(খণ্ড: ১)
আজ-জুররিয়্যাতুত ত্বহিরাহ লিদ-দুলাবি
(পৃষ্ঠা: -)
الذرية الطاهرة للدولابي القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: الذرية الطاهرة النبوية
المؤلف: أبو بِشْر محمد بن أحمد بن حماد بن سعيد بن مسلم الأنصاري الدولابي الرازي (ت 310هـ)
المحقق: سعد المبارك الحسن
الناشر: الدار السلفية - الكويت
الطبعة: الأولى، 1407
عدد الصفحات: 121
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আদ-দুররিয়াহ আত-ত্বহিরাহ লিত-তুলাবি বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
গ্রন্থ: পবিত্র নবী-বংশ (আদ-দুররিয়াহ আত-ত্বহিরাহ আন-নাবাবিয়্যাহ)
লেখক: আবু বিশর মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন হাম্মাদ বিন সাঈদ বিন মুসলিম আল-আনসারি আদ-দুলাবি আর-রাজি (মৃত্যু ৩১০ হি.)
সম্পাদক: সা'দ আল-মুবারক আল-হাসান
প্রকাশক: আদ-দার আস-সালাফিয়্যাহ - কুয়েত
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৭
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২১
[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আজ-জুররিয়্যাতুত ত্বহিরাহ লিদ-দুলাবি
(পৃষ্ঠা: -)
الذُّرِّيَّةُ الطَّاهِرَةُ لِلدُّولَابِيِّ
আদ-দুলাবি প্রণীত পবিত্র বংশধর
(খণ্ড: ১)
আজ-জুররিয়্যাতুত ত্বহিরাহ লিদ-দুলাবি
(পৃষ্ঠা: ২৩)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَآلِهِ وَصَحْبِهِ وَسَلَّمَ، رَبِّ يَسِّرْ وَأَعِنْ، أَخْبَرَنَا الْأَمِيرُ الْأَجَلُّ. . . السَّيِّدُ الشَّرِيفُ شِهَابُ الدِّينِ أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُرْتَضَى الْجَمَالِيُّ الْعَلَوِيُّ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى غَيْرَ مَرَّةٍ: فَالْأُولَى: بِقِرَاءَةِ الشَّيْخِ الْحَافِظِ مَعِينِ الدِّينِ أَبِى بَكْرٍ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْغَنِيِّ الْمَعْرُوفِ بِابْنِ نُقْطَةَ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى فِي يَوْمِ السَّبْتِ رَابِعِ شَهْرِ الْمُحَرَّمِ سَنَةَ تِسْعٍ وَعِشْرِينَ وَسِتِّمِائَةٍ، وَنَحْنُ نَسْمَعُ وَذَلِكَ بِالْمَسْجِدِ الْمُسْتَنْصِرِيِّ، غَرْبِيِّ مَدِينَةِ السَّلَامِ بِبَغْدَادَ، بِقَمَرِيَّةٍ عَلَى شَاطِئِ دِجْلَةَ، وَالثَّانِيَةُ: بِقِرَاءَةِ الْحَافِظِ شَرَفِ الدِّينِ أَبِي الْحَسَنِ عَلِيِّ ابْنِ الْحَافِظِ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ الْأَخْضَرِ رَحِمَهُمَا اللَّهُ تَعَالَى، وَذَلِكَ فِي يَوْمِ الْإِثْنَيْنِ، سَابِعَ عَشَرَ رَبِيعٍ الْأَوَّلِ، مِنَ السَّنَةِ الْمَذْكُورَةِ، بِمَسْجِدٍ لِلَّهِ تبارك وتعالى، بِدَرْبِ الْمَطْبَخِ مِنْ شَرْقِيِّ بَغْدَادَ، وَالثَّالِثَةُ: بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ بِمَنْزِلِهِ بِالْجَوْسَقِ بِدُجَيْلٍ مِنْ أَعْمَالِ بَغْدَادَ فِي يَوْمِ الْأَحَدِ، رَابِعَ عَشَرَ رَبِيعٍ الْآخَرَ مِنَ السَّنَةِ الْمَذْكُورَةِ، قِيلَ لَهُ:
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। এবং আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সঙ্গী-সাথীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। হে প্রতিপালক! সহজ করে দিন এবং সাহায্য করুন। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন অতি সম্মানিত আমীর... সাইয়্যিদ শরীফ শিহাবউদ্দীন আবু মুহাম্মদ আল-হাসান বিন আলী বিন আল-মুর্তাদা আল-জামালি আল-আলাওয়ি (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন) একাধিকবার: প্রথমত, হাফিজ শায়খ মুঈনুদ্দীন আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল গনি, যিনি ইবনে নুকতাহ নামে পরিচিত (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন)-এর পাঠের মাধ্যমে, ৬২৯ হিজরি সালের ৪ঠা মুহাররম শনিবার। আমরা তখন শ্রবণ করছিলাম এবং স্থানটি ছিল বাগদাদের মদিনাতুস সালামের পশ্চিমে দজলা নদীর তীরের কামারিয়া সংলগ্ন মাসজিদুল মুসতানসিরি। দ্বিতীয়ত, হাফিজ শরফুদ্দীন আবু হাসান আলী ইবনুল হাফিজ আব্দুল আজিজ বিন আল-আখদার (আল্লাহ তাআলা তাঁদের উভয়ের ওপর রহম করুন)-এর পাঠের মাধ্যমে, উল্লিখিত বছরের ১৭ই রবিউল আউয়াল সোমবার, পূর্ব বাগদাদের দারবুল মাতবাখে অবস্থিত মহান আল্লাহর একটি মসজিদে। তৃতীয়ত, উল্লিখিত বছরের ১৪ই রবিউস সানি রবিবার, বাগদাদের অন্তর্ভুক্ত দুজাইলের জাওসাক নামক স্থানে তাঁর নিজ বাসভবনে আমার পাঠের মাধ্যমে। তাঁকে বলা হলো:
(খণ্ড: ১)
আজ-জুররিয়্যাতুত ত্বহিরাহ লিদ-দুলাবি
(পৃষ্ঠা: ২৩)
مَعْرِفَةُ نَسَبِ خَدِيجَةَ بِنْتِ خُوَيْلِدٍ رضي الله عنها
খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর বংশপরিচয় পরিচিতি
(খণ্ড: ১)
আজ-জুররিয়্যাতুত ত্বহিরাহ লিদ-দুলাবি
(পৃষ্ঠা: ২৩)
أَخْبَرَكُمْ الْإِمَامُ الْعَالِمُ الْحَافِظُ أَبُو الْفَضْلِ مُحَمَّدُ بْنُ نَاصِرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ السَّلَامِيُّ الْبَغْدَادِيُّ رضي الله عنه، بِقِرَاءَةِ وَالِدِي عَلَيْهِ، فِي شَهْرِ رَمَضَانَ، مِنْ سَنَةِ ⦗ص: 24⦘ تِسْعٍ وَأَرْبَعِينَ وَخَمْسِمِائَةٍ، فَأَقَرَّ بِهِ وَقَالَ: نَعَمْ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الْخَطِيبُ أَبُو طَاهِرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي الصَّقْرِ الْأَنْبَارِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ فِي جُمَادَى الْآخِرَةِ، مِنْ سَنَةِ ثَلَاثٍ وَسَبْعِينَ وَأَرْبَعِمِائَةٍ، قِيلَ لَهُ أَخْبَرَكُمْ أَبُو الْبَرَكَاتِ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ الْفَضْلِ بْنِ نَظِيفِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْفَرَّاءُ بِقِرَاءَتِكَ عَلَيْهِ، قُلْتُ لَهُ: أَخْبَرَكُمْ أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بْنُ رَشِيقٍ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنْتَ تَسْمَعُ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بِشْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَمَّادٍ الْأَنْصَارِيُّ الدُّولَابِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي أُسَامَةَ الْحَلَبِيُّ،: حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ أَبِي مَنِيعٍ الرُّصَافِيُّ، حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي زِيَادٍ، قَالَ: هَذَا مَا ذَكَرَهُ لِي مُحَمَّدُ بْنُ مُسْلِمِ بْنِ شِهَابٍ الزُّهْرِيُّ قَالَ: «أَوَّلُ امْرَأَةٍ تَزَوَّجَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَدِيجَةُ بِنْتُ خُوَيْلِدِ بْنِ أَسَدِ بْنِ عَبْدِ الْعُزَّى بْنِ قُصَيٍّ»
ইমাম, আলিম, হাফিজ আবুল ফজল মুহাম্মদ ইবনে নাসির ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী আস-সালামি আল-বাগদাদি (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) আমার পিতার তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে তোমাদের সংবাদ দিয়েছেন, পাঁচশত উনপঞ্চাশ হিজরি সালের রমজান মাসে ⦗পৃষ্ঠা: ২৪⦘। অতঃপর তিনি তা স্বীকার করেছেন এবং বলেছেন: হ্যাঁ। তিনি বলেন: খতিব আবু তাহির মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবুস সাকর আল-আনবারি চারশত তিয়াত্তর হিজরি সালের জুমাদাল আখিরা মাসে তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তাঁকে বলা হলো, আবু আল-বারাকাত আহমদ ইবনে আবদুল ওয়াহিদ ইবনে আল-ফজল ইবনে নাজিফ ইবনে আবদুল্লাহ আল-ফাররা আপনার তাঁর কাছে পাঠ করার মাধ্যমে কি আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন? আমি তাঁকে বললাম: আবু মুহাম্মদ আল-হাসান ইবনে রাশিক তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে এবং আপনার শ্রবণের মাধ্যমে কি আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন? তিনি বললেন: আবু বিশর মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে হাম্মাদ আল-আনসারি আদ-দুলাবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আবু উসামা আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবু উসামা আল-হালাবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: হাজ্জাজ ইবনে আবু মানি’ আর-রুসাফি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: উবায়দুল্লাহ ইবনে আবু জিয়াদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম ইবনে শিহাব আজ-জুহরি আমার কাছে যা উল্লেখ করেছেন তা হলো, তিনি বলেছেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বপ্রথম যে নারীকে বিবাহ করেছিলেন তিনি হলেন খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ ইবনে আসাদ ইবনে আবদিল উযযা ইবনে কুসাই।»
(খণ্ড: ১)
আজ-জুররিয়্যাতুত ত্বহিরাহ লিদ-দুলাবি
(পৃষ্ঠা: ২৪)
2 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ بُكَيْرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، قَالَ: «هِيَ خَدِيجَةُ بِنْتُ خُوَيْلِدِ بْنِ أَسَدِ بْنِ عَبْدِ الْعُزَّى بْنِ قُصَيِّ بْنِ كِلَابِ بْنِ مُرَّةَ بْنِ كَعْبِ بْنِ لُؤَيِّ بْنِ غَالِبِ بْنِ فِهْرِ بْنِ مَالِكِ بْنِ النَّضْرِ بْنِ كِنَانَةَ وَأُمُّهَا فَاطِمَةُ بِنْتُ زَيْدِ بْنِ الْأَصَمِّ بْنِ رَوَاحَةَ بْنِ حُجْرِ بْنِ عَبْدِ بْنِ مَعِيصِ بْنِ عَامِرِ بْنِ لُؤَيٍّ وَأُمُّهَا هَالَةُ بِنْتُ عَبْدِ مَنَافِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ عَبْدِ بْنِ مُنْقِذِ بْنِ عَمْرِو بْنِ مَعِيصِ بْنِ عَامِرِ بْنِ لُؤَيٍّ وَأُمُّهَا قِلَابَةُ بِنْتُ سَعِيدِ بْنِ سَعْدِ بْنِ سَهْمِ بْنِ عَمْرِو بْنِ هُصَيْصِ بْنِ كَعْبِ بْنِ لُؤَيٍّ وَأُمُّهَا عَاتِكَةُ بِنْتُ عَبْدِ الْعُزَّى بْنِ قُصَيٍّ وَأُمُّهَا رَيْطَةُ بِنْتُ كَعْبِ بْنِ سَعْدِ بْنِ ⦗ص: 25⦘ تَيْمِ بْنِ مُرَّةَ بْنِ كَعْبِ بْنِ لُؤَيٍّ وَأُمُّهَا قَيْلَةُ بِنْتُ حُذَافَةَ بْنِ جُمَحِ بْنِ عَمْرِو بْنِ هُصَيْصِ بْنِ كَعْبِ بْنِ لُؤَيٍّ وَأُمُّهَا أُمَيْمَةُ بِنْتُ عَامِرِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ فِهْرٍ»
২ - আমাদের নিকট আহমদ ইবনে আব্দুল জব্বার বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইউনুস ইবনে বুকায়র বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি বলেন: «তিনি হলেন খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ ইবনে আসাদ ইবনে আব্দুল উযযা ইবনে কুসাই ইবনে কিলাব ইবনে মুররাহ ইবনে কাব ইবনে লুয়াই ইবনে গালিব ইবনে ফিহর ইবনে মালিক ইবনে নাদর ইবনে কিনানা। তাঁর মাতা হলেন ফাতিমা বিনতে যায়েদ ইবনুল আসাম্ম ইবনে রাওয়াহা ইবনে হুজর ইবনে আবদ ইবনে মায়িস ইবনে আমির ইবনে লুয়াই। তাঁর মাতা হলেন হালা বিনতে আবদ মানাফ ইবনুল হারিস ইবনে আবদ ইবনে মুনকিয ইবনে আমর ইবনে মায়িস ইবনে আমির ইবনে লুয়াই। তাঁর মাতা হলেন কিলাবাহ বিনতে সাঈদ ইবনে সাদ ইবনে সাহম ইবনে আমর ইবনে হুসাইস ইবনে কাব ইবনে লুয়াই। তাঁর মাতা হলেন আতিকা বিনতে আব্দুল উযযা ইবনে কুসাই। তাঁর মাতা হলেন রায়তাহ বিনতে কাব ইবনে সাদ ইবনে ⦗পৃষ্ঠা: ২৫⦘ তাইম ইবনে মুররাহ ইবনে কাব ইবনে লুয়াই। তাঁর মাতা হলেন কায়লাহ বিনতে হুযাফাহ ইবনে জুমাহ ইবনে আমর ইবনে হুসাইস ইবনে কাব ইবনে লুয়াই। তাঁর মাতা হলেন উমাইমাহ বিনতে আমির ইবনুল হারিস ইবনে ফিহর।»
(খণ্ড: ১)
আজ-জুররিয়্যাতুত ত্বহিরাহ লিদ-দুলাবি
(পৃষ্ঠা: ২৫)
تَزْوِيجُ خَدِيجَةَ بِتَزْوِيجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْهَا
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে খাদিজার বিবাহ
(খণ্ড: ১)
আজ-জুররিয়্যাতুত ত্বহিরাহ লিদ-দুলাবি
(পৃষ্ঠা: ২৫)
3 - حَدَّثَنِي أَبُو أُسَامَةَ الْحَلَبِيُّ، حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ أَبِي مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا جَدِّي، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: تَزَوَّجَتْ خَدِيجَةُ بِنْتُ خُوَيْلِدِ بْنِ أَسَدٍ قَبْلَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَجُلَيْنِ الْأَوَّلُ مِنْهُمَا: عَتِيقُ بْنُ عَايِذِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرِ بْنِ مَخْزُومٍ فَوَلَدَتْ لَهُ جَارِيَةً وَهِيَ أُمُّ مُحَمَّدِ بْنِ صَيْفِيٍّ الْمَخْزُومِيِّ ثُمَّ خَلَفَ عَلَى خَدِيجَةَ بَعْدَ عَتِيقِ بْنِ عَايِذٍ أَبُو هَالَةَ التَّمِيمِيُّ وَهُوَ مِنْ بَنِي أُسَيْدِ بْنِ عُمَرَ فَوَلَدَتْ لَهُ هِنْدَ بْنَ هِنْدٍ "
৩ - আবু উসামা আল-হালাবি আমাকে বর্ণনা করেছেন, হাজ্জাজ ইবনে আবি মানি‘ আমাদের বর্ণনা করেছেন, আমার দাদা আমাদের বর্ণনা করেছেন, যুহরি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: খাদিজা বিনতু খুওয়াইলিদ ইবনে আসাদ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পূর্বে দুইজন ব্যক্তিকে বিবাহ করেছিলেন। তাদের মধ্যে প্রথমজন হলেন আতিক ইবনে আয়িদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনে মাখজুম। খাদিজা তাঁর ঔরসে একটি কন্যা সন্তান জন্ম দিয়েছিলেন, যিনি মুহাম্মদ ইবনে সাইফি আল-মাখজুমির মাতা। অতঃপর আতিক ইবনে আয়িদের পরে আবু হালা আত-তামিমি খাদিজাকে বিবাহ করেন, তিনি বনু উসাইদ ইবনে উমর গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। খাদিজা তাঁর ঔরসে হিন্দ ইবনে হিন্দকে জন্ম দিয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আজ-জুররিয়্যাতুত ত্বহিরাহ লিদ-দুলাবি
(পৃষ্ঠা: ২৫)
4 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ بُكَيْرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، قَالَ: «تَزَوَّجَتْ خَدِيجَةُ قَبْلَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهِيَ بِكْرٌ عَتِيقَ بْنَ عَابِدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ بْنِ مَخْزُومٍ فَوَلَدَتْ لَهُ امْرَأَةً ثُمَّ هَلَكَ عَنْهَا، فَتَزَوَّجَهَا بَعْدَهُ أَبُو هَالَةَ النَّبَّاشُ بْنُ زُرَارَةَ أَحَدُ بَنِي عَمْرِو بْنِ تَمِيمٍ حَلِيفُ بَنِي عَبْدِ الدَّارِ فَوَلَدَتْ لَهُ رَجُلًا وَامْرَأَةً ثُمَّ هَلَكَ عَنْهَا فَتَزَوَّجَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم»
৪ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে আবদিল জব্বার, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইউনুস ইবনে বুকাইর, মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «খাদিজা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিবাহের পূর্বে কুমারী থাকাকালীন আতিক ইবনে আবিদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনে মাখজুমকে বিবাহ করেছিলেন। তিনি তাঁর গর্ভে একটি কন্যা সন্তান প্রসব করেন। অতঃপর স্বামী মৃত্যুবরণ করেন। এরপর তাঁকে বনু আমর ইবনে তামিমে গোত্রের সদস্য ও বনু আবদুদ দারের মিত্র আবু হালা আন-নাব্বাশ ইবনে যুরারা বিবাহ করেন। তিনি তাঁর গর্ভে একটি পুত্র ও একটি কন্যা সন্তান প্রসব করেন। অতঃপর তিনিও মৃত্যুবরণ করেন। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বিবাহ করেন।»
(খণ্ড: ১)
আজ-জুররিয়্যাতুত ত্বহিরাহ লিদ-দুলাবি
(পৃষ্ঠা: ২৬)
5 - حَدَّثَنَا أَبُو الْأَشْعَثِ أَحْمَدُ بْنُ الْمِقْدَامِ الْعِجْلِيُّ حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ الْعَلَاءِ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ بْنِ دِعَامَةَ، قَالَ: " كَانَتْ خَدِيجَةُ قَبْلَ أَنْ يَتَزَوَّجَ بِهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عِنْدَ عَتِيقِ بْنِ عَايِذِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ بْنِ مَخْزُومٍ ثُمَّ خَلَفَ عَلَيْهَا بَعْدَ عَتِيقٍ أَبُو هَالَةَ هِنْدُ بْنُ زُرَارَةَ بْنِ نَبَّاشِ بْنِ عَدِيِّ بْنِ حَبِيبِ بْنِ حَبِيبِ بْنِ صُرَدِ بْنِ سَلَامَةَ بْنِ جَرْوَةَ بْنِ أُسَيْدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ تَمِيمٍ فَوَلَدَتْ لَهُ هِنْدَ بْنَ هِنْدٍ
6 - قَالَ زُهَيْرٌ: قَالَ يُونُسُ بْنُ عُبَيْدٍ: فَمَرَّ بِالْحِيرَةِ مُجْتَازًا فَهَلَكَ بِهَا فَلَمْ يَقُمْ سُوقٌ وَلَا كَلَاءٌ يَوْمَئِذٍ، اسْمُ سُوقٍ مِنْ أَسْوَاقِهِمْ "
৫ - আবু আল-আশআছ আহমাদ ইবনুল মিকদাম আল-ইজলী আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, যুহাইর ইবনুল আলা আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, সাঈদ ইবনু আবি আরুবাহ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, কাতাদাহ ইবনু দিআমাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদীজাকে বিবাহ করার পূর্বে তিনি আতীক ইবনু আইজ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু উমার ইবনু মাখযূমের বিবাহবন্ধনে ছিলেন। অতঃপর আতীকের পরে আবু হালা হিন্দ ইবনু যুরারাহ ইবনু নাব্বাশ ইবনু আদী ইবনু হাবীব ইবনু হাবীব ইবনু সুরাদ ইবনু সালামাহ ইবনু জারওয়াহ ইবনু উসাইদ ইবনু আমর ইবনু তামীম তাঁকে বিবাহ করেন। অতঃপর খাদীজা তাঁর গর্ভে হিন্দ ইবনু হিন্দের জন্ম দেন।"
৬ - যুহাইর বলেন: ইউনুস ইবনু উবাইদ বলেছেন: "অতঃপর তিনি হীরা অতিক্রম করার সময় পথিমধ্যে সেখানে মৃত্যুবরণ করেন। সেদিন কোনো বাজার কিংবা 'কালা' বসেনি; এটি তাদের বাজারসমূহের মধ্যে একটি বাজারের নাম।"
(খণ্ড: ১)
আজ-জুররিয়্যাতুত ত্বহিরাহ লিদ-দুলাবি
(পৃষ্ঠা: ২৬)
7 - حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ يَعْقُوبَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَنَّ اللَّيْثَ بْنَ سَعْدٍ، حَدَّثَهُ قَالَ: حَدَّثَنِي عَقِيلُ بْنُ خَالِدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ: " كَانَتْ خَدِيجَةُ قَبْلَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم تَحْتَ أَبِي هَالَةَ أَخِي بَنِي تَمِيمٍ وَكَانَتْ بَعْدَ أَبِي هَالَةَ عِنْدَ عَتِيقِ بْنِ عَابِدٍ الْمَخْزُومِيِّ ثُمَّ تَزَوَّجَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعْدَهُمَا
৭ - ইবরাহীম বিন ইয়াকূব আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ বিন ইউসুফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, লাইস বিন সা'দ তাঁকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আকীল বিন খালিদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে শিহাব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পূর্বে খাদিজা বনু তামীম গোত্রের ভাই আবু হালার স্ত্রী ছিলেন এবং আবু হালার পরে তিনি আতীক বিন আবিদ আল-মাখযুমীর নিকট ছিলেন। অতঃপর তাঁদের উভয়ের পরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে বিবাহ করেন।"
(খণ্ড: ১)
আজ-জুররিয়্যাতুত ত্বহিরাহ লিদ-দুলাবি
(পৃষ্ঠা: ২৬)
اسْتِئْجَارُ خَدِيجَةَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لِيَخْرُجَ لَهَا فِي تِجَارَةٍ
খাদিজা কর্তৃক তাঁর ব্যবসার উদ্দেশ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিয়োগ প্রদান
(খণ্ড: ১)
আজ-জুররিয়্যাতুত ত্বহিরাহ লিদ-দুলাবি
(পৃষ্ঠা: ২৬)
8 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ بُكَيْرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، قَالَ: " كَانَتْ خَدِيجَةُ بِنْتُ خُوَيْلِدٍ امْرَأَةً تَاجِرَةً ذَاتَ شَرَفٍ وَمَالٍ تَسْتَأْجِرُ الرِّجَالَ فِي مَالِهَا وَتُضَارِبُهُمْ إِيَّاهُ بِشَيْءٍ تَجْعَلُهُ لَهُمْ مِنْهُ وَكَانَتْ قُرَيْشٌ قَوْمًا تُجَّارًا فَلَمَّا بَلَغَهَا عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ⦗ص: 27⦘ مِنْ صِدْقِ حَدِيثِهِ وَعَظِيمِ أَمَانَتِهِ وَكَرَمِ أَخْلَاقِهِ بَعَثَتْ إِلَيْهِ فَعَرَضَتْ عَلَيْهِ أَنْ يَخْرُجَ فِي مَالِهَا تَاجِرًا إِلَى الشَّامِ وَتُعْطِيهِ أَفْضَلَ مَا كَانَتْ تُعْطِي غَيْرَهُ مِنَ التُّجَّارِ مَعَ غُلَامٍ لَهَا يُقَالُ لَهُ: مَيْسَرَةُ فَقَبِلَهُ مِنْهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَخَرَجَ فِي مَالِهَا ذَلِكَ وَمَعَهُ غُلَامُهَا مَيْسَرَةُ حَتَّى قَدِمَ الشَّامَ فَنَزَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي ظِلِّ شَجَرَةٍ قَرِيبٍ مِنْ صَوْمَعَةِ رَاهِبٍ مِنَ الرُّهْبَانِ فَاطَّلَعَ الرَّاهِبُ إِلَى مَيْسَرَةَ فَقَالَ: مَنْ هَذَا الرَّجُلُ الَّذِي نَزَلَ تَحْتَ هَذِهِ الشَّجَرَةِ؟ فَقَالَ لَهُ مَيْسَرَةُ: هَذَا رَجُلٌ مِنْ قُرَيْشٍ مِنْ أَهْلِ الْحَرَمِ فَقَالَ لَهُ الرَّاهِبُ: مَا نَزَلَ تَحْتَ هَذِهِ الشَّجَرَةِ قَطُّ إِلَّا نَبِيُّ ثُمَّ بَاعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سِلْعَتَهُ الَّتِي خَرَجَ فِيهَا وَاشْتَرَى مَا أَرَادَ أَنْ يَشْتَرِيَ ثُمَّ أَقْبَلَ قَافِلًا إِلَى مَكَّةَ وَمَعَهُ مَيْسَرَةُ وَكَانَ مَيْسَرَةُ فِيمَا يَزْعُمُونَ قَالَ: إِذَا كَانَتِ الْهَاجِرَةُ وَاشْتَدَّ الْحَرُّ نَزَلَ مَلَكَانِ يُظِلَّانِهِ مِنَ الشَّمْسِ وَهُوَ يَسِيرُ عَلَى بَعِيرِهِ فَلَمَّا قَدِمَ مَكَّةَ عَلَى خَدِيجَةَ بِمَالِهَا بَاعَتْ مَا جَاءَ بِهِ فَأَضْعَفَ أَوْ قَرِيبًا وَحَدَّثَهَا مَيْسَرَةُ عَنْ قَوْلِ الرَّاهِبِ وَعَنْ مَا كَانَ يَرَى مِنْ إِظْلَالِ الْمَلَكَيْنِ إِيَّاهُ، بَعَثَتْ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ لَهُ: فِيمَا يَزْعُمُونَ يَا ابْنَ عَمِّ أَنِّي قَدْ رَغِبْتُ فِيكَ لِقَرَابَتِكَ مِنِّي وَشَرَفِكَ فِي قَوْمِكَ وَسِطَتِكَ فِيهِمْ وَأَمَانَتِكَ عِنْدَهُمْ وَحُسْنِ خُلُقِكَ وَصِدْقِ حَدِيثِكَ ثُمَّ عَرَضَتْ عَلَيْهِ نَفْسَهَا وَكَانَتْ خَدِيجَةُ امْرَأَةً حَازِمَةً لَبِيبَةً شَرِيفَةً وَهِيَ يَوْمَئِذٍ أَوْسَطُ قُرَيْشٍ نَسَبًا وَأَعْظَمُهُمْ شَرَفًا وَأَكْثَرُهُمْ مَالًا كُلُّ قَوْمِهَا قَدْ كَانَ حَرِيصًا عَلَى ذَلِكَ مِنْهَا لَوْ يَقْدِرُ عَلَى ذَلِكَ فَلَمَّا قَالَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا قَالَتْ ذَكَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَلِكَ لِأَعْمَامِهِ فَخَرَجَ مَعَهُ مِنْهُمْ حَمْزَةُ بْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ حَتَّى دَخَلَ عَلَى خُوَيْلِدِ بْنِ أَسَدٍ فَخَطَبَهَا إِلَيْهِ فَتَزَوَّجَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم "
৮ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে আব্দুল জাব্বার, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইউনুস ইবনে বুকাইর, মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "খাদিজা বিনতু খুওয়াইলিদ ছিলেন একজন ব্যবসায়ী নারী, অত্যন্ত মর্যাদা ও সম্পদের অধিকারিণী। তিনি পুরুষদের পারিশ্রমিকের বিনিময়ে তার ব্যবসার কাজে নিযুক্ত করতেন এবং অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে লভ্যাংশের একটি অংশ তাদের প্রদান করতেন। কুরাইশরা ছিল একটি ব্যবসায়ী সম্প্রদায়। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ⦗পৃষ্ঠা: ২৭⦘ এর সত্যবাদিতা, সুমহান বিশ্বস্ততা এবং সুউচ্চ চরিত্রের কথা তাঁর কাছে পৌঁছাল, তখন তিনি তাঁর কাছে প্রস্তাব পাঠালেন যে, তিনি যেন তাঁর পণ্য নিয়ে ব্যবসায়ী হিসেবে সিরিয়া যাত্রা করেন। বিনিময়ে তিনি তাঁকে অন্যান্য ব্যবসায়ীদের যা প্রদান করতেন, তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ প্রতিদান দেবেন এবং তাঁর সাথে মাইসারা নামক তাঁর এক গোলামকে পাঠাবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সেই প্রস্তাব গ্রহণ করলেন এবং তাঁর মালপত্র নিয়ে তাঁর গোলাম মাইসারাকে সাথে নিয়ে রওনা হলেন। পরিশেষে তিনি সিরিয়ায় পৌঁছালেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সন্ন্যাসীর উপাসনালয়ের নিকটবর্তী একটি গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নিলেন। তখন সেই সন্ন্যাসী মাইসারার প্রতি দৃষ্টিপাত করলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, 'এই লোকটি কে, যিনি এই গাছের নিচে বিশ্রাম নিচ্ছেন?' মাইসারা তাঁকে বললেন, 'ইনি কুরাইশ বংশের এবং হারাম এলাকার অধিবাসী।' তখন সন্ন্যাসী তাঁকে বললেন, 'এই গাছের নিচে নবী ব্যতীত আর কেউ কখনও অবতরণ করেনি।' অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাথে আনা পণ্যগুলো বিক্রয় করলেন এবং যা ক্রয় করার ইচ্ছা করেছিলেন তা ক্রয় করলেন। এরপর তিনি মাইসারাকে সাথে নিয়ে মক্কার উদ্দেশ্যে ফিরতি কাফেলায় যাত্রা করলেন। মাইসারা বর্ণনা করেন যে—তাদের বর্ণনামতে—যখন দ্বিপ্রহর হতো এবং প্রচণ্ড উত্তাপ দেখা দিত, তখন দুজন ফেরেশতা নেমে আসতেন যারা তাঁকে সূর্যের তাপ থেকে ছায়া দিতেন, যখন তিনি তাঁর উটের ওপর চড়ে পথ চলতেন। অতঃপর তিনি যখন খাদিজার মালপত্র নিয়ে মক্কায় পৌঁছালেন, খাদিজা সেগুলো বিক্রি করলেন এবং এতে দ্বিগুণ বা তার কাছাকাছি মুনাফা অর্জিত হলো। মাইসারা তাঁকে সন্ন্যাসীর কথা এবং দুজন ফেরেশতার ছায়া দেওয়ার বিষয়টি বর্ণনা করলেন। তখন তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে লোক পাঠালেন এবং তাঁকে বললেন—তাদের বর্ণনামতে—হে চাচাতো ভাই, আমি আপনার প্রতি আগ্রহী হয়েছি আপনার সাথে আমার আত্মীয়তার কারণে, আপনার স্বজাতির নিকট আপনার মর্যাদা, আপনার শ্রেষ্ঠত্ব, আপনার বিশ্বস্ততা, উত্তম চরিত্র এবং সত্যবাদিতার কারণে। অতঃপর তিনি নিজেকে তাঁর নিকট বিবাহের জন্য পেশ করলেন। খাদিজা ছিলেন একজন দৃঢ়চেতা, বিদুষী ও মহীয়সী নারী। বংশমর্যাদায় তিনি সে সময় কুরাইশদের মধ্যে ছিলেন শ্রেষ্ঠ, সম্মানে ছিলেন অনন্য এবং সম্পদে ছিলেন সবার ঊর্ধ্বে। তাঁর সম্প্রদায়ের প্রত্যেক ব্যক্তিই তাঁকে লাভ করতে আগ্রহী ছিল, যদি তারা তাতে সক্ষম হতো। তিনি যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ কথা বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চাচাদের কাছে বিষয়টি উল্লেখ করলেন। অতঃপর তাঁদের মধ্য থেকে হামযাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব তাঁর সাথে বের হয়ে খুওয়াইলিদ ইবনে আসাদের কাছে গেলেন এবং তাঁর নিকট বিয়ের প্রস্তাব দিলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বিবাহ করলেন।"
(খণ্ড: ১)
আজ-জুররিয়্যাতুত ত্বহিরাহ লিদ-দুলাবি
(পৃষ্ঠা: ২৮)
9 - حَدَّثَنِي يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ وَهْبٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: " فَلَمَّا اسْتَوَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَبَلَغَ أَشُدَّهُ وَلَيْسَ لَهُ كَثِيرُ مَالٍ اسْتَأْجَرَتْهُ خَدِيجَةُ بِنْتُ خُوَيْلِدٍ إِلَى سُوقٍ حُبَاشَةَ وَهُوَ سُوقٌ بِتِهَامَةَ وَاسْتَأْجَرَتْ مَعَهُ رَجُلًا آخَرَ مِنْ قُرَيْشٍ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يُحَدِّثُ عَنْهَا: «مَا رَأَيْتُ مِنَ صَاحِبَةٍ لِأَجِيرٍ خَيْرًا مِنْ خَدِيجَةَ مَا كُنَّا نَرْجِعُ أَنَا وَصَاحِبِي إِلَّا وَجَدْنَا عِنْدَهَا تُحْفَةً مِنْ طَعَامٍ تُخَبِّؤُهُ لَنَا»
৯ - ইউনুস বিন আব্দুল আ'লা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন ওয়াহাব থেকে, তিনি বলেন: ইউনুস বিন ইয়াজিদ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন ইবনে শিহাব আল-জুহরি থেকে, তিনি বলেন: "অতঃপর যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পূর্ণতা লাভ করে উঠলেন এবং তাঁর পূর্ণ যৌবনে উপনীত হলেন, অথচ তাঁর নিকট অধিক ধন-সম্পদ ছিল না, তখন খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ তাঁকে হুবাশাহ বাজারের উদ্দেশ্যে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে নিযুক্ত করলেন, যা তিহামার একটি বাজার। আর তিনি তাঁর সাথে কুরাইশ বংশের অন্য এক ব্যক্তিকেও নিযুক্ত করেছিলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর (খাদিজার) সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলতেন: 'আমি কোনো শ্রমিকের নিয়োগকর্তা হিসেবে খাদিজার চেয়ে উত্তম আর কাউকে দেখিনি। আমি এবং আমার সাথী যখনই ফিরে আসতাম, তখনই আমরা তাঁর নিকট খাবারের কোনো না কোনো উপঢৌকন পেতাম যা তিনি আমাদের জন্য তুলে রাখতেন'।"
(খণ্ড: ১)
আজ-জুররিয়্যাতুত ত্বহিরাহ লিদ-দুলাবি
(পৃষ্ঠা: ২৮)
تَزْوِيجُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَدِيجَةَ رضي الله عنها
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহার বিবাহ
(খণ্ড: ১)
আজ-জুররিয়্যাতুত ত্বহিরাহ লিদ-দুলাবি
(পৃষ্ঠা: ২৮)
10 - حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى، عَنِ ابْنِ وَهْبٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ شِهَابِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " لَمَّا رَجَعْنَا مِنْ سُوقِ حُبَاشَةَ قُلْتُ لِصَاحِبِي: انْطَلِقْ بِنَا نَتَحَدَّثْ عِنْدَ خَدِيجَةَ "، قَالَ: " فَجِئْنَاهَا فَبَيْنَا نَحْنُ عِنْدَهَا دَخَلَتْ عَلَيْهَا مُسْتَنْسِبَةٌ مِنْ مُوَلِّدَاتِ قُرَيْشٍ قَالَتْ: أَمُحَمَّدٌ هَذَا؟ وَالَّذِي يُحْلَفُ بِهِ إِنْ جَاءَ لَخَاطِبًا قَالَ: قُلْتُ: كَلَّا قَالَ: فَلَمَّا خَرَجْتُ أَنَا وَصَاحِبِي قَالَ لِي: وَلِمَ تَعْتَذِرُ مِنْ خِطْبَةِ خَدِيجَةَ فَوَاللَّهِ مَا مِنْ قُرَشِيَّةٍ إِلَّا تَرَاكَ كُفُؤًا قَالَ: " فَرَجَعْتُ أَنَا وَصَاحِبِي إِلَيْهَا مَرَّةً أُخْرَى قَالَ: فَدَخَلَتْ تِلْكَ الْمُسْتَنْسِبَةُ فَقَالَتْ: أَمُحَمَّدٌ هُوَ وَالَّذِي يُحْلَفُ بِهِ إِنْ جَاءَ لَخَاطِبًا قَالَ: فَقُلْتُ عَلَى حَيَاءٍ: «أَجَلْ» قَالَ: فَلَمْ تُقَصِّرْ خَدِيجَةُ وَلَا أُخْتُهَا، قَالَ: فَانْطَلَقَتَا إِلَى أَبِيهِمَا خُوَيْلِدِ بْنِ أَسَدِ بْنِ عَبْدِ الْعُزَّى وَهُوَ ثَمِلٌ مِنَ الشَّرَابِ فَقَالَتَا
⦗ص: 29⦘: هَذَا ابْنُ أَخِيكَ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ يَخْطُبُ خَدِيجَةَ وَقَدْ رَضِيَتْ خَدِيجَةُ فَدَعَاهُ فَسَأَلَهُ عَنْ ذَلِكَ فَخَطَبَ إِلَيْهِ فَأَنْكَحَهُ، قَالَ: فَخَلَّقَتْ خَدِيجَةُ أَبَاهَا وَحَلَّتْ عَلَيْهِ حُلَّةً وَدَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِهَا، فَلَمَّا صَحَا الشَّيْخُ مِنْ سُكْرِهِ قَالَ: مَا هَذَا الْخَلُوقُ وَهَذِهِ الْحُلَّةُ؟، قَالَتْ لَهُ ابْنَتُهُ أُخْتُ خَدِيجَةَ: هَذِهِ حُلَّةٌ كَسَاكَهَا ابْنُ أَخِيكَ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ وَقَدْ أَنْكَحْتَهُ خَدِيجَةَ وَقَدْ دَخَلَ بِهَا وَبَنَى بِهَا، فَأَنْكَرَ ذَلِكَ الشَّيْخُ ثُمَّ صَارَ إِلَى أَنْ سَلَّمَ وَاسْتَحْيَا فَانْبَعَثَ رَاجِزٌ مِنْ رُجَّازِ قُرَيْشٍ يَقُولُ:
[البحر الرجز]
لَا تَزْهَدِي خَدِيجُ فِي مُحَمَّدٍ
… جِلْدٌ يُضِيءُ كَإِضَاءَةِ الْفَرْقَدِ
فَلَبِثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَعَ خَدِيجَةَ حَتَّى وَلَدَتْ مِنْهُ أَوْلَادَهُ "
১০ - আমাদের নিকট ইউনুস ইবনে আবদিল আলা বর্ণনা করেছেন ইবনুল ওয়াহাব থেকে, তিনি বলেন: আমাকে ইউনুস ইবনে ইয়াজিদ সংবাদ দিয়েছেন ইবনে শিহাব আজ-জুহরি থেকে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যখন আমরা হুবাসা বাজার থেকে ফিরলাম, তখন আমি আমার সঙ্গীকে বললাম: চলো, আমরা খাদিজার নিকট গিয়ে কথাবার্তা বলি।" তিনি বললেন: "অতঃপর আমরা তাঁর কাছে আসলাম। আমরা যখন তাঁর নিকট অবস্থান করছিলাম, তখন কুরাইশদের বংশপরিচয় বর্ণনাকারী মুক্তদাসীদের একজন তাঁর কাছে প্রবেশ করলেন এবং বললেন: ইনিই কি মুহাম্মদ? যাঁর নামে শপথ করা হয়, তিনি যদি আসতেন তবে অবশ্যই বিবাহের প্রস্তাবক হিসেবেই আসতেন। তিনি (মুহাম্মদ) বললেন: আমি বললাম: কক্ষনো নয়। তিনি বললেন: অতঃপর যখন আমি এবং আমার সঙ্গী বের হলাম, তখন তিনি আমাকে বললেন: আপনি খাদিজার প্রস্তাব থেকে কেন ওজর পেশ করছেন? আল্লাহর কসম, কুরাইশদের এমন কোনো নারী নেই যে আপনাকে যোগ্য জীবনসঙ্গী মনে করে না। তিনি বললেন: "অতঃপর আমি এবং আমার সঙ্গী পুনরায় তাঁর কাছে ফিরে গেলাম।" তিনি বললেন: "সেই বংশপরিচয় বর্ণনাকারী মহিলাটি আবার প্রবেশ করলেন এবং বললেন: ইনিই কি মুহাম্মদ? যাঁর নামে শপথ করা হয়, তিনি যদি আসতেন তবে অবশ্যই বিবাহের প্রস্তাবক হিসেবেই আসতেন। তিনি বললেন: অতঃপর আমি লজ্জার সাথে বললাম: 'হ্যাঁ'।" তিনি বললেন: "অতঃপর খাদিজা এবং তাঁর বোন কোনো ত্রুটি করলেন না।" তিনি বললেন: "অতঃপর তাঁরা দুজনে তাঁদের পিতা খুওয়াইলিদ ইবনে আসাদ ইবনে আবদিল উজ্জার কাছে গেলেন, এমতাবস্থায় যে তিনি মদ্যপানে মাতাল ছিলেন। তাঁরা দুজনে বললেন
⦗পৃষ্ঠা: ২৯⦘: ইনি আপনার ভ্রাতুষ্পুত্র মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব, তিনি খাদিজাকে বিবাহের প্রস্তাব দিচ্ছেন এবং খাদিজাও এতে সম্মত হয়েছেন। অতঃপর তিনি তাঁকে ডাকলেন এবং এ বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন। এরপর তিনি তাঁর কাছে বিবাহের প্রস্তাব দিলেন এবং তিনি তাঁর সাথে তাঁর বিয়ে সম্পন্ন করলেন।" তিনি বললেন: "অতঃপর খাদিজা তাঁর পিতাকে সুগন্ধি মাখালেন এবং তাঁকে একটি রাজকীয় পোশাক পরালেন। আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাথে দাম্পত্য জীবন শুরু করলেন। অতঃপর যখন বৃদ্ধ ব্যক্তিটি তাঁর মত্ততা থেকে সচেতন হলেন, তখন তিনি বললেন: এই সুগন্ধি এবং এই পোশাক কিসের? খাদিজার বোন তাঁকে বললেন: এটি একটি পোশাক যা আপনার ভ্রাতুষ্পুত্র মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব আপনাকে পরিয়েছেন এবং আপনি তাঁর সাথে খাদিজার বিয়ে দিয়েছেন এবং তিনি তাঁর সাথে দাম্পত্য জীবন শুরু করেছেন। বৃদ্ধ লোকটি প্রথমে তা অস্বীকার করলেন, অতঃপর তিনি তা মেনে নিলেন এবং লজ্জিত হলেন। তখন কুরাইশদের ছন্দকারদের একজন এই রাজায আবৃত্তি করলেন:
[রাজায ছন্দ]
হে খাদিজা, মুহাম্মদের ব্যাপারে বিমুখ হয়ো না
… তাঁর গাত্রবর্ণ উজ্জ্বল নক্ষত্রের আলোর ন্যায় প্রোজ্জ্বল
অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদিজার সাথে অবস্থান করলেন যতক্ষণ না তাঁর গর্ভে তাঁর সন্তানাদি জন্মগ্রহণ করল।"
(খণ্ড: ১)
আজ-জুররিয়্যাতুত ত্বহিরাহ লিদ-দুলাবি
(পৃষ্ঠা: ২৯)
11 - وَحَدَّثَنِي أَبُو أُسَامَةَ الْحَلَبِيُّ، حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ أَبِي مَنِيعٍ، حَدَّثَنِي جَدِّي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي زِيَادٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: «أَوَّلُ امْرَأَةٍ تَزَوَّجَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَدِيجَةُ بِنْتُ خُوَيْلِدِ بْنِ أَسَدِ بْنِ عَبْدِ الْعُزَّى بْنِ قُصَيٍّ تَزَوَّجَهَا فِي الْجَاهِلِيَّةِ، أَنْكَحَهَا إِيَّاهُ خُوَيْلِدُ بْنُ أَسَدِ بْنِ عَبْدِ الْعُزَّى»
১১ - এবং আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন আবু উসামা আল-হালাবী, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হাজ্জাজ বিন আবি মানি', আমাকে আমার দাদা উবায়দুল্লাহ বিন আবি যিয়াদ যুহরী থেকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বপ্রথম যে নারীকে বিবাহ করেন তিনি হলেন খাদীজাহ বিনতু খুওয়াইলিদ বিন আসাদ বিন আবদিল উযযা বিন কুসাই। তিনি তাঁকে জাহিলিয়্যাত যুগে বিবাহ করেছিলেন; খুওয়াইলিদ বিন আসাদ বিন আবদিল উযযা তাঁর সাথে তাঁর বিবাহ দিয়েছিলেন।»
(খণ্ড: ১)
আজ-জুররিয়্যাতুত ত্বহিরাহ লিদ-দুলাবি
(পৃষ্ঠা: ২৯)
12 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ يَعْقُوبَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَنَّ اللَّيْثَ بْنَ سَعْدٍ، حَدَّثَهُ قَالَ: حَدَّثَنِي عَقِيلُ بْنُ خَالِدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ: «إِنَّ خَدِيجَةَ بِنْتَ خُوَيْلِدٍ أَوَّلُ مُحْصَنَةٍ تَزَوَّجَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْجَاهِلِيَّةِ»
১২ - আমাদের নিকট ইবরাহীম ইবন ইয়াকুব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবন ইউসুফ বর্ণনা করেছেন যে, লাইস ইবন সা'দ তাঁর নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আকীল ইবন খালিদ ইবন শিহাব থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «নিশ্চয়ই খাদীজাহ বিনতু খুয়াইলিদ হলেন প্রথম সতী-সাধ্বী নারী যাঁকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাহিলিয়াতের যুগে বিবাহ করেছিলেন»
(খণ্ড: ১)
আজ-জুররিয়্যাতুত ত্বহিরাহ লিদ-দুলাবি
(পৃষ্ঠা: ২৯)
13 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ يَعْقُوبَ، حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ الْمِنْهَالِ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ عَمَّارِ بْنِ أَبِي عَمَّارٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، فِيمَا يَحْسَبُ حَمَّادٌ " أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَكَرَ لِخَدِيجَةَ فَصَنَعَتْ طَعَامًا وَشَرَابًا فَدَعَتْ أَبَاهَا وَنَفَرًا مِنْ قُرَيْشٍ فَطَعِمُوا وَشَرِبُوا
⦗ص: 30⦘ فَقَالَتْ خَدِيجَةُ لِأَبِيهَا: إِنَّ مُحَمَّدَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ يَخْطُبُنِي فَزَوَّجَهَا إِيَّاهُ فَخَلَّقَتْهُ وَأَلْبَسَتْهُ حُلَّةً وَكَذَلِكَ كَانُوا يَصْنَعُونَ إِذَا زَوَّجُوا نِسَاءَهُمْ
14 - وَبَلَغَنِي أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَزَوَّجَ خَدِيجَةَ عَلَى اثْنَتَيْ عَشْرَةَ أُوقِيَّةَ ذَهَبٍ وَهِيَ يَوْمَئِذٍ ابْنَةُ ثَمَانٍ وَعِشْرِينَ سَنَةً "
১৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম ইবনে ইয়াকুব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাজ্জাজ ইবনুল মিনহাল, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনে সালামাহ, আম্মার ইবনে আবু আম্মার থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন—হাম্মাদ যেমনটি ধারণা করেন—"রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খাদিজার নিকট (বিয়ের প্রস্তাবের কথা) উল্লেখ করলেন। অতঃপর তিনি (খাদিজা) খাদ্য ও পানীয়ের ব্যবস্থা করলেন এবং তাঁর পিতা ও কুরাইশদের একটি দলকে দাওয়াত দিলেন। তাঁরা পানাহার করলেন
⦗পৃষ্ঠা: ৩০⦘ অতঃপর খাদিজা তাঁর পিতাকে বললেন: নিশ্চয়ই মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আমার নিকট বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন। এরপর তিনি তাঁর সাথে তাঁর বিয়ে সম্পন্ন করলেন। অতঃপর তিনি তাঁকে সুগন্ধি মাখিয়ে দিলেন এবং তাঁকে একটি পোশাক পরিয়ে দিলেন। আর তাঁরা যখন তাঁদের নারীদের বিয়ে দিতেন, তখন এভাবেই করতেন।"
১৪ - এবং আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বারো উকিয়া স্বর্ণের মোহরানায় খাদিজাকে বিয়ে করেছিলেন এবং সেদিন তাঁর বয়স ছিল আটাশ বছর।"
(খণ্ড: ১)
আজ-জুররিয়্যাতুত ত্বহিরাহ লিদ-দুলাবি
(পৃষ্ঠা: ৩০)
15 - وَحَدَّثَنِي ابْنُ الْبَرْقِيِّ أَبُو بَكْرٍ، عَنِ ابْنِ هِشَامٍ، عَنْ غَيْرِ وَاحِدٍ، عَنْ أَبِي عَمْرِو بْنِ الْعَلَاءِ، قَالَ: «تَزَوَّجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَدِيجَةَ وَهُوَ ابْنُ خَمْسٍ وَعِشْرِينَ سَنَةً»
১৫ - এবং ইবনুল বারকি আবু বকর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে হিশাম থেকে, তিনি একাধিক ব্যক্তির সূত্রে আবু আমর ইবনুল আলা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খাদিজাকে বিবাহ করেন, তখন তাঁর বয়স ছিল পঁচিশ বছর।»
(খণ্ড: ১)
আজ-জুররিয়্যাতুত ত্বহিরাহ লিদ-দুলাবি
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ذِكْرُ إِسْلَامِ خَدِيجَةَ رضي الله عنها
খাদিজা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর ইসলাম গ্রহণের বিবরণ
(খণ্ড: ১)
আজ-জুররিয়্যাতুত ত্বহিরাহ লিদ-দুলাবি
(পৃষ্ঠা: ৩০)
16 - وَحَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ الْحَلَبِيُّ، حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ أَبِي مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا جَدِّي، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: «كَانَتْ خَدِيجَةُ أَوَّلَ مَنْ آمَنَ بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم»
১৬ - এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু উসামা আল-হালাবি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাজ্জাজ ইবনে আবি মানি‘, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার দাদা, যুহরি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «খাদিজা ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি আল্লাহর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতি ঈমান এনেছিলেন।»
(খণ্ড: ১)
আজ-জুররিয়্যাতুত ত্বহিরাহ লিদ-দুলাবি
(পৃষ্ঠা: ৩১)
17 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ يَعْقُوبَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَنَّ اللَّيْثَ بْنَ سَعْدٍ، حَدَّثَهُ قَالَ: حَدَّثَنِي عَقِيلُ بْنُ خَالِدٍ، قَالَ: قَالَ ابْنُ شِهَابٍ: «أَنْزَلَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ الْقُرْآنَ وَالْهُدَى وَعِنْدَهُ خَدِيجَةُ بِنْتُ خُوَيْلِدٍ»
১৭ - ইবরাহীম ইবন ইয়াকূব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ ইবন ইউসুফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, লাইস ইবন সাদ তাঁর নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আকীল ইবন খালিদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবন শিহাব বলেছেন: «আল্লাহ তাঁর রাসূলের উপর কুরআন ও হিদায়াত নাযিল করেছেন এবং তখন খাদীজা বিনত খুয়াইলিদ তাঁর নিকট উপস্থিত ছিলেন।»
(খণ্ড: ১)
আজ-জুররিয়্যাতুত ত্বহিরাহ লিদ-দুলাবি
(পৃষ্ঠা: ৩১)
18 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْمِقْدَامِ أَبُو الْأَشْعَثِ، حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ الْعَلَاءِ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ: «كَانَتْ خَدِيجَةُ أَوَّلَ مَنْ آمَنَ بِالنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنَ النِّسَاءِ وَالرِّجَالِ»
১৮ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনুল মিকদাম আবুল আশআছ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জুহাইর ইবনুল আলা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনে আবু আরুবাহ, কাতাদাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «নারী ও পুরুষদের মধ্যে খাদিজা ছিলেন সর্বপ্রথম ব্যক্তি যিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি ঈমান এনেছিলেন»
(খণ্ড: ১)
আজ-জুররিয়্যাতুত ত্বহিরাহ লিদ-দুলাবি
(পৃষ্ঠা: ৩১)
19 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ الْمُقْرِئُ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ الْفَزَارِيُّ، حَدَّثَنَا وَائِلُ بْنُ دَاوُدَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ الْبَهِيِّ، قَالَ: قَالَتْ عَائِشَةُ: " كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا ذَكَرَ خَدِيجَةَ لَمْ يَكَدْ يَسْأَمُ مِنْ ثَنَاءٍ عَلَيْهَا وَاسْتِغْفَارٍ فَذَكَرَهَا ذَاتَ يَوْمٍ فَاحْتَمَلَتْنِي الْغَيْرَةُ فَقُلْتُ: لَقَدْ عَوَّضَكَ اللَّهُ مِنْ كَبِيرَةِ السِّنِّ قَالَتْ: فَرَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم غَضِبَ غَضَبًا شَدِيدًا وَسَقَطْتُ فِي جِلْدِي فَقُلْتُ: اللَّهُمَّ إِنَّكَ إِنْ أَذْهَبْتَ غَضَبَ رَسُولِكَ عَنِّي لَمْ أَعُدْ لِذِكْرِهَا بِسُوءٍ مَا بَقِيَتُ ⦗ص: 32⦘ قَالَتْ: فَلَمَّا رَأَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا لَقِيتُ قَالَ: «كَيْفَ قُلْتِ وَاللَّهِ لَقَدْ آمَنَتْ بِي إِذْ كَفَرَ بِي النَّاسُ وَأَوَتْنِي إِذْ رَفَضَنِي النَّاسُ وَصَدَّقَتْنِي إِذْ كَذَّبَنِي النَّاسُ وَرُزِقَتْ مِنِّي الْوَلَدُ حَيْثُ حُرِمْتُمُوهُ» قَالَتْ: فَغَدَا وَرَاحَ عَلَيَّ بِهَا شَهْرًا "
১৯ - মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াজিদ আল-মুকরি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, মারওয়ান ইবনে মুআবিয়াহ আল-ফাজারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ওয়াইল ইবনে দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ আল-বাহি থেকে, তিনি বলেন: আয়েশা (রা.) বলেছেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখনই খাদিজার কথা স্মরণ করতেন, তখন তাঁর প্রশংসা করতে এবং তাঁর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে মোটেও ক্লান্তি বোধ করতেন না। একদিন তিনি তাঁর কথা উল্লেখ করলেন, তখন ঈর্ষা আমাকে কাবু করে ফেলল। আমি বললাম: আল্লাহ আপনাকে এক বৃদ্ধার পরিবর্তে উত্তম বিনিময় দান করেছেন। আয়েশা (রা.) বলেন: তখন আমি দেখলাম নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অত্যন্ত রাগান্বিত হলেন এবং আমি (ভয়ে ও সংকোচে) নিজের চামড়ার মধ্যে সেঁধিয়ে গেলাম। তখন আমি বললাম: হে আল্লাহ! আপনি যদি আপনার রাসূলের রাগ আমার ওপর থেকে দূর করে দেন, তবে আমি যতদিন বেঁচে থাকব আর কখনো তাঁর (খাদিজার) বিষয়ে কোনো মন্দ আলোচনা করব না। ⦗পৃষ্ঠা: ৩২⦘ তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন দেখলেন আমার কী অবস্থা হয়েছে, তখন তিনি বললেন: «তুমি ওটা কীভাবে বললে? আল্লাহর কসম! তিনি আমার ওপর ঈমান এনেছিলেন যখন মানুষ আমাকে অস্বীকার করেছিল, তিনি আমাকে আশ্রয় দিয়েছিলেন যখন মানুষ আমাকে বর্জন করেছিল, তিনি আমাকে সত্য বলে মেনে নিয়েছিলেন যখন মানুষ আমাকে মিথ্যাবাদী বলেছিল এবং তাঁর মাধ্যমেই আমাকে সন্তান দান করা হয়েছে যেখানে তোমরা তা থেকে বঞ্চিত হয়েছ»। আয়েশা (রা.) বলেন: তিনি সকাল-সন্ধ্যায় এক মাস পর্যন্ত আমাকে এই কথা শুনিয়েছেন।"
(খণ্ড: ১)
আজ-জুররিয়্যাতুত ত্বহিরাহ লিদ-দুলাবি
(পৃষ্ঠা: ৩২)
20 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حُمَيْدٍ أَبُو قُرَّةَ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عِيسَى بْنِ تَلِيدٍ، حَدَّثَنِي الْمُفَضَّلُ بْنُ فَضَالَةَ، عَنْ أَبِي الطَّاهِرِ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ، عَنْ عَمِّهِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ: " أَنَّهُ كَانَ مِنْ بِدْءِ أَمْرِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ رَأَى فِي الْمَنَامِ رُؤْيَا فَشَقَّ ذَلِكَ عَلَيْهِ فَذَكَرَ ذَلِكَ لِصَاحِبَتِهِ خَدِيجَةَ بِنْتِ خُوَيْلِدٍ فَقَالَتْ لَهُ: أَبْشِرْ فَإِنَّ اللَّهَ لَا يَصْنَعُ بِكَ إِلَّا خَيْرًا فَذَكَرَ لَهَا أَنَّهُ رَأَى أَنَّ بَطْنَهُ أُخْرِجَ فَطُهِّرَ وَغُسِلَ ثُمَّ أُعِيدَ كَمَا كَانَ قَالَتْ: هَذَا خَيْرٌ فَأَبْشِرْ ثُمَّ اسْتَعْلَنَ بِهِ جِبْرِيلُ فَأَجْلَسَهُ عَلَى مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يُجْلِسَهُ عَلَيْهِ وَبَشَّرَهُ بِرِسَالَةِ اللَّهِ حَتَّى اطْمَأَنَّ ثُمَّ قَالَ: اقْرَأْ، قَالَ: «كَيْفَ أَقْرَأُ؟» قَالَ: {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكِ الَّذِي خَلَقَ خَلَقَ الْإِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ} [العلق: 2] فَقَبِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رِسَالَةَ رَبِّهِ وَاتَّبَعَ الَّذِي جَاءَ بِهِ جِبْرِيلُ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ وَانْصَرَفَ إِلَى أَهْلِهِ فَلَمَّا دَخَلَ عَلَى خَدِيجَةَ قَالَ: «أَرَأَيْتَكِ الَّذِي كُنْتُ أُحَدِّثُكَ وَرَأَيْتُهُ فِي الْمَنَامِ؟ فَإِنَّهُ جِبْرِيلُ اسْتَعْلَنَ» ، فَأَخْبَرَهَا بِالَّذِي جَاءَهُ مِنَ اللَّهِ وَسَمِعَ فَقَالَتْ: أَبْشِرْ فَوَاللَّهِ لَا يَفْعَلُ اللَّهُ بِكَ إِلَّا خَيْرًا فَاقْبَلِ الَّذِي آتَاكَ اللَّهُ وَأَبْشِرْ فَإِنَّكَ رَسُولُ اللَّهِ حَقًّا "
২০ - মুহাম্মদ ইবনে হুমাইদ আবু কুররাহ আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন, সাঈদ ইবনে ঈসা ইবনে তালীদ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, মুফাজ্জাল ইবনে ফাযালাহ আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন, আবু তাহের আব্দুল মালিক ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে হাযম থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর চাচা আব্দুল্লাহ ইবনে আবু বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে হাযম থেকে বর্ণনা করেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াতের বিষয়ের সূচনা ছিল এই যে, তিনি স্বপ্নে একটি স্বপ্ন দেখেছিলেন যা তাঁর নিকট অত্যন্ত কঠিন অনুভূত হলো। তখন তিনি তাঁর সহধর্মিণী খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদের নিকট তা উল্লেখ করলেন। তিনি তাঁকে বললেন: 'সুসংবাদ গ্রহণ করুন, কেননা আল্লাহ আপনার সাথে কল্যাণ ব্যতীত অন্য কিছু করবেন না।' এরপর তিনি তাঁর কাছে বর্ণনা করলেন যে, তিনি স্বপ্নে দেখেছেন তাঁর পেট বের করা হয়েছে, অতঃপর তা পবিত্র করা হয়েছে ও ধৌত করা হয়েছে, তারপর তা পূর্বের ন্যায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বললেন: 'এটি কল্যাণকর, সুতরাং সুসংবাদ গ্রহণ করুন।' এরপর জিবরাঈল তাঁর সামনে প্রকাশ্যে আবির্ভূত হলেন এবং তাঁকে এমন কিছুর ওপর বসালেন যার ওপর বসানো আল্লাহ চাইলেন। তিনি তাঁকে আল্লাহর রিসালাতের সুসংবাদ দিলেন যতক্ষণ না তিনি আশ্বস্ত হলেন। এরপর তিনি (জিবরাঈল) বললেন: 'পড়ুন'। তিনি বললেন: 'আমি কীভাবে পড়ব?' তিনি বললেন: {পড়ুন আপনার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে। পড়ুন এবং আপনার রব মহাসম্মানিত} [আলাক: ২]। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রবের রিসালাত গ্রহণ করলেন এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে জিবরাঈল যা নিয়ে এসেছিলেন তার অনুসরণ করলেন। এরপর তিনি তাঁর পরিবারের নিকট ফিরে গেলেন। যখন তিনি খাদিজার নিকট প্রবেশ করলেন তখন বললেন: 'আমি তোমাকে যে বিষয়ে বলেছিলাম এবং স্বপ্নে যা দেখেছিলাম তা কি লক্ষ্য করেছ? নিশ্চয়ই তিনি জিবরাঈল ছিলেন যিনি প্রকাশ্যে আবির্ভূত হয়েছিলেন।' এরপর তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর নিকট যা এসেছে এবং যা তিনি শুনেছেন তা তাঁকে অবহিত করলেন। তখন খাদিজা বললেন: 'সুসংবাদ গ্রহণ করুন। আল্লাহর শপথ! আল্লাহ আপনার সাথে কল্যাণ ব্যতীত অন্য কিছু করবেন না। সুতরাং আল্লাহ আপনাকে যা দান করেছেন তা গ্রহণ করুন এবং সুসংবাদ নিন, কেননা আপনি নিশ্চিতভাবেই আল্লাহর রাসূল'।"
(খণ্ড: ১)
আজ-জুররিয়্যাতুত ত্বহিরাহ লিদ-দুলাবি
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
21 - حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ عَبْدِ الصَّمَدِ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَائِذٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ شَابُورَ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَطَاءٍ الْخُرَاسَانِيِّ، عَنْ أَبِيهِ عَطَاءِ بْنِ أَبِي مُسْلِمٍ عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: " بَعَثَ اللَّهُ جَلَّ وَعَزَّ مُحَمَّدًا عَلَى رَأْسِ خَمْسِ سِنِينَ مِنْ بُنْيَانِ الْكَعْبَةِ فَكَانَ أَوَّلَ شَيْءٍ أَرَاهُ اللَّهُ إِيَّاهُ مِنَ النُّبُوَّةِ رُؤْيَا فِي الْمَنَامِ فَشَقَّ ذَلِكَ عَلَيْهِ وَالْحَقُّ ثَقِيلٌ وَالْإِنْسَانُ ضَعِيفٌ فَذَكَرَ ذَلِكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِزَوْجَتِهِ خَدِيجَةَ بِنْتِ خُوَيْلِدٍ فَعَصَمَهَا اللَّهُ مِنَ التَّكْذِيبِ فَقَالَتْ: أَبْشِرْ فَإِنَّ اللَّهَ لَا يَصْنَعُ بِكَ إِلَّا خَيْرًا فَحَدَّثَهَا أَنَّهُ رَأَى بَطْنَهُ طُهِّرَ وَغُسِلَ ثُمَّ أُعِيدَ كَمَا كَانَ قَالَتْ: وَهَذَا وَاللَّهِ خَيْرٌ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: ثُمَّ اسْتَعْلَنَ لَهُ جِبْرِيلُ وَهُوَ بِأَعْلَى مَكَّةَ مِنْ قِبَلِ حِرَاءٍ فَوَضَعَ يَدَهُ عَلَى رَأْسِهِ وَفُؤَادِهِ وَبَيْنَ كَتِفَيْهِ وَقَالَ لَهُ جِبْرِيلُ: لَا تَخَفْ فَأَجْلَسَهُ مَعَهُ عَلَى مَجْلِسٍ كَرِيمٍ جَمِيلٍ مُعْجَبٍ وَكَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: أَجْلَسَنِي عَلَى بِسَاطٍ كَهَيْئَةِ الدُّرْنُوكِ فِيهِ مِنَ الْيَاقُوتِ وَاللُّؤْلُؤِ، فَبَشَّرَهُ بِرِسَالَاتِ اللَّهِ حَتَّى اطْمَأَنَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قَالَ: اقْرَأْ قَالَ: كَيْفَ أَقْرَأُ؟ قَالَ: {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكِ الَّذِي خَلَقَ خَلَقَ الْإِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ} [العلق: 2] فَقَبِلَ الرَّسُولُ رِسَالَاتِ رَبِّهِ وَسَأَلَهُ أَنْ يُخْفِيَهَا وَاتَّبَعَ الَّذِي نَزَلَ بِهِ جِبْرِيلُ مِنْ عِنْدِ رَبِّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ فَلَمَّا قَضَى إِلَيْهِ الَّذِي أُمِرَ بِهِ انْصَرَفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُنْقَلِبًا إِلَى أَهْلِهِ لَا يَأْتِي عَلَى حَجَرٍ وَلَا شَجَرٍ إِلَّا سَلَّمَ عَلَيْهِ: سَلَامٌ عَلَيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَرَجَعَ إِلَى بَيْتِهِ وَهُوَ مُوقِنٌ قَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا فَلَمَّا دَخَلَ عَلَى امْرَأَتِهِ خَدِيجَةَ قَالَ: يَا خَدِيجَةُ أَرَأَيْتِ مَا كُنْتُ أُرَاهُ فِي الْمَنَامِ وَأُحَدِّثُكِ بِهِ قَدِ اسْتَعْلَنَ وَإِنَّهُ جِبْرِيلُ أَرْسَلَهُ رَبُّهُ، وَأَخْبَرَهَا بِالَّذِي قَالَ وَبِالَّذِي رَأَى وَسَمِعَ فَقَالَتْ: أَبْشِرْ فَوَاللَّهِ لَا يَفْعَلُ اللَّهُ بِكَ إِلَّا خَيْرًا أَنَا أَقْبَلُ الَّذِي أَتَاكَ مِنَ اللَّهِ فَإِنَّهُ حَقٌّ وَأَبْشِرْ فَإِنَّكَ رَسُولُ اللَّهِ حَقًّا "
২১ - ইয়াজিদ ইবনে আবদুস সামাদ আদ-দিমাশকি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আইজ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে শুআইব ইবনে শাবুর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন উসমান ইবনে আতা আল-খুরাসানি থেকে, তিনি তাঁর পিতা আতা ইবনে আবি মুসলিম থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আল্লাহ জাল্লা ওয়া আযযা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে কাবা নির্মাণের পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার প্রাক্কালে নবুওয়াত দিয়ে প্রেরণ করেন। নবুওয়াতের সর্বপ্রথম যে বিষয়টি আল্লাহ তাঁকে দেখিয়েছিলেন তা ছিল নিদ্রাবস্থায় স্বপ্ন। এটি তাঁর নিকট অত্যন্ত কঠিন মনে হয়েছিল, আর সত্য তো ভারী এবং মানুষ দুর্বল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিষয়টি তাঁর স্ত্রী খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদের নিকট উল্লেখ করলেন। আল্লাহ তাঁকে (খাদিজাকে) মিথ্যা প্রতিপন্ন করা থেকে রক্ষা করলেন। তিনি বললেন: আপনি সুসংবাদ গ্রহণ করুন, কারণ আল্লাহ আপনার সাথে কল্যাণ ব্যতীত অন্য কিছু করবেন না। অতঃপর তিনি তাঁকে অবহিত করলেন যে, তিনি দেখেছেন তাঁর উদর পবিত্র করা হয়েছে এবং ধৌত করা হয়েছে, অতঃপর তা পূর্বের ন্যায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি (খাদিজা) বললেন: আল্লাহর কসম, এটি কল্যাণকর। ইবনে আব্বাস বলেন: অতঃপর জিবরাঈল হেরা পর্বতের দিক থেকে মক্কার উচ্চভূমিতে তাঁর নিকট প্রকাশ পেলেন। তিনি তাঁর হাত রাখলেন তাঁর (নবীর) মস্তকে, তাঁর হৃদয়ে এবং তাঁর দুই স্কন্ধের মধ্যস্থলে। জিবরাঈল তাঁকে বললেন: আপনি ভয় পাবেন না। অতঃপর তিনি তাঁকে নিজের সাথে একটি মর্যাদাপূর্ণ, সুন্দর ও বিস্ময়কর আসনে বসালেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতেন: তিনি আমাকে ‘দুরনুক’ (পুরু গালিচা) সদৃশ একটি বিছানায় বসালেন, যাতে ইয়াকুত ও মুক্তা খচিত ছিল। অতঃপর তিনি তাঁকে আল্লাহর পক্ষ থেকে রিসালাতের সুসংবাদ প্রদান করলেন যতক্ষণ না নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আশ্বস্ত হলেন। এরপর তিনি বললেন: পাঠ করুন। তিনি বললেন: আমি কীভাবে পাঠ করব? তিনি বললেন: {পাঠ করুন আপনার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন, সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে। পাঠ করুন আর আপনার রব অতি দয়ালু} [আল-আলাক: ১-৩]। অতঃপর রাসূল তাঁর রবের পক্ষ থেকে আগত রিসালাত গ্রহণ করলেন এবং তা গোপন রাখার প্রার্থনা করলেন। তিনি মহান আরশের রবের পক্ষ থেকে জিবরাঈল যা নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছিলেন তা অনুসরণ করলেন। জিবরাঈল যখন আদিষ্ট বিষয়াদি সম্পন্ন করলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর পরিবারের নিকট ফিরে চললেন। তিনি কোনো পাথর কিংবা বৃক্ষের পাশ দিয়ে গেলেই তা তাঁকে সালাম দিত: আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক হে আল্লাহর রাসূল। তিনি নিজ গৃহে প্রত্যাবর্তন করলেন এমতাবস্থায় যে, তিনি নিশ্চিত ছিলেন যে তিনি মহা সাফল্য লাভ করেছেন। তিনি যখন তাঁর স্ত্রী খাদিজার নিকট প্রবেশ করলেন, তখন বললেন: হে খাদিজা, আমি স্বপ্নে যা দেখতাম এবং যার কথা তোমাকে বলতাম, তা এখন প্রকাশ পেয়েছে; ইনি জিবরাঈল, যাঁকে তাঁর রব পাঠিয়েছেন। তিনি যা বলেছিলেন এবং যা তিনি দেখেছিলেন ও শুনেছিলেন তা তাঁকে জানালেন। তিনি (খাদিজা) বললেন: আপনি সুসংবাদ গ্রহণ করুন, আল্লাহর কসম আল্লাহ আপনার সাথে কল্যাণ ব্যতীত অন্য কিছু করবেন না। আল্লাহর পক্ষ থেকে আপনার নিকট যা এসেছে তা আমি গ্রহণ করছি এবং তা সত্য। আপনি সুসংবাদ গ্রহণ করুন, কারণ আপনিই নিশ্চিতভাবে আল্লাহর রাসূল।"
(খণ্ড: ১)
আজ-জুররিয়্যাতুত ত্বহিরাহ লিদ-দুলাবি
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
22 - حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى، أَنْبَأَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي عُرْوَةُ، أَنَّ عَائِشَةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم
⦗ص: 34⦘ أَخْبَرَتْهُ قَالَتْ: " كَانَ أَوَّلُ مَا بُدِئَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ الْوَحْيِ الرُّؤْيَا الصَّادِقَةَ فِي النَّوْمِ فَكَانَ لَا يَرَى رُؤْيَا إِلَّا جَاءَتْ مِثْلُ فَلَقِ الصُّبْحِ ثُمَّ حُبِّبَ إِلَيْهِ الْخَلَاءُ فَكَانَ يَخْلُو بِغَارِ حِرَاءٍ يَتَحَنَّثُ فِيهِ وَهُوَ التَّعَبُّدُ اللَّيَالِيَ أُولَاتِ الْعَدَدِ قَبْلَ أَنْ يَرْجِعَ إِلَى أَهْلِهِ وَيَتَزَوَّدُ لِذَلِكَ ثُمَّ يَرْجِعُ إِلَى خَدِيجَةَ فَيَتَزَوَّدُ بِمِثْلِهَا حَتَّى فَجِئَهُ الْحَقُّ وَهُوَ فِي غَارِ حِرَاءٍ فَجَاءَهُ الْمَلَكُ فَقَالَ: اقْرَأْ فَقَالَ: «مَا أَنَا بِقَارِئٍ فَأَخَذَنِي فَغَطَّنِي حَتَّى بَلَغَ مِنِّي الْجَهْدَ ثُمَّ أَرْسَلَنِي» ، فَقَالَ: اقْرَأْ قُلْتُ: «مَا أَنَا بِقَارِئٍ» ، قَالَ: {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكِ الَّذِي خَلَقَ خَلَقَ الْإِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ عَلَّمَ الْإِنْسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ} [العلق: 2] فَرَجَعَ بِهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَرْجُفُ بَوَادِرُهُ حَتَّى دَخَلَ عَلَى خَدِيجَةَ فَقَالَ: «زَمِّلُونِي» ، فَزَمَّلُوهُ حَتَّى ذَهَبَ عَنْهُ الرَّوْعُ ثُمَّ قَالَ لِخَدِيجَةَ: «إِلَيَّ خَدِيجَةُ» ، قَالَ: وَأَخْبَرَهَا الْخَبَرَ فَقَالَ: «لَقَدْ خَشِيتُ عَلَى نَفْسِي» ، قَالَتْ لَهُ خَدِيجَةُ: كَلَّا أَبْشِرْ وَاللَّهِ لَا يُخْزِيكَ اللَّهُ أَبَدًا وَاللَّهِ إِنَّكَ لَتَصِلُ الرَّحِمَ وَتَصْدُقُ الْحَدِيثَ وَتَحْمِلُ الْكَلَّ وَتُكْسِبُ الْمَعْدُومَ وَتَقْرِي الضَّيْفَ وَتُعِينُ عَلَى نَوَائِبِ الْحَقِّ وَانْطَلَقَتْ بِهِ خَدِيجَةُ حَتَّى أَتَتْ بِهِ وَرَقَةَ بْنَ نَوْفَلِ بْنِ أَسَدِ بْنِ عَبْدِ الْعُزَّى وَهُوَ ابْنُ عَمِّ خَدِيجَةَ أَخُو أَبِيهَا وَكَانَ امْرَءًا تَنَصَّرَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ وَكَانَ يَكْتُبُ الْكِتَابَ الْعَرَبِيَّ وَيَكْتُبُ مِنَ الْإِنْجِيلِ بِالْعَرَبِيَّةِ مَا شَاءَ اللَّهُ وَكَانَ شَيْخًا كَبِيرًا قَدْ عَمِيَ، فَقَالَتْ لَهُ خَدِيجَةُ: ابْنَ عَمِّ اسْمَعْ مِنِ ابْنِ أَخِيكَ قَالَ وَرَقَةُ بْنُ نَوْفَلٍ: يَا ابْنَ أَخِي مَاذَا تَرَى؟ فَأَخْبَرَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَبَرَ مَا رَأَى فَقَالَ لَهُ وَرَقَةُ: هَذَا النَّامُوسُ الَّذِي أُنْزِلَ عَلَى مُوسَى يَا لَيْتَنِي فِيهَا جَذَعًا يَا لَيْتَنِي أَكُونُ حَيًّا حِينَ يُخْرِجُكَ قَوْمُكَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَوَمُخْرِجِيَّ هُمْ؟» قَالَ وَرَقَةُ: نَعَمْ لَمْ يَأْتِ رَجُلٌ قَطُّ بِمِثْلِ مَا جِئْتَ بِهِ إِلَّا عُودِيَ وَإِنْ يُدْرِكْنِي يَوْمُكَ أَنْصُرْكَ نَصْرًا مُؤَزَّرًا
⦗ص: 35⦘ ثُمَّ لَمْ يَنْشَبْ وَرَقَةُ أَنْ تُوُفِّيَ وَفَتَرَ الْوَحْيُ فَتْرَةً حَتَّى حَزِنَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِيمَا بَلَغَنَا فَغَدَا مِنْ أَهْلِهِ مِرَارًا لِكَيْ يَتَرَدَّى مِنْ رُءُوسِ شَوَاهِقِ جِبَالِ الْحَرَمِ فَكُلَّمَا أَوْفَى ذِرْوَةَ جَبَلٍ لِكَيْ يُلْقِيَ نَفْسَهُ تَبَدَّى لَهُ جِبْرِيلُ عليه السلام فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ إِنَّكَ لَرَسُولُ اللَّهِ حَقًّا فَيُسَكِّنُ ذَلِكَ جَأْشَهُ وَتَقِرُّ نَفْسُهُ فَإِذَا طَالَ عَلَيْهِ فَتْرَةُ الْوَحْيِ غَدَا لِمِثْلِ ذَلِكَ فَإِذَا أَوْفَى عَلَى ذِرْوَةِ جَبَلٍ تَبَدَّى لَهُ جِبْرِيلُ فَقَالَ لَهُ مِثْلَ ذَلِكَ "
23 - حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي أُسَامَةَ، حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ أَبِي مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا جَدِّي، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، مِثْلَهُ
২২ - ইউনুস ইবনে আবদিল আলা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, (তিনি বলেন) আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব আমাদের অবহিত করেছেন, (তিনি বলেন) ইউনুস ইবনে ইয়াজিদ আমাকে ইবনে শিহাবের সূত্রে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: উরওয়াহ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী আয়েশা
⦗পৃষ্ঠা: ৩৪⦘ তাঁকে অবহিত করেছেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ওহীর সূচনা হয়েছিল ঘুমের মধ্যে সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে। তিনি যে স্বপ্নই দেখতেন তা সুবহে সাদিকের (ভোরের আলো) ন্যায় প্রকাশ পেত। অতঃপর নির্জনতা তাঁর কাছে প্রিয় হয়ে ওঠে এবং তিনি হেরা গুহায় নির্জনে অবস্থান করতেন। সেখানে তিনি তাঁর পরিবারের কাছে ফিরে আসার আগে নির্দিষ্ট সংখ্যক রাত 'তাহাননুস' বা ইবাদত করতেন এবং এজন্য প্রয়োজনীয় পাথেয় সঙ্গে নিতেন। অতঃপর তিনি খাদিজার কাছে ফিরে আসতেন এবং অনুরূপ পাথেয় নিয়ে যেতেন। এভাবে (একদিন) তাঁর কাছে সত্য (ওহী) আসলো যখন তিনি হেরা গুহায় ছিলেন। সেখানে ফেরেশতা তাঁর কাছে এসে বললেন: 'পাঠ করুন'। তিনি বললেন: 'আমি পাঠ করতে জানি না'। (রাসূল বলেন:) 'অতঃপর তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরলেন এবং এত জোরে চাপ দিলেন যে আমার কষ্টের সীমা রইল না। তারপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিলেন'। এরপর তিনি বললেন: 'পাঠ করুন'। আমি বললাম: 'আমি পাঠ করতে জানি না'। তিনি বললেন: {পাঠ করুন আপনার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে আলাক (জমাট রক্তপিণ্ড) থেকে। পাঠ করুন এবং আপনার রব মহিমান্বিত। যিনি কলমের মাধ্যমে শিক্ষা দিয়েছেন। শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না} [আল-আলাক: ১-৫]। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই ওহী নিয়ে এমন অবস্থায় ফিরে আসলেন যে তাঁর কাঁধের মাংসপেশি কাঁপছিল। তিনি খাদিজার কাছে প্রবেশ করে বললেন: 'আমাকে চাদর দিয়ে আবৃত করো'। তাঁরা তাঁকে চাদর দিয়ে আবৃত করলেন যতক্ষণ না তাঁর আতঙ্ক দূর হলো। এরপর তিনি খাদিজাকে বললেন: 'হে খাদিজা (আমার কী হলো!)', এবং তিনি তাঁকে বিস্তারিত খবর জানিয়ে বললেন: 'আমি নিজের ব্যাপারে আশঙ্কা করছি'। খাদিজা তাঁকে বললেন: 'কখনও না, আপনি সুসংবাদ গ্রহণ করুন। আল্লাহর কসম, আল্লাহ আপনাকে কখনও লাঞ্ছিত করবেন না। আল্লাহর কসম, আপনি তো আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখেন, সত্য কথা বলেন, অসহায়দের বোঝা বহন করেন, রিক্তহস্তদের কর্মসংস্থান করেন, মেহমানদারি করেন এবং হকের পথে আপদে-বিপদে মানুষকে সাহায্য করেন'। অতঃপর খাদিজা তাঁকে নিয়ে ওয়ারা কাহ ইবনে নাওফাল ইবনে আসাদ ইবনে আবদিল উযযার কাছে গেলেন, যিনি খাদিজার চাচাতো ভাই ছিলেন। তিনি জাহেলিয়াতের যুগে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছিলেন এবং তিনি আরবি লিখতে জানতেন এবং আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী ইঞ্জিল থেকে আরবিতে লিখতেন। তিনি ছিলেন অতি বৃদ্ধ এবং দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন। খাদিজা তাঁকে বললেন: 'হে চাচাতো ভাই, আপনার ভাতিজার কথা শুনুন'। ওয়ারাকাহ ইবনে নাওফাল বললেন: 'হে ভাতিজা, তুমি কী দেখছ?' তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা দেখেছিলেন তা তাঁকে জানালেন। ওয়ারাকাহ তাঁকে বললেন: 'ইনি হলেন সেই নামুস (গোপন রহস্য বহনকারী ফেরেশতা জিবরীল) যাকে মূসার কাছে পাঠানো হয়েছিল। হায়, আমি যদি সেদিন যুবক থাকতাম! হায়, আমি যদি সেদিন জীবিত থাকতাম যেদিন আপনার কওম আপনাকে বের করে দিবে!' রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: 'তবে কি তারা আমাকে বের করে দিবে?' ওয়ারাকাহ বললেন: 'হ্যাঁ, আপনি যা নিয়ে এসেছেন সেরূপ কিছু নিয়ে যে ব্যক্তিই এসেছে, তার সাথেই শত্রুতা করা হয়েছে। যদি আপনার সেই দিনটি আমি পাই, তবে আপনাকে জোরালোভাবে সাহায্য করব'।
⦗পৃষ্ঠা: ৩৫⦘ এরপর বেশিদিন অতিবাহিত হয়নি যে ওয়ারাকাহ মৃত্যুবরণ করেন এবং ওহী স্থগিত থাকে। ফলে আমাদের কাছে যতটুকু খবর পৌঁছেছে সেই অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যন্ত ব্যথিত হন। এমনকি তিনি বারংবার মক্কার সুউচ্চ পাহাড়ের চূড়াগুলো থেকে নিচে পড়ে যাওয়ার জন্য সকাল বেলা বের হতেন। যখনই তিনি কোনো পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছাতেন নিজেকে ফেলে দেওয়ার জন্য, তখনই জিবরীল আলাইহিস সালাম তাঁর সামনে আত্মপ্রকাশ করে বলতেন: 'হে মুহাম্মাদ, আপনি নিশ্চয়ই আল্লাহর সত্য রাসূল'। এতে তাঁর অস্থিরতা প্রশমিত হতো এবং তাঁর মন শান্ত হতো। যখন ওহী স্থগিত হওয়ার সময় দীর্ঘ হতো, তিনি আবারো অনুরূপ করতেন এবং পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছালে জিবরীল তাঁর সামনে উপস্থিত হয়ে পূর্বের ন্যায় কথা বলতেন।"
২৩ - আবু উসামা আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি উসামা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, (তিনি বলেন) হাজ্জাজ ইবনে আবি মানি' আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, (তিনি বলেন) আমার দাদা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, (তিনি) যুহরী থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আজ-জুররিয়্যাতুত ত্বহিরাহ লিদ-দুলাবি
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
24 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحِيمِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ هِشَامٍ، عَنْ زِيَادٍ، قَالَ: قَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ: حَدَّثَنِي إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي حَكِيمٍ، مَوْلَى آلِ الزُّبَيْرِ أَنَّهُ حُدِّثَ عَنْ خَدِيجَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " أَيِ ابْنَ عَمِّي أَتَسْتَطِيعُ أَنْ تُخْبِرَنِي، بِصَاحِبِكَ هَذَا الَّذِي يَأْتِيكَ إِذَا جَاءَكَ؟ قَالَ: «نَعَمْ» ، قَالَتْ: فَإِذَا جَاءَكَ فَأَخْبِرْنِي بِهِ فَجَاءَهُ جِبْرِيلُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يَا خَدِيجَةُ هَذَا جِبْرِيلُ قَدْ جَاءَنِي» ، قَالَتْ: قُمْ يَا ابْنَ عَمِّي فَاجْلِسْ عَلَى فَخِذِي الْيُسْرَى قَالَ: فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجَلَسَ عَلَيْهَا قَالَتْ: هَلْ تَرَاهُ؟ قَالَ: «نَعَمْ» ، قَالَتْ: فَتَحَوَّلْ فَاقْعُدْ عَلَى فَخِذِي الْيُمْنَى قَالَ: فَتَحَوَّلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَعَدَ عَلَى فَخْذِهَا الْيُمْنَى، فَقَالَتْ: هَلْ تَرَاهُ؟ قَالَ: «نَعَمْ» ، قَالَتْ: فَتَحَوَّلْ فَاجْلِسْ فِي حِجْرِي فَتَحَوَّلَ فَجَلَسَ فِي حِجْرِهَا ثُمَّ قَالَتْ: هَلْ تَرَاهُ قَالَ: فَتَحَسَّرَتْ فَأَلْقَتْ خِمَارَهَا وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَالِسٌ فِي حِجْرِهَا، ثُمَّ قَالَتْ: هَلْ تَرَاهُ؟ قَالَ: لَا. قَالَتْ: يَا ابْنَ عَمِّي اثْبُتْ وَأَبْشِرْ فَوَاللَّهِ إِنَّهُ لَمَلَكٌ مَا هَذَا شَيْطَانٌ ⦗ص: 36⦘ قَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ: وَقَدْ حَدَّثْتُ بِهَذَا الْحَدِيثِ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ حَسَنٍ فَقَالَ: قَدْ سَمِعْتُ أُمِّي فَاطِمَةَ بِنْتَ حُسَيْنٍ تُحَدِّثُ بِهَذَا عَنْ خَدِيجَةَ إِلَّا أَنِّي سَمِعْتُهَا، تَقُولُ: إِذْ خَلَّتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَهَا وَبَيْنَ دِرْعِهَا فَذَهَبَ عِنْدَ ذَلِكَ جِبْرِيلُ فَقَالَتْ خَدِيجَةُ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: إِنَّ هَذَا مَلَكٌ وَمَا هُوَ بِشَيْطَانٍ "
২৪ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহীম, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল মালিক বিন হিশাম, যিয়াদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবনে ইসহাক বলেছেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন জুবাইর পরিবারের আযাদকৃত গোলাম ইসমাঈল বিন আবু হাকীম, তাঁর নিকট খাদিজা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলেছিলেন: "হে আমার চাচাতো ভাই, আপনার নিকট যখন আপনার এই সঙ্গী আসেন, তখন কি আপনি আমাকে তাঁর আসার বিষয়টি জানাতে পারবেন?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ"। খাদিজা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বললেন: "তাহলে যখন তিনি আসবেন তখন আমাকে জানাবেন।" অতঃপর জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) তাঁর নিকট আসলেন, তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "হে খাদিজা, এই যে জিবরাঈল আমার কাছে এসেছেন।" তিনি বললেন: "হে আমার চাচাতো ভাই, উঠুন এবং আমার বাম উরুর ওপর বসুন।" বর্ণনাকারী বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উঠলেন এবং তাঁর বাম উরুর ওপর বসলেন। খাদিজা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) জিজ্ঞেস করলেন: "আপনি কি তাঁকে দেখতে পাচ্ছেন?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" তিনি বললেন: "তবে এবার সরে গিয়ে আমার ডান উরুর ওপর বসুন।" বর্ণনাকারী বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সরে গিয়ে তাঁর ডান উরুর ওপর বসলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "আপনি কি তাঁকে দেখতে পাচ্ছেন?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" তিনি বললেন: "তবে এবার সরে গিয়ে আমার কোলে বসুন।" তিনি সরে গিয়ে তাঁর কোলে বসলেন। এরপর খাদিজা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বললেন: "আপনি কি তাঁকে দেখতে পাচ্ছেন?" বর্ণনাকারী বলেন: তখন খাদিজা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) তাঁর ওড়না সরিয়ে ফেললেন এমতাবস্থায় যে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর কোলেই বসে ছিলেন। এরপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "আপনি কি তাঁকে দেখতে পাচ্ছেন?" তিনি বললেন: "না।" তিনি বললেন: "হে আমার চাচাতো ভাই, আপনি অবিচল থাকুন এবং সুসংবাদ গ্রহণ করুন। আল্লাহর কসম, ইনি অবশ্যই একজন ফেরেশতা, কোনো শয়তান নন।" ⦗পৃষ্ঠা: ৩৬⦘ ইবনে ইসহাক বলেন: আমি আব্দুল্লাহ বিন হাসানকে এই হাদীসটি বর্ণনা করেছি। তিনি বললেন: আমি আমার মা ফাতিমা বিনতে হুসাইনকে খাদিজা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে এটি বর্ণনা করতে শুনেছি, তবে আমি তাঁকে বলতে শুনেছি যে: তিনি (খাদিজা) যখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তাঁর জামার নিচে প্রবেশ করালেন, তখন জিবরাঈল চলে গেলেন। এরপর খাদিজা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বললেন: "নিশ্চয়ই ইনি একজন ফেরেশতা এবং তিনি কোনো শয়তান নন।"
(খণ্ড: ১)
আজ-জুররিয়্যাতুত ত্বহিরাহ লিদ-দুলাবি
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
25 - حَدَّثَنَا ابْنُ الْبَرْقِيِّ أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ هِشَامٍ، عَنْ زِيَادِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْبَكَّائِيِّ، قَالَ: قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ: «كَانَتْ خَدِيجَةُ بِنْتُ خُوَيْلِدٍ أَوَّلَ مَنْ آمَنَتْ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَصَدَّقَتْ مَا جَاءَهُ مِنَ اللَّهِ عز وجل فَخَفَّفَ اللَّهُ بِذَلِكَ عَنْ رَسُولِهِ فَكَانَ لَا يَسْمَعُ شَيْئًا يَكْرَهُهُ مِنْ رَدٍّ عَلَيْهِ وَتَكْذِيبٍ لَهُ فَيَحْزِنُهُ ذَلِكَ إِلَّا فَرَّجَ اللَّهُ عَنْهُ بِهَا إِذَا رَجَعَ إِلَيْهَا تُثَبِّتُهُ وَتُخَفِّفُ عَلَيْهِ وَتُصَدِّقُهُ وَتُهَوِّنُ عَلَيْهِ أَمْرَ النَّاسِ حَتَّى مَاتَتْ رَحِمَهَا اللَّهُ»
২৫ - ইবনুল বারকি আবু বকর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল মালিক ইবনে হিশাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যিয়াদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-বাক্কায়ি থেকে, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক বলেছেন: "খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছিলেন এবং মহা পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর নিকট যা এসেছে তা সত্য বলে মেনে নিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর রাসূলের দুঃখ-কষ্ট লাঘব করে দিয়েছিলেন। ফলে রাসূলুল্লাহ মানুষের পক্ষ থেকে প্রত্যাখ্যান ও মিথ্যা প্রতিপন্ন করার মতো এমন কোনো অপ্রীতিকর বিষয় শুনতেন না যা তাঁকে ব্যথিত করত, কিন্তু যখনই তিনি তাঁর (খাদিজার) কাছে ফিরে আসতেন, আল্লাহ তাঁর মাধ্যমেই রাসূলের সেই দুঃখ দূর করে দিতেন। তিনি তাঁকে অবিচল রাখতেন, তাঁর কষ্ট লাঘব করতেন, তাঁকে সত্য বলে সমর্থন করতেন এবং মানুষের বিরূপ আচরণকে তাঁর নিকট সহজ করে দিতেন, মৃত্যু পর্যন্ত তিনি এভাবেই ছিলেন; আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন।"