(খণ্ড: ১)
আদাবু সসুহবাহ লিআবি আবদির রহমান আস-সুলামি
(পৃষ্ঠা: -)
آداب الصحبة لأبي عبد الرحمن السلمي القسم: كتب السنة
الكتاب: آداب الصحبة
المؤلف: محمد بن الحسين بن محمد بن موسى بن خالد بن سالم النيسابوري، أبو عبد الرحمن السلمي (ت 412هـ)
المحقق: مجدي فتحي السيد
الناشر: دار الصحابة للتراث - طنطا - مصر
الطبعة: الأولى، 1410 - 1990
عدد الصفحات: 125
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামী বিরচিত আদাবুস সোহবাত (সহচর্যের আদবসমূহ) বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: আদাবুস সোহবাত
লেখক: মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন মুসা বিন খালিদ বিন সালিম আন-নিসাবুরি, আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামী (মৃত্যু ৪১২ হিজরি)
তাহকীককারী: মাজদি ফাতহি আস-সাইয়িদ
প্রকাশক: দারুস সাহাবা লিত-তুরাস - তানতা - মিশর
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১০ - ১৯৯০
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৫
[কিতাবটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আদাবু সসুহবাহ লিআবি আবদির রহমান আস-সুলামি
(পৃষ্ঠা: -)
مُقَدِّمَةُ الْمُصَنِّفِ
⦗ص: 37⦘ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى سَيِّدَنَا مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ. الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَكْرَمَ خَوَاصَّ عِبَادِهِ بِالْأُلْفَةِ فِي الدِّينِ، وَوَفَّقَهُمْ لِأَكْرَمِ عِبَادِهِ الْمُخْلَصِينَ، وَرَزَقَهُمُ الشَّفَقَةَ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ، وَزَيَّنَهُمْ بِالْأَخْلَاقِ الْكَرِيمَةِ وَالشِّيَمِ الْمَرْضِيَّةِ، مُقْتَدِينَ فِي أَفْعَالِهِمْ وَأَخْلَاقِهِمْ وَصُحْبَتِهِمْ وَعَشِيرَتِهِمْ بِسَيِّدِ الْمُرْسَلِينَ، وَمُتَأَدِّبِينَ فِي آدَابِهِمْ بِخَاتَمِ النَّبِيِّينَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ حَيْثُ تَأَدَّبَ هُوَ بِأَدَبِ اللَّهِ عز وجل، وَتَمَسَّكَ بِلَطَائِفِ أَمْرِهِ، وَأَثْنَى عَلَيْهِ فَقَالَ: {وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ} [القلم: 4] بِمَا نَدَبَهُ إِلَيْهِ مِنَ الْأَخْلَاقِ الْكَرِيمَةِ، وَالْأَنْحَاءِ الْمَرْضِيَّةِ بِقَوْلِهِ: {فَاعْفُ عَنْهُمْ وَاسْتَغْفِرْ لَهُمْ وَشَاوِرْهُمْ فِي الْأَمْرِ فَإِذَا عَزَمْتَ فَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ} [آل عمران: 159] وَمِنْ مَا وَصَفَهُ بِهِ سُبْحَانَهُ مِنْ حُسْنِ الْعِشْرَةِ وَكَرِيمِ الصُّحْبَةِ أَنْ قَالَ: {وَلَوْ كُنْتَ فَظَّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لَانْفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ} [آل عمران: 159]
1 - وَسُئِلَتْ عَائِشَةُ رضي الله عنها عَنْ خُلُقِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ: «كَانَ خُلُقُهُ الْقُرْآنَ» قَالَ اللَّهُ تَعَالَى
⦗ص: 38⦘: {خُذِ الْعَفْوَ وَأْمُرْ بِالْعُرْفِ وَأَعْرِضْ عَنِ الْجَاهِلِينَ} [الأعراف: 199] فَالْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَهَّلَهُمْ لِهَذِهِ الرُّتْبَةِ السَّنِيَّةِ، وَأَكْرَمُهُمْ بِهَذِهِ الْأَخْلَاقِ الْمَرْضِيَّةِ، وَهَدَاهُمْ إِلَى آدَابِ صُحْبَةِ الْإَخَوَانِ وَالْأَكَابِرِ وَالْأَوْلِيَاءِ، وَعَرَّاهُمْ مِنَ الْأَدْنَاسِ وَالْأَخْلَاقِ الدَّنِيَّةِ، وَأَخْبَرَ نَبِيَّهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ الَّذِي هَدَاهُمْ لِهَذِهِ الْآدَابِ بِقَوْلِهِ تَعَالَى: {لَوْ أَنْفَقْتَ مَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا مَا أَلَّفْتَ بَيْنَ قُلُوبِهِمْ وَلَكِنَّ اللَّهَ أَلَّفَ بَيْنَهُمْ} [الأنفال: 63] فَالْأُلْفَةُ أَوْجَبَتِ الْأُخُوَّةَ، وَالْأُخُوَّةُ أَوْجَبَتْ حُسْنَ الْعِشْرَةِ وَكَرِيمَ الصُّحْبَةِ، وَاللَّهُ يُوَفِّقُ لِذَلِكَ مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ، وَيُعِينُهُمْ عَلَى ذَلِكَ بِفَضْلِهِ وَسَعَةِ رَحْمَتِهِ، إِنَّهُ وَلِيُّهُ وَالْقَادِرُ عَلَيْهِ، وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى نَبِيِّهِ سَيِّدِنَا الْمُصْطَفَى، وَآلِهِ وَأَصْحَابِهِ وَأَزْوَاجِهِ وَسَلَّمَ تَسْلِيمًا كَثِيرًا. وَاعْلَمْ أَنَّ أَدَبَ الصُّحْبَةِ وَحُسْنَ الْعِشْرَةِ عَلَى وُجُوهٍ، وَلِكُلِّ قَوْمٍ فِي ذَلِكَ وُجُوهٌ مِنْ آدَابِ الصُّحْبَةِ وَحُسْنِ الْعِشْرَةِ، وَعَلَى الْمُؤْمِنِ أَنْ يَحْفَظَ لِكُلِّ مُسْلِمٍ حَقَّ أُخُوَّتِهِ، وَحُسْنَ صُحْبَتِهِ وَعِشْرَتِهِ، وَأَنَا مُبِيِّنٌ فِي هَذِهِ الْمَسْأَلَةِ مَا يَسْتَدِلُّ بِهِ الْقَائِلُ عَلَى مَا وَرَاءَهُ مِنْ حُرُمَاتِ الْمُؤْمِنِينَ، وَتَعْظِيمِ حُقُوقِ الْمُسْلِمِينَ، وَأَخْلَاقِ الْأَوْلِيَاءِ وَالْأَبْرَارِ وَالنُّجَبَاءِ وَالْأَخْيَارِ
গ্রন্থকারের ভূমিকা
⦗পৃষ্ঠা: ৩৭⦘ পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বিশিষ্ট বান্দাদের দ্বীনের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতির মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন, তাঁদের তাঁর সর্বোত্তম একনিষ্ঠ বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার তাওফিক দিয়েছেন, মুমিনদের প্রতি তাঁদের অন্তরে মমতা দান করেছেন এবং তাঁদেরকে মহান চরিত্র ও পছন্দনীয় স্বভাব দ্বারা অলঙ্কৃত করেছেন। তাঁরা তাঁদের কার্যাবলি, চারিত্রিক গুণাবলি, সাহচর্য ও মেলামেশার ক্ষেত্রে রাসূলগণের নেতার অনুসরণকারী এবং নবীগণের মহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আদবে আদবপ্রাপ্ত। কেননা তিনি (রাসূলুল্লাহ) স্বয়ং মহান আল্লাহর আদবে আদবপ্রাপ্ত হয়েছিলেন এবং তাঁর নিগূঢ় নির্দেশনাবলি দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরেছিলেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রশংসা করে বলেছেন: {আর নিশ্চয়ই আপনি সুমহান চরিত্রের অধিকারী} [আল-কালাম: ৪]। তিনি তাঁকে যেসব মহান চরিত্র ও পছন্দনীয় পথের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন, সেই প্রেক্ষিতে বলেছেন: {অতএব আপনি তাঁদের ক্ষমা করুন, তাঁদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন এবং কাজের ব্যাপারে তাঁদের সাথে পরামর্শ করুন; অতঃপর যখন আপনি কোনো সংকল্প করবেন, তখন আল্লাহর ওপর ভরসা করবেন} [আল ইমরান: ১৫৯]। মহান আল্লাহ তাঁর সুন্দর মেলামেশা ও চমৎকার সাহচর্যের যে বর্ণনা দিয়েছেন, তার মধ্যে অন্যতম হলো: {আর আপনি যদি রূঢ় ও কঠোর চিত্তের হতেন, তবে তাঁরা আপনার চারপাশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত} [আল ইমরান: ১৫৯]
১ - আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-কে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চরিত্র সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: "তাঁর চরিত্র ছিল কুরআন।" আল্লাহ তাআলা বলেছেন
⦗পৃষ্ঠা: ৩৮⦘: {আপনি ক্ষমাশীলতা অবলম্বন করুন, সৎকাজের নির্দেশ দিন এবং অজ্ঞদের এড়িয়ে চলুন} [আল-আরাফ: ১৯৯]। সুতরাং যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁদের এই সুউচ্চ মর্যাদার যোগ্য করেছেন, তাঁদের এই পছন্দনীয় চরিত্র দ্বারা সম্মানিত করেছেন এবং তাঁদেরকে ভাইদের, বড়দের ও আল্লাহর বন্ধুদের সাথে সাহচর্যের শিষ্টাচার শিখিয়েছেন। তিনি তাঁদেরকে মলিনতা ও হীন চরিত্র থেকে মুক্ত করেছেন। তিনি তাঁর নবীকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জানিয়েছেন যে, তিনিই তাঁদের এই শিষ্টাচারসমূহের দিকে পরিচালিত করেছেন। ইরশাদ হয়েছে: {যদি আপনি জমিনে যা আছে তার সবটুকুই ব্যয় করতেন, তবুও তাঁদের হৃদয়ে প্রীতি সঞ্চার করতে পারতেন না; কিন্তু আল্লাহ তাঁদের মাঝে প্রীতি সঞ্চার করেছেন} [আল-আনফাল: ৬৩]। সুতরাং এই প্রীতি ও সৌহার্দ্য ভ্রাতৃত্বকে আবশ্যক করে, আর ভ্রাতৃত্ব সুন্দর মেলামেশা ও সম্মানজনক সাহচর্যকে অপরিহার্য করে। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা এর তাওফিক দান করেন এবং তাঁর অনুগ্রহ ও প্রশস্ত রহমতের মাধ্যমে তাঁদের সাহায্য করেন। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর ক্ষমতাবান। আল্লাহর নবী আমাদের নেতা আল-মুস্তফা, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ ও পত্নীগণের ওপর অগণিত রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। জেনে রাখুন যে, সাহচর্যের শিষ্টাচার ও সুন্দর মেলামেশার বিভিন্ন দিক রয়েছে এবং প্রতিটি দলের জন্য এক্ষেত্রে সাহচর্যের শিষ্টাচার ও সুন্দর মেলামেশার ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে। একজন মুমিনের কর্তব্য হলো প্রত্যেক মুসলমানের ভ্রাতৃত্বের হক, সুন্দর সাহচর্য ও মেলামেশার অধিকার রক্ষা করা। আমি এই বিষয়ে সেই সব দিক বর্ণনা করছি, যা দ্বারা একজন বক্তা মুমিনদের মর্যাদা রক্ষা, মুসলমানদের অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং অলি, নেককার, সজ্জন ও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে দিকনির্দেশনা লাভ করতে পারবেন।
(খণ্ড: ১)
আদাবু সসুহবাহ লিআবি আবদির রহমান আস-সুলামি
(পৃষ্ঠা: ٣٨)
الْمُسْلِمُونَ جَسَدٌ وَاحِدٌ فَمِنْ ذَلِكَ: أَنْ يُعْلَمَ أَنَّ الْمُسْلِمِينَ كَالْجَسَدَ الْوَاحِدِ، وَأَنَّ عَلَى بَعْضِهِمْ أَنْ يُعِينَ الْبَعْضَ عَلَى الْخَيْرَاتِ، وَيَدْفَعَ عَنْهُ الْمَكَارِهَ
মুসলিমগণ এক দেহস্বরূপ। তন্মধ্যে এটি অন্তর্ভুক্ত: এটি জ্ঞাত হওয়া আবশ্যক যে মুসলিমগণ একটি দেহের ন্যায় এবং তাদের একে অপরের কল্যাণের কাজে সহযোগিতা করা ও তার থেকে অকল্যাণ প্রতিহত করা অপরিহার্য।
(খণ্ড: ১)
আদাবু সসুহবাহ লিআবি আবদির রহমান আস-সুলামি
(পৃষ্ঠা: ٣٩)
2 - وَلِذَلِكَ حَدَّثَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ بُنْدَارٍ الصَّيْرَفِيُّ قَالَ: أنا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ قَالَ: أنا يَزِيدُ بْنُ صَالِحٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي خَارِجَةُ، عَنْ زَكَرِيَّا، عَنْ عَامِرٍ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَثَلُ الْمُؤْمِنِينَ فِي تَوَادِّهِمْ وَتَرَاحُمِهِمْ كَمَثَلِ الْجَسَدِ الْوَاحِدِ، إِذَا اشْتَكَى عُضْوٌ مِنْهُ تَدَاعَى لَهُ سَائِرُ الْأَعْضَاءِ بِالْحُمَّى وَالسَّهَرِ»
২ - আর এ কারণেই আবুল হাসান আলী ইবনে বান্দার আস-সাইরাফী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাসান ইবনে সুফিয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইয়াজিদ ইবনে সালিহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: খারিজাহ আমাকে জাকারিয়া থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আমির থেকে এবং তিনি নুমান ইবনে বশীর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: «মুমিনদের পারস্পরিক ভালোবাসা, মমতা ও দয়ার দৃষ্টান্ত হলো একটি দেহের মতো; যখন দেহের কোনো একটি অঙ্গ অসুস্থ বা ব্যথিত হয়, তখন শরীরের অন্য সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অনিদ্রা ও জ্বরের মাধ্যমে তার ডাকে সাড়া দেয়।»
(খণ্ড: ১)
আদাবু সসুহবাহ লিআবি আবদির রহমান আস-সুলামি
(পৃষ্ঠা: ٣٩)
3 - وَأَنَا عَلِيُّ بْنُ بُنْدَارٍ قَالَ: أنا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ قَالَ: أنا يَزِيدُ بْنُ صَالِحٍ قَالَ: أنا ابْنُ الْمُبَارَكِ قَالَ: أنا بريدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ جَدِّهِ، عَنْ أَبِي مُوسَى قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ: «الْمُؤْمِنُ لِلْمُؤْمِنِ كَالْبُنْيَانِ، يَشُدُّ بَعْضُهُ بَعْضًا»
৩ - এবং আমাকে আলী ইবনে বুন্দার বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হাসান ইবনে সুফিয়ান, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াজিদ ইবনে সালিহ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনুল মুবারক, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বুরাইদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবি বুরদাহ, তিনি তাঁর দাদা থেকে, তিনি আবু মুসা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «এক মুমিন অপর মুমিনের জন্য একটি ইমারত বা প্রাসাদের ন্যায়, যার এক অংশ অপর অংশকে সুদৃঢ় করে থাকে»
(খণ্ড: ১)
আদাবু সসুহবাহ লিআবি আবদির রহমান আস-সুলামি
(পৃষ্ঠা: ٣٩)
تَعَارَفُ الْأَرْوَاحِ وَتَنَاكُرُهَا
রূহসমূহের পারস্পরিক পরিচিতি এবং একে অপরকে অস্বীকার করা
(খণ্ড: ১)
আদাবু সসুহবাহ লিআবি আবদির রহমান আস-সুলামি
(পৃষ্ঠা: ٣٩)
4 - أنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الرَّازِيُّ قَالَ: أنا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ قَالَ: أنا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمَّارٍ قَالَ: أنا الْمُعَافَى، عَنْ عَبْدِ الْأَعْلَى بْنِ أَبِي ⦗ص: 40⦘ الْمُسَاوِرِ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ عَمِيرَةَ، عَنْ سَلْمَانَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ: «الْأَرْوَاحُ جُنُودٌ مُجَنَّدَةٌ، فَمَا تَعَارَفَ مِنْهَا ائْتَلَفَ، وَمَا تَنَاكَرَ مِنْهَا اخْتَلَفَ»
৪ - আমি আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আবদুর রহমান আর-রাজি, তিনি বলেন: আল-হাসান বিন সুফিয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ বিন আম্মার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-মু'আফা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আবদুল আলা বিন আবি ⦗পৃষ্ঠা: ৪০⦘ আল-মুসাউয়ির থেকে, তিনি ইকরিমা থেকে, তিনি আল-হারিস বিন আমিরাহ থেকে, তিনি সালমান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «রূহসমূহ হলো সুসংবদ্ধ সৈন্যবাহিনীর মতো; তাদের মধ্যে যাদের পারস্পরিক পরিচয় ঘটে, তাদের মাঝে হৃদ্যতা তৈরি হয়, আর যাদের মাঝে পরিচয় ঘটে না, তাদের মধ্যে মতভেদ তৈরি হয়»
(খণ্ড: ১)
আদাবু সসুহবাহ লিআবি আবদির রহমান আস-সুলামি
(পৃষ্ঠা: ٤١)
5 - أنا أَبُو سَعِيدٍ أَحْمَدُ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ رُمَيْحٍ الْحَافِظُ قَالَ: أنا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدٍ الْحَافِظُ قَالَ: أنا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ السَّمَرْقَنْدِيُّ قَالَ: أنا أَبِي، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ طَهْمَانَ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ شَقِيقٍ، عَنْ عَلَيٍّ كَرَّمَ اللَّهُ وَجْهَهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ الْأَرْوَاحَ تَتَلَاقَى فِي الْهَوَاءِ فَتَشَامُّ، فَمَا تَعَارَفَ مِنْهَا ائْتَلَفَ، وَمَا تَنَاكَرَ مِنْهَا اخْتَلَفَ»
৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাঈদ আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন রুমায়হ আল-হাফিয, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন সাঈদ আল-হাফিয, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন বকর বিন আব্দুর রহমান আস-সামারকান্দি, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন ইবরাহিম বিন তাহমান থেকে, তিনি আল-আ’মাশ থেকে, তিনি শাকিক থেকে, তিনি আলী (আল্লাহ তাঁর চেহারাকে সম্মানিত করুন) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই আত্মাগুলো শূন্যে একে অপরের সাথে মিলিত হয় এবং একে অপরের ঘ্রাণ নেয়। অতঃপর তাদের মধ্যে যাদের মাঝে চেনা-জানা (সাদৃশ্য) হয় তারা একতাবদ্ধ হয়, আর যাদের মধ্যে অপরিচিতি (বৈসাদৃশ্য) থাকে তারা একে অপর থেকে পৃথক হয়ে যায়»
(খণ্ড: ১)
আদাবু সসুহবাহ লিআবি আবদির রহমান আস-সুলামি
(পৃষ্ঠা: ٤١)
كُلُّ إِنْسَانٍ عَلَى دِينِ أَصْحَابِهِ فَإِذَا أَرَادَ اللَّهُ بِعَبْدٍ مِنْ عَبِيدِهِ خَيْرًا وَفَّقَهُ لِمُعَاشَرَةِ أَهْلِ السُّنَّةِ وَأَهْلِ السِّتْرِ وَالصَّلَاحِ وَالدِّينِ، وَيَرُدُّهُ عَنْ صُحْبَةِ أَهْلِ الْهَوَى وَالْبِدَعِ وَالْمُخَالِفِينَ فَإِنَّهُ
6 - رُوِيَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «الْمَرْءُ عَلَى دِينِ خَلِيلِهِ، فَلْيَنْظُرْ أَحَدُكُمْ مَنْ يُخَالِلُ»
প্রত্যেক মানুষ তার সাথীদের দ্বীনের ওপর থাকে। সুতরাং আল্লাহ যখন তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে কোনো বান্দার কল্যাণ চান, তখন তাকে আহলুস সুন্নাহ, পুণ্যবান, সৎকর্মশীল ও দ্বীনদার লোকদের সংস্পর্শে থাকার তৌফিক দান করেন এবং তাকে প্রবৃত্তি পূজারী, বিদআতি ও বিরোধীদের সাহচর্য থেকে ফিরিয়ে রাখেন। কেননা—
৬ - বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «ব্যক্তি তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুর দ্বীনের ওপর থাকে; সুতরাং তোমাদের প্রত্যেকে যেন লক্ষ্য করে সে কার সাথে বন্ধুত্ব করছে।»
(খণ্ড: ১)
আদাবু সসুহবাহ লিআবি আবদির রহমান আস-সুলামি
(পৃষ্ঠা: ٤٢)
أنا الشَّيْخُ أَبُو الْوَلِيدِ حَسَّانُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْفَقِيهُ قَالَ: أنا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُنْذِرِ الْهَرَوِيُّ قَالَ: أنا أَبُو أُمَيَّةَ الطَّرَسُوسِيُّ، وَالرَّمَادِيُّ قَالَ: أنا أَبُو دَاوُدَ الطَّيَالِسِيُّ قَالَ: أنا زُهَيْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ وَرْدَانَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ: «الْمَرْءُ عَلَى دِينِ خَلِيلِهِ، فَلْيَنْظُرْ أَحَدُكُمْ مَنْ يُخَالِلُ»
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ আবুল ওয়ালিদ হাসসান ইবনে মুহাম্মাদ আল-ফকিহ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবনুল মুনযির আল-হারাউয়ি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু উমাইয়া আত-তারসুসি এবং আর-রামাদি, তাঁরা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু দাউদ আত-তায়ালিসি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যুহাইর ইবনে মুহাম্মাদ, মুসা ইবনে ওয়ারদান থেকে, তিনি আবু হুরাইরা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "মানুষ তার বন্ধুর আদর্শের ওপর থাকে, সুতরাং তোমাদের প্রত্যেকে যেন লক্ষ্য করে সে কার সাথে বন্ধুত্ব করছে।"
(খণ্ড: ১)
আদাবু সসুহবাহ লিআবি আবদির রহমান আস-সুলামি
(পৃষ্ঠা: ٤٢)
8 - أَنْشَدَنَا مُحَمَّدُ بْنُ طَاهِرٍ الْوَزِيرِيُّ قَالَ: أَنْشَدَنِي الْمُطَرِّفِيُّ لِبَعْضِ الشُّعَرَاءِ: "
[البحر الطويل]
عَنِ الْمَرْءِ لَا تَسْأَلْ وَسَلْ عَنْ قَرِينِهِ
… فَكُلُّ قَرِينٍ بِالْمُقَارَنِ مُقْتَدِي
৮ - মুহাম্মাদ ইবনে তাহির আল-ওয়াজিরি আমাদের নিকট আবৃত্তি করেছেন, তিনি বলেন: আল-মুতারিফি কোনো এক কবির কবিতা আমাকে আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন: "
[বাহরে তবিল]
মানুষ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না, বরং তার সঙ্গী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো
… কেননা প্রত্যেক সঙ্গীই তার সঙ্গপ্রাপ্ত ব্যক্তির অনুসরণ করে।"
(খণ্ড: ১)
আদাবু সসুহবাহ লিআবি আবদির রহমান আস-সুলামি
(পৃষ্ঠা: ٤٢)
احْذَرْ صُحْبَةَ الْجُهَّالِ
মূর্খদের সাহচর্য থেকে সতর্ক থাকো
(খণ্ড: ১)
আদাবু সসুহবাহ লিআবি আবদির রহমান আস-সুলামি
(পৃষ্ঠা: ٤٢)
9 - أنَا عُمَرُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ شَاهِينَ، بِبَغْدَادَ قَالَ: عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ قَالَ
⦗ص: 43⦘: نَا زَكَرِيَّا بْنُ يَحْيَى قَالَ: نَا الْأَصْمَعِيُّ قَالَ: نَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلَالٍ، عَنْ مُجَالِدٍ، عَنْ الشَّعْبِيِّ قَالَ: قَالَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ كَرَّمَ اللَّهُ وَجْهَهُ وَقَدْ ذَكَرَ صُحْبَةَ رَجُلٍ فَقَالَ: «
[البحر الهزج]
لَا تَصْحَبْ أَخَا الْجَهْلِ
… وَإِيَّاكَ وَإِيَّاهُ
فَكَمْ مِنْ جَاهِلٍ أَرْدَى
… حَلِيمًا حِينَ آخَاهُ
يُقَاسُ الْمَرْءُ بِالْمَرْءِ
… إِذَا مَا الْمَرْءُ مَاشَاهُ
وَلِلشَّيْءِ مِنَ الشَّيْءِ
… مَقَايِيسٌ وَأَشْبَاهُ
وَلِلْقَلْبِ مِنَ الْقَلْبِ
… دَلِيلٌ حِينَ يَلْقَاهُ»
مِنْ آدَابِ الصُّحْبَةِ حُسْنُ الْخُلُقِ. فَمِنْ آدَابِ الْعِشْرَةِ وَحُسْنِ الْخُلُقِ مَعَ الْإِخَوَانِ وَالْأَقْرَانِ وَالْأَصْحَابِ اقْتِدَاءً بِسُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ
৯ - আমি উমর ইবনে আহমাদ ইবনে শাহীন, বাগদাদে; তিনি বলেন: উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান বলেন
⦗পৃষ্ঠা: ৪৩⦘: আমাদের নিকট যাকারিয়া ইবনে ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আসমায়ি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সুলাইমান ইবনে বিলাল বর্ণনা করেছেন, মুজালিদ থেকে, তিনি শাবি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আলী ইবনে আবু তালিব (আল্লাহ তাঁর মুখমণ্ডলকে সম্মানিত করুন) কোনো এক ব্যক্তির সাহচর্যের কথা উল্লেখ করে বলেন: «
[হাজায ছন্দ]
অজ্ঞ ব্যক্তির সাহচর্য গ্রহণ করো না
… আর তার থেকে নিজেকে দূরে রাখো
কেননা কতই না মূর্খ ধ্বংস করে দিয়েছে
… ধৈর্যশীল ব্যক্তিকে যখন সে তার বন্ধু হয়েছে
একজন মানুষকে অন্য মানুষের মাধ্যমে বিচার করা হয়
… যখন সে তার সাথে চলাফেরা করে
আর এক বস্তুর জন্য অন্য বস্তুর মধ্যে
… পরিমাপ ও সাদৃশ্য থাকে
আর হৃদয়ের জন্য হৃদয়ের মাঝে
… একটি নিদর্শন থাকে যখন তারা একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ করে»
সাহচর্যের শিষ্টাচারসমূহের অন্যতম হলো সুন্দর চরিত্র। সুতরাং ভাই, সমবয়সী ও বন্ধুদের সাথে উঠাবসা এবং সুন্দর আচরণের শিষ্টাচার বজায় রাখা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর অনুসরণের অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১)
আদাবু সসুহবাহ লিআবি আবদির রহমান আস-সুলামি
(পৃষ্ঠা: ٤٣)
10 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ الْحَارِثِ الْكَارِزِيُّ قَالَ: أنا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ قَالَ: أنا أَبُو نُعَيْمٍ قَالَ: أنا دَاوُدُ بْنُ يَزِيدَ قَالَ: حَدَّثَنَا الْأَوْدِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «أَكْثَرُ مَا يُدْخِلُ الْجَنَّةَ التَّقْوَى وَحُسْنُ الْخُلُقِ»
১০ - আবুল হাসান মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন হাসান বিন হারিস আল-কারিজী আমাদের সংবাদ প্রদান করেছেন, তিনি বলেন: আলী বিন আব্দুল আজিজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু নুআইম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: দাউদ বিন ইয়াজিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-আওদি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «তাকওয়া (আল্লাহভীতি) এবং উত্তম চরিত্রই মানুষকে সবচেয়ে বেশি জান্নাতে প্রবেশ করাবে»।
(খণ্ড: ১)
আদাবু সসুহবাহ লিআবি আবদির রহমান আস-সুলামি
(পৃষ্ঠা: ٤٤)
11 - نا أَبُو عَلِيٍّ حَامِدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الرَّفَّا قَالَ: نا مُوسَى بْنُ الْحَسَنِ قَالَ: نا أَبُو نُعَيْمٍ قَالَ: نا سُفْيَانُ عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ مَيْمُونِ بْنِ أَبِي شَبِيبٍ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ: «اتَّقِ اللَّهَ حَيْثُمَا كُنْتَ، وَأَتْبِعِ السَّيِّئَةَ الْحَسَنَةَ تَمْحُهَا، وَخَالِقِ النَّاسَ بِخُلُقٍ حَسَنٍ»
১১ - আমাদের নিকট আবু আলী হামিদ বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আর-রাফফা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুসা বিন আল-হাসান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু নুআইম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন হাবিব বিন আবি সাবিত থেকে, তিনি মায়মুন বিন আবি শাবিব থেকে, তিনি আবু যার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «তুমি যেখানেই থাকো আল্লাহকে ভয় করো, এবং মন্দ কাজের পরপরই ভালো কাজ করো যা তাকে মিটিয়ে দেবে, আর মানুষের সাথে উত্তম আচরণের সাথে মেলামেশা করো।»
(খণ্ড: ১)
আদাবু সসুহবাহ লিআবি আবদির রহমান আস-সুলামি
(পৃষ্ঠা: ٤٤)
12 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ سَعِيدٍ الْحَافِظُ الْمَرْوَزِيُّ، عَنْ زِيَادِ بْنِ عِلَاقَةَ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ شَرِيكٍ قَالَ: قُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا خَيْرُ مَا أُعْطِيَ الْإِنْسَانُ؟ . قَالَ: «حُسْنُ الْخُلُقِ» مِنْ آدَابِ الصُّحْبَةِ سَتْرُ عُيُوبِ الْإِخْوَانِ. وَمِنْ آدَابِهَا: تَحْسِينُ مَا يُعَايِنُهُ مِنْ عُيُوبِ إِخْوَانِي
১২ - আবু বকর আবদুর রহমান ইবনে আহমদ ইবনে সাঈদ আল-হাফিজ আল-মারওয়াযী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যিয়াদ ইবনে ইলাকা থেকে, তিনি উসামা ইবনে শারীক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, মানুষকে যা দান করা হয়েছে তার মধ্যে সর্বোত্তম কোনটি? তিনি বললেন: “উত্তম চরিত্র।” সাহচর্যের আদবসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো ভাইদের দোষ-ত্রুটি গোপন রাখা। আর এর আদবসমূহের অন্যতম হলো: নিজের ভাইদের যে সকল দোষ-ত্রুটি সে প্রত্যক্ষ করে, সেগুলোকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা।
(খণ্ড: ১)
আদাবু সসুহবাহ লিআবি আবদির রহমান আস-সুলামি
(পৃষ্ঠা: ٤٤)
فَإِنِّي:
13 - سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مُحَمَّدٍ الْمُعَلِّمَ يَقُولُ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ مَنَازِلٍ يَقُولُ
⦗ص: 45⦘: «الْمُؤْمِنُ يَطْلُبُ مَعَاذِيرَ إِخْوَانِهِ، وَالْمُنَافِقُ يَطْلُبُ عَثَرَاتِ إِخْوَانِهِ»
নিশ্চয়ই আমি:
১৩ - আমি আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আল-মুয়াল্লিমকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন মানাজিলকে বলতে শুনেছি
⦗পৃ: ৪৫⦘: «মুমিন তার ভাইদের জন্য অজুহাত অনুসন্ধান করে, আর মুনাফিক তার ভাইদের ভুল-ত্রুটি অনুসন্ধান করে»
(খণ্ড: ১)
আদাবু সসুহবাহ লিআবি আবদির রহমান আস-সুলামি
(পৃষ্ঠা: ٤٥)
14 - سَمِعْتُ مَنْصُورَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبَا عَلِيٍّ الثَّقَفِيَّ يَقُولُ: سَمِعْتُ حَمْدُونَ الْقَصَّارَ يَقُولُ: «إِذَا زَلَّ أَخٌ مِنْ إِخْوَانِكُمْ فَاطْلَبُوا لَهُ سَبْعِينَ عُذْرًا، فَإِنْ لَمْ تَقْبَلْهُ قُلُوبُكُمْ فَاعْلَمُوا أَنَّ الْمَعِيبَ أَنْفُسُكُمْ؛ حَيْثُ ظَهَرَ لِمُسْلِمٍ سَبْعُونَ عُذْرًا فَلَمْ تَقْبَلْهُ» وَمِنْ آدَابِهَا مُعَاشَرَةُ مَنْ يَثِقُ بِدِينِهِ وَأَمَانَتِهِ فِي ظَاهِرِهِ وَبَاطِنِهِ لِقَوْلِ اللَّهِ تبارك وتعالى: {لَا تَجِدُ قَوْمًا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ يُوَادُّونَ مَنْ حَادَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ} [المجادلة: 22] الْآيَةِ. وَالصُّحْبَةُ وَالْمُعَاشَرَةُ عَلَى وُجُوهٍ، فَالْمُعَاشَرَةُ مَعَ الْأَكَابِرِ وَالْمَشَايِخِ بِالْحَرِيَّةِ وَالْخِدْمَةِ لَهُمْ وَالْقِيَامِ بِأَشْغَالِهِمْ. وَالْمُعَاشَرَةُ مَعَ الْأَقْرَانِ وَالْأَوَساطِ بِالنَّصِيحَةِ وَبَذْلِ الْمَوْجُودِ، وَالْكَوْنِ عِنْدَ الْأَحْكَامِ مَا لَمْ يَكُنْ إِثْمًا. وَالْمُعَاشَرَةُ مَعَ الْأَصَاغِرِ وَالْمُرِيدِينَ بِالْإِرْشَادِ وَالتَّأْدِيبِ وَالْحَمْلِ عَلَى مَا يُوجِبُهُ ظَاهِرُ الْعِلْمِ، وَآدَابِ السُّنَّةِ وَأَحْكَامِ الْبَوَاطِنِ، وَالْهِدَايَةِ الَّتِي تَقْوِيمَتُهَا بِحُسْنِ الْأَدَبِ
১৪ - আমি মানসুর বিন আব্দুল্লাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু আলী আস-সাকাফিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি হামদুন আল-কাসসারকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: «যখন তোমাদের ভাইদের মধ্য হতে কারো পদস্খলন ঘটে, তখন তার জন্য সত্তরটি অজুহাত তালাশ করো। যদি তোমাদের অন্তর তা গ্রহণ না করে, তবে জেনে রেখো যে তোমাদের নিজেদের নফসই দোষী; কারণ একজন মুসলিমের সত্তরটি অজুহাত থাকা সত্ত্বেও তোমাদের অন্তর তা গ্রহণ করেনি।’ আর এর শিষ্টাচারের অন্তর্ভুক্ত হলো এমন ব্যক্তির সাথে মেলামেশা করা যার দ্বীনদারিতা ও আমানতদারিতার ওপর প্রকাশ্যে ও গোপনে ভরসা করা যায়। কেননা আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা ইরশাদ করেছেন: {তুমি এমন কোনো কওম পাবে না যারা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে, অথচ তারা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করে যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরোধিতা করে।} [আল-মুজাদালাহ: ২২] আয়াতের শেষ পর্যন্ত। আর সাহচর্য ও মেলামেশা কয়েক প্রকারের হয়ে থাকে। বড়দের এবং মাশায়েখদের সাথে মেলামেশা হতে হবে শ্রদ্ধাবোধ ও তাঁদের খিদমতের মাধ্যমে এবং তাঁদের কাজগুলো আঞ্জাম দেওয়ার মাধ্যমে। সমবয়সী ও সমপর্যায়ের ব্যক্তিদের সাথে মেলামেশা হতে হবে সদুপদেশ প্রদানের মাধ্যমে, যা কিছু সামর্থ্যে আছে তা বিলিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে এবং কোনো গুনাহর কাজ না হওয়া পর্যন্ত যাবতীয় বিধানের ওপর অটল থাকার মাধ্যমে। আর ছোটদের ও মুরিদদের সাথে মেলামেশা হতে হবে সঠিক পথ প্রদর্শন, শিষ্টাচার শিক্ষা প্রদান এবং ইলমের প্রকাশ্য দাবি, সুন্নাহর আদব ও অভ্যন্তরীণ হুকুমগুলো পালনে উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যমে এবং এমন হিদায়াতের মাধ্যমে যার ভিত্তি হলো উত্তম শিষ্টাচার।
(খণ্ড: ১)
আদাবু সসুহবাহ লিআবি আবদির রহমান আস-সুলামি
(পৃষ্ঠা: ٤٦)
الصَّفْحُ عَنْ عَثَرَاتِ الْإِخْوَانِ وَنِسْيَانُهَا وَمِنْ آدَابِهَا: الصَّفْحُ عَنْ عَثَرَاتِ الْإِخْوَانِ وَتَرْكُ تَأْنِيبِهِمْ عَلَيْهَا، قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {فَاصْفَحِ الصَّفْحَ الْجَمِيلَ} [الحجر: 85] فِي التَّفْسِيرِ: أَنْ لَا يَكُونَ فِيهِ تَقْرِيعٌ، وَلَا تَأْنِيبٌ، وَلَا تَوْقِيفٌ، وَلَا مُعَاتَبَةٌ. وَقِيلَ أَيْضًا: هُوَ رِضًا بِلَا عَتَّابٍ
ভাইদের পদস্খলন মার্জনা করা এবং তা বিস্মৃত হওয়া। এর শিষ্টাচারসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো: ভাইদের ভুলত্রুটি মার্জনা করা এবং সে জন্য তাদের তিরস্কার করা পরিহার করা। মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {অতএব আপনি উত্তমভাবে মার্জনা করুন} [হিজর: ৮৫]। তাফসিরে বলা হয়েছে: (উত্তম মার্জনা হলো) যাতে কোনো ধমক, তিরস্কার, কৈফিয়ত তলব বা অনুযোগ থাকবে না। আরও বলা হয়েছে: এটি হলো অনুযোগহীন সন্তুষ্টি।
(খণ্ড: ১)
আদাবু সসুহবাহ লিআবি আবদির রহমান আস-সুলামি
(পৃষ্ঠা: ٤٦)
15 - سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مُحَمَّدٍ الرَّازِيَّ يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبَا جَعْفَرٍ الصَّائِغَ يَقُولُ: سَمِعْتُ مَرْدَوَيْهِ الصَّائِغَ يَقُولُ سَمِعْتُ الْفُضَيْلَ بْنَ عِيَاضٍ يَقُولُ: " الْفُتُوَّةُ: الْعَفْوُ عَنْ عَثَرَاتِ الْإِخْوَانِ " وَكَمَا يَجِبُ عَلَى الْعَبْدِ السَّيْرُ فِي طَلَبِ عِلْمٍ يَتَعَلَّمُهُ لِيُحَسِّنَ بِهِ آدَابِ خِدْمَةِ سَيِّدِهِ كَذَلِكَ وَاجِبٌ عَلَيْهِ أَنْ يَسْعَى فِي طَلَبِ مَنْ يُعَاشِرُهُ لِيُعِينَهُ عَلَى طَاعَةِ مَوْلَاهُ، فَإِنَّ بَعْضَ الْحُكَمَاءِ قَالَ: الْمُؤْمِنُ يَأْلَفُ الْمُؤْمِنَ، يُوَالِيهِ طَبْعًا وَسَجِيَّةً
১৫ - আমি আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আর-রাজিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু জাফর আস-সায়িগকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি মারদাউয়িহ আস-সায়িগকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ফুদ্বাইল বিন ইয়াদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: "ফুতুওয়াহ (উদারতা) হলো: ভাইদের পদস্খলনসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া।" আর দাসের ওপর যেমন এমন জ্ঞান অন্বেষণে সচেষ্ট হওয়া আবশ্যক যা শিখে সে তার মুনিবের খিদমতের আদবসমূহ সুন্দর করতে পারে, তেমনই তার ওপর এমন ব্যক্তির সঙ্গ অন্বেষণে সচেষ্ট হওয়াও আবশ্যক যার সাথে সে জীবন অতিবাহিত করবে, যাতে সে তাকে তার মাওলার আনুগত্যে সাহায্য করতে পারে। কেননা জনৈক প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি বলেছেন: মুমিন মুমিনের সাথে হৃদ্যতা গড়ে তোলে এবং স্বভাবগত ও প্রকৃতিগতভাবেই তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে।
(খণ্ড: ১)
আদাবু সসুহবাহ লিআবি আবদির রহমান আস-সুলামি
(পৃষ্ঠা: ٤٦)
16 - أنا عُمَرُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ شَاهِينَ قَالَ: أنبا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ قَالَ: أنا زَكَرِيَّا بْنُ يَحْيَى، عَنِ الْأَصْمَعِيِّ قَالَ: قَالَ أَعْرَابِيُّ: «تَنَاسَ مَسَاوِئَ الْإِخْوَانِ يَدُمْ لَكَ وُدُّهُمْ»
১৬ - উমর বিন আহমাদ বিন শাহীন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: উবায়দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আমাদের অবহিত করেছেন, তিনি বলেছেন: যাকারিয়া বিন ইয়াহইয়া আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আসমাঈ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: এক বেদুইন বলেছেন: «ভাইদের দোষ-ত্রুটি ভুলে যাও, তাহলে তাদের ভালোবাসা তোমার জন্য দীর্ঘস্থায়ী হবে»
(খণ্ড: ১)
আদাবু সসুহবাহ লিআবি আবদির রহমান আস-সুলামি
(পৃষ্ঠা: ٤٦)
لَا تُعَاشِرْ أَبْنَاءَ الدُّنْيَا وَوَاجِبٌ عَلَى الْمُؤْمِنِ أَنْ يَتَجَنَّبَ عِشْرَةَ طُلَّابِ الدُّنْيَا؛ فَإِنَّهُمْ يُدِلُّونَهُ عَلَى طَلَبِهَا ⦗ص: 47⦘، وَجَمْعِهَا، وَمَنْعِهَا، وَذَاكَ الَّذِي يُبْعِدُهُ عَنْ طَلَبِ نَجَاتِهِ، وَيَقْطَعُهُ عَنْهَا، وَيَجْتَهِدُ فِي مُعَاشَرَةِ أَهْلِ الْخَيْرِ وَمَنْ يَدُلُّهُ عَلَى طَلَبِ الْآخِرَةِ، وَطَلَبِ مَوْلَاهُ كَذَلِكَ
দুনিয়াদারদের সাথে মেলামেশা করো না। মুমিনের জন্য দুনিয়া অন্বেষণকারীদের সাহচর্য বর্জন করা আবশ্যক; কারণ তারা তাকে দুনিয়া অন্বেষণের ⦗পৃষ্ঠা: ৪৭⦘, তা সঞ্চয় করার ও তা আটকে রাখার দিকে ধাবিত করে; আর এটিই তাকে তার মুক্তি অন্বেষণ হতে দূরে সরিয়ে দেয় এবং তা হতে তাকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। সে সচেষ্ট হবে সৎকর্মশীলদের সাহচর্যে থাকতে এবং তাদের সাথে যারা তাকে আখিরাত অন্বেষণের ও তদ্রূপ তার মাওলার অন্বেষণের পথ প্রদর্শন করে।
(খণ্ড: ১)
আদাবু সসুহবাহ লিআবি আবদির রহমান আস-সুলামি
(পৃষ্ঠা: ٤٧)
17 - سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَاذَانَ يَقُولُ: سَمِعْتُ يُوسُفَ بْنَ الْحُسَيْنِ يَقُولُ: قُلْتُ لِذِي النُّونِ وَقْتَ مُفَارَقَتِهِ: أَوْصِنِي فَقَالَ: «عَلَيْكَ بِصُحْبَةِ مَنْ تَسْلَمُ مِنْهُ فِي ظَاهِرِ أَمْرِكَ، وَيَبْعَثُكَ عَلَى الْخَيْرِ صُحْبَتُهُ، وَيُذَكِّرُكَ اللَّهَ رُؤْيَتُهُ»
১৭ - আমি মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন শাযানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইউসুফ বিন আল-হুসাইনকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি যুন-নুনকে তাঁর নিকট থেকে বিদায় নেওয়ার সময় বললাম: আমাকে অসিয়ত করুন। তিনি বললেন: «তোমার জন্য এমন ব্যক্তির সাহচর্য আবশ্যক যার থেকে তোমার বাহ্যিক বিষয়াদি নিরাপদ থাকবে, যার সাহচর্য তোমাকে কল্যাণের দিকে উদ্বুদ্ধ করবে এবং যাকে দর্শন করলে তোমার আল্লাহর কথা স্মরণে আসবে।»
(খণ্ড: ১)
আদাবু সসুহবাহ লিআবি আবদির রহমান আস-সুলামি
(পৃষ্ঠা: ٤٧)
حَمْدُ الْإِخْوَانِ مِنْ حُسْنِ الصُّحْبَةِ وَمِنْ آدَابِ الْعِشْرَةِ: أَنْ تَحْمَدَ إِخْوَانَكَ عَلَى حُسْنِ نِيَّاتِهِمْ، وَإِنْ لَمْ يُسَاعِدْهُمُ الْعَمَلُ.
18 - فَإِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «نِيَّةُ الْمُؤْمِنِ خَيْرٌ مِنْ عَمَلِهِ» وَقَالَ عَلِيٌّ كَرَّمَ اللَّهُ وَجْهَهُ: مَنْ لَمْ يَحْمَدْ أَخَاهُ عَلَى صِدْقِ النِّيَّةِ لَمْ يَحْمَدْهُ عَلَى حُسْنِ الصَّنِيعَةِ
ভ্রাতৃবৃন্দের প্রশংসা করা উত্তম সাহচর্য ও সামাজিকতার শিষ্টাচারের অন্তর্ভুক্ত: তোমার ভাইদের তাদের সৎ নিয়তের জন্য প্রশংসা করা, যদিও কর্ম তাদের অনুকূলে না থাকে।
১৮ - কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «মুমিনের নিয়ত তার আমল অপেক্ষা উত্তম» এবং আলী কাল্লামাল্লাহু ওয়াজহাহু বলেছেন: যে ব্যক্তি তার ভাইকে তার নিয়তের সত্যতার জন্য প্রশংসা করে না, সে তার উত্তম কর্মের জন্যও তার প্রশংসা করবে না।
(খণ্ড: ১)
আদাবু সসুহবাহ লিআবি আবদির রহমান আস-সুলামি
(পৃষ্ঠা: ٤٨)
لَا تَحْسُدِ الْإِخْوَانَ عَلَى نِعَمِ اللَّهِ وَمِنْ آدَابِهَا: أَنْ لَا يَحْسُدَ إِخْوَانَهُ عَلَى مَا يَرَى عَلَيْهِمْ مِنْ آثَارِ نِعَمِ اللَّهِ، بَلْ يَفْرَحُ بِذَلِكَ وَيَحْمَدُ اللَّهَ عَلَى مَا يَرَى مِنَ النِّعْمَةِ عَلَيْهِمْ، كَمَا يَحْمَدُهُ بِنِعْمَتِهِ عَلَى نَفْسِهِ. قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {أَمْ يَحْسُدُونَ النَّاسَ عَلَى مَا آتَاهُمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ} [النساء: 54] ،
20 - وَقَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَحَاسَدُوا»
21 - وَقَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ: «كَادَ الْحَسَدُ أَنْ يَغْلِبَ الْقَدَرَ» وَمِنْ آدَابِهَا: أَنْ لَا يُوَاجِهَ أَخًا مِنْ إِخْوَانِهِ بِمَا يَكْرَهُ
আল্লাহর নিআমতসমূহের জন্য ভাইদের প্রতি হিংসা করো না। আর এর আদবসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো: সে তার ভাইদের ওপর আল্লাহর নিআমতের যে প্রভাব দেখতে পায়, তার জন্য সে তাদের প্রতি হিংসা করবে না; বরং সে এতে আনন্দিত হবে এবং তাদের ওপর যে নিআমত দেখছে তার জন্য আল্লাহর প্রশংসা করবে, ঠিক যেমন সে নিজের ওপর আল্লাহর নিআমতের জন্য তাঁর প্রশংসা করে থাকে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {নাকি তারা মানুষকে হিংসা করে যা আল্লাহ তাদের নিজের অনুগ্রহে দান করেছেন?} [আন-নিসা: ৫৪] ,
২০ - আর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা একে অপরের প্রতি হিংসা করো না।"
২১ - আর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "হিংসা প্রায় তাকদীরকে ছাপিয়ে যাওয়ার উপক্রম করে।" আর এর আদবসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো: নিজের কোনো ভাইয়ের সামনে এমন কোনো প্রসঙ্গের অবতারণা না করা যা সে অপছন্দ করে।
(খণ্ড: ১)
আদাবু সসুহবাহ লিআবি আবদির রহমান আস-সুলামি
(পৃষ্ঠা: ٤٨)
وَقَدْ:
⦗ص: 49⦘ 22 - أنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُثْمَانَ قَالَ: نَا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ نُصَيْرٍ قَالَ: أنَا ابْنُ مَسْرُوقٍ قَالَ: أنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ الْبُرْجُلَانِيُّ قَالَ: أنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ قَالَ: نَا حَمَّادٌ، عَنْ سَلْمٍ الْعَلَوِيِّ، عَنْ أَنَسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ «كَانَ لَا يُوَاجِهُ أَحَدًا فِي وَجْهِهِ بِشَيْءٍ يَكْرَهُهُ» مِنْ آدَابِ الصُّحْبَةِ مُلَازَمَةُ الْحَيَاءِ وَمِنْ آدَابِهَا: مُلَازَمَةُ الْحَيَاءِ فِي كُلِّ حَالٍ كَذَلِكَ
এবং অবশ্যই:
⦗পৃষ্ঠা: ৪৯⦘ ২২ - উবাইদুল্লাহ বিন উসমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: জাফর বিন মুহাম্মদ বিন নুসাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনু মাসরুক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন আল-বুরজুলানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: সুলাইমান বিন হারব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সালম আল-আলাভি থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম) "কারো মুখোমুখি হয়ে তার সামনে এমন কিছু প্রকাশ করতেন না যা সে অপছন্দ করে।" সাহচর্যের আদবসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো লজ্জাশীলতাকে আঁকড়ে ধরা এবং এর আদবসমূহের অন্যতম হলো: একইভাবে প্রতিটি অবস্থায় লজ্জাশীলতাকে আঁকড়ে থাকা।
(খণ্ড: ১)
আদাবু সসুহবাহ লিআবি আবদির রহমান আস-সুলামি
(পৃষ্ঠা: ٤٩)
أنا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ أَيُّوبَ، قَالَ: أنا مُحَمَّدُ بْنُ أَيُّوبَ الرَّازِيُّ قَالَ: أنا عَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ، عَنْ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: سَمِعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ رَجُلًا يَعِظُ أَخَاهُ فِي الْحَيَاءِ فَقَالَ: «الْحَيَاءُ مِنَ الْإِيمَانِ»
আমি মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক ইবনে আইয়ুব, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে আইয়ুব আর-রাযী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আলী ইবনুল মাদীনী বর্ণনা করেছেন সুফইয়ান ইবনে উয়ায়নাহ থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি সালিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: নবী (আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) জনৈক ব্যক্তিকে তার ভাইকে লজ্জাশীলতা বিষয়ে উপদেশ দিতে শুনলেন। তখন তিনি বললেন: «লজ্জাশীলতা ঈমানের অঙ্গ»।
(খণ্ড: ১)
আদাবু সসুহবাহ লিআবি আবদির রহমান আস-সুলামি
(পৃষ্ঠা: ٤٩)
24 - أنا أَبُو نَصْرٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَامِدٍ التِّرْمِذِيُّ قَالَ: أنا مُحَمَّدُ بْنُ حَبَّانَ الصَّنْعَانِيُّ قَالَ: ثَنَا خَالِدُ بْنُ يَزِيدَ الْعُمَرِيُّ قَالَ: أنا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ ⦗ص: 50⦘: «الْإِيمَانُ بِضْعٌ وَسَبْعُونَ، أَوْ بِضْعٌ وَسِتُّونَ شُعْبَةً، أَفْضَلُهَا شَهَادَةُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَدْنَاهَا إِمَاطَةُ الْأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ، وَالْحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الْإِيمَانِ»
২৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু নাসর এবং মুহাম্মদ ইবন মুহাম্মদ ইবন হামিদ আত-তিরমিযী, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবন হিব্বান আস-সানআনী, তিনি বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন খালিদ ইবন ইয়াজীদ আল-উমারী, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সুফিয়ান আস-সাওরী, সুহাইল ইবন আবী সালিহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ৫০⦘: «ঈমানের সত্তরটিরও অধিক অথবা ষাটটিরও অধিক শাখা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম হলো এই সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, এবং এগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন হলো পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করা। আর লজ্জা হলো ঈমানের একটি শাখা।’
(খণ্ড: ১)
আদাবু সসুহবাহ লিআবি আবদির রহমান আস-সুলামি
(পৃষ্ঠা: ٥٠)
25 - أنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ كَعْبٍ الْكَعْبِيُّ قَالَ: نا مُحَمَّدُ بْنُ غَالِبِ بْنِ حَرْبٍ، نا أَبُو الْوَلِيدِ قَالَ: أنا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ أَبِي الْخَيْرِ، سَمِعَ سَعِيدَ بْنَ يَزِيدَ أَنَّ رَجُلًا قَالَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ: أَوْصِنِي. قَالَ: «اسْتَحِ اللَّهَ كَمَا تَسْتَحْيِي رَجُلًا صَالِحًا مِنْ قَوْمِكَ»
২৫ - আমি আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন কাব আল-কাবি, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন গালিব বিন হারব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবুল ওয়ালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: লায়স বিন সাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইয়াজিদ বিন আবি হাবিব থেকে, তিনি আবুল খায়ের থেকে, তিনি সাঈদ বিন ইয়াজিদকে বলতে শুনেছেন যে, এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম)-কে বললেন: আমাকে উপদেশ দিন। তিনি বললেন: «তুমি আল্লাহকে তেমন লজ্জা করো, যেমন তুমি তোমার কওমের একজন নেককার লোককে লজ্জা করে থাকো।»
(খণ্ড: ১)
আদাবু সসুহবাহ লিআবি আবদির রহমান আস-সুলামি
(পৃষ্ঠা: ٥١)
26 - أنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الرَّازِيُّ قَالَ: نَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ الْقَسْرِيُّ قَالَ: أنَا سَعِيدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْوَاسِطِيُّ قَالَ: أنَا هُشَيْمٌ، عَنْ مَنْصُورِ بْنِ زَاذَانَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أَبِي بَكْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ: «الْحَيَاءُ مِنَ الْإِيمَانِ، وَالْإِيمَانُ فِي الْجَنَّةِ، وَالْبَذَاءُ مِنَ الْجَفَاءِ، وَالْجَفَاءُ فِي النَّارِ» وَلِلْمُعَاشَرَةِ ثَمَنٌ، فَيَجِبُ أَنْ يُطَالِبَ صَاحِبَهُ بِثَمَنِ مُعَاشَرَتِهِ، وَهُوَ صِدْقُ الْمَوَدَّةِ، وَصَفَاءُ الْمَحَبَّةِ، فَإِنَّ الْعِشْرَةَ لَا تَتِمُّ إِلَّا بِهِمَا
২৬ - আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আর-রাজি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: হুসাইন বিন আলী আল-কাসরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: সাঈদ বিন সুলাইমান আল-ওয়াসিতি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: হুশাইম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মানসুর বিন জাযান থেকে, তিনি হাসান থেকে, তিনি আবু বকরত থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «লজ্জাশীলতা ঈমানের অংশ, আর ঈমান জান্নাতে নিয়ে যায়। আর অশ্লীলতা বা কটু কথা হলো রূঢ়তার অংশ, আর রূঢ়তা জাহান্নামে নিয়ে যায়»। আর সাহচর্যের একটি মূল্য রয়েছে, তাই একজনের উচিত তার সঙ্গীর কাছে সেই সাহচর্যের মূল্য দাবি করা, আর তা হলো অকৃত্রিম সৌহার্দ্য ও স্বচ্ছ ভালোবাসা। কেননা এই দুটি ছাড়া সাহচর্য পূর্ণতা পায় না।