(খণ্ড: ১)
আল-হাওদু ওয়াল কাওসার লি-বাকি বিন মাখলাদ
(পৃষ্ঠা: -)
الحوض والكوثر لبقي بن مخلد (بقي بن مخلد)
القسم: كتب السنة
الكتاب: ما روي الحوض والكوثر
المؤلف: أبو عبد الرحمن بقي بن مخلد بن يزيد الأندلسي القرطبي (ت 276هـ)
المحقق: عبد القادر محمد عطا صوفي
الناشر: مكتبة العلوم والحكم - المدينة المنورة
الطبعة: الأولى، 1413
عدد الصفحات: 104
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
বাকি ইবনে মাখলাদ রচিত হাওয ও কাওসার (বাকি ইবনে মাখলাদ)
বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
গ্রন্থ: হাওয ও কাওসার সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে
লেখক: আবু আবদুর রহমান বাকি ইবনে মাখলাদ ইবনে ইয়াযিদ আল-আন্দালুসি আল-কুরতুবি (মৃত্যু ২৭৬ হিজরি)
তাহকিক: আবদুল কাদির মুহাম্মদ আতা সুফি
প্রকাশক: মাকতাবাতুল উলুম ওয়াল হিকাম - মদিনা মুনাওয়ারা
সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৩
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১০৪
[গ্রন্থের নাম্বারিং মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলাহ-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-হাওদু ওয়াল কাওসার লি-বাকি বিন মাখলাদ
(পৃষ্ঠা: ৭৯)
مَا رَوَى أَبُو أُمَامَةَ
আবু উমামাহ যা বর্ণনা করেছেন
(খণ্ড: ১)
আল-হাওদু ওয়াল কাওসার লি-বাকি বিন মাখলাদ
(পৃষ্ঠা: ৭৯)
أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْجَلِيلُ الْفَقِيهُ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بِنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَتَّابٍ رضي الله عنه قِرَاءَةً مِنِّي عَلَيْهِ فِي مَسْجِدِهِ بِحَضْرَةِ قُرْطُبَةَ حَمَاهَا اللَّهُ، قَالَ: نا أَبِي رحمه الله قِرَاءَةُ عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى أَبِي عُثْمَانَ سَعِيدِ بْنِ سَلَمَةَ، قُلْتُ لَهُ: حَدَّثَكَ أَبُو الْحَسَنِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ بَقِيِّ بْنِ مَخْلَدٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَبِي عَبْدِ الرّحْمَنِ بَقِيِّ بْنِ مَخْلَدٍ رحمه الله، قَالَ: 1 - نا أَبُو مِقْلَاصٍ، قَالَ: نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ عَامِرٍ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: «إِنَّ اللَّهَ يُدْخِلُ مِنْ أُمَّتِي الْجَنَّةَ سَبْعِينَ أَلْفًا بِغَيْرِ حِسَابٍ» فَقَالَ يَزِيدُ بْنُ الْأَخْنَسِ السُّلَمِيُّ: وَمَا هَذَا فِي أُمَّتِكَ إِلَّا كَالذُّبَابِ ⦗ص: 80⦘ الْأَزْرَقِ فِي الذِّبَّانِ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يَدْخُلُ مِنْ أُمَّتِي الْجَنَّةَ سَبْعُونَ أَلْفًا بِغَيْرِ حِسَابٍ، مَعَ كُلِّ أَلْفٍ سَبْعُونَ أَلْفًا وَثَلَاثُ حَثَيَاتٍ» . قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ فَمَا سَعَةُ حَوْضِكَ؟ قَالَ: «مِثْلُ مَا بَيْنَ عَدَنَ وَعَمَّانَ، وَهُوَ أَوْسَعُ وَأَوْسَعُ - وَأَشَارَ بِيَدِهِ - فِيهِ شِعْبَانِ مِنْ ذَهَبٍ وَفِضَّةٍ» . قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ فَمَا شَرَابُهُ؟ قَالَ: «شَرَابُهُ أَبْيَضُ مِنَ اللَّبَنِ، وَأَحْلَى مَذَاقَةً مِنَ الْعَسَلِ، وَأَطْيَبُ رِيحًا مِنَ الْمِسْكِ. مَنْ شَرِبَ مِنْهُ شَرْبَةً لَمْ يَظْمَأْ بَعْدَهَا أَبَدًا، وَلَمْ يَسْوَدَّ وَجْهُهُ بَعْدَهَا أَبَدًا»
মহান শায়খ ফকিহ আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন—তাঁর সামনে কর্ডোভা শহরের (আল্লাহ শহরটিকে হিফাযত করুন) তাঁর মসজিদে আমার পাঠের মাধ্যমে—তিনি বলেন: আমার পিতা (রহিমাহুল্লাহ) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন—তাঁর সামনে পাঠ করা হয়েছে এমতাবস্থায় যে আমি তা শুনছিলাম—তিনি বলেন: আমি আবু উসমান সাঈদ ইবনে সালামার নিকট পাঠ করেছি, আমি তাঁকে বললাম: আবুল হাসান আবদুর রহমান ইবনে আহমদ ইবনে বাকি ইবনে মাখলাদ কি আপনার নিকট তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা আবু আবদুর রহমান বাকি ইবনে মাখলাদ (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন:
১ - আবু মিকলাস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে সালিহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুআবিয়া ইবনে সালিহ সুলাইমান ইবনে আমির থেকে, তিনি আবু উমামা থেকে, তিনি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: «নিশ্চয় আল্লাহ আমার উম্মতের মধ্য থেকে সত্তর হাজার ব্যক্তিকে কোনো হিসাব ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।» তখন ইয়াযিদ ইবনুল আখরাস আস-সুলামী বললেন: আপনার উম্মতের মধ্যে এই সংখ্যা তো মাছির পালের মাঝে কেবল একটি নীল ⦗পৃষ্ঠা: ৮০⦘ মাছির মতো। তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: «আমার উম্মত থেকে সত্তর হাজার জন কোনো হিসাব ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করবে, যাদের প্রতিটি হাজারের সাথে থাকবে আরও সত্তর হাজার এবং (আমার রবের) তিন আজলা (তিন মুষ্টি)»। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আপনার হাওযের প্রশস্ততা কতটুকু? তিনি বললেন: «আদান ও আম্মানের মধ্যবর্তী দূরত্বের মতো, বরং এটি আরও প্রশস্ত ও আরও প্রশস্ত—এবং তিনি তাঁর হাত দ্বারা ইশারা করলেন—তাতে সোনা ও রুপার দুটি নালা রয়েছে»। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! এর পানীয় কী? তিনি বললেন: «এর পানীয় দুধের চেয়ে সাদা, স্বাদে মধুর চেয়েও মিষ্টি এবং সুঘ্রাণে মেশকের চেয়েও সুগন্ধিযুক্ত। যে ব্যক্তি তা থেকে একবার পান করবে সে আর কখনো তৃষ্ণার্ত হবে না এবং তার চেহারা আর কখনো মলিন হবে না»।
(খণ্ড: ১)
আল-হাওদু ওয়াল কাওসার লি-বাকি বিন মাখলাদ
(পৃষ্ঠা: ৮০)
2 - نا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، قَالَ: نا عَاصِمُ بْنُ خَالِدٍ الْحَضْرَمِيُّ، قَالَ: نا صَفْوَانُ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ سُلَيْمِ بْنِ عَامِرٍ الْخَبَايِرِيِّ، وَأَبِي الْيَمَانِ الْهَوْزَنِيِّ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِنَّ اللَّهَ وَعَدَنِي أَنْ يُدْخِلَ مِنْ أُمَّتِي الْجَنَّةَ سَبْعِينَ أَلْفًا بِغَيْرِ حِسَابٍ» . فَقَالَ يَزِيدُ بْنُ الْأَخْنَسِ السُّلَمِيُّ: وَاللَّهِ مَا أُولَئِكَ فِي أُمَّتِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِلَّا كَالذُّبَابِ الْأَصْهَبِ فِي الذِّبَّانِ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «فَإِنَّ رَبِّي قَدْ وَعَدَنِي سَبْعِينَ أَلْفًا، مَعَ كُلِّ أَلْفٍ سَبْعُونَ أَلْفًا، وَزَادَنِي ثَلَاثَ حَثَيَاتٍ» . قَالَ: فَمَا سَعَةُ حَوْضِكَ يَا نَبِيَّ اللَّهِ؟ قَالَ: «كَمَا بَيْنَ عَدَنَ إِلَى عَمَّانَ، فَأَوْسَعُ فَأَوْسَعُ - يُشِيرُ بِيَدِهِ - قَالَ فِيهِ شِعْبَانِ مِنْ ذَهَبٍ وَفِضَّةٍ» . قَالَ: فَمَا حَوْضُكَ يَا نَبِيَّ اللَّهِ؟ قَالَ: «أَشَدُّ بَيَاضًا مِنَ اللَّبَنِ، وَأَحْلَى مَذَاقَةً مِنَ الْعَسَلِ، وَأَطْيَبُ رَائِحَةً مِنَ الْمِسْكِ. مَنْ شَرِبَ مِنْهُ لَمْ يَظْمَأْ أَبَدًا، وَلَمْ يَسْوَدَّ وَجْهُهُ أَبَدًا»
২ - আমাদের কাছে আহমাদ বিন হাম্বল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আসিম বিন খালিদ আল-হাদরামি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সাফওয়ান বিন আমর বর্ণনা করেছেন, তিনি সুলাইম বিন আমির আল-খাবায়িরি ও আবু ইয়ামান আল-হাওজানি থেকে, তারা আবু উমামা থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তিনি আমার উম্মতের মধ্য থেকে সত্তর হাজার ব্যক্তিকে বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।» তখন ইয়াজিদ বিন আল-আখনাস আস-সুলামি বললেন: আল্লাহর কসম, হে আল্লাহর রাসুল! আপনার উম্মতের মাঝে তারা তো এক পাল সাধারণ মাছির মধ্যে একটি লালচে মাছির ন্যায়। তখন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: «নিশ্চয়ই আমার রব আমাকে সত্তর হাজারের ওয়াদা দিয়েছেন, যাদের প্রত্যেকের সাথে আরও সত্তর হাজার করে থাকবে, এবং তিনি আমাকে আল্লাহর হাতের তিন মুষ্টি (অঞ্জলি) অতিরিক্ত দান করেছেন।» তিনি জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর নবী, আপনার হাউজের প্রশস্ততা কতটুকু? তিনি বললেন: «আদন থেকে আম্মান পর্যন্ত দূরত্বের মতো, বরং তার চেয়েও বেশি প্রশস্ত—এ কথা বলে তিনি তাঁর হাত দিয়ে ইশারা করলেন—তিনি বললেন: তাতে সোনা ও রুপার দুটি নালিকা রয়েছে।» তিনি জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর নবী, আপনার হাউজটি কেমন? তিনি বললেন: «তা দুধের চেয়েও অধিক শুভ্র, মধুর চেয়েও অধিক মিষ্টি এবং মিশকের চেয়েও অধিক সুগন্ধিযুক্ত। যে ব্যক্তি তা থেকে পান করবে সে আর কখনো তৃষ্ণার্ত হবে না এবং তার চেহারা কখনো কালো হবে না।»
(খণ্ড: ১)
আল-হাওদু ওয়াল কাওসার লি-বাকি বিন মাখলাদ
(পৃষ্ঠা: ৮১)
مَا رَوَى أَبُو سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ
আবু সাঈদ আল-খুদরী যা বর্ণনা করেছেন
(খণ্ড: ১)
আল-হাওদু ওয়াল কাওসার লি-বাকি বিন মাখলাদ
(পৃষ্ঠা: ৮১)
3 - نا أَبُو بَكْرٍ، قَالَ: نا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، قَالَ: نا زَكَرِيَّا، عَنْ عَطِيَّةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِنَّ لِي حَوْضًا طُولُهُ مَا بَيْنَ الْكَعْبَةِ إِلَى بَيْتِ الْمَقْدِسِ، أَبْيَضُ مِثْلُ اللَّبَنِ، آنِيَتُهُ مِثْلُ عَدَدِ النُّجُومِ، وَإِنِّي أَكْثَرُ الْأَنْبِيَاءِ تَبَعًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ»
৩ - আবু বকর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে বিশর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যাকারিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আতিয়্যাহ থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই আমার একটি হাওয রয়েছে যার দৈর্ঘ্য কাবা থেকে বাইতুল মাকদিস পর্যন্ত, তা দুধের ন্যায় সাদা, এর পানপাত্রগুলো নক্ষত্রের সংখ্যার ন্যায়; আর নিশ্চয়ই কিয়ামতের দিন সকল নবীর তুলনায় আমার অনুসারী সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি হবে»
(খণ্ড: ১)
আল-হাওদু ওয়াল কাওসার লি-বাকি বিন মাখলাদ
(পৃষ্ঠা: ৮১)
4 - نا دُحَيْمٌ، قَالَ: نا أَنَسُ بْنُ عِيَاضٍ، قَالَ: نا أُنَيْسٌ الْأَسْلَمِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، 5 - وَنا ابْنُ كَاسِبٍ، قَالَ: نا أُنَس ح وَعَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ أُنَيْسِ بْنِ أَبِي يَحْيَى - يَزِيدُ أَحَدُهُمَا عَلَى صَاحِبِهِ فِي اللَّفْظِ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ 6 - وَنا الْعُثْمَانِيُّ، قَالَ: نا أَبُو ضَمْرَةَ، عَنْ أُنَيْسِ بْنِ أَبِي يَحْيَى، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: بَيْنَا نَحْنُ جُلُوسٌ فِي الْمَسْجِدِ خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْمَرَضِ الَّذِي تُوُفِّيَ مِنْهُ عَاصِبًا رَأْسَهُ بِخِرْقَةٍ، فَجَاءَ حَتَّى قَامَ عَلَى الْمِنْبَرِ، فَلَمَّا اسْتَوَى عَلَيْهِ قَالَ: «وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنِّي لَقَائِمٌ عَلَى الْحَوْضِ السَّاعَةَ. إِنَّ رَجُلًا عُرِضَتْ عَلَيْهِ الدُّنْيَا وَزِينَتُهَا ⦗ص: 82⦘، اخْتَارَ الْآخِرَةَ» . فَلَمْ يَفْهَمْهَا مِنَ الْقَوْمِ أَحَدٌ إِلَّا أَبُو بَكْرٍ، فَبَكَى، ثُمَّ قَالَ: بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي. فَدَيْنَاكَ بِآبَائِنَا وَأَنْفُسِنَا وَأَمْوَالِنَا. ثُمَّ نَزَلَ فَمَا قَامَ عَلَيْهِ حَتَّى السَّاعَةِ وَقَالَ دُحَيْمٌ وَالْعُثْمَانِيُّ: فَخَرَجَ يمشي حَتَّى قَامَ عَلَى الْمِنْبَرِ. وَقَالَ الْعُثْمَانِيُّ: فَلَمَّا اسْتَوَى عَلَيْهِ، وَانْتَهَى حَدِيثُ ابْنِ أَبِي شَيْبَةَ إِلَى: «إِنِّي لَقَائِمٌ عَلَى الْحَوْضِ السَّاعَةَ» ، 7 - وَنا ابْنُ أَبِي شَيْبَةَ، عَنْ حَاتِمِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ أُنَيْسٍ، مِثْلَ حَدِيثِ دُحَيْمٍ
4 - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন দুহাইম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আনাস ইবন ইয়াদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উনাইস আল-আসলামী, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সাঈদ থেকে, 5 - এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবন কাসিব, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আনাস (হ) এবং আব্দুল আযীয ইবন মুহাম্মদ, তাঁরা উনাইস ইবন আবি ইয়াহইয়া থেকে—তাঁদের একজন অন্যজনের চেয়ে শব্দে কিছুটা বেশি বর্ণনা করেছেন—তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী থেকে বর্ণনা করেন, 6 - এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-উসমানী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু দামরাহ, উনাইস ইবন আবি ইয়াহইয়া থেকে, তিনি বলেন: আমার পিতা আবু সাঈদ আল-খুদরী থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: একদা আমরা মসজিদে বসা ছিলাম, এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই অসুস্থতার সময় আমাদের নিকট বের হয়ে আসলেন যাতে তিনি ইন্তেকাল করেছেন। তাঁর মাথায় একটি কাপড় বাঁধা ছিল। তিনি আসলেন এবং মিম্বরের ওপর দাঁড়ালেন। অতঃপর যখন তিনি তার ওপর উঠলেন, তখন বললেন: «সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ, নিশ্চয়ই আমি এই মুহূর্তে হাউযের ওপর দাঁড়িয়ে আছি। এক ব্যক্তিকে দুনিয়া এবং এর চাকচিক্য ⦗পৃষ্ঠা: ৮২⦘ গ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সে আখিরাতকে বেছে নিয়েছে»। উপস্থিত লোকদের মধ্যে আবু বকর ছাড়া আর কেউ তা বুঝতে পারলেন না, ফলে তিনি কেঁদে ফেললেন। অতঃপর তিনি বললেন: আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক। আমরা আমাদের পিতা, আমাদের নিজেদের প্রাণ এবং আমাদের সম্পদ দিয়ে আপনার জন্য মুক্তিপণ হতে প্রস্তুত। তারপর তিনি নেমে আসলেন এবং বর্তমান সময় পর্যন্ত আর তাতে দাঁড়াননি। দুহাইম এবং আল-উসমানী বলেন: অতঃপর তিনি হেঁটে বের হলেন এবং মিম্বরের ওপর দাঁড়ালেন। আল-উসমানী বলেন: যখন তিনি তার ওপর উঠলেন। আর ইবন আবি শাইবাহর হাদীসটি «নিশ্চয়ই আমি এই মুহূর্তে হাউযের ওপর দাঁড়িয়ে আছি» পর্যন্ত সমাপ্ত হয়েছে। 7 - এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবন আবি শাইবাহ, হাতিম ইবন ইসমাঈল থেকে, তিনি উনাইস থেকে, দুহাইমের হাদীসের অনুরূপ।
(খণ্ড: ১)
আল-হাওদু ওয়াল কাওসার লি-বাকি বিন মাখলাদ
(পৃষ্ঠা: ৮৩)
مَا رَوَى عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ
আবদুল্লাহ ইবন উমর যা বর্ণনা করেছেন
(খণ্ড: ১)
আল-হাওদু ওয়াল কাওসার লি-বাকি বিন মাখলাদ
(পৃষ্ঠা: ৮৩)
8 - نا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، قَالَ: نا حَمَّادٌ، قَالَ: نا أَيُّوبُ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ أَمَامَكُمْ حَوْضًا مَا بَيْنَ نَاحِيَتَيْهِ مَا بَيْنَ جَرْبَاءَ وَأَذْرُحَ»
৮ - আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাম্মাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আইয়ুব বর্ণনা করেছেন নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই তোমাদের সামনে একটি হাউজ রয়েছে, যার দুই প্রান্তের মধ্যবর্তী দূরত্ব হলো জারবা ও আজরুহ-এর মধ্যবর্তী দূরত্বের সমান।"
(খণ্ড: ১)
আল-হাওদু ওয়াল কাওসার লি-বাকি বিন মাখলাদ
(পৃষ্ঠা: ৮৩)
9 - نا قَاسِمُ بْنُ عُثْمَانَ الْقُرَشِيُّ، قَالَ: نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نَافِعٍ الصَّائِغُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ 10 - وَنا بَكَّارُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْقُرَشِيُّ، عَنِ ابْنِ نَافِعٍ، عَنْ مَالِكٍ، بِإِسْنَادِهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَا بَيْنَ مِنْبَرِي وَبَيْتِي رَوْضَةٌ مِنْ رِيَاضِ الْجَنَّةِ، وَإِنَّ مِنْبَرِي لَعَلَى حَوْضِي»
৯ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাসিম বিন উসমান আল-কুরাশী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন নাফে আস-সায়িগ, মালিক থেকে, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে (বর্ণিত)। ১০ - এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বাক্কার বিন আব্দুল্লাহ আল-কুরাশী, ইবনে নাফে থেকে, তিনি মালিক থেকে, তাঁর বর্ণিত সনদে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমার মিম্বর ও আমার ঘরের মধ্যবর্তী স্থান জান্নাতের বাগানসমূহের মধ্য হতে একটি বাগান, এবং নিশ্চয় আমার মিম্বর আমার হাউযের উপরে অবস্থিত।»
(খণ্ড: ১)
আল-হাওদু ওয়াল কাওসার লি-বাকি বিন মাখলাদ
(পৃষ্ঠা: ৮৩)
11 - نا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ: نا يَحْيَى، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، قَالَ: أَخْبَرَنِي نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ⦗ص: 84⦘ 12 - وَنا أَبُو بَكْرٍ، قَالَ: نا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، قَالَ: نا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ أَمَامَكُمْ حَوْضِي كَمَا بَيْنَ جَرْبَاءَ وَأَذْرُحَ» رَوَاهُ أَبُو بَكْرٍ فَقَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ: فَسَأَلْتُهُ، فَقَالَ: قَرْيَتَيْنِ بِالشَّامِ بَيْنَهُمَا مَسِيرَةُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ
১১ - মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উবাইদুল্লাহ থেকে, তিনি বলেন: নাফে' আমাকে সংবাদ দিয়েছেন ইবনে ওমরের সূত্রে⦗পৃষ্ঠা: ৮৪⦘ ১২ - এবং আবু বকর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে বিশর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উবাইদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন নাফে' থেকে যে, আব্দুল্লাহ বলেছেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই তোমাদের সম্মুখে আমার হাওয রয়েছে, যেমন জারবা এবং আদরুহ-এর মধ্যবর্তী (দূরত্ব)» এটি আবু বকর বর্ণনা করেছেন। অতঃপর উবাইদুল্লাহ বললেন: আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন: (এগুলো হলো) শাম দেশের দুটি জনপদ, যাদের মধ্যবর্তী দূরত্ব তিন দিনের পথ।
(খণ্ড: ১)
আল-হাওদু ওয়াল কাওসার লি-বাকি বিন মাখলাদ
(পৃষ্ঠা: ৮৪)
13 - نا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ: نا وَهْبٌ، قَالَ: نا أَبِي، نا أَيُّوبُ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ أَمَامَكُمْ حَوْضًا مَا بَيْنَ نَاحِيَتَيْهِ مَا بَيْنَ جَرَبَا وَأَذْرُحَ»
১৩ - মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ওয়াহব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আইয়ুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই তোমাদের সামনে একটি হাউজ রয়েছে, যার দুই প্রান্তের মধ্যবর্তী দূরত্ব হলো জারবা ও আযরুহের মধ্যবর্তী দূরত্বের সমান»
(খণ্ড: ১)
আল-হাওদু ওয়াল কাওসার লি-বাকি বিন মাখলাদ
(পৃষ্ঠা: ৮৫)
مَا رَوَاهُ عُقْبَةُ بْنُ عَامِرٍ
উকবা ইবনে আমির যা বর্ণনা করেছেন
(খণ্ড: ১)
আল-হাওদু ওয়াল কাওসার লি-বাকি বিন মাখলাদ
(পৃষ্ঠা: ৮৫)
14 - نا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ: نا وَهْبٌ، نا أَبِي، قَالَ،: سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ أَيُّوبَ، يُحَدِّثُ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ مَرْثَدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، قَالَ: صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى قَتْلَى أُحُدٍ. ثُمَّ صَعِدَ الْمِنْبَرَ كَالْمُوَدِّعِ لِلْأَحْيَاءِ وَالْأَمْوَاتِ فَقَالَ: «إِنِّي فَرَطُكُمْ عَلَى الْحَوْضِ، وَإِنَّ عَرَضَهُ كَمَا بَيْنَ أَيْلَةَ إِلَى الْجُحْفَةَ. وَإِنِّي لَسْتُ أَخْشَى عَلَيْكُمْ أَنْ تُشْرِكُوا بَعْدِي، وَلَكِنِّي أَخْشَى عَلَيْكُمُ الدُّنْيَا أَنْ تَنَافَسُوا فِيهَا وَتَقْتَتِلُوا فَتَهْلِكُوا كَمَا هَلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ» . قَالَ عُقْبَةُ: فَكَانَ آخِرَ مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْمِنْبَرِ
১৪ - আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ওয়াহাব হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আমার পিতা হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুবকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব থেকে, তিনি মারসাদ ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে, আর তিনি উকবা ইবনে আমির থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদের শহীদদের ওপর সালাত আদায় করলেন। অতঃপর তিনি মিম্বরে উঠলেন এমন এক ব্যক্তির ন্যায় যে জীবিত ও মৃতদের নিকট থেকে বিদায় গ্রহণ করছে। অতঃপর তিনি বললেন: “নিশ্চয়ই আমি হাউজের নিকট তোমাদের অগ্রবর্তী। আর এর প্রশস্ততা হলো আয়লা থেকে জুহফাহ পর্যন্ত। আমি তোমাদের ব্যাপারে এই আশঙ্কা করি না যে আমার পরে তোমরা শিরকে লিপ্ত হবে, তবে আমি তোমাদের ব্যাপারে দুনিয়ার মোহ নিয়ে আশঙ্কা করছি যে তোমরা দুনিয়া অর্জনে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করবে, পরষ্পর লড়াই করবে এবং পরিণামে ধ্বংস হয়ে যাবে যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীরা ধ্বংস হয়েছিল।” উকবা বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মিম্বরে দেখা এটিই ছিল আমার শেষ দেখা।
(খণ্ড: ১)
আল-হাওদু ওয়াল কাওসার লি-বাকি বিন মাখলাদ
(পৃষ্ঠা: ৮৬)
مَا رَوَى عُتْبَةُ بْنُ عَبْدٍ السُّلَمِيُّ
উতবাহ বিন আবদ আস-সুলামী যা বর্ণনা করেছেন
(খণ্ড: ১)
আল-হাওদু ওয়াল কাওসার লি-বাকি বিন মাখলাদ
(পৃষ্ঠা: ৮৬)
15 - نا ابْنُ ذَكْوَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَرْوَانُ، قَالَ: نا مُعَاوِيَةُ بْنُ سَلَّامٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَخِي زَيْدُ بْنُ سَلَّامٍ أَنَّهُ سَمِعَ جَدَّهُ أَبَا سَلَّامٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ زَيْدٍ الْبِكَالِيُّ، أَنَّهُ سَمِعَ عُتْبَةَ بْنَ عَبْدٍ السُّلَمِيِّ، يَقُولُ: جَاءَ أَعْرَابِيٌّ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا حَوْضُكَ هَذَا الَّذِي تَحَدَّثُ عَنْهُ؟ قَالَ: «هُوَ مَا بَيْنَ الْبَيْضَاءِ إِلَى بُصْرَى، وَيَمُدُّنِي اللَّهُ فِيهِ بِكُرَاعٍ لَا يَدْرِي أَحَدٌ مِمَّنْ خَلَقَ اللَّهُ أَيْنَ طَرَفَيْهِ» . قَالَ: فَكَبَّرَ عُمَرُ. فَقَالَ: أَمَّا الْحَوْضُ فَيَرِدُ عَلَيْهِ فُقَرَاءُ الْمُهَاجِرِينَ الَّذِينَ يُقْتَلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَيَمُوتُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، وَأَرْجُو أَنْ يُورِدَنِيَ اللَّهُ الْكُرَاعَ فَأَشْرَبَ مِنْهُ "
১৫ - ইবনু জাকওয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মারওয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুয়াবিয়া ইবনু সাল্লাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার ভাই জাইদ ইবনু সাল্লাম আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাঁর দাদা আবু সাল্লামকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: আমর ইবনু জাইদ আল-বিকালি আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি উতবাহ ইবনু আবদ আস-সুলামীকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: জনৈক গ্রাম্য ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনার এই হাউজটি কী যার সম্পর্কে আপনি আলোচনা করেন? তিনি বললেন: «এটি বাইদা থেকে বুসরা পর্যন্ত বিস্তৃত, আর আল্লাহ আমাকে এতে তাঁর পা দিয়ে প্রশস্ততা বাড়িয়ে দেবেন যার দুই প্রান্ত আল্লাহর সৃষ্টির কেউ জানে না কোথায় অবস্থিত»। বর্ণনাকারী বলেন: তখন উমর তাকবীর দিলেন। এরপর তিনি বললেন: «হাউজের ব্যাপারটি হলো, সেখানে মুহাজিরদের দরিদ্ররা আসবে যারা আল্লাহর পথে নিহত হয় এবং আল্লাহর পথে মৃত্যুবরণ করে। আর আমি আশা করি আল্লাহ আমাকে সেই পা-এর নিকট উপনীত করবেন যাতে আমি তা থেকে পান করতে পারি।»
(খণ্ড: ১)
আল-হাওদু ওয়াল কাওসার লি-বাকি বিন মাখলাদ
(পৃষ্ঠা: ৮৬)
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ اللَّهَ وَعَدَنِي أَنْ يُدْخِلَ مِنْ أُمَّتِي الْجَنَّةَ سَبْعِينَ أَلْفًا مِنْ غَيْرِ حِسَابٍ، وَيَشْفَعُ كُلُّ أَلْفٍ لِسَبْعِينَ أَلْفًا وَحَثَا لِي بِكَفِّهِ ثَلَاثَ حَثَيَاتٍ» قَالَ: فَكَبَّرَ عُمَرُ، فَقَالَ: سَبْعُونَ أَلْفًا كُلُّهُمْ يَشْفَعُونَ فِي آبَائِهِمْ وَأَبْنَائِهِمْ وَعَشَائِرِهِمْ، وَأَرْجُو أَنْ يَجْعَلَنِي فِي إِحْدَى الْحَثَيَاتِ الثَّلَاثِ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ فَهَلْ فِي الْجَنَّةِ شَجَرٌ؟ قَالَ: " نَعَمْ، فِيهَا شَجَرَةٌ ⦗ص: 87⦘ تُدْعَى: طُوبَى بُطْنَانِ الْفِرْدَوْسِ ". قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَأَيَّ شَجَرِنَا تُشْبِهُ؟ قَالَ: " شَجَرَةٌ بِالشَّامِ يُقَالُ لَهَا: الْجَوْزَةُ تَنْبُتُ عَلَى سَاقٍ وَاحِدٍ وَيَنْتَشِرُ أَعْلَاهَا ". قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ فَمَا غِلْظَتُهَا؟ قَالَ: «لَوْ رَكِبْتَ عَلَى جَذَعَةٍ مِنْ إِبِلِكَ مَا أَحَطْتَ بِهَا حَتَّى يَتَكَسَّرَ مِشْفَرُهَا مِنَ السَّيْرِ» . قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلْ فِيهَا مِنْ عِنَبٍ؟ قَالَ: «نَعَمْ» . قَالَ: فَمَا أَعْظَمُ الْعُنْقُودِ؟ قَالَ: «مَسِيرَةُ الْغُرَابِ شَهْرًا لَا يَفْتُرُ، وَلَا يَقَعُ» . قَالَ: فَمَا عِظَمُ الْحَبَّةِ؟ قَالَ: " هَلْ يَجِدُ أَبُوكَ تَيْسًا عَظِيمًا فَيَسْلَخُ جِلْدَهُ، فَقَالَ لِأُمِّكَ: أَفْرِ لَنَا هَذَا الْجِلْدَ نَصْنَعْ بِهِ مَا شِئْنَا "، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ هَذِهِ الْحَبَّةَ تُشْبُعُنِي وَأَهْلَ بَيْتِي؟ قَالَ: «نَعَمْ وَعَامَّةَ عَشِيرَتِكَ»
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে ওয়াদা দিয়েছেন যে, তিনি আমার উম্মতের মধ্য থেকে সত্তর হাজার ব্যক্তিকে হিসাব ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, এবং প্রতি হাজার জন আরও সত্তর হাজার জনের জন্য সুপারিশ করবে। আর তিনি (আল্লাহ) তাঁর হাতের তালু দিয়ে তিন আজলা দিলেন।» তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: তখন উমর (রা.) তাকবীর দিলেন এবং বললেন: সত্তর হাজার জন, যাদের প্রত্যেকে তাদের পিতা, সন্তান এবং গোত্রের লোকদের জন্য সুপারিশ করবে; আর আমি আশা করি আল্লাহ আমাকে ওই তিন আজলার কোনো একটির অন্তর্ভুক্ত করবেন। এরপর তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, জান্নাতে কি কোনো গাছ আছে? তিনি বললেন: "হ্যাঁ, সেখানে একটি গাছ আছে ⦗পৃষ্ঠা: ৮৭⦘ যাকে 'তূবা' বলা হয়, যা ফিরদাউসের মধ্যভাগে অবস্থিত।" তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমাদের কোন গাছের সাথে তার সাদৃশ্য আছে? তিনি বললেন: "শাম দেশের একটি গাছ যাকে 'জাওযাহ' বলা হয়, যা একটি কাণ্ডের ওপর উৎপন্ন হয় এবং তার উপরিভাগ চারদিকে বিস্তৃত হয়।" তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, তার কাণ্ড কতটুকু মোটা? তিনি বললেন: «তুমি যদি তোমার উটের একটি বলিষ্ঠ বাচ্চার ওপর আরোহণ করো, তবে দীর্ঘ পথ চলতে চলতে তার ঠোঁট ফেটে যাওয়ার আগে তুমি তার পরিধি প্রদক্ষিণ করে শেষ করতে পারবে না।» তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, সেখানে কি আঙুর আছে? তিনি বললেন: «হ্যাঁ»। তিনি বললেন: তার একেকটি থোকা কত বড়? তিনি বললেন: «একটি কাক এক মাস পর্যন্ত কোনো বিরতি না দিয়ে এবং কোথাও না বসে উড়লে যতটুকু পথ অতিক্রম করবে।» তিনি বললেন: তার একেকটি দানা কত বড়? তিনি বললেন: "তোমার পিতা কি কখনও কোনো বড় খাসি জবাই করে তার চামড়া ছাড়িয়ে তোমার মাকে বলেননি যে: আমাদের জন্য এই চামড়াটি প্রশস্ত করে দাও যাতে আমরা এটি দিয়ে যা ইচ্ছা তৈরি করতে পারি?" তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, এই একটি দানাই কি আমাকে এবং আমার পরিবারকে তৃপ্ত করবে? তিনি বললেন: «হ্যাঁ, এমনকি তোমার পুরো গোত্রকেও।»
(খণ্ড: ১)
আল-হাওদু ওয়াল কাওসার লি-বাকি বিন মাখলাদ
(পৃষ্ঠা: ৮৮)
مَا رَوَى حُذَيْفَةُ بْنُ أُسَيْدٍ
হুযাইফাহ বিন উসাইদ যা বর্ণনা করেছেন
(খণ্ড: ১)
আল-হাওদু ওয়াল কাওসার লি-বাকি বিন মাখলাদ
(পৃষ্ঠা: ৮৮)
16 - نا دُحَيْمٌ، قَالَ: نا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ سَمُّوَيْهِ، نا سَعِيدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ الْحَسَنِ الْقُرَشِيِّ، عَنْ مَعْرُوفٍ، عَنْ خَرَّبُوذَ، عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ، عَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ أَسِيدٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي فَرَطٌ لَكُمْ، وَإِنَّكُمْ وَارِدُونَ عَلَيَّ الْحَوْضَ، حَوْضِي عَرْضُهُ مَا بَيْنَ صَنْعَاءَ وَبُصْرَى، وَفِيهِ عَدَدُ النُّجُومِ قِدْحَانُ مِنْ ذَهَبٍ وَفِضَّةٍ، وَإِنِّي سَائِلُكُمْ حِينَ تَرِدُونَ عَلَيَّ عَنِ الثَّقَلَيْنِ، فَانْظُرُوا كَيْفَ تَخْلُفُونِي فِيهِمَا، السَّبَبُ الْأَكْبَرُ كَتَابُ اللَّهِ عَزَّوَجَلَّ: سَبَبٌ طَرَفُهُ بِيَدِ اللَّهِ، وَطَرَفُهُ بِأَيْدِيكُمْ، فَاسْتَمْسِكُوا بِهِ وَلَا تَضِلُّوا وَلَا تُبَدِّلُوا. وَعِتْرَتِي أَهْلُ بَيْتِي، فَإِنَّهُ قَدْ نَبَّأَنِي الْعَلِيمُ الْخَبِيرُ أَنَّهُمَا لَنْ يَنْقَضِيَا حَتَّى يَرِدَا عَلَيَّ الْحَوْضَ "
১৬ - দুহাইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইসমাইল বিন আবদুল্লাহ সাম্মুওয়াইহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাঈদ বিন সুলায়মান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যায়িদ বিন আল-হাসান আল-কুরাশী থেকে, তিনি মারূফ থেকে, তিনি খাররাবূয থেকে, তিনি আবু তুফায়েল থেকে, তিনি হুযায়ফা বিন আসীদ থেকে, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "হে লোকসকল! আমি হাউযের নিকট তোমাদের অগ্রগামী। তোমরা আমার নিকট হাউযে উপনীত হবে। আমার সেই হাউযের প্রশস্ততা সানআ ও বুসরার মধ্যবর্তী দূরত্বের সমান। তাতে আসমানের নক্ষত্ররাজির ন্যায় অসংখ্য স্বর্ণ ও রৌপ্যের পানপাত্র রয়েছে। যখন তোমরা আমার নিকট উপনীত হবে, তখন আমি তোমাদের নিকট দুটি ভারী বস্তু সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করব। সুতরাং লক্ষ্য রেখো যে, আমার পরে তোমরা তাদের সাথে কেমন আচরণ করো। তাদের মধ্যে বড়টি হলো মহান আল্লাহর কিতাব; এটি এমন এক রশি যার এক প্রান্ত আল্লাহর হাতে এবং অপর প্রান্ত তোমাদের হাতে। অতএব তোমরা একে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো, তাহলে তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না এবং কোনো পরিবর্তন করবে না। আর (দ্বিতীয়টি হলো) আমার পরিবার-পরিজন, আমার আহলুল বাইত। নিশ্চয়ই সর্বজ্ঞাত ও সম্যক অবহিত সত্তা আমাকে জানিয়েছেন যে, হাউযে আমার নিকট উপনীত হওয়া পর্যন্ত তারা কখনোই একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হবে না।"
(খণ্ড: ১)
আল-হাওদু ওয়াল কাওসার লি-বাকি বিন মাখলাদ
(পৃষ্ঠা: ৮৯)
مَا رَوَى زَيْدُ بْنُ أَرْقَمَ
জায়দ ইবন আরকাম যা বর্ণনা করেছেন
(খণ্ড: ১)
আল-হাওদু ওয়াল কাওসার লি-বাকি বিন মাখলাদ
(পৃষ্ঠা: ৮৯)
17 - نا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَا: نا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ: نا شُعْبَةُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ أَبِي حَمْزَةَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَا أَنْتُمْ مِنْ مِائَةِ أَلْفِ جُزْءٍ، وَسَبْعِينَ أَلْفًا» ابْنُ الْمُثَنَّى قَالَ فِي حَدِيثِهِ - «أَوْ تِسْعِينَ أَلْفًا مِمَّنْ يَرِدُ عَلَيَّ الْحَوْضَ» . قَالُوا: فَسَأَلُوا: كَمْ كُنْتُمْ؟ قَالَ: ثَمَانِمِائَةٍ، أَوْ سَبْعَمِائَةٍ
১৭ - আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবন বাশশার ও মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবন জাফর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট শু‘বাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি আমর ইবন মুররাহ থেকে, তিনি আবু হামজাহ থেকে, তিনি যায়েদ ইবন আরকাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যারা আমার নিকট হাউজে উপস্থিত হবে, তোমরা তাদের এক লক্ষ সত্তর হাজার ভাগের এক ভাগও নও।” ইবনুল মুসান্না তাঁর বর্ণিত হাদীসে বলেছেন— “অথবা নব্বই হাজার ভাগের (এক ভাগ)।” তাঁরা (রাবীগণ) বলেন: অতঃপর তাঁরা জিজ্ঞাসা করলেন: আপনারা কতজন ছিলেন? তিনি বললেন: আটশত অথবা সাতশত।
(খণ্ড: ১)
আল-হাওদু ওয়াল কাওসার লি-বাকি বিন মাখলাদ
(পৃষ্ঠা: ৯০)
مَا رَوَى ثَوْبَانُ
সাওবান যা বর্ণনা করেছেন
(খণ্ড: ১)
আল-হাওদু ওয়াল কাওসার লি-বাকি বিন মাখলাদ
(পৃষ্ঠা: ৯০)
18 - نا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ: نا يَحْيَى بْنُ حَمَّادٍ، قَالَ: نا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ مَعْدَانَ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ الْيَعْمَرِيِّ، عَنْ ثَوْبَانَ، مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِنِّي لَبِعُقْرِ حَوْضِي أَذُودُ عَنْهُ لِأَهْلِ الْيَمَنِ، أَضْرِبُ بِعَصَايَ حَتَّى يَرْفَضَّ» ؟ فَسُئِلَ عَنْ عَرْضِهِ؟ فَقَالَ: «مِنْ مَقَامِي هَذَا إِلَى عُمَانَ» . وَسُئِلَ عَنْ شَرَابِهِ؟ فقَالَ: «أَشَدُّ بَيَاضًا مِنَ اللَّبَنِ، وَأَحْلَى مِنَ الْعَسَلِ، يُغَثُّ فِيهِ مِيزَابَانِ يَمُدَّانِهِ مِنَ الْجَنَّةِ، أَحَدُهُمَا مِنْ ذَهَبٍ وَالْآخَرُ مِنْ وَرِقٍ»
১৮ - মুহাম্মাদ ইবন বাশশার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবন হাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শু'বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, কাতাদাহ থেকে, তিনি সালিম ইবন আবিল জাদ থেকে, তিনি মা'দান ইবন আবি তালহা আল-ইয়া'মারী থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আযাদকৃত দাস সাওবান থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: «আমি অবশ্যই আমার হাউযের কিনারায় থাকব, সেখান থেকে আমি (অন্যদের) সরিয়ে দেব ইয়ামেনবাসীদের জন্য। আমি আমার লাঠি দিয়ে আঘাত করব যাতে তা (পানি) তাদের উপর প্রবাহিত হয়।» এরপর তাঁকে এর প্রশস্ততা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো? তিনি বললেন: «আমার এই স্থান থেকে ওমান পর্যন্ত।» আর তাঁকে এর পানীয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন: «তা দুধের চেয়েও অধিক সাদা এবং মধুর চেয়েও অধিক মিষ্টি। জান্নাত থেকে দু'টি নালা তাতে প্রবাহিত হচ্ছে যা তাতে পানির যোগান দিচ্ছে; যার একটি সোনার এবং অন্যটি রূপার।»
(খণ্ড: ১)
আল-হাওদু ওয়াল কাওসার লি-বাকি বিন মাখলাদ
(পৃষ্ঠা: ৯০)
19 - نا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ، قَالَ: نا مَرْوَانُ يَعْنِي ابْنَ مُحَمَّدٍ، قَالَ: نا مُحَمَّدُ بْنُ مُهَاجِرٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي الْعَبَّاسُ بْنُ سَالِمٍ دِمَشْقِيٌّ ثَبْتٌ، عَنْ أَبِي سَلَّامٍ الْحَبَشِيِّ، قَالَ: بَعَثَ إِلَيَّ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ ⦗ص: 91⦘، فَأَتَيْتُهُ عَلَى بَرِيدٍ، قَالَ: فَلَّمَا قَدِمْتُ عَلَيْهِ قَالَ: لَقَدْ شَقَقْنَا عَلَيْكَ يَا أَبَا سَلَّامٍ فِي مَرْكَبِكَ. قَالَ: أَجَلْ وَاللَّهِ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ. قَالَ: وَاللَّهِ مَا أَرَدْتُ الْمَشَقَّةَ بِكَ، وَلَكِنْ حَدِيثٌ بَلَغَنِي أَنَّكَ تُحَدِّثُ عَنْ ثَوْبَانَ مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْحَوْضِ فَأَحْبَبْتُ أَنْ تُشَافِهَنِي بِهِ. قَالَ: فَقُلْتُ: حَدَّثَنِي ثَوْبَانُ مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ أَنَّهُ قَالَ: «إِنَّ حَوْضِي مَا بَيْنَ عَدَنَ إِلَى أَيْلَةَ، أَشَدُّ بَيَاضًا مِنَ اللَّبَنِ وَأَحْلَى مِنَ الْعَسَلِ، وَأَكَاوِيبُهُ عَدَدُهَا عَدَدُ نُجُومِ السَّمَاءِ، مَنْ شَرِبَ مِنْهُ لَمْ يَظْمَأْ أَبَدًا. وَأَوَّلُ مَنْ يَرِدُهُ عَلَيَّ فُقَرَاءُ الْمُهَاجِرِينَ الدُّنْسُ ثِيَابًا الشُّعْثُ رُءُوسًا، الَّذِينَ لَا يَنْكِحُونَ الْمُتَنَعِّمَاتِ، وَلَا تُفْتَحُ لَهُمُ السُّدَدُ» . قَالَ: فَبَكَى عُمَرُ حَتَّى اخْضَلَّتْ لِحْيَتُهُ، ثُمَّ قَالَ: لَكِّنَّنِي قَدْ نَكَحْتُ الْمُتَنَعِّمَاتِ، وَفُتِحَتْ لِيَ السُّدَدُ، لَا جَرَمَ لَا أَغْسِلُ ثَوْبِي الَّذِي يَلِي جَسَدِي حَتَّى يَتَّسِخَ، وَلَا أَدْهُنُ رَأْسِي حَتَّى يَشْعَثَ
১৯ - আমাদের নিকট মাহমুদ বিন খালিদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মারওয়ান অর্থাৎ ইবনে মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন মুহাজির বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট দামেস্কের নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী আব্বাস বিন সালিম বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু সাল্লাম আল-হাবাশি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: উমর বিন আব্দুল আজিজ আমার নিকট লোক পাঠালেন ⦗পৃষ্ঠা: ৯১⦘, ফলে আমি ডাকযোগের বাহনে চড়ে তাঁর নিকট আসলাম। তিনি বলেন: যখন আমি তাঁর নিকট পৌঁছালাম, তিনি বললেন: হে আবু সাল্লাম, আপনার এই ভ্রমণে আমরা আপনাকে কষ্টের মধ্যে ফেলে দিয়েছি। তিনি বললেন: হ্যাঁ আল্লাহর শপথ, হে আমিরুল মুমিনিন। তিনি বললেন: আল্লাহর শপথ, আমি আপনাকে কষ্টে ফেলতে চাইনি, তবে আমার নিকট একটি হাদিস পৌঁছেছে যে আপনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুক্তদাস সাওবান থেকে হাউজ সম্পর্কে বর্ণনা করেন, তাই আমি সরাসরি আপনার মুখ থেকে তা শুনতে চেয়েছি। তিনি বলেন: আমি বললাম: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুক্তদাস সাওবান আমার নিকট রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: «নিশ্চয়ই আমার হাউজ আদন থেকে আয়লা পর্যন্ত বিস্তৃত, যা দুধের চেয়েও অধিক সাদা এবং মধুর চেয়েও অধিক মিষ্টি। এর পানপাত্রের সংখ্যা আকাশের নক্ষত্ররাজির সমান। যে ব্যক্তি তা থেকে একবার পান করবে, সে আর কখনও তৃষ্ণার্ত হবে না। আর আমার নিকট যারা প্রথম পৌঁছাবে তারা হলো দরিদ্র মুহাজিরগণ, যাদের পোশাক ময়লাযুক্ত এবং মাথার চুল উস্কোখুস্কো; যারা বিলাসী নারীদের বিবাহ করে না এবং যাদের জন্য ফটকসমূহ উন্মুক্ত করা হয় না»। তিনি বলেন: তখন উমর এমনভাবে কাঁদলেন যে তাঁর দাড়ি ভিজে গেল। এরপর তিনি বললেন: কিন্তু আমি তো বিলাসী নারীদের বিবাহ করেছি এবং আমার জন্য ফটকসমূহ উন্মুক্ত করা হয়েছে। অবশ্যই আমি আমার শরীরের সাথে লেগে থাকা পোশাকটি ময়লা না হওয়া পর্যন্ত ধৌত করব না এবং আমার মাথায় তেল দেব না যতক্ষণ না তা উস্কোখুস্কো হয়ে যায়।
(খণ্ড: ১)
আল-হাওদু ওয়াল কাওসার লি-বাকি বিন মাখলাদ
(পৃষ্ঠা: ৯২)
مَا رَوَى حُذَيْفَةُ بْنُ الْيَمَانِ
হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান যা বর্ণনা করেছেন
(খণ্ড: ১)
আল-হাওদু ওয়াল কাওসার লি-বাকি বিন মাখলাদ
(পৃষ্ঠা: ৯২)
20 - نا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ: نا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ طَارِقٍ، عَنْ رِبْعِيٍّ، عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «حَوْضِي لَأَبْعَدُ مِنْ أَيْلَةَ مِنْ كَذَا وَكَذَا»
২০ - উসমান ইবনে আবী শায়বাহ্ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী ইবনে মুশহির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সা’দ ইবনে তারিক থেকে, তিনি রিবঈ থেকে, তিনি হুযায়ফা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমার হাউয আয়লা থেকে অমুক অমুক স্থানের দূরত্বের চেয়েও অধিক বিস্তৃত।"
(খণ্ড: ১)
আল-হাওদু ওয়াল কাওসার লি-বাকি বিন মাখলাদ
(পৃষ্ঠা: ৯৩)
مَا رَوَى جُنْدُبُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ
যা জুন্দুব ইবনে আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন
(খণ্ড: ১)
আল-হাওদু ওয়াল কাওসার লি-বাকি বিন মাখলাদ
(পৃষ্ঠা: ৯৩)
21 - نا يَحْيَى بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ، قَالَ: نا أَبُو عَوَانَةَ، وَيَزِيدُ بْنُ عَطَاءٍ، وَابْنُ مُحَيَّاةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَيْرٍ، 22 - وَنا ابْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ: نا وَكِيعٌ، عَنْ مِسْعَرٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ رَزِينٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَيْرٍ، 23 - وَنا زَكَرِيَّا بْنُ يَحْيَى، عَنْ صُبَيْحٍ، قَالَ: نا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ رَزِينٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَيْرٍ، 24 - وَنا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ: نا أَبُو دَاوُدَ، قَالَ: نا شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، 25 - وَنا ابْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ: نا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، 26 - وَنا دُحَيْمٌ، قَالَ: نا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، عَنْ شَيْبَانَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ جُنْدُبٍ، قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «أَنَا فَرَطُكُمُ عَلَى الْحَوْضِ»
21 - ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল হামিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আওয়ানাহ, ইয়াযিদ ইবনে আতা এবং ইবনে মুহায়্যাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তারা আব্দুল্লাহ ইবনে উমায়র থেকে বর্ণনা করেন। 22 - ইবনে আবি শায়বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ওয়াকি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি মিসআর থেকে, তিনি সুলায়মান ইবনে রাযীন থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে উমায়র থেকে বর্ণনা করেন। 23 - যাকারিয়া ইবনে ইয়াহইয়া সুবাইহ থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইব্রাহিম ইবনে সুলায়মান ইবনে রাযীন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে উমায়র থেকে বর্ণনা করেন। 24 - মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শু’বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্দুল মালিক ইবনে উমায়র থেকে বর্ণনা করেন। 25 - ইবনুল মুসান্না আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে জা’ফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি শু’বাহ থেকে, তিনি আব্দুল মালিক ইবনে উমায়র থেকে বর্ণনা করেন। 26 - দুহায়ম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে আদম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি শায়বান থেকে, তিনি আব্দুল মালিক ইবনে উমায়র থেকে, তিনি জুনদুব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: «আমি হাউযের তীরে তোমাদের অগ্রবর্তী ব্যক্তি হব»
(খণ্ড: ১)
আল-হাওদু ওয়াল কাওসার লি-বাকি বিন মাখলাদ
(পৃষ্ঠা: ৯৪)
مَا رَوَى جَابِرُ بْنُ سَمُرَةَ
জাবির ইবন সামুরা যা বর্ণনা করেছেন
(খণ্ড: ১)
আল-হাওদু ওয়াল কাওসার লি-বাকি বিন মাখলাদ
(পৃষ্ঠা: ৯৪)
27 - نا أَبُو بَكْرٍ، قَالَ: نا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنِ الْمُهَاجِرِ بْنِ مِسْمَارٍ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ: كَتَبْتُ إِلَى جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ: أَخْبِرْنِي بشَيْءٍ سَمِعْتَهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم؟ قَالَ: فَكَتَبَ: إِنِّي سَمِعْتُهُ يَقُولُ: «أَنَا الْفَرَطُ عَلَى الْحَوْضِ»
২৭ - আবু বকর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাতিম ইবনে ইসমাঈল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাজির ইবনে মিসমার থেকে, তিনি আমির ইবনে সা’দ থেকে, তিনি বলেন: আমি জাবির ইবনে সামুরাহ-এর নিকট লিখে পাঠালাম যে: আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে যা শুনেছেন এমন কিছু সম্পর্কে আমাকে অবহিত করুন? তিনি বলেন: অতঃপর তিনি লিখে পাঠালেন: নিশ্চয়ই আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: «আমি হাউজের নিকট তোমাদের অগ্রগামী হব।»