(খণ্ড: ১)
মাসআলাতু সুবহানা লিনাফতাওয়াইহি
(পৃষ্ঠা: -)
مسألة سبحان لنفطويه القسم: كتب السنة
الكتاب: مجموعة أجزاء حديثية مسألة سبحان
المؤلف: أبو عبد الله إبراهيم بن محمد بن عرفة بن سليمان بن المغيرة بن حبيب العتكي الأزدي الواسطي المعروف بنِفْطَوَيْهِ (ت 323هـ)
قدم لها وعلق عليها وخرج أحاديثها: أبو عبيدة مشهور بن حسن آل سلمان
الناشر: دار الخراز، السعودية، دار ابن حزم، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 1422 هـ - 2001 م
عدد الصفحات: 394
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
নিফতাওয়াইহ-এর মাসআলা সুবহান বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: মাসআলা সুবহান বিষয়ক হাদীস সংকলন
লেখক: আবু আবদুল্লাহ ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন আরাফাহ বিন সুলাইমান বিন মুগিরা বিন হাবীব আল-আতাকি আল-আজদি আল-ওয়াসিতি, যিনি নিফতাওয়াইহ নামে পরিচিত (মৃত্যু ৩২৩ হি.)
ভূমিকা, টীকা ও হাদীসের তাখরীজ করেছেন: আবু উবাইদাহ মাশহুর বিন হাসান আল সালমান
প্রকাশক: দার আল-খারায, সৌদি আরব, দার ইবনে হাযম, বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২২ হিজরি - ২০০১ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৯৪
[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতু সুবহানা লিনাফতাওয়াইহি
(পৃষ্ঠা: ৩৭৯)
بِسْمِ اللَّهِ الرَحْمَنِ الرَّحِيمِ أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ شَاذَانَ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ، وَكَتَبْتُهُ مِنْ أَصْلِهِ، قَالَ: قُرِئَ عَلَى أَبِي عَبْدِ اللَّهِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَرَفَةَ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ سَنَةَ عِشْرِينَ وَثَلَاثِمَائَةٍ، وَأَنَا حَاضِرٌ أَسْمَعُ، قَالَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ الْمُوَفِّقِ لِطَاعَتِهِ وَأَدَاءِ أَمَانَتِهِ، وَالْإِيمَانِ بِوَحْيِهِ وَآيَاتِهِ، وَتَصْدِيقِ أَنْبِيَائِهِ وَأَنْبَائِهِ، مَنْ سَبَقَتْ لَهُ فِي عِلْمِهِ الرَّحْمَةُ مِنَّةً مِنْهُ وَفَضْلًا {لَهُ الْحَمْدُ فِي الْأُولَى وْالْآخِرَةِ وَلَهُ الْحُكْمُ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ} [القصص: 70] وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى مُحَمَّدٍ خَاتَمِ النَّبِيِّينَ، وَهَادِي الْمُهْتَدِينَ، وَخِيرَةِ رِبِّ الْعَالَمِينَ، نَمَى إِلَيَّ خَبَرُ مَجْلِسٍ اجْتَمَعَ فِيهِ جَمَاعَةٌ مِنَ الْمُتَفَقِّهَةِ وَالْقُرَّاءِ وَحَمَلَةِ الْعِلْمِ، فَتَذَاكَرُوا مَعْنَى قَوْلِ اللَّهِ عز وجل: {سُبْحَانَ اللَّهِ} [المؤمنون: 91] وَخَاضُوا فِي ذَلِكَ خَوْضًا لَمْ يَبْلُغُوا فِيهِ النِّهَايَةِ الَّتِي تُشْفِي صَدْرَ السَّامِعِ، وَتُلْحِقُ بِالْمَتْبُوعِ التَّابِعَ، وَأَنَا أُبَيِّنُ مِنْ ذَلِكَ مَا فِيهِ مَقْنَعٌ، وَأَسْتَعِينُ بِاللَّهِ، فَأَوَّلُ ذَلِكَ: قَوْلُهُ لِلْمَلَائِكَةِ حِيَنَ سَأَلَهُمُ اللَّهُ عز وجل عَنِ الْأَسْمَاءِ؛ لِيُرِيَهُمْ أَنَّهُ قَدْ خَلَقَ مِنْ خَلْقِهِ مَنْ هُوَ أَعْلَمُ مِنْهُمْ بِتَعْلِيمِهِ إِيَّاهُ، فَقَالَ تبارك وتعالى: {أَنْبِئُونِي بِأَسْمَاءِ هَؤُلَاءِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ} [البقرة: 31] فَقَدْ عَلِمُ اللَّهُ عز وجل أَنُّهُ لَا عِلْمَ لِهُمْ بِذَلِكَ، وَإِنَّمَا أَرَاهُمُ الْعَجْزَ، وَأَنَّهُ قَدْ عَلَّمَ ذَلكَ آدَمَ صلى الله عليه وسلم، فَقَالُوا: {سُبْحَانَكَ لَا عِلْمَ لَنَا إِلَّا مَا عَلَّمْتَنَا إِنَّكَ أَنْتَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ} [البقرة: 32] أَيْ تَنْزِيهًا لَكَ أَنْ يَكُونَ فِي خَلْقِكَ مَنْ يَعْلَمُ إِلَّا مَا عَلِمْتَهُ قَبْلَهُ، ثُمَّ عَلَّمْتَهُ إِيَّاهُ، أَوْ أَنْ يَعْلَمَ كَوْنَ مُحْدَثٍ إِلَّا بِإِعْلَامِكَ إِيَّاهُ
দয়াময়, পরম দয়ালু আল্লাহর নামে। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমাদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে শাযান, তাঁর নিকট পঠনকালে, আর আমি এটি তাঁর মূল পাণ্ডুলিপি থেকে লিখেছি। তিনি বলেন: এটি ৩২০ হিজরি সনের রমজান মাসে আবু আবদুল্লাহ ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আরাফাহর সামনে পাঠ করা হয়েছে এবং আমি শোনার জন্য উপস্থিত ছিলাম। তিনি বলেন: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর আনুগত্যের, আমানত আদায়ের, তাঁর ওহি ও নিদর্শনাবলীতে ঈমান আনয়নের এবং তাঁর নবীগণ ও তাঁদের সংবাদসমূহকে সত্য বলে মেনে নেওয়ার তাওফিক দান করেন। যাঁর প্রতি আল্লাহর জ্ঞানে পূর্ব থেকেই তাঁর পক্ষ থেকে অনুগ্রহ ও করুণা হিসেবে দয়া অবধারিত হয়েছে। {প্রথম ও শেষ—সবক্ষেত্রেই সকল প্রশংসা তাঁরই জন্য, বিধান তাঁরই এবং তাঁরই দিকে তোমরা ফিরে যাবে} [আল-কাসাস: ৭০]। আর আল্লাহর সালাত বর্ষিত হোক নবীদের মোহর (শেষ নবী), হেদায়াতপ্রাপ্তদের পথপ্রদর্শক এবং বিশ্বজাহানের রবের মনোনীত বান্দা মুহাম্মাদের ওপর। আমার নিকট এক মজলিসের সংবাদ পৌঁছেছে যেখানে একদল ফকিহ, ক্বারী ও ইলম বহনকারী সমবেত হয়েছিলেন। তাঁরা মহান আল্লাহর বাণী: {সুবহানাল্লাহ} [আল-মুমিনুন: ৯১]-এর অর্থ নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। তাঁরা এ বিষয়ে এমন বিশদ আলোচনায় লিপ্ত হয়েছিলেন যেখানে তাঁরা এমন কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি যা শ্রোতার অন্তরকে আশ্বস্ত করে এবং অনুসারীকে অনুসৃতের সাথে যুক্ত করে। আমি এ বিষয়ে যা পর্যাপ্ত তা বর্ণনা করছি এবং আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করছি। এর প্রথমটি হলো: ফেরেশতাদের প্রতি তাঁর কথা যখন মহান আল্লাহ তাঁদের নামসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন; যাতে তিনি তাঁদের দেখান যে, তিনি তাঁর সৃষ্টির মধ্যে এমন কাউকে সৃষ্টি করেছেন যে তাঁরই শেখানো ইলমের মাধ্যমে তাঁদের চেয়ে অধিক জ্ঞানী। অতঃপর বরকতময় ও সুউচ্চ আল্লাহ বললেন: {তোমরা আমাকে এগুলোর নাম বলে দাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হও} [আল-বাকারা: ৩১]। মহান আল্লাহ জানতেন যে, এ বিষয়ে তাঁদের কোনো জ্ঞান নেই। তিনি কেবল তাঁদের অক্ষমতা দেখাতে চেয়েছিলেন এবং এটিও দেখাতে চেয়েছিলেন যে তিনি আদম (আলাইহিস সালাম)-কে তা শিখিয়েছেন। তাঁরা বলেছিল: {আপনি পবিত্র! আপনি আমাদের যা শিখিয়েছেন তা ছাড়া আমাদের কোনো জ্ঞান নেই। নিশ্চয়ই আপনি মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়} [আল-বাকারা: ৩২]। অর্থাৎ: আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছি এ থেকে যে, আপনার সৃষ্টির মধ্যে এমন কেউ থাকবে যে আপনার আগে থেকে জানা ব্যতিরেকে কিছু জানবে এবং অতঃপর আপনি তাকে তা শেখাবেন; অথবা আপনার জানানো ছাড়া কোনো সৃষ্ট বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করবে।
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতু সুবহানা লিনাফতাওয়াইহি
(পৃষ্ঠা: ৩৮০)
وَمَعْنَى «سُبْحَانَ» : التَّنْزِيهُ، وَالتَّعْظِيمُ، وَالتَّكْبِيرُ، وَالْإِبْعَادُ فَمَعْنَى قَوْلِهِ: {سُبْحَانَ اللَّهِ عَمَّا يَصِفُونَ} [المؤمنون: 91] أَيْ بَعِيدٌ ذَلِكَ مِنْ صِفَاتِ اللَّهِ عز وجل، وَتَنْزِيهًا لِلَّهِ عَنْهُ، وَقَوْلُ الْقَائِلِ: سُبْحَانَ اللَّهِ عَنْ هَذَا، أَيْ: بَرَّأْتُهُ مِنْ هَذَا بَرَاءَةً، َوَنَزَّهْتُهُ تَنْزِيهًا، ثُمَّ جُعِلَتْ «سُبْحَانَ» مَكَانَ ذَلِكَ، فَهِيَ مَنْصُوبَةٌُ عَلَى الْمَصْدَرِ، فَأَمَّا قَوْلُ الْأَعْشَى:
أَقُولُ لَمَّا جَاءَنِي فَخْرُهُ
… سُبْحَانَ مِنْ عَلْقَمَةَ الْفَاجِرِ
فَنَصَبَ «سُبْحَانَ» غَيْرَ مُنَوِّنٍ، لَأَنَّهُ نَوَى الْإِضَافَةَ، فَالْمَعْنَى: تَنْزِيهًا لِلْفَخْرِ مِنْ أَنْ يَكُونَ عَلْقَمَةُ مِنْ أَهْلِهِ،
এবং 'সুবহান' শব্দের অর্থ হলো: পবিত্রতা ঘোষণা করা, মহিমান্বিত করা, বড়ত্ব বর্ণনা করা এবং (অপূর্ণতা থেকে) দূরে রাখা। সুতরাং মহান আল্লাহর বাণী: {তারা যা বর্ণনা করে তা থেকে আল্লাহ পবিত্র} [আল-মুমিনুন: ৯১] -এর অর্থ হলো, তা আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা-র গুণাবলি থেকে অনেক দূরে এবং আল্লাহর জন্য তা থেকে পবিত্রতা ঘোষণা। আর কোনো বক্তার উক্তি: 'আল্লাহ এ থেকে পবিত্র', এর অর্থ হলো: আমি তাঁকে এ থেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত ঘোষণা করছি এবং তাঁকে পূর্ণরূপে পবিত্র করছি। অতঃপর 'সুবহান' শব্দটিকে সেই বাক্যের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে; আর এটি মাসদার (ক্রিয়ামূল) হিসেবে মানসুব (নসবযুক্ত) হয়েছে। আর আল-আ'শার উক্তি প্রসঙ্গে:
আমি বলি যখন তার দম্ভোক্তি আমার নিকট পৌঁছাল
... পাপিষ্ঠ আলকামা থেকে 'সুবহান' (কতই না বিস্ময়কর)!
এখানে তিনি 'সুবহান' শব্দটিকে তানউইন ব্যতীত মানসুব করেছেন, কারণ তিনি ইজাফাত (সম্বন্ধ) করার নিয়ত করেছিলেন। এর অর্থ হলো: গর্ব বা আভিজাত্যকে এ থেকে পবিত্র রাখা যে, আলকামা তার যোগ্য হতে পারে।
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতু সুবহানা লিনাফতাওয়াইহি
(পৃষ্ঠা: ৩৮১)
وَأَمَّا قَوْلُهُ {وَنَحْنُ نُسَبِّحُ بِحَمْدِكَ وَنُقُدِّسُ لَكَ} [البقرة: 30] فَقَوْلُهُمْ «نُسَبِّحُ» أَيْ نُنَزِّهُكَ وَنُبَاعِدُ عَنْكَ مَا وُصِفْتَ بِهِ مِنْ خِلَافِ صِفَاتِكَ، وَقَوْلُهُ: «بِحَمْدِكَ» أَيْ بِرِضَاكَ، وَرِضَانَا بِذَلِكَ، وَالتَّقْدِيسُ: التَّطْهِيرُ، وَبِهَذَا سُمِّيَ بَيْتُ الْمَقْدِسِ، أَيْ بَيْتَ الطَّهَارَةِ. وَبِهَذَا سُمِّيَ جِبْرِيلُ عليه السلام: رُوحَ الْقُدُسِ، أَيْ رُوحَ الطَّهَارَةِ، قاَلَ حَسَّانُ بْنُ ثَابِتٍ:
أَمِينَاهُ رُوحُ الْقُدُسِ جِبْرِيلُ مِنْهُمْ
… وَمِيكَالُ ذُو الْوَحْيِ الْقَوِيِّ الْمُسَدَّدِ
وَأَمَّا قَوْلُهُ: {قَالُوا اتَّخَذَ اللَّهُ وَلَدًا سُبْحَانَهُ} [يونس: 68] أَيْ تَنْزِيهًا لَهُ عَنْ ذَلِكَ، وَقَوْلُهُ: {كُلٌّ لَهُ قَانِتُونَ} [البقرة: 116] الْقُنُوتُ: الطَّاعَةُ فَالْمَعْنَىَ: تَنْزِيهًا لَهُ أَنْ يَكُونَ مِنْ خَلْقِهِ إِلَّا مَمْلُوكًا لَهُ، لَيْسَ فِيهِمْ وَلَدٌ، أَلَا تَسْمَعُ إِلَى قَوْلِهِ: {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ اللَّهُ الصَّمَدُ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ} [الإخلاص: 2] فَالصَّمَدُ: الَّذِي يُصْمَدُ إِلَيْهِ فِي الْأُمُورِ، لَا نِهَايَةَ بَعْدَهُ، وَهَذَا كَلَامُ الْعَرَبِ، قَالَ أَوْسُ بُنْ حُجْرٍ:
أَلَا بَكَّرَ النَّاعِي بَخَيْرَيْ بَنِي أَسَدِ
… بَعَمْرِو بْنِ مَسْعُودٍ وِبِالسَّيِّدِ الصَمَدِ،
আর তাঁর বাণী {এবং আমরা আপনার প্রশংসার সাথে আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করি এবং আপনার মহিমা কীর্তন করি} [আল-বাকারাহ: ৩০] এর ব্যাপারে তাদের উক্তি "আমরা তাসবীহ পাঠ করি" এর অর্থ হলো—আমরা আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করি এবং আপনার গুণাবলীর পরিপন্থী যা কিছু আপনার প্রতি আরোপ করা হয় তা থেকে আপনাকে দূরে রাখি। আর তাঁর বাণী: "আপনার প্রশংসার সাথে" এর অর্থ হলো—আপনার সন্তুষ্টির সাথে এবং এতে আমাদের সন্তুষ্টির মাধ্যমে। আর "তাকদীস" অর্থ হলো—পবিত্র করা, আর এ কারণেই "বাইতুল মাকদিস" নামকরণ করা হয়েছে, অর্থাৎ পবিত্রতার ঘর। আর এ কারণেই জিবরাঈল আলাইহিস সালামকে "রূহুল কুদুস" বলা হয়, অর্থাৎ পবিত্র আত্মা। হাসসান বিন সাবিত বলেছেন:
আমাদের আমানতদার রূহুল কুদুস জিবরাঈল তাদের অন্তর্ভুক্ত
… এবং মিকাঈল, যিনি শক্তিশালী ও সুপ্রতিষ্ঠিত ওহীর অধিকারী।
আর তাঁর বাণী: {তারা বলে, আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন; তিনি সুপবিত্র} [ইউনুস: ৬৮], অর্থাৎ তা থেকে তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করা হয়েছে। এবং তাঁর বাণী: {সবই তাঁর অনুগত} [আল-বাকারাহ: ১১৬], এখানে "কুনুত" অর্থ হলো—আনুগত্য। সুতরাং অর্থ হলো—তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করা যে, তাঁর সৃষ্টির প্রতিটি বিষয়ই কেবল তাঁর মালিকানাধীন দাস; তাদের মধ্যে তাঁর কোনো সন্তান নেই। আপনি কি তাঁর এই বাণী শোনেননি: {বলুন, তিনি আল্লাহ, এক। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেওয়া হয়নি। আর তাঁর সমতুল্য কেউ নেই} [আল-ইখলাস: ১-৪]। সুতরাং "আস-সামাদ" হলো সেই সত্তা, যাঁর নিকট যাবতীয় বিষয়ে ধাবিত হওয়া হয়, যাঁর ঊর্ধ্বে কোনো শেষ নেই। আর এটি আরবদের ভাষা; আউস বিন হুজর বলেছেন:
সাবধান! মৃত্যুসংবাদ দানকারী প্রত্যুষে বনু আসাদের দুই শ্রেষ্ঠ ব্যক্তির সংবাদ নিয়ে এসেছে
… আমর বিন মাসউদ এবং সেই নেতা (যিনি সকলের আশ্রয়স্থল)।
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতু সুবহানা লিনাফতাওয়াইহি
(পৃষ্ঠা: ৩৮২)
فَهَذَا كَلَامُ الْعَرَبِ، وَقَدْ قِيلَ: الصَّمَدُ: الَّذِي لَا يَطْعَمُ، فَهَذِهِ السُّورَةُ صِفَةُ اللَّهِ عز وجل، أَثْبَتَ لِنَفْسِهِ التَّوْحِيدَ، وَأَنَّهُ بِخَلَافِ خَلْقِهِ، كُلٌُّ وَالِدٍ وَمَوْلُودٍ وَفِيهِمُ الْأَكْفَاءُ، أَيِ النُّظَرَاءُ، وُكُلُّ ذَلِكَ غَيْرُ لَائِقٍ بِصَفَاتِ اللَّهُ عز وجل، قَالَ الْفَرَزْدَقُ:
هُمْ أَنْكَحُوا قَبْلِي لَبِيدًا وَأَنْكَحُوا
… ضِرَارًا وَهُمْ أَكْفَاؤُنَا فِي الْمَنَاصِبِ
وَقَوْلُهُ فِي سُورَةِ آلِ عِمْرَانَ: {سُبْحَانَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ} [آل عمران: 191] أَيْ تَنْزِيهًا لَكَ عَمَّنْ زَعَمَ أَنَّ خَالِقًا سِوَاكَ، فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ إِيمَانًا بِذَلِكَ وَتَصْدِيقًا، إِذْ كَانَ مَنْ لَمْ يُصَدِّقْ وَيُسَبِّحُ مِنْ أَهْلِ النَّارِ، فَنَحْنُ نُسَبِّحُ وَنُصَدِّقُ، فَقِنَا مَا تَلُومُ غَيْرَنَا، وَقَوْلُهُ: {مَا خَلَقْتَ هَذَا بَاطِلًا} [آل عمران: 191] نَحْوُ قَوْلِهِ: {أَفَحَسِبْتُمْ أَنَّمَا خَلَقْنَاكُمْ عَبَثًا} [المؤمنون: 115] أَيْ: مَا خَلَقْتُ ذَلِكَ إِلَّا لِآمُرَ وأَنْهَى وَأُثِيبَ وَأُعَاقِبَ، وَقَوْلُهُ فِي سُورَةِ النِّسَاءِ: {سُبْحَانَهُ أَنْ يَكُونَ لَهُ وَلَدٌ} [النساء: 171] أَيْ تَنْزِيهًا لَهُ عْنْ ذَلِكَ،
এটি আরবদের ভাষা, আর বলা হয়েছে: আস-সামাদ হলেন তিনি, যিনি আহার করেন না। এই সূরাটি মহান আল্লাহর গুণাবলির বর্ণনা; তিনি এতে নিজের জন্য তাওহীদ (একত্ববাদ) সাব্যস্ত করেছেন এবং এটিও যে তিনি তাঁর সৃষ্টির বিপরীত; প্রতিটি পিতা ও সন্তান এবং তাদের মাঝে বিদ্যমান সমকক্ষরা—অর্থাৎ সদৃশরা—এর কোনোটিই মহান আল্লাহর গুণাবলির জন্য উপযুক্ত নয়। আল-ফরাজদাক বলেছেন:
তারা আমার আগে লাবিদকে বিবাহ দিয়েছিল এবং তারা বিবাহ দিয়েছিল
… দিরারকে; আর তারা মর্যাদার ক্ষেত্রে আমাদের সমকক্ষ।
এবং সূরা আলে ইমরানে তাঁর বাণী: {আপনি পবিত্র, সুতরাং আমাদের আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন} [আলে ইমরান: ১৯১] অর্থাৎ যারা আপনি ব্যতীত অন্য স্রষ্টা আছে বলে দাবি করে, তাদের থেকে আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি। সুতরাং এই বিষয়ের প্রতি ঈমান ও সত্যতা স্বীকারের কারণে আমাদের আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন; যেহেতু যারা সত্য বলে মানেনি এবং তাসবিহ পাঠ করেনি তারা জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত, তাই আমরা তাসবিহ পাঠ করছি ও সত্য বলে মানছি, সুতরাং আপনি অন্যদের যে কারণে তিরস্কার করবেন তা থেকে আমাদের রক্ষা করুন। এবং তাঁর বাণী: {আপনি এসব নিরর্থক সৃষ্টি করেননি} [আলে ইমরান: ১৯১] যা তাঁর এই বাণীর অনুরূপ: {তোমরা কি মনে করেছিলে যে আমি তোমাদের অনর্থক সৃষ্টি করেছি?} [আল-মুমিনুন: ১১৫]; অর্থাৎ: আমি এসব কেবল আদেশ ও নিষেধ প্রদান এবং পুরস্কার ও শাস্তি দেওয়ার জন্যই সৃষ্টি করেছি। এবং সূরা আন-নিসায় তাঁর বাণী: {তিনি অতি পবিত্র যে তাঁর সন্তান হবে} [আন-নিসা: ১৭১] অর্থাৎ তা থেকে তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করা।
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতু সুবহানা লিনাফতাওয়াইহি
(পৃষ্ঠা: ৩৮৩)
وَنَحْوٌ مِنْ قَوْلِهِ سُبْحَانَ اللَّهِ: «اللَّهُ أَكْبَرُ» ، أَيْ هُوَ أَعْظَمُ مِنْ كُلِّ عَظِيمٍ. وَكَذَلِكَ مَعْنَى «سُبْحَانَ» أَيْ كُلُّ صِفَةٍ دُونَ صِفَاتِهِ، وَبَعِيدٌ مِنْهُ غَيْرُ مَا وَصَفَ بِهِ نَفْسَهُ، وَأَمَّا قَوْلُ عِيسَى عليه السلام: {سُبْحَانَكَ مَا يَكُونُ لِي أَنْ أَقُولَ مَا لَيْسَ لِي بِحَقٍّ} [المائدة: 116] أَيْ سُبْحَانَكَ عَمَّا قَالَهُ هَؤُلَاءِ، حِينَ قَالُوا: إِنَّ عِيسَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ إِلَهٌ، وَأَنَّهُ وَلَدٌ. ثُمَّ قَالَ: {إِنْ كُنْتُ قُلْتُهُ فَقَدْ عَلِمْتَهُ تَعْلَمُ مَا فِي نَفْسِي وَلَا أَعْلَمُ مَا فِي نَفْسِكَ إِنَّكَ أَنْتَ عَلَّامُ الْغُيوُبِ} [المائدة: 116] أَيْ لَمْ أَقُلْهُ، وَلَوْ قُلْتُهُ لَكُنْتَ عَلِمْتَهُ، أَيْ لَمْ أَقُلْهُ، وَمِثْلُ هَذَا قَوْلِهُ: {أَتًُنَبِّئُونَ اللَّهَ بِمَا لَا يَعْلَمُ فِي السَّمَوَاتِ وَلَا فِي الْأَرْضِ} أَيْ بِمَا لَمْ يَكُنْ؛ لِأَنَّهُ لَوْ كَانَ لَعَلِمَهُ، وَإِنَّمَا النَّفْيُ لِمَا قَالُوهُ، وَقَوْلُ الْقَائِلِ: مَا عَلِمَ اللَّهُ أَنَّهُ كَانَ ذَلِكَ، فَإِنَّمَا يَنْفِي الْكَوْنَ، أَيْ لَوْ كَانَ لَعَلِمَهُ، وَقَوْلُهُ: {تَعْلَمُ مَا فِي نَفْسِي وَلَا أَعْلَمُ مَا فِي نَفْسِكَ} [المائدة: 116] أَيْ تَعْلَمُ مَا أُخْفِي وَلَا أَعْلَمُ مَا أَخْفَيْتَهُ عَنِّي، ثُمَّ قَالَ: {مَا قُلْتُ لَهُمْ إِلَّا مَا أَمَرْتَنِي بِهِ أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ رَبِّي وَرَبَّكُمْ وَكُنْتُ عَلَيْهِمْ شَهِيدًا مَا دُمْتُ فِيهِمْ فَلَمَّا تَوَّفَيْتَنِي كُنْتَ أَنْتَ الرَّقِيبَ عَلَيْهِمْ وَأَنْتَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدٍ} [المائدة: 117] وَقَدْ أَحْكَمْتُ هَذِهِ الْمَسْأَلَةَ فِي كِتَابِ «الشِّهَادَاتِ» ، وَأَمَّا قَوْلُهُ فِي سُورَةِ الْأَنْعَامِ: {سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَمَّا يَصِفُونَ} [
এবং মহান আল্লাহর বাণী "সুবহানাল্লাহ" এর সদৃশ হলো: "আল্লাহু আকবার" (আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ), অর্থাৎ তিনি প্রতিটি মহান সত্তার চেয়েও মহান। তেমনিভাবে "সুবহান" এর অর্থ হলো—প্রত্যেকটি গুণই তাঁর গুণাবলীর নিম্নে, এবং তিনি নিজেকে যা দ্বারা গুণান্বিত করেছেন তা ব্যতীত অন্য সব কিছু তাঁর থেকে বহু দূরে। আর ঈসা আলাইহিস সালামের বাণী: {আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি; যা বলার অধিকার আমার নেই, তা বলা আমার জন্য শোভন নয়} [আল-মায়িদাহ: ১১৬]। অর্থাৎ, এই লোকেরা যা বলেছে তা থেকে আপনি পবিত্র, যখন তারা বলেছিল যে নিশ্চয়ই ঈসা (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক) একজন উপাস্য এবং তিনি সন্তান। এরপর তিনি বললেন: {যদি আমি তা বলতাম, তবে আপনি অবশ্যই তা জানতেন। আপনি জানেন যা আমার নফসে (সত্তায়) আছে, কিন্তু আমি জানি না যা আপনার নফসে (সত্তায়) আছে; নিশ্চয়ই আপনি অদৃশ্য বিষয়সমূহ সম্পর্কে সম্যক পরিজ্ঞাত} [আল-মায়িদাহ: ১১৬]। অর্থাৎ, আমি তা বলিনি; আর যদি বলতাম, তবে আপনি অবশ্যই তা জানতেন। অর্থাৎ আমি তা বলিনি। এর সদৃশ হলো তাঁর বাণী: {তোমরা কি আল্লাহকে আসমানসমূহ ও জমিনের এমন কিছুর সংবাদ দিচ্ছ যা তিনি জানেন না?} অর্থাৎ যা ঘটেনি; কারণ যদি তা ঘটত তবে তিনি অবশ্যই তা জানতেন। বস্তুত এটি তাদের উক্তিকেই অস্বীকার করার জন্য। আর কোনো বক্তার উক্তি: "আল্লাহ জানেন না যে এটি ঘটেছে", এর মাধ্যমে মূলত বিষয়টি ঘটাকেই অস্বীকার করা হয়। অর্থাৎ যদি তা ঘটত তবে তিনি তা জানতেন। আর তাঁর বাণী: {আপনি জানেন যা আমার নফসে (সত্তায়) আছে, কিন্তু আমি জানি না যা আপনার নফসে (সত্তায়) আছে} [আল-মায়িদাহ: ১১৬]। অর্থাৎ, আমি যা গোপন করি আপনি তা জানেন, কিন্তু আপনি আমার থেকে যা গোপন করেছেন তা আমি জানি না। এরপর তিনি বললেন: {আপনি আমাকে যা আদেশ করেছেন তা ছাড়া আমি তাদেরকে কিছুই বলিনি, (আর তা হলো): তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, যিনি আমার রব ও তোমাদের রব। আর আমি তাদের ওপর সাক্ষী ছিলাম যতদিন আমি তাদের মধ্যে ছিলাম। অতঃপর যখন আপনি আমাকে উঠিয়ে নিলেন, তখন আপনিই ছিলেন তাদের ওপর পর্যবেক্ষণকারী। আর আপনি সব কিছুর ওপর প্রত্যক্ষদর্শী} [আল-মায়িদাহ: ১১৭]। আর আমি এই বিষয়টি "আশ-শিহাদাত" গ্রন্থে সুদৃঢ়ভাবে বর্ণনা করেছি। আর সূরা আল-আনআমে তাঁর বাণী: {তারা যা বর্ণনা করে তা থেকে তিনি পবিত্র ও সুউচ্চ} [
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতু সুবহানা লিনাফতাওয়াইহি
(পৃষ্ঠা: ৩৮৪)
الأنعام: 100] أَيْ عَمَّا يَصِفُونَ مِنَ الْكَذِبِ، وَكَذَلِكَ قَوْلُهُ: {سَيَجْزِيهِمْ وَصْفَهُمْ} [الأنعام: 139] أَيْ كَذِبَهُمْ، وَأَمَّا قَوْلُهُ فِي سُورَةِ الْأَعْرَافِ مُخْبِرًا عَنْ مُوسَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ: {سُبْحَانَكَ تُبْتُ إِلَيْكَ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُؤْمِنِينَ} [الأعراف: 143] فَالْمَعْنَى: تَنْزِيهًا لَكَ أَنْ يَكُونَ إِلَّا مَا أَرَدْتَهُ مِنْ أَنْ أَرَاكَ أَوْ أَنْ تَمْنَعَنِي ذَلِكَ وَإِنَّمَا طَمِعَ مُوسَى عليه السلام فِي رُؤْيَةِ رَبِّهِ حِينَ كَلَّمَهُ، فَسَأَلَ مَا يَجُوزُ عِنْدَهُ، وَلَمْ يُعَنِّفْهُ اللَّهُ عَلَى ذَلِكَ، فَقَالَ: {لَنْ تَرَانِي وَلَكِنِ انْظُرْ إِلَى الْجَبَلِ فَإِنِ اسْتَقَرَّ مَكَانَهُ فَسَوْفَ تَرَانِي} [الأعراف: 143] فَلَمْ يَيْأَسْ مُوسَى عليه السلام مِنَ الرُّؤْيَا، حَتَى رَأَى الْجَبَلَ قَدْ صَارَ دَكًّا، وَقَدْ كَانَ يَجُوزُ أَنْ يَسْتَقِرَّ الْجَبَلُ وَأَنْ يَرَى رَبَّهُ، فَلَمَّا مَنَعَهُ اللَّهُ مِنْ ذَلِكَ قَالَ: {سُبْحَانَكَ تُبْتُ إِلَيْكَ} [الأعراف: 143] أَيْ رَجَعْتُ عَمَّا كُنْتُ سَأَلْتُ، {وَأَنَا أَوَّلُ الْمُؤْمِنِينَ} [الأعراف: 143] أَيْ أَوَّلُ مَنْ آمَنَ بِمَا تُوحِيهِ إِلَيَّ، وَكَذَلِكَ سَائِرُ الْأَنْبِيَاءِ هُمْ أَوَّلُ أُمَمِهِمْ إِيمَانًا حِينَ يَأْتِيهِمُ الْوَحْيُ، ثُمَّ يُبَلِّغُونَ، فَيُؤْمِنُ مَنْ يُؤْمِنُ، وَيَكْفُرُ مَنْ يَكْفُرُ، وَذَلِكَ مُتَقَدِّمٌ فِي عِلْمِ اللَّهِ عز وجل، وَغَيْبِهُ، مَطْوِيٌّ عَنِ الْأَنْبِيَاءِ، فَقَالَ اللَّهُ: {إِنِّي اصْطَفَيْتُكَ عَلَى النَّارِ بِرِسَالَاتِي وَبِكَلَامِي فَخُذْ مَا آتَيْتُكَ} ، أَيْ خُذْهُ أَخْذَ الْقَابِلِ لَهُ، وَالْعَامِلِ بِهِ، وَكُنْ مِنَ الشَّاكِرِينَ لِمَا آتَيْتُكَ مِنْ ذَلِكَ، وَقَوْلُهُ: {إِنَّ الَّذِينَ عِنْدَ رَبِّكَ لَا يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِهِ وَيُسَبِّحُونَهُ} [الأعراف: 206] أَيْ: يُنَزِّهُونَهُ بِأَسْمَائِهِ، وَيَسْجُدُونَ لَهُ،
[আল-আনআম: ১০০] অর্থাৎ তারা মিথ্যা হিসেবে যা বর্ণনা করে তা থেকে (তিনি পবিত্র)। তদ্রূপ তাঁর এই বাণী: {তিনি শীঘ্রই তাদের বর্ণনার প্রতিফল দেবেন} [আল-আনআম: ১৩৯] অর্থাৎ তাদের মিথ্যাচারের। আর সূরা আল-আ’রাফে মূসা (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে সংবাদ দিয়ে তাঁর এই বাণী: {আপনি পবিত্র, আমি আপনার কাছে তওবা করছি এবং আমিই মুমিনদের মধ্যে প্রথম} [আল-আ’রাফ: ১৪৩]। এর অর্থ হলো: আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি—আমি আপনাকে দেখতে পাবো নাকি আপনি আমাকে তা থেকে বিরত রাখবেন, সে বিষয়ে আপনি যা ইচ্ছা করেন তা ব্যতীত অন্য কিছু হওয়া থেকে (আমি আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি)। প্রকৃতপক্ষে মূসা (আলাইহিস সালাম) তাঁর রবের সাথে কথা বলার সময় তাঁকে দেখার আকাঙ্ক্ষা করেছিলেন, তাই তিনি এমন কিছু প্রার্থনা করেছিলেন যা তাঁর নিকট (যুক্তি ও শরীয়তের দৃষ্টিতে) বৈধ ছিল। আল্লাহ এর জন্য তাঁকে তিরস্কার করেননি, বরং তিনি বলেছিলেন: {তুমি আমাকে দেখতে পাবে না, তবে তুমি পাহাড়ের দিকে তাকাও, যদি তা নিজ স্থানে স্থির থাকে তবে তুমি আমাকে দেখতে পাবে} [আল-আ’রাফ: ১৪৩]। সুতরাং মূসা (আলাইহিস সালাম) দেখা পাওয়ার ব্যাপারে নিরাশ হননি, যতক্ষণ না তিনি পাহাড়কে চূর্ণ-বিচূর্ণ হতে দেখলেন। আর পাহাড়টি স্থির থাকাও সম্ভব ছিল এবং তাঁর রবকে দেখাও সম্ভব ছিল; কিন্তু যখন আল্লাহ তাঁকে তা থেকে বিরত রাখলেন, তখন তিনি বললেন: {আপনি পবিত্র, আমি আপনার কাছে তওবা করছি} [আল-আ’রাফ: ১৪৩] অর্থাৎ আমি যা প্রার্থনা করেছিলাম তা থেকে ফিরে আসলাম। {এবং আমিই মুমিনদের মধ্যে প্রথম} [আল-আ’রাফ: ১৪৩] অর্থাৎ আপনার পক্ষ থেকে আমার প্রতি যা ওহী নাযিল করা হচ্ছে তার ওপর প্রথম বিশ্বাস স্থাপনকারী। তদ্রূপ অন্যান্য সকল নবীও তাঁদের উম্মতদের মধ্যে প্রথম ঈমান আনয়নকারী যখন তাঁদের নিকট ওহী আসে; অতঃপর তাঁরা তা পৌঁছে দেন, ফলে যারা ঈমান আনার তারা ঈমান আনে এবং যারা কুফরি করার তারা কুফরি করে। আর তা মহান আল্লাহর ইলম ও তাঁর গায়েবে আগে থেকেই নির্ধারিত, যা নবীদের নিকট অপ্রকাশিত ছিল। অতঃপর আল্লাহ বললেন: {আমি আমার রিসালাত ও আমার কালামের মাধ্যমে তোমাকে মানুষদের ওপর বেছে নিয়েছি, সুতরাং আমি তোমাকে যা দান করেছি তা গ্রহণ করো}, অর্থাৎ তা কবুলকারী ও তদানুযায়ী আমলকারী হিসেবে গ্রহণ করো এবং আমি তোমাকে যা দিয়েছি তার জন্য কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হও। আর তাঁর এই বাণী: {নিশ্চয় যারা তোমার রবের নিকট রয়েছে, তারা তাঁর ইবাদত করতে অহংকার করে না এবং তারা তাঁর তাসবীহ পাঠ করে} [আল-আ’রাফ: ২০৬] অর্থাৎ তারা তাঁর নামসমূহের মাধ্যমে তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে এবং তাঁকে সিজদা করে।
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতু সুবহানা লিনাফতাওয়াইহি
(পৃষ্ঠা: ৩৮৫)
وَقَوْلُهُ فِي سُورَةِ يُونُسَ: {دَعَوَاهُمْ فِيهَا سُبْحَانَكَ اللُّهُمَّ} [يونس: 10] أَيْ هُمْ فِي الْجَنَّةِ عَلَى تَنْزِيهِ اللَّهِ عَمَّا نَزَّهَ عَنْهُ نَفْسَهُ، كَمَا كَانُوا فِي الدُّنْيَا، {وَتَحِيَّتُهُمْ فِيهَا سَلَامٌ وَآخِرُ دَعْوَاهُمْ أَنِ الْحَمْدُ لِلِّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} [يونس: 10] ، رِضًا بِمَا أَعْطَوْهُ، وَنَحْوُ ذَلِكَ قَوْلُهُ تبارك وتعالى: {رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ} [المائدة: 119]
এবং সূরা ইউনুসে তাঁর বাণী: {সেখানে তাদের প্রার্থনা হবে: ‘হে আল্লাহ, আপনি পবিত্র’} [ইউনুস: ১০]। অর্থাৎ তারা জান্নাতে আল্লাহকে সেই সব বিষয় থেকে পবিত্র ঘোষণা করার ওপর থাকবে যা থেকে তিনি নিজেকে পবিত্র ঘোষণা করেছেন, যেমনটি তারা দুনিয়াতে ছিল। {এবং সেখানে তাদের অভিবাদন হবে সালাম এবং তাদের শেষ প্রার্থনা হবে ‘সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য’} [ইউনুস: ১০]। যা তাদের প্রদান করা হয়েছে তাতে সন্তুষ্ট হয়ে (তারা এরূপ বলবে)। আর মহান ও বরকতময় আল্লাহর বাণীও এর অনুরূপ: {আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে} [আল-মায়িদাহ: ১১৯]।
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতু সুবহানা লিনাফতাওয়াইহি
(পৃষ্ঠা: ৩৮৫)
1 - حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الرَّبِيعِ الزَّهْرَانِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ زَكَرِيَّا، عَنْ عَنْبَسَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنِ الْمُعَلَّى بْنِ عِرْفَانَ، عَنْ شَقِيقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ رَضِيَ بِمَا قَسَمَ اللَّهُ لَهُ دَخَلَ الْجَنَّةَ» ⦗ص: 386⦘. وَقَوْلُهُ: {سُبْحَانَهُ عَمَّا يُشْرِكُونَ} [التوبة: 31] ، وَ {سُبْحَانَهُ هُوَ الْغَنِيُّ} [يونس: 68] ، كُلُّ ذَلِكَ أَصْلُهُ مَا وَصَفْتُهُ لَكَ. وَقَوْلُهُ: {سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ} [الأعلى: 1] ، أَيْ نَزِّهِ اسْمَهُ عَنْ غَيْرِ مَا سَمَّى بِهِ نَفْسَهُ. وَقَوْلُهُ: {فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ} [الحجر: 98] ، أَيْ ادْعُهُ بِأَسْمَائِهِ، فَنَزِّهْهُ بِهَا عَمَّا قَالَهُ الْمُخَالِفُونَ. وَكُلُّ مَا كَانَ فِي الْقُرْآنِ مِنْ قَوْلِهِ: {فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ} [الحجر: 98] ، وَ {سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ} [الأعلى: 1] ، فَمَعْنَاهُ كُلُّهُ: نَزِّهْهُ، وَعَظِّمْهُ مِنْ غَيْرِ مَا وَصَفَ اللَّهُ بِهِ نَفْسَهُ. وَقَوْلِهِ فِي سُورَةِ الرَّعْدِ: {وَيُسَبِّحُ الرَّعْدُ بِحَمْدِهِ وَالْمَلَائِكَةُ مِنْ خِيفَتِهِ} [الرعد: 13] ، أَيْ كُلٌّ يُنَزِّهُهُ وَيُعَظِّمُهُ بِأَسْمَائِهِ، وَأَسْمَاءُ اللَّهِ صِفَاتٌ لَهُ، وَصِفَاتُ اللَّهِ مَدْحٌ. وَكُلُّ مَنْ ذَكَرَ اللَّهَ بِاسْمٍ مِنْ أَسْمَائِهِ ⦗ص: 387⦘ فَقَدْ أَطَاعَهُ، إِذَا وَصَفَهُ بِصِفَتِهِ الَّتِي رَضِيَهَا لِنَفْسِهِ وَنَفَى سِوَاهَا عَنْهُ. وَكَذَلِكَ قَوْلِهِ فِي الْحِجْرِ: {فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ} [الحجر: 98] ، وَقَوْلِهِ فِي سُورَةِ النَّمْلِ: {سُبْحَانَ اللَّهِ عَمَّا يُشْرِكُونَ} [النمل: 63] ، أَيْ تَعْظِيمًا لَهُ، وَتَنْزِيهًا عَنْ إِشْرَاكِهِمْ بِهِ. وَلَسْتَ تَرَى ذِكْرَ {سُبْحَانَ} [الإسراء: 1] فِي سَائِرِ الْقُرْآنِ إِلَّا وَمَعَهَا إِثْبَاتٌ وَنَفْيٌ، فَالْإِثْبَاتُ لِأَسْمَائِهِ الَّتِي هِيَ صِفَاتِهِ، وَالنَّفْيُ فِيمَا سِوَى ذَلِكَ، فَتَأَمَّلْهُ تَجِدْهُ فِي سَائِرِ الْقُرْآنِ. كَذَلِكَ قَوْلِهِ: {وَيَجْعَلُونَ لِلَّهِ الْبَنَاتِ سُبْحَانَهُ} [النحل: 57] ، وَقَوْلِهِ: {سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَى بِعَبْدِهِ} [الإسراء: 1] ، أَيْ تَنْزِيهًا لَهُ، وَتَعْظِيمًا عَنْ قَوْلِ الْمُكَذِّبِينَ بِأَنْبَائِهِ عَلَى أَلْسِنَةِ أَنْبِيَائِهِ. وَكَذَلِكَ قَوْلِهِ: {سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَمَّا يَقُولُونَ عُلُوًّا كَبِيرًا تُسَبِّحُ لَهُ السَّمَوَاتُ السَّبْعُ وَالْأَرْضُ وَمَنْ فِيهِنَّ وَإِنْ مِنْ شَيْءٍ إِلَّا يُسَبِّحُ بِحَمْدِهِ وَلَكِنْ لَا تَفْقَهُونَ تَسْبِيحَهُمْ} ، فَهَذَا إِثْبَاتٌ مِنْهُ عَزَّ وَعَلَا التَّسْبِيحَ مِنَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ، وَأَنَّهُ لَا يَفْقَهُ تَسْبِيحَهُمْ إِلَّا هُوَ، وَإِنْ شَاءَ أَنْ يُعَلِّمَ بَعْضَ خَلْقِهِ بَعْضَ ذَلِكَ التَّسْبِيحِ عَلَّمَهُ، كَمَا قَالَ: {عُلِّمْنَا مَنْطِقَ الطَّيْرِ} [النمل: 16] ، فَهَذَا مِمَّا لَا يَفْقَهُهُ خَلْقُهُ، وَإِنْ شَاءَ أَنْ يُعَلِّمَهُ إِنْسَانًا عَلَّمَهُ
১ - আব্বাস ইবনে মুহাম্মদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আবু রাবি আল-যাহরানি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: সাঈদ ইবনে যাকারিয়া আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আমবাসা ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি মুআল্লা ইবনে ইরফান থেকে, তিনি শাকীক থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহ তার জন্য যা বন্টন করেছেন তাতে সন্তুষ্ট থাকে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।" ⦗পৃষ্ঠা: ৩৮৬⦘। আর তাঁর বাণী: {তারা যা শরিক করে তা থেকে তিনি পবিত্র} [তওবা: ৩১], এবং {তিনি পবিত্র, তিনি অভাবমুক্ত} [ইউনুস: ৬৮], এই সবকিছুর মূল ভিত্তি হলো যা আমি আপনার কাছে বর্ণনা করেছি। আর তাঁর বাণী: {আপনার রবের নামের পবিত্রতা ঘোষণা করুন} [আলা: ১], অর্থাৎ তাঁর নামকে তা ছাড়া অন্য কিছু থেকে পবিত্র রাখুন যা দিয়ে তিনি নিজেকে নামান্বিত করেছেন। আর তাঁর বাণী: {সুতরাং আপনার রবের প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করুন} [হিজর: ৯৮], অর্থাৎ তাঁর নামের মাধ্যমে তাঁকে ডাকুন এবং সেই নামসমূহের মাধ্যমে বিরোধীরা যা বলে তা থেকে তাঁকে পবিত্র ঘোষণা করুন। কুরআনে তাঁর যত বাণী রয়েছে যেমন: {সুতরাং আপনার রবের প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করুন} [হিজর: ৯৮], এবং {আপনার রবের নামের পবিত্রতা ঘোষণা করুন} [আলা: ১], এগুলোর সবকিছুর অর্থ হলো: আল্লাহ নিজেকে যা দিয়ে গুণান্বিত করেছেন তা ব্যতীত অন্য কিছু থেকে তাঁকে পবিত্র জানুন এবং তাঁর মহিমা ঘোষণা করুন। আর সূরা রা'দ-এ তাঁর বাণী: {বজ্রধ্বনি তাঁর প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করে এবং ফেরেশতারাও তাঁর ভয়ে (পবিত্রতা ঘোষণা করে)} [রা'দ: ১৩], অর্থাৎ প্রত্যেকেই তাঁর নামসমূহের মাধ্যমে তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে; আর আল্লাহর নামসমূহ তাঁর গুণাবলি, এবং আল্লাহর গুণাবলি হলো প্রশংসা। আর যে ব্যক্তিই আল্লাহকে তাঁর নামসমূহের কোনো একটির মাধ্যমে স্মরণ করে ⦗পৃষ্ঠা: ৩৮৭⦘ সে তাঁর আনুগত্য করল, যদি সে তাঁকে সেই গুণের মাধ্যমে বর্ণনা করে যা তিনি নিজের জন্য পছন্দ করেছেন এবং তা ছাড়া অন্য কিছু তাঁর থেকে নাকচ করে দেয়। একইভাবে হিজর সূরায় তাঁর বাণী: {সুতরাং আপনার রবের প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করুন} [হিজর: ৯৮], এবং সূরা নামল-এ তাঁর বাণী: {তারা যা শরিক করে আল্লাহ তা থেকে পবিত্র} [নামল: ৬৩], অর্থাৎ তাঁর মহিমা বর্ণনাস্বরূপ এবং তাদের শিরক থেকে তাঁর পবিত্রতা ঘোষণাস্বরূপ। আপনি পুরো কুরআনে যেখানেই {পবিত্রতা} [ইসরা: ১] শব্দের উল্লেখ দেখবেন, তার সাথেই সাব্যস্তকরণ এবং নাকচকরণ দেখতে পাবেন। সাব্যস্তকরণ হলো তাঁর নামসমূহের জন্য যা তাঁর গুণাবলি, আর নাকচকরণ হলো তা ব্যতীত অন্য সবকিছুর ক্ষেত্রে। আপনি এটি নিয়ে চিন্তা করুন, সমগ্র কুরআনেই আপনি এটি পাবেন। একইভাবে তাঁর বাণী: {আর তারা আল্লাহর জন্য কন্যা সন্তান সাব্যস্ত করে, তিনি পবিত্র} [নাহল: ৫৭], এবং তাঁর বাণী: {পবিত্র তিনি যিনি তাঁর বান্দাকে রাতে ভ্রমণ করিয়েছিলেন} [ইসরা: ১], অর্থাৎ তাঁর পবিত্রতা ঘোষণাস্বরূপ এবং তাঁর নবীদের মুখ নিঃসৃত সংবাদকে যারা অস্বীকার করে তাদের কথা থেকে তাঁর মহিমা বর্ণনাস্বরূপ। একইভাবে তাঁর বাণী: {তারা যা বলে তা থেকে তিনি পবিত্র ও অত্যন্ত মহান। সাত আসমান, পৃথিবী এবং তাদের মধ্যবর্তী সবকিছু তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে। এমন কোনো কিছু নেই যা তাঁর প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করে না, কিন্তু তোমরা তাদের পবিত্রতা ঘোষণা বুঝতে পারো না।}, এটি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর পক্ষ থেকে আসমান ও জমিনের পবিত্রতা ঘোষণার সাব্যস্তকরণ; আর তিনি ছাড়া কেউ তাদের পবিত্রতা ঘোষণা বুঝতে পারে না। তিনি যদি তাঁর সৃষ্টির কাউকে সেই পবিত্রতা ঘোষণার কিছু অংশ শেখাতে চান তবে শেখান, যেমনটি তিনি বলেছেন: {আমাদেরকে পাখিদের ভাষা শেখানো হয়েছে} [নামল: ১৬]। সুতরাং এটি এমন বিষয় যা তাঁর সৃষ্টিরা বুঝতে পারে না, তবে তিনি যদি কোনো মানুষকে তা শেখাতে চান তবে শেখান।
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতু সুবহানা লিনাফতাওয়াইহি
(পৃষ্ঠা: ৩৮৭)
2 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُوسَى قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو خُزَيْمَةَ الْعَابِدُ قَالَ: حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ مَيْمُونٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الصَّبَّاحِ، عَنْ كَعْبٍ ⦗ص: 388⦘ قَالَ: " صِيَاحُ الدُّرَّاجِ فِي السَّمَاءِ: الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى "
২ - মুহাম্মদ ইবনে মূসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু খুজাইমাহ আল-আবিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ঈসা ইবনে মাইমুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে আল-সাব্বাহ থেকে বর্ণিত, কাব থেকে বর্ণিত ⦗পৃষ্ঠা: ৩৮৮⦘ তিনি বলেন: " আসমানে দুরাজ পাখির ডাক হলো: রহমান আরশের উপর উঠেছেন। "
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতু সুবহানা লিনাফতাওয়াইহি
(পৃষ্ঠা: ৩৮৮)
3 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُوسَى قَالَ: حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ قَالَ: حَدَّثَنَا مَخْلَدُ بْنُ عُبَيْدٍ، عَنْ فَرْقَدٍ السَّبَخِيِّ قَالَ: "
مَرَّ سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ عليه السلام بِدِيكٍ يَصِيحُ، فَقَالَ: أَتَدْرُونَ مَا يَقُولُ هَذَا الدِّيكُ؟ يَقُولُ: يَا غَافِلِينَ اذْكُرُوا اللَّهَ ". وَقَوْلِهِ فِي سُورَةِ مَرْيَمَ: {سُبْحَانَهُ إِذَا قَضَى أَمْرًا فَإِنَّمَا يَقُولُ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ} [مريم: 35] ، فَهَذَا مَعَ قِصَّةِ عِيسَى عليه السلام، وَمَا ادُّعِيَ فِي أَمْرِهِ مِمَّا نَفَاهُ اللَّهُ. وَقَوْلِهِ: {فَأَوْحَى إِلَيْهِمْ أَنْ سَبِّحُوا بُكْرَةً وَعَشِيًّا} [مريم: 11] ، أَيْ اذْكُرُوا اللَّهَ بِأَسْمَائِهِ. وَالْوَحْيُ هَاهُنَا، إِنَّمَا هُوَ إِعْلَامٌ مِنْ زَكَرِيَّا، وَقَدْ
⦗ص: 389⦘ ضُرِبَ عَلَى لِسَانِهِ، وَذَلِكَ قَوْلُهُ: {إِلَّا رَمْزًا} [آل عمران: 41] ، وَالرَّمْزُ: الْإِيمَاءُ، وَالْحَرَكَةُ. قَالَ جَرِيرٌ:
[البحر الكامل]
أَمْسَى يُرَمِّزُ حَاجِبَيْهِ كَأَنَّهُ
… ذِيخٌ لَهُ بِقَصِيمَتَيْنِ وَجَارٌ
الذِّيخُ: ذَكَرُ الضَّبُعِ. فَالْإِيحَاءُ هَاهُنَا فِي قِصَّةِ زَكَرِيَّا: إِعْلَامٌ بِغَيْرِ كَلَامٍ. وَقَدْ حُكِيَ أَنَّهُ خَطَّ لَهُمْ فِي الْأَرْضِ ، وَلَعَمْرِي مَا تَمْنَعُ اللُّغَةُ مِنْ هَذَا أَنْ يَكُونَ أَعْلَمَهُمْ بِأَيِّ جِنْسٍ كَانَ، مِنْ غَيْرِ أَنْ يُكَلِّمَهُمْ. قَالَ النَّجَاشِيُّ:
[البحر الطويل]
يَخْطُطْنَ بِالْبَطْحَاءِ وَحْيًا عَلِمْنَهُ
… عَلَى أَنَّهُ أَعْيَا عَلَى كُلِّ كَاتِبِ
وَقَوْلِهِ فِي سُورَةِ طه: {وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبِهَا وَمِنْ آنَاءِ اللَّيْلِ فَسَبِّحْ وَأَطْرَافَ النَّهَارِ} [طه: 130] ، يُوصِيهِ بِالْأَوْقَاتِ: ابْتِدَاءِ النَّهَارِ، وَآخِرِهِ، وَأَطْرَافِهِ، وَآنَاءِ اللَّيْلِ، وَهِيَ
⦗ص: 390⦘ أَوْقَاتُهُ: وَاحِدُهَا إِنًى وَإِنْيٌ وَإِنْوٌ، وَأَنْشَدَ أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى:
[البحر البسيط]
حُلْوٌ وَمَرٌّ كَعَطْفِ الْقِدْحِ مِرَّتُهُ
… بِكُلِّ إِنًى حَدَاهُ اللَّيْلُ يَنْتَعِلُ
وَقَوْلِهِ: {فَسُبْحَانَ اللَّهِ حِينَ تُمْسُونَ وَحِينَ تُصْبِحُونَ وَلَهُ الْحَمْدُ فِي السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَعَشِيًّا وَحِينَ تُظْهِرُونَ} ، فَهَذِهِ أَوْقَاتُ الصَّلَاةِ. وَالصَّلَاةُ الْوُسْطَى: الْعَصْرُ. وَقَوْلِهِ: {وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ الْغُرُوبِ وَمِنَ اللَّيْلِ فَسَبِّحْهُ وَأَدْبَارَ السُّجُودِ} [ق: 40] ، فَقَدْ أَمَرَ اللَّهُ عز وجل بِالتَّسْبِيحِ، ثُمَّ ذَكَرَ أَوْقَاتًا يَحُضُّ عَلَى التَّسْبِيحِ فِيهَا
৩ - মুহাম্মাদ ইবনে মুসা আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবরাহীম ইবনে আবদুর রহমান আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মাখলাদ ইবনে উবাইদ আমাদের বর্ণনা করেছেন ফারকাদ আস-সাবাসি থেকে, তিনি বলেন: "
সুলাইমান ইবনে দাউদ (আলাইহিস সালাম) একটি মোরগের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যা ডাকছিল। তখন তিনি বললেন: তোমরা কি জানো এই মোরগটি কী বলছে? সে বলছে: হে গাফেলরা, তোমরা আল্লাহকে স্মরণ করো। " এবং সূরা মারিয়ামে তাঁর বাণী: {তিনি পবিত্র; যখন তিনি কোনো কাজ সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেন, তখন শুধু বলেন 'হও', আর তা হয়ে যায়} [মারিয়াম: ৩৫]। এটি ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর কাহিনীর সাথে সংশ্লিষ্ট, এবং তাঁর ব্যাপারে যা দাবি করা হয়েছে তা আল্লাহ নাকচ করেছেন। এবং তাঁর বাণী: {অতঃপর তিনি তাদের প্রতি ইশারা করলেন যে, তোমরা সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করো} [মারিয়াম: ১১], অর্থাৎ আল্লাহর নামসমূহ দ্বারা তাঁকে স্মরণ করো। এখানে 'ওহী' (ইশারা) মানে হলো জাকারিয়ার পক্ষ থেকে জানানো, এবং
⦗পৃষ্ঠা: ৩৮৯⦘ তাঁর জিহ্বা কথা বলা থেকে রুদ্ধ হয়ে গিয়েছিল। আর তা-ই হলো তাঁর বাণী: {ইশারা ব্যতীত নয়} [আল ইমরান: ৪১]। আর 'রাময' অর্থ হলো ইশারা ও অঙ্গভঙ্গি। জারীর বলেন:
[কামিল ছন্দ]
সে তার ভ্রু দিয়ে ইশারা করতে শুরু করল, যেন সে
… গাছগাছালিপূর্ণ জায়গায় গর্তে থাকা এক পুরুষ হায়েনা।
'যিখ' অর্থ: পুরুষ হায়েনা। সুতরাং জাকারিয়ার কাহিনীতে এখানে 'ইহা' (ইশারা) অর্থ হলো কথা বলা ছাড়াই জানানো। বর্ণিত আছে যে, তিনি তাদের জন্য জমিনে দাগ টেনেছিলেন। আমার জীবনের শপথ, ভাষাগতভাবে এতে কোনো বাধা নেই যে তিনি তাদের যেকোনো প্রকারেই হোক না কেন সংবাদ দিয়েছিলেন, তাদের সাথে কথা বলা ছাড়াই। নাজাশি বলেন:
[তাবিল ছন্দ]
তারা মরুপ্রান্তরে এমনভাবে রেখা টানছিল যা ছিল তাদের জানা এক ইশারা (লিখন),
… যদিও তা যেকোনো লেখকের জন্য ছিল দুঃসাধ্য।
এবং সূরা ত্বহা-তে তাঁর বাণী: {এবং তোমার প্রতিপালকের প্রশংসার সাথে পবিত্রতা ঘোষণা করো সূর্যোদয়ের পূর্বে ও তার সূর্যাস্তের পূর্বে, এবং পবিত্রতা ঘোষণা করো রাতের কিছু অংশে ও দিবসের প্রান্তসমূহে} [ত্বহা: ১৩০]। এখানে তাঁকে সময়ের অসিয়ত করা হচ্ছে: দিনের শুরু, শেষ, প্রান্তসমূহ এবং রাতের অংশসমূহ। আর এগুলি হলো
⦗পৃষ্ঠা: ৩৯০⦘ তাঁর সময়সমূহ; এর একবচন হলো 'ইনা', 'ইনই' এবং 'ইনওয়ু'। আহমাদ ইবনে ইয়াহইয়া আবৃত্তি করেছেন:
[বাসিত ছন্দ]
মিষ্টতা ও তিক্ততা তীরকে বাঁকানোর মতো তার দৃঢ়তা;
… রাতের প্রতিটি প্রহরে যখন রাত তাকে চালিত করে, সে প্রস্তুত থাকে।
এবং তাঁর বাণী: {সুতরাং তোমরা আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করো যখন তোমরা সন্ধ্যায় উপনীত হও এবং যখন তোমরা সকালে উপনীত হও। আর আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে সমস্ত প্রশংসা তাঁরই, এবং বিকেলে ও যখন তোমরা জোহরের সময় করো।} এগুলি হলো সালাতের সময়সমূহ। আর 'মধ্যবর্তী সালাত' হলো আসরের সালাত। এবং তাঁর বাণী: {এবং তোমার প্রতিপালকের প্রশংসার সাথে পবিত্রতা ঘোষণা করো সূর্যোদয়ের পূর্বে ও সূর্যাস্তের পূর্বে। এবং রাতের কিছু অংশে তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করো এবং সিজদার পরেও} [ক্বাফ: ৪০]। এখানে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা পবিত্রতা ঘোষণা করার নির্দেশ দিয়েছেন, অতঃপর এমন কিছু সময়ের কথা উল্লেখ করেছেন যখন তিনি পবিত্রতা ঘোষণার ব্যাপারে উৎসাহিত করেন।
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতু সুবহানা লিনাফতাওয়াইহি
(পৃষ্ঠা: ৩৯০)
4 - حَدَّثَنِي الْحُنَيْنِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْمُفَضَّلِ قَالَ: حَدَّثَنَا أَسْبَاطٌ، عَنِ السُّدِّيِّ، فِي قَوْلِهِ: {كُلٌّ لَهُ أَوَّابٌ} [ص: 19] قَالَ: «مُسَبِّحٌ لِلَّهِ»
4 - হুনাইনী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আহমাদ বিন আল-মুফাদদাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আসবাত আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুদ্দী থেকে, মহান আল্লাহর বাণী প্রসঙ্গে: {প্রত্যেকেই তাঁর প্রতি প্রত্যাবর্তনকারী} [সদ: ১৯] তিনি বলেন: "আল্লাহর মহিমা ঘোষণাকারী"
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতু সুবহানা লিনাফতাওয়াইহি
(পৃষ্ঠা: ৩৯১)
5 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ وَهْبٍ الْعَلَّافُ، وَمُحَمَّدُ بْنُ يُونُسَ، قَالَا: حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ الطَّيَالِسِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا وَرْقَاءُ، عَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، فِي قَوْلِهِ: {يَا جِبَالُ أَوِّبِي مَعَهُ} [سبأ: 10] قَالَ: «سَبِّحِي مَعَهُ» قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: فَكُلُّ مَنْ عَظَّمَ اللَّهَ وَكَبَّرَهُ وَدَعَاهُ بِأَسْمَائِهِ فَهُوَ مُسَبِّحٌ لَهُ
৫ - আমাদের নিকট ইসহাক বিন ওয়াহাব আল-আল্লাফ এবং মুহাম্মদ বিন ইউনুস বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেছেন: আমাদের নিকট আবু দাউদ আত-তায়ালিসি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট ওয়ারকা বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি নাজিহ থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে (বর্ণনা করেছেন), আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে: {হে পর্বতমালা, তোমরা তাঁর সাথে তাসবিহ পাঠ করো} [সাবা: ১০], তিনি বলেন: "তাঁর সাথে তাসবিহ পাঠ করো।" আবু আবদুল্লাহ বলেন: অতএব যে ব্যক্তিই আল্লাহর মহিমা বর্ণনা করে, তাঁর বড়ত্ব ঘোষণা করে এবং তাঁর নামসমূহের মাধ্যমে তাঁকে আহ্বান করে সে-ই তাঁর তাসবিহ পাঠকারী।
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতু সুবহানা লিনাফতাওয়াইহি
(পৃষ্ঠা: ৩৯১)
6 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ الْعُطَارِدِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " لِأَنْ أَقُولَ: سُبْحَانَ اللَّهِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ، أَحَبُّ إِلَيَّ مِمَّا طَلَعَتْ عَلَيْهِ الشَّمْسُ " ⦗ص: 392⦘. قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: فَقَدْ بَيَّنْتُ لَكَ مَعْنَى التَّسْبِيحِ، وَمَعْنَى أَسْمَاءِ اللَّهِ عز وجل أَنَّهَا صِفَاتٌ لَهُ وَمَدْحٌ، فَكُلُّ مَنْ دَعَاهُ بِاسْمٍ مِنْ أَسْمَائِهِ فَقَدْ أَطَاعَهُ وَمَدَحَهُ وَعَظَّمَهُ وَسَبَّحَهُ
৬ - আমাদের নিকট আহমাদ ইবনে আব্দুল জাব্বার আল-উতারিদি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু মুয়াবিয়া বর্ণনা করেছেন, তিনি আমাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: " সুবহানাল্লাহ (আল্লাহ অতি পবিত্র), আলহামদুলিল্লাহ (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর), লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই) এবং আল্লাহু আকবার (আল্লাহ মহানতম) বলা আমার নিকট ঐ সমস্ত জিনিসের চেয়ে অধিক প্রিয় যার ওপর উদিত হয় সূর্য।" ⦗পৃষ্ঠা: ৩৯২⦘। আবু আব্দুল্লাহ বলেন: আমি আপনার নিকট তাসবিহ-এর অর্থ এবং মহান আল্লাহর নামসমূহের মর্মার্থ স্পষ্ট করেছি যে, সেগুলো তাঁরই গুণাবলি এবং প্রশংসা। সুতরাং যে ব্যক্তিই তাঁর নামসমূহের কোনো একটি নাম ধরে তাঁকে আহ্বান করে, সে তাঁর আনুগত্য করল, তাঁর প্রশংসা করল, তাঁর মহিমা ঘোষণা করল এবং তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করল।
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতু সুবহানা লিনাফতাওয়াইহি
(পৃষ্ঠা: ৩৯২)
7 - حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا يَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَيْسَ أَحَدٌ أَغْيَرَ مِنَ اللَّهِ؛ وَلِذَلِكَ حَرَّمَ الْفَوَاحِشَ. وَلَيْسَ أَحَدٌ أَحَبَّ إِلَيْهِ الْمَدْحُ مِنَ اللَّهِ عز وجل» ⦗ص: 393⦘. وَقَوْلُهُ: {فَاذْكُرُونِي أَذْكُرْكُمْ} [البقرة: 152] ، أَيِ: اذْكُرُونِي بِأَسْمَائِي، وَعِنْدَ تَصَرُّفِكُمْ وَأَحْوَالِكُمْ، أَذْكُرْكُمْ بِرَحْمَتِي
৭ - আব্বাস ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়ালা ইবনে উবাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-আ’মাশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ওয়ায়িল থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আল্লাহর চেয়ে অধিক আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন কেউ নেই; আর একারণেই তিনি অশ্লীল কাজসমূহ হারাম করেছেন। এবং মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর চেয়ে প্রশংসা অধিক প্রিয় আর কারো কাছে নেই» ⦗পৃষ্ঠা: ৩৯৩⦘। এবং তাঁর বাণী: {অতএব তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমি তোমাদের স্মরণ করব} [আল-বাকারা: ১৫২], অর্থাৎ: তোমরা আমাকে আমার নামসমূহের মাধ্যমে এবং তোমাদের কর্ম ও অবস্থায় স্মরণ করো, আমি তোমাদের আমার রহমতের মাধ্যমে স্মরণ করব।
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতু সুবহানা লিনাফতাওয়াইহি
(পৃষ্ঠা: ৩৯৩)
8 - حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا يَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ، عَنْ مُجَاهِدٍ، فِي قَوْلِهِ: {وَلِمَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ جَنَّتَانِ} [الرحمن: 46] قَالَ: «مَنْ خَافَ مَقَامَ اللَّهِ»
৮ - আব্বাস ইবনে মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়লা ইবনে উবাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-আমাশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুজাহিদ হতে, আল্লাহর এই বাণী প্রসঙ্গে: “আর যে ব্যক্তি তার রবের সামনে দাঁড়ানোকে ভয় করে, তার জন্য রয়েছে দুটি জান্নাত” [আর-রাহমান: ৪৬]। তিনি বলেন: “যে আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোকে ভয় করল।”
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতু সুবহানা লিনাফতাওয়াইহি
(পৃষ্ঠা: ৩৯৩)
9 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى الْوَاسِطِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحِ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، فِي قَوْلِهِ: {وَلِمَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ جَنَّتَانِ} [الرحمن: 46] قَالَ: «هُوَ أَنْ يَذْكُرَ اللَّهَ عِنْدَ الْمَعْصِيَةِ فَيَنْحَجِزَ»
৯ - মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা আল-ওয়াসিতী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে সালেহ ইবনে মুসলিম আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবুল আহওয়াস থেকে, তিনি মানসুর থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেন: "আর যে ব্যক্তি তার রবের সামনে দণ্ডায়মান হওয়ার ভয় রাখে, তার জন্য রয়েছে দুটি জান্নাত" [আর-রাহমান: ৪৬]; তিনি বলেন: "এটি হলো সেই ব্যক্তি, যে কোনো পাপকাজের সময় আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তা থেকে বিরত থাকে।"
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতু সুবহানা লিনাফতাওয়াইহি
(পৃষ্ঠা: ৩৯৩)
10 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ ⦗ص: 394⦘ قَالَ: أَخْبَرَنَا فُضَيْلٌ، عَنْ عَطِيَّةَ، فِي قَوْلِهِ: {وَلَذِكْرُ اللَّهِ أَكْبَرُ} [العنكبوت: 45] قَالَ: «ذِكْرُ اللَّهِ الْعَبْدَ أَكْبَرُ مِنْ ذِكْرِ الْعَبْدِ لِلَّهِ»
১০ - মুহাম্মদ বিন আব্দুল মালিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াযীদ বিন হারুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ৩৯৪⦘ তিনি বলেন: ফুদাইল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আতিয়্যাহ থেকে আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে: {আর আল্লাহর স্মরণই সর্বশ্রেষ্ঠ} [আল-আনকাবুত: ৪৫] তিনি বলেন: «আল্লাহর তাঁর বান্দাকে স্মরণ করা, বান্দার স্মরণের চেয়েও মহান আল্লাহর প্রতি»
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতু সুবহানা লিনাফতাওয়াইহি
(পৃষ্ঠা: ৩৯৪)
11 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ قَالَ: أَخْبَرَنَا فُضَيْلٌ، عَنْ عَطِيَّةَ، فِي قَوْلِهِ: {فَلَوْلَا أَنَّهُ كَانَ مِنَ الْمُسَبِّحِينَ} [الصافات: 143] قَالَ: «قَبْلَ ذَلِكَ» قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: يَعْنِي أَنَّهُ كَانَ يَذْكُرُ اللَّهَ فِي الرَّخَاءِ، فَلَمَّا ذَكَرَهُ عِنْدَ الشِّدَّةِ أَنْجَاهُ، أَلَا تَرَى أَنَّ فِرْعَوْنَ لَمَّا أَدْرَكَهُ الْغَرَقُ قَالَ: {آمَنْتُ أَنَّهَ لَا إِلَهَ إِلَّا الَّذِي آمَنَتْ بِهِ بَنُو إِسْرَائِيلَ وَأَنَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ} ⦗ص: 395⦘[يونس: 90] ، فَقَالَ اللَّهُ تبارك وتعالى: {آلْآنَ وَقَدْ عَصَيْتَ قَبْلُ وَكُنْتَ مِنَ الْمُفْسِدِينَ} [يونس: 91] . فَلَمْ يَكُنْ فِرْعَوْنُ يَذْكُرُ اللَّهَ فِي الرَّخَاءِ، فَلَمْ يَقْبَلْهُ فِي الشِّدَّةِ حِينَ رَأَى بَأْسَهُ. وَكَانَ يُونُسُ عليه السلام يَذْكُرُ اللَّهَ فِي الرَّخَاءِ، فَأَعَانَهُ فِي وَقْتِ الشِّدَّةِ، وَأَنْجَى قَوْمَهُ مِنَ الْعَذَابِ، بَعْدَ أَنْ قَدْ أَظَلَّهُمْ، وَلَمْ يَفْعَلْ ذَلِكَ بِغَيْرِهِمْ مِنَ الْأُمَمِ، أَلَا تَسْمَعُ إِلَى قَوْلِهِ عز وجل: {فَلَمَّا رَأَوْا بَأْسَنَا قَالُوا آمَنَّا بِاللَّهِ وَحْدَهُ وَكَفَرْنَا بِمَا كُنَّا بِهِ مُشْرِكِينَ} [غافر: 84] ، فَقَالَ اللَّهُ تبارك وتعالى: {فَلَمْ يَكُ يَنْفَعُهُمْ إِيمَانُهُمْ لَمَّا رَأَوْا بَأْسَنَا سُنَّةَ اللَّهِ الَّتِي قَدْ خَلَتْ فِي عِبَادِهِ} ، أَيْ هَذِهِ سُنَّةُ اللَّهِ، فَمَنْ أَهْلَكَ مِنَ الْأُمَمِ إِذَا رَأَوْا بَأْسَهُ آمَنُوا، وَلَوْ كَانُوا آمَنُوا بِذَلِكَ الْوَعِيدِ قَبْلَ وُقُوعِهِ لَنَفَعَهُمْ. وَأَمَّا قَوْلُهُ عز وجل: {فَأَصْبَحُوا نَادِمِينَ} [الشعراء: 157] ، {فَأَخَذَهُمُ الْعَذَابُ} [النحل: 113] ، ذَهَبَ نَاسٌ مِنَ النَّاسِ إِلَى أَنَّ فِيهِ تَقْدِيمًا وَتَأْخِيرًا: فَأَخَذَهُمُ الْعَذَابُ فَأَصْبَحُوا نَادِمِينَ، وَالْآيَةُ يَخْرُجُ مَعْنَاهَا عَلَى ظَاهِرِهِ، فَيَكُونُ: فَعَقَرُوهَا فَأَصْبَحُوا نَادِمِينَ لَمَّا أَظَلَّهُمُ الْعَذَابُ، وَرَأَوْا عَلَامَاتِ ذَلِكَ قَبْلَ أَخْذِهِ إِيَّاهُمْ، ثُمَّ أَخَذَهُمْ
১১ - আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবন আবদিল মালিক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াযিদ ইবন হারুন বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ফুযাইল সংবাদ দিয়েছেন আতিয়্যাহ থেকে, (আল্লাহর) এই বাণীর ব্যাপারে: {অতঃপর সে যদি তসবীহ পাঠকারীদের অন্তর্ভুক্ত না হতো} [আস-সাফফাত: ১৪৩], তিনি বলেন: “তার পূর্বেই”। আবু আবদুল্লাহ বলেন: অর্থাৎ তিনি আল্লাহকে স্বাচ্ছন্দ্যের সময় স্মরণ করতেন, ফলে যখন তিনি বিপদের সময় তাঁকে স্মরণ করলেন, তখন তিনি তাঁকে মুক্তি দিলেন। আপনি কি দেখেন না যে, ফেরাউন যখন ডুবে যাওয়ার উপক্রম হলো, তখন সে বলেছিল: {আমি ঈমান আনলাম যে, বনী ইসরাঈল যাঁর প্রতি ঈমান এনেছে তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই এবং আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত} ⦗পৃষ্ঠা: ৩৯৫⦘ [ইউনূস: ৯০], তখন আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বললেন: {এখন? অথচ এর আগে তুমি অবাধ্যতা করেছ এবং তুমি ছিলে ফাসাদকারীদের অন্তর্ভুক্ত} [ইউনূস: ৯১]। ফেরাউন স্বাচ্ছন্দ্যের সময় আল্লাহকে স্মরণ করেনি, তাই যখন সে আল্লাহর শাস্তি প্রত্যক্ষ করল, তখন বিপদের মুহূর্তে তা তার পক্ষ থেকে কবুল করা হয়নি। আর ইউনুস (আলাইহিস সালাম) স্বাচ্ছন্দ্যের সময় আল্লাহকে স্মরণ করতেন, তাই আল্লাহ তাঁকে বিপদের সময় সাহায্য করলেন এবং তাঁর কওমকে আযাব থেকে মুক্তি দিলেন তাদের ওপর তা ছায়া বিস্তার করার পর; অথচ তিনি অন্য কোনো উম্মতের ক্ষেত্রে এমনটি করেননি। আপনি কি মহান প্রতাপশালী আল্লাহর এই বাণী শোনেননি: {অতঃপর যখন তারা আমার শাস্তি প্রত্যক্ষ করল, তখন তারা বলল: আমরা এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনলাম এবং আমরা তাঁর সাথে যাদের শরিক করতাম তাদের অস্বীকার করলাম} [গাফির: ৮৪], তখন আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বললেন: {কিন্তু যখন তারা আমার শাস্তি প্রত্যক্ষ করল, তখন তাদের ঈমান তাদের কোনো উপকারে আসেনি। আল্লাহর এই সুন্নাতই তাঁর বান্দাদের মাঝে অতিবাহিত হয়েছে}। অর্থাৎ এটিই আল্লাহর সুন্নাত; সুতরাং উম্মতদের মধ্যে যাদের তিনি ধ্বংস করেছেন, যখন তারা তাঁর শাস্তি দেখতে পেল তখন ঈমান এনেছিল; অথচ যদি তারা সেই শাস্তির হুমকির আগে ঈমান আনত তবে তা তাদের উপকারে আসত। আর মহান প্রতাপশালী আল্লাহর বাণী: {অতঃপর তারা অনুতপ্ত হলো} [আশ-শুআরা: ১৫৭], {অতঃপর আযাব তাদের পাকড়াও করল} [আন-নাহল: ১১৩], মানুষের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেন যে, এতে অগ্র-পশ্চাৎ বর্ণনা রয়েছে: অর্থাৎ আযাব তাদের পাকড়াও করল অতঃপর তারা অনুতপ্ত হলো। অথচ আয়াতের অর্থ তার প্রকাশ্য রূপের ওপরই প্রকাশ পায়, তা হলো: অতঃপর তারা তাকে (উটটিকে) হত্যা করল, ফলে তারা অনুতপ্ত হলো যখন আযাব তাদের ওপর ছায়া ফেলল এবং তারা তা পাকড়াও করার পূর্বেই তার আলামতসমূহ দেখতে পেল, এরপর আযাব তাদের পাকড়াও করল।