(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল তিওয়াল লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: -)
الأحاديث الطوال للطبراني   (الطبراني)

القسم: كتب السنة


الكتاب: الأحاديث الطوال

المؤلف: سليمان بن أحمد بن أيوب بن مطير اللخمي الشامي، أبو القاسم الطبراني (ت 360 هـ)

المحقق: حمدي بن عبدالمجيد السلفي [ت 1433 هـ]

الناشر: مكتبة الزهراء - الموصل

الطبعة: الثانية، 1404 - 1983

عدد الصفحات: 322

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-আহাদিস আত-তিওয়াল লিত-তাবারানি   (আত-তাবারানি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: আল-আহাদিস আত-তিওয়াল

লেখক: সুলাইমান বিন আহমাদ বিন আইয়ুব বিন মুতায়ের আল-লাখমি আশ-শামি، আবু আল-কাসিম আত-তাবারানি (মৃত্যু ৩৬০ হিজরি)

সম্পাদক: হামদি বিন আব্দুল মাজিদ আস-সালাফি [মৃত্যু ১৪৩৩ হিজরি]

প্রকাশক: মাকতাবাতুয যাহরা - মোসুল

সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৪০৪ - ১৯৮৩

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩২২

[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে মিল রয়েছে]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল তিওয়াল লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ١٩٣)
‌‌إِسْلَامُ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ يُكَنَّى أَبَا طَرِيفٍ رضي الله عنه
আদী ইবনে হাতিমের ইসলাম গ্রহণ, যাঁর উপনাম ছিল আবু তরীফ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল তিওয়াল লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ١٩٣)
1 - أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْجَلِيلُ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحُسَيْنِ بْنِ مُحَمَّدٍ أَبُو الْحُسَيْنِ فَاذِشَاهْ قَالَ: أنا أَبُو الْقَاسِمِ سُلَيْمَانَ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ أَيُّوبَ اللَّخْمِيُّ الطَّبَرَانِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ صَالِحِ بْنِ الْوَلِيدِ النَّرْسِيُّ الْبَصْرِيُّ، قَالَ: ثنا يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ السَّكَنِ، قَالَ: ثنا إِسْحَاقُ بْنُ إِدْرِيسَ الْأَسْوَارِيُّ، قَالَ: ثنا سَلَمَةُ بْنُ عَلْقَمَةَ الْمَازِنِي، قَالَ: ثنا دَاوُدُ بْنُ أَبِي هِنْدٍ، عَنْ عَامِرٍ الشَّعْبِيِّ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ، قَالَ: لَمَّا قَدِمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ وَهَاجَرَ إِلَيْهَا جَعَلَ يَبْعَثُ السَّرَايَا، فَلَا يَزَالُ إِبِلُ قَوْمٍ قَدْ أَغَارَتْ عَلَيْهَا خَيلُهُ، فَلَمَّا رَأَيْتُ ذَلِكَ قُلْتُ: وَاللَّهِ لَوْ خَلَّفْتُ أَجْمَالًا مِنْ إِبِلِي، فَكَانَتْ تَكُونُ قَرِيبًا، فَوَاللَّهِ مَا شَعُرْتُ ذَاتَ يَوْمٍ إِذْ رَاعِي الْإِبِلِ قَدْ جَاءَ يَعْدُو بِعَصَاهُ، قُلْتُ: وَيْلَكَ مَا لَكَ؟ قَالَ: أُغِيرَ وَاللَّهِ عَلَى النُّعُومِ، قُلْتُ: مَنْ أَغَارَ عَلَيْهَا؟ قَالَ: خَيلُ مُحَمَّدٍ، قُلْتُ لِنَفْسِي: هَذَا الَّذِي كُنْتُ أَحْذَرُ، فَوَثَبْتُ أُرحِّلُ أَجْمَالِي أَنْجُو بِأَهْلِي، وَكُنْتُ نَصْرَانِيًّا وَلِيَ عَمَّةٌ فَدَخَلْتُ، فَقُلْتُ: مَا تُرَى يُصْنَعُ بِهَا؟ وحَمَلْتُ امْرَأَتِي، وَجَاءَتْنِي عَمَّتِي فَقَالَتْ: يَا عَدِيُّ، أَمَّا تتَّقي اللَّهَ أنْ تَنْجُوَ بِامْرَأَتِكَ وَتَدَعَ عَمَّتَكَ، فَقُلْتُ: مَا عَسَى أَنْ يَصْنَعُوا بِهَا؟ امْرَأَةٌ قَدْ خُلِّيَ مِنْ سِنِّهَا، فَمَضَيْتُ وَلَمْ أَلْتَفِتْ إِلَيْهَا حَتَّى وَرَدْتُ الشَّامَ، فَانْتَهَيْتُ إِلَى قَيْصَرَ وَهُوَ يَوْمَئِذٍ بِحِمْصَ، فَقُلْتُ: إِنِي رَجُلٌ مِنَ الْعَرَبِ وَأَنَا عَلَى دِينِكَ، وَإِنَّ هَذَا الرَّجُلَ لَيَتَنَاوَلُنَا، فَكَانَ الْمَفَرُّ إِلَيْكَ، قَالَ: اذْهَبْ فَانْزِلْ مَكَانَ كَذَا وَكَذَا حَتَّى نَرَى مِنْ رَأْيِكَ، فَذَهَبْتُ فَنَزَلْتُ الْمَكَانَ الَّذِي قَالَ لِي، فَكُنْتُ بِهِ حِينًا، فبَيْنَا أَنَا ذَاتَ يَوْمٍ إِذَا أَنَا بِظَعِينَةٍ مُتَوَجِّهَةٍ إِلَيْنَا حَتَّى انْتَهَتْ إِلَى بُيُوتِنَا، فَإِذَا هِيَ عَمَّتِي، فَقَالَتْ لِي: يَا عَدِيُّ أَمَا اتَّقَيْتَ اللَّهَ أنْ تَنْجُوَ بِامْرَأَتِكَ وَتَرَكْتَ عَمَّتَكَ. قُلْتُ: قَدْ كَانَ ذَلِكَ فَأَخْبِرِينَا مَا كَانَ بَعْدَنَا. قَالَتْ: إِنَّكُمْ لَمَّا انْطَلَقْتُمْ أَتَتْنَا الْخَيْلُ فَسَبَوْنَا وَذُهِبَ بِي فِي السَّبْيِ حَتَّى انْتَهَيْتُ إِلَى الْمَدِينَةِ، وَكُنَّا فِي نَاحِيَةٍ مِنَ الْمَسْجِدِ فَمَرَّ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عِنْدَ الْقَائِلَةِ وَخَلْفَهُ رَجُلٌ يَتْبَعُهُ وَهُوَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ، فَأَوْمَأَ إِلَيَّ ذَلِكَ الرَّجُلُ أَنْ كَلِّمِيهِ، فَهَتَفْتُ بِهِ فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلَكَ الْوَلَدُ وَغَابَ الْوَافِدُ، فَمُنَّ عَلَيَّ مَنَّ اللَّهُ عَلَيْكَ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «وَمَنْ وَافِدُكِ؟» قُلْتُ: عَدِيُّ بْنُ حَاتِمٍ. قَالَ: «الَّذِي فَرَّ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ» . ثُمَّ مَضَى وَلَمْ يَلْتَفِتْ إِلَيَّ حَتَّى كَانَ الْغَدُ فَمَرَّ بِي نَحْوَ تِلْكَ السَّاعَةِ وَخَلْفَهُ ذَلِكَ الرَّجُلُ، فَأَوْمَأَ إِلَيَّ أَنْ كَلِّمِيهِ، فَهَتَفْتُ بِهِ فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلَكَ الْوَلَدُ، وَغَابَ الْوَافِدُ، فَمُنَّ عَلَيَّ مَنَّ اللَّهُ عَلَيْكَ. قَالَ: «وَمَنْ وَافِدُكِ؟» قُلْتُ: عَدِيُّ بْنُ حَاتِمٍ الطَّائِيُّ. قَالَ: «الَّذِي فَرَّ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ» وَلَمْ يَلْتَفِتْ إِلَيَّ، فَلَمَّا كَانَ الْيَوْمُ الثَّالِثُ نَحْوًا مِنْ تِلْكَ السَّاعَةِ مَرَّ وَخَلْفَهُ ذَاكَ يَعْنِي عَلِيًّا، فَأَوْمَأَ أَنْ كَلِّمِيهِ، فَأَوْمَأْتُ إِلَيْهِ بِيَدِي أَنْ قَدْ كَلَّمْتُهُ مَرَّتَيْنِ، فَأَوْمَأَ: كَلِّمِيهِ أَيْضًا، فَهَتَفْتُ بِهِ فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلَكَ الْوَلَدُ، وَغَابَ الْوَافِدُ، فَمُنَّ عَلَيَّ مَنَّ اللَّهُ عَلَيْكَ. قَالَ: «وَمَنْ وَافِدُكِ» قُلْتُ: عَدِيُّ بْنُ حَاتِمٍ. قَالَ: «الَّذِي فَرَّ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ» ثُمَّ قَالَ: «اذْهَبِي فَأَنْتِ حُرَّةٌ لِوَجْهِ اللَّهِ عز وجل، فَإِذَا وَجَدْتِ أَحَدًا يَأْتِي أَهْلَكِ فَأَخْبِرِينِي نَحْمِلْكِ إِلَى أَهْلِكِ» قَالَتْ: فَانْطَلَقْتُ فَإِذَا أَنَا بِرُفْقَةٍ مِنْ تَنُوخَ يَحْمِلُونَ الزَّيْتَ، فَبَاعُوا زَيْتَهُمْ وَهُمْ يَرْجِعُونَ، فَحَمَلَنِي عَلَى هَذَا الْجَمَلِ وَزَوَّدَنِي. قَالَ عَدِيٌّ: ثُمَّ قَالَتْ لِي عَمَّتِي: أَنْتَ رَجُلٌ أَحْمَقُ، أَنْتَ قَدْ غَلَبَكَ عَلَى شَرَفِكَ مِنْ قَوْمِكَ مَنْ لَيْسَ مِثْلَكَ، ائْتِ هَذَا الرَّجُلَ فَخُذْ بِنَصِيبِكَ، فَقُلْتُ: وَإِنَّهُ لَقَدْ نَصَحَتْ لِي عَمَّتِي، فَوَاللَّهِ لَوْ أَتَيْتُ هَذَا الرَّجُلَ فَإِنْ رَأَيْتُ مَا يَسُرُّنِي أَخَذْتُ، وَإِنْ رَأَيْتُ غَيْرَ ذَلِكَ رَجَعْتُ، وَكُنْتُ أَضِنُّ بِدِينِي، فَأَتَيْتُ حَتَّى وَصَلْتُ الْمَدِينَةَ فِي غَيْرِ جِوَارٍ، فَانْتَهَيْتُ إِلَى الْمَسْجِدِ فَإِذَا أَنَا فِيهِ بِحَلْقَةٍ عَظِيمَةٍ، وَلَمْ أَكُنْ قَطُّ فِي قَوْمٍ إِلَّا عُرِفْتُ، فَلَمَّا انْتَهَيْتُ إِلَى الْحَلْقَةِ سَلَّمْتُ، فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم: «مَنْ أَنْتَ؟» قُلْتُ: أَنَا عَدِيُّ بْنُ حَاتِمٍ الطَّائيُّ، وَكَانَ أَعْجَبُ شَيْءٍ إِلَيْهِ أنْ يُسَلِّمَ عَلَيْهِ أَشْرَافُ الْعَرَبِ وَرُءُوسُهُمْ، فَوَثَبَ مِنَ الْحَلْقَةِ فَأَخَذَ بِيَدِي فَوَجَّهَ بِي إِلَى مَنْزِلِهِ، فَبَيْنَا هُوَ يَمْشِي مَعِي إِذْ نَادَتْهُ امْرَأَةٌ وَغُلَامٌ مَعَهَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ لَنَا إِلَيْكَ حَاجَةً، فَخَلَوْا بِهِ قَائِمًا مَعَهُمَا حَتَّى أَوَيْتُ لَهُ مِنْ طُولِ الْقِيَامِ، قُلْتُ فِي نَفْسِي: أَشْهَدُ أَنَّكَ بَرِيءٌ مِنْ دِينِي وَدِينِ النُّعْمَانِ بْنِ الْمُنْذِرِ، وَأَنَّكَ لَوْ كُنْتَ مَلِكًا لَمْ يَقُمْ مَعَهُ صَبِيٌّ وَامْرَأَةٌ طُولَ مَا رَأَى، فَقَذَفَ اللَّهُ فِي قَلْبِي لَهُ حُبًّا، حَتَّى انْتَهَيْتُ إِلَى مَنْزِلِهِ، فَأَلْقَى إِلَيَّ وِسَادَةً حَشْوُهَا لِيفٌ، فَقَعَدْتُ عَلَيْهَا، وَقَعَدَ هُوَ عَلَى الْأَرْضِ، فَقُلْتُ فِي نَفْسِي: وَهَذَا، ثُمَّ قَالَ لِي: " مَا أَفْرَدَكَ مِنَ الْمُسْلِمِينَ إِلَّا أَنَّكَ سَمِعْتَهُمْ يَقُولُونَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ؟ وَهَلْ مِنْ إِلَهٍ إِلَّا اللَّهُ؟ وَمَا أَفْرَدَكَ مِنَ الْمُسْلِمِينَ إِلَّا أَنَّكَ سَمِعْتَهُمْ يَقُولُونَ اللَّهُ أَكْبَرُ؟ فَهَلْ تَعْلَمُ شَيْئًا هُوَ أَكْبَرُ مِنَ اللَّهِ عز وجل؟: " فَلَمْ يَزَلْ حَتَّى أَسْلَمْتُ وَأَذْهَبَ اللَّهُ عز وجل مَا كَانَ فِي قَلْبِي مِنْ حُبِّ النَّصْرَانِيَّةِ، فَسَأَلْتُ فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنَا بِأَرْضِ صَيْدٍ وَإِنَّ أَحَدَنَا يَرْمِي الصَّيْدَ بِسَهْمِهِ لَمْ يَقْتَصَّ أَثَرَهُ لِيَوْمٍ أَوْ لِيَوْمَيْنِ، ثُمَّ يَجِدُهُ مَيِّتًا فِيهِ سَهْمُهُ، فَيَأْكُلُهُ؟ قَالَ: «نَعَمْ إِنْ شَاءَ»
১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সম্মানিত শাইখ আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ আবুল হুসাইন ফাযিশাহ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসেম সুলাইমান বিন আহমদ বিন আইয়ুব আল-লাখমি আত-তাবারানি, তাঁর উপস্থিতিতে পাঠ করার মাধ্যমে; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন সালিহ বিন আল-ওয়ালিদ আন-নারসি আল-বাসরি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ বিন আস-সাকান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক বিন ইদরিস আল-আসওয়ারি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সালামাহ বিন আলক্বামাহ আল-মাযিনি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন দাউদ বিন আবি হিন্দ, আমের আশ-শা’বি থেকে, তিনি আদি বিন হাতিম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় আসলেন এবং সেখানে হিজরত করলেন, তখন তিনি সারিয়া (অভিযানকারী দল) পাঠাতে শুরু করলেন। তাঁর ঘোড়সওয়ার বাহিনী বিভিন্ন গোত্রের উটের পালের ওপর আক্রমণ অব্যাহত রাখল। আমি যখন এটি দেখলাম, তখন মনে মনে বললাম: আল্লাহর কসম, আমি যদি আমার উটগুলো থেকে কিছু উট সরিয়ে রাখি এবং সেগুলো কাছেই থাকে (তবে ভালো হবে)। আল্লাহর কসম, একদিন হঠাৎ আমি দেখলাম উটের রাখাল তার লাঠি হাতে দৌড়ে আসছে। আমি বললাম: তোমার মরণ হোক, তোমার কী হয়েছে? সে বলল: আল্লাহর কসম, পশুগুলোর ওপর আক্রমণ করা হয়েছে। আমি বললাম: কে আক্রমণ করেছে? সে বলল: মুহাম্মাদের ঘোড়সওয়ার বাহিনী। আমি মনে মনে বললাম: এটিই ছিল সেই বিষয় যা আমি ভয় পাচ্ছিলাম। তখন আমি দ্রুত উঠে আমার পরিবারকে বাঁচানোর জন্য উটগুলো প্রস্তুত করতে লাগলাম। আমি তখন একজন খ্রিস্টান ছিলাম। আমার এক ফুফু ছিলেন, আমি তাঁর নিকট প্রবেশ করে বললাম: তাঁর (ফুফুর) সাথে কী করা হবে বলে আপনি মনে করেন? এরপর আমি আমার স্ত্রীকে বহন করে নিয়ে চললাম। তখন আমার ফুফু আমার কাছে এসে বললেন: হে আদি, তুমি কি আল্লাহকে ভয় করো না যে তুমি তোমার স্ত্রীকে নিয়ে বেঁচে যাচ্ছ আর তোমার ফুফুকে ফেলে যাচ্ছ? আমি বললাম: তারা তাঁর সাথে কী-ই বা করতে পারে? তিনি তো বৃদ্ধা মহিলা। এরপর আমি চলে গেলাম এবং তাঁর দিকে ফিরে তাকালাম না, যতক্ষণ না আমি শামে (সিরিয়া) পৌঁছলাম। আমি কায়সারের কাছে পৌঁছলাম, তিনি তখন হিমসে ছিলেন। আমি বললাম: আমি আরবদের মধ্য থেকে একজন ব্যক্তি এবং আমি আপনার ধর্মে আছি। আর এই ব্যক্তি (মুহাম্মাদ) আমাদের পিছু নিয়েছেন, তাই আপনার কাছেই পলায়নস্থল মনে করেছি। তিনি বললেন: তুমি যাও এবং অমুক অমুক স্থানে অবস্থান করো, দেখি তোমার বিষয়ে কী করা যায়। আমি চলে গেলাম এবং তিনি আমাকে যে স্থানের কথা বলেছিলেন সেখানে অবস্থান করলাম। আমি সেখানে বেশ কিছুকাল ছিলাম। একদিন হঠাৎ আমি একটি হাওদা আমাদের দিকে আসতে দেখলাম, যা আমাদের তাঁবু পর্যন্ত পৌঁছল। দেখলাম তিনি আমার ফুফু। তিনি আমাকে বললেন: হে আদি, তুমি কি আল্লাহকে ভয় করলে না যে তুমি তোমার স্ত্রীকে নিয়ে বেঁচে গেলে আর তোমার ফুফুকে রেখে আসলে? আমি বললাম: যা হওয়ার তা হয়ে গেছে, এখন আমাদের চলে আসার পর কী হয়েছিল তা আমাদের বলো। তিনি বললেন: তোমরা যখন চলে গেলে তখন ঘোড়সওয়ার বাহিনী আমাদের কাছে আসল এবং আমাদের বন্দি করল। বন্দিদের সাথে আমাকেও মদিনায় নিয়ে যাওয়া হলো। আমরা মসজিদের এক পাশে ছিলাম। দুপুর বেলায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তাঁর পেছনে একজন ব্যক্তি তাঁকে অনুসরণ করছিলেন, তিনি ছিলেন আলী বিন আবি তালিব। সেই ব্যক্তি আমাকে ইশারা করে বললেন, তাঁর (নবীর) সাথে কথা বলো। আমি তাঁকে উচ্চস্বরে ডাকলাম এবং বললাম: হে আল্লাহর রাসুল, সন্তান-সন্ততি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং অভিভাবক নিরুদ্দেশ হয়ে গেছে; আপনি আমার ওপর অনুগ্রহ করুন, আল্লাহ আপনার ওপর অনুগ্রহ করবেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «তোমার অভিভাবক কে?» আমি বললাম: আদি বিন হাতিম। তিনি বললেন: «সেই ব্যক্তি যে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের কাছ থেকে পালিয়ে গেছে?» এরপর তিনি চলে গেলেন এবং আমার দিকে ফিরে তাকালেন না। পরের দিনও তিনি সেই একই সময়ে আমার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন এবং তাঁর পেছনে সেই ব্যক্তিটি (আলী) ছিলেন। তিনি আবারও আমাকে ইশারা করলেন তাঁর সাথে কথা বলতে। আমি তাঁকে ডেকে বললাম: হে আল্লাহর রাসুল, সন্তান-সন্ততি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং অভিভাবক নিরুদ্দেশ হয়ে গেছে; আপনি আমার ওপর অনুগ্রহ করুন, আল্লাহ আপনার ওপর অনুগ্রহ করবেন। তিনি বললেন: «তোমার অভিভাবক কে?» আমি বললাম: আদি বিন হাতিম আত-তায়ি। তিনি বললেন: «সেই ব্যক্তি যে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের কাছ থেকে পালিয়ে গেছে?» এরপর তিনি আমার দিকে আর তাকালেন না। যখন তৃতীয় দিন হলো, অনুরূপ সময়ে তিনি আবার আসলেন এবং তাঁর পেছনে সেই ব্যক্তি অর্থাৎ আলী ছিলেন। তিনি ইশারা করলেন কথা বলার জন্য। আমি হাতের ইশারায় তাঁকে বোঝালাম যে আমি দুইবার কথা বলেছি। তিনি আবারও ইশারা করলেন: তাঁর সাথে আবার কথা বলো। আমি তাঁকে ডেকে বললাম: হে আল্লাহর রাসুল, সন্তান-সন্ততি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং অভিভাবক নিরুদ্দেশ হয়ে গেছে; আপনি আমার ওপর অনুগ্রহ করুন, আল্লাহ আপনার ওপর অনুগ্রহ করবেন। তিনি বললেন: «তোমার অভিভাবক কে?» আমি বললাম: আদি বিন হাতিম। তিনি বললেন: «সেই ব্যক্তি যে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের কাছ থেকে পালিয়ে গেছে?» এরপর তিনি বললেন: «যাও, তুমি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে মুক্ত। যখন তুমি তোমার স্বজনদের কাছে যায় এমন কাউকে পাবে, তখন আমাকে জানিও, আমি তোমাকে তোমার স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেবো।» ফুফু বললেন: এরপর আমি চলে গেলাম এবং তানূখ গোত্রের একটি কাফেলার দেখা পেলাম যারা জয়তুনের তেল বহন করছিল। তারা তাদের তেল বিক্রি করে ফিরছিল। তারা আমাকে এই উটের ওপর বহন করল এবং আমার পাথেয় গুছিয়ে দিল। আদি বলেন: এরপর আমার ফুফু আমাকে বললেন: তুমি একজন নির্বোধ লোক। তোমার গোত্রের মধ্যে তোমার চেয়ে নিচু যারা ছিল, তারা তোমার ওপর সম্মানের দিক দিয়ে জয়ী হয়ে গেছে। তুমি এই লোকটির কাছে যাও এবং তোমার প্রাপ্য অংশ গ্রহণ করো। আমি বললাম: আমার ফুফু আমাকে অবশ্যই সঠিক নসিহত করেছেন। আল্লাহর কসম, আমি যদি এই লোকটির কাছে যাই এবং এমন কিছু দেখি যা আমাকে আনন্দিত করে তবে তা গ্রহণ করব, আর যদি অন্য কিছু দেখি তবে ফিরে আসব। আমি আমার ধর্মের ব্যাপারে অত্যন্ত রক্ষণশীল ছিলাম। এরপর আমি মদিনায় আসলাম কোনো নিরাপত্তা চুক্তি (জিওয়ার) ছাড়াই। আমি মসজিদে গেলাম এবং সেখানে এক বিশাল মজলিস দেখতে পেলাম। আমি এমন কোনো মানুষের দলে ছিলাম না যারা আমাকে চিনত না। যখন আমি মজলিসে পৌঁছলাম তখন সালাম দিলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন: «তুমি কে?» আমি বললাম: আমি আদি বিন হাতিম আত-তায়ি। আর তাঁর কাছে সবচেয়ে প্রিয় বিষয় ছিল আরবদের গণ্যমান্য ও নেতাদের ইসলাম গ্রহণ করা। তিনি মজলিস থেকে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং আমার হাত ধরে তাঁর ঘরের দিকে নিয়ে চললেন। তিনি যখন আমার সাথে হাঁটছিলেন, তখন এক বৃদ্ধা মহিলা ও একটি ছোট ছেলে তাঁকে ডেকে বলল: হে আল্লাহর রাসুল, আপনার কাছে আমাদের একটি প্রয়োজন আছে। তিনি দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে তাদের সাথে একান্তে কথা বললেন, এমনকি তাদের দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার কারণে আমারই কষ্ট হচ্ছিল। আমি মনে মনে বললাম: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি আমার ধর্ম এবং নুমান বিন মুনযিরের ধর্ম (রাজতন্ত্র) থেকে মুক্ত। আপনি যদি রাজা হতেন, তবে কোনো শিশু বা নারী আপনার সাথে এত দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে পারত না। তখন আল্লাহ আমার অন্তরে তাঁর প্রতি ভালোবাসা ঢেলে দিলেন। এরপর আমি তাঁর ঘরে পৌঁছলাম। তিনি আমার দিকে একটি বালিশ ছুড়ে দিলেন যার ভেতরে খেজুর গাছের ছালভর্তি ছিল। আমি সেটির ওপর বসলাম আর তিনি নিজে মাটির ওপর বসলেন। আমি মনে মনে বললাম: এটিও (অসাধারণ বিনয়)। এরপর তিনি আমাকে বললেন: "মুসলিমদের থেকে তোমাকে কোন জিনিসটি দূরে রেখেছে? কেবল এটাই তো যে তুমি তাদের ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই) বলতে শুনেছ? আল্লাহ ছাড়া কি আর কোনো সত্য ইলাহ আছে? মুসলিমদের থেকে তোমাকে কোন জিনিসটি দূরে রেখেছে? কেবল এটাই তো যে তুমি তাদের ‘আল্লাহু আকবার’ (আল্লাহ সবচেয়ে বড়) বলতে শুনেছ? তুমি কি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর চেয়ে বড় আর কিছু চেনো?" এভাবে তিনি কথা বলতে থাকলেন যতক্ষণ না আমি ইসলাম গ্রহণ করলাম এবং আমার অন্তর থেকে খ্রিস্টধর্মের প্রতি যে ভালোবাসা ছিল তা মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ দূর করে দিলেন। এরপর আমি জিজ্ঞেস করলাম: হে আল্লাহর রাসুল, আমি শিকারের ভূমিতে থাকি। আমাদের কেউ যখন তীরের সাহায্যে শিকার করে এবং একদিন বা দুদিন পর্যন্ত সেই শিকারের পিছু নিতে পারে না, অতঃপর সেটি মৃত অবস্থায় পায় এবং সেখানে তার তীর বিদ্ধ থাকে, তবে কি সে তা খেতে পারবে? তিনি বললেন: «হ্যাঁ, যদি সে চায় তবে খেতে পারবে।»
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল তিওয়াল লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ١٩٦)
2 - حَدَّثَنَا أَبُو مُسْلِمٍ الْكَشِّيُّ، قَالَ: ثنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ حَمَّادٍ الشُّعَيْثِيُّ، قَالَ: ثنا ابْنُ عَوْنٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ بْنِ حُذَيْفَةَ، عَنْ رَجُلٍ كَانَ يُسَمَّى أَيْمَنُ، أَنَّهُ دَخَلَ عَلَى عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ، فَقَالَ: إِنَّهُ بَلَغَنِي عَنْكَ حَدِيثٌ فَأَحْبَبْتُ أَنْ أَسْمَعَهُ مِنْكَ، قَالَ: بُعِثَ رَسُولُ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم، وَكُنْتُ مِنْ أَشَدِّ النَّاسِ لَهُ كَرَاهِيَةً، كُنْتُ بِأَقْصَى أَرْضِ الْعَرَبِ مِمَّا يَلِي الرُّومَ، فَكَرِهْتُ مَكَانِي أَشَدَّ مِنْ كَرَاهَتِي مَكَانِي الْأَوَّلِ، فَقُلْتُ: لَآتِيَنَّ هَذَا الرَّجُلَ، فَإِنْ كَانَ صَادِقًا لَا يَخْفَى عَلَيَّ، وَإِنْ كَانَ كَاذِبًا لَا يَخْفَى عَلَيَّ، فَأَتَيْتُ الْمَدِينَةَ فَاسْتَشْرَفَنِي النَّاسُ فَقَالُوا: عَدِيُّ بْنُ حَاتِمٍ، عَدِيُّ بْنُ حَاتِمٍ، فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ، صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: «يَا عَدِيُّ أَسْلِمْ تَسْلَمْ» قُلْتُ: لِي دِينٌ، قَالَ: «أَنَا أَعْلَمُ بِدِينِكَ مِنْكَ، وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِدِينِي مِنِّي، أَلَسْتَ تَرْأَسُ قَوْمَكَ؟» قَالَ قُلْتُ: بَلَى، قَالَ: «أَلَسْتَ تَأْخُذُ الْمِرْبَاعَ؟» قُلْتُ: نَعَمْ، قَالَ: «ذَلِكَ لَا يَحِلُّ لَكَ فِي دِينِكَ» قَالَ: وَكَانَ ذَلِكَ أَذْهَبَ بِبَعْضِ مَا فِي نَفْسِي، قَالَ: «إِنَّهُ يَمْنَعُكَ أَنْ تُسْلِمَ مُحَاسَبَةُ مَنْ تَرَى حَوْلَنَا وَأَنَّكَ تَرَى النَّاسَ عَلَيْنَا أَلْبًا وَاحِدًا؟» قُلْتُ: نَعَمْ، قَالَ: «أَتَيْتَ الْحِيرَةَ؟» قُلْتُ: لَا، وَقَدْ عَلِمْتُ مَكَانَهَا، قَالَ: «تُوشِكُ الظَّعِينَةُ أَنْ تَخْرُجَ مِنَ الْحِيرَةِ حَتَّى تَطُوفَ الْبَيْتَ بِغَيْرِ جِوَارٍ، وَيُوشِكُ أَنْ تُفْتَحَ كُنُوزُ كِسْرَى بْنِ هُرْمُزَ» قُلْتُ: كُنُوزُ كِسْرَى بْنِ هُرْمُزَ قَالَ: «كُنُوزُ كِسْرَى، وَيُوشِكُ الرَّجُلُ أَنْ يُخْرِجَ الْمَالَ مِنْ مَالِهِ فَلَا يَجِدُ مَنْ يَقْبَلُهَا» . قَالَ: فَقَدْ رَأَيْتُ الظَّعِينَةَ تَخْرُجُ مِنَ الْحِيرَةِ حَتَّى تَطُوفَ بِالْبَيْتِ بِغَيْرِ جِوَارٍ، وَكُنْتُ فِي أَوَّلِ خَيْلٍ أَغَارَتْ عَلَى السَّوَادِ، وَاللَّهِ لَتَكُونَنَّ الثَّالِثَةُ لِقَوْلِ رَسُولِ اللَّهِ، صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
২ - আবু মুসলিম আল-কাশ্শি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুর রহমান ইবনে হাম্মাদ আশ-শুআইসি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে আওন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে সিরীন থেকে, তিনি আবু উবাইদাহ ইবনে হুযায়ফাহ থেকে, তিনি আয়মান নামক এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি আদী ইবনে হাতিমের নিকট প্রবেশ করলেন এবং বললেন: নিশ্চয়ই আপনার পক্ষ থেকে একটি হাদিস আমার নিকট পৌঁছেছে, তাই আমি তা সরাসরি আপনার নিকট থেকে শুনতে চেয়েছি। তিনি (আদী) বললেন: যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রেরিত হলেন, তখন আমি ছিলাম তাঁর প্রতি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিদ্বেষ পোষণকারী। আমি রোম সাম্রাজ্যের নিকটবর্তী আরব ভূখণ্ডের দূরতম প্রান্তে ছিলাম। অতঃপর আমি আমার বর্তমান অবস্থানকে পূর্বের অবস্থানের চেয়েও বেশি অপছন্দ করতে লাগলাম। তখন আমি বললাম: আমি অবশ্যই এই লোকটির নিকট যাব; যদি তিনি সত্যবাদী হন তবে তা আমার কাছে অস্পষ্ট থাকবে না, আর যদি তিনি মিথ্যাবাদী হন তবে তাও আমার নিকট অস্পষ্ট থাকবে না। এরপর আমি মদিনায় আসলাম। আমাকে দেখে লোকজন উঁকিঝুঁকি দিয়ে একে অপরকে লক্ষ্য করে বলতে লাগল: আদী ইবনে হাতিম! আদী ইবনে হাতিম! অতঃপর আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলাম। তিনি বললেন: «হে আদী! ইসলাম গ্রহণ করো, নিরাপদ থাকবে।» আমি বললাম: আমার তো একটি ধর্ম আছে। তিনি বললেন: «আমি তোমার ধর্ম সম্পর্কে তোমার চেয়েও বেশি জানি, আর তুমি আমার ধর্ম সম্পর্কে আমার চেয়ে বেশি জানো না। তুমি কি তোমার কওমের নেতৃত্ব দাও না?» তিনি (আদী) বলেন, আমি বললাম: অবশ্যই। তিনি বললেন: «তুমি কি গনিমতের এক-চতুর্থাংশ গ্রহণ করো না?» আমি বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: «তোমার ধর্মে তো তা তোমার জন্য বৈধ নয়।» আদী বলেন: এই কথাটি আমার মনের সংকীর্ণতা বা সংশয়ের কিছুটা দূর করে দিল। তিনি পুনরায় বললেন: «নিশ্চয়ই আমাদের চারপাশে যাদের দেখছ তাদের স্বল্পতা এবং তুমি দেখছ যে মানুষ আমাদের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে আছে—এটাই কি তোমাকে ইসলাম গ্রহণে বাধা দিচ্ছে?» আমি বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: «তুমি কি হীরাহ দেখেছ?» আমি বললাম: না, তবে আমি এর অবস্থান জানি। তিনি বললেন: «শীঘ্রই হীরাহ থেকে এক হাওদা আরোহী নারী বের হবে এবং কোনো রক্ষক ছাড়াই বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করবে। আর অচিরেই কিসরা ইবনে হরমুযের ধনভাণ্ডার বিজিত হবে।» আমি (বিস্মিত হয়ে) বললাম: কিসরা ইবনে হরমুযের ধনভাণ্ডার? তিনি বললেন: «কিসরার ধনভাণ্ডার। আর শীঘ্রই এমন সময় আসবে যখন কোনো ব্যক্তি তার সম্পদ থেকে সদকা করার জন্য মাল বের করবে কিন্তু তা গ্রহণ করার মতো কাউকে পাবে না।» আদী বলেন: আমি হীরাহ থেকে হাওদা আরোহী নারীকে বের হতে দেখেছি যে কোনো রক্ষক ছাড়াই বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করেছে। আর আমিই ছিলাম সেই প্রথম অশ্বারোহী বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত যারা সাওয়াদে আক্রমণ চালিয়েছিল। আল্লাহর শপথ! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী অনুযায়ী তৃতীয় বিষয়টিও অবশ্যই সংঘটিত হবে।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল তিওয়াল লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ١٩٧)
‌‌إِسْلَامُ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْبَجَلِيِّ رضي الله عنه
জারীর ইবনে আবদুল্লাহ আল-বাজালী রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর ইসলাম গ্রহণ
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল তিওয়াল লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ١٩٧)
3 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ دَاوُدَ الْمَكِّيُّ قَالَ: ثنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مِهْرَانَ الْوَاسِطِيُّ قَالَ: ثنا زِيَادُ بْنُ عَبَّادٍ الْمَذْحِجِيُّ، عَنْ عُمَرَ بْنِ مُوسَى، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا صَلَّى الْغَدَاةَ قَعَدَ فِي مُصَلَاهُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ، فَقَالَ يَوْمًا: «يَطْلُعُ عَلَيْكُمْ مِنْ هَذَا الْفَجِّ مِنْ خَيْرِ ذِي يَمَنٍ، عَلَيْهِ مَسْحَةُ مَلَكٍ» فَطَلَعَ جَرِيرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْبَجَلِيُّ فِي أَحَدَ عَشَرَ رَاكِبًا مِنْ قَوْمِهِ، فَعَلَّقُوا رِكَابَهُمْ ثُمَّ دَنَوْا، فَقَالَ جَرِيرٌ: السَّلَامُ عَلَيْكُمْ يَا مَعْشَرَ قُرَيْشٍ أَيْنَ رَسُولُ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم؟ فَقَالَ نَبِيُّ اللَّهِ، عليه السلام: «يَا جَرِيرُ، أَسْلِمْ تَسْلَمْ، إِنَّ غِلَظَ الْقُلُوبِ، وَالْجَفَاءَ، وَالْحَوْبَ فِي أَهْلِ الْوَبَرِ وَالصُّوفِ، يَا جَرِيرُ، إِنَّكَ لَا تَسْتَحِقُّ حَقِيقَةَ الْإِسْلَامِ، وَلَا تَسْتَكْمِلُ بَعْدُ الْإِيمَانَ حَتَّى تَدَعَ عِبَادَةَ الْأَوْثَانِ، يَا جَرِيرُ، إِنِي أُحَذِّرُكَ الدُّنْيَا، وَحَلَاوَةَ رِضَاعِهَا، وَمَرَارَةَ فِطَامِهَا» . قَالَ جَرِيرٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، ادْعُ اللَّهَ أَنْ يَشْرَحَ صَدْرِي لِلْإِسْلَامِ، فَقَالَ: «اللَّهُمَّ اشْرَحْ صَدْرَهُ لِلْإِسْلَامِ، وَلَا تَجْعَلْهُ مِنْ أَهْلِ الرِّدَّةِ، وَلَا تُكْثِرْ لَهُ فَيَطْغَى، وَلَا تُمْلِي لَهُ فَيَنْسَى» قَالَ جَرِيرٌ: فَمَا الَّذِي أَتَيْتُ وَإِنِي أُرِيدُ أَنْ أَسْأَلَكَ عَنْهُ؟ قَالَ: «أَتَيْتَ وَأَنْتَ تُرِيدُ أَنْ تَسْأَلَنِي عَنْ حَقِّ الْوَالِدِ عَلَى وَلَدِهِ، إِنَّ مِنْ حَقِّ الْوَالِدِ عَلَى وَلَدِهِ أَنْ يَخْضَعَ لَهُ فِي الْغَضَبِ، وَأَنْ يُؤْثِرَهُ فِي الرِّضَا، وَمِنْ حَقِّ الْوَلَدِ عَلَى وَالِدِهِ أَنْ يُحْسِنَ أَدَبَهُ، وَلَا يَجْحَدَ نَسَبَهُ، إِنَّ الْمُكَافِئَ لَيْسَ بِالْوَاصِلِ، إِنَّمَا الْوَاصِلُ مَنْ إِذَا قُطِعَتْ رَحِمُهُ وَصَلَهَا» فَقَالَ: وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ، هَذَا أَرَدْتُ أَنْ أَسْأَلَكَ عَنْهُ، مَا أَرَدْتُ أَنْ أَسْأَلَكَ عَنْ شَيْءٍ غَيْرِهِ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنَّكَ عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، قَالَ: «أَيْنَ تَنْزِلُونَ يَا جَرِيرُ؟» قَالَ: فِي أَكْنَافٍ بِبِيشَةَ بَيْنَ سَلْمٍ وَأَرَاكٍ، وَسَهْلٍ وَدَكْدَاكٍ، وَحَمُوضٍ وَتَمْلَاكٍ، وَنَخْلَةٍ وَضَالَّةٍ، وَسِدْرَةٍ وَآءَةٍ، وَنَجْمَةٍ وَأَثْلَةٍ، شِتَاؤُنَا رَبِيعٌ، وَرَبِيعُنَا لَسَرِيعٌ، وَمَاؤُنَا مَنِيعٌ، لَا يُقَامُ مَاتِحُهَا، وَلَا يَحْسِرُ صَابِحُهَا، وَلَا يَعْزُبُ سَارِحُهَا، فَقَالَ النَّبِيُّ، صلى الله عليه وسلم: «أَمَا إِنَّ خَيْرَ الْمَاءِ الشَّبِمُ، وَخَيْرَ الْمَالِ الْغَنَمُ، وَخَيْرَ الْمَرْعَى الْأَرَاكُ وَالسَّلَمُ، إِذَا أَخْلَفَ كَانَ لَجِينًا، وَإِذا أُكِلَ كَانَ لَبِينًا يسيرًا، وَإِذَا سَقَطَ كَانَ دَرِينًا» فَقَالَ جَرِيرٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَخْبِرْنِي عَنِ السَّمَاءِ الدُّنْيَا وَالْأَرْضِ السُّفْلَى، قَالَ: «خَلَقَ اللَّهُ السَّمَاءَ الدُّنْيَا مِنَ الْمَوْجِ الْمَلْفُوفِ، وَحَفَّفَهَا بِالنُّجُومِ وَجَعَلَهَا رُجُومًا لِلشَّيَاطِينِ، وَحِفْظًا مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ رَجِيمٍ، وَخَلَقَ الْأَرْضَ السُّفْلَى مِنَ الزَّبَدِ الْحُبَارِ، وَالْمَاءِ الْكُبَارِ، وَجَعَلَهَا فَوْقَ صَخْرَةٍ عَلَى ظَهْرِ حُوتٍ، يَخْرُجُ مِنْهَا الْمَاءُ، فَلَوِ انْخَرَقَ مِنْهَا خَرْقٌ لَأَدَرَّتِ الْأَرْضُ وَمَنْ عَلَيْهَا، سُبْحَانَ خَالِقِ النُّورِ» قَالَ جَرِيرٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، ابْسُطْ يَدَكَ أُبَايِعْكَ، فَبَسَطَ يَدَهُ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا أَعْتَقِدُ؟ قَالَ: «تَعْتَقِدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنِّي عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ» قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: «وَأَنْ تُقِيمَ الصَّلَاةَ، وَتُؤَدِّيَ الزَّكَاةَ» قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: «وَأَنْ تَصُومَ رَمَضَانَ، وَتَحُجَّ الْبَيْتَ» قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: «وَأَنْ تَغْتَسِلَ مِنَ الْجَنَابَةِ» قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: «وَأَنْ تَسْمَعَ وَتُطِيعَ، وَإِنْ كَانَ عَبْدًا حَبَشِيًّا» قَالَ: نَعَمْ
৩ - আমাদের নিকট আহমদ ইবন দাউদ আল-মাক্কী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইসমাঈল ইবন মিহরান আল-ওয়াসিতী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট যিয়াদ ইবন আব্বাদ আল-মাযহিজী বর্ণনা করেছেন, তিনি উমর ইবন মূসা থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবন আবদুল্লাহ ইবন উতবাহ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন ফজরের সালাত আদায় করতেন, তখন সূর্য উদিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁর সালাতের স্থানে বসে থাকতেন। একদিন তিনি বললেন: «এই গিরিপথ দিয়ে তোমাদের নিকট ইয়ামেনের সর্বোত্তম এক ব্যক্তি আসবে, যার চেহারায় ফেরেশতার আভা রয়েছে।» অতঃপর জারীর ইবন আবদুল্লাহ আল-বাজালী তাঁর গোত্রের এগারোজন আরোহীসহ উপস্থিত হলেন। তাঁরা তাঁদের বাহনগুলো বাঁধলেন এবং অতঃপর নিকটবর্তী হলেন। জারীর বললেন: হে কুরাইশ সম্প্রদায়, আপনাদের ওপর সালাম বর্ষিত হোক। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কোথায়? তখন আল্লাহর নবী (আলাইহিস সালাম) বললেন: «হে জারীর, ইসলাম গ্রহণ করো তবেই নিরাপদ থাকবে। নিশ্চয়ই অন্তরের কঠোরতা, রূঢ়তা এবং পাপাচার পশম ও পশমি বস্ত্র পরিধানকারী যাযাবরদের মধ্যে থাকে। হে জারীর, তুমি ততক্ষণ পর্যন্ত ইসলামের প্রকৃত হাকীকত লাভ করতে পারবে না এবং ঈমান পূর্ণ করতে পারবে না, যতক্ষণ না তুমি মূর্তিপূজা বর্জন করো। হে জারীর, আমি তোমাকে দুনিয়া এবং এর স্তন্যদানের মিষ্টতা ও দুধ ছাড়ানোর তিক্ততা সম্পর্কে সতর্ক করছি।» জারীর বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহর নিকট দুআ করুন যেন তিনি ইসলামের জন্য আমার বক্ষ উন্মোচন করে দেন। তিনি বললেন: «হে আল্লাহ, ইসলামের জন্য তার বক্ষ উন্মোচন করে দিন এবং তাকে ধর্মত্যাগীদের অন্তর্ভুক্ত করবেন না, আর তাকে এত অধিক সম্পদ দেবেন না যাতে সে অবাধ্য হয়ে যায় এবং তাকে এত দীর্ঘ অবকাশ দেবেন না যাতে সে বিস্মৃত হয়ে যায়।» জারীর বললেন: আমি যে উদ্দেশ্যে এসেছি এবং যা আমি আপনাকে জিজ্ঞাসা করতে চেয়েছি তা কী? তিনি বললেন: «তুমি এসেছ এ উদ্দেশ্যে যে, তুমি আমাকে সন্তানের ওপর পিতার অধিকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে। নিশ্চয়ই সন্তানের ওপর পিতার অধিকারের অন্তর্ভুক্ত হলো রাগের সময় তাঁর সামনে বিনম্র থাকা এবং সন্তুষ্টির সময় তাঁকে অগ্রাধিকার দেওয়া। আর পিতার ওপর সন্তানের অধিকারের অন্তর্ভুক্ত হলো তিনি যেন তাকে উত্তম শিষ্টাচার শিক্ষা দেন এবং তার বংশ পরিচয় অস্বীকার না করেন। নিশ্চয়ই সমান সমান বিনিময় প্রদানকারী প্রকৃত আত্মীয়তা রক্ষাকারী নয়, বরং প্রকৃত আত্মীয়তা রক্ষাকারী সেই ব্যক্তি যার সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা হলেও সে তা জুড়ে দেয়।» তখন তিনি বললেন: যাঁর ওপর সত্যসহ আপনাকে প্রেরণ করেছেন তাঁর কসম, আমি এটিই আপনাকে জিজ্ঞাসা করতে চেয়েছি, আমি এটি ছাড়া অন্য কিছু জিজ্ঞাসা করতে চাইনি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং নিশ্চয়ই আপনি তাঁর বান্দা ও রাসূল। তিনি বললেন: «হে জারীর, তোমরা কোথায় বসবাস করো?» তিনি বললেন: বীশার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে, সালম ও আরাক বৃক্ষের মাঝে, সমতল ভূমি ও বালুকাময় স্থানে, খেজুর ও দাল গাছের ছায়ায়, সিদর ও আআ বৃক্ষরাজিতে এবং নাজমা ও আসলা বৃক্ষের মাঝে। আমাদের শীতকাল বসন্তের মতো, আমাদের বসন্তকাল অত্যন্ত দ্রুতগামী, আমাদের পানি সুরক্ষিত, এর পানি উত্তোলনকারী কখনো শ্রান্ত হয় না, এর সকালবেলা পানি সংগ্রহকারী ক্লান্ত হয় না এবং এর বিচরণকারী গবাদিপশু দূরে হারিয়ে যায় না। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «জেনে রেখো, সর্বোত্তম পানি হলো শীতল পানি, সর্বোত্তম সম্পদ হলো বকরী এবং সর্বোত্তম চারণভূমি হলো আরাক ও সালম বৃক্ষ। যখন তা নতুন পাতা দেয় তখন তা মোলায়েম হয়, যখন তা আহার করা হয় তখন তা সহজে হজমযোগ্য হয় এবং যখন তা ঝরে পড়ে তখন তা শুষ্ক চূর্ণ হয়ে যায়।» জারীর বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমাকে নিকটবর্তী আসমান ও নিম্নস্থ পৃথিবী সম্পর্কে অবহিত করুন। তিনি বললেন: «আল্লাহ তাআলা নিকটবর্তী আসমানকে কুঞ্চিত তরঙ্গমালা থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং একে নক্ষত্ররাজি দ্বারা বেষ্টিত করেছেন এবং শয়তানদের বিতাড়নের জন্য একে নিক্ষেপের মাধ্যম বানিয়েছেন এবং প্রত্যেক বিতাড়িত শয়তান থেকে রক্ষার ব্যবস্থা করেছেন। আর তিনি নিম্নস্থ পৃথিবীকে পুঞ্জীভূত ফেনা ও বিশাল পানিরাশি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং একে একটি বিশাল মাছের পিঠের ওপর অবস্থিত পাথরের ওপর স্থাপন করেছেন। তা থেকে পানি নির্গত হয়; যদি এর মধ্য দিয়ে সামান্য ছিদ্র হতো তবে পৃথিবী ও তার ওপর যারা আছে তারা সবাই তলিয়ে যেত। নূরের স্রষ্টা অত্যন্ত পবিত্র।» জারীর বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আপনার হাত প্রসারিত করুন আমি আপনার হাতে বায়আত গ্রহণ করব। অতঃপর তিনি তাঁর হাত প্রসারিত করলেন। জারীর বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি কিসের ওপর দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করব? তিনি বললেন: «তুমি এই বিশ্বাস পোষণ করবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।» তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: «আর তুমি সালাত কায়েম করবে ও যাকাত প্রদান করবে।» তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: «আর তুমি রমযানের রোজা রাখবে ও বায়তুল্লাহর হজ পালন করবে।» তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: «আর তুমি অপবিত্রতা থেকে গোসল করবে।» তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: «আর তুমি (নেতার কথা) শুনবে ও আনুগত্য করবে, যদিও সে একজন হাবশী গোলাম হয়।» তিনি বললেন: হ্যাঁ।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল তিওয়াল লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ١٩٩)
4 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيٍّ الصَّائِغُ الْمَكِّيُّ، قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ مُقَاتِلٍ الْمَرْوَزِيُّ، قَالَ: ثنا حُصَيْنُ بْنُ عُمَرَ الْأَحْمَسِيُّ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ جَرِيرٍ، قَالَ: لَمَّا بُعِثَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَتَيْتُهُ فَقَالَ: " لِأَيِّ شَيْءٍ جِئْتَ يَا جَرِيرُ؟ قُلْتُ: جِئْتُ لِأُسْلِمَ عَلَى يَدَيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: «إِلَى شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنِي رَسُولُ اللَّهِ، وَتُقِيمَ الصَّلَاةَ الْمَكْتُوبَةَ» ، فَأَلْقَى لِي كِسَاءَهُ ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَى أَصْحَابِهِ، ثُمَّ قَالَ: «إِذَا أَتَاكُمْ كَرِيمُ قَوْمٍ فَأَكْرِمُوهُ»
৪ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবন আলী আস-সায়িগ আল-মাক্কী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবন মুকাতিল আল-মারওয়াযী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হুসাইন ইবন উমর আল-আহমাসী, তিনি ইসমাঈল ইবন আবী খালিদ থেকে, তিনি কায়স ইবন আবী হাযিম থেকে, তিনি জারীর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রেরিত হলেন, তখন আমি তাঁর নিকট আসলাম। তিনি বললেন: "হে জারীর! তুমি কী উদ্দেশ্যে এসেছ?" আমি বললাম: "হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার হাতে ইসলাম গ্রহণ করার জন্য এসেছি।" তিনি বললেন: "এই সাক্ষ্য দিতে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল, আর তুমি ফরয সালাত কায়েম করবে।" অতঃপর তিনি আমার দিকে তাঁর চাদরটি নিক্ষেপ করলেন, এরপর তাঁর সাহাবীদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন: "যখন তোমাদের নিকট কোনো জাতির সম্মানিত ব্যক্তি আসে, তখন তোমরা তাকে সম্মান করো।"
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল তিওয়াল লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ٢٠٠)
‌‌إِسْلَامُ أَبِي ذَرٍ الْغِفَارِيِّ رضي الله عنه
আবু যার আল-গিফারী (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর ইসলাম গ্রহণ
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল তিওয়াল লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ٢٠٠)
5 - حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ الْمَلِكِ أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْقُرَشِيُّ الدِّمَشْقِيُّ قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَائِذٍ، قَالَ: ثنا أَبُو طَرَفَةَ عَبَّادُ بْنُ الرَّيَانِ اللَّخْمِيُّ قَالَ: سَمِعْتُ عُرْوَةَ بْنَ رُوَيْمٍ اللَّخْمِيَّ، يَقُولُ: حَدَّثَنِي عَامِرُ بْنُ لُدَيْنٍ الْأَشْعَرِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا لَيلَى الْأَشْعَرِيَّ، يَقُولُ: حَدَّثَنِي أَبُو ذَرٍّ، قَالَ: إِنَّ أَوَّلَ مَا دَعَانِي إِلَى الْإِسْلَامِ أَنَّا كُنَّا قَوْمًا عَرَبًا، فَأَصَابَتْنَا السَّنَةُ، فَاحْتَمَلْتُ أُمِّي وَأَخِي وَكَانَ اسْمُهُ أُنَيْسًا إِلَى أَصْهَارٍ لَنَا بِأَعْلَى نَجْدٍ، فَلَمَّا حَلَلْنَا بِهِمْ أَكْرَمُونَا، فَلَمَّا رَأَى ذَلِكَ رَجُلٌ مِنَ الْحَيِّ، مَشَى إِلَى خَالِي فَقَالَ: تَعْلَمُ أَنَّ أُنَيْسًا يُخَالِفُكَ إِلَى أَهْلِكَ، قَالَ: فَحَزَّ فِي قَلْبِهِ فَانْصَرَفْتُ مِنْ رِعْيَةِ الْإِبِلِ فَوَجَدْتُهُ كَئِيبًا يَبْكِي، فَقُلْتُ: مَا بُكَاؤُكَ يَا خَالِ؟ فَأَعْلَمَنِي الْخَبَرَ، فَقُلْتُ: حَجَزَ اللَّهُ مِنْ ذَلِكَ، إِنَّا نَعَافُ الْفَاحِشَةَ وَإِنْ كَانَ الزَّمَانُ قَدْ أَخَلَّ بِنَا، وَلَقَدْ كَدَّرْتَ عَلَيْنَا صَفْوَ مَا ابْتَدَأْتَنَا بِهِ، وَلَا سَبِيلَ إِلَى اجْتِمَاعٍ، فَاحْتَمَلْتُ أُمِّي وَأَخِي حَتَّى نَزَلْنَا بِحَضْرَةِ مَكَّةَ، فَقَالَ أَخِي: إِنِي مُدَافِعٌ رَجُلَا عَلَى الْمَاءِ بِشِعْرٍ، وَكَانَ رَجُلًا شَاعِرًا، فَقُلْتُ: لَا تَفْعَلْ، فَخَرَجَ بِهِ اللِّجَاجُ حَتَّى دَافَعَ دُرَيْدَ بْنَ الصِّمَّةِ صِرْمَتَهُ، إِلَى صِرْمَتِهِ، وَايْمِ اللَّهِ لَدُرَيْدٌ يَوْمَئِذٍ أَشْعَرُ مِنْ أَخِي، فَتَقَاضَيْنَا إِلَى خَنْسَاءَ، فَقَضَتْ لِأَخِي عَلَى دُرَيْدٍ، وَذَلِكَ أَنَّ دُرَيْدًا خَطَبَهَا إِلَى أَبِيهَا فَقَالَتْ: شَيْخٌ كَبِيرٌ لَا حَاجَةَ لِي فِيهِ، فَحَقَدَتْ ذَلِكَ عَلَيْهِ، فَضَمَمْنَا صِرْمَتَهُ إِلَى صِرْمَتِنَا وَكَانَتْ لَنَا هَجْمَةٌ، ثُمَّ أَتَيْتُ مَكَّةَ فَابْتَدَأْتُ بِالصَّفَا فَإِذَا عَلَيْهِ رِجَالَاتُ قُرَيْشٍ وَقَدْ بَلَغَنِي أَنَّ بِهَا صَابِئًا، أَوْ مَجْنُونًا، أَوْ شَاعِرًا، أَوْ سَاحِرًا، فَقُلْتُ: أَيْنَ هَذَا الَّذِي تَزْعُمُونَهُ؟ قَالُوا: هُوَ ذَاكَ حَيْثُ تَرَى، فَانْقَلَبْتُ إِلَيْهِ، مَا جُزْتُ عَنْهُمْ قَيْسَ حَجَرٍ، فَوَاللَّهِ أَكَبُّوا عَلَى كُلِّ حَجَرٍ وَعَظْمٍ وَمَدَرٍ وَضَرَّجُونِي بِدَمِي، فَأَتَيْتُ الْبَيْتَ فَدَخَلْتُ بَيْنَ السُّتُورِ وَالْبِنَاءِ وَصَوَّمْتُ فِيهِ ثَلَاثِينَ يَوْمًا لَا أَكْلَ وَلَا شَرَابَ إِلَّا مِنْ مَاءِ زَمْزَمٍ، حَتَّى إِذَا كَانَتْ لَيْلَةٌ قَمْرَاءُ إِضْحِيَانٌ أَقْبَلَتِ امْرَأَتَانِ مِنْ خُزَاعَةَ وَطَافَتَا بِالْبَيْتِ ثُمَّ ذَكَرَتَا إِسَافًا وَنَائلةَ، وَهُمَا وَثَنَانِ وَكَانُوا يَعْبُدُونَهُمَا فَأَخْرَجْتُ رَأْسِي مِنْ تَحْتِ السُّتُورِ فَقُلْتُ: احْمِلَا أَحَدَهُمَا عَلَى صَاحِبِهِ، فَغَضِبَتَا ثُمَّ قَالَتَا: أَمَا وَاللَّهِ لَوْ كَانَتْ رِجَالُنَا حُضُورًا مَا تَكَلَّمْتَ بِهَذَا، ثُمَّ وَلَّتَا، فَخَرَجْتُ أَقْفُو آثَارَهُمَا حَتَّى لَقِيَتَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: «مَا أَنْتُمَا؟ وَمِنْ أَيْنَ أَنْتُمَا؟ وَمِنْ أَيْنَ جِئْتُمَا؟ وَمَا جَاءَ بِكُمَا؟» فَأَخْبَرَتَاهُ الْخَبَرَ، فَقَالَ: " أَيْنَ تَرَكْتُمَا الصَّابِئَ؟ فَقَالَتَا: تَرَكْنَاهُ بَيْنَ السُّتُورِ وَالْبِنَاءِ، فَقَالَ لَهُمَا: «هَلْ قَالَ لَكُمَا شَيْئًا؟» قَالَتَا: نَعَمْ تَكَلَّمَ بِكَلِمَةٍ تَمْلَأُ الْفَمَّ، فَتَبَسَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، ثُمَّ انْسَلَّتَا، وَأَقْبَلْتُ حَتَّى جِئْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ عِنْدَ ذَلِكَ، فَقَالَ: «مَنْ أَنْتَ؟ وَمِمَّنْ أَنْتَ؟ وَمِنْ أَيْنَ جِئْتَ؟ وَمَا جَاءَ بِكَ؟» فَأَنْشَأْتُ أُعْلِمُهُ الْخَبَرَ، فَقَالَ: «مِمَّ كُنْتَ تَأْكُلُ وَتَشْرَبُ؟» فَقُلْتُ: مِنْ مَاءِ زَمْزَمٍ، فَقَالَ: «أَمَا إِنَّهُ طَعَامُ طُعْمٍ» وَمَعَهُ أَبُو بَكْرٍ، رضي الله عنه، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، ائْذَنْ لِي أَنْ أُضَيِّفَهُ، قَالَ: «نَعَمْ» ثُمَّ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم يَمْشِي، وَأَخَذَ أَبُو بَكْرٍ بِيَدِي حَتَّى وَقَفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِبَابِ أَبِي بَكْرٍ، ثُمَّ دَخَلَ أَبُو بَكْرٍ بَيْتَهُ، ثُمَّ أَتَى بِزَبِيبٍ مِنْ زَبِيبِ الطَّائِفِ فَجَعَلَ يُلْقِيهِ لَنَا قَبْضًا قَبْضًا، وَنَحْنُ نَأْكُلُ مِنْهُ حَتَّى تَمَلَّأْنَا مِنْهُ، فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم: «يَا أَبَا ذَرٍّ» فَقُلْتُ: لَبَّيْكَ، فَقَالَ: «أَمَا إِنَّهُ قَدْ رُفِعَتْ لِي أَرْضٌ، وَهِيَ ذَاتُ نَخْلٍ، لَا أَحْسَبُهَا إِلَّا تِهَامَةَ، فَاخْرُجْ إِلَى قَوْمِكَ فَادْعُهُمْ إِلَى مَا دَخَلْتَ فِيهِ» قَالَ: فَخَرَجْتُ حَتَّى أَتَيْتُ أُمِّي وَأَخِي فَأَعْلَمْتُهُمَا الْخَبَرَ، فَقَالَا: مَا بِنَا رَغْبَةٌ عَنِ الدِّينِ الَّذِي دَخَلْتَ فِيهِ، فأَسْلَمَا، ثُمَّ خَرَجْنَا حَتَّى أَتَيْنَا الْمَدِينَةَ فَأَعْلَمْتُ قَوْمِي فَقَالُوا: إِنَّا قَدْ صَدَّقْنَاكَ، وَلَكِنَّا نَلْقَى مُحَمَّدًا، فَلَمَّا قَدِمَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَقِينَاهُ، فَقَالَتْ لَهُ غِفَارٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ أَبَا ذَرٍّ قَدْ أَعْلَمَنَا مَا أَعْلَمْتَهُ، وَقَدْ أَسْلَمْنَا وَشَهِدْنَا أَنَّكَ رَسُولُ اللَّهِ، ثُمَّ تَقَدَّمَتْ أَسْلَمُ خُزَاعَةَ فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّا قَدْ رَغِبْنَا وَدَخَلْنَا فِيمَا دَخَلَ فِيهِ إِخْوَانُنَا وَحُلَفَاؤُنَا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم: «أَسْلَمُ سَالَمَهَا اللَّهُ، وَغِفَارٌ غَفَرَ اللَّهُ لَهَا» ثُمَّ أَخَذَ أَبُو بَكْرٍ بِيَدِي، فَقَالَ: يَا أَبَا ذَرٍّ فَقُلْتُ: لَبَّيْكَ يَا أَبَا بَكْرٍ، فَقَالَ: هَلْ كُنْتَ تَأْلَهُ فِي جَاهِلِيَّتِكَ؟ قُلْتُ: نَعَمْ، لَقَدْ رَأَيْتُنِي أَقُومُ عِنْدَ الشَّمْسِ فَلَا أَزَالُ مُصَلِّيًا حَتَّى يُؤْذِيَنِي حَرُّهَا، فَأَخِرُّ كَأَنِّي خَفَاءٌ، فَقَالَ لِي: فَأَيْنَ كُنْتَ تَوَجَّهُ؟ قُلْتُ: لَا أَدْرِي إِلَّا حَيْثُ وَجَّهَنِي اللَّهُ، حَتَّى أَدْخَلَ اللَّهُ عَلَيَّ الْإِسْلَامَ "
৫ - আবু আব্দুল মালিক আহমাদ ইবন ইবরাহীম আল-কুরাশী আদ-দিমাশকী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবন আইয আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু তারাফাহ আব্বাদ ইবনুর রাইয়ান আল-লাখমী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি উরওয়াহ ইবনু রুওয়াইম আল-লাখমীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছেন: আমির ইবনু লুদাইন আল-আশআরী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু লায়লা আল-আশআরীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছেন: আবু যার (রা.) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার ইসলাম গ্রহণের প্রথম কারণ ছিল এই যে, আমরা এক আরব গোষ্ঠী ছিলাম; অতঃপর আমাদের মাঝে দুর্ভিক্ষ দেখা দিল। তখন আমি আমার মা এবং আমার ভাইকে—যার নাম ছিল উনাইস—নিয়ে আমাদের এক আত্মীয়ের কাছে নজদ অঞ্চলের উচ্চভূমিতে চলে গেলাম। যখন আমরা তাদের কাছে পৌঁছালাম, তারা আমাদের অত্যন্ত সম্মান করল। কিন্তু যখন গোত্রের এক ব্যক্তি তা দেখল, সে আমার মামার কাছে গিয়ে বলল: আপনি কি জানেন যে উনাইস আপনার অনুপস্থিতিতে আপনার পরিবারের (স্ত্রীর) সাথে মেলামেশা করে? তিনি বলেন: এতে তার মনে সন্দেহের সৃষ্টি হলো। আমি যখন উট চরিয়ে ফিরে এলাম, তাকে বিমর্ষ অবস্থায় কাঁদতে দেখলাম। আমি বললাম: হে মামা, আপনার কান্নার কারণ কী? তিনি আমাকে বিষয়টি জানালেন। আমি বললাম: আল্লাহ তা থেকে রক্ষা করুন; অভাব আমাদের পর্যুদস্ত করলেও আমরা অশ্লীলতাকে ঘৃণা করি। আপনি আমাদের সাথে আপনার সদাচরণের যে স্বচ্ছতা দিয়ে শুরু করেছিলেন তা কলুষিত করেছেন, এখন আর আমাদের একত্রে থাকার কোনো পথ নেই। এরপর আমি আমার মা ও ভাইকে নিয়ে রওনা হলাম এবং মক্কার উপকণ্ঠে পৌঁছালাম। আমার ভাই—যে একজন কবি ছিল—বলল: আমি পানির ঘাটে এক ব্যক্তির সাথে কবিতা যুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব। আমি বললাম: এমন করো না। কিন্তু হঠকারিতা তাকে দুরেয়দ ইবনুস সিম্মার সাথে বাজি ধরতে বাধ্য করল, যে বাজিতে তাদের উটের পাল নির্ধারিত ছিল। আল্লাহর কসম, সে সময় দুরেয়দ আমার ভাইয়ের চেয়ে বড় কবি ছিলেন। আমরা বিচারের জন্য খানসার নিকট গেলাম, আর সে দুরেয়াদের বিপক্ষে আমার ভাইয়ের পক্ষে রায় দিল। এর কারণ ছিল এই যে, দুরেয়দ তার পিতার নিকট বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল কিন্তু সে বলেছিল: সে এক বৃদ্ধ লোক, তার প্রতি আমার কোনো প্রয়োজন নেই। খানসা সেই রাগ মনে রেখেছিল। ফলে আমরা তার উটের পাল নিজেদের উটের পালের সাথে যুক্ত করলাম এবং আমাদের পশুপাল বিশাল হলো। অতঃপর আমি মক্কায় এলাম এবং সাফা থেকে শুরু করলাম; সেখানে কুরাইশদের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পেলাম। আমি আগেই শুনেছিলাম যে সেখানে জনৈক সাবিয়ী (ধর্মত্যাগী), অথবা পাগল, অথবা কবি, অথবা জাদুকর রয়েছে। আমি বললাম: তোমরা যার কথা দাবি করছ সে কোথায়? তারা বলল: ঐ যে তুমি যেখানে দেখছ। আমি তার দিকে ফিরে গেলাম। আমি তাদের থেকে এক পাথর ছোড়া দূরত্বের বেশি যাইনি, অমনি আল্লাহর কসম, তারা প্রতিটি পাথর, হাড় ও মাটির চাকা নিয়ে আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল এবং আমাকে রক্তাক্ত করে দিল। আমি কা'বা ঘরে এলাম এবং পর্দা ও দেয়ালের মাঝে ঢুকে পড়লাম। সেখানে আমি ত্রিশ দিন অবস্থান করলাম; যমযমের পানি ছাড়া আমার কোনো খাদ্য বা পানীয় ছিল না। অবশেষে যখন এক পূর্ণিমা রাত এলো, খুযাআ গোত্রের দুইজন নারী এসে কা'বা তওয়াফ করল এবং ইসাফ ও নাইলা-র নাম স্মরণ করল; তারা ছিল দুটি মূর্তি যাদের তারা পূজা করত। আমি পর্দার নিচ থেকে মাথা বের করে বললাম: তাদের একজনকে অন্যজনের ওপর চড়িয়ে দাও। তারা রাগান্বিত হয়ে বলল: আল্লাহর কসম, আমাদের পুরুষরা উপস্থিত থাকলে তুমি এমন কথা বলতে পারতে না। তারপর তারা চলে গেল। আমি তাদের পিছু নিলাম যতক্ষণ না তারা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাক্ষাৎ পেল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: «তোমরা কারা? কোথা থেকে এসেছ? এবং কোথা থেকে এলে? আর কিসে তোমাদের নিয়ে এসেছে?» তারা বিষয়টি তাঁকে জানাল। তিনি বললেন: "তোমরা সাবিয়ী লোকটিকে কোথায় রেখে এসেছ?" তারা বলল: আমরা তাকে পর্দা ও দেয়ালের মাঝে রেখে এসেছি। তিনি তাদের জিজ্ঞেস করলেন: «সে কি তোমাদের কিছু বলেছে?» তারা বলল: হ্যাঁ, সে এমন কথা বলেছে যা মুখ পূর্ণ করার মতো। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হাসলেন। এরপর তারা চলে গেল। আমি এগিয়ে এলাম যতক্ষণ না আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট পৌঁছালাম এবং তাঁকে সালাম দিলাম। তিনি বললেন: «তুমি কে? কোন গোত্রের? কোথা থেকে এসেছ? এবং কেন এসেছ?» আমি তাঁকে বিস্তারিত জানালাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: «তুমি কী খেয়ে বেঁচে ছিলে?» আমি বললাম: যমযমের পানি। তিনি বললেন: «নিশ্চয় এটি তৃপ্তিদায়ক খাদ্য।» তাঁর সাথে আবু বকর (রা.) ছিলেন। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমাকে অনুমতি দিন যাতে আমি তাকে মেহমানদারি করতে পারি। তিনি বললেন: «হ্যাঁ।» অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেঁটে চললেন এবং আবু বকর আমার হাত ধরলেন যতক্ষণ না আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকরের দরজায় পৌঁছালেন। আবু বকর তাঁর ঘরে প্রবেশ করলেন এবং তায়েফের কিশমিশ নিয়ে এলেন। তিনি মুঠো মুঠো কিশমিশ আমাদের দিতে লাগলেন এবং আমরা তা পেট ভরে খেলাম। এরপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন: «হে আবু যার!» আমি বললাম: লাব্বাইক (আমি উপস্থিত)। তিনি বললেন: «নিশ্চয় আমাকে এমন এক ভূমির কথা দেখানো হয়েছে যেখানে খেজুর বাগান রয়েছে, আমার মনে হয় তা তিহামাহ। তুমি তোমার গোত্রের কাছে ফিরে যাও এবং তুমি যে ধর্মে প্রবেশ করেছ তার দিকে তাদের দাওয়াত দাও।» তিনি বলেন: আমি বেরিয়ে আমার মা ও ভাইয়ের কাছে এলাম এবং তাঁদের বিষয়টি জানালাম। তাঁরা বললেন: তুমি যে ধর্মে প্রবেশ করেছ তা গ্রহণ করতে আমাদের কোনো অনীহা নেই। ফলে তাঁরা ইসলাম গ্রহণ করলেন। এরপর আমরা বের হলাম এবং মদিনায় পৌঁছালাম। আমি আমার গোত্রকে জানালাম। তারা বলল: আমরা তোমাকে বিশ্বাস করেছি, তবে আমরা মুহাম্মাদ (সা.) এর সাথে দেখা করব। যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে এলেন, আমরা তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করলাম। গিফার গোত্র বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আবু যার আমাদের তা-ই জানিয়েছেন যা আপনি জানিয়েছেন। আমরা ইসলাম গ্রহণ করেছি এবং সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি আল্লাহর রাসূল। এরপর আসলাম ও খুযাআ গোত্র সামনে এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আমাদের ভাই ও মিত্ররা যে পথে প্রবেশ করেছে আমরাও তা পছন্দ করেছি এবং সে পথে প্রবেশ করেছি। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «আসলাম গোত্রকে আল্লাহ শান্তিতে রাখুন এবং গিফার গোত্রকে আল্লাহ ক্ষমা করুন।» এরপর আবু বকর আমার হাত ধরলেন এবং বললেন: হে আবু যার! আমি বললাম: লাব্বাইক ইয়া আবু বকর। তিনি বললেন: জাহেলিয়াত যুগে তুমি কি কারো ইবাদত করতে? আমি বললাম: হ্যাঁ, আমি দেখতাম আমি সূর্যের দিকে দাঁড়িয়ে থাকতাম এবং নামাজ পড়তে থাকতাম যতক্ষণ না সূর্যের তাপ আমাকে কষ্ট দিত। আমি তখন এমনভাবে লুটিয়ে পড়তাম যেন আমি একটি বিছানো কাপড়। তিনি আমাকে বললেন: তুমি কোন দিকে মুখ করতে? আমি বললাম: আমি জানি না, আল্লাহ আমাকে যেদিকে মুখ করাতেন সেদিকেই করতাম, যতক্ষণ না আল্লাহ আমার ওপর ইসলামকে দাখিল করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল তিওয়াল লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ٢٠٢)
‌‌إِسْلَامُ زَيْدِ بْنِ سُعْنَةَ رضي الله عنه
যায়িদ ইবনে সু’নাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর ইসলাম গ্রহণ
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল তিওয়াল লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ٢٠٢)
6 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ الْأَبَّارُ الْبَغْدَادِيُّ، قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي السَّرِيِّ الْعَسْقَلَانِيُّ، قَالَ: ثنا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ حَمْزَةَ بْنِ يُوسُفَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ: لَمَّا أَرَادَ اللَّهُ تَعَالَى هَدْيَ زَيْدِ بْنِ سُعْنَةَ، قَالَ زَيْدُ بْنُ سُعْنَةَ: مَا مِنْ عَلَامَاتِ النُّبُوَّةِ شَيْءٌ إِلَّا وَقَدْ عَرَفْتُهَا فِي وَجْهِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم حِينَ نَظَرْتُ إِلَيْهِ، إِلَّا اثْنَتَيْنِ لَمْ أُخْبَرْهُمَا مِنْهُ، يَسْبِقُ حِلْمُهُ جَهْلَهُ، وَلَا يَزِيدُهُ شِدَّةُ الْجَهْلِ عَلَيْهِ إِلَّا حِلْمًا، فَكُنْتُ أَلْطُفُ لَهُ لِأَنْ أُخَالِطَهُ فَأَعْرِفُ حِلْمَهُ مِنْ جَهْلِهِ. قَالَ زَيْدُ بْنُ سُعْنَةَ: فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا مِنَ الْحُجُرَاتِ وَمَعَهُ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه، فَأَتَاهُ رَجُلٌ عَلَى رَاحِلَتِهِ كَالْبَدَوِيِّ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ بُصْرَى قَرْيَةَ بَنِي فُلَانٍ قَدْ أَسْلَمُوا وَدَخَلُوا فِي الْإِسْلَامِ، وَكُنْتُ حَدَّثْتُهُمْ إِنْ أَسْلَمُوا أَتَاهُمُ الرِّزْقُ، وَأَصَابَتْهُمْ سَنَةٌ وَشِدَّةٌ وَقُحُوطٌ مِنَ الْغَيْثِ، فَأَنَا أَخْشَى يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنْ يَخْرُجُوا مِنَ الْإِسْلَامِ طَمَعًا كَمَا دَخَلُوا فِيهِ طَمَعًا، فَإِنْ رَأَيْتَ أَنْ تُرْسِلَ إِلَيْهِمْ بِشَيْءٍ تُعِينُهُمْ بِهِ فَعَلْتَ، فَنَظَرَ إِلَى رَجُلٍ إِلَى جَانِبِهِ أَرَاهُ عَلِيًّا، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا بَقِيَ مِنْهُ شَيْءٌ، قَالَ زَيْدُ بْنُ سُعْنَةَ: فَدَنَوْتُ إِلَيْهِ، فَقُلْتُ: يَا مُحَمَّدُ، هَلْ لَكَ أَنْ تَبِيعَنِي تَمْرًا مَعْلُومًا مِنْ حَائِطِ بَنِي فُلَانٍ إِلَى أَجَلِ كَذَا وَكَذَا، فَقَالَ: «لَا يَا يَهُودِيُّ، وَلَكِنِّي أَبِيعُكَ تَمْرًا مَعْلُومًا إِلَى أَجَلِ كَذَا وَكَذَا، وَلَا يُسَمِّي حَائِطَ بَنِي فُلَانٍ» قُلْتُ: نَعَمْ، فَبَايَعَنِي فَأَطْلَقْتُ هِمْيَانِي فَأَعْطَيْتُهُ ثَمَانِينَ مِثْقَالًا مِنْ ذَهَبٍ فِي تَمْرٍ مَعْلُومٍ إِلَى أَجَلِ كَذَا وَكَذَا، فَأَعْطَاهَا الرَّجُلَ، فَقَالَ: «أَعْجِلْ عَلَيْهِمْ وَأَعِنْهُمْ بِهَا» ، قَالَ زَيْدُ بْنُ سُعْنَةَ: فَلَمَّا كَانَ قَبْلَ مَحِلِّ الْأَجَلِ بِيَوْمَيْنِ أَوْ ثَلَاثَةٍ أَتَيْتُهُ فَأَخَذْتُ بِمَجَامِعِ قَمِيصِهِ وَرِدَائِهِ، وَنَظَرْتُ إِلَيْهِ بِوَجْهٍ غَلِيظٍ، فَقُلْتُ لَهُ: أَلَا تَقْضِينِي يَا مُحَمَّدُ حَقِّي، فَوَاللَّهِ مَا عَلِمْتُكُمْ يَا بَنِي عَبْدِ الْمُطَّلِبِ لَمُطْلٌ، وَلَقَدْ كَانَ لِي بِمُخَالَطَتِكُمْ عِلْمٌ، وَنَظَرْتُ إِلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنه وَإِذَا عَيْنَاهُ تَدُورَانِ فِي وَجْهِهِ كَالْفَلَكِ الْمُسْتَدِيرِ، ثُمَّ رَمَانِي بِبَصَرِهِ، وَقَالَ: يَا عَدُوَّ اللَّهِ تَقُولُ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا أَسْمَعُ، وَتَصْنَعُ بِهِ مَا أَرَى، فَوَالَّذِي بَعَثَهُ بِالْحَقِّ، لَوْلَا مَا أُحَاذِرُ قُوَّتَهُ لَضَرَبْتُ بِسَيْفِي رَأْسَكَ. وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَنْظُرُ إِلَى عُمَرَ فِي سُكُونٍ وَتُؤْدَةٍ وَتَبَسُّمٍ، ثُمَّ قَالَ: «يَا عُمَرُ، أَنَا وَهُوَ كُنَّا أَحْوَجَ إِلَى غَيْرِ هَذَا، أنْ تَأْمُرَنِي بِحُسْنِ الْأَدَاءِ، وَتَأْمُرَهُ بِحُسْنِ التِّبَاعَةِ، اذْهَبْ بِهِ يَا عُمَرُ فَأَعْطِهِ حَقَّهُ وَزِدْهُ عِشْرِينَ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ مَكَانَ مَا رُعْتَهُ» . قَالَ زَيْدٌ: فَذَهَبَ بِي عُمَرُ رضي الله عنه فَأَعْطَانِي حَقِّي وَزَادَنِي عِشْرِينَ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ، فَقُلْتُ: مَا هَذِهِ الزِّيَادَةُ يَا عُمَرُ؟ فَقَالَ: أَمَرَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ أَزِيدَكَ مَكَانَ مَا رُعْتُكَ، قُلْتُ: وَتَعْرِفُنِي يَا عُمَرُ؟ قَالَ: لَا، مَنْ أَنْتَ؟ قُلْتُ: أَنَا زَيْدُ بْنُ سُعْنَةَ، قَالَ: الْحَبْرُ؟ قُلْتُ: الْحَبْرُ، قَالَ: فَمَا دَعَاكَ أَنْ فَعَلْتَ بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا فَعَلْتَ، وَقُلْتَ لَهُ مَا قُلْتَ؟ قُلْتُ: يَا عُمَرُ، لَمْ يَكُنْ مِنْ عَلَامَاتِ النُّبُوَّةِ شَيْءٌ إِلَّا قَدْ عَرَفْتُ فِي وَجْهِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حينَ نَظَرْتُ إِلَيْهِ، إِلَّا اثْنَتَيْنِ لَمْ أُخْبَرْهُمَا مِنْهُ، يَسْبِقُ حِلْمُهُ جَهْلَهُ، وَلَا يَزِيدُهُ شِدَّةُ الْجَهْلِ عَلَيْهِ إِلَّا حِلْمًا، فَقَدِ اخْتَبَرْتُهُمَا فَأُخْبِرُكَ يَا عُمَرُ أَنِّي قَدْ رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا، وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا، وَبِمُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم نَبِيًّا، وَأُشْهِدُكَ أَنَّ شَطْرَ مَالِي، فَإِنِّي أَكْثَرُهَا مَالًا، صَدَقَةٌ عَلَى أُمَّةِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ عُمَرُ: أَوْ عَلَى بَعْضِهِمْ، فَإِنَّكَ لَا تَسَعُهُمْ، قُلْتُ: وَعَلَى بَعْضِهِمْ، فَرَجَعَ عُمَرُ وَزيْدٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ زَيْدٌ: أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، وَآمَنَ بِهِ وَصَدَّقَهُ وَبَايَعَهُ وَشَهِدَ مَعَهُ مَشَاهِدَ كَثِيرَةً، ثُمَّ تُوُفِّيَ زَيْدٌ رضي الله عنه فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ مُقْبِلًا غَيْرَ مُدْبِرٍ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ
৬ - আমাদের কাছে আহমদ বিন আলী আল-আববার আল-বাগদাদী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে মুহাম্মদ বিন আবিস সারী আল-আসকালানী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে ওয়ালিদ বিন মুসলিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে মুহাম্মদ বিন হামযা বিন ইউসুফ বিন আব্দুল্লাহ বিন সালাম বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন আল্লাহ তাআলা যায়েদ বিন সু'নাহকে হেদায়েত দেওয়ার ইচ্ছা করলেন, তখন যায়েদ বিন সু'নাহ বললেন: নবুওয়াতের নিদর্শনসমূহের মধ্যে এমন কিছু ছিল না যা আমি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেহারার দিকে তাকানোর পর চিনে ফেলিনি, কেবল দুটি লক্ষণ ব্যতীত যা আমি তখনো তাঁর মাঝে পরীক্ষা করতে পারিনি: তাঁর সহনশীলতা তাঁর রাগের ওপর প্রাধান্য পাবে এবং তাঁর প্রতি কারো চরম মূর্খতাপূর্ণ আচরণ তাঁর সহনশীলতাকেই বৃদ্ধি করবে। তাই আমি তাঁর সাথে মেলামেশা করার সুযোগ খুঁজছিলাম যাতে তাঁর সহনশীলতা ও রাগ সম্পর্কে সম্যক অবগত হতে পারি। যায়দ বিন সু'নাহ বলেন: একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কক্ষগুলো থেকে বের হলেন, তাঁর সাথে আলী বিন আবি তালিব (রা.) ছিলেন। এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি তার সওয়ারীতে চড়ে গ্রাম্য লোকের বেশে তাঁর কাছে এল। সে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! অমুক গোত্রের বুসরা জনপদের অধিবাসীরা ইসলাম গ্রহণ করেছে। আমি তাদের বলেছিলাম যে তারা যদি ইসলাম গ্রহণ করে তবে তাদের কাছে প্রচুর রিযিক আসবে। কিন্তু এখন তারা অনাবৃষ্টির কারণে দুর্ভিক্ষ ও চরম কষ্টের সম্মুখীন হয়েছে। হে আল্লাহর রাসূল! আমি আশঙ্কা করছি যে তারা যেমন দুনিয়াবী প্রাপ্তির লোভে ইসলামে প্রবেশ করেছিল, তেমনি অভাবের তাড়নায় এখন ইসলাম ত্যাগ করতে পারে। আপনি যদি তাদের সাহায্যের জন্য কিছু পাঠাতেন তবে ভালো হতো। তখন রাসূলুল্লাহ তাঁর পাশে থাকা এক ব্যক্তির দিকে তাকালেন—যাকে আমি আলী বলে মনে করি। তিনি (আলী) বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! তাঁর কাছে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। যায়েদ বিন সু'নাহ বলেন: তখন আমি তাঁর কাছে এগিয়ে গেলাম এবং বললাম: হে মুহাম্মদ! আপনি কি আমার কাছে অমুক গোত্রের বাগান থেকে নির্দিষ্ট মেয়াদের বিনিময়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ খেজুর বিক্রি করবেন? তিনি বললেন: "না হে ইহুদি, বরং আমি তোমার কাছে নির্দিষ্ট মেয়াদের বিনিময়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ খেজুর বিক্রি করব, তবে কোনো নির্দিষ্ট বাগানের নাম উল্লেখ করা যাবে না।" আমি বললাম: হ্যাঁ, ঠিক আছে। তখন তিনি আমার সাথে কেনাবেচা করলেন এবং আমি আমার থলি খুলে তাঁকে নির্দিষ্ট মেয়াদের বিনিময়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ খেজুরের জন্য আশি মিসকাল স্বর্ণ প্রদান করলাম। তিনি সেই স্বর্ণ লোকটিকে দিয়ে বললেন: "দ্রুত তাদের কাছে যাও এবং এর মাধ্যমে তাদের সাহায্য করো।" যায়েদ বিন সু'নাহ বলেন: যখন নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার দুই বা তিন দিন বাকি ছিল, তখন আমি তাঁর কাছে এলাম এবং তাঁর জামা ও চাদর একসাথে জাপটে ধরলাম। আমি রূঢ় দৃষ্টিতে তাঁর দিকে তাকালাম এবং বললাম: হে মুহাম্মদ! আপনি কি আমার পাওনা পরিশোধ করবেন না? আল্লাহর কসম! হে আব্দুল মুত্তালিবের বংশধররা, আমি তো জানতাম না যে আপনারা পাওনা পরিশোধে এত টালবাহানা করেন। আপনাদের সাথে মেলামেশা করে আমার এমনই অভিজ্ঞতা হলো। তখন আমি উমর বিন খাত্তাব (রা.)-এর দিকে তাকালাম, দেখলাম তাঁর চোখ দুটি রাগে গোলাকার কক্ষপথের মতো ঘুরছে। এরপর তিনি আমার দিকে কড়া নজরে তাকালেন এবং বললেন: হে আল্লাহর দুশমন! তুই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে এমন কথা বলছিস যা আমি শুনছি এবং তাঁর সাথে এমন আচরণ করছিস যা আমি দেখছি? যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তাঁর শপথ! যদি আমি তাঁর (রাসূলের) মর্যাদাহানির ভয় না করতাম, তবে আমি এই তরবারি দিয়ে তোর মাথা দেহ থেকে আলাদা করে দিতাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যন্ত শান্ত ও ধীরস্থিরভাবে মুচকি হেসে উমরের দিকে তাকাচ্ছিলেন। অতঃপর তিনি বললেন: "হে উমর! আমাদের দুজনেরই তো অন্য কিছুর বেশি প্রয়োজন ছিল। তা হলো তুমি আমাকে সুন্দরভাবে পাওনা পরিশোধের আদেশ করতে আর তাকে সুন্দরভাবে পাওনা চাওয়ার উপদেশ দিতে। হে উমর! তাকে নিয়ে যাও, তার পাওনা পরিশোধ করো এবং তাকে ভয় দেখানোর ক্ষতিপূরণস্বরূপ আরও বিশ সা' খেজুর অতিরিক্ত প্রদান করো।" যায়েদ বলেন: উমর (রা.) আমাকে নিয়ে গেলেন এবং আমার পাওনা পরিশোধ করলেন এবং আরও বিশ সা' খেজুর বাড়িয়ে দিলেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম: হে উমর! এই অতিরিক্ত কেন? তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যে তোমাকে ভয় দেখানোর বদলে এই অতিরিক্তটুকু দিতে। আমি বললাম: হে উমর, আপনি কি আমাকে চেনেন? তিনি বললেন: না, তুমি কে? আমি বললাম: আমি যায়েদ বিন সু'নাহ। তিনি বললেন: সেই ইহুদি পণ্ডিত? আমি বললাম: হ্যাঁ, সেই পণ্ডিত। তিনি বললেন: তবে কিসে তোমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে এমন আচরণ করতে এবং এমন কথা বলতে প্ররোচিত করল? আমি বললাম: হে উমর! নবুওয়াতের নিদর্শনসমূহের মধ্যে এমন কিছু ছিল না যা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেহারার দিকে তাকানোর পর চিনে ফেলিনি, কেবল দুটি লক্ষণ ব্যতীত যা আমি তাঁর মাঝে পরীক্ষা করিনি: তাঁর সহনশীলতা তাঁর রাগের ওপর প্রাধান্য পাবে এবং তাঁর প্রতি কারো মূর্খতাসুলভ আচরণ তাঁর সহনশীলতাকেই কেবল বৃদ্ধি করবে। আজ আমি সেই পরীক্ষাটি করে নিলাম। হে উমর! আমি আপনাকে সাক্ষী রাখছি যে, আমি আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নবী হিসেবে গ্রহণ করে সন্তুষ্ট হয়েছি। আর আমি আপনাকে সাক্ষী রাখছি যে, আমার অগাধ সম্পদের অর্ধেক আমি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের জন্য সদকা হিসেবে দান করে দিলাম। উমর বললেন: অথবা তাদের একাংশের জন্য, কারণ তোমার সম্পদ তো সমগ্র উম্মতের জন্য যথেষ্ট হবে না। আমি বললাম: হ্যাঁ, তাদের একাংশের জন্যই। অতঃপর উমর ও যায়েদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে ফিরে এলেন। যায়েদ বললেন: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। তিনি তাঁর ওপর ঈমান আনলেন, তাঁকে সত্য বলে স্বীকার করলেন, তাঁর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করলেন এবং তাঁর সাথে বহু যুদ্ধে অংশগ্রহণ করলেন। পরিশেষে যায়েদ (রা.) তাবুক যুদ্ধে বীরত্বের সাথে সম্মুখপানে অগ্রসর হয়ে শাহাদাত বরণ করেন, আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল তিওয়াল লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ٢٠٥)
‌‌إِسْلَامُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلَامٍ رضي الله عنه
আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর ইসলাম গ্রহণ
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল তিওয়াল লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ٢٠٥)
7 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَبَّاسِ الْمُؤَدِّبِ مَوْلَى بَنِي هَاشِمٍ الْبَغْدَادِيُّ، ثنا عَفَّانُ بْنُ مُسْلِمٍ، قَالَ: ثنا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابتٍ، وَحُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: لَمَّا قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ أُخْبِرَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَلَامٍ بِقُدُومِهِ وَهُوَ فِي نَخْلِهِ، فَأَتَاهُ فَقَالَ: إِنِّي سَائِلُكَ عَنْ أَشْيَاءَ لَا يَعْلَمُهَا إِلَّا نَبِيٌّ، فَإِنْ أَخْبَرْتَنِي بِهَا آمَنْتُ بِكَ، وَإِنْ لَمْ تَعْلَمْهُنَّ عَرَفْتُ أَنَّكَ لَسْتَ بِنَبِيٍّ، قَالَ: «وَمَا هُوَ؟» فَسَأَلَهُ عَنِ الشَّبَهِ، وَعَنْ أَوَّلِ شَيْءٍ يَأْكُلُ أَهْلُ الْجَنَّةِ، وَعَنْ أَوَّلِ شَيْءٍ يُحْشَرُ النَّاسُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم: «أَخْبَرَنِيهُنَّ جِبْرِيلُ عليه السلام آنِفًا» قَالَ: ذَاكَ عَدُوُّ الْيَهُودِ، قَالَ: «أَمَّا الشَّبَهُ فَإِذَا سَبَقَ مَاءُ الرَّجُلِ مَاءَ الْمَرْأَةِ ذَهَبَ بِالشَّبَهِ، وَإِذَا سَبَقَ مَاءُ الْمَرْأَةِ مَاءَ الرَّجُلِ ذَهَبَ بِالشَّبَهِ، وَأَمَّا أَوَّلُ شَيْءٍ يَأْكُلُهُ أَهْلُ الْجَنَّةِ فَزِيَادَةُ كَبِدِ الْحُوتِ، وَأَمَّا أَوَّلُ شَيْءٍ يُحْشَرُ النَّاسُ فِيهِ فَنَارٌ تَجِيءُ مِنْ قِبَلِ الْمَشْرِقِ فَتَحْشُرُهُمْ إِلَى الْمَغْرِبِ» فَآمَنَ وَقَالَ: أَشْهَدُ أَنَّكَ رَسُولُ اللَّهِ. قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَلَامٍ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ الْيَهُودَ قَوْمٌ بُهْتٌ، وَإِنْ هُمْ سَمِعُوا بِإِسْلَامِي بَهَتُونِي، فَأخْبِئْنِي عِنْدَكَ وَابْعَثْ إِلَيْهِمْ فَاسْأَلْهُمْ عَنِّي، فَخَبَأَهُ رَسُولُ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم وَبَعَثَ إِلَيْهِمْ، فَجَاءُوا، فَقَالَ: " أَيُّ رَجُلٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَلَامٍ فِيكُمْ؟ فَقَالُوا: خَيْرُنَا وَابْنُ خَيْرِنَا، وَسَيِّدُنَا وَابْنُ سَيِّدِنَا، قَالَ: «أَرَأَيْتُمْ إِنْ أَسْلَمَ، أَتُسْلِمُونَ؟» قَالُوا: أَعَاذَهُ اللَّهُ مِنْ ذَلِكَ، فَقَالَ: «يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ سَلَامٍ اخْرُجْ إِلَيْهِمْ فَأَخْبِرْهُمْ» فَخَرَجَ إِلَيْهِمْ فَقَالَ: أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، قَالُوا: بَلْ شَرُّنَا وَابْنُ شَرِّنَا، وَجَاهِلُنَا وَابْنُ جَاهِلِنَا، قَالَ ابْنُ سَلَامٍ: قَدْ أَخْبَرْتُكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنَّ الْيَهُودَ قَوْمٌ بُهْتٌ
৭ - মুহাম্মদ ইবনুল আব্বাস আল-মুয়াদ্দিব মাওলা বনী হাশিম আল-বাগদাদী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আফফান ইবনে মুসলিম আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাম্মাদ ইবনে সালামাহ সাবিত ও হুমাইদ থেকে, তারা আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় আসলেন, তখন আবদুল্লাহ ইবনে সালামকে তাঁর আগমনের সংবাদ জানানো হলো, এমতাবস্থায় যে তিনি তাঁর খেজুর বাগানে কাজ করছিলেন। অতঃপর তিনি তাঁর নিকট আসলেন এবং বললেন: আমি আপনাকে এমন কিছু বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করব যা নবী ছাড়া আর কেউ জানে না। যদি আপনি আমাকে সেগুলোর সংবাদ দিতে পারেন তবে আমি আপনার প্রতি ঈমান আনব, আর যদি আপনি সেগুলো না জানেন তবে আমি জানব যে আপনি নবী নন। তিনি বললেন: «সেগুলো কী?» অতঃপর তিনি তাঁকে (সন্তানের) সাদৃশ্য পাওয়া সম্পর্কে, জান্নাতবাসীরা সর্বপ্রথম কী খাবার খাবে সে সম্পর্কে এবং হাশরের ময়দানে মানুষ সর্বপ্রথম কিসের সম্মুখীন হবে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «জিবরাঈল আলাইহিস সালাম এইমাত্র আমাকে এগুলোর সংবাদ দিয়েছেন» তিনি (ইবনে সালাম) বললেন: তিনি তো ইহুদীদের শত্রু। তিনি বললেন: «সাদৃশ্যের বিষয়টি হলো, যখন পুরুষের পানি (বীর্য) স্ত্রীর পানির ওপর প্রাধান্য পায় (বা আগে নির্গত হয়), তখন সাদৃশ্য তার দিকে যায়; আর যখন স্ত্রীর পানি পুরুষের পানির ওপর প্রাধান্য পায়, তখন সাদৃশ্য তার দিকে যায়। আর জান্নাতবাসীরা সর্বপ্রথম যা খাবে তা হলো মাছের কলিজার বর্ধিত অংশ। আর হাশরের ময়দানে মানুষ সর্বপ্রথম যে পরিস্থিতির সম্মুখীন হবে তা হলো একটি আগুন, যা পূর্ব দিক থেকে আসবে এবং মানুষকে হাশরের ময়দানের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাবে» তখন তিনি ঈমান আনলেন এবং বললেন: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি আল্লাহর রাসূল। আবদুল্লাহ ইবনে সালাম বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! ইহুদীরা হলো চরম অপবাদকারী ও মিথ্যাবাদী সম্প্রদায়। তারা যদি আমার ইসলাম গ্রহণের কথা জানতে পারে তবে তারা আমার নামে মিথ্যা অপবাদ দিবে। সুতরাং আপনি আমাকে আপনার নিকট লুকিয়ে রাখুন এবং তাদের নিকট লোক পাঠিয়ে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করুন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে লুকিয়ে রাখলেন এবং তাদের (ইহুদীদের) নিকট লোক পাঠালেন। তারা যখন আসল, তখন তিনি বললেন: "তোমাদের মধ্যে আবদুল্লাহ ইবনে সালাম কেমন ব্যক্তি?" তারা বলল: তিনি আমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি এবং আমাদের মধ্যকার সর্বোত্তম ব্যক্তির পুত্র, তিনি আমাদের নেতা এবং আমাদের নেতার পুত্র। তিনি বললেন: «তোমরা কী মনে করো, যদি তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন, তবে কি তোমরাও ইসলাম গ্রহণ করবে?» তারা বলল: আল্লাহ তাঁকে এ থেকে রক্ষা করুন! তখন তিনি বললেন: «হে আবদুল্লাহ ইবনে সালাম! তুমি তাদের সামনে বেরিয়ে এসো এবং তাদের সংবাদ দাও» অতঃপর তিনি তাদের সামনে বেরিয়ে আসলেন এবং বললেন: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল। তখন তারা বলল: বরং সে আমাদের মধ্যে নিকৃষ্টতম ব্যক্তি এবং আমাদের নিকৃষ্টতম ব্যক্তির পুত্র, আমাদের মধ্যে সবচেয়ে মূর্খ ব্যক্তি এবং সবচেয়ে মূর্খ ব্যক্তির পুত্র। ইবনে সালাম বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি তো আপনাকে আগেই সংবাদ দিয়েছিলাম যে ইহুদীরা হলো চরম অপবাদকারী ও মিথ্যাবাদী সম্প্রদায়।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল তিওয়াল লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ٢٠٦)
‌‌إِسْلَامُ سَلْمَانَ الْفَارِسِيِّ رضي الله عنه
সালমান আল-ফারিসী রাযিয়াল্লাহু আনহুর ইসলাম গ্রহণ
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল তিওয়াল লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ٢٠٦)
8 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ دَاوُدَ الْمَكِّيُّ، ثنا قَيْسُ بْنُ حَفْصٍ الدَّارِمِيُّ، قَالَ: ثنا مَسْلَمَةُ بْنُ عَلْقَمَةَ الْمَازِنِيُّ، قَالَ: ثنا دَاوُدُ بْنُ أَبِي هِنْدٍ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ سَلَامَةَ الْعِجْلِيِّ، قَالَ: جَاءَ ابْنُ أُخْتٍ لِي مِنَ الْبَادِيَةِ يُقَالَ لَهُ قُدَامَةُ، فَقَالَ لِيَ ابْنُ أُخْتِي: أُحِبُّ أَنْ أَلْقَى سَلْمَانَ الْفَارِسِيَّ فَأُسَلِّمَ عَلَيْهِ، فَخَرَجْنَا فَوَجَدْنَاهُ بِالْمَدَائِنِ وَهُوَ يَوْمَئِذٍ عَلَى عِشْرِينَ أَلْفًا، وَوَجَدْنَاهُ عَلَى سَرِيرٍ يَسُفُّ خُوصًا فَسَلَّمْنَا عَلَيْهِ، قُلْتُ: يَا أَبَا عَبْدِ اللَّهِ، هَذَا ابْنُ أُخْتٍ لِي قَدِمَ عَلَيَّ مِنَ الْبَادِيَةِ فَأَحَبَّ أَنْ يُسَلِّمَ عَلَيْكَ، قَالَ: وَعَلَيْهِ السَّلَامُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ، قُلْتُ: يَزْعُمُ أَنَّهُ يُحِبُّكَ، قَالَ: أَحَبَّهُ اللَّهُ، قَالَ: فتَحَدَّثْنَا، فَقُلْنَا لَهُ: يَا أَبَا عَبْدِ اللَّهِ، أَلَا تُحَدِّثُنَا عَنْ أَصْلِكَ وَمِمَّنْ أَنْتَ؟ قَالَ: أَمَّا أَصْلِي وَمِمَّنْ أَنَا، فَأَنَا رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ رَامَهُرْمُزَ، كُنَّا قَوْمًا مَجُوسًا، فَأَتَانَا رَجُلٌ نَصْرَانِيٌّ مِنْ أَهْلِ الْجَزِيرَةِ كَانَتْ أُمُّهُ مِنَّا، فَنَزَلَ فِينَا وَاتَّخَذَ فِينَا دَيْرًا، وَكُنْتُ فِي كُتَّابِ الْفَارِسِيَّةِ، فَكَانَ لَا يَزَالُ غُلَامٌ مَعِي فِي الْكُتَّابِ يَجِيءُ مَضْرُوبًا يَبْكِي قَدْ ضَرَبَهُ أَبَوَاهُ، فَقُلْتُ لَهُ يَوْمًا: مَا يُبْكِيكَ؟ قَالَ: يَضْرِبُنِي أَبَوَايَ، قُلْتُ: وَلِمَ يَضْرِبَانِكَ؟ قَالَ: آتِي صَاحِبَ هَذَا الدَّيْرِ فَإِذَا عَلِمَا ذَلِكَ ضَرَبَانِي، وَأَنْتَ لَوْ أَتَيْتَهُ سَمِعْتَ مِنْهُ حَدِيثًا عَجِيبًا، قُلْتُ: اذْهَبْ بِي مَعَكَ، فَأَتَيْنَاهُ فَحَدَّثَنَا عَنْ بَدْءِ الْخَلْقِ، وَعَنْ بَدْءِ خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَالْجَنَّةِ وَالنَّارِ، قَالَ: فَحَدَّثَنَا بِأَحَادِيثَ عَجَبٍ، فَكُنْتُ أَخْتَلِفُ إِلَيْهِ مَعَهُ، وَفَطِنَ لَنَا غِلْمَانٌ مِنَ الْكُتَّابِ فَجَعَلُوا يَجِيئُونَ مَعَنَا، فَلَمَّا رَأَى ذَلِكَ أَهْلُ الْقَرْيَةِ أَتَوْهُ، فَقَالُوا: يَا هَذَا، إِنَّكَ قَدْ جَاوَرْتَنَا فَلَمْ تَرَ فِي جِوَارِنَا إِلَّا الْحَسَنَ، وَإِنَّا نَرَى غِلْمَانَنَا يَخْتَلِفُونَ إِلَيْكَ، وَنَحْنُ نَخَافُ أَنْ تُفْسِدَهُمْ عَلَيْنَا، اخْرُجْ عَنَّا، قَالَ: نَعَمْ، فَقَالَ لِذَلِكَ الْغُلَامِ الَّذِي كَانَ يَأْتِيهِ: اخْرُجْ مَعِي، قَالَ: لَا أَسْتَطِيعُ ذَلِكَ، قَدْ عَلِمْتَ شِدَّةَ أَبَوَيَّ عَلَيَّ، قُلْتُ: لَكِنِّي أَخْرُجُ مَعَكَ، وَكُنْتُ يَتِيمًا لَا أَبَ لِي، فَخَرَجْتُ مَعَهُ، فَأَخَذْنَا جَبَلَ رَامَهُرْمُزَ، فَجَعَلْنَا نَمْشِي وَنَتَوَكَّلُ وَنَأْكُلُ مِنَ ثَمَرِ الشَّجَرِ، حَتَّى قَدِمْنَا الْجَزِيرَةَ، فَقَدِمْنَا نُصَيْبِينَ، فَقَالَ لِي صَاحِبِي: يَا سَلْمَانُ، إِنَّ هَهُنَا قَوْمًا هُمْ عُبَّادُ أَهْلِ الْأَرْضِ، وَأَنَا أُحِبُّ أَنْ أَلْقَاهُمْ، قَالَ: فَجِئْنَا إِلَيْهِمْ يَوْمَ الْأَحَدِ وَقَدِ اجْتَمَعُوا، فَسَلَّمَ عَلَيْهِمْ صَاحِبِي، فَحَيَّوْهُ وَبَشُّوا بِهِ، وَقَالُوا: أَيْنَ كَانَتْ غَيْبَتُكَ؟ قَالَ: كُنْتُ فِي إِخْوَانٍ لِي مِنْ قِبَلِ فَارِسَ، فَتَحَدَّثْنَا مَا تَحَدَّثْنَا، ثُمَّ قَالَ لِي صَاحِبِي: قُمْ يَا سَلْمَانُ انْطَلِقْ، فَقُلْتُ: لَا، دَعْنِي مَعَ هَؤُلَاءِ، قَالَ، إِنَّكَ لَا تُطِيقُ مَا يُطِيقُ هَؤُلَاءِ، هَؤُلَاءِ يَصُومُونَ الْأَحَدَ إِلَى الْأَحَدِ، وَلَا يَنَامُونَ هَذَا اللَّيْلَ، فَإِذَا فِيهِمْ رَجُلٌ مِنْ أَبْنَاءِ الْمُلُوكِ تَرَكَ الْمُلْكَ وَدَخَلَ فِي الْعِبَادَةِ، وَكُنْتُ فِيهِمْ حَتَّى أَمْسَيْنَا فَجَعَلُوا يَذْهَبُونَ وَاحِدًا وَاحِدًا إِلَى غَارِهِ الَّذِي يَكُونُ فِيهِ، فَلَمَّا أَمْسَيْنَا قَالَ ذَلِكَ الرَّجُلُ الَّذِي مِنْ أَبْنَاءِ الْمُلُوكِ: هَذَا الْغُلَامُ لَا تَضَعُوهُ، لِيَأْخُذْهُ رَجُلٌ مِنْكُمْ، فَقَالُوا: خُذْهُ أَنْتَ، فَقَالَ: هَلُمَّ يَا سَلْمَانُ، فَذَهَبَ بِي مَعَهُ حَتَّى أَتَى غَارَهُ الَّذِي يَكُونُ فِيهِ، فَقَالَ: يَا سَلْمَانُ هَذَا خُبْزٌ وَهَذَا أَدَمٌ، فَكُلْ إِذَا غَرِثْتَ، وَصُمْ إِذَا نَشِطْتَ، وَصَلِّ مَا بَدَا لَكَ، وَنَمْ إِذَا كَسِلْتَ، ثُمَّ قَامَ إِلَى صَلَاتِهِ فَلَمْ يُكَلِّمْنِي إِلَّا ذَاكَ، وَلَمْ يَنْظُرْ إِلَيَّ، فَأَخَذَنِي الْغَمُّ تِلْكَ السَّبْعَةَ أَيَّامٍ لَا يُكَلِّمُنِي أَحَدٌ حَتَّى إِذَا كَانَ الْأَحَدُ فَانْصَرَفَ إِلَيَّ، فَذَهَبْنَا إِلَى مَكَانِهِمُ الَّذِي كَانُوا يَجْتَمِعُونَ، قَالَ: وَهُمْ يَجْتَمِعُونَ كُلَّ أَحَدٍ يُفْطِرُونَ فِيهِ فَيَلْقَى بَعْضُهُمْ بَعْضًا، وَيُسَلِّمُ بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ، ثُمَّ لَا يَلْتَقُونَ إِلَى مِثْلِهِ، قَالَ: فَرَجَعْنَا إِلَى مَنْزِلِنَا، فَقَالَ لِي مِثْلَ مَا قَالَ أَوَّلَ مَرَّةٍ: هَذَا خُبْزٌ وَأَدَمٌ فَكُلْ مِنْهُ إِذَا غَرِثْتَ، وَصُمْ إِذَا نَشِطْتَ، وَصَلِّ مَا بَدَا لَكَ، وَنَمْ إِذَا كَسِلْتَ، ثُمَّ دَخَلَ فِي صَلَاتِهِ فَلَمْ يَلْتَفِتْ إِلَيَّ، وَلَمْ يُكَلِّمْنِي إِلَى الْأَحَدِ الْآخَرِ، فَأَخَذَنِي غَمٌّ وَحَدَّثْتُ نَفْسِي بِالْفِرَارِ، فَقُلْتُ أَصْبِرُ أَحَدَيْنِ أَوْ ثَلَاثَةً، فَلَمَّا كَانَ يَوْمُ الْأَحَدِ رَجَعْنَا إِلَيْهِمْ، فَأَفْطَرُوا وَاجْتَمَعُوا، فَقَالَ لَهُمْ: إِنِّي أُرِيدُ بَيْتَ الْمَقْدِسِ، فَقَالُوا: وَمَا تُرِيدُ إِلَى ذَلِكَ؟ فَقَالَ: لَا عَهْدَ لِي بِهِ، قَالُوا: إِنَّا نَخَافُ أَنْ يَحْدُثَ بِكَ حَادِثٌ فَيَلِيكَ غَيْرُنَا، وَكُنَّا نُحِبُّ أَنْ نَلِيَكَ، قَالَ: لَا عَهْدَ لِي بِهِ، فَلَمَّا سَمِعْتُهُ يَذْكُرُ ذَلِكَ فَرِحْتُ، قُلْتُ: نُسَافِرُ وَنَلْقَى النَّاسَ، فَيَذْهَبُ عَنِّي الْغَمُّ الَّذِي كُنْتُ أَجِدُ، فَخَرَجْنَا أَنَا وَهُوَ، وَكَانَ يَصُومُ مِنَ الْأَحَدِ إِلَى الْأَحَدِ، وَيُصَلِّي اللَّيْلَ كُلَّهُ، وَيَمْشِي النَّهَارَ، فَإِذَا نَزَلْنَا قَامَ يُصَلِّي، فَلَمْ يَزَلْ ذَلِكَ دَأْبَهُ حَتَّى انْتَهَيْنَا إِلَى بَيْتِ الْمَقْدِسِ، وَعَلَى بَابِهِ رَجُلٌ مُقْعَدٌ يَسْأَلُ النَّاسَ، فَقَالَ: أَعْطِنِي، فَقَالَ: مَا مَعِي شَيْءٌ، فَدَخَلْنَا بَيْتَ الْمَقْدِسِ، فَلَمَّا رَآهُ أَهْلُ بَيْتِ الْمَقْدِسِ بَشُّوا إِلَيْهِ وَاسْتَبْشَرُوا بِهِ، فَقَالَ لَهُمْ: غُلَامِي هَذَا فَاسْتَوْصُوا بِهِ، فَذَهَبُوا بِي فَأَطْعَمُونِي خُبْزًا وَلَحْمًا، وَدَخَلَ فِي الصَّلَاةِ، فَلَمْ يَنْصَرِفْ إِلَيَّ حَتَّى كَانَ يَوْمُ الْأَحَدِ الْآخَرِ، ثُمَّ انْصَرَفَ فَقَالَ لِي: يَا سَلْمَانُ إِنِّي أُرِيدُ أَنْ أَضَعَ رَأْسِي، فَإِذَا بَلَغَ الظِّلُّ مَكَانَ كَذَا وَكَذَا فَأَيْقِظْنِي، فَوَضَعَ رَأْسَهُ فَنَامَ، فَبَلَغَ الظِّلُّ الَّذِي قَالَ، فَلَمْ أُوقِظْهُ مَأْوَاةً لَهُ مِمَّا ذَاقَ مِنِ اجْتِهَادِهِ وَنَصَبِهِ، فَاسْتَيْقَظَ مَذْعُورًا، فَقَالَ: يَا سَلْمَانُ، أَلَمْ أَكُنْ قُلْتُ لَكَ إِذَا بَلَغَ الظِّلُّ مَكَانَ كَذَا وَكَذَا فَأَيْقِظْنِي؟ قُلْتُ: بَلَى، لَكِنْ إِنَّمَا مَنَعَنِي مِنْ ذَلِكَ مَأْوَاةً لِمَا رَأَيْتُ مِنْ دَأَبِكَ، قَالَ: وَيْحَكَ يَا سَلْمَانُ، إِنِّي أَكْرَهُ أَنْ يَفُوتَنِي شَيْءٌ مِنَ الدَّهْرِ لَمْ أَعْمَلْ لِلَّهِ فِيهِ خَيْرًا، ثُمَّ قَالَ: اعْلَمْ يَا سَلْمَانُ أَنَّ أَفْضَلَ دِينٍ الْيَوْمَ النَّصْرَانِيَّةُ، قُلْتُ: وَيَكُونُ بَعْدَ الْيَوْمِ دِينٌ أَفْضَلَ مِنَ النَّصْرَانِيَّةِ؟ كَلِمَةً أُلْقِيَتْ عَلَى لِسَانِي، قَالَ: نَعَمْ، يُوشِكُ أَنْ يُبْعَثَ نَبِيٌّ يَأْكُلُ الْهَدِيَّةَ وَلَا يَأْكُلُ الصَّدَقَةَ، بَيْنَ كَتِفَيْهِ خَاتَمُ النُّبُوَّةِ، فَإِذَا أَدْرَكْتَهُ فَاتَّبِعْهُ وَصَدِّقْهُ، قُلْتُ: وَإِنْ أَمَرَنِي أَنْ أَدَعَ النَّصْرَانِيَّةَ؟ قَالَ: نَعَمْ، فَإِنَّهُ نَبِيٌّ لَا يَأْمُرُ إِلَّا بِالْحَقِّ، وَلَا يَقُولُ إِلَّا حَقًّا، وَاللَّهِ لَوْ أَدْرَكْتُهُ ثُمَّ أَمَرَنِي أَنْ أَقَعَ فِي النَّارِ لَوَقَعْتُهَا، ثُمَّ خَرَجْنَا مِنْ بَيْتِ الْمَقْدِسِ، فَمَرَرْنَا عَلَى ذَلِكَ الْمُقْعَدِ، فَقَالَ لَهُ: دَخَلْتَ فَلَمْ تُعْطِنِي، وَهَذَا تَخْرُجُ فَأَعْطِنِي، فَالْتَفَتَ فَلَمْ يَجِدْ حَوْلَهُ أَحَدًا، قَالَ: فَأَعْطِنِي يَدَكَ، فَأَخَذَ بِيَدِهِ، فَقَالَ: قُمْ بِإِذْنِ اللَّهِ، فَقَامَ صَحِيحًا سَوِيًّا فَتَوَجَّهَ نَحْوَ أَهْلِهِ، فَاتَّبَعَهُ بَصَرِي تَعَجُّبًا مِمَّا رَأَيْتُ، وَخَرَجَ صَاحِبِي فَأَسْرَعَ الْمَشْيَ وَتَبِعْتُهُ، فَتَلَقَّانِي رُفْقَةٌ مِنْ كَلْبٍ أَعْرَابٌ فَسَبَوْنِي، فَحَمَلُونِي عَلَى بَعِيرٍ وَشَدُّونِي، فَتَدَاوَلَنِي الْبُيَّاعُ حَتَّى سَقَطْتُ إِلَى الْمَدِينَةِ، فَاشْتَرَانِي رَجُلٌ مِنَ الْأَنْصَارِ، فَجَعَلَنِي فِي حَائِطٍ لَهُ مِنْ نَخْلٍ، فَكُنْتُ فِيهِ، قَالَ: وَمِنْ ثَمَّ تَعَلَّمْتُ عَمَلَ الْخُوصِ، أَشْتَرِي خُوصًا بِدِرْهَمٍ فَأَعْمَلُهُ فَأَبِيعُهُ بِدِرْهَمَيْنِ، فَأَرُدُّ أَحَدَهُمَا فِي الْخُوصِ وَأَسْتَنْفِقُ دِرْهَمًا، أُحِبُّ أَنْ آكُلَ مِنْ عَمَلِ يَدِي، وَهُوَ يَوْمَئِذٍ أَمِيرٌ عَلَى عِشْرِينَ أَلْفًا. فَبَلَغَنَا وَنَحْنُ بِالْمَدِينَةِ أَنَّ رَجُلًا قَدْ خَرَجَ بِمَكَّةَ يَزْعُمُ أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى أَرْسَلَهُ، فَمَكَثْنَا مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ نَمْكُثَ، فَهَاجَرَ إِلَيْنَا وَقَدِمَ عَلَيْنَا، فَقُلْتُ: وَاللَّهِ لَأُجَرِبَنَّهُ، فَذَهَبْتُ إِلَى السُّوقِ فَاشْتَرَيْتُ لَحْمَ جَزُورٍ بِدِرْهَمٍ، ثُمَّ طَبَخْتُهُ، فَجَعَلْتُ قَصْعَةً مِنْ ثَرِيدٍ، فَاحْتَمَلْتُهَا حَتَّى أَتَيْتُهُ بِهَا عَلَى عَاتِقِي، حَتَّى وَضَعْتُهَا بَيْنَ يَدَيْهِ فَقَالَ: «مَا هَذِهِ، أَصَدَقَةٌ أَمْ هَدِيَّةٌ؟» قُلْتُ: بَلْ صَدَقَةٌ، فَقَالَ لِأَصْحَابِهِ: «كُلُوا بِاسْمِ اللَّهِ» ، وَأَمْسَكَ وَلَمْ يَأْكُلْ، فَلَبِثْتُ أَيَّامًا ثُمَّ اشْتَرَيْتُ لَحْمًا أَيْضًا بِدِرْهَمٍ فَأَصْنَعُ مِثْلَهَا، فَاحْتَمَلْتُهَا حَتَّى أَتَيْتُهُ بِهَا فَوَضَعْتُهَا بَيْنَ يَدَيْهِ، فَقَالَ: «مَا هَذِهِ، هَدِيَّةٌ أَمْ صَدَقَةٌ؟» قُلْتُ: بَلْ هَدِيَّةٌ، فَقَالَ لِأَصْحَابِهِ: «كُلُوا بِاسْمِ اللَّهِ» وَأَكَلَ مَعَهُمْ، قُلْتُ: هَذَا وَاللَّهِ يَأْكُلُ الْهَدِيَّةَ وَلَا يَأْكُلُ الصَّدَقَةَ، فَنَظَرْتُ بَيْنَ كَتِفَيْهِ فَرَأَيْتُ خَاتَمَ النُّبُوَّةِ مِثْلَ بَيْضَةِ الْحَمَامَةِ فَأَسْلَمْتُ، ثُمَّ قُلْتُ لَهُ ذَاتَ يَوْمٍ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَيُّ قَوْمٍ النَّصَارَى؟ قَالَ: «لَا خَيْرَ فِيهِمْ» وَكُنْتُ أُحِبُّهُمْ حُبًّا شَدِيدًا لِمَا رَأَيْتُ مِنِ اجْتِهَادِهِمْ، ثُمَّ إِنِّي سَأَلْتُهُ أَيْضًا بَعْدَ أَيَّامٍ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَيُّ قَوْمٍ النَّصَارَى؟ قَالَ: «لَا خَيْرَ فِيهِمْ وَلَا فِيمَنْ يُحِبُّهُمْ» قُلْتُ فِي نَفْسِي: فَأَنَا وَاللَّهِ أُحِبُّهُمْ. قَالَ: وَذَاكَ وَاللَّهِ حِينَ بَعَثَ السَّرَايَا وَجَرَّدَ السَّيْفَ، فَسَرِيَّةٌ تَدْخُلُ، وَسَرِيَّةٌ تَخْرُجُ، وَالسَّيْفُ يَقْطُرُ، قُلْتُ: يُحَدَّثُ بِيَ الْآنَ أَنِّي أُحِبُّهُمْ فَيَبْعَثُ إِلَيَّ فَيَضْرِبُ عُنُقِي، فَقَعَدْتُ فِي الْبَيْتِ، فَجَاءَنِي الرَّسُولُ ذَاتَ يَوْمٍ فَقَالَ: «يَا سَلْمَانُ أَجِبْ» قُلْتُ: مَنْ؟ قَالَ: «رَسُولُ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم» قُلْتُ: هَذَا وَاللَّهِ الَّذِي كُنْتُ أَحْذَرُ، قُلْتُ: نَعَمْ، أَنِ اذْهَبْ حَتَّى أَلْحَقَكَ، قَالَ: «لَا وَاللَّهِ حَتَّى تَجِيءَ» وَأَنَا أُحَدِّثُ نَفْسِي أَنْ لَوْ ذَهَبَ أَنْ أَفِرَّ، فَانْطَلَقَ بِي فَانْتَهَيْتُ إِلَيْهِ، فَلَمَّا رَآنِي تَبَسَّمَ وَقَالَ لِي: «يَا سَلْمَانُ، أَبْشِرْ فَقَدْ فَرَّجَ اللَّهُ عَنْكَ» ثُمَّ تَلَا عَلَيَّ هَؤُلَاءِ الْآيَاتِ {الَّذِينَ آتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ مِنْ قَبْلِهِ هُمْ بِهِ يُؤْمِنُونَ. وَإِذَا يُتْلَى عَلَيْهِمْ قَالُوا آمَنَّا بِهِ، إِنَّهُ الْحَقُّ مِنْ رَبِّنَا، إِنَّا كُنَّا مِنْ قَبْلِهِ مُسْلِمِينَ. أُولَئِكَ يُؤْتَوْنَ أَجْرَهُمْ مَرَّتَيْنِ بِمَا صَبَرُوا، وَيَدْرءُونَ بِالْحَسَنَةِ السَّيِّئَةَ، وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ. وَإِذَا سَمِعُوا اللَّغْوَ أَعْرَضُوا عَنْهُ، وَقَالُوا لَنَا أَعْمَالُنَا وَلَكُمْ أَعْمَالُكُمْ، سَلَامٌ عَلَيْكُمْ، لَا نَبْتَغِي الْجَاهِلِينَ} قُلْتُ: وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقَّ، لَقَدْ سَمِعْتُهُ يَقُولُ: لَوْ أَدْرَكْتُهُ وَأَمَرَنِي أَنْ أُوقَعَ فِي النَّارِ لَوَقَعْتُهَا، إِنَّهُ نَبِيٌّ لَا يَقُولُ إِلَّا حَقًّا وَلَا يَأْمُرُ إِلَّا بِالْحَقِّ "
৮ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন দাউদ আল-মাক্কী, তিনি কায়েস বিন হাফস আদ-দারিমি থেকে, তিনি মাসলামাহ বিন আলকামা আল-মাযিনি থেকে, তিনি দাউদ বিন আবি হিন্দ থেকে, তিনি সিমাক বিন হারব থেকে, তিনি সালামাহ আল-ইজলি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার এক ভাগ্নে পল্লী অঞ্চল থেকে আমার কাছে আসল, তাকে কুদামা বলা হতো। আমার ভাগ্নে আমাকে বলল: আমি সালমান আল-ফারসির সাথে সাক্ষাৎ করতে এবং তাকে সালাম দিতে চাই। আমরা বের হলাম এবং তাকে আল-মাদায়েনে পেলাম। তখন তিনি বিশ হাজার মানুষের আমীর ছিলেন। আমরা তাকে একটি তক্তপোশের উপর বসে খেজুর পাতা বুনতে দেখলাম। আমরা তাকে সালাম দিলাম। আমি বললাম: হে আবু আব্দুল্লাহ, এই আমার ভাগ্নে পল্লী অঞ্চল থেকে আমার কাছে এসেছে, সে আপনাকে সালাম দিতে চায়। তিনি বললেন: তার উপর শান্তি ও আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। আমি বললাম: সে দাবি করে যে সে আপনাকে ভালোবাসে। তিনি বললেন: আল্লাহ তাকে ভালোবাসুন। তিনি বলেন: এরপর আমরা কথা বললাম। আমরা তাকে বললাম: হে আবু আব্দুল্লাহ, আপনি কি আমাদের আপনার মূল পরিচয় এবং আপনি কার বংশধর সে সম্পর্কে কিছু বলবেন না? তিনি বললেন: আমার মূল পরিচয় এবং আমি কার বংশধর সে বিষয়ে কথা হলো, আমি রামাহুরমুজের একজন লোক। আমরা এক অগ্নিউপাসক জাতি ছিলাম। তখন আমাদের কাছে আল-জাজিরা এলাকা থেকে একজন খ্রিস্টান লোক আসলেন, যার মা আমাদের বংশের ছিলেন। তিনি আমাদের মধ্যে বসবাস শুরু করলেন এবং আমাদের এলাকায় একটি গির্জা তৈরি করলেন। আমি তখন ফারসি ভাষা শিক্ষার স্কুলে পড়তাম। আমার সাথে স্কুলে একটি বালক ছিল, যে সব সময় কাঁদতে কাঁদতে মার খেয়ে আসত, তার বাবা-মা তাকে মারতেন। একদিন আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম: তুমি কাঁদছ কেন? সে বলল: আমার বাবা-মা আমাকে মারেন। আমি বললাম: তারা কেন তোমাকে মারেন? সে বলল: আমি এই গির্জার অধিকারীর কাছে যাই, আর যখন তারা এটি জানতে পারেন তখন তারা আমাকে মারেন। তুমিও যদি তার কাছে যেতে তবে তার কাছ থেকে বিস্ময়কর সব কথা শুনতে পেতে। আমি বললাম: আমাকে তোমার সাথে নিয়ে চলো। এরপর আমরা তার কাছে গেলাম। তিনি আমাদের কাছে সৃষ্টির সূচনা এবং আসমান-জমিন, জান্নাত ও জাহান্নাম সৃষ্টির সূচনা সম্পর্কে বর্ণনা করলেন। তিনি বলেন: তিনি আমাদের কাছে বিস্ময়কর সব বিষয় বর্ণনা করলেন। আমি ওই বালকের সাথে তার কাছে যাতায়াত করতে লাগলাম। স্কুলের অন্য বালকরা আমাদের বিষয়টি বুঝতে পারল এবং তারাও আমাদের সাথে আসতে শুরু করল। যখন গ্রামের লোকেরা বিষয়টি দেখল, তারা তার কাছে এসে বলল: হে ব্যক্তি, আপনি আমাদের প্রতিবেশী হয়ে আছেন এবং আপনার থেকে আমরা ভালো আচরণ ছাড়া আর কিছুই দেখিনি। কিন্তু আমরা দেখছি আমাদের বালকরা আপনার কাছে যাতায়াত করছে এবং আমরা ভয় পাচ্ছি যে আপনি তাদেরকে আমাদের জন্য নষ্ট করে ফেলবেন। আপনি আমাদের এখান থেকে চলে যান। তিনি বললেন: ঠিক আছে। এরপর তিনি ওই বালকটিকে বললেন যে তার কাছে আসত: তুমি আমার সাথে চলো। সে বলল: আমি তা পারব না, আপনি তো জানেন আমার বাবা-মা আমার প্রতি কতটা কঠোর। আমি বললাম: কিন্তু আমি আপনার সাথে যাব। আমি এতিম ছিলাম, আমার বাবা ছিল না। তাই আমি তার সাথে বেরিয়ে পড়লাম। আমরা রামাহুরমুজের পাহাড়ের পথ ধরলাম। আমরা হাঁটতাম এবং আল্লাহর ওপর ভরসা করতাম আর গাছের ফলমূল খেতাম। এভাবে আমরা আল-জাজিরায় পৌঁছলাম, এরপর আমরা নুসাইবিনে পৌঁছলাম। আমার সঙ্গী আমাকে বললেন: হে সালমান, এখানে এমন একদল লোক আছে যারা পৃথিবীবাসীর মধ্যে সর্বোত্তম ইবাদতকারী, আমি তাদের সাথে সাক্ষাৎ করতে চাই। তিনি বলেন: আমরা রবিবার দিন তাদের কাছে আসলাম যখন তারা সমবেত হয়েছিল। আমার সঙ্গী তাদের সালাম দিলেন। তারা তাকে অভিনন্দন জানালেন এবং তাকে দেখে আনন্দিত হলেন। তারা বললেন: আপনি এতদিন কোথায় অনুপস্থিত ছিলেন? তিনি বললেন: আমি পারস্যের দিকে আমার কিছু ভাইদের সাথে ছিলাম। এরপর আমরা কিছু কথা বললাম। তারপর আমার সঙ্গী আমাকে বললেন: হে সালমান, ওঠো, চলে যাই। আমি বললাম: না, আমাকে এদের সাথেই থাকতে দিন। তিনি বললেন: তারা যা সহ্য করতে পারে তুমি তা পারবে না। তারা এক রবিবার থেকে অন্য রবিবার পর্যন্ত রোজা রাখে এবং সারা রাত ঘুমায় না। সেখানে তাদের মধ্যে রাজপুত্রদের একজন এমন ছিল যে রাজত্ব ত্যাগ করে ইবাদতে মগ্ন হয়েছিল। আমি তাদের মধ্যে সন্ধ্যা পর্যন্ত ছিলাম। এরপর তারা একে একে তাদের নিজ নিজ গুহায় চলে যেতে লাগল যেখানে তারা থাকত। যখন সন্ধ্যা হলো, সেই রাজপুত্রদের একজন বললেন: এই বালকটিকে তোমরা একাকী ফেলে রেখো না, তোমাদের মধ্য থেকে কোনো একজন তাকে সাথে নিয়ে যাও। তারা বলল: আপনিই তাকে নিয়ে যান। তিনি বললেন: হে সালমান, এদিকে এসো। তিনি আমাকে সাথে করে তার গুহায় নিয়ে গেলেন যেখানে তিনি থাকতেন। তিনি বললেন: হে সালমান, এই হলো রুটি আর এই হলো তরকারি; যখন তোমার ক্ষুধা লাগবে তখন খেয়ে নিও, যখন উদ্যম পাবে তখন রোজা রেখো, যতক্ষণ ইচ্ছা হয় নামাজ পড়ো এবং যখন অলসতা আসবে তখন ঘুমিয়ে নিও। এরপর তিনি তার নামাজে দাঁড়িয়ে গেলেন। তিনি ওই কথাগুলো ছাড়া আমার সাথে আর কোনো কথা বললেন না এবং আমার দিকে তাকালেনও না। সেই সাত দিন আমি চরম দুশ্চিন্তায় কাটালাম, কেউ আমার সাথে কথা বলছিল না। যখন রবিবার আসল, তিনি আমার দিকে মনোযোগ দিলেন। আমরা তাদের সমবেত হওয়ার জায়গায় গেলাম। তিনি বলেন: তারা প্রতি রবিবার একত্রিত হতো এবং ইফতার করত। তারা একে অপরের সাথে দেখা করত এবং সালাম বিনিময় করত। এরপর পরবর্তী রবিবারের আগে তাদের আর দেখা হতো না। তিনি বলেন: আমরা আমাদের জায়গায় ফিরে এলাম। তিনি আমাকে প্রথমবার যা বলেছিলেন তাই বললেন: এই হলো রুটি ও তরকারি; ক্ষুধা লাগলে খেও, উদ্যম পেলে রোজা রেখো, ইচ্ছা হলে নামাজ পড়ো আর অলসতা বোধ করলে ঘুমিয়ে নিও। এরপর তিনি তার নামাজে ঢুকে গেলেন এবং পরবর্তী রবিবার পর্যন্ত আমার দিকে ফিরেও তাকালেন না বা কথা বললেন না। আমার খুব দুশ্চিন্তা হলো এবং মনে মনে পালিয়ে যাওয়ার কথা ভাবলাম। আমি বললাম, আমি আরও দুই বা তিন রবিবার ধৈর্য ধরি। যখন রবিবার এল, আমরা তাদের কাছে ফিরে গেলাম। তারা ইফতার করল এবং একত্রিত হলো। তিনি তাদের বললেন: আমি বাইতুল মাকদিসে যাওয়ার ইচ্ছা করছি। তারা বলল: আপনি সেখানে কেন যেতে চান? তিনি বললেন: অনেকদিন সেখানে যাওয়া হয়নি। তারা বলল: আমরা ভয় পাচ্ছি আপনার কোনো বিপদ হতে পারে এবং আপনার সেবা অন্য কেউ করতে পারে, অথচ আমরাই আপনার সেবা করতে চাই। তিনি বললেন: অনেকদিন সেখানে যাওয়া হয় না। যখন আমি তাকে এই কথা বলতে শুনলাম, আমি খুশি হলাম। আমি মনে মনে বললাম: আমরা সফর করব এবং মানুষের সাথে দেখা হবে, ফলে আমার এই দুশ্চিন্তা দূর হবে। আমি এবং তিনি বেরিয়ে পড়লাম। তিনি এক রবিবার থেকে অন্য রবিবার পর্যন্ত রোজা রাখতেন, সারা রাত নামাজ পড়তেন এবং সারা দিন হাঁটতেন। যখন আমরা কোথাও বিরতি নিতাম, তিনি নামাজে দাঁড়িয়ে যেতেন। বাইতুল মাকদিসে পৌঁছানো পর্যন্ত এটিই ছিল তার অভ্যাস। তার দরজায় একজন পঙ্গু ব্যক্তি ছিল যে মানুষের কাছে সাহায্য চাইত। সে বলল: আমাকে কিছু দিন। তিনি বললেন: আমার কাছে তো কিছুই নেই। আমরা বাইতুল মাকদিসে প্রবেশ করলাম। যখন বাইতুল মাকদিসের লোকেরা তাকে দেখল, তারা তার দিকে এগিয়ে এল এবং তাকে দেখে আনন্দিত হলো। তিনি তাদের বললেন: এই আমার বালক, তোমরা তার প্রতি খেয়াল রেখো। তারা আমাকে নিয়ে গেল এবং আমাকে রুটি ও মাংস খাওয়াল। আর তিনি নামাজে ঢুকে গেলেন। পরবর্তী রবিবার না আসা পর্যন্ত তিনি আমার দিকে ফিরে তাকালেন না। এরপর তিনি নামাজ শেষ করে ফিরে আসলেন এবং আমাকে বললেন: হে সালমান, আমি একটু বিশ্রাম নিতে চাই, যখন ছায়া অমুক অমুক জায়গায় পৌঁছাবে তখন আমাকে জাগিয়ে দিও। তিনি মাথা রাখলেন এবং ঘুমিয়ে পড়লেন। ছায়া সেই জায়গায় পৌঁছে গেল যা তিনি বলেছিলেন, কিন্তু তার কঠোর ইবাদত ও ক্লান্তির প্রতি মায়া করে আমি তাকে জাগালাম না। তিনি ভীত অবস্থায় জেগে উঠলেন এবং বললেন: হে সালমান, আমি কি তোমাকে বলিনি যে ছায়া যখন অমুক অমুক জায়গায় পৌঁছাবে তখন আমাকে জাগিয়ে দিও? আমি বললাম: হ্যাঁ, বলেছিলেন। কিন্তু আপনার ক্লান্তি ও পরিশ্রম দেখে মায়া লাগায় আমি আপনাকে জাগাইনি। তিনি বললেন: তোমার আফসোস হে সালমান! আমি অপছন্দ করি যে আমার জীবনের এমন কোনো সময় অতিবাহিত হোক যাতে আমি আল্লাহর জন্য কোনো ভালো কাজ করিনি। এরপর তিনি বললেন: হে সালমান, জেনে রেখো, আজকের দিনে সর্বোত্তম দ্বীন হলো খ্রিস্টধর্ম। আমি বললাম: আজকের পর কি খ্রিস্টধর্মের চেয়েও উত্তম কোনো দ্বীন আসবে? - এটি এমন একটি কথা যা আমার মুখে চলে এসেছিল। তিনি বললেন: হ্যাঁ, শীঘ্রই একজন নবী প্রেরিত হবেন যিনি উপহার গ্রহণ করবেন কিন্তু দান-সদকা খাবেন না, তার দুই কাঁধের মাঝে নবুওয়াতের মোহর থাকবে। তুমি যদি তাকে পাও তবে তার অনুসরণ করো এবং তাকে বিশ্বাস করো। আমি বললাম: যদি তিনি আমাকে খ্রিস্টধর্ম ত্যাগ করার আদেশ দেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, কারণ তিনি এমন একজন নবী যিনি সত্য ছাড়া কোনো আদেশ দেন না এবং সত্য ছাড়া কিছু বলেন না। আল্লাহর শপথ, আমি যদি তাকে পেতাম আর তিনি যদি আমাকে আগুনে ঝাঁপ দেওয়ার আদেশ দিতেন, তবে আমি তাতে ঝাঁপ দিতাম। এরপর আমরা বাইতুল মাকদিস থেকে বের হলাম। আমরা সেই পঙ্গু লোকটির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। সে তাকে বলল: আপনি যখন প্রবেশ করেছিলেন তখন আমাকে কিছু দেননি, এখন বের হচ্ছেন, এখন তো আমাকে কিছু দিন। তিনি এদিক ওদিক তাকিয়ে কাউকে দেখলেন না। তিনি বললেন: তোমার হাত আমাকে দাও। তিনি তার হাত ধরলেন এবং বললেন: আল্লাহর হুকুমে উঠে দাঁড়াও। তখন সে সুস্থ ও স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়ে গেল এবং তার পরিবারের দিকে রওনা দিল। আমি যা দেখলাম তাতে বিস্ময়ে তার দিকে তাকিয়ে রইলাম। আমার সঙ্গী বেরিয়ে গেলেন এবং দ্রুত হাঁটতে লাগলেন, আমিও তার অনুসরণ করলাম। পথিমধ্যে কালব গোত্রের একদল আরব বেদুইনের সাথে আমার দেখা হলো, তারা আমাকে বন্দি করল। তারা আমাকে একটি উটের ওপর বসিয়ে শক্ত করে বাঁধল। এরপর ব্যবসায়ীরা আমাকে হাতবদল করতে লাগল যতক্ষণ না আমি মদিনায় পৌঁছালাম। মদিনার আনসারদের এক ব্যক্তি আমাকে কিনে নিলেন এবং তার খেজুর বাগানে আমাকে কাজ দিলেন। আমি সেখানেই থাকলাম। তিনি বলেন: সেখান থেকেই আমি খেজুর পাতা বোনার কাজ শিখলাম। আমি এক দিরহাম দিয়ে খেজুর পাতা কিনতাম এবং তা দিয়ে কাজ করে দুই দিরহামে বিক্রি করতাম। এক দিরহাম আবার পাতা কেনার জন্য রাখতাম আর এক দিরহাম নিজের খরচে ব্যয় করতাম। আমি নিজের হাতের উপার্জন থেকে খেতে পছন্দ করতাম। অথচ তিনি তখন বিশ হাজার মানুষের আমীর ছিলেন। আমরা মদিনায় থাকাবস্থায় আমাদের কাছে খবর পৌঁছল যে, মক্কায় এক ব্যক্তি আত্মপ্রকাশ করেছেন যিনি দাবি করেন যে আল্লাহ তাআলা তাকে রসূল হিসেবে পাঠিয়েছেন। আমরা সেখানে আল্লাহ যতদিন চাইলেন থাকলাম। এরপর তিনি আমাদের কাছে হিজরত করে আসলেন। আমি বললাম: আল্লাহর শপথ, আমি অবশ্যই তাকে পরীক্ষা করব। আমি বাজারে গিয়ে এক দিরহাম দিয়ে উটের মাংস কিনলাম এবং তা রান্না করলাম। এরপর আমি সারীদ দিয়ে একটি পাত্র প্রস্তুত করলাম। সেটি কাঁধে করে তার কাছে নিয়ে গেলাম এবং তার সামনে রাখলাম। তিনি বললেন: "এটি কী, সদকা নাকি উপহার?" আমি বললাম: বরং এটি সদকা। তিনি তার সাহাবীদের বললেন: "তোমরা আল্লাহর নামে শুরু করে খাও।" কিন্তু তিনি নিজে বিরত থাকলেন এবং খেলেন না। আমি কয়েক দিন অপেক্ষা করলাম। এরপর আবার এক দিরহাম দিয়ে মাংস কিনলাম এবং আগের মতোই খাবার তৈরি করলাম। সেটি বহন করে তার কাছে নিয়ে গেলাম এবং তার সামনে রাখলাম। তিনি বললেন: "এটি কী, উপহার নাকি সদকা?" আমি বললাম: বরং এটি উপহার। তখন তিনি তার সাহাবীদের বললেন: "তোমরা আল্লাহর নামে শুরু করে খাও" এবং তিনি নিজেও তাদের সাথে খেলেন। আমি বললাম: আল্লাহর শপথ, ইনি উপহার গ্রহণ করেন কিন্তু সদকা খান না। এরপর আমি তার দুই কাঁধের মাঝখানে তাকালাম এবং কবুতরের ডিমের মতো নবুওয়াতের মোহর দেখতে পেলাম। তখন আমি ইসলাম গ্রহণ করলাম। একদিন আমি তাকে বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, খ্রিস্টানরা কেমন লোক? তিনি বললেন: "তাদের মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই।" আমি তাদের খুব বেশি পছন্দ করতাম কারণ আমি তাদের ইবাদতের একাগ্রতা দেখেছিলাম। এরপর কয়েক দিন পর আমি তাকে আবার জিজ্ঞেস করলাম: হে আল্লাহর রাসূল, খ্রিস্টানরা কেমন লোক? তিনি বললেন: "তাদের মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই এবং তাদের মধ্যেও নেই যারা তাদের পছন্দ করে।" আমি মনে মনে বললাম: আল্লাহর শপথ, আমি তো তাদের পছন্দ করি। তিনি বলেন: আল্লাহর শপথ, এটি ছিল সেই সময়ের কথা যখন তিনি যুদ্ধের সেনাদল পাঠাচ্ছিলেন এবং তরবারি উন্মুক্ত করেছিলেন। একটি দল জিহাদে প্রবেশ করছিল এবং আরেকটি দল ফিরে আসছিল, আর তরবারি থেকে রক্ত ঝরছিল। আমি বললাম: এখন যদি আমার সম্পর্কে জানা যায় যে আমি তাদের ভালোবাসি, তবে তিনি লোক পাঠিয়ে আমার গর্দান উড়িয়ে দেবেন। তাই আমি ঘরে বসে থাকলাম। একদিন এক বার্তাবাহক আমার কাছে এসে বলল: "হে সালমান, উত্তর দাও।" আমি বললাম: কে ডেকেছেন? সে বলল: "আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।" আমি বললাম: আল্লাহর শপথ, এটিই ছিল যা আমি ভয় পাচ্ছিলাম। আমি বললাম: হ্যাঁ, তুমি চলো আমি আসছি। সে বলল: "না, আল্লাহর শপথ, যতক্ষণ না তুমি সাথে আসবে।" আমি মনে মনে ভাবছিলাম যে সে যদি একা চলে যেত তবে আমি পালিয়ে যেতাম। সে আমাকে নিয়ে গেল এবং আমি রাসূলের কাছে পৌঁছলাম। যখন তিনি আমাকে দেখলেন, তিনি হাসলেন এবং বললেন: "হে সালমান, সুসংবাদ গ্রহণ করো, আল্লাহ তোমার দুশ্চিন্তা দূর করেছেন।" এরপর তিনি আমার কাছে এই আয়াতগুলো পাঠ করলেন: {যাদেরকে আমি এর পূর্বে কিতাব দান করেছি, তারা এতে বিশ্বাস করে। আর যখন তাদের কাছে এটি পাঠ করা হয়, তখন তারা বলে, আমরা এতে ঈমান এনেছি, নিশ্চয় এটি আমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে সত্য। আমরা এর পূর্বেই আত্মসমর্পণকারী ছিলাম। তারাই দুইবার পুরস্কৃত হবে তাদের ধৈর্যের কারণে, তারা মন্দের মোকাবিলা ভালো দিয়ে করে এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে তারা ব্যয় করে। আর যখন তারা অনর্থক কথা শোনে তখন তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বলে, আমাদের আমল আমাদের জন্য এবং তোমাদের আমল তোমাদের জন্য; তোমাদের প্রতি সালাম, আমরা অজ্ঞদের সাথে জড়াতে চাই না।} আমি বললাম: সেই সত্তার শপথ যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন, আমি তাকে বলতে শুনেছি: আমি যদি তাকে পেতাম আর তিনি যদি আমাকে আগুনে ঝাঁপ দেওয়ার আদেশ দিতেন, তবে আমি তাতে ঝাঁপ দিতাম। নিশ্চয়ই তিনি এমন এক নবী যিনি সত্য ছাড়া কিছু বলেন না এবং সত্য ছাড়া কোনো আদেশ দেন না।"
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল তিওয়াল লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ٢١١)
9 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْقَاسِمِ بْنِ مُسَاوِرٍ الْجَوْهَرِيُّ، قَالَ: ثنا سَعِيدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْوَاسِطِيُّ، قَالَ: ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْقُدُّوسِ، قَالَ: ثنا عُبَيْدٌ الْمُكَتِّبُ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو الطُّفَيْلِ، قَالَ: حَدَّثَنِي سَلْمَانُ، قَالَ: كُنْتُ رَجُلًا مِنْ أَهْلِ جَيَّ، وَكَانَ أَهْلُ قَرْيَتِي يَعْبُدُونَ الْخَيْلَ الْبُلْقَ، فَكُنْتُ أَعْرِفُ أَنَّهُمْ لَيْسُوا عَلَى شَيْءٍ، فَقِيلَ لِي: إِنَّ الَّذِي تَطْلُبُ إِنَّمَا هُوَ بِالْمَغْرِبِ، فَخَرَجْتُ حَتَّى أَتَيْتُ الْمَوْصِلَ، فَسَأَلْتُ عَنْ أَفْضَلِ رَجُلٍ بِهَا، فَدُلِلْتُ عَلَى رَجُلٍ فِي صَوْمَعَةٍ ثُمَّ ذَكَرَ نَحْوَهُ. وَقَالَ فِي آخِرِهِ: فَقُلْتُ لِصَاحِبِي: بِعْنِي نَفْسِي، قَالَ: نَعَمْ، عَلَى أَنْ تُنْبِتَ لِي مِائَةَ نَخْلَةٍ، فَإِذَا نَبَتْنَ جِئْتَنِي بِوَزْنِ نَوَاةٍ مِنْ ذَهَبٍ، فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم، فَأَخْبَرْتُهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «اشْتَرِ نَفْسَكَ بِالَّذِي سَأَلَكَ، وَائْتِنِي بِدَلْوٍ مِنْ مَاءِ الْبِئْرِ الَّتِي كُنْتَ تَسْقِي مِنْهَا النَّخْلَ» قَالَ: فَدَعَا لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِيهَا ثُمَّ سَقَيتُهَا، فَوَاللَّهِ لَقَدْ غَرَسْتُ مِائَةَ نَخْلَةٍ فَمَا غَادَرَتْ مِنْهَا نَخْلَةٌ إِلَّا نَبَتَتْ، فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرْتُهُ أَنَّ النَّخْلَ قَدْ نَبَتْنَ، فَأَعْطَانِي قِطْعَةً مِنْ ذَهَبٍ فَانْطَلَقْتُ بِهَا فَوَضَعْتُهَا فِي كِفَّةِ الْمِيزَانِ وَوَضَعَ فِي الْجَانِبِ الْآخَرِ نَوَاةً، فَوَاللَّهِ مَا اسْتَقَلَّتِ الْقِطْعَةُ الذَّهَبُ مِنَ الْأَرْضِ، قَالَ: وَجِئْتُ رَسُولَ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرْتُهُ فَأَعْتَقَنِي "
৯ - আমাদের নিকট আহমাদ ইবনুল কাসিম ইবনে মুসাবির আল-জাওহারী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সাঈদ ইবনে সুলায়মান আল-ওয়াসিতী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল কুদ্দুস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট উবাইদ আল-মুকাত্তিব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু তুফায়েল আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সালমান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি 'জায়' অধিবাসীদের একজন লোক ছিলাম। আমার গ্রামের লোকেরা সাদা-কালো রঙের ঘোড়ার পূজা করত। আমি জানতাম যে তারা সঠিক কোনো কিছুর ওপর নেই। আমাকে বলা হলো: তুমি যা খুঁজছো তা পশ্চিমে রয়েছে। অতঃপর আমি বেরিয়ে পড়লাম এবং মসুল এসে পৌঁছালাম। আমি সেখানকার শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। আমাকে ইবাদতখানায় অবস্থানরত এক ব্যক্তির কথা বলা হলো। এরপর তিনি (বর্ণনাকারী) অনুরূপ ঘটনা উল্লেখ করেন। আর এর শেষে সালমান বলেন: আমি আমার মালিককে বললাম: আমাকে আমার নিজের কাছে বিক্রি করো (অর্থাৎ মুক্তির বিনিময়ে চুক্তিবদ্ধ হও)। সে বলল: হ্যাঁ, তবে শর্ত হলো তুমি আমার জন্য একশটি খেজুর গাছ রোপণ করবে। যখন সেগুলো বড় হয়ে উঠবে, তখন তুমি আমার কাছে একটি খেজুরের আঁটির ওজনের সমান সোনা নিয়ে আসবে। অতঃপর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলাম এবং তাঁকে বিষয়টি অবহিত করলাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "সে তোমার কাছে যা চেয়েছে তার বিনিময়ে নিজেকে ক্রয় করে নাও। আর তুমি যে কূপ থেকে খেজুর গাছে পানি দিতে, সেই কূপের এক বালতি পানি নিয়ে আমার কাছে আসো।" সালমান বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই পানিতে আমার জন্য দোয়া করলেন, তারপর আমি তা দিয়ে সেচ দিলাম। আল্লাহর কসম! আমি একশটি খেজুর গাছ রোপণ করেছিলাম, যার একটিও বাদ যায়নি বরং সবগুলোই সজীব হয়ে বেড়ে উঠেছিল। অতঃপর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলাম এবং তাঁকে সংবাদ দিলাম যে খেজুর গাছগুলো সজীব হয়ে উঠেছে। তখন তিনি আমাকে এক টুকরো সোনা দিলেন। আমি সেটি নিয়ে গেলাম এবং তা দাঁড়িপাল্লার এক পাশে রাখলাম, আর সে (মালিক) অন্য পাশে একটি আঁটি রাখল। আল্লাহর কসম! সোনার টুকরোটি (ভারী হওয়ার কারণে) মাটি থেকে উপরে ওঠেনি। তিনি বলেন: এরপর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে তাঁকে সংবাদ দিলাম এবং তিনি আমাকে মুক্ত করে দিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল তিওয়াল লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ٢١٢)
‌‌إِسْلَامُ أَبِي قِرْصَافَةَ وَاسْمُهُ جَنْدَرَةُ بْنُ خَيْشَنَّةَ رضي الله عنه
আবু কিরসাফাহর ইসলাম গ্রহণ এবং তাঁর নাম জানদারাহ ইবনে খাইশান্নাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল তিওয়াল লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ٢١٢)
10 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ قُتَيْبَةَ الْعَسْقَلَانِيُّ، قَالَ: ثنا أَيُّوبُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْهَيْصَمِ، قَالَ: ثنا زِيَادُ بْنُ سَيَّارٍ، قَالَ: أَخْبَرَتْنِي عَزَّةُ بِنْتُ عِيَاضِ بْنِ أَبِي قِرْصَافَةَ أَنَّهَا سَمِعَتْ جَدَّهَا أَبَا قِرْصَافَةَ، صَاحِبَ رَسُولِ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: كَانَ بَدْءُ إِسْلَامِي أَنِّي كُنْتُ يَتِيمًا بَيْنَ أُمِّي وَخَالَتِي، وَكَانَ أَكْثَرُ مَيْلِي إِلَى خَالَتِي، وَكُنْتُ أَرْعَى شُوَيْهَاتٍ لِي، وَكَانَتْ خَالَتِي كَثِيرًا مَا تَقُولُ لِي: يَا بُنَيَّ، لَا تَمُرَّ إِلَى هَذَا الرَّجُلِ، تَعْنِي رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَيُغْوِيَكَ وَيُضِلَّكَ، فَكُنْتُ أَخْرُجُ حَتَّى آتِيَ الْمَرْعَى، فَأَتْرُكُ شُوَيْهَاتِي ثُمَّ آتِي النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، فَلَا أَزَالُ عِنْدَهُ أَسْمَعُ مِنْهُ، ثُمَّ أَرُوحُ بِغَنَمِي ضُمَّرًا يَابِسَاتِ الضُّرُوعِ، وَقَالَتْ لِي خَالَتِي: مَا لِغَنَمِكَ يَابِسَاتِ الضُّرُوعِ؟ قُلْتُ: مَا أَدْرِي، ثُمَّ عُدْتُ إِلَيْهِ الْيَوْمَ الثَّانِيَ، فَفَعَلَ كَمَا فَعَلَ فِي الْيَوْمِ الْأَوَّلِ، غَيْرَ أَنِّي سَمِعْتُهُ يَقُولُ: «أَيُّهَا النَّاسُ، هَاجِرُوا وَتمَسَّكُوا بِالْإِسْلَامِ؛ فَإِنَّ الْهِجْرَةَ لَا تَنْقَطِعُ مَا دَامَ الْجِهَادُ» ثُمَّ إِنِّي رَجَعْتُ بِغَنَمِي كَمَا رَجَعْتُ الْيَوْمَ الْأَوَّلَ، ثُمَّ عُدْتُ إِلَيْهِ فِي الْيَوْمِ الثَّالِثِ فَلَمْ أَزَلْ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَسْمَعُ مِنْهُ حَتَّى أَسْلَمْتُ وَبَايَعْتُ وَصَافَحْتُهُ بِيَدِي، وَشَكَوْتُ إِلَيْهِ أَمْرَ خَالَتِي وَأَمْرَ غُنَيْمَاتِي، فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «جِئْنِي بِالشِّيَاهِ» فَجِئْتُهُ بِهِنَّ فَمَسَحَ ضُرُوعَهُنَّ وَظُهُورَهُنَّ وَدَعَا فِيهِنَّ بِالْبَرَكَةِ، فَامْتَلَأَتْ شَحْمًا وَلَبَنًا، فَلَمَّا دَخَلْتُ عَلَى خَالَتِي بِهِنَّ قَالَتْ: يَا بُنَيَّ، هَكَذَا فَارْعَ، قُلْتُ: يَا خَالَةُ، مَا رَعَيْتُ إِلَّا حَيْثُ كُنْتُ أَرْعَى كُلَّ يَوْمٍ، وَلَكِنْ أُخْبرُكِ بِقِصَّتِي، وَأَخْبَرْتُهَا بِالْقِصَّةِ، وَإِتيَانِي النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، وَأَخْبَرْتُهَا بِسِيرَتِهِ وَبِكَلَامِهِ، فَقَالَتْ أُمِّي وَخَالَتِي: اذْهَبْ بِنَا إِلَيْهِ، فَذَهَبْتُ أَنَا وَأُمِّي وَخَالَتِي، فَأَسْلَمَتَا وَبَايَعَتَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَصَافَحْنَاهُ، فَهَذَا مَا كَانَ مِنْ إِسْلَامِ أَبِي قِرْصَافَةَ وَهِجْرَتِهِ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم. قَالَ زِيَادٌ: وَكَانَ أَبُو قِرْصَافَةَ يَسْكُنُ أَرْضَ تِهَامَةَ
১০ - মুহাম্মদ ইবনুল হাসান ইবনে কুতাইবা আল-আসকালানী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আইয়ুব ইবনে আলী ইবনুল হাইসাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জিয়াদ ইবনে সাইয়্যার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আজ্জাহ বিনতে ইয়াদ ইবনে আবু কিরসাফাহ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি তাঁর দাদা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবী আবু কিরসাফাহকে বলতে শুনেছেন: আমার ইসলাম গ্রহণের সূচনা ছিল এমন যে, আমি আমার মা ও খালার নিকট একজন এতিম হিসেবে ছিলাম। আমার অধিক ঝোঁক ছিল আমার খালার দিকে। আমি আমার কয়েকটি ছোট ভেড়া চরাতাম। আমার খালা আমাকে প্রায়ই বলতেন: "হে প্রিয় বৎস! তুমি এই লোকটির (অর্থাৎ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর) নিকট যেয়ো না, নতুবা তিনি তোমাকে বিভ্রান্ত করবেন এবং পথভ্রষ্ট করবেন।" অতঃপর আমি বের হতাম এবং চারণভূমিতে পৌঁছাতাম। সেখানে আমি আমার ছোট ভেড়াগুলোকে রেখে দিতাম, এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসতাম। আমি তাঁর নিকট অবস্থান করে তাঁর কথা শুনতাম। এরপর আমি কৃশকায় ও শুষ্ক ওলানবিশিষ্ট ভেড়াগুলো নিয়ে ফিরে আসতাম। আমার খালা আমাকে বললেন: "তোমার ভেড়াগুলোর ওলান কেন শুষ্ক?" আমি বললাম: "আমি জানি না।" এরপর দ্বিতীয় দিন আমি পুনরায় তাঁর কাছে গেলাম। প্রথম দিনের মতোই সবকিছু ঘটল, তবে আমি তাঁকে বলতে শুনলাম: "হে লোকসকল! তোমরা হিজরত করো এবং ইসলামকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরো; কেননা জিহাদ যতদিন অবশিষ্ট থাকবে, হিজরত ততদিন বন্ধ হবে না।" এরপর আমি প্রথম দিনের মতোই আমার ভেড়াগুলো নিয়ে ফিরে গেলাম। অতঃপর তৃতীয় দিনে আমি পুনরায় তাঁর নিকট আসলাম। আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট অবস্থান করে তাঁর কথা শুনলাম এবং পরিশেষে আমি ইসলাম গ্রহণ করলাম, বায়আত হলাম এবং নিজ হাত দ্বারা তাঁর সাথে মুসাফাহা করলাম। আমি তাঁর নিকট আমার খালার বিষয় এবং আমার ছোট ভেড়াগুলোর বিষয় সম্পর্কে অভিযোগ করলাম। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন: "ভেড়াগুলোকে আমার নিকট নিয়ে এসো।" আমি সেগুলো তাঁর নিকট নিয়ে আসলাম। তিনি সেগুলোর ওলান ও পিঠে হাত বুলিয়ে দিলেন এবং সেগুলোর জন্য বরকতের দোয়া করলেন। ফলে সেগুলো চর্বি ও দুধে ভরপুর হয়ে গেল। আমি যখন সেগুলো নিয়ে আমার খালার নিকট প্রবেশ করলাম, তিনি বললেন: "হে প্রিয় বৎস! এভাবেই পশু চরাও।" আমি বললাম: "হে খালা! আমি প্রতিদিন যেখানে চরাতাম সেখানেই চরালাম। তবে আমি আপনাকে আমার ঘটনাটি বলছি।" অতঃপর আমি তাঁকে পুরো ঘটনা এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আমার গমনের কথা বললাম। আমি তাঁকে তাঁর জীবনী ও কথাবার্তা সম্পর্কেও অবহিত করলাম। তখন আমার মা ও খালা বললেন: "আমাদেরকে তাঁর নিকট নিয়ে চলো।" আমি, আমার মা ও খালা তাঁর নিকট গেলাম। তাঁরা উভয়েই ইসলাম গ্রহণ করলেন এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বায়আত হলেন এবং আমরা তাঁর সাথে মুসাফাহা করলাম। এই ছিল আবু কিরসাফাহর ইসলাম গ্রহণ ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হিজরতের ঘটনা। জিয়াদ বলেন: আবু কিরসাফাহ তিহামাহ অঞ্চলে বসবাস করতেন।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল তিওয়াল লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ٢١٤)
‌‌إِسْلَامُ عَمْرِو بْنِ عَبَسَةَ السُّلَمِيِّ رضي الله عنه وَيُكَنَّى أَبَا نَجِيحٍ
আমর ইবনে আবাসা আস-সুলামী (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর ইসলাম গ্রহণ এবং তাঁর উপনাম ছিল আবু নাজীহ
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল তিওয়াল লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ٢١٤)
11 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيٍّ الصَّائِغُ الْمَكِّيُّ، قَالَ: ثنا يَزِيدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ مَيْمُونِ بْنِ مِهْرَانَ قَالَ: ثنا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي شَدَّادُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الدِّمَشْقِيُّ، قَالَ: ثنا أَبُو أُمَامَةَ الْبَاهِلِيُّ، قَالَ: قُلْتُ لِعَمْرِو بْنِ عَبَسَةَ: بِأَيِّ شَيْءٍ تُدْعَى رُبُعَ الْإِسْلَامِ؟ قَالَ: إِنِّي كُنْتُ فِي الْجَاهِلِيَّةِ أَرَى النَّاسَ عَلَى ضَلَالَةٍ، لَا أَرَى الْأَوْثَانَ شَيْئًا، ثُمَّ سَمِعْتُ الرِّجَالَ تُخْبِرُ أَخْبَارًا بِمَكَّةَ وَتُحَدِّثُ أَحَادِيثَ، فَرَكِبْتُ رَاحِلَتِي حَتَّى قَدِمْتُ مَكَّةَ، فَإِذَا أَنَا بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُسْتَخْفِيًا، وَإِذا قَوْمُهُ عَلَيْهِ جُرَآءٌ، فَتَلَطَّفْتُ لَهُ فَدَخَلْتُ عَلَيْهِ، فَقُلْتُ: مَا أَنْتَ؟ قَالَ: «أَنَا نَبِيٌّ» ، قُلْتُ: وَمَا نَبِيٌّ؟ قَالَ: «رَسُولُ اللَّهِ» ، قُلْتُ: اللَّهُ أَرْسَلَكَ؟ قَالَ: «نَعَمْ» ، قُلْتُ: " بِأَيِّ شَيْءٍ أُرسِلْتَ؟ قَالَ: «بِتَوْحِيدِ اللَّهِ، لَا تُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا، وَكَسْرِ الْأَوْثَانِ، وَصِلَةِ الرَّحِمِ» ، قُلْتُ: فَمَنْ مَعَكَ عَلَى هَذَا؟ قَالَ: «حُرٌّ وَعَبْدٌ» وَإِذا مَعَهُ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي قُحَافَةَ وَعَبْدٌ بِلَالٌ مَوْلَى أَبِي بَكْرٍ، قُلْتُ: إِنِّي مَعَكَ مُتَّبِعُكَ، قَالَ: «لَا تَسْتَطِيعُ ذَلِكَ يَوْمَكَ هَذَا، وَلَكِنِ ارْجِعْ إِلَى أَهْلِكَ، فَإِذَا سَمِعْتَ أَنِّي قَدْ ظَفِرْتُ فَالْحَقْ بِي» ، فَرَجَعْتُ إِلَى أَهْلِي وَقَدْ أَسْلَمْتُ، فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُهَاجِرًا إِلَى الْمَدِينَةِ، فَجَعَلْتُ أَتَخَبَّرُ الْأَخْبَارَ حَتَّى جَاءَ رَكْبٌ مِنْ يَثْرِبَ، فَقُلْتُ: مَا فَعَلَ هَذَا الرَّجُلُ الْمَكِّيُّ الَّذِي أَتَاكُمْ؟ قَالُوا: أَرَادَ قَوْمُهُ قَتْلَهُ فَلَمْ يَسْتَطِيعُوا ذَلِكَ، وَحِيلَ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَهُ، فَرَكِبَ النَّاسُ إِلَيْهِ سِرَاعًا. قَالَ عَمْرُو بْنُ عَبَسَةَ، فَرَكِبْتُ رَاحِلَتِي حَتَّى قَدِمْتُ الْمَدِينَةَ، فَدَخَلْتُ عَلَيْهِ فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَتَعْرِفُنِي؟ قَالَ: «نَعَمْ، أَلَسْتَ الَّذِي أَتَيْتَنِي بِمَكَّةَ؟» قُلْتُ: بَلَى، فعَلِّمْنِي مَا عَلَّمَكَ اللَّهُ، قَالَ: «فَإِذَا صَلَّيْتَ الصُّبْحَ فَأَقْصِرْ عَنِ الصَّلَاةِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ، فَإِذَا طَلَعَتْ فَلَا تُصَلِّ حَتَّى تَرْتَفِعَ؛ فَإِنَّهَا تَطْلُعُ بَيْنَ قَرْنَيْ شَيْطَانٍ، وَحِينَئِذٍ يَسْجُدُ لَهَا الْكُفَّارُ، فَإِذَا ارْتَفَعَتْ قِيدَ رُمْحٍ فَصَلِّ، فَإِنَّ الصَّلَاةَ مَشْهُودَةٌ لِحُضُورِهِ، حَتَّى يَسْتَقِلَّ الرُّمْحُ بِالظِّلِّ، ثُمَّ أَقْصِرْ عَنِ الصَّلَاةِ، فَإِنَّهَا حِينَئِذٍ تُسَعَّرُ جَهَنَّمُ، فَإِذَا فَاءَ الْفَيْءُ فَصَلِّ، فَإِنَّ الصَّلَاةَ مَشْهُودَةٌ مَحْضُورَةٌ حَتَّى تُصَلِّيَ الْعَصْرَ، فَإِذَا صَلَّيْتَ الْعَصْرَ فَأَقْصِرْ عَنِ الصَّلَاةِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ؛ فَإِنَّهَا تَغْرُبُ بَيْنَ قَرْنَيْ شَيْطَانٍ، وَحِينَئِذٍ يَسْجُدُ لَهَا الْكُفَّارُ» ، قَالَ: فَقُلْتُ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ، أَخْبِرْنِي عَنِ الْوُضُوءِ، قَالَ: «مَا مِنْكُمْ رَجُلٌ يَقْرَبُ مِنْ وُضُوئِهِ ثُمَّ يُمَضْمِضُ وَيَسْتَنْشِقُ إِلَّا خَرَجَتْ خَطَايَاهُ مِنْ فَمِهِ وَخَيَاشِيمِهِ مَعَ الْمَاءِ حِينَ يَسْتَنْثِرُ، ثُمَّ يَغْسِلُ وَجْهَهُ كَمَا أَمَرَهُ اللَّهُ عز وجل إِلَّا خَرَجَتْ خَطَايَا وَجْهِهِ مِنْ أَطْرَافِ لِحْيَتِهِ مَعَ الْمَاءِ، ثُمَّ يَغْسِلُ يَدَيْهِ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ كَمَا أَمَرَهُ اللَّهُ عز وجل إِلَّا خَرَجَتْ خَطَايَا يَدَيْهِ مِنْ أَطْرَافِ أَنَامِلِهِ مَعَ الْمَاءِ، ثُمَّ يَمْسَحُ رَأْسَهُ كَمَا أَمَرَهُ اللَّهُ عز وجل إِلَّا خَرَجَتْ خَطَايَا رَأْسِهِ مِنْ أَطْرَافِ شَعْرِهِ مَعَ الْمَاءِ، ثُمَّ يَغْسِلُ قَدَمَيْهِ إِلَى الْكَعْبَيْنِ كَمَا أَمَرَهُ اللَّهُ عز وجل إِلَّا خَرَجَتْ خَطَايَا قَدَمَيْهِ مِنْ أَطْرَافِ أَصَابِعِهِ مَعَ الْمَاءِ، ثُمَّ يَقُومُ فَيَحْمَدُ اللَّهَ وَيُثْنِي عَلَيْهِ بِالَّذِي هُوَ لَهُ أَهْلٌ، ثُمَّ يَرْكَعُ رَكْعَتَيْنِ إِلَّا انْصَرَفَ مِنْ ذُنُوبِهِ كَهَيْأَةِ يَوْمِ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ» . قَالَ أَبُو أُمَامَةَ: يَا عَمْرُوَ بْنَ عَبْسَةَ، انْظُرْ مَا تَقُولُ، سَمِعْتَ هَذَا كُلَّهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم؟ أَيُعْطَى الرَّجُلُ هَذَا كُلَّهُ فِي مَقَامَةٍ؟ فَقَالَ عَمْرُو بْنُ عَبَسَةَ: يَا أَبَا أُمَامَةَ، كَبِرَتْ سِنِّي، وَرَقَّ عَظْمِي، وَاقْتَرَبَ أَجَلِي، وَمَا بِي مِنْ حَاجَةٍ أَنْ أَكْذِبَ عَلَى اللَّهِ عز وجل وَعَلَى رَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم، لَوْ لَمْ أَسْمَعْهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَّا مَرَّةً أَوْ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا، لَقَدْ سَمِعْتُ مِنْهُ سَبْعَ مَرَّاتٍ وَأَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ
১১ - মুহাম্মদ ইবনে আলী আস-সায়িগ আল-মাক্কী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াযিদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াযিদ ইবনে মাইমুন ইবনে মিহরান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইকরিমা ইবনে আম্মার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শাদ্দাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আদ-দিমাশকী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু উমামা আল-বাহিলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমর ইবনে আবাসাহ-কে বললাম: কোন কারণে আপনাকে ইসলামের এক-চতুর্থাংশ বলা হয়? তিনি বললেন: আমি জাহেলিয়াতের যুগে দেখতাম যে মানুষ পথভ্রষ্টতার ওপর রয়েছে এবং আমি মূর্তিসমূহকে কোনো কিছুই মনে করতাম না। এরপর আমি মক্কায় একজন ব্যক্তির সংবাদ শুনতে পেলাম যিনি বিভিন্ন খবর ও কথা বলছেন। তখন আমি আমার সওয়ারিতে আরোহণ করে মক্কায় পৌঁছলাম। সেখানে গিয়ে দেখলাম আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আত্মগোপন করে আছেন এবং তাঁর কওম তাঁর ওপর অত্যন্ত চড়াও হচ্ছে। আমি কৌশলে তাঁর কাছে পৌঁছলাম এবং প্রবেশ করে বললাম: আপনি কে? তিনি বললেন: «আমি একজন নবী»। আমি বললাম: নবী কী? তিনি বললেন: «আল্লাহর রাসূল»। আমি বললাম: আল্লাহ কি আপনাকে পাঠিয়েছেন? তিনি বললেন: «হ্যাঁ»। আমি বললাম: আপনাকে কী দিয়ে পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন: «আল্লাহর তাওহীদ (একত্ববাদ) দিয়ে—যাতে তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরীক না করা হয়, মূর্তিসমূহ ভেঙে ফেলা হয় এবং আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখা হয়»। আমি বললাম: এই পথে আপনার সাথে আর কে আছে? তিনি বললেন: «একজন স্বাধীন ব্যক্তি এবং একজন দাস»। তখন তাঁর সাথে ছিলেন আবু বকর ইবনে আবি কুহাফা এবং বিলাল—যিনি আবু বকরের মুক্তদাস ছিলেন। আমি বললাম: আমি আপনার সাথে থেকে আপনার অনুসরণ করতে চাই। তিনি বললেন: «বর্তমান সময়ে তুমি তা পারবে না। বরং তুমি তোমার পরিবারের কাছে ফিরে যাও। যখন তুমি শুনবে যে আমি বিজয় লাভ করেছি, তখন আমার সাথে এসে মিলিত হয়ো»। ফলে আমি আমার পরিবারের কাছে ফিরে গেলাম এবং আমি ইসলাম কবুল করেছিলাম। এরপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হিজরত করে মদিনায় চলে গেলেন। আমি খবরাখবর নিতে থাকলাম, এমনকি একদল আরোহী ইয়াসরিব (মদিনা) থেকে এলে আমি তাদের বললাম: মক্কার সেই লোকটির খবর কী, যিনি তোমাদের কাছে এসেছেন? তারা বলল: তার কওম তাকে হত্যা করতে চেয়েছিল কিন্তু তারা তা পারেনি, তাদের ও তাঁর মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। আর মানুষ দ্রুতগতিতে তাঁর দিকে ছুটে যাচ্ছে। আমর ইবনে আবাসাহ বলেন: এরপর আমি আমার সওয়ারিতে আরোহণ করে মদিনায় পৌঁছলাম। আমি তাঁর কাছে প্রবেশ করে বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি কি আমাকে চিনতে পারছেন? তিনি বললেন: «হ্যাঁ, আপনিই কি সেই ব্যক্তি নন যে মক্কায় আমার কাছে এসেছিলেন?» আমি বললাম: অবশ্যই। সুতরাং আল্লাহ আপনাকে যা শিখিয়েছেন তা থেকে আমাকে কিছু শেখান। তিনি বললেন: «যখন তুমি ফজরের সালাত আদায় করবে, তখন সূর্য উদয় হওয়া পর্যন্ত সালাত থেকে বিরত থাকবে। যখন সূর্য উদিত হবে, তখন সেটি উপরে না ওঠা পর্যন্ত সালাত পড়বে না; কারণ তা শয়তানের দুই শিংয়ের মাঝখান দিয়ে উদিত হয় এবং সেই সময় কাফেররা তাকে সিজদা করে। এরপর যখন তা এক বল্লম পরিমাণ উপরে উঠবে, তখন সালাত পড়বে; কারণ এই সালাতে ফেরেশতারা উপস্থিত থাকেন এবং সাক্ষী হিসেবে থাকেন, যতক্ষণ না বল্লমের ছায়া স্থির হয় (মধ্যাহ্ন কাল)। এরপর সালাত থেকে বিরত থাকবে, কারণ সেই সময় জাহান্নামকে উত্তপ্ত করা হয়। তারপর যখন ছায়া ফিরতে শুরু করবে (ঢলে পড়বে), তখন সালাত পড়বে; কারণ এই সালাতে ফেরেশতারা উপস্থিত ও সাক্ষী হিসেবে থাকেন, যতক্ষণ না আসরের সালাত আদায় করো। আসরের সালাত পড়ার পর সূর্য ডুবা পর্যন্ত সালাত থেকে বিরত থাকবে; কারণ তা শয়তানের দুই শিংয়ের মাঝখানে অস্ত যায় এবং তখন কাফেররা তাকে সিজদা করে»। তিনি (আমর) বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর নবী, আমাকে ওযু সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: «তোমাদের মধ্যে এমন কোনো ব্যক্তি নেই যে ওযুর পানি নিকটে নেয়, অতঃপর কুলি করে এবং নাকে পানি দিয়ে পরিষ্কার করে, তবে পানি ঝরিয়ে দেওয়ার সাথে সাথেই তার মুখ ও নাসারন্ধ্র থেকে তার গুনাহসমূহ বের হয়ে যায়। এরপর যখন সে তার মুখমণ্ডল ধৌত করে—যেমনটি আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাকে নির্দেশ দিয়েছেন—তখন তার মুখমণ্ডলের গুনাহসমূহ তার দাড়ির অগ্রভাগ দিয়ে পানির সাথে ঝরে যায়। এরপর যখন সে তার দুই হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করে—যেমনটি আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাকে নির্দেশ দিয়েছেন—তখন তার দুই হাতের গুনাহসমূহ তার আঙুলের ডগা দিয়ে পানির সাথে ঝরে যায়। এরপর যখন সে তার মাথা মাসাহ করে—যেমনটি আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাকে নির্দেশ দিয়েছেন—তখন তার মাথার গুনাহসমূহ তার চুলের অগ্রভাগ দিয়ে পানির সাথে ঝরে যায়। এরপর যখন সে তার দুই পা টাখনু পর্যন্ত ধৌত করে—যেমনটি আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাকে নির্দেশ দিয়েছেন—তখন তার দুই পায়ের গুনাহসমূহ তার পায়ের আঙুলের ডগা দিয়ে পানির সাথে ঝরে যায়। এরপর সে দাঁড়িয়ে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করে—যেটির তিনি যোগ্য—এবং দুই রাকাত সালাত আদায় করে, তবে সে তার গুনাহ থেকে এমনভাবে মুক্ত হয় যেন তার মা তাকে আজই জন্ম দিয়েছে»। আবু উমামা বললেন: হে আমর ইবনে আবাসাহ, আপনি কী বলছেন ভেবে দেখুন! আপনি কি এই সবকিছু আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে শুনেছেন? একজন মানুষকে কি এক আসনেই এই সব দান করা হবে? তখন আমর ইবনে আবাসাহ বললেন: হে আবু উমামা, আমার বয়স হয়েছে, আমার হাড় দুর্বল হয়ে গেছে এবং আমার অন্তিম সময় ঘনিয়ে এসেছে। আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর মিথ্যা বলার কোনো প্রয়োজন আমার নেই। আমি যদি এটি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে একবার, দুবার বা তিনবার শুনতাম (তবে হয়তো বর্ণনায় সংশয় থাকত), কিন্তু আমি এটি তাঁর থেকে সাতবারেরও বেশি শুনেছি।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল তিওয়াল লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ٢١٦)
12 -‌‌ إِسْلَامُ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ رضي الله عنه
১২ -আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহুর ইসলাম গ্রহণ
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল তিওয়াল লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ٢١٨)
13 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدُوسِ بْنِ كَامِلٍ السَّرَّاجُ، قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ قَالَ: ثنا نُمَيْرٌ، قَالَ: ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ قَالَ: حَدَّثَنِي يَزِيدُ بْنُ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ رَاشِدٍ مَوْلَى حَبِيبِ بْنِ أَبِي أَوْسٍ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي أَوْسٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ الْعَاصِ مِنْ فِيهِ إِلَى أُذُنِي قَالَ: لَمَّا انْصَرَفْنَا مِنَ الْأَحْزَابِ عَنِ الْخَنْدَقِ جَمَعْتُ رِجَالًا مِنْ قُرَيْشٍ فَقُلْتُ لَهُمْ: أَتَرَوْنَ رَأْيِي وَتَسْمَعُونَ مِنِّي؟ قَالُوا: نَعَمْ، فَقُلْتُ: إِنِّي أَرَى أَمْرَ مُحَمَّدٍ يَعْلُو الْأُمُورَ عُلُوًّا شَدِيدًا، وَإِنِّي قَدْ رَأَيْتُ رَأْيًا، فَمَا تَرَوْنَ فِيهِ؟ قَالُوا: وَمَا هُوَ؟ قُلْتُ: أَرَى أَنْ نَلْحَقَ بِالنَّجَاشِيِّ، فَإِنْ ظَهَرَ مُحَمَّدٌ عَلَى قَوْمِنَا كُنَّا عِنْدَ النَّجَاشِيِّ فَنَكُونُ تَحْتَ يَدَيْهِ أَحَبُّ إِلَيْنَا مِنْ أَنْ نَكُونَ تَحْتَ يَدَيْ مُحَمَّدٍ، وَإِنْ ظَهَرَ قَوْمُنَا فَنَحْنُ مِنْهُمْ مَنْ قَدْ عَرَفُونَا، وَلَا يَأْتِينَا مِنْهُمْ إِلَّا خَيْرٌ، قَالُوا: إِنَّ هَذَا لَرَأْيٌ، فَقُلْتُ: فَاجْمَعُوا هَدَايَا نُهْدِيهَا لَهُ، وَكَانَ أَحَبُّ مَا يُهْدَى إِلَيْهِ مِنْ أَرْضِنَا الْأَدَمُ، قَالَ: فَجَمَعْنَا لَهُ أَدَمًا كَثِيرًا، ثُمَّ خَرَجْنَا حَتَّى قَدِمْنَا عَلَيْهِ، فَوَاللَّهِ إِنَّا لَعِنْدَهُ إِذْ جَاءَ عَمْرُو بْنُ أُمَيَّةَ الضَّمْرِيُّ، وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعَثَهُ إِلَيْهِ فِي شَأْنِ جَعْفَرٍ وَأَصْحَابِهِ، قَالَ: فَدَخَلُوا عَلَيْهِ ثُمَّ خَرَجُوا مِنْ عِنْدِهِ، فَقُلْتُ لَهُمْ يَعْنِي أَصْحَابَهِ: هَذَا عَمْرُو بْنُ أُمَيَّةَ، فَلَوْ دَخَلْنَا عَلَيْهِ فَقَدَّمْنَا إِلَيْهِ هَدَايَانَا فَسَأَلْتُهُ إِيَّاهُ فَأَعْطَانِيهِ فَقَتَلْتُهُ، فَإِذَا فَعَلْتُ ذَلِكَ رَأَتْ قُرَيْشٌ أَنِّي قَدْ أَجْزَأْتُ عَنْهَا حِينَ قَتَلْتُ رَسُولَ رَسُولِ اللَّهِ مُحَمَّدٍ، قَالَ: فَدَخَلْتُ عَلَيْهِ فَسَجَدْتُ لَهُ كَمَا كُنَّا نَصْنَعُ بِهِ، فَقَالَ: مَرْحَبًا بِكَ، هَلْ أَهْدَيْتَ إِلَيَّ مِنْ بِلَادِكَ أَشْيَاءَ؟ قُلْتُ: نَعَمْ، أَهْدَيْتُ لَكَ أَيُّهَا الْمَلِكُ أَدَمًا كَثِيرًا، قَالَ: فَقَرَّبْتُهُ إِلَيْهِ فَاشْتَهَاهُ وَأَعْجَبَهُ، فَقُلْتُ: أَيُّهَا الْمَلِكُ، إِنِّي رَأَيْتُ رَجُلًا خَرَجَ مِنْ عِنْدِكَ، وَهُوَ رَسُولُ رَجُلٍ عَدُوٍّ لَنَا، فَأَعْطِنِيهِ فَأَقْتُلَهُ، فَإِنَّهُ قَدْ أَصَابَ مِنْ أَشْرَافِنَا وَخِيَارِنَا، قَالَ: فَغَضِبَ وَمَدَّ يَدَهُ فَضَرَبَ بِهَا أَنْفَهُ ضَرْبَةً ظَنَنْتُ أَنَّهُ كَاسِرُهُ، قَالَ: فَلَوِ انْشَقَّتْ لِيَ الْأَرْضُ فَدَخَلْتُ مِنْهَا فَرَقًا مِنْهُ، فَقُلْتُ: أَيُّهَا الْمَلِكُ، وَاللَّهِ لَوْ ظَنَنْتُ أَنَّكَ تَكْرَهُ هَذَا مَا سَأَلْتُكَ، قَالَ: تَسْأَلُنِي أَنْ أُعْطِيَكَ رَجُلًا لِتَقْتُلَهُ وَهُوَ رَسُولُ رَجُلٍ يَأْتِيهِ النَّامُوسُ الْأَكْبَرُ الَّذِي كَانَ يَأْتِي مُوسَى، فَقُلْتُ لَهُ: كَذَلِكَ هُوَ؟ قَالَ: نَعَمْ، ثُمَّ قَالَ: وَيْحَكَ يَا عَمْرُو، أَطِعْنِي وَاتَّبِعْهُ، فَوَاللَّهِ إِنَّهُ عَلَى الْحَقِّ، وَلَيَظْهَرَنَّ عَلَى مَنْ خَالَفَهُ كَمَا ظَهَرَ مُوسَى صلى الله عليه وسلم عَلَى فِرْعَوْنَ وَجُنُودِهِ، فَقُلْتُ لَهُ: أَفَتُبَايِعُنِي لَهُ عَلَى الْإِسْلَامِ؟ قَالَ: نَعَمْ، فَبَسَطَ يَدَهُ فَبَايَعْتُهُ عَلَى الْإِسْلَامِ، ثُمَّ خَرَجْتُ مِنْ عِنْدِهِ إِلَى أَصْحَابِي وَقَدْ حَالَ رَأْيِي رَأْيَ عَمْرٍو عَمَّا كَانَ عَلَيْهِ، وَكَتَمْتُ أَصْحَابِي إِسْلَامِي، ثُمَّ خَرَجْتُ عَامِدًا لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِأُسْلِمَ، فَلَقِيتُ خَالِدَ بْنَ الْوَلِيدِ وَذَلِكَ قُبَيْلَ الْفَتْحِ وَهُوَ مُقْبِلٌ مِنْ مَكَّةَ، فَقُلْتُ: إِلَى أَيْنَ يَا أَبَا سُلَيْمَانَ، فَقَالَ: وَاللَّهِ لَقَدِ اسْتَقَامَ الْمَنْسِمُ، وَإِنَّ الرَّجُلَ لَعَلَى الْحَقِّ، وَأَنَا أَذْهَبُ لِأُسْلِمَ، فَقُلْتُ: وَأَنَا أَيْضًا، فَقَدِمْنَا الْمَدِينَةَ، فَأَتَيْنَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَتَقَدَّمَ خَالِدٌ وَأَسْلَمَ وَبَايَعَ، وَتَقَدَّمْتُ أَنَا وَقُلْتُ وَأَنَا أُبَايِعُ وَذَكَرْتُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِي، وَلَمْ أَذْكُرْ مَا اسْتَأْخَرَ، فَقَالَ: «بَايِعْ فَإِنَّ الْإِسْلَامَ يَجُبُّ مَا كَانَ قَبْلَهُ، وَالْهِجْرَةُ تَجُبُّ مَا كَانَ قَبْلَهَا»
১৩ - মুহাম্মদ ইবনে আবদুস ইবনে কামিল আস-সাররাজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে নুমাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নুমাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে ইদ্রিস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াযিদ ইবনে আবি হাবিব আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, রাশিদ থেকে—যিনি হাবিব ইবনে আবি আউসের মুক্তদাস ছিলেন—তিনি হাবিব ইবনে আবি আউস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমর ইবনুল আস সরাসরি নিজের মুখে আমার কানে কানে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন আমরা আহযাবের যুদ্ধ বা খন্দক থেকে ফিরে এলাম, আমি কুরাইশদের কিছু লোককে সমবেত করলাম এবং তাদের বললাম: তোমরা কি আমার অভিমতকে সঠিক মনে করো এবং আমার কথা কি শোনো? তারা বলল: হ্যাঁ। তখন আমি বললাম: আমি দেখছি যে মুহাম্মাদের বিষয়টি অন্যান্য সকল বিষয়ের উপর প্রবলভাবে বিজয়ী হতে চলেছে। আমি একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সে বিষয়ে তোমাদের মত কী? তারা বলল: সেটি কী? আমি বললাম: আমি মনে করি আমাদের নাজাশির নিকট চলে যাওয়া উচিত। যদি মুহাম্মাদ আমাদের জাতির উপর বিজয়ী হয়, তবে আমরা নাজাশির নিকট থাকব; আর তার অধীনে থাকা আমাদের কাছে মুহাম্মাদের অধীনে থাকার চেয়ে অধিক পছন্দনীয়। আর যদি আমাদের জাতি বিজয়ী হয়, তবে আমরা তাদেরই লোক এবং তারা আমাদের চেনে, তাদের থেকে আমাদের প্রতি কল্যাণ ছাড়া আর কিছুই আসবে না। তারা বলল: এটি তো একটি চমৎকার সিদ্ধান্ত। আমি বললাম: তবে তাকে উপহার দেওয়ার জন্য কিছু উপঢৌকন সংগ্রহ করো। আমাদের ভূমি থেকে তাকে উপহার দেওয়ার জন্য সবচেয়ে পছন্দনীয় বস্তু ছিল চামড়া। তিনি বলেন: আমরা তার জন্য প্রচুর পরিমাণে চামড়া সংগ্রহ করলাম। এরপর আমরা বের হলাম এবং তার নিকট পৌঁছালাম। আল্লাহর কসম, আমরা যখন তার নিকট ছিলাম, তখন আমর ইবনে উমাইয়াহ আদ-দামরি সেখানে উপস্থিত হলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে জাফর ও তার সাথীদের বিষয়ে নাজাশির কাছে পাঠিয়েছিলেন। তিনি বলেন: তারা তার (নাজাশির) কাছে প্রবেশ করল এবং এরপর সেখান থেকে বেরিয়ে এল। আমি আমার সঙ্গীদের বললাম: এই ব্যক্তি তো আমর ইবনে উমাইয়াহ। আমরা যদি নাজাশির কাছে গিয়ে আমাদের উপহারগুলো পেশ করি এবং তার কাছে এই লোকটিকে প্রার্থনা করি যে তিনি যেন তাকে আমার হাতে সোপর্দ করেন, তবে আমি তাকে হত্যা করব। আমি যদি এটি করতে পারি, তবে কুরাইশরা মনে করবে যে মুহাম্মাদের প্রেরিত দূতকে হত্যা করার মাধ্যমে আমি তাদের জন্য যথেষ্ট কাজ করেছি। তিনি বলেন: এরপর আমি তার কাছে প্রবেশ করলাম এবং তাকে সিজদা করলাম যেমনটি আমরা আগে করতাম। তিনি বললেন: তোমাকে স্বাগতম, তুমি কি তোমার দেশ থেকে আমার জন্য কোনো উপঢৌকন এনেছ? আমি বললাম: হ্যাঁ, হে সম্রাট, আপনার জন্য প্রচুর চামড়া উপহার এনেছি। তিনি বলেন: আমি সেগুলো তার নিকট পেশ করলাম, তিনি তা খুব পছন্দ করলেন এবং এতে খুশি হলেন। এরপর আমি বললাম: হে সম্রাট, আমি দেখলাম এক ব্যক্তি আপনার নিকট থেকে বেরিয়ে গেল, সে আমাদের এক শত্রুর প্রেরিত দূত। তাকে আমার হাতে দিন যাতে আমি তাকে হত্যা করতে পারি; কারণ সে আমাদের অনেক সম্মানিত ও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের হত্যা করেছে। তিনি বলেন: এতে তিনি (নাজাশি) ক্রোধান্বিত হলেন এবং নিজের হাত প্রসারিত করে তার নিজ নাকে এমন এক আঘাত করলেন যে আমি ভাবলাম তিনি তার নাক ভেঙে ফেলেছেন। তিনি বলেন: তার ভয়ে তখন যদি মাটি বিদীর্ণ হতো আর আমি তাতে ঢুকে যেতে পারতাম (তবে তাই করতাম)। আমি বললাম: হে সম্রাট, আল্লাহর কসম, আমি যদি জানতাম যে আপনি এটি অপছন্দ করবেন তবে আমি আপনার কাছে এমন আবেদন করতাম না। তিনি বললেন: তুমি কি আমার কাছে এমন এক ব্যক্তির আবেদন করছ যাকে হত্যা করতে চাও, অথচ তার নিকট সেই মহান ফিরিশতা (নামূসুল আকবার) আসেন যিনি মূসার নিকট আসতেন? আমি বললাম: সত্যিই কি তাই? তিনি বললেন: হ্যাঁ। এরপর তিনি বললেন: আফসোস তোমার প্রতি হে আমর! আমার কথা শোনো এবং তার আনুগত্য করো। আল্লাহর কসম, নিশ্চয়ই তিনি হকের উপর আছেন এবং তিনি তার বিরোধীদের ওপর অবশ্যই বিজয়ী হবেন যেমন মূসা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফেরাউন ও তার বাহিনীর উপর বিজয়ী হয়েছিলেন। তখন আমি তাকে বললাম: আপনি কি তার পক্ষ থেকে আমার নিকট ইসলামের বায়আত গ্রহণ করবেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। এরপর তিনি তার হাত প্রসারিত করলেন এবং আমি ইসলামের ওপর তার হাতে বায়আত গ্রহণ করলাম। এরপর আমি আমার সঙ্গীদের নিকট ফিরে গেলাম, কিন্তু আমরের চিন্তা-চেতনা তখন পুরোপুরি বদলে গেছে। আমি আমার সঙ্গীদের নিকট নিজের ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি গোপন রাখলাম। অতঃপর ইসলাম গ্রহণের উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দিকে রওয়ানা হলাম। পথিমধ্যে মক্কা বিজয়ের কিছুদিন আগে খালিদ ইবনুল ওয়ালিদের সাথে দেখা হলো, যিনি মক্কা থেকে আসছিলেন। আমি বললাম: হে আবু সুলাইমান, কোথায় যাচ্ছেন? তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, পথ এখন স্পষ্ট হয়ে গেছে; নিশ্চয়ই এই ব্যক্তি সত্যের ওপর আছেন এবং আমি ইসলাম গ্রহণ করতে যাচ্ছি। আমি বললাম: আমিও (একই উদ্দেশ্যে যাচ্ছি)। অতঃপর আমরা মদিনায় পৌঁছালাম এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত হলাম। খালিদ সামনে এগিয়ে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ করলেন ও বায়আত হলেন। এরপর আমি সামনে অগ্রসর হলাম এবং বায়আত হওয়ার সময় আমি আমার পূর্ববর্তী গুনাহের কথা উল্লেখ করলাম, কিন্তু পরবর্তী গুনাহের কথা উল্লেখ করলাম না। তিনি (রাসূলুল্লাহ) বললেন: "বায়আত গ্রহণ করো, কেননা ইসলাম পূর্বের সকল গুনাহ মিটিয়ে দেয় এবং হিজরতও তার পূর্বের সকল গুনাহ মিটিয়ে দেয়।"
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল তিওয়াল লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ٢٢٠)
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِسْحَاقَ السَّرَّاجُ النَّيْسَابُورِيُّ، قَالَ: ثنا إِسْحَاقُ بْنُ رَاهَوَيْهِ، قَالَ: ثنا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ، قَالَ: ثنا ابْنُ عَوْنٍ، عَنْ عُمَيْرِ بْنِ إِسْحَاقَ، قَالَ: " اسْتَأْذَنَ جَعْفَرُ بْنُ أَبِي طَالِبٍ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: أَتَأْذَنُ لِي أَنْ آتِيَ أَرْضًا أَعْبُدُ اللَّهَ فِيهَا لَا أَخَافُ أَحَدًا؟ قَالَ: فَأَذِنَ لَهُ فَأَتَى النَّجَاشِيَّ "

আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল ইবন ইসহাক আস-সাররাজ আন-নাইসাবুরি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবন রাহওয়াইহি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আন-নাদর ইবন শুমাইল, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবন আওন, উমাইর ইবন ইসহাক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "জাফর ইবন আবি তালিব আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট অনুমতি প্রার্থনা করে বললেন: আপনি কি আমাকে এমন এক দেশে যাওয়ার অনুমতি দেবেন যেখানে আমি আল্লাহর ইবাদত করব এবং কাউকে ভয় পাব না? তিনি বলেন: অতঃপর তিনি তাঁকে অনুমতি দিলেন এবং তিনি নাজাশি-র নিকট গমন করলেন।"

(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল তিওয়াল লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ٢٢٠)
قَالَ عُمَيْرٌ: فَحَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ الْعَاصِ قَالَ: لَمَّا رَأَيْتُ مَكَانَهُ حَسَدْتُهُ، لَأَسْتَقْبِلَنَّ لِهَذَا وَأَصْحَابِهِ، فَأَتَيْتُ النَّجَاشِيَّ فَدَخَلْتُ عَلَيْهِ فَقُلْتُ: إِنَّ بِأَرْضِكَ رَجُلًا ابْنُ عَمِّهِ بِأَرْضِنَا، وَإِنَّهُ يَزْعُمُ لَيْسَ لِلنَّاسِ إِلَّا إِلَهٌ وَاحِدٌ، وَإِنَّكَ إِنْ لَمْ تَقْتُلْهُ وَأَصْحَابَهُ لَمْ أَقْطَعْ إِلَيْكَ هَذِهِ النُّطْفَةَ أَنَا وَلَا أَحَدٌ مِنْ أَصْحَابِي، قَالَ: ادْعُهُ، قُلْتُ: إِنَّهُ لَا يَجِيءُ مَعَهُ فَأَرْسِلْ مَعِي رَسُولًا، قَالَ: فَجَاءَ فَانْتَهَيْنَا إِلَى الْبَابِ، فَنَادَيْتُ فَقُلْتُ: أَتَأْذَنُ لِعَمْرِو بْنِ الْعَاصِ؟ وَنَادَى هُوَ مِنْ خَلْفِي: أَتَأْذَنُ لِحِزْبِ اللَّهِ؟ فَسَمِعَ صَوْتَهُ فَأَذِنَ لَهُ مِنْ قَبْلُ، فَدَخَلَ هُوَ وَأَصْحَابُهُ، ثُمَّ أَذِنَ لِي فَجَلَسْتُ، فَذَكَرَ أَيْنَ كَانَ مَقْعَدُهُ مِنَ السَّرِيرِ، قَالَ: فَذَهَبْتُ حَتَّى قَعَدْتُ بَيْنَ يَدَيْهِ وَجَعَلْتُهُ خَلْفِي، وَجَعَلْتُ بَيْنَ كُلِّ رَجُلَيْنِ مِنْ أَصْحَابِهِ رَجُلًا مِنْ أَصْحَابِي، فَقَالَ النَّجَاشِيُّ: نَجِّرُوا، قَالَ عُمَيْرٌ: أَيْ تَكَلَّمُوا، فَقُلْتُ: إِنَّ بِأَرْضِكَ رَجُلًا ابْنُ عَمِّهِ بِأَرْضِنَا وَهُوَ يَزْعُمُ أَنْ لَيْسَ لِلنَّاسِ إِلَّا إِلَهٌ وَاحِدٌ، وَإِنَّكَ إِنْ لَمْ تَقْتُلْهُ وَأَصْحَابَهُ لَمْ نَقْطَعْ إِلَيْكَ هَذِهِ النُّطْفَةَ أَنَا وَلَا أَحَدٌ مِنْ أَصْحَابِي أَبَدًا، فَقَالَ جَعْفَرُ: صَدَقَ ابْنُ عَمِّي وَأَنَا عَلَى دِينِهِ، وَصَاحَ صِيَاحًا وَقَالَ: أُوَّهْ، حَتَّى قُلْتُ: وَمَا لِابْنِ الْحَبَشِيَّةِ لَا يَتَكَلَّمُ، ثُمَّ قَالَ: أَنَامُوسِيٌّ مِثْلُ نَامُوسِ مُوسَى؟، قَالَ: مَا يَقُولُ فِي عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ؟ قَالَ: يَقُولُ: «هُوَ رُوحُ اللَّهِ وَكَلِمَتُهُ» ، فَتَنَاوَلَ شَيْئًا مِنَ الْأَرْضِ فَقَالَ: مَا أَخْطَأَ فِي أَمْرِهِ مِثْلَ هَذِهِ، فَوَاللَّهِ لَوْلَا مُلْكِي لَاتَّبَعْتُكُمْ، وَقَالَ لِي: مَا كُنْتُ أُبَالِي أَنْ لَا تَأْتِيَنِي أَنْتَ وَلَا أَحَدٌ مِنْ أَصْحَابِكَ، يَا هَذَا، أَنْتَ آمِنٌ فِي أَرْضِي، فَمَنْ ضَرَبَكَ قَتَلْتُهُ، وَمَنْ سَبَّكَ عَزَّرْتُهُ، وَقَالَ لِآذِنِهِ: مَتَى اسْتَأْذَنَكَ هَذَا فَائْذَنْ لَهُ، إِلَّا أَنْ أَكُونَ عِنْدَ أَهْلِي، فَأَخْبِرْهُ أَنِّي عِنْدَ أَهْلِي، فَإِنْ أَبَى فَائْذَنْ لَهُ "، فَتَفَرَّقْنَا وَلَمْ يَكُنْ أَحَدٌ أَلْقَاهُ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ جَعْفَرٍ، فَاسْتَقْبَلَنِي فِي طَرِيقٍ مَرَّةً فَنَظَرْتُ خَلْفَهُ فَلَمْ أَرَ أَحَدًا، وَنَظَرْتُ خَلْفِي فَلَمْ أَرَ أَحَدًا، فَدَنَوْتُ مِنْهُ، فَقُلْتُ لَهُ: تَعْلَمُ أَنِّي أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، قَالَ: فَقَدْ هَدَاكَ اللَّهُ فَاثْبُتْ، فَتَرَكَنِي وَذَهَبَ، فَأَتَيْتُ أَصْحَابِي وَكَأَنَّمَا شَهِدُوهُ مَعِي، فَأَخَذُوا قَطِيفَةً أَوْ ثَوْبًا فَجَعَلُوهُ عَلَيَّ حَتَّى غَمَّوْنِي بِهَا، قَالَ: وَجَعَلْتُ أُخْرِجُ رَأْسِي مِنْ هَذِهِ النَّاحِيَةِ مَرَّةً وَمِنْ هَذِهِ النَّاحِيَةِ مَرَّةً حَتَّى أَفْلَتُّ وَمَا عَلَيَّ قِشْرَةٌ، فَمَرَرْتُ عَلَى حَبَشِيَّةٍ فَأَخَذْتُ قِنَاعَهَا عَلَى عَوْرَتِي، فَأَتَيْتُ جَعْفَرًا فَدَخَلْتُ عَلَيْهِ، فَقَالَ: مَا لَكَ؟ فَقُلْتُ: أُخِذَ كُلُّ شَيْءٍ لِي، مَا تُرِكَ عَلَيَّ قِشْرَةٌ، فَأَتَيْتُ حَبَشِيَّةً فَأَخَذْتُ قِنَاعَهَا فَجَعَلْتُهُ عَلَى عَوْرَتِي، فَانْطَلَقَ وَانْطَلَقْتُ مَعَهُ حَتَّى انْتَهَيْنَا إِلَى بَابِ الْمَلِكِ، فَقَالَ جَعْفَرٌ لِآذِنِهِ: اسْتَأْذِنْ لِي، فَقَالَ: إِنَّهُ عِنْدَ أَهْلِهِ، قَالَ: اسْتَأْذِنْ لِي، فَأَذِنَ لَهُ، فَقَالَ: إِنَّ عَمْرًا تَابَعَنِي عَلَى دِينِي، فَقَالَ: كَلَّا، قَالَ: بَلَى، فَقَالَ لِإِنْسَانٍ: اذْهَبْ مَعَهُ، فَإِنْ فَعَلَ فَلَا يَقُولَنَّ شَيْئًا إِلَّا كَتَبْتَهُ، قَالَ: فَجَاءَ فَقُلْتُ: نَعَمْ، فَجَعَلْتُ أَقُولُ وَجَعَلَ يَكْتُبُ حَتَّى كَتَبْتُ كُلَّ شَيْءٍ حَتَّى الْقَدَحِ، وَلَوْ شِئْتُ آخُذُ شَيْئًا مِنْ أَمْوَالِهِمْ إِلَى مَالِي لَفَعَلْتُ "

উমাইর বলেন: আমর ইবনুল আস আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমি যখন তার (জাফরের) মর্যাদা দেখলাম, তখন আমি তার প্রতি ঈর্ষান্বিত হলাম। আমি অবশ্যই এই ব্যক্তি এবং তার সাথীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব। অতঃপর আমি নাজ্জাসির নিকট আসলাম এবং তার দরবারে প্রবেশ করে বললাম: "আপনার দেশে এমন এক ব্যক্তি আছে যার চাচাতো ভাই আমাদের দেশে অবস্থান করছে। সে দাবি করে যে, মানুষের জন্য এক ইলাহ ব্যতীত অন্য কোনো ইলাহ নেই। আপনি যদি তাকে এবং তার সাথীদের হত্যা না করেন, তবে আমি এবং আমার কোনো সাথী এই সমুদ্র পাড়ি দিয়ে আপনার কাছে আর আসব না।" তিনি বললেন: "তাকে ডাকো।" আমি বললাম: "সে তো একাকী আসবে না, তাই আমার সাথে একজন দূত পাঠান।" তিনি (আমর) বলেন: অতঃপর দূত আসলেন এবং আমরা দরজায় পৌঁছালাম। আমি ডাক দিয়ে বললাম: "আপনি কি আমর ইবনুল আসকে অনুমতি দেবেন?" তখন সে (জাফর) আমার পেছন থেকে চিৎকার করে বলল: "আপনি কি আল্লাহর দলকে অনুমতি দেবেন?" নাজ্জাসি তার কণ্ঠস্বর শুনতে পেলেন এবং আমার আগেই তাকে অনুমতি দিলেন। ফলে সে এবং তার সাথীরা প্রবেশ করল। এরপর আমাকে অনুমতি দেওয়া হলো এবং আমি বসলাম। তিনি (আমর) সিংহাসনের কাছে তার বসার স্থানটির কথা উল্লেখ করলেন। তিনি বললেন: আমি এগিয়ে গেলাম এবং তার সামনে বসলাম এবং তাকে (জাফরকে) আমার পেছনে রাখলাম। আর তার সাথীদের প্রতি দুইজনের মাঝখানে আমার একজন করে সাথী বসিয়ে দিলাম। নাজ্জাসি বললেন: "নাজ্জিরু।" উমাইর বলেন: অর্থাৎ তোমরা কথা বলো। তখন আমি বললাম: "আপনার দেশে এমন এক ব্যক্তি আছে যার চাচাতো ভাই আমাদের দেশে অবস্থান করছে এবং সে দাবি করে যে মানুষের জন্য এক ইলাহ ব্যতীত অন্য কোনো ইলাহ নেই। আপনি যদি তাকে এবং তার সাথীদের হত্যা না করেন, তবে আমি এবং আমার কোনো সাথী কখনো এই সমুদ্র পাড়ি দিয়ে আপনার কাছে আসব না।" তখন জাফর বললেন: "আমার চাচাতো ভাই সত্য বলেছেন এবং আমি তার দ্বীনের ওপর আছি।" অতঃপর নাজ্জাসি উচ্চৈঃস্বরে এক চিৎকার দিলেন এবং বললেন: "আহ!", এমনকি আমি বললাম: "এই হাবশী নারীর পুত্রের কী হলো যে সে কথা বলছে না?" এরপর তিনি বললেন: "এটি কি মুসার নিকট আগমনকারী আসমানি বার্তার (নামুস) মতোই?" তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "মারইয়াম তনয় ঈসা সম্পর্কে সে কী বলে?" তিনি (জাফর) বললেন: "সে বলে: তিনি আল্লাহর রূহ এবং তাঁর বাণী।" তখন নাজ্জাসি মাটি থেকে কোনো একটি বস্তু হাতে নিলেন এবং বললেন: "ঈসার বিষয়ে তিনি এর চেয়ে সামান্যও বেশি কিছু বলেননি। আল্লাহর কসম! যদি আমার রাজত্ব না থাকত, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের অনুসরণ করতাম।" এরপর তিনি আমাকে বললেন: "তুমি বা তোমার সাথীদের কেউ আমার কাছে না আসলেও আমার কিছু যায় আসত না। হে ব্যক্তি! তুমি আমার দেশে নিরাপদ। যে তোমাকে আঘাত করবে আমি তাকে হত্যা করব, আর যে তোমাকে গালি দেবে আমি তাকে শাস্তি দেব।" তিনি তার দ্বাররক্ষীকে বললেন: "এই ব্যক্তি যখনই তোমার কাছে অনুমতি চাইবে, তাকে অনুমতি দিও। তবে আমি যদি আমার পরিবারের কাছে থাকি, তবে তাকে জানিও যে আমি পরিবারের সাথে আছি। যদি সে তা সত্ত্বেও দেখা করতে চায়, তবে তাকে অনুমতি দিও।" অতঃপর আমরা পৃথক হয়ে গেলাম। জাফরের চেয়ে প্রিয় আমার কাছে আর কেউ ছিল না। একদিন পথে আমার সাথে তার দেখা হলো। আমি তার পেছনে তাকালাম, কাউকে দেখলাম না। নিজের পেছনেও তাকালাম, কাউকে দেখলাম না। তখন আমি তার কাছে গেলাম এবং তাকে বললাম: "আপনি কি জানেন যে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল?" তিনি বললেন: "আল্লাহ তোমাকে হেদায়েত দিয়েছেন, সুতরাং অটল থাকো।" এরপর তিনি আমাকে রেখে চলে গেলেন। আমি আমার সাথীদের কাছে আসলাম, তারা যেন আমার সাথে সবকিছু প্রত্যক্ষ করেছে। তারা একটি চাদর বা কাপড় নিল এবং তা আমার ওপর ফেলে আমাকে চেপে ধরল। তিনি বলেন: আমি একবার এই দিক দিয়ে মাথা বের করছিলাম, আবার অন্য দিক দিয়ে মাথা বের করছিলাম, যতক্ষণ না আমি নিষ্কৃতি পেলাম এবং আমার শরীরে পোশাকের একটি বিন্দুমাত্র অংশও অবশিষ্ট ছিল না। আমি এক হাবশী নারীর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, তার ওড়নাটি নিয়ে আমার সতর ঢাকলাম। অতঃপর জাফরের কাছে এসে তার ঘরে প্রবেশ করলাম। তিনি বললেন: "তোমার কী হয়েছে?" আমি বললাম: "আমার সবকিছু কেড়ে নেওয়া হয়েছে, আমার শরীরে বিন্দুমাত্র পোশাক রাখা হয়নি। আমি এক হাবশী নারীর কাছ থেকে তার ওড়না নিয়ে তা দিয়ে আমার সতর ঢেকেছি।" তখন তিনি চললেন এবং আমিও তার সাথে চললাম, যতক্ষণ না আমরা রাজার দরজায় পৌঁছালাম। জাফর দ্বাররক্ষীকে বললেন: "আমার জন্য অনুমতি চাও।" সে বলল: "তিনি তো তার পরিবারের সাথে আছেন।" তিনি বললেন: "আমার জন্য অনুমতি চাও।" অতঃপর তাকে অনুমতি দেওয়া হলো। তিনি বললেন: "আমর আমার দ্বীন গ্রহণ করেছে।" রাজা বললেন: "কখনোই না।" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" রাজা একজনকে বললেন: "তার সাথে যাও, সে যা করে বা বলে তার প্রতিটি বিষয় লিখে রাখো।" তিনি বলেন: সে আসলেন এবং আমি বললাম: "হ্যাঁ।" আমি যা বলছিলাম সে তা-ই লিখে রাখছিল, এমনকি পানপাত্র পর্যন্ত সবকিছুই আমি লিখিয়ে নিলাম। আমি যদি চাইতাম তবে তাদের সম্পদ থেকে আমার সম্পদের সাথে কিছু যোগ করে নিতে পারতাম।"

(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল তিওয়াল লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ٢٢٠)
‌‌حَدِيثُ جَعْفَرِ بْنِ أَبِي طَالِبٍ مَعَ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ وَعِمَارَةَ بْنِ الْوَلِيدِ عِنْدَ النَّجَاشِيِّ
নাজ্জাশীর নিকট আমর ইবনুল আস ও ইমারা ইবনুল ওয়ালীদের সাথে জাফর ইবনে আবু তালিবের বিবরণ
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল তিওয়াল লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ٢٢٠)
14 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ الدِّيبَاجِيُّ التُّسْتَرِيُّ قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ آدَمَ الْمِصِّيصِيُّ قَالَ: ثنا أَسَدُ بْنُ عَمْرٍو الْبَجَلِيُّ الْكُوفِيُّ، قَالَ: ثنا مُجَالِدُ بْنُ سَعِيدٍ الْهَمْدَانِيُّ، عَنْ الشَّعْبِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرِ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: بَعَثَتْ قُرَيْشٌ عَمْرَو بْنَ الْعَاصِ وَعُمَارَةَ بْنَ الْوَلِيدِ بِهَدِيَّةٍ مِنْ أَبِي سُفْيَانَ إِلَى النَّجَاشِيِّ، فَقَالُوا لَهُ وَنَحْنُ عِنْدَهُ: قَدْ بَعَثُوا إِلَيْكَ أُنَاسًا مِنْ سَفَلَتِهِمْ وَسُفَهَائِهِمْ فَادْفَعْهُمْ إِلَيْنَا، قَالَ: لَا، حَتَّى أَسْمَعَ كَلَامَهُمْ، فَبَعَثَ إِلَيْنَا فَقَالَ: مَا تَقُولُونَ؟ قُلْنَا: إِنَّ قَوْمَنَا يَعْبُدُونَ الْأَوْثَانَ، وَإِنَّ اللَّهَ عز وجل بَعَثَ إِلَيْنَا رَسُولًا فَآمَنَّا بِهِ وَصَدَّقْنَاهُ، فَقَالَ لَهُمُ النَّجَاشِيُّ: عَبِيدٌ هُمْ لَكُمْ؟ قَالُوا: لَا، قَالَ: فَلَكُمْ عَلَيْهِمْ دَيْنٌ؟ قَالُوا: لَا، قَالَ: فَخَلُّوا سَبِيلَهُمْ، فَخَرَجْنَا مِنْ عِنْدِهِ، فَقَالَ عَمْرُو بْنُ الْعَاصِ: إِنَّ هَؤُلَاءِ يَقُولُونَ فِي عِيسَى غَيْرَ مَا تَقُولُونَ، قَالَ: إِنْ لَمْ يَقُولُوا فِي عِيسَى مِثْلَ مَا أَقُولُ لَمْ أَدَعْهُمْ فِي أَرْضِي سَاعَةً مِنْ نَهَارٍ، قَالَ: فَأَرْسَلَ إِلَيْنَا وَكَانَتِ الدَّعْوَةُ الثَّانِيَةُ أَشَدَّ عَلَيْنَا مِنَ الْأُولَى، فَقَالَ: مَا يَقُولُ صَاحِبُكُمْ فِي عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ؟ فَقُلْنَا: يَقُولُ: «هُوَ رُوحُ اللَّهِ وَكَلِمَتُهُ أَلْقَاهَا إِلَى الْعَذْرَاءِ الْبَتُولِ» ، قَالَ: فَأَرْسَلَ فَقَالَ: ادْعُوا فُلَانًا الْقَسَّ وَفُلَانًا الرَّاهِبَ، فَأَتَاهُ نَاسٌ مِنْهُمْ، فَقَالَ: مَا تَقُولُونَ فِي عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ، قَالُوا: أَنْتَ أَعْلَمُنَا فَمَا تَقُولُ؟ فَقَالَ النَّجَاشِيُّ وَأَخَذَ شَيْئًا مِنَ الْأَرْضِ ثُمَّ قَالَ: هَكَذَا عِيسَى، مَا زَادَ عَلَى مَا قَالَ هَؤُلَاءِ مِثْلَ هَذَا، ثُمَّ قَالَ لَهُمْ: أَيُؤْذِيكُمْ أَحَدٌ؟ قَالُوا: نَعَمْ، فَأَمَرَ مُنَادِيَا فَنَادَى: مَنْ آذَى أَحَدًا مِنْهُمْ فَأَغْرِمُوهُ أَرْبَعَةَ دَرَاهِمَ، ثُمَّ قَالَ: يَكْفِيكُمْ؟ فَقُلْنَا: لَا، فَأَضْعَفَهَا، فَلَمَّا هَاجَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْمَدِينَةِ وَظَهَرَ بِهَا قُلْنَا لَهُ: إِنَّ صَاحِبَنَا خَرَجَ إِلَى الْمَدِينَةِ وَهَاجَرَ وَقَتَلَ الَّذِينَ كُنَّا حَدَّثْنَاكَ عَنْهُمْ، وَقَدْ أَرَدْنَا الرَّحِيلَ فَزَوِّدْنَا، قَالَ: نَعَمْ، فَحَمَلَنَا وَزَوَّدَنَا وَأَعْطَانَا، ثُمَّ قَالَ: أَخْبِرْ صَاحِبَكَ بِمَا صَنَعْتُ إِلَيْكُمْ، وَهَذَا رَسُولِي مَعَكَ، وَأَنَا أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنَّهُ رَسُولُ اللَّهِ، وَقُلْ لَهُ يَسْتَغْفِرْ لِي، قَالَ: فَخَرَجْنَا حَتَّى أَتَيْنَا الْمَدِينَةَ فَتَلَقَّانِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاعْتَنَقَنِي فَقَالَ: «مَا أَدْرِي أَنَا بِفَتْحِ خَيْبَرَ أَفْرَحُ أَوْ بِقُدُومِ جَعْفَرٍ» فَسَلْهُ مَا صَنَعَ بِهِ صَاحِبُنَا، فَقُلْتُ: نَعَمْ، قَدْ فَعَلَ بِنَا قَدْ فَعَلَ كَذَا وَكَذَا، وَحَمَلَنَا، وَزَوَّدَنَا، وَنَصَرَنَا، وَشَهِدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنَّكَ رَسُولُهُ، وَقَالَ: قُلْ لَهُ يَسْتَغْفِرْ لِي، فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَتَوَضَّأَ ثُمَّ دَعَا ثَلَاثَ مَرَّاتٍ: «اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِلنَّجَاشِيِّ» فَقَالَ الْمُسْلِمُونَ: آمِينَ، قَالَ جَعْفَرٌ: فَقُلْتُ لِلرَّسُولِ: انْطَلِقْ فَأَخْبِرْ صَاحِبَكَ مَا رَأَيْتَ مِنَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
১৪ - মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রাহীম আদ-দীবাযী আত-তুস্তারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে আদম আল-মিসসিসী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আসাদ ইবনে আমর আল-বাজালী আল-কুফী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুজালিদ ইবনে সাঈদ আল-হামদানী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি শা'বী থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর ইবনে আবী তালিব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: কুরাইশরা আমর ইবনুল আস এবং উমারা ইবনুল ওয়ালিদকে আবু সুফিয়ানের পক্ষ থেকে কিছু উপহারসহ নাজাশির কাছে পাঠাল। তারা তাকে বলল—তখন আমরা তাঁর কাছেই ছিলাম—তারা আপনার কাছে তাদের কিছু নীচ ও নির্বোধ লোক পাঠিয়েছে, তাই তাদের আমাদের কাছে সোপর্দ করে দিন। নাজাশি বললেন: না, যতক্ষণ না আমি তাদের কথা শুনি। অতঃপর তিনি আমাদের কাছে লোক পাঠালেন এবং বললেন: তোমরা কী বলো? আমরা বললাম: আমাদের কওম মূর্তিপূজা করে, আর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা আমাদের কাছে একজন রসূল পাঠিয়েছেন, ফলে আমরা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছি এবং তাঁকে সত্য বলে গ্রহণ করেছি। তখন নাজাশি তাদের বললেন: তারা কি তোমাদের দাস? তারা বলল: না। তিনি বললেন: তাদের ওপর কি তোমাদের কোনো ঋণ আছে? তারা বলল: না। তিনি বললেন: তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। এরপর আমরা তাঁর নিকট থেকে বেরিয়ে এলাম। তখন আমর ইবনুল আস বললেন: এরা ঈসা সম্পর্কে এমন কথা বলে যা আপনারা বলেন না। নাজাশি বললেন: তারা যদি ঈসা সম্পর্কে আমার মতো কথা না বলে, তবে আমি দিনের এক মুহূর্তের জন্যও তাদের আমার জমিনে থাকতে দেব না। তিনি (জাফর) বলেন: অতঃপর তিনি আমাদের কাছে লোক পাঠালেন, আর এই দ্বিতীয়বারের আহ্বানটি আমাদের কাছে প্রথমটির চেয়ে বেশি কঠিন ছিল। তিনি বললেন: তোমাদের সাথি মারইয়াম-পুত্র ঈসা সম্পর্কে কী বলেন? আমরা বললাম: তিনি বলেন: «তিনি আল্লাহর রূহ এবং তাঁর কালিমা, যা তিনি কুমারী ও পবিত্রা মারইয়ামের নিকট সমর্পণ করেছেন»। তিনি বলেন: তখন নাজাশি লোক পাঠালেন এবং বললেন: অমুক পাদ্রী এবং অমুক সন্ন্যাসীকে ডাকো। তাদের মধ্য থেকে কিছু লোক তাঁর কাছে এল। তিনি বললেন: তোমরা মারইয়াম-পুত্র ঈসা সম্পর্কে কী বলো? তারা বলল: আপনি আমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী, আপনিই বলুন। তখন নাজাশি মাটি থেকে কিছু একটা নিলেন এবং বললেন: ঈসা ঠিক এমনই; এই লোকেরা যা বলেছে তার থেকে তিনি এর (এই তৃণ বা ধূলিকণার) সমপরিমাণও বেশি নন। অতঃপর তিনি তাদের (মুসলিমদের) বললেন: তোমাদের কি কেউ কষ্ট দিচ্ছে? তারা বলল: হ্যাঁ। তখন তিনি একজন ঘোষককে আদেশ দিলেন এবং সে ঘোষণা করল: যে কেউ এদের কাউকেও কষ্ট দেবে তাকে যেন চার দিরহাম জরিমানা করা হয়। এরপর তিনি বললেন: এটি কি তোমাদের জন্য যথেষ্ট? আমরা বললাম: না। তখন তিনি তা দ্বিগুণ করে দিলেন। যখন আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় হিজরত করলেন এবং সেখানে তাঁর প্রভাব প্রতিষ্ঠিত হলো, তখন আমরা তাঁকে (নাজাশিকে) বললাম: আমাদের সাথি মদিনায় চলে গেছেন এবং হিজরত করেছেন, আর আমরা আপনার কাছে যাদের কথা বলেছিলাম তাদের তিনি হত্যা করেছেন (বিজয় লাভ করেছেন)। এখন আমরা ফিরে যেতে চাই, তাই আমাদের পাথেয় দিন। তিনি বললেন: হ্যাঁ। অতঃপর তিনি আমাদের জন্য সওয়ারীর ব্যবস্থা করলেন, পাথেয় দিলেন এবং আমাদের দান করলেন। এরপর তিনি বললেন: তোমাদের সাথিকে জানাবে আমি তোমাদের সাথে কেমন আচরণ করেছি। আর এই যে আমার দূত তোমাদের সাথে যাচ্ছে। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং তিনি আল্লাহর রসূল। আর তাঁকে বলবে যেন তিনি আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। জাফর (রা.) বলেন: অতঃপর আমরা বেরিয়ে পড়লাম এবং মদিনায় পৌঁছালাম। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার সাথে সাক্ষাৎ করলেন এবং আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। অতঃপর তিনি বললেন: «আমি জানি না যে আমি খায়বার বিজয়ে বেশি আনন্দিত নাকি জাফরের প্রত্যাবর্তনে?» অতঃপর তিনি বললেন: তাকে জিজ্ঞেস করো আমাদের সাথি (নাজাশি) তার সাথে কী আচরণ করেছেন। আমি বললাম: হ্যাঁ, তিনি আমাদের সাথে এই এই করেছেন; তিনি আমাদের সওয়ারী দিয়েছেন, পাথেয় দিয়েছেন, আমাদের সাহায্য করেছেন এবং সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আপনি আল্লাহর রসূল। আর তিনি বলেছেন: তাঁকে বলবে যেন তিনি আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তখন আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন এবং অযু করলেন, অতঃপর তিনবার দুআ করলেন: «হে আল্লাহ! নাজাশিকে ক্ষমা করে দিন»। তখন মুসলিমরা বললেন: আমীন। জাফর বলেন: এরপর আমি সেই দূতকে বললাম: তুমি যাও এবং তোমার মনিবকে জানাও যা তুমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে দেখলে।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল তিওয়াল লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ٢٢٢)
15 - حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ بْنِ الصَّبَّاحِ الرَّقِّيُّ، قَالَ: ثنا الْعَلَاءُ بْنُ هِلَالٍ، قَالَ: ثنا طَلْحَةُ بْنُ زَيْدٍ، عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، قَالَ: لَمَّا قَدِمَ وَفْدُ النَّجَاشِيِّ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَخْدُمُهُمْ بِنَفْسِهِ، فَقَالَ: «إِنَّهُمْ كَانُوا لِأَصْحَابِنَا مُكْرِمِينَ»
১৫ - হাফস ইবনে উমর ইবনাস সাব্বাহ আর-রাক্কী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-আলা ইবনে হিলাল আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তালহা ইবনে যায়দ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি আওযাঈ থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর থেকে, তিনি আবু সালামা থেকে এবং তিনি আবু কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন নাজাশীর প্রতিনিধি দল আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলেন, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই দাঁড়িয়ে তাঁদের সেবা করতে লাগলেন। অতঃপর তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই তারা আমাদের সাথীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনকারী ছিল»
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল তিওয়াল লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ٢٢٢)
16 - حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْفِرْيَابِيُّ الْقَاضِي، قَالَ: ثنا سُلَيْمَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدِّمَشْقِيُّ، قَالَ: ثنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ بَشِيرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه: أَنَّ النَّجَاشِيَّ سَأَلَهُ: مَا دِينُكُمْ؟ قَالَ: «بُعِثَ فِينَا رَسُولٌ نَعْرِفُ لِسَانَهُ وَصِدْقَهُ وَوَفَاءَهُ، فَدَعَانَا إِلَى أَنْ نَعْبُدَ اللَّهَ وَحْدَهُ لَا نُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا، وَخَلْعِ مَا كَانَ يَعْبُدُ قَوْمُنَا وَغَيْرُهُمْ مِنْ دُونِهِ، يَأْمُرُنَا بِالْمَعْرُوفِ، وَيَنْهَانَا عَنِ الْمُنْكَرِ، وَأَمَرَنَا بِالصَّلَاةِ وَالصِّيَامِ، وَالصَّدَقَةِ وَصِلَةِ الرَّحِمِ، فَدَعَانَا إِلَى مَا نَعْرِفُ، وَقَرَأَ عَلَيْنَا تَنْزِيلًا جَاءَ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ لَا يُشْبِهُهُ غَيْرُهُ، فَصَدَّقْنَاهُ، وَآمَنَّا بِهِ، وَعَرَفْنَا أَنَّ مَا جَاءَ بِهِ حَقٌّ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ، فَفَارَقْنَا مُنْذُ ذَلِكَ قَوْمَنَا، فَآذَوْنَا وَقَهَرُونَا، فَلَمَّا أَنْ بَلَغُوا مِنَّا مَا نَكْرَهُ وَلَمْ نَقْدِرْ أَنْ نَمْتَنِعَ مِنْهُمْ خَرَجْنَا إِلَى بَلَدِكَ وَاخْتَرْنَاكَ عَلَى مَنْ سِوَاكَ» ، قَالَ النَّجَاشِيُّ: اذْهَبُوا فَأَنْتُمْ سُيُومٌ بِأَرْضِي، يَقُولُ: آمِنُونَ، مَنْ سَبَّكُمْ غَرِمَ
১৬ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বিচারক জাফর বিন মুহাম্মদ আল-ফিরইয়াবি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুলাইমান বিন আব্দুর রহমান আদ-দিমাশকি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান বিন বশির, মুহাম্মদ বিন ইসহাক থেকে, তিনি যুহরি থেকে, তিনি আবু বকর বিন আব্দুর রহমান বিন আল-হারিস থেকে, তিনি উম্মে সালামাহ থেকে, জাফর বিন আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে: নাজাশি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন: তোমাদের দ্বীন কী? তিনি বললেন: «আমাদের মাঝে এমন একজন রাসূল প্রেরিত হয়েছেন যাঁর ভাষা, সত্যবাদিতা এবং বিশ্বস্ততা সম্পর্কে আমরা অবগত। তিনি আমাদের দাওয়াত দিয়েছেন যেন আমরা এক আল্লাহর ইবাদত করি এবং তাঁর সাথে কোনো কিছু শরিক না করি, আর আমাদের কওম ও অন্যরা তাঁকে ছাড়া অন্য যাদের উপাসনা করত তা বর্জন করি। তিনি আমাদের সৎ কাজের আদেশ দেন ও মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করেন এবং আমাদের সালাত, সিয়াম, সদকা ও আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখার নির্দেশ দেন। তিনি আমাদের এমন কিছুর দিকে আহ্বান করেছেন যা আমরা (সত্য বলে) চিনি এবং আমাদের নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ এমন এক কিতাব পাঠ করেছেন যার সদৃশ অন্য কিছু নেই। অতঃপর আমরা তাঁকে সত্য বলে মেনে নিয়েছি, তাঁর ওপর ঈমান এনেছি এবং জেনেছি যে, তিনি যা নিয়ে এসেছেন তা আল্লাহর পক্ষ থেকে ধ্রুব সত্য। ফলে আমরা তখন থেকে আমাদের কওমকে ত্যাগ করেছি, তখন তারা আমাদের ওপর নির্যাতন ও নিপীড়ন চালিয়েছে। যখন তারা আমাদের ওপর এমন সব আচরণ শুরু করল যা আমরা অপছন্দ করি এবং আমরা যখন তাদের থেকে আত্মরক্ষা করতে সমর্থ ছিলাম না, তখন আমরা আপনার দেশে চলে এসেছি এবং অন্যদের তুলনায় আপনাকেই বেছে নিয়েছি»। নাজাশি বললেন: তোমরা যাও, তোমরা আমার জমিনে ‘সুয়ূম’। তিনি (বর্ণনাকারী) বলছেন: (এর অর্থ) নিরাপদ; যে তোমাদের গালি দেবে সে দণ্ডিত হবে।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল তিওয়াল লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ٢٢٣)
17 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدَّبَرِيُّ، عَنْ عَبْدِ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الْزُّهْرِيِّ، عَنِ ابْنِ الْمُسَيِّبِ، وَأبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: «نَعَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم النَّجَاشِيَّ لِأَصْحَابِهِ وَهُوَ بِالْمَدِينَةِ فَصَلَّوْا خَلْفَهُ وَصلَّى عَلَيْهِ وَكَبَّرَ أَرْبَعًا»
১৭ - আমাদের নিকট ইসহাক ইবনে ইবরাহিম আদ-দাবারি বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুর রাজ্জাক থেকে, তিনি মা’মার থেকে, তিনি যুহরি থেকে, তিনি ইবনে আল-মুসাইয়িব ও আবু সালামাহ ইবনে আবদুর রহমান থেকে, আর তাঁরা আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় অবস্থানকালে তাঁর সাহাবীদের নিকট নাজাশির মৃত্যু সংবাদ ঘোষণা করেন। অতঃপর তাঁরা তাঁর পেছনে সালাত আদায় করেন এবং তিনি তাঁর জানাজার সালাত আদায় করেন ও চারবার তাকবির বলেন।”
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল তিওয়াল লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ٢٢٣)
18 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَبْدِ الرَّزَّاقِ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عَطَاءٌ، أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «تُوُفِّيَ الْيَوْمَ رَجُلٌ صَالِحٌ أَصْحَمَةُ، هَلُمَّ فَصُفُّوا وَصَلُّوا عَلَيْهِ» فَصَفَفْنَا فَصَلَّى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَنَحْنُ مَعَهُ
১৮ - ইসহাক ইবনে ইবরাহীম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক থেকে, তিনি ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি বলেন: আতা আমাকে অবহিত করেছেন যে তিনি জাবির ইবনে আবদুল্লাহকে বলতে শুনেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আজ একজন নেককার লোক আসহামা মৃত্যুবরণ করেছেন, তোমরা এসো এবং কাতারবদ্ধ হয়ে তাঁর জানাজার সালাত আদায় করো।” অতঃপর আমরা কাতারবদ্ধ হলাম এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করলেন আর আমরা তাঁর সাথে ছিলাম।