(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ফী তলবিল হাদীস - ত আতর (পৃষ্ঠা: -)
الرحلة في طلب الحديث - ت عتر   (الخطيب البغدادي)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: الرحلة في طلب الحديث

المؤلف: أبو بكر أحمد بن علي بن ثابت الخطيب البغدادي (392 - 463 هـ)

المحقق: نور الدين عتر

رئيس قسم علوم القرآن والسنة، في جامعة دمشق

الناشر: أمين دمج (ثم صورته دار الكتب العلمية، بيروت)

الطبعة: الأولى، 1395 هـ‍ - 1975 م

عدد الصفحات: 179

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আর-রিহলা ফি তলাবিল হাদিস - তাহকিক ইতর   (আল-খাতিব আল-বাগদাদি)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)


বই: আর-রিহলা ফি তলাবিল হাদিস

লেখক: আবু বকর আহমদ বিন আলী বিন সাবিত আল-খাতিব আল-বাগদাদি (৩৯২ - ৪৬৩ হিজরি)

সম্পাদক: নুর আদ-দিন ইতর

কুরআন ও সুন্নাহ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান, দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশক: আমিন দামাজ (পরবর্তীতে দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, বৈরুত দ্বারা পুনর্মুদ্রিত)

সংস্করণ: প্রথম, ১৩৯৫ হিজরি - ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭৯

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ফী তলবিল হাদীস - ত আতর (পৃষ্ঠা: ٣)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

"فلولا نفر من كل فرقة منهم طائفة ليتفقهوا في الدين ولينذروا قومهم إذا رجعوا إليهم لعلهم يحذرون".

"قرآن كريم"

"من سلك طريقا يلتمس فيه علما سهل الله له به طريقا إلى الجنة".

"حديث شريف"
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

"তাদের প্রত্যেক বড় দলের একটি অংশ কেন বের হয় না, যাতে তারা দ্বীনের গভীর জ্ঞান (تفقه) অর্জন করতে পারে এবং তাদের সম্প্রদায় যখন তাদের নিকট ফিরে আসবে তখন তাদেরকে সতর্ক করতে পারে, যেন তারা সতর্ক হয়।"

"আল-কুরআনুল কারীম"

"যে ব্যক্তি জ্ঞান (علم) অন্বেষণের উদ্দেশ্যে কোনো পথ অবলম্বন করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন।"

"হাদিস শরীফ"
(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ফী তলবিল হাদীস - ত আতর (পৃষ্ঠা: ٥)
‌‌الإهداء

إلى العلامة الكبير المجاهد، فضيلة أستاذنا الجليل الشيخ مصطفى مجاهد، الذي أفدت منه في علم الحديث وفقهه، في رحلاتي العلمية إلى كعبة علوم الإسلام: الجامع الأزهر.

لقد كنت لنا أستاذا عظيما، ومرشدا ناصحا وأسوة حسنة.

وكنت مثالا في الجهر بالحق وإعلاء كلمته، غرست فينا روح العلم والعمل في مجالس المذاكرة التي خصصتنا بها.

وقد أكرمك ربك بنشر العلم على أعلى مستوياته، في أول الحرمين أقدس البلاد، ثم اصطفاك لرحمته في أكرم جوار، جوار رسوله الأعظم صلى الله عليه وسلم، تكريما لجهادك فيه، ولحبك لنبيه صلى الله عليه وآله وسلم.

 

نور الدين
‌‌উৎসর্গ

মহান জ্ঞানতাত্ত্বিক সংগ্রামসাধক, আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় উস্তাদ শায়খ মোস্তফা মোজাহেদের প্রতি, যাঁর নিকট থেকে আমি হাদিস শাস্ত্র এবং এর গভীর বোধ বা ফিকহ (فقه) বিষয়ে উপকৃত হয়েছি, ইসলামের জ্ঞানতীর্থ জামে আজহারে আমার শিক্ষা সফরকালীন সময়ে।

আপনি আমাদের জন্য ছিলেন একজন মহান শিক্ষক, হিতাকাঙ্ক্ষী পথপ্রদর্শক এবং এক অনুপম আদর্শ।

আপনি সত্য প্রকাশ এবং আল্লাহর দ্বীনকে সমুন্নত রাখার এক মূর্ত প্রতীক ছিলেন; আপনি আমাদের জন্য নির্ধারিত পর্যালোচনা মজলিসগুলোর (مجالس المذاكرة) মাধ্যমে আমাদের অন্তরে জ্ঞান ও আমলের চেতনা গেঁথে দিয়েছিলেন।

আপনার প্রতিপালক আপনাকে পবিত্রতম ভূমি হারামাইন শারিফাইনের প্রথমটিতে সর্বোচ্চ পর্যায়ে দ্বীনি জ্ঞান প্রসারের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন। অতঃপর তিনি আপনাকে তাঁর রহমতের ছায়াতলে এক শ্রেষ্ঠ সান্নিধ্যে মনোনীত করেছেন—তাঁর মহান রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র সান্নিধ্যে; যা আপনার দ্বীনি সংগ্রামের এক অনন্য সম্মান এবং তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) প্রতি আপনার গভীর ভালোবাসার এক বিশেষ নিদর্শন।

 

নুর উদ্দিন
(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ফী তলবিল হাদীস - ত আতর (পৃষ্ঠা: ٧)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين، وصلى الله على سيدنا محمد وآله وصحبه وسلم تسليما.

وبعد:

فان الله تعالى قد جعل الأمة الاسلامية هادية مهتدية، تحمل لواء العلم وتجلو ظلمات الجهل، وقد قام ورثة الأنبياء فيها من أئمة الدين بإضاءة منار العلم بما بحثوه في حلقاتهم العلمية، وما صنفوه من المصادر الجليلة، التي خلدها التاريخ مفخرة للمسلمين ونبراسا يهتدون به في تجديد ما درس من حضارتهم، وإحياء ما غطى عليه الجهل من معارف كتاب ربهم وسنة نبيهم صلى الله عليه وسلم.

وقد أخذنا على عاتقنا نشر مجموعة من هذا المصادر لها أهميتها ومكانها في مكتبة العلوم الاسلامية، تحت هذا العنوان " سلسلة روائع تراثنا الاسلامي "، راجين من الله تعالى أن يتفضل بالتيسير والقبول.

وهذا كتاب " الرحلة في طلب الحديث " ننشره بين يدي هذه المجموعة تشجيعا لطلاب العلم بل لكل المسلمين وترغيبا في طلب العلم وبذل غاية الوسع والطاقة من أجله أسوة بما كان عليه سلفهم الصالح حيث كان الواحد منهم يرحل المسافات الشاسعة ويجتاز الفيافي والقفار، يأدتم كسر
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.) এবং তাঁর পরিবার ও সহচরদের ওপর আল্লাহর রহমত ও অবারিত শান্তি বর্ষিত হোক।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ উম্মতে ইসলামিয়াকে পথপ্রদর্শক ও হেদায়াতপ্রাপ্ত উম্মত হিসেবে মনোনীত করেছেন, যারা ইলমের ঝাণ্ডা বহন করে এবং অজ্ঞতার অন্ধকার দূর করে। এই উম্মতের মধ্যে দ্বীনের ইমামগণ, যারা নবীদের উত্তরসূরি, তারা তাদের ইলমি মজলিসসমূহে গবেষণার মাধ্যমে এবং তাদের রচিত সুমহান উৎসগ্রন্থসমূহের মাধ্যমে ইলমের মিনারকে আলোকিত করেছেন। ইতিহাস এই গ্রন্থসমূহকে মুসলিমদের জন্য গর্বের বিষয় এবং তাদের সভ্যতার বিলুপ্তপ্রায় নিদর্শনসমূহ পুনরুজ্জীবিত করার ও তাদের রবের কিতাব এবং তাদের নবীর (সা.) সুন্নাহর যে সকল জ্ঞান অজ্ঞতার আড়ালে ঢাকা পড়ে গিয়েছিল তা পুনর্জীবিত করার আলোকবর্তিকা হিসেবে অমর করে রেখেছে।

ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞানের পাঠাগারে এই উৎসগ্রন্থগুলোর গুরুত্ব ও মর্যাদার কথা বিবেচনা করে আমরা "আমাদের ইসলামী ঐতিহ্যের শ্রেষ্ঠ সংকলন" শিরোনামে এই উৎসগুলোর একটি সিরিজ প্রকাশের দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। আমরা মহান আল্লাহর নিকট এর সহজসাধ্যতা ও কবুলিয়াতের প্রার্থনা করছি।

আর এই "হাদিস অন্বেষণে সফর" গ্রন্থটি আমরা এই সংকলনের অংশ হিসেবে প্রকাশ করছি ইলম অন্বেষণকারী শিক্ষার্থী এবং সকল মুসলিমদের উৎসাহিত করার জন্য। ইলম অর্জনে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ও শক্তি ব্যয় করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করাই এর উদ্দেশ্য, যেমনটি আমাদের সালাফে সালেহীন বা পুণ্যবান পূর্বসূরিদের আদর্শ ছিল। তাদের মধ্যে একেকজন দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতেন এবং বিশাল মরুভূমি ও প্রান্তর অতিক্রম করতেন, তারা শুকনো রুটির টুকরো আহার করতেন...
(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ফী তলবিল হাদীস - ত আতর (পৃষ্ঠা: ٨)
الخبز اليابس، ويكتفى بالطعام الجلف، ويلبس خلق الثياب ويعاني الأهوال للفوز بطلب العلم، بل لطلب مسألة من العلم، أو لسماع حديث واحد.

وقد جمع الإمام الحافظ أبو بكر الخطيب في كتاب الرحلة هذا أخبارا عجيبة وتحفا نادرة من أخبار رحلاتهم هي رحلاتهم من أجل الحديث الواحد فقط، ثم قام محققة فضيلة الدكتور الشيخ نور الدين عتر رئيس قمس علوم القرآن والسنة بجامعة دمشق بجلاء هذه المأثرة الجليلة من مآثر مجدنا العلمي وأبرز حيويتها ونضارتها بما قدم به لهذا الكتاب من دراسة قيمة واسعة عن الرحلة من منبعها وهو الاعجاز العلمي للقرآن الكريم، ثم برد كيد الكائدين لهذه الأمة من متعصبة المستشرفين الذين حاولوا زحزحة المسلمين عن مفاخرهم وأمجادهم، وكذلك فيما علقه على الكتاب من تعليقات حافلة بالفوائد، ثم بهذا الاستدراك الذي ذيل به الكتاب وذكر فيه جملة من أخبار الرحلة في الحديث الواحد، تعادل أخبار الكتاب الأصل، استخرجها من بين عشرات الآلاف من التراجم، مما يدل على ما بذله من الجهد وما لديه من الاطلاع الذي قدم لنا تلك المجموعة من أخبار الرحلة في طلب الحديث الواحد.

وإنا لنأمل أن يوفقنا الله إلى خدمة التراث العلمي الاسلامي وأن نقوم بقسطنا من الواجب نحو هذه الأمة وهو سبحانه ولي التوفيق.

 

الناشر

أمين دمج
শুকনো রুটি এবং স্থূল খাবারে তুষ্ট থাকা, জীর্ণ বস্ত্র পরিধান করা এবং জ্ঞান অর্জনের সাফল্যে ধন্য হওয়ার জন্য অবর্ণনীয় কষ্টের মোকাবিলা করা; বরং জ্ঞানের একটি মাত্র মাসআলা অথবা একটি মাত্র হাদিস শ্রবণের জন্যই তারা এই ত্যাগ স্বীকার করতেন।

ইমাম হাফিজ (الحافظ) আবু বকর আল-খতিব তাঁর এই ‘কিতাবুর রিহলাহ’ গ্রন্থে তাদের সফরের বিস্ময়কর সংবাদ এবং দুর্লভ কিছু মণি-মাণিক্য সংকলন করেছেন, যা ছিল মূলত একটি মাত্র হাদিসের উদ্দেশ্যে করা তাদের দীর্ঘ সফর। অতঃপর দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের কুরআন ও সুন্নাহ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান, বরেণ্য ডক্টর শায়খ নূরুদ্দিন ইতর আমাদের বৈজ্ঞানিক ঐতিহ্যের এই মহান কীর্তিকে সুস্পষ্ট করেছেন এবং এর প্রাণশক্তি ও মহিমা ফুটিয়ে তুলেছেন। তিনি এই গ্রন্থের শুরুতে সফরের উৎস অর্থাৎ পবিত্র কুরআনের জ্ঞানতাত্ত্বিক অলৌকিকতা নিয়ে একটি সুদূরপ্রসারী ও মূল্যবান গবেষণা পেশ করেছেন। অতঃপর তিনি এই উম্মাহর বিরুদ্ধে সেই সব সংকীর্ণমনা প্রাচ্যবিদদের চক্রান্ত নস্যাৎ করেছেন যারা মুসলিমদের তাদের গৌরব ও ঐতিহ্য থেকে বিচ্যুত করার অপচেষ্টা চালিয়েছিল। তদুপরি, তিনি গ্রন্থটিতে বহুবিধ কল্যাণ সম্বলিত টীকা যুক্ত করেছেন এবং পরিশেষে একটি পরিশিষ্ট (استدراك) সংযোজন করেছেন যেখানে একটি মাত্র হাদিসের জন্য সফরের এমন কিছু বিবরণ দিয়েছেন যা মূল গ্রন্থের বর্ণনার সমতুল্য। তিনি হাজার হাজার জীবনীর (التراجم) মধ্য থেকে এগুলো চয়ন করেছেন, যা তার অক্লান্ত পরিশ্রম এবং গভীর পাণ্ডিত্যের প্রমাণ দেয় যার মাধ্যমে তিনি হাদিস অন্বেষণের সফরের এই অনন্য সংগ্রহটি আমাদের সামনে উপস্থাপন করেছেন।

আমরা আশা রাখি যে, আল্লাহ আমাদের ইসলামি জ্ঞানতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের খিদমত করার তাওফিক দান করবেন এবং এই উম্মাহর প্রতি আমাদের যে দায়িত্ব রয়েছে তা যথাযথভাবে পালন করার সুযোগ দেবেন। মহান আল্লাহই তাওফিকদাতা।

 

প্রকাশক

আমিন দামাজ
(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ফী তলবিল হাদীস - ত আতর (পৃষ্ঠা: ٩)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله نور السماوات والأرض، أنار قلوب عباده بالعلم والعرفان.

وصلى الله على سيدنا محمد منقذ الانسان من ظلمات الجهل والجاهلية إلى نور العلم والايمان.

أما بعد:

فان المرء ليعجب لما يحدثنا به التاريخ عن علماء الاسلام عامة والمحدثين خاصة من أنباء رحلاتهم المضنية التي قاموا بها من أجل العلم، رغم أبعاد السفر الشاسعة، ومشقاته في أيامهم يجتازون العقبات ويستهينون بالصعوبات في سبيل العلم، لا يطمحون من وراء ذلك إلى جاه أو وظيفة يشغلونها، ولا يطمعون في دنيا يصيبونها.

وإن كتاب " الرحلة في طلب الحديث " للامام الحافظ أبي بكر أحمد بن علي الخطيب البغدادي، برهان عظيم وآية كبرى في إثبات ما بلغه علماؤنا العظام من علو الهمة وسمو القصد، وشرف الغاية والوسيلة نقدمه للقراء اليوم نستنهض به هم شبابنا المثقف وحمية طلبة العلم ليسلكوا سبيل أساتذتهم الأوائل علماء أمتهم الخالدين ويعيدوا للعالم أشرف سياحة عرفها، هي السياحة للقاء العلماء والتزود من توجيهاتهم والإفادة من معينهم العلمي والروحي العظيم.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আসমান ও জমিনের নূর; তিনি তাঁর বান্দাদের অন্তরসমূহকে জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দ্বারা আলোকিত করেছেন।

এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদের ওপর, যিনি মানুষকে মূর্খতা ও জাহেলিয়াতের অন্ধকার থেকে জ্ঞান ও ঈমানের আলোর দিকে উদ্ধার করেছেন।

অতঃপর:

প্রকৃতপক্ষে মানুষ বিস্মিত হয় যখন ইতিহাস আমাদের সাধারণ ইসলামি পণ্ডিত ও বিশেষত মুহাদ্দিসগণের (المحدثين) সেই ক্লান্তিকর সফরের সংবাদ প্রদান করে, যা তাঁরা ইলমের সন্ধানে করেছিলেন। সেই সময়কার সফরের দীর্ঘ দূরত্ব এবং সীমাহীন কষ্ট সত্ত্বেও তাঁরা ইলমের পথে সকল প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করতেন এবং যাবতীয় প্রতিকূলতাকে তুচ্ছজ্ঞান করতেন। এর বিনিময়ে তাঁরা কোনো পদমর্যাদা বা চাকরির আকাঙ্ক্ষা করতেন না এবং কোনো পার্থিব সম্পদ লাভের লোভও পোষণ করতেন না।

নিশ্চয়ই ইমাম হাফিজ (الحافظ) আবু বকর আহমদ বিন আলী খতিব আল-বাগদাদীর রচিত ‘আর-রিহলা ফি তলাবিল হাদিস’ গ্রন্থটি আমাদের মহান উলামায়ে কেরামের সুউচ্চ হিম্মত, সুমহান উদ্দেশ্য এবং লক্ষ্য ও উপায়ের মর্যাদাকে প্রমাণ করার এক মহান দলিল ও উজ্জ্বল নিদর্শন। আজ আমরা এটি পাঠকদের সামনে পেশ করছি আমাদের শিক্ষিত তরুণ সমাজ এবং ইলম অন্বেষণকারীদের হিম্মতকে জাগিয়ে তোলার জন্য; যাতে তাঁরা তাঁদের পূর্বসূরি অমর উলামায়ে কেরামের পথ অনুসরণ করেন এবং পৃথিবীর পরিচিত সর্বোত্তম পর্যটনের ধারা পুনরায় ফিরিয়ে আনেন—যা হলো আলিমদের সাথে সাক্ষাৎ করা, তাঁদের দিকনির্দেশনা গ্রহণ করা এবং তাঁদের বিশাল ইলমি ও আধ্যাত্মিক ঝরনাধারা থেকে উপকৃত হওয়া।
(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ফী তলবিল হাদীস - ত আতর (পৃষ্ঠা: ١٠)
عثرت على هذا الكتاب في أثناء تطوافي بين مخطوطات " دار الكتب الظاهرية " العامرة، فلفت نظري طرافة موضوعة، ثم طالعته فجدبني إليه حسن اختيار مادته ومضمونه، حيث خصص الامام الخطيب كتابه هذا للرحلة في طلب الحديث الواحد فقط، لا لطلب الحديث جملة.

فاستنسخت الكتاب ثم قابلته بالنسختين الخطيتين بالدار، توطئة لتحقيقه، وتقديمه لشبابنا المثقف، بل لأهل العلم في كافة الأقطار(1).

وقد قدمت للكتاب بتمهيد موجز عن إعجاز النبوة العلمي، لأن مجدنا العلمي والحضاري، بل مجد العالم إنما هو فرع لما ابتنت عليه هذه الدعوة، وتمرة لما قامت عليه من تحرير الفكر والعلم من الأغلال. وشرحت عناية المسلمين بالمحافظة على الأصل الموجه لهذه الحضارة، أعني القرآن والحديث، وما اختصهم الله به من علم لم يعرفه غيرهم، أعني علم نقد الروايات، وما بذلوا من أجله من جهود تفوق الوصف والبيان. وعرفت بالخطيب البغدادي ومنهجه العلمي تعريفا موجزا، يبرز جانب العبرة التي نقصدها من نشر هذا الكتاب. ويرد على أعداء المحدثين من المستشرقين ومن يقلدهم في بعض مزاعمهم.

ثم في التعليق على الكتاب خرجت الأحاديث النبوية، وتكلمت على أسانيدها مراعيا جانب الإيجاز، ورجعت في ذلك إلى المراجع الأصلية المطبوعة والمخطوطة، وكان لذلك فائدة كبيرة في جلاء رتبة أحاديث الكتاب وحالها من الصحة أو الضعف، وفي تحقيق نصها أيضا، فقد

--------------------------------------------

(1) وسنعرفك بهاتين النسختين وبطريقة التحقيق التي سلكناها في آخر التقديم للكتاب إن شاء الله.

সমৃদ্ধ "দারুল কুতুব আল-জাহিরিয়্যাহ"-এর পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে অনুসন্ধানকালে আমি এই বইটি খুঁজে পাই। এর বিষয়ের অভিনবত্ব আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তারপর আমি এটি পাঠ করি এবং এর বিষয়বস্তু ও উপাদানের চমৎকার চয়ন আমাকে মুগ্ধ করে। কেননা ইমাম খতিব তাঁর এই বইটি শুধুমাত্র একটি হাদিস অন্বেষণের সফরের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন, সামগ্রিকভাবে হাদিস সংগ্রহের সফরের জন্য নয়।

অতঃপর আমি বইটি অনুলিপি করি এবং এই গ্রন্থাগারে বিদ্যমান দুটি হাতে লেখা পাণ্ডুলিপির সাথে তা মিলিয়ে দেখি। এটি ছিল মূলত এর সম্পাদনা (تحقيق) এবং আমাদের শিক্ষিত যুবসমাজ তথা বিশ্বের সকল প্রান্তের জ্ঞানপিপাসুদের সামনে উপস্থাপনের একটি প্রস্তুতি স্বরূপ(১)।

আমি বইটির শুরুতে নবুওয়াতের বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত ভূমিকা পেশ করেছি। কারণ আমাদের বৈজ্ঞানিক ও তামাদ্দুনিক গৌরব, এমনকি বিশ্বের গৌরব মূলত সেই দাওয়াতেরই একটি শাখা যার ওপর এই ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত। এটি হলো চিন্তা ও জ্ঞানকে শৃঙ্খলমুক্ত করার মাধ্যমে অর্জিত একটি ফল। আমি এই সভ্যতার মূল চালিকাশক্তি অর্থাৎ কুরআন ও হাদিস সংরক্ষণে মুসলমানদের গভীর মনোযোগের কথা ব্যাখ্যা করেছি। বিশেষ করে আল্লাহ তাআলা তাঁদের এমন এক বিশেষ জ্ঞান দান করেছেন যা অন্য কেউ জানত না, আর তা হলো বর্ণনা যাচাইয়ের জ্ঞান (نقد الروايات)। এর জন্য তাঁরা যে শ্রম দিয়েছেন তা বর্ণনাতীত। আমি আল-খতিব আল-বাগদাদি এবং তাঁর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরেছি, যা এই বইটি প্রকাশের পেছনে আমাদের মূল উদ্দেশ্য ও শিক্ষণীয় দিকগুলোকে ফুটিয়ে তোলে। পাশাপাশি এটি হাদিস বিশারদদের শত্রু প্রাচ্যবিদ এবং তাদের কতিপয় দাবিকে অন্ধভাবে অনুসরণকারীদের উপযুক্ত জবাব প্রদান করবে।

এরপর বইটির টীকায় আমি হাদিসগুলোর উৎস নির্দেশ (تخريج) করেছি। সংক্ষিপ্ততা বজায় রেখে সেগুলোর সনদ (أسانيد) নিয়ে আলোচনা করেছি। এ ক্ষেত্রে আমি মুদ্রিত ও পাণ্ডুলিপি উভয় প্রকার মূল উৎসগুলোর শরণাপন্ন হয়েছি। বইটির হাদিসগুলোর মর্যাদা এবং সেগুলোর বিশুদ্ধতা (صحة) কিংবা দুর্বলতা (ضعف) নিরূপণে এবং মূল পাঠের সঠিকতা যাচাইয়ে এর বড় ধরনের সুফল পাওয়া গেছে। প্রকৃতপক্ষে

--------------------------------------------

(১) আমরা ইনশাআল্লাহ বইটির ভূমিকার শেষে এই দুটি পাণ্ডুলিপি এবং আমাদের অনুসৃত সম্পাদনা (تحقيق) পদ্ধতি সম্পর্কে আপনাকে অবহিত করব।

(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ফী তলবিল হাদীস - ত আতর (পৃষ্ঠা: ١١)
استطعت بذلك إزالة الاشكال عن رواية الخطيب لبعض الأحاديث، حيث وجدت أصول المراجع تشتمل على زيادة تجلو الأمر وتزيل اللبس.

كما أني أوضحت الألفاظ التي تحتاج للتفسير في الاسناد أو المتن، لجلاء معاني الكتاب.

ثم جعلت خاتمة ذلك زيادة أحاديث وأخبار كثيرة أضفتها إلى الكتاب، مما لم يذكره الخطيب البغدادي رحمه الله.

وهكذا جاء عملنا - إن شاء الله - شاملا جوانب الكتاب، مكملا لفوائده، وإنا لنرجو أن نكون قد وفقنا إلى ما نقصده من جلاء هذه المأثرة العظيمة من روائع مجدنا العلمي. واستنهاض همم شبابنا المثقف، وحمية طلبة العلم.

وهو سبحانه سندنا ونعم الوكيل.

 

وكتب

نور الدين عتر
এর মাধ্যমে আমি কিছু হাদিস বর্ণনার (رواية) ক্ষেত্রে আল-খাতিবের বর্ণনায় বিদ্যমান অস্পষ্টতা দূর করতে সক্ষম হয়েছি, কারণ আমি লক্ষ্য করেছি যে মূল উৎসসূত্রগুলো এমন কিছু অতিরিক্ত বর্ণনা সংবলিত যা বিষয়টিকে সুস্পষ্ট করে এবং সংশয় দূর করে।

পাশাপাশি, গ্রন্থের অর্থসমূহ সুস্পষ্ট করার জন্য আমি সনদ বা সূত্র (إسناد) অথবা মূলপাঠে (متن) ব্যাখ্যা সাপেক্ষ শব্দাবলিও বিশ্লেষণ করেছি।

অতঃপর আমি এর সমাপ্তিতে অনেক অতিরিক্ত হাদিস ও সংবাদসমূহ (أخبار) সংযোজন করেছি যা আল-খাতিব আল-বাগদাদি (রাহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেননি।

এভাবে আমাদের এই কাজ—ইনশাআল্লাহ—গ্রন্থটির সকল দিককে অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং এর উপকারিতাসমূহকে পূর্ণতা দান করেছে। আমরা আশা রাখি যে, আমাদের জ্ঞানতাত্ত্বিক গৌরবের এই মহান কীর্তিকে উজ্জ্বলভাবে উপস্থাপনের যে লক্ষ্য আমরা নির্ধারণ করেছিলাম, তা অর্জনে আমরা সফল হয়েছি; এবং এর মাধ্যমে আমাদের শিক্ষিত তরুণদের হিম্মত ও ইলম অন্বেষণকারীদের উদ্দীপনাকে জাগ্রত করতে পেরেছি।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাই আমাদের একমাত্র অবলম্বন এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।

 

ইতি—

নূরুদ্দীন ইতর
(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ফী তলবিল হাদীস - ত আতর (পৃষ্ঠা: ١٢)
‌‌إعجاز النبوة العلمي

من المعجزات العظمى للنبي محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم معجزاته العلمية ذلك أن النبي صلى الله عليه وسلم أمي لا يعلم قراءة ولا كتابة، ولم يتلق عن أحد علما من علوم الدين أو علوم الدنيا، وقومه العرب في الجزيرة أميون، عدمت فيهم القراءة والكتابة، إلا ما وجد على قلة وندرة من مبادئ يسيرة جدا للكتابة نقلتها عنهم الآثار.

ومع ذلك فقد جاء بالعلم وبعثت بالمعرفة. حتى كانت أول آيات تنزل عليه هي: " اقرأ باسم ربك الذي خلق. خلق الانسان من علق. اقرأ وربك الأكرم. الذي علم بالقلم. علم الانسان ما لم يعلم ".

ومن معجزات هذا النبي الكريم، أنه في دعوته القوية الصافية، يأتي بأدلة العقل المستبصرة من الفكر الصحيح، ومن حقائق الكون الراسخة، فالقرآن الكريم يتحدث عن حقائق الكون حديث الخبير بها، ويأتي بها شواهد صدق تعرف العباد بربهم سبحانه، ولذلك فان الانسانية على مر العصور وتقدمها في العلوم لا تخرج عما قرره القرآن من قواعد الكون العامة التي تدل على أن القرآن لا يمكن أن يصدر إلا من الله، وأن علوم محمد لا يمكن أن تأتي إلا من الله.
নবুওয়াতের বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব

নবী মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মহান মুজিজাসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো তাঁর বৈজ্ঞানিক মুজিজাসমূহ। এর কারণ হলো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন নিরক্ষর, যিনি পাঠ করতে বা লিখতে জানতেন না। তিনি কারো কাছ থেকে দ্বীনি বা পার্থিব কোনো জ্ঞান লাভ করেননি। জাজিরাতুল আরবে তাঁর কওম আরবরাও ছিল নিরক্ষর, তাদের মাঝে পঠন ও লিখনের অস্তিত্ব ছিল না বললেই চলে; কেবল লিখন পদ্ধতির অত্যন্ত সামান্য ও বিরল কিছু নিদর্শনের (الآثار) কথা জানা যায়, যা ঐতিহাসিকভাবে বর্ণিত হয়েছে।

তা সত্ত্বেও তিনি ইলম বা জ্ঞান নিয়ে আবির্ভূত হয়েছেন এবং প্রজ্ঞা দিয়ে প্রেরিত হয়েছেন। এমনকি তাঁর প্রতি অবতীর্ণ প্রথম আয়াতসমূহ ছিল: "পাঠ করুন আপনার পালনকর্তার নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে। পাঠ করুন, আর আপনার পালনকর্তা পরম মহিমান্বিত। যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না।"

এই মহান নবীর অন্যতম মুজিজা হলো এই যে, তিনি তাঁর বলিষ্ঠ ও স্বচ্ছ দাওয়াতের ক্ষেত্রে সঠিক চিন্তা এবং মহাবিশ্বের প্রতিষ্ঠিত সত্য থেকে বিবেকপ্রসূত প্রমাণাদি উপস্থাপন করেন। কুরআনুল কারীম মহাবিশ্বের প্রকৃত সত্য সম্পর্কে এমনভাবে আলোচনা করে যা কেবল একজন অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞের পক্ষেই সম্ভব। এটি এমন সত্য সাক্ষ্য প্রদান করে যা বান্দাদেরকে তাদের প্রতিপালক সুবহানাহু ওয়া তাআলার পরিচয় দান করে। এই কারণেই মানবজাতি যুগ যুগ ধরে বিজ্ঞানে উন্নতি সাধন করলেও কুরআনে বর্ণিত মহাবিশ্বের সাধারণ নিয়মাবলীর বাইরে যেতে পারেনি। এসব কিছুই প্রমাণ করে যে, কুরআন কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই অবতীর্ণ হওয়া সম্ভব এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জ্ঞান কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসা সম্ভব।
(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ফী তলবিল হাদীস - ত আতর (পৃষ্ঠা: ١٣)
وخلاصة تلك الأصول الكونية:

1 - أن كل هذه المكونات في الطبيعة في الأرض أو السماء مخلوقة لله، مقهورة لسلطانه مسيرة ذليلة لقدرته وإرادته. وبهذا بطل ما كان يعتقده أهل الأديان في بعض الجمادات الأرضية أو الكواكب من تأثير في حياة الانسان، وتحرر الانسان من العبودية لها والخوف منها.

2 - أنها تدل على وجود الله ووحدانيته، وصفاته العليا، بما أودع فيها من عجائب الصنع وآيات الابداع. فأمر بالتفكر فيها والبحث عن مكنوناتها، وهو بهذا يفتح باب البحث في علوم الكون على مصراعيه، بل يكلف الناس بهذا، في الوقت الذي كان العالم كله يعتقد أن ذلك أمر محظور، وأنه مناوأة لله عز وجل.

3 - أن كل شئ في العالم يسير بنظام دقيق " الشمس والقمر بحسبان "، " وكل شئ عنده بمقدار ".

4 - أن كل هذه الكائنات خلقت لمنفعة الانسان، بل إنها مسخرة له، علويها وسفليها، كما قال الله تعالى: " هو الذي خلق لكم ما في الأرض جميعا ثم استوى إلى السماء فسواهن سبع سماوات، وهو بكل شئ عليم " البقرة: الآية: 29.

وقال أيضا: " وسخر لكم ما في السماوات وما في الأرض جميعا منه … " الجاثية: الآية: 13 ولقد حملت هذه الأمة مشعل العلم والحضارة، وأضاءت بهما العالم كله، دهرا طويلا حيث كانت أوروبا تعيش في ظلام دامس، وكان الفكر العلمي فيها رهن السجون والاغلال، بل كان الفكر العلمي نهب القتل والاغتيال، حتى تلمذت على المسلمين،
এই বিশ্বজনীন মূলনীতিগুলোর সারসংক্ষেপ হলো:

1 - প্রকৃতির এই সকল উপাদান—তা জমিনে হোক বা আসমানে—সবই আল্লাহর সৃষ্টি, তাঁর সার্বভৌমত্বের অনুগত এবং তাঁর কুদরত ও ইচ্ছার অধীন। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীরা পার্থিব কোনো জড়বস্তু বা গ্রহ-নক্ষত্রের মানুষের জীবনের ওপর প্রভাব থাকার বিষয়ে যে বিশ্বাস পোষণ করত, তা বাতিল হয়ে যায় এবং মানুষ এগুলোর দাসত্ব ও ভীতি থেকে মুক্তি লাভ করে।

2 - এগুলো আল্লাহর অস্তিত্ব, তাঁর একত্ববাদ এবং উচ্চতর গুণাবলির প্রমাণ দেয়, কারণ এর মধ্যে নিহিত রয়েছে সৃষ্টির নিপুণ বিস্ময় ও সৃজনশীলতার নিদর্শনসমূহ। তাই এগুলো নিয়ে চিন্তা-গবেষণা এবং এর অন্তর্নিহিত রহস্য অনুসন্ধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বতত্ত্ব বা মহাবিশ্বের বিজ্ঞান চর্চার দ্বার উন্মুক্ত করে দিয়েছেন, বরং মানুষকে এই কাজে দায়িত্বশীল করেছেন এমন এক সময়ে, যখন সমগ্র বিশ্ব মনে করত যে এ ধরনের চর্চা নিষিদ্ধ এবং এটি মহান আল্লাহর বিরোধিতার শামিল।

3 - জগতের প্রতিটি বস্তু এক সুনিপুণ নিয়মে পরিচালিত হয়; "সূর্য ও চন্দ্র আবর্তিত হয় নির্ধারিত হিসাব অনুযায়ী", এবং "তাঁর কাছে প্রতিটি বস্তুরই একটি সুনির্দিষ্ট পরিমাণ রয়েছে"।

4 - এই সমস্ত সৃষ্টি মানুষের উপকারের জন্য তৈরি করা হয়েছে, বরং ঊর্ধ্বজগত ও নিম্নজগত—সবই তার জন্য অনুগত ও নিয়োজিত করে দেওয়া হয়েছে। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তিনিই সেই সত্তা যিনি জমিনে যা কিছু আছে সবকিছু তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোনিবেশ করেন এবং সেগুলোকে সাত আকাশে বিন্যস্ত করেন; আর তিনি সর্ববিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত।" আল-বাকারাহ: আয়াত: ২৯।

তিনি আরও বলেছেন: "এবং তিনি আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবকিছুকে তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের অনুগত করে দিয়েছেন … " আল-জাছিয়াহ: আয়াত: ১৩। এই উম্মাহ দীর্ঘকাল ধরে জ্ঞান ও সভ্যতার মশাল বহন করেছে এবং এর মাধ্যমে সমগ্র বিশ্বকে আলোকিত করেছে, যখন ইউরোপ ঘোর অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। সেখানে বৈজ্ঞানিক চিন্তা-ভাবনা কারারুদ্ধ ও শৃঙ্খলিত ছিল, এমনকি বৈজ্ঞানিক চিন্তাধারা ছিল হত্যা ও নিধনের শিকার; শেষ পর্যন্ত তারা মুসলিমদের নিকট শিষ্যত্ব গ্রহণ করে।
(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ফী তলবিল হাদীস - ত আতর (পৃষ্ঠা: ١٤)
وتلقفت منهم حقائق العلم، والثقة بالعلم، والتضحية من أجل العلم فتحررت بفضل ذلك وعرفت الطريق نحو الحضارة.

وإذا كانت البشرية قد وصلت اليوم إلى القمر والكواكب، فإنها مدينة في ذلك لما قرره القرآن في الآيات التي تلوناها، وفي أمثالها، بل إن القرآن ليقرر ما هو أبعد من مجرد الوصول إلى القمر!، يقرر تسخير هذه الكواكب لصالح هذا الإنسان.

ويضرب النبي صلى الله عليه وسلم المثل الأعلى في الحفاظ على الحقيقة العلمية والأمانة، حين كسفت الشمس يوم موت عظيم، أو ولادته. فقال الناس: والكسوف يقعان بسبب موت عظيم، أو ولادته. فقال الناس: خسفت الشمس لموت إبراهيم ابن النبي صلى الله عليه وسلم، وإذا بالنبي صلى الله عليه وسلم يجمع الناس يصلي بهم ركعتين سنة الكسوف ثم يخطب فيهم يقول:

"إن الشمس والقمر آيتان من آيات الله لا ينخسفان لموت أحد ولا لحياته، فإذا رأيتم ذلك فادعوا الله وكبروا وتصدقوا … "(1).

ولقد كان المصاب فاجعا بالنسبة للنبي صلى الله عليه وسلم، حزن من أجله حزنا عظيما حتى ذرفت عيناه ووقف يقول هو يردع ولده: " إن العين لتدمع، وإن القلب ليحزن ولا نقول إلا ما يرضي الرب، وإنا لفراقك يا إبراهيم لمحزونون ".

ومن ذا الذي يرزأ بمثل هذا الخطب ثم لا يرى الدنيا مكتسية ثوب الحداد لرزئه وأن الشمس والقمر تشاركانه الأسى لمصابه.

لكن محمدا الأمين صلى الله عليه وسلم يراعي قبل هذا كله، وفوق هذا كله الحقيقة العلمية التي اطلعه الله عليها، وإذا به يخطب في الناس ليحطم

--------------------------------------------

(1) متفق عليه، البخاري بلفظه في الصلاة: 2: 34. ومواضع أخرى. ومسلم: 3: 27.

আমি তাদের কাছ থেকে জ্ঞানের বাস্তবতা, জ্ঞানের প্রতি আস্থা এবং জ্ঞানের তরে আত্মত্যাগ গ্রহণ করেছি; যার ফলে আমি মুক্ত হতে পেরেছি এবং সভ্যতার দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথ চিনেছি।

আজ মানবজাতি যদি চন্দ্র ও অন্যান্য গ্রহে পৌঁছাতে সক্ষম হয়ে থাকে, তবে তা কুরআনের সেই সব আয়াতের কারণে যা আমরা তিলাওয়াত করেছি এবং এই জাতীয় অন্যান্য আয়াতের সিদ্ধান্তের কাছে ঋণী। বরং কুরআন তো কেবল চন্দ্রবিজয় অপেক্ষা আরও সুদূরপ্রসারী বিষয়ের সিদ্ধান্ত প্রদান করে! এটি মানুষের কল্যাণে এই গ্রহগুলোকে অনুগত করার ঘোষণা দেয়।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বৈজ্ঞানিক সত্য এবং আমানতদারি রক্ষার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন যখন কোনো মহান ব্যক্তির মৃত্যু বা জন্মের দিনে সূর্যগ্রহণ হয়েছিল। তখন লোকেরা বলত: কোনো মহান ব্যক্তির মৃত্যু বা জন্মের কারণেই সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণ ঘটে থাকে। লোকেরা বলেছিল: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পুত্র ইবরাহিমের মৃত্যুর কারণেই সূর্যগ্রহণ হয়েছে। অমনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মানুষকে সমবেত করলেন, তাঁদের নিয়ে সূর্যগ্রহণের দুই রাকাত সুন্নাত সালাত আদায় করলেন এবং এরপর তাঁদের উদ্দেশ্যে খুতবা দিয়ে বললেন:

"নিশ্চয়ই সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে দুটি নিদর্শন। কারও মৃত্যু বা জীবনের কারণে এগুলোর গ্রহণ হয় না। সুতরাং যখন তোমরা তা দেখবে, তখন আল্লাহর নিকট দোয়া করবে, তাকবির দিবে এবং সদকা করবে … "(১)।

এই শোক নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জন্য অত্যন্ত মর্মান্তিক ছিল। তিনি এর কারণে অত্যন্ত গভীরভাবে শোকাতুর হয়েছিলেন, এমনকি তাঁর নয়নদ্বয় অশ্রুসিক্ত হয়েছিল। তিনি তাঁর সন্তানকে বিদায় জানিয়ে দাঁড়িয়ে বলছিলেন: "চক্ষু অশ্রু বিসর্জন দেয় এবং অন্তর ব্যথিত হয়, তবে আমরা তা-ই বলি যা আমাদের রবের সন্তুষ্টির কারণ হয়। হে ইবরাহিম, আমরা তোমার বিচ্ছেদে অবশ্যই শোকাভিভূত।"

এমন কে আছে যে এই ধরনের বিপদে পড়ার পর জগতকে শোকের চাদরে আবৃত দেখবে না এবং এটি মনে করবে না যে সূর্য ও চন্দ্র তার বিপদে শোকের অংশীদার হচ্ছে?

কিন্তু মুহাম্মাদ আল-আমিন (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই সব কিছুর আগে এবং সব কিছুর ঊর্ধ্বে সেই বৈজ্ঞানিক সত্যের প্রতি লক্ষ্য রেখেছিলেন যা আল্লাহ তাঁকে অবহিত করেছিলেন। আর সেই উদ্দেশ্যেই তিনি মানুষের মাঝে ভাষণ দিতে দাঁড়িয়েছিলেন যেন চূর্ণ করতে পারেন...

--------------------------------------------

(১) ঐক্যমত পোষণকৃত (متفق عليه), বুখারি তাঁর শব্দে সালাত অধ্যায়ে: ২: ৩৪ এবং অন্যান্য স্থানে। আর মুসলিম: ৩: ২৭।

(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ফী তলবিল হাদীস - ত আতর (পৃষ্ঠা: ١٥)
هذه الخرافة التي قيلت مواساة له وتسلية لا حزانه. فكان العلم بالكون وبالطبيعة مدينا لهذا النبي الذي فتح العيون على حقائق الأمور الدينية ومهد السبيل لتقديم العلوم الطبيعية والكونية، فاستنارت القلوب بدعوته، وازدهرت الحضارة بشريعته، وتقدمت علوم الطبيعة والكون بتوجيهات رسالته(1).

 

‌‌اعتناء المسلمين بالحديث والاسناد:

بهذه الروح العلمية النابعة من الاسلام والقرآن حفظت هذه الأمة كتاب الله المنزل إليها، فنقلته بحفظ الصدور تلقيا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم بأمانة وثقة وتواتر، كما نقلته أيضا بحفظ السطور أخذا من الصحف التي دونت بين يدي رسول الله صلى الله عليه وسلم. فأدت القرآن إلى العالم بغاية الدقة في تبليغ نصه وكيفية أدائه وتلاوته في كلماته وحروفه، وإدغاماته وإظهاراته وغناته، ومداته، ووقوفه ووصله … حتى وصل إلينا عبر القرون غضا طريا كما أقرأه رسول الله صلى الله عليه وسلم أصحابه، مما لم يقدر لكتاب غيره.

ثم ذبت الكذب والحلل عن الحديث النبوي بما وضعته من قوانين للرواية هي أصح وأدق طريق علمي في نقل الروايات واختبارها.

وكان من أهم هذه القوانين البحث في إسناد الحديث، وفحص أحوال الرواة. وقد حث علماء الصحابة الناس على الاحتياط في حمل الحديث، وعلى التثبث من أحوال الرواة وأن لا يأخذوا من الحديث إلا حديث من يوثق به دينا وحفظا، حتى شاعت لذي كافة الناس هذه القاعدة عن الصحابة:

--------------------------------------------

(1) انظر التوسع في شرح حديث الكسوف وما يسن فيه وصفة صلاة الكسوف في كتابنا " هدي النبي صلى الله عليه وآله وسلم في الصلوات الخاصة " ص 167 - 175.

এই কাল্পনিক কথাটি তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য এবং তাঁর দুঃখ লাঘব করার জন্য বলা হয়েছিল। সুতরাং এই জগৎ এবং প্রকৃতি সম্পর্কিত জ্ঞান সেই নবীর কাছে ঋণী, যিনি ধর্মীয় বিষয়গুলোর প্রকৃত সত্যের ওপর দৃষ্টি উন্মোচিত করেছিলেন এবং প্রাকৃতিক ও মহাজাগতিক বিজ্ঞানকে এগিয়ে নেওয়ার পথ সুগম করেছিলেন। ফলে তাঁর দাওয়াতের মাধ্যমে অন্তরসমূহ আলোকিত হয়েছে, তাঁর শরীয়তের মাধ্যমে সভ্যতা বিকশিত হয়েছে এবং তাঁর রিসালাতের দিকনির্দেশনায় প্রাকৃতিক ও মহাজাগতিক বিজ্ঞান অগ্রসর হয়েছে(১).

 

‌‌হাদিস ও সূত্র (إسناد)-এর প্রতি মুসলিমদের যত্ন:

ইসলাম ও কুরআন থেকে উদ্ভূত এই বৈজ্ঞানিক চেতনার মাধ্যমেই এই উম্মত তাদের প্রতি অবতীর্ণ আল্লাহর কিতাবকে সংরক্ষণ করেছে। তারা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সরাসরি গ্রহণের মাধ্যমে আমানতদারিতা, নির্ভরযোগ্যতা (ثقة) এবং নিরবচ্ছিন্ন বর্ণনার (تواتر) সাথে তা বক্ষস্থ করে স্থানান্তরিত করেছে; ঠিক যেভাবে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সামনে লিখিত পাণ্ডুলিপি থেকে গ্রহণের মাধ্যমে তা লিপিবদ্ধ করে স্থানান্তর করেছে। ফলে তারা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে কুরআনের মূল পাঠ পৌঁছে দেওয়া এবং এর উচ্চারণ পদ্ধতি ও তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে শব্দ, অক্ষর, ইদগাম (إدغام), ইজহার (إظهار), গুন্নাহ (غنة), মাদ (مد), ওয়াকফ (وقف) এবং ওয়াসল (وصل)-এর সূক্ষ্মতা বজায় রেখেছে... এমনকি শতাব্দী পর শতাব্দী পেরিয়ে এটি আমাদের কাছে ঠিক তেমনই সতেজ ও জীবন্তভাবে পৌঁছেছে যেমনটি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাহাবীদের পড়িয়েছিলেন, যা অন্য কোনো কিতাবের ভাগ্যে জোটেনি।

অতঃপর তারা বর্ণনার এমন সব নিয়ম বা মূলনীতি নির্ধারণের মাধ্যমে নববী হাদিস থেকে মিথ্যা ও বিকৃতি দূর করেছে যা বর্ণনা স্থানান্তর এবং তা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে সঠিক ও সূক্ষ্ম বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি।

এই নিয়মগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল হাদিসের সূত্র (إسناد) নিয়ে গবেষণা করা এবং বর্ণনাকারীদের (رواة) অবস্থা পরীক্ষা করা। সাহাবায়ে কেরাম হাদিস গ্রহণ করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের এবং বর্ণনাকারীদের (رواة) অবস্থা যাচাই করার ব্যাপারে মানুষকে উৎসাহিত করেছেন। তাঁরা নির্দেশ দিয়েছেন যেন নির্ভরযোগ্য (ثقة) দ্বীনদারি (دين) ও মুখস্থশক্তির (حفظ) অধিকারী ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারও থেকে হাদিস গ্রহণ করা না হয়। এমনকি সকল মানুষের মাঝে সাহাবীদের পক্ষ থেকে এই মূলনীতিটি প্রসিদ্ধ হয়ে গিয়েছিল:

--------------------------------------------

(১) সূর্যগ্রহণের হাদিসের ব্যাখ্যা, এতে পালনীয় সুন্নাহসমূহ এবং সূর্যগ্রহণের সালাতের পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনার জন্য আমাদের গ্রন্থ "হাদি আন-নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফিস সালাওয়াতিল খাচ্ছাহ" পৃষ্ঠা ১৬৭ - ১৭৫ দেখুন।

(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ফী তলবিল হাদীস - ত আতর (পৃষ্ঠা: ١٦)
" إنما هذه الأحاديث دين فانظروا عمن تأخذونها(1) " فبعد معرفة رواة الخبر يمكن تفحص أحوالهم، ومعرفة صحة الخبر من سقمه، متأثر بذلك علم ميزان الرجال: " الجرح والتعديل " الذي هو عمود أصول الحديث.

ولقد كان علم السند هذا ابتكارا في قوانين الرواية وفق الله إليه المسلمين وخصهم به دون الأمم السابقة.

يقول الإمام علي بن حزم(2): " نقل الثقة عن الثقة مع الاتصال حتى يبلغ النبي صلى الله عليه وسلم خص الله به المسلمين دون سائر أهل الملل كلها، وأبقاه عندهم غضا جديدا على قديم الدهور … ".

ويقول الحافظ أبو علي الجياني: " خص الله تعالى هذه الأمة بثلاثة أشياء لم يعطها من قبلها: الإسناد، والأنساب، والإعراب "(3).

 

‌‌الرحلة في طلب الحديث

ولما كان الحديث النبوي هو المصدر الثاني للاسلام، وكان منه بهذه المثابة فقد أعطاه العلماء غاية اهتمامهم، وبذلوا من أجل الحديث وأسانيده كل ما في وسعهم، حتى رحلوا المسافات البعيدة، على بعد الشقة وعظم

--------------------------------------------

(1) اخرج ذلك ابن أبي حاتم في الجرح والتعديل: 1/ 1/ 15 بأسانيده عن عدد من التابعين بلفظ: " كان يقال إنما هذه الأحاديث … الخ ". وانظر تفصيل ذلك وبيان موقعه من منهج السلف العلمي في كتابنا " منهج النقد في علوم الحديث " ص 47 وما بعد.

(2) في كتابه الفصل في الملل والأهواء والنحل: ج 2 ص 82.

(3) تقريب الراوي ص 359.

"নিশ্চয়ই এই হাদিসসমূহ হচ্ছে দ্বীন, সুতরাং তোমরা লক্ষ্য করো কার নিকট থেকে তা গ্রহণ করছ(১)।" সংবাদের বর্ণনাকারীদের (رواة) পরিচয় জানার পর তাঁদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয় এবং সংবাদের বিশুদ্ধতা (صحة) ও ত্রুটিপূর্ণতা (سقم) নিরূপণ করা যায়। এর ফলে ইলমে মিজানুর রিজাল অর্থাৎ "জারহ ও তা’দিল (الجرح والتعديل)" প্রভাবিত হয়েছে, যা উসুল আল-হাদিসের মূল স্তম্ভ।

সনদের (السند) এই জ্ঞান ছিল বর্ণনার (الرواية) নিয়মাবলীতে এক নবআবিষ্কার, যার তাওফিক আল্লাহ মুসলিমদের দিয়েছেন এবং পূর্ববর্তী জাতিসমূহের পরিবর্তে তাদের এটি দ্বারা বিশেষ বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন।

ইমাম আলী ইবনে হাজম(২) বলেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে (الاتصال) একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী থেকে অপর নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীর বর্ণনা (نقل) করার বৈশিষ্ট্যটি আল্লাহ কেবল মুসলিমদের দান করেছেন, যা অন্য কোনো ধর্মাবলম্বীদের দেওয়া হয়নি; এবং তিনি এটিকে কালপরিক্রমায় তাদের নিকট সজীব ও নতুন হিসেবে বাকি রেখেছেন … "।

হাফিজ আবু আলী আল-জাইয়ানি বলেন: "আল্লাহ তাআলা এই উম্মতকে এমন তিনটি বিষয় দান করেছেন যা তাঁর পূর্বের কাউকে দেওয়া হয়নি: ইসনাদ (الإسناد), বংশলতিকা (الأنساب) এবং ইরাব (الإعراب)"(৩)।

 

‌‌হাদিস অন্বেষণে সফর

যেহেতু নববী হাদিস ইসলামের দ্বিতীয় উৎস এবং এটি এই সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী, তাই উলামায়ে কেরাম একে তাঁদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করেছেন এবং হাদিস ও তাঁর সনদসমূহের (أسانيد) জন্য নিজেদের সাধ্যমতো সবটুকু বিলিয়ে দিয়েছেন, এমনকি তাঁরা দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে দূর-দূরান্তে সফর করেছেন।

--------------------------------------------

(১) এটি ইবনে আবি হাতিম আল-জারহ ওয়াত তা'দিল গ্রন্থে ১/১/১৫ পৃষ্ঠায় তাঁর সনদসমূহের (أسانيد) মাধ্যমে কতিপয় তাবেয়ীর (التابعين) সূত্রে এই শব্দে বর্ণনা (اخرج) করেছেন: "বলা হতো যে, নিশ্চয়ই এই হাদিসসমূহ... ইত্যাদি"। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা এবং সলফদের জ্ঞানতাত্ত্বিক মানহাজে (منهج) এর অবস্থান জানতে আমাদের বই "মানহাজুন নাকদ ফি উলুমিল হাদিস"-এর ৪৭ ও পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলো দেখুন।

(২) তাঁর কিতাব আল-ফাসল ফিল মিলাল ওয়াল আহওয়া ওয়ান নিহাল: ২য় খণ্ড, ৮২ পৃষ্ঠায়।

(৩) তাকরিবুর রাভি, ৩৫৯ পৃষ্ঠা।

(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ফী তলবিল হাদীস - ত আতর (পৃষ্ঠা: ١٧)
المشقة، طلبا للحديث وبحثا عن أسانيد الأحاديث، بل عن إسناد الحديث الواحد. امتثالا لأمر الله تعالى، وتحقيقا لما حث عليه النبي صلى الله عليه وسلم المسلمين:

قال تعالى: " فلو لا نفر من كل فرقة منهم طائفة ليتفقهوا في الدين ولينذروا قومهم إذا رجعوا إليهم لعلهم يحذرون ".

وقال صلى الله عليه وسلم: " من سلك طريقا يلتمس فيه علما سهل الله له به طريقا إلى الجنة ".(1)

وقد كانت الرحلة في طلب الحديث من لوازم طريقة المحدثين ومنهجهم في التحصيل العلمي. قال الإمام ابن الصلاح(2): " وإذا فرغ من سماع العوالي والمهمات التي ببلده فليرحل إلى غيره ". وقال يحيى بن معين: " أربعة لا تؤنس منهم رشدا: حارس الدرب، ومنادي القاضي، وابن المحدث، ورجل يكتب في بلده ولا يرحل في طلب الحديث(3) ".

ويبدو أثر الرحلة للناظر في أسانيد الأحاديث واضحا جليا، إذا ما تناولنا أي اسناد منها ودرسنا تاريخ رواته نجد في أغلب الأحيان أنهم ينتمون إلى أكثر من موطن، بل ربما وجدنا كل واحد منهم من بلدة، جمعت الرحلة في طلب الحديث شتاتهم وقربت بعد ما بينهم حتى تسلسلوا في قرن واحد في سند الحديث الواحد … !

 

‌‌أهداف الرحلة عند المحدثين:

وللرحلة أهداف ومقاصد جليلة لدي أهل الحديث نوضح أهمها فيما يلي:

--------------------------------------------

(1) من حديث صحيح أخرجه مسلم وغيره.

(2) في كتابه علوم الحديث ص 222 بتحقيقنا.

(3) المرجع السابق ص 223.

কষ্ট স্বীকার করে, হাদিস অন্বেষণে এবং হাদিসের সনদসমূহের (أسانيد) অনুসন্ধানে, এমনকি একটি মাত্র হাদিসের সনদের (إسناد) খোঁজে। মহান আল্লাহর নির্দেশ পালন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলমানদের যা করতে উৎসাহিত করেছেন তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে:

মহান আল্লাহ বলেন: "অতএব তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ কেন বের হয় না, যাতে তারা দ্বীন সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং তাদের সম্প্রদায় যখন তাদের কাছে ফিরে আসবে, তখন তারা তাদেরকে সতর্ক করতে পারে, যাতে তারা সতর্ক থাকতে পারে।"

এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে কোনো পথ অবলম্বন করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন।"(1)

হাদিস সংগ্রহের সফর ছিল মুহাদ্দিসগণের কর্মপদ্ধতি এবং তাদের জ্ঞান অর্জনের মানহাজের এক অপরিহার্য বিষয়। ইমাম ইবনে আস-সালাহ(2) বলেন: "যখন কেউ তার নিজ শহরের উচ্চতর সনদ (عوالي) এবং গুরুত্বপূর্ণ হাদিসসমূহ শ্রবণ করা সম্পন্ন করবে, তখন তার অন্য শহরে সফর করা উচিত।" ইয়াহিয়া ইবনে মাইন বলেন: "চার প্রকার ব্যক্তির মধ্যে শুভবুদ্ধির আশা করা যায় না: রাস্তার পাহারাদার, বিচারকের ঘোষক, মুহাদ্দিসের পুত্র, এবং এমন ব্যক্তি যে নিজ শহরে বসেই হাদিস লেখে কিন্তু হাদিস অন্বেষণে সফর করে না(3)।"

হাদিসের সনদসমূহ (أسانيد) পর্যালোচনাকারীর কাছে সফরের প্রভাব অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়। যদি আমরা যেকোনো একটি সনদ (إسناد) গ্রহণ করি এবং এর বর্ণনাকারীদের (رواة) ইতিহাস অধ্যয়ন করি, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখতে পাই যে তারা একাধিক অঞ্চলের অধিবাসী। এমনকি কখনো কখনো দেখা যায় তাদের প্রত্যেকেই ভিন্ন ভিন্ন শহরের, কিন্তু হাদিস অন্বেষণের সফর তাদের এই বিচ্ছিন্নতাকে একত্রিত করেছে এবং তাদের মধ্যকার দূরত্ব কমিয়ে দিয়েছে, ফলে তারা একটি হাদিসের সনদে (سند) ধারাবাহিকভাবে একই সূত্রে গ্রথিত হয়েছেন... !

 

‌‌মুহাদ্দিসগণের নিকট সফরের উদ্দেশ্যসমূহ:

হাদিস বিশারদদের নিকট এই সফরের বহু মহান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল, যার প্রধান দিকগুলো নিচে স্পষ্ট করা হলো:

--------------------------------------------

(1) এটি একটি সহিহ (صحيح) হাদিস যা মুসলিম এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।

(2) তার রচিত উলূমুল হাদিস গ্রন্থের ২২২ পৃষ্ঠায়, আমাদের তাহকিকসহ।

(3) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ২২৩।

(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ফী তলবিল হাদীস - ত আতর (পৃষ্ঠা: ١٨)
‌‌1 - تحصيل الحديث:

ولعل هذا أول أسباب الرحلة، خصوصا في عهود الاسلام الأولى ومنه جاءت رحلات الصحابة(1) ثم التابعين، وهكذا …

وذلك أن الصحابة رضي الله عنهم تفرقوا في البلاد ومع كل واحد منهم علم حمله عن النبي صلى الله عليه وسلم، وإن كان هناك عدد منهم نستطيع أن نقول إنهم كانوا يحملون جملة الحديث، وهم الذين كان الخلفاء يرسلونهم إلى البلاد دعاة ومعلمين، مثل عبد الله بن مسعود في العراق، وأبي الدرداء في الشام …

ثم انتشر علم الصحابة في تلامذتهم التابعين وتفرق بينهم، فاحتاج العلماء إلى تحصيل الحديث من صدور حملته استكمالا لعلم السنة النبوية. وقد ضرب المسلمون في ذلك مثلا عاليا، وبلغوا شأوا عزيز المال، حتى رحلوا في طلب الحديث الواحد، وها هو ذا كتاب الرحلة الذي بين أيدينا بينة واضحة على هذا المقصد الجليل.

 

‌‌2 - التثبت من الحديث:

وهذا كان مقصد أبي أيوب رضي الله عنه في رحلته من المدينة المنورة إلى مصر ليثبت من حديث سمعه من النبي صلى الله عليه وسلم لم يبق أحد سمعه غيره وغير عقبة بن عامر(2).

وكذلك رحل شعبة بن الحجاج من أجل اسناد لحديث فضل

--------------------------------------------

(1) رحلاتهم إلى النبي صلى الله عليه وسلم كما أثبتناه في مطلع استدراكنا على كتاب الرحلة، وكذا رحلاتهم إلى بعضهم البعض مما ذكره الخطيب.

(2) انظر حديث في الرحلة رقم 34 - 38.

‌‌১ - হাদিস সংগ্রহ:

সম্ভবত এটিই ছিল সফরের (الرحلة) অন্যতম প্রধান কারণ, বিশেষ করে ইসলামের প্রাথমিক যুগগুলোতে। আর এ উদ্দেশ্যেই সাহাবীগণের (الصحابة)(১) এবং পরবর্তীতে তাবিঈগণের (التابعين) সফরসমূহ সংঘটিত হয়েছিল এবং এ ধারা অব্যাহত থাকে...

এর কারণ এই যে, সাহাবীগণ (الصحابة) রাযিয়াল্লাহু আনহুম বিভিন্ন জনপদে ছড়িয়ে পড়েছিলেন এবং তাঁদের প্রত্যেকের নিকট নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রাপ্ত ইলম ছিল। যদিও তাঁদের মধ্যে এমন একদল ছিলেন যাঁদের সম্পর্কে আমরা বলতে পারি যে, তাঁরা হাদিসের এক বৃহৎ অংশ ধারণ করতেন; আর তাঁরাই ছিলেন সেই সকল ব্যক্তি যাঁদেরকে খলিফাগণ দাঈ ও শিক্ষক হিসেবে বিভিন্ন জনপদে প্রেরণ করতেন। যেমন—ইরাকে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ এবং শামে আবুদ্দারদা...

অতঃপর সাহাবীগণের ইলম তাঁদের ছাত্র তথা তাবিঈগণের (التابعين) মাঝে ছড়িয়ে পড়ে এবং তাঁদের মধ্যেও তা বিভিন্ন স্থানে বিন্যস্ত হয়ে যায়। ফলে সুন্নাহর ইলমকে পরিপূর্ণ করার লক্ষ্যে হাদিস বহনকারীদের নিকট থেকে সরাসরি তা সংগ্রহের প্রয়োজন দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে মুসলিমগণ এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন এবং তাঁরা এমন এক উচ্চশিখরে আরোহণ করেছিলেন যে, মাত্র একটি হাদিসের অন্বেষণেও তাঁরা সুদূর পথ সফর করতেন। আর আমাদের সামনে থাকা এই কিতাবুর রিহলাহ গ্রন্থটি এই মহান উদ্দেশ্যের এক সুস্পষ্ট প্রমাণ।

 

‌‌২ - হাদিস যাচাই (التثبت) করা:

এটিই ছিল মদিনা মুনাওয়ারা থেকে মিশরে আবু আইয়ুব রাযিয়াল্লাহু আনহুর সফরের মূল লক্ষ্য, যাতে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শোনা একটি হাদিস সম্পর্কে সুনিশ্চিত (التثبت) হতে পারেন, যা তিনি এবং উকবাহ ইবনে আমির ব্যতীত শোনার জন্য অন্য কেউ অবশিষ্ট ছিলেন না(২)।

অনুরূপভাবে, শু’বাহ ইবনুল হাজ্জাজ একটি হাদিসের সনদের (إسناد) জন্য সফর করেছিলেন...

--------------------------------------------

(১) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট তাঁদের সফরসমূহ, যা আমরা কিতাবুর রিহলাহ-এর ওপর আমাদের সংযোজনীর (استدراك) শুরুতে সাব্যস্ত করেছি। তদ্রূপ একে অপরের নিকট তাঁদের সফরসমূহ, যা আল-খাতিব উল্লেখ করেছেন।

(২) দেখুন: কিতাবুর রিহলাহ-এর হাদিস নং ৩৪ - ৩৮।

(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ফী তলবিল হাদীস - ত আতর (পৃষ্ঠা: ١٩)
الوضوء والذكر بعده، فإن أبا إسحاق السبيعي الذي سمع منه شعبة هذا الحديث مدلس، ولم يكشف لشعبة عن حقيقة أمر السند، وكان شعبة كثير العناية بتتبع المدلسين، فرحل تلك الرحلة المضنية حتى توصل إلى نتيجة مؤسفة هي سقوط رواة من السند أحدهم مطعون فيه، فلم يملك نفسه أن قال: " دمر علي هذا الحديث، لو صح لي هذا الحديث كان أحب إلي من أهلي ومن مالي ومن الدنيا كلها "(1).

ومن التثبت من الحديث أن يكون عند المحدث أحاديث يرويها فيسمع في رحلته بعض هذه الأحاديث بأسناد تلتقي مع إسناده وتتفق في صيغة المتن المروي أو معناه(2) أو يسمع أحاديث أخرى في معني ما يرويه(3) فيطمئن المحدث ويتقوى الحديث حتى يحتج به إن كان فيه ضعف من قبل(4)، أو يزداد صحة إن كان من قبل صحيحا(5). كما أن تتبع الروايات والأسانيد قد يسفر عن خلل يسقط حديثا كان يظنه من قبل صحيحا(6).

--------------------------------------------

(1) انظر الحديث وتعليقنا الحافل عليه في الرحلة برقم 59 و 60.

(2) وهو ما يسمى بالتابع أو المتابع والمتابعة.

(3) ويسميه المحدثون الشاهد. انظر تفصيل البحث في التابع والشاهد في كتابنا منهج النقد في علوم الحديث رقم عام 74 - 75 ص 394 - 398.

(4) وهو الحديث الحسن لغيره، انظر تعريفه وشروطه في كتابنا منهج النقد رقم عام 39 - ص 294 - 252.

(5) وقد بحثنا أنواع الحديث الناشئة من تعدد السند مع اتفاق الرواة في كتابنا الامام الترمذي والموازنة بين جامعه وبين الصحيحين ص 126 - 132 وزدنا هذا البحث توسعا في كتاب منهج النقد المبحث الثاني من الباب السابع ص 380 - 398.

(6) انظر أنواع الحديث الناشئة من اختلاف الرواة في رواية الحديث في فصل جامع من كتابنا الامام الترمذي والموازنة بين جامعه وبين الصحيحين ص 132 - 150 وكتابنا منهج النقد المبحث الثالث من الباب السابع ص 399 - 432. وفيه زيادة توسع وتفصيل.

অজু এবং এরপরের জিকির সংক্রান্ত; কেননা আবু ইসহাক আল-সাবিঈ, যাঁর নিকট হতে শু'বাহ এই হাদিসটি শুনেছিলেন, তিনি ছিলেন একজন তাদলীসকারী (مدلس)। তিনি শু'বার নিকট সনদের (السند) প্রকৃত অবস্থা প্রকাশ করেননি। আর শু'বা তাদলীসকারী (المدلسين) ব্যক্তিদের অনুসরণের ব্যাপারে অত্যন্ত যত্নবান ছিলেন। তাই তিনি সেই কষ্টকর সফরে বের হন এবং শেষ পর্যন্ত একটি দুঃখজনক ফলাফলে উপনীত হন, তা হলো সনদ (السند) থেকে বর্ণনাকারীদের বাদ পড়া, যাদের একজন আবার অভিযুক্ত (مطعون فيه)। তখন তিনি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে বললেন: "এই হাদিসটি আমাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। যদি এই হাদিসটি আমার নিকট বিশুদ্ধ (صح) হতো, তবে তা আমার পরিবার, ধন-সম্পদ এবং গোটা দুনিয়ার চেয়েও আমার কাছে অধিক প্রিয় হতো।"(১).

হাদিস যাচাই করার একটি পদ্ধতি হলো, মুহাদ্দিসের নিকট এমন কিছু হাদিস থাকা যা তিনি বর্ণনা করেন, অতঃপর তাঁর সফরে তিনি এই হাদিসগুলোর কিছু অংশ এমন সব সনদের (أسناد) মাধ্যমে শুনতে পান যা তাঁর নিজের সনদের (إسناده) সাথে মিলিত হয় এবং বর্ণিত মূল পাঠের (المتن) শব্দে বা অর্থে মিলে যায়, অথবা তিনি যা বর্ণনা করেন সেই একই অর্থে অন্য হাদিসসমূহ শুনতে পান। ফলে মুহাদ্দিস আশ্বস্ত হন এবং হাদিসটি শক্তিশালী হয়, এমনকি তা দলিল হিসেবে গ্রহণের (يحتج به) যোগ্য হয় যদি তাতে পূর্বে কোনো দুর্বলতা (ضعف) থেকে থাকে। অথবা যদি তা আগে থেকেই সহিহ (صحيحا) থাকে তবে তার বিশুদ্ধতা (صحة) আরও বৃদ্ধি পায়।(২)(৩)(৪)(৫) একইভাবে বিভিন্ন বর্ণনা ও সনদগুলোর (الأسانيد) অনুসন্ধান কখনো এমন ত্রুটি উন্মোচন করতে পারে যা এমন একটি হাদিসকে বাতিল করে দেয় যেটিকে তিনি ইতিপূর্বে সহিহ (صحيحا) বলে মনে করেছিলেন।(৬).

--------------------------------------------

(১) হাদিসটি এবং এর ওপর আমাদের বিস্তারিত টীকা দেখুন আর-রিহলাহ-এর ৫৯ ও ৬০ নম্বরে।

(২) যাকে অনুগামী (التابع) বা মুতাবী (المتابع) এবং মুতাবাআত (المتابعة) বলা হয়।

(৩) মুহাদ্দিসগণ একে শাহিদ (الشاهد) নামে অভিহিত করেন। তাবি' (التابع) ও শাহিদ (الشاهد) সংক্রান্ত বিস্তারিত আলোচনা দেখুন আমাদের গ্রন্থ মানহাজুন নাকদ ফি উলূমিল হাদিস-এর সাধারণ ক্রম ৭৪ - ৭৫, পৃষ্ঠা ৩৯৪ - ৩৯৮।

(৪) এটি হলো লি-গাইরিহি হাসান (الحسن لغيره) হাদিস। এর সংজ্ঞা ও শর্তাবলি দেখুন আমাদের মানহাজুন নাকদ গ্রন্থের সাধারণ ক্রম ৩৯ - পৃষ্ঠা ২৯৪ - ২৫২।

(৫) বর্ণনাকারীদের ঐকমত্য থাকা সত্ত্বেও সনদের (السند) আধিক্যের কারণে হাদিসের যে প্রকারভেদ তৈরি হয়, তা আমরা আমাদের গ্রন্থ আল-ইমাম আত-তিরমিজি ওয়াল মুওয়াজানাতু বাইনা জামি'য়িহি ওয়া বাইনাস সাহিহাইন-এর ১২৬ - ১৩২ পৃষ্ঠায় আলোচনা করেছি। আর এই আলোচনাকে আরও বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছি মানহাজুন নাকদ গ্রন্থের সপ্তম পরিচ্ছেদের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে, পৃষ্ঠা ৩৮০ - ৩৯৮।

(৬) হাদিস বর্ণনায় বর্ণনাকারীদের মতভেদের (اختلاف الرواة) ফলে হাদিসের যে প্রকারভেদ তৈরি হয়, তা আমাদের গ্রন্থ আল-ইমাম আত-তিরমিজি ওয়াল মুওয়াজানাতু বাইনা জামি'য়িহি ওয়া বাইনাস সাহিহাইন-এর একটি পূর্ণাঙ্গ অধ্যায়ে (পৃষ্ঠা ১৩২ - ১৫০) এবং মানহাজুন নাকদ গ্রন্থের সপ্তম পরিচ্ছেদের তৃতীয় অনুচ্ছেদে (পৃষ্ঠা ৩৯৯ - ৪৩২) দেখুন। সেখানে আরও বিস্তারিত ও সুনিপুণ আলোচনা রয়েছে।

(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ফী তলবিল হাদীস - ত আতর (পৃষ্ঠা: ٢٠)
‌‌3 - طلب العلو في السند:

والعلو هو قلة عدد الوسائط في سند الحديث مع اتصال السند.

ويحصل العلو بأن يسمع المحدث حديثا من راو عن شيخ موجود " فيذهب المحدث إلى ذلك الشيخ ويسمعه منه. وهكذا يقل عدد وسائط النقل في السند.

وللعلو فائدة عظيمة هي أنه يبعد الاسناد من الخلل، لأن كل رجل من رجاله قد يحتمل أن يقع من جهته خلل في النقل، فإذا قلت الوسائط تقل جهات الاحتمال للخلل، فيكون علو السند قوة للحديث(1).

لذلك عني المحدثون بالعلو عناية كبيرة، وألفوا فيه المصنفات وتجشموا لتحصيله المشقات، حتى رحلوا إلى الأقطار النائية سعيا وراء علو السند، ما إن يسمع أحدهم بحديث عن محدث في عصره حتى يرحل إليه ليسمعه منه مباشرة.

قال الحافظ أبو الفضل المقدسي(2): " أجمع أهل النقل على طلبهم العلو ومدحه، إذ لو اقتصروا على سماعه بنزول لم يرحل أحد منهم ".

وقال الإمام أحمد بن حنبل: " طلب الاسناد العالي سنة عمن سلف ".

وقيل ليحيى بن معين في مرض موته: " ما تشتهي؟ ". قال: " بيت خالي، وإسناد عالي!(3) ".

--------------------------------------------

(1) علوم الحديث لابن الصلاح ص 231 وانظر منهج النقد في علوم الحديث ص 335 رقم عام 59.

(2) هو محمد بن طاهر، انظر كلمته هذه في " مسألة العلو والنزول " ق 5/ آ.

(3) علوم الحديث ص 231.

‌‌৩ - সনদে উচ্চতা (طلب العلو في السند) অন্বেষণ করা:

উচ্চতা (العلو) হলো সনদের ধারাবাহিকতা অবিচ্ছিন্ন (اتصال السند) থাকার পাশাপাশি হাদিসের সনদে (السند) মধ্যস্থতাকারীদের (الوسائط) সংখ্যা কম হওয়া।

উচ্চতা (العلو) এভাবে অর্জিত হয় যে, একজন মুহাদ্দিস (المحدث) কোনো বিদ্যমান শাইখ থেকে একজন বর্ণনাকারীর (راو) সূত্রে কোনো হাদিস শোনেন; অতঃপর মুহাদ্দিস (المحدث) সরাসরি সেই শাইখের নিকট গমন করেন এবং তাঁর থেকে তা শ্রবণ করেন। এভাবেই সনদে (السند) বর্ণনার মধ্যস্থতাকারীদের (وسائط النقل) সংখ্যা কমে যায়।

উচ্চতার (العلو) একটি মহান উপকারিতা রয়েছে, তা হলো এটি ইসনাদকে (الإسناد) ত্রুটি (الخلل) থেকে দূরে রাখে। কারণ সনদের প্রত্যেক ব্যক্তির পক্ষ থেকেই বর্ণনার ক্ষেত্রে ত্রুটি (الخلل) ঘটার সম্ভাবনা থাকে। সুতরাং যখন মধ্যস্থতাকারী (الوسائط) কমে যায়, তখন ত্রুটির (الخلল) সম্ভাবনার দিকগুলোও কমে যায়। ফলে সনদের উচ্চতা (علو السند) হাদিসের জন্য শক্তিশালী হওয়ার কারণ হয়।(১)

এই কারণে মুহাদ্দিসগণ (المحدثون) উচ্চতার (العلو) প্রতি অত্যন্ত গুরুত্ব প্রদান করেছেন, এ বিষয়ে গ্রন্থাবলী (المصنفات) রচনা করেছেন এবং এটি অর্জনের জন্য অনেক কষ্ট স্বীকার করেছেন। এমনকি সনদের উচ্চতা (علو السند) অর্জনের লক্ষ্যে তারা সুদূরপ্রসারী জনপদে সফর করেছেন। তাদের কেউ যখন নিজের সমসাময়িক কোনো মুহাদ্দিসের (محدث) নিকট থেকে কোনো হাদিসের কথা শুনতেন, তখনই তিনি সরাসরি তাঁর নিকট থেকে তা শোনার জন্য সফর করতেন।

হাফেজ আবু আল-ফজল আল-মাকদিসি বলেন: "বর্ণনাবিদগণ (أهل النقل) উচ্চতা (العلو) অন্বেষণ এবং এর প্রশংসার (مدح) ব্যাপারে একমত হয়েছেন। যদি তারা নিম্নগামিতা (نزول)-সহ হাদিস শোনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতেন, তবে তাদের কেউ সফর করতেন না।"

ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল বলেছেন: "উচ্চ সনদ (الإسناد العالي) অন্বেষণ করা পূর্বসূরীদের একটি রীতি (سنة)।"

ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনকে তাঁর মৃত্যুশয্যায় জিজ্ঞেস করা হলো: "আপনি কী আকাঙ্ক্ষা করেন?" তিনি বললেন: "একটি নির্জন ঘর এবং উচ্চ সনদ (إسناد عالي)!"(৩)

--------------------------------------------

(১) উলূমুল হাদিস, ইবনুস সালাহ, পৃষ্ঠা ২৩১ এবং দেখুন মানহাজুন নাকদ ফি উলূমিল হাদিস, পৃষ্ঠা ৩৩৫, সাধারণ নম্বর ৫৯।

(২) তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবনে তাহির, দেখুন "মাসআলাতুল উলু ওয়ান নুযুল" গ্রন্থে তাঁর এই উক্তিটি, পৃষ্ঠা ৫/আ।

(৩) উলূমুল হাদিস, পৃষ্ঠা ২৩১।

(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ফী তলবিল হাদীস - ত আতর (পৃষ্ঠা: ٢١)
وقيل للإمام أحمد بن حنبل: أيرحل الرجل في طلب العلو؟

فقال: " بلى والله شديدا، لقد كان علقمة والأسود يبلغهما الحديث عن عمر رضي الله عنه فلا يقنعهما حتى يخرجا إلى عمر فيسمعانه منه(1) ".

وقال أبو العالية: " كنا نسمع الرواية عن أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم ونحن بالبصرة فما نرضي حتى نركب إلى المدينة فنمعها من أفواههم … "(2).

وغير ذلك كثير جدا.

 

‌‌4 - البحث عن أحوال الرواة:

وذلك لأن معرفة أداء الراوي للحديث كما سمعه هو المقصد الذي عليه مدار هذا العلم، ومن أجله بذلت كل الجهود، ووضعت قواعد النقد، فكان لابد من تقصي أحوال الرواة وأخبارهم حتى يتميز مقبولهم من مردودهم، وقد قلنا في كتابنا " منهج النقد "(3): " ولولا ما بذله الأئمة النقاد في هذا الشأن من الجهود في البحث عن عدالة الرواة واختبار حفظهم وتيقظهم حتى رحلوا في سبيل ذلك وتكبدوا المشاق ثم قاموا في الناس بالتحذير من الكذابين والضعفاء المخلطين لاشتبه أمر الإسلام واستولت الزنادقة ولخرج الدجالون ".

وحسبنا دليلا على أهمية هذا البحث تلك العلوم الكثيرة التي تبحث

--------------------------------------------

(1) المرجع السابق 223، وانظر المستدرك على الرحلة رقم 92.

(2) أخرجه الخطيب في الرحلة برقم 21.

(3) ص 84 رقم عام/ 2/.

ইমাম আহমদ বিন হাম্বলকে জিজ্ঞেস করা হলো: কোনো ব্যক্তি কি উচ্চ সনদ (العلو) অন্বেষণের জন্য সফর করবে?

তিনি বললেন: "হ্যাঁ, আল্লাহর কসম, অবশ্যই করবে। আলকামা এবং আসওয়াদ-এর নিকট উমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস পৌঁছাত, কিন্তু তারা তাতে সন্তুষ্ট হতেন না যতক্ষণ না তারা উমরের নিকট সফর করতেন এবং সরাসরি তাঁর থেকে তা শুনতেন(১)"।

আবু আল-আলিয়াহ বলেন: "আমরা যখন বসরায় থাকতাম তখন রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবীদের থেকে বর্ণনা (الرواية) শুনতাম, কিন্তু আমরা ততক্ষণ সন্তুষ্ট হতাম না যতক্ষণ না সওয়ার হয়ে মদিনায় যেতাম এবং তাঁদের মুখ থেকে সরাসরি তা শুনতাম..."(২)।

এবং এ জাতীয় উদাহরণ আরও অনেক রয়েছে।

 

‌‌৪ - রাবীদের (الرواة) অবস্থা সম্পর্কে অনুসন্ধান:

এর কারণ হলো, রাবী (الراوي) যেভাবে হাদিস শুনেছেন ঠিক সেভাবেই তা পৌঁছে দিচ্ছেন (أداء) কি না, তা জানাই হলো এই ইলমের মূল লক্ষ্য, যার ওপর এই শাস্ত্র আবর্তিত হয়। আর এই উদ্দেশ্যেই যাবতীয় প্রচেষ্টা ব্যয় করা হয়েছে এবং সমালোচনার মূলনীতি (قواعد النقد) প্রণয়ন করা হয়েছে। ফলে রাবীদের (الرواة) অবস্থা ও সংবাদ পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান করা অপরিহার্য ছিল, যাতে তাদের মধ্যে গ্রহণযোগ্য (مقبول) এবং বর্জনীয় (مردود) ব্যক্তিদের পৃথক করা যায়। আমরা আমাদের 'মানহাজুন নাকদ'(৩) গ্রন্থে বলেছি: "যদি সমালোচক ইমামগণ (الأئمة النقاد) বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতা (عدالة) অন্বেষণে এবং তাদের মুখস্থ শক্তি (حفظ) ও সতর্কতা (تيقظ) যাচাই করার ক্ষেত্রে এই শ্রম না দিতেন—এমনকি তারা এর জন্য সফর করেছেন এবং কঠোর পরিশ্রম করেছেন—অতঃপর মানুষের মাঝে চরম মিথ্যাবাদী (الكذابين) এবং বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী (المخلطين) দুর্বল (الضعفاء) বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে সতর্ক না করতেন, তবে ইসলামের বিষয়াদি সংশয়পূর্ণ হয়ে যেত, জিন্দিকরা প্রভাব বিস্তার করত এবং মিথ্যাচারীরা বের হয়ে আসত।"

এই অনুসন্ধানের গুরুত্বের প্রমাণ হিসেবে সেই অসংখ্য জ্ঞানই যথেষ্ট যা আলোচনা করে...

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস ২২৩, এবং দেখুন 'আল-মুস্তাদরাক আলা আল-রিহলাহ' নম্বর ৯২।

(২) আল-খাতিব 'আল-রিহলাহ' গ্রন্থে ২১ নম্বরে এটি বর্ণনা করেছেন।

(৩) পৃ. ৮৪, সাধারণ নম্বর /২/।

(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ফী তলবিল হাদীস - ত আতর (পৃষ্ঠা: ٢٢)
في الرواة من كل جهات البحث فيهم، والتي بلغت أصولها ثلاثين علما(1)!!

ومن أمثلة الرحلة لهذا الغرض سعي الإمام يحيى بن معين إلى أبي نعيم الفضل بن دكين ليختبر حفظه وتيقظه حتى شهد له انه قد بلغ الغاية في ذلك(2).

ولو أن الناس وطلبة العلم عنوا في هذا العصر بهذين المقصدين (الثالث والرابع) في حق المؤلفات الحديثة، ورجعوا إلى (المؤلف) مصدر الفكرة المنشورة، يبحثون حاله كما كان السلف يفعلون لوجدوا كثيرا من أصحاب الكتب لا يستحق القراءة له، ولاكتفوا شرا كثيرا(3) لكنه القعود والاخلاد إلى الراحة جعل للمطبعة ولدعاية الناشرين التجارية قوة لم تكن تكسب من قبل بالشهرة المفتعلة أو الألقاب المصطنعة، حيث كانت الرحلة للقي الرجال تكشف خباياهم.

 

‌‌5 - مذاكرة العلماء في نقد الأحاديث وعللها:

وهو فن جليل يحتاج إلى عمق النظر وتقصي الأسانيد والروايات، لذلك قال العلماء إن التعمق فيه وتحصيل الملكة العلمية لا يتم إلا بالمجالة والمذاكرة ولقاء جهابذة الفن.

--------------------------------------------

(1) وقد جمعناها مبوبة مفصلة إلى أقسامها بحسب جهة البحث في الرواة وتقسيمها تقسيما مبتكرا في كتابنا منهج النقد في علوم الحديث ص 66 - 173 فانظر دراسة قواعدها فيه.

(2) انظر خبر هذه الرحلة الطريف في المستدرك على الرحلة برقم 106.

(3) لذلك نرى أن يحتاط المسلم وطالب العلم لدينه من كتاب لم يتوثق من ورع مؤلفه ورسوخه العلمي، وأن يحرص على التلقي المباشر من العلماء الذين عرف من ورعهم وعلمهم ما يجعلهم أهلا للقدوة، فإن الأمر خطير، جد خطير.

বর্ণনাকারীদের (الرواة) বিষয়ে গবেষণার প্রতিটি দিক থেকে, যার মূল মূলনীতিগুলো ত্রিশটি বিজ্ঞানে পৌঁছেছে(১)!!

এই উদ্দেশ্যে সফরের একটি উদাহরণ হলো ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন-এর আবু নুআইম আল-ফজল ইবনে দুকাইনের নিকট গমন করা, যাতে তিনি তার মুখস্থ শক্তি (حفظ) ও সতর্কতা (تيقظ) পরীক্ষা করতে পারেন, এমনকি তিনি তার জন্য সাক্ষ্য দিয়েছেন যে তিনি সে বিষয়ে চরম সীমায় পৌঁছেছেন(২)।

বর্তমান যুগে মানুষ ও ইলম অন্বেষণকারীরা যদি আধুনিক রচনাবলির ক্ষেত্রে এই দুটি উদ্দেশ্য (তৃতীয় ও চতুর্থ) নিয়ে যত্নবান হতো এবং প্রকাশিত চিন্তাধারার উৎস—লেখকের (المؤلف) দিকে ফিরে যেত, তারা যদি তার অবস্থা অনুসন্ধান করত যেমনটি সালাফগণ করতেন, তবে তারা দেখতে পেত যে অনেক বইয়ের লেখকই পাঠ করার যোগ্য নয়, এবং তারা অনেক অনিষ্ট থেকে রক্ষা পেত(৩)। কিন্তু কর্মবিমুখতা ও আরামপ্রিয়তা মুদ্রণযন্ত্র ও প্রকাশকদের বাণিজ্যিক প্রচারণাকে এমন এক শক্তি জুগিয়েছে যা আগে কৃত্রিম খ্যাতি বা বানানো উপাধি দ্বারা অর্জিত হতো না; যেখানে ব্যক্তিগণের সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে সফর করা তাদের গোপন রহস্যগুলো উন্মোচিত করে দিত।

 

‌‌৫ - হাদিস সমালোচনা (نقد) ও তার সূক্ষ্ম ত্রুটি (علل) সম্পর্কে ওলামায়ে কেরামের পারস্পরিক আলোচনা (مذاكرة):

এটি একটি মহান শিল্প যা গভীর দৃষ্টি এবং সনদ (أسانيد) ও বর্ণনাগুলোর (روايات) সূক্ষ্ম অনুসন্ধানের দাবি রাখে। এজন্য ওলামায়ে কেরাম বলেছেন যে, এতে গভীরভাবে প্রবেশ করা এবং বৈজ্ঞানিক দক্ষতা (ملكة علمية) অর্জন করা কেবল একাসনে বসা (مجالة), পারস্পরিক আলোচনা (مذاكرة) এবং এই শিল্পের পারদর্শী ব্যক্তিত্বদের সাথে সাক্ষাত ব্যতীত সম্ভব নয়।

--------------------------------------------

(১) আর আমি এগুলোকে বর্ণনাকারীদের (الرواة) বিষয়ে গবেষণার দিক অনুসারে অধ্যায়ভিত্তিক ও বিস্তারিতভাবে বিভিন্ন ভাগে একত্রিত করেছি এবং আমার 'মানহাজ আন-নাকদ ফি উলুমিল হাদিস' বইয়ের ৬৬-১৭৩ পৃষ্ঠায় এক অভিনব পদ্ধতিতে বিন্যস্ত করেছি, অতএব সেখানে এর নিয়মাবলির অধ্যয়ন দেখে নিন।

(২) এই চমৎকার সফরের খবরটি দেখুন 'আল-মুস্তাদরাক আলা আর-রিহলাহ'-এর ১০৬ নম্বর ক্রমিকে।

(৩) এজন্য আমরা মনে করি যে, একজন মুসলিম ও ইলম অন্বেষণকারীর উচিত এমন কোনো বই থেকে নিজের দ্বীনের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করা যার লেখকের তাকওয়া ও ইলমি গভীরতা নিশ্চিত করা হয়নি; এবং সেই ওলামায়ে কেরামের কাছ থেকে সরাসরি শিক্ষা গ্রহণে সচেষ্ট হওয়া যাদের তাকওয়া ও ইলম সম্পর্কে এমন কিছু জানা গেছে যা তাদের অনুসরণের যোগ্য করে তোলে, কেননা এই বিষয়টি অত্যন্ত গম্ভীর, অত্যন্ত গম্ভীর।

(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ফী তলবিল হাদীস - ত আতর (পৃষ্ঠা: ٢٣)
قال الخطيب البغدادي في كتابه الكفاية(1) " ولو كان حكم المتصل والمرسل واحدا لما ارتحل كتبة الحديث وتكلفوا مشاق الأسقار إلى ما بعد من الأقطار، للقاء العلماء والسماع منهم في سائر الآفاق … ".

وكان سفيان بن عيينة بمكة يرحل إليه علي ين المديني من العراق للمذاكرة في ذلك، فقال ابن عيينة: " يلومونني على حب علي ابن المديني والله لما أتعلم منه أكثر مما يتعلم مني … " وقال يحيى القطان: " أنا أتعلم من علي أكثر مما يتعلم مني ".

وكان الإمام أحمد بن حنبل يصلي من الليل مائة ركعة وأكثر، فإذا زاره يحيى بن معين اكتفي بالقليل من النافلة وجلس للمذاكرة مع يحيى، فقال له ابنه في ذلك؟ فقال: " يا بني إن ما يفوت من النافلة يدرك، لكن إذا فات ما عند هذا الفتى لا يدرك ".

ومن روائع نتائج الرحلة ما أفاده الامام الترمذي في علل الحديث من الامام البخاري، وهذا كتابه " العلل الكبير " شاهد صدق بذلك لكثرة نقوله عن الامام البخاري في معظم أحاديث الكتاب. وقد صرح الترمذي في آخر جامعه بإفادته من هذه المباحثة فقال: " وما كان فيه - يعني الجامع - من ذكر العلل في الأحاديث والرجال والتاريخ فهو ما استخرجته من كتب التاريخ، وأكثر ذلك ما ناظرت به محمد ابن إسماعيل - يعني البخاري - … "(2).

--------------------------------------------

(1) ص 402 - 403 طبع الهند.

(2) آخر جامع الترمذي المشهور ب " سنن الترمذي ". وانظر كتابنا الامام الترمذي والموازنة بين جامعه وبين الصحيحين ص 17 - 18، و 267.

আল-খতিব আল-বাগদাদি তাঁর 'আল-কিফায়া' গ্রন্থে(১) বলেন: "যদি সংযুক্ত (متصل) এবং বিচ্ছিন্ন (مرسل) এর বিধান অভিন্ন হতো, তবে হাদিস সংগ্রাহকগণ দূর-দূরান্তের জনপদে সফর করার কষ্ট স্বীকার করতেন না এবং বিভিন্ন দিগন্তে আলেমদের সাথে সাক্ষাৎ ও তাঁদের নিকট থেকে শ্রবণের জন্য ভ্রমণের ক্লান্তি সহ্য করতেন না..."।

সুফিয়ান বিন উয়াইনা মক্কায় অবস্থান করতেন, আর ইরাক থেকে আলি ইবনুল মাদিনি এই বিষয়ে জ্ঞান বিনিময়ের জন্য তাঁর কাছে যেতেন। তখন ইবনে উয়াইনা বলতেন: "আলি ইবনুল মাদিনির প্রতি আমার ভালোবাসার কারণে তারা আমাকে তিরস্কার করে; আল্লাহর কসম, আমি তার কাছ থেকে যা শিখি, সে আমার কাছ থেকে যা শিখে তার চেয়ে অনেক বেশি..."। ইয়াহইয়া আল-কাত্তানও বলতেন: "আমি আলির কাছ থেকে তার চেয়েও বেশি শিখি, যা সে আমার কাছ থেকে শেখে।"

ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রাতে একশত রাকাত বা তারও বেশি সালাত আদায় করতেন। যখন ইয়াহইয়া বিন মাইন তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতে আসতেন, তখন তিনি নফল সালাতের পরিমাণ কমিয়ে দিয়ে ইয়াহইয়ার সাথে জ্ঞান বিনিময়ের জন্য বসতেন। তাঁর ছেলে এ বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: "হে বৎস! নফল সালাত যা ছুটে যায় তা পরে অর্জন করা যায়, কিন্তু এই যুবকের কাছে যা আছে তা হারিয়ে গেলে আর পাওয়া যাবে না।"

জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যে সফরের চমৎকার ফলাফলগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো হাদিসের ত্রুটিসমূহ (علل الحديث) সম্পর্কে ইমাম তিরমিজি ইমাম বুখারি থেকে যা লাভ করেছেন। তাঁর রচিত 'আল-ইলাল আল-কাবির' গ্রন্থটি এর সত্যতার এক প্রকৃষ্ট প্রমাণ, কারণ এই গ্রন্থের অধিকাংশ হাদিসের ক্ষেত্রে ইমাম বুখারি থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি রয়েছে। ইমাম তিরমিজি তাঁর জামে গ্রন্থের শেষে এই জ্ঞানগর্ভ আলোচনা থেকে উপকৃত হওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে বলেন: "এই গ্রন্থে—অর্থাৎ জামে তিরমিজিতে—হাদিসের ত্রুটি (علل), বর্ণনাকারী (الرجال) এবং ইতিহাস সম্পর্কে যা কিছু উল্লেখ করা হয়েছে, তা আমি ইতিহাসের কিতাবসমূহ থেকে সংগ্রহ করেছি। এর অধিকাংশই আমি মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল—অর্থাৎ ইমাম বুখারি—এর সাথে আলোচনার মাধ্যমে অর্জন করেছি..."(২).

--------------------------------------------

(১) পৃষ্ঠা ৪০২ - ৪০৩, ভারত মুদ্রণ।

(২) জামে তিরমিজির শেষাংশ যা 'সুনান তিরমিজি' হিসেবে প্রসিদ্ধ। আরও দেখুন আমাদের রচিত গ্রন্থ 'আল-ইমাম আল-তিরমিজি ওয়াল মুওয়াজানাতু বাইনা জামিইহি ওয়া বাইনাস সাহিহাইন', পৃষ্ঠা ১৭-১৮ এবং ২৬৭।

(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ফী তলবিল হাদীস - ত আতর (পৃষ্ঠা: ٢٤)
‌‌فوائد الرحلة

وهي فوائد عامة نضيفها إلى ما سبق من أغراض الرحلة عند المحدثين نستشير بها عزائم الشباب حتى يتخطوا الصعاب، وتخف عليهم أعباؤها المالية ومشقاتها:

 

من هذه الفوائد:

 

‌‌1 - التمكن من الجوانب العلمية:

وذلك أن الانسان يتأثر ببيئته ومحيطه، وقد تتحكم فيه المألوفات التي عاش بينها، فإذا رحل إلى بيئة أخرى ألقى مشاكل جديدة تبحث، أو آراء جديدة في مسائل سبق له أن درسها، فيتسع أفقه واجتهاده بدراسة الجديد من المسائل أو الجديد من الآراء، وكثيرا ما يؤدي ذلك إلى تغيير في آرائه واجتهاداته بعد أن كان سار عليها زمنا لا يجيد عنها، وهذا الفقه الشافعي برهان ساطع على ذلك، فإن من المعروف المشهور أن للامام الشافعي مذهبان: المذهب القديم، والمذهب الجديد، والمذهب الجديد يختلف في مسائل جوهرية كثيرة عن القديم، وقد صار إليه الشافعي بعد رحلته إلى العراق، حيث لقي الإمام محمد بن الحسن الشيباني صاحب أبي حنيفة، ولقي تلامذة أبي حنيفة، وغيرهم من العلماء.

وقد أبان العلامة ابن خلدون هذه المزية في فصل خاص مختصر(1) نسوقه بنصه. وهو: أن الرحلة في طلب العلوم ولقاء المشيخة مزيد كمال في التعلم.

--------------------------------------------

(1) هو الفصل الرابع والثلاثون - من مقدمة ابن خلدون - (من أقسام الفصل السادس من الكتاب الأول) في أن الرحلة في طلب العلوم … " … إلى آخره ص 478.

সফরের উপকারিতা

এগুলো হলো কিছু সাধারণ উপকারিতা যা আমরা হাদিস বিশারদগণের (محدثين) সফরের পূর্বালোচিত উদ্দেশ্যগুলোর সাথে যুক্ত করছি; এর মাধ্যমে আমরা তরুণদের সংকল্পকে উদ্বুদ্ধ করতে চাই যাতে তারা প্রতিকূলতা অতিক্রম করতে পারে এবং তাদের জন্য সফরের আর্থিক বোঝা ও কষ্টসমূহ লাঘব হয়:

 

এই উপকারিতাগুলোর মধ্যে রয়েছে:

 

‌১ - জ্ঞানতাত্ত্বিক দিকগুলোতে পারদর্শিতা অর্জন:

এর কারণ হলো, মানুষ তার পরিবেশ ও পারিপার্শ্বিকতা দ্বারা প্রভাবিত হয় এবং সে যে বিষয়গুলোতে অভ্যস্ত তার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতে পারে। সুতরাং সে যখন অন্য কোনো পরিবেশে সফর করে, তখন সে পর্যালোচনার জন্য নতুন নতুন সমস্যার সম্মুখীন হয় অথবা ইতিপূর্বে অধ্যয়ন করা বিষয়গুলোতে নতুন নতুন মতামতের দেখা পায়। ফলে নতুন বিষয় বা নতুন মতামত পর্যালোচনার মাধ্যমে তার দৃষ্টিভঙ্গি ও ইজতিহাদ (اجتهاد) প্রশস্ত হয়। অনেক সময় এটি তার দীর্ঘদিনের অনুসৃত মতামত ও ইজতিহাদের পরিবর্তনের দিকে ধাবিত করে। ইমাম শাফেয়ির ফিকহ এর এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। কারণ এটি সর্বজনবিদিত যে, ইমাম শাফেয়ির দুটি মাজহাব রয়েছে: প্রাচীন মাজহাব (المذهب القديم) এবং নতুন মাজহাব (المذهب الجديد)। নতুন মাজহাবটি অনেক মৌলিক বিষয়ে প্রাচীন মাজহাব থেকে ভিন্ন। শাফেয়ি ইরাক সফরের পর এই অবস্থানে উপনীত হন, যেখানে তিনি আবু হানিফার সহচর ইমাম মুহাম্মদ বিন হাসান আল-শায়বানি এবং আবু হানিফার অন্যান্য ছাত্র ও আলেমদের সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন।

আল্লামা ইবনে খালদুন একটি বিশেষ সংক্ষিপ্ত অনুচ্ছেদে(১) এই বৈশিষ্ট্যের কথা বর্ণনা করেছেন যা আমরা হুবহু উদ্ধৃত করছি। তা হলো: জ্ঞান অন্বেষণে সফর করা এবং মাশায়েখদের (المشيخة) সাথে সাক্ষাৎ করা শিক্ষা অর্জনের ক্ষেত্রে পূর্ণতা বৃদ্ধি করে।

--------------------------------------------

(১) এটি ইবনে খালদুনের মুকাদ্দিমার চৌত্রিশতম অনুচ্ছেদ - (প্রথম গ্রন্থের ষষ্ঠ পরিচ্ছেদের অন্তর্ভুক্ত) জ্ঞান অন্বেষণে সফর করা বিষয়ে... শেষ পর্যন্ত, পৃষ্ঠা ৪৭৮।

(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ফী তলবিল হাদীস - ত আতর (পৃষ্ঠা: ٢٥)
والسبب في ذلك أن البشر يأخذون معارفهم وأخلاقهم وما ينتحلون به من المذاهب والفضائل تارة علما وتعليما والقاء، وتارة محاكاة وتلقينا بالمباشرة، إلا أن حصول الملكات عن المباشرة والتلقي أشد استحكاما وأقوى رسوخا، فعلي قدر كثرة الشيوخ يكون حصول الملكات ورسوخها. والاصطلاحات أيضا في تعليم العلوم مخلطة على المتعلم حتى لقد يظن كثير منهم أنها جزء من العلم، ولا يدفع عنه ذلك إلا مباشرته لاختلاف الطرق فيها من المعلمين، فلقاء أهل العلوم وتعدد المشايخ يفيده تمييز الاصطلاحات بما يراه من اختلاف طرقهم فيها، فيجرد العلم عنها، ويعلم أنها أنحاء تعليم وطرق توصيل، وتنهض قواه إلى الرسوخ والاستحكام في الملكات وتصح معارفه وتميزها عن سواها، مع تقوية ملكته بالمباشرة والتلقين وكثرتهما من المشيخة عند تعددهم وتنوعهم.

وهذا لمن يسر الله عليه طرق العلم والهداية، فالرحلة لا بد منها في طلب العلم لاكتساب الفوائد والكمال بلقاء المشايخ ومباشرة الرجال، والله يهدي من يشاء إلى صراط مستقيم ". انتهى.

 

‌‌2 - نشر العلم الذي حصله العالم:

وذلك أن العالم كثيرا ما ينبغ في بلد يضيق عن حمل نبوغه، لعدم توفر الكفاءات أو لقلة اهتمام أهل البلد بهذا الفن أو الاختصاص، فيرحل إلى مدينة تكون أوسع مجالا للآراء الخطيرة، أو أشد حاجة، فتعظم مكانته ويكثر الانتفاع بحكمته، ولولا الرحلة لما عظم شأنه ولما كثرت ثمرات نبوغه، وهذا الشيخ عز الدين بن عبد السلام مر عند خروجه من الشام بالكرك فتلقاه صاحباه وسأله الإقامة عنده، فقال له الشيخ: "بلدك صغير عن علمي". وتوجه إلى القاهرة.
এর কারণ হলো মানুষ তাদের জ্ঞান, চরিত্র এবং যে সকল মতবাদ ও সদ্গুণাবলি তারা অবলম্বন করে, তা কখনো অর্জন করে বিদ্যা, শিক্ষা ও প্রদানের মাধ্যমে, আবার কখনো সরাসরি অনুকরণ ও গ্রহণের মাধ্যমে। তবে সরাসরি সান্নিধ্য ও গ্রহণের মাধ্যমে অর্জিত দক্ষতা (ملكة) অধিকতর সুদৃঢ় ও শক্তিশালী হয়। সুতরাং উস্তাদদের (مشايخ) আধিক্য অনুযায়ী দক্ষতা (ملكة) অর্জন ও তার দৃঢ়তা বৃদ্ধি পায়। বিজ্ঞানের শিক্ষাদানে পারিভাষিক শব্দাবলিও শিক্ষার্থীর জন্য বিভ্রান্তিকর হতে পারে, এমনকি তাদের অনেকে মনে করতে পারে যে এগুলো মূল বিজ্ঞানেরই অংশ। আর শিক্ষকদের অনুসৃত বিভিন্ন পদ্ধতির প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ছাড়া এই বিভ্রান্তি দূর হয় না। তাই বিজ্ঞজনের সাথে সাক্ষাৎ এবং একাধিক উস্তাদের (مشايخ) সান্নিধ্য তাকে পরিভাষাগুলোর পার্থক্য অনুধাবনে সহায়তা করে, কারণ সে সেখানে তাদের পদ্ধতির ভিন্নতা দেখতে পায়। ফলে সে জ্ঞানকে পরিভাষা থেকে পৃথক করতে পারে এবং বুঝতে পারে যে এগুলো কেবল শিক্ষার ধরণ ও পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যম মাত্র। এতে তার দক্ষতা (ملكة) সুদৃঢ় ও মজবুত হওয়ার শক্তি জাগ্রত হয় এবং তার অর্জিত জ্ঞান সঠিক ও স্বতন্ত্র রূপ লাভ করে; এর পাশাপাশি একাধিক ও বৈচিত্র্যময় উস্তাদদের (مشيخة) নিকট থেকে সরাসরি সান্নিধ্য ও গ্রহণের মাধ্যমে তার দক্ষতা শক্তিশালী হয়।

আর এটি তার জন্য যাকে আল্লাহ জ্ঞান ও হিদায়াতের পথ সহজ করে দিয়েছেন। সুতরাং জ্ঞান অন্বেষণে উপকারিতা ও পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে উস্তাদদের (مشايخ) সাথে সাক্ষাৎ ও মনীষীদের (رجال) সান্নিধ্য লাভের জন্য সফর (رحلة) করা অপরিহার্য। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সরল পথ প্রদর্শন করেন।" সমাপ্ত।

 

‌‌২ - আলেমের অর্জিত জ্ঞান প্রচার করা:

আর তা এজন্য যে, অনেক সময় একজন আলেম এমন এক জনপদে খ্যাতি অর্জন করেন যা তার প্রতিভাকে ধারণ করতে সংকীর্ণ হয়ে পড়ে; যোগ্য ব্যক্তিদের অভাব বা সংশ্লিষ্ট শাস্ত্র বা বিষয়ের প্রতি দেশবাসীর অনাগ্রহের কারণে এমনটি হয়। তখন তিনি এমন এক শহরের উদ্দেশ্যে সফর করেন যা মহান চিন্তাধারার জন্য অধিক প্রশস্ত অথবা যেখানে এর প্রয়োজন অধিক। ফলে তার মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং তার প্রজ্ঞা দ্বারা ব্যাপক উপকার সাধিত হয়। যদি সফর (رحلة) না হতো, তবে তার মর্যাদা এতো বৃদ্ধি পেত না এবং তার প্রতিভার সুফলও এতো ব্যাপক হতো না। শায়খ ইযযুদ্দিন ইবনে আবদুস সালাম যখন শাম থেকে বের হওয়ার সময় 'কারাক' নামক স্থানে পৌঁছালেন, তখন সেখানকার অধিপতি তাকে অভ্যর্থনা জানান এবং তাকে সেখানে অবস্থানের অনুরোধ করেন। তখন শায়খ তাকে বললেন: "তোমার শহর আমার জ্ঞানের তুলনায় অত্যন্ত ছোট।" অতঃপর তিনি কায়রোর দিকে যাত্রা করলেন।
(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ফী তলবিল হাদীস - ত আতর (পৃষ্ঠা: ٢٦)
وقد تكون رحلة العالم أو الأديب من أسباب ظهور علمه أو أدبه وانتشاره في الآفاق.

قال الأديب أبو بكر المعروف بابن بقي:

ولي همم ستقذف بي بلادا … نأت إما العراقَ أو الشآما

لكيما تحمل الركبان شعري … بوادي الطلح أو وادي الخزاما

وكيما تعلم الفصحاء أنَّي … خطيب علَّم السجعَ الحماما

وقد أطلعتُهُن بكل أرضٍ … بدورا لا يفارقْنَ التماما

 

‌‌3 - اتساع الثقافة العامة:

وذلك لكثرة احتكاك الانسان بالجديد عليه من الناس وما لديهم من عادات وثقافة وحكم وأمثال ونوادر، فيتأثر بذلك وينطبع في نفسه حتى تتكون لديه من كل رحلة ولقاء فائدة أو يحفظ حكمة أو نكتة، أو تقع له حادثة طريفة، فيحفظ ذلك كله ويصبح له زادا يجتذب إليه الناس بالحديث عنه، وفي الناس حب التطلع لأخبار غيرهم ومعرفة ما لم يألفوه من أحوالهم، لذلك احتل الرحالون مراكز الصدارة في المجالس واجتذبوا الناس إليهم بما يحكمون من أنباء رحلاتهم العلمية، وما يذكرون من أحوال مشايخهم وأخبار أساتذتهم. ومن مشاهداتهم الاجتماعية، ولطائف الحكم وطرائف النكت التي سمعوها، والوقائع العجيبة التي صادفوها.

 

‌‌4 - تنمية الفضائل والكمالات في النفس:

وقد كان هذا غرضا يرحل إليه الراحلون، يقصدون أهل الفضل للتأسي بأحوالهم وصفاتهم.

قال الامام العالم الحافظ الزاهد أحمد بن فرح الإشبيلي(1) في الامام النووي:

--------------------------------------------

(1) انظر ترجمته في تذكرة الحفاظ للذهبي ص 1486.

একজন আলেম বা সাহিত্যিকের সফর তার জ্ঞান বা সাহিত্যের বহিঃপ্রকাশ এবং দিগন্তজুড়ে তার প্রসারের অন্যতম কারণ হতে পারে।

সাহিত্যিক আবু বকর, যিনি ইবনে বাক্কি নামে পরিচিত, তিনি বলেছেন:

আমার রয়েছে এমন উচ্চাকাঙ্ক্ষা যা আমাকে দূরবর্তী দেশগুলোতে নিয়ে যাবে … যা হয় ইরাক অথবা শাম থেকে দূরে অবস্থিত।

যাতে আরোহীরা আমার কবিতা বহন করে নিয়ে যায় … তালহ উপত্যকায় কিংবা খুজামা উপত্যকায়।

যাতে বিশুদ্ধভাষীরা জানতে পারে যে আমি … এমন এক বাগ্মী যে কবুতরকে অন্ত্যমিল (سجع) শিক্ষা দিয়েছে।

আমি প্রতিটি জনপদে সেগুলোকে উদিত করেছি … এমন পূর্ণিমার চাঁদ হিসেবে যা কখনো পূর্ণতা হারায় না।

 

‌‌৩ - সাধারণ সংস্কৃতির বিস্তৃতি:

আর এটি ঘটে মানুষের জন্য নতুন এমন ব্যক্তিদের সাথে অধিক মেলামেশার কারণে এবং তাদের নিকট বিদ্যমান অভ্যাস, সংস্কৃতি, প্রজ্ঞা, প্রবাদ ও বিরল তথ্যাদির মাধ্যমে। ফলে মানুষ এগুলোর দ্বারা প্রভাবিত হয় এবং তার মনে এর ছাপ পড়ে, এমনকি প্রতিটি সফর ও সাক্ষাৎ থেকে তার কোনো একটি ফায়দা অর্জিত হয় অথবা সে কোনো হিকমত বা কৌতুক মুখস্থ করে। অথবা তার জীবনে কোনো চমৎকার ঘটনা ঘটে। সে এই সব কিছুই সংরক্ষণ করে এবং এটি তার জন্য এমন এক পাথেয় হয়ে দাঁড়ায় যা নিয়ে কথা বলে সে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। আর মানুষের মাঝে অন্যদের সংবাদ জানার এবং তাদের অপরিচিত অবস্থাগুলো সম্পর্কে অবগত হওয়ার সহজাত আগ্রহ রয়েছে। একারণেই পর্যটকগণ মজলিসগুলোতে উচ্চ আসন লাভ করেন এবং তাদের ইলমি সফরগুলোর সংবাদ বর্ণনার মাধ্যমে তারা মানুষকে নিজেদের প্রতি আকৃষ্ট করেন। এবং তারা তাদের শায়খদের অবস্থা ও শিক্ষকদের সংবাদসমূহ বর্ণনা করেন। এছাড়া তাদের সামাজিক অভিজ্ঞতা, শ্রবণকৃত সূক্ষ্ম হিকমত ও চমৎকার রসিকতা এবং তাদের সম্মুখীন হওয়া আশ্চর্যজনক ঘটনাবলিও তারা উল্লেখ করেন।

 

‌‌৪ - চারিত্রিক গুণাবলি ও আত্মিক পূর্ণতার বিকাশ:

এটি এমন একটি উদ্দেশ্য ছিল যার জন্য সফরকারীগণ সফর করতেন; তারা মর্যাদাবান ব্যক্তিদের অবস্থা ও গুণাবলির অনুসরণ করার উদ্দেশ্যে তাদের নিকট যেতেন।

ইমাম, আলেম, হাফেজ (حافظ), দুনিয়াবিমুখ (زاهد) আহমদ বিন ফারাহ আল-ইশবিলি(১) ইমাম নববী সম্পর্কে বলেছেন:

--------------------------------------------

(১) যাহাবির তাজকিরাতুল হাফফাজ গ্রন্থে তার জীবনী দেখুন, পৃষ্ঠা ১৪৮৬।

(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ফী তলবিল হাদীস - ত আতর (পৃষ্ঠা: ٢٧)
" الامام محيي الدين قد صار إلى ثلاث مراتب، كل مرتبة لو كانت لشخص لشدت إليه الرحال: العلم، والزهد، والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر "(1).

ورحل الإمام الكبير الحافظ يحيى بن يحيى بن بكير التميمي(2) إلى الامام مالك بن أنس للسماع منه، وبعد أن أتم ذلك بقي عند مالك، وقال: " أقمت لأستفيد من شمائله ".

كما أن الانسان في الرحلة تتغير مألوفاته وعاداته، فيكتسب بمواجهة ذلك أخلاقا طيبة تغرسها الرحلة في النفس، مثل خلق الصبر لكثرة ما يلاقيه الراحل من متاعب بدنية وآلام نفسية لفراق الأحبة، ومثل أدب المداراة، فإن البعيد عن وطنه أشد شعورا بالحاجة إلى هذا الأدب ممن يعيش بين قوم يعرفون من حسبه ومكانة بيته ما يجعل صراحته خفيفة على أسماعهم.

وهذا التلقي الفضائل من الأكابر يفتح رحاب الصدر للاختلاف، حيث يعذر كل واحد الآخر في خطته أو في اجتهاداته وآرائه، ولا يتسرع للحط من مخالفه أو الطعن عليه بالابتداع أو الضلال … !!

 

‌‌5 - كسب صداقات جديدة خالصة:

والصداقة الخالصة من ألذ ما يتمتع به الانسان في الدنيا، وقد ذكر الله تعالى من نعيم أهل الجنة أن متعهم بمحبة بعضهم لبعض " ونزعنا ما في صدورهم من غل إخوانا … ".

--------------------------------------------

(1) انظر المرجع السابق ص 1470 - 1486، وانظر دراسة عن النووي في كتابنا " دراسات تطبيقية في الحديث النبوي " ص 376 وما بعد.

(2) انظر ترجمته في تذكرة الحفاظ ص 415.

" ইমাম মুহিউদ্দীন তিনটি স্তরে পৌঁছেছিলেন, যার প্রতিটি স্তরই যদি কোনো একজন ব্যক্তির মাঝে বিদ্যমান থাকত তবে কেবল সেটির জন্যই মানুষ তাঁর নিকট সফর করত: ইলম, যুহদ এবং সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ "(1).

মহান ইমাম, হাফিজ (الحافظ) ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া বিন বুকাইর আত-তামিমী(2) ইমাম মালিক বিন আনাসের নিকট তাঁর থেকে হাদিস শ্রবণের (السماع) উদ্দেশ্যে সফর করেছিলেন। আর তা সম্পন্ন করার পর তিনি মালিকের নিকট অবস্থান করেন এবং বলেন: "আমি তাঁর উত্তম চরিত্র ও গুণাবলী থেকে উপকৃত হওয়ার জন্য অবস্থান করেছি।"

তদ্রূপ সফরকালে মানুষের পরিচিত পরিবেশ ও অভ্যাসগুলো পরিবর্তিত হয়, ফলে সে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে গিয়ে উত্তম আখলাক অর্জন করে যা সফরের মাধ্যমে মনে প্রোথিত হয়। যেমন ধৈর্য (الصبر), যেহেতু মুসাফিরকে অনেক শারীরিক ক্লান্তি ও প্রিয়জন বিচ্ছেদের মানসিক যাতনা সহ্য করতে হয়। আর যেমন আচরণের নমনীয়তা; কেননা নিজ দেশ থেকে দূরে থাকা ব্যক্তি এই শিষ্টাচারের প্রয়োজনীয়তা সেই ব্যক্তির চেয়ে বেশি অনুভব করেন, যিনি এমন স্বজাতির মাঝে বসবাস করেন যারা তাঁর বংশমর্যাদা ও পারিবারিক অবস্থান সম্পর্কে জানেন এবং যাদের কাছে তাঁর স্পষ্টবাদিতা শ্রুতিমধুর মনে হয়।

আর বড়দের থেকে এই গুণাবলী অর্জন করার বিষয়টি মতভিন্নতার (الاختلاف) ক্ষেত্রেও মনকে প্রশস্ত করে। ফলে প্রত্যেকেই অন্যের কর্মপন্থা বা ইজতিহাদ ও মতামতের ক্ষেত্রে একে অপরকে ক্ষমার চোখে দেখেন এবং কোনো বিরোধীকে হেয় প্রতিপন্ন করতে কিংবা তাকে বিদআত (الابتداع) বা গোমরাহি (الضلال)-এর অপবাদ দিতে তড়িঘড়ি করেন না … !!

 

‌‌৫ - নতুন ও একনিষ্ঠ বন্ধুত্ব অর্জন:

একনিষ্ঠ বন্ধুত্ব হলো দুনিয়াতে মানুষের উপভোগ্য বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম স্বাদের বস্তু। আল্লাহ তাআলা জান্নাতবাসীদের নেয়ামত হিসেবে একে অপরের প্রতি ভালোবাসার কথা উল্লেখ করেছেন: "আর আমি তাদের অন্তর থেকে বিদ্বেষ দূর করে দেব, তারা হবে ভাই ভাই … "।

--------------------------------------------

(1) দেখুন পূর্বোক্ত সূত্র পৃষ্ঠা ১৪৭০ - ১৪৮৬; আরও দেখুন আমাদের রচিত 'দিরাসাত তাতবিকিয়্যাহ ফিল হাদিস আন-নাবাউয়ি' গ্রন্থে ইমাম নববী সম্পর্কিত আলোচনা, পৃষ্ঠা ৩৭৬ এবং পরবর্তী অংশ।

(2) দেখুন তাঁর জীবনী তাযকিরাতুল হুফফায-এ, পৃষ্ঠা ৪১৫।

(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ফী তলবিল হাদীস - ত আতর (পৃষ্ঠা: ٢٨)
والرحلة وسيلة نافعة في كسب أصدقاء جدد يتعرف عليهم، ويعرف بهم أهل بلده، ويتحدث عن فضائلهم ومحاسنهم في مجالسه، فيؤدي ذلك إلى تعارف الشعوب وتحاببها، وقد كان المسلمون على غاية التحابب، والتعاون حيث كانت البلاد الاسلامية كلها مفتوحة للمسلم، لا تضيق به الدنيا، ولا تعسر عليه المعيشة، ولا ينتهى مدى جناحه على الأرض. وهذه مصادر الأدب فيها الكثير من مراسلات الأصدقاء النثرية وقصائدهم الشعرية(1).

وغير ذلك من فوائد يستزيد من تعدادها المجرب ويذوق حلاوتها لما فيها من تجديد في الشخصية، وفي رؤية الحياة:

إن السفر

كنز العبر

فارحل ترى الآفاق أبهج منظرا

وترى الربيع البكر يرتاد القُرى

وسنا الشباب بنبض روحك قد سرى(2)

وما أحسن قول الشاعر الحكيم أبي تمام:

وطول مقام المرء في الحيِّ مخْلِقٌ … لديباجَتَيْه فاغتربْ تتجددِ

فاني رأيتُ الشمس زيدت محبة … إلى الناس أن ليست عليهم بسرمدِ

--------------------------------------------

(1) انظر رسائل الاصطلاح لفضيلة الأستاذ الأكبر شيخ الجامع الأزهر الأسبق الشيخ محمد الخضر حسين رحمه الله ج 2 ص 190 وما بعد. وانظر مناظرة حول الرحلة في كتاب المحدث الفاصل بين الراوي والواعي للرامهرمزي ص 216 وما بعد.

(2) عن قصيدة " شيخ الغجر" (ص 61) من ديوان " عودة الغائب " للشاعر الأستاذ محمد الحسناوي.

সফর (رحلة) হলো নতুন বন্ধু অর্জনের একটি উপকারী মাধ্যম, যাদের সাথে এর মাধ্যমে পরিচিত হওয়া যায় এবং নিজ দেশের মানুষের কাছে তাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া যায়। তিনি তার মজলিসগুলোতে তাদের গুণাবলি ও শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে আলোচনা করেন, ফলে তা বিভিন্ন জাতির মাঝে পারস্পরিক জানাশোনা ও হৃদ্যতার পথ প্রশস্ত করে। মুসলিমগণ পারস্পরিক ভালোবাসা ও সহযোগিতার চরম শিখরে অধিষ্ঠিত ছিলেন, যেখানে সমস্ত ইসলামি ভূখণ্ড একজন মুসলিমের জন্য উন্মুক্ত ছিল; পৃথিবী তার জন্য সংকীর্ণ ছিল না, জীবনধারণ তার জন্য কঠিন ছিল না এবং যমিনে তার বিচরণসীমা কখনো শেষ হতো না। সাহিত্যের উৎসসমূহে বন্ধুদের প্রচুর গদ্য পত্রালাপ এবং তাদের কাব্যিক কবিতা রয়েছে(১)।

এ ছাড়াও আরও অনেক উপকারিতা রয়েছে যা অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা আরও বাড়িয়ে বলতে পারেন এবং এর মিষ্টতা আস্বাদন করতে পারেন, কারণ এতে ব্যক্তিত্ব এবং জীবন দর্শনের পুনর্জাগরণ ঘটে:

নিশ্চয়ই সফর

উপদেশের ভাণ্ডার

সুতরাং দেশভ্রমণ করো, দেখবে দিগন্ত কত মনোরম দৃশ্য ধারণ করে আছে

এবং দেখবে নব্য বসন্ত জনপদগুলোতে বিচরণ করছে

আর তোমার প্রাণের স্পন্দনে যৌবনের আভা সঞ্চারিত হয়েছে(২)

প্রাজ্ঞ কবি আবু তাম্মামের কথা কতই না চমৎকার:

লোকালয়ে মানুষের দীর্ঘ অবস্থান তার চেহারার সজীবতাকে মলিন করে দেয়, সুতরাং দেশান্তর হও, তুমি নতুনত্ব লাভ করবে।

কেননা আমি দেখেছি, সূর্যের প্রতি মানুষের ভালোবাসা বৃদ্ধি পেয়েছে কেবল এই কারণে যে, তা মানুষের কাছে চিরস্থায়ী নয়।

--------------------------------------------

(১) জামে আযহারের সাবেক শাইখুল আযহার উস্তাযুল আকবর শাইখ মুহাম্মদ আল-খিজর হুসাইন (রহিমাহুল্লাহ)-এর ‘রাসাইলুল ইসতিলাহ’ দেখুন, ২য় খণ্ড, ১৯০ পৃষ্ঠা ও পরবর্তী অংশ। এবং রামহুরমুজি-এর ‘আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল বাইনার রাবি ওয়াল ওয়ায়ি’ কিতাবে সফর (رحلة) সংক্রান্ত আলোচনা দেখুন, ২১৬ পৃষ্ঠা ও পরবর্তী অংশ।

(২) উস্তায কবি মুহাম্মদ আল-হাসনাভীর কাব্যগ্রন্থ ‘আওদাতুল গায়েব’-এর ‘শাইখুল গাজার’ (পৃষ্ঠা ৬১) কবিতা থেকে গৃহীত।

(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ফী তলবিল হাদীস - ত আতর (পৃষ্ঠা: ٢٩)
‌‌آداب الرحلة

وهي أصول ينبغي مراعاتها حتى تؤتي الرحلة ثمارها وتتحقق أهدافها أيا كان العلم الذي يرحل فيه الطالب، ونجمل لك أهمها فيما يلي:

1 - أن يقدّم السماع من علماء بلده على الرحلة للآفاق، فهو أيسر وأقل كافة، وأمكن له في التثبت مما يسمع وتدوينه وضبطه ومراجعة ما يشكل منه، ولا يستخفن طالب العلم بأساتذة بلده، شأن بعض الغافلين يرى أحدهم الدرهم في بيت جاره خيرا من الدينار في بيته. فإذا فرغ من التلقي عن علماء بلده عزم على الرحلة وسلك سبيلها(1).

2 - حسن اختيار أماكن الرحلة، بأن تكون عامرة ببعض العلماء أو الفضلاء ممن يفاد منهم. وكان العلماء يعتنون بذلك ويستشيرون فيه، كما ستراه في تقديمنا هذا من استشارة الخطيب شيخه أبا بكر البرقاني في الرحلة، ويأتي في كتاب الرحلة(2) عن أحمد بن حنبل وقال له رجل: عمن ترى أن يُكْتَبَ الحديثُ؟ فقال له: " أخرج إلى أحمد بن يوسف فإنه شيخ الإسلام ".

وعن معمر قال: قال لي أيوب: " إن كنت راحلا إلى أحد فارحل إلى ابن طاوس وإلا فالزم تجارتك "(3).

3 - أن يهتم بكثرة المادة العلمية المتلقاة، وكثرة المسموع مما ليس عنده من الأسانيد والمتون، ويقدم ذلك على الاستكثار من الأساتذة،

--------------------------------------------

(1) كما صرح المحدثون بذلك، انظر علوم الحديث ص 222، وشرح النخبة ص 154 بحاشية لقط الدرر وشرح الشرح ص 266.

(2) برقم 18.

(3) كما في الرحلة أيضا رقم 19.

সফরের আদবসমূহ

এগুলো হলো এমন কিছু মূলনীতি যা মেনে চলা উচিত যাতে ইলম অর্জনের সফর ফলপ্রসূ হয় এবং এর লক্ষ্যসমূহ অর্জিত হয়, ছাত্র যে ইলম অর্জনের জন্যই সফর করুক না কেন। আমরা আপনার জন্য এর গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরছি:

১ - দূর-দূরান্তে সফরের আগে নিজ শহরের আলেমদের নিকট থেকে শ্রবণ (السماع) করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া। এটি সহজতর ও ব্যয়সাশ্রয়ী এবং যা কিছু শোনা হচ্ছে তা যাচাই-বাছাই (التثبت), লিপিবদ্ধকরণ, সংরক্ষণ (ضبط) এবং অস্পষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনার ক্ষেত্রে এটি অধিক সহায়ক। ইলম অন্বেষণকারীর উচিত নয় নিজ শহরের শিক্ষকদের অবজ্ঞা করা, যেমনটা কিছু গাফেল লোক করে থাকে—তাদের কেউ কেউ নিজের ঘরে থাকা দিনারের চেয়ে প্রতিবেশীর ঘরে থাকা দিরহামকে উত্তম মনে করে। যখন সে নিজ শহরের আলেমদের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ সমাপ্ত করবে, তখন সে সফরের সংকল্প করবে এবং এর পথে যাত্রা করবে।(১)

২ - সফরের স্থান নির্বাচনে বিচক্ষণতা অবলম্বন করা, যাতে তা এমন আলেম বা গুণীজনদের দ্বারা সমৃদ্ধ হয় যাদের থেকে উপকৃত হওয়া যায়। উলামায়ে কেরাম এ বিষয়ে গুরুত্ব দিতেন এবং পরামর্শ নিতেন, যেমনটা আপনি আমাদের এই মুখবন্ধে খতিব বাগদাদীর তাঁর শিক্ষক আবু বকর আল-বারকানীর সাথে সফরের বিষয়ে পরামর্শ করার ঘটনায় দেখতে পাবেন। আর ‘আর-রিহলাহ’ গ্রন্থে(২) আহমাদ ইবনে হাম্বল থেকে বর্ণিত হয়েছে, এক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন: "আপনি কার থেকে হাদিস লিপিবদ্ধ করা উচিত বলে মনে করেন?" তিনি তাকে বললেন: "তুমি আহমাদ ইবনে ইউসুফের কাছে যাও, কারণ তিনি শায়খুল ইসলাম।"

আর মা’মার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আইয়ুব আমাকে বলেছেন: "যদি তুমি কারো কাছে সফর করতে চাও তবে ইবনে তাউসের কাছে যাও, অন্যথায় তোমার ব্যবসায় মনোনিবেশ করো।"(৩)

৩ - অর্জিত ইলমি বিষয়বস্তুর আধিক্য এবং সেইসব শ্রবণকৃত (المسموع) বিষয়ের প্রাচুর্যের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া যা তার কাছে নেই—চাই তা সনদসমূহ (الأسانيد) হোক বা মতনসমূহ (المتون)। শিক্ষকের সংখ্যা বৃদ্ধির চেয়ে একেই অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

--------------------------------------------

(১) যেমনটা মুহাদ্দিসগণ (المحدثون) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, দেখুন: উলূমুল হাদিস পৃ. ২২২, এবং লুকতাতুদ দুরার এর টিকাসহ শরহুন নুখবাহ পৃ. ১৫৪ ও শরহুশ শারহ পৃ. ২৬৬।

(২) ক্রমিক নং ১৮।

(৩) এটিও ‘আর-রিহলাহ’ গ্রন্থের ১৯ নং সিরিয়ালে রয়েছে।

(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ফী তলবিল হাদীস - ত আতর (পৃষ্ঠা: ٣٠)
قال الحافظ ابن حجر في شرح النخبة(1): " ثم يرحل فيحصل في الرحلة ما ليس عنده، ويكون اعتناؤه بتكثير المسموع أولى من اعتنائه بتكثير الشيوخ ".

وفي شرح الشرح(2): " ويكون اعتناؤه أي وينبغي أن يكون اهتمام الطالب بتكثير المسموع أي في الحديث أكثر من اعتنائه بتكثير الشيوخ، أي والأسانيد، لأن المقصود الأصلي أولى هو الدراية لا مجرد الرواية، نعم قد يحتاج إلى تكثير الرواية لتصحيح الدراية ".

4 - أن يعتني بالمذاكرة مع المحققين لتمكين التعمق في العلم، وذلك بأن يحضر ما توصل إليه من آراه أو علاج لمشكلات العلم، فيلقيه على أهل التحقيق والدقة، ويعرض عليهم ما وقع له من استشكال، فيكسب بذلك آراءا جديدة تزيده تمكنا وتعمقا، أو تزيح ما وقع له من إشكال، وهي فائدة هامة يكمل بها العالم ويسمو. وينبغي عدم التساهل في ذلك، وأن يستكثر من الأساتذة الذين يعرض عليهم هذه الأمور إن اقتضى الأمر، كما يستكثر الباحث من الرجوع إلى المصادر المكتوبة في المسائل العويصة حتى يحلها، والمصادر الحية (الأساتذة) أهم من الكتب لعلاج المشاكل فيما لمسناه، لأنها تقدر على تتبع الخواطر ومناقشاتها إلى النهاية.

5 - مراعاة الآداب العامة في السفر: وهي مطلوبة من كل مسافر خصوصا صاحب الرحلة لطلب العلم، أو لتحصيل شئ من خصال

--------------------------------------------

(1) ص 154 نسخة لقط الدرر.

(2) للشيخ علي القاري ص 266، ونحوه في لقط الدرر نفس المكان.

হাফেজ ইবনে হাজার শারহুন নুখবায়(১) বলেন: "অতঃপর তিনি (জ্ঞানের অন্বেষণে) সফর করবেন এবং সফরে এমন কিছু অর্জন করবেন যা তাঁর নিকট নেই। আর শায়খদের (الشيوخ) সংখ্যা বৃদ্ধির চেয়ে শ্রুত বিষয়ের (المسموع) প্রাচুর্য অর্জনে তাঁর যত্নশীল হওয়া অধিক অগ্রগণ্য।"

এবং শারহুশ শারহে(২) বলা হয়েছে: "আর তাঁর মনোযোগ হওয়া—অর্থাৎ ছাত্রের উচিত হাদিসের ক্ষেত্রে শ্রুত বিষয়ের (المسموع) প্রাচুর্য অর্জনে গুরুত্ব প্রদান করা শায়খদের (الشيوخ) অর্থাৎ সনদসমূহের (الأسانيد) আধিক্যের চেয়েও বেশি। কারণ মূল উদ্দেশ্য হলো পারদর্শিতা বা দেরায়েত (الدراية), কেবল বর্ণনা বা রেওয়ায়াত (الرواية) নয়। তবে হ্যাঁ, কখনো কখনো দেরায়েত বা বিষয়ের সঠিক উপলব্ধিকে (الدراية) বিশুদ্ধ (تصحيح) করার জন্য বর্ণনার (الرواية) আধিক্যের প্রয়োজন হতে পারে।"

৪ - ইলমের গভীরতা নিশ্চিত করার জন্য গবেষক বা যাচাইকারীগণের (المحققين) সাথে জ্ঞানতাত্ত্বিক আলোচনার (المذاكرة) প্রতি যত্নশীল হওয়া। এর পদ্ধতি হলো, তিনি তাঁর লব্ধ চিন্তাধারা বা ইলমি সমস্যার সমাধানসমূহ নিয়ে উপস্থিত হবেন এবং তা সূক্ষ্মদর্শী ও বিজ্ঞজনদের নিকট পেশ করবেন। তাঁর মনে যে সব সংশয় বা জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে তা তাঁদের সামনে তুলে ধরবেন। এর ফলে তিনি নতুন নতুন দৃষ্টিভঙ্গি অর্জন করবেন যা তাঁর ইলমি সক্ষমতা ও গভীরতা বৃদ্ধি করবে অথবা তাঁর সংশয় দূর করবে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ফায়দা যার মাধ্যমে একজন আলেম পূর্ণতা লাভ করেন এবং উচ্চাসনে আসীন হন। এই বিষয়ে শিথিলতা প্রদর্শন করা অনুচিত। প্রয়োজনবোধে এমন শিক্ষকদের সংখ্যা বৃদ্ধি করবেন যাদের কাছে তিনি এসব বিষয় উপস্থাপন করবেন, ঠিক যেমন একজন গবেষক জটিল সমস্যা সমাধানের জন্য কিতাব বা লিখিত উৎসের (المصادر) শরণাপন্ন হন। আমাদের অভিজ্ঞতায় সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে কিতাবের চেয়ে জীবন্ত উৎসসমূহ (শিক্ষকগণ) অধিক গুরুত্বপূর্ণ; কারণ তাঁরা মনের গভীরে থাকা সূক্ষ্ম চিন্তাগুলো অনুধাবন করতে এবং শেষ পর্যন্ত তা নিয়ে পর্যালোচনায় সক্ষম।

৫ - সফরের সাধারণ আদব বা শিষ্টাচারসমূহ বজায় রাখা: এটি প্রত্যেক মুসাফিরের জন্যই কাম্য, বিশেষ করে ইলম অন্বেষণে বা কোনো মহৎ গুণ অর্জনের জন্য সফরকারীর (الرحلة) ক্ষেত্রে।

--------------------------------------------

(১) পৃষ্ঠা ১৫৪, লাকতুদ দুরার সংস্করণ।

(২) শায়খ আলী আল-কারীর রচিত, পৃষ্ঠা ২৬৬; লাকতুদ দুরারের একই স্থানে অনুরূপ কথা বর্ণিত হয়েছে।

(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ফী তলবিল হাদীস - ত আতর (পৃষ্ঠা: ٣١)
الخير، فهو أحرى بمراعاتها وأجدر. ومن أهمها المداومة على الطاعات والعبادات وذكر الله تعالى، والسخاء بالمال، ثم تحمل متاعب السفر والطريق والصبر على الرفاق، وغير ذلك من آداب وسنن لا نطل بذكرها هنا(1) لكنا نذكر بتأكيدها لما لها من أثر كبير في النفس يهذبها ويكسبها فضائل تسمو بها، حتى كان كثير من الأكابر يرحلون لمجاهدة أنفسهم على تلك الخصال.

 

‌‌تاريخ الرحلة في طلب الحديث

سلك المسلمون سنن الرحلة في طلب العلم والحديث من وقت مبكر جدا، بدأ منذ بمصر النبوة، وكتاب الرحلة هذا وثيقة هامة تثبت ذلك بما أخرج فيه الخطيب البغدادي من الأحاديث الصحيحة في ذلك ثم بما خرجناه في المستدرك عليه. الأمر الذي يدل على الأهمية البالغة للرحلة في طلب العلم، وطلب الحديث خاصة، ويدل على تلك القوة الدينية الإيمانية العظيمة التي دفعت المسلم إلى أن يزعج نفسه ويجشمها أعظم المشقات في سبيل الحديث ابتغاء رضوان الله تعالى.

لكن بعض المستشرقين مثل (جولد تسهير) وتابعه (ليون بورشيه) يؤرخ الرحلة تأريخا مختلفا تماما عما أثبتته الوثائق والدلائل العلمية.

يقول بورشيه في تلخيص لكلام جولد تسهير(2).

--------------------------------------------

(1) ذكرنا مهمات منها في كتابنا " الحج والعمرة في الفقه الاسلامي "، في موضوع " مستحبات السفر وأدعيته " من فصل " كيفية الحج والعمرة … " ص 187 - 191.

(2) في كتاب " دراسات في السنة الاسلامية " تاريخ العصر الأموي الفقرة رقم 3.

কল্যাণ, তাই এটি (আদবসমূহ) রক্ষা করা তার জন্য অধিকতর সমীচীন ও যোগ্য। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আনুগত্য, ইবাদত ও মহান আল্লাহর জিকিরে অটল থাকা, অর্থ-সম্পদ ব্যয়ে উদারতা প্রদর্শন করা, এরপর সফরের কষ্ট ও পথের ক্লান্তি সহ্য করা এবং সঙ্গীদের প্রতি ধৈর্যশীল হওয়া। এছাড়াও আরও অনেক আদব ও সুন্নত রয়েছে যা এখানে দীর্ঘ করার অবকাশ নেই(১)। তবে আমরা এগুলো দৃঢ়ভাবে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি কারণ অন্তরের ওপর এগুলোর ব্যাপক প্রভাব রয়েছে, যা আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে এবং এমন সব ফযিলত অর্জন করায় যার মাধ্যমে মানুষ উচ্চ মর্যাদায় আসীন হয়। এমনকি অনেক বড় বড় মনীষী এই গুণাবলি অর্জনের মাধ্যমে নিজ নফসের সাথে মুজাহাদা করার জন্য সফর করতেন।

 

‌‌হাদিস অন্বেষণে সফরের ইতিহাস

মুসলিমগণ অত্যন্ত সূচনালগ্ন থেকেই ইলম ও হাদিস অন্বেষণে সফরের রীতি অনুসরণ করে আসছেন, যা নবুওয়াতের যুগ থেকেই শুরু হয়েছে। আল-খতিব আল-বাগদাদি এতে যেসব সহিহ (صحيح) হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং পরবর্তীতে আমরা এর ওপর মুস্তাদরাক-এ যা সংযোজন করেছি, তার মাধ্যমে এই সফরের গ্রন্থটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে এটি প্রমাণ করে। এই বিষয়টি ইলম অন্বেষণে এবং বিশেষ করে হাদিস অন্বেষণে সফরের অপরিসীম গুরুত্ব নির্দেশ করে। সেই সাথে এটি সেই মহান ধর্মীয় ও ইমানি শক্তিরও প্রমাণ দেয়, যা একজন মুসলিমকে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় হাদিসের খাতিরে নিজেকে সঁপে দিতে এবং চরম কষ্ট ও কাঠিন্য বরণ করে নিতে উদ্বুদ্ধ করেছে।

কিন্তু গোল্ডজিহার এবং তার অনুসারী লিওন বার্চারের মতো কিছু প্রাচ্যবিদ সফরের এই ইতিহাসকে বৈজ্ঞানিক দলিল ও প্রমাণের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছেন।

গোল্ডজিহারের বক্তব্যের সারসংক্ষেপে বার্চার বলেন(২).

--------------------------------------------

(১) আমরা আমাদের "আল-হাজ্জ ওয়াল উমরাহ ফিল ফিকহিল ইসলামি" গ্রন্থের "সফরের মুস্তাহাব ও এর দোয়াগুলো" বিষয়ক "হজ ও ওমরার পদ্ধতি..." পরিচ্ছেদে এর গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো উল্লেখ করেছি, পৃ. ১৮৭ - ১৯১।

(২) "দিরাসাত ফিস সুন্নাতিল ইসলামিয়্যাহ" গ্রন্থে, উমাইয়া যুগের ইতিহাস, অনুচ্ছেদ নম্বর ৩।

(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ফী তলবিল হাদীস - ত আতর (পৃষ্ঠা: ٣٢)
" الطابع الدنيوي الخالص للسيطرة الأموية:

يسمى هذا الطابع " الملك " وقد اعتبره الأتقياء موقفا سيئا، وبما أن الأشخاص الأتقياء كانوا قد عزلوا عن الحياة العامة من قبل القادة فإنهم قد أعطوا كل ما عندهم للدراسة المتعمقة للشريعة الإسلامية، وفتشوا عن سنة النبي في أي مكان يمكن أن توجد فيه، وهذه بداية الرحلات في طلب الحديث " انتهي.

والواقع أن دلائل كثيرة جدا تثبت بطلان هذا الزعم، نذكر منها:

1 - ما أشرنا إليه من رحلة الصحابة إلى النبي صلى الله عليه وسلم، مثل ضمام ابن ثعلبة، فان التحقيق في خبره يدل على أن الاسلام دخل قلبه قبل لقائه للنبي صلى الله عليه وسلم لكنه جاء ليسمع من النبي صلى الله عليه وسلم ما كان بلغه عنه.

2 - ما هو ثابت من رحلات التابعين في عصر صدر الخلافة الراشدة، كما سبق(1) أن ذكرنا من " أن علقمة والأسود كانا يبلغهما الحديث عن عمر رضي الله عنه فلا يقنعها حتى يخرجا إلى عمر فيسمعانه منه " وهو أثر صحيح ظاهر الدلالة على أن الرحلة في طلب الحديث الواحد وجدت قبل عصر الأمويين بزمن بعيد، فكيف بطلب مجموعات من الحديث، وقد احتج بهذا الأثر الإمام المحدث الحافظ الجليل أبو عمرو بن الصلاح على سنية الرحلة وأهميتها في طلب الحديث(2).

--------------------------------------------

(1) في صفحة 21 وانظر آثارا أخرى تأتي في الرحلة برقم 20 و 21

(2) أذكر أنني التقيت في مطلع الربيع 1973 في المجمع العلمي في دمشق بالمستشرق الدكتور " يوسف وان إس " رئيس قسم اللغة العربية بجامعة نوبتجن بألمانيا، وهو من كبار المستشرقين العصريين، وله إشراف على عدد من رسائل الدكتوراه لطلاب عرب!! وأفادني بعض الأصدقاء أنه يعتبر الآن عميد المستشرقين.

وقد قلت للدكتور يوسف وان إس: إنني أرى من اللازم أن لا يقلد المستشرقون الآن ما كتبه أسلافهم عن الإسلام وخصوصا " جولد تسيهر " الذي لحظنا له أثرا كبيرا بين المستشرقين وذلك لأن الدراسات العلمية تثبت وقوعه في أخطاء كثيرة واضحة …

فتساءل عن ذلك؟

قلت له: " أذكر على سبيل المثال بمناسبة هذا اللقاء أن جولد تسيهر أرخ الرحلة في طلب الحديث بوقت متأخر في عصر الأمويين لظروف سياسية … " مع أن ثمة دلائل صحيحة ثابتة تبرهن على خلاف ذلك وتثبت أن الرحلة في طلب الحديث كانت قبل ذلك بكثير ".

وألقيت عليه هذا الاستدلال برحلة علقمة والأسود للسماع من عمر رضي الله عنه، فحملق في الدكتور يوسف، وقال: أهذا صحيح؟!

قلت: نعم، وهو ثابت في كتاب علوم الحديث للإمام ابن الصلاح.

فلم يجب.

وأسجل بهذه المناسبة أمنيتي هذه تأكيدا لما ذكرت به الدكتور وان إس بضرورة تحرر المستشرقين من تقليد سابقيهم إذا أرادوا الحقيقة العلمية. فهل تتحقق هذه الأمنية؟!!.

উমাইয়া কর্তৃত্বের বিশুদ্ধ পার্থিব রূপ:

এই রূপকে "রাজতন্ত্র" বলা হয় এবং ধার্মিক ব্যক্তিগণ একে একটি নেতিবাচক অবস্থান হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন। যেহেতু প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দ ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিদেরকে প্রকাশ্য জীবন থেকে বিচ্যুত করেছিলেন, তাই তাঁরা ইসলামী শরীয়াহর গভীর গবেষণায় তাঁদের সর্বস্ব নিবেদন করেছিলেন এবং যেখানেই সম্ভব নবীর সুন্নাহর অনুসন্ধান করেছিলেন; আর এটাই হলো হাদিস অন্বেষণের সফরের সূচনা। — ইতি।

বাস্তবতা হলো, অসংখ্য প্রমাণাদি এই দাবির অসারতা প্রমাণ করে, যার মধ্যে কয়েকটি আমরা উল্লেখ করছি:

১ - সাহাবীদের পক্ষ থেকে নবী (সা.)-এর নিকট সফরের বিষয়ে আমরা যা উল্লেখ করেছি, যেমন দ্বিমাম ইবনে সা'লাবা। তাঁর সংবাদের (خبر) গবেষণায় দেখা যায় যে, নবী (সা.)-এর সাথে সাক্ষাতের পূর্বেই তাঁর হৃদয়ে ইসলাম প্রবেশ করেছিল, কিন্তু তিনি নবী (সা.)-এর নিকট থেকে সরাসরি শোনার জন্য এসেছিলেন যা তাঁর কাছে ইতিপূর্বে পৌঁছেছিল।

২ - খোলাফায়ে রাশেদীনের প্রারম্ভিক যুগে তাবেয়ীগণের সফরের যে বিষয়টি প্রমাণিত, যেমনটি আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি যে, "আলকামা ও আসওয়াদ এর কাছে ওমর (রা.) থেকে হাদিস পৌঁছাত, কিন্তু তাঁরা সন্তুষ্ট হতেন না যতক্ষণ না তাঁরা ওমর (রা.)-এর নিকট যেতেন এবং তাঁর থেকে তা সরাসরি শুনতেন।" এটি একটি বিশুদ্ধ (صحيح) বর্ণনা (أثر) যা সুস্পষ্ট অর্থবহ (ظاهر الدلالة) যে, একটিমাত্র হাদিস অন্বেষণের জন্য সফরের অস্তিত্ব উমাইয়া যুগের অনেক পূর্বেই ছিল। সুতরাং হাদিস সংগ্রহের জন্য সফরের বিষয়টি আরও কত আগে হতে পারে! এই বর্ণনা (أثر)-এর মাধ্যমে মহান মুহাদ্দিস (محدث) হাফেজ (حافظ) জলীল আবু আমর ইবনে সালাহ হাদিস অন্বেষণে সফরের সুন্নাত হওয়া (سنية) এবং এর গুরুত্বের পক্ষে দলিল পেশ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) ২১ পৃষ্ঠায় এবং ২০ ও ২১ নং ক্রমিকে সফরের বিষয়ে আগত অন্যান্য বর্ণনা (آثار) দেখুন।

(২) আমার মনে পড়ছে যে, ১৯৭৩ সালের বসন্তের শুরুতে দামেস্কের সায়েন্টিফিক একাডেমিতে জার্মানির ট্যুবিঙেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ভাষা বিভাগের প্রধান প্রাচ্যবিদ ড. "জোসেফ ভ্যান এস"-এর সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়েছিল। তিনি বর্তমান যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রাচ্যবিদ এবং অনেক আরব ছাত্রের পিএইচডি গবেষণাপত্র তাঁর তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছে!! আমার কিছু বন্ধু আমাকে জানিয়েছিলেন যে, তাঁকে বর্তমানে প্রাচ্যবিদদের ডিন বিবেচনা করা হয়।

আমি ড. জোসেফ ভ্যান এস-কে বলেছিলাম: "আমি মনে করি বর্তমানে প্রাচ্যবিদদের জন্য এটা আবশ্যক যে, তাঁরা ইসলাম সম্পর্কে তাঁদের পূর্বসূরিদের লেখার অন্ধ অনুসরণ করবেন না, বিশেষ করে 'গোল্ডজিহার', যাঁর বড় ধরণের প্রভাব আমরা প্রাচ্যবিদদের মধ্যে লক্ষ্য করি। কারণ বৈজ্ঞানিক গবেষণাগুলো প্রমাণ করে যে তিনি অনেক স্পষ্ট ভুলের শিকার হয়েছেন..."

তিনি এ বিষয়ে জানতে চাইলেন?

আমি তাঁকে বললাম: "এই সাক্ষাতের প্রেক্ষিতে উদাহরণস্বরূপ আমি উল্লেখ করছি যে, গোল্ডজিহার রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে হাদিস অন্বেষণের সফরের ইতিহাসকে উমাইয়া যুগের শেষ দিকে নিয়ে গেছেন... অথচ সেখানে বিশুদ্ধ (صحيحة) ও সুপ্রতিষ্ঠিত প্রমাণাদি রয়েছে যা এর বিপরীত বিষয়কে প্রমাণ করে এবং নিশ্চিত করে যে হাদিস অন্বেষণের সফর তারও অনেক আগে থেকে শুরু হয়েছিল।"

আমি তাঁর সামনে ওমর (রা.)-এর নিকট থেকে সরাসরি শোনার জন্য আলকামা ও আসওয়াদের সফরের সেই দলিলটি পেশ করলাম। ড. জোসেফ আমার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলেন এবং বললেন: "এটা কি সত্য?!"

আমি বললাম: "হ্যাঁ, এটি ইমাম ইবনে সালাহ-এর উলুমুল হাদিস কিতাবে সুপ্রতিষ্ঠিতভাবে বর্ণিত আছে।"

তিনি আর কোনো উত্তর দিলেন না।

আমি এই সুযোগে ড. ভ্যান এস-কে যা বলেছিলাম তার পুনরুল্লেখ করছি যে, প্রাচ্যবিদরা যদি বৈজ্ঞানিক সত্য জানতে চান তবে তাঁদের পূর্বসূরিদের অন্ধ অনুসরণ থেকে মুক্ত হওয়া অপরিহার্য। আমার এই আকাঙ্ক্ষা কি পূর্ণ হবে?!!.

(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ফী তলবিল হাদীস - ত আতর (পৃষ্ঠা: ٣٣)
3 - ان وقوع الرحلة منذ عهد سابق على الأمويين (على زعم أن الأتقياء عزلوا عن القيادة في عصر الأمويين وهو زعم غير مسلم به) يدل على أنه لا صلة لهذه القضية بانتزاع القيادة من الأتقياء كما زعم، وإنما هو الدافع العلمي الديني لخدمة الاسلام والتورع في استخراج أحكامه ورواية أحاديث النبي صلى الله عليه وسلم.

4 - أن جولد تسيهر ومن تبعه في هذا الزعم الفاسد قد خلط في فهم الانتقاد للحكام الذي يبلغ أحيانا درجة من الشدة، والذي كان أئمة المسلمين
3 - উমাইয়াদের পূর্ববর্তী যুগ থেকেই জ্ঞানতাত্ত্বিক সফরের (الرحلة) সূচনা হওয়া (এই দাবির ভিত্তিতে যে উমাইয়া যুগে মুত্তাকীদের নেতৃত্ব থেকে অপসারিত করা হয়েছিল, যা একটি অগ্রহণযোগ্য দাবি) একথাই প্রমাণ করে যে, এই বিষয়ের সাথে মুত্তাকীদের থেকে নেতৃত্ব ছিনিয়ে নেওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই যেমনটি দাবি করা হয়েছে। বরং এটি ছিল ইসলামের খিদমতে এবং এর বিধানসমূহ আহরণে ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস বর্ণনার (رواية) ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক ও ধর্মীয় প্রেরণা এবং সতর্কতা অবলম্বন করা।

4 - গোল্ডজিহার এবং যারা এই ভ্রান্ত দাবিতে তাকে অনুসরণ করেছে, তারা শাসকদের প্রতি সমালোচনার বিষয়টি বোঝার ক্ষেত্রে বিভ্রান্তিতে পড়েছে, যে সমালোচনা কখনো কখনো অত্যন্ত কঠোর রূপ ধারণ করত এবং যা মুসলিম ইমামগণ...