(খণ্ড: ১)
আল-ইশরাফ ফী মানাযিলিল আশরাফ লিবনি আবীদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: -)
الإشراف في منازل الأشراف لابن أبي الدنيا القسم: كتب السنة
الكتاب: الإشراف في منازل الأشراف
المؤلف: أبو بكر عبد الله بن محمد بن عبيد بن سفيان بن قيس البغدادي الأموي القرشي المعروف بابن أبي الدنيا (ت 281هـ)
المحقق: د نجم عبد الرحمن خلف
الناشر: مكتبة الرشد - الرياض - السعودية
الطبعة: الأولى، 1411هـ 1990م
عدد الصفحات: 339
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইবনে আবিদ দুনিয়া রচিত আল-ইশরাফ ফি মানাজিলিল আশরাফ বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: আল-ইশরাফ ফি মানাজিলিল আশরাফ
লেখক: আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ ইবনে সুফিয়ান ইবনে কাইস আল-বাগদাদি আল-উমাবি আল-কুরাশি, যিনি ইবনে আবিদ দুনিয়া নামে পরিচিত (মৃত্যু: ২৮১ হিজরি)
তাহকিক: ড. নাজমু আবদুর রহমান খালাফ
প্রকাশক: মাকতাবাতুর রুশদ - রিয়াদ - সৌদি আরব
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১১ হিজরি, ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৩৯
[কিতাবের নম্বরবিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-ইশরাফ ফী মানাযিলিল আশরাফ লিবনি আবীদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ١٠١)
حَدَّثَنَا أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُمَرَ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدٍ الْقُرَشِيُّ، مِنْ كِتَابِهِ قَالَ: حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ الْحِزَامِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ طَلْحَةَ بْنِ الطَّوِيلِ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَجِيدِ بْنُ أَبِي عَبْسٍ الْحَارِثِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ: حَضَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى الصَّدَقَةِ ، فَقَالَ عُلْبَةُ بْنُ زَيْدٍ - رَجُلٌ مِنَ ⦗ص: 102⦘ الْأَنْصَارِ -: اللَّهُمَّ ، إِنَّهُ لَيْسَ لِي مَالٌ أَتَصَدَّقُ بِهِ فَأَيُّمَا رَجُلٍ مِنَ الْمُسْلِمِينَ نَالَ مِنْ عِرْضِي شَيْئًا فَهُوَ عَلَيْهِ صَدَقَةٌ، فَلَمَّا كَانَ مِنَ الْغَدِ جَاءَ النَّاسُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجَاءَ كُلُّ رَجُلٍ بِمَا قَدَرَ عَلَيْهِ ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَيْنَ الْمُتَصَدِّقُ بِعِرْضِهِ الْبَارِحَةَ» قَالَ: فَقَامَ عُلْبَةُ ، فَقَالَ: أَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ. قَالَ: «قَدْ قَبِلَ اللَّهُ صَدَقَتَكَ»
আবুল হাসান আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদ আল-কুরাশি তাঁর কিতাব থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবরাহিম ইবনুল মুনজির আল-হিযামি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে তালহা ইবনুত তাওয়িল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল মাজিদ ইবনে আবি আবস আল-হারিসি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাদাকা করার জন্য উৎসাহিত করলেন। তখন উলবাহ ইবনে যায়েদ —যিনি ⦗পৃষ্ঠা: ১০২⦘ আনসারদের একজন লোক ছিলেন— বললেন: হে আল্লাহ, আমার নিকট এমন কোনো সম্পদ নেই যা আমি সাদাকা করতে পারি। সুতরাং কোনো মুসলিম যদি আমার সম্মানহানি করে থাকে (আমাকে গালি বা কষ্ট দিয়ে থাকে), তবে তা তার জন্য সাদাকা হিসেবে গণ্য হোক। অতঃপর যখন পরবর্তী দিন হলো, লোকেরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসল এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তার সামর্থ্য অনুযায়ী যা পারল তা নিয়ে আসল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “গত রাতে নিজের সম্মান সাদাকাকারী ব্যক্তিটি কোথায়?” বর্ণনাকারী বলেন: তখন উলবাহ দাঁড়িয়ে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি। তিনি বললেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমার সাদাকা কবুল করেছেন।”
(খণ্ড: ১)
আল-ইশরাফ ফী মানাযিলিল আশরাফ লিবনি আবীদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ١٠٢)
2 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ يُونُسَ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَا: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، قَالَ: قَالَ ⦗ص: 103⦘ رَجُلٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ: اللَّهُمَّ ، إِنَّهُ لَيْسَ عِنْدِي صَدَقَةٌ أَتَصَدَّقُ بِهَا ، فَأَيُّمَا رَجُلٍ مِنَ الْمُسْلِمِينَ أَصَابَ مِنْ عِرْضِي شَيْئًا فَهُوَ عَلَيْهِ صَدَقَةٌ ، فَأُوحِيَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنْ قَدْ غُفِرَ لَهُ
২ - আব্দুর রহমান ইবনে ইউনুস এবং ইসহাক ইবনে ইসমাঈল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমর ইবনে দীনার থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ⦗পৃষ্ঠা: ১০৩⦘ জনৈক মুসলিম ব্যক্তি বললেন: হে আল্লাহ, আমার কাছে সদকা করার মতো কোনো কিছু নেই; সুতরাং কোনো মুসলিম ব্যক্তি যদি আমার মান-সম্মানের কোনো হানি করে, তবে তা তার জন্য সদকা হিসেবে গণ্য। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ওহী অবতীর্ণ হলো যে, তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইশরাফ ফী মানাযিলিল আশরাফ লিবনি আবীদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ١٠٣)
3 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ الْحِزَامِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ قَالَ: حَدَّثَنِي يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ:
كَانَ أَبُو بَكْرٍ رضي الله عنه تَزَوَّجَ امْرَأَةً مِنْ بَنِي كِلَابٍ، يُقَالُ لَهَا: أُمُّ بَكْرٍ، فَلَمَّا هَاجَرَ أَبُو بَكْرٍ طَلَّقَهَا، فَتَزَوَّجَهَا ابْنُ عَمِّهَا، هَذَا الشَّاعِرُ الَّذِي قَالَ هَذِهِ الْقَصِيدَةَ، وَرَثَى بِهَا كُفَّارَ أَهْلِ بَدْرٍ:
[البحر الوافر]
وَمَاذَا بِالْقَلِيبِ قَلِيبِ بَدْرٍ
… مِنَ الشِّيزَى تُزَيَّنُ بِالسَّنَامِ
وَمَاذَا بِالْقَلِيبِ قَلِيبِ بَدْرٍ
… مِنَ الْقَيْنَاتِ وَالشِّرْبِ الْكِرَامِ
تُحَيِّي بِالسَّلَامَةِ أُمُّ بَكْرٍ
… وَهَلْ لِي بَعْدَ قَوْمِي مِنْ سَلَامِ
৩ - ইব্রাহীম ইবনুল মুনযির আল-হিযামী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইউনুস ইবনে ইয়াযীদ ইবনে শিহাব থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি উরওয়াহ ইবনুল যুবায়ের থেকে, তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন:
আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বনু কিলাব গোত্রের উম্মে বকর নামীয় এক নারীকে বিবাহ করেছিলেন। যখন আবু বকর হিজরত করলেন, তখন তিনি তাকে তালাক দিলেন। অতঃপর তার চাচাতো ভাই তাকে বিবাহ করলেন, তিনি সেই কবি যিনি এই কাসিদাটি রচনা করেছেন এবং এর মাধ্যমে বদরের কাফেরদের জন্য শোকগাথা গেয়েছেন:
[আল-বাহরুল ওয়াফির ছন্দ]
বদর কূপে, সেই কূপে কী (নিহিত) আছে
… সেই আবনূস কাঠের পাত্রগুলোর মধ্য থেকে যা উটের কুঁজ দ্বারা সজ্জিত করা হতো।
বদর কূপে, সেই কূপে কী (নিহিত) আছে
… গায়িকা নারী এবং সম্মানিত পানকারীদের মধ্য থেকে।
উম্মে বকর (আমাকে) শান্তির সম্ভাষণ জানায়
… কিন্তু আমার কওমের (ধ্বংসের) পর আমার জন্য কি আর কোনো শান্তি অবশিষ্ট আছে?
(খণ্ড: ১)
আল-ইশরাফ ফী মানাযিলিল আশরাফ লিবনি আবীদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ١٠٤)
حَدَّثَنِي عِصْمَةُ بْنُ الْفَضْلِ قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَرَمِيُّ بْنُ عُمَارَةَ قَالَ: أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ إِيَاسِ بْنِ مُعَاوِيَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ قَالَ: إِنِّي لَأَذْكُرُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِ، حَيْثُ نَعَى النُّعْمَانَ بْنَ مُقَرِّنٍ عَلَى هَذَا الْمِنْبَرِ
ইসমা ইবনুল ফাদল আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-হারামি ইবনে উমারাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: শু’বা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াস ইবনে মুআবিয়াহ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নিশ্চয়ই আমি উমর ইবনুল খাত্তাব (রহমতুল্লাহি আলাইহি)-কে স্মরণ করছি, যখন তিনি নুমান ইবনে মুকাররিনের মৃত্যুসংবাদ এই মিম্বরের উপর দিয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইশরাফ ফী মানাযিলিল আশরাফ লিবনি আবীদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ١٠٤)
5 - حَدَّثَنِي عِصْمَةُ بْنُ الْفَضْلِ، قَالَ حَدَّثَنَا حَرَمِيُّ بْنُ عُمَارَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي يُونُسُ الْأَيْلِيُّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ - رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِ - قَالَ لِأَصْحَابِهِ: مَا تَقُولُونَ فِي الرَّجُلِ لَا يَحْضُرُهُ أَحْيَانًا ذِهْنُهُ، وَلَا عَقْلُهُ، وَلَا حِفْظُهُ وَأَحْيَانًا يَحْضُرُ ذِهْنُهُ وَعَقْلُهُ؟ قَالُوا: مَا نَدْرِي يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، قَالَ: فَقَالَ عُمَرُ: إِنَّ لِلْقَلْبِ طَخَاءً كَطَخَاءِ الْقَمَرِ ، فَإِذَا غَشِيَ ذَلِكَ الْقَلْبَ ذَهَبَ ذِهْنُهُ وَعَقْلُهُ وَحِفْظُهُ ، فَإِذَا تَجَلَّى عَنْ قَلْبِهِ، أَتَاهُ ذِهْنُهُ وَعَقْلُهُ وَحِفْظُهُ
৫ - আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাহ ইবনে আল-ফাদল, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হারামী ইবনে উমারা, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জারীর ইবনে হাযিম, তিনি বলেন, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ইউনুস আল-আইলী, যুহরী থেকে বর্ণিত যে, উমর ইবনুল খাত্তাব - তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক - তাঁর সঙ্গীদের উদ্দেশ্য করে বলেন: তোমরা সেই ব্যক্তি সম্পর্কে কী বল, যার কাছে কখনও তার মেধা, বুদ্ধি এবং স্মরণশক্তি উপস্থিত থাকে না, আবার কখনও তার মেধা ও বুদ্ধি ফিরে আসে? তাঁরা বললেন: হে আমীরুল মুমিনীন, আমরা জানি না। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: তখন উমর বললেন: নিশ্চয়ই অন্তরের জন্য একটি মেঘাচ্ছন্নতা বা আবরণ রয়েছে যেমন চাঁদের জন্য মেঘের আবরণ থাকে। যখন তা অন্তরকে ঢেকে ফেলে, তখন তার মেধা, বুদ্ধি এবং স্মরণশক্তি চলে যায়। আর যখন তা তার অন্তর থেকে দূর হয়ে যায়, তখন তার মেধা, বুদ্ধি এবং স্মরণশক্তি ফিরে আসে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইশরাফ ফী মানাযিলিল আশরাফ লিবনি আবীদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ١٠٤)
6 - حَدَّثَنِي عِصْمَةُ بْنُ الْفَضْلِ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَرَمِيُّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ الْعَلَاءِ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ - سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، قَالَ: إِنَّ أَبَا ⦗ص: 105⦘ أَيُّوبَ أَخَذَ مِنْ لِحْيَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَيْئًا أَوْ مِنْ رَأْسِهِ، فَقَالَ النَّبِيُّ عليه السلام: «لَا يُصِيبُكَ السُّوءُ يَا أَبَا أَيُّوبَ»
৬ - ইসমাহ ইবনুল ফাদল আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেছেন: হারামী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইয়াহইয়া ইবনুল আলা থেকে, তিনি বলেছেন: ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, তিনি বলেছেন: আবু ⦗পৃষ্ঠা: ১০৫⦘ আইয়ুব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাড়ি অথবা তাঁর মাথা থেকে কিছু একটা সরিয়েছিলেন। তখন নবী আলাইহিস সালাম বললেন: «হে আবু আইয়ুব! তোমার কোনো অমঙ্গল না হোক»
(খণ্ড: ১)
আল-ইশরাফ ফী মানাযিলিল আশরাফ লিবনি আবীদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ١٠٥)
7 - حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْوَلِيدِ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَاصِمٌ، قَالَ: قَالَ مَرْوَانُ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رحمه الله:
هَلُمَّ نُبَايِعُكَ ، فَإِنَّكَ سَيِّدُ الْعَرَبِ وَابْنُ سَيِّدِهَا، فَقَالَ ابْنُ عُمَرَ: فَكَيْفَ أَصْنَعُ بِأَهْلِ الْمَشْرِقِ؟ قَالَ: نُقَاتِلُهُمْ، قَالَ: وَاللَّهِ مَا يَسُرُّنِي أَنَّ الْعَرَبَ دَانَتْ لِي سَبْعِينَ عَامًا وَأَنَّهُ قُتِلَ فِي سَبَبِي رَجُلٌ وَاحِدٌ ،
⦗ص: 106⦘ فَقَالَ مَرْوَانُ:
[البحر البسيط]
إِنِّي أَرَى فِتْنَةً تَغْلِي مَرَاجِلُهَا
… فَالْمُلْكُ بَعْدَ أَبِي لَيْلَى لِمَنْ غَلَبَا
৭ - হাশিম ইবনুল ওয়ালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর ইবনে আইয়াশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মারওয়ান আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রাহিমাহুল্লাহ)-কে বললেন:
“আসুন, আমরা আপনার হাতে বায়আত করি, কারণ আপনি আরবদের নেতা এবং তাদের নেতার পুত্র।” তখন ইবনে ওমর বললেন: “তাহলে প্রাচ্যবাসীদের ব্যাপারে আমি কী করব?” তিনি বললেন: “আমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব।” তিনি (ইবনে ওমর) বললেন: “আল্লাহর কসম, আরবরা সত্তর বছর আমার অনুগত হয়ে থাকবে অথচ আমার কারণে একজন মানুষও নিহত হবে—এটি আমাকে আনন্দিত করবে না।”
⦗পৃষ্ঠা: ১০৬⦘ তখন মারওয়ান বললেন:
[আল-বাহরুল বাসিত ছন্দ]
আমি এমন এক ফিতনা দেখছি যার হাঁড়িগুলো টগবগ করে ফুটছে
... সুতরাং আবু লায়লার পরে রাজত্ব তারই হবে যে বিজয়ী হবে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইশরাফ ফী মানাযিলিল আশরাফ লিবনি আবীদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ١٠٦)
8 - وَحَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْوَلِيدِ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، وَذَكَرَ الرَّبِيعَ بْنَ خُثَيْمٍ، حَيْثُ سُرِقَ فَرَسُهُ ، فَقَالَ: حَدَّثَنَا عَاصِمٌ، قَالَ: كَانَ يُصَلِّي فَسُرِقَ فَرَسُهُ ، فَقَالَ لَهُ غُلَامُهُ: سُرِقَ وَأَنْتَ تَنْظُرُ إِلَيْهِ هَذَا عَمَلُ النَّاسِ قَالَ: «كُنْتُ بَيْنَ يَدَيِ اللَّهِ فَلَمْ أَكُنْ لِأَصْرِفَ وَجْهِي عَنِ اللَّهِ»
৮ - আমাদের নিকট হাশিম ইবনুল ওয়ালিদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু বকর ইবনু আইয়াশ বর্ণনা করেছেন এবং তিনি রাবী' ইবনুল খুসাইমের কথা উল্লেখ করেছেন যখন তাঁর ঘোড়াটি চুরি হয়ে গিয়েছিল। তিনি বলেন: আমাদের নিকট আসিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তিনি (রাবী') সালাত আদায় করছিলেন এমতাবস্থায় তাঁর ঘোড়াটি চুরি হয়ে যায়। তখন তাঁর গোলাম তাঁকে বলল: ঘোড়াটি চুরি হয়ে গেল অথচ আপনি সেটির দিকে তাকাচ্ছিলেন! এটি মানুষেরই কাজ। তিনি বললেন: «আমি আল্লাহর দুই হাতের সামনে ছিলাম, তাই আমি আল্লাহর থেকে আমার চেহারা ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত ছিলাম না»
(খণ্ড: ১)
আল-ইশরাফ ফী মানাযিলিল আশরাফ লিবনি আবীদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ١٠٦)
9 - حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْوَلِيدِ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ يَعْنِي ابْنَ أَبِي زِيَادٍ، عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ، قَالَ: عَزَلْنَا سَبْعَةَ ⦗ص: 107⦘ أَرْؤُسٍ وَغَطَّيْنَا رَأْسَ حُصَيْنِ بْنِ نُمَيْرٍ وَرَأْسَ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ زِيَادٍ فَجِئْتُ فَكَشَفْتُهَا فَإِذَا حَيَّةٌ فِي رَأْسِ ابْنِ زِيَادٍ تُرَزِّزُ فِيهِ تَأْكُلُهُ
৯ - হাশিম ইবনুল ওয়ালীদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর ইবনে আয়্যাশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াযীদ—অর্থাৎ ইবনে আবি যিয়াদ—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু তুফাইল থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা সাতটি ⦗পৃষ্ঠা: ১০৭⦘ মাথা পৃথক করলাম এবং হুসাইন ইবনে নুমাইর ও উবায়দুল্লাহ ইবনে যিয়াদের মাথা ঢেকে রাখলাম। এরপর আমি আসলাম এবং সেগুলো অনাবৃত করলাম, তখন দেখলাম ইবনে যিয়াদের মাথায় একটি সাপ কিলবিল করছে এবং তাকে খাচ্ছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইশরাফ ফী মানাযিলিল আশরাফ লিবনি আবীদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ١٠٧)
10 - حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْوَلِيدِ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ قَالَ: قَالَ أَبُو عَتَّابٍ: مَا رَأَيْتُ رَجُلًا أَحْسَنَ وَجْهًا أَحْسَنَ مِنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ زِيَادٍ
১০ - আমাদের নিকট হাশিম ইবনুল ওয়ালীদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু বকর ইবনে আইয়াশ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আত্তাব বলেছেন: উবায়দুল্লাহ ইবনে যিয়াদ অপেক্ষা অধিক সুন্দর চেহারার কোনো ব্যক্তিকে আমি দেখিনি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইশরাফ ফী মানাযিলিল আশরাফ লিবনি আবীদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ١٠٧)
11 - حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْوَلِيدِ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو فِرَاسٍ، قَالَ: «حَفَرْنَا نَهْرَ الْحِيرَةِ فَاسْتُخْرِجَتْ أَخْشِبَةٌ سَوْدَاءُ مِمَّا أَمَرَ ⦗ص: 108⦘ بِهِ تُبَّعٌ»
১১ - আমাদের নিকট হাশিম ইবনুল ওয়ালিদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু বকর ইবনে আইয়াশ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু ফরাস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «আমরা হীরাহর খাল খনন করেছিলাম, তখন সেখান থেকে কিছু কালো কাঠ উদ্ধার করা হলো, যেগুলোর ব্যাপারে ⦗পৃষ্ঠা: ১০৮⦘ তুব্বা নির্দেশ দিয়েছিলেন।»
(খণ্ড: ১)
আল-ইশরাফ ফী মানাযিলিল আশরাফ লিবনি আবীদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ١٠٨)
12 - حَدَّثَنَا هَاشِمٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، قَالَ: قَالَ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عُمَيْرٍ: «مَاتَ سَنَةَ دَخَلَ مُعَاوِيَةُ يَعْنِي الْكُوفَةَ - يَعْنِي لَبِيدَ بْنِ رَبِيعَةَ»
১২ - হাশিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর বিন আইয়াশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল মালিক বিন উমাইর বলেছেন: «তিনি সেই বছর মৃত্যুবরণ করেন যে বছর মুয়াবিয়া প্রবেশ করেন—অর্থাৎ কুফায়—অর্থাৎ লাবিদ বিন রাবিআহ»
(খণ্ড: ১)
আল-ইশরাফ ফী মানাযিলিল আশরাফ লিবনি আবীদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ١٠٨)
13 - وَحَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ هِشَامِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَيَّاشٍ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، قَالَ: «مَاتَ لَبِيدُ بْنُ رَبِيعَةَ سَنَةَ دَخَلَ مُعَاوِيَةُ الْكُوفَةَ فِي صُلْحِ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ»
১৩ - আমার পিতা আমাকে বর্ণনা করেছেন হিশাম ইবনে মুহাম্মাদ থেকে, তিনি আবু বকর ইবনে আইয়াশ থেকে, তিনি আবদুল মালিক ইবনে উমাইর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «হাসান ইবনে আলীর সাথে সন্ধির বছর মুয়াবিয়া যখন কুফায় প্রবেশ করেন, সেই বছর লাবীদ ইবনে রাবী'আ মৃত্যুবরণ করেন»
(খণ্ড: ১)
আল-ইশরাফ ফী মানাযিলিল আশরাফ লিবনি আবীদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ١٠٩)
14 - حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ: حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ بَابٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا دَاوُدُ بْنُ أَبِي هِنْدَ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، قَالَ: كَتَبَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ إِلَى الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ أَنِ اسْتَنْشِدْ، مَنْ قِبَلَكَ مِنَ الشُّعَرَاءِ مَا قَالُوا فِي الْجَاهِلِيَّةِ وَالْإِسْلَامِ، فَأَرْسَلَ إِلَى الْأَغْلَبِ الْعِجْلِيِّ ، فَقَالَ: أَنْشِدْنِي ، فَقَالَ: أَرَجَزًا تُرِيدُ أَمْ قَصِيدًا فَقَدْ سَأَلتَ هَيِّنًا مَوْجُودًا قَالَ: ثُمَّ أَرْسَلَ إِلَى لَبِيدِ بْنِ رَبِيعَةَ ، فَقَالَ: أَنْشِدْنِي ⦗ص: 110⦘، فَقَالَ: إِنْ شِئْتَ أَنْشَدْتُكَ مِمَّا قَدْ عُفِيَ عَنْهُ مِنْ شِعْرِ الْجَاهِلِيَّةِ، قَالَ: لَا أَنْشِدْنِي مَا قُلْتَ فِي الْإِسْلَامِ. فَانْطَلَقَ إِلَى أَدِيمٍ فَكَتَبَ فِيهِ سُورَةَ الْبَقَرَةِ ، فَقَالَ: أَبْدَلَنِي اللَّهُ مَكَانَ الشِّعْرِ هَذَا. قَالَ: فَكَتَبَ بِذَلِكَ إِلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فَكَتَبَ إِلَيْهِ عُمَرُ إِنَّهُ لَمْ يَعْرِفْ أَحَدٌ مِنَ الشُّعَرَاءِ حَقَّ الْإِسْلَامِ إِلَّا لَبِيدُ بْنُ رَبِيعَةَ فَأَنْقِصْ مِنْ عَطَاءِ الْأَغْلَبِ خَمْسَمِائَةٍ وَاجْعَلْهَا فِي عَطَاءِ لَبِيدٍ قَالَ: فَرَكِبَ إِلَيْهِ الْأَغْلَبُ ، فَقَالَ: تُنْقِصُ عَطَائِي مِنْ أَنْ أَطَعْتُكَ قَالَ: فَرَدَّ الْخَمْسَمِائَةِ وَأَقَرَّ فِي عَطَاءِ لَبِيدٍ الْخَمْسَمِائَةِ "
১৪ - আমার পিতা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে নসর ইবনে বাব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে দাউদ ইবনে আবি হিন্দ সংবাদ দিয়েছেন আশ-শাবি থেকে, তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব মুগিরা ইবনে শুবার কাছে লিখে পাঠালেন যে, আপনার নিকটস্থ কবিদের জাহেলি যুগ এবং ইসলাম সম্পর্কে বলা কবিতাগুলো আবৃত্তি করতে বলুন। তখন তিনি আল-আঘলাব আল-ইজলির কাছে লোক পাঠালেন এবং বললেন: আমাকে শুনিয়ে দিন। তিনি বললেন: আপনি কি রাজাজ ছন্দ চান নাকি কাসিদা? আপনি যা চেয়েছেন তা সহজলভ্যই আছে। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর তিনি লাবিদ ইবনে রাবিআর কাছে লোক পাঠালেন এবং বললেন: আমাকে শুনিয়ে দিন ⦗পৃষ্ঠা: ১১০⦘। তিনি বললেন: আপনি চাইলে জাহেলি যুগের যে কবিতাগুলো বর্জন করা হয়েছে তা থেকে শোনাতে পারি। তিনি বললেন: না, বরং ইসলাম গ্রহণের পর আপনি যা বলেছেন তা শোনান। তখন তিনি একটি চামড়ার টুকরো নিয়ে তাতে সূরা আল-বাকারা লিখে দিলেন এবং বললেন: কবিতার পরিবর্তে আল্লাহ আমাকে এটি দান করেছেন। বর্ণনাকারী বলেন: তিনি বিষয়টি উমর ইবনুল খাত্তাবকে লিখে পাঠালেন। তখন উমর তাকে লিখে পাঠালেন যে, কবিদের মধ্যে লাবিদ ইবনে রাবিআ ছাড়া আর কেউ ইসলামের মর্যাদা সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারেনি। সুতরাং আল-আঘলাবের ভাতা থেকে পাঁচশ কমিয়ে তা লাবিদের ভাতার সাথে যোগ করে দিন। বর্ণনাকারী বলেন: তখন আল-আঘলাব সওয়ার হয়ে তাঁর কাছে আসলেন এবং বললেন: আপনার আনুগত্য করার কারণেই কি আপনি আমার ভাতা কমিয়ে দিলেন? বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর তিনি (উমর) পাঁচশ ফিরিয়ে দিলেন এবং লাবিদের ভাতাতেও সেই পাঁচশ বহাল রাখলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইশরাফ ফী মানাযিলিল আশরাফ লিবনি আবীদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ١١٠)
15 - وَحَدَّثَنِي أَبُو زَيْدٍ النُّمَيْرِيُّ، قَالَ: قَالَ أَبُو عُبَيْدَةَ مَعْمَرُ بْنُ الْمُثَنَّى:
لَمْ يَقُلْ لَبِيدُ فِي الْإِسْلَامِ إِلَّا هَذَا الْبَيْتَ:[البحر البسيط]الْحَمْدُ لِلَّهِ إِذْ لَمْ يَأْتِنِي أَجَلِي
… حَتَّى لَبِسْتُ مِنَ الْإِسْلَامِ سِرْبَالَا
১৫ - এবং আবু যাইদ আন-নুমাইরী আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু উবায়দাহ মা’মার বিন আল-মুসান্না বলেছেন:
লাবীদ ইসলাম গ্রহণের পর এই পঙক্তিটি ছাড়া আর কিছুই বলেননি:[আল-বাহরুল বাসীত ছন্দ]সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যেহেতু আমার নির্ধারিত সময় (মৃত্যু) উপস্থিত হয়নি
… যতক্ষণ না আমি ইসলামের পোশাক পরিধান করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইশরাফ ফী মানাযিলিল আশরাফ লিবনি আবীদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ١١٠)
16 - حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْخَثْعَمِيُّ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ عَمْرِو بْنِ عُثْمَانَ التَّيْمِيِّ، قَالَ: قَالَ خَاقَانُ بْنُ الْأَهْتَمِ فِي حَلْقَةِ الْبَتِّيِّ: «إِذَا نَصَحْتَ الرَّجُلَ فَلَمْ يَقْبَلْ مِنْكَ فَتَقَرَّبْ إِلَى اللَّهِ بِغِشِّهِ»
১৬ - ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল্লাহ আল-খাশআমি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন সালামাহ ইবনে আমর ইবনে উসমান আত-তাইমি থেকে, তিনি বলেন: খাকান ইবনে আল-আহতাম আল-বাত্তির মজলিসে বলেছেন: «যখন তুমি কোনো ব্যক্তিকে উপদেশ দাও আর সে তোমার থেকে তা গ্রহণ না করে, তখন তার প্রতি প্রতারণা করার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অন্বেষণ করো»
(খণ্ড: ১)
আল-ইশরাফ ফী মানাযিলিল আশরাফ লিবনি আবীদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ١١١)
17 - أَنْشَدَنِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْبَصْرِيُّ لِمَعْبَدِ بْنِ طَوْقٍ الْعَنْبَرِيِّ:
تَلْقَى الْفَتَى حَذِرَ الْمَنِيَّةِ هارِبًا
… مِنْهَا وَقَدْ حَدَقَتْ بِهِ لَوْ يَشْعُرُ
نَصَبَتْ حَبَائِلَهَا لَهُ مِنْ حَوْلِهِ
… فَإِذَا أَتَاهُ يَوْمُهُ لَا يُنْظَرُ
إِذَا امْرُؤٌ أَمْسَى أَبُوهُ وَأُمُّهُ
… تَحتَ التُّرَابِ لَوَ انَّهُ يَتَفَكَّرُ
تُعْطَى صَحَيفَتَكَ الَّتِي أَملَيْتَهَا
… فَتَرَى الَّذِي فِيهَا إِذَا مَا تُنْشَرُ
حَسَنَاتُهَا مَحْسُوبَةٌ قَدْ أُحْصِيَتْ
… وَالسَّيْئَاتُ فَأَيُّ ذَلِكَ أَكْثَرُ
১৭ - আবদুর রহমান আল-বসরী আমাকে মা'বাদ ইবনে তওক আল-আনবারীর এই কবিতাটি আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন:
তুমি যুবককে দেখবে মৃত্যুর ভয়ে পলায়নপর
… অথচ মৃত্যু তাকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলেছে, যদি সে তা উপলব্ধি করত।
মৃত্যু তার চারপাশে তার জাল বিছিয়ে রেখেছে
… ফলে যখন তার নির্ধারিত দিন উপস্থিত হয়, তখন তাকে আর অবকাশ দেওয়া হয় না।
যখন কোনো ব্যক্তির পিতা ও মাতা মাটির নিচে
… শায়িত থাকেন, সে যদি তা নিয়ে চিন্তা করত (তবে সে শিক্ষা গ্রহণ করত)।
তোমাকে তোমার সেই আমলনামা দেওয়া হবে যা তুমিই লিখিয়েছ (পূর্ণ করেছ)
… অতঃপর যখন তা উন্মোচিত করা হবে, তখন তুমি তাতে যা আছে তা দেখতে পাবে।
তার পুণ্যসমূহ সুবিন্যস্তভাবে গণনা করা হয়েছে
… এবং পাপসমূহও; অতঃপর দেখা হবে এর মধ্যে কোনটি অধিক।
(খণ্ড: ১)
আল-ইশরাফ ফী মানাযিলিল আশরাফ লিবনি আবীদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ١١١)
18 - أَنْشَدَنِي أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْأَعْرَابِيُّ فِي فَقْدِ أَخٍ لَهُ:
لَئِنْ كَانَتِ الْأَحْدَاثُ أَطْوَلْنَ عَوْلَتِي
… لِفَقْدِكَ أَوْ أَسْكَنَّ قَلْبِي التَّخَشُّعَا
لَقَدْ أَمِنَتْ نَفْسِي الْحَوَادِثَ كُلَّهَا
… فَأَصْبَحْتُ مِنْهَا آمِنًا أَنْ أَفْزَعَا
১৮ - আবু আবদুল্লাহ আল-আরাবী তাঁর এক ভাইয়ের বিয়োগে আমাকে এই কবিতাটি পাঠ করে শুনিয়েছেন:
যদি জাগতিক দুর্ঘটনাপ্রবাহ তোমার বিয়োগে আমার বিলাপকে দীর্ঘায়িত করে থাকে
… অথবা আমার হৃদয়ে বিনম্রতা ও স্থৈর্য স্থাপন করে থাকে;
তবে নিশ্চয়ই আমার প্রাণ সকল আপদ-বিপদ থেকে নিরাপদ হয়ে গেছে
… ফলে আমি এখন সেগুলো দ্বারা আতঙ্কিত হওয়া থেকে নিরাপত্তা লাভ করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইশরাফ ফী মানাযিলিল আশরাফ লিবনি আবীদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ١١١)
19 - وَأَنْشَدَنِي أَبُو سَعِيدٍ الْمَدِينِيُّ.
إِنِّي وَإِنْ قُلتُ لَا أَسْلَاهُ مِنْ جَزَعٍ
… إِنِّي لَأَعْلَمُ أَنِّي بَعْدَهُ سَالِي
⦗ص: 112⦘كَرُّ الْجَدِيدَيْنِ لَا يَأْتِي عَلَى أَحَدٍ
… إِلَّا تَبَدَّلَ أَبْدَالًا بِأَبْدَالِ
১৯ - এবং আমাকে আবু সাঈদ আল-মাদিনি কবিতা আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন।
আমি যদিও অস্থিরতার কারণে বলি যে আমি তাকে ভুলব না
… তবুও আমি জানি যে তার পরে আমি ধৈর্যধারণকারী হব
⦗পৃষ্ঠা: ১১২⦘দিন ও রাতের আবর্তন কারো ওপর দিয়েই অতিবাহিত হয় না
… তবে তা তাকে এক অবস্থার পরিবর্তে অন্য অবস্থায় পরিবর্তিত করে দেয়
(খণ্ড: ১)
আল-ইশরাফ ফী মানাযিলিল আশরাফ লিবনি আবীদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ١١٢)
20 - حَدَّثَنِي الْحَسَنُ أَبُو عَلِيٍّ الْبَزَّارُ، عَنْ أَبِي نُعَيْمٍ، عَنْ حَسَنِ بْنِ صَالِحٍ، أَنَّهُ كَانَ يَتَمَثَّلُ هَذَيْنِ الْبَيْتَيْنِ:
[البحر الطويل]
فَمَا لَكَ يَوْمَ الْحَشْرِ شَيْءٌ سِوَى الَّذِي … تَزَوَّدْتَهُ يَوْمَ الْحَيَاةِ إِلَى الْحَشْرِإِذَا أَنْتَ لَمْ تَزْرَعْ وَأَبْصَرْتَ حَاصِدًا
… نَدِمْتَ عَلَى التَّضْيِيعِ فِي زَمَنِ الْبَذْرِ
২০ - আল-হাসান আবু আলী আল-বাযযার আমাকে বর্ণনা করেছেন আবু নুআইম থেকে, তিনি হাসান ইবনে সালিহ থেকে যে, তিনি এই দুটি পঙ্ক্তি আবৃত্তি করতেন:
[তবিল ছন্দ]
হাশরের দিন তোমার নিকট সেই বস্তু ব্যতীত কিছুই থাকবে না যা … তুমি ইহজীবনে হাশরের উদ্দেশ্যে পাথেয় হিসেবে সংগ্রহ করেছিলে।যখন তুমি বীজ বপন করলে না এবং ফসল সংগ্রহকারীকে দেখলে
… তখন তুমি বীজ বপনের মৌসুমে তা নষ্ট করার জন্য অনুতপ্ত হবে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইশরাফ ফী মানাযিলিল আশরাফ লিবনি আবীদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ١١٢)
21 - حَدَّثَنِي أَبُو الْقَاسِمِ النَّخَعِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، قَاضِي صَنْعَاءَ قَالَ: كَتَبَ إِلَيَّ مَلِكُ الزِّنْجِ وَكَانَ فِي آخِرِ كِتَابِهِ:
[البحر البسيط]
لَا أَسْأَلُ النَّاسَ عَمَّا فِي نُفوسِهِمُ … مَا فِي ضَمِيرِي لَهُمْ مِنْ ذَاكَ يَكْفِينِي
২১ - আবুল কাসিম আন-নাখায়ি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সানআর বিচারক মুহাম্মদ ইবন ইউসুফ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যিঞ্জ-এর রাজা আমার নিকট পত্র লিখেছেন এবং তাঁর চিঠির শেষাংশে ছিল:
[বাহর আল-বাসীত]
আমি মানুষের অন্তরে যা আছে সে সম্পর্কে তাদের নিকট জিজ্ঞাসা করি না … তাদের ব্যাপারে আমার অন্তরে যা রয়েছে, তাই আমার জন্য যথেষ্ট।
(খণ্ড: ১)
আল-ইশরাফ ফী মানাযিলিল আশরাফ লিবনি আবীদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ١١٢)
22 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ صَالِحٍ الْقُرَشِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَوْنُ بْنُ كَهْمَسٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ حَسَّانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، قَالَ: دَخَلَ أُنَاسٌ مِنَ الْأَنْصَارِ فِيهِمُ النُّعْمَانُ بْنُ بَشِيرٍ عَلَى مُعَاوِيَةَ فَلَمَّا صَارُوا بَيْنَ السِّمَاطَيْنِ حَسَرُوا عَمَائِمَهُمْ عَنْ رُءُوسِهِمْ
⦗ص: 113⦘، قَالَ: ثُمَّ جَعَلَ النُّعْمَانُ يَضْرِبُ صَلْعَتَهُ بِرَاحَتِهِ وَيَقُولُ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ هَلْ تَرَى بِهَا مِنْ لُؤْمٍ؟ قَالَ: وَمَا ذَلِكَ؟ قَالَ: هَذَا النَّصْرَانِيُّ الذِّمِّي قَالَ:
ذَهَبَتْ قُرَيْشٌ بِالسَّمَاحَةِ وَالنَّدَى
… وَاللُّؤْمُ تَحْتَ عَمَائِمِ الْأَنْصَارِ
قَالَ:
لَكُمْ لِسَانُهُ ، يَعْنِي الْأَخْطَلَ
২২ - মুহাম্মদ ইবনে সালিহ আল-কুরাশি আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আউন ইবনে কাহমাস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হিশাম ইবনে হাসসান মুহাম্মদ ইবনে সিরিন থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আনসারদের একদল লোক মুয়াবিয়ার নিকট প্রবেশ করলেন, যাদের মধ্যে নুমান ইবনে বশিরও ছিলেন। যখন তারা দুই সারির মাঝখানে পৌঁছালেন, তখন তারা তাদের মাথা থেকে পাগড়ি সরিয়ে নিলেন
⦗পৃষ্ঠা: ১১৩⦘। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর নুমান তার হাতের তালু দিয়ে নিজের টাক মাথায় আঘাত করতে লাগলেন এবং বললেন: হে আমিরুল মুমিনিন! আপনি কি এতে কোনো নীচতা দেখতে পাচ্ছেন? তিনি বললেন: সেটি কীসের জন্য? তিনি বললেন: এই খ্রিষ্টান জিম্মি বলেছে:
কুরাইশরা উদারতা ও দানশীলতা নিয়ে গেছে … আর নীচতা হলো আনসারদের পাগড়ির নিচে
তিনি বললেন:
তার জিহ্বা তোমাদের জন্য (অর্থাৎ তাকে জবাব দেওয়ার অধিকার তোমাদের), অর্থাৎ তিনি আখতালকে বুঝিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইশরাফ ফী মানাযিলিল আশরাফ লিবনি আবীদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ١١٣)
23 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ صَالِحٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَوْنُ بْنُ كَهْمَسٍ، عَنْ أَبِي الْأَسْوَدِ الطُّفَاوِيُّ، وَكَانَ ثِقَةً، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، قَالَ: اخْتَصَمَ وَلَدُ آدَمَ، فَقَالْ بَعْضُهُمْ: أَيُّ خَلْقٍ أَكْرَمُ عَلَى اللَّهِ؟ قَالَ بَعْضُهُمْ: آدَمُ خَلَقَهُ اللَّهُ بِيَدِهِ ، وَأَسْجَدَ لَهُ الْمَلَائِكَةَ. قَالَ آخَرُونَ: الْمَلَائِكَةُ الَّذِينَ لَمْ يَعْصُوا اللَّهَ، فَقَالُوا: بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ أَبُونَا ، فَانْتَهَوْا إِلَى آدَمَ فَذَكَرُوا لَهُ مَا قَالُوا ، فَقَالَ: يَا بَنِيَّ إِنَّ أَكْرَمَ الْخَلْقِ مَا بَدَأَ أَنْ نَفَخَ فِيَّ الرُّوحَ ، فَمَا بَلَغَ قَدَمَيَّ حَتَّى اسْتَوَيْتُ جَالِسًا فَبَرَقَ لِي الْعَرْشُ فَنَظَرْتُ فِيهِ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ ، فَذَاكَ أَكْرَمُ الْخَلْقِ عَلَى اللَّهِ "
২৩ - মুহাম্মদ ইবনে সালিহ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আওন ইবনে কাহমাস আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবুল আসওয়াদ আত-তুফাওয়ি থেকে—আর তিনি বিশ্বস্ত ছিলেন—তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আদমের সন্তানরা বিতর্কে লিপ্ত হলো। তাদের কেউ কেউ বলল: "আল্লাহর নিকট কোন সৃষ্টি সবচেয়ে বেশি মর্যাদাবান?" তাদের কেউ কেউ বলল: "আদম, কারণ আল্লাহ তাকে তাঁর হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছেন এবং ফেরেশতাদেরকে দিয়ে তাঁকে সিজদা করিয়েছেন।" অন্যেরা বলল: "ফেরেশতারা, যারা আল্লাহর অবাধ্য হয়নি।" তখন তারা বলল: "আমাদের ও তোমাদের মাঝে আমাদের পিতাই ফয়সালা করবেন।" অতঃপর তারা আদমের কাছে পৌঁছাল এবং তারা যা বলেছিল তা তাঁর কাছে উল্লেখ করল। তখন তিনি বললেন: "হে আমার পুত্রগণ, সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাবান তো সেই সত্তা—যখন আল্লাহ আমার মধ্যে রূহ ফুঁকতে শুরু করলেন, তখন তা আমার দুই পা পর্যন্ত পৌঁছানোর পূর্বেই আমি সোজা হয়ে বসলাম। এমতাবস্থায় আরশ আমার সামনে উদ্ভাসিত হলো এবং আমি তাতে দেখলাম (লেখা আছে) 'মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল'। সুতরাং তিনিই আল্লাহর নিকট সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে বেশি মর্যাদাবান।"
(খণ্ড: ১)
আল-ইশরাফ ফী মানাযিলিল আশরাফ লিবনি আবীদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ١١٣)
24 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْمُغِيرَةِ الْمَازِنِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ: أَخْبَرَنِي ⦗ص: 114⦘ رَجُلٌ، مِنْ أَهْلِ الْكُوفَةِ ، مِنْ عُبَّادِ النَّاسِ ، مِنَ الْأَنْصَارِ قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ رَبِّهِ الْمَازِنِيُّ، مِنْ أَهْلِ الْبَصْرَةِ عَنْ شَيْخٍ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ ، مِنْ أَصْحَابِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: لَمَّا أَصَابَ آدَمُ الذَّنْبَ نُودِيَ أَنِ اخْرُجْ مِنْ جِوَارِي ، فَخَرَجَ يَمْشِي بَيْنَ شَجَرِ الْجَنَّةِ ، فَبَدَتْ عَوْرَتُهُ ، فَجَعَلَ يُنَادِي: الْعَفْوَ الْعَفْوَ ، فَإِذَا شَجَرَةٌ قَدْ أَخَذَتْ بِرَأْسِهِ ، فَظَنَّ أَنَّهَا قَدْ أُمِرَتْ بِهِ فَنَادَى بِحَقِّ مُحَمَّدٍ إِلَّا عَفَوْتَ عَنِّي ، فَخُلِّيَ عَنْهُ ، ثُمَّ قِيلَ لَهُ: أَتَعْرِفُ مُحَمَّدًا؟ قَالَ: نَعَمْ، قِيلَ: وَكَيْفَ؟ قَالَ: لَمَّا نَفَخْتَ فِيَّ يَا رَبِّ الرُّوحَ رَفَعْتُ رَأْسِي إِلَى الْعَرْشِ ، فَإِذَا فِيهِ مَكْتُوبٌ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ، فَعَلِمْتُ أَنَّكَ لَمْ تَخْلُقْ خَلْقًا أَكْرَمَ عَلَيْكَ مِنْهُ
২৪ - মুহাম্মাদ ইবনুল মুগীরা আল-মাযিনী আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাকে ⦗পৃ: ১১৪⦘ কুফাবাসীদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি সংবাদ দিয়েছেন, যিনি মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ইবাদতগুজার এবং আনসারদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তিনি বলেন: আমাকে বসরার অধিবাসী আব্দুর রহমান ইবনে আবদি রাব্বিহি আল-মাযিনী মদীনার একজন শায়খের সূত্রে হাদীস শুনিয়েছেন, যিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের সাথীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তিনি বলেন: যখন আদম গুনাহ করে ফেললেন, তখন তাকে আহ্বান করে বলা হলো যে, তুমি আমার প্রতিবেশীত্ব থেকে বের হয়ে যাও। অতঃপর তিনি জান্নাতের গাছপালার মধ্য দিয়ে হেঁটে যেতে লাগলেন এবং তাঁর লজ্জাস্থান প্রকাশিত হয়ে পড়ল। তখন তিনি উচ্চস্বরে বলতে লাগলেন: ক্ষমা চাই, ক্ষমা চাই। এমতাবস্থায় একটি গাছ তাঁর মাথা জড়িয়ে ধরল, তখন তিনি ধারণা করলেন যে গাছটিকে তাঁর ব্যাপারে (পাকড়াও করার) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপর তিনি মুহাম্মাদের হকের দোহাই দিয়ে আহ্বান করে বললেন, আপনি কি আমাকে ক্ষমা করবেন না? তখন তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হলো। এরপর তাঁকে বলা হলো: তুমি কি মুহাম্মাদকে চেনো? তিনি বললেন: হ্যাঁ। বলা হলো: কীভাবে? তিনি বললেন: হে আমার প্রতিপালক! যখন আপনি আমার মাঝে রুহ ফুঁকে দিলেন, তখন আমি আরশের দিকে মাথা তুললাম এবং সেখানে লেখা দেখলাম ‘মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল’। তখন আমি বুঝতে পারলাম যে, আপনি আপনার কাছে তাঁর চেয়ে অধিক সম্মানিত কোনো সৃষ্টি আর সৃষ্টি করেননি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইশরাফ ফী মানাযিলিল আশরাফ লিবনি আবীদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ١١٤)
25 - أَخْبَرَنِي الْعَبَّاسُ بْنُ هِشَامِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: أَخْبَرَنِي مَوْلًى لِزِيَادِ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ قَالَ: خَرَجَ أَبُو الْأَسْوَدِ الدُّؤَلِيُّ حَاجًّا بِامْرَأَتِهِ
⦗ص: 115⦘ وَكَانَتْ جَمِيلَةً ، فَبَيْنَمَا هِيَ تَطُوفُ بِالْبَيْتِ إِذْ عَرَضَ لَهَا عُمَرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي رَبِيعَةَ الْمَخْزُومِيُّ فَغَازَلَهَا فَأَتَتْ أَبَا الْأَسْوَدِ فَأَعْلَمَتْهُ ، فَأَتَاهُ أَبُو الْأَسْوَدِ فَكَلَّمَهُ، فَقَالَ عُمَرُ: مَا فَعَلْتُ، فَلَمَّا عَادَتْ إِلَى الْمَسْجِدِ عَادَ فَكَلَّمَهَا ، فَأَخْبَرَتْ أَبَا الْأَسْوَدِ ، فَأَتَاهُ وَهُوَ فِي الْمَسْجِدِ مَعَ قَوْمِهِ ، فَقَالَ:
أَنْتَ الْفَتَى كُلَّ الْفَتَى
… لَوْلَا خَلَائِقُ أَرْبَعُ
فَسَكَتَ عُمَرُ وَلَمْ يَقُلْ شَيْئًا، فَقَالَ أَبُو الْأَسْوَدِ لِامْرَأَتِهِ: إِنَّهُ لَيْسَ بِعَائِدٍ ، فَلَمَّا خَرَجَتْ إِلَى الْمَسْجِدِ كَلَّمَهَا أَيْضًا ، فَأَخْبَرَتْ أَبَا الْأَسْوَدِ، فَأَتَاهُ وَهُوَ فِي الْمَسْجِدِ ، فَقَالَ:
وَإِنِّي لَيُثْنِينِي عَنِ الْجَهْلِ وَالْخَنَى
… وَعَنْ شَتْمِ أَقْوَامٍ خَلَائِقُ أَرْبَعُ
حَيَاءٌ وَإِسْلَامٌ وَتُقْيَا وَإِنَّنِي
… كَرِيمٌ وَمِثْلِي قَدْ يَضُرُّ وَيَنفَعُ
فَشَتَّانَ مَا بَيْنِي وَبَينَكَ إِنَّنِي
… عَلَى كُلِّ حَالٍ أَسْتَقِيمُ وَتَطْلُعُ ،
فَقَالَ لَهُ عُمَرُ: «لَا وَاللَّهُ يَا عَمِّ لَا أَعْرِضُ لِهَذَا بَعْدَ هَذَا الْيَوْمِ أَبَدًا بِشَيْءٍ تَكْرَهُهُ فَفَعَلَ»
২৫ - আব্বাস বিন হিশাম বিন মুহাম্মদ তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যিয়াদ বিন আবি সুফিয়ানের একজন মুক্তদাস আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে: আবু আল-আসওয়াদ আদ-দুওয়ালি তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে হজ্জ পালনের উদ্দেশ্যে বের হলেন
⦗পৃষ্ঠা: ১১৫⦘ আর তিনি (স্ত্রী) ছিলেন সুন্দরী। যখন তিনি কাবার তাওয়াফ করছিলেন, তখন উমর বিন আব্দুল্লাহ বিন আবি রাবিআ আল-মাখযুমি তাঁর সামনে এলেন এবং তাঁর সাথে প্রণয়মূলক আলাপচারিতা শুরু করলেন। এরপর স্ত্রী আবু আল-আসোয়াদের কাছে এসে তাঁকে বিষয়টি জানালেন। আবু আল-আসওয়াদ তাঁর (উমরের) কাছে গিয়ে কথা বললেন। উমর বললেন: "আমি তো কিছুই করিনি।" যখন তিনি পুনরায় মসজিদে ফিরলেন, উমরও পুনরায় ফিরে এসে তাঁর সাথে কথা বললেন। তিনি আবারও আবু আল-আসওয়াদকে জানালেন। আবু আল-আসওয়াদ তাঁর কাছে এলেন যখন তিনি মসজিদের মধ্যে তাঁর কওমের লোকদের সাথে ছিলেন, এরপর তিনি বললেন:
তুমি পরিপূর্ণ এক যুবক হতে পারতে
… যদি না তোমার মাঝে চারটি স্বভাব থাকত।
উমর চুপ করে রইলেন এবং কিছুই বললেন না। আবু আল-আসওয়াদ তাঁর স্ত্রীকে বললেন: "সে আর ফিরে আসবে না।" কিন্তু যখন তিনি আবার মসজিদে বের হলেন, তখন উমর আবারও তাঁর সাথে কথা বললেন। তিনি আবু আল-আসওয়াদকে সংবাদ দিলেন। আবু আল-আসওয়াদ তাঁর কাছে এলেন যখন তিনি মসজিদে ছিলেন, এরপর তিনি বললেন:
নিশ্চয়ই আমাকে মূর্খতা ও অশ্লীলতা থেকে
… এবং লোকজনকে গালি দেওয়া থেকে চারটি স্বভাব ফিরিয়ে রাখে;
লজ্জা, ইসলাম, তাকওয়া এবং আমি একজন
… সম্মানিত ব্যক্তি; আর আমার মতো লোক ক্ষতিও করতে পারে আবার উপকারও করতে পারে।
সুতরাং আমার এবং তোমার মাঝে কতই না ব্যবধান! নিশ্চয়ই আমি
… সর্বদা অবিচল থাকি, আর তুমি উদিত হও (সীমা লঙ্ঘন করো),
তখন উমর তাঁকে বললেন: "না, আল্লাহর কসম হে চাচা! আজকের পর থেকে আমি আর কখনো এমন কিছুর সাথে আপনার সামনে আসব না যা আপনি অপছন্দ করেন।" এরপর তিনি তাই করলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইশরাফ ফী মানাযিলিল আশরাফ লিবনি আবীদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ١١٥)
وَأَخْبَرَنِي الْعَبَّاسُ بْنُ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ خَالِدِ بْنِ سَعِيدٍ الْأُمَوِيِّ، عَنْ خَالِدِ بْنِ عُمَيْرِ بْنِ الْحُبَابِ، قَالَ كُنَّا مَعَ مَسْلَمَةَ بْنِ عَبْدِ
এবং আব্বাস ইবনে হিশাম আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি খালিদ ইবনে সাঈদ আল-উমায়ী থেকে, তিনি খালিদ ইবনে উমায়ের ইবনুল হুবাব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা মাসলামা ইবনে আবদ-এর সাথে ছিলাম...
(খণ্ড: ১)
আল-ইশরাফ ফী মানাযিলিল আশরাফ লিবনি আবীদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ١١٦)
الْمَلِكِ فِي
غَزْوَةِ الْقُسْطَنْطِينِيَّةِ فَخَرَجَ إِلَيْنَا رَجُلٌ مِنَ الرُّومِ فَدَعَا إِلَى الْمُبَارَزَةِ ، فَخَرَجْتُ إِلَيْهِ ، فَاقْتَتَلْنَا ، فَسَقَطَ كُلُّ وَاحِدٍ مِنَّا عَنْ فَرَسِهِ ، فَأَخَذْتُهُ أَسِيرًا ، فَأَتَيْتُ بِهِ مَسْلَمَةَ فَسَاءَلَهُ هُنَاكَ. وَكَانَ رَجُلًا جَسِيمًا جَمِيلًا فَأَرَادَ أَنْ يَبْعَثَ بِهِ إِلَى هِشَامِ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ وَهُوَ يَوْمَئِذٍ بِحَرَّانَ فَقُلْتُ: أَصْلَحَ اللَّهُ الْأَمِيرَ، إِنْ رَأَيْتَ أَنْ تُوَلِّيَنِي الْوِفَادَةَ بِهِ إِلَيْهِ. قَالَ: إِنَّكَ لَأَحَقُّ النَّاسِ بِذَلِكَ، فَبُعِثَ مَعِي فَكَلَّمْنَاهُ وَسَاءَلْنَاهُ ، فَجَعَلَ لَا يُكَلِّمُنَا حَتَّى انْتَهَيْنَا إِلَى مَوْضِعٍ ، فَقَالَ: مَا يُقَالُ لِهَذَا الْمَوْضِعِ؟ قَالَ: فَإِذَا فَصِيحُ اللِّسَانِ، قُلْنَا: هَذَا الْجُرَيْشُ، وَتَلُّ مَحْرَى ، فَقَالَ:
[البحر الوافر]
ثَوَى بَيْنَ الْجُرَيْشِ وَتلِّ مَحْرَى
… فَوَارِسُ مِنْ نُمَارَةٍ غَيْرِ مِيلِ
فَلَا جَزِعِينَ إِنْ ضَرَّاءُ نابَتْ
… وَلَا فَرِحِينَ بِالْخَيْرِ الْقَلِيلِ
قَالَ: ثُمَّ سَكَتَ ، فَكَلَّمْنَاهُ ، وَقُلْنَا: مَنْ أَنْتَ؟ فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْنَا شَيْئًا ، فَلَمَّا انْتَهَيْنَا إِلَى الرُّهَا قَالَ: دَعُونِي فَلْأُصَلِّي فِي بَيْعَتِهَا
আল-মালিকের অধীনে
কুস্তুনতিনিয়ার যুদ্ধে; তখন রোমকদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি আমাদের সামনে বের হয়ে এল এবং দ্বৈরথ যুদ্ধের আহ্বান জানাল। আমি তার মোকাবিলায় বের হলাম, আমরা লড়াই করলাম এবং আমাদের প্রত্যেকই নিজ নিজ ঘোড়া থেকে পড়ে গেলাম। অতঃপর আমি তাকে বন্দী করলাম এবং তাকে মাসলামাহর কাছে নিয়ে এলাম, আর তিনি সেখানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেন। তিনি ছিলেন এক দীর্ঘদেহী ও সুদর্শন ব্যক্তি। মাসলামাহ তাকে হিশাম বিন আব্দুল মালিকের কাছে পাঠাতে চাইলেন, যিনি সেই সময় হাররানে অবস্থান করছিলেন। আমি বললাম: "আল্লাহ আমীরের কল্যাণ করুন, আপনি যদি আমাকে তার কাছে প্রতিনিধি হিসেবে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব অর্পণ করা সমীচীন মনে করেন (তবে ভালো হয়)।" তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আপনিই এই কাজের জন্য মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যোগ্য।" অতঃপর তাকে আমার সাথে পাঠানো হলো। আমরা তার সাথে কথা বললাম এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলাম, কিন্তু সে আমাদের সাথে কোনো কথাই বলছিল না যতক্ষণ না আমরা একটি নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছালাম। সে জিজ্ঞেস করল: "এই স্থানটিকে কী বলা হয়?" বর্ণনাকারী বলেন: তখন দেখা গেল সে অত্যন্ত প্রাঞ্জলভাষী। আমরা বললাম: "এটি আল-জুরাইশ এবং তাল্লু মাহরা।" তখন সে বলল:
[আল-ওয়াফির ছন্দ]
আল-জুরাইশ ও তাল্লু মাহরার মাঝে অবস্থান নিয়েছেন
… নুমারা গোত্রের এমন অশ্বারোহী বীরগণ যারা অটল ও অবিচল।
বিপদ আপতিত হলে তারা বিচলিত হন না
… আবার সামান্য সুসংবাদে তারা আত্মহারা হন না।
বর্ণনাকারী বলেন: এরপর সে নীরব হয়ে গেল। আমরা তার সাথে কথা বললাম এবং জিজ্ঞেস করলাম: "তুমি কে?" কিন্তু সে আমাদের কোনো উত্তর দিল না। যখন আমরা রুহা-তে পৌঁছালাম, তখন সে বলল: "আমাকে ছেড়ে দাও যাতে আমি এর গির্জায় প্রার্থনা করতে পারি।"
(খণ্ড: ১)
আল-ইশরাফ ফী মানাযিলিল আশরাফ লিবনি আবীদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ١١٧)
، قُلْنَا: دُونَكَ، قَالَ: فَصَلَّى وَكُلُّ ذَلِكَ لَا يُكَلِّمُنَا فَلَمَّا انْتَهَيْنَا إِلَى حَرَّانَ قَالَ: أَيُّ مَدِينَةٍ هَذِهِ؟ قُلْنَا: هَذِهِ مَدِينَةُ حَرَّانَ، قَالَ: أَمَا إِنَّهَا أَوَّلُ مَدِينَةٍ بُنِيَتْ بَعْدَ بَابِلَ ، ثُمَّ سَكَتَ ، فَأَقْبَلْنَا عَلَيْهِ ، فَقُلْنَا: كَلِّمْنَا مَا حَالُكَ؟ فَأَبَى أَنْ يُكَلِّمَنَا. فَلَمَّا دَخَلْنَا حَرَّانَ قَالَ: دَعُونِي حَتَّى أَسْتَحِمَّ فِي حَمَّامِهَا وَأُصَلِّي فَتَرَكْنَاهُ ، ثُمَّ خَرَجَ كَأَنَّهُ بِرْطِيلُ فِضَّةٍ بَيَاضًا وَعِظَمًا، قَالَ: فَأَدْخَلْتُهُ إِلَى هِشَامٍ وَأَخْبَرْتُهُ كَيْفَ كَانَ أَمْرُهُ؟ وَمَا جَعَلَ يَسْأَلُنَا عَنْهُ، فَقَالَ لَهُ هِشَامٌ: مِمَّنْ أَنْتَ؟ قَالَ: أَنَا رَجُلٌ مِنْ إِيَادٍ أَحَدِ بَنِي حُذَافَةَ ، فَقَالَ: وَيْحَكَ أَرَاكَ رَجُلًا عَرَبِيًّا ، لَكَ جَمَالٌ وَفَصَاحَةٌ ، فَأَسْلِمْ نَحْقِنْ دَمَكَ وَنُحْسِنْ عَطَاءَكَ، قَالَ: إِنَّ لِي بِالرُّومِ أَوْلَادًا، قَالَ: وَنَفُكُّ وَلَدَكَ، قَالَ: وَمَا كُنْتُ لِأَرْجِعَ عَنْ دِينِي، فَأَقْبَلَ بِهِ هِشَامٌ وَأَدْبَرَ فَأَبَى ، فَقَالَ: دُونَكَ فَاضْرِبْ عُنُقَهُ، فَضَرَبْتُ عُنُقَهُ
আমরা বললাম, "আপনার যা ইচ্ছা।" বর্ণনাকারী বললেন: অতঃপর তিনি সালাত আদায় করলেন এবং এই পুরো সময়ে তিনি আমাদের সাথে কোনো কথা বললেন না। যখন আমরা হাররানে পৌঁছালাম, তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "এটি কোন শহর?" আমরা বললাম, "এটি হাররান শহর।" তিনি বললেন, "জেনে রেখো, বাবেলের পর এটিই প্রথম শহর যা নির্মিত হয়েছিল।" তারপর তিনি নীরব হয়ে গেলেন। আমরা তাঁর দিকে মনোনিবেশ করলাম এবং বললাম, "আমাদের সাথে কথা বলুন, আপনার অবস্থা কী?" কিন্তু তিনি আমাদের সাথে কথা বলতে অস্বীকার করলেন। অতঃপর যখন আমরা হাররানে প্রবেশ করলাম, তিনি বললেন, "আমাকে অবকাশ দাও যাতে আমি এর গোসলখানায় গোসল করতে পারি এবং সালাত আদায় করতে পারি।" সুতরাং আমরা তাঁকে ছেড়ে দিলাম। এরপর তিনি বের হয়ে এলেন; উজ্জ্বলতা ও অবয়বে তাঁকে যেন একটি রৌপ্যপিণ্ডের মতো মনে হচ্ছিল। বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর আমি তাঁকে হিশামের কাছে নিয়ে গেলাম এবং তাঁর বিষয়টি কেমন ছিল তা তাকে অবহিত করলাম। হিশাম আমাদের কাছে তাঁর সম্পর্কে জানতে চাইলেন। তখন হিশাম তাঁকে বললেন, "তুমি কোন বংশের লোক?" তিনি বললেন, "আমি ইয়াদ গোত্রের একজন ব্যক্তি, বনু হুজাফার অন্তর্ভুক্ত।" হিশাম বললেন, "তোমার জন্য আক্ষেপ! আমি তোমাকে একজন আরব ব্যক্তি হিসেবে দেখছি, যার রূপ ও বাগ্মিতা রয়েছে। সুতরাং তুমি ইসলাম গ্রহণ করো, আমরা তোমার রক্ত রক্ষা করব এবং তোমার প্রতি অনুগ্রহ বৃদ্ধি করব।" তিনি বললেন, "রোম দেশে আমার সন্তানাদি রয়েছে।" হিশাম বললেন, "আমরা তোমার সন্তানদেরও মুক্ত করে আনব।" তিনি বললেন, "আমি আমার দ্বীন থেকে ফিরে আসার পাত্র নই।" এরপর হিশাম তাঁকে ফেরানোর জন্য অনেক চেষ্টা করলেন, কিন্তু তিনি অস্বীকার করলেন। তখন হিশাম বললেন, "একে পাকড়াও করো এবং এর গর্দান উড়িয়ে দাও।" ফলে আমি তাঁর শিরশ্ছেদ করলাম।
(খণ্ড: ১)
আল-ইশরাফ ফী মানাযিলিল আশরাফ লিবনি আবীদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ١١٧)
27 - حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْخَثْعَمِيُّ، عَنِ الْأَصْمَعِيِّ، قَالَ: أَنْشَدْتُ مُحَمَّدَ بْنَ عِمْرَانَ قَاضِي الْمَدِينَةِ، وَكَانَ مِنْ أَعْقَلِ مَنْ رَأَيْتُ مِنَ الْقُرَشِيِّينَ:
⦗ص: 118⦘يَا أَيُّهَا السَّائِلُ عَنْ مَنْزِلِي
… تَرَكْتُ فِي الْخَانِ عَلَى نَفْسِي
يَغْدُو عَلَيَّ الْخَبْزُ مِنْ خَابِزٍ
… لَا يَقْبَلُ الرَّهْنَ وَلَا يَنْسَى
آكُلُ مِنْ كِيسِي وَمِنْ كِسْرَتِي
… حَتَّى لَقَدْ أَوْجَعَنِي ضِرْسي ،
فَقَالَ لِي: أَكْتُبُهَا، فَقُلْتُ: أَصْلَحَكَ اللَّهُ إِنَّمَا يَرْوِي هَذِهِ الْأَحْدَاثُ، فَقَالَ: وَيْحَكَ، الْأَشْرَافُ يُعْجِبُهُمُ الْمَلَاحَةُ "
২৭ - ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল্লাহ আল-খাশআমি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আসমাঈ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি মদীনার কাযী মুহাম্মদ ইবনে ইমরানকে কবিতা শুনিয়েছিলাম, আর তিনি ছিলেন কুরাইশদের মধ্যে আমার দেখা অন্যতম শ্রেষ্ঠ বুদ্ধিমান ব্যক্তি:
⦗পৃষ্ঠা: ১১৮⦘হে আমার ঠিকানা সম্পর্কে অন্বেষণকারী
… আমি সরাইখানায় নিজের জিম্মায় সবকিছু ছেড়ে এসেছি
রুটি প্রস্তুতকারীর পক্ষ থেকে ভোরে আমার নিকট রুটি আসে
… সে বন্ধক গ্রহণ করে না এবং (পাওনার কথা) ভুলেও যায় না
আমি আমার থলি এবং রুটির টুকরো থেকেই আহার করি
… এমনকি শেষ পর্যন্ত আমার দাঁতে ব্যথা হয়ে গিয়েছে,
তখন তিনি আমাকে বললেন: আমি এটি লিখে নেব। আমি বললাম: আল্লাহ আপনার মঙ্গল করুন, এগুলো তো কেবল অল্পবয়সীরাই বর্ণনা করে থাকে। তিনি বললেন: তোমার প্রতি আফসোস! সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিরা চমৎকার ও সরস কথা পছন্দ করেন।