(খণ্ড: ১)
আয-যুহদু ওয়া সিফাতুয যাহিদীনা লিইবনিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: -)
الزهد وصفة الزاهدين لابن الأعرابي (أبو سعيد ابن الأعرابي)
القسم: كتب السنة
الكتاب: الزهد وصفة الزاهدين
المؤلف: أبو سعيد بن الأعرابي أحمد بن محمد بن زياد بن بشر بن درهم البصري الصوفي (ت 340هـ)
المحقق: مجدي فتحي السيد
الناشر: دار الصحابة للتراث - طنطا
الطبعة: الأولى، 1408
عدد الصفحات: 72
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইবনুল আ’রাবী রচিত আয-যুহদ ওয়া সিফাতুয যাহেদীন (বৈরাগ্য এবং বৈরাগীদের বৈশিষ্ট্য) (আবু সাঈদ ইবনুল আ’রাবী)
বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: আয-যুহদ ওয়া সিফাতুয যাহেদীন
লেখক: আবু সাঈদ বিন আল-আ’রাবী আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন যিয়াদ বিন বিশর বিন দিরহাম আল-বাসরী আস-সূফী (মৃত্যু ৩৪০ হি.)
সম্পাদক: মাজদী ফাতহী আস-সাইয়্যিদ
প্রকাশক: দারুস সাহাবাহ লিত-তুরাস - তানতা
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৮
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭২
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আয-যুহদু ওয়া সিফাতুয যাহিদীনা লিইবনিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ١٧)
1 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدٍ الْبَزَّازُ الْمَعْرُوفُ بِابْنِ النَّحَّاسِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو سَعِيدٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادِ بْنِ بِشْرٍ بْنُ الْأَعْرَابِيِّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ فِي سَنَةِ أَرْبَعِينَ وَثَلَاثِمِائَةٍ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبَّاسٌ التَّرْقُفِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ قَالَ: حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا قُرَّةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ حَيْوَئِيلَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «كُلُّ أَمْرٍ ذِي بَالٍ لَا يُبْدَأُ فِيهِ بِالْحَمْدِ لِلَّهِ، أَقْطَعُ» ⦗ص: 18⦘. فَالْحَمْدُ لِلَّهِ الْمَحْمُودِ بِآلَائِهِ، الْمَعْبُودِ فِي أَرْضِهِ وَسَمَائِهِ، أَفْضَلَ الْحَمْدِ وَأَعْلَاهُ، وَغَايَةَ الْحَمْدِ وَمُنْتَهَاهُ، وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى مُحَمَّدٍ عَبْدِهِ وَرَسُولِهِ، وَخِيرَتِهِ مِنْ خَلْقِهِ، أَفْضَلَ مَا صَلَّى عَلَيْهِ مُصَلٍّ مِنْ أُمَّتِهِ، أَمَّا بَعْدُ ، فَإِنَّ أَهْلَ الْعِلْمِ اخْتَلَفُوا فِي مَعْنَى الزُّهْدِ قَدِيمًا وَحَدِيثًا، وَقَالُوا فِيهِ أَقَاوِيلَ أَنَا ذَاكِرٌ مَا انْتَهَى إِلَيَّ مِنْهَا، وَمُبَيِّنٌ مِنْ أَقَاوِيلِهِمْ مَا وَصَلَتْ إِلَى عِلْمِي، وَبِاللَّهِ أَسْتَعِينُ، وَأَنَا أَسْأَلُهُ التَّوْفِيقَ
১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মদ আল-বাযযায, যিনি ইবনুন নাহহাস নামে পরিচিত। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাঈদ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে যিয়াদ ইবনে বিশর ইবনুল আরাবি, ৩৪০ হিজরি সনে তাঁর নিকট পাঠকালে আমি তা শ্রবণ করছিলাম। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্বাস আত-তারকুফী। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল মুগীরাহ। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আওযায়ী। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কুররাহ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে হাইওয়ায়ীল, যুহরী থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা আল্লাহর প্রশংসা দ্বারা শুরু করা হয় না, তা ছিন্ন» ⦗পৃষ্ঠা: ১৮⦘। সুতরাং সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর নেয়ামতরাজির কারণে প্রশংসিত এবং তাঁর জমিন ও আসমানে ইবাদতকৃত; সর্বোত্তম ও সর্বোচ্চ প্রশংসা এবং প্রশংসার চূড়ান্ত ও শেষ সীমা। আর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর, যিনি তাঁর বান্দা ও রাসূল এবং তাঁর সৃষ্টির মাঝে মনোনীত; তাঁর উম্মতের কোনো রহমত প্রার্থনাকারীর পক্ষ থেকে পঠিত সর্বোত্তম রহমতের ন্যায়। অতঃপর, নিশ্চয়ই উলামায়ে কেরাম প্রাচীন ও আধুনিককালে 'জুহদ'-এর মর্মার্থ নিয়ে মতভেদ করেছেন। তারা এ বিষয়ে বিভিন্ন উক্তি করেছেন; আমার নিকট এ সংক্রান্ত যা পৌঁছেছে আমি তা উল্লেখ করব এবং তাদের সেসব বক্তব্যের মধ্য থেকে যা আমার জ্ঞানগোচর হয়েছে তা স্পষ্ট করব। আমি আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং তাঁর নিকট তাওফীক কামনা করছি।
(খণ্ড: ১)
আয-যুহদু ওয়া সিফাতুয যাহিদীনা লিইবনিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ١٨)
2 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي الدُّنْيَا قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ أَنَّهُ حَدَّثَ عَنْ زَيْدِ بْنِ الْحُبَابِ قَالَ: حَدَّثَنِي مُعَاوِيَةُ بْنُ عَبْدِ الْكَرِيمِ قَالَ: ذُكِرَ عِنْدَ الْحَسَنِ الزُّهْدُ، فَقَالَ بَعْضُهُمُ: اللِّبَاسُ وَقَالَ بَعْضُهُمُ: الْمَطْعَمُ، وَقَالَ بَعْضُهُمْ: كَذَا، فَقَالَ الْحَسَنُ: " لَسْتُمْ فِي شَيْءٍ، الزَّاهِدُ الَّذِي إِذَا رَأَى أَحَدًا قَالَ: هَذَا أَفْضَلُ مِنِّي " قَالَ أَبُو سَعِيدِ بْنُ الْأَعْرَابِيِّ: «وَهَذَا دَاخِلٌ فِي بَابِ التَّوَاضُعِ، وَإِسْقَاطِ الْجَاهِ»
২ - আমাদের নিকট আহমদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইবন আবিদ দুনিয়া বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাসান বিন আলী বর্ণনা করেছেন যে, তিনি যায়দ বিন হুবাব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট মুআবিয়া বিন আব্দুল কারীম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাসান (বসরী)-এর নিকট যুহদ (দুনিয়াবিমুখতা) সম্পর্কে আলোচনা করা হলো। তখন তাদের কেউ বললেন: (এটি) পোশাকের ক্ষেত্রে; কেউ বললেন: (এটি) খাবারের ক্ষেত্রে; আবার কেউ বললেন: এমন এমন বিষয়। তখন হাসান বললেন: "তোমরা সঠিক ধারণার ওপর নেই। প্রকৃত যাহিদ সেই ব্যক্তি, যে কাউকে দেখলেই বলে: এ ব্যক্তি আমার চেয়ে শ্রেষ্ঠ।" আবু সাঈদ ইবনুল আরাবী বলেন: "এটি বিনয় এবং লোকসম্মান বা পদমর্যাদা ত্যাগের অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত।"
(খণ্ড: ১)
আয-যুহদু ওয়া সিফাতুয যাহিদীনা লিইবনিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ١٨)
وَفِيهِ قَوْلٌ ثَانٍ عَنِ الْحَسَنِ
আর এ বিষয়ে হাসান থেকে দ্বিতীয় একটি বক্তব্য রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আয-যুহদু ওয়া সিফাতুয যাহিদীনা লিইবনিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ١٩)
3 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي الدُّنْيَا قَالَ: حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ مُعَاوِيَةَ الْأَزْرَقِ قَالَ: كَتَبَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ إِلَى الْحَسَنِ: عَلِّمْنِي وَأَوْجِزْ، فَكَتَبَ إِلَيْهِ الْحَسَنُ: «أَمَّا مُصْلِحُكَ وَمُصْلَحٌ بِهِ عَلَى يَدَيْكَ الزُّهْدُ فِي الدُّنْيَا، وَإِنَّمَا الزُّهْدُ فِي الْيَقِينِ، وَالْيَقِينُ بِالتَّفَكُّرِ، وَالتَّفَكُّرُ بِالِاعْتِبَارِ، وَإِذَا أَنْتَ فَكَّرْتَ فِي الدُّنْيَا لَمْ تَجِدْهَا أَهْلًا أَنْ تَبِيعَ بِهَا نَفْسَكَ، وَوَجَدْتَ نَفْسَكَ أَهْلًا أَنْ تَكْرَهَهَا بِهَوَانِ الدُّنْيَا، فَإِنَّ الدُّنْيَا دَارُ بَلَاءٍ، وَمُنْزِلُ قُلْعَةٍ»
৩ - আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবন আবিদ দুনইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হুসাইন বিন আব্দুর রহমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন মুয়াবিয়া আল-আযরাক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: উমর বিন আব্দুল আযীয হাসান (বসরী)-এর নিকট লিখেছিলেন: আমাকে শিক্ষা দিন এবং তা সংক্ষেপ করুন। হাসান তাঁর নিকট লিখলেন: «আপনার সংশোধন এবং আপনার হাতের মাধ্যমে যা সংশোধিত হবে তা হলো দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি। আর অনাসক্তি কেবল ইয়াকীনের মাধ্যমেই অর্জিত হয়, ইয়াকীন আসে চিন্তা-ভাবনার মাধ্যমে এবং চিন্তা-ভাবনা আসে শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে। আপনি যখন দুনিয়া নিয়ে চিন্তা করবেন, তখন একে নিজের সত্তাকে বিকিয়ে দেওয়ার যোগ্য পাবেন না; বরং দুনিয়ার তুচ্ছতার কারণে আপনি আপনার নফসকে একে ঘৃণা করার উপযুক্ত পাবেন। কেননা দুনিয়া হলো পরীক্ষার আবাস এবং ক্ষণস্থায়ী প্রস্থান স্থল।»
(খণ্ড: ১)
আয-যুহদু ওয়া সিফাতুয যাহিদীনা লিইবনিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ١٩)
وَفِيهِ قَوْلٌ ثَالِثٌ قَالَهُ الزُّهْرِيُّ
এবং এতে একটি তৃতীয় অভিমত রয়েছে যা যুহরী ব্যক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আয-যুহদু ওয়া সিফাতুয যাহিদীনা লিইবনিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ١٩)
4 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُوسَى قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ قَالَ: قَالُوا لِلزُّهْرِيِّ 5 - وَحَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي الدُّنْيَا قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو حُذَيْفَةَ الْفَزَارِيُّ، يَعْنِي عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَرْوَانَ بْنِ مُعَاوِيَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ قَالَ: قَالُوا لِلزُّهْرِيِّ: مَا الزُّهْدُ؟ قَالَ: «مَنْ لَمْ يَغْلِبِ الْحَرَامُ صَبْرَهُ، وَلَمْ يَمْنَعِ الْحَلَالُ شُكْرَهُ» مَعْنَاهُ: الصَّبْرُ عَنِ الْحَرَامِ، وَالشُّكْرُ عَلَى الْحَلَالِ، وَالِاعْتِرَافُ لِلَّهِ بِهِ، وَاسْتِعْمَالُ النِّعْمَةِ فِي الطَّاعَةِ
৪ - আমাদের নিকট আহমাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে মুসা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তারা যুহরিকে বললেন— ৫ - এবং আমাদের নিকট ইবন আবিদ দুনইয়া বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু হুযাইফা আল-ফাযারি বর্ণনা করেছেন—অর্থাৎ আবদুল্লাহ ইবনে মারওয়ান ইবনে মুয়াবিয়া—তিনি বলেন: আমাদের নিকট সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তারা যুহরিকে বললেন: যুহদ কী? তিনি বললেন: «যার ধৈর্যকে হারাম পরাভূত করে না এবং হালাল যাকে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন থেকে বিরত রাখে না» এর অর্থ হলো: হারাম থেকে ধৈর্য ধারণ করা, হালালের ওপর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা, আল্লাহর নিকট তার স্বীকৃতি প্রদান করা এবং নেয়ামতকে আনুগত্যের কাজে ব্যবহার করা।
(খণ্ড: ১)
আয-যুহদু ওয়া সিফাতুয যাহিদীনা লিইবনিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ١٩)
وَفِيهِ قَوْلٌ رَابِعٌ عَنْ يُونُسَ بْنِ مَيْسَرَةَ بْنِ حَلْبَسٍ
আর এতে ইউনুস ইবনে মায়সারা ইবনে হালবাস থেকে বর্ণিত চতুর্থ একটি অভিমত রয়েছে
(খণ্ড: ১)
আয-যুহদু ওয়া সিফাতুয যাহিদীনা লিইবনিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
6 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو مُسْلِمٍ الْحَرَّانِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا مِسْكِينُ بْنُ بُكَيْرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ مُهَاجِرِ، عَنْ يُونُسَ بْنِ مَيْسَرَةَ بْنِ حَلْبَسٍ الْجُبْلَانِيِّ قَالَ: «لَيْسَ الزَّهَادَةُ فِي الدُّنْيَا بِتَحْرِيمِ الْحَلَالِ، وَلَا إِضَاعَةُ الْمَالِ، وَلَكِنَّ الزَّهَادَةَ فِي الدُّنْيَا أَنْ تَكُونَ بِمَا فِي يَدِ اللَّهِ أَوْثَقَ مِنْكَ بِمَا فِي يَدِكَ، وَأَنْ يَكُونَ حَالُكَ فِي الْمُصِيبَةِ، وَحَالُكَ إِذَا لَمْ تُصَبْ بِهَا سَوَاءً، وَأَنْ يَكُونَ ذَامُّكَ وَمَادِحُكَ فِي الْحَقِّ سَوَاءً»
৬ - আমাদের নিকট আহমাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু মুসলিম আল-হাররানি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মিসকিন বিন বুকাইর বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ বিন মুহাজির থেকে, তিনি ইউনুস বিন মাইসারা বিন হালবাস আল-জুবলানি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «দুনিয়া-বিরাগ (যুহদ) মানে হালালকে হারাম করা নয় এবং সম্পদ নষ্ট করাও নয়। বরং দুনিয়া-বিরাগ হলো, তোমার নিজের হাতে যা আছে তার চেয়ে আল্লাহর হাতে যা আছে তার ওপর অধিক আস্থাশীল হওয়া; আর বিপদে তোমার অবস্থা এবং যখন তুমি বিপদে আক্রান্ত হওনি তখনকার অবস্থা সমান হওয়া; এবং সত্যের ক্ষেত্রে তোমার নিন্দাকারী ও প্রশংসাকারী তোমার নিকট সমান হওয়া।»
(খণ্ড: ১)
আয-যুহদু ওয়া সিফাতুয যাহিদীনা লিইবনিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
وَفِيهِ قَوْلٌ خَامِسٌ قَالَهُ وُهَيْبُ بْنُ الْوَرْدِ
আর এ বিষয়ে পঞ্চম একটি অভিমত রয়েছে যা উহাইব বিন আল-ওয়ারদ বলেছেন
(খণ্ড: ১)
আয-যুহদু ওয়া সিফাতুয যাহিদীনা লিইবনিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
7 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي الدُّنْيَا قَالَ: حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعِيدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ أَيُّوبَ قَالَ: حَدَّثَنَا ضَمْرَةُ بْنُ رَبِيعَةَ قَالَ: قَالَ وُهَيْبٌ الْمَكِّيُّ: «الزُّهْدُ فِي الدُّنْيَا أَنْ لَا تَأْسَى عَلَى مَا فَاتَكَ مِنْهَا، وَلَا تَفْرَحَ بِمَا أَتَاكَ مِنْهَا»
৭ - আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে আবিদ দুনিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইব্রাহিম বিন সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুসা বিন আইয়ুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: দামরাহ বিন রাবিয়াহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উহাইব আল-মাক্কি বলেছেন: «দুনিয়ার প্রতি বিরাগ বা অনাসক্তি (যুহদ) হলো, যা তোমার থেকে হাতছাড়া হয়ে গেছে তার জন্য আক্ষেপ না করা এবং যা তুমি লাভ করেছ তাতে আনন্দিত না হওয়া।»
(খণ্ড: ১)
আয-যুহদু ওয়া সিফাতুয যাহিদীনা লিইবনিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
وَفِيهِ قَوْلٌ سَادِسٌ قَالَهُ الثَّوْرِيُّ
এবং এ বিষয়ে একটি ষষ্ঠ অভিমত রয়েছে যা আস-সাওরী ব্যক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আয-যুহদু ওয়া সিফাতুয যাহিদীনা লিইবনিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
8 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَبَّاسِ قَالَ: حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ قَالَ: «الزُّهْدُ فِي الدُّنْيَا قِصَرُ الْأَمَلِ، لَيْسَ بِأَكْلِ الْغَلِيظِ، وَلَا بِلُبْسِ الْعَبَاءِ»
৮ - আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনুল আব্বাস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ওয়াকি' আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান থেকে, তিনি বলেন: «দুনিয়ার প্রতি বিমুখতা বা জুহদ হলো আকাঙ্ক্ষাকে সংক্ষিপ্ত করা; এটি স্থূল খাবার গ্রহণ করা কিংবা জীর্ণ বস্ত্র পরিধান করার নাম নয়।»
(খণ্ড: ১)
আয-যুহদু ওয়া সিফাতুয যাহিদীনা লিইবনিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
وَفِيهِ قَوْلٌ سَابِعٌ قَالَهُ دَاوُدُ الطَّائِيُّ
আর এ বিষয়ে একটি সপ্তম মত রয়েছে, যা দাউদ আত-তাঈ ব্যক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আয-যুহদু ওয়া সিফাতুয যাহিদীনা লিইবনিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ٢١)
9 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي الدُّنْيَا قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍالسَّلُولِيُّ قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى دَاوُدَ الطَّائِيِّ أَنَا وَصَاحِبٌ لِي وَهُوَ عَلَى التُّرَابِ، فَقُلْتُ لِصَاحِبِي: هَذَا رَجُلٌ زَاهِدٌ، فَقَالَ دَاوُدُ: «إِنَّمَا الزَّاهِدُ مَنْ قَدَرَ فَتَرَكَ»
৯ - আহমেদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে আবিদ দুনিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল মাজিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইসহাক ইবনে মানসুর আস-সালুলি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি এবং আমার এক সঙ্গী দাউদ আত-তাঈ-এর নিকট প্রবেশ করলাম, তখন তিনি মাটির ওপর বসা ছিলেন। আমি আমার সঙ্গীকে বললাম: "ইনি একজন জাহিদ (দুনিয়াবিমুখ) ব্যক্তি"। তখন দাউদ বললেন: "প্রকৃতপক্ষে জাহিদ সেই ব্যক্তি, যে সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ত্যাগ করে।"
(খণ্ড: ১)
আয-যুহদু ওয়া সিফাতুয যাহিদীনা লিইবনিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ٢١)
وَفِيهِ قَوْلٌ ثَامِنٌ قَالَهُ فُضَيْلُ بْنُ عِيَاضٍ
এ বিষয়ে অষ্টম একটি অভিমত রয়েছে যা ফুযাইল ইবন ইয়ায বলেছেন
(খণ্ড: ১)
আয-যুহদু ওয়া সিফাতুয যাহিদীনা লিইবনিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ٢١)
10 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي الدُّنْيَا قَالَ: بَلَغَنِي عَنْ فُضَيْلِ بْنِ عِيَاضٍ أَنَّهُ قَالَ: «إِنَّ الزُّهْدَ الرِّضَا عَنِ اللَّهِ تَعَالَى»
10 - আমাদের নিকট আহমদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে আবিদ দুনিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ফুযাইল ইবন ইয়ায থেকে আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই যুহদ (দুনিয়াবিমুখতা) হলো মহান আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট থাকা।"
(খণ্ড: ১)
আয-যুহদু ওয়া সিফাতুয যাহিদীনা লিইবনিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ٢١)
11 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، قَالَ: وَحَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي الدُّنْيَا قَالَ: حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ يَعْقُوبَ قَالَ: قَالَ الْعُمَرِيُّ عَبْدُ اللَّهِ: «الزُّهْدُ الرِّضَا»
১১ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ, তিনি বলেন: এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে আবিদ দুনিয়া, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবরাহিম বিন ইয়াকুব, তিনি বলেন: আল-উমারি আবদুল্লাহ বলেছেন: «জুদ (দুনিয়াবিমুখতা) হলো সন্তুষ্টি»
(খণ্ড: ১)
আয-যুহদু ওয়া সিফাতুয যাহিদীনা লিইবনিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ٢١)
وَفِيهِ قَوْلٌ تَاسِعٌ قَالَهُ إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَدْهَمَ
এ বিষয়ে নবম একটি বক্তব্য রয়েছে যা ইব্রাহিম বিন আদহাম বলেছেন
(খণ্ড: ১)
আয-যুহদু ওয়া সিফাতুয যাহিদীনা লিইবনিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
12 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي الدُّنْيَا قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ قَالَ: حَدَّثَنَا مِسْكِينُ بْنُ عُبَيْدٍ الصُّوفِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا الْمُتَوَكِّلُ بْنُ الْحُسَيْنِ الْعَابِدُ قَالَ: قَالَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَدْهَمَ: " الزُّهْدُ ثَلَاثَةُ أَصْنَافٍ: فَزُهْدُ فَرْضٍ، وَزُهْدُ فَضْلٍ، وَزُهْدُ سَلَامَةٍ، قَالُوا: هَذَا الْفَرْضُ الزُّهْدُ فِي الْحَرَامِ، وَالزُّهْدُ الْفَضْلُ الزُّهْدُ فِي الْحَلَالِ، وَالزُّهْدُ فِي السَّلَامَةِ الزُّهْدُ فِي الشُّبُهَاتِ "
১২ - আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে আবিদ দুনইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মিসকিন ইবনে উবাইদ আস-সুফি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুতাওয়াক্কিল ইবনে আল-হুসাইন আল-আবিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইব্রাহিম ইবনে আদহাম বলেছেন: "জুহদ (পার্থিব বিরাগ) তিন প্রকার: ফরয জুহদ, ফজিলতপূর্ণ জুহদ এবং সালামতের (নিরাপদ থাকার) জুহদ। তাঁরা বলেন: ফরয হলো হারামের প্রতি জুহদ, ফজিলতপূর্ণ হলো হালালের প্রতি জুহদ এবং সালামতের জুহদ হলো সন্দেহজনক বিষয়াবলির প্রতি জুহদ।"
(খণ্ড: ১)
আয-যুহদু ওয়া সিফাতুয যাহিদীনা লিইবনিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
وَفِيهِ قَوْلٌ عَاشِرٌ قَالَهُ سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ
এ বিষয়ে একটি দশম অভিমত রয়েছে যা সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা ব্যক্ত করেছেন
(খণ্ড: ১)
আয-যুহদু ওয়া সিফাতুয যাহিদীনা লিইবনিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
13 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ يَزِيدَ قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي الْحَوَارِي قَالَ: حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ قَالَ: قِيلَ لِسُفْيَانَ: مَا حَدُّ الزُّهْدِ؟ قَالَ: «أَنْ يَكُونَ شَاكِرًا فِي الرَّخَاءِ، صَابِرًا فِي الْبَلَاءِ، فَإِذَا كَانَ كَذَلِكَ فَهُوَ زَاهِدٌ» ، قِيلَ لِسُفْيَانَ: مَا الشُّكْرُ؟ قَالَ: «أَنْ تَجْتَنِبَ مَا نَهَى اللَّهُ عَنْهُ»
১৩ - আমাদের নিকট আহমদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবদুস সামাদ ইবনে ইয়াজিদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আহমদ ইবনে আবিল হাওয়ারি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আলী ইবনুল মাদিনী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ানকে জিজ্ঞেস করা হলো: যুহদ (দুনিয়াবিমুখতা)-এর সংজ্ঞা কী? তিনি বললেন: «স্বাচ্ছন্দ্যের সময় কৃতজ্ঞ থাকা এবং বিপদের সময় ধৈর্য ধারণ করা; যখন কেউ এরূপ গুণের অধিকারী হয়, তখন সে-ই যাহিদ (দুনিয়াবিমুখ)»। সুফিয়ানকে জিজ্ঞেস করা হলো: শোকর (কৃতজ্ঞতা) কী? তিনি বললেন: «আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকা»।
(খণ্ড: ১)
আয-যুহদু ওয়া সিফাতুয যাহিদীনা লিইবনিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
وَفِيهِ قَوْلٌ حَادِيَ عَشَرَ
এবং এতে একাদশতম একটি বক্তব্য রয়েছে
(খণ্ড: ১)
আয-যুহদু ওয়া সিফাতুয যাহিদীনা লিইবনিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
14 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي الدُّنْيَا قَالَ: حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي الْحَوَارِي قَالَ: قُلْتُ لِسُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ: مَا الزُّهْدُ فِي الدُّنْيَا؟ قَالَ: «مَنْ إِذَا أُنْعِمَ عَلَيْهِ شَكَرَ، وَإِذَا ابْتُلِيَ صَبَرَ» قُلْتُ: يَا أَبَا مُحَمَّدٍ، قَدْ أُنْعِمَ عَلَيْهِ فَشَكَرَ، وَابْتُلِيَ فَصَبَرَ، وَجَلِيسُ النِّعْمَةِ كَيْفَ يَكُونُ زَاهِدًا؟ فَضَرَبَنِي بِيَدِهِ، وَقَالَ: «اسْكُتْ، مَنْ لَمْ تَمْنَعْهُ النَّعْمَاءُ مِنَ الشُّكْرِ، وَلَا الْبَلْوَى عَنِ الصَّبْرِ، فَذَلِكَ الزَّاهِدُ»
১৪ - আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে আবিদ দুনইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী বিন মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ বিন আবুল হাওয়ারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি সুফিয়ান বিন উইয়াইনাহকে জিজ্ঞেস করলাম: দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি (জুহদ) কী? তিনি বললেন: «যাকে যখন নিয়ামত প্রদান করা হয় সে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, আর যখন বিপদে পতিত হয় তখন ধৈর্য ধারণ করে» আমি বললাম: হে আবু মুহাম্মাদ, তাকে নিয়ামত দেওয়া হয়েছে এবং সে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে, সে বিপদে পড়েছে এবং ধৈর্য ধারণ করেছে; কিন্তু যে নিয়ামতের সান্নিধ্যে থাকে সে কীভাবে দুনিয়া-বিরাগী (জাহিদ) হতে পারে? তখন তিনি তাঁর হাত দিয়ে আমাকে আঘাত করলেন এবং বললেন: «চুপ করো, যাকে নিয়ামতরাজি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ থেকে এবং বিপদ ধৈর্য ধারণ করা থেকে বিরত রাখতে পারে না, সেই হলো প্রকৃত দুনিয়া-বিরাগী (জাহিদ)»
(খণ্ড: ১)
আয-যুহদু ওয়া সিফাতুয যাহিদীনা লিইবনিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
وَفِيهِ قَوْلٌ ثَانِيَ عَشَرَ قَالَهُ أَبُو سُلَيْمَانَ
এবং এতে দ্বাদশ একটি অভিমত রয়েছে যা আবু সুলাইমান ব্যক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আয-যুহদু ওয়া সিফাতুয যাহিদীনা লিইবনিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
15 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي الدُّنْيَا قَالَ: حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي الْحَوَارِي قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا سُلَيْمَانَ الدَّارَانِيَّ يَقُولُ: «لَا يَجُوزُ أَنْ يُظْهِرَ لِلنَّاسِ الزُّهْدَ، وَالشَّهَوَاتُ فِي قَلْبِهِ، فَإِذَا لَمْ يَبْقَ فِي قَلْبِهِ شَهْوَةٌ مِنْ شَهَوَاتِ الدُّنْيَا كَانَ لَهُ أَنْ يُظْهِرَ الزُّهْدَ؛ لِأَنَّ الْغِنَى عَلَمٌ مِنْ أَعْلَامِ الزُّهْدِ، فَإِذَا زَهِدَ بِقَلْبِهِ، وَأَظْهَرَ الْغِنَى كَانَ مُسْتَوْجِبًا لِزُهْدِهِ، وَإِنْ سَتَرَ زُهْدَهُ بِثَوْبَيِ الْبَصَرِ، يَرْفَعُ أَبْصَارَ النَّاسِ عَنْهُ، كَانَ أَسْلَمَ لِزُهْدِهِ»
১৫ - আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবন আবু দুনিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী ইবনুল হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমদ ইবন আবু আল-হাওয়ারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু সুলাইমান আদ-দারানিকে বলতে শুনেছি: «অন্তরে কামনা-বাসনা থাকা অবস্থায় মানুষের নিকট বৈরাগ্য প্রকাশ করা বৈধ নয়। অতঃপর যখন তার অন্তরে পার্থিব কোনো কামনা অবশিষ্ট থাকে না, তখন তার জন্য বৈরাগ্য প্রকাশ করা সংগত হয়; কারণ অমুখাপেক্ষিতা হলো বৈরাগ্যের অন্যতম নিদর্শন। সুতরাং সে যখন অন্তরে বৈরাগী হয় এবং অমুখাপেক্ষিতা প্রকাশ করে, তখন সে তার বৈরাগ্যের যথার্থ অধিকারী হয়। আর যদি সে তার বৈরাগ্যকে দৃষ্টির আবরণে গোপন রাখে, যা মানুষের দৃষ্টিকে তার থেকে সরিয়ে নেয়, তবে তা তার বৈরাগ্যের জন্য অধিক নিরাপদ হবে।»
(খণ্ড: ১)
আয-যুহদু ওয়া সিফাতুয যাহিদীনা লিইবনিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
وَفِيهِ قَوْلٌ ثَالِثَ عَشَرَ قَالَهُ مَضَاءٌ
এবং এতে ত্রয়োদশ একটি অভিমত রয়েছে যা মাদা বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
আয-যুহদু ওয়া সিফাতুয যাহিদীনা লিইবনিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
16 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي الدُّنْيَا قَالَ: حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي الْحَوَارِي قَالَ: سَمِعْتُ مَضَاءً يَقُولُ: «إِنَّمَا أَرَادُوا بِالزُّهْدِ أَنْ تَفْرُغَ قُلُوبُهُمْ لِلْآخِرَةِ» . قَالَ أَبُو سَعِيدٍ الْأَعْرَابِيُّ: وَهَذَا يَدُلُّ عَلَى أَنْ يَزْهَدَ فِي كُلِّ مَا شَغَلَهُ عَنِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ
১৬ - আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে আবিদ দুনইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী ইবনুল হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনে আবিল হাওয়ারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মাযা-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন: «নিশ্চয়ই তারা যুহদ (দুনিয়াবিমুখতা) দ্বারা এটাই উদ্দেশ্য করেছেন যেন তাদের অন্তরসমূহ পরকালের জন্য অবসর হতে পারে»। আবু সাঈদ আল-আরাবী বলেন: আর এটি এ কথার প্রমাণ দেয় যে, ওই প্রত্যেকটি বিষয় থেকেই বিমুখ থাকা উচিত যা তাকে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা থেকে বিমুখ বা অন্যমনস্ক করে রাখে।
(খণ্ড: ১)
আয-যুহদু ওয়া সিফাতুয যাহিদীনা লিইবনিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
وَفِيهِ قَوْلٌ رَابِعَ عَشَرَ قَالَهُ بَكْرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْمُزَنِيُّ
এ বিষয়ে চতুর্দশ একটি অভিমত রয়েছে, যা বকর ইবনে আবদুল্লাহ আল-মুজানী বর্ণনা করেছেন
(খণ্ড: ১)
আয-যুহদু ওয়া সিফাতুয যাহিদীনা লিইবনিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
17 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي الدُّنْيَا قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ يَحْيَى بْنِ كَثِيرٍ قَالَ: حَدَّثَنَا خُزَيْمَةُ أَبُو مُحَمَّدٍ قَالَ: كَانَتْ دَعْوَةُ بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمُزَنِيِّ لِمَنْ لَقِيَ مِنْ إِخْوَانِهِ أَنْ يَقُولَ لَهُ: «زَهَّدَنَا اللَّهُ وَإِيَّاكَ زَهَادَةَ مَنْ أَمْكَنَهُ الْحَرَامُ وَالذُّنُوبُ فِي الْخَلَوَاتِ فَعَلِمَ أَنَّ اللَّهَ يَرَاهُ فَتَرَكَهَا»
১৭ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে আবিদ দুনইয়া, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাসান বিন ইয়াহইয়া বিন কাসীর, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন খুজাইমাহ আবু মুহাম্মাদ, তিনি বলেছেন: বকর বিন আব্দুল্লাহ আল-মুযানী তাঁর কোনো এক ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করলে তার জন্য এই বলে দুআ করতেন: «আল্লাহ আমাদের এবং আপনাকে সেই দুনিয়াবিমুখতা দান করুন, যেমন দুনিয়াবিমুখতা ঐ ব্যক্তির থাকে যার নিকট নির্জনে হারাম ও পাপাচারের সুযোগ আসে, অতঃপর সে এ কথা উপলব্ধি করে যে আল্লাহ তাকে দেখছেন, ফলে সে তা বর্জন করে।»