(খণ্ড: ১)
আল-ইতিকাদ লিল-বায়হাকী
(পৃষ্ঠা: -)
الاعتقاد للبيهقي القسم: كتب السنة
الكتاب: الاعتقاد والهداية إلى سبيل الرشاد على مذهب السلف وأصحاب الحديث
المؤلف: أحمد بن الحسين بن علي بن موسى الخُسْرَوْجِردي الخراساني، أبو بكر البيهقي (ت 458هـ)
المحقق: أحمد عصام الكاتب
الناشر: دار الآفاق الجديدة - بيروت
الطبعة: الأولى، 1401
عدد الصفحات: 376
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-ইতিদাদ লিল-বায়হাকী বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
গ্রন্থ: সালাফ ও আসহাবুল হাদিসের মাযহাব অনুযায়ী সঠিক পথের দিশা ও আকিদা
লেখক: আহমদ বিন আল-হুসাইন বিন আলী বিন মুসা আল-খুসরওজিরদী আল-খুরাসানী, আবু বকর আল-বায়হাকী (মৃত্যু ৪৫৮ হিজরী)
গবেষক/সম্পাদক: আহমদ ইসাম আল-কাতিব
প্রকাশক: দারুল আ ফাক আল-জাদিদাহ - বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০১
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৭৬
[গ্রন্থের সংখ্যাবিন্যাস মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিকাদ লিল-বায়হাকী
(পৃষ্ঠা: -)
الِاعْتِقَادُ لِلْبَيْهَقِيِّ
আল-বায়হাকী রচিত আল-ইতিকাদ (বিশ্বাসমালা)
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিকাদ লিল-বায়হাকী
(পৃষ্ঠা: ٣١)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ أخبرنا القاضي الفقيه الإمام العالم الصدر الكبير، شيخ القضاة، بقية المشايخ، الزاهد العابد الورع، جمال الدين أبو القاسم عبد الصمد بن محمد بن أبي الفضل الأنصاري أثابه الله الجنة، بقراءتي عليه في يوم الجمعة منتصف رمضان من سنة تسع وستمائة بزاوية الخضر من جامع دمشق. قلت له: أخبرك الشيخ الإمام أبو الحسن علي بن سليمان بن أحمد بن سليمان المرادي قراءة عليه وأنت تسمع فأقر به، قال: أخبرنا الإمام أبو عبد الله محمد بن الفضل بن أحمد الفراوي قلت للقاضي: وأخبرك أبو عبد الله الفراوي إجازة فأقر به قال: أخبرنا الإمام أبو بكر أحمد بن الحسين بن علي بن موسى البيهقي الحافظ قراءة سنة خمسين وأبعمائة قال: الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي خَلَقَ الْخَلْقَ كَمَا شَاءَ لِمَا شَاءَ، وَاخْتَارَ مِنَ الْخَلْقِ لِرِسَالَتِهِ وَالدُّعَاءِ لِمَعْرِفَتِهِ وَالتَّمَسُّكِ بِطَاعَتِهِ مَنْ شَاءَ، وَهَدَى إِلَى إِجَابَةِ دَعْوَتِهِ وَاجْتِنَابِ مَعْصِيَتِهِ بِمَا أَقَامَ مِنَ الْبَيِّنَاتِ وَأَظْهَرَ مِنَ الْآيَاتِ مَنْ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বিচারপতি, ফকিহ, ইমাম, বিজ্ঞ আলেম, মহান ব্যক্তিত্ব, প্রধান বিচারপতি, শাইখদের উত্তরসূরি, দুনিয়াবিমুখ, ইবাদতকারী ও পরহেজগার জামালুদ্দিন আবুল কাসেম আবদুল সামাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবুল ফজল আল-আনসারি—আল্লাহ তাঁকে জান্নাত দান করুন—ছয়শত নয় হিজরি সালের রমজান মাসের মাঝামাঝি সময়ে জুমার দিনে দামেস্ক জামে মসজিদের জাভিয়াতুল খিজরে তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে। আমি তাঁকে বললাম: শাইখ ইমাম আবুল হাসান আলি ইবনে সুলাইমান ইবনে আহমদ ইবনে সুলাইমান আল-মুরাদি কি আপনার নিকট পাঠের মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন এবং আপনি তা শুনেছেন ও তিনি তা স্বীকার করেছেন? তিনি বললেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ফজল ইবনে আহমদ আল-ফারাওয়ি। আমি বিচারপতিকে বললাম: আবু আবদুল্লাহ আল-ফারাওয়ি কি আপনাকে ইজাজাত (অনুমতি) দিয়েছেন এবং আপনি তা স্বীকার করেছেন? তিনি বললেন: হাফেজ ইমাম আবু বকর আহমদ ইবনে হুসাইন ইবনে আলি ইবনে মুসা আল-বাইহাকি চারশত পঞ্চাশ হিজরিতে পাঠের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সৃষ্টিজগতকে যেভাবে চেয়েছেন এবং যে উদ্দেশ্যে চেয়েছেন সেভাবে সৃষ্টি করেছেন। তিনি তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা তাঁর রিসালাত, তাঁর পরিচয় লাভের দিকে আহ্বান এবং তাঁর আনুগত্য দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরার জন্য মনোনীত করেছেন। আর তিনি যাকে ইচ্ছা তাঁর দাওয়াত কবুল করার এবং তাঁর অবাধ্যতা বর্জন করার পথে হেদায়েত দান করেছেন সেই সকল সুস্পষ্ট প্রমাণাদি ও প্রকাশিত নিদর্শনাবলির মাধ্যমে যা তিনি প্রতিষ্ঠিত ও প্রকাশ করেছেন সেই ব্যক্তিকে যাকে...
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিকাদ লিল-বায়হাকী
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
شَاءَ، وَوَعَدَ لِأَهْلِ طَاعَتِهِ مَا أَعَدَّ لَهُمْ فِي الْجَنَّةِ مِنَ الثَّوَابِ كَمَا شَاءَ، وَأَوْعَدَ أَهْلَ مَعْصِيَتِهِ بِمَا أَعَدَّ لَهُمْ فِي النَّارِ مِنَ الْعِقَابِ كَيْفَ شَاءَ، لَا مُعَقِّبَ لِحُكْمِهِ، كَمَا قَالَ جَلَّ ثَنَاؤُهُ فِي مُحْكَمِ كِتَابِهِ الَّذِي أَنْزَلَهُ عَلَى نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم وَعَلَى آلِهِ: {وَرَبُّكَ يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ وَيَخْتَارُ} [سورة: القصص، آية رقم: 68] ، وَقَالَ: {اللَّهُ يَصْطَفِي مِنَ الْمَلَائِكَةِ رُسُلًا وَمِنَ النَّاسِ} [سورة: الحج، آية رقم: 75] ، وَقَالَ: {إِنَّا أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ كَمَا أَوْحَيْنَا إِلَى نُوحٍ وَالنَّبِيِّينَ مِنْ بَعْدِهِ} [سورة: النساء، آية رقم: 163] إِلَى قَوْلِهِ: {رُسُلًا مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ لِئَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَى اللَّهِ حُجَّةٌ بَعْدَ الرُّسُلِ وَكَانَ اللَّهُ عَزِيزًا حَكِيمًا} [سورة: النساء، آية رقم: 165] ، وَقَالَ: {وَاللَّهُ يَدْعُو إِلَى دَارِ السَّلَامِ وَيَهْدِي مَنْ يَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} [سورة: يونس، آية رقم: 25] ، وَقَالَ: {وَلِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ لِيَجْزِيَ الَّذِينَ أَسَاءُوَا بِمَا عَمِلُوَا وَيَجْزِيَ الَّذِينَ أَحْسَنُوَا بِالْحُسْنَى} [سورة:] ، وَقَالَ: {وَاتَّقُوَا النَّارَ الَّتِي أُعِدَّتْ لِلْكَافِرِينَ وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَالرَّسُولَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ، وَسَارِعُوا إِلَى مَغْفِرَةٍ مِنْ رَبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا السَّمَاوَاتُ وَالْأَرْضُ أُعِدَّتْ لِلْمُتَّقِينَ} [سورة: آل عمران، آية رقم: 132] ، وَقَالَ: {وَمَا نُرْسِلُ الْمُرْسَلِينَ إِلَّا مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ} [سورة: الأنعام، آية رقم: 48] ، فَمَنْ آمَنَ وَأَصْلَحَ {فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ وَالَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا يَمَسُّهُمُ الْعَذَابُ بِمَا كَانُوا يَفْسُقُونَ} [سورة: الأنعام، آية رقم: 48] . فَالْحَمْدُ لِلَّهِ عَلَى جَمِيعِ نِعَمِهِ، وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى كَافَّةِ رُسُلِهِ، وَخَصَّ نَبِيَّنَا مُحَمَّدًا بِأَفْضَلِ الصَّلَاةِ وَالتَّحِيَّةِ وَالْبَرَكَةِ، وَآتَاهُ مَا وَعَدَهُ مِنَ الْوَسِيلَةِ وَالْفَضِيلَةِ وَالرِّفْعَةِ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، وَبَعَثَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَقَامًا مَحْمُودًا يَغْبِطُهُ بِهِ الْأَوَّلُونَ وَالْآخِرُونَ، وَجَمَعَ بَيْنَنَا وَبَيْنَهُ فِي جَنَّاتِ النَّعِيمِ مَعَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ
তিনি যা চেয়েছেন, এবং তিনি তাঁর আনুগত্যকারীদের জন্য জান্নাতে যে সওয়াব প্রস্তুত রেখেছেন তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যেমনটি তিনি চেয়েছেন। আর তিনি তাঁর অবাধ্যচারীদের জন্য জাহান্নামে যে শাস্তি প্রস্তুত রেখেছেন তার হুমকি দিয়েছেন যেভাবে তিনি চেয়েছেন; তাঁর হুকুমের কোনো রদবদলকারী নেই। যেমনটি তাঁর মহিমান্বিত প্রশংসা তাঁর সুষ্পষ্ট কিতাবে ব্যক্ত করেছেন, যা তিনি আমাদের নবী মুহাম্মদ (আল্লাহর রহমত ও শান্তি তাঁর এবং তাঁর পরিবারের ওপর বর্ষিত হোক) এর ওপর অবতীর্ণ করেছেন: {এবং আপনার প্রতিপালক যা ইচ্ছা করেন সৃষ্টি করেন এবং তিনি মনোনীত করেন} [সূরা: আল-কাসাস, আয়াত নং: ৬৮], এবং তিনি বলেছেন: {আল্লাহ ফেরেশতাদের মধ্য থেকে এবং মানুষের মধ্য থেকে রাসূল মনোনীত করেন} [সূরা: আল-হজ্জ, আয়াত নং: ৭৫], এবং তিনি বলেছেন: {নিশ্চয়ই আমি আপনার প্রতি ওহী পাঠিয়েছি যেমন আমি নূহ এবং তার পরবর্তী নবীদের প্রতি ওহী পাঠিয়েছিলাম} [সূরা: আন-নিসা, আয়াত নং: ১৬৩] তাঁর এই কথা পর্যন্ত: {সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী রাসূলগণ হিসেবে, যাতে রাসূলদের পর আল্লাহর বিপক্ষে মানুষের কোনো অজুহাত না থাকে; আর আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়} [সূরা: আন-নিসা, আয়াত নং: ১৬৫], এবং তিনি বলেছেন: {আর আল্লাহ শান্তির আবাসের দিকে আহ্বান জানান এবং যাকে ইচ্ছা সরল পথের দিকে পরিচালিত করেন} [সূরা: ইউনুস, আয়াত নং: ২৫], এবং তিনি বলেছেন: {আর আসমানসমূহ ও জমিনে যা কিছু আছে সব আল্লাহরই, যাতে তিনি যারা মন্দ কাজ করেছে তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের প্রতিফল দেন এবং যারা নেক কাজ করেছে তাদেরকে দেন উত্তম প্রতিদান} [সূরা:], এবং তিনি বলেছেন: {আর তোমরা সেই আগুনকে ভয় করো যা কাফেরদের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আর তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করো যাতে তোমরা রহমতপ্রাপ্ত হতে পারো। আর তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে ক্ষমা এবং সেই জান্নাতের দিকে দ্রুত ধাবিত হও যার প্রশস্ততা আসমানসমূহ ও জমিনের সমান, যা মুত্তাকীদের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে} [সূরা: আলে ইমরান, আয়াত নং: ১৩২], এবং তিনি বলেছেন: {আর আমি রাসূলদের কেবল সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবেই প্রেরণ করি} [সূরা: আল-আনআম, আয়াত নং: ৪৮], সুতরাং যে ঈমান আনল এবং সংশোধন করল {তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না। আর যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল, তাদের অবাধ্যতার কারণে শাস্তি তাদের স্পর্শ করবে} [সূরা: আল-আনআম, আয়াত নং: ৪৮]। সুতরাং সকল প্রশংসা আল্লাহর তাঁর সকল নিআমতের জন্য, এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক তাঁর সকল রাসূলের ওপর। তিনি আমাদের নবী মুহাম্মদকে সর্বোত্তম রহমত, অভিবাদন ও বরকত দ্বারা বিশেষিত করেছেন, এবং তাঁকে দুনিয়া ও আখিরাতে ওসিলা, ফযীলত ও উচ্চ মর্যাদা দান করেছেন যার প্রতিশ্রুতি তিনি তাঁকে দিয়েছিলেন। আর কিয়ামতের দিন তাঁকে ‘মাকামে মাহমুদ’-এ (প্রশংসিত স্থানে) উঠাবেন যার কারণে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল মানুষ তাঁর প্রতি ঈর্ষা (সপ্রশংস আকাঙ্ক্ষা) করবে। আর তিনি যেন জান্নাতুন নাঈমে আমাদের ও তাঁর মাঝে মিলন ঘটান সেই সমস্ত ব্যক্তিদের সাথে যাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন, অর্থাৎ নবীগণ, সত্যনিষ্ঠগণ, শহীদগণ এবং সৎকর্মশীলদের সাথে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিকাদ লিল-বায়হাকী
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
بِفَضْلِهِ وَرَحْمَتِهِ إِنَّهُ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ وَخيْرُ الْغَافِرِينَ. أَمَّا بَعْدُ، فَإِنِّي بِتَوْفِيقِ اللَّهِ سبحانه وتعالى صَنَّفْتُ فِيمَا يَفْتَقِرُ أَهْلُ التَّكْلِيفِ إِلَى مَعْرِفَتِهِ فِي أُصُولِ الْعِلْمِ وَفُرُوعِهِ مَا قَدِ انْتَشَرَ ذِكْرُهُ فِي بَعْضِ الْبِلَادِ، وَانْتَفَعَ بِهِ مَنْ وُفِّقَ لِسَمَاعِهِ وَتَحْصِيلِهِ مِنَ الْعِبَادِ، غَيْرَ أَنَّ جُلَّ مَا يُحْتَاجُ إِلَى مَعْرِفَتِهِ مِنْ ذَلِكَ لِلِاعْتِقَادِ عَلَى السَّدَادِ مُفَرَّقَةٌ فِي تِلْكَ الْكُتُبِ، وَلَا يَكَادُ يَتَّفِقُ لِجَمَاعَتِهِمُ الْإِتْيَانُ عَلَى جَمْعِهَا وَالْإِحَاطَةُ بِجَمِيعِهَا، فَأَرَدْتُ وَالْمَشِيئَةُ لِلَّهِ تَعَالَى أَنْ أَجْمَعَ كِتَابًا يَشْتَمِلُ عَلَى بَيَانِ مَا يَجِبُ عَلَى الْمُكَلَّفِ اعْتِقَادُهُ وَالِاعْتِرَافُ بِهِ مَعَ الْإِشَارَةِ إِلَى أَطْرَافِ أَدِلَّتِهِ عَلَى طَرِيقِ الِاخْتِصَارِ، وَمَا يَنْبَغِي أَنْ يَكُونَ شِعَارُهُ عَلَى سَبِيلِ الْإِيجَازِ، فَاسْتَخَرْتُ اللَّهَ عز وجل فِي ذَلِكَ وَفِي جَمِيعِ أُمُورِي، وَابْتَدَأْتُ بِهِ مُسْتَعِينًا بِاللَّهِ عَزَّ اسْمُهُ عَلَى إِتْمَامِهِ، وَأَسْأَلُهُ أَنْ يَجْعَلَنِي وَالنَّاظِرِينَ فِيهِ مِمَّنْ يَخُصُّهُ بِجَمِيلِ إِنْعَامِهِ وَإِكْرَامِهِ، وَجَزِيلِ إِحْسَانِهِ وَامْتِنَانِهِ؛ إِنَّهُ وَلِيُّهُ وَالْقَادِرُ عَلَيْهِ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَا بِاللَّهِ
তাঁর অনুগ্রহ ও রহমতে; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু এবং সর্বোত্তম ক্ষমাশীল। অতঃপর, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার তাওফিকে আমি ইলমের মূলনীতি ও শাখাসমূহ থেকে এমন বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছি যা জানার জন্য মুকাল্লাফগণের বিশেষ প্রয়োজন। কিছু দেশে এর চর্চা ইতোমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে এবং বান্দাদের মধ্যে যারা তা শোনা ও অর্জনের তাওফিক লাভ করেছে তারা এর দ্বারা উপকৃত হয়েছে। তবে সঠিক আকিদা বিশ্বাসের জন্য যা কিছু জানা প্রয়োজন, তার অধিকাংশ ঐ সকল কিতাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। আর সাধারণ মানুষের পক্ষে সেগুলো একত্রিত করা বা সবগুলোকে পূর্ণরূপে আয়ত্ত করা প্রায় অসম্ভব। তাই আমি সংকল্প করেছি—আর সকল ইচ্ছা মহান আল্লাহরই—এমন একটি কিতাব সংকলন করতে যা মুকাল্লাফের জন্য যা বিশ্বাস করা ও স্বীকার করা আবশ্যক তা সংক্ষিপ্ত দলিলাদিসহ বর্ণনা করবে এবং সংক্ষেপে যা তার আদর্শ হওয়া উচিত তাও ব্যক্ত করবে। সুতরাং আমি এ বিষয়ে এবং আমার যাবতীয় কাজে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লার কাছে ইস্তিখারা করেছি এবং তাঁরই সাহায্য কামনার মাধ্যমে এটি শুরু করেছি, যাঁর নাম অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ, যেন তিনি এটি সম্পন্ন করার তাওফিক দান করেন। আর আমি তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাকে এবং এর পাঠকদেরকে এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করেন যাদেরকে তিনি তাঁর উত্তম নেয়ামত ও সম্মান এবং প্রচুর অনুগ্রহ ও দয়া দ্বারা ধন্য করেন। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর সক্ষম। আর আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো উপায় ও শক্তি নেই।
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিকাদ লিল-বায়হাকী
(পৃষ্ঠা: ٣٥)
بَابُ أَوَّلِ مَا يَجِبُ عَلَى الْعَبْدِ مَعْرِفَتُهُ وَالْإِقْرَارُ بِهِ قَالَ اللَّهُ جَلَّ ثَنَاؤُهُ لِنَبِيِّهِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم: {فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ} [محمد: 19] ، وَقَالَ لَهُ وَلِأُمَّتِهِ: {فَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ مَوْلَاكُمْ} [الأنفال: 40] ، وَقَالَ: {فَاعْلَمْ أَنَّمَا أُنْزِلَ بِعِلْمِ اللَّهِ وَأَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ فَهَلْ أَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} ، وَقَالَ: {قُولُوا آمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْنَا} [البقرة: 136] الْآيَةَ. فَوَجَبَ بِالْآيَاتِ قَبْلَهَا مَعْرِفَةُ اللَّهِ تَعَالَى وَعِلْمُهُ، وَوَجَبَ بِهَذِهِ الْآيَةِ الِاعْتِرَافُ بِهِ وَالشَّهَادَةُ لَهُ بِمَا عَرَّفَهُ. وَدَلَّتِ السُّنَّةُ عَلَى مِثْلِ مَا دَلَّ عَلَيْهِ الْكِتَابُ
পরিচ্ছেদ: বান্দার ওপর সর্বপ্রথম যা জানা এবং স্বীকার করা ওয়াজিব। মহান আল্লাহ তাঁর নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ইরশাদ করেছেন: “সুতরাং জেনে রাখুন যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো (সত্য) ইলাহ নেই” [মুহাম্মাদ: ১৯]। তিনি তাঁর প্রতি ও তাঁর উম্মতের প্রতি আরও বলেছেন: “তোমরা জেনে রেখো যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের অভিভাবক” [আল-আনফাল: ৪০]। তিনি আরও বলেছেন: “সুতরাং জেনে নাও যে, এটি আল্লাহর জ্ঞান অনুসারেই অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং তিনি ব্যতীত কোনো (সত্য) ইলাহ নেই; তবে কি তোমরা আত্মসমর্পণকারী হবে?” এবং তিনি বলেছেন: “তোমরা বলো, আমরা আল্লাহর ওপর এবং আমাদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তার ওপর ঈমান এনেছি...” [আল-বাকারাহ: ১৩৬] (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)। সুতরাং পূর্ববর্তী আয়াতসমূহের মাধ্যমে মহান আল্লাহ সম্পর্কে পরিচয় লাভ করা এবং তাঁর জ্ঞান অর্জন করা ওয়াজিব হয়েছে; এবং এই আয়াতের দ্বারা তাঁর প্রতি স্বীকৃতি প্রদান এবং তিনি যেভাবে নিজের পরিচয় দিয়েছেন সেভাবে তাঁর সাক্ষ্য প্রদান করা ওয়াজিব হয়েছে। আর সুন্নাহও কিতাব (আল-কুরআন) যা প্রমাণ করেছে ঠিক তারই অনুরূপ প্রমাণ প্রদান করে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিকাদ লিল-বায়হাকী
(পৃষ্ঠা: ٣٥)
أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بِشْرَانَ الْعَدْلُ بِبَغْدَادَ، أنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّفَّارُ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ الصَّاغَانِيُّ، ثنا يَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ، ثنا الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرٍ، وَعَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَا: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، فَإِذَا قَالُوهَا عَصَمُوا مِنِّي دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ إِلَّا بِحَقِّهَا، وَحِسَابُهُمْ عَلَى اللَّهِ عز وجل " وَرَوَاهُ الْعَلَاءُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ ⦗ص: 36⦘ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وَفِيهِ مِنَ الزِّيَادَةِ: «وَيُؤْمِنُوا بِي وَبِمَا جِئْتُ بِهِ»
বাগদাদে আবু আল-হুসাইন আলী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বিশরান আল-আদল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাইল ইবনে মুহাম্মাদ আস-সাফফার, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক আস-সাগানি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়ালা ইবনে উবাইদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আমাশ, তিনি আবু সুফিয়ান থেকে, তিনি জাবির থেকে এবং আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি মানুষের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা বলে: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। যখন তারা তা বলবে, তখন তারা আমার থেকে তাদের রক্ত ও সম্পদ নিরাপদ করে নেবে, তবে ইসলামের হকের বিষয়টি ভিন্ন। আর তাদের হিসাব মহান ও মর্যাদাবান আল্লাহর জিম্মায়।" আর এটি আল-আলা ইবনে আব্দুর রহমান তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রাহ থেকে এবং তিনি ⦗পৃষ্ঠা: ৩৬⦘ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, আর তাতে এই অতিরিক্ত অংশ রয়েছে: "এবং তারা যেন আমার প্রতি এবং আমি যা নিয়ে এসেছি তার প্রতি ঈমান আনে।"
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিকাদ লিল-বায়হাকী
(পৃষ্ঠা: ٣٦)
أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، أنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ الْحَافِظُ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ مَعْمَرِ بْنِ رِبْعِيٍّ، ثنا عُمَرُ بْنُ يُونُسَ الْحَنَفِيُّ، ثنا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنِي أَبُو كَثِيرٍ، حَدَّثَنِي أَبُو هُرَيْرَةَ، فَذَكَرَ حَدِيثًا طَوِيلًا قَالَ فِيهِ: عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: «يَا أَبَا هُرَيْرَةَ وَأَعْطَانِي نَعْلَيْهِ اذْهَبْ بِنَعْلَيَّ هَاتَيْنِ، فَمَنْ لَقِيتَ مِنْ وَرَاءِ هَذَا الْحَائِطِ يَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مُسْتَيْقِنًا بِهَا قَلْبُهُ فَبَشِّرْهُ بِالْجَنَّةِ»
আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-হাফিয আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াকুব আল-হাফিয আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে মামার ইবনে রিবয়ী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উমর ইবনে ইউনুস আল-হানাফি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইকরিমাহ ইবনে আম্মার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু কাসীর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু হুরাইরাহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন; অতঃপর তিনি একটি দীর্ঘ হাদীস উল্লেখ করেছেন যেখানে তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "হে আবু হুরাইরাহ!" এরপর তিনি আমাকে তাঁর জুতোজোড়া প্রদান করলেন এবং বললেন: "আমার এই জুতোজোড়া নিয়ে যাও; এই দেয়ালের ওপাশে যার সাথেই তোমার দেখা হবে, যে ব্যক্তি অন্তরের দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে সাক্ষ্য প্রদান করে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও।"
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিকাদ লিল-বায়হাকী
(পৃষ্ঠা: ٣٦)
أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ، ثنا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ الصَّاغَانِيُّ، ثنا عَفَّانُ، حَدَّثَنِي بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، عَنْ خَالِدٍ، عَنِ الْوَلِيدِ أَبِي بِشْرٍ، قَالَ: سَمِعْتُ حُمْرَانَ، يَقُولُ: سَمِعْتُ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ، رضي الله عنه يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «مَنْ مَاتَ وَهُوَ يَعْلَمُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ دَخَلَ الْجَنَّةَ»
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু আল-আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আস-সাগানি, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আফফান, তিনি বলেন আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন বিশর ইবনুল মুফাদ্দাল, খালিদ থেকে, তিনি আল-ওয়ালিদ আবু বিশর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি হুমরানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি উসমান ইবনে আফফান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «যে ব্যক্তি এই জ্ঞান নিয়ে মৃত্যুবরণ করবে যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।»
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিকাদ লিল-বায়হাকী
(পৃষ্ঠা: ٣٦)
أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ الْفَضْلِ الْقَطَّانُ بمَدِينَةِ السَّلَامِ، أنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ دُرُسْتَوَيْهِ، ثنا يَعْقُوبُ بْنُ سُفْيَانَ، ثنا أَبُو ⦗ص: 37⦘ عَاصِمٍ، عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ جَعْفَرٍ، عَنْ صَالِحِ بْنِ أَبِي عَرِيبٍ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ مُرَّةَ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَنْ كَانَ آخِرُ كَلَامِهِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ» قَالَ الشَّيْخُ رحمه الله: فَفِي الْحَدِيثِ الْأَوَّلِ بَيَانُ مَا يَجِبُ عَلَى الْمَدْعُوِّ أَنْ يَأْتِيَ بِهِ حَتَّى يَحْقِنَ بِهِ دَمَهُ، وَفِي الْحَدِيثِ الثَّانِي بَيَانُ مَا يَجِبُ عَلَيْهِ مِنَ الْجَمْعِ بَيْنَ مَعْرِفَةِ الْقَلْبِ وَالْإِقْرَارِ بِاللِّسَانِ مَعَ الْإِمْكَانِ حَتَّى يَصِحَّ إِيمَانُهُ، وَفِي الْخَبَرِ الثَّالِثِ وَالرَّابِعِ شَرْطُ الْوَفَاةِ عَلَى الْإِيمَانِ حَتَّى يَسْتَحِقَّ دُخُولَ الْجِنَانِ بِوَعْدِ اللَّهِ تَعَالَى جَدُّهُ، وَبِاللَّهِ التَّوْفِيقُ
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন ইবনুল ফজল আল-কাত্তান মাদিনাতুস সালামে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে জাফর ইবনে দুরুস্তাওয়াইহ, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইয়াকুব ইবনে সুফিয়ান, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু ⦗পৃষ্ঠা: ৩৭⦘ আসিম, আবদুল হামিদ ইবনে জাফর থেকে, তিনি সালেহ ইবনে আবি আরিব থেকে, তিনি কাসীর ইবনে মুররাহ থেকে, তিনি মুয়াজ ইবনে জাবাল থেকে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যার শেষ কথা হবে 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই', তার জন্য জান্নাত অবধারিত।" শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: প্রথম হাদিসে ওই বিষয়ের বর্ণনা রয়েছে যা দাওয়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তির জন্য পালন করা আবশ্যক যাতে সে এর মাধ্যমে নিজের রক্ত নিরাপদ করতে পারে। দ্বিতীয় হাদিসে বর্ণনা করা হয়েছে যে, সামর্থ্য অনুযায়ী অন্তরের মারেফাত (পরিচয়) ও মৌখিক স্বীকৃতির সমন্বয় করা আবশ্যক যাতে তার ঈমান শুদ্ধ হয়। আর তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ণনায় ঈমানের উপর মৃত্যু বরণের শর্তের কথা বলা হয়েছে, যাতে সে মহান আল্লাহর প্রতিশ্রুতির কারণে জান্নাতে প্রবেশের উপযুক্ত হতে পারে, যাঁর মহিমা সুউচ্চ। আর আল্লাহর মাধ্যমেই তাওফিক অর্জিত হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিকাদ লিল-বায়হাকী
(পৃষ্ঠা: ٣٨)
بَابُ ذِكْرِ بَعْضِ مَا يُسْتَدَلُّ بِهِ عَلَى حُدُوثِ الَعَالَمِ، وَأَنَّ مُحْدِثَهُ وَمُدَبِّرَهُ إِلَهٌ وَاحِدٌ قَدِيمٌ لَا شَرِيكَ لَهُ وَلَا شَبِيهَ قَالَ اللَّهُ عز وجل: {وَإِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَالْفُلْكِ الَّتِي تَجْرِي فِي الْبَحْرِ بِمَا يَنْفَعُ النَّاسَ وَمَا أَنْزَلَ اللَّهُ مِنَ السَّمَاءِ مِنْ مَاءٍ فَأَحْيَا بِهِ الْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا وَبَثَّ فِيهَا مِنْ كُلِّ دَابَّةٍ وَتَصْرِيفِ الرِّيَاحِ وَالسَّحَابِ الْمُسَخَّرِ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ لَآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَعْقِلُونَ} [البقرة: 164]
পরিচ্ছেদ: জগৎ নশ্বর হওয়ার এবং এর উদ্ভাবক ও পরিচালক এমন এক অনাদি ইলাহ যার কোনো শরিক নেই ও কোনো সাদৃশ্য নেই - এর সপক্ষে উপস্থাপিত কতিপয় প্রমাণের আলোচনা। আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেন: {আর তোমাদের ইলাহ এক ইলাহ, পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু সেই আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো ইলাহ নেই। নিশ্চয়ই আসমান ও জমিনের সৃষ্টিতে, রাত ও দিনের আবর্তনে, মানুষের উপকারে সমুদ্রবক্ষে বিচরণশীল নৌযানসমূহে এবং আকাশ থেকে আল্লাহর বর্ষিত পানিতে যার মাধ্যমে তিনি জমিনকে মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করেন এবং এতে সকল প্রকার জীবজন্তুর বিস্তার ঘটান, আর বায়ুর প্রবাহে এবং আকাশ ও জমিনের মাঝে নিয়ন্ত্রিত মেঘমালাতে বোধশক্তি সম্পন্ন সম্প্রদায়ের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে।} [আল-বাক্বারাহ: ১৬৪]
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিকাদ লিল-বায়হাকী
(পৃষ্ঠা: ٣٨)
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، ثنا أَبُو الْعَبَّاسِ بْنُ يَعْقُوبَ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ الْفَضْلِ الصَّائِغُ، ثنا آدَمُ بْنُ أَبِي إِيَاسٍ، ثنا أَبُو جَعْفَرٍ الرَّازِيُّ، ثنا سَعِيدُ بْنُ مَسْرُوقٍ، عَنْ أَبِي الضُّحَى، {وَإِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ} [البقرة: 163] ، قَالَ: لَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ عَجِبَ الْمُشْرِكُونَ، وَقَالُوا: إِنَّ مُحَمَّدًا يَقُولُ: إِنَّ إِلَهَكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ، فَلْيَأْتِنَا بِآيَةٍ إِنْ كَانَ مِنَ الصَّادِقِينَ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ عز وجل: {إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ} [البقرة: 164] ، إِلَى قَوْلِهِ: {لَآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَعْقِلُونَ} [البقرة: 164] قَالَ الشَّيْخُ رحمه الله: فَذَكَرَ اللَّهُ عز وجل خَلْقَ السَّمَاوَاتِ بِمَا فِيهَا ⦗ص: 39⦘ مِنَ الشَّمْسِ، وَالْقَمَرِ وَالنُّجُومِ الْمُسَخَّرَاتِ، وَذَكَرَ خَلْقَ الْأَرْضِ بِمَا فِيهَا مِنَ الْبِحَارِ، وَالْأَنهَارِ، وَالْجِبَالِ وَالْمَعَادِنِ، وَذَكَرَ اخْتِلَافَ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَأَخْذَ أَحَدِهِمَا مِنَ الْآخَرِ، وَذَكَرَ الْفُلْكَ الَّتِي تَجْرِي فِي الْبَحْرِ بِمَا يَنْفَعُ النَّاسَ، وَذَكَرَ مَا أَنْزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مِنَ الْمَطَرِ الَّذِي فِيهِ حَيَاةُ الْبِلَادِ، وَبهِ وَبِمَا وَضَعَ اللَّهُ فِي اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ مِنْ تَعَاقُبِ الْحَرِّ وَالْبَرْدِ يَتِمُّ رِزْقُ الْعِبَادِ وَالْبَهَائِمِ وَالدَّوَابِّ، وَذَكَرَ مَا بَثَّ فِي الْأَرْضِ مِنْ كُلِّ دَابَّةٍ مُخْتَلِفَةِ الصُّوَرِ وَالْأَجْسَادِ مُخْتَلِفَةِ الْأَلْسِنَةِ وَالْأَلْوَانِ، وَذَكَرَ تَصْرِيفَ الرِّيَاحِ وَالسَّحَابِ الْمُسَخَّرِ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ، وَمَا فِيهِمَا مِنْ مَنَافِعِ الْحَيَوَانَاتِ، وَمَا فِي جَمِيعِ ذَلِكَ مِنَ الْآيَاتِ الْبَيِّنَاتِ لِقَوْمٍ يَعْقِلُونَ. ثُمَّ أَمَرَ فِي آيَةٍ أُخْرَى بِالنَّظَرِ فِيهِمَا، فَقَالَ لِنَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم: {قُلِ انْظُرُوا مَاذَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ} [يونس: 101] يَعْنِي وَاللَّهُ أَعْلَمُ مِنَ الْآيَاتِ الْوَاضِحَاتِ وَالدَّلَالَاتِ النَّيِّرَاتِ، وَهَذَا لِأَنَّكَ إِذَا تَأَمَّلْتَ هَيْئَةَ هَذَا الْعَالَمِ بِبَصَرِكَ، وَاعْتَبَرْتَهَا بِفِكْرِكَ، وَجَدْتَهُ كَالْبَيْتِ الْمَبْنِيِّ الْمُعَدِّ فِيهِ جَمِيعُ مَا يَحْتَاجُ إِلَيْهِ سَاكِنُهُ مِنْ آلَةٍ وَعَتَادٍ، فَالسَّمَاءُ مَرْفُوعةٌ كَالسَّقْفِ، وَالْأَرْضُ مَبْسُوطَةٌ كَالْبِسَاطِ، وَالنُّجُومُ مَنْضُودَةٌ كَالْمَصَابِيحِ، وَالْجَوَاهِرُ مَخْزُونَةٌ كَالذَّخَائِرِ، وَضُرُوبُ النَّبَاتِ مُهَيَّأةٌ لِلمَطَاعِمِ وَالْمَلَابِسِ وَالْمَآرِبِ، وَصُنُوفُ الْحَيَوَانِ مُسَخَّرَةٌ لِلمَرَاكِبِ مُسْتَعْمَلةٌ فِي الْمَرَافِقِ، وَالْإِنْسَانُ كَالْمُمَلَّكِ لِلْبَيْتِ الْمُخَوَّلِ مَا فِيهِ، وَفِي هَذَا دَلَالَةٌ وَاضِحَةٌ عَلَى أَنَّ الْعَالَمَ مَخْلُوقٌ بِتَدْبِيرٍ وَتَقْدِيرٍ وَنِظَامٍ، وَأَنَّ لَهُ صَانِعًا حَكِيمًا تَامَّ الْقُدْرَةِ بَالِغَ الْحِكْمَةِ، وَهَذَا فِيمَا قَرَأْتُهُ مِنْ كِتَابِ أَبِي سُلَيْمَانَ الْخَطَّابِيِّ رحمه الله ⦗ص: 40⦘ قَالَ الشَّيْخُ رحمه الله: ثُمَّ إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى حَضَّهُمْ عَلَى النَّظَرِ فِي مَلَكُوتِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَغَيْرِهِمَا مِنْ خَلْقِهِ فِي آيَةٍ أُخْرَى فَقَالَ: {أَوَلَمْ يَنْظُرُوا فِي مَلَكُوتِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا خَلَقَ اللَّهُ مِنْ شَيْءٍ وَأَنْ عَسَى أَنْ يَكُونَ قَدِ اقْتَرَبَ أَجَلُهُمْ فَبِأَيِّ حَدِيثٍ بَعْدَهُ يُؤْمِنُونَ} [الأعراف: 185] يَعْنِي بِالْمَلَكُوتِ الْآيَاتِ، يَقُولُ: أَوَلَمْ يَنْظُرُوا فِيهَا نَظَرَ تَفَكُّرٍ وَتَدَبُّرٍ؟ حَتَّى يَسْتَدِلُّوا بِكَونِهَا مَحَلًّا لِلْحَوَادِثِ وَالتَّغَيُّرَاتِ عَلَى أَنَّهَا مُحْدَثَاتٌ، وَأَنَّ الْمُحْدَثَ لَا يَسْتَغْنِي عَنْ صَانِعٍ يَصْنَعُهُ عَلَى هَيْئَةٍ لَا يَجُوزُ عَلَيْهِ مَا يَجُوزُ عَلَى الْمُحْدَثَاتِ، كَمَا اسْتَدَلَّ إِبْرَاهِيمُ الْخَلِيلُ عليه السلام بِمِثْلِ ذَلِكَ؛ فَانْقَطَعَ عَنْهَا كُلِّهَا إِلَى رَبٍّ هُوَ خَالِقُهَا وَمُنْشِئُهَا، فَقَالَ: {إِنِّي وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ حَنِيفًا وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ} [الأنعام: 79]
মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-হাফিয আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আল-আব্বাস বিন ইয়াকুব আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আহমদ বিন আল-ফদল আস-সায়িগ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আদম বিন আবি ইয়াস আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবু জাফর আর-রাজি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, সাঈদ বিন মাসরুক আবু আদ-দুহা থেকে বর্ণনা করেছেন: "আর তোমাদের ইলাহ একক ইলাহ" [আল-বাকারা: ১৬৩]। তিনি বলেন: যখন এই আয়াতটি নাযিল হলো, মুশরিকরা বিস্মিত হলো এবং বললো: মুহাম্মদ বলছে যে তোমাদের ইলাহ একক ইলাহ, সে যদি সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হয় তবে আমাদের কাছে কোনো নিদর্শন নিয়ে আসুক। তখন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল নাযিল করলেন: "নিশ্চয় আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টিতে এবং রাত ও দিনের পরিবর্তনে..." [আল-বাকারা: ১৬৪], তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: "...বিবেচনাবান সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে" [আল-বাকারা: ১৬৪]। শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: আল্লাহ আযযা ওয়া জাল আসমানসমূহের সৃষ্টি এবং এর মধ্যে থাকা ⦗পৃষ্ঠা: ৩৯⦘ সূর্য, চন্দ্র ও অনুগত নক্ষত্ররাজির কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি জমিনের সৃষ্টি এবং এর মধ্যে থাকা সমুদ্র, নদী, পাহাড় ও খনিজ সম্পদের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি রাত ও দিনের পরিবর্তন এবং একটির দ্বারা অন্যটির অংশ গ্রহণ করার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি সমুদ্রে বিচরণকারী সেই নৌযানের কথা উল্লেখ করেছেন যা মানুষের উপকারে আসে। তিনি আকাশ থেকে বর্ষিত বৃষ্টির কথা উল্লেখ করেছেন যার মধ্যে ভূখণ্ডের জীবন নিহিত রয়েছে। এর মাধ্যমে এবং রাত ও দিনের মধ্যে আল্লাহ যে গরম ও শীতের পর্যায়ক্রম রেখেছেন, তার মাধ্যমে বান্দাদের, গবাদি পশুর এবং অন্যান্য বিচরণশীল প্রাণীর রিজিক পূর্ণ হয়। তিনি পৃথিবীতে ছড়িয়ে থাকা বৈচিত্র্যময় আকৃতি ও দেহের এবং ভিন্ন ভিন্ন ভাষা ও বর্ণের সকল বিচরণশীল প্রাণীর কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তন এবং আসমান ও জমিনের মাঝখানে অনুগত মেঘমালার কথা এবং এগুলোর মধ্যে প্রাণীকুলের জন্য থাকা উপযোগিতাগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন। আর এই সবকিছুর মধ্যেই বোধশক্তিসম্পন্ন সম্প্রদায়ের জন্য সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলি রয়েছে। অতঃপর তিনি অন্য আয়াতে এগুলোর প্রতি দৃষ্টিপাত করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলেছেন: "বলুন, তোমরা লক্ষ্য করো আসমানসমূহ ও জমিনে কী কী আছে" [ইউনূস: ১০১]। অর্থাৎ—আল্লাহই ভালো জানেন—সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলি ও উজ্জ্বল প্রমাণাদির প্রতি দৃষ্টিপাত করো। এর কারণ হলো, যখন তুমি তোমার চোখ দিয়ে এই জগতের গঠন পর্যবেক্ষণ করবে এবং তোমার চিন্তা দিয়ে তা বিবেচনা করবে, তখন তুমি একে এমন এক নির্মিত ঘরের মতো দেখতে পাবে যেখানে তার অধিবাসীদের প্রয়োজনীয় সকল সরঞ্জাম ও উপকরণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আসমান ছাদের মতো উত্তোলিত, জমিন কার্পেটের মতো বিছানো, নক্ষত্ররাজি প্রদীপের মতো সাজানো, মণি-মুক্তা ভাণ্ডারের মতো সঞ্চিত, বিভিন্ন প্রকার উদ্ভিদ খাদ্য, পোশাক ও প্রয়োজনের জন্য প্রস্তুত, নানা শ্রেণির প্রাণী বাহন হিসেবে অনুগত ও বিভিন্ন উপকারে ব্যবহৃত, আর মানুষ হলো সেই ঘরের মালিকের মতো যাকে এর মধ্যকার সবকিছুর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে এই সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে যে, এই জগত এক সুনিপুণ পরিকল্পনা, পরিমাপ ও শৃঙ্খলার সাথে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং এর একজন প্রজ্ঞাবান স্রষ্টা রয়েছেন যিনি পূর্ণ ক্ষমতার অধিকারী ও অতুলনীয় প্রজ্ঞার মালিক। আমি আবু সুলায়মান আল-খাত্তাবি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কিতাবে যা পড়েছি, এটি তারই অংশ। ⦗পৃষ্ঠা: ৪০⦘ শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: অতঃপর আল্লাহ তাআলা অন্য আয়াতে আসমান ও জমিনের রাজত্ব এবং তাঁর অন্যান্য সৃষ্টির প্রতি লক্ষ্য করার জন্য তাদের উৎসাহিত করেছেন। তিনি বলেছেন: "তারা কি আসমান ও জমিনের রাজত্ব এবং আল্লাহ যা কিছু সৃষ্টি করেছেন সে সম্পর্কে এবং তাদের আয়ুষ্কাল হয়তো নিকটবর্তী হয়ে এসেছে—এ বিষয়ে লক্ষ্য করেনি? সুতরাং এরপর আর কোন কথায় তারা ঈমান আনবে?" [আল-আরাফ: ১৮৫]। এখানে 'মালাকুত' (রাজত্ব) বলতে নিদর্শনাবলি বোঝানো হয়েছে। তিনি বলছেন: তারা কি চিন্তা ও গবেষণার দৃষ্টিতে তা দেখেনি? যাতে তারা এর পরিবর্তনশীলতা ও নতুন নতুন বিষয় ঘটার বিষয়টি দিয়ে একথার প্রমাণ পেতে পারে যে, এগুলো সৃজিত বস্তু। আর সৃজিত বস্তু এমন এক স্রষ্টা ছাড়া অমুখাপেক্ষী হতে পারে না যিনি একে এমন এক আকৃতিতে তৈরি করেছেন যাতে তাঁর ওপর ওইসব বিষয় প্রযোজ্য হওয়া অসম্ভব যা সৃজিত বস্তুর ওপর প্রযোজ্য হয়। যেমন ইব্রাহিম খলীল (আলাইহিস সালাম) এ ধরনের বিষয়ের মাধ্যমেই দলিল পেশ করেছিলেন; ফলে তিনি এসবকিছু থেকে বিমুখ হয়ে সেই রবের দিকে মনোনিবেশ করেছিলেন যিনি এগুলোর স্রষ্টা ও উদ্ভাবক। তিনি বলেছিলেন: "নিশ্চয় আমি একনিষ্ঠভাবে তাঁর দিকে মুখ ফেরালাম যিনি আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই।" [আল-আনআম: ৭৯]
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিকাদ লিল-বায়হাকী
(পৃষ্ঠা: ٤١)
أَخْبَرَنَا أَبُو زَكَرِيَّا بْنُ أَبِي إِسْحَاقَ، أنا أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدُوسٍ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ سَعِيدٍ الدَّارِميُّ، ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، فِي قَوْلِهِ عز وجل: {وَكَذَلِكَ نُرِي إِبْرَاهِيمَ مَلَكُوتَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ} [الأنعام: 75] ، يَعْنِي بِهِ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ وَالنُّجُومَ، لَمَّا رَأَى {كَوْكَبًا قَالَ هَذَا رَبِّي} [الأنعام: 76] ، حَتَّى غَابَ، فَلَمَّا غَابَ قَالَ: {لَا أُحِبُّ الْآفِلِينَ فَلَمَّا رَأَى الْقَمَرَ بَازِغًا قَالَ هَذَا رَبِّي} [الأنعام: 77] ، حَتَّى غَابَ، فَلَمَّا غَابَ قَالَ: {لَئِنْ لَمْ يَهْدِنِي رَبِّي لَأَكُونَنَّ مِنَ الْقَوْمِ الضَّالِّينَ} [الأنعام: 77] ، {فَلَمَّا رَأَى الشَّمْسَ بَازِغةً قَالَ هَذَا رَبِّي هَذَا أَكْبَرُ} [الأنعام: 78] ، حَتَّى غَابَتْ، فَلَمَّا غَابَتْ {قَالَ يَا قَوْمِ إِنِّي بَرِيءٌ مِمَّا تُشْرِكُونَ إِنِّي وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ} [الأنعام: 78] الْآيَةَ قَالَ الشَّيْخُ أَحْمَدُ رحمه الله: وَحَثَّهُمْ عَلَى النَّظَرِ فِي أَنْفُسِهِمْ وَالتَّفَكُّرِ فيهَا، فَقَالَ: {وَفِي أَنْفُسِكُمْ أَفَلَا تُبْصِرُونَ} [الذاريات: 21] ، يَعْنِي لِمَا فِيهَا مِنَ الْإِشَارَةِ إِلَى آثَارِ الصَّنْعَةِ الْمَوْجُودَةِ فِي الْإِنْسَانِ مِنْ يَدَيْنِ يَبْطُشُ بِهِمَا، وَرِجْلَيْنِ يَمْشِي عَلَيْهِمَا، وَعَيْنٍ يُبْصِرُ بِهَا، وَأُذُنٍ يَسْمَعُ بِهَا، وَلِسَانٍ يَتَكَلَّمُ بِهِ، وَأَضْرَاسٍ تَحْدُثُ لَهُ عِنْدَ غِنَاهُ عَنِ الرِّضَاعِ، وَحَاجَتِهِ إِلَى الْغِذَاءِ يَطْحَنُ بِهَا الطَّعَامَ، وَمَعِدَةٍ أُعِدَّتْ لِطَبْخِ الْغِذَاءِ، وَكَبِدٍ يَسْلُكُ إِلَيْهَا صَفْوُهُ، وَعُرُوقٍ وَمَعَابِرَ تنْفُذُ فيهَا إِلَى الْأَطْرَافِ، وَأَمْعَاءٍ يُرَسَّبُ إِلَيْهَا تَفْلُ الْغِذَاءِ، وَيَبْرُزُ عَنْ أَسْفَلِ الْبَدَنِ، فَيُسْتَدَلُّ بِهَا عَلَى أَنَّ لَهَا صَانِعًا حَكِيمًا عَالِمًا قَدِيرًا
আবু যাকারিয়া বিন আবি ইসহাক আমাদের অবহিত করেছেন, আবু আল-হাসান আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুস আমাদের বলেছেন, উসমান বিন সাঈদ আদ-দারিমি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ বিন সালিহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুয়াবিয়া বিন সালিহ থেকে বর্ণিত, তিনি আলি বিন আবি তালহা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেন: {আর এভাবেই আমি ইবরাহীমকে আসমান ও যমীনের রাজত্ব দেখাই} [আল-আনআম: ৭৫]। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্ররাজি। যখন তিনি {একটি নক্ষত্র দেখলেন, তখন বললেন, ‘এটি আমার রব’} [আল-আনআম: ৭৬], যতক্ষণ না তা অদৃশ্য হয়ে গেল। যখন তা অদৃশ্য হয়ে গেল, তখন তিনি বললেন: {আমি অস্তগামীদের ভালোবাসি না। অতঃপর যখন চন্দ্রকে উজ্জ্বল অবস্থায় দেখলেন, তখন বললেন, ‘এটি আমার রব’} [আল-আনআম: ৭৭], যতক্ষণ না তা অদৃশ্য হয়ে গেল। যখন তা অদৃশ্য হয়ে গেল, তখন তিনি বললেন: {যদি আমার রব আমাকে পথ না দেখাতেন, তবে অবশ্যই আমি পথভ্রষ্ট কওমের অন্তর্ভুক্ত হতাম} [আল-আনআম: ৭৭]। {অতঃপর যখন সূর্যকে উজ্জ্বল অবস্থায় দেখলেন, তখন বললেন, ‘এটি আমার রব, এটি সবচেয়ে বড়’} [আল-আনআম: ৭৮], যতক্ষণ না তা অদৃশ্য হলো। যখন তা অদৃশ্য হয়ে গেল, {তখন তিনি বললেন, ‘হে আমার কওম! নিশ্চয়ই তোমরা যা শরিক করছ, তা থেকে আমি মুক্ত। আমি একনিষ্ঠভাবে তাঁর দিকে মুখ ফেরালাম যিনি আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন’} [আল-আনআম: ৭৮] আয়াত পর্যন্ত।
শায়খ আহমদ (রহ.) বলেন: আল্লাহ তাদের নিজেদের সত্তার দিকে তাকাতে এবং তা নিয়ে চিন্তা করতে উৎসাহিত করেছেন। তাই তিনি বলেছেন: {আর তোমাদের নিজেদের মধ্যেও (নিদর্শন রয়েছে), তবে কি তোমরা দেখবে না?} [আয-যারিয়াত: ২১]। অর্থাৎ এর দ্বারা মানুষের মধ্যে বিদ্যমান নিপুণ কারুকার্যের নিদর্শনের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে; যেমন তার দুটি হাত যা দিয়ে সে পাকড়াও করে, দুটি পা যার ওপর সে হাঁটে, চোখ যা দিয়ে সে দেখে, কান যা দিয়ে সে শোনে, জিহ্বা যা দিয়ে সে কথা বলে এবং দাঁত যা তার দুধ পান করার প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে খাদ্যের প্রয়োজনের সময় গজায় যা দিয়ে সে খাবার চিবিয়ে খায়। আরও রয়েছে পাকস্থলী যা খাদ্য পরিপাকের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে, কলিজা বা যকৃৎ যাতে খাদ্যের সারাংশ পৌঁছায়, শিরা-উপশিরা ও পথসমূহ যার মাধ্যমে তা দেহের প্রান্তসীমায় পৌঁছায় এবং অন্ত্র যেখানে খাদ্যের বর্জ্য জমা হয় এবং দেহের নিম্নভাগ দিয়ে বের হয়ে যায়। এসবের মাধ্যমে এই প্রমাণ পাওয়া যায় যে, এগুলোর একজন প্রজ্ঞাময়, মহাজ্ঞানী ও সর্বশক্তিমান নির্মাতা রয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিকাদ লিল-বায়হাকী
(পৃষ্ঠা: ٤١)
أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الرُّوذْبَارِيُّ، أنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّفَّارُ، ثنا عَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدٍ، ثنا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، ثنا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُرْتَفِعِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، {وَفِي أَنْفُسِكُمْ أَفَلَا تُبْصِرُونَ} [الذاريات: 21] ، قَالَ: سَبِيلُ الْخَلَاءِ وَالْبَوْلِ
আবু আলি আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আলি আর-রুজবারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইসমাইল বিন মুহাম্মদ আস-সাফফার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্বাস বিন মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উবাইদুল্লাহ বিন মুসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে জুরাইজ থেকে বর্ণিত, তিনি মুহাম্মদ বিন আল-মুরতাফি' থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন আয-যুবাইর থেকে বর্ণনা করেন: {আর তোমাদের নিজেদের মধ্যেও; তোমরা কি তবে প্রত্যক্ষ করবে না?} [আয-যারিয়াত: ২১], তিনি বলেন: (এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো) মল ও মূত্র ত্যাগের পথ।
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিকাদ লিল-বায়হাকী
(পৃষ্ঠা: ٤٢)
وَأَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ الْأَدِيبُ، ثنا مَحْمُودُ بْنُ مُحَمَّدٍ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْهَيْثَمِ، ثنا الْأَصْمَعِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنَ السَّمَّاكِ، يَقُولُ لِرَجُلٍ: تَبَارَكَ مَنْ خَلَقَكَ فَجَعَلَكَ تُبْصِرُ بِشَحْمٍ، وَتَسْمَعُ بِعَظْمٍ، وَتَتَكَلَّمُ بِلَحْمٍ. قُلْنَا: ثُمَّ إِنَّا رأَيْنَا أَشْيَاءَ مُتَضَادَّةً مِنْ شَأَنِهَا التنَافُرُ وَالتَّبَايُنُ وَالتَّفَاسُدُ مَجْمُوعةً فِي بَدَنِ الْإِنْسَانِ وَأَبْدَانِ سَائِرِ الْحَيَوَانِ، وَهِيَ الْحَرَارَةُ وَالْبُرُودَةُ، وَالرُّطُوبَةُ وَالْيُبُوسَةُ، فَقُلْنَا: إِنَّ جَامِعًا جَمَعَهَا وَقَهَرَهَا عَلَى الِاجْتِمَاعِ وَأَقَامَهَا بِلُطْفِهِ، وَلَوْلَا ذَلِكَ لَتَنَافَرَتْ وَلَتَفَاسَدَتْ، وَلَوْ جَازَ أَنْ تَجْتَمِعَ الْمُتَضَادَّاتُ، وَالْمُتَنَافِرَاتُ، وَتَتَقَاوَمَ مِنْ غَيْرِ جَامِعٍ يَجْمَعُهَا لَجَازَ أَنْ يَجْتَمِعَ الْمَاءُ وَالنَّارُ، وَيَتَقَاوَمَا مِنْ ذَاتِهِمَا مِنْ غَيْرِ جَامِعٍ يَجْمَعُهَا وَمُقِيمٍ يُقِيمُهَا، وَهَذَا مُحَالٌ لَا يُتَوَهَّمُ، فَثَبَتَ أَنَّ اجْتِمَاعَهَا إِنَّمَا كَانَ بِجَامِعٍ قَهَرَهَا عَلَى الِاجْتِمَاعِ وَالِالْتِئَامِ وَهُوَ اللَّهُ الْوَاحِدُ الْقَهَّارُ وَقَدْ حُكِيَ عَنِ الشَّافِعِيِّ رحمه الله أَنَّهُ احْتَجَّ بِقَرِيبٍ مِنْ هَذَا الْمَعْنَى حِينَ سَأَلَهُ الْمُرَيْسِيُّ عَنْ دَلَائِلِ التَّوْحِيدِ فِي مَجْلِسِ الرَّشِيدِ، وَاحْتَجَّ أَيْضًا بِالْآيَةِ الَّتِي ذَكَرْنَاهَا فِي أَوَّلِ الْبَابِ وَبَاختلَافِ الْأَصْوَاتِ، قُلْنَا: وَقَدْ بَيَّنَ اللَّهُ تَعَالَى فِي كِتَابِهِ الْعَزِيزِ تَحَوُّلَ أَنْفُسِنَا مِنْ حَالَةٍ إِلَى حَالَةٍ وَتَغَيُّرَهَا؛ لِيُسْتَدَلَّ بِذَلِكَ عَلَى خَالِقِهَا وَمُحَوِّلِهَا، فَقَالَ: {مَا لَكُمْ لَا تَرْجُونَ لِلَّهِ وَقَارًا وَقَدْ خَلَقَكُمْ أَطْوَارًا} [نوح: 14] ، وَقَالَ: {وَلَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنْسَانَ مِنْ ⦗ص: 43⦘ سُلَالَةٍ مِنْ طِينٍ ثُمَّ جَعَلْنَاهُ نُطْفَةً فِي قَرَارٍ مَكِينٍ ثُمَّ خَلَقْنَا النُّطْفَةَ عَلَقَةً فَخَلَقْنَا الْعَلَقَةَ مُضْغَةً فَخَلَقْنَا الْمُضْغَةَ عِظَامًا فَكَسَوْنَا الْعِظَامَ لَحْمًا ثُمَّ أَنْشَأْنَاهُ خَلْقًا آخَرَ فَتَبَارَكَ اللَّهُ أَحْسَنُ الْخَالِقِينَ ثُمَّ إِنَّكُمْ بَعْدَ ذَلِكَ لَمَيِّتُونَ} [المؤمنون: 12] ، فَالْإِنْسَانُ إِذَا فَكَّرَ فِي نَفْسِهِ رَآهَا مُدَبَّرَةً، وَعَلَى أَحْوَالٍ شَتَّى مُصَرَّفَةً، كَانَ نُطْفَةً، ثُمَّ عَلَقَةً، ثُمَّ مُضْغَةً، ثُمَّ لَحْمًا وَعَظْمًا، فَيَعْلَمُ أَنَّهُ لِمْ يَنْقِلْ نَفْسَهُ منْ حَالِ النَّقْصِ إِلَى حَالِ الْكَمَالِ؛ لِأَنَّهُ لَا يَقْدِرُ أَنْ يُحْدِثَ لِنَفْسِهِ فِي الْحَالِ الْأَفْضَلِ الَّتِي هِيَ كَمَالُ عَقْلِهِ وَبُلُوغُ أَشُدِّهِ عُضْوًا مِنَ الْأَعْضَاءِ، وَلَا يُمْكِنُهُ أَنْ يَزِيدَ فِي جَوَارِحِهِ جَارِحَةً، فَيَدُلُّهُ ذَلِكَ عَلَى أَنَّهُ فِي حَالِ نَقْصِهِ وَأَوَانِ ضَعْفِهِ عَنْ فِعْلِ ذَلِكَ أَعْجَزُ، وَقَدْ يَرَى نَفْسَهُ شَابًّا ثُمَّ كَهْلًا ثُمَّ شَيْخًا، وَهُوَ لَمْ يَنْقُلْ نَفْسَهُ مِنْ حَالِ الشَّبَابِ وَالْقُوَّةِ إِلَى الشَّيْخُوخَةِ وَالْهَرَمِ، وَلَا اخْتَارَهُ لِنَفْسِهِ وَلَا فِي وُسْعِهِ أَنْ يُزَايِلَ حَالَ الْمَشِيبِ وَيُرَاجِعَ قُوَّةَ الشَّبَابِ، فَيَعْلَمُ بِذَلِكَ أَنَّهُ لَيْسَ هُوَ الَّذِي فَعَلَ هَذِهِ الْأَفْعَالَ بِنَفْسِهِ، وَأَنَّ لَهُ صَانِعًا صَنَعَهُ، وَنَاقِلًا نَقَلَهُ مِنْ حَالٍ إِلَى حَالٍ، وَلَوْلَا ذَلِكَ لِمْ تَتَبَدَّلْ أَحْوَالُهُ بِلَا نَاقِلٍ وَلَا مُدَبِّرٍ، ثُمَّ يَعْلَمُ أَنَّهُ لَا يَتَأَتَّى الْفِعْلُ الْمُحْكَمُ الْمُتْقَنُ وَلَا يُوجَدُ الْأَمْرُ وَالنَّهْيُ مِمَّنْ لَا حَيَاةَ لَهُ، وَلَا عِلْمَ، وَلَا قُدْرَةَ، وَلَا إِرَادَةَ، وَلَا سَمْعَ، وَلَا بَصَرَ، وَلَا كَلَامَ. فَيَسْتَدِلُّ بِذَلِكَ عَلَى أَنَّ صَانِعَهُ حَيٌّ عَالِمٌ قَادِرٌ مُرِيدٌ سَمِيعٌ بَصِيرٌ مُتَكَلِّمٌ، ثُمَّ يَعْلَمُ اسْتِغْنَاءَ الْمصْنُوعِ بِصَانِعٍ وَاحِدٍ، وَعُلُوَّ بَعْضِهِمْ عَلَى بَعْضٍ، وَمَا يَدْخُلُ مِنَ الْفَسَادِ فِي الْخَلْقِ أَنْ لَوْ كَانَ مَعَهُ آلِهَةٌ، فَيَسْتَدِلُّ بِذَلِكَ عَلَى أَنَّهُ إِلَهٌ وَاحِدٌ لَا شَرِيكَ لَهُ كَمَا قَالَ عَزَّ مِنْ قَائِلٍ: {مَا اتَّخَذَ اللَّهُ مِنْ وَلَدٍ وَمَا كَانَ مَعَهُ مِنْ إِلَهٍ إِذًا لَذَهَبَ كُلُّ إِلَهٍ بِمَا خَلَقَ وَلَعَلَا بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ سُبْحَانَ اللَّهِ عَمَّا يَصِفُونَ عَالِمِ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَتَعَالَى عَمَّا ⦗ص: 44⦘ يُشْرِكُونَ} [المؤمنون: 91] ، وَقَالَ: {لَوْ كَانَ فِيهِمَا آلِهَةٌ إِلَّا اللَّهُ لَفَسَدَتَا فَسُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَرْشِ عَمَّا يَصِفُونَ} [الأنبياء: 22] ، ثُمَّ يَعْلَمُ أَنَّ صَانِعَ الْعَالَمِ لَا يُشْبِهُ شَيْئًا مِنَ الْعَالَمِ؛ لِأَنَّهُ لَوْ أَشْبَهَ شيْئًا مِنَ الْمُحْدَثَاتِ بِجِهَةٍ مِنَ الْجِهَاتِ لَأَشْبَهَهُ فِي الْحُدُوثِ مِنْ تِلْكَ الْجِهَةِ، وَمُحَالٌ أَنْ يَكُونَ الْقَدِيمُ مُحْدَثًا، أَوْ يَكُونَ قَدِيمًا مِنْ جِهَةٍ حَدِيثًا مِنْ جِهَةٍ؛ وَلِأَنَّهُ يَسْتَحِيلُ أَنْ يَكُونَ الْفَاعِلُ يَفْعَلُ مِثْلَهُ، كَالشَّاتِمِ لَا يَكُونُ شَتْمًا وَقَدْ فَعَلَ الشَّتْمَ، وَالْكَاذِبُ لَا يَكُونُ كَذِبًا وَقَدْ فَعَلَ الْكَذِبَ؛ وَلِأَنَّهُ يَسْتَحِيلُ أَنْ يَكُونَ شَيْئَانِ مِثْلَيْنِ يَفْعَلُ أَحَدُهُمَا صَاحِبَهُ؛ لِأَنَّهُ لَيْسَ أَحَدُ الْمِثْلَيْنِ بِأَنْ يَفْعَلَ صَاحِبَهُ أَوْلَى مِنَ الْآخَرِ، وَإِذَا كَانَ كَذَلِكَ لَمْ يَكُنْ لِأَحَدِهِمَا عَلَى الْآخَرِ مَزِيَّةٌ يَسْتَحِقُّ لِأَجْلِهَا أَنْ يَكُونَ مُحْدِثًا لَهُ؛ لِأَنَّ هَذَا حُكْمُ الْمِثْلَيْنِ فِيمَا تَمَاثَلَا فِيهِ، وَإِذَا كَانَ كَذَلِكَ اسْتَحَالَ أَنْ يَكُونَ الْبَارِي سُبْحَانَهُ مُشْبِهًا لِلْأَشْيَاءِ، فهُوَ كَمَا وَصَفَ نفْسَهُ {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} [الشورى: 11] ، وَقَالَ: {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ، اللَّهُ الصَّمَدُ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ} [الإخلاص: 1]
এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াহইয়া ইবনে ইবরাহিম, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে উবাইদুল্লাহ আল-আদিব, মাহমুদ ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে হাইসাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আসমাঈ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনুস সাম্মাককে এক ব্যক্তিকে বলতে শুনেছি: বরকতময় সেই সত্তা যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তোমাকে চর্বি দিয়ে দেখার, হাড় দিয়ে শোনার এবং গোশত দিয়ে কথা বলার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। আমরা বলেছি: অতঃপর আমরা মানুষের দেহে এবং অন্যান্য প্রাণীর দেহে এমন কিছু পরস্পরবিরোধী জিনিস একত্র দেখতে পেয়েছি যেগুলোর বৈশিষ্ট্য হলো একে অপরের থেকে দূরে থাকা, ভিন্ন হওয়া এবং ধ্বংস করা। সেগুলো হলো উষ্ণতা ও শীতলতা, এবং আর্দ্রতা ও শুষ্কতা। তাই আমরা বলেছি: নিশ্চয়ই একজন একত্রকারী এগুলোকে একত্র করেছেন এবং এগুলোকে একত্র থাকতে বাধ্য করেছেন এবং তাঁর অনুগ্রহে এগুলোকে প্রতিষ্ঠিত রেখেছেন। যদি তা না হতো, তবে এগুলো একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত এবং ধ্বংস হয়ে যেত। আর যদি একত্রকারী ছাড়া পরস্পরবিরোধী ও বিকর্ষণকারী জিনিসগুলো একত্র হওয়া এবং টিকে থাকা সম্ভব হতো, তবে কোনো একত্রকারী এবং প্রতিষ্ঠাকারী ছাড়াই পানি ও আগুন একত্র হওয়া এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে টিকে থাকা সম্ভব হতো; অথচ এটি অসম্ভব ও অকল্পনীয়। সুতরাং এটি প্রমাণিত হলো যে, এগুলোর একত্র হওয়া কেবল একজন একত্রকারীর মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে যিনি এগুলোকে একত্র হতে এবং মিশে থাকতে বাধ্য করেছেন; আর তিনি হলেন আল্লাহ, যিনি এক ও মহাপরাক্রমশালী। ইমাম শাফেঈ রহমাতুল্লাহি আলাইহি থেকেও বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি এ ধরনের যুক্তির মাধ্যমেই হারুনুর রশিদের মজলিসে মুরাইসির নিকট তাওহীদের প্রমাণ উপস্থাপন করেছিলেন। তিনি সেই আয়াতটির মাধ্যমেও যুক্তি দিয়েছিলেন যা আমরা অধ্যায়ের শুরুতে উল্লেখ করেছি এবং কণ্ঠস্বরের ভিন্নতার মাধ্যমেও। আমরা বলেছি: আল্লাহ তাআলা তাঁর সম্মানিত কিতাবে আমাদের আত্মার এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় পরিবর্তন ও রূপান্তর স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন; যেন এর মাধ্যমে এর স্রষ্টা ও পরিবর্তনকারীর অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়। তিনি বলেছেন: "তোমাদের কী হলো যে তোমরা আল্লাহর মহত্ত্ব আশা করো না? অথচ তিনি তোমাদেরকে বিভিন্ন পর্যায়ে সৃষ্টি করেছেন।" [নূহ: ১৪]। এবং তিনি বলেছেন: "আর অবশ্যই আমি মানুষকে ⦗পৃষ্ঠা: ৪৩⦘ মাটির নির্যাস থেকে সৃষ্টি করেছি। তারপর আমি তাকে শুক্রবিন্দু হিসেবে এক নিরাপদ আধারে স্থাপন করেছি। তারপর আমি শুক্রবিন্দুকে জমাট রক্তে পরিণত করেছি, অতঃপর জমাট রক্তকে মাংসপিণ্ডে পরিণত করেছি, এরপর মাংসপিণ্ডকে হাড়ে পরিণত করেছি, তারপর হাড়কে মাংস দ্বারা আবৃত করেছি। সবশেষে আমি তাকে অন্য এক সৃষ্টিরূপে গড়ে তুলেছি। সুতরাং সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ কতই না বরকতময়! এরপর তোমরা অবশ্যই মৃত্যুবরণ করবে।" [আল-মুমিনুন: ১২-১৫]। মানুষ যখন নিজের সম্পর্কে চিন্তা করে, তখন সে নিজেকে পরিচালিত এবং বিভিন্ন অবস্থায় পরিবর্তিত দেখতে পায়। সে প্রথমে শুক্রবিন্দু ছিল, তারপর জমাট রক্ত, তারপর মাংসপিণ্ড, তারপর মাংস ও হাড়। সে তখন বুঝতে পারে যে, সে নিজেকে অপূর্ণাঙ্গ অবস্থা থেকে পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় নিয়ে আসেনি; কারণ সে তার সর্বোত্তম অবস্থায়—যখন তার বুদ্ধি পূর্ণতা পায় এবং সে যৌবনে উপনীত হয়—তখন সে নিজের শরীরের কোনো একটি অঙ্গও সৃষ্টি করতে সক্ষম নয় এবং তার ইন্দ্রিয়গুলোর সাথে একটি ইন্দ্রিয়ও বৃদ্ধি করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। এটি তাকে এই প্রমাণ দেয় যে, যখন সে অপূর্ণাঙ্গ ও দুর্বল অবস্থায় ছিল, তখন এসব কাজ করার ক্ষেত্রে সে আরও বেশি অক্ষম ছিল। সে নিজেকে যুবক হিসেবে দেখে, এরপর মধ্যবয়সী, তারপর বৃদ্ধ হিসেবে। সে নিজেকে যৌবন ও শক্তির অবস্থা থেকে বার্ধক্য ও জরাগ্রস্ত অবস্থায় নিয়ে আসেনি, না সে এটি নিজের জন্য পছন্দ করেছে, আর না বার্ধক্য কাটিয়ে যৌবনের শক্তি ফিরে পাওয়া তার সাধ্যের মধ্যে রয়েছে। এর মাধ্যমে সে জানতে পারে যে, সে নিজে এসব কাজ করেনি; বরং তার একজন নির্মাতা আছেন যিনি তাকে নির্মাণ করেছেন এবং একজন পরিবর্তনকারী আছেন যিনি তাকে এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় পরিবর্তন করেছেন। তা না হলে কোনো পরিবর্তনকারী ও পরিচালক ছাড়াই তার অবস্থার পরিবর্তন হতো না। অতঃপর সে জানতে পারে যে, সুনিপুণ ও সুসংহত কাজ সম্পন্ন হওয়া এবং আদেশ ও নিষেধ প্রদান করা এমন কারো পক্ষ থেকে সম্ভব নয় যার জীবন নেই, জ্ঞান নেই, ক্ষমতা নেই, ইচ্ছা নেই, শ্রবণশক্তি নেই, দৃষ্টিশক্তি নেই এবং কথা বলার ক্ষমতা নেই। এর মাধ্যমে সে প্রমাণ পায় যে, তার নির্মাতা চিরঞ্জীব, সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান, ইচ্ছাশক্তি সম্পন্ন, সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা এবং কথা বলেন। অতঃপর সে জানতে পারে যে, সৃষ্টির জন্য একজন নির্মাতাই যথেষ্ট এবং যদি আল্লাহর সাথে অন্য কোনো উপাস্য থাকত তবে তাদের একজন অন্যজনের ওপর আধিপত্য বিস্তার করত এবং সৃষ্টিজগতে বিপর্যয় নেমে আসত। এর মাধ্যমে সে প্রমাণ পায় যে, তিনি একমাত্র ইলাহ, তাঁর কোনো শরিক নেই। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "আল্লাহ কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি এবং তাঁর সাথে অন্য কোনো ইলাহ নেই; থাকলে প্রত্যেক ইলাহ নিজ নিজ সৃষ্টি নিয়ে আলাদা হয়ে যেত এবং তাদের একে অন্যের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করত। তারা যা বর্ণনা করে তা থেকে আল্লাহ পবিত্র। তিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা; তারা যাকে ⦗পৃষ্ঠা: ৪৪⦘ শরিক করে তিনি তার থেকে অনেক ঊর্ধ্বে।" [আল-মুমিনুন: ৯১-৯২]। এবং তিনি বলেছেন: "যদি আসমান ও জমিনে আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ থাকত, তবে উভয়ই ধ্বংস হয়ে যেত। সুতরাং তারা যা বর্ণনা করে তা থেকে আরশের রব আল্লাহ কতই না পবিত্র।" [আল-আম্বিয়া: ২২]। অতঃপর সে জানতে পারে যে, বিশ্বজগতের নির্মাতা সৃষ্টিজগতের কোনো কিছুর সদৃশ নন; কারণ তিনি যদি কোনো দিক থেকে সৃষ্ট বস্তুর সদৃশ হতেন, তবে সেই দিক থেকে তিনিও সৃষ্ট হতেন। আর যা অনাদি তা সৃষ্ট হওয়া অসম্ভব, অথবা কোনো দিক থেকে অনাদি আবার কোনো দিক থেকে সৃষ্ট হওয়াও অসম্ভব। কারণ কর্তা নিজের মতো কিছু সৃষ্টি করবেন—এটি অসম্ভব; যেমন গালিদানকারী ব্যক্তি স্বয়ং গালি নয় যদিও সে গালি দিয়েছে, এবং মিথ্যাবাদী ব্যক্তি স্বয়ং মিথ্যা নয় যদিও সে মিথ্যা বলেছে। আর এটিও অসম্ভব যে দুটি সদৃশ বস্তুর একটি অন্যটিকে সৃষ্টি করবে; কারণ দুটি সদৃশ বস্তুর মধ্যে একজন অন্যজনের সৃষ্টিকর্তা হওয়ার দাবিদারের চেয়ে অন্যজন কোনো অংশেই কম নয়। আর যখন বিষয়টি এমন, তখন তাদের একজনের ওপর অন্যজনের এমন কোনো বৈশিষ্ট্য থাকে না যার কারণে সে তাকে সৃষ্টি করার যোগ্য হতে পারে; কারণ সমজাতীয় দুটি বস্তুর ক্ষেত্রে এটাই নিয়ম। আর যখন বিষয়টি এমন, তখন স্রষ্টা সুবহানাহু ওয়া তাআলার জন্য অন্য কোনো বস্তুর সদৃশ হওয়া অসম্ভব। সুতরাং তিনি তেমনই যেমন তিনি নিজের বর্ণনা দিয়েছেন: "তাঁর সদৃশ কোনো কিছুই নেই এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।" [আশ-শূরা: ১১]। এবং তিনি বলেছেন: "বলুন, তিনিই আল্লাহ, একক। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেয়া হয়নি। এবং তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।" [আল-ইখলাস: ১-৪]।
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিকাদ লিল-বায়হাকী
(পৃষ্ঠা: ٤٤)
حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، أنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ الْحَافِظُ، وَأَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ صَالِحِ بْنِ هَانِئٍ، قَالَا: ثنا الْحُسَيْنُ بْنُ الْفَضْلِ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ سَابِقٍ، ثنا أَبُو جَعْفَرٍ الرَّازِيُّ، عَنِ الرَّبِيعِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ، عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ، أَنَّ الْمُشْرِكِينَ، قَالُوا: يَا مُحَمَّدُ، انْسُبْ لَنَا رَبَّكَ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ تبارك وتعالى {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ اللَّهُ الصَّمَدُ} [الإخلاص: 2] ؛ لِأَنَّهُ لَيْسَ شَيْءٌ يُولَدُ إِلَّا سَيَمُوتُ، وَلَيْسَ شَيْءٌ يَمُوتُ إِلَا سَيُوَرَّثُ، وَإِنَّ اللَّهَ تَبَارَكَ لَا يَمُوتُ وَلَا يُوَرَّثُ، {وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ} [الإخلاص: 4] ، لَمْ يَكُنْ لَهُ شَبِيهٌ وَلَا عِدْلٌ {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ} [الشورى: 11]
আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-হাফিজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব আল-হাফিজ এবং আবু জাফর মুহাম্মদ বিন সালিহ বিন হানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: হুসাইন বিন আল-ফজল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন সাবিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু জাফর আর-রাজি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন রাবি বিন আনাস থেকে, তিনি আবুল আলিয়াহ থেকে, তিনি উবাই বিন কাব (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, মুশরিকরা বলেছিল: হে মুহাম্মদ, আমাদের কাছে আপনার রবের বংশপরিচয় বর্ণনা করুন। তখন আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা অবতীর্ণ করলেন: {বলুন, তিনি আল্লাহ, এক। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী} [আল-ইখলাস: ২]; কারণ যার জন্ম হয় এমন প্রতিটি সত্তাই মৃত্যুবরণ করবে, আর যা মৃত্যুবরণ করে তার উত্তরাধিকারী রাখা হয়, অথচ আল্লাহ তাবারাকা মৃত্যুবরণ করেন না এবং তাঁর কোনো উত্তরাধিকারীও হয় না, {এবং তাঁর সমতুল্য কেউ নেই} [আল-ইখলাস: ৪], অর্থাৎ তাঁর কোনো সদৃশ নেই এবং কোনো সমকক্ষ নেই {কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়} [আশ-শুরা: ১১]।
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিকাদ লিল-বায়হাকী
(পৃষ্ঠা: ٤٥)
أَخْبَرَنَا أَبُو زَكَرِيَّا يَحْيَى بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أنا أَبُو الْحَسَنِ الطَّرَائِفِيُّ، ثنا عُثْمَانُ بْنُ سَعِيدٍ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، فِي قَوْلِهِ عز وجل: {وَلِلَّهِ الْمَثَلُ الْأَعْلَى} [النحل: 60] ، قَالَ: يَقُولُ: لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ، وَفِي قَوْلِهِ: {هَلْ تَعْلَمُ لَهُ سَمِيًّا} [مريم: 65] ، يَقُولُ: هَلْ تَعْلَمُ لِلرَّبِّ مَثَلًا أَوْ شَبِيهًا؟ قُلْنَا: وَقَدْ سَلَكَ بَعْضُ مَشَايِخِنَا رَحِمَنَا اللَّهُ وَإِيَّاهُمْ فِي إِثْبَاتِ الصَّانِعِ، وَحُدُوثِ الْعَالَمِ طَرِيقَ الِاسْتِدلَالِ بِمُقَدِّمَاتِ النُّبُوَّةِ، وَمُعْجِزَاتِ الرِّسَالَةِ؛ لِأَنَّ دَلَائِلَهَا مَأْخُوذَةٌ مِنْ طَرِيقِ الْحِسِّ لِمَنْ شَاهَدَهَا، وَمِنْ طَرِيقِ استِفَاضَةِ الْخَبَرِ لِمَنْ غَابَ عَنْهَا، فَلَمَّا ثَبَتَتِ النُّبُوَّةُ صَارَتْ أَصْلًا فِي وُجُوبِ قَبُولِ مَا دَعَا إِلَيْهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، وَعَلَى هَذَا الْوَجْهِ كَانَ إِيمَانُ أَكْثَرِ الْمُسْتَجِيبِينَ ⦗ص: 46⦘ لِلرُّسِلِ صَلَوَاتُ اللَّهِ عَلَيْهِمْ أَجْمَعِينَ
আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে ইবরাহিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল হাসান আত-তারাইফি আমাদের জানিয়েছেন, উসমান ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে সালিহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুয়াবিয়া ইবনে সালিহ থেকে বর্ণিত, তিনি আলি ইবনে আবি তালহা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে মহান আল্লাহর বাণী: {এবং আল্লাহর জন্যই সর্বোচ্চ গুণ} [নাহল: ৬০] সম্পর্কে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: এর অর্থ হলো: তাঁর সদৃশ কেউ নেই। এবং তাঁর বাণী: {তুমি কি তাঁর সমনামের কাউকে জানো?} [মারইয়াম: ৬৫] সম্পর্কে তিনি বলেন: তুমি কি রবের কোনো দৃষ্টান্ত বা সদৃশ কাউকে জানো? আমরা বলি: আমাদের কোনো কোনো শায়খ —আল্লাহ আমাদের ও তাঁদের প্রতি রহম করুন— স্রষ্টার অস্তিত্ব প্রমাণে এবং জগতের নশ্বরতা সাব্যস্ত করতে নবুওয়তের ভূমিকা ও রিসালাতের মুজিযা দ্বারা দালিলিক পথ অনুসরণ করেছেন; কারণ এর প্রমাণাদি যারা স্বচক্ষে দেখেছেন তাদের জন্য ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে গৃহীত হয়েছে, আর যারা অনুপস্থিত তাদের জন্য বহুসূত্রে প্রাপ্ত সংবাদের মাধ্যমে। অতঃপর যখন নবুওয়ত সাব্যস্ত হলো, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা কিছুর দিকে দাওয়াত দিয়েছেন তা গ্রহণ করা ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে এটি মূলে পরিণত হলো। আর এই পদ্ধতিতেই অধিকাংশ সাড়াদানকারীর ঈমান আনয়ন ছিল ⦗পৃষ্ঠা: ৪৬⦘ রাসূলগণের প্রতি, তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহর সালাত বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিকাদ লিল-বায়হাকী
(পৃষ্ঠা: ٤٦)
أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الْمُقْرِئُ رحمه الله، أنا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ يَعْقُوبَ، حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنِي الزُّهْرِيُّ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ، وَعَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ، وَعَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، وَصُلْبُ الْحَدِيثِ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ: إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَمَّا فُتِنَ أَصْحَابُهُ بِمَكَّةَ أَشَارَ عَلَيْهِمْ أَنْ يَلْحَقُوا بأَرْضِ الْحَبَشَةِ. فَذَكَرَ الْحَدِيثَ بِطُولِهِ إِلَى أَنْ قَالَ: فَكَلَّمَهُ جَعْفَرٌ رضي الله عنه، يَعْنِي النَّجَاشِيَّ، فَقَالَ: كُنَّا عَلَى دِينِهِمْ ، يَعْنِي عَلَى دِينِ أَهْلِ مَكَّةَ، حَتَّى بَعَثَ اللَّهُ عز وجل فِينَا رَسُولًا نَعْرِفُ نَسَبَهُ وَصِدْقَهُ وَعَفَافَهُ، فَدَعَا إِلَى أَنْ نَعْبُدَ اللَّهَ وَحْدَهُ لَا نُشْرِكَ بِهِ شيْئًا، وَنَخْلَعَ مَا يَعْبُدُ قَوْمُنَا وَغَيْرُهُمْ مِنْ دُونِهِ، وَأَمَرَنَا بِالْمَعْرُوفِ وَنَهَانَا عَنِ الْمُنْكَرِ، وَأَمَرَنَا بِالصَّلَاةِ وَالصِّيَامِ وَالصَّدَقَةِ وَصِلَةِ الرَّحِمِ وَكُلِّ مَا يُعْرَفُ مِنَ الْأَخْلَاقِ الْحَسَنَةِ، فَتَلَا عَلَيْنَا تَنْزِيلًا جَاءَهُ مِنَ اللَّهِ عز وجل، لَا يُشْبِهُهُ شَيْءٌ غَيْرُهُ، فَصَدَّقْنَاهُ وَآمَنَّا بِهِ، وَعَرَفْنَا أَنَّ مَا جَاءَ بِهِ هُوَ الْحَقُّ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ عز وجل، فَفَارَقْنَا عِنْدَ ذَلِكَ قَوْمَنَا وَآذَوْنَا، فَقَالَ النَّجَاشِيُّ: هَلْ مَعَكُمْ مِمَّا نَزَلَ عَلَيْهِ شَيْءٌ تَقْرَءُونَهُ عَلَيَّ؟ قَالَ جَعْفَرٌ: نَعَمْ، فَقَرَأَ كهيعص. فَلَمَّا قَرَأَهَا بَكَى النَّجَاشِيُّ حَتَّى أَخْضَلَ لِحْيَتَهُ، وَبَكَتْ أَسَاقِفَتُهُ حَتَّى أَخْضَلُوا مَصَاحِفَهُمْ، وَقَالَ النَّجَاشِيُّ: إِنَّ هَذَا الْكَلَامَ وَالْكَلَامَ الَّذِي جَاءَ بِهِ مُوسَى عليه السلام لَيَخْرُجَانِ مِنْ مِشْكَاةٍ وَاحِدَةٍ ⦗ص: 47⦘ قُلْنَا: فهَؤُلَاءِ مَعَ النَّجَاشِيِّ وَأَصْحَابِهِ اسْتَدَلُّوا بِإِعْجَازِ الْقُرْآنِ عَلَى صِدْقِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فيمَا ادَّعَاهُ مِنَ الرِّسَالَةِ، فَاكْتَفَوْا بِهِ وَآمَنُوا بِهِ وَبِمَا جَاءَ بِهِ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ، فَكَانَ فِيمَا جَاءَ بِهِ إِثْبَاتُ الصَّانِعِ وَحُدُوثُ الْعَالَمِ
আমাদের জানিয়েছেন আবু আল-হাসান আলী বিন মুহাম্মদ বিন আলী আল-মুকরি (রহমতুল্লাহি আলাইহি), আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হাসান বিন মুহাম্মদ বিন ইসহাক, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইউসুফ বিন ইয়াকুব, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন নাসর বিন আলী, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ওয়াহব বিন জারীর, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আমার পিতা, মুহাম্মদ বিন ইসহাক থেকে, তিনি বলেন আমার কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন যুহরি, আবু বকর বিন আব্দুর রহমান বিন আল-হারিস বিন হিশাম থেকে, এবং উবায়দুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন উতবাহ বিন মাসউদ থেকে, এবং উরওয়াহ বিন যুবাইর থেকে; আর হাদিসের মূল অংশ আবু বকর বিন আব্দুর রহমান থেকে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রী উম্মে সালামাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণ যখন মক্কায় নির্যাতিত হলেন, তখন তিনি তাদের হাবাশা ভূমিতে চলে যাওয়ার ইঙ্গিত দিলেন। অতঃপর তিনি দীর্ঘ হাদিসটি উল্লেখ করলেন যে পর্যন্ত না তিনি বললেন: অতঃপর জাফর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর সাথে অর্থাৎ নাজাসির সাথে কথা বললেন এবং বললেন: আমরা তাদেরই ধর্মে ছিলাম, অর্থাৎ মক্কাবাসীদের ধর্মে, যতক্ষণ না আল্লাহ আমাদের মধ্যে এমন একজন রসূল পাঠালেন যার বংশপরিচয়, সত্যবাদিতা ও পবিত্রতা সম্পর্কে আমরা অবগত। তিনি আমাদের দাওয়াত দিলেন যেন আমরা এক আল্লাহর ইবাদত করি এবং তাঁর সাথে কাউকে শরিক না করি, আর আমরা এবং আমাদের পূর্বপুরুষরা আল্লাহ ছাড়া অন্য যাদের উপাসনা করতাম তাদের বর্জন করি। তিনি আমাদের সৎ কাজের আদেশ দিলেন এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করলেন, আর আমাদের সালাত, সিয়াম, সদকা, আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা এবং সকল প্রকার উত্তম চরিত্রের আদেশ দিলেন। অতঃপর তিনি আমাদের নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা এক অবতীর্ণ বাণী পাঠ করে শুনালেন, যার সদৃশ অন্য কিছু নেই। সুতরাং আমরা তাঁকে সত্য বলে গ্রহণ করলাম এবং তাঁর প্রতি ঈমান আনলাম এবং জানতে পারলাম যে, তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে যা নিয়ে এসেছেন তা সত্য। এরপর আমরা আমাদের স্বগোত্রীয়দের থেকে বিচ্ছিন্ন হলাম এবং তারা আমাদের কষ্ট দিল। তখন নাজাসি বললেন: তাঁর ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তা থেকে কি তোমাদের কাছে কিছু আছে যা আমাকে পড়ে শুনাবে? জাফর বললেন: হ্যাঁ। অতঃপর তিনি কাফ-হা-ইয়া-আইন-সদ পাঠ করলেন। যখন তিনি তা পাঠ করলেন, তখন নাজাসি এত কাঁদলেন যে তাঁর দাড়ি ভিজে গেল এবং তাঁর বিশপগণও এমনভাবে কাঁদলেন যে তাদের ধর্মগ্রন্থসমূহ ভিজে গেল। নাজাসি বললেন: নিশ্চয়ই এই বাণী এবং মূসা (আলাইহিস সালাম) যা নিয়ে এসেছিলেন তা একই প্রদীপ থেকে নির্গত। ⦗পৃষ্ঠা: ৪৭⦘ আমরা বলি: নাজাসি ও তাঁর সাথীরা কুরআনের অলৌকিকত্বের মাধ্যমে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর রিসালাতের দাবির সত্যতার প্রমাণ গ্রহণ করেছেন। তাঁরা এটিকেই যথেষ্ট মনে করেছেন এবং তাঁর প্রতি ও আল্লাহর পক্ষ থেকে তিনি যা নিয়ে এসেছেন তার প্রতি ঈমান এনেছেন। তিনি যা নিয়ে এসেছিলেন তার মধ্যে স্রষ্টার প্রমাণ এবং জগতের নতুনত্বের (সৃষ্টির) বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিকাদ লিল-বায়হাকী
(পৃষ্ঠা: ٤٧)
أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، ثنا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ الصَّاغَانِيُّ، ثنا أَبُو النَّضْرِ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: كُنَّا نُهِينَا أَنْ نَسْأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ شَيْءٍ، فَكَانَ يُعْجِبُنَا أَنْ يَأْتِيَهُ الرَّجُلُ مِنْ أَهْلِ الْبَادِيَةِ، فَيَسأَلَهُ وَنَحْنُ نَسْمَعُ، فَأَتَاهُ رَجُلٌ مِنْهُمْ، فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ، أَتَانَا رَسُولُكَ فَزَعَمَ أَنَّكَ تَزْعُمُ أَنَّ اللَّهَ أَرْسَلَكَ؟ قَالَ: «صَدَقْتَ» ، قَالَ: فَمَنْ خَلَقَ السَّمَاءَ؟ قَال: «اللَّهُ» ، قَالَ: فَمَنْ خَلَقَ الْأَرْضَ؟ قَالَ: «اللَّهُ» ، قَالَ: فَمَنْ نَصَبَ هَذِهِ الْجِبَالَ؟ قَالَ: «اللَّهُ» ، قَالَ: فَمَنْ جَعَلَ فِيهَا هَذِهِ الْمَنَافِعَ؟ قَالَ: «اللَّهُ» ، قَالَ: فَبِالَّذِي خَلَقَ السَّمَاءَ وَالْأَرْضَ، وَنَصَبَ الْجِبَالَ، وَجَعَلَ فِيهَا هَذِهِ الْمَنَافِعَ، آللَّهُ أَرْسَلَكَ؟ قَالَ: «نَعَمْ» ، قَالَ: وَزَعَمَ رَسُولُكَ أَنَّ عَلَيْنَا خَمْسَ صَلَوَاتٍ فِي يَوْمِنَا وَلَيْلَتِنَا؟ قَالَ: «صَدَقَ» ، قَالَ: فَبِالَّذِي أَرْسَلَكَ آللَّهُ أَمَرَكَ بِهَذَا؟ قَالَ: «نَعَمْ» ، قَالَ: وَزَعَمَ رَسُولُكَ أَنَّ عَلَيْنَا صَدَقَةً فِي أَمْوَالِنَا، قَالَ: «صَدَقَ» ، قَالَ: فَبِالَّذِي أَرْسَلَكَ، آللَّهُ أَمَرَكَ بِهَذَا؟ قَالَ: «نَعَمْ» ، قَالَ: وَزَعَمَ رَسُولُكَ أَنَّ عَلَيْنَا صَوْمَ شَهْرٍ فِي سَنَتِنَا، قَالَ: «صَدَقَ» ، قَالَ: فَبِالَّذِي أَرْسَلَكَ، آللَّهُ أَمَرَكَ بِهَذَا؟ قَالَ: «نَعَمْ» ، قَالَ: وَزَعَمَ رَسُولُكَ أَنَّ عَلَيْنَا حَجَّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا، قَالَ: «صَدَقَ» ، قَالَ: فَبِالَّذِي أَرْسَلكَ، آللَّهُ أَمَرَكَ بِهَذَا؟ قَالَ: «نَعَمْ» ، قَالَ: وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ لَا أَزِيدُ عَلَيْهِنَّ وَلَا أَنْقُصُ مِنْهِنَّ، فَلَمَّا مَضَى قَالَ: «لَئِنْ صَدَقَ لَيَدْخُلَنَّ الْجَنَّةَ» ⦗ص: 48⦘ قَالَ الشَّيْخُ رحمه الله: فَهَذَا السَّائِلُ كَانَ قَدْ سَمِعَ بِمُعْجِزَاتِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَكَانَتْ مُسْتَفِيضَةً فِي زَمَانِهِ، وَلَعَلَّهُ أَيْضًا مَا كَانَ يَتْلُوهُ مِنَ الْقُرْآنِ فَاقْتَصَرَ فِي إِثْبَاتِ الْخَالِقِ وَمَعْرِفَةِ خَلْقِهِ عَلَى سُؤَالِهِ وَجَوَابِهِ عَنْهُ، وَقَدْ طَالَبَهُ بَعْضُ مَنْ لَمْ يَقِفْ عَلَى مُعْجِزاتِهِ بِأَنْ يُرِيَهُ مِنْ آيَاتِهِ مَا يَدُلُّ عَلَى صِدْقِهِ، فَلَمَّا أَرَاهُ وَوَقَفَهُ عَلَيْهِ آمَنَ بِهِ وَصَدَّقَهُ فِيمَا جَاءَ بِهِ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ
আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিয আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আস-সাগানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু নাদর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুলাইমান ইবনুল মুগিরা আমাদের নিকট সাবিত হতে এবং তিনি আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতে নিষেধ করা হয়েছিল। তাই মরুভূমির কোনো ব্যক্তি এসে তাঁকে প্রশ্ন করবে আর আমরা তা শুনব—এটা আমাদের কাছে খুব ভালো লাগত। জনৈক ব্যক্তি তাঁদের নিকট এসে বলল: হে মুহাম্মদ, আপনার প্রেরিত দূত আমাদের নিকট এসেছিল এবং সে দাবি করেছে যে আপনি বলেন যে আল্লাহ আপনাকে পাঠিয়েছেন? তিনি বললেন: "তুমি সত্য বলেছ।" সে বলল: তবে আকাশ কে সৃষ্টি করেছেন? তিনি বললেন: "আল্লাহ।" সে বলল: তবে পৃথিবী কে সৃষ্টি করেছেন? তিনি বললেন: "আল্লাহ।" সে বলল: তবে এই পাহাড়গুলো কে স্থাপন করেছেন? তিনি বললেন: "আল্লাহ।" সে বলল: তবে এতে এই সকল উপকারিতা কে নিহিত রেখেছেন? তিনি বললেন: "আল্লাহ।" সে বলল: তবে সেই সত্তার কসম, যিনি আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, পাহাড়সমূহ স্থাপন করেছেন এবং এতে এই সকল উপকারিতা নিহিত রেখেছেন, আল্লাহ কি আপনাকে পাঠিয়েছেন? তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" সে বলল: আপনার প্রেরিত দূত দাবি করেছে যে আমাদের ওপর দিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ? তিনি বললেন: "সে সত্য বলেছে।" সে বলল: তবে সেই সত্তার কসম যিনি আপনাকে পাঠিয়েছেন, আল্লাহ কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" সে বলল: আপনার প্রেরিত দূত দাবি করেছে যে আমাদের ধন-সম্পদে সদকা (যাকাত) রয়েছে? তিনি বললেন: "সে সত্য বলেছে।" সে বলল: তবে সেই সত্তার কসম যিনি আপনাকে পাঠিয়েছেন, আল্লাহ কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" সে বলল: আপনার প্রেরিত দূত দাবি করেছে যে আমাদের ওপর বছরে এক মাস রোজা রাখা ফরজ? তিনি বললেন: "সে সত্য বলেছে।" সে বলল: তবে সেই সত্তার কসম যিনি আপনাকে পাঠিয়েছেন, আল্লাহ কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" সে বলল: আপনার প্রেরিত দূত দাবি করেছে যে আমাদের মধ্যে যার সামর্থ্য আছে তার ওপর বায়তুল্লাহর হজ করা ফরজ? তিনি বললেন: "সে সত্য বলেছে।" সে বলল: তবে সেই সত্তার কসম যিনি আপনাকে পাঠিয়েছেন, আল্লাহ কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" অতঃপর সে বলল: সেই সত্তার কসম যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন, আমি এর ওপর বৃদ্ধিও করব না এবং তা থেকে কিছু কমাবও না। যখন সে চলে গেল, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "সে যদি সত্য বলে থাকে, তবে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে।" ⦗পৃষ্ঠা: ৪৮⦘ শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: এই প্রশ্নকারী ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অলৌকিক নিদর্শনাবলী (মুজিজা) সম্পর্কে শুনেছিলেন, যা তাঁর সময়ে ব্যাপকভাবে পরিচিত ছিল। সম্ভবত তিনি যা কুরআন থেকে তিলাওয়াত করতেন সে সম্পর্কেও অবগত ছিলেন, তাই তিনি স্রষ্টার অস্তিত্ব সাব্যস্তকরণ এবং তাঁর সৃষ্টি সম্পর্কে জানার ক্ষেত্রে কেবল এই প্রশ্ন এবং উত্তরের ওপরই সীমাবদ্ধ থাকেন। আর যাদের সামনে তাঁর অলৌকিক নিদর্শনসমূহ স্পষ্ট ছিল না, তাদের কেউ কেউ তাঁর সত্যতার প্রমাণস্বরূপ নিদর্শন দেখার দাবি করেছিল। অতঃপর যখন তিনি তাদের নিদর্শন দেখালেন এবং তারা তা প্রত্যক্ষ করল, তখন তারা তাঁর প্রতি ঈমান আনল এবং মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহর পক্ষ থেকে তিনি যা নিয়ে এসেছেন তা সত্য বলে বিশ্বাস করল।
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিকাদ লিল-বায়হাকী
(পৃষ্ঠা: ٤٨)
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، َثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ إِسْحَاقَ، أنا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، ح وَأَخْبَرَنَا أَبُو نَصْرٍ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ عُمَرَ بْنِ قَتَادَةَ، َثَنَا أَبُو عَلِيٍّ حَامِدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الرَّفَّاءُ، أنا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، َثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدٍ الْأَصْبَهَانِيُّ، أنا شَرِيكٌ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ أَبِي ظَبْيَانَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: جَاءَ أَعْرَابِيٌّ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: بِمَ أَعْرِفُ أَنَّكَ رَسُولُ اللَّهِ؟ فَقَالَ: «أَرَأَيْتَ لَوْ دَعَوْتُ هَذَا الْعِذْقَ مِنْ هَذِهِ النَّخْلَةِ أَتَشْهَدُ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ؟» قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: فَدَعَا الْعِذْقَ، فَجَعَلَ الْعِذْقُ يَنْزِلُ مِنَ النَّخْلَةِ حَتَّى سَقَطَ فِي الْأَرْضِ، فَجَعَلَ يَنْقَزُّ حَتَّى أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم. قَالَ: ثُمَّ قَالَ لَهُ: «ارْجِعْ» ، فَرَجَعَ حَتَّى عَادَ إِلَى مَكَانِهِ، فَقَالَ: أَشْهَدُ أَنَّكَ رَسُولُ اللَّهِ، وَآمَنَ بِهِ تَابَعَهُ الْأَعْمَشُ عَنْ أَبِي ظَبْيَانَ، وَرَوَاهُ أَبُو حَيَّانَ عَنْ عَطَاءٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَاهُ
মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর ইবনে ইসহাক আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আলী ইবনে আব্দুল আজিজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। (অন্য সূত্রে) আবু নাসর উমর ইবনে আব্দুল আজিজ ইবনে উমর ইবনে কাতাদাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আলী হামিদ ইবনে মুহাম্মদ আর-রাফ্ফা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আলী ইবনে আব্দুল আজিজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ আল-আসবাহানি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, শারীক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সিমাক থেকে, তিনি আবু জাবইয়ান থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: জনৈক গ্রাম্য ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল, "আমি কীভাবে জানব যে আপনি আল্লাহর রাসূল?" তিনি বললেন, "আমি যদি এই খেজুর গাছ থেকে খেজুরের এই ছড়িটিকে ডাকি, তবে কি তুমি সাক্ষ্য দেবে যে আমি আল্লাহর রাসূল?" সে বলল, "হ্যাঁ।" বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি খেজুরের ছড়িটিকে ডাকলেন। তখন খেজুরের ছড়িটি গাছ থেকে নামতে শুরু করল, এমনকি তা মাটিতে পড়ে গেল। এরপর সেটি লাফিয়ে লাফিয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট চলে আসল। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি সেটিকে বললেন, "ফিরে যাও।" ফলে সেটি ফিরে গিয়ে নিজের স্থানে পুনরায় যুক্ত হয়ে গেল। তখন সে (গ্রাম্য ব্যক্তি) বলল, "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি আল্লাহর রাসূল," এবং সে তাঁর প্রতি ঈমান আনল। আ'মাশ আবু জাবইয়ান থেকে এর অনুসরণ করেছেন। আর আবু হাইয়ান এটি আতা থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে একই অর্থে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিকাদ লিল-বায়হাকী
(পৃষ্ঠা: ٤٩)
بَابُ ذِكْرِ أَسْمَاءِ اللَّهِ وَصِفاتِهِ عَزَّتْ أَسْمَاؤُهُ وَجَلَّ ثَنَاؤُهُ قَالَ اللَّهُ عز وجل: {وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فادْعُوهُ بِهَا وَذَرُوا الَّذِينَ يُلْحِدُونَ فِي أَسْمَائِهِ سَيُجْزَوْنَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} [الأعراف: 180] ، وَقَالَ: {قُلِ ادْعُوا اللَّهَ أَوِ ادْعُوا الرَّحْمَنَ أَيًّامَا تَدْعُوا فَلَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى} ، وَقَالَ: {هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ} [الحشر: 22] إِلَى قَوْلِهِ: {لَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى} [طه: 8]
আল্লাহর নামসমূহ ও তাঁর গুণাবলির বর্ণনার অধ্যায়, যাঁর নামসমূহ প্রতাপশালী এবং যাঁর প্রশংসা মহিমান্বিত। মহান আল্লাহ বলেছেন: “আর আল্লাহর জন্য রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ, সুতরাং তোমরা তাঁকে সেগুলোর মাধ্যমেই ডাকো। আর তাদের বর্জন করো যারা তাঁর নামসমূহের বিকৃতি ঘটায়; তারা যা করত অচিরেই তার প্রতিফল তাদের প্রদান করা হবে।” [আল-আরাফ: ১৮০]। এবং তিনি বলেছেন: “বলুন, তোমরা আল্লাহ নামে ডাকো অথবা রহমান নামে ডাকো; তোমরা যে নামেই ডাকো না কেন, তাঁর জন্যই রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ।” এবং তিনি আরও বলেছেন: “তিনিই আল্লাহ, যিনি ছাড়া সত্য কোনো ইলাহ নেই” [আল-হাশর: ২২] থেকে তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: “তাঁরই জন্য রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ।” [ত্বহা: ৮]
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিকাদ লিল-বায়হাকী
(পৃষ্ঠা: ٤٩)
أَخْبَرَنَا أَبُو طَاهِرٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مِحْمَشٍ الْفَقِيهُ رحمه الله، أنا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ الْحَسَنِ الْقَطَّانُ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ يُوسُفَ السُّلَمِيُّ، ثنا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أنا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ قَالَ: هَذَا مَا حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لِلَّهِ تِسْعَةٌ وَتِسْعُونَ اسْمًا، مِائَةٌ إِلَّا ⦗ص: 50⦘ وَاحِدًا، مَنْ أَحْصَاهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ»
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহির মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মিহমাশ আল-ফকিহ (রহিমাহুল্লাহ), আমাদের জানিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে আল-হুসাইন ইবনে আল-হাসান আল-কাত্তান, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আহমাদ ইবনে ইউসুফ আস-সুলামী, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবদুর রাজ্জাক, আমাদের জানিয়েছেন মা'মার, হাম্মাম ইবনে মুনাব্বিহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এটি সেই হাদীস যা আবু হুরায়রা আমাদের শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম রয়েছে, এক কম ⦗পৃষ্ঠা: ৫০⦘ একশতটি; যে ব্যক্তি সেগুলো আয়ত্ত করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে»
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিকাদ লিল-বায়হাকী
(পৃষ্ঠা: ٥٠)
وَأَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، ثنا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ إِسْحَاقَ الْفَقِيهُ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْوَلِيدِ الْكَرَابِيسِيُّ، ثنا صَفْوَانُ بْنُ صَالِحٍ الدِّمَشْقِيُّ، ثنا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، ثنا شُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الْأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " إِنَّ لِلَّهِ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ اسْمًا، مِائَةً إِلَّا وَاحِدًا، مَنْ أَحْصَاهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ، إِنَّهُ وِتْرٌ يُحِبُّ الْوِتْرَ، هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ، الرَّحْمَنُ، الرَّحِيمُ، الْمَلِكُ، الْقُدُّوسُ، السَّلَامُ، الْمُؤْمِنُ، الْمُهَيْمِنُ، الْعَزِيزُ، الْجَبَّارُ، الْمُتَكَبِّرُ، الْخَالِقُ، الْبَارِئُ، الْمُصَوِّرُ، الْغَفَّارُ، الْقَهَّارُ، الْوَهَّابُ، الرَّزَّاقُ، الْفَتَّاحُ، الْعَلِيمُ، الْقَابِضُ، الْبَاسِطُ، الْخَافِضُ، الرَّافِعُ، الْمُعِزُّ، الْمُذِلُّ، السَّمِيعُ، الْبَصِيرُ، الْحَكَمُ، الْعَدْلُ، اللَّطِيفُ، الْخَبِيرُ، الْحَلِيمُ، الْعَظِيمُ، الْغَفُورُ، الشَّكُورُ، الْعَلِيُّ، الْكَبِيرُ، الْحَفِيظُ، الْمُقِيتُ، الْحَسِيبُ، الْجَلِيلُ، الْكَرِيمُ، الرَّقِيبُ، الْمُجِيبُ، الْوَاسِعُ، الْحَكِيمُ، الْوَدُودُ، الْمَجِيدُ، الْبَاعِثُ، الشَّهِيدُ، الْحَقُّ، الْوَكِيلُ، الْقَوِيُّ، الْمَتِينُ، الْوَلِيُّ، الْحَمِيدُ، الْمُحْصِي، الْمُبْدِئُ، الْمُعِيدُ، الْمُحْيِي، الْمُمِيتُ، الْحَيُّ، الْقَيُّومُ، الْوَاجِدُ، الْمَاجِدُ، الْوَاحِدُ، الصَّمَدُ، الْقَادِرُ الْمُقْتَدِرُ، الْمُقَدِّمُ، الْمُؤَخِّرُ، الْأَوَّلُ، الْآخِرُ، الظَّاهِرُ، الْبَاطِنُ، الْوَالِي، الْمُتعَالِ، الْبَرُّ، التَّوَّابُ، الْمُنْتَقِمُ، الْعَفُوُّ، الرَّءُوفُ، مَالِكُ الْمُلْكِ، ذُو الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ، الْمُقْسِطُ، الْجَامِعُ، الْغَنِيُّ، الْمُغْنِي، الْمَانِعُ، الضَّارُّ ⦗ص: 51⦘، النَّافِعُ، النُّورُ، الْهَادِي، الْبَدِيعُ، الْبَاقِي، الْوَارِثُ، الرَّشِيدُ، الصَّبُورُ
আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হাফিয আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু বকর আহমদ ইবনে ইসহাক আল-ফকিহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনুল ওয়ালিদ আল-কারাবিসি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, সাফওয়ান ইবনে সালিহ আদ-দিমাশকি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শুআইব ইবনে আবি হামজা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আল-আ’রাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম রয়েছে—এক কম একশটি; যে ব্যক্তি এগুলো গণনা করবে (সংরক্ষণ করবে), সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। নিশ্চয়ই তিনি বিজোড়, তিনি বিজোড়কে পছন্দ করেন। তিনি সেই আল্লাহ, যিনি ব্যতীত কোন সত্য উপাস্য নেই; (তিনিই) পরম করুণাময়, অতিশয় দয়ালু, অধিপতি, অতি পবিত্র, শান্তিদাতা, নিরাপত্তাদাতা, রক্ষক, পরাক্রমশালী, মহাপ্রতাপশালী, সুমহান, স্রষ্টা, উদ্ভাবক, রূপদানকারী, পরম ক্ষমাশীল, দমনকারী, মহা দাতা, রিযিকদাতা, উন্মোচনকারী, সর্বজ্ঞ, সংকোচনকারী, প্রসারণকারী, অবনতকারী, উন্নতকারী, সম্মানদানকারী, অপমানদানকারী, সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা, বিচারক, ন্যায়পরায়ণ, সূক্ষ্মদর্শী, সম্যক অবগত, পরম সহিষ্ণু, অতি মহান, অতি ক্ষমাশীল, গুণগ্রাহী, সুউচ্চ, সুমহান, সংরক্ষক, আহার্য দানকারী, হিসাব গ্রহণকারী, মহিমান্বিত, মহা দয়ালু, তত্ত্বাবধায়ক, প্রার্থনা কবুলকারী, সর্বব্যাপী, প্রজ্ঞাময়, প্রেমময়, গৌরবময়, পুনরুত্থানকারী, সাক্ষী, পরম সত্য, কর্মবিধায়ক, শক্তিশালী, সুদৃঢ়, অভিভাবক, প্রশংসিত, গণনাকারী, আদি স্রষ্টা, পুনঃসৃষ্টিকারী, জীবনদানকারী, মৃত্যুদানকারী, চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী, অন্বেষণকারী, মর্যাদাবান, একক, অমুখাপেক্ষী, সক্ষম, সর্বশক্তিমান, অগ্রবর্তীকারী, পশ্চাতে আনয়নকারী, অনাদি, অনন্ত, প্রকাশ্য, গোপন, অধিপতি, সর্বোচ্চ, কল্যাণময়, তাওবা কবুলকারী, প্রতিশোধ গ্রহণকারী, ক্ষমাশীল, অতি দয়াবান, সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক, মহিমা ও মর্যাদার অধিকারী, ন্যায়বিচারক, একত্রকারী, অভাবমুক্ত, অভাবমোচনকারী, প্রতিরোধকারী, ক্ষতিসাধনকারী ⦗পৃষ্ঠা: ৫১⦘, উপকারকারী, জ্যোতি, পথপ্রদর্শক, অপূর্ব সৃষ্টির উদ্ভাবক, অবিনশ্বর, উত্তরাধিকারী, সঠিক পথপ্রদর্শক, পরম ধৈর্যশীল।"
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিকাদ লিল-বায়হাকী
(পৃষ্ঠা: ٥١)
وَأَخْبَرَنَا أَبُو سَعِيدٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُوسَى بْنِ الْفَضْلِ رحمه الله، أنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الصَّفَّارُ، ثنا أَبُو بَكْرٍ بْنُ أَبِي الدُّنْيَا، حَدَّثَنِي حُمَيْدُ بْنُ الرَّبِيعِ، حَدَّثَنِي خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ، ثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ الْحُصَيْنِ، ثنا أَيُّوبُ، وَهِشَامٌ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " إِنَّ لِلَّهِ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ اسْمًا مَنْ أَحْصَاهَا كُلَّهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ: اللَّهُ، الرَّحْمَنُ، الرَّحِيمُ، الْإِلَهُ، الرَّبُّ، الْمَلِكُ، الْقُدُّوسُ، السَّلَامُ، الْمُؤْمِنُ، الْمُهَيْمِنُ، الْعَزِيزُ، الْجَبَّارُ، الْمُتَكَبِّرُ، الْخَالِقُ، الْبَارِئُ، الْمُصَوِّرُ، الْحَلِيمُ، الْعَلِيمُ، السَّمِيعُ، الْبَصِيرُ، الْحَيُّ، الْقَيُّومُ، الْوَاسِعُ، اللَّطِيفُ، الْخَبِيرُ، الْحَنَّانُ، الْمَنَّانُ، الْبَدِيعُ، الْوَدُودُ، الْغَفُورُ، الشَّكُورُ، الْمَجِيدُ، الْمُبْدِئُ، الْمُعِيدُ، النُّورُ، الْبَادِي، الْأَوَّلُ، الْآخِرُ، الظَّاهِرُ، الْبَاطِنُ، الْعَفُوُّ، الْغَفَّارُ، الْوَهَّابُ، الْقَادِرُ، الْأَحَدُ، الصَّمَدُ، الْوَكِيلُ، الْكَافِي، الْبَاقِي، الْحَمِيدُ، الْمُغِيثُ، الدَّائِمُ، الْمُتَعَالِي، ذُو الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ، الْمَوْلَى، النَّصِيرُ، الْحَقُّ، الْمُبِينُ، الْبَاعِثُ، الْمُجِيبُ، الْمُحْيِي، الْمُمِيتُ، الْجَلِيلُ، الصَّادِقُ، الْحَافِظُ، الْمُحِيطُ، الْكَبِيرُ، الْقَرِيبُ، الرَّقِيبُ، الْفَتَّاحُ، التَّوَّابُ، الْقَدِيمُ، الْوِتْرُ، الْفَاطِرُ، الرَّزَّاقُ، الْعَلَّامُ، الْعَلِيُّ، الْعَظِيمُ، الْغَنِيُّ، الْمَلِيكُ، الْمُقْتَدِرُ، الْأَكْرَمُ، الرَّءُوفُ، الْمُدَبِّرُ، الْقَدِيرُ، الْمَالِكُ، الْقَاهِرُ، الْهَادِي، الشَّاكِرُ ⦗ص: 52⦘، الْكَرِيمُ، الرَّفِيعُ، الشَّهِيدُ، الْوَاحِدُ، ذُو الطَّوْلِ، ذُو الْمَعَارِجِ، ذُو الْفَضْلِ، الْخَلَّاقُ، الْكَفِيلُ، الْجَمِيلُ " قَالَ الشَّيْخُ رحمه الله: تَفَرَّدَ بِالرِّوَايَةِ الْأُولَى مَعَ ذِكْرِ الْأَسَامِي الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنْ شُعَيْبِ بْنِ أَبِي حَمْزَةَ، وَتَفَرَّدَ بِهَذِهِ الرِّوَايَةِ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ الْحُصَيْنِ بْنِ التَّرْجُمَانِ، عَنْ أَيُّوبَ السِّخْتِيَانِيِّ، وَهِشَامِ بْنِ حَسَّانَ، وَزعَمَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ بِالْحَدِيثِ أَنَّ ذِكْرَ الْأَسَامِي فِي هَذَا الْحَدِيثِ مِنْ جِهَةِ بَعْضِ الرُّوَاةِ، وَأَنَّ الْحَدِيثَ الصَّحِيحَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي ذِكْرِ عدَدِهَا دُونَ تَفْسِيرِ الْعَدَدِ، وَهَذِهِ الْأَسَامِي مَذْكُورَةٌ فِي كِتَابِ اللَّهِ عز وجل، وَفِي سَائِرِ الْأَحَادِيثِ عَنْ نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم مُفْرَدَةً نصًّا أَوْ دَلَالَةً، فَذَكَرْنَاهَا فِي كِتَابِ الْأَسْمَاءِ وَالصِّفَاتِ، وَقَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ لِلَّهِ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ اسْمًا» لَا يَنْفِي غَيْرَهَا، وَإِنَّمَا أَرَادَ وَاللَّهُ أَعْلَمُ أَنَّ مَنْ أَحْصَى مِنْ أَسْمَاءِ اللَّهِ عَزَّ ⦗ص: 53⦘ وَجَلَّ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ اسْمًا دَخَلَ الْجَنَّةَ، سَوَاءً أَحْصَاهَا مِمَّا نَقَلْنَا فِي الْحَدِيثِ الْأَوَّلِ، أَوْ مِمَّا ذَكَرْنَا فِي الْحَدِيثِ الثَّانِي، أَوْ مِنْ سَائِرِ مَا دَلَّ عَلَيْهِ الْكِتَابُ أَوِ السُّنَّةُ أَوِ الْإِجْمَاعُ، وَبِاللَّهِ التَّوْفِيقُ
এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাঈদ মুহাম্মদ ইবন মুসা ইবনুল ফদল (আল্লাহ তাঁর উপর দয়া করুন), আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ আস-সাফফার, আমাদের বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইবন আবিদ দুনইয়া, আমার কাছে বর্ণনা করেছেন হুমায়দ ইবনুর রাবি‘, আমার কাছে বর্ণনা করেছেন খালিদ ইবন মাখলাদ, আমাদের বর্ণনা করেছেন আব্দুল আজিজ ইবনুল হুসায়ন, আমাদের বর্ণনা করেছেন আইয়ুব এবং হিশাম, মুহাম্মদ ইবন সিরিন থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয় আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম রয়েছে, যে ব্যক্তি সেগুলো আয়ত্ত করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে: আল্লাহ, আর-রাহমান, আর-রাহিম, আল-ইলাহ, আর-রাব্ব, আল-মালিক, আল-কুদ্দুস, আস-সালাম, আল-মুমিন, আল-মুহাইমিন, আল-আজিজ, আল-জাব্বার, আল-মুতাকাব্বির, আল-খালিক, আল-বারি, আল-মুসাওয়্যির, আল-হালিম, আল-আলিম, আস-সামি, আল-বাসির, আল-হায়্যু, আল-কাইয়্যুম, আল-ওয়াসি, আল-লাতিফ, আল-খাবির, আল-হান্নান, আল-মান্নান, আল-বাদি, আল-ওয়াদুদ, আল-গাফুর, আশ-শাকুর, আল-মাজিদ, আল-মুবদি, আল-মুয়িদ, আন-নুর, আল-বাদি, আল-আউয়াল, আল-আখির, আজ-জাহির, আল-বাতিন, আল-আফুউ, আল-গাফফার, আল-ওয়াহহাব, আল-কadir, আল-আহাদ, আস-সামাদ, আল-ওয়াকিল, আল-কাফি, আল-বাকি, আল-হামিদ, আল-মুগিস, আদ-দায়িম, আল-মুতালি, যুল জালালি ওয়াল ইকরাম, আল-মাওলা, আন-নাসির, আল-হাক্ক, আল-মুবিন, আল-বাইস, আল-মুজিব, আল-মুহয়ি, আল-মুমিত, আল-জলিল, আস-সাদিক, আল-হাফিজ, আল-মুহিত, আল-কাবির, আল-কারিব, আর-রাকিব, আল-ফাত্তাহ, আত-তাওয়্যাব, আল-কাদিম, আল-বিতর, আল-ফাতির, আর-রাজ্জাক, আল-আল্লাম, আল-আলি, আল-আজিম, আল-গানি, আল-মালিক, আল-মুকতাদির, আল-আকরাম, আর-রাউফ, আল-মুদাব্বির, আল-কাদির, আল-মালিক, আল-কাহির, আল-হাদি, আশ-শাকির ⦗পৃষ্ঠা: ৫২⦘, আল-কারিম, আর-রাফি, আশ-শাহিদ, আল-ওয়াহিদ, যুত-তাওল, যুল মাআরিজ, যুল ফদল, আল-খাল্লাক, আল-কাফিল, আল-জামিল।" শায়খ (আল্লাহ তাঁর উপর দয়া করুন) বলেন: নামসমূহের উল্লেখসহ প্রথম বর্ণনাটি শুয়াইব ইবন আবি হামযাহ থেকে আল-ওয়ালিদ ইবন মুসলিম এককভাবে বর্ণনা করেছেন। আর এই বর্ণনাটি আইয়ুব আস-সিখতিয়ানি এবং হিশাম ইবন হাসসান থেকে আব্দুল আজিজ ইবনুল হুসায়ন ইবনুত তারজুমান এককভাবে বর্ণনা করেছেন। এবং ইলমে হাদীসের একদল পণ্ডিত মনে করেন যে, এই হাদীসে নামসমূহের উল্লেখ কোনো কোনো রাবীর পক্ষ থেকে হয়েছে, আর নবী (সালلاًল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত সহীহ হাদীসটি শুধুমাত্র নামের সংখ্যা বর্ণনার ক্ষেত্রে এসেছে, নামের বিশদ ব্যাখ্যা ছাড়া। আর এই নামগুলো আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার কিতাবে এবং আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত অন্যান্য হাদীসে স্পষ্টভাবে বা ইঙ্গিতে আলাদাভাবে বর্ণিত হয়েছে, তাই আমরা সেগুলো ‘আল-আসমা ওয়া আস-সিফাত’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছি। এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী: "নিশ্চয় আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম রয়েছে" - এটি অন্য নাম থাকার বিষয়টিকে অস্বীকার করে না। বরং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো—আল্লাহ অধিক ভালো জানেন—যে ব্যক্তি আল্লাহ আযযা ওয়া ⦗পৃষ্ঠা: ৫৩⦘ জাল্লার নামসমূহ থেকে নিরানব্বইটি নাম আয়ত্ত করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে; চাই সে তা আমাদের প্রথম হাদীসে বর্ণিত নামগুলো থেকে হোক, অথবা দ্বিতীয় হাদীসে যা আমরা উল্লেখ করেছি তা থেকে হোক, কিংবা কুরআন, সুন্নাহ বা ইজমা’র দ্বারা প্রমাণিত অন্য যেকোনো নাম থেকে হোক। আর আল্লাহর মাধ্যমেই তাওফিক লাভ হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিকাদ লিল-বায়হাকী
(পৃষ্ঠা: ٥٩)
بَابُ ذِكْرِ مَعَانِي الْأَسْمَاءِ الَّتِي رَوَيْنَاهَا عَلَى طَرِيقِ الْإِيجَازِ اللَّهُ: مَعْنَاهُ مَنْ لَهُ الْإِلَهِيَّةُ، وَهِيَ الْقُدْرَةُ عَلَى اخْتِرَاعِ الْأَعْيَانِ، وَهَذِهِ صِفَةٌ يَسْتَحِقُّهَا بِذَاتِهِ. الرَّحْمَنُ: مَنْ لَهُ الرَّحْمَةُ. الرَّحِيمُ: الرَّاحِمُ، فَعِيلٌ بِمَعْنَى فَاعِلٍ عَلَى الْمُبَالَغَةِ، وَقِيلَ: الرَّحْمَنُ الْمُرِيدُ لِرِزْقِ كُلِّ حَيٍّ فِي الدُّنْيَا، وَالرَّحِيمُ الْمُرِيدُ لِإِكْرَامِ الْمُؤْمِنِينَ بِالْجَنَّةِ فِي الْعُقْبَى، فَيَرْجِعُ مَعْنَاهَا إِلَى صِفَةِ الْإِرَادَةِ الَّتِي هِيَ صِفَةٌ قَائِمَةٌ بِذَاتِهِ. الْمَلِكُ: هُوَ التَّامُّ الْمُلْكِ، وَالْمَالِكُ: هُوَ الْخَاصُّ الْمُلْكِ، وَحَقِيقَتُهُمَا فِي صِفَةِ اللَّهِ عز وجل أَنْ يَكُونَ قَادِرًا عَلَى الْإِيجَادِ، وَهَذِهِ صِفَةٌ يَسْتَحِقُّهَا بِذَاتِهِ. الْقُدُّوسُ: هُوَ الطَّاهِرُ مِنَ الْعُيُوبِ، الْمُنَزَّهُ عَنِ الْأَوْلَادِ وَالْأَنْدَادِ، وَهَذِهِ صِفَةٌ يَسْتَحِقُّهَا بِذَاتِهِ. السَّلَامُ: هُوَ الَّذِي سَلِمَ مِنْ كُلِّ عَيْبٍ، وَبَرِئَ مِنْ كُلِّ آفَةٍ، وَهَذِهِ صِفَةٌ يَسْتَحِقُّهَا بِذَاتِهِ، وَقِيلَ: هُوَ الَّذِي سَلِمَ الْمُؤْمِنُونَ مِنْ عُقُوبَتِهِ. الْمُؤْمِنُ: هُوَ الَّذِي صَدَّقَ نَفْسَهُ، وَصَدَّقَ عِبَادَهُ الْمُؤْمِنِينَ، فَتَصْدِيقُهُ لِنَفْسِهِ عِلْمُهُ بِأَنَّهُ صَادِقٌ، وَتَصْدِيقُهُ لِعِبَادِهِ عِلْمُهُ بأَنَّهُمْ صَادِقُونَ، وَقِيلَ: الْمُؤْمِنُ الْمُوَحِّدُ لِنَفْسِهِ، وَهُوَ مِنْ صِفَاتِ ذَاتِهِ، وَقِيلَ: الْمُؤْمِنُ الَّذِي يُؤَمِّنُ عِبَادَهُ الْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنْ عُقوبَتِهِ. الْمُهَيْمِنُ: هُوَ الشَّهِيدُ عَلَى خَلْقِهِ بِمَا يَكُونُ مِنْهُمْ مِنْ قَوْلٍ أَوْ عَمَلٍ، وَهُوَ مِنْ صِفَاتِ ذَاتِهِ، وَقِيلَ: هُوَ الْأَمِينُ، وَقِيلَ: هُوَ الرَّقِيبُ عَلَى الشَّيْءِ وَالْحَافِظُ لَهُ. الْعَزِيزُ: هُوَ الْغَالِبُ الَّذِي لَا يُغْلَبُ، وَالْمَنِيعُ الَّذِي لَا يُوصَلُ إِلَيْهِ، وَقِيلَ: هُوَ الْقَادِرُ الْقَوِيُّ، وَقِيلَ: هُوَ الَّذِي لَا مِثْلَ لَهُ، وَهُوَ مِنْ صِفَاتِ الذَّاتِ. الْجَبَّارُ: هُوَ الَّذِي لَا تَنَالُهُ الْأَيْدِي، وَلَا يَجْرِي فِي مُلْكِهِ غَيْرُ مَا أَرَادَ، وَهُوَ مِنَ الصِّفَاتِ الَّتِي يَسْتَحِقُّهَا بِذَاتِهِ، وَقِيلَ: هُوَ الَّذِي جَبَرَ الْخَلْقَ عَلَى مَا أَرَادَ، وَقِيلَ: هُوَ الَّذِي جَبَرَ مَفَاقِرَ الْخَلْقِ، وَهُوَ عَلَى هَذَا الْمَعْنَى مِنْ صِفَاتِ فِعْلِهِ. الْمُتَكَبِّرُ: هُوَ الْمُتَعَالِي عَنْ صِفَاتِ الْخَلْقِ، وَهَذِهِ صِفَةٌ يَسْتَحِقُّهَا بِذَاتِهِ، وَقِيلَ: هُوَ الَّذِي يَتَكَبَّرُ عَلَى عُتَاةِ خَلْقِهِ إِذَا نَازَعُوهُ الْعَظَمَةَ فَيَقْصِمُهُمْ. الْخَالِقُ: هُوَ الْمُبْدِعُ الْمُخْتَرِعُ لِلْخَلْقِ عَلَى غَيْرِ مِثَالٍ سَبَقَ. الْبَارِئُ: هُوَ الْخَالِقُ، وَلهُ اخْتِصَاصٌ بِقَلْبِ الْأَعْيَانِ. الْمُصَوِّرُ: هُوَ الَّذِي أَنْشَأَ خَلْقَهُ عَلَى صُوَرٍ مُخْتَلِفَةٍ. الْغَفَّارُ: هُوَ السَّتَّارُ لِذُنُوبِ عِبَادِهِ مَرَّةً بَعْدَ أُخْرَى. الْقَهَّارُ: هُوَ الْقَاهِرُ عَلَى الْمُبَالَغَةِ وَهُوَ الْقَادِرُ، فَيَرْجِعُ مَعْنَاهُ إِلَى صِفَةِ الْقُدْرَةِ الَّتِي هِيَ صِفَةٌ قَائِمَةٌ بِذَاتِهِ، وَقِيلَ: هُوَ الَّذِي قَهَرَ الْخَلْقَ عَلَى مَا أَرَادَ. الْوَهَّابُ: هُوَ الَّذِي يَجُودُ بِالْعَطَاءِ الْكَثِيرِ مِنْ غَيْرِ استِثَابَةٍ. الرَّزَّاقُ: هُوَ الْقَائِمُ عَلَى كُلِّ نَفْسٍ بِمَا يُقِيمُهَا مِنْ قُوتِهَا، وَمَا مَكَّنَهَا مِنَ الِانْتِفَاعِ بِهِ مِنْ مُبَاحٍ وَغَيْرِ مُبَاحٍ رُزِقَ لَهَا. الْفَتَّاحُ: هُوَ الْحَاكِمُ بَيْنَ عِبَادِهِ، وَيَكُونُ الْفَتَّاحُ الَّذِي يَفْتَحُ الْمُنْغَلِقَ عَلَى عِبَادِهِ مِنْ أُمُورِهِمْ دِينًا وَدُنْيَا، وَيَكُونُ بِمَعْنَى النَّاصِرِ. الْعَلِيمُ: هُوَ الْعَالِمُ عَلَى الْمُبَالَغَةِ، وَالْعِلْمُ صِفَةٌ لَهُ قَائِمَةٌ بِذَاتِهِ. الْقَابِضُ الْبَاسِطُ: هُوَ الَّذِي يُوَسِّعُ الرِّزْقَ وَيُقَتِّرُهُ، يَبْسُطُهُ بِجُودِهِ وَرَحْمَتِهِ، وَيَقْبِضُهُ بِحِكْمَتِهِ، وَقِيلَ: الْقَابِضُ الَّذِي يَقْبِضُ الْأَرْوَاحَ بِالْمَوْتِ الَّذِي كَتَبَهُ عَلَى الْعِبَادِ، وَالْبَاسِطُ الَّذِي يَبْسُطُ الْأَرْوَاحَ فِي الْأَجْسَادِ. الْخَافِضُ الرَّافِعُ: فَالْخَافِضُ هُوَ الَّذِي يَخْفِضُ مَنْ يَشَاءُ بَانْتِقَامِهِ، وَالرَّافِعُ هُوَ الَّذِي يَرْفَعُ مَنْ يَشَاءُ بِإِنْعَامِهِ. الْمُعِزُّ الْمُذِلُّ: يُعِزُّ مَنْ يَشَاءُ، وَيُذِلُّ مَنْ يَشَاءُ، لَا مُذِلَّ لِمَنْ أَعَزَّهُ، وَلَا مُعِزَّ لِمَنْ أَذَلَّهُ. السَّمِيعُ: مَنْ لَهْ سَمْعٌ يُدْرِكُ بِهِ الْمَسْمُوعَاتِ، وَالسَّمْعُ لَهُ صِفَةٌ قَائِمَةٌ بِذَاتِهِ. الْبَصِيرُ: مَنْ لَهُ بَصَرٌ يَرَى بِهِ الْمَرْئِيَّاتِ، وَالْبَصَرُ لَهُ صِفَةٌ قَائِمَةٌ بِذَاتِهِ. الْحَكَمُ: هُوَ الْحَاكِمُ، وَحُكْمُهُ خَبَرُهُ، وَخَبَرُهُ قوْلُهُ، فَيَرْجِعُ مَعْنَاهُ إِلَى صِفَةِ الْكَلَامِ، وَقَدْ يَكُونُ بِمَعْنَى حُكْمِهِ لِوَاحِدٍ بِالنِّعْمَةِ وَلْآخَرَ بِالْمِحْنَةِ، فيَكُونُ مِنْ صِفَاتِ فِعْلِهِ. الْعَدْلُ: هُوَ الَّذِي لَهُ أَنْ يَفْعَلَ مَا يَفْعَلُ، وَهَذِهِ صِفَةٌ يَسْتَحِقُّهَا بِذَاتِهِ. اللَّطِيفُ: هُوَ الْبَرُّ بِعِبَادِهِ، وَهُوَ مِنْ صِفَاتِ فِعْلِهِ، وَقَدْ يَكُونُ بِمَعْنَى الْعَالِمِ بِخَفَايَا الْأُمُورِ، فيَكُونُ مِنْ صِفَاتِ ذَاتِهِ. الْخَبِيرُ: هُوَ الْعَالِمُ بِكُنْهِ الشَّيْءِ، الْمُطَّلِعُ عَلَى حَقِيقَتِهِ، وَقِيلَ: الْخَبِيرُ الْمُخْبِرُ، وَهُوَ مِنْ صِفَاتِ ذَاتِهِ. الْحَلِيمُ: وَهُوَ الَّذِي يُؤَخِّرُ الْعُقُوبَةَ عَلَى مُسْتَحِقِّيهَا، ثُمَّ قَدْ يَعْفُو عَنْهُمْ. الْعَظِيمُ: هُوَ الْمُسْتَحِقُّ لِأَوْصَافِ الْعُلُوِّ وَالرِّفْعَةِ، وَالْجَلَالِ وَالْعَظَمَةِ، وَالتَّقْدِيسِ مِنْ كُلِّ آفَةٍ، وَهُوَ مِنَ الصِّفَاتِ الَّتِي يَسْتَحِقُّهَا بِذَاتِهِ. الْغَفُورُ: هُوَ الَّذِي يُكْثِرُ مِنَ الْمَغْفِرَةِ. الشَّكُورُ: هُوَ الَّذِي يَشْكُرُ الْيَسِيرَ مِنَ الطَّاعَةِ، وَيُعْطِي عَلَيْهِ الْكَثِيرَ مِنَ الْمَثُوبَةِ، وَشُكْرُهُ قَدْ يَكُونُ بِمَعْنَى ثَنَائِهِ عَلَى عَبْدِهِ، فَيَرْجِعُ مَعْنَاهُ إِلَى صِفَةِ الْكَلَامِ الَّتِي هِيَ صِفَةٌ قَائِمَةٌ بِذَاتِهِ. الْعَلِيُّ: هُوَ الْعَالِي الْقَاهِرُ، وَقِيلَ: هُوَ الَّذِي عَلَا وَجَلَّ مِنْ أَنْ يَلْحَقَهُ صِفَاتُ الْخَلْقِ، وَهَذِهِ صِفَةٌ يَسْتَحِقُّهَا بِذَاتِهِ. الْكَبِيرُ: هُوَ الْمَوْصُوفُ بِالْجَلَالِ وَكِبَرِ الشَّأْنِ، فَصَغُرَ دُونَ جَلَالِهِ كُلُّ كَبِيرٍ، وَقِيلَ: هُوَ الَّذِي كَبُرَ عَنْ شَبَهِ الْمَخْلُوقِينَ، وَهَذِهِ صِفَةٌ يَسْتَحِقُّهَا بِذَاتِهِ. الْحَفِيظُ: هُوَ الْحَافِظُ لِكُلِّ مَا أَرَادَ حِفْظَهُ وَمَنْ أَرَادَ، وَقِيلَ: هُوَ الَّذِي لَا يَنْسَى مَا عَلِمَ، فَيَرْجِعُ مَعْنَاهُ إِلَى صِفَةِ الْعِلْمِ. الْمُقِيتُ: هُوَ الْمُقْتَدِرُ، فَيَرْجِعُ مَعْنَاهُ إِلَى صِفَةِ الْقُدْرَةِ، وَقِيلَ: الْمُقِيتُ الْحَفِيظُ، وَقِيلَ: هُوَ مُعْطِي الْقُوتِ، فيَكُونُ مِنْ صِفَاتِ الْفِعْلِ. الْحَسِيبُ: هُوَ الْكَافِي، وَقِيلَ: بِمَعْنَى الْمُحَاسِبِ. الْجَلِيلُ: هُوَ مِنَ الَجَلَالِ وَالْعَظَمَةِ، وَمَعْنَاهُ ينْصَرِفُ إِلَى جَلَالِ الْقُدْرَةِ وَعِظَمِ الشَّأْنِ، فهُوَ الْجَلِيلُ الَّذِي يَصْغُرُ دُونَهُ كُلُّ جَلِيلٍ، وَيَتَّضِعُ مَعَهُ كُلُّ رَفِيعٍ، وَهَذِهِ صِفَةٌ يَسْتَحِقُّهَا بِذَاتِهِ. الْكَرِيمُ: هُوَ الْمُنَزَّهُ عَنِ الدَّنَاءَةِ، وَهَذِهِ صِفَةٌ يَسْتَحِقُّهَا بِذَاتِهِ، وَقِيلَ: الْكَرِيمُ الْكَثِيرُ الْخَيْرِ، وَقِيلَ: الْمُحْسِنُ بِمَا لَا يَجِبُ عَلَيْهِ، وَالصَّفُوحُ عَنْ حَقٍّ وَجَبَ لَهُ، وَهُوَ عَلَى هَذَا الْمَعْنَى مِنْ صِفَاتِ فِعْلِهِ. الرَّقِيبُ: هُوَ الْحَافِظُ الَّذِي لَا يَغِيبُ عَنْهُ شَيْءٌ، فَيَرْجِعُ مَعْنَاهُ إِلَى صِفَةِ الْعِلْمِ. الْمُجِيبُ: هُوَ الَّذِي يُجِيبُ الْمُضْطَرَّ إِذَا دَعَاهُ، وَيُغِيثُ الْمَلْهُوفَ إِذَا نَادَاهُ. الْوَاسِعُ: هُوَ الْعَالِمُ، فَيَرْجِعُ مَعْنَاهُ إِلَى صِفَةِ الْعِلْمِ، وَقِيلَ: الْغَنِيُّ الَّذِي وَسِعَ غِنَاهُ مَفَاقِرَ الْخَلْقِ. الْحَكِيمُ: هُوَ الْمُحْكِمُ لِخَلْقِ الْأَشْيَاءِ، وَقَدْ يَكُونُ بِمَعْنَى الْمُصِيبِ فِي أَفْعَالِهِ. الْوَدُودُ: هُوَ الَّذِي يَوَدُّ عِبَادَهُ الْمُؤْمِنِينَ، وَيَوَدُّهُ عِبَادُهُ الْمُؤْمِنُونَ، وَمَحَبَّةُ اللَّهِ عِبَادَهُ إِرَادَتُهُ رَحْمَتَهُمْ وَمَدْحَهُمْ، فَيَرْجِعُ مَعْنَاهُ إِلَى صِفَةِ الْإِرَادَةِ وَالْكَلَامِ، وَقَدْ يَكُونُ بِمَعْنَى إِنْعَامِهِ عَلَيْهِمْ، وَمِنْ إِنْعَامِهِ عَلَيْهِمْ أَنْ يُوِدِّدَهُمْ إِلَى خَلْقِهِ، وَهُوَ عَلَى هَذَا الْمَعْنَى مِنْ صِفَاتِ فِعْلِهِ. الْمَجِيدُ: هُوَ الْجَلِيلُ الرَّفِيعُ الْقَدْرِ، الْمُحْسِنُ الْجَزِيلُ الْبِرِّ، فَالْمَجْدُ فِي اللُّغَةِ قَدْ يَكُونُ بِمَعْنَى الشَّرَفِ، وَقَدْ يَكُونُ بِمَعْنَى السَّعَةِ، وَهُوَ عَلَى الْمَعْنَى الْأَوَّلِ صِفَةٌ يَسْتَحِقُّهَا بِذَاتِهِ. الْبَاعِثُ: هُوَ الَّذِي يَبْعَثُ عِبَادَهُ بَعْدَ الْمَوْتِ لِلْجَزَاءِ، وَقَدْ يَبْعَثُ مَنْ شَاءَ مِنْهُمْ عِنْدَ السَّقْطَةِ، وَيُنْعِشُهُ عِنْدَ الصَّرْعَةِ. الشَّهِيدُ: هُوَ الَّذِي لَا يَغِيبُ عَنْهُ شَيْءٌ، وَقِيلَ: هُوَ الْعَالِمُ الرَّائِي، فَيَرْجِعُ مَعْنَاهُ إِلَى صِفَةِ الْعِلْمِ وَصِفَةِ الرُّؤْيَةِ. الْحَقُّ: هُوَ الْمَوْجُودُ حَقًّا، وَهَذِهِ صِفَةٌ يَسْتَحِقُّهَا بِذَاتِهِ. الْوَكِيلُ: هُوَ الْكَافِي وَهُوَ الَّذِي يَسْتَقِلُّ بِالْأَمْرِ الْمَوْكُولِ إِلَيْهِ، وَقِيلَ: هُوَ الْكَفِيلُ بِالرِّزْقِ وَالْقِيَامِ عَلَى الْخَلْقِ بِمَا يُصْلِحُهُمْ. الْقَوِيُّ: هُوَ الْقَادِرُ، وَهُوَ أَنْ يَكُونَ تَامَّ الْقُدْرَةِ لَا يَسْتَوْلِي عَلَيْهِ عَجْزٌ فِي حَالَةٍ مِنَ الْأَحْوَالِ، وَيَرْجِعُ مَعْنَاهُ إِلَى صِفَةِ الْقُدْرَةِ. الْمَتِينُ: هُوَ الشَّدِيدُ الْقُوَّةِ الَّذِي لَا تَنْقَطِعُ قُوَّتُهُ، وَلَا يَمَسُّهُ فِي أَفْعَالِهِ لُغُوبٌ، وَيَرْجِعُ مَعْنَاهُ أَيْضًا إِلَى صِفَةِ الْقُدْرَةِ. الْوَلِيُّ: هُوَ النَّاصِرُ، وَقِيلَ: الْمُتَوَلِّي لِلْأَمْرِ وَالْقَائِمُ بِهِ. الْحَمِيدُ: هُوَ الْمَحْمُودُ الَّذِي يَسْتَحِقُّ الْحَمْدَ، وَقِيلَ: مَنْ لَهُ صِفَاتُ الْمَدْحِ وَالْكَمَالِ، وَهَذِهِ صِفَةٌ يَسْتَحِقُّهَا بِذَاتِهِ. الْمُحْصِي: هُوَ الَّذِي أَحْصَى كُلَّ شَيْءٍ بِعِلْمِهِ، فَيَرْجِعُ مَعْنَاهُ إِلَى صِفَةِ الْعِلْمِ. الْمُبْدِئُ: هُوَ الَّذِي أَبْدَأَ الْإِنْسَانَ، أَيِ ابْتَدَأَهُ مُخْتَرِعًا. الْمُعِيدُ: هُوَ الَّذِي يُعِيدُ الْخَلْقَ بَعْدَ الْحَيَاةِ إِلَى الْمَمَاتِ، ثُمَّ يُعِيدُهُمْ بَعْدَ الْمَمَاتِ إِلَى الْحَيَاةِ. الْمُحْيِي: هُوَ الَّذِي يُحْيِي النُّطْفَةَ الْمَيِّتَةَ فَيُخْرِجُ مِنْهَا النَّسَمَةَ الْحَيَّةَ، وَيُحْيِي الْأَجْسَامَ الْبَالِيَةَ بإِعَادَةِ الْأَرْوَاحِ إِلَيْهَا عِنْدَ الْبَعْثِ، وَيُحْيِي الْقُلُوبَ بِنُورِ الْمَعْرِفَةِ، وَيُحْيِي الْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا بإِنْزَالِ الْغَيْثِ وَإِنْبَاتِ الرِّزْقِ. الْمُمِيتُ: هُوَ الَّذِي يُمِيتُ الْأَحْيَاءَ، وَيُوهِنُ بِالْمَوْتِ قُوَّةَ الْأَقْوِيَاءِ. الْحَيُّ فِي صِفَةِ اللَّهِ عز وجل: هُوَ الَّذِي لَمْ يَزَلْ مَوْجُودًا، وَبِالْحَيَاةِ مَوْصُوفًا، فَالْحَيَاةُ لَهُ صِفَةٌ قَائِمَةٌ بِذَاتِهِ. الْقَيُّومُ: هُوَ الْقَائِمُ الدَّائِمُ بِلَا زَوَالٍ، فَيَرْجِعُ مَعْنَاهُ إِلَى صِفَةِ الْبَقَاءِ، وَالْبَقَاءُ صِفَةُ الذَّاتِ، وَقِيلَ: هُوَ الْمُدَبِّرُ وَالْمُتَوَلِّي لِجَمِيعِ مَا يَجْرِي فِي الْعَالَمِ، وَهُوَ عَلَى هَذَا الْمَعْنَى مِنْ صِفَاتِ الْفِعْلِ. الْوَاجِدُ: هُوَ الْغَنِيُّ الَّذِي لَا يَفْتَقِرُ، وَالْوَجْدُ الْغِنَى، وَقَدْ يَكُونُ مِنَ الْوُجُودِ، وَهُوَ الَّذِي لَا يَؤُودُهُ طَلَبٌ، وَلَا يَحُولُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْمَطْلُوبِ هَرَبٌ، وَقَدْ يَكُونُ بِمَعْنَى الْعَالِمِ. الْمَاجِدُ: هُوَ الْمَجِيدُ، وَقَدْ مَضَى ذِكْرُ مَعْنَاهُ. الْوَاحِدُ: هُوَ الْفَرْدُ الَّذِي لَمْ يَزَلْ وَحْدَهُ بِلَا شَرِيكٍ، وَقِيلَ: هُوَ الَّذِي لَا قَسِيمَ لِذَاتِهِ، وَلَا شَبِيهَ لَهُ وَلَا شَرِيكَ، وَهَذِهِ صِفَةٌ يَسْتَحِقُّهَا بِذَاتِهِ. الصَّمَدُ: هُوَ السَّيِّدُ الَّذِي يُصْمَدُ إِلَيْهِ فِي الْأُمُورِ، وَيُقْصَدُ فِي الْحَوَائِجِ، وَقِيلَ: هُوَ الْبَاقِي الَّذِي لَا يَزُولُ، وَهُوَ منْ صِفَاتِ الذَّاتِ. الْقَادِرُ: هُوَ الَّذِي لَهُ الْقُدْرَةُ الشَّامِلَةُ، وَالْقُدْرَةُ لَهُ صِفَةٌ قَائِمَةٌ بِذَاتِهِ. الْمُقْتَدِرُ: هُوَ التَّامُّ الْقُدْرَةِ، الَّذِي لَا يَمْتَنِعُ عَلَيْهِ شَيْءٌ. الْمُقَدِّمُ وَالْمُؤَخِّرُ: هُوَ الْمُنَزِّلُ الْأَشْيَاءَ مَنَازِلَهَا، يُقَدِّمُ مَا شَاءَ وَمَنْ شَاءَ، وَيُؤَخِّرُ مَا شَاءَ وَمَنْ شَاءَ. الْأَوَّلُ: هُوَ الَّذِي لَا ابْتِدَاءَ لِوُجُودِهِ. الْآخِرُ: هُوَ الَّذِي لَا انْتِهَاءَ لِوُجُودِهِ، وَهُمَا صِفَتَانِ يَسْتَحِقُّهُمَا بِذَاتِهِ. الظَّاهِرُ: هُوَ الظَّاهِرُ بِحُجَجِهِ الْبَاهِرَةِ، وَبَرَاهِينِهِ النَّيِّرَةِ، وَشَوَاهِدِ أَعْلَامِهِ الدَّالَّةِ عَلَى ثُبُوتِ ربُوبِيَّتِهِ وَصِحَّةِ وَحْدَانِيَّتِهِ، وَقَدْ يَكُونُ الظُّهُورُ بِمَعْنَى الْعُلُوِّ وَالرِّفْعَةِ، وَقَدْ يَكُونُ بِمَعْنَى الْغَلَبَةِ. الْبَاطِنُ: هُوَ الَّذِي لَا يَسْتَوْلِي عَلَيْهِ تَوَهُّمُ الْكَيْفِيَّةِ، وَقَدْ يَكُونُ الظَّاهِرُ بِمَعْنَى الْعَالِمِ بِمَا ظَهَرَ مِنَ الْأُمُورِ، وَالْبَاطِنُ بِمَعْنَى الْمُطَّلِعِ عَلَى مَا بَطَنَ مِنَ الْغُيُوبِ، وَهُمَا مِنْ صِفَاتِ الذَّاتِ. الْوَالِي: هُوَ الْمَالِكُ لِلْأَشْيَاءِ وَالْمُتَوَلِّي لَهَا، وَقَدْ يَكُونُ بِمَعْنَى الْمُنْعِمِ عَوْدًا عَلَى بَدْءٍ. الْمُتَعَالِي: هُوَ الْمُنَزَّهُ عَنْ صِفَاتِ الْخَلْقِ، وَهَذِهِ صِفَةٌ يَسْتَحِقُّهَا بِذَاتِهِ، وَقَدْ يَكُونُ بِمَعْنَى الْعَالِي فَوْقَ خَلْقِهِ بِالْقَهْرِ. الْبَرُّ: هُوَ الْمُحْسِنُ إِلَى خَلْقِهِ، عَمَّهُمْ بِرِزْقِهِ، وَخَصَّ مَنْ شَاءَ مِنْهُمْ بِوِلَايَتِهِ، وَمُضَاعَفَةِ الثَّوَابِ لَهُ عَلَى طَاعَتِهِ، وَالتَّجَاوُزِ عَنْ مَعْصِيَتِهِ. التَّوَّابُ: هُوَ الَّذِي يَتُوبُ عَلَى مَنْ يَشَاءُ مِنْ عَبِيدِهِ وَيَقْبَلُ تَوْبَتَهُ. الْمُنْتَقِمُ: هُوَ الَّذِي يَنْتَصِرُ مِنْ أَعْدَائِهِ وَيُجَازِيهِمْ بِالْعَذَابِ عَلَى مَعَاصِيهِمْ، وَقَدْ يَكُونُ بِمَعْنَى الْمُهْلِكِ لَهُمْ. الْعَفُوُّ: مِنَ الْعَفْوِ عَلَى الْمُبَالَغَةِ، ثُمَّ قَدْ يَكُونُ بِمَعْنَى الْمَحْوِ، فَيَرْجِعُ مَعْنَاهُ إِلَى الصَّفْحِ عَنِ الذَّنْبِ، وَقَدْ يَكُونُ بِمَعْنَى الْمُفَضِّلُ فيُعْطِي الْجَزِيلَ مِنَ الْفَضْلِ. الرَّءُوفُ: هُوَ الرَّحِيمُ، وَالرَّأْفَةُ شِدَّةُ الرَّحْمَةِ، وَرَحْمَةُ اللَّهِ إِرَادَتُهُ إِنْعَامَ مَنْ شَاءَ مِنْ عِبَادِهِ، فَيَرْجِعُ مَعْنَاهُ إِلَى صِفَةِ الْإِرَادَةِ، ثُمَّ قَدْ تُسَمَّى تِلْكَ النِّعْمَةُ رَحْمَةً. مَالِكُ الْمُلْكِ: وَمَعْنَاهُ أَنَّ الْمُلْكَ بِيَدِهِ يُؤْتِيهِ مَنْ يَشَاءُ، وَقَدْ يَكُونُ مَعْنَاهُ مَالِكَ الْمُلُوكِ، وَقَدْ يَكُونُ مَعْنَاهُ وَارِثَ الْمُلْكِ يَوْمَ لَا يَدَّعِي الْمُلْكَ مُدَّعٍ، وَلَا يُنَازِعُهُ فِيهِ مُنَازِعٌ، وَاسْتِحْقَاقُهُ لِذَلِكَ صِفَةٌ يَسْتَحِقُّهَا بِذَاتِهِ. ذُو الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ: أَيْ مُسْتَحِقٌّ أَنْ يُجَلَّ وَيُكَرَّمَ فَلَا يُجْحَدَ، فَتَكُونُ صِفَةً يَسْتَحِقُّهَا بِذَاتِهِ، وَقَدْ يَكُونُ الْإِكْرَامُ بِمَعْنَى إِكْرَامِهِ أَهْلَ وِلَايَتِهِ فِي الدُّنْيَا بمَعْرِفَتِهِ، وَفِي الْآخِرَةِ بِجَنَّتِهِ، فيَكُونُ مِنْ صِفَاتِ الْفِعْلِ. الْمُقْسِطُ: هُوَ الْعَادِلُ فِي حُكْمِهِ. الْجَامِعُ: هُوَ الَّذِي يَجْمَعُ الْخلَائِقَ لِيَوْمٍ لَا رَيْبَ فِيهِ، وَهُوَ مِنْ صِفَاتِ الْفِعْلِ، وَقِيلَ: هُوَ الَّذِي جَمَعَ أَوْصَافَ الْمَدْحِ، وَهَذِهِ صِفَةٌ يَسْتَحِقُّهَا بِذَاتِهِ. الْغَنِيُّ: هُوَ الَّذِي اسْتَغْنَى عَنِ الْخَلْقِ، وَقِيلَ: الْمُتَمَكِّنُ مِنْ تَنْفِيذِ إِرَادَتِهِ فِي مُرَادَاتِهِ، وَهَذِهِ صِفَةٌ يَسْتَحِقُّهَا بِذَاتِهِ. الْمُغْنِي: هُوَ الَّذِي جَبَرَ مَفَاقِرَ الْخَلْقِ، وَقَدْ يَكُونُ بِمَعْنَى الْكَافِي مِنَ الْغَنَاءِ وَهُوَ الْكِفَايَةُ. الْمَانِعُ: هُوَ النَّاصِرُ الَّذِي يَمْنَعُ أَوْلِيَاءَهُ، أَيْ يَحُوطُهُمْ وَينْصُرُهُمْ، وَقِيلَ: هُوَ الَّذِي يَمْنَعُ الْعَطَاءَ عَنْ قَوْمٍ، وَالْبَلَاءَ عَنْ آخَرِينَ. الضَّارُّ: هُوَ مُوَصِّلُ الضَّرَرِ إِلَى مَنْ أَرَادَ. النَّافِعُ: هُوَ مُوَصِّلُ النَّفْعِ إِلَى مَنْ يَشَاءُ. النُّورُ: هُوَ الْهَادِي، وَقِيلَ: هُوَ الْمُنَوِّرُ، وَهُوَ مِنْ صِفَاتِ الْفِعْلِ، وَقِيلَ: هُوَ الْحَقُّ، وَقِيلَ: هُوَ الَّذِي لَا يَخْفَى عَلَى أَوْلِيَائِهِ بِالدَّلِيلِ، وَتَصِحُّ رُؤْيَتُهُ بِالْأَبْصَارِ، وَهَذِهِ صِفَةٌ يَسْتَحِقُّهَا الْبَارِي تَعَالَى بِذَاتِهِ. الْهَادِي: هُوَ الَّذِي بِهِدَايَتِهِ اهْتَدَى أَهْلُ وِلَايَتِهِ، وَبِهِدَايَتِهِ اهْتَدَى الْحَيَوَانُ لِمَا يُصْلِحُهُ وَاتَّقَى مَا يَضُرُّهُ. الْبَدِيعُ: هُوَ الَّذِي فَطَرَ الْخَلْقَ مُبْدِعًا لَهُ لَا عَلَى مِثَالٍ سَبَقَ، وَهُوَ مِنْ صِفَاتِ الْفِعْلِ، وَقَدْ يَكُونُ بِمَعْنَى لَا مِثْلَ لَهُ، فيَكُونُ صِفَةً يَسْتَحِقُّهَا بِذَاتِهِ. الْبَاقِي: هُوَ الَّذِي دَامَ وُجُودُهُ، وَالْبَقَاءُ لَهُ صِفَةٌ قَائِمَةٌ بِذَاتِهِ، وَفِي مَعْنَاهُ الْوَارِثُ. الرَّشِيدُ: هُوَ الْمُرْشِدُ، وَهُوَ الْهَادِي، وَقَدْ يَكُونُ بِمَعْنَى الْحَكِيمِ ذِي الرُّشْدِ لِاسْتِقَامَةِ تَدْبِيرِهِ، وَإِصَابَتِهِ فِي أَفْعَالِهِ. الصَّبُورُ: هُوَ الَّذِي لَا يُعَالِجُ الْعُصَاةَ بِالْعُقُوبَةِ، وَهُوَ قَرِيبٌ مِنْ مَعْنَى الْحَلِيمِ، وَصِفَةُ الْحَلِيمِ أَبْلَغُ فِي السَّلَامَةِ مِنْ عُقُوبَتِهِ. وَأَمَّا الْأَسْمَاءُ الَّتِي وَرَدَتْ فِي رِوَايَةِ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ الْحُصَيْنِ مِمَّا لَيْسَ فِي رِوَايَةِ الْوَلِيدِ بْنِ مُسْلِمٍ فَمِنْهَا: الرَّبُّ: وَمَعْنَاهُ السَّيِّدُ، وَقِيلَ: مَعْنَاهُ الْمَالِكُ، وَقِيلَ: هُوَ الْمُبَلِّغُ كُلَّ مَا أَبْدَعَ حَدَّ كَمَالِهِ الَّذِي قدَّرَهُ لَهُ، فهُوَ عَلَى هَذَا الْمَعْنَى مِنْ صِفَاتِ فِعْلِهِ، وَعَلَى مَا قَبْلَهُ مِنْ صِفَاتِ ذَاتِهِ. الْحَنَّانُ: مَعْنَاهُ ذُو الرَّحْمَةِ. الْمَنَّانُ: هُوَ الْكَثِيرُ الْعَطَاءِ. الْبَادِئُ: مَعْنَاهُ الْمُبْدِئُ. الْأَحَدُ: الَّذِي لَا شَبِيهَ لَهُ وَلَا نَظِيرَ. وَالْوَاحِدُ: الَّذِي لَا شَرِيكَ لَهُ وَلَا عَدِيلَ، وَعُبِّرَ عَنْهُ بِعِبَارَةٍ أُخْرَى فَقِيلَ: الْأَحَدُ، وَهُوَ الْمُنْفَرِدُ بِالْمَعْنَى لَا يُشَارِكُهُ فِيهِ أَحَدٌ، وَالْوَاحِدُ الْمُنْفَرِدُ بِالذَّاتِ لَا يُضَامُّهُ أَحَدٌ، وَهُمَا مِنَ الصِّفَاتِ الَّتِي يَسْتَحِقُّهَا بِذَاتِهِ. الْكَافِي: الَّذِي يَكْفِي عِبَادَهُ الْمُهِمَّ، وَيَدْفَعُ عَنْهُمُ الْمُلِمَّ. الْمُغِيثُ: هُوَ الَّذِي يُدْرِكُ عِبَادَهُ فِي الشَّدَائِدِ فَيُخَلِّصُهُمْ. الدَّائِمُ: هُوَ الْمَوْجُودُ، لَمْ يَزَلْ وَلَا يَزَالُ، وَيَرْجِعُ مَعْنَاهُ إِلَى صِفَةِ الْبَقَاءِ. الْمَوْلَى: هُوَ النَّاصِرُ الْمُعِينُ. الْمُبِينُ: هُوَ الْبَيِّنُ أَمْرُهُ فِي الْوَحْدَانِيَّةِ، وَهَذِهِ صِفَةٌ يَسْتَحِقُّهَا بِذَاتِهِ. الصَّادِقُ: هُوَ الَّذِي يَصْدُقُ قَوْلُهُ، وَيَصْدُقُ وَعْدُهُ، وَهُوَ مِنْ صِفَاتِ الذَّاتِ. الْمُحِيطُ: هُوَ الَّذِي أَحَاطَتْ قُدْرَتُهُ بِجَمِيعِ الْمَقْدُورَاتِ، وَأَحَاطَ عِلْمُهُ بِجَمِيعِ الْمَعْلُومَاتِ، وَالْقُدْرَةُ لَهُ صِفَةٌ قَائِمَةٌ بِذَاتِهِ، وَالْعِلْمُ لَهُ صِفَةٌ قَائِمَةٌ بِذَاتِهِ. الْقَرِيبُ: مَعْنَاهُ أَنَّهُ قَرِيبٌ بِعِلْمِهِ مِنْ خَلْقِهِ، قَرِيبٌ مِمَّنْ يَدْعُوهُ بإِجَابَتِهِ. الْقَدِيمُ: هُوَ الْمَوْجُودُ لَمْ يَزَلْ، وَهَذِهِ صِفَةٌ يَسْتَحِقُّهَا بِذَاتِهِ. الْوِتْرُ: هُوَ الْفَرْدُ الَّذِي لَا شَرِيكَ لَهُ وَلَا نَظِيرَ، وَهَذِهِ أَيْضًا صِفَةٌ يَسْتَحِقُّهَا بِذَاتِهِ. الْفَاطِرُ: هُوَ الَّذِي فَطَرَ الْخَلْقَ، أَيِ ابْتَدَأَ خَلْقَهُمْ. الْعَلَّامُ: بِمَعْنَى الْعَلِيمِ، وَبِنَاءُ الْفَعَّالِ بِنَاءُ التَّكْثِيرِ، وَالْعِلْمُ لِلَّهِ صِفَةٌ قَائِمَةٌ بِذَاتِهِ. الْمَلِيكُ: هُوَ الْمَالِكُ عَلَى الْمُبَالَغَةِ، وَقَدْ يَكُونُ بِمَعْنَى الْمَلِكِ، وَقَدْ مَضَى معنَاهُمَا. الْأَكْرَمُ: هُوَ الَّذِي لَا يُوَازِيهِ كَرِيمٌ، وَلَا يُعَادِلُهُ نَظِيرٌ، وَقَدْ يَكُونُ بِمَعْنَى الْكَرِيمِ. الْمُدَبِّرُ: هُوَ الْعَالِمُ بأَدْبَارِ الْأُمُورِ وَعوَاقِبِهَا، وَمُقَدِّرُ الْمَقَادِيرِ وَمُجْرِيهَا إِلَى غَايَاتِهَا، يُدَبِّرُ الْأُمُورَ بِحِكْمَتِهِ، وَيُصَرِّفُهَا عَلَى مَشِيئَتِهِ. ذُو الْمَعَارِجِ: وَالْمَعَارِجُ الدَّرَجُ، وَهِيَ الْمَصَاعِدُ الَّتِي تَعْرُجُ عَلَيْهَا الْمَلَائِكَةُ. ذُو الطَّوْلِ وَذُو الْفَضْلِ: وَمَعْنَاهُ أَهْلُ الطَّوْلِ وَالْفَضْلِ، وَذُو حَرْفُ النِّسْبَةِ كقَوْلِهِ: {ذُو الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ} [الرحمن: 27] . الْجَمِيلُ: هُوَ الْمُجَمِّلُ الْمُحَسِّنُ. الرَّفِيعُ: قَدْ يَكُونُ بِمَعْنَى الرَّافِعِ، يَرْفَعُ دَرَجَاتِ مَنْ يَشَاءُ، فيَكُونُ مِنْ صِفَاتِ الْفِعْلِ، وَقَدْ يَكُونُ مَعْنَاهُ: هُوَ الَّذِي لَا أَرْفَعَ قَدْرًا مِنْهُ، وَهُوَ الْمُسْتَحِقُّ لِدَرَجَاتِ الْمَدْحِ وَالثَّنَاءِ، وَهِيَ أَصْنَافُهَا لَا مُسْتَحِقَّ لَهَا غَيْرُهُ، فَيَكُونُ مِنْ صِفَاتِ الذَّاتِ قَالَ الشَّيْخُ رحمه الله: وَقَدْ قِيلَ فِي مَعَانِي هَذِهِ الْأَسْمَاءِ غَيْرُ مَا ذَكَرْنَا، قَدْ ذَكَرْنَا بَعْضَهَا فِي كِتَابِ الْأَسْمَاءِ وَالصِّفَاتِ، وَبَعْضَهَا فِي كِتَابِ الْجَامِعِ، وَهَذِهِ الْوُجُوهُ الَّتِي ذَكَرْنَا فِي مَعَانِيهَا كُلُّهَا صَحِيحٌ، وَرَبُّنَا جل جلاله وَتَقَدَّسَتْ أَسْمَاؤُهُ مُتَّصِفٌ بِجَمِيعِ ذَلِكَ، فَلَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى وَالصِّفَاتُ الْعُلَى لَا شَبِيهَ لَهُ فِي خَلْقِهِ، وَلَا شَرِيكَ لَهُ فِي مُلْكِهِ، لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ
আমরা যে নামগুলো সংক্ষেপে বর্ণনা করেছি সেগুলোর অর্থ উল্লেখ করার অধ্যায় - আল্লাহ: এর অর্থ যাঁর ইলাহিয়্যাত বা উপাস্য হওয়ার গুণ রয়েছে, আর তা হলো অস্তিত্বহীন থেকে বস্তু উদ্ভাবনের ক্ষমতা; এটি এমন একটি গুণ যা তিনি তাঁর সত্তাগতভাবে পাওয়ার যোগ্য। রহমান: যাঁর দয়া রয়েছে। রহীম: দয়াশীল; এটি আধিক্য বোঝাতে ‘ফায়েল’-এর অর্থে ‘ফায়ীল’ ওজনে এসেছে। কেউ কেউ বলেছেন: রহমান মানে যিনি দুনিয়াতে প্রতিটি জীবের রিযিক দানে ইচ্ছুক, আর রহীম মানে যিনি পরকালে মুমিনদের জান্নাত দিয়ে সম্মানিত করতে ইচ্ছুক। ফলে এ দুটির অর্থ ‘ইরাদা’ বা ইচ্ছার গুণের দিকে ফিরে যায়, যা তাঁর সত্তায় বিদ্যমান একটি গুণ। আল-মালিক: তিনি পূর্ণ রাজত্বের অধিকারী। আল-মালিক (মালিক): তিনি বিশেষ মালিকানার অধিকারী। আল্লাহ তাআলার গুণের ক্ষেত্রে এ দুটির প্রকৃত অর্থ হলো তিনি অস্তিত্ব দানে সক্ষম; এটি এমন একটি গুণ যা তিনি সত্তাগতভাবে পাওয়ার যোগ্য। কুদ্দুস: তিনি ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে পবিত্র, সন্তান ও সমকক্ষ থেকে মুক্ত; এটি এমন একটি গুণ যা তিনি সত্তাগতভাবে পাওয়ার যোগ্য। আস-সালাম: যিনি যাবতীয় ত্রুটি ও বিপদ থেকে মুক্ত; এটি এমন একটি গুণ যা তিনি সত্তাগতভাবে পাওয়ার যোগ্য। কেউ কেউ বলেছেন: তিনি সেই সত্তা যাঁর শাস্তি থেকে মুমিনরা নিরাপদ থাকে। আল-মুমিন: তিনি সেই সত্তা যিনি নিজেকে সত্যায়ন করেছেন এবং তাঁর মুমিন বান্দাদের সত্যায়ন করেছেন। তাঁর নিজেকে সত্যায়ন করার অর্থ হলো তিনি সত্যবাদী—এ বিষয়ে তাঁর জ্ঞান; আর বান্দাদের সত্যায়ন করার অর্থ হলো তারা যে সত্যবাদী—সে বিষয়ে তাঁর জ্ঞান। কেউ কেউ বলেছেন: আল-মুমিন মানে যিনি নিজেকে একত্ববাদী ঘোষণা করেছেন, যা তাঁর সত্তাগত গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত। আবার কেউ কেউ বলেছেন: আল-মুমিন মানে যিনি কিয়ামতের দিন তাঁর মুমিন বান্দাদের নিজের শাস্তি থেকে নিরাপত্তা দেবেন। আল-মুহাইমিন: তিনি তাঁর সৃষ্টির কথা ও কাজের সাক্ষী; এটি তাঁর সত্তাগত গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত। কেউ কেউ বলেছেন: এর অর্থ আমানতদার। আবার বলা হয়েছে: এর অর্থ কোনো বিষয়ের পর্যবেক্ষক ও হিফাযতকারী। আল-আযীয: তিনি সেই বিজয়ী যাঁকে পরাভূত করা যায় না, এবং সেই অপরাজেয় যাঁর নাগাল পাওয়া যায় না। কেউ কেউ বলেছেন: তিনি সক্ষম ও শক্তিশালী। আবার কেউ কেউ বলেছেন: যাঁর কোনো উপমা নেই; এটি সত্তাগত গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত। আল-জাব্বার: যাঁর নাগাল কোনো হাত পায় না এবং তাঁর রাজ্যে তাঁর ইচ্ছা ছাড়া কিছুই ঘটে না; এটি এমন এক গুণ যা তিনি সত্তাগতভাবে পাওয়ার যোগ্য। কেউ কেউ বলেছেন: তিনি সেই সত্তা যিনি সৃষ্টিজগতকে তাঁর ইচ্ছানুযায়ী চলতে বাধ্য করেন। আবার কেউ কেউ বলেছেন: তিনি সৃষ্টিজগতের অভাব মোচনকারী; এই অর্থে এটি তাঁর কর্মগত গুণের অন্তর্ভুক্ত। আল-মুতাকাব্বির: তিনি সৃষ্টির গুণাবলি থেকে সুউচ্চ; এটি এমন এক গুণ যা তিনি সত্তাগতভাবে পাওয়ার যোগ্য। কেউ কেউ বলেছেন: তিনি সেই সত্তা যিনি তাঁর সৃষ্টির উদ্ধতদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করেন যখন তারা তাঁর মহত্ত্ব নিয়ে বিবাদ করে, ফলে তিনি তাদের চূর্ণ করে দেন। আল-খালিক: তিনি কোনো পূর্ব নমুনা ছাড়াই সৃষ্টিজগতকে উদ্ভাবন ও সৃজনকারী। আল-বারী: তিনি সৃষ্টিকর্তা, এবং বস্তুর রূপান্তরের ক্ষেত্রে তাঁর বিশেষত্ব রয়েছে। আল-মুসাব্বির: তিনি তাঁর সৃষ্টিকে বিভিন্ন রূপে নির্মাণ করেছেন। আল-গাফফার: তিনি তাঁর বান্দাদের গুনাহ বারবার গোপনকারী। আল-কাহহার: এটি আধিক্যসূচক শব্দ যার অর্থ প্রবল পরাক্রমশালী এবং তিনি সক্ষম; ফলে এর অর্থ সক্ষমতা বা কুদরত গুণের দিকে ফিরে যায় যা তাঁর সত্তায় বিদ্যমান। কেউ কেউ বলেছেন: তিনি সেই সত্তা যিনি সৃষ্টিজগতকে তাঁর ইচ্ছার অধীন করেছেন। আল-ওয়াহহাব: তিনি সেই সত্তা যিনি প্রতিদান ছাড়াই প্রচুর দান করেন। আর-রাযযাক: তিনি প্রতিটি প্রাণীকে তার জীবনধারণের উপকরণ দানকারী এবং যা কিছু তিনি বৈধ বা অবৈধ রিযিক হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ করে দিয়েছেন তার দায়ভার গ্রহণকারী। আল-ফাত্তাহ: তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে ফয়সালাকারী। আল-ফাত্তাহ মানে সেই সত্তা যিনি বান্দাদের দ্বীন ও দুনিয়ার রুদ্ধ বিষয়গুলো খুলে দেন। এটি সাহায্যকারী অর্থও প্রকাশ করে। আল-আলিম: এটি আধিক্যসূচক শব্দ যার অর্থ সর্বজ্ঞ; জ্ঞান তাঁর একটি গুণ যা তাঁর সত্তায় বিদ্যমান। আল-কাবিদ ও আল-বাসিত: তিনি সেই সত্তা যিনি রিযিক সংকুচিত করেন এবং প্রশস্ত করেন। তিনি তাঁর উদারতা ও রহমতে রিযিক প্রশস্ত করেন এবং তাঁর প্রজ্ঞায় তা সংকুচিত করেন। কেউ কেউ বলেছেন: আল-কাবিদ মানে যিনি বান্দাদের জন্য নির্ধারিত মৃত্যুর মাধ্যমে রূহ কবজ করেন, আর আল-বাসিত মানে যিনি দেহসমূহে রূহ সঞ্চার করেন। আল-খাফিদ ও আর-রাফি: আল-খাফিদ মানে যিনি তাঁর প্রতিশোধের মাধ্যমে যাকে ইচ্ছা অবনত করেন, আর আর-রাফি মানে যিনি তাঁর অনুগ্রহের মাধ্যমে যাকে ইচ্ছা উন্নত করেন। আল-মুইয ও আল-মুযিল: তিনি যাকে ইচ্ছা সম্মানিত করেন এবং যাকে ইচ্ছা লাঞ্ছিত করেন। তিনি যাকে সম্মানিত করেন তাকে কেউ লাঞ্ছিত করতে পারে না, আর তিনি যাকে লাঞ্ছিত করেন তাকে কেউ সম্মানিত করতে পারে না। আস-সামীয়: যাঁর শ্রবণ গুণ রয়েছে যা দিয়ে তিনি শ্রবণযোগ্য বিষয়সমূহ উপলব্ধি করেন; শ্রবণ তাঁর একটি গুণ যা তাঁর সত্তায় বিদ্যমান। আল-বাসীর: যাঁর দৃষ্টি গুণ রয়েছে যা দিয়ে তিনি দৃশ্যমান বস্তুসমূহ দেখেন; দৃষ্টি তাঁর একটি গুণ যা তাঁর সত্তায় বিদ্যমান। আল-হাকাম: তিনি বিচারক। তাঁর বিচার হলো তাঁর দেওয়া খবর, আর তাঁর খবর হলো তাঁর কথা (কালাম); ফলে এর অর্থ কালাম বা কথা বলার গুণের দিকে ফিরে যায়। কখনও এটি কাউকে নেয়ামত বা কাউকে বিপদের মাধ্যমে ফয়সালা করা অর্থেও আসে, সেক্ষেত্রে এটি কর্মগত গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত হবে। আল-আদল: তিনি যা করেন তা করার পূর্ণ অধিকার তাঁর রয়েছে; এটি এমন এক গুণ যা তিনি সত্তাগতভাবে পাওয়ার যোগ্য। আল-লতীফ: তিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি পরম করুণাময়, এটি তাঁর কর্মগত গুণের অন্তর্ভুক্ত। কখনও এটি বিষয়ের গোপন রহস্য সম্পর্কে অবগত হওয়া অর্থেও আসে, তখন এটি সত্তাগত গুণের অন্তর্ভুক্ত হয়। আল-খাবীর: তিনি বস্তুর মূল রহস্য সম্পর্কে পরিজ্ঞাত এবং প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে অবগত। কেউ কেউ বলেছেন: আল-খাবীর মানে সংবাদ দানকারী; এটি সত্তাগত গুণের অন্তর্ভুক্ত। আল-হালীয়ম: তিনি সেই সত্তা যিনি অপরাধীদের শাস্তি দিতে বিলম্ব করেন, এরপর কখনও তাদের ক্ষমাও করে দেন। আল-আযীম: তিনি উচ্চতা, মর্যাদা, গাম্ভীর্য, মহত্ত্ব এবং যাবতীয় দোষ থেকে পবিত্রতার অধিকারী। এটি এমন এক গুণ যা তিনি সত্তাগতভাবে পাওয়ার যোগ্য। আল-গাফুর: যিনি প্রচুর ক্ষমা করেন। আশ-শাকুর: তিনি সেই সত্তা যিনি অল্প ইবাদতে সন্তুষ্ট হন এবং এর বিনিময়ে প্রচুর সওয়াব দান করেন। তাঁর শোকর করার অর্থ তাঁর বান্দার প্রশংসা করা হতে পারে, সেক্ষেত্রে এর অর্থ কালাম বা কথা বলার গুণের দিকে ফিরে যায় যা তাঁর সত্তায় বিদ্যমান। আল-আলী: তিনি সুউচ্চ ও প্রবল পরাক্রমশালী। কেউ কেউ বলেছেন: তিনি সেই সত্তা যিনি সৃষ্টির গুণাবলি স্পর্শ করা থেকে উর্ধ্বে ও মহান; এটি এমন এক গুণ যা তিনি সত্তাগতভাবে পাওয়ার যোগ্য। আল-কাবীর: তিনি মহিমা ও সুমহান মর্যাদার গুণে গুণান্বিত, যাঁর মহত্ত্বের সামনে অন্য সবকিছুই তুচ্ছ। কেউ কেউ বলেছেন: তিনি সৃষ্টির সাদৃশ্য থেকে মহান; এটি এমন এক গুণ যা তিনি সত্তাগতভাবে পাওয়ার যোগ্য। আল-হাফীয: তিনি যা কিছু এবং যাকে ইচ্ছা হিফাযত করেন। কেউ কেউ বলেছেন: তিনি যা জানেন তা বিস্মৃত হন না; সেক্ষেত্রে এর অর্থ জ্ঞান (ইলম) গুণের দিকে ফিরে যায়। আল-মুকীত: তিনি সামর্থ্যবান, সেক্ষেত্রে এর অর্থ সক্ষমতা বা কুদরত গুণের দিকে ফিরে যায়। কেউ কেউ বলেছেন: আল-মুকীত মানে হিফাযতকারী। আবার কেউ বলেছেন: তিনি রিযিকদাতা, সেক্ষেত্রে এটি কর্মগত গুণের অন্তর্ভুক্ত। আল-হাসীব: তিনি যথেষ্ট। কেউ কেউ বলেছেন: এর অর্থ হিসাব গ্রহণকারী। আল-জালীল: এটি মহিমা ও মহানুভবতা থেকে এসেছে। এর অর্থ কুদরতের মহিমা ও মর্যাদার বিশালতার দিকে ধাবিত হয়। তিনি এমন এক মহান সত্তা যাঁর সামনে সকল মহান সত্তা তুচ্ছ হয়ে যায় এবং তাঁর নিকট সকল উচ্চ মর্যাদাবান ছোট হয়ে যায়; এটি এমন এক গুণ যা তিনি সত্তাগতভাবে পাওয়ার যোগ্য। আল-কারীম: তিনি নীচতা থেকে পবিত্র; এটি এমন এক গুণ যা তিনি সত্তাগতভাবে পাওয়ার যোগ্য। কেউ কেউ বলেছেন: আল-কারীম মানে প্রচুর কল্যাণের অধিকারী। আবার কেউ বলেছেন: তিনি এমন এক ইহসানকারী যার দায়বদ্ধতা তাঁর ওপর নেই, এবং তিনি তাঁর প্রাপ্য অধিকার থেকে ক্ষমাকারী; এই অর্থে এটি কর্মগত গুণের অন্তর্ভুক্ত। আর-রাকীব: তিনি সেই হিফাযতকারী যাঁর কাছে কোনো কিছুই গোপন থাকে না; ফলে এর অর্থ ইলম বা জ্ঞান গুণের দিকে ফিরে যায়। আল-মজীব: তিনি বিপদগ্রস্তের আহ্বানে সাড়া দেন এবং আর্তনাদকারীর ফরিয়াদ শোনেন। আল-ওয়াসি: তিনি মহাজ্ঞানী; ফলে এর অর্থ ইলম বা জ্ঞান গুণের দিকে ফিরে যায়। কেউ কেউ বলেছেন: তিনি সেই অভাবমুক্ত সত্তা যাঁর প্রাচুর্য সৃষ্টির সকল অভাবকে ঢেকে ফেলে। আল-হাকীম: তিনি সকল বস্তুর সুনিপুণ স্রষ্টা। কখনও এটি তাঁর কাজে সঠিক হওয়া অর্থেও ব্যবহৃত হয়। আল-ওয়াদুদ: তিনি তাঁর মুমিন বান্দাদের ভালোবাসেন এবং মুমিন বান্দারাও তাঁকে ভালোবাসে। আল্লাহর বান্দাদের ভালোবাসা মানে হলো তাদের প্রতি তাঁর রহমত ও প্রশংসার ইচ্ছা রাখা; ফলে এর অর্থ ইরাদা (ইচ্ছা) ও কালাম (কথা) গুণের দিকে ফিরে যায়। কখনও এটি তাঁদের প্রতি নেয়ামত দান করা অর্থেও আসে; আর তাঁর নেয়ামতসমূহের মধ্যে একটি হলো সৃষ্টিজগতের কাছে তাঁদের প্রিয় করে তোলা। এই অর্থে এটি কর্মগত গুণের অন্তর্ভুক্ত। আল-মজীদ: তিনি সুমহান, উচ্চ মর্যাদাবান এবং প্রচুর কল্যাণ ও ইহসানকারী। অভিধানে ‘মজদ’ শব্দটি মর্যাদা বা প্রশস্ততা অর্থে আসতে পারে। প্রথম অর্থে এটি সত্তাগত গুণ। আল-বাইস: তিনি সেই সত্তা যিনি প্রতিদানের জন্য মৃত্যুর পর বান্দাদের পুনরুত্থিত করবেন। তিনি তাঁর সৃষ্টির মধ্যে যাকে ইচ্ছা পদস্খলনের পর উদ্ধার করেন এবং বিপর্যয়ের পর স্বস্তি দান করেন। আশ-শহীদ: যাঁর নিকট কোনো কিছুই অনুপস্থিত নয়। কেউ কেউ বলেছেন: তিনি এমন এক জ্ঞানী যিনি সবকিছু দেখেন; ফলে এর অর্থ ইলম (জ্ঞান) ও রুইয়্যাত (দর্শন) গুণের দিকে ফিরে যায়। আল-হাক্ক: তিনি অকাট্যভাবে বিদ্যমান; এটি এমন এক গুণ যা তিনি সত্তাগতভাবে পাওয়ার যোগ্য। আল-ওয়াকীল: তিনি যথেষ্ট এবং তিনি অর্পিত দায়িত্ব একাই পালনে সক্ষম। কেউ কেউ বলেছেন: তিনি রিযিক ও সৃষ্টির সংশোধনের দায়িত্ব গ্রহণকারী। আল-কাউয়্যি: তিনি সক্ষম বা কাদির। এর অর্থ হলো তাঁর সক্ষমতা পূর্ণাঙ্গ হওয়া যাতে কোনো অবস্থাতেই অক্ষমতা তাঁকে স্পর্শ করতে না পারে। এর অর্থ কুদরত বা সক্ষমতার গুণের দিকে ফিরে যায়। আল-মতীন: তিনি প্রচণ্ড শক্তিশালী যাঁর শক্তি কখনো শেষ হয় না এবং তাঁর কাজে কোনো ক্লান্তি তাঁকে স্পর্শ করে না। এর অর্থও কুদরত বা সক্ষমতার গুণের দিকে ফিরে যায়। আল-ওয়ালী: তিনি সাহায্যকারী। কেউ কেউ বলেছেন: তিনি দায়িত্ব গ্রহণকারী ও তা সম্পাদনকারী। আল-হামীদ: তিনি প্রশংসিত এবং প্রশংসার যোগ্য। কেউ কেউ বলেছেন: যাঁর প্রশংসা ও পূর্ণতার গুণাবলি রয়েছে; এটি এমন এক গুণ যা তিনি সত্তাগতভাবে পাওয়ার যোগ্য। আল-মুহসী: তিনি সেই সত্তা যিনি তাঁর জ্ঞান দ্বারা সবকিছু পরিবেষ্টন করেছেন; ফলে এর অর্থ ইলম বা জ্ঞান গুণের দিকে ফিরে যায়। আল-মুবদী: তিনি মানুষকে অস্তিত্ব দান করেছেন, অর্থাৎ আবিষ্কারক হিসেবে সূচনা করেছেন। আল-মুঈদ: তিনি সেই সত্তা যিনি সৃষ্টির জীবনের পর মৃত্যু দেন এবং মৃত্যুর পর পুনরায় জীবনে ফিরিয়ে আনেন। আল-মুহয়ী: তিনি সেই সত্তা যিনি মৃত বীর্য থেকে জীবিত প্রাণ বের করেন, কিয়ামতের দিন রূহ ফিরিয়ে দিয়ে জীর্ণ দেহ পুনর্জীবিত করেন, মারেফাতের আলো দিয়ে অন্তরকে জীবিত করেন এবং বৃষ্টি বর্ষণ ও রিযিক উৎপন্ন করে মৃত জমিনকে জীবিত করেন। আল-মুমীত: তিনি জীবিতদের মৃত্যু দান করেন এবং মৃত্যুর মাধ্যমে শক্তিশালী মানুষদের শক্তি দুর্বল করে দেন। আল্লাহ তাআলার গুণের ক্ষেত্রে আল-হায়্য (চিরঞ্জীব): তিনি অনাদিকাল থেকে বিদ্যমান এবং জীবন গুণে গুণান্বিত। জীবন তাঁর একটি গুণ যা তাঁর সত্তায় বিদ্যমান। আল-কাইয়ূম: তিনি চিরস্থায়ী যাঁর কোনো বিনাশ নেই; ফলে এর অর্থ বাকা বা স্থায়িত্বের দিকে ফিরে যায়। আর স্থায়িত্ব হলো সত্তাগত গুণ। কেউ কেউ বলেছেন: তিনি মহাবিশ্বের সবকিছুর পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক। এই অর্থে এটি কর্মগত গুণের অন্তর্ভুক্ত। আল-ওয়াজিদ: তিনি সেই প্রাচুর্যবান যাঁর কোনো অভাব নেই। ওয়াজদ মানে সচ্ছলতা। এটি অস্তিত্ব (ওজুদ) থেকেও হতে পারে; তখন এর অর্থ হবে এমন সত্তা যাঁকে কোনো সন্ধানকারী ক্লান্ত করতে পারে না এবং কোনো পলায়নকারী তাঁর উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে বাধা হতে পারে না। এটি জ্ঞানী অর্থেও হতে পারে। আল-মাজিদ: এর অর্থ আল-মজীদ, যা ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। আল-ওয়াহিদ: তিনি সেই একক সত্তা যিনি অনাদিকাল থেকে অংশীদারহীনভাবে আছেন। কেউ কেউ বলেছেন: যাঁর সত্তা বিভাজ্য নয়, যাঁর কোনো সদৃশ নেই এবং কোনো অংশীদার নেই; এটি এমন এক গুণ যা তিনি সত্তাগতভাবে পাওয়ার যোগ্য। আস-সামাদ: তিনি সেই অধিপতি যাঁর কাছে সকল বিষয়ে আশ্রয় নেওয়া হয় এবং প্রয়োজনের সময় যাঁর মুখাপেক্ষী হওয়া হয়। কেউ কেউ বলেছেন: তিনি চিরস্থায়ী যাঁর কোনো লয় নেই। এটি সত্তাগত গুণের অন্তর্ভুক্ত। আল-কাদির: যাঁর রয়েছে সর্বব্যাপী সক্ষমতা। কুদরত বা সক্ষমতা তাঁর একটি গুণ যা তাঁর সত্তায় বিদ্যমান। আল-মুকতাদির: তিনি পূর্ণ সক্ষমতা সম্পন্ন, যাঁর অসাধ্য কিছুই নেই। আল-মুকাদ্দিম ও আল-মুআখখির: তিনি বস্তুসমূহকে তাদের যথাযথ স্থানে বিন্যস্তকারী। তিনি যা ইচ্ছা এবং যাকে ইচ্ছা অগ্রবর্তী করেন, আর যা ইচ্ছা এবং যাকে ইচ্ছা পশ্চাদবর্তী করেন। আল-আউয়াল: যাঁর অস্তিত্বের কোনো শুরু নেই। আল-আখির: যাঁর অস্তিত্বের কোনো শেষ নেই। এ দুটি এমন গুণ যা তিনি সত্তাগতভাবে পাওয়ার যোগ্য। আয-যাহির: তিনি তাঁর অকাট্য দলিল, উজ্জ্বল প্রমাণ এবং তাঁর রুবুবিয়্যাত (প্রভুত্ব) ও তাওহীদ (একত্ববাদ) প্রমাণের স্পষ্ট নিদর্শনাবলির মাধ্যমে প্রকাশিত। কখনও জহুর মানে উচ্চতা বা মর্যাদা হওয়া অর্থে আসে, আবার কখনও বিজয়ী হওয়া অর্থেও আসে। আল-বাতিন: যাঁর ধরণ বা প্রকৃতি কোনো কল্পনা দ্বারা আয়ত্ত করা সম্ভব নয়। আয-যাহির মানে যা প্রকাশ্য সে সম্পর্কে জ্ঞানী হতে পারে, আর আল-বাতিন মানে যা গোপন তা সম্পর্কে সম্যক অবগত। এ দুটি সত্তাগত গুণের অন্তর্ভুক্ত। আল-ওয়ালী: তিনি সকল বস্তুর মালিক ও সেগুলোর পরিচালক। কখনও এর অর্থ হয় নেয়ামতদাতা যিনি বারবার নেয়ামত দান করেন। আল-মুতায়ালী: তিনি সৃষ্টির গুণাবলি থেকে পবিত্র; এটি এমন এক গুণ যা তিনি সত্তাগতভাবে পাওয়ার যোগ্য। কখনও এর অর্থ হয় সৃষ্টির ওপর তাঁর কর্তৃত্বের মাধ্যমে তিনি সুউচ্চ। আল-বারর: তিনি তাঁর সৃষ্টির প্রতি ইহসানকারী, রিযিকের মাধ্যমে তিনি তাদের সকলকে পরিবেষ্টন করেছেন, এবং যাকে ইচ্ছা তাঁর আনুগত্যের বিনিময়ে বহুগুণ সওয়াব দান ও অবাধ্যতা ক্ষমা করার মাধ্যমে বিশেষভাবে ধন্য করেন। আত-তাওয়াব: তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তাওবা করার তাওফীক দেন এবং তাঁর তাওবা কবুল করেন। আল-মুনতাক্বিম: তিনি তাঁর শত্রুদের ওপর বিজয় লাভ করেন এবং অবাধ্যতার কারণে তাদের আজাব দিয়ে শাস্তি দেন। এটি ধ্বংসকারী অর্থেও আসতে পারে। আল-আফূউ: এটি ক্ষমা করার আধিক্য বোঝায়। কখনও এটি মিটিয়ে ফেলা অর্থে আসে, তখন এর অর্থ গুনাহ মাফ করা হয়। আবার এটি শ্রেষ্ঠত্ব দান করা অর্থেও আসে যা দিয়ে তিনি প্রচুর অনুগ্রহ দান করেন। আর-রাউফ: তিনি পরম দয়ালু। রাফাত মানে দয়ার তীব্রতা। আল্লাহর রহমত হলো তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা নেয়ামত দান করার ইচ্ছা রাখা; ফলে এর অর্থ ইরাদা বা ইচ্ছা গুণের দিকে ফিরে যায়। কখনও সেই নেয়ামতকেই রহমত বলা হয়। মালিকুল মুলক: এর অর্থ রাজত্ব তাঁর হাতে, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন। এর অর্থ রাজাদের রাজা হতে পারে। আবার এর অর্থ হতে পারে রাজত্বের উত্তরাধিকারী সেই দিন, যেদিন কোনো দাবিদার রাজত্বের দাবি করবে না এবং কেউ তাঁর সাথে বিবাদ করবে না। এটি এমন এক গুণ যা তিনি সত্তাগতভাবে পাওয়ার যোগ্য। যুল জালালি ওয়াল ইকরাম: অর্থাৎ তিনি মহিমা ও সম্মানের যোগ্য যাতে তাঁকে অস্বীকার না করা হয়। এটি এমন এক গুণ যা তিনি সত্তাগতভাবে পাওয়ার যোগ্য। কখনও ইকরাম মানে দুনিয়াতে তাঁর মারেফাতের মাধ্যমে এবং আখিরাতে জান্নাতের মাধ্যমে তাঁর প্রিয়জনদের সম্মানিত করা বোঝায়। সেক্ষেত্রে এটি কর্মগত গুণের অন্তর্ভুক্ত হবে। আল-মুকসিত: তিনি তাঁর বিচারে ন্যায়পরায়ণ। আল-জামী: তিনি সেই সত্তা যিনি কিয়ামতের দিন সৃষ্টিজগতকে একত্রিত করবেন যে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এটি কর্মগত গুণের অন্তর্ভুক্ত। কেউ কেউ বলেছেন: তিনি সকল প্রশংসনীয় গুণের আধার; এটি এমন এক গুণ যা তিনি সত্তাগতভাবে পাওয়ার যোগ্য। আল-গানী: তিনি সৃষ্টির মুখাপেক্ষী নন। কেউ কেউ বলেছেন: তিনি যা ইচ্ছা করেন তা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম; এটি এমন এক গুণ যা তিনি সত্তাগতভাবে পাওয়ার যোগ্য। আল-মুগনী: তিনি সৃষ্টির অভাব মোচনকারী। এটি অভাবমুক্ত করা বা যথেষ্ট হওয়া অর্থেও হতে পারে। আল-মানী: তিনি সেই সাহায্যকারী যিনি তাঁর বন্ধুদের রক্ষা করেন, অর্থাৎ তিনি তাঁদের বেষ্টন করে রাখেন ও সাহায্য করেন। কেউ কেউ বলেছেন: তিনি কিছু মানুষের কাছ থেকে দান রোধ করেন এবং অন্যদের থেকে বিপদ রোধ করেন। আদ-দারর: তিনি যার ক্ষতি করতে চান তার কাছে ক্ষতি পৌঁছান। আন-নাফী: তিনি যাকে ইচ্ছা কল্যাণ পৌঁছান। আন-নূর: তিনি পথপ্রদর্শক। কেউ কেউ বলেছেন: তিনি জ্যোতি দানকারী, এটি কর্মগত গুণের অন্তর্ভুক্ত। কেউ বলেছেন: তিনি সত্য। আবার কেউ বলেছেন: তিনি সেই সত্তা যিনি দলিলের মাধ্যমে তাঁর বন্ধুদের কাছে অপ্রকাশিত নন এবং দৃষ্টির মাধ্যমে তাঁকে দেখা সম্ভব। এটি এমন এক গুণ যা স্রষ্টা সত্তাগতভাবে পাওয়ার যোগ্য। আল-হাদী: যাঁর হিদায়াতের মাধ্যমে তাঁর বন্ধুরা সঠিক পথ পায় এবং যাঁর হিদায়াতে জীবজন্তু তাদের কল্যাণের পথ খুঁজে পায় ও ক্ষতিকর বিষয় থেকে আত্মরক্ষা করে। আল-বাদী: তিনি কোনো পূর্ব নমুনা ছাড়াই সৃষ্টিজগত উদ্ভাবন করেছেন; এটি কর্মগত গুণের অন্তর্ভুক্ত। কখনও এর অর্থ হয় যাঁর কোনো উপমা নেই; তখন এটি সত্তাগত গুণের অন্তর্ভুক্ত। আল-বাকী: যাঁর অস্তিত্ব চিরস্থায়ী। স্থায়িত্ব তাঁর একটি গুণ যা তাঁর সত্তায় বিদ্যমান। আল-ওয়ারিসও এই অর্থ প্রকাশ করে। আর-রাশীদ: তিনি সঠিক পথপ্রদর্শক ও হিদায়াতকারী। এটি প্রজ্ঞাময় বা সঠিক পরিচালক অর্থেও হতে পারে যাঁর পরিচালনা সুসংগত এবং কাজ নির্ভুল। আস-সাবুর: তিনি অবাধ্যদের দ্রুত শাস্তি দেন না। এটি আল-হালীম নামের কাছাকাছি অর্থ প্রকাশ করে। আল-হালীম গুণের অর্থ শাস্তির হাত থেকে বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে অধিক শক্তিশালী। আর আব্দুল আজীজ বিন হুসাইন-এর বর্ণনায় যেসব নাম এসেছে যা ওয়ালীদ বিন মুসলিমের বর্ণনায় নেই, সেগুলো হলো: আর-রাব্ব: এর অর্থ অধিপতি বা মালিক। কেউ কেউ বলেছেন: তিনি যা কিছু সৃষ্টি করেছেন তাকে তার নির্ধারিত পূর্ণতায় পৌঁছান; এই অর্থে এটি কর্মগত গুণের অন্তর্ভুক্ত, আর পূর্বের অর্থে এটি সত্তাগত গুণের অন্তর্ভুক্ত। আল-হান্নান: এর অর্থ দয়াময়। আল-মান্নান: তিনি প্রচুর দানকারী। আল-বাদি: এর অর্থ উদ্ভাবনকারী। আল-আহাদ: যাঁর কোনো সদৃশ বা সমকক্ষ নেই। আল-ওয়াহিদ: যাঁর কোনো অংশীদার বা সমকক্ষ নেই। একে অন্যভাবেও প্রকাশ করা হয়েছে: আল-আহাদ মানে গুণের দিক থেকে একক যাতে কেউ তাঁর শরিক নেই, আর আল-ওয়াহিদ মানে সত্তার দিক থেকে একক যার সাথে কেউ যুক্ত নয়। এ দুটি এমন গুণ যা তিনি সত্তাগতভাবে পাওয়ার যোগ্য। আল-কাফী: যিনি তাঁর বান্দাদের গুরুত্বপূর্ণ কাজে যথেষ্ট হন এবং বিপদ দূর করেন। আল-মুগীস: তিনি বিপদে বান্দাদের উদ্ধার করেন। আদ-দায়িম: তিনি বিদ্যমান, সর্বদা ছিলেন এবং থাকবেন; এর অর্থ স্থায়িত্ব বা বাকা-র গুণের দিকে ফিরে যায়। আল-মাওলা: তিনি সাহায্যকারী ও সহায়। আল-মুবীন: যাঁর একত্ববাদের বিষয়টি সুস্পষ্ট; এটি এমন এক গুণ যা তিনি সত্তাগতভাবে পাওয়ার যোগ্য। আস-সাদিক: যাঁর কথা সত্য এবং যাঁর ওয়াদা সত্য। এটি সত্তাগত গুণের অন্তর্ভুক্ত। আল-মুহীত: যাঁর সক্ষমতা সকল সক্ষম বস্তুকে এবং যাঁর জ্ঞান সকল জ্ঞাত বিষয়কে পরিবেষ্টন করে আছে। সক্ষমতা ও জ্ঞান তাঁর সত্তাগত গুণ যা তাঁর সত্তায় বিদ্যমান। আল-কারীব: এর অর্থ হলো তিনি তাঁর জ্ঞান দ্বারা সৃষ্টির নিকটবর্তী এবং প্রার্থনাকারীর ডাকে সাড়া দিতে নিকটবর্তী। আল-কাদীম: তিনি অনাদিকাল থেকে বিদ্যমান; এটি এমন এক গুণ যা তিনি সত্তাগতভাবে পাওয়ার যোগ্য। আল-উয়িত্র: তিনি একক যাঁর কোনো অংশীদার বা সদৃশ নেই; এটিও সত্তাগত গুণের অন্তর্ভুক্ত। আল-ফাতির: তিনি সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টি করেছেন, অর্থাৎ তাদের অস্তিত্বের সূচনা করেছেন। আল-আল্লাম: আল-আলিম বা মহাজ্ঞানী অর্থে; ‘ফায়াল’ গঠনটি আধিক্য বোঝায়। জ্ঞান আল্লাহর একটি সত্তাগত গুণ। আল-মালীক: এটি আল-মালিক শব্দের আধিক্যসূচক রূপ; এটি মালিক অর্থেও হতে পারে। এ দুটির অর্থ পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। আল-আকরাম: যাঁর সমতুল্য কোনো দাতা নেই এবং যাঁর সমান কোনো উপমা নেই। এটি কারীম অর্থেও হতে পারে। আল-মুদাব্বির: তিনি বিষয়াদির শেষ পরিণতি সম্পর্কে অবগত, তকদীর নির্ধারণকারী এবং সেগুলোকে লক্ষ্যপানে পৌঁছে দেন। তিনি তাঁর প্রজ্ঞায় সব পরিচালনা করেন এবং তাঁর ইচ্ছানুযায়ী পরিবর্তন করেন। যুল মায়ারিজ: মায়ারিজ মানে সিঁড়ি বা সোপান, যার মাধ্যমে ফেরেশতারা ওপরে আরোহণ করে। যুত-তাওল ও যু-ফাদল: এর অর্থ সামর্থ্য ও অনুগ্রহের অধিকারী। ‘যু’ সম্বন্ধসূচক শব্দ যেমন: যুল জালালি ওয়াল ইকরাম। আল-জমীল: তিনি সৌন্দর্যমন্ডিতকারী ও সুশোভনকারী। আর-রাফী: এটি উন্নতকারী অর্থে হতে পারে অর্থাৎ তিনি যাকে ইচ্ছা উচ্চ মর্যাদা দান করেন, সেক্ষেত্রে এটি কর্মগত গুণ। কখনও এর অর্থ হতে পারে যাঁর চেয়ে উচ্চ মর্যাদাবান আর কেউ নেই; তিনি সর্বপ্রকার প্রশংসা ও স্তুতির যোগ্য যা অন্য কেউ পাওয়ার যোগ্য নয়; সেক্ষেত্রে এটি সত্তাগত গুণের অন্তর্ভুক্ত। শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: এই নামগুলোর অর্থে আমরা যা উল্লেখ করেছি তা ছাড়াও আরও অনেক কথা বলা হয়েছে। আমরা এর কিছু ‘কিতাবুল আসমা ওয়াস সিফাত’-এ এবং কিছু ‘কিতাবুল জামি’-তে উল্লেখ করেছি। আমরা যে অর্থগুলো উল্লেখ করেছি তার প্রতিটিই সঠিক। আমাদের রব (জল্লা জালালাহু) যাঁর নামসমূহ পবিত্র, তিনি এসকল গুণেই গুণান্বিত। তাঁর জন্য রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ এবং সুউচ্চ গুণাবলি। তাঁর সৃষ্টিতে তাঁর কোনো সদৃশ নেই এবং তাঁর রাজত্বে তাঁর কোনো অংশীদার নেই। তাঁর সদৃশ কিছুই নেই, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিকাদ লিল-বায়হাকী
(পৃষ্ঠা: ٧٠)
بَابُ بَيَانِ صِفَةِ الذَّاتِ وَصِفَةِ الْفِعْلِ قَالَ اللَّهُ جَلَّ ثَنَاؤُهُ: {هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ، هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْمَلِكُ الْقُدُّوسُ السَّلَامُ الْمُؤْمِنُ الْمُهَيْمِنُ الْعَزِيزُ الْجَبَّارُ الْمُتَكَبِّرُ سُبْحَانَ اللَّهِ عَمَّا يُشْرِكُونَ، هُوَ اللَّهُ الْخَالِقُ الْبَارِئُ الْمُصَوِّرُ لَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى يُسَبِّحُ لَهُ مَا فِي السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} ، فأَشَارَ فِي هَذِهِ الْآيَاتِ إِلَى فَصْلِ أَسْمَاءِ الذَّاتِ مِنْ أَسْمَاءِ الْفِعْلِ عَلَى مَا نُبَيِّنُهُ، إِلَى سَائِرِ مَا ذَكَرَ فِي كِتَابِهِ مِنْ أَسْمَاءِ الذَّاتِ وَأَسْمَاءِ الْفِعْلِ، فلِلَّهِ عَزَّ اسْمُهُ أَسْمَاءٌ وَصِفَاتٌ، وَأَسمَاؤُهُ صِفَاتُهُ، وَصِفَاتُهُ أَوصَافُهُ، وَهِيَ عَلَى قِسْمَيْنِ: أَحَدُهُمَا صِفَاتُ ذَاتٍ، وَالْآخَرُ صِفَاتُ فِعْلٍ. فَصِفَاتُ ذَاتِهِ مَا يَسْتَحِقُّهُ فِيمَا لَمْ يَزَلْ وَلَا يَزَالُ، وَهُوَ عَلَى قِسْمَيْنِ: أَحَدُهُمَا عَقْلِيٌّ، وَالْآخَرُ: سَمْعِيٌّ. فَالْعَقْلِيُّ: مَا كَانَ طَرِيقُ إِثْبَاتِهِ أَدِلَّةَ الْعُقُولِ مَعَ وُرُودِ السَّمْعِ بِهِ، وَهُوَ عَلَى قِسْمَيْنِ: أَحَدُهُمَا مَا يَدُلُّ خَبَرُ الْمُخْبِرِ بِهِ عَنْهُ، وَوصْفُ الْوَاصِفِ لَهُ بِهِ، عَلَى ذَاتِهِ، كَوَصْفِ الْوَاصِفِ لَهُ بِأَنَّهُ
সত্তাগত গুণাবলি এবং কর্মগত গুণাবলি বর্ণনা সংক্রান্ত অধ্যায়। মহান আল্লাহ বলেন: {তিনিই আল্লাহ, তিনি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই; তিনি অদৃশ্য ও দৃশ্যের পরিজ্ঞাতা; তিনি পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু। তিনিই আল্লাহ, তিনি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই; তিনিই রাজাধিরাজ, অতি পবিত্র, শান্তিদাতা, নিরাপত্তাদানকারী, রক্ষক, পরাক্রমশালী, প্রবল প্রতাপান্বিত, অতীব মহিমান্বিত; তারা যে শরিক স্থির করে আল্লাহ তা হতে পবিত্র। তিনিই আল্লাহ, সৃষ্টিকর্তা, উদ্ভাবক, রূপদানকারী} তাঁরই জন্য রয়েছে সব উত্তম নাম। আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবই তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে এবং তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।} তিনি এই আয়াতসমূহে সত্তাগত নামসমূহকে কর্মগত নামসমূহ থেকে পৃথক করার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন—যেমনটি আমরা বর্ণনা করব—তাঁর কিতাবে উল্লিখিত অন্যান্য সত্তাগত ও কর্মগত নামসমূহের সাথে। সুতরাং সুমহান আল্লাহর জন্য রয়েছে অসংখ্য নাম ও গুণাবলি; তাঁর নামসমূহ হলো তাঁর গুণাবলি এবং তাঁর গুণাবলি হলো তাঁর বৈশিষ্ট্য। আর এগুলো দুই প্রকার: একটি হলো সত্তাগত গুণাবলি (সিফাতে জাতিয়াহ), এবং অন্যটি হলো কর্মগত গুণাবলি (সিফাতে ফিলিয়াহ)। সত্তাগত গুণাবলি হলো সেসব গুণাবলি যার অধিকারী তিনি অনাদিকাল থেকে এবং অনন্তকাল ধরে থাকবেন। এটি আবার দুই প্রকার: একটি হলো যৌক্তিক (আকলি), আর অন্যটি হলো শ্রুতিগত (সাময়ি)। যৌক্তিক গুণাবলি হলো: যা সাব্যস্ত করার পথ হলো বুদ্ধিবৃত্তিক দলীলসমূহ এবং সাথে সাথে শ্রুতিগত (নকলি) দলীলও তাতে বিদ্যমান। এটিও দুই প্রকার: এর একটি হলো যা কোনো সংবাদদাতার সংবাদ বা বর্ণনাকারীর গুণগান তাঁর সম্পর্কে তাঁর সত্তার সরাসরি নির্দেশক; যেমন বর্ণনাকারীর বর্ণনা যে তিনি...
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিকাদ লিল-বায়হাকী
(পৃষ্ঠা: ٧١)
شَيْءٌ، ذَاتٌ، مَوْجُودٌ، قَدِيمٌ، إِلَهٌ، مَلِكٌ، قُدُّوسٌ، جَلِيلٌ، عَظِيمٌ، مُتَكَبِّرٌ، وَالِاسْمُ وَالْمُسَمَّى فِي هَذَا الْقِسْمِ وَاحِدٌ. وَالثَّانِي: مَا يَدُلُّ خَبَرُ الْمُخْبِرِ بِهِ عَنْهُ، وَوصْفُ الْوَاصِفِ لَهُ بِهِ، عَلَى صِفَاتٍ زائِدَاتٍ عَلَى ذَاتِهِ قَائِمَاتٍ بِهِ، وَهُوَ كَوَصْفِ الْوَاصِفِ لَهُ بِأَنَّهُ حَيٌّ، عَالِمٌ، قَادِرٌ، مُرِيدٌ، سَمِيعٌ، بَصِيرٌ، مُتَكَلِّمٌ، بَاقٍ. فَدَلَّتْ هَذِهِ الْأَوصَافُ عَلَى صِفَاتٍ زَائِدَةٍ عَلَى ذَاتِهِ قَائِمَةٍ بِهِ، كَحَيَاتِهِ وَعِلْمِهِ وَقُدْرَتِهِ وَإِرَادَتِهِ وَسَمْعِهِ وَبَصَرِهِ وَكَلَامِهِ وَبَقَائِهِ. وَالِاسْمُ فِي هَذَا الْقِسْمِ صِفَةٌ قَائِمَةٌ بِالْمُسَمَّى لَا يُقَالُ: إِنَّهَا هِيَ الْمُسَمَّى، وَلَا إِنَّهَا غَيْرُ الْمُسَمَّى. وَأَمَّا السَّمْعِيُّ: فهُوَ مَا كَانَ طَرِيقُ إِثْبَاتِهِ الْكِتَابَ وَالسُّنَّةَ فَقَطْ، كَالْوَجْهِ وَالْيَدَيْنِ وَالْعَيْنِ، وَهَذِهِ أَيْضًا صِفَاتٌ قَائِمَةٌ بِذَاتِهِ لَا يُقَالُ فيهَا: إِنَّهَا هِيَ الْمُسَمَّى، وَلَا غَيْرُ الْمُسَمَّى، وَلَا يَجُوزُ تكْيِيفُهَا، فَالْوَجْهُ لَهُ صِفَةٌ وَلَيْسَتْ بِصُورَةٍ، وَالْيَدَانِ لَهُ صِفَتَانِ وَلَيْسَتَا الْجَارِحَتَيْنِ، وَالْعَيْنُ لَهُ صِفَةٌ وَلَيْسَتْ بِحَدَقَةٍ، وَطَرِيقُ إِثْبَاتِهَا لَهُ صِفَاتُ ذَاتٍ وَرَدَ خَبَرُ الصَّادِقِ بِهِ
বস্তু, সত্তা, বিদ্যমান, অনাদি, ইলাহ, মালিক (অধিপতি), অতি পবিত্র, মহিমান্বিত, মহান, গৌরবান্বিত; আর এই শ্রেণিতে নাম এবং নামধারী এক ও অভিন্ন। দ্বিতীয় প্রকার: সংবাদদাতার সংবাদ এবং বর্ণনাকারীর বর্ণনা যা তাঁর সম্পর্কে এমন অতিরিক্ত গুণাবলির প্রমাণ দেয় যা তাঁর সত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট। যেমন বর্ণনাকারীর বর্ণনা যে তিনি চিরঞ্জীব, সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান, ইচ্ছাকারী, সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা, কথা বলেন এবং চিরস্থায়ী। সুতরাং এই বিশেষণগুলো তাঁর সত্তার সাথে সম্পৃক্ত কিছু অতিরিক্ত গুণাবলির প্রমাণ দেয়, যেমন তাঁর জীবন, জ্ঞান, ক্ষমতা, ইচ্ছা, শ্রবণ, দর্শন, কথা এবং স্থায়িত্ব। আর এই শ্রেণিতে নাম হলো নামধারীর সাথে সংশ্লিষ্ট একটি গুণ; একে 'নামধারীই' বলা যাবে না, আবার একে 'নামধারী ব্যতীত ভিন্ন কিছু'ও বলা যাবে না। আর শ্রুতিগত বিষয় হলো: যা সাব্যস্ত করার মাধ্যম কেবল কিতাব (কুরআন) ও সুন্নাহ, যেমন আল্লাহর চেহারা, আল্লাহর দুই হাত এবং আল্লাহর চোখ। এগুলোও তাঁর সত্তার সাথে সম্পৃক্ত গুণাবলি; এগুলোর ক্ষেত্রেও বলা যাবে না যে এগুলোই নামধারী, আবার বলা যাবে না যে এগুলো নামধারী ব্যতীত ভিন্ন কিছু। আর এগুলোর ধরণ নির্ধারণ করা বৈধ নয়। সুতরাং আল্লাহর চেহারা তাঁর একটি গুণ, কোনো আকৃতি নয়। আল্লাহর দুই হাত তাঁর দুটি গুণ, কোনো অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নয়। আর আল্লাহর চোখ তাঁর একটি গুণ, কোনো চোখের মণি নয়। আর এগুলো তাঁর সত্তাগত গুণ হিসেবে সাব্যস্ত করার মাধ্যম হলো সত্যবাদীর পক্ষ থেকে আগত সংবাদ।
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিকাদ লিল-বায়হাকী
(পৃষ্ঠা: ٧٢)
وَأَمَّا صِفَاتُ فِعْلِهِ: فَهِيَ تَسْمِيَاتٌ مُشْتَقَّةٌ مَنْ أَفْعَالِهِ وَرَدَ السَّمْعُ بِهَا مُسْتَحَقَّةٌ لَهُ فِيمَا لَا يَزَالُ دُونَ الْأَزَلِ؛ لِأَنَّ الْأَفْعَالَ الَّتِي اشْتُقَّتْ مِنْهَا لَمْ تَكُنْ فِي الْأَزَلِ، وَهُوَ كَوَصْفِ الْوَاصِفِ لَهُ بِأَنَّهُ خَالِقٌ، رَازِقٌ، مُحْيٍ، مُمِيتٌ، مُنْعِمٌ، مُفَضِّلٌ. فَالتَّسْميَةُ فِي هَذَا الْقِسْمِ إِنْ كَانَتْ مِنَ اللَّهِ عز وجل فَهِيَ صِفَةٌ قَائِمَةٌ بِذَاتِهِ، وَهُوَ كَلَامُهُ، لَا يُقَالُ: إِنَّهَا الْمُسَمَّى، وَلَا غَيْرُ الْمُسَمَّى. وَإِنْ كَانَتِ التَّسْمِيَةُ مِنَ الْمَخْلُوقِ فَهِيَ فِيهَا غَيْرُ الْمُسَمَّى. وَمِنْ أَصْحَابِنَا مَنْ ذَهَبَ إِلَى أَنَّ جَمِيعَ أَسْمَائِهِ لِذَاتِهِ الَّذِي لَهُ صِفَاتُ الذَّاتِ وَصِفَاتُ الْفِعْلِ، فَعَلَى هَذَا الِاسْمُ وَالْمُسَمَّى فِي الْجَمِيعِ وَاحِدٌ وَاللَّهُ أَعْلَمُ، وَعَلَى هَذِهِ الطَّرِيقَةِ يَدُلُّ كَلَامُ الْمُتَقَدِّمِينَ مِنْ أَصْحَابِنَا
আর তাঁর কর্মগত গুণাবলি প্রসঙ্গে: এগুলো হলো তাঁর কার্যাবলি থেকে উদ্ভূত কিছু নামকরণ, যা শাস্ত্রীয় দলীলের মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়েছে এবং অনাদিকাল ব্যতীত অনন্তকাল ধরে তাঁর জন্য প্রযোজ্য; কারণ যে কার্যাবলি থেকে এগুলো উদ্ভূত হয়েছে, তা অনাদিকালে বিদ্যমান ছিল না। এটি বর্ণনাকারীর সেই বর্ণনার মতো যাতে তাঁকে স্রষ্টা, রিযিকদাতা, জীবনদাতা, মৃত্যুদানকারী, অনুগ্রহকারী ও কৃপাকারী হিসেবে অভিহিত করা হয়। সুতরাং এই পর্যায়ের নামকরণ যদি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়, তবে তা তাঁর সত্তার সাথে বিদ্যমান একটি গুণ, যা তাঁর কালাম (বাণী)। এক্ষেত্রে বলা যাবে না যে, তা নামধারী স্বয়ং, আবার এও বলা যাবে না যে, তা নামধারী থেকে ভিন্ন। আর নামকরণ যদি সৃষ্টির পক্ষ থেকে হয়, তবে তা নামধারী থেকে ভিন্ন। আমাদের অনুসারীদের মধ্যে কেউ কেউ এই মত পোষণ করেছেন যে, তাঁর সকল নামই সেই সত্তার জন্য প্রযোজ্য যাঁর সত্তাগত ও কর্মগত উভয় প্রকার গুণাবলি রয়েছে। এই মতানুসারে, সবক্ষেত্রেই নাম ও নামধারী অভিন্ন, আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ। আমাদের পূর্বসূরি আলেমদের বক্তব্য এই পদ্ধতিরই ইঙ্গিত প্রদান করে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিকাদ লিল-বায়হাকী
(পৃষ্ঠা: ٧٢)
أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيُّ، أنا الْحَسَنُ بْنُ رَشِيقٍ، إِجَازَةً، ثنا سَعِيدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ زَكَرِيَّا اللَّخْمِيُّ، ثنا يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى، قَالَ: سَمِعْتُ الشَّافِعِيَّ، يَقُولُ: إِذَا سَمِعْتَ الرَّجُلَ يَقُولُ: الِاسْمُ غَيْرُ الْمُسَمَّى فَاشْهَدْ عَلَيْهِ بِالزَّنْدَقَةِ قَالَ الشَّيْخُ: وَقَدْ قَالَ الشَّافِعِيُّ فِي كِتَابِ الْإِيمَانِ مَا دَلَّ عَلَى أَنَّهُ
আবু আবদুর রহমান আস-সুলামী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-হাসান ইবনে রাশিক অনুমতিক্রমে আমাদের অবহিত করেছেন, সাঈদ ইবনে আহমদ ইবনে জাকারিয়া আল-লাখমি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইউনুস ইবনে আবদিল আলা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইমাম শাফিয়ীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলতেন: “যখন আপনি কোনো ব্যক্তিকে বলতে শুনবেন যে— ‘নাম ও নামধারী সত্তা ভিন্ন’, তখন আপনি তার জিন্দিক হওয়ার সাক্ষ্য প্রদান করুন।” শাইখ বলেন: ইমাম শাফিয়ী তাঁর ‘কিতাবুল ঈমান’-এ এমন কিছু বর্ণনা করেছেন যা নির্দেশ করে যে তিনি...
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিকাদ লিল-বায়হাকী
(পৃষ্ঠা: ٧٣)
لَا يُقَالُ فِي أَسْمَاءِ اللَّهِ تَعَالَى: إِنَّهَا أَغْيَارٌ، قَدْ نَقَلْنَا كَلَامَهُ فيهَا فِي موَاضِعَ، وَبِاللَّهِ التَّوْفِيقُ. وَمَنْ قَالَ بِهَذَا احتَجَّ بِقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: {بِغُلَامٍ اسْمُهُ يَحْيَى} [مريم: 7] ، فَأَخْبَرَ أَنَّ اسْمَهُ يَحْيَى، ثُمَّ قَالَ: {يَا يَحْيَى} [مريم: 12] ، فَخَاطَبَ اسْمَهُ، فَعُلِمَ أَنَّ الْمُخَاطَبَ يَحْيَى، وَهُوَ اسْمُهُ وَاسمُهُ هُوَ، وَكَذَلِكَ قَالَ: {مَا تَعْبُدُونَ مِنْ دُونِهِ إِلَّا أَسْمَاءً} [يوسف: 40] ، وَأَرَادَ الْمُسَمَّيَاتِ، وَقَالَ: {تَبَارَكَ اسْمُ ربِّكَ ذِي الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ} [الرحمن: 78] ، كَمَا قَالَ: {تَبَارَكَ الَّذِي نَزَّلَ الْفُرْقَانَ} [الفرقان: 1] ، وَكَمَا قَالَ: {تَبَارَكَ الَّذِي بِيَدِهِ الْمُلْكُ} [الملك: 1] وَرُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ: «سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ، وَتَبَارَكَ اسْمُكَ» ، كَمَا قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي الدُّعَاءِ بَعْدَ السَّلَامِ: «تَبَارَكْتَ يَا ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ» ، وَقَالَ فِي دُعَاءِ الْقُنُوتِ: «تَبَارَكْتَ رَبَّنَا وَتَعَالَيْتَ» . قَالَ أَبُو مَنْصُورٍ الْأَزْهَرِيُّ: مَعْنَى تَبَارَكَ: تَعَالَى وَتَعَظَّمَ. وَقِيلَ: هُوَ تَفَاعَلَ مِنَ الْبرَكَةِ، وَهِيَ الْكَثْرَةُ وَالِاتِّسَاعُ
মহান আল্লাহর নামসমূহের ব্যাপারে এমনটি বলা যাবে না যে, সেগুলো আল্লাহ থেকে ভিন্ন বা পৃথক কিছু। এ বিষয়ে আমরা বিভিন্ন স্থানে তাঁর বক্তব্য উদ্ধৃত করেছি এবং আল্লাহর সাহায্যেই তাওফিক লাভ হয়। আর যারা এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন, তারা মহান আল্লাহর এই বাণী দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: {এক পুত্রসন্তান যার নাম ইয়াহইয়া} [মারইয়াম: ৭]। এখানে তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে তাঁর নাম ইয়াহইয়া, এরপর তিনি বলেছেন: {হে ইয়াহইয়া} [মারইয়াম: ১২]। সুতরাং তিনি তাঁর নামের মাধ্যমে তাকে সম্বোধন করেছেন। এর মাধ্যমে জানা গেল যে, সম্বোধিত ব্যক্তিই ইয়াহইয়া, আর তিনিই তাঁর নাম এবং তাঁর নামই তিনি নিজে। অনুরূপভাবে তিনি বলেছেন: {তোমরা তাঁকে ছেড়ে কেবল কতকগুলো নামেরই ইবাদত করছ} [ইউসুফ: ৪০]। এখানে তিনি নাম দ্বারা নামধারী সত্তাগুলোকেই বুঝিয়েছেন। তিনি আরও বলেছেন: {আপনার মহিমান্বিত ও মহানুভব রবের নাম বরকতময়} [আর-রাহমান: ৭৮]। যেমন তিনি বলেছেন: {বরকতময় সেই সত্তা যিনি ফুরকান নাযিল করেছেন} [আল-ফুরকান: ১] এবং যেমন তিনি বলেছেন: {বরকতময় সেই সত্তা যাঁর হাতে রাজত্ব} [আল-মুলক: ১]। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এবং অতঃপর উমর ইবনুল খাত্তাব থেকে বর্ণিত হয়েছে: ‘হে আল্লাহ, আপনি অত্যন্ত পবিত্র এবং আপনারই সকল প্রশংসা, আর আপনার নাম বরকতময়’। ঠিক যেমন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাম ফিরানোর পরের দোয়াতে বলেছেন: ‘হে মহিমাময় ও মহানুভব, আপনি বরকতময়’। এবং কুনুতের দোয়াতে বলেছেন: ‘হে আমাদের রব, আপনি বরকতময় ও সুউচ্চ’। আবু মনসুর আল-আজহারী বলেন: ‘তাবারাকা’ এর অর্থ হলো—তিনি সুউচ্চ ও মহিমান্বিত হয়েছেন। আবার বলা হয়েছে: এটি ‘বারাকাহ’ (বরকত) শব্দ থেকে ‘তাফাআলা’ ছাঁচের শব্দ, যার অর্থ হলো আধিক্য ও প্রশস্ততা।