(খণ্ড: ১) আল-মানহিয়াতু ফি সূরাতিল হুজুরাত (পৃষ্ঠা: -)
المنهيات في سورة الحجرات   (علي بن غازي التويجري)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: المنهيات في سورة الحجرات

(شرح آياتها، وبيان حكمها، وأدلة النهي عنها، مع بعض أحكامها)

المؤلف: علي بن غازي التويجري

بحث: منشور في مجلة الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة، العدد (139)، 1428 هـ

عدد الصفحات: 76

[ترقيم الصفحات موافق للمجلة المطبوعة]

تاريخ النشر بالشاملة: 12 ربيع الآخر 1445

সূরা আল-হুজুরাতে বর্ণিত নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ   (আলী বিন গাজী আত-তুওয়াইজারি)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: সূরা আল-হুজুরাতে বর্ণিত নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ

(এর আয়াতসমূহের ব্যাখ্যা، এর বিধান বর্ণনা، এবং এগুলি নিষিদ্ধ হওয়ার দলিলসমূহ، সাথে এর কতিপয় বিধানসহ)

লেখক: আলী বিন গাজী আত-তুওয়াইজারি

গবেষণা প্রবন্ধ: মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সাময়িকীতে প্রকাশিত، সংখ্যা (১৩৯)، ১৪২৮ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৬

[পৃষ্ঠা নম্বরসমূহ মুদ্রিত সাময়িকীর অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১২ রবিউল আখির ১৪৪৫

(খণ্ড: ১৩৯) আল-মানহিয়াতু ফি সূরাতিল হুজুরাত (পৃষ্ঠা: ৪৯)
المنهيات في سورة الحجرات

 

إعداد: د علي بن غازي التويجري

الأستاذ المساعد في كلية القرآن الكريم في الجامعة [الإسلامية]
সূরা আল-হুজুরাত-এ নিষিদ্ধ বিষয়াবলি

 

উপস্থাপনায়: ড. আলী বিন গাজী আল-তুওয়াইজারি

সহকারী অধ্যাপক, পবিত্র কুরআন অনুষদ, [ইসলামি] বিশ্ববিদ্যালয়
(খণ্ড: ১৩৯) আল-মানহিয়াতু ফি সূরাতিল হুজুরাত (পৃষ্ঠা: ৫১)
‌‌المقدمة

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران: 102]، {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً} [سورة النساء: 1]، {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً. يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً} [سورة الأحزاب: 70، 71](1).

أما بعد: فإن هذا القرآن العظيم كتاب ربنا، فيه نبأ من قبلنا، وخبر ما بعدنا، وحكم ما بيننا، هو الفصل ليس بالهزل، من تركه من جبار قصمه الله، ومن ابتغى الهدى في غيره أضله الله، هو حبل الله المتين، وهو الذكر الحكيم، وهو الصراط المستقيم، هو الذي لا تزيغ به الأهواء، ولا تلتبس به الألسنة، ولا يشبع منه العلماء، ولا يخلق(2) على كثرة الرد، ولا تنقضي عجائبه، وهو الذي لم تنته الجن إذ سمعته حتى قالوا: {إِنَّا سَمِعْنَا قُرْآناً عَجَباً. يَهْدِي إِلَى الرُّشْدِ فَآمَنَّا بِه}

--------------------------------------------

(1) هذه الخطبة التي كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يعلمها أصحابه، ومن الخير للمسلم أن يعود لسانه وقلمه كتابتها بين يدي قوله أو كتابته، وانظر تخريجها في خطبة الحاجة للشيخ الألباني، حيث جمع ألفاظها، وطرقها، وبين من خرجها.

(2) أي لا يبلى. انظر: النهاية في غريب الحديث (2/ 71).
ভূমিকা

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না} [আলে ইমরান: ১০২], {হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রব্বকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচনা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন} [সূরা নিসা: ১], {হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য অর্জন করবে} [সূরা আহযাব: ৭০, ৭১](১)।

অতঃপর: নিশ্চয়ই এই মহান কুরআন আমাদের রবের কিতাব, এতে রয়েছে আমাদের পূর্ববর্তীদের সংবাদ, আমাদের পরবর্তীদের খবর এবং আমাদের মধ্যকার বিচার-ফয়সালা। এটি সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী, কোনো কৌতুক নয়। কোনো স্বৈরাচারী একে বর্জন করলে আল্লাহ তাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেন এবং যে ব্যক্তি একে ছাড়া অন্য কোথাও হিদায়াত অন্বেষণ করে আল্লাহ তাকে পথভ্রষ্ট করেন। এটি আল্লাহর মজবুত রশি, এটি হিকমতপূর্ণ উপদেশ এবং এটিই সরল পথ। এর প্রভাবে কুপ্রবৃত্তি বিচ্যুত হয় না, কোনো ভাষা একে অস্পষ্ট করতে পারে না, আলিমগণ একে পাঠ করে তৃপ্ত হন না, অধিক পাঠের ফলে এটি পুরাতন(২) হয় না এবং এর বিস্ময়কর দিকসমূহ শেষ হয় না। এটি সেই কিতাব যা শুনে জিনেরা ক্ষান্ত হয়নি, যতক্ষণ না তারা বলেছিল: {নিশ্চয়ই আমরা এক বিস্ময়কর কুরআন শুনেছি, যা সঠিক পথ প্রদর্শন করে, ফলে আমরা এতে ঈমান এনেছি}।

--------------------------------------------

(১) এটি সেই খুতবা যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের শিক্ষা দিতেন। একজন মুসলিমের জন্য এটি কল্যাণকর যে, সে তার বক্তব্য বা লেখার প্রারম্ভে এটি মুখে উচ্চারণে বা কলমে লেখায় অভ্যস্ত হবে। এর তাখরিজ (تخريج) দেখতে শায়খ আলবানীর 'খুতবাতুল হাজাহ' গ্রন্থটি দেখুন, যেখানে তিনি এর শব্দসমূহ ও সনদসমূহ (طرق) একত্রিত করেছেন এবং কারা এর তাখরিজ (تخريج) করেছেন তা বর্ণনা করেছেন।

(২) অর্থাৎ তা জীর্ণ বা পুরাতন হয় না। দেখুন: আন-নিহায়াহ ফী গারিবিল হাদিস (২/৭১)।
(খণ্ড: ১৩৯) আল-মানহিয়াতু ফি সূরাতিল হুজুরাত (পৃষ্ঠা: ৫২)
[الجن: 1، 2]، من قال به صدق، ومن عمل به أجر، ومن حكم به عدل، ومن دعا إليه هدي إلى صراط مستقيم(1).

وهو والله حقيق بطلب الهدى فيه، والنهل من معينه، والاستنباط من معانيه، وإنفاق العمر فيه.

وقد أحببت أن أدلي بدلوي بكتابة هذا البحث الذي سميته: المنهيات في سورة الحجرات، شرح آياتها، وبيان حكمها، وأدلة النهي عنها، مع بعض أحكامها. فإن كان صوابا فمن الله، وحده لا شريك له، وهو ما أرجوه، وإن كان خطأ فمني واستغفر الله، وللقارئ غنمه وعليَّ غرمه.

 

‌‌أسباب اختيار الموضوع، وأهميته:

1 - لقد لفت انتباهي كثرة ما اشتملت عليه سورة الحجرات، تلكم السورة العظيمة من

--------------------------------------------

(1) هذا اقتباس من حديث علي رضي الله عنه، وهو وإن كان ضعيف الإسناد، كما سيأتي، لكنه كلام حسن صحيح، كما قال ابن كثير، وجميل المعنى كما قال الألباني. وقد أخرجه الترمذي في سننه (5/ 172)، ح (2906)، كتاب فضائل القرآن، باب ما جاء في فضل القرآن، ثم قال: هذا حديث لا نعرفه إلا من هذا الوجه، وإسناده مجهول، وفي الحارث -الأعور- مقال. وأورده ابن كثير في مقدمة تفسيره (1/ 21)، ثم قال معلقا على كلام الترمذي السابق: (قلت: لم ينفرد بروايته حمزة بن حبيب الزيات، بل قد رواه محمد بن إسحاق عن محمد بن كعب القرظي، عن الحارث الأعور، فبرئ حمزة من عهدته، على أنه وإن كان ضعيفا في الحديث إلا أنه إمام في القراءة والحديث، مشهور من رواية الحارث الأعور، وقد تكلموا فيه، بل قد كذبه بعضهم من جهة رأيه واعتقاده، أما أنه تعمد الكذب فلا، والله أعلم. وقصارى هذا الحديث أن يكون من كلام أمير المؤمنين علي رضي الله عنه، وقد وهم بعضهم في رفعه، وهو كلام حسن صحيح، على أنه روي له شاهد عن عبد الله بن مسعود)) … ثم ذكر كلام ابن مسعود، واستغربه، وذكر فيه راويا متكلم فيه كثيراً.

وقال عنه الألباني في تخريج العقيدة الطحاوية ص (71)، ح (3): «هذا حديث جميل المعنى، ولكن إسناده ضعيف … » ا. هـ.
[আল-জিন: ১, ২], যে ব্যক্তি এর (কুরআন) অনুযায়ী কথা বলবে সে সত্য বলবে, যে এর ওপর আমল করবে সে প্রতিদান পাবে, যে এর দ্বারা বিচার করবে সে ইনসাফ করবে এবং যে এর দিকে আহ্বান করবে সে সরল পথের দিশা পাবে(১)।

আল্লাহর কসম, এতেই হেদায়াত সন্ধান করা, এর প্রস্রবণ থেকে সুধা পান করা, এর অর্থসমূহ থেকে বিধান উদঘাটন করা এবং এর পেছনে জীবন অতিবাহিত করা একান্ত বাঞ্ছনীয়।

আমি এই গবেষণাটি রচনার মাধ্যমে আমার সামান্য প্রচেষ্টা নিবেদন করতে চেয়েছি, যার নামকরণ করেছি: "সুরা আল-হুজুরাত-এর নিষিদ্ধ বিষয়াবলি: আয়াতসমূহের ব্যাখ্যা, হুকুমের বর্ণনা এবং নিষেধাজ্ঞার দলীলসমূহ, সাথে এর কিছু আনুষঙ্গিক বিধান"। যদি এটি সঠিক হয় তবে তা একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে, যাঁর কোনো শরিক নেই, আর এটিই আমার প্রত্যাশা। আর যদি এতে কোনো ভুল থাকে তবে তা আমার পক্ষ থেকে এবং আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি। পাঠকের জন্য এর প্রাপ্তি আর আমার ওপর এর দায়ভার।

 

‌‌বিষয় নির্বাচনের কারণ ও এর গুরুত্ব:

১ - সুরা আল-হুজুরাত নামক এই মহান সুরাটিতে অন্তর্ভুক্ত বহু বিষয় আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে...

--------------------------------------------

(১) এটি আলি (রা.)-এর একটি হাদিস থেকে গৃহীত উদ্ধৃতি। যদিও এর বর্ণনাসূত্রটি দুর্বল (ضعيف الإسناد), যেমনটি সামনে আসবে, কিন্তু এর কথাগুলো চমৎকার ও সহিহ (صحيح), যেমনটি ইবনে কাসির বলেছেন; এবং এর মর্মার্থ অত্যন্ত সুন্দর, যেমনটি আলবানি বলেছেন। এটি তিরমিজি তাঁর সুনান (৫/১৭২), হা (২৯০৬), কিতাব ফাদাইলুল কুরআন, অধ্যায়: কুরআন-এর ফজিলত সম্পর্কিত আলোচনা-এ বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি বলেছেন: "এই হাদিসটি আমরা কেবল এই সূত্রেই অবগত হয়েছি, এর বর্ণনাসূত্রটি অজ্ঞাত (مجهول) এবং হারিস আল-আওয়ার-এর ব্যাপারে আপত্তি রয়েছে।" ইবনে কাসির তাঁর তাফসিরের ভূমিকায় (১/২১) এটি উল্লেখ করেছেন এবং তিরমিজির উপরোক্ত বক্তব্যের ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন: (আমি বলছি: এটি বর্ণনায় হামজা বিন হাবিব আল-যাইয়্যাত একক নন, বরং মুহাম্মদ বিন ইসহাক এটি মুহাম্মদ বিন কাব আল-কুরাজি থেকে, তিনি হারিস আল-আওয়ার থেকে বর্ণনা করেছেন। ফলে হামজা এর দায়মুক্ত হলেন। যদিও তিনি হাদিসের ক্ষেত্রে দুর্বল (ضعيف), তবুও তিনি কিরাত ও হাদিসের ক্ষেত্রে একজন ইমাম (إمام)। এটি হারিস আল-আওয়ার-এর বর্ণনা হিসেবে প্রসিদ্ধ। মুহাদ্দিসগণ তাঁর সমালোচনা করেছেন, এমনকি কেউ কেউ তাঁর নিজস্ব রায় ও আকিদাগত কারণে তাঁকে মিথ্যাবাদী (كذاب) বলেছেন। তবে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বলতেন না, আল্লাহই ভালো জানেন। এই হাদিসটির সর্বোচ্চ পর্যায় হলো এটি আমিরুল মুমিনিন আলি (রা.)-এর উক্তি হওয়া। কেউ কেউ এটিকে মারফু (مرفوع) বা রাসুল (সা.)-এর বাণী হিসেবে বর্ণনা করতে গিয়ে ভুল করেছেন। এটি একটি চমৎকার ও সহিহ (صحيح) কথা। এর স্বপক্ষে আবদুল্লাহ বিন মাসউদ থেকে একটি শাহিদ (شاهد) বা সমর্থক বর্ণনা বর্ণিত হয়েছে)... অতঃপর তিনি ইবনে মাসউদের উক্তিটি উল্লেখ করেছেন এবং এটিকে বিরল বা গারিব (غريب) বলেছেন এবং এতে এমন একজন বর্ণনাকারীর কথা উল্লেখ করেছেন যার ব্যাপারে অনেক সমালোচনা রয়েছে।

আলবানি 'তাখরিজুল আকিদা আত-তাহাবিয়্যাহ' (পৃ. ৭১, হা. ৩)-এ এটি সম্পর্কে বলেছেন: "এই হাদিসটির মর্মার্থ চমৎকার, কিন্তু এর বর্ণনাসূত্রটি দুর্বল (ضعيف)..." সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১৩৯) আল-মানহিয়াতু ফি সূরাতিল হুজুরাত (পৃষ্ঠা: ৫৩)
الأوامر والنواهي والأخبار رغم قصرها.

2 - ومن الأسباب أيضا التي دفعتني إلى الكتابة في هذا البحث خاصة الحاجة الماسة إلى معرفة ما ورد من النهي عن المحرمات في هذه السورة وغيرها، لكن هذه السورة خاصة قد اشتملت على جملة من المناهي التي كثر انتشارها بين الناس، حتى بين طلبة العلم، ووقع فيه من وقع إلا من رحم الله، ولا حول ولا قوة إلا بالله.

ومن بين هذه المنهيات: الغيبة التي كما قيل شب عليها الصغير وهرم عليها الكبير إلا من رحم الله.

ومنها السخرية، واللمز، والتنابز بالألقاب، وكثرة التقدم بين يدي الله ورسوله، والقول عليهما بغير علم، والتجسس، والمنَّ بالنفقة والأعطيات إلى غير ذلك مما ستراه في ثنايا هذا البحث، وكلها نراه واقعا مريرا ملموسا في مجتمعاتنا، نسأل الله أن يردنا إليه ردا جميلا.

3 - ومن الأسباب كثرة أسباب الغفلة والشر في هذه الأيام، مما يستدعي بذل مزيد من الجهد من طلبة العلم في تذكير الناس بأمر ربهم وشرعه، وردهم إليه.

4 - ومن الأسباب رغبتي في نفع نفسي علَّ الله أن يمن علي بالتوفيق لاجتناب نواهيه، ونفع إخواني ممن تيسر له الاطلاع عليه، وهو حسبي ونعم الوكيل، ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم.

 

‌‌خطة البحث:

لقد قمت بحمد الله بالكتابة في هذا الموضوع وفق الخطة التالية:

أولا: مقدمة تشتمل على أهمية البحث، وأسباب الكتابة فيه، وهي ما سبق ذكرها قريباً.
আদেশ, নিষেধ এবং সংবাদসমূহ—যদিও তা সংক্ষিপ্ত।

২ - এই বিশেষ গবেষণাপত্রে লেখার পেছনে অন্যতম কারণ হলো—এই সূরা ও অন্যান্য সূরায় হারাম কার্যাবলি সম্পর্কে যে সমস্ত নিষেধ (نهي) বর্ণিত হয়েছে, তা জানার তীব্র প্রয়োজনীয়তা। তবে বিশেষ করে এই সূরাটি এমন কিছু নিষিদ্ধ বিষয়কে (مناهي) অন্তর্ভুক্ত করেছে যা মানুষের মধ্যে, এমনকি ইলম অন্বেষণকারীদের (طلبة العلم) মধ্যেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। যাদের ওপর আল্লাহ দয়া করেছেন তারা ছাড়া অনেকেই এতে লিপ্ত হয়েছে। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো ক্ষমতা বা শক্তি নেই।

এই নিষিদ্ধ বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো: পরনিন্দা (غيبة), যে সম্পর্কে বলা হয়ে থাকে যে—আল্লাহ যাদের রক্ষা করেছেন তারা ছাড়া ছোটরা এতেই বড় হয় আর বড়রা এতেই বৃদ্ধ হয়।

এগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে উপহাস (سخرية), দোষারোপ (لمز), মন্দ উপাধিতে ডাকা (تنابز بالألقاب), আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সিদ্ধান্তের আগে বেড়ে চলা, ইলম (علم) ছাড়া তাঁদের সম্পর্কে কোনো কথা বলা, ছিদ্রান্বেষণ (تجسس), এবং দান ও সদকার মাধ্যমে খোঁটা দেওয়া। এর বাইরেও আরও অনেক কিছু যা আপনি এই গবেষণার গভীরে দেখতে পাবেন। এই সবই আমরা আমাদের সমাজে এক তিক্ত ও দৃশ্যমান বাস্তবতা হিসেবে প্রত্যক্ষ করছি। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের উত্তমভাবে তাঁর দিকে ফিরিয়ে নেন।

৩ - বর্তমান সময়ে গাফেলতি বা উদাসীনতা ও অনিষ্টের কারণগুলো বৃদ্ধি পাওয়াও অন্যতম একটি কারণ। যা ইলম অন্বেষণকারীদের (طلبة العلم) পক্ষ থেকে মানুষকে তাদের রবের আদেশ ও শরয়ি বিধান সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দিতে এবং তাঁদেরকে সেদিকে ফিরিয়ে আনতে আরও বেশি প্রচেষ্টা চালানোর দাবি রাখে।

৪ - অন্যতম কারণ হলো নিজের উপকার করার আকাঙ্ক্ষা; যেন আল্লাহ আমাকে তাঁর নিষেধসমূহ (نواهي) বর্জনের তাওফিক দান করে ধন্য করেন। সেই সাথে আমার সেই সব ভাইদেরও উপকার করা যাদের এটি পড়ার সুযোগ হবে। আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। সুউচ্চ ও মহান আল্লাহর সাহায্য ছাড়া আর কোনো শক্তি বা সামর্থ্য নেই।

 

‌গবেষণা পরিকল্পনা:

আল্লাহর প্রশংসার সাথে আমি নিম্নলিখিত পরিকল্পনা অনুযায়ী এই বিষয়ে লিখেছি:

প্রথমত: একটি ভূমিকা, যা গবেষণার গুরুত্ব এবং তা লেখার কারণসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে, যা ইতিপূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১৩৯) আল-মানহিয়াতু ফি সূরাতিল হুজুরাত (পৃষ্ঠা: ৫৪)
ثانيا: المنهيات في سورة الحجرات، وجعلتها في سبعة مباحث، وفي كل مبحث مطالب على النحو التالي:

المبحث الأول: النهي عن التقدم بين يدي الله ورسوله، وتحته ثلاثة مطالب:

المطلب الأول: في بيان التفسير الإجمالي للآية.

المطلب الثاني: في بيان معنى التقدم لغة، وفي أقوال المفسرين.

المطلب الثالث: حكم التقدم بين يدي الله ورسوله، والنصوص الواردة في النهي عنه.

المبحث الثاني: النهي عن رفع الصوت عند النبي صلى الله عليه وسلم، والجهر له عند مخاطبته، وتحته ستة مطالب:

المطلب الأول: سبب نزول الآية.

المطلب الثاني: التفسير الإجمالي للآية.

المطلب الثالث: معنى رفع الصوت والجهر له لغة، وفي أقوال المفسرين.

المطلب الرابع: حكم رفع الصوت عند النبي صلى الله عليه وسلم والجهر له، والنصوص الواردة في وجوب توقيره واحترامه.

المطلب الخامس: حكم رفع الصوت عند قبره.

المطلب السادس: نماذج من استجابة الصحابة للنهي عن رفع الصوت عند النبي صلى الله عليه وسلم والجهر له.

المبحث الثالث: النهي عن السخرية، وتحته ثلاثة مطالب:

المطلب الأول: التفسير الإجمالي للآية.

المطلب الثاني: معنى السخرية لغة وفي أقوال المفسرين وغيرهم.

المطلب الثالث: حكم السخرية وما ورد من النهي عنها.

المبحث الرابع: النهي عن اللمز والتنابز بالألقاب، وتحته أربعة مطالب:
দ্বিতীয়ত: সূরা আল-হুজুরাতে বর্ণিত নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ; আমি একে সাতটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত করেছি এবং প্রতিটি পরিচ্ছেদে নিম্নোক্ত উপ-অনুচ্ছেদসমূহ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সমীপে অগ্রবর্তী হওয়ার নিষেধাজ্ঞা; এর অধীনে তিনটি উপ-অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম উপ-অনুচ্ছেদ: আয়াতের সামগ্রিক ব্যাখ্যার বর্ণনা প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: শাব্দিক অর্থে এবং মুফাসসিরগণের বক্তব্যে ‘অগ্রবর্তী হওয়া’র মর্মার্থ বিশ্লেষণ প্রসঙ্গে।

তৃতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সমীপে অগ্রবর্তী হওয়ার বিধান (حكم) এবং এ সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে বর্ণিত দলীলসমূহ (النصوص)।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপস্থিতিতে উচ্চৈঃস্বরে কথা বলা এবং তাঁর সাথে কথা বলার সময় উচ্চকণ্ঠ হওয়ার নিষেধাজ্ঞা; এর অধীনে ছয়টি উপ-অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম উপ-অনুচ্ছেদ: আয়াতের অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট (سبب نزول)।

দ্বিতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: আয়াতের সামগ্রিক ব্যাখ্যা।

তৃতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: শাব্দিক অর্থে এবং মুফাসসিরগণের ব্যাখ্যায় উচ্চৈঃস্বরে কথা বলা ও উচ্চকণ্ঠ হওয়ার অর্থ।

চতুর্থ উপ-অনুচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপস্থিতিতে উচ্চৈঃস্বরে কথা বলা ও উচ্চকণ্ঠ হওয়ার বিধান (حكم) এবং তাঁর প্রতি সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শনের আবশ্যকতা বিষয়ে বর্ণিত দলীলসমূহ (النصوص)।

পঞ্চম উপ-অনুচ্ছেদ: তাঁর কবরের পাশে উচ্চৈঃস্বরে কথা বলার বিধান (حكم)।

ষষ্ঠ উপ-অনুচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপস্থিতিতে উচ্চৈঃস্বরে কথা বলা ও উচ্চকণ্ঠ হওয়ার নিষেধাজ্ঞা পালনে সাহাবীগণের অনুসরণের কতিপয় দৃষ্টান্ত।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: উপহাস করার নিষেধাজ্ঞা; এর অধীনে তিনটি উপ-অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম উপ-অনুচ্ছেদ: আয়াতের সামগ্রিক ব্যাখ্যা।

দ্বিতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: শাব্দিক অর্থে এবং মুফাসসিরগণ ও অন্যান্যদের বক্তব্যে উপহাসের অর্থ।

তৃতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: উপহাসের বিধান (حكم) এবং এ থেকে নিষেধ করে বর্ণিত বর্ণনাগুলো।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: দোষারোপ করা এবং মন্দ উপাধিতে ডাকার নিষেধাজ্ঞা; এর অধীনে চারটি উপ-অনুচ্ছেদ রয়েছে:
(খণ্ড: ১৩৯) আল-মানহিয়াতু ফি সূরাতিল হুজুরাত (পৃষ্ঠা: ৫৫)
المطلب الأول: سبب نزول الآية.

المطلب الثاني: التفسير الإجمالي للآية.

المطلب الثالث: معنى اللمز والتنابز بالألقاب لغة وفي كلام المفسرين.

المطلب الرابع: حكم اللمز والتنابز بالألقاب، وما ورد من النهي عن ذلك.

المبحث الخامس: النهي عن التجسس، وتحته ثلاثة مطالب:

المطلب الأول: التفسير الإجمالي للآية.

المطلب الثاني: التجسس لغة وفي كلام المفسرين.

المطلب الثالث: حكم التجسس وما ورد من النهي عنه.

المبحث السادس: النهي عن الغيبة، وتحته خمسة مطالب:

المطلب الأول: التفسير الإجمالي للآية.

المطلب الثاني: معنى الغيبة لغة واصطلاحا، وبعض صورها.

المطلب الثالث: حكم الغيبة وما ورد من النهي عنها.

المطلب الرابع: ما يستثنى من الغيبة.

المطلب الخامس: تحريم سماع الغيبة، ووجوب ردها، والذب عن أعراض المسلمين.

المبحث السابع: النهي عن المن على الله ورسوله وسائر الخلق، وتحته أربعة مطالب:

المطلب الأول: سبب نزول الآية.

المطلب الثاني: التفسير الإجمالي للآية.

المطلب الثالث: المراد بالمن لغة وفي أقوال المفسرين.

المطلب الرابع: حكم المن والنصوص الواردة فيه.

ثالثا: الخاتمة.
প্রথম পরিচ্ছেদ: আয়াতের শানে নুযূল।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আয়াতের সামগ্রিক তাফসীর।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আভিধানিক অর্থে এবং মুফাসসিরগণের বক্তব্যে অন্যকে উপহাস করা এবং মন্দ উপাধিতে ডাকার অর্থ।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: অন্যকে উপহাস করা ও মন্দ উপাধিতে ডাকার বিধান এবং এ সম্পর্কে বর্ণিত নিষেধাজ্ঞা।

পঞ্চম অধ্যায়: ছিদ্রান্বেষণ থেকে নিষেধ এবং এর অধীনে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: আয়াতের সামগ্রিক তাফসীর।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আভিধানিক অর্থে এবং মুফাসসিরগণের বক্তব্যে ছিদ্রান্বেষণ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ছিদ্রান্বেষণের বিধান এবং এ সম্পর্কে বর্ণিত নিষেধাজ্ঞা।

ষষ্ঠ অধ্যায়: গীবত থেকে নিষেধ এবং এর অধীনে পাঁচটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: আয়াতের সামগ্রিক তাফসীর।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে গীবতের সংজ্ঞা এবং এর কিছু ধরণ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: গীবতের বিধান এবং এ সম্পর্কে বর্ণিত নিষেধাজ্ঞা।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: গীবতের ব্যতিক্রমসমূহ।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: গীবত শোনা হারাম হওয়া, তা প্রতিহত করা ওয়াজিব হওয়া এবং মুসলিমদের মান-সম্মান রক্ষা করা।

সপ্তম অধ্যায়: আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং অন্যান্য সৃষ্টির ওপর অনুগ্রহের খোঁটা দেওয়া থেকে নিষেধ এবং এর অধীনে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: আয়াতের শানে নুযূল।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আয়াতের সামগ্রিক তাফসীর।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আভিধানিক অর্থে এবং মুফাসসিরগণের বক্তব্যে অনুগ্রহের খোঁটা দেওয়ার তাৎপর্য।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: অনুগ্রহের খোঁটা দেওয়ার বিধান এবং এ সম্পর্কে বর্ণিত দলীলসমূহ।

তৃতীয়ত: উপসংহার।
(খণ্ড: ১৩৯) আল-মানহিয়াতু ফি সূরাতিল হুজুরাত (পৃষ্ঠা: ৫৬)
‌‌منهج البحث:

لقد سرت في كتابة هذا البحث وفق المنهج التالي:

1 - ذكر نص الآية في أول المبحث.

2 - عزو الآيات إلى سورها.

3 - تخريج الأحاديث من دواوين السنة المشهورة.

4 - اقتصرت على إيراد الأحاديث الصحيحة، فما كان منها في الصحيحين، أو في أحدهما اكتفيت بالنص على إخراجهما له أو أحدهما، وما كان في غيرهما حكمت على إسناده بذكر قول أهل الفن فيه.

ولأجل ذلك أعرضت عن جملة من الأحاديث، وأسباب النزول التي أوردها كثير من المفسرين، ولا يصح إسنادها.

5 - ذكر سبب نزول الآية إن وجد، وصح سنده.

6 - أشرح الآية شرحا إجماليا بإيراد كلام أئمة التفسير، كالطبري، وابن كثير، وغيرهما، وأؤلف بينه، ليكون الكلام منسبكا متناسبا، وربما لخصت كلامهم إذا كان التفسير المنقول عنهم قليلا، أو متماثلا، كما حصل في المبحثين الأخيرين.

7 - أذكر معنى الخصلة المنهي عنها في اللغة من كلام أهل اللغة، ليتبين المعنى الشامل للكلمة.

8 - أردفه بذكر أقوال أئمة التفسير، ثم أرجح بينها، أو أبين عدم تعارضها.

9 - أذكر أحيانا كلام بعض أهل العلم من غير المفسرين في تعريف الخصلة، إذا رأيت أن كلام المفسرين منصب على الآية دون الإشارة إلى معنى الخصلة إجمالا.

10 - أذكر القراءات الصحيحة (القراءات العشر) ضمن المعنى الإجمالي للآية، إن وجدت.
‌‌গবেষণা পদ্ধতি:

আমি এই গবেষণাটি রচনার ক্ষেত্রে নিচের পদ্ধতি অনুসরণ করেছি:

১ - আলোচনার শুরুতে আয়াতের পাঠ উল্লেখ করা।

২ - আয়াতসমূহকে সংশ্লিষ্ট সূরার সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা।

৩ - সুন্নাহর প্রসিদ্ধ সংকলনসমূহ থেকে হাদিসসমূহের তাখরিজ (تخريج) করা।

৪ - আমি কেবল সহিহ (صحيح) হাদিসসমূহ উল্লেখ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছি। যে হাদিসগুলো সহিহাইন অথবা এর যেকোনো একটিতে বিদ্যমান, সেক্ষেত্রে আমি কেবল তাদের বা তাদের যেকোনো একজনের বর্ণনার উদ্ধৃতি দিয়েই ক্ষান্ত হয়েছি। আর যেগুলো এ দুটির বাইরে, সেগুলোর সনদের (إسناد) ওপর এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য উল্লেখ করে হুকুম (حكم) প্রদান করেছি।

এ কারণে আমি এমন অনেক হাদিস এবং শানে নুযুল (أسباب النزول) বর্জন করেছি যা অনেক মুফাসসির উল্লেখ করেছেন, কিন্তু সেগুলোর সনদ (إسناد) সহিহ (صحيح) নয়।

৫ - আয়াতের শানে নুযুল (سبب نزول) থাকলে এবং তার সনদ (سند) সহিহ (صحيح) হলে তা উল্লেখ করা।

৬ - ইমাম তাবারী, ইবনে কাসীর প্রমুখ তাফসিরের ইমামদের বক্তব্য উদ্ধৃত করে আয়াতের একটি সারসংক্ষেপ ব্যাখ্যা প্রদান করা এবং তাদের বক্তব্যের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা যাতে আলোচনাটি সুসংগত ও সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। কখনও কখনও আমি তাদের বক্তব্যের সংক্ষিপ্তসার পেশ করেছি যদি তাদের থেকে বর্ণিত তাফসির অল্প বা একই ধরনের হয়, যেমনটি শেষ দুটি আলোচনায় ঘটেছে।

৭ - নিষিদ্ধ বৈশিষ্ট্যের আভিধানিক অর্থ ভাষাবিদদের বক্তব্য থেকে উল্লেখ করা, যাতে শব্দটির সামগ্রিক অর্থ সুস্পষ্ট হয়।

৮ - এরপর তাফসিরের ইমামদের বক্তব্য উল্লেখ করা, অতঃপর সেগুলোর মধ্যে অগ্রাধিকার প্রদান করা অথবা সেগুলোর মধ্যে যে কোনো বৈপরীত্য নেই তা স্পষ্ট করা।

৯ - মাঝেমধ্যে বৈশিষ্ট্যটির সংজ্ঞায় মুফাসসিরগণ ব্যতীত অন্যান্য আলিমদের বক্তব্য উল্লেখ করা, যদি আমি দেখি যে মুফাসসিরগণের আলোচনা কেবল আয়াতের ওপর কেন্দ্রীভূত এবং বৈশিষ্ট্যের সামগ্রিক অর্থের দিকে কোনো ইঙ্গিত নেই।

১০ - আয়াতের সামগ্রিক অর্থের অধীনে সহিহ (صحيحة) কিরাতসমূহ (দশ কিরাত) যদি থাকে তবে তা উল্লেখ করা।
(খণ্ড: ১৩৯) আল-মানহিয়াতু ফি সূরাতিল হুজুরাত (পৃষ্ঠা: ৫৭)
11 - أذكر حكم الخصلة المنهي عنها، ثم أردفه بذكر النصوص المؤيدة لذلك الحكم مبتدئا بالآيات.

12 - زدت بعض المطالب إذا رأيت أن الأمر يستدعي ذلك، وأن الحاجة إليه ملحة، كما حصل في مبحث النهي عن رفع الصوت عند النبي صلى الله عليه وسلم، ومبحث النهي عن الغيبة.

13 - جمعت بين بعض النواهي في مبحث واحد، كما حصل في مبحث اللمز والتنابز، للارتباط الوثيق بينهما، وتقارب دلالتهما، وقلة المادة العلمية لكل واحد منهما على حدة في كلام المفسرين.

14 - وثقت ما أوردته من أقوال أهل العلم، أو تعريفاتهم، أو النقول عنهم بعزوها إلى مصادرها.

15 - ترجمة الأعلام الواردة، ما لم تكن مشهورة.

16 - شرحت بعض الكلمات التي تحتاج إلى بيان في الحاشية.

17 - ذيلت الرسالة بفهارس علمية كالتالي:

أ- فهرس الآيات القرآنية.

ب- فهرس الأحاديث النبوية.

ج- فهرس الأعلام.

د- فهرس المصادر والمراجع.

هـ- فهرس الموضوعات.
11 - আমি নিষিদ্ধ আচরণের বিধান (حكم) উল্লেখ করেছি, অতঃপর সেই বিধানের সপক্ষে দালিলিক বর্ণনা (نصوص) যুক্ত করেছি, যা শুরু হয়েছে কোরআনের আয়াত দিয়ে।

12 - যখনই আমি কোনো বিষয়কে প্রয়োজনীয় এবং জরুরি মনে করেছি, তখনই কিছু প্রাসঙ্গিক আলোচনা বৃদ্ধি করেছি; যেমনটি করা হয়েছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপস্থিতিতে উচ্চস্বরে কথা বলা এবং গিবতের (পরনিন্দা) নিষিদ্ধতা বিষয়ক আলোচনায়।

13 - আমি কিছু নিষিদ্ধ বিষয়কে একই শিরোনামে একত্র করেছি, যেমনটি করা হয়েছে দোষারোপ (لمز) ও মন্দ উপনামে ডাকা (تنابز)-এর আলোচনায়। কারণ এই দুটির মধ্যে গভীর যোগসূত্র রয়েছে, অর্থের দিক থেকেও উভয়টি অত্যন্ত কাছাকাছি এবং মুফাসসিরগণের আলোচনায় পৃথকভাবে এগুলোর ওপর পর্যাপ্ত তথ্য ছিল না।

14 - আমি আলেমদের যে সকল বক্তব্য, সংজ্ঞা বা উদ্ধৃতি উল্লেখ করেছি, সেগুলোকে মূল উৎসের বরাতে প্রামাণ্য (وثقت) করেছি।

15 - অতি পরিচিত ব্যক্তি না হলে গ্রন্থে আগত ব্যক্তিদের জীবনী (ترجمة) উল্লেখ করেছি।

16 - ব্যাখ্যা প্রয়োজন এমন কিছু শব্দের বিশ্লেষণ পাদটীকাতে (حاشية) প্রদান করেছি।

17 - আমি এই অভিসন্দর্ভটি নিম্নোক্ত জ্ঞানতাত্ত্বিক সূচিপত্রগুলোর মাধ্যমে সমাপ্ত করেছি:

ক- কোরআনের আয়াতের সূচিপত্র।

খ- হাদিসের সূচিপত্র।

গ- ব্যক্তিবর্গের নামের সূচিপত্র।

ঘ- তথ্যসূত্র ও গ্রন্থপঞ্জির সূচিপত্র।

ঙ- বিষয়ভিত্তিক সূচিপত্র।
(খণ্ড: ১৩৯) আল-মানহিয়াতু ফি সূরাতিল হুজুরাত (পৃষ্ঠা: ৫৮)
‌‌المبحث الأول: النهي عن التقدم بين يدي الله ورسوله

قال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُقَدِّمُوا بَيْنَ يَدَيِ اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌ} [الحجرات: 1].

 

‌‌المطلب الأول: التفسير الإجمالي للآية

ينادي الله عباده بوصف الإيمان، ذلكم الوصف العظيم الذي إذا حققه المسلم في نفسه حمله على فعل الأوامر واجتناب النواهي، فينهاهم عن التقدم بين يدي الله ورسوله في أي حال من الأحوال.

قال ابن جرير الطبري: «يعني تعالى ذكره بقوله: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا} يا أيها الذين أقروا بوحدانية الله، وبنبوة محمد صلى الله عليه وسلم {لَا تُقَدِّمُوا بَيْنَ يَدَيِ اللَّهِ وَرَسُولِهِ}، يقول: لا تعجلوا بقضاء أمر في حروبكم أو دينكم قبل أن يقضي الله لكم فيه ورسوله، فتقضوا بخلاف أمر الله ورسوله … ».

وفي قوله: {لَا تُقَدِّمُوا} قراءتان.

قرأ يعقوب(1) {لا تَقدَّموا} بفتح التاء والدال، وذلك على حذف إحدى التاءين، لأن الأصل (لا تتقدموا) مضارع "تقدموا".

وقرأ الباقون {لَا تُقَدِّمُوا} بضم التاء وكسر الدال، مضارع "قدَّم" مضعف العين. قال الفراء(2): كلاهما صواب، يقال: قدمت وتقدمت، وقال

--------------------------------------------

(1) هو يعقوب بن إسحاق بن زيد بن عبد الله مولى الحضرمين، الإمام قارئ البصرة في عصره، قرأ القرآن على أبي المنذر سلام بن سليم، وأبي الأشهب، ومهران بن ميمون، وغيرهم، وسمع من حمزة الزيات، وشعبة، وقرأ عليه روح، ورويس، وغيرهما، مات سنة خمس ومائتين. انظر: معرفة القراء (1/ 157).

(2) هو يحيى بن زياد بن عبد الله بن منظور الديلمي، الأسدي بالولاء، أبو زكريا، المعروف بالفراء، إمام الكوفيين، وأعلمهم بالنحو، واللغة، وفنون الأدب، ولد بالكوفة سنة (144 هـ)، له معاني القرآن، ومشكل اللغة، وغيرها، مات في طريق مكة سنة (207 هـ). انظر: الأعلام (8/ 145).
প্রথম পরিচ্ছেদ: আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের অগ্রবর্তী হওয়া বা আগে বেড়ে কিছু করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা

মহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আগে বেড়ে কিছু করো না এবং আল্লাহকে ভয় করো; নিশ্চয় আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।} [আল-হুজুরাত: ১]।

 

প্রথম অনুচ্ছেদ: আয়াতের সামগ্রিক তাফসির

আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের ঈমানের গুণে সম্বোধন করেছেন—যা এমন এক মহান গুণ যে, কোনো মুসলিমের মধ্যে তা বাস্তবায়িত হলে তা তাকে আদেশসমূহ পালন এবং নিষেধসমূহ বর্জনে উদ্বুদ্ধ করে। অতঃপর তিনি তাদের সকল অবস্থায় আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আগে বেড়ে কিছু করতে নিষেধ করেছেন।

ইবনে জারির আত-তবারি বলেন: “মহান আল্লাহ তাঁর বাণী— {হে মুমিনগণ!} দ্বারা উদ্দেশ্য করেছেন: হে তারা, যারা আল্লাহর একত্ববাদ এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুওয়াতের স্বীকৃতি দিয়েছ; {তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আগে বেড়ে কিছু করো না}—অর্থাৎ: তোমাদের যুদ্ধবিগ্রহ কিংবা দ্বীনি বিষয়ে কোনো ফয়সালা দেওয়ার ক্ষেত্রে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল তোমাদের ব্যাপারে ফয়সালা দেওয়ার আগে তাড়াহুড়ো করো না, যার ফলে তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আদেশের পরিপন্থী কোনো সিদ্ধান্ত দিয়ে বসো …।”

আল্লাহর বাণী {লা তুকাদ্দিমু}-এর ক্ষেত্রে দুটি কিরাত (পঠনরীতি) রয়েছে।

ইয়াকুব(১) ‘তা’ এবং ‘দাল’ বর্ণে জবরসহ {লা তাকাদ্দামু} পড়েছেন। এটি মূলত একটি ‘তা’ বিলুপ্ত করার ভিত্তিতে হয়েছে, কারণ এর মূল রূপ ছিল ‘লা তাতাকাদ্দামু’, যা ‘তাকাদ্দামা’ ক্রিয়ামূলের বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন রূপ (مضارع)।

এবং অবশিষ্ট কিরাতবিদগণ ‘তা’ বর্ণে পেশ এবং ‘দাল’ বর্ণে যেরসহ {লা তুকাদ্দিমু} পড়েছেন, যা আইন-বর্ণ (মধ্য বর্ণ) দ্বিত্ব হওয়া ‘কাদ্দামা’ ক্রিয়ামূলের বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন রূপ (مضارع)। আল-ফাররা(২) বলেছেন: উভয়টিই সঠিক; ‘কাদ্দামতু’ এবং ‘তাকাদ্দামতু’ উভয়ই বলা হয়।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন ইয়াকুব বিন ইসহাক বিন যায়েদ বিন আব্দুল্লাহ, হাদরামিগণের মুক্তদাস (مولى)। তিনি তাঁর সমকালীন বসরার ইমাম (إمام) ও কারি (قارئ) ছিলেন। তিনি আবু আল-মুনজির সালাম বিন সুলাইম, আবু আল-অাশহাব, মিহরান বিন মাইমুন ও অন্যদের কাছে কুরআন পাঠ করেছেন। তিনি হামযা আল-যাইয়্যাত এবং শু'বা থেকে হাদিস শুনেছেন। তাঁর নিকট রাওহ, রুয়াইস এবং অন্যরা কুরআন পাঠ করেছেন। তিনি ২০৫ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। দ্রষ্টব্য: মা'রিফাতুল কুররা (১/ ১৫৭)।

(২) তিনি হলেন ইয়াহইয়া বিন যিয়াদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মানযুর আদ-দাইলামি, আল-আসাদি (আনুগত্যের সূত্রে), আবু যাকারিয়া, যিনি আল-ফাররা নামে সুপরিচিত। তিনি কুফাবাসীদের ইমাম (إمام) এবং তাদের মধ্যে নাহু (نحو), লুগাত (لغة) ও সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় সবচেয়ে বড় আলেম ছিলেন। তিনি ১৪৪ হিজরি সনে কুফায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর গ্রন্থাবলীর মধ্যে রয়েছে মাআনিল কুরআন, মুশকিলুল লুগাত ইত্যাদি। তিনি ২০৭ হিজরি সনে মক্কার পথে ইন্তেকাল করেন। দ্রষ্টব্য: আল-আ'লাম (৮/ ১৪৫)।
(খণ্ড: ১৩৯) আল-মানহিয়াতু ফি সূরাতিল হুজুরাত (পৃষ্ঠা: ৫৯)
الزجاج: كلاهما واحد(1).

قلت: وعند التأمل يتبين أن الأمر كما قال الزجاج، وأن حاصل معنى القراءتين ومؤداهما واحد.

ومعنى الآية: لا تقطعوا أمرا دون الله ورسوله، ولا تتعجلوا به(2).

ثم قال ابن جرير: «وقوله: {وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌ} يقول: وخافوا الله أيها الذين آمنوا في قولكم، أن تقولوا ما لم يأذن لكم به الله ولا رسوله، وفي غير ذلك من أموركم، وراقبوه إن الله سميع لما تقولون، عليم بما تريدون بقولكم إذا قلتم، لا يخفى عليه شيء من ضمائر صدوركم، وغير ذلك من أموركم، وأمور غيركم»(3).

 

‌‌المطلب الثاني: معنى التقدم لغة وفي أقوال المفسرين

‌‌أولا: معنى التقدم لغة:

أصل هذه الكلمة «قدم» يدل على السبق، قاله ابن فارس(4).

وبذلك فسره الفيروزابادي(5)، فقال بعد ذكر قوله تعالى: {لَا تُقَدِّمُوا بَيْنَ

--------------------------------------------

(1) انظر: زاد المسير 7/ 455، 456.

(2) انظر: المغني في توجيه القراءات العشر (3/ 258)، والمبسوط في القراءات العشر ص

(412).

(3) انظر: جامع البيان للطبري (26/ 116، 117).

(4) هو أحمد بن فارس بن زكريا القزويني، الرازي، من أئمة اللغة، والأدب، قرأ على البديع الهمداني، والصاحب بن عباد، وغيرهما، له كتاب معجم مقاييس اللغة، والمجمل، مات سنة 395 هـ. انظر: الأعلام (1/ 193). وانظر قوله في: معجم مقاييس اللغة (5/ 65).

(5) هو مجد الدين، محمد بن يعقوب بن محمد بن إبراهيم بن عمر، أبو طاهر الفيروزابادي، من أئمة اللغة، والأدب، ولد بكارزين من أعمال شوران، سنة (729 هـ)، رحل إلى العراق، والشام، ومصر، ثم استقر في زبيد باليمن، له كتاب: القاموس المحيط، وبصائر ذوي التمييز، وغيرهما، مات سنة (817 هـ). انظر: الأعلام (7/ 146).
আল-জুজ্জাজ: উভয়ই এক।(১)

আমি বলছি: গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে প্রতীয়মান হয় যে, বিষয়টি আল-জুজ্জাজ যেমনটি বলেছেন তেমনই; আর উভয় কিরাআতের অর্থ ও সারমর্ম মূলত একই।

আয়াতের অর্থ হলো: তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সিদ্ধান্তের আগে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করো না এবং এ ব্যাপারে তাড়াহুড়ো করো না।(২)

অতঃপর ইবনে জারীর বলেন: “আর তাঁর বাণী: {এবং তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ}—তিনি বলছেন: হে মুমিনগণ! তোমরা তোমাদের বক্তব্যের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো; অর্থাৎ এমন কিছু বলো না যার অনুমতি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তোমাদের দেননি। এবং তোমাদের অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রেও তাঁকে ভয় করো এবং তাঁর নির্দেশ মেনে চলো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের কথাবার্তা শোনেন এবং তোমরা যখন কোনো কথা বলো তখন তোমাদের নিয়ত সম্পর্কে তিনি অবগত। তোমাদের অন্তরের কোনো গোপন বিষয় কিংবা তোমাদের ও অন্যদের কোনো বিষয়ই তাঁর নিকট অস্পষ্ট নয়।”(৩)

 

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শাব্দিক অর্থে এবং মুফাসসিরগণের বক্তব্যে ‘তাকাদ্দুম’-এর অর্থ

‌‌প্রথমত: শাব্দিক অর্থে ‘তাকাদ্দুম’-এর অর্থ:

ইবনে ফারিস বলেছেন, এই শব্দের মূল ধাতু ‘ক্ব-দ-ম’ অগ্রগামী হওয়ার অর্থ প্রকাশ করে।(৪)

আল-ফিরোযাবাদীও অনুরূপ ব্যাখ্যা করেছেন।(৫) তিনি মহান আল্লাহর বাণী—{তোমরা অগ্রবর্তী হয়ো না...} উল্লেখ করার পর বলেন—

--------------------------------------------

(১) দেখুন: যাদুল মাসীর ৭/৪৫৫, ৪৫৬।

(২) দেখুন: আল-মুগনী ফী তাওজীহিল কিরাআতিল আশর (৩/২৫৮), এবং আল-মাবসুত ফিল কিরাআতিল আশর, পৃষ্ঠা

(৪১২)।

(৩) দেখুন: জামিউল বায়ান লিত-তাবারী (২৬/১১৬, ১১৭)।

(৪) তিনি হলেন আহমদ ইবনে ফারিস ইবনে যাকারিয়া আল-কাযভীনি, আর-রাযী; ভাষাতত্ত্ব ও সাহিত্যের অন্যতম ইমাম। তিনি বাদীউয যামান আল-হামাদানী, আস-সাহিব ইবনে আব্বাদ এবং আরও অনেকের নিকট পাঠ গ্রহণ করেছেন। তাঁর রচিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে মুজাম মাক্বায়িসুল লুগাহ ও আল-মুজমাল। তিনি ৩৯৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: আল-আলাম (১/১৯৩); এবং তাঁর বক্তব্য দেখুন: মুজাম মাক্বায়িসুল লুগাহ (৫/৬৫)।

(৫) তিনি হলেন মাজদুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহীম ইবনে উমর, আবু তাহির আল-ফিরোযাবাদী; ভাষাতত্ত্ব ও সাহিত্যের অন্যতম ইমাম। তিনি ৭২৯ হিজরিতে শুরানের কারযীনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইরাক, শাম ও মিশরে ভ্রমণ করেন এবং পরবর্তীতে ইয়ামেনের যাবীদে বসতি স্থাপন করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো: আল-ক্বামুসুল মুহীত, বাসায়িরু যাউয়িত তামীয ইত্যাদি। তিনি ৮১৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: আল-আলাম (৭/১৪৬)।
(খণ্ড: ১৩৯) আল-মানহিয়াতু ফি সূরাতিল হুজুরাত (পৃষ্ঠা: ৬০)
يَدَيِ اللَّهِ وَرَسُولِهِ}: «وتحقيقه: لا تسبقوه بالقول والحكم، بل افعلوا ما يأمركم به، كما يفعله العباد المكرمون(1)، كما قال تعالى: {لا يَسْبِقُونَهُ بِالْقَوْل} [الأنبياء: 27](2). ونحوه قول أبي عبيدة(3): «تقول العرب: فلان يقدم بين يدي الإمام وبين يدي أبيه، يتعجل بالأمر والنهي دونه»(4).

 

‌‌ثانيا: أقوال المفسرين في معنى التقدم

لقد تعددت أقوال المفسرين في المراد بالتقدم، وإن كانت تعود إلى شيء واحد، كما سنذكره بعد ذلك، وإليكها:

1 - قال ابن عباس في رواية علي بن أبي طلحة(5) في قوله: {لَا تُقَدِّمُوا بَيْنَ يَدَيِ اللَّهِ وَرَسُولِهِ} لا تقولوا خلاف الكتاب والسنة.

2 - وقال ابن عباس في رواية عطية العوفي(6): نهوا أن يتكلموا بين

--------------------------------------------

(1) يعني الملائكة.

(2) انظر: بصائر ذوي التمييز (4/ 146).

(3) هو أبو عبيدة، معمر بن المثنى التيمي بالولاء، البصري، النحوي، من أئمة العلم بالأدب، واللغة، مولده ووفاته بالبصرة، وكانت ولادته سنة (110 هـ)، له مجاز القرآن، مات سنة (209) هـ. انظر: سير أعلام النبلاء (9/ 445)، والأعلام (7/ 272).

(4) انظر: مجاز القرآن (2/ 219).

(5) هو علي بن أبي طلحة، سالم مولى بني العباس، سكن حمص، أرسل عن ابن عباس، ولم يره، صدوق قد يخطئ، مات سنة ثلاث وأربعين ومائة. انظر: التقريب (698).

(6) هو عطية بن سعد بن جُنادة، بضم الجيم، العوفي، الجدلي، الكوفي، أبو الحسن، صدوق يخطئ كثيرا، وكان شيعيا مدلسا، مات سنة إحدى عشر ومائة هـ. انظر: التقريب ص

(680).
{আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সামনে}: "এর প্রকৃত তাৎপর্য হলো: তোমরা কথা বা ফয়সালার ক্ষেত্রে তাঁকে ছাড়িয়ে যেও না, বরং তিনি তোমাদের যা আদেশ করেন তাই পালন করো, যেভাবে সম্মানিত বান্দাগণ(১) করে থাকেন। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {তারা কথা দিয়ে তাঁকে ছাড়িয়ে যায় না} [আল-আম্বিয়া: ২৭](২)। অনুরূপ উক্তি আবু উবাইদাহ(৩) থেকেও বর্ণিত হয়েছে: 'আরবরা বলে থাকে: অমুক ব্যক্তি ইমাম বা তার পিতার সামনে অগ্রসর হয়েছে; অর্থাৎ সে তাঁদের অনুমতি বা উপস্থিতি ব্যতিরেকেই আদেশ-নিষেধের ক্ষেত্রে তড়িঘড়ি করেছে'(৪)।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: অগ্রবর্তী হওয়ার অর্থ সম্পর্কে মুফাসসিরগণের অভিমত

অগ্রবর্তী হওয়া বা 'তাকাদ্দুম' দ্বারা কী উদ্দেশ্য, সে সম্পর্কে মুফাসসিরগণের বিভিন্ন মত রয়েছে; যদিও তা মূলত একটি বিষয়ের দিকেই ফিরে যায়, যা আমরা পরবর্তীতে উল্লেখ করব। সেগুলো নিচে দেওয়া হলো:

১ - ইবনে আব্বাস (রাযি.) আলী বিন আবু তালহা(৫)-এর বর্ণনায় মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সামনে অগ্রবর্তী হয়ো না} এর ব্যাখ্যায় বলেছেন: তোমরা কুরআন ও সুন্নাহর পরিপন্থী কিছু বলো না।

২ - আতিয়্যাহ আল-আওফি(৬)-এর বর্ণনায় ইবনে আব্বাস (রাযি.) বলেছেন: তাঁদের সামনে কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছে...

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ ফেরেশতাগণ।

(২) দেখুন: বাসাইরু যাউইত তামিইজ (৪/১৪৬)।

(৩) তিনি হলেন আবু উবাইদাহ, মা'মার বিন আল-মুসান্না আত-তাইমি (বিলা সূত্রে), বসরি, নাহুবিদ, সাহিত্যের ইমামদের অন্যতম। তাঁর জন্ম ও মৃত্যু বসরায়। তাঁর জন্ম ১১০ হিজরিতে। তাঁর রচিত গ্রন্থ 'মাজাযুল কুরআন'। তিনি ২০৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৯/৪৪৫) এবং আল-আ'লাম (৭/২৭২)।

(৪) দেখুন: মাজাযুল কুরআন (২/২১৯)।

(৫) তিনি হলেন আলী বিন আবু তালহা, বনু আব্বাসের মুক্তদাস সালিম, তিনি হিমসে বসবাস করতেন। তিনি ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বিচ্ছিন্নভাবে বর্ণনা (أرسل) করেছেন এবং তাঁকে দেখেননি। তিনি সত্যবাদী (صدوق), তবে মাঝেমধ্যে ভুল করেন (قد يخطئ)। তিনি ১৪৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: আত-তাকরীব (৬৯৮)।

(৬) তিনি হলেন আতিয়্যাহ বিন সাদ বিন জুনাদাহ (জীম বর্ণে পেশ সহ), আল-আওফি, আল-জাদালি, আল-কুফি, আবু আল-হাসান। তিনি সত্যবাদী (صدوق), তবে অধিক ভুল করেন (يخطئ كثيرا)। তিনি শিয়া মতাবলম্বী এবং একজন তাদলীসকারী (مدلس) ছিলেন। তিনি ১১১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: আত-তাকরীব পৃষ্ঠা

(৬৮০)।
(খণ্ড: ১৩৯) আল-মানহিয়াতু ফি সূরাতিল হুজুরাত (পৃষ্ঠা: ৬১)
يدي كلامه.

3 - وقال مجاهد: «لا تفتاتوا على رسول الله بشيء حتى يقضي الله على لسانه».

4 - وقال قتادة: ذكر لنا أن أناسا كانوا يقولون: لو أنزل في كذا، لو أنزل في كذا وكذا، قال فكره الله عز وجل ذلك، وقدم فيه.

5 - قال الحسن: هم قوم نحروا قبل أن يصلي النبي صلى الله عليه وسلم، فأمرهم النبي أن يعيدوا الذبح.

6 - وقال الضحاك: لا تقضوا أمرا دون الله ورسوله من شرائع دينكم.

7 - وقال ابن زيد: لا تقطعوا الأمر دون الله ورسوله.

8 - وقال سفيان(1): لا تقضوا أمرا دون رسول الله(2).

قلت: وكل هذه الأقوال حق، وهي من باب اختلاف التنوع، لا اختلاف التضاد(3). فمؤداها واحد، والآية شاملة لجميعها، كما قال الألوسي في تفسيره(4) بعد إيراده لجملة من أقوال المفسرين في ذلك: «ثم إن كل ذلك من باب بيان حاصل المعنى في الجملة».

--------------------------------------------

(1) هو سفيان بن سعيد بن مسروق الثوري، أبو عبد الله الكوفي، ثقة حافظ فقيه عابد، إمام حجة، وكان ربما دلس، مات سنة (161 هـ)، وله أربع وستون سنة. انظر: التقريب ص (394).

(2) انظر: جامع البيان للطبري (2/ 116، 117)، وتفسير القرآن لابن كثير (7/ 364)، والدر المنثور (7/ 546).

(3) وأكثر الخلاف الوارد بين السلف في التفسير من هذا الباب، كما حققه شيخ الإسلام، ابن تيمية في مقدمة التفسير. انظر: مجموع الفتاوى له (13/ 333).

(4) انظر: روح البيان له (26/ 133).
তাঁর বক্তব্যের প্রাক্কালে।

৩ - মুজাহিদ (রহ.) বলেছেন: "তোমরা আল্লাহর রাসূলের ওপর কোনো বিষয়ে অগ্রগামী হয়ো না, যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁর ভাষায় ফয়সালা করেন।"

৪ - কাতাদাহ (রহ.) বলেছেন: আমাদের কাছে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কিছু লোক বলত: 'যদি এই বিষয়ে (বিধান) অবতীর্ণ হতো, যদি ওই বিষয়ে (বিধান) অবতীর্ণ হতো'। তিনি বলেন, আল্লাহ মহিমান্বিত ও মহান তা অপছন্দ করলেন এবং এ ব্যাপারে অগ্রিম সতর্ক করলেন।

৫ - হাসান (বসরী রহ.) বলেছেন: তারা ছিল এমন এক সম্প্রদায় যারা নবী (সা.) সালাত আদায়ের আগেই কুরবানি করে ফেলেছিল, তাই নবী (সা.) তাদের পুনরায় জবেহ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

৬ - যাহহাক (রহ.) বলেছেন: তোমাদের দ্বীনের বিধানাবলির মধ্য থেকে কোনো বিষয়ে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আগে ফয়সালা করো না।

৭ - ইবনে যাইদ (রহ.) বলেছেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আগে কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ো না।

৮ - সুফিয়ান (রহ.)(১) বলেছেন: আল্লাহর রাসূলের আগে কোনো বিষয়ে ফয়সালা করো না(২)।

আমি বলি: এই সকল উক্তিই সত্য, আর এগুলো বৈচিত্র্যগত মতভেদ (اختلاف التنوع), কোনো বৈপরীত্যমূলক মতভেদ (اختلاف التضاد) (৩) নয়। এগুলোর সারকথা একই এবং আয়াতটি এই সকল অর্থকে শামিল করে। যেমনটি আলূসী তাঁর তাফসীরে (৪) মুফাসসিরগণের একগুচ্ছ বক্তব্য উল্লেখ করার পর বলেছেন: "অতঃপর এই সবকিছুই হলো মোটাদাগে মূল অর্থের সারকথা বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত।"

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন সুফিয়ান ইবনে সাঈদ ইবনে মাসরুক আস-সাওরী, আবু আব্দুল্লাহ আল-কুফী; তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة), হাফিজ (حافظ), ফকিহ (فقيه), আবিদ (عابد), ইমাম (إمام) এবং হুজ্জাত (حجة); তিনি মাঝেমধ্যে তাদলীস করতেন (دلس)। তিনি ১৬১ হিজরি সনে ৬৪ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। দেখুন: আত-তাকরীব, পৃষ্ঠা ৩৯৪।

(২) দেখুন: জামিউল বায়ান লিত-তাবারী (২/ ১১৬, ১১৭), তাফসীরুল কুরআন লি-ইবনে কাসীর (৭/ ৩৬৪) এবং আদ-দুররুল মানসুর (৭/ ৫৪৬)।

(৩) তাফসীরের ক্ষেত্রে সালাফদের মধ্যে বর্ণিত অধিকাংশ মতভেদ এই প্রকারেরই, যেমনটি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ তাঁর 'মুকাদ্দিমাতুত তাফসীর'-এ সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। দেখুন: মাজমুউল ফাতাওয়া (১৩/ ৩৩৩)।

(৪) দেখুন: রুহুল বায়ান (২৬/ ১৩৩)।
(খণ্ড: ১৩৯) আল-মানহিয়াতু ফি সূরাতিল হুজুরাত (পৃষ্ঠা: ৬২)
‌‌المطلب الثالث: حكم التقدم بين يدي الله ورسوله، وذكر جملة من النصوص الدالة على تحريمه

‌‌أولا: حكمه:

لا يجوز التقدم بين يدي الله ورسوله في أي أمر من الأمور، سواء في التحليل أو التحريم أو التشريع، أو غير ذلك، فهو أمر محرم، والمؤمن منهي عنه.

قال الأمين الشنقيطي موضحا حكم ذلك: « … وهذه الآية الكريمة فيها التصريح بالنهي عن التقديم بين يدي الله ورسوله، ويدخل في ذلك دخولا أوليا تشريع ما لم يأذن به الله، وتحريم ما لم يحرمه، وتحليل ما لم يحلله، لأنه لا حرام إلا ما حرمه الله، ولا حلال إلا ما أحله الله، ولا دين إلا ما شرعه الله»(1).

 

‌‌ثانيا: النصوص الواردة في النهي عن التقدم بين يدي الله ورسوله في جميع الأمور:

لقد جاءت جملة من الآيات مبينة أن الحكم خير الأحكام، وهو خير الفاصلين، ولا يجوز التحاكم إلى غيره، وذلك مستلزم عدم جواز التقدم بين يديه، وعدم جواز الأخذ بحكم غيره في أي أمر من الأمور، ومسلتزم للنهي عن ذلك. كما أنه مسلتزم أيضا للنهي عن التقدم بين يدي رسوله، لأن الله قد أمرنا بتحكيم رسوله في جميع شئوننا، كما قال تعالى: {فَلا وَرَبِّكَ لا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجاً مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيماً} النساء: 65، وقال تعالى: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} الحشر: 7، وقال تعالى: {وَمَا

--------------------------------------------

(1) انظر: أضواء البيان (7/ 614).
‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অগ্রবর্তী হওয়ার বিধান এবং এর নিষিদ্ধতা (تحريم) জ্ঞাপক কতিপয় দলিলের আলোচনা

‌‌প্রথমত: এর বিধান:

কোনো বিষয়েই আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অগ্রবর্তী হওয়া বৈধ নয়; চাই তা হালাল ঘোষণা করা হোক বা হারাম (تحريم) ঘোষণা করা হোক অথবা বিধান প্রণয়ন (تشريع) হোক কিংবা অন্য কিছু। এটি একটি নিষিদ্ধ (محرم) বিষয় এবং মুমিনদেরকে এ থেকে নিষেধ করা হয়েছে।

আল-আমিন আশ-শিনকীতি এর বিধান স্পষ্ট করে বলেন: « … এবং এই মহিমান্বিত আয়াতে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অগ্রবর্তী হওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এর অন্তর্ভুক্ত হলো—আল্লাহ যা অনুমতি দেননি এমন বিষয়ের বিধান প্রণয়ন (تشريع) করা, তিনি যা হারাম করেননি তাকে হারাম (تحريم) করা এবং তিনি যা হালাল করেননি তাকে হালাল করা। কেননা আল্লাহ যা হারাম (حرام) করেছেন তা ব্যতীত কোনো হারাম নেই, তিনি যা হালাল করেছেন তা ব্যতীত কোনো হালাল নেই এবং তিনি যা বিধান (شرع) দিয়েছেন তা ব্যতীত কোনো দ্বীন নেই»(১)।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: সকল বিষয়ে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অগ্রবর্তী হওয়া নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে বর্ণিত দলিলসমূহ:

বেশ কিছু আয়াতে বর্ণিত হয়েছে যে, আল্লাহর বিধানই সর্বোত্তম বিধান এবং তিনিই শ্রেষ্ঠ ফয়সালাকারী। অন্য কারো নিকট বিচারপ্রার্থী হওয়া বৈধ নয়। এটি আল্লাহর অগ্রবর্তী না হওয়া এবং কোনো বিষয়ে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো বিধান গ্রহণ না করার আবশ্যকতাকে অনিবার্য করে তোলে এবং এ বিষয় থেকে নিষেধ করাকেও আবশ্যক করে। অনুরূপভাবে এটি তাঁর রাসূলের অগ্রবর্তী হওয়াকেও নিষিদ্ধ করে। কারণ আল্লাহ আমাদের সকল বিষয়ে রাসূলকে ফয়সালাকারী হিসেবে মেনে নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তবে না, তোমার রবের কসম, তারা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না তারা তাদের বিবাদমান বিষয়ে তোমাকে বিচারক নিযুক্ত করে, অতঃপর তোমার ফয়সালার ব্যাপারে তাদের মনে কোনো সংকোচ না থাকে এবং তারা পূর্ণরূপে তা মেনে নেয়} নিসা: ৬৫। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো} হাশর: ৭। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {এবং যা...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আদওয়াউল বায়ান (৭/ ৬১৪)।
(খণ্ড: ১৩৯) আল-মানহিয়াতু ফি সূরাতিল হুজুরাত (পৃষ্ঠা: ৬৩)
كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْراً أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلالاً مُبِينا} الأحزاب: 36، وقال تعالى: {مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ} النساء: 80؛ فمن الآيات الدالة على النهي عن التقدم بين يدي الله وأن الحكم له:

1 - قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُقَدِّمُوا بَيْنَ يَدَيِ اللَّهِ وَرَسُولِهِ} الحجرات: 1.

2 - قوله تعالى: {إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ أَمَرَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ} [الأنعام: 6].

3 - وقوله تعالى: {وَمَا اخْتَلَفْتُمْ فِيهِ مِنْ شَيْءٍ فَحُكْمُهُ إِلَى اللَّه} [الشورى: 10].

4 - وقوله تعالى: {إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ} [يوسف: 40].

5 - وقوله تعالى: {إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ يَقُصُّ الْحَقَّ وَهُوَ خَيْرُ الْفَاصِلِينَ} [الأنعام: 57].

6 - وقوله تعالى: {أَفَحُكْمَ الْجَاهِلِيَّةِ يَبْغُونَ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللَّهِ حُكْماً لِقَوْمٍ يُوقِنُونَ} [المائدة: 50].

7 - وقوله تعالى: {وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ} [المائدة: 44].

8 - وقوله تعالى: {وَلا يُشْرِكُ فِي حُكْمِهِ أَحَداً} [الكهف: 26].

9 - قوله تعالى: {ذَلِكُمْ بِأَنَّهُ إِذَا دُعِيَ اللَّهُ وَحْدَهُ كَفَرْتُمْ وَإِنْ يُشْرَكْ بِهِ تُؤْمِنُوا فَالْحُكْمُ لِلَّهِ الْعَلِيِّ الْكَبِيرِ} [غافر: 12].

10 - وقوله تعالى: {كُلُّ شَيْءٍ هَالِكٌ إِلَّا وَجْهَهُ لَهُ الْحُكْمُ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ} [القصص: 88].

11 - وقوله تعالى: {لَهُ الْحَمْدُ فِي الْأُولَى وَالْآخِرَةِ وَلَهُ الْحُكْمُ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ} [القصص: 70](1).

--------------------------------------------

(1) وقد أشار إلى الاستدلال بهذه الآيات على ما نحن بصدده الأمين الشنقيطي في أضواء البيان (7/ 163)، و (4/ 82)، و (7/ 614).
"আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফয়সালা করলে কোনো মুমিন পুরুষ কিংবা মুমিন নারীর জন্য তাদের সেই বিষয়ে কোনো ইখতিয়ার থাকে না; আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয়, সে তো স্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত হলো।" (আল-আহযাব: ৩৬), এবং মহান আল্লাহ বলেন: "যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল।" (আন-নিসা: ৮০); সুতরাং আল্লাহর নির্দেশের সামনে অগ্রগামী হতে নিষেধ করা এবং বিধান যে কেবল তাঁরই—তা প্রমাণকারী আয়াতসমূহের মধ্যে রয়েছে:

১ - মহান আল্লাহর বাণী: "হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সামনে অগ্রগামী হয়ো না।" (আল-হুজুরাত: ১)।

২ - মহান আল্লাহর বাণী: "বিধান কেবল আল্লাহরই; তিনি আদেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তাঁকে ছাড়া আর কারো ইবাদত করবে না।" [আল-আনআম: ৬]।

৩ - মহান আল্লাহর বাণী: "তোমরা যে বিষয়েই মতবিরোধ করো না কেন, তার ফয়সালা তো আল্লাহরই নিকট।" [আশ-শূরা: ১০]।

৪ - মহান আল্লাহর বাণী: "বিধান কেবল আল্লাহরই; আমি তাঁরই ওপর ভরসা করেছি।" [ইউসুফ: ৪০]।

৫ - মহান আল্লাহর বাণী: "বিধান কেবল আল্লাহরই; তিনি সত্য বর্ণনা করেন এবং তিনিই শ্রেষ্ঠ ফয়সালাকারী।" [আল-আনআম: ৫৭]।

৬ - মহান আল্লাহর বাণী: "তবে কি তারা জাহিলিয়াতের বিধান প্রত্যাশা করে? নিশ্চিত বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য বিধান দানে আল্লাহর চেয়ে শ্রেষ্ঠ আর কে হতে পারে?" [আল-মায়িদাহ: ৫০]।

৭ - মহান আল্লাহর বাণী: "আর আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তদনুযায়ী যারা বিধান দেয় না, তারাই কাফির।" [আল-মায়িদাহ: ৪৪]।

৮ - মহান আল্লাহর বাণী: "তিনি তাঁর কর্তৃত্বে কাউকে শরিক করেন না।" [আল-কাহাফ: ২৬]।

৯ - মহান আল্লাহর বাণী: "তোমাদের এ দশা এ জন্য যে, যখন এক আল্লাহকে ডাকা হতো, তখন তোমরা তা অস্বীকার করতে; আর তাঁর সাথে শরিক করা হলে তোমরা তাতে বিশ্বাস করতে। সুতরাং ফয়সালা কেবল আল্লাহরই, যিনি সর্বোচ্চ, সুমহান।" [গাফির: ১২]।

১০ - মহান আল্লাহর বাণী: "তাঁর সত্তা ব্যতীত সবকিছুই নশ্বর। বিধান কেবল তাঁরই এবং তাঁরই কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।" [আল-কাসাস: ৮৮]।

১১ - মহান আল্লাহর বাণী: "দুনিয়া ও আখিরাতে সকল প্রশংসা তাঁরই; বিধান কেবল তাঁরই এবং তাঁরই কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।" [আল-কাসাস: ৭০](১).

--------------------------------------------

(১) আল-আমিন আশ-শানকিতি আদওয়াউল বায়ান (৭/ ১৬৩), (৪/ ৮২) এবং (৭/ ৬১৪) গ্রন্থে আমাদের আলোচ্য বিষয়ের ওপর এই আয়াতগুলো দ্বারা দলীল পেশ করার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।
(খণ্ড: ১৩৯) আল-মানহিয়াতু ফি সূরাতিল হুজুরাত (পৃষ্ঠা: ৬৪)
‌‌المبحث الثاني: النهي عن رفع الصوت عند النبي صلى الله عليه وسلم والجهر له عند مخاطبته

قال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَرْفَعُوا أَصْوَاتَكُمْ فَوْقَ صَوْتِ النَّبِيِّ وَلا تَجْهَرُوا لَهُ بِالْقَوْلِ كَجَهْرِ بَعْضِكُمْ لِبَعْضٍ أَنْ تَحْبَطَ أَعْمَالُكُمْ وَأَنْتُمْ لا تَشْعُرُونَ} [الحجرات: 2].

 

‌‌المطلب الأول: سبب نزول الآية:

روى البخاري، عن ابن أبي مليكة(1)، قال: كاد الخيّران أن يهلكا أبو بكر وعمر، رفعا أصواتهما عند النبي صلى الله عليه وسلم حين قدم عليه ركب بني تميم، فأشار أحدهما بالأقرع بن حابس(2) أخي بن مجاشع، وأشار الآخر برجل آخر(3)، قال نافع: لا أحفظ اسمه، فقال أبو بكر لعمر: ما أردت إلا خلافي، قال: ما أردت خلافك، فارتفعت أصواتهما في ذلك، فأنزل الله: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَرْفَعُوا أَصْوَاتَكُمْ فَوْقَ صَوْتِ النَّبِيِّ وَلا تَجْهَرُوا لَهُ بِالْقَوْلِ كَجَهْرِ بَعْضِكُمْ لِبَعْضٍ} الآية. قال ابن الزبير: فما كان عمر يسمع رسول الله صلى الله عليه وسلم بعد هذه الآية حتى يستفهمه، ولم

--------------------------------------------

(1) هو عبد الله بن عبيد الله بن عبد الله بن أبي مليكة، بالتصغير، ابن عبد الله بن جدعان، يقال: اسم أبي مليكة: زهير التيمي المدني، أدرك ثلاثين من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم، ثقة فقيه، مات سنة سبع عشرة ومائة. انظر: التقريب ص (524).

(2) هو الأقرع بن حابس بن عقال بن محمد التميمي، صحابي جليل، كان مقدما في قومه، شهد حنينا، والطائف، وفتح مكة، وكان من المؤلفة قلوبهم، استشهد بالجوزجان سنة (31 هـ). انظر: الأعلام (2/ 5).

(3) هو القعقاع بن معبد، كما في الرواية التي تليها.
‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপস্থিতিতে কণ্ঠস্বর উচ্চ করা এবং তাঁর সাথে কথা বলার সময় উচ্চকণ্ঠ হওয়া নিষিদ্ধ হওয়া প্রসঙ্গে

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা নবীর কণ্ঠস্বরের উপর নিজেদের কণ্ঠস্বর উঁচু করো না এবং নিজেদের মধ্যে যেভাবে উচ্চস্বরে কথা বলো, তাঁর সাথে সেভাবে উচ্চস্বরে কথা বলো না; এতে তোমাদের আমলসমূহ নিষ্ফল হয়ে যাবে অথচ তোমরা তা টেরও পাবে না} [আল-হুজুরাত: ২]।

 

‌‌প্রথম অনুচ্ছেদ: আয়াতটি অবতীর্ণ হওয়ার কারণ:

বুখারি ইবনে আবি মুলাইকা(১) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: দুই শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি আবু বকর এবং উমর প্রায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছিলেন। যখন বনু তামিম গোত্রের এক প্রতিনিধি দল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলেন, তখন তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে উচ্চস্বরে কথা বললেন। তাঁদের একজন বনু মুজাশি‘র ভাই আকরা ইবনে হাবিস(২)-এর প্রতি ইঙ্গিত করলেন এবং অন্যজন অন্য এক ব্যক্তির(৩) প্রতি ইঙ্গিত করলেন। নাফে‘ বলেন: আমি তাঁর নাম মনে রাখতে পারিনি। তখন আবু বকর উমরকে বললেন: "তুমি কেবল আমার বিরোধিতা করতে চেয়েছো।" উমর বললেন: "আমি আপনার বিরোধিতা করতে চাইনি।" তখন এ নিয়ে তাঁদের কণ্ঠস্বর উচ্চ হয়ে উঠল। এরপর আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা নবীর কণ্ঠস্বরের উপর নিজেদের কণ্ঠস্বর উঁচু করো না এবং নিজেদের মধ্যে যেভাবে উচ্চস্বরে কথা বলো, তাঁর সাথে সেভাবে উচ্চস্বরে কথা বলো না...} আয়াত শেষ পর্যন্ত। ইবনে জুবায়ের বলেন: এরপর থেকে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এমনভাবে কথা বলতেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুনরায় জিজ্ঞাসা না করা পর্যন্ত তিনি কিছুই বুঝতে পারতেন না, এবং তিনি...

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন আবদুল্লাহ ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবি মুলাইকা—মুলাইকা শব্দটি তাসগির বা ক্ষুদ্রার্থক বিশেষ্য—ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে জুদআন। বলা হয় যে, আবু মুলাইকার নাম হলো যুহাইর আত-তাইমি আল-মাদানি। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ৩০ জন সাহাবির সাক্ষাৎ পেয়েছেন। তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) এবং ফকিহ (فقيه), তিনি ১১৭ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: আত-তাকরিব, পৃষ্ঠা: (৫২৪)।

(২) তিনি হলেন আল-আকরা ইবনে হাবিস ইবনে ইকাল ইবনে মুহাম্মদ আত-তামিমি। তিনি একজন মহান সাহাবি (صحابي), তিনি তাঁর কওমের নেতা ছিলেন। তিনি হুনাইন, তায়েফ এবং মক্কা বিজয়ে অংশগ্রহণ করেন। তিনি মুআল্লাফাতুল কুলুব-দের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি ৩১ হিজরি সনে জুজজানে শাহাদাত বরণ করেন। দেখুন: আল-আলাম (২/৫)।

(৩) তিনি হলেন আল-কাকা ইবনে মা'বাদ, যেমনটি পরবর্তী বর্ণনাতে এসেছে।
(খণ্ড: ১৩৯) আল-মানহিয়াতু ফি সূরাতিল হুজুরাত (পৃষ্ঠা: ৬৫)
يذكر ذلك عن أبيه(1): يعني أبا بكر(2).

ورواه البخاري عن ابن أبي مليكة: أن عبد الله بن الزبير أخبره: أنه قدم ركب من بني تميم على النبي صلى الله عليه وسلم، فقال أبو بكر: أمر القعقاع بن معبد(3)، وقال عمر: بل أمّر الأقرع بن حابس، فتماريا فارتفعت أصواتهما، فنزلت في ذلك: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تُقَدِّمُوا بَيْنَ يَدَيِ اللَّهِ وَرَسُولِهِ} حتى انقضت الآية(4).

 

‌‌المطلب الثاني: التفسير الإجمالي للآية

قال الطبري: «يقول تعالى ذكره: يا أيها الذين صدقوا الله ورسوله، لا ترفعوا أصواتكم فوق صوت رسول الله، تتجهموه(5) بالكلام، وتغلظون له في الخطاب، يقول: «ولا تجهروا له بالقول كجهر بعضكم لبعض». يقوله: ولا تنادوه كما ينادي بعضكم بعضا: يا محمد، يا محمد، يا نبي الله، يا نبي الله، يا رسول الله»(6).

--------------------------------------------

(1) قال الحافظ ابن حجر في الفتح (8/ 456): وقد وقع في رواية الترمذي قال: «وما ذكر ابن الزبير جده»، وقد وقع في رواية الطبري من طريق مؤمل بن إسماعيل، عن نافع، عن ابن عمر، فقال في آخره: «وما ذكر ابن الزبير جده، يعني أبا بكر».

(2) رواه البخاري في صحيحه، كتاب التفسير، باب سورة الحجرات، وانظر: الفتح (8/ 454)، ح (4845).

(3) هو القعقاع بن معبد بن زرارة الدارمي التميمي، من سادات العرب، قدم على النبي صلى الله عليه وسلم في وفد تميم، وآمن به، شهد حنينا مع النبي صلى الله عليه وسلم. انظر: الأعلام (5/ 202).

(4) رواه البخاري في صحيحه، كتاب التفسير، باب سورة الحجرات، وانظر: الفتح (8/ 457)، ح (4847).

(5) تتجهموه: أي تكلموه بكلام غليظ شديد. انظر: لسان العرب (12/ 110).

(6) انظر: جامع البيان للطبري (26/ 117).
তিনি এটি তাঁর পিতার থেকে উল্লেখ করেন(১): অর্থাৎ আবু বকর(২)।

এবং ইমাম বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন (رواه) ইবনে আবি মুলাইকাহ থেকে: যে আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের তাকে সংবাদ দিয়েছেন: বনু তামিম গোত্র থেকে এক আরোহী দল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এলো। তখন আবু বকর বললেন: কা’কা’ ইবনে মা’বাদকে(৩) আমির নিযুক্ত করুন, আর ওমর বললেন: বরং আকরা’ ইবনে হাবিসকে আমির নিযুক্ত করুন। ফলে তাঁদের মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি হলো এবং তাঁদের কণ্ঠস্বর উচ্চ হয়ে গেল। তখন এ প্রসঙ্গে এই আয়াত নাজিল হলো: {হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সমক্ষে অগ্রণী হয়ো না...} আয়াতটির শেষ পর্যন্ত(৪)।

 

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আয়াতের সামগ্রিক তাফসির

ইমাম তাবারি বলেন: «আল্লাহ তাআলা উল্লেখ করছেন: হে যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে সত্য বলে বিশ্বাস করেছ, তোমরা রাসূলুল্লাহর কণ্ঠস্বরের ওপর তোমাদের কণ্ঠস্বর উচ্চ করো না; তাঁর সাথে কর্কশ ভাষায় কথা বলে তাঁর সম্মানহানি (تتجهموه)(৫) করো না এবং তাঁর প্রতি রুঢ় সম্বোধন করো না। তিনি বলেন: «তোমরা তাঁর সাথে কথা বলার সময় উচ্চকণ্ঠ হয়ো না, যেমন তোমরা একে অপরের সাথে উচ্চকণ্ঠে কথা বলো।» তিনি বলছেন: তাঁকে সেভাবে ডেকো না যেভাবে তোমরা একে অপরকে ডেকো: হে মুহাম্মদ, হে মুহাম্মদ, হে আল্লাহর নবী, হে আল্লাহর নবী, হে আল্লাহর রাসূল»(৬)।

--------------------------------------------

(১) হাফেজ (الحافظ) ইবনে হাজার ফাতহুল বারিতে (৮/ ৪৫৬) বলেন: এবং তিরমিজির বর্ণনা (رواية)-এ এসেছে, তিনি বলেন: «ইবনে জুবায়ের তাঁর দাদার কথা উল্লেখ করেননি»; আর তাবারির বর্ণনা (رواية)-এ মুআম্মাল ইবনে ইসমাইলের সূত্র (طريق) থেকে, নাফে’র মাধ্যমে ইবনে উমর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি শেষে বলেছেন: «ইবনে জুবায়ের তাঁর দাদার কথা উল্লেখ করেননি, অর্থাৎ আবু বকর-এর কথা।»

(২) বুখারি এটি তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন (رواه), কিতাবুত তাফসির, সূরা হুজুরাত অধ্যায়। আরও দেখুন: ফাতহুল বারি (৮/ ৪৫৪), হাদিস নং (৪৮৪৫)।

(৩) তিনি হলেন কা’কা’ ইবনে মা’বাদ ইবনে জুরারাহ আদ-দারিমি আত-তামিমি, তিনি আরবদের অন্যতম নেতা ছিলেন। তিনি বনু তামিম গোত্রের প্রতিনিধি দলের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসেন এবং তাঁর প্রতি ঈমান আনেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে হুনাইনের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। দেখুন: আল-আ’লাম (৫/ ২০২)।

(৪) বুখারি এটি তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন (رواه), কিতাবুত তাফসির, সূরা হুজুরাত অধ্যায়। আরও দেখুন: ফাতহুল বারি (৮/ ৪৫৭), হাদিস নং (৪৮৪৭)।

(৫) 'তাতাজাহহামুহু' (تتجهموه): অর্থাৎ তোমরা তাঁর সাথে কর্কশ ও রুঢ় ভাষায় কথা বলো। দেখুন: লিসানুল আরব (১২/ ১১০)।

(৬) দেখুন: জামিউল বায়ান লিত-তাবারি (২৬/ ১১৭)।
(খণ্ড: ১৩৯) আল-মানহিয়াতু ফি সূরাতিল হুজুরাত (পৃষ্ঠা: ৬৬)
ويقول السعدي: «ثم قال: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَرْفَعُوا أَصْوَاتَكُمْ فَوْقَ صَوْتِ النَّبِيِّ وَلا تَجْهَرُوا لَهُ بِالْقَوْلِ} وهذا أدب مع الرسول صلى الله عليه وسلم في خطابه. أي: لا يرفع المخاطب له صوته معه فوق صوته، ولا يجهر له بالقول، بل يغض الصوت، ويخاطبه بأدب ولين وتعظيم وتكريم وإجلال وإعظام، ولا يكون الرسول كأحدهم، بل يميزونه في خطابهم كما تميز عن غيره في وجوب حقه على الأمة، ووجوب الإيمان به، والحب له الذي لا يتم الإيمان إلا به، فإن في عدم القيام بذلك محذورا، خشية أن يحبط عمل العبد، وهو لا يشعر، كما أن الأدب معه من أسباب حصول الثواب، وقبول الأعمال(1).

 

‌‌المطلب الثالث: معنى رفع الصوت والجهر له لغة، وفي أقوال المفسرين

‌‌أولا: لغة:

الصوت: جنس لكل ما وقر في أذن السامع، وجمعه أصوات، يقال: صات يصوت صوتا، وأصات وصوت به إذا ناداه(2).

قال الراغب في قوله: {لا ترفعوا أصواتكم فوق صوت النبي} خصص الصوت بالنهي، لكونه أعم من النطق والكلام. ويجوز أنه خصه لأن المكروه رفع الصوت فوق صوته، لا رفع الكلام(3).

الجهر بالصوت: هو رفعه وإعلانه، يقال: جهرت بالقول أجهر به، إذا أعلنته، ورجل جهير الصوت: أي عالي الصوت. وكذلك رجل جَهْوَري

--------------------------------------------

(1) انظر: تيسير الكريم الرحمن للسعدي (5/ 68).

(2) انظر: معجم مقاييس اللغة (3/ 318)، ولسان العرب (2/ 72)، مادة: "صوت".

(3) انظر: المفردات في غريب القرآن ص (288)، ونقله عنه الفيروزابادي في بصائر ذوي التمييز (3/ 450).
আস-সাদি বলেন: «অতঃপর তিনি বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা নবীর কণ্ঠস্বরের উপর নিজেদের কণ্ঠস্বর উঁচু করো না এবং তাঁর সাথে উচ্চস্বরে কথা বলো না}। এটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে কথা বলার ক্ষেত্রে একটি শিষ্টাচার। অর্থাৎ: তাঁর সাথে কথা বলার সময় কেউ যেন নিজের কণ্ঠস্বরকে তাঁর কণ্ঠস্বরের উপরে না ওঠায় এবং তাঁর সাথে উচ্চৈঃস্বরে কথা না বলে; বরং কণ্ঠস্বর নিচু রাখে এবং অত্যন্ত আদব, নম্রতা, সম্মান, মর্যাদা ও শ্রদ্ধার সাথে তাঁকে সম্বোধন করে। রাসূলুল্লাহ যেন তাঁদের সাধারণ কারো মতো না হন; বরং তাঁরা যেন তাঁর সাথে কথা বলার সময় তাঁকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য দান করেন, ঠিক যেমনভাবে তিনি উম্মতের ওপর তাঁর হকের আবশ্যকতা, তাঁর প্রতি ঈমান আনার বাধ্যবাধকতা এবং তাঁর প্রতি ভালোবাসার ক্ষেত্রে অন্যদের থেকে স্বতন্ত্র—যে ভালোবাসা ছাড়া ঈমান পূর্ণ হয় না। কেননা এই শিষ্টাচার বজায় না রাখা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক; এতে বান্দার অজান্তেই তার আমলসমূহ বিনষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে। ঠিক যেমন তাঁর প্রতি শিষ্টাচার প্রদর্শন সওয়াব অর্জন এবং আমল কবুল হওয়ার অন্যতম কারণ(১)।

 

‌‌তৃতীয় অনুচ্ছেদ: আভিধানিক এবং মুফাসসিরগণের বর্ণনায় কণ্ঠস্বর উঁচু করা ও উচ্চস্বরে কথা বলার তাৎপর্য

‌‌প্রথমত: আভিধানিক অর্থ:

কণ্ঠস্বর (সাওত): এটি শ্রবণকারীর কানে যা কিছু প্রবেশ করে তার সাধারণ নাম, এর বহুবচন হলো 'আসওয়াত'। বলা হয়ে থাকে: 'সাতা ইয়াসুতু সাওতান' এবং 'আসাতা' ও 'সাওওয়াতা বিহি' যখন সে কাউকে আহ্বান করে(২)।

রাগেব (রহ.) আল্লাহর এই বাণী—{তোমরা নবীর কণ্ঠস্বরের উপর তোমাদের কণ্ঠস্বর উঁচু করো না}—প্রসঙ্গে বলেন: এখানে কণ্ঠস্বরকে (সাওত) নিষেধাজ্ঞার জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে, কারণ এটি উচ্চারণ ও কথাবার্তার চেয়ে অধিক ব্যাপক অর্থ বহন করে। এটিও সম্ভব যে, একে নির্দিষ্ট করার কারণ হলো—অপছন্দনীয় বিষয় হলো তাঁর কণ্ঠস্বরের ওপর কণ্ঠস্বর উঁচু করা, নিছক কথাবার্তা চড়ানো নয়(৩)।

উচ্চস্বরে কথা বলা: এটি হলো কণ্ঠস্বরকে উঁচু করা এবং তা প্রকাশ করা। বলা হয়ে থাকে: 'জাহরতু বিল ক্বাউলি আজহারু বিহি', যখন আমি তা প্রকাশ করি। আর 'জাহিরুস সাওত' মানে হলো উচ্চকণ্ঠের অধিকারী ব্যক্তি। একইভাবে 'জাহওয়ারি' শব্দটিও ব্যবহৃত হয়।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তায়সিরুল কারিমির রহমান লিস-সাদি (৫/ ৬৮)।

(২) দেখুন: মু'জাম মাকায়িসুল লুগাহ (৩/ ৩১৮) এবং লিসানুল আরব (২/ ৭২), মূল শব্দ: "সাওত"।

(৩) দেখুন: আল-মুফরাদাত ফি গারিবিল কুরআন, পৃ. (২৮৮); এবং তাঁর থেকে এটি ফিরোজাবাদি বাসাইরু যাউয়িত তামিইজ (৩/ ৪৫০)-এ উদ্ধৃত করেছেন।
(খণ্ড: ১৩৯) আল-মানহিয়াতু ফি সূরাতিল হুজুরাত (পৃষ্ঠা: ৬৭)
الصوت: رفيعه، والجهر: العلانية(1).

 

‌‌ثانيا: أقوال المفسرين في المراد برفع الصوت، والجهر له:

إن الناظر في كتب التفسير يجدها قد حفظت لنا جملة من أقوال المفسرين في المراد بالنهي عن رفع الصوت فوق صوت النبي صلى الله عليه وسلم، والجهر له، وفيما يلي شيء منها:

1 - قال قتادة: كانوا يجهرون له بالكلام، ويرفعون أصواتهم، فوعظهم الله، ونهاهم عن ذلك.

2 - وقال مجاهد: في قوله: {ولا تجهروا له بالقول} لا تنادوه نداء، ولكن قولا لينا: يا رسول الله.

3 - وقال الضحاك: قوله: {لا ترفعوا أصواتكم فوق صوت النبي} هو كقوله: {لا تجعلوا دعاء الرسول بينكم كدعاء بعضكم بعضا} [النور: 63]. نهاهم الله أن ينادوه كما ينادي بعضهم بعضا، وأمرهم أن يشرِّفوه ويعظموه ويدعوه إذا دعوه باسم النبوة(2).

4 - وقال الزجاج: أمرهم الله بتجليل نبيه، وأن يغضوا أصواتهم، ويخاطبوه بالسكينة والوقار(3).

قلت: وحاصل هذه الأقوال واحد، وهو النهي عن رفع الصوت فوق صوته صلى الله عليه وسلم، إذا كانوا بحضرته، سواء كان الحديث معه أو مع غيره، كما نهوا حينما يتكلمون معه أن يكون كلامهم له ككلام بعضهم لبعض - وهو كلام الأكفاء الذين ليس لبعضهم على بعض مزية توجب الاحترام والتوقير - بل

--------------------------------------------

(1) انظر: تهذيب اللغة للأزهري (6/ 50)، مادة: جهر، ولسان العرب (4/ 150)، مادة: جهر.

(2) انظر: جامع البيان للطبري (6/ 118)، وزاد المسير (7/ 457).

(3) أورده عنه الشوكاني في فتح القدير (5/ 61).
শব্দ: তার উচ্চতা, এবং উচ্চৈঃস্বর (جهر): প্রকাশ্যতা(১)。

 

‌‌দ্বিতীয়ত: আওয়াজ উঁচু করা এবং তাঁর সামনে উচ্চৈঃস্বরে কথা বলার তাৎপর্য সম্পর্কে মুফাসসিরগণের বক্তব্য:

তাফসিরের কিতাবসমূহের পাঠক দেখতে পাবেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কণ্ঠস্বরের ওপর কণ্ঠস্বর উঁচু করা এবং তাঁর সামনে উচ্চৈঃস্বরে কথা বলা থেকে নিষেধ করার তাৎপর্য সম্পর্কে মুফাসসিরগণের একগুচ্ছ বক্তব্য সংরক্ষিত রয়েছে। নিম্নে এর কিছু অংশ তুলে ধরা হলো:

১ - কাতাদাহ বলেন: তারা তাঁর সামনে উচ্চৈঃস্বরে কথা বলত এবং তাদের কণ্ঠস্বর উঁচু করত, ফলে আল্লাহ তাদের উপদেশ দিলেন এবং তা থেকে তাদের নিষেধ করলেন।

২ - মুজাহিদ {আর তোমরা তাঁর সামনে উচ্চৈঃস্বরে কথা বলো না}—এই বাণীর ব্যাখ্যায় বলেন: তোমরা তাঁকে সাধারণ সম্বোধনে ডেকো না, বরং বিনম্র ভাষায় বলো: হে আল্লাহর রাসুল।

৩ - দাহহাক বলেন: মহান আল্লাহর বাণী {তোমরা নবীর কণ্ঠস্বরের ওপর তোমাদের কণ্ঠস্বর উঁচু করো না} হলো তাঁর এই বাণীর মতো: {তোমরা রাসুলের ডাককে তোমাদের একে অপরের ডাকের মতো গণ্য করো না} [আন-নূর: ৬৩]। আল্লাহ তাদের একে অপরকে যেভাবে ডাকে সেভাবে রাসুলকে ডাকতে নিষেধ করেছেন এবং তাঁদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা তাঁর মর্যাদা ও সম্মান বজায় রাখে এবং ডাকার সময় নবুওয়াতের উপাধি দ্বারা সম্বোধন করে(২)。

৪ - আজ-জাজ্জাজ বলেন: আল্লাহ তাঁদেরকে তাঁর নবীর সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করার, কণ্ঠস্বর নিচু রাখার এবং প্রশান্তি ও গাম্ভীর্যের সাথে তাঁর সাথে কথা বলার নির্দেশ দিয়েছেন(৩)。

আমি বলি: এই সকল বক্তব্যের সারকথা একই, আর তা হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপস্থিতিতে তাঁর কণ্ঠস্বরের ওপর আওয়াজ উঁচু করা থেকে নিষেধ করা, চাই সেই কথোপকথন তাঁর সাথেই হোক বা অন্য কারও সাথে। ঠিক যেমন তাঁদেরকে তাঁর সাথে কথা বলার সময় সাধারণ মানুষের একে অপরের সাথে কথা বলার মতো আচরণ করতে নিষেধ করা হয়েছে—যা মূলত সমপর্যায়ের ব্যক্তিদের কথোপকথন যাদের পরস্পরের ওপর এমন কোনো বৈশিষ্ট্য নেই যা সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শনকে অপরিহার্য করে—বরং...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আজহারীর তাহজিবুল লুগাহ (৬/ ৫০), মূলধাতু: জাহর; এবং লিসানুল আরব (৪/ ১৫০), মূলধাতু: জাহর।

(২) দেখুন: তাবারীর জামিউল বায়ান (৬/ ১১৮) এবং যাদুল মাসির (৭/ ৪৫৭)।

(৩) শাওকানী ফাতহুল কাদির-এ (৫/ ৬১) এটি তাঁর থেকে উদ্ধৃত করেছেন।
(খণ্ড: ১৩৯) আল-মানহিয়াতু ফি সূরাতিল হুজুরাত (পৃষ্ঠা: ৬৮)
يكلموه كلاما مصحوبا بتعظيمه وتوقيره واحترامه والأدب معه، وبلفظ النبوة والرسالة ونحوها.

 

‌‌المطلب الرابع: حكم رفع الصوت فوق صوت النبي صلى الله عليه وسلم والجهر له، وذكر النصوص الدالة على وجوب توقيره واحترامه وتعظيمه

‌‌أولا: حكم رفع الصوت فوق صوته والجهر له:

لقد دلت هذه الآية أن رفع الصوت فوق صوت النبي والجهر له من أشد الذنوب خطرا، وأعظمها إثما، بل قد يكون سببا في حبوط العمل. قال شيخ الإسلام ابن تيمية في الصارم المسلول(1) بعد أن ذكر الآية:

« … فوجه الدلالة أن الله سبحانه نهاهم عن رفع أصواتهم فوق صوته، وعن الجهر له كجهر بعضهم لبعض، لأن هذا الرفع والجهر قد يفضي إلى حبوط العمل، وصاحبه لا يشعر، فإنه علّل نهيهم عن الجهر وتركهم له بطلب سلامة العمل من الحبوط، وبين أن فيه من المفسدة جواز حبوط العمل، وانعقاد سبب ذلك، وما قد يفضي إلى حبوط العمل يجب تركه غاية الوجوب … ».

ثم قال:: « … فإذا ثبت أن رفع الصوت فوق صوت النبي صلى الله عليه وسلم والجهر له بالقول يخاف منه أن يكفر صاحبه وهو لا يشعر، ويحبط عمله بذلك، وأنه مظنة لذلك وسبب فيه، فمن المعلوم أن ذلك لما ينبغي له من التعزير والتوقير والتشريف والتعظيم والإكرام والإجلال» ا. هـ.

 

‌‌ثانيا: ذكر جملة من النصوص الدالة على وجوب توقير النبي، واحترامه، وتعظيمه:

لقد دلت الآية التي نحن بصددها، وهي قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا

--------------------------------------------

(1) ص (57)، وما بعدها.
তারা যেন তাঁর সাথে কথা বলার সময় তাঁর মাহাত্ম্য, সম্মান, শ্রদ্ধা ও আদব বজায় রাখে এবং নবুওয়াত ও রিসালাত বা অনুরূপ মর্যাদাপূর্ণ শব্দ ব্যবহার করে।

 

‌‌চতুর্থ পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কণ্ঠস্বরের উপরে কণ্ঠস্বর উঁচু করা এবং তাঁর সামনে উচ্চস্বরে কথা বলার বিধান (حكم), এবং তাঁর প্রতি সম্মান, শ্রদ্ধা ও মর্যাদা প্রদর্শন যে আবশ্যক, সে বিষয়ক দলীলসমূহ বর্ণনা

‌‌প্রথমত: তাঁর কণ্ঠস্বরের উপরে কণ্ঠস্বর উঁচু করা এবং তাঁর সামনে উচ্চস্বরে কথা বলার বিধান (حكم):

এই আয়াতটি প্রমাণ করে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কণ্ঠস্বরের উপরে কণ্ঠস্বর উঁচু করা এবং তাঁর সামনে উচ্চস্বরে কথা বলা অত্যন্ত বিপজ্জনক পাপ এবং সবচেয়ে গুরুতর গুনাহসমূহের অন্তর্ভুক্ত; বরং এটি আমল বাতিল হওয়ার কারণ হতে পারে। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ আস-সারিমুল মাসলুল গ্রন্থে(১) এই আয়াতটি উল্লেখ করার পর বলেছেন:

« … দলীলটির তাৎপর্য হলো যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁদেরকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কণ্ঠস্বরের উপরে নিজেদের কণ্ঠস্বর উঁচু করতে এবং একে অপরের সাথে যেভাবে উচ্চস্বরে কথা বলে তাঁর সামনে সেভাবে উচ্চস্বরে কথা বলতে নিষেধ করেছেন। কারণ এই উচ্চস্বর এবং উচ্চকণ্ঠে কথা বলা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অজান্তেই আমল বাতিল হওয়ার দিকে নিয়ে যেতে পারে। কেননা তিনি (আল্লাহ) তাঁদের উচ্চস্বরে কথা বলা থেকে বিরত থাকার নির্দেশের কারণ হিসেবে আমল বাতিল হওয়া থেকে নিরাপদ থাকাকে সাব্যস্ত করেছেন এবং স্পষ্ট করেছেন যে, এর মধ্যে আমল বাতিল হওয়ার অনিষ্ট ও কারণ নিহিত রয়েছে। আর যা আমল বাতিলের দিকে নিয়ে যায়, তা বর্জন করা একান্তই আবশ্যক … »।

অতঃপর তিনি বলেন: « … সুতরাং যখন এটি প্রমাণিত হলো যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কণ্ঠস্বরের উপরে কণ্ঠস্বর উঁচু করা এবং উচ্চস্বরে কথা বলার কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অজান্তেই কুফরিতে লিপ্ত হওয়ার এবং এর ফলে তাঁর আমল বাতিল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, এবং এটি সেই আশঙ্কার ক্ষেত্র ও কারণ, তখন এটি সুপরিচিত যে, এ কারণেই তাঁর প্রতি যথাযথ মর্যাদা, সম্মান, শ্রেষ্ঠত্ব, মাহাত্ম্য, শ্রদ্ধা ও ইজলাল প্রদর্শন করা আবশ্যক। » ইতি।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি সম্মান, শ্রদ্ধা ও মর্যাদা প্রদর্শনের আবশ্যকতা প্রমাণকারী কতিপয় দলীলের বর্ণনা:

আমরা যে আয়াতটি নিয়ে আলোচনা করছি তা এটিই প্রমাণ করে, আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ! তোমরা (নিজেদের কণ্ঠস্বর) উঁচু করো না...

--------------------------------------------

(১) পৃষ্ঠা (৫৭) এবং পরবর্তী অংশ।
(খণ্ড: ১৩৯) আল-মানহিয়াতু ফি সূরাতিল হুজুরাত (পৃষ্ঠা: ৬৯)
تَرْفَعُوا أَصْوَاتَكُمْ فَوْقَ صَوْتِ النَّبِيِّ وَلا تَجْهَرُوا لَهُ بِالْقَوْلِ كَجَهْرِ بَعْضِكُمْ لِبَعْضٍ أَنْ تَحْبَطَ أَعْمَالُكُمْ وَأَنْتُمْ لا تَشْعُرُونَ} [الحجرات: 2]. على لزوم توقير النبي صلى الله عليه وسلم، وتعظيمه، واحترامه، وجاء في مواضع أخر من كتاب الله ما يبين ذلك، ويؤيده، منها:

1 - قوله تعالى: {لِتُؤْمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَتُعَزِّرُوهُ وَتُوَقِّرُوهُ} [الفتح: 9]. على أن الضمير في قوله: {وَتُعَزِّرُوهُ وَتُوَقِّرُوهُ} عائد على الرسول صلى الله عليه وسلم، وعليه أكثر المفسرين(1).

قال السعدي في بيان معنى الآية: «{وَتُعَزِّرُوهُ وَتُوَقِّرُوهُ} أي تعزروا الرسول صلى الله عليه وسلم، {وَتُوَقِّرُوهُ} أي تعظموه، وتجلوه، وتقوموا بحقوقه، كما كانت له المنة العظيمة في رقابكم»(2).

2 - وقوله تعالى: {فَالَّذِينَ آمَنُوا بِهِ وَعَزَّرُوهُ وَنَصَرُوهُ وَاتَّبَعُوا النُّورَ الَّذِي أُنْزِلَ مَعَهُ أُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} [الأعراف: 157].

قال الطبري مفسرا لهذه الآية: «فالذين صدقوا النبي الأمي، وأقروا بنبوته {وعزروه} يقول وقروه وعظموه، وحموه من الناس، {واتبعوا النور الذي أنزل معه} يعني القرآن والسنة، {أولئك هم المفلحون} يقول الذين يفعلون هذه الأفعال التي وصف بها جل ثناؤه أتباع محمد صلى الله عليه وسلم، هم المفلحون المدركون ما طلبوا، ورجوا بفعلهم ذلك»(3).

--------------------------------------------

(1) وممن اقتصر على أن المراد به الرسول الطبري في تفسيره (26/ 74)، وذكر في قوله في آخر الآية: {وتسبحوه} قراءة بلفظ: «وتسبحوا الله» لكنها قراءة شاذة، واقتصر عليه أيضا ابن كثير في تفسيره (7/ 329)، والبغوي في تفسيره (4/ 190)، والسعدي في تفسيره (5/ 46).

(2) انظر: تيسير الكريم الرحمن للسعدي (5/ 46).

(3) انظر: جامع البيان للطبري (9/ 85، 86).
...তোমরা নবীর কণ্ঠস্বরের ওপর তোমাদের কণ্ঠস্বর উঁচু করো না এবং তাঁর সাথে উচ্চস্বরে কথা বলো না, যেভাবে তোমরা একে অপরের সাথে উচ্চস্বরে কথা বলো; পাছে তোমাদের আমলগুলো নিষ্ফল হয়ে যায় অথচ তোমরা উপলব্ধিও করতে পারবে না} [আল-হুজুরাত: ২]। এই আয়াতটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি সম্মান প্রদর্শন, তাঁর মাহাত্ম্য বর্ণনা এবং তাঁকে শ্রদ্ধা জানানো যে অপরিহার্য, তা নির্দেশ করে। আল্লাহর কিতাবের অন্যান্য স্থানেও এমন অনেক বিষয় এসেছে যা এটি স্পষ্ট করে এবং একে সমর্থন করে, তন্মধ্যে রয়েছে:

১ - মহান আল্লাহর বাণী: {যাতে তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনো এবং তাঁকে সাহায্য করো ও সম্মান করো} [আল-ফাতহ: ৯]। এখানে {তাঁকে সাহায্য করো ও সম্মান করো} বাক্যাংশের সর্বনামগুলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে ফিরেছে এবং অধিকাংশ মুফাসসির এই মত পোষণ করেছেন(১)।

আস-সাদী এই আয়াতের অর্থ বর্ণনায় বলেন: «{যাতে তোমরা তাঁকে সাহায্য করো ও সম্মান করো} অর্থাৎ তোমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সাহায্য করো, {এবং তাঁকে সম্মান করো} অর্থাৎ তাঁর মাহাত্ম্য বর্ণনা করো, তাঁকে শ্রদ্ধা করো এবং তাঁর প্রাপ্য অধিকারসমূহ আদায় করো, যেহেতু তোমাদের ওপর তাঁর এক বিশাল অনুগ্রহ রয়েছে»(২)।

২ - এবং মহান আল্লাহর বাণী: {সুতরাং যারা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছে, তাঁকে সম্মান করেছে, তাঁকে সাহায্য করেছে এবং সেই আলোর অনুসরণ করেছে যা তাঁর সাথে অবতীর্ণ হয়েছে, তারাই সফলকাম} [আল-আরাফ: ১৫৭]।

আত-তাবারী এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন: «সুতরাং যারা নিরক্ষর নবীর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং তাঁর নবুওয়াতকে স্বীকৃতি দিয়েছে {এবং তাঁকে সম্মান করেছে} অর্থাৎ তাঁকে শ্রদ্ধা করেছে ও মহিমান্বিত করেছে এবং মানুষের আক্রমণ থেকে তাঁকে সুরক্ষা দিয়েছে, {এবং সেই আলোর অনুসরণ করেছে যা তাঁর সাথে অবতীর্ণ হয়েছে} অর্থাৎ কুরআন ও সুন্নাহ, {তারাই সফলকাম} অর্থাৎ যারা এমন সব কাজ করে যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসারীদের গুণাবলি বর্ণনা করেছেন, তারাই সফলকাম যারা তাদের আকাঙ্ক্ষিত বস্তু লাভ করবে এবং তাদের এই কার্যের মাধ্যমে যা আশা করেছে তা অর্জন করবে»(৩)।

--------------------------------------------

(১) যারা এই সর্বনাম দ্বারা কেবল রাসূলকেই উদ্দেশ্য করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন আত-তাবারী তাঁর তাফসীরে (২৬/৭৪); তিনি আয়াতের শেষাংশ {এবং তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করো} সম্পর্কে 'আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করো' শব্দে একটি পাঠ উল্লেখ করেছেন, তবে তা অপ্রসিদ্ধ (شاذة) কিরাত। এছাড়াও ইবনে কাসীর তাঁর তাফসীরে (৭/৩২৯), বাগভী তাঁর তাফসীরে (৪/১৯০) এবং আস-সাদী তাঁর তাফসীরে (৫/৪৬) একেই গ্রহণ করেছেন।

(২) দেখুন: আস-সাদীর তাইসীরুল কারীমুর রাহমান (৫/৪৬)।

(৩) দেখুন: আত-তাবারীর জামিউল বায়ান (৯/৮৫, ৮৬)।
(খণ্ড: ১৩৯) আল-মানহিয়াতু ফি সূরাতিল হুজুরাত (পৃষ্ঠা: ৭০)
3 - قوله تعالى: {لا تَجْعَلُوا دُعَاءَ الرَّسُولِ بَيْنَكُمْ كَدُعَاءِ بَعْضِكُمْ بَعْضاً} [النور: 63].

قال قتادة في الآية: أمر الله أن يهاب نبيه، وأن يبجل، وأن يعظم، وأن يفخم، ويشرف(1).

4 - وقوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَقُولُوا رَاعِنَا وَقُولُوا انْظُرْنَا وَاسْمَعُوا} [البقرة: 104].

5 - وقوله تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ يُنَادُونَكَ مِنْ وَرَاءِ الْحُجُرَاتِ أَكْثَرُهُمْ لا يَعْقِلُون} [الحجرات: 4].

6 - وقوله تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ يَغُضُّونَ أَصْوَاتَهُمْ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ أُولَئِكَ الَّذِينَ امْتَحَنَ اللَّهُ قُلُوبَهُمْ لِلتَّقْوَى لَهُمْ مَغْفِرَةٌ وَأَجْرٌ عَظِيمٌ} [الحجرات: 3].

قال الأمين الشنقيطي: «وقد دلت آيات من كتاب الله على أن الله تعالى لا يخاطبه في كتابه باسمه، وإنما يخاطبه بما يدل على التعظيم والتوقير، كقوله: {يَا أَيُّهَا النَّبِي} [الأنفال: 64]، {يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ} [المائدة: 41]، {يَا أَيُّهَا الْمُزَّمِّلُ} [المزمل: 1]، {يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ} [المدثر: 1]، مع أنه ينادي غيره من الأنبياء بأسمائهم، كقوله: {وَقُلْنَا يَا آدَم} [البقرة: 35]، وقوله: {وَنَادَيْنَاهُ أَنْ يَا إِبْرَاهِيمُ} [الصافات: 104]، وقوله: {يَا نُوحُ إِنَّهُ لَيْسَ مِنْ أَهْلِك} [هود: 46]، {قِيلَ يَا نُوحُ اهْبِطْ بِسَلامٍ مِنَّا} [نوح: 48]، وقوله: {قَالَ يَا مُوسَى إِنِّي اصْطَفَيْتُكَ عَلَى النَّاسِ} [الأعراف: 144]، وقوله: {إِذْ قَالَ اللَّهُ يَا عِيسَى إِنِّي مُتَوَفِّيكَ} [آل عمران: 55]، وقوله: {يَا دَاوُدُ إِنَّا جَعَلْنَاكَ خَلِيفَةً} [ص: 26].

أما النبي صلى الله عليه وسلم فلم يذكر اسمه في القرآن في خطاب، وإنما يذكر في غير ذلك، كقوله: {وَمَا مُحَمَّدٌ إِلَّا رَسُولٌ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهِ الرُّسُلُ} [آل عمران: 144]،

--------------------------------------------

(1) انظر: الدر المنثور (6/ 231)، وعزاه لعبد الرزاق، وعبد بن حميد، وابن المنذر، وابن أبي حاتم.
৩ - মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা রাসূলের আহ্বানকে তোমাদের একে অপরের আহ্বানের মতো গণ্য করো না} [আন-নূর: ৬৩]।

কাতাদাহ এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন: আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন যেন তাঁর নবীকে সমীহ করা হয়, শ্রদ্ধা করা হয়, মহিমান্বিত করা হয়, সম্মান করা হয় এবং উচ্চ মর্যাদা দান করা হয়(১)।

৪ - মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ! তোমরা ‘রায়িনা’ বলো না, বরং ‘উনযুরনা’ বলো এবং শ্রবণ করো} [আল-বাকারা: ১০৪]।

৫ - মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয় যারা হুজরাসমূহের আড়াল থেকে আপনাকে উচ্চস্বরে ডাকে, তাদের অধিকাংশই নির্বোধ} [আল-হুজরাত: ৪]।

৬ - মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয় যারা আল্লাহর রাসূলের সামনে নিজেদের কণ্ঠস্বর নিচু করে, আল্লাহ তাদের অন্তরসমূহকে তাকওয়ার জন্য পরীক্ষা করেছেন; তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও মহাপুরস্কার} [আল-হুজরাত: ৩]।

আল-আমিন আশ-শানকিতী বলেন: «আল্লাহর কিতাবের বহু আয়াত প্রমাণ করে যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে তাঁকে নাম ধরে সম্বোধন করেননি, বরং তাঁকে কেবল মহিমা ও সম্মানের প্রমাণবাহী শব্দের মাধ্যমে সম্বোধন করেছেন। যেমন তাঁর বাণী: {হে নবী} [আল-আনফাল: ৬৪], {হে রাসূল} [আল-মায়িদা: ৪১], {হে চাদর আবৃত} [আল-মুযযাম্মিল: ১], {হে বস্ত্রাবৃত} [আল-মুদ্দাসসির: ১]। অথচ তিনি অন্যান্য নবীদের তাঁদের নিজ নিজ নামে সম্বোধন করেছেন; যেমন তাঁর বাণী: {এবং আমি বললাম, হে আদম} [আল-বাকারা: ৩৫], তাঁর বাণী: {আমি তাকে ডেকে বললাম, হে ইবরাহিম} [আস-সাফফাত: ১০৪], তাঁর বাণী: {হে নূহ, সে তোমার পরিবারের অন্তর্ভুক্ত নয়} [হুদ: ৪৬], {বলা হলো, হে নূহ, আমাদের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার সাথে অবতরণ করো} [নূহ: ৪৮], তাঁর বাণী: {তিনি বললেন, হে মুসা, আমি আপনাকে মানুষের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি} [আল-আরাফ: ১৪৪], তাঁর বাণী: {যখন আল্লাহ বললেন, হে ঈসা, আমি তোমার কাল পূর্ণ করছি} [আল-ইমরান: ৫৫], এবং তাঁর বাণী: {হে দাউদ, আমি আপনাকে খলিফা বা প্রতিনিধি করেছি} [সোয়াদ: ২৬]।

পক্ষান্তরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাম কুরআনের কোনো সম্বোধনে উল্লেখ করা হয়নি, বরং তা অন্যভাবে উল্লিখিত হয়েছে; যেমন তাঁর বাণী: {মুহাম্মদ একজন রাসূল বৈ নন, তাঁর পূর্বে বহু রাসূল গত হয়েছেন} [আল-ইমরান: ১৪৪],

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আদ-দুররুল মানসুর (৬/ ২৩১); তিনি এটি উদ্ধৃত করেছেন (عزاه) আবদুর রাজ্জাক, আবদ বিন হুমাইদ, ইবনুল মুনযির এবং ইবনে আবি হাতিমের বরাতে।
(খণ্ড: ১৩৯) আল-মানহিয়াতু ফি সূরাতিল হুজুরাত (পৃষ্ঠা: ৭১)
وقوله: {وَآمَنُوا بِمَا نُزِّلَ عَلَى مُحَمَّدٍ} [محمد: 2]، وقوله: {مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ} [الفتح: 29](1).

 

‌‌المطلب الخامس: حكم رفع الصوت عند قبره بعد وفاته

لقد قرر أهل العلم أنه كما لا يجوز رفع الصوت فوق صوته في حياته صلى الله عليه وسلم، كذلك لا يجوز رفع الصوت عند قبره بعد وفاته صلى الله عليه وسلم.

قال ابن كثير: «وقال العلماء: يكره رفع الصوت عند قبره، كما كان يكره في حياته، لأنه محترم حيا وفي قبره، صلوات الله وسلامه عليه دائما»(2).

ويدل عليه ما رواه البخاري عن السائب بن يزيد، قال: كنت قائما في المسجد فحصبني رجل، فنظرت فإذا عمر بن الخطاب، فقال: اذهب فأتني بهذين، فجئته بهما. قال: من أنتما -أو من أين أنتما؟ - قالا: من أهل الطائف. قال: لو كنتما من أهل البلد لأوجعتكما، ترفعان أصواتكما في مسجد رسول الله صلى الله عليه وسلم)(3).

تنبيه:

أما ما يقوم به أهل البدعة والجهل عند قبره صلى الله عليه وسلم، من دعائه، وطلب الشفاعة منه، والتوسل به، فهو من المنكر العظيم الذي لا يجوز، لأنه صرف حق الله لغيره، وقد جاءت نصوص الكتاب بتحريمه، ومنها:

--------------------------------------------

(1) انظر: أضواء البيان (6/ 616).

(2) تفسير القرآن لابن كثير (7/ 368)، وانظر: مجموع الفتاوى لشيخ الإسلام، ابن تيمية (27/ 323)، وأحكام القرآن لابن العربي (4/ 1714).

(3) أخرجه البخاري في صحيحه، كتاب الصلاة، باب رفع الصوت في المسجد، انظر: الفتح (1/ 667)، ح (470).
এবং তাঁর বাণী: {এবং যা মুহাম্মাদের ওপর অবতীর্ণ হয়েছে তারা তাতে ঈমান এনেছে} [মুহাম্মদ: ২], এবং তাঁর বাণী: {মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল এবং যারা তাঁর সাথে আছে} [আল-ফাতহ: ২৯](১).

 

‌‌পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তাঁর ইন্তেকালের পর তাঁর কবরের নিকট উচ্চস্বরে কথা বলার বিধান

আলেমগণ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জীবদ্দশায় যেমন তাঁর কণ্ঠস্বরের ওপর কণ্ঠস্বর উঁচু করা জায়েজ ছিল না, অনুরূপভাবে তাঁর ইন্তেকালের পর তাঁর কবরের নিকটও উচ্চস্বরে কথা বলা জায়েজ নয় (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)।

ইবনে কাসীর বলেন: «উলামায়ে কেরাম বলেছেন: তাঁর কবরের নিকট আওয়াজ উঁচু করা অপছন্দনীয়, ঠিক যেমন তাঁর জীবদ্দশায় তা অপছন্দনীয় ছিল; কারণ তিনি জীবিত অবস্থায় এবং কবরেও সর্বদা সম্মানিত, তাঁর ওপর সর্বদা আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক»(২)।

এর সপক্ষে প্রমাণ হলো যা বুখারি সায়িব ইবনে ইয়াজিদ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি মসজিদে দাঁড়িয়ে ছিলাম, তখন এক ব্যক্তি আমাকে ছোট পাথর ছুড়ে মারলেন। আমি তাকিয়ে দেখলাম তিনি ওমর ইবনুল খাত্তাব। তিনি বললেন: যাও, এই দুইজনকে আমার কাছে নিয়ে এসো। আমি তাদের নিয়ে এলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তোমরা কারা? —অথবা তোমরা কোথা থেকে এসেছ? —তারা বলল: আমরা তায়েফবাসী। তিনি বললেন: যদি তোমরা এই শহরের অধিবাসী হতে তবে আমি তোমাদের কঠোর সাজা দিতাম; তোমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মসজিদে উচ্চস্বরে কথা বলছ!)(৩)।

সতর্কতা:

তবে বিদআতপন্থী ও মূর্খ লোকেরা তাঁর কবরের নিকট তাঁর কাছে প্রার্থনা করা, তাঁর কাছে সুপারিশ প্রার্থনা করা এবং তাঁর উসিলা নিয়ে দোয়া করার মাধ্যমে যা করে থাকে, তা অত্যন্ত বড় গর্হিত (منكر) বিষয় যা জায়েজ নয়। কারণ এটি আল্লাহর অধিকার অন্যকে প্রদান করা। কুরআনের অকাট্য দলিলসমূহে এটি হারাম হওয়া সম্পর্কে বর্ণনা এসেছে, যার মধ্যে রয়েছে:

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আদওয়াউল বায়ান (৬/৬১৬)।

(২) ইবনে কাসীরের তাফসিরুল কুরআন (৭/৩৬৮), আরও দেখুন: শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর মাজমুউল ফাতাওয়া (২৭/৩২৩), এবং ইবনুল আরাবির আহকামুল কুরআন (৪/১৭১৪)।

(৩) বুখারি এটি তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, সালাত অধ্যায়, মসজিদে উচ্চস্বরে কথা বলা পরিচ্ছেদ, দেখুন: ফাতহুল বারি (১/৬৬৭), হাদিস নং ৪৭০।
(খণ্ড: ১৩৯) আল-মানহিয়াতু ফি সূরাতিল হুজুরাত (পৃষ্ঠা: ৭২)
1 - قوله تعالى: {وَأَنَّ الْمَسَاجِدَ لِلَّهِ فَلا تَدْعُو مَعَ اللَّهِ أَحَداً} [الجن: 18].

و {أحدا} نكرة في سياق النهي، فتدل على العموم، أي لا يجوز دعاء أحد سواه، كائنا من كان فيما لا يقدر عليه إلا الله، كطلب الشفاعة، وقضاء الحوائج، وتفريج الكربات، ورد الضالة، وإعطاء الولد، وشبهه.

2 - وقوله تعالى: {وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنْ يَدْعُو مِنْ دُونِ اللَّهِ مَنْ لا يَسْتَجِيبُ لَهُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَهُمْ عَنْ دُعَائِهِمْ غَافِلُون. وَإِذَا حُشِرَ النَّاسُ كَانُوا لَهُمْ أَعْدَاءً وَكَانُوا بِعِبَادَتِهِمْ كَافِرِينَ} [الأحقاف: 5، 6].

3 - وقوله تعالى: {وَلا تَدْعُ مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لا يَنْفَعُكَ وَلا يَضُرُّكَ فَإِنْ فَعَلْتَ فَإِنَّكَ إِذاً مِنَ الظَّالِمِينَ. وَإِنْ يَمْسَسْكَ اللَّهُ بِضُرٍّ فَلا كَاشِفَ لَهُ إِلَّا هُوَ وَإِنْ يُرِدْكَ بِخَيْرٍ فَلا رَادَّ لِفَضْلِهِ يُصِيبُ بِهِ مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ وَهُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ} [يونس: 106، 107].

4 - وقوله تعالى: {قُلِ ادْعُوا الَّذِينَ زَعَمْتُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ لا يَمْلِكُونَ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ فِي السَّمَاوَاتِ وَلا فِي الْأَرْضِ وَمَا لَهُمْ فِيهِمَا مِنْ شِرْكٍ وَمَا لَهُ مِنْهُمْ مِنْ ظَهِيرٍ. وَلا تَنْفَعُ الشَّفَاعَةُ عِنْدَهُ إِلَّا لِمَنْ أَذِنَ لَهُ} [سباء: 22، 23](1).

 

‌‌المطلب السادس: نماذج من استجابة الصحابة للنهي عن رفع الصوت عند رسول الله

إن أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم ورضي عنهم خير مثال يحتذى بعد نبينا صلى الله عليه وسلم في تطبيق نصوص الشرع، والمبادرة في فعل الأوامر، واجتناب النواهي أو غيرها، وسرعة الاستجابة لله ورسوله، فهذا الفاروق لما قال للنبي صلى الله عليه وسلم: يا رسول الله،

--------------------------------------------

(1) ذكر هذه الآيات مستدلا بها على ذلك شيخ الإسلام، المجدد محمد بن عبد الوهاب. انظر: حاشية ثلاث الأصول لابن قاسم ص (35)، وكتاب التوحيد له ص (88)، (104)، وللمزيد راجع فتح المجيد (1/ 301 - 324)، وتيسير العزيز الحميد ص (155 - 182).
1 - মহান আল্লাহর বাণী: {আর নিশ্চয়ই মসজিদসমূহ আল্লাহরই জন্য। অতএব তোমরা আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে ডেকো না} [আল-জিন: ১৮]।

এখানে {أحدا} (কাউকে) শব্দটি নিষেধের প্রেক্ষাপটে অনির্দিষ্ট (نكرة) হিসেবে এসেছে, যা ব্যাপকতা (عموم) প্রকাশ করে। অর্থাৎ, আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে ডাকা বৈধ নয়, সে যেই হোক না কেন, এমন সব বিষয়ে যাতে আল্লাহ ছাড়া আর কেউ সক্ষম নয়; যেমন—শাফায়াত (সুপারিশ) প্রার্থনা করা, হাজত (প্রয়োজন) পূরণ করা, বিপদাপদ দূর করা, হারানো বস্তু ফিরে পাওয়া, সন্তান দান করা এবং এই জাতীয় বিষয়সমূহ।

2 - মহান আল্লাহর বাণী: {আর সেই ব্যক্তির চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে, যে আল্লাহর পরিবর্তে এমন কাউকে ডাকে যে কিয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়া দেবে না? অথচ তারা তাদের ডাক সম্পর্কে উদাসীন। আর যখন মানুষকে হাশরে সমবেত করা হবে, তখন তারা তাদের শত্রু হবে এবং তারা তাদের ইবাদত অস্বীকার করবে} [আল-আহকাফ: ৫, ৬]।

3 - মহান আল্লাহর বাণী: {আর তুমি আল্লাহ ছাড়া এমন কিছুকে ডেকো না যা তোমার কোনো উপকারও করতে পারে না এবং অপকারও করতে পারে না। যদি তুমি তা করো, তবে তুমি অবশ্যই জালেমদের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর যদি আল্লাহ তোমাকে কোনো কষ্টের স্পর্শ দেন, তবে তিনি ছাড়া তা দূর করার আর কেউ নেই। আর যদি তিনি তোমার মঙ্গল চান, তবে তাঁর অনুগ্রহ রদ করার কেউ নেই। তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তা দান করেন। আর তিনি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু} [ইউনুস: ১০৬, ১০৭]।

4 - মহান আল্লাহর বাণী: {বলো, তোমরা তাদের ডাকো যাদের তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে (ইলাহ) মনে করতে; তারা আসমানসমূহ ও জমিনের মধ্যে অণু পরিমাণ কোনো কিছুর মালিক নয় এবং এই দুটিতে তাদের কোনো অংশীদারিত্ব নেই এবং তাদের মধ্য থেকে কেউ তাঁর সাহায্যকারীও নয়। আর যার জন্য তিনি অনুমতি দেবেন তাকে ছাড়া তাঁর নিকট সুপারিশ কোনো উপকারে আসবে না} [সাবা: ২২, ২৩](1)।

 

‌‌ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: রাসুলুল্লাহর সামনে উচ্চস্বরে কথা বলা থেকে বিরত থাকার বিষয়ে সাহাবীগণের আনুগত্যের কিছু নমুনা

নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরে শরীয়তের বিধানসমূহ বাস্তবায়ন, আদেশ পালনে ক্ষিপ্রতা, নিষেধ বর্জন এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের ডাকে দ্রুত সাড়াদানের ক্ষেত্রে সর্বোত্তম অনুসরণীয় আদর্শ। এই যেমন ফারুক (উমর) যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন: হে আল্লাহর রাসুল,

--------------------------------------------

(1) শাইখুল ইসলাম, মুজাদ্দিদ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব এই আয়াতগুলোকে উক্ত বিষয়ের দলিল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। দেখুন: হাশিয়া সালাসাাতুল উসুল লি-ইবনে কাসিম পৃষ্ঠা (৩৫), এবং তাঁর কিতাবুত তাওহীদ পৃষ্ঠা (৮৮), (১০৪)। আরও বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন ফাতহুল মাজিদ (১/ ৩০১ - ৩২৪) এবং তায়সীরুল আজিজিল হামিদ পৃষ্ঠা (১৫৫ - ১৮২)।
(খণ্ড: ১৩৯) আল-মানহিয়াতু ফি সূরাতিল হুজুরাত (পৃষ্ঠা: ৭৩)
لأنت أحب إليَّ من كل شيء إلا من نفسي، فقال النبي صلى الله عليه وسلم:

«لا والذي نفسي بيده حتى أكون أحب إليك من نفسك، فقال عمر: الآن والله لأنت أحب إلي من نفسي، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: الآن يا عمر»(1).

الله أكبر ما أعظمه من جيل، وما أعلمه بربه ونبيه، وأقومه بحجة الله على خلقه، وفيما يلي ذكر شيء من استجابة الصحابة لما جاء في الآية التي نحن بصددها:

1 - ما جاء عن أبي بكر الصديق، رضي الله عنه: أخرج الحاكم عن أبي هريرة، قال: «لما نزلت: {إن الذين يغضون أصواتهم عند رسول الله} قال أبو بكر: والذي أنزل عليك الكتاب لا أكلمك إلا كاخي السرار»(2).

فقد أقسم الصديق، وهو البار بقسمه ألا يكلم رسول الله إلا كاخي السرار -أي كصاحب المساررة الذي يخفض صوته(3)؛ استجابة لما جاء في قوله تعالى: {لا ترفعوا أصواتكم} [الحجرات: 2].

2 - ما جاء عن عمر بن الخطاب، رضي الله عنه: يدل له ما رواه البخاري(4) في سبب نزول قوله: {يا أيها الذين آمنوا لا ترفعوا أصواتكم فوق صوت النبي}، وفيه: قال ابن الزبير: فما كان عمر يسمع رسول الله صلى الله عليه وسلم بعد نزول هذه الآية حتى يستفهمه، وقد سبق.

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري في صحيحه، كتاب الأيمان والنذور، باب كيف كان يمين النبي. انظر: الفتح (11/ 532)، ح (6632).

(2) رواه الحاكم في مستدركه (2/ 462)، وصححه، ووافقه الذهبي، وأورده ابن كثير في تفسيره (7/ 365)، من رواية طارق بن شهاب، ثم قال: «حصين بن عمر» هذا وإن كان ضعيفا لكن قد رويناه من حديث عبد الرحمن بن عوف، وأبي هريرة بنحو من ذلك.

(3) انظر: النهاية في غريب الحديث (2/ 360)، ولسان العرب (4/ 362)، مادة: "سرر".

(4) قد سبق تخريجه في ص 22.
"আপনি আমার নিকট নিজের প্রাণ ছাড়া অন্য সবকিছুর চেয়ে অধিক প্রিয়।" তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন:

«না, যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ! যতক্ষণ না আমি তোমার কাছে তোমার নিজের প্রাণের চেয়েও অধিক প্রিয় হই। অতঃপর ওমর (রা.) বললেন: এখন আল্লাহর শপথ, আপনি আমার কাছে আমার নিজের প্রাণের চেয়েও অধিক প্রিয়। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: হে ওমর, এখন (তুমি পূর্ণ মুমিন হলে)»(1)।

আল্লাহু আকবার! কতই না মহান ছিল সেই প্রজন্ম, কতই না তারা তাদের রব ও তাঁর নবী সম্পর্কে অবগত ছিলেন এবং সৃষ্টির উপর আল্লাহর প্রমাণের ক্ষেত্রে তারা কতই না দৃঢ় ছিলেন। আমরা এখন যে আয়াতটি নিয়ে আলোচনা করছি, তার প্রতি সাহাবায়ে কেরামের আনুগত্যের কিছু নমুনা নিচে উল্লেখ করা হলো:

1 - আবু বকর সিদ্দিক (রা.) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে: ইমাম হাকেম আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «যখন এই আয়াত অবতীর্ণ হলো: {নিশ্চয় যারা আল্লাহর রাসূলের সামনে নিজেদের কণ্ঠস্বর নিচু করে}, তখন আবু বকর (রা.) বললেন: 'যিনি আপনার ওপর কিতাব নাযিল করেছেন তাঁর শপথ! আমি আপনার সাথে চুপিচুপি কথা বলার লোক ছাড়া অন্য কোনোভাবে কথা বলব না'»(2)।

সত্যবাদী সিদ্দিক (রা.) শপথ করেছিলেন এবং তিনি তাঁর শপথে অটল ছিলেন যে, তিনি আল্লাহর রাসূলের সাথে কানে কানে কথা বলার লোক বা চুপিচুপি কথা বলার ব্যক্তির মতো ছাড়া কথা বলবেন না—অর্থাৎ এমন ব্যক্তি যে নিজের কণ্ঠস্বর নিচু রাখে(3); মহান আল্লাহর এই বাণীর আনুগত্য স্বরূপ: {তোমরা তোমাদের কণ্ঠস্বর উঁচু করো না} [আল-হুজুরাত: ২]।

2 - ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে: সহীহ বুখারীতে(4) এই আয়াতের শানে নুযূল বা নাযিলের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তা এর প্রমাণ দেয়: {হে ঈমানদারগণ, তোমরা নবীর কণ্ঠস্বরের ওপর তোমাদের কণ্ঠস্বর উঁচু করো না}। তাতে ইবনে যুবায়ের (রা.) বলেছেন: এই আয়াত নাযিল হওয়ার পর ওমর (রা.) আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে এমনভাবে কথা বলতেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যতক্ষণ না পুনরায় জিজ্ঞাসা করতেন ততক্ষণ তিনি তা শুনতে পেতেন না। আর এর বর্ণনা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

--------------------------------------------

(1) এটি ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে 'শপথ ও মানত' অধ্যায়ে, 'নবীজির শপথ কেমন ছিল' পরিচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন। দেখুন: আল-ফাতহ (১১/ ৫৩২), হাদিস নং (৬৬৩২)।

(2) এটি হাকেম তাঁর মুস্তাদরাক (২/ ৪৬২) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং একে সঠিক (صحيح) বলেছেন এবং ইমাম যাহাবী তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন। ইবনে কাসীর তাঁর তাফসীরে (৭/ ৩৬৫) তারেক ইবনে শিহাবের বর্ণনা থেকে এটি উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি বলেছেন: «এই হোসাইন ইবনে ওমর» যদিও সে দুর্বল (ضعيف), তবে আমরা এটি আব্দুর রহমান ইবনে আউফ এবং আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিস থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছি।

(3) দেখুন: আন-নিহায়া ফী গারিবিল হাদিস (২/ ৩৬০), এবং লিসানুল আরব (৪/ ৩৬২), মূলশব্দ: "সারারা"।

(4) এর হাদিস বিশ্লেষণ (تخريج) ২২ নম্বর পৃষ্ঠায় অতিক্রান্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১৩৯) আল-মানহিয়াতু ফি সূরাতিল হুজুরাত (পৃষ্ঠা: ৭৪)
3 - ما جاء عن ثابت بن قيس بن شماس(1): رواه البخاري، ومسلم، وأحمد، واللفظ له عن أنس قال: «لما نزلت هذه الآية: {يا أيها الذين آمنوا لا ترفعوا أصواتكم فوق صوت النبي} إلى {وأنتم لا تشعرون}، وكان ثابت بن قيس بن الشماس رفيع الصوت، فقال: أنا الذي كنت أرفع صوتي على رسول الله صلى الله عليه وسلم حبط عملي، أنا من أهل النار، وجلس في أهله حزينا، ففقده رسول الله صلى الله عليه وسلم، فانطلق بعض القوم إليه، فقالوا له: تفقدك رسول الله صلى الله عليه وسلم، ما لك؟ قال: أنا الذي أرفع صوتي فوق صوت النبي صلى الله عليه وسلم، وأجهر له بالقول، حبط عملي، أنا من أهل النار، فأتوا النبي صلى الله عليه وسلم فأخبروه بما قال، فقال: «لا، بل هو من أهل الجنة»، قال أنس: فكنا نراه يمشي بين أظهرنا، ونحن نعلم أنه من أهل الجنة، فلما كان يوم اليمامة كان فينا بعض الانكشاف، فجاء ثابت بن قيس بن شماس، وقد تحنط ولبس كفنه، فقال: بئسما تعودون أقرانكم، فقاتلهم حتى قتل»(2).

--------------------------------------------

(1) هو صاحب رسول الله صلى الله عليه وسلم، ثابت بن قيس بن شماس الأنصاري، الخزرجي، خطيب الأنصار، من كبار الصحابة، بشره النبي صلى الله عليه وسلم بالجنة، واستشهد باليمامة، فنفذت وصيته بمنام رآه خالد بن الوليد. انظر: التقريب ص (186).

(2) أخرجه بهذا اللفظ أحمد في مسنده (19/ 391)، ح (12399)، وأخرجه مع بعض الاختلاف البخاري في صحيحه، كتاب التفسير، سورة الحجرات، باب {لا ترفعوا أصواتكم فوق صوت النبي}. انظر: الفتح (8/ 454)، ح (4846)، ومسلم في صحيحه (1/ 110)، ح (119)، كتاب الإيمان، باب مخافة المؤمن أن يحبط عمله.
3 - ছাবিত ইবনে কায়েস ইবনে শামমাস(১) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে: এটি বুখারী, মুসলিম এবং আহমাদ বর্ণনা করেছেন এবং শব্দশৈলী তাঁর (আহমাদ), আনাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «যখন এই আয়াত অবতীর্ণ হলো: {হে মুমিনগণ, তোমরা নবীর কণ্ঠস্বরের ওপর তোমাদের কণ্ঠস্বর উঁচু করো না} থেকে {অথচ তোমরা উপলব্ধি করতে পারছ না} পর্যন্ত, আর ছাবিত ইবনে কায়েস ইবনে শামমাস ছিলেন উচ্চকণ্ঠের অধিকারী। তখন তিনি বললেন: "আমিই সেই ব্যক্তি যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে নিজের কণ্ঠস্বর উঁচু করতাম, আমার আমল বিনষ্ট হয়ে গেছে এবং আমি জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত।" তিনি বিষণ্ণ হয়ে নিজ পরিবারে অবস্থান করতে লাগলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে দেখতে না পেয়ে খোঁজ নিলেন। তখন কিছু লোক তাঁর কাছে গেল এবং তাঁকে বলল: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনার খোঁজ নিয়েছেন, আপনার কী হয়েছে?" তিনি বললেন: "আমি সেই ব্যক্তি যে নবীর কণ্ঠস্বরের ওপর নিজের কণ্ঠস্বর উঁচু করতাম এবং তাঁর সামনে উচ্চস্বরে কথা বলতাম, আমার আমল বিনষ্ট হয়ে গেছে এবং আমি জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত।" তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে তাঁকে বিষয়টি অবহিত করলেন। তখন তিনি বললেন: «না, বরং তিনি জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত»। আনাস বলেন: এরপর আমরা তাঁকে আমাদের মাঝে চলাফেরা করতে দেখতাম, অথচ আমরা জানতাম যে তিনি জান্নাতবাসীদের একজন। অতঃপর যখন ইয়ামামার যুদ্ধের দিন আসল, তখন আমাদের মধ্যে কিছুটা অস্থিরতা দেখা দিল। এমতাবস্থায় ছাবিত ইবনে কায়েস ইবনে শামমাস আসলেন, তিনি সুগন্ধি মেখেছিলেন এবং তাঁর কাফন পরিধান করেছিলেন। তিনি বললেন: "তোমরা তোমাদের সহযোদ্ধাদের যা অভ্যস্ত করে তুলছ তা অত্যন্ত মন্দ," অতঃপর তিনি তাদের সাথে যুদ্ধ করলেন যতক্ষণ না তিনি শহীদ হলেন»(২).

--------------------------------------------

(১) তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথী (صحابي), ছাবিত ইবনে কায়েস ইবনে শামমাস আল-আনসারী, আল-খাজরাজী, আনসারদের খতিব, প্রবীণ সাহাবীদের (كبار الصحابة) অন্তর্ভুক্ত; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছিলেন এবং তিনি ইয়ামামাতে শাহাদাত বরণ করেন। অতঃপর খালিদ ইবনে ওয়ালিদ কর্তৃক স্বপ্নে দেখা তাঁর একটি অসিয়ত কার্যকর করা হয়েছিল। দেখুন: তাকরিব পৃষ্ঠা (১৮৬)।

(২) আহমাদ তাঁর মুসনাদে এই শব্দশৈলীতে এটি বর্ণনা (أخرجه) করেছেন (১৯/ ৩৯১), হাদিস নং (১২৩৯৯); এবং বুখারী তাঁর সহিহ-তে কিছু পার্থক্যসহ এটি বর্ণনা (أخرجه) করেছেন, কিতাবুত তাফসির, সূরা আল-হুজুরাত, অধ্যায় {তোমরা নবীর কণ্ঠস্বরের ওপর তোমাদের কণ্ঠস্বর উঁচু করো না}। দেখুন: আল-ফাতহ (৮/ ৪৫৪), হাদিস নং (৪৮৪৬); এবং মুসলিম তাঁর সহিহ-তে (১/ ১১০), হাদিস নং (১১৯), কিতাবুল ঈমান, অধ্যায়: মুমিনের আমল বিনষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা।
(খণ্ড: ১৩৯) আল-মানহিয়াতু ফি সূরাতিল হুজুরাত (পৃষ্ঠা: ৭৫)
‌‌المبحث الثالث: النهي عن السخرية

قال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا يَسْخَرْ قَوْمٌ مِنْ قَوْمٍ عَسَى أَنْ يَكُونُوا خَيْراً مِنْهُمْ وَلا نِسَاءٌ مِنْ نِسَاءٍ عَسَى أَنْ يَكُنَّ خَيْراً مِنْهُنَّ} [سورة الحجرات: 11].

 

‌‌المطلب الأول: التفسير الإجمالي للآية

يقول ابن جرير: «يقول تعالى ذكره: يا أيها الذين صدقوا الله ورسوله لا يهزأ قوم مؤمنون من قوم مؤمنين، {ولا نساء من نساء} يقول: ولا يهزأ نساء مؤمنات من نساء مؤمنات، عسى المهزوء منهن أن يكن خيرا من الهازئات»(1).

ويقول ابن كثير: «ينهى تعالى عن السخرية بالناس، وهو احتقارهم والاستهزاء بهم، كما ثبت في الصحيح عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال:

«الكبر بطر الحق وغَمْص الناس»(2). وفي رواية: «وغمط الناس»(3). والمراد من ذلك احتقارهم واستصغارهم، وهذا حرام، فإنه قد يكون المحتقَر أعظم قدرا عند الله وأحب إليه من الساخر منه المحتقِر له، ولهذا قال: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا يَسْخَرْ قَوْمٌ مِنْ

--------------------------------------------

(1) انظر: جامع البيان للطبري (26/ 130، 131).

(2) أخرجه أبو داود في سننه (4/ 59)، ح (4092)، كتاب اللباس، باب ما جاء في الكبر، والترمذي في سننه (4/ 361)، ح (1999)، كتاب البر والصلة، باب ما جاء في الكبر، وقال: حديث حسن صحيح غريب، وصححه الألباني في صحيح أبي داود (2/ 771)، ح (3448) من حديث ابن مسعود.

(3) رواه مسلم في صحيحه (1/ 93)، ح (91)، كتاب الإيمان، باب تحريم الكبر وبيانه، من حديث ابن مسعود.
‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ: উপহাস করার নিষেধাজ্ঞা

আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে মুমিনগণ, কোনো পুরুষ যেন অপর কোনো পুরুষকে উপহাস না করে, হতে পারে তারা তাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। আর কোনো নারীও যেন অপর কোনো নারীকে উপহাস না করে, হতে পারে তারা তাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।} [সূরা আল-হুজুরাত: ১১]।

 

‌‌প্রথম অনুচ্ছেদ: আয়াতের সামগ্রিক ব্যাখ্যা

ইবনে জারীর বলেন: «আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: হে তারা যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে বিশ্বাস করেছে, কোনো মুমিন সম্প্রদায় যেন অন্য কোনো মুমিন সম্প্রদায়কে উপহাস না করে... (এবং তিনি বলেন) আর কোনো মুমিন নারী যেন অন্য কোনো মুমিন নারীকে উপহাস না করে, হতে পারে যাদের উপহাস করা হচ্ছে তারা উপহাসকারিণীদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ»(১)।

ইবনে কাসীর বলেন: «আল্লাহ তাআলা মানুষকে উপহাস করা থেকে নিষেধ করেছেন, আর তা হলো তাদেরকে তুচ্ছজ্ঞান করা এবং বিদ্রূপ করা। যেমনটি সহীহ (صحيح) গ্রন্থে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন:

«অহংকার হলো সত্যকে প্রত্যাখ্যান করা এবং মানুষকে তুচ্ছজ্ঞান করা»(২)। অন্য বর্ণনায় এসেছে: «মানুষকে অবজ্ঞা করা»(৩)। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তাদেরকে তুচ্ছ মনে করা এবং ছোট করা, আর এটি হারাম; কেননা যাকে তুচ্ছজ্ঞান করা হচ্ছে সে আল্লাহর নিকট উপহাসকারীর চেয়ে অধিক মর্যাদাবান ও তাঁর অধিক প্রিয় হতে পারে। এজন্যই তিনি বলেছেন: {হে মুমিনগণ, কোনো পুরুষ যেন অপর... হতে...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাবারীর জামিউল বায়ান (২৬/ ১৩০, ১৩১)।

(২) আবু দাউদ তাঁর সুনানে (৪/ ৫৯) বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং (৪০৯২), কিতাবুল লিবাস, বাব মা জাআ ফিল কিবর; এবং তিরমিজি তাঁর সুনানে (৪/ ৩৬১) বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং (১৯৯৯), কিতাবুল বিররি ওয়াস সিলাহ, বাব মা জাআ ফিল কিবর; এবং তিনি বলেছেন: হাদিসটি হাসান (حسن) সহীহ (صحيح) গারীব (غريب)। আলবানী একে সহীহ আবু দাউদ (২/ ৭৭১) গ্রন্থে সহীহ (صحيح) বলেছেন, হাদিস নং (৩৪৪৮), যা ইবনে মাসউদের বর্ণিত হাদিস থেকে।

(৩) মুসলিম তাঁর সহীহ (১/ ৯৩) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং (৯১), কিতাবুল ঈমান, বাব তাহরিমিল কিবর ওয়া বায়ানুহু, ইবনে মাসউদের বর্ণিত হাদিস থেকে।
(খণ্ড: ১৩৯) আল-মানহিয়াতু ফি সূরাতিল হুজুরাত (পৃষ্ঠা: ৭৬)
قَوْمٍ عَسَى أَنْ يَكُونُوا خَيْراً مِنْهُمْ وَلا نِسَاءٌ مِنْ نِسَاءٍ عَسَى أَنْ يَكُنَّ خَيْراً مِنْهُنَّ}(1).

قلت: ولكثرة وقوع الناس من رجال ونساء في السخرية، أفرد -والله أعلم- النساء بالذكر لشدة التوكيد على ذلك، مع أن الأكثر أن الخطاب في القرآن يكون مع الرجال، ويكون النساء تبعا لهم، كما في قوله: {يا أيها الذين آمنوا}، {يا أيها الناس}، {إن الذين آمنوا}، {إنما المؤمنون}، {يوصيكم الله}، وغيرها، لكن خصهن بالذكر للتأكيد على شدة التحريم في حق الجميع.

وقيل: بل أفرد النساء بالذكر، لأن السخرية منهن أكثر، ذكره الشوكاني(2).

وقد ذكر أهل العلم أن لفظة القوم مما يختص به الرجال(3). ويدل لذلك قول زهير بن أبي سلمى(4):

ولا أدري ولست أخال أدري … أقوم آل حصن أم نساء(5)

 

‌‌المطلب الثاني: معنى السخرية لغة، وفي أقوال أهل العلم من المفسرين وغيرهم

‌‌أولا: السخرية لغة:

السخرية: هي الاستهزاء، يقال: سخر منه وبه سَخْرا، وسَخَرا، ومَسْخَرا، وسُخْرا بالضم، وسُخْرَة، وسِخرِيا، وسُخْرِيا، وسُخْرِية: هزئ به(6).

قال الفراء: يقال: سخرت منه، ولا يقال: سخر به، واستدل بقوله تعالى: {لا يَسْخَرْ قَوْمٌ مِنْ قَوْمٍ} [الحجرات: 11]، وقوله تعالى: {فَيَسْخَرُونَ مِنْهُمْ سَخِرَ اللَّهُ مِنْهُمْ} [التوبة: 79]، وقوله: {إِنْ تَسْخَرُوا مِنَّا فَإِنَّا نَسْخَرُ مِنْكُم} [هود: 38](7).

--------------------------------------------

(1) انظر: تفسير القرآن لابن كثير (7/ 376).

(2) انظر: فتح القدير للشوكاني (5/ 65).

(3) انظر: الكشاف للزمخشري (4/ 121)، والجامع لأحكام القرآن للقرطبي (16/ 325)، والتحرير والتنوير لابن عاشور (26/ 247).

(4) هو زهير بن ابن أبي سلمى ربيعة بن رباح المزني، من مضر، حكيم الشعراء في الجاهلية، ولد في بلاد مزينة، نواحي المدينة، وكان يقيم في الحاجر من ديار نجد، كان ينظم القصيدة في شهر، وينقحها في سنة، فكانت قصائده تسمى بالحوليات. انظر: الإعلام (2/ 52).

(5) أورده القرطبي في الجامع لأحكام القرآن 16/ 325، وأبو حيان في البحر المحيط 9/ 517.

(6) انظر: تهذيب اللغة (7/ 167)، مادة: "سخر"، والجامع لأحكام القرآن (16/ 324)، ولسان العرب (4/ 352)، مادة: "سخر".

(7) انظر: لسان العرب (4/ 353)، مادة: "سخر"، والصحاح (2/ 679)، مادة: "سخر".
কোনো সম্প্রদায় যেন অন্য কোনো সম্প্রদায়কে উপহাস না করে, হতে পারে তারা তাদের চেয়ে উত্তম। আর নারীরা যেন অন্য নারীদের উপহাস না করে, হতে পারে তারা তাদের চেয়ে উত্তম।}(1).

আমি বলি: নারী ও পুরুষ নির্বিশেষে মানুষের মধ্যে উপহাসের প্রবণতা অধিক মাত্রায় বিদ্যমান থাকার কারণে—আল্লাহই সর্বজ্ঞ—একে অধিক গুরুত্ব প্রদানের জন্য নারীদের কথা পৃথকভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও কুরআনের অধিকাংশ সম্বোধন পুরুষের প্রতি হয়ে থাকে এবং নারীরা তাদের অনুগামী হয়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ}, {হে মানবজাতি}, {নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে}, {মুমিনরা তো পরস্পর ভাই}, {আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন} ইত্যাদি। তবে এখানে সবার ক্ষেত্রে এই নিষিদ্ধতার কঠোরতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নারীদের বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আবার বলা হয়েছে: বরং নারীদের কথা পৃথকভাবে উল্লেখ করা হয়েছে কারণ তাদের মধ্যে উপহাস করার প্রবণতা বেশি; শাওকানি এটি উল্লেখ করেছেন(2)।

আলেমগণ উল্লেখ করেছেন যে, সম্প্রদায় (قوم) শব্দটি মূলত পুরুষদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট(3)। যুহাইর বিন আবি সুলমার এই উক্তিটি এর প্রমাণ প্রদান করে(4):

আমি জানি না, আর আমি মনে করি না যে আমি জানি... আলে হিসন কি কোনো পুরুষ সম্প্রদায় (قوم) নাকি নারী?(5)

 

‌‌দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: শাব্দিক অর্থে উপহাসের (السخرية) সংজ্ঞা এবং মুফাসসির ও অন্যান্য আলেমদের দৃষ্টিতে এর তাৎপর্য

‌‌প্রথমত: শাব্দিক অর্থে উপহাস (السخرية):

উপহাস (السخرية) হলো বিদ্রূপ করা। বলা হয়ে থাকে: সে তাকে নিয়ে উপহাস করেছে (সখারা, সাখারা, মাসখারা, সুখরা, সুখরাহ, সিখরিয়্যা, সুখরিয়্যা, সুখরিয়্যাহ)। অর্থাৎ সে তাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে(6)।

ফাররা বলেন: 'সখিরতু মিনহু' বলা হয়, 'সখিরতু বিহি' বলা হয় না। তিনি দলীল হিসেবে মহান আল্লাহর এই বাণী পেশ করেছেন: {কোনো সম্প্রদায় (قوم) যেন অন্য কোনো সম্প্রদায়কে উপহাস না করে} [আল-হুজুরাত: ১১], এবং মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর তারা তাদের উপহাস করে, আল্লাহও তাদের উপহাস করেন} [আত-তাওবাহ: ৭৯], এবং তাঁর বাণী: {যদি তোমরা আমাদের উপহাস করো, তবে আমরাও তোমাদের উপহাস করব} [হুদ: ৩৮](7).

--------------------------------------------

(1) দেখুন: ইবনে কাসীর প্রণীত তাফসীরুল কুরআন (৭/ ৩৭৬)।

(2) দেখুন: শাওকানি প্রণীত ফাতহুল কাদীর (৫/ ৬৫)।

(3) দেখুন: যামাখশারী প্রণীত আল-কাশশাফ (৪/ ১২১), কুরতুবী প্রণীত আল-জামি লি আহকামিল কুরআন (১৬/ ৩২৫), এবং ইবনে আশুর প্রণীত আত-তাহরীর ওয়াত-তানবীর (২৬/ ২৪৭)।

(4) তিনি হলেন যুহাইর বিন আবি সুলমা রাবীআ বিন রাবাহ আল-মুযানী, মুদার গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। তিনি জাহেলী যুগের কবিদের মধ্যে প্রজ্ঞাবান কবি ছিলেন। তিনি মদীনার পার্শ্ববর্তী মুযাইনা অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন এবং নজদ ভূখণ্ডের হাজিরে বসবাস করতেন। তিনি এক মাসে একটি কাসিদা রচনা করতেন এবং এক বছর ধরে তার পরিমার্জন করতেন, এজন্য তার কাসিদাগুলোকে 'হাওলিয়্যাত' বলা হতো। দেখুন: আল-আলাম (২/ ৫২)।

(5) এটি কুরতুবী আল-জামি লি আহকামিল কুরআন ১৬/ ৩২৫-এ এবং আবু হাইয়ান আল-বাহরুল মুহীত ৯/ ৫১৭-এ উল্লেখ করেছেন।

(6) দেখুন: তাহযীবুল লুগাহ (৭/ ১৬৭), মূল শব্দ: "সখর" (سخر), আল-জামি লি আহকামিল কুরআন (১৬/ ৩২৪), এবং লিসানুল আরব (৪/ ৩৫২), মূল শব্দ: "সখর" (سخر)।

(7) দেখুন: লিসানুল আরব (৪/ ৩৫৩), মূল শব্দ: "সখর" (سخر), এবং আস-সিহাহ (২/ ৬৭৯), মূল শব্দ: "সখর" (سخر)।
(খণ্ড: ১৩৯) আল-মানহিয়াতু ফি সূরাতিল হুজুরাত (পৃষ্ঠা: ৭৭)
وحكى الجوهري(1)، عن أبي زيد(2): سخرت به، وهو أردأ اللغتين.

وقال الأخفش(3): سخرت منه، وسخرت به، وضحكت منه، وضحكت به، وهزءت منه، وهزئت به، كل يقال(4).

 

‌‌ثانيا: السخرية في أقوال المفسرين وغيرهم

لقد تكلم المفسرون على المعنى المراد بقوله: {لا يسخر قوم من قوم} فمن أقوالهم:

1 - قال مجاهد: هو سخرية الغني بالفقير.

2 - وقال ابن زيد: لا يسخر من ستر الله ذنوبه ممن كشفه الله.

3 - قال الطبري بعد إيراد القولين السابقين: «والصواب من القول في ذلك عندي أن يقال: إن الله عم بنهيه المؤمنين أن يسخر بعضهم من بعض جميع معاني السخرية، فلا يحل لمؤمن أن يسخر من مؤمن لا لفقره، ولا لذنب ركبه، ولا لغير ذلك»(5).

--------------------------------------------

(1) هو إسماعيل بن حماد الجوهري، أبو نصر، لغوي، من الأئمة، أشهر كتبه الصحاح، وله العروض، سافر إلى الحجاز، وطاف البادية، ثم رجع إلى خراسان، وأقام بنيسابور، حاول الطيران فمات بسبب ذلك سنة (393 هـ). انظر: الأعلام (1/ 213).

(2) هو سعيد بن أوس بن ثابت الأنصاري، أحد أئمة اللغة، والأدب، ولد سنة (115 هـ)، كان من ثقات اللغويين، ويرى رأي القدرية، له كتاب النوادر في اللغة، والهمز، ولغات القرآن، مات بالبصرة سنة (215 هـ). انظر: الأعلام (3/ 92).

(3) هو سعيد بن مسعدة المجاشعي بالولاء، البلخي ثم البصري، المعروف بالأخفش الأوسط، نحوي عالم باللغة والأدب، أخذ عن سيبويه، وألف معاني القرآن، والاشتقاق، وغيرهما، مات سنة (215 هـ). انظر: الأعلام (3/ 101).

(4) انظر: الصحاح للجوهري (2/ 679)، مادة: "سخر".

(5) انظر: جامع البيان للطبري (26/ 131)، والجامع لأحكام القرآن للقرطبي (16/ 325).
জাওহারি(১) আবু জাইদ(২) থেকে বর্ণনা করেছেন: "সখরত বিহি" (আমি তাকে উপহাস করেছি); আর এটি হলো দুটি ভাষারীতির মধ্যে নিম্নতর।

আখফাশ(৩) বলেছেন: "সখরত মিনহু" এবং "সখরত বিহি", "দহিকতু মিনহু" এবং "দহিকতু বিহি", "হাজা'তু মিনহু" এবং "হাজা'তু বিহি"—সবগুলোই বলা হয়ে থাকে(৪)।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: মুফাসসির ও অন্যদের বক্তব্যে উপহাসের বর্ণনা

মুফাসসিরগণ মহান আল্লাহর বাণী: {কেউ যেন কাউকে উপহাস না করে} এর উদ্দিষ্ট অর্থ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। তাঁদের কিছু উক্তি হলো:

১ - মুজাহিদ বলেছেন: এটি হলো দরিদ্রের প্রতি ধনীর উপহাস।

২ - ইবনে জাইদ বলেছেন: আল্লাহ যার গুনাহসমূহ গোপন রেখেছেন, সে যেন এমন ব্যক্তিকে উপহাস না করে যার গুনাহসমূহ আল্লাহ প্রকাশ করে দিয়েছেন।

৩ - তাবারী পূর্বোক্ত দুটি মত উল্লেখ করার পর বলেন: «এ বিষয়ে আমার নিকট সঠিক বক্তব্য হলো—আল্লাহ মুমিনদের একে অপরকে উপহাস করা থেকে নিষেধ করার মাধ্যমে উপহাসের সকল প্রকারকেই অন্তর্ভুক্ত করেছেন। সুতরাং একজন মুমিনের জন্য অন্য কোনো মুমিনকে উপহাস করা বৈধ নয়; চাই তা দারিদ্র্যের কারণে হোক, কিংবা কোনো পাপের কারণে হোক, অথবা অন্য কোনো কারণে হোক»(৫)।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন ইসমাইল ইবনে হাম্মাদ আল-জাওহারি, আবু নাসর; একজন ভাষাবিদ এবং ইমামগণের অন্তর্ভুক্ত। তাঁর প্রসিদ্ধ গ্রন্থগুলোর মধ্যে 'আস-সিহাহ' অন্যতম। তিনি 'আল-আরুজ' বিষয়েও গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি হিজাজ সফর করেন এবং মরু অঞ্চলে পরিভ্রমণ করেন। এরপর তিনি খোরাসানে ফিরে আসেন এবং নিশাপুরে বসবাস করেন। তিনি উড্ডয়নের চেষ্টা করতে গিয়ে ৩৯৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: আল-আলাম (১/২১৩)।

(২) তিনি হলেন সাঈদ ইবনে আউস ইবনে সাবিত আল-আনসারি, ভাষা ও সাহিত্যের অন্যতম ইমাম। তিনি ১১৫ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ভাষাবিদদের মধ্যে নির্ভরযোগ্য (ثقات) ছিলেন এবং কাদারিয়া মতাদর্শ পোষণ করতেন। ভাষা, হামজ এবং কুরআনের ভাষা নিয়ে তাঁর 'কিতাবুন নাওয়াদির' রয়েছে। তিনি ২১৫ হিজরিতে বসরায় মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: আল-আলাম (৩/৯২)।

(৩) তিনি হলেন সাঈদ ইবনে মাসআদাহ আল-মুজাশিয়ী (আযাদকৃত দাস), বলখী ও পরবর্তীতে বসরী। তিনি 'আখফাশ আল-আওসাত' নামে পরিচিত। তিনি একজন ব্যাকরণবিদ এবং ভাষা ও সাহিত্যে বিজ্ঞ ছিলেন। তিনি সিবওয়াইহ-এর নিকট শিক্ষালাভ করেছেন এবং 'মাআনী আল-কুরআন', 'আল-ইশতিকাক' সহ অন্যান্য গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি ২১৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: আল-আলাম (৩/১০১)।

(৪) দেখুন: জাওহারির আস-সিহাহ (২/৬৭৯), মূল ধাতু: "স-খ-র"।

(৫) দেখুন: তাবারির জামিউল বায়ান (২৬/১৩১), এবং কুরতুবির আল-জামিউ লি আহকামিল কুরআন (১৬/৩২৫)।
(খণ্ড: ১৩৯) আল-মানহিয়াতু ফি সূরাতিল হুজুরাত (পৃষ্ঠা: ৭৮)
قلت: وهذا هو القول الصواب في تفسير هذه الآية.

هذا ما يتعلق بأقوال المفسرين في الآية التي نحن بصددها، وقد تناول العلماء تعريف السخرية، والمراد بها مطلقا، فمن ذلك:

1 - ما عرفها به الغزالي في الإحياء، حيث قال: السخرية هي الاستحقار والاستهانة، والتنبيه على العيوب والنقائص بوجه يضحك منه، وقد تكون بالمحاكاة بالفعل والقول، وقد يكون بالإشارة أو الإيماء(1).

2 - وعرفها بعضهم: بأنها ذكر الشخص بما يكره على وجه مضحك بحضرته(2).

3 - واختار الألوسي: أنها احتقار الشخص قولا أو فعلا على وجه مضحك(3).

 

‌‌المطلب الثالث: حكم السخرية، وما ورد مني النهي عنها

‌‌أولا: حكم السخرية:

السخرية محرمة بإجماع أهل العلم، وكبيرة من كبائر الذنوب، يجب على المسلم تجنبها، والحذر منها، وهي من صفات المنافقين والكافرين(4).

--------------------------------------------

(1) انظر: الإحياء (3/ 131).

(2) ذكره الألوسي في روح البيان (25/ 152).

(3) انظر: المرجع السابق بنفس الجزء والصفحة.

(4) وقد حكى الهيثمي في الزواجر (2/ 33) الإجماع على تحريم ذلك، ونص على التحريم القاسمي في محاسن التأويل (15/ 5458).
আমি বলছি: এই আয়াতের তাফসিরের ক্ষেত্রে এটাই সঠিক অভিমত।

আমরা যে আয়াতটি নিয়ে আলোচনা করছি, সে সম্পর্কে মুফাসসিরগণের অভিমতসমূহ হলো এগুলোই। ওলামায়ে কেরাম উপহাসের সংজ্ঞা এবং সাধারণভাবে এর দ্বারা কী উদ্দেশ্য তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

১ - ইমাম গাযালি ইহয়াউ উলুমিদ দ্বীন গ্রন্থে যে সংজ্ঞা দিয়েছেন; তিনি বলেছেন: উপহাস হলো তুচ্ছতাচ্ছিল্য ও অবজ্ঞা করা এবং এমনভাবে কারো দোষ-ত্রুটির প্রতি ইঙ্গিত করা যা হাসির উদ্রেক করে। এটি কাজ বা কথার অনুকরণের মাধ্যমে হতে পারে, আবার সংকেত বা ইশারার মাধ্যমেও হতে পারে(১)।

২ - কেউ কেউ এর সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে যে: কারো উপস্থিতিতে তাকে নিয়ে এমন কিছু উল্লেখ করা যা সে অপছন্দ করে এবং যা হাসির উদ্রেক করে(২)।

৩ - আল্লামা আলুসি এই মতটি গ্রহণ করেছেন যে: উপহাস হলো কথা বা কাজের মাধ্যমে কাউকে এমনভাবে তুচ্ছজ্ঞান করা যা হাসির উদ্রেক করে(৩)।

 

‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ: উপহাসের বিধান এবং এ বিষয়ে বর্ণিত নিষেধাজ্ঞা

‌‌প্রথমত: উপহাসের বিধান:

ওলামায়ে কেরামের ঐকমত্যের (إجماع) ভিত্তিতে উপহাস করা হারাম, এবং এটি কবিরা গুনাহসমূহের অন্তর্ভুক্ত। একজন মুসলিমের জন্য এটি বর্জন করা এবং এ থেকে সতর্ক থাকা আবশ্যক। এটি মুনাফিক ও কাফিরদের বৈশিষ্ট্য(৪)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইহয়াউ উলুমিদ দ্বীন (৩/ ১৩১)।

(২) আলুসি এটি রুহুল বায়ান (২৫/ ১৫২) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

(৩) দেখুন: পূর্বোক্ত উৎস, একই খণ্ড ও পৃষ্ঠা।

(৪) আল-হাইতামি আজ-জাওয়াজির (২/ ৩৩) গ্রন্থে এটি হারাম হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য (إجماع) বর্ণনা করেছেন এবং কাসিমি মাহাসিনুত তাবিল (১৫/ ৫৪৫৮) গ্রন্থে এর নিষিদ্ধতার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।