(খণ্ড: ১)
আল-আওলিয়া লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: -)
الأولياء لابن أبي الدنيا (ابن أبي الدنيا)
القسم: كتب السنة
الكتاب: الأولياء
المؤلف: أبو بكر عبد الله بن محمد بن عبيد بن سفيان بن قيس البغدادي الأموي القرشي المعروف بابن أبي الدنيا (ت 281هـ)
المحقق: محمد السعيد بن بسيوني زغلول
الناشر: مؤسسة الكتب الثقافية - بيروت
الطبعة: الأولى، 1413
عدد الصفحات: 49
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইবনে আবিদ দুনিয়া রচিত আল-আউলিয়া (ইবনে আবিদ দুনিয়া)
বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: আল-আউলিয়া
লেখক: আবু বকর আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন উবাইদ বিন সুফিয়ান বিন কাইস আল-বাগদাদী আল-উমাবী আল-কুরাশী, যিনি ইবনে আবিদ দুনিয়া নামে পরিচিত (মৃত্যু ২৮১ হিজরি)
তাহকীক: মুহাম্মাদ আস-সাঈদ বিন বাসইউনী যাগলুল
প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুল কুতুব আস-সাকাফিয়্যাহ - বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৩
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৯
[কিতাবের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-আওলিয়া লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ١)
اللَّهُ يُدَافِعُ عَنْ أَوْلِيَائِهِ الصَّالِحِينَ
আল্লাহ তাঁর নেককার ওলিদের পক্ষ হয়ে প্রতিরক্ষা করেন
(খণ্ড: ১)
আল-আওলিয়া লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٩)
1 - حَدَّثَنَا الشَّيْخُ الْإِمَامُ تَقِيُّ الدِّينِ أَبُو الْحُسَيْنِ أَحْمَدُ بْنُ حَمْزَةَ بْنِ عَلِيِّ بْنِ الْحَسَنِ السُّلَمِيُّ الشَّافِعِيُّ الدِّمَشْقِيُّ فِي جَامِعِ دِمَشْقَ حَرَسَهَا اللَّهُ تَعَالَى قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو سَعْدٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي سَعْدٍ فِي كِتَابِهِ سَنَةَ إِحْدَى عَشْرَةَ وَخَمْسِمِائَةٍ، وَأَخْبَرَنَا عَنْهُ الشَّيْخَانِ الْإِمَامُ أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ لَبِيدَةَ الْمَعَرَّيُّ، وَأَبُو الْبَقَاءِ هِبَةُ اللَّهِ بْنُ صَدَقَةَ بْنِ هِبَةِ اللَّهِ قِرَاءَةً عَلَيْهِمَا وَأَنَا حَاضِرٌ أَسْمَعُ فِي تَاسِعِ شَهْرِ رَبِيعٍ الْأَوَّلِ سَنَةَ أَرْبَعِينَ وَخَمْسِمِائَةٍ، قَالَا: أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الزَّاهِدُ الْحَافِظُ أَبُو سَعْدٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي سَعْدٍ الْبَغْدَادِيُّ قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّيْخَانِ الْإِمَامَانِ أَبُو عَمْرٍو عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَنْدَهْ، وَأَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ الطَّهْرَانِيُّ قَالَا: أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حُمْدَوَيْهِ الْمَدِينِيُّ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُمَرَ بْنِ أَبَانَ اللِّبْنَانِيُّ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ سُفْيَانَ الْقُرَشِيُّ الْمَعْرُوفُ بِابْنِ أَبِي الدُّنْيَا، حَدَّثَنَا الْهَيْثَمُ بْنُ خَارِجَةَ، وَالْحَكَمُ بْنُ مُوسَى، قَالَا: نا الْحَسَنُ بْنُ يَحْيَى الْخُشَنِيُّ، عَنْ صَدَقَةَ الدِّمَشْقِيِّ، عَنْ هِشَامٍ الْكِنَانِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عَنْ جِبْرِيلَ عليه السلام عَنْ رَبِّهِ تَعَالَى وَتَقَدَّسَ قَالَ: «مَنْ أَهَانَ لِي وَلِيًّا فَقَدْ بَارَزَنِي بِالْمُحَارَبَةِ، وَمَا تَرَدَّدْتُ فِي شَيْءٍ أَنَا فَاعِلُهُ مَا تَرَدَّدْتُ فِي قَبْضِ نَفْسِ الْمُؤْمِنِ؛ لِأَنَّهُ يَكْرَهُ الْمَوْتَ وَأَنَا أَكْرَهُ مُسَاءَتَهُ وَلَا بُدُّ لَهُ مِنْهُ، وَإِنَّ مِنْ عِبَادِي الْمُؤْمِنِينَ مَنْ يُرِيدُ بَابًا مِنَ الْعلْمِ فَأَكُفُّهُ عَنْهُ لَا يَدْخُلُهُ عُجْبٌ فَيَفْسَدُ لِذَلِكَ، وَمَا تَقَرَّبَ إِلَيَّ عَبْدِيَ بِمِثْلِ أَدَاءِ مَا افْتَرَضْتُهُ عَلَيْهِ، وَمَا يَزَالُ عَبْدِي يَتَنَفَّلُ لِي حَتَّى أُحِبَّهُ، فَإِذَا أَحْبَبْتُهُ كُنْتُ لَهُ سَمْعًا، وَبَصَرًا، وَيَدًا، وَمُؤَيِّدًا، دَعَانِي فَأَجَبْتُهُ، وَسَأَلَنِي فَأَعْطَيْتُهُ، وَنَصَحَ لِي فَنَصَحْتُ لَهُ، وَإِنَّ مِنْ عِبَادِي الْمُؤْمِنِينَ مَنْ لَا يُصْلِحُ إِيمَانَهُ إِلَّا الْغِنَى وَلَوْ أَفْقَرْتُهُ لَأَفْسَدَهُ ذَلِكَ، وَإِنَّ مِنْ عِبَادِي الْمُؤْمِنِينَ لَمَنْ لَا يُصْلِحُ إِيمَانَهُ إِلَّا الْفَقْرُ، وَلَوْ بَسَطْتُ لَهُ لَأَفْسَدَهُ ذَلِكَ، وَإِنَّ مِنْ عِبَادِي الْمُؤْمِنِينَ مَنْ لَا يُصْلِحُ لَهُ إِيمَانَهُ إِلَّا الصِّحَّةُ، وَلَوْ أَسْقَمْتُهُ لَأَفْسَدَهُ ذَلِكَ، وَإِنَّ مِنْ عِبَادِي الْمُؤْمِنِينَ مَنْ لَا يُصْلِحُ إِيمَانَهُ إِلَّا السَّقَمُ، وَلَوْ أَصْحَحْتُهُ لَأَفْسَدَهُ ذَلِكَ، إِنِّي أُدَبِّرُ أَمْرَ عِبَادِي بِعِلْمِي، إِنِّي عَلِيمٌ خَبِيرٌ»
১ - আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন শাইখ ইমাম তকিউদ্দীন আবুল হুসাইন আহমাদ ইবনে হামজাহ ইবনে আলী ইবনে হাসান আস-সুলামী আশ-শাফিয়ী আদ-দিমাশকী দামেস্কের জামে মসজিদে—আল্লাহ তাআলা একে রক্ষা করুন—তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ আবু সাদ আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবু সাদ তাঁর কিতাবে পাঁচশত এগারো হিজরী সালে। এবং তাঁর সম্পর্কে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন দুই শাইখ: ইমাম আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে লাবীদাহ আল-মাআররী এবং আবু আল-বাকা হিবাতুল্লাহ ইবনে সাদাকা ইবনে হিবাতুল্লাহ; আমি উপস্থিত থেকে পাঁচশত চল্লিশ হিজরী সালের রবিউল আউয়াল মাসের নয় তারিখে তাঁদের সামনে পাঠ করার মাধ্যমে শুনেছি। তাঁরা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ যাহেদ হাফেয আবু সাদ আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবু সাদ আল-বাগদাদী। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন দুই শাইখ ও ইমাম আবু আমর আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে আবু আব্দুল্লাহ ইবনে মান্দাহ এবং আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ আত-তহরানী। তাঁরা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ আল-হাসান ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হুমদাওয়াইহ আল-মাদিনী। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে উমর ইবনে আবান আল-লুবনানী। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে উবায়দুল্লাহ ইবনে সুফিয়ান আল-কুরাশী, যিনি ইবনে আবিদ দুনইয়া নামে পরিচিত। আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন হায়সাম ইবনে খারিজাহ এবং হাকাম ইবনে মূসা। তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হাসান ইবনে ইয়াহইয়া আল-খুশানী, তিনি সাদাকা আদ-দিমাশকী থেকে, তিনি হিশাম আল-কিনানী থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে, তিনি জিবরাঈল আলাইহিস সালাম থেকে, তিনি তাঁর মহান ও পবিত্র পালনকর্তা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি (আল্লাহ) বলেছেন: «যে ব্যক্তি আমার কোনো বন্ধুর (ওলীর) প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করল বা তাকে অবমাননা করল, সে যেন আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হলো। আমি কোনো কাজ করার ক্ষেত্রে তেমন দ্বিধা করি না, যেমনটি মুমিন বান্দার জান কবজ করার ক্ষেত্রে করি; কারণ সে মৃত্যুকে অপছন্দ করে আর আমি তাকে কষ্ট দেওয়া অপছন্দ করি, অথচ তার জন্য মৃত্যু অনিবার্য। আর আমার মুমিন বান্দাদের মধ্য থেকে কেউ ইলমের কোনো একটি দরজা অর্জন করতে চায়, কিন্তু আমি তাকে তা থেকে বিরত রাখি পাছে তার মধ্যে আত্মগর্ব প্রবেশ করে তাকে ধ্বংস করে না ফেলে। আমার বান্দা আমার ফরজ করা ইবাদতসমূহ আদায়ের মতো অন্য কোনো জিনিসের মাধ্যমে আমার অধিক নৈকট্য লাভ করতে পারে না। আর আমার বান্দা নফল ইবাদতের মাধ্যমে সর্বদা আমার নৈকট্য লাভ করতে থাকে, যতক্ষণ না আমি তাকে ভালোবাসি। যখন আমি তাকে ভালোবাসি, তখন আমি তার কান, তার চোখ, তার হাত (আল্লাহর হাত) এবং তার সাহায্যকারী হয়ে যাই; সে আমাকে ডাকলে আমি তার ডাকে সাড়া দিই, সে আমার কাছে চাইলে আমি তাকে তা দান করি এবং সে আমার কাছে একনিষ্ঠ হলে আমি তার প্রতি অনুগ্রহ করি। আমার মুমিন বান্দাদের মধ্যে এমনও আছে যার ঈমান কেবল সচ্ছলতা দ্বারাই ঠিক থাকে, যদি আমি তাকে দরিদ্র করে দিতাম তবে তা তাকে পথভ্রষ্ট করত। আর আমার মুমিন বান্দাদের মধ্যে এমনও আছে যার ঈমান কেবল দারিদ্র্য দ্বারাই ঠিক থাকে, যদি আমি তার জন্য রিযিক প্রশস্ত করে দিতাম তবে তা তাকে পথভ্রষ্ট করত। আমার মুমিন বান্দাদের মধ্যে এমনও আছে যার ঈমান কেবল সুস্থতা দ্বারাই ঠিক থাকে, যদি আমি তাকে অসুস্থ করে দিতাম তবে তা তাকে পথভ্রষ্ট করত। আর আমার মুমিন বান্দাদের মধ্যে এমনও আছে যার ঈমান কেবল অসুস্থতা দ্বারাই ঠিক থাকে, যদি আমি তাকে সুস্থ করে দিতাম তবে তা তাকে পথভ্রষ্ট করত। নিশ্চয়ই আমি আমার জ্ঞান অনুযায়ী আমার বান্দাদের বিষয়াদি পরিচালনা করি; নিশ্চয়ই আমি সর্বজ্ঞ ও সম্যক অবহিত।»
(খণ্ড: ১)
আল-আওলিয়া লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٩)
2 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ نا الْحَكَمُ بْنُ مُوسَى، نا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، ذَكَرَ مُسْلِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: لِلَّهِ ضَنَائِنُ مِنْ عِبَادِهِ يَغْذُوهَمْ فِي رَحْمَتِهِ، وَيُحْيِيهِمْ فِي عَافِيَتِهِ، وَإِذَا تَوَفَّاهُمْ تَوَفَّاهُمْ إِلَى جَنَّتِهِ، أُولَئِكَ الَّذِينَ تَمُرُّ عَلَيْهِمُ الْفِتَنُ كَقِطَعِ اللَّيْلِ الْمُظْلِمِ وَهُمْ مِنْهَا فِي عَافِيَةٍ "
২ - আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, আল-হাকাম ইবন মূসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসমাঈল ইবন আইয়াশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুসলিম ইবন আবদুল্লাহ উল্লেখ করেছেন নাফি‘ থেকে, তিনি ইবন উমর থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে এমন কিছু মনোনীত বান্দা রয়েছেন যাদের তিনি তাঁর রহমতের মধ্যে প্রতিপালন করেন এবং তাঁর নিরাপত্তার (আফিয়াত) মধ্যে জীবিত রাখেন। আর যখন তিনি তাদের মৃত্যু দান করেন, তখন তাঁর জান্নাতের উদ্দেশ্যেই তাদের মৃত্যু দান করেন। এরাই তারা, যাদের ওপর দিয়ে ফিতনাসমূহ অন্ধকার রাতের টুকরোর ন্যায় অতিবাহিত হয়, অথচ তারা তা থেকে নিরাপদ থাকে।"
(খণ্ড: ১)
আল-আওলিয়া লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ١٠)
3 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، نا عَلِيُّ بْنُ دَاوُدَ، نا آدَمُ بْنُ أَبِي إِيَاسٍ، نا الْهَيْثَمُ بْنُ جِمَازٍ، عَنْ يَزِيدَ الرَّقَاشِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ لِلَّهِ ضَنَائِنَ مِنْ خَلْقِهِ يَضِنُّ بِهِمْ عَنِ الْبَلَاءِ، يُحْيِيهِمْ فِي عَافِيَةٍ، وَيُمِيتُهُمْ فِي عَافِيَةٍ وَيُدْخِلُهُمُ الْجَنَّةَ فِي عَافِيَةٍ»
৩ - আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনে দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আদম ইবনে আবি ইয়াস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হায়সাম ইবনে জিমাজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াজিদ আর-রাকাশি থেকে, আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহর তাঁর সৃষ্টির মধ্যে এমন কিছু বিশেষ প্রিয় বান্দা রয়েছে যাদেরকে তিনি বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করেন; তিনি তাদেরকে নিরাপত্তার সাথে জীবিত রাখেন, নিরাপত্তার সাথে মৃত্যু দান করেন এবং নিরাপত্তার সাথেই জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।»
(খণ্ড: ১)
আল-আওলিয়া লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ١٠)
4 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، ذَكَرَ الْفَضْلُ بْنُ جَعْفَرٍ، ذَكَرَ مُحَمَّدُ بْنُ الْقَاسِمِ الْأَسَدِيُّ، أنا أَبُو طَاهِرٍ، عَنِ الْحَسَنِ، وَأَبِي طَاهِرٍ، عَنْ أَبِي يَزِيدَ الْمَدَنِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ لِلَّهِ خَوَاصَّ مِنْ خَلْقِهِ، يُحْيِيهِمْ فِي عَافِيَةٍ، وَيُمِيتُهُمْ فِي عَافِيَةٍ، وَيُدْخِلُهُمُ الْجَنَّةَ فِي عَافِيَةٍ»
৪ - আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-ফজল ইবনে জাফর উল্লেখ করেছেন, মুহাম্মদ ইবনুল কাসিম আল-আসাদি উল্লেখ করেছেন, আবু তাহির আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-হাসান ও আবু তাহির থেকে বর্ণিত, তিনি আবু ইয়াজিদ আল-মাদানি থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহর তাঁর সৃষ্টির মধ্যে কিছু বিশেষ বান্দা রয়েছে, তিনি তাদের আফিয়াতের (নিরাপত্তা ও সুস্থতা) সাথে জীবিত রাখেন, আফিয়াতের সাথে তাদের মৃত্যু দান করেন এবং আফিয়াতের সাথেই তাদের জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।»
(খণ্ড: ১)
আল-আওলিয়া লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ١٠)
5 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، ذَكَرَ مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ، نا الْحُسَيْنُ الْجُعْفِيُّ، عَنْ فُضَيْلِ بْنِ عِيَاضٍ، عَنِ الْعَلَاءِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ فُضَيْلِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، قَالَ: «إِنَّ لِلَّهِ عز وجل عِبَادًا يَضِنُّ بِهِمْ فِي الدُّنْيَا عَنِ الْقَتْلِ وَالْأَمْرَاضِ، يُطِيلُ أَعْمَارَهُمْ، وَيُحْسِنُ أَرْزَاقَهُمْ، وَيُمِيتُهُمْ عَلَى فُرُشِهِمْ، وَيَطْبَعُهُمْ بِطَبَائِعِ الشُّهَدَاءِ»
৫ - আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে উসমান উল্লেখ করেছেন, আল-হুসাইন আল-জু'ফী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ফুদাইল ইবনে ইয়াদ থেকে, তিনি আল-আলা ইবনে আল-মুসাইয়িব থেকে, তিনি ফুদাইল ইবনে আমর থেকে, তিনি সাবিত আল-বুনানী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «নিশ্চয়ই মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর এমন কিছু বান্দা রয়েছেন যাদেরকে তিনি দুনিয়াতে হত্যা ও ব্যাধি থেকে রক্ষা করেন। তিনি তাদের আয়ু দীর্ঘ করেন, তাদের রিযিক উত্তম করেন এবং তাদের নিজ বিছানায় মৃত্যু দান করেন; আর তিনি তাদেরকে শহীদদের স্বভাব-বৈশিষ্ট্যে ভূষিত করেন।»
(খণ্ড: ১)
আল-আওলিয়া লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ١٠)
الْيَسِيرُ مِنَ الرِّيَاءِ شِرْكٌ
সামান্য রিয়াও শিরক
(খণ্ড: ১)
আল-আওলিয়া লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ١١)
6 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، ذَكَرَ مُحَمَّدُ بْنُ سَهْلٍ التَّمِيمِيُّ نا ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ، نا نَافِعُ بْنُ يَزِيدَ، عَنْ عَيَّاشِ بْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ عِيسَى بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُمَرَ، أَنَّهُ دَخَلَ الْمَسْجِدَ فَإِذَا هُوَ بِمُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ يَبْكِي عِنْدَ قَبْرِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: مَا يُبْكِيكَ يَا مُعَاذُ؟ قَالَ: حَدِيثٌ سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «إِنَّ الْيَسِيرَ مِنَ الرِّيَاءِ شِرْكٌ، وَإِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْأَتْقِيَاءَ الْأَخْفِيَاءَ الْأَبْرِيَاءَ، الَّذِينَ إِنْ غَابُوا لَمْ يُفْتَقَدُوا، وَإِنْ حَضَرُوا لَمْ يُعْرَفُوا، قُلُوبُهُمْ مَصَابِيحُ الْهُدَى، يَخْرُجُونَ مِنْ كُلِّ غَبْرَاءَ مُظْلِمَةٍ»
6 - আব্দুল্লাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবন সাহল আত-তামিমী উল্লেখ করেছেন, ইবন আবি মারইয়াম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, নাফি ইবন ইয়াযিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আইয়াশ ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত, ঈসা ইবন আবদুর রহমান থেকে বর্ণিত, যায়িদ ইবন আসলাম থেকে বর্ণিত, তাঁর পিতা থেকে বর্ণিত, উমর (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি মসজিদে প্রবেশ করলেন এবং দেখলেন মুয়ায ইবন জাবাল আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবরের পাশে কাঁদছেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: হে মুয়ায, তোমাকে কিসে কাঁদাচ্ছে? তিনি বললেন: একটি হাদিস যা আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন: «নিশ্চয়ই সামান্যতম রিয়া (লোক দেখানো আমল) শিরক। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ সেই সকল মুত্তাকী, লোকচক্ষুর অন্তরালে অবস্থানকারী এবং পবিত্র চরিত্রের অধিকারী ব্যক্তিদের ভালোবাসেন, যারা অনুপস্থিত থাকলে তাদের কেউ খোঁজ করে না এবং উপস্থিত থাকলে কেউ তাদের চেনে না। তাদের অন্তরসমূহ হিদায়াতের প্রদীপস্বরূপ; তারা প্রতিটি অন্ধকারাচ্ছন্ন ধূলিময় পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসে»
(খণ্ড: ১)
আল-আওলিয়া লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ١١)
صِفَاتُ أَوْلِيَاءِ اللَّهِ
আল্লাহর ওলীদের বৈশিষ্ট্যসমূহ
(খণ্ড: ১)
আল-আওলিয়া লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ١١)
7 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، نا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ صَالِحٍ الْأَزْدِيُّ، نا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ مُهَاجِرِ الْأَنْصَارِيِّ، عَنِ الْعَبَّاسِ بْنِ سَالِمٍ اللَّخْمِيِّ، قَالَ: بَعَثَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ إِلَى أَبِي سَلَامٍ الْحَبَشِيِّ يُحْمَلُ عَلَى الْبَرِيدِ، فَلَمَّا قَدِمَ عَلَيْهِ قَالَ: لَقَدْ شَقَّ عَلَيَّ، أَوْ لَقَدْ شَقَقْتَ عَلَى رِجْلِي، قَالَ عُمَرُ: مَا أَرَدْنَا ذَلِكَ، وَلَكِنَّهُ بَلَغَنِي عَنْكَ حَدِيثُ ثَوْبَانَ فِي الْحَوْضِ، فَأَحْبَبْتُ أَنْ أُشَافِهَكَ بِهِ، قَالَ: سَمِعْتُ ثَوْبَانَ يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «إِنَّ حَوْضِيَ مِنْ عَدَنَ إِلَى عُمَانَ الْبَلْقَاءِ، مَاؤُهُ أَشَدُّ بَيَاضًا مِنَ اللَّبَنِ، وَأَحْلَى مِنَ الْعَسَلِ، وَأَكْوَابُهُ عَدَدُ نُجُومِ السَّمَاءِ، مَنْ شَرِبَ مِنْهُ شَرْبَةً لَا يَظْمَأُ بَعْدَهَا أَبَدًا، أَوَّلُ النَّاسِ وُرُودًا عَلَيْهِ فُقَرَاءُ الْمُهَاجِرِينَ» ⦗ص: 12⦘، فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ: «هُمُ الشُّعْثُ رُءُوسًا، الدُّنُسُ ثِيَابًا، الَّذِينَ لَا يَنْكِحُونَ الْمُنَعَّمَاتِ، وَلَا تُفْتَحُ لَهُمْ أَبْوَابُ السُّدَدِ» ، فَقَالَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ: لَقَدْ فُتِحَتْ لِيَ السُّدَدُ، وَنَكَحْتُ الْمُنَعَّمَاتِ، لَا جَرَمَ، لَا أَدْهُنُ رَأْسِي حَتَّى يَشْعَثَ، وَلَا أغْسِلُ ثَوْبِي الَّذِي يَلِي بَدَنِي حَتَّى يَتَّسِخَ "
৭ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান ইবনে সালিহ আল-আজদী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাইল ইবনে আইয়্যাশ, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে মুহাজির আল-আনসারী থেকে, তিনি আল-আব্বাস ইবনে সালিম আল-লাখমী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: উমর ইবনে আবদুল আজিজ আবু সালাম আল-হাবাশীকে ডাক-বাহনে বহন করে নিয়ে আসার জন্য লোক পাঠালেন। তিনি যখন তাঁর নিকট উপস্থিত হলেন, তখন তিনি বললেন: "এটি আমার জন্য অনেক কষ্টসাধ্য হয়েছে," অথবা বললেন: "আপনি আমার পায়ের ওপর বড় কষ্ট দিয়েছেন।" উমর বললেন: "আমরা এমনটি ইচ্ছা করিনি, কিন্তু আপনার সূত্রে হাওয সম্পর্কে সাওবানের বর্ণিত হাদীসটি আমার নিকট পৌঁছেছে, তাই আমি আপনার থেকে সরাসরি তা শুনতে চেয়েছি।" তিনি (আবু সালাম) বললেন: আমি সাওবানকে বলতে শুনেছি যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি এরশাদ করেছেন: «নিশ্চয়ই আমার হাওয আদন থেকে বালকার আম্মান পর্যন্ত বিস্তৃত। এর পানি দুধের চেয়েও অধিক ধবল এবং মধুর চেয়েও অধিক মিষ্ট। এর পানপাত্রগুলো আকাশের নক্ষত্ররাজির ন্যায় অসংখ্য। যে ব্যক্তি তা থেকে এক ঢোক পান করবে, সে আর কখনোই তৃষ্ণার্ত হবে না। আর সেখানে সর্বাগ্রে উপস্থিত হবে দরিদ্র মুহাজিরগণ» ⦗পৃষ্ঠা: ১২⦘। তখন উমর ইবনুল খাত্তাব বললেন: «তারা হলো বিক্ষিপ্ত কেশধারী ও মলিন বস্ত্রধারী লোক, যারা ঐশ্বর্যশালী নারীদের বিবাহ করতে পারে না এবং যাদের জন্য রাজকীয় দ্বারসমূহ উন্মুক্ত করা হয় না»। অতঃপর উমর ইবনে আবদুল আজিজ বললেন: "আমার জন্য তো রাজকীয় দ্বারসমূহ উন্মুক্ত করা হয়েছে এবং আমি ঐশ্বর্যশালী নারীদের বিবাহ করেছি। সুতরাং নিশ্চয়ই আমি আর আমার মাথায় তেল ব্যবহার করব না যতক্ষণ না তা উস্কোখুস্কো হয়ে যায়, এবং আমার শরীরের সাথে লেগে থাকা পোশাকটি ধৌত করব না যতক্ষণ না তা মলিন হয়ে যায়।"
(খণ্ড: ১)
আল-আওলিয়া লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ١٢)
8 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، نا أَبُو الْحُسَيْنِ الْوَاسِطِيُّ خَلَفُ بْنُ عِيسَى، نا يَعْقُوبُ بْنُ مُحَمَّدٍ الزُّهْرِيُّ، قَالَ: نا مُجَاشِعُ بْنُ عَمْرٍو، عَنِ ابْنِ لَهِيعَةَ، عَنِ ابْنِ هُبَيْرَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زُرَيْرٍ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ: سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّه صلى الله عليه وسلم عَنِ الْأَبْدَالِ، قَالَ: «هُمْ سِتُّونَ رَجُلًا» قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، جَلِّهِمْ لِي قَالَ: «لَيْسُوا بِالْمُتَنَطِّعِينَ، وَلَا بِالْمُبْتَدِعِينَ، وَلَا بِالْمُتَنَعِّمِينَ، لَمْ يَنَالُوا مَا نَالُوه بِكَثْرَةِ صِيَامٍ وَلَا صَلَاةٍ وَلَا صَدَقَةٍ، وَلَكِنْ بِسَخَاءِ الأنَّفْسِ، وَسَلَامَةِ الْقُلُوبِ، وَالنَّصِيحَةِ لِأَئِمَّتِهِمْ، إِنَّهُمْ يَا عَلِيُّ فِي أُمَّتِي أَقَلُّ مِنَ الْكِبْرِيتِ الْأَحمرِ»
৮ - আব্দুল্লাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবু আল-হুসাইন আল-ওয়াসিতি খালাফ ইবনে ঈসা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ইয়াকুব ইবনে মুহাম্মদ আল-জুহরি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: মুজাশিয়া ইবনে আমর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি ইবনে লাহিয়া থেকে, তিনি ইবনে হুবায়রা থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে জুরাইর থেকে, তিনি আলী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে আবদালদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি বললেন: «তারা হলেন ষাটজন ব্যক্তি» আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমার কাছে তাদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করুন। তিনি বললেন: «তারা অতি সূক্ষ্মতা অন্বেষণকারী নয়, বিদআতকারী নয় এবং বিলাসপ্রিয়ও নয়। তারা যা লাভ করেছে তা অধিক রোজা, নামাজ কিংবা সদকার মাধ্যমে লাভ করেনি; বরং তা লাভ করেছে আত্মার বদান্যতা, হৃদয়ের সুস্থতা এবং তাদের ইমামদের প্রতি শুভকামনার মাধ্যমে। হে আলী, আমার উম্মতের মাঝে তারা লাল গন্ধকের চেয়েও বিরল»
(খণ্ড: ১)
আল-আওলিয়া লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ١٢)
9 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، ذَكَرَ هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ، نا مُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدٍ الْقُرَشِيُّ الْبَصْرِيُّ، نا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ أَبُو حَاتِمٍ، عَنْ عَوْفٍ، عَنِ الْحَسَنِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ مِنْ مُلُوكِ الْآخِرَةِ مَنْ إِنْ نَطَقَ لَمْ يُنْصَتْ لَهُ، وَإِنْ غَابَ لَمْ يُفْتَقَدْ، وَإِنْ خَطَبَ لَمْ يُزَوَّجْ، وَإِنِ اسْتَأْذَنَ عَلَى سُلْطَانٍ لَمْ يُؤْذَنْ لَهُ، لَوْ يُجْعَلُ نُورُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى أَهْلِ الدُّنْيَا لَمَلَأَهُمْ نُورًا»
৯ - আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, হাশিম ইবনুল কাসিম উল্লেখ করেছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে সাঈদ আল-কুরাশী আল-বসরী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ আবু হাতিম বর্ণনা করেছেন আউফ থেকে, তিনি হাসান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই পরকালের বাদশাহদের মধ্যে এমন ব্যক্তি রয়েছে যে, যদি সে কথা বলে তবে তার প্রতি কর্ণপাত করা হয় না; যদি সে অনুপস্থিত থাকে তবে তাকে কেউ খোঁজ করে না; যদি সে বিয়ের প্রস্তাব দেয় তবে তার সাথে বিয়ে দেওয়া হয় না; আর যদি সে কোনো শাসকের নিকট প্রবেশের অনুমতি চায় তবে তাকে অনুমতি দেওয়া হয় না। কিয়ামতের দিন যদি তার নূর দুনিয়াবাসীদের ওপর বণ্টন করে দেওয়া হতো, তবে তা তাদের সকলকে নূর দিয়ে পরিপূর্ণ করে দিতো।’
(খণ্ড: ১)
আল-আওলিয়া লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ١٢)
ثَلَاثُ خِصَالٍ تُوَصِّلُ لِوِلَايَةِ اللَّهِ
তিনটি গুণ যা আল্লাহর বন্ধুত্ব পর্যন্ত পৌঁছে দেয়
(খণ্ড: ১)
আল-আওলিয়া লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ١٣)
10 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، ذَكَرَ مُحَمَّدُ بْنُ إِدْرِيسَ، نا الْمُعَلَّى بْنُ عِيسَى، نا نَهْشَلُ بْنُ سَعِيدٍ الْقُشَيْرِيُّ، عَنِ الضَّحَّاكِ بْنِ مُزَاحِمٍ الْهِلَالِيِّ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، رَفَعَهُ قَالَ: " ثَلَاثٌ مَنْ كُنَّ فِيهِ اسْتَحَقَّ وِلَايَةَ اللَّهِ وَطَاعَتَهُ: حِلْمٌ أَصِيلٌ يَدْفَعُ سَفَهَ السَّفِيهِ عَنْ نَفْسِهِ، وَوَرَعٌ صَادِقٌ يَحْجِزُهُ عَنْ مَعَاصِي اللَّهِ، وَخُلُقٌ حَسَنٌ يُدَارِي بِهِ النَّاسَ "
১০ - আমাদের কাছে আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবন ইদরীস উল্লেখ করেছেন, আমাদের কাছে মুআল্লা ইবন ঈসা বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে নাহশাল ইবন সাঈদ আল-কুশাইরী বর্ণনা করেছেন, যাহহাক ইবন মুযাহিম আল-হিলালী থেকে, তিনি ইবন আব্বাস থেকে মারফু সূত্রে (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্বন্ধ করে) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "তিনটি বিষয় এমন যা যার মাঝে বিদ্যমান থাকবে সে আল্লাহর বন্ধুত্ব ও তাঁর আনুগত্যের যোগ্য বলে বিবেচিত হবে: সুগভীর সহনশীলতা যার মাধ্যমে সে নিজের থেকে নির্বোধের মূর্খতাকে প্রতিহত করে, সত্যনিষ্ঠ পরহেযগারি যা তাকে আল্লাহর অবাধ্যতা থেকে বিরত রাখে এবং সুন্দর চরিত্র যার দ্বারা সে মানুষের সাথে নম্র ও সদয় আচরণ করে।"
(খণ্ড: ১)
আল-আওলিয়া লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ١٣)
11 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، نا أَبُو هِشَامٍ، نا يَحْيَى بْنُ يَمَانٍ، نا زَائِدَةُ، عَنِ الْأَعمشِ، عَنْ سَالِمٍ يَعْنِي ابْنَ أَبِي الْجَعْدِ، قَالَ: يَقُولُ تبارك وتعالى: إِنَّ مِنْ أَوْلِيَائِي مَنْ لَوْ سَأَلَ أَحَدَكُمْ دِرْهَمًا مَا أَعْطَاهُ أَوْ دِينَارًا مَا أَعْطَاهُ، وَلَوْ سَأَلَ اللَّهَ الدُّنْيَا مَا أَعْطَاهُ إِيَّاهَا، وَلَوْ سَأَلَهُ الْجَنَّةَ أَعْطَاهُ إِيَّاهَا، وَلَوْ أَقْسَمَ عَلَى اللَّهِ لَأَبَرَّهُ "
১১ - আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবু হিশাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যায়িদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আ'মাশ থেকে, তিনি সালিম অর্থাৎ ইবনে আবিল জা'দ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: বরকতময় ও সুউচ্চ আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয়ই আমার বন্ধুদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও রয়েছে যে যদি তোমাদের কারো কাছে এক দিরহাম প্রার্থনা করে তবে সে তাকে তা দেবে না, অথবা এক দিনার প্রার্থনা করে তবে সে তাকে তা দেবে না। আর যদি সে আল্লাহর কাছে দুনিয়া প্রার্থনা করে তবে তিনি তাকে তা প্রদান করবেন না, কিন্তু যদি সে তাঁর কাছে জান্নাত প্রার্থনা করে তবে তিনি তাকে তা প্রদান করবেন। আর সে যদি আল্লাহর নামে শপথ করে তবে তিনি অবশ্যই তা পূর্ণ করবেন।"
(খণ্ড: ১)
আল-আওলিয়া লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ١٣)
أَهْلُ الْجَنَّةِ كُلُّ ضَعِيفٍ مُسْتَضْعَفٌ
জান্নাতবাসীগণ হলেন প্রত্যেক দুর্বল এবং হীন জ্ঞানকৃত ব্যক্তি
(খণ্ড: ১)
আল-আওলিয়া লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ١٣)
12 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، ذَكَرَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَرِيرٍ، نا عَمْرُو بْنُ مَرْزُوقٍ، أنا زَائِدَةُ، عَنِ الْأَعمشِ، قَالَ: سَمِعْتَهُمْ يَذْكُرُونَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «أَلَا أُنَبِّئُكُمْ بِأَهْلِ الْجَنَّةِ؟ كُلُّ ضَعِيفٍ مُسْتَضْعَفٍ ذِي طِمْرَيْنِ، لَوْ أَقْسَمَ عَلَى اللَّهِ لَأَبَرَّهُ»
১২ - আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে জারীর উল্লেখ করেছেন, আমাদের নিকট আমর ইবনে মারযূক বর্ণনা করেছেন, যায়িদাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-আ’মাশ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি তাঁদের আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আমি কি তোমাদের জান্নাতবাসীদের সম্পর্কে সংবাদ দেব না? তারা হলো প্রত্যেক এমন দুর্বল ও অবহেলিত ব্যক্তি যার নিকট দুটি জীর্ণ বস্ত্র রয়েছে, সে যদি আল্লাহর নামে শপথ করে তবে আল্লাহ অবশ্যই তা পূর্ণ করবেন»।
(খণ্ড: ১)
আল-আওলিয়া লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ١٤)
13 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، نا سَلَمَةُ بْنُ شَبِيبٍ، نا سَهْلُ بْنُ عَاصِمٍ، عَنْ عَبْدِ الْوَهَّابِ بْنِ نَجْدَةَ، نا مُحَمَّدُ بْنُ حِمْيَرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ، رَفَعَهُ قَالَ: «إِنَّ لِلَّهِ عِبَادًا إِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ أَجْلَسَهُمُ عَلَى مَنَابِرَ مِنْ نُورٍ، وَأَلْقَى عَلَيْهِمُ السُّبَاتَ حَتَّى يَفْرُغَ مِنْ حِسَابِ الْخَلْقِ»
১৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ, তিনি বর্ণনা করেছেন সালামাহ ইবনে শাবীব থেকে, তিনি সাহল ইবনে আসিম থেকে, তিনি আবদুল ওয়াহহাব ইবনে নাজদাহ থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে হিমইয়ার থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে যিয়াদ থেকে, তিনি এটি মারফু হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহর এমন কিছু বান্দা রয়েছেন যাদেরকে কিয়ামতের দিন তিনি নূরের মিম্বরসমূহের ওপর বসাবেন এবং তাদের ওপর তন্দ্রা বা গভীর ঘুম অর্পণ করবেন, যতক্ষণ না তিনি সৃষ্টিজগতের হিসাব গ্রহণ সমাপ্ত করেন।’»
(খণ্ড: ১)
আল-আওলিয়া লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ١٤)
14 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، ذَكَرَ سَلَمَةُ بْنُ شَبِيبٍ، ذَكَرَ سَهْلُ بْنُ عَاصِمٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ أَبِي الدَّرْدَاءِ، قَالَ: ذَكَرَ رَجُلٌ عَنِ الْحَسَنِ، قَالَ: يَقُولُ اللَّهُ تبارك وتعالى: إِذَا عَلِمْتُ أَنَّ الْغَالِبَ عَلَى عَبْدِي التَّمَسُّكُ بِطَاعَتِي مَنَنْتُ عَلَيْهِ بِالِاشْتِغَالِ بِي وَالِانْقِطَاعِ إِلَيَّ "
১৪ - আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, সালামাহ ইবনে শাবীব উল্লেখ করেছেন, সাহল ইবনে আসিম ইসহাক ইবনে আবিদ দারদা থেকে উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: জনৈক ব্যক্তি হাসান থেকে উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা বলেন: “যখন আমি জানতে পারি যে আমার বান্দার ওপর আমার আনুগত্য আঁকড়ে ধরাই প্রবল হয়েছে, তখন আমি তাকে আমার স্মরণে মশগুল হওয়া এবং আমার প্রতি একনিষ্ঠ হওয়ার অনুগ্রহ দান করি।”
(খণ্ড: ১)
আল-আওলিয়া লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ١٤)
الَّذِينَ إِذَا رُؤُوا ذُكِرَ اللَّهُ
তারা, যাদের দেখলে আল্লাহর কথা স্মরণ হয়
(খণ্ড: ১)
আল-আওলিয়া লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ١٤)
15 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، نا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ، نا يَعْقُوبُ الْقَمِّيُّ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ أَبِي الْمُغِيرَةِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، قَالَ: قِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَنْ أَوْلِيَاءُ اللَّهِ؟ قَالَ: «الَّذِينَ إِذَا رُؤُوا ذُكِرَ اللَّهُ»
১৫ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবন আবদিল ওয়াহহাব আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইয়াকুব আল-কুম্মী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, জাফর ইবন আবিল মুগীরা থেকে বর্ণিত, তিনি সাঈদ ইবন জুবায়র থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহর ওলী কারা? তিনি বললেন: "তারা তারাই, যাদের দেখলে আল্লাহর কথা স্মরণ হয়।"
(খণ্ড: ১)
আল-আওলিয়া লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ١٤)
16 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، نا دَاوُدُ بْنُ عَمْرٍو الضَّبِّيُّ، وَخَلَفُ بْنُ هِشَامٍ، قَالَا: نا دَاوُدُ الْعَطَّارُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُثْمَانَ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ يَزِيدَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِخِيَارِكُمْ؟» قَالُوا: بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: «الَّذِينَ إِذَا رُؤُوا ذُكِرَ اللَّهُ»
১৬ - আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট দাউদ ইবনে আমর আদ-দব্বী ও খালাফ ইবনে হিশাম বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের নিকট দাউদ আল-আত্তার বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে উসমান থেকে, তিনি শাহর ইবনে হাওশাব থেকে, তিনি আসমা বিনতে ইয়াযিদ থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «আমি কি তোমাদেরকে তোমাদের মধ্যকার সর্বোত্তম ব্যক্তিদের সম্পর্কে জানাব না?» তাঁরা বললেন: «অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসূল», তিনি বললেন: «তারাই তারা, যাদের দেখলে আল্লাহর কথা স্মরণ হয়»
(খণ্ড: ১)
আল-আওলিয়া লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ١٥)
17 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، نا عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ، أنا الْمُبَارَكُ بْنُ فَضَالَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ لِلَّهِ عِبَادًا إِذَا رُؤُوا ذُكِرَ اللَّهُ»
১৭ - আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনুল জা’দ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুবারাক ইবনে ফাদালাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাসান থেকে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহর এমন কিছু বান্দা রয়েছেন যাদেরকে দেখলে আল্লাহকে স্মরণ করা হয়।»
(খণ্ড: ১)
আল-আওলিয়া লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ١٥)
وَصْفُ عِيسَى عليه السلام لِأَوْلِيَاءِ اللَّهِ
আল্লাহর ওলিদের সম্পর্কে ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর বর্ণনা
(খণ্ড: ১)
আল-আওলিয়া লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ١٥)
18 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، ذَكَرَ مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمِ بْنِ بَزِيعٍ، نا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ، نا غَوْثُ بْنُ جَابِرٍ، قَالَ: سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ دَاوُدَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ وَهْبِ بْنِ مُنَبِّهٍ، قَالَ: قَالَ الْحَوَارِيُّونَ لِعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ: مَنْ أَوْلِيَاءُ اللَّهِ الَّذِينَ لَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ؟ قَالَ عِيسَى: «الَّذِينَ نَظَرُوا إِلَى بَاطِنِ الدُّنْيَا حِينَ نَظَرَ النَّاسُ إِلَى ظَاهِرِهَا، وَالَّذِينَ نَظَرُوا إِلَى آجِلِ الدُّنْيَا حِينَ نَظَرَ النَّاسُ إِلَى عَاجِلِهَا، فَأَمَاتُوا مِنْهَا مَا خَشُوا أَنْ يُمِيتَهُمْ، وَتَرَكُوا مِنْهَا مَا عَلِمُوا أَنْ سَيَتْرُكُهُمْ، فَصَارَ اسْتِكْثَارُهُمْ مِنْهَا اسْتِقْلَالًا، وَذِكْرُهُمْ إِيَّاهَا فَوَاتًا، وَفَرَحُهُمْ بِمَا أَصَابُوا مِنْهَا حُزْنًا، فَمَا عَارَضَهُمْ مِنْ نَائِلِهَا رَفَضُوهُ، وَمَا عَارَضَهُمْ مِنْ رَفْعَتِهَا بِغَيْرِ الْحَقِّ وَضَعُوهُ، خَلَقَتِ الدُّنْيَا عِنْدَهُمْ فَلَيْسُوا يُجَدِّدُونَهَا، وَخَرِبَتْ بَيْنَهُمْ فَلَيْسُوا يَعْمُرُونَهَا، وَمَاتَتْ فِي صُدُورِهِمْ فَلَيْسُوا يُحْيُونَهَا، يَهْدِمُونَهَا وَيَبْنُونَ بِهَا آخِرَتَهُمْ، وَيَبِيعُونَهَا فَيَشْتَرُونَ بِهَا مَا يَبْقَى لَهُمْ، رَفَضُوهَا فَكَانُوا بِرَفْضِهَا فَرِحِينَ، وَبَاعُوهَا فَكَانُوا بِبَيْعِهَا رَابِحِينَ، وَنَظَرُوا إِلَى أَهْلِهَا صَرْعَى قَدْ حَلَّتْ فِيهِمُ الْمَثُلَاتُ، فَأَحْيَوْا ذِكْرَ الْمَوْتِ، وَأَمَاتُوا ذِكْرَ الْحَيَاةِ، يُحِبُّونَ اللَّهَ، وَيُحِبُّونَ ذِكْرَهُ، وَيَسْتَضِيئُونَ بِنُورِهِ، لَهُمْ خَبَرٌ عَجَبٌ، وَعِنْدَهُمُ الْخَبَرُ الْعَجَبُ، بِهِمْ قَامَ الْكِتَابُ، وَبِهِمْ نَطَقَ الْكِتَابُ، وَبِهِ نَطَقُوا، وَبِهِمْ عُلِمَ الْكِتَابُ، وَبِهِ عَلِمُوا، لَيْسُوا يَرَوْنَ نَائِلًا مَعَ مَا نَالُوا، وَلَا أَمَانًا دُونَ مَا يَرْجُونَ، وَلَا خَوْفًا دُونَ مَا يَحْذَرُونَ»
১৮ - আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে হাতিম ইবনে বাযী উল্লেখ করেছেন, আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হাম্বল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, গাওস ইবনে জাবির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মাদ ইবনে দাউদ থেকে শুনেছি, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ওয়াহব ইবনে মুনাব্বিহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: হাওয়ারীগণ ঈসা ইবনে মারিয়ামকে বললেন: আল্লাহর সেই ওলীগণ কারা যাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না? ঈসা (আ.) বললেন: «যারা দুনিয়ার অভ্যন্তরীণ রূপের দিকে তাকিয়েছে যখন মানুষ এর বাহ্যিক রূপের দিকে তাকাচ্ছিল, এবং যারা দুনিয়ার পরকালীন পরিণতির দিকে তাকিয়েছে যখন মানুষ এর উপস্থিত ভোগের দিকে তাকাচ্ছিল। ফলে তারা দুনিয়ার ঐসব বিষয়কে বিসর্জন দিয়েছে যা তাদের (হৃদয়কে) মৃত করে ফেলার ভয় ছিল, এবং তারা দুনিয়া থেকে ঐসব বস্তু ত্যাগ করেছে যা তারা জানত যে শীঘ্রই তাদের ছেড়ে চলে যাবে। ফলে দুনিয়ার প্রাচুর্য অর্জন তাদের নিকট তুচ্ছ হয়ে গেছে, এবং এর আলোচনা তাদের নিকট সুযোগ হারানোর নামান্তর হয়েছে। দুনিয়া থেকে যা কিছু তারা পেয়েছে তাতে তাদের আনন্দ ছিল দুঃখের মতো। এর যা কিছু ভোগ-বিলাস তাদের সামনে এসেছে তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছে, এবং অন্যায়ভাবে এর যে উচ্চমর্যাদা তাদের সামনে পেশ করা হয়েছে তারা তা ত্যাগ করেছে। তাদের নিকট দুনিয়া জীর্ণ হয়ে গেছে তাই তারা একে নতুন করে গড়ার চেষ্টা করে না, এবং তাদের মাঝে দুনিয়া ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে তাই তারা একে আবাদ করে না। তাদের অন্তরে দুনিয়া মরে গেছে তাই তারা একে জীবিত করে না; তারা একে ধ্বংস করে এবং এর বিনিময়ে তাদের আখিরাত নির্মাণ করে। তারা একে বিক্রি করে দেয় এবং যা তাদের জন্য চিরস্থায়ী তা ক্রয় করে। তারা একে বর্জন করেছে এবং এই বর্জনেই তারা আনন্দিত হয়েছে। তারা একে বিক্রি করেছে এবং এই বিক্রয়ে তারা লাভবান হয়েছে। তারা দুনিয়াদারদের দিকে লাঞ্ছিত ও বিপদে পতিত অবস্থায় তাকিয়েছে। তারা মৃত্যুর স্মরণকে জীবিত করেছে এবং পার্থিব জীবনের স্মরণকে মিটিয়ে দিয়েছে। তারা আল্লাহকে ভালোবাসে, তাঁর স্মরণকে ভালোবাসে এবং তাঁর নূরে আলোকিত হয়। তাদের জন্য রয়েছে বিস্ময়কর সংবাদ এবং তাদের নিকটই আছে বিস্ময়কর জ্ঞান। তাদের মাধ্যমেই কিতাব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তাদের মাধ্যমেই কিতাব কথা বলেছে এবং তারা কিতাবের সাহায্যেই কথা বলেছে। তাদের মাধ্যমেই কিতাব পরিচিতি লাভ করেছে এবং কিতাবের মাধ্যমেই তারা জ্ঞান লাভ করেছে। তারা যা লাভ করেছে তার সামনে অন্য কোনো প্রাপ্তিকে প্রাপ্তি মনে করে না, তারা যা আশা করে তা ছাড়া অন্য কোথাও নিরাপত্তা দেখে না এবং তারা যা থেকে সতর্ক থাকে তা ছাড়া অন্য কোনো ভয়কে ভয় মনে করে না।»
(খণ্ড: ১)
আল-আওলিয়া লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ١٥)
19 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، نا الْهَيْثَمُ بْنُ خَارِجَةَ، نا رِشْدِينُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْوَلِيدِ التُّجِيبِيِّ، عَنْ أَبِي مَنْصُورٍ مَوْلَى الْأَنْصَارِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْجَمُوحِ، أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ⦗ص: 16⦘: " لَا يَحِقُّ لِلْعَبْدِ حَقُّ صَرِيحِ الْإِيمَانِ حَتَّى يُحِبَّ فِي اللَّهِ، وَيُبْغِضَ فِي اللَّهِ، فَإِذَا أَحَبَّ فِي اللَّهِ وَأَبْغَضَ فِي اللَّهِ فَقَدْ اسْتَحَقَّ الْوَلَايَةَ، قَالَ اللَّهُ: إِنَّ أَوْلِيَائِي مِنْ عِبَادِي وَأَحِبَّائِي مِنْ خَلْقِي الَّذِي يُذْكَرُونَ بِذِكْرِي، وَأُذْكَرُ بِذِكْرِهِمْ "
১৯ - আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আল-হাইসাম ইবনুল খারিজাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, রুশদীন ইবনে সা'দ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনুল ওয়ালীদ আত-তুজীবী থেকে, তিনি আনসারদের আযাদকৃত গোলাম আবু মানসূর থেকে, তিনি আমর ইবনুল জামূহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ১৬⦘: "কোনো বান্দা ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানের প্রকৃত হাকীকত লাভ করতে পারে না, যতক্ষণ না সে আল্লাহর জন্য ভালোবাসে এবং আল্লাহর জন্য ঘৃণা করে। অতঃপর যখন সে আল্লাহর জন্য ভালোবাসে এবং আল্লাহর জন্য ঘৃণা করে, তখন সে (আল্লাহর) বন্ধুত্ব লাভের উপযুক্ত হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: 'নিশ্চয়ই আমার বান্দাদের মধ্যে আমার ওলীগণ এবং আমার সৃষ্টির মধ্যে আমার প্রিয়পাত্রগণ তারাই, যাদের স্মরণে আমাকে স্মরণ করা হয় এবং আমার স্মরণে যাদের স্মরণ করা হয়।'"
(খণ্ড: ১)
আল-আওলিয়া লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ١٦)
20 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، ذَكَرَ الْعَبَّاسُ بْنُ جَعْفَرٍ، نا سَعِيدُ بْنُ عُطَارِدٍ الْكِنْدِيُّ، نا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ خَالِدِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِلَالٍ، أَنَّ مُخْبِرًا، أَخْبَرَ أَنَّهُ دَخَلَ عَلَى رَأْسِ الْجَالُوتِ وَهُوَ يَبْكِي، فَقُلْتُ: مَا يُبْكِيكَ؟ قَالَ: إِنِّي أَتَيْتُ عَلَى هَذِهِ الْآيَةِ «أَنِّي كُنْتُ أَحِبُّكُمْ، فَلَمَّا عَصَيْتُمْ أَبْغَضْتُكُمْ»
২০ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্বাস ইবনে জাফর উল্লেখ করেছেন, সাঈদ ইবনে উতারিদ আল-কিন্দি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে লাহিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, খালিদ ইবনে ইয়াজিদ থেকে বর্ণিত, তিনি সাঈদ ইবনে আবি হিলাল থেকে বর্ণনা করেন যে, জনৈক সংবাদদাতা সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি রাস আল-জালুতের নিকট প্রবেশ করলেন এমতাবস্থায় যে তিনি কাঁদছিলেন। আমি বললাম: "আপনি কেন কাঁদছেন?" তিনি বললেন: "আমি এই আয়াতের নিকট পৌঁছেছি যে— 'নিশ্চয়ই আমি তোমাদের ভালোবাসতাম, অতঃপর যখন তোমরা অবাধ্যতা করলে, তখন আমি তোমাদের ঘৃণা করলাম'।"
(খণ্ড: ১)
আল-আওলিয়া লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ١٦)
كَرَامَةُ مُعَاوِيَةَ اللَّيْثِيِّ
মুয়াবিয়া আল-লাইসির কারামত
(খণ্ড: ১)
আল-আওলিয়া লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ١٦)
21 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، نا أَبُو خَيْثَمَةَ، نا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أنا الْعَلَاءُ أَبُو مُحَمَّدٍ الثَّقَفِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، قَالَ: كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِتَبُوكَ، فَطَلَعَتِ الشَّمْسُ بِشُعَاعٍ وَضِيَاءٍ وَنُورٍ لَمْ نَرَهَا طَلَعَتْ بِهِ فِيمَا مَضَى، فَأَتَى جِبْرِيلُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: «يَا جِبْرِيلُ، مَا لِي أَرَى الشَّمْسَ الْيَوْمَ بِضِيَاءٍ وَنُورٍ وَشُعَاعٍ لَمْ أَرَهَا طَلَعَتْ بِهِ فِيمَا مَضَى؟» قَالَ: إِنَّ ذَاكَ مُعَاوِيَةُ اللَّيْثِيُّ مَاتَ بِالْمَدِينَةِ الْيَوْمَ، فَبَعَثَ اللَّهُ سَبْعِينَ أَلْفَ مَلَكٍ يُصَلُّونَ عَلَيْهِ، قَالَ: «وَفِيمَ ذَاكَ؟» قَالَ: كَانَ يُكْثِرُ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ فِي اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ، فِي مَمْشَاهُ، وَقِيَامِهِ، وَقُعُودِهِ، فَهَلْ لَكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنْ أقْبِضَ لَكَ الْأَرْضَ فَتُصَلِّيَ عَلَيْهِ؟ قَالَ: «نَعَمْ» ، فَصَلَّى عَلَيْهِ ثُمَّ رَجَعَ
২১ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু খাইসামাহ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াযিদ ইবনে হারুন, তিনি বলেন আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন আল-আলা আবু মুহাম্মদ আস-সাকাফি, তিনি বলেন: আমি আনাস ইবনে মালিককে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তাবুকে ছিলাম। তখন সূর্য এমন রশ্মি, আভা এবং আলো নিয়ে উদিত হলো যা ইতিপূর্বে কখনো আমরা তাকে এমনভাবে উদিত হতে দেখিনি। অতঃপর জিবরীল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন। তিনি (নবীজী) বললেন: «হে জিবরীল, আজ আমি সূর্যকে এমন আভা, আলো ও রশ্মি নিয়ে উদিত হতে দেখছি কেন যা ইতিপূর্বে তাকে এমনভাবে উদিত হতে দেখিনি?» তিনি (জিবরীল) বললেন: তা একারণে যে, মুয়াবিয়া আল-লায়সী আজ মদিনায় মৃত্যুবরণ করেছেন। ফলে আল্লাহ সত্তর হাজার ফেরেশতা প্রেরণ করেছেন যারা তার জানাযার সালাত আদায় করছেন। তিনি (নবীজী) বললেন: «তা কী কারণে সম্ভব হলো?» তিনি (জিবরীল) বললেন: তিনি দিবা-রাত্রিতে, তার চলায়, দাঁড়ানো অবস্থায় এবং বসা অবস্থায় অধিক পরিমাণে 'কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ' (সুরা ইখলাস) পাঠ করতেন। হে আল্লাহর রাসূল, আপনি কি চান যে আমি আপনার জন্য জমিনকে সংকুচিত করে দেই যাতে আপনি তার জানাযার সালাত আদায় করতে পারেন? তিনি (নবীজী) বললেন: «হ্যাঁ», অতঃপর তিনি তার জানাযার সালাত আদায় করলেন এবং তারপর ফিরে আসলেন।