(খণ্ড: ১)
মান ওয়াফাকাত কুনইয়াতুহু কুনইয়াতা যাওজিহি লিইবনি হাইয়াওয়াইহি
(পৃষ্ঠা: -)
من وافقت كنيته كنية زوجه لابن حيويه القسم: كتب السنة
الكتاب: من وافقت كنيته كنية زوجه من الصحابة
المؤلف: أبو الحسن محمد بن عبد الله بن زكريا بن حَيَّوَيْهِ النيسابوري ثم المصري الشافعي (ت 366هـ)
ضبط نصها وعلق عليها وخرج أحاديثها: مشهور حسن محمود سلمان
الناشر: دار ابن القيم للنشر والتوزيع، الدمام - المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1409 هـ - 1988 م
عدد الصفحات: 95
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইবনে হাইয়ুওয়াইহ-এর সংকলিত যাঁদের উপনাম তাঁদের স্ত্রীর উপনামের সাথে মিলে গেছে বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ
গ্রন্থ: সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে যাঁদের উপনাম তাঁদের স্ত্রীর উপনামের অনুরূপ
গ্রন্থকার: আবুল হাসান মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন জাকারিয়া বিন হাইয়ুওয়াইহ আন-নিসাবুরি অতঃপর আল-মিসরি আশ-শাফিয়ি (মৃত্যু: ৩৬৬ হিজরি)
মূলপাঠ বিন্যাস, টীকা সংযোজন এবং হাদিস তাহকীক করেছেন: মাশহুর হাসান মাহমুদ সালমান
প্রকাশক: দার ইবনিল কায়্যিম প্রকাশনা ও বিতরণ, দাম্মাম - সৌদি আরব রাজ্য
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৯ হিজরি - ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৫
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মান ওয়াফাকাত কুনইয়াতুহু কুনইয়াতা যাওজিহি লিইবনি হাইয়াওয়াইহি
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
أَبُو أَيُّوبَ الْأَنْصَارِيُّ خَالِدُ بْنُ زَيْدٍ
আবু আইয়ুব আল-আনসারী খালিদ বিন যায়িদ
(খণ্ড: ১)
মান ওয়াফাকাত কুনইয়াতুহু কুনইয়াতা যাওজিহি লিইবনি হাইয়াওয়াইহি
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْإِمَامُ الْعَالِمُ الْعَدْلُ عِزُّ الدِّينِ أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَوَاحَةَ الْأَنْصَارِيُّ بِقَرَاءَتِي عَلَيْهِ، وَذَلِكَ يَوْمَ الْأَحَدِ ثَالِثَ عَشَرَ مِنْ صَفَرٍ سَنَةَ سَبْعٍ وَسِتِّمِائَةٍ بِمَدِينَةِ حَلَبٍ قُلْتُ لَهُ: أَخْبَرَكُمْ الْإِمَامُ الْحَافِظُ شَيْخُ الْإِسْلَامِ أَبُو طَاهِرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ السَّلَفِيُّ الْأَصْبَهَانِيُّ رحمه الله قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنْتُمْ تَسْمَعُونَ فَأَقَّرَ بِهِ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو صَادِقٍ مُرْشِدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ الْقَاسِمِ الْمَدِينِيُّ بِقَرَاءَتِي عَلَيْهِ بِمِصْرَ فِي صَفَرٍ سَنَةَ سِتَّ عَشْرَةَ وَخَمْسِ مِائَةٍ قَالَ: أَنْبَأَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُنِيرِ بْنِ أَحْمَدَ الْخَلَّالُ فِي إِجَازَتِهِ سَنَةَ خَمْسٍ وَثَلَاثِينَ وَأَرْبَعِمِائَةٍ أَنْبَأَ أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَكَرِيَّا بْنِ حَيَّوَيْهِ النَّيْسَابُورِيُّ قَالَ: هَذَا كِتَابٌ ذَكَرْنَا فِيهِ جَمَاعَةَ رِجَالٍ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَافَقَتْ كُنَاهُمْ كُنَى أَزْوَاجِهم، فَمِنْ أَزَوَاجِهِمْ مَنْ لَهَا صُحْبَةٌ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَمِنْهُمْ مَنْ لَا صُحْبَةَ لَهَا، وَمِنْهُنَّ مَنْ كَانَتْ مُقِيمَةً فِي عَقْدِ نِكَاحِ زَوْجِهَا وَمِنْهُنَّ مَنْ طَلَّقَهَا زَوْجُهَا وَخَلَفَ غَيْرُهُ عَلَيْهَا، وَمِنْهُنَّ الْمَذْكُورَةُ فِي رِوَايَتِهَا لِحَدِيثِهَا، وَمِنْهُنَّ مَنْ جَاءَ ذِكْرِهُا فِي رِوَايَةِ غَيْرِهَا، وَمَا وَصَفْنَاهُ مِنْ حَالِهِنَّ فَهُوَ مَوْجُودٌ فِيمَا ذُكِرَ مِنْ حَدِيثِهِنَّ، ⦗ص: 38⦘ أخبرنا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَعْيَنَ الْبَغْدَادِيُّ، ثنا عَمْرُو بْنُ مَرْزُوقٍ، أَنْبَأَ شُعْبَةُ، عَنْ عَوْنِ بْنِ أَبِي جُحَيْفَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الْأَنْصَارِيِّ، ⦗ص: 39⦘ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم سَمِعَ صَوْتًا عِنْدَ الْمَغْرِبِ، أَوْ قَالَ: عِنْدَ مُغَيْرِبَانِ الشَّمْسِ، فَقَالَ: «هَذِهِ الْيَهُودُ تُعَذَّبُ فِي قُبُورِهَا»
শেখ, ইমাম, বিজ্ঞ ও ন্যায়পরায়ণ আলিম ইযযুদ্দীন আবুল কাসিম আবদুল্লাহ ইবনে আল-হুসাইন ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা আল-আনসারী আমার নিকট তাঁর সামনে পাঠের মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন। আর এটি ছিল ৬০৭ হিজরী সনের ১৩ই সফর রবিবার, হালাব শহরে। আমি তাঁকে বললাম: ইমাম, হাফিয, শাইখুল ইসলাম আবু তাহির আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে ইবরাহিম আস-সালাফী আল-আসফাহানি (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর সামনে পাঠ করার মাধ্যমে আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন এমতাবস্থায় যে আপনারা তা শ্রবণ করছিলেন, এরপর তিনি তা স্বীকার করেছেন। তিনি বললেন: আবু সাদিক মুরশিদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আল-কাসিম আল-মাদিনী ৫১৬ হিজরী সনের সফর মাসে মিশরে আমার তাঁর সামনে পাঠ করার মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বললেন: আবুল হাসান আলী ইবনে মুনীর ইবনে আহমাদ আল-খাল্লাল ৪৩৫ হিজরী সনে তাঁর ইজাযত প্রদানের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আবুল হাসান মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে যাকারিয়া ইবনে হাইয়্যওয়াহ আন-নিশাপুরী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: এটি এমন একটি কিতাব যাতে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল সাহাবীর কথা উল্লেখ করেছি, যাদের উপনামসমূহ তাঁদের স্ত্রীদের উপনামের সাথে মিলে যায়। তাঁদের স্ত্রীদের মধ্যে কেউ ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্যে ধন্য, আবার কারো সাহাবী হওয়ার মর্যাদা ছিল না। তাঁদের মধ্যে কেউ ছিলেন তাঁর স্বামীর বিবাহবন্ধনে অবিচল, আবার কারো স্বামী তাঁকে তালাক প্রদান করেছিলেন এবং তাঁর পরে অন্য কেউ তাঁর সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে কারো উল্লেখ রয়েছে তাঁর নিজের বর্ণিত হাদীসে, আবার কারো উল্লেখ এসেছে অন্যদের বর্ণনায়। আমরা তাঁদের অবস্থা সম্পর্কে যা বর্ণনা করেছি, তা তাঁদের বর্ণিত হাদীসসমূহে বিদ্যমান রয়েছে। ⦗পৃষ্ঠা: ৩৮⦘ মুহাম্মাদ ইবনে জাফর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আয়ান আল-বাগদাদী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমর ইবনে মারজুক আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, শু'বাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আওন ইবনে আবি জুহাইফাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি বারা ইবনে আযিব থেকে এবং তিনি আবু আইয়ুব আল-আনসারী থেকে বর্ণনা করেন যে, ⦗পৃষ্ঠা: ৩৯⦘ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাগরিবের সময়, অথবা তিনি বলেছেন: সূর্যাস্তের সময় একটি আওয়াজ শুনতে পেলেন। তখন তিনি বললেন: "এই ইহুদিদের তাদের কবরে আযাব দেওয়া হচ্ছে।"
(খণ্ড: ১)
মান ওয়াফাকাত কুনইয়াতুহু কুনইয়াতা যাওজিহি লিইবনি হাইয়াওয়াইহি
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
أُمُّ أَيُّوبَ الْأَنْصَارِيَّةُ: زَوْجُ أَبِي أَيُّوبَ
উম্মু আইয়ুব আল-আনসারিয়া: আবু আইয়ুবের স্ত্রী
(খণ্ড: ১)
মান ওয়াফাকাত কুনইয়াতুহু কুনইয়াতা যাওজিহি লিইবনি হাইয়াওয়াইহি
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
أَخْبَرَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْعَبَّاسِ الْبَصْرِيُّ، أَنْبَأَ الْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ، ثنا سُفْيَانُ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي يَزِيدَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أُمِّ أَيُّوبَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: ⦗ص: 40⦘ «نَزَلَ الْقُرْآنُ عَلَى سَبْعَةِ أَحْرُفٍ، أَيُّمَا قَرَأْتَ أَصَبْتَ»
আব্বাস ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্বাস আল-বাসরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-হারিস ইবনে মিসকিন আমাদের অবহিত করেছেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উবায়দুল্লাহ ইবনে আবি ইয়াজিদ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি উম্মু আইয়ুব থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৪০⦘ «কুরআন সাতটি পদ্ধতিতে অবতীর্ণ হয়েছে, তুমি এর যে কোনো পদ্ধতিতেই পাঠ করো না কেন, তুমি সঠিক হবে।»
(খণ্ড: ১)
মান ওয়াফাকাত কুনইয়াতুহু কুনইয়াতা যাওজিহি লিইবনি হাইয়াওয়াইহি
(পৃষ্ঠা: ৪১)
أَبُو أُسَيْدٍ السَّاعِدِيُّ: مَالِكُ بْنُ رَبِيعَةَ الْأَنْصَارِيُّ
আবু উসাইদ আস-সাঈদী: মালিক ইবনে রাবিআহ আল-আনসারী
(খণ্ড: ১)
মান ওয়াফাকাত কুনইয়াতুহু কুনইয়াতা যাওজিহি লিইবনি হাইয়াওয়াইহি
(পৃষ্ঠা: ৪১)
أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَحْمَدُ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ عَلِيٍّ النَّسَائِيُّ، أنا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ، ثنا شُعْبَةُ، قَالَ: سَمِعْتُ قَتَادَةَ، يُحَدِّثُ عَنْ أَنَسٍ، عَنْ أَبِي أُسَيْدٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «خَيْرُ دُورِ الْأَنْصَارِ بَنُو النَّجَّارِ، ثُمَّ بَنُو عَبْدِ الْأَشْهَلِ، ثُمَّ بَنُو الْحَارِثِ بْنِ الْخَزْرَجِ، ثُمَّ بَنُو سَاعِدَةَ، وَفِي كُلِّ دُورِ الْأَنْصَارِ خَيْرٌ» ⦗ص: 42⦘ فَقَالَ سَعْدٌ: مَا أَرَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَّا قَدْ فَضَّلَ عَلَيْنَا فَقِيلَ: قَدْ فَضَّلَكُمْ عَلَى كَثِيرٍ
আবু আবদুর রহমান আহমদ ইবনে শুয়াইব ইবনে আলী আন-নাসায়ী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে জাফর থেকে, শুবা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি কাতাদাহকে আনাস (রা.) থেকে আবু উসায়েদ (রা.)-এর সূত্রে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আনসারদের ঘরগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম হলো বনু নাজ্জার, অতঃপর বনু আবদিল আশহাল, অতঃপর বনু হারিস ইবনুল খাজরাজ, অতঃপর বনু সায়িদাহ। আর আনসারদের সকল ঘরের মধ্যেই কল্যাণ রয়েছে» ⦗পৃষ্ঠা: ৪২⦘ অতঃপর সাদ (রা.) বললেন: "আমি তো দেখছি যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের ওপর অন্যদেরই প্রাধান্য দিয়েছেন।" তখন বলা হলো: "তিনি তো আপনাদের অনেকের ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন।"
(খণ্ড: ১)
মান ওয়াফাকাত কুনইয়াতুহু কুনইয়াতা যাওজিহি লিইবনি হাইয়াওয়াইহি
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
أُمُّ أُسَيْدٍ الْأَنْصَارِيَّةُ: زَوْجُ أَبِي أُسَيْدٍ
উম্মু উসায়েদ আল-আনসারিয়্যাহ: আবু উসায়েদের স্ত্রী
(খণ্ড: ১)
মান ওয়াফাকাত কুনইয়াতুহু কুনইয়াতা যাওজিহি লিইবনি হাইয়াওয়াইহি
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ يُونُسَ الْبَغْدَادِيُّ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فِرَاسٍ أَبُو هُرَيْرَةَ الصَّيْرَفِيُّ بِالْبَصْرَةِ ثَنَا أَبُو قُتَيْبَةَ يَعْنِي سَلْمَ بْنَ قُتَيْبَةَ، ثنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو حَازِمٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، أَنَّ أَبَا أُسَيْدٍ، صَاحِبَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم تَزَوَّجَ، فَدَعَا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فِي عُرْسِهِ، قَالَ: فَكَانَتِ امْرَأَتُهُ تَقُومُ عَلَيْنَا، وَهِيَ الْعَرُوسُ، فَكَانَتْ تَسْقِينَا بِنَبِيذِ تَمْرٍ، قَدْ أَنْقَعَتْهُ مِنَ اللَّيْلِ، ثُمَّ صَفَّتْهُ
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসহাক ইবনে ইবরাহিম ইবনে ইউনুস আল-বাগদাদি, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে ফিরাত আবু হুরায়রা আস-সাইরাফি বসরায়, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু কুতাইবা অর্থাৎ সালম ইবনে কুতাইবা, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে দিনার, তিনি বলেন: আবু হাযিম আমার নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন সাহল ইবনে সা'দ থেকে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাহাবী আবু উসাইদ বিবাহ করলেন এবং তাঁর বিবাহ অনুষ্ঠানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে দাওয়াত দিলেন। তিনি বলেন: তাঁর স্ত্রী আমাদের খেদমত করছিলেন, অথচ তিনি ছিলেন নববধূ। তিনি আমাদের খেজুরের নাবিয পান করাচ্ছিলেন, যা তিনি রাতে ভিজিয়ে রেখেছিলেন এবং পরে তা ছেঁকে নিয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১)
মান ওয়াফাকাত কুনইয়াতুহু কুনইয়াতা যাওজিহি লিইবনি হাইয়াওয়াইহি
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ: عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُثْمَانَ التَّيْمِيُّ
আবু বকর আস-সিদ্দিক: আবদুল্লাহ বিন উসমান আত-তৈমি
(খণ্ড: ১)
মান ওয়াফাকাত কুনইয়াতুহু কুনইয়াতা যাওজিহি লিইবনি হাইয়াওয়াইহি
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَعْيَنَ، حَدَّثَنَا أَبُو نَصْرٍ التَّمَّارُ، قَالَ ابْنُ أَعْيَنَ: وَثَنا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، ثنا أَبُو نَصْرٍ التَّمَّارُ، حَدَّثَنِي كَوْثَرُ بْنُ حَكِيمٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ سَمِعْتُ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: «مَنِ اغْبَرَّتْ قَدَمَاهُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ حَرَّمَهُمَا اللَّهُ عَلَى النَّارِ»
আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন জাফর বিন মুহাম্মদ বিন আ’ইয়ান বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু নাসর আত-তাম্মার বর্ণনা করেছেন। ইবনুল আ’ইয়ান বলেন: এবং আমাদের নিকট আমর বিন আলী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু নাসর আত-তাম্মার বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমার নিকট কাওসার বিন হাকিম বর্ণনা করেছেন নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আবু বকর আস-সিদ্দিক বলেছেন, আমি আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "যার দুই পা আল্লাহর পথে ধূলিধূসরিত হয়েছে, আল্লাহ সেই পা দুটিকে জাহান্নামের আগুনের জন্য হারাম করে দিয়েছেন।"
(খণ্ড: ১)
মান ওয়াফাকাত কুনইয়াতুহু কুনইয়াতা যাওজিহি লিইবনি হাইয়াওয়াইহি
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
أُمُّ بَكْرٍ: زَوْجُ أَبِي بَكْرٍ
উম্মু বকর: আবু বকরের স্ত্রী
(খণ্ড: ১)
মান ওয়াফাকাত কুনইয়াতুহু কুনইয়াতা যাওজিহি লিইবনি হাইয়াওয়াইহি
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
أَخْبَرَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْعَبَّاسِ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، ثنا عَنْبَسَةُ، ثنا يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ أَنَّهَا كَانَتْ تَدْعُو عَلَى مَنْ يَزْعُمُ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ قَالَ هَذِهِ الْأَبْيَاتَ قَالَتْ عَائِشَةُ: وَاللَّهِ مَا قَالَ أَبُو بَكْرٍ بَيْتَ شِعْرٍ فِي جَاهِلِيَّةٍ، وَلَا فِي إِسْلَامٍ، وَلَقَدْ تَرَكَ هُوَ وَعُثْمَانُ شُرْبَ الْخَمْرِ فِي الْجَاهِلِيَّةِ، وَلَكِنَّ أَبَا بَكْرٍ تَزَوَّجَ امْرَأَةً، يُقَالُ لَهَا: أُمُّ بَكْرٍ، فَطَلَّقَهَا، فَتَزَوَّجَهَا ابْنُ عَمِّهَا، هَذَا الشَّاعِرُ الَّذِي قَالَ هَذِهِ الْأَبْيَاتَ:
[البحر الوافر]
وَمَاذَا بِالْقَلِيبِ قَلِيبِ بَدْرٍ
… مِنَ الشِّيزَى تُزَيَّنُ بِالسَّنَامِ
⦗ص: 48⦘وَمَاذَا بِالْقَلِيبِ قَلِيبِ بَدْرٍ
… مِنَ الْقَيْنَاتِ وَالشَّرْبِ الْكِرَامِ
تَحْيَا بِالسَّلَامَةِ أُمُّ بَكْرٍ
… وَهَلْ لِي بَعْدَ قَوْمِي مِنْ سَلَامِ
⦗ص: 49⦘يُخْبِرُنَا الرَّسُولُ بِأَنْ سَنَحْيَا
… وَكَيْفَ حَيَاةُ أَصْدَاءٍ وَهَامِ
فِي هَذِهِ الرِّوَايَةِ
⦗ص: 50⦘ وَفِي رِوَايَةٍ غَيْرِهَا، لَمْ نَذْكُرْهَا اسْتِغْنَاءً بِمَا ذَكَرْنَاهُ عَنْهَا دَلِيلٌ عَلَى أَنَّ أُمَّ بَكْرٍ هَذِهِ الْمَذْكُورَةَ فِي هَذَا الْحَدِيثِ كَانَتْ زَوْجَ أَبِي بَكْرٍ فِي الْجَاهِلِيَّةِ، لَا فِي الْإِسْلَامِ، فَإِنْ ثَبَتَ ذَلِكَ، وَمَا أَخْلَقَهُ أَنْ يَكُونَ ثَابِتًا، فَلَيْسَتْ دَاخِلَةً فِي الْمَعْنَى الَّذِي قَصَدْنَاهُ، بَلْ هِيَ خَارِجَةٌ مِنْ جُمْلَةِ مَا ذَكَرْنَاهُ، وَعَلَى هَذَا الْحَدِّ ذَكَرْنَاهَا، لَا عَلَى أَنَّهُ صَحَّ عِنْدَنَا إِسْلَامُهَا
আব্বাস বিন মুহাম্মদ বিন আব্বাস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আহমদ বিন সালিহ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন আনবাসাহ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন ইউনুস আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি উরওয়াহ বিন যুবাইর থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে বদদোয়া করতেন যে দাবি করত যে আবু বকর (রা.) এই কবিতাগুলো বলেছিলেন। আয়েশা (রা.) বলেন: আল্লাহর শপথ, আবু বকর জাহেলি যুগে বা ইসলামে কখনো কোনো কবিতার চরণ বলেননি। তিনি এবং উসমান (রা.) জাহেলি যুগেই মদ্যপান বর্জন করেছিলেন। তবে আবু বকর (রা.) উম্মু বকর নামক এক মহিলাকে বিবাহ করেছিলেন, পরে তাকে তালাক দেন। এরপর তার চাচাতো ভাই তাকে বিবাহ করেন, আর সেই ব্যক্তিই হলেন এই কবি যিনি এই কবিতাগুলো বলেছিলেন:
[আল-বাহরুল ওয়াফির ছন্দ]
এবং বদরের সেই কূপে, সেই কূপে কী ছিল?
… ছিল আবলুস কাঠের বড় পাত্র, যা উটের কুঁজ দিয়ে সজ্জিত ছিল।
⦗পৃষ্ঠা: ৪৮⦘এবং বদরের সেই কূপে, সেই কূপে কী ছিল?
… ছিল গায়িকা দাসীগণ এবং সম্মানিত সুরাপায়ীরা।
উম্মু বকর শান্তিতে বেঁচে থাক
… কিন্তু আমার স্বগোত্রীয়দের পর আমার জন্য আর কী শান্তি থাকতে পারে?
⦗পৃষ্ঠা: ৪৯⦘রাসূল আমাদের সংবাদ দেন যে আমরা পুনরায় জীবিত হবো
… কিন্তু জীর্ণ হাড় ও মাথার খুলির জীবন কীভাবে সম্ভব?
এই বর্ণনায়
⦗পৃষ্ঠা: ৫০⦘ এবং অন্য বর্ণনায় (যা আমরা অন্য বর্ণনার ওপর নির্ভর করার কারণে এখানে উল্লেখ করিনি) এর প্রমাণ পাওয়া যায় যে, এই হাদিসে উল্লেখিত উম্মু বকর জাহেলি যুগে আবু বকর (রা.)-এর স্ত্রী ছিলেন, ইসলামে নয়। যদি এটি প্রমাণিত হয়—এবং এটি প্রমাণিত হওয়ারই যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে—তবে তিনি আমাদের উদ্দিষ্ট প্রসঙ্গের অন্তর্ভুক্ত নন, বরং তিনি আমাদের উল্লেখিত বিষয়ের বাইরে। আর আমরা তাকে এই সীমার ভিত্তিতেই উল্লেখ করেছি, আমাদের নিকট তার ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ার কারণে নয়।
(খণ্ড: ১)
মান ওয়াফাকাত কুনইয়াতুহু কুনইয়াতা যাওজিহি লিইবনি হাইয়াওয়াইহি
(পৃষ্ঠা: ৫১)
أَبُو الدَّرْدَاءِ الْأَنْصَارِيُّ: عُوَيْمِرُ بْنُ عَامِرٍ، وَيُقَالُ: عُوَيْمِرُ بْنُ زَيْدٍ
আবু আদ-দারদা আল-আনসারী: উওয়াইমির ইবনে আমির, এবং বলা হয়: উওয়াইমির ইবনে যায়েদ
(খণ্ড: ১)
মান ওয়াফাকাত কুনইয়াতুহু কুনইয়াতা যাওজিহি লিইবনি হাইয়াওয়াইহি
(পৃষ্ঠা: ৫১)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَعْيَنَ، ثنا عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ، وَعَاصِمُ بْنُ عَلِيٍّ، قَالَا: ثنا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ أَبِي عُمَرَ الصِّينِيِّ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، أَنَّهُ كَانَ إِذَا نَزَلَ بِهِ ضَيْفٌ، قَالَ: أَمُقِيمٌ فَلْنُسَرِّحْ، أَمْ ظَاعِنٌ فَلْنَعْلِفْ؟ فَإِنْ قَالَ: ظَاعِنٌ، قَالَ: لَا أَجِدُ شَيْئًا خَيْرًا مِنْ شَيْءٍ أَمَرَ بِهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: جَاءَ نَاسٌ مِنْ أَهْلِ الْفَقْرِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، ذَهَبَ الْأَغْنِيَاءُ بِالْأَجْرِ، يُجَاهِدُونَ وَلَا نُجَاهِدُ، وَيَحُجُّونَ وَلَا نَحُجُّ، ⦗ص: 52⦘ وَيَفْعَلُونَ وَلَا نَفْعَلُ، فَقَالَ: " أَلَا أَدُلُّكُمْ عَلَى مَا إِنْ أَخَذْتُمْ بِهِ أَدْرَكْتُمْ أَوْ: جِئْتُمْ بِأَفْضَلَ مِمَّا يَأْتُونَ بِهِ؟ تُكَبِّرُونَ اللَّهَ أَرْبَعًا وَثَلَاثِينَ، وَتَحْمَدُونَ اللَّهَ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ، وَتُسَبِّحُوا اللَّهَ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلَاةٍ "
মুহাম্মদ ইবনে জাফর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আইয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলি ইবনে জা'দ এবং আসিম ইবনে আলি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেছেন: শু'বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাকাম থেকে, তিনি আবু উমর আস-সিনি থেকে, তিনি আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, যখন তাঁর নিকট কোনো মেহমান আসতেন, তখন তিনি বলতেন: আপনি কি অবস্থান করবেন যাতে আমরা (আপ্যায়নের পশু) চরাতে পাঠাই, নাকি আপনি প্রস্থান করবেন যাতে আমরা (আপনার সওয়ারিকে) ঘাস-খাদ্য দিই? যদি মেহমান বলতেন: প্রস্থান করব, তখন তিনি বলতেন: আমি এমন কোনো কিছুকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রদত্ত নির্দেশের চেয়ে উত্তম মনে করি না। তিনি বলেন: অভাবী লোকেদের মধ্য থেকে কিছু লোক রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! ধনীরা তো সকল সওয়াব নিয়ে গেল; তারা জিহাদ করে কিন্তু আমরা জিহাদ করি না, তারা হজ করে কিন্তু আমরা হজ করি না, ⦗পৃষ্ঠা: ৫২⦘ এবং তারা এমন সব কাজ করে যা আমরা করি না। তখন তিনি বললেন: "আমি কি তোমাদের এমন কিছুর সন্ধান দেব না, যা তোমরা গ্রহণ করলে তাদের সমপর্যায়ে পৌঁছে যাবে অথবা তারা যা নিয়ে আসে তার চেয়েও উত্তম কিছু নিয়ে আসতে পারবে? তোমরা প্রত্যেক সালাতের শেষে চৌত্রিশ বার আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা করবে (আল্লাহু আকবার), তেত্রিশ বার আল্লাহর প্রশংসা করবে (আলহামদুলিল্লাহ) এবং তেত্রিশ বার আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করবে (সুবহানাল্লাহ)।"
(খণ্ড: ১)
মান ওয়াফাকাত কুনইয়াতুহু কুনইয়াতা যাওজিহি লিইবনি হাইয়াওয়াইহি
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
أُمُّ الدَّرْدَاءِ: خَيْرَةُ بِنْتُ أَبِي حَدْرَدٍ الْأَسْلَمِيَّةُ، زَوْجُ أَبِي الدَّرْدَاءِ
উম্মুদ দারদা: খাইরাহ বিনতে আবু হাদরাদ আল-আসলামিয়্যা, আবু দারদার স্ত্রী।
(খণ্ড: ১)
মান ওয়াফাকাত কুনইয়াতুহু কুনইয়াতা যাওজিহি লিইবনি হাইয়াওয়াইহি
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، ثنا الْحَسَنُ بْنُ مُوسَى، ثنا ابْنُ لَهِيعَةَ، ثنا زَبَّانُ، عَنْ سَهْلِ بْنِ مُعَاذٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أُمِّ الدَّرْدَاءِ، أَنَّهُ سَمِعَهَا تَقُولُ: لَقِيَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَقَدْ خَرَجْتُ مِنَ الْحَمَّامِ، فَقَالَ: «مِنْ أَيْنَ يَا أُمَّ الدَّرْدَاءِ؟» ، قُلْتُ: مِنَ الْحَمَّامِ، قَالَ: «وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، مَا مِنَ امْرَأَةٍ تَضَعُ ثِيَابَهَا فِي غَيْرِ بَيْتِ أَحَدٍ مِنْ أُمَّهَاتِهَا، إِلَّا هِيَ هَاتِكَةٌ كُلَّ سِتْرٍ بَيْنَهَا وَبَيْنَ الرَّحْمَنِ عز وجل»
ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আহমাদ ইবনে মানি‘ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, হাসান ইবনে মুসা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইবনে লাহিয়াহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ঝাব্বান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি সাহল ইবনে মুআয থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি উম্মুদ দারদা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি তাঁকে বলতে শুনেছেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার সাথে সাক্ষাৎ করলেন যখন আমি গোসলখানা থেকে বের হয়েছিলাম। তখন তিনি বললেন: «হে উম্মুদ দারদা, তুমি কোথা থেকে আসছো?» আমি বললাম: গোসলখানা থেকে। তিনি বললেন: «সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, কোনো নারী যদি তার মায়েদের কারো ঘর ব্যতীত অন্য কোনো স্থানে তার পোশাক খোলে, তবে সে তার এবং রহমান আযযা ওয়া জাল্লা-র মাঝখানের সমস্ত পর্দা ছিন্ন করে ফেলল।»
(খণ্ড: ১)
মান ওয়াফাকাত কুনইয়াতুহু কুনইয়াতা যাওজিহি লিইবনি হাইয়াওয়াইহি
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
أَبُو الدَّحْدَاحِ الْأَنْصَارِيُّ وَأُمُّ الدَّحْدَاحِ: زَوْجُ أَبِي الدَّحْدَاحِ
আবু দাহদাহ আল-আনসারী ও উম্মুদ দাহদাহ: আবু দাহদাহের স্ত্রী
(খণ্ড: ১)
মান ওয়াফাকাত কুনইয়াতুহু কুনইয়াতা যাওজিহি লিইবনি হাইয়াওয়াইহি
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
حَدَّثَنَا عَمِّي أَبُو زَكَرِيَّا يَحْيَى بْنُ زَكَرِيَّا بْنِ حَيَّوَيْهِ النَّيْسَابُورِيُّ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ مُعَاوِيَةَ بْنِ مَالِجٍ، ثنا خَلَفُ بْنُ خَلِيفَةَ، عَنْ حُمَيْدٍ الْأَعْرَجِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ: ⦗ص: 60⦘ لَمَّا نَزَلَتْ: {مَنْ ذَا الَّذِي يُقْرِضُ اللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا} [البقرة: 245] ، قَالَ أَبُو الدَّحْدَاحِ: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَإِنَّ اللَّهَ يُرِيدُ مِنَّا الْقَرْضَ؟ قَالَ: «نَعَمْ يَا أَبَا الدَّحْدَاحِ» ، قَالَ: أَرِنِي يَدَكَ، قَالَ: فَنَاوَلَهُ، قَالَ: فَإِنِّي أَقْرَضْتُ رَبِّي حَائِطًا لِي فِيهِ سِتُّمِائَةِ نَخْلَةٍ ثُمَّ جَاءَ يَمْشِي حَتَّى أَتَى الْحَائِطَ، وَأُمُّ الدَّحْدَاحِ فِيهِ وَعِيَالُهَا، فَنَادَاهَا: يَا أُمَّ الدَّحْدَاحِ، قَالَتْ: لَبَّيْكَ قَالَ: اخْرُجِي، قَدْ أَقْرَضْتُ رَبِّي حَائِطًا فِيهِ سِتُّمِائَةِ نَخْلَةٍ
আমাদের নিকট আমার চাচা আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া বিন যাকারিয়া বিন হাইয়্যাওয়াইহ আন-নাইসাবুরী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন মুআবিয়া বিন মালিজ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট খালাফ বিন খালিফা বর্ণনা করেছেন, হুমাইদ আল-আরাজ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন আল-হারিস থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৬০⦘ যখন অবতীর্ণ হলো: {কে সে, যে আল্লাহকে উত্তম ঋণ দান করবে} [আল-বাকারা: ২৪৫], তখন আবু আদ-দাহদাহ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ কি সত্যিই আমাদের নিকট ঋণ চান? তিনি বললেন: «হ্যাঁ, হে আবু আদ-দাহদাহ»। তিনি বললেন: আপনার হাত আমাকে দেখান। রাবী বলেন: তিনি তাঁকে নিজের হাত বাড়িয়ে দিলেন। তিনি বললেন: আমি আমার প্রতিপালককে আমার এমন একটি বাগান ঋণ হিসেবে প্রদান করলাম যাতে ছয়শত খেজুর গাছ রয়েছে। অতঃপর তিনি হেঁটে বাগানটির নিকট আসলেন, তখন উম্মু আদ-দাহদাহ ও তাঁর সন্তানরা বাগানের ভেতরে ছিলেন। তিনি তাঁকে ডেকে বললেন: হে উম্মু আদ-দাহদাহ! তিনি উত্তর দিলেন: আমি উপস্থিত। তিনি বললেন: বের হয়ে আসো, আমি আমার প্রতিপালককে এমন এক বাগান ঋণ দিয়েছি যাতে ছয়শত খেজুর গাছ রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
মান ওয়াফাকাত কুনইয়াতুহু কুনইয়াতা যাওজিহি লিইবনি হাইয়াওয়াইহি
(পৃষ্ঠা: ৬৩)
أَبُو ذَرٍّ الْغِفَارِيُّ: جُنْدُبُ بْنُ جُنَادَةَ، وَيُقَالُ: جُنْدُبُ بْنُ سَكَنٍ، وَيُقَالُ: بَرِيرُ بْنُ جُنَادَةَ، وَيُقَالُ: بَرِيرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ
আবু যার আল-গিফারি: জুনদুব ইবনে জুনাদাহ, এবং বলা হয়: জুনদুব ইবনে সাকান, এবং বলা হয়: বারীর ইবনে জুনাদাহ, এবং বলা হয়: বারীর ইবনে আব্দুল্লাহ
(খণ্ড: ১)
মান ওয়াফাকাত কুনইয়াতুহু কুনইয়াতা যাওজিহি লিইবনি হাইয়াওয়াইহি
(পৃষ্ঠা: ৬৩)
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ جَعْفَرٍ أَبُو الْعَلَاءِ الْكُوفِيُّ، ثنا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، ثنا عَبْثَرُ أَبُو زُبَيْدٍ، عَنْ مُطَرِّفٍ، عَنْ أَبِي الْجَهْمِ، عَنْ خَالِدِ بْنِ وُهْبَانَ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «كَيْفَ أَنْتَ، وَقَدِ اسْتُؤْثِرَ عَلَيْكَ بِالْفَيْءِ؟» قَالَ: فَقُلْتُ: إِذًا آخَذَ سَيْفِي، فَأَجْلِدَهُمْ بِهِ حَتَّى أَلْحَقَ بِكَ قَالَ: «فَأَدُلُّكَ عَلَى خَيْرٍ مِنْ ذَلِكَ، تَصْبِرُ حَتَّى تَلْقَانِي»
মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে জাফর আবুল আলা আল-কুফি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, উসমান ইবনে আবি শায়বাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবসার আবু জুবাইদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মুতাররিফ থেকে, তিনি আবু জাহাম থেকে, তিনি খালিদ ইবনে উহবান থেকে, তিনি আবু যার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «তোমার অবস্থা কেমন হবে যখন ফায়-এর (বিনা যুদ্ধে প্রাপ্ত সম্পদ) ক্ষেত্রে তোমাকে বঞ্চিত করে অন্যদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে?» তিনি বলেন: আমি বললাম: তখন আমি আমার তলোয়ার ধারণ করব এবং তা দিয়ে তাদের আঘাত করতে থাকব যতক্ষণ না আপনার সাথে মিলিত হই। তিনি বললেন: «আমি কি তোমাকে এর চেয়ে উত্তম কিছুর পথ দেখাব না? তা হলো তুমি ধৈর্য ধারণ করবে যতক্ষণ না আমার সাথে তোমার সাক্ষাৎ হয়।»
(খণ্ড: ১)
মান ওয়াফাকাত কুনইয়াতুহু কুনইয়াতা যাওজিহি লিইবনি হাইয়াওয়াইহি
(পৃষ্ঠা: ৬৪)
أُمُّ ذَرٍّ: زَوْجُ أَبِي ذَرٍّ الْغِفَارِيِّ
উম্মু যার: আবু যার আল-গিফারির স্ত্রী
(খণ্ড: ১)
মান ওয়াফাকাত কুনইয়াতুহু কুনইয়াতা যাওজিহি লিইবনি হাইয়াওয়াইহি
(পৃষ্ঠা: ৬৪)
حَدَّثَنَا عَمِّي أَبُو زَكَرِيَّا يَحْيَى بْنُ زَكَرِيَّا بْنِ حَيَّوَيْهِ، ثنا يُوسُفُ بْنُ مُوسَى بْنِ رَاشِدٍ الْقَطَّانُ، ثنا يَحْيَى بْنُ سُلَيْمٍ الطَّائِفِيُّ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ خُثَيْمٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْأَشْتَرِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أُمِّ ذَرٍّ، أَنَّهَا قَالَتْ: لَمَّا حَضَرَ أَبَا ذَرٍّ الْوَفَاةُ، قَالَتْ: بَكَيْتُ، ⦗ص: 65⦘ فَقَالَ: وَمَا يُبْكِيكِ؟ فَقَالَتْ: قُلْتُ: وَمَا لِي لَا أَبْكِي، وَأَنْتَ تَمُوتُ بِفَلَاةٍ مِنَ الْأَرْضِ، وَلَا بُدَّ لِي بِتَغْسِيلِكَ، وَلَيْسَ مَعَنَا ثَوْبٌ يَسَعُكَ كَفَنًا لِي وَلَا لَكَ قَالَ: لَا تَبْكِي وَأَبْشِرِي، فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: «لَا يَمُوتُ بَيْنَ امْرَأَيْنِ مُسْلِمَيْنِ وَلَدَانِ أَوْ ثَلَاثَةٌ فَيَصْبِرَانِ وَيَحْتَسِبَانِ، فَيَرَيَانِ النَّارَ أَبَدًا» ⦗ص: 67⦘ وَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ لِنَفَرٍ أَنَا فِيهِمْ " لَيَمُوتَنَّ رَجُلٌ مِنْكُمْ بِفَلَاةٍ مِنَ الْأَرْضِ يَشْهَدُهُ عِصَابَةٌ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ، وَلَيْسَ مِنْ أُولَئِكَ النَّفَرِ إِلَّا وَقَدْ مَاتَ فِي قَرْيَةٍ وَجَمَاعَةٍ، وَإِنِّي أَنَا الَّذِي أَمُوتُ بِالْفَلَاةِ، وَاللَّهِ مَا كَذَبْتُ وَلَا كَذَبْتُ، فَأَبْصِرِي الطَّرِيقَ قَالَتْ: فَقُلْتُ: أَنِّي وَقَدْ ذَهَبَ الْحَاجُّ، وَتَقَطَّعَتِ الطُّرُقُ، فَقَالَ: انْظُرِي، فَكُنْتُ أَشْتَدُّ إِلَى الْكَثِيبِ، فَأَقُومُ عَلَيْهِ، ثُمَّ أَرْجِعُ إِلَيْهِ فَأُمَرِّضُهُ قَالَتْ: فَبَيْنَمَا أَنَا كَذَلِكَ، إِذْ أَنَا بِرِجَالٍ عَلَى رَوَاحِلِهِمْ، كَأَنَّهُمُ الرَّخَمُ، فَأَلَحْتُ بِثَوْبِي، ⦗ص: 68⦘ فَاحْتَبَلُونِي، فَأَسْرَعُوا إِلَيَّ، وَوَضَعُوا السِّيَاطَ فِي نُحُورِهَا، يَسْتَبِقُونَ إِلَيَّ، فَقَالُوا: مَا لَكِ يَا أَمَةَ اللَّهِ؟ فَقُلْتُ: امْرُؤٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ يَمُوتُ، تُكَفِّنُونَهُ، قَالُوا: وَمَنْ هُوَ؟ قُلْتُ: أَبُو ذَرٍّ، قَالُوا: صَاحِبُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم؟ قُلْتُ: نَعَمْ قَالَتْ: فَفَدَوْهُ بِآبَائِهِمْ وَأُمَّهَاتِهِمْ، وَأَسْرَعُوا إِلَيْهِ، حَتَّى دَخَلُوا عَلَيْهِ، فَسَلَّمُوا عَلَيْهِ، فَرَحَّبَ بِهِمْ، وَقَالَ: أَبْشِرُوا فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: «لَا يَمُوتُ بَيْنَ امْرَأَيْنِ مُسْلِمَيْنِ وَلَدَانِ أَوْ ثَلَاثَةٌ، فَيَصْبِرَانِ وَيَحْتَسِبَانِ، فَيَرَيَانِ النَّارَ أَبَدًا» ، وَسَمِعْتُهُ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ لِنَفَرٍ أَنَا فِيهِمْ: «لَيَمُوتَنَّ رَجُلٌ مِنْكُمْ بِفَلَاةٍ مِنَ الْأَرْضِ، يَشْهَدُهُ عِصَابَةٌ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ» ، وَلَيْسَ مِنْ أُولَئِكَ النَّفَرِ أَحَدٌ إِلَّا وَقَدْ هَلَكَ فِي قَرْيَةٍ وَجَمَاعَةٍ، وَإِنِّي أَنَا الَّذِي أَمُوتُ بِفَلَاةٍ، وَاللَّهِ مَا كَذَبْتُ، ⦗ص: 69⦘ وَلَا كَذَّبْتُ، وَإِنَّهُ لَوْ كَانَ عِنْدِي ثَوْبٌ يَسَعُنِي كَفَنًا، أَوْ لِامْرَأَتِي ثَوْبٌ يَسَعُنِي كَفَنًا لَمْ أُكَفَّنْ إِلَّا فِي ثَوْبٍ هُوَ لِي أَوْ لَهَا، وَإِنِّي أَنْشُدُكُمُ بِاللَّهِ أَنْ لَا يُكَفِّنِّي مِنْكُمْ رَجُلٌ، كَانَ أَمِيرًا وَلَا عَرِيفًا، أَوْ بَرِيدًا، أَوْ نَقِيبًا قَالَ: فَلَيْسَ مِنَ الْقَوْمِ أَحَدٌ إِلَّا وَقَدْ أَصَابَ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا، إِلَّا فَتًى مِنَ الْأَنْصَارِ، قَالَ: أَنَا أُكَفِّنُكَ، لَمْ أُصِبْ مِمَّا ذَكَرْتَ شَيْئًا، أُكَفِّنُكَ فِي رِدَائِي هَذَا، وَفِي ثَوْبَيْنِ فِي عَبِيبَتِي، مِنْ غَزْلِ أُمِّي قَالَ: أَنْتَ فَكَفِّنِّي فَكَفَّنَهُ الْأَنْصَارِيُّ، وَدَفَنَهُ فِي النَّفَرِ الَّذِينَ هُمْ مَعَهُ مِنْهُمْ: حُجْرُ بْنُ الْأَدْبَرِ، وَمَالِكٌ الْأَشْتَرُ، فِي نَفَرٍ كُلُّهُمْ يَمَانٍ
আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আমার চাচা আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে জাকারিয়া ইবনে হাইয়্যাহ, তিনি ইউসুফ ইবনে মুসা ইবনে রাশিদ আল-কাত্তান থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে সুলাইম আত-তায়েফী থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে উসমান ইবনে খুসাইম থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি ইব্রাহিম ইবনে আল-আশতার থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি উম্মে যার থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি (উম্মে যার) বলেন: যখন আবু যার-এর মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলো, আমি কাঁদতে লাগলাম। ⦗পৃষ্ঠা: ৬৫⦘ তখন তিনি বললেন: তুমি কেন কাঁদছ? তিনি (উম্মে যার) বলেন: আমি বললাম: আমি কেন কাঁদব না, অথচ আপনি জমিনের এক নির্জন প্রান্তরে মৃত্যুবরণ করছেন এবং আপনাকে গোসল দেওয়া আমার জন্য অপরিহার্য, অথচ আমাদের নিকট এমন কোনো কাপড় নেই যা আপনার বা আমার জন্য কাফন হিসেবে পর্যাপ্ত হতে পারে। তিনি বললেন: কেঁদো না এবং সুসংবাদ গ্রহণ করো। কারণ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "দুইজন মুসলিম ব্যক্তির যদি দুই বা তিনটি সন্তান মারা যায় এবং তারা ধৈর্য ধারণ করে ও সওয়াবের আশা রাখে, তবে তারা কখনোই জাহান্নাম দেখবে না।" ⦗পৃষ্ঠা: ৬৭⦘ আর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে একটি দলের নিকট বলতে শুনেছি—যাদের মধ্যে আমিও ছিলাম—যে, "তোমাদের মধ্যে এক ব্যক্তি জমিনের এক নির্জন প্রান্তরে মৃত্যুবরণ করবে এবং মুমিনদের একটি দল সেখানে উপস্থিত হবে।" আর সেই দলের এমন কেউ নেই যে কোনো জনপদ বা লোকালয়ে মৃত্যুবরণ করেনি। আর আমিই সেই ব্যক্তি যে নির্জন প্রান্তরে মৃত্যুবরণ করছি। আল্লাহর কসম, আমি মিথ্যা বলছি না এবং আমাকে মিথ্যা বলাও হয়নি। সুতরাং তুমি রাস্তার দিকে লক্ষ্য করো। তিনি (উম্মে যার) বলেন: আমি বললাম: এখন তো হাজীরা চলে গেছে এবং রাস্তাঘাটও বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি বললেন: তুমি গিয়ে দেখো। তখন আমি বালুর ঢিবির দিকে দ্রুত যাচ্ছিলাম এবং তার ওপর দাঁড়িয়ে লক্ষ্য করছিলাম, পুনরায় ফিরে এসে তাঁর সেবা করছিলাম। তিনি বলেন: এমতাবস্থায় হঠাৎ আমি কিছু লোককে তাদের সওয়ারিতে দেখতে পেলাম, যাদের গতির তীব্রতায় মনে হচ্ছিল যেন তারা শকুনের দল। আমি আমার কাপড় দিয়ে ইশারা করলাম। ⦗পৃষ্ঠা: ৬৮⦘ তারা আমার সংকেত পেল এবং দ্রুত আমার দিকে এগিয়ে এল। তারা তাদের উটের ঘাড়ে চাবুক মারল এবং একে অপরের সাথে পাল্লা দিয়ে আমার নিকট পৌঁছাল। তারা বলল: হে আল্লাহর বান্দী, তোমার কী হয়েছে? আমি বললাম: একজন মুসলিম ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করছেন, আপনারা কি তাঁকে কাফন দেবেন? তারা বলল: তিনি কে? আমি বললাম: আবু যার। তারা বলল: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী? আমি বললাম: হ্যাঁ। তিনি বলেন: তখন তারা তাঁদের পিতামাতাকে তাঁর জন্য উৎসর্গ করতে চাইলেন এবং দ্রুত তাঁর নিকট পৌঁছালেন। তারা ঘরে প্রবেশ করে তাঁকে সালাম দিলে তিনি তাঁদের স্বাগত জানালেন এবং বললেন: তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো। কারণ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "দুইজন মুসলিম ব্যক্তির যদি দুই বা তিনটি সন্তান মারা যায় এবং তারা ধৈর্য ধারণ করে ও সওয়াবের আশা রাখে, তবে তারা কখনোই জাহান্নাম দেখবে না।" আর আমি তাঁকে এক দলের নিকট বলতে শুনেছি যার মধ্যে আমিও ছিলাম: "তোমাদের মধ্যে এক ব্যক্তি অবশ্যই জমিনের এক নির্জন প্রান্তরে মৃত্যুবরণ করবে এবং মুমিনদের একটি দল সেখানে উপস্থিত হবে।" আর সেই দলের এমন কেউ নেই যে কোনো জনপদ বা লোকালয়ে মৃত্যুবরণ করেনি। আর আমিই সেই ব্যক্তি যে নির্জন প্রান্তরে মারা যাচ্ছি। আল্লাহর কসম, আমি মিথ্যা বলিনি ⦗পৃষ্ঠা: ৬৯⦘ এবং আমাকে মিথ্যা বলাও হয়নি। যদি আমার নিকট এমন কাপড় থাকত যা আমার কাফনের জন্য পর্যাপ্ত, কিংবা আমার স্ত্রীর নিকট কোনো কাপড় থাকত যা আমার কাফনের জন্য যথেষ্ট হতো, তবে আমি আমার নিজের বা তার কাপড় ছাড়া অন্য কিছুতে কাফন গ্রহণ করতাম না। আমি তোমাদের আল্লাহর দোহাই দিয়ে বলছি যে, তোমাদের মধ্যে এমন কোনো ব্যক্তি যেন আমাকে কাফন না দেয় যে কোনো অঞ্চলের আমির (শাসনকর্তা), আরিফ (তথ্য সংগ্রাহক), বারিদ (ডাকবাহক) বা নাকিব (তত্ত্বাবধায়ক) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে। বর্ণনাকারী বলেন: সেই দলের এমন কেউ ছিল না যে এই পদগুলোর কোনো না কোনোটির সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল না, কেবল আনসারদের এক যুবক ছাড়া। সে বলল: আমি আপনাকে কাফন দেব। আপনি যে পদগুলো উল্লেখ করেছেন তার কোনোটির সাথেই আমি জড়িত ছিলাম না। আমি আপনাকে কাফন দেব আমার এই চাদরটি দিয়ে এবং আমার ব্যাগে থাকা আমার মায়ের কাটা সুতার বোনা দুইটি কাপড় দিয়ে। তিনি বললেন: তবে তুমিই আমাকে কাফন দাও। অতঃপর সেই আনসারী যুবকই তাঁকে কাফন দিল এবং তাঁর সাথে থাকা সেই দলটি তাঁকে দাফন করল, যাঁদের মধ্যে হুজর ইবনে আল-আদবার এবং মালিক আল-আশতারও ছিলেন। তাঁরা সবাই ইয়ামেনি গোত্রের এক দল লোক ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
মান ওয়াফাকাত কুনইয়াতুহু কুনইয়াতা যাওজিহি লিইবনি হাইয়াওয়াইহি
(পৃষ্ঠা: ৭০)
أَبُو رَافِعٍ: أَسْلَمُ، وَيُقَالُ: إِبْرَاهِيمُ، ويُقَالُ: عَبْدُ الرَّحْمَنِ، وَيُقَالُ: سِنَانٌ، وَيُقَالُ: هُرْمُزُ، مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم
আবু রাফে‘: আসলাম, বলা হয়ে থাকে: ইবরাহিম, বলা হয়ে থাকে: আবদুর রহমান, বলা হয়ে থাকে: সিনান এবং বলা হয়ে থাকে: হুরমুজ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুক্তদাস।
(খণ্ড: ১)
মান ওয়াফাকাত কুনইয়াতুহু কুনইয়াতা যাওজিহি লিইবনি হাইয়াওয়াইহি
(পৃষ্ঠা: ৭০)
أَخْبَرَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْعَبَّاسِ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ الْأَشَجِّ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي رَافِعٍ، أَنَّ أَبَا رَافِعٍ أَخْبَرَهُ، قَالَ: ⦗ص: 71⦘ بَعَثَتْنِي قُرَيْشٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَلَمَّا رَأَيْتُهُ أُلْقِيَ فِي قَلْبِي الْإِسْلَامُ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي وَاللَّهِ لَا أَرْجِعُ إِلَيْهِمْ أَبَدًا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنِّي لَا أَخِيسُ بِالْعَهْدِ، وَلَا أَحْبِسُ الْبُرُدَ، وَلَكِنِ ارْجِعْ، فَإِنْ كَانَ فِي نَفْسِكَ الَّذِي فِي نَفْسِكَ الْآنَ فَارْجِعْ» ، قَالَ: فَذَهَبْتُ، ثُمَّ أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، فَأَسْلَمْتُ ⦗ص: 72⦘ قَالَ بُكَيْرٌ: وَأَخْبَرَنِي أَنَّ أَبَا رَافِعٍ كَانَ قِبْطِيًّا
আব্বাস ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-আব্বাস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমদ ইবনে সালিহ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আমর ইবনুল হারিস আমাকে সংবাদ দিয়েছেন বুকাইর ইবনুল আশাজ্জ থেকে, তিনি হাসান ইবনে আলী ইবনে আবি রাফে থেকে, আর আবু রাফে তাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৭১⦘ কুরাইশরা আমাকে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট প্রেরণ করেছিল। যখন আমি তাঁকে দেখলাম, তখন আমার অন্তরে ইসলামের প্রতি অনুরাগ সৃষ্টি হলো। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসুল! আল্লাহর কসম, আমি আর কখনোই তাদের নিকট ফিরে যাব না। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «নিশ্চয়ই আমি অঙ্গীকার ভঙ্গ করি না এবং দূতদের আটকে রাখি না। তবে তুমি ফিরে যাও; অতঃপর বর্তমানে তোমার অন্তরে যা রয়েছে, তা যদি (তখনও) থাকে তবে ফিরে এসো।’ তিনি বলেন: এরপর আমি চলে গেলাম, অতঃপর পুনরায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলাম এবং ইসলাম গ্রহণ করলাম। ⦗পৃষ্ঠা: ৭২⦘ বুকাইর বলেন: এবং তিনি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু রাফে কিবতি ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
মান ওয়াফাকাত কুনইয়াতুহু কুনইয়াতা যাওজিহি লিইবনি হাইয়াওয়াইহি
(পৃষ্ঠা: ৭২)
أُمُّ رَافِعٍ سَلْمَى مَوْلَاةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَيُقَالُ: مَوْلَاةُ صَفِيَّةَ بِنْتِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ، زَوْجُ أَبِي رَافِعٍ
উম্মু রাফি সালমা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আযাদকৃত দাসী; এবং বলা হয়: তিনি সাফিয়্যাহ বিনতে আব্দুল মুত্তালিবের আযাদকৃত দাসী, তিনি আবু রাফির স্ত্রী।
(খণ্ড: ১)
মান ওয়াফাকাত কুনইয়াতুহু কুনইয়াতা যাওজিহি লিইবনি হাইয়াওয়াইহি
(পৃষ্ঠা: ৭২)
حَدَّثَنَا عَمِّي، ثنا أَحْمَدُ بْنُ الْخَلِيلِ الْقُومَسِيُّ، ثنا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ ⦗ص: 73⦘ الْعَامِرِيُّ، ثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أُمِّهِ سَلْمَى، وَكَانَتْ حَاضِنَةً لِفَاطِمَةَ، قَالَتْ: اشْتَكَتْ فَاطِمَةُ بِنْتُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَمَرَّضَتْهَا، فَأَصْبَحَتْ يَوْمًا كَأَمْثَلِ مَا رَأَيْتُهَا فِي شَكْوَتِهَا، وَكَانَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ خَرَجَ لِبَعْضِ حَاجَتِهِ، فَقَالَتْ فَاطِمَةُ: يَا أُمَّ سَلْمَى، اسْكُبِي لِي مَاءً، أَوْ قَالَتْ: اسْكُبِي لِي غُسْلًا، قَالَتْ: فَسَكَبْتُ لَهَا غُسْلًا، فَقَامَتْ فَاغْتَسَلَتْ كَأَحْسَنِ مَا كُنْتُ أَرَاهَا تَغْتَسِلُ، ثُمَّ قَالَتْ: يَا أُمَّهْ، نَاوِلِينِي ثِيَابِي الْجُدُدَ، قَالَتْ: فَنَاوَلْتُهَا، فَلَبِسَتْهَا، ثُمَّ جَاءَتْ إِلَى الْبَيْتِ الَّذِي كَانَتْ فِيهِ، فَقَالَتْ لِي: قَدِّمِي لِي فِرَاشِي وَسَطَ الْبَيْتِ قَالَتْ: فَقَدَّمْتُهُ، فَاضْطَجَعَتْ، وَوَضَعَتْ يَدَهَا الْيُمْنَى تَحْتَ خَدِّهَا، ثُمَّ اسْتَقْبَلَتِ الْقِبْلَةَ، فَقَالَتْ: يَا أُمَّهْ، إِنِّي قَدِ اغْتَسَلْتُ، وَإِنِّي مَقْبُوضَةٌ الْآنَ، فَلَا يَكْشِفَنِّي أَحَدٌ قَالَتْ: فَقُبِضَتْ مَكَانَهَا ⦗ص: 74⦘ قَالَتْ: فَدَخَلَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ فَأَخْبَرَتْهُ، فَقَالَ: «وَاللَّهِ لَا يَكْشِفُهَا أَحَدٌ» ، فَاحْتَمَلَهَا، وَدَفَنَهَا بِغُسْلِهَا ذَلِكَ
আমাদের চাচা আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনুল খলীল আল-কুুমাসি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল আজিজ ইবনে আব্দুল্লাহ ⦗পৃষ্ঠা: ৭৩⦘ আল-আমিরি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবরাহিম ইবনে সাদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি ওবায়দুল্লাহ ইবনে আলী ইবনে আবি রাফে থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর মা সালমা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন—যিনি ফাতিমা (রা.)-এর ধাত্রী ছিলেন—তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কন্যা ফাতিমা (রা.) অসুস্থ হয়ে পড়লেন, তখন আমি তাঁর সেবা-শুশ্রূষা করছিলাম। একদিন সকালে তিনি তাঁর অসুস্থতার দিনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সুস্থ হয়ে উঠলেন। এমতাবস্থায় আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) তাঁর কোনো প্রয়োজনে বাইরে গিয়েছিলেন। তখন ফাতিমা (রা.) বললেন: "হে উম্মে সালমা, আমার জন্য পানি ঢালুন," অথবা তিনি বলেছিলেন: "আমার জন্য গোসলের পানি ঢালুন।" তিনি (সালমা) বলেন: আমি তাঁর জন্য গোসলের পানি ঢাললাম, এরপর তিনি উঠে অত্যন্ত সুন্দরভাবে গোসল করলেন যেমনটি আমি তাঁকে সচরাচর গোসল করতে দেখতাম। তারপর তিনি বললেন: "হে মা, আমাকে আমার নতুন পোশাকগুলো দিন।" তিনি (সালমা) বলেন: আমি তাঁকে সেগুলো দিলাম এবং তিনি তা পরিধান করলেন। এরপর তিনি যে ঘরে অবস্থান করছিলেন সেখানে আসলেন এবং আমাকে বললেন: "আমার বিছানাটি ঘরের মাঝখানে বিছিয়ে দিন।" তিনি (সালমা) বলেন: আমি তা বিছিয়ে দিলাম, এরপর তিনি শয়ন করলেন এবং নিজের ডান হাতটি তাঁর গালের নিচে রাখলেন। অতঃপর তিনি কিবলামুখী হলেন এবং বললেন: "হে মা, আমি গোসল সম্পন্ন করেছি এবং এখনই আমার জান কবজ করা হবে, সুতরাং কেউ যেন আমাকে অনাবৃত না করে।" তিনি (সালমা) বলেন: এরপর সেখানেই তাঁর জান কবজ করা হলো। ⦗পৃষ্ঠা: ৭৪⦘ তিনি বলেন: এরপর আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) প্রবেশ করলেন এবং আমি তাঁকে বিষয়টি জানালাম। তখন তিনি বললেন: "আল্লাহর কসম! কেউ তাঁকে অনাবৃত করবে না।" অতঃপর তিনি তাঁকে বহন করে নিয়ে গেলেন এবং ওই গোসলের অবস্থাতেই তাঁকে দাফন করলেন।
(খণ্ড: ১)
মান ওয়াফাকাত কুনইয়াতুহু কুনইয়াতা যাওজিহি লিইবনি হাইয়াওয়াইহি
(পৃষ্ঠা: ৭৭)
أَبُو سَلَمَةَ: عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْأَسَدِ الْمَخْزُومِيُّ
আবু সালামাহ: আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল আসাদ আল-মাখযুমি
(খণ্ড: ১)
মান ওয়াফাকাত কুনইয়াতুহু কুনইয়াতা যাওজিহি লিইবনি হাইয়াওয়াইহি
(পৃষ্ঠা: ৭৭)
أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ زَنْجُوَيْهِ، ثنا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، ثنا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، ثنا ثَابِتٌ الْبُنَانِيُّ، حَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أُمِّهِ أُمِّ سَلَمَةَ، عَنْ زَوْجِهَا أَبِي سَلَمَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: " مَا مِنْ أَحَدٍ مِنَ الْمُسْلِمِينَ يُصَابُ بِمُصِيبَةٍ، فَيَقُولَ: إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَحْتَسِبُ مُصِيبَتِي عِنْدَكَ، فَأَبْدِلْنِي بِهَا خَيْرًا مِنْهَا، إِلَّا أَبْدَلَهُ اللَّهُ عز وجل خَيْرًا مِنْهَا " قَالَتْ: فَلَمَّا تُوُفِّيَ أَبُو سَلَمَةَ، قُلْتُ: إِنَّا لِلَّهِ، وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ، إِنِّي أَحْتَسِبُ بِمُصِيبَتِي، فَأَبْدِلْنِي بِهِ خَيْرًا مِنْهُ ⦗ص: 78⦘ قَالَتْ: وَجَعَلْتُ أَقُولُ فِي نَفْسِي: مَنْ خَيْرٌ مِنْ أَبِي سَلَمَةَ؟ قَالَتْ: فَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُنِي، فَتَزَوَّجْتُهُ
ইসহাক বিন ইব্রাহিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন আব্দুল মালিক বিন জানজুওয়াইহ আমাদের বর্ণনা করেছেন, আব্দুর রাজ্জাক আমাদের বর্ণনা করেছেন, জাফর বিন সুলায়মান আমাদের বর্ণনা করেছেন, সাবিত আল-বুনানি আমাদের বর্ণনা করেছেন, উমর বিন আবু সালামাহ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তাঁর মা উম্মে সালামাহ থেকে, তাঁর স্বামী আবু সালামাহ থেকে, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "মুসলমানদের মধ্যে কেউ যখন কোনো বিপদে পতিত হয় এবং বলে: 'নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং আমরা তাঁরই কাছে ফিরে যাবো। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আমার এই বিপদের প্রতিদান কামনা করছি, সুতরাং আপনি আমাকে এর বিনিময়ে এর চেয়ে উত্তম কিছু দান করুন', তখন আল্লাহ মহিমান্বিত ও পরাক্রান্ত তাকে অবশ্যই এর চেয়ে উত্তম কিছু দান করেন।" তিনি বলেন: যখন আবু সালামাহ ইন্তেকাল করলেন, তখন আমি বললাম: 'নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং আমরা তাঁরই কাছে ফিরে যাবো। আমি আমার এই বিপদের প্রতিদান কামনা করছি, সুতরাং আপনি আমাকে এর বিনিময়ে তাঁর চেয়ে উত্তম কাউকে দান করুন।' ⦗পৃষ্ঠা: ৭৮⦘ তিনি বলেন: আমি মনে মনে বলতে লাগলাম, আবু সালামাহর চেয়ে উত্তম আর কে হতে পারে? তিনি বলেন: এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন এবং আমি তাঁকে বিয়ে করলাম।
(খণ্ড: ১)
মান ওয়াফাকাত কুনইয়াতুহু কুনইয়াতা যাওজিহি লিইবনি হাইয়াওয়াইহি
(পৃষ্ঠা: ৭৯)
أُمُّ سَلَمَةَ: هِنْدُ بِنْتُ أَبِي أُمَيَّةَ الْمَخْزُومِيَّةُ، الَّتِي كَانَتْ زَوْجَ أَبِي سَلَمَةَ، ثُمَّ أَكْرَمَهَا اللَّهُ عز وجل بَعْدَهُ بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم
উম্মু সালামাহ: হিন্দ বিনতে আবি উমাইয়্যাহ আল-মাখজুমিয়্যাহ, যিনি আবু সালামাহর স্ত্রী ছিলেন, অতঃপর মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ তাঁর পরে তাঁকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন।