(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদ লি-ইবনি খুযাইমাহ
(পৃষ্ঠা: -)
التوحيد لابن خزيمة القسم: كتب السنة
الكتاب: كتاب التوحيد وإثبات صفات الرب عز وجل
المؤلف: أبو بكر محمد بن إسحاق بن خزيمة بن المغيرة بن صالح بن بكر السلمي النيسابوري (ت 311هـ)
المحقق: عبد العزيز بن إبراهيم الشهوان
الناشر: مكتبة الرشد - السعودية - الرياض
الطبعة: الخامسة، 1414هـ - 1994م
عدد الأجزاء: 2
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইবনে খুজাইমাহর তাওহীদ বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ
গ্রন্থ: তাওহীদ এবং মহান প্রভুর গুণাবলি সাব্যস্তকরণ সংক্রান্ত গ্রন্থ
লেখক: আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে খুজাইমাহ ইবনে আল-মুগীরাহ ইবনে সালিহ ইবনে বকর আস-সুলামী আন-নিশাপুরী (মৃ. ৩১১ হি.)
গবেষক: আব্দুল আজিজ ইবনে ইব্রাহীম আশ-শাহওয়ান
প্রকাশক: মাকতাবাতুর রুশদ - সৌদি আরব - রিয়াদ
সংস্করণ: পঞ্চম, ১৪১৪ হি. - ১৯৯৪ খ্রি.
খণ্ড সংখ্যা: ২
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ١)
আত-তাওহীদ লি-ইবনি খুযাইমাহ
(পৃষ্ঠা: ١٣)
بَابُ ذِكْرِ الْبَيَانِ مِنْ خَبَرِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي إِثْبَاتِ النَّفْسِ لِلَّهِ عز وجل عَلَى مِثْلِ مُوَافَقَةِ التَّنْزِيلِ الَّذِي بَيْنَ الدَّفَّتَيْنِ مَسْطُورٌ، وَفِي الْمَحَارِيبِ وَالْمَسَاجِدِ وَالْبُيُوتَ وَالسِّكَكِ مَقْرُوءٌ
অধ্যায়: আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার জন্য সত্তা সাব্যস্তকরণ বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস থেকে প্রাপ্ত বর্ণনার উল্লেখ, যা দুই মলাটের মাঝে লিপিবদ্ধ এবং মেহরাব, মসজিদ, ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাটে পঠিত অবতীর্ণ বাণীর (কুরআনের) অনুরূপ ও সংগতিপূর্ণ।
(খণ্ড: ١)
আত-তাওহীদ লি-ইবনি খুযাইমাহ
(পৃষ্ঠা: ١٥)
حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدَّوْرَقِيُّ، قَالَ: ثنا أَبُو مُعَاوِيَةَ، قَالَ: ثنا الْأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِقَوْلِ اللَّهِ: «أَنَا مَعَ عَبْدِي حِينَ يَذْكُرُنِي ، فَإِنْ ذَكَرَنِي فِي نَفْسِهِ ذَكَرْتُهُ فِي نَفْسِي، وَإِنْ ذَكَرَنِي فِي مَلَأٍ ذَكَرْتُهُ فِي مَلَأٍ خَيْرٍ مِنْهُمْ» ⦗ص: 16⦘ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ الْأَشَجُّ، قَالَ: ثنا ابْنُ نُمَيْرٍ، قَالَ: ثنا الْأَعْمَشُ، بِهَذَا السَّنَدِ مِثْلَهُ
ইয়াকুব ইবন ইবরাহিম আদ-দাওরাকি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু মুয়াবিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-আ'মাশ আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বাণী হিসেবে বলেছেন: «আমি আমার বান্দার সাথেই থাকি যখন সে আমাকে স্মরণ করে। যদি সে আমাকে মনে মনে স্মরণ করে, তবে আমি তাকে আমার নিজের মধ্যে স্মরণ করি; আর যদি সে আমাকে কোনো জনসমাবেশে স্মরণ করে, তবে আমি তাকে তাদের অপেক্ষা উত্তম জনসমাবেশে স্মরণ করি» ⦗পৃষ্ঠা: ১৬⦘ আবদুল্লাহ ইবন সাঈদ আল-আশাজ্জ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবন নুমাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-আ'মাশ এই সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ١)
আত-তাওহীদ লি-ইবনি খুযাইমাহ
(পৃষ্ঠা: ١٦)
حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ خَالِدٍ الْعَسْكَرِيُّ، قَالَ: ثنا مُحَمَّدٌ يَعْنِي ابْنَ جَعْفَرٍ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ سُلَيْمَانَ وَهُوَ الْأَعْمَشُ، قَالَ: سَمِعْتُ ذَكْوَانَ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " قَالَ اللَّهُ: عَبْدِي عِنْدَ ظَنِّهِ بِي ، وَأَنَا مَعَهُ إِذَا دَعَانِي، وَإِنْ ذَكَرَنِي فِي نَفْسِهِ ذَكَرْتُهُ فِي نَفْسِي، وَإِنْ ذَكَرَنِي فِي مَلَأٍ ذَكَرْتُهُ فِي مَلَأٍ خَيْرٍ مِنْهُمْ وَأَطْيَبَ "
বিশর ইবনে খালিদ আল-আসকারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ অর্থাৎ ইবনে জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শু'বাহ থেকে, সুলায়মান—যিনি আল-আ'মাশ—থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি যাকওয়ানকে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: "আল্লাহ তাআলা বলেছেন: আমার বান্দা আমার প্রতি যেরূপ ধারণা পোষণ করে আমি তদ্রূপই হই; সে যখন আমাকে ডাকে আমি তার সাথেই থাকি। যদি সে আমাকে মনে মনে স্মরণ করে, তবে আমিও তাকে আমার মনে স্মরণ করি। আর যদি সে আমাকে কোনো সমাবেশে স্মরণ করে, তবে আমি তাকে তাদের চেয়েও শ্রেষ্ঠতর ও পবিত্রতর সমাবেশে স্মরণ করি।"
(খণ্ড: ١)
আত-তাওহীদ লি-ইবনি খুযাইমাহ
(পৃষ্ঠা: ١٦)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ بِشْرٍ، قَالَا: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ ⦗ص: 17⦘، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " قَالَ اللَّهُ تبارك وتعالى: ابْنَ آدَمَ ، اذْكُرْنِي فِي نَفْسِكَ أَذْكُرْكَ فِي نَفْسِي، فَإِنْ ذَكَرْتَنِي فِي مَلَأٍ ذَكَرْتُكَ فِي مَلَأٍ مِنَ الْمَلَائِكَةِ - أَوْ قَالَ -: فِي مَلَأٍ خَيْرٍ مِنْهُمْ " ، فَقَالَ: عَبْدُ الرَّحْمَنِ: ذَكَرْتَنِي فِي نَفْسِكَ ذَكَرْتُكَ فِي نَفْسِي
মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া এবং আবদুর রহমান ইবনে বিশর আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আবদুর রাজ্জাক আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ১৭⦘, তিনি বলেন: মা'মার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা বলেছেন: হে আদমসন্তান, তুমি আমাকে তোমার মনে স্মরণ করো, আমি তোমাকে আমার নিজ সত্তায় স্মরণ করব; আর যদি তুমি আমাকে কোনো সমাবেশে স্মরণ করো, তবে আমি তোমাকে ফেরেশতাদের এক সমাবেশে —অথবা তিনি বলেছেন— তাদের অপেক্ষা উত্তম এক সমাবেশে স্মরণ করব।" অতঃপর আবদুর রহমান বলেন: তুমি আমাকে তোমার মনে স্মরণ করলে আমি তোমাকে আমার নিজ সত্তায় স্মরণ করব।
(খণ্ড: ١)
আত-তাওহীদ লি-ইবনি খুযাইমাহ
(পৃষ্ঠা: ١٧)
حَدَّثَنَا عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ الْعَلَا الْعَطَّارُ، قَالَ: ثنا سُفْيَانُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، وَهُوَ مَوْلَى آلِ طَلْحَةَ ، عَنْ كُرَيْبٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم حِينَ خَرَجَ إِلَى صَلَاةِ الصُّبْحِ وَجُوَيْرِيَةُ جَالِسَةٌ فِي الْمَسْجِدِ ، فَرَجَعَ حِينَ تَعَالَى النَّهَارُ قَالَ: «لَمْ تَزَالِي جَالِسَةً بَعْدِي؟» قَالَتْ: نَعَمْ قَالَ: " قَدْ قُلْتُ بَعْدَكِ أَرْبَعَ كَلِمَاتٍ لَوْ وُزِنَتْ بِهِنَّ لَوَزَنَتْهُنَّ: سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ عَدَدَ خَلْقِهِ، وَمِدَادَ كَلِمَاتِهِ، وَرِضَى نَفْسِهِ ، وَزِنَةَ عَرْشِهِ " ⦗ص: 18⦘ قَالَ أَبُو بَكْرٍ: خَبَرُ شُعْبَةَ عَنْ، مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ مِنْ هَذَا الْبَابِ خَرَّجْتُهُ فِي كِتَابِ الدُّعَاءِ
আব্দুল জব্বার বিন আল-আলা আল-আত্তার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান থেকে—যিনি আলে তালহার আযাদকৃত দাস—তিনি কুরাইব থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন ফজরের সালাতের জন্য বের হলেন, তখন জুওয়াইরিয়া (রাযি.) মসজিদে বসা ছিলেন। অতঃপর দিনের আলো যখন বেশ বেড়ে গেল তখন তিনি ফিরে আসলেন এবং বললেন: «আমি চলে যাওয়ার পর থেকে কি তুমি এভাবেই বসে আছ?» তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি (নবী) বললেন: "তোমার পর আমি এমন চারটি বাক্য বলেছি, যা যদি এগুলোর (তোমার যিকিরের) সাথে ওজন করা হতো তবে সেগুলোই ওজনে ভারী হতো: আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি তাঁর প্রশংসার সাথে—তাঁর সৃষ্টির সংখ্যার সমান, তাঁর কালিমাসমূহের কালির পরিমাণ, তাঁর নিজের সন্তুষ্টির সমান এবং তাঁর আরশের ওজনের সমান।" ⦗পৃষ্ঠা: ১৮⦘ আবু বকর বলেন: শু'বাহ কর্তৃক মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান থেকে বর্ণিত এই অধ্যায়ের বর্ণনাটি আমি 'কিতাবুদ দুআ'-তে সংকলন করেছি।
(খণ্ড: ١)
আত-তাওহীদ লি-ইবনি খুযাইমাহ
(পৃষ্ঠা: ١٨)
حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى، أَخْبَرَنِي أَنَسُ بْنُ عِيَاضٍ، عَنِ الْحَارِثِ، وَهُوَ ابْنُ أَبِي ذُبَابٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ مِينَا، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رضي الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " لَمَّا قَضَى اللَّهُ الْخَلْقَ كَتَبَ فِي كِتَابِهِ عَلَى نَفْسِهِ ، فَهُوَ مَوْضُوعٌ عِنْدَهُ: أَنَّ رَحْمَتِيَ نَالَتْ غَضَبِي " قَالَ لَنَا يُونُسُ: قَالَ لَنَا أَنَسٌ: نَالَتْ
ইউনুস ইবনে আবদিল আলা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আনাস ইবনে ইয়াদ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আল-হারিস থেকে—যিনি ইবনে আবি জুবাব—তিনি আতা ইবনে মিনা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যখন আল্লাহ সৃষ্টিজগত সৃষ্টির ফয়সালা করলেন, তখন তিনি তাঁর কিতাবে নিজের ব্যাপারে লিখে নিলেন, যা তাঁর নিকট রক্ষিত আছে: 'নিশ্চয়ই আমার রহমত আমার ক্রোধের ওপর জয়লাভ করেছে'।" ইউনুস আমাদের নিকট বলেছেন: আনাস আমাদের নিকট বলেছেন: (শব্দটি হলো) 'জয়লাভ করেছে'।
(খণ্ড: ١)
আত-তাওহীদ লি-ইবনি খুযাইমাহ
(পৃষ্ঠা: ١٩)
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَبِيبٍ الْحَارِثِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا خَالِدٌ يَعْنِي ابْنَ الْحَارِثِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلَانَ، وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلَاءِ أَبُو كُرَيْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ، عَنِ ابْنِ عَجْلَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَمَّا خَلَقَ اللَّهُ الْخَلْقَ كَتَبَ بِيَدِهِ عَلَى نَفْسِهِ أَنَّ رَحْمَتِي تَغْلِبُ غَضَبِي» قَالَ أَبُو بَكْرٍ: فَاللَّهُ جَلَّ وَعَلَا أَثْبَتَ فِي آيٍ مِنْ كِتَابِهِ أَنَّ لَهُ نَفْسًا، وَكَذَلِكَ قَدْ بَيَّنَ عَلَى لِسَانِ نَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّ لَهُ نَفْسًا، كَمَا أَثْبَتَ النَّفْسَ فِي كِتَابِهِ، وَكَفَرَتُ الْجَهْمِيَّةُ بِهَذِهِ الْآيِ ، وَهَذِهِ السُّنَنِ، وَزَعَمَ بَعْضُ جَهَلَتِهِمْ أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى إِنَّمَا أَضَافَ النَّفْسَ إِلَيْهِ عَلَى مَعْنَى إِضَافَةِ الْخَلْقِ إِلَيْهِ، وَزَعَمَ أَنَّ نَفْسَهُ غَيْرُهُ، كَمَا أَنَّ خَلْقَهُ غَيْرُهُ ، وَهَذَا لَا يَتَوَهَّمُهُ ذُو لُبٍّ وَعِلْمٍ ، فَضْلًا عَنْ أَنْ يَتَكَلَّمَ بِهِ قَدْ أَعْلَمَ اللَّهُ فِي مُحْكَمِ تَنْزِيلِهِ أَنَّهُ كَتَبَ عَلَى نَفْسِهِ الرَّحْمَةَ ، أَفَيَتَوَهَّمُ مُسْلِمٌ أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى كَتَبَ عَلَى غَيْرِهِ الرَّحْمَةَ؟ وَحَذَّرَ اللَّهُ الْعِبَادَ نَفْسَهُ ، أَفَيَحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ ⦗ص: 20⦘ يَقُولَ: أَنَّ اللَّهَ حَذَّرَ الْعِبَادَ غَيْرَهُ؟ أَوَ يَتَأَوَّلُ قَوْلَهُ لِكَلِيمِهِ، مُوسَى: {وَاصْطَنَعْتُكَ لِنَفْسِي} [طه: 41] ، فَيَقُولُ مَعْنَاهُ: وَاصْطَنَعْتُكَ لِغَيْرِي مِنَ الْخُلُوقِ، أَوْ يَقُولَ: أَرَادَ رُوحَ اللَّهِ بِقَوْلِهِ: {وَلَا أَعْلَمُ مَا فِي نَفْسِكَ} [المائدة: 116] أَرَادَ وَلَا أَعْلَمُ مَا فِي غَيْرِكَ؟ هَذَا لَا يَتَوَهَّمُهُ مُسْلِمٌ ، وَلَا يَقُولُهُ إِلَّا مُعَطِّلٌ كَافِرٌ
আমাদের কাছে ইয়াহইয়া ইবনে হাবিব আল-হারিসি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে খালিদ (অর্থাৎ ইবনুল হারিস) বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আজলান থেকে; এবং আমাদের কাছে মুহাম্মদ ইবনুল আলা আবু কুরাইব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আবু খালিদ বর্ণনা করেছেন ইবনে আজলান থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যখন আল্লাহ সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করলেন, তখন তিনি নিজ হাত দ্বারা নিজের ব্যাপারে লিখে রাখলেন যে, নিশ্চয়ই আমার দয়া আমার রাগের ওপর প্রবল হয়»। আবু বকর বলেন: আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা তাঁর কিতাবের বিভিন্ন আয়াতে সাব্যস্ত করেছেন যে, তাঁর একটি নফস (সত্তা) রয়েছে। অনুরূপভাবে তিনি তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুখেও বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর একটি নফস রয়েছে, যেমনটি তিনি তাঁর কিতাবে নফস সাব্যস্ত করেছেন। আর জাহমিয়্যাহ সম্প্রদায় এই আয়াতসমূহ ও সুন্নাহসমূহকে অস্বীকার করেছে। তাদের কিছু মূর্খ দাবি করেছে যে, আল্লাহ তাআলা কেবল সৃষ্টির সম্পর্কের ন্যায় নফস শব্দটিকে তাঁর নিজের দিকে সম্বন্ধ করেছেন; তারা দাবি করে যে, আল্লাহর নফস মূলত তাঁর থেকে আলাদা কিছু, যেমন তাঁর সৃষ্টি তাঁর থেকে আলাদা। অথচ কোনো বুদ্ধিমান ও জ্ঞানী ব্যক্তি এমনটি কল্পনাও করতে পারে না, এর পক্ষে কথা বলা তো দূরের কথা। আল্লাহ তাঁর সুস্পষ্ট অবতীর্ণ কিতাবে জানিয়েছেন যে, তিনি নিজ নফসের ওপর দয়া লিখে নিয়েছেন। কোনো মুসলিম কি কল্পনা করতে পারে যে, আল্লাহ তাআলা অন্য কারো ওপর দয়া লিখেছেন? আল্লাহ বান্দাদেরকে তাঁর নফস (সত্তা) সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। কোনো মুসলিমের জন্য কি এটা বলা বৈধ হবে যে, ⦗পৃষ্ঠা: ২০⦘ আল্লাহ বান্দাদেরকে অন্য কারো ব্যাপারে সতর্ক করেছেন? অথবা কালিমুল্লাহ মুসাকে বলা তাঁর এই বাণীর কি কেউ অপব্যাখ্যা করবে: {আর আমি তোমাকে আমার নফসের (নিজের) জন্যই তৈরি করেছি} [ত্বহা: ৪১], আর বলবে এর অর্থ হলো: আমি তোমাকে আমার সৃষ্টিজগত থেকে অন্য কারো জন্য তৈরি করেছি? অথবা তাঁর বাণী: {এবং আপনার নফসে কী আছে তা আমি জানি না} [মায়েদাহ: ১১৬] সম্পর্কে কি কেউ বলবে যে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: আমি জানি না আপনার ছাড়া অন্য কারো মাঝে কী আছে? কোনো মুসলিম এমনটি কল্পনা করে না এবং কোনো নাস্তিক-অস্বীকারকারী কাফের ছাড়া কেউ এমনটি বলে না।
(খণ্ড: ١)
আত-তাওহীদ লি-ইবনি খুযাইমাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، قَالَ: ثنا أَبُو النُّعْمَانِ، قَالَ: ثنا مَهْدِيُّ بْنُ مَيْمُونٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " الْتَقَى آدَمُ وَمُوسَى عليهما السلام ، فَقَالَ لَهُ مُوسَى: أَنْتَ الَّذِي أَشْقَيْتَ النَّاسَ وَأَخْرَجْتَهُمْ مِنَ الْجَنَّةِ، قَالَ آدَمُ لِمُوسَى عليهما السلام: أَنْتَ الَّذِي اصْطَفَاكَ اللَّهُ بِرِسَالَاتِهِ وَاصْطَنَعَكَ لِنَفْسِهِ وَأَنْزَلَ عَلَيْكَ التَّوْرَاةَ؟ قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: فَهَلْ وَجَدْتَهُ كَتَبَهُ لِي قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَنِي؟ قَالَ: نَعَمْ قَالَ: فَحَجَّ آدَمُ مُوسَى عليهما السلام ثَلَاثَ مَرَّاتٍ " يُرِيدُ: كَرَّرَ هَذَا الْقَوْلَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ
আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু নুমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মাহদী বিন মাইমুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন সীরীন আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "আদম এবং মুসা (আলাইহিমাস সালাম) পরস্পর তর্কে লিপ্ত হলেন। তখন মুসা তাঁকে বললেন: আপনিই সেই ব্যক্তি যিনি মানবজাতিকে কষ্টে নিপতিত করেছেন এবং তাঁদের জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছেন। আদম মুসা (আলাইহিমাস সালাম)-কে বললেন: আপনি কি সেই ব্যক্তি যাঁকে আল্লাহ তাঁর রিসালাতের মাধ্যমে মনোনীত করেছেন এবং নিজের জন্য বাছাই করেছেন এবং আপনার ওপর তাওরাত অবতীর্ণ করেছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। আদম বললেন: তবে আপনি কি আমাকে সৃষ্টি করার পূর্বেই তিনি তা আমার জন্য লিখে রেখেছেন বলে পাননি? তিনি বললেন: হ্যাঁ। ফলে আদম মুসা (আলাইহিমাস সালাম)-এর ওপর তর্কে জয়ী হলেন - এ কথাটি তিনবার বলা হয়েছে।" এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: তিনি এই উক্তিটি তিনবার পুনরাবৃত্তি করেছেন।
(খণ্ড: ١)
আত-তাওহীদ লি-ইবনি খুযাইমাহ
(পৃষ্ঠা: ٢١)
حَدَّثَنَا أَبُو مُوسَى، قَالَ: ثنا عَبْدُ الصَّمَدِ، قَالَ: ثنا هَمَّامٌ، قَالَ: ثنا قَتَادَةُ، عَنْ أَبِي قِلَابَةَ، عَنْ أَبِي أَسْمَاءَ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِيمَا يَرْوِي عَنْ رَبِّهِ تبارك وتعالى: «إِنِّي حَرَّمْتُ عَلَى نَفْسِي الظُّلْمَ وَعَلَى عِبَادِي فَلَا تَظَالَمُوا، كُلُّ بَنِي آدَمَ يُخْطِئُ بِاللَّيْلِ وَالنَّهَارِ ، ثُمَّ يَسْتَغْفِرُنِي فَأَغْفِرُ لَهُ وَلَا أُبَالِي» ، وَقَالَ: «يَا بَنِي آدَمَ ، كُلُّكُمْ كَانَ ضَالًّا إِلَّا مَنْ هَدَيْتُ، وَكُلُّكُمْ كَانَ جَائِعًا إِلَّا مَنْ أَطْعَمْتُ» ، فَذَكَرَ الْحَدِيثَ
আমাদের নিকট আবু মূসা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবদুস সামাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাম্মাম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট কাতাদাহ বর্ণনা করেছেন আবু কিলাবাহ থেকে, তিনি আবু আসমা থেকে, তিনি আবু যার থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বরকতময় ও সুউচ্চ প্রতিপালক থেকে বর্ণনা করে বলেন: «নিশ্চয়ই আমি নিজের ওপর জুলুম হারাম করেছি এবং আমার বান্দাদের ওপরও তা হারাম করেছি, সুতরাং তোমরা একে অপরের ওপর জুলুম করো না। বনী আদমের প্রতিটি সদস্য রাত ও দিনে গুনাহ করে, অতঃপর তারা আমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং আমি তাকে ক্ষমা করে দিই, এতে আমি পরোয়া করি না।» এবং তিনি বলেন: «হে বনী আদম, তোমরা সকলেই পথভ্রষ্ট ছিলে তারা ব্যতীত যাদের আমি পথপ্রদর্শন করেছি, এবং তোমরা সকলেই ক্ষুধার্ত ছিলে তারা ব্যতীত যাদের আমি অন্ন দান করেছি।» —অতঃপর তিনি পূর্ণ হাদিসটি উল্লেখ করেন।
(খণ্ড: ١)
আত-তাওহীদ লি-ইবনি খুযাইমাহ
(পৃষ্ঠা: ٢١)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، ثنا أَبُو مُسْهِرٍ عَبْدُ الْأَعْلَى بْنُ مُسْهِرٍ، قَالَ: ثنا سَعِيدُ ⦗ص: 22⦘ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ الْخَوْلَانِيِّ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ اللَّهِ، تبارك وتعالى: " أَنَّهُ قَالَ: يَا عِبَادِي إِنِّي حَرَّمْتُ الظُّلْمَ عَلَى نَفْسِي وَجَعَلْتُهُ بَيْنَكُمْ مُحَرَّمًا ، فَلَا تَظَالَمُوا "
মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু মুসহির আব্দুল আলা ইবন মুসহির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাঈদ ⦗পৃষ্ঠা: ২২⦘ ইবন আব্দুল আযীয আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, রাবিআহ ইবন ইয়াযীদ থেকে বর্ণিত, তিনি আবু ইদরীস আল-খাওলানী থেকে, তিনি আবু যার থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে, আর তিনি আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "হে আমার বান্দাগণ! আমি জুলুমকে আমার নিজের জন্য হারাম করেছি এবং তোমাদের মাঝেও একে হারাম সাব্যস্ত করেছি, সুতরাং তোমরা একে অপরের ওপর জুলুম করো না।"
(খণ্ড: ١)
আত-তাওহীদ লি-ইবনি খুযাইমাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
بَابُ ذِكْرِ إِثْبَاتِ الْعِلْمِ لِلَّهِ جَلَّ وَعَلَا تَبَارَكَتْ أَسْمَاؤُهُ وَجَلَّ ثَنَاؤُهُ بِالْوَحْيِ الْمُنَزِّلِ عَلَى النَّبِيِّ الْمُصْطَفَى صلى الله عليه وسلم، الَّذِي يَقْرَأُ فِي الْمَحَارِيبِ وَالْكَتَاتِيبِ مِنَ الْعِلْمِ الَّذِي هُوَ مِنْ عِلْمِ الْعَامِّ، لَا بِنَقْلِ الْأَخْبَارِ الَّتِي هِيَ مِنْ نَقْلِ عِلْمِ الْخَاصِّ، ضِدَّ قَوْلِ الْجَهْمِيَّةِ الْمُعَطِّلَةِ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِكِتَابِ اللَّهِ، وَيُحَرِّفُونَ الْكَلِمَ عَنْ مَوَاضِعِهِ، تَشَبُّهًا بِالْيَهُودِ، يُنْكِرُونَ أَنَّ لِلَّهَ عُلَمَاءَ، يَزْعُمُونَ أَنَّهُمْ يَقُولُونَ أَنَّ اللَّهَ هُوَ الْعَالِمُ، وَيُنْكِرُونَ أَنَّ لِلَّهَ عِلْمًا مُضَافًا إِلَيْهِ مِنْ صِفَاتِ الذَّاتِ، قَالَ اللَّهُ جَلَّ وَعَلَا فِي مُحْكَمِ تَنْزِيلِهِ: {لَكِنِ اللَّهُ يَشْهَدُ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ أَنْزَلَهُ بِعِلْمِهِ} [النساء: 166] ، وَقَالَ عز وجل: {فَإِنْ لَمْ يَسْتَجِيبُوا لَكُمْ فَاعْلَمُوا أَنَّمَا أُنْزِلَ بِعِلْمِ اللَّهِ} [هود: 14] ، فَأَعْلَمَنَا اللَّهُ أَنَّهُ أَنْزَلَ الْقُرْآنَ بِعِلْمِهِ، وَخَبَّرَنَا جَلَّ ثَنَاؤُهُ أَنَّ أُنْثَى لَا تَحْمِلُ وَلَا تَضَعُ إِلَّا بِعِلْمِهِ، فَأَضَافَ اللَّهُ جَلَّ وَعَلَا إِلَى نَفْسِهِ الْعِلْمَ الَّذِي خَبَّرَنَا أَنَّهُ أَنْزَلَ الْقُرْآنَ بِعِلْمِهِ، وَأَنَّ أُنْثَى لَا تَحْمِلُ وَلَا تَضَعُ إِلَّا بِعِلْمِهِ فَكَفَرَتِ الْجَهْمِيَّةُ وَأَنْكَرَتْ أَنْ يَكُونَ لِخَالِقِنَا عِلْمًا مُضَافًا إِلَيْهِ مِنْ صِفَاتِ الذَّاتِ، تَعَالَى اللَّهُ عَمَّا يَقُولُ الطَّاعِنُونَ فِي عِلْمِ اللَّهِ عُلُوًّ كَبِيرًا، فَيُقَالُ لَهُمْ: خَبِّرُونَا عَمَّنْ هُوَ
পরিচ্ছেদ: মহান ও সুউচ্চ আল্লাহর জন্য জ্ঞান (ইলম) সাব্যস্ত করার আলোচনা—তাঁর নামসমূহ বরকতময় এবং তাঁর প্রশংসা মহিমান্বিত—মনোনীত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি অবতীর্ণ ওহীর মাধ্যমে, যা মিহরাব এবং মকতবসমূহে পঠিত হয় এমন জ্ঞান থেকে যা সাধারণ জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত, বিশেষ জ্ঞানের বর্ণনা পরম্পরার মাধ্যমে নয়; এটি সেই সব জাহমিয়্যাহ মুয়াত্তিলাদের (গুণাবলি অস্বীকারকারী) মতবাদের পরিপন্থী যারা বিশ্বাস করে না আল্লাহর কিতাবের ওপর এবং তারা শব্দসমূহকে তাদের নির্ধারিত স্থান থেকে বিকৃত করে ইহুদীদের সাদৃশ্য অবলম্বন করে। তারা অস্বীকার করে যে আল্লাহর জ্ঞান রয়েছে; তারা দাবি করে যে তারা বলে আল্লাহ হলেন জ্ঞানী (আলিম), অথচ তারা আল্লাহর সত্তাগত গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত এমন কোনো জ্ঞান (ইলম) তাঁর দিকে সম্বন্ধযুক্ত হওয়াকে অস্বীকার করে। মহান ও সুউচ্চ আল্লাহ তাঁর সুস্পষ্ট বাণীতে বলেছেন: {কিন্তু আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যা আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছেন সে সম্পর্কে, তিনি তা তাঁর নিজ জ্ঞানে অবতীর্ণ করেছেন} [আন-নিসা: ১৬৬], এবং তিনি আরও বলেছেন: {অতঃপর যদি তারা তোমাদের ডাকে সাড়া না দেয়, তবে জেনে রাখো যে, এটি আল্লাহর জ্ঞান অনুসারেই অবতীর্ণ হয়েছে} [হুদ: ১৪]। আল্লাহ আমাদের জানিয়েছেন যে, তিনি কুরআন তাঁর নিজ জ্ঞানে অবতীর্ণ করেছেন এবং তাঁর প্রশংসা মহিমান্বিত, তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে কোনো নারীই তাঁর জ্ঞান ছাড়া গর্ভধারণ করে না এবং সন্তান প্রসব করে না। সুতরাং মহান ও সুউচ্চ আল্লাহ নিজের দিকে সেই জ্ঞানকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন যার ব্যাপারে তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি কুরআন তাঁর নিজ জ্ঞানে অবতীর্ণ করেছেন এবং কোনো নারী তাঁর জ্ঞান ব্যতীত গর্ভধারণ করে না ও প্রসব করে না। অতঃপর জাহমিয়্যাহ সম্প্রদায় কুফরি করেছে এবং আমাদের স্রষ্টার জন্য তাঁর সত্তাগত গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত এমন কোনো জ্ঞান সম্বন্ধযুক্ত থাকাকে অস্বীকার করেছে। আল্লাহর জ্ঞান নিয়ে কটাক্ষকারীরা যা বলে তা থেকে আল্লাহ অতি উচ্চ ও অতি মহান। তাদের বলা হবে: তোমরা আমাদের সংবাদ দাও এমন সত্তা সম্পর্কে যিনি...
(খণ্ড: ١)
আত-তাওহীদ লি-ইবনি খুযাইমাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
عَالِمٌ بِالْأَشْيَاءِ كُلِّهَا، أَلَهُ عِلْمٌ أَمْ لَا؟ فَإِنْ قَالَ: اللَّهُ يَعْلَمُ السِّرَّ وَالنَّجْوَى وَأَخْفَى، وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ، قِيلَ لَهُ: فَمَنْ هُوَ عَالِمٌ بِالسِّرِّ وَالنَّجْوَى وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ، أَلَهُ عِلْمٌ أَمْ لَا عِلْمَ لَهُ؟ فَلَا جَوَابَ لَهُمْ لِهَذَا السُّؤَالِ إِلَّا الْهَرَبَ: {فَبُهِتَ الَّذِي كَفَرَ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ} [البقرة: 258]
তিনি সকল বিষয় সম্পর্কে পরিজ্ঞাত; তাঁর কি জ্ঞান আছে নাকি নেই? যদি সে বলে: আল্লাহ গোপন বিষয়, গোপন পরামর্শ এবং যা তার চেয়েও নিগূঢ় তা জানেন, আর তিনি সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ; তবে তাকে বলা হবে: যিনি গোপন বিষয় ও গোপন পরামর্শ সম্পর্কে পরিজ্ঞাত এবং যিনি সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ, তাঁর কি জ্ঞান আছে নাকি তাঁর কোনো জ্ঞান নেই? এই প্রশ্নের উত্তরে পলায়ন করা ছাড়া তাদের আর কোনো পথ নেই: {অতঃপর যে কুফরি করেছিল সে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেল; আর আল্লাহ জালিম সম্প্রদায়কে হিদায়াত দান করেন না} [আল-বাকারা: ২৫৮]
(খণ্ড: ١)
আত-তাওহীদ লি-ইবনি খুযাইমাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
بَابُ ذِكْرِ إِثْبَاتِ وَجْهِ اللَّهِ الَّذِي وَصَفَهُ بِالْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ فِي قَوْلِهِ: {وَيَبْقَى وَجْهُ رَبِّكَ ذُو الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ} [الرحمن: 27] ، وَنَفَى عَنْهُ الْهَلَاكَ إِذَا أَهْلَكَ اللَّهُ مَا قَدْ قَضَى عَلَيْهِ الْهَلَاكُ مِمَّا قَدْ خَلَقَهُ اللَّهُ لِلْفَنَاءِ لَا لِلْبَقَاءِ، جَلَّ رَبُّنَا، عَنْ أَنْ يَهْلِكَ شَيْءٌ مِنْهُ مِمَّا هُوَ مِنْ صِفَاتِ ذَاتِهِ، قَالَ اللَّهُ جَلَّ وَعَلَا: {وَيَبْقَى وَجْهُ رَبِّكَ ذُو الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ} [الرحمن: 27] ، وَقَالَ: {كُلُّ شَيْءٍ هَالِكٌ إِلَّا وَجْهَهُ} [القصص: 88] وَقَالَ لِنَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم: {وَاصْبِرْ نَفْسَكَ مَعَ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجْهَهُ} [الكهف
আল্লাহর মুখমণ্ডল সাব্যস্তকরণের পরিচ্ছেদ, যেটিকে তিনি তাঁর এই বাণীতে মহিমা ও মহানুভবতার বিশেষণে বিশেষিত করেছেন: {আর আপনার রবের মুখমণ্ডল অবশিষ্ট থাকবে, যিনি মহিমা ও মহানুভবতার অধিকারী} [আর-রহমান: ২৭]। আর তিনি তাঁর সেই মুখমণ্ডল থেকে বিনাশকে অস্বীকার করেছেন যখন আল্লাহ সেই সমস্ত সৃষ্টিকে ধ্বংস করবেন যাদের উপর তিনি ধ্বংসের ফয়সালা করেছেন—যাদের আল্লাহ স্থায়িত্বের জন্য নয় বরং বিলুপ্তির জন্য সৃষ্টি করেছেন। আমাদের রব অতি মহান এর থেকে যে, তাঁর সত্তাগত গুণাবলীর কোনো কিছু ধ্বংস হবে। মহান ও উচ্চ আল্লাহ বলেছেন: {আর আপনার রবের মুখমণ্ডল অবশিষ্ট থাকবে, যিনি মহিমা ও মহানুভবতার অধিকারী} [আর-রহমান: ২৭]। আর তিনি বলেছেন: {সবকিছুই ধ্বংসশীল কেবল তাঁর মুখমণ্ডল ব্যতীত} [আল-কাসাস: ৮৮]। আর তিনি তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেছেন: {আর আপনি নিজেকে তাদের সাথে ধৈর্যশীল রাখুন যারা সকাল ও সন্ধ্যায় তাদের রবকে ডাকে, তারা তাঁর মুখমণ্ডল কামনা করে} [আল-কাহফ: ২৮]।
(খণ্ড: ١)
আত-তাওহীদ লি-ইবনি খুযাইমাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
: 28] وَقَالَ: {وَلِلَّهِ الْمَشْرِقُ وَالْمَغْرِبُ فَأَيْنَمَا تُوَلُّوا فَثَمَّ وَجْهُ اللَّهِ} [البقرة: 115] فَأَثْبَتَ اللَّهُ لِنَفْسِهِ وَجْهًا وَصَفَهُ بِالْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ، وَحَكَمَ لِوَجْهِهِ بِالْبَقَاءِ، وَنَفَى الْهَلَاكَ عَنْهُ
: ২৮] এবং তিনি বলেছেন: {আর পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই; সুতরাং তোমরা যেদিকেই মুখ ফেরাও না কেন, সেদিকেই আল্লাহর চেহারা বিদ্যমান।} [আল-বাকারা: ১১৫] সুতরাং আল্লাহ নিজের জন্য একটি চেহারা সাব্যস্ত করেছেন, যাকে তিনি মহিমা ও মহানুভবতা দ্বারা গুণান্বিত করেছেন, এবং তিনি তাঁর চেহারার জন্য অবিনশ্বরতার ফয়সালা করেছেন এবং তা থেকে বিনাশকে নাকচ করেছেন।
(খণ্ড: ١)
আত-তাওহীদ লি-ইবনি খুযাইমাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
فَنَحْنُ وَجَمِيعُ عُلَمَائِنَا مِنْأَهْلِ الْحِجَازِ وَتِهَامَةَ وَالْيَمَنِ، وَالْعِرَاقِ وَالشَّامِ وَمِصْرَ، مَذْهَبُنَا: أَنَّا نُثْبِتُ لِلَّهِ مَا أَثْبَتَهُ اللَّهُ لِنَفْسِهِ، نُقِرُّ بِذَلِكَ بِأَلْسِنَتِنَا، وَنُصَدِّقُ ذَلِكَ بِقُلُوبِنَا، مِنْ غَيْرِ أَنْ نُشَبِّهَ وَجْهَ خَالِقِنَا بِوَجْهِ أَحَدٍ مِنَ الْمَخْلُوقِينَ، عَزَّ رَبُّنَا عَنْ أَنْ يُشْبِهَ الْمَخْلُوقِينَ، وَجَلَّ رَبُّنَا عَنْ مَقَالَةِ الْمُعَطِّلِينَ، وَعَزَّ أَنْ يَكُونَ عَدَمًا كَمَا قَالَهُ الْمُبْطِلُونَ، لِأَنَّ مَا لَا صِفَةَ لَهُ عَدَمٌ، تَعَالَى اللَّهُ عَمَّا يَقُولُ الْجَهْمِيُّونَ الَّذِينَ يُنْكِرُونَ صِفَاتِ خَالِقِنَا الَّذِي وَصَفَ بِهَا نَفْسَهُ فِي مُحْكَمِ تَنْزِيلِهِ، وَعَلَى لِسَانِ نَبِيِّهِ
সুতরাং আমরা এবং হিজায, তিহামা, ইয়ামেন, ইরাক, সিরিয়া ও মিসরবাসী আমাদের সকল আলিমগণ—আমাদের মাযহাব হলো: আমরা আল্লাহর জন্য তা-ই সাব্যস্ত করি যা আল্লাহ নিজের জন্য সাব্যস্ত করেছেন। আমরা আমাদের রসনায় তা স্বীকার করি এবং আমাদের অন্তরে তা সত্য বলে বিশ্বাস করি; সৃষ্টিজীবের কারও চেহারার সাথে আমাদের স্রষ্টার চেহারার সাদৃশ্য প্রদান করা ব্যতিরেকে। আমাদের প্রতিপালক সৃষ্টির সদৃশ হওয়া থেকে অতি মহান, এবং আমাদের প্রতিপালক গুণাবলি অস্বীকারকারীদের বক্তব্য থেকে সুউচ্চ। বাতিলপন্থীরা যেমনটি বলেছে যে তিনি অস্তিত্বহীন, তা থেকে তিনি সুমহান; কেননা যার কোনো গুণ নেই, তা মূলত অনস্তিত্ব। জাহমিয়ারা যা বলে আল্লাহ তা থেকে বহু ঊর্ধ্বে, যারা আমাদের স্রষ্টার সেইসব গুণাবলি অস্বীকার করে যা দ্বারা তিনি তাঁর সুদৃঢ় অবতীর্ণ কিতাবে এবং তাঁর নবীর মুখে নিজের বর্ণনা দিয়েছেন।
(খণ্ড: ١)
আত-তাওহীদ লি-ইবনি খুযাইমাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم قَالَ اللَّهُ جَلَّ ذَكَرَهُ فِي سُورَةِ الرُّومِ: {فَآتِ ذَا الْقُرْبَى حَقَّهُ} [الروم: 38] إِلَى قَوْلِهِ {ذَلِكَ خَيْرٌ لِلَّذِينَ يُرِيدُونَ وَجْهَ اللَّهِ} [الروم: 38] وَقَالَ: {وَمَا آتَيْتُمْ مِنْ رِبًا لِيَرْبُوَ فِي أَمْوَالِ النَّاسِ فَلَا يَرْبُوَ عِنْدَ اللَّهِ وَمَا آتَيْتُمْ مِنْ زَكَاةٍ تُرِيدُونَ وَجْهَ اللَّهِ} [الروم: 39] ، وَقَالَ: {إِنَّمَا نُطْعِمُكُمْ لِوَجْهِ اللَّهِ} [الإنسان: 9] وَقَالَ: {وَمَا لِأَحَدٍ عِنْدَهُ مِنْ نِعْمَةٍ تُجْزَى، إِلَّا ابْتِغَاءَ وَجْهِ رَبِّهِ الْأَعْلَى} [الليل: 20]
মুহাম্মদ (তাঁর উপর আল্লাহর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক); আল্লাহ তাআলা (তাঁর স্মরণ মহিমান্বিত হোক) সূরা আর-রূমে বলেছেন: {সুতরাং নিকটাত্মীয়কে তার প্রাপ্য দিন} [রূম: ৩৮] তাঁর এই বাণী পর্যন্ত {যারা আল্লাহর চেহারা কামনা করে তাদের জন্য তা উত্তম} [রূম: ৩৮]। এবং তিনি বলেছেন: {আর মানুষের ধন-সম্পদে বৃদ্ধি পাওয়ার উদ্দেশ্যে তোমরা সুদে যা প্রদান করো, আল্লাহর নিকট তা বৃদ্ধি পায় না; আর আল্লাহর চেহারা কামনা করে তোমরা যে জাকাত প্রদান করো} [রূম: ৩৯]। এবং তিনি বলেছেন: {আমরা কেবল আল্লাহর চেহারার জন্যই তোমাদের আহার করাই} [ইনসান: ৯]। এবং তিনি বলেছেন: {আর তার প্রতি কারো কোনো অনুগ্রহ নেই যার প্রতিদান দিতে হবে, কেবল তার সুউচ্চ রবের চেহারা অন্বেষণ ছাড়া} [লাইল: ২০]।
(খণ্ড: ١)
আত-তাওহীদ লি-ইবনি খুযাইমাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
بَابُ ذِكْرِ الْبَيَانِ مِنْ أَخْبَارِ النَّبِيِّ الْمُصْطَفَى صلى الله عليه وسلم فِي إِثْبَاتِ الْوَجْهِ لِلَّهِ جَلَّ ثَنَاؤُهُ، وَتَبَارَكَتْ أَسْمَاؤُهُ، مُوَافَقَةً لِمَا تَلَوْنَا مِنَ التَّنْزِيلِ الَّذِي هُوَ بِالْقُلُوبِ مَحْفُوظٌ، وَبَيْنَ الدَّفَّتَيْنِ مَكْتُوبٌ، وَفِي الْمَحَارِيبِ وَالْكَتَاتِيبِ مَقْرُوءٌ
মনোনীত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসসমূহ থেকে মহান আল্লাহর—যাঁঁর প্রশংসা মহিমান্বিত এবং যাঁর নামসমূহ বরকতময়—জন্য চেহারা সাব্যস্তকরণের বর্ণনামূলক পরিচ্ছেদ; যা আমাদের পঠিত সেই অবতীর্ণ কিতাবের (কুরআন) অনুকূলে যা অন্তরসমূহে সংরক্ষিত, দুই মলাটের মাঝে লিখিত এবং মেহরাব ও মক্তবসমূহে পঠিত।
(খণ্ড: ١)
আত-তাওহীদ লি-ইবনি খুযাইমাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
حَدَّثَنَا عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ الْعَلَاءِ الْعَطَّارُ، وَسَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمَخْزُومِيُّ ⦗ص: 28⦘، قَالَا: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: لَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: {قُلْ هُوَ الْقَادِرُ عَلَى أَنْ يَبْعَثَ عَلَيْكُمْ عَذَابًا مِنْ فَوْقِكُمْ} [الأنعام: 65] قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «أَعُوذُ بِوَجْهِكَ» ، قَالَ: " {أَوْ مِنْ تَحْتِ أَرْجُلِكُمْ} [الأنعام: 65] ، قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «أَعُوذُ بِوَجْهِكَ الْكَرِيمِ» ، قَالَ: {أَوْ يَلْبِسَكُمْ شِيَعًا وَيُذِيقَ بَعْضَكُمْ بَأْسَ بَعْضٍ} [الأنعام: 65] ، قَالَ: «هَاتَانِ أَهْوَنُ وَأَيْسَرُ» هَذَا لَفْظُ حَدِيثِ الْمَخْزُومِيِّ وَمَعْنَى حَدِيثِهِمَا وَاحِدٌ
আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবদুল জাব্বার ইবনুল আলা আল-আত্তার এবং সাঈদ ইবনু আবদুর রহমান আল-মাখযুমী ⦗পৃষ্ঠা: ২৮⦘, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান, আমর ইবনু দীনার থেকে, জাবির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর এই আয়াতটি অবতীর্ণ হলো: {বলুন, তিনি তোমাদের উপর তোমাদের ঊর্ধ্বদেশ থেকে আযাব প্রেরণ করতে সক্ষম} [আল-আনআম: ৬৫], তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «আমি আপনার চেহারার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি», আল্লাহ বললেন: {অথবা তোমাদের পায়ের নিচ থেকে} [আল-আনআম: ৬৫], তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «আমি আপনার সম্মানিত চেহারার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি», আল্লাহ বললেন: {অথবা তোমাদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করে দিতে এবং তোমাদের এক দলকে অন্য দলের সংঘাতের স্বাদ আস্বাদন করাতে} [আল-আনআম: ৬৫], তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «এই দুটি অধিক সহজ এবং অধিক হালকা»। এটি মাখযুমীর হাদীসের শব্দরূপ এবং তাঁদের উভয়ের হাদীসের অর্থ অভিন্ন।
(খণ্ড: ١)
আত-তাওহীদ লি-ইবনি খুযাইমাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
حَدَّثَنَا عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ الْعَلَاءِ، وَيَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدَّوْرَقِيُّ، وَالْحُسَيْنُ بْنُ الْحَسَنِ، وَأَبُوعَمَّارٍ الْحُسَيْنُ بْنُ حُرَيْثٍ، وَسَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمَخْزُومِيُّ قَالُوا: ثنا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: مَرِضْتُ بِمَكَّةَ عَامَ الْفَتْحِ فَذَكَرُوا الْحَدِيثَ بِتَمَامِهِ وَقَالُوا فِي الْخَبَرِ قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ ، أُخَلَّفُ عَنْ هِجْرَتِي؟ فَقَالَ: «إِنَّكَ ⦗ص: 29⦘ لَنْ تُخَلَّفَ بَعْدِي، فَتَعْمَلَ عَمَلًا تُرِيدُ بِهِ وَجْهَ اللَّهِ إِلَّا ازْدَدْتَ بِهِ رِفْعَةً وَدَرَجَةً» ، قَالَ أَبُوبَكْرٍ: قَدْ أَمْلَيْتُ طُرُقَ هَذَا الْخَبَرِ فِي أَبْوَابِ الْوَصَايَا
আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুর জব্বার ইবনুল আলা, ইয়াকুব ইবনে ইবরাহিম আদ-দাওরাকি, হুসাইন ইবনুল হাসান, আবু আম্মার হুসাইন ইবনে হুরাইস এবং সাঈদ ইবনে আবদুর রহমান আল-মাখজুমি। তাঁরা বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান, যুহরি থেকে, তিনি আমের ইবনে সা'দ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: মক্কা বিজয়ের বছর আমি মক্কায় অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। অতঃপর তাঁরা পূর্ণ হাদিসটি উল্লেখ করেন এবং বর্ণনায় বলেন যে, তিনি (সা'দ) বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমি কি আমার হিজরত থেকে পেছনে পড়ে থাকব? তখন তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই তুমি ⦗পৃষ্ঠা: ২৯⦘ আমার পরে পেছনে পড়ে থাকবে না; অতঃপর তুমি এমন কোনো আমল করবে যার দ্বারা তুমি আল্লাহর চেহারা কামনা করবে, তবে তার মাধ্যমে তোমার মর্যাদা ও উচ্চতা বৃদ্ধিই পাবে।" আবু বকর বলেন: আমি এই সংবাদের সূত্রসমূহ 'অসিয়ত' অধ্যায়সমূহে শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে বর্ণনা করেছি।
(খণ্ড: ١)
আত-তাওহীদ লি-ইবনি খুযাইমাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ الضَّبِّيُّ، قَالَ: ثنا حَمَّادُ يَعْنِي: ابْنَ زَيْدٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: " كُنَّا جُلُوسًا فِي الْمَسْجِدِ ، فَدَخَلَ ⦗ص: 30⦘ عَمَّارُ بْنُ يَاسِرٍ ، فَصَلَّى صَلَاةً أَخَفَّهَا، فَمَرَّ بِنَا ، فَقِيلَ لَهُ: يَا أَبَا الْيَقْظَانِ: خَفَّفْتَ الصَّلَاةَ، فَقَالَ: أَوَخَفِيفَةً رَأَيْتُمُوهَا؟ قُلْنَا: نَعَمْ قَالَ: أَمَا أَنِّي قَدْ دَعَوْتُ فِيهَا بِدُعَاءٍ قَدْ سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، ثُمَّ مَضَى فَاتَّبَعَهُ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ قَالَ عَطَاءٌ: يَرَوْنَهُ أَبِي، اتَّبَعَهُ وَلَكِنَّهُ كَرِهَ أَنْ يَقُولَ اتَّبَعَهُ ، فَسَأَلَهُ عَنِ الدُّعَاءِ ، ثُمَّ رَجَعَ ، فَأَخْبَرَهُمْ بِالدُّعَاءِ: «اللَّهُمَّ بِعِلْمِكَ الْغَيْبَ، وَقُدْرَتِكَ عَلَى الْخَلْقِ أَجْمَعِينَ ، أَحْيِنِي مَا عَلِمْتَ الْحَيَاةَ خَيْرًا لِي، وَتَوَفَّنِي إِذَا كَانَتِ الْوَفَاةُ خَيْرًا لِي، اللَّهُمَّ وَأَسْأَلُكَ خَشْيَتَكَ فِي الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ، وَكَلِمَةَ الْحَقِّ ، وَالْعَدْلَ فِي الْغَضَبِ وَالرِّضَا، وَأَسْأَلُكَ الْقَصْدَ فِي الْفَقْرِ وَالْغِنَى ، وَأَسْأَلُكَ نَعِيمًا لَا يَبِيدُ، وَأَسْأَلُكَ قُرَّةَ عَيْنٍ لَا تَنْقَطِعُ، وَأَسْأَلُكَ الرِّضَا بَعْدَ الْقَضَاءِ، وَأَسْأَلُكَ بَرْدَ الْعَيْشِ بَعْدَ الْمَوْتِ، وَأَسْأَلُكَ لَذَّةَ النَّظَرِ إِلَى وَجْهِكَ، وَأَسْأَلُكَ الشَّوْقَ إِلَى لِقَائِكَ فِي غَيْرِ ضَرَّاءَ مُضِرَّةٍ ، وَلَا فِتْنَةٍ مُضِلَّةٍ، اللَّهُمَّ ، زَيِّنَّا بِزِينَةِ الْإِيمَانِ ، وَاجَعَلْنَاهُ هُدَاةً مُهْتَدِينَ» قَالَ أَبُو بَكْرٍ: أَلَا يَعْقِلُ ذَوُو الْحِجَا - يَا طُلَّابَ الْعِلْمِ - أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَا يَسْأَلُ رَبَّهُ مَا لَا يَجُوزُ كَوْنُهُ، فَفِي مَسْأَلَةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم رَبَّهُ لَذَّةَ النَّظَرِ إِلَى وَجْهِهِ أَبْيَنُ الْبَيَانِ وَأَوْضَحُ الْوُضُوحِ أَنَّ لِلَّهِ عز وجل وَجْهًا يَتَلَذَّذُ بِالنَّظَرِ إِلَيْهِ مَنْ مَنَّ اللَّهُ جَلَّ وَعَلَا عَلَيْهِ وَتَفَضَّلَ بِالنَّظَرِ إِلَى وَجْهِهِ وَلِلْنَظَرِ إِلَى وَجْهِهِ يَوْمَ الْمَعَادِ بَابٌ سَيَأْتِي فِي مَوْضِعِهِ، مَنَّ اللَّهُ بِهَذِهِ الْكَرَامَةِ عَلَى مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ الْمُؤْمِنِينَ قَدْ أَمْلَيْتُ أَخْبَارَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ صَامَ يَوْمًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللَّهِ ⦗ص: 31⦘ بَاعَدَ اللَّهُ وَجْهَهُ عَنِ النَّارِ سَبْعِينَ خَرِيفًا» بَعْضَهُ فِي كِتَابِ الصِّيَامِ، وَبَعْضَهُ فِي كِتَابِ الْجِهَادِ، فَأَغْنَى ذَلِكَ عَنْ تِكْرَارِهِ فِي هَذَا الْمَوْضِعِ
আহমদ বিন আবদাহ আদ-দাব্বী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাম্মাদ অর্থাৎ ইবনে যায়দ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি আতা বিন আস-সাইব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমরা মসজিদে বসা ছিলাম, এমতাবস্থায় ⦗পৃ: ৩০⦘ আম্মার বিন ইয়াসির প্রবেশ করলেন। তিনি অত্যন্ত সংক্ষিপ্তভাবে একটি সালাত আদায় করলেন। এরপর তিনি যখন আমাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তাঁকে বলা হলো: হে আবুল ইয়াকজান, আপনি সালাতটি সংক্ষিপ্ত করলেন। তিনি বললেন: তোমরা কি একে সংক্ষিপ্ত মনে করেছ? আমরা বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: শোনো, আমি এই সালাতে এমন একটি দুআ করেছি যা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে শুনেছি। এরপর তিনি চলে গেলেন এবং কওমের এক ব্যক্তি তাঁর পিছু নিলেন। আতা বলেন: লোকেরা মনে করেন যে আমার পিতাই তাঁর পিছু নিয়েছিলেন, তবে তিনি নিজে এ কথা বলতে অপছন্দ করতেন যে তিনি তাঁর পিছু নিয়েছেন। তিনি তাঁর কাছে দুআটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, এরপর ফিরে এসে তাঁদেরকে দুআটি জানালেন: «হে আল্লাহ, আপনার গায়বের জ্ঞান এবং সমস্ত সৃষ্টির ওপর আপনার ক্ষমতার উসিলায়, আপনি আমাকে ততদিন জীবিত রাখুন যতদিন আপনি জানেন যে বেঁচে থাকা আমার জন্য কল্যাণকর, আর যখন মৃত্যু আমার জন্য কল্যাণকর হয় তখন আমাকে মৃত্যু দান করুন। হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে গোপনে ও প্রকাশ্যে আপনার ভয় প্রার্থনা করি, আর ক্রোধ ও সন্তুষ্টি উভয় অবস্থায় সত্য কথা এবং ন্যায়বিচার প্রার্থনা করি। আমি আপনার কাছে অভাব ও সচ্ছলতা উভয় অবস্থায় পরিমিতিবোধ প্রার্থনা করি। আমি আপনার কাছে এমন নিআমত প্রার্থনা করি যা শেষ হবে না এবং এমন চোখের শীতলতা প্রার্থনা করি যা বিচ্ছিন্ন হবে না। আমি আপনার কাছে ফয়সালার পর তার প্রতি সন্তুষ্টি প্রার্থনা করি এবং মৃত্যুর পর আরামদায়ক জীবন প্রার্থনা করি। আমি আপনার কাছে আপনার চেহারার দিকে তাকানোর স্বাদ প্রার্থনা করি এবং কোনো ক্ষতিকর বিপদ বা পথভ্রষ্টকারী ফিতনায় না পড়ে আপনার সাথে সাক্ষাতের ব্যাকুলতা প্রার্থনা করি। হে আল্লাহ, আপনি আমাদেরকে ঈমানের অলঙ্কারে সজ্জিত করুন এবং আমাদের হিদায়েতপ্রাপ্ত হিদায়েতকারী বানান»।" আবু বকর বলেন: হে ইলম অন্বেষণকারীরা—বিবেকবানরা কি বোঝেন না যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রবের কাছে এমন কিছু প্রার্থনা করেন না যা হওয়া অসম্ভব? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রবের কাছে তাঁর চেহারার দিকে তাকানোর স্বাদ প্রার্থনা করার মধ্যে এটিই সবচেয়ে স্পষ্ট বর্ণনা ও স্বচ্ছতম ব্যাখ্যা যে, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা-র একটি চেহারা রয়েছে, যার দিকে তাকিয়ে সেই ব্যক্তি আনন্দ লাভ করবে যাকে আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা অনুগ্রহ করেছেন এবং তাঁর চেহারার দিকে তাকানোর তাওফীক দান করেছেন। পরকালে আল্লাহর চেহারার দিকে তাকানো সম্পর্কে একটি অধ্যায় যথাস্থানে সামনে আসবে। আল্লাহ তাঁর মুমিন বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা এই মর্যাদা দান করেন। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই হাদীসগুলো লিপিবদ্ধ করেছি: «যে ব্যক্তি আল্লাহর চেহারা কামনায় ⦗পৃ: ৩১⦘ আল্লাহর রাস্তায় একদিন রোজা রাখবে, আল্লাহ তার চেহারাকে জাহান্নাম থেকে সত্তর বছরের পথ দূরে সরিয়ে দেবেন»। এর কিছু অংশ 'সিয়াম' অধ্যায়ে এবং কিছু অংশ 'জিহাদ' অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে, যা এই স্থানে তার পুনরাবৃত্তি থেকে মুক্তি দেয়।
(খণ্ড: ١)
আত-তাওহীদ লি-ইবনি খুযাইমাহ
(পৃষ্ঠা: ٣١)
وَرَوَى سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي نَهِيكٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَنِ اسْتَعَاذَ بِاللَّهِ فَأَعِيذُوهُ، وَمَنْ سَاءَلَكُمْ بِوَجِهِ اللَّهِ فَأَعْطُوهُ» حَدَّثَنَاهُ نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، وَإِسْمَاعِيلُ بْنُ بِشْرِ بْنِ مَنْصُورٍ السَّلِيمِيُّ، قَالَا: ثنا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، قَالَ: ثنا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ
সাঈদ ইবনে আবু আরুবাহ কাতাদাহ থেকে, তিনি আবু নাহীক থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে এবং তিনি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: «যে ব্যক্তি আল্লাহর দোহাই দিয়ে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তাকে আশ্রয় দাও; আর যে ব্যক্তি আল্লাহর চেহারার দোহাই দিয়ে তোমাদের নিকট কিছু চায়, তাকে তা দান করো»। আমাদের নিকট এটি বর্ণনা করেছেন নাসর ইবনে আলী আল-জাহদামি এবং ইসমাঈল ইবনে বিশর ইবনে মানসুর আস-সালিমি; তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন খালিদ ইবনুল হারিস; তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনে আবু আরুবাহ।
(খণ্ড: ١)
আত-তাওহীদ লি-ইবনি খুযাইমাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
ثنا أَحْمَدُ بْنُ دَاوُدَ الْوَاسِطِيُّ، قَالَ: ثنا وَهْبٌ يَعْنِي: ابْنَ جَرِيرٍ، قَالَ: ثنا شُعْبَةُ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَثَلُ الْمُجَاهِدِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللَّهِ، مَثَلُ الْقَائِمِ الْمُصَلِّي حَتَّى يَرْجِعَ الْمُجَاهِدُ» قَالَ أَبُو بَكْرٍ: قَدْ أَمْلَيْتُ هَذَا الْبَابَ فِي فَضَائِلِ الْجِهَادِ
আহমাদ ইবনে দাউদ আল-ওয়াসিতী আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ওয়াহাব—অর্থাৎ ইবনে জারীর—আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: শু'বাহ আমাদের বর্ণনা করেছেন সুহাইল ইবনে আবি সালিহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "আল্লাহর চেহারার প্রত্যাশায় আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারীর উদাহরণ হলো সেই ব্যক্তির ন্যায় যে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে, যতক্ষণ না জিহাদকারী ফিরে আসে।" আবু বকর বলেন: আমি জিহাদের ফযীলত বিষয়ক এই অধ্যায়টি শ্রুতিলিখন করিয়েছি।
(খণ্ড: ١)
আত-তাওহীদ লি-ইবনি খুযাইমাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ خَالِدٍ الْعَسْكَرِيُّ، قَالَ: ثنا مُحَمَّدٌ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ سُلَيْمَانَ وَهُوَ الْأَعْمَشُ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا وَائِلٍ، قَالَ: قَالَ عَبْدُ اللَّهِ: قَسَمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَسْمًا ، فَقَالَ رَجُلٌ: إِنَّ هَذِهِ لَقِسْمَةٌ مَا أُرِيدَ بِهَا وَجْهُ اللَّهِ، فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ، فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهُ فَاحْمَرَّ وَجْهُهُ قَالَ شُعْبَةُ: وَأَظُنُّهُ قَالَ: وَغَضِبَ حَتَّى وَدِدْتُ أَنِّي لَمْ أُخْبِرْهُ، قَالَ شُعْبَةُ: أَحْسَبُهُ قَالَ: «يَرْحَمُنَا اللَّهُ وَمُوسَى» شَكَّ شُعْبَةُ فِي: يَرْحَمُنَا اللَّهُ وَمُوسَى؛ قَدْ أُوذِيَ بِأَكْثَرَ مِنْ هَذَا فَصَبَرَ " قَالَ أَبُوبَكْرٍ: قَدْ أَمْلَيْتُ طُرُقَ هَذَا الْحَدِيثِ فِي بَابِ صَبْرِ الْإِمَامِ عَلَى أَذَى الرَّعِيَّةِ
বিশর ইবন খালিদ আল-আসকারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ আমাদের নিকট শু'বাহ থেকে, তিনি সুলায়মান—যিনি আল-আমাশ—থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু ওয়াইলকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ বলেছেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিছু সম্পদ বণ্টন করলেন, তখন এক ব্যক্তি বলল: "নিশ্চয়ই এটি এমন এক বণ্টন যার দ্বারা আল্লাহর চেহারা উদ্দেশ্য করা হয়নি।" এরপর আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আসলাম এবং তাঁকে বিষয়টি অবহিত করলাম, এতে তাঁর চেহারা লাল হয়ে গেল। শু'বাহ বলেন: আমার ধারণা তিনি বলেছেন: "এবং তিনি রাগান্বিত হলেন", এমনকি আমি আকাঙ্ক্ষা করলাম যে আমি যদি তাঁকে বিষয়টি না জানাতাম। শু'বাহ বলেন: আমি মনে করি তিনি বলেছেন: "আল্লাহ আমাদের এবং মূসাকে রহম করুন"। শু'বাহ "আল্লাহ আমাদের এবং মূসাকে রহম করুন" বাক্যটি সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করেছেন; (নবীজি বলেছিলেন:) "নিশ্চয়ই তাঁকে (মূসাকে) এর চেয়েও বেশি কষ্ট দেওয়া হয়েছিল, তবুও তিনি ধৈর্য ধারণ করেছিলেন।" আবু বকর বলেন: আমি এই হাদিসের বিভিন্ন সূত্রগুলো 'প্রজাদের কষ্টদানে ইমামের ধৈর্য ধারণ' অধ্যায়ে লিপিবদ্ধ করিয়েছি।
(খণ্ড: ١)
আত-তাওহীদ লি-ইবনি খুযাইমাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، قَالَ: ثنا أَبُو الْمُغِيرَةِ، قَالَ: ثنا أَبُو بَكْرٍ يَعْنِي: ابْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي مَرْيَمَ الْغَسَّانِيَّ قَالَ: حَدَّثَنِي ضَمْرَةُ بْنُ ⦗ص: 34⦘ حَبِيبٍ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَلَّمَهُ وَأَمَرَهُ أَنْ يَتَعَاهَدَ أَهْلَهُ فِي كُلِّ صَبَاحٍ: «لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ، وَالْخَيْرُ فِي يَدَيْكَ، وَمِنْكَ وَإِلَيْكَ» الْحَدِيثَ بِتَمَامِهِ، وَفِي هَذَا الْحَدِيثِ: «اللَّهُمَّ ، إِنِّي أَسْأَلُكَ الرِّضَا بَعْدَ الْقَضَاءِ، وَبَرْدَ الْعَيْشِ بَعْدَ الْمَوْتِ، وَلَذَّةَ النَّظَرِ إِلَى وَجْهِكَ ، وَشَوْقًا إِلَى لِقَائِكَ فِي غَيْرِ ضَرَّاءَ مُضِرَّةٍ ، وَلَا فِتْنَةٍ مُضِلَّةٍ» الْحَدِيثُ بِطُولِهِ أَمْلَيْتُهُ فِي كِتَابِ الدُّعَاءِ قَالَ أَبُو بَكْرٍ: وَهَذَا الْخَبَرُ أَيْضًا دَاخِلٌ فِي إِثْبَاتِ الْيَدِ لِلَّهِ عز وجل، سَتَأْتِي أَبْوَابُ إِثْبَاتِ الْيَدِ فِي مَوْضِعِهِ مِنْ هَذَا الْكِتَابِ
মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবুল মুগীরাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর অর্থাৎ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবি মারইয়াম আল-গাসসানী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে দামরাহ ইবনে ⦗পৃষ্ঠা: ৩৪⦘ হাবীব বর্ণনা করেছেন, আবু দারদা থেকে, তিনি জায়েদ ইবনে সাবিত থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে শিক্ষা দিয়েছেন এবং নির্দেশ দিয়েছেন যেন তিনি প্রতি সকালে তার পরিবারের খবর নেন (এই বলে): "আমি আপনার দরবারে উপস্থিত হে আল্লাহ, আমি আপনার দরবারে উপস্থিত এবং আপনার আজ্ঞাবহ, আর সকল কল্যাণ আপনার দুই হাতে, এবং আপনার থেকেই সব এবং আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তন।" — হাদীসটি পূর্ণাঙ্গভাবে। আর এই হাদীসে রয়েছে: "হে আল্লাহ, আমি আপনার নিকট ফয়সালার পর সন্তুষ্টি, মৃত্যুর পর আরামদায়ক জীবন, আপনার চেহারার দিকে তাকানোর স্বাদ এবং কোনো ক্ষতিকর বিপদ ও বিভ্রান্তিকর ফিতনা ছাড়াই আপনার সাথে সাক্ষাতের ব্যাকুলতা প্রার্থনা করছি।" দীর্ঘ হাদীসটি আমি 'কিতাবুদ দুআ'-তে লিপিবদ্ধ করেছি। আবু বকর বলেন: এই বর্ণনাটিও মহান আল্লাহর হাত সাব্যস্ত করার বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহর হাত সাব্যস্ত করার অনুচ্ছেদসমূহ এই কিতাবের যথাস্থানে সামনে আসবে।
(খণ্ড: ١)
আত-তাওহীদ লি-ইবনি খুযাইমাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ تَسْنِيمٍ، قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ يَعْنِي ابْنَ ⦗ص: 35⦘ بَكْرٍ الْبُرْسَانِيَّ قَالَ: ثنا أَبُو الْعَوَّامِ يَعْنِي عِمْرَانَ الْقَطَّانَ قَالَ: عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، أَنَّ شَبَثَ بْنَ رِبْعِيِّ، صَلَّى إِلَى جَنْبِ حُذَيْفَةَ، فَبَزَقَ بَيْنَ يَدَيْهِ ، فَقَالَ حُذَيْفَةُ: " إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ ذَا، ثُمَّ قَالَ: «إِنَّ الْمُسْلِمَ إِذَا دَخَلَ فِي صَلَاتِهِ أَقْبَلَ اللَّهُ إِلَيْهِ بِوَجْهِهِ فَيُنَاجِيهِ، فَلَا يَنْصَرِفُ حَتَّى يَنْصَرِفَ عَنْهُ أَوْ يُحْدِثَ حَدَثًا»
মুহাম্মদ ইবনুল হাসান ইবনে তাসনীম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ অর্থাৎ ইবনে ⦗পৃষ্ঠা: ৩৫⦘ বকর আল-বুরসানী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবুল আওয়াম অর্থাৎ ইমরান আল-কাত্তান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আসিম থেকে বর্ণিত, তিনি আবু ওয়ায়িল থেকে বর্ণনা করেন যে, শাবাস ইবনে রিবঈ হুজায়ফার পাশে সালাত আদায় করছিলেন, এমতাবস্থায় তিনি তাঁর সামনের দিকে থুথু ফেললেন। তখন হুজায়ফা বললেন: "নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এটি করতে নিষেধ করেছেন।" অতঃপর তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই একজন মুসলিম যখন তার সালাতে প্রবেশ করে, তখন আল্লাহ তাঁর চেহারা নিয়ে তার দিকে অভিমুখী হন এবং সে তাঁর সাথে গোপনে কথা বলে। সুতরাং তিনি তার থেকে বিমুখ হন না যতক্ষণ না সে বিমুখ হয় অথবা কোনো হাদাস (অশুচিতা) ঘটায়।"
(খণ্ড: ١)
আত-তাওহীদ লি-ইবনি খুযাইমাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٥)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ: ثنا يَحْيَى، قَالَ: ثنا الْأَعْمَشُ، قَالَ: ثنا ⦗ص: 36⦘ شَقِيقٌ، قَالَ: كُنَّا عِنْدَ حُذَيْفَةَ ، فَقَامَ شَبَثُ بْنُ رِبْعِيٍّ ، فَصَلَّى فَبَصَقَ بَيْنَ يَدَيْهِ، فَقَالَ لَهُ حُذَيْفَةُ: يَا شَبَثُ ، لَا تَبْصُقْ بَيْنَ يَدَيْكَ، وَلَا عَنْ يَمِينِكِ فَإِنَّ عَنْ يَمِينِكِ كَاتَبَ الْحَسَنَاتِ، وَلَكِنْ عَنْ يَسَارِكِ، أَوْ مِنْ وَرَائِكَ، فَإِنَّ الْعَبْدَ إِذَا تَوَضَّأَ ، فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ، ثُمَّ قَامَ إِلَى الصَّلَاةِ أَقْبَلَ اللَّهُ عَلَيْهِ بِوَجْهِهِ فَيُنَاجِيهِ ، فَلَا يَنْصَرِفُ عَنْهُ حَتَّى يَنْصَرِفَ أَوْ يُحْدِثَ حَدَثَ سُوءٍ " قَالَ أَبُو بَكْرٍ: لَمْ أَجِدْ فِي كِتَابِي حَتَّى يَنْصَرِفَ، وَأَظُنُّ الْوَرَّاقَ أَسْقَطَهُ، خَرَّجْتُ هَذَا الْبَابَ فِي كِتَابِ الصَّلَاةِ
মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-আ’মাশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৩৬⦘ শাকীক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা হুযায়ফার নিকট উপস্থিত ছিলাম, এমতাবস্থায় শাবাস ইবনে রিবঈ দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করলেন এবং তাঁর সামনের দিকে থুথু ফেললেন। তখন হুযায়ফা তাঁকে বললেন: হে শাবাস, তুমি তোমার সামনের দিকে থুথু ফেলো না এবং তোমার ডান দিকেও নয়; কারণ তোমার ডান দিকে নেকি লেখক (ফেরেশতা) থাকেন। বরং তোমার বাম দিকে অথবা তোমার পিছন দিকে ফেলো। কেননা বান্দা যখন অজু করে এবং উত্তমরূপে অজু সম্পন্ন করে, তারপর সালাতে দাঁড়ায়, তখন আল্লাহ তাঁর মুখমণ্ডল নিয়ে বান্দার দিকে অভিমুখী হন এবং বান্দা তাঁর সাথে সংগোপনে কথা বলে। আর আল্লাহ বান্দার থেকে বিমুখ হন না যতক্ষণ না সে সালাত শেষ করে অথবা কোনো মন্দ কাজ (অজু ভঙ্গ) করে। আবু বকর বলেন: আমি আমার কিতাবে ‘যতক্ষণ না সে সালাত শেষ করে’ কথাটি পাইনি, আমার ধারণা অনুলিপিকারক এটি বাদ দিয়েছেন। আমি এই অনুচ্ছেদটি সালাত অধ্যায়ে সংকলন করেছি।
(খণ্ড: ١)
আত-তাওহীদ লি-ইবনি খুযাইমাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٦)
حَدَّثَنَا أَبُو مُوسَى مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى قَالَ: ثنا أَبُو دَاوُدَ سُلَيْمَانُ بْنُ ⦗ص: 37⦘ دَاوُدَ قَالَ: ثنا أَبَانُ يَعْنِي ابْنَ يَزِيدَ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ سَلَّامٍ، عَنْ أَبِي سَلَّامٍ، عَنِ الْحَارِثِ الْأَشْعَرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " إِنَّ اللَّهَ أَوْحَى إِلَى يَحْيَى بْنِ زَكَرِيَّا عليه السلام بِخَمْسِ كَلِمَاتٍ: أَنْ يَعْمَلَ بِهِنَّ ، وَيَأْمُرَ بَنِي إِسْرَائِيلَ أَنْ يَعْمَلُوا بِهِنَّ " فَذَكَرَ الْحَدِيثَ بِطُولِهِ، وَقَالَ فِي الْحَدِيثِ: «وَإِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ فَلَا تَلْتَفِتُوا، فَإِنَّ اللَّهَ يُقْبِلُ بِوَجْهِهِ إِلَى وَجْهِ عَبْدِهِ» قَالَ أَبُو بَكْرٍ: قَدْ أَمْلَيْتُ خَبَرَ أَبِي تَوْبَةَ الرَّبِيعِ بْنِ نَافِعٍ ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ سَلَّامٍ بِهَذَا الْخَبَرِ بِطُولِهِ فِي كِتَابِ الصَّلَاةِ ، فَعِيسَى رُوحُ اللَّهِ قَدْ حَثَّ نَبِيَّ اللَّهِ يَحْيَى بْنَ زَكَرِيَّا أَنْ يُعَلِّمَ بَنِي إِسْرَائِيلَ مَا أَمَرَهُ اللَّهُ بِإِعْلَامِهِ، وَفِيمَا أَمَرَ اللَّهُ يَحْيَى بْنَ زَكَرِيَّا بِإِعْلَامِهِ بَنِي إِسْرَائِيلَ، أَنَّ اللَّهَ يُقْبِلُ بِوَجْهِهِ إِلَى وَجْهِ عَبْدِهِ ، إِذَا قَامَ إِلَى الصَّلَاةِ، فَفِي هَذَا مَا بَانَ وَثَبَتَ وَصَحَّ أَنَّ بَنِي ⦗ص: 38⦘ إِسْرَائِيلَ كَانُوا مُوقِنِينَ بِأَنَّ لِخَالِقِهِمْ وَجْهًا يُقْبِلُ بِهِ إِلَى وَجْهِ الْمُصَلِّي لَهُ وَنَبِيُّنَا صلى الله عليه وسلم قَدْ أَعْلَمَ أُمَّتَهُ مَا أَمَرَ اللَّهُ عز وجل بِهِ يَحْيَى بْنَ زَكَرِيَّا عليهما السلام أَنْ يَأْمُرَ بِهِ بَنِي إِسْرَائِيلَ لِتَعْلَمَ وَتَسْتَيْقِنَ أُمَّتُهُ أَنَّ لِلَّهِ وَجْهًا يُقْبِلُ بِهِ عَلَى وَجْهِ الْمُصَلِّي لَهُ، كَمَا أَوْحَى إِلَيْهِ فِيمَا أَنْزَلَ عَلَيْهِ مِنَ الْفُرْقَانِ: {فَأَيْنَمَا تُوَلُّوا} [البقرة: 115] أَيْ بِصَلَاتِكُمْ {فَثَمَّ وَجْهُ اللَّهِ} [البقرة: 115]
আবু মুসা মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু দাউদ সুলায়মান ইবনে ⦗পৃষ্ঠা: ৩৭⦘ দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবান অর্থাৎ ইবনে ইয়াজিদ আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি জায়েদ ইবনে সাল্লাম থেকে, তিনি আবু সাল্লাম থেকে, তিনি হারিস আল-আশআরী থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ ইয়াহইয়া ইবনে জাকারিয়া (আলাইহিস সালাম)-কে পাঁচটি বিষয়ের ওহী দান করেছেন; যেন তিনি নিজে সেগুলো আমল করেন এবং বনী ইসরাঈলকেও সেগুলো আমল করার নির্দেশ দেন।" অতঃপর তিনি দীর্ঘ হাদিসটি বর্ণনা করেন, এবং হাদিসে বলেছেন: "যখন তোমরা সালাতে দাঁড়াও তখন ইতিউতি তাকিও না, কেননা আল্লাহ তাঁর মুখমণ্ডল দিয়ে তাঁর বান্দার মুখমণ্ডলের দিকে অভিমুখী হন।" আবু বকর (ইবনে খুজাইমাহ) বলেন: আমি আবু তাওবাহ আর-রাবী ইবনে নাফি'র সূত্রে মুয়াবিয়া ইবনে সাল্লাম থেকে এই হাদিসটি দীর্ঘভাবে 'কিতাবুস সালাত'-এ লিপিবদ্ধ করিয়েছি। সুতরাং আল্লাহর রুহ ঈসা (আলাইহিস সালাম) আল্লাহর নবী ইয়াহইয়া ইবনে জাকারিয়াকে সেই সব বিষয় শিক্ষা দিতে উৎসাহিত করেছিলেন যা আল্লাহ তাঁকে শিক্ষা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আর আল্লাহ ইয়াহইয়া ইবনে জাকারিয়াকে বনী ইসরাঈলকে যা শিক্ষা দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন তার মধ্যে একটি হলো—যখন বান্দা সালাতে দাঁড়ায় তখন আল্লাহ তাঁর মুখমণ্ডল দিয়ে বান্দার মুখমণ্ডলের দিকে অভিমুখী হন। এর মাধ্যমেই স্পষ্ট ও প্রমাণিত হয়েছে যে, বনী ⦗পৃষ্ঠা: ৩৮⦘ ইসরাঈল এই বিশ্বাসে সুনিশ্চিত ছিল যে তাদের স্রষ্টার একটি মুখমণ্ডল রয়েছে যা দিয়ে তিনি তাঁর সালাত আদায়কারী বান্দার মুখমণ্ডলের দিকে অভিমুখী হন। এবং আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর উম্মতকে সেই বিষয় অবগত করেছেন যা আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা ইয়াহইয়া ইবনে জাকারিয়া (আলাইহিমাস সালাম)-কে বনী ইসরাঈলকে নির্দেশ দিতে আদেশ করেছিলেন; যেন তাঁর উম্মত জানতে পারে এবং নিশ্চিত হতে পারে যে আল্লাহর একটি মুখমণ্ডল রয়েছে যার মাধ্যমে তিনি সালাত আদায়কারী বান্দার মুখমণ্ডলের দিকে অভিমুখী হন, যেমনটি তিনি তাঁর ওপর অবতীর্ণ ফুরকানের (কুরআন) মাধ্যমে ওহী করেছেন: {অতএব তোমরা যেদিকেই মুখ ফেরাও না কেন} [আল-বাকারাহ: ১১৫] অর্থাৎ তোমাদের সালাতের মাধ্যমে, {সেখানেই আল্লাহর মুখমণ্ডল রয়েছে} [আল-বাকারাহ: ১১৫]।
(খণ্ড: ١)
আত-তাওহীদ লি-ইবনি খুযাইমাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٨)
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْحَكَمِ بْنِ أَبِي زِيَادٍ الْقَطَوَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ يَعْنِي ابْنَ عُبَيْدٍ قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ يَزِيدَ بْنَ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ نَاعِمٍ مَوْلَى أُمِّ سَلَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ: حَجَجْنَا مَعَهُ حَتَّى إِذَا كُنَّا بِبَعْضِ طَرِيقِ مَكَّةَ رَأَيْتُهُ تَيَمَّمَ - وَطُرِحَ شَيْءٌ لَهُ - فَجَلَسَ تَحْتَهَا، ثُمَّ قَالَ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَحْتَ هَذِهِ الشَّجَرَةِ، إِذْ أَقْبَلَ رَجُلٌ مِنْ هَذَا الشِّعْبِ ، فَسَلَّمَ ⦗ص: 39⦘ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ ، إِنِّي أُرِيدُ الْجِهَادَ مَعَكَ، أَبْتَغِي بِذَلِكَ وَجْهَ اللَّهِ وَالدَّارَ الْآخِرَةِ، قَالَ: «هَلْ مِنْ أَبَوَيْكِ أَحَدٌ حَيٌّ؟» قَالَ: نَعَمْ ، يَا رَسُولَ اللَّهِ ، كِلَاهُمَا، قَالَ: «ارْجِعْ فَابْرَرْ وَالِدَيْكَ» قَالَ: فَوَلَّى رَاجِعًا مِنْ حَيْثُ جَاءَ
আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনুল হাকাম ইবনে আবি যিয়াদ আল-কাতাওয়ানি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ অর্থাৎ ইবনে উবাইদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক, ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব থেকে, তিনি উম্মে সালামার মুক্ত দাস নাঈম থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা তাঁর সাথে হজ পালন করছিলাম, এমনকি যখন আমরা মক্কার কোনো এক পথে পৌঁছালাম, আমি তাঁকে দেখলাম তিনি একটি স্থানের দিকে অগ্রসর হলেন - এবং তাঁর জন্য সেখানে কোনো একটি বস্তু বিছিয়ে দেওয়া হলো - অতঃপর তিনি তার নিচে বসলেন। এরপর তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এই গাছের নিচে দেখেছিলাম, এমন সময় এই গিরিপথ থেকে এক ব্যক্তি আসলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সালাম ⦗পৃষ্ঠা: ৩৯⦘ দিলেন। তারপর তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি আপনার সাথে জিহাদ করার ইচ্ছা পোষণ করছি, এর মাধ্যমে আমি আল্লাহর চেহারা এবং পরকাল প্রত্যাশা করি। তিনি (রাসূলুল্লাহ) বললেন: "তোমার পিতামাতার কেউ কি জীবিত আছেন?" তিনি বললেন: হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল, তাঁরা উভয়েই জীবিত। তিনি বললেন: "ফিরে যাও এবং তোমার পিতামাতার সাথে সদাচরণ করো।" তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: অতঃপর তিনি যেখান থেকে এসেছিলেন সেদিকে ফিরে গেলেন।
(খণ্ড: ١)
আত-তাওহীদ লি-ইবনি খুযাইমাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٩)
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ الدِّرْهَمِيُّ، قَالَ: ثنا أَبُو عَبْدِ الصَّمَدِ الْعَمِّيُّ يَعْنِي: عَبْدَ الْعَزِيزِ بْنَ عَبْدِ الصَّمَدِ ، عَنْ أَبِي عِمْرَانَ الْجَوْنِيِّ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «جَنَّتَانِ مِنْ فِضَّةٍ آنِيَتُهُمَا وَمَا فِيهِمَا ، وَجَنَّتَانِ مِنْ ذَهَبٍ آنِيَتُهُمَا وَمَا فِيهِمَا، وَمَا بَيْنَ الْقَوْمِ وَبَيْنَ أَنْ يَنْظُرُوا إِلَى وَجْهِ رَبِّهِمْ فِي جَنَّةِ عَدْنٍ إِلَّا رِدَاءُ الْكِبْرِيَاءِ عَلَى وَجْهِهِ»
আলী ইবনুল হুসাইন আদ-দিরহামি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আব্দুস সামাদ আল-আম্মি অর্থাৎ আব্দুল আজিজ ইবনু আব্দুস সামাদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু ইমরান আল-জাওনি থেকে, তিনি আবু বকর ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু কাইস থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “দুটি জান্নাত হবে রুপার, যেগুলোর পাত্রসমূহ এবং যা কিছু তাতে আছে সব কিছুই রুপার। আর দুটি জান্নাত হবে স্বর্ণের, যেগুলোর পাত্রসমূহ এবং যা কিছু তাতে আছে সব কিছুই স্বর্ণের। জান্নাতে আদন-এ থাকা লোকেদের জন্য তাদের প্রতিপালকের চেহারার দিকে তাকানোর মাঝে তাঁর চেহারার ওপর থাকা মহত্ত্বের চাদরটি ছাড়া আর কোনো আড়াল থাকবে না।”