(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ লিল-মারওয়াযি (পৃষ্ঠা: -)
السنة للمروزي   (محمد بن نصر المروزي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: السنة

المؤلف: أبو عبد الله محمد بن نصر بن الحجاج المَرْوَزِي (ت 294هـ)

المحقق: سالم أحمد السلفي

الناشر: مؤسسة الكتب الثقافية - بيروت

الطبعة: الأولى، 1408

عدد الصفحات: 111

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-মারওয়াযী সংকলিত আস-সুন্নাহ   (মুহাম্মাদ বিন নাসর আল-মারওয়াযী)

বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ


গ্রন্থ: আস-সুন্নাহ

লেখক: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন নাসর বিন হাজ্জাজ আল-মারওয়াযী (মৃত্যু ২৯৪ হিজরী)

সম্পাদক: সালিম আহমাদ আস-সালাফী

প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুল কুতুব আল-সাকাফিয়াহ - বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম، ১৪০৮

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১১

[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ লিল-মারওয়াযি (পৃষ্ঠা: ٧)
1 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، ثنا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، ثنا الْمُسْتَمِرُّ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، فِي هَذِهِ الْآيَةِ {وَاعْلَمُوا أَنَّ فِيكُمْ رَسُولَ اللَّهِ لَوْ يُطِيعُكُمْ فِي كَثِيرٍ مِنَ الْأَمْرِ لَعَنِتُّمْ} [الحجرات: 7] قَالَ: هَذَا نَبِيُّكُمْ وَخِيَارُ أُمَّتِكُمْ فَكَيْفَ أَنْتُمْ؟ قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: وَقَالَ الشَّافِعِيُّ: قَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ: أُولُو الْأَمْرِ أُمَرَاءُ سَرَايَا رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم. قَالَ: وَهُوَ يُشْبِهُ مَا قَالَ، وَاللَّهُ أَعْلَمُ؛ لِأَنَّ مَنْ كَانَ حَوْلَ مَكَّةَ مِنَ الْعَرَبِ لَمْ تَكُنْ تَعْرِفُ إِمَارَةً، وَكَانَتْ تَأْنَفُ أَنْ يُعْطِيَ بَعْضُهَا بَعْضًا طَاعَةَ الْإِمَارَةِ فَلَمَّا دَانَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالطَّاعَةِ لَمْ تَكُنْ تَرَى ذَلِكَ يَصْلُحُ لِغَيْرِ الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم، فَأُمِرُوا أَنْ يُطِيعُوا أُولِي الْأَمْرِ الَّذِينَ أَمَّرَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَا طَاعَةً مُطْلَقَةً، بَلْ طَاعَةً مُسْتَثْنًى مِنْهَا لَهُمْ، فَقَالَ تَعَالَى: { «فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ» } [النساء: 59] يَعْنِي: إِنِ اخْتَلَفْتُمْ فِي شَيْءٍ يَعْنِي - وَاللَّهُ أَعْلَمُ - هُمْ وَأُمَرَاؤُهُمُ الَّذِينَ أُمِرُوا بِطَاعَتِهِمْ { «فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ» } [النساء: 59] يَعْنِي - وَاللَّهُ أَعْلَمُ - إِلَى مَا قَالَ اللَّهُ وَالرَّسُولُ، فَإِنْ لَمْ يَكُنْ مَا تَنَازَعُوا فِيهِ نَصًّا فِيهِمَا، وَلَا فِي وَاحِدٍ مِنْهُمَا رُدَّ قِيَاسًا عَلَى أَحَدِهِمَا. وسَمِعْتُ إِسْحَاقَ يَقُولُ فِي قَوْلِهِ { «وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ» } [النساء: 59] : قَدْ يُمْكِنُ أَنْ يَكُونَ تَفْسِيرُ الْآيَةِ عَلَى أُولِي الْعِلْمِ، وَعَلَى أُمَرَاءِ السَّرَايَا؛ لِأَنَّ الْآيَةَ الْوَاحِدَةَ يُفَسِّرُهَا الْعُلَمَاءُ عَلَى أَوْجُهٍ وَلَيْسَ ذَلِكَ بِاخْتِلَافٍ

 

2 - وَقَدْ قَالَ سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ: لَيْسَ فِي تَفْسِيرِ الْقُرْآنِ اخْتِلَافٌ إِذَا صَحَّ الْقَوْلُ فِي ذَلِكَ، وَقَالَ: أَيَكُونُ شَيْءٌ أَظْهَرَ خِلَافًا فِي الظَّاهِرِ مِنَ الْخُنَّسِ؟ ⦗ص: 8⦘ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ: هِيَ: بَقَرُ الْوَحْشِ، وَقَالَ عَلِيٌّ: هِيَ النُّجُومُ قَالَ سُفْيَانُ: وَكِلَاهُمَا وَاحِدٌ؛ لِأَنَّ النُّجُومَ تَخْنَسُ بِالنَّهَارِ وَتَظْهَرُ بِاللَّيْلِ، وَالْوَحْشِيَّةُ إِذَا رَأَتْ إِنْسِيًّا خَنَسَتْ فِي الْغِيضَانِ وَغَيْرِهَا، وَإِذَا لَمْ تَرَ إِنْسِيًّا ظَهَرَتْ، قَالَ سُفْيَانُ: فَكُلٌّ خُنَّسٌ قَالَ إِسْحَاقُ: وَتَصْدِيقُ ذَلِكَ مَا جَاءَ عَنْ أَصْحَابِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم فِي الْمَاعُونِ " يَعْنِي أَنَّ بَعْضَهُمْ قَالَ: هُوَ الزَّكَاةُ وَقَالَ بَعْضُهُمْ: عَارِيَةُ الْمَتَاعِ.

 

3 - قَالَ: وَقَالَ عِكْرِمَةُ: أَعْلَاهُ الزَّكَاةُ وَعَارِيَةُ الْمَتَاعِ مِنْهُ، قَالَ إِسْحَاقُ: وَجَهِلَ قَوْمٌ هَذِهِ الْمَعَانِيَ، فَإِذَا لَمْ تُوَافِقِ الْكَلِمَةُ الْكَلِمَةَ قَالُوا: هَذَا اخْتِلَافٌ

 

4 - وَقَدْ قَالَ الْحَسَنُ، وَقَدْ ذُكِرَ عِنْدَهُ الِاخْتِلَافُ فِي نَحْوِ مَا وَصَفْنَا، فَقَالَ: إِنَّمَا أُتِيَ الْقَوْمُ مِنْ قِبَلِ الْعُجْمَةِ،

 

5 - قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: قَبَضَ اللَّهُ رَسُولَهُ صلى الله عليه وسلم إِلَيْهِ بَعْدَ أَنْ أَكْمَلَ لِلْمُسْلِمِينَ دِينَهُمْ، فَقَالَ: { «الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ، وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي، وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا» } [المائدة: 3] نَزَلَتْ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَاقِفٌ بِعَرَفَاتٍ، فَلَمْ يَنْزِلْ بَعْدَهَا حَلَالٌ وَلَا حَرَامٌ، وَرَجَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَمَاتَ وَأَمَرَهُمُ اللَّهُ تبارك وتعالى بِالِاجْتِمَاعِ عَلَى مَا جَاءَهُمْ عَنْهُ، وَنَهَاهُمْ عَنِ التَّفَرُّقِ مِنْ بَعْدِ أَنْ جَاءَهُمُ الْبَيَانُ، فَقَالَ: { «وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا، وَاذْكُرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ كُنْتُمْ أَعْدَاءً فَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِكُمْ فَأَصْبَحْتُمْ بِنِعْمَتِهِ إِخْوَانًا» } [آل عمران: 103] ، وَقَالَ سُبْحَانَهُ: { «وَلَا تَكُونُوا كَالَّذِينَ تَفَرَّقُوا وَاخْتَلَفُوا مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْبَيِّنَاتُ» } [آل عمران: 105]

 

6 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا تَقَاطَعُوا وَلَا تَدَابَرُوا، وَكُونُوا عِبَادَ اللَّهِ إِخْوَانًا»

⦗ص: 9⦘

 

7 - وَقَالَ صلى الله عليه وسلم: «لَا تَخْتَلِفُوا فَتَخْتَلِفَ قُلُوبُكُمْ»

 

8 - وَقَالَ: «مَنْ أَرَادَ بُحْبُوحَةَ الْجَنَّةِ فَلْيَلْزَمِ الْجَمَاعَةَ»
১ - মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুসলিম ইবনে ইবরাহিম আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-মুস্তামির আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু নাযরাহ থেকে এবং তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে এই আয়াতের বিষয়ে বর্ণনা করেছেন: {আর জেনে রেখো যে, তোমাদের মধ্যে আল্লাহর রাসুল রয়েছেন; তিনি যদি অনেক বিষয়ে তোমাদের কথা মেনে নিতেন, তবে তোমরাই কষ্টে পড়তে} [আল-হুজুরাত: ৭]। তিনি (আবু সাঈদ) বলেন: "ইনি তোমাদের নবী এবং তোমাদের উম্মতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি; সুতরাং তোমাদের কী অবস্থা হবে?" আবু আবদুল্লাহ বলেন: আশ-শাফিঈ বলেছেন: "কিছু আলিম বলেছেন: 'উলুল আমর' (কর্তৃত্বশীল ব্যক্তি) হলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রেরিত সেনাদলের সেনাপতিগণ।" তিনি বলেন: এটি তাঁর কথার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, আর আল্লাহই ভালো জানেন; কারণ মক্কার চারপাশের আরবরা কোনো নেতৃত্ব বা শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে জানত না, এবং তারা একে অপরের নেতৃত্বের আনুগত্য করতে অপছন্দ করত। কিন্তু যখন তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আনুগত্যের অধীনে আসলো, তখন তারা এই আনুগত্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছাড়া অন্য কারো জন্য উপযুক্ত মনে করত না। তাই তাদের নির্দেশ দেওয়া হলো যেন তারা সেই 'উলুল আমর' বা নেতৃত্বশীল ব্যক্তিদের আনুগত্য করে যাদের রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিযুক্ত করেছেন—তবে এটি নিঃশর্ত আনুগত্য নয়, বরং তাদের জন্য কিছু বিষয় ব্যতিরেকে আনুগত্য। তাই আল্লাহ তাআলা বলেছেন: { «অতঃপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও» } [আন-নিসা: ৫৯] অর্থাৎ: যদি তোমরা কোনো বিষয়ে মতবিরোধ করো—আর আল্লাহই ভালো জানেন—তোমরা এবং তোমাদের সেই সেনাপতিরা যাদের আনুগত্য করতে তোমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, { «তবে তা আল্লাহ ও রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও» } [আন-নিসা: ৫৯] অর্থাৎ—আল্লাহই ভালো জানেন—আল্লাহ ও রাসুল যা বলেছেন তার দিকে। অতঃপর যদি তারা যে বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হয়েছে সে ব্যাপারে উভয়ের পক্ষ থেকে বা কোনো একজনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো نص (নস বা বক্তব্য) না থাকে, তবে তা এই দুটির কোনো একটির ওপর কিয়াসের (অনুমান বা তুলনা) মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। আর আমি ইসহাককে বলতে শুনেছি আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপারে { «এবং তোমাদের মধ্য হতে কর্তৃত্বশীলদের (উলুল আমর)» } [আন-নিসা: ৫৯] : "হতে পারে এই আয়াতের ব্যাখ্যা আলিমদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অথবা সেনাদলের সেনাপতিদের ক্ষেত্রেও; কেননা আলিমগণ একটি আয়াতের একাধিক দিক থেকে ব্যাখ্যা করেন এবং তা (নিষিদ্ধ) মতবিরোধ নয়।"

 

২ - সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ বলেছেন: কুরআনের তাফসিরে কোনো মতবিরোধ নেই যদি সে বিষয়ে বক্তব্যটি সঠিক হয়। তিনি আরও বলেন: "বাহ্যিক দিক থেকে 'খুন্নাস'-এর চেয়ে কি আর কোনো কিছুর পার্থক্য বেশি স্পষ্ট হতে পারে?" ⦗ص: ৮⦘ আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ বলেছেন: "তা হলো বন্য গরু।" আর আলি (রাযিআল্লাহু আনহু) বলেছেন: "তা হলো নক্ষত্ররাজি।" সুফিয়ান বলেন: "উভয়টিই এক; কারণ নক্ষত্ররাজি দিনে অদৃশ্য হয়ে যায় (খুননাস) এবং রাতে প্রকাশ পায়, আর বন্য পশু যখন কোনো মানুষকে দেখে তখন সে ঝোপঝাড় বা অন্য কোথাও লুকিয়ে যায় (খুননাস), আর যখন কোনো মানুষকে দেখে না তখন বের হয়ে আসে।" সুফিয়ান বলেন: "সুতরাং প্রত্যেকেই 'খুন্নাস'।" ইসহাক বলেন: "এর সত্যতা পাওয়া যায় মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবিদের থেকে 'মাউন' শব্দের বর্ণনায়।" অর্থাৎ তাদের কেউ বলেছেন: এটি হলো জাকাত; আবার কেউ বলেছেন: এটি হলো গৃহস্থালি আসবাবপত্র ধার দেওয়া।

 

৩ - তিনি বলেন: ইকরিমাহ বলেছেন: এর সর্বোচ্চ স্তর হলো জাকাত এবং গৃহস্থালি আসবাবপত্র ধার দেওয়াও এর অন্তর্ভুক্ত। ইসহাক বলেন: একদল লোক এই অর্থগুলো সম্পর্কে অজ্ঞ, তাই যখন একটি শব্দ অন্য শব্দের সাথে হুবহু মেলে না, তখন তারা বলে: এটি মতবিরোধ।

 

৪ - আল-হাসান বলেছেন—যখন তাঁর নিকট আমরা যা বর্ণনা করলাম অনুরূপ মতবিরোধের কথা উল্লেখ করা হলো—তিনি বললেন: "লোকদের মধ্যে অনারবীয় প্রভাবের (অজমা) কারণেই এমনটি হয়েছে।"

 

৫ - আবু আবদুল্লাহ বলেন: আল্লাহ তাঁর রাসুলকে নিজের কাছে তুলে নিয়েছেন যখন তিনি মুসলিমদের জন্য তাদের দ্বীন পূর্ণ করে দিয়েছেন। আল্লাহ বলেছেন: { «আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম» } [আল-মায়িদাহ: ৩]। এটি নাযিল হয়েছে যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করছিলেন। এরপর আর কোনো হালাল বা হারাম নাযিল হয়নি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফিরে আসলেন এবং ইন্তেকাল করলেন। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা তাঁর পক্ষ থেকে যা এসেছে তার ওপর ঐক্যবদ্ধ হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং বর্ণনা স্পষ্ট হওয়ার পর বিচ্ছিন্ন হতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন: { «তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে শক্তভাবে ধারণ করো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না। আর তোমাদের প্রতি আল্লাহর সেই নিয়ামতের কথা স্মরণ করো যখন তোমরা একে অপরের শত্রু ছিলে, অতঃপর তিনি তোমাদের হৃদয়ে প্রীতি স্থাপন করলেন, ফলে তাঁর অনুগ্রহে তোমরা ভাই ভাই হয়ে গেলে» } [আল-ইমরান: ১০৩]। মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: { «তোমরা তাদের মতো হয়ো না যারা বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং নিজেদের নিকট স্পষ্ট নিদর্শন আসার পর মতবিরোধে লিপ্ত হয়েছে» } [আল-ইমরান: ১০৫]।

 

৬ - রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «তোমরা একে অপরের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করো না, একে অপরের প্রতি পিঠ প্রদর্শন করো না এবং আল্লাহর বান্দা হিসেবে ভাই ভাই হয়ে থাকো»

⦗ص: ৯⦘

 

৭ - তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেছেন: «তোমরা মতবিরোধ করো না, অন্যথায় তোমাদের অন্তরেও মতবিরোধ সৃষ্টি হবে»

 

৮ - তিনি আরও বলেছেন: «যে ব্যক্তি জান্নাতের প্রশস্ত মধ্যভাগ কামনা করে, সে যেন জামাতকে (ঐক্যবদ্ধ জামাত) আঁকড়ে ধরে»
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ লিল-মারওয়াযি (পৃষ্ঠা: ٩)
9 - حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَا تَبَاغَضُوا وَلَا تَحَاسَدُوا، وَلَا تَدَابَرُوا، وَكُونُوا عِبَادَ اللَّهِ إِخْوَانًا، وَلَا يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ يَهْجُرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلَاثِ لَيَالٍ»
৯ - আমাদের নিকট ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, মালিক বিন আনাস থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «তোমরা একে অপরের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করো না, একে অপরের প্রতি হিংসা করো না এবং একে অপরের প্রতি বিমুখ হয়ো না। হে আল্লাহর বান্দারা! তোমরা পরস্পর ভাই ভাই হয়ে যাও। আর কোনো মুসলিমের জন্য তার ভাইয়ের সাথে তিন রাতের বেশি সম্পর্ক ছিন্ন রাখা বৈধ নয়»
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ লিল-মারওয়াযি (পৃষ্ঠা: ٩)
10 - حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الْأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِيَّاكُمْ وَالظَّنَّ فَإِنَّ الظَّنَّ أَكْذَبُ الْحَدِيثِ، وَلَا تَحَسَّسُوا وَلَا تَجَسَّسُوا وَلَا تَنَافَسُوا وَلَا تَحَاسَدُوا وَلَا تَبَاغَضُوا وَلَا تَدَابَرُوا، وَكُونُوا عِبَادَ اللَّهِ إِخْوَانًا» وَقَالَ اللَّهُ عز وجل: { «وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ» } [الأنعام: 153] فَأَخْبَرَنَا اللَّهُ أَنَّ طَرِيقَهُ وَاحِدٌ مُسْتَقِيمٌ، وَأَنَّ السُّبُلَ كَثِيرَةٌ تَصُدُّ مَنِ اتَّبَعَهَا عَنْ طَرِيقِهِ الْمُسْتَقِيمِ، ثُمَّ بَيَّنَ لَنَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ذَلِكَ بِسُنَّتِهِ
১০ - ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মালিক থেকে, তিনি আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আল-আ’রাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বলেছেন: «তোমরা কুধারণা থেকে বেঁচে থাকো, কারণ ধারণা হলো সবচেয়ে বড় মিথ্যা কথা। তোমরা কারো গোপন বিষয় অনুসন্ধান করো না, একে অপরের প্রতি গোয়েন্দাগিরি করো না, একে অপরের সাথে (দুনিয়াবি শ্রেষ্ঠত্বের) প্রতিযোগিতা করো না, একে অপরকে হিংসা করো না, একে অপরের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করো না এবং একে অপরের থেকে বিমুখ হয়ো না। হে আল্লাহর বান্দারা! তোমরা ভাই ভাই হয়ে যাও» এবং মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেছেন: { «আর এটিই আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, কারণ তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে। তিনি তোমাদেরকে এই নির্দেশই দিয়েছেন» } [আল-আন’আম: ১৫৩] আল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, তাঁর পথ একটিই এবং তা সরল, আর অন্যান্য পথসমূহ অনেক যা অনুসরণকারীকে তাঁর সরল পথ থেকে বিচ্যুত করে দেয়। অতঃপর নবী (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) তাঁর সুন্নাহর মাধ্যমে আমাদের নিকট তা স্পষ্ট করেছেন।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ লিল-মারওয়াযি (পৃষ্ঠা: ٩)
11 - فَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، أنبا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ بَهْدَلَةَ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: خَطَّ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَطًّا، ثُمَّ قَالَ: «هَذَا سَبِيلُ اللَّهِ» ، ثُمَّ خَطَّ خُطُوطًا عَنْ يَمِينِهِ وَشِمَالِهِ، وَقَالَ: «هَذِهِ سُبُلٌ عَلَى كُلِّ سَبِيلٍ مِنْهَا شَيْطَانٌ يَدْعُو إِلَيْهِ» وَقَرَأَ: { «وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ» } [الأنعام: 153] الْآيَةَ
১১ - আমাদের নিকট ইসহাক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুর রহমান ইবনে মাহদী, তিনি হাম্মাদ ইবনে যাইদ থেকে, তিনি আসিম ইবনে বাহদালাহ থেকে, তিনি আবু ওয়ায়িল থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের জন্য একটি রেখা অঙ্কন করলেন, এরপর বললেন: «এটি আল্লাহর পথ», তারপর তিনি এর ডানে ও বামে আরও কিছু রেখা অঙ্কন করলেন এবং বললেন: «এগুলো অনেকগুলো পথ, যার প্রতিটি পথের ওপর একজন শয়তান রয়েছে যে সেদিকে ডাকছে।» এরপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: { «আর নিশ্চয় এটি আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো» } [আল-আনআম: ১৫৩] আয়াতাংশ।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ লিল-মারওয়াযি (পৃষ্ঠা: ١٠)
12 - حَدَّثَنَا أَبُو هِشَامٍ الرِّفَاعِيُّ، ثنا أَبُو بَكْرٍ يَعْنِي ابْنَ عَيَّاشٍ، ثنا عَاصِمٌ، عَنْ زَرٍّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَرَأَ: { «وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ» } [الأنعام: 153] فَخَطَّ خَطًّا فَقَالَ: «هَذَا الصِّرَاطُ» ، وَخَطَّ حَوْلَهُ خُطُوطًا فَقَالَ: «هَذِهِ السُّبُلُ فَمَا مِنْهَا إِلَّا وَعَلَيْهِ شَيْطَانٌ يَدْعُو إِلَيْهِ»
১২ - আবু হিশাম আর-রিফায়ি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবু বকর অর্থাৎ ইবন আইয়াশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আসিম থেকে, তিনি যার থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তিলাওয়াত করলেন: { "আর নিশ্চয় এটিই আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না" } [আল-আন'আম: ১৫৩]। এরপর তিনি একটি রেখা অঙ্কন করলেন এবং বললেন: "এটি হলো পথ।" এরপর তিনি এর চারপাশে আরও কিছু রেখা অঙ্কন করলেন এবং বললেন: "এগুলো হলো বিভিন্ন পথ, যার প্রত্যেকটির উপর একজন শয়তান রয়েছে যে সেদিকে আহ্বান করছে।"
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ লিল-মারওয়াযি (পৃষ্ঠা: ١٠)
13 - وَحَدَّثَنَا أَبُو الشَّعْثَاءِ عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ، ثنا سُلَيْمَانُ بْنُ حَيَّانَ، عَنْ مُجَالِدٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: كُنَّا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم جُلُوسًا إِذْ خَطَّ خَطًّا، فَقَالَ: «هَذَا سَبِيلُ اللَّهِ» ، وَخَطَّ خَطَّيْنِ عَنْ يَمِينِهِ وَعَنْ شِمَالِهِ، فَقَالَ: «هَذِهِ سُبُلُ الشَّيَاطِينِ» ، ثُمَّ وَضَعَ يَدَهُ فِي الْخَطِّ الْأَوْسَطِ وَتَلَا هَذِه الْآيَةَ " {وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ} [الأنعام: 153] فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ "

 

14 - حَدَّثَنَا أَبُو حَاتِمٍ الرَّازِيُّ، ثنا سَعِيدِ بْنِ سُلَيْمَانَ، ثنا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، عَنْ مُجَالِدٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: خَطَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِيَدِهِ خَطًّا فِي الْأَرْضِ وَذَكَرَ الْحَدِيثَ قَالَ:
13 - এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুশ শা'সা আলী ইবনুল হুসাইন, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুলাইমান ইবনে হাইয়ান, মুজালিদ থেকে, তিনি আশ-শা'বী থেকে, তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বসা ছিলাম, এমতাবস্থায় তিনি একটি রেখা টানলেন এবং বললেন: «এটি আল্লাহর পথ», এবং তিনি তাঁর ডানে ও বামে আরও দুটি রেখা টানলেন এবং বললেন: «এগুলো শয়তানদের পথ», অতঃপর তিনি মাঝখানের রেখাটির ওপর তাঁর হাত রাখলেন এবং এই আয়াতটি পাঠ করলেন: "{আর এটিই আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, নতুবা তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে। তিনি তোমাদেরকে এই নির্দেশই দিয়েছেন যেন তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করো।}" [আল-আন'আম: ১৫৩]

 

14 - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু হাতিম আর-রাজি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনে সুলাইমান, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাফস ইবনে গিয়াস, মুজালিদ থেকে, তিনি আশ-শা'বী থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাত দিয়ে মাটিতে একটি রেখা টানলেন এবং তিনি হাদীসটি উল্লেখ করলেন। তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ লিল-মারওয়াযি (পৃষ্ঠা: ١٠)
15 - وَحَدَّثَنَا سَعِيدٌ، فِي مَوْضِعٍ آخَرَ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ: فَحَذَّرَنَا اللَّهُ ثُمَّ رَسُولُهُ صلى الله عليه وسلم الْمُحْدَثَاتِ وَالْأَهْوَاءَ الصَّادَّةَ عَنِ اتِّبَاعِ أَمْرِ اللَّهِ وَسُنَّةِ نَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم، ثُمَّ أَخْبَرَنَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ اللَّهَ لَا يَدَعُ عَبْدَهُ الْمُؤْمِنَ مَعَ مَا يُبَيِّنُ لَهُ فِي كِتَابِهِ وَسُنَّةِ نَبِيِّهِ حَتَّى يَعِظَهُ، وَيُنَبِّهَهُ بِالْخَطَرِ بِقَلْبِهِ لِيَعْتَصِمَ بِذَلِكَ مِنْ دُعَاءِ الشَّيَاطِينِ إِلَى الصَّدِّ عَنْ سَبِيلِهِ وَعَنْ طَرِيقِ مَرْضَاتِهِ
১৫ - এবং অন্য এক স্থানে সাঈদ আমাদের নিকট জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ হতে বর্ণনা করেছেন: আল্লাহ এবং অতঃপর তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সেই সকল নব-উদ্ভাবিত বিষয় ও প্রবৃত্তির অনুসরণ হতে সতর্ক করেছেন যা আল্লাহর নির্দেশ এবং তাঁর নবীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুন্নাহর অনুসরণ হতে বিমুখ করে দেয়। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আল্লাহ তাঁর মুমিন বান্দাকে তাঁর কিতাব ও তাঁর নবীর সুন্নাহতে যা বর্ণনা করেছেন কেবল তার ওপরই ছেড়ে দেন না, বরং তিনি তাকে উপদেশ প্রদান করেন এবং তার অন্তরের মাধ্যমে তাকে বিপদের বিষয়ে সচেতন করেন, যাতে সে এর দ্বারা শয়তানদের সেই আহ্বান হতে নিজেকে রক্ষা করতে পারে যা তাকে আল্লাহর পথ এবং তাঁর সন্তুষ্টির পথ হতে বিচ্যুত করার উদ্দেশ্যে করা হয়।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ লিল-মারওয়াযি (পৃষ্ঠা: ١١)
16 - فَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، ثنا أَبُو صَالِحٍ، حَدَّثَنِي مُعَاوِيَةُ يَعْنِي ابْنَ صَالِحٍ أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، حَدَّثَهُ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّوَّاسِ بْنِ سَمْعَانَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " ضَرَبَ اللَّهُ مَثَلًا صِرَاطًا مُسْتَقِيمًا، وَعَلَى جَنْبَيِ الصِّرَاطِ سُورٌ فِيهِ أَبْوَابٌ مُفَتَّحَةٌ، وَعَلَى الْأَبْوَابِ أُرَاهُ قَالَ: سُتُورٌ مُرْخَاةٌ، وَعَلَى بَابِ الصِّرَاطِ دَاعٍ يَقُولُ: يَا أَيُّهَا النَّاسُ، ادْخُلُوا الصِّرَاطَ جَمِيعًا وَلَا تَتَعَوَّجُوا، وَدَاعٍ يَدْعُو مِنْ فَوْقِ الصِّرَاطِ، فَإِذَا أَرَادَ فَتْحَ شَيْءٍ مِنْ تِلْكَ الْأَبْوَابِ قَالَ: وَيْحَكَ لَا تَفْتَحْهُ؛ فَإِنَّكَ إِنْ تَفْتَحْهُ تَلِجْهُ، فَالصِّرَاطُ الْإِسْلَامُ، وَالسُّتُورُ حُدُودُ اللَّهِ، وَالْأَبْوَابُ الْمُفَتَّحَةُ مَحَارِمُ اللَّهِ، وَذَلِكَ الدَّاعِي عَلَى رَأْسِ الصِّرَاطِ كِتَابُ اللَّهِ، وَالدَّاعِي مِنْ فَوْقَ وَاعِظُ اللَّهِ فِي قَلْبِ كُلِّ مُسْلِمٍ
১৬ - আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, আবু সালিহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মুআবিয়া অর্থাৎ ইবনে সালিহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আবদুর রহমান ইবনে জুবায়ের ইবনে নুফাইর তাঁর নিকট তাঁর পিতার সূত্রে এবং তিনি নাওয়াস ইবনে সামআন থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: "আল্লাহ তাআলা একটি সরল পথের উদাহরণ প্রদান করেছেন। সেই পথের উভয় পার্শ্বে দুটি প্রাচীর রয়েছে যাতে অনেকগুলো উন্মুক্ত দরজা বিদ্যমান। আর সেই দরজাগুলোর ওপর রয়েছে ঝুলন্ত পর্দা (বর্ণনাকারী বলেন: আমার মনে হয় তিনি বলেছেন)। সেই পথের প্রবেশমুখে একজন আহ্বানকারী দাঁড়িয়ে বলছেন: 'হে লোকসকল! তোমরা সকলে এই সরল পথে প্রবেশ করো এবং বক্র পথে যেয়ো না।' আর একজন আহ্বানকারী পথের উপরভাগ থেকে আহ্বান জানাচ্ছেন। অতঃপর যখন কোনো ব্যক্তি সেই দরজাগুলোর কোনো একটি উন্মুক্ত করতে চায়, তখন তিনি বলেন: 'তোমার জন্য পরিতাপ! ওটা খুলো না; কেননা তুমি যদি তা উন্মোচন করো তবে তাতে প্রবেশ করে ফেলবে।' সুতরাং সেই সরল পথ হলো ইসলাম, আর পর্দাগুলো হলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা এবং উন্মুক্ত দরজাগুলো হলো আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ। আর পথের প্রবেশমুখে অবস্থানকারী সেই আহ্বানকারী হলো আল্লাহর কিতাব এবং উপর থেকে আহ্বানকারী হলো প্রত্যেক মুসলিমের অন্তরে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত উপদেশদাতা।"
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ লিল-মারওয়াযি (পৃষ্ঠা: ١١)
17 - وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِدْرِيسَ الرَّازِيُّ، حَدَّثَنَا آدَمُ بْنُ أَبِي إِيَاسٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنِ النَّوَّاسِ بْنِ سَمْعَانَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " ضَرَبَ اللَّهُ صِرَاطًا مُسْتَقِيمًا، وَعَلَى جَنْبَيِ الصِّرَاطِ سُورٌ فِيهِ أَبْوَابٌ مُفَتَّحَةٌ، وَعَلَى الْأَبْوَابِ سُتُورٌ مُرْخَاةٌ وَعَلَى بَابِ الصِّرَاطِّ دَاعٍ يَدْعُو مِنْ فَوْقِ الصِّرَاطِ، فَإِذَا أَرَادَ فَتْحَ شَيْءٍ مِنْ تِلْكَ الْأَبْوَابِ قَالَ: وَيْحَكَ لَا تَفْتَحْهُ فَإِنَّكَ إِنْ تَفْتَحْهُ تَلِجْهُ، وَالصِّرَاطُ الْإِسْلَامُ، وَالسُّتُورُ حُدُودُ اللَّهِ، وَالْأَبْوَابُ الْمُفَتَّحَةُ مَحَارِمُ اللَّهِ، وَذَلِكَ الدَّاعِي عَلَى رَأْسِ الصِّرَاطِ كِتَابُ اللَّهِ، وَالدَّاعِي مِنْ فَوْقَ وَاعِظُ اللَّهِ فِي قَلْبِ كُلِّ مُسْلِمٍ "
১৭ - মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস আল-রাজি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, আদম ইবনে আবি ইয়াস আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, লাইস ইবনে সাদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মুআবিয়াহ ইবনে সালিহ থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে জুবায়ের ইবনে নুফাইর থেকে, তিনি নাওয়াস ইবনে সামআন থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "আল্লাহ একটি সরল পথের উদাহরণ পেশ করেছেন। সেই পথের দুই পাশে দুটি প্রাচীর রয়েছে, যাতে উন্মুক্ত অনেকগুলো দরজা রয়েছে এবং দরজাগুলোর ওপর পর্দা ঝোলানো রয়েছে। পথের প্রবেশদ্বারে একজন আহ্বানকারী রয়েছেন যিনি পথের ওপর থেকে আহ্বান করছেন। সুতরাং যখন কেউ ওই দরজাগুলোর কোনোটি খুলতে চায়, তখন তিনি বলেন: 'তোমার জন্য আক্ষেপ! ওটা খুলো না, কেননা তুমি যদি তা খুলো তবে তাতে প্রবেশ করে ফেলবে।' এই পথটি হলো ইসলাম, পর্দাগুলো হলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা এবং উন্মুক্ত দরজাগুলো হলো আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ। আর পথের মাথায় অবস্থানকারী সেই আহ্বানকারী হলো আল্লাহর কিতাব এবং ওপর থেকে আহ্বানকারী হলো প্রত্যেক মুসলিমের অন্তরে আল্লাহর পক্ষ থেকে অবস্থানকারী উপদেশদাতা।"
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ লিল-মারওয়াযি (পৃষ্ঠা: ١١)
18 - وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِدْرِيسَ، الرَّازِي حَدَّثَنِي يَزِيدُ بْنُ عَبْدِ رَبِّهِ الْحِمْصِيُّ، ثنا بَقِيَّةُ بْنُ الْوَلِيدِ، حَدَّثَنِي بُحَيْرُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنِ النَّوَّاسِ بْنِ سَمْعَانَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " إِنَّ اللَّهَ ضَرَبَ مَثَلًا صِرَاطًا مُسْتَقِيمًا عَلَى كَنَفَيِ الصِّرَاطِ سُورَانِ لَهُمَا أَبْوَابٌ مُفَتَّحَةٌ، وَعَلَى الْأَبْوَابِ سُتُورٌ وَدَاعٍ يَدْعُو عَلَى رَأْسِ الصِّرَاطِ، وَدَاعٍ يَدْعُو مِنْ فَوْقِهِ، {وَاللَّهُ يَدْعُو إِلَى دَارِ السَّلَامِ وَيَهْدِي مَنْ يَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} [يونس: 25] ، فَالْأَبْوَابُ الَّتِي عَلَى كَنَفَي ⦗ص: 12⦘ الصِّرَاطِ حُدُودُ اللَّهِ، لَا يَقَعُ أَحَدٌ فِي حُدُودِ اللَّهِ حَتَّى يُكْشَفَ سِتْرُ اللَّهِ، وَالَّذِي يَدْعُو مِنْ فَوْقِهِ وَاعِظُ اللَّهِ فِي قَلْبِهِ "
১৮ - এবং মুহাম্মাদ ইবনে ইদরিস আর-রাজি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, ইয়াজিদ ইবনে আবদ রাব্বিহি আল-হিমসি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, বাকিয়্যাহ ইবনুল ওয়ালিদ আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন, বুহাইর ইবনে সাদ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন খালিদ ইবনে মাদান থেকে, তিনি জুবাইর ইবনে নুফাইর থেকে, তিনি নাওয়াস ইবনে সামআন থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ একটি সরল পথের উদাহরণ পেশ করেছেন, সেই পথের দুই পাশে দুটি প্রাচীর রয়েছে যাতে অনেকগুলো খোলা দরজা রয়েছে, আর সেই দরজাগুলোর ওপর পর্দা ঝোলানো রয়েছে। পথের মাথায় একজন আহ্বানকারী ডাকছেন এবং তার ওপর থেকে আরেকজন আহ্বানকারী ডাকছেন, {আর আল্লাহ শান্তির আবাসের দিকে আহ্বান করেন এবং যাকে ইচ্ছা সরল পথ প্রদর্শন করেন} [ইউনুস: ২৫]। সুতরাং পথের দুই পাশে ⦗পৃষ্ঠা: ১২⦘ থাকা সেই দরজাগুলো হলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা। কেউ আল্লাহর সীমারেখায় পতিত হয় না যতক্ষণ না আল্লাহর পর্দা উন্মোচিত হয়। আর ওপর থেকে যে আহ্বানকারী ডাকছেন, তিনি হলেন মুমিনের হৃদয়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে এক উপদেশদাতা।"
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ লিল-মারওয়াযি (পৃষ্ঠা: ١٢)
19 - حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ يَحْيَى بْنُ خَلَفٍ، ثنا أَبُو عَاصِمٍ، عَنْ عِيسَى بْنِ مَيْمُونٍ، ثنا ابْنُ أَبِي نَجِيحٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، فِي قَوْلِ اللَّهِ {وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ} [الأنعام: 153] قَالَ: الْبِدَعُ وَالشُّبُهَاتُ
১৯ - আমাদের নিকট আবু সালামা ইয়াহইয়া ইবন খালাফ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবু আসিম বর্ণনা করেছেন, তিনি ঈসা ইবন মাইমুন থেকে, তিনি বলেন আমাদের নিকট ইবন আবি নাজীহ বর্ণনা করেছেন, তিনি মুজাহিদ থেকে আল্লাহর এই বাণী {এবং তোমরা অন্যান্য পথসমূহ অনুসরণ করো না} [আল-আন’আম: ১৫৩] এর ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেন, তিনি (মুজাহিদ) বলেন: (এগুলো হলো) বিদআতসমূহ এবং সংশয়সমূহ।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ লিল-মারওয়াযি (পৃষ্ঠা: ١٢)
20 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، ثنا رَوْحٌ، عَنْ شِبْلٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، {وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ} [الأنعام: 153] قَالَ: الْبِدَعُ وَالشُّبُهَاتُ
২০ - ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, রাওহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শিবল থেকে, তিনি ইবনে আবী নাজীহ থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে (আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে) বর্ণনা করেছেন: {এবং তোমরা অন্যান্য পথ অনুসরণ করো না, অন্যথায় তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে} [আল-আন‘আম: ১৫৩]। তিনি বলেন: (এই পথগুলো হলো) বিদআত এবং সংশয়সমূহ।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ লিল-মারওয়াযি (পৃষ্ঠা: ١٢)
21 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، أنبأ جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: " الصِّرَاطُ مُحْتَضَرٌ يَحْضُرُهُ الشَّيَاطِينُ، يُنَادُونَ: يَا عَبْدَ اللَّهِ هَلُمَّ، يَا عَبْدَ اللَّهِ هَلُمَّ، هَذَا الطَّرِيقُ؛ لِيَصُدُّوا عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ، فَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ، قَالَ: حَبْلُ اللَّهِ هُوَ كِتَابُ اللَّهِ

 

22 - وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، أنبأ وَكِيعٌ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، مِثْلَهُ
২১ - ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জারীর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মানসূর থেকে, তিনি আবু ওয়ায়েল থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "সিরাত (পথ) এমন এক স্থান যেখানে শয়তানরা উপস্থিত থাকে। তারা ডাকতে থাকে: হে আল্লাহর বান্দা, এদিকে এসো; হে আল্লাহর বান্দা, এদিকে এসো; এটাই পথ—যাতে তারা আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারে। সুতরাং তোমরা আল্লাহর রজ্জুকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরো।" তিনি বললেন: "আল্লাহর রজ্জু হলো আল্লাহর কিতাব।"

 

২২ - এবং ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ওয়াকী' আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমাশ থেকে, তিনি আবু ওয়ায়েল থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ লিল-মারওয়াযি (পৃষ্ঠা: ١٢)
23 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، أنبأ سُفْيَانُ، عَنْ جَامِعِ بْنِ أَبِي رَاشِدٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: حَبْلُ اللَّهِ الَّذِي أَمَرَ بِهِ الْقُرْآنُ
২৩ - আমাদের নিকট ইসহাক বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি জামি' ইবনে আবি রাশিদ থেকে, তিনি আবু ওয়ায়েল থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: আল্লাহর রশি যার নির্দেশ তিনি দিয়েছেন তা হলো কুরআন।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ লিল-মারওয়াযি (পৃষ্ঠা: ١٢)
24 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، أَنْبَا وَكِيعٌ، أَنْبَا مِسْعَرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: الصِّرَاطُ الْمُسْتَقِيمُ هُوَ كِتَابُ اللَّهِ
২৪ - ইসহাক আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ওয়াকি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মিসআর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মানসুরের সূত্রে, তিনি আবু ওয়াইলের সূত্রে, তিনি আবদুল্লাহ হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: সিরাত আল-মুস্তাকিম হলো আল্লাহর কিতাব।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ লিল-মারওয়াযি (পৃষ্ঠা: ١٢)
25 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، أَنْبَا وَكِيعٌ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ: الصِّرَاطُ الْمُسْتَقِيمُ هُوَ الْإِسْلَامُ
২৫ - আমাদের নিকট ইসহাক হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ওয়াকি, তিনি আল-হাসান বিন সালিহ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আকিল থেকে, তিনি জাবির বিন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন: সিরাতুল মুস্তাকিম হলো ইসলাম।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ লিল-মারওয়াযি (পৃষ্ঠা: ١٣)
26 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِهِ، ثنا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عَاصِمٍ الْأَحْوَلِ، قَالَ: قَالَ لَنَا أَبُو الْعَالِيَةِ: " تَعَلَّمُوا الْإِسْلَامَ فَإِذَا تَعَلَّمْتُمُوهُ فَلَا تَرْغَبُوا عَنْهُ، وَعَلَيْكُمْ بِالصِّرَاطِ الْمُسْتَقِيمِ فَإِنَّهُ الْإِسْلَامُ، وَلَا تُحَرِّفُوا الصِّرَاطَ يَمِينًا وَشِمَالًا، وَعَلَيْكُمْ بِسُنَّةِ نَبِيِّكُمْ صلى الله عليه وسلم وَالَّذِي كَانُوا عَلَيْهِ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَقْتُلُوا صَاحِبَهُمْ وَيَفْعَلُوا الَّذِي فَعَلُوا، فَإِنَّا قَدْ قَرَأْنَا الْقُرْآنَ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَقْتُلُوا صَاحِبَهُمْ وَمِنْ قَبْلِ أَنْ يَفْعَلُوا الَّذِي فَعَلُوا بِخَمْسَةَ عَشَرَ سَنَةً، وَإِيَّاكُمْ وَهَذِهِ الْأَهْوَاءَ الَّتِي تُلْقِي بَيْنَ النَّاسِ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ، فَأَخْبَرْتُ بِهِ الْحَسَنَ فَقَالَ: صَدَقَ وَنَصَحَ، وَحَدَّثْتُ بِهِ حَفْصَةَ بِنْتَ سِيرِينَ فَقَالَتْ لِي: بِأَهْلِي أَنْتَ هَلْ حَدَّثْتَ بِهَذَا مُحَمَّدًا؟ قُلْتُ: لَا، قَالَتْ: فَحَدِّثْهُ إِيَّاهُ
২৬ - আহমাদ বিন আবদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ বিন যায়িদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আসিম আল-আহওয়াল থেকে, তিনি বলেন: আবুল আলিয়াহ আমাদের বলেছেন: "তোমরা ইসলাম শিক্ষা করো। অতঃপর যখন তোমরা তা শিখে ফেলবে, তখন তা থেকে বিমুখ হয়ো না। আর তোমরা সরল পথ (সিরাতুল মুস্তাকিম) আঁকড়ে ধরো, কারণ তা-ই হলো ইসলাম। আর তোমরা সরল পথ থেকে ডানে বা বামে বিচ্যুত হয়ো না। তোমরা তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাত এবং সেই বিষয়ের ওপর অটল থাকো যার ওপর তাঁরা (সাহাবায়ে কিরাম) তাঁদের সঙ্গীকে হত্যা করার এবং যা কিছু তারা করেছে তা করার আগে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। কারণ আমরা তাঁদের সঙ্গীকে হত্যা করার এবং যা কিছু তারা করেছে তা করার পনের বছর পূর্বেই কুরআন পাঠ করেছি। আর তোমরা এই সকল প্রবৃত্তিপূজা (ভ্রান্ত মতবাদ) থেকে বেঁচে থাকো যা মানুষের মাঝে শত্রুতা ও ঘৃণা সৃষ্টি করে।" অতঃপর আমি হাসানকে বিষয়টি জানালে তিনি বললেন: "তিনি সত্য বলেছেন এবং সদুপদেশ দিয়েছেন।" আর আমি হাফসা বিনতে সিরিনকে এটি বর্ণনা করলে তিনি আমাকে বললেন: "আমার পরিবার আপনার জন্য উৎসর্গ হোক, আপনি কি মুহাম্মাদকে এটি শুনিয়েছেন?" আমি বললাম: "না।" তিনি বললেন: "তবে তাকেও এটি শুনিয়ে দিন।"
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ লিল-মারওয়াযি (পৃষ্ঠা: ١٣)
27 - حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلَانَ، أَنْبَا أَبُو النَّضْرِ يَعْنِي هَاشِمَ بْنَ الْقَاسِمِ ثنا حَمْزَةُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، قَالَ أَبُو النَّضْرِ - وَكَانَ أَعْبَدَ رَجُلٍ - بِالْكُوفَةِ قَالَ: ثنا عَاصِمٌ الْأَحْوَلُ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ، فِي قَوْلِ اللَّهِ {اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ} [الفاتحة: 6] قَالَ: هُوَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَصَاحِبَاهُ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ، قَالَ: فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِلْحَسَنِ فَقَالَ: صَدَقَ أَبُو الْعَالِيَةِ وَنَصَحَ
২৭ - আমাদের নিকট মাহমুদ ইবনে গাইলান বর্ণনা করেছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু নাদর—অর্থাৎ হাশিম ইবনুল কাসিম—আমাদের নিকট হামযা ইবনুল মুগিরা বর্ণনা করেছেন। আবু নাদর বলেন—আর তিনি ছিলেন কুফার শ্রেষ্ঠ ইবাদতকারী ব্যক্তি—তিনি বলেন: আমাদের নিকট আসিম আল-আহওয়াল আবুল আলিয়া থেকে আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন: {আমাদেরকে সরল সঠিক পথ প্রদর্শন করুন} [আল-ফাতিহা: ৬]। তিনি বলেন: তিনি হলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর দুই সাথী আবু বকর ও উমর। তিনি (আসিম) বলেন: অতঃপর আমি বিষয়টি হাসান (বসরী)-এর নিকট উল্লেখ করলে তিনি বললেন: আবুল আলিয়া সত্য বলেছেন এবং তিনি সঠিক নসিহত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ লিল-মারওয়াযি (পৃষ্ঠা: ١٣)
28 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِدْرِيسَ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي الْحَوَارِيِّ، ثنا مَرْوَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ، ثنا يَزِيدُ بْنُ السَّمْطِ - وَكَانَ ثِقَةً - عَنِ الْوَضِينِ بْنِ عَطَا، عَنْ يَزِيدَ بْنِ مَرْثَدٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " كُلُّ رَجُلٍ مِنَ الْمُسْلِمِينَ عَلَى ثَغْرَةٍ مِنْ ثُغَرِ الْإِسْلَامِ، اللَّهَ اللَّهَ لَا يُؤْتَى الْإِسْلَامُ مِنْ قِبَلِكَ
২৮ - মুহাম্মদ ইবনে ইদরিস আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন, আহমাদ ইবনে আবিল হাওয়ারী আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, মারওয়ান ইবনে মুহাম্মদ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, ইয়াজিদ ইবনুস সামত আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন - এবং তিনি নির্ভরযোগ্য ছিলেন - আল-ওয়াদিন ইবনে আতা থেকে, তিনি ইয়াজিদ ইবনে মারসাদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "প্রত্যেক মুসলিম ব্যক্তি ইসলামের এক একটি সীমান্ত-ঘাঁটির পাহারায় নিয়োজিত; আল্লাহকে ভয় করো, আল্লাহকে ভয় করো, তোমার পক্ষ থেকে যেন ইসলাম আক্রান্ত না হয়।"
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ লিল-মারওয়াযি (পৃষ্ঠা: ١٣)
29 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِدْرِيسَ، ثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ الْفِرْيَابِيُّ، ثنا أَيُّوبُ بْنُ سُوَيْدٍ، سَمِعْتُ الْأَوْزَاعِيَّ، يَقُولُ: كَانَ يُقَالُ: مَا مِنْ مُسْلِمٍ إِلَّا وَهُوَ قَائِمٌ عَلَى ثَغْرَةٍ مِنْ ثُغَرِ الْإِسْلَامِ، فَمَنِ اسْتَطَاعَ أَلَّا يُؤْتَى الْإِسْلَامُ مِنْ ثَغْرَتِهِ فَلْيَفْعَلْ
২৯ - মুহাম্মদ ইবন ইদ্রিস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবরাহিম ইবন মুহাম্মদ ইবন ইউসুফ আল-ফিরইয়াবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আইয়ুব ইবন সুওয়াইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমি আওযায়ি-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: বলা হতো যে, প্রত্যেক মুসলিমই ইসলামের কোনো না কোনো প্রহরাকেন্দ্রে দণ্ডায়মান। সুতরাং যার পক্ষে সম্ভব যে তার প্রহরাকেন্দ্র থেকে ইসলাম আক্রান্ত হবে না, সে যেন তা-ই করে।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ লিল-মারওয়াযি (পৃষ্ঠা: ١٤)
30 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِدْرِيسَ، حَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ أَبِي الْحَوَارِيِّ، حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ خَلَفٍ - وَكَانَ مِنَ الْخَائِفِينَ - قَالَ: قَالَ الْحَسَنُ بْنُ حَيٍّ: إِنَّمَا الْمُسْلِمُونَ عَلَى الْإِسْلَامِ بِمَنْزِلَةِ الْحِصْنِ، فَإِذَا أَحْدَثَ الْمُسْلِمُ حَدَثًا ثُغِرَ فِي الْإِسْلَامِ مِنْ قِبَلِهِ، فَإِنْ أَحْدَثَ الْمُسْلِمُونَ كُلُّهُمْ فَاثْبُتْ أَنْتَ عَلَى الْأَمْرِ الَّذِي لَوِ اجْتَمَعُوا عَلَيْهِ لَقَامَ الدِّينُ لِلَّهِ بِالْأَمْرِ الَّذِي أَرَادَهُ مِنْ خَلْقِهِ لَا يُؤْتَى الْإِسْلَامُ مِنْ قِبَلِكَ
৩০ - মুহাম্মাদ ইবনে ইদরীস আমাকে বর্ণনা করেছেন, আহমাদ ইবনে আবিল হাওয়ারী আমাকে বর্ণনা করেছেন, ইসহাক ইবনে খালাফ—যিনি আল্লাহভীরুদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন—আমাকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আল-হাসান ইবনে হাই বলেছেন: “ইসলামের রক্ষায় মুসলিমগণ একটি দুর্গের ন্যায়। সুতরাং যখন কোনো মুসলিম (দ্বীনে) নতুন কোনো বিষয় উদ্ভাবন করে, তখন তার পক্ষ থেকে ইসলামের মধ্যে একটি ফাটল তৈরি হয়। আর যদি সমস্ত মুসলিমই নতুন কিছু উদ্ভাবন করে, তবে তুমি সেই আদর্শের ওপর অটল থাকো, যার ওপর তারা সকলে ঐক্যবদ্ধ হলে আল্লাহর দ্বীন তাঁর সৃষ্টির নিকট তাঁর কাঙ্ক্ষিত পন্থায় প্রতিষ্ঠিত হতো; তোমার পক্ষ থেকে যেন ইসলাম ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।”
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ লিল-মারওয়াযি (পৃষ্ঠা: ١٤)
31 - حَدَّثَنَا أَبُو قُدَامَةَ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، ثنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ عُتْبَةَ بْنِ أَبِي حَكِيمٍ، عَنْ عَمْروِ بْنِ جَابِرٍ اللَّخْمِيِّ، عَنْ أَبِي أُمَيَّةَ الشَّعْبَانِيِّ، قَالَ: لَقِيتُ أَبَا ثَعْلَبَةَ الْخُشَنِيَّ، فَسَأَلْتُهُ عَنْ قَوْلِهِ: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا عَلَيْكُمْ أَنْفُسَكُمْ لَا يَضُرُّكُمْ مَنْ ضَلَّ إِذَا اهْتَدَيْتُمْ} [المائدة: 105] فَقَالَ: أَمَا وَاللَّهِ لَقَدْ سَأَلْتَ عَنْهَا خَبِيرًا، سَأَلْتُ عَنْهَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: بَلِ ائْتَمِرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَتَنَاهَوْا عَنِ الْمُنْكَرِ، فَإِذَا رَأَيْتَ شُحًّا مُطَاعًا وَهَوًى مُتَّبَعًا وَدُنْيَا مُؤْثَرَةً وَإِعْجَابَ كُلِّ ذِي رَأْيٍ بِرَأْيِهِ فَعَلَيْكَ نَفْسَكَ، وَإِيَّاكَ وَأَمْرَ الْعَوَامِّ؛ فَإِنَّ مِنْ وَرَائِكُمْ أَيَّامًا، الصَّبْرُ فِيهِنَّ مِثْلُ قَبْضٍ عَلَى الْجَمْرِ، لِلْعَامِلِ فِيهِمْ مِثْلُ أَجْرِ خَمْسِينَ رَجُلًا يَعْمَلُونَ مِثْلَ عَمَلِهِ، قَالَ: وَزَادَ فِي غَيْرِهِ قِيلَ لَهُ: خَمْسِينَ مِنْهُمْ؟ قَالَ: «خَمْسِينَ مِنْكُمْ»
৩১ - আমাদের কাছে আবু কুদামা উবায়দুল্লাহ বিন সাঈদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আব্দুর রহমান বিন মাহদী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আব্দুল্লাহ বিন আল-মুবারক বর্ণনা করেছেন উতবাহ বিন আবি হাকিম থেকে, তিনি আমর বিন জাবির আল-লাখমী থেকে, তিনি আবু উমাইয়াহ আশ-শাইবানি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আবু ছালাবাহ আল-খুশানির সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং তাকে আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম: {হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের চিন্তা করো। তোমরা যখন সৎপথে পরিচালিত হও, তখন যে পথভ্রষ্ট হয়েছে সে তোমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না} [আল-মায়িদাহ: ১০৫]। তখন তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, তুমি এ সম্পর্কে একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তিকেই জিজ্ঞেস করেছো। আমি এ বিষয়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তখন তিনি বলেছিলেন: "বরং তোমরা সৎ কাজের আদেশ দাও এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করো। কিন্তু যখন দেখবে যে কৃপণতাকে মান্য করা হচ্ছে, প্রবৃত্তির অনুসরণ করা হচ্ছে, পার্থিব জীবনকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে এবং প্রত্যেক বুদ্ধিমান ব্যক্তি তার নিজ মতামতে মুগ্ধ হচ্ছে, তখন তুমি কেবল নিজের চিন্তা করো এবং সাধারণ মানুষের বিষয়াদি ত্যাগ করো। কারণ তোমাদের পেছনে এমন দিন আসছে, যখন ধৈর্য ধারণ করা হবে জ্বলন্ত অঙ্গার আঁকড়ে ধরার মতো। সেই দিনগুলোতে আমলকারীর জন্য তোমাদের মতো আমলকারী পঞ্চাশ জন ব্যক্তির সমপরিমাণ সওয়াব রয়েছে।" বর্ণনাকারী বলেন: অন্য সূত্রে অতিরিক্ত বর্ণিত হয়েছে যে, তাকে জিজ্ঞেস করা হলো: তাদের মধ্যকার পঞ্চাশ জন? তিনি বললেন: "বরং তোমাদের মধ্যকার পঞ্চাশ জন।"
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ লিল-মারওয়াযি (পৃষ্ঠা: ١٤)
32 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِدْرِيسَ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ التِّنِّيسِيُّ، ثنا خَالِدُ بْنُ يَزِيدَ بْنِ صُبَيْحٍ الْمُرِّيُّ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَبِي عَبْلَةَ، عَنْ عُتْبَةَ بْنِ غَزْوَانَ، أَخِي بَنِي مَازِنِ بْنِ صَعْصَعَةَ وَكَانَ مِنَ الصَّحَابَةِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِنَّ مِنْ وَرَائِكُمْ أَيَّامَ الصَّبْرِ لِلْمُتَمَسِّكِ فِيهِنَّ يَوْمَئِذٍ بِمَا أَنْتُمْ عَلَيْهِ أَجْرُ خَمْسِينَ مِنْكُمْ» ، قَالُوا: يَا نَبِيَّ اللَّهِ أَوَ مِنْهُمْ؟ قَالَ: «بَلْ مِنْكُمْ» ، وَمَدَحَ اللَّهُ عز وجل الَّذِينَ قَبِلَوَا عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا أَدَّى إِلَيْهِمْ عَنِ اللَّهِ وَأَثْنَى عَلَيْهِمْ وَهُمُ الْمُهَاجِرُونَ، وَالْأَنْصَارُ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَضَرَبَ بِهِمُ الْمَثَلَ فِي التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ فَقَالَ: {مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَاءُ بَيْنَهُمْ} [الفتح: 29] الْآيَةَ ⦗ص: 15⦘، وَقَالَ: {لَقَدْ رَضِيَ اللَّهُ عَنِ الْمُؤْمِنِينَ إِذْ يُبَايِعُونَكَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ} [الفتح: 18] الْآيَةَ،

 

33 - فَهُمْ حُجَّةُ اللَّهِ عَلَى خَلْقِهِ بَعْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُؤَدُّونَ عَنِ الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم مَا أَدَّى إِلَيْهِمْ؛ لِأَنَّهُ بِذَلِكَ أَمَرَهُمْ، فَقَالَ: لِيُبْلِغِ الشَّاهِدُ مِنْكُمُ الْغَائِبَ، فَمَضَوْا عَلَى مِنْهَاجِ نَبِيِّهِمْ مُتَّبِعِينَ حُكْمَ الْقُرْآنِ وَسُنَّةَ الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم،

 

34 - وَمَدَحَهُمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: خَيْرُ النَّاسِ قَرْنِي، وَأَمَرَ بِاتِّبَاعِ سُنَّتِهِ وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيِّينَ بَعْدَهُ، وَحَذَّرَ أُمَّتَهُ الْمُحْدَثَاتِ الَّتِي أُحْدِثَتْ بَعْدَهُمْ، وَأَخْبَرَ أَنَّهَا بِدْعَةٌ، وَذَمَّ اللَّهُ مَنْ أَحْدَثَ مِنَ الْأُمَمِ الْمَاضِيَةِ فِي دِينِ اللَّهِ مَا لَمْ يَأْذَنْ بِهِ اللَّهُ، فَحَذَّرَنَا أَنْ نَكُونَ مِثْلَهُمْ، وَأَخْبَرَ أَنَّهُ قَدْ نَهَاهُمْ أَنْ يَقُولُوا عَلَى اللَّهِ إِلَّا الْحَقَّ، وَنَهَانَا عَنْ مِثْلِ مَا نَهَاهُمْ عَنْهُ فَقَالَ: {شَرَعُوا لَهُمْ مِنَ الدِّينِ مَا لَمْ يَأْذَنْ بِهِ اللَّهُ} [الشورى: 21] فَشَرَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الشَّرَائِعَ وَسَنَّ السُّنَنَ بِإِذْنِ رَبِّهِ وَوَحْيِهِ لَا مِنْ تِلْقَاءِ نَفْسِهِ، وَشَهِدَ اللَّهُ لَهُ بِذَلِكَ فَقَالَ: {مَا ضَلَّ صَاحِبُكُمْ وَمَا غَوَى وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى} [النجم: 3] وَقَالَ: {يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لَا تَغْلُوا فِي دِينِكُمْ وَلَا تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ إِلَّا الْحَقَّ} [النساء: 171] ، وَقَالَ {أَلَمْ يُؤْخَذْ عَلَيْهِمْ مِيثَاقُ الْكِتَابِ أَلَّا يَقُولُوا عَلَى اللَّهِ إِلَّا الْحَقَّ وَدَرَسُوا مَا فِيهِ} ⦗ص: 16⦘ فَحَذَّرَنَا أَنْ نَكُونَ مِثْلَهُمْ؛ لِأَنَّا وَرِثْنَا الْكِتَابَ كَمَا وَرِثُوهُ وَدَرَسْنَاهُ كَمَا دَرَسُوهُ

 

35 - ثُمَّ أَخْبَرَنَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِنَّا سَنَسْتَنُّ بِسُنَّتِهِمْ وَنَتَّبِعُ آثَارَهُمْ، وَيَبْتَدِعُ بَعْضُنَا كَمَا ابْتَدَعُوا، فَقَالَ صلى الله عليه وسلم: لَتَرْكَبُنَّ سَنَنَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ

 

36 - وَقَالَ: أَخْوَفُ مَا أَخَافُ عَلَى أُمَّتِي النُّجُومُ وَالتَّكْذِيبُ بِالْقَدَرِ وَأَئِمَّةٌ مُضِلُّونَ، وَبَرَّأَ اللَّهُ تَعَالَى نَبِيَّهُ صلى الله عليه وسلم مِنْ {الَّذِينَ فَرَّقُوا دِينَهُمْ وَكَانُوا شِيَعًا لَسْتَ مِنْهُمْ فِي شَيْءٍ} [الأنعام: 159] وَأَمَرَ بِاتِّبَاعِ سَبِيلِهِ فِي كِتَابِهَ وَسُنَّةِ نَبِيِّهِ، بِذَلِكَ جَاءَتِ الْأَخْبَارُ الْمُتَوَاتِرَةُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَدْ ذَكَرْنَا بَعْضَهَا وَسَنَذْكُرُ بَعْضَ مَا يَحْضُرُنَا إِنْ شَاءَ اللَّهُ
৩২ - মুহাম্মাদ ইবনে ইদ্রিস আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ আত-তিন্নিসি থেকে, তিনি খালিদ ইবনে ইয়াযীদ ইবনে সুবাইহ আল-মুররি থেকে, তিনি ইব্রাহিম ইবনে আবি আবলাহ থেকে, তিনি বনু মাযিন ইবনে সা’সা’আ গোত্রের ভাই উতবাহ ইবনে গাযওয়ান (রা.) থেকে বর্ণনা করেন—যিনি একজন সাহাবী ছিলেন—যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই তোমাদের পশ্চাতে ধৈর্যের দিনগুলো আসছে। সেদিন তোমাদের বর্তমান আদর্শের ওপর যারা অটল থাকবে, তাদের জন্য তোমাদের মধ্যকার পঞ্চাশ জনের সমান সওয়াব রয়েছে।’ তাঁরা জিজ্ঞাসা করলেন: ‘হে আল্লাহর নবী, তাদের মধ্যকার পঞ্চাশ জনের?’ তিনি বললেন: ‘বরং তোমাদের মধ্যকার পঞ্চাশ জনের।’ আর আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা ঐ সকল ব্যক্তিদের প্রশংসা করেছেন যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে তা গ্রহণ করেছেন যা তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন এবং তিনি তাঁদের স্তুতি গেয়েছেন। তাঁরা হলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মধ্যকার মুহাজির ও আনসারগণ। তিনি তাওরাত ও ইঞ্জিলে তাঁদের উদাহরণ পেশ করে বলেছেন: {মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর সাথে যারা আছে তারা কাফিরদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে অত্যন্ত দয়ালু...} [সূরা আল-ফাতহ: ২৯] আয়াতের শেষ পর্যন্ত ⦗পৃষ্ঠা: ১৫⦘, এবং তিনি বলেছেন: {আল্লাহ মুমিনদের ওপর সন্তুষ্ট হলেন যখন তারা গাছের নিচে আপনার কাছে বায়আত গ্রহণ করছিল...} [সূরা আল-ফাতহ: ১৮] আয়াতের শেষ পর্যন্ত।

 

৩৩ - সুতরাং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর তাঁরাই সৃষ্টির ওপর আল্লাহর হুজ্জাত বা প্রমাণ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের কাছে যা পৌঁছে দিয়েছেন, তাঁরা তা পৌঁছে দেন; কারণ তিনি তাঁদেরকে এরই নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন: ‘তোমাদের মধ্যে যারা উপস্থিত আছে, তারা যেন অনুপস্থিতদের কাছে পৌঁছে দেয়।’ সুতরাং তাঁরা তাঁদের নবীর মানহাজ বা পদ্ধতির ওপর এবং কুরআনের হুকুম ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর অনুসারী হয়ে অতিবাহিত হয়েছেন।

 

৩৪ - আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের প্রশংসা করে বলেছেন: ‘মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম হলো আমার যুগ।’ এবং তিনি তাঁর সুন্নাহ ও তাঁর পরবর্তী হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাহ অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন। আর তিনি তাঁর উম্মতকে তাঁদের পরবর্তী নব উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ (বিদআত) সম্পর্কে সতর্ক করেছেন এবং জানিয়েছেন যে তা ভ্রষ্টতা। আল্লাহ পূর্ববর্তী জাতিসমূহের মধ্য থেকে যারা আল্লাহর দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু উদ্ভাবন করেছিল যার অনুমতি আল্লাহ দেননি, তাদের নিন্দা করেছেন। তাই তিনি আমাদের সতর্ক করেছেন যেন আমরা তাদের মতো না হই। তিনি জানিয়েছেন যে, তিনি তাদেরকে আল্লাহর ব্যাপারে সত্য ব্যতিরেকে কিছু বলতে নিষেধ করেছেন। আর তিনি আমাদেরকেও তা থেকে নিষেধ করেছেন যা থেকে তাদেরকে নিষেধ করেছিলেন। তিনি বলেছেন: {তারা কি তাদের জন্য এমন দ্বীন প্রবর্তন করেছে যার অনুমতি আল্লাহ দেননি?} [সূরা আশ-শুরা: ২১]। সুতরাং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রবের অনুমতি ও ওহীর মাধ্যমে শরীয়ত প্রবর্তন করেছেন এবং সুন্নাহ নির্ধারণ করেছেন, নিজের পক্ষ থেকে নয়। আল্লাহ তাঁর পক্ষে এর সাক্ষ্য দিয়ে বলেছেন: {তোমাদের সাথী পথভ্রষ্ট হননি এবং বিপথগামীও হননি। আর তিনি নিজের প্রবৃত্তি থেকে কথা বলেন না। এটি তো কেবল ওহী যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয়।} [সূরা আন-নাজম: ৩]। আল্লাহ আরও বলেছেন: {হে আহলে কিতাবগণ, তোমরা তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না এবং আল্লাহর ব্যাপারে সত্য ছাড়া কিছু বলো না।} [সূরা আন-নিসা: ১৭১]। আল্লাহ আরও বলেছেন: {তাদের থেকে কি কিতাবের এই অঙ্গীকার নেওয়া হয়নি যে, তারা আল্লাহর ব্যাপারে সত্য ছাড়া কিছু বলবে না? অথচ তারা কিতাবে যা আছে তা পাঠ করেছে।} ⦗পৃষ্ঠা: ১৬⦘ তিনি আমাদের তাদের মতো হতে সতর্ক করেছেন; কারণ আমরা কিতাবের উত্তরাধিকারী হয়েছি যেমন তারা হয়েছিল এবং আমরা তা পাঠ করেছি যেমন তারা করেছিল।

 

৩৫ - অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের জানিয়েছেন যে, আমরা অবশ্যই তাদের রীতিনীতি গ্রহণ করব এবং তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করব। আমাদের কেউ কেউ বিদআত উদ্ভাবন করবে যেমন তারা করেছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‘তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি অনুসরণ করবে।’

 

৩৬ - তিনি আরও বলেছেন: ‘আমি আমার উম্মতের ওপর যে বিষয়ে সবচেয়ে বেশি আশঙ্কা করি তা হলো—নক্ষত্ররাজির প্রভাব (জ্যোতিষশাস্ত্র), তাকদীরকে অস্বীকার করা এবং বিভ্রান্তকারী নেতা।’ আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাদের থেকে মুক্ত ঘোষণা করেছেন {যারা তাদের দ্বীনকে খণ্ড-বিখণ্ড করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে, তাদের সাথে আপনার কোনো সম্পর্ক নেই।} [সূরা আল-আনআম: ১৫৯]। আল্লাহ তাঁর কিতাব ও নবীর সুন্নাহর পথ অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন। এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মুতাওয়াতির বর্ণনা এসেছে। আমরা তার কিছু অংশ উল্লেখ করেছি এবং ইনশাআল্লাহ আমাদের স্মরণে আসা আরও কিছু অংশ সামনে উল্লেখ করব।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ লিল-মারওয়াযি (পৃষ্ঠা: ١٦)
37 - حَدَّثَنَا أَبُو قُدَامَةَ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، ثنا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سِنَانِ بْنِ أَبِي سِنَانٍ، عَنْ أَبِي وَاقِدٍ اللَّيْثِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ أَتَى حُنَيْنًا مَرَّ بِشَجْرَةٍ يُعَلِّقُ الْمُشْرِكُونَ عَلَيْهَا أَمْتِعَتَهُمْ وَأَسْلِحَتَهُمْ، يُقَالُ لَهَا ذَاتُ أَنْوَاطٍ، فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ اجْعَلْ لَنَا ذَاتَ أَنْوَاطٍ كَمَا لَهُمْ ذَاتُ أَنْوَاطٍ، قَالَ: " اللَّهُ أَكْبَرُ، هَذَا كَمَا قَالَ قَوْمُ مُوسَى لِمُوسَى: {اجْعَلْ لَنَا إِلَهًا كَمَا لَهُمْ آلِهَةٌ} [الأعراف: 138] لَتَرْكَبُنَّ سَنَنَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ "
৩৭ - আমাদের নিকট আবু কুদামা উবায়দুল্লাহ ইবনে সাঈদ বর্ণনা করেছেন, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি যুহরি থেকে, তিনি সিনান ইবনে আবি সিনান থেকে এবং তিনি আবু ওয়াকিদ আল-লাইসি থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন হুনাইনে আসলেন, তখন তিনি এমন একটি গাছের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন যেটিতে মুশরিকরা তাদের আসবাবপত্র ও অস্ত্রশস্ত্র ঝুলিয়ে রাখত। গাছটিকে 'জাতু আনওয়াত' বলা হতো। তখন তারা বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের জন্য একটি 'জাতু আনওয়াত' নির্ধারণ করে দিন, যেমন তাদের একটি 'জাতু আনওয়াত' রয়েছে। তিনি বললেন: "আল্লাহু আকবার! এটি ঠিক তেমনই যেমন মূসার সম্প্রদায় মূসাকে বলেছিল: {আমাদের জন্য একজন ইলাহ নির্ধারণ করে দিন যেমন তাদের অনেক ইলাহ রয়েছে} [আল-আরাফ: ১৩৮]। অবশ্যই তোমরা তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি অনুসরণ করবে।"
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ লিল-মারওয়াযি (পৃষ্ঠা: ١٦)
38 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَنْبَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَنْبَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سِنَانِ بْنِ أَبِي سِنَانٍ الدَّيْلِيِّ، عَنْ أَبِي وَاقِدٍ اللَّيْثِيِّ، قَالَ: خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قِبَلَ حُنَيْنٍ فَمَرَرْنَا بِسِدْرَةٍ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ اجْعَلْ لَنَا هَذِهِ ذَاتَ أَنْوَاطٍ كَمَا لِلْكُفَّارِ ذَاتُ أَنْوَاطٍ، وَكَانَ لِلْكُفَّارِ سِدْرَةٌ يَنُوطُونَ سِلَاحَهُمْ بِهَا فَيَعْكِفُونَ حَوْلَهَا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " قُلْتُمُوهَا كَمَا قَالُوا ⦗ص: 17⦘ {اجْعَلْ لَنَا إِلَهًا كَمَا لَهُمْ آلِهَةٌ قَالَ إِنَّكُمْ قَوْمٌ تَجْهَلُونَ} [الأعراف: 138] إِنَّكُمْ تَرْكَبُونَ سَنَنَ الَّذِينَ قَبْلَكُمْ "
৩৮ - ইসহাক ইবন ইবরাহীম আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবদুর রাজ্জাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মা'মার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, যুহরী থেকে, তিনি সিনান ইবন আবু সিনান আদ-দাইলী থেকে, তিনি আবু ওয়াকিদ আল-লায়সী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে হুনাইনের দিকে বের হলাম। অতঃপর আমরা একটি কুল (বরই) গাছের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম। তখন আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের জন্য একে 'জাতু আনওয়াত' (অস্ত্র লটকানোর গাছ) বানিয়ে দিন যেমন কাফেরদের জন্য 'জাতু আনওয়াত' রয়েছে। কাফেরদের একটি কুল গাছ ছিল যেখানে তারা তাদের অস্ত্রসমূহ লটকাত এবং তার চারপাশে অবস্থান করত। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "তোমরা ঠিক তেমনটিই বললে যেমন তারা বলেছিল ⦗পৃষ্ঠা: ১৭⦘ {আমাদের জন্য একজন ইলাহ বানিয়ে দিন যেমন তাদের অনেক ইলাহ রয়েছে। তিনি (মূসা) বললেন: নিশ্চয়ই তোমরা এক মূর্খ সম্প্রদায়} [আল-আরাফ: ১৩৮]। নিশ্চয়ই তোমরা তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি অনুসরণ করবে।"
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ লিল-মারওয়াযি (পৃষ্ঠা: ١٧)
39 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَسْمَاءِ بْنُ عُبَيْدٍ الضَّبْعِيُّ، عَنْ جُوَيْرِيَّةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سِنَانِ بْنِ أَبِي سِنَانٍ الدَّيْلِيِّ، حَدَّثَهُ عَنْ أَبِي وَاقِدٍ اللَّيْثِيِّ، قَالَ: خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى حُنَيْنٍ وَنَحْنُ حَدَيِثُو عَهْدٍ بِكُفْرٍ قَالَ: وَكَانَتْ لِلْكُفَّارِ سِدْرَةٌ يَعْكِفُونَ عِنْدَهَا وَيَنُوطُونَ بِهَا أَسْلِحَتَهُمْ يُقَالَ لَهَا ذَاتُ أَنْوَاطٍ، قَالَ: فَمَرَرْنَا بِسِدْرَةٍ فَقُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ اجْعَلْ لَنَا ذَاتَ أَنْوَاطٍ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " إِنَّهَا السُّنَنُ اللَّهُ أَكْبَرُ، قُلْتُمْ: وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ كَمَا قَالَ بَنُو إِسْرَائِيلَ لِمُوسَى: {اجْعَلْ لَنَا إِلَهًا كَمَا لَهُمْ آلِهَةٌ، قَالَ إِنَّكُمْ قَوْمٌ تَجْهَلُونَ} [الأعراف: 138] لَتَرْكَبُنَّ سَنَنَ مَنْ قَبْلَكُمْ "
৩৯ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহইয়া, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আসমা ইবন উবাইদ আদ-দাবয়ী, জুওয়াইরিয়াহ থেকে, তিনি মালিক থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি সিনান ইবন আবি সিনান আদ-দাইলি থেকে, তিনি আবু ওয়াকিদ আল-লায়সী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে হুনাইনের উদ্দেশ্যে বের হলাম, তখন আমরা কুফরি ছেড়ে নতুন (ইসলামে) এসেছি। তিনি বলেন: কাফেরদের একটি কুল গাছ (সিদরাহ) ছিল যার নিকট তারা অবস্থান করত এবং সেখানে তাদের অস্ত্রশস্ত্র ঝুলিয়ে রাখত, যেটিকে ‘জাতু আনওয়াত’ বলা হতো। তিনি বলেন: আমরা একটি কুল গাছের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের জন্য একটি ‘জাতু আনওয়াত’ নির্ধারণ করে দিন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "নিশ্চয়ই এগুলি হচ্ছে পূর্ববর্তীদের রীতি। আল্লাহু আকবার! তোমরা সেই সত্তার কসম করে বলছি যার হাতে আমার প্রাণ, তোমরা ঠিক তেমনই বলেছ যেমন বনী ইসরাঈল মূসাকে বলেছিল: {আমাদের জন্য একজন ইলাহ বানিয়ে দিন যেমন তাদের অনেক ইলাহ রয়েছে। তিনি বললেন, নিশ্চয়ই তোমরা এক মূর্খ জাতি} [আল-আ'রাফ: ১৩৮]। তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি অনুসরণ করবে।"
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ লিল-মারওয়াযি (পৃষ্ঠা: ١٧)
40 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، ثنا أَبُو صَالِحٍ، حَدَّثَنِي اللَّيْثُ، حَدَّثَنِي عُقَيْلٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي ابْنُ أَبِي سِنَانٍ الدَّيْلِيِّ، عَنْ أَبِي وَاقِدٍ اللَّيْثِيِّ، أَنَّهُمْ خَرَجُوا مِنْ مَكَّةَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى حُنَيْنٍ، وَكَانَ لِلْكُفَّارِ سِدْرَةٌ يَعْكِفُونَ عِنْدَهَا وَيُعَلِّقُونَ بِهَا أَسْلِحَتَهُمْ يُقَالُ لَهَا ذَاتُ أَنْوَاطٍ، قَالَ: فَمَرَرْنَا بِسِدْرَةٍ خَضْرَاءَ عَظِيمَةٍ، قَالَ: قُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ اجْعَلْ لَنَا ذَاتَ أَنْوَاطٍ كَمَا لَهُمْ ذَاتُ أَنْوَاطٍ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " قُلْتُمْ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ كَمَا قَالَ قَوْمُ مُوسَى: {اجْعَلْ لَنَا إِلَهًا كَمَا لَهُمْ آلِهَةٌ، قَالَ إِنَّكُمْ قَوْمٌ تَجْهَلُونَ} [الأعراف: 138] إِنَّهَا السُّنَنُ لَتَرْكَبُنَّ سَنَنَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ "
৪০ - মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু সালিহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, লায়স আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, উকাইল আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, ইবনু শিহাব থেকে বর্ণিত, ইবনু আবি সিনান আদ-দাইলি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আবু ওয়াকিদ আল-লাইসি থেকে বর্ণিত যে, তারা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে মক্কা থেকে হুনাইনের দিকে বের হলেন। কাফিরদের একটি কুল গাছ ছিল যার কাছে তারা অবস্থান করত এবং তাতে তাদের অস্ত্রসমূহ ঝুলিয়ে রাখত; একে 'জাতু আনওয়াত' বলা হতো। তিনি বলেন: এরপর আমরা একটি বিশাল সবুজ কুল গাছের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম। তিনি বলেন: তখন আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের জন্যও একটি 'জাতু আনওয়াত' নির্ধারণ করে দিন যেমন তাদের একটি 'জাতু আনওয়াত' রয়েছে। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তোমরা সেই সত্তার শপথ করে বলছি যার হাতে আমার প্রাণ, তোমরা ঠিক তেমনই বললে যেমন মুসার কওম বলেছিল: {আমাদের জন্য একজন ইলাহ বানিয়ে দিন যেমন তাদের অনেক ইলাহ রয়েছে। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই তোমরা এক মূর্খ জাতি} [আল-আরাফ: ১৩৮]। নিশ্চয়ই এগুলো হলো রীতিনীতি; তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি বা পথের অনুসরণ করবে।"
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ লিল-মারওয়াযি (পৃষ্ঠা: ١٧)
41 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، ثنا ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ، أَنْبَا أَبُو غَسَّانَ، حَدَّثَنِي زَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَتَتَّبِعُنَّ سَنَنَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ شِبْرًا بِشِبْرٍ، وَذِرَاعًا بِذِرَاعٍ حَتَّى لَوْ سَلَكُوا جُحْرَ ضَبٍّ لَسَلَكْتُمُوهُ» ، قُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى؟ قَالَ: «فَمَنْ»
৪১ - মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইবনে আবু মারইয়াম আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবু গাসসান আমাদের অবহিত করেছেন, যায়েদ ইবনে আসলাম আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আতা ইবনে ইয়াসার থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি বিঘতে বিঘতে এবং হাতে হাতে অনুসরণ করবে, এমনকি তারা যদি গুঁই সাপের গর্তে প্রবেশ করে থাকে, তবে তোমরাও তাতে প্রবেশ করবে», আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! তারা কি ইহুদি ও নাসারা? তিনি বললেন: «তবে আর কে?»
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ লিল-মারওয়াযি (পৃষ্ঠা: ١٧)
42 - حَدَّثَنَا أَبُو مُوسَى إِسْحَاقُ بْنُ مُوسَى الْأَنْصَارِيُّ، ثنا مَعْنُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنِي كَثِيرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ: بَيْنَمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي مَسْجِدِهِ وَحَوْلَهُ أَصْحَابُهُ، فَجَاءَ ⦗ص: 18⦘ جِبْرِيلُ بِالْوَحْيِ فَتَغَشَّى رِدَاءَهُ فَمَكَثَ طَوِيلًا حَتَّى سُرِّيَ عَنْهُ، ثُمَّ كَشَفَ رِدَاءَهُ، فَإِذَا هُوَ يَعْرَقُ عَرَقًا شَدِيدًا، وَإِذَا هُوَ قَابِضٌ عَلَى شَيْءٍ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «هَلْ تَعْرِفُونَ كُلَّ مَا يَخْرُجُ مِنَ النَّخْلِ؟» ، فَقَالَ الْأَنْصَارُ: نَحْنُ نَعْرِفُ يَا رَسُولَ اللَّهِ كُلَّ مَا يَخْرُجُ مِنَ النَّخْلِ، فَقَالَ: «مَا هَذَا؟» وَفَتَحَ يَدَهُ، فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ نَوَى، فَقَالَ: «نَوَى أَيِّ شَيْءٍ؟» فَقَالُوا: نَوَى سَنَةٍ، فَقَالَ: " صَدَقْتُمْ جَاءَكُمْ جِبْرِيلُ يَتَعَاهَدُ دِينَكُمْ، لَتَسْلُكُنَّ سَنَنَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ حَذْوَ النَّعْلِ بِالنَّعْلِ وَلَتَأْخُذُنَّ مِثْلَ أَخْذِهِمْ، إِنْ شِبْرٌ بِشِبْرٍ وَإِنْ ذِرَاعٌ فَذِرَاعٌ، وَإِنْ بَاعٌ فَبَاعٌ حَتَّى لَوْ دَخَلُوا جُحْرَ ضَبٍّ لَدَخَلْتُمْ فِيهِ
৪২ - আবু মুসা ইসহাক ইবনে মুসা আল-আনসারী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মা’ন ইবনে ঈসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, কাসীর ইবনে আব্দুল্লাহ আমার নিকট তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: একদা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর মসজিদে অবস্থান করছিলেন এবং তাঁর চারপাশে তাঁর সাহাবীগণ ছিলেন। এমতাবস্থায় ⦗পৃষ্ঠা: ১৮⦘ জিবরাঈল ওহী নিয়ে আগমন করলেন, তখন তিনি নিজের চাদর মুড়ি দিয়ে দিলেন এবং দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করলেন যতক্ষণ না তাঁর থেকে ওহীর সেই অবস্থা অপসারিত হলো। অতঃপর তিনি তাঁর চাদর সরালেন, এমতাবস্থায় দেখা গেল তিনি প্রচণ্ড ঘামছেন এবং তিনি কোনো একটি বস্তু মুষ্টিবদ্ধ করে আছেন। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «খেজুর গাছ থেকে যা কিছু উৎপন্ন হয় তোমরা কি তার সব সম্পর্কে জানো?» আনসারগণ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, খেজুর গাছ থেকে যা কিছু বের হয় আমরা তার সবই চিনি। তিনি বললেন: «এটি কী?» এবং তিনি তাঁর হাত খুললেন। তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, এটি একটি বীজ। তিনি বললেন: «এটি কিসের বীজ?» তারা বললেন: এটি বছরের (সংগৃহীত) বীজ। তিনি বললেন: "তোমরা সত্য বলেছ। জিবরাঈল তোমাদের নিকট তোমাদের দ্বীনের তদারকি করতে এসেছিলেন। তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি হুবহু অনুসরণ করবে, যেমন এক জোড়া জুতো একে অপরের সমান হয়। আর তোমরা তাদের গ্রহণের মতোই বিষয়গুলো গ্রহণ করবে; যদি তা এক বিঘত হয় তবে এক বিঘত, যদি এক হাত হয় তবে এক হাত, আর যদি এক বাহু হয় তবে এক বাহু। এমনকি তারা যদি কোনো গুঁইসাপের গর্তে প্রবেশ করে থাকে, তবে তোমরাও অবশ্যই তাতে প্রবেশ করবে।"