(খণ্ড: ১)
আল-আমওয়াল - আবু উবায়েদ
(পৃষ্ঠা: -)
الأموال - أبو عبيد (أبو عبيد القاسم بن سلام)
القسم: كتب السنة
الكتاب: كتاب الأموال
المؤلف: أبو عُبيد القاسم بن سلاّم بن عبد الله الهروي البغدادي (ت 224هـ)
المحقق: خليل محمد هراس.
الناشر: دار الفكر. - بيروت.
عدد الصفحات: 729
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-আমওয়াল - আবু উবাইদ (আবু উবাইদ আল-কাসিম ইবনে সালাম)
বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: কিতাবুল আমওয়াল
লেখক: আবু উবাইদ আল-কাসিম ইবনে সালাম ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হারাউয়ি আল-বাগদাদি (মৃত্যু: ২২৪ হিজরি)
গবেষক/সম্পাদক: খলিল মুহাম্মদ হাররাস.
প্রকাশক: দারুল ফিকর. - বৈরুত.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭২৯
[কিতাবের নম্বরবিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-আমওয়াল - আবু উবায়েদ
(পৃষ্ঠা: ١٠)
بسم الله الرحمن الرحيموَصَلَّى اللَّهُ عَلَى مُحَمَّدٍ وَآلِهِ وَسَلَّمَقُرِئَ عَلَى الشَّيْخَةِ الصَّالِحَةِ الْكَاتِبَةِ فَخْرِ النِّسَاءِ ، شُهْدَةَ بِنْتِ أَبِي نَصْرِ أَحْمَدَ بْنِ الْفَرَجِ بْنِ عُمَرَ الْإِبَرِيُّ الدَّيْنُورِيُّ بِمَنْزِلِهَا بِبَغْدَادَ فِي الْحَادِي عَشَرَ مِنْ شَعْبَانَ سَنَةَ أَرْبَعٍ وَسِتِّينَ وَخَمْسِمِائَةٍ: أَخْبَرَكُمْ النَّقِيبُ الْكَامِلُ أَبُو الْفَوَارِسِ طَرَّادُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِِّ الزَّيْنَبِيُّ ، فِي ثَانِي ذِي الْحِجَّةِ مِنْ سَنَةِ تِسْعِينَ وَأَرْبَعِمِائَةٍ ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ الْبَادِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ حَامِدُ بْنُ مُحَمَّدِِ الْهَرَوِيُّ، أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْبَغَوِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو عُبَيْدٍ الْقَاسِمُ بْنُ سَلَّامٍ الْأَزْدِيُّ رضي الله عنه قَالَ:
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।আল্লাহ তাআলা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।৫৬৪ হিজরি সনের ১১ই শাবান তারিখে বাগদাদে তাঁর নিজ বাসভবনে পুণ্যবতী শাইখা ও বিদুষী লেখিকা ফাখরুন নিসা শুহদাহ বিনতে আবি নাসর আহমাদ ইবনুল ফারাজ ইবনে উমর আল-ইবারি আদ-দায়নুরির সামনে পাঠ করা হয়েছে: কামিল নাকীব আবুল ফাওয়ারিস তাররাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী আজ-জায়নাবি ৪৯০ হিজরি সনের ২রা জিলহজ তারিখে আপনাদের অবহিত করেছেন; আবুল হাসান আহমাদ ইবনে আলী আল-বাদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আলী হামিদ ইবনে মুহাম্মদ আল-হারাওয়ি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আলী ইবনে আব্দুল আজিজ আল-বাগাভি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু উবাইদ কাসিম ইবনে সাল্লাম আল-আজদি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১)
আল-আমওয়াল - আবু উবায়েদ
(পৃষ্ঠা: ١٠)
1 - بَابُ حَقِّ الْإِمَامِ عَلَى الرَّعِيَّةِ، وَحَقِّ الرَّعِيَّةِ عَلَى الْإِمَامِ
১ -প্রজাসাধারণের ওপর ইমামের অধিকার এবং ইমামের ওপর প্রজাসাধারণের অধিকার সংক্রান্ত অধ্যায়
(খণ্ড: ১)
আল-আমওয়াল - আবু উবায়েদ
(পৃষ্ঠা: ١٠)
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ اللَّيْثِيِّ، عَنْ تَمِيمٍ الدَّارِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «الدِّينُ النَّصِيحَةُ» قِيلَ: لِمَنْ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «لِلَّهِ وَلِرَسُولِهِ، وَلِكِتَابِهِ، وَلِلْأَئِمَّةِ وَلِجَمَاعَةِ الْمُسْلِمِينَ» 2 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ سُفْيَانَ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ يَزِيدَ، عَنْ تَمِيمٍ الدَّارِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ عليه الصلاة والسلام مِثْلَ ذَلِكَ، إِلَّا أَنَّهُ قَالَ: «الدِّينُ النَّصِيحَةُ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ»
ইসমাইল ইবনে আইয়্যাশ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি সুহাইল ইবনে আবি সালিহ থেকে, তিনি আতা ইবনে ইয়াযিদ আল-লায়সী থেকে, তিনি তামীম আদ-দারী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «দীন হলো নসিহত (একনিষ্ঠতা ও শুভকামনা)»। জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল, কার জন্য? তিনি বললেন: «আল্লাহর জন্য, তাঁর কিতাবের জন্য, তাঁর রাসূলের জন্য, মুসলিমদের নেতৃবর্গের জন্য এবং তাদের সাধারণ জনগণের জন্য»। ২ - আবদুর রহমান ইবনে মাহদী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি সুফিয়ান ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি সুহাইল ইবনে আবি সালিহ থেকে, তিনি ইবনে ইয়াযিদ থেকে, তিনি তামীম আদ-দারী থেকে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন; তবে তিনি উল্লেখ করেছেন যে: «দীন হলো নসিহত» এ কথাটি তিনি তিনবার বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আমওয়াল - আবু উবায়েদ
(পৃষ্ঠা: ١٠)
3 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ الْمَدِينِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «كُلُّكُمْ رَاعٍ، وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ، فَالْأَمِيرُ الَّذِي عَلَى ⦗ص: 11⦘ النَّاسِ رَاعٍ عَلَيْهِمْ، وَهُوَ مَسْئُولٌ عَنْهُمْ، وَالرَّجُلُ رَاعٍ عَلَى أَهْلَ بَيْتِهِ، وَهُوَ مَسْئُولٌ عَنْهُمْ، وَامْرَأَةُ الرَّجُلِ رَاعِيَةٌ عَلَى بَيْتِ زَوْجِهَا وَوَلَدِهَا، وَهِيَ مَسْئُولَةٌ عَنْهُمْ وَعَبْدُ الرَّجُلِ رَاعٍ عَلَى مَالِ سَيِّدِهِ، وَهُوَ مَسْئُولٌ عَنْهُ أَلَا فَكُلُّكُمْ رَاعٍ، وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ» 4 - حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ الْحِمْصِيُّ، عَنْ شُعَيْبِ بْنِ أَبِي حَمْزَةَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَ ذَلِكَ، أَوْ نَحْوَهُ
৩ - আমাদের কাছে ইসমাঈল ইবনে জাফর আল-মাদিনী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আবদুল্লাহ ইবনে দীনার বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমাদের প্রত্যেকেই রাখাল (তত্ত্বাবধায়ক), এবং তোমাদের প্রত্যেককেই তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। সুতরাং মানুষের ওপর ⦗পৃষ্ঠা: ১১⦘ নিযুক্ত আমীর তাদের রাখাল এবং তাকে তাদের সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে। পুরুষ তার পরিবারের ওপর একজন রাখাল এবং তাকে তাদের সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে। আর কোনো স্ত্রীলোক তার স্বামীর ঘর ও সন্তানের ওপর রাখাল এবং তাকে তাদের সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে। কোনো ব্যক্তির গোলাম তার মনিবের সম্পদের ওপর রাখাল এবং তাকে সে সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে। সাবধান! তোমাদের প্রত্যেকেই রাখাল এবং তোমাদের প্রত্যেককেই তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।» ৪ - আমাদের কাছে আবুল ইয়ামান আল-হাকাম ইবনে নাফি' আল-হিমসী বর্ণনা করেছেন, তিনি শুয়াইব ইবনে আবি হামজা থেকে, তিনি ইবনে শিহাব আজ-জুহরী থেকে, তিনি সালিম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বা এর সমজাতীয় হাদিস বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আমওয়াল - আবু উবায়েদ
(পৃষ্ঠা: ١١)
5 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ شَرِيكِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي نَمِرٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، قَالَ رَجُلٌ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: بِئْسَ الشَّيْءُ الْإِمَارَةُ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «نِعْمَ الشَّيْءُ الْإِمَارَةُ لِمَنْ أَخَذَهَا بِحِلِّهَا وَحَقِّهَا، وَبِئْسَ الشَّيْءُ الْإِمَارَةُ لِمَنْ أَخَذَهَا بِغَيْرِ حَقِّهَا وَحِلِّهَا، تَكُونُ عَلَيْهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حَسْرَةً وَنَدَامَةً»
৫ - আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন ইসমাইল ইবনে জাফর, তিনি শারিক ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবি নামির থেকে, তিনি আতা ইবনে ইয়াসার থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এক ব্যক্তি বলল: নেতৃত্ব কতই না মন্দ বিষয়! তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «নেতৃত্ব কতই না চমৎকার বিষয় তার জন্য, যে তা বৈধভাবে ও যথাযথ হকের সাথে গ্রহণ করে। আর নেতৃত্ব কতই না মন্দ বিষয় তার জন্য, যে তা অধিকারহীন ও অবৈধভাবে গ্রহণ করে; কিয়ামতের দিন এটি তার জন্য আক্ষেপ ও অনুশোচনার কারণ হবে।»
(খণ্ড: ১)
আল-আমওয়াল - আবু উবায়েদ
(পৃষ্ঠা: ١١)
6 - وَحَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ يَزِيدَ الْحَضْرَمِيِّ، أَنَّ أَبَا ذَرٍّ سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْإِمَارَةَ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّهَا أَمَانَةٌ، وَإِنَّهَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ حَسْرَةٌ وَنَدَامَةٌ، إِلَّا مَنْ أَخَذَهَا بِحَقِّهَا وَأَدَّى الَّذِي عَلَيْهِ فِيهَا»
৬ - ইয়াজিদ ইবনে হারুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি আল-হারিস ইবনে ইয়াজিদ আল-হাদরামি থেকে যে, আবু যার আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট নেতৃত্ব প্রার্থনা করলেন। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন: «নিশ্চয়ই এটি একটি আমানত, আর কিয়ামতের দিন এটি হবে আক্ষেপ ও অনুশোচনার কারণ; তবে সেই ব্যক্তি ব্যতীত যে একে এর হক অনুযায়ী গ্রহণ করেছে এবং এর ওপর অর্পিত দায়িত্বসমূহ যথাযথভাবে আদায় করেছে।»
(খণ্ড: ১)
আল-আমওয়াল - আবু উবায়েদ
(পৃষ্ঠা: ١١)
7 - وَحَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ طَارِقٍ الْمِصْرِيُّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ لَهِيعَةَ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ يَزِيدَ الْحَضْرَمِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنَ حُجَيْرَةَ الشَّيْخَ، يَقُولُ: حَدَّثَنِي مَنْ سَمِعَ أَبَا ذَرٍّ، يَقُولُ: نَاجَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيْلًا أَوْ قَالَ: لَيْلَةً حَتَّى الصُّبْحَ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَمِّرْنِي فَقَالَ: «إِنَّهَا أَمَانَةٌ، وَإِنَّهَا حَسْرَةٌ وَنَدَامَةٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، إِلَّا مَنْ أَخَذَهَا بِحَقِّهَا، وَأَدَّى الَّذِي عَلَيْهِ فِيهَا»
৭ - এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উমর ইবন তরিক আল-মিসরি, তিনি আবদুল্লাহ ইবন লাহিয়াহ থেকে, তিনি আল-হারিস ইবন ইয়াযিদ আল-হাদরামি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি ইবন হুজাইরা আশ-শাইখকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমার নিকট এমন এক ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন যিনি আবু যার-কে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে রাতে—অথবা তিনি বলেছিলেন: এক রাতে—সকাল পর্যন্ত একান্তে কথা বললাম। অতঃপর আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে শাসক নিযুক্ত করুন। তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই এটি একটি আমানত, আর এটি কিয়ামতের দিন লজ্জিত ও অনুতপ্ত হওয়ার কারণ হবে; তবে সেই ব্যক্তি ব্যতীত যে একে এর যথার্থ হক অনুযায়ী গ্রহণ করেছে এবং এর মধ্যে তার ওপর অর্পিত দায়িত্বসমূহ যথাযথভাবে পালন করেছে।"
(খণ্ড: ১)
আল-আমওয়াল - আবু উবায়েদ
(পৃষ্ঠা: ١٢)
8 - وَحَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ هَاشِمِ بْنِ الْبَرِيدِ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: خَطَبَ أَبُو بَكْرٍ رضي الله عنه، فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: «أَمَّا بَعْدُ، فَإِنِّي وُلِّيتُ أَمْرَكُمْ، وَلَسْتُ بِخَيْرِكُمْ، وَلَكِنَّهُ نَزَلَ الْقُرْآنُ، وَسَنَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، وَعَلَّمَنَا فَعَمِلْنَا، وَاعْلَمُنَّ أَيُّهَا النَّاسُ أَنَّ أَكْيَسَ الْكَيْسِ الْهُدَى» أَوْ قَالَ: «التُّقَى» ، شَكَّ أَبُو عُبَيْدٍ، قَالَ: وَأَكْثَرُ ظَنِّي أَنَّهُ: التُّقَى - «وَأَنَّ أَعْجَزَ الْعَجْزِ الْفُجُورُ، وَأَنَّ أَقْوَاكُمْ عِنْدِي الضَّعِيفُ حَتَّى آخُذَ لَهُ بِحَقِّهِ، وَأَنَّ أَضْعَفَكُمْ عِنْدِي الْقَوِيُّ حَتَّى آخُذَ مِنْهُ الْحَقَّ يَا أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّمَا أَنَا مُتَّبِعٌ، وَلَسْتُ بِمُبْتَدِعٍ، فَإِنْ أَنَا أَحْسَنْتُ فَأَعِينُونِي، وَإِنْ أَنَا زُغْتُ فَقَوِّمُونِي أَقُولُ قَوْلِي هَذَا وَأَسْتَغْفِرُ اللَّهَ لِي وَلَكُمْ» 9 - قَالَ: وَحَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ هَاشِمٍ يَعْنِي ابْنَ الْبَرِيدِ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ، أَوْ غَيْرُهُ عَنْ أَبِي بَكْرٍ، نَحْوَ ذَلِكَ
৮ - আলী ইবনে হাশিম ইবনুল বারীদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ভাষণ দিলেন, তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করলেন, অতঃপর বললেন: "অতঃপর, আমাকে আপনাদের শাসক নিযুক্ত করা হয়েছে অথচ আমি আপনাদের মধ্যে সর্বোত্তম নই। তবে কুরআন নাযিল হয়েছে এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহ নির্ধারণ করেছেন এবং তিনি আমাদের শিখিয়েছেন আর আমরা আমল করেছি। হে লোকসকল! জেনে রাখুন যে, বুদ্ধিমত্তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ বুদ্ধিমত্তা হলো হিদায়াত"—অথবা তিনি বলেছেন: "তাকওয়া", আবু উবাইদ সন্দেহ পোষণ করেছেন এবং বলেছেন: "আমার প্রবল ধারণা যে সেটি ছিল 'তাকওয়া'"—"আর অক্ষমতার মধ্যে চরম অক্ষমতা হলো পাপাচার। আপনাদের মধ্যে যে দুর্বল সে আমার নিকট শক্তিশালী যতক্ষণ না আমি তার পাওনা অধিকার তাকে ফিরিয়ে দিই, আর আপনাদের মধ্যে যে শক্তিশালী সে আমার নিকট দুর্বল যতক্ষণ না আমি তার নিকট থেকে পাওনা অধিকার আদায় করি। হে লোকসকল! আমি কেবল একজন অনুসারী, আমি কোনো নতুনত্বের উদ্ভাবক (বিদআতী) নই। সুতরাং আমি যদি ভালো করি তবে আমাকে সাহায্য করুন, আর আমি যদি বিপথগামী হই তবে আমাকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনুন। আমি আমার এই কথা বলছি এবং আল্লাহর নিকট আমার ও আপনাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি।" ৯ - তিনি বলেন: আলী ইবনে হাশিম অর্থাৎ ইবনুল বারীদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি ইসমাইল ইবনে আবি খালিদ থেকে, তিনি কায়স ইবনে আবি হাযিম থেকে, অথবা অন্য কেউ আবু বকর থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আমওয়াল - আবু উবায়েদ
(পৃষ্ঠা: ١٢)
10 - قَالَ: وَحَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ حَسَّانَ، عَنِ الْحَسَنِ، قَالَ: كَتَبَ عُمَرُ إِلَى أَبِي مُوسَى: " أَمَّا بَعْدُ، فَإِنَّ الْقُوَّةَ فِي الْعَمَلِ أَنْ لَا تُؤَخِّرَ عَمَلَ الْيَوْمِ لِغَدٍ، فَإِنَّكُمْ إِذَا فَعَلْتُمْ ذَلِكَ تَدَارَكَتْ عَلَيْكُمُ الْأَعْمَالُ، فَلَمْ تَدْرُوا بِأَيِّهَا تَأْخُذُونَ، فَأَضَعْتُمْ، وَإِنَّ الْأَعْمَالَ مُؤَدَّاةٌ إِلَى الْأَمِيرِ مَا أَدَّى الْأَمِيرُ إِلَى اللَّهِ عز وجل، فَإِذَا رَتَعَ الْأَمِيرُ رَتَعُوا، وَإِنَّ لِلنَّاسِ نَفْرَةً عَنْ سُلْطَانِهِمْ، فَأَعُوذُ بِاللَّهِ أَنْ تُدْرِكَنِي أَوْ قَالَ: تُدْرِكَنَا فَإِنَّهَا ضَغَائِنُ مَحْمُولَةٌ، وَدُنْيَا مُؤْثَرَةٌ، وَأَهْوَاءٌ مُتَّبَعَةٌ فَأَقِيمُوا الْحَقَّ وَلَوْ سَاعَةً مِنْ نَهَارٍ "
১০ - তিনি বলেন: ইয়াজিদ ইবনে হারুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হিশাম ইবনে হাসসান থেকে, তিনি হাসান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: উমর আবু মুসা-র নিকট লিখেছিলেন: "অতঃপর কথা হলো, কাজের শক্তি হলো আজকের কাজ আগামীকালের জন্য বিলম্বিত না করা। কারণ তোমরা যদি তা করো, তবে তোমাদের ওপর কাজগুলো পুঞ্জীভূত হয়ে যাবে, ফলে তোমরা বুঝতে পারবে না কোনটি আগে শুরু করবে এবং তোমরা তা নষ্ট করে ফেলবে। আর আমলসমূহ আমিরের কাছে ততক্ষণই পৌঁছানো হয় (গৃহীত হয়) যতক্ষণ আমির তা মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর কাছে পৌঁছে দেন (তাঁর আনুগত্য করেন)। সুতরাং আমির যখন ভোগবিলাসে লিপ্ত হন, প্রজারাও তখন ভোগবিলাসে লিপ্ত হয়। আর জনগণের অন্তরে তাদের শাসকের প্রতি একপ্রকার অনীহা থাকে; তাই আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই যেন তা আমাকে—অথবা তিনি বলেছেন: আমাদের—পেয়ে না বসে। কারণ এগুলো হলো অন্তরে লালিত বিদ্বেষ, অগ্রাধিকার দেওয়া পার্থিব জীবন এবং অনুসরণ করা কুপ্রবৃত্তি। অতএব তোমরা সত্য প্রতিষ্ঠা করো, দিনের সামান্য সময়ের জন্য হলেও।"
(খণ্ড: ১)
আল-আমওয়াল - আবু উবায়েদ
(পৃষ্ঠা: ١٢)
11 - قَالَ وَحَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، وَأَبُو إِسْمَاعِيلَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْمُؤَدِّبُ وَالْأَشْجَعِيُّ وَاسْمُهُ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُبَيْدِ الرَّحْمَنِ كُلُّهُمْ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ ⦗ص: 13⦘ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ: قَالَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ عليه السلام كَلِمَاتٍ أَصَابَ فِيهِنَّ الْحَقَّ، قَالَ: «يَحِقُّ عَلَى الْإِمَامِ أَنْ يَحْكُمَ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ وَأَنْ يُؤَدِّي الْأَمَانَةَ فَإِذَا فَعَلَ ذَلِكَ فَحَقٌّ عَلَى النَّاسِ أَنْ يَسْمَعُوا لَهُ، وَيُطِيعُوا وَيُجِيبُوهُ إِذَا دَعَا»
১১ - তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে ইদ্রিস, আবু ইসমাইল ইব্রাহিম ইবনে সুলাইমান আল-মুয়াদ্দিব এবং আল-আশজায়ী—যার নাম উবাইদুল্লাহ ইবনে উবাইদুর রহমান—তাঁরা সকলে ইসমাইল ⦗পৃষ্ঠা: ১৩⦘ ইবনে আবি খালিদ থেকে, তিনি মুসআব ইবনে সাদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আলি ইবনে আবি তালিব (আলাইহিস সালাম) এমন কিছু কথা বলেছেন যাতে তিনি সত্যে উপনীত হয়েছেন। তিনি বলেন: «ইমামের (নেতার) জন্য আবশ্যক হলো আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন সে অনুযায়ী ফয়সালা করা এবং আমানত আদায় করা। যখন তিনি তা করবেন, তখন জনগণের ওপর কর্তব্য হলো তাঁর কথা শোনা, তাঁর আনুগত্য করা এবং তিনি যখন আহ্বান করবেন তখন তাতে সাড়া দেওয়া।»
(খণ্ড: ১)
আল-আমওয়াল - আবু উবায়েদ
(পৃষ্ঠা: ١٣)
12 - قَالَ: وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ الْوَاسِطِيُّ، عَنِ الْعَوَّامِ بْنِ حَوْشَبٍ، حَدَّثَنَا شَيْخٌ مِنْ بَنِي أَسَدٍ وَنَحْنُ بِأَرْضِ الرُّومِ، عَنْ رَجُلٍ، عَنْ سَلْمَانَ، قَالَ: «إِنَّ الْخَلِيفَةَ هُوَ الَّذِي يَقْضِي بِكِتَابِ اللَّهِ، وَيُشْفِقُ عَلَى الرَّعِيَّةِ شَفَقَةَ الرَّجُلِ عَلَى أَهْلِهِ» ، فَقَالَ كَعْبُ الْأَحْبَارِ: صَدَقَ
১২ - তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াযীদ আল-ওয়াসিতি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আওয়াম ইবনে হাওশাব থেকে, তিনি বলেন, বনু আসাদ গোত্রের একজন শায়খ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন—যখন আমরা রোম ভূখণ্ডে ছিলাম—তিনি জনৈক ব্যক্তি থেকে, তিনি সালমান (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই খলিফা হলেন তিনি, যিনি আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফয়সালা করেন এবং প্রজাদের প্রতি তেমনি মমতা প্রদর্শন করেন যেমন একজন ব্যক্তি তার পরিবারের প্রতি মমতা প্রদর্শন করে।" তখন কাব আল-আহবার বললেন: "তিনি সত্য বলেছেন।"
(খণ্ড: ১)
আল-আমওয়াল - আবু উবায়েদ
(পৃষ্ঠা: ١٣)
13 - قَالَ: وَحَدَّثَنَا الْأَشْجَعِيُّ، عَنْ مِسْعَرِ بْنِ كِدَامٍ، عَنِ الرَّبِيعِ، عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: «إِنَّ الْإِمَامَ الْعَادِلَ لِيُسْكِتُ الْأَصْوَاتَ عَنِ اللَّهِ، وَإِنَّ الْإِمَامَ الْجَائِرَ لَتَكْثُرُ مِنْهُ الشِّكَايَةُ إِلَى اللَّهِ عز وجل»
১৩ - তিনি বলেন: আল-আশজা‘ঈ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মিস‘আর ইবন কিদাম থেকে, তিনি রাবী‘ থেকে, তিনি আবূ উবায়দাহ ইবন আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «নিশ্চয়ই ন্যায়পরায়ণ ইমাম আল্লাহর প্রতি (উত্থিত অভিযোগের) শব্দসমূহ নিস্তব্ধ করে দেন, আর নিশ্চয়ই যালিম ইমামের কারণে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর নিকট অভিযোগের আধিক্য ঘটে»
(খণ্ড: ১)
আল-আমওয়াল - আবু উবায়েদ
(পৃষ্ঠা: ١٣)
14 - قَالَ: وَحَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ زِيَادِ بْنِ مِخْرَاقٍ، عَنْ رَجُلٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَعَمَلُ الْإِمَامِ الْعَادِلِ فِي رَعِيَّتِهِ يَوْمًا وَاحِدًا أَفْضَلُ مِنْ عِبَادَةِ الْعَابِدِ فِي أَهْلِهِ مِائَةَ عَامٍ، أَوْ خَمْسِينَ عَامًا» شَكَّ هُشَيْمٌ
১৪ - তিনি বলেন: হুশাইম আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন যিয়াদ ইবনে মিখরাক থেকে, তিনি জনৈক ব্যক্তি থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: «নিশ্চয়ই একজন ন্যায়পরায়ণ শাসকের তাঁর প্রজাদের মাঝে একদিনের আমল (বা দায়িত্ব পালন) একজন ইবাদতকারীর তার পরিবারের মাঝে একশত বছর অথবা পঞ্চাশ বছরের ইবাদত অপেক্ষা উত্তম» - হুশাইম (বছর বর্ণনায়) সন্দেহ পোষণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আমওয়াল - আবু উবায়েদ
(পৃষ্ঠা: ١٣)
15 - قَالَ وَحَدَّثَنَا الْأَشْجَعِيُّ، وَيَعْقُوبُ الْقَارِيُّ، عَنْ مَالِكِ بْنِ مِغْوَلٍ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ مُصَرِّفٍ، قَالَ: قَالَ خَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ: «لَا تَمْشِ ثَلَاثَ خُطًى لِتَأَمَّرَ عَلَى ثَلَاثَةِ نَفَرٍ، وَلَا تَرْزَأْ مُعَاهِدًا إِبْرَةً فَمَا فَوْقَهَا، وَلَا تَبْغِ إِمَامَ الْمُسْلِمِينَ غَائِلَةً»
১৫ - তিনি বলেন, আল-আশজায়ি এবং ইয়াকুব আল-কারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মালেক ইবনে মিগওয়াল থেকে, তিনি তালহা ইবনে মুসাররিফ থেকে, তিনি বলেন: খালেদ ইবনুল ওয়ালিদ বলেছেন: «তিনজন ব্যক্তির ওপর নেতৃত্ব লাভের উদ্দেশ্যে তুমি তিন কদমও অগ্রসর হয়ো না, এবং কোনো চুক্তিবদ্ধ অমুসলিমের একটি সূঁচ বা তার চেয়ে বেশি কিছু আত্মসাৎ করো না, আর মুসলিমদের ইমামের কোনো অনিষ্ট বা ষড়যন্ত্র কামনা করো না।»
(খণ্ড: ১)
আল-আমওয়াল - আবু উবায়েদ
(পৃষ্ঠা: ١٤)
16 - قَالَ: وَحَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ أَشْيَاخِهِ، أَنَّ سَعْدًا دَخَلَ عَلَى سَلْمَانَ يَعُودُهُ، فَقَالَ لَهُ سَعْدٌ: اعْهَدْ إِلَيْنَا عَهْدًا يَا أَبَا عَبْدِ اللَّهِ نَأْخُذُ بِهِ، فَقَالَ: «اذْكُرِ اللَّهَ عِنْدَ هَمِّكَ إِذَا هَمَمْتَ، وَعِنْدَ يَدِكَ إِذَا قَسَمْتَ، وَعِنْدَ حُكْمِكَ إِذَا حَكَمْتَ»
১৬ - তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু মুআবিয়াহ বর্ণনা করেছেন আ’মাশ থেকে, তিনি আবু সুফইয়ান থেকে, তিনি তাঁর উস্তাদগণের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, সা’দ সালমান (রা.)-এর অসুস্থতার সময় তাঁকে দেখতে গেলেন। তখন সা’দ তাঁকে বললেন: হে আবু আব্দুল্লাহ, আমাদের কোনো উপদেশ প্রদান করুন যা আমরা অনুসরণ করব। তিনি বললেন: «যখন তুমি কোনো সংকল্প করবে তখন তোমার সংকল্পের সময় আল্লাহকে স্মরণ করো, যখন তুমি কিছু বণ্টন করবে তখন তোমার হাতের নিকট আল্লাহকে স্মরণ করো এবং যখন তুমি কোনো ফয়সালা করবে তখন তোমার বিচারের সময় আল্লাহকে স্মরণ করো।»
(খণ্ড: ১)
আল-আমওয়াল - আবু উবায়েদ
(পৃষ্ঠা: ١٤)
بَابُ صُنُوفِ الْأَمْوَالِ الَّتِي يَلِيهَا الْأَئِمَّةُ لِلرَّعِيَّةِ وَأُصُولِهَا فِي الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ قَالَ أَبُو عُبَيْدٍ: أَوَّلُ مَا نَبْدَأُ بِهِ مِنْ ذِكْرِ الْأَمْوَالِ مَا كَانَ مِنْهَا لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَالِصًا دُونَ النَّاسِ وَذَلِكَ ثَلَاثَةُ أَمْوَالٍ: أَوَّلُهَا: مَا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ مِنَ الْمُشْرِكِينَ، مَا لَمْ يُوجِفِ الْمُسْلِمُونَ عَلَيْهِ بِخَيْلٍ وَلَا رِكَابٍ وَهِيَ فَدَكُ، وَأَمْوَالُ بَنِي النَّضِيرِ، فَإِنَّهُمْ صَالَحُوا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى أَمْوَالِهِمْ وَأَرَضِيهِمْ، بِلَا قِتَالٍ كَانَ مِنْهُمْ، وَلَا سَفَرَ تَجَشَّمَهُ الْمُسْلِمُونَ إِلَيْهِمْ وَالْمَالُ الثَّانِي: الصَّفِيُّ الَّذِي كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصْطَفِيهِ مِنْ كُلِّ غَنِيمَةٍ يَغْنَمُهَا الْمُسْلِمُونَ قَبْلَ أَنْ يَقْسِمَ الْمَالَ، وَالثَّالِثُ: خُمْسُ الْخُمُسِ بَعْدَمَا تُقْسَمُ الْغَنِيمَةُ وَتُخَمَّسُ وَفِي كُلِّ ذَلِكَ آثَارٌ قَائِمَةٌ مَعْرُوفَةٌ.
প্রজাসাধারণের জন্য ইমামগণ যে সকল প্রকার সম্পদের ব্যবস্থাপনা করেন এবং কুরআন ও সুন্নাহতে সেগুলোর মূলনীতিসমূহের অধ্যায়। আবু উবাইদ বলেন: আমরা সম্পদসমূহের বর্ণনায় সর্বপ্রথম যা শুরু করব, তা হলো সেই সকল সম্পদ যা সাধারণ মানুষ ব্যতীত বিশেষভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য নির্ধারিত ছিল। আর তা হলো তিন প্রকার সম্পদ: প্রথমত: মুশরিকদের থেকে আল্লাহ তাঁর রাসূলকে যে 'ফায়' দান করেছিলেন, যার জন্য মুসলমানরা পরিচালনা করেনি এর ওপর কোনো ঘোড়া কিংবা উট। আর তা হলো ফাদাক এবং বনু নাযিরের সম্পদসমূহ; কারণ তারা কোনো প্রকার লড়াই ছাড়াই তাদের ধন-সম্পদ ও ভূমির বিনিময়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সন্ধি করেছিল এবং মুসলমানদেরও তাদের অভিমুখে কোনো কষ্টকর সফর করতে হয়নি। দ্বিতীয় সম্পদটি হলো: 'সাফী', যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলমানদের হস্তগত প্রতিটি গণিমত থেকে তা বণ্টন করার পূর্বেই নিজের জন্য পছন্দ করে নিতেন। এবং তৃতীয়টি: গণিমত বণ্টন ও তা পাঁচ ভাগে ভাগ করার পর খুমুসের খুমুস (পঞ্চমাংশের এক-পঞ্চমাংশ)। আর এ সবকিছুর ব্যাপারেই সুপ্রতিষ্ঠিত ও সুবিদিত বর্ণনা বিদ্যমান রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-আমওয়াল - আবু উবায়েদ
(পৃষ্ঠা: ١٤)
17 - قَالَ أَبُو عُبَيْدٍ فَأَمَّا أَمْوَالُ بَنِي النَّضِيرِ، فَإِنَّ سُفْيَانَ بْنَ عُيَيْنَةَ حَدَّثَنَا ⦗ص: 15⦘، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، وَمَعْمَرِ بْنِ رَاشِدٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَوْسِ بْنِ الْحَدَثَانِ النَّصْرِيِّ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، قَالَ: «كَانَتْ أَمْوَالُ بَنِي النَّضِيرِ مِمَّا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ، مِمَّا لَمْ يُوجِفِ الْمُسْلِمُونَ عَلَيْهِ بِخَيْلٍ وَلَا رِكَابٍ فَكَانَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَاصَّةً فَكَانَ يُنْفِقُ مِنْهَا عَلَى أَهْلِهِ نَفَقَةَ سَنَةٍ، وَمَا بَقِيَ جَعَلَهُ فِي الْكُرَاعِ وَالسِّلَاحِ عِدَّةً فِي سَبِيلِ اللَّهِ»
১৭ - আবু উবাইদ বলেন, বনু নাদীরের সম্পদের বিষয়ে সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ⦗পৃষ্ঠা: ১৫⦘, তিনি আমর ইবনে দীনার ও মা'মার ইবনে রাশিদ থেকে, তাঁরা যুহরী থেকে, তিনি মালিক ইবনে আওস ইবনে আল-হাদাছান আন-নাসরী থেকে, আর তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «বনু নাদীরের সম্পদ ছিল সেই সব ‘ফায়’ (বিনা যুদ্ধে প্রাপ্ত সম্পদ)-এর অন্তর্ভুক্ত যা আল্লাহ তাঁর রাসূলকে দান করেছিলেন, যার জন্য মুসলিমগণ ঘোড়া বা উট চালিয়ে আক্রমণ করেনি। ফলে এটি বিশেষভাবে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য নির্ধারিত ছিল। তিনি তা থেকে তাঁর পরিবারের এক বছরের ভরণপোষণের জন্য ব্যয় করতেন এবং যা অবশিষ্ট থাকত তা আল্লাহর পথে জিহাদের প্রস্তুতির জন্য ঘোড়া ও অস্ত্রশস্ত্র সংগ্রহের কাজে ব্যয় করতেন।»
(খণ্ড: ১)
আল-আমওয়াল - আবু উবায়েদ
(পৃষ্ঠা: ١٥)
18 - قَالَ: وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: حَاصَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَنِي النَّضِيرِ، وَهُمْ سِبْطٌ مِنَ الْيَهُودِ بِنَاحِيَةِ الْمَدِينَةِ، حَتَّى نَزَلُوا عَلَى الْجَلَاءِ، وَعَلَى أَنَّ لَهُمْ مَا أَقَلَّتِ الْإِبِلُ مِنَ الْأَمْتِعَةِ، إِلَّا الْحَلْقَةَ - قَالَ أَبُو عُبَيْدٍ الْحَلْقَةُ: السِّلَاحُ - فَأَنْزَلَ اللَّهُ عز وجل فِيهِمْ: {سَبَّحَ لِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمْ هُوَ الَّذِي أَخْرَجَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ مِنْ دِيَارِهِمْ لِأَوَّلِ الْحَشْرِ} [الحشر: 2] إِلَى قَوْلِهِ عز وجل: {وَلِيُخْزِيَ الْفَاسِقِينَ} [الحشر: 5]
১৮ - তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবন কাসীর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মা'মার থেকে, তিনি যুহরী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বনু নাযীরকে অবরোধ করেছিলেন, তারা ছিল মদীনার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের ইয়াহূদীদের একটি গোত্র। শেষপর্যন্ত তারা দেশান্তরী হওয়ার শর্তে এবং তাদের উট যতটুকু আসবাবপত্র বহন করতে পারে তা নিয়ে যাওয়ার শর্তে নতি স্বীকার করল, তবে 'হালকাহ' ব্যতীত। আবু উবাইদ বলেন: 'হালকাহ' হলো যুদ্ধাস্ত্র। অতঃপর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাদের সম্পর্কে অবতীর্ণ করেন: {আসমানসমূহে যা কিছু আছে এবং যমীনে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে, আর তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। তিনিই আহলে কিতাবদের মধ্যে যারা কুফরী করেছে তাদেরকে প্রথম সমাবেশের সময় তাদের ঘরবাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন} [সূরা হাশর: ২] আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার এই বাণী পর্যন্ত: {যাতে তিনি পাপাচারীদের লাঞ্ছিত করেন} [সূরা হাশর: ৫]
(খণ্ড: ১)
আল-আমওয়াল - আবু উবায়েদ
(পৃষ্ঠা: ١٥)
19 - قَالَ: وَحَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ، عَنِ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ عُقَيْلِ بْنِ خَالِدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ: «أَنَّ وَقِيعَةَ بَنِي النَّضِيرِ، مِنَ الْيَهُودِ كَانَتْ عَلَى رَأْسِ سِتَّةِ أَشْهُرٍ مِنْ وَقِيعَةِ بَدْرٍ، وَكَانَ مَنْزِلُهُمْ وَنَخْلُهُمْ نَاحِيَةً مِنَ الْمَدِينَةِ، فَحَاصَرَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى نَزَلُوا عَلَى الْجَلَاءِ» ، ثُمَّ ذَكَرَ مِثْلَ حَدِيثِ مُحَمَّدِ بْنِ كَثِيرٍ، عَنْ مَعْمَرٍ
১৯ - তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবনে সালিহ বর্ণনা করেছেন লাইস ইবনে সাদ থেকে, তিনি উকাইল ইবনে খালিদ থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেন: «নিশ্চয়ই ইহুদিদের মধ্য থেকে বনু নাদিরের যুদ্ধটি বদর যুদ্ধের ঠিক ছয় মাস পরে সংঘটিত হয়েছিল, আর তাদের বসতি ও খেজুর বাগান মদিনার এক প্রান্তে অবস্থিত ছিল। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের অবরোধ করেন যতক্ষণ না তারা দেশান্তরের শর্তে সম্মত হলো», এরপর তিনি মা’মার থেকে বর্ণিত মুহাম্মদ ইবনে কাসিরের হাদিসের অনুরূপ উল্লেখ করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আমওয়াল - আবু উবায়েদ
(পৃষ্ঠা: ١٥)
20 - قَالَ: وَحَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: «أَحْرَقَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَخْلَ بَنِي النَّضِيرِ وَقَطَعَ» وَلَهَا يَقُولُ حَسَّانُ بْنُ ثَابِتٍ:[البحر الوافر]⦗ص: 16⦘لَهَانَ عَلَى سَرَاةِ بَنِي لُؤَيٍّ … حَرِيقٌ بِالْبُوَيْرَةِ مُسْتَطِيرُ
২০ - তিনি বললেন: হাজ্জাজ ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবন জুরাইজ থেকে, তিনি মূসা ইবনে উকবা থেকে, তিনি নাফে' থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনী নাযীরের খেজুর বাগান জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন এবং কেটে ফেলেছিলেন» এবং এ সম্পর্কে হাসসান ইবনে সাবিত বলেন:[আল-বাহরুল ওয়াফির ছন্দ]⦗পৃষ্ঠা: ১৬⦘বনী লুআই-এর নেতৃবৃন্দের নিকট তুচ্ছ মনে হলো … বুওয়াইরার সেই ছড়িয়ে পড়া অগ্নিকাণ্ড।
(খণ্ড: ১)
আল-আমওয়াল - আবু উবায়েদ
(পৃষ্ঠা: ١٦)
21 - قَالَ وَحَدَّثَنَا أَبُو النَّضْرِ، عَنِ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدِ، قَالَ: حَدَّثَنِي نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: " أَحْرَقَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَخْلَ بَنِي النَّضِيرِ، وَقَطَعَ، وَهِيَ الْبُوَيْرَةُ، فَنَزَلَتْ فِيهِمْ: {مَا قَطَعْتُمْ مِنْ لِينَةٍ أَوْ تَرَكْتُمُوهَا قَائِمَةً عَلَى أُصُولِهَا فَبِإِذْنِ اللَّهِ وَلِيُخْزِيَ الْفَاسِقِينَ} [الحشر: 5] "
২১ - তিনি বলেন, আবু আন-নাদর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন লাইস ইবন সা'দ থেকে, তিনি বলেন: নাফে' আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইবন উমর থেকে, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনু নাদীরের খেজুর গাছ পুড়িয়ে দিয়েছিলেন এবং কেটে ফেলেছিলেন, আর তা ছিল বুওয়াইরাহ নামক স্থানে। অতঃপর তাদের ব্যাপারে এই আয়াত অবতীর্ণ হয়: {তোমরা যে সব খেজুর গাছ কেটে ফেলেছ কিংবা যে সব গাছকে সেগুলোর কান্ডের ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে দিয়েছ, তা তো আল্লাহরই অনুমতিক্রমে এবং এজন্য যে, তিনি পাপাচারীদের লাঞ্ছিত করবেন।} [আল-হাশর: ৫]"
(খণ্ড: ১)
আল-আমওয়াল - আবু উবায়েদ
(পৃষ্ঠা: ١٦)
22 - قَالَ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرِ، قَالَ: سَأَلْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ أَوْ سُئِلَ عَنْ سُورَةِ الْحَشْرِ، فَقَالَ: نَزَلَتْ فِي بَنِي النَّضِيرِ قَالَ أَبُو عُبَيْدٍ: هَذَا مَا جَاءَ فِي أُولَئِكَ
২২ - তিনি বলেন, হুশাইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি বলেন: আমি ইবনে আব্বাসকে সূরা আল-হাশর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি অথবা তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, তখন তিনি বললেন: এটি বনু নাদীরের বিষয়ে অবতীর্ণ হয়েছে। আবু উবাইদ বলেন: তাদের সম্পর্কে এই বর্ণনাটিই এসেছে।
(খণ্ড: ১)
আল-আমওয়াল - আবু উবায়েদ
(পৃষ্ঠা: ١٦)
23 - وَأَمَّا فَدَكُ فَإِنَّ إِسْمَاعِيلَ بْنَ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا، عَنْ أَيُّوبَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، فِي قَوْلِهِ: {فَمَا أَوْجَفْتُمْ عَلَيْهِ مِنْ خَيْلٍ وَلَا رِكَابٍ} [الحشر: 6] فَقَالَ: " هَذِهِ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَاصَّةً: قُرًى عَرَبِيَّةٌ: فَدَكٌ وَكَذَا " قَالَ أَبُو عُبَيْدٍ: وَهِيَ فِي الْعَرَبِيَّةِ قُرًى عَرَبِيَّةٌ بِتَنْوِينٍ، إِلَّا أَنْ يَكُونَ كَمَا قَالُوا: دَارُ الْآخِرَةِ وَصَلَاةُ الْأُولَى، وَالْمُحَدِّثُونَ يَقُولُونَ: قُرًى عَرَبِيَّةٌ، بِغَيْرِ تَنْوِينٍ
২৩ - আর ফাদাক সম্পর্কে কথা হলো এই যে, ইসমাঈল ইবনে ইবরাহীম আইয়ুব থেকে, তিনি যুহরী থেকে মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন: "আর তোমরা তাদের ওপর কোনো ঘোড়া বা উট চালনা করোনি" [আল-হাশর: ৬]। তিনি বলেছেন: "এটি বিশেষভাবে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য ছিল: কতিপয় আরব জনপদ: ফাদাক এবং এ জাতীয়।" আবু উবাইদ বলেছেন: আর এটি আরবি ব্যাকরণ অনুযায়ী তানউইনসহ 'কুরা আরবিয়াতুন', তবে এটি যদি এমন হয় যেমন তারা বলে থাকেন: 'দারুল আখিরাত' এবং 'সালাতুল উলা'। কিন্তু মুহাদ্দিসগণ তানউইন ছাড়াই 'কুরা আরাবিয়্যাহ' বলে থাকেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আমওয়াল - আবু উবায়েদ
(পৃষ্ঠা: ١٦)
24 - قَالَ وَحَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ، عَنِ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، قَالَ: كَانَ أَهْلُ فَدَكٍ قَدْ أَرْسَلُوا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَبَايَعُوهُ عَلَى أَنَّ لَهُمْ رِقَابَهُمْ وَنِصْفَ أَرَضِيهِمْ وَنَخْلِهِمْ، وَلِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَطْرَ أَرَضِيهِمْ وَنَخْلِهِمْ " فَلَمَّا أَجْلَاهُمْ عُمَرُ رحمه الله بَعَثَ مَعَهُمْ مَنْ أَقَامَ لَهُمْ حَظَّهُمْ مِنَ الْأَرْضِ وَالنَّخْلِ، فَأَدَّاهُ إِلَيْهِمْ
২৪ - তিনি বলেন, আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ ইবনে সালিহ বর্ণনা করেছেন আল-লাইস ইবনে সা'দ থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে সা'ঈদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ফাদাকবাসী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট লোক পাঠিয়েছিলেন। অতঃপর তারা তাঁর নিকট এই মর্মে বায়আত বা সন্ধি করেছিলেন যে, তাদের জীবন এবং তাদের ভূমি ও খেজুর বাগানের অর্ধাংশ তাদের থাকবে, আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য থাকবে তাদের ভূমি ও খেজুর বাগানের বাকি অর্ধাংশ। অতঃপর যখন উমর রহমতুল্লাহি আলাইহি তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দিলেন, তখন তিনি তাদের সাথে এমন লোক পাঠালেন যারা ভূমি ও খেজুর বাগান থেকে তাদের প্রাপ্য অংশ নির্ধারণ করে দিলেন এবং তিনি তা তাদের প্রদান করলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আমওয়াল - আবু উবায়েদ
(পৃষ্ঠা: ١٦)
25 - قَالَ وَحَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عُفَيْرٍ الْمِصْرِيُّ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ - قَالَ أَبُو عُبَيْدٍ: لَا أَدْرِي ذِكْرَهُ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ أَمْ لَا - قَالَ: أَجْلَى عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ يَهُودَ خَيْبَرَ، فَخَرَجُوا مِنْهَا لَيْسَ لَهُمْ مِنَ الثَّمَرِ وَالْأَرْضِ شَيْءٌ، فَأَمَّا يَهُودُ فَدَكٍ فَكَانَ لَهُمْ نِصْفُ ⦗ص: 17⦘ الْأَرْضِ، لِأَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ صَالَحَهُمْ عَلَى ذَلِكَ، فَأَقَامَ لَهُمْ عُمَرُ رحمه الله نِصْفَ الثَّمَرِ وَنِصْفَ الْأَرْضِ لِأَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ صَالَحَهُمْ مِنْ ذَهَبٍ وَوَرِقٍ وَإِبِلٍ وَأَقْتَابٍ، ثُمَّ أَعْطَاهُمُ الْقِيمَةَ وَأَجْلَاهُمْ قَالَ أَبُو عُبَيْدٍ: إِنَّمَا صَارَ أَهْلُ خَيْبَرَ لَا حَظَّ لَهُمْ فِي الْأَرْضِ وَالثَّمَرِ لِأَنَّ خَيْبَرَ أُخِذَتْ عَنْوَةً فَكَانَتْ لِلْمُسْلِمِينَ، لَا شَيْءَ لِلْيَهُودِ فِيهَا، وَأَمَّا فَدَكُ فَكَانَتْ عَلَى مَا جَاءَ فِيهَا مِنَ الصُّلْحِ، فَلَمَّا أَخَذُوا قِيمَةَ بَقِيَّةِ أَرْضِهِمْ خَلَصَتْ كُلُّهَا لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلِهَذَا تَكَلَّمَ الْعَبَّاسُ وَعَلِيٌّ عليهما السلام فِيهَا
২৫ - তিনি বলেন, সাঈদ ইবনে উফাইর আল-মিসরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মালিক ইবনে আনাস থেকে — আবু উবাইদ বলেন: আমি জানি না তিনি এটি ইবনে শিহাব থেকে উল্লেখ করেছেন কি না — তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব খায়বারের ইহুদিদের বহিষ্কার করেছিলেন, ফলে তারা সেখান থেকে এমনভাবে বের হয়ে যায় যে, ফলমূল ও ভূমিতে তাদের কোনো প্রাপ্য অংশ ছিল না। পক্ষান্তরে ফাদাকের ইহুদিদের জন্য ছিল অর্ধেক ⦗পৃষ্ঠা: ১৭⦘ ভূমি; কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সাথে এই শর্তেই সন্ধি করেছিলেন। অতঃপর উমর (রহ.) তাদের জন্য ফল ও ভূমির অর্ধেক অংশ নির্ধারণ করেন, কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বর্ণ, রৌপ্য, উট ও হাওদার বিনিময়ে তাদের সাথে সন্ধি করেছিলেন। এরপর তিনি (উমর) তাদের প্রাপ্য মূল্য পরিশোধ করেন এবং তাদের বহিষ্কার করেন। আবু উবাইদ বলেন: খায়বারবাসীদের ভূমি ও ফসলে কোনো অংশ না থাকার কারণ হলো খায়বার বলপ্রয়োগের মাধ্যমে বিজিত হয়েছিল, ফলে তা মুসলমানদের অধিকারে চলে এসেছিল এবং সেখানে ইহুদিদের কিছুই ছিল না। আর ফাদাকের বিষয়টি ছিল সন্ধির শর্ত মোতাবেক। সুতরাং তারা যখন তাদের অবশিষ্ট ভূমির মূল্য বুঝে নিল, তখন তা সম্পূর্ণভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য একচ্ছত্র হয়ে গেল। আর একারণেই আব্বাস ও আলী (আলাইহিমাস সালাম) এ বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আমওয়াল - আবু উবায়েদ
(পৃষ্ঠা: ١٧)
26 - حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ صَالِحٍ، عَنِ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ، حَدَّثَنِي عُقَيْلٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي مَالِكُ بْنُ أَوْسِ بْنِ الْحَدَثَانِ، قَالَ: وَكَانَ مُحَمَّدُ بْنُ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ ذَكَرَ لِي ذِكْرًا مِنْ حَدِيثِهِ ذَلِكَ فَانْطَلَقْتُ حَتَّى دَخَلْتُ عَلَى مَالِكِ بْنِ أَوْسٍ، فَسَأَلْتُهُ عَنِ الْحَدِيثِ، فَقَالَ مَالِكٌ: بَيْنَا أَنَا جَالِسٌ فِي أَهْلِ خَيْبَرَ مَتَعَ النَّهَارُ إِذَا رَسُولُ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، فَقَالَ: أَجِبْ أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، فَانْطَلَقْتُ مَعَهُ حَتَّى أُدْخِلَ عَلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، فَإِذَا هُوَ جَالِسٌ عَلَى رِمَالِ سَرِيرٍ لَيْسَ بَيْنَهُ فِرَاشٌ، مُتَّكِئٌ عَلَى وِسَادَةٍ مِنْ أَدَمٍ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ ثُمَّ جَلَسْتُ، فَقَالَ: " هَاهُنَا يَا مَالِكُُ، إِنَّهُ قَدْ قَدِمَ عَلَيْنَا أَهْلُ أَبْيَاتٍ مِنْ قَوْمِكَ وَقَدْ أَمَرْتُ لَهُمْ بِرَضْخٍ فَاقْبِضْهُ فَاقْسِمْهُ بَيْنَهُمْ فَقُلْتُ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، لَوْ أَمَرْتَ بِهِ غَيْرِي، فَقَالَ: اقْبِضْهُ أَيُّهَا الْمَرْءُ، قَالَ: فَبَيْنَا أَنَا جَالِسٌ عِنْدَهُ إِذْ أَتَاهُ حَاجِبُهُ يَرْفَأُ فَقَالَ: هَلْ لَكَ فِي عُثْمَانَ، وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، وَالزُّبَيْرِ ⦗ص: 18⦘ بْنِ الْعَوَّامِ، وَسَعْدٍ، يَسْتَأْذِنُونَ؟ قَالَ: نَعَمْ، فَأَذِنَ لَهُمْ فَدَخَلُوا فَسَلَّمُوا وَجَلَسُوا فَلَبِثَ يَرْفَأُ قَلِيلًا، ثُمَّ قَالَ لِعُمَرَ: هَلْ لَكَ فِي الْعَبَّاسِ وَعَلِيٍّ؟ قَالَ: فَأْذَنْ لَهُمَا، فَلَمَّا دَخَلَا سَلَّمَا وَجَلَسَا، فَقَالَ الْعَبَّاسُ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، اقْضِ بَيْنِي وَبَيْنَ هَذَا، فَقَالَ الرَّهْطُ عُثْمَانُ وَأَصْحَابُهُ: اقْضِ بَيْنَهُمَا فَقَالَ عُمَرُ: إِنِّي أُحَدِّثُكُمْ عَنْ هَذَا الْأَمْرِ: " إِنَّ اللَّهَ كَانَ خَصَّ رَسُولَهُ صلى الله عليه وسلم فِي هَذَا الْفَيْءِ بِشَيْءٍ لَمْ يُعْطِهِ أَحَدًا غَيْرَهُ، فَقَالَ: {وَمَا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ مِنْهُمْ فَمَا أَوْجَفْتُمْ عَلَيْهِ مِنْ خَيْلٍ وَلَا رِكَابٍ وَلَكِنَّ اللَّهَ يُسَلِّطُ رُسُلَهُ عَلَى مِنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ} [الحشر: 6] فَكَانَتْ هَذِهِ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَالِصَةً، ثُمَّ وَاللَّهِ مَا اخْتَارَهَا دُونَكُمْ، وَلَا اسْتَأْثَرَ بِهَا عَلَيْكُمْ لَقَدْ أَعْطَاكُمُوهَا وَبَثَّهَا فِيكُمْ حَتَّى بَقِيَ مِنْهَا هَذَا الْمَالُ، فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُنْفِقُ عَلَى أَهْلِهِ سَنَتَهُمْ مِنْهُ، ثُمَّ يَأْخُذُ مَا بَقِيَ فَيَجْعَلُهُ مَجْعَلَ مَالِ اللَّهِ، فَعَمِلَ بِهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حياتَهُ، أَنْشُدُكُمْ بِاللَّهِ، هَلْ تَعْلَمُونَ ذَلِكَ؟ " قَالُوا: نَعَمْ، ثُمَّ قَالَ لِلْعَبَّاسِ وَعَلِيٍّ: «أَنْشُدُكُمَا بِاللَّهِ هَلْ تَعْلَمَانِ ذَلِكَ؟» قَالَا: نَعَمْ قَالَ أَبُو عُبَيْدٍ ثُمَّ ذَكَرَ حَدِيثًا طَوِيلًا اخْتَصَرْنَا مِنْهُ هَذَا. 27 - قَالَ وَحَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ صَالِحِ بْنِ أَبِي الْأَخْضَرِ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَوْسٍ، عَنْ عُمَرَ، مِثْلَ ذَلِكَ، أَوْ نَحْوَهُ. 28 - قَالَ وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ أَبِي الْبَخْتَرِيِّ، قَالَ: سَمِعْتُ حَدِيثًا مِنْ رَجُلٍ فَأَعْجَبَنِي فَاشْتَهَيْتُ أَنْ أَكْتُبَهُ فَأَتَانِي بِهِ مَكْتُوبًا، ثُمَّ مِثْلُ هَذَا الْحَدِيثِ، أَوْ نَحْوُهُ قَالَ أَبُو عُبَيْدٍ: فَهَذَا مَا جَاءَ فِي فَدَكٍ، وَأَمْوَالِ بَنِي النَّضِيرِ
২৬ - ইয়াহইয়া ইবনে বুকায়র এবং আবদুল্লাহ ইবনে সালিহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তাঁরা আল-লাইস ইবনে সাদ থেকে, তিনি উকাইল থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি বলেন: মালিক ইবনে আওস ইবনুল হাদাসান আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে জুবায়ের ইবনে মুতঈম আমার কাছে সেই হাদীসের একটি অংশ উল্লেখ করেছিলেন, তাই আমি মালিক ইবনে আওসের কাছে গেলাম এবং তাঁকে হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। মালিক বললেন: দিনের বেলা আমি যখন খায়বারবাসীদের মধ্যে বসে ছিলাম, তখন উমর ইবনুল খাত্তাবের একজন দূত এল এবং বলল: আমিরুল মুমিনীনের ডাকে সাড়া দিন। আমি তার সাথে গেলাম এবং উমর ইবনুল খাত্তাবের কাছে প্রবেশ করলাম। আমি তাকে একটি খাটিয়ার বুননের ওপর বসে থাকতে দেখলাম যার ওপর কোনো বিছানা ছিল না, তিনি একটি চামড়ার বালিশে হেলান দিয়ে ছিলেন। আমি তাকে সালাম দিলাম এবং বসলাম। তিনি বললেন: "হে মালিক, এখানে এসো। তোমার গোত্রের কয়েক ঘর মানুষ আমাদের কাছে এসেছে এবং আমি তাদের জন্য কিছু সামান্য সাহায্যের নির্দেশ দিয়েছি। তুমি তা গ্রহণ করো এবং তাদের মধ্যে বণ্টন করে দাও।" আমি বললাম: হে আমিরুল মুমিনীন, আপনি যদি আমাকে ছাড়া অন্য কাউকে এর নির্দেশ দিতেন। তিনি বললেন: "হে ব্যক্তি, তুমি এটি গ্রহণ করো।" মালিক বললেন: আমি যখন তাঁর কাছে বসা ছিলাম, তখন তাঁর দ্বাররক্ষী ইয়ারফা এল এবং বলল: আপনি কি উসমান, আবদুর রহমান ইবনে আওফ, যুবায়ের ⦗পৃষ্ঠা: ১৮⦘ বিন আওয়াম এবং সা'দকে আসার অনুমতি দেবেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি তাদের অনুমতি দিলেন, তাঁরা প্রবেশ করলেন, সালাম দিলেন এবং বসলেন। ইয়ারফা কিছুক্ষণ অপেক্ষা করল, তারপর উমরকে বলল: আপনি কি আব্বাস এবং আলীকে আসার অনুমতি দেবেন? তিনি বললেন: তাদের দুজনকে অনুমতি দাও। তাঁরা যখন প্রবেশ করলেন, সালাম দিলেন এবং বসলেন। আব্বাস বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন, আমার এবং এর (আলীর) মধ্যে ফয়সালা করে দিন। তখন উপস্থিত দল অর্থাৎ উসমান ও তাঁর সঙ্গীরা বললেন: আপনি তাদের উভয়ের মধ্যে ফয়সালা করে দিন। উমর বললেন: "আমি তোমাদের এই বিষয়টি সম্পর্কে বলছি: নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই ‘ফাই’ (বিনা যুদ্ধে প্রাপ্ত সম্পদ) এর ব্যাপারে এমন কিছু দান করেছিলেন যা তিনি অন্য কাউকে দেননি। আল্লাহ বলেছেন: {আল্লাহ তাদের নিকট থেকে তাঁর রাসূলকে যা কিছু ‘ফাই’ হিসেবে দিয়েছেন, তার জন্য তোমরা ঘোড়া বা উট চালিয়ে যুদ্ধ করোনি; বরং আল্লাহ তাঁর রাসূলগণকে যার ওপর ইচ্ছা আধিপত্য দান করেন। আর আল্লাহ সবকিছুর ওপর সর্বশক্তিমান।} [আল-হাশর: ৬] সুতরাং এটি বিশেষভাবে আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জন্য ছিল। তারপর আল্লাহর কসম, তিনি তোমাদের বাদ দিয়ে এটি কেবল নিজের জন্য রাখেননি এবং তোমাদের বঞ্চিত করে তা নিজের কুক্ষিগত করেননি। তিনি তোমাদের তা দান করেছেন এবং তোমাদের মধ্যে তা ছড়িয়ে দিয়েছেন, শেষ পর্যন্ত এই সম্পদটি অবশিষ্ট ছিল। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এখান থেকে তাঁর পরিবারের এক বছরের ভরণপোষণ ব্যয় করতেন, তারপর যা অবশিষ্ট থাকত তা গ্রহণ করতেন এবং আল্লাহর মালের (বায়তুল মাল) খাতে ব্যয় করতেন। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর জীবনভর এভাবেই আমল করেছেন। আমি তোমাদের আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, তোমরা কি তা জানো?" তাঁরা বললেন: হ্যাঁ। তারপর তিনি আব্বাস ও আলীকে বললেন: "আমি তোমাদের দুজনকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, তোমরা কি তা জানো?" তাঁরা উভয়ে বললেন: হ্যাঁ। আবু উবাইদ বলেন: এরপর তিনি একটি দীর্ঘ হাদীস বর্ণনা করেছেন যা থেকে আমরা এটি সংক্ষেপে উল্লেখ করেছি। ২৭ - তিনি (আবু উবাইদ) বলেন: আব্বাদ ইবনে সালিহ ইবনে আবিল আখদার আমাদের কাছে যুহরী থেকে, তিনি মালিক ইবনে আওস থেকে, তিনি উমর থেকে অনুরূপ বা এর কাছাকাছি বর্ণনা করেছেন। ২৮ - তিনি (আবু উবাইদ) বলেন: মুহাম্মদ ইবনে জাফর আমাদের কাছে শু'বা থেকে, তিনি আমর ইবনে মুররা থেকে, তিনি আবুল বাখতারী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি এক ব্যক্তির কাছ থেকে একটি হাদীস শুনেছি যা আমাকে মুগ্ধ করেছে, তাই আমি তা লিখে রাখতে চাইলাম। অতঃপর তিনি সেটি লিখিত অবস্থায় আমার কাছে নিয়ে এলেন, যা এই হাদীসের অনুরূপ বা কাছাকাছি। আবু উবাইদ বলেন: ফদক এবং বনু নাযীরের সম্পদের বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে এটি হলো তা।
(খণ্ড: ১)
আল-আমওয়াল - আবু উবায়েদ
(পৃষ্ঠা: ١٨)
قَالَ وَأَمَّا الصَّفِيُّ، فَإِنَّ هُشَيْمَ بْنَ بَشِيرٍ حَدَّثَنَا، عَنْ مُطَرِّفِ بْنِ ⦗ص: 19⦘ طَرِيفٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، قَالَ: " كَانَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صَفِيٌّ مِنْ كُلِّ مَغْنَمٍ: عَبْدٌ، أَوْ أَمَةٌ، أَوْ فَرَسٌ "
তিনি বলেন, আর ‘সাফী’ (পছন্দনীয় অংশ) এর বিষয়টি হলো, হুশাইম ইবনে বাশীর আমাদের নিকট মুতাররিফ ইবনে ⦗পৃষ্ঠা: ১৯⦘ তারীফ থেকে, তিনি শা'বী থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য প্রত্যেক গণিমত (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ) থেকে একটি বিশেষ পছন্দনীয় অংশ নির্ধারিত থাকত: তা কোনো দাস, অথবা কোনো দাসী, অথবা কোনো ঘোড়া।"
(খণ্ড: ১)
আল-আমওয়াল - আবু উবায়েদ
(পৃষ্ঠা: ١٩)
30 - حَدَّثَنَا عَنْبَسَةُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ الْقُرَشِيُّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ، أَوْ سَعِيدِ بْنِ إِيَاسَ الْجُرَيْرِيِّ وَأَكْثَرُ ظَنِّي أَنَّهُ سَعِيدُ بْنُ إِيَاسَ، عَنْ أَبِي الْعَلَاءِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الشِّخِّيرِ، قَالَ: كُنَّا بِالْمِرْبَدِ - قَالَ أَبُو عُبَيْدٍ: أَحْسِبُهُ قَالَ: وَمَعَنَا مُطَرِّفٌ - فَأَتَانَا أَعْرَابِيٌّ.، وَمَعَهُ قِطْعَةُ أَدِيمٍ، فَقَالَ: أَفِيكُمْ مَنْ يَقْرَأُ؟ قُلْنَا: نَعَمْ فَأَعْطَانَا الْأَدِيمُ، فَإِذَا فِيهِ: «بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، مِنْ مُحَمَّدٍ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِبَنِي زُهَيْرِ بْنِ أُقَيْشٍ مِنْ عُكْلٍ، إِنَّكُمْ إِنْ شَهِدْتُمْ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَقَمْتُمُ الصَّلَاةَ، وَآتَيْتُمُ الزَّكَاةَ، وَفَارَقْتُمُ الْمُشْرِكِينَ، وَأَعْطَيْتُمْ مِنَ الْمَغَانِمِ الْخُمْسَ، وَسَهْمَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالصَّفِيَّ أَوْ قَالَ وَصَفِيَّهُ فَأَنْتُمْ آمِنُونَ بِأَمَانِ اللَّهِ وَرَسُولِهِ» قَالَ: فَقُلْنَا لَهُ: هَلْ سَمِعْتَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَيْئًا تُحَدِّثُنَا بِهِ؟ قَالَ: نَعَمْ، سَمِعْتُهُ يَقُولُ: «مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَذْهَبَ كَثِيرٌ مِنْ وَحَرِ صَدْرِهِ أَوْ وَغَرَ صَدْرِهِ فَلْيَصُمْ شَهْرَ الصَّبْرِ، وَثَلَاثَةَ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ» فَقُلْنَا لَهُ: أَنْتَ سَمِعْتَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم؟ قَالَ: فَغَضِبَ، وَقَالَ: أَفَتَرَوْنِي أَكْذِبُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم؟ ثُمَّ أَخَذَ الْكِتَابَ وَانْطَلَقَ
30 - আনবাসা বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-কুরাইশি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সাঈদ বিন আবু আরুবা অথবা সাঈদ বিন ইয়াস আল-জুরাইরি থেকে - এবং আমার প্রবল ধারণা যে তিনি সাঈদ বিন ইয়াস ছিলেন - তিনি আবুল আলা বিন আব্দুল্লাহ বিন আশ-শিখখীর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা মিরবাদে ছিলাম - আবু উবাইদ বলেন: আমি মনে করি তিনি বলেছেন: আমাদের সাথে মুতাররিফ ছিলেন - এমতাবস্থায় আমাদের নিকট এক বেদুইন আসলেন, যার সাথে চামড়ার একটি টুকরো ছিল। তিনি বললেন: "তোমাদের মধ্যে কি এমন কেউ আছে যে পাঠ করতে পারে?" আমরা বললাম: "হ্যাঁ।" অতঃপর তিনি আমাদের চামড়ার টুকরোটি দিলেন, তাতে দেখা গেল: «পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে উকল গোত্রের বনু যুহাইর ইবনে উকাইশের প্রতি; যদি তোমরা সাক্ষ্য দাও যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, সালাত কায়েম করো, জাকাত প্রদান করো, মুশরিকদের ত্যাগ করো এবং গনীমতের মালের এক-পঞ্চমাংশ, নবীর নির্ধারিত অংশ এবং তাঁর পছন্দকৃত অংশ (বা বাছাইকৃত অংশ) প্রদান করো, তবে তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নিরাপত্তায় নিরাপদ থাকবে।’ তিনি বলেন: আমরা তাকে বললাম: "আপনি কি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এমন কিছু শুনেছেন যা আমাদের নিকট বর্ণনা করতে পারেন?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ, আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: 'যে ব্যক্তি নিজের বক্ষের অস্থিরতা বা ক্ষোভ দূর করতে আগ্রহী, সে যেন ধৈর্যের মাস (রমজান) এবং প্রতি মাসের তিন দিন সিয়াম পালন করে।'" আমরা তাকে বললাম: "আপনি কি সরাসরি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এটি শুনেছেন?" তিনি রাগান্বিত হয়ে বললেন: "তোমরা কি মনে করো যে আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নামে মিথ্যা বলছি?" অতঃপর তিনি লিপিটি নিলেন এবং চলে গেলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আমওয়াল - আবু উবায়েদ
(পৃষ্ঠা: ١٩)
31 - حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ عَبَّادٍ، حَدَّثَنَا أَبُو جَمْرَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَدِمَ وَفْدُ عَبْدِ ⦗ص: 20⦘ الْقَيْسِ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ هَذَا الْحَيَّ مِنْ رَبِيعَةَ وَقَدْ حَالَتْ بَيْنَنَا وَبَيْنَكَ كُفَّارُ مُضَرَ، فَلَا نَخْلُصُ إِلَيْكَ إِلَّا فِي شَهْرٍ حَرَامٍ، فَمُرْنَا بِأَمْرٍ نَعْمَلُ بِهِ، وَنَدْعُو إِلَيْهِ مَنْ وَرَاءَنَا فَقَالَ: " آمُرُكُمْ بِأَرْبَعٍ، وَأَنْهَاكُمْ عَنْ أَرْبَعٍ: الْإِيمَانُ بِاللَّهِ ثُمَّ فَسَّرَهُ لَهُمْ: شَهَادَةُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَإِقَامُ الصَّلَاةَ، وَإِيتَاءُ الزَّكَاةَ، وَأَنْ تُؤَدُّوا خُمْسَ مَا غَنِمْتُمْ، وَأَنْهَاكُمْ عَنِ الدُّبَّاءِ، وَالْحَنْتَمِ، وَالنَّقِيرِ، وَالْمُقَيَّرِ " 32 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ عِيسَى، عَنْ أَبِي هِلَالٍ الرَّاسِبِيِّ، عَنْ أَبِي جَمْرَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَ ذَلِكَ، وَزَادَ فِيهِ: وَتُعْطُوا مِنَ الْمَغَانِمِ سَهْمَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالصَّفِيَّ
৩১ - আব্বাদ ইবনে আব্বাদ আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবু জামরা আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবদুল কায়স ⦗পৃষ্ঠা: ২০⦘ গোত্রের প্রতিনিধি দল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আগমন করল। তারা বলল: হে আল্লাহর রাসূল! নিশ্চয়ই এই গোত্রটি রাবিআ বংশোদ্ভূত এবং আমাদের ও আপনার মাঝে মুদার গোত্রের কাফিররা অন্তরায় হয়ে আছে, তাই আমরা পবিত্র মাস ব্যতীত আপনার নিকট পৌঁছাতে পারি না। সুতরাং আপনি আমাদের এমন কিছু বিষয়ের নির্দেশ দিন যা আমরা পালন করব এবং আমাদের পেছনে যারা রয়েছে তাদেরও সেদিকে আহ্বান করব। তিনি বললেন: "আমি তোমাদের চারটি বিষয়ের আদেশ দিচ্ছি এবং চারটি বিষয় থেকে নিষেধ করছি: আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা; অতঃপর তিনি তাদের নিকট এর ব্যাখ্যা প্রদান করলেন: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল; সালাত কায়েম করা; যাকাত প্রদান করা; এবং তোমরা গনীমত হিসেবে যা অর্জন করবে তার এক-পঞ্চমাংশ আদায় করা। আর আমি তোমাদের দুব্বা (লাউয়ের খোল), হানতাম (মাটির সবুজ পাত্র), নাকীর (খেজুর গাছের খোদাই করা পাত্র) এবং মুকাইয়ার (আলকাতরা মাখানো পাত্র) ব্যবহার করতে নিষেধ করছি।" ৩২ - ইসহাক ইবনে ঈসা আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবু হিলাল আর-রাসিবী থেকে, তিনি আবু জামরা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং তাতে অতিরিক্ত উল্লেখ করেছেন: "এবং তোমরা গনীমতের সম্পদ থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্ধারিত অংশ এবং সাফী (যুদ্ধলব্ধ সম্পদের মধ্য থেকে সেনাপতির পছন্দকৃত বিশেষ অংশ) প্রদান করবে।"