(খণ্ড: ১) আল-জামি লি-আখলাকির রাবী ওয়া আদাবিস সামে লিল-খাতীব আল-বাগদাদী (পৃষ্ঠা: -)
الجامع لأخلاق الراوي وآداب السامع للخطيب البغدادي   (الخطيب البغدادي)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: الجامع لأخلاق الراوي وآداب السامع

المؤلف: أبو بكر أحمد بن علي بن ثابت بن أحمد بن مهدي الخطيب البغدادي (ت 463 هـ)

المحقق: د. محمود الطحان [ت 1444 هـ]

الناشر: مكتبة المعارف - الرياض

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-জামি' লি-আখলাক্বির রাওয়ি ওয়া আদাবিস সামি' - খতিব আল-বাগদাদি   (খতিব আল-বাগদাদি)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র


বইয়ের নাম: আল-জামি' লি-আখলাক্বির রাওয়ি ওয়া আদাবিস সামি'

লেখক: আবু বকর আহমদ বিন আলী বিন সাবিত বিন আহমদ বিন মাহদী খতিব আল-বাগদাদি (মৃত্যু ৪৬৩ হিজরি)

সম্পাদক: ড. মাহমুদ আত-তাহহান [মৃত্যু ১৪৪৪ হিজরি]

প্রকাশক: মাকতাবাতুল মাআরিফ - রিয়াদ

খণ্ড সংখ্যা: ২

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরি

(খণ্ড: ١) আল-জামি লি-আখলাকির রাবী ওয়া আদাবিস সামে লিল-খাতীব আল-বাগদাদী (পৃষ্ঠা: ١)
الْجَامِعُ لِأَخْلَاقِ الرَّاوِي وَآدَابِ السَّامِعِ لِلْخَطِيِبِ الْبَغْدَادِيِّ
আল-খাতিব আল-বাগদাদী রচিত হাদিস বর্ণনাকারীর চরিত্র ও শ্রোতার শিষ্টাচার বিষয়ক পূর্ণাঙ্গ সংকলন।
(খণ্ড: ١) আল-জামি লি-আখলাকির রাবী ওয়া আদাবিস সামে লিল-খাতীব আল-বাগদাদী (পৃষ্ঠা: ٧٥)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، الْحَمْدُ لِلَّهِ ذِي الْقُدْرَةِ وَالْجَلَالِ، وَالنِّعَمِ السَّابِغَةِ وَالْإِفْضَالِ، الَّذِي مَنَّ عَلَيْنَا بِمَعْرِفَتِهِ، وَهَدَانَا إِلَى الْإِقْرَارِ بِرُبُوبِيَّتِهِ، وَجَعَلَنَا مِنْ أُمَّةِ خَاتَمِ النَّبِيِّينَ، السَّامِي بِفَضْلِهِ عَلَى سَائِرِ الْعَالَمِينَ، الطَّاهِرِ الْأَعْرَاقِ، الشَّرِيفِ الْأَخْلَاقِ، الَّذِي قَالَ اللَّهُ الْكَرِيمُ مُخَاطِبًا لَهُ فِي الذِّكْرِ الْحَكِيمِ: {وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ} [سورة: القلم، آية رقم: 4] صلى الله عليه وسلم، وَأَزْلَفَ مَنْزِلَتَهُ لَدَيْهِ، وَعَلَى إِخْوَانِهِ وَأَقْرَبِيهِ وَصَحَابَتِهِ الْأَخْيَارِ وَتَابِعِيهِ، وَسَلَّمَ عَلَيْهِ وَعَلَيْهِمْ أَجْمَعِينَ، دَائِمًا أَبَدًا إِلَى يَوْمِ الدِّينِ. أَمَّا بَعْدُ: فَقَدْ ذَكَرْتُ فِي كِتَابِ «شَرَفُ أَصْحَابِ الْحَدِيثِ» مَا يَحْدُو ذَا الْهِمَّةِ عَلَى تَتَبُّعِ آثَارِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَالِاجْتِهَادِ فِي طَلَبِهَا، وَالْحِرْصِ عَلَى سَمَاعِهَا، وَالِاهْتِمَامِ بِجَمْعِهَا وَالِانْتِسَابِ إِلَيْهَا. وَلِكُلِّ عِلْمٍ طَرِيقَةٌ يَنْبَغِي لِأَهْلِهِ أَنْ يَسْلُكُوهَا، وَآلَاتٌ يَجِبُ عَلَيْهِمْ أَنْ يَأْخُذُوا بِهَا وَيَسْتَعْمِلُوهَا. وَقَدْ رَأَيْتُ خَلْقًا مِنْ أَهْلِ هَذَا الزَّمَانِ يَنْتَسِبُونَ إِلَى الْحَدِيثِ، وَيَعُدُّونَ أَنْفُسَهُمْ مِنْ أَهْلِهِ الْمُتَخَصِّصِينَ بِسَمَاعِهِ وَنَقْلِهِ، وَهُمْ أَبْعَدُ النَّاسِ مِمَّا يَدَّعُونَ، وَأَقَلُّهُمْ مَعْرِفَةً بِمَا إِلَيْهِ يَنْتَسِبُونَ، يَرَى الْوَاحِدُ مِنْهُمْ إِذَا كَتَبَ عَدَدًا قَلِيلًا مِنَ الْأَجْزَاءِ، وَاشْتَغَلَ بِالسَّمَاعِ بُرْهَةً يَسِيرَةً مِنَ الدَّهْرِ، أَنَّهُ صَاحِبُ حَدِيثٍ عَلَى الْإِطْلَاقِ، وَلَمَّا يُجْهِدْ نَفْسَهُ وَيُتْعِبْهَا فِي طِلَابِهِ، وَلَا لَحِقَتْهُ مَشَقَّةُ الْحِفْظِ لِصُنُوفِهِ وَأَبْوَابِهِ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি অসীম ক্ষমতা ও মহিমার অধিকারী এবং পরিপূর্ণ নেয়ামত ও অনুগ্রহ দানকারী; যিনি তাঁর মারেফাত বা পরিচয় দান করে আমাদের ধন্য করেছেন এবং তাঁর রুবুবিয়্যাত বা প্রভুত্ব স্বীকারের পথে আমাদের পরিচালিত করেছেন। আর আমাদের সর্বশেষ নবী (সা.)-এর উম্মতভুক্ত করেছেন, যাঁর শ্রেষ্ঠত্ব সমগ্র জগতের ওপর সুউচ্চ, যিনি পবিত্র বংশোদ্ভূত ও সুমহান চরিত্রের অধিকারী; যাঁর সম্পর্কে মহান আল্লাহ মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে সম্বোধন করে বলেছেন: "নিশ্চয়ই আপনি সুমহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত।" (সূরা আল-কালাম, আয়াত: ৪)। আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন এবং তাঁর মর্যাদা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি করুন; এবং তাঁর ভ্রাতৃগণ, নিকটজন, মহান সাহাবীগণ এবং তাবেয়ীনদের ওপর এবং তাঁর ও তাঁদের সকলের ওপর কিয়ামত পর্যন্ত চিরকাল শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর, আমি আমার 'শরাফু আসহাবিল হাদীস' গ্রন্থে এমন বিষয়াদি উল্লেখ করেছি যা উচ্চাকাঙ্ক্ষী ব্যক্তিকে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ ও আসার অনুসরণে উদ্বুদ্ধ করে এবং তা অন্বেষণে কঠোর পরিশ্রম, শ্রবণে ঐকান্তিকতা, সংগ্রহে মনোনিবেশ এবং এর সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার প্রেরণা জোগায়। প্রতিটি শাস্ত্রেরই একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি থাকে যা সেই শাস্ত্রের অনুসারীদের অনুসরণ করা সমীচীন এবং কিছু উপকরণ থাকে যা গ্রহণ ও ব্যবহার করা তাদের জন্য আবশ্যক। কিন্তু বর্তমান সময়ে আমি এমন একদল মানুষকে দেখেছি যারা নিজেদেরকে হাদীস শাস্ত্রের সাথে সম্পৃক্ত বলে দাবি করে এবং নিজেদেরকে হাদীস শ্রবণ ও বর্ণনায় বিশেষজ্ঞ বলে মনে করে; অথচ তারা তাদের দাবির চেয়ে অনেক দূরে অবস্থান করছে এবং যে শাস্ত্রের সাথে তারা নিজেদের সম্বন্ধ করে সে সম্পর্কে তাদের জ্ঞান অতি সামান্য। তাদের কেউ কেউ যখন সামান্য কিছু পাণ্ডুলিপি লিখে ফেলে এবং জীবনের অতি অল্প সময় হাদীস শ্রবণে ব্যয় করে, তখনই নিজেকে একজন পূর্ণাঙ্গ মুহাদ্দিস হিসেবে ভাবতে শুরু করে; অথচ সে এটি অন্বেষণে নিজেকে বিন্দুমাত্র পরিশ্রান্ত করেনি এবং হাদীসের বিভিন্ন প্রকার ও অধ্যায়গুলো মুখস্থ করার ন্যূনতম কোনো কষ্টও তাকে স্পর্শ করেনি।
(খণ্ড: ١) আল-জামি লি-আখলাকির রাবী ওয়া আদাবিস সামে লিল-খাতীব আল-বাগদাদী (পৃষ্ঠা: ٧٦)
1 - كَمَا نا أَبُو حَازِمٍ عُمَرُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْعَبْدَوِيُّ الْحَافِظُ إِمْلَاءً بِنَيْسَابُورَ، أنا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ، أنا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ الثَّقَفِيُّ، نا مُحَمَّدُ بْنُ سَهْلِ بْنِ عَسْكَرٍ، قَالَ: " حَضَرْتُ الْمَأْمُونَ بِالْمِصِّيصَةِ، فَقَامَ إِلَيْهِ رَجُلٌ بِيَدِهِ مَحْبَرَةٌ فَقَالَ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، صَاحِبُ حَدِيثٍ مُنْقَطِعٌ بِهِ. قَالَ: فَوَقَفَ الْمَأْمُونُ، فَقَالَ لَهُ: إِيشِ تَحْفَظُ فِي بَابِ كَذَا وَكَذَا؟ قَالَ: فَسَكَتَ الرَّجُلُ، فَقَالَ الْمَأْمُونُ: نا ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنْ فُلَانٍ عَنْ فُلَانٍ، عَنْ فُلَانٍ، وَحَدَّثَنَا حَجَّاجٌ الْأَعْوَرُ عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ كَذَا حَتَّى عَدَّدَ لَهُ كَذَا حَدِيثًا، ثُمَّ قَالَ: إِيشِ تَحْفَظُ فِي بَابِ كَذَا؟ قَالَ: فَسَكَتَ، فَسَرَدَ فِيهِ كَذَا حَدِيثًا، ثُمَّ قَالَ: أَحَدُهُمْ يَطْلُبُ الْحَدِيثَ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ، يَقُولُ: أَنَا صَاحِبُ حَدِيثٍ، أَعْطُوهُ ثَلَاثَةَ دَرَاهِمَ "
১ - হাফিজ আবু হাজিম উমর ইবনে আহমাদ ইবনে ইবরাহিম আল-আবদাবি নিশাপুরে শ্রুতলিপি প্রদানের মাধ্যমে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে যিয়াদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আস-সাকাফি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: মুহাম্মদ ইবনে সাহল ইবনে আসকার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি মাসসিসাহ নামক স্থানে আল-মামুনের দরবারে উপস্থিত ছিলাম। তখন হাতে একটি দোয়াত নিয়ে এক ব্যক্তি তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে বললেন: হে আমিরুল মুমিনিন, আমি একজন হাদিস অন্বেষী, যার সফরের পাথেয় ফুরিয়ে গেছে। বর্ণনাকারী বলেন: তখন মামুন থামলেন এবং তাকে জিজ্ঞেস করলেন: 'অমুক অমুক অধ্যায়ে তোমার কী মুখস্থ আছে?' বর্ণনাকারী বলেন: লোকটি নিশ্চুপ হয়ে রইল। তখন মামুন বললেন: 'ইবনে উলাইয়্যাহ আমাদের নিকট অমুক থেকে, তিনি অমুক থেকে এবং তিনি অমুক থেকে বর্ণনা করেছেন,' এবং 'হাজ্জাজ আল-আওয়ার আমাদের নিকট ইবনে জুরাইজ থেকে এভাবে বর্ণনা করেছেন'—এভাবে তিনি তার সামনে বেশ কিছু হাদিস উল্লেখ করলেন। তারপর তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন: 'অমুক অধ্যায়ে তোমার কী মুখস্থ আছে?' বর্ণনাকারী বলেন: সে তখনও চুপ করে থাকল, তখন মামুন সেই অধ্যায়েরও বেশ কিছু হাদিস অনর্গল শুনিয়ে দিলেন। এরপর তিনি বললেন: 'তাদের কেউ মাত্র তিন দিন হাদিস অন্বেষণ করেই দাবি করে বসে যে সে একজন হাদিস বিশারদ! একে তিন দিরহাম দিয়ে দাও।'"
(খণ্ড: ١) আল-জামি লি-আখলাকির রাবী ওয়া আদাবিস সামে লিল-খাতীব আল-বাগদাদী (পৃষ্ঠা: ٧٧)
2 - نا أَبُو طَالِبٍ يَحْيَى بْنُ عَلِيٍّ الطِّيبُ الدَّسْكَرِيُّ لَفْظًا بِحُلْوَانَ، أنا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَلِيِّ بْنِ الْمُقْرِئِ بِأَصْبَهَانَ، نا غَسَّانُ بْنُ رِضْوَانَ بْنِ شُعَيْبٍ أَبُو الْحَسَنِ الْبَزَّازُ، بِبَغْدَادَ، نا أَحْمَدُ بْنُ الْعَبَّاسِ النَّسَائِيُّ، قَالَ: " سَأَلْتُ أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ عَنِ الرَّجُلِ يَكُونُ مَعَهُ مِائَةُ أَلْفِ حَدِيثٍ، يُقَالُ: إِنَّهُ صَاحِبُ حَدِيثٍ؟ قَالَ: لَا، قُلْتُ لَهُ: عِنْدَهُ مِائَتَا أَلْفِ حَدِيثٍ، يُقَالُ: إِنَّهُ صَاحِبُ حَدِيثٍ؟ قَالَ: لَا، قُلْتُ: لَهُ: ثَلَاثُمِائَةِ أَلْفِ حَدِيثٍ؟ فَقَالَ بِيَدِهِ كَذَا، يُرَوِّحُ يَمْنَةً وَيَسْرَةً، وَأَوْمَأَ غَسَّانُ بِيَدِهِ كَذَا وَكَذَا، يُقَلِّبُهَا "
২ - আমাদের নিকট আবু তালিব ইয়াহইয়া ইবনে আলী আত-তাইয়িব আদ-দাসকারি হুলওয়ানে মৌখিকভাবে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আলী ইবনুল মুকরি ইসফাহানে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বাগদাদে গাসসান ইবনে রিদওয়ান ইবনে শুয়াইব আবুল হাসান আল-বাযযায বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমদ ইবনুল আব্বাস আন-নাসায়ী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি আহমদ ইবনে হাম্বলকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যার নিকট এক লক্ষ হাদিস সংরক্ষিত আছে, তাকে কি 'সাহেবুল হাদিস' (হাদিস বিশারদ) বলা যাবে? তিনি বললেন: না। আমি তাকে বললাম: যদি তার নিকট দুই লক্ষ হাদিস থাকে, তবে কি তাকে 'সাহেবুল হাদিস' বলা যাবে? তিনি বললেন: না। আমি তাকে বললাম: যদি তিন লক্ষ হাদিস থাকে? তখন তিনি হাত দিয়ে ডানে ও বামে এভাবে নাড়িয়ে ইশারা করলেন। আর (এই বর্ণনার রাবী) গাসসানও তার হাত দিয়ে এভাবে ওভাবে ঘুরিয়ে ইশারা করলেন।"
(খণ্ড: ١) আল-জামি লি-আখলাকির রাবী ওয়া আদাবিস সামে লিল-খাতীব আল-বাগদাদী (পৃষ্ঠা: ٧٧)
3 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيٍّ الدَّقَّاقُ، نا أَحْمَدُ بْنُ إِسْحَاقَ النَّهَاوَنْدِيُّ، بِالْبَصْرَةِ، نا الْحَسَنُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ خَلَّادٍ، نا الْحَسَنُ بْنُ عُثْمَانَ التُّسْتَرِيُّ، نا أَبُو زُرْعَةَ الرَّازِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا بَكْرِ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ، يَقُولُ: «مَنْ لَمْ يَكْتُبْ عِشْرِينَ أَلْفَ حَدِيثٍ إِمْلَاءً، لَمْ يُعَدَّ صَاحِبَ حَدِيثٍ» وَهُمْ مَعَ قِلَّةِ كُتُبِهِمْ لَهُ، وَعَدَمِ مَعْرِفَتِهِمْ بِهِ أَعْظَمُ النَّاسِ كِبْرًا، وَأَشَدُّ الْخَلْقِ تِيهًا وَعُجْبًا، لَا يُرَاعُونَ لِشَيْخٍ حُرْمَةً، وَلَا يُوجِبُونَ لِطَالِبٍ ذِمَّةً، يَخْرِقُونَ بِالرَّاوِينَ، وَيُعَنِّفُونَ عَلَى الْمُتَعَلِّمِينَ، خِلَافَ مَا يَقْتَضِيهِ الْعِلْمُ الَّذِي سَمِعُوهُ، وَضِدَّ الْوَاجِبِ مِمَّا يَلْزَمُهُمْ أَنْ يَفْعَلُوهُ، وَقَدْ وَصَفَ أَمْثَالَهُمْ بَعْضُ السَّلَفِ فِيمَا
৩ - মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আলী আদ-দাক্কাক আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমদ বিন ইসহাক আন-নাহাওয়ান্দি বসরায় আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাসান বিন আবদুর রহমান বিন খাল্লাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাসান বিন উসমান আত-তুস্তারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু জুরআ আর-রাজি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু বকর বিন আবি শায়বাকে বলতে শুনেছি: «যে ব্যক্তি শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে বিশ হাজার হাদীস লিপিবদ্ধ করেনি, তাকে হাদীস বিশারদ হিসেবে গণ্য করা হবে না» অথচ তাদের নিকট হাদীসের পাণ্ডুলিপি নগণ্য হওয়া এবং এই শাস্ত্র সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকা সত্ত্বেও তারা মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অহংকারী এবং সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে বেশি দাম্ভিক ও আত্মমুগ্ধ। তারা কোনো শায়খের মর্যাদার পরোয়া করে না এবং কোনো শিক্ষার্থীর প্রতি কোনো দায়বদ্ধতা স্বীকার করে না। তারা বর্ণনাকারীদের সাথে রূঢ় আচরণ করে এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি কঠোরতা প্রদর্শন করে, যা তাদের শ্রবণকৃত ইলমের চাহিদার পরিপন্থী এবং তাদের ওপর যা করা আবশ্যক তার সম্পূর্ণ বিপরীত। সালাফদের (পূর্বসূরিদের) কেউ কেউ তাদের ন্যায় ব্যক্তিদের বৈশিষ্ট্য এভাবে বর্ণনা করেছেন যে...
(খণ্ড: ١) আল-জামি লি-আখলাকির রাবী ওয়া আদাবিস সামে লিল-খাতীব আল-বাগদাদী (পৃষ্ঠা: ٧٨)
4 - أَخْبَرَنِي الْقَاضِي أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدٍ الصَّيْمَرِيُّ، نا عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ الرَّازِيُّ، نا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ الزَّعْفَرَانِيُّ، نا أَحْمَدُ بْنُ زُهَيْرٍ، أنا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَّامٍ الْجُمَحِيُّ، قَالَ: قَالَ عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ: «مَا رَأَيْتُ عِلْمًا أَشْرَفَ وَلَا أَهْلًا أَسْخَفَ مِنْ أَصْحَابِ الْحَدِيثِ»
৪ - আমাকে সংবাদ দিয়েছেন কাজী আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আলী বিন মুহাম্মদ আস-সাইমারী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী বিন আল-হাসান আর-রাজি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন আজ-জাফরানি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন জুহাইর, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন সাল্লাম আল-জুমাহি, তিনি বলেন: আমর ইবনুল হারিস বলেছেন: "আমি হাদিস শাস্ত্রের চেয়ে অধিক মর্যাদাবান কোনো জ্ঞান এবং হাদিসবেত্তাদের চেয়ে অধিক নির্বোধ কোনো লোক দেখিনি।"
(খণ্ড: ١) আল-জামি লি-আখলাকির রাবী ওয়া আদাবিস সামে লিল-খাতীব আল-বাগদাদী (পৃষ্ঠা: ٧٨)
5 - وَحَدَّثَنِي أَبُو الْقَاسِمِ الْأَزْهَرِيُّ، أنا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ يَحْيَى، أنا عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ الْأَصْبَهَانِيُّ، نا مُحَمَّدُ بْنُ خَلَفٍ وَكِيعٌ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ يَعْقُوبَ، قَالَ: حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ سَلَّامٍ، قَالَ: سَمِعْتُ حَمَّادَ بْنَ سَلَمَةَ، يَقُولُ: «لَا تَرَى صِنَاعَةً أَشْرَفَ، وَلَا قَوْمًا أَسْخَفَ مِنَ الْحَدِيثِ وَأَصْحَابِهِ» وَالْوَاجِبُ أَنْ يَكُونَ طَلِبَةُ الْحَدِيثِ أَكْمَلَ النَّاسِ أَدَبًا، وَأَشَدَّ الْخَلْقِ تَوَاضُعًا، وَأَعْظَمَهُمْ نَزَاهَةً وَتَدَيُّنًا، وَأَقَلَّهُمْ طَيْشًا وَغَضَبًا، لِدَوَامِ قَرْعِ أَسْمَاعِهِمْ بِالْأَخْبَارِ الْمُشْتَمِلَةِ عَلَى مَحَاسِنِ أَخْلَاقِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَآدَابِهِ ، وَسِيرَةِ السَّلَفِ الْأَخْيَارِ مِنْ أَهْلِ بَيْتِهِ وَأَصْحَابِهِ، وَطَرَائِقِ الْمُحَدِّثِينَ، وَمَآثِرِ الْمَاضِينَ، فَيَأْخُذُوا بِأَجْمَلِهَا وَأَحْسَنِهَا، وَيَصْدِفُوا عَنْ أَرْذَلِهَا وَأَدْوَنِهَا
৫ - আবুল কাসেম আল-আজহারী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, উবায়দুল্লাহ ইবনে উসমান ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আলী ইবনুল হুসাইন আল-আসবেহানী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে খালাফ ওয়াকী‘ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল ইবনে ইয়াকুব আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে সালাম আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি হাম্মাদ ইবনে সালামাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলতেন: «হাদিসের চেয়ে অধিক মর্যাদাবান কোনো বিদ্যা এবং এর অনুসারীদের চেয়ে অধিক লঘুপ্রকৃতির কোনো গোষ্ঠী তুমি দেখবে না।» অথচ কর্তব্য হলো এই যে, হাদিসের শিক্ষার্থীরা শিষ্টাচারের দিক থেকে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক পূর্ণাঙ্গ হবে, বিনয় ও নম্রতায় সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে অগ্রগামী হবে, পবিত্রতা ও ধর্মনিষ্ঠায় তাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হবে এবং চপলতা ও ক্রোধে হবে সবচেয়ে সংযমী। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উত্তম চরিত্র ও শিষ্টাচার, তাঁর পরিবারবর্গ ও পুণ্যবান সাহাবীগণের ন্যায় নেককার পূর্বসূরীদের জীবনী, মুহাদ্দিসগণের কর্মপন্থা এবং অতীতের মনীষীদের গৌরবোজ্জ্বল কীর্তিগাঁথা সম্বলিত সংবাদসমূহ নিরন্তর তাদের কর্ণকুহরে ধ্বনিত হতে থাকে। অতএব, তারা যেন সেগুলোর মধ্য থেকে সবচেয়ে সুন্দর ও শ্রেষ্ঠ বিষয়গুলো গ্রহণ করে এবং যা কিছু নিকৃষ্ট ও তুচ্ছ তা থেকে বিমুখ থাকে।
(খণ্ড: ١) আল-জামি লি-আখলাকির রাবী ওয়া আদাবিস সামে লিল-খাতীব আল-বাগদাদী (পৃষ্ঠা: ٧٨)
6 - أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ إِسْحَاقَ الْحَافِظُ بِأَصْبَهَانَ، نا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرِ بْنِ حَيَّانَ، قَالَ: سَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ عَلِيِّ بْنِ الْجَارُودِ، يَقُولُ: سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ عِيسَى الزَّجَّاجَ، يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبَا عَاصِمٍ، يَقُولُ: «مَنْ طَلَبَ هَذَا الْحَدِيثَ فَقَدْ طَلَبَ أَعْلَى أُمُورِ الدُّنْيَا، فَيَجِبُ أَنْ يَكُونَ خَيْرَ النَّاسِ»
৬ - অসবাহানে হাফেজ আবু নুআইম আহমদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে ইসহাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জাফর ইবনে হাইয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আহমদ ইবনে আলী ইবনুল জারুদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ ইবনে ঈসা আজ-জাজ্জাজকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু আসিমকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: «যে ব্যক্তি এই হাদিস অন্বেষণ করল, সে পার্থিব জগতের সর্বোচ্চ বিষয় অন্বেষণ করল; সুতরাং তার জন্য আবশ্যক হলো মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম হওয়া।»
(খণ্ড: ١) আল-জামি লি-আখলাকির রাবী ওয়া আদাবিস সামে লিল-খাতীব আল-বাগদাদী (পৃষ্ঠা: ٧٨)
7 - أَخْبَرَنِي أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ الْمَرْوَرُوذِيُّ، نا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الضَّبِّيُّ، بِنَيْسَابُورَ، أنا أَبُو عَلِيٍّ الْحُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ الْحَافِظُ، نا مُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدٍ الرَّازِيُّ، نا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْمُزَنِيُّ، بِعَيْنِ زِرْبَةَ، نا مَعْنُ بْنُ عِيسَى، نا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ: «إِنَّ هَذَا الْعِلْمَ أَدَبُ اللَّهِ الَّذِي أَدَّبَ بِهِ نَبِيَّهُ صلى الله عليه وسلم، وَأَدَبُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أُمَّتَهُ، أَمَانَةُ اللَّهِ إِلَى رَسُولِهِ لِيُؤَدِّيَهُ عَلَى مَا أُدِّيَ إِلَيْهِ، فَمَنْ سَمِعَ عِلْمًا فَلْيَجْعَلْهُ أَمَامَهُ حُجَّةً فِيمَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ اللَّهِ عز وجل»
৭ - আবু বকর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আল-মারওয়ারুজি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আদ-দাব্বি নিশাপুরে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আলী আল-হুসাইন ইবনে আলী আল-হাফিয আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ আর-রাজি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-মুযানী আইন যারবাতে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মা'ন ইবনে ঈসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মালিক ইবনে আনাস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে শিহাব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই এই জ্ঞান (ইলম) হলো আল্লাহর শিষ্টাচার (আদব), যা দ্বারা তিনি তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সুশোভিত করেছেন; আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিষ্টাচার হলো তা, যা দ্বারা তিনি তাঁর উম্মতকে সুশোভিত করেছেন। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর রাসূলের নিকট অর্পিত একটি আমানত, যেন তিনি তা সেভাবেই পৌঁছে দেন যেভাবে তাঁর নিকট তা অর্পণ করা হয়েছে। সুতরাং, যে ব্যক্তি কোনো জ্ঞান শ্রবণ করে, সে যেন তাকে নিজের সামনে দলিল হিসেবে নির্ধারণ করে, যা তার এবং পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহর মধ্যকার (হিসাব-নিকাশের) প্রমাণ হবে।"
(খণ্ড: ١) আল-জামি লি-আখলাকির রাবী ওয়া আদাবিস সামে লিল-খাতীব আল-বাগদাদী (পৃষ্ঠা: ٧٩)
8 - أَخْبَرَنِي أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ الْجَبَّارِ السُّكَّرِيُّ، أنا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الشَّافِعِيُّ، نا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْأَزْهَرِ، نا الْمُفَضَّلُ بْنُ غَسَّانَ الْغَلَابِيُّ، حَدَّثَنِي أَبِي أَوِ ابْنُ مِسْعَرٍ، عَنْ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ، أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ: «إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم هُوَ الْمِيزَانُ الْأَكْبَرُ، فَعَلَيْهِ تُعْرَضُ الْأَشْيَاءُ، عَلَى خُلُقِهِ وَسِيرَتِهِ وَهَدْيِهِ، فَمَا وَافَقَهَا فَهُوَ الْحَقُّ، وَمَا خَالَفَهَا فَهُوَ الْبَاطِلُ» وَأَنَا أَذْكُرُ فِي كِتَابِي هَذَا بِمَشِيئَةِ اللَّهِ مَا بِنَقَلَةِ الْحَدِيثِ وَحُمَّالِهِ حَاجَةٌ إِلَى مَعْرِفَتِهِ وَاسْتِعْمَالِهِ، مِنَ الْأَخْذِ بِالْخَلَائِقِ الزَّكِيَّةِ، وَالسُّلُوكِ لِلطَّرَائِقِ الرَّضِيَّةِ، فِي السَّمَاعِ وَالْحَمْلِ وَالْأَدَاءِ وَالنَّقْلِ، وَسُنَنِ الْحَدِيثِ وَرُسُومِهِ، وَتَسْمِيَةِ أَنْوَاعِهِ وَعُلُومِهِ، عَلَى مَا ضَبَطَهُ حُفَّاظُ أَخْلَافِنَا عَنِ الْأَئِمَّةِ مِنْ شُيُوخِنَا وَأَسْلَافِنَا، لِيَتَّبِعُوا فِي ذَلِكَ دَلِيلَهُمْ، وَيَسْلُكُوا بِتَوْفِيقِ اللَّهِ سَبِيلَهُمْ، وَنَسْأَلُ اللَّهَ الْمَعُونَةَ عَلَى مَا يَرْضَى ، وَالْعِصْمَةَ مِنَ اتِّبَاعِ الْبَاطِلِ وَالْهَوَى
৮ - আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল জব্বার আস-সুক্কারি আমাকে অবহিত করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে ইবরাহিম আশ-শাফিঈ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জাফর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুল আজহার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-মুফায্যাল ইবনে গাসসান আল-গালাবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা অথবা ইবনে মিসআর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা থেকে যে, তিনি বলতেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন মহত্তম মানদণ্ড। তাঁরই আদর্শের ওপর ভিত্তি করে সকল বিষয় পেশ করা হয়—তাঁর চরিত্র, তাঁর জীবনচরিত এবং তাঁর হেদায়েতের নিরিখে। সুতরাং যা এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় তাই সত্য, আর যা এর পরিপন্থী হয় তাই বাতিল বা মিথ্যা।» আর আমি আল্লাহর ইচ্ছায় আমার এই কিতাবে সেইসব বিষয় উল্লেখ করব যা হাদীসের বর্ণনাকারী ও বাহকদের জানা এবং অনুসরণ করা প্রয়োজন; যেমন—পবিত্র স্বভাব-চরিত্র গ্রহণ করা এবং হাদীস শ্রবণ, গ্রহণ, প্রদান ও বর্ণনার ক্ষেত্রে সন্তোষজনক পথ অনুসরণ করা। সেইসাথে হাদীসের রীতিনীতি ও এর প্রথা এবং এর প্রকারভেদ ও জ্ঞানসমূহের নামকরণ সম্পর্কেও আলোচনা করব, যেভাবে আমাদের পরবর্তী যুগের হাফেযগণ আমাদের ইমাম, শায়খ এবং পূর্বসূরিদের নিকট থেকে তা সংরক্ষণ করেছেন। যাতে তারা এ ক্ষেত্রে তাঁদের প্রদর্শিত প্রমাণ অনুসরণ করতে পারে এবং আল্লাহর তাওফিকে তাঁদের পথে চলতে পারে। আমরা আল্লাহর নিকট তাঁর সন্তোষজনক কাজের জন্য সাহায্য প্রার্থনা করি এবং বাতিল ও প্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে সুরক্ষা কামনা করি।
(খণ্ড: ١) আল-জামি লি-আখলাকির রাবী ওয়া আদাবিস সামে লিল-খাতীব আল-বাগদাদী (পৃষ্ঠা: ٧٩)
9 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ غَالِبٍ الْخُوَارِزْمِيُّ، أنا أَبُو الْفَضْلِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ خَمِيرَوَيْهِ الْهَرَوِيُّ، أنا الْحُسَيْنُ بْنُ إِدْرِيسَ، نا ابْنُ عَمَّارٍ، نا الْمُعَافَى، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، قَالَ: قَالَ ابْنُ سِيرِينَ: «كَانُوا يَتَعَلَّمُونَ الْهَدْيَ كَمَا يَتَعَلَّمُونَ الْعِلْمَ» قَالَ: وَبَعَثَ ابْنُ سِيرِينَ رَجُلًا فَنَظَرَ كَيْفَ هَدْيُ الْقَاسِمِ وَحَالُهُ "
৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন গালিব আল-খাওয়ারিজমি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফজল মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন খামিরাওয়াইহি আল-হারাউই, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হুসাইন বিন ইদ্রিস, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে আম্মার, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-মুআফা, তিনি মালিক বিন আনাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ইবনে সিরিন বলেছেন: "তাঁরা (সালাফগণ) শিষ্টাচার ও আদর্শ সেভাবেই শিক্ষা করতেন যেভাবে জ্ঞান অর্জন করতেন।" তিনি বলেন: ইবনে সিরিন জনৈক ব্যক্তিকে প্রেরণ করেছিলেন কাসিমের আদর্শ ও অবস্থা প্রত্যক্ষ করার জন্য।
(খণ্ড: ١) আল-জামি লি-আখলাকির রাবী ওয়া আদাবিস সামে লিল-খাতীব আল-বাগদাদী (পৃষ্ঠা: ٨٠)
10 - أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَحْيَى السُّكَّرِيُّ، أنا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الشَّافِعِيُّ، نا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْأَزْهَرِ، نا ابْنُ الْغَلَابِيِّ، نا أَبِي، نا إِبْرَاهِيمُ بْنُ حَبِيبِ بْنِ الشَّهِيدِ، قَالَ: قَالَ لِي أَبِي: «يَا بُنَيَّ، إِيتِ الْفُقَهَاءَ وَالْعُلَمَاءَ، وَتَعَلَّمْ مِنْهُمْ، وَخُذْ مِنْ أَدَبِهِمْ وَأَخْلَاقِهِمْ وَهَدْيِهِمْ، فَإِنَّ ذَاكَ أَحَبُّ إِلَيَّ لَكَ مِنْ كَثِيرٍ مِنَ الْحَدِيثِ»
১০ - আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াহইয়া আস-সুক্কারী আমাকে অবহিত করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আশ-শাফিঈ আমাদের অবহিত করেছেন, জাফর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-আজহার আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ইবনে আল-গালাবি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ইব্রাহিম ইবনে হাবিব ইবনে আশ-শাহিদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে বলেছিলেন: «হে বৎস, তুমি ফকীহ ও আলেমদের সান্নিধ্যে যাও, তাঁদের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করো এবং তাঁদের শিষ্টাচার, চরিত্র ও জীবনপদ্ধতি গ্রহণ করো; কেননা এটি আমার কাছে তোমার অধিক পরিমাণ হাদিস শিক্ষা করার চেয়েও বেশি প্রিয়দায়ক।’»
(খণ্ড: ١) আল-জামি লি-আখলাকির রাবী ওয়া আদাবিস সামে লিল-খাতীব আল-বাগদাদী (পৃষ্ঠা: ٨٠)
11 - أنا الْحَسَنُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ نا أَبُو جَعْفَرٍ أَحْمَدُ بْنُ يَعْقُوبَ الْأَصْبَهَانِيُّ إِمْلَاءً، نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ الْبُخَارِيُّ، نا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعِيدٍ، نا أَبُو تَوْبَةَ، عَنِ ابْنِ الْمُبَارَكِ، قَالَ: قَالَ لِي مَخْلَدُ بْنُ الْحُسَيْنِ: «نَحْنُ إِلَى كَثِيرٍ مِنَ الْأَدَبِ أَحْوَجُ مِنَّا إِلَى كَثِيرٍ مِنَ الْحَدِيثِ»
১১ - আল-হাসান ইবনে আবু বকর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু জাফর আহমদ ইবনে ইয়াকুব আল-আসবাহানী আমাদের নিকট শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে সালিহ আল-বুখারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইব্রাহিম ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু তাওবাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনুল মুবারক থেকে, তিনি বলেন: মাখলাদ ইবনুল হুসাইন আমাকে বলেছেন: «অধিক পরিমাণ হাদীস অর্জনের চেয়ে আমাদের জন্য অধিক পরিমাণ আদব বা শিষ্টাচার অর্জন করা অনেক বেশি প্রয়োজন।»
(খণ্ড: ١) আল-জামি লি-আখলাকির রাবী ওয়া আদাবিস সামে লিল-খাতীব আল-বাগদাদী (পৃষ্ঠা: ٨٠)
12 - أنا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ يَعْقُوبَ، أنا مُحَمَّدُ بْنُ نُعَيْمٍ الضَّبِّيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا زَكَرِيَّا الْعَنْبَرِيَّ، يَقُولُ: " عِلْمٌ بِلَا أَدَبٍ كَنَارٍ بِلَا حَطَبٍ، وَأَدَبٌ بِلَا عِلْمٍ كَرُوحٍ بِلَا جِسْمٍ، وَإِنَّمَا شَبَّهْتُ الْعِلْمَ بِالنَّارِ لِمَا رُوِّينَا عَنْ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ أَنَّهُ قَالَ: مَا وَجَدْتُ لِلْعِلْمِ شَبَهًا إِلَّا النَّارَ، نَقْتَبِسُ مِنْهَا وَلَا نَنْتَقِصُ عَنْهَا "
১২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে ইয়াকুব, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে নুআইম আদ-দাব্বি, তিনি বলেন: আমি আবু যাকারিয়া আল-আনবারি-কে বলতে শুনেছি: "শিষ্টাচারহীন জ্ঞান জ্বালানিহীন আগুনের মতো, আর জ্ঞানহীন শিষ্টাচার দেহহীন আত্মার মতো। মূলত আমি জ্ঞানকে আগুনের সাথে তুলনা করেছি কারণ সুফিয়ান ইবনে উয়ায়নাহ থেকে আমাদের নিকট বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: আমি জ্ঞানের জন্য অগ্নি ব্যতিত অন্য কোনো সদৃশ বস্তু খুঁজে পাইনি; আমরা তা থেকে (আলো) গ্রহণ করি অথচ তাতে কিছুই হ্রাস পায় না।"
(খণ্ড: ١) আল-জামি লি-আখলাকির রাবী ওয়া আদাবিস সামে লিল-খাতীব আল-বাগদাদী (পৃষ্ঠা: ٨٠)
‌‌بَابُ النِّيَّةِ فِي طَلَبِ الْحَدِيثِ يَجِبُ عَلَى طَالِبِ الْحَدِيثِ أَنْ يُخْلِصَ نِيَّتَهُ فِي طَلَبِهِ، وَيَكُونَ قَصْدُهُ بِذَلِكَ وَجْهَ اللَّهِ سُبْحَانَهُ
হাদিস অন্বেষণে নিয়ত সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ। হাদিস অন্বেষণকারীর জন্য আবশ্যক হলো তার এই অন্বেষণে নিয়তকে বিশুদ্ধ করা এবং এর দ্বারা তার উদ্দেশ্য যেন হয় মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন।
(খণ্ড: ١) আল-জামি লি-আখলাকির রাবী ওয়া আদাবিস সামে লিল-খাতীব আল-বাগদাদী (পৃষ্ঠা: ٨١)
13 - فَقَدْ أَرَنَا أَبُو عُمَرَ عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ مَهْدِيٍّ الْبَزَّازُ، أنا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ يَعْقُوبَ بْنِ شَيْبَةَ، نا جَدِّي، نا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أنا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ جَدِّي، وَحَدَّثَنَا أَبُو بَدْرٍ شُجَاعُ بْنُ الْوَلِيدِ، نا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، وأنا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَبِي بَكْرٍ الطِّرَازِيُّ بِنَيْسَابُورَ - وَاللَّفْظُ لَهُ قَالَ: - أنا أَبُو حَامِدٍ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ حَسْنَوَيْهِ الْمُقْرِئُ، نا أَبُو جَعْفَرٍ أَحْمَدُ بْنُ الْفَضْلِ الْعَسْقَلَانِيُّ الصَّائِغُ بِعَسْقَلَانَ، وَأَصْلُهُ مِنْ مَرْو، وَأَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ هِشَامِ بْنِ مُلَاسٍ بِدِمَشْقَ قَالَا: نا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ الْفَزَارِيُّ، نا يَحْيَى بْنُ ⦗ص: 82⦘ سَعِيدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ عَلَى الْمِنْبَرِ يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّةِ، وَإِنَّمَا لِامْرِئٍ مَا نَوَى»
১৩ - আমাদের নিকট আবু উমর আব্দুল ওয়াহিদ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন মাহদী আল-বায্যায বর্ণনা করেছেন, আবু বকর মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন ইয়াকুব বিন শাইবাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার দাদা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াযিদ বিন হারুন বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। আমার দাদা বলেন: এবং আমাদের নিকট আবু বদর শুজা বিন আল-ওয়ালিদ বর্ণনা করেছেন, তিনি ইয়াহইয়া বিন সাঈদ থেকে বর্ণনা করেন। এবং নিশাপুরে আবু আল-হাসান আলী বিন আবি বকর আত-তিরাযী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—এবং শব্দসমূহ তাঁরই—তিনি বলেন: আবু হামিদ আহমাদ বিন আলী বিন হাসনাবাইহ আল-মুকরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আসকালানে আবু জাফর আহমাদ বিন আল-ফজল আল-আসকালানী আস-সাইগ—যাঁর আদি নিবাস মার্ভ-এ—এবং দামেস্কে আবু জাফর মুহাম্মাদ বিন হিশাম বিন মুলাস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট মারওয়ান বিন মুয়াবিয়া আল-ফাযারী বর্ণনা করেছেন, তিনি ইয়াহইয়া বিন ⦗পৃষ্ঠা: ৮২⦘ সাঈদ থেকে, তিনি মুহাম্মাদ বিন ইব্রাহিম থেকে, তিনি আলকামা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি উমর বিন আল-খাত্তাবকে মিম্বারের ওপর দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই কর্মসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, এবং প্রত্যেক ব্যক্তি কেবল তা-ই পাবে যা সে নিয়ত করেছে।»
(খণ্ড: ١) আল-জামি লি-আখলাকির রাবী ওয়া আদাবিস সামে লিল-খাতীব আল-বাগদাদী (পৃষ্ঠা: ٨٢)
14 - نا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ رِزْقٍ الْبَزَّازُ، أنا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ نُصَيْرٍ الْخُلْدِيُّ، نا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سُلَيْمَانَ الْحَضْرَمِيُّ، نا عَلِيُّ بْنُ حَكِيمٍ، قَالَ: سَمِعْتُ وَكِيعًا، يَقُولُ: سَمِعْتُ سُفْيَانَ، يَقُولُ: «مَا شَيْءٌ أَخْوَفُ عِنْدِي مِنْهُ يَعْنِي الْحَدِيثَ، وَمَا مِنْ شَيْءٍ يَعْدِلُهُ لِمَنْ أَرَادَ اللَّهَ بِهِ»
১৪ - আমাদের নিকট আবু আল-হাসান মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে রিজক আল-বাযযায বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট জাফর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে নুসায়ের আল-খুলদি সংবাদ প্রদান করেছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে সুলায়মান আল-হাদরামি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আলী ইবনে হাকিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ওয়াকিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি সুফিয়ানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলতেন: “আমার নিকট হাদিসের চেয়ে অধিক ভীতিপ্রদ আর কোনো বিষয় নেই; এবং যে ব্যক্তি এর দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টির সংকল্প করে, তার জন্য এর সমতুল্য আর কিছুই নেই।”
(খণ্ড: ١) আল-জামি লি-আখলাকির রাবী ওয়া আদাবিস সামে লিল-খাতীব আল-বাগদাদী (পৃষ্ঠা: ٨٣)
15 - أنا عَلِيُّ بْنُ أَبِي عَلِيٍّ الْبَصْرِيُّ، أنا أَبُو نَصْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْبُخَارِيُّ، نا إِسْحَاقُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ خَلَفٍ الْأَزْدِيُّ الْحَافِظُ، قَالَ: سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ أَبِي هَاشِمٍ، قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ الْعَزِيزِ بْنَ أَبِي رِزْمَةَ، قَالَ: أَتَيْنَا إِسْرَائِيلَ مَعَ نَفَرٍ مِنْ أَهْلِ خُرَاسَانَ، فَسَأَلَنَا، قُلْنَا: نَحْنُ مِنْ أَهْلِ مَرْوَ، فَقَالَ: «مَرْوٌ أُمُّ خُرَاسَانَ؟ فَإِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ لَا يَكُونَ أَحَدٌ أَسْعَدَ بِمَا سَمِعْتُمْ مِنْكُمْ فَافْعَلُوا، مَنْ طَلَبَ هَذَا الْعِلْمَ لِلَّهِ تَعَالَى شَرُفَ وَسَعِدَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، وَمَنْ لَمْ يَطْلُبْهُ لِلَّهِ خَسِرَ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةَ» وَلْيَحْذَرْ أَنْ يَجْعَلَهُ سَبِيلًا إِلَى نَيْلِ الْأَعْرَاضِ، وَطَرِيقًا إِلَى أَخْذِ الْأَعْوَاضِ، فَقَدْ جَاءَ الْوَعِيدُ لِمَنِ ابْتَغَى ذَلِكَ بِعِلْمِهِ
১৫ - আমি আলী বিন আবি আলী আল-বসরী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু নাসর আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম আল-বুখারী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক বিন আহমদ বিন খালাফ আল-আজদী আল-হাফিয, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ বিন আবি হাশিমকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আব্দুল আজিজ বিন আবি রিজমাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমরা খুরাসানের একদল লোকের সাথে ইসরাঈলের নিকট আসলাম। তিনি আমাদের জিজ্ঞেস করলেন, আমরা বললাম: আমরা মারভ-এর অধিবাসী। তখন তিনি বললেন: "মারভ কি খুরাসানের জননী নয়? তোমরা যা শুনেছ তার মাধ্যমে তোমাদের চেয়ে অন্য কেউ যেন অধিক সৌভাগ্যবান হতে না পারে—যদি তোমরা এমনটি করতে সক্ষম হও, তবে তাই করো। যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে এই জ্ঞান (ইলম) অন্বেষণ করবে, সে দুনিয়া ও আখেরাতে সম্মানিত ও সৌভাগ্যবান হবে। আর যে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তা অন্বেষণ করবে না, সে দুনিয়া ও আখেরাতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।" আর তাকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে যেন সে একে পার্থিব স্বার্থ হাসিলের উপায় কিংবা প্রতিদান গ্রহণের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ না করে; কারণ যে ব্যক্তি নিজের ইলম দ্বারা পার্থিব উদ্দেশ্য কামনা করবে, তার জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ١) আল-জামি লি-আখলাকির রাবী ওয়া আদাবিস সামে লিল-খাতীব আল-বাগদাদী (পৃষ্ঠা: ٨٣)
16 - أنا أَبُو سَعِيدِ بْنُ مُوسَى بْنِ الْفَضْلِ بْنِ شَاذَانَ الصَّيْرَفِيُّ، بِنَيْسَابُورَ، نا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ الْأَصَمُّ، نا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُنْقِدٍ الْخَوْلَانِيُّ، بِمِصْرَ، قَالَ: حَدَّثَنِي إِدْرِيسُ بْنُ يَحْيَى، عَنِ ابْنِ عَيَّاشٍ الْقِتْبَانِيِّ، عَنْ خَالِدِ بْنِ يَزِيدَ، عَنِ الْمُثَنَّى بْنِ الصَّبَّاحِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَنْ تَعَلَّمَ عِلْمًا يَنْتَفِعُ بِهِ فِي الْأَخِرَةِ يُرِيدُ بِهِ عَرَضَ شَيْءٍ مِنَ الدُّنْيَا لَمْ يَرَحْ رَائِحَةَ الْجَنَّةِ»
১৬ - আমি আবু সাঈদ ইবনে মুসা ইবনুল ফাদল ইবনে শাযান আস-সায়রাফী, নিশাপুরে; আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবুল আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আল-আসাম্ম; আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম ইবনে মুনকিয আল-খাওলানী, মিসরে; তিনি বলেন: আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইদ্রিস ইবনে ইয়াহইয়া, তিনি ইবন আইয়াশ আল-কিতবানী থেকে, তিনি খালিদ ইবনে ইয়াযীদ থেকে, তিনি মুসান্না ইবনে আস-সাব্বাহ থেকে, তিনি আমর ইবনে শুআইব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: «যে ব্যক্তি এমন ইলম (জ্ঞান) শিক্ষা করল যার দ্বারা পরকালীন কল্যাণ অর্জন করা যায়, অথচ সে তা শিক্ষা করল কেবল পার্থিব কোনো সম্পদ বা সুযোগ লাভের উদ্দেশ্যে, সে জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না।’
(খণ্ড: ١) আল-জামি লি-আখলাকির রাবী ওয়া আদাবিস সামে লিল-খাতীব আল-বাগদাদী (পৃষ্ঠা: ٨٤)
17 - أنا أَبُو نُعَيْمٍ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، أنا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ الْمُقْرِئُ، نا أَبُو شُعَيْبٍ الْحَرَّانِيُّ، نا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، وأنا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ السَّرَّاجُ، بِنَيْسَابُورَ، أنا أَبُو عَمْرِو بْنُ مَطَرٍ، نا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ سُلَيْمَانَ، نا بِشْرُ بْنُ الْوَلِيدِ، قَالَا: نا فُلَيْحُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَعْمَرٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " مَنْ تَعَلَّمَ عِلْمًا مِمَّا يُبْتَغَى بِهِ وَجْهُ اللَّهِ، لَا يَتَعَلَّمُهُ إِلَّا لِيُصِيبَ بِهِ عَرَضَ الدُّنْيَا - وَقَالَ أَبُو نُعَيْمٍ: عَرَضًا مِنَ الدُّنْيَا - لَمْ يَجِدْ عَرْفَ الْجَنَّةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ "
১৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফেজ আবু নুআইম আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-মুকরি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু শুআইব আল-হাররানি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনে মানসুর। এবং (অন্য সূত্রে) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন নিশাপুরের আবু আল-কাসিম আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আস-সাররাজ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর ইবনে মাতার, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে সুলাইমান, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন বিশর ইবনুল ওয়ালিদ; তাঁরা উভয়ই বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ফুলাইহ ইবনে সুলাইমান, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে মা’মার থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে ইয়াসার থেকে, তিনি আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি এমন জ্ঞান অর্জন করল যা দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অন্বেষণ করা হয়, কিন্তু সে তা কেবল দুনিয়াবী স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যেই অর্জন করল—আবু নুআইম বলেছেন: দুনিয়ার কোনো সম্পদ লাভের উদ্দেশ্যে—সে কিয়ামতের দিন জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না।"
(খণ্ড: ١) আল-জামি লি-আখলাকির রাবী ওয়া আদাবিস সামে লিল-খাতীব আল-বাগদাদী (পৃষ্ঠা: ٨٤)
18 - أنا أَبُو طَالِبٍ عُمَرُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعِيدٍ الْفَقِيهُ، أنا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ صَالِحٍ الْمَالِكِيُّ، نا مُحَمَّدُ بْنُ سَهْلِ بْنِ بَيْدَاذٍ، بِالْأُبُلَّةِ، نا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخَ، قَالَ: نا نَافِعُ أَبُو هُرْمُزٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَنْ طَلَبَ الْحَدِيثَ أَوِ الْعِلْمَ، يُرِيدُ بِهِ الدُّنْيَا لَمْ يَجِدْ حَرْثَ الْآخِرَةِ»
১৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তালিব উমর ইবনে ইবরাহিম ইবনে সাঈদ আল-ফকিহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সালিহ আল-মালিকি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে সাহল ইবনে বায়দাজ, উবুল্লা নামক স্থানে, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শায়বান ইবনে ফাররুখ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন নাফি' আবু হুরমুজ, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি হাদিস বা জ্ঞান অন্বেষণ করে এবং এর দ্বারা পার্থিব উদ্দেশ্য হাসিল করতে চায়, সে পরকালের কোনো ফসল (প্রতিদান) লাভ করবে না»
(খণ্ড: ١) আল-জামি লি-আখলাকির রাবী ওয়া আদাবিস সামে লিল-খাতীব আল-বাগদাদী (পৃষ্ঠা: ٨٤)
19 - أَخْبَرَنِي أَبُو بَكْرٍ الْبَرْقَانِيُّ، أنا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَبَّاسِ الْخَزَّازُ، نا أَبُو الْعَبَّاسِ بْنُ سَابُورَ الدَّقَّاقُ، نا سُلَيْمَانُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ، قَالَ: سَمِعْتُ إِسْحَاقَ بْنَ عِيسَى بْنِ الطَّبَّاعِ، يَقُولُ: قَالَ حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ: «مَنْ طَلَبَ الْحَدِيثَ لِغَيْرِ اللَّهِ، مَكَرَ بِهِ»
১৯ - আবু বকর আল-বারকানি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন আল-আব্বাস আল-খাযযায আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল আব্বাস বিন সাবুর আদ-দাক্কাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুলায়মান বিন আবদুল জব্বার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইসহাক বিন ঈসা বিন আত-তাব্বা’কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: হাম্মাদ বিন সালামাহ বলেছেন: «যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্যে হাদিস অন্বেষণ করে, তার সাথে প্রতারণা করা হয় (অর্থাৎ সে নিজেই নিজের ক্ষতির শিকার হয়)»
(খণ্ড: ١) আল-জামি লি-আখলাকির রাবী ওয়া আদাবিস সামে লিল-খাতীব আল-বাগদাদী (পৃষ্ঠা: ٨٥)
20 - أنا أَبُو عُثْمَانَ سَعِيدُ بْنُ الْعَبَّاسِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْقُرَشِيُّ الْهَرَوِيُّ، نا الْحُسَيْنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدٍ الصَّفَّارُ، قَالَ: أنا أَبُو الْحَسَنِ الزُّهَيْرِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ عَلِيَّ بْنَ خَشْرَمٍ، يَقُولُ: عَنْ حَسْنُونَ الْعَطَّارِ، يَرْوِي عَنِ ابْنِ الْمُبَارَكِ، قَالَ: قِيلَ لِسُفْيَانَ مَنِ النَّاسُ؟ قَالَ: «الْعُلَمَاءُ» ، قِيلَ: فَمَنِ السَّفَلَةُ؟ قَالَ: «الظَّلَمَةُ» ، قِيلَ: فَمَنِ الْغَوْغَاءُ؟ قَالَ: «الَّذِينَ يَكْتُبُونَ الْحَدِيثَ، يَأْكُلُونَ بِهِ النَّاسَ» قِيلَ: فَمَنِ الْمُلُوكُ؟ قَالَ: «الزُّهَّادُ» وَلْيَتَّقِ الْمُفَاخَرَةَ وَالْمُبَاهَاةَ بِهِ، وَأَنْ يَكُونَ قَصْدُهُ فِي طَلَبِ الْحَدِيثِ نَيْلَ الرِّئَاسَةِ وَاتِّخَاذَ الْأَتْبَاعِ وَعَقْدَ الْمَجَالِسِ، فَإِنَّ الْآفَةَ الدَّاخِلَةَ عَلَى الْعُلَمَاءِ أَكْثَرُهَا مِنْ هَذَا الْوَجْهِ
২০ - আমি আবু উসমান সাঈদ ইবনুল আব্বাস ইবনে মুহাম্মদ আল-কুরাশি আল-হারাউয়ি বর্ণনা করছি, আমাদের নিকট হুসাইন ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ আস-সাফফার বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবুল হাসান আজ-জুহাইরি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আলি ইবনে খাশরামকে বলতে শুনেছি, তিনি হাসনুন আল-আত্তার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি ইবনুল মুবারক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: সুফিয়ানকে (আস-সাওরি) জিজ্ঞাসা করা হলো, প্রকৃত মানুষ কারা? তিনি বললেন: "আলিমগণ।" জিজ্ঞাসা করা হলো, নীচ প্রকৃতির লোক কারা? তিনি বললেন: "জালিমরা।" জিজ্ঞাসা করা হলো, লক্ষ্যহীন জনতা কারা? তিনি বললেন: "যারা হাদিস লেখে কিন্তু এর বিনিময়ে মানুষের সম্পদ ভক্ষণ করে।" জিজ্ঞাসা করা হলো, প্রকৃত রাজা কারা? তিনি বললেন: "দুনিয়াবিমুখ সাধকগণ।" আর হাদিস নিয়ে গর্ব ও অহংকার করা থেকে বেঁচে থাকা উচিত। হাদিস অন্বেষণের ক্ষেত্রে তার উদ্দেশ্য যেন নেতৃত্ব লাভ, অনুসারী সংগ্রহ এবং সভা-মজলিস জমানো না হয়; কেননা আলিমদের ওপর যে বিপর্যয় আপতিত হয়, তার অধিকাংশ এই পথেই আসে।
(খণ্ড: ١) আল-জামি লি-আখলাকির রাবী ওয়া আদাবিস সামে লিল-খাতীব আল-বাগদাদী (পৃষ্ঠা: ٨٥)
21 - أنا الْقَاضِي أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنُ أَحْمَدَ الْحَرَشِيُّ بِنَيْسَابُورَ، نا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ الْأَصَمُّ، نا أَبُو أُمَيَّةَ الطَّرَسُوسِيُّ، نا الْوَلِيدُ بْنُ صَالِحٍ النَّخَّاسُ، نا أَبُو بَكْرٍ الدَّاهِرِيُّ، نا عَطَاءُ بْنُ عَجْلَانَ، عَنْ نُعَيْمِ بْنِ أَبِي هِنْدَ، عَنْ رِبْعِيِّ بْنِ حِرَاشٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ الْيَمَانِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ طَلَبَ الْعِلْمَ لِيُبَاهِيَ بِهِ الْعُلَمَاءَ، أَوْ لِيُمَارِيَ بِهِ الْجُهَلَاءَ، وَلِيُقْبِلَ النَّاسُ إِلَيْهِ بِوُجُوهِهِمْ فَلَهُ النَّارُ»
২১ - আমি আল-কাজী আবু বকর আহমদ ইবনে আল-হাসান ইবনে আহমদ আল-হারশি নিশাপুরে (বলছি), আমাদের নিকট আবু আল-আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আল-আসাম বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু উমাইয়াহ আল-তারসুসি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আল-ওয়ালিদ ইবনে সালিহ আল-নাখখাস বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু বকর আদ-দাহিরি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আতা ইবনে আজলান বর্ণনা করেছেন, তিনি নুয়াইম ইবনে আবি হিন্দ থেকে, তিনি রিবয়ী ইবনে হিরাশ থেকে, আর তিনি হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি আলেমদের সাথে গর্ব করার জন্য, কিংবা মূর্খদের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হওয়ার জন্য এবং মানুষের মনোযোগ নিজের দিকে আকৃষ্ট করার উদ্দেশ্যে ইলম বা জ্ঞান অর্জন করে, তার জন্য রয়েছে জাহান্নাম»
(খণ্ড: ١) আল-জামি লি-আখলাকির রাবী ওয়া আদাবিস সামে লিল-খাতীব আল-বাগদাদী (পৃষ্ঠা: ٨٦)
22 - أنا أَبُو الْحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي نَصْرٍ النَّرْسِيُّ، أنا عَلِيُّ بْنُ عُمَرَ الْخُتُلِّيُّ، نا أَبُو خُبَيْبٍ الْعَبَّاسُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدٍ الْبَرْتِيُّ، نا أَبُو صَالِحٍ أَحْمَدُ بْنُ عَاصِمٍ الْعَبَّادَانِيُّ، نا بَشِيرُ بْنُ مَيْمُونٍ أَبُو صَيْفِيٍّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَشْعَثَ بْنَ سَوَّارٍ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا تَعَلَّمُوا الْعِلْمَ لِتُبَاهُوا بِهِ الْعُلَمَاءَ، وَلِتُمَارُوا بِهِ السُّفَهَاءَ، وَلِتَصْرِفُوا بِهِ وُجُوهَ النَّاسِ إِلَيْكُمْ، فَمَنْ فَعَلَ هَذَا فَهُوَ فِي النَّارِ، وَمَنْ عَلِمْتُمْ هَذَا مِنْهُ فَارْجُمُوهُ بِالْحِجَارَةِ»
২২ - আমি আবুল হুসাইন মুহাম্মদ ইবনে আবি নাসর আন-নারসি বলছি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী ইবনে উমর আল-খুতাল্লি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু খুবাইব আল-আব্বাস ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-বারতি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সালিহ আহমদ ইবনে আসিম আল-আবাদানি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বশির ইবনে মাইমুন আবু সাইফি। তিনি বলেন: আমি আশআস ইবনে সাওয়ারকে মুহাম্মদ ইবনে সিরিন থেকে এবং তিনি হুজাইফা (রা.) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা আলেমদের সাথে অহংকার করার জন্য, নির্বোধদের সাথে ঝগড়া করার জন্য এবং মানুষের দৃষ্টি নিজেদের দিকে নিবদ্ধ করার উদ্দেশ্যে জ্ঞান অর্জন করো না। সুতরাং যে ব্যক্তি এমনটি করবে, সে জাহান্নামে যাবে। আর যার মধ্যে তোমরা এটি দেখতে পাও, তাকে পাথর নিক্ষেপ করো (অর্থাৎ তাকে বর্জন করো)»।
(খণ্ড: ١) আল-জামি লি-আখলাকির রাবী ওয়া আদাবিস সামে লিল-খাতীব আল-বাগদাদী (পৃষ্ঠা: ٨٦)
23 - أنا الْقَاضِي أَبُو عُمَرَ الْقَاسِمُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ الْهَاشِمِيُّ، بِالْبَصْرَةِ، نا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ الْأَثْرَمُ، نا عَلِيُّ بْنُ دَاوُدَ الْقَنْطَرِيُّ، نا سَعِيدُ بْنُ الْحَكَمِ، نا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا تَطْلُبُوا الْعِلْمَ لِتُبَاهُوا بِهِ الْعُلَمَاءَ، وَتُمَارُوا بِهِ السُّفَهَاءَ، وَتَخَيَّرُوا بِهِ الْمَجَالِسَ، فَمَنْ فَعَلَ ذَلِكَ فَالنَّارُ النَّارُ»
২৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বিচারক আবু উমর আল-কাসিম ইবন জাফর ইবন আব্দুল ওয়াহিদ আল-হাশিমী, বসরা নগরীতে; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল আব্বাস মুহাম্মদ ইবন আহমাদ আল-আসরাম; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবন দাউদ আল-কান্তারি; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবন আল-হাকাম; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবন আইয়ুব; তিনি ইবন জুরাইজ থেকে, তিনি আবু যুবাইর থেকে, তিনি জাবির ইবন আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা আলেমদের সাথে অহংকার প্রদর্শনের জন্য, নির্বোধদের সাথে তর্কে লিপ্ত হওয়ার জন্য কিংবা মজলিসসমূহে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের উদ্দেশ্যে জ্ঞান অন্বেষণ করো না। সুতরাং যে ব্যক্তি এমনটি করবে, তার পরিণাম কেবল আগুন আর আগুন»
(খণ্ড: ١) আল-জামি লি-আখলাকির রাবী ওয়া আদাবিস সামে লিল-খাতীব আল-বাগদাদী (পৃষ্ঠা: ٨٧)
24 - أنا عَلِيُّ بْنُ أَبِي عَلِيٍّ الْبَصْرِيُّ، أنا أَبُو نَصْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْبُخَارِيُّ، نا إِسْحَاقُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ خَلَفٍ الْأَزْدِيُّ، نا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ: حَدَّثَنِي إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي أُوَيْسٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَخِي، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بِلَالٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ يَحْيَى، عَنِ ابْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «مَنِ ابْتَغَى الْعِلْمَ لِيُبَاهِيَ بِهِ الْعُلَمَاءَ، أَوْ لِيُمَارِيَ بِهِ السُّفَهَاءَ، أَوْ يُقْبِلَ بِأَفْئِدَةِ النَّاسِ إِلَيْهِ فَإِلَى النَّارِ» وَلْيَجْعَلْ حِفْظَهُ لِلْحَدِيثِ حِفْظَ رِعَايَةٍ، لَا حِفْظَ رِوَايَةٍ، فَإِنَّ رُوَاةَ الْعُلُومِ كَثِيرٌ، وَرُعَاتَهَا قَلِيلٌ، وَرُبَّ حَاضِرٍ كَالْغَائِبِ وَعَالِمٍ كَالْجَاهِلِ، وَحَامِلٍ لِلْحَدِيثِ لَيْسَ مَعَهُ مِنْهُ شَيْءٌ، إِذْ كَانَ فِي اطَّرَاحِهِ لِحُكْمِهِ بِمَنْزِلَةِ الذَّاهِبِ عَنْ مَعْرِفَتِهِ وَعِلْمِهِ
২৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী বিন আবু আলী আল-বাসরী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু নাসর আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ইবরাহীম আল-বুখারী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক বিন আহমদ বিন খালাফ আল-আযদি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইসমাইল, তিনি বলেন: আমার নিকট ইসমাইল বিন আবু উওয়াইস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট আমার ভাই সুলাইমান বিন বিলাল থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি ইসহাক বিন ইয়াহইয়া থেকে, তিনি ইবনে কা’ব বিন মালিক থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: «যে ব্যক্তি আলেমদের সাথে বড়াই করার জন্য, কিংবা মূর্খদের সাথে বিতর্ক করার জন্য, অথবা মানুষের হৃদয়কে নিজের দিকে আকৃষ্ট করার জন্য জ্ঞান অন্বেষণ করবে, তবে (তার গন্তব্য হবে) জাহান্নাম»। আর সে যেন হাদিস হিফজ বা মুখস্থ করাকে তা পালন ও অনুসরণের উদ্দেশ্যে করে, কেবল বর্ণনার উদ্দেশ্যে নয়। কেননা জ্ঞানের বর্ণনাকারী তো অনেক, কিন্তু তার যথাযথ সংরক্ষণকারী ও পালনকারী অতি সামান্য। অনেক সময় উপস্থিত ব্যক্তি অনুপস্থিতের মতো এবং আলেম ব্যক্তি মূর্খের মতো হয়ে থাকে। আবার এমন অনেক হাদিস বহনকারী রয়েছে যার কাছে হাদিসের কোনো নির্যাস নেই; কেননা সে যখন এর বিধানকে বর্জন করে, তখন সে এমন ব্যক্তির স্তরে পৌঁছে যায় যে তার জ্ঞান ও প্রজ্ঞা থেকে বিচ্যুত হয়েছে।
(খণ্ড: ١) আল-জামি লি-আখলাকির রাবী ওয়া আদাবিস সামে লিল-খাতীব আল-বাগদাদী (পৃষ্ঠা: ٨٧)
25 - حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي الْفَتْحِ الْفَارِسِيُّ، نا أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحُسَيْنِ الرَّازِيُّ، نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ طَرْخَانَ، نا زَكَرِيَّا بْنُ يَحْيَى الطَّوِيلُ، قَالَ: نا حَوْشَبُ بْنُ عَبْدِ الْكَرِيمِ الْكِنْدِيُّ، نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَاقِدٍ أَبُو رَجَاءٍ الْهَرَوِيُّ، عَنْ بَهْزِ بْنِ حَكِيمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ تَعَلَّمَ الْحَدِيثَ لَيُحَدِّثَ بِهِ النَّاسَ لَمْ يَرَحْ رَائِحَةَ الْجَنَّةِ، وَإِنَّهُ لَيُصِيبُ رِيحَهَا مِنْ مَسِيرَةِ خَمْسِمِائَةِ عَامٍ»
২৫ - উবায়দুল্লাহ ইবন আবিল ফাতহ আল-ফারিসি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবুল আব্বাস আহমদ ইবন মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন আল-রাজি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ ইবন আলি ইবন তারখান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জাকারিয়া ইবন ইয়াহইয়া আত-তাবিল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাওশাব ইবন আবদিল কারিম আল-কিন্দি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবন ওয়াকিদ আবু রাজা আল-হারাউই আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, বাহজ ইবন হাকিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি কেবল মানুষের নিকট বর্ণনা করার উদ্দেশ্যে হাদিস শিক্ষা করে, সে জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না; অথচ জান্নাতের সুঘ্রাণ পাঁচশত বছরের দূরত্বের পথ হতেও পাওয়া যায়»
(খণ্ড: ١) আল-জামি লি-আখলাকির রাবী ওয়া আদাবিস সামে লিল-খাতীব আল-বাগদাদী (পৃষ্ঠা: ٨٨)
26 - نا أَبُو طَالِبٍ يَحْيَى بْنُ عَلِيِّ بْنِ الطَّيِّبِ الدَّسْكَرِيُّ لَفْظًا بِحُلْوَانَ، نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الدَّامِغَانِيُّ، بِهَا، قَالَ: سَمِعْتُ وَالِدِيَ، يَقُولُ: سَمِعْتُ الْحَسَنَ بْنَ سُفْيَانَ، يَقُولُ: سَمِعْتُ حِبَّانَ بْنَ مُوسَى السُّلَمِيَّ، يَقُولُ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الْمُبَارَكِ الْمَرْوَزِيَّ، يَقُولُ: «مَنْ طَلَبَ الْحَدِيثَ وَكَتَبَ لِيُكْتَبَ عَنْهُ فَلَا يَجِدُ رَائِحَةَ الْجَنَّةِ»
২৬ - আবু তালিব ইয়াহইয়া ইবনে আলি ইবনুত তায়্যিব আদ-দাসকারি হুলওয়ানে আমাদের নিকট মৌখিকভাবে বর্ণনা করেছেন, সেখানে আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আদ-দামেগানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আল-হাসান ইবনে সুফিয়ানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি হিব্বান ইবনে মুসা আস-সুলামিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক আল-মারওয়াযিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: «যে ব্যক্তি হাদিস অন্বেষণ করল এবং তা লিপিবদ্ধ করল যেন তার থেকে তা লিখে নেওয়া হয় (অর্থাৎ লোকমুখে প্রসিদ্ধি লাভের উদ্দেশ্যে), সে জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না»