(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - ইবনে মান্দাহ (পৃষ্ঠা: -)
الإيمان - ابن منده   (ابن منده محمد بن إسحاق)

القسم: كتب السنة

الكتاب: الإيمان لابن منده

المؤلف: أبو عبد الله محمد بن إسحاق بن محمد بن يحيى بن مَنْدَه العبدي (ت 395 هـ)

المحقق: د. علي بن محمد بن ناصر الفقيهي [ت 1446 هـ]

الناشر: مؤسسة الرسالة - بيروت

الطبعة: الثانية، 1406

عدد الأجزاء: 2 (متسلسلة الترقيم)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-ঈমান - ইবনে মানদাহ   (ইবনে মানদাহ মুহাম্মদ বিন ইসহাক)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ

কিতাব: ইবনে মানদাহ রচিত আল-ঈমান

লেখক: আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বিন মানদাহ আল-আবদি (মৃত্যু ৩৯৫ হিজরি)

সম্পাদক: ড. আলী বিন মুহাম্মদ বিন নাসির আল-ফাকিহি [মৃত্যু ১৪৪৬ হিজরি]

প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ - বৈরুত

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪০৬

খণ্ড সংখ্যা: ২ (ধারাবাহিক নম্বরকৃত)

[কিতাবের নম্বর প্রদান মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - ইবনে মান্দাহ (পৃষ্ঠা: ১১৬)
‌‌ذِكْرُ مَا يَدُلُّ عَلَى أَنَّ الْإِيمَانَ الَّذِي أَمَرَ اللَّهُ عز وجل عِبَادَهُ أَنْ يَعْتَقِدُوهُ، مَا سَأَلَ جِبْرِيلُ عليه السلام رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِيَتَعَلَّمَ أَصْحَابُهُ أَمْرَ دِينِهِمْ
সেই বিষয়ের আলোচনা যা প্রমাণ করে যে, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাঁর বান্দাদের যে ঈমান পোষণের নির্দেশ দিয়েছেন, তা হলো সেই বিষয় যা জিবরীল আলাইহিস সালাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যাতে তাঁর সাহাবীগণ তাঁদের দ্বীনের বিষয় শিখতে পারেন।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - ইবনে মান্দাহ (পৃষ্ঠা: ১১৬)
‌‌1 - أخبرنا أبو عبد الله محمد بن إسحاق بن محمد بن يحيى بن منده الحافظ أسعده الله. قال أَنْبَأَ أَبُو عَلِيٍّ إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي دَاوُدَ، ثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَطَاءٍ الْخَفَّافُ، أَنْبَأَ كَهْمَسُ ‌‌⦗ص: 117⦘ بْنُ الْحَسَنِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمَرَ قَالَ: كَانَ مَعْبَدٌ الْجُهَنِيُّ أَوَّلَ مَنْ تَكَلَّمَ فِي الْقَدَرِ هَاهُنَا، يَعْنِي بِالْبَصْرَةِ، قَالَ: فَانْطَلَقَ يَحْيَى بْنُ يَعْمَرَ، وَحُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحِمْيَرِيُّ حَاجَّيْنِ أَوْ مُعْتَمِرَيْنِ، شَكَّ كَهْمَسٌ، فَقَالُوا: لَوْ لَقِينَا مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ نَسْأَلُهُ عَنْ هَذَا الْأَمْرِ، قَالَ يَحْيَى بْنُ يَعْمَرَ: فَوَقَعَ لَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ وَهُوَ دَاخِلٌ الْمَسْجِدَ فَاكْتَنَفْتُهُ أَنَا وَصَاحِبِي، أَحَدُنَا عَنْ يَمِينِهِ وَالْآخَرُ عَنْ يَسَارِهِ. قَالَ: فَظَنَنْتُ أَنَّ صَاحِبِي سَيَبْدَأُ بِالْكَلَامِ، قَالَ: فَقُلْتُ: أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ إِنَّهُ قَدْ ظَهَرَ قِبَلَنَا نَاسٌ يَقْرَؤُونَ الْقُرْآنَ، وَيَتَقَفَّرُونَ الْعِلْمَ، وَهُمْ ‌‌⦗ص: 118⦘ يَزْعُمُونَ أَنْ لَا قَدَرَ، إِنَّمَا الْأَمْرُ أُنُفٌ. فَقَالَ ابْنُ عُمَرَ: إِذَا لَقِيتَهُمْ فَأَخْبِرْهُمْ أَنِّي بَرِيءٌ مِنْهُمْ، وَأَنَّهُمْ بَرَاءٌ مِنِّي، وَالَّذِي يَحْلِفُ بِهِ عَبْدُ اللَّهِ لَوْ كَانَ لِأَحَدِهِمْ مِثْلُ أُحُدٍ ذَهَبًا، فَأَنْفَقَهُ مَا قَبِلَهُ اللَّهُ مِنْهُ حَتَّى يُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ، ثُمَّ قَالَ ابْنُ عُمَرَ: أَخْبَرَنِي عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ قَالَ: بَيْنَمَا نَحْنُ عَنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذْ طَلَعَ عَلَيْنَا رَجُلٌ شَدِيدُ سَوَادِ الشَّعْرِ شَدِيدُ بَيَاضِ الثِّيَابِ لَا يُرَى عَلَيْهِ أَثَرُ السَفَرٍ، وَلَا يَعْرِفُهُ مِنَّا أَحَدٌ حَتَّى جَلَسَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَسْنَدَ رُكْبَتَهُ إِلَى رُكْبَتِهِ وَوَضَعَ كَفَّيْهِ عَلَى فَخِذَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: يَا مُحَمَّدُ أَخْبِرْنِي عَنِ الْإِسْلَامِ، قَالَ: «تَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَتُقِيمُ الصَّلَاةَ، وَتُؤْتِي الزَّكَاةَ، وَتَصُومُ رَمَضَانَ، وَتَحُجُّ الْبَيْتَ إِنِ اسْتَطَعْتَ إِلَيْهِ سَبِيلًا» ، قَالَ: صَدَقْتَ، قَالَ: فَعَجِبْنَا لَهُ يَسْأَلُهُ وَيُصَدِّقُهُ، قَالَ: أَخْبِرْنِي عَنِ الْإِيمَانِ، قَالَ: «أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَالْقَدَرِ كُلِّهِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ» ، قَالَ: صَدَقْتَ. قَالَ: فَأَخْبِرْنِي عَنِ الْإِحْسَانِ، قَالَ: «الْإِحْسَانُ أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ. فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ» ، قَالَ: فَأَخْبِرْنِي عَنِ السَّاعَةِ، قَالَ: «مَا الْمَسْئُولُ عَنْهَا بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ» . قَالَ: فَأَخْبِرْنِي عَنْ أَمَارَاتِهَا يَعْنِي أَعْلَامَهَا، فَقَالَ: «أَنْ تَلِدَ الْأَمَةُ رَبَّتَهَا، وَأَنْ تَرَى الْحُفَاةَ الْعُرَاةَ رِعَاءَ الشَّاءِ يَتَطَاوَلُونَ فِي الْبُنْيَانِ» ، قَالَ: ثُمَّ انْطَلَقَ. فَلَبِثْتُ ثَلَاثًا، ثُمَّ قَالَ: «يَا عُمَرُ أَتَدْرِي مَنِ ‌‌⦗ص: 119⦘ السَّائِلُ؟» ، قُلْتُ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: «فَإِنَّهُ جِبْرِيلُ عليه السلام جَاءَكُمْ يُعَلِّمُكُمْ دِينَكُمْ»
‌‌১ - আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে মানদাহ আল-হাফিজ—আল্লাহ তাঁকে সুখী রাখুন—আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আবু আলী ইসমাঈল ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল আমাদের জানিয়েছেন, মুহাম্মাদ ইবনে উবায়দুল্লাহ ইবনে আবি দাউদ আমাদের বর্ণনা করেছেন, আবদুল ওয়াহহাব ইবনে আতা আল-খাফফাফ আমাদের বর্ণনা করেছেন, কাহমাস ‌‌⦗পৃষ্ঠা: ১১৭⦘ ইবনুল হাসান আমাদের জানিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহ থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামুর থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেন: মাবাদ আল-জুহানিই সর্বপ্রথম এখানে—অর্থাৎ বসরায়—তাকদির (ভাগ্য) সম্পর্কে আলোচনা শুরু করেন। তিনি বলেন: অতপর ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামুর এবং হুমাইদ ইবনে আবদুর রহমান আল-হিময়ারি হজ অথবা ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে বের হলেন—বর্ণনাকারী কাহমাস এ বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন—তারা বললেন: আমরা যদি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো সাহাবির দেখা পেতাম, তবে আমরা তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতাম। ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামুর বলেন: হঠাৎ আমরা আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.)-এর দেখা পেয়ে গেলাম, তিনি তখন মসজিদে প্রবেশ করছিলেন। আমি ও আমার সঙ্গী তাঁকে দুই দিক থেকে ঘিরে ধরলাম; আমাদের একজন তাঁর ডানে এবং অন্যজন তাঁর বামে। তিনি বলেন: আমার মনে হলো যে আমার সঙ্গী আমাকে কথা বলার সুযোগ দেবেন। আমি বললাম: হে আবু আবদুর রহমান! আমাদের এলাকায় এমন কিছু লোকের আবির্ভাব ঘটেছে যারা কুরআন পাঠ করে এবং জ্ঞান অন্বেষণ করে, কিন্তু তারা ‌‌⦗পৃষ্ঠা: ১১৮⦘ ধারণা করে যে তাকদির বলে কিছু নেই এবং সব কিছুই আকস্মিকভাবে ঘটে। তখন ইবনে উমর (রা.) বললেন: তুমি যখন তাদের দেখা পাবে, তখন তাদের জানিয়ে দিও যে, আমি তাদের থেকে মুক্ত এবং তারাও আমার থেকে মুক্ত। সেই সত্তার শপথ যার নামে আবদুল্লাহ শপথ করে! যদি তাদের কারও কাছে ওহুদ পাহাড় সমপরিমাণ স্বর্ণ থাকে এবং সে তা ব্যয় করে ফেলে, তবে সে তাকদিরে বিশ্বাস না করা পর্যন্ত আল্লাহ তা কবুল করবেন না। অতপর ইবনে উমর (রা.) বলেন: আমার কাছে উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বর্ণনা করেছেন যে, একদা আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে বসেছিলাম, এমন সময় আমাদের সামনে এক ব্যক্তি উপস্থিত হলেন যাঁর চুল ছিল অত্যন্ত কালো এবং পোশাক ছিল ধবধবে সাদা। তাঁর ওপর সফরের কোনো চিহ্ন দেখা যাচ্ছিল না এবং আমাদের কেউ তাঁকে চিনতও না। তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গিয়ে বসলেন এবং নিজের দুই হাঁটু তাঁর দুই হাঁটুর সাথে মিলিয়ে দিলেন এবং নিজের দুই হাতের তালু তাঁর দুই উরুর ওপর রাখলেন। তারপর তিনি বললেন: হে মুহাম্মাদ! আমাকে ইসলাম সম্পর্কে অবহিত করুন। তিনি বললেন: "ইসলাম হলো তুমি এ সাক্ষ্য দেবে যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল, আর তুমি সালাত কায়েম করবে, জাকাত প্রদান করবে, রমজানের রোজা রাখবে এবং সামর্থ্য থাকলে বায়তুল্লাহর হজ করবে।" তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। বর্ণনাকারী বলেন: আমরা তাঁর বিষয়ে আশ্চর্যান্বিত হলাম যে, তিনি নিজেই তাঁকে প্রশ্ন করছেন আবার নিজেই তা সত্যায়ন করছেন। তিনি বললেন: আমাকে ইমান সম্পর্কে অবহিত করুন। তিনি বললেন: "তুমি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসুলগণ, শেষ দিবস এবং তাকদিরের ভালো-মন্দের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করবে।" তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। তিনি বললেন: আমাকে ইহসান সম্পর্কে অবহিত করুন। তিনি বললেন: "ইহসান হলো তুমি আল্লাহর ইবাদত এমনভাবে করবে যেন তুমি তাঁকে দেখছ; আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও, তবে জেনে রাখো যে তিনি তোমাকে দেখছেন।" তিনি বললেন: আমাকে কিয়ামত সম্পর্কে অবহিত করুন। তিনি বললেন: "এ বিষয়ে যাকে প্রশ্ন করা হচ্ছে তিনি প্রশ্নকারীর চেয়ে অধিক জ্ঞানী নন।" তিনি বললেন: তবে আমাকে এর আলামতসমূহ—অর্থাৎ চিহ্নগুলো—সম্পর্কে অবহিত করুন। তিনি বললেন: "দাসী যখন তার মালিককে প্রসব করবে এবং যখন তুমি নগ্নপদ, বস্ত্রহীন মেষপালকদের বড় বড় অট্টালিকা নির্মাণে প্রতিযোগিতা করতে দেখবে।" তিনি বলেন: তারপর তিনি চলে গেলেন। আমি তিন দিন অপেক্ষা করলাম। এরপর তিনি বললেন: "হে উমর! তুমি কি জানো সেই ‌‌⦗পৃষ্ঠা: ১১৯⦘ প্রশ্নকারী কে ছিলেন?" আমি বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই ভালো জানেন। তিনি বললেন: "তিনি ছিলেন জিবরাঈল আলাইহিস সালাম, তিনি তোমাদের দ্বীন শেখানোর জন্য তোমাদের কাছে এসেছিলেন।"
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - ইবনে মান্দাহ (পৃষ্ঠা: ১২০)
‌‌ذِكْرُ مَا يَدُلُّ عَلَى الْفَرْقِ بَيْنَ الْإِيمَانِ وَالْإِسْلَامِ عَنْ سُؤَالِ جِبْرِيلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم
জিবরাঈল কর্তৃক আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসার ভিত্তিতে ঈমান ও ইসলামের মধ্যকার পার্থক্যের দলীলসমূহের বর্ণনা
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - ইবনে মান্দাহ (পৃষ্ঠা: ১২০)
‌‌2 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ الْحَسَنِ، وَمُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ الشَّيْبَانِيُّ، قَالَا: ثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ أَبِي عِيسَى ح، وَأَنْبَأَ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ نَصْرٍ، وَأَحْمَدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ أَيُّوبَ، قَالَا ‌‌⦗ص: 121⦘: ثَنَا بِشْرُ بْنُ مُوسَى، قَالَ: أَنْبَأَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ الْمُقْرِئُ، ثَنَا كَهْمَسُ بْنُ الْحَسَنِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمَرَ، قَالَ: كَانَ أَوَّلَ مَنْ قَالَ فِي الْقَدَرِ مَعْبَدٌ الْجُهَنِيُّ بِالْبَصْرَةِ، قَالَ: فَانْطَلَقْنَا حُجَّاجًا أَنَا وَحُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحِمْيَرِيُّ فَلَمَّا قَدِمْنَا الْمَدِينَةَ قُلْنَا: لَوْ لَقِينَا بَعْضَ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلْنَاهُ عَمَّا يَقُولُ هَؤُلَاءِ النَّاسُ فِي الْقَدَرِ فَوَافَقْنَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، وَهُوَ فِي الْمَسْجِدِ فَاكْتَنَفْتُهُ أَنَا، وَصَاحِبِي أَحَدُنَا عَنْ يَمِينِهِ وَالْآخَرُ عَنْ شِمَالِهِ، قَالَ يَحْيَى: فَظَنَنْتُ أَنَّ صَاحِبِي سَيَكِلُ الْكَلَامَ إِلَيَّ، فَقُلْتُ: أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ إِنَّ قِبَلَنَا نَاسًا يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ، وَيَزْعُمُونَ أَلَّا قَدَرَ وَإِنَّمَا الْأَمْرُ أُنُفٌ، قَالَ: فَإِذَا لَقِيتَ أُولَئِكَ، فَأَخْبِرْهُمْ أَنِّي مِنْهُمْ بَرِيءٌ وَأَنَّهُمْ مِنِّي بَرَاءٌ، وَالَّذِي يَحْلِفُ بِهِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ لَوْ كَانَ لِأَحَدِهِمْ مِثْلُ أُحُدٍ ذَهَبًا، فَأَنْفَقَهُ مَا قَبِلَ اللَّهُ مِنْهُ حَتَّى يُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ كُلِّهِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ، ثُمَّ قَالَ: حَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ قَالَ: بَيْنَمَا نَحْنُ عَنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ يَوْمٍ إِذْ طَلَعَ عَلَيْنَا رَجُلٌ شَدِيدُ بَيَاضِ الثِّيَابِ، شَدِيدُ سَوَادِ الشَّعْرِ لَا نَرَى عَلَيْهِ أَثَرَ السَّفَرِ، وَلَا نَعْرِفُهُ حَتَّى جَلَسَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَسْنَدَ رُكْبَتَهُ إِلَى رُكْبَتِهِ وَوَضَعَ كَفَّيْهِ عَلَى فَخِذَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: يَا مُحَمَّدُ أَخْبِرْنِي ‌‌⦗ص: 122⦘ عَنِ الْإِسْلَامِ، مَا الْإِسْلَامُ؟، قَالَ: «أَنْ تَشْهَدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَتُقِيمَ الصَّلَاةَ، وَتُؤْتِيَ الزَّكَاةَ، وَتَصُومَ رَمَضَانَ، وَتَحُجَّ الْبَيْتَ إِنِ اسْتَطَعْتَ إِلَيْهِ سَبِيلًا» ، قَالَ: صَدَقْتَ، قَالَ عُمَرُ: فَعَجِبْنَا لَهُ يَسْأَلُهُ وَيُصَدِّقُهُ، فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ أَخْبِرْنِي عَنِ الْإِيمَانِ، مَا الْإِيمَانُ؟، قَالَ: «الْإِيمَانُ أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَالْقَدَرِ كُلِّهِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ» ، قَالَ: صَدَقْتَ، قَالَ: فَأَخْبِرْنِي عَنِ الْإِحْسَانِ، مَا الْإِحْسَانُ؟، قَالَ: «أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ» ، فَقَالَ: أَخْبِرْنِي عَنِ السَّاعَةِ، مَتَى السَّاعَةُ؟، قَالَ: «مَا الْمَسْئُولُ عَنْهَا بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ» ، فَقَالَ: أَخْبِرْنِي عَنْ أَمَارَتِهَا، قَالَ: «أَنْ تَلِدَ الْأَمَةُ رَبَّتَهَا، وَأَنْ تَرَى الْحُفَاةَ الْعُرَاةَ الْعَالَةَ رِعَاءَ الشَّاءِ يَتَطَاوَلُونَ فِي الْبِنَاءِ» ، قَالَ: ثُمَّ انْطَلَقَ الرَّجُلُ، قَالَ عُمَرُ: فَلَبِثْتُ ثَلَاثًا ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يَا عُمَرُ أَتَدْرِي مَنِ السَّائِلُ؟» ، قُلْتُ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: «فَإِنَّهُ جِبْرِيلُ عليه السلام أَتَاكُمْ يُعَلِّمُكُمْ دِينَكُمْ» هَذَا إِسْنَادٌ مُجْمَعٌ عَلَى صِحَّتِهِ مَشْهُورٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمَرَ، وَعَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ، وَعَنْ كَهْمَسِ بْنِ الْحَسَنِ، وَرَوَاهُ عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمَرَ سُلَيْمَانُ التَّيْمِيُّ «. وَرَوَاهُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ مَطَرُ بْنُ طَهْمَانَ الْوَرَّاقُ، وَعُثْمَانُ بْنُ غِيَاثٍ الْبَصْرِيُّ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَطَاءٍ، وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ الْعَيْزَارِ. وَرَوَاهُ عَنْ كَهْمَسٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ ‌‌⦗ص: 123⦘ الْمُبَارَكِ، وَوَكِيعٌ، وَمُعَاذُ بْنُ مُعَاذٍ الْعَنْبَرِيُّ، وَالنَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ، وَيَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، وَالْمُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، وَحَسَنُ بْنُ حُسَيْنٍ الْأُسْوَارِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَابْنُ غُنْدَرٍ، وَيَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، وَعَبْدُ الْوَهَّابِ، وَالْمُقْرِئُ، وَالشَّعْبِيُّ، وَأَبُو عَاصِمٍ، وَعُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ،» وَكُلُّهُمْ مَقْبُولَةٌ "
২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন ইবনুল হাসান এবং মুহাম্মদ ইবনু ইয়াকুব আশ-শাইবানী, তাঁরা বলেন: আলী ইবনুল হাসান ইবনু আবি ঈসা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন (হ), এবং আলী ইবনু মুহাম্মদ ইবনু নাসর ও আহমদ ইবনু ইসহাক ইবনু আইয়ুব আমাদের জানিয়েছেন, তাঁরা বলেন ⦗পৃষ্ঠা: ১২১⦘: বিশর ইবনু মুসা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আবদুর রহমান আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ আল-মুকরি আমাদের জানিয়েছেন, কাহমাস ইবনুল হাসান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনু বুরাইদাহ থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনু ইয়া'মার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: বসরায় তাকদীর সম্পর্কে প্রথম যে ব্যক্তি কথা বলেছিল সে হলো মা'বাদ আল-জুহানি। ইয়াহইয়া বলেন: এরপর আমি এবং হুমাইদ ইবনু আবদুর রহমান আল-হিময়ারী হাজ্জ পালনের উদ্দেশ্যে বের হলাম। আমরা যখন মদিনায় পৌঁছালাম, তখন আমরা বললাম: যদি আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো সাহাবীর সাথে সাক্ষাৎ পেতাম, তবে এই লোকগুলো তাকদীর সম্পর্কে যা বলছে সে বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞেস করতাম। ঘটনাক্রমে আমরা মসজিদে থাকাবস্থায় আবদুল্লাহ ইবনু উমরের দেখা পেলাম। আমি এবং আমার সাথী তাঁকে ঘিরে দাঁড়ালাম; আমাদের একজন তাঁর ডানে এবং অন্যজন তাঁর বামে। ইয়াহইয়া বলেন: আমি ধারণা করেছিলাম যে আমার সাথী কথা বলার দায়িত্বটি আমার ওপরই ছেড়ে দেবেন। তাই আমি বললাম: হে আবু আবদুর রহমান! আমাদের এলাকায় এমন কিছু লোকের আবির্ভাব হয়েছে যারা কুরআন পাঠ করে এবং দাবি করে যে তাকদীর বলতে কিছু নেই, বরং সব বিষয়ই আকস্মিক (পূর্বনির্ধারিত নয়)। তিনি (ইবনু উমর) বললেন: তুমি যখন সেই লোকদের সাথে সাক্ষাৎ করবে তখন তাদের জানিয়ে দিয়ো যে, আমি তাদের থেকে মুক্ত এবং তারাও আমার থেকে বিচ্ছিন্ন। আবদুল্লাহ ইবনু উমর যাঁর নামে শপথ করেন সেই সত্তার কসম! যদি তাদের কারো নিকট উহুদ পাহাড় সমপরিমাণ স্বর্ণ থাকে এবং সে তা ব্যয় করে, তবে আল্লাহ তা তার পক্ষ থেকে কবুল করবেন না যতক্ষণ না সে তাকদীরের প্রতি—তার কল্যাণ ও অকল্যাণ উভয়টির প্রতি—পূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন করে। এরপর তিনি বলেন: আমাকে উমর ইবনুল খাত্তাব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: একদিন আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বসে ছিলাম, এমন সময় সাদা ধবধবে পোশাক পরিহিত এবং কুচকুচে কালো চুল বিশিষ্ট এক ব্যক্তি আমাদের নিকট আবির্ভূত হলেন। তাঁর মাঝে সফরের কোনো চিহ্ন দেখা যাচ্ছিল না এবং আমাদের কেউ তাঁকে চিনতও না। এরপর তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পাশে গিয়ে বসলেন এবং তাঁর দুই হাঁটু রাসূলের দুই হাঁটুর সাথে মিলিয়ে দিলেন এবং স্বীয় দুই হাত তাঁর (রাসূলের) দুই উরুর ওপর রাখলেন। অতঃপর তিনি বললেন: হে মুহাম্মদ! আমাকে ⦗পৃষ্ঠা: ১২২⦘ ইসলাম সম্পর্কে অবহিত করুন, ইসলাম কী? তিনি (রাসূল) বললেন: "ইসলাম হলো তুমি এই সাক্ষ্য দেবে যে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল; সালাত কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে, রমজানের রোজা রাখবে এবং সামর্থ্য থাকলে বাইতুল্লাহর হাজ্জ পালন করবে।" তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। উমর বলেন: আমরা তাঁর বিষয়ে আশ্চর্যান্বিত হলাম যে, তিনি প্রশ্নও করছেন আবার তা সত্যায়নও করছেন। অতঃপর তিনি বললেন: হে মুহাম্মদ! আমাকে ঈমান সম্পর্কে অবহিত করুন, ঈমান কী? তিনি (রাসূল) বললেন: "ঈমান হলো তুমি বিশ্বাস করবে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, তাঁর রাসূলগণের প্রতি, পরকালের প্রতি এবং তাকদীরের প্রতি—তার কল্যাণ ও অকল্যাণ উভয়টির প্রতি।" তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। অতঃপর তিনি বললেন: আমাকে ইহসান সম্পর্কে অবহিত করুন, ইহসান কী? তিনি (রাসূল) বললেন: "তুমি আল্লাহর ইবাদত এমনভাবে করবে যেন তুমি তাঁকে দেখছ, আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও তবে তিনি নিশ্চয়ই তোমাকে দেখছেন।" অতঃপর তিনি বললেন: আমাকে কিয়ামত সম্পর্কে অবহিত করুন, কিয়ামত কখন হবে? তিনি (রাসূল) বললেন: "যাঁর কাছে জিজ্ঞেস করা হচ্ছে তিনি এ বিষয়ে প্রশ্নকারীর চেয়ে বেশি অবগত নন।" তিনি বললেন: তবে আমাকে এর নিদর্শনসমূহ সম্পর্কে অবহিত করুন। তিনি (রাসূল) বললেন: "দাসী তার মালিককে জন্ম দেবে এবং তুমি দেখবে বস্ত্রহীন, নগ্নপদ, দরিদ্র মেষপালকদের বড় বড় অট্টালিকা নির্মাণে প্রতিযোগিতা করতে।" উমর বলেন: এরপর সেই ব্যক্তি চলে গেলেন। আমি তিন দিন অতিবাহিত করলাম। এরপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "হে উমর! তুমি কি জানো প্রশ্নকারী কে ছিলেন?" আমি বললাম: আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই অধিক অবগত। তিনি বললেন: "তিনি ছিলেন জিবরীল আলাইহিস সালাম, তিনি তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন শেখাতে এসেছিলেন।" এটি এমন একটি সনদ যার বিশুদ্ধতার ওপর ঐকমত্য রয়েছে এবং এটি সুপ্রসিদ্ধ; ইয়াহইয়া ইবনু ইয়া'মার থেকে, ইবনু বুরাইদাহ থেকে এবং কাহমাস ইবনুল হাসান থেকে বর্ণিত। সুলাইমান আত-তাইমী এটি ইয়াহইয়া ইবনু ইয়া'মার থেকে বর্ণনা করেছেন। আর মাতার ইবনু তাহমান আল-ওয়াররাক, উসমান ইবনু গিয়াস আল-বাসরী, আবদুল্লাহ ইবনু আতা এবং উবাইদুল্লাহ ইবনুল আইযার এটি আবদুল্লাহ ইবনু বুরাইদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। আর কাহমাস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনু ⦗পৃষ্ঠা: ১২৩⦘ আল-মুবারক, ওয়াকী', মুয়ায ইবনু মুয়ায আল-আনবারী, আন-নাদর ইবনু শুমাইল, ইয়াযীদ ইবনু যুরাই', আল-মুতামির ইবনু সুলাইমান, হাসান ইবনু হুসাইন আল-উসওয়ারী, মুহাম্মদ ইবনু জাফর, মুহাম্মদ ইবনু ইব্রাহিম, ইবনু গুনদার, ইয়াযীদ ইবনু হারুন, আবদুল ওয়াহহাব, আল-মুকরি, আশ-শা'বী, আবু আসিম এবং উসমান ইবনু উমর; এবং তাঁদের সবার বর্ণনাই গ্রহণযোগ্য।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - ইবনে মান্দাহ (পৃষ্ঠা: ১২৩)
‌‌ذِكْرُ مَا يَدُلُّ عَلَى أَنَّ الْإِيمَانَ وَالْإِسْلَامَ اسْمَانِ لِمَعْنًى وَاحِدٍ وَأَنَّ الْإِسْلَامَ الْإِقْرَارُ بِاللِّسَانِ، وَالْعَمَلُ بِالْأَرْكَانِ، وَأَنَّ الْإِيمَانَ اعْتِقَادٌ بِالْقَلْبِ

 

‌‌3 - أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ يَعْقُوبَ الْبَغْدَادِيُّ، بِمِصْرَ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ زُرَيْعِ بْنِ حَمَّادٍ، ثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَنْبَأَ كَهْمَسُ بْنُ الْحَسَنِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمَرَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ نَحْوَ مَا تَقَدَّمَ أَنَّ جِبْرِيلَ أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
ঈমান ও ইসলাম যে একই অর্থবোধক দুটি নাম এবং ইসলাম হলো মৌখিক স্বীকৃতি ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে আমল করা, আর ঈমান হলো অন্তরের বিশ্বাস - এ বিষয়ের প্রমাণাদির বর্ণনা।

 

৩ - মিশরে ইসমাঈল ইবনে ইয়াকুব আল-বাগদাদী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মাদ ইবনে যুরাই ইবনে হাম্মাদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইয়াযীদ ইবনে হারুন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, কাহমাস ইবনে হাসান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহ থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামার থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ইবনুল খাত্তাব থেকে, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে ইতিপূর্বে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন যে, জিবরাঈল (আ.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - ইবনে মান্দাহ (পৃষ্ঠা: ১২৪)
‌‌ذِكْرُ مَا يَدُلُّ عَلَى أَنَّ ابْتِدَاءَ الْإِيمَانِ أَنْ يُؤْمِنَ الْعَبْدُ بِاللَّهِ عز وجل وَحْدَهُ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ. . . . إلخ
সেই বিষয়ের আলোচনা যা প্রমাণ করে যে, ঈমানের সূচনা হলো বান্দার পক্ষ থেকে এককভাবে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসুলগণের প্রতি ঈমান আনা... ইত্যাদি।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - ইবনে মান্দাহ (পৃষ্ঠা: ১২৪)
‌‌4 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الصَّبَّاحِ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى الزُّجَاجُ، وَأَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ أَيُّوبَ، وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ نَصْرٍ، قَالَا: ثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَاتِمٍ الْبَصْرِيُّ، ثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ حَمَّادٍ الشُّعَيْثِيُّ، ثَنَا كَهْمَسُ بْنُ الْحَسَنِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمَرَ، قَالَ ‌‌⦗ص: 125⦘: أَوَّلُ مَنْ قَالَ فِي هَذَا الْقَدَرِ بِالْبَصْرَةِ مَعْبَدٌ الْجُهَنِيُّ، قَالَ فَانْطَلَقْتُ أَنَا وَحُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحِمْيَرِيُّ حَاجَّيْنِ أَوْ مُعْتَمِرَيْنِ، قَالَ: فَقُلْنَا: لَوْ لَقِينَا أَحَدًا مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَنَسْأَلُهُ عَمَّا يَقُولُ هَؤُلَاءِ فِي الْقَدَرِ، قَالَ: فَوَافَقْنَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ وَهُوَ دَاخِلٌ الْمَسْجِدَ فَاكْتَنَفْتُهُ أَنَا وَصَاحِبِي أَحَدُنَا عَنْ يَمِينِهِ وَالْآخَرُ عَنْ يَسَارِهِ، قَالَ: فَظَنَنْتُ أَنَّ صَاحِبِيَ سَيَكِلُ الْكَلَامَ إِلَيَّ، فَقُلْتُ: يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ إِنَّهُ ظَهَرَ قِبَلَنَا نَاسٌ يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ، وَيَتَقَفَّرُونَ الْعِلْمَ وَيَزْعُمُونَ أَنْ لَا قَدَرَ، إِنَّمَا الْأَمْرُ أُنُفٌ، قَالَ: فَإِذَا لَقِيتَ أُولَئِكَ فَأَخْبِرْهُمْ أَنِّي بَرِيءٌ مِنْهُمْ، وَأَنَّهُمْ مِنِّي بَرَاءٌ، وَالَّذِي يَحْلِفُ بِهِ عَبْدُ اللَّهِ لَوْ كَانَ لِأَحَدِهِمْ مِثْلُ أُحُدٍ ذَهَبًا، ثُمَّ أَنْفَقَهُ مَا قُبِلَ مِنْهُ حَتَّى يُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ، ثُمَّ قَالَ: حَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضي الله عنه، قَالَ: بَيْنَمَا نَحْنُ عِنْدَ نَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ يَوْمٍ إِذْ طَلَعَ عَلَيْنَا رَجُلٌ شَدِيدُ سَوَادِ الشَّعْرِ، شَدِيدُ بَيَاضِ الثِّيَابِ لَا يُرَى عَلَيْهِ أَثَرُ السَّفَرِ، وَلَا يَعْرِفُهُ مِنَّا أَحَدٌ حَتَّى جَلَسَ إِلَى نَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَأَسْنَدَ رُكْبَتَهُ إِلَى رُكْبَتِهِ، وَوَضَعَ كَفَّيْهِ عَلَى فَخِذَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: يَا مُحَمَّدُ، أَخْبِرْنِي عَنِ الْإِسْلَامِ، مَا الْإِسْلَامُ؟، قَالَ: تَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ وَتُقِيمُ الصَّلَاةَ، وَتُؤْتِي الزَّكَاةَ، وَتَصُومُ رَمَضَانَ، وَتَحُجُّ الْبَيْتَ إِنِ اسْتَطَعْتَ إِلَيْهِ سَبِيلًا "، قَالَ: صَدَقْتَ، قَالَ: فَعَجِبْنَا لَهُ يَسْأَلُهُ وَيُصَدِّقُهُ، ثُمَّ قَالَ: أَخْبِرْنِي عَنِ الْإِيمَانِ، مَا الْإِيمَانُ؟، قَالَ: «الْإِيمَانُ أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَبِالْقَدَرِ كُلِّهِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ» ، قَالَ: صَدَقْتَ، قَالَ: أَخْبِرْنِي عَنِ الْإِحْسَانِ، مَا الْإِحْسَانُ؟، قَالَ: «أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ» ، قَالَ: فَأَخْبِرْنِي عَنِ السَّاعَةِ، قَالَ: «مَا الْمَسْئُولُ عَنْهَا بِأَعْلَمَ بِهَا مِنَ السَّائِلِ» ، قَالَ: فَأَخْبِرْنِي عَنْ أَمَارَتِهَا، قَالَ: «أَنْ تَلِدَ الْأَمَةُ رَبَّتَهَا وَأَنْ تَرَى الْحُفَاةَ الْعُرَاةَ رِعَاءَ الشَّاءِ يَتَطَاوَلُونَ فِي الْبُنْيَانِ» ، ثُمَّ انْطَلَقَ، قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضي الله عنه: فَلَبِثْتُ ثَلَاثًا، ثُمَّ قَالَ لِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «يَا عُمَرُ هَلْ تَدْرِي مَنِ السَّائِلُ؟» ، قَالَ: قُلْتُ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: «فَإِنَّهُ جِبْرِيلُ عليه السلام أَتَاكُمْ يُعَلِّمُكُمْ دِينَكُمْ»
৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে ইবরাহিম ইবনে আস-সাব্বাহ, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে ঈসা আজ-জুজাজ। এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ ইবনে ইসহাক ইবনে আইয়ুব এবং আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে নাসর; তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইবরাহিম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে হাতিম আল-বাসরি, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবদুর রহমান ইবনে হাম্মাদ আশ-শুআইসি, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন কাহমাস ইবনুল হাসান, আবদুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহ থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামুর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন ⦗পৃষ্ঠা: ১২৫⦘: বাসরায় এই তাকদির সম্পর্কে সর্বপ্রথম যিনি কথা বলেছিলেন তিনি ছিলেন মাবাদ আল-জুহানি। তিনি (ইয়াহইয়া) বলেন: আমি এবং হুমায়দ ইবনে আবদুর রহমান আল-হিময়ারি হজ অথবা উমরা পালনকারী হিসেবে রওনা হলাম। তিনি বলেন: আমরা বললাম: আমরা যদি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কোনো সাহাবির দেখা পেতাম, তবে তাকদির সম্পর্কে এই লোকেরা যা বলে সে বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করতাম। তিনি বলেন: অতঃপর আমরা আবদুল্লাহ ইবনে উমরের দেখা পেলাম যখন তিনি মসজিদে প্রবেশ করছিলেন। তখন আমি এবং আমার সঙ্গী তাঁকে দুই দিক থেকে ঘিরে ধরলাম; আমাদের একজন তাঁর ডান পাশে এবং অন্যজন বাম পাশে। তিনি বলেন: আমি বুঝতে পারলাম যে আমার সঙ্গী কথা বলার দায়িত্বটি আমার ওপরই ন্যস্ত করবে। সুতরাং আমি বললাম: হে আবু আবদুর রহমান! আমাদের এলাকায় এমন কিছু লোকের আবির্ভাব ঘটেছে যারা কুরআন পাঠ করে এবং জ্ঞান অন্বেষণ করে, কিন্তু তারা দাবি করে যে কোনো তাকদির নেই এবং সবকিছুই পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই আকস্মিকভাবে ঘটে। তিনি বললেন: যখন তুমি তাদের সাথে দেখা করবে তখন তাদের জানিয়ে দিও যে, আমি তাদের থেকে মুক্ত এবং তারাও আমার থেকে বিচ্ছিন্ন। যার নামে আবদুল্লাহ শপথ করে, সেই সত্তার কসম! তাদের কারো কাছে যদি ওহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ থাকে এবং সে তা দান করে দেয়, তবে যতক্ষণ না সে তাকদিরের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করবে ততক্ষণ আল্লাহ তা তার পক্ষ থেকে কবুল করবেন না। এরপর তিনি বললেন: আমাকে উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: একদিন আমরা যখন আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে ছিলাম, তখন হঠাৎ আমাদের সামনে এমন এক ব্যক্তির উদয় হলো যার চুল ছিল অত্যন্ত কালো এবং পোশাক ছিল ধবধবে সাদা। তাঁর ওপর সফরের কোনো চিহ্ন দেখা যাচ্ছিল না এবং আমাদের কেউ তাঁকে চিনতও না। পরিশেষে তিনি আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পাশে বসলেন এবং নিজের দুই হাঁটু তাঁর (নবীর) দুই হাঁটুর সাথে ঠেকালেন এবং নিজের দুই হাত নিজের দুই উরুর ওপর রাখলেন। এরপর তিনি বললেন: হে মুহাম্মদ! আমাকে ইসলাম সম্পর্কে অবহিত করুন, ইসলাম কী? তিনি বললেন: তুমি এই সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করবে, জাকাত প্রদান করবে, রমজানের রোজা রাখবে এবং যদি সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য থাকে তবে বায়তুল্লাহর হজ পালন করবে। তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। উমর (রা.) বলেন: আমরা তাঁর বিষয়ে আশ্চর্য হলাম যে, তিনি প্রশ্নও করছেন আবার তা সত্যায়নও করছেন। এরপর তিনি বললেন: আমাকে ঈমান সম্পর্কে অবহিত করুন, ঈমান কী? তিনি বললেন: ঈমান হলো তুমি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ, শেষ দিবস এবং তাকদিরের ভালো ও মন্দের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করবে। তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। এরপর তিনি বললেন: আমাকে ইহসান সম্পর্কে অবহিত করুন, ইহসান কী? তিনি বললেন: তা হলো তুমি আল্লাহর ইবাদত এমনভাবে করবে যেন তুমি তাঁকে দেখছ, আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও, তবে তিনি তো তোমাকে দেখছেন। তিনি বললেন: আমাকে কিয়ামত সম্পর্কে অবহিত করুন। তিনি বললেন: এ বিষয়ে যাকে প্রশ্ন করা হচ্ছে তিনি প্রশ্নকারীর চেয়ে অধিক জ্ঞাত নন। তিনি বললেন: তবে আমাকে এর আলামতসমূহ সম্পর্কে অবহিত করুন। তিনি বললেন: তা হলো—দাসী তার মনিবকে জন্ম দেবে এবং তুমি দেখবে যে নগ্নপদ, বস্ত্রহীন মেষপালকরা সুউচ্চ অট্টালিকা নির্মাণে পরস্পর প্রতিযোগিতা করছে। এরপর তিনি চলে গেলেন। উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: এরপর আমি তিন দিন অতিবাহিত করলাম। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বললেন: হে উমর! তুমি কি জানো প্রশ্নকারী কে ছিলেন? তিনি বলেন: আমি বললাম: আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন: তিনি ছিলেন জিবরাইল আলাইহিস সালাম, তিনি তোমাদের কাছে এসেছিলেন তোমাদের দ্বীন শেখাতে।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - ইবনে মান্দাহ (পৃষ্ঠা: ১২৬)
‌‌ذِكْرُ مَا يَدُلُّ عَلَى أَنَّ مِنَ الْإِيمَانِ أَنْ يُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ
ভাগ্যের ভালো ও মন্দের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা যে ঈমানের অন্তর্ভুক্ত, তার স্বপক্ষে দলিলের বর্ণনা
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - ইবনে মান্দাহ (পৃষ্ঠা: ১২৬)
‌‌5 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مَرْوَانَ، وَيَحْيَى بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ الدِّمَشْقِيَّانِ، قَالَا: أَنْبَأَ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ سَعِيدٍ، ثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَأَنْبَأَ مُحَمَّدُ بْنُ مَحْبُوبٍ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى بْنِ سَوْرَةَ، ثَنَا ‌‌⦗ص: 127⦘ حُسَيْنُ بْنُ حُرَيْثٍ، ثَنَا وَكِيعٌ، ثَنَا كَهْمَسُ بْنُ الْحَسَنِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمَرَ، قَالَ: أَوَّلُ مَنْ قَالَ فِي الْقَدَرِ مَعْبَدٌ الْجُهَنِيُّ، قَالَ: فَخَرَجْتُ أَنَا وَحُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ فَأَتَيْنَا الْمَدِينَةَ فَدَخَلْنَا الْمَسْجِدَ فَقُلْتُ لِصَاحِبِي: لَوْ لَقِينَا رَجُلًا مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلْنَاهُ عَمَّا أَحْدَثَ هَؤُلَاءِ الْقَوْمُ، قَالَ: فَإِذَا ابْنُ عُمَرَ خَارِجٌ مِنَ الْمَسْجِدِ فَاكْتَنَفْتُهُ أَنَا وَصَاحِبِي وَظَنَنْتُ أَنَّ صَاحِبِي سَيَكِلُ الْكَلَامَ إِلَيَّ، قَالَ: فَقُلْتُ: يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ إِنَّ قِبَلَنَا قَوْمًا يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ، وَيَتَقَفَّرُونَ الْعِلْمَ يَزْعُمُونَ أَنْ لَا قَدَرَ وَإِنَّمَا الْأَمْرُ أُنُفٌ، قَالَ: " فَإِذَا لَقِيتَ أُولَئِكَ فَأَعْلِمْهُمْ أَنِّي مِنْهُمْ بَرِيءٌ، وَأَنَّهُمْ مِنِّي بَرَاءٌ وَالَّذِي يَحْلِفُ بِهِ ابْنُ عُمَرَ لَوْ أَنَّ أَحَدَهُمُ أَنْفَقَ مِثْلَ أُحُدٍ ذَهَبًا مَا قَبِلَهُ اللَّهُ مِنْهُ حَتَّى يُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ، ثُمَّ قَالَ: حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ قَالَ: كُنَّا جُلُوسًا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِذْ طَلَعَ عَلَيْنَا رَجُلٌ شَدِيدُ بَيَاضِ الثِّيَابِ شَدِيدُ سَوَادِ الشَّعْرِ لَا يُرَى عَلَيْهِ أَثَرُ السَّفَرِ، وَلَا يَعْرِفُهُ مِنَّا أَحَدٌ حَتَّى أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَلْزَقَ رُكْبَتَهُ بِرُكْبَتِهِ، ثُمَّ قَالَ: يَا مُحَمَّدُ مَا الْإِيمَانُ؟، قَالَ: «أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ» ، قَالَ: فَمَا الْإِسْلَامُ؟، قَالَ: «شَهَادَةُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، وَإِقَامُ الصَّلَاةِ، وَإِيتَاءُ الزَّكَاةِ ‌‌⦗ص: 128⦘، وَحَجُّ الْبَيْتِ، وَصَوْمُ رَمَضَانَ» ، قَالَ: صَدَقْتَ، فَمَا الْإِحْسَانُ؟، قَالَ: «تَعْبُدُ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ فَإِنْ لَمْ تَرَهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ» ، فَقَالَ فِي كُلِّ ذَلِكَ يَقُولُ لَهُ: صَدَقْتَ، قَالَ: فَعَجِبْنَا مِنْهُ يَسْأَلُهُ وَيُصَدِّقُهُ، قَالَ: فَمَتَى السَّاعَةُ؟، قَالَ: «مَا الْمَسْئُولُ عَنْهَا بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ» ، قَالَ: فَمَا أَمَارَتُهَا؟، قَالَ: «أَنْ تَلِدَ الْأَمَةُ رَبَّتَهَا، وَأَنْ تَرَى الْحُفَاةَ الْعُرَاةَ الْعَالَةَ أَصْحَابَ الشَّاءِ يَتَطَاوَلُونَ فِي الْبُنْيَانِ» ، قَالَ عُمَرُ: فَلَقِيَنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بَعْدَ ذَلِكَ بِثَلَاثٍ، فَقَالَ: «يَا عُمَرُ هَلْ تَدْرِي مَنِ السَّائِلُ؟، ذَاكَ جِبْرِيلُ عليه السلام أَتَاكُمْ يُعَلِّمُكُمْ مَعَالِمَ دِينِكُمْ» ،

‌‌⦗ص: 130⦘

 

‌‌6 - أَنْبَأَ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُمَرَ الْوَرَّاقُ، ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، ثَنَا كَهْمَسُ بْنُ الْحَسَنِ، ثَنَا ابْنُ بُرَيْدَةَ ح، وَيَزِيدُ، أَنْبَأَ كَهْمَسٌ، عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمَرَ، سَمِعَ ابْنَ عُمَرَ، يَقُولُ: حَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ، قَالَ: بَيْنَا نَحْنُ ذَاتَ يَوْمٍ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِذْ طَلَعَ رَجُلٌ شَدِيدُ بَيَاضِ الثِّيَابِ شَدِيدُ سَوَادِ الشَّعْرِ لَا يُرَى عَلَيْهِ أَثَرُ السَّفَرِ، وَلَا يَعْرِفُهُ مِنَّا أَحَدٌ حَتَّى جَلَسَ إِلَى نَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَأَسْنَدَ رُكْبَتَهُ إِلَى رُكْبَتِهِ، وَوَضَعَ كَفَّيْهِ عَلَى فَخِذَيْهِ. فَذَكَرَ الْحَدِيثَ بِطُولِهِ
‌৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে মারওয়ান এবং ইয়াহইয়া ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আল-হারিস আদ-দিমাশকি, তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের খবর দিয়েছেন আহমদ ইবনে আলী ইবনে সাঈদ, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু খাইসামা জুহাইর ইবনে হারব। এবং আমাদের খবর দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে মাহবুব, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ঈসা ইবনে সাওরা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ‌‌⦗পৃষ্ঠা: ১২৭⦘ হুসাইন ইবনে হুরাইস, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ওয়াকি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাহমাস ইবনে আল-হাসান, আবদুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহ থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াম্মার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: তাকদীর বা ভাগ্য নিয়ে সর্বপ্রথম যে ব্যক্তি কথা বলেছিল সে হলো মা’বাদ আল-জুহানী। ইয়াহইয়া বলেন: এরপর আমি ও হুমাইদ ইবনে আবদুর রহমান বের হলাম এবং মদীনায় আসলাম। আমরা মসজিদে প্রবেশ করে আমার সাথীকে বললাম: যদি আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো সাহাবীর সাক্ষাৎ পেতাম, তবে এই সম্প্রদায় যে নতুন কথা উদ্ভাবন করেছে সে সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করতাম। তিনি বলেন: তখন ইবনে উমরকে মসজিদ থেকে বের হতে দেখা গেল। আমি ও আমার সাথী তাঁকে দুই পাশ থেকে ঘিরে ধরলাম এবং আমি ধারণা করলাম যে আমার সাথী কথা বলার দায়িত্ব আমার ওপরই ছেড়ে দেবেন। তিনি বলেন: তখন আমি বললাম: হে আবু আবদুর রহমান! আমাদের এলাকায় এমন কিছু লোকের উদ্ভব হয়েছে যারা কুরআন পাঠ করে এবং ইলম অন্বেষণ করে, কিন্তু তারা দাবি করে যে তাকদীর বলতে কিছু নেই এবং সব বিষয়ই আকস্মিকভাবে ঘটে। তিনি বললেন: "তুমি যখন তাদের সাথে সাক্ষাৎ করবে, তখন তাদের জানিয়ে দিও যে, আমি তাদের থেকে মুক্ত এবং তারাও আমার থেকে মুক্ত। ইবনে উমর যাঁর নামে শপথ করেন, সেই সত্তার কসম! যদি তাদের কারো নিকট ওহুদ পাহাড় সমপরিমাণ স্বর্ণ থাকে এবং সে তা ব্যয় করে ফেলে, তবে আল্লাহ তা তার পক্ষ থেকে কবুল করবেন না যতক্ষণ না সে তাকদীরের ভালো-মন্দের ওপর ঈমান আনবে।" তারপর তিনি বললেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন উমর ইবনে আল-খাত্তাব, তিনি বলেন: একদিন আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বসা ছিলাম, হঠাৎ আমাদের সামনে অত্যন্ত ধবধবে সাদা পোশাক ও কুচকুচে কালো চুল বিশিষ্ট একজন লোক আবির্ভূত হলেন। তাঁর মধ্যে সফরের কোনো চিহ্ন দেখা যাচ্ছিল না এবং আমাদের কেউ তাঁকে চিনতও না। অবশেষে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বসলেন এবং নিজের দুই হাঁটু তাঁর দুই হাঁটুর সাথে মিলিয়ে দিলেন। এরপর তিনি বললেন: হে মুহাম্মদ! ঈমান কী? তিনি বললেন: «তা হলো—তুমি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ, পরকাল এবং তাকদীরের ভালো-মন্দের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করবে।» তিনি বললেন: ইসলাম কী? তিনি বললেন: «এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, সালাত কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা ‌‌⦗পৃষ্ঠা: ১২৮⦘, বায়তুল্লাহর হজ করা এবং রমজানের সিয়াম পালন করা।» তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। তারপর বললেন: ইহসান কী? তিনি বললেন: «তুমি আল্লাহর ইবাদত এমনভাবে করবে যেন তুমি তাঁকে দেখছ, আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও তবে মনে করবে তিনি তোমাকে দেখছেন।» বর্ণনাকারী বলেন: লোকটির প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরে তিনি যখনই কিছু বলছিলেন, সে বলছিল: আপনি সত্য বলেছেন। বর্ণনাকারী বলেন: আমরা তাঁর বিষয়ে বিস্মিত হলাম যে, তিনি নিজেই তাঁকে প্রশ্ন করছেন আবার নিজেই তাঁর উত্তরের সত্যায়ন করছেন। তিনি বললেন: কিয়ামত কখন হবে? তিনি বললেন: «এই বিষয়ে যাকে প্রশ্ন করা হচ্ছে তিনি প্রশ্নকারীর চেয়ে অধিক কিছু জানেন না।» তিনি বললেন: তবে তার আলামতসমূহ কী কী? তিনি বললেন: «যখন দাসী তার মালিককে প্রসব করবে এবং যখন তুমি দেখবে নগ্নপদ, বস্ত্রহীন, অভাবী মেষপালকগণ সুউচ্চ অট্টালিকা নির্মাণে প্রতিযোগিতা করছে।» উমর বলেন: এর তিন দিন পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে আমার সাক্ষাৎ হলো, তখন তিনি বললেন: «হে উমর! তুমি কি জানো সেই প্রশ্নকারী কে ছিলেন? তিনি ছিলেন জিবরীল আলাইহিস সালাম, তিনি তোমাদের কাছে এসেছিলেন তোমাদের দ্বীনের নিদর্শনসমূহ শিক্ষা দিতে।»

‌‌⦗পৃষ্ঠা: ১৩০⦘

 

‌৬ - আমাদের খবর দিয়েছেন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উমর আল-ওয়াররাক, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে হাম্বল, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে জাফর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাহমাস ইবনে আল-হাসান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে বুরাইদাহ (হাদিসটি অন্য সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে), এবং ইয়াজিদ আমাদের খবর দিয়েছেন যে কাহমাস তাকে ইবনে বুরাইদাহ থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াম্মার থেকে, তিনি ইবনে উমরকে বলতে শুনেছেন যে: আমার নিকট উমর ইবনে আল-খাত্তাব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: একদিন আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ছিলাম, হঠাৎ অত্যন্ত ধবধবে সাদা পোশাক ও কুচকুচে কালো চুল বিশিষ্ট একজন লোক আবির্ভূত হলেন, তাঁর ওপর সফরের কোনো চিহ্ন দেখা যাচ্ছিল না এবং আমাদের কেউ তাঁকে চিনতও না। অবশেষে তিনি আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বসলেন এবং নিজের দুই হাঁটু তাঁর দুই হাঁটুর সাথে ঠেকিয়ে দিলেন এবং নিজের দুই হাতের তালু তাঁর দুই উরুর ওপর রাখলেন। অতঃপর তিনি পূর্ণ দীর্ঘ হাদীসটি উল্লেখ করেন।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - ইবনে মান্দাহ (পৃষ্ঠা: ১৩১)
‌‌ذِكْرُ مَا يَدُلُّ عَلَى أَنَّ مِنَ الْإِيمَانِ أَنْ يُؤْمِنَ بِحُلْوِ الْقَدَرِ، وَمُرِّهِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ
তাকদীরের মিষ্টতা ও তিক্ততা এবং এর ভালো ও মন্দের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা যে ঈমানের অন্তর্ভুক্ত, সেই দলীলসমূহের বর্ণনা
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - ইবনে মান্দাহ (পৃষ্ঠা: ১৩১)
‌‌7 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يُونُسَ، ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَهْدِيٍّ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمِنْهَالِ الضَّرِيرُ، وَأَنْبَأَ أَحْمَدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنُ أَيُّوبَ، ثَنَا أَبُو الْمُثَنَّى مُعَاذُ بْنُ الْمُثَنَّى الْعَنْبَرِيُّ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمِنْهَالِ، ثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، ثَنَا كَهْمَسُ بْنُ الْحَسَنِ الْبَصْرِيُّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمَرَ، قَالَ: خَرَجْتُ أَنَا وَحُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحِمْيَرِيُّ، فَلَقِيَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ حَاجَّيْنِ أَوْ مُعْتَمِرَيْنِ، فَقُلْنَا: وَدِدْنَا أَنَّا لَقِينَا رَجُلًا مِنْ أَصْحَابِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم فَنَسْأَلُهُ عَنِ الْقَدَرِ، قَالَ: فَلَقِينَا ابْنَ عُمَرَ فَظَنَنْتُ أَنَّهُ سَيَكِلُ الْكَلَامَ إِلَيَّ، قُلْنَا: يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ قَدْ ظَهَرَ قِبَلَنَا أُنَاسٌ يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ وَيَتَقَفَّرُونَ الْعِلْمَ تَقَفُّرًا يَزْعُمُونَ أَنْ لَا قَدَرَ وَأَنَّ الْأَمْرَ أُنُفٌ، قَالَ: فَأَبْلِغْهُمْ عَنِّي إِنْ لَقِيتَهُمْ أَنِّي مِنْهُمْ بَرِيءٌ، وَأَنَّهُمْ مِنِّي بَرَاءٌ، وَالَّذِي يَحْلِفُ بِهِ ابْنُ عُمَرَ نَفْسُهُ، لَوْ أَنَّ أَحَدَهُمُ أَنْفَقَ مِثْلَ أُحُدٍ ذَهَبًا، ثُمَّ لَمْ يُؤْمِنْ بِالْقَدَرِ مَا قُبِلَ مِنْهُ، ثُمَّ قَالَ ‌‌⦗ص: 132⦘: أَخْبَرَنِي أَبِي عُمَرُ، قَالَ: بَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ يَوْمٍ يَخْطُبُ إِذْ جَاءَ رَجُلٌ شَدِيدُ بَيَاضِ الثِّيَابِ شَدِيدُ سَوَادِ اللِّحْيَةِ لَيْسَ عَلَيْهِ أَثَرُ سَفَرٍ لَا يَعْرِفُهُ مِنَّا أُرَاهُ أَحَدٌ حَتَّى صَعِدَ الْمِنْبَرَ، فَوَضَعَ رُكْبَتَيْهِ عَلَى رُكْبَتَيِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ أَخْبِرْنِي عَنِ الْإِسْلَامِ؟، فَقَالَ: «شَهَادَةُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَإِقَامُ الصَّلَاةِ، وَإِيتَاءُ الزَّكَاةِ، وَصَوْمُ رَمَضَانَ، وَحَجُّ الْبَيْتِ» ، قَالَ: صَدَقْتَ، قَالَ: فَعَجِبْنَا مِنْ سُؤَالِهِ إِيَّاهُ وَتَصْدِيقِهِ إِيَّاهُ، قَالَ: أَخْبِرْنِي يَا مُحَمَّدُ مَا الْإِيمَانُ؟، قَالَ: «أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَبِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ حُلْوِهِ وَمُرِّهِ وَبِالْبَعْثِ بَعْدَ الْمَوْتِ» ، قَالَ: صَدَقْتَ، قَالَ: فَعَجِبْنَا مِنْ سُؤَالِهِ إِيَّاهُ وَتَصْدِيقِهِ إِيَّاهُ، قَالَ: أَخْبِرْنِي يَا مُحَمَّدُ، مَا الْإِحْسَانُ؟، قَالَ: «أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ فَإِنْ لَا تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ» ، قَالَ: فَأَخْبِرْنِي مَتَى السَّاعَةُ؟، قَالَ: «مَا الْمَسْئُولُ عَنْهَا بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ» ، قَالَ: فَمَا أَمَارَتُهَا؟، قَالَ: «أَنْ تَلِدَ الْأَمَةُ رَبَّتَهَا، وَأَنْ تَرَى الْحُفَاةَ الْعُرَاةَ رِعَاءَ الشَّاءِ يَتَطَاوَلُونَ فِي الْبُنْيَانِ» ، قَالَ: ثُمَّ نَزَلَ فَذَهَبَ، قَالَ عُمَرُ: فَلَقِيَنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بَعْدَ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ، فَقَالَ: «يَا عُمَرُ تَدْرِي مَنِ الرَّجُلُ؟» ، قُلْتُ: لَا، قَالَ: «ذَلِكَ جِبْرِيلُ عليه السلام أَتَاكُمْ يُعَلِّمُكُمْ دِينَكُمْ» . وَأَنْبَأَ أَبُو الْقَاسِمِ حَمْزَةُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْعَبَّاسِ الْكِنَانِيُّ، بِمِصْرَ، ثَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَحْمَدُ بْنُ شُعَيْبٍ، أَنْبَأَ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بَزِيعٍ، ثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، ثَنَا كَهْمَسٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمَرَ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، قَالَ ‌‌⦗ص: 133⦘: حَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ، قَالَ: بَيْنَا نَحْنُ عَنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ يَوْمٍ إِذْ طَلَعَ عَلَيْنَا رَجُلٌ وَذَكَرَ الْحَدِيثَ، أَنْبَأَ عَمْرُو بْنُ مَنْصُورٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ يُونُسَ، قَالَا: ثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ، ثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ زِيَادٍ، أَنْبَأَ إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَنْبَأَ النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ، ح، قَالَ الْحُسَيْنُ: وَثَنَا عُمَرُ بْنُ عَلِيٍّ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَبِي عَدِيٍّ جَمِيعًا عَنْ كَهْمَسٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ يَحْيَى بِإِسْنَادِهِ نَحْوَهُ
‌৭ - মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইউনুস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমাদ ইবনে মাহদী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে মিনহাল আদ-দারীর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন; এবং আহমাদ ইবনে ইসহাক ইবনে আইয়ুব আমাদের অবহিত করেছেন, আবু আল-মুসান্না মুআয ইবনে আল-মুসান্না আল-আনবারী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে মিনহাল আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ইয়াযীদ ইবনে যুরায় আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, কাহমাস ইবনে আল-হাসান আল-বসরী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনে বুরায়দাহ থেকে, ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামুর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি এবং হুমায়দ ইবনে আব্দুর রহমান আল-হিময়ারী বের হলাম। আমাদের সাথে আবদুল্লাহ ইবনে উমরের সাক্ষাৎ হলো, যখন আমরা হজ অথবা উমরাহ পালন করছিলাম। আমরা বললাম: আমাদের আকাঙ্ক্ষা ছিল যদি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো সাহাবীর সাথে আমাদের দেখা হতো, তবে আমরা তাঁকে তাকদীর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতাম। তিনি বলেন: আমাদের সাথে ইবনে উমরের দেখা হলো এবং আমি ধারণা করলাম যে তিনি কথা বলার দায়িত্ব আমার ওপর ন্যস্ত করবেন। আমরা বললাম: হে আবু আব্দুর রহমান! আমাদের এলাকায় এমন কিছু লোকের আবির্ভাব ঘটেছে যারা কুরআন পাঠ করে এবং ইলম অন্বেষণ করে খুব গভীরভাবে, কিন্তু তারা দাবি করে যে তাকদীর বলতে কিছু নেই এবং বিষয়টি পূর্বনির্ধারিত নয় বরং আকস্মিক। তিনি বললেন: যখন তোমরা তাদের সাথে সাক্ষাৎ করবে, তখন আমার পক্ষ থেকে তাদের জানিয়ে দিও যে, আমি তাদের থেকে মুক্ত এবং তারাও আমার থেকে মুক্ত। যাঁর নামে ইবনে উমর শপথ করেন তাঁর কসম, তাদের কেউ যদি উহুদ পাহাড় সমপরিমাণ স্বর্ণও ব্যয় করে এবং এরপর তাকদীরের ওপর ঈমান না আনে, তবে তা তার পক্ষ থেকে কবুল করা হবে না। এরপর তিনি বললেন ‌‌⦗পৃষ্ঠা: ১৩২⦘: আমাকে আমার পিতা উমর সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা দিচ্ছিলেন, এমতাবস্থায় হঠাত একজন লোক আসলেন যার পোশাক ছিল ধবধবে সাদা এবং দাড়ি ছিল কুচকুচে কালো। তাঁর ওপর সফরের কোনো চিহ্ন ছিল না এবং আমাদের মধ্য থেকে কেউই তাঁকে চিনত না। অবশেষে তিনি মিম্বরে আরোহণ করলেন এবং নিজের দুই হাঁটু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুই হাঁটুর সাথে মিলিয়ে রাখলেন। এরপর তিনি বললেন: হে মুহাম্মদ! আমাকে ইসলাম সম্পর্কে অবহিত করুন। তিনি বললেন: «এই সাক্ষ্য দেওয়া যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, নামায কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, রমযানের রোজা রাখা এবং বাইতুল্লাহর হজ করা»। তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। তিনি বলেন: আমরা তাঁর জিজ্ঞাসায় এবং পরে তা সত্য বলে সত্যায়ন করায় আশ্চর্যান্বিত হলাম। তিনি বললেন: হে মুহাম্মদ! ঈমান কী, তা আমাকে জানান। তিনি বললেন: «তুমি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ এবং তাকদীরের ভালো-মন্দ ও এর মিষ্টতা ও তিক্ততার ওপর বিশ্বাস রাখবে, আর মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের ওপর বিশ্বাস রাখবে»। তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। তিনি বলেন: আমরা তাঁর জিজ্ঞাসায় এবং পরে তা সত্য বলে সত্যায়ন করায় আশ্চর্যান্বিত হলাম। তিনি বললেন: হে মুহাম্মদ! ইহসান কী? তিনি বললেন: «তুমি আল্লাহর ইবাদত এমনভাবে করবে যেন তুমি তাঁকে দেখছ, আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও তবে মনে করবে তিনি তোমাকে দেখছেন»। তিনি বললেন: কিয়ামত কবে হবে তা আমাকে জানান। তিনি বললেন: «যাকে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে সে প্রশ্নকারীর চেয়ে বেশি জানে না»। তিনি বললেন: এর লক্ষণসমূহ কী কী? তিনি বললেন: «দাসী যখন তার মনিবকে জন্ম দেবে এবং তুমি দেখতে পাবে যে নগ্নপদ, বস্ত্রহীন মেষপালক দরিদ্র ব্যক্তিরা সুউচ্চ অট্টালিকা নির্মাণে পরস্পর প্রতিযোগিতা করছে»। তিনি (উমর) বলেন: এরপর তিনি নেমে চলে গেলেন। উমর বলেন: তিন দিন পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে আমার দেখা হলো। তিনি বললেন: «হে উমর! তুমি কি জানো সেই ব্যক্তিটি কে ছিলেন?» আমি বললাম: না। তিনি বললেন: «তিনি ছিলেন জিবরীল আলাইহিস সালাম, তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন শেখাতে এসেছিলেন»। এবং আবু আল-কাসিম হামযাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্বাস আল-কিনানী মিসরে আমাদের অবহিত করেছেন, আবু আব্দুর রহমান আহমাদ ইবনে শুআইব আমাদের অবহিত করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে বাযী আমাদের অবহিত করেছেন, ইয়াযীদ ইবনে যুরায় আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, কাহমাস আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনে বুরায়দাহ থেকে, ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামুর থেকে বর্ণিত যে, আবদুল্লাহ ইবনে উমর বলেছেন ‌‌⦗পৃষ্ঠা: ১৩৩⦘: উমর ইবনুল খাত্তাব আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে ছিলাম, এমতাবস্থায় আমাদের সামনে এক ব্যক্তি উপস্থিত হলেন... এবং তিনি হাদীসটি উল্লেখ করেন। আমর ইবনে মানসুর এবং মুহাম্মদ ইবনে ইউনুস আমাদের অবহিত করেছেন, তাঁরা বলেন: হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ ইবনে যিয়াদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ইসহাক ইবনে যিয়াদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ইসহাক ইবনে ইব্রাহীম আমাদের অবহিত করেছেন, নাদর ইবনে শুমাইল আমাদের অবহিত করেছেন, (হ) হুসাইন বলেন: এবং উমর ইবনে আলী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহীম ইবনে আবি আদী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, সকলেই কাহমাস থেকে, আবদুল্লাহ ইবনে বুরায়দাহ থেকে, ইয়াহইয়ার সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - ইবনে মান্দাহ (পৃষ্ঠা: ১৩৩)
‌‌ذِكْرُ مَا يَدُلُّ عَلَى أَنَّ مِنَ الْإِيمَانِ أَنْ يُؤْمِنَ بِالْبَعْثِ بَعْدَ الْمَوْتِ
মৃত্যুর পর পুনরুত্থানে বিশ্বাস স্থাপন করা ঈমানের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার প্রমাণাদির বর্ণনা
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - ইবনে মান্দাহ (পৃষ্ঠা: ১৩৩)
‌‌8 - أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ نَصْرٍ، ثَنَا تَمِيمُ بْنُ مُحَمَّدٍ الطُّوسِيُّ، وَعِمْرَانُ بْنُ ‌‌⦗ص: 134⦘ مُوسَى ح، وَأَنْبَأَ أَبُو الْوَلِيدِ حَسَّانُ بْنُ مُحَمَّدٍ الشَّافِعِيُّ، ثَنَا عِمْرَانُ بْنُ مُوسَى بْنِ مُجَاشِعٍ، قَالَا: ثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذِ بْنِ مُعَاذٍ الْعَنْبَرِيُّ، ثَنَا أَبِي، ثَنَا كَهْمَسُ بْنُ الْحَسَنِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمَرَ، قَالَ: إِنَّ أَوَّلَ مَنْ تَكَلَّمَ بِالْبَصْرَةِ مَعْبَدٌ الْجُهَنِيُّ فَانْطَلَقْتُ أَنَا وَحُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ حَاجَّيْنِ أَوْ مُعْتَمِرَيْنِ، فَقُلْنَا: لَوْ لَقِينَا أَحَدًا مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلْنَاهُ عَمَّا يَقُولُ هَؤُلَاءِ فِي الْقَدَرِ فَوَافَقَ لَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ دَاخِلٌ الْمَسْجِدَ فَاكْتَنَفْتُهُ وَصَاحِبِي أَحَدُنَا عَنْ يَمِينِهِ وَالْآخَرُ عَنْ شِمَالِهِ فَظَنَنْتُ أَنَّ صَاحِبِيَ سَيَكِلُ الْكَلَامَ إِلَيَّ، فَقُلْتُ: أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ، إِنَّهُ قَدْ ظَهَرَ عِنْدَنَا نَاسٌ يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ وَيَتَفَقَّرُونَ الْعِلْمَ وَذَكَرْتُ مِنْ شَأْنِهِمْ وَأَنَّهُمْ يَزْعُمُونَ أَنْ لَا قَدَرَ وَإِنَّمَا الْأَمْرُ أُنُفٌ، فَقَالَ: إِذَا لَقِيتَ أُولَئِكَ فَأَخْبِرْهُمْ أَنِّي بَرِيءٌ مِنْهُمْ وَأَنَّهُمْ بَرَاءٌ مِنِّي، وَالَّذِي يَحْلِفُ بِهِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ لَوْ أَنَّ لِأَحَدِهِمْ مِثْلَ أُحُدٍ ذَهَبًا فَأَنْفَقَهُ مَا قَبِلَهُ اللَّهُ مِنْهُ حَتَّى يُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ، ثُمَّ قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ، قَالَ: بَيْنَا نَحْنُ عَنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ يَوْمٍ إِذْ طَلَعَ عَلَيْنَا رَجُلٌ شَدِيدُ بَيَاضِ الثِّيَابِ، شَدِيدُ سَوَادِ الشَّعْرِ لَا نَرَى عَلَيْهِ أَثَرَ السَّفَرِ وَلَا يَعْرِفُهُ مِنَّا أَحَدٌ حَتَّى جَلَسَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَسْنَدَ رُكْبَتَهُ إِلَى رُكْبَتِهِ وَوَضَعَ كَفَّهُ عَلَى فَخِذَيْهِ، وَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ أَخْبِرْنِي عَنِ الْإِسْلَامِ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «الْإِسْلَامُ أَنْ تَشْهَدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَتُقِيمَ الصَّلَاةَ، وَتُؤْتِيَ الزَّكَاةَ، وَتَصُومَ رَمَضَانَ، وَتَحُجَّ الْبَيْتَ إِنِ اسْتَطَعْتَ إِلَيْهِ سَبِيلًا» ، قَالَ: صَدَقْتَ، قَالَ: فَعَجِبْنَا لَهُ يَسْأَلُهُ وَيُصَدِّقُهُ، قَالَ: فَأَخْبِرْنِي عَنِ الْإِيمَانِ، قَالَ: «أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَتُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ» ، قَالَ: صَدَقْتَ، قَالَ ‌‌⦗ص: 135⦘: فَأَخْبِرْنِي عَنِ الْإِحْسَانِ، قَالَ: «أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ» ، قَالَ: فَأَخْبِرْنِي عَنِ السَّاعَةِ، قَالَ: «مَا الْمَسْئُولُ عَنْهَا بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ» ، قَالَ: فَأَخْبِرْنِي عَنْ أَمَارَتِهَا، قَالَ: أَنْ تَلِدَ الْأَمَةُ رَبَّتَهَا، وَأَنْ تَرَى الْحُفَاةَ الْعُرَاةَ الْعَالَةَ رِعَاءَ الشَّاءِ يَتَطَاوَلُونَ فِي الْبُنْيَانِ "، قَالَ: ثُمَّ انْطَلَقَ فَلَبِثْتُ ثَلَاثًا ثُمَّ قَالَ لِي: «يَا عُمَرُ أَتَدْرِي مَنِ السَّائِلُ؟» ، قُلْتُ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: «ذَاكَ جِبْرِيلُ عليه السلام أَتَاكُمْ يُعَلِّمُكُمْ دِينَكُمْ» . وَأَنْبَأَ حَمْزَةُ بْنُ مُحَمَّدٍ، ثَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَحْمَدُ بْنُ شُعَيْبٍ، ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَا: ثَنَا مُعَاذُ بْنُ مُعَاذٍ نَحْوَهُ. وَأَنْبَأَ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَحْبُوبٍ، ثَنَا أَبُو عِيسَى مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى بْنِ سَوْرَةَ، ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُوسَى مَرْدَوَيْهِ ح، وَأَنْبَأَ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يُونُسَ وَمُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ الْمُسْتَمْلِيُّ، قَالَا: ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَهْدِيٍّ، ثَنَا نُعَيْمُ بْنُ حَمَّادٍ قَالَ: ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ ‌‌⦗ص: 136⦘ الْمُبَارَكِ أَنْبَأَ كَهْمَسُ بْنُ الْحَسَنِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمَرَ، قَالَ: ظَهْرَ هَاهُنَا مَعْبَدٌ الْجُهَنِيُّ وَهُوَ أَوَّلُ مَنْ قَالَ فِي الْقَدَرِ هَاهُنَا فَانْطَلَقْتُ أَنَا وَحُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ حَاجَّيْنِ أَوْ مُعْتَمِرَيْنِ، فَقَالَ أَحَدُنَا لِصَاحِبِهِ: لَوْ لَقِينَا بَعْضَ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلْنَاهُ عَمَّا قَالَ هَؤُلَاءِ فِي الْقَدَرِ، فَلَقِينَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ وَهُوَ دَاخِلٌ الْمَسْجِدَ فَاكْتَنَفْنَاهُ أَحَدُنَا عَنْ يَمِينِهِ وَذَكَرَ الْحَدِيثَ. رَوَاهُ حَبَّانُ بْنُ مُوسَى، وَعَبَّادٌ، عَنِ ابْنِ الْمُبَارَكِ
৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে নাসর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন তামীম ইবনে মুহাম্মদ আত-তুসি এবং ইমরান ইবনে ⦗পৃষ্ঠা: ১৩৪⦘ মুসা, এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-ওয়ালিদ হাসান ইবনে মুহাম্মদ আশ-শাফিঈ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইমরান ইবনে মুসা ইবনে মুজাশে, তাঁরা উভয়েই বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উবায়দুল্লাহ ইবনে মুআজ ইবনে মুআজ আল-আনবারি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাহমাস ইবনুল হাসান, আবদুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহ থেকে, ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: বসরায় তাকদীর সম্পর্কে প্রথম যে ব্যক্তি কথা বলেছিল সে হলো মাবাদ আল-জুহানি। তখন আমি এবং হুমায়দ ইবনে আব্দুর রহমান হজ অথবা উমরা পালনকারী হিসেবে রওয়ানা হলাম। আমরা বললাম: আমরা যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো সাহাবীর সাথে সাক্ষাৎ করতে পারতাম এবং এই লোকেরা তাকদীর সম্পর্কে যা বলে সে বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করতে পারতাম। এরপর আমরা আবদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনুল খাত্তাবকে মসজিদে প্রবেশ করতে পেলাম। আমি এবং আমার সাথী তাঁর দুই পাশে এমনভাবে অবস্থান নিলাম যে আমাদের একজন তাঁর ডান দিকে এবং অন্যজন তাঁর বাম দিকে ছিলেন। আমি ধারণা করলাম যে আমার সাথী কথা বলার দায়িত্ব আমার ওপরই ছেড়ে দেবেন। তাই আমি বললাম: হে আবু আব্দুর রহমান! আমাদের এলাকায় এমন কিছু লোকের আবির্ভাব ঘটেছে যারা কুরআন পাঠ করে এবং অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে জ্ঞান অন্বেষণ করে (তিনি তাদের বর্ণনায় আরও কিছু কথা উল্লেখ করলেন)। তারা দাবি করে যে কোনো তাকদীর নেই এবং সমস্ত বিষয়ই পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই তাৎক্ষণিকভাবে ঘটে। তিনি (ইবনে উমর) বললেন: তুমি যখন তাদের সাথে দেখা করবে, তখন তাদের জানিয়ে দিও যে আমি তাদের সাথে কোনো সম্পর্ক রাখি না এবং তারাও আমার সাথে সম্পর্কহীন। সেই সত্তার কসম যার নামে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর শপথ করে, তাদের কারো নিকট যদি উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণও থাকে এবং সে তা দান করে দেয়, তবে ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ তা তার পক্ষ থেকে কবুল করবেন না যতক্ষণ না সে তাকদীরের প্রতি ঈমান আনবে। এরপর তিনি বললেন: আমার পিতা উমর ইবনুল খাত্তাব আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বসা ছিলাম, এমন সময় আমাদের সামনে অত্যন্ত ধবধবে সাদা পোশাক ও কুচকুচে কালো চুল বিশিষ্ট একজন লোক উপস্থিত হলেন। তাঁর ওপর সফরের কোনো চিহ্ন দেখা যাচ্ছিল না এবং আমাদের মধ্যে কেউ তাঁকে চিনতও না। শেষে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে গিয়ে বসলেন এবং তাঁর হাঁটুর সাথে নিজের হাঁটু মিলালেন এবং নিজের দুই হাত তাঁর নিজের দুই উরুর ওপর রাখলেন। এরপর তিনি বললেন: হে মুহাম্মদ! আমাকে ইসলাম সম্পর্কে বলুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ইসলাম হলো তুমি এই সাক্ষ্য দেবে যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করবে, জাকাত প্রদান করবে, রমজানের রোজা রাখবে এবং সামর্থ্য থাকলে আল্লাহর ঘরের হজ পালন করবে। তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। আমরা তাঁর ব্যাপারে আশ্চর্য হলাম যে, তিনি নিজেই তাঁকে জিজ্ঞাসা করছেন আবার নিজেই তাঁর সত্যায়ন করছেন। তিনি বললেন: এবার আমাকে ঈমান সম্পর্কে বলুন। নবীজি বললেন: ঈমান হলো তুমি ঈমান আনবে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, তাঁর রাসূলগণের প্রতি, পরকালের প্রতি এবং তুমি ঈমান আনবে তাকদীরের ভালো ও মন্দের প্রতি। তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। তিনি ⦗পৃষ্ঠা: ১৩৫⦘ বললেন: এবার আমাকে ইহসান সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: ইহসান হলো তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে যেন তুমি তাঁকে দেখছ, আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও, তবে অবশ্যই তিনি তোমাকে দেখছেন। তিনি বললেন: এবার আমাকে কিয়ামত সম্পর্কে বলুন। নবীজি বললেন: যাকে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে সে এই বিষয়ে প্রশ্নকারীর চেয়ে বেশি জানে না। তিনি বললেন: তবে আমাকে এর আলামত সম্পর্কে বলুন। নবীজি বললেন: দাসী তার মালিককে প্রসব করবে এবং তুমি দেখবে খালি পা, বিবস্ত্র দেহ ও নিঃস্ব মেষপালকরা সুউচ্চ দালান নির্মাণে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করছে। উমর (রা.) বলেন: এরপর প্রশ্নকারী ব্যক্তি চলে গেলেন। আমি তিন দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করলাম। এরপর নবীজি আমাকে বললেন: হে উমর! তুমি কি জানো প্রশ্নকারী কে ছিলেন? আমি বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক ভালো জানেন। তিনি বললেন: তিনি ছিলেন জিবরাঈল আলাইহিস সালাম, তিনি তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন শিক্ষা দিতে এসেছিলেন। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হামজাহ ইবনে মুহাম্মদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুর রহমান আহমদ ইবনে শুআইব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান এবং মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না, তাঁরা উভয়েই বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুয়াজ ইবনে মুয়াজ অনুরূপভাবে। এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মাহবুব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ঈসা মুহাম্মদ ইবনে ঈসা ইবনে সাওরাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে মুসা মারদাওয়াইহ। এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইউনুস ও মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন আল-মুস্তামলি, তাঁরা উভয়েই বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে মাহদি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন নুআইম ইবনে হাম্মাদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে ⦗পৃষ্ঠা: ১৩৬⦘ মুবারক, সংবাদ দিয়েছেন কাহমাস ইবনুল হাসান, আবদুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহ থেকে, ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এখানে মাবাদ আল-জুহানির প্রকাশ ঘটেছিল এবং সে-ই প্রথম ব্যক্তি যে এখানে তাকদীর সম্পর্কে বিতর্ক তুলেছিল। এরপর আমি এবং হুমায়দ ইবনে আব্দুর রহমান হজ অথবা উমরা করার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম। আমাদের একজন তাঁর সাথীকে বলল: আমরা যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো সাহাবীর সাথে সাক্ষাৎ করতে পারতাম এবং তাকদীর সম্পর্কে এই লোকেরা যা বলে সে বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করতে পারতাম। এরপর আমরা আবদুল্লাহ ইবনে উমরকে মসজিদে প্রবেশ করতে পেলাম এবং আমরা তাঁর দুই পাশে অবস্থান নিলাম। এরপর তিনি পূর্ণ হাদিসটি উল্লেখ করলেন। এটি হাব্বান ইবনে মুসা এবং আব্বাদ ইবনুল মুবারক থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - ইবনে মান্দাহ (পৃষ্ঠা: ১৩৭)
‌‌ذِكْرُ مَا يَدُلُّ عَلَى أَنَّ مِنَ الْإِيمَانِ أَنْ يُؤْمِنَ الْعَبْدُ بِأَنَّ لِلَّهِ جُنَّةً وَنَارًا
ঈমানের অন্তর্ভুক্ত হলো বান্দার এই বিশ্বাস করা যে আল্লাহর জান্নাত ও জাহান্নাম রয়েছে—এই বিষয়ের বর্ণনা
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - ইবনে মান্দাহ (পৃষ্ঠা: ১৩৭)
‌‌9 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُونُسَ، ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَهْدِيٍّ ح، وَأَنْبَأَ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عُتْبَةَ الرَّازِيُّ، ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ دَاوُدَ الْمَكِّيُّ ح، وَأَنْبَأَ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ الشَّيْبَانِيُّ، ثَنَا يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى، وَمُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعِيدٍ، ح، وَأَنْبَأَ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ نَصْرٍ، ثَنَا مُعَاذُ بْنُ الْمُثَنَّى، ح، وَأَنْبَأَ أَحْمَدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ أَيُّوبَ، ثَنَا مُحَمَّدُ ‌‌⦗ص: 138⦘ بْنُ أَيُّوبَ، قَالُوا: أَنْبَأَ مُسَدَّدُ بْنُ مُسَرْهَدٍ، ثَنَا يَحْيَى الْقَطَّانُ، ثَنَا عُثْمَانُ بْنُ غِيَاثٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمَرَ، وَحُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَا: لَقِينَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ فَذَكَرْنَا لَهُ شَأْنَ الْقَدَرِ، وَمَا يَقُولُونَ فِيهِ، فَقَالَ: إِذَا رَجَعْتُمْ إِلَيْهِمْ فَقُولُوا لَهُمْ: إِنَّ ابْنَ عُمَرَ مِنْكُمْ بَرِيءٌ وَأَنْتُمْ مِنْهُ بَرَاءٌ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، ثُمَّ قَالَ: أَخْبَرَنِي عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ: أَنَّهُمْ بَيْنَمَا هُمْ جُلُوسٌ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم جَاءَ رَجُلٌ حَسَنُ الْوَجْهِ حَسَنُ الشَّعْرِ عَلَيْهِ ثِيَابٌ بَيَاضٌ فَنَظَرَ الْقَوْمُ بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ، فَقَالُوا: مَا نَعْرِفُ هَذَا وَلَا هَذَا صَاحِبُ سَفَرٍ، ثُمَّ قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَسْأَلُكَ؟، قَالَ: «نَعَمْ» ، قَالَ: فَوَضَعَ رُكْبَتَيْهِ عِنْدَ رُكْبَتَيْهِ وَيَدَيْهِ عَلَى فَخِذَيْهِ فَقَالَ: مَا الْإِسْلَامُ؟، فَقَالَ: «الْإِسْلَامُ شَهَادَةُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَتُقِيمُ الصَّلَاةَ، وَتُؤْتِي الزَّكَاةَ، وَتَصُومُ رَمَضَانَ، وَتَحُجُّ الْبَيْتَ» ، قَالَ: فَمَا الْإِيمَانُ؟، قَالَ: «أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَالْجَنَّةِ وَالنَّارِ وَالْبَعْثِ بَعْدَ الْمَوْتِ وَالْقَدَرِ كُلِّهِ» ، قَالَ: فَمَا الْإِحْسَانُ؟، قَالَ: «تَعْمَلُ لِلَّهِ كَأَنَّكَ تَرَاهُ فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ» ، قَالَ: فَمَتَى السَّاعَةُ؟، قَالَ: «مَا الْمَسْئُولُ عَنْهَا بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ» ، قَالَ: فَمَا أَشْرَاطُهَا؟، قَالَ: «إِذَا الْعُرَاةُ الْحُفَاةُ الْعَالَةُ رِعَاءُ الشَّاءِ تَطَاوَلُوا فِي الْبُنْيَانِ وَوَلَدَتِ الْإِمَاءُ أَرْبَابَهَا» ، ثُمَّ قَالَ: «عَلَيَّ بِالرَّجُلِ» فَطَلَبُوهُ فَلَمْ يَرَوْا شَيْئًا فَلَبِثَ يَوْمًا أَوْ ثَلَاثًا ثُمَّ قَالَ: «يَا ابْنَ الْخَطَّابِ أَتَدْرِي مَنِ السَّائِلُ عَنْ كَذَا وَكَذَا؟» ، قَالَ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: «ذَاكَ جِبْرِيلُ عليه السلام جَاءَ يُعَلِّمُكُمْ دِينَكُمْ» ، قَالَ: وَسَأَلَهُ رَجُلٌ مِنْ جُهَيْنَةَ ‌‌⦗ص: 139⦘ أَوْ مُزَيْنَةَ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ فِيمَ الْعَمَلُ؟، فِي أَمْرٍ قَدْ خَلَا أَوْ مَضَى أَوْ شَيْءٍ مُسْتَأْنَفٍ؟، قَالَ: «فِي شَيْءٍ قَدْ خَلَا أَوْ مَضَى» ، فَقَالَ رَجُلٌ أَوْ بَعْضُ الْقَوْمُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ فَفِيمَ الْعَمَلُ؟، فَقَالَ: «إِنَّ أَهْلَ الْجَنَّةِ مُيَسَّرُونَ لِعَمَلِ الْجَنَّةِ وَأَهْلَ النَّارِ مُيَسَّرُونَ لِعَمَلِ أَهْلِ النَّارِ» . وَأَنْبَأَ عَمْرُو بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرٍو، ثَنَا أَبُو كَامِلٍ فُضَيْلُ بْنُ حُسَيْنٍ، ثَنَا أَبُو مَعْشَرٍ الْبَرَّاءُ، سَمِعْتُ عُثْمَانَ بْنَ غِيَاثٍ، ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بُرَيْدَةَ بِإِسْنَادِهِ نَحْوَهُ أَنْبَأَ يَحْيَى بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ وَمُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مَرْوَانَ، قَالَا: ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ سَعِيدٍ الْحِمْصِيُّ، ثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْقَوَارِيرِيُّ، ثَنَا أَبُو مَعْشَرٍ الْبَرَّاءُ، أَنْبَأَ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ الْعَيْزَارِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمَرَ بِإِسْنَادِهِ نَحْوَهُ. وَأَنْبَأَ خَيْثَمَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَعْدٍ، ح، وَأَنْبَأَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ ‌‌⦗ص: 140⦘ إِبْرَاهِيمَ الْمُقْرِي، ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ أَبِي بُكَيْرٍ، قَالَ: أَنْبَأَ يَحْيَى بْنُ أَبِي بُكَيْرٍ، ثَنَا زُهَيْرُ بْنُ مُعَاوِيَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَطَاءٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ أَنْ يَحْيَىَ بْنَ يَعْمَرَ حَدَّثَهُ أَنَّهُ حَجَّ فَلَقِيَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ بِطُولِهِ. رَوَاهُ عُثْمَانُ بْنُ سَعِيدٍ الْكُوفِيُّ، عَنْ زُهَيْرِ بْنِ مُعَاوِيَةَ نَحْوَهُ. وَرَوَى هَذَا الْحَدِيثَ مَطَرٌ الْوَرَّاقُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ «فَزَادَ فِيهِ وَقَدَّمَ وَأَخَّرَ بَعْضَ الْحَدِيثِ»
৯ - মুহাম্মদ ইবনে ইউনুস আমাদের জানিয়েছেন, আহমাদ ইবনে মাহদী আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন (হ), এবং আহমাদ ইবনে হাসান ইবনে উতবাহ আর-রাজি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমাদ ইবনে দাউদ আল-মাক্কি আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন (হ), এবং মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আশ-শায়বানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া এবং মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে সাঈদ আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন (হ), এবং আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে নাসর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুয়াজ ইবনে আল-মুসান্না আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন (হ), এবং আহমাদ ইবনে ইসহাক ইবনে আইয়ুব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ⦗পৃষ্ঠা: ১৩৮⦘ ইবনে আইয়ুব আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তাঁরা সকলে বলেন: মুসাদ্দাদ ইবনে মুসারহাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইয়াহইয়া আল-কাত্তান আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন, উসমান ইবনে গিয়াস আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে বুরায়দাহ থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামার এবং হুমায়দ ইবনে আব্দুর রহমান থেকে বর্ণনা করেন, তাঁরা উভয়ে বলেন: আমরা আবদুল্লাহ ইবনে উমরের সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং তাঁর কাছে তাকদিরের বিষয়টি ও এ সম্পর্কে লোকেরা যা বলে তা উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন: তোমরা যখন তাদের কাছে ফিরে যাবে, তখন তাদের বলো: ইবনে উমর তোমাদের থেকে মুক্ত এবং তোমরাও তাঁর থেকে মুক্ত—তিনি এটি তিনবার বললেন। অতঃপর তিনি বললেন: উমর ইবনে আল-খাত্তাব আমাকে জানিয়েছেন যে, তাঁরা যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপবিষ্ট ছিলেন, তখন সুন্দর চেহারা ও সুন্দর চুলের অধিকারী এক ব্যক্তি আসলেন, যাঁর পরনে ছিল সাদা কাপড়। উপস্থিত লোকেরা একে অপরের দিকে তাকাতে লাগল এবং বলল: আমরা একে চিনি না, আবার সে মুসাফিরও নয়। অতঃপর সে বলল: হে আল্লাহর রাসুল, আমি কি আপনাকে প্রশ্ন করতে পারি? তিনি বললেন: «হ্যাঁ»। বর্ণনাকারী বলেন: তখন সে তাঁর হাঁটুর সাথে নিজের হাঁটু মিলিয়ে এবং তাঁর নিজের হাত তাঁর নিজের ঊরুর ওপর রেখে বসল এবং বলল: ইসলাম কী? তিনি বললেন: «ইসলাম হলো এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, এক আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল, আর নামাজ কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, রমজানের রোজা রাখা এবং বাইতুল্লাহর হজ করা»। সে বলল: ইমান কী? তিনি বললেন: «আল্লাহর ওপর, তাঁর ফেরেশতাগণের ওপর, জান্নাত ও জাহান্নামের ওপর, মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের ওপর এবং পূর্ণ তাকদিরের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা»। সে বলল: ইহসান কী? তিনি বললেন: «তুমি আল্লাহর জন্য এমনভাবে আমল করবে যেন তুমি তাঁকে দেখছ, আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও, তবে তিনি তোমাকে দেখছেন»। সে বলল: কিয়ামত কখন হবে? তিনি বললেন: «এ বিষয়ে যাকে প্রশ্ন করা হচ্ছে তিনি প্রশ্নকারীর চেয়ে অধিক অবগত নন»। সে বলল: এর আলামতগুলো কী কী? তিনি বললেন: «যখন নগ্নপদ, বস্ত্রহীন ও নিঃস্ব মেষপালকরা সুউচ্চ অট্টালিকা নির্মাণে প্রতিযোগিতা করবে এবং দাসী তার মনিবকে প্রসব করবে»। অতঃপর তিনি বললেন: «লোকটিকে আমার কাছে নিয়ে এসো»। তারা তাকে খুঁজল কিন্তু কিছুই দেখতে পেল না। এরপর একদিন বা তিনদিন অতিবাহিত হওয়ার পর তিনি বললেন: «হে খাত্তাবের পুত্র, তুমি কি জানো অমুক অমুক বিষয়ে প্রশ্নকারী ব্যক্তিটি কে ছিল?» তিনি বললেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসুল অধিক অবগত। তিনি বললেন: «তিনি ছিলেন জিবরীল আলাইহিস সালাম, তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন শেখাতে এসেছিলেন»। বর্ণনাকারী বলেন: জুহায়নাহ ⦗পৃষ্ঠা: ১৩৯⦘ বা মুযায়নাহ গোত্রের এক ব্যক্তি তাঁকে প্রশ্ন করল: হে আল্লাহর রাসুল, আমল কিসের ভিত্তিতে হয়? এমন বিষয়ে কি যা নির্ধারিত হয়ে গেছে বা অতিবাহিত হয়েছে, নাকি এমন বিষয়ে যা নতুন করে শুরু হবে? তিনি বললেন: «এমন বিষয়ে যা নির্ধারিত হয়ে গেছে বা অতিবাহিত হয়েছে»। তখন এক ব্যক্তি বা উপস্থিত লোকদের কেউ বলল: হে আল্লাহর রাসুল, তাহলে আমল কিসের জন্য? তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই জান্নাতবাসীদের জন্য জান্নাতের আমল সহজ করে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামবাসীদের জন্য জাহান্নামের আমল সহজ করে দেওয়া হয়»। আমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমাদ ইবনে আমর আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন, আবু কামিল ফুদাইল ইবনে হুসাইন আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন, আবু মাশার আল-বাররা আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন, আমি উসমান ইবনে গিয়াসকে বলতে শুনেছি, আবদুল্লাহ ইবনে বুরায়দাহ তাঁর সনদে অনুরূপ হাদিস বর্ণনা করেছেন। ইয়াহইয়া ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আল-হারিস এবং মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে মারওয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা বলেন: আহমাদ ইবনে আলী ইবনে সাঈদ আল-হিমসি আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন, উবায়দুল্লাহ ইবনে উমর আল-কাওয়ারীরি আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন, আবু মাশার আল-বাররা আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন, উবায়দুল্লাহ ইবনে আল-আইজার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে বুরায়দাহ থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামার থেকে তাঁর সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। খায়সামাহ ইবনে সুলাইমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে সাদ আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন (হ), এবং আবদুল্লাহ ইবনে ⦗পৃষ্ঠা: ১৪০⦘ ইব্রাহিম আল-মুকরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আবি বুকাইর আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে আবি বুকাইর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, জুহায়র ইবনে মুয়াবিয়া আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আতা থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে বুরায়দাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামার তাঁর কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন যে তিনি হজ করেছিলেন এবং আবদুল্লাহ ইবনে উমরের সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন, অতঃপর তিনি দীর্ঘ হাদিসটি উল্লেখ করেন। উসমান ইবনে সাঈদ আল-কুফি এটি জুহায়র ইবনে মুয়াবিয়া থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আর মাতার আল-ওয়াররাক এই হাদিসটি আবদুল্লাহ ইবনে বুরায়দাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, যাতে তিনি হাদিসের কিছু অংশ কমবেশি ও আগেপিছে করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - ইবনে মান্দাহ (পৃষ্ঠা: ১৪০)
‌‌10 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْقُوبَ إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ هَاشِمٍ، وَأَحْمَدُ بْنُ أَيُّوبَ بْنِ حَذْلَمٍ، قَالَا: ثَنَا أَبُو زُرْعَةَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَمْرِو بْنِ صَفْوَانَ النَّصْرِيُّ، ثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، ح، وَأَنْبَأَ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يُونُسَ، ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَهْدِيٍّ، ثَنَا ‌‌⦗ص: 141⦘ مُسَدَّدٌ، قَالَ: ثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ مَطَرٍ الْوَرَّاقِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمَرَ، قَالَ: لَمَّا تَكَلَّمَ مَعْبَدٌ الْجُهَنِيُّ بِمَا تَكَلَّمَ فِيهِ بِالْبَصْرَةِ مِنَ الْقَدَرِ حَجَجْتُ أَنَا وَحُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ فَلَمَّا قَضَيْنَا حَجَّنَا، قُلْتُ: لَوْ مِلْنَا إِلَى الْمَدِينَةِ فَلَقِيَنَا مَنْ بَقِيَ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلْنَاهُمْ عَمَّا جَاءَ بِهِ مَعْبَدٌ الْجُهَنِيُّ، فَذَهَبْنَا وَنَحْنُ نَؤُمُّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، وَأَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ، فَلَمَّا دَخَلْنَا إِذَا نَحْنُ بِابْنِ عُمَرَ قَاعِدٌ فَاكْتَنَفْنَاهُ فَقَدَّمَنِي حُمَيْدٌ لِلْمَنْطِقِ وَكُنْتُ أَجْرَأَ عَلَى الْمَنْطِقِ مِنْهُ، فَقُلْتُ: أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ، إِنَّ قَوْمًا نَشَئُوا قِبَلَنَا بِالْعِرَاقِ قَرَءُوا الْقُرْآنَ وَتَفَقَّهُوا فِي الْإِسْلَامِ يَقُولُونَ: لَا قَدَرَ، قَالَ: فَأَبْلِغْهُمْ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ بَرِيءٌ مِنْهُمْ وَأَنَّهُمْ مِنْهُ بَرَاءٌ وَاللَّهِ لَوْ أَنَّ لِأَحَدِهِمْ جِبَالُ الْأَرْضِ ذَهَبًا فَأَنْفَقَهُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ مَا قَبِلَهُ اللَّهُ مِنْهُ حَتَّى يُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ، أَخْبَرَنِي عُمَرُ رضي الله عنه: " أَنَّ آدَمَ وَمُوسَى عليهما السلام اخْتَصَمَا إِلَى اللَّهِ عز وجل فِي ذَلِكَ، فَقَالَ لَهُ مُوسَى: أَنْتَ آدَمُ الَّذِي أَشْقَيْتَ النَّاسَ وَأَخْرَجْتَهُمْ مِنَ الْجَنَّةِ، فَقَالَ لَهُ: أَنْتَ مُوسَى الَّذِي اصْطَفَاكَ اللَّهُ بِرِسَالَاتِهِ وَبِكَلَامِهِ وَأَنْزَلَ عَلَيْكَ التَّوْرَاةَ فَهَلْ وَجَدْتَهُ قَدَّرَهُ عَلَيَّ قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَنِي؟، قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: فَحَجَّ آدَمُ مُوسَى عَلَيْهِمَا السَّلَامُ
১০ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইয়াকুব ইসহাক ইবন ইবরাহিম ইবন হাশিম এবং আহমাদ ইবন আইয়ুব ইবন হাদলাম, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু জুরআ আবদুর রহমান ইবন আমর ইবন সাফওয়ান আন-নাসরি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুলায়মান ইবন হারব (হ)। এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন ইউনুস, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবন মাহদি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ১৪১⦘ মুসাদ্দাদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবন যায়দ, মাতার আল-ওয়াররাক থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবন বুরাইদাহ থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবন ইয়া’মার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন মা’বাদ আল-জুহানি বসরায় তকদির (ভাগ্য) সম্পর্কে সেই কথাগুলো বলল যা সে বলেছিল, তখন আমি এবং হুমাইদ ইবন আবদুর রহমান হজ করতে গেলাম। যখন আমরা আমাদের হজ সম্পন্ন করলাম, আমি বললাম: যদি আমরা মদিনার দিকে যেতাম এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অবশিষ্ট সাহাবীদের সাথে দেখা করতাম, তবে আমরা তাদেরকে মা’বাদ আল-জুহানি যা নিয়ে এসেছে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতাম। অতঃপর আমরা গেলাম এবং আমরা আবদুল্লাহ ইবন উমর ও আবু সাঈদ আল-খুদরিকে লক্ষ্য করে অগ্রসর হলাম। যখন আমরা প্রবেশ করলাম, তখন দেখলাম ইবন উমর বসে আছেন, আমরা তাঁকে দুই পাশ থেকে ঘিরে ধরলাম। কথা বলার জন্য হুমাইদ আমাকে সামনে এগিয়ে দিল, কারণ আমি তার চেয়ে কথা বলায় অধিক সাহসী ছিলাম। আমি বললাম: হে আবু আবদুর রহমান, ইরাকে আমাদের এলাকায় এমন এক দলের উদ্ভব হয়েছে যারা কুরআন পাঠ করেছে এবং দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করেছে, তারা বলে যে: কোনো তকদির নেই। তিনি (ইবন উমর) বললেন: তুমি তাদেরকে সংবাদ পৌঁছে দিও যে, আবদুল্লাহ ইবন উমর তাদের থেকে মুক্ত এবং তারাও তার থেকে মুক্ত। আল্লাহর কসম, যদি তাদের কারো নিকট পৃথিবীর পাহাড়সমূহের সমপরিমাণ স্বর্ণ থাকে এবং সে তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে, আল্লাহ তা তার থেকে কবুল করবেন না যতক্ষণ না সে তকদিরের প্রতি ঈমান আনবে। উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে: "আদম ও মুসা আলাইহিমাস সালাম এ বিষয়ে মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহর সমীপে তর্কে লিপ্ত হলেন। তখন মুসা তাঁকে বললেন: আপনিই কি সেই আদম যিনি মানুষকে কষ্টে ফেলেছেন এবং তাদের জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছেন? তখন আদম তাঁকে বললেন: আপনিই কি সেই মুসা যাঁকে আল্লাহ তাঁর রিসালাত ও তাঁর কালামের মাধ্যমে নির্বাচিত করেছেন এবং আপনার ওপর তাওরাত নাযিল করেছেন? তবে আপনি কি সেখানে পেয়েছেন যে, তিনি (আল্লাহ) আমাকে সৃষ্টি করার পূর্বেই আমার ওপর তা নির্ধারণ করে রেখেছিলেন? মুসা বললেন: হ্যাঁ। তিনি (রাসূল) বললেন: অতঃপর আদম মুসার ওপর তর্কে জয়ী হলেন।"
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - ইবনে মান্দাহ (পৃষ্ঠা: ১৪১)
قَالَ: وَحَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضي الله عنه قَالَ: كُنَّا جُلُوسًا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذْ دَخَلَ عَلَيْهِ رَجُلٌ هَيْئَتُهُ هَيْئَةُ مُسَافِرٍ وَثِيَابُهُ ثِيَابُ مُقِيمٍ أَوْ ثِيَابُهُ ثِيَابُ مُقِيمٍ وَهَيْئَتُهُ هَيْئَةُ مُسَافِرٍ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَدْنُو مِنْكَ؟، فَقَالَ: «نَعَمْ» ، قَالَ: فَأَقْبَلَ حَتَّى وَضَعَ يَدَيْهِ عَلَى رُكْبَتَيْهِ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا الْإِسْلَامُ؟، قَالَ: «تَسْلِمُ وَجْهَكَ، يَعْنِي لِلَّهِ عز وجل، وَتُقِيمُ الصَّلَاةَ، وَتُؤْتِي الزَّكَاةَ، وَتَصُومُ رَمَضَانَ» ، وَذَكَرَ عُرَى الْإِسْلَامِ، قَالَ: فَإِذَا فَعَلْتُ ذَلِكَ فَأَنَا مُسْلِمٌ؟، قَالَ: «نَعَمْ» ، قَالَ: صَدَقْتَ، قَالَ: قُلْنَا: انْظُرُوا كَيْفَ يَسْأَلُهُ وَانْظُرُوا كَيْفَ ‌‌⦗ص: 142⦘ يُصَدِّقُهُ، قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ فَمَا الْإِحْسَانُ؟، قَالَ: «أَنْ تَخْشَى اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ فَإِلَّا تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ» ، قَالَ: صَدَقْتَ، قَالَ: قُلْنَا: انْظُرُوا كَيْفَ يَسْأَلُهُ وَكَيْفَ يُصَدِّقُهُ، قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ فَمَا الْإِيمَانُ؟، قَالَ: «أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَرُسُلِهِ وَبِالْبَعْثِ بَعْدَ الْمَوْتِ وَبِالْقَدَرِ كُلِّهِ» ، قَالَ: صَدَقْتَ، قَالَ: قُلْنَا: انْظُرُوا كَيْفَ يَسْأَلُهُ وَانْظُرُوا كَيْفَ يُصَدِّقُهُ، قَالَ: وَحَدَّثَنِي شَهْرُ بْنُ حَوْشَبٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّهُ قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ فَمَتَى السَّاعَةُ؟، قَالَ: «مَا الْمَسْئُولُ عَنْهَا بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ» ، قَالَ: صَدَقْتَ صَدَقْتَ صَدَقْتَ ثُمَّ ذَهَبَ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «عَلَيَّ بِالرَّجُلِ» ، فَنَظَرَ فَلَمْ يُوجَدْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «جِبْرِيلُ جَاءَ يُعَلِّمُ النَّاسَ دِينَهُمْ» أَخْرَجَهُ مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ. عَنْ أَبِي كَامِلٍ الْجَحْدَرِيِّ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ نَصْرٍ، ثَنَا أَبُو كَامِلٍ. «وَقَالَ نَحْوَ حَدِيثِ كَهْمَسٍ وَأَلْفَاظُهَا مُتَقَارِبَةٌ وَهَذَا خِلَافُ حَدِيثِ كَهْمَسٍ وَاخْتَلَفَ أَصْحَابُ حَمَّادٍ عَلَيْهِ فِي اللَّفْظِ وَجَعَلَ آخِرَ الْحَدِيثِ عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ وَتَرْكُهُ أَوْلَى وَإِنْ كَانَ مَطَرٌ مَحِلُّهُ الصِّدْقُ»
তিনি বলেন: এবং ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বসা ছিলাম, এমতাবস্থায় তাঁর নিকট এক ব্যক্তি প্রবেশ করলেন যার অবয়ব ছিল মুসাফিরের মতো এবং পোশাক ছিল মুকিমের (স্থায়ী বাসিন্দা) মতো, অথবা তাঁর পোশাক ছিল মুকিমের মতো এবং অবয়ব ছিল মুসাফিরের মতো। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি কি আপনার নিকটবর্তী হতে পারি? তিনি বললেন: «হ্যাঁ», তিনি বলেন: অতঃপর তিনি অগ্রসর হলেন এবং তাঁর দুই হাত তাঁর দুই হাঁটুর উপর রাখলেন। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, ইসলাম কী? তিনি বললেন: «তুমি তোমার চেহারা সমর্পণ করবে, অর্থাৎ মহান আল্লাহর প্রতি, সালাত কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে এবং রমজানের রোজা রাখবে», এবং তিনি ইসলামের রুকনসমূহ উল্লেখ করলেন। তিনি বললেন: যদি আমি তা করি তবে কি আমি মুসলিম? তিনি বললেন: «হ্যাঁ», তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। তিনি বলেন: আমরা বললাম: দেখ, তিনি কীভাবে তাঁকে জিজ্ঞাসা করছেন এবং কীভাবে ⦗পৃষ্ঠা: ১৪২⦘ তাঁর সত্যয়ন করছেন। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, ইহসান কী? তিনি বললেন: «তুমি আল্লাহকে এমনভাবে ভয় করবে যেন তুমি তাঁকে দেখছ, আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও, তবে তিনি নিশ্চয়ই তোমাকে দেখছেন», তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। তিনি বলেন: আমরা বললাম: দেখ, তিনি কীভাবে তাঁকে জিজ্ঞাসা করছেন এবং কীভাবে তাঁর সত্যয়ন করছেন। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, ঈমান কী? তিনি বললেন: «তুমি আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর রাসূলগণের প্রতি, মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের প্রতি এবং ভাগ্যের ভালো-মন্দের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে», তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। তিনি বলেন: আমরা বললাম: দেখ, তিনি কীভাবে তাঁকে জিজ্ঞাসা করছেন এবং কীভাবে তাঁর সত্যয়ন করছেন। তিনি বলেন: এবং শহর ইবনে হাওশাব আবু হুরায়রা থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি জিজ্ঞাসা করেছিলেন: হে আল্লাহর রাসূল, কিয়ামত কখন হবে? তিনি বললেন: «এ বিষয়ে যাকে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে তিনি জিজ্ঞাসাকারীর চেয়ে বেশি জানেন না», তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন, আপনি সত্য বলেছেন, আপনি সত্য বলেছেন। অতঃপর তিনি চলে গেলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «ঐ লোকটিকে আমার কাছে নিয়ে এসো», অতঃপর খোঁজা হলো কিন্তু তাকে পাওয়া গেল না। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «ইনি জিবরীল, তিনি মানুষকে তাদের দ্বীন শেখাতে এসেছিলেন»। এটি মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ বর্ণনা করেছেন। আবু কামিল আল-জাহদারী থেকে, আমাদের কাছে মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে মুহাম্মাদ ইবনে নাসর বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে আবু কামিল বর্ণনা করেছেন। «তিনি কাহমাস বর্ণিত হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং এর শব্দাবলি কাছাকাছি। তবে এটি কাহমাসের হাদিসের পরিপন্থী এবং হাম্মাদের শাগরিদগণ তাঁর থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে শব্দে মতপার্থক্য করেছেন। তিনি হাদিসের শেষ অংশ শহর ইবনে হাওশাব থেকে বর্ণনা করেছেন, অথচ তা বর্জন করাই ছিল অধিক শ্রেয়, যদিও মাতার সত্যবাদিতার স্তরে রয়েছেন»।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - ইবনে মান্দাহ (পৃষ্ঠা: ১৪৩)
‌‌11 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ بْنِ يُوسُفَ، وَإِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ، قَالَا: ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي دَاوُدَ، ثَنَا يُونُسُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمُؤَدِّبُ، ثَنَا الْمُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمَرَ، قَالَ: كَانَ رَجُلٌ مِنْ جُهَيْنَةَ فِيهِ زَهْوٌ وَكَانَ يَتَوَثَّبُ عَلَى جِيرَانِهِ ثُمَّ إِنَّهُ قَرَأَ الْقُرْآنَ، وَفَرَضَ الْفَرَائِضَ، وَقَصَّ عَلَى النَّاسِ ثُمَّ إِنَّهُ صَارَ مِنْ أَمْرِهِ أَنَّهُ زَعَمَ أَنَّ الْعَمَلَ أُنُفٌ مَنْ شَاءَ عَمِلَ خَيْرًا وَمَنْ شَاءَ عَمِلَ شَرًّا، قَالَ: فَلَقِيتُ أَبَا الْأَسْوَدِ الدِّيلِيَّ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ: كَذَبَ مَا رَأَيْنَا أَحَدًا مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَّا يُثْبِتُ الْقَدَرَ، ثُمَّ إِنِّي حَجَجْتُ أَنَا وَحُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحِمْيَرِيُّ فَلَمَّا قَضَيْنَا حَجَّنَا، قَالَ: قُلْنَا: نَأْتِي الْمَدِينَةَ فَنَلْقَى أَصْحَابَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَنَسْأَلُهُمْ عَنِ الْقَدَرِ، قَالَ: فَلَمَّا أَتَيْتُ الْمَدِينَةَ لَقِينَا إِنْسَانًا مِنَ الْأَنْصَارِ فَلَمْ نَسْأَلْهُ، قُلْنَا: حَتَّى نَلْقَى ابْنَ عُمَرَ وَأَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ، قَالَ: فَلَقِيَنَا ابْنَ عُمَرَ كَفُّهُ عَنْ كَفِّهِ، قَالَ: فَقُمْتُ عَنْ يَمِينِهِ وَقَامَ عَنْ شِمَالِهِ، قَالَ: قُلْتُ: تَسْأَلُهُ أَمْ أَسْأَلُهُ؟، قَالَ: لَا بَلْ تَسْأَلُهُ، لِأَنِّي كُنْتُ أبْسَطَ لِسَانًا مِنْهُ، قَالَ: قُلْنَا: يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ إِنَّ نَاسًا عِنْدَنَا بِالْعِرَاقِ قَدْ قَرَءُوا الْقُرْآنَ، وَفَرَضُوا الْفَرَائِضَ، وَقَصُّوا عَلَى النَّاسِ يَزْعُمُونَ أَنَّ الْعَمَلَ أُنُفٌ مَنْ شَاءَ عَمِلَ خَيْرًا وَمَنْ شَاءَ عَمِلَ شَرًّا، قَالَ: فَإِذَا لَقِيتُمْ أُولَئِكَ فَقُولُوا: يَقُولُ ابْنُ عُمَرَ: هُوَ مِنْكُمْ بَرِيءٌ وَأَنْتُمْ مِنْهُ بَرَاءٌ ابْنُ عُمَرَ مِنْكُمْ بَرِيءٌ وَأَنْتُمْ مِنْهُ بَرَاءٌ، فَوَاللَّهِ لَوْ جَاءَ أَحَدُهُمْ مِنَ الْعَمَلِ مِثْلَ أُحُدٍ مَا تُقُبِّلَ مِنْهُ حَتَّى يُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ ‌‌⦗ص: 144⦘، وَلَقَدْ حَدَّثَنِي عُمَرُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " أَنَّ مُوسَىَ لَقِيَ آدَمَ عليهما السلام، فَقَالَ: يَا آدَمُ أَنْتَ خَلَقَكَ اللَّهُ بِيَدِهِ، وَأَسْجَدَ لَكَ الْمَلَائِكَةَ، وَأَسْكَنَكَ الْجَنَّةَ فَوَاللَّهِ لَوْلَا مَا فَعَلْتَ مَا دَخَلَ أَحَدٌ مِنْ ذُرِّيَّتِكَ النَّارَ، قَالَ: فَقَالَ: يَا مُوسَى أَنْتَ الَّذِي اصْطَفَاكَ اللَّهُ بِرِسَالَاتِهِ وَبِكَلَامِهِ تَلُومُنِي فِيمَا قَدْ كَانَ كُتِبَ عَلَيَّ قَبْلَ أَنْ أُخْلَقَ، فَاحْتَجَّا إِلَى اللَّهِ عز وجل فَحَجَّ آدَمُ مُوسَى عليهما السلام، فَاحْتَجَّا إِلَى اللَّهِ عز وجل فَحَجَّ آدَمُ مُوسَى عَلَيْهِمَا السَّلَامُ
১১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব বিন ইউসুফ এবং ইসমাঈল বিন মুহাম্মদ বিন ইসমাঈল, তাঁরা বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ বিন উবাইদুল্লাহ বিন আবি দাউদ, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইউনুস বিন মুহাম্মদ আল-মুয়াদ্দিব, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুতামির বিন সুলাইমান, তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন ইয়ামার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: জুহাইনা গোত্রের এক ব্যক্তি ছিল যার মধ্যে অহংকার ছিল এবং সে তার প্রতিবেশীদের ওপর চড়াও হতো। অতঃপর সে কুরআন অধ্যয়ন করল, ফরয বিধানসমূহ (উত্তরাধিকার আইন) শিখল এবং মানুষের কাছে নসিহত করতে লাগল। এরপর তার অবস্থা এমন হলো যে, সে দাবি করতে লাগল যে কর্ম বা আমল হলো পূর্বনির্ধারিত নয় বরং নতুনভাবে সংঘটিত; যে চায় ভালো কাজ করে আর যে চায় মন্দ কাজ করে। তিনি বলেন: তখন আমি আবুল আসওয়াদ আদ-দিলির সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং তাঁর কাছে বিষয়টি উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন: সে মিথ্যা বলেছে। আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীদের মধ্যে এমন কাউকে দেখিনি যিনি তাকদিরে বিশ্বাস করতেন না। এরপর আমি এবং হুমাইদ বিন আব্দুর রহমান আল-হিময়ারি হজ্জ পালন করলাম। যখন আমরা হজ্জ শেষ করলাম, তখন আমরা বললাম: আমরা মদীনায় যাব এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীদের সাথে সাক্ষাৎ করে তাঁদেরকে তাকদির সম্পর্কে জিজ্ঞেস করব। তিনি বলেন: যখন আমরা মদীনায় আসলাম, তখন আমরা একজন আনসারী ব্যক্তির দেখা পেলাম কিন্তু তাঁকে কিছু জিজ্ঞেস করলাম না। আমরা বললাম: যতক্ষণ না আমরা ইবনে উমর এবং আবু সাঈদ আল-খুদরীর দেখা পাই। তিনি বলেন: এরপর আমরা ইবনে উমরের দেখা পেলাম, তিনি তাঁর হাতের ওপর হাত রেখেছিলেন। তিনি বলেন: আমি তাঁর ডান পাশে দাঁড়ালাম এবং সে (হুমাইদ) তাঁর বাম পাশে দাঁড়াল। তিনি বলেন: আমি (হুমাইদকে) বললাম: আপনি কি তাঁকে প্রশ্ন করবেন নাকি আমি করব? সে বলল: না, বরং আপনিই প্রশ্ন করুন। কারণ আমি তাঁর চেয়ে অধিক বাকপটু ছিলাম। তিনি বলেন: আমরা বললাম: হে আবু আব্দুর রহমান! আমাদের ইরাকে এমন কিছু লোক আছে যারা কুরআন পাঠ করেছে, ফরয বিধানসমূহ শিখেছে এবং মানুষের কাছে নসিহত করে; তারা দাবি করে যে আমল হলো পূর্বনির্ধারিত নয় বরং নতুনভাবে সংঘটিত; যে চায় ভালো কাজ করে আর যে চায় মন্দ কাজ করে। তিনি বললেন: তোমরা যখন তাদের সাথে সাক্ষাৎ করবে তখন বলবে: ইবনে উমর বলছে যে, সে তোমাদের থেকে মুক্ত এবং তোমরাও তার থেকে মুক্ত। ইবনে উমর তোমাদের থেকে মুক্ত এবং তোমরাও তার থেকে মুক্ত। আল্লাহর কসম! যদি তাদের কেউ উহুদ পাহাড় পরিমাণ আমল নিয়েও আসে, তবে তা তার থেকে কবুল করা হবে না যতক্ষণ না সে তাকদিরে বিশ্বাস স্থাপন করবে। ⦗পৃষ্ঠা: ১৪৪⦘ আর উমর আমার কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন: "মুসা আলাইহিস সালাম আদম আলাইহিস সালামের সাথে সাক্ষাৎ করলেন এবং বললেন: হে আদম! আল্লাহ আপনাকে আল্লাহর হাতে সৃষ্টি করেছেন, ফেরেশতাদের দিয়ে আপনাকে সেজদা করিয়েছেন এবং আপনাকে জান্নাতে বসবাস করতে দিয়েছেন; আল্লাহর কসম! আপনি যা করেছেন (নিষিদ্ধ ফল খাওয়া) তা যদি না করতেন তবে আপনার সন্তানদের কেউ জাহান্নামে প্রবেশ করত না। তিনি (আদম) বললেন: হে মুসা! আপনি সেই ব্যক্তি যাকে আল্লাহ তাঁর রিসালাত এবং তাঁর বাণীর মাধ্যমে মনোনীত করেছেন; আপনি কি আমাকে এমন একটি বিষয়ে তিরস্কার করছেন যা আমার সৃষ্টির পূর্বেই আমার জন্য লিখে রাখা হয়েছিল? অতঃপর তাঁরা আল্লাহর কাছে যুক্তি পেশ করলেন এবং আদম আলাইহিস সালাম মুসা আলাইহিস সালামের ওপর তর্কে জয়ী হলেন। তাঁরা আল্লাহর কাছে যুক্তি পেশ করলেন এবং আদম আলাইহিস সালাম মুসা আলাইহিস সালামের ওপর তর্কে জয়ী হলেন।"
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - ইবনে মান্দাহ (পৃষ্ঠা: ১৪৪)
لَقَدْ حَدَّثَنِي عُمَرُ: أَنَّ رَجُلًا فِي آخِرِ عُمُرِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَاءَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَدْنُو مِنْكَ؟، قَالَ: «نَعَمْ» ، قَالَ: فَجَاءَ حَتَّى وَضَعَ يَدَهُ عَلَى رُكْبَتِهِ، فَقَالَ: مَا الْإِسْلَامُ؟، قَالَ: «تُقِيمُ الصَّلَاةَ، وَتُؤْتِي الزَّكَاةَ، وَتَصُومُ رَمَضَانَ، وَتَحُجُّ الْبَيْتَ» ، قَالَ: فَإِذَا فَعَلْتُ ذَلِكَ فَقَدْ أَسْلَمْتُ؟، قَالَ: «نَعَمْ» ، قَالَ: صَدَقْتَ، قَالَ: فَجَعَلَ النَّاسُ يَتَعَجَّبُونَ مِنْهُ وَيَقُولُونَ: انْظُرُوا يَسْأَلُهُ ثُمَّ يُصَدِّقُهُ، قَالَ: فَمَا الْإِحْسَانُ؟، قَالَ: «أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ فَإِنَّكَ إِنْ لَا تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ» ، قَالَ: فَإِذَا فَعَلْتُ ذَلِكَ فَقَدْ أَحْسَنْتُ؟، قَالَ: «نَعَمْ» ، قَالَ: صَدَقْتَ، قَالَ: فَجَعَلَ النَّاسُ يَتَعَجَّبُونَ وَيَقُولُونَ: انْظُرُوا إِلَيْهِ يَسْأَلُهُ وَيُصَدِّقُهُ، قَالَ: فَمَا الْإِيمَانُ؟، قَالَ: «أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالنَّبِيِّينَ وَالْكِتَابِ وَالْجَنَّةِ وَالنَّارِ وَالْبَعْثِ بَعْدَ الْمَوْتِ وَالْقَدَرِ كُلِّهِ» ، قَالَ: فَإِذَا فَعَلْتُ ذَلِكَ فَقَدْ آمَنْتُ؟، قَالَ: «نَعَمْ» ، قَالَ: صَدَقْتَ، قَالَ: فَجَعَلَ الْقَوْمُ يَتَعَجَّبُونَ يَقُولُونَ: انْظُرُوا كَيْفَ يَسْأَلُهُ ثُمَّ يُصَدِّقُهُ، قَالَ: فَمَتَى السَّاعَةُ؟، قَالَ: «مَا الْمَسْئُولَ أَعْلَمُ بِهَا مِنَ السَّائِلِ» ، قَالَ: فَمَا أَعْلَامُهَا؟، قَالَ: «أَنْ تَلِدَ الْأَمَةُ رَبَّتَهَا، وَأَنْ تَرَى الْحُفَاةَ الْعُرَاةَ الْعَالَةَ الصُّمَّ الْبُكْمَ مُلُوكًا يَتَطَاوَلُونَ فِي الْبُنْيَانِ» ، ثُمَّ انْصَرَفَ فَلَقِيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عُمَرَ بَعْدَ ذَلِكَ، فَقَالَ: «أَتَدْرِي مَنِ الرَّجُلُ الَّذِي أَتَاكُمْ؟» ، قَالَ: «فَإِنَّهُ جِبْرِيلُ عليه السلام أَتَاكُمْ يُعَلِّمُكُمْ دِينَكُمْ»

উমর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনের শেষ ভাগে এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলেন। অতঃপর তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি আপনার নিকটবর্তী হতে পারি? তিনি বললেন: «হ্যাঁ»। বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর তিনি কাছে আসলেন এমনকি তিনি তাঁর হাত তাঁর হাঁটুর ওপর রাখলেন। এরপর তিনি বললেন: ইসলাম কী? তিনি বললেন: «তুমি সালাত কায়েম করবে, জাকাত প্রদান করবে, রমজানের সিয়াম পালন করবে এবং বায়তুল্লাহর হজ করবে»। তিনি বললেন: আমি যখন তা করব, তখন কি আমি মুসলিম হব? তিনি বললেন: «হ্যাঁ»। তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। বর্ণনাকারী বলেন: লোকেরা তাঁর বিষয়ে বিস্মিত হতে লাগল এবং বলতে লাগল: তোমরা তাকে দেখো, সে তাঁকে প্রশ্ন করছে আবার তাঁর সত্যায়ন করছে। তিনি বললেন: ইহসান কী? তিনি বললেন: «তুমি আল্লাহর ইবাদত এমনভাবে করবে যেন তুমি তাঁকে দেখতে পাচ্ছ, আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও, তবে নিশ্চয়ই তিনি তোমাকে দেখছেন»। তিনি বললেন: আমি যখন তা করব, তখন কি আমি ইহসানকারী হব? তিনি বললেন: «হ্যাঁ»। তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। বর্ণনাকারী বলেন: লোকেরা বিস্মিত হতে লাগল এবং বলতে লাগল: তোমরা তার দিকে তাকাও, সে তাঁকে প্রশ্ন করছে এবং তাঁর সত্যায়ন করছে। তিনি বললেন: ঈমান কী? তিনি বললেন: «তুমি বিশ্বাস স্থাপন করবে আল্লাহর প্রতি, পরকালের প্রতি, ফেরেশতাগণের প্রতি, নবীগণের প্রতি, কিতাবের প্রতি, জান্নাত ও জাহান্নামের প্রতি, মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের প্রতি এবং ভাগ্যের সবটুকুর প্রতি»। তিনি বললেন: আমি যখন তা করব, তখন কি আমি ঈমানদার হব? তিনি বললেন: «হ্যাঁ»। তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। বর্ণনাকারী বলেন: কওম বিস্মিত হতে লাগল এবং বলতে লাগল: দেখো সে কীভাবে তাঁকে প্রশ্ন করছে আবার তাঁর সত্যায়ন করছে। তিনি বললেন: কিয়ামত কখন হবে? তিনি বললেন: «যাকে প্রশ্ন করা হচ্ছে তিনি এ বিষয়ে প্রশ্নকারীর চেয়ে অধিক অবগত নন»। তিনি বললেন: এর আলামতগুলো কী? তিনি বললেন: «দাসী তার মালিককে জন্ম দেবে, এবং তুমি দেখতে পাবে যে বস্ত্রহীন, নগ্নপদ, নিঃস্ব, বধির ও বোবা মেষপালকরা সুউচ্চ অট্টালিকা নির্মাণে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করছে»। অতঃপর লোকটি চলে গেলেন। এর কিছুকাল পরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমরের সাথে সাক্ষাৎ করে বললেন: «তুমি কি জানো সেই ব্যক্তিটি কে ছিল যে তোমাদের কাছে এসেছিল?» তিনি বললেন: «তিনি ছিলেন জিবরীল আলাইহিস সালাম, তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন শিক্ষা দেওয়ার জন্য তোমাদের কাছে এসেছিলেন»।

(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - ইবনে মান্দাহ (পৃষ্ঠা: ১৪৫)
‌‌12 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعْدٍ الْبَزَّارُ النَّيْسَابُورِيُّ، ثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ بَشَّارٍ، مِنْ أَصْلِ كِتَابِهِ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي يَعْقُوبَ الْكِرْمَانِيُّ، ثَنَا الْمُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمَرَ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: حَدَّثَنِي عُمَرُ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " أَنَّ مُوسَىَ لَقِيَ آدَمَ عليهما السلام، فَقَالَ مُوسَى: يَا آدَمُ أَنْتَ الَّذِي خَلَقَكَ اللَّهُ بِيَدِهِ وَأَسْجَدَ لَكَ مَلَائِكَتَهُ، وَأَسْكَنَكَ الْجَنَّةَ، فَوَاللَّهِ لَوْلَا مَا فَعَلْتَ مَا دَخَلَ أَحَدٌ مِنْ ذُرِّيَّتِكَ النَّارَ، قَالَ: فَقَالَ آدَمُ: يَا مُوسَى أَنْتَ الَّذِي اصْطَفَاكَ اللَّهُ بِرِسَالَاتِهِ وَبِكَلِمَتِهِ تَلُومُنِي فِيمَا كُتِبَ عَلَيَّ قَبْلَ أَنْ أُخْلَقَ، احْتَجَّا إِلَى اللَّهِ عز وجل فَحَجَّ آدَمُ مُوسَى عليهما السلام "
১২ - আব্দুল্লাহ বিন সা'দ আল-বাযযার আন-নাইসাবুরী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আলী বিন আল-হুসাইন বিন বাশার তাঁর মূল কিতাব থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন আবি ইয়াকুব আল-কিরমানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-মু'তামির বিন সুলাইমান তাঁর পিতা থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি ইয়াহইয়া বিন ইয়া'মার থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে, তিনি বলেন: উমর (রা.) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন: "মূসা (আ.) আদম (আ.)-এর সাথে সাক্ষাৎ করলেন। তখন মূসা বললেন: হে আদম! আপনিই সেই ব্যক্তি যাকে আল্লাহ তাঁর হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, আপনার প্রতি তাঁর ফেরেশতাদের সিজদাবনত করেছেন এবং আপনাকে জান্নাতে বসবাস করতে দিয়েছেন। আল্লাহর কসম! আপনি যা করেছেন তা যদি না করতেন, তবে আপনার বংশধরদের কেউই জাহান্নামে প্রবেশ করত না। তিনি (নবী ﷺ) বলেন: তখন আদম বললেন: হে মূসা! আপনি সেই ব্যক্তি যাকে আল্লাহ তাঁর রিসালাত ও বাণীর মাধ্যমে মনোনীত করেছেন; আপনি কি আমাকে এমন একটি বিষয়ে নিন্দা করছেন যা আমার সৃষ্টির পূর্বেই আমার জন্য লিখে রাখা হয়েছিল? তাঁরা মহান আল্লাহর সমীপে বিতর্ক করলেন এবং আদম (আ.) মূসা (আ.)-এর উপর বিতর্কে বিজয়ী হলেন।"
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - ইবনে মান্দাহ (পৃষ্ঠা: ১৪৫)
وَحَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ أَنَّ رَجُلًا فِي آخِرِ عُمْرِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَاءَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَدْنُو مِنْكَ؟، قَالَ: «نَعَمْ» ، قَالَ: فَجَاءَ حَتَّى وَضَعَ يَدَهُ عَلَى رُكْبَتَيْهِ، فَقَالَ: مَا الْإِسْلَامُ؟، فَقَالَ: «تُقِيمُ الصَّلَاةَ، وَتُؤْتِي الزَّكَاةَ، وَتَصُومُ رَمَضَانَ، وَتَحُجُّ الْبَيْتَ» ، قَالَ: فَإِذَا فَعَلْتُ ذَلِكَ فَقَدْ أَسْلَمْتُ؟، قَالَ: «نَعَمْ» ، قَالَ: صَدَقْتَ، قَالَ: فَجَعَلَ النَّاسُ يَتَعَجَّبُونَ مِنْهُ يَقُولُونَ: انْظُرُوا يَسْأَلُهُ ثُمَّ يُصَدِّقُهُ، قَالَ: مَا الْإِحْسَانُ؟، قَالَ: «أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ فَإِنَّكَ إِنْ لَا تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ» ، قَالَ: فَإِذَا فَعَلْتُ ذَلِكَ فَقَدْ أَحْسَنْتُ؟، قَالَ: «نَعَمْ» ، قَالَ: صَدَقْتَ، قَالَ: فَجَعَلَ النَّاسُ يَتَعَجَّبُونَ مِنْهُ يَقُولُونَ: انْظُرُوا إِلَيْهِ يَسْأَلُهُ ثُمَّ يُصَدِّقُهُ، قَالَ: فَمَا الْإِيمَانُ؟، قَالَ: «أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالنَّبِيِّينَ وَالْكِتَابِ وَالْجَنَّةِ وَالنَّارِ وَالْبَعْثِ بَعْدَ الْمَوْتِ وَالْقَدَرِ كُلِّهِ» ، قَالَ: فَإِذَا فَعَلْتُ فَقَدْ آمَنْتُ؟، قَالَ: «نَعَمْ» ، قَالَ: فَجَعَلَ النَّاسُ يَتَعَجَّبُونَ مِنْهُ كَيْفَ يَسْأَلُهُ ثُمَّ يُصَدِّقُهُ، قَالَ: فَمَتَى السَّاعَةُ؟، قَالَ: «مَا الْمَسْئُولُ بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ» ، قَالَ: فَمَا أَعْلَامُهَا؟، قَالَ: «تَلِدُ الْأَمَةُ رَبَّهَا، وَأَنْ تَرَى الْحُفَاةَ الْعُرَاةَ الْعَالَةَ مُلُوكًا يَتَطَاوَلُونَ فِي الْبُنْيَانِ» ، ثُمَّ انْصَرَفَ فَلَقِيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عُمَرَ بَعْدَ ذَلِكَ، فَقَالَ: «تَدْرِي مَنِ ‌‌⦗ص: 146⦘ الرَّجُلُ الَّذِي آتَاكُمْ؟» ، قَالَ: «فَإِنَّهُ جِبْرِيلُ أَتَاكُمْ لَيُعَلِّمَكُمْ دِينَكُمْ»
উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনের শেষভাগে এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি কি আপনার নিকটবর্তী হতে পারি? তিনি বললেন: «হ্যাঁ»। তিনি বলেন: অতঃপর তিনি আসলেন এবং তাঁর নিজের হাত নিজের দুই হাঁটুর ওপর রাখলেন। এরপর তিনি বললেন: ইসলাম কী? তিনি বললেন: «তুমি সালাত কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে, রমজানের রোজা রাখবে এবং বায়তুল্লাহর হজ করবে»। তিনি বললেন: আমি যদি তা করি, তবে কি আমি ইসলাম গ্রহণকারী হব? তিনি বললেন: «হ্যাঁ»। তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। তিনি বলেন: লোকেরা তাঁর এই আচরণে আশ্চর্য হতে লাগল এবং বলতে লাগল: তোমরা তাকিয়ে দেখ, সে তাঁকে প্রশ্ন করছে আবার নিজেই তাঁর সত্যায়ন করছে। তিনি বললেন: ইহসান কী? তিনি বললেন: «তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে যেন তুমি তাঁকে দেখছ; আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও, তবে নিশ্চয়ই তিনি তোমাকে দেখছেন»। তিনি বললেন: আমি যদি তা করি, তবে কি আমি ইহসানকারী হব? তিনি বললেন: «হ্যাঁ»। তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। তিনি বলেন: তখন লোকেরা তাঁর ওপর আশ্চর্য হতে লাগল এবং বলতে লাগল: তাঁর দিকে তাকিয়ে দেখ, সে তাঁকে প্রশ্ন করছে আবার নিজেই তাঁর সত্যায়ন করছে। তিনি বললেন: তবে ঈমান কী? তিনি বললেন: «তুমি বিশ্বাস স্থাপন করবে আল্লাহর ওপর, পরকালের ওপর, ফেরেশতাগণের ওপর, নবীগণের ওপর, কিতাবসমূহের ওপর, জান্নাত ও জাহান্নামের ওপর, মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের ওপর এবং তাকদীরের সবটুকুর ওপর»। তিনি বললেন: আমি যদি তা করি, তবে কি আমি ঈমানদার হব? তিনি বললেন: «হ্যাঁ»। তিনি বলেন: লোকেরা তাঁর ওপর আশ্চর্য হতে লাগল যে, কীভাবে সে তাঁকে প্রশ্ন করছে এবং নিজেই তাঁর সত্যায়ন করছে। তিনি বললেন: তবে কিয়ামত কখন হবে? তিনি বললেন: «যাকে প্রশ্ন করা হচ্ছে তিনি প্রশ্নকারীর চেয়ে অধিক জ্ঞাত নন»। তিনি বললেন: তবে এর আলামতগুলো কী কী? তিনি বললেন: «দাসী তার মালিককে জন্ম দেবে এবং তুমি দেখবে যারা নগ্নপদ, বস্ত্রহীন ও নিঃস্ব তারা অট্টালিকা নির্মাণে প্রতিযোগিতা করছে»। অতঃপর তিনি চলে গেলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমরের সাথে সাক্ষাৎ করলেন এবং বললেন: «তুমি কি জান সেই ‌‌⦗পৃষ্ঠা: ১৪৬⦘ ব্যক্তিটি কে ছিলেন যিনি তোমাদের নিকট এসেছিলেন?» তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই তিনি ছিলেন জিবরীল; তিনি তোমাদের দ্বীন শেখানোর জন্য তোমাদের নিকট এসেছিলেন»।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - ইবনে মান্দাহ (পৃষ্ঠা: ১৪৬)
‌‌13 - أَنْبَأَ إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ بْنِ يُوسُفَ، قَالَا: ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي دَاوُدَ، ثَنَا يُونُسُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمُؤَدِّبُ، ثَنَا الْمُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمَرَ، قَالَ: قُلْتُ لِابْنِ عُمَرَ: يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ إِنَّ قَوْمًا يَزْعُمُونَ أَنْ لَيْسَ قَدَرٌ، قَالَ: هَلْ عِنْدَنَا مِنْهُمْ أَحَدٌ؟، قُلْتُ: لَا، قَالَ: فَأَبْلِغْهُمْ عَنِّي إِذَا لَقِيتَهُمْ أَنَّ ابْنَ عُمَرَ بَرِيءٌ إِلَى اللَّهِ عز وجل مِنْكُمْ وَأَنْتُمْ مِنْهُ بَرَاءٌ، سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رضي الله عنه يَقُولُ: بَيْنَا نَحْنُ جُلُوسٌ عَنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي أُنَاسٍ إِذْ جَاءَ رَجُلٌ لَيْسَ عَلَيْهِ سَحْنَاءُ السَّفَرِ، وَلَيْسَ مِنْ أَهْلِ الْبَلَدِ فَتَخَطَّى حَتَّى وَرَّكَ بَيْنَ يَدَيْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَمَا يَجْلِسُ الرَّجُلُ فِي الصَّلَاةِ ثُمَّ وَضَعَ يَدَهُ عَلَى رُكْبَتَيْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ مَا الْإِسْلَامُ؟، قَالَ: «الْإِسْلَامُ أَنْ تَشْهَدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَأَنْ تُقِيمَ الصَّلَاةَ، وَتُؤْتِيَ الزَّكَاةَ، وَتَحُجَّ وَتَعْتَمِرَ، وَتَغْتَسِلَ مِنَ الْجَنَابَةِ، وَتُتِمَّ الْوُضُوءَ، وَتَصُومَ رَمَضَانَ» ، قَالَ: فَإِنْ فَعَلْتُ هَذَا فَأَنَا مُسْلِمٌ؟، قَالَ: «نَعَمْ» قَالَ: صَدَقْتَ، قَالَ: يَا مُحَمَّدُ مَا الْإِيمَانُ؟ قَالَ: «الْإِيمَانُ أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ، وَمَلَائِكَتِهِ، وَكُتُبِهِ، وَرُسُلِهِ، وَتُؤْمِنَ بِالْجَنَّةِ، وَالنَّارِ، وَالْمِيزَانِ، وَتُؤْمِنَ بِالْبَعْثِ بَعْدَ الْمَوْتِ، وَتُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ» ، قَالَ: فَإِذَا فَعَلْتُ هَذَا فَأَنَا مُؤْمِنٌ؟ قَالَ: «نَعَمْ» ، قَالَ: صَدَقْتَ، قَالَ: يَا مُحَمَّدُ مَا الْإِحْسَانُ؟، قَالَ: «أَنْ تَعْمَلَ لِلَّهِ كَأَنَّكَ تَرَاهُ، فَإِنَّكَ إِنْ لَا تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ» ، قَالَ: فَإِذَا فَعَلْتُ هَذَا فَأَنَا مُحْسِنٌ؟ قَالَ: «نَعَمْ» ، قَالَ: صَدَقْتَ، قَالَ: فَمَتَى السَّاعَةُ؟ قَالَ: «سُبْحَانَ اللَّهِ، مَا الْمَسْئُولُ بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ» ، قَالَ: «إِنْ شِئْتَ أَنْبَأْتُكَ بِأَشْرَاطِهَا» ، قَالَ: أَجَلْ، قَالَ: «إِذَا رَأَيْتَ الْعَالَةَ الْحُفَاةَ الْعُرَاةَ يَتَطَاوَلُونَ فِي الْبِنَاءِ وَكَانُوا مُلُوكًا» ، قَالَ: مَا الْعَالَةُ الْحُفَاةُ الْعُرَاةُ؟، قَالَ: «الْعُرَيْبُ، وَإِذَا رَأَيْتَ الْأَمَةَ تَلِدُ رَبَّتَهَا فَذَلِكَ مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ» ‌‌⦗ص: 147⦘، قَالَ: صَدَقْتَ، ثُمَّ نَهَضَ فَوَلَّى، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «عَلَيَّ بِالرَّجُلِ» ، فَطَلَبْنَاهُ فَلَمْ نَقْدِرْ عَلَيْهِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «هَلْ تَدْرُونَ مَنْ هَذَا؟ هَذَا جِبْرِيلُ عليه السلام أَتَاكُمْ يُعَلِّمُكُمْ دِينَكُمْ، فَخُذُوا عَنْهُ، فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا شُبِّهَ عَلَيَّ مُنْذُ أَتَانِي قَبْلَ مَرَّتِي هَذِهِ، وَمَا عَرَفْتُهُ حَتَّى وَلَّى» . «هَكَذَا حَدَّثَ بِهِ يُونُسُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمُؤَدِّبُ، عَنِ الْمُعْتَمِرِ بِلَفْظَيْنِ مُخْتَلِفَيْنِ وَفِي كُلِّ وَاحِدٍ مِنَ الْخَبَرَيْنِ أَلْفَاظٌ لَيْسَتْ فِي الْآخَرِ مِنَ الزِّيَادَاتِ، وَعَلَى هَذَا رَوَى عَنْهُ حَجَّاجٌ الشَّاعِرُ كَمَا رَوَاهُ ابْنُ الْمُنَادِي. فَأَمَّا الْخَبَرُ الْأَوَّلُ فَوَافَقَهُ مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي يَعْقُوبَ الْكِرْمَانِيُّ وَهُوَ أَحَدُ الثِّقَاتِ، مِمَّنْ رَوَى عَنْهُ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْبُخَارِيُّ فِي الْجَامِعِ، وَاعْتَمَدَهُ وَوَثَّقَهُ. وَأَمَّا الْخَبَرُ الثَّانِي فَرَوَاهُ يُوسُفُ بْنُ وَاضِحٍ الْهَاشِمِيُّ الْبَصْرِيُّ وَغَيْرُهُ، عَنِ الْمُعْتَمِرِ بْنِ سُلَيْمَانَ مِنْ نَحْوِ رِوَايَةِ يُونُسَ بْنِ مُحَمَّدٍ وَذَكَرَ فِيهِ الزِّيَادَاتِ الَّتِي ذَكَرَهَا يُونُسُ فِي الْخَبَرِ الْأَخِيرِ»
‌‌১৩ - ইসমাঈল ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল এবং মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব ইবনে ইউসুফ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: মুহাম্মদ ইবনে উবায়দুল্লাহ ইবনে আবি দাউদ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, ইউনুস ইবনে মুহাম্মদ আল-মুআদ্দিব আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, মুতামির ইবনে সুলাইমান তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামার থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে উমরকে বললাম: হে আবু আবদুর রহমান! নিশ্চয়ই একদল লোক ধারণা করে যে, তাকদীর বলতে কিছু নেই। তিনি বললেন: আমাদের নিকট কি তাদের কেউ আছে? আমি বললাম: না। তিনি বললেন: তবে যখন তাদের সাথে তোমার সাক্ষাৎ হবে তখন আমার পক্ষ থেকে তাদের জানিয়ে দিও যে, ইবনে উমর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার নিকট তাদের থেকে মুক্ত এবং তারাও তাঁর থেকে মুক্ত। আমি উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট কিছু মানুষের মাঝে বসে ছিলাম, এমন সময় এক ব্যক্তি আসলেন যার ওপর সফরের কোনো চিহ্ন ছিল না এবং তিনি এই এলাকার অধিবাসীও ছিলেন না। তিনি অগ্রসর হলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে এমনভাবে হাঁটু গেঁড়ে বসলেন যেভাবে মানুষ নামাজে বসে। এরপর তিনি তাঁর হাত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুই হাঁটুর ওপর রাখলেন। এরপর তিনি বললেন: হে মুহাম্মদ! ইসলাম কী? তিনি বললেন: «ইসলাম হলো তুমি এই সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল; আর তুমি সালাত কায়েম করবে, জাকাত প্রদান করবে, হজ ও উমরাহ করবে, জানাবাত থেকে গোসল করবে, পূর্ণরূপে ওজু করবে এবং রমজানের রোজা রাখবে।» তিনি বললেন: আমি যদি এটি করি তবে কি আমি মুসলিম হব? তিনি বললেন: «হ্যাঁ।» তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। তিনি বললেন: হে মুহাম্মদ! ঈমান কী? তিনি বললেন: «ঈমান হলো তুমি বিশ্বাস স্থাপন করবে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, তাঁর রাসূলগণের প্রতি; এবং তুমি বিশ্বাস রাখবে জান্নাত, জাহান্নাম ও মিজানের (পাল্লা) প্রতি; আরও বিশ্বাস রাখবে মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের প্রতি এবং তাকদীরের ভালো ও মন্দের প্রতি।» তিনি বললেন: আমি যদি এটি করি তবে কি আমি মুমিন হব? তিনি বললেন: «হ্যাঁ।» তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। তিনি বললেন: হে মুহাম্মদ! ইহসান কী? তিনি বললেন: «আল্লাহর জন্য এমনভাবে আমল করা যেন তুমি তাঁকে দেখছ, আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও তবে নিশ্চয়ই তিনি তোমাকে দেখছেন।» তিনি বললেন: আমি যদি এটি করি তবে কি আমি মুহসিন হব? তিনি বললেন: «হ্যাঁ।» তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। তিনি বললেন: কিয়ামত কখন হবে? তিনি বললেন: «সুবহানাল্লাহ! এ বিষয়ে যাকে প্রশ্ন করা হয়েছে সে প্রশ্নকারীর চেয়ে অধিক কিছু জানে না।» তিনি বললেন: «তুমি চাইলে আমি তোমাকে এর নিদর্শনসমূহ সম্পর্কে সংবাদ দিতে পারি।» তিনি বললেন: অবশ্যই। তিনি বললেন: «যখন তুমি দেখবে যে নগ্নপদ, বস্ত্রহীন দরিদ্ররা সুউচ্চ অট্টালিকা নির্মাণে প্রতিযোগিতা করছে এবং তারা শাসক হয়ে গেছে।» তিনি বললেন: এই নগ্নপদ ও বস্ত্রহীন দরিদ্র কারা? তিনি বললেন: «আরবরা। আর যখন দেখবে যে দাসী তার মনিবকে প্রসব করছে, তখন সেটি কিয়ামতের নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত।» ‌‌⦗পৃষ্ঠা: ১৪৭⦘, তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। এরপর তিনি উঠে চলে গেলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «লোকটিকে আমার কাছে নিয়ে এসো।» আমরা তাকে খুঁজলাম কিন্তু তাকে পেলাম না। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «তোমরা কি জানো তিনি কে ছিলেন? তিনি ছিলেন জিবরাইল আলাইহিস সালাম, তোমাদের দ্বীন শেখাতে তোমাদের কাছে এসেছিলেন। সুতরাং তাঁর কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করো। সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, ইতিপূর্বে তিনি যতবার আমার কাছে এসেছেন ততবারই আমি তাঁকে চিনতে পেরেছি, কেবল এই বার ছাড়া; তিনি চলে যাওয়া পর্যন্ত আমি তাঁকে চিনতে পারিনি।» «ইউনুস ইবনে মুহাম্মদ আল-মুআদ্দিব মুতামির থেকে এই হাদিসটি দুটি ভিন্ন শব্দে বর্ণনা করেছেন এবং উভয় বর্ণনার প্রত্যেকটিতে এমন কিছু শব্দ রয়েছে যা অন্যটিতে নেই। হাজ্জাজ আশ-শায়িরও তাঁর থেকে একইভাবে বর্ণনা করেছেন যেমনটি ইবনুল মুনাদি বর্ণনা করেছেন। প্রথম বর্ণনার ক্ষেত্রে মুহাম্মদ ইবনে আবি ইয়াকুব আল-কিরমানি তাঁর সাথে একমত হয়েছেন, আর তিনি নির্ভরযোগ্য রাবিদের একজন যাঁর থেকে মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল আল-বুখারি আল-জামি গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর ওপর নির্ভর করেছেন ও তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। আর দ্বিতীয় বর্ণনাটি ইউসুফ ইবনে ওয়াদিহ আল-হাশেমি আল-বাসরি এবং অন্যরা মুতামির ইবনে সুলাইমান থেকে ইউনুস ইবনে মুহাম্মদের বর্ণনার অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং এতে ইউনুস শেষ বর্ণনায় যে অতিরিক্ত অংশগুলো উল্লেখ করেছেন তাও উল্লেখ করেছেন।»
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - ইবনে মান্দাহ (পৃষ্ঠা: ১৪৭)
‌‌14 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ، وَحَسَّانُ بْنُ مُحَمَّدٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ الشَّيْبَانِيُّ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعْدٍ الْبَزَّازُ، قَالُوا: أَنْبَأَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ خُزَيْمَةَ، ثَنَا ‌‌⦗ص: 148⦘ يُوسُفُ بْنُ وَاضِحٍ أَبُو يَعْقُوبَ الْهَاشِمِيُّ، إِمْلَاءً، ثَنَا الْمُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمَرَ، قَالَ: قُلْتُ لعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ: يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ: إِنَّ قَوْمًا يَزْعُمُونَ أَنْ لَيْسَ قَدَرٌ، قَالَ: هَلْ عِنْدَنَا مِنْهُمْ أَحَدٌ؟، قُلْتُ: لَا، قَالَ: فَأَبْلِغْهُمْ عَنِّي إِذَا لَقِيتَهُمْ أَنَّ ابْنَ عُمَرَ بَرِيءٌ إِلَى اللَّهِ عز وجل مِنْكُمْ وَأَنْتُمْ مِنْهُ بَرَاءٌ. حَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ، قَالَ: بَيْنَا نَحْنُ جُلُوسٌ عَنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي أُنَاسٍ إِذْ جَاءَ رَجُلٌ لَيْسَ عَلَيْهِ سَحْنَاءُ سَفَرٍ، وَلَيْسَ مِنْ أَهْلِ الْبَلَدِ يَتَخَطَّى حَتَّى وَرَّكَ فَجَلَسَ بَيْنَ يَدَيْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ مَا الْإِسْلَامُ؟، فَقَالَ: «الْإِسْلَامُ أَنْ تَشْهَدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَأَنْ تُقِيمَ الصَّلَاةَ، وَتُؤْتِيَ الزَّكَاةَ، وَتَحُجَّ، وَتَعْتَمِرَ، وَتَغْتَسِلَ مِنَ الْجَنَابَةِ، وَأَنْ تُتِمَّ الْوُضُوءَ وَتَصُومَ رَمَضَانَ» ، قَالَ: فَإِذَا فَعَلْتُ ذَلِكَ فَأَنَا مُسْلِمٌ؟، قَالَ: «نَعَمْ» ، قَالَ: صَدَقْتَ، قَالَ: يَا مُحَمَّدُ مَا الْإِيمَانُ؟، قَالَ: «الْإِيمَانُ أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ، وَمَلَائِكَتِهِ، وَكُتُبِهِ، وَرُسُلِهِ، وَتُؤْمِنَ بِالْجَنَّةِ وَالنَّارِ وَالْمِيزَانِ، وَتُؤْمِنَ بِالْبَعْثِ بَعْدَ الْمَوْتِ، وَتُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ» ، قَالَ: فَإِذَا فَعَلْتُ هَذَا فَأَنَا مُؤْمِنٌ؟، قَالَ: «نَعَمْ» ، قَالَ: صَدَقْتَ، قَالَ: يَا مُحَمَّدُ مَا الْإِحْسَانُ؟، قَالَ: «الْإِحْسَانُ أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ فَإِنَّكَ إِنْ لَا تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ» ، قَالَ: فَإِذَا فَعَلْتُ هَذَا فَأَنَا مُحْسِنٌ؟، قَالَ: «نَعَمْ» ، قَالَ: صَدَقْتَ، قَالَ: فَمَتَى السَّاعَةُ؟، قَالَ: «سُبْحَانَ اللَّهِ مَا الْمَسْئُولُ عَنْهَا بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ، وَإِنْ شِئْتَ نَبَّأْتُكَ بِأَشْرَاطِهَا» ، قَالَ: أَجَلْ، قَالَ: «فَإِذَا رَأَيْتَ الْعَالَةَ الْحُفَاةَ الْعُرَاةَ يَتَطَاوَلُونَ فِي الْبِنَاءِ وَكَانُوا مُلُوكًا» ، قَالَ: وَمَا الْعَالَةُ الْحُفَاةُ الْعُرَاةُ؟، قَالَ: «الْعُرَيْبُ» ، قَالَ: «وَإِذَا رَأَيْتَ الْأَمَةَ تَلِدُ رَبَّهَا فَذَلِكَ مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ» ، قَالَ: صَدَقْتَ ثُمَّ نَهَضَ فَوَلَّى، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «عَلَيَّ بِالرَّجُلِ» ، فَطَلَبْنَاهُ كُلَّ مَطْلَبٍ فَلَمْ نَقْدِرْ عَلَيْهِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «هَلْ تَدْرُونَ ‌‌⦗ص: 149⦘ مَنْ هَذَا، هَذَا جِبْرِيلُ عليه السلام أَتَاكُمْ لَيُعَلِّمَكُمْ دِينَكُمْ خُذُوا عَنْهُ، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا شُبِّهَ عَلَيَّ مُنْذُ أَتَانِي قَبْلَ مَرَّتِي هَذِهِ وَمَا عَرَفْتُهُ حَتَّى وَلَّى»
‌‌১৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আল-হুসাইন বিন আলী, হাসান বিন মুহাম্মদ, মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব আশ-শায়বানী এবং আবদুল্লাহ বিন সা'দ আল-বাযযায; তাঁরা বলেন: মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন খুযায়মাহ আমাদের জানিয়েছেন, ‌‌⦗পৃষ্ঠা: ১৪৮⦘ ইউসুফ বিন ওয়াদিহ আবু ইয়াকুব আল-হাশিমী শ্রুতলিপি অনুযায়ী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-মু'তামির বিন সুলাইমান তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন ইয়ামার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ বিন উমরকে বললাম: হে আবু আবদুর রহমান! নিশ্চয়ই এমন এক কওম রয়েছে যারা দাবি করে যে, তাকদীর বলতে কিছু নেই। তিনি বললেন: তাদের কেউ কি আমাদের এখানে আছে? আমি বললাম: না। তিনি বললেন: তবে যখন তুমি তাদের সাথে সাক্ষাৎ করবে, তখন আমার পক্ষ থেকে তাদের জানিয়ে দিও যে, ইবনে উমর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা-র নিকট তাদের থেকে মুক্ত এবং তারাও তাঁর থেকে মুক্ত। উমর বিন আল-খাত্তাব আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট কিছু মানুষের মাঝে বসা ছিলাম, এমন সময় এক ব্যক্তি আসলেন যার মাঝে সফরের কোনো চিহ্ন ছিল না, আবার তিনি এই শহরের অধিবাসীও ছিলেন না। তিনি অগ্রসর হলেন এবং শেষ পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সামনে হাঁটু গেড়ে বসলেন। তিনি বললেন: হে মুহাম্মদ, ইসলাম কী? তিনি বললেন: «ইসলাম হলো এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল; সালাত কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, হজ ও উমরা করা, জানাবাত থেকে গোসল করা, পূর্ণাঙ্গভাবে ওযু করা এবং রমযানের রোজা রাখা।» তিনি বললেন: আমি যদি তা করি তবে কি আমি মুসলিম? তিনি বললেন: «হ্যাঁ।» তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। তিনি বললেন: হে মুহাম্মদ, ঈমান কী? তিনি বললেন: «ঈমান হলো আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, তাঁর রাসূলগণের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা; জান্নাত, জাহান্নাম ও মীযানের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা; মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা এবং তাকদীরের ভালো ও মন্দের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা।» তিনি বললেন: আমি যদি তা করি তবে কি আমি মুমিন? তিনি বললেন: «হ্যাঁ।» তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। তিনি বললেন: হে মুহাম্মদ, ইহসান কী? তিনি বললেন: «ইহসান হলো আল্লাহর ইবাদত এমনভাবে করা যেন তুমি তাঁকে দেখছো, আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও, তবে তিনি তো তোমাকে দেখছেন।» তিনি বললেন: আমি যদি তা করি তবে কি আমি মুহসিন? তিনি বললেন: «হ্যাঁ।» তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। তিনি বললেন: কিয়ামত কখন হবে? তিনি বললেন: «সুবহানাল্লাহ! এ বিষয়ে যাকে প্রশ্ন করা হচ্ছে তিনি প্রশ্নকারীর চেয়ে অধিক অবগত নন। তবে তুমি চাইলে আমি তোমাকে এর নিদর্শনসমূহ জানিয়ে দিতে পারি।» তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: «যখন তুমি দেখবে নিঃস্ব, নগ্নপদ, বস্ত্রহীনরা সুউচ্চ অট্টালিকা নির্মাণে প্রতিযোগিতা করছে এবং তারা বাদশাহ হয়ে গেছে।» তিনি বললেন: নিঃস্ব, নগ্নপদ ও বস্ত্রহীনরা কারা? তিনি বললেন: «আরব জাতি।» তিনি বললেন: «আর যখন দেখবে দাসী তার মনিবকে জন্ম দিচ্ছে, তখন তা কিয়ামতের নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত।» তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। অতঃপর তিনি উঠে চলে গেলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: «লোকটিকে আমার কাছে নিয়ে এসো।» আমরা তাকে সব জায়গায় খুঁজলাম কিন্তু তাকে পেলাম না। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: «তোমরা কি জানো ‌‌⦗পৃষ্ঠা: ১৪৯⦘ ইনি কে ছিলেন? ইনি ছিলেন জিবরাঈল আলাইহিস সালাম; তিনি তোমাদের কাছে তোমাদের দীন শিক্ষা দিতে এসেছিলেন। তোমরা তাঁর থেকে শিক্ষা গ্রহণ করো। সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, এর আগে তিনি যখনই আমার নিকট এসেছেন, আমি তাঁকে চিনতে পেরেছি, কিন্তু এবার তিনি ফিরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত আমি তাঁকে চিনতে পারিনি।»
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - ইবনে মান্দাহ (পৃষ্ঠা: ১৫১)
‌‌ذِكْرُ مَا يَدُلُّ عَلَى أَنَّ مِنَ الْإِيمَانِ أَنْ يَعْتَقِدَ الْعَبْدُ لِقَاءَ اللَّهِ عز وجل
আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা-র সাথে সাক্ষাতের ওপর বান্দার বিশ্বাস স্থাপন করা যে ঈমানের অন্তর্ভুক্ত, সেই বিষয়ক প্রমাণাদির বর্ণনা
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - ইবনে মান্দাহ (পৃষ্ঠা: ১৫১)
‌‌15 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يُونُسَ، ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَهْدِيٍّ، ثَنَا مُسَدَّدٌ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْعَبْسِيُّ، وَأَنْبَأَ أَحْمَدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ أَيُّوبَ، ثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْحَاقَ، ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْعَبْسِيُّ، قَالَ: ثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ ابْنِ عُلَيَّةَ، ثَنَا أَبُو حَيَّانَ التَّيْمِيُّ يَحْيَى بْنُ سَعِيدِ بْنِ حَيَّانَ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ بْنِ عَمْرِو بْنِ جَرِيرٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا بَارِزًا لِلنَّاسِ فَأَتَاهُ رَجُلٌ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا الْإِيمَانُ؟، قَالَ: «أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ، وَكِتَابِهِ، وَلِقَائِهِ، وَرُسُلِهِ، وَتُؤْمِنَ بِالْبَعْثِ الْآخِرِ» ، قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا الْإِسْلَامُ؟، قَالَ: «الْإِسْلَامُ أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ وَلَا تُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا، وَتُقِيمَ الصَّلَاةَ الْمَكْتُوبَةَ، وَتُؤَدِّيَ الزَّكَاةَ الْمَفْرُوضَةَ، وَتَصُومَ رَمَضَانَ» ، قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا الْإِحْسَانُ؟، قَالَ: «أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ فَإِنَّكَ إِنْ لَا تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ» ، قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَتَى السَّاعَةُ؟، قَالَ: «مَا الْمَسْئُولُ عَنْهَا بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ وَلَكِنْ سَأُحَدِّثُكَ عَنْ أَشْرَاطِهَا إِذَا وَلَدَتِ الْمَرْأَةُ رَبَّهَا فَذَاكَ مِنْ أَشْرَاطِهَا، وَإِذَا تَطَاوَلَ رُعَاةُ الْبَهْمِ فِي الْبُنْيَانِ فَذَلِكَ مِنْ أَشْرَاطِهَا هِيَ خَمْسٌ لَا يَعْلَمُهُنَّ إِلَّا اللَّهُ» ، ثُمَّ تَلَا صلى الله عليه وسلم: " {إِنَّ اللَّهَ عِندَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ ‌‌⦗ص: 152⦘ الْغَيْثَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ} [لقمان: 34] ، إِلَى قَوْلِهِ {إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ} [لقمان: 34] ، قَالَ: ثُمَّ أَدْبَرَ الرَّجُلُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «رُدُّوا عَلَيَّ الرَّجُلَ» ، فَأَخَذُوا لِيَرُدُّوهُ فَلَمْ يَرَوْا شَيْئًا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «هَذَا جِبْرِيلُ عليه السلام جَاءَ لِيُعَلِّمَ النَّاسَ دِينَهُمْ» . رَوَاهُ مُسَدَّدٌ، وَمُؤَمَّلُ بْنُ هِشَامٍ، وَأَبُو خَيْثَمَةَ، وَيَعْقُوبُ الدَّوْرَقِيُّ، وَجَمَاعَةٌ عَنِ ابْنِ عُلَيَّةَ. وَرَوَاهُ جَمَاعَةٌ عَنْ أَبِي حَيَّانَ مِنْهُمْ خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، وَجَرِيرُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ، أَنْبَأَ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يوسُفَ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ نَصْرٍ، ثَنَا إِسْحَاقُ، ثَنَا جَرِيرُ، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشِيرٍ، وَعِيسَى بْنُ يُونُسَ نَحْوَهُ وَكُلُّ هَؤُلَاءِ مَقْبُولَةٌ عَلَى رَسْمِ الْجَمَاعَةِ
১৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইউনুস, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আহমদ ইবনে মাহদী, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুসাদ্দাদ ও আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-আবসী, এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ ইবনে ইসহাক ইবনে আইয়ুব, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুসা ইবনে ইসহাক, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-আবসী, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইসমাঈল ইবনে ইবরাহীম ইবন উলাইয়্যাহ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু হাইয়ান আত-তাইমী ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ ইবনে হাইয়ান, তিনি আবু যুরআহ ইবনে আমর ইবনে জারীর থেকে, তিনি আবু হুরাইরাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের সামনে প্রকাশ্যে উপবিষ্ট ছিলেন, এমতাবস্থায় তাঁর নিকট এক ব্যক্তি এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, ঈমান কী? তিনি বললেন: «ঈমান হলো এই যে, আপনি বিশ্বাস করবেন আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর কিতাবের প্রতি, তাঁর সাথে সাক্ষাতের প্রতি, তাঁর রাসূলগণের প্রতি এবং আপনি বিশ্বাস করবেন শেষ পুনরুত্থানের প্রতি।» তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, ইসলাম কী? তিনি বললেন: «ইসলাম হলো এই যে, আপনি আল্লাহর ইবাদত করবেন এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরীক করবেন না, ফরয নামায কায়েম করবেন, নির্ধারিত যাকাত প্রদান করবেন এবং রমযানের রোযা রাখবেন।» তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, ইহসান কী? তিনি বললেন: «আপনি আল্লাহর ইবাদত এমনভাবে করবেন যেন আপনি তাঁকে দেখছেন, আর যদি আপনি তাঁকে দেখতে না পান তবে নিশ্চয়ই তিনি আপনাকে দেখছেন।» তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, কিয়ামত কখন হবে? তিনি বললেন: «এ বিষয়ে যাকে প্রশ্ন করা হচ্ছে তিনি প্রশ্নকারীর চেয়ে অধিক জ্ঞাত নন। তবে আমি আপনাকে এর নিদর্শনসমূহ সম্পর্কে অবহিত করব: যখন নারী তার মালিককে প্রসব করবে, তখন তা হবে এর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত; আর যখন পশুচারণকারী রাখালেরা সুউচ্চ দালানকোঠা নির্মাণে প্রতিযোগিতা করবে, তখন তা হবে এর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। এটি সেই পাঁচটি বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না।» এরপর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিলাওয়াত করলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট কিয়ামতের জ্ঞান রয়েছে, তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন ‌‌⦗পৃষ্ঠা: ১৫২⦘ এবং জরায়ুতে যা আছে তা তিনি জানেন" [লুকমান: ৩৪], তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: "নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত" [লুকমান: ৩৪]। তিনি (আবু হুরাইরাহ) বলেন: এরপর লোকটি চলে গেলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «লোকটিকে আমার কাছে ফিরিয়ে আনো।» তারা তাকে ফিরিয়ে আনতে উদ্যত হলো কিন্তু তারা কিছুই দেখতে পেল না। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «ইনি জিবরীল (আলাইহিস সালাম), তিনি এসেছিলেন মানুষকে তাদের দ্বীন শিক্ষা দিতে।» এটি বর্ণনা করেছেন মুসাদ্দাদ, মুআম্মাল ইবনে হিশাম, আবু খাইসামাহ, ইয়াকুব আদ-দাওরাকী এবং একদল বর্ণনাকারী ইবন উলাইয়্যাহ থেকে। এবং একদল বর্ণনাকারী আবু হাইয়ান থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন খালিদ ইবনে আব্দুল্লাহ এবং জারীর ইবনে আব্দুল হামীদ। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে নাসর, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইসহাক, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন জারীর, মুহাম্মদ ইবনে বাশীর এবং ঈসা ইবনে ইউনুস অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আর এই সকলের বর্ণনা জামাআতের (মুহাদ্দিসগণের বড় দলের) মানদণ্ড অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - ইবনে মান্দাহ (পৃষ্ঠা: ১৫২)
‌‌16 - أَنْبَأَ أَبُو النَّضْرِ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ نَصْرٍ، وَأَخْبَرَنَا أَبُو الْفَضْلِ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ، قَالَا: ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَلَمَةَ، ح، وَأَنْبَأَ عَمْرُو بْنُ مُحَمَّدٍ النَّيْسَابُورِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ، قَالَا: ثَنَا حُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ الْقَبَّانِيُّ، قَالُوا: أَنْبَأَ إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَنْبَأَ جَرِيرُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ الْقَعْقَاعِ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ ‌‌⦗ص: 153⦘: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِأَصْحَابِهِ: «سَلُونِي» ، فَهَابُوا أَنْ يَسْأَلُوهُ فَجَاءَ رَجُلٌ فَجَلَسَ عِنْدَ رُكْبَتَيْهِ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا الْإِسْلَامُ؟، قَالَ: «لَا تُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا، وَتُقِيمُ الصَّلَاةَ، وَتُؤْتِي الزَّكَاةَ، وَتَصُومُ رَمَضَانَ» ، قَالَ: صَدَقْتَ، قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا الْإِيمَانُ؟، قَالَ: «أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكِتَابِهِ وَلِقَائِهِ وَرُسُلِهِ وَتُؤْمِنَ بِالْبَعْثِ وَتُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ كُلِّهِ» ، قَالَ: صَدَقْتَ، قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا الْإِحْسَانُ؟، قَالَ: «أَنْ تَخْشَى اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ فَإِنَّكَ إِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ» ، قَالَ: صَدَقْتَ، قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَتَى السَّاعَةُ؟، قَالَ: «مَا الْمَسْئُولُ عَنْهَا بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ، وَسَأُحَدِّثُكَ عَنْ أَشْرَاطِهَا إِذَا رَأَيْتَ الْمَرْأَةَ تَلِدُ رَبَّهَا فَذَاكَ مِنْ أَشْرَاطِهَا، وَإِذَا رَأَيْتَ الْحُفَاةَ الْعُرَاةَ الصُّمَّ الْبُكْمَ مُلُوكَ الْأَرْضِ فَذَاكَ مِنْ أَشْرَاطِهَا، وَإِذَا رَأَيْتَ رُعَاةَ الْبَهْمِ يَتَطَاوَلُونَ فِي الْبُنْيَانِ فَذَاكَ مِنْ أَشْرَاطِهَا فِي خَمْسٍ مِنَ الْغَيْبِ لَا يَعْلَمُهُنَّ إِلَّا اللَّهُ» ، ثُمَّ قَرَأَ: {إِنَّ اللَّهَ عِنْدَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ} [لقمان: 34] ، إِلَى قَوْلِهِ {خَبِيرٌ} [لقمان: 34] ، ثُمَّ قَامَ الرَّجُلُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «رُدُّوهُ عَلَيَّ» ، فَالْتَمَسُوهُ فَلَمْ يَجِدُوهُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «هَذَا جِبْرِيلُ عليه السلام أَرَادَ أَنْ تَعْلَمُوا إِذْ لَمْ تَسْأَلُوا» . رَوَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، وَأَبُو خَيْثَمَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ مِهْرَانَ وَغَيْرُهُمْ
১৬ - আবু আন-নাজর মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন নাসর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন; এবং আবুল ফজল মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম ও মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা বলেছেন: আহমদ বিন সালামাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, (হ), এবং আমর বিন মুহাম্মদ আন-নায়সাবুরি ও মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা বলেছেন: হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন যিয়াদ আল-কাব্বানি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা সকলে বলেছেন: ইসহাক বিন ইবরাহিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, জারির বিন আব্দুল হামিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, উমারা বিন আল-কাক্কা থেকে, তিনি আবু যুরআ বিন আমর থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন ⦗পৃষ্ঠা: ১৫৩⦘: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের বললেন: «তোমরা আমাকে জিজ্ঞাসা করো», তখন তাঁরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করতে ভয় পেলেন। এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি আসলেন এবং তাঁর হাঁটুর কাছে বসলেন। অতঃপর বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, ইসলাম কী? তিনি বললেন: «তুমি আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না, সালাত কায়েম করবে, জাকাত প্রদান করবে এবং রমজানের রোজা রাখবে»। তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, ঈমান কী? তিনি বললেন: «তুমি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাব, তাঁর সাথে সাক্ষাৎ ও তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান আনবে এবং পুনরুত্থান ও সম্পূর্ণ তাকদীরের প্রতি ঈমান আনবে»। তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, ইহসান কী? তিনি বললেন: «তুমি আল্লাহকে এমনভাবে ভয় করবে যেন তুমি তাঁকে দেখছো, কারণ তুমি যদি তাঁকে না-ও দেখো, তবে তিনি তোমাকে দেখছেন»। তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, কিয়ামত কখন? তিনি বললেন: «এই বিষয়ে যাকে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে তিনি প্রশ্নকারীর চেয়ে অধিক অবগত নন। তবে আমি তোমাকে এর কিছু নিদর্শন সম্পর্কে বলব: যখন তুমি দেখবে যে নারী তার মালিককে প্রসব করছে, তখন তা এর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত; যখন তুমি নগ্নপদ, বস্ত্রহীন, বধির ও মূক ব্যক্তিদের পৃথিবীর রাজা হিসেবে দেখবে, তখন তা এর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত; আর যখন তুমি পশুপালকদের সুউচ্চ দালানকোঠা নির্মাণের প্রতিযোগিতা করতে দেখবে, তখন তা পাঁচটি গায়বি বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত এর নিদর্শনসমূহের অন্তর্গত যা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না»। তারপর তিনি পাঠ করলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট কিয়ামতের জ্ঞান রয়েছে} [লুকমান: ৩৪], তাঁর এই বাণী {সম্যক অবহিত} [লুকমান: ৩৪] পর্যন্ত। তারপর লোকটি উঠে দাঁড়ালেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «তাকে আমার কাছে ফিরিয়ে আনো»। তাঁরা তাঁকে খুঁজলেন কিন্তু পেলেন না। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «ইনি জিবরীল আলাইহিস সালাম; তোমরা যখন জিজ্ঞাসা করছিলে না, তখন তিনি চাইলেন যেন তোমরা শিখে নাও»। মুহাম্মদ বিন আস-সাব্বাহ, আবু খাইসামা, মুহাম্মদ বিন মিহরান এবং আরও অনেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - ইবনে মান্দাহ (পৃষ্ঠা: ১৫৪)
‌‌ذِكْرُ وجُوبِ النِّيَّةِ لِلْإِسْلَامِ وَالْإِيمَانِ بِاللَّهِ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ
ইসলাম এবং এক অদ্বিতীয় আল্লাহ্‌র প্রতি ঈমান আনার জন্য—যাঁর কোনো শরিক নেই—নিয়ত আবশ্যক হওয়ার বিবরণ
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - ইবনে মান্দাহ (পৃষ্ঠা: ১৫৪)
‌‌17 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عِيسَى، ح، وَأَنْبَأَ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عُتْبَةَ الرَّازِيُّ، ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ دَاوُدَ الْمَكِّيُّ، قَالَا: ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ الْعَبْدِيُّ، عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ الْأَنْصَارِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ وَقَّاصٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّةِ وَإِنَّمَا لِامْرِئٍ مَا نَوَى، فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ، فَهِجْرَتُهُ إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَمَنْ ‌‌⦗ص: 155⦘ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى دُنْيَا يُصِيبُهَا أَوِ امْرَأَةٍ يَتَزَوَّجُهَا، فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ» . أَنْبَأَ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَعْرُوفٍ، وَعَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ، قَالَا: ثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ ‌‌⦗ص: 156⦘ إِسْحَاقَ، ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ نَحْوَهُ
‌‌১৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন ঈসা, (হ), এবং আমাদের জানিয়েছেন আহমাদ বিন আল-হাসান বিন উতবাহ আর-রাজি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন দাউদ আল-মাক্কি, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন কাসির আল-আবদি, সুফিয়ান আস-সাওরি থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-আনসারি থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম থেকে, তিনি আলকামাহ বিন ওয়াক্কাস থেকে, তিনি উমর বিন আল-খাত্তাব থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যা সে নিয়ত করেছে। সুতরাং যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে হয়, তবে তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকেই (কবুল) হবে। আর যার ‌‌⦗পৃষ্ঠা: ১৫৫⦘ হিজরত দুনিয়া লাভের জন্য অথবা কোনো নারীকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে হয়, তবে তার হিজরত সেদিকেই গণ্য হবে যার উদ্দেশ্যে সে হিজরত করেছে»। আমাদের জানিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মারুফ এবং আলী বিন আল-হাসান, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইসমাইল বিন ‌‌⦗পৃষ্ঠা: ১৫৬⦘ ইসহাক, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ আল-কা'নাবী, ইমাম মালেক থেকে অনুরূপ (হাদীস)।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - ইবনে মান্দাহ (পৃষ্ঠা: ১৫৬)
‌‌ذِكْرُ مَا يَدُلُّ عَلَى أَنَّ أَعْلَى الْإِيمَانِ الَّتِي دَعَا إِلَيْهَا وَأَوَّلَهَا شَهَادَةُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ
ঈমানের সর্বোচ্চ স্তর যার প্রতি তিনি আহ্বান জানিয়েছেন এবং এর প্রথম স্তর যে ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই’ এই সাক্ষ্য প্রদান করা—তৎসম্পর্কিত দলীলসমূহের বর্ণনা