব্যক্তি নও?» তিনি বললেন: অবশ্যই হে আল্লাহর রাসূল, তবে আমি ইতিপূর্বেই আমার পরিবারের সাথে সালাত আদায় করে নিয়েছি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন: «যখন তুমি আসবে তখন মানুষের সাথে সালাত আদায় করে নেবে, যদিও তুমি ইতিপূর্বে সালাত আদায় করে থাকো»। আবু জাফর বলেন: সাওরি ব্যতীত সকল মানুষই বলেন: বুসর ইবনে মিহজান; তবে তিনি (সাওরি) বলেন: বিশর ইবনে মিহজান। আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইব্রাহিম ইবনে আবি দাউদ আল-বুরুুল্লুসিকে বলতে শুনেছি: আমি আহমাদ ইবনে সালিহকে তাঁর ঘরে অন্তরীণ হওয়ার পূর্বে জামে মসজিদে বলতে শুনেছি: আমি এই ইবনে মিহজানের বংশধর এবং তাঁর গোত্রের একদল লোকের নিকট তাঁর নাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি, তাঁদের মধ্যে দুইজনও আমার নিকট এ ব্যাপারে দ্বিমত করেনি যে তাঁর নাম 'বিশর', যেমনটি সাওরি বলেছেন, আর মালিক যেমনটি বলেছেন (বুসর) তেমনটি নয়।
(খণ্ড: ১)
আস-সুনানুল মাসুরাতু লিশ-শাফিয়ি
(পৃষ্ঠা: ١١٦)
7 - عَنْ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ يَقُولُ: كَانَ مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ يُصَلِّي مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم الْعِشَاءَ ، أَوْ قَالَ: الْعَتَمَةَ ، ثُمَّ يَرْجِعُ فَيُصَلِّيهَا بِقَوْمِهِ فِي بَنِي سَلِمَةَ ، قَالَ: فَأَخَّرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم صَلَاةَ الْعِشَاءِ أَوْ قَالَ الْعَتَمَةِ ذَاتَ لَيْلَةٍ ، قَالَ: فَصَلَّى مُعَاذٌ مَعَهُ ، ثُمَّ رَجَعَ ، فَأَمَّ قَوْمَهُ ، فَقَرَأَ سُورَةَ
⦗ص: 117⦘ الْبَقَرَةِ ، فَتَنَحَّى رَجُلٌ مِنْ خَلْفِهِ فَصَلَّى وَحْدَهُ ، فَقِيلَ لَهُ: أَنَافَقْتَ؟ قَالَ: لَا ، وَلَكِنِّي آتِي النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأُخْبِرُهُ ، فَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ ، إِنَّكَ أَخَّرْتَ الْعِشَاءَ ، وَإِنَّ مُعَاذًا صَلَّى مَعَكَ ، ثُمَّ رَجَعَ فَأَمَّنَا ، فَافْتَتَحَ سُورَةَ الْبَقَرَةِ ، فَلَمَّا رَأَيْتُ ذَلِكَ تَأَخَّرْتُ فَصَلَّيْتُ ، وَإِنَّمَا نَحْنُ أَصْحَابُ نَوَاضِحَ ، نَعْمَلُ بِأَيْدِينَا ، فَأَقْبَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَى مُعَاذٍ فَقَالَ: «أَفَتَّانٌ أَنْتَ يَا مُعَاذُ؟ أَفَتَّانٌ أَنْتَ؟ اقْرَأْ بِسُورَةِ كَذَا ، وَسُورَةِ كَذَا» .
8 - حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، مِثْلَهُ ، وَزَادَ: إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَهُ: «اقْرَأْ بِـ سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى ، وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى ، وَالسَّمَاءِ وَالطَّارِقِ وَنَحْوِهَا» . قَالَ سُفْيَانُ: فَقُلْتُ لِعَمْرِو بْنِ دِينَارٍ: إِنَّ أَبَا الزُّبَيْرِ يَقُولُ: قَالَ لَهُ: «اقْرَأْ بِسَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى ، وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى ، وَالسَّمَاءِ وَالطَّارِقِ» . فَقَالَ عَمْرٌو: هُوَ هَذَا ، أَوْ نَحْوُ هَذَا
৭ - সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে দীনার থেকে, তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহকে বলতে শুনেছেন: মুআয ইবনে জাবাল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে এশার সালাত আদায় করতেন— অথবা তিনি বলেছেন: আতামাহ — তারপর তিনি ফিরে গিয়ে বনু সালিমাহ গোত্রে তাঁর কওমকে নিয়ে সেই সালাত আদায় করতেন। জাবির (রা.) বলেন: এক রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এশার সালাত — অথবা তিনি বলেছেন: আতামাহ — বিলম্বিত করলেন। তিনি বলেন: মুআয তাঁর সাথে সালাত আদায় করলেন, এরপর ফিরে গিয়ে তাঁর কওমের ইমামতি করলেন এবং সূরা
⦗পৃষ্ঠা: ১১৭⦘ আল-বাকারা পাঠ শুরু করলেন। তখন এক ব্যক্তি পেছনের কাতার থেকে সরে গিয়ে একা সালাত আদায় করল। তাকে বলা হলো: "তুমি কি নিফাক (মুনাফিকি) করলে?" সে বলল: "না, বরং আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে গিয়ে তাঁকে বিষয়টি জানাব।" এরপর সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে গিয়ে বলল: "হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এশার সালাত বিলম্বিত করেছিলেন, আর মুআয আপনার সাথে সালাত আদায় করে ফিরে এসে আমাদের ইমামতি করেছেন এবং সূরা আল-বাকারা পাঠ শুরু করেছেন। যখন আমি এটি দেখলাম, তখন আমি সরে গিয়ে সালাত আদায় করলাম। আমরা হলাম পানি বহনকারী উটের মালিক (পরিশ্রমী লোক), আমরা নিজ হাতে কাজ করি।" তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুআযের দিকে ফিরে বললেন: "হে মুআয! তুমি কি ফিতনা সৃষ্টিকারী? তুমি কি ফিতনা সৃষ্টিকারী? তুমি অমুক অমুক সূরা পাঠ করো।"
৮ - সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু যুবাইর থেকে, তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং তাতে বর্ধিত অংশ এই যে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বলেছিলেন: "তুমি 'সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আলা', 'ওয়াল্লায়লি ইযা ইয়াগশা' এবং 'ওয়াসসামায়ি ওয়াত্তারিক' ও এই জাতীয় সূরাগুলো পাঠ করো।" সুফিয়ান বলেন: আমি আমর ইবনে দীনারকে বললাম যে, আবু যুবাইর বলছেন, নবী (সা.) তাকে বলেছিলেন: "সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আলা, ওয়াল্লায়লি ইযা ইয়াগশা এবং ওয়াসসামায়ি ওয়াত্তারিক পাঠ করো।" তখন আমর বললেন: এটাই ছিল, অথবা এই জাতীয় কিছু।
(খণ্ড: ১)
আস-সুনানুল মাসুরাতু লিশ-শাফিয়ি
(পৃষ্ঠা: ١١٨)
9 - وَأَنْبَأَنَا عَبْدُ الْمَجِيدِ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ أَبِي رَوَّادٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْأَنْصَارِيُّ، قَالَ: كَانَ مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ يُصَلِّي مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم الْعِشَاءَ ، ثُمَّ يَنْطَلِقُ إِلَى قَوْمِهِ ، فَيُصَلِّيهَا لَهُمْ ، هِيَ لَهُ تَطَوُّعٌ ، وَهِيَ لَهُمُ الْمَكْتُوبَةُ الْعِشَاءُ
৯ - আব্দুল মাজীদ ইবনে আব্দুল আযীয ইবনে আবী রওয়াদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি আমর ইবনে দীনার থেকে, তিনি বলেন: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আনসারী আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুআয ইবনে জাবাল নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে ইশার সালাত আদায় করতেন, অতঃপর তিনি তাঁর কওমের নিকট ফিরে যেতেন এবং তাদের নিয়ে সেই সালাত আদায় করতেন; এটি তাঁর জন্য নফল ছিল এবং তাদের জন্য ছিল ইশার ফরয সালাত।
(খণ্ড: ১)
আস-সুনানুল মাসুরাতু লিশ-শাফিয়ি
(পৃষ্ঠা: ١١٨)
10 - أَنْبَأَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ الثَّقَفِيُّ، عَنْ أَيُّوبَ السَّخْتِيَانِيِّ، عَنْ أَبِي قِلَابَةَ، قَالَ: جَاءَنَا مَالِكُ بْنُ الْحُوَيْرِثِ ، فَصَلَّى فِي مَسْجِدِنَا ، وَقَالَ: وَاللَّهِ ، إِنِّي لَأُصَلِّي وَمَا أُرِيدُ الصَّلَاةَ ، وَلَكِنِّي أُرِيدُ أَنْ أُرِيَكُمْ كَيْفَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي ، فَذَكَرَ أَنَّهُ يَقُومُ مِنَ الرَّكْعَةِ الْأُولَى إِذَا أَرَادَ أَنْ يَنْهَضَ ، قَالَ: قُلْتُ: كَيْفَ صَلَّى؟ قَالَ: مِثْلَ صَلَاتِي هَكَذَا ".
11 - وَأَخْبَرَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ، عَنْ أَبِي قِلَابَةَ، مِثْلَهُ ، غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ: فَكَانَ مَالِكٌ إِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ السَّجْدَةِ الْآخِرَةِ فِي الرَّكْعَةِ الْأُولَى فَاسْتَوَى قَاعِدًا قَامَ وَاعْتَمَدَ عَلَى الْأَرْضِ
১০ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল ওয়াহহাব বিন আব্দুল মাজীদ আস-সাকাফী, আইয়ুব আস-সাখতিয়ানী থেকে, আবু কিলাবাহ থেকে; তিনি বলেন: আমাদের নিকট মালিক ইবনুল হুয়াইরিস আসলেন এবং আমাদের মসজিদে সালাত আদায় করলেন। তিনি বললেন: "আল্লাহর শপথ! আমি সালাত আদায় করছি অথচ এখন আমার সালাত আদায়ের (জরুরি) কোনো ইচ্ছা নেই, বরং আমি তোমাদের দেখাতে চাই যে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কীভাবে সালাত আদায় করতে দেখেছি।" অতঃপর তিনি উল্লেখ করলেন যে, তিনি (রাসূলুল্লাহ) প্রথম রাকাত থেকে যখন উঠে দাঁড়াতে চাইতেন (তখন কিছুক্ষণ বসতেন)। তিনি (আবু কিলাবাহ) বলেন: আমি বললাম, তিনি কীভাবে সালাত আদায় করেছিলেন? তিনি বললেন: "ঠিক আমার এই সালাতের মতোই।"
১১ - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল ওয়াহহাব, খালিদ আল-হায্ঝা থেকে, আবু কিলাবাহ থেকে এর অনুরূপ; তবে তিনি এতে বলেছেন: মালিক যখন প্রথম রাকাতের শেষ সিজদাহ থেকে তাঁর মাথা উঠাতেন, তখন তিনি সোজা হয়ে বসতেন, অতঃপর দাঁড়াতেন এবং মাটির ওপর ভর দিতেন।
(খণ্ড: ১)
আস-সুনানুল মাসুরাতু লিশ-শাফিয়ি
(পৃষ্ঠা: ١١٨)
بَابُ مَا جَاءَ فِي الصَّلَاةِ فِي السَّفَرِ
সফরকালীন সালাত সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১)
আস-সুনানুল মাসুরাতু লিশ-শাফিয়ি
(পৃষ্ঠা: ١١٨)
12 - أَنْبَأَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ ⦗ص: 119⦘، قَالَ: حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ زَيْدِ بْنِ جُدْعَانَ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، قَالَ: مَرَّ عِمْرَانُ بْنُ حُصَيْنٍ بِمَجْلِسِنَا ، فَقَامَ إِلَيْهِ فَتًى مِنَ الْقَوْمِ ، فَسَأَلَهُ عَنْ صَلَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْغَزْوِ وَالْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ ، فَجَاءَ فَوَقَفَ عَلَيْنَا ، فَقَالَ: إِنَّ هَذَا سَأَلَنِي عَنْ أَمْرٍ ، فَأَرَدْتُ أَنْ تَسْمَعُوهُ ، أَوْ كَمَا قَالَ: ، غَزَوْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، فَلَمْ يُصَلِّ إِلَّا رَكْعَتَيْنِ حَتَّى رَجَعَ إِلَى الْمَدِينَةِ ، وَحَجَجْتُ مَعَهُ ، فَلَمْ يُصَلِّ إِلَّا رَكْعَتَيْنِ حَتَّى رَجَعَ إِلَى الْمَدِينَةِ ، وَشَهِدْتُ مَعَهُ الْفَتْحَ ، فَأَقَامَ بِمَكَّةَ ثَمَانِ عَشْرَةَ لَيْلَةً ، لَا يُصَلِّي إِلَّا رَكْعَتَيْنِ ، ثُمَّ يَقُولُ لِأَهْلِ الْبَلَدِ: «صَلُّوا أَرْبَعًا ، فَإِنَّا سَفْرٌ» ، وَاعْتَمَرْتُ مَعَهُ ثَلَاثَ عُمَرٍ لَا يُصَلِّي إِلَّا رَكْعَتَيْنِ وَحَجَجْتُ مَعَ أَبِي بَكْرٍ ، وَغَزَوْتُ ، فَلَمْ يُصَلِّ إِلَّا رَكْعَتَيْنِ حَتَّى رَجَعَ إِلَى الْمَدِينَةِ ، وَحَجَجْتُ مَعَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ حَجَّاتٍ ، فَلَمْ يُصَلِّ إِلَّا رَكْعَتَيْنِ حَتَّى رَجَعَ إِلَى الْمَدِينَةِ ، وَحَجَّ عُثْمَانُ سَبْعَ سِنِينَ مِنْ إِمَارَتِهِ لَا يُصَلِّي إِلَّا رَكْعَتَيْنِ ، ثُمَّ صَلَّاهَا بِمِنًى أَرْبَعًا
১২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাইল বিন ইব্রাহিম ⦗পৃষ্ঠা: ১১৯⦘। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী বিন যায়িদ বিন জুদআন, আবু নাযরাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ইমরান বিন হুসাইন আমাদের মজলিসের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন, তখন উপস্থিত লোকদের মধ্য থেকে এক যুবক দাঁড়িয়ে তাঁর কাছে গেল এবং তাঁকে যুদ্ধাভিযান, হজ ও উমরায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। অতঃপর তিনি (ইমরান) এসে আমাদের নিকট দাঁড়ালেন এবং বললেন: এই যুবকটি আমাকে একটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছে, তাই আমি চাইলাম তোমরাও যেন তা শুনতে পাও—অথবা তিনি যেমনটি বলেছিলেন—। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে যুদ্ধাভিযানে অংশগ্রহণ করেছি, তিনি মদিনায় ফিরে আসা পর্যন্ত দুই রাকাতের বেশি সালাত আদায় করতেন না। আমি তাঁর সাথে হজ করেছি, তিনি মদিনায় ফিরে আসা পর্যন্ত দুই রাকাতের বেশি সালাত আদায় করতেন না। আমি তাঁর সাথে মক্কা বিজয়ের সময় উপস্থিত ছিলাম, তিনি মক্কায় আঠারো রাত অবস্থান করেছিলেন, তখন তিনি দুই রাকাতের বেশি সালাত আদায় করতেন না; অতঃপর তিনি শহরবাসীদের উদ্দেশ্য করে বলতেন: «তোমরা চার রাকাত পূর্ণ করো, কেননা আমরা মুসাফির (ভ্রমণকারী)»। আমি তাঁর সাথে তিনটি উমরা আদায় করেছি, তিনি দুই রাকাতের বেশি সালাত আদায় করতেন না। আমি আবু বকরের সাথে হজ ও যুদ্ধাভিযান করেছি, তিনি মদিনায় ফিরে আসা পর্যন্ত দুই রাকাতের বেশি সালাত আদায় করতেন না। আমি ওমর ইবনুল খাত্তাবের সাথে কয়েকবার হজ করেছি, তিনি মদিনায় ফিরে আসা পর্যন্ত দুই রাকাতের বেশি সালাত আদায় করতেন না। আর ওসমান তাঁর খেলাফতের প্রথম সাত বছর হজ করেছিলেন এমতাবস্থায় যে, তিনি দুই রাকাতের বেশি সালাত আদায় করতেন না, অতঃপর তিনি মিনায় চার রাকাত সালাত আদায় করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আস-সুনানুল মাসুরাতু লিশ-শাফিয়ি
(পৃষ্ঠা: ١١٩)
13 - وَأَنْبَأَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ الثَّقَفِيُّ، عَنْ أَيُّوبَ السَّخْتِيَانِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، رضي الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُسَافَرُ مِنَ الْمَدِينَةِ إِلَى مَكَّةَ آمِنًا لَا يَخَافُ إِلَّا اللَّهَ عز وجل ، يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ
১৩ - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল ওয়াহহাব বিন আব্দুল মাজীদ আস-সাকাফী, তিনি আইয়ুব আস-সাখতিয়ানী থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন সীরীন থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদীনা থেকে মক্কায় নিরাপদ অবস্থায় সফর করতেন, তিনি মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে ভয় করতেন না এবং তিনি দুই রাকাত (সালাত) আদায় করতেন।
(খণ্ড: ১)
আস-সুনানুল মাসুরাতু লিশ-শাফিয়ি
(পৃষ্ঠা: ١٢٠)
14 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ الثَّقَفِيُّ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلَابَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى الظُّهْرَ بِالْمَدِينَةِ أَرْبَعًا ، وَصَلَّى الْعَصْرَ بِذِي الْحُلَيْفَةِ رَكْعَتَيْنِ ، قَالَ: وَأَحْسَبُهُ قَالَ: بَاتَ بِهَا حَتَّى أَصْبَحَ
১৪ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল ওয়াহহাব ইবনে আবদুল মাজীদ আস-সাকাফী, আইয়ুব থেকে, তিনি আবু কিলাবা থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদীনায় যোহরের সালাত চার রাকাত আদায় করেছেন এবং যুল-হুলাইফায় আসরের সালাত দুই রাকাত আদায় করেছেন। তিনি বলেন: এবং আমি মনে করি তিনি বলেছেন: তিনি সেখানে রাত যাপন করেছেন ভোর হওয়া পর্যন্ত।
(খণ্ড: ১)
আস-সুনানুল মাসুরাতু লিশ-শাফিয়ি
(পৃষ্ঠা: ١٢٠)
15 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْمَجِيدِ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ أَبِي رَوَّادٍ، وَمُسْلِمُ بْنُ خَالِدٍ ، وَغَيْرُهُمَا قَالُوا: أَنْبَأَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنَ أَبِي عَمَّارٍ، يُحَدِّثُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بَابَاهْ، عَنْ يَعْلَى بْنِ أُمَيَّةَ، قَالَ: قُلْتُ لِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ: إِنَّمَا قَالَ اللَّهُ عز وجل: {أَنْ تَقْصُرُوا} [النِّسَاء: 101] مِنَ الصَّلَاةِ إِنْ خِفْتُمْ أَنْ يَفْتِنَكُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا ، وَقَدْ أَمِنَ النَّاسُ فَقَالَ عُمَرُ: عَجِبْتُ مِمَّا عَجِبْتَ مِنْهُ ، فَسَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، فَقَالَ: «صَدَقَةٌ تَصَدَّقَ اللَّهُ بِهَا عَلَيْكُمْ ، فَاقْبَلُوا صَدَقَتَهُ»
১৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল মাজিদ ইবন আবদুল আজিজ ইবন আবি রাওয়াদ, মুসলিম ইবন খালিদ এবং অন্যান্যরা; তাঁরা বলেছেন: আমাদের জানিয়েছেন ইবন জুরাইজ। তিনি বলেন: আমি ইবন আবি আম্মারকে আবদুল্লাহ ইবন বাবাহর সূত্রে ইয়ালা ইবন উমাইয়া থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি। তিনি বলেন: আমি উমর ইবনুল খাত্তাবকে বললাম: আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্ল তো বলেছেন: {সালাত সংক্ষেপ করতে} [আন-নিসা: ১০১] যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে কাফিররা তোমাদের বিপদে ফেলবে; অথচ এখন তো মানুষ নিরাপদ হয়েছে। তখন উমর বললেন: তুমি যে বিষয়ে বিস্মিত হয়েছ, আমিও সে বিষয়ে বিস্মিত হয়েছিলাম। অতঃপর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন: «এটি একটি সদকা যা আল্লাহ তোমাদেরকে দান করেছেন, সুতরাং তোমরা তাঁর সদকা গ্রহণ করো»
(খণ্ড: ১)
আস-সুনানুল মাসুরাতু লিশ-শাফিয়ি
(পৃষ্ঠা: ١٢١)
16 - أَنْبَأَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا ابْنُ عَجْلَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عِيَاضُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي سَرْحٍ، قَالَ: رَأَيْتُ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ جَاءَ ، وَمَرْوَانُ بْنُ الْحَكَمِ يَخْطُبُ ، فَقَامَ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ ، فَجَاءَ إِلَيْهِ الْحَرَسُ لِيُجْلِسُوهُ ، فَأَبَى أَنْ يَجْلِسَ حَتَّى صَلَّى الرَّكْعَتَيْنِ ، فَلَمَّا قَضَيْنَا الصَّلَاةَ أَتَيْنَاهُ ، فَقُلْنَا لَهُ: يَا أَبَا سَعِيدٍ ، كَادَ هَؤُلَاءِ أَنْ يَقَعُوا بِكَ ، فَقَالَ: مَا كُنْتُ لِأَدَعَهُمَا لِشَيْءٍ بَعْدَ شَيْءٍ رَأَيْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَاءَ رَجُلٌ وَهُوَ يَخْطُبُ ، فَدَخَلَ الْمَسْجِدَ بِهَيْئَةٍ بَذَّةٍ ، فَقَالَ: «أَصَلَّيْتَ؟» قَالَ: لَا ، قَالَ: «فَصَلِّ رَكْعَتَيْنِ» ، قَالَ: ثُمَّ حَثَّ النَّاسَ عَلَى الصَّدَقَةِ ، فَأَلْقَوْا ثِيَابًا ، فَأَعْطَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الرَّجُلَ فِيهَا ثَوْبَيْنِ ، فَلَمَّا كَانَتِ الْجُمُعَةُ الْأُخْرَى جَاءَ الرَّجُلُ وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «أَصَلَّيْتَ؟» قَالَ: لَا ، قَالَ: «فَصَلِّ رَكْعَتَيْنِ» ، قَالَ: ثُمَّ حَثَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم النَّاسَ عَلَى الصَّدَقَةِ ، فَطَرَحَ أَحَدَ ثَوْبَيْهِ ، فَصَاحَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ: «خُذْهُ» ، فَأَخَذَهُ ، ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «انْظُرُوا إِلَى هَذَا جَاءَ تِلْكَ الْجُمُعَةَ بِهَيْئَةٍ بَذَّةٍ ، فَأَمَرْتُ النَّاسَ بِالصَّدَقَةِ ، فَطَرَحُوا ثِيَابًا ، فَأَعْطَيْتُهُ مِنْهَا ثَوْبَيْنِ ، فَلَمَّا جَاءَتْ هَذِهِ الْجُمُعَةُ أَمَرْتُ النَّاسَ بِالصَّدَقَةِ ، فَجَاءَ فَأَلْقَى أَحَدَ ثَوْبَيْهِ»
১৬ - সুফিয়ান ইবন উইয়াইনাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবন আজলান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইয়াদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন সা’দ ইবন আবি সারহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আবু সাঈদ আল-খুদরীকে আসতে দেখেছি যখন মারওয়ান ইবনুল হাকাম খুতবা দিচ্ছিলেন। তখন তিনি দাঁড়িয়ে দুই রাকাত সালাত আদায় করতে লাগলেন। প্রহরীরা তাঁকে বসিয়ে দেওয়ার জন্য তাঁর কাছে আসল, কিন্তু তিনি দুই রাকাত সালাত শেষ না করা পর্যন্ত বসতে অস্বীকার করলেন। যখন আমরা সালাত শেষ করলাম, তখন আমরা তাঁর কাছে আসলাম এবং তাঁকে বললাম: হে আবু সাঈদ! এরা তো প্রায় আপনার ওপর চড়াও হতে চলেছিল। তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে একটি বিষয় প্রত্যক্ষ করার পর আমি কোনো কিছুর বিনিময়েই তা বর্জন করতে পারি না। আমি দেখেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা দিচ্ছিলেন এমন সময় এক ব্যক্তি জীর্ণশীর্ণ বেশে মসজিদে প্রবেশ করলেন। তিনি বললেন: «তুমি কি সালাত আদায় করেছ?» সে বলল: না। তিনি বললেন: «তবে দুই রাকাত সালাত আদায় করে নাও»। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর তিনি মানুষকে সদকা করার উৎসাহ দিলেন, ফলে লোকজন কাপড় দান করলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার মধ্য থেকে লোকটিকে দুটি কাপড় দিলেন। পরবর্তী জুমুআয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা দেওয়া অবস্থায় ওই ব্যক্তি আবার আসলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «তুমি কি সালাত আদায় করেছ?» সে বলল: না। তিনি বললেন: «তবে দুই রাকাত সালাত আদায় করে নাও»। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষকে সদকা করার জন্য উৎসাহ দিলেন, তখন ওই ব্যক্তি তার (প্রাপ্ত) দুটি কাপড়ের একটি দান করে দিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে উচ্চস্বরে ডেকে বললেন: «এটি নিয়ে নাও», ফলে সে তা নিয়ে নিল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «তোমরা এই ব্যক্তির দিকে তাকাও; সে গত জুমুআয় জীর্ণশীর্ণ অবস্থায় এসেছিল, তখন আমি মানুষকে সদকা করার নির্দেশ দিয়েছিলাম এবং তারা কাপড় দান করেছিল, আর আমি তাকে সেখান থেকে দুটি কাপড় দিয়েছিলাম। এরপর যখন এই জুমুআ আসল এবং আমি মানুষকে সদকা করার নির্দেশ দিলাম, তখন সে এসে তার দুটি কাপড়ের একটি দান করে দিল»।
(খণ্ড: ১)
আস-সুনানুল মাসুরাতু লিশ-শাফিয়ি
(পৃষ্ঠা: ١٢٢)
17 - وَأَنْبَأَنَا عَبْدُ الْمَجِيدِ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ أَبِي رَوَّادٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ، أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ: جَاءَ رَجُلٌ وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْمِنْبَرِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ يَخْطُبُ ، فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «أَرَكَعْتَ رَكْعَتَيْنِ؟» قَالَ: لَا ، قَالَ: «فَارْكَعْ»
১৭ - এবং আমাদের সংবাদ প্রদান করেছেন আবদুল মাজিদ ইবন আবদুল আজিজ ইবন আবি রাওয়াদ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবন জুরাইজ, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আমর ইবন দিনার যে, তিনি জাবির ইবন আবদুল্লাহকে বলতে শুনেছেন: এক ব্যক্তি আগমন করল এমতাবস্থায় যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমুআর দিন মিম্বরের উপর খুতবা দিচ্ছিলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: «তুমি কি দুই রাকাআত সালাত আদায় করেছ?» সে বলল: না। তিনি বললেন: «তবে তুমি তা আদায় করে নাও»।
(খণ্ড: ১)
আস-সুনানুল মাসুরাতু লিশ-শাফিয়ি
(পৃষ্ঠা: ١٢٢)
18 - أَنْبَأَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: دَخَلَ رَجُلٌ الْمَسْجِدَ وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم قَائِمٌ عَلَى الْمِنْبَرِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ يَخْطُبُ ، فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «أَصَلَّيْتَ؟» قَالَ: لَا ، قَالَ: «فَصَلِّ رَكْعَتَيْنِ» .
19 - وَأَنْبَأَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ ، وَزَادَ أَبُو الزُّبَيْرِ: هُوَ سُلَيْكٌ الْغَطَفَانِيُّ
১৮ - সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমর ইবনে দীনার থেকে, তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জুমার দিন এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করল এমতাবস্থায় যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিম্বারের ওপর দাঁড়িয়ে খুতবা দিচ্ছিলেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন: «তুমি কি সালাত আদায় করেছ?» সে বলল: না। তিনি বললেন: «তবে দুই রাকাত সালাত আদায় করে নাও»।
১৯ - এবং সুফিয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুয যুবায়ের থেকে, তিনি জাবির থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আবুয যুবায়ের এতে অতিরিক্ত উল্লেখ করেছেন যে: তিনি হলেন সুলাইক আল-গাতাফানি।
(খণ্ড: ১)
আস-সুনানুল মাসুরাতু লিশ-শাফিয়ি
(পৃষ্ঠা: ١٢٢)
20 - عَنْ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ، وَابْنُ عَجْلَانَ ، عَنْ عَامِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ سُلَيْمٍ الزُّرَقِيِّ، سَمِعَ أَبَا قَتَادَةَ، يَقُولُ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَؤُمُّ النَّاسَ وَأُمَامَةُ ابْنَةُ أَبِي الْعَاصِ وَهِيَ ⦗ص: 123⦘ ابْنَةُ زَيْنَبَ ابْنَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى عَاتِقِهِ ، فَإِذَا رَكَعَ وَضَعَهَا ، وَإِذَا فَرَغَ مِنَ السُّجُودِ أَعَادَهَا
২০ - সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমাদের নিকট উসমান ইবনে আবি সুলাইমান এবং ইবনে আজলান বর্ণনা করেছেন, আমির ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের থেকে, আমর ইবনে সুলাইম আল-জুরাকী থেকে, তিনি আবু কাতাদাহকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে মানুষের ইমামতি করতে দেখেছি এমতাবস্থায় যে, উমামাহ বিনতে আবিল আস—যিনি ⦗পৃষ্ঠা: ১২৩⦘ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কন্যা যয়নাবের কন্যা—তাঁর কাঁধের ওপর ছিল; সুতরাং যখন তিনি রুকু করতেন তখন তাকে নামিয়ে রাখতেন এবং যখন সাজদাহ থেকে অবসর হতেন তখন তাকে পুনরায় (কাঁধে) উঠিয়ে নিতেন।
(খণ্ড: ১)
আস-সুনানুল মাসুরাতু লিশ-শাফিয়ি
(পৃষ্ঠা: ١٢٣)
21 - وَأَنْبَأَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ عَامِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ سُلَيْمٍ الزُّرَقِيِّ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ الْأَنْصَارِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي وَهُوَ حَامِلٌ أُمَامَةَ ابْنَةَ زَيْنَبَ بِنْتِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهِيَ لِأَبِي الْعَاصِ بْنِ رَبِيعَةَ بْنِ عَبْدِ شَمْسٍ ، فَإِذَا سَجَدَ وَضَعَهَا ، وَإِذَا قَامَ حَمَلَهَا
২১ - মালিক ইবনে আনাস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমের ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের থেকে, তিনি আমর ইবনে সুলাইম আল-জুরাকী থেকে এবং তিনি আবু কাতাদা আল-আনসারী থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালাত আদায় করতেন এমন অবস্থায় যখন তিনি আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কন্যা জায়নাবের কন্যা উমামাহকে বহন করতেন; আর উমামাহ ছিলেন আবু আল-আস ইবনে রাবীআহ ইবনে আবদে শামস-এর কন্যা। সুতরাং যখন তিনি সিজদা করতেন তখন তাকে নিচে রেখে দিতেন এবং যখন তিনি দাঁড়াতেন তখন তাকে তুলে নিতেন।
(খণ্ড: ১)
আস-সুনানুল মাসুরাতু লিশ-শাফিয়ি
(পৃষ্ঠা: ١٢٣)
مَا جَاءَ فِي الْجَمْعِ بَيْنَ الصَّلَاتَيْنِ فِي الْمَطَرِ
বৃষ্টির সময় দুই সালাত একত্রে আদায় করার বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে
(খণ্ড: ১)
আস-সুনানুল মাসুরাতু লিশ-শাফিয়ি
(পৃষ্ঠা: ١٢٣)
22 - أَنْبَأَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ الْمَكِّيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّهُ قَالَ: صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ جَمِيعًا ، وَالْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ جَمِيعًا فِي غَيْرِ خَوْفٍ وَلَا سَفَرٍ " ، قَالَ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ: أَرَى ذَلِكَ كَانَ فِي الْمَطَرِ
২২ - আমাদের মালিক বিন আনাস সংবাদ দিয়েছেন আবুয যুবায়ের আল-মাক্কী থেকে, তিনি সাঈদ বিন জুবায়ের থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যোহর ও আসর একত্রে এবং মাগরিব ও এশা একত্রে আদায় করেছেন কোনো ভয়ভীতি কিংবা সফর ছাড়াই। মালিক বিন আনাস বলেন: আমি মনে করি তা বৃষ্টির কারণে ছিল।
(খণ্ড: ১)
আস-সুনানুল মাসুরাতু লিশ-শাফিয়ি
(পৃষ্ঠা: ١٢٤)
أَنْبَأَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، قَالَ: أَنْبَأَنَا جَابِرُ بْنُ زَيْدٍ، أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ عَبَّاسٍ، يَقُولُ: صَلَّيْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِالْمَدِينَةِ ثَمَانِيًا جَمِيعًا وَسَبْعًا جَمِيعًا. قَالَ: قُلْتُ لِأَبِي الشَّعْثَاءِ أَظُنُّهُ أَخَّرَ الظُّهْرَ وَعَجَّلَ الْعَصْرَ ، وَأَخَّرَ الْمَغْرِبَ وَعَجَّلَ الْعِشَاءَ ، قَالَ: وَأَنَا أَظُنُّ ذَلِكَ
সুফইয়ান ইবনে উয়ায়নাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমর ইবনে দিনার থেকে, তিনি বলেন: জাবির ইবনে যায়িদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি ইবনে আব্বাসকে বলতে শুনেছেন: আমি মদীনায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে একত্রে আট (রাকাত) এবং একত্রে সাত (রাকাত) সালাত আদায় করেছি। তিনি (আমর) বলেন: আমি আবুশ শা'ছাকে বললাম, আমার মনে হয় তিনি যুহরকে বিলম্বিত করেছিলেন এবং আসরকে ত্বরান্বিত করেছিলেন, আর মাগরিবকে বিলম্বিত করেছিলেন এবং এশাকে ত্বরান্বিত করেছিলেন। তিনি বললেন: আমিও তাই মনে করি।
(খণ্ড: ১)
আস-সুনানুল মাসুরাতু লিশ-শাফিয়ি
(পৃষ্ঠা: ١٢٤)
24 - أَنْبَأَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: صَلَّيْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ثَمَانِيًا جَمِيعًا ، وَسَبْعًا جَمِيعًا ، قُلْتُ: لِمَ فَعَلَ ذَلِكَ؟ قَالَ: أَرَادَ أَنْ لَا يُحْرِجَ أُمَّتَهُ "
২৪ - সুফিয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু যুবায়ের থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে একত্রে আট (রাকাত) এবং একত্রে সাত (রাকাত) সালাত আদায় করেছি। আমি জিজ্ঞেস করলাম: তিনি কেন এরূপ করলেন? তিনি বললেন: তিনি চেয়েছেন যেন তাঁর উম্মত কোনো সংকটে না পড়ে।
(খণ্ড: ১)
আস-সুনানুল মাসুরাতু লিশ-শাফিয়ি
(পৃষ্ঠা: ١٢٧)
25 - أَنْبَأَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنِ الْقَعْقَاعِ بْنِ حَكِيمٍ، عَنْ أَبِي يُونُسَ، مَوْلَى عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ ، أَنَّهُ قَالَ: أَمَرَتْنِي عَائِشَةُ أُمُّ الْمُؤْمِنِينَ أَنْ أَكْتُبَ لَهَا مُصْحَفًا ، قَالَتْ: إِذَا بَلَغْتَ هَذِهِ الْآيَةَ فَآذِنِّي: {حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلَاةِ الْوُسْطَى} [الْبَقَرَة: 238] قَالَ: فَلَمَّا بَلَغْتُهَا آذَنْتُهَا ، فَأَمْلَتْ عَلَيَّ: «حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلَاةِ الْوُسْطَى وَصَلَاةِ الْعَصْرِ وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ» قَالَتْ عَائِشَةُ: سَمِعْتُهَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
২৫ - মালিক ইবনে আনাস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জায়েদ ইবনে আসলাম থেকে, তিনি আল-ক্বাক্বাহ ইবনে হাকিম থেকে, তিনি উম্মুল মুমিনীন আয়িশার মুক্তদাস আবু ইউনুস থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: উম্মুল মুমিনীন আয়িশা আমাকে তাঁর জন্য একটি মুসহাফ লিখে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন: যখন তুমি এই আয়াতে পৌঁছাবে তখন আমাকে অবহিত করবে: {তোমরা নামাযসমূহের এবং মধ্যবর্তী নামাযের হিফাযত করো} [আল-বাক্বারা: ২৩৮]। তিনি (আবু ইউনুস) বলেন: যখন আমি সেখানে পৌঁছালাম তখন তাঁকে অবহিত করলাম। তখন তিনি আমাকে এভাবে লিখিয়ে দিলেন: "তোমরা নামাযসমূহের, মধ্যবর্তী নামাযের ও আসরের নামাযের হিফাযত করো এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যে বিনীতভাবে দণ্ডায়মান হও।" আয়িশা বললেন: আমি এটি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে শুনেছি।
(খণ্ড: ১)
আস-সুনানুল মাসুরাতু লিশ-শাফিয়ি
(পৃষ্ঠা: ١٢٧)
26 - أَنْبَأَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ، عَنِ الْمُطَّلِبِ بْنِ أَبِي وَدَاعَةَ السَّهْمِيِّ، عَنْ حَفْصَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا قَالَتْ: مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلَّى فِي سُبْحَتِهِ قَاعِدًا قَطُّ ، حَتَّى كَانَ قَبْلَ وَفَاتِهِ بِعَامٍ ، فَكَانَ يُصَلِّي فِي سُبْحَتِهِ قَاعِدًا ، وَيَقْرَأُ بِالسُّورَةِ فَيُرَتِّلُهَا ، حَتَّى تَكُونَ أَطْوَلَ مِنْ أَطْوَلَ مِنْهَا
২৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মালিক ইবনে আনাস, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি আস-সাইব ইবনে ইয়াযীদ থেকে, তিনি আল-মুত্তালিব ইবনে আবি ওয়াদাআ আস-সাহমি থেকে, আর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সহধর্মিনী হাফসা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে তাঁর নফল সালাতে কখনো বসে নামাজ পড়তে দেখিনি, অবশেষে তাঁর ইন্তিকালের এক বছর আগে তিনি তাঁর নফল সালাত বসে আদায় করতে শুরু করেন। তিনি কোনো সূরা পাঠ করলে তাতে তারতীল করতেন (স্পষ্টভাবে ধীরে ধীরে পড়তেন), ফলে সেটি তার চেয়েও দীর্ঘ অন্য কোনো সূরার চেয়েও অধিক দীর্ঘ হয়ে যেত।