(খণ্ড: ১)
আল-আরীজ ফি ইলমি উসুলিত তাখরীজ
(পৃষ্ঠা: -)
الأريج في علم أصول التخريج القسم: علوم الحديث
الكتاب: الأريج في علم أصول التخريج
(كيف تخرج حديث رسول الله -صلى الله عليه وسلم-)
المؤلف: منصور بن عبد الحميد النجار
راجعه وقدم له: مصطفى بن العدوي
الناشر: مكتبة العلوم والحكم
الطبعة: الأولى، 1431 هـ - 2010 م
عدد الصفحات: 208
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 29 جُمادَى الآخرة 1445
ইলমে উসূলুত তাখরীজ শাস্ত্রের সুগন্ধি বিভাগ: উলূমুল হাদীস (হাদীস শাস্ত্র)
বই: ইলমে উসূলুত তাখরীজ শাস্ত্রের সুগন্ধি
(কীভাবে আল্লাহর রাসূলের -তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক- হাদীস তাখরীজ করবেন)
লেখক: মনসুর বিন আব্দুল হামীদ আন-নাজ্জার
পর্যালোচনা ও ভূমিকা: মোস্তফা বিন আল-আদাভী
প্রকাশক: মাকতাবাতুল উলূম ওয়াল হিকাম
সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩১ হিজরী - ২০১০ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২০৮
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৯ জুমাদিউল আখিরা ১৪৪৫
(খণ্ড: ১)
আল-আরীজ ফি ইলমি উসুলিত তাখরীজ
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
تقديم فضيلة الشيخمصطفى بن العدوي حفظه اللهالحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله، وبعد:
فهذا مبحث في تخريج أحاديث رسول الله صلى الله عليه وسلم من مصادرها، وكذا الآثار عن صحابته الكرام رضي الله عنهم للتسهيل على الباحث عن سنة نبيه محمد صلى الله عليه وسلم وأقوال صحابته الكرام رضي الله عنهم أعدَّه أخي في الله منصور النجار - حفظه الله - وأخونا منصور - حفظه الله - ممن جالسونا مدةً ليست بالقصيرة، وعهدناه ذا خُلُق كريم حسن ولا أزكيه على الله فالله حسيبه، وكذا عهدته حريصًا على نفع إخوانه، وقد نظرت في عمله هذا نظرةً سريعةً فألفيته نافعًا.
فالله أسأل أن يوفقه لمزيد من طلب العلم الشرعي، والدعوة إلى الله، وأن يبارك فيه وفي جهده.
وصلِّ اللهم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسَلِّم.
والحمد لله رب العالمين.
كتبه
أبو عبد الله
مصطفى بن العدوي
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
শ্রদ্ধেয় শাইখমুস্তফা বিন আল-আদাউয়ী (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন)-এর ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের উপর, অতঃপর:
এটি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীসসমূহকে তাদের মূল উৎস থেকে তাখরীজ করার এবং একইভাবে তাঁর সম্মানিত সাহাবীগণ (আল্লাহ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হোন)-এর আসারসমূহ বের করার বিষয়ে একটি গবেষণা, যা নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ এবং তাঁর সম্মানিত সাহাবীগণের বাণীর অনুসন্ধানকারীদের জন্য সহজ করার লক্ষ্যে প্রণীত হয়েছে। এটি প্রস্তুত করেছেন আল্লাহর পথে আমার ভাই মানসুর আল-নাজ্জার - আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন -। আমাদের ভাই মানসুর - আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন - সেই সকল ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যারা দীর্ঘকাল আমাদের সান্নিধ্যে অতিবাহিত করেছেন। আমরা তাঁকে উত্তম ও সুন্দর চরিত্রের অধিকারী হিসেবে জানি; তবে আমি আল্লাহর সামনে কারো পবিত্রতা বর্ণনা করছি না, আল্লাহই তাঁর হিসাব গ্রহণকারী। তদ্রূপ আমি তাঁকে তাঁর ভাইদের উপকারে আগ্রহী হিসেবে পেয়েছি। আমি তাঁর এই কর্মটির ওপর একটি দ্রুত দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছি এবং একে উপকারী পেয়েছি।
তাই আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন তাঁকে আরও অধিক শারঈ ইলম অর্জন এবং আল্লাহর পথে দাওয়াতের তাওফীক দান করেন, এবং তাঁর মাঝে ও তাঁর প্রচেষ্টায় বরকত দান করেন।
হে আল্লাহ! আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীগণের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।
আর সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
লিখেছেন
আবু আব্দুল্লাহ
মুস্তফা বিন আল-আদাউয়ী
(খণ্ড: ১)
আল-আরীজ ফি ইলমি উসুলিত তাখরীজ
(পৃষ্ঠা: ৬)
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمةإن الحمد، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، مَنْ يهدهِ الله فلا مضل له، ومَن يضلل فلا هاديَ له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده، لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبدهُ ورسولُه.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران: 102].
{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء: 1].
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا (71)} [الأحزاب: 70، 71].
أما بعد:
فإن أصدق الحديث كتاب الله، وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة.
وبعد:
فهذه رسالة في «علم التخريج» وضعتها تذكرةً لي ولإخواني من طلبة العلم الشرعي، وسميتها «الأريج في علم التخريج»، وكما هو معلوم أن علم التخريج لم يكن معلومًا لدى المتقدمين، بل لم يُكتب فيه إلا في هذا العصر
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে হেদায়েত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আল ইমরান: ১০২]।
{হে মানবকুল! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচনা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} [আন-নিসা: ১]।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। (৭০) তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সফলতা অর্জন করবে। (৭১)} [আল-আহযাব: ৭০, ৭১]।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য বাণী আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশনা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পথনির্দেশনা। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো দ্বীনের মধ্যে নব উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, প্রতিটি নব উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত এবং প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা।
অতঃপর:
এটি ‘ইলমুত তাখরিজ’ (হাদিসের উৎস নির্ণয় বিদ্যা) বিষয়ক একটি পুস্তিকা, যা আমি আমার নিজের জন্য এবং আমার ইলমে দ্বীনের শিক্ষার্থী ভাইদের জন্য স্মারক হিসেবে প্রণয়ন করেছি। আমি এর নামকরণ করেছি ‘আল-আরীজ ফী ইলমিত তাখরীজ’। যেমনটি সর্বজনবিদিত যে, ইলমুত তাখরিজ প্রাচীনদের কাছে (স্বতন্ত্র শাস্ত্র হিসেবে) পরিচিত ছিল না, বরং বর্তমান যুগ ব্যতীত এ বিষয়ে তেমন কিছু লেখা হয়নি।
(খণ্ড: ১)
আল-আরীজ ফি ইলমি উসুলিত তাখরীজ
(পৃষ্ঠা: ৭)
الحديث، وأنه لما تنوعت الكتابة في هذا العصر في علم التخريج، تنوعت بتنوعها الأساليب والطرق، فاستعنت بالله عز وجل، ونظرت في كل ما وصل إلىَّ من كتب في هذا الفن متعلمًا ومسترشدًا، ثم أردت أن أسهم بشيء في هذا العمل، فبدأت في الكتابة في هذه الرسالة منتهجًا ما يلي:
1 - الاهتمام بالجانب العملي.
2 - الاختصار قدر الاستطاعة مع عدم الإخلال.
3 - عدم التوسع في التراجم لأصحاب الكتب؛ إذ أن المقام ليس مقام تراجم.
4 - بدأت الرسالة بمقدمة لطيفة بينت فيها تعريف علم التخريج، وبيان المراحل التي مر بها هذا العلم، ثم أتبعت ذلك بذكر فوائد معرفة هذا العلم، مبينًا الآداب التي يتحلى بها المُخَرِّج، وعَرَّفت في هذه المقدمة بعدة مصطلحات لا غنى لطالب الحديث عنها.
5 - ذكرت الطرق التي يمكن من خلالها تخريج الحديث إجمالًا، ثم شرعت في بيانها تفصيلًا، منتهجًا في ذكر الطريقة ما يلي:
- التعريف بالطريقة.
- ذكْر فوائد الطريقة.
- تفصيل مناهج العلماء في بعض هذه الكتب، مع ذكر كيفية التخريج من هذه الكتب.
6 - أتبعتُ هذه الطرق بفصل مختصر في كتب الرجال ضمنته بيان مناهج
হাদিস বিষয়ক; আর বর্তমান যুগে তাখরিজ শাস্ত্রে রচনার ধরণ বৈচিত্র্যময় হওয়ার কারণে এর পদ্ধতি ও পন্থাগুলোও বিচিত্র রূপ নিয়েছে। তাই আমি মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করেছি এবং এই শিল্পে আমার কাছে পৌঁছানো প্রতিটি গ্রন্থ শিক্ষাগ্রহণ ও দিকনির্দেশনা লাভের উদ্দেশ্যে গভীরভবে পর্যবেক্ষণ করেছি। অতঃপর আমি এই কাজে কিছু অবদান রাখার ইচ্ছা পোষণ করেছি। ফলে আমি নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করে এই রিসালাহটি (ক্ষুদ্র গ্রন্থ) লিখতে শুরু করেছি:
১ - ব্যবহারিক দিকের প্রতি গুরুত্বারোপ।
২ - মূল বিষয়ের ক্ষতি না করে যথাসম্ভব সংক্ষিপ্তকরণ।
৩ - গ্রন্থকারদের জীবনী আলোচনায় দীর্ঘসূত্রতা পরিহার করা; কারণ এটি জীবনী আলোচনার ক্ষেত্র নয়।
৪ - আমি একটি সুন্দর ভূমিকার মাধ্যমে এই রিসালাহটি শুরু করেছি, যাতে আমি তাখরিজ শাস্ত্রের সংজ্ঞা এবং এই শাস্ত্রটি যেসব স্তরের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে তা বর্ণনা করেছি। অতঃপর আমি এই শাস্ত্রটি জানার উপকারিতা উল্লেখ করেছি এবং একজন মুখাররিজের (তাখরিজকারী) যেসব আদব বা শিষ্টাচার থাকা উচিত তা বর্ণনা করেছি। এছাড়া এই ভূমিকায় আমি এমন কিছু পরিভাষা সংজ্ঞায়িত করেছি যা হাদিসের একজন শিক্ষার্থীর জন্য অপরিহার্য।
৫ - আমি সংক্ষেপে হাদিস তাখরিজ করার পদ্ধতিগুলো উল্লেখ করেছি এবং অতঃপর বিস্তারিত বর্ণনায় প্রবৃত্ত হয়েছি। প্রতিটি পদ্ধতি বর্ণনার ক্ষেত্রে আমি নিম্নোক্ত ধারা অনুসরণ করেছি:
- পদ্ধতির পরিচয় প্রদান।
- পদ্ধতির উপকারিতা উল্লেখ।
- এসব গ্রন্থের কয়েকটিতে ওলামায়ে কেরামের অনুসৃত কর্মপদ্ধতির বিস্তারিত বিবরণ এবং এই গ্রন্থগুলো থেকে তাখরিজ করার নিয়ম উল্লেখ।
৬ - এই পদ্ধতিগুলোর পরে আমি রিজাল শাস্ত্রের গ্রন্থগুলোর ওপর একটি সংক্ষিপ্ত পরিচ্ছেদ যুক্ত করেছি, যার মধ্যে আমি কর্মপদ্ধতির বর্ণনা অন্তর্ভুক্ত করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-আরীজ ফি ইলমি উসুলিত তাখরীজ
(পৃষ্ঠা: ৮)
بعض كتب الجرح والتعديل، وأنهيت هذا الفصل بذكر بعض الأسئلة في علم الرجال مع الجواب عنها.
هذا، وإني قد سألت المولى عز وجل أن يرزقني فيها حُسْن التقسيم والإيضاح.
كما أنه يجدر بي أن أنبه في هذا المقام على أن الرسالة لا تغني عن الشرح؛ فلا بد من التدريب العملي مع أحد المتخصصين في هذا العلم؛ فأن هذا العلم يعتمد في المرتبة الأولى على الخبرة والدربة وكثرة المران.
هذا وإن كنت قد وُفقت فمن الله وحده، وإن كانت الأخرى فمني ومن الشيطان والله ورسوله منه براء، وأسأل الله تبارك وتعالى أن يهبني غُنمها، وأن يتجاوز لي برحمته عن غُرمها، إنه ولي ذلك والقادر عليه.
وصلِّ اللهم وسَلِّم على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
والحمد لله رب العالمين.
كتبه
منصور بن عبد الحميد بن منصور آل النجار
ميت سلسيل - دقهلية - مصر
আল-জারহ ওয়াত-তাদিল সংক্রান্ত কিছু গ্রন্থ, এবং আমি এই অধ্যায়টি ইলমুর রিজাল বিষয়ক কিছু প্রশ্ন ও তার উত্তর প্রদানের মাধ্যমে সমাপ্ত করেছি।
আর আমি মহান রবের নিকট প্রার্থনা করেছি যেন তিনি আমাকে এতে উত্তম বিন্যাস ও সুস্পষ্ট বর্ণনার তাওফিক দান করেন।
এই স্থানে আমার এটি সতর্ক করে দেওয়া সমীচীন যে, এই রিসালাহটি ব্যাখ্যার মুখাপেক্ষীহীন নয়; সুতরাং এই বিদ্যায় কোনো বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা অপরিহার্য। কারণ, এই বিদ্যাটি প্রথমত অভিজ্ঞতা, দক্ষতা এবং অধিকতর অনুশীলনের ওপর নির্ভরশীল।
আমি যদি সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পেরে থাকি, তবে তা কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকে। আর যদি এর অন্যথা হয়, তবে তা আমার নিজের পক্ষ থেকে এবং শয়তানের পক্ষ থেকে; আল্লাহ ও তাঁর রাসুল তা থেকে মুক্ত। আমি আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাকে এর কল্যাণ দান করেন এবং নিজ রহমতে এর ত্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমা করে দেন। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান।
হে আল্লাহ! আপনি আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
আর সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
লেখক
মনসুর বিন আব্দুল হামিদ বিন মনসুর আল-নাজ্জার
মিত সালসিল - দাকাহলিয়্যাহ - মিশর
(খণ্ড: ১)
আল-আরীজ ফি ইলমি উসুলিত তাখরীজ
(পৃষ্ঠা: ৯)
تعريف التخريج
التخريج لغة: تقول: خرج خروجًا، أي: برز من مقره، فمادة خرج تدور في معناها حول الظهور والبروز، وعلى ذلك يكون التخريج لغة: «إبراز وإظهار ما كان خفيًا أو مستترًا»
(1).
و
اصطلاحًا: ابتداءً لا بد أن نذكر المراحل التي مر بها علم التخريج قبل أن نذكر التعريف؛ وذلك لأن التخريج شأنه شأن أي علم مر بمراحل وأطوار متعددة، فتعددت بناءً على ذلك تعريفاته، حيث إن كل مرحلة مر بها علم التخريج التعريفَ الخاص بها.
المرحلة الأولى: كان علم التخريج مقتصرًا في هذه المرحلة على ذكر الحديث بسنده، أو بأسانيده إن وُجد له عند المؤلف أكثر من إسناد.
المرحلة الثانية: ذكْر أسانيد أخرى لأحاديث كتاب معين، وهذا ما يسمى الآن بـ «الاستخراج».
المرحلة الثالثة: عَزْو الحديث إلى الكتب الموجودة فيها، مع بيان الحكم على هذا الحديث.
الحاصل: مما سبق يتبين أن للتخريج إطلاقين: إطلاقًا عند المتقدمين، وإطلاقًا عند المتأخرين.
--------------------------------------------
তাখরিজ-এর সংজ্ঞাশাব্দিক অর্থে তাখরিজ: আপনি বলেন: সে বের হয়েছে বের হওয়া, অর্থাৎ: সে তার অবস্থান থেকে প্রকাশিত হয়েছে। সুতরাং 'খ-রা-জা' ধাতুটি এর অর্থের দিক থেকে প্রকাশ পাওয়া ও আত্মপ্রকাশ করাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়। সেই অনুযায়ী শাব্দিক অর্থে তাখরিজ হলো: «গোপন বা লুকায়িত বিষয়কে প্রকাশিত ও জাহির করা»
(১)।
এবং
পারিভাষিক অর্থে: শুরুতে, সংজ্ঞা প্রদানের পূর্বে তাখরিজ শাস্ত্রটি যে পর্যায়গুলো অতিক্রম করেছে তা উল্লেখ করা আবশ্যক; কারণ তাখরিজ শাস্ত্রটি অন্য যেকোনো শাস্ত্রের ন্যায় বিভিন্ন স্তর ও পর্যায় অতিক্রম করেছে, যার ফলে এর সংজ্ঞাসমূহও একাধিক হয়েছে। কেননা তাখরিজ শাস্ত্রের প্রতিটি অতিক্রান্ত পর্যায়ের নিজস্ব সংজ্ঞা রয়েছে।
প্রথম পর্যায়: এই পর্যায়ে তাখরিজ শাস্ত্রটি শুধুমাত্র হাদিসকে তার সনদসহ উল্লেখ করার মধ্যে, অথবা যদি লেখকের কাছে একাধিক সনদ থাকে তবে সেই সনদসমূহসহ উল্লেখ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।
দ্বিতীয় পর্যায়: কোনো নির্দিষ্ট কিতাবের হাদিসসমূহের জন্য অন্যান্য সনদ উল্লেখ করা, আর একেই বর্তমানে «আল-ইস্তিখরাজ» বলা হয়।
তৃতীয় পর্যায়: হাদিসটিকে যে সব কিতাবে তা রয়েছে সেগুলোর দিকে সম্বন্ধ করা এবং সেই সাথে হাদিসটির হুকুম বা মান বর্ণনা করা।
সারকথা: উপরোক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, তাখরিজ-এর দুটি প্রয়োগ রয়েছে: একটি মুতাক্বাদ্দিমীন বা পূর্বসূরীদের নিকট এবং অপরটি মুতাআখখিরীন বা পরবর্তী উত্তরসূরীদের নিকট।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আরীজ ফি ইলমি উসুলিত তাখরীজ
(পৃষ্ঠা: ১০)
فالتخريج عند المتقدمين: هو إيراد الحديث مسندًا إلى النبي صلى الله عليه وسلم.
ما عند المتأخرين: فهو عزو الحديث إلى مَنْ أخرجه من أصحاب المصادر الأصلية مع الحكم عليه.
العلاقة بين المعنى اللغوي، والاصطلاحيبَيَّنَّا أن المعنى اللغوي للتخريج هو: إظهار وإبراز ما كان خافيًا مستترًا، وهذا المعنى أيضًا ينطبق على المعنى الاصطلاحي؛ إذ إن الحديث قبل عزوه إلى المصادر الأصلية، وبيان درجته - كان مستورًا، وعمل المُخّرِّج هو البحث عن أسانيد هذا الحديث في مظانها، ثم يُظهر هذا بعد ذلك مصحوبًا بالحكم على الحديث.
পূর্ববর্তীদের নিকট তাখরিজ হলো: হাদিসকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত সনদসহ উল্লেখ করা।
আর পরবর্তীদের নিকট: তা হলো হাদিসকে মূল উৎসের অধিকারী সংকলকদের দিকে সম্বন্ধ করা এবং সেই সাথে হাদিসটির ব্যাপারে হুকুম প্রদান করা।
শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থের মধ্যকার সম্পর্কআমরা স্পষ্ট করেছি যে, তাখরিজের শাব্দিক অর্থ হলো: কোনো অপ্রকাশিত বা গুপ্ত বিষয়কে প্রকাশ ও উন্মোচন করা। এই অর্থটি পারিভাষিক অর্থের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য; কারণ হাদিসকে তার মূল উৎসসমূহের দিকে সম্বন্ধ করার এবং তার মান স্পষ্ট করার পূর্বে তা অপ্রকাশিতই থাকে। আর মুখাররিজের কাজ হলো হাদিসের সনদগুলো তার সম্ভাব্য উৎসস্থলসমূহে অনুসন্ধান করা এবং পরবর্তীতে হাদিসের হুকুমসহ তা প্রকাশ করা।
(খণ্ড: ১)
আল-আরীজ ফি ইলমি উসুলিত তাখরীজ
(পৃষ্ঠা: ১১)
موضوع علم التخريجمعرفة مصادر الحديث في الكتب الأصلية، مع بيان حالته من حيث الصحةُ والضعف.
أنواع المصادر:1 - مصادر أصلية: هي الكتب الحديثية المسندة إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم.
2 - مصادر فرعية: هي المؤلفات التي تستمد مادتها من المصادر الأصلية.
তখরীজ বিদ্যার আলোচ্য বিষয়মূল গ্রন্থসমূহে হাদীসের উৎসসমূহ অবগত হওয়া, এবং সহীহ ও যঈফ হওয়ার দিক থেকে তার অবস্থা বর্ণনা করা।
উৎসের প্রকারভেদ:১ - মৌলিক উৎসসমূহ: এগুলো হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত সনদসহ বর্ণিত হাদীস গ্রন্থসমূহ।
২ - শাখা উৎসসমূহ: এগুলো হলো সেই সকল গ্রন্থ যা মৌলিক উৎসসমূহ থেকে উপাদান গ্রহণ করে।
(খণ্ড: ১)
আল-আরীজ ফি ইলমি উসুলিত তাখরীজ
(পৃষ্ঠা: ১২)
أقسام المصادر الأصليةتنقسم المصادر الأصلية إلى كتب خاصة بعلم الحديث، وكتب خاصة بعلوم أخرى، وكلا القسمين يتميز بنقل الأخبار عن طريق السند، وإليك توضيح ذلك:
أ- الكتب الحديثية: هي التي اعتمد فيها مصنفوها اعتمادًا كليًّا على رواية الأحاديث بالأسانيد، وسيأتي بيانها عند ذكْر أنواع الكتب المصنفة في السنة.
ب- كتب الفنون الأخرى: وهي وإن كانت غير حديثية إلا أن مصنفيها يروون الأحاديث والآثار والحكايات بأسانيدهم أيضًا، وإليك الأمثلة:
1 - كتب التفسير المسندة: «تفسير عبد الرازق، تفسير ابن جرير الطبري، تفسير ابن أبي حاتم».
2 - كتب العقيدة المسندة: «السنة» للإمام أحمد، «التوحيد» لابن خزيمة، «الشريعة» للآجري.
3 - كتاب أصول فقه مسند: «الرسالة» للشافعي.
4 - كتاب فقه مسند: «الأم» للشافعي.
5 - كتاب لغة مسند: «تهذيب اللغة» للأزهري.
6 - كتب تواريخ البلدان المسندة: «تاريخ بغداد»، و «تاريخ دمشق».
7 - كتاب تاريخ مسند: «تاريخ الأمم والملوك» للطبري.
মৌলিক উৎসসমূহের প্রকারভেদমৌলিক উৎসসমূহ হাদিস শাস্ত্রের জন্য বিশেষায়িত গ্রন্থ এবং অন্যান্য শাস্ত্রের জন্য বিশেষায়িত গ্রন্থ—এই দুই ভাগে বিভক্ত। উভয় প্রকারের বৈশিষ্ট্য হলো সনদ বা বর্ণনাপরম্পরার মাধ্যমে সংবাদ বা বর্ণনা প্রদান করা। নিচে এর বিশদ বর্ণনা দেওয়া হলো:
ক- হাদিস বিষয়ক গ্রন্থসমূহ: এগুলো সেই সকল গ্রন্থ যাতে সংকলকগণ সম্পূর্ণরূপে সনদের ভিত্তিতে হাদিস বর্ণনার ওপর নির্ভর করেছেন। সুন্নাহর ওপর সংকলিত গ্রন্থসমূহের প্রকারভেদ আলোচনার সময় এগুলোর বিস্তারিত বিবরণ আসবে।
খ- অন্যান্য শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহ: এগুলো সরাসরি হাদিস বিষয়ক গ্রন্থ না হলেও, এদের সংকলকগণ হাদিস, আসার (সাহাবী ও তাবিঈদের বর্ণনা) এবং ঘটনাবলিও নিজ নিজ সনদের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। উদাহরণগুলো নিম্নরূপ:
১ - সনদযুক্ত তাফসির গ্রন্থসমূহ: «তাফসির আবদুর রাজ্জাক, তাফসির ইবনে জারির আত-তবারি, তাফসির ইবনে আবি হাতিম»।
২ - সনদযুক্ত আকিদা গ্রন্থসমূহ: ইমাম আহমাদ রহ.-এর «আস-সুন্নাহ», ইবনে খুজাইমা রহ.-এর «আত-তাওহিদ», আল-আজুররি রহ.-এর «আশ-শারিয়াহ»।
৩ - সনদযুক্ত উসূলুল ফিকহ গ্রন্থ: ইমাম শাফেয়ী রহ.-এর «আর-রিসালাহ»।
৪ - সনদযুক্ত ফিকহ গ্রন্থ: ইমাম শাফেয়ী রহ.-এর «আল-উম্ম»।
৫ - সনদযুক্ত ভাষাতত্ত্বের গ্রন্থ: আল-আজহারি রহ.-এর «তাহজিবুল লুগাহ»।
৬ - সনদযুক্ত অঞ্চলের ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থসমূহ: «তারিখে বাগদাদ» এবং «তারিখে দামেশক»।
৭ - সনদযুক্ত ইতিহাস গ্রন্থ: আত-তবারি রহ.-এর «তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক»।
(খণ্ড: ১)
আল-আরীজ ফি ইলমি উসুলিত তাখরীজ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
8 - كتب الرجال المسندة: «التاريخ الكبير» للبخاري، و «الطبقات» لابن سعد.
9 - كتاب مغازٍ مسند: «مغازي ابن إسحاق».
تنبيه: لا يصح للباحث العزو إلى الكتب الفرعية مع وجود الكتب الأصلية، أما إذا تَعَذَّر عليه وجود الكتاب الأصلي، اتخذ الكتاب الفرعي واسطة بينه وبين الكتاب الأصلي، ولكن بضوابط.
৮ - সনদভিত্তিক রিজাল (বর্ণনাকারী) শাস্ত্রের কিতাবসমূহ: বুখারীর «আত-তারীখুল কাবীর» এবং ইবনে সা'দের «আত-তাবাকাত»।
৯ - সনদভিত্তিক মাগাযী (যুদ্ধাভিযান) বিষয়ক কিতাব: «মাগাযী ইবনে ইসহাক»।
সতর্কবার্তা: মূল গ্রন্থসমূহ বিদ্যমান থাকতে কোনো গবেষকের জন্য মাধ্যমিক (গৌণ) গ্রন্থের দিকে রেফারেন্স প্রদান করা সমীচীন নয়; তবে যদি মূল গ্রন্থটি পাওয়া দুঃসাধ্য হয়, তবে নির্দিষ্ট কিছু নীতিমালা সাপেক্ষে তিনি মাধ্যমিক গ্রন্থটিকে মূল গ্রন্থ ও নিজের মাঝে মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করবেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আরীজ ফি ইলমি উসুলিত তাখরীজ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
أسباب تَعَذُّر وجود بعض الكتب الأصلية1 - عدم وجوده في عالم المخطوطات.
2 - عدم وجود نُسخ مطبوعة للكتاب، وصعوبة الحصول على النسخة الخطية.
3 - الظروف السياسية التي تمنع من انتشار بعض الكتب.
4 - الفقر في الناحية العلمية عند بعض الدول «ويمكن تلاشي هذا السبب الآن».
أمثلة لبعض الكتب والأجزاء التي لم نعثر عليها:1 - تفسير ابن مردويه.
2 - تفسير ابن المنذر.
3 - جزء من تفسير عبد بن حُميد.
4 - جزء من سنن سعيد بن منصور.
5 - جزء من السنن الكبرى للنسائي.
فائدة تتعلق بكتب الوسائط «الكتب الفرعية»:ليست كتب الوسائط كلها سواء، فيعضها أنفع من بعض، ومعنى ذلك أن
কিছু মূল গ্রন্থের দুষ্পাপ্যতার কারণসমূহ১ - পাণ্ডুলিপি বিশ্বে সেটির অস্তিত্ব না থাকা।
২ - গ্রন্থটির মুদ্রিত কপির অভাব এবং হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি সংগ্রহে বিশেষ জটিলতা।
৩ - রাজনৈতিক পরিস্থিতি যা কিছু গ্রন্থ ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হয়।
৪ - কিছু দেশের জ্ঞানতাত্ত্বিক অঙ্গনের দুর্বলতা «এবং বর্তমানে এই কারণটি বিলুপ্ত হওয়া সম্ভব»।
এমন কিছু গ্রন্থ ও খণ্ডের উদাহরণ যা আমরা খুঁজে পাইনি:১ - তাফসীর ইবনে মারদুওয়াইহ।
২ - তাফসীর ইবনুল মুনযির।
৩ - তাফসীর আবদ ইবনে হুমাইদ-এর একাংশ।
৪ - সুনান সাঈদ ইবনে মানসুর-এর একাংশ।
৫ - আন-নাসায়ী রচিত আস-সুনান আল-কুবরা-এর একাংশ।
মাধ্যমিক গ্রন্থাবলী «শাখা গ্রন্থসমূহ» সংক্রান্ত একটি বিশেষ জ্ঞাতব্য:সকল মাধ্যমিক গ্রন্থ সমান পর্যায়ের নয়, বরং কোনোটি অন্যটির চেয়ে অধিক ফলপ্রসূ। আর এর অর্থ হলো যে
(খণ্ড: ১)
আল-আরীজ ফি ইলমি উসুলিত তাখরীজ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
تجد بعض الكتب الفرعية إذا عَزَتْ إلى كتاب أصلي، نقلت الحديث بسنده الذي هو في الكتاب الأصلي، وبعضها تهتم فقط بنقل الحديث دون إسناده، وهذا يمثل فارقًا جوهريًّا؛ إذ إن الكتب التي نقلت الحديث بسنده تُعد نسخة من الكتاب الأصلي، وهذا يفيدك في مرحلة الحكم على الحديث.
• مثال لما سبق:
كتاب «الدر المنثور» للإمام السيوطي يعد كتابًا فرعيًّا، كذلك كتاب «تفسير ابن كثير»:
فأنت إذا ذهبت للبحث عن حديث من الأحاديث في «الدر المنثور» تجده يقول مثلًا: «أخرج ابن مردويه، وابن المنذر عن ابن عباس أنه قال في قوله تعالى: كذا».
أما إذا ذهبت إلى تفسير ابن كثير فستجده يقول: «وقد روى الحافظ ابن مردويه من طريقين: عن إسماعيل بن عياش، عن إسماعيل بن يحي، عن مسعر، عن عطية، عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم في قوله تعالى: كذا».
فلو تأملت في المثال السابق تبين لك الفارق بين الكتابين، فبحثك في الكتاب الفرعي الذي يعزو مع ذكر السند - يفيدك في مرحلة الحكم على الحديث.
আপনি কিছু শাখাগ্রন্থ পাবেন যা মূলগ্রন্থের বরাতে উদ্ধৃতি দেওয়ার সময় হাদিসটিকে মূলগ্রন্থের সনদসহ বর্ণনা করে। আবার কোনোটি কেবল সনদ ছাড়াই হাদিসটি বর্ণনা করার প্রতি গুরুত্ব দেয়। এটি একটি মৌলিক পার্থক্য নির্দেশ করে; কারণ যে সকল গ্রন্থ সনদসহ হাদিসটি বর্ণনা করে, সেগুলোকে মূলগ্রন্থের একটি সংস্করণ হিসেবে গণ্য করা হয়। এটি হাদিসের ওপর হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে আপনাকে সাহায্য করবে।
• উপরোক্ত বিষয়ের একটি উদাহরণ:
ইমাম সুয়ূতী রচিত ‘আদ-দুররুল মানসুর’ গ্রন্থটি একটি শাখাগ্রন্থ হিসেবে গণ্য, তেমনি ‘তাফসিরে ইবনে কাসির’ গ্রন্থটিও:
আপনি যখন ‘আদ-দুররুল মানসুর’-এ কোনো হাদিস অনুসন্ধান করবেন, তখন দেখবেন তিনি উদাহরণস্বরূপ বলছেন: ‘ইবনে মারদাওয়াইহ এবং ইবনুল মুনযির ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি মহান আল্লাহর বাণী—এরূপ এরূপ—এর ব্যাপারে বলেছেন।’
পক্ষান্তরে, আপনি যদি ‘তাফসিরে ইবনে কাসির’-এ যান, তবে সেখানে দেখবেন তিনি বলছেন: ‘হাফেজ ইবনে মারদাওয়াইহ দুটি সূত্রে বর্ণনা করেছেন: ইসমাইল ইবনে আইয়াশ থেকে, তিনি ইসমাইল ইবনে ইয়াহইয়া থেকে, তিনি মিসআর থেকে, তিনি আতিয়্যাহ থেকে, তিনি আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর বাণী—এরূপ এরূপ—এর ব্যাপারে বলেছেন।’
আপনি যদি পূর্বোক্ত উদাহরণটি গভীরভাবে লক্ষ্য করেন, তবে আপনার কাছে গ্রন্থদ্বয়ের পার্থক্য স্পষ্ট হবে। সুতরাং এমন শাখাগ্রন্থে আপনার অনুসন্ধান—যা সনদের উল্লেখসহ উদ্ধৃতি দেয়—তা হাদিসের ওপর হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে আপনার উপকারে আসবে।
(খণ্ড: ১)
আল-আরীজ ফি ইলমি উসুলিত তাখরীজ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
أنواع الكتب المصنفة في «السنة»(1)تنوعت المصنفات في «السنة النبوية» بتنوع المصنفين، فالسنةُ محفوظةٌ بحفظ الله عز وجل لها؛ لذلك أهل العلم على مرِّ العصور يحاولون تقريب السنة إلى المسلمين بكل الصور التي تهدف إلى التيسير، فتنوعت المصنفات لأجل هذا.
وإليك أيها القارئ نبذةً مختصرة من كل نوع:
1 - «السنن»: هي كتب الحديث المرتبة على الأبواب الفقهية، والتي تقتصر على الأحاديث المرفوعة في الغالب؛ مثل «سنن أبي داود، وسنن الترمذي، وسنن النسائي».
2 - «الجوامع»: هي كتب الحديث المشتملة على الأبواب الجامعة غالبًا لجميع أمور الدين؛ كأبواب الإيمان، والأحكام، والآداب، والسِّيَر، والتفسير، والمناقب، والفتن، وأشراط الساعة؛ مثل «صحيح البخاري».
3 - «المستدركات»: هي الكتب التي اسْتُدرك فيها على أصحاب مصنفات أخرى أحاديث على شرطهم، وليست في كتبهم؛ مثل «مستدرك الحاكم».
4 - «المستخرجات»: هي الكتب التي أخرج فيها مصنفوها أحاديثَ كتب أخرى بأسانيد لأنفسهم، مثل «مستخرج أبي عوانة».
--------------------------------------------
‘সুন্নাহ’ বিষয়ে রচিত গ্রন্থসমূহের প্রকারভেদ(১)রচয়িতাদের ভিন্নতার কারণে ‘সুন্নাহে নববী’-র সংকলনসমূহ বৈচিত্র্যময় হয়েছে। কেননা মহান আল্লাহর হেফাযতের মাধ্যমেই সুন্নাহ সংরক্ষিত; এই কারণেই যুগে যুগে আলেমগণ মুসলিমদের নিকট সুন্নাহকে সহজসাধ্য করার লক্ষ্যে সম্ভাব্য সকল পন্থায় তা নিকটবর্তী করার চেষ্টা করেছেন এবং এই উদ্দেশ্যেই সংকলনগুলো বৈচিত্র্যময় হয়েছে।
হে পাঠক, আপনার সামনে প্রতিটি প্রকারের একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা তুলে ধরা হলো:
১ - ‘সুনান’: এগুলো হলো সেই সকল হাদীস গ্রন্থ যা ফিকহী অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত এবং যা সাধারণত কেবল ‘মারফূ’ হাদীসসমূহের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে; যেমন: ‘সুনানে আবু দাউদ’, ‘সুনানে তিরমিযী’ এবং ‘সুনানে নাসাঈ’।
২ - ‘জাওয়ামি’ (সংকলন): এগুলো হলো সেই সকল হাদীস গ্রন্থ যা সাধারণত দ্বীনের সকল বিষয়ের ব্যাপক অধ্যায়সমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে; যেমন: ঈমান, আহকাম (বিধান), আদব (শিষ্টাচার), সিরাত (জীবনী), তাফসীর, মানাকিব (মর্যাদা), ফিতনা এবং কিয়ামতের আলামত বিষয়ক অধ্যায়সমূহ; যেমন: ‘সহীহ বুখারী’।
৩ - ‘মুস্তাদরাকাত’: এগুলো হলো সেই সকল কিতাব যেখানে অন্য কিতাবের লেখকদের শর্ত অনুযায়ী এমন সব হাদীস সংযোজন করা হয়েছে যা তাদের মূল কিতাবে নেই; যেমন: ‘মুস্তাদরাক আল-হাকিম’।
৪ - ‘মুস্তাখরাজাত’: এগুলো হলো সেই সকল কিতাব যেখানে সংকলকগণ অন্য কিতাবের হাদীসসমূহকে নিজস্ব সনদে বর্ণনা করেছেন; যেমন: ‘মুস্তাখরাজ আবু আওয়ানা’।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আরীজ ফি ইলমি উসুলিত তাখরীজ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
5 - «المصنفات»: هي الكتب المرتبة على الأبواب الفقهية مع اشتمالها على المرفوع، والموقوف، والمقطوع؛ مثل «مصنف عبد الرزاق».
6 - «المسانيد»: هي الكتب التي تذكر مرويات كل صحابي على حدة، مع مراعاة ترتيب أسماء الصحابة، إما على حروف المعجم، أو بحسب السبق إلى الإسلام، أو بحسب البلدان، أو بحسب الأفضلية؛ مثل «مسند الإمام احمد».
7 - «المعاجم»: هي كتب شبيهة بالمسانيد، إلا أنه يراعى فيها الترتيب على حروف المعجم؛ مثل «معجم الطبراني».
8 - «المشيخات»: هي الكتب التي يجمع فيها مصنفوها أسماء مشايخهم، وما رووه عنهم من الاحاديث، أو تلقوه عنهم، وتسمى أيضًا «الأثبات - البرامج - الفهارس» مثل: «مشيخة ابن النجار، ومعجم شيوخ أبي يعلى، ومشيخة القاضي عياض، ومشيخة ابن الجوزي».
9 - «الاجزاء الحديثية»: وهي على ثلاثة أنواع:
أ- جمع الاحاديث المتعلقة بموضوع واحد؛ مثل «القراءة خلف الإمام».
ب- جمع الاحاديث المروية عن صحابي واحد؛ مثل «مسند أبي بكر الصديق» للمروزي، و «مسند عائشة» لأبي بكر بن أبي داود، و «مسند عبد الله ابن أبي أوفى» ليحيى بن صاعد.
جـ- جمع الاحاديث المروية من طريق أحد المشهورين بالرواية؛ مثل: «الزهريات» لمحمد بن يحيى الذهلي، و «أحاديث أبي يحيى فراس بن يحيى» لأبي نعيم الأصبهاني.
10 - «المجاميع»: هي الكتب التي جمعت أحاديث كتب متعددة في كتاب
৫ - «আল-মুসান্নাফাত»: এগুলো হলো ফিকহী অধ্যায় অনুসারে বিন্যস্ত কিতাব, যাতে মারফূ, মাওকূফ এবং মাকতূ হাদীসসমূহ অন্তর্ভুক্ত থাকে; যেমন: ‘মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাক’।
৬ - «আল-মাসানীদ»: এগুলো এমন কিতাব যাতে প্রত্যেক সাহাবীর বর্ণিত হাদীসসমূহ পৃথকভাবে উল্লেখ করা হয়। এক্ষেত্রে সাহাবীদের নামের ক্রমানুসারে বিন্যাস রক্ষা করা হয়; চাই তা বর্ণমালার ক্রমানুসারে হোক, কিংবা ইসলাম গ্রহণে অগ্রগণ্যতার ভিত্তিতে হোক, অথবা দেশ অনুসারে হোক, অথবা শ্রেষ্ঠত্বের ভিত্তিতে হোক; যেমন: ‘মুসনাদে ইমাম আহমাদ’।
৭ - «আল-মা‘আজিম»: এগুলো মুসনাদ সদৃশ কিতাব, তবে এতে বর্ণমালার ক্রমানুসারে বিন্যাস রক্ষা করা হয়; যেমন: ‘মু‘জামুত তাবারানী’।
৮ - «আল-মাশইয়াখাত»: এগুলো এমন কিতাব যাতে গ্রন্থকারগণ তাঁদের উস্তাদদের নাম এবং তাঁদের থেকে যে হাদীসসমূহ বর্ণনা করেছেন বা গ্রহণ করেছেন তা একত্রিত করেন। এগুলোকে ‘আল-আসবাত’, ‘আল-বারামিয’ এবং ‘আল-ফাহারিস’ও বলা হয়। যেমন: ইবনে নাজ্জারের ‘মাশইয়াখাহ’, আবু ইয়া‘লার ‘মু‘জামু শুয়ুখ’, কাজী আয়াযের ‘মাশইয়াখাহ’ এবং ইবনুল জাওযীর ‘মাশইয়াখাহ’।
৯ - «আল-আযজাউল হাদীসিয়্যাহ»: এগুলো তিন প্রকারের হয়ে থাকে:
ক- কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয় সংশ্লিষ্ট হাদীসসমূহ একত্রিত করা; যেমন: ‘আল-কিরাআতু খালফাল ইমাম’।
খ- কোনো একজন নির্দিষ্ট সাহাবী থেকে বর্ণিত হাদীসসমূহ একত্রিত করা; যেমন: আল-মারওয়াযী রচিত ‘মুসনাদে আবু বকর আস-সিদ্দিক’, আবু বকর ইবনে আবি দাউদ রচিত ‘মুসনাদে আয়েশা’ এবং ইয়াহইয়া বিন সাঈদ রচিত ‘মুসনাদে আবদুল্লাহ ইবনে আবি আওফা’।
গ- বর্ণনা করার ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ কোনো ব্যক্তির সূত্রে বর্ণিত হাদীসসমূহ একত্রিত করা; যেমন: মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আয-যুহলীর ‘আয-যুহরিয়্যাত’ এবং আবু নুয়াইম আল-আসফাহানীর ‘আহাদীসু আবি ইয়াহইয়া ফিরাছ বিন ইয়াহইয়া’।
১০ - «আল-মাজামী‘»: এগুলো এমন কিতাব যা একাধিক কিতাবের হাদীসসমূহকে একটি কিতাবে একত্রিত করে।
(খণ্ড: ১)
আল-আরীজ ফি ইলমি উসুলিত তাখরীজ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
واحد؛ مثل: «جامع الأصول» لابن الأثير، «مجمع الزوائد»، «جمع الفوائد من جامع الأصول وتجمع الزوائد».
11 - «كتب الاطراف»: هي الكتب التي تقتصر على ذكر طرف الحديث الدال عليه، ثم ذكر أسانيده في المصادر التي ترويه بالإسناد؛ مثل: «تحفة الأشراف» للمزي، و «إتحاف المهرة بالفوائد المبتكرة من الأسانيد العشرة» لابن حجر.
এক; যেমন: ইবনুল আসিরের ‘জামিউল উসুল’, ‘মাজমাউয যাওয়াইদ’, ‘জামউল ফাওয়াইদ মিন জামিউল উসুল ওয়া মাজমাউয যাওয়াইদ’।
১১ - ‘কুতুবুল আতরাফ’: এগুলো এমন সব গ্রন্থ যা হাদীসের কেবল সেই অগ্রভাগ বা অংশবিশেষ উল্লেখ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে যা হাদীসটির দিকে ইঙ্গিত করে, অতঃপর সেই সকল মূল উৎসের বরাতে এর সনদসমূহ উল্লেখ করে যা হাদীসটি সনদসহ বর্ণনা করেছে; যেমন: মিযযীর ‘তুহফাতুল আশরাফ’ এবং ইবনে হাজারের ‘ইতাহাফুল মাহারা বিল ফাওয়াইদিল মুবতাকারা মিনাল আসানিদিল আশারা’।
(খণ্ড: ১)
আল-আরীজ ফি ইলমি উসুলিত তাখরীজ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
فوائد التخريجللتخريج فوائد كثيرة، منها ما يتعلق بالسند، ومنها ما يتعلق بالمتن، ومنها ما يتعلق بالسند والمتن معًا.
الفوائد المتعلقة بـ «السند»:1 - ارتقاء الحديث بكثرة طرقه.
2 - تمييز المهمل وتعيين المبهم من الرواة.
3 - زوال عنعنة المدلس.
4 - زوال ما تخشاه من الرواية عمن اختلط.
5 - وصل المعلق، والمعضل، والمنقطع، والمرسل.
6 - إثبات حال الحديث من كونه متواترًا، أو آحادًا.
7 - سهولة مقارنة الأسانيد، واكتشاف العلة.
الفوائد المتعلقة بـ «المتن»:1 - بيان المدرج.
2 - معرفة أمكنة وأزمنة الأحداث.
3 - الوقوف على النقص الوارد في بعض الروايات.
4 - بيان التصحيف الواقع من بعض الرواة.
তখরীজের উপকারিতাতখরীজের অনেক উপকারিতা রয়েছে, যার মধ্যে কিছু সনদের সাথে সংশ্লিষ্ট, কিছু মতনের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং কিছু সনদ ও মতন উভয়ের সাথেই সংশ্লিষ্ট।
«সনদ» সংশ্লিষ্ট উপকারিতাগুলো:১ - একাধিক সূত্রের আধিক্যের কারণে হাদীসের মান উন্নত হওয়া।
২ - রাবীদের মধ্যে ‘মুহমাল’ (অস্পষ্ট নাম)-কে পৃথক করা এবং ‘মুবহাম’ (অনির্ধারিত নাম)-কে নির্দিষ্ট করা।
৩ - মুদাল্লিসের ‘আনআনা’ (অস্পষ্টভাবে বর্ণনা করা)-এর সংশয় দূর হওয়া।
৪ - যার স্মৃতিশক্তি লোপ পেয়েছে (মুখতালিদ), তার বর্ণনা থেকে যে আশঙ্কার অবকাশ থাকে তা দূর হওয়া।
৫ - মুআল্লাক, মুদাল, মুনকাতি‘ এবং মুরসাল হাদীসের সংযোগ সূত্র খুঁজে বের করা।
৬ - হাদীসটি মুতাওয়াতির নাকি আহাদ, তা সাব্যস্ত করা।
৭ - সনদগুলোর মধ্যে তুলনা করা সহজ হওয়া এবং দোষ (ইল্লাত) উদঘাটন করা।
«মতন» সংশ্লিষ্ট উপকারিতাগুলো:১ - ‘মুদ্রাজ’ (হাদীসের মূল পাঠে প্রক্ষিপ্ত অংশ) স্পষ্ট হওয়া।
২ - ঘটনাবলীর স্থান ও কাল সম্পর্কে অবগত হওয়া।
৩ - কোনো কোনো বর্ণনায় বিদ্যমান অসম্পূর্ণতা সম্পর্কে জানা।
৪ - কোনো কোনো রাবীর পক্ষ থেকে সংঘটিত ‘তাসহিফ’ (শব্দের ভুল পাঠ) স্পষ্ট হওয়া।
(খণ্ড: ১)
আল-আরীজ ফি ইলমি উসুলিত তাখরীজ
(পৃষ্ঠা: ২০)
5 - معرفة الرواية هل هي باللفظ أم بالمعنى.
6 - معرفة زيادات الثقات.
•
الفوائد المتعلقة بهما معًا:1 - معرفة مصدر الحديث.
2 - تَتَبُّع أقوال العلماء في الحديث.
3 - بيان التصحيف والتحريف الناشئين عن النساخ.
4 - بيان غريب الحديث.
5 - زوال الحكم بالشذوذ.
৫ - বর্ণনাটি কি শাব্দিক নাকি অর্থগত তা জানা।
৬ - নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের অতিরিক্ত অংশ (যিয়াদাত) সম্পর্কে অবগত হওয়া।
•
উভয় বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট যৌথ উপকারিতাসমূহ:১ - হাদিসের উৎস জানা।
২ - হাদিসের ক্ষেত্রে আলেমগণের বক্তব্যসমূহ অনুসন্ধান করা।
৩ - পাণ্ডুলিপি লেখকদের (নাসিখ) মাধ্যমে উদ্ভূত তাসহিফ (অক্ষর বিভ্রাট) ও তাহরিফ (শব্দ বিকৃতি) স্পষ্ট করা।
৪ - হাদিসের দুর্বোধ্য শব্দাবলি (গরিবুল হাদিস) ব্যাখ্যা করা।
৫ - হাদিসটি ‘শায’ (বিচ্ছিন্ন) হওয়ার হুকুম অপসারিত হওয়া।
(খণ্ড: ১)
আল-আরীজ ফি ইলমি উসুলিত তাখরীজ
(পৃষ্ঠা: ২১)
أهم المؤلفات في علم التخريجلم يُصَنف في هذا العلم إلا في العصر الحديث، وذلك يرجع إلى عدم احتياج المتقدمين إلى هذا العلم؛ نظرًا لكون هذا العلم مَلَكه عندهم، فلقد كانوا حُفاظًا، لا يحتاجون إلى عملية البحث والتفتيش، أما في هذا العصر فلقد صُنفت عدة مصنفات من أهمها ما يلي:
1 - «أصول التخريج ودراسة الأسانيد» د/ محمود الطحان.
2 - «طرق تخريج حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم» د/ عبد المهدي عبد القادر.
3 - «التخريج ودراسة الأسانيد» د/ حاتم العوني.
4 - «التأصيل» للشيخ/ بكر أبي زيد.
5 - «دراسات في علم التخريج» د/ سعد محمد شلبي.
তাখরীজ শাস্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থাবলিএই শাস্ত্রে কেবল আধুনিক যুগেই গ্রন্থ রচনা করা হয়েছে। এর কারণ হলো পূর্ববর্তীগণের এই শাস্ত্রের প্রতি মুখাপেক্ষী না হওয়া; কেননা এই শাস্ত্রটি তাদের মাঝে একটি সহজাত দক্ষতা হিসেবে বিদ্যমান ছিল। তারা হাফেয ছিলেন, ফলে অনুসন্ধান ও তদন্ত প্রক্রিয়ার তাদের প্রয়োজন হতো না। তবে বর্তমান যুগে বেশ কিছু গ্রন্থ রচিত হয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নিম্নরূপ:
১ - «উসুলুত তাখরীজ ওয়া দিরাসাতুল আসানিদ» ড. মাহমুদ আল-তাহহান।
২ - «তুরুকু তাখরীজি হাদীসি রাসূলিল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম» ড. আব্দুল মাহদী আব্দুল কাদির।
৩ - «আত-তাখরীজ ওয়া দিরাসাতুল আসানিদ» ড. হাতিম আল-আওনী।
৪ - «আত-তা’সীল» শায়খ বাকর আবু যায়েদ।
৫ - «দিরাসাতুন ফী ইলমিত তাখরীজ» ড. সা’দ মুহাম্মদ শালবী।
(খণ্ড: ১)
আল-আরীজ ফি ইলমি উসুলিত তাখরীজ
(পৃষ্ঠা: ২২)
آداب يتحلى بها المخُرِّج1 - الإخلاص في هذا العمل لله عز وجل.
2 - الاستعانة بالله عز وجل في كل الأمور.
3 - التأني في قراءة الحديث المراد تخريجه.
4 - محاولة استيعاب كل المصادر المتيسرة للبحث عن الحديث.
5 - الصبر واحتساب الأجر عند الله سبحانه وتعالى.
6 - أَخْذ قسط من الراحة عند الخمول والتعب، والإكثار من ذكر الله في وقت الراحة.
7 - سَعة الاطلاع وكثرة القراءة في سائر العلوم.
8 - قراءة مقدمات الكتب الحديثية.
9 - عدم التعجل والسرعة في تحصيل المراد؛ فإن ذلك يخطئ المقصود.
10 - عدم الانشغال بأكثر من حديث في آنٍ واحد.
11 - عدم العزو إلى كتاب فرعي مع وجود الأصلي.
12 - السؤال عما أشكل، والاستعانة بالله، ثم بأصحاب الخبرة.
13 - الاهتمام بأدوات الكتابة «قوة الحبر، جودة الورق، بيان الخط».
14 - الاهتمام بلفظ الجلالة، والصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم، والترضي عن الصحابة، والترحم على العلماء.
15 - العمل بالعلم وعدم كتمانه.
হাদীস তখরীজকারীর অর্জনীয় আদবসমূহ১ - এই কাজে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ইখলাস বা একনিষ্ঠতা বজায় রাখা।
২ - সকল বিষয়ে মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করা।
৩ - যে হাদীসটির তখরীজ করা হবে, সেটি পাঠ করার সময় ধীরস্থিরতা অবলম্বন করা।
৪ - হাদীসটি অনুসন্ধানের জন্য সহজলভ্য সকল উৎস আয়ত্ত করার চেষ্টা করা।
৫ - ধৈর্য ধারণ করা এবং মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিকট সওয়াবের আশা রাখা।
৬ - ক্লান্তি ও অবসাদ অনুভবের সময় কিছুটা বিশ্রাম নেওয়া এবং বিশ্রামের সময় অধিকহারে আল্লাহর যিকির করা।
৭ - ব্যাপক পাণ্ডিত্য এবং অন্যান্য সকল বিদ্যায় প্রচুর অধ্যয়ন থাকা।
৮ - হাদীস গ্রন্থসমূহের ভূমিকাগুলো পাঠ করা।
৯ - কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে তাড়াহুড়ো ও দ্রুততা পরিহার করা; কেননা এতে উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়।
১০ - একই সময়ে একের অধিক হাদীস নিয়ে ব্যস্ত না হওয়া।
১১ - মূল উৎস বিদ্যমান থাকতে কোনো শাখা বা গৌণ গ্রন্থের দিকে হাদীসকে সম্বন্ধযুক্ত না করা।
১২ - কোনো বিষয় জটিল মনে হলে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা এবং আল্লাহর সাহায্য কামনার পর অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সহায়তা নেওয়া।
১৩ - লিখন উপকরণের প্রতি গুরুত্বারোপ করা (কালির গাঢ়তা, কাগজের গুণগত মান, হস্তাক্ষরের স্পষ্টতা)।
১৪ - আল্লাহ তাআলার মহান নামের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরূদ পাঠ, সাহাবায়ে কেরামের জন্য সন্তুষ্টির দুআ এবং উলামায়ে কেরামের জন্য রহমতের দুআ করার প্রতি যত্নশীল হওয়া।
১৫ - অর্জিত জ্ঞান অনুযায়ী আমল করা এবং তা গোপন না করা।
(খণ্ড: ১)
আল-আরীজ ফি ইলমি উসুলিত তাখরীজ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
العلوم التي ينبغي دراستها قبل البَدء في عملية التحقيقيلزم لعملية التخريج والتحقيق دراسة عدة علوم أساسية؛ وذلك لكي يتمكن الدارس من الحكم على الحديث على وجه الصواب.
وهذه العلوم هي:
1 - علم الخشية ومراقبة الله عز وجل.
2 - علم مصطلح الحديث.
3 - علم الجرح والتعديل.
4 - معرفة كتب الرجال.
5 - معرفة طرق التمييز بين الرواة.
6 - معرفة قواعد اللغة العربية.
তাহকীক বা পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা প্রক্রিয়া শুরু করার পূর্বে যে সকল শাস্ত্র অধ্যয়ন করা আবশ্যকতাখরীজ ও তাহকীক প্রক্রিয়ার জন্য কতিপয় মৌলিক শাস্ত্র অধ্যয়ন করা অপরিহার্য; যাতে গবেষক হাদীসের ওপর সঠিকভাবে হুকুম বা সিদ্ধান্ত প্রদান করতে সক্ষম হন।
আর এই শাস্ত্রসমূহ হলো:
১ - আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লাকে ভয় করা এবং সর্বদা তাঁর নজরদারিতে থাকার (মুরাকাবা) জ্ঞান।
২ - ইলমে মুসতালাহুল হাদীস (হাদীসের পরিভাষা সংক্রান্ত জ্ঞান)।
৩ - ইলমে জারহ ওয়াত তা'দীল (রাবীদের সমালোচনা ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই সংক্রান্ত জ্ঞান)।
৪ - রিজাল শাস্ত্রের (বর্ণনাকারীদের জীবনী) গ্রন্থসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান।
৫ - বর্ণনাকারীদের পরস্পরের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণের পদ্ধতিসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান।
৬ - আরবি ভাষার ব্যাকরণ ও নিয়মাবলী সম্পর্কে জ্ঞান।
(খণ্ড: ১)
আল-আরীজ ফি ইলমি উসুলিত তাখরীজ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
طرق تخريج الحديث
مقدمة تمهيدية:يتكون حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم من سند ومتن، والذي ينبغي تخريج حديث من الأحاديث لا بد له من معطيات حتى يصل إلى مراده، وهذه المعطيات إما السند، وإما المتن، وإما الاثنان معًا، فالباحث يخرج حديثه إما عن طريق معرفة السند، وإما عن طريق معرفة المتن.
أما عن السند فقد يصل الباحث إلى بعضه، أو كله، فإن تيسر للباحث معرفة الراوي الأعلى فقط، لجأ إلى الكتب المعنية بذكر كل راوٍ على حدة، كـ «المسانيد، والمعاجم»، فهنالك يجد الحديث تحت اسم راوية، وهذه الطريقة تسمى طريقة التخريج بِناءً على معرفة الراوي الأعلى للحديث.
أما إذا تَعَذَّر على الباحث معرفة السند، وتيسر له معرفة المتن، فعليه أن يحدد مطلع الحديث، ثم يبحث في «كتب أطراف الحديث»، وهذه الطريقة تسمى طريقة التخريج بِناءً على معرفة مطلع الحديث، هذا إن عَرَف مطلع الحديث.
أما إن لم يتيسر له ذلك فبإمكانه أن يسلك طرقًا أخرى؛ منها استخدام أي لفظة من ألفاظ الحديث، وهذه الطريقة سهلة، لا سيما إن كانت هذه اللفظة من الألفاظ الغريبة التي يقل دورانها على اللسان، وذلك من خلال البحث في «المعجم المفهرس»، وهذه الطريقة تسمى طريقة التخريج بناءً على معرفة
হাদিস তাখরিজের পদ্ধতিসমূহপ্রারম্ভিক ভূমিকা:রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস সনদ এবং মতন সমন্বয়ে গঠিত। যিনি কোনো হাদিস তাখরিজ করতে চান, তার গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য কিছু উপাত্ত থাকা আবশ্যক। এই উপাত্তসমূহ হয় সনদ, অথবা মতন, কিংবা উভয়টি। সুতরাং গবেষক তার হাদিসটির তাখরিজ করেন হয় সনদ জানার মাধ্যমে, অথবা মতন জানার মাধ্যমে।
সনদের ক্ষেত্রে গবেষক হয়তো এর আংশিক বা পূর্ণাঙ্গ তথ্য পেতে পারেন। যদি গবেষকের পক্ষে কেবল সর্বোচ্চ রাবি সম্পর্কে জানা সম্ভব হয়, তবে তিনি এমন সব কিতাবের শরণাপন্ন হবেন যেগুলো প্রত্যেক রাবিকে পৃথকভাবে আলোচনার জন্য নিবেদিত, যেমন: «আল-মাসানিদ ও আল-মা'আজিম»। সেখানে তিনি হাদিসটি উক্ত রাবির নামের অধীনে পাবেন। এই পদ্ধতিকে বলা হয় হাদিসের সর্বোচ্চ রাবির পরিচয়ের ভিত্তিতে তাখরিজ করার পদ্ধতি।
তবে যদি গবেষকের জন্য সনদ জানা দুঃসাধ্য হয় এবং মতন জানা সহজ হয়, তবে তাকে হাদিসের প্রারম্ভিক অংশ নির্ধারণ করতে হবে, এরপর «আতরাফ আল-হাদিস» বিষয়ক গ্রন্থসমূহে অনুসন্ধান করতে হবে। এই পদ্ধতিকে বলা হয় হাদিসের প্রারম্ভিক অংশের পরিচয়ের ভিত্তিতে তাখরিজ করার পদ্ধতি, যদি তিনি হাদিসের প্রারম্ভিক অংশ জেনে থাকেন।
যদি তার জন্য সেটিও সহজসাধ্য না হয়, তবে তিনি অন্য পথ অবলম্বন করতে পারেন; যার একটি হলো হাদিসের যেকোনো একটি শব্দ ব্যবহার করা। এই পদ্ধতিটি সহজ, বিশেষ করে যদি শব্দটি এমন কোনো দুর্লভ শব্দ হয় যার ব্যবহার লোকমুখে কম। এটি করা হয় «আল-মু'জাম আল-মুফাহরাস»-এ অনুসন্ধানের মাধ্যমে। এই পদ্ধতিকে বলা হয় পরিচয়ের ভিত্তিতে তাখরিজ পদ্ধতি...
(খণ্ড: ১)
আল-আরীজ ফি ইলমি উসুলিত তাখরীজ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الكلمة البارزة في الحديث.
أما إن تعسر عليه ذلك أيضًا، فيلزمه محاولة التعرف على موضوع الحديث، هل هذا الموضوع يتعلق بـ «التفسير، أم بالفقه، أم بالاعتقاد، أم بالأحكام، أم بالرقائق» إلى غير ذلك، فإن وقف على موضوعه بحث عن الحديث في مظانه، وهذه الطريقة تشمل طريقتين:
طريقة: التخريج بناءً على الاستقراء والتتبع.
وطريقة: التخريج بناءً على معرفة موضوع الحديث.
فإن لم تتيسر له أحد هذه المعطيات السابقة لجأ إلى طريقة أخرى، وهي طريقة التخريج بناءً على معرفة صفة ظاهرة في الحديث، وهذا يتحقق إن كان الحديث معروفًا بصفة معينة، كأن يكون هذا الحديث قدسيًّا، فتبحث في «الكتب المؤلفة في الاحاديث القدسية»، أو أن يكون هذا الحديث مرسلًا فنبحث في «كتب المراسيل»، أو أن يكون من الاحاديث الموضوعة فتبحث في «كتب الموضوعات»، وهكذا في سائر الصفات التي يمكن توافرها.
أضف إلى ذلك طريقة أخرى من طرق التخريج، وهي طريقة التخريج بواسطة جهاز الكمبيوتر، إلا أن هذه الطريقة لا يُنصح بها طالب العلم، فغير محمود أن يعتمد عليها في بداية طلبه هذا العلم المبارك؛ فهي لا تنتج عالمًا راسخًا في هذا الفن.
مما تقدم يتبين لك أن هناك عدة طرق لتخريج حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم وهي كالآتي:
1 - طريقة التخريج بناءً على معرفة الراوي الأعلى.
হাদিসের বিশেষ শব্দ।
আর যদি এটিও তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে, তবে তাকে হাদিসের বিষয়বস্তু চেনার চেষ্টা করতে হবে; এই বিষয়টি কি «তাফসীর, ফিকহ, আকীদা, বিধানসমূহ, নাকি হৃদয়স্পর্শী আলোচনা (রাকায়েক)» বা অন্য কিছুর সাথে সংশ্লিষ্ট কি না? যদি সে হাদিসটির বিষয়বস্তু নির্ধারণ করতে পারে, তবে সে হাদিসটি প্রাপ্তির সম্ভাব্য স্থানসমূহে অনুসন্ধান করবে। এই পদ্ধতিটি দুটি পন্থার অন্তর্ভুক্ত:
পন্থা: ব্যাপক অনুসন্ধান ও পর্যালোচনার ভিত্তিতে তাখরীজ করা।
এবং পন্থা: হাদিসের বিষয়বস্তু জানার ভিত্তিতে তাখরীজ করা।
যদি পূর্বোক্ত তথ্যাবলির কোনোটিই তার জন্য সহজসাধ্য না হয়, তবে সে অন্য একটি পদ্ধতির আশ্রয় নেবে, আর তা হলো হাদিসের কোনো স্পষ্ট বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে তাখরীজ করা। এটি তখন সম্ভব হয় যখন হাদিসটি কোনো নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত হয়, যেমন হাদিসটি যদি কুদসি হয়, তবে «হাদিসে কুদসি বিষয়ক সংকলিত গ্রন্থসমূহে» অনুসন্ধান করবেন; অথবা যদি এটি মুরসাল হাদিস হয় তবে «মারাসীল বিষয়ক গ্রন্থসমূহে» খুঁজবেন; অথবা যদি এটি জাল হাদিসসমূহের অন্তর্ভুক্ত হয় তবে «মাওদুআত (জাল হাদিস) বিষয়ক গ্রন্থসমূহে» অনুসন্ধান করবেন। এভাবে অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রেও একইভাবে আমল করতে হবে যা বিদ্যমান থাকতে পারে।
এর সাথে তাখরীজের আরও একটি পদ্ধতি যুক্ত করুন, আর তা হলো কম্পিউটারের মাধ্যমে তাখরীজ করা। তবে ইলম অন্বেষণকারীর জন্য এই পদ্ধতির পরামর্শ দেওয়া হয় না; কারণ এই বরকতময় ইলম অর্জনের শুরুতে এর ওপর নির্ভর করা প্রশংসনীয় নয়। কেননা এটি এই বিদ্যায় কোনো সুদৃঢ় আলেম তৈরি করে না।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে আপনার নিকট স্পষ্ট হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস তাখরীজ করার কয়েকটি পদ্ধতি রয়েছে এবং সেগুলো নিম্নরূপ:
১ - সর্বোচ্চ রাবী চেনার ভিত্তিতে তাখরীজ করার পদ্ধতি।
(খণ্ড: ১)
আল-আরীজ ফি ইলমি উসুলিত তাখরীজ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
2 - طريقة التخريج بناءً على معرفة مطلع الحديث.
3 - طريقة التخريج بناءً على معرفة كلمة بارزة في الحديث.
4 - طريقة التخريج بناءً على الاستقراء والتتبع.
5 - طريقة التخريج بناءً على معرفة موضوع الحديث.
6 - طريقة التخريج بناءً على معرفة صفة ظاهرة في الحديث.
7 - طريقة التخريج بواسطة جهاز الكمبيوتر.
২ - হাদিসের প্রারম্ভিক অংশ জানার ওপর ভিত্তি করে তাখরিজ করার পদ্ধতি।
৩ - হাদিসের কোনো বিশিষ্ট শব্দ জানার ওপর ভিত্তি করে তাখরিজ করার পদ্ধতি।
৪ - অনুসন্ধান ও পর্যালোচনার ওপর ভিত্তি করে তাখরিজ করার পদ্ধতি।
৫ - হাদিসের বিষয়বস্তু জানার ওপর ভিত্তি করে তাখরিজ করার পদ্ধতি।
৬ - হাদিসের কোনো স্পষ্ট বৈশিষ্ট্য জানার ওপর ভিত্তি করে তাখরিজ করার পদ্ধতি।
৭ - কম্পিউটার ব্যবহারের মাধ্যমে তাখরিজ করার পদ্ধতি।
(খণ্ড: ১)
আল-আরীজ ফি ইলমি উসুলিত তাখরীজ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الطريق إلى دراسة هذه الطرقنُعرج في دراستنا هذه الطرق على قسمين: نظري، وعملي:
أولًا: القسم النظري ويتمثل في الآتي:التعريف بالطريقة.
• ذكر مميزات الطريقة.
• ذكر عيوب الطريقة.
• كيفية استخدام هذه الطريقة.
• ذكر بعض المصنفات في هذه الطريقة.
• دراسة منهجية لبعض الكتب المستخدمة في هذه الطريقة.
ثانيًا: القسم العملي «يكون في اثناء الدرس» ويتمثل فيما يلي:الإكثار من ضرب الأمثلة، وتمرين الدارس عليها.
•الإكثار من الاختبارات العملية عقب الانتهاء من كل دريقة.
এই পদ্ধতিগুলো অধ্যয়নের পন্থাএই পদ্ধতিগুলো সম্পর্কে আমাদের আলোচনাকে আমরা দুটি অংশে বিভক্ত করব: তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক:
প্রথমত: তাত্ত্বিক অংশ, যা নিম্নলিখিত বিষয়গুলো নিয়ে গঠিত:পদ্ধতির পরিচয়।
• পদ্ধতির বৈশিষ্ট্যসমূহ উল্লেখ করা।
• পদ্ধতির ত্রুটিসমূহ উল্লেখ করা।
• এই পদ্ধতি ব্যবহারের নিয়ম।
• এই পদ্ধতিতে রচিত কিছু গ্রন্থের উল্লেখ।
• এই পদ্ধতিতে ব্যবহৃত কিছু গ্রন্থের পদ্ধতিগত পর্যালোচনা।
দ্বিতীয়ত: ব্যবহারিক অংশ (যা পাঠ চলাকালীন সম্পন্ন হবে) এবং তা নিম্নলিখিত বিষয়গুলো নিয়ে গঠিত:প্রচুর পরিমাণে উদাহরণ প্রদান এবং শিক্ষার্থীকে সেগুলোর মাধ্যমে অনুশীলন করানো।
• প্রতিটি পদ্ধতি শেষ করার পর অধিক হারে ব্যবহারিক পরীক্ষা গ্রহণ করা।
(খণ্ড: ১)
আল-আরীজ ফি ইলমি উসুলিত তাখরীজ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
طريقة التخريج بناءً على معرفة الراوي الأعلى للحديث
التعريف بالطريقة:هذه الطريقة يلجأ إليها الباحث عند معرفته الراوي الأعلى للحديث؛ لأن كثيرًا من المصنفين يرتبون الأحاديث حَسَب الراوي الأعلى، فيجعلون أحاديث كل راوٍ على حدة، سواء كان ذلك في كتب الأطراف أو المعاجم، أو المسانيد.
فإذا عَرَف الباحث اسم الراوي الأعلى للحديث فما عليه إلا أن يفتح أحد هذه الكتب ثم يبحث عن اسم هذا الراوي وسيجد تحته جملة أحاديث منها حديثه بإذن الله تعالى.
مميزات هذه الطريقة:1 - سهولة الوصول للحديث عند معرفة الراوي الأعلى.
2 - تتميز عن غيرها من الطرق بأن بعض المصنفين فيها اهتموا بذكر الكتاب الذي فيه الحديث، بالإضافة إلى مَنْ أخرج الحديث.
3 - هذه الطريقة مفيدة لمن أراد أن يقارن بين الأسانيد.
4 - تُعد هذه الطريقة فهرسًا دقيقًا لأحاديث الكتب الستة وملحقاتها، وكذلك المسانيد، والمعاجم، حيث يستطيع الباحث أن يحصي عدد مرويات كل راوٍ.
হাদিসের উর্ধ্বতন বর্ণনাকারী জানার ওপর ভিত্তি করে তাখরিজ করার পদ্ধতি
পদ্ধতির পরিচিতি:গবেষক যখন হাদিসের উর্ধ্বতন বর্ণনাকারী (রাবি আল-আ'লা) সম্পর্কে অবগত হন, তখন তিনি এই পদ্ধতির আশ্রয় গ্রহণ করেন; কারণ অনেক সংকলক উর্ধ্বতন বর্ণনাকারীর ক্রম অনুসারে হাদিসগুলো বিন্যস্ত করেছেন। ফলে তারা প্রত্যেক বর্ণনাকারীর হাদিসসমূহ পৃথকভাবে সাজিয়েছেন, চাই সেটি আতরাফ গ্রন্থ হোক অথবা মু'জাম কিংবা মুসনাদ গ্রন্থসমূহ।
যদি গবেষক হাদিসের উর্ধ্বতন বর্ণনাকারীর নাম জানেন, তবে তাকে কেবল এই গ্রন্থগুলোর কোনো একটি খুলতে হবে এবং উক্ত বর্ণনাকারীর নাম অনুসন্ধান করতে হবে। মহান আল্লাহর ইচ্ছায় সেখানে তিনি একগুচ্ছ হাদিস পাবেন, যার মধ্যে তার কাঙ্ক্ষিত হাদিসটিও থাকবে।
এই পদ্ধতির বৈশিষ্ট্যসমূহ:১ - উর্ধ্বতন বর্ণনাকারীর নাম জানা থাকলে হাদিস খুঁজে পাওয়ার সহজলভ্যতা।
২ - এটি অন্যান্য পদ্ধতির চেয়ে স্বতন্ত্র, কারণ এর কোনো কোনো সংকলক হাদিসটি কোন গ্রন্থে রয়েছে তা উল্লেখ করার পাশাপাশি কে হাদিসটি বর্ণনা (তাখরিজ) করেছেন সেদিকেও গুরুত্বারোপ করেছেন।
৩ - যারা সনদসমূহের মধ্যে তুলনা করতে চান, তাদের জন্য এই পদ্ধতিটি অত্যন্ত উপকারী।
৪ - এই পদ্ধতিটি কুতুবে সিত্তা (ছয়টি প্রধান হাদিস গ্রন্থ) ও এর পরিশিষ্টসমূহ এবং মুসনাদ ও মু'জাম গ্রন্থসমূহের হাদিসগুলোর জন্য একটি নির্ভুল সূচি হিসেবে গণ্য হয়, যার মাধ্যমে গবেষক প্রত্যেক বর্ণনাকারীর বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা গণনা করতে সক্ষম হন।
(খণ্ড: ১)
আল-আরীজ ফি ইলমি উসুলিত তাখরীজ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ذكر عيوب الطريقة:1 - لا يمكن استخدامها دون معرفة الراوي الأعلى للحديث.
2 - قد يكون الراوي من المكثرين في رواية الخبر، وهذا يُلزمك قراءة كل مروياته، وهذا امرٌ صعب.
أهم المؤلفات في هذه الطريقة:1 - كتب «الاطراف».
2 - كتب «المسانيد».
3 - كتب «المعاجم».
এই পদ্ধতির ত্রুটিসমূহের বর্ণনা:১ - হাদীসের মূল বর্ণনাকারী সম্পর্কে জানা ব্যতীত এই পদ্ধতি ব্যবহার করা সম্ভব নয়।
২ - বর্ণনাকারী অধিক হাদীস বর্ণনাকারীদের (মুুুুকসিরিন) অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন, যা আপনাকে তার বর্ণিত সকল হাদীস পাঠ করতে বাধ্য করবে, আর এটি একটি অত্যন্ত কঠিন কাজ।
এই পদ্ধতির গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থসমূহ:১ - ‘আতরাফ’ বিষয়ক গ্রন্থসমূহ।
২ - ‘মাসানিদ’ বিষয়ক গ্রন্থসমূহ।
৩ - ‘মাআ'জিম’ বিষয়ক গ্রন্থসমূহ।
(খণ্ড: ১)
আল-আরীজ ফি ইলমি উসুলিত তাখরীজ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
كتب الأطراف (1)كتب الأطراف: هي الكتب التي يُقتصر فيها على ذكر طرف الحديث الدال على بقيته، مع الجمع لأسانيده على سبيل الاستيعاب، أو على جهة التقيد بكتب مخصوصة.
مثال ذلك: قولك: حديث «إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّات» فأنت هنا تعبر عن هذا الحديث بمجرد ذكر طرفه، وأحيانًا يكتفي بذكر معنى موجز للحديث فقط؛ مثل قولك: حديث «العَسِيف»، أو حديث «الْعُرَنِيِّين» فأنت هنا تعبر عن متن الحديث بلفظ أو معنى اشتهر به، ثم إن كتب الأطراف الأصل فيها التركيز الشديد على الأسانيد.
نشأة كتب الأطراف:كانت لهذه الفكرة نواةٌ في عصر التابعين، فلقد كانوا يستخدمونها في المذاكرة، فكانوا إذا اجتمعوا يعرض كل واحد منهم ما عنده على الآخرين، يقولون: ماذا عندك في الباب؟ فيقول: حديث كذا. وحديث كذا، فهذا أبو زرعة يقول لعبد الله ابن الإمام أحمد: والدك يحفظ سبع مئة ألف حديث. فقال له عبد الله: وما يدريك؟ قال: ذاكرته الأبواب.
وسرعان ما اتخذت هذه الفكرة مسارًا جديدًا، وذلك عندما أَلَّف الحافظ
--------------------------------------------
আতরাফ বিষয়ক গ্রন্থসমূহ (১)আতরাফ বিষয়ক গ্রন্থসমূহ: এগুলি এমন গ্রন্থ যাতে কেবল হাদিসের এমন একটি অংশ উল্লেখ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা হয় যা অবশিষ্ট হাদিসের প্রতি নির্দেশ করে। এর পাশাপাশি হাদিসটির সকল সনদ (সূত্র) সামগ্রিকভাবে অথবা নির্দিষ্ট কিছু গ্রন্থের পরিসীমায় সংকলন করা হয়।
এর উদাহরণ হলো: আপনার এই কথা বলা— ‘নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল’ হাদিসটি। এখানে আপনি হাদিসটির কেবল একাংশ উল্লেখের মাধ্যমে সেটিকে প্রকাশ করছেন। আবার কখনো কখনো হাদিসের কেবল একটি সংক্ষিপ্ত অর্থের ওপর নির্ভর করা হয়; যেমন আপনার বলা— ‘আসিব’ (শ্রমিক সংক্রান্ত) হাদিস, অথবা ‘উরাইনি’ (উরাইনা গোত্র সংক্রান্ত) হাদিস। এখানে আপনি হাদিসের মূলপাঠকে (মতন) এমন একটি শব্দ বা অর্থের মাধ্যমে প্রকাশ করছেন যা দ্বারা সেটি প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। মূলত আতরাফ বিষয়ক গ্রন্থগুলোর মূল ভিত্তি হলো সনদ বা সূত্রগুলোর ওপর অত্যধিক গুরুত্বারোপ করা।
আতরাফ বিষয়ক গ্রন্থসমূহের উদ্ভব:তাবেঈদের যুগে এই ধারণার একটি বীজ বিদ্যমান ছিল। তারা পারস্পরিক আলোচনার (মুজাকারা) সময় এটি ব্যবহার করতেন। যখন তারা একত্রিত হতেন, তখন তাদের প্রত্যেকেই অন্যের নিকট নিজের কাছে যা আছে তা উপস্থাপন করতেন। তারা বলতেন: এই অধ্যায়ে আপনার কাছে কী আছে? তিনি বলতেন: অমুক হাদিস এবং অমুক হাদিস। যেমন আবু যুরআ ইমাম আহমদের পুত্র আবদুল্লাহকে বলেছিলেন: আপনার পিতা সাত লক্ষ হাদিস মুখস্থ রাখতেন। আবদুল্লাহ তাকে জিজ্ঞেস করলেন: আপনি কীভাবে জানলেন? তিনি বললেন: আমি তার সাথে বিভিন্ন অধ্যায় নিয়ে আলোচনা (মুজাকারা) করেছি।
শীঘ্রই এই ধারণাটি একটি নতুন মোড় নেয়, যখন হাফেজ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আরীজ ফি ইলমি উসুলিত তাখরীজ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
خلف بن حمدون الواسطي، وأبو مسعود الدمشقي كتابيهما، فأَلَّف الواسطي «أطراف الصحيحين»، وأَلَّف أبو مسعود أيضًا في ذلك، وكلاهما قرينان أحدهما توفي سنة أربع مئة للهجرة، والآخر توفي سنة أربع مئة وواحد، لكنه ليس معروفًا أيهما كان الأسبق، إلا أن كتاب ابن حمدون الواسطي كان أحسنهما ترتيبًا.
ثم تبعهما أهل العلم في ذلك حتى وصلت كتب الأطراف إلى ما هي عليه الآن.
খালাফ বিন হামদুন আল-ওয়াসিতি এবং আবু মাসউদ আদ-দিমাশকি তাঁদের গ্রন্থদ্বয় রচনা করেন। ওয়াসিতি ‘আতরাফ আস-সহীহাইন’ সংকলন করেন এবং আবু মাসউদও একই বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেন। তাঁরা উভয়েই সমসাময়িক ছিলেন; তাঁদের একজন হিজরি চারশ সনে এবং অন্যজন চারশ এক সনে মৃত্যুবরণ করেন। তবে তাঁদের মধ্যে কে অগ্রগামী ছিলেন তা নির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি, যদিও ইবনে হামদুন আল-ওয়াসিতির কিতাবটি বিন্যাসের দিক থেকে শ্রেষ্ঠ ছিল।
অতঃপর ইলম অন্বেষণকারীগণ এ ক্ষেত্রে তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেন, শেষ পর্যন্ত আতরাফ বিষয়ক গ্রন্থসমূহ বর্তমানের এই উন্নত রূপ লাভ করেছে।
(খণ্ড: ১)
আল-আরীজ ফি ইলমি উসুলিত তাখরীজ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
المؤلفات في الأطراف (1)هناك مصنفات صُنفت لبيان أطراف كتب مخصوصة، وأخرى صُنفت لبيان أطراف أحاديث معينة، ولكن على سبيل الاستيعاب، وإليك بيان ذلك:
أولًا: مصنفات صُنفت لبيان أطراف كتب مخصوصة:1 - أطراف الصحيحين:
• «أطراف الصحيحين» للحافظ أبي مسعود إبراهين بن محمد بن عبيد الدمشقي.
• «أطراف الصحيحين» للحافظ خلف بن حمدون الواسطي.
2 - أطراف الكتب الخمسة:
• «أطراف الكتب الخمسة» لأبي العباس أحمد بن ثابت بن محمد الطَّرْقي، بفتح المهملة، وسكون الراء، بعدها قاف نسبة إلى طرق، قريب من أعمال أصبهان.
3 - أطراف الكتب الستة:
• «أطراف الستة» لأبي الفضل محمد بن طاهر المقدسي.
• «تحفة الأشراف» لجمال الدين أبي الحجاج يوسف بن عبد الرحمن الحلبي
--------------------------------------------
আতরাফ বিষয়ক গ্রন্থসমূহ (১)এমন কিছু গ্রন্থ সংকলিত হয়েছে যা নির্দিষ্ট কিতাবসমূহের আতরাফ (হাদিসের প্রথমাংশ) বর্ণনার জন্য, আবার এমন কিছু রয়েছে যা নির্দিষ্ট হাদিসসমূহের আতরাফ বর্ণনার জন্য, তবে তা পূর্ণাঙ্গরূপে; আর নিচে তার বিবরণ দেওয়া হলো:
প্রথমত: নির্দিষ্ট কিতাবসমূহের আতরাফ বর্ণনার উদ্দেশ্যে সংকলিত গ্রন্থসমূহ:১ - সহীহাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এর আতরাফ:
• হাফেজ আবু মাসউদ ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন উবাইদ আদ-দামাস্কি রচিত «আতরাফুস সহীহাইন»।
• হাফেজ খালাফ বিন হামদুন আল-ওয়াসিতি রচিত «আতরাফুস সহীহাইন»।
২ - কুতুবে খামসাহ (পাঁচটি কিতাব)-এর আতরাফ:
• আবুল আব্বাস আহমদ বিন সাবিত বিন মুহাম্মদ আত-ত্বরকি রচিত «আতরাফুল কুতুবিল খামসাহ»; 'ত্বরকি' শব্দটি ত্ব-এর ওপর ফাতহা (যবর) এবং র-এর ওপর সুকুন (জযম) সহকারে, এরপর ক্বাফ; এটি ইসফাহানের নিকটবর্তী 'ত্বরক' নামক জনপদের দিকে সম্পৃক্ত।
৩ - কুতুবে সিত্তাহ (ছয়টি কিতাব)-এর আতরাফ:
• আবুল ফজল মুহাম্মদ বিন তাহের আল-মাকদিসি রচিত «আতরাফুস সিত্তাহ»।
• জামালুদ্দিন আবুল হাজ্জাজ ইউসুফ বিন আবদুর রহমান আল-হালাবি রচিত «তুহফাতুল আশরাফ»।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আরীজ ফি ইলমি উসুলিত তাখরীজ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
المولد، الدمشقي الدار والمنشأ.
• «الكشاف في معرفة الأطراف» للحافظ شمس الدين أبي المحاسن محمد بن الحسن بن حمزة الدمشقي.
• «الإشراف على معرفة الأطراف» لأبي القاسم ابن عساكر.
• «الإشراف على الأطراف» لابن الملقن.
• «ذخائر المواريث» للشيخ إسماعيل بن عبد الغني بن إسماعيل النابلسي.
4 - أطراف الكتب العشرة:
• «إتحاف المهرة بالفوائد المبتكرة من أطراف العشرة» للحافظ ابن حجر.
5 - أطراف المسانيد العشرة:
• «أطراف المسانيد العشرة» لشهاب الدين أبي العباس أحمد بن أبي بكر محمد بن إسماعيل بن سليم البوصيري.
ثانيًا: مصنفات صُنفت لبيان أطراف أحاديث معينة، ولكن على سبيل الاستيعاب:
1 - طرق حديث: «إِنَّ لِلَّهِ تِسْعَةً وَتِسْعِين اسْمًا» لأبي نعيم الأصبهاني.
2 - طرق حديث: «الْحَوْض» للضياء المقدسي.
3 - طرق حديث: «الإِفْك» لأبي بكر الآجري.
4 - طرق حديث: «قَبْض العلم» لمحمد بن أسلم الطوسي، ولأبي الفتح نصر ابن إبراهيم المقدسي، وللخطيب البغدادي.
5 - طرق حديث: «طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ» للسيوطي.
জন্মসূত্রে এবং আবাস ও বেড়ে ওঠার দিক থেকে দামেস্কি।
• হাফিজ শামসউদ্দীন আবু মাহাসিন মুহাম্মদ ইবনুল হাসান ইবনে হামজাহ আদ-দিমাশকি রচিত «আল-কাশশাফ ফী মারিফাতিল আতরাফ»।
• আবুল কাসিম ইবনে আসাকির রচিত «আল-ইশরাফ আলা মারিফাতিল আতরাফ»।
• ইবনুল মুলাক্কিন রচিত «আল-ইশরাফ আলাল আতরাফ»।
• শেখ ইসমাইল ইবনে আব্দুল গনি ইবনে ইসমাইল আন-নাবুলুসি রচিত «যাখাইরুল মাওয়ারিছ»।
৪ - দশটি কিতাবের আতরাফ (সূত্র-সূচি):
• হাফিজ ইবনে হাজার রচিত «ইতহাফুল মাহারা বিল-ফাওয়াইদিল মুবতাকারা মিন আতরাফিল আশারা»।
৫ - দশটি মুসনাদ গ্রন্থের আতরাফ:
• শিহাবউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল ইবনে সালিম আল-বুসিরি রচিত «আতরাফুল মাসানিদিল আশারা»।
দ্বিতীয়ত: নির্দিষ্ট কিছু হাদিসের সূত্রসমূহ বর্ণনার উদ্দেশ্যে রচিত গ্রন্থাবলি, তবে তা বিস্তারিত অনুসন্ধানের ভিত্তিতে:
১ - হাদিসের সূত্রসমূহ: «নিশ্চয়ই আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম রয়েছে» আবু নুআইম আল-আসফাহানি-এর।
২ - হাদিসের সূত্রসমূহ: «আল-হাওদ (হাউয)» দিয়া আল-মাকদিসি-এর।
৩ - হাদিসের সূত্রসমূহ: «আল-ইফক (মিথ্যা অপবাদ)» আবু বকর আল-আজুরি-এর।
৪ - হাদিসের সূত্রসমূহ: «ইলম (জ্ঞান) উঠিয়ে নেওয়া» মুহাম্মদ ইবনে আসলাম আত-তুসি, আবুল ফাতহ নাসর ইবনে ইবরাহিম আল-মাকদিসি এবং খতিব আল-বাগদাদি-এর।
৫ - হাদিসের সূত্রসমূহ: «ইলম অন্বেষণ করা ফরজ» সুয়ুতি-এর।