(খণ্ড: ১) আল-ইগতিবাত বিমান রুমিয়া মিনার রুওয়াত বিল-ইখতিলাত (পৃষ্ঠা: -)
الاغتباط بمن رمي من الرواة بالاختلاط   (البرهان الحلبي)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: الاغتباط بمن رمي من الرواة بالاختلاط

المؤلف: برهان الدين الحلبي أبو الوفا إبراهيم بن محمد بن خليل الطرابلسي الشافعي سبط ابن العجمي (ت 841هـ)

المحقق: علاء الدين علي رضا، وسمى تحقيقه (نهاية الاغتباط بمن رمي من الرواة بالاختلاط) وهو دارسة وتحقيق وزيادات في التراجم على الكتاب

الناشر: دار الحديث - القاهرة

الطبعة: الأولى، 1988م

في الحاشية: أهم تعليقات التحقيق

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

স্মৃতিভ্রমের অভিযোগে অভিযুক্ত বর্ণনাকারীদের পরিচিতি লাভজনিত প্রফুল্লতা   (আল-বুরহান আল-হালাবি)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমষ্টি


গ্রন্থ: আল-ইগতিবাত বি-মান রুমিয়া মিনাল রুওয়াত বিল ইখতিলাত (স্মৃতিভ্রমের অভিযোগে অভিযুক্ত বর্ণনাকারীদের পরিচিতি লাভজনিত প্রফুল্লতা)

লেখক: বুরহানুদ্দীন আল-হালাবি আবু আল-ওয়াফা ইবরাহীম বিন মুহাম্মদ বিন খালীল আত-তরাবুলসি আল-শাফিঈ সিবত ইবনুল আজমি (মৃত্যু ৮৪১ হিজরি)

সম্পাদক: আলাউদ্দীন আলী রিদা, এবং তিনি তাঁর সম্পাদিত সংস্করণটির নামকরণ করেছেন (নিহায়াতুল ইগতিবাত বি-মান রুমিয়া মিনাল রুওয়াত বিল ইখতিলাত) যা মূলত গ্রন্থটির একটি গবেষণা, সম্পাদনা এবং বর্ণনাকারীদের জীবনীতে অতিরিক্ত সংযোজন

প্রকাশক: দারুল হাদীস - কায়রো

সংস্করণ: প্রথম, ১৯৮৮ খ্রিষ্টাব্দ

পাদটীকায়: সম্পাদকের গুরুত্বপূর্ণ টীকাগুলো অন্তর্ভুক্ত

খণ্ড সংখ্যা: ১

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-ইগতিবাত বিমান রুমিয়া মিনার রুওয়াত বিল-ইখতিলাত (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌مقدمة كتاب الاغتباط بمن رمي بالاختلاط

للحافظ برهان الدين سبط ابن العجمي

قال (1) سيدنا وشيخ شيوخنا الإمام الحافظ العلامة برهان الدين أبو إسحاق إبراهيم بن محمد بن خليل الحلبي الشهير بالمحدث رحمه الله وأعاد من بركاته علينا:

الحمد لله رب العالمين والعاقبة للمتقين وصلى الله على سيدنا محمد خاتم النبيين وأشرف السابقين واللاحقين وعلى آله وصحبه وبجَّلَ وكرَّمَ وعظم.

أما بعد..

فهذا كتاب جمعته على حروف المعجم في الاسم واسم الأب في معرفة من خلط في آخر عمره من الثقات وغيرهم، وذلك لأن الحافظ تقي الدين أبا عمرو ابن الصلاح قال في علومه:

" إنه فن عزيز مهم لم أعلم أحداً أفرده بالتصنيف واعتنى به مع كونه حقيقاً بذلك جداً ".

قال شيخنا الحافظ أبو الفضل العراقي فيما قرأته عليه وبسبب كلام ابن الصلاح: أفرده شيخنا صلاح الدين العلائي بالتصنيف في جزء حدثنا به ولكنه اختصره ولم يبسط الكلام فيه ورتبهم على حروف المعجم

--------------------------------------------

(1) القائل هو محرر النسخة العلامة أبو بكر محمد بن عمر بن عمر بن محمد بن عمر بن أبي بكر النصيبي الحلبي الشافعي كما سيأتي في نهاية الكتاب
’কিতাবুল ইগতিবাত বি-মান রুমিয়া বিল ইখতিলাত’ গ্রন্থের ভূমিকা

হাফিজ বুরহানুদ্দীন সিবত ইবনুল আজামির লিখিত

আমাদের সায়্যিদ এবং আমাদের শায়খদের শায়খ ইমাম হাফিজ আল্লামা বুরহানুদ্দীন আবু ইসহাক ইবরাহিম বিন মুহাম্মাদ বিন খলিল আল-হালাবি, যিনি 'আল-মুহাদ্দিস' নামে প্রসিদ্ধ—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন এবং তাঁর বরকত আমাদের ওপর পুনরায় বর্ষণ করুন—তিনি বলেন (১):

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং শুভ পরিণাম মুত্তাকিদের জন্য। আল্লাহর সালাত বর্ষিত হোক আমাদের সায়্যিদ মুহাম্মাদের ওপর, যিনি নবিগণের মোহর এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবিদের ওপর। আল্লাহ তাঁদেরকে সম্মানিত, মর্যাদাবান ও মহান করুন।

অতঃপর...

এটি এমন একটি গ্রন্থ যা আমি নামের প্রথম অক্ষর অনুযায়ী (বর্ণানুক্রমিকভাবে) নাম ও পিতার নামের ভিত্তিতে সংকলন করেছি; যারা নির্ভরযোগ্য কিংবা অন্যান্য রাবি হওয়া সত্ত্বেও শেষ বয়সে স্মৃতিভ্রম বা বিভ্রান্তির (ইখতিলাত) শিকার হয়েছেন, তাঁদের চেনার বিষয়ে এটি রচিত। এর কারণ হলো, হাফিজ তাকিউদ্দীন আবু আমর ইবনুস সালাহ তাঁর হাদিসশাস্ত্রে বলেছেন:

"এটি একটি বিরল ও গুরুত্বপূর্ণ শাস্ত্র; আমি জানি না যে কেউ এটিকে পৃথকভাবে সংকলন করেছেন এবং এর প্রতি যথাযথ যত্ন নিয়েছেন, অথচ বিষয়টি এর একান্ত দাবি রাখে।"

আমাদের শায়খ হাফিজ আবুল ফজল আল-ইরাকি, তাঁর কাছে আমার পঠিত পাঠে ইবনুস সালাহ-এর এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বলেছেন: আমাদের শায়খ সালাহুদ্দীন আল-আলাই একটি স্বতন্ত্র পুস্তিকায় এটি সংকলন করেছেন এবং সেটি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি তা সংক্ষিপ্ত করেছেন এবং তাতে বিস্তারিত আলোচনা করেননি, কিন্তু তিনি তাঁদের বর্ণানুক্রমে বিন্যস্ত করেছেন।

--------------------------------------------

(১) বক্তা হলেন এই পাণ্ডুলিপির সম্পাদক আল্লামা আবু বকর মুহাম্মাদ বিন উমর বিন উমর বিন মুহাম্মাদ বিন উমর বিন আবি বকর আন-নাসিবি আল-হালাবি আশ-শাফেয়ি, যেমনটি গ্রন্থের শেষে উল্লেখ করা হবে।
(খণ্ড: ১) আল-ইগতিবাত বিমান রুমিয়া মিনার রুওয়াত বিল-ইখতিলাত (পৃষ্ঠা: ৩৪)
"انتهى". ولم أقف أنا عليه، وقد ذكرهم ابن الصلاح في علوم الحديث ستة عشر رجلاً ثقة، وقد زدت عليه جماعة كثيرة منهم (1) ومن غيرهم

ثم الحكم في حديث من اختلط من الثقات التفصيل، فما حدث به قبل الاختلاط فإنه يقبل، وإن حدث به فيه أو أشكل أمره، فلم يدر أأخذ عنه قبل الاختلاط أو بعده فإنه لا يقبل.

وكان ينبغي لي أن أذكر في كل ترجمة من الثقات من أخذ عنه قبل الاختلاط أو بعده أو أبهم أمره ليعرف ما يقبل من حديثه دون غيره، وقد ذكر ابن الصلاح بعض ذلك، ولكن هذا يستدعي كتباً كثيرة من التواريخ وغيرها وبلدنا حلب عَري عن ذلك.

وقد ذكر شيخنا العراقي هذا في التراجم التي ذكرها ابن الصلاح في النكت على ابن الصلاح، وذكر بعض ذلك في شرح الألفية له، وقد قرأتهما عليه فمن أراد شيئاً من ذلك فلينظر في المؤلفين المذكورين.

قال ابن الصلاح: واعلم أن من كان من هذا القبيل محتجاً بروايته في الصحيحين أو أحدهما فإنا نعرف على الجملة أن ذلك مما تميز وكان مأخوذاً عنه قبل الاختلاط. انتهى.

وهذا من باب إحسان الظن بهما، والله أسأل أن ينفع به إنه قريب مجيب.

ولم أذكر فيه من قيل فيه ساء حفظه بآخره ونحوه، فإن النسيان يعتري كثيراً الكبار في السن.

وقد رقمت على من له شيء في الكتب الستة أو بعضها بالرقوم المشهورة عند أهل الحديث، ورقمت على من ذكره ابن الصلاح وتركت من زدته بغير علامة.

--------------------------------------------

(1) يعني من الثقات ومن غير الثقات.
"সমাপ্ত"। আমি তা খুঁজে পাইনি। ইবনুস সালাহ উলুমুল হাদিসে তাদেরকে ষোলজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আমি তাঁদের মধ্য থেকে এবং অন্যদের মধ্য থেকে বহু লোককে এতে বৃদ্ধি করেছি।

অতঃপর নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের মধ্যে যারা শেষ বয়সে বিভ্রান্তিতে (ইখতিলাত) পতিত হয়েছেন তাদের বর্ণনার বিধান হলো বিস্তারিত বিশ্লেষণ। বিভ্রান্তিতে পড়ার আগে তিনি যা বর্ণনা করেছেন তা গ্রহণযোগ্য। আর যদি তিনি বিভ্রান্ত থাকা অবস্থায় বর্ণনা করেন অথবা বিষয়টি অস্পষ্ট হয় যে, এটি তাঁর বিভ্রান্তিতে পড়ার আগে নেওয়া হয়েছে না পরে, তবে তা গ্রহণ করা হবে না।

আমার জন্য উচিত ছিল প্রত্যেক নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর জীবনীতে এটি উল্লেখ করা যে, কার কাছ থেকে বিভ্রান্তির আগে বর্ণনা নেওয়া হয়েছে এবং কার কাছ থেকে পরে, অথবা কার বিষয়টি অস্পষ্ট; যাতে তাঁর বর্ণনার কোনটি গ্রহণযোগ্য আর কোনটি বর্জনীয় তা জানা যায়। ইবনুস সালাহ এর কিছু অংশ উল্লেখ করেছেন, কিন্তু এর জন্য ইতিহাস ও অন্যান্য বিষয়ের প্রচুর কিতাবের প্রয়োজন ছিল এবং আমাদের শহর হালব তা থেকে শূন্য।

আমাদের শায়খ আল-ইরাকি এটি ইবনুস সালাহ-এর ওপর তাঁর লিখিত ‘আন-নুকাত’ গ্রন্থে ওই জীবনীগুলোতে উল্লেখ করেছেন যা ইবনুস সালাহ বর্ণনা করেছিলেন। এছাড়াও তিনি তাঁর ‘শরহুল আলফিয়্যাহ’ গ্রন্থে এর কিছু অংশ উল্লেখ করেছেন। আমি তাঁর নিকট এই কিতাবদ্বয় পাঠ করেছি। সুতরাং যে ব্যক্তি এ বিষয়ে কিছু জানতে চায় সে যেন উল্লিখিত গ্রন্থদ্বয় দেখে নেয়।

ইবনুস সালাহ বলেন: জেনে রেখো, এই পর্যায়ের যাদের বর্ণনা দ্বারা সহীহাইন বা তাঁদের যেকোনো একটিতে দলিল পেশ করা হয়েছে, আমরা সামগ্রিকভাবে জানি যে, তা স্বতন্ত্রভাবে চিহ্নিত এবং বিভ্রান্তিতে পড়ার আগেই তাঁদের থেকে গৃহীত হয়েছে। সমাপ্ত।

এটি তাঁদের প্রতি সুধারণা পোষণের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এর দ্বারা উপকৃত করেন, নিশ্চয়ই তিনি নিকটবর্তী ও দোয়া কবুলকারী।

আর যাদের সম্পর্কে বলা হয়েছে যে জীবনের শেষলগ্নে তাঁদের মুখস্থ শক্তি দুর্বল হয়ে গিয়েছিল বা তদ্রূপ কিছু, আমি তাঁদের এতে উল্লেখ করিনি। কারণ বিস্মৃতি অনেক বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তির ক্ষেত্রে ঘটে থাকে।

যাঁদের বর্ণনা কুতুবে সিত্তাহ বা তার কোনোটিতে রয়েছে, তাঁদের ওপর আমি মুহাদ্দিসগণের নিকট প্রসিদ্ধ প্রতীকসমূহ দিয়ে চিহ্ন দিয়েছি। ইবনুস সালাহ যাঁদের উল্লেখ করেছেন তাঁদের ওপরও চিহ্ন দিয়েছি এবং আমি যাদের বৃদ্ধি করেছি তাঁদের কোনো চিহ্ন ছাড়াই রেখে দিয়েছি।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ নির্ভরযোগ্য এবং অনির্ভরযোগ্য উভয় প্রকার ব্যক্তিদের মধ্য থেকে।
(খণ্ড: ১) আল-ইগতিবাত বিমান রুমিয়া মিনার রুওয়াত বিল-ইখতিলাত (পৃষ্ঠা: ৩৫)
‌‌باب الألف

1 -[م س ق]‌‌ أُبان بن صَمْعَة

له ترجمة في ميزان الحافظ أبي عبد الله محمد بن أحمد بن عثمان بن قايماز بن الذهبي شيخ شيوخنا قال فيها عن يحيى بن سعيد أنه تغيربآخره.

وقال عبد الرحمن بن مهدي: لقيته وقد اختلط البتة قبل أن يموت بزمان وذكر فيه كلام غيرهما.

--------------------------------------------

أبان هذا شيخ صدوق في نفسه لم ينسب إلى الضعف وحديثه قبل الاختلاط مستقيم، روى له النسائي وابن ماجة وليس له في صحيح مسلم سوى حديث واحد متابعة كما روى له البخاري في الأدب المفرد.
আলিফ অধ্যায়

১ -[ম স ক]‌উবান ইবন সামআ

আমাদের শাইখদের শাইখ হাফিজ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন আহমাদ ইবন উসমান ইবন কাইমায আয-যাহাবীর 'মিযান' গ্রন্থে তাঁর জীবনী বর্ণিত হয়েছে। তিনি সেখানে ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ থেকে উল্লেখ করেছেন যে, শেষ জীবনে তাঁর (স্মৃতিশক্তির) পরিবর্তন ঘটেছিল।

আবদুর রহমান ইবন মাহদী বলেন: আমি তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেছি, তখন তিনি মৃত্যুর বেশ কিছুকাল পূর্বেই পুরোপুরি স্মৃতিভ্রষ্ট হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি এই দুই ব্যক্তি ছাড়াও অন্যদের বক্তব্যও সেখানে উল্লেখ করেছেন।

--------------------------------------------

এই উবান ব্যক্তিগতভাবে একজন সত্যবাদী (সাদুক) শাইখ ছিলেন, তাঁকে দুর্বল হিসেবে গণ্য করা হয়নি। তাঁর স্মৃতি বিভ্রম ঘটার পূর্বের হাদিসসমূহ সঠিক। ইমাম নাসায়ী ও ইবন মাজাহ তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। সহিহ মুসলিমে 'মুতাবায়াত' (সমর্থনমূলক বর্ণনা) হিসেবে মাত্র একটি হাদিস ব্যতীত তাঁর আর কোনো হাদিস নেই, যেমন ইমাম বুখারী তাঁর থেকে 'আল-আদাবুল মুফরাদ' গ্রন্থে হাদিস বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইগতিবাত বিমান রুমিয়া মিনার রুওয়াত বিল-ইখতিলাত (পৃষ্ঠা: ৩৭)
2 -‌‌ أحمد بن جعفر بن حمدان القطيعي

ذكره ابن الصلاح في علومه فيمن اختلط من الثقات.

قال شيخنا الحافظ العراقي فيما قرأته عليه، وفي ثبوت هذا عن القطيعي نظر.

قال: وهذا القول تبع فيه المصنف مقالة حكيت عن أبي الحسن بن الفرات لم يثبت إسنادها إليه ذكرها الخطيب في التاريخ فقال: حدثت عن أبي الحسن بن الفرات فذكرها، وقد أنكر صاحب الميزان هذا على ابن الفرات، وقال: هذا غلو وإسراف. ثم ذكر كلام

--------------------------------------------

قلت: قال الحافظ العراقي: وعلى تقدير ثبوت ما ذكره أبو الحسن بن الفرات من التغير وتبعه المصنف ممن سمع منه في الصحة بأبو الحسن الدارقطني وأبو حفص بن شاهين وأبو عبد الله الحاكم وأبو بكر البرقاني وأبو نعيم الأصبهاني وأبو علي بن المذهب راوي المسند فإنه سمعه عليه في سنة ست وستين والله أعلم.
২ -‌‌ আহমদ বিন জাফর বিন হামদান আল-কাতীয়ি

ইবনুস সালাহ তাঁর ইলমুল হাদিস বিষয়ক গ্রন্থে তাঁকে সেই সকল নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন যাদের (শেষ বয়সে) স্মৃতিভ্রম ঘটেছিল।

আমাদের শায়খ হাফেজ আল-ইরাকি তাঁর নিকট আমার পঠিত অংশে বলেছেন, "আল-কাতীয়ির ব্যাপারে এটি প্রমাণিত হওয়ার বিষয়ে সংশয় রয়েছে।"

তিনি বলেন, "এই বক্তব্যের ক্ষেত্রে গ্রন্থকার আবুল হাসান বিন আল-ফুরাত থেকে বর্ণিত একটি উক্তির অনুসরণ করেছেন যার সনদ তাঁর পর্যন্ত সাব্যস্ত নয়। আল-খাতিব তাঁর 'তারিখ' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করে বলেছেন: 'আবুল হাসান বিন আল-ফুরাত থেকে আমার নিকট বর্ণনা করা হয়েছে...' এরপর তিনি তা উল্লেখ করেছেন। আর 'মিজান' গ্রন্থের লেখক ইবনুল ফুরাতের এই বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং বলেছেন, 'এটি চরম বাড়াবাড়ি ও সীমালঙ্ঘন।' এরপর তিনি সেই বক্তব্যটি উল্লেখ করেছেন..."

--------------------------------------------

আমি বলছি: হাফেজ আল-ইরাকি বলেছেন: "আবুল হাসান বিন আল-ফুরাত স্মৃতিশক্তির যে পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেছেন এবং গ্রন্থকার যার অনুসরণ করেছেন তা যদি সাব্যস্ত ধরেও নেওয়া হয়, তবে তাঁর সুস্থাবস্থায় যারা তাঁর নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন আবুল হাসান আদ-দারা কুতনি, আবু হাফস বিন শাহিন, আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম, আবু বকর আল-বারকানি, আবু নুআইম আল-আসফাহানি এবং মুসনাদ-এর বর্ণনাকারী আবু আলী বিন আল-মুজাহহিব; কারণ তিনি ৬৬ (৩৬৬) হিজরি সনে তাঁর নিকট থেকে এটি শ্রবণ করেছেন। আর আল্লাহই ভালো জানেন।"
(খণ্ড: ১) আল-ইগতিবাত বিমান রুমিয়া মিনার রুওয়াত বিল-ইখতিলাত (পৃষ্ঠা: ৩৮)
أبي عبد الرحمن السلمي أنه سأل عنه الدارقطني فقال: ثقة زاهد سمعت أنه مجاب الدعوة ثم ذكر توثيق الحاكم له ثم كلام غيره، وقد راجعت الميزان فرأيته قال في أول ترجمته: صدوق في نفسه مقبول تغير قليلا إلى أن ذكر كلام ابن الصلاح عن أبي الحسن بن الفرات. ثم قال: قلت: فهذا القول غلو وإسراف إلى آخر كلامه.

আবু আবদুর রহমান আস-সুলামী থেকে বর্ণিত যে, তিনি তাঁর সম্পর্কে আদ-দারাকুতনীকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: তিনি নির্ভরযোগ্য ও দুনিয়াবিমুখ; আমি শুনেছি যে তিনি মুজাবুদ দাওয়াহ (যার দোয়া কবুল হয়)। অতঃপর তিনি তাঁর ব্যাপারে আল-হাকিমের নির্ভরযোগ্যতার সত্যায়ন এবং অন্যদের বক্তব্য উল্লেখ করেন। আমি ‘আল-মিজান’ গ্রন্থটি পর্যালোচনা করেছি এবং দেখলাম যে তিনি তাঁর জীবনীর শুরুতে বলেছেন: তিনি স্বয়ং সত্যবাদী ও গ্রহণযোগ্য, তবে তাঁর মধ্যে সামান্য পরিবর্তন এসেছিল। এরপর তিনি আবুল হাসান বিন আল-ফুরাত থেকে ইবনুস সালাহর বক্তব্য উল্লেখ করেন। অতঃপর তিনি বললেন: আমি বলছি, এই উক্তিটি অতিরঞ্জন ও বাড়াবাড়ি—তাঁর বক্তব্যের শেষ পর্যন্ত।

(খণ্ড: ১) আল-ইগতিবাত বিমান রুমিয়া মিনার রুওয়াত বিল-ইখতিলাত (পৃষ্ঠা: ৪০)
3 -[م]‌‌ أحمد بن عبد الرحمن بن وهب ابن أخي عبد الله بن وهب

ذكر الحاكم أنه اختلط بعد الخمسين ومائتين بعد خروج مسلم من مصر كذا ذكره الشيخ محي الدين النووي في مقدمة شرح مسلم له عن أبي عمرو بن الصلاح ولم يذكره في علومه. وقد قال أبو حاتم: كتبنا عنه وأمره مستقيم ثم خلط بعد، ثم جاءنا خبره أنه رجع عن التخليط.

--------------------------------------------

قلت: وأحمد بن عبد الرحمن بن مسلم المصري صدوق غير متهم في نفسه، له أحاديث أنكرت عليه، ووقع في الاختلاط، يقال: إنه رجع عن الأحاديث التي أنكرت عليه إلا حديث مالك عن الزهري عن أنس كما نص عليه ابن الأخرم. روى له مسلم، ولكن ذكر الحاكم أنه اختلاط بعد الخمسين ومائتين بعد خروج مسلم من مصر، وهذا يدل على أن مسلم روى عنه قبل الاختلاط. أما أبو حاتم فقد نص على أنه كتب عنه وأمره مستقيم، أما أبو زرعة فقد أدركه فلم يكتب عنه ـ يعني أنه تجنبه في اختلاطه. والله تعالى أعلم.
৩ -[ম]‌‌ আহমাদ বিন আব্দুর রহমান বিন ওয়াহাব, আব্দুল্লাহ বিন ওয়াহাবের ভ্রাতুষ্পুত্র

আল-হাকিম উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম মুসলিম মিশর ত্যাগ করার পর ২৫০ হিজরির পরবর্তীতে তিনি স্মৃতিবিভ্রমগ্রস্ত হন। শায়খ মুহিউদ্দিন আন-নববী তাঁর ‘শরহে মুসলিম’-এর ভূমিকায় আবু আমর ইবনুল সালাহ থেকে এভাবেই এটি উল্লেখ করেছেন, যদিও তিনি (ইবনুল সালাহ) তাঁর ‘উলুমুল হাদিস’ গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেননি। আবু হাতিম বলেছেন: "আমরা তাঁর থেকে হাদিস লিখেছি এবং তখন তাঁর অবস্থা সঠিক ছিল, পরবর্তীতে তিনি স্মৃতিবিভ্রমগ্রস্ত হন। এরপর আমাদের কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে তিনি সেই স্মৃতিবিভ্রম থেকে ফিরে এসেছিলেন।"

--------------------------------------------

আমি বলছি: আহমাদ বিন আব্দুর রহমান বিন মুসলিম আল-মিসরি ব্যক্তিগতভাবে সত্যবাদী, তিনি অভিযুক্ত নন। তবে তাঁর এমন কিছু হাদিস রয়েছে যা অগ্রাহ্য করা হয়েছে এবং তিনি স্মৃতিবিভ্রমের শিকার হয়েছিলেন। বলা হয়ে থাকে যে, যেসব হাদিস অগ্রাহ্য করা হয়েছিল সেগুলো থেকে তিনি ফিরে এসেছিলেন, কেবল আনাস (রা.) থেকে যুহরি ও মালেকের বর্ণিত হাদিসটি ছাড়া; যেমনটি ইবনুল আখরাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। ইমাম মুসলিম তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, তবে আল-হাকিম উল্লেখ করেছেন যে তাঁর স্মৃতিবিভ্রম ২৫০ হিজরির পর তথা ইমাম মুসলিমের মিশর ত্যাগের পর ঘটেছিল। এটি প্রমাণ করে যে ইমাম মুসলিম তাঁর স্মৃতিবিভ্রম ঘটার আগেই তাঁর থেকে হাদিস গ্রহণ করেছেন। আর আবু হাতিম স্পষ্টভাবে বলেছেন যে তিনি তাঁর থেকে তখন লিখেছিলেন যখন তাঁর অবস্থা সঠিক ছিল। অন্যদিকে আবু জুর'আহ তাঁকে পেয়েছিলেন কিন্তু তাঁর থেকে কিছু লেখেননি—অর্থাৎ তিনি তাঁর স্মৃতিবিভ্রমের সময় তাঁকে এড়িয়ে চলেছেন। আর আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১) আল-ইগতিবাত বিমান রুমিয়া মিনার রুওয়াত বিল-ইখতিলাত (পৃষ্ঠা: ৪৪)
4 -‌‌ أحمد بن أبي القاسم بن سنبلة (1) البغدادي

شيخ متأخر مات سنة 619 تسع وعشر وستمائة، اختلط قبل موته بأربع سنين قاله الذهبي في ميزانه.

--------------------------------------------

قلت: مات سنة تسع عشرة وستمائة، وليس هناك كبير فائدة من إيراد أمثال هؤلاء المتأخرين في مثل هذه الدراسة.
৪ -‌‌ আহমদ ইবনে আবুল কাসিম ইবনে সুনবুলাহ (১) আল-বাগদাদী

তিনি পরবর্তী যুগের একজন শাইখ, যিনি ৬১৯ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। আয-যাহাবী তাঁর 'মীযান' গ্রন্থে বলেন যে, মৃত্যুর চার বছর আগে তাঁর স্মৃতিভ্রম (ইখতিলাত) ঘটেছিল।

--------------------------------------------

আমি বলছি: তিনি ৬১৯ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। এই ধরনের গবেষণায় এই ধরনের পরবর্তী যুগের ব্যক্তিদের উল্লেখ করার মধ্যে বিশেষ কোনো ফায়দা নেই।
(খণ্ড: ১) আল-ইগতিবাত বিমান রুমিয়া মিনার রুওয়াত বিল-ইখতিলাত (পৃষ্ঠা: ৪৫)
5 -‌‌ أحمد بن محمد بن حمدان الفارسي أبو الحسن المذكر الزاهد

عن عبدان الأهوازي، قال الإدريسي: لم أكتب عنه خلط في شيء. انتهى. قاله الذهبي في ميزانه.

لم أقف أنا إلا على هذا القدر فلعله أراد الاختلاط، والله أعلم.

--------------------------------------------

هذ كل ترجمته في الميزان، وترجم لهالحافظ في اللسان فلم يزد على ذلك، والله أعلم
5 -‌‌ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হামদান আল-ফারসি আবুল হাসান আল-মুযাক্কির আল-যাহিদ

আবদান আল-আহওয়াজি থেকে বর্ণিত, আল-ইদ্রিসি বলেন: আমি তার থেকে কিছু লিখিনি, তিনি কোনো বিষয়ে সংমিশ্রণ (স্মৃতিবিভ্রম) ঘটিয়েছেন। সমাপ্ত। ইমাম আয-যাহাবি তার মিযান গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।

আমি এইটুকু পরিমাণ ব্যতীত অন্য কিছুর সন্ধান পাইনি, সম্ভবত তিনি এর দ্বারা ইখতিলাত (বার্ধক্যজনিত স্মৃতিবিভ্রম) বুঝিয়েছেন, আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

--------------------------------------------

মিযান গ্রন্থে এটিই তার সম্পূর্ণ জীবনী, এবং হাফিয (ইবনে হাজার) লিসান গ্রন্থে তার জীবনী আলোচনা করেছেন তবে এর অতিরিক্ত কিছু উল্লেখ করেননি, আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন
(খণ্ড: ১) আল-ইগতিবাত বিমান রুমিয়া মিনার রুওয়াত বিল-ইখতিলাত (পৃষ্ঠা: ৪৬)
6 -[س]‌‌ إبراهيم بن أبي العباس السامري (1)

ويقال ابن العباس قاله ابن سعد. اختلط فحجبه أهله حتى مات.

--------------------------------------------

قلت: إبراهيم بن أبي العباس، أبو إسحاق الكوفي، ثقة تغير بآخره واختلط. ولكن اختلاطه لم يضره، قال ابن سعد: " كان اختلط في آخر عمره فحجبه أهله في منزله حتى مات". وهذا مثال من أحوال الرواة الثقات الذين لا يضرهم اختلاطهم حيث لم يحدثوا في اختلاطهم ولم يأخذ عنهم أحد في حال تغيرهم، فها هو إبراهيم بن أبي العباس قد حجبه أهله في منزله فلم يأخذ عنه أحد في الاختلاط، والله تعالى أعلم.
৬ -[সিন]‌‌ ইব্রাহিম ইবনে আবিল আব্বাস আস-সামেরি (১)

তাঁকে ইবনুল আব্বাসও বলা হয়, এটি ইবনে সা'দ বলেছেন। তিনি শেষ জীবনে মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছিলেন, ফলে তাঁর পরিবার তাঁকে মৃত্যু পর্যন্ত লোকচক্ষুর অন্তরালে সরিয়ে রেখেছিলেন।

--------------------------------------------

আমি বলছি: ইব্রাহিম ইবনে আবিল আব্বাস, আবু ইসহাক আল-কুফি; তিনি নির্ভরযোগ্য ছিলেন, তবে শেষ জীবনে তাঁর স্মৃতি বিভ্রান্ত হয়েছিল এবং তিনি ভারসাম্য হারিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর এই ভারসাম্যহীনতা তাঁর বর্ণনার কোনো ক্ষতি করেনি। ইবনে সা'দ বলেছেন: "তিনি তাঁর শেষ বয়সে ভারসাম্য হারিয়েছিলেন, ফলে তাঁর পরিবার তাঁকে মৃত্যু পর্যন্ত নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন।" এটি সেই সকল নির্ভরযোগ্য রাবিদের অবস্থার উদাহরণ যাঁদের ভারসাম্যহীনতা তাঁদের বর্ণনার কোনো ক্ষতি করে না, যেহেতু তাঁরা ভারসাম্যহীন অবস্থায় কোনো হাদীস বর্ণনা করেননি এবং তাঁদের পরিবর্তনের সময়ে তাঁদের থেকে কেউ হাদীস গ্রহণও করেনি। এই যে ইব্রাহিম ইবনে আবিল আব্বাস, তাঁর পরিবার তাঁকে বাড়িতেই আটকে রেখেছিলেন, ফলে ভারসাম্যহীন অবস্থায় তাঁর থেকে কেউ কোনো বর্ণনা গ্রহণ করেনি। আর মহান আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১) আল-ইগতিবাত বিমান রুমিয়া মিনার রুওয়াত বিল-ইখতিলাত (পৃষ্ঠা: ৪৭)
قاله المزي في تهذيبه: وتابعه الذهبي عليه في تذهيبه وميزانه، زاد في الميزان قلت: فما ضره الاختلاط وعامة من يموت يختلط قبل موته وإنما المضَّعف للشيخ أن يروي شيئا من اختلاطه. انتهى.

আল-মিযযি তাঁর 'তাহযিব' গ্রন্থে এটি বলেছেন; এবং আয-যাহাবি তাঁর 'তাযহিব' ও 'মিযান' গ্রন্থে এ ব্যাপারে তাঁর অনুবর্তী হয়েছেন। তিনি 'মিযান' গ্রন্থে অতিরিক্ত যোগ করে বলেছেন: আমি বলছি, স্মৃতিবিভ্রম (ইখতিলাত) তাঁর কোনো ক্ষতি করেনি, কারণ অধিকাংশ মানুষই মৃত্যুর পূর্বে স্মৃতিবিভ্রমের সম্মুখীন হন। মূলত একজন শাইখকে কেবল তখনই দুর্বল সাব্যস্ত করা হয়, যখন তিনি তাঁর স্মৃতিবিভ্রমকালীন অবস্থার কোনো বর্ণনা পেশ করেন। সমাপ্ত।

(খণ্ড: ১) আল-ইগতিবাত বিমান রুমিয়া মিনার রুওয়াত বিল-ইখতিলাত (পৃষ্ঠা: ৪৮)
7 -‌‌ إبراهيم بن خُثَيْم (1) بن عراك بن مالك

قال الجوزجاني: اختلط بآخرة.

--------------------------------------------

قلت: وإبراهيم بن خثيم ليست له رواية عند أصحاب الكتب الستة، وحديثه متروك ولو لم يختلط، والبحث عن مثل هذا الراوي لمعرفة اختلاطه ومن أخذ عنه في الاختلاط جهد بلا طائل وعمل بلا فائدة، فحديثه بعد الاختلاط ليس بشيء، أما بعد الاختلاط فالأولى ألا يلتفت إليه، والله تعالى أعلم.
৭ -‌‌ ইবরাহিম ইবনে খুছাইম (১) ইবনে ইরাক ইবনে মালিক

আল-জাওযাজানি বলেছেন: শেষ জীবনে তিনি স্মৃতিবিভ্রমের শিকার হয়েছিলেন।

--------------------------------------------

আমি বলছি: ইবরাহিম ইবনে খুছাইমের কোনো বর্ণনা কুতুবে সিত্তাহর সংকলকদের নিকট নেই। তাঁর হাদিস পরিত্যক্ত (মাতরুক), এমনকি যদি তিনি স্মৃতিবিভ্রমের শিকার না-ও হতেন। এমতাবস্থায় এই ধরনের বর্ণনাকারীর স্মৃতিবিভ্রম সম্পর্কে জানা এবং স্মৃতিবিভ্রমকালে কারা তাঁর থেকে বর্ণনা গ্রহণ করেছেন তা অনুসন্ধান করা একটি নিষ্ফল প্রচেষ্টা এবং নিরর্থক কাজ। সুতরাং স্মৃতিবিভ্রমের পর তাঁর হাদিস কোনো ধর্তব্য নয়; আর স্মৃতিবিভ্রমের পরের বর্ণনার ক্ষেত্রে তো তাঁর প্রতি ভ্রূক্ষেপ না করাই অধিকতর শ্রেয়। আল্লাহ তাআলাই সম্যক পরিজ্ঞাত।
(খণ্ড: ১) আল-ইগতিবাত বিমান রুমিয়া মিনার রুওয়াত বিল-ইখতিলাত (পৃষ্ঠা: ৪৯)
8 -[خ م د ت س]‌‌ إسحاق بن إبراهيم بن مخلد الحافظ أبو يعقوب الحنظلي ابن راهويه أحد الأعلام

قال الذهبي في ميزانه في ترجمة ابن راهويه وذكر لشيخنا أبي الحجاج ـ يعني المزي ـ حديث، فقال: قيل: إن إسحاق اختلط في آخر عمره، قال الذهبي: الحديث ما رواه ابن عيينة عن الزهري عن عبيد الله عن ابن عباس عن ميمونة في الفأرة فزاد فيه إسحاق من دون أصحاب سفيان [وإن كان ذايبا فلا تقربوه] فيجوز أن يكون الخطأ من بعد إسحاق وكذا حديث رواه جعفر الفريابي ثنا إسحاق بن راهويه ثنا شبابه (2) عن الليث عن عقيل عن ابن شهاب عن أنس كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا كان في سفر فزالت الشمس صلى الظهر والعصر ثم ارتحل فهذا على نُبْل رواته منكر.

فقد رواه [م] عن الناقد عن شبابة ولفظه: (إذا كان في سفر وأراد الجمع أخر الظهر حتى يدخل أول (4) وقت العصر ثم يجمع بينهما) تابعه الزعفراني عن شبابة.

وأخرجه (خ م) من حديث عقيل عن ابن شهاب عن أنس

--------------------------------------------

قلت: وإسحاق بن راهويه أحد الحفاظ الأعلام وأحد الثقات الأثبات، وهو قرين لأحمد بن حنبل ومن أجلة شيوخ البخاري له مسند يعرف بمسند إسحاق بن راهويه، تغير قبل موته بمدة يسيرة (خمسة أشهر) وقد سمع أبو داود منه في هذه الفترة ولكنه طرح ما سمعه منه في تغيره فلا يضر سماعه منه في الاختلاط. أما أبو العباس السراج فإنه آخر من حدث عنه كما نص عليه ابن حجر في التهذيب وعليه فإنه يكون ممن روى عنه في الاختلاط. والله تعالى أعلم.
৮ -[বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসাঈ]‌‌ ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম ইবনে মাখলাদ আল-হাফিজ আবু ইয়াকুব আল-হানজালি ইবনে রাহওয়াইহ, অন্যতম ইমাম ও বরেণ্য ব্যক্তিত্ব।

আদ-দাহাবি তার 'মিজান' গ্রন্থে ইবনে রাহওয়াইহ-এর জীবনীতে উল্লেখ করেছেন এবং আমাদের শাইখ আবুল হাজ্জাজ—অর্থাৎ আল-মিজ্জি—একটি হাদিসের কথা বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি বলেন: বলা হয়ে থাকে যে, ইসহাক তার জীবনের শেষভাগে স্মৃতিভ্রমের (ইখতিলাত) শিকার হয়েছিলেন। আদ-দাহাবি বলেন: সেই হাদিসটি যা ইবনে উয়াইনাহ বর্ণনা করেছেন জুহরি থেকে, তিনি উবাইদুল্লাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি মাইমুনাহ থেকে ইঁদুর সম্পর্কে। সেখানে ইসহাক সুফিয়ানের অন্যান্য ছাত্রদের বিপরীতে অতিরিক্ত শব্দ যোগ করেছেন: [আর যদি তা গলিত হয় তবে তোমরা এর নিকটবর্তী হয়ো না]। সুতরাং এটা সম্ভব যে, ভুলটি ইসহাকের পরবর্তী কোনো বর্ণনাকারীর পক্ষ থেকে হয়েছে। তদ্রূপ জাফর আল-ফিরইয়াবি বর্ণিত একটি হাদিস: আমাদের নিকট ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি শাবাবাহ থেকে, তিনি লাইস থেকে, তিনি আকিল থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি আনাস থেকে; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সফরে থাকতেন এবং সূর্য ঢলে পড়ত, তখন তিনি জোহর ও আসরের সালাত আদায় করতেন এবং তারপর যাত্রা শুরু করতেন—বর্ণনাকারীদের মর্যাদা থাকা সত্ত্বেও এটি একটি মুনকার (অস্বীকৃত) বর্ণনা।

ইমাম মুসলিম এটি আন-নাক্বিদ থেকে, তিনি শাবাবাহ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এর শব্দমালা হলো: (যখন তিনি সফরে থাকতেন এবং সালাত একত্রিত করার ইচ্ছা করতেন, তখন জোহরকে বিলম্বিত করতেন যতক্ষণ না আসরের ওয়াক্তের শুরু প্রবেশ করত, অতঃপর উভয় সালাত একত্রে আদায় করতেন)। জাফরানিও শাবাবাহ থেকে বর্ণনায় তার অনুসরণ করেছেন।

এবং এটি বুখারি ও মুসলিম আকিল থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

আমি বলি: ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ প্রখ্যাত হাফিজদের একজন এবং অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও সুপ্রতিষ্ঠিত আলেমদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি আহমাদ ইবনে হাম্বলের সমসাময়িক এবং বুখারির অন্যতম শ্রেষ্ঠ উস্তাদ। তার একটি মুসনাদ রয়েছে যা 'মুসনাদে ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ' নামে পরিচিত। মৃত্যুর অল্পকাল আগে (পাঁচ মাস) তার স্মৃতিশক্তিতে কিছুটা পরিবর্তন ঘটেছিল। আবু দাউদ এই সময়ের মধ্যে তার থেকে হাদিস শুনেছেন, কিন্তু তার স্মৃতি পরিবর্তনের সময়ের শোনা হাদিসগুলো তিনি বর্জন করেছেন। সুতরাং স্মৃতিভ্রমের সময় তার থেকে শ্রবণ করা কোনো ক্ষতি করে না। আর আবু আব্বাস আস-সাররাজ হলেন তার থেকে হাদিস বর্ণনাকারী সর্বশেষ ব্যক্তি, যেমনটি ইবনে হাজার 'আত-তাহজিব' গ্রন্থে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। সে অনুযায়ী তিনি তাদের অন্তর্ভুক্ত যারা তার স্মৃতিভ্রমের সময় হাদিস বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১) আল-ইগতিবাত বিমান রুমিয়া মিনার রুওয়াত বিল-ইখতিলাত (পৃষ্ঠা: ৫০)
ولفظه: (إذا عجل به السير أخر الظهر إلى أول وقت العصر فيجمع بينهما) ولا ريب أن إسحاق كان يحدث الناس من حفظه فلعله اشتبه انتهى.

ونقل بعض مشايخي فيما قرأته عليه عن أبي داودأنه تغير قبل موته بخمسة أشهر. انتهى. وهذا الكلام عن أبي داود في التذهيب.
এবং তাঁর শব্দ হলো: (যখন যাত্রা ত্বরান্বিত করার প্রয়োজন হতো, তিনি জোহরের নামাজ আসরের ওয়াক্তের শুরু পর্যন্ত বিলম্বিত করতেন এবং উভয় নামাজকে একত্রিত করে নিতেন)। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইসহাক তাঁর স্মৃতিশক্তি থেকে মানুষের কাছে বর্ণনা করতেন, তাই সম্ভবত তিনি বিভ্রান্তিতে পড়েছিলেন। সমাপ্ত।

এবং আমার কোনো কোনো উস্তাদ—আমি তাঁর কাছে যা পাঠ করেছি সে সূত্রে—আবু দাউদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাঁর মৃত্যুর পাঁচ মাস পূর্বে পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছিলেন। সমাপ্ত। আর আবু দাউদ সম্পর্কে এই বক্তব্যটি ‘আত-তাজহিব’ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইগতিবাত বিমান রুমিয়া মিনার রুওয়াত বিল-ইখতিলাত (পৃষ্ঠা: ৫৩)
زيادات النهاية:

9 -‌‌ إسماعيل بن أحمد بن محمد بن أحمد الحداد، أبو رجاء الأصبهاني

صاحب تيك المجالس نزيل بغداد يروي عن: ابن ريدة، وأبي الطاهر بن عبد الرحيم وغيرهما، وروى عنه أبو المعمر الأنصاري وغيره.

قال ابن السمعاني: سألت عبد الوهاب الأنماطي فقال: لا أحب أن أروي عنه.

وقال يحيى بن مندة: كان كثير السماع قليل الرواية.

لم ينسبه في اللسان إلى الاختلاط، ولكن قال الذهبي في ميزانه: قال ابن ناصر: وضع حديثاً وأملاه وكان يخلط.
নিহায়াহর সংযোজনসমূহ:

৯ -‌‌ ইসমাইল বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আল-হাদ্দাদ, আবু রাজা আল-আসফাহানি

উক্ত মজলিসসমূহের অধিকারী, বাগদাদে বসবাসকারী। তিনি বর্ণনা করেন: ইবনে রিদাহ, আবু তাহির বিন আব্দুল রহিম এবং অন্যদের থেকে। তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন আবু আল-মুয়াম্মার আল-আনসারি এবং অন্যরা।

ইবনে আল-সামআনি বলেন: আমি আব্দুল ওয়াহহাব আল-আনমাতিকে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি বললেন: আমি তাঁর থেকে বর্ণনা করা পছন্দ করি না।

ইয়াহইয়া বিন মানদাহ বলেন: তিনি প্রচুর পরিমাণে হাদিস শ্রবণ করতেন কিন্তু বর্ণনা করতেন খুব কম।

'আল-লিসান' গ্রন্থে তাঁকে ইখতিলাত বা স্মৃতিবিভ্রাটের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, তবে যাহাবি তাঁর 'মিজান' গ্রন্থে বলেছেন: ইবনে নাসির বলেছেন: তিনি একটি হাদিস জাল করেছিলেন এবং তা শ্রুতিলিপি হিসেবে প্রদান করেছিলেন (ইমলা করিয়েছিলেন) এবং তিনি তালগোল পাকিয়ে ফেলতেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইগতিবাত বিমান রুমিয়া মিনার রুওয়াত বিল-ইখতিলাত (পৃষ্ঠা: ৫৪)
10 -‌‌ إسماعيل بن حماد الجوهري صاحب صحاح اللغة

ترجمته معروفة وقد رأيت بخط يشبه أن يكون خط الحافظ تقي الدين محمد بن رافع السلامي ترجمة الجوهري وفيها ما لفظه وقيل إنه اختلط في آخر عمره ومات مترديا من سطح داره بنيسابور ثم أرخ وفاته

[تنبيه] : نقل النووي في تهذيبه عن الشيخ تقي الدين ـ يعني ابن الصلاح ـ ما لفظه: (ولا التفات إلى قول الجوهري صاحب صحاح اللغة (1) .. إلى أن قال: فإنه ممن لا يقبل ما ينفرد به، وقد حكم عليه بالغلط من وجهين فذكرهما وقد تعقبه النووي في الوجهين، والله أعلم.

--------------------------------------------

قلت: وإسماعيل بن حماد الجوهري صاحب " صحاح اللغة" هو ممن برع في اللغة ولكنه ليس من أصحاب الحديث وليست له رواية في الكتب الستة وهو يعد من المتأخرين نسبياً
১০ -‌‌ ইসমাঈল বিন হাম্মাদ আল-জাওহারী, সিহাহ আল-লুগাহ এর রচয়িতা

তাঁর জীবনী সুপরিচিত। আমি হাফেজ তাকিউদ্দিন মুহাম্মদ বিন রাফি আস-সালামীর হস্তাক্ষরের মতো একটি হস্তাক্ষরে আল-জাওহারীর একটি জীবনী দেখেছি, যাতে এই শব্দগুলো ছিল: "বলা হয় যে, শেষ বয়সে তাঁর মানসিক বিভ্রান্তি ঘটেছিল এবং নিশাপুরে নিজের বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।" এরপর তিনি তাঁর মৃত্যুর তারিখ উল্লেখ করেছেন।

[সতর্কতা] : আন-নববী তাঁর 'তাহযীব' গ্রন্থে শেখ তাকিউদ্দিন — অর্থাৎ ইবনুস সালাহ — থেকে এই বক্তব্যটি উদ্ধৃত করেছেন: (সিহাহ আল-লুগাহ (১) এর রচয়িতা আল-জাওহারীর কথার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করা হবে না... যে পর্যন্ত তিনি বলেছেন: কারণ তিনি এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যাদের একক বর্ণনা গ্রহণ করা হয় না, এবং তাঁর ওপর দুটি দিক থেকে ভুলের হুকুম দেওয়া হয়েছে, অতঃপর তিনি সে দুটি উল্লেখ করেছেন)। আন-নববী উক্ত দুটি বিষয়ে তাঁর পর্যালোচনা করেছেন। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

--------------------------------------------

আমি বলছি: "সিহাহ আল-লুগাহ" এর রচয়িতা ইসমাঈল বিন হাম্মাদ আল-জাওহারী ভাষাতত্ত্বে পারদর্শী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তবে তিনি হাদিস শাস্ত্রের পণ্ডিতদের অন্তর্ভুক্ত নন এবং কুতুবে সিত্তা বা ছয়টি হাদিস গ্রন্থে তাঁর কোনো বর্ণনা নেই। তিনি অপেক্ষাকৃত পরবর্তী যুগের আলেমদের মধ্যে গণ্য হন।
(খণ্ড: ১) আল-ইগতিবাত বিমান রুমিয়া মিনার রুওয়াত বিল-ইখতিলাত (পৃষ্ঠা: ৫৬)
11 -[4]‌‌ إسماعيل بن عياش

ذكره ابن الجوزي في الموضوعات في باب النهي عن التسمية بالوليد وإسماعيل بن عياش لما (2) كبر تغير حفظه وكثر الخطأ في حديثه وهو لا يعلم فلعل هذا الحديث أدخل عليه في كبره أو قد رواه وهو مختلط. انتهى وذكر نحو هذا الكلام في مكان آخر بعد هذا المكان.

--------------------------------------------

قلت: وإسماعيل بن عياش بن سليم العنسي صدوق في روايته عن أهل بلده من الشاميين، مستقيم الحديث عنهم لم يخلط فيه، فمن روى عنه حديثه عن الشاميين، إنما يروي أحاديث مستقيمة لا اختلاط فيها، ولكن حديثه عن غير الشاميين من العراقيين والحجازيين فقد وقع له اختلاط فيها، فمن روى عنه هذه الأحاديث إنما يروي عنه فيما اختلط فيه، أما إطلاق الضغف فيه كما فعل النسائي وإخراجه عن حد الاحتجاج به كما زعم ابن حبان فإنه لا يصح، فضعفه إنما جاء من اختلاطه في الرواية عن غير الشاميين. أما عن الشاميين فإنه ثقة مستقيم الحديث، ولعل هذ ما يعنيه النسائي بالضعف، أي ضعيف في غير الشاميين لأن ما ذكره عنه صاحب الميزان إطلاق الضعف، ولكن وجدت في التهذيب ذكر عنه "وقال النسائي: صالح في حديث أهل الشام". أما كلام أبي إسحاق الفزاري فيه وقوله: " ذاك رجل لا يدري ما يخرج من رأسه". فهذا غلو وإسراف في الجرح لا يقبل في مثل إسماعيل بن عياش فإنه عالم أهل الشام وصاحب حديثهم، فهذا جمع من النقاد الأئمة ـ فيما ذكرناه ـ قد شهدوا بثقته واستقامة حديثه عن أهل بلده وإنما ضعفوا حديثه عن العراقيين والحجازيين لاختلاطه فيهم فأنصفوا الرجل وأنصفوا أنفسهم، ويكفي لإسماعيل شهادة البخاري له وقوله فيه: " إذا حدث عن أهل بلده فهو صحيح"، والله تعالى أعلم
11 -[4]‌‌ ইসমাঈল ইবনে আইয়্যাশ

ইবনুল জাওযী তাকে ‘আল-মাওদুআত’ (বানানো হাদিসসমূহ) গ্রন্থের ‘ওয়ালীদ নাম রাখার নিষেধাজ্ঞা’ অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন। আর ইসমাঈল ইবনে আইয়্যাশ যখন (২) বৃদ্ধ হলেন, তখন তাঁর স্মৃতিশক্তি পরিবর্তন হয়ে যায় এবং তাঁর অগোচরেই তাঁর হাদিসে ভুলের আধিক্য দেখা দেয়। সম্ভবত এই হাদিসটি তাঁর বার্ধক্যে তাঁর বর্ণনায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে অথবা তিনি এটি বিভ্রান্তাবস্থায় বর্ণনা করেছেন। সমাপ্ত। তিনি (ইবনুল জাওযী) এই স্থানের পর অন্য এক স্থানেও অনুরূপ কথা উল্লেখ করেছেন।

--------------------------------------------

আমি বলি: ইসমাঈল ইবনে আইয়্যাশ ইবনে সালীম আল-আনসী তাঁর নিজ দেশ সিরিয়াবাসীদের (শামীদের) থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সত্যবাদী (সাদূক)। তাঁদের থেকে তাঁর বর্ণিত হাদিসসমূহ সঠিক এবং এতে তিনি কোনো বিভ্রান্তি ঘটাননি। সুতরাং যাঁরা তাঁর নিকট থেকে সিরিয়াবাসীদের হাদিস বর্ণনা করেছেন, তাঁরা মূলত সঠিক ও বিভ্রান্তিমুক্ত হাদিসই বর্ণনা করেছেন। কিন্তু সিরিয়াবাসী ছাড়া অন্যদের থেকে—যেমন ইরাকি ও হিজাজিদের থেকে—তাঁর বর্ণনায় বিভ্রান্তি (ইখতিলাত) ঘটেছে। অতএব যাঁরা তাঁর থেকে এই হাদিসগুলো বর্ণনা করেছেন, তাঁরা মূলত তাঁর সেই বিভ্রান্তিযুক্ত বর্ণনাগুলোই করেছেন। আর তাঁর সম্পর্কে সাধারণভাবে ‘দুর্বল’ (যঈফ) বলা, যেমনটি ইমাম নাসায়ী করেছেন, এবং তাঁকে দলীল হিসেবে গ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করা, যেমনটি ইবনে হিব্বান দাবি করেছেন, তা সঠিক নয়। কারণ তাঁর দুর্বলতা কেবল সিরিয়াবাসী ছাড়া অন্যদের থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁর বিভ্রান্তি থেকে এসেছে। অন্যদিকে সিরিয়াবাসীদের থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) এবং সঠিক হাদিস বর্ণনাকারী। সম্ভবত ইমাম নাসায়ী ‘দুর্বল’ বলতে এটিই বুঝিয়েছেন, অর্থাৎ তিনি সিরিয়াবাসী ব্যতীত অন্যদের ক্ষেত্রে দুর্বল। কারণ ‘মিযান’ গ্রন্থের লেখক তাঁর থেকে কেবল সাধারণভাবে ‘দুর্বল’ কথাটিই উল্লেখ করেছেন, কিন্তু আমি ‘তাহযীব’ গ্রন্থে তাঁর সম্পর্কে পেয়েছি যে: "নাসায়ী বলেছেন: সিরিয়াবাসীদের হাদিসের ক্ষেত্রে তিনি সৎ (সালিহ)।" আর তাঁর সম্পর্কে আবু ইসহাক আল-ফাযারীর মন্তব্য—"তিনি এমন এক ব্যক্তি যিনি জানেন না তাঁর মাথা থেকে কী বের হচ্ছে"—এটি সমালোচনার (জারহ) ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন ও বাড়াবাড়ি, যা ইসমাঈল ইবনে আইয়্যাশের মতো ব্যক্তির ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা তিনি সিরিয়াবাসীদের আলেম এবং তাঁদের হাদিসের প্রধান বাহক। একদল ইমাম ও হাদিস বিশারদ—যা আমরা উল্লেখ করেছি—তাঁর নির্ভরযোগ্যতা এবং নিজ অঞ্চলের অধিবাসীদের থেকে তাঁর হাদিসের সঠিক হওয়ার ব্যাপারে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাঁরা কেবল ইরাকি ও হিজাজিদের থেকে তাঁর বর্ণনায় বিভ্রান্তি ঘটার কারণে সেগুলোকে দুর্বল বলেছেন। এর মাধ্যমে তাঁরা এই ব্যক্তির প্রতি এবং নিজেদের প্রতি ইনসাফ করেছেন। ইসমাঈলের জন্য ইমাম বুখারীর সাক্ষ্যই যথেষ্ট, যেখানে তিনি বলেছেন: "যখন তিনি তাঁর নিজ অঞ্চলের অধিবাসীদের থেকে বর্ণনা করেন, তখন তা বিশুদ্ধ (সহীহ)।" আর আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইগতিবাত বিমান রুমিয়া মিনার রুওয়াত বিল-ইখতিলাত (পৃষ্ঠা: ৬১)
12-[ت ق]‌‌ إسماعيل بن مسلم البصري ثم المكي المجاور أبو إسحاق

متروك وفيه كلام غير ذلك نقل في الميزان عن ابن المديني قال: سمعت يحيى وسئل عن إسماعيل بن مسلم المكي فقال: لم يزل مختلطا كان يحدثنا بالحديث الواحد على ثلاثة أضرب. انتهى.

ثم إني رأيته يحتمل أن يريد به الاختلاط المعروف ويحتمل غيره وهو أظهر والله أعلم.

ثم إني رأيته في موضوعات ابن الجوزي نقله عن ابن المديني. انتهى. والله أعلم

--------------------------------------------

قلت: إسماعيل بن مسلم المكي، أبو إسحاق ضعيف الحديث، يروي المناكير ويقلب الأسانيد وإيراده في عداد المخلطين فيه نظر، فجل من تكلموا فيه تكلموا عن ضعفه ونكارة حديثه فنسبته إلى الاختلاط وعده في المختلطين يشعر وكأن حديثه قبل الاختلاط مما يصح ويحتج به، وليس الأمر كذلك في إسماعيل بن مسلم المكي فإنه واه ضعيف الحديث يروي المناكير وتركوا حديثه إلا بعضهم قبل كتابته للشواهد والمتابعات مثل ابن عدي، أما ما اعتمد عليه الحافظ برهان الدين بن العجمي لعده في المختلطين هو ما ذكره من قول يحيى بن معين نقلاً عن الميزان. وقال ابن المديني: سمعت يحيى وسئل عن إسماعيل بن مسلم المكي، قال: "كان لم يزل مختلطاً، كان يحدثنا بالحديث الواحد على ثلاثة أضرب". فذلك لا يعني أنه ينسب إليه الاختلاط بالمعنى الاصطلاحي ولكنه بمعنى الضعف وقلب الأسانيد كما نص عليه ابن حبان وفيما ذكر سابقا، بل هذا ما يرجحه ابن العجمي نفسه حيث قال: "ثم إني رأيته يحتمل أن يريد به الاختلاط المعروف ويحتمل غيره وهو أظهر والله أعلم". أما قول أبي حاتم: ضعيف مختلط فلعله يريد المعنى الذي ذكرناه والله أعلم.
১২-[তি, কা]‌‌ ইসমাঈল ইবন মুসলিম আল-বাসরী, অতঃপর আল-মাক্কী আল-মুজাবির, আবু ইসহাক

তিনি পরিত্যক্ত (মাতরুক) এবং তাঁর সম্পর্কে এছাড়া আরও কথা রয়েছে। 'আল-মিজান' গ্রন্থে ইবনুল মাদিনী থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আমি ইয়াহইয়াকে বলতে শুনেছি, যখন তাঁকে ইসমাঈল ইবন মুসলিম আল-মাক্কী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি বলেছিলেন: তিনি সর্বদা তালগোল পাকানো (মুখতালিত) ছিলেন; তিনি আমাদের কাছে একটি হাদীস তিনভাবে বর্ণনা করতেন। সমাপ্ত।

অতঃপর আমি দেখলাম যে, তিনি এর মাধ্যমে সম্ভবত পরিচিত 'ইখতিলাত' (স্মৃতিভ্রম) বুঝিয়েছেন, আবার অন্য কিছুও বুঝাতে পারেন, আর সেটিই অধিক স্পষ্ট। আল্লাহই ভালো জানেন।

এরপর আমি তাকে ইবনুল জাওযীর 'মাওদুআত' গ্রন্থে দেখলাম, তিনি এটি ইবনুল মাদিনী থেকে উদ্ধৃত করেছেন। সমাপ্ত। আল্লাহই ভালো জানেন।

--------------------------------------------

আমি বলছি: ইসমাঈল ইবন মুসলিম আল-মাক্কী, আবু ইসহাক হাদীস বর্ণনায় দুর্বল, তিনি মুনকার (অস্বীকৃত) হাদীস বর্ণনা করেন এবং সনদগুলো উল্টেপাল্টে ফেলেন। তাঁকে 'মুখতালিত' (স্মৃতিভ্রমগ্রস্ত) ব্যক্তিদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা আপত্তিকর। কারণ, যারা তাঁর সম্পর্কে সমালোচনা করেছেন, তাদের অধিকাংশই তাঁর দুর্বলতা এবং হাদীসের অগ্রহণযোগ্যতা নিয়ে কথা বলেছেন। সুতরাং তাঁকে 'ইখতিলাত'-এর সাথে সম্পৃক্ত করা এবং স্মৃতিভ্রমগ্রস্তদের তালিকায় গণ্য করা এমন ধারণা দেয় যেন স্মৃতিভ্রমের পূর্বে তাঁর হাদীস সহীহ এবং দলিলযোগ্য ছিল; অথচ ইসমাঈল ইবন মুসলিম আল-মাক্কীর বিষয়টি এমন নয়। কেননা তিনি অত্যন্ত দুর্বল এবং তাঁর হাদীস পরিত্যাজ্য, তবে ইবন আদীর মতো কেউ কেউ তাঁর হাদীসকে 'শাওয়াহিদ' (সাক্ষ্য) ও 'মুতাবায়াত' (সমর্থনমূলক বর্ণনা) হিসেবে লিখে রাখার অনুমতি দিয়েছেন। আর হাফেয বুরহান উদ্দিন ইবনুল আজমী তাঁকে স্মৃতিভ্রমগ্রস্তদের তালিকায় গণ্য করার ক্ষেত্রে ইয়াহইয়া ইবন মাঈনের যে উক্তির ওপর নির্ভর করেছেন যা 'মিজান' গ্রন্থে উদ্ধৃত হয়েছে, যেখানে ইবনুল মাদিনী বলেছেন: আমি ইয়াহইয়াকে বলতে শুনেছি যখন তাঁকে ইসমাঈল ইবন মুসলিম আল-মাক্কী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি বলেছিলেন: "তিনি সর্বদা তালগোল পাকানো (মুখতালিত) ছিলেন; তিনি আমাদের কাছে একটি হাদীস তিনভাবে বর্ণনা করতেন"— এর অর্থ এই নয় যে, তিনি তাঁর প্রতি পারিভাষিক অর্থে স্মৃতিভ্রমের দোষারোপ করছেন, বরং এর অর্থ হলো দুর্বলতা এবং সনদ উল্টেপাল্টে ফেলা, যেমনটি ইবন হিব্বান এবং ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। বরং ইবনুল আজমী নিজেই এ মতটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন যখন তিনি বলেছেন: "অতঃপর আমি দেখলাম যে, তিনি এর মাধ্যমে সম্ভবত পরিচিত ইখতিলাত (স্মৃতিভ্রম) বুঝিয়েছেন, আবার অন্য কিছুও বুঝাতে পারেন, আর সেটিই অধিক স্পষ্ট। আল্লাহই ভালো জানেন।" আর আবু হাতিমের উক্তি: "দুর্বল ও মুখতালিত", এর দ্বারা সম্ভবত তিনি আমরা যে অর্থের কথা উল্লেখ করেছি সেটিই বুঝিয়েছেন। আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইগতিবাত বিমান রুমিয়া মিনার রুওয়াত বিল-ইখতিলাত (পৃষ্ঠা: ৬৫)
13 -[د ق]‌‌ أصبغ مولى عمرو بن حريث

فيه جهالة ويقال إنه تغير روى عنه إسماعيل بن أبي خالد ذكره العقيلي في كتابه انتهى.

وفي الجرح والتعديل لابن أبي حاتم عن ابن معين ثقة قال وسئل أبي عنه فقال شيخ انتهى.

وقوله فيه جهالة كونه لم يرو عنه اثنان

--------------------------------------------

قال ابن حبان: تغير بآخرة حتى كبل بالحديد، لا يجوز الاحتجاج بخبره إلا بعد التخليص.

قلت: يعني بالتخليص تمييز حديثه قبل التغير عن حديثه بعد ذلك، ولكنه قال بعد ذلك: وعلم الوقت الذي حدث فيه والسبب الذي يؤدي إلى هذا العلم معدوم فيه.
১৩ -[আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ]‌‌ আসবাহ, আমর ইবনে হুরাইসের মুক্তদাস

তার মাঝে অপরিচিতি (মাজহুলিয়াত) রয়েছে এবং বলা হয় যে তিনি বার্ধক্যে স্মৃতিভ্রমের শিকার হয়েছিলেন। তার থেকে ইসমাইল ইবনে আবি খালিদ বর্ণনা করেছেন। আল-উকায়লি তার গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন। সমাপ্ত।

ইবনে আবি হাতিমের 'আল-জারহ ওয়াত তা'দীল' গ্রন্থে ইবনে মঈন থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বিশ্বস্ত (সিকাহ)। তিনি বলেন, আমার পিতাকে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, তিনি একজন শায়খ। সমাপ্ত।

এবং তার সম্পর্কে 'অজ্ঞতা' (মাজহুলিয়াত) রয়েছে বলা হয়েছে কারণ তার থেকে অন্তত দুইজন রাবী বর্ণনা করেননি।

--------------------------------------------

ইবনে হিব্বান বলেন: জীবনের শেষভাগে তার বুদ্ধিবৈকল্য ঘটেছিল, এমনকি তাকে লোহার শিকলে বেঁধে রাখা হতো; যাচাই-বাছাই (পৃথকীকরণ) ছাড়া তার বর্ণনা দ্বারা দলিল গ্রহণ করা বৈধ নয়।

আমি বলি: যাচাই-বাছাই বলতে তিনি বার্ধক্যজনিত পরিবর্তনের আগের হাদীসকে পরবর্তী হাদীস থেকে পৃথক করা বুঝিয়েছেন। কিন্তু তিনি এর পরে বলেছেন: তিনি কোন সময়ে হাদীস বর্ণনা করেছেন সেই সময়কাল এবং সেই সময়কাল নির্ণয়ের যে মাধ্যম—তা এখানে অনুপস্থিত।
(খণ্ড: ১) আল-ইগতিবাত বিমান রুমিয়া মিনার রুওয়াত বিল-ইখতিলাত (পৃষ্ঠা: ৬৭)
‌‌باب الباء

14 -[ق]‌‌ بحر بن مَرَّار بن عبد الرحمن مولى بكر الثقفي

عن أبيه عن جده وعن شعبة والقطان قال يحيى بن سعيد القطان: رأيته وقد خلط فلم أكتب عنه.

وقال (س) تغير وقال مرة ليس به بأس.

وقال الكوسج عن ابن معين ثقة.

--------------------------------------------

قلت: وبحر بن مرار بن عبد الرحمن صدوق في نفسه غير متهم تغير بأخرة واختلطن فأما يحيى بن سعيد القطان فقد نص على أنه عاصر اختلاطه ولكنه لم يكتب عنه في الاختلاط فحديثه عنه صحيح لا يضعف من قبل اختلاطه بحر، وأما الأسود بن شيبان وشعبه فلم أعثر على ما يفيد تركهما لحديثه بعد الاختلاط.
বা-এর পরিচ্ছেদ

১৪ -[ক্ব]‌‌ বাহর বিন মাররার বিন আব্দুর রহমান, বকর আস-সাকাফীর আযাদকৃত দাস

তিনি তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে এবং শুবা ও আল-কাত্তান থেকে বর্ণনা করেছেন। ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তান বলেছেন: আমি তাকে দেখেছি এমতাবস্থায় যে তার স্মৃতিভ্রম ঘটেছিল, তাই আমি তার থেকে হাদীস লিখিনি।

এবং (সিন) বলেছেন, তিনি পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছিলেন (স্মৃতি নষ্ট হয়েছিল); তিনি পুনরায় বলেছেন, তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই।

এবং আল-কাওসাজ ইবনে মাঈন থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি নির্ভরযোগ্য।

--------------------------------------------

আমি বলছি: বাহর বিন মাররার বিন আব্দুর রহমান ব্যক্তিগতভাবে সত্যবাদী, তিনি অভিযুক্ত নন; তবে শেষ জীবনে তার মধ্যে পরিবর্তন এসেছিল এবং স্মৃতিভ্রম ঘটেছিল। তবে ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তান স্পষ্ট করে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তার স্মৃতিভ্রমের সময়টি পেয়েছিলেন, কিন্তু সেই অবস্থায় তিনি তার থেকে কিছু লিখেননি। সুতরাং বাহরের স্মৃতিভ্রমের কারণে তার বর্ণিত হাদীস দুর্বল হবে না, বরং তা সহীহ। আর আল-আসওয়াদ বিন শায়বান এবং শুবার ব্যাপারে আমি এমন কিছু পাইনি যা নির্দেশ করে যে তারা তার স্মৃতিভ্রমের পর তার হাদীস গ্রহণ করা বর্জন করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইগতিবাত বিমান রুমিয়া মিনার রুওয়াত বিল-ইখতিলাত (পৃষ্ঠা: ৬৯)
15 -[د ت س]‌‌ بسر بن أرطاة بن أبي أرطاة

يقال إنه لم يسمع من النبي صلى الله عليه وسلم لأنه صلى الله عليه وسلم قبض وهو صغير هذا قول الواقدي وابن معين وأحمد وغيرهم وقالوا خرف في آخر عمره.

وأما أهل الشام فيقولون سمع من النبي صلى الله عليه وسلم ذكر ذلك ابن عبد البر في الاستيعاب وقد ذكر بسر بن أبي أرطاة الحاكم في مستدركه ونقل فيه عن خليفة ـ يعني ابن خياط شبابا العصفري ـ أنه قال مات في خلافه معاوية وقد خرف توفي بالمدينة يكنى أبا عبد الرحمن.. قال الذهبي: قلت: أورد له حديثه في الدعاء: اللهم أحسن عاقبتنا انتهى.

--------------------------------------------

قلت: وبسر بن أرطاة أبي عبد الرحمن، مختلف في صحبته وسماعه من رسول الله صلى الله عليه وسلم، ونص ابن عدي على أنه مشكوك في صحبته، ولكن قال ابن حجر في الإصابة: وفي سنن أبي داود بإسناد مصري قوي عن جنادة بن أمية قال: كنا مع بسر بن أبي أرطاة في البحر نأتي بسارق فقال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم يقول: " لا تقطع الأيدي في السفر". وروى ابن حبان من طريق أيوب بن ميسرة بن حليس، سمعت بسر بن أبي أرطاة يقول: سمعت رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم يقول: " اللهم أحسن عاقبتنا في الأمور كلها". وقد أنكر أهل المدينة صحبته وسماعه ولعلهم أدرى بالصحبة من أهل الشام، أما بالنسبة لتغيره فثبت اختلاطه وأنه خرف قبل موته والله تعالى أعلم.
১৫ -[দ ত স]‌‌ বুসর বিন আরত্বাহ বিন আবি আরত্বাহ

বলা হয় যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে কোনো বর্ণনা শোনেননি। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ইন্তেকাল করেন, তখন তিনি শিশু ছিলেন। এটি ওয়াকিদী, ইবনে মাঈন, আহমদ এবং অন্যদের অভিমত। তাঁরা বলেছেন যে, জীবনের শেষভাগে তাঁর মতিভ্রম ঘটেছিল।

পক্ষান্তরে সিরিয়াবাসীরা বলেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে শ্রবণ করেছেন। ইবনে আবদুল বার ‘আল-ইস্তিআব’ গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন। হাকেম তাঁর ‘মুস্তাদরাক’ গ্রন্থে বুসর বিন আবি আরত্বাহর কথা উল্লেখ করেছেন এবং সেখানে খলীফা—অর্থাৎ ইবনে খাইয়াত শাব্বাব আল-আসফারি—থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি মুয়াবিয়ার খিলাফতকালে ইন্তেকাল করেন এবং তখন তাঁর মতিভ্রম ঘটেছিল। তিনি মদিনায় ইন্তেকাল করেন এবং তাঁর উপনাম ছিল আবু আবদুর রহমান। যাহাবী বলেন: আমি বলছি: দোয়ার ক্ষেত্রে তাঁর একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে: হে আল্লাহ! আমাদের পরিণাম শুভ করুন। (সমাপ্ত)।

--------------------------------------------

আমি বলছি: আবু আবদুর রহমান বুসর বিন আরত্বাহর সাহাবী হওয়া এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে তাঁর হাদিস শোনার বিষয়টি মতপার্থক্যপূর্ণ। ইবনে আদি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর সাহাবী হওয়ার বিষয়টি সন্দেহযুক্ত। তবে ইবনে হাজার ‘আল-ইসাবাহ’ গ্রন্থে বলেছেন: সুনানে আবু দাউদে একটি শক্তিশালী মিশরীয় সনদে জুনাহদাহ বিন উমাইয়াহ থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আমরা বুসর বিন আরত্বাহর সাথে সমুদ্রে ছিলাম, আমাদের কাছে এক চোরকে নিয়ে আসা হলে তিনি বললেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: "সফর অবস্থায় হাত কাটা হবে না।" আর ইবনে হিব্বান আইয়ুব বিন মাইসারাহ বিন হুলিস-এর সূত্রে বর্ণনা করেন: আমি বুসর বিন আরত্বাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: "হে আল্লাহ! সকল বিষয়ে আমাদের শেষ পরিণাম উত্তম করুন।" মদিনাবাসীগণ তাঁর সাহাবী হওয়া এবং সরাসরি বর্ণনা শোনাকে অস্বীকার করেছেন; সম্ভবত তাঁরা সিরিয়াবাসীদের তুলনায় সাহাবীদের অবস্থা সম্পর্কে অধিক অবগত। আর তাঁর মানসিক পরিবর্তনের বিষয়টি সম্পর্কে প্রমাণিত যে, তাঁর মাঝে বার্ধক্যজনিত বিভ্রান্তি (ইখতিলাত) ঘটেছিল এবং মৃত্যুর পূর্বে তিনি মতিভ্রমগ্রস্ত হয়েছিলেন। আর আল্লাহ তাআলাই অধিক পরিজ্ঞাত।
(খণ্ড: ১) আল-ইগতিবাত বিমান রুমিয়া মিনার রুওয়াত বিল-ইখতিলাত (পৃষ্ঠা: ৭২)
16 -‌‌ بشر بن الوليد الكندي الفقيه

ذكره الذهبي في ميزانه (1) وفيه قال صالح بن محمد جزرة: هو صدوق ولكنه لا يعقل كان قد خرف.

--------------------------------------------

في آخر أمره يقال إنه وقف في القرآن، فأمسك أصحاب الحديث عنه وتركوه لذلك. وقد ذكر الذهي قول صالح جزرة السابق وقال: وقال السليماني: منكر الحديث وقال الآجري: سألت أبا داود: أبشر بن الوليد: ثقة؟ قال لا. وروى السلمي عن الدارقطني: ثقة. مات بشر سنة ثمان وثلاثين ومائتين، وليست له رواية في الكتب الستة
১৬ -‌‌ বিশর ইবনুল ওয়ালিদ আল-কিন্দী আল-ফকিহ

আয-যাহাবী তাঁর মিজান গ্রন্থে তাঁকে উল্লেখ করেছেন (১) এবং তাতে সালেহ বিন মুহাম্মদ জাযরাহ বলেছেন: তিনি সত্যবাদী, তবে তিনি বিচার-বুদ্ধি হারিয়ে ফেলেছিলেন; তিনি বার্ধক্যের কারণে স্মৃতিভ্রমের শিকার হয়েছিলেন।

--------------------------------------------

তাঁর জীবনের শেষ পর্যায়ে বলা হয় যে, তিনি কুরআনের বিষয়ে ওয়াকফ (নিরবতা) অবলম্বন করেছিলেন, ফলে হাদীস বিশারদগণ তাঁর থেকে বর্ণনা গ্রহণ বন্ধ করে দেন এবং এই কারণে তাঁকে বর্জন করেন। আয-যাহাবী সালেহ জাযরাহ-এর পূর্বোক্ত উক্তিটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: আস-সুলাইমানী বলেছেন: তিনি মুনকারুল হাদীস (অগ্রহণযোগ্য হাদীস বর্ণনাকারী)। আল-আজুররী বলেছেন: আমি আবু দাউদকে জিজ্ঞেস করেছি: বিশর ইবনুল ওয়ালিদ কি নির্ভরযোগ্য? তিনি বললেন: না। আস-সুলামী আদ-দারা কুতনী থেকে বর্ণনা করেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য। বিশর ২৩৮ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন এবং কুতুবে সিত্তাহ-তে তাঁর কোনো বর্ণনা নেই।
(খণ্ড: ১) আল-ইগতিবাত বিমান রুমিয়া মিনার রুওয়াত বিল-ইখতিলাত (পৃষ্ঠা: ৭৩)
‌‌باب الجيم

17 -[ع]‌‌ جرير بن حازم

قال ابن مهدي هو أثبت من قرة قال واختلط ـ يعني جرير ـ فحجبه أولاده فلم يسمع منه أحد في حال اختلاطه وقال أبو حاتم تغير قبل موته بسنة.

--------------------------------------------

قلت وجرير بن حازم بن الأزدي أبو النضر البصري، هو كما قال الذهبي: أحد الأئمة الكبار الثقات، مستقيم الحديث إلا عن قتادة فإن حديثه عنه فيه ضعف، روى عنه مناكير، وهذا لا يسقط الرجل جملة وإنما ينفي هذا الموضع من حديثهن كما أن له أوهام إذا حدث من حفظه، والوهم اليسير لا يضر الراوي، فقد يقع فيه الكبار. أما عن اختلاطه وتغيره فقد وقت أبو حاتم وأبو نعيم الفترة التي اختلط فيها قبل موته بسنة، ولكن اختلاطه هذا لا يضره، ولا يقدح في حديثه، فقد كان أولاده أصحاب حديث فحجبوه، ولم يسمع منه أحد حال اختلاطه، فكل من روى عنه إنما روى عنه قبل الاختلاط، قال أحمد بن سنان عن ابن مهدي: " جرير بن حازم اختلط وكان أولاده أصحاب حديث، فلما أحسوا ذلك منه حجبوه، فلم يسمع أحد منه حال اختلاطه شيئاً". وروايته في الكتب الستة جميعاً.
‌জিম অধ্যায়

১৭ -[আ]‌‌ জারির ইবনে হাযিম

ইবনে মাহদি বলেন, তিনি কুররাহ এর চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য। তিনি আরও বলেন—অর্থাৎ জারির—বিভ্রান্তিতে (ইখতিলাত) পতিত হয়েছিলেন; ফলে তাঁর সন্তানরা তাঁকে লোকচক্ষুর আড়ালে রেখেছিলেন, তাই বিভ্রান্ত অবস্থায় তাঁর থেকে কেউ কিছু শুনতে পায়নি। আবু হাতিম বলেন, মৃত্যুর এক বছর আগে তাঁর স্মৃতিভ্রম ঘটেছিল।

--------------------------------------------

আমি বলছি, জারির ইবনে হাযিম ইবনে আল-আযদি আবু আন-নাদর আল-বাসরি হলেন সেই ব্যক্তি, যাকে যাহাবি যেমনটি বলেছেন: তিনি বড় ইমামদের অন্তর্ভুক্ত একজন নির্ভরযোগ্য রাবি। কাতাদাহ থেকে বর্ণিত হাদিসগুলো ব্যতীত তাঁর বর্ণিত বাকি সব হাদিস সঠিক; কেননা কাতাদাহ থেকে তাঁর বর্ণিত হাদিসগুলোতে দুর্বলতা রয়েছে এবং তিনি তাঁর থেকে কিছু অগ্রহণযোগ্য (মুনকার) হাদিস বর্ণনা করেছেন। তবে এটি সামগ্রিকভাবে উক্ত ব্যক্তিকে নাকচ করে দেয় না, বরং শুধুমাত্র তাঁর হাদিসের এই অংশটুকুকে নাকচ করে। অনুরূপভাবে, যখন তিনি মুখস্থ বর্ণনা করতেন তখন তাঁর কিছু ভুল (ওয়াহাম) হতো; আর সামান্য ভুল রাবির জন্য ক্ষতিকর নয়, কারণ বড় বড় আলেমদের ক্ষেত্রেও এমনটা ঘটতে পারে। তাঁর বিভ্রান্তি (ইখতিলাত) ও স্মৃতিভ্রমের বিষয়ে আবু হাতিম এবং আবু নুয়াইম সময়কাল নির্ধারণ করেছেন যে, এটি তাঁর মৃত্যুর এক বছর আগে ঘটেছিল। তবে তাঁর এই বিভ্রান্তি তাঁর জন্য ক্ষতিকর নয় এবং তাঁর হাদিসের ক্ষেত্রে কোনো দোষ সৃষ্টি করে না; কারণ তাঁর সন্তানরা হাদিস শাস্ত্রের পণ্ডিত ছিলেন, ফলে তাঁরা তাঁকে লোকচক্ষুর আড়ালে রেখেছিলেন এবং বিভ্রান্ত অবস্থায় তাঁর থেকে কেউ কোনো হাদিস শোনেননি। সুতরাং যারা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা তাঁর বিভ্রান্তিতে পড়ার আগেই বর্ণনা করেছেন। আহমদ ইবনে সিনান ইবনে মাহদি থেকে বর্ণনা করেন: "জারির ইবনে হাযিম বিভ্রান্তিতে পড়েছিলেন এবং তাঁর সন্তানরা ছিলেন হাদিস শাস্ত্রের লোক। যখন তাঁরা তাঁর মাঝে এই পরিবর্তন অনুভব করলেন, তখন তাঁরা তাঁকে আড়ালে নিয়ে গেলেন। তাই তাঁর বিভ্রান্ত অবস্থায় কেউ তাঁর থেকে কিছুই শুনতে পায়নি।" এবং তাঁর বর্ণনা কুতুবুস সিত্তাহর সবকটি গ্রন্থেই বিদ্যমান।
(খণ্ড: ১) আল-ইগতিবাত বিমান রুমিয়া মিনার রুওয়াত বিল-ইখতিলাত (পৃষ্ঠা: ৭৬)
18 -[ع]‌‌ جرير بن عبد الحميد الضبي

اختلط عليه حديث أشعث وعاصم الأحول حتى قدم عليه بَهْز فعرَّفه وقال أبو حاتم صدوق تغير قبل موته وحجبه أولاده.

وكذا نقل هذا الكلام أبو العباس البَنَائي في ترجمة ابن عبد الحميد وإنما المعروف (4) هذا عن ابن حازم كما تقدم لكن البيهقي في سننه في ثلاثين (5) حديثا لجرير بن عبد الحميد قال قد نسب في آخر عمره إلى سوء الحفظ.

--------------------------------------------

قلت: وجرير بن عبد الحميد الضبي الكوفي أحد الثقات صحيح الكتاب روايته في الكتب الستة كلها نسب في آخر عمره إلى سوء الحفظ كما نص عليه البيهقي. أما ما قاله أبو حاتم وأبو العباس البنائي من أنه تغير قبل موته وحجبه أولاده فلا يصح وإنما عرف ذلك عن جرير بن حازم صاحب الترجمة السابقة وقد تعب الذهبي في ميزانه هذ الكلام ورده وبين أن الذي حجبه أولاده هو جرير بن حازم، وهذا ما نقله صاحب الاغتباط ولذا تعقب الحافظ ابن حجر كلام أبي حاتم هذا فقال في التهذيب: "وذكر صاحب الحافل عن أبي حاتم أنه تغير قبل موته بسنة فحجبه أولاده، هذا ليس بمستقيم فإن هذا إنما وقع لجرير بن حازم فكأنه اشتبه على صاحب الحافل". أما ما ذكر في ترجمته من قول الإمام أحمد بن حنبل: " لم يكن بالذكي، اختلط عليه حديث أشعث وعاصم الأحول حتى قدم عليه بهز فعرفه". فهذا لا يدخل في معنى الاختلاط اصطلاحاً ولذلك قيل ليحيى بن معين عقي هذه الحكاية: كيف تروي عن جرير؟ قال: ألا تراه قد بين لهم أمرها. ولكن يبقى قول البيهقي في سننه في نحو ثلاثين حديثاً لجرير بن عبد الحميد قد نسب في آخر عمره إلى سوء الحفظ.
১৮ -[আইন]‌‌ জারীর বিন আব্দুল হামিদ আদ-দব্বী

আশ'আছ এবং আসিম আল-আহওয়ালের হাদীসগুলো তাঁর নিকট ওলটপালট হয়ে গিয়েছিল, শেষ পর্যন্ত বাহয তাঁর নিকট আসলেন এবং তাঁকে তা চিনিয়ে দিলেন। আবু হাতিম বলেন: তিনি সত্যবাদী ছিলেন, মৃত্যুর আগে তাঁর স্মৃতিশক্তির পরিবর্তন ঘটেছিল এবং তাঁর সন্তানরা তাঁকে লোকচক্ষুর আড়ালে রেখেছিল।

আবুল আব্বাস আল-বানায়ীও জারীর ইবনে আব্দুল হামিদের জীবনীতে একইভাবে এই কথাটি নকল করেছেন। তবে পূর্বেই যেমন উল্লেখ করা হয়েছে, এটি মূলত ইবনে হাযিমের ক্ষেত্রে পরিচিত। কিন্তু বায়হাকী তাঁর সুনান গ্রন্থে জারীর বিন আব্দুল হামিদের প্রায় ত্রিশটি হাদীসের ক্ষেত্রে বলেছেন যে, তাঁর শেষ জীবনে তাঁকে স্মরণশক্তির দুর্বলতার দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে।

--------------------------------------------

আমি বলছি: জারীর বিন আব্দুল হামিদ আদ-দব্বী আল-কূফী নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের অন্যতম এবং তাঁর পাণ্ডুলিপি ছিল নির্ভুল। তাঁর বর্ণনা সিহাহ সিত্তাহর সকল গ্রন্থেই বিদ্যমান। বায়হাকী যেমনটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, তাঁর জীবনের শেষ ভাগে তাঁকে স্মরণশক্তির দুর্বলতার দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে। তবে আবু হাতিম এবং আবুল আব্বাস আল-বানায়ী যে কথাটি বলেছেন যে, মৃত্যুর আগে তাঁর স্মৃতিশক্তির পরিবর্তন ঘটেছিল এবং তাঁর সন্তানরা তাঁকে আড়ালে রেখেছিল—তা সঠিক নয়। বরং এটি পূর্বোক্ত জীবনীর অধিকারী জারীর বিন হাযিমের ক্ষেত্রে পরিচিত। ইমাম যাহাবী তাঁর 'মিযান' গ্রন্থে এই উক্তিটি নিয়ে অনেক পরিশ্রম করেছেন এবং তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, যাঁর সন্তানরা তাঁকে আড়ালে রেখেছিলেন তিনি হলেন জারীর বিন হাযিম। এটিই 'আল-ইগতিবাত' গ্রন্থের লেখকও বর্ণনা করেছেন। এই কারণেই হাফিয ইবনে হাজার আবু হাতিমের এই উক্তিটি খণ্ডন করে 'আত-তাহযীব' গ্রন্থে বলেছেন: "আল-হাফিল গ্রন্থের লেখক আবু হাতিম থেকে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি (জারীর বিন আব্দুল হামিদ) মৃত্যুর এক বছর আগে পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছিলেন এবং তাঁর সন্তানরা তাঁকে আড়ালে রেখেছিলেন; এই কথাটি সঠিক নয়। কেননা এটি মূলত জারীর বিন হাযিমের ক্ষেত্রে ঘটেছিল, তাই সম্ভবত 'আল-হাফিল' গ্রন্থের লেখকের কাছে বিষয়টি অস্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল।" আর তাঁর জীবনীতে ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের যে উক্তিটি উল্লেখ করা হয়েছে: "তিনি প্রখর মেধাসম্পন্ন ছিলেন না, আশ'আছ এবং আসিম আল-আহওয়ালের হাদীসগুলো তাঁর নিকট ওলটপালট হয়ে গিয়েছিল, শেষ পর্যন্ত বাহয তাঁর নিকট এসে তাঁকে চিনিয়ে দেন"—এটি পারিভাষিক অর্থে 'ইখতিলাত' (স্মৃতিভ্রম) এর অন্তর্ভুক্ত নয়। এই কারণেই ইয়াহইয়া বিন মাঈনকে এই ঘটনার পর জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: আপনি কেন জারীরের নিকট থেকে বর্ণনা করেন? তিনি বললেন: আপনি কি দেখছেন না যে তিনি তাদের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়েছেন? তবে বায়হাকীর তাঁর 'সুনান' গ্রন্থে জারীর বিন আব্দুল হামিদের প্রায় ত্রিশটি হাদীসের ব্যাপারে উক্তিটি অবশিষ্ট থেকে যায় যে, জীবনের শেষভাগে তাঁকে স্মরণশক্তির দুর্বলতার দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইগতিবাত বিমান রুমিয়া মিনার রুওয়াত বিল-ইখতিলাত (পৃষ্ঠা: ৮১)
‌‌باب الحاء المهملة

19 -‌‌ حبان ـ بالكسر ـ ابن زهير

اختلط ويقال ابن يسار أبو روح وقال ابن حبان (2) لا يحتج به لكن فرق بين ابن زهير وابن يسار

--------------------------------------------

قلت: هذا حبان بن زهير وليس هو ابن يسار الذي سيأتي في الترجمة التالية وابن زهير لم يرو له أحد من أصحاب الكتب الستة. أما ابن يسار فقد روى له أبو داود.
নুকতাহীন 'হা' (ح) পরিচ্ছেদ

১৯ -‌হিব্বান —কাসরা (জের) সহকারে— ইবনে যুহাইর

তিনি স্মৃতিভ্রষ্ট হয়েছিলেন। তাঁকে ইবনে ইয়াসার আবু রাউহ-ও বলা হয়। ইবনে হিব্বান (২) বলেন: তাঁর দ্বারা দলিল পেশ করা যাবে না। তবে তিনি ইবনে যুহাইর ও ইবনে ইয়াসারের মধ্যে পার্থক্য করেছেন।

--------------------------------------------

আমি বলছি: ইনি হলেন হিব্বান বিন যুহাইর; তিনি সেই ইবনে ইয়াসার নন যার আলোচনা পরবর্তী জীবনীতে আসবে। ইবনে যুহাইর থেকে কুতুবে সিত্তাহর (ছয়টি প্রসিদ্ধ হাদিস গ্রন্থ) সংকলকদের কেউ কোনো বর্ণনা করেননি। পক্ষান্তরে ইবনে ইয়াসার থেকে আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইগতিবাত বিমান রুমিয়া মিনার রুওয়াত বিল-ইখতিলাত (পৃষ্ঠা: ৮২)
20 -[د]‌‌ حبان بن يسار الكلابي البصري

أبو رويحة ويقال أبو روح ذكره البخاري في الضعفاء فأشار أنه تغير

--------------------------------------------

قل: وذكره البخاري في التاريخ وذكر في اسم أبيه اختلافاً وأعل حديثه، وقال أبو داود: لا بأس به.
20 -[দ]‌‌ হিব্বান ইবনে ইয়াসার আল-কিলাবি আল-বাসরি

আবু রুওয়াইহা, এবং বলা হয় আবু রাওহ। ইমাম বুখারি তাকে আদ-দুয়াফা (দুর্বল বর্ণনাকারীদের তালিকা) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং ইঙ্গিত করেছেন যে তিনি পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছিলেন।

--------------------------------------------

আমি বলি: বুখারি তাকে আত-তারিখ গ্রন্থেও উল্লেখ করেছেন এবং তার পিতার নামের ক্ষেত্রে মতভেদ বর্ণনা করেছেন ও তার হাদিসকে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করেছেন। আর আবু দাউদ বলেছেন: তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই।
(খণ্ড: ১) আল-ইগতিবাত বিমান রুমিয়া মিনার রুওয়াত বিল-ইখতিলাত (পৃষ্ঠা: ৮৩)
زيادات النهاية:

21 -‌‌ حجاج بن محمد المصيصي الأعور

--------------------------------------------

أحد الثقات، روى عن: ابن جريج وشعبة.

وعنه: أحمد وابن معين والذهلي.

روى الأثرم عن أحمد قال: كان أحفظ وأصح حديثاً وأشد تعاهداً للحروف ورفع أمره جداً.

ورى إبراهيم الحربي، أخبرني صديق لي. قال: لما قدم الحجاج بغداد آخر أمره خلط، فرآه ابن معين يخلط، فقال لابنه: لا يدخل عليه أحد.

توفي سنة ست ومائتين.

ليست له رواية في الكتب الستة0.
আন-নিহায়ার পরিশিষ্টসমূহ:

২১ -‌‌ হাজ্জাজ বিন মুহাম্মাদ আল-মাসিসি আল-আওয়ার

--------------------------------------------

অন্যতম নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী, তিনি বর্ণনা করেছেন: ইবন জুরাইজ ও শু’বাহ থেকে।

আর তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন: আহমাদ, ইবন মাঈন এবং আয-যুহলী।

আল-আছরাম ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তিনি অধিক হাফিয ও হাদিসের ক্ষেত্রে অধিক বিশুদ্ধ ছিলেন এবং হরফ বা অক্ষরের উচ্চারণের প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন; ইমাম আহমাদ তাঁর মর্যাদা অনেক উচ্চে তুলে ধরেছেন।

ইবরাহিম আল-হারবি বর্ণনা করেছেন, আমার এক বন্ধু আমাকে জানিয়েছেন। তিনি বলেন: হাজ্জাজ যখন তাঁর শেষ বয়সে বাগদাদে আসলেন তখন তিনি স্মৃতিবিভ্রমে পতিত হন, ইবন মাঈন তাঁকে স্মৃতিবিভ্রান্ত হতে দেখে তাঁর ছেলেকে বললেন: কেউ যেন তাঁর নিকট প্রবেশ না করে।

তিনি দুইশত ছয় হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

কুতুব আল-সিত্তাহ তথা প্রসিদ্ধ ছয়টি গ্রন্থে তাঁর কোনো বর্ণনা নেই।
(খণ্ড: ১) আল-ইগতিবাত বিমান রুমিয়া মিনার রুওয়াত বিল-ইখতিলাত (পৃষ্ঠা: ৮৪)
زيادات النهاية:

22 -‌‌ الحسن بن الحسين الرهاوي المقري

--------------------------------------------

قال عبد العزيز الكتاني: كان فيه تخليط يحدث بما لم يسمع ويركب على الشيوخ.

روى عن: عبد الرحمن بن أبي نصر.

مات سنة خمس وخمسين وأربعمائة.

قال الحافظ في اللسان: قال ابن عساكر: وجدت نسخته برسالة أبي بكر، وقد سمع فيها لنفسه على أبي محمد بن أبي نصر بسماعه زعم عن أبي الحسن صخر، ولم يلق أحدهما الآخر، وذكر أن سماعه بقراءته بخط ابن الحيان وليس بخط ابن الحيان نسأل الله السلامة.
আন-নিহায়ার পরিশিষ্টসমূহ:

২২ -‌‌ হাসান বিন হুসাইন আর-রুহাওয়ী আল-মুকরি

--------------------------------------------

আব্দুল আযীয আল-কাত্তানী বলেন: তার মধ্যে বিভ্রান্তি ছিল; তিনি যা শোনেননি তা বর্ণনা করতেন এবং শাইখদের ওপর মিথ্যা আরোপ করতেন।

বর্ণনা করেছেন: আব্দুর রহমান বিন আবি নাসর থেকে।

তিনি চারশত পঞ্চান্ন হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।

হাফিজ (ইবনে হাজার) 'আল-লিসান' গ্রন্থে বলেন: ইবনে আসাকির বলেছেন: আমি আবু বকরের রিসালায় তার একটি অনুলিপি পেয়েছি; সেখানে তিনি নিজের জন্য আবু মুহাম্মদ বিন আবি নাসরের নিকট শোনার দাবি করেছেন এবং আবু মুহাম্মদ আবার আবু হাসান সাখর থেকে শুনেছেন বলে দাবি করা হয়েছে, অথচ তাদের একজন অন্যজনের সাথে সাক্ষাৎ করেননি। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তার শোনা বিষয়টি ইবনে হাইয়ানের হস্তাক্ষরে তার পাঠের মাধ্যমে ছিল, অথচ সেটি ইবনে হাইয়ানের হস্তাক্ষর ছিল না। আমরা আল্লাহর নিকট নিরাপত্তা প্রার্থনা করি।
(খণ্ড: ১) আল-ইগতিবাত বিমান রুমিয়া মিনার রুওয়াত বিল-ইখতিলাত (পৃষ্ঠা: ৮৫)
زيادات النهاية:

23 -‌‌ الحسن بن عثمان التمتامي سبط تمتام

--------------------------------------------

حدث بخرسان وما وراء النهر عن عبد الله بن إسحاق المدائني والبغوي كتب عنه الحاكم وقال كان يحفظ وليس بالمعتمد فإنه حدث عن الباغندي والمدائني وعبد الله بن زيدان بأحاديث لا يتابع عليها.

قال الإدريسي: كان يخلط.

وساق له الحاكم عن أبي بكر محمد بن هارون عن سجادة عن يحيى الأسلمي عن برد بن سنان عن الزهري عن سعيد عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى على جنازة فوضع يده اليمنى على يده اليسرى.

وقال الإدريسي: سمعت محمد بن سعيد الحافظ يقول: كتب عني الحسن بن عثمان التمتامي أحاديث لبهز بن حكيم ثم ذهب فحدث بها عن مشائخي.

وقال الإدريسي: مات بالشاش سنة خمس وأربعين وثلاثمائة رحمه الله تعالى.
যিয়াদাতুন নিহায়া:

২৩ -‌‌ হাসান বিন উসমান আত-তামতামি, তামতামের নাতি

--------------------------------------------

তিনি আবদুল্লাহ বিন ইসহাক আল-মাদায়িনী এবং আল-বাগাওয়ী থেকে খোরাসান ও মা ওয়ারাউন নাহরে হাদীস বর্ণনা করেছেন। আল-হাকিম তাঁর থেকে হাদীস লিখেছেন এবং বলেছেন যে, তিনি মুখস্থ রাখতেন কিন্তু তিনি নির্ভরযোগ্য ছিলেন না; কেননা তিনি আল-বাগান্দি, আল-মাদায়িনী এবং আবদুল্লাহ বিন যাইদান থেকে এমন সব হাদীস বর্ণনা করেছেন যেগুলোর সপক্ষে অন্য কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না।

আল-ইদ্রিসি বলেছেন: তিনি বর্ণনায় সংমিশ্রণ করতেন।

আল-হাকিম তাঁর সূত্রে আবু বকর মুহাম্মদ বিন হারুন থেকে, তিনি সাজ্জাদা থেকে, তিনি ইয়াহইয়া আল-আসলামী থেকে, তিনি বুর্দ বিন সিনান থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি সাঈদ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি জানাজার সালাত আদায় করেছেন এবং তাঁর ডান হাত তাঁর বাম হাতের উপর রেখেছেন।

আল-ইদ্রিসি বলেন: আমি হাফিজ মুহাম্মদ বিন সাঈদকে বলতে শুনেছি: হাসান বিন উসমান আত-তামতামি আমার থেকে বাহয বিন হাকিমের কিছু হাদীস লিখেছেন, এরপর তিনি গিয়ে সেগুলো আমার শায়খদের সূত্রে বর্ণনা করেন।

আল-ইদ্রিসি বলেছেন: তিনি ৩৪৫ হিজরী সনে শাশ নামক স্থানে মৃত্যুবরণ করেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১) আল-ইগতিবাত বিমান রুমিয়া মিনার রুওয়াত বিল-ইখতিলাত (পৃষ্ঠা: ৮৬)
24 -‌‌ الحسين بن الحسين الفانيد

الرواي عن أبي علي بن شاذان.

قال شجاع الذهلي وغيره: تغير بأخرة

--------------------------------------------

قال في اللسان: وقد ذكر ابن السمعاني قال: سألت عبد الله بن طاهر بن فارس: هل سمعت من الفانيدي شيئاً؟ فقال: حضرت عنده فسألت بعض أهل الحديث أن يقرأ عليه شيئاً، فقرأ حديثين، فجاء ابن خسرو فعرك أذني، وقال: هذا مجنون، كيف تسمع منه؟ فتركه.. وقد قال السلفي في معجم شيوخه: لم نر له عن غير ابن شاذان، وكان صحيح السماع، ما روى غير جزءين أو ثلاثة وتناقض عقله في آخر عمره. مات في شوال سنة ست وتسعين وأربعمائة، وأثنى عليه عبد الوهاب الأفاطي. أهـ.
24 -‌‌ আল-হুসাইন বিন আল-হুসাইন আল-ফানিদি

তিনি আবু আলী বিন শাযান থেকে বর্ণনাকারী।

শুজা আদ-দুহালি এবং অন্যরা বলেছেন: শেষ বয়সে তাঁর স্মৃতিশক্তির পরিবর্তন ঘটেছিল।

--------------------------------------------

‘আল-লিসান’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: ইবনে সামআনি উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেছেন: আমি আব্দুল্লাহ বিন তাহির বিন ফারিসকে জিজ্ঞাসা করলাম: আপনি কি আল-ফানিদি থেকে কিছু শুনেছেন? তিনি বললেন: আমি তাঁর কাছে উপস্থিত হলাম এবং হাদিসের এক ছাত্রকে অনুরোধ করলাম তাকে কিছু পড়ে শোনাতে। সে দুটি হাদিস পাঠ করল। তখন ইবনে খুসরু এসে আমার কান মলে দিলেন এবং বললেন: এ তো পাগল, আপনি কীভাবে তার থেকে হাদিস গ্রহণ করছেন? এরপর তিনি তা বর্জন করেন। আস-সালাফি তাঁর ‘মুজামু শুয়ুখিহি’ গ্রন্থে বলেছেন: আমরা ইবনে শাযান ব্যতীত অন্য কারও কাছ থেকে তাঁর বর্ণনা দেখিনি। তাঁর হাদিস শ্রবণ সঠিক ছিল। তিনি দুই বা তিন খণ্ডের বেশি বর্ণনা করেননি এবং শেষ জীবনে তাঁর বুদ্ধি লোপ পেয়েছিল। তিনি চারশত ছিয়ানব্বই হিজরির শাওয়াল মাসে মৃত্যুবরণ করেন এবং আব্দুল ওয়াহহাব আল-আফাতি তাঁর প্রশংসা করেছেন। সমাপ্ত।