(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ লিবনি আব্দুল বার
(পৃষ্ঠা: -)
الإنصاف لابن عبد البر القسم: الفقه العام
الكتاب: الإنصاف فيما بين علماء المسلمين في قراءة بسم الله الرحمن الرحيم في فاتحة الكتاب.
المؤلف: أبو عمر يوسف بن عبد الله بن محمد بن عبد البر بن عاصم النمري القرطبي (ت 463هـ)
تحقيق: عبد اللطيف بن محمد الجيلاني المغربي.
الناشر: أضواء السلف - السعودية.
الطبعة: الأولى، 1417هـ / 1997م.
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 292
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইবন আবদ আল-বার-এর আল-ইনসাফ বিভাগ: সাধারণ ফিকহ
গ্রন্থ: সূরা ফাতিহার শুরুতে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম পাঠের বিষয়ে মুসলিম আলেমদের মাঝে বিদ্যমান মতপার্থক্য নিরসন।
লেখক: আবু ওমর ইউসুফ বিন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আবদ আল-বার বিন আসিম আন-নামারি আল-কুরতুবি (মৃ. ৪৬৩ হিজরি)
সম্পাদনা: আবদুল লতিফ বিন মুহাম্মদ আল-জিলানি আল-মাগরিবি।
প্রকাশক: আদওয়াউস সালাফ - সৌদি আরব।
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৭ হিজরি / ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ।
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৯২
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ লিবনি আব্দুল বার
(পৃষ্ঠা: ১৫১)
مُقَدِّمَةٌبسم الله الرحمن الرحيموَصَلَّى اللَّهُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ ، وَآلِهِ وَصَحْبِهِ وَسَلَّمَ.يَقُولُ الشَّيْخُ الْإِمَامُ وَفَخْرُ الْإِسْلَامِ حَافِظُ المَشْرِقِ وَالمَغْرِبِ أَبُو عُمَرَ بْنُ عَبْدِ البَرِّ النَّمَرِيُّ المَالِكِيُّ رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى: الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ ، الَّذِي جَعَلَ الْعِلْمَ نُورًا لِلْمُهْتَدِينَ ، وَشِفَاءً لِصُدُورِ الْمُؤْمِنِينَ ، وَحُجَّةً عَلَى الْجَاحِدِينَ وَالْمُبْطِلِينَ ، وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَآلِهِ وَصَحْبِهِ أَجْمَعِينَ. أَمَّا بَعْدُ: فَإِنَّ بَعْضَ إِخْوَانِنَا الْمُعْتَنِينَ بِالْعِلْمِ الْمَقَيِّدِينَ لَهُ الْمُتَفَقِّهِينَ فِيهِ ، رَغِبَ أَنْ أَجْمَعَ لَهُ مَا يَقِفُ بِهِ عَلَى مَا كَانَ عَلَيْهِ عُلَمَاءُ السَّلَفِ مِنَ الصَّحَابَةِ وَالتَّابِعِينَ فِي قِرَاءَةِ {بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ} [الفاتحة: 1] فِي أَوَّلِ فَاتِحَةِ الْكِتَابِ فِي الصَّلَاةِ ، وَهَلْ كَانُوا يَعُدُّونَهَا آيَةً مِنْهَا ، فَيَجْهَرُونَ بِهَا إِذَا قَرَءُوا فَاتِحَةَ الْكِتَابِ ، أَوْ يُخْفُونَهَا عِنْدَ قِرَاءَتِهِمْ لَهَا أَوْ يُسْقِطُونَهَا فَلَا يَرَوْنَهَا آيَةً مِنْهَا ، وَلَا مِنْ أَوَائِلِ سُوَرِ الْقُرْآنِ سِوَاهَا؟
ভূমিকাপরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবির ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।শায়খ, ইমাম, ইসলামের গৌরব এবং প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের হাফেজ (حافظ) আবু উমর বিন আব্দুল বার আন-নামারি আল-মালিকি (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন) বলেন: সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যিনি জ্ঞানকে হিদায়েতপ্রাপ্তদের জন্য নূর এবং মুমিনদের অন্তরের জন্য আরোগ্যস্বরূপ করেছেন , এবং তা অস্বীকারকারী ও বাতিলপন্থীদের বিরুদ্ধে প্রমাণস্বরূপ রেখেছেন। আর আল্লাহ আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবির ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন। অতঃপর: জ্ঞানার্জনে মনোযোগী, তা লিপিবদ্ধকারী এবং তাতে ব্যুৎপত্তি অন্বেষণকারী আমাদের এক ভাই আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন যে, আমি যেন তাঁর জন্য এমন কিছু সংকলন করি যার মাধ্যমে তিনি সালাতে সূরা ফাতিহার শুরুতে {বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম} [ফাতিহা: ১] পাঠের বিষয়ে সাহাবি (صحابة) ও তাবেয়ি (تابعين) পর্যায়ের পূর্বসূরি আলেমগণের (علماء السلف) কর্মপন্থা সম্পর্কে অবগত হতে পারেন। আর তারা কি একে সূরা ফাতিহার একটি আয়াত গণ্য করতেন এবং সূরা ফাতিহা পাঠের সময় তা উচ্চস্বরে পাঠ করতেন, নাকি পাঠের সময় তা নিঃশব্দে পাঠ করতেন অথবা তা বর্জন করতেন—যেহেতু তারা একে ফাতিহার আয়াত মনে করতেন না এবং ফাতিহা ব্যতীত কুরআনের অন্য কোনো সূরার শুরুর আয়াতও মনে করতেন না?
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ লিবনি আব্দুল বার
(পৃষ্ঠা: ১৫২)
وَهَلِ اخْتَلَفُوا فِي ذَلِكَ أَوْ كَانُوا عَلَى وَجْهٍ مِنْهُ مُتَّفِقِينَ؟ وَمَا الَّذِي اخْتَارَهُ أَئِمَّةُ الْفُقَهَاءِ الَّذِينَ تَدُورُ عَلَى مَذَاهِبِهِمُ الْفُتْيَا فِي أَمْصَارِ الْمُسْلِمِينَ مِنْ ذَلِكَ؟ وَمَا الْآثَارُ الَّتِي كَانَتْ سَبَبَ اخْتِلَافِهِمْ فِيمَا اخْتَلَفُوا فِيهِ مِنْ إِسْقَاطِ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ وَفِي إِثْبَاتِهَا وَفِي الْجَهْرِ بِهَا ، وَإِخْفَائِهَا ، وَمَا نَزَعَتْ بِهِ كُلُّ فِرْقَةٍ مِنْ جِهَةِ الْأَثَرِ ، وَاحْتَجَّتْ بِهِ مِنْ ذَلِكَ لِاخْتِيَارِهَا لِمَا رَوَتْهُ عَنْ سَلَفِهَا؟ فَأَجَبْتُهُ بِعَوْنِ اللَّهِ تَعَالَى وَفَضْلِهِ فِيمَا رَغِبَ ، وَسَارَعْتُ إِلَى مَا طَلَبَ؛ ابْتِغَاءَ ثَوَابِ اللَّهِ تَعَالَى فِي نَشْرِ مَا عَلَّمَنِي اللَّهُ ، وَخَوْفَ الْوَعِيدِ الْوَارِدِ فِي كِتْمَانِ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ فِي كِتَابِهِ ، أَوْ بَيَّنَهُ رَسُولُهُ صلى الله عليه وسلم. وَإِلَى اللَّهِ عز وجل أَضْرَعُ مُبْتَهِلًا فِيَ أَنْ يَهَبَ لَنَا وَلِلنَّاظِرِينَ فِيهِ عِلْمًا نَافِعًا ، وَعَمَلًا يُقَرِّبُ مِنْهُ مُتَقَبَّلًا ، وَهُوَ حَسْبِي عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ فِيمَا لَهُ قَصَدْتُ ، وَمَا تَوْفِيقِي إِلَّا بِاللَّهِ. فَأَوَّلُ مَا أَبْدَأُ بِهِ الْإِخْبَارُ عَنْ جُمْلَةِ أَقْوَالِ الْعُلَمَاءِ فِي ذَلِكَ
আর তারা কি এ বিষয়ে মতভেদ করেছেন নাকি কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে ঐক্যমত (متفقين) পোষণ করেছেন? আর মুসলিম ভূখণ্ডসমূহে ফতোয়া যাদের মাযহাবের ওপর আবর্তিত হয়, সেই ইমাম ফকীহগণের (فقهاء) মধ্য থেকে এ ক্ষেত্রে কে কোন মতটি গ্রহণ করেছেন? আর 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম' বর্জন করা কিংবা এটি সাব্যস্ত করা এবং তা উচ্চস্বরে বা নিচুস্বরে পাঠ করার ক্ষেত্রে তাদের মতভেদের কারণস্বরূপ বর্ণনাসমূহ (آثار) কী ছিল? আর প্রতিটি দল বর্ণনার (أثر) দিক থেকে কী দলিল পেশ করেছে এবং তাদের পূর্বসূরিদের (سلف) থেকে বর্ণিত (روى) বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে তারা যে মতটি বেছে নিয়েছে তার সপক্ষে কী যুক্তি উপস্থাপন করেছে?
অতঃপর আমি মহান আল্লাহর সাহায্য ও অনুগ্রহে তার আকাঙ্ক্ষিত বিষয়ে উত্তর দিয়েছি এবং যা চাওয়া হয়েছে তা পূরণে সচেষ্ট হয়েছি; যেন আল্লাহ আমাকে যা শিখিয়েছেন তা প্রচারের মাধ্যমে তাঁর সওয়াব লাভ করতে পারি এবং যা আল্লাহ তাঁর কিতাবে অবতীর্ণ করেছেন বা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন তা গোপন করার ব্যাপারে যে কঠোর হুঁশিয়ারি এসেছে তা থেকে রক্ষা পেতে পারি। আর আমি মহান আল্লাহর নিকট বিনীতভাবে প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমাদের এবং এর পাঠকদের জন্য উপকারী জ্ঞান এবং এমন কবুলযোগ্য আমল দান করেন যা তাঁর নৈকট্য অর্জনে সহায়ক হয়। তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট, আমি আমার উদ্দিষ্ট লক্ষ্যে তাঁর ওপরই ভরসা করেছি। আর আল্লাহর তৌফিক ব্যতীত কোনো সামর্থ্য নেই। সুতরাং এ বিষয়ে আলেমদের সামগ্রিক অভিমতসমূহ বর্ণনার মাধ্যমেই আমি শুরু করছি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ লিবনি আব্দুল বার
(পৃষ্ঠা: ১৫৩)
بَابُ ذِكْرِ اخْتِلَافِهِمْ فِي قِرَاءَةِ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ فِي الصَّلَاةِ أَوَّلَ فَاتِحَةِ الْكِتَابِ ، وَهَلْ هِيَ آيَةٌ مِنْهَا؟ اخْتَلَفَ عُلَمَاءُ السَّلَفِ وَالْخَلَفِ فِي قِرَاءَةِ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ فِي أَوَّلِ فَاتِحَةِ الْكِتَابِ ، وَهَلْ هِيَ آيَةٌ مِنْهَا؟ فَذَهَبَ مَالِكٌ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ وَأَصْحَابُهُ إِلَى أَنَّهَا لَا تُقْرَأُ فِي أَوَّلِ فَاتِحَةِ الْكِتَابِ فِي شَيْءٍ مِنَ الصَّلَوَاتِ لَا سِرًّا وَلَا جَهْرًا ، وَلَيْسَتْ عِنْدَهُمْ آيَةً مِنْ أُمِّ الْقُرْآنِ ، وَلَا مِنْ غَيْرِهَا مِنْ سُوَرِ الْقُرْآنِ إِلَّا فِي سُورَةِ النَّمْلِ فِي قَوْلُهُ تَعَالَى: {إِنَّهُ مِنْ سُلَيْمَانَ وَإِنَّهُ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمُ} [النمل: 30] وَإِنَّ اللَّهَ لَمْ يُنْزِلْهَا فِي كِتَابِهِ فِي غَيْرِ هَذَا الْمَوْضِعِ مِنْ سُورَةِ النَّمْلِ. وَرُوِيَ مِثْلُ قَوْلِ مَالِكٍ فِي ذَلِكَ كُلِّهِ عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ ، وَبِذَلِكَ قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ جَرِيرِ بْنِ يَزِيدَ الطَّبَرِيُّ
সালাতে ফাতিহাতুল কিতাবের শুরুতে 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম' পাঠ করা এবং এটি তার অংশ কি না, সে বিষয়ে তাঁদের মতপার্থক্যের বিবরণ। ফাতিহাতুল কিতাবের শুরুতে 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম' পাঠ করা এবং এটি তার কোনো আয়াত কি না, সে বিষয়ে সালাফ ও খালাফ ওলামায়ে কেরাম মতভেদ করেছেন। ইমাম মালিক (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) ও তাঁর অনুসারীরা এই মত পোষণ করেছেন যে, কোনো সালাতেই ফাতিহাতুল কিতাবের শুরুতে এটি পাঠ করা হবে না, চাই তা নিঃশব্দে হোক বা সশব্দে। তাঁদের মতে, এটি উম্মুল কুরআনের কোনো আয়াত নয় এবং কুরআনের অন্য কোনো সূরারও আয়াত নয়; কেবল সূরা আন-নামলের সেই আয়াতটি ব্যতীত যেখানে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {নিশ্চয়ই এটি সুলায়মানের পক্ষ থেকে এবং তা হলো— পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে} [সূরা আন-নামল: ৩০]। আর আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে সূরা আন-নামলের এই স্থানটি ব্যতীত অন্য কোথাও এটি অবতীর্ণ করেননি। ইমাম মালিকের এই পূর্ণ বক্তব্যের অনুরূপ ইমাম আওযায়ি থেকেও বর্ণিত (روي) হয়েছে এবং আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে জারির ইবনে ইয়াজিদ আত-তাবারীও অনুরূপ বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ লিবনি আব্দুল বার
(পৃষ্ঠা: ১৫৪)
وَأَجَازَ مَالِكٌ وَأَصْحَابُهُ قِرَاءَةَ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ فِي صَلَاةِ النَّافِلَةِ فِي أَوَّلِ فَاتِحَةِ الْكِتَابِ ، وَفِي سَائِرِ سُوَرِ الْقُرْآنِ لِلْمُتَهَجِّدِينَ وَلِمَنْ يَعْرِضُ الْقُرْآنَ عَرْضًا عَلَى الْمُقْرِئِينَ وَأُمُّ الْقُرْآنِ عِنْدَهُمْ سَبْعُ آيَاتٍ يَعُدُّونَ {أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ} [الفاتحة: 7] آيَةً ، وَهُوَ عَدُّ أَهْلِ الْمَدِينَةِ مِنَ الْقُرَّاءِ، وَأَهْلِ الشَّامِ، وَأَهْلِ الْبَصْرَةِ، وَقَالَ أَهْلُ الْعِرَاقِ وَالْمَشْرِقِ ، وَسُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ ، وَابْنُ أَبِي
ইমাম মালিক এবং তাঁর অনুসারীগণ নফল সালাতে সুরা ফাতিহার শুরুতে এবং কুরআনের অন্যান্য সকল সুরার শুরুতে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ পাঠ করাকে বৈধ গণ্য করেছেন। এটি তাহাজ্জুদ আদায়কারী এবং যারা ক্বারিদের নিকট কুরআন পেশ (عرضًا) করার মাধ্যমে তিলাওয়াত করেন তাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তাদের নিকট ‘উম্মুল কুরআন’ সাতটি আয়াত বিশিষ্ট; তারা ‘আনআমতা আলাইহিম’ [আল-ফাতিহা: ৭] অংশটিকে একটি আয়াত হিসেবে গণনা করেন। আর এটিই মদিনার ক্বারিগণ, সিরিয়াবাসী এবং বসরাবাসীদের অনুসৃত গণনা পদ্ধতি। ইরাক ও প্রাচ্যবাসীগণ, সুফিয়ান আস-সাওরি এবং ইবনে আবি...
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ লিবনি আব্দুল বার
(পৃষ্ঠা: ১৫৫)
لَيْلَى ، وَالْحَسَنُ بْنُ حَيٍّ ، وَأَبُو حَنِيفَةَ وَأَصْحَابُهُ ، وَأَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ ، وَإِسْحَاقُ بْنُ رَاهَوَيْهِ ، وَأَبُو عُبَيْدٍ الْقَاسِمُ بْنُ سَلَامٍ: يَقْرَأُ الْإِمَامُ فِي أَوَّلِ
ইবনে আবি লায়লা, আল-হাসান ইবনে হাই, আবু হানিফা ও তাঁর অনুসারীগণ, আহমদ ইবনে হাম্বল, ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহি এবং আবু উবাইদ আল-কাসিম ইবনে সাল্লাম বলেন: ইমাম প্রথম...
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ লিবনি আব্দুল বার
(পৃষ্ঠা: ১৫৬)
فَاتِحَةِ الْكِتَابِ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ وَيُخْفِيهَا عَمَّنْ خَلْفَهُ وَرُوِيَ ذَلِكَ عَنْ عُمَرَ ، وَعُثْمَانَ ، وَعَلِيٍّ رضي الله عنهم عَلَى اخْتِلَافٍ فِي ذَلِكَ عَنْ عُمَرَ ، وَعَلِيٍّ ، وَلَمْ يُخْتَلَفْ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ فِي أَنَّهُ كَانَ يُخْفِيهَا ، وَهُوَ قَوْلُ إِبْرَاهِيمَ النَّخْعِيِّ ، وَالْحَكَمِ بْنِ عُتَيْبَةَ ، وَحَمَّادِ بْنِ أَبِي سُلَيْمَانَ ، وَغَيْرِهِمْ
সুরা ফাতিহার ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ তিনি তাঁর পেছনের মুক্তাদিদের নিকট নিচু স্বরে পাঠ করতেন। এটি ওমর, উসমান এবং আলী (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে; যদিও ওমর ও আলী (রা.)-এর বর্ণনার ক্ষেত্রে এ বিষয়ে মতভেদ (اختلاف) রয়েছে। তবে ইবনে মাসঊদ (রা.)-এর ব্যাপারে কোনো মতভেদ (اختلاف) নেই যে তিনি তা নিচু স্বরে পাঠ করতেন। এটি ইবরাহিম আন-নাখয়ী, আল-হাকাম ইবনে উতাইবাহ, হাম্মাদ ইবনে আবু সুলাইমান এবং অন্যদেরও অভিমত।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ লিবনি আব্দুল বার
(পৃষ্ঠা: ১৫৭)
وَهِيَ آيَةٌ مِنْ أَوَّلِ فَاتِحَةِ الْكِتَابِ عِنْدَ جَمَاعَةِ قُرَّاءِ الْكُوفِيِّينَ ، وَجُمْهُورِ فُقَهَائِهِمْ ، إِلَّا أَنَّ السُّنَّةَ عِنْدَهُمْ فِيهَا إِخْفَاؤُهَا فِي صَلَاةِ الْجَهْرِ تَسْلِيمًا ، وَاتِّبَاعًا لِلْآثَارِ الْمَرْفُوعَةِ فِي ذَلِكَ. وَقَالَ الْكَرْخِيُّ وَغَيْرُهُ مِنْ أَصْحَابِ أَبِي حَنِيفَةَ: إِنَّهُ لَا يُحْفَظُ عَنْهُ هَلْ هِيَ آيَةٌ مِنْ فَاتِحَةِ الْكِتَابِ أَمْ لَا؟ قَالُوا: وَمَذْهَبُهُ يَقْتَضِي أَنَّهَا لَيْسَتْ آيَةً مِنْ فَاتِحَةِ الْكِتَابِ؛ لِأَنَّهُ يُسِرُّ بِهَا فِي صَلَاةِ الْجَهْرِ قَالَ دَاوُدُ بْنُ عَلِيٍّ: هِيَ آيَةٌ مِنَ الْقُرْآنِ مُنْفَرِدَةٌ فِي كُلِّ مَوْضِعٍ كُتِبَتْ فِيهِ فِي الْمُصْحَفِ ، فِي أَوَّلِ فَاتِحَةِ الْكِتَابِ ، وَفِي أَوَّلِ كُلِّ سُورَةٍ مِنَ الْقُرْآنِ ،
আর এটি কুফী ক্বারীগণের একটি জামাত এবং তাঁদের অধিকাংশ ফকীহগণের নিকট ফাতিহাতুল কিতাব-এর প্রারম্ভিক অংশের একটি আয়াত। তবে তাঁদের নিকট এ ক্ষেত্রে সুন্নাহ (سنة) হলো উচ্চস্বরের কিরাআত বিশিষ্ট সালাতে এটি নীরবে পাঠ করা; যা মূলত (শরয়ি বিধানের প্রতি) আনুগত্য এবং এই বিষয়ে বর্ণিত মারফু (مرفوع) বর্ণনাগুলোর (آثار) অনুসরণের বহিঃপ্রকাশ। আল-কারখী এবং ইমাম আবু হানিফার অন্যান্য শাগরিদগণ বলেছেন: তাঁর থেকে এটি সংরক্ষিত নেই যে, এটি কি ফাতিহাতুল কিতাব-এর কোনো আয়াত নাকি নয়? তাঁরা বলেন: তাঁর মাযহাবের প্রকৃতি এটিই নির্দেশ করে যে, এটি ফাতিহাতুল কিতাব-এর কোনো আয়াত নয়; কারণ তিনি উচ্চস্বরের সালাতে এটি নীরবে পাঠ করতেন। দাউদ ইবনে আলী বলেন: কুরআনের মুসহাফে এটি যে যে স্থানে লিখিত হয়েছে, সেখানে এটি একটি স্বতন্ত্র আয়াত; অর্থাৎ ফাতিহাতুল কিতাব-এর শুরুতে এবং কুরআনের প্রতিটি সূরার শুরুতে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ লিবনি আব্দুল বার
(পৃষ্ঠা: ১৫৮)
وَلَيْسَتْ فِي شَيْءٍ مِنَ السُّوَرِ إِلَّا فِي سُورَةِ النَّمْلِ ، وَإِنَّمَا هِيَ آيَةٌ مُفْرَدَةٌ ، غَيْرُ لَاحِقَةٍ بِالسُّورَةِ ، وَزَعَمَ الرَّازِيُّ أَنَّ مَذْهَبَ أَبِي حَنِيفَةَ يَقْتَضِي عِنْدَهُ مَا قَالَ دَاوُدُ وَذَهَبَ الشَّافِعِيُّ ، وَأَصْحَابُهُ إِلَى قِرَاءَةِ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ فِي أَوَّلِ فَاتِحَةِ الْكِتَابِ جَهْرًا فِي صَلَاةِ الْجَهْرِ وَسِرًّا فِي صَلَاةِ السِّرِّ وَقَالَ: هِيَ آيَةٌ مِنْ فَاتِحَةِ الْكِتَابِ ، أَوَّلُ آيَاتِهَا ، وَلَا تَتِمُّ سَبْعَ آيَاتٍ إِلَّا بِهَا ، وَلَا تُجْزِئُ صَلَاةٌ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْهَا؛ لِقَوْلِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَعْنِي: «لَا صَلَاةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ فِيهَا بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ» ،
আর এটি সূরা আন-নামল ব্যতীত অন্য কোনো সূরার অন্তর্ভুক্ত নয়; বরং এটি একটি স্বতন্ত্র আয়াত, যা সূরার সাথে সংযুক্ত নয়। ইমাম রাযী দাবি করেছেন যে, ইমাম আবূ হানীফার মাযহাব তাঁর নিকট সেই বিষয়েরই অবতারণা করে যা দাউদ বলেছেন। অন্যদিকে ইমাম শাফিঈ এবং তাঁর অনুসারীরা সূরা ফাতিহার শুরুতে 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম' পাঠ করার অভিমত ব্যক্ত করেছেন—উচ্চৈঃস্বরে তিলাওয়াতের সালাতে উচ্চৈঃস্বরে এবং নিঃশব্দে তিলাওয়াতের সালাতে নিঃশব্দে। তিনি বলেছেন: এটি সূরা ফাতিহারই একটি আয়াত এবং এর প্রথম আয়াত; আর এটি ব্যতীত সাতটি আয়াত পূর্ণ হয় না। যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে না তার সালাত যথেষ্ট হবে না; কেননা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন—অর্থাৎ: "যে ব্যক্তি তাতে (সালাতে) সূরা ফাতিহা পাঠ করল না, তার সালাত হবে না।"
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ লিবনি আব্দুল বার
(পৃষ্ঠা: ১৫৯)
وَقَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم: «كُلُّ صَلَاةٍ لَا يُقْرَأُ فِيهَا بِأُمِّ الْقُرْآنِ فَهِيَ خِدَاجٌ» ، وَمَنْ لَمْ يَقْرَأْهَا كُلَّهَا فَلَمْ يَقْرَأْهَا ، وَقَوْلُ أَبِي ثَوْرٍ فِي ذَلِكَ كُلِّهِ كَقَوْلِ الشَّافِعِيِّ. وَرُوِيَ الْجَهْرُ بِهَا عَنْ عُمَرَ ، وَعَلِيٍّ رضي الله عنهما عَلَى اخْتِلَافٍ عَنْهُمَا وَرُوِيَ ذَلِكَ عَنْ عَمَّارٍ ، وَأَبِي هُرَيْرَةَ ، وَابْنِ عَبَّاسٍ ، وَابْنِ الزُّبَيْرِ ، وَلَمْ يُخْتَلَفْ
এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী: "প্রত্যেক সালাত যাতে উম্মুল কুরআন পাঠ করা হয় না, তা ত্রুটিপূর্ণ (خداج)"; আর যে ব্যক্তি এর সম্পূর্ণ অংশ পাঠ করল না, সে যেন তা পাঠই করল না। এই সব বিষয়ে আবু সাওর-এর অভিমত ইমাম শাফেয়ীর অভিমতের অনুরূপ। ওমর এবং আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে এটি উচ্চৈঃস্বরে পাঠ করা বর্ণিত (روي) হয়েছে, যদিও তাঁদের থেকে বর্ণিত বর্ণনার ক্ষেত্রে মতপার্থক্য (اختلاف) রয়েছে। আর আম্মার, আবু হুরায়রা, ইবনে আব্বাস এবং ইবনে যুবাইর থেকেও এটি বর্ণিত (روي) হয়েছে এবং এতে কোনো মতভেদ (يختلف) করা হয়নি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ লিবনি আব্দুল বার
(পৃষ্ঠা: ১৬০)
فِي الْجَهْرِ بِبِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، وَهُوَ الصَّحِيحُ ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَيْضًا ، وَعَلَيْهِ جَمَاعَةُ أَصْحَابِهِ: سَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ ، وَعَطَاءٌ ، وَمُجَاهِدٌ ، وَطَاوُسٌ ، وَهُوَ مَذْهَبُ ابْنِ شِهَابٍ
'বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম' উচ্চৈঃস্বরে পাঠ করার বিষয়ে ইবনে উমর থেকে বর্ণিত, এবং এটিই বিশুদ্ধ (صحيح)। ইবনে আব্বাস থেকেও অনুরূপ বর্ণিত এবং তাঁর একদল সঙ্গী—সাঈদ ইবনে জুবায়ের, আতা, মুজাহিদ ও তাউস—এই মতের ওপরই ছিলেন। আর এটি ইবনে শিহাবের মাযহাব।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ লিবনি আব্দুল বার
(পৃষ্ঠা: ১৬১)
الزُّهْرِيِّ ، وَعَمْرِو بْنِ دِينَارٍ ، وَابْنِ جُرَيْجٍ ، وَمُسْلِمِ بْنِ خَالِدٍ ، وَسَائِرِ أَهْلِ مَكَّةَ. وَاخْتَلَفَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ ، وَكَذَلِكَ اخْتَلَفَ أَصْحَابُهُ فِي بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ فِي غَيْرِ فَاتِحَةِ الْكِتَابِ: هَلْ هِيَ مِنْ أَوَائِلِ السُّوَرِ آيَةٌ
যুহরি, আমর ইবনে দিনার, ইবনে জুরাইজ, মুসলিম ইবনে খালিদ এবং মক্কার অন্যান্য অধিবাসীগণ। সুরা ফাতিহা ব্যতীত অন্যান্য সুরার শুরুতে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম-এর ব্যাপারে ইমাম শাফি'য়ির মত ভিন্ন হয়েছে এবং একইভাবে তাঁর অনুসারীদের মধ্যেও মতভেদ রয়েছে যে, এটি কি সুরার শুরুর দিকের একটি আয়াত (آية) কি না।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ লিবনি আব্দুল বার
(পৃষ্ঠা: ১৬২)
مُضَافَةٌ إِلَى كُلِّ سُورَةٍ أَمْ لَا؟ وَتَحْصِيلُ مَذْهَبِهَ أَنَّهَا آيَةٌ مِنْ أَوَّلِ كُلِّ سُورَةٍ عَلَى قَوْلِ ابْنِ عَبَّاسٍ: «مَا كُنَّا نَعْلَمُ انْقِضَاءَ السُّورَةِ إِلَّا بِنُزُولِ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ فِي أَوَّلِ غَيْرِهَا» وَهُوَ قَوْلُ ابْنِ عَبَّاسٍ ، وَابْنِ عُمَرَ ، وَابْنِ الزُّبَيْرِ ، وَعَطَاءٍ ، وَطَاوُسٍ ،
এটি কি প্রতিটি সূরার সাথে যুক্ত নাকি নয়? তাদের মাযহাবের নির্যাস হলো যে, এটি প্রতিটি সূরার শুরুতে একটি আয়াত; যা ইবনে আব্বাসের এই বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে: "আমরা একটি সূরার সমাপ্তি সম্পর্কে জানতে পারতাম না যতক্ষণ না অন্য সূরার শুরুতে বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম অবতীর্ণ হতো।" আর এটি ইবনে আব্বাস, ইবনে উমর, ইবনে আল-জুবায়ের, আতা এবং তাউস-এর অভিমত।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ লিবনি আব্দুল বার
(পৃষ্ঠা: ১৬৩)
وَمَكْحُولٍ ، وَإِلَيْهِ ذَهَبَ ابْنُ الْمُبَارَكِ ، وَطَائِفَةٌ ، وَوَافَقَ الشَّافِعِيَّ عَلَى أَنَّهَا آيَةٌ مِنْ فَاتِحَةِ الْكِتَابِ: أَحْمَدُ ، وَإِسْحَاقُ ، وَأَبُو عُبَيْدٍ ، وَجَمَاعَةُ أَهْلِ الْكُوفَةِ ، وَأَهْلُ مَكَّةَ ، وَأَكْثَرُ أَهْلِ الْعِرَاقِ؛ إِلَّا أَنَّ أَحْمَدَ ، وَإِسْحَاقَ ، وَأَبَا عُبَيْدٍ يُخْفُونَهَا فِي صَلَاةِ الْجَهْرِ كَمَذْهَبِ سُفْيَانَ ، وَابْنِ أَبِي لَيْلَى ، وَالْحَسَنِ بْنِ ⦗ص: 164⦘ حَيٍّ ، وَابْنِ شُبْرُمَةَ ، وَجَمَاعَةِ أَهْلِ الْكُوفَةِ عَلَى مَا ذَكَرْنَا عَنْهُمْ ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ. قَالَ أَبُو عُمَرَ: لِكُلِّ فِرْقَةٍ مِنْ فِرَقِ الْفُقَهَاءِ الْمَذْكُورِينَ آثَارٌ رَوَوْهَا ، وَصَارُوا إِلَيْهَا فِيمَا ذَهَبُوا إِلَيْهِ مِنْ ذَلِكَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ، وَعَنْ أَصْحَابِهِ ، وَالتَّابِعِينَ نَذْكُرُ مِنْهَا مَا حَضَرَنَا ذِكْرُهُ عَلَى حَذْفِ التَّكْرَارِ وَالْإِتْيَانِ بِمَا عَلَيْهِ الْمَدَارُ بِعَوْنِ اللَّهِ وَفَضْلِهِ إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى
এবং মাকহুল; আর ইবনুল মুবারক ও একদল আলিম এই মত গ্রহণ করেছেন। আর শাফিঈর সাথে এই বিষয়ে একমত হয়েছেন যে এটি ফাতিহাতুল কিতাব-এর একটি আয়াত: আহমাদ, ইসহাক, আবু উবাইদ, কুফাবাসীদের একটি জামাত, মক্কাবাসী এবং ইরাকবাসীদের অধিকাংশ। তবে আহমাদ, ইসহাক ও আবু উবাইদ সশব্দ কিরাতের সালাতে এটি নীরবে পাঠ করেন, যেমনটি সুফিয়ান, ইবনে আবি লায়লা, হাসান বিন ⦗পৃষ্ঠা: ১৬৪⦘ হাই, ইবনে শুবরুমা এবং কুফাবাসীদের একটি জামাতের মাযহাব হিসেবে আমরা তাদের পক্ষ থেকে উল্লেখ করেছি। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আবু উমর বলেন: উল্লেখিত ফকিহদের প্রত্যেক দলের নিকট কিছু আসার (آثار) রয়েছে যা তারা বর্ণনা করেছেন এবং তারা তাদের গৃহীত মতের সপক্ষে নবী (সা.), তাঁর সাহাবি এবং তাবেয়িগণ (التابعين) থেকে প্রাপ্ত বর্ণনার ওপর নির্ভর করেছেন। আমরা সেগুলোর মধ্য থেকে যা স্মরণে আসছে তা পুনরাবৃত্তি পরিহার করে এবং যেগুলোর ওপর মূল ভিত্তি আবর্তিত হয় তা উল্লেখপূর্বক বর্ণনা করব; আল্লাহর সাহায্য ও অনুগ্রহে, ইনশাআল্লাহ।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ লিবনি আব্দুল বার
(পৃষ্ঠা: ১৬৫)
ذِكْرُ الْآثَارِ الَّتِي احْتَجَّ بِهَا مَنْ أَسْقَطَ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ مِنْ أَوَّلِ فَاتِحَةِ الْكِتَابِ فِي الصَّلَاةِ وَكَرِهَ قِرَاءَتَهَا فِيهَا ، وَلَمْ يَعُدَّهَا آيَةً مِنْهَا فَمِنْ ذَلِكَ حَدِيثُ عَبْدِ اللَّهِ بْنُ مُغَفَّلٍ الْمُزَنِيِّ: وَهُوَ حَدِيثٌ يَدُورُ عَلَى أَبِي مَسْعُودٍ سَعِيدِ بْنِ إِيَاسٍ الْجُرَيْرِيِّ ، عَنْ أَبِي نَعَامَةَ قَيْسِ بْنِ عَبَايَةَ الْحَنَفِيِّ ، عَنِ ابْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ ، عَنْ أَبِيهِ
সেই সকল বর্ণনা (آثار) এর উল্লেখ যার মাধ্যমে তারা দলিল পেশ করেছেন (احتج) যারা নামাজে সুরা ফাতিহার শুরু থেকে 'বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম' বাদ দিয়েছেন এবং সেখানে এটি পাঠ করাকে অপছন্দ করেছেন (كره), আর এটিকে সূরার একটি আয়াত (آية) হিসেবে গণ্য করেননি। এর অন্তর্ভুক্ত হলো আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল আল-মুজানি-এর হাদিস: আর এটি এমন একটি হাদিস যা আবর্তন করছে (يدور) আবু মাসউদ সাঈদ ইবনে ইয়াস আল-জুরাইরি-এর ওপর, তিনি আবু না'মাহ কায়েস ইবনে আবায়াহ আল-হানাফি থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফালের পুত্র থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ লিবনি আব্দুল বার
(পৃষ্ঠা: ১৬৬)
وَقَدْ زَعَمَ قَوْمٌ أَنَّ الْجُرَيْرِيَّ انْفَرَدَ بِهِ ، وَلَيْسَ هُوَ عِنْدِي كَذَلِكَ؛ لِأَنَّهُ قَدْ رَوَاهُ غَيْرُهُ عَنْ قَيْسِ بْنِ عَبَايَةَ ، وَهُوَ ثِقَةٌ عِنْدَ جَمِيعِهِمْ ، وَكَذَلِكَ الْجُرَيْرِيُّ مُحَدِّثُ أَهْلِ الْبَصْرَةِ ثِقَةٌ ، رَوَى عَنْهُ الْجِلَّةُ مِنْ أَئِمَّةِ أَهْلِ الْحَدِيثِ مِنْهُمْ شُعْبَةُ ، وَسُفْيَانُ ، وَابْنُ عُلَيَّةَ ، وَالْحَمَّادَانِ إِلَّا أَنَّهُ اخْتَلَطَ فِي آخِرِ عُمُرِهِ ، ⦗ص: 167⦘ وَأَمَّا ابْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ فَلَمْ يَرْوِ عَنْهُ أَحَدٌ إِلَّا أَبُو نَعَامَةَ قَيْسُ بْنُ عَبَايَةَ فِيمَا عَلِمْتُ ، وَمَنْ لَمْ يَرْوِ عَنْهُ إِلَّا رَجُلٌ وَاحِدٌ فَهُوَ مَجْهُولٌ عِنْدَهُمْ ، وَالْمَجْهُولُ لَا تَقُومُ بِهِ حُجَّةٌ
একদল লোক দাবি করেছেন যে, আল-জুরায়রী এটি বর্ণনায় একক (انفرد) ছিলেন, কিন্তু আমার নিকট বিষয়টি সেরূপ নয়; কারণ তিনি ছাড়াও অন্য বর্ণনাকারী এটি কায়স ইবনে আবায়াহ থেকে বর্ণনা করেছেন। আর তিনি তাঁদের সকলের নিকট নির্ভরযোগ্য (ثقة)। অনুরূপভাবে বসরার মুহাদ্দিস আল-জুরায়রীও নির্ভরযোগ্য (ثقة); হাদিস শাস্ত্রের ইমামগণের মধ্যে যাঁরা অত্যন্ত মর্যাদাবান তাঁরা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শু’বাহ, সুফিয়ান, ইবনে উলাইয়্যাহ এবং দুই হাম্মাদ। তবে শেষ বয়সে তাঁর স্মৃতিবিভ্রম ঘটেছিল (اختلط)، ⦗পৃষ্ঠা: ১৬৭⦘ আর আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফালের পুত্রের ক্ষেত্রে আমার জানামতে আবু না’আমাহ কায়স ইবনে আবায়াহ ছাড়া আর কেউ তাঁর থেকে বর্ণনা করেননি। আর যাঁর থেকে মাত্র একজন ব্যক্তি বর্ণনা করেন, তিনি তাঁদের নিকট অপরিচিত (مجهول); আর অপরিচিত (مجهول) ব্যক্তির বর্ণনা দ্বারা প্রমাণ (حجة) প্রতিষ্ঠিত হয় না।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ লিবনি আব্দুল বার
(পৃষ্ঠা: ১৬৭)
1 - فَمِنْ طُرُقِ حَدِيث عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ: مَا حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ نَصْرٍ ، ⦗ص: 168⦘ وَعَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ سُفْيَانَ ، قَالَا: حَدَّثَنَا قَاسِمُ بْنُ أَصْبَغَ ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ وَضَّاحٍ ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ ، هُوَ ابْنُ عُلَيَّةَ ، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ ، عَنْ قَيْسِ بْنِ عَبَايَةَ ، حَدَّثَنِي ابْنُ ⦗ص: 169⦘ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، قَالَ: وَمَا رَأَيْتُ رَجُلًا أَشَدَّ عَلَيْهِ فِي الْإِسْلَامِ حَدَّثَ مِنْهُ فَسَمِعَنِي وَأَنَا أَقْرَأُ {بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ} [الفاتحة: 1] فَقَالَ لِي: يَا بُنَيَّ إِيَّاكَ وَالْحَدَثَ ، فَإِنِّي صَلَّيْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، وَمَعَ أَبِي بَكْرٍ ، وَعُمَرَ ، وَعُثْمَانَ ، فَلَمْ أَسْمَعْ أَحَدًا مِنْهُمْ يَقْرَؤُهَا ، فَإِذَا قَرَأْتَ فَقُلِ: {الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} [الفاتحة: 2] وَرَوَاهُ مَعْمَرٌ ، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ ، قَالَ: أَخْبَرَنِي مَنْ سَمِعَ ابْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنَ مُغَفَّلٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، فَذَكَرَ مَعْنَاهُ وَرَوَاهُ خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْوَاسِطِيُّ الطَّحَّانُ ، فَاخْتُلِفَ عَلَيْهِ ⦗ص: 170⦘ وَرَوَاهُ سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ ، وَوَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ عَنْهُ ، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ ، عَنْ قَيْسِ بْنِ عَبَايَةَ ، قَالَ: أَخْبَرَنِي ابْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، وَسَاقَ الْحَدِيثَ مِثْلَ رِوَايَةِ ابْنِ عُلَيَّةَ سَوَاءً وَرَوَاهُ إِسْمَاعِيلُ بْنُ مَسْعُودٍ عَنْهُ ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ غِيَاثٍ ، عَنْ أَبِي نَعَامَةَ قَيْسِ بْنِ عَبَايَةَ ، لَمْ يَذْكُرِ الْجُرَيْرِيَّ ⦗ص: 171⦘ فَالْحَدِيثُ إِنَّمَا يَدُورُ عَلَى ابْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ ، وَقَدْ تَقَدَّمَ الْخَبَرُ عَنْهُ
1 - আব্দুল্লাহ বিন মুগাফফাল-এর হাদিসের সুত্রগুলোর (طرق) মধ্যে রয়েছে: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ বিন নাসর, ⦗ص: 168⦘ এবং আব্দুল ওয়ারিস বিন সুফিয়ান, তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাসেম বিন আসবাগ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ওয়াদদাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর বিন আবি শায়বাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাইল বিন ইব্রাহিম—তিনি হলেন ইবনে উলাইয়্যাহ—জুরায়রী থেকে, তিনি কায়স বিন আবায়াহ থেকে, আমাকে বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন ⦗ص: 169⦘ মুগাফফাল-এর পুত্র, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি (আব্দুল্লাহ বিন মুগাফফাল) বলেন: ইসলামে নতুন কোনো বিষয় উদ্ভাবনের (حدث) ক্ষেত্রে আমি তাঁর চেয়ে কঠোর আর কাউকে দেখিনি। তিনি আমাকে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম’ {بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ} [আল-ফাতিহা: ১] পাঠ করতে শুনলেন, তখন তিনি আমাকে বললেন: হে বৎস! দ্বীনের মধ্যে নতুন উদ্ভাবন (الحدث) থেকে বেঁচে থেকো। কারণ আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), আবু বকর, উমর এবং উসমান-এর সাথে সালাত আদায় করেছি, কিন্তু তাঁদের কাউকেই এটি পাঠ করতে শুনিনি। সুতরাং যখন তুমি কিরাত পড়বে তখন বলবে: ‘আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন’ {الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} [আল-ফাতিহা: ২]। মা’মার এটি জুরায়রী থেকে বর্ণনা (روى) করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে এমন এক ব্যক্তি সংবাদ দিয়েছেন যিনি আব্দুল্লাহ বিন মুগাফফাল-এর পুত্র থেকে শুনেছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে; অতঃপর তিনি এর মর্মার্থ বর্ণনা করেছেন। এবং এটি খালিদ বিন আব্দুল্লাহ আল-ওয়াসিতি আত-তাহহান বর্ণনা (روى) করেছেন, তবে তাঁর বর্ণনায় মতভেদ (اختلف عليه) হয়েছে। ⦗ص: 170⦘ এবং সাঈদ বিন মানসুর ও ওয়াহাব বিন বাকিয়্যাহ তাঁর থেকে, তিনি জুরায়রী থেকে, তিনি কায়স বিন আবায়াহ থেকে বর্ণনা (روى) করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে আব্দুল্লাহ বিন মুগাফফাল-এর পুত্র তাঁর পিতা থেকে সংবাদ দিয়েছেন। আর তিনি ইবনে উলাইয়্যাহ-এর বর্ণনার (رواية) হুবহু হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। এবং এটি ইসমাইল বিন মাসউদ তাঁর থেকে, তিনি উসমান বিন গিয়াস থেকে, তিনি আবু না’আমাহ কায়স বিন আবায়াহ থেকে বর্ণনা (روى) করেছেন, তিনি জুরায়রী-এর নাম উল্লেখ করেননি। ⦗ص: 171⦘ সুতরাং এই হাদিসটি মূলত আব্দুল্লাহ বিন মুগাফফাল-এর পুত্রের মাধ্যমেই আবর্তিত (يدور) হয়েছে, আর তাঁর সম্পর্কে তথ্য ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ লিবনি আব্দুল বার
(পৃষ্ঠা: ১৭১)
2 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعِيدٍ ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُعَاوِيَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ، وَحَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَسَدٍ ، حَدَّثَنَا حَمْزَةُ بْنُ مُحَمَّدٍ ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ شُعَيْبٍ ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مَسْعُودٍ ، ⦗ص: 172⦘ حَدَّثَنَا خَالِدٌ ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ غِيَاثٍ ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو نَعَامَةَ الْحَنَفِيُّ ، قَالَ: حَدَّثَنِي ابْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ ، قَالَ: كَانَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُغَفَّلٍ إِذَا سَمِعَ أَحَدًا يَقْرَأُ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ قَالَ: صَلَّيْتُ خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، وَخَلْفَ أَبِي بَكْرٍ ، وَخَلْفَ عُمَرَ ، فَمَا سَمِعْتُ أَحَدًا مِنْهُمْ يَقْرَأُ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ قَالَ أَبُو عُمَرَ: فَحَدِيثُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ فِي إِسْنَادِهِ مَا وَصَفْنَا ، وَقَدْ ذَهَبَ إِلَيْهِ مَنْ لَا يَرَى قِرَاءَةَ {بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ} [الفاتحة: 1] أَصْلًا سِرًّا ، وَلَا جَهْرًا ، وَقَدْ ذَهَبَ إِلَيْهِ مَنْ رَأَى أَنَّهَا تُقْرَأُ سِرًّا وَقَالُوا: مَعْنَاهُ أَنَّهُ لَوْ صَحَّ أَنَّهُمْ كَانُوا يُسِرُّونَ بِبِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ ، وَيَجْهَرُونَ بِـ {الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} [الفاتحة: 2] ، وَاسْتَدَلُّوا عَلَى ذَلِكَ مِنَ الْآثَارِ بِمَا يَأْتِي ذِكْرُهُ ⦗ص: 173⦘ بَعْدُ فِي بَابٍ مُفْرَدٍ لَهَا فِي هَذَا الْكِتَابِ إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى
২ - মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে মুয়াবিয়া ইবনে আবদুর রহমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন এবং আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আসাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হামজা ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমদ ইবনে শুআইব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসমাইল ইবনে মাসউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ⦗পৃষ্ঠা: ১৭২⦘ খালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উসমান ইবনে গিয়াস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু নাআমা আল-হানাফি আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল যখন কাউকে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ পড়তে শুনতেন, তখন বলতেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পিছনে, আবু বকরের পিছনে এবং উমরের পিছনে সালাত আদায় করেছি, কিন্তু তাদের কাউকে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ উচ্চস্বরে পড়তে শুনিনি। আবু উমর বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফালের হাদিসটির সূত্রে (إسناد) আমরা যা বর্ণনা করেছি তা বিদ্যমান রয়েছে। যারা ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ উচ্চস্বরে বা নিঃশব্দে কোনোভাবেই পাঠ করাকে মূলত সমর্থন করেন না, তারা এই মত গ্রহণ করেছেন। আবার যারা এটি নিঃশব্দে পাঠ করার পক্ষে মত দিয়েছেন তারাও একে গ্রহণ করেছেন এবং বলেছেন: এর অর্থ হলো—যদি এটি প্রমাণিত হয় যে তারা ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ নিঃশব্দে পাঠ করতেন এবং ‘আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন’ উচ্চস্বরে পাঠ করতেন। তারা এর স্বপক্ষে বিভিন্ন বর্ণনা (آثار) থেকে দলিল পেশ করেছেন যার উল্লেখ ইনশাআল্লাহ তাআলা ⦗পৃষ্ঠা: ১৭৩⦘ পরবর্তীতে এই কিতাবের একটি স্বতন্ত্র অধ্যায়ে করা হবে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ লিবনি আব্দুল বার
(পৃষ্ঠা: ১৭৩)
وَمِنْهَا مَا رَوَاهُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ ، وَغَيْرُهُ عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ ، عَنْ أَبِي نَعَامَةَ الْحَنَفِيِّ قَيْسِ بْنِ عَبَايَةَ ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، وَأَبُو بَكْرٍ ، وَعُمَرُ لَا يَجْهَرُونَ بِبِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ قَالَ سُفْيَانُ: كَانُوا يُسِرُّونَ بِهَا وَهَكَذَا رِوَايَةُ أَبِي قِلَابَةَ ، وَالْحَسَنِ ، وَعَائِذِ بْنِ شُرَيْحٍ ، عَنْ أَنَسٍ وَكَذَلِكَ رَوَاهُ جَمَاعَةٌ مِنْ أَصْحَابِ قَتَادَةَ ، عَنْ قَتَادَةَ ، عَنْ أَنَسٍ ، ⦗ص: 174⦘ وَسَنَذْكُرُ مَا حَضَرَنَا مِنَ الْأَسَانِيدِ بِذَلِكَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى وَحَدِيثُ عَائِشَةَ رضي الله عنها: وَهُوَ حَدِيثٌ انْفَرَدَ بِهِ بُدَيْلُ بْنُ مَيْسَرَةَ ، عَنْ أَبِي الْجَوْزَاءِ ، وَاسْمُهُ أَوْسُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الرَّبَعِيُّ الْأَزْدِيُّ ، هَذَا مِنْ رَبِيعَةَ الْأَزْدِ بَصْرِيٌّ ، عَنْ عَائِشَةَ لَيْسَ لَهُ إِسْنَادٌ غَيْرُهُ وَبُدَيْلُ بْنُ مَيْسَرَةَ ، وَأَبُو الْجَوْزَاءِ ثِقَتَانِ ، وَرَوَاهُ عَنْ بُدَيْلِ بْنِ مَيْسَرَةَ سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ ، وَحُسَيْنٌ الْمُعَلِّمُ ، وَهَذَانِ أَثْبَتُ مَنْ رَوَاهُ ⦗ص: 175⦘ عَنْ بُدَيْلٍ
এগুলোর মধ্যে রয়েছে যা সুফিয়ান সাওরি এবং অন্যান্যরা খালিদ আল-হাজ্জা থেকে, তিনি আবু নাআমাহ আল-হানাফি কায়স ইবনে আবায়াহ থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.), আবু বকর এবং উমর উচ্চস্বরে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম’ পাঠ করতেন না। সুফিয়ান বলেন: তাঁরা তা নিচু স্বরে পাঠ করতেন। আর এভাবেই আবু কিলাবাহ, হাসান এবং আইজ ইবনে শুরাইহ-এর বর্ণনা (رواية) আনাস থেকে বর্ণিত হয়েছে। অনুরুপভাবে কাতাদাহর একদল সঙ্গী কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। ⦗পৃষ্ঠা: ১৭৪⦘ আর আল্লাহ তায়ালা চাইলে আমরা এই বিষয়ে আমাদের নিকট বিদ্যমান সনদসমূহ (الأسانيد) উল্লেখ করব। আয়েশা (রা.)-এর হাদিস: এটি এমন একটি হাদিস যা বর্ণনায় বুদাইল ইবনে মাইসারাহ একক (انفرد) হয়ে গেছেন আবু আল-জাওজা থেকে। তাঁর নাম আওস ইবনে আব্দুল্লাহ আল-রাবায়ি আল-আজদি, তিনি রবীআহ আল-আজদ গোত্রের বসরার অধিবাসী; আয়েশা (রা.) থেকে এই সনদ (إسناد) ব্যতীত তাঁর অন্য কোনো সনদ নেই। আর বুদাইল ইবনে মাইসারাহ এবং আবু আল-জাওজা উভয়ই নির্ভরযোগ্য (ثقتان)। বুদাইল ইবনে মাইসারাহ থেকে এটি সাঈদ ইবনে আবি আরুবাহ এবং হুসাইন আল-মুআল্লিম বর্ণনা করেছেন। আর যারা বুদাইল থেকে বর্ণনা করেছেন তাদের মধ্যে এই দুজনেই অধিক সুদৃঢ় (أثبت) ⦗পৃষ্ঠা: ১৭৫⦘ বুদাইল থেকে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ লিবনি আব্দুল বার
(পৃষ্ঠা: ১৭৫)
3 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ سُفْيَانَ ، حَدَّثَنَا قَاسِمُ بْنُ أَصْبَغَ ، حَدَّثَنَا أَبُو قِلَابَةَ الرَّقَاشِيُّ ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْأَعْلَى ، وَمُحَمَّدُ بْنُ حَيَّانَ الْعِجْلِيُّ ، قَالَا: حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ الْمُعَلِّمُ ، عَنْ بُدَيْلِ بْنِ مَيْسَرَةَ ، عَنْ أَبِي الْجَوْزَاءِ ، عَنْ عَائِشَةَ ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَفْتَتِحُ الْقِرَاءَةَ بِـ {الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} [الفاتحة: 2]
৩ - আমাদের নিকট আবদুল ওয়ারিস ইবনে সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন (حدثنا), আমাদের নিকট কাসিম ইবনে আসবাগ বর্ণনা করেছেন (حدثنا), আমাদের নিকট আবু কিলাবাহ আর-রাকাশি বর্ণনা করেছেন (حدثنا) — তাঁর নিকট পাঠের (قراءة) মাধ্যমে, আমাদের নিকট আবদুল আ'লা এবং মুহাম্মদ ইবনে হাইয়ান আল-ইজলি বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট হুসাইন আল-মুয়াল্লিম বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বুদাইল ইবনে মাইসারা থেকে (عن), তিনি আবু আল-জাওযা থেকে (عن), তিনি আয়িশাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে (عن) বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) {আল-হামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন} [আল-ফাতিহা: ২] এর মাধ্যমে তিলাওয়াত শুরু করতেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ লিবনি আব্দুল বার
(পৃষ্ঠা: ১৭৬)
4 - وَحَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ قَاسِمِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ، وَعَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ سُفْيَانَ ، قَالَا: حَدَّثَنَا قَاسِمُ بْنُ أَصْبَغَ ، حَدَّثَنَا الْحَارِثُ بْنُ أَبِي أُسَامَةَ ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ ، عَنْ بُدَيْلِ بْنِ مَيْسَرَةَ ، عَنْ أَبِي الْجَوْزَاءِ ، عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ: كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَفْتَتِحُ الصَّلَاةَ بِالتَّكْبِيرِ وَالْقِرَاءَةِ بِـ {الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} [الفاتحة: 2]⦗ص: 177⦘وَيَخْتِمُهَا بِالتَّسْلِيمِ قَالَ أَبُو عُمَرَ: رِجَالُ إِسْنَادِ هَذَا الْحَدِيثِ ثِقَاتٌ كُلُّهُمْ ، لَا يُخْتَلَفُ فِي ذَلِكَ ، إِلَّا أَنَّهُمْ يَقُولُونَ أَنَّ أَبَا الْجَوْزَاءِ لَا يُعْرَفُ لَهُ سَمَاعٌ مِنْ عَائِشَةَ ، وَحَدِيثُهُ عَنْهَا إِرْسَالٌ وَأَمَّا الْفُقَهَاءُ فَيَقُولُونَ: إِنَّ هَذَا الْحَدِيثَ لَا حُجَّةَ فِيهِ لِمَنْ يَرَى إِسْقَاطَ {بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ} [الفاتحة: 1] مِنْ فَاتِحَةِ الْكِتَابِ ، وَإِنَّمَا فِيهِ الْحُجَّةُ عَلَى مَنْ رَأَى أَنَّ فَاتِحَةَ الْكِتَابِ وَغَيْرَهَا سَوَاءٌ ، وَأَنَّهُ جَائِزٌ قِرَاءَتُهَا وَقِرَاءَةُ غَيْرِهَا دُونَهَا فِي الصَّلَاةِ وَيُجِيزُ أَنْ تُفْتَحَ الصَّلَاةُ بِغَيْرِهَا مِنَ الْقُرْآنِ ، فَهَذَا الْحَدِيثُ ⦗ص: 178⦘ حُجَّةٌ عَلَى مَنْ قَالَ ذَلِكَ وَأَمَّا مَنْ قَالَ: إِنَّ الصَّلَاةَ لَا تُجْزِئُ إِلَّا بِأُمِّ الْقُرْآنِ ، وَأَنَّهَا الَّتِي تُفْتَتَحُ بِهَا الْقِرَاءَةُ فِي الصَّلَوَاتِ دُونَ مَا سِوَاهَا مِنْ سُوَرِ الْقُرْآنِ ، وَأَنَّ مَا سِوَاهَا مِنْ سُوَرِ الْقُرْآنِ إِنَّمَا يُقْرَأُ فِي الصَّلَاةِ بَعْدَهَا فَلَا حُجَّةَ عَلَيْهِ بِهَذَا الْحَدِيثِ ، وَلَا بِمَا كَانَ مِثْلَهُ ، قَالُواَ: وَإِنَّمَا قَوْلُ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهَا: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَفْتَتِحُ الْقِرَاءَةَ بِـ {الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} [الفاتحة: 2] يَعْنِي دُونَ غَيْرِهَا مِنْ سُوَرِ الْقُرْآنِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ اسْمٌ لِسُورَةِ أُمِّ الْقُرْآنِ ، وَفَاتِحَةُ الْكِتَابِ اسْمٌ لَهَا أَيْضًا ، وَإِنَّمَا قَالَتْ عَائِشَةُ: يَفْتَتِحُ بِـ {الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} [الفاتحة: 2] وَلَمْ تَقُلْ: دُونَ أَنْ يَقْرَأَ ⦗ص: 179⦘ {بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ} [الفاتحة: 1] ؛ لِأَنَّهَا لَوْ قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَفْتَتِحُ الْقِرَاءَةَ بِـ " {بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ} [الفاتحة: 1] " لَمْ تُفِدِ السَّامِعَ فَائِدَةً؛ لِأَنَّ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ فِي أَوَّلِ كُلِّ سُورَةٍ مُثْبَتَةٌ فِي الْمُصْحَفِ ، وَقَدِ اخْتَلَفُوا فِيهَا: هَلْ هِيَ آيَةٌ مِنْ أَوَّلِ كُلِّ سُورَةٍ أَوْ آيَةٌ مُفْرَدَةٌ فِي أَوَائِلِ السُّوَرِ كَاخْتِلَافِهِمْ هَلْ هِيَ آيَةٌ مِنْ فَاتِحَةِ الْكِتَابِ؟ عَلَى مَا تَقَدَّمَ ذِكْرُهُ ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ. وَإِنَّمَا قَصَدَتْ عَائِشَةُ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهَا إِلَى الْإِعْلَامِ بِالسُّورَةِ الَّتِي يَفْتَتِحُ بِهَا الصَّلَاةَ ، وَأَخْبَرَتْ بِأَيِّ السُّوَرِ تُفْتَتَحُ قِرَاءَةُ الصَّلَاةِ بِكَلَامٍ رَفَعَتْ فِيهِ الْإِشْكَالَ ، فَقَصَدَتْ إِلَى مَا فِي فَاتِحَةِ الْكِتَابِ مِمَّا لَيْسَ فِي غَيْرِهَا؛ لِأَنَّ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ فِي غَيْرِهَا فَكَانَ قَوْلُهَا: بِـ {الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} [الفاتحة: 2] كَمَا لَوْ قَالَ قَائِلٌ: كَانَ يَفْتَتِحُ الصَّلَاةَ بِـ بَرَاءَةٌ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَلَمْ يَقُلْ: بِسُورَةِ التَّوْبَةِ ، أَوْ قَالَ: كَانَ يَفْتَتِحُ الصَّلَاةَ بِـ سُورَةٌ أَنْزَلْنَاهَا وَلَمْ يَقُلْ: بِسُورَةِ النُّورِ ، أَوْ قَالَ: كَانَ يَفْتَتِحُ الصَّلَاةَ بِـ ⦗ص: 180⦘ الم أَحَسِبَ النَّاسُ أَنْ يُتْرَكُوا ، وَلَمْ يَقُلْ: بِالْعَنْكَبُوتِ ، أَوْ بِـ ق ، أَوْ بِـ يس ، أَوْ ص ، أَوْ بِـ ن وَالْقَلَمِ وَمِثْلُ هَذَا كَثِيرٌ ، فَكَذَلِكَ قَوْلُ عَائِشَةَ رضي الله عنها: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَفْتَتِحُ الصَّلَاةَ بِـ {الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} [الفاتحة: 2] وَلَمْ تَقُلْ بِأُمِّ الْقُرْآنِ ، وَلَا بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ؛ لِأَنَّهَا قَصَدَتْ إِلَى إِعْلَامِ السَّامِعِ بِالسُّورَةِ الَّتِي يَفْتَتِحُ بِهَا قِرَاءَةَ الصَّلَاةِ فَسَمَّتْهَا بِذَلِكَ ، وَلَيْسَ فِيهِ مَا يُسْقِطُ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ ، وَلَا مَا يُثْبِتُهَا كَمَا لَوْ قَالَتْ: كَانَ يَفْتَتِحُ بِـ ص وَالْقُرْآنِ ذِي الذِّكْرِ ، أَوْ ق وَالْقُرْآنِ الْمَجِيدِ ، أَوْ الْحَاقَّةُ مَا الْحَاقَّةُ ، أَوْ ن وَالْقَلَمِ ، وَمَا كَانَ مِثْلَ ذَلِكَ ، وَهَذَا كُلُّهُ لَا يُرْفَعُ احْتِمَالُهُ ، فَبَطَلَ أَنْ يَكُونَ فِي حَدِيثِ عَائِشَةَ رضي الله عنها هَذَا حُجَّةٌ لِمَنْ نَزَعَ بِهِ فِي سُقُوطِ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ وَحَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ: أَمَّا أَبُو هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ فَرُوِيَ عَنْهُ فِي هَذَا الْبَابِ أَحَادِيثُ مُتَغَايِرَةٌ مُخْتَلِفَةٌ وَمُتَضَادَّةٌ تَأْتِي فِي أَبْوَابِهَا مِنْ هَذَا الْكِتَابِ إِنْ ⦗ص: 181⦘ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى فَأَمَّا مَا احْتَجَّ بِهِ مِنْهَا مَنْ رَأَى سُقُوطَ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ مِنْ أَوَّلِ فَاتِحَةِ الْكِتَابِ فَمِنْ ذَلِكَ
৪ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে কাসিম ইবনে আবদুর রহমান এবং আবদুল ওয়ারিস ইবনে সুফিয়ান। তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাসিম ইবনে আসবাগ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হারিস ইবনে আবি উসামা, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনে আমির, তিনি সাঈদ ইবনে আবি আরুবাহ থেকে, তিনি বুদাইল ইবনে মাইসারাহ থেকে, তিনি আবুল জাওযা থেকে, আর তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকবিরের মাধ্যমে সালাত শুরু করতেন এবং কিরাত শুরু করতেন {আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন} দিয়ে। ⦗পৃষ্ঠা: ১৭৭⦘ এবং তিনি তাসলিমের (সালাম) মাধ্যমে সালাত শেষ করতেন। আবু উমর (ইবনে আবদিল বার) বলেন: এই হাদিসের সনদ (إسناد)-এর বর্ণনাকারীগণ সকলেই নির্ভরযোগ্য (ثقات), এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই। তবে মুহাদ্দিসগণ বলেন যে, আয়েশা (রা.) থেকে আবুল জাওযা’র কোনো শ্রবণ (سماع) প্রমাণিত নয় এবং তাঁর থেকে বর্ণিত আবুল জাওযা’র হাদিসটি বিচ্ছিন্ন (إرسال)। আর ফকিহগণ বলেন: যারা ফাতিহাতুল কিতাব থেকে {বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম}-কে বাদ দেওয়ার পক্ষপাতী, তাদের জন্য এই হাদিসে কোনো দলিল নেই। বরং এতে কেবল তাদের বিরুদ্ধেই দলিল রয়েছে যারা মনে করেন যে, ফাতিহাতুল কিতাব ও অন্যান্য সুরা সমান এবং সালাতে এটি না পড়ে অন্য সুরা পড়া জায়েজ, কিংবা কুরআনের অন্য কোনো অংশ দিয়ে সালাত শুরু করা বৈধ। সুতরাং এই হাদিসটি ⦗পৃষ্ঠা: ১৭৮⦘ তাদের দাবির বিপক্ষে একটি দলিল। পক্ষান্তরে যারা বলেন যে, উম্মুল কুরআন ছাড়া সালাত যথেষ্ট হবে না এবং সালাতে অন্য সব সুরার আগে কেবল এটি দিয়েই কিরাত শুরু করতে হবে, আর কুরআনের অন্যান্য সুরা সালাতে এর পরেই পড়তে হবে—তাদের বিরুদ্ধে এই হাদিস বা এর সমরূপ অন্য কিছু দলিল হিসেবে পেশ করা যাবে না। তাঁরা বলেন: আয়েশা (রা.)-এর উক্তি: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম {আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন} দিয়ে কিরাত শুরু করতেন"—এর অর্থ হলো কুরআনের অন্য সুরার পরিবর্তে এটি পড়া। আর {আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন} হলো উম্মুল কুরআন সুরার একটি নাম, যেমন ফাতিহাতুল কিতাবও এর একটি নাম। আয়েশা (রা.) বলেছেন: তিনি {আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন} দিয়ে শুরু করতেন, কিন্তু তিনি এ কথা বলেননি যে, তিনি ⦗পৃষ্ঠা: ১৭৯⦘ {বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম} পড়া ছাড়াই শুরু করতেন। কারণ তিনি যদি বলতেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম {বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম} দিয়ে কিরাত শুরু করতেন", তবে তা শ্রোতার নিকট কোনো বিশেষ অর্থ বহন করত না। কারণ মুসহাফে প্রতিটি সুরার শুরুতে {বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম} লিপিবদ্ধ রয়েছে। আর এ বিষয়ে তাঁদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে যে: এটি কি প্রতিটি সুরার শুরুর একটি আয়াত, নাকি সুরার শুরুতে একটি স্বতন্ত্র আয়াত? যেমন তাদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে যে এটি ফাতিহাতুল কিতাবের অন্তর্ভুক্ত কোনো আয়াত কি না; যা ইতিপূর্বে আলোচনা করা হয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ। বস্তুত আয়েশা (রা.) সালাত শুরুর সুরাটি সম্পর্কে অবহিত করার উদ্দেশ্যেই এটি বলেছেন এবং কোন সুরা দিয়ে সালাতের কিরাত শুরু করা হয় তা এমন ভাষায় ব্যক্ত করেছেন যা অস্পষ্টতা দূর করে। তাই তিনি ফাতিহাতুল কিতাবের এমন একটি অংশকে নির্দিষ্ট করেছেন যা অন্য সুরায় নেই; কারণ {বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম} অন্য সুরাতেও বিদ্যমান। সুতরাং তাঁর উক্তি: "{আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন} দিয়ে"—এটি অনেকটা এমন যেমন কেউ বলল: "তিনি 'বারাআতুন মিনাল্লাহি ওয়া রাসূলিহি' দিয়ে সালাত শুরু করতেন" অথচ তিনি 'সুরা আত-তাওবাহ' বলেননি; অথবা কেউ বলল: "তিনি 'সুরাতুন আনযালনাহু' দিয়ে সালাত শুরু করতেন" অথচ তিনি 'সুরা আন-নূর' বলেননি; অথবা কেউ বলল: "তিনি ⦗পৃষ্ঠা: ১৮০⦘ 'আলিফ লাম মীম, আহাসিবান নাসু আইয়ুত্রাকু' দিয়ে সালাত শুরু করতেন" অথচ তিনি 'আল-আনকাবুত' বলেননি; কিংবা 'ক্বফ', 'ইয়া-সীন', 'ছোয়াদ' অথবা 'নূন ওয়াল কলম' দিয়ে—এরূপ উদাহরণ অনেক রয়েছে। একইভাবে আয়েশা (রা.)-এর উক্তি: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম {আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন} দিয়ে সালাত শুরু করতেন"—এখানে তিনি উম্মুল কুরআন বা ফাতিহাতুল কিতাব শব্দ ব্যবহার করেননি কারণ তিনি শ্রোতাকে সালাত শুরুর সুরাটি সম্পর্কে অবগত করতে চেয়েছিলেন, তাই তিনি এর নামকরণ করেছেন। এতে {বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম} বাদ দেওয়ার কোনো প্রমাণ নেই, আবার তা সাব্যস্ত করারও কোনো প্রমাণ নেই। এটি ঠিক তেমনি যেমন তিনি যদি বলতেন: "তিনি 'ছোয়াদ ওয়াল কুরআনি যিয যিকর' দিয়ে শুরু করতেন" অথবা " 'ক্বফ ওয়াল কুরআনিল মাজীদ' ", অথবা " 'আল-হাক্কাহ মাল হাক্কাহ' ", অথবা " 'নূন ওয়াল কলম' "—বা এই জাতীয় অন্য কিছু। এই সবকিছুর সম্ভাবনা থেকেই যায়। সুতরাং যারা {বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম} বর্জন করতে চান, তাদের দাবির সপক্ষে আয়েশা (রা.)-এর এই হাদিসটি দলিল হিসেবে অসার প্রমাণিত হলো। আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিস: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে এই অধ্যায়ে ভিন্ন ভিন্ন, বৈচিত্র্যময় ও পরস্পরবিরোধী হাদিস বর্ণিত হয়েছে, যা ইনশাআল্লাহ এই গ্রন্থের স্ব-স্ব অধ্যায়ে ⦗পৃষ্ঠা: ১৮১⦘ আসবে। তবে যারা ফাতিহাতুল কিতাবের শুরু থেকে {বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম} বাদ দেওয়ার পক্ষে দলিল পেশ করেছেন, তার মধ্যে রয়েছে:
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ লিবনি আব্দুল বার
(পৃষ্ঠা: ১৮১)
مَا رَوَاهُ بِشْرُ بْنُ رَافِعٍ أَبُو الْأَسْبَاطِ الْحَارِثِيُّ يَمَانِيٌّ ، قَالَ: حَدَّثَنِي ابْنُ عَمِّ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ يَقُولُ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، وَأَبُو بَكْرٍ ، وَعُمَرُ ، وَعُثْمَانُ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمْ يَفْتَتِحُونَ الْقِرَاءَةَ بِـ {الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} [الفاتحة: 2]⦗ص: 182⦘ وَبِشْرُ بْنُ رَافِعٍ عِنْدَهُمْ مُنْكَرُ الْحَدِيثِ قَدِ اتَّفَقُوا عَلَى إِنْكَارِ حَدِيثِهِ ، وَطَرْحِ مَا رَوَاهُ وَتَرْكِ الِاحْتِجَاجِ بِهِ لَا يَخْتَلِفُ عُلَمَاءُ الْحَدِيثِ فِي ذَلِكَ ، وَالَّذِينَ يَرْوُونَ عَنْ بِشْرِ بْنِ رَافِعٍ: حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ ، وَعَبْدُ الرَّزَّاقِ ، وَصَفْوَانُ بْنُ عِيسَى ، وَلَوْ صَحَّ حَدِيثُهُ احْتَمَلَ مِنَ التَّأْوِيلِ مَا ذَكَرْنَا فِي حَدِيثِ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهَا قَبْلَ هَذَا وَرَوَاهُ عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ الْقَعْقَاعِ ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ⦗ص: 183⦘: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا نَهَضَ فِي الثَّانِيَةِ اسْتَفْتَحَ بِـ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ وَلَمْ يَسْكُتْ وَهَذِهِ رِوَايَةٌ يُغْنِي ظَاهِرُهَا عَنِ الْكَلَامِ فِيهَا ، وَفِيهَا دَلِيلٌ عَلَى أَنَّهُ كَانَ يَسْكُتُ بَعْدَ التَّكْبِيرِ فِي الْأُولَى عَلَى مَا رَوَاهُ سَمُرَةُ وَمِنْهَا حَدِيثُ الْعَلَاءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ: وَهُوَ أَصَحُّ حَدِيثٍ رُوِيَ فِي سُقُوطِ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ مِنْ أَوَّلِ فَاتِحَةِ الْكِتَابِ وَأَبْيَنُهُ وَأَبْعَدُهُ مِنَ ⦗ص: 184⦘ احْتِمَالِ التَّأْوِيلِ:
বিশর ইবন রাফি আবু আল-আসবাত আল-হারিসি ইয়ামানি যা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে আবু হুরায়রাহ-এর চাচাতো ভাই বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আবু হুরায়রাহ (রাযিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু)-কে বলতে শুনেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), আবু বকর, উমর এবং উসমান (রাযিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুম) 'আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন' [ফাতিহা: ২] দিয়ে কিরাত শুরু করতেন। ⦗পৃষ্ঠা: ১৮২⦘ আর বিশর ইবন রাফি তাদের নিকট মুনকারুল হাদিস (منكر الحديث); তাঁরা তার হাদিস প্রত্যাখ্যান করার বিষয়ে, তার বর্ণনা বর্জন করার বিষয়ে এবং তা দ্বারা দলিল হিসেবে গ্রহণ (الاحتجاج) ত্যাগ করার বিষয়ে একমত হয়েছেন। হাদিস বিশারদগণ এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেন না। যারা বিশর ইবন রাফি থেকে বর্ণনা করেছেন তারা হলেন: হাতিম ইবন ইসমাঈল, আবদুর রাজ্জাক এবং সাফওয়ান ইবন ঈসা। যদি তার হাদিসটি সহিহ (صح) হতো, তবে এতে সেই ব্যাখ্যার অবকাশ থাকত যা আমরা এর আগে আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা)-এর হাদিসে উল্লেখ করেছি। আর এটি আব্দুল ওয়াহিদ ইবন যিয়াদ, উমারা ইবন আল-কাকা' থেকে, তিনি আবু যুরআহ থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রাহ থেকে বর্ণনা করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ১৮৩⦘: যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন দ্বিতীয় রাকাতে উঠতেন, তখন 'আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন' দিয়ে শুরু করতেন এবং তিনি নীরব থাকতেন না। এটি এমন একটি বর্ণনা (رواية) যার বাহ্যিক রূপই এ বিষয়ে পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা নিরসন করে; এবং এতে এই প্রমাণ রয়েছে যে, তিনি প্রথম রাকাতে তাকবীরের পর নীরব থাকতেন, যেমনটি সামুরাহ বর্ণনা করেছেন। আর এ সংক্রান্ত বর্ণনার মধ্যে আলা ইবন আবদুর রহমানের হাদিসটিও রয়েছে: আর এটি সূরা ফাতিহার শুরু থেকে 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম' অনুচ্চারিত থাকার বিষয়ে বর্ণিত সবচেয়ে বিশুদ্ধ (أصح) হাদিস এবং এটি সবচেয়ে সুস্পষ্ট ও ব্যাখ্যার অবকাশ ⦗পৃষ্ঠা: ১৮৪⦘ থেকে দূরবর্তী।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ লিবনি আব্দুল বার
(পৃষ্ঠা: ১৮৪)
رَوَاهُ مَالِكٌ عَنِ الْعَلَاءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ، عَنْ أَبِي السَّائِبِ مَوْلَى هِشَامِ بْنِ زُهْرَةَ أَنَّهُ سَمِعَهُ يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «مَنْ صَلَّى صَلَاةً لَمْ يَقْرَأْ فِيهَا بِأُمِّ الْقُرْآنِ فَهِيَ خِدَاجٌ ، هِيَ خِدَاجٌ ، هِيَ خِدَاجٌ غَيْرُ تَمَامٍ» قَالَ: قُلْتُ: يَا أَبَا هُرَيْرَةَ ، إِنِّي أَحْيَانًا أَكُونُ وَرَاءَ الْإِمَامِ قَالَ: فَغَمَزَ ذِرَاعِي ثُمَّ قَالَ: اقْرَأْ بِهَا فِي نَفْسِكَ يَا فَارِسِيُّ فَإِنَّى سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: " قَالَ اللَّهُ تبارك وتعالى: قَسَمْتُ الصَّلَاةَ بَيْنِي وَبَيْنَ عَبْدِي نِصْفَيْنِ ، فَنِصْفُهَا لِي وَنِصْفُهَا لِعَبْدِي ، وَلِعَبْدِي مَا سَأَلَ " قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " اقْرَءُوا ، يَقُولُ الْعَبْدُ: {الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} [الفاتحة: 2] يَقُولُ اللَّهُ عز وجل: حَمِدَنِي عَبْدِي ، يَقُولُ الْعَبْدُ: {الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ} [الفاتحة: 1] ، يَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى: أَثْنَى عَلَيَّ عَبْدِي ، يَقُولُ الْعَبْدُ: {مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ} يَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى: مَجَّدَنِي عَبْدِي ، يَقُولُ الْعَبْدُ: {إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ} [الفاتحة: 5] ، فَيَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى: فَهَذِهِ الْآيَةُ بَيْنِي
⦗ص: 185⦘ وَبَيْنَ عَبْدِي ، وَلِعَبْدِي مَا سَأَلَ ، يَقُولُ الْعَبْدُ: {اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ} [الفاتحة: 7] فَهَؤُلَاءِ لِعَبْدِي ، وَلِعَبْدِي مَا سَأَلَ "
أَدْخَلَ مَالِكٌ هَذَا الْحَدِيثَ فِي بَابِ الْقِرَاءَةِ خَلْفَ الْإِمَامِ فِيمَا لَا يَجْهَرُ فِيهِ الْإِمَامُ بِالْقِرَاءَةِ؛ لِقَوْلِ أَبِي هُرَيْرَةَ فِيهِ: اقْرَأْ بِهَا فِي نَفْسِكَ يَا فَارِسِيُّ أَيِ: اقْرَأْ بِهَا سِرًّا ، وَلَمْ يُدْخِلْهُ فِي بَابِ الْعَمَلِ فِي الْقِرَاءَةِ مَعَ حَدِيثِ حُمَيْدٍ ، عَنْ أَنَسٍ قَالَ: قُمْتُ وَرَاءَ أَبِي بَكْرٍ ، وَعُمَرَ ، وَعُثْمَانَ ، فَكُلُّهُمْ كَانَ
⦗ص: 186⦘ لَا يَقْرَأُ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ. وَسَيَأْتِي هَذَا الْحَدِيثُ وَاخْتِلَافُ الرُّوَاةِ فِي أَلْفَاظِهِ ، وَرَفْعِهِ ، وَتَوْقِيفِهِ فِي مَوْضِعِهِ مِنْ هَذَا الْكِتَابِ بَعْدَ هَذَا إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى وَأَمَّا حَدِيثُ الْعَلَاءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ هَذَا: فَرَوَاهُ كَمَا رَوَاهُ مَالِكٌ ، عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ جُرَيْجٍ ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَجْلَانَ ، وَمُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ ، وَالْوَلِيدُ بْنُ كَثِيرٍ ، كُلُّهُمْ رَوَاهُ عَنُ الْعَلَاءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ أَبَا السَّائِبِ مَوْلَى هَاشِمِ بْنِ زُهْرَةَ حَدَّثَهُ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ رضي الله عنه ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ إِلَّا أَنَّ اللَّيْثَ بْنَ
⦗ص: 187⦘ سَعْدٍ ، رَوَاهُ عَنِ ابْنِ عَجْلَانَ ، عَنِ الْعَلَاءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ، عَنْ أَبِي السَّائِبِ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ بِهَذَا الْإِسْنَادِ ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: «أَيُّمَا رَجُلٍ صَلَّى صَلَاةً لَمْ يَقْرَأْ فِيهَا ، بِأُمِّ الْقُرْآنِ فَهِيَ خِدَاجٌ هِي خِدَاجٌ غَيْرُ تَمَامٍ» قَالَ: فَقُلْتُ: إِنِّي لَا أَسْتَطِيعُ أَنْ أَقْرَأَ مَعَ الْإِمَامِ قَالَ: " اقْرَأْ بِهَا فِي نَفْسِكَ؛ فَإِنَّ اللَّهَ عز وجل يَقُولُ: " قَسَمْتُ الصَّلَاةَ بَيْنِي وَبَيْنَ عَبْدِي ، قَالَ الْعَبْدُ {الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} [الفاتحة: 2] قُلْتُ: حَمِدَنِي عَبْدِي " ثُمَّ ذَكَرَ الْحَدِيثَ عَلَى هَذَا بِمَعْنَى مَا تَقَدَّمَ فَجَعَلَ قَوْلَهُ: " قَالَ اللَّهُ
⦗ص: 188⦘: «قَسَمْتُ الصَّلَاةَ بَيْنِي وَبَيْنَ عَبْدِي» مِنْ قَوْلِ أَبِي هُرَيْرَةَ إِلَى آخِرِ الْحَدِيثِ ، لَمْ يَرْفَعْ مِنْهُ إِلَّا قَوْلَهُ: «خِدَاجٌ غَيْرُ تَمَامٍ» ، وَمَالِكٌ أَحْفَظُ وَأَثْبَتُ ، وَزِيَادَةُ مِثْلِهِ مَقْبُولَةٌ وَحُجَّةٌ عَلَى مَنْ قَصُرَ عَنْهَا ، وَرِوَايَةُ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنِ الْعَلَاءِ فِي هَذَا الْحَدِيثِ كَرِوَايَةِ مَالِكٍ سَوَاءٌ وَرَوَى هَذَا الْحَدِيثَ شُعْبَةُ بْنُ الْحَجَّاجِ ، وَسُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ ، وَسُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ ، عَنِ الْعَلَاءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، فَقَالُوا: عَنْ أَبِيهِ فِي مَوْضِعِ أَبِي السَّائِبِ وَلَمْ يَذْكُرُوا أَبَا السَّائِبِ
⦗ص: 189⦘. فَمِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ بِالْحَدِيثِ مَنْ جَعَلَ هَذَا اضْطِرَابًا يُوجِبُ التَّوَقُّفَ عَنِ الْعَمَلِ بِالْحَدِيثِ حَدِيثِ الْعَلَاءِ هَذَا وَمِنْهُمْ مَنْ قَالَ: لَيْسَ هَذَا بِاضْطِرَابٍ؛ لِأَنَّ الْعَلَاءَ قَدْ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ ، عَنْ أَبِيهِ ، وَعَنْ أَبِي السَّائِبِ جَمِيعًا ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَكَذَلِكَ رَوَاهُ أَبُو أُوَيْسٍ ، عَنِ الْعَلَاءِ ، عَنْ أَبِيهِ ، وَأَبِي السَّائِبِ ، جَمِيعًا عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، وَسَاقَهُ نَحْوَ سِيَاقَةِ مَالِكٍ لَهُ وَالْقَوْلُ عِنْدِي فِي ذَلِكَ مِثْلُ هَذَا الِاخْتِلَافِ لَا يَضُرُّ؛ لِأَنَّ أَبَا السَّائِبِ ثِقَةٌ ، وَعَبْدَ الرَّحْمَنِ أَبَا الْعَلَاءِ ثِقَةٌ أَيْضًا ، فَعَنْ أَيِّهِمَا كَانَ فَهُوَ مِنْ أَخْبَارِ الْعُدُولِ الَّتِي يَجِبُ الْحُكْمُ بِهَا ، وَأَبُو أُوَيْسٍ عِنْدَهُمْ لَا يَحْتَجُّونَ بِهِ فِيمَا انْفَرَدَ بِهِ
ম্যালিক বর্ণনা করেছেন আলা ইবন আবদুর রহমান থেকে, তিনি হিশাম ইবন যুহরার মুক্তদাস আবু আস-সাইব থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি তাঁকে বলতে শুনেছেন: আমি আবু হুরায়রাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি এমন সালাত আদায় করল যাতে উম্মুল কুরআন (সূরা ফাতিহা) পাঠ করেনি, তবে তা অসম্পূর্ণ (خداج), তা অসম্পূর্ণ (خداج), তা অসম্পূর্ণ (خداج) এবং অপূর্ণাঙ্গ।" তিনি (আবু আস-সাইব) বলেন: আমি বললাম, হে আবু হুরায়রা! আমি কখনো কখনো ইমামের পেছনে থাকি। তিনি তখন আমার বাহু টিপে ধরলেন এবং বললেন: হে পারস্যবাসী! তুমি তা মনে মনে পাঠ করো। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বলেছেন: আমি সালাতকে আমার ও আমার বান্দার মধ্যে দুই ভাগে ভাগ করেছি; অর্ধেক আমার জন্য আর অর্ধেক আমার বান্দার জন্য। আর আমার বান্দা যা প্রার্থনা করবে, তা-ই সে পাবে।" রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা পাঠ করো। যখন বান্দা বলে: {আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন} [ফাতিহা: ২], আল্লাহ عز وجل বলেন: আমার বান্দা আমার প্রশংসা করল। বান্দা যখন বলে: {আর-রাহমানির রাহিম} [ফাতিহা: ১], আল্লাহ তাআলা বলেন: আমার বান্দা আমার গুণগান করল। বান্দা যখন বলে: {মালিকি ইয়াওমিদ্দিন}, আল্লাহ তাআলা বলেন: আমার বান্দা আমার মর্যাদা বর্ণনা করল। বান্দা যখন বলে: {ইয়্যাকা নাবুদু ওয়া ইয়্যাকা নাস্তাইন} [ফাতিহা: ৫], আল্লাহ তাআলা বলেন: এই আয়াতটি আমার
⦗পৃষ্ঠা: ১৮৫⦘ ও আমার বান্দার মাঝে (যৌথ), আর আমার বান্দার জন্য রয়েছে সে যা চাইবে। বান্দা যখন বলে: {ইহদিনাস সিরাতাল মুস্তাকিম, সিরাতাল্লাজিনা আনআমতা আলাইহিম, গাইরিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ দ্বাল্লিন} [ফাতিহা: ৭], তখন আল্লাহ বলেন: এগুলো আমার বান্দার জন্য, আর আমার বান্দা যা চাইবে তা-ই সে পাবে।"
ইমাম ম্যালিক এই হাদিসটি 'ইমামের পেছনে কিরাত পাঠ' অধ্যায়ে অন্তর্ভুক্ত করেছেন যেখানে ইমাম উচ্চস্বরে কিরাত পাঠ করেন না; কারণ এতে আবু হুরায়রার উক্তি রয়েছে: "হে পারস্যবাসী! তুমি তা মনে মনে পাঠ করো", অর্থাৎ: তা সন্তর্পণে পাঠ করো। তিনি এটিকে কিরাত পাঠের আমল সংক্রান্ত অধ্যায়ে হুমায়দ থেকে আনাসের বর্ণিত হাদিসের সাথে অন্তর্ভুক্ত করেননি, যেখানে আনাস বলেছিলেন: আমি আবু বকর, উমর ও উসমানের পেছনে নামাজ পড়েছি, তাঁরা সকলেই
⦗পৃষ্ঠা: ১৮৬⦘ 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' পাঠ করতেন না। এই হাদিসটি এবং এর শব্দমালা, রাসূল পর্যন্ত উন্নীতকরণ (رفع) ও সাহাবী পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখার (توقيف) ক্ষেত্রে বর্ণনাকারীদের মতভেদ এই গ্রন্থের যথাস্থানে সামনে বিস্তারিত আসবে ইনশাআল্লাহ। আর আলা ইবন আবদুর রহমানের এই হাদিসটি ম্যালিকের বর্ণনার মতোই আব্দুল মালিক ইবন আব্দুল আজিজ ইবন জুরাইজ, মুহাম্মদ ইবন আজলান, মুহাম্মদ ইবন ইসহাক এবং ওয়ালিদ ইবন কাসির বর্ণনা করেছেন। তাঁরা সকলে আলা ইবন আবদুর রহমান থেকে বর্ণনা করেছেন যে, হিশাম ইবন যুহরার মুক্তদাস আবু আস-সাইব তাঁকে হাদীস শুনিয়েছেন যে তিনি আবু হুরায়রা (রা.)-কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করতে শুনেছেন। তবে লাইস ইবন
⦗পৃষ্ঠা: ১৮৭⦘ সাদ এটি ইবন আজলান থেকে, তিনি আলা ইবন আবদুর রহমান থেকে, তিনি আবু আস-সাইব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে এই সনদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন: "যেকোনো ব্যক্তি এমন সালাত আদায় করল যাতে উম্মুল কুরআন পাঠ করেনি, তবে তা অসম্পূর্ণ (خداج), তা অসম্পূর্ণ (خداج) ও অপূর্ণাঙ্গ।" তিনি (রাবি) বলেন: আমি বললাম, আমি তো ইমামের সাথে পাঠ করতে সক্ষম হই না। তিনি বললেন: "তুমি তা মনে মনে পাঠ করো; কেননা আল্লাহ عز وجل বলেন: আমি সালাতকে আমার ও আমার বান্দার মাঝে ভাগ করেছি। বান্দা বলে {আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন} [ফাতিহা: ২], আমি বলি: আমার বান্দা আমার প্রশংসা করল।" এরপর তিনি হাদীসটি পূর্বোক্ত অর্থের অনুরূপ উল্লেখ করেছেন। তিনি (লাইস) "আল্লাহ বলেছেন: আমি সালাতকে আমার ও আমার বান্দার মাঝে ভাগ করেছি" থেকে হাদিসের শেষ পর্যন্ত অংশটুকুকে আবু হুরায়রার নিজস্ব উক্তি হিসেবে গণ্য করেছেন; কেবল "অসম্পূর্ণ (خداج) ও অপূর্ণাঙ্গ" অংশটুকু ছাড়া আর কিছুই নবী পর্যন্ত উন্নীত (مرفوع) করেননি। অথচ ইমাম ম্যালিক অধিক মুখস্থকারী (أحفظ) এবং অধিক সুদৃঢ় (أثبت), আর তাঁর ন্যায় রাবির অতিরিক্ত বর্ণনা গ্রহণযোগ্য (مقبولة) এবং যারা তা বর্ণনা করতে ব্যর্থ হয়েছে তাদের বিপক্ষে তা দলিল (حجة)। এই হাদিসে আলার সূত্রে ইবন জুরাইজের বর্ণনা হুবহু ম্যালিকের বর্ণনার মতোই। এই হাদিসটি শুবা ইবনুল হাজ্জাজ, সুফিয়ান আস-সাওরি এবং সুফিয়ান ইবন উইয়াইনাহ বর্ণনা করেছেন আলা ইবন আবদুর রহমান থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে। তাঁরা আবু আস-সাইবের স্থলে 'তাঁর পিতা' উল্লেখ করেছেন এবং আবু আস-সাইবের কথা উল্লেখ করেননি
⦗পৃষ্ঠা: ১৮৯⦘। হাদিস বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ একে অসংগতি (اضطراب) হিসেবে গণ্য করেছেন যা আলার এই হাদিসটির ওপর আমল করা থেকে বিরত থাকা (توقف) আবশ্যক করে। আবার তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: এটি অসংগতি (اضطراب) নয়; কারণ আলা এই হাদিসটি তাঁর পিতা ও আবু আস-সাইব—উভয় থেকেই আবু হুরায়রার সূত্রে বর্ণনা করেছেন। একইভাবে আবু উওয়াইস আলা থেকে, তিনি তাঁর পিতা ও আবু আস-সাইব উভয় থেকে আবু হুরায়রার সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি ম্যালিকের বর্ণনার অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আমার মতে, এই ধরণের মতভেদ কোনো ক্ষতি করে না; কারণ আবু আস-সাইব নির্ভরযোগ্য (ثقة) এবং আলার পিতা আবদুর রহমানও নির্ভরযোগ্য (ثقة)। সুতরাং তাঁদের যে কারো থেকেই বর্ণিত হোক না কেন, এটি ন্যায়পরায়ণ (عدول) রাবিদের সংবাদসমূহের অন্তর্ভুক্ত যার দ্বারা বিধান সাব্যস্ত করা ওয়াজিব। আর আবু উওয়াইস যখন এককভাবে বর্ণনা (انفرد) করেন, তখন মুহাদ্দিসগণ তাঁকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করেন না (لا يحتجون به)।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ লিবনি আব্দুল বার
(পৃষ্ঠা: ১৯০)
5 - حَدَّثَنَاهُ عَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ سُفْيَانَ ، وَسَعِيدُ بْنُ نَصْرٍ ، قَالَا: حَدَّثَنَا قَاسِمُ بْنُ أَصْبَغَ ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِسْحَاقَ ، وَأَحْمَدُ بْنُ زُهَيْرٍ ، قَالَا: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي أُوَيْسٍ ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي ، عَنِ الْعَلَاءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ، قَالَ: سَمِعْتُهُ مِنْ أَبِي ، وَمِنْ أَبِي السَّائِبِ ، جَمِيعًا ، وَكُنَّا جَلِيسَيْنِ لِأَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَا: قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ رضي الله عنه: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ صَلَّى صَلَاةً لَمْ يَقْرَأْ فِيهَا بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ فَهِيَ خِدَاجٌ ، هِيَ خِدَاجٌ ، هِيَ خِدَاجٌ غَيْرُ تَمَامٍ» وَذَكَرَ الْحَدِيثَ بِتَمَامِهِ كَمَا رَوَاهُ مَالِكٌ ، ⦗ص: 191⦘ قَالَ إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِسْحَاقَ: قَالَ عَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ: وَكَانَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ عَبَّادِ بْنِ صُهَيْبٍ ، عَنِ الرَّجُلَيْنِ جَمِيعًا ، يَعْنِي كَمَا رَوَاهُ أَبُو أُوَيْسٍ قَالَ أَبُو عُمَرَ: لَا أَعْلَمُ حَدِيثًا فِي سُقُوطِ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ مِنْ أَوَّلِ فَاتِحَةِ الْكِتَابِ أَبْيَنَ مِنْ حَدِيثِ الْعَلَاءِ هَذَا؛ لِأَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " اقْرَءُوا: يَقُولُ الْعَبْدُ: {الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} [الفاتحة: 2] " فَبَدَأَ بِهَا دُونَ {بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ} [الفاتحة: 1] فَعَدَّهَا آيَةً ، ثُمَّ قَالَ: " يَقُولُ الْعَبْدُ: {الْرَّحْمَنِ الْرَّحِيمِ} [الفاتحة: 1] " فَعَدَّهَا آيَةً ، ثُمَّ قَالَ: " يَقُولُ الْعَبْدُ: {مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ} فَعَدَّهَا آيَةً ، ثُمَّ قَالَ: " يَقُولُ الْعَبْدُ: {إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ} [الفاتحة: 5] فَعَدَّهَا آيَةً ، فَتَمَّتْ أَرْبَعُ آيَاتٍ ، ثُمَّ قَرَأَ إِلَى آخِرِ السُّورَةِ ، وَقَالَ: «هَؤُلَاءِ لِعَبْدِي» وَلَمْ يَقُلْ هَاتَانِ لِعَبْدِي ، وَهَؤُلَاءِ إِشَارَةٌ إِلَى جَمَاعَةٍ ، فَعُلِمَ أَنَّهَا ثَلَاثُ آيَاتٍ ، وَتَقَدَّمَتْ أَرْبَعُ آيَاتٍ ⦗ص: 192⦘ تَتِمَّةَ سَبْعِ آيَاتٍ ، وَأَجْمَعَ عُلَمَاءُ الْمُسْلِمِينَ عَلَى أَنَّهَا سَبْعُ آيَاتٍ ، فَدَلَّ هَذَا الْحَدِيثُ عَلَى أَنَّ: {أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ} [الفاتحة: 7] آيَةٌ ، وَبِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ لَيْسَتْ آيَةً مِنْ أَوَّلِ السُّورَةِ ، وَهَذَا عَدُّ أَهْلِ الْمَدِينَةِ ، وَالشَّامِ ، وَالْبَصْرَةِ، وَأَمَّا أَهْلُ مَكَّةَ، والْكُوفَةِ مِنَ الْعُلَمَاءِ وَالْقُرَّاءِ، فَيَعُدُّونَ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ أَوَّلَ آيَةٍ مِنْ أُمِّ الْقُرْآنِ ، وَلَيْسَتْ: {أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ} [الفاتحة: 7] بِآيَةٍ عِنْدَهُمْ ، فَهَذَا حَدِيثٌ قَدْ رَفَعَ الْإِشْكَالَ فِي سُقُوطِ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ وَرِجَالُهُ ثِقَاتٌ. وَأَمَّا أَبُو السَّائِبِ: فَقَدْ رَوَى عَنْهُ الْعَلَاءُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ، وَشَرِيكُ بْنُ أَبِي نَمِرٍ ، وَبُكَيْرٌ الْأَشَجُّ ، وَصَيْفِيٌّ مَوْلَى ⦗ص: 193⦘ أَفْلَحَ ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ ، وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ وَقِيلَ: إِنَّهُ رَوَى عَنْهُ الزُّهْرِيُّ ، وَصَفْوَانُ بْنُ سُلَيْمٍ ، وَالْإِسْنَادُ عَنْ كُلِّ وَاحِدٍ مِنْ هَذَيْنِ لَيْسَ بِالْقَوِيِّ ، وَأَصَحُّ مَا قِيلَ فِي أَبِي السَّائِبِ هَذَا أَنَّهُ مَوْلَى هِشَامِ بْنِ زُهْرَةَ ، كَمَا قَالَ مَالِكٌ وَمَنْ تَابَعَهُ عَلَى ذَلِكَ وَهُوَ مَوْلَى الْأَنْصَارِ ، وَقِيلَ: مَوْلَى بَنِي زُهْرَةَ وَقِيلَ: مَوْلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ هِشَامِ بْنِ زُهْرَةَ ، وَقِيلَ: مَوْلَى هِشَامِ بْنِ زُهْرَةَ ، هَكَذَا ⦗ص: 194⦘ قَالَ الْحَافِظُ مِنْ أَصْحَابِ الْعَلَاءِ ، وَكَانَ أَبُو السَّائِبِ هَذَا مِنْ جُلَسَاءِ أَبِي هُرَيْرَةَ ، وَقَدْ رَوَى عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، وَعَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ ، وَسَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ وَأَمَّا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ يَعْقُوبَ مَوْلَى جُهَيْنَةَ وَالِدُ الْعَلَاءِ ، فَرَوَى عَنْهُ ابْنُهُ الْعَلَاءُ ، رَوَى عَنْهُ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيُّ ، وَاللَّهُ أَعْلَمُ وَلَا أَعْلَمُ أَحَدًا ذَكَرَهُ بِجَرْحِهِ وَأَمَّا الْعَلَاءُ فَرَوَى عَنْهُ جَمَاعَةٌ مِنْ أَئِمَّةِ أَهْلِ الْحَدِيثِ وَاحْتَمَلُوهُ ، وَوَثَّقَهُ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى ، فَقَالَ: هُوَ عِنْدِي فَوْقَ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ ، وَمُحَمَّدِ بْنِ ⦗ص: 195⦘ عَمْرٍو وَأَمَّا ابْنُ مَعِينٍ فَقَالَ: الْعَلَاءُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ لَيْسَ حَدِيثُهُ بِحُجَّةٍ ، وَهُوَ وَسُهَيْلٌ قَرِيبٌ مِنَ السَّوَاءِ ، هَذِهِ حِكَايَةُ عَبَّاسٍ ، عَنِ ابْنِ مَعِينٍ ، وَقَالَ ابْنُ أَبِي خَيْثَمَةَ: سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ مَعِينٍ ، يَقُولُ: الْعَلَاءُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ لَيْسَ بِذَاكَ لَمْ يَزَلِ النَّاسُ يَتَّقُونَ حَدِيثَهُ وَقَالَ أَبُو حَاتِمٍ الرَّازِيُّ: رَوَى عَنِ الْعَلَاءِ الثِّقَاتُ ، وَأَنَا أُنْكِرُ مِنْ حَدِيثِهِ ⦗ص: 196⦘ أَشْيَاءَ قَالَ أَبُو عُمَرَ: لَيْسَ بِالْمَتِينِ عِنْدَهُمْ ، وَقَدِ انْفَرَدَ بِهَذَا الْحَدِيثِ لَيْسَ يُوجَدُ إِلَّا لَهُ ، وَلَا تُرْوَى أَلْفَاظُهُ عَنْ أَحَدٍ سِوَاهُ ، وَاللَّهُ أَعْلَمُ ⦗ص: 197⦘. وَقَدْ رَوَى مَنْصُورُ بْنُ أَبِي مُزَاحِمٍ ، وَهُوَ مِنْ أَهْلِ الصِّدْقِ عِنْدَهُمْ ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو أُوَيْسٍ ، عَنِ الْعَلَاءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ لَا يَجْهَرُ بِبِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ قَالَ أَبُو عُمَرَ: تُعَضِّدُ هَذِهِ الرِّوَايَةُ رِوَايَةَ مَالِكٍ وَغَيْرِهِ مِنْ حَدِيثِ الْعَلَاءِ وَهَذَا قَوْلُ أَبِي هُرَيْرَةَ: اقْرَأْ بِهَا فِي نَفْسِكَ يَا فَارِسِيُّ وَمَعْنَى قَوْلِهِ فِي حَدِيثِ الْعَلَاءِ: «قَسَمْتُ الصَّلَاةَ بَيْنِي وَبَيْنَ عَبْدِي نِصْفَيْنِ ، فَنِصْفُهَا لِي ⦗ص: 198⦘ وَنِصْفُهَا لِعَبْدِي ، وَلِعَبْدِي مَا سَأَلَ» أَيْ: قَسَمْتُ قِرَاءَةَ فَاتِحَةِ الْكِتَابِ بَيْنِي وَبَيْنَ عَبْدِي نِصْفَيْنِ هَذَا مَعْنَاهُ عِنْدَ مَنْ رَأَى سُقُوطَ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ مِنْ أَوَّلِ السُّورَةِ ، وَدَلِيلُهُمْ عَلَى ذَلِكَ قَوْلُهُ بِأَثَرِ ذَلِكَ: " اقْرَءُوا ، يَقُولُ الْعَبْدُ: {الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} [الفاتحة: 2] الْحَدِيثَ قَالُوا: وَجَائِزٌ أَنْ يُعَبِّرَ عَنِ الْقِرَاءَةِ بِالصَّلَاةِ كَمَا يُعَبِّرُ عَنِ الصَّلَاةِ بِالْقِرَاءَةِ ، قَالَ اللَّهُ عز وجل: {وَقُرْآنَ الْفَجْرِ} [الإسراء: 78] أَيْ قِرَاءَةَ صَلَاةِ الْفَجْرِ {إِنَّ قُرْآنَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُودًا} [الإسراء: 78] أَيْ صَلَاةَ الْفَجْرِ وَأَمَّا مَنْ رَأَى إِثْبَاتَ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ فِي أَوَّلِ فَاتِحَةِ الْكِتَابِ ، فَقَالُوا: لَا يَجُوزُ أَنْ يُحَالَ اسْمُ الصَّلَاةِ إِلَى الْقِرَاءَةِ إِلَّا بِمَا لَا إِشْكَالَ فِيهِ مِنَ الْمَجَازِ ، وَبِالدَّلِيلِ الَّذِي لَا يَحْتَمِلُ التَّأْوِيلَ ⦗ص: 199⦘ قَالُوا: وَمَعْنَى قَوْلِهِ عليه السلام عَنِ اللَّهِ تَبَارَكَ اسْمُهُ: «قَسَمْتُ الصَّلَاةَ بَيْنِي وَبَيْنَ عَبْدِي نِصْفَيْنِ» أَنَّ الصَّلَاةَ دُعَاءٌ وَعُبَادَةٌ ، فَمِنَ الْعَبْدِ الدُّعَاءُ ، وَمِنَ اللَّهِ الْإِجَابَةُ ، وَمِنَ الْعَبْدِ الطَّاعَةُ بِالرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ وَالْقِرَاءَةِ وَالْقِيَامِ وَالْقُعُودِ ، وَمِنَ اللَّهِ تَعَالَى الْجَزَاءُ بِالْمَغْفِرَةِ وَالْهُدَى قَالُوا: فَهَذَا مَعْنَى السُّورَةِ؛ لِأَنَّهَا تَقْتَضِي الدُّعَاءَ بِالْهُدَى بَعْدَ التَّحْمِيدِ وَالثَّنَاءِ ، وَمِنَ اللَّهِ الْإِجَابَةُ وَالْجَزَاءُ ، فَهَذَا مَعْنَى قَسْمِ الصَّلَاةِ بَيْنَ الْعَبْدِ وَبَيْنَ رَبِّهِ عَلَى ظَاهِرِ الْكَلَامِ دُونَ إِحَالَةِ لَفْظِهِ ، وَاللَّهُ أَعْلَمُ ⦗ص: 200⦘ وَعَلَى هَذَا التَّأْوِيلِ يَكُونُ الْمَعْنَى فِي ابْتِدَائِهِ الْقِرَاءَةَ بِـ {الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} [الفاتحة: 2] فِي هَذَا الْحَدِيثِ بِمَعْنَى مَا قَدَّمْنَا ذِكْرَهُ فِي حَدِيثِ عَائِشَةَ وَغَيْرِهِ مِنَ الِابْتِدَاءِ بِـ {الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} [الفاتحة: 2]
৫ - আমাদের নিকট এটি বর্ণনা করেছেন আব্দুল ওয়ারিস বিন সুফিয়ান এবং সাঈদ বিন নাসর। তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাসিম বিন আসবাগ। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাইল বিন ইসহাক এবং আহমদ বিন জুহাইর। তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাইল বিন আবি উওয়াইস। তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আলা বিন আব্দুর রহমান থেকে। আলা বলেন: আমি এটি আমার পিতা এবং আবু সাইব—উভয়ের থেকে শুনেছি। আমরা আবু হুরায়রা (রা.)-এর মজলিসে বসা ছিলাম। তাঁরা বলেন: আবু হুরায়রা (রা.) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: «যে ব্যক্তি এমন কোনো নামাজ পড়ল যাতে উম্মুল কিতাব (সুরা ফাতিহা) পাঠ করল না, তবে তা অসম্পূর্ণ, তা অসম্পূর্ণ, তা অসম্পূর্ণ, যা পরিপূর্ণ নয়»। তিনি হাদিসটি পূর্ণাঙ্গভাবে উল্লেখ করেছেন যেভাবে মালিক বর্ণনা করেছেন। ⦗পৃষ্ঠা: ১৯১⦘ ইসমাইল বিন ইসহাক বলেন: আলি বিন আল-মাদিনি বলেছেন: এই হাদিসটি আব্বাদ বিন সুহাইব থেকে দুই ব্যক্তির সূত্রেই বর্ণিত হয়েছে, অর্থাৎ যেভাবে আবু উওয়াইস বর্ণনা করেছেন। আবু উমর বলেন: সুরা ফাতিহার শুরু থেকে 'বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম' বাদ পড়ার বিষয়ে আলার এই হাদিসের চেয়ে স্পষ্ট কোনো হাদিস আমার জানা নেই। কারণ রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমরা পড়ো; বান্দা বলে: {আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন} [ফাতিহা: ২]"—সুতরাং তিনি 'বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম' ছাড়াই এটি শুরু করেছেন এবং একে একটি আয়াত হিসেবে গণ্য করেছেন। এরপর তিনি বলেছেন: "বান্দা বলে: {আর-রাহমানির রাহিম}"—তিনি একে একটি আয়াত হিসেবে গণ্য করেছেন। এরপর তিনি বলেছেন: "বান্দা বলে: {মালিকি ইয়াওমিদ্দিন}"—তিনি একে একটি আয়াত হিসেবে গণ্য করেছেন। এরপর তিনি বলেছেন: "বান্দা বলে: {ইয়্যাকা নাবুদু ওয়া ইয়্যাকা নাস্তাইন} [ফাতিহা: ৫]"—তিনি একে একটি আয়াত হিসেবে গণ্য করেছেন। এভাবে চারটি আয়াত পূর্ণ হলো। এরপর তিনি সুরার শেষ পর্যন্ত পাঠ করলেন এবং বললেন: «এগুলো আমার বান্দার জন্য»। তিনি 'এ দুটি আমার বান্দার জন্য' বলেননি। 'এগুলো' (হাওলা-ই) শব্দটি একটি সমষ্টির দিকে ইশারা করে, যার মাধ্যমে জানা গেল যে এগুলো (শেষাংশ) তিনটি আয়াত এবং পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে চারটি আয়াত। ⦗পৃষ্ঠা: ১৯২⦘ এভাবে মোট সাতটি আয়াত পূর্ণ হয়। মুসলিম উলামাগণ এই বিষয়ে একমত যে এটি সাতটি আয়াত বিশিষ্ট। সুতরাং এই হাদিসটি প্রমাণ করে যে: {আনআমতা আলাইহিম} [ফাতিহা: ৭] একটি আয়াত এবং 'বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম' সুরার শুরুর কোনো আয়াত নয়। এটি মদিনা, সিরিয়া এবং বসরার অধিবাসীদের গণনা পদ্ধতি। পক্ষান্তরে মক্কা ও কুফার আলেম ও কারীগণ 'বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম'-কে উম্মুল কুরআনের প্রথম আয়াত হিসেবে গণ্য করেন এবং তাঁদের মতে {আনআমতা আলাইহিম} কোনো স্বতন্ত্র আয়াত নয়। এই হাদিসটি 'বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম' বাদ পড়ার সংশয় দূর করে দেয় এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات)। আবু সাইবের কথা বললে, তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন আলা বিন আব্দুর রহমান, শারিক বিন আবি নামির, বুকাইর আল-আশাজ এবং আসলামের মুক্তদাস সাইফি। ⦗পৃষ্ঠা: ১৯৩⦘ এছাড়া মুহাম্মদ বিন আমর বিন আতা এবং উবাইদুল্লাহ বিন উমর। বলা হয় যে, তাঁর থেকে যুহরি এবং সাফওয়ান বিন সুলাইমও বর্ণনা করেছেন, তবে এই দুইজনের প্রত্যেকের পক্ষ থেকে সনদ (الإسناد) শক্তিশালী (ليس بالقوي) নয়। আবু সাইব সম্পর্কে সবচেয়ে বিশুদ্ধ (أصح) অভিমত হলো তিনি হিশাম বিন জুহরার মুক্তদাস, যেমনটি মালিক এবং তাঁর অনুসারীগণ বলেছেন। তিনি আনসারদের মুক্তদাস ছিলেন। আবার বলা হয় যে তিনি বনু জুহরার মুক্তদাস, অথবা আব্দুল্লাহ বিন হিশাম বিন জুহরার মুক্তদাস, অথবা শুধু হিশাম বিন জুহরার মুক্তদাস। আলা-র সহচরদের মধ্যে যারা হাফেজ (الحافظ) তাঁরা এভাবেই ⦗পৃষ্ঠা: ১৯৪⦘ বলেছেন। এই আবু সাইব আবু হুরায়রা (রা.)-এর মজলিসের সাথীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি আবু হুরায়রা, মুগিরা বিন শুবা এবং সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। আর জুহাইনার মুক্তদাস আব্দুর রহমান বিন ইয়াকুব—যিনি আলার পিতা—তাঁর থেকে তাঁর পুত্র আলা বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আত-তাইমিও তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। আল্লাহই ভালো জানেন। আমি এমন কাউকে জানি না যিনি তাঁকে জরাহ বা ত্রুটিযুক্ত (بجرحه) হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আলার বিষয়ে হাদিস শাস্ত্রের একদল ইমাম তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁকে গ্রহণ করে নিয়েছেন। আহমদ বিন হাম্বল (রহ.) তাঁকে নির্ভরযোগ্য (وثقه) বলেছেন এবং বলেছেন: "আমার নিকট তিনি সুহাইল বিন আবি সালিহ এবং মুহাম্মদ বিন ⦗পৃষ্ঠা: ১৯৫⦘ আমরের চেয়ে অগ্রগণ্য।" ইবনে মাঈনের ব্যাপারে বর্ণিত আছে যে তিনি বলেছেন: আলা বিন আব্দুর রহমানের হাদিস দলিল (بحجة) হিসেবে গণ্য নয়, তিনি এবং সুহাইল প্রায় সমপর্যায়ের। এটি ইবনে মাঈন থেকে আব্বাসের বর্ণনা। ইবনে আবি খাইসামা বলেন: আমি ইয়াহইয়া বিন মাঈনকে বলতে শুনেছি: আলা বিন আব্দুর রহমান তেমন কেউ নন (ليس بذاك), মানুষ সর্বদা তাঁর হাদিস এড়িয়ে চলত। আবু হাতিম আল-রাজি বলেন: নির্ভরযোগ্য (الثقات) ব্যক্তিগণ আলার থেকে বর্ণনা করেছেন, তবে আমি তাঁর হাদিসের কিছু বিষয়কে অস্বীকৃত (أُنْكِرُ) মনে করি। ⦗পৃষ্ঠা: ১৯৬⦘ আবু উমর বলেন: মুহাদ্দিসদের নিকট তিনি খুব একটা মজবুত (بالمتين) নন। তিনি এই হাদিসটি বর্ণনায় একক (انفرد) হয়ে পড়েছেন এবং এটি কেবল তাঁর নিকটই পাওয়া যায়। তাঁর শব্দাবলীতে এটি অন্য কারো থেকে বর্ণিত হয়নি। আল্লাহই ভালো জানেন। ⦗পৃষ্ঠা: ১৯৭⦘ মানসুর বিন আবি মুজাহিম—যিনি তাঁদের নিকট সত্যবাদী (الصِّدْقِ)—বর্ণনা করেছেন যে, আবু উওয়াইস আমাদের নিকট আলা বিন আব্দুর রহমান থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.) 'বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম' উচ্চস্বরে পাঠ করতেন না। আবু উমর বলেন: এই বর্ণনাটি মালিক এবং অন্যদের বর্ণিত আলার হাদিসকে শক্তিশালী করে। আবু হুরায়রা (রা.)-এর উক্তি: "হে পারস্যবাসী, তুমি এটি মনে মনে পাঠ করো।" আলার হাদিসে «আমি নামাজকে আমার এবং আমার বান্দার মধ্যে দুই ভাগে ভাগ করেছি, অর্ধেক আমার জন্য ⦗পৃষ্ঠা: ১৯৮⦘ এবং অর্ধেক আমার বান্দার জন্য, আর আমার বান্দা যা চায় তা-ই পাবে»—এর অর্থ হলো: যারা সুরার শুরু থেকে বিসমিল্লাহ বাদ দেওয়ার প্রবক্তা, তাদের মতে এর অর্থ হলো আমি সুরা ফাতিহার পাঠকে আমার ও আমার বান্দার মধ্যে দুই ভাগে ভাগ করেছি। তাদের দলিল হলো পরবর্তী বাক্য: "তোমরা পড়ো; বান্দা বলে: {আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন} [ফাতিহা: ২]..."। তাঁরা বলেন: নামাজের নাম দিয়ে কিরাত বা পাঠ বোঝানো বৈধ, যেমন পাঠ (কিরাত) শব্দ দিয়ে নামাজকে বোঝানো হয়। মহান আল্লাহ বলেন: {আর ফজরের কিরাত} [ইসরা: ৭৮] অর্থাৎ ফজরের নামাজের পাঠ, {নিশ্চয়ই ফজরের কিরাত উপস্থিত হওয়ার সময়} [ইসরা: ৭৮] অর্থাৎ ফজরের নামাজ। পক্ষান্তরে যারা সুরা ফাতিহার শুরুতে 'বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম' সাব্যস্ত করেন, তাঁরা বলেন: কোনো স্পষ্ট রূপক (মাজায) এবং অকাট্য দলিল ব্যতীত 'নামাজ' শব্দটিকে 'পাঠ'-এর অর্থে রূপান্তর করা জায়েজ নয়। ⦗পৃষ্ঠা: ১৯৯⦘ তাঁরা বলেন: নবী (সা.) আল্লাহর পক্ষ থেকে যে কথাটি বলেছেন: «আমি নামাজকে আমার ও আমার বান্দার মধ্যে দুই ভাগে ভাগ করেছি»—তার অর্থ হলো নামাজ হলো দোয়া এবং ইবাদত। বান্দার পক্ষ থেকে হলো দোয়া, আর আল্লাহর পক্ষ থেকে হলো কবুল করা। বান্দার পক্ষ থেকে হলো রুকু, সেজদা, কিরাত, কিয়াম এবং কাআদার মাধ্যমে আনুগত্য করা, আর আল্লাহর পক্ষ থেকে হলো ক্ষমা ও হিদায়াতের মাধ্যমে পুরস্কার প্রদান করা। তাঁরা বলেন: এটাই এই সুরার মর্মার্থ; কারণ এটি প্রশংসা ও স্তুতির পর হিদায়াতের দোয়ার দাবি রাখে এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে রয়েছে কবুলিয়ত ও প্রতিদান। শব্দের মূল অর্থ পরিবর্তন না করে এটিই বান্দা ও রবের মধ্যে নামাজ বণ্টনের প্রকাশ্য অর্থ। আল্লাহই ভালো জানেন। ⦗পৃষ্ঠা: ২০০⦘ এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই হাদিসে {আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন} দিয়ে কিরাত বা পাঠ শুরু করার অর্থ হবে আয়েশা (রা.) ও অন্যদের বর্ণিত হাদিসের মতো—যেখানে {আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন} দ্বারা পাঠ শুরু করার কথা এসেছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ লিবনি আব্দুল বার
(পৃষ্ঠা: ২০০)
6 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ ، حَدَّثَنَا حَمْزَةُ بْنُ مُحَمَّدٍ ، أَنْبَأَنَا أَحْمَدُ بْنُ شُعَيْبٍ ، أَنْبَأَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ حُرَيْثٍ ، حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى ، ح وَحَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ نَصْرٍ ، حَدَّثَنَا قَاسِمُ بْنُ أَصْبَغَ ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ وَضَّاحٍ ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ ، كِلَاهُمَا عَنْ ⦗ص: 201⦘ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ جَعْفَرٍ ، عَنِ الْعَلَاءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَا أَنْزَلَ اللَّهُ فِي التَّوْرَاةِ وَلَا فِي الْإِنْجِيلِ مِثْلَ أُمِّ الْقُرْآنِ ، وَهِيَ السَّبْعُ الْمَثَانِي ، وَهِيَ مَقْسُومَةٌ بَيْنِي وَبَيْنَ عَبْدِي ، وَلِعَبْدِي مَا سَأَلَ» هَكَذَا قَالَا جَمِيعًا ، وَالْمَعْنَى مِنْ قَوْلِهِ أَنَّهَا مَقْسُومَةٌ بَيْنَ الْعَبْدِ وَبَيْنَ رَبِّهِ وَلِلْعَبْدِ مَا سَأَلَ وَمِثْلُ هَذَا حَدِيثُ مَالِكٍ أَيْضًا ، عَنِ الْعَلَاءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ مَوْلَى عَامِرِ بْنِ كُرَيْزٍ أَخْبَرَهُ ⦗ص: 202⦘ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَادَى أُبَيَّ بْنَ كَعْبٍ وَهُوَ يُصَلِّي ، فَلَمَّا فَرَغَ مِنْ صَلَاتِهِ لَحِقَهُ فَوَضَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَدَهُ عَلَى يَدِهِ وَهُوَ يُرِيدُ أَنْ يَخْرُجَ مِنْ بَابِ الْمَسْجِدِ ، فَقَالَ: «إِنِّي لَأَرْجُو أَنْ لَا تَخْرُجَ مِنْ بَابِ الْمَسْجِدِ حَتَّى تَعْلَمَ سُورَةً مَا أَنْزَلَ اللَّهُ فِي التَّوْرَاةِ ، وَلَا فِي الْإِنْجِيلِ ، وَلَا فِي الْفُرْقَانِ مِثْلَهَا» ، قَالَ أُبَيٌّ: فَجَعَلْتُ أُبْطِئُ فِي الْمَشْيِ رَجَاءَ ذَلِكَ ، قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ ، السُّورَةُ الَّتِي وَعَدْتَنِي " فَقَالَ: «كَيْفَ تَقْرَأُ إِذَا افْتَتَحْتَ الصَّلَاةَ؟» قَالَ: فَقَرَأْتُ عَلَيْهِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ حَتَّى أَتَيْتُ عَلَى آخِرِهَا ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «هِيَ هَذِهِ السُّورَةُ ، وَهِيَ السَّبْعُ الْمَثَانِي ، وَالْقُرْآنُ الْعَظِيمُ الَّذِي أُعْطِيتُ» فَقَوْلُهُ فِي هَذَا الْحَدِيثِ: " فَقَرَأْتُ عَلَيْهِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ يُحْتَمَلُ أَنْ يَكُونَ كَقَوْلِهِ لَوْ قَالَ: فَقَرَأْتُ عَلَيْهِ: يس وَالْقُرْآنِ الْحَكِيمِ يُرِيدُ السُّورَةَ ، أَوْ قَرَأْتُ عَلَيْهِ ق وَالْقُرْآنِ الْمَجِيدِ إِذْ لَيْسَ فِي ذَلِكَ مَا يُسْقِطُ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ مِنْ أَوَّلِهَا وَلَا مَا يُثْبِتُهَا ، وَاللَّهُ أَعْلَمُ وَقَدْ مَضَى فِي ذَلِكَ مَا يَكْفِي فِيمَا تَقَدَّمَ ، وَالْآثَارُ الَّتِي تُعَضِّدُ هَذَا التَّأْوِيلَ فِي ثُبُوتِ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ فِي أَوَّلِ فَاتِحَةِ الْكِتَابِ تَأْتِي بَعْدُ فِي بَابِهَا إِنْ شَاءَ اللَّهُ ⦗ص: 203⦘ وَحَدِيثُ أَنَسٍ رضي الله عنه:
6 - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) হামজা ইবনে মুহাম্মদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا) আহমাদ ইবনে শুআইব, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنবأনা) হুসাইন ইবনে হুরাইস, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) ফদল ইবনে মুসা, (ح) এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) সাঈদ ইবনে নাসর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) কাসেম ইবনে আসবাগ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) মুহাম্মদ ইবনে ওয়াদদাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثনা) আবু বকর ইবনে আবি শাইবা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবু উসামা, তাঁরা উভয়ই ⦗পৃষ্ঠা: ২০১⦘ আব্দুল হামিদ ইবনে জাফর থেকে (عن), তিনি আলা ইবনে আব্দুর রহমান থেকে (عن), তিনি তাঁর পিতা থেকে (عن), তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে (عن), তিনি উবাই ইবনে কাব (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আল্লাহ তাআলা তাওরাত কিংবা ইঞ্জিলে উম্মুল কুরআনের মতো কিছু অবতীর্ণ করেননি। এটিই হলো বারবার পঠিত সাতটি আয়াত (السبع المثاني) এবং এটি আমার ও আমার বান্দার মধ্যে বণ্টিত, আর আমার বান্দা যা প্রার্থনা করবে তা-ই সে পাবে» তাঁরা উভয়ে এভাবেই বলেছেন। আর তাঁর এই বাণীর মর্মার্থ (المعنى) হলো—এটি বান্দা ও তার রবের মধ্যে বণ্টিত এবং বান্দার জন্য তাই রয়েছে যা সে প্রার্থনা করে। ইমাম মালিকের বর্ণিত হাদিসটিও অনুরূপ; যা বর্ণিত হয়েছে আলা ইবনে আব্দুর রহমান থেকে (عن), তিনি আমের ইবনে কুরাইজের আযাদকৃত গোলাম আবু সাঈদ থেকে, যিনি তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন ⦗পৃষ্ঠা: ২০২⦘ যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উবাই ইবনে কাবকে ডাক দিলেন যখন তিনি সালাত আদায় করছিলেন। সালাত শেষ করার পর তিনি তাঁর নিকট আসলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর হাত নিজের হাতের ওপর রাখলেন এমতাবস্থায় যে তিনি মসজিদের দরজা দিয়ে বের হতে যাচ্ছিলেন। অতঃপর তিনি বললেন: «আমি আশা করি তুমি মসজিদের দরজা দিয়ে বের হওয়ার পূর্বেই এমন একটি সূরা সম্পর্কে জানবে, যার মতো কোনো সূরা আল্লাহ তাআলা তাওরাত, ইঞ্জিল এমনকি ফুরকানেও অবতীর্ণ করেননি»। উবাই (রা.) বলেন: আমি সেই প্রত্যাশায় ধীরগতিতে হাঁটতে লাগলাম। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! সেই সূরাটি কোনটি যার প্রতিশ্রুতি আপনি আমাকে দিয়েছেন? তিনি বললেন: «তুমি যখন সালাত শুরু করো তখন কীভাবে পাঠ করো?» উবাই (রা.) বলেন: আমি তাঁর সামনে 'আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন' থেকে শেষ পর্যন্ত পাঠ করলাম। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «এটিই সেই সূরা, এটিই বারবার পঠিত সাতটি আয়াত (السبع المثاني) এবং মহান কুরআন যা আমাকে দান করা হয়েছে»। এই হাদিসে তাঁর উক্তি "আমি তাঁর সামনে আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন পাঠ করলাম"—এর মধ্যে এমন সম্ভাবনা (يحتمل) রয়েছে যে, যেমনটি কেউ বললে হতো: "আমি তাঁর সামনে 'ইয়াসিন ওয়াল কুরআনিল হাকিম' পাঠ করলাম" এবং এর দ্বারা পুরো সূরাটি উদ্দেশ্য হয়; অথবা "আমি তাঁর সামনে 'ক্বাফ ওয়াল কুরআনিল মাজিদ' পাঠ করলাম"। কারণ এতে সূরার শুরু থেকে 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' বাদ পড়ার বা সাব্যস্ত হওয়ার (ثبوت) কোনো প্রমাণ নেই। আর আল্লাহই ভালো জানেন। এ বিষয়ে যা যথেষ্ট তা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। আর ফাতিহাতুল কিতাবের শুরুতে 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' সাব্যস্ত হওয়ার (ثبوت) ব্যাপারে এই ব্যাখ্যার (التأويل) স্বপক্ষে যে সকল বর্ণনা (الآثار) রয়েছে, তা ইনশাআল্লাহ পরবর্তীতে স্বীয় অধ্যায়ে আসবে। ⦗পৃষ্ঠা: ২০৩⦘ এবং আনাস (রা.)-এর হাদিস:
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ লিবনি আব্দুল বার
(পৃষ্ঠা: ২০৩)
وَأَمَّا حَدِيثُ أَنَسٍ فِي هَذَا الْبَابِ ، فَرَوَاهُ مَالِكٌ فِي مُوَطَّئِهِ ، عَنْ حُمَيْدٍ الطَّوِيلِ ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ، قَالَ: قُمْتُ وَرَاءَ أَبِي بَكْرٍ ، وَعُمَرَ ، وَعُثْمَانَ ، فَكُلُّهُمْ كَانُوا لَا يَقْرَءُونَ {بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ} [الفاتحة: 1] إِذَا افْتَتَحُوا الصَّلَاةَ هَكَذَا رَوَاهُ مَالِكٌ ، عَنْ حُمَيْدٍ الطَّوِيلِ ، عَنْ أَنَسٍ مَوْقُوفًا ، لَمْ يُسْنِدْهُ ، لَمْ يَذْكُرْ فِيهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ، لَمْ يَخْتَلِفْ فِي ذَلِكَ رُوَاةُ الْمُوَطَّأِ قَدِيمًا وَحَدِيثًا ابْنُ وَهْبٍ وَغَيْرُهُ إِلَّا مَا رَوَاهُ عَنِ ابْنِ وَهْبٍ ابْنُ أَخِيهِ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ وَهْبٍ الْمَعْرُوفُ ⦗ص: 204⦘ بِبَحْشَلٍ ، فَإِنَّهُ رَوَاهُ عَنْ عَمِّهِ ، عَنْ مَالِكٍ ، عَنْ حُمَيْدٍ ، عَنْ أَنَسٍ ، فَذَكَرَ فِيهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَلَمْ يُتَابِعْهُ عَلَى ذَلِكَ أَحَدٌ مِنْ رُوَاةِ ابْنِ وَهْبٍ وَابْنُ أَخِي ابْنِ وَهْبٍ عِنْدَهُمْ لَيْسَ بِالْقَوِيِّ قَدْ تَكَلَّمُوا فِيهِ ، وَلَمْ يَرَوْهُ حُجَّةً فِيمَا انْفَرَدَ بِهِ وَرَوَاهُ الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ ، عَنْ مَالِكٍ ، عَنْ حُمَيْدٍ ، عَنْ أَنَسٍ فَذَكَرَ فِيهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ، وَهُوَ عِنْدَهُمْ خَطَأٌ ، وَالصَّحِيحُ مَا فِي الْمَوْطَإِ وَقَدْ ذَكَرْنَا الْأَسَانِيدَ بِمَا ذَكَرْنَا مِنَ اخْتِلَافٍ عَلَى ابْنِ وَهْبٍ وَغَيْرِهِ ، عَنْ مَالِكٍ فِي التَّمْهِيدِ ⦗ص: 205⦘ وَتَابَعَهُ عَلَى ذَلِكَ هُشَيْمٌ ، وَحَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ ، فَحَدِيثُ هُشَيْمٍ ذَكَرَهُ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ ، وَعَنْ هُشَيْمٍ ، وَذَكَرَهُ أَيْضًا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ ، عَنْ هُشَيْمٍ ، هَكَذَا مَوْقُوفًا عَلَى أَبِي بَكْرٍ ، وَعُمَرَ ، وَعُثْمَانَ ، لَمْ يَذْكُرِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ، وَرَوَاهُ حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ فِي كِتَابِهِ ، عَنْ ثَابِتٍ ، وَقَتَادَةَ ، وَحُمَيْدٍ ، عَنْ أَنَسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ، وَأَبَا بَكْرٍ ، وَعُمَرَ ، وَعُثْمَانَ كَانُوا يَفْتَتِحُونَ الْقِرَاءَةَ بِـ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ قَالَ حَمَّادٌ: إِلَّا أَنَّ حُمَيْدًا لَمْ يَذْكُرْ فِيهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ⦗ص: 206⦘. وَقَدْ رَوَى ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ حُمَيْدٍ الطَّوِيلِ ، عَنْ قَتَادَةَ ، عَنْ أَنَسٍ ، وَلَسْتُ أَعْلَمُ أَحَدًا ذَكَرَهُ عَنْ حُمَيْدٍ ، عَنْ قَتَادَةَ ، عَنْ أَنَسٍ إِلَّا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ فِيمَا عَلِمْتُ وَيَقُولُونَ: إِنَّ أَكْثَرَ رِوَايَةِ حُمَيْدٍ ، عَنْ أَنَسٍ إِنَّمَا سَمِعَهَا مِنْ قَتَادَةَ ، وَثَابِتٍ ، عَنْ أَنَسٍ ، وَمِنْهَا مَا سَمِعَ مِنَ أَنَسٍ ، وَأَمَّا قَتَادَةُ فَلَا أَعْلَمُ أَحَدًا رَوَاهُ عَنْهُ مَوْقُوفًا ، بَلْ جَمَاعَةُ أَصْحَابِهِ ذَكَرُوا فِيهِ عَنْهُ ، عَنْ أَنَسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ، وَأَبَا بَكْرٍ ، ⦗ص: 207⦘ وَعُمَرَ ، اخْتَلَفُوا عَنْهُ فِي ذِكْرِ عُثْمَانَ فِيهِ ، وَكُلُّهُمْ رَفَعَهُ فَذَكَرَ فِيهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم إِلَّا أَنَّهُمُ اخْتَلَفُوا فِي لَفْظِهِ: فَمِنْهُمْ مَنْ قَالَ فِيهِ: كَانُوا يَفْتَتِحُونَ الْقِرَاءَةَ بِـ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ ، وَمِنْهُمْ مَنْ قَالَ فِيهِ: كَانُوا لَا يَقْرَءُونَ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ وَمِنْهُمْ مَنْ قَالَ فِيهِ: كَانُوا لَا يَجْهَرُونَ بِبِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ. وَمِنْهُمْ مَنْ قَالَ: فَلَمْ أَسْمَعْ أَحَدًا مِنْهُمْ جَهَرَ بِبِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ. فَمِنْ أَجَلِّ مَنْ رَوَاهُ عَنْ قَتَادَةَ أَيُّوبُ بْنُ أَبِي تَمِيمَةَ السِّخْتِيَانِيُّ
আর এই পরিচ্ছেদে আনাস (রা.)-এর হাদিসটির বিষয়ে বলা যায় যে, ইমাম মালিক তাঁর মুয়াত্তায় এটি হুমাইদ আত-তবিল থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। আনাস (রা.) বলেন: আমি আবু বকর, উমর এবং উসমানের পিছনে সালাত আদায় করেছি, তাঁরা সকলেই যখন সালাত শুরু করতেন তখন ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ [আল-ফাতিহা: ১] পাঠ করতেন না। ইমাম মালিক এভাবেই এটি হুমাইদ আত-তবিল থেকে আনাসের সূত্রে মাওকুফ (موقوفًا) হিসেবে বর্ণনা করেছেন; তিনি এটিকে মুসনাদ (يسند) করেননি, অর্থাৎ এতে নবী (সা.)-এর উল্লেখ করেননি। মুয়াত্তার বর্ণনাকারীগণের মধ্যে—তাঁরা প্রাচীন হোক বা পরবর্তীকালের যেমন ইবনে ওয়াহাব ও অন্যান্য—এ বিষয়ে কোনো মতভেদ ছিল না। তবে ইবনে ওয়াহাবের ভাতিজা আহমাদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে ওয়াহাব—যিনি ⦗পৃষ্ঠা: ২০৪⦘ বাহশাল নামে পরিচিত—তার বর্ণিত রেওয়ায়েতটি এর ব্যতিক্রম। তিনি এটি তাঁর চাচার সূত্রে মালিক থেকে, তিনি হুমাইদ থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে নবী (সা.)-এর কথা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু ইবনে ওয়াহাবের অন্য কোনো বর্ণনাকারী এ বিষয়ে তাঁর অনুসরণ (يتابعه) করেননি। আর ইবনে ওয়াহাবের ভাতিজা মুহাদ্দিসগণের নিকট শক্তিশালী (قوي) নন; তাঁরা তাঁর সমালোচনা করেছেন এবং যখন তিনি কোনো বর্ণনায় একক (انفرد) হয়ে যান, তখন তাঁরা সেটিকে প্রমাণ (حجة) হিসেবে গণ্য করেন না। ওয়ালিদ ইবনে মুসলিমও এটি মালিক থেকে, তিনি হুমাইদ থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এতে নবী (সা.)-এর কথা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু মুহাদ্দিসগণের নিকট এটি একটি ভুল (خطأ); বরং সঠিক (صحيح) হলো মুয়াত্তায় যা বর্ণিত হয়েছে। মালিক থেকে বর্ণিত রেওয়ায়েতে ইবনে ওয়াহাব ও অন্যদের মধ্যে যে মতভেদ রয়েছে, তা আমরা সনদসহ আত-তামহিদ গ্রন্থে ⦗পৃষ্ঠা: ২০৫⦘ আলোচনা করেছি। এ বর্ণনায় হুশাইম ও হাম্মাদ ইবনে সালামাহ তাঁর অনুসরণ করেছেন। হুশাইমের হাদিসটি আবু বকর ইবনে আবি শায়বা উল্লেখ করেছেন এবং সাঈদ ইবনে মানসুরও হুশাইম থেকে বর্ণনা করেছেন। এটি এভাবেই আবু বকর, উমর এবং উসমানের ওপর মাওকুফ (موقوفًا) হিসেবে বর্ণিত, যেখানে নবী (সা.)-এর কথা উল্লেখ করা হয়নি। হাম্মাদ ইবনে সালামাহ তাঁর কিতাবে এটি সাবিত, কাতাদাহ ও হুমাইদ থেকে, তাঁরা আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.), আবু বকর, উমর এবং উসমান ‘আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন’ দ্বারা কিরাত শুরু করতেন। হাম্মাদ বলেন: তবে হুমাইদ এতে নবী (সা.)-এর কথা উল্লেখ করেননি ⦗পৃষ্ঠা: ২০৬⦘। ইবনে আবি আদি এই হাদিসটি হুমাইদ আত-তবিল থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। আমার জানা মতে ইবনে আবি আদি ব্যতীত আর কাউকে হুমাইদ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে এটি বর্ণনা করতে দেখিনি। মুহাদ্দিসগণ বলেন: আনাস (রা.) থেকে হুমাইদের অধিকাংশ বর্ণনাই মূলত তিনি কাতাদাহ ও সাবিতের মাধ্যমে শুনেছেন, আর কিছু বর্ণনা সরাসরি আনাস (রা.) থেকে শুনেছেন। কাতাদাহর ক্ষেত্রে আমি কাউকে এটি তাঁর থেকে মাওকুফ (موقوفًا) হিসেবে বর্ণনা করতে দেখিনি; বরং তাঁর একদল শাগরেদ এটি তাঁর সূত্রে আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.), আবু বকর, ⦗পৃষ্ঠা: ২০৭⦘ এবং উমর—এতে উসমানের উল্লেখের ব্যাপারে বর্ণনাকারীরা মতভেদ করেছেন—তবে তাঁরা সকলেই হাদিসটিকে মারফু (رفع) করেছেন এবং নবী (সা.)-এর কথা উল্লেখ করেছেন। অবশ্য তাঁরা হাদিসটির শব্দের ব্যাপারে ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করেছেন: তাঁদের কেউ বলেছেন, ‘তাঁরা আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন দ্বারা কিরাত শুরু করতেন’। কেউ বলেছেন, ‘তাঁরা বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম পাঠ করতেন না’। কেউ বলেছেন, ‘তাঁরা বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম উচ্চস্বরে পাঠ করতেন না’। আবার কেউ বলেছেন, ‘আমি তাঁদের কাউকেই বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম উচ্চস্বরে পড়তে শুনিনি’। কাতাদাহ থেকে যাঁরা এটি বর্ণনা করেছেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি হলেন আইয়ুব ইবনে আবি তামি মাহ আস-সাখতিয়ানি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ লিবনি আব্দুল বার
(পৃষ্ঠা: ২০৮)
7 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعِيدٍ ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُعَاوِيَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ، وَحَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَسَدٍ ، حَدَّثَنَا حَمْزَةُ بْنُ مُحَمَّدٍ ، قَالَا: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ عَلِيٍّ ، أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ ، عَنْ أَيُّوبَ ، عَنْ قَتَادَةَ ، عَنْ أَنَسٍ ، قَالَ: «صَلَّيْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ، وَمَعَ أَبِي بَكْرٍ ، وَمَعَ عُمَرَ ، فَافْتَتَحُوا بِـ الْحَمْدُ لِلَّهِ»
৭ - মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), মুহাম্মদ ইবনে মুয়াবিয়া ইবনে আবদুর রহমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), এবং আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আসাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), হামজাহ ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا); তাঁরা উভয়েই বলেছেন: আহমদ ইবনে শুআইব ইবনে আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا), সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), আইয়ুব থেকে (عن), কাতাদাহ থেকে (عن), আনাস থেকে (عن) বর্ণিত, তিনি বলেন: «আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), আবু বকর এবং উমর-এর সাথে সালাত আদায় করেছি; তাঁরা ‘আলহামদুলিল্লাহ’ পাঠের মাধ্যমে (কিরাত) শুরু করতেন।»
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ লিবনি আব্দুল বার
(পৃষ্ঠা: ২০৮)
8 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْمُؤْمِنِ ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ ⦗ص: 209⦘ بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّزَّاقِ ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ ، حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ يَعْنِي الدَّسْتُوَائِيَّ ، عَنْ قَتَادَةَ ، عَنْ أَنَسٍ: «أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ، وَأَبَا بَكْرٍ ، وَعُمَرَ ، وَعُثْمَانَ كَانُوا يَفْتَتِحُونَ الْقِرَاءَةَ بِـ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ»
8 - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حَدَّثَنَا) আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল মুমিন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حَدَّثَنَا) মুহাম্মদ বিন ⦗পৃষ্ঠা: ২০৯⦘ বকর বিন আব্দুর রাজ্জাক, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حَدَّثَنَا) আবু দাউদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حَدَّثَنَا) মুসলিম বিন ইবরাহিম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حَدَّثَنَا) হিশাম—অর্থাৎ আদ-দাস্তাওয়ায়ী—কাতাদাহ হতে (عَنْ), তিনি আনাস (রা.) হতে (عَنْ) বর্ণনা করেন: «নিশ্চয়ই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), আবু বকর, উমর এবং উসমান (রা.) ‘আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন’ পাঠের মাধ্যমে কিরাত শুরু করতেন।»
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ লিবনি আব্দুল বার
(পৃষ্ঠা: ২০৯)
9 - وَحَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ سُفْيَانَ ، حَدَّثَنَا قَاسِمُ بْنُ أَصْبَغَ ، حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ ⦗ص: 210⦘ حَمَّادٍ ، حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ ، عَنْ هِشَامٍ ، عَنْ قَتَادَةَ ، عَنْ أَنَسٍ: " أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ، وَأَبَا بَكْرٍ ، وَعُمَرَ ، وَعُثْمَانَ ، كَانُوا يَفْتَتِحُونَ الْقِرَاءَةَ بِـ {الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} [الفاتحة: 2] "
৯ - এবং আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আব্দুল ওয়ারিস ইবনে সুফিয়ান, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) কাসিম ইবনে আসবাগ, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) বকর ইবনে ⦗পৃষ্ঠা: ২১০⦘ হাম্মাদ, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) মুসাদ্দাদ, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ, হিশাম থেকে (عن), কাতাদাহ থেকে (عن), আনাস (عن) থেকে বর্ণিত যে: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), আবু বকর, ওমর এবং উসমান (রা.) {আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন} [ফাতিহা: ২] এর মাধ্যমে কিরাত শুরু করতেন।"
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ লিবনি আব্দুল বার
(পৃষ্ঠা: ২১০)
10 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ ، حَدَّثَنَا قَاسِمٌ ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ غَالِبٍ ، ⦗ص: 211⦘ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ ، وَشَيْبَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ، عَنْ قَتَادَةَ ، عَنْ أَنَسٍ ، قَالَ: " كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ، وَأَبُو بَكْرٍ ، وَعُمَرُ يَسْتَفْتِحُونَ الْقِرَاءَةَ بِـ {الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} [الفاتحة: 2] "
১০ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর ওয়ারিস, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাসিম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে গালিব, ⦗পৃষ্ঠা: ২১১⦘ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনুল জাদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শু'বাহ এবং শায়বান ইবনে আবদুর রহমান, তাঁরা কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস (রা.) হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), আবু বকর এবং উমর (রা.) {আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন} [ফাতিহা: ২] এর মাধ্যমে কিরাত শুরু করতেন।"