(খণ্ড: ১) আত-তাওয়াদু ওয়াল খুমূল লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: -)
التواضع والخمول لابن أبي الدنيا   (ابن أبي الدنيا)

القسم: كتب السنة


الكتاب: التواضع والخمول

المؤلف: أبو بكر عبد الله بن محمد بن عبيد بن سفيان بن قيس البغدادي الأموي القرشي المعروف بابن أبي الدنيا (ت 281هـ)

المحقق: محمد عبد القادر أحمد عطا

الناشر: دار الكتب العلمية - بيروت

الطبعة: الأولى، 1409 - 1989

عدد الصفحات: 295

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইবনে আবিদ দুনিয়া রচিত আত-তাওয়াদু' ওয়াল খুমূল (বিনয় ও নির্জনতা)   (ইবনে আবিদ দুনিয়া)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: আত-তাওয়াদু' ওয়াল খুমূল

লেখক: আবু বকর আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন উবাইদ বিন সুফিয়ান বিন কায়স আল-বাগদাদি আল-উমাবি আল-কুরাশি, যিনি ইবনে আবিদ দুনিয়া নামে পরিচিত (মৃত্যু ২৮১ হিজরি)

তাহকিক/সম্পাদনা: মুহাম্মাদ আব্দুল কাদির আহমদ আতা

প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ - বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম، ১৪০৯ - ১৯৮৯

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৯৫

[কিতাবের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আত-তাওয়াদু ওয়াল খুমূল লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ١٥)
‌‌بَابُ مَا جَاءَ فِي الْخُمُولِ
অখ্যাত থাকা প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে
(খণ্ড: ১) আত-তাওয়াদু ওয়াল খুমূল লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ١٥)
1 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ ⦗ص: 16⦘، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الْأَعْمَشِ ⦗ص: 17⦘، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ مِنْ أُمَّتِي مَنْ لَوْ أَتَى بَابَ أَحَدِكُمْ فَسَأَلَهُ دِينَارًا لَمْ يُعْطِهِ إِيَّاهُ، وَلَوْ سَأَلَهُ دِرْهَمًا لَمْ يُعْطِهِ إِيَّاهُ، وَلَوْ سَأَلَ اللَّهَ تبارك وتعالى الْجَنَّةَ أَعْطَاهَا إِيَّاهُ، وَلَوْ سَأَلَهُ الدُّنْيَا لَمْ يُعْطِهَا إِيَّاهُ، وَمَا مَنَعَهَا إِيَّاهُ لِهَوَانِهِ عَلَيْهِ، ذُو طِمْرَيْنِ لَا يُؤْبَهُ لَهُ لَوْ أَقْسَمَ عَلَى اللَّهِ عز وجل لَأَبَرَّهُ»
১ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবনে ইসমাঈল ⦗পৃষ্ঠা: ১৬⦘, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু মুয়াবিয়া, তিনি আল-আ'মাশ থেকে ⦗পৃষ্ঠা: ১৭⦘, তিনি সালিম ইবনে আবিল জা'দ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই আমার উম্মতের মধ্যে এমন ব্যক্তিও আছে, যে যদি তোমাদের কারো দ্বারে আসে এবং তার কাছে একটি দিনার চায়, তবে সে তাকে তা দেবে না; যদি সে তার কাছে একটি দিরহাম চায়, তবে সে তাকে তাও দেবে না। অথচ সে যদি মহান ও বরকতময় আল্লাহর কাছে জান্নাত প্রার্থনা করে, তবে তিনি তাকে তা দান করবেন। আর যদি সে তাঁর কাছে দুনিয়া প্রার্থনা করে, তবে তিনি তাকে তা দেবেন না; আর তিনি যে তাকে তা প্রদান থেকে বিরত রেখেছেন তা তাঁর কাছে তার তুচ্ছতার কারণে নয়। সে দুইখানা জীর্ণ বস্ত্র পরিহিত এমন ব্যক্তি যার প্রতি কোনো ভ্রুক্ষেপ করা হয় না; সে যদি মহান আল্লাহর নামে শপথ করে বসে, তবে আল্লাহ অবশ্যই তা পূর্ণ করে দেন।»
(খণ্ড: ১) আত-তাওয়াদু ওয়াল খুমূল লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ١٨)
2 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ الْقُمِّيُّ، عَنْ ⦗ص: 19⦘ جَعْفَرِ بْنِ أَبِي الْمُغِيرَةِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: عَادَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَجُلًا مِنَ الْأَنْصَارِ، فَلَمَّا دَنَا مِنْ مَنْزِلِهِ سَمِعَهُ يَتَكَلَّمُ فِي الدَّاخِلِ، فَلَمَّا دَخَلَ عَلَيْهِ لَمْ يَرَ أَحَدًا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «سَمِعْتُكَ تُكَلِّمُ غَيْرَكَ؟» قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، لَقَدْ دَخَلْتُ الدَّاخِلَ اغْتِمَامًا بِكَلَامِ النَّاسِ مِمَّا بِي مِنَ الْحُمَّى، فَدَخَلَ عَلَيَّ رَجُلٌ مَا رَأَيْتُ رَجُلًا قَطُّ بَعْدَكَ أَكْرَمَ مَجْلِسًا وَلَا أَحْسَنَ حَدِيثًا مِنْهُ، قَالَ: «ذَاكَ جِبْرِيلُ، وَإِنَّ مِنْكُمْ رِجَالًا لَوْ أَنَّ أَحَدَهُمْ أَقْسَمَ عَلَى اللَّهِ عز وجل لَأَبَرَّهُ»
২ - মুহাম্মদ ইবন আব্দুল ওয়াহহাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াকুব আল-কুম্মী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ⦗পৃষ্ঠা: ১৯⦘ জাফর ইবন আবী আল-মুগীরা হতে, তিনি সাঈদ ইবন জুবায়ের হতে, তিনি ইবন আব্বাস (রা.) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জনৈক আনসারী ব্যক্তিকে দেখতে গেলেন। যখন তিনি তার গৃহের সন্নিকটে পৌঁছালেন, তখন ভেতরে তাকে কথা বলতে শুনলেন। অতঃপর তিনি যখন তার নিকট প্রবেশ করলেন, তখন সেখানে আর কাউকে দেখতে পেলেন না। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «আমি কি তোমাকে অন্য কারো সাথে কথা বলতে শুনিনি?» তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! জ্বরের কারণে মানুষের কথাবার্তায় অতিষ্ঠ হয়ে আমি ভেতরে প্রবেশ করেছিলাম। তখন আমার নিকট এমন একজন ব্যক্তি আসলেন যে, আপনার পর আমি তার অপেক্ষা অধিক সম্মানজনক মজলিসের অধিকারী এবং তার অপেক্ষা সুন্দর কথোপকথনকারী আর কাউকে কখনো দেখিনি। তিনি (নবীজি) বললেন: «তিনি ছিলেন জিবরাঈল। আর নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছে যে, তাদের কেউ যদি মহান আল্লাহর ওপর শপথ করে বসে, তবে তিনি তা অবশ্যই পূর্ণ করে দেন।»
(খণ্ড: ১) আত-তাওয়াদু ওয়াল খুমূল লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٠)
3 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ ⦗ص: 21⦘ مُحَمَّدِ بْنِ مُهَاجِرٍ الْأَنْصَارِيِّ، عَنِ الْعَبَّاسِ بْنِ سَالِمٍ اللَّخْمِيِّ، قَالَ ⦗ص: 22⦘: بَعَثَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ إِلَى أَبِي سَلَّامٍ الْحَبَشِيِّ، فَحُمِلَ عَلَى الْبَرِيدِ، فَلَمَّا قَدِمَ عَلَيْهِ قَالَ: لَقَدْ شَقَّ عَلَيَّ، أَوْ قَالَ: لَقَدْ شَقَقْتَ عَلَى رِجْلَيَّ، فَقَالَ لَهُ عُمَرُ: مَا أَرَدْنَا ذَلِكَ، وَلَكِنَّهُ بَلَغَنِي عَنْكَ حَدِيثُ ثَوْبَانَ فِي الْحَوْضِ، فَأَحْبَبْتُ أَنْ أُشَافِهَكَ بِهِ، فَقَالَ: سَمِعْتُ ثَوْبَانَ يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «إِنَّ حَوْضِي مِنْ عَدَنَ إِلَى عَمَّانَ الْبَلْقَاءِ، مَاؤُهُ أَشَدُّ بَيَاضًا مِنَ اللَّبَنِ، وَأَحْلَى مِنَ الْعَسَلِ، وَأَكْوَابُهُ عَدَدُ نُجُومِ السَّمَاءِ، مَنْ شَرِبَ مِنْهُ شَرْبَةً لَا يَظْمَأُ بَعْدَهَا أَبَدًا، أَوَّلُ النَّاسِ وُرُودًا عَلَيْهِ فُقَرَاءُ الْمُهَاجِرِينَ» ، فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ: مَنْ هُمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «هُمُ الشُّعْثُ رُءُوسًا، الدُّنْسُ ثِيَابًا، الَّذِينَ لَا يَنْكِحُونَ الْمُتَنَعِّمَاتِ، وَلَا تُفْتَحُ لَهُمْ أَبْوَابُ السُّدَدِ» فَقَالَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ: لَقَدْ فُتِحَتْ لِيَ السُّدَدُ وَنَكَحْتُ الْمُتَنَعِّمَاتِ، لَا جَرَمَ لَا أَدْهُنُ رَأْسِي حَتَّى يَشْعَثَ، وَلَا أَغْسِلُ ثَوْبِي الَّذِي يَلِي بَدَنِي حَتَّى يَتَّسِخَ
৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান ইবনে সলিহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাইল ইবনে আইয়াশ, ⦗পৃষ্ঠা: ২১⦘ মুহাম্মদ ইবনে মুহাজির আল-আনসারি থেকে, তিনি আব্বাস ইবনে সালিম আল-লাখমি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন ⦗পৃষ্ঠা: ২২⦘: উমর ইবনে আবদুল আজিজ আবু সাল্লাম আল-হাবাশি-এর নিকট লোক পাঠালেন, অতঃপর তাকে ডাক-বাহনে করে নিয়ে আসা হলো। যখন তিনি তাঁর নিকট আসলেন, তখন উমর বললেন: এটি আমার জন্য কষ্টকর হয়েছে, অথবা তিনি বললেন: আমি আপনার পায়ের ওপর কষ্ট দিয়েছি। তখন উমর তাকে বললেন: আমরা তা চাইনি, বরং হাউজ সম্পর্কে আপনার থেকে বর্ণিত সাওবানের একটি হাদিস আমার কাছে পৌঁছেছে, তাই আমি সরাসরি আপনার মুখ থেকে তা শুনতে চেয়েছি। তখন তিনি বললেন: আমি সাওবানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «নিশ্চয়ই আমার হাউজ আদন থেকে বালকার আম্মান পর্যন্ত বিস্তৃত, এর পানি দুধের চেয়ে সাদা এবং মধুর চেয়ে মিষ্টি, আর এর পানপাত্রগুলো আকাশের নক্ষত্ররাজির সমান। যে ব্যক্তি তা থেকে এক ঢোক পান করবে, সে আর কখনো তৃষ্ণার্ত হবে না। সেখানে সর্বপ্রথম আগমনকারী মানুষ হবে দরিদ্র মুহাজিরগণ।’ উমর ইবনুল খাত্তাব বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! তারা কারা? তিনি বললেন: «তারা হলো উস্কোখুস্কো চুলের অধিকারী এবং ময়লা পোশাকধারী ব্যক্তি, যারা বিলাসিনী নারীদের বিয়ে করে না এবং যাদের জন্য (মর্যাদার) দ্বারসমূহ উন্মুক্ত করা হয় না।’ তখন উমর ইবনে আবদুল আজিজ বললেন: আমার জন্য তো দ্বারসমূহ উন্মুক্ত করা হয়েছে এবং আমি বিলাসিনী নারীদের বিয়েও করেছি। অতএব, অবশ্যই আমি আমার মাথায় তেল মাখব না যতক্ষণ না তা উস্কোখুস্কো হয়ে যায়, আর আমার শরীরের সাথে থাকা এই পোশাকটিও ধৌত করব না যতক্ষণ না তা ময়লা হয়ে যায়।
(খণ্ড: ১) আত-তাওয়াদু ওয়াল খুমূল লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٣)
4 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سُوقَةَ قَالَ " حَاصَرَ الْمُسْلِمُونَ حِصْنًا مِنَ الْحُصُونِ فَبَيْنَمَا هُمْ كَذَلِكَ إِذْ أَبْصَرُوا رَجُلًا فَقَالَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ: أَيْ فُلَانُ، كَأَنَّ هَذَا صِفَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَشْعَثُ ذُو طِمْرَيْنِ فَقَالُوا لِبَعْضِهِمْ: كَلِّمْهُ فَكَلَّمَهُ يَسْأَلُ اللَّهَ عز وجل يَفْتَحُهَا فَسَأَلَهُ فَفَتَحَهَا "
৪ - ইসহাক ইবনে ইসমাঈল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফইয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে সূকাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "মুসলিমগণ দুর্গসমূহের মধ্য থেকে একটি দুর্গ অবরোধ করেছিলেন। এমতাবস্থায় তারা এক ব্যক্তিকে দেখতে পেলেন। তখন তাদের কেউ কেউ একে অপরকে বললেন: হে অমুক! একে তো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বর্ণিত গুণাবলির মতো মনে হচ্ছে—উস্কোখুস্কো চুলবিশিষ্ট এবং দুইখণ্ড জীর্ণ বস্ত্র পরিহিত। তারা একে অপরকে বললেন: তার সাথে কথা বলো। অতঃপর তিনি তার সাথে কথা বললেন যেন তিনি মহান আল্লাহর নিকট তা বিজয়ের প্রার্থনা করেন। অতঃপর তিনি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করলেন এবং তিনি তা বিজয় করে দিলেন।"
(খণ্ড: ১) আত-তাওয়াদু ওয়াল খুমূল লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٤)
5 - حَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ شَبَّةَ، عَنِ ابْنِ عَائِشَةَ، قَالَ: قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ:

أَلَا رُبَّ ذِي طِمْرَيْنِ فِي مَنْزِلٍ غَدَا … زَرَابِيُّهُ مَبْثُوثَةٌ، وَنَمَارِقُهْ

قَدِ اطَّرَدَتْ أَنْهَارُهُ حَوْلَ قَصْرِهِ … وَأَشْرَقَ وَالْتَفَّتْ عَلَيْهِ حَدَائِقُهْ
৫ - উমর ইবনে শাব্বাহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবন আইশা থেকে, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক বলেছেন:

সাবধান! জীর্ণ বস্ত্র পরিহিত এমন অনেক ব্যক্তি আছে যারা আগামীকাল এমন এক আবাসে উপনীত হবে … যেখানে তার গালিচাগুলো বিছানো থাকবে এবং বালিশসমূহও।

তার প্রাসাদের চারধারে নহরসমূহ নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রবাহিত হবে … এবং তার উদ্যানসমূহ উজ্জ্বল হবে ও তাকে বেষ্টন করে থাকবে।
(খণ্ড: ১) আত-তাওয়াদু ওয়াল খুমূল লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٥)
6 - وَحَدَّثَنِي الْحُسَيْنُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ سُوَيْدٍ قَالَ: " قَحَطَ أَهْلُ الْمَدِينَةِ وَكَانَ بِهَا رَجُلٌ صَالِحٌ لَازِمٌ لِمَسْجِدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَبَيْنَمَا هُمْ فِي دُعَائِهِمْ إِذْ جَاءَ رَجُلٌ عَلَيْهِ طِمْرَانِ خَلَقَانِ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ وَأَوْجَزَ فِيهِمَا ثُمَّ بَسَطَ يَدَيْهِ فَقَالَ: يَا رَبِّ، أَقْسَمْتُ عَلَيْكَ إِلَّا أَمْطَرْتَ عَلَيْنَا السَّاعَةَ فَلَمْ يَرُدَّ يَدَيْهِ، وَلَمْ يَقْطَعْ دُعَاءَهُ حَتَّى تَغَشَّتِ السَّمَاءُ بِالْغَيْمِ وَأُمْطِرُوا، حَتَّى صَاحَ أَهْلُ الْمَدِينَةِ مِنْ مَخَافَةِ الْغَرَقِ، فَقَالَ: يَا رَبِّ، إِنَّ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّهُمْ قَدِ اكْتَفَوْا فَارْفَعْ عَنْهُمْ، فَسَكَنَ، وَتَبِعَ الرَّجُلُ صَاحِبَ الْمَطَرِ حَتَّى عَرَفَ مَنْزِلَهُ ثُمَّ بَكَّرَ عَلَيْهِ، فَخَرَجَ إِلَيْهِ فَقَالَ: إِنِّي أَتَيْتُكَ فِي حَاجَةٍ، قَالَ: وَمَا هِيَ؟ قَالَ: تَخُصُّنِي بِدَعْوَةٍ، قَالَ: سُبْحَانَ اللَّهِ أَنْتَ أَنْتَ وَتَسْأَلُنِي أَخَصُّكَ بِدَعْوَةٍ. قَالَ: مَا الَّذِي بَلَغَكَ؟ قَالَ: مَا رَأَيْتُ. قَالَ: وَرَأَيْتَنِي؟ قَالَ: نَعَمْ. قَالَ: أَطَعْتُ اللَّهَ فِيمَا أَمَرَنِي وَنَهَانِي، فَسَأَلْتُهُ فَأَعْطَانِي "
৬ - আল-হুসাইন ইবনে আবদুর রহমান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে সুওয়াইদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "মদিনাবাসীরা অনাবৃষ্টির কবলে পড়েছিল। সেখানে একজন নেককার লোক ছিলেন যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মসজিদে পড়ে থাকতেন। যখন তারা দুআয় মগ্ন ছিলেন, এমতাবস্থায় জীর্ণ ও পুরনো দুই টুকরো বস্ত্র পরিহিত এক ব্যক্তি এলেন। তিনি সংক্ষিপ্তভাবে দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন। এরপর তিনি তার দুই হাত প্রসারিত করে বললেন: হে আমার রব! আমি আপনার নামে কসম করছি যে, এখনই আমাদের ওপর বৃষ্টি বর্ষণ করুন। তিনি হাত নামাননি এবং তাঁর দুআও শেষ করেননি, এরমধ্যেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে গেল এবং তাদের ওপর বৃষ্টি বর্ষিত হলো, এমনকি মদিনাবাসীরা ডুবে যাওয়ার আশঙ্কায় চিৎকার করতে লাগল। তখন তিনি বললেন: হে আমার রব! যদি আপনি জানেন যে তাদের জন্য যথেষ্ট হয়েছে, তবে তা তাদের থেকে সরিয়ে নিন। ফলে বৃষ্টি থেমে গেল। এরপর এক ব্যক্তি সেই বৃষ্টি প্রার্থনাকারীর পিছু নিলেন এবং তাঁর বাসস্থান চিনে রাখলেন। তারপর পরদিন খুব ভোরে তাঁর নিকট গেলেন। তখন ঐ ব্যক্তি বের হয়ে এলে তিনি বললেন: আমি আপনার নিকট একটি প্রয়োজনে এসেছি। তিনি বললেন: তা কী? তিনি বললেন: আপনি আমার জন্য বিশেষভাবে দুআ করবেন। তিনি বললেন: সুবহানাল্লাহ! আপনি তো আপনিই, আর আপনি আমার নিকট বিশেষ দুআ চাইছেন? তিনি বললেন: আপনার নিকট কী সংবাদ পৌঁছেছে? তিনি বললেন: আমি যা দেখেছি। তিনি বললেন: আপনি কি আমাকে দেখেছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: আল্লাহ আমাকে যা আদেশ করেছেন এবং যা নিষেধ করেছেন, সে বিষয়ে আমি তাঁর আনুগত্য করেছি। ফলে আমি তাঁর নিকট কিছু প্রার্থনা করলে তিনি আমাকে তা দান করেন।"
(খণ্ড: ১) আত-তাওয়াদু ওয়াল খুমূল লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٦)
7 - حَدَّثَنِي نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، حَدَّثَنَا الْأَصْمَعِيُّ، عَنْ أَبِي مَوْدُودٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، قَالَ ⦗ص: 27⦘: " كُنْتُ فِي الْمَسْجِدِ فَإِذَا أَنَا بِرَجُلٍ عِنْدَ الْمِنْبَرِ يَدْعُو بِالْمَطَرِ فَجَاءَ الْمَطَرُ بِصَوْتٍ وَرَعْدٍ فَقَالَ: يَا رَبِّ لَيْسَ هَكَذَا قَالَ: فَمَطَرَتْ فَتَبِعْتُهُ حَتَّى دَخَلَ دَارَ آلِ حَزْمٍ أَوْ آلِ عُمَرَ فَعَرَفْتُ مَكَانَهُ، فَجِئْتُ مِنَ الْغَدِ فَعَرَضْتُ عَلَيْهِ شَيْئًا فَأَبَى وَقَالَ: لَا حَاجَةَ لِي بِهَذَا، فَقُلْتُ: فَحُجَّ مَعِي، فَقَالَ: هَذَا شَيْءٌ لَكَ فِيهِ أَجْرٌ، فَأَكْرَهُ أَنْ أَنْفَسَ عَلَيْكَ وَأَمَّا شَيْءٌ آخُذُهُ فَلَا "
৭ - নসর ইবনে আলী আল-জাহদামি আমাকে বর্ণনা করেছেন, আল-আসমায়ী আমাদের বর্ণনা করেছেন, আবু মাওদুদ থেকে বর্ণিত, মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন ⦗পৃষ্ঠা: ২৭⦘: "আমি মসজিদে ছিলাম, হঠাৎ মিম্বরের কাছে একজন লোককে বৃষ্টির জন্য দুআ করতে দেখলাম। এরপর গর্জন ও বজ্রসহ বৃষ্টি এলো। তখন তিনি বললেন: হে আমার রব, এভাবে নয়। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর বৃষ্টি বর্ষিত হলো। আমি তাঁর পিছু নিলাম যতক্ষণ না তিনি আলে হাজম বা আলে উমরের বাড়িতে প্রবেশ করলেন এবং আমি তাঁর স্থানটি চিনে নিলাম। পরদিন আমি তাঁর কাছে এসে তাঁকে কিছু দেওয়ার প্রস্তাব দিলাম, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করলেন এবং বললেন: এতে আমার কোনো প্রয়োজন নেই। আমি বললাম: তবে আমার সাথে হজ্জ করুন। তিনি বললেন: এটি এমন বিষয় যাতে আপনার জন্য সওয়াব রয়েছে, আর আমি আপনার সওয়াবে ভাগ বসাতে অপছন্দ করি। আর আমি নিজের জন্য গ্রহণ করার মতো কোনো কিছুই নেব না।"
(খণ্ড: ১) আত-তাওয়াদু ওয়াল খুমূল লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٨)
8 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ سَهْلٍ التَّمِيمِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ ⦗ص: 29⦘، حَدَّثَنَا نَافِعُ بْنُ يَزِيدَ، عَنْ عَيَّاشِ بْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ عِيسَى بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُمَرَ ⦗ص: 30⦘ أَنَّهُ دَخَلَ الْمَسْجِدَ فَإِذَا هُوَ بِمُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ يَبْكِي عِنْدَ قَبْرِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: مَا يُبْكِيكَ يَا مُعَاذُ؟ قَالَ: حَدِيثٌ سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم، سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «الْيَسِيرُ مِنَ الرِّيَاءِ شِرْكٌ» وَإِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْأَتْقِيَاءَ الْأَخْفِيَاءَ الْأَبْرَارَ الَّذِينَ إِذَا غَابُوا لَمْ يُفْقَدُوا، وَإِنْ حَضَرُوا لَمْ يُعْرَفُوا، قُلُوبُهُمْ مَصَابِيحُ الْهُدَى يَنْجُونَ مِنْ كُلِّ غَبْرَاءَ مُظْلِمَةٍ "
৮ - আমাদের নিকট আবু বকর ইবন সাহল আত-তামিমী বর্ণনা করেছেন, ইবন আবি মারইয়াম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ২৯⦘, নাফি ইবন ইয়াযিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আইয়্যাশ ইবন আব্বাস থেকে, তিনি ঈসা ইবন আবদুর রহমান থেকে, তিনি যায়েদ ইবন আসলাম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন ⦗পৃষ্ঠা: ৩০⦘ যে, তিনি মসজিদে প্রবেশ করলেন এবং দেখলেন মুয়ায ইবন জাবাল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবরের নিকট কাঁদছেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: হে মুয়ায! তোমাকে কিসে কাঁদাচ্ছে? তিনি বললেন: একটি হাদীস যা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট শুনেছি। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «সামান্যতম লোকদেখানো আমলও (রিয়া) শিরক»; আর নিশ্চয়ই আল্লাহ ঐ সকল মুত্তাকী, প্রচারবিমুখ ও পুণ্যবানদের ভালোবাসেন যারা অনুপস্থিত থাকলে তাদের খোঁজ করা হয় না, আর উপস্থিত থাকলেও তাদের চেনা যায় না। তাদের অন্তরসমূহ হিদায়াতের প্রদীপ। তারা প্রতিটি অন্ধকারাচ্ছন্ন ফেতনা থেকে মুক্তি লাভ করে।
(খণ্ড: ১) আত-তাওয়াদু ওয়াল খুমূল লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٣٠)
9 - حَدَّثَنَا خَلَفُ بْنُ هِشَامٍ الْبَزَّارُ، حَدَّثَنَا أَبُو شِهَابِ بْنُ الْحَنَّاطِ ⦗ص: 31⦘، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ رَجُلٍ، عَنِ ابْنِ مُنَبِّهٍ قَالَ: " لَمَّا بَعَثَ اللَّهُ تبارك وتعالى مُوسَى وَهَارُونَ إِلَى فِرْعَوْنَ قَالَ: لَا يَرُعْكُمَا لِبَاسُهُ الَّذِي لَبِسَ مِنَ الدُّنْيَا فَإِنَّ نَاصِيَتَهُ بِيَدِي لَيْسَ يَنْطِقُ وَلَا يَطْرِفُ وَلَا يَتَنَفَّسُ إِلَّا بِإِذْنِي، وَلَا يُعْجِبُكُمَا مَا مُتِّعَ بِهِ مِنْهَا فَإِنَّمَا هِيَ زَهْرَةُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَزِينَةُ الْمُتْرَفِينَ، وَلَوْ شِئْتُ أَنْ أُزَيِّنَكُمَا بِزِينَةٍ مِنَ الدُّنْيَا يَعْرِفُ فِرْعَوْنُ حِينَ يَرَاهَا أَنَّ مَقْدِرَتَهُ تَعْجِزُ عَمَّا أُوتِيتُمَا لَفَعَلْتُ، وَلَكِنِّي أَرْغَبُ بِكُمَا عَنْ ذَلِكَ فَأَزْوِي ذَلِكَ عَنْكُمَا وَكَذَلِكَ أَفْعَلُ بِأَوْلِيَائِي وَقَدِيمًا مَا خِرْتُ لَهُمْ فِي أُمُورِ الدُّنْيَا، إِنِّي لَأَذُودُهُمْ عَنْ نَعِيمِهَا كَمَا يَذُودُ الرَّاعِي الشَّفِيقُ غَنَمَهُ عَنْ مَوَارِدِ الْهَلَكَةِ، وَإِنِّي لَأُجَنِّبُهُمْ سَلْوَتَهَا كَمَا يُجَنِّبُ الرَّاعِي الشَّفِيقُ إِبِلَهُ عَنْ مَبَارِكِ الْعُرَّةِ وَمَا ذَاكَ لِهَوَانِهِمْ عَلَيَّ؛ وَلَكِنْ لِيَسْتَكْمِلُوا نَصِيبَهُمْ مِنْ كَرَامَتِي سَالِمًا مَوْفُورًا لَمْ يَكْلَمْهُ الطَّمَعُ، وَلَمْ تَنْتَقِصْهُ الدُّنْيَا بِغُرُورِهَا إِنَّمَا يَتَزَيَّنُ لِي أَوْلِيَائِي بِالذُّلِّ وَالْخُشُوعِ وَالْخَوْفِ، وَالتَّقْوَى تَثْبُتُ فِي قُلُوبِهِمْ فَتَظْهَرُ عَلَى أَجْسَادِهِمْ فَهِيَ ثِيَابُهُمُ الَّتِي يَلْبَسُونَ وَدِثَارُهُمُ الَّذِي يُظْهِرُونَ، وَضَمِيرُهُمُ الَّذِي يَسْتَشْعِرُونَ، وَنَجَاتُهُمُ الَّتِي بِهَا يَفُوزُونَ، وَرَجَاؤُهُمُ الَّذِي إِيَّاهُ يُؤَمِّلُونَ، وَمَجْدُهُمُ الَّذِي بِهِ يَفْخَرُونَ وَسِيمَاهُمُ الَّتِي بِهَا يُعْرَفُونَ فَإِذَا لَقِيتَهُمْ فَاخْفِضْ لَهُمْ جَنَاحَكَ وَذَلِّلْ لَهُمْ قَلْبَكَ وَلِسَانَكَ، وَاعْلَمْ أَنَّهُ مَنْ أَخَافَ لِي وَلِيًّا فَقَدْ بَارَزَنِي بِالْمُحَارَبَةِ ثُمَّ أَنَا الثَّائِرُ لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ "
৯ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন খালাফ বিন হিশাম আল-বাযযার, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু শিহাব বিন আল-হান্নাত ⦗পৃষ্ঠা: ৩১⦘, সুফিয়ান থেকে, এক ব্যক্তি থেকে, ইবন মুনাব্বিহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "যখন আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা মুসা ও হারুনকে ফিরআউনের কাছে পাঠালেন, তখন তিনি বললেন: দুনিয়ার যে পোশাক সে পরেছে তা যেন তোমাদের ভীত না করে, কেননা তার কপাল আমার হাতে। সে কথা বলে না, চোখের পলক ফেলে না এবং শ্বাসও গ্রহণ করে না আমার অনুমতি ব্যতীত। দুনিয়ার যেসব ভোগসামগ্রী তাকে দেওয়া হয়েছে তা যেন তোমাদের বিস্মিত না করে, কারণ তা কেবল পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য এবং বিলাসীদের চাকচিক্য মাত্র। আর আমি যদি চাইতাম যে তোমাদের এমন পার্থিব অলংকারে সজ্জিত করব যা দেখে ফিরআউন বুঝতে পারত যে, তোমাদের যা দেওয়া হয়েছে তার মোকাবিলা করতে সে অক্ষম, তবে আমি অবশ্যই তা করতাম। কিন্তু আমি তোমাদের জন্য তা অপছন্দ করি এবং তা তোমাদের থেকে সরিয়ে রাখি। আর আমি আমার বন্ধুদের সাথে এমনই করে থাকি। প্রাচীনকাল থেকেই আমি তাদের জন্য পার্থিব বিষয়ে এভাবেই কল্যাণ নির্ধারণ করেছি। নিশ্চয়ই আমি তাদেরকে দুনিয়ার সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য থেকে সেভাবেই দূরে সরিয়ে রাখি, যেভাবে একজন দয়ালু রাখাল তার মেষপালকে ধ্বংসাত্মক স্থান থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। এবং আমি তাদেরকে দুনিয়ার আনন্দ-উল্লাস থেকে দূরে রাখি যেভাবে একজন দয়ালু রাখাল তার উটগুলোকে নোংরা বিশ্রামস্থল থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। আর তা আমার কাছে তাদের হীনতার কারণে নয়; বরং যাতে তারা আমার পক্ষ থেকে প্রাপ্ত সম্মানের পূর্ণ অংশ অক্ষত ও পরিপূর্ণভাবে লাভ করতে পারে, যা লোভ দ্বারা কলুষিত হবে না এবং দুনিয়ার ধোঁকায় যাতে কোনো ঘাটতি আসবে না। নিশ্চয়ই আমার বন্ধুরা আমার উদ্দেশ্যে দৈন্যতা, বিনয় এবং ভয়ের মাধ্যমে নিজেদের সুশোভিত করে। তাদের অন্তরে তাকওয়া গেঁথে থাকে এবং তা তাদের দেহে প্রকাশিত হয়। এটাই তাদের পোশাক যা তারা পরিধান করে, এটাই তাদের চাদর যা তারা প্রকাশ করে, এটাই তাদের অভ্যন্তরীণ অনুভূতি যা তারা হৃদয়ে লালন করে এবং এটাই তাদের মুক্তির পথ যার মাধ্যমে তারা সফল হয়। এটাই তাদের আশা যা তারা পোষণ করে, এটাই তাদের মর্যাদা যাতে তারা গর্ব করে এবং এটাই তাদের নিদর্শন যার মাধ্যমে তারা পরিচিত হয়। সুতরাং যখন তুমি তাদের সাথে সাক্ষাৎ করবে, তখন তাদের প্রতি নমনীয় হও এবং তোমার অন্তর ও জিহ্বাকে তাদের জন্য বিনম্র করো। আর জেনে রেখো, যে ব্যক্তি আমার কোনো বন্ধুকে ভীত করল সে যেন আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হলো। অতঃপর কিয়ামতের দিন আমিই তার পক্ষ থেকে প্রতিশোধ গ্রহণকারী।"
(খণ্ড: ১) আত-তাওয়াদু ওয়াল খুমূল লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٣٢)
10 - حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي بُكَيْرٍ، عَنْ ⦗ص: 33⦘ شَرِيكٍ، عَنْ لَيْثٍ ⦗ص: 34⦘، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ أَبِي الْبَخْتَرِيِّ، عَنْ عَلِيٍّ قَالَ: «طُوبَى لِكُلِّ عَبْدٍ نُوَمَةٍ، عَرَفَ النَّاسَ وَلَمْ يَعْرِفْهُ النَّاسُ، وَعَرَفَهُ اللَّهُ مِنْهُ بِرِضْوَانٍ، أُولَئِكَ مَصَابِيحُ الدُّجَى تُجَلَّى عَنْهُمْ كُلُّ فِتْنَةٍ مُظْلِمَةٍ، أُولَئِكَ لَيْسُوا بِالْمَذَايِيعِ الْبُذْرِ، وَلَا الْجُفَاةِ الْمُرَائِينَ» قَالَ: سَمِعْتُ ابْنَ الْأَعْرَابِيِّ يَقُولُ: «النُّوَمَةُ الَّذِي لَا يَدْخُلُ مَعَ النَّاسِ فِيمَا هُمْ فِيهِ»
১০ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন রাওহ ইবনে হাতিম, তিনি বলেন আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে আবি বুকাইর, ⦗পৃষ্ঠা: ৩৩⦘ শারিক হতে, তিনি লাইস হতে ⦗পৃষ্ঠা: ৩৪⦘, তিনি হাকাম হতে, তিনি আবু আল-বাখতারি হতে, তিনি আলী (রা.) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: «সুসংবাদ সেই প্রত্যেক অখ্যাত (নুয়ামাহ) বান্দার জন্য, যে মানুষকে চেনে কিন্তু মানুষ তাকে চেনে না, আর আল্লাহ তাকে তাঁর পক্ষ থেকে সন্তুষ্টির মাধ্যমে চিনে নিয়েছেন। তারাই হলো অন্ধকারের প্রদীপ, তাদের মাধ্যমে প্রতিটি অন্ধকারাচ্ছন্ন ফিতনা দূরীভূত হয়। তারা রহস্য ফাঁসকারী বা অসংযমী নয় এবং রূঢ় স্বভাবের লোকপ্রদর্শনকারীও নয়।» তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: আমি ইবনুল আরাবিকে বলতে শুনেছি: «নুয়ামাহ হলো সেই ব্যক্তি, যে মানুষ যে সকল (পার্থিব) বিষয়ে লিপ্ত থাকে সেগুলোতে লিপ্ত হয় না বা তাতে প্রবেশ করে না।»
(খণ্ড: ১) আত-তাওয়াদু ওয়াল খুমূল লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٣٤)
11 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا يَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ، عَنْ ⦗ص: 35⦘ مُحَمَّدِ بْنِ عَوْنٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عِيسَى، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ: «كُونُوا يَنَابِيعَ الْعِلْمِ مَصَابِيحَ الْهُدَى أَحْلَاسَ الْبُيُوتِ سُرُجَ اللَّيْلِ، جُدُدَ الْقُلُوبِ خُلْقَانَ الثِّيَابِ، تُعْرَفُونَ فِي أَهْلِ السَّمَاءِ وَتَخْفَوْنَ فِي أَهْلِ الْأَرْضِ»
১১ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান ইবনে সালিহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়ালা ইবনে উবাইদ, ⦗পৃষ্ঠা: ৩৫⦘ মুহাম্মদ ইবনে আউন থেকে, ইব্রাহিম ইবনে ঈসা থেকে, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "তোমরা ইলমের ঝর্ণাধারা, হিদায়াতের প্রদীপ, নিজ গৃহের চট (নিভৃতচারী), রজনীর আলোকবর্তিকা, সজীব অন্তরের অধিকারী এবং জীর্ণ বস্ত্র পরিহিত হও। তবেই তোমরা আসমানবাসীদের নিকট পরিচিত হবে এবং যমিনবাসীদের নিকট অপরিচিত থাকবে।"
(খণ্ড: ১) আত-তাওয়াদু ওয়াল খুমূল লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٣٦)
12 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَبِي خَالِدٍ، قَالَ: قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضي الله عنه «كُونُوا أَوْعِيَةَ الْكِتَابِ، وَيَنَابِيعَ الْعِلْمِ، وَسَلُوا اللَّهَ رِزْقَ يَوْمٍ بِيَوْمٍ، وَعُدُّوا أَنْفُسَكُمْ مَعَ الْمَوْتَى، وَلَا يَضُرُّكُمْ أَلَّا يُكْثِرَ لَكُمْ»
১২ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইসহাক বিন ইসমাঈল, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান বিন উয়াইনা, আবু খালিদ থেকে, তিনি বলেন: উমর বিন আল-খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: «তোমরা কিতাবের (কুরআনের) আধার এবং ইলমের ঝরনাধারা হও, আর আল্লাহর কাছে প্রতিদিনের রিযিক প্রতিদিন চাও; নিজেদেরকে মৃতদের অন্তর্ভুক্ত গণনা করো এবং তোমাদের জন্য (পার্থিব সম্পদ) বেশি না হওয়া তোমাদের কোনো ক্ষতি করবে না।»
(খণ্ড: ১) আত-তাওয়াদু ওয়াল খুমূল লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٣٧)
13 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ يَحْيَى ⦗ص: 38⦘ بْنِ أَيُّوبَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ زَحْرٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ يَزِيدَ، عَنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " قَالَ اللَّهُ: إِنَّ أَغْبَطَ أَوْلِيَائِي عِنْدِي مُؤْمِنٌ خَفِيفُ الْحَاذِ ذُو حَظٍّ مِنْ صَلَاةٍ، أَحْسَنَ عِبَادَةَ رَبِّهِ وَأَطَاعَهُ فِي السِّرِّ وَكَانَ غَامِضًا فِي النَّاسِ لَا يُشَارُ إِلَيْهِ بِالْأَصَابِعِ، فَمَنْ صَبَرَ عَلَى ذَلِكَ " قَالَ: ثُمَّ نَقَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِيَدِهِ وَقَالَ: «عُجِّلَتْ مَنِيَّتُهُ وَقَلَّ تُرَاثُهُ وَقَلَّتْ بَوَاكِيهِ»
১৩ - আমাদের নিকট ইসহাক ইবনে ইবরাহিম বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইবনুল মুবারক বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ⦗পৃষ্ঠা: ৩৮⦘ ইবনে আইয়ুব থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে জাহর থেকে, তিনি আলী ইবনে ইয়াজিদ থেকে, তিনি কাসিম থেকে, তিনি আবু উমামাহ থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ বলেছেন: আমার নিকট আমার বন্ধুদের মধ্যে সেই মুমিন ব্যক্তিই সর্বাধিক ঈর্ষণীয়, যার পার্থিব বোঝা হালকা, যে সালাতে বিশেষ অংশের অধিকারী, যে তার রবের ইবাদত অতি উত্তমভাবে সম্পাদন করেছে এবং গোপনে তাঁর আনুগত্য করেছে এবং মানুষের মাঝে সে ছিল অজ্ঞাত, যার দিকে আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করা হতো না। যে ব্যক্তি এর ওপর ধৈর্য ধারণ করবে—" বর্ণনাকারী বলেন: এরপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাত দিয়ে টোকা দিলেন এবং বললেন: «তার মৃত্যু ত্বরান্বিত হলো, তার উত্তরাধিকার কম হলো এবং তার জন্য ক্রন্দনকারিনীও কম হলো।»
(খণ্ড: ১) আত-তাওয়াদু ওয়াল খুমূল লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٣٩)
14 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، حَدَّثَنَا عَامِرُ بْنُ يَسَافٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ قَالَ: قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ: «كُونُوا يَنَابِيعَ الْعِلْمِ جُدُدَ الْقُلُوبِ خُلْقَانَ الثِّيَابِ سُرُجَ اللَّيْلِ؛ كَيْ تُعْرَفُوا فِي أَهْلِ السَّمَاءِ وَتُخْفَوْا فِي أَهْلِ الْأَرْضِ»
১৪ - ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমির বিন ইয়াসাফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া বিন আবি কাসীর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ বিন মাসঊদ বলেছেন: «তোমরা ইলমের ঝরনাধারা, সজীব হৃদয়ের অধিকারী, জীর্ণ পোশাক পরিধানকারী এবং রাত্রির প্রদীপ হও; যাতে তোমরা আসমানবাসীদের নিকট পরিচিত হতে পারো এবং জমিনবাসীদের নিকট অখ্যাত থাকতে পারো।»
(খণ্ড: ১) আত-তাওয়াদু ওয়াল খুমূল লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٤٠)
15 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْحَسَنِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ ⦗ص: 41⦘ عَلْقَمَةَ، حَدَّثَنَا حَزْمٌ قَالَ: سَمِعْتُ مُعَاوِيَةَ بْنَ قُرَّةَ يَقُولُ: قَالَ كَعْبٌ: «طُوبَى لَهُمْ، طُوبَى لَهُمْ» قِيلَ: وَمَنْ هُمْ يَا أَبَا إِسْحَاقَ؟ قَالَ: «طُوبَى لَهُمْ قَوْمٌ إِنْ شَهِدُوا لَمْ يَدْخُلُوا، وَإِنْ خَطَبُوا لَمْ يُنْكَحُوا، وَإِنْ قَامُوا لَمْ يُفْقَدُوا»
১৫ - আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনুল হাসান বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবদুর রহমান ইবনে ⦗পৃষ্ঠা: ৪১⦘ আলকামা বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হাযম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মুয়াবিয়া ইবনে কুররাহকে বলতে শুনেছি, কাব বলেন: «তাদের জন্য সুসংবাদ, তাদের জন্য সুসংবাদ» জিজ্ঞেস করা হলো: হে আবু ইসহাক, তারা কারা? তিনি বললেন: «সুসংবাদ সেই কওমের জন্য, যারা উপস্থিত হলে তাদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয় না, তারা বিয়ের প্রস্তাব দিলে তাদের সাথে বিয়ে দেওয়া হয় না এবং তারা অনুপস্থিত থাকলে তাদের খোঁজ নেওয়া হয় না।»
(খণ্ড: ১) আত-তাওয়াদু ওয়াল খুমূল লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٤٢)
16 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيٍّ قَالَ: سَمِعْتُ أَبِي، أَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُسْلِمٍ الطَّائِفِيُّ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَوْسٍ، عَنْ سُلَيْمِ بْنِ هُرْمُزَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ: " أَحَبُّ عِبَادِ اللَّهِ إِلَى اللَّهِ الْغُرَبَاءُ، قِيلَ: وَمَنِ الْغُرَبَاءُ؟ قَالَ: الْفَرَّارُونَ بِدِينِهِمْ يُجْمَعُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِلَى عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ عليه السلام "
১৬ - মুহাম্মদ ইবনে আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম আত-তায়েফী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, উসমান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আউস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুলাইম ইবনে হুরমুজ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আল্লাহর নিকট আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে সর্বাধিক প্রিয় হলো অপরিচিত আগন্তুকগণ। জিজ্ঞাসা করা হলো: অপরিচিত আগন্তুক কারা? তিনি বললেন: যারা নিজেদের দ্বীন নিয়ে পলায়নকারী, কিয়ামতের দিন তাদেরকে ঈসা ইবনে মারইয়াম আলাইহিস সালাম-এর নিকট সমবেত করা হবে।"
(খণ্ড: ১) আত-তাওয়াদু ওয়াল খুমূল লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٤٣)
17 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ شَقِيقٍ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْأَشْعَثِ قَالَ: سَمِعْتُ الْفُضَيْلَ، يَقُولُ: بَلَغَنِي " أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى، يَقُولُ لِلْعَبْدِ فِي بَعْضِ مِنَّتِهِ الَّتِي مَنَّ بِهَا عَلَيْهِ: " أَلَمْ أُنْعِمْ عَلَيْكَ؟ أَلَمْ أُعْطِكَ؟ أَلَمْ أَسْتُرْكَ؟ أَلَمْ؟ أَلَمْ؟ أَلَمْ؟ أُخْمِدْ ذِكْرَكَ؟ قَالَ: وَسَمِعْتُهُ يَقُولُ: إِنْ قَدَرْتَ أَنْ لَا تُعْرَفَ فَافْعَلْ، وَمَا عَلَيْكَ أَلَّا تُعْرَفَ، وَمَا عَلَيْكَ أَلَّا يُثْنَى عَلَيْكَ، وَمَا عَلَيْكَ أَنْ تَكُونَ مَذْمُومًا عِنْدَ النَّاسِ إِذَا كُنْتَ مَحْمُودًا عِنْدَ اللَّهِ عز وجل "
১৭ - মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে শাকীক আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইবরাহীম ইবনুল আশআস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ফুদ্বাইলকে বলতে শুনেছি: আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর কোনো এক বান্দাকে তাঁর দেওয়া অনুগ্রহ প্রসঙ্গে বলবেন: "আমি কি তোমার প্রতি অনুগ্রহ করিনি? আমি কি তোমাকে দান করিনি? আমি কি তোমার (দোষ) গোপন রাখিনি? আমি কি করিনি? আমি কি করিনি? আমি কি করিনি? আমি কি তোমার পরিচিতি মিটিয়ে দিইনি (তোমাকে অখ্যাত রাখিনি)?" তিনি বলেন: এবং আমি তাকে বলতে শুনেছি: "যদি তুমি পরিচিত না হয়ে থাকতে সক্ষম হও তবে তাই করো। তোমার পরিচিত না হওয়াতে তোমার কোনো ক্ষতি নেই, আর তোমার প্রশংসা না করা হলেও তোমার কোনো পরোয়া নেই। মানুষের নিকট তুমি নিন্দিত হলেও তাতে তোমার কিছু যায় আসে না, যদি তুমি মহান আল্লাহর নিকট প্রশংসিত হও।"
(খণ্ড: ১) আত-তাওয়াদু ওয়াল খুমূল লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٤٤)
18 - حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَضَّاحٍ، حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ يَمَانٍ، عَنْ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ مُوسَى قَالَ: سَمِعْتُ ابْنَ مُحَيْرِيزٍ، يَقُولُ: «اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ ذِكْرًا خَامِلًا»
১৮ - আবদুল্লাহ বিন ওয়াদদাহ আমাকে বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া বিন ইয়ামান আমাকে বর্ণনা করেছেন, আব্দুল ওয়াহিদ বিন মুসা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি ইবনে মুহাইরিজকে বলতে শুনেছি: "হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকা (অখ্যাত) যিকির প্রার্থনা করছি।"
(খণ্ড: ১) আত-তাওয়াদু ওয়াল খুমূল লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٤٥)
19 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي عَمْرٍو السَّيْبَانِيُّ قَالَ: حَدَّثَنِي مَنْ سَمِعَ كَعْبًا، يَقُولُ: «إِنِّي لَأَجِدُ فِي كِتَابِ اللَّهِ عز وجل صِفَةَ قَوْمٍ مَا رَأَيْتُهُمْ بَعْدُ، شَعِثَةٌ رُءُوسُهُمْ، دَنِسَةٌ ثِيَابُهُمْ إِنْ خَطَبُوا النِّسَاءَ لَمْ يُنْكَحُوا، وَإِنْ حَضَرُوا السُّدَدَ لَمْ يُؤْذَنْ لَهُمْ، حَاجَةُ أَحَدِهِمْ تُجَلْجِلُ فِي صَدْرِهِ لَوْ قُسِّمَ نُورُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى الْخَلَائِقِ لَوَسِعَهُمْ»
১৯ - মুহাম্মাদ বিন আল-হুসাইন আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, ইয়াহইয়া বিন আবি বুকাইর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ইসমাঈল বিন আইয়াশ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ইয়াহইয়া বিন আবি আমর আস-সাইবানি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন; তিনি বলেন: আমার কাছে এমন এক ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন যিনি কাবকে বলতে শুনেছেন: "নিশ্চয়ই আমি মহান আল্লাহর কিতাবে এমন এক সম্প্রদায়ের গুণাবলি পাচ্ছি যাদের আমি এখনও দেখিনি; তাদের মাথার চুল উসকোখুসকো, তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ ময়লাযুক্ত। যদি তারা নারীদের নিকট বিয়ের প্রস্তাব দেয় তবে তাদের সাথে বিয়ে দেওয়া হয় না, আর যদি তারা কোনো দ্বারপ্রান্তে উপস্থিত হয় তবে তাদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয় না। তাদের কারো কোনো প্রয়োজন তার নিজের বুকের মধ্যেই গুমরে মরে। কিয়ামতের দিন যদি তাদের একজনের নূর সমস্ত সৃষ্টির মাঝে বণ্টন করে দেওয়া হয়, তবে তা তাদের সকলের জন্য পর্যাপ্ত হবে।"
(খণ্ড: ১) আত-তাওয়াদু ওয়াল খুমূল লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٤٦)
20 - حَدَّثَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي النَّضْرِ، حَدَّثَنَا مُؤَمَّلٌ، عَنْ سُفْيَانَ قَالَ: " كَانَ رَجُلٌ مِنَ الْأَنْصَارِ يَقُولُ: اللَّهُمَّ ذِكْرًا خَامِلًا لِي وَلِبَنِيَّ، وَلَا تَنْقُصْنَا ذَاكَ عِنْدَكَ شَيْئًا "
20 - আবু বকর বিন আবি আন-নাদর আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, মুআম্মাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান থেকে, তিনি বলেন: "আনসারদের এক ব্যক্তি বলতেন: হে আল্লাহ! আমার জন্য এবং আমার সন্তানদের জন্য অখ্যাত এক পরিচিতি (বা নাম-ডাকহীন অবস্থা) দান করুন, আর এর কারণে আপনার নিকট আমাদের মর্যাদার কিছুই কমিয়ে দেবেন না।"
(খণ্ড: ১) আত-তাওয়াদু ওয়াল খুমূল লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٤٦)
21 - حَدَّثَنِي الطَّيِّبُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ: كَانَ مِنْ دُعَاءِ الْخَلِيلِ بْنِ أَحْمَدَ: «اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي عِنْدَكَ مِنْ أَرْفَعِ خَلْقِكَ، وَاجْعَلْنِي فِي نَفْسِي مِنْ أَوْضَعِ خَلْقِكَ، وَاجْعَلْنِي عِنْدَ النَّاسِ مِنْ أَوْسَطِ خَلْقِكَ»
২১ - আত-তাইয়্যিব ইবনে ইসমাইল আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-খালিল ইবনে আহমদের দোয়ার অন্তর্ভুক্ত ছিল: «হে আল্লাহ! আপনি আমাকে আপনার নিকট আপনার সৃষ্টির মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরের করুন, আমাকে আমার নিজের দৃষ্টিতে আপনার সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে নিম্ন স্তরের করুন, এবং আমাকে মানুষের নিকট আপনার সৃষ্টির মধ্যে মধ্যম স্তরের করুন»
(খণ্ড: ১) আত-তাওয়াদু ওয়াল খুমূল লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٤٧)
22 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَغَيْرُهُ عَنْ خَلَفِ بْنِ تَمِيمٍ، قَالَ: سَمِعْتُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيَّ يَقُولُ: «وَجَدْتُ قَلْبِي يَصْلُحُ بِمَكَّةَ وَالْمَدِينَةِ مَعَ قَوْمٍ غُرَبَاءَ أَصْحَابِ بُتُوتٍ وَعَنَاءٍ»
২২ - আমাদের নিকট আহমাদ ইবন ইবরাহীম এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন খালাফ ইবন তামীম থেকে, তিনি বলেন: আমি সুফিয়ান আস-সাওরীকে বলতে শুনেছি: “আমি মক্কা ও মদীনায় এমন একদল আগন্তুক মানুষের সান্নিধ্যে আমার অন্তরের সংশোধন খুঁজে পেয়েছি, যারা ছিল মোটা কাপড়ের পোশাকধারী এবং কষ্টসহিষ্ণু লোক।”
(খণ্ড: ১) আত-তাওয়াদু ওয়াল খুমূল লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٤٧)
23 - حَدَّثَنَا سَلَمَةُ بْنُ شَبِيبٍ الْكِلَابِيُّ، عَنْ عَمْرِو بْنِ عَاصِمٍ ⦗ص: 48⦘ الْكِلَابِيِّ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ ⦗ص: 49⦘ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ: قَالَ مُوَرِّقٌ الْعِجْلِيُّ: «مَا أُحِبُّ أَنْ يَعْرِفَنِي بِطَاعَتِهِ غَيْرُهُ»
২৩ - সালামাহ ইবনে শাবীব আল-কিলাবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমর ইবনে আসিম ⦗পৃষ্ঠা: ৪৮⦘ আল-কিলাবি থেকে, জাফর ইবনে সুলাইমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ৪৯⦘ আব্দুল্লাহ ইবনে আল-মুসান্না আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুওয়াররিক আল-ইজলি বলেছেন: «আমি পছন্দ করি না যে, তিনি (আল্লাহ) ব্যতীত অন্য কেউ আমাকে তাঁর আনুগত্যের মাধ্যমে চিনুক»
(খণ্ড: ১) আত-তাওয়াদু ওয়াল খুমূল লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٤٩)
24 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنِي سَلَمَةُ بْنُ عَقَّارٍ، أَوْ غَيْرُهُ قَالَ: لَمَّا قَدِمَ ابْنُ الْمُبَارَكِ، الْمِصِّيصَةَ سَأَلَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ الْأَصْبَهَانِيِّ، فَقَالَ: «مِنْ فَضْلِكَ لَا تُعْرَفْ»
২৪ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবন ইবরাহীম, তিনি বলেন, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন সালামাহ ইবন আক্কার অথবা অন্য কেউ। তিনি বলেন: যখন ইবনুল মুবারক আল-মিসসীসাহ-এ আসলেন, তখন তিনি মুহাম্মাদ ইবন ইউসুফ আল-আসবাহানী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। অতঃপর তিনি বললেন: "আপনার শ্রেষ্ঠত্বের কারণেই আপনি পরিচিত নন।"
(খণ্ড: ১) আত-তাওয়াদু ওয়াল খুমূল লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٥٠)
25 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو تَوْبَةَ، حَدَّثَنَا عَطَاءُ بْنُ سَلْمٍ، عَنِ الْأَعْمَشِ قَالَ: أَتَيْتُ خَيْثَمَةَ فَقُلْتُ: لَقَدْ رَأَيْتُ مِنْ إِبْرَاهِيمَ شَيْئًا مَا أَرَى مِثْلَهُ أَبَدًا قَالَ: وَمَا هُوَ؟ قُلْتُ: رَأَيْتُهُ مَعَ الْغُرَبَاءِ جَالِسًا فَأَتَيْتُ إِبْرَاهِيمَ فَأَخْبَرْتُهُ فَقَالَ: «كُنْتُ جَالِسًا قَرِيبًا مِنْهُمْ فَكَرِهْتُ أَنْ يَرَى النَّاسُ فِيَّ اعْتِزَالِهِمْ لِفَضْلٍ عِنْدِي فَجَلَسْتُ مَعَهُمْ»
২৫ - আমাদের নিকট ইবরাহিম ইবনে সাঈদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু তাওবা বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আতা ইবনে সালম বর্ণনা করেছেন আমাশ থেকে, তিনি বলেন: আমি খায়সামার নিকট আসলাম এবং বললাম: আমি ইবরাহিমের মধ্যে এমন কিছু দেখেছি যার সদৃশ আর কখনো দেখিনি। তিনি বললেন: সেটি কী? আমি বললাম: আমি তাকে অপরিচিত লোকেদের সাথে উপবিষ্ট দেখেছি। অতঃপর আমি ইবরাহিমের নিকট আসলাম এবং তাকে বিষয়টি অবহিত করলাম। তখন তিনি বললেন: «আমি তাদের কাছাকাছি উপবিষ্ট ছিলাম, এমতাবস্থায় আমার নিকট এটি অপছন্দনীয় মনে হলো যে, মানুষ আমাকে তাদের থেকে স্বতন্ত্র হিসেবে দেখুক আমার কোনো শ্রেষ্ঠত্বের কারণে, তাই আমি তাদের সাথেই বসে গেলাম।»
(খণ্ড: ১) আত-তাওয়াদু ওয়াল খুমূল লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٥١)
26 - حَدَّثَنَا أَبُو جَعْفَرٍ الْأَدَمِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، عَنْ سَهْلِ ⦗ص: 52⦘ بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ عَبْدِ الْأَعْلَى، عَنْ نَوْفٍ قَالَ: سَمِعْتُ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه يَقُولُ: «طُوبَى لِلزَّاهِدِينَ فِي الدُّنْيَا، وَالرَّاغِبِينَ فِي الْآخِرَةِ أُولَئِكَ قَوْمٌ اتَّخَذُوا الْأَرْضَ بِسَاطًا، وَتُرَابَهَا فِرَاشًا، وَمَاءَهَا طِيبًا، وَالْكِتَابَ شِعَارًا، وَالدُّعَاءَ دِثَارًا أَقْرَضُوا اللَّهَ قَرْضًا عَلَى مِنْهَاجِ الْمَسِيحِ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ صَلَوَاتُ اللَّهِ عَلَيْهِ»
২৬ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু জাফর আল-আদামি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে কাসীর, সাহল ⦗পৃ: ৫২⦘ ইবনে শুআইব থেকে, আবদ আল-আ’লা থেকে, নাওফ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আলী ইবনে আবু তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছি: «সুসংবাদ দুনিয়া বিমুখদের জন্য এবং পরকালের প্রতি আগ্রহীদের জন্য; তাঁরা এমন এক জাতি যারা যমিনকে গালিচা, মাটিকে শয্যা, পানিকে সুগন্ধি, কিতাবকে অন্তর্বাস এবং দোয়াকে বহির্চ্ছদ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তাঁরা মাসীহ ঈসা ইবনে মারইয়াম (আলাইহিস সালাম)-এর পদাঙ্ক অনুসরণে আল্লাহকে ঋণ দান করেছেন।»
(খণ্ড: ১) আত-তাওয়াদু ওয়াল খুমূল লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٥٣)
27 - وَبِهِ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سُلَيْمٍ قَالَ: سَمِعْتُ شِبْلَ بْنَ عَبَّادٍ قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا الطُّفَيْلِ، قَالَ: سَمِعْتُ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ يَقُولُ: " أَظَلَّتْكُمْ فِتْنَةٌ مُظْلِمَةٌ عَمْيَاءُ مُتَسَكِّنَةٌ لَا يَنْجُو مِنْهَا إِلَّا النُّوَمَةُ قِيلَ: يَا أَبَا الْحَسَنِ وَمَا النُّوَمَةُ؟ قَالَ: الَّذِي لَا يَعْرِفُ النَّاسُ مَا فِي نَفْسِهِ "
২৭ - এবং একই সনদে ইয়াহইয়া ইবনে সুলায়ম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি শিবল ইবনে আব্বাদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু তুফায়লকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আলী ইবনে আবি তালিবকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছেন: "একটি অন্ধকারাচ্ছন্ন, অন্ধ এবং জেঁকে বসা ফিতনা তোমাদের আচ্ছন্ন করে ফেলেছে, যা থেকে 'নুওয়ামাহ' ব্যতীত কেউ মুক্তি পাবে না।" জিজ্ঞেস করা হলো: "হে আবুল হাসান, 'নুওয়ামাহ' কী?" তিনি বললেন: "এমন ব্যক্তি, যার অন্তরে কী আছে তা মানুষ জানতে পারে না।"
(খণ্ড: ১) আত-তাওয়াদু ওয়াল খুমূল লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٥٤)
28 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَهْلٍ الْأُرْدُنِّيُّ، حَدَّثَنِي سَلْمٌ، وَكَانَ فَاضِلًا قَالَ: قَالَ لِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَدْهَمَ: قَالَ: «مَا فُزْتُ فِي الدُّنْيَا قَطُّ إِلَّا مَرَّةً بِتُّ لَيْلَةً فِي بَعْضِ مَسَاجِدِ قُرَى الشَّامِ وَكَانَ فِي الْبَطْنِ فَجَرَّ الْمُؤَذِّنُ رِجْلَيَّ حَتَّى أَخْرَجَنِي مِنَ الْمَسْجِدِ»
২৮ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন সাহল আল-উর্দুনী, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন সালম—যিনি একজন গুণী ব্যক্তি ছিলেন—তিনি বলেন: ইব্রাহীম ইবন আদহাম আমাকে বলেছেন: তিনি বলেন: «আমি দুনিয়াতে কেবল একবার ব্যতীত কখনো সফল বোধ করিনি; এক রাতে আমি শামের গ্রামসমূহের কোনো এক মসজিদে রাত কাটিয়েছিলাম এবং আমার পেটে পীড়া ছিল, তখন মুয়াজ্জিন আমার দুই পা ধরে টেনে আমাকে মসজিদ থেকে বের করে দিয়েছিলেন।»