(খণ্ড: ১) আল-ইখওয়ান লিবনি আবীদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: -)
الإخوان لابن أبي الدنيا   (ابن أبي الدنيا)

القسم: كتب السنة


الكتاب: الإخوان

المؤلف: أبو بكر عبد الله بن محمد بن عبيد بن سفيان بن قيس البغدادي الأموي القرشي المعروف بابن أبي الدنيا (ت 281هـ)

المحقق: مصطفى عبد القادر عطا

الناشر: دار الكتب العلمية - بيروت

الطبعة: الأولى، 1409 - 1988

عدد الصفحات: 253

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইবন আবিদ দুনিয়ার আল-ইখওয়ান   (ইবন আবিদ দুনিয়া)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


গ্রন্থ: আল-ইখওয়ান

লেখক: আবু বকর আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন উবাইদ বিন সুফিয়ান বিন কায়েস আল-বাগদাদি আল-উমাবি আল-কুরাশি, যিনি ইবন আবিদ দুনিয়া নামে পরিচিত (মৃ. ২৮১ হি.)

গবেষক: মোস্তফা আব্দুল কাদির আতা

প্রকাশনী: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ - বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৯ - ১৯৮৮

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৫৩

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-ইখওয়ান লিবনি আবীদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٣٥)
1 -‌‌ بَابُ ذِكْرِ الْمُتَحَابِّينَ فِي اللَّهِ عز وجل، وَفَضْلِ مَنْزِلَتِهِمْ عِنْدَ اللَّهِ عز وجل
১ -‌‌ মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পরস্পরকে ভালোবাসাকারীদের আলোচনা এবং মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর নিকট তাদের মর্যাদার শ্রেষ্ঠত্ব সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১) আল-ইখওয়ান লিবনি আবীদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٣٥)
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدِ بْنِ أَبِي الدُّنْيَا قَالَ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ زَكَرِيَّا، عَنْ لَيْثِ بْنِ أَبِي سُلَيْمٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ سُوَيْدِ بْنِ مُقَرِّنٍ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، وَحَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، قَالَ: وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ لَيْثِ بْنِ أَبِي سُلَيْمٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ سُوَيْدِ بْنِ مُقَرِّنٍ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ: كُنْتُ جَالِسًا عِنْدَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: «أَتَدْرُونَ أَيُّ عُرَى الْإِيمَانِ أَوْثَقُ؟» قُلْنَا: الصَّلَاةُ قَالَ: «إِنَّ الصَّلَاةَ حَسَنَةٌ وَمَا هِيَ بِهَا» فَذَكَرُوا شَرَائِعَ الْإِسْلَامِ فَلَمَّا رَآهُمْ لَا يُصِيبُونَ قَالَ: «أَوْثَقُ عُرَى الْإِيمَانِ أَنْ تُحِبَّ فِي اللَّهِ وَتُبْغِضَ فِي اللَّهِ عز وجل»

আবু বকর আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন উবাইদ বিন আবুদ দুনিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, সাঈদ বিন সুলায়মান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল বিন যাকারিয়া থেকে, তিনি লাইস বিন আবি সুলাইম থেকে, তিনি আমর বিন মুররাহ থেকে, তিনি মুআবিয়া বিন সুওয়াইদ বিন মুকাররিন থেকে, তিনি বারা বিন আযিব থেকে। এবং আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইসহাক বিন ইসমাঈল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, জারীর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন লাইস বিন আবি সুলাইম থেকে, তিনি আমর বিন মুররাহ থেকে, তিনি মুআবিয়া বিন সুওয়াইদ বিন মুকাররিন থেকে, তিনি বারা বিন আযিব থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট উপবিষ্ট ছিলাম, তখন তিনি বললেন: «তোমরা কি জানো ঈমানের কোন হাতলটি সর্বাপেক্ষা মজবুত?» আমরা বললাম: সালাত। তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই সালাত একটি উত্তম কাজ, তবে এটি তা নয়।» অতঃপর তারা ইসলামের অন্যান্য বিধানসমূহ উল্লেখ করলেন। যখন তিনি দেখলেন যে তারা সঠিক উত্তরে পৌঁছাতে পারছেন না, তখন তিনি বললেন: «ঈমানের সবচেয়ে মজবুত হাতল হলো মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর জন্য ভালোবাসা এবং আল্লাহর জন্যই ঘৃণা পোষণ করা।»

(খণ্ড: ১) আল-ইখওয়ান লিবনি আবীদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٣٩)
2 - حَدَّثَنَا الْهَيْثَمُ بْنُ خَارِجَةَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَيْسَرَةَ، عَنِ الْعِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ، عَنِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " قَالَ اللَّهُ تبارك وتعالى: الْمُتَحَابُّونَ بِجَلَالِي فِي ظِلِّ عَرْشِي يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلِّي "
২ - আমাদের নিকট আল-হায়সাম ইবনে খারিজা বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইসমাঈল ইবনে আইয়্যাশ বর্ণনা করেছেন সাফওয়ান ইবনে আমর থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে মাইসারা থেকে, তিনি ইরবায ইবনে সারিয়াহ থেকে, আর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বলেছেন: আমার মহিমার কারণে যারা পরস্পরকে ভালোবাসে, তারা আমার আরশের ছায়াতলে থাকবে, যেদিন আমার ছায়া ব্যতীত আর কোনো ছায়া থাকবে না।"
(খণ্ড: ১) আল-ইখওয়ান লিবনি আবীদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٤١)
3 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ بَهْرَامَ، حَدَّثَنَا شَهْرُ بْنُ حَوْشَبٍ، حَدَّثَنِي عَايِذُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ، حَدَّثَهُ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «الْمُتَحَابُّونَ بِجِلَالِ اللَّهِ عز وجل فِي ظِلِّ عَرْشِ اللَّهِ يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلُّهُ»
৩ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আলী ইবনুল জাদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবদুল হামীদ ইবনে বাহরাম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন শাহর ইবনে হাওশাব, তিনি বলেন: আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আয়িযুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ যে, মুআজ ইবনে জাবাল তাঁর নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর মহিমার খাতিরে যারা পরস্পরকে ভালোবাসে, তারা আল্লাহর আরশের ছায়ায় থাকবে—যেদিন তাঁর ছায়া ব্যতীত আর কোনো ছায়া থাকবে না।»
(খণ্ড: ১) আল-ইখওয়ান লিবনি আবীদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٤٣)
4 - حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ فُلَيْحِ بْنِ سُلَيْمَانَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " يَقُولُ اللَّهُ تبارك وتعالى: أَيْنَ الْمُتَحَابُّونَ بِجَلَالِي الْيَوْمَ أُظِلُّهُمْ بِظِلِّي يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلِّي "
৪ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন জুহাইর ইবনু হারব, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইউনুস ইবনু মুহাম্মাদ, তিনি ফুলাইহ ইবনু সুলাইমান থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমান থেকে, তিনি সাঈদ ইবনু ইয়াসার থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "বরকতময় ও সুউচ্চ আল্লাহ বলেন: আমার মহত্ত্বের কারণে পরস্পরকে ভালোবাসাকারীরা আজ কোথায়? আজ আমি তাদের আমার ছায়ায় ছায়া প্রদান করব, যেদিন আমার ছায়া ব্যতীত অন্য কোনো ছায়া নেই।"
(খণ্ড: ১) আল-ইখওয়ান লিবনি আবীদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٤٥)
5 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ الْقَعْقَاعِ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ مِنْ عِبَادِ اللَّهِ لَعِبَادًا يَغْبِطُهُمُ الْأَنْبِيَاءُ وَالشُّهَدَاءُ» قِيلَ: مَنْ هُمْ لَعَلَّنَا نُحِبُّهُمْ، قَالَ: " هُمْ قَوْمٌ تَحَابُّوا بِرُوحِ اللَّهِ عَلَى غَيْرِ أَمْوَالٍ وَلَا أَنْسَابٍ، وُجُوهُهُمْ نُورٌ وَهُمْ عَلَى مَنَابِرَ مِنْ نُورٍ لَا يَخَافُونَ إِذَا خَافَ النَّاسُ وَلَا يَحْزَنُونَ إِذَا حَزِنَ النَّاسُ ثُمَّ تَلَا {أَلَا إِنَّ أَوْلِيَاءَ اللَّهِ لَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ} [يونس: 62] "
৫ - আমাদের নিকট আব্দুর রহমান ইবনে সালিহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইবনে ফুদ্বাইল বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি উমারা ইবনুল কা'কা থেকে, তিনি আবু যুরআ থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে এমন কিছু বান্দা রয়েছেন যাদেরকে নবীগণ ও শহীদগণও ঈর্ষা করবেন (তাদের উচ্চ মর্যাদা দেখে)»। জিজ্ঞেস করা হলো: তারা কারা? সম্ভবত আমরা তাঁদেরকে ভালোবাসব। তিনি বললেন: "তাঁরা এমন এক সম্প্রদায় যারা কোনো প্রকার ধন-সম্পদ বা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছাড়াই কেবল আল্লাহর রূহ (প্রদত্ত দ্বীন বা রহমত) এর মাধ্যমে পরস্পরকে ভালোবেসেছেন। তাঁদের চেহারাগুলো হবে নূর (আলো) এবং তাঁরা নূরের মিম্বরসমূহের উপর অবস্থান করবেন। মানুষ যখন ভীত হবে, তাঁরা তখন ভীত হবেন না এবং মানুষ যখন দুঃখিত হবে, তাঁরা তখন দুঃখিত হবেন না।" এরপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: {জেনে রেখো, নিশ্চয়ই আল্লাহর বন্ধুদের কোনো ভয় নেই এবং তাঁরা দুঃখিতও হবে না।} [ইউনুস: ৬২]
(খণ্ড: ১) আল-ইখওয়ান লিবনি আবীদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٤٧)
6 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ بَهْرَامَ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ غَنْمٍ، عَنْ أَبِي مَالِكٍ الْأَشْعَرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ بِوَجْهِهِ فَقَالَ: «يَا أَيُّهَا النَّاسُ، اسْمَعُوا وَاعْقِلُوا، وَاعْلَمُوا أَنَّ لِلَّهَ عز وجل عِبَادًا لَيْسُوا بِأَنْبِيَاءَ وَلَا شُهَدَاءَ، يَغْبِطُهُمُ النَّبِيُّونَ وَالشُّهَدَاءُ عَلَى مَجَالِسِهِمْ وَقُرْبِهِمْ مِنَ اللَّهِ» . فَقَالَ أَعْرَابِيٌّ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، انْعَتْهُمْ لَنَا جَلِّهِمْ لَنَا فَتَبَسَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِقَوْلِ الْأَعْرَابِيِّ قَالَ: «هُمْ نَاسٌ مِنْ أَفْنَاءِ النَّاسِ وَنَوَازِعِ الْقَبَائِلِ لَمْ تَصِلْ بَيْنَهُمْ أَرْحَامٌ مُتَقَارِبَةٌ، تَحَابُّوا فِي اللَّهِ عز وجل وَتَصَافَوْا، يَضَعُ اللهُ عز وجل لَهُمْ مَنَابِرَ مِنْ نُورٍ لِيُجْلِسَهُمْ عَلَيْهَا فَيَجْعَلُ وُجُوهَهُمْ نُورًا وَثِيَابَهُمْ نُورًا يَفْزَعُ النَّاسُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَا يَفْزَعُونَ وَهُمْ أَوْلِيَاءُ اللَّهِ لَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ»
৬ - আমাদের নিকট আলী ইবনুল জাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আব্দুল হামিদ ইবনে বাহরাম বর্ণনা করেছেন, তিনি শাহর ইবনে হাওশাব থেকে, তিনি বলেন আমার নিকট আব্দুর রহমান ইবনে গানম বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু মালিক আল-আশআরি থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের দিকে তাঁর চেহারা ফিরিয়ে বললেন: «হে লোকসকল! শোনো এবং অনুধাবন করো, আর জেনে রাখো যে, মহান আল্লাহর এমন কিছু বান্দা রয়েছেন যারা নবীও নন এবং শহীদও নন, কিন্তু আল্লাহর কাছে তাঁদের মজলিস এবং তাঁদের নৈকট্যের কারণে নবী ও শহীদগণ তাঁদের প্রতি ঈর্ষা পোষণ করবেন।» তখন এক বেদুইন বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কাছে তাঁদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করুন এবং তাঁদের পরিচয় আমাদের নিকট স্পষ্ট করুন। বেদুইনের কথায় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হাসলেন এবং বললেন: «তাঁরা হলেন বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষ এবং বিভিন্ন গোত্রের সেই সব বিচ্ছিন্ন ব্যক্তি যাদের মধ্যে কোনো নিকটাত্মীয়তার সম্পর্ক নেই; তাঁরা কেবল মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একে অপরকে ভালোবেসেছেন এবং পরস্পরের প্রতি হৃদ্যতা বজায় রেখেছেন। মহান আল্লাহ তাঁদের জন্য নূরের মিম্বরসমূহ স্থাপন করবেন এবং তাঁদেরকে সেখানে বসাবেন। অতঃপর তিনি তাঁদের চেহারাকে নূর এবং তাঁদের পোশাককে নূরে পরিণত করবেন। কিয়ামতের দিন মানুষ যখন আতঙ্কিত হবে, তাঁরা তখন আতঙ্কিত হবেন না। তাঁরাই আল্লাহর ওলি, যাঁদের কোনো ভয় নেই এবং তাঁরা চিন্তিতও হবে না।»
(খণ্ড: ১) আল-ইখওয়ান লিবনি আবীদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٤٨)
7 - حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ أَبِي الْمَلِيحِ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي مَرْزُوقٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، عَنْ أَبِي مُسْلِمٍ الْخَوْلَانِيِّ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «الْمُتَحَابُّونَ فِي اللَّهِ عز وجل يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى مَنَابِرَ فِي ظِلِّ الْعَرْشِ يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلُّهُ عَلَى مَنَابِرَ مِنْ نُورٍ يَغْبِطُهُمُ النَّبِيُّونَ وَالصِّدِّيقُونَ»
৭ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু খাইসামা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে জাফর, তিনি আবুল মালিহ থেকে, তিনি হাবীব ইবনে আবি মারযুক থেকে, তিনি আতা ইবনে আবি রাবাহ থেকে, তিনি আবু মুসলিম আল-খাওলানি থেকে এবং তিনি মুয়াজ ইবনে জাবাল (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে যারা একে অপরকে ভালোবাসে, কিয়ামতের দিন তারা আরশের ছায়ায় নূরের মিম্বরসমূহের ওপর অবস্থান করবে; যেদিন তাঁর ছায়া ব্যতীত অন্য কোনো ছায়া থাকবে না। তাদের দেখে নবীগণ এবং সিদ্দীকগণও ঈর্ষা করবেন।’
(খণ্ড: ১) আল-ইখওয়ান লিবনি আবীদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٥٠)
8 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ بَهْرَامَ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، عَنْ أَبِي طَيْبَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ عَبَسَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: " إِنَّ اللَّهَ عز وجل يَقُولُ: وَجَبَتْ مَحَبَّتِي لِلَّذِينَ يَتَحَابُّونَ مِنْ أَجْلِي وَحَقَّتْ مَحَبَّتِي لِلَّذِينَ يَتَصَادَقُونَ مِنْ أَجْلِي "
৮ - আলী ইবনুল জা'দ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল হামীদ ইবনে বাহরাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শাহর ইবনে হাওশাব থেকে, তিনি আবু তায়িবাহ থেকে, তিনি আমর ইবনে আবাসাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী ও সুমহান বলেন: যারা আমার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পরস্পরকে ভালোবাসে তাদের জন্য আমার ভালোবাসা অবধারিত হয়ে গেছে, এবং যারা আমার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পরস্পরের সাথে সত্যনিষ্ঠা বজায় রাখে তাদের জন্য আমার ভালোবাসা সাব্যস্ত হয়েছে।"
(খণ্ড: ১) আল-ইখওয়ান লিবনি আবীদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٥١)
9 - حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ أَبِي الْمَلِيحِ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي مَرْزُوقٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، عَنْ أَبِي مُسْلِمٍ الْخَوْلَانِيِّ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَرْوِي عَنْ رَبِّهِ تبارك وتعالى قَالَ: «حَقَّتْ مَحَبَّتِي عَلَى الْمُتَحَابِّينَ، هُمْ فِي ظِلِّ الْعَرْشِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلِّي»
৯ - যুহাইর ইবনে হারব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল মালিহ হতে, তিনি হাবীব ইবনে আবি মারযুক হতে, তিনি আতা ইবনে আবি রাবাহ হতে, তিনি আবু মুসলিম আল-খাওলানি হতে, তিনি উবাদাহ ইবনে সামিত হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর রব তাবারাকা ওয়া তাআলা হতে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: «পরস্পরকে ভালোবাসাকারীদের জন্য আমার ভালোবাসা অবধারিত হয়েছে; কিয়ামতের দিন তারা আরশের ছায়ায় অবস্থান করবে, যেদিন আমার ছায়া ব্যতীত আর কোনো ছায়া থাকবে না।»
(খণ্ড: ১) আল-ইখওয়ান লিবনি আবীদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٥٢)
10 - حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا خَلَفُ بْنُ خَلِيفَةَ، عَنْ حُمَيْدٍ الْأَعْرَجِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «الْمُتَحَابُّونَ فِي اللَّهِ عز وجل عَلَى عَمُودٍ مِنْ يَاقُوتٍ أَحْمَرَ فِي رَأْسِ الْعَمُودِ مِائَةُ أَلْفِ غَرْفَةٍ فَتُضِيءُ لِأَهْلِ الْجَنَّةِ كَمَا تُضِيءُ الشَّمْسُ لِأَهْلِ الدُّنْيَا مَكْتُوبٌ فِي جِبَاهِهِمْ هَؤُلَاءِ الْمُتَحَابُّونَ فِي اللَّهِ»
১০ - দাউদ ইবনে সুলাইমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, খালাফ ইবনে খলিফা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুমায়দ আল-আ’রাজ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আল-হারিস থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যারা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একে অপরকে ভালোবাসে, তারা লাল ইয়াকুতের একটি স্তম্ভের ওপর অবস্থান করবে; সেই স্তম্ভের শীর্ষে এক লক্ষ কক্ষ থাকবে। সেগুলো জান্নাতবাসীদের জন্য তেমনিভাবে উজ্জ্বলতা ছড়াবে যেমন সূর্য দুনিয়াবাসীদের জন্য উজ্জ্বলতা ছড়ায়। তাদের কপালে লেখা থাকবে: এরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একে অপরকে ভালোবাসত»।
(খণ্ড: ১) আল-ইখওয়ান লিবনি আবীদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٥٤)
11 - حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْعَبْدِيُّ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، وَحَدَّثَنِي الْمُشَرِّفُ بْنُ أَبَانَ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ عِيسَى ابْنُ بِنْتِ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدَ، وَاللَّفْظُ لِمُشَرِّفٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي حُمَيْدٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ وَرْدَانَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ فِي الْجَنَّةِ عَمُودًا مِنْ ذَهَبٍ عَلَيْهِ مَدَائِنُ مِنْ زَبَرْجَدٍ تُضِيءُ لِأَهْلِ الْجَنَّةِ كَمَا يُضِيءُ الْكَوْكَبِ الدُّرِّيِّ فِي جَوِّ السَّمَاءِ» قُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، لِمَنْ هَذَا؟ قَالَ: «لِلْمُتَحَابِّينَ فِي اللَّهِ عز وجل»
১১ - ইয়াকুব ইবনে ইবরাহিম আল-আবদি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি ইসমাইল ইবনে ইবরাহিম থেকে; এবং আল-মুশাররফ ইবনে আবান আমার নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি ইসহাক ইবনে ঈসা ইবনে বিনতে দাউদ ইবনে আবি হিন্দ থেকে—আর শব্দবিন্যাস মুশাররফের—তিনি মুহাম্মদ ইবনে আবি হুমায়দ থেকে, তিনি মুসা ইবনে ওয়ারদান থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয় জান্নাতে স্বর্ণের একটি খুঁটি রয়েছে যার উপরে পান্নার তৈরি শহরসমূহ রয়েছে, যা জান্নাতবাসীদের জন্য তেমনিভাবে আলো দেয় যেমনভাবে উজ্জ্বল নক্ষত্র আকাশের দিগন্তে আলো দিয়ে থাকে» আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, এটি কাদের জন্য? তিনি বললেন: «মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যারা পরস্পরকে ভালোবাসে তাদের জন্য»
(খণ্ড: ১) আল-ইখওয়ান লিবনি আবীদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٥٦)
12 - حَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ سَعْدٍ الْقُرَشِيُّ الزُّهْرِيُّ أَبُو إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سُلَيْمَانَ الْجُعْفِيُّ، حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ بْنِ سَعِيدِ بْنِ مُسْلِمٍ، أَنَّ الْأَعْمَشَ، حَدَّثَهُ عَنْ عَطِيَّةَ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، عَنِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِنَّ لِلَّهِ عز وجل عِبَادًا عَلَى مَنَابِرَ مِنْ نُورٍ فِي ظِلِّ الْعَرْشِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَغْبِطُهُمُ النَّبِيُّونَ وَالشُّهَدَاءُ هُمُ الْمُتَحَابُّونَ فِي اللَّهِ عز وجل»
১২ - আহমাদ বিন সা’দ আল-কুরাশি আয-যুহরি আবু ইবরাহিম আমাকে বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া বিন সুলাইমান আল-জু’ফয়ি আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন, আমর বিন উসমান বিন সা’ঈদ বিন মুসলিম আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, আল-আ’মাশ তাকে আতিয়্যাহ বিন সা’দ থেকে, তিনি আবু সা’ঈদ থেকে, তিনি নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: «নিশ্চয়ই মহাপরাক্রমশালী ও মহান আল্লাহর এমন কিছু বান্দা রয়েছেন যারা কিয়ামতের দিন আরশের ছায়ায় নূরের মিম্বরসমূহের ওপর অবস্থান করবেন, যাঁদের উচ্চ মর্যাদা দেখে নবীগণ এবং শহীদগণও ঈর্ষা করবেন; তাঁরা হলেন সেই সকল ব্যক্তি যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যেই একে অপরকে ভালোবাসতেন»।
(খণ্ড: ১) আল-ইখওয়ান লিবনি আবীদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٥٨)
13 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ قُرَّةَ الْعِجْلِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَابِطٍ، قَالَ: أُخْبِرْتُ أَنَّ عَلَى يَمِينِ الرَّحْمَنِ وَكِلْتَا يَدَيْهِ يَمِينٌ قَوْمٌ عَلَى مَنَابِرَ مِنْ نُورٍ عَلَيْهِمْ ثِيَابٌ خَضِرٌ يَغْشُونَ أَبْصَارَ النَّاظِرِينَ دُونَهُمْ لَيْسُوا بِأَنْبِيَاءَ وَلَا شُهَدَاءَ " قِيلَ: مَنْ هُمْ؟ قَالَ: «قَوْمٌ تَحَابُّوا بِجِلَالِ اللَّهُ حِينَ عُصِي اللَّهُ عز وجل»
১৩ - আমাদের নিকট ইসহাক ইবন ইসমাইল বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইবন ফুদাইল বর্ণনা করেছেন, তিনি ইসমাইল ইবন আবি খালিদ থেকে, তিনি কুররা আল-ইজলি থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবন সাবিত থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দেওয়া হয়েছে যে, রহমানের ডান দিকে—এবং আল্লাহর উভয় হাতই ডান—এমন একদল লোক নূরের মিম্বরসমূহের উপর অবস্থান করবেন, যাদের পরিধানে থাকবে সবুজ পোশাক, যা দর্শকদের দৃষ্টিকে অভিভূত বা আচ্ছন্ন করে দেবে; অথচ তারা নবীও নন এবং শহীদও নন। জিজ্ঞেস করা হলো: তারা কারা? তিনি বললেন: «তারা এমন একদল লোক যারা আল্লাহর মহত্ত্বের খাতিরে একে অপরকে ভালোবেসেছেন যখন মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর অবাধ্যতা করা হচ্ছিল।»
(খণ্ড: ১) আল-ইখওয়ান লিবনি আবীদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٥٩)
14 - حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلَاءِ الْهَمَذَانِيُّ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ صَالِحٍ وَاللَّفْظُ لِعَبْدِ الرَّحْمَنِ قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: لَقِيتُ أَبَا إِسْحَاقَ بَعْدَمَا ذَهَبَ بَصَرُهُ فَالْتَزَمَنِي، فَقُلْتُ: تَعْرِفُنِي؟ قَالَ: نَعَمْ وَاللَّهِ إِنِّي لَأَعْرِفُكَ وَإِنِّي لَأُحِبُّكَ وَلَوْلَا الْحَيَاءُ لَقَبَّلْتُكَ، تَدْرِي فِيمَنْ نَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ؟ حَدَّثَنِي أَبُو الْأَحْوَصِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: " فِي الْمُتَحَابِّينَ فِي اللَّهِ عز وجل {لَوْ أَنْفَقْتَ مَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا مَا أَلَّفْتَ بَيْنَ قُلُوبِهِمْ} [الأنفال: 63] "
১৪ - আমাদের নিকট আবু কুরাইব মুহাম্মাদ ইবনুল আলা আল-হামাদানি এবং আব্দুর রহমান ইবনে সালিহ বর্ণনা করেছেন, আর শব্দবিন্যাস আব্দুর রহমানের; তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইবনে ফুযাইল তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু ইসহাকের দৃষ্টিশক্তি চলে যাওয়ার পর তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করলাম, তখন তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরলেন। আমি বললাম: আপনি কি আমাকে চিনতে পারছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আল্লাহর কসম! আমি অবশ্যই তোমাকে চিনি এবং আমি অবশ্যই তোমাকে ভালোবাসি। আর যদি লোকলজ্জার ভয় না থাকত, তবে আমি তোমাকে অবশ্যই চুম্বন করতাম। তুমি কি জানো এই আয়াতটি কাদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে? আবু আল-আহওয়াস আব্দুল্লাহর সূত্রে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "এটি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পরস্পরকে ভালোবাসাকারীদের সম্পর্কে [অবতীর্ণ হয়েছে]: {যদি তুমি জমিনে যা কিছু আছে তার সবটুকুও ব্যয় করতে, তবুও তাদের হৃদয়ের মাঝে প্রীতি স্থাপন করতে পারতে না} [আল-আনফাল: ৬৩]।"
(খণ্ড: ১) আল-ইখওয়ান লিবনি আবীদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٦٠)
15 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ بُغَيْلٍ، عَنْ زُهَيْرٍ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: " إِنَّ مِنَ الْإِيمَانِ أَنْ يُحِبَّ الرَّجُلُ الرَّجُلَ لَيْسَ بَيْنَهُمَا نَسَبٌ قَرِيبٌ وَلَا مَالٌ أَعْطَاهُ إِيَّاهُ وَلَا مَحَبَّةٌ إِلَّا لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ
১৫ - আবদুর রহমান বিন সালিহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাফস বিন বুগাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যুহাইর থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি আবুল আহওয়াস থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই ঈমানের অন্তর্ভুক্ত হলো কোনো ব্যক্তি অপর কোনো ব্যক্তিকে ভালোবাসবে এমতাবস্থায় যে, তাদের মাঝে কোনো নিকটাত্মীয়তার সম্পর্ক নেই এবং সে তাকে কোনো সম্পদও প্রদান করেনি, আর এই ভালোবাসা কেবল মহান আল্লাহর জন্যই।"
(খণ্ড: ১) আল-ইখওয়ান লিবনি আবীদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٦١)
16 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَنَا أَبُو الْمُحَيَّاةَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ طَلْقِ بْنِ حَبِيبٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، رَفَعَهُ قَالَ: «ثَلَاثٌ مَنْ كُنَّ فِيهِ وَجَدَ حَلَاوَةَ الْإِيمَانِ، وَحَلَاوَتُهُ أَنْ يَكُونَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِمَّا سِوَاهُمَا وَأَنْ يُحِبَّ فِي اللَّهِ وَيُبْغِضَ فِي اللَّهِ وَأَنْ لَوْ أُوقِدَتْ نَارٌ عَظِيمَةٌ لَوْ وَقَعَ فِيهَا أَحَبُّ إِلَيْهِ مِنْ أَنْ يُشْرِكَ بِاللَّهِ»
১৬ - আব্দুর রহমান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আবুল মুহাইয়্যাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মানসুর থেকে, তিনি তালক ইবনে হাবীব থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «তিনটি বৈশিষ্ট্য যার মধ্যে থাকবে সে ঈমানের মিষ্টতা লাভ করবে; আর তার মিষ্টতা হলো— আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যেন তার নিকট অন্য সবকিছু থেকে অধিক প্রিয় হন, সে যেন আল্লাহর জন্যই ভালোবাসে এবং আল্লাহর জন্যই ঘৃণা করে এবং যদি এক বিশাল অগ্নি প্রজ্বলিত করা হয় তবে তাতে নিক্ষিপ্ত হওয়া যেন তার নিকট আল্লাহর সাথে শিরক করার চেয়ে অধিক প্রিয় হয়।»
(খণ্ড: ১) আল-ইখওয়ান লিবনি আবীদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٦٢)
17 - وَبِهِ حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ، عَنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، قَالَ: «مَنْ أَحَبَّ لِلَّهِ وَأَبْغَضَ لِلَّهِ وَأَعْطَى لِلَّهِ وَمَنَعَ لِلَّهِ اسْتَكْمَلَ الْإِيمَانَ»
১৭ - এবং এই সনদেই আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সালামাহ, তিনি আবদুর রহমান ইবনে ইয়াজিদ ইবনে জাবির থেকে, তিনি আল-কাসিম থেকে, তিনি আবু উমামাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য ভালোবাসল, আল্লাহর জন্য ঘৃণা করল, আল্লাহর জন্য দান করল এবং আল্লাহর জন্য প্রদান থেকে বিরত থাকল, সে ঈমান পূর্ণ করল।"
(খণ্ড: ১) আল-ইখওয়ান লিবনি আবীদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٦٤)
18 - حَدَّثَنَا الْهَيْثَمُ بْنُ خَارِجَةَ، عَنْ صَدَقَةَ بْنِ خَالِدٍ الْقُرَشِيِّ، عَنْ زَجْلَةَ، قَالَتْ: كُنَّا مَعَ أُمِّ الدَّرْدَاءِ جُلُوسًا فَقَالَ لَهَا هِشَامُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ: يَا أُمَّ الدَّرْدَاءِ، مَا أَوْثَقُ عَمَلِكِ فِي نَفْسِكِ؟ قَالَتِ: «الْحَبُّ فِي اللَّهِ»
১৮ - আল-হাইসাম ইবন খারি জাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, সাদাকা ইবন খালিদ আল-কুরাশী থেকে, তিনি সাজলাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা উম্মুদ দারদা-এর নিকট উপবিষ্ট ছিলাম। তখন হিশাম ইবন ইসমাঈল তাকে বললেন: হে উম্মুদ দারদা, আপনার নিজের দৃষ্টিতে আপনার কোন আমলটি সবচেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য? তিনি বললেন: «আল্লাহর নিমিত্তে ভালোবাসা»
(খণ্ড: ১) আল-ইখওয়ান লিবনি আবীদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٦٥)
19 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَبَّاسِ بْنِ الْعَبَّاسِ بْنِ مُحَمَّدٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ وَغَيْرُهُمَا عَنْ دَاوُدَ بْنِ الْمُحَبَّرِ، حَدَّثَنَا مُبَارَكُ بْنُ فَضَالَةَ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، قَالَ: " إِنَّا لَوُقُوفٌ بِجَبَلِ عَرَفَاتٍ فَإِذَا شَابَّانِ عَلَيْهِمَا الْعَبَاءُ الْقَطَوَانِيُّ نَادَى أَحَدُهُمَا صَاحِبَهُ: يَا حَبِيبُ، فَأَجَابَهُ الْآخَرُ لَبَّيْكَ أَيُّهَا الْمُحِبُّ، قَالَ: تَرَى فِي الَّذِي تَحَابَبْنَا فِيهِ وَتَوَادَدْنَا فِيهِ يُعَذِّبُنَا غَدًا فِي الْقِيَامَةِ؟ قَالَ: فَسَمِعْنَا مُنَادِيًا سَمِعَتْهُ الْآذَانُ وَلَمْ تَرَهُ الْأَعْيُنُ يَقُولُ: «لَا لَيْسَ بِفَاعِلٍ»
১৯ - মুহাম্মদ ইবনুল আব্বাস ইবনুল আব্বাস ইবনে মুহাম্মদ, মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন এবং অন্যান্যরা আমাদের নিকট দাউদ ইবনুল মুহাব্বার থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি মুবারক ইবনে ফাদালাহ থেকে, তিনি সাবিত আল-বুনানি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমরা আরাফাত পাহাড়ে অবস্থান করছিলাম, তখন কাতাওয়ানি চাদর পরিহিত দুইজন যুবককে দেখা গেল। তাদের একজন তার সাথীকে ডাকল: হে প্রিয়, অন্যজন উত্তর দিল: আমি হাজির হে মুহিব। সে বলল: তুমি কি মনে কর, যাঁর সন্তুষ্টির জন্য আমরা একে অপরকে ভালোবেসেছি এবং বন্ধুত্ব করেছি, তিনি কি আগামীকাল কিয়ামতের দিন আমাদের শাস্তি দেবেন? তিনি বলেন: তখন আমরা এক আহ্বানকারীর শব্দ শুনতে পেলাম যা কান শুনতে পেল কিন্তু চোখ তাকে দেখতে পেল না, তিনি বলছিলেন: «না, তিনি এমনটি করবেন না»"
(খণ্ড: ১) আল-ইখওয়ান লিবনি আবীদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٦٧)
20 - حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ زُهَيْرٍ الضَّبِّيُّ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ الْحَارِثِ الذِّمَارِيُّ، عَنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَا أَحَبَّ عَبْدٌ عَبْدًا إِلَّا أَكْرَمَهُ اللَّهُ»
২০ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন দাউদ ইবন উমর ইবন জুহায়ের আদ-দব্বী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল ইবন আইয়াশ, আমাকে বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনুল হারিস আজ-জিমারী, আল-কাসিম থেকে বর্ণিত, তিনি আবু উমামাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «কোনো বান্দা যখন অন্য কোনো বান্দাকে ভালোবাসে, তখন আল্লাহ তাকে অবশ্যই সম্মানিত করেন।»
(খণ্ড: ১) আল-ইখওয়ান লিবনি আবীদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٦٨)
21 - حَدَّثَنَا شُجَاعُ بْنُ الْأَشْرَسِ بْنِ مَيْمُونٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، عَنِ الْعَوَّامِ بْنِ حَوْشَبٍ، قَالَ: لَقِيتُ قَتَادَةَ فَقُلْتُ: أُحِبُّ فِي اللَّهِ، قَالَ: «إِنَّمَا أَحْبَبْتَ رَبَّكَ»
২১ - আমাদের নিকট শুজা ইবনুল আশরাস ইবনে মাইমুন বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইয়াযিদ ইবনে হারুন বর্ণনা করেছেন, তিনি আওয়াম ইবনে হাওশাব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি কাতাদাহর সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং বললাম: আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ভালোবাসি। তিনি বললেন: «প্রকৃতপক্ষে তুমি তোমার প্রতিপালককেই ভালোবেসেছ।»
(খণ্ড: ১) আল-ইখওয়ান লিবনি আবীদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٦٩)
22 - حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ لَيْثٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: أَحِبَّ فِي اللَّهِ وَأَبْغِضْ فِي اللَّهِ وَوَالِ فِي اللَّهِ وَعَادِ فِي اللَّهِ فَإِنَّمَا تَنَالُ وِلَايَةَ اللَّهِ بِذَلِكَ وَلَا يَجِدُ عَبْدٌ طَعْمَ الْإِيمَانِ وَإِنْ كَثُرَتْ صَلَاتُهُ وَصِيَامُهُ حَتَّى يَكُونَ كَذَلِكَ "
২২ - আবু কুরাইব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবন ফুদ্বাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন লাইস থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি ইবন আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আল্লাহর জন্যই ভালোবাসো, আল্লাহর জন্যই ঘৃণা করো, আল্লাহর জন্যই বন্ধুত্ব করো এবং আল্লাহর জন্যই শত্রুতা পোষণ করো; কারণ কেবলমাত্র এর মাধ্যমেই আল্লাহর অভিভাবকত্ব লাভ করা যায়। আর কোনো বান্দা ঈমানের স্বাদ আস্বাদন করতে পারবে না—যদিও তার সালাত ও সিয়াম অধিক হয়—যতক্ষণ না সে এরূপ হবে।"
(খণ্ড: ১) আল-ইখওয়ান লিবনি আবীদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٧٠)
23 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْوَضَّاحِ الْكُوفِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَمَانٍ، عَنْ خُلَيْدِ بْنِ دِعْلِجٍ، عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ «وُجُوهُ الْمُتَحَابِّينَ مِنْ نُورٍ»
২৩ - আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবনুল অদ্দাহ আল-কুফী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইয়াহইয়া বিন ইয়ামান বর্ণনা করেছেন খুলাইদ বিন দিলাজ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "পরস্পরকে মহব্বতকারীদের চেহারা হবে নূরের।"
(খণ্ড: ১) আল-ইখওয়ান লিবনি আবীদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٧١)
‌‌بَابُ الرَّغْبَةِ فِي الْإِخْوَانِ وَالْحَثِّ عَلَيْهِمْ.
ভ্রাতৃত্বের প্রতি আগ্রহ এবং তাদের ব্যাপারে উৎসাহিত করার পরিচ্ছেদ.
(খণ্ড: ১) আল-ইখওয়ান লিবনি আবীদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٧١)
24 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُمَارَةَ الْأَسَدِيُّ الْكُوفِيُّ، حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ عَامِرٍ الْبَجَلِيُّ، حَدَّثَنَا مَيْمُونُ بْنُ عَمْرٍو الْبَصْرِيُّ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ الْمَكِّيِّ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «الْمَرْءُ كَثِيرٌ بِأَخِيهِ»
২৪ - আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে উমারা আল-আসাদি আল-কুফি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট সাহল ইবনে আমির আল-বাজালি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মায়মুন ইবনে আমর আল-বাসরি বর্ণনা করেছেন, আবু আয-যুবাইর আল-মাক্কি থেকে, সাহল ইবনে সাদ আস-সায়িদি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «মানুষ তার ভাইয়ের মাধ্যমে শক্তিশালী হয়»
(খণ্ড: ১) আল-ইখওয়ান লিবনি আবীদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٧٣)
25 - حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْوَاسِطِيُّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ طَلْحَةَ بْنِ مُصَرِّفٍ، عَنْ مُسْلِمِ بْنِ عَطِيَّةَ، عَنِ الْحَسَنِ، قَالَ: " قَالَ لُقْمَانُ لِابْنِهِ: يَا بُنَيَّ لَا تَعْدُ بَعْدَ تَقْوَى اللَّهِ مِنْ أَنْ تَتَّخِذَ صَاحِبًا صَالِحًا "
২৫ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবন সুলায়মান আল-ওয়াসিতি, তিনি মুহাম্মদ ইবন তালহা ইবন মুসাররিফ থেকে, তিনি মুসলিম ইবন আতিয়্যাহ থেকে, তিনি হাসান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "লুকমান তাঁর পুত্রকে বললেন: হে বৎস, আল্লাহর তাকওয়ার পরে তুমি একজন সৎ সঙ্গী গ্রহণ করা থেকে বিমুখ হয়ো না।"
(খণ্ড: ১) আল-ইখওয়ান লিবনি আবীদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٧٤)
26 - حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، عَنِ الْأَحْوَصِ بْنِ حَكِيمٍ، عَنْ أَبِي إِسْمَاعِيلَ الْعَبْدِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَا أَحْدَثَ رَجُلٌ أَخًا فِي اللَّهِ عز وجل إِلَّا بَنَى اللَّهُ لَهُ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ»
২৬ - আমাদের নিকট সুওয়াইদ ইবনে সাঈদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট বাকিয়্যাহ বর্ণনা করেছেন আল-আহওয়াস ইবনে হাকিম থেকে, তিনি আবু ইসমাঈল আল-আবদি থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «কোনো ব্যক্তি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কাউকে ভাই হিসেবে গ্রহণ করলে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করেন।»
(খণ্ড: ১) আল-ইখওয়ান লিবনি আবীদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٧٦)
27 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْهَيْثَمِ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ لَيْثٍ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: مَنِ اتَّخَذَ أَخًا فِي اللَّهُ بُنِيَ لَهُ بُرْجٌ فِي الْجَنَّةِ "
২৭ - আবদুল্লাহ বিন আল-হাইসাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু মুয়াবিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি লাইস থেকে, তিনি আবদুল মালিক থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য কাউকে ভাই হিসেবে গ্রহণ করে, তার জন্য জান্নাতে একটি প্রাসাদ নির্মাণ করা হয়।"