(খণ্ড: ১)
আখলাকুন নাবি ওয়া আদাবুহু - আবুশ শাইখ আল-আস বাহানি
(পৃষ্ঠা: -)
أخلاق النبي وآدابه - أبو الشيخ الأصبهاني القسم: السيرة النبوية
الكتاب: أخلاق النبي وآدابه
المؤلف: أبو محمد عبد الله بن محمد بن جعفر بن حيان الأصبهاني المعروف بـ أبي الشيخ (ت 369 هـ)
المحقق: د صالح بن محمد الونيان
الناشر: دار المسلم، الرياض - السعودية
الطبعة: الأولى، 1418 هـ - 1998 م
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
নবী (সা.)-এর চরিত্র ও শিষ্টাচার - আবুশ শেখ আল-আসবাহানী বিভাগ: সীরাতুন নবী
গ্রন্থ: নবী (সা.)-এর চরিত্র ও শিষ্টাচার
লেখক: আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জাফর ইবনে হাইয়ান আল-আসবাহানী, যিনি আবুশ শেখ নামে পরিচিত (মৃত্যু ৩৬৯ হিজরি)
গবেষক ও সম্পাদক: ড. সালেহ ইবনে মুহাম্মদ আল-ওয়ুনাইয়ান
প্রকাশনী: দারুল মুসলিম, রিয়াদ - সৌদি আরব
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৮ হিজরি - ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ
[গ্রন্থের নম্বরকরণ মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
আল-শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১ হিজরি
(খণ্ড: ১)
আখলাকুন নাবি ওয়া আদাবুহু - আবুশ শাইখ আল-আস বাহানি
(পৃষ্ঠা: ৭১)
أَخْلَاقُ النَّبِيِّ لِأَبِي الشَّيْخِ الْأَصْبَهَانِيِّ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ الْحَمْدُ لِلَّهِ عَلَى سَتْرِهِ، مَا أَعْجَزَ الْمَسْتُورَ عَنْ شُكْرِهِ مَا ذَكَرَ مِنْ حُسْنِ خُلُقِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَكَرَمِهِ وَكَثْرَةِ احْتِمَالِهِ، وَشِدَّةِ حَيَائِهِ، وَعَفْوِهِ، وَجُودِهِ، وَسَخَائِهِ، وَشَجَاعَتِهِ، وَتَوَاضُعِهِ، وَصَبْرِهِ عَلَى الْمَكْرُوهِ، وَإِغْضَائِهِ، وَإِعْرَاضِهِ عَمَّا كَرِهَهُ، وَرِفْقِهِ بِأُمَّتِهِ، وَكَظْمِهِ الْغَيْظَ، وَحِلْمِهِ، وَكَثْرَةِ تَبَسُّمِهِ، وَسُرُورِهِ، وَمِزَاحِهِ، وَبُكَائِهِ، وَحُزْنِهِ، وَمَنْطِقِهِ، وَألْفَاظِهِ، وَقَوْلِهِ عِنْدَ قِيَامِهِ مِنْ مَجْلِسِهِ، وَمَشْيِهِ، وَالْتِفَاتِهِ، وَذِكْرِ مَحَبَّتِهِ الطِّيبَ، وَتَطَيُّبِهِ، وَذِكْرِ قَمِيصِهِ، وَجُبَّتِهِ، وَشُكْرِهِ رَبَّهُ عِنْدَ لُبْسِهِ
আবুশ শাইখ আল-আসবাহানি সংকলিত ‘আখলাকুন নবী’ (নবীজির চারিত্রিক গুণাবলি)
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য তাঁর কৃত দোষাবরণের ওপর; যার দোষ তিনি ঢেকে রেখেছেন তার পক্ষে তাঁর কৃতজ্ঞতা আদায় করা কতই না দুঃসাধ্য! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উত্তম চরিত্র, তাঁর মহানুভবতা, তাঁর অধিক সহনশীলতা, তাঁর প্রবল লজ্জা, তাঁর ক্ষমাশীলতা, তাঁর দানশীলতা, তাঁর বদান্যতা, তাঁর বীরত্ব, তাঁর বিনয়, অপ্রীতিকর বিষয়ে তাঁর ধৈর্য ধারণ, তাঁর উপেক্ষা এবং যা তিনি অপছন্দ করতেন তা থেকে তাঁর বিমুখতা, তাঁর উম্মতের প্রতি তাঁর কোমলতা, তাঁর ক্রোধ সংবরণ, তাঁর সহিষ্ণুতা, তাঁর অধিক পরিমাণে মৃদু হাসি, তাঁর আনন্দ, তাঁর কৌতুক, তাঁর ক্রন্দন, তাঁর দুঃখবোধ, তাঁর বাচনভঙ্গি, তাঁর শব্দচয়ন, মজলিস থেকে উঠার সময় তাঁর পঠিত বাক্যসমূহ, তাঁর হাঁটাচলা, তাঁর ফিরে তাকানো, সুগন্ধির প্রতি তাঁর ভালোবাসার বর্ণনা, তাঁর সুগন্ধি ব্যবহার, তাঁর কামিস (জামা) ও জুব্বার বিবরণ এবং পোশাক পরিধানের সময় তাঁর রবের প্রতি তাঁর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের আলোচনা।
(খণ্ড: ১)
আখলাকুন নাবি ওয়া আদাবুহু - আবুশ শাইখ আল-আস বাহানি
(পৃষ্ঠা: ৭১)
فَأَمَّا حُسْنُ خُلُقِهِ صلى الله عليه وسلم
1 - أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْإِمَامُ الْأَجَلُّ السَّيِّدُ أَبُو الْفَضْلِ الْعَبَّاسُ ابْنُ الشَّيْخِ أَبِي الْعَبَّاسِ السَّقَانِيُّ رحمه الله، فِي الْمُحَرَّمِ سَنَةَ اثْنَتَيْنِ وَخَمْسِمِائَةٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا ابْنُ أَبِي عَاصِمٍ قَالَ: حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مِهْرَانَ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ أَبِي التَّيَّاحِ، عَنِ الصَّادِقِ قَالَ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَحْسَنَ النَّاسِ خُلُقًا»
তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উত্তম চরিত্রের বর্ণনা:
১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন অত্যন্ত সম্মানিত শায়খ, ইমাম, সাইয়্যিদ আবুল ফজল আব্বাস ইবনে শায়খ আবি আব্বাস আস-সাকানি (রাহিমাহুল্লাহ), ৫০২ হিজরি সনের মহররম মাসে; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে আবি আসিম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট জাফর ইবনে মিহরান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুল ওয়ারিস বর্ণনা করেছেন আবু তাইয়্যাহ হতে, তিনি আস-সাদিক হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী»
(খণ্ড: ১)
আখলাকুন নাবি ওয়া আদাবুহু - আবুশ শাইখ আল-আস বাহানি
(পৃষ্ঠা: ৭৫)
2 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ نَصْرٍ الْجَمَّالُ، حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ يَحْيَى، قَالَ: حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عُلْوَانَ الْكُوفِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، رضي الله عنها قَالَتْ: مَا كَانَ أَحَدٌ أَحْسَنَ خُلُقًا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا دَعَاهُ أَحَدٌ مِنْ أَصْحَابِهِ وَلَا مِنْ أَهْلِ بَيْتِهِ إِلَّا قَالَ: لَبَّيْكَ، فَلِذَلِكَ أَنْزَلَ اللَّهُ عز وجل: {وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ} [القلم: 4]
২ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে জাফর ইবনে নাসর আল-জাম্মাল, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন জারির ইবনে ইয়াহইয়া, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হুসাইন ইবনে উলওয়ান আল-কুফি, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হিশাম ইবনে উরওয়াহ, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চেয়ে অধিক সুন্দর চরিত্রের অধিকারী আর কেউ ছিলেন না। তাঁর সাহাবীগণের মধ্য থেকে কেউ অথবা তাঁর পরিবারের কেউ যখনই তাঁকে ডাকতেন, তখনই তিনি বলতেন: ‘লাব্বাইক’ (আমি উপস্থিত)। আর এ কারণেই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল অবতীর্ণ করেছেন: {নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী} [আল-কালাম: ৪]
(খণ্ড: ১)
আখলাকুন নাবি ওয়া আদাবুহু - আবুশ শাইখ আল-আস বাহানি
(পৃষ্ঠা: ৭৭)
3 - نَا أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرٍ، نَا جَرِيرُ بْنُ يَحْيَى، نَا إِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ الْفَضْلِ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ سُوَيْدٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمَرَ، عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ، قَالَ: قَالَ رَجُلٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: يَا لَبَّيْكَ
৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন জাফর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জারীর বিন ইয়াহইয়া, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক বিন ইসমাঈল, আদী বিন আল-ফাদল থেকে, তিনি ইসহাক বিন সুওয়াইদ থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন ইয়ামার থেকে, তিনি আবু জাফর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন: আমি তোমার আহ্বানে সাড়া দিচ্ছি (আমি উপস্থিত)।
(খণ্ড: ১)
আখলাকুন নাবি ওয়া আদাবুহু - আবুশ শাইখ আল-আস বাহানি
(পৃষ্ঠা: ৭৯)
4 - نَا عَبْدَانُ، نَا زَيْدُ بْنُ الْحَرِيشِ، نَا خَالِدُ بْنُ الْقَاسِمِ، نَا لَيْثٌ، حَدَّثَنِي الْوَلِيدُ بْنُ أَبِي الْوَلِيدِ، أَنَّ ابْنَ خَارِجَةَ يَعْنِي سُلَيْمَانَ حَدَّثَهُ، أَنَّ أَبَاهُ خَارِجَةَ بْنَ زَيْدٍ حَدَّثَهُ، أَنَّ زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ قَالَ: «إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كُنَّا إِذَا جَلَسْنَا إِلَيْهِ إِنْ أَخَذْنَا بِحَدِيثٍ فِي ذِكْرِ الْآخِرَةِ أَخَذَ مَعَنَا، وَإِنْ أَخَذْنَا فِي ذِكْرِ الدُّنْيَا أَخَذَ مَعَنَا، وَإِنْ أَخَذْنَا فِي ذِكْرِ الطَّعَامِ وَالشَّرَابِ أَخَذَ مَعَنَا، فَكُلُّ هَذَا أُحَدِّثُكُمْ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم» وَبِإِسْنَادِهِ قَالَ: قُلْنَا لِزَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ: أَخْبِرْنَا عَنْ أَخْلَاقِ، رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم؟ فَقَالَ: عَنْ أَيِّ أَخْلَاقِهِ أُخْبِرُكُمْ؟ كُنْتُ جَارَهُ، فَإِذَا أُنْزِلَ عَلَيْهِ الْوَحْي بَعَثَ إِلَيَّ فَأَكْتُبَهُ، وَكُنَّا إِذَا ذَكَرْنَا الدُّنْيَا ذَكَرَهَا مَعَنَا - فَذَكَرَ مِثْلَهُ
৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জায়েদ ইবনুল হারিশ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন খালিদ ইবনুল কাসিম, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন লাইস, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ওয়ালিদ ইবনে আবিল ওয়ালিদ যে, ইবনে খারিজাহ অর্থাৎ সুলায়মান তাঁর নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁর পিতা খারিজাহ বিন জায়েদ তাঁর নিকট বর্ণনা করেছেন যে, জায়েদ বিন সাবিত বলেছেন: "নিশ্চয়ই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম—আমরা যখন তাঁর নিকট বসতাম, তখন আমরা যদি পরকাল বিষয়ক কোনো আলোচনা শুরু করতাম, তবে তিনিও আমাদের সাথে তাতে অংশগ্রহণ করতেন; আর যদি আমরা দুনিয়াবি কোনো আলোচনা শুরু করতাম, তবে তিনিও আমাদের সাথে তাতে অংশগ্রহণ করতেন; আর যদি আমরা পানাহার বিষয়ক কোনো আলোচনা শুরু করতাম, তবে তিনিও আমাদের সাথে তাতে অংশগ্রহণ করতেন। এই সবই আমি তোমাদের নিকট আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পক্ষ হতে বর্ণনা করছি।" এবং একই সনদে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা জায়েদ বিন সাবিতকে বললাম: "আমাদেরকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চরিত্র সম্পর্কে অবহিত করুন।" তিনি বললেন: "আমি তাঁর কোন চরিত্র সম্পর্কে তোমাদের বলব? আমি তাঁর প্রতিবেশী ছিলাম। যখনই তাঁর ওপর ওহী অবতীর্ণ হতো, তিনি আমার নিকট লোক পাঠাতেন এবং আমি তা লিখে নিতাম। আর আমরা যখন দুনিয়ার কথা আলোচনা করতাম, তিনি আমাদের সাথে তা আলোচনা করতেন"—অতঃপর তিনি পূর্বের ন্যায় বর্ণনা করলেন।
(খণ্ড: ১)
আখলাকুন নাবি ওয়া আদাবুহু - আবুশ শাইখ আল-আস বাহানি
(পৃষ্ঠা: ৮২)
5 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى الْمَرْوَزِيُّ، نَا عَاصِمُ بْنُ عَلِيٍّ، نَا قَيْسٌ، نَا سِمَاكٌ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ: قُلْتُ لَهُ: أَكُنْتَ تُجَالِسُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم؟ قَالَ: نَعَمْ، كَانَ طَوِيلَ الصَّمْتِ، وَكَانَ أَصْحَابُهُ يَتَنَاشَدُونَ الشِّعْرَ عِنْدَهُ، وَيَذْكُرُونَ أَشْيَاءَ مِنْ أَمَرِ الْجَاهِلِيَّةِ وَيَضْحَكُونَ، فَيَبْتَسِمُ مَعَهُمْ إِذَا ضَحِكُوا
৫ - আমাদের নিকট মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া আল-মারওয়াযী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আসিম বিন আলী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট কায়স বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট সিমাক বর্ণনা করেছেন, তিনি জাবির বিন সামুরাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি (সিমাক) বলেন: আমি তাঁকে (জাবিরকে) বললাম: আপনি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মজলিসে বসতেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, তিনি দীর্ঘ সময় নীরব থাকতেন। তাঁর সাহাবীগণ তাঁর সম্মুখে কবিতা আবৃত্তি করতেন এবং জাহিলিয়াত যুগের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন ও হাসাহাসি করতেন, আর তাঁরা হাসলে তিনিও তাঁদের সাথে মুচকি হাসতেন।
(খণ্ড: ১)
আখলাকুন নাবি ওয়া আদাবুহু - আবুশ শাইখ আল-আস বাহানি
(পৃষ্ঠা: ৮৫)
6 - أَخْبَرَنَا الْمَرْوَزِيُّ، نَا عَاصِمُ بْنُ عَلِيٍّ، نَا أَبُو هِلَالٍ، نَا حُمَيْدُ بْنُ هِلَالٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ بْنِ أَبِي مُوسَى، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، قَالَ: أَكَلْتُ ثُومًا فَانْتَهَيْتُ إِلَى الْمُصَلَّى وَقَدْ سُبِقْتُ بِرَكْعَةٍ، فَلَمَّا دَخَلْتُ الْمَسْجِدَ، وَجَدَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رِيحَ الثُّومِ، فَلَمَّا قَضَى صَلَاتَهُ قَالَ: مَنْ أَكَلَ مِنْ هَذِهِ الشَّجَرَةِ فَلَا يَقْرَبَنَا حَتَّى يَذْهَبَ رِيحُهَا، أَوْ رِيحُهُ، فَلَمَّا قَضَيْتُ صَلَاتِي جِئْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَاللَّهِ لَتُعْطِيَنِّي يَدَكَ، فَأَعْطَاهُ يَدَهُ - قَالَ حُمَيْدٌ: إِذَنْ لَيَجِدَنَّهُ سَهْلًا قَرِيبًا - فَأَدْخَلْتُ يَدَهُ فِي كُمِّي، فَوَضَعَهَا عَلَى صَدْرِي، فَإِذَا أَنَا مَعْصُوبُ الصَّدْرِ، فَقَالَ: أَمَا إِنَّ لَكَ عُذْرًا
৬ - মারওয়াযী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আসিম বিন আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু হিলাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুমাইদ বিন হিলাল আবু বুরদাহ বিন আবু মূসা থেকে, তিনি মুগীরাহ বিন শু’বাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রসুন খেয়েছিলাম, অতঃপর সালাত আদায়ের স্থানে পৌঁছলাম অথচ আমার এক রাকাত সালাত ইতিপূর্বেই অতিবাহিত হয়ে গিয়েছিল। আমি যখন মসজিদে প্রবেশ করলাম, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রসুনের গন্ধ পেলেন। অতঃপর তিনি যখন সালাত সম্পন্ন করলেন, তখন বললেন: "যে ব্যক্তি এই বৃক্ষ (উদ্ভিদ) থেকে আহার করবে, সে যেন আমাদের নিকটবর্তী না হয় যতক্ষণ পর্যন্ত না এর গন্ধ দূর হয়।" আমি যখন আমার সালাত শেষ করলাম, তখন আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট আসলাম এবং বললাম, "হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহর কসম, আপনি অবশ্যই আমাকে আপনার হাত বাড়িয়ে দেবেন।" তখন তিনি তাঁকে তাঁর হাত বাড়িয়ে দিলেন —হুমাইদ বলেন: তখন তিনি তাঁকে অত্যন্ত অমায়িক ও সহজলভ্য হিসেবে পেলেন— অতঃপর আমি তাঁর হাতটি আমার আস্তিনের ভেতরে প্রবেশ করালাম এবং তা আমার বুকের ওপর স্থাপন করলাম; এমতাবস্থায় আমার বুকটি ছিল পট্টি দিয়ে বাঁধা। তখন তিনি বললেন: "জেনে রেখো, নিশ্চয়ই তোমার ওযর (যথাযথ কারণ) রয়েছে।"
(খণ্ড: ১)
আখলাকুন নাবি ওয়া আদাবুহু - আবুশ শাইখ আল-আস বাহানি
(পৃষ্ঠা: ৮৭)
7 - حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ الطِّهْرَانِيُّ، نَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ رَاشِدٍ الْآدَمَيُّ، نَا مُسْلِمٌ، نَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ الْقَيْسِيُّ، نَا سَعِيدٌ الْجَرِيرِيُّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمُرَ، عَنْ جَرِيرٍ، " أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ بَعْضَ بُيُوتِهِ، فَامْتَلَأَ الْبَيْتُ، وَدَخَلَ جَرِيرٌ فَقَعَدَ خَارِجَ الْبَيْتِ، فَأَبْصَرَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، فَأَخَذَ ثَوْبَهُ فَلَفَّهُ وَرَمَى بِهِ إِلَيْهِ، وَقَالَ: اجْلِسْ عَلَى هَذَا، فَأَخَذَهُ جَرِيرٌ، وَوَضَعَهُ عَلَى وَجْهِهِ، وَقَبَّلَهُ "
৭ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-আব্বাস আত-তিহরানি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবরাহিম বিন রাশিদ আল-আদামি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসলিম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর বিন আওন আল-কাইসি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ আল-জারিরি, তিনি আব্দুল্লাহ বিন বুরাইদাহ থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন ইয়ামুর থেকে, তিনি জারির (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কোনো এক ঘরে প্রবেশ করলেন, তখন ঘরটি পূর্ণ হয়ে গেল। এমতাবস্থায় জারির (রা.) আসলেন এবং ঘরের বাইরে বসে পড়লেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে দেখতে পেলেন, তখন তিনি নিজের চাদরটি নিলেন এবং সেটি ভাঁজ করে তাঁর দিকে ছুঁড়ে দিলেন ও বললেন: এটির উপরে বসো। তখন জারির (রা.) সেটি গ্রহণ করলেন, নিজের চেহারায় রাখলেন এবং তা চুম্বন করলেন।"
(খণ্ড: ১)
আখলাকুন নাবি ওয়া আদাবুহু - আবুশ শাইখ আল-আস বাহানি
(পৃষ্ঠা: ৯০)
8 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ أَحْمَدَ، نَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُمَرَ، نَا ابْنُ مَهْدِيٍّ، نَا مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ أَبِي الزَّاهِرِيَّةِ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى عَائِشَةَ رضي الله عنها، فَسَأَلْتُهَا عَنْ خُلُقِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَتِ: الْقُرْآنُ
৮ - আমাদের নিকট ইসহাক বিন আহমদ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুর রহমান বিন উমর আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে মাহদী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুআবিয়া বিন সালিহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি আবুয যাহিরিয়্যা থেকে, তিনি জুবায়ের বিন নুফায়ের থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর নিকট প্রবেশ করলাম এবং তাঁকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চরিত্র সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: (তাঁর চরিত্র ছিল) কুরআন।
(খণ্ড: ১)
আখলাকুন নাবি ওয়া আদাবুহু - আবুশ শাইখ আল-আস বাহানি
(পৃষ্ঠা: ৯৩)
9 - حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ أَبَانَ، نَا الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ، نَا مُوسَى بْنُ مُحَلِّمٍ، نَا عَبْدُ الْكَبِيرِ، نَا عَبَّادُ بْنُ كَثِيرٍ، عَنِ الْحَسَنِ، فِي قَوْلِهِ عز وجل: {فَبِمَا رَحْمَةٍ مِنَ اللَّهِ لِنْتَ لَهُمْ} [آل عمران: 159] قَالَ: هَذَا خُلُقُ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم، نَعَتَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ
৯ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আল-ওয়ালিদ ইবনে আবান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হাসান ইবনে আহমাদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসা ইবনে মুহাল্লিম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল কাবীর, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্বাদ ইবনে কাসীর, তিনি আল-হাসান থেকে বর্ণনা করেন, মহান আল্লাহর এই বাণী প্রসঙ্গে: {আল্লাহর দয়ার কারণেই আপনি তাদের প্রতি কোমল হয়েছেন} [আল-ইমরান: ১৫৯]; তিনি বলেন: এটি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চরিত্র, মহান আল্লাহ তাঁর এই গুণ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আখলাকুন নাবি ওয়া আদাবুহু - আবুশ শাইখ আল-আস বাহানি
(পৃষ্ঠা: ৯৫)
10 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حُسَيْنٍ الْحَذَّاءُ، نَا عَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ، نَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، نَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الْأَسْوَدِ، قَالَ: سَأَلْتُ عَائِشَةَ رضي الله عنها: " كَيْفَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصْنَعُ فِي أَهْلِهِ؟ قَالَتْ: كَانَ فِي مِهْنَةِ أَهْلِهِ، فَإِذَا حَضَرَتِ الصَّلَاةُ قَامَ فَصَلَّى "
১০ - আমাদের কাছে আহমাদ ইবনে হুসাইন আল-হাদ্দা বর্ণনা করেছেন, তিনি আলী ইবনুল মাদীনী থেকে, তিনি খালিদ ইবনুল হারিস থেকে, তিনি শু’বাহ থেকে, তিনি হাকাম থেকে, তিনি ইবরাহীম থেকে, তিনি আসওয়াদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-কে জিজ্ঞাসা করলাম: "আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর পরিবারের সাথে থাকাকালীন কী করতেন?" তিনি বললেন: "তিনি তাঁর পরিবারের গৃহস্থালি কাজে নিয়োজিত থাকতেন, অতঃপর যখন সালাতের সময় উপস্থিত হতো, তখন তিনি উঠে যেতেন এবং সালাত আদায় করতেন।"
(খণ্ড: ১)
আখলাকুন নাবি ওয়া আদাবুহু - আবুশ শাইখ আল-আস বাহানি
(পৃষ্ঠা: ৯৮)
11 - حَدَّثَنَا الْحَذَّاءُ، نَا عَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ، نَا حَمَّادُ بْنُ أُسَامَةَ، نَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ رَجُلٍ حَدَّثَهُ، أَنَّ عَائِشَةَ رضي الله عنها سُئِلَتْ: كَيْفَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي بَيْتِهِ؟ قَالَتْ: كَانَ يَعْمَلُ كَعَمَلِ أَحَدِكُمْ فِي بَيْتِهِ يَخِيطُ ثَوْبَهُ، وَيَخْصِفُ نَعْلَهُ
১১ - আল-হাদ্দা আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আলি ইবনুল মাদিনি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ ইবনে উসামা আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, হিশাম ইবনে উরওয়াহ তাঁর নিকট হাদিস বর্ণনাকারী জনৈক ব্যক্তির সূত্রে বর্ণনা করেন যে, আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর ঘরে কেমন ছিলেন? তিনি বললেন: তিনি তোমাদের মধ্যকার কোনো ব্যক্তি তার ঘরে যেভাবে কাজ করে সেভাবেই কাজ করতেন; তিনি নিজের কাপড় সেলাই করতেন এবং নিজের জুতো মেরামত করতেন।
(খণ্ড: ১)
আখলাকুন নাবি ওয়া আদাবুহু - আবুশ শাইখ আল-আস বাহানি
(পৃষ্ঠা: ১০০)
12 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعِيدٍ الْوَشَا، نَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ عَتَّابٍ، نَا مَهْدِيُّ بْنُ مَيْمُونٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: سَأَلْتُ عَائِشَةَ رضي الله عنها: مَا كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَصْنَعُ إِذَا خَلَا؟ قَالَتْ: يَخِيطُ ثَوْبَهُ، وَيَخْصِفُ نَعْلَهُ، وَيَصْنَعُ مَا يَصْنَعُ الرَّجُلُ فِي أَهْلِهِ
13
⦗ص: 102⦘ حَدَّثَنَا الْحَذَّاءُ، نَا عَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ، نَا بِشْرُ بْنُ عُمَرَ، نَا مَهْدِيُّ بْنُ مَيْمُونٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: سَأَلْتُ عَائِشَةَ رضي الله عنها، مِثْلَهُ
১২ - মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে সাঈদ আল-ওয়াশা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল ওয়াহিদ ইবনে আত্তাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মাহদী ইবনে মায়মুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা)-কে জিজ্ঞাসা করলাম: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন একান্তে থাকতেন তখন তিনি কী করতেন? তিনি বললেন: তিনি তাঁর পোশাক সেলাই করতেন, তাঁর জুতো মেরামত করতেন এবং একজন সাধারণ মানুষ তাঁর পরিবারে যা করে থাকেন তিনিও তাই করতেন।
১৩
⦗পৃষ্ঠা: ১০২⦘ আল-হাজ্জা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনে আল-মাদিনী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, বিশর ইবনে উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মাহদী ইবনে মায়মুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা)-কে অনুরূপ জিজ্ঞাসা করলাম।
(খণ্ড: ১)
আখলাকুন নাবি ওয়া আদাবুহু - আবুশ শাইখ আল-আস বাহানি
(পৃষ্ঠা: ১০৩)
14 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ، نَا سَعِيدُ بْنُ عَمْرٍو، نَا بَقِيَّةُ، عَنْ ثَوْرِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ عَقِيلِ بْنِ خَالدٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: سُئِلَتْ عَائِشَةُ رضي الله عنها: كَيْفَ كَانَ خُلُقُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي بَيْتِهِ؟ فَقَالَتْ: «كَأَحَدِكُمْ يَرْفَعُ شَيْئًا وَيَضَعُهُ، وَكَانَ أَحَبَّ الْعَمَلِ إِلَيْهِ الْخِيَاطَةُ»
১৪ - আমাদের নিকট ইবরাহীম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট সাঈদ ইবনে আমর বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট বাকিয়্যাহ বর্ণনা করেছেন, সাওর ইবনে ইয়াযীদ থেকে, তিনি আকীল ইবনে খালিদ থেকে, তিনি যুহরী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চরিত্র তাঁর ঘরে কেমন ছিল? তিনি বললেন: «তিনি তোমাদের একজনের মতোই ছিলেন, তিনি কোনো কিছু উঠাতেন এবং রাখতেন; আর সেলাইয়ের কাজ ছিল তাঁর নিকট সবচেয়ে প্রিয় আমল (কাজ)।’»
(খণ্ড: ১)
আখলাকুন নাবি ওয়া আদাবুহু - আবুশ শাইখ আল-আস বাহানি
(পৃষ্ঠা: ১০৬)
15 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ الْفِرْيَابِيُّ، نَا مِنْجَابٌ، نَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، رضي الله عنها قَالَتْ: كُنْتُ أَلْعَبُ بِالْبَنَاتِ فِي بَيْتِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَكُنَّ لِي صَوَاحِبُ يَأْتِينَنِي، فَيَلْعَبْنَ مَعِي، فَيَنْقَمِعْنَ إِذَا رَأَيْنَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُسَرِّبُهُنَّ إِلَيَّ، فَيَلْعَبْنَ مَعِي
১৫ - আবু বকর আল-ফিরইয়াবী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মিনজাব আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আলী ইবনে মুশহির আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, আর আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ঘরে পুতুল নিয়ে খেলতাম। আমার কিছু খেলার সাথী ছিল যারা আমার কাছে আসত এবং আমার সাথে খেলত। যখন তারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেখত, তখন তারা (লজ্জায়) আড়ালে চলে যেত। এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদেরকে আমার কাছে পাঠিয়ে দিতেন এবং তারা আমার সাথে খেলত।
(খণ্ড: ১)
আখলাকুন নাবি ওয়া আদাবুহু - আবুশ শাইখ আল-আস বাহানি
(পৃষ্ঠা: ১০৮)
16 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ شُعَيْبٍ، نَا الْحَسَنُ بْنُ عَلَيٍّ الْخَلَّالُ، نَا أَبُو زُهَيْرٍ، نَا زَكَرِيَّا، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: خَدَمْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تِسْعَ سِنِينَ فَمَا أَعْلَمُهُ قَالَ لِي قَطُّ: هَلَّا فَعَلْتَ كَذَا وَكَذَا؟ وَلَا عَابَ عَلَيَّ شَيْئًا قَطُّ
১৬ - মুহাম্মদ ইবনে শুয়াইব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাসান ইবনে আলী আল-খাল্লাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু যুহাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যাকারিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাঈদ ইবনে আবি বুরদাহ থেকে বর্ণিত, আনাস ইবনে মালিক রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নয় বছর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমত করেছি। আমার জানামতে তিনি আমাকে কখনো বলেননি: তুমি কেন এমন এমন করলে না? এবং তিনি কখনো আমার কোনো কাজে দোষ ধরেননি।
(খণ্ড: ১)
আখলাকুন নাবি ওয়া আদাবুহু - আবুশ শাইখ আল-আস বাহানি
(পৃষ্ঠা: ১১০)
17 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَبَّاسِ بْنِ أَيُّوبَ، نَا عُبَيْدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْهَبَّارِيُّ، مِنْ كِتَابِهِ، وَحَدَّثَنَا ابْنُ جَمِيلٍ، نَا سُفْيَانُ بْنُ وَكِيعٍ، قَالَا: حَدَّثَنَا جُمَيْعُ بْنُ عُمَرَ الْعِجْلِيُّ، حَدَّثَنِي رَجُلٌ مِنْ بَنِي تَمِيمٍ، مِنْ وَلَدِ أَبِي هَالَةَ زَوْجِ خَدِيجَةَ، عَنِ ابْنٍ لِأَبِي هَالَةَ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عَلَيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، عليهما السلام، قَالَ: " سَأَلْتُ أَبِي عَنْ دُخُولِ النَّبِيِّ، صلى الله عليه وسلم؟ قَالَ: كَانَ دُخُولُهُ لِنَفْسِهِ، مَأْذُونًا لَهُ فِي ذَلِكَ، وَكَانَ إِذَا أَتَى إِلَى مَنْزِلِهِ جَزَّأَ دُخُولَهُ ثَلَاثَةَ أَجْزَاءٍ: جُزْءٌ لِلَّهِ، وَجُزْءٌ لِأَهْلِهِ، وَجُزْءٌ لِنَفْسِهِ، ثُمَّ يَجْعَلُ جُزْأَهُ بَيْنَ النَّاسِ، فَيَرُدُّ ذَلِكَ عَلَى الْعَامَّةِ بِالْخَاصَّةِ، وَلَا يَدَّخِرُ عَنْهُمْ شَيْئًا، فَكَانَ مِنْ سِيرَتِهِ فِي جُزْءِ الْأُمَّةِ إِيثَارُ أَهْلِ الْفَضْلِ بِإِذْنِهِ وَقِسْمَتِهِ، عَلَى قَدْرِ فَضْلِهِمْ فِي الدِّينِ، مِنْهُمْ ذُو الْحَاجَةِ، وَمِنْهُمْ ذُو الْحَاجَتَيْنِ، وَمِنْهُمْ ذُو الْحَوَائِجِ، فَيَتَشَاغَلُ بِهِمْ، وَيَشْغَلُهُمْ فِيمَا يُصْلِحُهُمْ وَالْأَمَةَ مِنْ مَسْأَلَتِهِ عَنْهُمْ، وَإِخْبَارِهِمْ بِالَّذِي يَنْبَغِي لَهُمْ، وَيَقُولُ: لِيُبَلِّغُ الشَّاهِدُ مِنْكُمُ الْغَائِبَ، وَأَبْلِغُونِي حَاجَةَ مَنْ لَا يَسْتَطِيعُ إِبْلَاغِي حَاجَتَهُ، فَإِنَّهُ مَنْ أَبْلَغَ سُلْطَانًا حَاجَةَ مَنْ لَا يَسْتَطِيعُ إِبْلَاغَهَا ثَبَّتَ اللَّهُ قَدَمَيْهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، لَا يُذْكَرُ عِنْدَهُ إِلَّا ذَلِكَ، وَلَا يُقْبَلُ مِنْ أَحَدٍ غَيْرُهُ. قَالَ فِي حَدِيثِ سُفْيَانَ بْنِ وَكِيعٍ: يَدْخُلُونَ رُوَّادًا وَلَا يَتَفَرَّقُونَ إِلَّا عَنْ ذَوَاقٍ، وَيَخْرُجُونَ أَدَلَّةً - يَعْنِي فُقَهَاءَ. قُلْتُ: فَأَخْبِرْنِي عَنُ مَخْرَجِهِ كَيْفَ كَانَ يَصْنَعُ فِيهِ؟ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَحْزِنُ لِسَانَهُ إِلَّا مِمَّا يَعْنِيهِمْ وَيُؤَلِّفُهُمْ، وَلَا يُفَرِّقُهُمْ، يُكْرِمُ كَرِيمَ كُلِّ قَوْمٍ، وَيُوَلِّيهِ عَلَيْهِمْ، وَيُحَذِّرُ النَّاسَ وَيَحْتَرِسُ عَنْهُمْ، مِنْ غَيْرِ أَنْ يُطْوَيَ عَنْ أَحَدٍ بِشْرَهُ وَخُلُقَهُ، وَيَتَفَقَّدُ أَصْحَابَهُ، وَيَسْأَلُ النَّاسَ عَمَّا فِي النَّاسِ، وَيُحَسِّنُ الْحَسَنَ وَيُصَوِّبُهُ، وَيُقَبِّحُ الْقَبِيحَ وَيُوَهِّنُهُ، مُعْتَدِلُ الْأَمْرِ غَيْرُ مُخْتَلِفٍ، لَا يَغْفُلُ مَخَافَةَ أَنْ يَغْفُلُوا، أَوْ يَمَلُّوا، لِكُلِّ حَالٍ عِنْدَهُ عَتَادٌ، لَا يُقَصِّرُ عَنِ الْحَقِّ، وَلَا يُجَاوِزَهُ إِلَى غَيْرِهِ، الَّذِينَ يَلُونَهُ مِنَ النَّاسِ خِيَارُهُمْ، وَأَفْضَلُهُمْ عِنْدَهُ أَعَمُّهُمْ نَصِيحَةً وَأَعْظَمُهُمْ عِنْدَهُ مَنْزِلَةً: أَحْسَنُهُمْ مُوَاسَاةً وَمُؤَازَرَةً. وَسَأَلْتُهُ عَنْ مَجْلِسِهِ؟ فَقَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَا يَجْلِسُ وَلَا يَقُومُ إِلَّا ذَكَرَ اللَّهَ عز وجل، وَلَا يُوَطِّنُ الْأَمَاكِنَ، وَيَنْهَى عَنْ إِيطَانِهَا، وَإِذَا جَلَسَ إِلَى قَوْمٍ جَلَسَ حَيْثُ يَنْتَهِي بِهِ الْمَجْلِسُ، وَيَأْمُرُ بِذَلِكَ، وَيُعْطَى كُلَّ جُلَسَائِهِ بِنَصِيبِهِ، لَا يَحْسِبُ أَحَدٌ مِنْ جُلَسَائِهِ أَنَّ أَحَدًا أَكْرَمُ عَلَيْهِ مِنْهُ مَنْ جَالَسَهُ أَوْ قَاوَمَهُ لِحَاجَةٍ، صَابَرَهُ حَتَّى يَكُونَ هُوَ الْمُنْصَرِفُ، وَمَنْ سَأَلَهُ حَاجَةً لَمْ يَنْصَرِفْ إِلَّا بِهَا أَوْ بِمَيْسُورٍ مِنَ الْقَوْلِ قَدْ وَسِعَ النَّاسَ مِنْهُ خُلُقَهُ فَصَارَ لَهُمْ أَبًا، وَصَارُوا عِنْدَهُ فِي الْحَقِّ سَوَاءٌ مَجْلِسُهُ مَجْلِسُ حِلْمٍ، وَحَيَاءٍ، وَصِدْقٍ، وَأَمَانَةٍ لَا تُرْفَعُ فِيهِ الْأَصْوَاتُ، وَلَا تُؤْبَنُ فِيهِ الْحَرُمُ، وَلَا تُنْثَى فَلَتَاتُهُ مُعْتَدِلِينَ يَتَوَاصَلُونَ فِيهِ بِالتَّقْوَى، مُتَوَاضِعِينَ، يُوَقِّرُونَ فِيهِ الْكَبِيرَ، وَيَرْحَمُونَ فِيهِ الصَّغِيرَ وَيُؤْثِرُونَ ذَا الْحَاجَةِ، وَيَحْفَظُونَ الْغَرِيبَ. قُلْتُ: كَيْفَ كَانَتْ سِيرَتُهُ فِي جُلَسَائِهِ؟ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دَائِمُ الْبِشْرِ، سَهْلُ الْخُلُقِ، لَيِّنُ الْجَانِبِ، لَيْسَ بِفَظٍّ، وَلَا غَلِيظٍ وَلَا صَخَّابٍ فِي الْأَسْوَاقِ، وَلَا فَاحِشٍ وَلَا عَيَّابٍ، وَلَا مَدَّاحٍ يَتَغَافَلُ عَمَّا لَا يَشْتَهِي، وَيُؤْيَسُ مِنْهُ، وَلَا يُجِيبُ فِيهِ قَدْ تَرَكَ نَفْسَهُ مِنْ ثَلَاثٍ: الْمِرَاءِ، وَالْإِكْثَارِ، وَمَالَا يُعْنيِهِ وَتَرَكَ النَّاسَ مِنْ ثَلَاثٍ: كَانَ لَا يَذُمُّ أَحَدًا، وَلَا يُعَيِّرُهُ، وَلَا يَطْلُبُ عَوْرَاتِهِ، وَلَا يَتَكَلَّمُ إِلَّا فِيمَا رَجَا ثَوَابَهُ إِذَا تَكَلَّمَ أَطْرَقَ جُلَسَاؤُهُ، كَأَنَّمَا عَلَى رُءُوسِهِمُ الطَّيْرُ، وَإِذَا سَكَتَ تَكَلَّمُوا، وَلَا يَتَنَازَعُونَ عِنْدَهُ الْحَدِيثَ مَنْ تَكَلَّمَ أَنْصَتُوا لَهُ، حَتَّى يَفْرُغَ حَدِيثُهُمْ عِنْدَهُ حَدِيثُ أَوَّلِهِمْ، يَضْحَكُ مِمَّا يَضْحَكُونَ، وَيَتَعَجَّبُ مِمَّا يَتَعَجَّبُونَ وَيَصْبِرُ لِلْغَرِيبِ عَلَى الْجَفْوَةِ فِي مَنْطِقِهِ، وَمَسْأَلَتِهِ حَتَّى إِنْ كَانَ أَصْحَابُهُ لَيَسْتَجْلِبُونَهُمْ، فَيَقُولُ: إِذَا رَأَيْتُم طَالِبَ الْحَاجَةِ يَطْلُبُهَا فَارْفِدُوهُ، وَلَا يَقْبَلُ الثَّنَاءَ إِلَّا مِنْ مُكَافٍ، وَلَا يَقْطَعُ عَلَى أَحَدٍ حَدِيثَهُ، حَتَّى يَجُوزَ فَيَقْطَعَهُ بِنَهْي، أَوْ قِيَامٍ. فَسَأَلْتُ: كَيْفَ كَانَ سُكُوتُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم؟ قَالَ: كَانَ سُكُوتُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى أَرْبَعٍ: عَلَى الْحِلْمِ، وَالْحَذَرِ، وَالتَّقْدِيرِ، وَالتَّفْكِيرِ، فَأَمَّا تَقْدِيرُهُ فَفِي تَسْوِيَةِ النَّظَرِ، وَالِاسْتِمَاعِ مِنَ النَّاسِ، وَأَمَّا تَفْكِيرُهُ فَفِيمَا يَبْقَى، وَلَا يَفْنَى وَجُمِعَ لَهُ الْحِلْمَ فِي الصَّبْرِ، فَكَانَ لَا يُغْضِبُهُ شَيْءٌ، وَلَا يَسْتَفِزُّهُ وَجُمِعَ لَهُ الْحَذَرُ فِي أَرْبَعٍ: أَخْذِهِ بِالْحَسَنِ لِيُقْتَدَى بِهِ، وَتَرْكِهِ الْقَبِيحَ لِيُنْتَهَى عَنْهُ، وَاجْتِهَادِهِ الرَّأْيَ فِيمَا أَصْلَحَ أُمَّتَهُ، وَالْقِيَامِ فِيمَا هُوَ خَيْرٌ لَهُمْ، جَمَعَ لَهُمْ خَيْرَ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ "
১৭ - আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনুল আব্বাস ইবনে আইয়ুব বর্ণনা করেছেন, তিনি উবাইদ ইবনে ইসমাইল আল-হাব্বারী থেকে তাঁর কিতাব হতে বর্ণনা করেছেন; এবং আমাদের নিকট ইবনে জামিল বর্ণনা করেছেন, তিনি সুফিয়ান ইবনে ওয়াকি’ থেকে বর্ণনা করেছেন; তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট জুমি’ ইবনে উমর আল-ইজলী বর্ণনা করেছেন, তিনি বনী তামীম গোত্রের জনৈক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন যিনি খাদিজা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর স্বামী আবু হালার বংশধর ছিলেন; তিনি আবু হালার এক পুত্র থেকে, তিনি হাসান ইবনে আলী ইবনে আবী তালিব (আলাইহিমাস সালাম) থেকে বর্ণনা করেন। হাসান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: "আমি আমার পিতাকে (আলী রাযিয়াল্লাহু আনহুকে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘরে প্রবেশের অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: তাঁর ঘরে প্রবেশ করা ছিল তাঁর নিজস্ব বিষয় এবং তাঁকে সে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তিনি যখন ঘরে আসতেন, তখন তাঁর অবস্থানকে তিন ভাগে ভাগ করতেন: এক ভাগ আল্লাহর জন্য, এক ভাগ তাঁর পরিবারের জন্য এবং এক ভাগ নিজের জন্য। এরপর তিনি তাঁর নিজস্ব ভাগটিকে নিজের এবং মানুষের মধ্যে বন্টন করতেন। তিনি বিশেষ ব্যক্তিদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের নিকট সেই উপকার পৌঁছে দিতেন এবং তাদের থেকে কোনো কিছুই গোপন রাখতেন না। উম্মতের ক্ষেত্রে তাঁর রীতি ছিল—তাঁর বিশেষ সান্নিধ্য ও সময় বন্টনের ক্ষেত্রে তিনি দ্বীনের মর্যাদার ভিত্তিতে ফযীলতপূর্ণ ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দিতেন। তাদের মধ্যে কেউ ছিলেন এক প্রয়োজনধারী, কেউ দুই প্রয়োজনধারী, আবার কেউ বহু প্রয়োজনধারী। তিনি তাদের নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন এবং তাদের ও উম্মতের সংশোধন হয় এমন বিষয়ে তাদের ব্যাপৃত রাখতেন। তিনি তাদের প্রয়োজনীয় বিষয় সম্পর্কে অবহিত করতেন এবং বলতেন: 'তোমাদের মধ্যে যারা উপস্থিত আছ, তারা যেন অনুপস্থিতদের নিকট পৌঁছে দেয়। আর যে ব্যক্তি তার প্রয়োজন আমার নিকট পৌঁছাতে সক্ষম নয়, তার প্রয়োজন তোমরা আমার নিকট পৌঁছে দাও। কারণ, যে ব্যক্তি কোনো সামর্থ্যহীনের প্রয়োজন কোনো কর্তাব্যক্তির নিকট পৌঁছে দেয়, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার দুই পা স্থির রাখবেন।' তাঁর নিকট কেবল এ ধরনের প্রয়োজনীয় আলোচনাই করা হতো এবং এ ছাড়া অন্য কিছু তিনি কারো থেকে গ্রহণ করতেন না।" সুফিয়ান ইবনে ওয়াকি’-এর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে: "তাঁরা (সাহাবীগণ) জ্ঞানপিপাসু হিসেবে প্রবেশ করতেন এবং কোনো কিছু আস্বাদন না করে বের হতেন না এবং তাঁরা পথপ্রদর্শক—অর্থাৎ ফকীহ—হয়ে বের হতেন।" আমি বললাম: "তাঁর বাইরে বের হওয়ার অবস্থা এবং সেখানে তিনি কী করতেন সে সম্পর্কে আমাকে অবহিত করুন।" তিনি বললেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের প্রয়োজনীয় বিষয় ব্যতীত অন্য কোনো বিষয়ে নিজের যবান সংযত রাখতেন। তিনি তাদের মন জয় করতেন এবং দূরে সরিয়ে দিতেন না। তিনি প্রতিটি কওমের সম্মানিত ব্যক্তিকে সম্মান করতেন এবং তাদের ওপর তাকেই নেতা নিযুক্ত করতেন। তিনি মানুষের ব্যাপারে সতর্ক থাকতেন এবং তাদের থেকে আত্মরক্ষা করতেন, কিন্তু কারো থেকে তাঁর হাস্যোজ্জ্বল চেহারা ও উত্তম চরিত্র গুটিয়ে নিতেন না। তিনি তাঁর সাহাবীদের খোঁজখবর নিতেন এবং মানুষের মধ্যে কী ঘটছে সে সম্পর্কে লোকজনকে জিজ্ঞাসা করতেন। তিনি ভালো বিষয়কে সুন্দর বলতেন ও সেটির সমর্থন করতেন এবং মন্দ বিষয়কে কুৎসিত বলতেন ও সেটিকে দুর্বল সাব্যস্ত করতেন। তাঁর প্রতিটি কাজ ছিল ভারসাম্যপূর্ণ, তাতে কোনো বৈপরীত্য ছিল না। তিনি এই আশঙ্কায় উদাসীন হতেন না যে, পাছে অন্যেরা গাফেল হয়ে পড়ে কিংবা ক্লান্ত হয়ে যায়। প্রতিটি পরিস্থিতির জন্য তাঁর নিকট প্রস্তুতি ছিল। তিনি হকের ব্যাপারে কোনো শিথিলতা করতেন না এবং হক অতিক্রম করে অন্য কিছুর দিকে যেতেন না। মানুষের মধ্যে তাঁর নিকটবর্তী ব্যক্তিরাই ছিল তাদের মধ্যে সর্বোত্তম। তাঁর নিকট সেই ব্যক্তিই ছিল সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী, যে ছিল সবচেয়ে বেশি হিতাকাঙ্ক্ষী। আর সেই ব্যক্তির স্থান ছিল তাঁর নিকট সবচেয়ে মহান, যে মানুষের প্রতি সহানুভূতি ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিত।" এবং আমি তাঁর মজলিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর যিকর ব্যতীত কখনো বসতেন না বা দাঁড়াতেন না। তিনি কোনো বিশেষ স্থানকে বসার জন্য নির্দিষ্ট করতেন না এবং এরূপ করতে নিষেধ করতেন। তিনি যখন কোনো কওমের নিকট আসতেন, যেখানে মজলিস শেষ হয়েছে সেখানেই বসে পড়তেন এবং এভাবেই করার নির্দেশ দিতেন। তিনি তাঁর মজলিসে উপস্থিত প্রত্যেকের হকের প্রতি লক্ষ্য রাখতেন, যাতে তাঁর সাথে বসা কেউ মনে না করে যে অন্য কেউ তাঁর নিকট অধিক সম্মানিত। কেউ কোনো প্রয়োজনে তাঁর সাথে বসলে বা দাঁড়ালে তিনি ধৈর্য ধরতেন যতক্ষণ না সেই ব্যক্তি নিজেই ফিরে যেত। কেউ তাঁর কাছে কিছু চাইলে তিনি তাকে খালি হাতে ফেরাতেন না, হয় প্রার্থিত বস্তু দিতেন অথবা নম্র কথা বলতেন। তাঁর উত্তম চরিত্র সকল মানুষের জন্য উন্মুক্ত ছিল, তিনি তাদের নিকট পিতার ন্যায় ছিলেন এবং হকের বিচারে তাঁর নিকট সকলে সমান ছিল। তাঁর মজলিস ছিল ধৈর্য, লজ্জা, সত্য এবং আমানতদারীর মজলিস। সেখানে উচ্চৈঃস্বরে কথা বলা হতো না, কারো সম্মানহানি করা হতো না এবং কারো বিচ্যুতি প্রকাশ করা হতো না। সেখানে সকলে সমান ছিল, তাকওয়ার ভিত্তিতে একে অপরের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখত, তারা ছিল বিনয়ী; বড়দের সম্মান করত, ছোটদের স্নেহ করত, অভাবীদের অগ্রাধিকার দিত এবং আগন্তুক বা মুসাফিরদের হেফাযত করত।" আমি বললাম: "তাঁর সঙ্গীদের সাথে তাঁর আচরণ কেমন ছিল?" তিনি বললেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বদা হাস্যোজ্জ্বল ছিলেন, ছিলেন কোমল স্বভাবের এবং বিনয়ী। তিনি রূঢ় বা কঠোর মেজাজের ছিলেন না। হাটে-বাজারে চিৎকারকারী ছিলেন না। তিনি অশালীন ছিলেন না এবং কারো দোষ অন্বেষণকারী বা অতিরিক্ত প্রশংসাকারী ছিলেন না। যা তাঁর পছন্দ হতো না সে ব্যাপারে তিনি উদাসীন থাকতেন। কেউ তাঁর কাছে নিরাশ হতো না এবং তিনি তাতে সাড়া দিতেন না। তিনি নিজের সত্তা থেকে তিনটি জিনিস বর্জন করেছিলেন: বিতর্ক, বাহুল্য কথা এবং অনর্থক কাজ। আর মানুষের ক্ষেত্রেও তিনটি বিষয় পরিহার করেছিলেন: তিনি কাউকে মন্দ বলতেন না, কাউকে লজ্জা দিতেন না এবং কারো গোপন ত্রুটি অনুসন্ধান করতেন না। সওয়াব বা কল্যাণের আশা নেই এমন কোনো বিষয়ে তিনি কথা বলতেন না। যখন তিনি কথা বলতেন, তাঁর মজলিসে উপস্থিত ব্যক্তিগণ এমনভাবে মাথা নিচু করে থাকতেন যেন তাদের মাথায় পাখি বসে আছে। তিনি চুপ করলে তবেই তারা কথা বলতেন। তাঁর সামনে কেউ ঝগড়া করত না। কেউ কথা বললে অন্যরা চুপ করে শুনত যতক্ষণ না সে কথা শেষ করত। একজনের কথা সবার নিকট প্রথম ব্যক্তির কথার মতোই গুরুত্ব পেত। তারা যে বিষয়ে হাসত, তিনিও হাসতেন; তারা যাতে আশ্চর্য হতো, তিনিও তাতে আশ্চর্য হতেন। তিনি আগন্তুক বা মুসাফিরের কথাবার্তা ও আবেদনের রুক্ষতায় ধৈর্য ধারণ করতেন, এমনকি সাহাবীগণ অনেক সময় তাদের নিয়ে আসার চেষ্টা করতেন। তিনি বলতেন: 'তোমরা যখন কোনো অভাবীকে তার প্রয়োজন পূরণের চেষ্টা করতে দেখবে, তখন তাকে সাহায্য করো।' তিনি কেবল সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রশংসাই গ্রহণ করতেন। কেউ সীমা লঙ্ঘন না করা পর্যন্ত তিনি কারো কথা মাঝপথে কাটতেন না। সীমা লঙ্ঘন করলে তিনি নিষেধ করার মাধ্যমে অথবা দাঁড়িয়ে যাওয়ার মাধ্যমে তা শেষ করে দিতেন।" আমি জিজ্ঞাসা করলাম: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নীরবতা কেমন ছিল?" তিনি বললেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নীরবতা ছিল চারটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে: সহিষ্ণুতা, সতর্কতা, পরিমিতিবোধ এবং চিন্তা-ভাবনা। তাঁর পরিমিতিবোধ ছিল মানুষের কথা শোনা এবং সবার প্রতি দৃষ্টিদানের সমতার ক্ষেত্রে। তাঁর চিন্তা-ভাবনা ছিল যা অবশিষ্ট থাকবে এবং যা ধ্বংস হবে না তা নিয়ে। তাঁর মাঝে ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা একত্রিত হয়েছিল, তাই কোনো কিছুই তাঁকে রাগান্বিত বা উত্তেজিত করত না। তাঁর সতর্কতা ছিল চারটি বিষয়ে: উত্তম কাজ গ্রহণ করা যাতে অন্যেরা তাঁর অনুসরণ করতে পারে; মন্দ কাজ বর্জন করা যাতে অন্যেরা তা থেকে বিরত থাকে; উম্মতের সংশোধনের জন্য সঠিক মতামতের ওপর ইজতিহাদ করা এবং তাদের জন্য যা কল্যাণকর তা আঞ্জাম দেওয়া। তিনি তাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ একত্রিত করেছিলেন।"
(খণ্ড: ১)
আখলাকুন নাবি ওয়া আদাবুহু - আবুশ শাইখ আল-আস বাহানি
(পৃষ্ঠা: ১১৬)
18 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الرَّازِيُّ، نَا ابْنُ أَبِي الثَّلْجِ، نَا أَبُو الْوَلِيدِ خَلَفُ بْنُ الْوَلِيدِ، نَا أَبُو جَعْفَرٍ الرَّازِيُّ، عَنْ أَبِي دِرْهَمٍ، عَنْ يُونُسَ بْنِ عُبَيْدٍ، عَنْ مَوْلَى لِآلِ أَنَسٍ - قَدْ سَمَّاهُ وَنَسِيتُهُ - عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: صَحِبْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَشْرَ سِنِينَ، وَشَمِمْتُ الْعِطْرَ كُلَّهُ، فَلَمْ أَشُمَّ نَكْهَةً أَطْيَبَ مِنْ نَكْهَتِهِ، وَكَانَ إِذَا لَقِيَهُ وَاحِدٌ مِنْ أَصْحَابِهِ قَامَ مَعَهُ فَلَمْ يَنْصَرِفْ حَتَّى يَكُونَ الرَّجُلُ يَنْصَرِفُ عَنْهُ وَإِذَا لَقِيَهُ أَحَدٌ مِنْ أَصْحَابِهِ، فَتَنَاوَلَ يَدَهُ، نَاوَلَهَا إِيَّاهُ، فَلَمْ يَنْزِعْ مِنْهُ حَتَّى يَكُونَ الرَّجُلُ هُوَ الَّذِي يَنْزِعُ عَنْهُ وَإِذَا لَقِيَهُ أَحَدٌ مِنْ أَصْحَابِهِ فَتَنَاوَلَ أُذُنَهُ، نَاوَلَهَا إِيَّاهُ، فَلَمْ يَنْزِعْهَا عَنْهُ حَتَّى يَكُونَ الرَّجُلُ هُوَ الَّذِي يَنْزِعُهَا مِنْهُ
১৮ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবরাহীম বিন মুহাম্মদ বিন আলী আর-রাজী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনুল আবিস সালজ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-ওয়ালিদ খালাফ বিন আল-ওয়ালিদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু জাফর আর-রাজী, আবু দিরহাম থেকে, তিনি ইউনুস বিন উবাইদ থেকে, তিনি আনাস (রা.)-এর পরিবারের একজন আযাদকৃত গোলাম থেকে—তিনি তার নাম বলেছিলেন কিন্তু আমি তা ভুলে গিয়েছি—তিনি আনাস বিন মালিক (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি দশ বছর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সান্নিধ্যে ছিলাম। আমি সব ধরণের সুগন্ধি ঘ্রাণ নিয়েছি, কিন্তু তাঁর সুঘ্রাণের চেয়ে অধিক উত্তম কোনো ঘ্রাণ আমি আর কখনো পাইনি। তাঁর সাহাবীদের মধ্য থেকে কেউ যখন তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন, তখন তিনি তাঁর সাথে দাঁড়িয়ে থাকতেন এবং যতক্ষণ না সেই ব্যক্তি নিজে ফিরে যেতেন ততক্ষণ তিনি প্রস্থান করতেন না। তাঁর সাহাবীদের কেউ যখন তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন এবং তাঁর হাত ধরতেন, তখন তিনি তাঁর হাত তাকে বাড়িয়ে দিতেন এবং যতক্ষণ না সেই ব্যক্তি নিজে হাত সরিয়ে নিতেন ততক্ষণ তিনি হাত গুটিয়ে নিতেন না। আর তাঁর সাহাবীদের কেউ যখন তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন এবং তাঁর কানের কাছে মুখ নিতেন, তখন তিনি তাঁর কান তার দিকে বাড়িয়ে দিতেন এবং যতক্ষণ না সেই ব্যক্তি নিজে সরে যেতেন ততক্ষণ তিনি তা সরিয়ে নিতেন না।
(খণ্ড: ১)
আখলাকুন নাবি ওয়া আদাবুহু - আবুশ শাইখ আল-আস বাহানি
(পৃষ্ঠা: ১১৯)
19 - حَدَّثَنَا ابْنُ رُسْتَةَ، نَا عَلْقَمَةُ بْنُ عَمْرٍو، نَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: أَتَتْ بِي أُمِّي إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذَا خُوَيْدِمُكَ، فَخَدَمْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تِسْعَ سِنِينَ، فَمَا قَالَ لِي لشَيْءٍ قَطُّ: أَسَأْتَ، وَلَا بِئْسَ مَا صَنَعْتَ
১৯ - ইবনে রুস্তাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আলক্বামাহ ইবনে আমর আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবু বকর ইবনে আইয়াশ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি হুমায়দ থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার মা আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট নিয়ে আসলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! এটি আপনার ছোট্ট সেবক। অতঃপর আমি নয় বছর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খিদমত করেছি। তিনি কোনো বিষয়ে আমাকে কখনও বলেননি যে: তুমি মন্দ করেছ, অথবা তুমি কতই না জঘন্য কাজ করেছ।
(খণ্ড: ১)
আখলাকুন নাবি ওয়া আদাবুহু - আবুশ শাইখ আল-আস বাহানি
(পৃষ্ঠা: ১২১)
20 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ أَحْمَدَ، نَا صَالِحُ بْنُ مِسْمَارٍ، نَا هِشَامُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنِي يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، رضي الله عنها قَالَتْ: «وَقَفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى بَابَ حُجْرَتِي، وَالْحَبَشُ يَلْعَبُونَ بِحِرَابِهِمْ فِي مَسْجِدِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقُمْتُ أَنْظُرُ إِلَيْهِمْ، فَقَامَ يَسْتُرُنِي بِرِدَائِهِ، حَتَّى انْصَرَفْتُ أَنَا مِنْ قِبَلِ نَفْسِي، فَاقْدُرُوا قَدْرَ الْجَارِيَةِ الْحَدِيثَةِ السِّنِّ، الْحَرِيصَةِ عَلَى اللَّهْوِ»
২০ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইসহাক বিন আহমদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সালিহ বিন মিসমার, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হিশাম বিন সুলাইমান, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ইউনুস বিন ইয়াজিদ, ইবনু শিহাব থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি আয়িশাহ রাযিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কামরার দরজায় দাঁড়ালেন, এমতাবস্থায় হাবশীরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মসজিদে তাদের বর্শা নিয়ে খেলা করছিল। তখন আমি তাদের দেখার জন্য দাঁড়ালাম, আর তিনি তাঁর চাদর দিয়ে আমাকে আড়াল করে রাখলেন, যতক্ষণ না আমি নিজেই সেখান থেকে সরে আসলাম। সুতরাং তোমরা অল্পবয়স্কা কিশোরীর আকাঙ্ক্ষার প্রতি লক্ষ্য রেখো, যে খেলাধুলার প্রতি লালায়িত হয়»।
(খণ্ড: ১)
আখলাকুন নাবি ওয়া আদাবুহু - আবুশ শাইখ আল-আস বাহানি
(পৃষ্ঠা: ১২৩)
كَرَمُهُ وَكَثْرَةُ احْتِمَالِهِ وَكَظْمُهُ الْغَيْظَ، وشِدَّةُ حَيَائِهِ وعَفْوُهُ وَصَفْحُهُ وجُودُهُ وَسَخَائُهُ
তাঁর মহানুভবতা, তাঁর অধিক সহনশীলতা ও ক্রোধ সংবরণ, তাঁর গভীর লজ্জাশীলতা, ক্ষমা ও মার্জনা এবং তাঁর দানশীলতা ও উদারতা
(খণ্ড: ১)
আখলাকুন নাবি ওয়া আদাবুহু - আবুশ শাইখ আল-আস বাহানি
(পৃষ্ঠা: ১২৪)
21 - نا أَبُو الْفَضْلِ الْعَبَّاسُ ابْنُ الشَّيْخِ أَبِي الْعَبَّاسِ السَّقَانِيُّ رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِ قِرَاءَةً عَلَيْهِ فِي الْمُحَرَّمِ سَنَةَ اثْنَتَيْنِ وَخَمْسِمِائَةٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْإِمَامُ الْحَافِظُ أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ التَّمِيمِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَيَّانَ الْأَصْبَهَانِيُّ، نَا عَمْرُو بْنُ نُصَيْرِ بْنِ ثَابِتٍ: نَا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ، نَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، نَا أَبُو عِمْرَانَ الْجَوْنِيُّ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ بَابَنُوسَ، قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى عَائِشَةَ رضي الله عنها، فَقُلْتُ: يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ، مَا كَانَ خُلُقُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم؟ قَالَتْ: كَانَ خُلُقُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْقُرْآنُ، ثُمَّ قَالَتْ أَتَقْرَءُونَ سُورَةَ الْمُؤْمِنِينَ؟ قُلْنَا نَعَمْ، قَالَتِ: اقْرَأْ، فَقَرَأْتُ: {قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ خَاشِعُونَ وَالَّذِينَ هُمْ عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُونَ وَالَّذِينَ هُمْ لِلزَّكَاةِ فَاعِلُونَ وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَفِظُونَ} فَقَالَتْ: هَكَذَا كَانَ خُلُقُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
২১ - আমাদের নিকট আবুল ফজল আব্বাস ইবনে শাইখ আবু আব্বাস আস-সাকানি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) পাঁচশত দুই হিজরি সনের মুহাররম মাসে তাঁর নিকট পাঠ করার সময় বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ ইমাম হাফিজ আবু বকর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আত-তামিমি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাইয়ান আল-আসবাহানি, আমর ইবনে নুসায়ের ইবনে সাবিত আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: হুমায়িদ ইবনে মাসআদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জাফর ইবনে সুলায়মান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু ইমরান আল-জাওনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ ইবনে বাবানুস থেকে, তিনি বলেন: আমি আয়েশা (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন)-এর নিকট প্রবেশ করলাম এবং বললাম: হে মুমিন জননী, রাসূলুল্লাহ (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর চরিত্র কেমন ছিল? তিনি বললেন: আল-কুরআনই ছিল রাসূলুল্লাহ (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর চরিত্র। এরপর তিনি বললেন: তোমরা কি সূরা আল-মুমিনুন পাঠ করো? আমরা বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: পাঠ করো। অতঃপর আমি পাঠ করলাম: {নিশ্চয়ই মুমিনগণ সফলকাম হয়েছে, যারা তাদের সালাতে বিনয়ী, যারা অসার কার্যকলাপ থেকে বিমুখ, যারা জাকাত প্রদানে সক্রিয় এবং যারা তাদের লজ্জাস্থানের হিফাজতকারী।} তখন তিনি বললেন: এমনটাই ছিল রাসূলুল্লাহ (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর চরিত্র।
(খণ্ড: ১)
আখলাকুন নাবি ওয়া আদাবুহু - আবুশ শাইখ আল-আস বাহানি
(পৃষ্ঠা: ১২৭)
22 - حَدَّثَنَا عَبْدَانُ، نَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، نَا الْمُقْرِئُ هُوَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ - قَالَهُ الشَّيْخُ - نَا اللَّيْثُ، حَدَّثَنِي الْوَلِيدُ بْنُ أَبِي الْوَلِيدِ، أَنَّ سُلَيْمَانَ بْنَ خَارِجَةَ حَدَّثَهُ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ نَفَرًا مِنْ أَهْلِ الْعِرَاقِ دَخَلُوا عَلَى زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، فَقَالَ: كُنَّا مَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَإِذَا ذَكَرْنَا الدُّنْيَا ذَكَرَهَا مَعَنَا، وَإِذَا ذَكَرْنَا الْآخِرَةَ ذَكَرَهَا مَعَنَا، وَإِذَا ذَكَرْنَا الطَّعَامَ ذَكَرَهُ مَعَنَا
২২ - আবদান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, নাসর ইবনে আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-মুকরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন—আর তিনি হলেন আবু আবদুর রহমান আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াজিদ, এটি শাইখ বলেছেন—লাইস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-ওয়ালিদ ইবনে আবিল ওয়ালিদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, সুলায়মান ইবনে খারিজাহ তাঁর নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, ইরাকবাসীদের এক দল যায়েদ ইবনে সাবিতের নিকট প্রবেশ করলেন। অতঃপর তিনি বললেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম। এমতাবস্থায় যখন আমরা দুনিয়ার কথা আলোচনা করতাম, তিনি আমাদের সাথে তা আলোচনা করতেন; যখন আমরা আখেরাতের কথা আলোচনা করতাম, তিনি আমাদের সাথে তা আলোচনা করতেন; এবং যখন আমরা খাবারের কথা আলোচনা করতাম, তিনি আমাদের সাথে তা আলোচনা করতেন।
(খণ্ড: ১)
আখলাকুন নাবি ওয়া আদাবুহু - আবুশ শাইখ আল-আস বাহানি
(পৃষ্ঠা: ১৩০)
23 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْحُسَيْنِ الْحَذَّاءُ، نَا عَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ، نَا حَمَّادُ بْنُ أُسَامَةَ، حَدَّثَنِي حَارِثَةُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَتْ: قُلْتُ لِعَائِشَةَ رضي الله عنها: كَيْفَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا خَلَا؟ قَالَتْ: كَانَ أَبَرَّ النَّاسِ، وَأَكْرَمَ النَّاسِ، ضَحَّاكًا بَسَّامًا، صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
২৩ - আহমদ ইবনে আল-হুসাইন আল-হাযযা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনুল মাদীনী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ ইবনে উসামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হারিসা ইবনে মুহাম্মদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আমরাহ বিনতে আবদুর রহমান থেকে, তিনি বলেন: আমি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-কে বললাম: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন নির্জনে থাকতেন তখন কেমন ছিলেন? তিনি বললেন: তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সদাচারী এবং মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দয়ালু, তিনি ছিলেন অধিক হাস্যোজ্জ্বল ও সদাহাস্যমুখ, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
(খণ্ড: ১)
আখলাকুন নাবি ওয়া আদাবুহু - আবুশ শাইখ আল-আস বাহানি
(পৃষ্ঠা: ১৩২)
24 - حَدَّثَنَا ابْنُ مَاهَانَ الرَّازِيُّ، نَا سَهْلُ بْنُ عُثْمَانَ، نَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، نَا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُغِيرَةِ، قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الْحَارِثِ بْنِ جَزْءٍ، يَقُولُ: مَا رَأَيْتُ أَحَدًا أَكْثَرَ تَبَسُّمًا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
২৪ - ইবনু মাহান আর-রাজি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাহল ইবনু উসমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনুল মুবারাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনু লাহিয়াহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উবাইদুল্লাহ ইবনুল মুগিরাহ থেকে, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনুল হারিস ইবনু জায-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর চেয়ে অধিক মুচকি হাসেন এমন কাউকে দেখিনি।
(খণ্ড: ১)
আখলাকুন নাবি ওয়া আদাবুহু - আবুশ শাইখ আল-আস বাহানি
(পৃষ্ঠা: ১৩৫)
25 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، نَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَجَّاجِ، نَا حَمَّادٌ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، " أَنَّ امْرَأَةٍ، كَانَ فِي عَقْلِهَا شَيْءٌ، فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ لِي إِلَيْكَ حَاجَةً، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: يَا أُمَّ فُلَانٍ خُذِي فِي أَيِّ الطَّرِيقِ شِئْتِ؟ قَوْمِي فِيهِ، حَتَّى أَقُومَ مَعَكِ فَخَلَا مَعَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُنَاجِيهَا حَتَّى قَضَتْ حَاجَتَهَا "
২৫ - আবু ইয়ালা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবরাহিম ইবনুল হাজ্জাজ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, হাম্মাদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন সাবিত থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন যে, জনৈক মহিলা, যার বুদ্ধিবৃত্তিক কিছুটা সমস্যা ছিল, সে বলল, “হে আল্লাহর রাসূল! আপনার কাছে আমার একটি প্রয়োজন আছে।” তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “হে অমুকের মা! তুমি রাস্তার যে কোনো পথে ইচ্ছা চলো, সেখানে অবস্থান করো, যাতে আমি তোমার সাথে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারি।” অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নির্জনে তার সাথে নিভৃতে কথা বললেন, যতক্ষণ না সে তার প্রয়োজন পূরণ করল।
(খণ্ড: ১)
আখলাকুন নাবি ওয়া আদাবুহু - আবুশ শাইখ আল-আস বাহানি
(পৃষ্ঠা: ১৩৮)
26 - نَا أَبُو يَعْلَى، نَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، نَا غُنْدَرٌ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ، قَالَ: قَالَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ: إِنْ كَانَتِ الْوَلِيدَةُ مِنْ وَلَائِدِ الْمَدِينَةِ تجئُ فَتَأْخُذُ بِيَدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَمَا يَنْزِعُ يَدَهُ مِنْ يَدِهَا حَتَّى تَذْهَبَ بِهِ حَيْثُ شَاءَتْ
২৬ - আমাদের নিকট আবু ইয়ালা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট গুন্দার বর্ণনা করেছেন, তিনি শু’বাহ থেকে, তিনি আলী ইবনে যায়েদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আনাস ইবনে মালিক বলেছেন: মদিনার দাসীদের মধ্য থেকে কোনো দাসী আসত এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাত ধরত, অতঃপর তিনি তার হাত থেকে নিজের হাত সরিয়ে নিতেন না যতক্ষণ না সে তাকে যেখানে ইচ্ছা নিয়ে যেত।
(খণ্ড: ১)
আখলাকুন নাবি ওয়া আদাবুহু - আবুশ শাইখ আল-আস বাহানি
(পৃষ্ঠা: ১৪১)
27 - حَدَّثَنِي ابْنُ رُسْتَةَ، نَا عَلْقَمَةُ بْنُ عَمْرٍو، نَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ نُصَيْرٍ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: كَانَتِ الْأَمَةُ مِنْ إِمَاءِ أَهْلِ الْمَدِينَةِ لَتَأْخُذُ بِيَدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَيَدُورُ بِهَا فِي حَوَائِجِهَا حَتَّى تَفْرُغَ، ثُمَّ تَرْجِعُ
২৭ - ইবনে রুসতাহ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, আলকামা ইবনে আমর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু বকর ইবনে আইয়াশ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, নুসায়ের থেকে, তিনি শু’বা থেকে, তিনি আলী ইবনে জায়েদ থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মদিনার দাসীদের মধ্য হতে কোনো দাসী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাত ধরে নিয়ে যেত, অতঃপর তিনি তার প্রয়োজন পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তার সাথে ঘুরে বেড়াতেন, তারপর সে ফিরে যেত।
(খণ্ড: ১)
আখলাকুন নাবি ওয়া আদাবুহু - আবুশ শাইখ আল-আস বাহানি
(পৃষ্ঠা: ১৪৩)
28 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، نَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْأَذْرَمِيُّ، نَا أَبُو قَطَنٍ، نَا مُبَارَكٌ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: «مَا رَأَيْتُ رَجُلًا قَطُّ أَخَذَ بِيَدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَيُتْرَكَ يَدَهُ حَتَّى يَكُونَ الرَّجُلُ هُوَ يَنْزِعُ يَدَهُ»
29
⦗ص: 145⦘ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الرَّازِيُّ، نَا الْحُسَيْنُ بْنُ الصَّبَّاحِ، نَا أَبُو قَطَنٍ، نَا مُبَارَكٌ، مِثْلَهُ، وَزَادَ: وَمَا رَأَيْتُ رَجُلًا قَطُّ الْتَقَمَ أُذُنَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَيُنَحِّي رَأْسَهُ، حَتَّى يَكُونَ هُوَ الَّذِي يُنَحِّي رَأْسَهُ، يَعْنِي الرَّجُلَ
২৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইয়ালা, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুর রহমান আল-আযরামি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ক্বাতান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুবারাক, সাবেত থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমি এমন কোনো ব্যক্তিকে দেখিনি যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাত ধরেছে, অতঃপর তিনি নিজের হাত সরিয়ে নিয়েছেন যতক্ষণ না সেই ব্যক্তি নিজেই তার হাত সরিয়ে নিয়েছে।"
২৯
⦗পৃষ্ঠা: ১৪৫⦘ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আর-রাযী, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আল-হুসাইন ইবনুস সাব্বাহ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু ক্বাতান, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুবারাক, অনুরূপ, এবং তিনি আরও বৃদ্ধি করেছেন: "এবং আমি এমন কোনো ব্যক্তিকে দেখিনি যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কানের কাছে মুখ লাগিয়েছে (কথা বলার জন্য) আর তিনি নিজের মাথা সরিয়ে নিয়েছেন, যতক্ষণ না সেই ব্যক্তি নিজেই নিজের মাথা সরিয়ে নিয়েছে।" অর্থাৎ সেই ব্যক্তি।