(খণ্ড: ১)
মুজাবুদ্ দাওয়াহ লিইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: -)
مجابو الدعوة لابن أبي الدنيا القسم: كتب السنة
الكتاب: مجابو الدعوة (مطبوع ضمن مجموعة رسائل ابن أبي الدنيا)
المؤلف: أبو بكر عبد الله بن محمد بن عبيد بن سفيان بن قيس البغدادي الأموي القرشي المعروف بابن أبي الدنيا (ت 281هـ)
دراسة وتحقيق: المهندس الشيخ زياد حمدان
الناشر: مؤسسة الكتب الثقافية، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 1413 هـ - 1993 م
عدد الصفحات: 88
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 15 ربيع الأول 1433
ইবনে আবি আদ-দুনিয়ার সংকলিত যাদের দুআ কবুল হয় বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: যাদের দুআ কবুল হয় (ইবনে আবি আদ-দুনিয়ার পত্রসংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়ে মুদ্রিত)
লেখক: আবু বকর আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন উবাইদ বিন সুফিয়ান বিন কায়েস আল-বাগদাদি আল-উমাবি আল-কুরাশি, যিনি ইবনে আবি আদ-দুনিয়া নামে পরিচিত (মৃত্যু ২৮১ হিজরি)
গবেষণা ও তাহকিক: প্রকৌশলী শেখ জিয়াদ হামদান
প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুল কুতুব আল-সাকাফিয়্যাহ, বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৩ হিজরি - ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৮
[কিতাবটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩ হিজরি
(খণ্ড: ১)
মুজাবুদ্ দাওয়াহ লিইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ١١)
ثَلَاثَةٌ تَكَلَّمُوا فِي الْمَهْدِ
তিনজন ব্যক্তি দোলনায় কথা বলেছিলেন
(খণ্ড: ১)
মুজাবুদ্ দাওয়াহ লিইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ١١)
قَالَ أَبُو الْمَحَاسِنِ يُوسُفُ بْنث شَاهِينَ سَبْطُ ابْنِ حَجَرٍ الْعَسْقَلَانِيِّ: أَخْبَرَتْنِي الشَّيْخَتَانِ الْمُسْنِدَتَانِ: أُمُّ الْكِرَامِ أَنَسُ خَاتُونَ بْنِتُ عَبْدِ الْكَرِيمِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ الَّلْخِمُّي، وَأُمُّ الْفَضلِ هَاجُرُ بِنْتُ الْمُحَدِّثِ الشَّرَفِ الْقُدْسِيِّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِمَا مُجْتَمِعَتَيْنِ فِي يَوْمِ الْإِثْنَيْنِ ثَالِثَ عَشَرَ رَجَبٍ سَنَةَ تِسْعٍ وَعِشْرِينَ وَثَمَانِمِائَةٍ، وَسَمِعَهُ السَّادَةُ الْأَشْيَاخُ: الْقُدْوَةُ بُرْهَانُ الدِّينِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيِّ بْنِ بَرَكَةَ النُّعْمَانِيُّ، وَشَمْسُ الدِّينِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقَوبَ بْنِ خَلَفٍ الْمِصْرِيُّ، وَمُحْيِي الدِّينِ عَبْدُ الْقَادِرِ بْنُ عُمَرَ بْنِ حُسَيْن الدِّفْنَائِيُّ، وَصَحَّ ذَلِكَ فِي مَجْلِسَيْنِ وَمَا بَيْنَهُمَا فِي مَنْزِلِ الْمُسَمِّعَةِ الْأُولَى. أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ نَجْمُ الدِّينِ عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عُمرَ الْبَالِسِيُّ، عَنْهَا سَمَاعًا وَأَجَازَ مُكَاتَبَةً ح. وَكَتَبَ إِلَيَّ بِهِ أَبُو الْبَرَكَاتِ إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ الْحَدَّادِ الدِّمَشْقِيُّ ح. وَأَخْبَرَنَا بِهِ عَالِيًا الشَّيْخَانِ الْمُسْنِدَانِ الْمُعَمِّرَانِ برْهَانُ الدِّينِ بنُ حَجِّي الْخَلِيلِيُّ، وَشِهَابُ الدِّينِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الدِّمَشْقِيُّ مِنْ كِتَابَيْهِمَا إِلَيَّ. قَالُوا: حَدَّثَتْنَاَ الْمُسْنِدَةُ زَيْنَبُ بِنْتُ الْكَمَالِ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الرَّحِيمِ سَمَاعًا، أَخْبَرَنَا الْأَعَزُّ بْنُ فَضَائِلِ بْنِ الْعَلِيقِ، عَنْهُمَا سَمَاعًا إِجَازَةً، حَدَّثَتْنَا الْكَاتِبَةُ فَخْرُ النِّسَاءِ: شُهْدَةُ بِنْتُ أَبِي نَصْرٍ أَحْمَدَ بْنِ الفْرَجِ بْنِ عُمَرَ الدِّينَوَرِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهَا وَنَحْنُ نَسْمَعُ بِبَغْدَادَ، قَالَتْ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَوَارِسِ طَرَّادُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الزَّيْنَبِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ، وَأَنَا أَسْمَعُ بِبَغْدَادَ. أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَينِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بِشْرَانَ السُّكَّرِيُّ الْمَعَدِّلُ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ فَأَقَرَّ بِهِ، وَأَصْلُهُ حَاضِرٌ يَنْظُرُ فِيِه. أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحُسَيْنُ بْنُ صَفْوَانَ الْبَرْدَعِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ فِي ذِي الْحِجَّةِ مِنْ سَنَةِ أَرْبَعِينَ وَثَلَاثِمِائَةٍ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيدٍ ابْنُ أَبِي الدُّنْيَا قَالَ:
⦗ص: 12⦘ 1 - حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ زُهَيْرُ بْنُ حَرْبِ بْنِ شَدَّادٍ الْعَامِرِيُّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِي صلى الله عليه وسلم، قَالَ: " لَمْ يَتَكَلَّمْ فِي الْمَهْدِ إِلَّا ثَلَاثَةٌ: عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ، وَصَاحِبُ جُرَيْجٍ، وَكَانَ جُرَيْجٌ رَجُلًا عَابِدًا، فَاتَّخَذَ صَوْمَعَةً، وَكَانَ فِيهَا، فَأَتَتْهُ أُمُّهُ وَقَالَتْ: يَا جُرَيْجُ، فَقَالَ: يَا رَبِّ، أُمِّي وَصَلَاتِي، فَأَقْبَلَ عَلَى صَلَاتِهِ، فَانْصَرَفَتْ أُمُّهُ، فَلَمَّا كَانَ الْغَدُ أَتَتْهُ، فَقَالَتْ: يَا جُرَيْجُ، فَقَالَ: يَا رَبِّ، أُمِّي وَصَلَاتِي، فَأَقْبَلَ عَلَى صَلَاتِهِ، فَقَالَتِ: اللَّهُمَّ لَا تُمِتْهُ حَتَّى يَنْظُرَ فِي وُجُوهِ الْمُومِسَاتِ، فَتَذَاكَرَ بَنُو إِسْرَائِيلَ جُرَيْجًا وَعِبَادَتَهُ، وَكَانَتِ امْرَأَةٌ بَغِيُّ يُتَمَثَّلُ بِحُسْنِهَا، فَقَالَتْ: إِنْ شِئْتُمْ فِتْنَتَهُ لَأَفْتِنَنَّهُ لَكُمْ، قَالَ: فَتَعَرَّضَتْ لَهُ، فَلَمْ يَلْتَفِتْ إِلَيْهَا، فَأَتَتْ رَاعِيًا كَانَ يَأْوِي إِلَى صَوْمَعَتِهِ، فَأَمْكَنَتْهُ مِنْ نَفْسِهَا، فَوَقَعَ عَلَيْهَا فَحَمَلَتْ، فَلَمَّا وَلَدَتْ قَالَتْ: هُوَ مِنْ جُرَيْجٍ،
⦗ص: 13⦘ فَأَتَوْهُ فَاسْتَنْزَلُوهُ، وَهَدَمُوا صَوْمَعَتَهُ، وَجَعَلُوا يَضْرِبُونَهُ، فَقَالَ: مَا شَأْنُكُمْ؟ قَالُوا: زَنَيْتَ بِهَذِهِ الْبَغِيِّ فَوَلَدَتْ مِنْكَ، قَالَ: أَيْنَ الصَّبِيُّ؟ فَجَاءُوا بِهِ، فَقَالَ: بِاللَّهِ يَا غُلَامُ، مَنْ أَبُوكَ؟ قَالَ: فُلَانٌ الرَّاعِي، فَأَقْبَلُوا عَلَى جُرَيْجٍ يُقَبِّلُونَهُ وَيَتَمَسَّحُونَ بِهِ، وَقَالُوا: نَبْنِي لَكَ صَوْمَعَتَكَ مِنْ ذَهَبٍ، قَالَ: لَا، أَعِيدُوهَا مِنْ طِينٍ كَمَا كَانَتْ، فَفَعَلُوا، وَبَيْنَمَا صَبِيُّ يَرْضَعُ مِنْ أُمِّهِ، فَمَرَّ رَجُلٌ رَاكِبٌ عَلَى دَابَّةٍ فَارِهَةٍ، وَشَارَةٍ حَسَنَةٍ، فَقَالَتْ أُمُّهُ: اللَّهُمَّ اجْعَلِ ابْنِي مِثْلَ هَذَا فَتَرَكَ الثَّدْيَ وَأَقْبَلَ عَلَى أُمِّهِ، فَنَظَرَ إِلَيْهِ فَقَالَ: اللَّهُمَّ لَا تَجْعَلْنِي مِثْلَهُ، ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَى ثَدْيهِ فَجَعَلَ يَرْتَضِعُ " قَالَ: فَكَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَحْكِي ارْتِضَاعَهُ بِأُصْبُعِهِ السَّبَّابَةِ فِي فِيهِ، فَجَعَلَ يَمُصُّهَا قَالَ: " وَمَرُّوا بِجَارِيَةٍ وَهُمْ يَضْرِبُونَهَا وَيَقُولُونَ: زَنَيْتِ، سَرَقْتِ وَهِيَ تَقُولُ: حَسْبِي اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ فَقَالَتْ أُمُّهُ: اللَّهُمَّ لَا تَجْعَلِ ابْنِي مِثْلَهَا فَتَرَكَ الرَّضَاعَ وَنَظَرَ إِلَيْهَا وَقَالَ: اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِثْلَهَا فَهُنَاكَ تَرَاجَعَا الْحَدِيثَ فَقَالَتْ: مَرَّ رَجُلٌ حَسَنُ الشَّارَةِ فَقُلْتَ: اللَّهُمَّ لَا تَجْعَلْنِي مِثْلَهُ، وَمَرُّوا بِهَذِهِ الْجَارِيَةِ، فَقُلْتُ: اللَّهُمَّ لَا تَجْعَلِ ابْنِي مِثْلَهَا، فَقُلْتَ: اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِثْلَهَا؟ فَقَالَ: إِنَّ ذَاكَ الرَّجُلَ كَانَ جَبَّارًا، فَقُلْتُ: اللَّهُمَّ لَا تَجْعَلْنِي مِثْلَهُ وَإِنْ يَقُولُونَ لَهَا: زَنَيْتِ، وَلَمْ تَزْنِ، وَسَرَقْتِ، وَلَمْ تَسْرِقْ، فَأَقُولُ: اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِثْلَهَا "
আবু আল-মাহাসিন ইউসুফ ইবনে শাহীন, ইবনে হাজার আল-আসকালানির দৌহিত্র বলেছেন: আমাকে দুই প্রবীণ সনদধারী শায়খা সংবাদ দিয়েছেন: উম্মুল কিরাম আনাস খাতুন বিনতে আবদুল কারিম ইবনে আহমদ ইবনে আবদুল আজিজ আল-লাখমি এবং উম্মুল ফজল হাজুর, যিনি মুহাদ্দিস আশ-শারাফ আল-কুদ্দসির কন্যা। ৮২৯ হিজরি সনের ১৩ই রজব, সোমবার তাঁদের উভয়ের নিকট একত্রে পাঠ করা হয়। মজলিসে উপস্থিত থেকে শ্রবণ করেছেন বিজ্ঞ শায়খগণ: বুরহান উদ্দিন ইবনে আহমদ ইবনে আলি ইবনে বারাকাহ আন-নুমানি, শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব ইবনে খালাফ আল-মিসরি এবং মুহিউদ্দিন আবদুল কাদির ইবনে উমর ইবনে হুসাইন আদ-দিফনাই। প্রথমোক্ত শায়খার বাসভবনে অনুষ্ঠিত দুই মজলিস ও এর মধ্যবর্তী সময়ে এটি সঠিকভাবে শ্রুত হয়েছে। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ নাজমুদ্দিন উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে উমর আল-বালিসি, তাঁর নিকট থেকে শ্রবণের মাধ্যমে এবং তিনি পত্রের মাধ্যমে বর্ণনা করার অনুমতি (ইজাজত) দিয়েছেন (হ)। আবু আল-বারাকাত ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি বকর ইবনুল হাদ্দাদ আদ-দিমাশকিও আমাকে এটি লিখে জানিয়েছেন (হ)। এছাড়াও উচ্চ সনদে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন দীর্ঘজীবী দুই সনদধারী শায়খ: বুরহান উদ্দিন ইবনে হাজ্জি আল-খলিলি এবং শিহাবুদ্দিন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলি আদ-দিমাশকি, তাঁদের উভয়ের পক্ষ থেকে আমার নিকট লিখিত চিঠির মাধ্যমে। তাঁরা বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সনদধারী যায়নাব বিনতে আল-কামাল আহমদ ইবনে আবদুর রহিম শ্রবণের মাধ্যমে। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-আয়াজ্জ ইবনে ফাদাইল ইবনুল আলিক শ্রবণের মাধ্যমে প্রাপ্ত ইজাজতের ভিত্তিতে। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন লিপিবিশারদ ফাখরুন নিসা শুহদাহ বিনতে আবি নাসর আহমদ ইবনুল ফারাজ ইবনে উমর আদ-দিনাওয়ারি, বাগদাদে তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমরা তা শ্রবণ করেছি। তিনি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফাওয়ারিস তাররাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলি আজ-জায়নাবি, বাগদাদে তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শ্রবণ করেছি। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন আলি ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে বিশরান আস-সুক্কারি আল-মুয়াদ্দিল, তাঁর নিকট পাঠ করা হলে তিনি তা স্বীকার করেন এবং তাঁর মূল পাণ্ডুলিপিটি সামনে উপস্থিত ছিল যা তিনি দেখছিলেন। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলি আল-হুসাইন ইবনে সাফওয়ান আল-বারদাঈ, ৩৪০ হিজরি সনের জিলহজ মাসে তাঁর নিকট এটি পাঠ করা হয়। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ ইবনে আবিদ দুনিয়া, তিনি বলেন:
⦗পৃষ্ঠা: ১২⦘ ১ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু খাইসামাহ জুহাইর ইবনে হারব ইবনে শাদ্দাদ আল-আমিরি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ ইবনে হারুন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জারির ইবনে হাজিম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে সিরিন, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "দোলনায় থাকা অবস্থায় মাত্র তিনজন কথা বলেছেন: ঈসা ইবনে মারইয়াম, এবং জুরাইজের সঙ্গী (অর্থাৎ সেই শিশুটি)। জুরাইজ ছিলেন একজন ইবাদতকারী ব্যক্তি। তিনি একটি ইবাদতখানা তৈরি করে সেখানেই অবস্থান করতেন। একদিন তাঁর মা তাঁর কাছে এসে ডাকলেন: হে জুরাইজ! জুরাইজ মনে মনে বললেন: হে রব! আমার মা নাকি আমার সালাত? এরপর তিনি তাঁর সালাতে নিবিষ্ট থাকলেন। তাঁর মা ফিরে গেলেন। পরদিন মা আবার আসলেন এবং ডাকলেন: হে জুরাইজ! তিনি আবারও মনে মনে বললেন: হে রব! আমার মা নাকি আমার সালাত? এবারও তিনি সালাতে নিবিষ্ট থাকলেন। তখন তাঁর মা (অসন্তষ্ট হয়ে) বললেন: হে আল্লাহ! বেশ্যাদের মুখ না দেখা পর্যন্ত তাকে তুমি মৃত্যু দিও না। এরপর বনী ইসরাঈলের লোকেরা জুরাইজ এবং তাঁর ইবাদত নিয়ে আলোচনা করতে লাগল। সে সময় এক ব্যভিচারী নারী ছিল যার রূপের উদাহরণ দেওয়া হতো। সে বলল: তোমরা যদি চাও যে আমি তাকে প্রলুব্ধ করি, তবে আমি তোমাদের জন্য তা করব। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর সে জুরাইজের কাছে গিয়ে তাকে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করল, কিন্তু জুরাইজ তার দিকে ভ্রুক্ষেপও করলেন না। তখন নারীটি এক রাখালের কাছে গেল যে জুরাইজের ইবাদতখানার পাশে আশ্রয় নিত। সে নিজেকে রাখালের কাছে সঁপে দিল এবং তাদের মাঝে ব্যভিচার ঘটল। ফলে নারীটি গর্ভবতী হয়ে পড়ল। যখন সে সন্তান প্রসব করল, তখন সে দাবি করল: এই সন্তান জুরাইজের।
⦗পৃষ্ঠা: ১৩⦘ তখন লোকেরা জুরাইজের কাছে এসে তাঁকে নিচে নামিয়ে আনল, তাঁর ইবাদতখানা ভেঙে গুঁড়িয়ে দিল এবং তাঁকে প্রহার করতে লাগল। জুরাইজ বললেন: তোমাদের কী হয়েছে? তারা বলল: তুমি এই ব্যভিচারী নারীর সাথে ব্যভিচার করেছ এবং তোমার থেকে এই সন্তান জন্মেছে। জুরাইজ বললেন: শিশুটি কোথায়? তারা শিশুটিকে নিয়ে এল। তখন জুরাইজ বললেন: ওহে শিশু, আল্লাহর কসম করে বলো, তোমার পিতা কে? শিশুটি বলল: অমুক রাখাল। তখন লোকেরা জুরাইজের দিকে এগিয়ে এল, তাঁকে চুম্বন করতে লাগল এবং সম্মানভরে তাঁর শরীরে হাত বুলিয়ে দিতে লাগল। তারা বলল: আমরা তোমার জন্য সোনার ইবাদতখানা বানিয়ে দেব। জুরাইজ বললেন: না, এটি আগের মতোই মাটি দিয়ে তৈরি করে দাও। তারা তা-ই করল। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরও বলেন: একদিন একটি শিশু তার মায়ের দুধ পান করছিল, এমন সময় সুসজ্জিত সওয়ারিতে চড়ে জাঁকজমকপূর্ণ অবস্থায় এক ব্যক্তি সেখান দিয়ে যাচ্ছিলেন। মা তা দেখে বললেন: হে আল্লাহ! আমার ছেলেকে এই ব্যক্তির মতো বানিয়ে দাও। তখন শিশুটি মায়ের স্তন ছেড়ে দিল এবং মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল: হে আল্লাহ! আমাকে তাঁর মতো করবেন না। এরপর সে আবার স্তন মুখে নিল এবং দুধ পান করতে লাগল।" বর্ণনাকারী বলেন: আমি যেন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেখতে পাচ্ছি যে তিনি নিজের তর্জনী মুখে নিয়ে চোষার ভঙ্গি করে শিশুটির দুধ পানের অবস্থাটি অনুকরণ করে দেখাচ্ছেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরও বলেন: "লোকেরা এক কিশোরীকে মারধর করতে করতে নিয়ে যাচ্ছিল এবং বলছিল: তুই ব্যভিচার করেছিস, তুই চুরি করেছিস। আর কিশোরীটি বলছিল: আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। তখন শিশুটির মা বললেন: হে আল্লাহ! আমার ছেলেকে ওর মতো করো না। শিশুটি আবারও দুধ পান ছেড়ে দিয়ে কিশোরীটির দিকে তাকাল এবং বলল: হে আল্লাহ! আমাকে ওর মতো করো। তখন মা ও ছেলের মধ্যে কথোপকথন হলো। মা বললেন: এক জাঁকজমকপূর্ণ ব্যক্তি যাচ্ছিলেন, আমি বললাম: হে আল্লাহ, আমার ছেলেকে তাঁর মতো করো, আর তুমি বললে: হে আল্লাহ, আমাকে তাঁর মতো করবেন না। আবার যখন এই কিশোরীটিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, আমি বললাম: হে আল্লাহ, আমার ছেলেকে ওর মতো করো না, তখন তুমি বললে: হে আল্লাহ, আমাকে ওর মতো করো? শিশুটি উত্তর দিল: ওই ব্যক্তিটি ছিল একজন অত্যাচারী, তাই আমি বলেছি: হে আল্লাহ, আমাকে তাঁর মতো করবেন না। আর এই কিশোরীটির সম্পর্কে তারা বলছে: তুই ব্যভিচার করেছিস, অথচ সে ব্যভিচার করেনি; বলছে: তুই চুরি করেছিস, অথচ সে চুরি করেনি। তাই আমি বলেছি: হে আল্লাহ! আমাকে ওর মতোই (নিষ্পাপ) করো।"
(খণ্ড: ১)
মুজাবুদ্ দাওয়াহ লিইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ١٤)
ثَوَابُ الْأَعْمَالِ الصَّالِحَةِ
নেক আমলসমূহের সওয়াব
(খণ্ড: ১)
মুজাবুদ্ দাওয়াহ লিইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ١٤)
2 - حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحٍ - يَعْنِي ابْنَ كَيْسَانَ، حَدَّثَنَا نَافِعٌ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " بَيْنَمَا ثَلَاثَةُ رَهْطٍ يَتَمَاشَوْنَ، أَخَذَهُمُ الْمَطَرُ، فَآوَوْا إِلَى غَارٍ فِي جَبَلٍ، فَبَيْنَمَا هُمْ فِيهِ إِذِ انْحَطَّتْ صَخْرَةٌ، فَأَطْبَقَتْ عَلَيْهِمُ الْغَارَ فَقَالَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ: انْظُرُوا أَفْضَلَ أَعْمَالٍ عَمِلْتُمُوهَا، فَاسْأَلُوهُ بِهَا لَعَلَّهُ يُفَرَّجُ عَنْكُمْ فَقَالَ أَحَدُهُمُ: اللَّهُمَّ إِنَّهُ كَانَ لِي وَالِدَانِ كَبِيرَانِ، وَكَانَتْ لِي امْرَأَةٌ وَأَوْلَادٌ صِغَارٌ، فَكُنْتُ أَرْعَى عَلَيْهِمْ، فَإِذَا أَرَحْتُ غَنَمِي بَدَأْتُ بِأَبَوَيَّ فَسَقَيْتُهُمَا، فَلَمْ آتِ حَتَّى نَامَ أَبَوَايَ، فَطَلَبْتُ الْإِنَاءَ ثُمَّ حَلَبْتُ، ثُمَّ قُمْتُ بِحِلَابِي عِنْدَ رَأْسِ أَبَوَيَّ، وَالصِّبْيَةُ يَتَضَاغَوْنَ عِنْدَ رِجْلَيَّ أَنْ أَبْدَأَ بِهِمْ قَبْلَ أَبَوَيَّ، وَأَكْرَهُ أَنْ أُوقِظَهُمَا مِنْ نَوْمِهِمَا، فَلَمْ أَزَلْ كَذَلِكَ قَائِمًا حَتَّى أَضَاءَ الْفَجْرُ اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنِّي فَعَلْتُ ذَلِكَ ابْتِغَاءَ وَجْهِكَ فَافْرُجْ عَنَّا فُرْجَةً نَرَى مِنْهَا السَّمَاءَ فَفَرَجَ لَهُمْ فُرْجَةً فَرَأَوْا مِنْهَا السَّمَاءَ، وَقَالَ الْآخَرُ: اللَّهُمَّ إِنَّهُ كَانَتْ لِي ابْنَةُ عَمٍّ، فَأَحْبَبْتُهَا حُبًّا كَانَتْ أَعَزَّ النَّاسِ إِلَيَّ، فَسَأَلْتُهَا نَفْسَهَا، فَقَالَتْ: لَا، حَتَّى تَأْتِيَنِي بِمِائَةِ دِينَارٍ، فَسَعَيْتُ حَتَّى جَمَعْتُ مِائَةَ دِينَارٍ، فَأَتَيْتُهَا بِهَا، فَلَمَّا كُنْتُ بَيْنَ رِجْلَيْهَا، قَالَتِ: اتَّقِ اللَّهَ وَلَا تَفْتَحِ الْخَاتَمَ إِلَّا بِحَقِّهِ، فَقُمْتُ عَنْهَا اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنِّي فَعَلْتُ ذَلِكَ ابْتِغَاءَ وَجْهِكَ فَافْرُجْ عَنَّا فُرْجَةً، فَفَرَجَ اللَّهُ لَهُمْ فُرْجَةً وَقَالَ الثَّالِثُ: اللَّهُمَّ إِنِّي كُنْتُ اسْتَأْجَرْتُ أَجِيرًا بِفَرَقِ ذُرَةٍ، فَلَمَّا قَضَى عَمَلَهُ عَرَضْتُهُ عَلَيْهِ فَأَبَى أَنْ يَأْخُذَهُ، وَرَغِبَ عَنْهُ، فَلَمْ أَزَلْ أَعْتَمِلُ بِهِ حَتَّى جَمَعْتُ مِنْهُ بَقَرًا وَرِعَاءً، فَجَاءَنِي فَقَالَ: اتَّقِ اللَّهَ وَأَعْطِنِي حَقِّي، وَلَا تَظْلِمْنِي فَقُلْتُ لَهُ: اذْهَبْ إِلَى تِلْكَ الْبَقَرِ وَرُعَاتِهَا فَخُذْهَا، فَذَهَبَ فَاسْتَاقَهَا اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنِّي فَعَلْتُ ذَلِكَ ابْتِغَاءَ وَجْهِكَ فَافْرُجْ عَنَّا مَا بَقِيَ مِنْهَا فَفَرَجَ اللَّهُ عَنْهُمْ، فَخَرَجُوا يَتَمَاشَوْنَ "
⦗ص: 15⦘ 3 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زُرَارَةَ، حَدَّثَنَا الْحَجَّاجُ بْنُ أَبِي مَنِيعٍ الرُّصَافِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِي صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ
4 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادٍ الْمَكِّيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ عَنِ النَّبِي صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ
5 - حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ خِدَاشٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، نَحْوَهُ، وَلَمْ يَرْفَعْهُ
⦗ص: 16⦘ 6 - حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمَّادٍ، عَنْ أَبِي عَوَانَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ عَنِ النَّبِي صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ
7 - حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِي صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ
⦗ص: 17⦘ 8 - حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عَبْدِ الْكَرِيمِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ مَعْقِلٍ، سَمِعْتُ وَهْبَ بْنَ مُنَبِّهٍ يَقُولُ: حَدَّثَنِي النُّعْمَانُ بْنُ بَشِيرٍ أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، فَذَكَرَ نَحْوَهُ
9 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ رَجُلٍ مِنْ بَجِيلَةَ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ عَنِ النَّبِي صلى الله عليه وسلم بِنَحْوِهِ
⦗ص: 18⦘ 10 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي عُبَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُرَحْبِيلَ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ عَنِ النَّبِي صلى الله عليه وسلم بِنَحْوِهِ، وَلَمْ يَرْفَعْهُ
⦗ص: 19⦘ 11 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ، عَنْ سُرَيْجِ بْنِ النُّعْمَانِ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنِ النُّعْمَانِ بِنَحْوِهِ، وَلَمْ يَرْفَعْهُ
12 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ، عَنْ عَبْدِ الصَّمَدِ بْنِ النُّعْمَانِ، عَنْ حَنَشِ بْنِ الْحَارِثِ النَّخَعِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَلِيٍّ عَنِ النَّبِي صلى الله عليه وسلم بِنَحْوِهِ
13 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَرْزُوقٍ، عَنْ عِمْرَانَ الْقَطَّانِ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي الْحَسَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِي صلى الله عليه وسلم بِنَحْوِهِ
14 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ هِشَامٍ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ بُرْقَانَ، عَنْ مَيْمُونِ بْنِ مِهْرَانَ، عَنِ الضَّحَّاكِ بْنِ قَيْسٍ بِمِثْلِهِ، وَلَمْ يَرْفَعْهُ
⦗ص: 20⦘ 15 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ، عَنْ أَبِي مُعَاوِيَةَ، عَنْ عُمَرَ بْنِ حَمْزَةَ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِي صلى الله عليه وسلم بِنَحْوِهِ
16 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ، حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، عَنْ شُعَيْبِ بْنِ أَبِي حَمْزَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ عَنِ النَّبِي صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ
17 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ مِهْرَانَ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْعَطَّارِ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِي صلى الله عليه وسلم بِنَحْوِهِ
২ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু খাইসামাহ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াকুব ইবনে ইব্রাহিম ইবনে সাদ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, তিনি সালেহ (অর্থাৎ ইবনে কায়সান) থেকে, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন নাফে’, আর আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "একদা তিনজন ব্যক্তি পথ চলছিল, এমন সময় তারা বৃষ্টির কবলে পড়ল। তারা পাহাড়ের একটি গুহায় আশ্রয় নিল। তারা সেখানে থাকাবস্থায় ওপর থেকে একটি বিশাল পাথর পড়ে গুহার মুখ বন্ধ করে দিল। তখন তারা একে অপরকে বলল: তোমরা তোমাদের করা সর্বোত্তম আমলগুলোর দিকে লক্ষ্য করো এবং সেগুলোর ওসিলা দিয়ে আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করো, সম্ভবত তিনি তোমাদের ওপর থেকে এটি সরিয়ে দেবেন। তাদের একজন বলল: হে আল্লাহ, আমার বৃদ্ধ পিতা-মাতা ছিলেন এবং আমার স্ত্রী ও ছোট ছোট সন্তান ছিল। আমি তাদের জন্য পশুপালন করতাম। সন্ধ্যায় যখন আমি পশু নিয়ে ফিরতাম, তখন আমার সন্তানদের আগে আমার পিতা-মাতাকে দুধ পান করাতাম। একদিন আমার ফিরতে দেরি হলো এবং আমি আসার আগেই তারা ঘুমিয়ে পড়লেন। আমি দুধ দহন করলাম এবং দুধের পাত্র নিয়ে আমার পিতা-মাতার শিয়রে দাঁড়িয়ে থাকলাম, অথচ আমার সন্তানরা আমার পায়ের কাছে ক্ষুধার্ত অবস্থায় চিৎকার করছিল। আমি চাচ্ছিলাম না তাদের আগে আমার সন্তানদের পান করাতে এবং তাদের ঘুম থেকে জাগানোও আমি অপছন্দ করছিলাম। এভাবে আমি ভোর হওয়া পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকলাম। হে আল্লাহ, আপনি যদি জেনে থাকেন যে আমি আপনার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে এটি করেছি, তবে আমাদের জন্য পাথরটি কিছুটা সরিয়ে দিন যাতে আমরা আকাশ দেখতে পাই। তখন আল্লাহ পাথরটি কিছুটা সরিয়ে দিলেন এবং তারা আকাশ দেখতে পেল। দ্বিতীয় ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহ, আমার এক চাচাতো বোন ছিল, যাকে আমি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতাম। আমি তার সাথে মিলিত হতে চাইলাম, কিন্তু সে অস্বীকার করল এবং বলল যে, যতক্ষণ না আমি তাকে একশ দিনার দেব, ততক্ষণ সে রাজি হবে না। আমি চেষ্টা চালিয়ে একশ দিনার সংগ্রহ করলাম এবং তা নিয়ে তার কাছে আসলাম। যখন আমি তার দুই পায়ের মাঝে বসলাম, তখন সে বলল: আল্লাহকে ভয় করো এবং ন্যায়সঙ্গত অধিকার ছাড়া এই মোহর (সতীত্ব) নষ্ট করো না। তখন আমি সেখান থেকে উঠে দাঁড়ালাম। হে আল্লাহ, আপনি যদি জেনে থাকেন যে আমি আপনার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে এটি করেছি, তবে আমাদের জন্য পাথরটি আরও সরিয়ে দিন। তখন আল্লাহ তাদের জন্য পাথরটি আরও সরিয়ে দিলেন। তৃতীয় ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহ, আমি এক ফারাক ভুট্টার বিনিময়ে একজন শ্রমিক নিয়োগ করেছিলাম। কাজ শেষে আমি তাকে তার পারিশ্রমিক দিতে চাইলাম, কিন্তু সে তা নিতে অস্বীকার করল এবং চলে গেল। আমি তার সেই পারিশ্রমিক দিয়ে কাজ করতে থাকলাম এবং এর দ্বারা অনেক গরু ও রাখাল সংগ্রহ করলাম। দীর্ঘ সময় পর সে আমার কাছে এসে বলল: আল্লাহকে ভয় করো এবং আমাকে আমার প্রাপ্য দিয়ে দাও, আমার ওপর জুলুম করো না। আমি তাকে বললাম: ওই গরুগুলো এবং ওগুলোর রাখালদের কাছে যাও এবং সেগুলো নিয়ে নাও। সে সব নিয়ে চলে গেল। হে আল্লাহ, আপনি যদি জেনে থাকেন যে আমি আপনার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে এটি করেছি, তবে অবশিষ্ট পাথরটুকুও সরিয়ে দিন। তখন আল্লাহ তাদের থেকে পাথরটি সরিয়ে দিলেন এবং তারা বেরিয়ে পথ চলতে লাগল।"
⦗পৃষ্ঠা: ১৫⦘ ৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাইল ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে জুরারাহ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাজ্জাজ ইবনে আবি মানি’ আর-রুসাফি, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি যুহরি থেকে, তিনি সালিম থেকে, তিনি তার পিতার সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
৪ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আব্বাদ আল-মাক্কি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ, তিনি যুহরি থেকে, তিনি সালিম থেকে, তিনি তার পিতার সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
৫ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন খালিদ ইবনে খিদাশ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনে যাইদ, তিনি আইয়ুব থেকে, তিনি নাফে’ থেকে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি এটি মারফু হিসেবে বর্ণনা করেননি (অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছাননি)।
⦗পৃষ্ঠা: ১৬⦘ ৬ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু খাইসামah, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহিয়া ইবনে হাম্মাদ, তিনি আবু আওয়ানাহ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস (রা.) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
৭ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুয়াইদ ইবনে সাঈদ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে মুশহির, তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে, তিনি নাফে’ থেকে, তিনি ইবনে উমর (রা.) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
⦗পৃষ্ঠা: ১৭⦘ ৮ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু খাইসামাহ এবং ইব্রাহিম ইবনে সাঈদ, তারা ইসমাইল ইবনে আব্দুল কারিম থেকে, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল সামাদ ইবনে মা’কিল, তিনি বলেন আমি ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন নুমান ইবনে বশির (রা.), তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
৯ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম ইবনে সাঈদ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উবাইদুল্লাহ ইবনে মুসা, তিনি ইসরাইল থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি বাজিলা গোত্রের একজন ব্যক্তি থেকে, তিনি নুমান ইবনে বশির (রা.) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
⦗পৃষ্ঠা: ১৮⦘ ১০ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর থেকে, তিনি ইবনে আবি উবাইদাহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আমাশ থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি আমর ইবনে শুরাহবিল থেকে, তিনি নুমান ইবনে বশির (রা.) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি এটি মারফু হিসেবে উল্লেখ করেননি।
⦗পৃষ্ঠা: ১৯⦘ ১১ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম, তিনি সুরাইজ ইবনে নুমান থেকে, তিনি হাম্মাদ ইবনে সালামাহ থেকে, তিনি সিমাক থেকে, তিনি নুমান (রা.) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি এটি মারফু হিসেবে উল্লেখ করেননি।
১২ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম, তিনি আব্দুল সামাদ ইবনে নুমান থেকে, তিনি হানাস ইবনে হারিস আন-নাখয়ি থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আলী (রা.) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
১৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম ইবনে সাঈদ, তিনি আমর ইবনে মারজুক থেকে, তিনি ইমরান আল-কাত্তান থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে আবিল হাসান থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
১৪ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম ইবনে সাঈদ, তিনি কাসির ইবনে হিশাম থেকে, তিনি জাফর ইবনে বুরকান থেকে, তিনি মায়মুন ইবনে মিহরান থেকে, তিনি দাহহাক ইবনে কায়স (রা.) থেকে একইভাবে বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি এটি মারফু হিসেবে উল্লেখ করেননি।
⦗পৃষ্ঠা: ২০⦘ ১৫ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম, তিনি আবু মুয়াবিয়া থেকে, তিনি উমর ইবনে হামযাহ থেকে, তিনি সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে, তিনি তার পিতার সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
১৬ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইয়ামান, তিনি শুআইব ইবনে আবি হামযাহ থেকে, তিনি যুহরি থেকে, তিনি সালিম থেকে, তিনি তার পিতার সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
১৭ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম ইবনে সাঈদ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন দাউদ ইবনে মিহরান, তিনি দাউদ ইবনে আব্দুর রহমান আল-আত্তার থেকে, তিনি মুসা ইবনে উকবা থেকে, তিনি নাফে’ থেকে, তিনি ইবনে উমর (রা.) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মুজাবুদ্ দাওয়াহ লিইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
دُعَاءُ الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দুআ
(খণ্ড: ১)
মুজাবুদ্ দাওয়াহ লিইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
18 - حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ شَقِيقٍ، أَخْبَرَنَا حُسَيْنُ بْنُ وَاقِدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو نَهِيكٍ الْأَزْدِيُّ، عَنْ عَمْرِو بْنِ أَخْطَبَ قَالَ: اسْتَقَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَأَتَيْتُهُ بِإِنَاءٍ فِيهِ مَاءٌ، فِيهِ شَعْرَةٌ، فَرَفَعْتُهَا ثُمَّ نَاوَلْتُهُ، فَقَالَ: «اللَّهُمَّ جَمِّلْهُ» قَالَ أَبُو نَهِيكٍ: «فَرَأَيْتُهُ بَعْدَ ثَلَاثٍ وَتِسْعِينَ وَمَا فِي رَأْسِهِ وَلِحْيَتِهِ شَعْرَةٌ بَيْضَاءُ»
১৮ - আমাদের নিকট আবু খাইসামা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আলী ইবনুল হাসান ইবনে শাকিক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হুসাইন ইবনে ওয়াকিদ, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আবু নাহীক আল-আজদী বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে আখতাব থেকে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানি পান করতে চাইলেন, তখন আমি তাঁর নিকট পানি ভর্তি একটি পাত্র নিয়ে আসলাম যাতে একটি চুল ছিল। আমি সেটি সরিয়ে ফেললাম এবং এরপর তা তাঁকে প্রদান করলাম। তখন তিনি বললেন: «হে আল্লাহ, আপনি তাকে সৌন্দর্যমন্ডিত করুন।» আবু নাহীক বলেন: «অতঃপর আমি তাঁকে তিরানব্বই বছর বয়সে দেখেছি, অথচ তাঁর মাথায় ও দাড়িতে কোনো সাদা চুল ছিল না।»
(খণ্ড: ১)
মুজাবুদ্ দাওয়াহ লিইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٢١)
دُعَاءُ الْحَاجَةِ
প্রয়োজন পূরণের দুআ
(খণ্ড: ১)
মুজাবুদ্ দাওয়াহ লিইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٢١)
19 - حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا بْنُ يَحْيَى بْنِ عُمَرَ الطَّائِيُّ، حَدَّثَنِي زَحْرُ بْنُ حِصْنٍ، عَنْ جَدِّهِ حُمَيْدِ بْنِ مَنْهَبٍ قَالَ: قَالَ عَمِّي عُرْوَةُ بْنُ مُضَرِّسِ بْنِ أَوْسِ بْنِ حَارِثَةَ تَحَدَّثَ ، عَنْ مَخْرَمَةَ بْنِ نَوْفَلٍ، عَنْ أُمِّهِ رُقَيْقَةَ ابْنَةِ أَبِي صَيْفِيِّ بْنِ هَاشِمٍ، وَكَانَتْ لِدَةَ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ قَالَتْ: " تَتَابَعَتْ عَلَى قُرَيْشٍ سِنُونَ أَقْحَلَتِ الضَّرْعَ وَأَدَقَّتِ الْعَظْمَ فَبَيْنَمَا أَنَا نَائِمَةٌ - اللَّهُمَّ - أَوْ مَهْوُمَةٌ، إِذَا هَامَّةٌ تَصْرُخُ بِصَوْتٍ صَحْلٍ، تَقُولُ: مَعْشَرَ قُرَيْشٍ، إِنَّ هَذَا النَّبِيَّ الْمَبْعُوثَ فِيكُمْ قَدْ أَظَلَّتْكُمْ أَيَّامُهُ، وَهَذَا إِبَّانُ نُجُومِهِ، فَحَيَّ هَلَّا بِالْحَيَا وَالْخِصْبِ أَلَا فَانْظُرُوا رَجُلًا مِنْكُمْ وَسِيطًا عِظَامًا جِسَامًا، أَبْيَضَ بَضًّا، أَوْطَفَ الْأَهْدَابِ، سَهْلَ الْخَدَّيْنِ، أَشَمَّ الْعُرَنَيْنِ، لَهُ فَخْرُ يَكْظُمُ عَلَيْهِ، وَسُنَّةٌ تَهْدِي إِلَيْهِ، فَلْيَخْلُصْ هُوَ وَوَلَدُهُ، وَلْيَهْبِطْ إِلَيْهِ مِنْ كُلِّ بَطْنٍ رَجُلٌ، فَلْيَشِنُّوا مِنَ الْمَاءِ، وَلْيَمَسُّوا الطِّيبَ، ثُمَّ لِيَسْتَلِمُوا الرُّكْنَ، ثُمَّ لَيَرْتَقُوا أَبَا قُبَيْسٍ، فَيَسْتَقِي الرَّجُلُ، وَلْيُؤْمِنِ الْقَوْمُ، فَغُثْتُمْ مَا شِئْتُمْ فَأَصْبَحْتُ عَلِمَ اللَّهُ مَذْعُورَةً، قَدِ اقْشَعَرَّ جِلْدِي، وَوَلِهَ عَقْلِي، وَاقْتَصَصْتُ رُؤْيَايَ قَوْمًا بِحَرَمِهِ، وَالْحَرَمُ مَا بَقِيَ فِيهَا أَبْطَحِيُّ إِلَّا قَالُوا: هَذَا شَيْبَةُ الْحَمْدِ، وَتَنَاهَتْ إِلَيْهِ رِجَالَاتُ قُرَيْشٍ، وَهَبَطَ مِنْ كُلِّ بَطْنٍ رَجُلٌ، فَشَنُّوا وَمَشَوْا وَاسْتَلَمُوا، ثُمَّ ارْتَقَوْا أَبَا قُبَيْسٍ، وَطَفِقُوا جَنَابِيَّهُ مَا يَبْلُغُ سَعْيُهُمْ مُهِلَّةً، حَتَّى اسْتَوَوْا بِذِرْوَةِ الْجَبَلِ، قَامَ عَبْدُ الْمُطَّلِبِ وَمَعَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم غُلَامٌ قَدْ أَيْفَعَ أَوْ كَرَبَ، فَقَالَ: اللَّهُمَّ سَادَّ الْخَلَّةِ، وَكَاشِفَ الْكُرْبَةِ، أَنْتَ مُعَلِّمٌ غَيْرُ مُعَلَّمٍ، وَمَسْئُولٌ غَيْرُ مِبْخِلٍ، وَهَذِهِ عَبِيدُكَ وَإِمَاؤُكَ بِعَذَراتِ حَرَّتِكَ، يَشْكُونَ إِلَيْكَ سِنِيَّهُمْ أَذْهَبَتِ الْخُفَّ وَالظِّلْفَ اللَّهُمَّ فَأَمْطِرَنَّ غَيْثًا مُغْدِقًا مَرِيعًا مُرْتِعًا، فَوَالْكَعْبَةِ مَا رَامُوا حَتَّى تَفَجَّرَتِ السَّمَاءُ كَأَنْهَارٍ، وَاكْتَظَّ الْوَادِي بِثَجِيجِهِ، فَلَيَسْمَعَنَّ شِيخَانُ قُرَيْشٍ وِجَلَّتُهَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ جُدْعَانَ، وَحَرْبَ بْنَ أُمَيَّةَ، وَهِشَامَ بْنَ الْمُغِيرَةِ، يَقُولُونَ لِعَبْدِ الْمُطَّلِبِ: هَنِيئًا لَكَ أَبَا الْبَطْحَاءِ أَيْ: عَاشَ بِكَ أَهْلُ الْبَطْحَاءِ
⦗ص: 22⦘ وَفِي ذَلِكَ مَا تَقُولُ رُفَيْعَةٌ:
[البحر البسيط]
بِشَيْبَةِ الْحَمْدِ أَسْقَى اللَّهُ بَلْدَتَنَا
… لَمَّا فَقَدْنَا الْحَيَا وَاجْلَوَّذَ الْمَطَرُ
فَجَادَنَا الْمَاءُ جَوْنِيُّ لَهُ سُبُلٌ
… سَيْحًا فَعَاشَتْ بِهِ الْأَنْعَامُ وَالشَّجَرُ
مَنًّا مِنَ اللَّهِ بِالْمَيْمُونٍ طَائِرُهُ
… وَخَيْرِ مَنْ بُشِّرَتْ يَوْمًا بِهِ مُضَرُ
مُبَارَكُ الْأَمْرِ يُسْتَسْقَى الْغَمَامُ بِهِ
… مَا فِي الْأَنَامِ لَهُ عِدْلٌ وَلَا خَطَرُ "
১৯ - আমাদের নিকট যাকারিয়া ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে উমর আত-তায়ী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট যাহর ইবনে হিসন তার দাদা হুমায়দ ইবনে মানহাব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার চাচা উরওয়াহ ইবনে মুদাররিস ইবনে আওস ইবনে হারিসাহ মাখরামাহ ইবনে নাওফাল থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি তার মা রুকাইকাহ বিনতে আবি সাইফি ইবনে হাশিম থেকে বর্ণনা করেছেন—যিনি আবদুল মুত্তালিবের সমসাময়িক ছিলেন। তিনি বলেন: "কুরাইশদের ওপর এমন দুর্ভিক্ষের বছরগুলো নেমে আসল যা পশুর ওলান শুকিয়ে দিল এবং তাদের হাড়কে জীর্ণ করে দিল। এমতাবস্থায় একদিন আমি ঘুমে ছিলাম—হে আল্লাহ—অথবা তন্দ্রাচ্ছন্ন ছিলাম, হঠাৎ এক আহ্বানকারী কর্কশ কণ্ঠে চিৎকার করে বলছিল: 'হে কুরাইশ সম্প্রদায়! নিশ্চয়ই তোমাদের মাঝে প্রেরিত এই নবীর আবির্ভাবের সময় ঘনিয়ে এসেছে এবং এটিই তাঁর উদয় হওয়ার সময়। অতএব তোমরা বৃষ্টি ও সচ্ছলতার দিকে এগিয়ে এসো। শোনো! তোমরা তোমাদের মধ্য থেকে এমন এক ব্যক্তিকে খুঁজে বের করো যে হবে মধ্যম গড়নের ও উচ্চমর্যাদা সম্পন্ন, দীর্ঘদেহী, সুঠাম, উজ্জ্বল শ্বেতবর্ণ, ঘন দীর্ঘ চোখের পাপড়ি বিশিষ্ট, মসৃণ গাল ও উন্নত নাসিকা সম্পন্ন। যার এমন আভিজাত্য রয়েছে যা তাকে গাম্ভীর্যপূর্ণ রাখে এবং এমন এক আদর্শ রয়েছে যা তার দিকে পথ দেখায়। সে এবং তার সন্তানরা যেন একনিষ্ঠ হয়, আর প্রতিটি বংশ থেকে যেন একজন করে লোক তার কাছে নেমে আসে। তারা যেন পানি ছিটিয়ে দেয় এবং সুগন্ধি মাখে। এরপর তারা যেন রুকন (হাজরে আসওয়াদ) স্পর্শ করে এবং আবু কুবাইস পাহাড়ে আরোহণ করে। অতঃপর ওই ব্যক্তি বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করবে এবং জনগণ আমীন বলবে। তাহলেই তোমরা কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি পাবে।' রুকাইকাহ বলেন: আল্লাহ জানেন, আমি ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে জাগ্রত হলাম। আমার গায়ের চামড়া শিউরে উঠল এবং আমার বুদ্ধি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ল। আমি আমার স্বপ্নের কথা হারাম শরীফে অবস্থানরত একদল লোকের নিকট বর্ণনা করলাম। হারামের এমন কোনো উপত্যকাবাসী বাকি ছিল না যারা এ কথা শুনে বলেনি যে, 'ইনি তো শাইবাতুল হামদ (আবদুল মুত্তালিব)।' কুরাইশদের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তাঁর কাছে সমবেত হলেন এবং প্রতিটি গোত্র থেকে একজন করে লোক আসল। তারা পানি ছিটিয়ে পবিত্র হলো, হাটল এবং রুকন স্পর্শ করল। এরপর তারা আবু কুবাইস পাহাড়ে আরোহণ করল। তারা তাঁর চারপাশ ঘিরে ছিল, তাদের এই দ্রুত চলার প্রচেষ্টা কোনো শিথিলতা পাচ্ছিল না, যতক্ষণ না তারা পাহাড়ের চূড়ায় উঠলেন। আবদুল মুত্তালিব দাঁড়ালেন, তাঁর সঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন, যিনি তখন একজন কিশোর বা তার কাছাকাছি বয়সের। অতঃপর তিনি বললেন: 'হে আল্লাহ! আপনি অভাব পূরণকারী এবং কষ্ট দূরকারী। আপনি এমন শিক্ষক যাকে কেউ শেখায়নি এবং এমন যাচিত সত্তা যিনি কার্পণ্য করেন না। এই যে আপনার দাস ও দাসীরা আপনার পবিত্র চত্বরের আঙিনায় উপস্থিত। তারা আপনার নিকট তাদের দুর্ভিক্ষের অভিযোগ করছে যা গবাদিপশুর খুর ও ক্ষুরকে নিঃশেষ করে দিয়েছে। হে আল্লাহ! আপনি আমাদের ওপর প্রচুর, জীবনদায়ক, সতেজ ও তৃপ্তিদায়ক বৃষ্টি বর্ষণ করুন।' কাবার কসম! তারা সেখান থেকে সরার আগেই আকাশ নদীর মতো ফেটে পড়ল (প্রবল বৃষ্টি নামল) এবং উপত্যকা বৃষ্টির পানির প্রবল শব্দে ভরে উঠল। কুরাইশদের বড় বড় নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ যেমন আবদুল্লাহ ইবনে জুদআন, হারব ইবনে উমাইয়া এবং হিশাম ইবনে মুগীরাকে আবদুল মুত্তালিবকে লক্ষ্য করে বলতে শোনা গেল: 'হে আবূল বাতহা (বাতহার অধিপতি)! আপনার জন্য শুভ সংবাদ। অর্থাৎ, বাতহাবাসী আপনার উসিলায় জীবন ফিরে পেল।'
⦗পৃষ্ঠা: ২২⦘ আর এ বিষয়েই রুকাইকাহ বলেন:
[বাহরুল বাসীত]
শাইবাতুল হামদ-এর উসিলায় আল্লাহ আমাদের জনপদে বৃষ্টি দান করেছেন
… যখন আমরা বৃষ্টি হারিয়েছিলাম এবং বৃষ্টি অনেক দূরে চলে গিয়েছিল।
অতঃপর প্রবাহিত পানির প্রাচুর্য আমাদের সিক্ত করল
… যার প্রবাহের মাধ্যমে গবাদিপশু ও বৃক্ষরাজি জীবন ফিরে পেল।
এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে এক অনুগ্রহ, যাঁর ভাগ্য অতি বরকতময়
… এবং তিনি ওই সর্বোত্তম সত্তা যাঁর সুসংবাদ একদিন মুদার গোত্রকে দেওয়া হয়েছিল।
তিনি বরকতময় বিষয়ের অধিকারী, যাঁর অসিলায় মেঘমালার কাছে বৃষ্টি চাওয়া হয়
… সৃষ্টির মাঝে তাঁর সমকক্ষ বা তাঁর সমমর্যাদার কেউ নেই।"
(খণ্ড: ১)
মুজাবুদ্ দাওয়াহ লিইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
دُعَاءُ الْمَظْلُومِ
মজলুমের দোয়া
(খণ্ড: ১)
মুজাবুদ্ দাওয়াহ লিইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
20 - حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ غَانِمٍ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الْفَضْلِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَمَّنْ لَا يُتَّهَمُ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّهُ حَدَّثَهُمْ قَالَ:
⦗ص: 24⦘ بَيْنَا أَنَا عِنْدَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ وَهُوَ خَلِيفَةٌ، وَهُوَ يَعْرِضُ النَّاسَ عَلَى دِيَوَانِهِمْ، إِذْ مَرَّ بِهِ شَيْخٌ كَبِيرٌ أَعْمَى يَجْبِذُهُ قَائِدُهُ جَبْذًا شَدِيدًا فَقَالَ عُمَرُ حِينَ رَآهُ: " مَا رَأَيْتُ كَالْيَوْمِ مَنْظَرًا أَسْوَأَ، فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ جَالِسٌ عِنْدَهُ: وَمَا تَعْرِفُ هَذَا يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ؟ قَالَ: لَا، قَالَ: " هَذَا ابْنُ ضَبْعَا السُّلَمِيُّ، ثُمَّ الْبَهْزِيُّ، الَّذِي بَهَلَهُ بُرَيْقٌ، فَقَالَ عُمَرُ: قَدْ عَرَفْتُ أَنَّ بُرَيْقًا لَقَبٌ، فَمَا اسْمُ الرَّجُلِ؟ قَالُوا: عِيَاضٌ، قَالَ: فَدَعَى لَهُ، فَقَالَ: أَخْبِرْنِي خَبَرَكَ وَخَبَرَ بَنِي ضَبْعَا قَالَ: " يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، أَمْرٌ مِنْ أَمْرِ الْجَاهِلِيَّةِ قَدِ انْقَضَى شَأْنُهُ، وَقَدْ جَاءَ اللَّهُ عز وجل بِالْإِسْلَامِ، فَقَالَ عُمَرُ: اللَّهُمَّ غُفْرًا، مَا كُنَّا أَحَقَّ بِأَنْ نَتَحَدَّثَ بِأَمْرِ الْجَاهِلِيَّةِ مُنْذُ أَكْرَمَنَا اللَّهُ بِالْإِسْلَامِ، حَدِّثْنَا حَدِيثَكَ وَحَدِيثَهُمْ " قَالَ: " يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، كَانُوا بَنِي ضَبْعَا عَشْرَةً، فَكُنْتُ ابْنَ عَمٍّ لَهُمْ لَمْ يَبْقَ مِنْ بَنِي أَبِي غَيْرِي، وَكُنْتُ لَهُمْ جَارًا، وَكَانُوا أَقْرَبَ قَوْمِي لِي نَسَبًا، وَكَانُوا يَضْطَهِدُونَنِي وَيَظْلِمُونَنِي، وَيَأْخُذُونَ مَالِي بِغَيْرِ حَقِّهِ، فَذَكَّرْتُهُمُ اللَّهَ وَالرَّحِمَ وَالْجِوَارَ إِلَّا مَا كَفُّوا عَنِّي، فَلَمْ يَمْنَعْنِي ذَلِكَ مِنْهُمْ، فَأَمْهَلْتُهُمْ حَتَّى إِذَا دَخَلَ الشَّهْرُ الْحَرَامُ رَفَعْتُ يَدَيَّ إِلَى السَّمَاءِ، ثُمَّ قُلْتُ:
[البحر المنسرح]
لَا هُمَّ أَدْعُوكَ دُعَاءً جَاهِدَا
… اقْتُلْ بَنِي الضَّبْعَاءَ إِلَّا وَاحِدَا
ثُمَّ اضْرِبِ الرَّجُلَ فَذَرْهُ قَاعِدَا
… أَعْمَى إِذَا مَا قِيدَ عَنَّى الْقَائِدَا
فَتَتَابَعَ مِنْهُمْ تِسْعَةٌ فِي عَامِهِمْ مَوْتًا، وَبَقِيَ هَذَا مَعِي، وَرَمَاهُ اللَّهُ فِي رِجْلَيْهِ بِمَا تَرَى، فَقَائِدُهُ يَلْقَى مِنْهُ مَا رَأَيْتَ، فَقَالَ عُمَرُ: سُبْحَانَ اللَّهِ، إِنَّ هَذَا لَلْعَجَبُ. فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ: " يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، فَشَأْنُ أَبِي تَقَاصُفٍ الْهُذَلِيُّ ثُمَّ الْخُنَاعِيُّ، أَعْجَبُ مِنْ هَذَا، قَالَ: «وَكَيْفَ كَانَ شَأْنُهُ؟»
⦗ص: 25⦘ قَالَ: " كَانَ لِأَبِي تَقَاصُفٍ تِسْعَةٌ هُوَ عَاشِرُهُمْ، وَكَانَ لَهُمُ ابْنُ عَمٍّ هُوَ مِنْهُمْ بِمَنْزِلَةِ عِيَاضٍ مِنْ بَنِي ضَبْعَا، فَكَانُوا يَظْلِمُونَهُ وَيَضْطَهِدُونَهُ، وَيَأْخُذُونَ مَالَهُ بِغَيْرِ حَقٍّ، فَذَكَّرَهُمُ اللَّهَ وَالرَّحِمَ إِلَّا مَا كَفُّوا عَنْهُ، فَلَمْ يَمْنَعْهُ ذَلِكَ مِنْهُمْ، فَأَمْهَلَهُمْ حَتَّى إِذَا دَخَلَ الشَّهْرُ الْحَرَامُ رَفَعَ يَدَيْهِ إِلَى اللَّهِ عز وجل، ثُمَّ قَالَ:
[البحر الكامل]
لَاهُمَّ رَبَّ كُلِّ امْرِئٍ آمَنٍ وَخَائِفْ
… وَسَامِعَ هِتَافَ كُلِّ هَاتِفْ
إِنَّ الْخُنَاعِيَّ أَبَا تَقَاصُفْ
… لَمْ يُعْطِنِي الْحَقَّ وَلَمْ يُنَاصِفْ
فَاجْمَعْ لَهُ الْأَحِبَّةَ الْأَلَاطِفْ
… بَيْنَ كَرَّانَ ثَمَّ وَالنَّوَاصِفْ
قَالَ: " فَتَدَلَّوْا حَيْثُ وَصَفَ فِي قَلِيبٍ لَهُمْ يُصْلِحُونَهُ، فَتَهَوَّرَ عَلَيْهِمْ جَمِيعًا، فَإِنَّهُ لَقَبْرٌ لَهُمْ جَمِيعًا إِلَى يَوْمِهِمْ هَذَا، فَقَالَ عُمَرُ: سُبْحَانَ اللَّهِ، إِنَّ هَذَا لَلْعَجَبُ، فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، فَشَأْنُ بَنِي الْمُؤَمَّلِ مِنْ بَنِي نَصْرٍ أَعْجَبُ مِنْ هَذَا كُلِّهِ، قَالَ: " وَكَيْفَ كَانَ شَأْنُ بَنِي مُؤَمَّلٍ؟ قَالَ: كَانَ لَهُمُ ابْنُ عَمٍّ، وَكَانَ بَنُو أَبِيهِ قَدْ هَلَكُوا، فَأَلْجَأَ مَالَهُ إِلَيْهِمْ وَنَفْسَهُ لِيَمْنَعُوهُ، فَكَانُوا يَظْلِمُونَهُ وَيَضْطَهِدُونَهُ، وَيَأْخُذُونَ مَالَهُ بِغَيْرِ حَقٍّ، فَكَلَّمَهُمْ، فَقَالَ: يَا بَنِي مُؤَمَّلٍ، إِنِّي قَدِ اخْتَرْتُكُمْ عَلَى مَنْ سِوَاكُمْ، وَأَضَفْتُ إِلَيْكُمْ مَالِي وَنَفْسِي لِتَمْنَعُونِي، فَظَلَمْتُمُونِي وَقَطَعْتُمْ رَحِمِي، وَأَكَلْتُمْ مَالِي وَأَسَأْتُمْ جَوَارِي، فَأُذَكِّرُكُمُ اللَّهَ وَالرَّحِمَ وَالْجِوَارَ إِلَّا مَا كَفَفْتُمْ عَنِّي فَقَامَ رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ رَبَاحٌ، فَقَالَ: يَا بَنِي مُؤَمَّلٍ، قَدْ صَدَقَ وَاللَّهِ ابْنُ عَمِّكُمْ، فَاتَّقُوا اللَّهَ فِيهِ، فَإِنَّ لَهُ رَحِمًا وَجِوَارًا، وَإِنَّهُ قَدِ اخْتَارَكُمْ عَلَى غَيْرِكُمْ مِنْ قَوْمِكُمْ، فَلَمْ يَمْنَعْهُ ذَلِكَ مِنْكُمْ فَأَمْهَلَهُمْ حَتَّى إِذَا دَخَلَ الشَّهْرُ الْحَرَامُ خَرَجُوا أَعْمَارًا، فَرَفَعَ يَدَيْهِ إِلَى اللَّهِ عز وجل فِي أَدْبَارِهِمْ، وَقَالَ:
[البحر الرجز]
لَاهُمَّ زِلْهُمْ عَنْ بَنِي مُؤَمَّلِ
… وَارْمِ عَلَى أَقْفَائِهِمْ بِمِنْكَلِ
بِصَخْرَةْ أَوْ عَرْضِ جَيْشٍ جَحْفَلٍ
… إِلَّا رَبَاحًا إِنَّهُ لَمْ يَفْعَلِ
⦗ص: 26⦘فَبَيْنَمَا هُمْ نُزُولٌ إِلَى جَبَلٍ فِي بَعْضِ طَرِيقِهِمْ أَرْسَلَ اللَّهُ صَخْرَةً مِنَ الْجَبَلِ تَجُرُّ مَا مَرَّتْ بِهِ مِنْ حَجَرٍ أَوْ صَخْرٍ، حَتَّى دَكَّتْهُمْ دَكَّةً وَاحِدَةً، إِلَّا رَبَاحًا وَأَهْلَ جَنَابِهِ إِنَّهُ لَمْ يَفْعَلْ فَقَالَ عُمَرُ: سُبْحَانَ اللَّهِ، إِنَّ هَذَا لَلْعَجَبُ، لَمْ يَرَوْنَ أَنَّ هَذَا كَانَ يَكُونُ؟ قَالُوا: أَنْتَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ أَعْلَمُ قَالَ: أَمَا إِنِّي قَدْ عَلِمْتُ لِمَ كَانَ ذَلِكَ؟ كَانَ النَّاسُ أَهْلَ جَاهِلِيَّةٍ، لَا يَرْجُونَ جَنَّةً وَلَا يَخَافُونَ نَارًا، وَلَا يَعْرِفُونَ بَعْثًا وَلَا قِيَامَةً، فَكَانَ اللَّهُ تَعَالَى يَسْتَجِيبُ لِلْمَظْلُومِ مِنْهُمْ عَلَى الظَّالِمِ لِيَدْفَعَ بِذَلِكَ بَعْضَهُمْ عَنْ بَعْضٍ، فَلَمَّا أَعْلَمَ اللَّهُ تَعَالَى الْعِبَادَ مَعَادَهُمْ، وَعَرَفُوا الْجَنَّةَ وَالنَّارَ وَالْبَعْثَ وَالْقِيَامَةَ قَالَ: {بَلِ السَّاعَةُ مَوْعِدُهُمْ وَالسَّاعَةُ أَدْهَى وَأَمَرَّ} [القمر: 46] ، فَكَانَتِ النَّظِرَةُ وَالْمُدَّةُ وَالتَّأْخِيرُ إِلَى ذَلِكَ الْيَوْمِ "
২০ - ফদল ইবনে গানিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি সালামাহ ইবনে ফদল থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি এমন এক ব্যক্তি থেকে যাকে অভিযুক্ত করা হয় না, তিনি ইকরিমা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি তাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করে বলেছেন:
⦗পৃষ্ঠা: ২৪⦘ আমি উমর ইবনে আল-খাত্তাবের নিকট ছিলাম যখন তিনি খলিফা ছিলেন। তিনি লোকদের তাদের নামের তালিকা অনুযায়ী পর্যবেক্ষণ করছিলেন। এমতাবস্থায় এক বৃদ্ধ অন্ধ ব্যক্তি তার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, যাকে তার চালক খুব সজোরে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল। উমর তাকে দেখে বললেন: "আজকের মতো এতো করুণ দৃশ্য আমি আর দেখিনি।" তখন সেখানে বসা এক ব্যক্তি বলল: "হে আমিরুল মুমিনীন, আপনি কি একে চেনেন না?" তিনি বললেন: "না।" সে বলল: "ইনি হলেন ইবনে দ্বাবআ আস-সুলামী, অতঃপর আল-বাহযী, যাকে বুরাইক বদদোয়া করেছিলেন।" উমর বললেন: "আমি জানি বুরাইক একটি উপাধি, লোকটির নাম কী?" তারা বলল: "আইয়াদ।" তিনি তাকে ডাকলেন এবং বললেন: "আমাকে তোমার এবং বনু দ্বাবআ-এর খবর জানাও।" সে বলল: "হে আমিরুল মুমিনীন, এটি জাহেলিয়াতের একটি বিষয় যা শেষ হয়ে গেছে, আর আল্লাহ عز وجل ইসলাম নিয়ে এসেছেন।" উমর বললেন: "হে আল্লাহ, ক্ষমা করুন! আল্লাহ আমাদের ইসলাম দিয়ে সম্মানিত করার পর জাহেলিয়াতের গল্প করার চেয়ে আমাদের জন্য আর কিছুই বেশি উপযুক্ত ছিল না। আমাদের কাছে তোমার এবং তাদের ঘটনা বর্ণনা করো।" সে বলল: "হে আমিরুল মুমিনীন, বনু দ্বাবআ দশজন ছিল। আমি তাদের চাচাতো ভাই ছিলাম, আমার পিতার সন্তানদের মধ্যে আমি ছাড়া আর কেউ অবশিষ্ট ছিল না। আমি তাদের প্রতিবেশী ছিলাম এবং বংশগতভাবে তারা আমার নিকটতম ছিল। তারা আমাকে উৎপীড়ন করত, আমার ওপর জুলুম করত এবং অন্যায়ভাবে আমার সম্পদ কেড়ে নিত। আমি তাদের আল্লাহ, আত্মীয়তার বন্ধন এবং প্রতিবেশীর হকের কথা স্মরণ করিয়ে দিতাম যাতে তারা আমাকে কষ্ট দেওয়া বন্ধ করে, কিন্তু তা তাদের বিরত রাখত না। আমি তাদের অবকাশ দিলাম, অবশেষে যখন নিষিদ্ধ মাস এল, তখন আমি আকাশের দিকে আমার হাত তুললাম এবং বললাম:
[মুনসারিহ ছন্দ]
হে আল্লাহ, আমি আপনাকে ঐকান্তিকভাবে ডাকছি … বনু দ্বাবআদের হত্যা করুন একজনকে ছাড়া।
অতঃপর সেই লোকটিকে আঘাত করুন এবং তাকে বসে থাকা অবস্থায় ছেড়ে দিন … অন্ধ হিসেবে, যখন চালক তাকে টেনে নিয়ে যাবে।
অতঃপর তাদের নয়জন সেই বছরেই মৃত্যুবরণ করল এবং সে আমার সাথে বেঁচে রইল। আল্লাহ তার দুই পায়ে তা নিক্ষেপ করেছেন যা আপনি দেখছেন, আর তার চালক তার কাছ থেকে সেই কষ্টের সম্মুখীন হচ্ছে যা আপনি দেখলেন।" উমর বললেন: "সুবহানাল্লাহ! এটি সত্যিই আশ্চর্যজনক।" তখন দলের এক ব্যক্তি বলল: "হে আমিরুল মুমিনীন, বনু খুযাআ-এর আবু তাকাতিফ আল-হুযালীর ঘটনা এর চেয়েও আশ্চর্যজনক।" তিনি বললেন: "তার ঘটনা কেমন ছিল?"
⦗পৃষ্ঠা: ২৫⦘ সে বলল: "আবু তাকাতিফের নয়জন (ভাই) ছিল এবং সে ছিল দশম। তাদের এক চাচাতো ভাই ছিল যার অবস্থা বনু দ্বাবআ-এর কাছে আইয়াদের মতোই ছিল। তারা তার ওপর জুলুম করত, তাকে উৎপীড়ন করত এবং অন্যায়ভাবে তার সম্পদ কেড়ে নিত। সে তাদের আল্লাহ এবং আত্মীয়তার বন্ধনের কথা স্মরণ করিয়ে দিত যাতে তারা বিরত হয়, কিন্তু তা তাদের বিরত করত না। সে তাদের অবকাশ দিল, অবশেষে যখন নিষিদ্ধ মাস এল, তখন সে আল্লাহর দিকে হাত তুলল এবং বলল:
[কামিল ছন্দ]
হে আল্লাহ, প্রতিটি নিরাপদ ও ভীত ব্যক্তির রব … এবং প্রতিটি আহ্বানকারীর আহ্বানে কর্ণপাতকারী।
নিশ্চয়ই খুযাআ গোত্রীয় আবু তাকাতিফ … আমাকে আমার হক দেয়নি এবং ইনসাফ করেনি।
সুতরাং তার জন্য তার প্রিয়জনদের একত্রে জমা করুন … কাররান এবং নাওয়াতিফের মাঝে।
সে বলল: "অতঃপর তারা তাদের একটি কূপে নামল যা তারা সংস্কার করছিল, তখন সেটি তাদের সকলের ওপর ধসে পড়ল। আজ পর্যন্ত সেটিই তাদের সকলের কবর হয়ে আছে।" উমর বললেন: "সুবহানাল্লাহ! এটি সত্যিই আশ্চর্যজনক।" তখন দলের এক ব্যক্তি বলল: "হে আমিরুল মুমিনীন, বনু নসরের বনু মুআম্মাল-এর ঘটনা এই সবকিছুর চেয়েও বেশি আশ্চর্যজনক।" তিনি বললেন: "বনু মুআম্মাল-এর ঘটনা কেমন ছিল?" সে বলল: "তাদের এক চাচাতো ভাই ছিল যার নিজের ভাইয়েরা মারা গিয়েছিল। সে তার জান ও মাল নিয়ে তাদের কাছে আশ্রয় নিয়েছিল যাতে তারা তাকে রক্ষা করে। কিন্তু তারা তার ওপর জুলুম করত, উৎপীড়ন করত এবং অন্যায়ভাবে তার মাল কেড়ে নিত। সে তাদের সাথে কথা বলল এবং বলল: 'হে বনু মুআম্মাল, আমি অন্যদের ছেড়ে তোমাদের বেছে নিয়েছি এবং তোমাদের নিকট আমার মাল ও জীবন সঁপেছি যাতে তোমরা আমাকে রক্ষা করো। কিন্তু তোমরা আমার ওপর জুলুম করেছ, আমার আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করেছ, আমার মাল আত্মসাৎ করেছ এবং প্রতিবেশী হিসেবে আমার সাথে মন্দ আচরণ করেছ। আমি তোমাদের আল্লাহ, আত্মীয়তা এবং প্রতিবেশীর হকের দোহাই দিচ্ছি যাতে তোমরা আমাকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকো।' তখন রাবাহ নামক এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল: 'হে বনু মুআম্মাল, আল্লাহর কসম তোমাদের চাচাতো ভাই সত্য বলেছে। সুতরাং তোমরা তার ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো। কেননা তার সাথে আত্মীয়তা ও প্রতিবেশীর হক রয়েছে, আর সে তার কওমের অন্যদের ছেড়ে তোমাদেরই বেছে নিয়েছে।' কিন্তু তা তাদের বিরত করল না। সে তাদের অবকাশ দিল, অবশেষে যখন নিষিদ্ধ মাস এল এবং তারা উমরার জন্য বের হলো, তখন সে তাদের পেছনে আল্লাহর দিকে হাত তুলল এবং বলল:
[রাজায ছন্দ]
হে আল্লাহ, বনু মুআম্মাল থেকে তাদের সরিয়ে দিন … এবং তাদের ঘাড়ের ওপর কঠোর শাস্তি নিক্ষেপ করুন।
বিশাল পাথর অথবা বিশাল সৈন্যবাহিনীর মাধ্যমে … তবে রাবাহ ছাড়া, কারণ সে জুলুম করেনি।
⦗পৃষ্ঠা: ২৬⦘এমতাবস্থায় তারা তাদের পথের এক পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থান করছিল, তখন আল্লাহ পাহাড় থেকে একটি বিশাল পাথর পাঠালেন যা তার পথে আসা সমস্ত পাথর ও শিলাকে টেনে আনল, এমনকি সেটি তাদের সবাইকে একবারে চূর্ণবিচূর্ণ করে দিল; তবে রাবাহ এবং তার সঙ্গীরা বেঁচে গেল কারণ সে জুলুম করেনি।" উমর বললেন: "সুবহানাল্লাহ! এটি সত্যিই আশ্চর্যজনক। তারা কি দেখতে পায়নি যে এমনটা হতে পারে?" তারা বলল: "হে আমিরুল মুমিনীন, আপনিই ভালো জানেন।" তিনি বললেন: "আমি জানি কেন এমন হতো। তখন মানুষ ছিল জাহেলিয়াতের অনুসারী, তারা জান্নাতের আশা করত না এবং জাহান্নামের ভয় পেত না, তারা পুনরুত্থান এবং কিয়ামত সম্পর্কে জানত না। তাই আল্লাহ তাআলা তাদের মধ্যে মজলুমের দোয়া জালেমের বিরুদ্ধে কবুল করতেন যাতে এর মাধ্যমে তারা একে অপরকে জুলুম থেকে বিরত রাখে। কিন্তু যখন আল্লাহ তাআলা বান্দাদের তাদের ফিরে যাওয়ার স্থান সম্পর্কে জানালেন এবং তারা জান্নাত, জাহান্নাম, পুনরুত্থান ও কিয়ামত সম্পর্কে জানতে পারল, তখন তিনি বললেন: {বরং কেয়ামত তাদের প্রতিশ্রুত সময় এবং কেয়ামত হবে অত্যন্ত ভয়াবহ ও তিক্ত} [ক্বামার: ৪৬]। সুতরাং অবকাশ, সময় দান এবং বিলম্ব সেই দিন পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে।"
(খণ্ড: ১)
মুজাবুদ্ দাওয়াহ লিইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
21 - حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ غَانِمٍ الْخُزَاعِيُّ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الْفَضْلِ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ الْفَضْلِ بْنِ حَسَنِ بْنِ عَمْرِو بْنِ أُمَيَّةَ الضَّمْرِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَمِّهِ أَبِي بَكْرِ بْنِ أُمَيَّةَ قَالَ: " كَانَ لَنَا جَارٌ مِنْ جُهَيْنَةَ فِي أَوَّلِ الْإِسْلَامِ، وَنَحْنُ عَلَى شِرْكِنَا، وَكَانَ مِنَّا رَجُلٌ مُحَارِبٌ خَبِيثٌ يُقَالُ لَهُ: رِيشَةُ، وَكُنَّا قَدْ خَلَّفْنَاهُ لِخُبْثِهِ، فَكَانَ وَلَا يَزَالُ يَعْدُو عَلَى جَارِنَا ذَلِكَ الْجُهَنِيِّ، فَيُصِيبُ لَهُ الْبِكْرَةَ وَالنَّابَ وَالشَّارِفَ، فَيَأْتُونَنَا، فَيَشْكُونَهُ إِلَيْنَا، فَنَقُولُ لَهُ: وَاللَّهِ مَا نَدْرِي مَا نَصْنَعُ بِهِ، قَدْ خَلَعْنَاهُ، فَاقْتُلْهُ، قَتَلَهُ اللَّهُ، فَوَاللَّهِ لَا يَتْبَعُكَ مِنْ دَمِهِ شَيْءٌ تَكْرَهُهُ أَبَدًا حَتَّى عَدَا مَرَّةً مِنْ ذَلِكَ، فَأَخَذَ مِنْهُ نَاقَةً لَهُ خِيَارًا، فَأَقْبَلَ بِهَا إِلَى شُعْبَةِ الْوَادِي، ثُمَّ نَحَرَهَا وَأَخَذَ سَنَامَهَا، وَمَطَايِبَ لَحْمِهَا، ثُمَّ تَرَكَهَا، وَخَرَجَ الْجُهَنِيُّ فِي طَلَبِهَا حِينَ فَقَدَهَا يَلْتَمِسُهَا، فَاتَّبَعَ أَثَرَهَا حَتَّى وَجَدَهَا، فَجَاءَ إِلَى نَادِي بَنِي ضَمْرَةَ وَهُوَ آسِفٌ مُصَابٌ، وَهُوَ يَقُولُ:
⦗ص: 27⦘[البحر الرجز]
أَصَادِقٌ رِيشَةُ يَا آلَ ضَمْرَةَ
… أَنْ لَيْسَ لِلَّهِ عَلَيْهِ قُدْرَةْ
مَا إِنْ يَزَالُ شَارِفٌ وَبِكْرُهُ
… يَطْعَنُ مِنْهَا فِي سَوَاءِ الثَّغْرَةْ
بِصَارِمٍ ذِي رَوْنَقٍ أَوْ شَفْرَةْ
… لَا هُمَّ إِنْ كَانَ مُعَدًّا فَجَرَّهْ
فَاجْعَلْ أَمَامَ الْعَيْنُ مِنْهُ جُدْرَهْ
… تَأْكُلُهُ حَتَّى تُوَافِيَ الْجَهْرَةْ
قَالَ: فَأَخْرَجَ اللَّهُ أَمَامَ عَيْنَيْهِ فِي مَآقِيهِ حَيْثُ وَصَفَ بِبُثْرَةٍ مِثْلِ النَّبْقَةِ، وَخَرَجْنَا إِلَى الْمَوْسِمِ حُجَّاجًا، فَرَجَعْنَا مِنَ الْحَجِّ وَقَدْ صَارَتْ أَكَلَةٌ أَكَلَتْ رَأْسَهُ أَجْمَعَ، فَمَاتَ حِينَ قَدِمْنَا "
২১ - আল-ফাদল ইবনে গানিম আল-খুজাঈ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সালামাহ ইবনে আল-ফাদল থেকে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি আল-হাসান ইবনে আল-ফাদল ইবনে হাসান ইবনে আমর ইবনে উমাইয়াহ আদ-দামরি থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর চাচা আবু বকর ইবনে উমাইয়াহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "ইসলামের প্রারম্ভিক যুগে জুহাইনা গোত্রের আমাদের একজন প্রতিবেশী ছিল, তখন আমরা আমাদের শিরকের ওপর ছিলাম। আমাদের মধ্যে রিশা নামে এক যুদ্ধবাজ পাপিষ্ঠ লোক ছিল, যাকে আমরা তার পাপাচারের কারণে ত্যাজ্য করেছিলাম। সে ক্রমাগত আমাদের সেই জুহানি প্রতিবেশীর ওপর আক্রমণ করত এবং তার অল্পবয়সী উটনি, বৃদ্ধ উটনি ও মাংসল উটনিগুলো ছিনিয়ে নিত। তারা আমাদের কাছে আসত এবং আমাদের কাছে তার অভিযোগ করত। আমরা তাকে বলতাম: আল্লাহর কসম, আমরা জানি না তাকে নিয়ে আমরা কী করব। আমরা তাকে ত্যাগ করেছি, সুতরাং তোমরা তাকে হত্যা করো—আল্লাহ তাকে ধ্বংস করুন। আল্লাহর কসম, তার রক্তের বিনিময়ে তোমাদের কখনোই অপ্রীতিকর কিছু পোহাতে হবে না। অবশেষে সে একবার এই সীমা লঙ্ঘন করল এবং তার একটি পছন্দসই উটনি ছিনিয়ে নিল। সেটিকে সে উপত্যকার একটি ঢালে নিয়ে গেল, তারপর সেটিকে জবাই করল এবং তার কুঁজ ও উৎকৃষ্ট মাংসগুলো নিয়ে নিল, এরপর সেটিকে ফেলে চলে গেল। জুহানি লোকটি উটনিটি হারিয়ে তার সন্ধানে বের হলো এবং তার পদচিহ্ন অনুসরণ করে শেষ পর্যন্ত সেটিকে খুঁজে পেল। সে অত্যন্ত ব্যথিত ও ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় বনি দামরার মজলিসে এলো এবং বলতে লাগল:
⦗পৃষ্ঠা: ২৭⦘[বাহরুর রাজায]
হে বনি দামরা! রিশা কি এ বিষয়ে সত্যবাদী যে, তার ওপর আল্লাহর কোনো ক্ষমতা নেই?
অবিরাম সে বৃদ্ধ ও অল্পবয়সী উটনিগুলোর কণ্ঠনালীর মধ্যস্থলে আঘাত করে চলেছে—
একটি উজ্জ্বল ধারালো তলোয়ার বা ছুরি দিয়ে। হে আল্লাহ! যদি সে সীমালঙ্ঘনকারী হয়ে থাকে—
তবে তার চোখের সামনে এমন এক প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে দিন, যা তাকে দৃষ্টিশক্তি বিলুপ্ত হওয়া পর্যন্ত কুরে কুরে খাবে।
বর্ণনাকারী বলেন: ফলে আল্লাহ তাআলা তার বর্ণনানুসারে তার দুই চোখের কোণে কুল ফলের মতো এক ফোঁড়া বের করে দিলেন। এরপর আমরা হজের মৌসুমে হজে গেলাম। হজ থেকে ফিরে এসে দেখলাম সেটি একটি পচনশীল ক্ষতে পরিণত হয়েছে যা তার পুরো মাথাটি গ্রাস করে ফেলেছে। অবশেষে আমরা যখন ফিরে এলাম, তখন সে মারা গেল।"
(খণ্ড: ১)
মুজাবুদ্ দাওয়াহ লিইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
دُعَاءُ النُّعْمَانِ بْنِ قَوْفَلٍ
নুমান ইবন কাওফলের দোয়া
(খণ্ড: ১)
মুজাবুদ্ দাওয়াহ লিইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
22 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَهْمٍ الْأَنْطَاكِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ الْفَزَارِيُّ، حَدَّثَنَا جِسْرُ بْنُ الْحَسَنِ، عَنْ أَبِي ثَابِتِ بْنِ شَدَّادِ بْنِ أَوْسٍ قَالَ: قَالَ النُّعْمَانُ بْنُ قَوْقَلٍ يَوْمَ أُحُدٍ: اللَّهُمَّ إِنِّي أُقْسِمُ عَلَيْكَ أَنْ أُقْتَلَ فَأَدْخُلَ الْجَنَّةَ، فَقُتِلَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ النُّعْمَانَ أَقْسَمَ عَلَى اللَّهِ فَأَبَرَّهُ، فَلَقَدْ رَأَيْتُهُ يَطَأَ فِي حَظِيرَتِهَا مَا بِهِ مِنْ عَرَجٍ»
২২ - মুহাম্মাদ ইবন আবদুর রহমান ইবন সাহম আল-আন্তাকি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবু ইসহাক আল-ফাজারি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, জিসর ইবনুল হাসান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবু সাবিত ইবন শাদ্দাদ ইবন আওস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নুমান ইবন কাওকাল উহুদ যুদ্ধের দিন বললেন: হে আল্লাহ! আমি আপনার নামে শপথ করছি যেন আমি নিহত হই এবং জান্নাতে প্রবেশ করি। অতঃপর তিনি নিহত হলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «নিশ্চয়ই নুমান আল্লাহর নামে শপথ করেছিল এবং আল্লাহ তা পূর্ণ করেছেন। আমি অবশ্যই তাকে জান্নাতের চত্বরে বিচরণ করতে দেখেছি, তার মাঝে কোনো খোঁড়ামি ছিল না।»
(খণ্ড: ১)
মুজাবুদ্ দাওয়াহ লিইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
دُعَاءُ الْمَكْرُوبِ
বিপদগ্রস্ত ব্যক্তির দুআ
(খণ্ড: ১)
মুজাবুদ্ দাওয়াহ লিইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
23 - حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ عَبْدِ اللَّهِ التَّمِيمِيُّ، أَخْبَرَنِي فُهَيْدُ بْنُ زِيَادٍ الْأَسَدِيُّ، عَنْ مُوسَى بْنِ وَرْدَانَ، عَنِ الْكَلْبِيِّ - وَلَيْسَ بِصَاحِبِ التَّفْسِيرِ -، عَنِ الْحُسَيْنِ، عَنْ أَنَسٍ قَالَ: ⦗ص: 28⦘ كَانَ رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ الْأَنْصَارِ يُكَنَّى: أَبَا مُعَلَّقٍ، وَكَانَ تَاجِرًا يَتَّجِرُ بِمَالٍ لَهُ وَلِغَيْرِهِ، يَضْرِبُ بِهِ فِي الْآفَاقِ، وَكَانَ نَاسِكًا وَرِعًا، فَخَرَجَ مَرَّةً فَلَقِيَهُ لِصٌّ مُقَنَّعٌ فِي السِّلَاحِ، فَقَالَ لَهُ: ضَعْ مَا مَعَكَ فَإِنِّي قَاتِلُكَ قَالَ: مَا تُرِيدُ إِلَى دَمِي؟ شَأْنَكَ بِالْمَالِ، قَالَ: أَمَّا الْمَالُ فَلِي، وَلَسْتُ أُرِيدُ إِلَّا دَمَكَ قَالَ: أَمَّا إِذَا أَبَيْتَ، فَذَرْنِي أُصَلِّي أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ، قَالَ: صَلِّ مَا بَدَا لَكَ فَتَوَضَّأَ ثُمَّ صَلَّى أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ، فَكَانَ مِنْ دُعَائِهِ فِي آخِرِ سَجْدَةٍ أَنْ قَالَ: يَا وَدُودُ، يَا ذَا الْعَرْشِ الْمَجِيدِ، يَا فَعَّالُ لَمَّا يُرِيدُ، أَسْأَلُكُ بِعِزِّكَ الَّذِي لَا يُرَامُ، وَمُلْكِكَ الَّذِي لَا يُضَامُ، وَبِنُورِكَ الَّذِي مَلَأَ أَرْكَانَ عَرْشِكَ، أَنْ تَكْفِيَنِي شَرَّ هَذَا اللِّصِّ، يَا مُغِيثُ أَغِثْنِي، يَا مُغِيثُ أَغِثْنِي ، ثَلَاثَ مَرَّاتٍ قَالَ: دَعَا بِهَا ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، فَإِذَا هُوَ بِفَارِسٍ قَدْ أَقْبَلَ بِيَدِهِ حَرْبَةٌ وَاضِعُهَا بَيْنَ أُذُنِي فَرَسِهِ، فَلَمَّا بَصُرَ بِهِ اللِّصُّ أَقْبَلَ نَحْوَهُ، فَطَعَنَهُ، فَقَتَلَهُ ثُمَّ أَقْبَلَ إِلَيْهِ، فَقَالَ: قُمْ قَالَ: مَنْ أَنْتَ بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي؟ فَقَدْ أَغَاثَنِي اللَّهُ بِكَ الْيَوْمَ، قَالَ: أَنَا مَلَكٌ مِنْ أَهْلِ السَّمَاءِ الرَّابِعَةِ، دَعَوْتَ بِدُعَائِكَ الْأَوَّلِ، فَسَمِعْتُ لِأَبْوَابُ السَّمَاءُ قَعْقَعَةً، ثُمَّ دَعَوْتَ بِدُعَائِكَ الثَّانِي، فَسَمِعْتُ لِأَهْلِ السَّمَاءِ ضَجَّةً، ثُمَّ دَعَوْتَ ⦗ص: 29⦘ بِدُعَائِكَ الثَّالِثِ، فَقِيلَ لِي: دُعَاءُ مَكْرُوبٍ، فَسَأَلْتُ اللَّهَ تَعَالَى أَنْ يُوَلِّيَنِي قَتْلَهُ، قَالَ أَنَسٌ: فَاعْلَمْ أَنَّهُ مَنْ تَوَضَّأٍ، وَصَلَّى أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ، وَدَعَا بِهَذَا الدُّعَاءِ، اسْتُجِيبَ لَهُ مَكْرُوبًا كَانَ أَوْ غَيْرَ مَكْرُوبٍ "
২৩ - ঈসা ইবন আব্দুল্লাহ আত-তামিমী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ফুহায়দ ইবন যিয়াদ আল-আসাদী আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, মূসা ইবন ওয়ারদান থেকে, তিনি আল-কালবী থেকে—আর তিনি তাফসিরের সেই ব্যক্তি নন—তিনি আল-হুসাইন থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ⦗পৃষ্ঠা: ২৮⦘ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণের মধ্যে আনসার গোত্রের একজন ব্যক্তি ছিলেন, যাঁর উপনাম ছিল আবু মুআল্লাক। তিনি একজন ব্যবসায়ী ছিলেন এবং নিজের ও অন্যের সম্পদ নিয়ে ব্যবসা করতেন এবং তা নিয়ে দেশ-দেশান্তরে সফর করতেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত আবিদ ও পরহেজগার। একবার তিনি সফরের উদ্দেশ্যে বের হলেন, তখন অস্ত্রশস্ত্রে সুসজ্জিত এক মুখোশধারী চোর তাঁর পথরোধ করল। সে তাঁকে বলল: "তোমার নিকট যা আছে তা রেখে দাও, কেননা আমি তোমাকে হত্যা করব।" তিনি বললেন: "আমার রক্তের প্রতি তোমার কী প্রয়োজন? তুমি ধন-সম্পদ নিয়ে নাও।" সে বলল: "ধন-সম্পদ তো আমারই, আমি কেবল তোমার রক্তই চাই।" তিনি বললেন: "তুমি যখন মানছোই না, তবে আমাকে চার রাকাত সালাত আদায়ের সুযোগ দাও।" সে বলল: "তোমার যা ইচ্ছা পড়।" অতঃপর তিনি ওযু করলেন এবং চার রাকাত সালাত আদায় করলেন। তাঁর শেষ সিজদায় তিনি এই দুআটি পাঠ করলেন: "হে অতীব প্রেমময় (ওয়াদুদ), হে মহান আরশের অধিপতি, হে সেই সত্তা যিনি যা ইচ্ছা তা-ই সম্পাদন করেন। আমি আপনার নিকট প্রার্থনা করছি আপনার সেই মর্যাদার উসিলায় যা অপরাজেয়, আপনার সেই রাজত্বের উসিলায় যা পরাভূত হয় না, এবং আপনার সেই নূরের উসিলায় যা আপনার আরশের স্তম্ভসমূহকে পরিপূর্ণ করে দিয়েছে—যাতে আপনি আমাকে এই চোরের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেন। হে উদ্ধারকর্তা, আমাকে উদ্ধার করুন; হে উদ্ধারকর্তা, আমাকে উদ্ধার করুন; হে উদ্ধারকর্তা, আমাকে উদ্ধার করুন।" বর্ণনাকারী বলেন: তিনি তিনবার এই দুআ করলেন। অমনি তিনি একজন অশ্বারোহীকে দেখতে পেলেন যে দ্রুত এগিয়ে আসছে, তার হাতে একটি বর্শা ছিল যা সে তার ঘোড়ার দুই কানের মাঝে স্থির করে রেখেছিল। চোরটি যখন তাকে দেখল, তখন সে তার দিকে ধাবিত হলো। অশ্বারোহীটি তাকে বর্শা দিয়ে আঘাত করে হত্যা করল। অতঃপর সে তাঁর দিকে এগিয়ে এল এবং বলল: "উঠুন।" তিনি বললেন: "আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক, আপনি কে? আজ আল্লাহ আপনার মাধ্যমে আমাকে উদ্ধার করেছেন।" সে বলল: "আমি চতুর্থ আসমানের অধিবাসী একজন ফেরেশতা। আপনি যখন প্রথমবার দুআ করলেন, আমি আসমানের দরজাসমূহের প্রচণ্ড আওয়াজ শুনতে পেলাম। অতঃপর যখন আপনি দ্বিতীয়বার দুআ করলেন, তখন আসমানবাসীদের শোরগোল শুনতে পেলাম। অতঃপর যখন ⦗পৃষ্ঠা: ২৯⦘ আপনি তৃতীয়বার দুআ করলেন, তখন আমাকে বলা হলো: এটি একজন চরম বিপদগ্রস্ত ব্যক্তির দুআ। তখন আমি আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা করলাম যেন তিনি আমাকে তাকে হত্যা করার দায়িত্ব অর্পণ করেন।" আনাস (রা.) বলেন: "জেনে রাখুন, যে ব্যক্তি ওযু করে চার রাকাত সালাত আদায় করবে এবং এই দুআটি পড়বে, তার প্রার্থনা কবুল করা হবে—সে বিপদগ্রস্ত হোক বা না হোক।"
(খণ্ড: ১)
মুজাবুদ্ দাওয়াহ লিইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
دُعَاءُ طَلَبِ الْمَوْتِ
মৃত্যু কামনার দুআ
(খণ্ড: ১)
মুজাবুদ্ দাওয়াহ লিইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
24 - حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رضي الله عنه لَمَّا نَفَرَ مِنْ مِنًى، أَنَاخَ بِالْأَبْطَحِ، ثُمَّ كَوَّمَ كَوْمَةً مِنْ بَطْحَاءٍ، فَأَلْقَى عَلَيْهَا طَرَفَ رِدَائِهِ، ثُمَّ اسْتَلْقَى، وَرَفَعَ يَدَيْهِ إِلَى السَّمَاءِ، ثُمَّ قَالَ: «اللَّهُمَّ كَبِرَتْ سِنِّي، وَضَعُفَتْ قُوَّتِي، وَانْتَشَرَتْ رَعِيَّتِي، فَاقْبِضْنِي إِلَيْكَ غَيْرَ مُضَيِّعٍ وَلَا مُفَرِّطٍ، فَمَا انْسَلَخَ ذُو الْحِجَّةِ حَتَّى طُعِنَ فَمَاتَ رحمه الله»
২৪ - আবু খাইসামা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াজিদ ইবনে হারুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে বর্ণিত, সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব থেকে বর্ণিত যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) যখন মিনা থেকে প্রস্থান করলেন, তিনি আবতাহ নামক স্থানে তাঁর উট বসালেন। এরপর তিনি কাঁকর দিয়ে একটি স্তূপ তৈরি করলেন এবং তার ওপর তাঁর চাদরের এক প্রান্ত বিছিয়ে দিলেন। অতঃপর তিনি চিৎ হয়ে শুয়ে পড়লেন এবং আকাশের দিকে তাঁর দুই হাত উত্তোলন করলেন। এরপর তিনি বললেন: «হে আল্লাহ! আমার বয়স বৃদ্ধি পেয়েছে, আমার শক্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং আমার প্রজাসাধারণ ছড়িয়ে পড়েছে। সুতরাং আমাকে আপনার নিকট তুলে নিন এমন অবস্থায় যেন আমি (হক) বিনষ্টকারী বা সীমালঙ্ঘনকারী না হই।» অতঃপর জিলহজ মাস শেষ হওয়ার আগেই তিনি ছুরিকাহত হলেন এবং মৃত্যুবরণ করলেন (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)।
(খণ্ড: ১)
মুজাবুদ্ দাওয়াহ লিইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
مِنْ أَدْعِيَةِ الْإِمَامِ عَلِيٍّ
ইমাম আলীর দোয়াসমূহের মধ্য থেকে
(খণ্ড: ১)
মুজাবুদ্ দাওয়াহ লিইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
25 - حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ هَاشِمٍ الْجَنْبِيُّ، ⦗ص: 30⦘ عَنْ أَبِي جَنَابٍ، عَنْ أَبِي عَوْنٍ الثَّقَفِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ قَالَ: قَالَ الْحُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ: قَالَ لِي عَلِيٌّ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَنَحَ لِيَ اللَّيْلَةَ فِي مَنَامِي، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا لَقِيتَ مِنْ أُمَّتِكَ مِنَ الْأَوْدِ وَالْكَدِّ؟ قَالَ: «ادْعُ عَلَيْهِمْ» قُلْتُ: اللَّهُمَّ أَبْدِلْنِي بِهِمْ مَنْ هُوَ خَيْرٌ لِي مِنْهُمْ، وَأَبْدِلْهُمْ مِنِّي مَنْ هُوَ شَرٌّ لَهُمْ مِنِّي، فَخَرَجَ فَضَرَبَهُ الرَّجُلُ "
২৫ - আব্দুর রহমান ইবনে সালিহ আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন, আমর ইবনে হাশিম আল-জানবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ⦗পৃষ্ঠা: ৩০⦘ আবু জানাব থেকে, তিনি আবু আউন আস-সাকাফি থেকে, তিনি আব্দুর রহমান আস-সুলামি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: হুসাইন ইবনে আলী বলেছেন: আলী (রা.) আমাকে বলেছেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আজ রাতে আমার স্বপ্নে আবির্ভূত হলেন। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আপনার উম্মতের পক্ষ থেকে আমি যে বক্রতা এবং কষ্টের সম্মুখীন হয়েছি, তা কি আপনি দেখেছেন? তিনি বললেন: 'তাদের বিরুদ্ধে প্রার্থনা (বদদোয়া) করো।' তখন আমি বললাম: হে আল্লাহ, আপনি তাদের পরিবর্তে আমাকে এমন লোক দান করুন যারা আমার জন্য তাদের চেয়ে উত্তম হবে, আর তাদের জন্য আমার পরিবর্তে এমন কাউকে দান করুন যে তাদের জন্য আমার চেয়ে নিকৃষ্ট হবে। অতঃপর তিনি বের হলেন এবং সেই লোকটি তাঁকে আঘাত করল।"
(খণ্ড: ১)
মুজাবুদ্ দাওয়াহ লিইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٣١)
26 - حَدَّثَنِي سُرَيْجُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ سَالِمٍ، عَنْ عَمَّارٍ الْحَضْرَمِيِّ، عَنْ زَاذَانَ أَبِي عُمَرَ أَنَّ رَجُلًا حَدَّثَ عَلِيًّا بِحَدِيثٍ ، فَقَالَ: ⦗ص: 32⦘ " مَا أَرَاكَ إِلَّا كَذَبْتَنِي قَالَ: لَمْ أَفْعَلْ قَالَ: أَدْعُو اللَّهَ عَلَيْكَ إِنْ كُنْتَ كَذَبْتَ، قَالَ: ادْعُ فَدَعَا، فَمَا بَرِحَ الرَّجُلُ حَتَّى عَمِيَ "
২৬ - সুরাইজ ইবন ইউনুস আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, হুশাইম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ইসমাঈল ইবন সালিম থেকে বর্ণিত, তিনি আম্মার আল-হাদরামী থেকে, তিনি যাদান আবু উমর থেকে বর্ণনা করেন যে, জনৈক ব্যক্তি আলীর নিকট একটি হাদীস বর্ণনা করল। তিনি (আলী) বললেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৩২⦘ "আমি তোমাকে কেবল মিথ্যাবাদী হিসেবেই দেখছি।" সে বলল: "আমি তা করিনি।" তিনি বললেন: "তুমি যদি মিথ্যা বলে থাকো তবে আমি তোমার বিরুদ্ধে আল্লাহর কাছে দুআ করব।" সে বলল: "দুআ করুন।" অতঃপর তিনি দুআ করলেন, ফলে সেই ব্যক্তি সেখান থেকে প্রস্থান করার পূর্বেই অন্ধ হয়ে গেল।
(খণ্ড: ১)
মুজাবুদ্ দাওয়াহ লিইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
27 - حَدَّثَنَا خَلَفُ بْنُ سَالِمٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، عَنْ أَبِي مَكِينٍ قَالَ: مَرَرْتُ أَنَا وَخَالِي أَبُو أُمَيَّةَ، عَلَى دَارٍ فِي حَيٍّ مِنْ مُرَادٍ، فَقَالَ: " تَرَى هَذِهِ الدَّارَ؟ قُلْتُ: نَعَمْ قَالَ: فَإِنَّ عَلِيًّا مَرَّ عَلَيْهَا وَهُمْ يَبْنُونَهَا، فَسَقَطَ عَلَيْهِ قِطْعَةٌ فَشَجَّتْهُ، فَدَعَا اللَّهَ أَنْ لَا يَكْمُلَ بِنَاؤُهَا، قَالَ: فَمَا وُضِعَتْ عَلَيْهَا لَبِنَةٌ، قَالَ: فَكُنْتَ تَمُرُّ عَلَيْهَا لَا تُشْبِهُ الدُّورَ "
২৭ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন খালাফ ইবনে সালিম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে বিশর, আবু মাকীন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি এবং আমার মামা আবু উমাইয়্যাহ মুরাদ গোত্রের একটি মহল্লার একটি ঘরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। তখন তিনি বললেন: "তুমি কি এই ঘরটি দেখতে পাচ্ছ?" আমি বললাম: "হ্যাঁ।" তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আলী এর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যখন তারা এটি নির্মাণ করছিল, তখন তার ওপর একটি টুকরো পড়ে তাকে জখম করল। ফলে তিনি আল্লাহর কাছে দুআ করলেন যেন এর নির্মাণকাজ পূর্ণ না হয়।" তিনি বলেন: "এরপর থেকে সেখানে আর কোনো ইট স্থাপন করা হয়নি।" তিনি আরও বলেন: "তুমি যখন এর পাশ দিয়ে যেতে, তখন দেখতে পেতে যে এটি অন্যান্য ঘরগুলোর মতো নয়।"
(খণ্ড: ১)
মুজাবুদ্ দাওয়াহ লিইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
28 - حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُونُسَ بْنِ بُكَيْرٍ الشَّيْبَانِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ الْغَفَّارِ بْنِ الْقَاسِمِ الْأَنْصَارِيِّ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ الشَّيْبَانِيِّ قَالَ: شَهِدْتُ الْجَمَلَ مَعَ مَوْلَايَ، فَمَا رَأَيْتُ يَوْمًا قَطُّ أَكْثَرَ سَاعِدًا بَارِدًا، وَقَدَمًا بَارِدَةٌ مِنْ يَوْمِئِذٍ، وَلَا مَرَرْتُ بِدَارِ الْوَلِيدِ قَطُّ إِلَّا ذَكَرْتُ يَوْمَ الْجَمَلِ قَالَ: فَحَدَّثَنِي الْحَكَمُ بْنُ عُتَيْبَةَ أَنَّ عَلِيًّا دَعَا يَوْمَ الْجَمَلِ فَقَالَ: «اللَّهُمَّ خُذْ بِأَيْدِيهِمْ وَأَقْدَامِهِمْ»
২৮ - আব্দুল্লাহ ইবনে ইউনুস ইবনে বুকাইর আশ-শাইবানী আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আব্দুল গাফফার ইবনুল কাসিম আল-আনসারী থেকে, তিনি আবু বিশর আশ-শাইবানী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আমার মনিবের সাথে জামালের যুদ্ধে (উটের যুদ্ধ) উপস্থিত ছিলাম। সেই দিনের চেয়ে অধিক সংখ্যায় কর্তিত নিথর হাত এবং নিথর পা আমি আর কখনো দেখিনি। আমি যখনই ওয়ালিদের গৃহের পাশ দিয়ে অতিক্রম করি, তখনই আমার জামালের যুদ্ধের কথা মনে পড়ে যায়। তিনি বলেন: হাকাম ইবনে উতাইবা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, আলী (রা.) জামালের যুদ্ধের দিন দুআ করেছিলেন: «হে আল্লাহ! আপনি তাদের হাত ও পা ধরুন (পাকড়াও করুন)»।
(খণ্ড: ১)
মুজাবুদ্ দাওয়াহ লিইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
دُعَاءُ امْرَأَةِ عُثْمَانَ
উসমানের স্ত্রীর দুআ
(খণ্ড: ১)
মুজাবুদ্ দাওয়াহ লিইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
29 - حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ خِدَاشِ بْنِ الْعَجْلَانَ، حَدَّثَنِي مُعَلَّى بْنُ عِيسَى الْوَرَّاقُ، عَنْ شَدَّادٍ الْأَعْمَى، عَنْ بَعْضِ أَشْيَاخِهِ مِنْ بَنِي رَاسِبٍ قَالَ: " كُنْتُ أَطُوفُ بِالْبَيْتِ، فَإِذَا رَجُلٌ أَعْمَى يَطُوفُ بِالْبَيْتِ وَهُوَ يَقُولُ: اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَمَا أَرَاكَ تَفْعَلُ، قَالَ: فَقُلْتُ: أَلَا تَتَّقِي اللَّهَ؟ قَالَ: إِنَّ لِي شَأْنًا، آلَيْتُ أَنَا وَصَاحِبٌ لِي لَئِنْ قُتِلَ عُثْمَانُ لَنَلْطُمَنَّ حُرَّ وَجْهِهِ، ⦗ص: 33⦘ فَدَخَلْنَا عَلَيْهِ، فَإِذَا رَأْسُهُ فِي حِجْرِ امْرَأَتِهِ ابْنَةِ الْفُرَافِصَةِ، فَقَالَ لَهَا صَاحِبِي: اكْشِفِي عَنْ وَجْهِهِ، فَقَالَتْ: لِمَ؟ قُلْتُ: أَلْطُمُ حَرَّ وَجْهِهِ، قَالَتْ: أَمَا تَرْضَى مَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم؟ ، قَالَ فِيهِ كَذَا وَكَذَا فَاسْتَحْيَى صَاحِبِي فَرَجَعَ، فَقُلْتُ: اكْشِفِي عَنْ وَجْهِهِ قَالَ: فَذَهَبَتْ تَعْدُو عَلَيَّ، فَلَطَمْتُ وَجْهَهُ فَقَالَتْ: مَا لَكَ، يَبَّسَ اللَّهُ يَدَكَ، وَأَعْمَى بَصَرَكَ، وَلَا غَفَرَ لَكَ ذَنْبًا، قَالَ: فَوَاللَّهِ مَا خَرَجْتُ مِنَ الْبَابِ حَتَّى يَبِسَتْ يَدِي، وَعَمِيَ بَصَرِي، وَمَا أَرَى اللَّهَ يَغْفِرُ ذَنْبِي "
২৯ - খালেদ ইবনে খিদাস ইবনুল আজলান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুআল্লা ইবনে ঈসা আল-ওয়াররাক আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি শাদ্দাদ আল-আমা থেকে, তিনি বনু রাসিব গোত্রের তাঁর জনৈক শিক্ষকের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি বাইতুল্লাহর তওয়াফ করছিলাম, এমতাবস্থায় একজন অন্ধ ব্যক্তিকে দেখলাম সে বাইতুল্লাহর তওয়াফ করছে এবং বলছে: হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করুন, তবে আমি মনে করি না যে আপনি তা করবেন। তিনি বলেন: তখন আমি বললাম: আপনি কি আল্লাহকে ভয় করবেন না? তিনি বললেন: আমার একটি বিশেষ বিষয় রয়েছে; আমি এবং আমার এক সঙ্গী শপথ করেছিলাম যে, যদি উসমান নিহত হন তবে আমরা অবশ্যই তাঁর চেহারার সম্মুখভাগে চড় মারব। ⦗পৃষ্ঠা: ৩৩⦘ অতঃপর আমরা তাঁর নিকট প্রবেশ করলাম, তখন তাঁর মাথা তাঁর স্ত্রী ইবনাতুল ফুরাফিসার কোলে ছিল। আমার সঙ্গী তাকে বলল: তাঁর মুখমণ্ডল থেকে কাপড় সরিয়ে দাও। তিনি বললেন: কেন? আমি বললাম: আমি তাঁর মুখমণ্ডলে চড় মারব। তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সম্পর্কে যা বলেছেন তাতে কি তুমি সন্তুষ্ট নও? তিনি তাঁর সম্পর্কে এই এই কথা বলেছেন। তখন আমার সঙ্গী লজ্জিত হয়ে ফিরে গেল। কিন্তু আমি বললাম: তাঁর মুখমণ্ডল থেকে কাপড় সরিয়ে দাও। বর্ণনাকারী বলেন: তখন তিনি (উসমানের স্ত্রী) আমাকে বাধা দিতে উদ্যত হলেন, কিন্তু আমি তাঁর চেহারায় চড় মারলাম। তখন তিনি বললেন: তোমার কী হলো! আল্লাহ তোমার হাত অবশ করে দিন, তোমার দৃষ্টি অন্ধ করে দিন এবং তোমার কোনো গুনাহ ক্ষমা না করুন। তিনি বলেন: আল্লাহর কসম, আমি দরজা দিয়ে বের হওয়ার আগেই আমার হাত অবশ হয়ে গেল এবং আমার দৃষ্টি চলে গেল। আর আমি মনে করি না যে আল্লাহ আমার গুনাহ ক্ষমা করবেন।"
(খণ্ড: ১)
মুজাবুদ্ দাওয়াহ লিইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
30 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ جَمِيلٍ الْمَرْوَزِيُّ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ، عَنْ طُعْمَةَ بْنِ عَمْرٍو، كَانَ رَجُلٌ قَدْ يَبِسَ وَشَحِبَ مِنَ الْعِبَادَةِ، فَقِيلَ لَهُ: مَا شَأْنُكَ؟ قَالَ: " إِنِّي كُنْتُ حَلَفْتُ أَنْ أَلْطُمَ عُثْمَانَ، فَلَمَّا قُتِلَ جِئْتُ فَلَطَمْتُهُ، فَقَالَتْ لِي امْرَأَتُهُ: أَشَلَّ اللَّهُ يَمِينَكَ، وَصَلَّى وَجْهَكَ النَّارَ، فَقَدْ شَلَّتْ يَمِينِي وَأَنَا أَخَافُ "
৩০ - আমাদের নিকট আহমদ বিন জামিল আল-মারওয়াযী বর্ণনা করেছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারাক, তিনি সুফিয়ান বিন উয়াইনা হতে, তিনি তু'মাহ বিন আমর হতে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি ইবাদতের আধিক্যের কারণে শুকিয়ে কৃশ ও ফ্যাকাসে হয়ে গিয়েছিল। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো: "আপনার কী হয়েছে?" সে বলল: "আমি শপথ করেছিলাম যে আমি উসমানকে একটি চড় মারব। যখন তাকে হত্যা করা হলো, তখন আমি এসে তাকে একটি চড় মারলাম। তখন তার স্ত্রী আমাকে বদদোয়া দিয়ে বললেন: আল্লাহ তোমার ডান হাত অবশ করে দিন এবং তোমার চেহারাকে জাহান্নামের আগুনে দগ্ধ করুন। ফলে এখন আমার ডান হাতটি অবশ হয়ে গিয়েছে এবং আমি (পরকালের পরিণামের ব্যাপারে) অত্যন্ত ভীত অবস্থায় আছি।"
(খণ্ড: ১)
মুজাবুদ্ দাওয়াহ লিইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
دُعَاءُ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ
উম্মুল মুমিনীনের দোয়া
(খণ্ড: ১)
মুজাবুদ্ দাওয়াহ লিইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
31 - وَحَدَّثَنَا أَبِي، عَنِ الْأَسْوَدِ بْنِ عَامِرٍ، عَنْ أَبِي هِلَالٍ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ هِلَالٍ قَالَ: ⦗ص: 34⦘ لَمَّا حُصِرَ عُثْمَانُ أَتَتْهُ أُمُّ الْمُؤْمِنِينَ فَجَاءَ رَجُلٌ فَاطَّلَعَ فِي خِدْرِهَا، فَجَعَلَ يَنْعَتُهَا لِلنَّاسِ فَقَالَتْ: " مَا لَهُ قَطَعَ اللَّهُ يَدَهُ، وَأَبْدَى عَوْرَتَهُ، قَالَ: فَدَخَلَ عَلَيْهِ دَاخِلٌ فَضَرَبَهُ بِالسَّيْفِ، فَأَلْقَى يَمِينَهُ بِيَمِينِهِ فَقَطَعَهَا، فَانْطَلَقَ هَارِبًا آخِذًا إِزَارَهُ بِفِيهِ أَوْ بِشِمَالِهِ، بَادِيًا عَوْرَتُهُ "
৩১ - এবং আমাদের নিকট আমার পিতা বর্ণনা করেছেন আসওয়াদ ইবনে আমির থেকে, তিনি আবু হিলাল থেকে, তিনি হুমাইদ ইবনে হিলাল থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৩৪⦘ যখন উসমান (রা.) অবরুদ্ধ হলেন, তখন উম্মুল মুমিনীন তাঁর নিকট আসলেন। এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি এসে তাঁর পর্দার অন্তরালে উঁকি দিল এবং লোকদের নিকট তাঁর শারীরিক বর্ণনা দিতে লাগল। তখন তিনি (উম্মুল মুমিনীন) বললেন: "তার কী হলো! আল্লাহ তার হাত কেটে দিন এবং তার লজ্জাস্থান উন্মোচিত করে দিন।" তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: অতঃপর এক ব্যক্তি তার নিকট প্রবেশ করে তাকে তলোয়ার দিয়ে আঘাত করল এবং তার ডান হাতটি কেটে ফেলল। ফলে সে পলায়ন করল এমতাবস্থায় যে, সে তার পরিধেয় বস্ত্র মুখ দিয়ে অথবা বাম হাত দিয়ে ধরে রেখেছিল এবং তার লজ্জাস্থান উন্মোচিত হয়ে গিয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
মুজাবুদ্ দাওয়াহ লিইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
دُعَاءُ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ
সা'দ ইবন আবি ওয়াক্কাসের দুআ
(খণ্ড: ১)
মুজাবুদ্ দাওয়াহ লিইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
32 - حَدَّثَنَا خَلَفُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ: ⦗ص: 35⦘ شَكَى أَهْلُ الْكُوفَةِ سَعْدًا إِلَى عُمَرَ حَتَّى قَالُوا: إِنَّهُ لَا يُحْسِنُ يُصَلِّي قَالَ سَعْدٌ: " أَمَّا أَنَا فَإِنِّي كُنْتُ أُصَلِّي بِهِمْ صَلَاةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، لَا أَخْرِمُ عَنْهَا، أَرْكُدُ فِي الْأُولَيَيْنِ، وَأَحْذِفُ الْأُخْرَيَيْنِ قَالَ عُمَرُ: ذَاكَ الظَّنُّ بِكَ يَا أَبَا إِسْحَاقَ وَبَعَثَ رِجَالًا يَسْأَلُونَ عَنْهُ فِي مَجَالِسِ الْكُوفَةِ، فَكَانُوا لَا يَأْتُونَ مَجْلِسًا إِلَّا أَثْنَوْا عَلَيْهِ خَيْرًا، أَوْ قَالُوا مَعْرُوفًا، حَتَّى أَتَوْا مَسْجِدًا مِنْ مَسَاجِدِهِمْ، فَقَامَ رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ أَبُو سَعْدَةَ، فَقَالَ: اللَّهُمَّ إِذْ سَأَلْتُمُونَا فَإِنَّهُ كَانَ لَا يَعْدِلُ فِي الْقَضِيَّةِ، وَلَا يَقْسِمُ بِالسَّوِيَّةِ، وَلَا يَسِيرُ بِالسَّرِيَّةِ فَقَالَ سَعْدٌ: اللَّهُمَّ إِنْ كَانَ كَاذِبًا فَأَعْمِ بَصَرَهُ، وَأَطِلْ فَقْرَهُ، وَعَرِّضْهُ لِلْفِتَنِ قَالَ عَبْدُ الْمَلِكِ: فَأَنَا رَأَيْتُهُ يَتَعَرَّضُ لِلْإِمَاءِ فِي السِّكَكِ، فَإِذَا قِيلَ لَهُ: كَيْفَ أَنْتَ يَا أَبَا سَعْدَةَ؟ قَالَ: كَبِيرٌ مَفْتُونٌ، أَصَابَتْنِي دَعْوَةُ سَعْدٍ
৩২ - আমাদের নিকট খালফ ইবন হিশাম বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু আওয়ানাহ থেকে, তিনি আবদুল মালিক ইবন উমায়ের থেকে এবং তিনি জাবির ইবন সামুরাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৩৫⦘ কুফাবাসী সা'দ (রা.)-এর বিরুদ্ধে উমর (রা.)-এর নিকট অভিযোগ পেশ করল, এমনকি তারা বলল যে, তিনি সঠিকভাবে সালাত আদায় করতে পারেন না। সা'দ (রা.) বললেন: "আমি তো তাদের নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সালাতের মতোই সালাত আদায় করতাম, তাতে কোনো কমতি করতাম না। আমি (সালাতের) প্রথম দুই রাকাআতে কিয়াম দীর্ঘ করতাম এবং শেষের দুই রাকাআত সংক্ষেপ করতাম।" উমর (রা.) বললেন: "হে আবু ইসহাক! আপনার প্রতি আমার এমনটাই ধারণা ছিল।" এরপর তিনি কুফার মজলিসগুলোতে তাঁর সম্পর্কে অনুসন্ধান করার জন্য কিছু লোক পাঠালেন। তারা যে মজলিসেই যেত, সেখানেই লোকেরা তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করত এবং ভালো কথা বলত। পরিশেষে তারা তাদের একটি মসজিদে পৌঁছাল। তখন আবু সাদাহ নামক এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল: "হে আল্লাহ! যেহেতু আপনারা আমাদের নিকট জানতে চেয়েছেন, (তাই বলছি) তিনি বিচারকার্যে ইনসাফ করতেন না, সুষম বণ্টন করতেন না এবং নিজে যুদ্ধাভিযানে বের হতেন না।" তখন সা'দ (রা.) বললেন: "হে আল্লাহ! যদি সে মিথ্যাবাদী হয়, তবে তার দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নিন, তার দারিদ্র্যকে দীর্ঘায়িত করুন এবং তাকে ফিতনার সম্মুখীন করুন।" আবদুল মালিক বলেন: এরপর আমি তাকে রাস্তায় দাসীদের উত্ত্যক্ত করতে দেখেছি। যখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হতো: "হে আবু সাদাহ! আপনার কী অবস্থা?" সে বলত: "আমি এক ফিতনাগ্রস্ত বৃদ্ধ, সা'দের বদদোয়া আমাকে পেয়ে বসেছে।"