(খণ্ড: ১)
আল-মুহাম্মাদূনা মিনাশ শুয়ারা
(পৃষ্ঠা: -)
المحمدون من الشعراء القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: المحمدون من الشعراء وأشعارهم
المؤلف: جمال الدين أبو الحسن علي بن يوسف القفطي (ت 646هـ)
حققه وقدم له ووضع فهارسه: حسن معمري
راجعه وعارضه بنسخه المؤلف: حمد الجاسر
الناشر: دار اليمامة
عام النشر: 1390 هـ - 1970 م
عدد الصفحات: 367
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 صفر 1433
কবিদের মধ্য থেকে মুহাম্মদগণ বিভাগ: জীবনী ও শ্রেণীবিভাগ
বই: কবিদের মধ্য থেকে মুহাম্মদগণ এবং তাদের কবিতা
লেখক: জামালুদ্দিন আবুল হাসান আলী বিন ইউসুফ আল-কিফতি (মৃ. ৬৪৬ হি.)
সম্পাদনা, ভূমিকা ও নির্ঘণ্ট প্রণয়ন: হাসান মা'মারি
পর্যালোচনা ও লেখকের পাণ্ডুলিপির সাথে তুলনা: হামাদ আল-জাসির
প্রকাশক: দারুল ইয়ামামাহ
প্রকাশকাল: ১৩৯০ হি. - ১৯৭০ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৬৭
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ সফর ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
আল-মুহাম্মাদূনা মিনাশ শুয়ারা
(পৃষ্ঠা: ١٩)
بسم الله الرحمن الرحيم
رَبِّ يَسِّرْ وتَمِّمْ، يا كريم
حرف الألف
1 - محمد بن أحمد الرَّقيمن ولد عبيد الله ابن قيس الرُّقيات، شاعر من شعراء ديار مضر، ومات بعد الثمانين والمائتين، وكان قطعت عليه الأعراب الطريق بحرّان ونواحيها، فدخل على أبي الأغرّ بالرَّبَذَة وقال: كامل
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
হে আমার প্রতিপালক! সহজ করে দিন এবং সুসম্পন্ন করুন, হে মহানুভব।
আলিফ বর্ণ (অধ্যায়)
১ - মুহাম্মদ বিন আহমদ আর-রাক্কিতিনি উবাইদুল্লাহ ইবনে কাইস আর-রুকাইয়াতের বংশধরদের একজন, মুদার অঞ্চলের কবিদের মধ্য থেকে একজন কবি। তিনি দুইশত আশি হিজরির পর মৃত্যুবরণ করেন। হাররান ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় বেদুঈনরা তাঁর পথরোধ করেছিল, অতঃপর তিনি রাবাযা নামক স্থানে আবু আল-আগাররের নিকট উপস্থিত হলেন এবং বললেন: (কামিল ছন্দ)
(খণ্ড: ১)
আল-মুহাম্মাদূনা মিনাশ শুয়ারা
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
أنا شاكرٌ، أنا ذاكرٌ، أنا حامدٌ
… أنا جائعٌ، أنا راجلٌ، أنا عارِي
هي ستّةٌ وأنا الضمين لنصفها
… فكُن الضمين لِنصفها بعيارِ
إحْمِلْ وأطعِمْ واكْسُ، ثم لك الوفا
… عند اختيار محاسن الأخيار
فالعارُ في مدحي لغيرك فاكفني
… بالجود منك تعرُّضي للعارِ
وله أيضاً: طويل
أبا الفضل دعْنا من مناقب هاشم
… وما شاده في السالف المتقادمِ
أرى ألف بانٍ لا يقومُ لهادِم
… فكيف ببان خلف ألفُ هادمِ؟
2 - محمد بن أحمد بن سليمان العمراويأبو عمرو الراوية، وهو القائل لعبيد الله بن يحيى بن خاقان،
আমি কৃতজ্ঞ, আমি স্মরণকারী, আমি প্রশংসাকারী
… আমি ক্ষুধার্ত, আমি পদচারী, আমি নগ্ন
এগুলো ছয়টি বিষয় এবং আমি এর অর্ধেকের জামিন
… সুতরাং আপনি যথাযথভাবে বাকি অর্ধেকের জামিন হোন
বহন করুন, আহার করান এবং বস্ত্র দিন, অতঃপর আপনার জন্য এর পূর্ণ প্রতিদান রয়েছে
… যখন সজ্জনদের গুণাবলী নির্বাচন করা হবে
আপনার পরিবর্তে অন্য কারো প্রশংসা করা আমার জন্য লজ্জার, তাই আমাকে রক্ষা করুন
… আপনার পক্ষ থেকে বদান্যতা প্রদর্শনের মাধ্যমে আমাকে এই লজ্জার সম্মুখীন হওয়া থেকে
এবং তাঁর আরও একটি কবিতা: তবিল ছন্দ
হে আবুল ফজল, হাশিম বংশের শ্রেষ্ঠত্ব গাঁথা বর্জন করুন
… এবং প্রাচীন অতীতে তিনি যা নির্মাণ করেছিলেন তাও
আমি দেখি হাজারো নির্মাতা একজন ধ্বংসকারীর মোকাবিলা করতে পারে না
… তাহলে এক হাজার ধ্বংসকারীর পেছনে থাকা একজন নির্মাতার কী অবস্থা হবে?
২ - মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন সুলাইমান আল-আমরাউয়ীআবু আমর আর-রাবিয়াহ, তিনি উবায়দুল্লাহ বিন ইয়াহইয়া বিন খাকানকে বলেছিলেন,
(খণ্ড: ১)
আল-মুহাম্মাদূনা মিনাশ শুয়ারা
(পৃষ্ঠা: ٢١)
رواهما له محمد بن داود بن الجرّاح، وغيره يرويهما، للزبير بن بكّار وهي: كامل
ما أنت بالسبب الضعيف وإنما
… نُجح الأمور بقوّة الأسبابِ
فاليوم حاجتُنا إليك، وإنما
… يُدعى الطبيبُ لساعة الأوصابِ
3 - محمد بن أحمد المعروف بابن الحاجبأديب، شاعر، وكان صديقاً لابن الروميّ وخِدْناً له، واتفّق أن دعا ابن الرومي وأصدقاءه في يوم وعدهم إياه وعينه، فحضر ابن الرومي والجماعة في ذلك اليوم، فلم يجدوا ابن الحاجب في منزله، فرجعوا، وقال ابن الرومي قصيدة يعاتبه فيها، أوّلها: سريع
نجّاك يا ابنَ الحاجب الحاجبُ
… وليس ينجو منّي الهاربُ
فلما مات ابن الرومي، أظهر ابن الحاجب قصيدة ذكر أنه أجاب بها ابن الرومي، أوّلها: سريع
يا صاحباً أعضلَ في كيْده
… لَسْتَ خبيراً أيها الصاحبُ
فهمتُ أبياتك تلك التي
… أَثقب فيها كيدُك الثاقبُ
بيت وبيت عقرب تُتَّقى
… وأَرْيُ نَحلٍ في اللُّها ذائبُ
جرحتني فيها وداويتني
… فأنت أنت الصادع الشاعبُ
মুহাম্মদ ইবনে দাউদ ইবনুল জাররাহ এই দুটি বর্ণনা করেছেন এবং অন্যরা এটি জুবায়ের ইবনে বাক্কারের উদ্ধৃতিতে বর্ণনা করেন। এটি কামিল ছন্দ:
আপনি কোনো দুর্বল মাধ্যম নন, বরং কাজের সাফল্য আসে শক্তিশালী মাধ্যমের মাধ্যমেই।
আজ আমাদের আপনার প্রয়োজন, আর চিকিৎসককে তো ব্যথার মুহূর্তেই ডাকা হয়।
৩ - মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ, যিনি ইবনুল হাজিব নামে পরিচিততিনি ছিলেন একজন সাহিত্যিক ও কবি। তিনি ইবনুর রূমীর বন্ধু ও ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন। একবার এমন ঘটলো যে, তিনি ইবনুর রূমী ও তাঁর বন্ধুদের একটি নির্দিষ্ট দিনে দাওয়াত দিলেন। সেদিন ইবনুর রূমী ও তাঁর দল আসলেন, কিন্তু ইবনুল হাজিবকে বাড়িতে পেলেন না। ফলে তারা ফিরে গেলেন এবং ইবনুর রূমী তাঁকে ভর্ৎসনা করে একটি কাসিদা লিখলেন, যার শুরুটা ছিল সারী' ছন্দে:
হে ইবনুল হাজিব! দরোয়ান আপনাকে বাঁচিয়ে দিয়েছে, তবে পলায়নকারী আমার হাত থেকে রেহাই পায় না।
যখন ইবনুর রূমী মারা গেলেন, তখন ইবনুল হাজিব একটি কাসিদা প্রকাশ করলেন এবং বললেন যে এটি তিনি ইবনুর রূমীর উত্তরের জন্য লিখেছিলেন। এর শুরুটা হলো সারী' ছন্দে:
হে বন্ধু! যে তার কৌশলে কঠোর হয়েছে; হে বন্ধু, আপনি সম্যক অবগত নন।
আমি আপনার সেই কবিতাগুলো বুঝেছি, যাতে আপনার তীক্ষ্ণ কৌশল বিদ্ধ হয়েছে।
এর প্রতিটি পঙক্তি যেন এক একটি বিচ্ছু যা থেকে আত্মরক্ষা করতে হয়, আবার তা তালুতে গলে যাওয়া মৌমাছির মধুর মতো।
এতে আপনি আমাকে আহত করেছেন আবার আরোগ্যও দান করেছেন; সুতরাং আপনিই সেই ব্যক্তি যিনি ফাটল ধরান আবার তা মেরামতও করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুহাম্মাদূনা মিনাশ শুয়ারা
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
4 - محمد بن أحمد، أبو عبد الله اليَشْكُريّقال يمدح عبد الله بن محمد بن نوح، صاحب خراسان لما أوقع بالديلم: كامل
قَرَّتْ بِفَتْحِكَ أَعْيُنُ الأمصار
… فنسيمُه كالمسكِ في الأقطارِ
وتأزّر الإسلامُ منه شُقَّةً
… شقَّت شِقاقَ الكُفر في الكُفَّارِ
لما نزلتَ على الدَّيَالمِ أيْقَنَتْ
… أعمارُها بتقاصر الأعمارِ
وتجرّعوا لي أكوساً من وقعةِ
… ممزوجة من لَذْعِها ببَوارِ
لمّا ألاحَ بسيفه نادى الهُدَى
… عنه بصوت النافع الضَّرارِ
ألحَقُّ أبْلَجُ، والسيوف عوارِي
… فحذارِ من أُسْد العرينِ حذارِ
ملك يجلّ عن الشبيه وإنّه
… لهو الفَرِيْد الفذُّ في الأحرارِ
5 - محمد بن أحمد الكناني العَسْقَلاني أبو نصرشاعر مذكور في وقته وقطره، وهو القائل: بسيط
تركتْني رحمةً أبكي، ويُبْكَى لي
… تُراك أَفكرتَ يومَ البين في حالِي؟
৪ - মুহাম্মদ বিন আহমদ, আবু আবদুল্লাহ আল-ইয়াশকারীখোরাসানের অধিপতি আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন নূহ-এর প্রশংসা করে তিনি বলেন, যখন তিনি দায়লামীদের পরাজিত করেছিলেন: কামিল
আপনার বিজয়ে জনপদসমূহের চক্ষু জুড়িয়েছে
… এর সুঘ্রাণ দিগ্বিদিকে কস্তুরীর মতো ছড়িয়ে পড়েছে
এর মাধ্যমে ইসলাম এক শক্তিশালী শক্তি লাভ করেছে
… যা কাফেরদের মাঝে কুফরের অনৈক্যকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিয়েছে
আপনি যখন দায়লামীদের ওপর আপতিত হলেন, তখন তারা নিশ্চিত হল
… যে তাদের পরমায়ু ফুরিয়ে এসেছে
তারা সেই যুদ্ধের পেয়ালা আকণ্ঠ পান করল
… যার দহনের সাথে ধ্বংসের মিশ্রণ ছিল
যখন তিনি স্বীয় তলোয়ার উন্মোচন করলেন, তখন হিদায়াত তার পক্ষ থেকে
… পরম উপকারকারী ও অনিষ্টকারীর আওয়াযে ঘোষণা করল
সত্য সুষ্পষ্ট, আর তলোয়ারগুলো অনাবৃত
… অতএব সাবধান হও বনের সিংহ থেকে, সাবধান!
এমন এক রাজা যিনি সদৃশ থেকে ঊর্ধ্বে, আর নিশ্চয়ই তিনি
… স্বাধীনচেতা মানুষের মধ্যে অনন্য ও অদ্বিতীয়
৫ - মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-কিনানী আল-আসকালানী আবু নাসরস্বীয় সময় ও অঞ্চলের এক প্রখ্যাত কবি, তিনি বলেছেন: বাসিত
সে করুণাবশত আমাকে কাঁদতে ছেড়ে দিয়েছে এবং আমার জন্য অন্যরাও কাঁদছে
… বিচ্ছেদের দিনে তুমি কি আমার অবস্থার কথা ভেবেছিলে?
(খণ্ড: ১)
আল-মুহাম্মাদূনা মিনাশ শুয়ারা
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
أذاب فقدُك أوصالي فلو خرجتْ
… نفسي لما علمتْ أوصالي
قد جاءَ بعدَك عُذّالي فما برحوا
… حتّى بكى لي مع الباكين عُذّالي
وله: خفيف
كلُّ شيءٍ يبلَى، وحبُّك باقي
… علم اللهُ عِلْمَ ما أنا لاقِي
كنتُ يوم الفراق جَلْداً وإلَاّ
… فلماذا بقيت يوم الفراقِ؟
ليت أنّى وقت العناق أتاني
… أجَلٌ ضمَّني بِضَمّ العناقِ
ليس موتُ العُشّاق أمراً بديعاً
… كم مَضَى هكذا من العُشّاقِ
6 - محمد بن أحمد الإفريقي أبو الحسن المُتَيَّمصاحب كتاب " أشعار الندماء "، وكتاب " الانتصار للمتنبي "، شاعر مكثر، وله ديوان شعر كبير، وكان مقيماً ببخارى، وصورته شيخٌ رثّ الهيئة، تلوح عليه سيما الحرفة، وكان يتطيب ويتنجّم
তোমার বিচ্ছেদ আমার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে গলিয়ে দিয়েছে, যদি আমার প্রাণ বেরিয়ে যেত … তবে আমার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তা টেরও পেত না।
তোমার পরে আমার নিন্দুকেরা এসেছিল এবং তারা সরেনি … যতক্ষণ না ক্রন্দনকারীদের সাথে আমার নিন্দুকেরা আমার জন্য কেঁদেছে।
তাঁর আরেকটি কবিতা (ছন্দ: খাফিফ):
সবকিছুই জীর্ণ হয়ে যায়, কিন্তু তোমার ভালোবাসা অবশিষ্ট থাকে … আল্লাহ জানেন আমি কিসের সম্মুখীন হচ্ছি।
বিচ্ছেদের দিন আমি ধৈর্যশীল ছিলাম, অন্যথায় … বিচ্ছেদের দিন আমি কেন বেঁচে থাকলাম?
হায়! যদি আলিঙ্গনের সময় আমার মৃত্যু আসত … যা আমাকে আলিঙ্গনের মতোই নিজের সাথে আঁকড়ে নিত।
প্রেমিকদের মৃত্যু কোনো বিস্ময়কর বিষয় নয় … ইতিপূর্বে কত প্রেমিক এভাবেই গত হয়েছে।
৬ - মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-ইফ্রিকি আবুল হাসান আল-মুতাইয়্যাম
তিনি "আশআরুন নু দামা" এবং "আল-ইনতিসার লিল-মুতানাব্বি" গ্রন্থদ্বয়ের রচয়িতা; তিনি একজন উচ্চমাপের কবি এবং তাঁর একটি বিশাল কাব্যগ্রন্থ (দিওয়ান) রয়েছে। তিনি বুখারায় বসবাস করতেন। তাঁর অবয়ব ছিল জীর্ণ বেশভূষাধারী একজন বৃদ্ধের মতো, যাঁর ওপর শ্রমজীবী বা অভাবের ছাপ পরিলক্ষিত হতো। তিনি সুগন্ধি ব্যবহার করতেন এবং জ্যোতিষশাস্ত্র চর্চা করতেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুহাম্মাদূনা মিনাশ শুয়ারা
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
ويرتزق بالشعر، فمن شعره قوله: بسيط
وفتية أدباءٍ ما علمتهُم
… شبّهتهم بنجوم الليل إذ نجمُوا
فرُّوا إلى الرَّاحِ من خَطْبٍ يلمُّ بهم
… فما درت نُوَب الأيَّام أين همُ
وله: طويل
تلومُ على ترك الصلاة حَليلتي
… فقلتُ: اغْرُبي عن ناظري أنتِ طالقُ
فواللهِ لا صلّيْتُ للهِ مفلساً
… يصلّي له الشيخُ الجليلُ وَفائقُ
وتاشٌ وبَكْتاش وكنتاش بَعدَه
… ونصر بن مَلْك، والشيوخ البطارقُ
وصاحب جيش المشرقَين الذي له
… سراديبُ مالٍ حَثْوها لي شائقُ
ولا عَجَبٌ إنْ كان نوحُ مصلّياً
… لأنَّ له قَسْرا تدين المشارِقُ
لماذا أُصلّي أين مالي ومنزلي؟
… وأين خُيولي والحُلى والمناطِقُ
তিনি কবিতার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তাঁর কবিতার মধ্য থেকে রয়েছে: (ছন্দ: বাসীত)
কতই না সাহিত্যমনা যুবক যাদের আমি চিনি
… আমি তাদের রাতের নক্ষত্ররাজির সাথে তুলনা করেছি যখন তারা উদিত হয়।
তারা কোনো বিপদ আপতিত হলে মদ্যপানের দিকে পলায়ন করে
… ফলে কালের বিপর্যয়সমূহ জানতে পারে না যে তারা কোথায় আছে।
তাঁর আরও কবিতা: (ছন্দ: তউইল)
আমার স্ত্রী নামাজ ছেড়ে দেওয়ার কারণে আমাকে ভর্ৎসনা করে
… তখন আমি বললাম: আমার সম্মুখ হতে দূর হও, তুমি তালাকপ্রাপ্তা।
আল্লাহর কসম, নিঃস্ব অবস্থায় আমি আল্লাহর জন্য নামাজ পড়ব না
… তাঁর জন্য নামাজ পড়বেন মহান শায়খ এবং ফায়িক।
এবং তাশ, বকতাশ ও তার পরবর্তী কুনতাশ
… এবং নাসর ইবনে মালিক ও প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দ।
এবং দুই প্রাচ্যের সেনাপতি যার রয়েছে
… ধনভাণ্ডার, যার প্রাচুর্য আমার কাছে পছন্দনীয়।
এতে কোনো আশ্চর্যের বিষয় নেই যদি নূহ নামাজি হয়
… কেননা তার জন্য জোরপূর্বক সমগ্র প্রাচ্য অনুগত।
আমি কেন নামাজ পড়ব? কোথায় আমার সম্পদ এবং অট্টালিকা?
… আর কোথায় আমার ঘোড়াসমূহ, অলঙ্কারাদি ও কোমরবন্ধনীসমূহ?
(খণ্ড: ১)
আল-মুহাম্মাদূনা মিনাশ শুয়ারা
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
وأين عَبيدي كالبدور وُجُوههم؟
… وأي جَوَارِيّ الحِسَانُ العواتقُ؟
أُصلِّي ولا فِترُ من الأرض يَحْتوي
… عليهِ يميني؟ إنني لَمُنافِقُ
تركتُ صلاتي للذين ذكرتهم
… فمن عاب فعلي فهو أحمق مائقُ
بَلى، إنْ عليَّ وسَّعَ الله لم أزلْ
… أُصلي له ما لاح في الجوِّ بارقُ
وإنَّ صلاة السَّيِّئِ الحَالِ كلّها
… مَخارقٌ ليستْ تَحتَحُنَّ حَقائقُ
وله: مجزوء الرمل
وصديق جاءني يسْ
… ألُني مَاذا لديكْ؟
قلتُ: عندي بَحر خمر
… حَولهُ آجام نيك
ومن ملحه في غلام تركي: سريع
قلبي أسيرٌ في يديْ مقلة
… تُرْكيّة ضاق بها صدري
كأنها مصن ضيقها عُروة
… ليس لها زرٌ سوى السِّحْرِ
وله: منسرح
قد أكثر الناس في الصفاتِ وقد
… قالوا جميعاً في الأعيُنِ النُّجلِ
وعَيْن مولايَ مثل موعدِه
… ضيِّقةً عن مَرَاوِد الكُحلِ
কোথায় আমার সেই গোলামরা যাদের চেহারা পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায়?
… আর কোথায় সেই সুন্দরী অসূর্যম্পশ্যা যুবতী দাসীরা?
আমি কি সালাত আদায় করব যখন জমিনের এক বিঘত জায়গাও
… আমার ডান হাতের কর্তৃত্বে নেই? তবে তো আমি নিশ্চয়ই একজন মুনাফিক!
আমি যাদের কথা উল্লেখ করেছি তাদের কারণেই সালাত ত্যাগ করেছি;
… সুতরাং যে আমার এই কাজের নিন্দা করে সে তো এক স্থূলবুদ্ধি ও মূর্খ।
হ্যাঁ, আল্লাহ যদি আমার প্রতি অবারিত দান করেন, তবে আমি চিরকাল
… তাঁর তরে সালাত আদায় করব যতক্ষণ গগনে বিজলি চমকাবে।
নিশ্চয়ই দুরবস্থাগ্রস্ত ব্যক্তির সকল সালাতই
… অন্তঃসারশূন্য ছলনা, এগুলোর মাঝে কোনো সত্য নেই।
তাঁর অন্য কবিতা: মাজজু আর-রামাল ছন্দ
এক বন্ধু আমার সমীপে এসে সুধাল,
… তোমার কাছে কী আছে?
আমি বললাম: আমার নিকট আছে সুরা-সিন্ধু,
… যার চারিপাশে রয়েছে কামকেলি-কুঞ্জ।
তুর্কি কিশোর বিষয়ে তাঁর সরস পঙ্ক্তিমালা: সারী‘ ছন্দ
আমার হৃদয় এক তুর্কি নয়নমণির নিকট বন্দি,
… যার কারণে আমার বক্ষ সংকুচিত হয়ে গেছে।
মনে হয় যেন তার সংকীর্ণতা একটি বোতামের ঘর,
… যার জাদু ব্যতিরেকে অন্য কোনো বোতাম নেই।
তাঁর অন্য কবিতা: মুনসারিহ ছন্দ
লোকেরা গুণাবলি নিয়ে অনেক কথা বলেছে এবং
… তারা সকলে আয়তলোচনাদের সম্পর্কেই বলেছে।
আর আমার প্রভুর চক্ষু তাঁর প্রতিশ্রুতির মতোই
… সুরমা-শলাকার প্রবেশের জন্য অতি সংকীর্ণ।
(খণ্ড: ১)
আল-মুহাম্মাদূনা মিনাশ শুয়ারা
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
7 - محمد بن أحمد بن العلوي الأصبهاني المعروف بابن طَبَاطَبَاشيخ من شيوخ الأدب، وله كتب ألّفها في الآداب والأشعار، وكان نزيل أَصبهان، وعاش بعد الثلاثمائة بكثير، وأكثر شعره في الغزل والآداب، وهو القائل: خفيف
لا وأُنسي وفرحتي بكتابٍ
… أنا منه في حُسن أضحى وفِطْر
ما دَجَا ليلُ وحشتي قطّ إلاّ
… كنتَ لي فيه طالعاً مِثل بَدْرِ
بحديثٍ أهيمُ لِلأنس شوقاً
… ولِئامٍ يَكُفُّ لوعةَ صَدري
وله يصف القلم: كامل
وله حسامٌ باترٌ في كفِّهِ
… يمضي لنقضِ الأمر أو توكيدِهِ
ومترجِم عما يُجنُّ ضميرهُ
… يجري بحِكمتِه لدى تسويدِهِ
قلَمٌ يدورُ بكفِّه فكأنه
… فَلَكٌ يدورُ بنحسِه وسُعودِهِ
8 - محمد بن أحمد المعصوميأديب، فقيه، شاعر، يقول في خُوَارَزْم شاه مأمون بن
৭ - মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনুল আলাওয়ী আল-আসবাহানি, যিনি ইবনে তাবাতাবা নামে পরিচিততিনি সাহিত্যের শায়খদের একজন ছিলেন, সাহিত্য ও কবিতা বিষয়ে তার রচিত গ্রন্থসমূহ রয়েছে। তিনি আসবাহানের অধিবাসী ছিলেন এবং তিনশ হিজরির অনেক পর পর্যন্ত জীবিত ছিলেন। তার অধিকাংশ কবিতা গজল ও সাহিত্য বিষয়ক। তিনি (খাফিফ ছন্দে) বলেছেন:
না, আমার অন্তরঙ্গতা ও কিতাব নিয়ে আমার আনন্দ
… যার ফলে আমি ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতরের সৌন্দর্যে অবগাহন করি।
আমার একাকিত্বের রাত যখনই অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়েছে
… তখনই তুমি তাতে আমার জন্য পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় উদিত হয়েছ।
এমন বাণীর মাধ্যমে যা আমাকে অন্তরঙ্গতার আকাঙ্ক্ষায় ব্যাকুল করে
… এবং যা আমার হৃদয়ের দহন নিবারণ করে।
কলমের বর্ণনায় তার (কামিল ছন্দে) কবিতা:
তার হাতে রয়েছে এক তীক্ষ্ণ তলোয়ার
… যা কোনো নির্দেশ বাতিল করতে অথবা তা সুদৃঢ় করতে কার্যকর হয়।
এটি তার অন্তরের লুকায়িত বিষয়ের অনুবাদক
… যা লিখিত হওয়ার সময় স্বীয় প্রজ্ঞার সাথে চলমান থাকে।
এটি এমন এক কলম যা তার হাতে আবর্তিত হয়, যেন তা
… এক জ্যোতিষ্কমণ্ডল যা তার অশুভ ও শুভ দশা নিয়ে আবর্তিত হচ্ছে।
৮ - মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ আল-মাসুমিসাহিত্যিক, ফকিহ ও কবি। তিনি খাওয়ারিজম শাহ মামুন বিন সম্পর্কে বলেন:
(খণ্ড: ১)
আল-মুহাম্মাদূনা মিনাশ শুয়ারা
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
مأمون: كامل
يا أيُّها المَلِكُ الذي انْقَادَتْ لَهُ
… جَمَحَاتُ هذا الدَّهْرِ بعد شِمَاسِ
لك هِمَّةٌ في المجدِ مَأمُونِيّةٌ
… أَعْيَتْ سَمِيَّكَ من بَني العَبَّاسِ
ذُو راحَةٍ حَكَمَتْ لحاتِم طيٍّء
… ولخالِدٍ في الجُود بالإفْلاسِ
لم يُلْهِهِ عَن ضَبْطِ حَوْزَةِ مُلْكِهِ
… سُكْرُ الشبابِ ولا حُمَيَّا الكاسِ
وَلْيَهْنِكَ المُلْكُ الذي أُلْبِسْتَهُ
… يا خَيْرَ لَبَّاسٍ لِخَيْرِ لِبَاسِ
فاللهُ لم يَبْعَثْكَ إلاّ رَحْمَةً
… مَبْسُوطةً لِلنّاس بعد النّاسِ
وله فيه: متقارب
لهُ مَخَّضَ الفَلَكُ المستَديرُ
… فكان هو الزُّبْدُ إذ مُخِّضا
هو المَلِكُ الأوحَدُ المُرْتضى
… ومَنْ مِنْ سَنا نُورِهِ يُستَضا
فلا زلت تُعنى بتصْحيحِ ما
… منَ المُلْكِ غيرَكَ قد أمْرَضا
ولا زلتَ ناصرَ دين الإله
… وسيْفاً على خَصمِهِ مُنتَقى
9 - محمد بن أحمد الورَّاق الجرجاني، أبو الحسنكان يتشيّع، وله أشعار يمدح بهل الطالبيين، وهو القائل لليلى بن نعمان الديلمي، الخارج بنيسابور في سنة ثمان وثلاثمائة، فقتله أصحابُ نصر
মামুন: কামিল
হে সেই সম্রাট, যার বশ্যতা স্বীকার করেছে এই মহাকালের উদ্ধত আচরণ একগুঁয়েমির পর।
মর্যাদার ক্ষেত্রে আপনার সংকল্প এমন এক উচ্চতায় আসীন, যা বনু আব্বাসের আপনার সমনামধারী ব্যক্তিকেও ক্লান্ত ও পরাস্ত করে দিয়েছে।
আপনি এমন এক দানশীল হাতের অধিকারী, যা হাতেম তায়ী ও খালেদকে তাদের দানশীলতার ক্ষেত্রে দেউলিয়া সাব্যস্ত করার রায় দিয়েছে।
যৌবনের মত্ততা কিংবা মদের নেশা তাঁকে তাঁর সাম্রাজ্যের সীমানা সুরক্ষায় উদাসীন করতে পারেনি।
আপনার প্রাপ্ত এই রাজত্ব আপনার জন্য কল্যাণময় হোক; হে শ্রেষ্ঠ পোশাকের শ্রেষ্ঠ পরিধানকারী!
আল্লাহ আপনাকে মানবজাতির জন্য একের পর এক বিস্তৃত রহমত হিসেবেই পাঠিয়েছেন।
এই সম্রাটের বিষয়ে তাঁর আরও কবিতা: মুতাকারিদ
তাঁরই জন্য এই আবর্তনশীল মহাকাশ মন্থন করা হয়েছে; আর যখন তা মন্থন করা হলো, তখন নির্যাস হিসেবে তিনিই প্রকাশিত হলেন।
তিনিই সেই অদ্বিতীয় মনোনীত সম্রাট, যাঁর নূরের উজ্জ্বলতা থেকে অন্যেরা আলো গ্রহণ করে।
অন্যরা রাজত্বের যা কিছুকে রুগ্ন করে ফেলেছে, তা সংশোধনে আপনি সর্বদা সচেষ্ট থাকুন।
আপনি যেন সর্বদা আল্লাহর দ্বীনের সাহায্যকারী এবং তাঁর শত্রুদের বিরুদ্ধে এক সুতীক্ষ্ণ তলোয়ার হয়ে থাকেন।
৯ - মুহাম্মাদ ইবনে আহমদ আল-ওয়াররাক আল-জুরজানি, আবু আল-হাসানতিনি শিয়া মতাবলম্বী ছিলেন এবং তালেবীয়দের প্রশংসায় তাঁর কবিতা রয়েছে। তিনি সেই ব্যক্তি যিনি লায়লা ইবনে নুমান আদ-দাইলামির উদ্দেশ্যে কবিতা বলেছিলেন, যে ৩০৮ হিজরিতে নিশাপুরে বিদ্রোহ করেছিল এবং নাসরের সঙ্গীদের হাতে নিহত হয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-মুহাম্মাদূনা মিনাশ শুয়ারা
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
ابن أحمد، وأنفذوا رأسه إلى الحفرة، قال المرزباني: " ورأيته في سنة تسع وثلاثمائة "، له قصيدة أوّلها طويل:
أَلا خَلِّ عينيك اللَّجوجَين تَدمَعا
… لِمُؤْلِم خَطْبٍ، قد ألمَّ فأوجعا
وليس عجيباً أن يدومَ بُكاهُما
… وأن يَمتري وجْدَيهما الوجدُ أجمعا
فقال فيهما:
ولمّا نعاه الناعيات تبادرتْ
… عليه عيونُ الطالبيين هُمَّعا
لقد غال منه الدهرُ ليثَ حفيظة
… وغيثاً إذا ما أَكْدَت الأرض مُمْرِعا
بكته سيوفُ الهند لما فقدنَه
… وأضحت جياد الخيل حَسرى وظُلعا
وكان قديما يُرتِع البيضَ في الطُّلى
… فأصبح للبيض المباتِير مَرْتعا
وما زال فرَّاجاً لكل عَظيمةٍ
… يَظَلُّ لها قلبُ الكَمِيِّ مُرَوَّعَا
فلمْ يُرَ إلا في المَعَالي مُشَمِّراً
… ولم يُلْفَ إلا في المَكارِمِ مَوضِعَا
أُصِيبَ به آل الرَّسول فأصبحُوا
… خضوعاً وأمسى شعبُهُم مُتصدِّعاً
ইবনে আহমাদ, এবং তারা তাঁর মস্তকটি গর্তে পাঠিয়ে দিল। আল-মারজুবানি বলেন: "আমি তাঁকে তিনশ নয় হিজরি সনে দেখেছি।" তাঁর একটি কবিতা রয়েছে যার শুরুটা হলো দীর্ঘ:
ওহে, তোমার নাছোড়বান্দা দুই চোখকে অশ্রু বিসর্জন দিতে দাও
… এক যন্ত্রণাদায়ক বিপদের জন্য, যা আপতিত হয়ে ব্যথিত করেছে।
এটা আশ্চর্যের কিছু নয় যে তাদের ক্রন্দন দীর্ঘস্থায়ী হবে
… এবং সকল শোক যেন তাদের দুঃখকে নিংড়ে বের করে আনবে।
তিনি তাদের সম্পর্কে বললেন:
যখন শোকসংবাদ দানকারীরা তাঁর মৃত্যুসংবাদ প্রচার করল, তখন তালিবীদের চোখগুলো অশ্রুসিক্ত হয়ে তাঁর জন্য দ্রুতবেগে প্রবাহিত হলো।
নিশ্চয়ই মহাকাল তাঁর মধ্য দিয়ে একজন আত্মমর্যাদাশীল সিংহকে কেড়ে নিয়েছে
… এবং এমন এক সঞ্জীবনী বৃষ্টিকে, যখন জমিন শুষ্ক হয়ে যেত তখন যা শস্যশ্যামল করত।
হিন্দুস্তানি তলোয়ারগুলো তাঁর বিয়োগে রোদন করল
… এবং শ্রেষ্ঠ ঘোড়াগুলো ক্লান্ত ও পঙ্গু হয়ে পড়ল।
তিনি অতীতে (শত্রুর) ঘাড়ে শুভ্র তলোয়ার বিচরণ করাতেন
… আজ তিনি নিজেই সেই ধারালো তলোয়ারগুলোর চারণভূমিতে পরিণত হলেন।
তিনি সর্বদা প্রতিটি মহাবিপদ দূরকারী ছিলেন
… যার ভয়ে বীর যোদ্ধাদের অন্তরও সদা আতঙ্কিত থাকত।
তাকে সর্বদা উচ্চ মর্যাদা অর্জনে সচেষ্ট ছাড়া আর কিছু দেখা যেত না
… এবং তাকে সর্বদা মহত্ত্বের আসনেই পাওয়া যেত।
তাঁর বিয়োগে রাসূলের পরিবার বিপদগ্রস্ত হলেন, ফলে তাঁরা শোকে নুয়ে পড়লেন
… এবং তাঁদের ঐক্য আজ ফাটল ধরা অবস্থায় উপনীত হলো।
(খণ্ড: ১)
আল-মুহাম্মাদূনা মিনাশ শুয়ারা
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
لقد عاش محموداً كريماً فعَالُه
… ومات شهيداً يومَ وَلّى فَوَدَّعَا
وقد ثَلَم الدّهُر العلاءَ بموته
… وأَوهَنَ رُكْنَ المجدِ حتى تضعضَعا
فلا حَمَلتْ من بَعْد ليلى عقيلةٌ
… ولا أَرْضَعَتْ أُمٌّ بِذا الدهر مُرضَعا
10 - محمد بن أحمد الحفصوي الإمامشاعر خراساتي، ذكره صاحب " الوشاح " وأنشد له قوله يهجو: رجز
تَرْخُسُ؟ عن حَلْي المعالي، عُطْلُ
… وعن سِمَات المَكْرُمَاتِ غُفْلُ
لم يَبْقَ فيها اليومَ إلاّ ثُفْلُ
… قاضٍ خبيثٌ، ورئيسٌ عَبْلٌ
وله في شرف الدين أبي طاهر: طويل
سلامٌ على صدر الوَزارة طاهر
… أبي طاهر شمس العُلى والمآثر
على مُشتري يُمْنٍ وزُهرَةَ شِيْمَةٍ
… وكَيْوان مقدارٍ وبهرام خاطرِ
مبارك آثارٍ، ومحمود خِبرةٍ
… ومَسْعود إنجاح، ومَيْمون طائرِ
তিনি প্রশংসিত ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মের অধিকারী হয়ে জীবন অতিবাহিত করেছেন
… এবং যে দিন তিনি মুখ ফিরিয়ে বিদায় নিয়েছেন, সে দিন শহীদ হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন।
কালপ্রবাহ তাঁর মৃত্যুর মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্বকে ক্ষুণ্ণ করেছে
… এবং গৌরবের স্তম্ভকে এতটাই দুর্বল করে দিয়েছে যে তা ভেঙে পড়েছে।
লায়লার পর আর কোনো সম্ভ্রান্ত নারী গর্ভধারণ না করুক
… আর এই যুগে কোনো জননী কোনো শিশুকে স্তন্যপান না করাক।
১০ - ইমাম মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-হাফসাভিতিনি একজন খোরাসানি কবি, ‘আল-উশাহ’ গ্রন্থের লেখক তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর রচিত এই বিদ্রূপাত্মক রাজায ছন্দটি উদ্ধৃত করেছেন:
তুমি কি শ্রেষ্ঠত্বের অলংকার থেকে রিক্ত হয়ে বিমুখতা দেখাচ্ছ?
… এবং মহানুভবতার বৈশিষ্ট্যসমূহ থেকে কি তুমি উদাসীন?
আজ তাতে কেবল তলানিই অবশিষ্ট রয়েছে
… এক নিকৃষ্ট বিচারক এবং এক স্থূলদেহী প্রধান।
শারাফউদ্দীন আবু তাহির সম্পর্কে তাঁর রচিত তওয়ীল ছন্দের কবিতা:
মন্ত্রিপরিষদের প্রধান তাহিরের প্রতি সালাম
… আবু তাহির, যিনি সুউচ্চ মর্যাদা ও মহৎ কীর্তির সূর্য।
যিনি সৌভাগ্যের বৃহস্পতি ও সচ্চরিত্রের শুক্র সদৃশ
… এবং উচ্চ মর্যাদার শনি ও প্রখর সংকল্পের মঙ্গল স্বরূপ।
তিনি বরকতময় প্রভাবের অধিকারী ও প্রশংসিত অভিজ্ঞতাসম্পন্ন
… তাঁর সাফল্য সৌভাগ্যমণ্ডিত এবং তাঁর ভাগ্য সুপ্রসন্ন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুহাম্মাদূনা মিনাশ শুয়ারা
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
11 - محمد بن أحمد الكاتب البصري، أبو عبد اللهالمنبوز بالمُفَجَّعِ ولُقّب بذلك ببيت قاله وهو شاعر مكثر، عالم، أديب، صاحب كتاب " الترجمان " و " المنقذ " وغيرهما.
وتوفي قبل الثلاثين والثلاثمائة، وهو القائل في أبي الحسن محمد بن عبد الوهّاب الزَّينَبي الهاشمي يمدحه كامل:
للزَّينَبيِّ على جلالة قدره
… خُلُقٌ كقَطْرِ الماء غيرُ مُزنّدِ
وشهامةٌ تُقْصِي اللُّيُوثَ إذ سَطا
… ونَدىً يُغَرِّقُ كلَّ بحرٍ مُزْبِدِ
يحتلُّ بيتاً في ذُؤابةِ هاشمٍ
… طالتْ دعائِمُهُ محلَّ الفَرْقَدِ
حُرٌّ يَروحُ المستميحُ ويغْتدي
… بمواهِبٍ منه تروح وتغتدي
وإذا تحيَّفَ مالَهُ إعْطاؤهُ
… في يومه نهك البقِيَّةَ في غَدِ
১১ - মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আল-কাতিব আল-বাসরি, আবু আব্দুল্লাহতিনি 'আল-মুফাজ্জা' উপনামে পরিচিত এবং নিজের রচিত একটি কাব্য চরণের কারণে এই উপাধিতে ভূষিত হন। তিনি একজন বহুপ্রসূ কবি, আলেম, সাহিত্যিক এবং "আল-তারজুমান" ও "আল-মুনকিদ" সহ আরও অনেক গ্রন্থের রচয়িতা।
তিনি ৩৩০ হিজরির পূর্বেই ইন্তেকাল করেন। আবুল হাসান মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আল-জায়নাবি আল-হাশিমি-এর প্রশংসায় 'কামিল' ছন্দে তিনি বলেন:
আল-জায়নাবির সুউচ্চ মর্যাদা থাকা সত্ত্বেও তার চারিত্রিক মহত্ত্ব বৃষ্টির বিন্দুর ন্যায় অবারিত
… তিনি মোটেও কৃপণ নন।
তার এমন তেজস্বিতা রয়েছে যা আক্রমণকালে সিংহকেও দূরে সরিয়ে দেয়
… আর তার দানশীলতা প্রতিটি ফেনিল সমুদ্রকে ডুবিয়ে দেয়।
তিনি হাশিম বংশের চূড়ায় এমন এক সুউচ্চ অবস্থানে রয়েছেন
… যার স্তম্ভগুলো ফারকাদ নক্ষত্রের স্থান পর্যন্ত পৌঁছেছে।
তিনি এমন এক উদারচেতা ব্যক্তি যার কাছে অনুগ্রহপ্রার্থীরা সকাল-সন্ধ্যা আসা-যাওয়া করে
… আর তার দান-দক্ষিণাও সকাল-সন্ধ্যা অব্যাহত থাকে।
যদি কোনো একদিন তার দানশীলতা তার সম্পদকে কমিয়ে দেয়
… তবে অবশিষ্ট সম্পদটুকু তিনি পরের দিন বিলিয়ে নিঃশেষ করে দেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুহাম্মাদূনা মিনাশ শুয়ারা
(পৃষ্ঠা: ٣١)
بضِياءِ سُنَّتِهِ المكارِمُ تهْتدِي
… وبجودِ راحتِهِ السَّحائِبُ تقتدي
مِقدارُ ما بيني وما بينَ الغِنى
… مِقدارُ ما بيني وبين المِرْبَدِ
وكان صاحب ابن دُريْد القائم مقامه بالبصرة قي التأليف والإملاء، وفيه قيل: مجزوء الكامل
إنَّ المُفَجَّعَ وَيْلهُشَرُّ الأوائِلِ والأواخِرْ
ومن النَّوادرِ أنَّهُ
… يُمْلِي على الناس النَّوادرْ
وشعره قليل جداً، وديوانه كثير الحلاوة، ويكاد يقطر منه ماء الظّرْفِ، حكى أبو بكر الخوارزمي قال: قال لي اللحام: أنشدني المفجّع لنفه: خفيف
لِيَ أَيْرٌ أَراحَني الله منه
… صارَ هَمّي به عَريضاً طَويلا
نام لمَّا رأى الحبيب عَياناً
… ولعهدى به ينيك الرَّسولا
حُسِبَتْ زَوْرةٌ عليَّ لِحَيْني
… وافترقنا وما شَفَيْتُ غليلا
وللمفجَّع في غلام له اسمه أبو سَعْد: خفيف
زفراتٌ تَعْتادُني عند ذِكْرَا
… ك وذكراك ما تريمُ فؤادي
وسروري قد غاب عني مذ غِبْ
… تَ فهل كنتما على ميعادِ؟
তাঁর সুন্নাতের আলোতে মাহাত্ম্যসমূহ পথ খুঁজে পায়
… এবং তাঁর হাতের তালুর বদান্যতায় মেঘমালা অনুকরণ করে।
আমার ও সচ্ছলতার মধ্যবর্তী দূরত্ব
… আমার ও মিরবাদের মধ্যবর্তী দূরত্বের সমান।
তিনি ছিলেন ইবনে দুরাইদের সহচর, যিনি বসরায় গ্রন্থ রচনা ও শ্রুতলিপিকরণে তাঁর স্থলাভিষিক্ত ছিলেন। তাঁর সম্পর্কে বলা হয়েছে: (মাজজুউল কামিল ছন্দ)
নিশ্চয়ই আল-মুফাজ্জা—তার জন্য পরিতাপ—সে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের মধ্যে নিকৃষ্টতম।
আর বিস্ময়কর বিষয়সমূহের মধ্যে একটি হলো যে
… সে মানুষের নিকট বিস্ময়কর ঘটনাবলীই শ্রুতলিপি হিসেবে প্রদান করে।
তাঁর কবিতা সংখ্যায় অতি সামান্য, তবে তাঁর কাব্যগ্রন্থ অত্যন্ত সুমিষ্ট, তা থেকে যেন রুচিবোধ ও আভিজাত্যের নির্যাস চুঁইয়ে পড়ছে। আবু বকর আল-খাওয়ারিজমি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-লাহহাম আমাকে বলেছেন: আল-মুফাজ্জা আমাকে নিজের রচিত এই কবিতাটি শুনিয়েছেন: (খাফিফ ছন্দ)
আমার একটি লিঙ্গ রয়েছে আল্লাহ যদি তা থেকে আমাকে নিষ্কৃতি দিতেন
… সেটির কারণে আমার দুশ্চিন্তা প্রশস্ত ও দীর্ঘ হয়েছে।
যখন সে প্রিয়তমকে চাক্ষুষ দেখল তখন সে ঘুমিয়ে পড়ল
… অথচ আমার জানামতে সে সংবাদবাহকের সাথেও মৈথুন করত।
আমার দুর্ভাগ্যের জন্য একটি সাক্ষাৎই যথেষ্ট গণ্য হলো
… অতঃপর আমরা পৃথক হলাম কিন্তু আমার মনের পিপাসা মিটল না।
আবু সাদ নামক তাঁর এক কিশোর ভৃত্যের বিষয়ে আল-মুফাজ্জার রচিত কবিতা: (খাফিফ ছন্দ)
তোমার স্মরণের সময় দীর্ঘশ্বাস আমাকে আচ্ছন্ন করে
… আর তোমার স্মৃতি আমার হৃদয় থেকে কখনো বিচ্যুত হয় না।
তুমি যখন থেকে অন্তর্হিত হয়েছ তখন থেকে আমার আনন্দও বিদায় নিয়েছে
… তবে কি তোমরা উভয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়ে চলে যাওয়ার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ ছিলে?
(খণ্ড: ১)
আল-মুহাম্মাদূনা মিনাশ শুয়ারা
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
حاربتني الأيامُ فيكَ أبا سَعْ
… دٍ بسيف الهَوى وَسهْمِ البِعادِ
ليس لي مَفزَعٌ سوى عَبراتٍ
… من جفونٍ مكحولةٍ بالسُّهادِ
في سهادي لِطول أُنسي بذكرا
… كَ اعتياضٌ من الكَرى والرُّقادِ
وبحسْبي من المصائب أني
… في بلادٍ وأنتمُ في بلاد!
وله: هزج
أَلا يا جامع البَصْر
… ة لا خرَّبَك الله
وأسقى صحنَك الغَيْثُ
… من المُزْنِ فَروَّاهُ
فكم من عاشقٍ فيك
… يرى ما يتمناه
وكم ظبيٍ من الإنس
… مَليحٍ فيك مرْعاهُ
نصبنا الفخَّ بالعِلم
… له فيك فَصِدْناه
بقرآنٍ قرأناهُ
… وتفسير رويْنَاهُ
وكم من طالبٍ للشِّع
… رِ بالشعر طلَبْناه
فما زالتْ يَدُ الأيَّا
… م حتى لان مَتناهُ
وحتى ثُبِّت السَّرْجُ
… عليه فركِبْناهُ
أَلا يا طالِب الأمْر
… د كَذِّبْ ما ذكرناهُ
فلا يُغْرُرْكَ ما قلنا
… فما بالجِدِّ قلناهُ
ولو كان من البُغْض
… يزنِّي حين تلْقاهُ
فزُجَّ الدِّرهم الضَّرْب
… إليه يتلاقاه
فبالدِّرهم يُستنز
… لُ ما في الجوّ مأواه
وبالدرهم يُستخر
… جُ ما في القفر مَثواهُ
হে আবু সা’
… দ, তোমার কারণে দিনগুলো আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে অনুরাগের তলোয়ার আর দূরত্বের তীর দিয়ে।
অনিদ্রার সুরমা মাখা অক্ষিপল্লব হতে নিঃসৃত
… অশ্রু ছাড়া আমার কোনো আশ্রয় নেই।
তোমার স্মৃতির সাথে দীর্ঘ সখ্যতার কারণে আমার এই জাগরণই
… তন্দ্রা ও নিদ্রার স্থলাভিষিক্ত হয়েছে।
বিপদাপদের মধ্যে আমার জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, আমি
… এক জনপদে আর আপনারা অন্য জনপদে!
তাঁর রচিত (হাযাজ ছন্দে):
ওহে বসরার জামে মস
… জিদ, আল্লাহ তোমাকে ধ্বংস না করুন।
আর মেঘমালা হতে আগত বৃষ্টি তোমার চত্বরকে সিক্ত করুক
… এবং তাকে পরিতৃপ্ত করুক।
তোমার মাঝে কত প্রেমিকই না
… তার কাঙ্ক্ষিত বস্তু দেখতে পায়।
আর মানবজাতির কত সুন্দর হরিণশাবকই না
… তোমার মাঝে বিচরণ করে।
আমরা তোমার মাঝে ইলমের দ্বারা তার জন্য
… ফাঁদ পেতেছিলাম, অতঃপর তাকে শিকার করেছি।
আমাদের পঠিত কুরআনের মাধ্যমে
… এবং আমাদের বর্ণিত তাফসীরের দ্বারা।
আর কত কাবি
… তার অন্বেষণকারীকে আমরা কবিতার মাধ্যমেই অন্বেষণ করেছি।
দিনগু
… লোর হাত অবিরত কাজ করে গেছে যতক্ষণ না তার কঠোরতা নমনীয় হয়েছে।
এবং যতক্ষণ না তার ওপর জিন মজবুত হয়েছে,
… অতঃপর আমরা তাতে আরোহণ করেছি।
ওহে কিশো
… রের অন্বেষণকারী, আমরা যা উল্লেখ করেছি তা অস্বীকার করো।
আমরা যা বলেছি তা যেন তোমাকে প্রলুব্ধ না করে,
… কেননা আমরা তা গুরুত্বের সাথে বলিনি।
যদিও সে বিদ্বেষের কারণে
… সাক্ষাতের সময় সংকীর্ণতা প্রকাশ করে।
তবে তার দিকে একটি দিরহাম ছুড়ে দাও,
… সে তা লুফে নেবে।
কেননা দিরহামের মাধ্যমেই নামা
… নো যায় তাকে, যার আবাস শূন্য আসমানে।
আর দিরহামের মাধ্যমেই বের
… করা যায় তাকে, যার ঠিকানা জনমানবহীন প্রান্তরে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুহাম্মাদূনা মিনাশ শুয়ারা
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
وله في غلام مُغَنِّ جُدِّرَ فازداد حُسناً: سريع
يا قَمَراً جُدِّر حين استوى
… فزادَهُ حُسناً وزادت همُومْ
كأنّما غنّىَ لِشمسِ الضُّحى
… فَنَقَّطَتْهُ طَرَباً بالنُّجُومِ
ومن هجوه: سريع
فَسَا على قَوْمٍ فقالوا لهُ:
… إن لم تَقُمْ من بَيْننِا قُمنا
وقال: لا عُدْتُ! فقالوا له:
… من نَتْنِ فيهِ: ذاك ما كُنّا
وله: وافر
أداروها ولِلَّيْل اعْتِكارُ
… فخِلْتُ اللّيلَ فاجأهُ النّهارُ
فقلتُ لصاحبي والليلُ داجٍ:
… ألاحَ الصُّبح أم بدت العُقَارُ؟
فقال: هي العُقَار تدَاولوهَا
… مُشَعْشَةً يطير لها شرارُ
فلولا أنّني أمتاحُ منها
… حلَفْتُ بأنها في الكأس نارُ
وذكره أبو محمد عبد الله بن أبي القاسم عبد المجيد بنُ بُشْران بن إبراهيم بن العباس بن محمد بن العباس بن محمد بن جعفر الأهوازي في تاريخه فقال: ففيها - يعني سنة سبع وعشرين وثلاثمائة - توفي أبو عبد الله كل محمد أبن أحمد بن عبد الله المفجّع الكاتب الشاعر، وكان شاعر البصرة وأديبها، وكان يجلس في الجامع بالبصرة، فيُكتَب عنه ويُقرَأ عليه الشعر واللغة والمصنفات، وامتنع من الجلوس مدة لسبب لحِقَهُ من بعض من حضره، فخُوطب في ذلك فقال: " لو استطعت أن أُنسيهم أسماءهم لفعلت " وشعره
গুটিবসন্তে আক্রান্ত হওয়ার ফলে সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাওয়া এক গায়ক কিশোর সম্পর্কে তাঁর পঙ্ক্তি (সারী‘ ছন্দে):
হে পূর্ণিমার চাঁদ, যে পূর্ণতা লাভের (উদিত হওয়ার) সময় বসন্তের দাগে ভূষিত হয়েছে
… এতে তার রূপ যেমন বেড়েছে, (প্রেমিকের) দুশ্চিন্তাও তেমন বেড়েছে।
মনে হয় যেন সে পূর্বাহ্নের সূর্যের সামনে গান গেয়েছিল
… আর সূর্য আনন্দের আতিশয্যে নক্ষত্ররাজির মাধ্যমে তার অবয়বে বিন্দুবিন্দু তিলক এঁকে দিয়েছে।
তাঁর বিদ্রূপাত্মক কবিতার অংশ (সারী‘ ছন্দে):
তিনি এক সম্প্রদায়ের সামনে বায়ুত্যাগ করলেন, তখন তারা তাঁকে বলল:
… আপনি যদি আমাদের মাঝ থেকে উঠে না যান, তবে আমরাই উঠে যাব।
তিনি বললেন: আমি আর এমনটি করব না! তখন তারা তাঁকে বলল:
… তাঁর মুখের দুর্গন্ধের কারণে; আমরা তো এটাই চাচ্ছিলাম।
তাঁর আরও কবিতা (ওয়াফির ছন্দে):
তারা সুরাপাত্রটি আবর্তন করাল যখন রজনী ছিল ঘোর অন্ধকার
… তখন আমার মনে হলো রাত বুঝি আকস্মিকভাবে দিনের আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছে।
ঘোর অন্ধকার রাতে আমি আমার সঙ্গীকে বললাম:
… প্রভাতের আলো কি ফুটে উঠেছে, নাকি সুরা প্রকাশিত হয়েছে?
সে বলল: এ তো সেই সুরা যা তারা একে অপরের হাতে দিচ্ছে
… যা অত্যন্ত প্রদীপ্ত ও উজ্জ্বল, যা থেকে আগুনের স্ফুলিঙ্গ ঠিকরে বেরোচ্ছে।
আমি যদি তা থেকে পান না করতাম
… তবে শপথ করে বলতাম যে, পেয়ালার ভেতর আগুন রাখা আছে।
আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ ইবন আবিল কাসিম আব্দুল মাজিদ ইবন বুশরান ইবন ইবরাহিম ইবন আব্বাস ইবন মুহাম্মাদ ইবন আব্বাস ইবন মুহাম্মাদ ইবন জাফর আল-আহওয়াযী তাঁর ইতিহাস গ্রন্থে তাঁর উল্লেখ করে বলেন: এই বছরেই—অর্থাৎ তিনশ সাতাশ হিজরিতে—লেখক ও কবি আবু আব্দুল্লাহ কুল মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবন আব্দুল্লাহ আল-মুফাজ্জি মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ছিলেন বসরার বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্যিক। তিনি বসরার জামে মসজিদে বসতেন, সেখানে তাঁর নিকট থেকে পাণ্ডুলিপি লেখা হতো এবং তাঁর সামনে কবিতা, ভাষাতত্ত্ব ও বিভিন্ন গ্রন্থ পাঠ করা হতো। তাঁর মজলিসে উপস্থিত জনৈক ব্যক্তির আচরণের কারণে তিনি কিছুকাল সেখানে বসা থেকে বিরত থাকেন। এ বিষয়ে তাঁকে অনুরোধ করা হলে তিনি বলেন: "আমি যদি সক্ষম হতাম, তবে আমি তাদের নিজেদের নামগুলোও তাদের ভুলিয়ে দিতাম।" আর তাঁর কবিতা হলো...
(খণ্ড: ১)
আল-মুহাম্মাদূনা মিনাশ শুয়ারা
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
مشهور، فمنه وقد دامت الأمطار وقطعت عن الحركة، قوله: مجزوء بسيط:
يا خالق الخلق أَجمعينا
… وواهب المال والبنينا
ورافعَ السَّبْعِ فوق سَبْع
… لم تستعن فيهما مُعينا
ومن إذا قال: كُنْ لشيءٍ
… لم تقع النون أو يكونا
لا تسقِنا العام صوب غيثٍ
… أكثر من ذا فقد رَوينا
وله في يخاطب أبا عبد الله البريديَّ، وقد أعاد عليه ذكر سبب مجزوء الخفيف.
قُل لِمن كان قد عفا
… عن ذنوب المُفَجَّعِ
لا تُعِدْ ذِكْر ما مضَى
… مَن عَفا لم في يُقَرِّعِ
وله وقد سأال بعض أصدقائه إيصال رُقعةٍ وشعر له بتهنئة في مهرجان إلى بعضهم، فقصَّر حتى مضى المهرجان: كامل.
إن الكتاب وإِن تضمَّنَ طيُّه
… كنْهَ الفصَاحة كالفصيح الأخرس
وإذا أعانته عناية حاملٍ
… فجوابه يأتي بنجح منفس
وإذا الرسول ونى وقصَّر عامداً
… كان الكتاب صحيفة المتلمِّس
قد مات يوم المِهرجان فذكره
… في الشعر أبرد من سخاء المفلِس
فسئل عن سخاء المفلس فقال: يعِد في إِفلاسه بما لا يفي به عند إمكانه، قال وأنشدني أبو عبد الله الاذوائي قال: دخل يوماً إلى القاضي
তিনি সুপ্রসিদ্ধ, তাঁর পংক্তি থেকে, যখন অবিরাম বৃষ্টি হচ্ছিল এবং চলাফেরা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, তাঁর উক্তি: মাজজু' বাসিত ছন্দে:
হে সকল সৃষ্টির সৃষ্টিকর্তা
… এবং সম্পদ ও সন্তান দানকারী।
আর সপ্ত আকাশকে সপ্ত (পৃথিবীর) উপরে উত্তোলনকারী
… যে কাজে আপনি কোনো সাহায্যকারীর সহায়তা নেননি।
এবং যিনি কোনো কিছুকে যখন বলেন: 'হও'
… তখন 'নুন' বর্ণটি আসার আগেই তা হয়ে যায়।
এই বছর আমাদের আর বৃষ্টির পানি দান করবেন না
… এর চেয়ে বেশি (চাই না), কারণ আমরা তৃপ্ত হয়েছি।
আবু আব্দুল্লাহ আল-বারীদিকে সম্বোধন করে তাঁর একটি পংক্তি, যেখানে তিনি পুনরায় তাঁকে কারণটি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন; মাজজু' খাফিফ ছন্দে।
তাকে বলুন যে ক্ষমা করে দিয়েছে
… ব্যথিত ব্যক্তির অপরাধসমূহকে।
যা গত হয়ে গেছে তার উল্লেখ আর করবেন না
… কেননা যে ব্যক্তি ক্ষমা করে দেয়, সে আর তিরস্কার করে না।
তাঁর আরেকটি কবিতা, যখন তিনি তাঁর এক বন্ধুর কাছে একটি চিরকুট এবং তাঁর একটি কবিতা পাঠাতে চেয়েছিলেন কোনো এক উৎসবের (মেহেরজান) শুভেচ্ছা জানাতে কারও কাছে, কিন্তু সেই বন্ধু অবহেলা করায় উৎসবটি পার হয়ে গিয়েছিল; কামিল ছন্দে।
নিশ্চয়ই পত্র, যদিও তার ভাঁজে ভাঁজে নিহিত থাকে
… বাগ্মিতার সারমর্ম, তবুও তা মূক বাগ্মীর মতো।
আর যদি বাহকের যত্ন তাকে সহায়তা করে
… তবে তার উত্তর আসে কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের সাথে।
কিন্তু যখন বার্তা বাহক অলসতা করে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে ত্রুটি করে
… তখন সেই পত্রটি মুতালাম্মিসের সহীফার মতো হয়ে যায়।
উৎসবের দিনটি তো পার হয়ে গেছে, তাই কবিতার মাঝে
… তার উল্লেখ নিঃস্ব ব্যক্তির দানশীলতার চেয়েও শীতল।
অতঃপর তাঁকে নিঃস্ব ব্যক্তির দানশীলতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: সে তার দরিদ্র অবস্থায় এমন কিছুর প্রতিশ্রুতি দেয়, যা সামর্থ্য থাকার সময়ও সে পূরণ করতে পারে না। তিনি বললেন: আবু আব্দুল্লাহ আল-আদওয়ায়ী আমাকে আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন, তিনি বলেছেন: তিনি একদিন কাজীর কাছে প্রবেশ করলেন...
(খণ্ড: ১)
আল-মুহাম্মাদূনা মিনাশ শুয়ারা
(পৃষ্ঠা: ٣٥)
أبي القاسم علي بن محمد التَّنُوخي، فوجده يقرأ " معاني الشعر " على العُبَيسي فقال: رجز.
قد قُدِّم العُجْب على الرُّويْس
… وشارف الوهْدُ أبا قُبَيْس
وطاول البَقْل فروع الميس
… وهَبَّت العنز لقرع التيس
وادَّعت الرُّوم أباً في قيس
… واختلط الناس اختلاط الحيس
إذْ قرأ القاضي حَليف الكيْس
… " معاني الشعر " على العُبيسي
وألقى ذلك إلى التنوخيِّ وانصرف، قال: وكان أبو عبد الله الاكفاني راويته، وكتب لي من مليح شعره شيئاً كثيراً، قال: ومدح أبا القاسم التنوخي فرأى منه جفاءً فكتب إليه: منسرح
لو أعْرض الناس كلُّهم وأبوْا
… لم ينقُصوا رزقي الذي قُسما
كان ودادٌ فزالَ وانصرما
… وكان عهد فبان وانهدما
وقد صحِبنا في عصرنا أُمماً
… وقد فقدنا من قبلهم أمما
فما هلكنا هزلا ولا ساخت ال
… أَرض ولم تقطر السماء دما
في الله من كل هالكٍ خلفٌ
… لا يرهب الدهر من به اعتصما
حرٌّ ظنَّنا به الجميل فما
… حقَّق ظنَّاً ولا رعى الذمما
فكان ماذا؟ ما كلُّ معتمد
… عليه يرْعى الوفاء والكرما
غلطت، والناس يغلطون وهل
… تعرف خلقاً من غلطة سلما؟
من ذا يخطي السَّداد فيه فلم
… يعرف بذنب ولم يزل قَدَما!
شلَّت يدي لِمْ جلست عن تفهٍ
… أكتُب شجوي وأمتطي القَلَما؟
يا ليتني قَبْلَها خرست فلَمْ
… أُعمِل لساناً ولا فتحت فَما
আবুল কাসিম আলী বিন মুহাম্মাদ আত-তানুখী, তিনি তাকে আল-উবাইসির কাছে "মাআনী আশ-শির" পড়তে দেখলেন। এরপর তিনি বললেন: রাজায।
তুচ্ছ মস্তক অহংকারের উপরে স্থান পেয়েছে
… আর নিম্নভূমি আবু কুবাইস পাহাড়ের সমতূল্য হতে চাইছে
শাক-লতা মায়াস গাছের ডালপালার সমান হতে চাইছে
… আর বকরি উঠে দাঁড়িয়েছে পাঠাকে গুঁতো দেওয়ার জন্য
রোমানরা কায়স বংশে নিজেদের পিতা দাবি করছে
… আর মানুষ এমনভাবে মিশে গেছে যেমন হাইস নামক খাদ্য মিশ্রিত হয়
যখন প্রখর বুদ্ধিসম্পন্ন এই বিচারক
… আল-উবাইসির কাছে "মাআনী আশ-শির" পাঠ করলেন
তিনি তা তানুখীর কাছে ছুড়ে দিয়ে চলে গেলেন। বর্ণনাকারী বলেন: আবু আব্দুল্লাহ আল-আকফানী ছিলেন তাঁর বর্ণনাকারী, তিনি আমাকে তাঁর চমৎকার কবিতা থেকে অনেক কিছু লিখে দিয়েছিলেন। তিনি বলেন: তিনি আবুল কাসিম আত-তানুখীর প্রশংসা করেছিলেন, কিন্তু তাঁর পক্ষ থেকে রুক্ষতা দেখতে পেলেন, তাই তিনি তাঁকে লিখে পাঠালেন: মুনসারিহ
যদি সকল মানুষ মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং অস্বীকার করে
… তবুও তারা আমার বন্টিত রিযিক একবিন্দু কমাতে পারবে না
ভালোবাসা ছিল, যা আজ বিদায় নিয়েছে ও বিলীন হয়েছে
… অঙ্গীকার ছিল, যা আজ বিচ্ছিন্ন ও ধসে পড়েছে
আমাদের সময়ে আমরা অনেক জাতির সঙ্গ পেয়েছি
… এবং তাদের আগেও অনেক জাতিকে হারিয়েছি
আমরা তো জরাজীর্ণ হয়ে ধ্বংস হয়ে যাইনি, আর না পৃথিবী ধসে গিয়েছে
… আর না আকাশ থেকে রক্ত ঝরেছে
আল্লাহর কাছে প্রত্যেক হারানো জিনিসের বিনিময় রয়েছে
… যে ব্যক্তি তাঁকে আঁকড়ে ধরে, সে কালচক্রকে ভয় পায় না
তিনি একজন মুক্ত মানুষ ছিলেন, যার সম্পর্কে আমরা সুধারণা পোষণ করতাম
… কিন্তু তিনি সেই ধারণা সত্য প্রমাণ করেননি এবং প্রতিশ্রুতিও রক্ষা করেননি
তাতে কী আসে যায়? যার ওপর নির্ভর করা হয়
… এমন সবাই তো আর বিশ্বস্ততা ও উদারতা বজায় রাখে না
আমি ভুল করেছি, আর মানুষ মাত্রই ভুল করে; আপনি কি এমন কোনো সৃষ্টির কথা জানেন
… যে ভুল থেকে মুক্ত?
কার এমন আছে যার সঠিক পথচ্যুতি ঘটে না
… যার কোনো পাপ জানা নেই এবং যার পা কখনো পিছলে যায়নি!
আমার হাত অবশ হয়ে যাক! কেন আমি নির্বোধের মতো বসে পড়লাম
… নিজের দুঃখ লিখতে এবং কলম চালনা করতে?
হায়! এর আগেই যদি আমি বোবা হয়ে যেতাম
… তবে তো জিহ্বা ব্যবহার করতাম না এবং মুখও খুলতাম না
(খণ্ড: ১)
আল-মুহাম্মাদূনা মিনাশ শুয়ারা
(পৃষ্ঠা: ٣٦)
يا زلَّةً ما أُقِلْت عَثْرتَهَا
… أَبْقَتْ على القلْب والحَشا أَلَمَا
يا ربّ يا رب لا أَعودُ لَهَا
… إن عدت فاشعر مسامعي صَمَمَا
مَنْ راعَهُ بالهَوان صاحبُهُ
… فعاد فيه فَنَفَسه ظلَما
وله مجزوء البسيط
أَظْهرْتُ للرِّئم بعض وجدي
… وإنما الكوت ما سَترْتُهْ
وقلتُ: حُبِّيك قد براني
… فقال: دعه بذا أَمرْتُهْ
وله قصيدته " ذات الأشباه " وسميت بذات الأشباه لقصده فما ذكره فيها من الخبر الذي رواه عبد الرزاق عن معمر عن الزُّهري عن سعيد بن المسيب عن أبي هريرة رضي الله تعالى عنه قال: قال رسول الله (وهو في محفل من أصحابه: " إن أحببتم أن تنظروا إلى آدم في عِلْمِه، ونوح في فهمه، وإبراهيم في خُلُقه، وموسى في مناجاته، وعيسى في سِنِّه، ومحمد في هَدْ يه وحِلْمه، فانظروا إلى هذا المُقبِل "، فتطاول الناس، فإذا هو علي بن أبي طالب عليه السلام، فأورد المفجع ذلك في قصيدته، وفيها مناقب كثيرة، وأوّلها: خفيف
أيها اللائمي لحُبي علِياً
… قُم ذميماً إلى الجحيم خزياَّ
أبخير الأنام عرَّضْت لا زلْ
… ت مذوداً عن الهُدى مَزْويَّا
أشبه الأنبياء كهْلاً وزوْلاً
… وفطيماً وراضِعاً وغذيَّا
كان في عِلمِه كآدم إذ عُ
… لِّم شرْح الأسماء والمكْنِيَّا
وكنوحٍ نجّى من الهُلْك مَنْ سَيّ
… رَ في الفُلْك إذ عَلا الجوديَّا
ওহে সেই পদস্খলন যার হোঁচট মার্জনা করা হয়নি
… যা হৃদয়ে ও অন্তরে বেদনা অবশিষ্ট রেখে গেছে।
হে রব, হে রব! আমি আর তাতে লিপ্ত হব না
… যদি পুনরায় করি তবে আমার শ্রবণেন্দ্রিয়কে বধির করে দিন।
যাকে তার সঙ্গী লাঞ্ছনার দ্বারা শঙ্কিত করেছে
… অতঃপর সে পুনরায় তাতে ফিরে গেল, তবে সে নিজ আত্মার প্রতি জুলুম করল।
এবং মাজজু আল-বাসিত ছন্দে তাঁর পঙ্ক্তিমালা:
আমি হরিণীতুল্য প্রেয়সীর নিকট আমার অনুরাগের কিয়দাংশ প্রকাশ করেছি
… কিন্তু প্রকৃত রহস্য হলো তা যা আমি গোপন রেখেছি।
আমি বললাম: আপনার ভালোবাসাই আমাকে জীর্ণ করে ফেলেছে
… তিনি বললেন: তাকে এই অবস্থায় থাকতে দাও, আমিই তাকে এমন আদেশ দিয়েছি।
তাঁর আরও রয়েছে কাসিদা "জাতুল আশবাহ" এবং এর নামকরণ "জাতুল আশবাহ" করা হয়েছে তাঁর সেই উদ্দেশ্যের কারণে যা তিনি এতে উল্লেখ করেছেন। আর তা হলো সেই বর্ণনা যা আবদুর রাজ্জাক বর্ণনা করেছেন মা'মার থেকে, তিনি যুহরি থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সাহাবীদের এক মজলিসে থাকা অবস্থায় বলেছিলেন: "যদি তোমরা আদমকে তাঁর জ্ঞানে, নূহকে তাঁর প্রজ্ঞায়, ইব্রাহিমকে তাঁর চরিত্রে, মূসাকে তাঁর কথোপকথনে, ঈসাকে তাঁর জীবনরীতিতে এবং মুহাম্মদকে তাঁর হেদায়াত ও সহনশীলতায় দেখতে পছন্দ করো, তবে তোমরা এই আগন্তুক ব্যক্তির দিকে তাকাও।" তখন মানুষ মাথা উঁচু করে দেখার চেষ্টা করল, দেখা গেল তিনি আলী ইবনে আবি তালিব (আলাইহিস সালাম)। অতঃপর আল-মুফাজ্জি' তাঁর এই কাসিদায় তা বর্ণনা করেছেন এবং এতে অনেক গুণাবলি বর্ণিত হয়েছে। এর শুরুটি হলো খাফিফ ছন্দে:
ওহে আলীর প্রতি আমার ভালোবাসার জন্য তিরস্কারকারী
… লাঞ্ছিত ও অপদস্থ হয়ে জাহান্নামের দিকে যাও।
তুমি কি সৃষ্টির সেরা মানবের প্রতি বিদ্রূপ করলে? তুমি যেন সর্বদা হেদায়াত থেকে বিতাড়িত ও বিমুখ থাকো।
তিনি প্রৌঢ়ত্বে ও শক্তিতে নবিগণের সদৃশ
… এবং শৈশবে, দুগ্ধপানকালে ও লালন-পালনের সময়েও।
তিনি তাঁর জ্ঞানে আদমের ন্যায় ছিলেন যখন তাঁকে
… নামসমূহ ও উপনামসমূহের ব্যাখ্যা শিক্ষা দেওয়া হয়েছিল।
এবং তিনি নূহের ন্যায়, যিনি তাকে ধ্বংস থেকে রক্ষা করেছিলেন যে নৌকায়
… ভ্রমণ করেছিল যখন তা জুদি পাহাড়ের ওপর উঠেছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-মুহাম্মাদূনা মিনাশ শুয়ারা
(পৃষ্ঠা: ٣٧)
وجفا في رضا الإله أباهُ
… واجتواه وعدَّه أجنبيَّا
كاعْتزال الخليل آزر في ال
… له وهجرانه أباه مَلِيَّا
ودعا قومَه فآمن لوطٌ
… أقربُ الناس منه رحْماً وريَّا
وعَليّ لمَّا دعاهُ أخُوه
… سَبق الحاضرين والبدويَّا
وله من أبيه ذي الأيد إسما
… عيل شِبْهٌ ما كان عنّي خفيَّا
إنه عاون الخليل على الكع
… بة إذْ شاد ركنها المبنيَّا
ولقد عاون الوصيُّ حبيب ال
… له إذ يغسلان منها الصفيَّا
رام حمل النبي كي يقلع الأص
… نام من سطحها المثول الحُبيَّا
فحناه ثقل النبوة حتى
… كاد ينآد تحته مثنيَّا
فارتقى منكِب النبي عليٌّ
… صِنْوُه ما أجلَّ ذا المرتقيَّا
فأماط الأوثان عن ظاهر الكع
… بة ينفي الأرجاس عنها نفيَّا
ولو أن الوصيَّ حاول مسَّ الن
… جْم بالكفِّ لم يجدْه قصيَّا
أفهل تعرفون غير عليٍّ
… ابنه استرحل النبي مطِيَّا؟
ومن مُلِح المفجع المشهورة قوله لإنسان أهدى إليه طبقاً فيه قصب السكر والأترنج والنارنج، قال الثعالبي: وأراه أبا سعدٍ غلامه: مجزوء الرمل
إنَّ شيطانك في الظَّرْ
… فِ لشيطانٌ مريد
فلِهاذا أنت فيه
… تبتدي ثم تعيد
আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে তিনি স্বীয় পিতাকে ত্যাগ করলেন
… তাকে বর্জন করলেন এবং তাকে পরজ্ঞান করলেন।
যেমন খলিল (ইব্রাহিম) আল্লাহর সন্তুষ্টির খাতিরে আজর থেকে পৃথক হয়েছিলেন
… এবং দীর্ঘকাল স্বীয় পিতাকে বর্জন করেছিলেন।
তিনি তাঁর সম্প্রদায়কে দাওয়াত দিলেন, অতঃপর লুত ঈমান আনলেন
… যিনি ছিলেন বংশ ও বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে তাঁর নিকটতম ব্যক্তি।
আর আলী—যখন তাঁর ভাই (রাসূল) তাঁকে আহ্বান করলেন
… তিনি উপস্থিত সকল নগরবাসী ও মরুবাসীর ওপর অগ্রগণ্য হলেন।
শক্তিশালী পিতার পুত্র ইসমাইলের সাথে তাঁর (আলীর)
… এমন এক সাদৃশ্য রয়েছে যা আমার কাছে অস্পষ্ট নয়।
নিশ্চয়ই তিনি (ইসমাইল) কাবা নির্মাণে খলিলকে সাহায্য করেছিলেন
… যখন তিনি এর ভিত্তিস্তম্ভসমূহ উত্তোলন করছিলেন।
আর ওয়াসি (আলী) আল্লাহর প্রিয়তমকে সাহায্য করেছিলেন
… যখন তাঁরা কাবা থেকে অপবিত্রতা দূর করছিলেন।
তিনি নবীকে বহন করার সংকল্প করেছিলেন যাতে এর ছাদ থেকে
… প্রোথিত ও জাঁকিয়ে বসা মূর্তিগুলোকে সমূলে উৎপাটন করা যায়।
কিন্তু নবুওয়াতের ভার তাঁকে অবনত করে দিল, এমনকি
… তিনি এর ভারে প্রায় নুইয়ে পড়লেন।
অতঃপর আলী নবীর কাঁধে আরোহণ করলেন
… যিনি তাঁরই সমতুল্য; কতই না মহান এই আরোহণকারী!
অতঃপর তিনি কাবার উপরিভাগ থেকে মূর্তিগুলো অপসারিত করলেন
… এবং সেখান থেকে যাবতীয় অপবিত্রতা সম্পূর্ণরূপে দূর করলেন।
ওয়াসি (আলী) যদি তাঁর হাতের তালু দিয়ে নক্ষত্র
… স্পর্শ করতে চাইতেন, তবে তিনি তাকেও সুদূর মনে করতেন না।
আলী ব্যতীত তোমরা কি অন্য কাউকে চেনো
… যার পুত্রকে নবী বাহন হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন?
আল-মুফাজজি-এর বিখ্যাত সরস উক্তিগুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো সেই ব্যক্তির প্রতি তাঁর বক্তব্য, যে তাঁকে আখ, বাতাবি লেবু ও কমলালেবু ভর্তি একটি পাত্র উপহার দিয়েছিল; আস-সাআলিবী বলেন: আমার ধারণা মতে সে ছিল তাঁর ভৃত্য আবু সা'দ: (ছন্দ: মাজজু আর-রামল)
নিশ্চয়ই এই পাত্রের ভেতরে তোমার যে শয়তানটি রয়েছে
… সে এক বিদ্রোহী শয়তান।
আর সে কারণেই তুমি এর ভেতরে
… বারবার শুরু করছ এবং পুনরাবৃত্তি করছ।
(খণ্ড: ১)
আল-মুহাম্মাদূনা মিনাশ শুয়ারা
(পৃষ্ঠা: ٣٨)
قد أتتنا تحفة مِن
… ك على الحسن تزيد
طبقٌ فيه قدودٌ
… وخُدودٌ ونُهود
وقوله: خفيف
سيّدي أنت إن عبدك أمسى
… خافقاً قلبه خفوق الجناح
فاغتنم غفل الرّقيب وزُرْه
… في رداء من الدُّجى ووشاح
وشعر أبي عبد الله المفجع حسن، وكان يوماً بالأهواز جالساً مع جماعة، فاجتاز به غلام لموسى بن الطيب نديم أبي عبد الله البريدي يقال له طريف وهو أمردٌ مليح، فسأل المفجع عنه، فقيل له: هذا غلام نديم البريدي، فقال: المنسرح
اجتاز بي اليوم في الطريق فتى
… يختال في مورق من البان
فقلت: من ذا؟ فقال لي خبِرٌ
… بالأمر: هذا غلام صفعان
ولأبي عبد الله في جماعة من أهل الأهواز مدائح كثيرة، وأهاج وله قصيدة في أبي عبد الله بن درستويه يرثيه وهو حي ويلقبه بدهن الآجر، قال: وكان أبو عبد الله المفجع يكثر عند والدي رحمه الله ويطيل المقام عنده، وكنت أراه عنده وأنا صبي بالأهواز، وله إليه مراسلات، وله فيه مدائح كثيرة كنت جمعتها فضاعت أيام دخول
আপনার পক্ষ থেকে আমাদের কাছে এক উপঢৌকন এসেছে যা
… সৌন্দর্যে আরও বর্ধনশীল।
এমন এক পাত্র যাতে রয়েছে সুঠাম দেহ,
… গাল ও উন্নত বক্ষ।
তার উক্তি: খাফিফ ছন্দ।
হে আমার সর্দার, আপনার দাসের সন্ধ্যা যদি এমন হয় যে,
… তার হৃদয় পাখির ডানার মতো স্পন্দিত হতে থাকে।
তবে প্রহরীর অসতর্কতার সুযোগ নিন এবং তার সাথে সাক্ষাৎ করুন
… অন্ধকারের চাদর ও উত্তরীয় পরিহিত অবস্থায়।
আবু আব্দুল্লাহ আল-মুফাজ্জি'-এর কবিতা চমৎকার। একদিন তিনি আহওয়াজে এক দলের সাথে বসে ছিলেন, তখন আবু আব্দুল্লাহ আল-বারিদির সহচর মুসা বিন আল-তাইয়িবের এক গোলাম তার পাশ দিয়ে অতিক্রম করল, যাকে তারিফ বলা হতো; সে ছিল এক সুদর্শন শ্মশ্রুহীন যুবক। মুফাজ্জি' তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, তখন তাকে বলা হলো: এ হলো আল-বারিদির সহচরের গোলাম। তখন তিনি মুনসারিহ ছন্দে বললেন:
আজ পথে এক যুবক আমার পাশ দিয়ে অতিক্রম করল
… যে বানের সজীব পল্লবের ন্যায় দুলছিল।
আমি জিজ্ঞেস করলাম: এ কে? তখন এ বিষয়ে অভিজ্ঞ এক ব্যক্তি
… আমাকে বললেন: এ হলো সাফ'আনের গোলাম।
আহওয়াজবাসীদের একটি দলের জন্য আবু আব্দুল্লাহর অনেক স্তুতিগাথা ও ব্যঙ্গ কবিতা রয়েছে। আবু আব্দুল্লাহ ইবনে দুরুস্তাওয়াইহ সম্পর্কে তার একটি কাসিদা রয়েছে যাতে তিনি তার জীবিতাবস্থায়ই তার শোকগাঁথা বর্ণনা করেছেন এবং তাকে 'ইটের তেল' উপাধিতে ভূষিত করেছেন। তিনি বলেন: আবু আব্দুল্লাহ আল-মুফাজ্জি' আমার পিতা (রহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট প্রচুর আসতেন এবং সেখানে দীর্ঘ অবস্থান করতেন। আমি যখন আহওয়াজে বালক ছিলাম তখন তাকে তার নিকট দেখতাম। তার সাথে তার পত্রালাপ চলত এবং তার প্রতি তার অনেক স্তুতিগাথা ছিল যা আমি সংগ্রহ করেছিলাম, কিন্তু [শহরে] প্রবেশের দিনগুলোতে সেগুলো হারিয়ে যায়।
(খণ্ড: ১)
আল-মুহাম্মাদূনা মিনাশ শুয়ারা
(পৃষ্ঠা: ٣٩)
شبرج ابن أبي ليلى الأهواز، ونُهبت دور الناس بها، وكان فيها قصيدة بخطه عندي يقول فيها: بسيط
لو قيل للمجْد من مولاك؟ قال: نعم
… عبد المجيد المغيري بن بشران
وأذكر له من قصيدة أخرى: بسيط
يا من أَطال يدي إذ هاضني زمني
… وصِرْت في المصر مجفُوّاً ومُطَّرحا
أنقذتني من أُناسٍ عند دينهم
… قتْل الأَديب إذا ما علمه اتَّضحا
قال: وكانت وفاته قبل وفاة والدي رحمه الله تعالى بأيام يسيرة.
12 - محمد بن أحمد الجرورشاعر مذكور، قال في قصيدة في الوزير سابور بن أَرْدَشير: بسيط:
وفي الظعائِن مهضوم الحشا غَنِجٌ
… يخطو بأعطافِ نَشْوَان الخُطا ثمِلِ
শাবরাজ ইবনে আবি লায়লা আল-আহওয়াজি, এবং সেখানে মানুষের ঘরবাড়ি লুণ্ঠিত হয়েছিল, আর আমার কাছে তাঁর হস্তাক্ষরে একটি কাসিদা ছিল যাতে তিনি বলেছেন: বাসিত ছন্দ
যদি মর্যাদাকে জিজ্ঞেস করা হতো যে তোমার প্রভু কে? সে বলত: হ্যাঁ
… আব্দুল মজিদ আল-মুগিরি ইবনে বিশরান
আমি তাঁর অন্য একটি কাসিদা থেকে স্মরণ করছি: বাসিত ছন্দ
হে সেই সত্তা, যিনি আমার হাতকে প্রসারিত করেছেন যখন কালচক্র আমাকে ভেঙে দিয়েছিল
… এবং আমি নগরে উপেক্ষিত ও বর্জিত হয়ে পড়েছিলাম
আপনি আমাকে এমন এক লোকদল থেকে রক্ষা করেছেন যাদের রীতি অনুযায়ী
… কোনো সাহিত্যিকের জ্ঞান যখন সুষ্পষ্ট হয়, তখন তাকে হত্যা করাই দস্তুর
তিনি বলেন: তাঁর মৃত্যু আমার পিতার (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন) মৃত্যুর অল্প কয়েক দিন আগে হয়েছিল।
১২ - মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-জারুরএকজন প্রখ্যাত কবি, উজির সাবুর ইবনে আরদাশির সম্পর্কে একটি কাসিদায় তিনি বলেছেন: বাসিত ছন্দ:
হাওদার আরোহী নারীদের মাঝে এমন এক ক্ষীণ কটিদেশ বিশিষ্ট লাবণ্যময়ী রয়েছে
… যে মাতালের ন্যায় টলমল পদক্ষেপে দুলতে দুলতে অগ্রসর হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-মুহাম্মাদূনা মিনাশ শুয়ারা
(পৃষ্ঠা: ٤٠)
ظبيٌ مشى الورد من لحظي بوجنتِهِ
… مشي اللَّواحظ من عينيه في أَجَلي
وَمُترَفُ الترب مجاج النَّدى عَطِرٌ
… مُفَوَّف النور موشوم الثَّرى خَضلِ
قد شامَ جدولهُ فيه مهندة
… فاهتزَّ مثلَ اهتزاز الخائف الوَجِلِ
إذا نسيمُ الصبا فاحَتْ سَرائِرُهُ
… أَصغى إليهنَّ سمع الغُصن بالميَلِ
والجو تسحب فيه السحب أردية
… مظاهراتٍ عليها أظهر الحَجَلِ
ومنها:
يا مُؤْنِسَ الملك والأيام موحشة
… وَرابط الجَأش والآجال في وَجَلِ
لو أَنصفَ الدهرُ أو لانت معاطفُه
… أصبحت عندك ذا خيل وذا خَولِ
لله لؤلؤ ألفاظ تساقطها
… لو كنَّ للغيد ما استأنس بالعَطَلِ
ومن عُيون معانٍ لو كحلتْ بها
… نجلَ العُيون لأغنَاها عن الكُحُلِ
سِحْرٌ من الفكر لو دارْت سُلافَتُه
… على الزمانِ تمشَّى مِشية الثَّمِلِ
13 - محمد بن أحمد بن حمدان، المعروف بالخَبَّاز البلدي أبو بكروهو من بلدة يقال لها " بل " من بلاد الجزيرة الذي منها الموصل، وأبو بكر محمد بن أحمد الخباز هذا من حسناتها. ومن عجيب شأنه أنه كان أميّاً وشعره كلّه ملح وتحف، وغرر، ولا تخلو مقطوعة له من معنى حسن
একটি হরিণসদৃশ তরুণ, যার গালে আমার দৃষ্টির গোলাপগুলো বিচরণ করেছে
… যেমনটি তার আঁখিপল্লভের দৃষ্টি আমার আয়ুষ্কালে বিচরণ করে।
সিক্ত ও সুরভিত মাটি যা শিশিরবিন্দু বমন করে
… আলোর রেখায় রঞ্জিত, অঙ্কিত ও আর্দ্র জমিন।
সে তার জলস্রোতে তরবারিগুলো অবলোকন করেছে
… ফলে তা ভীত-ত্রস্ত ব্যক্তির কম্পনের ন্যায় কেঁপে উঠল।
যখন পুবালী বাতাসের গোপন সুবাস ছড়িয়ে পড়ে
… তখন বৃক্ষশাখাগুলো তা শোনার জন্য অনুরাগের সাথে হেলে পড়ে।
আর আকাশ, যাতে মেঘমালা তাদের চাদর টেনে নিয়ে যায়
… যার উপরিভাগে তিতির পাখির ডানার ন্যায় নকশা ফুটে ওঠে।
তার মধ্য হতে কিছু কবিতা:
হে রাজ্যের সান্ত্বনাদাতা যখন দিনগুলো আতঙ্কিত
… এবং আপনি অবিচল সাহসী যখন মৃত্যুর সময়গুলো ভীত-সন্ত্রস্ত।
যদি সময় ইনসাফ করত অথবা তার আচরণ কোমল হতো
… তবে আমি আপনার নিকট অশ্বারোহী বাহিনী ও সেবকদের অধিকারী হতাম।
আল্লাহর জন্যই চমৎকার সে শব্দের মুক্তামালা যা ঝরে পড়ছে
… যদি তা রূপসীদের অলঙ্কার হতো, তবে তারা অলঙ্কারহীনতাকে পছন্দ করত না।
আর অর্থের এমন প্রস্রবণ, যদি তা দ্বারা ডাগর চক্ষুগুলোতে সুরমা লাগানো হতো
… তবে তা তাদের সুরমার মুখাপেক্ষিতা থেকে মুক্ত করে দিত।
চিন্তার এক জাদু, যদি তার নির্যাস সময়ের ওপর আবর্তিত হতো
… তবে সময় মদ্যপের ন্যায় টলটলায়মান অবস্থায় চলত।
১৩ - মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন হামদান, আল-খাব্বাজ আল-বালাদি আবু বকর নামে পরিচিততিনি জাজিরা অঞ্চলের 'বাল' নামক জনপদের অধিবাসী ছিলেন, যে অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত হলো মসুল। আর আবু বকর মুহাম্মদ বিন আহমাদ আল-খাব্বাজ এই জনপদের গৌরবময় সন্তানদের একজন। তাঁর একটি বিস্ময়কর দিক হলো, তিনি নিরক্ষর ছিলেন; অথচ তাঁর কাব্যকৃতি চমৎকারিত্ব, শিল্পশৈলী ও অনন্য বৈশিষ্ট্যে পরিপূর্ণ। তাঁর কোনো পঙক্তিই সুন্দর অর্থ থেকে শূন্য নয়।
(খণ্ড: ১)
আল-মুহাম্মাদূনা মিনাশ শুয়ারা
(পৃষ্ঠা: ٤١)
أو مثل سائر، وهو القائل: سريع
بالَغتَ في شتمي وفي ذمِّي
… وما خَشِيتَ الشاعرَ الأُمِّي
جرَّبتَ في نفسِك سَمّاً فما
… أحمدتَ تجريبك للسمِّ
وكان حافظاً للقرآن مقتبساً منه في شعره، كقوله: طويل
ألا إنَّ إخواني الذين عهدتهم
… أفاعي رِمال لا تقصِّر عن لسعي
ظننتُ بهم خيراً فلمّا بلَوتُهم
… نزلتُ بوادٍ منهُم غير ذي زَرْعِ
وقوله: طويل
كأنَّ يميني حين حاولتُ بسطها
… لتوديع إِلفي والهوى يذرف الدمعا
يمينُ ابن عمران وقد حاول العصَا
… وقد حُوِّلتْ تلك العصا حيَّةً تسعى
وقائلة: هل تملك الصبر بعدم؟
… فقُلتُ لها: لا والذي أخرَج المَرْعى!
وقوله: خفيف
أَترى الجيرة الذين تَداعَوا
… بُكْرةً للزيال قبل الزوالِ!
علموا أنني مقيمٌ وقلبي
… راحلٌ فيهِمُ أمام الجمالِ
مثل صاع العزيز في أرحُلِ القَو
… مِ ولا يعلمون ما في الرحالِ
অথবা একটি প্রচলিত প্রবাদের মতো, আর তিনি সেই ব্যক্তি যিনি বলেছেন: দ্রুত ছন্দ
তুমি আমাকে গালিগালাজ ও নিন্দায় সীমা লঙ্ঘন করেছ
… অথচ তুমি এই উম্মী কবিকে ভয় পাওনি।
তুমি নিজের ওপর বিষ প্রয়োগ করে পরীক্ষা করেছ
… কিন্তু তোমার বিষের সেই পরীক্ষা প্রশংসনীয় হয়নি।
তিনি কুরআনের হাফেজ ছিলেন এবং নিজের কবিতায় তা থেকে উদ্ধৃতি দিতেন, যেমন তাঁর এই উক্তি: দীর্ঘ ছন্দ
জেনে রেখো, আমার সেই ভাইয়েরা যাদের আমি জানতাম
… তারা বালিয়াড়ির সেই বিষধর সর্প, যারা আমাকে দংশন করতে কোনো ত্রুটি করে না।
আমি তাদের সম্পর্কে সুধারণা পোষণ করেছিলাম, কিন্তু যখন তাদের পরীক্ষা করলাম
… তখন আমি তাদের এমন এক উপত্যকায় পেলাম যেখানে কোনো শস্য জন্মে না।
এবং তাঁর উক্তি: দীর্ঘ ছন্দ
আমার ডান হাতটি যেন তখন, যখন আমি তা প্রসারিত করতে চেয়েছিলাম
… আমার প্রিয়জনকে বিদায় জানাতে, আর অনুরাগ তখন অশ্রু বিসর্জন দিচ্ছিল।
ইবনে ইমরানের ডান হাতের মতো, যখন তিনি লাঠিটি ধরার চেষ্টা করেছিলেন
… অথচ সেই লাঠিটি তখন সচল সাপে পরিণত হয়েছিল।
এক নারী প্রশ্ন করল: তাদের বিরহে তোমার কি কোনো ধৈর্য আছে?
… আমি তাকে বললাম: না, সেই সত্তার কসম যিনি চারণভূমি উৎপন্ন করেছেন!
এবং তাঁর উক্তি: লঘু ছন্দ
তুমি কি সেই প্রতিবেশীদের দেখেছ যারা একে অপরকে আহ্বান করছিল
… দ্বিপ্রহরের আগেই ভোরে বিদায় নেওয়ার জন্য!
তারা জানত যে আমি রয়ে গিয়েছি, অথচ আমার হৃদয়
… উটগুলোর সামনে দিয়ে তাদের সাথেই চলে যাচ্ছে।
যেন কওমের আসবাবপত্রের মধ্যে আজিজের (রাজার) পরিমাপপাত্র
… অথচ তারা জানে না সেই আসবাবপত্রের ভেতরে কী আছে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুহাম্মাদূনা মিনাশ শুয়ারা
(পৃষ্ঠা: ٤٢)
وقوله: كامل
سار الحبيبُ وخلَّف القلبا
… يُبدي العزاءَ ويُضمِر الكربا
قد قلتُ إذْ سار السفينُ بهم
… والشوق ينهب مُهجتي نَهْبا
لو أنَّ لي عزّاً أَصُولُ بهِ
… لأخذتُ كلَ سَفينةٍ غَصْبا
وكان يتشيَّع، ويتمثل في شعره بما يدل على مذهبه كقوله: كامل مجزوء
وحمائم نَبَّهْنَني
… والليل داجي المشرقينِ
شبّهتُهُنَّ وقد بَكَيْ
… نَ وما ذرفن دموع عَيْنِ
بنساءِ آل محمّدٍ
… لما بكين على الحُسينِ
وكقوله: وافر
جحدت ولاءَ مولاي عليّ
… وقَدَّمْتَ الدَّعِيَّ على الوصيِّ
متى ما قلت: إن السيف أمضى
… من اللحظات في قلب الشجيِّ؟
لقد فعلتْ جفونك في البرايا
… كفعل يزيد في آل النبيِّ
14 - محمد بن أحمد بن البَرَاء بن المبارك أبو الحسن العبديالقاضي، أحد العلماء ومشائخ الحديث، وله أدب وفيه فضل، روى عن جماعة من مشائخ زمانه، وروى عنه جماعة، كتب إليَّ الكندي
তাঁর উক্তি (কামিল ছন্দে):
তাঁর প্রিয়তমা চলে গেলেন এবং তিনি হৃদয়কে পেছনে ফেলে গেলেন
… তিনি ধৈর্য প্রকাশ করছেন আর দুঃখ গোপন করছেন।
আমি বললাম যখন জাহাজটি তাদের নিয়ে চলতে শুরু করল
… আর বিরহ-আকাঙ্ক্ষা আমার প্রাণবায়ু ছিনিয়ে নিচ্ছিল।
আমার যদি এমন কোনো শক্তি থাকত যা দিয়ে আমি প্রভাব খাটাতে পারতাম
… তবে আমি প্রতিটি জাহাজকে জোরপূর্বক দখল করে নিতাম।
তিনি শিয়া মতাবলম্বী ছিলেন এবং তাঁর কবিতায় তাঁর মাযহাবের পরিচায়ক পঙক্তি ব্যবহার করতেন, যেমন তাঁর এই উক্তি (কামিল মাজজু ছন্দে):
আর ঘুঘুরা আমাকে সজাগ করে দিল
… যখন রাত ছিল দিগন্তজোড়া অন্ধকারময়।
আমি তাদের তুলনা করলাম যখন তারা কাঁদছিল
… অথচ তাদের চোখ থেকে অশ্রু ঝরছিল না।
মুহাম্মদ (সা.)-এর পরিবারের নারীদের সাথে
… যখন তারা হুসাইনের জন্য বিলাপ করছিলেন।
এবং তাঁর উক্তি (ওয়াফির ছন্দে):
তুমি আমার মাওলা আলীর আনুগত্য অস্বীকার করেছ
… এবং একজন অখ্যাত ব্যক্তিকে মনোনীত উত্তরসূরির ওপর প্রাধান্য দিয়েছ।
আমি কখন বলেছি যে তলোয়ার বেশি তীক্ষ্ণ
… ব্যথিতের হৃদয়ে চোখের পলকের আঘাতের চেয়ে?
তোমার চোখের পলক সৃষ্টিজগতের সাথে তেমনটিই করেছে
… যেমনটি ইয়াজিদ করেছিল নবীর পরিবারের সাথে।
১৪ - মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন আল-বারা বিন আল-মুবারক আবুল হাসান আল-আবদিতিনি ছিলেন বিচারক, আলেমগণের অন্যতম এবং হাদিসের শায়খদের একজন। তাঁর সাহিত্যিক জ্ঞান ও বিশেষ মর্যাদা ছিল। তিনি তাঁর সমসাময়িক একদল শায়খের কাছ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর কাছ থেকে একদল রাবী বর্ণনা করেছেন। আল-কিন্দি আমার কাছে লিখেছেন:
(খণ্ড: ১)
আল-মুহাম্মাদূনা মিনাশ শুয়ারা
(পৃষ্ঠা: ٤٣)
حدثنا القزاز، أنبأنا أحمد بن علي، أنبأنا القاضي أبو العلاء الواسطي، حدثنا محمد بن أحمد بن حمّاد بن سفر الكوفي، حدثنا أحمد بن إسماعيل الكندي، حدثني أبو جعفر بن البراء قال: اتصل بعمّي أبي الحسن عن القاضي إسماعيل بن إسحاق شيء، فعزم إسماعيل على الركوب إليه، فبادره عمي أبو الحسن بالركوب، فلما دخل أنشأ يقول: طويل
صَفَحت برغمي عنك صَفْح ضرورة
… إليك وفي قلبي نُدوبٌ من العَتْبِ
فأجابه إسماعيل: طويل
ولا زالَ بي شوقٌ إليك مبرّحٌ
… يُذلّلُ مني كلّ ممتنع صَعْب
وبالإسناد: أنبأنا الخطيب أحمد بن علي، أنبأنا محمد بن عبد الواحد أبو عبد الله، حدثنا محمد أبي العباس الخزاز قال: قُرىء على أبا الحسين ابن المنادي وأنا أسمع، قال: توفي محمد بن أحمد بن البراء سنة إحدى وتسعين ومائتين قال الخطيب: وكذلك قرأت بخط محمد بن مَخْلَد الدُّوري، وزاد في شوّال.
15 - محمد بن أحمد بن القاسم، أبو علي الرُّوْذَباريمن كبار الصوفية، سكن مصر وكان من أهل الفضل والفهم،
আল-কায্যায আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ বিন আলী আমাদের অবহিত করেছেন, কাযী আবুল আলা আল-ওয়াসিতী আমাদের অবহিত করেছেন, মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন হাম্মাদ বিন সাফার আল-কুফী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ বিন ইসমাঈল আল-কিন্দি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু জাফর বিন আল-বারা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার চাচা আবুল হাসানের কাছে কাযী ইসমাঈল বিন ইসহাক সম্পর্কে কোনো একটি খবর পৌঁছেছিল, তাই ইসমাঈল তাঁর কাছে যাওয়ার সংকল্প করলেন। তখন আমার চাচা আবুল হাসানই নিজে তাঁর কাছে আগেভাগে চলে গেলেন। যখন তিনি প্রবেশ করলেন, তখন তিনি এই কবিতা আবৃত্তি করলেন: তবিল
আমি অনিচ্ছা সত্ত্বেও আপনাকে ক্ষমার অযোগ্য ক্ষমা করেছি
… আপনার প্রতি আমার হৃদয়ে অনুযোগের ক্ষতচিহ্ন থাকা সত্ত্বেও।
ইসমাঈল উত্তরে বললেন: তবিল
আপনার প্রতি আমার তীব্র ব্যাকুলতা সর্বদা অব্যাহত থাকবে
… যা আমার প্রতিটি কঠিন ও অনমনীয় জেদকে নমিত করে দেয়।
এবং একই সূত্রে: খতীব আহমাদ বিন আলী আমাদের অবহিত করেছেন, মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আবু আব্দুল্লাহ আমাদের অবহিত করেছেন, মুহাম্মাদ আবু আব্বাস আল-খায্যায আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবুল হুসাইন ইবনুল মুনাদী-র সামনে পাঠ করা হচ্ছিল এবং আমি তা শুনছিলাম, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন আল-বারা দুইশত একানব্বই হিজরী সনে মৃত্যুবরণ করেন। খতীব বলেন: একইভাবে আমি মুহাম্মাদ বিন মাখলাদ আদ-দুরী-র হস্তাক্ষরেও পড়েছি, এবং তিনি শাওয়াল মাসের কথা অতিরিক্ত উল্লেখ করেছেন।
১৫ - মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন আল-কাসিম, আবু আলী আর-রূজবারীতিনি প্রখ্যাত সুফীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, মিসরে বসবাস করতেন এবং তিনি ছিলেন মর্যাদা ও প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১)
আল-মুহাম্মাদূনা মিনাশ শুয়ারা
(পৃষ্ঠা: ٤٤)
وله تصانيف حسان في التصوّف نُقلت عنه، وفي الناس من يسميه أحمد وهو وَهْم، وإنما هو محمد ذكره غير واحد، قال: وهو محمد بن أحمد ابن القاسم بن منصور بن شهريار بن مهرفاذار في قُرُعْدُذْ بن كسرى، وكان إماماً ويدعى الفرّار. أنبأنا أحمد بن علي بن مهدي قال: أنشدنا، أبو الفرج الورثاني الصوفي قال: أنشدني محمد بن عبد العزيز الصوفي قال أحمد ابني الحسين - وقد رأيته ولم أسمع منه - قال أنشدني أبو علي الرُّوْذباري: طويل
أُنزِّهُ في روضِ المحاسن مُقلتي
… وأَمنعُ نفسي أن تنال المحرَّمَا
وأحملُ من ثقل الهَوى ما لو انه
… على جامد الصلت الأصمِّ تهدَّما
ويُظهر سِرِّي من مترجم خاطري
… فلولا اختلاسُ الطرف عنه تكلَّمَا
رأيتُ الهوى دَعْوَى من الناسِ كلّهم
… فما إن أرى حبّاً صحيحاً مُسَلَّمَا
وبالإسناد قال الخطيب أحمد بن علي: أنشدني أبو طالب يحيى بن علي ابن الطيب الدسكري بحُلوان للرُّوْذبارِي: بسيط
ولو مضى الكل مني لم يكن عجباً
… وإنما عجَبي للبعض كيف بقِي
أَدْرِكْ بقيّةَ روحٍ فيك قد تَلِفَتْ
… قبل الفِراق فهذا آخر الرَّمَقِ
وبالإسناد قال الخطيب أحمد بن علي بن ثابت بن مهدي: حدثني محمد بن أبا الحسن، أخبرني أبو الحسن محمد بن العباس بن عبد الملك المعَدَّل بصُور قال حدثنا أبو القاسم عبد السلام بن محمد المخرمي بمكة قال:
তাসাউউফ (সুফিবাদ) বিষয়ে তাঁর চমৎকার কিছু সংকলন রয়েছে যা তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে। মানুষের মধ্যে কেউ কেউ তাঁকে আহমদ নামে অভিহিত করেন, তবে এটি একটি ভুল ধারণা। বরং তাঁর নাম হলো মুহাম্মদ, যা একাধিক ব্যক্তি উল্লেখ করেছেন। বলা হয়েছে: তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন আহমদ ইবনুল কাসিম বিন মনসুর বিন শাহরিয়ার বিন মিহরফাযার বিন কুরুইদুদ বিন কিসরা। তিনি একজন ইমাম ছিলেন এবং তাঁকে আল-ফাররার নামে ডাকা হতো। আহমদ বিন আলী বিন মাহদী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল ফরাজ আল-ওয়ারসানি আস-সুফি আমাদের কবিতা আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ আস-সুফি আমাকে কবিতা আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন, আহমদ ইবনুল হোসাইন বলেন—আমি তাঁকে দেখেছি কিন্তু তাঁর থেকে কোনো বর্ণনা শুনিনি—তিনি বলেন: আবু আলী আর-রূদবারী আমাকে আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন (তওয়ীল ছন্দ):
আমি সৌন্দর্যের উদ্যানে আমার দৃষ্টিকে পবিত্র রাখি
… এবং আমার নফসকে নিষিদ্ধ বিষয় অর্জন করা থেকে বিরত রাখি।
আর আমি ভালোবাসার এমন ভার বহন করি যা যদি
… কোনো সুদৃঢ় ও নিরেট পাহাড়ের ওপর রাখা হতো তবে তা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যেত।
আমার হৃদয়ের অনুবাদক (ভাবভঙ্গি) আমার গোপন রহস্য প্রকাশ করে দেয়
… যদি তা থেকে দ্রুত দৃষ্টি সরিয়ে নেওয়া না হতো তবে তা কথা বলে উঠত।
আমি দেখেছি ভালোবাসা সকল মানুষের মাঝে কেবল একটি মৌখিক দাবি
… তাই আমি কোনো সঠিক ও নিখাদ ভালোবাসা দেখতে পাই না।
এবং পূর্বোক্ত সনদে খতীব আহমদ বিন আলী বলেন: আবু তালিব ইয়াহইয়া বিন আলী ইবনুত তাইয়িব আদ-দাসকারী হুলওয়ানে আমাকে আর-রূদবারীর কবিতাটি আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন (বাসীত ছন্দ):
যদি আমার সবকিছু নিঃশেষ হয়ে যেত তবে তা আশ্চর্যের কিছু হতো না
… বরং আমার বিস্ময় এই যে, আমার কিছু অংশ কীভাবে এখনও অবশিষ্ট রয়েছে!
বিচ্ছেদের পূর্বেই তোমার সেই বিলীয়মান প্রাণের অবশিষ্টাংশকে রক্ষা করো
… কারণ এটাই শেষ নিঃশ্বাস।
এবং পূর্বোক্ত সনদে খতীব আহমদ বিন আলী বিন সাবিত বিন মাহদী বলেন: মুহাম্মদ বিন আবুল হাসান আমাকে বর্ণনা করেছেন, সুর নগরে আবুল হাসান মুহাম্মদ বিন আব্বাস বিন আব্দুল মালিক আল-মুয়াদ্দাল আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মক্কায় আবুল কাসিম আব্দুস সালাম বিন মুহাম্মদ আল-মাখরামী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১)
আল-মুহাম্মাদূনা মিনাশ শুয়ারা
(পৃষ্ঠা: ٤٥)
أنشدنا أبو علي محمد بن أحمد الرُّوذباري لنفسه: بسيط
إني أُجلُّكَ عن رُوحي وأبذلها
… فداءَ عبدكَ حالٌ أنت واهِبُها
وكيف تفديك روحٌ أنت تملكها
… وقد مننتَ على من يفتديك بِها؟
قال: وأنشدنا أبو علي الروذباري لنفسه أيضاً: بسيط
لو كل جارحة مني لها لغةٌ
… تثني عليكَ بما أوليت من حَسنِ
لكان مازان شكري إذ أشَرت به
… إليك أجمل في الإحسانِ والمِنَنِ
وبالإسناد قال الخطيب أحمد بن علي: حدثني محمد بن أبي الحسن، أنبأني محمد بن العباس المعدل قال: أنشدنا أبو القاسم عبد السلام بن محمد قال أنشدني أبو علي الروذباري لنفسه: خفيف
كم نَعِمنا بِغُلّة الأشجان
… وجرينا مع الهَوى في عِنان
وشربْنا في روضةِ العطفِ صرفا
… من نعيم الوِصالِ في كتمانِ
ونسيمٌ للأنس في ظلِّ عيشٍ
… تحتَ سَجْف من لحْظِ طَرْف الزمانِ
بك تاجُ الوفاء بالودِّ لاحتْ
… فيه أنوَار بَهْجةِ الإحسانِ
وبالإسناد قال الخطيب: أخبرنا اسمإعيل بن أحمد الحيري، أنبأنا محمد ابن الحسين السلمي قال: سمعت الحسين بن أحمد يقول: توفي أبو علي الروذباري سنة اثنتين وعشرين وثلاثمائة. قال محمد: وذكر أبو زرعة الطبري أنه مات سنة ثلاث وعشرين وثلاثمائة.
16 - محمد بن أحمد بن عبد الله بن أحمد بن الوليد المتكلم أبو علي من أهل الكرخ، شيخ المعتزلة، والداعية إلى رأيهم، وكان له شعر،
আবু আলী মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-রূদবারী আমাদের কাছে তাঁর নিজের রচিত কিছু কবিতা আবৃত্তি করেছেন: বাসীত ছন্দ।
নিশ্চয়ই আমি আপনাকে আমার প্রাণের চেয়েও উচ্চ মর্যাদা দিই, তবুও আমি তা উৎসর্গ করি
… আপনার দাসের পক্ষ থেকে মুক্তিপণ হিসেবে, এটি এমন এক অবস্থা যা আপনিই দান করেছেন।
আর এমন এক প্রাণ কীভাবে আপনার জন্য মুক্তিপণ হতে পারে যার মালিক আপনিই
… অথচ আপনিই তার ওপর অনুগ্রহ করেছেন যে তা দিয়ে আপনাকে মুক্তিপণ দিতে চায়?
তিনি বলেন: আবু আলী আল-রূদবারী আমাদের কাছে তাঁর নিজের রচিত আরও কিছু কবিতা আবৃত্তি করেছেন: বাসীত ছন্দ।
যদি আমার প্রতিটি অঙ্গের একটি করে ভাষা থাকত
… যা আপনার দেওয়া কল্যাণের জন্য আপনার প্রশংসা করত।
তবে আমার কৃতজ্ঞতা যা দ্বারা আমি আপনার দিকে ইঙ্গিত করেছি
… তা আপনার ইহসান ও অনুগ্রহরাশির মধ্যে আরও সুন্দর হয়ে উঠত।
সনদসহ খতীব আহমদ বিন আলী বলেন: মুহাম্মদ বিন আবুল হাসান আমাকে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন আব্বাস আল-মুয়াদ্দাল আমাকে জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল কাসিম আবদুস সালাম বিন মুহাম্মদ আমাদের কাছে আবৃত্তি করেছেন, তিনি বলেন: আবু আলী আল-রূদবারী আমার কাছে তাঁর নিজের কিছু কবিতা আবৃত্তি করেছেন: খাফীফ ছন্দ।
কতই না আমরা দুঃখের দহনে তৃপ্ত হয়েছি
… এবং প্রবৃত্তির সাথে এক লাগামে চলেছি।
আর আমরা স্নেহের উদ্যানে নিছক পান করেছি
… মিলনের নেয়ামত থেকে অতি সংগোপনে।
আর জীবনের ছায়াতলে হৃদ্যতার এক মৃদু হাওয়া
… মহাকালের চোখের পলকের আবরণের নিচে।
আপনার মাধ্যমেই ভালোবাসার প্রতি আনুগত্যের মুকুট প্রকাশিত হয়েছে
… যাতে ইহসানের প্রফুল্লতার আলো উদ্ভাসিত।
সনদসহ খতীব বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাইল বিন আহমদ আল-হীরী, আমাদের জানিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন আস-সুলামী, তিনি বলেন: আমি হুসাইন বিন আহমদকে বলতে শুনেছি: আবু আলী আল-রূদবারী ৩২২ হিজরী সনে মৃত্যুবরণ করেন। মুহাম্মদ বলেন: আবু যুরআ আত-তাবারী উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ৩২৩ হিজরী সনে মারা যান।
১৬ - মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন আল-ওয়ালিদ আল-মুতাকাল্লিম আবু আলী, কারখ অধিবাসী, মুতাযিলাদের শায়খ এবং তাদের মতাদর্শের প্রচারক, এবং তাঁর কিছু কবিতা ছিল,
(খণ্ড: ১)
আল-মুহাম্মাদূনা মিনাশ শুয়ারা
(পৃষ্ঠা: ٤٦)
كتب إليَّ أبو المظفر عبد الرحيم أنبأنا والدي تاج الإسلام، حدثنا إسماعيل ابن أحمد بن عمر الحافظ إملاء من أصله، أنبأنا أبو علي بن الوليد إجازة في جملة أشعاره سريع
أيا رئيساً بالمعالي ارتدى
… واستخدم العيّوقَ والفرقدَا
مالِيَ لا أجري على مُقتضى
… مودّةٍ طال عليها المَدى؟
إنْ غبتُ لم أُطلَب، وهذا سُليمان بن داود نبيُّ الهُدى
تفقَّدَ الطيرَ على مُلكه
… فقال: ما لِيْ لا أرى الهدهدا
توفي أبو علي الوليد في سنة نيف وثمانين وأربعمائة.
17 - محمد بن أحمد بن محمد بن سعيد بن إبراهيم بن نبهان أبو الفرج بن أبي المظفَّر بن أبي علي.
من أهل الكرخ، من بيت الرواية والحديث، حدث هو وأبوه وجده، وأبو الفرج هذا كان شاعراً يقول الشعر ويمدح به، أقول كتب إليّ محمد ابن سعيد بن يحيى الدُّبَيْثيّ، أنشدني أبو بكر عبد الله بن أحمد بن محمد المقريءُ قال: أنشدنا أبو الفرج محمد في أحمد في نبهان لنفسه وقد ترك قول الشعر: متقارب:
تركتُ القريضَ لمن قالَه
… وَجُودَ فلانِ وإفضالَهُ
আবু আল-মুজাফফর আবদুর রহিম আমার নিকট লিখেছেন যে, আমার পিতা তাজুল ইসলাম আমাদের অবহিত করেছেন, ইসমাইল ইবনে আহমদ ইবনে উমর আল-হাফিজ তাঁর মূল পাণ্ডুলিপি থেকে আমাদের শ্রুতলিপি প্রদান করেছেন, আবু আলি ইবনুল ওয়ালিদ তাঁর কবিতার সংকলনের অন্তর্ভুক্ত বিষয়াদি থেকে আমাদের ইজাজত প্রদান করেছেন (ছন্দ: সারি‘):
হে নেতা, যিনি সুউচ্চ মর্যাদাকে চাদর হিসেবে পরিধান করেছেন
… এবং আল-আইয়ুক ও আল-ফারকাদ নক্ষত্রদ্বয়কে নিজ সেবায় নিয়োজিত করেছেন।
আমার কী হলো যে, আমি সেই দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের দাবি অনুযায়ী চলছি না?
যদি আমি অনুপস্থিত থাকি তবে আমাকে খোঁজ করা হয় না, অথচ এই যে হিদায়াতের নবী সুলায়মান ইবনে দাউদ—
তিনি তাঁর রাজত্বকালে পাখিদের খোঁজখবর নিয়েছিলেন
… এবং বলেছিলেন: "আমার কী হলো যে আমি হুদহুদ পাখিকে দেখছি না?"
আবু আলি আল-ওয়ালিদ চারশত আশি ও কিছু বছর হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।
১৭ - মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে নাবহান আবু আল-ফারাজ ইবনে আবিল মুজাফফর ইবনে আবি আলি।
তিনি কারখ অঞ্চলের অধিবাসী এবং হাদিস বর্ণনা ও রিওয়াতের পরিবারের সন্তান। তিনি, তাঁর পিতা ও তাঁর দাদা হাদিস বর্ণনা করেছেন। এই আবু আল-ফারাজ একজন কবি ছিলেন, তিনি কবিতা রচনা করতেন এবং এর দ্বারা প্রশংসা করতেন। আমি বলছি, মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ ইবনে ইয়াহইয়া আদ-দুবাইসি আমার নিকট লিখেছেন, আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-মুকরি আমাকে শুনিয়েছেন যে, তিনি বলেছেন: আবু আল-ফারাজ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে নাবহান তাঁর নিজের রচিত কবিতা আমাদের শুনিয়েছেন, এমতাবস্থায় যে তিনি তখন কবিতা রচনা ছেড়ে দিয়েছিলেন (ছন্দ: মুতাকারিব):
আমি কবিতা যারা রচনা করে তাদের জন্যই তা ছেড়ে দিয়েছি
… এবং অমুকের দান ও অনুগ্রহকেও (বর্জন করেছি)।
(খণ্ড: ১)
আল-মুহাম্মাদূনা মিনাশ শুয়ারা
(পৃষ্ঠা: ٤٧)
وتُبتُ من الشعر لمّا رَأيْ
… تُ كسادَ القريضِ وإهمالهُ
وعُدتُ، إلى منزلي واثقاً
… بربٍّ يرى الخلق سؤَّالَهُ
فجد ابنِ نبهانَ يرجو الإلهَ يمحّص عنه الذي قالَهُ
من الكذب في نَظمه للقريض فربّي كريمٌ لمن سالَهُ
ولد في سنة ست وثمانين وأربعمائة وقيل سنة سبع وثمانين ومات سنة ثمانين وخمسمائة.
18 - محمد بن أحمد بن محمد بن أحمد بن محمد بن اسحاق بن الحسن بن منصور بن معاوية بن محمد بن عثمان بن عقبة بن عَنْبسة بن أبا سفيان صخر بن حربا الأمويّ، العَبْشَميُّ أبو المظفَّر بن أبي العباس الأبِيوَرْديُّ المعاويّ.
أوحد عصره، وفريد دهره في معرفة اللغة والأنساب وغير ذلك، وأورد في شعره ما عجز عنه الأوائل من معان لم يُسبق إليها، وأَليَقُ ما وصف به بيت أبي العلاء المعري طويل
وإني وإن كنتُ الأخيرَ زمانُهُ
… لآتٍ بما لم تستطِعْهُ الأوائلُ
যখন আমি কাব্যকলার স্থবিরতা ও তার প্রতি অবহেলা দেখলাম, তখন আমি কবিতা রচনা থেকে তওবা করলাম।
আমি আমার ঘরে ফিরে এলাম এমন এক রবের ওপর ভরসা করে, যিনি মাখলুকাতকে তাঁর নিকট যাঞ্চাকারী হিসেবে দেখেন।
ইবনে নাবহানের পিতামহ আল্লাহর কাছে আশা রাখেন যে, তিনি যা বলেছিলেন তা থেকে তাকে পবিত্র করবেন।
তার কাব্য রচনার মধ্যকার মিথ্যা থেকে; কেননা আমার রব তাঁর কাছে প্রার্থনাকারীর প্রতি অত্যন্ত দয়ালু।
তিনি চারশত ছিয়াশি হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন, কারো মতে চারশত সাতাশি হিজরি সনে এবং পাঁচশত আশি হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।
১৮ - মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন হাসান বিন মনসুর বিন মুয়াবিয়া বিন মুহাম্মদ বিন উসমান বিন উকবা বিন আম্বাসা বিন আবু সুফিয়ান সাখর বিন হারব আল-উমায়্যি, আল-আবশামি আবু আল-মুজাফফর বিন আবি আল-আব্বাস আল-আবিওয়ার্দি আল-মুয়াবি।
তিনি ছিলেন তাঁর যুগের অদ্বিতীয় এবং নিজ সময়ের অনন্য ব্যক্তিত্ব—ভাষা জ্ঞান, বংশবিদ্যা এবং অন্যান্য বিষয়ে। তিনি তাঁর কবিতায় এমন সব অর্থ নিয়ে এসেছেন যা পূর্ববর্তীরা করতে অক্ষম ছিলেন এবং তাঁর আগে কেউ তা করেননি। তাঁর বর্ণনায় আবুল আলা আল-মাআররির এই চরণটি সর্বাধিক উপযুক্ত:
আমি যদিও সময়ের বিচারে সবার শেষে এসেছি, তবুও আমি এমন কিছু নিয়ে এসেছি যা পূর্ববর্তীরা করতে সক্ষম হননি।