(খণ্ড: ১) তাহযিবুত তাহযিব - ত রিসালাহ (পৃষ্ঠা: -)
تهذيب التهذيب - ط الرسالة   (ابن حجر العسقلاني)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: تهذيب التهذيب

المؤلف: أبو الفضل أحمد بن علي بن حجر شهاب الدين العسقلاني الشافعي (733 هـ - 852 هـ)

باعتناء: إبراهيم الزيبق، عادل مرشد

الناشر: مؤسسة الرسالة - بيروت

الطبعة: الأولى، 1435 هـ - 2014 م

عدد الأجزاء: 4

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 12 ربيع الآخر 1445

তাহযীবুত তাহযীব - আর-রিসালা সংস্করণ   (ইবনে হাজার আল-আসকালানী)

বিভাগ: জীবনী এবং স্তরসমূহ


গ্রন্থ: তাহযীবুত তাহযীব

লেখক: আবুল ফজল আহমদ বিন আলী বিন হাজার শিহাবুদ্দিন আল-আসকালানী আশ-শাফিঈ (৭৩৩ হিজরি - ৮৫২ হিজরি)

সম্পাদনায়: ইব্রাহিম আয-যাইবুক, আদিল মুরশিদ

প্রকাশক: মুআসসাসাতুর রিসালা - বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৫ হিজরি - ২০১৪ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৪

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ১২ রবিউস সানি ১৪৪৫

(খণ্ড: ١) তাহযিবুত তাহযিব - ত রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ٥)
‌‌مقدمة الناشر

 

لقد درجت المؤسسة منذ سنوات على القيام بمحاولات تهدف إلى خدمة القارئ الكريم متوخية بذلك:

1 - الاستفادة من التقنيات الطباعية الحديثة.

2 - التخفيف من الأعباء المالية على القارئ وذلك بتخفيف حجم الكتب وتقليل عدد صفحاتها دون المساس بمضمون الكتاب ومحتواه، وكذلك بمحاولة إخراجه إخراجًا فنيًّا متناسبًا مع قيمته العلمية.

3 - وهو الأهم: الاستفادة من آخر ما طبع من طبعات محققة ومخرجة بشكل متقن.

فقد أصدرت مؤسسة الرسالة القاموس المحيط للفيروزآبادي بمجلد واحد بعد أن كان بأربعة مجلدات، وطبعته طبعة تميزت بالإتقان، وضمّنت تلك الطبعة معظم الملاحظات التي أوردها السادة العلماء الأفاضل أمثال: العالم الهوريني، أو العالم أحمد فارس الشدياق، مع فهارس تبين جذر الكلمة مع رقم الصفحة، ليسهل على القارئ الرجوع إلى الكلمة المطلوبة بسهولة ويسر.

وأصدرت "معجم المؤلفين" للمرحوم عمر رضا كحالة وضمَّنَتْه المستدرك مع الفهارس التي اعتمدت الكنى، فكان بأربعة مجلدات بعد أن كان بستة عشر مجلدًا. وهكذا …

وها نحن اليوم نقدم "تهذيب التهذيب" بهذه الحلة، التي نرجو القبول لها، بعد أن أصدرنا "تهذيب الكمال" محققًا، الذي في الأصل مصدر تهذيب التهذيب أو قل الأساس. وكذلك بعد أن أصدرنا بعضًا من كتب الرجال: ككتاب "سير أعلام النبلاء".

فكان من الواجب أن نلتفت إلى "تهذيب التهذيب" و "تقريب التهذيب"، فنعمل على: ضبطهما، ومراجعتهما، وتحقيقهما، لنقدمهما للمحققين والعلماء وطلبة العلم كما أراد لهما المؤلف رحمه الله بعيدين عن التصحيف والتحريف أو خطأ النساخ، محققين الغاية المتوخاة من نشر هذه الكتب كما أسلفنا.

إنه لفخر لمؤسستنا أن تكون لديها الإمكانات الذاتية من: محققين، وعلماء، ومنضدين، ومشرفين، وعاملين، دأبوا على القيام بدورهم على خير ما يرام، مبتغين بذلك وجه الله، في خدمة
প্রকাশকের ভূমিকা

 

সম্মানিত পাঠকের খিদমত আঞ্জাম দেওয়ার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি বিগত কয়েক বছর যাবত নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে নিম্নোক্ত লক্ষ্যসমূহ অর্জন করা উদ্দেশ্য:

১ - আধুনিক মুদ্রণ প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণ করা।

২ - বইয়ের কলেবর হ্রাস এবং পৃষ্ঠা সংখ্যা কমিয়ে পাঠকের আর্থিক বোঝা লাঘব করা, তবে তা যেন বইয়ের মূল বক্তব্য ও বিষয়বস্তুকে বিন্দুমাত্র ক্ষুণ্ণ না করে। পাশাপাশি বইটির বৈজ্ঞানিক ও তাত্ত্বিক মূল্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে একটি শৈল্পিক অবয়বে তা উপস্থাপন করার চেষ্টা করা।

৩ - এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো: অত্যন্ত নিপুণভাবে সম্পাদিত ও বিন্যস্ত সর্বশেষ সংস্করণসমূহ থেকে উপকৃত হওয়া।

ইতিমধ্যেই মুআসসাসাতুর রিসালাহ্ ফিরোযাবাদীর 'আল-কামুসুল মুহিত' গ্রন্থটি চার খণ্ডের পরিবর্তে এক খণ্ডে প্রকাশ করেছে। এই সংস্করণটি অত্যন্ত নিপুণতার সাথে ছাপানো হয়েছে এবং এতে আল্লামা হুরিনী ও আল্লামা আহমদ ফারিস আশ-শিদইয়াকের মতো বরেণ্য আলিমগণের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য সন্নিবেশিত করা হয়েছে। সাথে সাথে এতে শব্দের মূল বর্ণ ও পৃষ্ঠা নম্বরসহ নির্ঘণ্ট যুক্ত করা হয়েছে, যাতে পাঠক খুব সহজে এবং স্বাচ্ছন্দ্যে কাঙ্ক্ষিত শব্দটি খুঁজে পেতে পারেন।

মরহুম উমর রিদা কাহহালার 'মু'জামুল মুআল্লিফীন' গ্রন্থটিও প্রতিষ্ঠানটি প্রকাশ করেছে এবং এতে 'মুস্তাদরাক' (পরিশিষ্ট) ও উপনাম ভিত্তিক নির্ঘণ্ট যুক্ত করা হয়েছে। ফলে ষোল খণ্ডের এই বিশাল গ্রন্থটি মাত্র চার খণ্ডে সম্পন্ন হয়েছে। এভাবেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে...

আজ আমরা 'তাজহীবুত তাজহীব' গ্রন্থটি এই নতুন আঙ্গিকে পেশ করছি, যা সকলের নিকট গ্রহণযোগ্যতা পাবে বলে আমরা আশাবাদী। এর আগে আমরা এই গ্রন্থের মূল উৎস বা ভিত্তি 'তাজহীবুল কামাল' তাহকীকসহ প্রকাশ করেছি। এছাড়াও আমরা রিজাল শাস্ত্রের আরও কিছু কিতাব প্রকাশ করেছি, যেমন: 'সিয়ারু আ'লামিন নুবালা'।

তাই আমাদের দায়িত্ব ছিল 'তাজহীবুত তাজহীব' এবং 'তাকরীবুত তাজহীব'-এর দিকে মনোনিবেশ করা। আমরা এগুলোর পাঠ-সংশোধন, পর্যালোচনা এবং তাহকীকের কাজ সম্পন্ন করেছি, যাতে গবেষক, আলিম এবং ইলম অন্বেষণকারীদের সামনে গ্রন্থ দুটিকে এমনভাবে পেশ করা যায়, যেমনটি লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) চেয়েছিলেন—যাতে এগুলো বর্ণবিকৃতি, শব্দবিকৃতি কিংবা অনুলিপিকারের ভুল থেকে মুক্ত থাকে। এর মাধ্যমে এই কিতাবগুলো প্রকাশের যে মহৎ লক্ষ্য আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি, তা পূর্ণতা পায়।

এটি আমাদের প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যন্ত গৌরবের বিষয় যে, আমাদের নিজস্ব যোগ্যতাসম্পন্ন গবেষক, আলিম, কম্পোজার, তত্ত্বাবধায়ক এবং কর্মীদল রয়েছে। তারা আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে ইসলামের খিদমতে নিজেদের দায়িত্ব অত্যন্ত সুচারুভাবে আঞ্জাম দিয়ে আসছেন।
(খণ্ড: ١) তাহযিবুত তাহযিব - ত রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ٦)
العلم وأهله، ولولاهم لما كان لهذه المؤسسة هذه الريادة، ولما كان هذا الإتقان في العمل الذي اشتهرت به.

فإليهم جميعًا شكري العميق، ودعواتي لهم بالتوفيق، فأنا عاجز عن الشكر لله على ما هيأ لهذه المؤسسة، وعاجز عن الشكر لهم لما يقدمونه بإخلاص لا يدفعهم إليه إلا ابتغاء رضوان الله عز وجل، ولعل عجزي عن تأدية حقوقهم عليّ هو الذي يدفعني إلى تسجيل هذا الشكر لهم في هذه الوريقات، … لتكون شهادة حق لهم يوم لا ينفع مال ولا بنون إلا مَنْ أتى الله بقلب سليم.

وللقراء منا جميعًا تحية عطرة - وخاصة أهل العلم منهم - لما نلقاه منهم من تشجيع مادي، مباشر أو عبر أي وسيلة، ودعوة صالحة منهم لنا في ظهر الغيب مستجابة ستظهر لهم من خلال ما سنقدم، وهذا ما يدعونا إلى الاعتزاز بهم وشكرهم.

فلله الحمد والمِنّة، وله نلجأ بأن يوفقنا إلى إكمال المسيرة على ما فيها من مشاق، وجهد، وتعب لا يعلمه إلا الله، والراسخون في العلم.

راجين المولى أن يحسن الخاتمة، وأن يلهمنا السداد والصواب في الرأي، والله ولي المحسنين.

 

رضوان دعبول

12 جمادى الآخرة 1416 هـ

5 تشرين الثاني 1995 م
জ্ঞান ও জ্ঞানীগণ; তাঁরা না থাকলে এই প্রতিষ্ঠানের এই শ্রেষ্ঠত্ব আসত না এবং কাজের সেই নিপুণতাও অর্জিত হতো না যার জন্য এটি সুপ্রসিদ্ধ।

তাঁদের সকলের প্রতি আমার গভীর কৃতজ্ঞতা এবং তাঁদের সফলতার জন্য আমার দুআ রইল। এই প্রতিষ্ঠানের জন্য আল্লাহ যা সহজ করে দিয়েছেন তার জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ে আমি অক্ষম, আর তাঁরা যে ইখলাসের সাথে অবদান রেখে যাচ্ছেন তার জন্যও তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশে আমি অপারগ; একমাত্র মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির আকাঙ্ক্ষাই তাঁদের এই কাজে উদ্বুদ্ধ করে। সম্ভবত তাঁদের প্রাপ্য অধিকার আদায়ে আমার এই অক্ষমতাই আমাকে এই পৃষ্ঠাগুলোতে তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা নথিভুক্ত করতে অনুপ্রাণিত করেছে, … যেন এটি তাঁদের জন্য সেই দিনে একটি সত্য সাক্ষ্য হয়ে থাকে, যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো কাজে আসবে না, কেবল সেই ব্যক্তি ব্যতীত যে আল্লাহর নিকট বিশুদ্ধ অন্তর নিয়ে উপস্থিত হবে।

আর আমাদের সকলের পক্ষ থেকে পাঠকদের প্রতি—বিশেষ করে তাঁদের মধ্য থেকে আলেমদের প্রতি—রইল সুগন্ধিময় অভিবাদন; আমরা তাঁদের কাছ থেকে প্রত্যক্ষভাবে বা অন্য কোনো উপায়ে যে বস্তুগত উৎসাহ পাচ্ছি এবং অগোচরে আমাদের জন্য তাঁদের যে কবুলযোগ্য নেক দুআ রয়েছে, তা আমাদের কাজের মাধ্যমেই তাঁদের সামনে প্রতিভাত হবে। এটিই আমাদের তাঁদের নিয়ে গর্ববোধ করতে এবং তাঁদের ধন্যবাদ জানাতে অনুপ্রাণিত করে।

সমস্ত প্রশংসা ও অনুগ্রহ আল্লাহরই। আমরা তাঁরই কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের এই পথচলা পূর্ণ করার তাওফিক দান করেন, যদিও এতে রয়েছে এমন কষ্ট, প্রচেষ্টা ও ক্লান্তি যা আল্লাহ এবং জ্ঞানে সুগভীর ব্যক্তিগণ ছাড়া আর কেউ জানে না।

আমরা মহান প্রভুর নিকট শেষ পরিণাম সুন্দর হওয়ার প্রার্থনা করি এবং তিনি যেন আমাদের সঠিক সিদ্ধান্ত ও নির্ভুল মতামতের তাওফিক দান করেন। আল্লাহ সৎকর্মশীলদের অভিভাবক।

 

রিদওয়ান দাবুল

১২ জুমাদাল আখিরাহ ১৪১৬ হিজরি

৫ নভেম্বর ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ١) তাহযিবুত তাহযিব - ত রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ٧)
‌‌مقدمة التحقيق

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيدنا محمد خاتم النبيين، وبعد:

فإن "تهذيب الكمال" للحافظ المزّي، و "تهذيبه" للحافظ ابن حجر كتابان استوعبا تراجم الكتب الستة وغيرها من تواليف أصحابها استيعابًا لم يتركا لمن يجيء بعدهما زيادة لمستزيد، حتى يصح لنا أن نقول: إن "التهذيبين" في الرجال بمنزلة "الصحيحين" في الحديث دقةً وإتقانًا.

وكما اضطلعت مؤسسة الرسالة بنشر "تهذيب الكمال" بتحقيق الدكتور بشار عواد معروف، وقدَّمت بذلك خدمة جليلة للسُّنَّة النبوية، كان لا بد لها من أن تكمل الطريق، وتشفعه بنشر "تهذيب التهذيب"، فتكون بذلك قد أنجزت هذا المشروع الضخم، واضعةً بين أيدي الباحثين نصوصًا يطمئنون إلى صحتها في دراستهم للأسانيد، وهم يقارنون بين الروايات، وتكون بذلك قد مهدت الطريق لدراسة الحديث النبوي، وإحياء ما اندرس من علومه، ولا سيما وهو المصدر الثاني للتشريع.

وإذا كان مجال العمل رحبًا في "تهذيب الكمال" من حيث ذكر مصادر الترجمة والتعليق على مادتها، فقد جعلناه ضيقًا في "تهذيب التهذيب" حيث كانت الغايةُ هي إخراج نصٍّ صحيح دون إثقاله بالحواشي والتعاليق إلا ما لا مندوحة عنه، وتركنا عن عمدٍ الإشارة إلى أخطاء الطبعة المتداولة - وهي التي قامت بها دائرة المعارف النظامية في حيدر آباد الدكن (1325 هـ)، وعنها صورت أو نضدت باقي الطبعات - وما أكثرها.

واعتمدنا في تصحيح النص على أصل هذا الكتاب، وهو "تهذيب الكمال"، وما استدركناه منه وضعناه بين حاصرتين دون إشارة إلى ذلك في الحواشي، وأما زيادات الحافظ المستهلة بـ "قلت"، فقد عارضناها بأصولها ما أمكننا ذلك، واضعين بين حاصرتين ما استدركناه منها. وضبطنا الأعلام الواردة ضبطًا تامًّا، لأنه عليها مدار الكتاب، ولم نعرف منها إلا ما مست الحاجة إلى تعريفه. وفككنا رموز تحمّل الحديث إلى ألفاظه، وصححنا بعض رقوم أصحاب الكتب الستة بما يتفق مع ما ذكره المِزِّي في ذيل الترجمة، وما أثبته الحافظ نفسه في التقريب فيما بعد.
সম্পাদকের ভূমিকা

সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা এবং সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর। অতঃপর:

হাফেজ মিয্যি-এর "তাহযীবুল কামাল" এবং হাফেজ ইবনে হাজার-এর "তাহযীবুত তাহযীব" (এর সংক্ষিপ্তসার) এমন দুটি গ্রন্থ যা কুতুবে সিত্তা (ছয়টি প্রধান হাদিস গ্রন্থ) এবং তাদের লেখকদের অন্যান্য রচনার জীবনীসমূহকে এমনভাবে অন্তর্ভুক্ত করেছে যে, পরবর্তীতে আগতদের জন্য নতুন কিছু যোগ করার খুব একটা সুযোগ বাকি রাখেনি। এমনকি আমাদের জন্য এটি বলা সঠিক হবে যে, বর্ণনাকারীদের জীবনী (রিজাল শাস্ত্র) বিষয়ক এই "তাহযীব" গ্রন্থদ্বয় সূক্ষ্মতা ও নিখুঁততার দিক থেকে হাদিস শাস্ত্রের "সহীহাইন" (সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম)-এর সমপর্যায়ের।

যেভাবে মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ ডক্টর বাশার আওয়াদ মারুফ-এর সম্পাদনায় "তাহযীবুল কামাল" প্রকাশের দায়িত্ব পালন করেছে এবং এর মাধ্যমে সুন্নাহর এক মহান খিদমত আঞ্জাম দিয়েছে, তেমনিভাবে তাদের জন্য এই পথটি পূর্ণ করা এবং এর পরিপূরক হিসেবে "তাহযীবুত তাহযীব" প্রকাশ করাও ছিল অপরিহার্য। এর মাধ্যমে তারা এই বিশাল প্রকল্পটি সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছে, যা গবেষকদের হাতে এমন কিছু নির্ভরযোগ্য মূলপাঠ তুলে দিয়েছে যার বিশুদ্ধতার ব্যাপারে তারা সনদ (বর্ণনাসূত্র) অধ্যয়ন এবং বিভিন্ন বর্ণনার মধ্যে তুলনার ক্ষেত্রে নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন। এর ফলে তারা নববী হাদিস চর্চার পথ সুগম করেছে এবং এর বিলুপ্তপ্রায় জ্ঞানসমূহকে পুনরুজ্জীবিত করেছে, বিশেষ করে যেহেতু এটি শরীয়তের দ্বিতীয় উৎস।

যদিও "তাহযীবুল কামাল"-এর ক্ষেত্রে জীবনীর উৎসসমূহ উল্লেখ করা এবং এর বিষয়বস্তুর ওপর টীকা প্রদানের পরিধি বিস্তৃত ছিল, তবে "তাহযীবুত তাহযীব"-এর ক্ষেত্রে আমরা এই পরিধিকে সীমিত রেখেছি। কারণ আমাদের উদ্দেশ্য ছিল কোনো অপরিহার্য প্রয়োজন ছাড়াই অতিরিক্ত পাদটীকা ও ভাষ্যের বোঝা না চাপিয়ে একটি বিশুদ্ধ পাঠ বের করা। আমরা প্রচলিত সংস্করণের ভুলগুলোর দিকে ইঙ্গিত করা ইচ্ছাকৃতভাবে পরিহার করেছি—যা হায়দ্রাবাদ ডেকানের দাইরাতুল মাআরিফ আন-নিজামিয়া (১৩২৫ হিজরি) থেকে প্রকাশিত হয়েছিল এবং যার ওপর ভিত্তি করেই অন্যান্য সংস্করণগুলো মুদ্রিত বা টাইপ করা হয়েছে—আর সেই ভুলগুলো ছিল অসংখ্য।

আমরা মূলপাঠ সংশোধনের ক্ষেত্রে এই গ্রন্থের মূল উৎস "তাহযীবুল কামাল"-এর ওপর নির্ভর করেছি। সেখান থেকে আমরা যা সংযোজন করেছি তা কোনো পাদটীকা ছাড়াই বন্ধনীভুক্ত করেছি। আর হাফেজ (ইবনে হাজার)-এর যে অতিরিক্ত কথাগুলো "আমি বলেছি" শব্দ দিয়ে শুরু হয়েছে, আমরা সেগুলোকে যথাসম্ভব মূল উৎসের সাথে মিলিয়ে দেখেছি এবং সেখান থেকে যা সংযোজন করেছি তা বন্ধনীভুক্ত করেছি। আমরা উল্লিখিত ব্যক্তিনামগুলোর স্বরচিহ্ন (হরকত) পূর্ণাঙ্গভাবে প্রদান করেছি, কারণ এই গ্রন্থের মূল ভিত্তিই হলো তারা। তবে খুব বেশি প্রয়োজন না হলে আমরা তাদের পরিচয় বিস্তারিত উল্লেখ করিনি। আমরা হাদিস গ্রহণের সংক্ষিপ্ত সংকেতগুলোকে পূর্ণ শব্দে রূপান্তর করেছি এবং কুতুবে সিত্তার লেখকদের নির্দেশক কিছু সংখ্যাক্রম সংশোধন করেছি যাতে তা জীবনীর শেষে মিয্যি কর্তৃক উল্লিখিত এবং পরবর্তীতে হাফেজ ইবনে হাজার কর্তৃক "তাকরীবুত তাহযীব" গ্রন্থে যা স্থির করা হয়েছে তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
(খণ্ড: ١) তাহযিবুত তাহযিব - ত রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ٨)
وكان كل هذا تحت إشراف الشيخ شعيب الأرنؤوط في مكتب التحقيق وكان لملاحظاته وتوجيهاته لنا أثناء العمل خير معين فله الشكر والدعاء.

وكذلك للأستاذ رضوان دعبول صاحب المؤسسة الدعاء بالأجر والثواب، راجين أن يكون عملنا خالصًا لوجه الله الكريم، مبتغين مرضاته وبعد.

اللهم يسر وأعن … آمين

 

إبراهيم الزيبق

عادل مرشد

مكتب تحقيق التُّراث في مؤسسة الرسالة
এবং এই সবকিছুই তাহকিক কার্যালয়ে শায়খ শুআইব আল-আরনাউতের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছে। কাজ চলাকালীন তাঁর পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনা আমাদের জন্য সর্বোত্তম সহায়ক ছিল; তাঁর জন্য কৃতজ্ঞতা ও দুআ রইল।

একইভাবে প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী উস্তাদ রিদওয়ান দাবুলের জন্য প্রতিদান ও সওয়াবের দুআ করছি। আমরা আশা করি আমাদের এই কাজ যেন একমাত্র মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একনিষ্ঠ হয় এবং আমরা তাঁর সন্তুষ্টিই কামনা করছি। অতঃপর:

হে আল্লাহ, সহজ করে দিন এবং সাহায্য করুন … আমীন

 

ইবরাহীম আল-যাইবাক

আদিল মুরশিদ

মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ-এর তুরাস (ঐতিহ্য) গবেষণা কার্যালয়
(খণ্ড: ١) তাহযিবুত তাহযিব - ত রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ٩)
‌‌

 

‌‌مقدمة المصنف

الحمد لله الذي تفرد بالبقاء والكمال، وقسم بين عباده الأرزاق والآجال، وجعلهم شعوبا وقبائل ليتعارفوا، وملوكا وسوقة ليتناصفوا، وبعث الرسل مبشرين ومنذرين لئلا يكون للناس على الله حجة، وختمهم بخيرته من خليقته السالك بتأييده الطريق المستقيم على المحجة. وأشهد أن لا إله إلا الله على الإطلاق، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله المبعوث إلى أهل الآفاق، المنعوت بتهذيب الأخلاق ومكارم الأعراق، صلى الله عليه وسلم وعلى آله وصحبه صلاة وسلاما متعاقبين إلى يوم التلاق.

أما بعد فإن (كتاب الكمال في أسماء الرجال) الذي ألفه الحافظ الكبير أبو محمد عبد الغني بن عبد الواحد بن سرور المقدسي، وهذبه الحافظ الشهير أبو الحجاج يوسف بن الزكي المزي، من أجل المصنفات في معرفة حملة الآثار وضعا، وأعظم المؤلفات في بصائر ذوي الألباب وقعا، ولا سيما التهذيب فهو الذي وفق بين اسم الكتاب ومسماه، وألف بين لفظه ومعناه، بيد أنه أطال وأطاب، ووجد مكان القول ذا سعة فقال وأصاب، ولكن قصرت الهمم عن تحصيله لطوله فاقتصر بعض الناس على الكشف من الكاشف الذي اختصره منه الحافظ أبو عبد الله الذهبي.

ولما نظرت في هذه الكتب وجدت تراجم (الكاشف) إنما هي كالعنوان تتشوق النفوس إلى الاطلاع على ما وراءه، ثم رأيت للذهبي كتابا سماه (تذهيب التهذيب) أطال فيه العبارة، ولم يعد ما في التهذيب غالبا، وإن زاد ففي بعض الأحايين وفيات بالظن والتخمين، أو مناقب لبعض المترجمين، مع إهمال كثير من التوثيق والتجريح، اللذين عليهما مدار التضعيف والتصحيح.

هذا وفي التهذيب عدد من الأسماء لم يعرف الشيخ بشيء من أحوالهم، بل لا يزيد على قوله روى عن فلان، روى عنه فلان، أخرج له فلان، وهذا لا يروي الغلة ولا يشفي العلة. فاستخرت الله تعالى في اختصار التهذيب على طريقة أرجو الله أن تكون مستقيمة وهو أنني أقتصر على ما يفيد الجرح والتعديل خاصة، وأحذف منه ما أطال به الكتاب من الأحاديث التي يخرجها من مروياته العالية من الموافقات والأبدال، وغير ذلك من أنواع العلو، فإن ذلك بالمعاجم والمشيخات أشبه منه بموضوع الكتاب، وإن كان لا يلحق المؤلف من ذلك عاب، حاشَ وكلا، بل هو - والله - العديم النظير، المطلع النحرير، لكن العمر يسير، والزمان قصير، فحذفت هذا جملة وهو نحو ثلث الكتاب.

ثم إن الشيخ رحمه الله قصد استيعاب شيوخ صاحب الترجمة، واستيعاب الرواة عنه، ورتب ذلك على حروف المعجم في كل ترجمة، وحصل من ذلك على الأكثر، لكنه شيء لا سبيل إلى استيعابه ولا حصره، وسببه انتشار الروايات وكثرتها وتشعبها وسعتها، فوجد المتعنت بذلك سبيلا إلى الاستدراك على الشيخ بما لا فائدة فيه جليلة ولا طائلة، فإن أجل فائدة في ذلك هو في شيء واحد، وهو إذا اشتهر أن الرجل لم يرو عنه إلا واحد، فإذا ظفر المفيد له براو آخر أفاد رفع جهالة عين ذلك الرجل برواية راويين عنه، فتتبع مثل ذلك والتنقيب عليه مهم.

وأما إذا جئنا إلى مثل سفيان الثوري وأبي داود الطيالسي ومحمد بن إسماعيل وأبي زرعة الرازي ويعقوب بن سفيان، وغير هؤلاء ممن زاد عدد شيوخهم على الألف فأردنا استيعاب ذلك تعذر علينا غاية التعذر، فإن اقتصرنا على الأكثر والأشهر بطل ادعاء الاستيعاب، ولا سيما إذا نظرنا إلى ما روي لنا عمن لا يدفع قوله، أن يحيى بن سعيد الأنصاري راوي حديث الأعمال، حدث به عنه سبع مائة نفس، وهذه الحكاية ممكنة عقلا ونقلا، لكن لو أردنا أن نتبع من روى عن يحيى بن سعيد

 

গ্রন্থকারের ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি স্থায়িত্ব ও পূর্ণতায় অদ্বিতীয়, এবং তাঁর বান্দাদের মধ্যে রিযিক ও আয়ু বণ্টন করেছেন। তিনি তাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছেন যাতে তারা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পারে, এবং তাদেরকে রাজা ও সাধারণ প্রজায় পরিণত করেছেন যাতে তারা পরস্পরের প্রতি ইনসাফ করে। তিনি সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন যাতে আল্লাহর বিরুদ্ধে মানুষের কোনো অজুহাত না থাকে। তিনি তাঁদেরকে তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে মনোনীত শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে সমাপ্ত করেছেন, যিনি আল্লাহর সমর্থনে উজ্জ্বল ও সঠিক পথে পরিচালিত। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিঃশর্তভাবে আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল, যাকে পৃথিবীর প্রান্তসমূহের অধিবাসীদের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে, যিনি উত্তম চরিত্র ও মহৎ বংশীয় বৈশিষ্ট্যে ভূষিত। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীবর্গের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক, যা কিয়ামত দিবস পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে থাকবে।

হামদ ও সালাতের পর, হাফেজ আবু মুহাম্মাদ আব্দুল গনী ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে সুরূর আল-মাকদিসী রচিত (কিতাবুল কামাল ফি আসমাইর রিজাল) এবং যা হাফেজ আবু হাজ্জাজ ইউসুফ ইবনুল যাকি আল-মিযযী পরিমার্জন করেছেন, তা হাদিস বর্ণনাকারীদের পরিচয় জানার ক্ষেত্রে অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংকলন এবং বুদ্ধিমানদের নিকট অত্যন্ত প্রভাবশালী একটি গ্রন্থ। বিশেষ করে 'তাহযীব' গ্রন্থটি কিতাবের নাম ও নামকরণের উদ্দেশ্যের মধ্যে চমৎকার সমন্বয় সাধন করেছে এবং এর শব্দ ও অর্থের মধ্যে মিল ঘটিয়েছে। তবে লেখক এতে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন এবং বিষয়টি বিস্তারিত বর্ণনার সুযোগ থাকায় তিনি তা সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। কিন্তু কলেবর বড় হওয়ার কারণে মানুষের হিম্মত তা অর্জনে সংকুচিত হয়ে এসেছে, ফলে কেউ কেউ হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ আল-যাহাবী কর্তৃক সংক্ষেপিত 'আল-কাশিফ' গ্রন্থের ওপরই নির্ভর করেছেন।

আমি যখন এই গ্রন্থগুলো পর্যালোচনা করলাম, তখন দেখলাম যে (আল-কাশিফ)-এর জীবনীগুলো কেবল শিরোনামের মতো, যা পড়ার পর বিস্তারিত জানার জন্য মন ব্যাকুল হয়ে ওঠে। অতঃপর আমি আল-যাহাবীর (তাজহীবুত তাহযীব) নামক একটি গ্রন্থ দেখলাম যেখানে তিনি বর্ণনা দীর্ঘ করেছেন, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে 'তাহযীব'-এ যা আছে তার বাইরে নতুন কিছু আনেননি। যদি তিনি কিছু বৃদ্ধি করেও থাকেন, তবে তা মাঝে মাঝে মৃত্যুর তারিখ সম্পর্কে অনুমান ও ধারণা মাত্র, অথবা কিছু বর্ণনাকারীর গুণগান; অথচ এতে তিনি অনেক 'তাওষীক' (নির্ভরযোগ্যতা) এবং 'জারহ' (ত্রুটি) সংক্রান্ত বর্ণনা বাদ দিয়েছেন, যার ওপর ভিত্তি করেই কোনো বর্ণনাকারীকে দুর্বল বা সহীহ হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়।

তাছাড়া 'তাহযীব' গ্রন্থে এমন অনেক নাম রয়েছে যাদের অবস্থা সম্পর্কে লেখক কিছুই উল্লেখ করেননি, বরং তিনি কেবল এইটুকুই বলেছেন যে, অমুক ব্যক্তি অমুকের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর থেকে অমুক বর্ণনা করেছেন এবং অমুক ইমাম তাঁর হাদিস বর্ণনা করেছেন। এটি পিপাসা নিবারণ করে না এবং কোনো সমস্যার সমাধানও দেয় না। তাই আমি 'তাহযীব' গ্রন্থটিকে এমন একটি পদ্ধতিতে সংক্ষেপ করার বিষয়ে আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করলাম যা আমি আশা করি সঠিক হবে। তা হলো—আমি কেবল সেই তথ্যগুলোই উল্লেখ করব যা বিশেষভাবে 'জারহ' ও 'তাদীল' (সমালোচনা ও গুণগান)-এর ক্ষেত্রে উপকারে আসে। আর সেই হাদিসগুলো বাদ দেব যা লেখক তাঁর উচ্চতর সনদ (মুওয়াফাকাত ও আবদাল এবং অন্যান্য উচ্চতর সনদের প্রকারভেদ) প্রদর্শনের জন্য দীর্ঘাকারে উল্লেখ করেছেন। কারণ এই বিষয়গুলো মু'জাম ও মাশয়াখাত (সনদ সংকলন) গ্রন্থের জন্য অধিক উপযোগী, যদিও এর জন্য লেখককে দোষারোপ করা যায় না; কখনো না! বরং আল্লাহর কসম—তিনি ছিলেন অতুলনীয়, প্রজ্ঞাবান ও বিশেষজ্ঞ। কিন্তু হায়, জীবন অতি সংক্ষিপ্ত এবং সময় অতি অল্প। তাই আমি এই অংশগুলো সম্পূর্ণভাবে বাদ দিয়েছি যা মূল গ্রন্থের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

অতঃপর শায়খ রহমাতুল্লাহি আলাইহি জীবনীকারের উস্তাদ ও তাঁর থেকে যারা বর্ণনা করেছেন তাদের সকলের নাম পূর্ণাঙ্গভাবে উল্লেখ করার সংকল্প করেছিলেন এবং প্রতিটি জীবনীর ক্ষেত্রে বর্ণানুক্রমিকভাবে তা বিন্যস্ত করেছিলেন। এতে তিনি অনেকাংশে সফলও হয়েছেন, কিন্তু এটি এমন বিষয় যা সম্পূর্ণভাবে আয়ত্ত করা বা সীমাবদ্ধ করা সম্ভব নয়। এর কারণ হলো বর্ণনার ব্যাপক বিস্তার, সংখ্যাধিক্য এবং এর বিশালতা। ফলে কোনো কোনো কঠোর সমালোচক শায়খের ওপর এমন কিছু বিষয়ে আপত্তি তোলার সুযোগ পেয়েছেন যার কোনো বিশেষ ফায়দা বা গুরুত্ব নেই। কেননা এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ফায়দা কেবল একটিই, আর তা হলো—যখন প্রসিদ্ধি থাকে যে জনৈক ব্যক্তি থেকে কেবল একজনই বর্ণনা করেছেন, তখন অন্য কোনো বর্ণনাকারীর সন্ধান পাওয়া গেলে সেই ব্যক্তির অজ্ঞাত পরিচয় (জাহালাতুল আইন) দূর হয়ে যায়। সুতরাং এই জাতীয় বিষয়ের অনুসন্ধান ও গবেষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু যখন আমরা সুফিয়ান সাওরী, আবু দাউদ তায়ালিসী, মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল, আবু যুরআ আর-রাযী এবং ইয়াকুব ইবনে সুফিয়ান বা তাঁদের মতো অন্যান্যদের প্রসঙ্গে আসি, যাঁদের উস্তাদদের সংখ্যা হাজারের বেশি, তখন তাঁদের সকলের বিবরণ দেওয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। যদি আমরা কেবল প্রধান ও প্রসিদ্ধ উস্তাদদের বর্ণনায় সীমাবদ্ধ থাকি, তবে 'পূর্ণাঙ্গ বিবরণের' দাবি বাতিল হয়ে যায়। বিশেষ করে যদি আমরা সেই সব বর্ণনার দিকে তাকাই যা এমন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিবর্গের সূত্রে বর্ণিত যাদের কথা প্রত্যাখ্যান করা যায় না—যেমন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারী যিনি 'নিয়ত সংক্রান্ত হাদিস' বর্ণনা করেছেন, তাঁর থেকে সাতশ ব্যক্তি এই হাদিস বর্ণনা করেছেন। এই ঘটনাটি যুক্তি ও বর্ণনা উভয় দিক থেকেই সম্ভব। কিন্তু আমরা যদি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে বর্ণনাকারীদের অনুসরণ করতে চাই...
(খণ্ড: ١) তাহযিবুত তাহযিব - ত রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ١٠)
فضلا عمن روى هذا الحديث الخاص عنه لما وجدنا هذا القدر ولا ما يقاربه، فاقتصرت من شيوخ الرجل ومن الرواة عنه إذا كان مكثرا على الأشهر والأحفظ والمعروف، فإن كانت الترجمة قصيرة لم أحذف منها شيئا في الغالب، وإن كانت متوسطة اقتصرت على ذكر الشيوخ والرواة الذين عليهم رقم في الغالب، وإن كانت طويلة اقتصرت على من عليه رقم الشيخين مع ذكر جماعة غيرهم، ولا أعدل عن ذلك إلا لمصلحة، مثل أن يكون الرجل قد عرف من حاله أنه لا يروي إلا عن ثقة، فإنني أذكر جميع شيوخه أو أكثرهم كشعبة ومالك وغيرهما.

ولم ألتزم سياق الشيخ للرواة في الترجمة الواحدة على حروف المعجم، لأنه لزم من ذلك تقديم الصغير على الكبير، فأحرص على أن أذكر في أول الترجمة أكبر شيوخ الرجل وأسندهم وأحفظهم إن تيسر معرفة ذلك، إلا أن يكون للرجل ابن أو قريب فإنني أقدمه في الذكر غالبا، وأحرص على أن أختم الرواة عنه بمن وصف بأنه آخر من روى عن صاحب الترجمة، وربما صرحت بذلك، وأحذف كثيرا من أثناء الترجمة إذا كان الكلام المحذوف لا يدل على توثيق ولا تجريح، ومهما ظفرت به بعد ذلك من تجريح وتوثيق ألحقته.

وفائدة إيراد كل ما قيل في الرجل من جرح وتوثيق يظهر عند المعارضة، وربما أوردت بعض كلام الأصل بالمعنى مع استيفاء المقاصد، وربما زدت ألفاظا يسيرة في أثناء كلامه لمصلحة في ذلك، وأحذف كثيرا من الخلاف في وفاة الرجل إلا لمصلحة تقتضي عدم الاختصار، ولا أحذف من رجال التهذيب أحدا، بل ربما زدت فيهم من هو على شرطه، فما كان من ترجمة زائدة مستقلة، فإنني أكتب اسم صاحبها واسم أبيه بأحمر، وما زدته في أثناء التراجم قلت في أوله (قلت)، فجميع ما بعد قلت فهو من زياداتي إلى آخر الترجمة.

 

‌‌فصل

وقد ذكر المؤلف الرقوم، فقال للستة (ع) وللأربعة (4) وللبخاري (خ) ولمسلم (م) ولأبي داود (د) وللترمذي (ت) وللنسائي (س) ولابن ماجه (ق) وللبخاري في التعاليق (خت) وفي الأدب المفرد (بخ) وفي جزء رفع اليدين (ي) وفي خلق أفعال العباد (عخ) وفي جزء القراءة خلف الإمام (ر) ولمسلم في مقدمة كتابه (مق) ولأبي داود في المراسيل (مد) وفي القدر (قد) وفي الناسخ والمنسوخ (خد) وفي كتاب التفرد (ف) وفي فضائل الأنصار (صد) وفي المسائل (ل) وفي مسند مالك (كد) وللترمذي في الشمائل (تم) وللنسائي في اليوم والليلة (سي) وفي مسند مالك (كن) وفي خصائص علي (ص) وفي مسند علي (عس) ولابن ماجه في التفسير (فق).

هذا الذي ذكره المؤلف من تآليفهم، وذكر أنه ترك تصانيفهم في التواريخ عمدا، لأن الأحاديث التي تورد فيها غير مقصودة بالاحتجاج، وبقي عليه من تصانيفهم التي على الأبواب عدة كتب منها (بر الوالدين) للبخاري و (كتاب الانتفاع بأهب السباع) لمسلم و (كتاب الزهد) و (دلائل النبوة) و (الدعاء) و (ابتداء الوحي) و (أخبار الخوارج) من تصانيف أبي داود، وكأنه لم يقف عليها، والله الموفق.

وأفرد عمل اليوم والليلة للنسائي عن السنن، وهو من جملة كتاب السنن في رواية ابن الأحمر وابن سيار، وكذلك أفرد خصائص علي وهو من جملة المناقب في رواية ابن سيار، ولم يفرد التفسير، وهو من رواية حمزة وحده، ولا كتاب الملائكة والاستعاذة والطب وغير ذلك، وقد تفرد بذلك راو دون راو عن النسائي، فما تبين لي وجه إفراده الخصائص وعمل اليوم والليلة، والله الموفق.

ثم ذكر المؤلف الفائدة في خلطه الصحابة بمن بعدهم خلافا لصاحب الكمال، وذلك أن للصحابي رواية عن النبي صلى الله عليه وسلم وعن غيره، فإذا رأى من لا خبرة له رواية الصحابي عن الصحابي ظن الأول تابعيا، فيكشفه في التابعين فلا يجده، فكان سياقهم كلهم مساقا واحدا على الحروف أولى.

قال: وما في كتابنا هذا مما لم نذكر له إسنادا، فما كان بصيغة الجزم فهو مما لا نعلم بإسناده إلى قائله المحكي عنه بأسا، وما كان بصيغة التمريض فربما كان في إسناده نظر.

ثم قال: وابتدأت في حرف الهمزة بمن اسمه أحمد، وفي حرف الميم بمن اسمه محمد، فإن كان في أصحاب الكنى من اسمه معروف من غير خلاف فيه ذكرناه في الأسماء ثم نبهنا عليه في الكنى، وإن كان فيهم من لا يعرف اسمه أو اختلف فيه ذكرناه في الكنى ونبهنا على ما في اسمه من الاختلاف، ثم النساء كذلك، وربما كان بعض
তাছাড়া যারা তাঁর থেকে এই বিশেষ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, আমরা যদি এই পরিমাণ বা এর কাছাকাছি কিছু পেতাম, তবে আমি সেই ব্যক্তির উস্তাদদের এবং তার থেকে বর্ণনাকারীদের মধ্য থেকে—যদি তিনি অধিক বর্ণনা করে থাকেন—সবচেয়ে প্রসিদ্ধ, প্রখর মুখস্থ শক্তির অধিকারী এবং সুপরিচিত ব্যক্তিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি। যদি জীবনীটি ছোট হয়, তবে সাধারণত আমি সেখান থেকে কিছুই বাদ দিইনি। আর যদি তা মাঝারি আকারের হয়, তবে সাধারণত আমি কেবল সেই উস্তাদ ও বর্ণনাকারীদের উল্লেখ করেছি যাদের নামের উপর প্রতীকচিহ্ন রয়েছে। আর যদি তা দীর্ঘ হয়, তবে আমি কেবল তাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি যাদের নামের উপর শাইখাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এর প্রতীকচিহ্ন রয়েছে এবং সাথে অন্যদের একটি দলকেও উল্লেখ করেছি। আমি কেবল কোনো বিশেষ কল্যাণ থাকলেই এর ব্যতিক্রম করি; যেমন কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে এমনটি জানা যায় যে, তিনি কেবল নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারও থেকে বর্ণনা করেন না, সেক্ষেত্রে আমি তাঁর সমস্ত উস্তাদ বা তাঁদের অধিকাংশকেই উল্লেখ করি, যেমন শু'বা, মালিক এবং অন্যদের ক্ষেত্রে।

আমি কোনো একটি জীবনীর বর্ণনাকারীদের ক্ষেত্রে উস্তাদদের নাম বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজানোর বাধ্যবাধকতা মেনে চলিনি। কারণ এতে করে বড় উস্তাদের আগে ছোট উস্তাদের নাম চলে আসা আবশ্যক হয়ে পড়ে। তাই আমি জীবনীর শুরুতে সেই ব্যক্তির সবচেয়ে বড়, উচু পর্যায়ের সনদধারী এবং প্রখর মুখস্থ শক্তির অধিকারী উস্তাদদের উল্লেখ করতে সচেষ্ট হয়েছি, যদি তা জানা সহজ হয়। তবে সেই ব্যক্তির কোনো ছেলে বা নিকটাত্মীয় থাকলে আমি সাধারণত তাকেই প্রথমে উল্লেখ করেছি। আর তাঁর থেকে যারা বর্ণনা করেছেন তাঁদের তালিকা সেই ব্যক্তির মাধ্যমে শেষ করতে সচেষ্ট হয়েছি যাকে উক্ত ব্যক্তির সর্বশেষ বর্ণনাকারী হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে, এবং কখনো কখনো আমি তা স্পষ্টভাবে উল্লেখও করেছি। আর জীবনীর মাঝখান থেকে অনেক কথা বাদ দিয়েছি যদি সেই বাদ দেওয়া কথাগুলো তাঁর নির্ভরযোগ্যতা বা ত্রুটি বর্ণনায় কোনো ভূমিকা না রাখে। তবে পরবর্তীতে তাঁর সম্পর্কে কোনো জারহ (সমালোচনা) বা তা'দীল (নির্ভরযোগ্যতা) যা-ই পেয়েছি, তা যুক্ত করে দিয়েছি।

কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে জারহ ও তা'দীলের যা কিছু বলা হয়েছে তা উল্লেখ করার উপকারিতা বিরোধপূর্ণ মতামতের ক্ষেত্রে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আমি অনেক সময় মূল গ্রন্থের কিছু কথা উদ্দেশ্য ঠিক রেখে অর্থের মাধ্যমে (মর্মার্থ) উল্লেখ করেছি। আবার কখনো কল্যাণের প্রয়োজনে তাঁর কথার মাঝখানে সামান্য কিছু শব্দ বৃদ্ধি করেছি। আর ব্যক্তির মৃত্যুর তারিখ নিয়ে মতভেদের ক্ষেত্রে অনেক কিছু বাদ দিয়েছি, তবে কোনো প্রয়োজনে সংক্ষেপ না করা জরুরি হলে ভিন্ন কথা। আমি 'তাহযীব' এর অন্তর্ভুক্ত কোনো বর্ণনাকারীকে বাদ দিইনি, বরং কখনো কখনো তাঁর শর্তানুযায়ী হয় এমন বর্ণনাকারীকে সেখানে যুক্ত করেছি। যা কিছু স্বতন্ত্র অতিরিক্ত জীবনী হিসেবে যুক্ত হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে আমি বর্ণনাকারীর নাম ও তাঁর পিতার নাম লাল রঙে লিখেছি। আর জীবনীর মাঝখানে আমি যা বৃদ্ধি করেছি তার শুরুতে (আমি বলছি) বলেছি। সুতরাং (আমি বলছি) শব্দটির পর থেকে জীবনীর শেষ পর্যন্ত যা কিছু আছে তা আমার নিজস্ব সংযোজন।

 

‌‌পরিচ্ছেদ

লেখক প্রতীকচিহ্নগুলো উল্লেখ করেছেন। তিনি ছয়টি গ্রন্থের জন্য (আ), চারটির জন্য (৪), বুখারীর জন্য (খা), মুসলিমের জন্য (মী), আবু দাউদের জন্য (দা), তিরমিযীর জন্য (তা), নাসাঈর জন্য (সী), ইবনে মাজাহর জন্য (কা), বুখারীর তা'লীকসমূহের জন্য (খাত), আদাবুল মুফরাদের জন্য (বাখ), রাফউল ইয়াদাইন অধ্যায়ের জন্য (ইয়া), খালকু আফ'আলিল ইবাদ গ্রন্থের জন্য (আখ), ইমামের পেছনে কিরাআত পাঠ অধ্যায়ের জন্য (রা), মুসলিমের মুকাদ্দিমার জন্য (মাক), আবু দাউদের মারাসীল গ্রন্থের জন্য (মাদ), কাদর বিষয়ক গ্রন্থের জন্য (কাদ), নাসিখ ও মানসুখ গ্রন্থের জন্য (খাদ), তাফাররুদ গ্রন্থের জন্য (ফা), ফাদায়িলুল আনসার গ্রন্থের জন্য (সাদ), মাসায়িল গ্রন্থের জন্য (লাম), মুসনাদে মালিকের জন্য (কাদ), তিরমিযীর শামায়িল গ্রন্থের জন্য (তাম), নাসাঈর আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ-এর জন্য (সী), মুসনাদে মালিকের জন্য (কান), খাসাইসু আলী-এর জন্য (সোয়াদ), মুসনাদে আলীর জন্য (আস) এবং ইবনে মাজাহর তাফসীরের জন্য (ফাক) চিহ্ন নির্ধারণ করেছেন।

এগুলো হলো সেসব গ্রন্থ যা লেখক তাদের রচনাবলি থেকে উল্লেখ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তাদের ইতিহাসের গ্রন্থগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দিয়েছেন, কারণ সেখানে বর্ণিত হাদীসগুলো দলিল হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে আনা হয় না। তবে তাদের বিষয়ভিত্তিক রচনাবলির মধ্যে বেশ কিছু গ্রন্থ তাঁর বর্ণনায় বাকি রয়ে গেছে; যেমন বুখারীর 'বিররুল ওয়ালিদাইন', মুসলিমের 'কিতাবুল ইনতিফা বি উহাবিস সিবাহ', এবং আবু দাউদের গ্রন্থাবলির মধ্যে 'কিতাবুজ জুহদ', 'দালাইলুন নুবুওয়াহ', 'আদ-দুআ', 'ইবতিদাউল ওয়াহি' এবং 'আখবারুল খাওয়ারিজ'। মনে হচ্ছে তিনি এগুলোর নাগাল পাননি। আর আল্লাহই তাওফীক দানকারী।

তিনি নাসাঈর 'আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ' গ্রন্থটিকে 'সুনান' থেকে পৃথক করে উল্লেখ করেছেন, অথচ ইবনুল আহমার এবং ইবনুস সাইয়্যারের বর্ণনায় এটি সুনান গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। একইভাবে তিনি 'খাসাইসু আলী' গ্রন্থটিকেও পৃথক করেছেন, অথচ এটি ইবনুস সাইয়্যারের বর্ণনায় 'মানাকিব' অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু তিনি 'তাফসীর'কে পৃথক করেননি যা কেবল হামযাহ-র বর্ণনায় রয়েছে। একইভাবে মালাইকা, ইসতিআযা, তিব্ব ইত্যাদি গ্রন্থগুলোকেও পৃথক করেননি। নাসাঈ থেকে একজন বর্ণনাকারী অন্যজনের চেয়ে আলাদাভাবে কিছু অংশ বর্ণনা করেছেন। তাই আমার কাছে তাঁর 'খাসাইস' এবং 'আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ'কে পৃথকভাবে উল্লেখ করার কারণটি স্পষ্ট নয়। আর আল্লাহই তাওফীক দানকারী।

এরপর লেখক সাহাবীগণকে পরবর্তী স্তরের বর্ণনাকারীদের সাথে মিলিয়ে উল্লেখ করার উপকারিতা বর্ণনা করেছেন, যা 'আল-কামাল' গ্রন্থের লেখকের পদ্ধতির বিপরীত। তা হলো, একজন সাহাবীর বর্ণনা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হতে পারে আবার অন্য কারও থেকেও হতে পারে। ফলে যার অভিজ্ঞতা নেই সে যখন কোনো সাহাবীর বর্ণনা অন্য সাহাবী থেকে দেখে, তখন সে প্রথমজনকে তাবিঈ মনে করতে পারে। ফলে সে তাবিঈদের মধ্যে তাঁকে খুঁজতে থাকে কিন্তু পায় না। তাই সকলকে বর্ণানুক্রমিকভাবে একই ধারায় উল্লেখ করাই উত্তম ছিল।

তিনি বলেছেন: আমাদের এই গ্রন্থে যা কিছু আমরা সনদ ছাড়াই উল্লেখ করেছি, তার মধ্যে যেগুলো দৃঢ়তাসূচক শব্দে (সিগাতুল জাযম) আছে, সেগুলো এমন যার মূল প্রবক্তা পর্যন্ত সনদে আমরা কোনো সমস্যা জানি না। আর যেগুলো দুর্বলতাসূচক শব্দে (সিগাতুত তামরীদ) আছে, সেগুলোর সনদে ত্রুটি থাকতে পারে।

অতঃপর তিনি বলেন: আমি 'হামজাহ' বর্ণের শুরুতে তাদের নাম দিয়ে শুরু করেছি যাদের নাম আহমদ, এবং 'মীম' বর্ণের শুরুতে তাদের নাম দিয়ে যাদের নাম মুহাম্মদ। আর উপনামধারীদের (কুনিয়া) মধ্যে যাদের নাম কোনো মতভেদ ছাড়াই সুপরিচিত, তাদের আমরা মূল নামের জায়গায় উল্লেখ করেছি এবং পরে উপনামের স্থানে সেদিকে ইঙ্গিত করেছি। আর যাদের নাম জানা নেই বা তাতে মতভেদ আছে, তাদের আমরা উপনামের স্থানে উল্লেখ করেছি এবং নামের মতভেদ সম্পর্কে সেখানে বলে দিয়েছি। মহিলাদের ক্ষেত্রেও একইভাবে করা হয়েছে। আর কখনো কখনো কিছু...
(খণ্ড: ١) তাহযিবুত তাহযিব - ত রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ١١)
الأسماء يدخل في ترجمتين فأكثر فنذكره في أولى التراجم به، ثم ننبه عليه في الترجمة الأخرى، وبعد ذلك فصول فيمن اشتهر بالنسبة إلى أبيه أو جده أو أمه أو عمه أو نحو ذلك، وفيمن اشتهر بالنسبة إلى قبيلة أو بلدة أو صناعة، وفيمن اشتهر بلقب أو نحوه، وفيمن أبهم مثل فلان عن أبيه أو عن جده أو أمه أو عمه أو خاله أو عن رجل أو امرأة ونحو ذلك، مع التنبيه على اسم من عرف اسمه منهم، والنساء كذلك. هذا المتعلق بديباجة الكتاب.

ثم ذكر المؤلف بعد ذلك ثلاثة فصول أحدها في شروط الأئمة الستة، والثاني في الحث على الرواية عن الثقات، والثالث في الترجمة النبوية، فأما الفصلان الأولان فإن الكلام عليهما مستوفى في علوم الحديث، وأما الترجمة النبوية فلم يعد المؤلف ما في كتاب ابن عبد البر، وقد صنف الأئمة قديما وحديثا في السيرة النبوية عدة مؤلفات مبسوطات ومختصرات فهي أشهر من أن تذكر وأوضح من أن تشهر، ولها محل غير هذا نستوفي الكلام عليها فيه إن شاء الله تعالى.

وقد ألحقت في هذا المختصر ما التقطته من تذهيب التهذيب للحافظ الذهبي، فإنه زاد قليلا فرأيت أن أضم زياداته لتكمل الفائدة، ثم وجدت صاحب (التهذيب) حذف عدة تراجم من أصل (الكمال) ممن ترجم لهم بناء على أن بعض الستة أخرج لهم، فمن لم يقف المزي على روايته في شيء من هذه الكتب حذفه، فرأيت أن أثبتهم وأنبه على ما في تراجمهم من عوز، وذكرهم على الاحتمال أفيد من حذفهم، وقد نبهت على من وقفت على روايته منهم في شيء من الكتب المذكورة، وزدت تراجم كثيرة أيضا التقطتها من الكتب الستة مما ترجم المزي لنظيرهم تكملة للفائدة أيضا.

وقد انتفعت في هذا الكتاب المختصر بالكتاب الذي جمعه الإمام العلامة علاء الدين مغلطاي على (تهذيب الكمال) مع عدم تقليدي له في شيء مما ينقله، وإنما استعنت به في العاجل، وكشفت الأصول التي عزا النقل إليها في الآجل، فما وافق أثبته، وما باين أهملته، فلو لم يكن في هذا المختصر إلا الجمع بين هذين الكتابين الكبيرين في حجم لطيف لكان معنى مقصودا، هذا مع الزيادات التي لم تقع لهما، والعلم مواهب، والله الموفق.
নামগুলো যদি দুই বা ততোধিক জীবনবৃত্তান্তের অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে আমরা তাকে প্রথমটির ক্ষেত্রে উল্লেখ করব, অতঃপর অন্য জীবনবৃত্তান্তের ক্ষেত্রে সে বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করব। এরপর সেই ব্যক্তিদের সম্পর্কে পরিচ্ছেদসমূহ আসবে যারা তাদের পিতা, দাদা, মাতা, চাচা বা এই জাতীয় সম্পর্কের মাধ্যমে প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন; এবং যারা কোনো গোত্র, শহর বা পেশার সম্পর্কের মাধ্যমে প্রসিদ্ধ; আর যারা কোনো উপাধি বা তদ্রূপ কিছুর মাধ্যমে পরিচিত। আরও রয়েছে অস্পষ্টভাবে বর্ণিত রাবীদের আলোচনা—যেমন: অমুক তার পিতা, দাদা, মাতা, চাচা, মামা অথবা কোনো ব্যক্তি বা নারী প্রমুখের সূত্রে বর্ণনা করেছেন—তাদের মধ্যে যাদের নাম জানা গেছে তাদের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি নারীদের ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছে। এটি গ্রন্থের ভূমিকার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়।

এরপর লেখক তিনটি পরিচ্ছেদ উল্লেখ করেছেন; একটি ছয় ইমামের শর্তাবলী সম্পর্কে, দ্বিতীয়টি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের থেকে হাদীস বর্ণনায় উৎসাহ প্রদান প্রসঙ্গে, এবং তৃতীয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনচরিত সম্পর্কে। প্রথম দুটি পরিচ্ছেদ সম্পর্কে হাদীস শাস্ত্রে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। আর নবী করীম (সা.)-এর জীবনচরিতের ক্ষেত্রে লেখক ইবনে আবদিল বার-এর কিতাবে যা আছে তার বাইরে অধিক কিছু উল্লেখ করেননি। ইমামগণ প্রাচীন ও আধুনিক যুগে সীরাতুন্নবী সম্পর্কে বহু বিস্তারিত ও সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ রচনা করেছেন, যা উল্লেখ করার প্রয়োজন পড়ে না এমন প্রসিদ্ধ এবং স্পষ্ট করার প্রয়োজন হয় না এমন সুস্পষ্ট। ইনশাআল্লাহ তাআলা, এর জন্য অন্য একটি স্থান রয়েছে যেখানে আমরা এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

আমি এই সংক্ষিপ্তসারটিতে হাফেয যাহাবীর 'তাযহীবুত তাহযীব' থেকে সংগৃহীত অংশগুলো যুক্ত করেছি। কেননা তিনি সামান্য কিছু পরিবর্ধন করেছেন, তাই উপকারিতা পূর্ণ করার লক্ষ্যে আমি তাঁর অতিরিক্ত অংশগুলো যুক্ত করাকে সমীচীন মনে করেছি। অতঃপর আমি লক্ষ্য করেছি যে, 'তাহযীব' গ্রন্থের লেখক (মিযযী) 'আল-كمال' (আল-কামাল)-এর মূল উৎস থেকে এমন কিছু ব্যক্তির জীবনী বাদ দিয়েছেন যাদের জীবনী এই ভিত্তিতে লেখা হয়েছিল যে কুতুবে সিত্তার কোনো কোনো ইমাম তাদের থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। ফলে মিযযী এই কিতাবগুলোর কোনোটিতে যাঁর বর্ণনার সন্ধান পাননি, তাঁকে তিনি বাদ দিয়েছেন। আমি তাদের জীবনী বহাল রাখা এবং তাদের জীবনবৃত্তান্তে যে অসম্পূর্ণতা রয়েছে সে সম্পর্কে অবগত করা সমীচীন মনে করেছি। কেননা তাদের বাদ দেওয়ার চেয়ে সম্ভাব্যতার ভিত্তিতে উল্লেখ করা অধিকতর উপকারী। উল্লিখিত কিতাবসমূহের কোনোটিতে আমি যাদের বর্ণনার সন্ধান পেয়েছি, তাদের সম্পর্কে আমি অবগত করেছি। এছাড়া উপকারিতা পূর্ণ করার জন্য কুতুবে সিত্তাহ থেকে আমি আরও অনেক জীবনী যুক্ত করেছি, মিযযী যাদের সমপর্যায়ের বর্ণনাকারীদের জীবনী উল্লেখ করেছিলেন।

আমি এই সংক্ষিপ্ত গ্রন্থটিতে ইমাম আল্লামা আলাউদ্দীন মুগলতাই কর্তৃক 'তাহযীবুল কামাল'-এর ওপর রচিত গ্রন্থটি থেকে উপকৃত হয়েছি, যদিও তাঁর বর্ণিত কোনো বিষয়ে আমি তাঁর অন্ধ অনুসরণ করিনি। বরং তাৎক্ষণিকভাবে আমি তা থেকে সহায়তা নিয়েছি এবং পরবর্তীতে তিনি যেসব মূল উৎসের বরাতে বর্ণনা করেছেন তা যাচাই করেছি। অতঃপর যা সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে তা বহাল রেখেছি এবং যা ভিন্ন হয়েছে তা বর্জন করেছি। যদি এই সংক্ষিপ্তসারে একটি সুন্দর অবয়বে এই দুটি বিশাল গ্রন্থের সমন্বয় ছাড়া আর কিছু নাও থাকত, তবুও তা একটি কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য হিসেবে গণ্য হতো। এর সাথে এমন কিছু পরিবর্ধন যুক্ত হয়েছে যা এই দুটি গ্রন্থে নেই। আর জ্ঞান হলো আল্লাহর দান এবং আল্লাহই তাওফীক দাতা।
(খণ্ড: ١) তাহযিবুত তাহযিব - ত রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ١٣)
‌‌

 

‌‌حرف الألف

ذكر‌‌ من اسمه أحمد

 

• د فق -‌‌ أحمد بن إبراهيم بن خالد أبو علي الموصلي.

نزيل بغداد.

روى عن محمد بن ثابت العبدي، وفرج بن فضالة، وحماد بن زيد، وعبد الله بن جعفر المديني، ويزيد بن زريع، وأبي عوانة، وإبراهيم بن سعد، وغيرهم.

روى عنه أبو داود حديثا واحدا، وروى ابن ماجه في (التفسير) عن ابن أبي الدنيا عنه، وأبو زرعة الرازي، ومحمد بن عبد الله الحضرمي، وموسى بن هارون، وأبو يعلى الموصلي، وأبو القاسم البغوي، وآخرون.

وكتب عنه أحمد بن حنبل، ويحيى بن معين، وقال لا بأس به، وقال صاحب (تاريخ الموصل): كان ظاهر الصلاح والفضل. قال موسى بن هارون: مات ليلة السبت لثمان مضين من ربيع الأول سنة (236).

قلت: وذكره ابن حبان في الثقات، وقال إبراهيم بن الجنيد عن ابن معين: ثقة صدوق.

 

•‌‌ كن -‌‌ أحمد بن إبراهيم بن فيل الأسدي أبو الحسن البالسي.

نزيل أنطاكية، والد القاضي أبي طاهر.

روى عن أحمد بن أبي شعيب الحراني، وأبي جعفر النفيلي، وأبي النضر الفراديسي، ودحيم، وأبي مصعب الزهري في آخرين، وسمع أبا توبة.

وعنه النسائي ثلاثة أحاديث من حديث مالك، وأبو عوانة الإسفراييني، وأبو سعيد ابن الأعرابي، وخيثمة بن سليمان، وأبو القاسم الطبراني، وآخرون.

مات سنة (284).

قال ابن عساكر: كان ثقة، وقال في التاريخ: روى عنه النسائي، ولم يذكره في الشيوخ النبل.

قلت: وروى عنه محمد بن الحسن الهمذاني، وقال إنه صالح.

وذكره ابن حبان في الثقات، وقال النسائي في أسامي شيوخه رواية حمزة لا بأس به، وذكر من عفته وورعه وثقته.

 

•‌‌ م د ت ق -‌‌ أحمد بن إبراهيم بن كثير بن زيد الدورقي النكري البغدادي أبو عبد الله.

روى عن حفص بن غياث، وجرير، وهشيم، وإسماعيل وربعي ابني علية، وشبابة، ويزيد بن هارون، ومبشر بن إسماعيل الحلبي، وخالد بن مخلد، وغيرهم.

روى عنه مسلم، وأبو داود، والترمذي، وابن ماجه، وبقي بن مخلد، وعبد الله بن أحمد بن حنبل، ويعقوب بن شيبة، وغيرهم.

قال أبو حاتم: صدوق، وقال صالح جزرة: كان أحمد أكثرهما حديثا، وأعلمهما بالحديث، وكان يعقوب يعني أخاه: أسندهما، وكانا جميعا ثقتين.

كان مولد أحمد سنة (168)، ومات في شعبان سنة (246).

قلت: وفيها أرخه السراج، وقال العقيلي: ثقة، وقال الخليلي في الإرشاد: ثقة متفق عليه.

وذكره ابن حبان في الثقات.

والنكري بضم النون نسبة إلى بني نكرة، وهم بطن من

 

আলিফ বর্ণ

যাঁদের নাম আহমাদ তাঁদের বর্ণনা

 

• দা ফা-কা - আহমাদ বিন ইবরাহীম বিন খালিদ আবু আলী আল-মাওসিলি।

বাগদাদের অধিবাসী।

তিনি মুহাম্মাদ বিন সাবিত আল-আবদি, ফারাজ বিন ফাদালাহ, হাম্মাদ বিন যায়িদ, আব্দুল্লাহ বিন জাফর আল-মাদিনি, ইয়াযিদ বিন যুরায়, আবু আওয়ানাহ, ইবরাহীম বিন সা'দ এবং অন্যান্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন।

আবু দাউদ তাঁর থেকে একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। ইবনে মাজাহ তাঁর 'তাফসির' গ্রন্থে ইবনু আবিল দুনইয়ার মাধ্যমে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। এছাড়াও আবু যুরআহ আর-রাযি, মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হাদরামি, মুসা বিন হারুন, আবু ইয়ালা আল-মাওসিলি, আবুল কাসিম আল-বাগাওয়ি এবং আরও অনেকে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।

আহমাদ বিন হাম্বল এবং ইয়াহইয়া বিন মাঈন তাঁর থেকে (হাদিস) লিখেছেন। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেছেন, "তাঁর মধ্যে কোনো সমস্যা নেই।" 'তারিখুল মাওসিল' গ্রন্থের লেখক বলেছেন, "তিনি প্রকাশ্য নেককার ও ফযিলতের অধিকারী ছিলেন।" মুসা বিন হারুন বলেছেন, "তিনি ২৩৬ হিজরির রবিউল আউয়াল মাসের আট তারিখ শনিবার দিবাগত রাতে মৃত্যুবরণ করেন।"

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: ইবনে হিব্বান তাঁকে 'আস-সিকাত' (নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের তালিকা) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। ইবরাহীম বিন আল-জুনাইদ ইয়াহইয়া বিন মাঈন থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি "নির্ভরযোগ্য ও অতিশয় সত্যবাদী।"

 

• কা-নু - আহমাদ বিন ইবরাহীম বিন ফীল আল-আসাদি আবু হাসান আল-বালিসি।

আনতাকিয়ার অধিবাসী, তিনি কাজী আবু তাহিরের পিতা।

তিনি আহমাদ বিন আবু শুআইব আল-হাররানি, আবু জাফর আন-নুফাইলি, আবুল নাদর আল-ফুরাদিসি, দুহাইম, আবু মুসআব আয-যুহরি এবং অন্যান্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি আবু তাওবাহ থেকে (হাদিস) শুনেছেন।

ইমাম নাসাঈ তাঁর থেকে ইমাম মালিকের সূত্রে বর্ণিত তিনটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। এছাড়াও আবু আওয়ানাহ আল-ইসফরাইনি, আবু সাঈদ ইবনুল আরাবি, খাইসামাহ বিন সুলাইমান, আবুল কাসিম আত-তাবারানি এবং আরও অনেকে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।

তিনি ২৮৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

ইবনে আসাকির বলেছেন, "তিনি নির্ভরযোগ্য ছিলেন।" তিনি তাঁর 'তারিখ' গ্রন্থে বলেছেন, "নাসাঈ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি তাঁকে 'আশ-শুয়ুখুন নুবল' গ্রন্থে উল্লেখ করেননি।"

আমি বলছি: মুহাম্মাদ বিন আল-হাসান আল-হামদানি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন যে তিনি "সৎ লোক"।

ইবনে হিব্বান তাঁকে 'আস-সিকাত' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। ইমাম নাসাঈ তাঁর শিক্ষকদের নামের তালিকায় হামযাহর বর্ণনায় বলেছেন, "তাঁর মধ্যে কোনো সমস্যা নেই।" তিনি তাঁর পবিত্রতা, পরহেজগারি ও নির্ভরযোগ্যতার কথা উল্লেখ করেছেন।

 

• মা দা তি কা - আহমাদ বিন ইবরাহীম বিন কাসীর বিন যায়িদ আদ-দাওরাকি আন-নুকরি আল-বাগদাদি আবু আব্দুল্লাহ।

তিনি হাফস বিন গিয়াস, জারীর, হুশাইম, ইসমাইল ও রুবায়ী (উলাইয়্যার দুই পুত্র), শাবাবাহ, ইয়াযিদ বিন হারুন, মুবাশশির বিন ইসমাইল আল-হালাবি, খালিদ বিন মাখলাদ এবং অন্যান্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন।

তাঁর থেকে মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযি, ইবনে মাজাহ, বাকি বিন মাখলাদ, আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন হাম্বল, ইয়াকুব বিন শায়বাহ এবং আরও অনেকে বর্ণনা করেছেন।

আবু হাতিম বলেছেন, "তিনি সত্যবাদী।" সালিহ জাযারাহ বলেছেন, "আহমাদ তাঁদের দুই ভাইয়ের মধ্যে হাদিসের ক্ষেত্রে অধিক সমৃদ্ধ এবং হাদিসশাস্ত্রে অধিক অভিজ্ঞ ছিলেন।" আর ইয়াকুব—অর্থাৎ তাঁর ভাই—ছিলেন তাঁদের মাঝে বয়সে প্রবীণ। তাঁরা উভয়েই নির্ভরযোগ্য ছিলেন।

আহমাদ ১৬৮ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৪৬ হিজরির শাবান মাসে মৃত্যুবরণ করেন।

আমি বলছি: আস-সাররাজও তাঁর মৃত্যুর তারিখ এটাই উল্লেখ করেছেন। আল-উকাইলি বলেছেন, "নির্ভরযোগ্য।" আল-খালিঁলি 'আল-ইরশাদ' গ্রন্থে বলেছেন, "নির্ভরযোগ্য ও সর্বসম্মত।"

ইবনে হিব্বান তাঁকে 'আস-সিকাত' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

'আন-নুকরি' শব্দটি নুন বর্ণে পেশ (যম্মাহ) সহকারে উচ্চারিত হয়, যা বনু নুকরা গোত্রের দিকে সম্বন্ধযুক্ত; তাঁরা হলো একটি শাখা...
(খণ্ড: ١) তাহযিবুত তাহযিব - ত রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ١٤)
عبد القيس.

والدورقي: قال ابن الجارود في مشيخته هو من أهل دورق من أعمال الأهواز، وهي معروفة، وإليها تنسب القلانس الدورقية، ويقال بل هو منسوب إلى صنعة القلانس لا إلى البلد، والله أعلم.

وقال اللالكائي: كان يلبس القلانس الطوال.

 

•‌‌ س -‌‌ أحمد بن إبراهيم بن محمد بن عبد الله بن بكار بن عبد الملك بن الوليد بن بسر بن أبي أرطاة العامري أبو عبد الملك القرشي البسري الدمشقي.

روى عن أبي النضر الفراديسي، ومحمد بن عائذ الدمشقي، ويزيد بن خالد الرملي، وأبي مصعب الزهري، وإبراهيم بن المنذر الحزامي، وأبي الطاهر بن السرج، وجماعة.

روى عنه النسائي، وأبو عوانة، وابن جوصا، وأبو بكر أحمد بن مروان الدينوري صاحب المجالسة، وأبو جعفر العقيلي، وأبو القاسم بن أبي العقب، وأبو القاسم الطبراني، وغيرهم.

قال النسائي: لا بأس به، وقال ابن عساكر: كان ثقة مات في شوال سنة (289).

 

•‌‌ ‌‌أحمد بن إبراهيم التيمي صوابه إبراهيم بن محمد التيمي.

يأتي. والحديث في أوائل النكاح من (د).

 

•‌‌ س ق -‌‌ أحمد بن الأزهر بن منيع بن سليط بن إبراهيم العبدي أبو الأزهر النيسابوري.

روى عن عبد الله بن نمير، وروح بن عبادة، ويعقوب بن إبراهيم بن سعد، وعبد الرزاق، وآدم بن أبي إياس، والهيثم بن جميل، وأبي عاصم النبيل، وأبي صالح كاتب الليث، وجماعة.

وعنه النسائي، وابن ماجه، والذهلي، وهو من أقرانه، والبخاري، ومسلم خارج الصحيح، والدارمي، وأبو زرعة الرازي، وأبو عوانة الإسفراييني، ومحمد بن جرير الطبري، وأبو حامد بن الشرقي، وآخرون.

قال ابن الشرقي: سمعت أبا الأزهر يقول: كتب عني يحيى بن يحيى.

وقال الحاكم أبو أحمد: ما حدث من أصل كتابه فهو أصح. قال: وكان قد كبر فربما يلقن.

وقال ابن خراش: سمعت محمد بن يحيى يثني عليه، وقال أبو عمرو المستملي عن محمد بن يحيى: أبو الأزهر من أهل الصدق والأمانة، نرى أن يكتب عنه.

وقال مكي بن عبدان: سألت مسلم بن الحجاج عن أبي الأزهر فقال: اكتب عنه.

قال الحاكم: هذا رسم مسلم في الثقات.

وقال إبراهيم بن أبي طالب: كان من أحسن مشايخنا حديثا.

وقال أحمد بن سيار: حسن الحديث.

وقال صالح جزرة: صدوق.

وقال النسائي والدارقطني: لا بأس به.

وقال الدارقطني: قد أخرج في الصحيح عن من هو دونه، وشر منه. ولما ذكر ابن الشرقي بنادرة الحديث عده فيهم.

وقال أحمد بن يحيى بن زهير التستري: لما حدث أبو الأزهر بحديث عبد الرزاق في الفضائل يعني عن معمر عن الزهري عن عبيد الله عن ابن عباس قال: نظر النبي

صلى الله عليه وسلم إلى علي رضي الله عنه فقال: أنت سيد في الدنيا سيد في الآخرة. الحديث. أخبر بذلك يحيى بن معين، فبينا هو عنده في جماعة من أهل الحديث إذ قال يحيى: من هذا الكذاب النيسابوري الذي يحدث عن عبد الرزاق بهذا الحديث، فقام أبو الأزهر فقال: هو ذا أنا، فتبسم يحيى فقال: أما إنك لست بكذاب، وتعجب من سلامته، وقال: الذنب لغيرك في هذا الحديث.

قال أبو حامد ابن الشرقي: هو حديث باطل، والسبب فيه أن معمرا كان له ابن أخ رافضي، وكان معمر يمكنه من كتبه فأدخل عليه هذا الحديث.

قال الخطيب أبو بكر: وقد رواه محمد بن حمدون النيسابوري عن محمد بن علي النجاري الصنعاني عن عبد الرزاق، فبرئ أبو الأزهر من عهدته.

وقال ابن عدي: أبو الأزهر بصورة أهل الصدق عند الناس. وأما هذا الحديث فعبد الرزاق من أهل الصدق، وهو
আব্দুল কায়স।

আদ-দাওরাকী: ইবনুল জাররুদ তাঁর মাশযাখা-তে বলেছেন, তিনি আহওয়াজের অন্তর্ভুক্ত দাওরাকের অধিবাসী। এটি একটি প্রসিদ্ধ স্থান, আর এর দিকেই দাওরাকী টুপিগুলো সম্পর্কিত। কেউ কেউ বলেন, বরং তিনি এই টুপির কারিগর ছিলেন বলে একে তার দিকে সম্বন্ধ করা হয়, শহর নয়। আর আল্লাহ-ই সর্বজ্ঞ।

লালকায়ী বলেছেন: তিনি দীর্ঘ টুপি পরিধান করতেন।

 

•‌‌ সিন -‌‌ আহমাদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বাক্কার ইবনে আব্দুল মালিক ইবনুল ওয়ালিদ ইবনে বুসর ইবনে আবি আরত্বাহ আল-আমিরী আবু আব্দুল মালিক আল-কুরাশী আল-বুসরী আদ-দিমাশকী।

তিনি আবু নাযর আল-ফারাদিসী, মুহাম্মাদ ইবনে আইয আদ-দিমাশকী, ইয়াযিদ ইবনে খালিদ আর-রামলী, আবু মুসআব আজ-জুহরী, ইব্রাহিম ইবনুল মুনযির আল-হিযামী, আবু তাহের ইবনুস সারাহ এবং একদল বর্ণনাকারী থেকে বর্ণনা করেছেন।

তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন আন-নাসায়ী, আবু আওয়ানাহ, ইবনে জাওসা, আল-মুজালাসাহ গ্রন্থের রচয়িতা আবু বকর আহমাদ ইবনে মারওয়ান আদ-দিনাওয়ারী, আবু জাফর আল-উকায়লী, আবুল কাসিম ইবনে আবিল আকিব, আবুল কাসিম আত-তবারানী এবং অন্যান্যরা।

নাসায়ী বলেছেন: তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই। ইবনে আসাকির বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য ছিলেন, তিনি ২৮৯ হিজরীর শাওয়াল মাসে মৃত্যুবরণ করেন।

 

•‌‌ ‌‌আহমাদ ইবনে ইব্রাহিম আত-তাইমী এর সঠিক রূপ হলো ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মাদ আত-তাইমী।

এটি সামনে আসবে। আর হাদিসটি আবু দাউদ (দা)-এর বিবাহের অধ্যায়ের শুরুতে রয়েছে।

 

•‌‌ সিন, কফ -‌‌ আহমাদ ইবনুল আযহার ইবনে মানী ইবনে সালীত্ব ইবনে ইব্রাহিম আল-আবদী আবু আযহার আন-নিসাবুরী।

তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর, রাওহ ইবনে উবাদাহ, ইয়াকুব ইবনে ইব্রাহিম ইবনে সা'দ, আব্দুর রাজ্জাক, আদম ইবনে আবি ইয়াস, হায়সাম ইবনে জামিল, আবু আসিম আন-নাবিল, লাইসের লেখক আবু সালেহ এবং একদল বর্ণনাকারী থেকে বর্ণনা করেছেন।

তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন আন-নাসায়ী, ইবনে মাজাহ, আয-যুহালী (যিনি তাঁর সমসাময়িক ছিলেন), আল-বুখারী, মুসলিম (সহীহ-এর বাইরে), আদ-দারিমী, আবু যুরআ আর-রাযী, আবু আওয়ানাহ আল-ইসফারায়িনী, মুহাম্মাদ ইবনে জারীর আত-তবারী, আবু হামিদ ইবনুল শারকী এবং আরও অনেকে।

ইবনুল শারকী বলেছেন: আমি আবু আযহারকে বলতে শুনেছি: ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া আমার থেকে (হাদিস) লিখে নিয়েছেন।

আল-হাকিম আবু আহমাদ বলেছেন: তিনি তাঁর মূল পাণ্ডুলিপি থেকে যা বর্ণনা করেছেন তা অধিক বিশুদ্ধ। তিনি বলেন: তাঁর বয়স অনেক হয়েছিল, ফলে মাঝে মাঝে তাঁকে (হাদিস) স্মরণ করিয়ে দিতে হতো।

ইবনে খিরাশ বলেন: আমি মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়াকে তাঁর প্রশংসা করতে শুনেছি। মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া থেকে আবু আমর আল-মুস্তামলী বর্ণনা করেছেন: আবু আযহার সত্যবাদিতা ও বিশ্বস্ততার অধিকারী, আমরা মনে করি তাঁর থেকে বর্ণনা লেখা উচিত।

মক্কী ইবনে আবদান বলেন: আমি মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজকে আবু আযহার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন: তাঁর থেকে (হাদিস) লেখো।

আল-হাকিম বলেন: নির্ভরযোগ্যদের ব্যাপারে মুসলিমের নীতি এটাই।

ইব্রাহিম ইবনে আবি তালিব বলেন: আমাদের শিক্ষকদের মধ্যে হাদিসের ক্ষেত্রে তিনি অন্যতম সেরা ছিলেন।

আহমাদ ইবনে সাইয়্যার বলেন: উত্তম হাদিস বর্ণনা করেন।

সালেহ জাযারাহ বলেন: সত্যবাদী।

নাসায়ী ও আদ-দারাকুতনী বলেছেন: তাঁর মধ্যে কোনো সমস্যা নেই।

আদ-দারাকুতনী আরও বলেন: সহীহ গ্রন্থে তাঁর চেয়ে নিম্নমানের এবং তাঁর চেয়েও মন্দ বর্ণনাকারীদের থেকে হাদিস গ্রহণ করা হয়েছে। আর ইবনুল শারকী যখন বিরল হাদিস বর্ণনাকারীদের কথা উল্লেখ করেন, তখন তাঁকেও তাদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেন।

আহমাদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে যুহাইর আত-তুস্তারী বলেন: আবু আযহার যখন ফযিলত অধ্যায়ে আব্দুর রাজ্জাকের হাদিসটি বর্ণনা করেন—অর্থাৎ মা'মার থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে—যেখানে বর্ণিত হয়েছে: নবী

সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর দিকে তাকালেন এবং বললেন: "তুমি দুনিয়াতেও নেতা, আখিরাতেও নেতা।" (পুরো হাদিস)। ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনকে যখন এই সংবাদ দেওয়া হলো, তখন তিনি একদল মুহাদ্দিসের সাথে বসা ছিলেন। এমতাবস্থায় ইয়াহইয়া বলে উঠলেন: "এই নিসাবুরী মিথ্যাবাদীটি কে, যে আব্দুর রাজ্জাক থেকে এই হাদিস বর্ণনা করছে?" তখন আবু আযহার দাঁড়িয়ে বললেন: "এই যে আমি সেই ব্যক্তি।" তখন ইয়াহইয়া মুচকি হাসলেন এবং বললেন: "তবে জেনে রেখো, তুমি মিথ্যাবাদী নও।" এবং তাঁর সঠিক অবস্থা দেখে তিনি বিস্মিত হলেন এবং বললেন: "এই হাদিসের অপরাধ তোমার নয় বরং অন্য কারও।"

আবু হামিদ ইবনুল শারকী বলেন: এটি একটি বাতিল হাদিস। এর কারণ হলো, মা'মারের এক ভাতিজা ছিল রাফেযী, মা'মার তাকে তার কিতাবগুলো ব্যবহারের সুযোগ দিতেন, ফলে সে তার কিতাবে এই হাদিসটি ঢুকিয়ে দিয়েছিল।

আল-খাতীব আবু বকর বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে হামদুন আন-নিসাবুরী এটি মুহাম্মাদ ইবনে আলী আন-নাজ্জারী আস-সানআনী থেকে, তিনি আব্দুর রাজ্জাক থেকে বর্ণনা করেছেন। ফলে আবু আযহার এই বর্ণনার দায় থেকে মুক্ত হলেন।

ইবনে আদি বলেন: মানুষের কাছে আবু আযহার একজন সত্যবাদী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। আর এই হাদিসটির ক্ষেত্রে আব্দুর রাজ্জাক সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত, তবে তিনি...
(খণ্ড: ١) তাহযিবুত তাহযিব - ত রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ١٥)
ينسب إلى التشيع فلعله شبه عليه.

قال أحمد بن سيار: مات أبو الأزهر في أول سنة (61) [ومائتين].

وقال حسين القباني: توفي سنة (63).

قلت: وقال أبو حاتم: صدوق.

وقال ابن شاهين في الأفراد له: ثقة نبيل.

وقال أبو الأزهر: رأيت سفيان بن عيينة، ولم يحدثني.

وذكره ابن حبان في الثقات، وقال: يخطئ، وكان ابن خزيمة إذا حدث عنه قال: حدثنا أبو الأزهر من أصل كتابه.

 

•‌‌ تمييز -‌‌ أحمد بن الأزهر البلخي.

روى عن يعقوب بن إبراهيم بن سعد، ومعروف بن حسان.

روى عنه أبو بكر محمد بن إسحاق بن خزيمة، وإبراهيم بن نصر العنبري، وأحمد بن محمد بن المغلس.

ذكره ابن حبان في (الثقات) مفردا عن الذي قبله، وقال: كان ينتحل مذهب أهل الرأي، يخطئ، ويخالف، وأخرج له الحاكم في (المستدرك).

 

•‌‌ خ -‌‌ أحمد بن إسحاق بن الحصين بن جابر السلمي أبو إسحاق السرماري.

كان يضرب بشجاعته المثل.

روى عن يعلى بن عبيد، وعثمان بن عمر بن فارس، وعبيد الله بن موسى، وغيرهم.

روى عنه البخاري، وابنه أبو صفوان إسحاق بن أحمد، وبكر بن منير، وعبيد الله بن واصل، وعدة.

قال أبو صفوان: وهب المأمون لأبي ثلاثين ألف درهم فلم يقبلها.

مات يوم السبت لست بقين من ربيع الآخر سنة (242).

قلت: أخباره في المغازي والشجاعة كثيرة، وذكره ابن حبان في (الثقات) فقال: كان من الغزائين، وكان من أهل الفضل والنسك مع لزوم الجهاد.

وقال البخاري: ما يعلم في الإسلام مثله.

وقال عبيد الله بن واصل: سمعته يقول: أعلم يقينا أني قتلت به ألف تركي، ولولا أن يكون بدعة لأمرت أن يدفن معي، يعني سيفه.

قلت: والسرماري بضم السين وإسكان الراء، قيده ابن السمعاني نسبة إلى سرمارى قرية من بخارى، وضبطه أبو علي الغساني بفتح السين، وكذا هو بخط المزي، وحكى الرشاطي فيه كسر السين.

 

•‌‌ م د ت س -‌‌ أحمد بن إسحاق بن زيد بن عبد الله بن أبي إسحاق الحضرمي أبو إسحاق البصري.

روى عن حماد بن سلمة، وعبد العزيز بن المختار، وأبي عوانة، وهمام، ووهيب، والقطان.

وعنه إبراهيم الجوهري، وأبو خيثمة، وابنا أبي شيبة، ويعقوب بن شيبة، وأحمد بن الحسن بن خراش، والحارث بن أبي أسامة، وغيرهم.

قال أحمد: كان عندي إن شاء الله صدوقا، ولكني تركته من أجل ابن أكثم، دخل له في شيء.

وقال يعقوب بن شيبة، وأبو زرعة، وأبو حاتم، والنسائي، ومحمد بن سعد: ثقة. وقال النسائي أيضا: ليس به بأس.

وقال ابن سعد: مات بالبصرة سنة (211).

وقال المروذي عن أحمد: لم يكن بأحمد بأس.

وقال ابن منجويه: كان يحفظ حديثه.

قلت: وبهذا ذكره ابن حبان في (الثقات)، ومنه ينقل ابن منجويه.

 

•‌‌ د -‌‌ أحمد بن إسحاق بن عيسى الأهوازي البزاز أبو إسحاق صاحب السلعة.

روى عن حجاج بن نصير، وأبي أحمد الزبيري، والمقرئ، وغيرهم.

روى عنه أبو داود، وذكر صاحب النبل أن النسائي روى عنه، ولم أقف على ذلك، والبزار، وابن أبي الدنيا، وعبدان الجواليقي، وغيرهم.

قال النسائي: صالح.

وقال ابن أبي عاصم: مات سنة (250).

قلت: نقل بعض المتأخرين عن مسلمة بن قاسم أنه ذكره في شيوخ النسائي في السنن، وقد ذكره النسائي في
তাঁর দিকে শিয়া মতবাদের সম্পৃক্ততা করা হয়, হয়তো এটি তাঁর ব্যাপারে ভুলবশত ধারণা করা হয়েছে।

আহমদ বিন সাইয়্যার বলেন: আবু আল-আজহার দুইশত একষট্টি (২৬১) হিজরীর শুরুতে মৃত্যুবরণ করেন।

হুসাইন আল-কাব্বানি বলেন: তিনি (২৬৩) হিজরীতে ইন্তেকাল করেন।

আমি বলছি: আবু হাতিম বলেছেন: তিনি সত্যবাদী।

ইবনে শাহীন তাঁর ‘আল-আফরাদ’ গ্রন্থে বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য ও মহানুভব।

আবু আল-আজহার বলেন: আমি সুফিয়ান বিন উয়াইনাকে দেখেছি, কিন্তু তিনি আমার কাছে হাদীস বর্ণনা করেননি।

ইবনে হিব্বান তাঁকে ‘আত-থিকাত’ (নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: তিনি ভুল করতেন। ইবনে খুজাইমা যখন তাঁর থেকে হাদীস বর্ণনা করতেন তখন বলতেন: আবু আল-আজহার তাঁর মূল পাণ্ডুলিপি থেকে আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন।

 

•‌‌ পার্থক্য নির্ণয় -‌‌ আহমদ বিন আল-আজহার আল-বালখী।

তিনি ইয়াকুব বিন ইব্রাহিম বিন সাদ এবং মারুফ বিন হাসান থেকে বর্ণনা করেছেন।

তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন খুজাইমা, ইব্রাহিম বিন নাসর আল-আনবারী এবং আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-মুগাল্লিস।

ইবনে হিব্বান তাঁকে পূর্বোক্ত ব্যক্তি থেকে আলাদাভাবে ‘আত-থিকাত’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: তিনি ‘আহলুর রায়’ (যুক্তিপন্থী) মাযহাবের অনুসারী ছিলেন, তিনি ভুল করতেন এবং বিরোধিতা করতেন। আল-হাকিম তাঁর ‘আল-মুস্তাদরাক’ গ্রন্থে তাঁর হাদীস উদ্ধৃত করেছেন।

 

•‌‌ বুখারী -‌‌ আহমদ বিন ইসহাক বিন আল-হুসাইন বিন জাবির আস-সুলামী আবু ইসহাক আস-সারমারী।

তাঁর সাহসিকতা দৃষ্টান্ত হিসেবে পেশ করা হতো।

তিনি ইয়ালা বিন উবায়েদ, উসমান বিন উমর বিন ফারিস, উবাইদুল্লাহ বিন মুসা এবং আরও অনেকের থেকে বর্ণনা করেছেন।

তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন ইমাম বুখারী, তাঁর পুত্র আবু সাফওয়ান ইসহাক বিন আহমদ, বকর বিন মুনির, উবাইদুল্লাহ বিন ওয়াসিল এবং আরও একদল বর্ণনাকারী।

আবু সাফওয়ান বলেন: খলীফা আল-মামুন আমার পিতাকে ত্রিশ হাজার দিরহাম দান করেছিলেন, কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করেননি।

তিনি ২৪২ হিজরীর রবিউস সানি মাসের ছয় দিন বাকি থাকতে শনিবার মৃত্যুবরণ করেন।

আমি বলছি: যুদ্ধাভিযান ও সাহসিকতার বিষয়ে তাঁর অনেক কাহিনী রয়েছে। ইবনে হিব্বান তাঁকে ‘আত-থিকাত’ গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেছেন: তিনি যোদ্ধা ছিলেন, তিনি জিহাদে অবিচল থাকার পাশাপাশি ফজিলত ও ইবাদতগুজারির অধিকারী ছিলেন।

ইমাম বুখারী বলেছেন: ইসলামে তাঁর মতো কাউকে জানা নেই।

উবাইদুল্লাহ বিন ওয়াসিল বলেন: আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: আমি নিশ্চিতভাবে জানি যে আমি এক হাজার তুর্কিকে হত্যা করেছি; যদি এটি বিদআত না হতো তবে আমি নির্দেশ দিতাম যেন আমার সাথে আমার তলোয়ারটি দাফন করা হয়।

আমি বলছি: ‘আস-সারমারী’ শব্দটি সীন বর্ণে পেশ (যম্মাহ) এবং রা বর্ণে জযম (সুকুন) দিয়ে পড়তে হয়। ইবনে আস-সামআনী বুখারার একটি গ্রাম ‘সারমারা’র দিকে সম্বন্ধ করে এটি নির্ধারণ করেছেন। আবু আলী আল-গাসসানী সীন বর্ণে যবর (ফাতহা) দিয়ে এটি লিপিবদ্ধ করেছেন এবং আল-মিযযীর হস্তলিপিতেও তেমনই রয়েছে। আর আর-রাশাতি সীন বর্ণে যের (কাসরা) দিয়েও এটি পড়ার কথা উল্লেখ করেছেন।

 

•‌‌ মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ -‌‌ আহমদ বিন ইসহাক বিন জায়েদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আবি ইসহাক আল-হাদরামী আবু ইসহাক আল-বাসরী।

তিনি হাম্মাদ বিন সালামাহ, আব্দুল আজিজ বিন আল-মুখতার, আবু আওয়ানা, হাম্মাম, উহাইব এবং আল-কাত্তান থেকে বর্ণনা করেছেন।

তাঁর থেকে ইব্রাহিম আল-জাওহারী, আবু খাইসামা, আবু শায়বার দুই পুত্র, ইয়াকুব বিন শায়বা, আহমদ বিন আল-হাসান বিন খারাশ, হারিস বিন আবি উসামা এবং আরও অনেকে বর্ণনা করেছেন।

ইমাম আহমদ বলেন: ইনশাআল্লাহ আমার কাছে তিনি সত্যবাদী ছিলেন, কিন্তু ইবনে আকসামের কারণে আমি তাঁকে বর্জন করেছি, কারণ তিনি কোনো একটি বিষয়ে তাঁর সাথে জড়িয়ে পড়েছিলেন।

ইয়াকুব বিন শায়বা, আবু যুরআহ, আবু হাতিম, নাসাঈ এবং মুহাম্মদ বিন সাদ বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য। নাসাঈ আরও বলেছেন: তাঁর মধ্যে কোনো সমস্যা নেই।

ইবনে সাদ বলেন: তিনি ২১১ হিজরীতে বসরার ইন্তেকাল করেন।

আল-মাররুযী ইমাম আহমদ থেকে বর্ণনা করেন: আহমদের মধ্যে কোনো সমস্যা ছিল না।

ইবনে মানজুওয়াইহ বলেন: তিনি তাঁর হাদীস মুখস্থ রাখতেন।

আমি বলছি: এই সূত্রেই ইবনে হিব্বান তাঁকে ‘আত-থিকাত’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং ইবনে মানজুওয়াইহ তাঁর থেকেই তা গ্রহণ করেছেন।

 

•‌‌ আবু দাউদ -‌‌ আহমদ বিন ইসহাক বিন ঈসা আল-আহওয়াযী আল-বাযযায আবু ইসহাক ‘সাহিবুস সিলআহ’।

তিনি হাজ্জাজ বিন নুসায়ের, আবু আহমদ আজ-যুবাইরী, আল-মুকরী এবং আরও অনেকের থেকে বর্ণনা করেছেন।

তাঁর থেকে আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন। ‘আন-নুবল’ গ্রন্থের লেখক উল্লেখ করেছেন যে নাসাঈ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, যদিও আমি তা খুঁজে পাইনি। এছাড়া আল-বাযযার, ইবনে আবিদ দুনিয়া, আবদান আল-জাওয়ালিকী এবং আরও অনেকে বর্ণনা করেছেন।

নাসাঈ বলেছেন: তিনি যোগ্য।

ইবনে আবি আসিম বলেন: তিনি ২৫০ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।

আমি বলছি: পরবর্তী যুগের কেউ কেউ মাসলামাহ বিন কাসিম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাঁকে ‘আস-সুনান’ গ্রন্থে নাসাঈর শায়েখদের মধ্যে উল্লেখ করেছেন। আর নাসাঈ তাঁকে...
(খণ্ড: ١) তাহযিবুত তাহযিব - ত রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ١٦)
شيوخه.

وقال: كتبنا عنه شيئا يسيرا، صدوق لكن لا يلزم منه أنه روى عنه في كتاب السنن.

 

•‌‌ ق -‌‌ أحمد بن إسماعيل بن محمد بن نبيه بن عبد الرحمن السهمي أبو حذافة المدني.

نزيل بغداد.

روى عن مالك الموطأ، وهو آخر من روى عنه من أهل الصدق، ومسلم بن خالد الزنجي، وابن أبي الزناد، وجماعة.

وعنه ابن ماجه، والمعمري، ويعقوب الجصاص، والحسين بن إسماعيل المحاملي، ومحمد بن مخلد، وهو آخر أصحابه.

قال الحاكم أبو أحمد: متروك الحديث.

وقال ابن عدي: حدث عن مالك بالموطأ، وحدث عن غيره بالبواطيل.

وقال الدارقطني: ضعيف الحديث، كان مغفلا أدخلت عليه أحاديث في غير الموطأ فقبلها، لا يحتج به. وقال البرقاني: كان الدارقطني حسن الرأي فيه، وأمرني أن أخرج عنه في الصحيح. وقال المحاملي عن أبيه: سألت أبا مصعب عن أبي حذافة فقال: كان يحضر معنا العرض على مالك.

قال محمد بن مخلد: مات يوم عيد الفطر سنة (359).

قلت: وقال ابن قانع: مات سنة (8).

وقال الخطيب: لم يكن ممن يتعمد الكذب، ولا يدفع عن صحة السماع عن مالك، ولفظ ابن عدي: حدث عن مالك وغيره بالأباطيل، وامتنع ابن صاعد من التحديث عنه مدة.

وقال السراج: سمعت الفضل بن سهل ذكر أبا حذافة فكذبه.

وقال: كل شيء يقول به يقول: حدثني مالك عن نافع عن ابن عمر.

وقال ابن خزيمة: كنت أحدث عنه إلى أن عرض علي من روايته عن مالك ما أنكره قلبي فتركته.

وقال ابن عدي في ترجمة سعد بن سعيد المقبري إثر حديث ذكره: أبو حذافة ضعيف جدا لعل البلاء منه. روى العتيقي عن الدارقطني روى الموطأ عن مالك مستقيما.

وقال ابن حبان: يروي عن الثقات ما ليس يشبه حديث الأثبات.

وقال ابن قانع: كان ضعيفا.

وقال الذهبي: سماعه للموطأ صحيح في الجملة. عمر نحوا من مائة سنة.

 

•‌‌ خ -‌‌ أحمد بن إشكاب الحضرمي أبو عبد الله الصفار الكوفي.

نزيل مصر، وقيل اسم أبيه معمر، وقيل عبيد الله، وقيل اسم إشكاب مجمع.

روى عن محمد بن فضيل، وأبي بكر بن عياش، وشريك، وغيرهم.

وعنه البخاري، وأبو حاتم، وبكر بن سهل الدمياطي، وأبو أمية الطرسوسي، ويعقوب بن سفيان، ويعقوب بن شيبة.

وقال كوفي ثقة. وقال أبو زرعة: صاحب حديث أدركته، ولم أكتب عنه.

وقال أبو حاتم: ثقة مأمون صدوق.

وقال عباس الدوري: كتب عنه يحيى بن معين كثيرا.

وقال البخاري: آخر ما لقيته بمصر سنة (217).

وقال ابن يونس: مات سنة سبع أو ثمان عشرة ومائتين.

قلت: زعم مغلطاي أن الذي في كتاب ابن يونس مات سنة تسع عشرة أو ثمان عشرة، كذا هو في عدة نسخ من التاريخ بتقديم التاء على السين.

وقال العجلي: ثقة. وقال ابن حبان في (الثقات): مات سنة سبع عشرة، ربما أخطأ.

 

•‌‌ بخ -‌‌ أحمد بن أيوب بن راشد الضبي الشعيري البصري.

روى عن عبد الوارث بن سعيد، وشبابة.

وعنه البخاري في (كتاب الأدب)، وأبو زرعة، والحسن بن علي المعمري، وأبو يعلى، وغيرهم.

قلت: وروى عنه عبد الله بن أحمد في زيادات المسند، وذكره ابن حبان في (الثقات) فقال: ربما أغرب، وكناه أبا الحسن.
তাঁর উস্তাদগণ।

এবং তিনি বলেছেন: আমরা তাঁর থেকে সামান্য কিছু লিখেছি, তিনি সত্যবাদী কিন্তু এর থেকে এটি আবশ্যক হয় না যে তিনি তাঁর থেকে সুনান গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

 

•‌‌ ক -‌‌ আহমদ বিন ইসমাঈল বিন মুহাম্মদ বিন নাবিহ বিন আব্দুর রহমান আস-সাহমি আবু হুজাফাহ আল-মাদানি।

বাগদাদের অধিবাসী।

তিনি মালিকের নিকট থেকে মুওয়াত্তা বর্ণনা করেছেন, আর তিনি সত্যবাদীদের মধ্যে মালিক থেকে বর্ণনা করা সর্বশেষ ব্যক্তি। এছাড়া তিনি মুসলিম বিন খালিদ আজ-জানজি, ইবনুল আবিজ জিনাদ এবং এক জামাত থেকে বর্ণনা করেছেন।

তাঁর থেকে ইবনে মাজাহ, আল-মামারি, ইয়াকুব আল-জাসাস, আল-হুসাইন বিন ইসমাঈল আল-মাহামিলি এবং মুহাম্মদ বিন মাখলাদ বর্ণনা করেছেন, আর তিনি তাঁর ছাত্রদের মধ্যে সর্বশেষ ব্যক্তি।

আল-হাকিম আবু আহমদ বলেছেন: তিনি মাতরুকুল হাদিস (পরিত্যক্ত হাদিস বর্ণনাকারী)।

ইবনে আদি বলেছেন: তিনি মালিক থেকে মুওয়াত্তা বর্ণনা করেছেন, তবে অন্যদের থেকে অনেক বাতিল হাদিস বর্ণনা করেছেন।

আদ-দারাকুতনি বলেছেন: তিনি হাদিসে দুর্বল, তিনি অসতর্ক ছিলেন, মুওয়াত্তা ব্যতীত অন্যান্য হাদিস তাঁর বর্ণনায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি সেগুলো গ্রহণ করেছিলেন, তাঁর দ্বারা দলিল গ্রহণ করা যাবে না। আল-বারকানি বলেছেন: আদ-দারাকুতনি তাঁর ব্যাপারে সুধারণা পোষণ করতেন এবং আমাকে তাঁর থেকে সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আল-মাহামিলি তাঁর পিতার সূত্রে বলেন: আমি আবু মুসআবকে আবু হুজাফাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: তিনি মালিকের কাছে আমাদের সাথে পড়ার মজলিসে উপস্থিত থাকতেন।

মুহাম্মদ বিন মাখলাদ বলেছেন: তিনি ৩৫০ হিজরির ঈদুল ফিতরের দিন মৃত্যুবরণ করেন।

আমি বলছি: ইবনে কানি' বলেছেন: তিনি ৮ হিজরিতে (সম্ভবত ২৫৮ বা ৩০৮) মৃত্যুবরণ করেন।

আল-খতিব বলেছেন: তিনি ইচ্ছা করে মিথ্যা বলার মতো লোক ছিলেন না এবং মালিকের থেকে তাঁর শ্রবণের বিশুদ্ধতাকে অস্বীকার করা যায় না। ইবনে আদির শব্দ হচ্ছে: তিনি মালিক ও অন্যদের থেকে বাতিল হাদিস বর্ণনা করতেন। ইবনে সায়েদ এক সময় তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করা থেকে বিরত ছিলেন।

আস-সাররাজ বলেছেন: আমি ফজল বিন সাহলকে আবু হুজাফাহ সম্পর্কে আলোচনা করতে শুনেছি এবং তিনি তাঁকে মিথ্যাবাদী বলেছেন।

তিনি বলেছেন: তিনি যা কিছুই বলতেন, বলতেন যে মালিক আমাকে নাফি' থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন।

ইবনে খুজাইমাহ বলেছেন: আমি তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করতাম যতক্ষণ না মালিকের সূত্রে তাঁর এমন কিছু বর্ণনা আমার কাছে আসলো যা আমার অন্তর প্রত্যাখ্যান করল, তখন আমি তা ছেড়ে দিলাম।

ইবনে আদি সা'দ বিন সাঈদ আল-মাকবুরির জীবনীতে একটি হাদিস উল্লেখ করার পর বলেছেন: আবু হুজাফাহ অত্যন্ত দুর্বল, সম্ভবত সমস্যাটি তাঁর পক্ষ থেকেই। আল-আতিকি আদ-দারাকুতনির সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি মালিক থেকে মুওয়াত্তা সঠিকভাবেই বর্ণনা করেছেন।

ইবনে হিব্বান বলেছেন: তিনি বিশ্বস্ত বর্ণনাকারীদের সূত্রে এমন সব বিষয় বর্ণনা করেন যা নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের হাদিসের মতো নয়।

ইবনে কানি' বলেছেন: তিনি দুর্বল ছিলেন।

আয-যাহাবি বলেছেন: সাধারণভাবে মুওয়াত্তা সম্পর্কে তাঁর শ্রবণ বিশুদ্ধ। তিনি প্রায় একশ বছর বেঁচে ছিলেন।

 

•‌‌ খ -‌‌ আহমদ বিন ইশকিব আল-হাদরামি আবু আব্দুল্লাহ আস-সাফফার আল-কুফি।

মিশরের অধিবাসী, বলা হয় তাঁর পিতার নাম মা'মার, আবার কেউ বলেন ওবায়দুল্লাহ, আর ইশকিবের নাম মুজাম্মি বলেও উল্লেখ করা হয়।

তিনি মুহাম্মদ বিন ফুদাইল, আবু বকর বিন আইয়াশ, শারিক এবং অন্যান্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন।

তাঁর থেকে বুখারি, আবু হাতিম, বকর বিন সাহল আদ-দামিয়াতি, আবু উমাইয়াহ আত-তারসুসি, ইয়াকুব বিন সুফিয়ান এবং ইয়াকুব বিন শায়বাহ বর্ণনা করেছেন।

এবং বলা হয়েছে তিনি কুফি ও নির্ভরযোগ্য। আবু জুরআহ বলেছেন: তিনি হাদিসের বিশেষজ্ঞ ছিলেন, আমি তাঁকে পেয়েছি কিন্তু তাঁর থেকে কিছু লিখিনি।

আবু হাতিম বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য, আমানতদার ও সত্যবাদী।

আব্বাস আদ-দুরি বলেছেন: ইয়াহইয়া বিন মাঈন তাঁর থেকে অনেক লিখেছেন।

বুখারি বলেছেন: তাঁর সাথে আমার শেষ দেখা হয়েছিল মিশরে ২১৭ হিজরিতে।

ইবনে ইউনুস বলেছেন: তিনি ২১৭ বা ২১৮ হিজরিতে মারা গেছেন।

আমি বলছি: মুগলতাই দাবি করেছেন যে ইবনে ইউনুসের কিতাবে মৃত্যুসন ২১৯ বা ২১৮ হিজরি রয়েছে, ইতিহাসের বেশ কিছু পাণ্ডুলিপিতে 'তা' (৯ এর জন্য) অক্ষরকে 'সিন' (৭ এর জন্য)-এর আগে উল্লেখ করা হয়েছে।

আল-ইজলি বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য। ইবনে হিব্বান 'আস-সিকাত' গ্রন্থে বলেছেন: তিনি ২১৭ হিজরিতে মারা গেছেন, মাঝে মাঝে তিনি ভুল করতেন।

 

•‌‌ بخ -‌‌ আহমদ বিন আইয়ুব বিন রাশিদ আদ-দব্বি আশ-শুয়াইরি আল-বাসরি।

তিনি আব্দুল ওয়ারিস বিন সাঈদ এবং শাবাবাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।

তাঁর থেকে বুখারি (কিতাবুল আদব-এ), আবু জুরআহ, আল-হাসান বিন আলী আল-মামারি, আবু ইয়ালা এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।

আমি বলছি: আব্দুল্লাহ বিন আহমদ 'জাওয়াইদুল মুসনাদ'-এ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে হিব্বান তাঁকে 'আস-সিকাত' গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেছেন: মাঝে মাঝে তিনি অপরিচিত বর্ণনা করতেন, আর তাঁর উপনাম দিয়েছেন আবু হাসান।
(খণ্ড: ١) তাহযিবুত তাহযিব - ত রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ١٧)
•‌‌ ت ق -‌‌ أحمد بن بديل بن قريش بن بديل بن الحارث أبو جعفر اليامي. قاضي الكوفة وهمذان.

روى عن أبي بكر بن عياش، وحفص بن غياث، وابن نمير، ووكيع، وأبي أسامة، وابن إدريس، وغيرهم.

روى عنه الترمذي، وابن ماجه، وإبراهيم بن دينار صاحبه، وعلي بن عيسى بن الجراح الوزير، وابن صاعد، وأبو بكر صاحب أبي صخرة، وجماعة.

قال النسائي: لا بأس به.

وقال ابن أبي حاتم: محله الصدق.

وقال ابن عقدة: رأيت إبراهيم بن إسحاق الصواف، ومحمد بن عبد الله بن سليمان، وداود بن يحيى لا يرضونه.

وقال ابن عدي: حدث عن حفص بن غياث وغيره أحاديث أنكرت عليه، وهو ممن يكتب حديثه على ضعفه.

وقال الدارقطني: لين.

وقال صالح جزرة: كان يسمى راهب الكوفة فلما تقلد القضاء قال: خذلت على كبر السن.

وقال النضر قاضي همذان: حدثنا أحمد بن بديل عن حفص بن غياث، عن عبيد الله، عن نافع، عن ابن عمر رضي الله عنهما، أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يقرأ في المغرب: (قل يا أيها الكافرون)، و (قل هو الله أحد). فذكرته لأبي زرعة فقال: من حدثك؟ قلت: ابن بديل. قال: شر له.

وقال الدارقطني: تفرد به أحمد عن حفص.

قال مطين: مات (258).

قلت: ذكره النسائي في أسماء شيوخه، وذكره ابن حبان في (الثقات) وقال: مستقيم الحديث.

 

•‌‌ ‌‌أحمد بن بشر هو ابن أبي عبيد الله. يأتي.

 

•‌‌ خ ت ق -‌‌ أحمد بن بشير القرشي المخزومي مولى عمرو بن حريث.

ويقال: الهمداني أبو بكر الكوفي، قدم بغداد.

روى عن هشام بن عروة، وهاشم بن هاشم الزهري، وابن شبرمة، وعبد الله بن عمر، وإسماعيل بن خالد، وغيرهم.

روى عنه الحسن بن عرفة، وأبو موسى، ومحمد بن سلام، وأبو سعيد الأشج، ويوسف بن موسى، وغيرهم.

قال ابن معين: لم يكن به بأس، وكان يقين. وقال عثمان الدارمي قلت لابن معين: عطاء بن المبارك تعرفه؟ قال: من يروي عنه؟ قلت: ذاك الشيخ أحمد بن بشير، فتعجب وقال لا أعرفه.

قال عثمان: أحمد كان من أهل الكوفة ثم قدم بغداد، وهو متروك.

قال الخطيب: ليس أحمد بن بشير مولى عمرو بن حريث هو الذي روى عن عطاء بن المبارك ذاك بغدادي، وأما مولى عمرو بن حريث فليست حاله الترك، وإنما له أحاديث تفرد بروايتها، وقد كان موصوفا بالصدق.

وقال ابن نمير: كان صدوقا حسن المعرفة بأيام الناس حسن الفهم، إنما وضعه عند الناس الشعوبية.

وقال أبو زرعة: صدوق.

وقال أبو حاتم: محله الصدق.

وقال النسائي: ليس بذاك القوي.

وقال أبو بكر بن أبي داود: كان ثقة كثير الحديث ذهب حديثه فكان لا يحدث.

وقال الدارقطني: ضعيف يعتبر بحديثه، وأورد له ابن عدي حديثين منكرين قال: وله أحاديث أخر قريبة من هذين.

قال مطين: أخبرت أنه مات سنة (197) زاد غيره في المحرم.

قلت: الشعوبية هم الذين يفضلون العجم على العرب، وقوله يقين أي يبيع القينات.

وقال ابن الجارود: تغير، وليس حديثه بشيء.

وقال العقيلي: ضعيف، ونقل أبو العرب عن النسائي أنه قال: ليس به بأس.

 

•‌‌ تمييز -‌‌ أحمد بن بشير البغدادي أبو جعفر المؤدب.

هو الذي أشار الخطيب إليه.

روى عن عطاء بن المبارك.

وعنه ابن أبي الدنيا.

 

•‌‌ س -‌‌ أحمد بن بكار بن أبي ميمونة، واسمه زيد
তি. কা. - আহমাদ বিন বাদিল বিন কুরাইশ বিন বাদিল বিন আল-হারিস আবু জাফর আল-ইয়ামি। তিনি কুফা ও হামাদানের বিচারক ছিলেন।

তিনি আবু বকর বিন আইয়াশ, হাফস বিন গিয়াছ, ইবনে নুমাইর, ওয়াকি, আবু উসামাহ, ইবনে ইদ্রিস এবং আরও অনেকের থেকে বর্ণনা করেছেন।

তাঁর থেকে তিরমিজি, ইবনে মাজাহ, তাঁর সঙ্গী ইব্রাহিম বিন দিনার, উজির আলি বিন ঈসা বিন আল-জাররাহ, ইবনে সায়েদ, আবু সাখরার সঙ্গী আবু বকর এবং একটি জামাত বর্ণনা করেছেন।

আন-নাসায়ি বলেছেন: তাঁর মধ্যে কোনো সমস্যা নেই।

ইবনে আবি হাতিম বলেছেন: তিনি সত্যবাদিতার স্তরের।

ইবনে উকদাহ বলেছেন: আমি ইব্রাহিম বিন ইসহাক আস-সাফওয়াফ, মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন সুলাইমান এবং দাউদ বিন ইয়াহইয়াকে দেখেছি যে, তারা তাঁকে পছন্দ করতেন না।

ইবনে আদি বলেছেন: তিনি হাফস বিন গিয়াছ এবং অন্যদের থেকে এমন কিছু হাদিস বর্ণনা করেছেন যা তাঁর ব্যাপারে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে, আর তিনি তাঁর দুর্বলতা সত্ত্বেও এমন ব্যক্তি যার হাদিস লিখে রাখা হয়।

আদ-দারা কুতনি বলেছেন: শিথিল।

সালিহ জাযারাহ বলেছেন: তাঁকে 'কুফার সংসারত্যাগী' বলা হতো, অতঃপর যখন তিনি বিচারকের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন তখন বললেন: বার্ধক্যে আমি লাঞ্ছিত হলাম।

হামাদানের বিচারক আন-নাদর বলেছেন: আমাদের নিকট আহমাদ বিন বাদিল বর্ণনা করেছেন হাফস বিন গিয়াছ থেকে, তিনি উবাইদুল্লাহ থেকে, তিনি নাফি থেকে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে যে, নবী (সা.) মাগরিবের নামাজে পাঠ করতেন: (কুল ইয়া আইয়ুহাল কাফিরুন) এবং (কুল হুয়াল্লাহু আহাদ)। আমি এটি আবু যুরআহর নিকট উল্লেখ করলে তিনি বললেন: তোমার কাছে এটি কে বর্ণনা করেছেন? আমি বললাম: ইবনে বাদিল। তিনি বললেন: এটি তাঁর জন্য অমঙ্গলকর।

আদ-দারা কুতনি বলেছেন: হাফস থেকে আহমাদ এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন।

মুতাইন বলেছেন: তিনি (২৫৮) হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

আমি বলছি: আন-নাসায়ি তাঁর উস্তাদদের তালিকায় তাঁর নাম উল্লেখ করেছেন এবং ইবনে হিব্বান তাঁকে (আস-সিকাত) গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেছেন: তাঁর হাদিস সঠিক।

 

•‌‌ ‌‌আহমাদ বিন বিশর তিনি হলেন ইবনে আবি উবাইদুল্লাহ। তাঁর আলোচনা সামনে আসবে।

 

•‌‌ খা. তি. কা. -‌‌ আহমাদ বিন বাশির আল-কুরাশি আল-মাখজুমি তিনি আমর বিন হুরাইসের মুক্তদাস।

বলা হয়: আল-হামদানি আবু বকর আল-কুফি, তিনি বাগদাদে এসেছিলেন।

তিনি হিশাম বিন উরওয়াহ, হাশিম বিন হাশিম আজ-জুহরি, ইবনে শুবরুমাহ, আব্দুল্লাহ বিন উমর, ইসমাইল বিন খালিদ এবং অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন।

তাঁর থেকে হাসান বিন আরাফাহ, আবু মুসা, মুহাম্মদ বিন সালাম, আবু সাঈদ আল-আশাজ, ইউসুফ বিন মুসা এবং অন্যরা বর্ণনা করেছেন।

ইবনে মাঈন বলেছেন: তাঁর মধ্যে কোনো সমস্যা ছিল না, এবং তিনি গায়িকা দাসী বিক্রয়কারী ছিলেন। উসমান আদ-দারিমি বলেন, আমি ইবনে মাঈনকে জিজ্ঞাসা করলাম: আপনি কি আতা বিন আল-মুবারককে চেনেন? তিনি বললেন: তাঁর থেকে কে বর্ণনা করে? আমি বললাম: ওই শেখ আহমাদ বিন বাশির। তিনি আশ্চর্য হয়ে বললেন, আমি তাঁকে চিনি না।

উসমান বলেছেন: আহমাদ কুফার অধিবাসী ছিলেন, তারপর বাগদাদে আসেন, তিনি বর্জনীয় (মাতরুক)।

আল-খাতিব বলেছেন: আমর বিন হুরাইসের মুক্তদাস আহমাদ বিন বাশির সেই ব্যক্তি নন যিনি আতা বিন আল-মুবারক থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি ছিলেন বাগদাদি। আর আমর বিন হুরাইসের মুক্তদাসের অবস্থা বর্জনীয় নয়, বরং তাঁর কিছু হাদিস আছে যা তিনি এককভাবে বর্ণনা করেছেন, এবং তিনি সত্যবাদিতার গুণে গুণান্বিত ছিলেন।

ইবনে নুমাইর বলেছেন: তিনি সত্যবাদী ছিলেন, মানুষের ইতিহাস ও ঘটনাবলি সম্পর্কে তাঁর উত্তম জ্ঞান ও প্রজ্ঞা ছিল; মূলত শুউবিয়া মতাদর্শই তাঁকে মানুষের দৃষ্টিতে হেয় করেছে।

আবু যুরআহ বলেছেন: সত্যবাদী।

ইবনে আবি হাতিম বলেছেন: তিনি সত্যবাদিতার স্তরের।

আন-নাসায়ি বলেছেন: তিনি ততটা শক্তিশালী নন।

আবু বকর বিন আবি দাউদ বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য এবং অনেক হাদিসের অধিকারী ছিলেন, তবে তাঁর হাদিস হারিয়ে গিয়েছিল বিধায় তিনি হাদিস বর্ণনা করতেন না।

আদ-দারা কুতনি বলেছেন: তিনি দুর্বল, তবে তাঁর হাদিস পর্যালোচনার জন্য গ্রহণ করা যায়। ইবনে আদি তাঁর থেকে দুটি প্রত্যাখ্যাত হাদিস উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: তাঁর আরও কিছু হাদিস আছে যা এই দুটির কাছাকাছি।

মুতাইন বলেছেন: আমাকে জানানো হয়েছে যে তিনি (১৯৭) সালে মৃত্যুবরণ করেছেন। অন্যজন যোগ করেছেন যে এটি ছিল মহররম মাস।

আমি বলছি: শুউবিয়া হলো তারা যারা আরবদের ওপর অনারবদের শ্রেষ্ঠত্ব দেয়। আর তাঁর সম্পর্কে বলা 'ইয়াকিন' শব্দের অর্থ হলো—তিনি গায়িকা দাসী বিক্রয় করতেন।

ইবনে আল-জারুদ বলেছেন: তিনি পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছিলেন, তাঁর হাদিস গ্রহণযোগ্য কিছু নয়।

আল-উকাইলি বলেছেন: দুর্বল। আবু আল-আরব আন-নাসায়ি থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: তাঁর মধ্যে কোনো সমস্যা নেই।

 

•‌‌ পার্থক্যকারী -‌‌ আহমাদ বিন বাশির আল-বাগদাদি আবু জাফর আল-মুয়াদ্দিব।

তিনিই সেই ব্যক্তি যার দিকে আল-খাতিব ইশারা করেছেন।

তিনি আতা বিন আল-মুবারক থেকে বর্ণনা করেছেন।

এবং তাঁর থেকে ইবনে আবিদ দুনিয়া বর্ণনা করেছেন।

 

•‌‌ সি. -‌‌ আহমাদ বিন বাক্কার বিন আবি মাইমুনাহ, এবং তাঁর নাম যায়িদ।
(খণ্ড: ١) তাহযিবুত তাহযিব - ত রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ١٨)
القرشي الأموي، مولاهم أبو عبد الرحمن الحضرمي الحراني.

روى عن مخلد بن يزيد، وأبي سعيد مولى بني هاشم، ووكيع، وأبي معاوية، وغيرهم.

روى عنه النسائي وقال: لا بأس به، وأبو عروبة، وأبو بكر الباغندي، وغيرهم.

وقال أبو زيد يحيى بن روح الحراني: سألت أبا عبد الرحمن بن بكار - حراني من الحفاظ ثقة، وكان مخلد بن يزيد يسأله: لم لا تكتب عن يعلى بن الأشدق؟ فذكر قصة.

قال أبو عروبة: مات في صفر سنة (244).

قلت: وذكره ابن حبان في الثقات.

 

•‌‌ ت ق س(1) -‌‌ أحمد بن بكار الدمشقي هو أحمد بن عبد الرحمن بن بكار. يأتي.

 

•‌‌ تمييز -‌‌ أحمد بن بكار الباهلي.

عن عمران بن عيينة.

وعنه عبد الله بن قحطبة، وغيره.

قال ابن حبان في الثقات: مستقيم الحديث.

 

وقال أحمد بن الحسين الصوفي الصغير: حدثنا أبو هانئ أحمد بن بكار الباهلي، وكان سيد أهل البصرة، ذكرته للتمييز.

 

•‌‌ ع -‌‌ أحمد بن أبي بكر.

واسمه القاسم بن الحارث بن زرارة بن مصعب بن عبد الرحمن بن عوف أبو مصعب الزهري المدني.

روى عن مالك الموطأ، والدراوردي، وابن أبي حازم، والمغيرة بن عبد الرحمن، ومحمد بن إبراهيم بن دينار، وجماعة.

روى عنه الجماعة لكن النسائي بواسطة خياط السنة، وأبو إسحاق الهاشمي رواية الموطأ عنه، وبقي بن مخلد، وأبو زرعة، وأبو حاتم وقالا: صدوق، والذهلي، وزكريا السجزي، وعبد الله بن أحمد، وغيرهم.

قال الزبير بن بكار: مات وهو فقيه أهل المدينة غير مدافع.

قال السراج: مات في رمضان سنة (242)، وله (92) سنة.

قلت: وكذا ذكر البخاري، وابن أبي عاصم وفاته.

وقال صاحب الميزان: ما أدري ما معنى قول أبي خيثمة لابنه: لا تكتب عن أبي مصعب، واكتب عمن شئت انتهى، ويحتمل أن يكون مراد أبي خيثمة دخوله في القضاء أو إكثاره من الفتوى بالرأي.

وقال الحاكم: كان فقيها متقشفا عالما بمذاهب أهل المدينة، وكذا ذكر ابن حبان في الثقات.

وقال ابن حزم في موطئه زيادة على مائة حديث، وقدمه الدارقطني في الموطأ على يحيى بن بكير.

 

•‌‌ ق -‌‌ أحمد بن ثابت الجحدري أبو بكر البصري.

روى عن سفيان بن عيينة، وعبد الوهاب الثقفي، وغندر، والقطان، وغيرهم.

روى عنه ابن ماجه، والبخاري في التاريخ، وابن صاعد، وأبو عروبة، وعمر بن بجير، وابن خزيمة، وأبو بكر بن أبي داود، وغيرهم.

كان حيا في سنة (250).

قلت: قال ابن حبان في الثقات: كان مستقيم الأمر في الحديث، وذكره أبو علي الغساني في شيوخ (د) وقال: إنه روى عنه في كتاب بدء الوحي له.

 

•‌‌ م -‌‌ أحمد بن جعفر المعقري أبو الحسن.

نزيل مكة، ومعقر ناحية من اليمن.

روى عن النضر بن محمد، وإسماعيل بن عبد الكريم بن معقل بن منبه.

وعنه مسلم، والمفضل بن محمد الجندي،

--------------------------------------------

(1) رقم النسائي أثبته الحافظ أيضًا في ترجمته الآتية، ولم يثبته في "التقريب"، وقال المزي: لم أقف على رواية النسائي عنه. انظر "تهذيب الكمال" 1/ 278.
আল-কুরাইশি আল-উমাবি, তাদের মুক্ত করা গোলাম আবু আব্দুর রহমান আল-হাদরামি আল-হাররানি।

তিনি মাখলাদ ইবনে ইয়াজিদ, আবু সাঈদ মাওলা বনু হাশিম, ওয়াকি, আবু মুয়াবিয়া এবং আরও অনেকের থেকে বর্ণনা করেছেন।

তাঁর থেকে নাসায়ি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: "এতে কোনো সমস্যা নেই"; আরও বর্ণনা করেছেন আবু আরুবাহ, আবু বকর আল-বাগান্দি এবং অন্যান্যরা।

আবু জায়েদ ইয়াহইয়া ইবনে রুহ আল-হাররানি বলেন: আমি আবু আব্দুর রহমান ইবনে বাক্কারকে জিজ্ঞেস করেছিলাম—যিনি হাররানের একজন হাফেজ ও নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী ছিলেন এবং মাখলাদ ইবনে ইয়াজিদ তাকে জিজ্ঞেস করতেন: "আপনি কেন ইয়ালা ইবনুল আশদাক থেকে (হাদিস) লিখছেন না?" এরপর তিনি একটি ঘটনা উল্লেখ করলেন।

আবু আরুবাহ বলেন: তিনি ২৪৪ হিজরির সফর মাসে মৃত্যুবরণ করেন।

আমি বলছি: ইবনে হিব্বান তাকে 'আস-সিকাত' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

 

•‌‌ ত ক স(১) -‌‌ আহমদ ইবনে বাক্কার আদ-দিমাশকি তিনি হলেন আহমদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে বাক্কার। সামনে তার আলোচনা আসবে।

 

•‌‌ পার্থক্যকরণ -‌‌ আহমদ ইবনে বাক্কার আল-বাহিলি।

ইমরান ইবনে উয়াইনা থেকে বর্ণিত।

তাঁর থেকে আব্দুল্লাহ ইবনে কাহতাবা ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।

ইবনে হিব্বান 'আস-সিকাত' গ্রন্থে বলেছেন: তাঁর হাদিস সঠিক ও সুসংগত।

 

আহমদ ইবনে হুসাইন আস-সুফি আস-সাগির বলেন: আমাদের কাছে আবু হানি আহমদ ইবনে বাক্কার আল-বাহিলি বর্ণনা করেছেন, তিনি ছিলেন বসরাবাসীদের নেতা। আমি তাকে (অন্যদের থেকে) আলাদা করার জন্য এখানে উল্লেখ করেছি।

 

•‌‌ আ -‌‌ আহমদ ইবনে আবি বকর।

তাঁর নাম কাসিম ইবনুল হারিস ইবনে জুরারাহ ইবনে মুসআব ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আউফ আবু মুসআব আজ-জুহরি আল-মাদানি।

তিনি ইমাম মালিকের নিকট থেকে 'মুয়াত্তা', আদ-দারাওয়ারদি, ইবনে আবি হাজিম, আল-মুগিরা ইবনে আব্দুর রহমান, মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে দিনার এবং একদল বর্ণনাকারী থেকে বর্ণনা করেছেন।

তাঁর থেকে 'আল-জামাআহ' (ছয় কিতাবের ইমামগণ) বর্ণনা করেছেন, তবে নাসায়ি বর্ণনা করেছেন 'খাইয়াত আস-সুন্নাহ'র মাধ্যমে; আর আবু ইসহাক আল-হাশেমি তাঁর থেকে 'মুয়াত্তা' বর্ণনা করেছেন। এছাড়াও বাকি ইবনে মাখলাদ, আবু জুরআহ ও আবু হাতিম বর্ণনা করেছেন এবং তাঁরা বলেছেন: "তিনি সত্যবাদী (সাদুক)"; আরও বর্ণনা করেছেন আজ-জুহলি, জাকারিয়া আস-সিজজি, আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ এবং অন্যান্যরা।

জুবায়ের ইবনে বাক্কার বলেন: তিনি যখন মৃত্যুবরণ করেন, তখন তিনি ছিলেন মদিনাবাসীদের অবিসংবাদিত ফকিহ।

আস-সাররাজ বলেন: তিনি ২৪২ হিজরির রমজান মাসে ৯২ বছর বয়সে মারা যান।

আমি বলছি: ইমাম বুখারি এবং ইবনে আবি আসিমও তাঁর মৃত্যুর কথা এভাবেই উল্লেখ করেছেন।

'মিজান' (আল-ইতিদাল) প্রণেতা বলেন: আবু খাইসামা তাঁর ছেলেকে কেন বলেছিলেন, "আবু মুসআব থেকে লিখো না, বরং তোমার যাকে ইচ্ছা তার থেকে লিখো"—এর অর্থ আমি জানি না। হতে পারে আবু খাইসামার উদ্দেশ্য ছিল তাঁর বিচারকার্যে (কাজিত্ব) প্রবেশ করা অথবা ব্যক্তিগত রায়ের ভিত্তিতে বেশি ফতোয়া প্রদান করা।

আল-হাকিম বলেন: তিনি ছিলেন একজন সংযমী ফকিহ এবং মদিনাবাসীদের মাযহাব সম্পর্কে অভিজ্ঞ। ইবনে হিব্বানও 'আস-সিকাত' গ্রন্থে একইভাবে উল্লেখ করেছেন।

ইবনে হাজম বলেন, তাঁর বর্ণনাকৃত 'মুয়াত্তা'য় একশরও বেশি অতিরিক্ত হাদিস আছে। আদ-দারাকুতনি মুয়াত্তার বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁকে ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর-এর ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন।

 

•‌‌ ক -‌‌ আহমদ ইবনে সাবিত আল-জাহদারি আবু বকর আল-বাসরি।

তিনি সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা, আব্দুল ওয়াহহাব আস-সাকাফি, গুনদার, আল-কাত্তান ও অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন।

তাঁর থেকে ইবনে মাজাহ, ইমাম বুখারি তাঁর 'তারিখ' গ্রন্থে, ইবনে সায়েদ, আবু আরুবাহ, উমর ইবনে বুজাইর, ইবনে খুজাইমাহ, আবু বকর ইবনে আবি দাউদ ও আরও অনেকে বর্ণনা করেছেন।

তিনি ২৫০ হিজরি পর্যন্ত জীবিত ছিলেন।

আমি বলছি: ইবনে হিব্বান 'আস-সিকাত' গ্রন্থে বলেছেন: তিনি হাদিসের ক্ষেত্রে সঠিক ও সুসংহত ছিলেন। আবু আলী আল-গাসসানি তাকে আবু দাউদ-এর উস্তাদদের মধ্যে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: তিনি (আবু দাউদ) তাঁর থেকে 'বাদউল ওয়াহি' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

 

•‌‌ ম -‌‌ আহমদ ইবনে জাফর আল-মুয়াক্কিরি আবুল হাসান।

তিনি মক্কায় বসবাস করতেন, আর 'মুয়াক্কার' হলো ইয়ামেনের একটি অঞ্চল।

তিনি আন-নাদর ইবনে মুহাম্মদ এবং ইসমাইল ইবনে আব্দুল কারিম ইবনে মাকিল ইবনে মুনাব্বিহ থেকে বর্ণনা করেছেন।

তাঁর থেকে মুসলিম ও আল-মুফাদদাল ইবনে মুহাম্মদ আল-জানদি বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) নাসায়ির সংকেতটি হাফেজ (ইবনে হাজার) তাঁর পরবর্তী জীবনীতেও যুক্ত করেছেন, কিন্তু 'তাকরিব' গ্রন্থে তা উল্লেখ করেননি। আল-মিজ্জি বলেছেন: আমি তাঁর থেকে নাসায়ির কোনো বর্ণনা পাইনি। দেখুন: 'তাহজিবুল কামাল' ১/২৭৮।
(খণ্ড: ١) তাহযিবুত তাহযিব - ত রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ١٩)
ومحمد بن إسحاق بن العباس الفاكهي المكي.

كان حيا سنة (255)، وذكر عبد الغني في ترجمته أنه روى عن سعيد بن بشير، وقيس بن الربيع، وهو وهم، فإنه لم يدركهما.

قلت: إنما روى عن النضر عنهما.

وقال اللالكائي: يكنى أبا أحمد.

 

•‌‌ تمييز -‌‌ أحمد بن جعفر الحلواني البزاز.

روى عن جعفر بن عون، وأبي عاصم.

قال ابن حبان في (الثقات): حدثنا عنه محمد بن المسيب، وهو مستقيم الأمر في الحديث.

 

•‌‌ م د س -‌‌ أحمد بن جناب بن المغيرة المصيصي أبو الوليد الحدثي.

يقال إنه بغدادي الأصل.

روى عن عيسى بن يونس، والحكم بن ظهير، وغيرهما.

وعنه مسلم، وأبو داود، والنسائي بواسطة، ويعقوب بن شيبة، وصاعقة، وأبو زرعة، وعثمان بن خرزاذ، والدراوردي، وكتب عنه أحمد بن حنبل، وابنه عبد الله، وآخر من روى عنه أحمد بن الحسن بن عبد الجبار الصوفي.

قال صالح جزرة: صدوق.

وقال ابن أبي عاصم: مات سنة (230).

قلت: نقل الذهبي أن آخر من روى عنه أبو يعلى الموصلي.

وقال الحاكم: ثقة.

وذكره ابن حبان في الثقات.

وقال ابن أبي حاتم: روى عنه أبي وقال هو صدوق.

 

•‌‌ م د -‌‌ أحمد بن جواس الحنفي أبو عاصم الكوفي.

روى عن أبي الأحوص، وعبد الله بن إدريس، وابن المبارك، وأبي معاوية، وأبي بكر بن عياش، وغيرهم.

روى عنه مسلم، وأبو داود، وأبو زرعة، وابن وارة، وأحسن الثناء عليه، وأبو بكر الأثرم، والحسن بن سفيان، وغيرهم.

قال مطين: مات لثلاث خلون من المحرم سنة (238) ثقة.

قلت: وذكره ابن حبان في الثقات، وروى عنه بقي بن مخلد، وقد قال: إنه لم يحدث إلا عن ثقة.

 

•‌‌ تمييز -‌‌ أحمد بن جواس الأستوائي أبو جعفر.

روى عن يحيى بن يحيى، وإسماعيل بن أبي أويس، وغيرهما.

وعنه أبو محمد بن الشرقي، وموسى بن العباس الجويني.

ذكره الحاكم في تاريخ نيسابور. ذكر للتمييز.

 

•‌‌ خ -‌‌ أحمد بن الحجاج البكري الذهلي الشيباني أبو العباس المروزي.

روى عن أبي ضمرة، وحاتم بن إسماعيل، وابن عيينة، والدراوردي، وابن مهدي، وغيرهم.

وعنه البخاري، وإبراهيم الحربي، والدارمي، وعلي بن عبد العزيز، وجماعة.

قال الخطيب: قدم بغداد، وحدث بها فأثنى عليه أحمد.

وقال ابن أبي خثيمة: كان رجل صدق.

قال البخاري: مات يوم عاشوراء سنة (222).

قلت: وذكره ابن حبان في (الثقات).

 

•‌‌ س -‌‌ أحمد بن حرب بن محمد بن علي بن حيان بن مازن بن الغضوبة الطائي أبو علي. ويقال أبو بكر الموصلي أخو علي، ولجده مازن صحبة.

روى عن ابن عيينة، وأبي معاوية، وابن إدريس، وابن فضيل، والمحاربي، وابن علية، وغيرهم.

روى عنه النسائي، وأخوه علي، وعبد الرحمن ابن أخي الإمام، ومكحول البيروتي، وأبو بكر بن أبي داود، وغيرهم.

قال النسائي: لا بأس به، وهو أحب إلي من أخيه علي.

وقال ابن أبي حاتم: أدركته، ولم أكتب عنه، وكان صدوقا.

وقال صاحب تاريخ الموصل: هجره أخوه علي لمسألة اللفظ، وقد شارك عليا في شيوخه، وتفرد عنه بابن علية فإن عليا لم يسمع منه.
এবং মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন আব্বাস আল-ফাকিহি আল-মাক্কি।

তিনি (হিজরি) ২৫৫ সালে জীবিত ছিলেন। আব্দুল গনি তার জীবনীতে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি সাঈদ বিন বাশির এবং কায়েস বিন রাবি' থেকে বর্ণনা করেছেন; কিন্তু এটি একটি ভুল ধারণা, কারণ তিনি তাদের সাক্ষাৎ পাননি।

আমি বলছি: তিনি মূলত তাদের দুজনের থেকে নাদরের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন।

আল-লালকায়ী বলেছেন: তার উপনাম ছিল আবু আহমদ।

 

•‌‌ পার্থক্যকারী -‌‌ আহমদ বিন জাফর আল-হুলওয়ানি আল-বাজ্জাজ।

তিনি জাফর বিন আওন এবং আবু আসিম থেকে বর্ণনা করেছেন।

ইবনে হিব্বান 'আস-সিকাত' গ্রন্থে বলেছেন: মুহাম্মদ বিন আল-মুসাইয়িব আমাদের নিকট তার থেকে বর্ণনা করেছেন, এবং হাদিসের ক্ষেত্রে তার অবস্থা সঠিক।

 

•‌‌ (মুসলিম, আবু দাউদ, আন-নাসায়ি) -‌‌ আহমদ বিন জানাব বিন আল-মুগিরা আল-মাসসিসি আবু আল-ওয়ালিদ আল-হাদাসি।

বলা হয় যে, তিনি মূলত বাগদাদের অধিবাসী ছিলেন।

তিনি ঈসা বিন ইউনুস, আল-হাকাম বিন জুহাইর এবং অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন।

তার থেকে মুসলিম, আবু দাউদ এবং নাসায়ি (মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে), ইয়াকুব বিন শায়বাহ, সায়িকাহ, আবু জুরআহ, উসমান বিন খারজাদ ও আদ-দারাওয়ার্দি বর্ণনা করেছেন; আহমদ বিন হাম্বল এবং তার ছেলে আব্দুল্লাহ তার থেকে হাদিস লিখে নিয়েছেন, আর তার থেকে সর্বশেষ বর্ণনাকারী হলেন আহমদ বিন আল-হাসান বিন আব্দুল জব্বার আস-সুফি।

সালিহ জাযরাহ বলেছেন: সত্যবাদী।

ইবনে আবি আসিম বলেছেন: তিনি ২৩০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

আমি বলছি: আয-যাহাবি উল্লেখ করেছেন যে, তার থেকে সর্বশেষ বর্ণনাকারী হলেন আবু ইয়ালা আল-মাওসিলি।

আল-হাকিম বলেছেন: নির্ভরযোগ্য।

ইবনে হিব্বান তাকে 'আস-সিকাত' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

ইবনে আবি হাতিম বলেছেন: আমার পিতা তার থেকে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন তিনি সত্যবাদী।

 

•‌‌ (মুসলিম, আবু দাউদ) -‌‌ আহমদ বিন জাওয়াস আল-হানাফি আবু আসিম আল-কুফি।

তিনি আবু আল-আহওয়াস, আব্দুল্লাহ বিন ইদরিস, ইবনুল মুবারক, আবু মুয়াবিয়া, আবু বকর বিন আইয়াশ এবং অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন।

তার থেকে মুসলিম, আবু দাউদ, আবু জুরআহ, ইবনে ওয়ারা (যিনি তার উচ্চ প্রশংসা করেছেন), আবু বকর আল-আছরাম, আল-হাসান বিন সুফিয়ান এবং অন্যরা বর্ণনা করেছেন।

মুতাইন বলেছেন: তিনি ২৩৮ হিজরির ৩রা মহরম মৃত্যুবরণ করেন; তিনি নির্ভরযোগ্য।

আমি বলছি: ইবনে হিব্বান তাকে 'আস-সিকাত' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, আর বাকি বিন মাখলাদ তার থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন: তিনি কেবল নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের থেকেই বর্ণনা করতেন।

 

•‌‌ পার্থক্যকারী -‌‌ আহমদ বিন জাওয়াস আল-উস্তুওয়ায়ী আবু জাফর।

তিনি ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া, ইসমাইল বিন আবি উওয়াইস এবং অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন।

তার থেকে আবু মুহাম্মদ বিন আশ-শারকি এবং মুসা বিন আল-আব্বাস আল-জুওয়াইনি বর্ণনা করেছেন।

আল-হাকিম তাকে 'তারিখে নিসাবুর'-এ উল্লেখ করেছেন। পার্থক্যের উদ্দেশ্যে এটি উল্লেখ করা হয়েছে।

 

•‌‌ (আল-বুখারি) -‌‌ আহমদ বিন হাজ্জাজ আল-বাকরি আদ-দুহলি আশ-শায়বানি আবু আল-আব্বাস আল-মারওয়াযি।

তিনি আবু দামরাহ, হাতিম বিন ইসমাইল, ইবনে উয়াইনা, আদ-দারাওয়ার্দি, ইবনে মাহদি এবং অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন।

তার থেকে বুখারি, ইব্রাহিম আল-হারবি, আদ-দারিমি, আলী বিন আব্দুল আজিজ এবং একদল বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন।

আল-খতিব বলেছেন: তিনি বাগদাদে এসেছিলেন এবং সেখানে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তখন আহমদ (বিন হাম্বল) তার প্রশংসা করেছিলেন।

ইবনে আবি খাইসামা বলেছেন: তিনি একজন সত্যনিষ্ঠ ব্যক্তি ছিলেন।

আল-বুখারি বলেছেন: তিনি ২২২ হিজরির আশুরার দিনে মৃত্যুবরণ করেন।

আমি বলছি: ইবনে হিব্বান তাকে 'আস-সিকাত' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

 

•‌‌ (আন-নাসায়ি) -‌‌ আহমদ বিন হারব বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন হাইয়ান বিন মাযিন বিন আল-গাদুবাহ আত-তায়ি আবু আলী। তাকে আবু বকর আল-মাওসিলিও বলা হয়, তিনি আলীর ভাই; তার দাদা মাযিনের সাহচর্য (সাহাবি হওয়া) ছিল।

তিনি ইবনে উয়াইনা, আবু মুয়াবিয়া, ইবনে ইদরিস, ইবনে ফুদাইল, আল-মুহারিবি, ইবনে উলাইয়া এবং অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন।

তার থেকে নাসায়ি, তার ভাই আলী, ইমামের ভাতিজা আব্দুর রহমান, মাকহুল আল-বাইরুতি, আবু বকর বিন আবি দাউদ এবং অন্যরা বর্ণনা করেছেন।

নাসায়ি বলেছেন: তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই, এবং তিনি আমার কাছে তার ভাই আলীর চেয়ে বেশি পছন্দনীয়।

ইবনে আবি হাতিম বলেছেন: আমি তাকে পেয়েছি, কিন্তু তার থেকে হাদিস লিখিনি; তিনি সত্যবাদী ছিলেন।

'তারিখে মাওসিল'-এর লেখক বলেছেন: 'লাফজ' (কুরআন পাঠের শব্দ) সংক্রান্ত মাসআলার কারণে তার ভাই আলী তাকে ত্যাগ করেছিলেন; তিনি শাইখদের বর্ণনার ক্ষেত্রে আলীর সাথে অংশীদার ছিলেন, তবে তিনি ইবনে উলাইয়ার বর্ণনায় একক ছিলেন, কারণ আলী তার থেকে হাদিস শোনেননি।
(খণ্ড: ١) তাহযিবুত তাহযিব - ত রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ٢٠)
ولد سنة (174)، ومات بأذنة سنة (263).

قلت: وذكره ابن حبان في الثقات، وخرج له في صحيحه، وأرخ وفاته كذلك.

 

•‌‌ تمييز -‌‌ أحمد بن حرب بن محمد البخاري يكنى أبا إسحاق.

روى عن أبيه، وعيسى بن موسى الحافظ المعروف بغنجار، وشداد بن حكيم، وعصام بن يونس، وغيرهم.

روى عنه سعيد بن ذاكر، والفتح بن الحسن النجاريان.

ذكره الخطيب، وذكرته للتمييز لاتفاقه مع الطائي في اسمه، واسم أبيه وجده، وذكر الخطيب اثنين آخرين لكن جداهما مفترقان أحدهما اسم جده عبد الله بن سهل بن فيروز، وهو نيسابوري، وهو من طبقة الطائي، والآخر اسم جده مسمع، وهو بغدادي من طبقة البخاري.

 

•‌‌ خ ت -‌‌ أحمد بن الحسن بن جنيدب أبو الحسن الترمذي.

الحافظ الرحال صاحب أحمد بن حنبل؛ روى عنه، وعن حجاج بن نصير، والقعنبي، وأبي عاصم، وعبد الله بن نافع، وطائفة.

وعنه البخاري، والترمذي، وابن خزيمة، وأبو حاتم، وأبو زرعة، وابن جرير، وجعفر بن محمد بن المستفاض، وجماعة.

قال الحاكم: ورد نيسابور سنة إحدى وأربعين ومائتين فحدث في ميدان الحسين ثم حج، وانصرف إلى نيسابور فكتب عنه كافة مشايخنا، وسألوه عن علل الحديث والجرح والتعديل.

وقال ابن خزيمة: كان أحد أوعية الحديث.

قلت: وقال أبو حاتم: صدوق.

وذكره ابن حبان في الثقات.

وقال الذهبي: توفي قبل سنة (250).

 

•‌‌ م ت -‌‌ أحمد بن الحسن بن خراش البغدادي أبو جعفر خراساني الأصل.

روى عن شبابة، وأبي عامر المقدي، وابن مهدي، وعبد الصمد بن عبد الوارث، وجماعة.

وعنه مسلم، والترمذي، وعبيد العجل، وعبد الله بن أحمد، والسراج.

وقال مات سنة (242) عن ستين سنة.

قال الخطيب: كان ثقة.

قلت: وذكره ابن حبان في الثقات.

 

•‌‌ خ د س -‌‌ أحمد بن حفص بن عبد الله بن راشد السلمي أبو علي بن أبي عمرو النيسابوري، قاضيها.

عن أبيه، والحسين بن الوليد القرشي، والجارود بن يزيد العامري، وغيرهم.

وعنه البخاري، وأبو داود، والنسائي، ومسلم في غير الصحيح، وأبو حاتم، وأبو عوانة، وزكريا السجزي، وصالح جزرة، وأبو حامد بن الشرقي، وأبو حامد بن بلال البزاز، وأبو بكر بن زياد الفقيه، وأبو بكر بن أبي داود، وابن خزيمة.

قال النسائي: لا بأس به صدوق قليل الحديث.

وقال أبو عمرو المستملي: مات ليلة الأربعاء لأربع خلون من المحرم سنة (258)، وخيل إلي أنه امتلأ الميدان من الخلق.

قلت: وقال الكلاباذي فيه: السلمي مولاهم.

وقال مسدد بن قطن: ما رأيت أحدا أتم صلاة منه، وأمر مسلم بالكتابة عنه.

وقال النسائي في أسماء شيوخه: ثقة، وكذا قال مسلمة، وزعم الجياني في أسماء شيوخ ابن الجارود أنه مات سنة (55)، وقيل ستين، والأول هو المعتمد.

 

•‌‌ س -‌‌ أحمد بن حفص بن المغيرة بن عبد الله بن عمر بن مخزوم المخزومي.

يكنى أبا عمرو، وهو مشهور بكنيته. يأتي.

 

•‌‌ ‌‌أحمد بن الحكم البصري هو ابن عبد الله بن الحكم، يأتي.

 

•‌‌ س -‌‌ أحمد بن حماد بن مسلم بن عبد الله بن عمرو التجيبي أبو جعفر المصري.

مولى بني سعد من تجيب،
(১৭৪) হিজরী সনে জন্ম এবং (২৬৩) হিজরী সনে আদানা নামক স্থানে মৃত্যু।

আমি বলছি: ইবনে হিব্বান তাকে 'আস-সিকাত' (নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণের তালিকা) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং তার সহীহ গ্রন্থে তার থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, আর তার মৃত্যুর তারিখও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

 

•‌‌ পার্থক্যকারী -‌‌ আহমাদ ইবনুল হারব ইবনে মুহাম্মাদ আল-বুখারী উপনাম আবু ইসহাক।

তিনি তার পিতা, গুঞ্জার নামে পরিচিত হাফিয ঈসা ইবনে মুসা, শাদ্দাদ ইবনে হাকিম, ইসাম ইবনে ইউনুস এবং অন্যান্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন।

তার থেকে সাঈদ ইবনে জাকির এবং আল-ফাতহ ইবনুল হাসান আল-নাজ্জারিদ্বয় বর্ণনা করেছেন।

আল-খাতীব তাকে উল্লেখ করেছেন। আমি তাকে আল-তাঈ-এর সাথে তার নিজের নাম, পিতার নাম এবং দাদার নামের মিল থাকার কারণে পার্থক্য করার উদ্দেশ্যে এখানে উল্লেখ করেছি। আল-খাতীব আরও দুইজনকে উল্লেখ করেছেন কিন্তু তাদের দাদাদের নাম ভিন্ন; তাদের একজনের দাদার নাম আব্দুল্লাহ ইবনে সাহল ইবনে ফিরোজ, তিনি নিশাপুরের অধিবাসী এবং আল-তাঈ-এর সমসাময়িক স্তরের, আর অন্যজনের দাদার নাম মাসমা’, তিনি বাগদাদের অধিবাসী এবং আল-বুখারীর সমসাময়িক স্তরের।

 

•‌‌ (বুখারী ও তিরমিযী) -‌‌ আহমাদ ইবনুল হাসান ইবনে জুনাইদাব আবু আল-হাসান আত-তিরমিযী।

তিনি হাফিয এবং পর্যটক, আহমাদ ইবনে হাম্বলের শিষ্য; তিনি তার থেকে এবং হাজ্জাজ ইবনে নুসায়ের, আল-কানা’বী, আবু আসিম, আব্দুল্লাহ ইবনে নাফি এবং এক দল বর্ণনাকারী থেকে বর্ণনা করেছেন।

তার থেকে বুখারী, তিরমিযী, ইবনে খুযাইমা, আবু হাতিম, আবু যুরআহ, ইবনে জারীর, জা’ফর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুল মুসতাফাদ এবং এক জামাত বর্ণনা করেছেন।

আল-হাকিম বলেন: তিনি দুইশত একচল্লিশ হিজরীতে নিশাপুরে আসেন এবং আল-হুসাইন ময়দানে হাদীস বর্ণনা করেন। এরপর তিনি হজ পালন করেন এবং পুনরায় নিশাপুরে ফিরে আসেন। ফলে আমাদের সকল শাইখগণ তার থেকে (হাদীস) লিখে নিয়েছেন এবং তারা তাকে হাদীসের ত্রুটি (ইলল) ও জারহ-ওয়াত-তাদীল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন।

ইবনে খুযাইমা বলেন: তিনি হাদীসের অন্যতম আধার (ভাণ্ডার) ছিলেন।

আমি বলছি: আবু হাতিম বলেছেন: তিনি সত্যবাদী।

ইবনে হিব্বান তাকে 'আস-সিকাত' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

আয-যাহাবী বলেন: তিনি (২৫০) হিজরীর পূর্বে মৃত্যুবরণ করেন।

 

•‌‌ (মুসলিম ও তিরমিযী) -‌‌ আহমাদ ইবনুল হাসান ইবনে খারাশ আল-বাগদাদী আবু জা’ফর, মূলত খোরাসানী।

তিনি শাবাবাহ, আবু আমির আল-মাকদী, ইবনে মাহদী, আব্দুস সামাদ ইবনে আব্দুল ওয়ারিস এবং এক দল থেকে বর্ণনা করেছেন।

তার থেকে মুসলিম, তিরমিযী, উবাইদুল ইজলি, আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ এবং আস-সাররাজ বর্ণনা করেছেন।

তিনি (আস-সাররাজ) বলেন: তিনি (২৪২) হিজরীতে ষাট বছর বয়সে মারা যান।

আল-খাতীব বলেন: তিনি নির্ভরযোগ্য ছিলেন।

আমি বলছি: ইবনে হিব্বান তাকে 'আস-সিকাত' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

 

•‌‌ (বুখারী, আবু দাউদ ও নাসাঈ) -‌‌ আহমাদ ইবনে হাফস ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে রাশিদ আস-সুলামী আবু আলী ইবনে আবু আমর আন-নিশাপুরী, সেখানকার বিচারক (কাজী)।

তিনি তার পিতা, আল-হুসাইন ইবনুল ওয়ালিদ আল-কুরাশী, আল-জারুদ ইবনে ইয়াযীদ আল-আমিরী এবং অন্যান্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন।

তার থেকে বুখারী, আবু দাউদ, নাসাঈ, মুসলিম (সহীহ ব্যতীত অন্য গ্রন্থে), আবু হাতিম, আবু আওয়ানাহ, যাকারিয়া আস-সিজযী, সালিহ জাযারাহ, আবু হামিদ ইবনে আশ-শারকী, আবু হামিদ ইবনে বিলাল আল-বাযযায, আবু বকর ইবনে যিয়াদ আল-ফাকীহ, আবু বকর ইবনে আবি দাউদ এবং ইবনে খুযাইমা বর্ণনা করেছেন।

নাসাঈ বলেন: তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই, তিনি সত্যবাদী, তবে হাদীস বর্ণনায় স্বল্প।

আবু আমর আল-মুসতামলী বলেন: তিনি দুইশত আটান্ন হিজরীর মুহাররম মাসের চার তারিখ অতিবাহিত হওয়ার পর বুধবার রাতে মৃত্যুবরণ করেন, এবং আমার মনে হয় যে জানাযার ভিড়ে পুরো ময়দান মানুষে পরিপূর্ণ হয়ে গিয়েছিল।

আমি বলছি: আল-কাল্লাবাদি তার সম্পর্কে বলেছেন: তিনি সুলামী বংশের আযাদকৃত দাস।

মুসাদ্দাদ ইবনে কাতান বলেন: আমি তার চেয়ে অধিক পরিপূর্ণভাবে সালাত আদায় করতে কাউকে দেখিনি। মুসলিম তার থেকে হাদীস লিখে নিতে নির্দেশ দিতেন।

নাসাঈ তার শাইখদের নাম বর্ণনায় বলেন: তিনি নির্ভরযোগ্য; মাসলামাহও অনুরূপ বলেছেন। আল-জাইয়ানী ইবনুল জারুদের শাইখদের বর্ণনায় দাবি করেছেন যে, তিনি (২৫৫) হিজরীতে মারা গেছেন, আবার বলা হয় ষাট হিজরীতে; তবে প্রথম মতটিই নির্ভরযোগ্য।

 

•‌‌ (নাসাঈ) -‌‌ আহমাদ ইবনে হাফস ইবনুল মুগীরা ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ইবনে মাখযুম আল-মাখযুমী।

তার উপনাম আবু আমর, তিনি তার উপনামেই প্রসিদ্ধ। সামনে তার আলোচনা আসছে।

 

•‌‌ ‌‌আহমাদ ইবনুল হাকাম আল-বাসরী তিনি হলেন আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনুল হাকাম, সামনে তার আলোচনা আসছে।

 

•‌‌ (নাসাঈ) -‌‌ আহমাদ ইবনে হাম্মাদ ইবনে মুসলিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর আত-তুজীবী আবু জা’ফর আল-মিসরী।

তুজীবের বনী সা’দ গোত্রের আযাদকৃত দাস,
(খণ্ড: ١) তাহযিবুত তাহযিব - ত রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ٢١)
وهو أخو عيسى بن حماد زغبة.

روى عن سعيد بن أبي مريم، وسعيد بن عفير، ويحيى بن بكير، وأبي صالح عبد الغفار الحراني، وغيرهم.

روى عنه النسائي فيما ذكر صاحب النبل، وأبو بكر بن أبي الموت، وأبو سعيد بن يونس، والحسن بن رشيق، وأبو القاسم الطبراني، وعدة.

قال النسائي: صالح.

وقال ابن يونس: توفي يوم السبت لخمس بقين من جمادى الأولى سنة (296)، وكان ثقة مأمونا بلغ أربعا وتسعين سنة.

قلت: ذكره النسائي في شيوخه، وأخرج له الحاكم في المستدرك.

 

•‌‌ خ سي -‌‌ أحمد بن حميد الطريثيثي أبو الحسن.

ختن عبيد الله بن موسى يعرف بدار أم سلمة، كان من حفاظ الكوفة.

روى عن حفص بن غياث، وابن فضيل، والأشجعي، وأبي بكر بن عياش، وغيرهم.

روى عنه البخاري، والنسائي بواسطة محمد بن يزيد الأدمي، وأبو إسماعيل الترمذي، وحنبل بن إسحاق.

وكتب عنه يحيى الحماني، وأبو حاتم الرازي.

وقال: كان ثقة رضا.

وقال العجلي: ثقة.

وقال مطين: مات سنة (220).

قلت: لقب بدار أم سلمة، لأنه جمع حديث أم سلمة، وغلط الحاكم فيه فقال: جار أم سلمة، وأما ابن عدي فقال: كان له اتصال بأم سلمة.

وقال مطين في تاريخه: كان يعد من حفاظ الكوفة، وكان ثقة. توفي سنة تسع وعشرين ومائتين.

وقال أحمد بن صالح المصري: ثقة.

وقال الخطيب: هو من حفاظ الكوفيين، ومتثبتيهم. روى عنه أحمد بن حنبل، وأحمد بن أبي خيثمة، وذكره ابن حبان في الثقات.

 

•‌‌ ‌‌أحمد بن أبي الحواري هو أحمد بن عبد الله بن ميمون.

 

•‌‌ ر 4 -‌‌ أحمد بن خالد بن موسى.

ويقال ابن محمد الوهبي الكندي أبو سعيد بن أبي مخلد الحمصي.

روى عن محمد بن إسحاق، وشيبان، ويونس بن أبي إسحاق، وغيرهم.

روى عنه البخاري في جزء القراءة وغيره، والذهلي، وعمرو بن عثمان الحمصي، ومحمد بن عوف، ومحمد بن المصفى، وعمران بن بكار، وأبو زرعة الدمشقي.

ونقل عن يحيى بن معين أنه ثقة.

وقال ابن أبي عاصم: مات سنة (214).

قلت: وقال أبو زرعة الدمشقي سنة (15).

وقال الدارقطني: لا بأس به، وأخرج له ابن خزيمة في صحيحه، وذكره ابن حبان في (الثقات)، ونقل أبو حاتم الرازي أن أحمد امتنع من الكتابة عنه، ووقع في كلام بعض شيوخنا أن أحمد اتهمه، ولم أقف على ذلك صريحا، فالله أعلم.

 

•‌‌ ت س -‌‌ أحمد بن خالد الخلال أبو جعفر البغدادي العسكري الفقيه.

روى عن ابن عيينة، ومعن بن القزاز، وإسحاق الأزرق، والشافعي، ويزيد بن هارون، وغيرهم.

روى عنه الترمذي، والنسائي، وأبو حاتم الرازي، وأبو العباس بن الأخرم، وعبد الله بن أحمد، وأبو العباس بن مسروق، ويعقوب بن سفيان، وأبو جعفر بن جرير، وغيرهم.

قال العجلي: ثقة.

وقال أبو حاتم: كان خيرا فاضلا عدلا ثقة صدوقا رضى.

وقال ابن خراش: كان امرأ صالحا.

وقال الدارقطني: ثقة نبيل قديم الوفاة.

قال ابن قانع: مات سنة (247).

وقال غيره: مات سنة (46).

قلت: هكذا قال الخطيب.

وقال النسائي: لا بأس به، وقال مرة: عسكري ثقة.

وقال أبو داود: ثقة لم أسمع منه.

وقال داود بن علي الأصبهاني في أسماء أصحاب
তিনি ঈসা ইবনে হাম্মাদ যাগবাহ-এর ভাই।

তিনি সাঈদ ইবনে আবি মারইয়াম, সাঈদ ইবনে উফাইর, ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর, আবু সালেহ আব্দুল গাফফার আল-হাররানি এবং অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন।

তাঁর থেকে নাসাঈ বর্ণনা করেছেন যেমনটি 'সাহিবুন নুবল'-এর লেখক উল্লেখ করেছেন, এছাড়াও আবু বকর ইবনে আবিল মাওত, আবু সাঈদ ইবনে ইউনুস, আল-হাসান ইবনে রাশিদ, আবু কাসিম আত-তাবারানি এবং আরও অনেকে বর্ণনা করেছেন।

নাসাঈ বলেছেন: তিনি সৎ (সালেহ)।

ইবনে ইউনুস বলেছেন: তিনি ২৯৬ হিজরির জুমাদাল উলা মাসের অবশিষ্ট পাঁচ দিন থাকতে শনিবার মৃত্যুবরণ করেন। তিনি নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত ছিলেন এবং চুরানব্বই বছর বয়স পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন।

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: নাসাঈ তাঁকে তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে উল্লেখ করেছেন এবং হাকেম তাঁর 'আল-মুস্তাদরাক' গ্রন্থে তাঁর হাদিস বর্ণনা করেছেন।

 

•‌‌ খা সি -‌‌ আহমদ ইবনে হুমাইদ আত-তুরাইসিশি আবু হাসান।

তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে মুসার জামাতা, 'দারু উম্মে সালামাহ' নামে পরিচিত ছিলেন এবং তিনি কুফার হাফেজদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

তিনি হাফস ইবনে গিয়াস, ইবনে ফুযাইল, আল-আশজায়ি, আবু বকর ইবনে আইয়াশ এবং অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন।

তাঁর থেকে বুখারি বর্ণনা করেছেন এবং নাসাঈ মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াযিদ আল-আদামি-এর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, এছাড়াও আবু ইসমাইল আত-তিরমিজি ও হানবাল ইবনে ইসহাক তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।

ইয়াহইয়া আল-হিমানি এবং আবু হাতিম আর-রাজি তাঁর থেকে (হাদিস) লিপিবদ্ধ করেছেন।

তিনি (আবু হাতিম) বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য ও সন্তোষজনক ছিলেন।

আজলি বলেছেন: নির্ভরযোগ্য।

মুতাইন বলেছেন: তিনি ২২০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

আমি বলছি: তাঁর উপাধি ছিল 'দারু উম্মে সালামাহ', কারণ তিনি উম্মে সালামাহর হাদিসগুলো একত্রিত করেছিলেন। হাকেম এই বিষয়ে ভুল করেছেন এবং বলেছেন 'জারু উম্মে সালামাহ' (উম্মে সালামাহর প্রতিবেশী), আর ইবনে আদি বলেছেন: উম্মে সালামাহর সাথে তাঁর যোগাযোগ ছিল।

মুতাইন তাঁর ইতিহাসে বলেছেন: তাঁকে কুফার হাফেজদের মধ্যে গণ্য করা হতো এবং তিনি নির্ভরযোগ্য ছিলেন। তিনি ২২৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

আহমদ ইবনে সালেহ আল-মিসরি বলেছেন: নির্ভরযোগ্য।

খাতিব বলেছেন: তিনি কুফি হাফেজদের অন্তর্ভুক্ত এবং দৃঢ় নির্ভরযোগ্যদের একজন। তাঁর থেকে আহমদ ইবনে হাম্বল এবং আহমদ ইবনে আবি খাইসামাহ বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে হিব্বান তাঁকে 'আস-সিকাত' (নির্ভরযোগ্যদের তালিকা) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

 

•‌‌ ‌‌আহমদ ইবনে আবিল হাওয়ারি তিনি হলেন আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মাইমুন।

 

•‌‌ রা ৪ -‌‌ আহমদ ইবনে খালিদ ইবনে মুসা।

তাঁকে ইবনে মুহাম্মাদ আল-ওয়াহবি আল-কিন্দি আবু সাঈদ ইবনে আবি মাখলাদ আল-হিমসি বলা হয়।

তিনি মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক, শাইবান, ইউনুস ইবনে আবি ইসহাক এবং অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন।

তাঁর থেকে বুখারি 'জুযউল কিরাত' ও অন্যান্য কিতাবে বর্ণনা করেছেন, এছাড়া যুহলি, আমর ইবনে উসমান আল-হিমসি, মুহাম্মাদ ইবনে আওফ, মুহাম্মাদ ইবনে আল-মুসাফফা, ইমরান ইবনে বাক্কার এবং আবু জুরআ আদ-দিমাশকি বর্ণনা করেছেন।

ইয়াহইয়া ইবনে মায়িন থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি নির্ভরযোগ্য।

ইবনে আবি আসিম বলেছেন: তিনি ২১৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

আমি বলছি: আবু জুরআ আদ-দিমাশকি বলেছেন ২১৫ হিজরিতে।

দারা কুতনি বলেছেন: তাঁর মধ্যে কোনো সমস্যা নেই। ইবনে খুযাইমা তাঁর 'সহিহ' গ্রন্থে তাঁর হাদিস এনেছেন এবং ইবনে হিব্বান তাঁকে 'আস-সিকাত' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। আবু হাতিম আর-রাজি বর্ণনা করেছেন যে, ইমাম আহমদ তাঁর থেকে লিখতে (হাদিস গ্রহণ করতে) বিরত থেকেছেন। আমাদের কোনো কোনো শিক্ষকের কথায় এসেছে যে ইমাম আহমদ তাঁকে অভিযুক্ত করেছেন, তবে আমি এই বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য পাইনি। আল্লাহই ভালো জানেন।

 

•‌‌ তি সি -‌‌ আহমদ ইবনে খালিদ আল-খল্লাল আবু জাফর আল-বাগদাদি আল-আসকারি আল-ফকিহ।

তিনি ইবনে উয়াইনা, মান ইবনে আল-কাযযায, ইসহাক আল-আযরাক, শাফেঈ, ইয়াযিদ ইবনে হারুন এবং অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন।

তাঁর থেকে তিরমিজি, নাসাঈ, আবু হাতিম আর-রাজি, আবুল আব্বাস ইবনুল আখরাম, আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ, আবুল আব্বাস ইবনে মাসরুক, ইয়াকুব ইবনে সুফিয়ান, আবু জাফর ইবনে জারির এবং অন্যরা বর্ণনা করেছেন।

আজলি বলেছেন: নির্ভরযোগ্য।

আবু হাতিম বলেছেন: তিনি কল্যাণময়, ফজিলতপূর্ণ, ন্যায়পরায়ণ, নির্ভরযোগ্য, সত্যবাদী ও গ্রহণযোগ্য ছিলেন।

ইবনে খিরাশ বলেছেন: তিনি একজন সৎ ব্যক্তি ছিলেন।

দারা কুতনি বলেছেন: নির্ভরযোগ্য ও মহান ব্যক্তি, যাঁর মৃত্যু অনেক আগে হয়েছে।

ইবনে কানি' বলেছেন: তিনি ২৪৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

অন্যরা বলেছেন: তিনি ২৪৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

আমি বলছি: খাতিব এভাবেই বলেছেন।

নাসাঈ বলেছেন: তাঁর মধ্যে কোনো সমস্যা নেই, আবার একবার বলেছেন: আসকারিবাসী নির্ভরযোগ্য।

আবু দাউদ বলেছেন: নির্ভরযোগ্য, তবে আমি তাঁর থেকে শুনিনি।

দাউদ ইবনে আলি আল-আসবাহানি তাঁর সাথীদের নামসমূহের বর্ণনায় বলেছেন...
(খণ্ড: ١) তাহযিবুত তাহযিব - ত রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ٢٢)
الشافعي: كان من أهل الحديث والأمن والأمانة والورع.

وقال الحاكم: كان من جلة الفقهاء، وذكره ابن حبان في (الثقات).

 

•‌‌ س -‌‌ أحمد بن الخليل أبو علي التاجر البغدادي.

روى عن يزيد بن هارون، وحجاج بن محمد، وروح بن عبادة، وأبي النضر، وزكريا بن عدي، وغيرهم.

روى عنه النسائي، وابن خزيمة، ومطين، ويعقوب بن سفيان، وحسين القباني، وقاسم بن أصبغ، وإبراهيم بن أبي طالب، وعدة.

قال النسائي، وأبو يحيى الخفاف، والحاكم: ثقة. زاد الحاكم: مأمون.

وقال القباني: مات لثلاث بقين من ربيع الأول سنة (248).

قلت: لم أر له في أسماء شيوخ النسائي ذكرا، بل الذي فيه أحمد بن الخليل نيسابوري كتبنا عنه لا بأس به، وقد قال الدارقطني: قديم لم يحدث عنه من البغداديين أحد، وإنما حديثه بخراسان فلعله سكن خراسان، وذكره ابن حبان في (الثقات).

 

•‌‌ تمييز -‌‌ أحمد بن الخليل بن ثابت أبو جعفر البُرْجُلاني.

بغدادي.

روى عن أسود بن عامر، والحسن بن موسى الأشيب، والواقدي، وغيرهم.

وعنه أبو البختري، والنجاد، وعثمان بن السماك، وأبو بكر بن الهيثم الأنباري، وهو خاتمة أصحابه.

قال الخطيب: كان ثقة.

وقال ابن قانع: مات في شهر ربيع الأول سنة (277) ذكر للتمييز.

 

•‌‌ تمييز -‌‌ أحمد بن الخليل بن حرب بن عبد الله بن سوار بن سابق القرشي.

أبو عبد الله القُومَسي.

روى عن عبد الله بن يزيد المقرئ، والأصمعي، وعلي بن الحسن بن شقيق، وأبي النضر، وغيرهم.

روى عنه محمد بن الحسن بن الفرج، وأبو زكريا يحيى بن يحيى بن حيويه الحافظ، ويحيى بن عبد الأعظم.

ضعفه أبو زرعة، ونسبه أبو حاتم إلى الكذب.

قلت: وله حديث منكر في فوائد تمام متنه سيد الإدام اللحم. أخرجه من حديث بريدة.

 

•‌‌ عخ -‌‌ أحمد بن خلاد.

عن يزيد بن هارون.

وعنه أبو جعفر المخرمي.

روى له البخاري في خلق أفعال العباد، ليس له ذكر في التواريخ، وكأنه أحمد بن خالد الخلال الذي تقدم ذكره.

 

•‌‌ أحمد بن أبي داود المنادي في محمد بن عبيد الله بن يزيد.

 

•‌‌ ‌‌أحمد بن أبي رجاء المقرئ هو أحمد بن نصر بن شاكر.

 

•‌‌ ‌‌أحمد بن أبي رجاء الهروي هو أحمد بن عبد الله بن أيوب.

 

•‌‌ ‌‌أحمد بن زنجويه النسائي.

قدم مصر.

روى عنه بقي بن مخلد.

وذكره أبو علي الجياني في شيوخ أبي داود.

قلت: أظنه حميد بن زنجويه، وسيأتي، وللبغداديين شيخ يقال له:

 

•‌‌ ‌‌أحمد بن زنجويه بن موسى القطان المخرمي.

روى عن دواد بن رشيد، ومحمد بن بكار الرصافي، وعبد الأعلى بن حماد، وجماعة.

وعنه أبو بكر الشافعي، وأبو بكر الجعابي، وابن لؤلؤ، وابن المظفر، وآخرون.

وثقه الخطيب مات سنة (304)، وهو متأخر الطبقة عن حميد بن زنجويه.

 

•‌‌ ‌‌أحمد بن أبي سريج الرازي هو أحمد بن الصباح.

 

•‌‌ د س -‌‌ أحمد بن سعد بن الحكم بن محمد بن سالم.

المعروف بابن أبي مريم الجمحي أبو جعفر المصري ابن أخي سعيد رحال.
াশ-শাফিঈ: তিনি ছিলেন আহলুল হাদিসের অন্তর্ভুক্ত এবং নিরাপত্তা, বিশ্বস্ততা ও আল্লাহভীতির অধিকারী।

আল-হাকিম বলেন: তিনি শ্রেষ্ঠ ফকিহদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং ইবনে হিব্বান তাঁকে 'আস-সিকাত' (নির্ভরযোগ্যদের তালিকা) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

 

•‌‌ সিন -‌‌ আহমদ ইবনুল খলীল আবু আলী আত-তাজির আল-বাগদাদী।

তিনি ইয়াজিদ ইবনে হারুন, হাজ্জাজ ইবনে মুহাম্মদ, রাওহ ইবনে উবাদাহ, আবু নাদর, জাকারিয়া ইবনে আদি এবং আরও অনেকের থেকে বর্ণনা করেছেন।

তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন আন-নাসায়ী, ইবনে খুজাইমাহ, মুতাইন, ইয়াকুব ইবনে সুফিয়ান, হুসাইন আল-কাব্বানী, কাসিম ইবনে আসবাগ, ইবরাহীম ইবনে আবি তালিব এবং আরও অনেকে।

আন-নাসায়ী, আবু ইয়াহইয়া আল-খাফফাফ এবং আল-হাকিম বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য। আল-হাকিম আরও যোগ করেছেন: তিনি ছিলেন বিশ্বস্ত।

আল-কাব্বানী বলেছেন: তিনি ২৪৮ হিজরির রবিউল আউয়াল মাস শেষ হওয়ার তিন দিন বাকি থাকতে ইন্তেকাল করেন।

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: আন-নাসায়ীর শিক্ষকদের নামের তালিকায় আমি তাঁর উল্লেখ দেখিনি, বরং সেখানে আহমদ ইবনুল খলীল নিশাপুরী রয়েছেন যার সম্পর্কে আমরা লিখেছি যে তাতে কোনো সমস্যা নেই। আদ-দারাকুতনী বলেছেন: তিনি প্রাচীন, বাগদাদীদের মধ্য থেকে কেউ তাঁর থেকে বর্ণনা করেননি, তাঁর হাদিসগুলো কেবল খুরাসানেই পাওয়া যায়, সম্ভবত তিনি খুরাসানে বসবাস করতেন। ইবনে হিব্বান তাঁকে 'আস-সিকাত' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

 

•‌‌ পার্থক্যকারী -‌‌ আহমদ ইবনুল খলীল ইবনে সাবিত আবু জাফর আল-বুরজুলানী।

বাগদাদী।

তিনি আসওয়াদ ইবনে আমির, হাসান ইবনে মুসা আল-আশইয়াব, আল-ওয়াকিদী এবং অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন।

আর তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন আবুল বাখতারী, আন-নাজ্জাদ, উসমান ইবনুস সাম্মাক এবং আবু বকর ইবনুল হাইসাম আল-আনবারী—যিনি ছিলেন তাঁর শেষ ছাত্র।

আল-খাতিব বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য ছিলেন।

ইবনে কানি' বলেছেন: তিনি ২৭৭ হিজরির রবিউল আউয়াল মাসে ইন্তেকাল করেন। পার্থক্যের জন্য উল্লিখিত।

 

•‌‌ পার্থক্যকারী -‌‌ আহমদ ইবনুল খলীল ইবনে হারব ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে সাওয়ার ইবনে সাবিক আল-কুরাশী।

আবু আব্দুল্লাহ আল-কুমাসী।

তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াজিদ আল-মুকরি, আল-আসমাঈ, আলী ইবনুল হাসান ইবনে শাকীক, আবু নাদর এবং অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন।

তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনুল হাসান ইবনুল ফারাজ, আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে হাইউয়াহ আল-হাফিজ এবং ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল আজম।

আবু জুরআহ তাঁকে দুর্বল বলেছেন এবং আবু হাতিম তাঁকে মিথ্যার দিকে সম্বন্ধ করেছেন।

আমি বলছি: 'ফাওয়াইদে তামাম'-এ তাঁর একটি মুনকার (অস্বীকৃত) হাদিস আছে যার মূলপাঠ হলো: 'তরকারির সর্দার হলো গোশত'। তিনি এটি বুরাইদাহর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন।

 

•‌‌ আইন খা (আফআলুল ইবাদ) -‌‌ আহমদ ইবনে খাল্লাদ।

ইয়াজিদ ইবনে হারুন থেকে বর্ণনা করেছেন।

তাঁর থেকে আবু জাফর আল-মুখাররামী বর্ণনা করেছেন।

ইমাম বুখারি 'খালাকু আফআলিল ইবাদ' গ্রন্থে তাঁর হাদিস এনেছেন, ইতিহাস গ্রন্থগুলোতে তাঁর উল্লেখ নেই। সম্ভবত তিনি সেই আহমদ ইবনে খালিদ আল-খল্লাল যার কথা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

•‌‌ আহমদ ইবনে আবি দাউদ আল-মুনাদী, মুহাম্মদ ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে ইয়াজিদের বর্ণনায়।

 

•‌‌ ‌‌আহমদ ইবনে আবি রাজা আল-মুকরি তিনি হলেন আহমদ ইবনে নাসর ইবনে শাকির।

 

•‌‌ ‌‌আহমদ ইবনে আবি রাজা আল-হারাউয়ি তিনি হলেন আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আইয়ুব।

 

•‌‌ ‌‌আহমদ ইবনে জানজুয়াহ আন-নাসায়ী।

তিনি মিশরে এসেছিলেন।

তাঁর থেকে বাকি ইবনে মাখলাদ বর্ণনা করেছেন।

আবু আলী আল-জাইয়ানী তাঁকে আবু দাউদের শিক্ষকদের তালিকায় উল্লেখ করেছেন।

আমি বলছি: আমার মনে হয় তিনি হুমাইদ ইবনে জানজুয়াহ, সামনে যাঁর উল্লেখ আসবে। আর বাগদাদীদের একজন শিক্ষক আছেন যাঁকে বলা হয়:

 

•‌‌ ‌‌আহমদ ইবনে জানজুয়াহ ইবনে মুসা আল-কাত্তান আল-মুখাররামী।

তিনি দাউদ ইবনে রাশিদ, মুহাম্মদ ইবনে বাক্কার আর-রাসাকী, আব্দুল আলা ইবনে হাম্মাদ এবং এক জামাত থেকে বর্ণনা করেছেন।

তাঁর থেকে আবু বকর আশ-শাফিঈ, আবু বকর আল-জিয়াবী, ইবনে লু'লু', ইবনুল মুজাফফর এবং অন্যরা বর্ণনা করেছেন।

আল-খাতিব তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। তিনি ৩০৪ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। তিনি স্তরের দিক থেকে হুমাইদ ইবনে জানজুয়াহর পরবর্তী সময়ের।

 

•‌‌ ‌‌আহমদ ইবনে আবি সুরাইজ আর-রাজি তিনি হলেন আহমদ আস-সাব্বাহ।

 

•‌‌ দাল সিন -‌‌ আহমদ ইবনে সাদ ইবনুল হাকাম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সালিম।

যিনি ইবনে আবি মারইয়াম আল-জুমাহী আবু জাফর আল-মিসরী নামে পরিচিত, তিনি সাঈদ রাহহালের ভ্রাতুষ্পুত্র।
(খণ্ড: ١) তাহযিবুত তাহযিব - ত রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ٢٣)
روى عن عمه، وأبي اليمان، وبكر بن خلف، والعلاء بن الفضل المنقري، وجماعة.

وعنه أبو داود، والنسائي، وعلي بن أحمد بن سليمان علان، وعلي بن سراج المصري الحافظ، وعمر بن بجير، وأبو بكر الباغندي.

قال النسائي: لا بأس به.

وقال ابن يونس: توفي يوم عرفة سنة (253).

قلت: قال أبو عمر الكندي في كتاب الموالي: كان من أهل العلم والرحلة والتصنيف. وروى عنه بقي بن مخلد، وكان لا يحدث إلا عن ثقة.

 

•‌‌ خ م د ت س -‌‌ أحمد بن سعيد بن إبراهيم الرباطي أبو عبد الله المروزي الأشقر.

نزيل نيسابور.

روى عن أبي أحمد الزبيري، وأبي داود الطيالسي، والنضر بن شميل، ووهب بن جرير بن حازم، ويونس بن المؤدب، وغيرهم.

وعنه الجماعة سوى ابن ماجه، وابن خزيمة، والسراج، والقباني، وإبراهيم بن أبي طالب، وجماعة.

قال النسائي: ثقة.

وقال ابن خراش: ثقة ثقة.

قال الخطيب، ورد بغداد في أيام أحمد، وجالس بها العلماء، وذاكرهم، وكان ثقة فهما عالما فاضلا.

قال القباني: مات بعد سنة الرجفة سنة (43).

وقال غيره: سنة (45)، وقيل: مات في المحرم سنة (246) بقومس.

قلت: هذا القول الأخير حكاه البخاري عن ابن أحمد، وتبعه القراب، وابن منده، والكلاباذي، وابن طاهر، وأما القباني فإنه لم يقل هذه اللفظة بعد سنة الرجفة فإنها وهم، لأن سنة الرجفة كانت سنة (45) فكأن الصواب قبل سنة الرجفة أو سنة (6) لا ثلاث(1).

وقال أبو حاتم الرازي: أدركته، ولم أكتب عنه، وكتب إلي بأحاديث، وكان يتولى على الرباطات.

وقال الخليلي في الإرشاد: ثقة عالم حافظ متقن.

وقال أبو علي الحافظ: كان والله من الأئمة المقتدى بهم.

وقال محمد بن عبد السلام: لم أر بعد إسحاق بن إبراهيم مثله.

 

•‌‌ د -‌‌ أحمد بن سعيد بن بشر بن عبيد الله الهمداني.

أبو جعفر المصري.

روى عن ابن وهب، والشافعي، وأصبغ بن الفرج، وبشر بن بكر، وغيرهم.

روى عنه أبو داود، وذكر صاحب النبل أن النسائي روى أيضا عنه، والبجيري، وابن أبي داود، وفضلك الرازي، وأبو الطيب الرسعني، ومحمد بن الربيع بن سليمان، وغيرهم.

قال النسائي: ليس بالقوي لو رجع عن حديث بكير بن الأشج في الغار لحدثت عنه، وذكر عبد الغني بن سعيد عن حمزة الكناني أن أحمد بن محمد بن الحجاج بن رشدين هو أدخل على الهمداني حديث الغار.

قال ابن يونس: مات ليلة السبت لعشر خلون من رمضان سنة (253).

قلت: قال زكريا الساجي: ثبت.

وقال العجلي: ثقة.

وقال أحمد بن صالح: ما زلت أعرفه بالخير مذ عرفته.

وذكره ابن حبان في الثقات، وذكره النسائي في شيوخه الذين سمع منهم.

 

•‌‌ خ م د ت ق -‌‌ أحمد بن سعيد بن صخر الدارمي أبو جعفر السرخسي ثم النيسابوري.

سرد الخطيب نسبه إلى دارم.

وقال: كان أحد المذكورين بالفقه، ومعرفة الحديث، والحفظ له.

روى عن النضر بن شميل، وأبي عامر العقدي، وعلي بن الحسين المروزي، وعثمان بن عمر، وأبي عاصم،

--------------------------------------------

(1) وقعت رجفة أيضًا سنة (242 هـ)، انظر الكامل لابن الأثير: 7/ 81، ولعلها هي التي قصدها القباني حين قال: مات بعد الرجفة، وهذا يرجح وفاته سنة (243 هـ)، ولفظة بعد سنة الرجفة ثابتة من قول القباني كما في تاريخ بغداد: 4/ 166، لا كما ذهب الحافظ أن القباني لم يقلها.
তিনি তাঁর চাচা, আবু আল-ইয়ামান, বকর ইবনে খালাফ, আল-আলা ইবনুল ফাদল আল-মানকারি এবং একদল রাবী থেকে বর্ণনা করেছেন।

তাঁর নিকট থেকে আবু দাউদ, আন-নাসায়ী, আলি ইবনে আহমদ ইবনে সুলাইমান আল্লান, আলি ইবনে সিরাজ আল-মিসরি আল-হাফিজ, উমর ইবনে বুজাইর এবং আবু বকর আল-বাগিন্দি বর্ণনা করেছেন।

আন-নাসায়ী বলেন: এতে কোনো অসুবিধা নেই (লা বাসা বিহি)।

ইবনে ইউনুস বলেন: তিনি ২৫৩ হিজরির আরাফাহর দিনে মৃত্যুবরণ করেন।

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: আবু উমর আল-কিন্দি ‘কিতাবুল মাওয়ালি’-তে বলেছেন: তিনি ইলম, সফর এবং গ্রন্থ রচনার অধিকারী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। বাকি ইবনে মাখলাদ তাঁর নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন, আর তিনি কেবল নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) রাবী থেকেই হাদিস বর্ণনা করতেন।

 

•‌‌ খ, ম, দ, ত, স -‌‌ আহমদ ইবনে সাঈদ ইবনে ইব্রাহিম আর-রিবাতী আবু আব্দুল্লাহ আল-মারওয়াযী আল-আশকার।

নিশাপুরে বসবাসকারী।

তিনি আবু আহমদ আজ-জুবাইরি, আবু দাউদ আত-তায়ালিসি, আন-নাসর ইবনে শুমাইল, ওয়াহাব ইবনে জারির ইবনে হাযিম, ইউনুস ইবনুল মুয়াদ্দিব এবং অন্যান্যদের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন।

ইবনে মাজাহ ব্যতীত জামায়াত (প্রধান হাদিস সংকলকগণ), ইবনে খুজাইমাহ, আস-সাররাজ, আল-কাব্বানি, ইব্রাহিম ইবনে আবি তালিব এবং একদল রাবী তাঁর নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন।

আন-নাসায়ী বলেন: নির্ভরযোগ্য (সিকাহ)।

ইবনে খিরাশ বলেন: অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য (সিকাহ সিকাহ)।

আল-খতিব বলেন: তিনি আহমাদ (ইবনে হাম্বল)-এর যুগে বাগদাদে এসেছিলেন, সেখানে উলামাদের সাথে বসেছেন, তাঁদের সাথে আলোচনা (মুজাকারা) করেছেন; তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য, প্রখর বোধসম্পন্ন, আলিম এবং গুণী ব্যক্তি।

আল-কাব্বানি বলেন: তিনি ভূমিকম্পের বছরের পরে অর্থাৎ ৪৩ (২৪৩) হিজরিতে মারা যান।

অন্যেরা বলেন: ৪৫ (২৪৫) হিজরিতে। আবার বলা হয়েছে: তিনি ২৪৬ হিজরির মুহররম মাসে কুমুসে মৃত্যুবরণ করেন।

আমি বলছি: এই শেষোক্ত উক্তিটি বুখারি ইবনে আহমদ থেকে বর্ণনা করেছেন, আল-কাররাব, ইবনে মান্দাহ, আল-কিলাবাদি এবং ইবনে তাহির তাঁকে অনুসরণ করেছেন। পক্ষান্তরে আল-কাব্বানি ‘ভূমিকম্পের বছরের পরে’ এই শব্দটুকু বলেননি, কারণ এটি ভ্রম (ওয়াহম)। কেননা ভূমিকম্পের বছর ছিল ৪৫ (২৪৫) হিজরি, তাই সঠিক কথাটি সম্ভবত ভূমিকম্পের বছরের পূর্বে অথবা ৬ (২৪৬) হিজরি হবে, তিন (২৪৩) নয়(১)।

আবু হাতিম আর-রাযি বলেন: আমি তাঁকে পেয়েছি কিন্তু তাঁর থেকে (হাদিস) লিখিনি। তবে তিনি আমার কাছে কিছু হাদিস লিখে পাঠিয়েছিলেন। তিনি সীমান্ত ঘাঁটিগুলোর (রিবাত) দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।

আল-খালিলা ‘আল-ইরশাদ’-এ বলেন: তিনি নির্ভরযোগ্য, আলিম, হাফিজ এবং অত্যন্ত দক্ষ।

আবু আলি আল-হাফিজ বলেন: আল্লাহর কসম, তিনি অনুসরণযোগ্য ইমামদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

মুহাম্মদ ইবনে আব্দুস সালাম বলেন: ইসহাক ইবনে ইব্রাহিমের পরে আমি তাঁর মতো কাউকে দেখিনি।

 

•‌‌ দ -‌‌ আহমদ ইবনে সাঈদ ইবনে বিশর ইবনে উবাইদুল্লাহ আল-হামদানি।

আবু জাফর আল-মিসরি।

তিনি ইবনে ওয়াহাব, আশ-শাফিঈ, আসবাগ ইবনুল ফারাজ, বিশর ইবনে বকর এবং অন্যান্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন।

আবু দাউদ তাঁর নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন। ‘আন-নুবলা’র রচয়িতা উল্লেখ করেছেন যে, আন-নাসায়ীও তাঁর নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন। এছাড়াও আল-বুজাইরি, ইবনে আবি দাউদ, ফাদলাক আর-রাযি, আবু তৈয়ব আর-রাসআনি, মুহাম্মদ ইবনে আর-রবি ইবনে সুলাইমান এবং অন্যান্যরা তাঁর নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন।

আন-নাসায়ী বলেন: তিনি শক্তিশালী (কাওয়ি) নন। যদি তিনি গুহা সংক্রান্ত বুকাইর ইবনুল আশাজ্জ-এর হাদিসটি থেকে ফিরে আসতেন তবে আমি তাঁর থেকে বর্ণনা করতাম। আব্দুল গনি ইবনে সাঈদ হামজাহ আল-কিনানি থেকে উল্লেখ করেছেন যে, আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হাজ্জাজ ইবনে রুশদিন মূলত আল-হামদানির বর্ণনায় এই গুহা সংক্রান্ত হাদিসটি ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন।

ইবনে ইউনুস বলেন: তিনি ২৫৩ হিজরির ১০ই রমজান শনিবার দিবাগত রাতে মৃত্যুবরণ করেন।

আমি বলছি: জাকারিয়া আস-সাজি বলেন: তিনি সুদৃঢ় (সাবত)।

আল-ইজলি বলেন: নির্ভরযোগ্য (সিকাহ)।

আহমদ ইবনে সালিহ বলেন: আমি যখন থেকে তাঁকে চিনেছি, সর্বদা কল্যাণের অধিকারীরূপেই জেনেছি।

ইবনে হিব্বান তাঁকে ‘আস-সিকাত’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং আন-নাসায়ী তাঁকে তাঁর সেসব শায়খদের মধ্যে গণ্য করেছেন যাদের নিকট থেকে তিনি হাদিস শুনেছেন।

 

•‌‌ খ, ম, দ, ত, ক -‌‌ আহমদ ইবনে সাঈদ ইবনে সাখর আদ-দারিমি আবু জাফর আস-সারখাসি, পরবর্তীতে আন-নিশাপুরি।

আল-খতিব দারিম পর্যন্ত তাঁর বংশপরম্পরা ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলেন: তিনি ফিকহ, হাদিসের জ্ঞান এবং তা মুখস্থ রাখার ক্ষেত্রে খ্যাতিমান ব্যক্তিদের অন্যতম ছিলেন।

তিনি আন-নাসর ইবনে শুমাইল, আবু আমির আল-আকাদি, আলি ইবনুল হুসাইন আল-মারওয়াযী, উসমান ইবনে উমর এবং আবু আসিম থেকে বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) ২৪২ হিজরিতেও একটি ভূমিকম্প হয়েছিল, দেখুন: ইবনুল আসিরের আল-কামিল: ৭/৮১। সম্ভবত আল-কাব্বানি যখন বলেছিলেন ‘ভূমিকম্পের পর’, তখন এটিই বুঝিয়েছিলেন, যা তাঁর ২৪৩ হিজরিতে মৃত্যুর বিষয়টিকে শক্তিশালী করে। আর ‘ভূমিকম্পের বছরের পরে’ শব্দগুলো আল-কাব্বানির উক্তি হিসেবেই সাব্যস্ত, যেমনটি তারিখু বাগদাদ ৪/১৬৬-এ রয়েছে; হাফিজ (ইবনে হাজার) যেমনটি মনে করেছেন যে আল-কাব্বানি তা বলেননি, বিষয়টি তেমন নয়।
(খণ্ড: ١) তাহযিবুত তাহযিব - ত রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ٢٤)
ويحيى بن أبي بكير، وغيرهم.

روى عنه الجماعة سوى النسائي، والفلاس، وأبو موسى، وهما أكبر منه، ووهب بن جرير، وهو من شيوخه، وزكريا السجزي، وأبو عوانة، وابن أبي الدنيا، وإبراهيم بن أبي طالب، وعثمان بن خرزاذ، وجماعة.

قال أحمد: ما قدم علي خراساني أفقه بدنا منه، وعظمه حجاج الشاعر.

وقال يحيى بن زكريا النيسابوري: كان ثقة جليلا.

وقال أحمد بن محمد بن سعيد بن عُقْدة(1): أقدمه الطاهرية هراة، وكان أحد حفاظ الحديث المتقن الثقة العالم بالحديث وبالرواة، تولى قضاء سرخس ثم انصرف إلى نيسابور إلى أن مات بها سنة (253).

وقال ابن حبان: كان ثقة ثبتا صاحب حديث يحفظ، وكتب إليه أحمد بن حنبل لأبي جعفر أكرمه الله من أحمد بن حنبل.

قلت: ذكر أبو علي الجياني في شيوخ ابن الجارود أن النسائي روى عنه، وبقية كلام ابن حبان، مات سنة (265) أو قبلها أو بعدها بقليل، وفرق أبو علي الجياني بين الدارمي والسرخسي فوهم.

 

•‌‌ م -‌‌ أحمد بن سعيد بن يزيد بن إبراهيم التستري.

عن روح بن عبادة.

وعنه مسلم.

كذا في الكمال، والصواب أحمد بن سعيد بن إبراهيم، وهو الرباطي، وقد تقدم.

 

•‌‌ س -‌‌ أحمد بن سعيد بن يعقوب الكندي أبو العباس الحمصي.

روى عن بقية، وعثمان بن سعيد الحمصي.

وعنه النسائي، وسعيد بن عمرو البردعي.

قال ابن أبي حاتم: كتب إلي ببعض حديثه على يدي سعيد.

وقال النسائي: لا بأس به.

قلت: وذكره ابن حبان في الثقات، وقال: حدثنا عنه مكحول، وغيره.

 

•‌‌ ‌‌أحمد بن سعيد الحراني صوابه أحمد بن أبي شعيب الحراني.

وقع في بعض نسخ الترمذي أحمد بن شعيب فحرفها بعضهم أحمد بن سعيد فنشأ منه هذا الوهم، وإنما أخرج الترمذي عن الدارمي عنه، وسيأتي في أحمد بن عبد الله بن أبي شعيب.

 

•‌‌ ‌‌أحمد بن أبي السفر أبو عبيدة. يأتي.

 

•‌‌ س -‌‌ أحمد بن سفيان أبو سفيان النسائي، ويقال المروزي.

روى عن عون بن عمارة، وعارم، وأبي زيد الهروي، وغيرهم.

وعنه النسائي، والبخاري في كتاب الضعفاء، ومحمد بن المسيب الأرغياني.

قال النسائي: ثقة.

وقال في موضع آخر لا بأس به.

قلت: وذكره ابن حبان في الثقات، وقال: كان ممن جمع، وصنف، واستقام في أمر الحديث إلى أن مات. حدثنا عنه محمد بن محمود بن عدي.

 

•‌‌ س -‌‌ أحمد بن سليمان بن عبد الملك بن أبي شيبة الجزري.

أبو الحسين الرهاوي الحافظ.

روى عن أبي داود الحفري، وأبي نعيم، وزيد بن الحباب، وجعفر بن عون، ومحاضر بن المورع، ويزيد بن هارون، وغيرهم.

وعنه النسائي كثيرا، وأبو عروبة، ومكحول البيروتي، والأرغياني، وإبراهيم بن محمد بن متويه.

قال النسائي: ثقة مأمون صاحب حديث.

وقال ابن أبي حاتم: كتب إلي ببعض حديثه، وهو صدوق ثقة.

وقال أبو عروبة: مات بضيعة له إلى جانب الرها سنة (261)، وكان ثبتا في الأخذ، والأداء.

--------------------------------------------

(1) في "تهذيب الكمال" عطاء بدل عقدة، ولم أجد راويًا بهذا الاسم، والظاهر أنه تحريف قديم، وابن عقدة هو ابو العباس، مترجم في "السير" 15/ 340.
এবং ইয়াহইয়া বিন আবু বুকাইর ও অন্যান্যরা।

নাসাঈ ব্যতীত জামাআতের (প্রধান হাদিস সংকলকগণের) সকলেই তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। এছাড়া ফাল্লাস ও আবু মুসা (যাঁরা তাঁর চেয়ে বয়সে বড়), ওয়াহাব বিন জারীর (যিনি তাঁর শিক্ষকদের একজন), যাকারিয়া আস-সিজযি, আবু আওয়ানা, ইবনুল আবিদ দুনইয়া, ইবরাহিম বিন আবু তালিব, উসমান বিন খুররযাদ এবং একটি দল তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।

আহমাদ বলেন: আমার নিকট তাঁর চেয়ে অধিক ফকিহ কোনো খুরাসানি ব্যক্তি আসেননি; আর কবি হাজ্জাজ তাঁকে অত্যন্ত সম্মান করতেন।

ইয়াহইয়া বিন যাকারিয়া আন-নাইসাবুরি বলেন: তিনি নির্ভরযোগ্য ও মহান ছিলেন।

আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন সাঈদ বিন উকদাহ(১) বলেন: তাহিরি বংশীয় শাসকরা তাঁকে হেরাতে নিয়ে এসেছিলেন। তিনি হাদিসের হাফেজদের মধ্যে অন্যতম, সুনিপুণ, নির্ভরযোগ্য এবং হাদিস ও বর্ণনাকারীদের বিষয়ে বিজ্ঞ ছিলেন। তিনি সারখাস-এর কাজির দায়িত্ব পালন করেন, অতঃপর নাইসাবুরে ফিরে আসেন এবং সেখানেই ২৫৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

ইবনে হিব্বান বলেন: তিনি নির্ভরযোগ্য, দৃঢ় এবং হাদিস সংরক্ষণকারী হাফেজ ছিলেন। আহমাদ বিন হাম্বল তাঁর নিকট এই মর্মে চিঠি লিখেছিলেন যে: "আহমাদ বিন হাম্বলের পক্ষ থেকে আবু জাফরের প্রতি, আল্লাহ তাঁকে সম্মানিত করুন।"

আমি বলছি: আবু আলী আল-জাইয়ানি ইবনুল জারুদের উস্তাদদের বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন যে, নাসাঈ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনে হিব্বানের বাকি বক্তব্য হলো— তিনি ২৬৫ হিজরিতে বা তার কিছু আগে অথবা পরে মারা যান। আবু আলী আল-জাইয়ানি আদ-দারিমি এবং আস-সারখাসির মধ্যে পার্থক্য করেছেন, যা তাঁর একটি ভুল ধারণা।

 

•‌‌ ম -‌‌ আহমাদ বিন সাঈদ বিন ইয়াযিদ বিন ইবরাহিম আত-তুস্তারি।

রাওহ বিন উবাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।

এবং তাঁর থেকে মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

‘আল-কামাল’ গ্রন্থে এভাবেই আছে, তবে সঠিক হলো— আহমাদ বিন সাঈদ বিন ইবরাহিম, আর তিনি হলেন আর-রিবাতী, যা ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।

 

•‌‌ স -‌‌ আহমাদ বিন সাঈদ বিন ইয়াকুব আল-কিন্দি আবু আব্বাস আল-হিমসি।

বকিয়্যাহ এবং উসমান বিন সাঈদ আল-হিমসি থেকে বর্ণনা করেছেন।

এবং তাঁর থেকে নাসাঈ ও সাঈদ বিন আমর আল-বারদাঈ বর্ণনা করেছেন।

ইবনে আবি হাতিম বলেন: সাঈদের মাধ্যমে তাঁর কিছু হাদিস আমার নিকট লিখিত আকারে পৌঁছেছে।

নাসাঈ বলেন: তাঁর বর্ণনায় কোনো সমস্যা নেই।

আমি বলছি: ইবনে হিব্বান তাঁকে নির্ভরযোগ্যদের তালিকায় উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: মাকহুল ও অন্যান্যরা আমাদের নিকট তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন।

 

•‌‌ ‌‌আহমাদ বিন সাঈদ আল-হাররানি সঠিক হলো— আহমাদ বিন আবু শুআইব আল-হাররানি।

তিরমিযীর কিছু পাণ্ডুলিপিতে ‘আহমাদ বিন শুআইব’ এসেছে, যা কেউ কেউ বিকৃত করে ‘আহমাদ বিন সাঈদ’ লিখে ফেলেছেন; ফলে এই ভুল ধারণার সৃষ্টি হয়েছে। মূলত তিরমিযী আদ-দারিমির মাধ্যমে তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আবু শুআইবের আলোচনায় এটি সামনে আসবে।

 

•‌‌ ‌‌আহমাদ বিন আবু আল-সাফার আবু উবাইদাহ। সামনে আসবে।

 

•‌‌ স -‌‌ আহমাদ বিন সুফিয়ান আবু সুফিয়ান আন-নাসাঈ, তাঁকে আল-মারওয়াযীও বলা হয়।

আউন বিন উমারাহ, আরিম, আবু যায়েদ আল-হারাউই এবং অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন।

এবং তাঁর থেকে নাসাঈ, ইমাম বুখারি তাঁর ‘কিতাবুল দুআফা’ গ্রন্থে এবং মুহাম্মদ বিন আল-মুসাইয়িব আল-আরগিয়ানি বর্ণনা করেছেন।

নাসাঈ বলেন: তিনি নির্ভরযোগ্য।

অন্য স্থানে তিনি বলেছেন: তাঁর বর্ণনায় কোনো সমস্যা নেই।

আমি বলছি: ইবনে হিব্বান তাঁকে নির্ভরযোগ্যদের তালিকায় উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: তিনি ছিলেন তাঁদের অন্তর্ভুক্ত যাঁরা হাদিস সংগ্রহ ও সংকলন করেছেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত হাদিসের বিষয়ে অটল ছিলেন। মুহাম্মদ বিন মাহমুদ বিন আদি আমাদের নিকট তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।

 

•‌‌ স -‌‌ আহমাদ বিন সুলাইমান বিন আব্দুল মালিক বিন আবু শাইবাহ আল-জাযারি।

আবু আল-হুসাইন আল-রুহাবি আল-হাফেজ।

আবু দাউদ আল-হাফারি, আবু নুআইম, যায়েদ বিন আল-হুবাব, জাফর বিন আউন, মুহাজির বিন আল-মুওয়াররি' এবং ইয়াযিদ বিন হারুনসহ অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন।

এবং তাঁর থেকে নাসাঈ প্রচুর বর্ণনা করেছেন; এছাড়া আবু আরুবাহ, মাকহুল আল-বাইরুতি, আল-আরগিয়ানি এবং ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ বিন মাত্তাওয়াইহ বর্ণনা করেছেন।

নাসাঈ বলেন: তিনি নির্ভরযোগ্য, বিশ্বস্ত ও হাদিস বিশারদ।

ইবনে আবি হাতিম বলেন: তাঁর কিছু হাদিস আমার নিকট লিখিত আকারে পৌঁছেছে, তিনি সত্যবাদী ও নির্ভরযোগ্য।

আবু আরুবাহ বলেন: তিনি ২৬১ হিজরিতে আল-রুহার পার্শ্ববর্তী তাঁর একটি ভূসম্পত্তিতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি হাদিস গ্রহণ ও প্রদানের ক্ষেত্রে অত্যন্ত দৃঢ় ছিলেন।

--------------------------------------------

(১) ‘তাজহিবুল কামাল’-এ ‘উকদাহ’-এর পরিবর্তে ‘আতা’ রয়েছে, তবে আমি এই নামে কোনো বর্ণনাকারী খুঁজে পাইনি। স্পষ্টতই এটি একটি পুরনো অনুলিপিগত ভুল। আর ইবনে উকদাহ হলেন আবু আব্বাস, যাঁর জীবনী ‘আস-সিয়ার’ ১৫/৩৪০ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ١) তাহযিবুত তাহযিব - ত রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ٢٥)
قلت: وزاد أبو عروبة في تاريخ الجزريين في ذكر وفاته لإحدى عشرة ليلة بقيت من ذي الحجة.

وقال ابن حبان في (الثقات): كان صاحب حديث يحفظ، وله ذكر في ترجمة أحمد بن الفرات.

 

•‌‌ ‌‌أحمد بن سليمان المروزي هو أحمد بن أبي الطيب. يأتي.

 

•‌‌ خ م د كن ق -‌‌ أحمد بن سنان بن أسد بن حبان القطان أبو جعفر الواسطي الحافظ.

روى عن يحيى بن سعيد القطان، وأبي أحمد الزبيري، وأبي أسامة، ويزيد بن هارون، والشافعي، وغيرهم.

روى عنه البخاري، ومسلم، وأبو داود، والنسائي في حديث مالك، وابن ماجه، وابن خزيمة، وأبو موسى، وهو من أقرانه، وابنه جعفر بن أحمد بن سنان، وزكريا بن يحيى الساجي، وأبو بكر بن أبي داود، وابن أبي حاتم، وابن صاعد، وأبو حاتم.

وقال: ثقة صدوق.

وقال إبراهيم بن أورمة: أعدنا عليه ما سمعناه منه من بندار، وأبي موسى، يعني لإتقانه، وحفظه.

وقال النسائي: ثقة قيل مات سنة (6)، وقيل سنة (8)، وقيل سنة (259).

قلت: كذا قال ابن عساكر، وفي سؤالات السلفي خميسا الحوزي عن شيوخ واسط أنه مات (254)، وكأنها تصحفت، والصواب تسع، وذكره ابن حبان في (الثقات) وقال حدثنا عنه ابنه جعفر مات (250) أو قبلها أو بعدها بقليل، ونقل المزي عن ابن أبي حاتم أنه قال فيه: إمام أهل زمانه، وهو وهم فليس هذا في الجرح والتعديل، وقد نقله اللالكائي بسنده إلى أبي حاتم نفسه.

وقال الدارقطني: كان من الثقات الأثبات.

وقال الآجري: سألت أبا داود عنه فقدمه على بندار، وليس له عند البخاري سوى حديث واحد، وقد روى النسائي عنه في السنن الكبرى عدة أحاديث في الحدود، والطلاق، وغير ذلك.

 

•‌‌ س -‌‌ أحمد بن سيار بن أيوب أبو الحسن المروزي الفقيه.

روى عن عفان، وعبدان، وسليمان بن حرب، ويحيى بن بكير، وغيرهم.

وعنه النسائي، والبخاري في غير الجامع، وقد روى في الجامع عن أحمد غير منسوب عن محمد بن أبي بكر المقدمي فقيل هو هو، وأبو عمرو المستملي، وابن أبي داود، ومحمد بن نصر الفقيه، وابن صاعد، ومحمد بن المنذر شكر، وأبو العباس المحبوبي، وحاجب الطوسي، وغيرهم.

قال النسائي: ثقة، وفي موضع آخر لا بأس به.

وقال ابن أبي حاتم: رأيت أبي يطنب في مدحه، ويذكره بالفقه والعلم.

وقال الدارقطني: رحل إلى الشام، ومصر، وصنف، وله كتاب في أخبار مرو، وهو ثقة في الحديث.

وقال ابن أبي داود: كان من حفاظ الحديث.

وقال الحربي: كنا نعرفه بالفضل والورع.

توفي (268) ليلة الاثنين النصف من شهر ربيع الآخر، وذكر ابن ماكولا أنه عاش سبعين سنة، وثلاثة أشهر.

قلت: وقال ابن البيع: حدثني بعض مشايخنا بمرو أنه كان يقاس بابن المبارك في عصره.

وقال ابن حبان في الثقات: كان من الجماعين للحديث، والرحالين فيه مع التيقظ والإتقان، والذب عن المذهب، والتضييق على أهل البدع انتهى، وهو أحد من أدخل فقه الشافعي على خراسان، أخذه عن الربيع، وغيره، وله كتاب (فتوح خراسان).

وقال ابن عساكر: كانت له رحلة واسعة.

 

•‌‌ ‌‌أحمد بن شبويه هو أحمد بن محمد بن ثابت الخزاعي المروزي.

 

•‌‌ خ خد س -‌‌ أحمد بن شبيب بن سعيد الحبطي أبو عبد الله البصري.
আমি বলছি: আবু আরুবা তার 'তারিখে জাযারিয়্যীন'-এ তাঁর মৃত্যু সম্পর্কে অতিরিক্ত উল্লেখ করেছেন যে, এটি যিলহজ মাসের এগারো রাত অবশিষ্ট থাকতে সংঘটিত হয়েছিল।

ইবন হিব্বান 'আস-সিকাত'-এ বলেছেন: তিনি হাদিসের অধিকারী ছিলেন এবং মুখস্থ রাখতেন। আহমাদ ইবনুল ফুরাতের জীবনীতে তাঁর উল্লেখ রয়েছে।

 

•‌‌ ‌‌আহমাদ ইবন সুলাইমান আল-মারওয়াযী তিনি হলেন আহমাদ ইবন আবুত্তায়্যিব। সামনে তাঁর আলোচনা আসবে।

 

•‌‌ বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসায়ী (আল-কুনা), ইবন মাজাহ -‌‌ আহমাদ ইবন সিনান ইবন আসাদ ইবন হিব্বান আল-কাত্তান আবু জাফর আল-ওয়াসিতি আল-হাফিয।

তিনি ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ আল-কাত্তান, আবু আহমাদ আয-যুবাইরী, আবু উসামাহ, ইয়াযীদ ইবন হারুন, আশ-শাফিঈ এবং অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন।

তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন আল-বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, আন-নাসায়ী (মালিকের হাদিসে), ইবন মাজাহ, ইবন খুযাইমাহ, আবু মুসা—যিনি তাঁর সমসাময়িক ছিলেন—তাঁর পুত্র জাফর ইবন আহমাদ ইবন সিনান, যাকারিয়া ইবন ইয়াহইয়া আস-সাজী, আবু বকর ইবন আবু দাউদ, ইবন আবু হাতিম, ইবন সাঈদ এবং আবু হাতিম।

তিনি বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য ও সত্যবাদী।

ইব্রাহিম ইবন আওরামাহ বলেছেন: আমরা বুন্দার ও আবু মুসা থেকে যা শুনেছিলাম, তা তাঁর কাছে পুনরায় পেশ করেছিলাম; অর্থাৎ তাঁর নিখুঁত পারদর্শিতা ও মুখস্থ শক্তির কারণে।

আন-নাসায়ী বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য। বলা হয়েছে যে তিনি ২৫৬ হিজরিতে মারা গেছেন, আবার বলা হয়েছে ২৫৮ হিজরিতে, আবার বলা হয়েছে ২৫৯ হিজরিতে।

আমি বলছি: ইবন আসাকির এভাবেই বলেছেন। আর সিলারফির 'সুয়ালাত'-এ খুমাইসা আল-হাওয়ায়ী ওয়াসিতের শায়েখদের সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন যে তিনি ২৫৪ হিজরিতে মারা গেছেন, তবে সম্ভবত এটি অনুলিখনে ভুল হয়েছে, সঠিক হলো ২৫৯। ইবন হিব্বান 'আস-সিকাত'-এ তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: তাঁর থেকে তাঁর পুত্র জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি ২৫০ হিজরিতে অথবা তার সামান্য আগে বা পরে মারা গেছেন। আল-মিযযী ইবন আবু হাতিম থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি তাঁকে 'তাঁর সময়ের ইমাম' বলেছেন, তবে এটি একটি ভ্রম, কারণ এটি 'আল-জারহ ওয়াত-তাদিল' গ্রন্থে নেই। তবে আল-লালকায়ী এটি তাঁর নিজস্ব সনদে স্বয়ং আবু হাতিম থেকে বর্ণনা করেছেন।

আদ-দারা কুতনী বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

আল-আজুররী বলেছেন: আমি আবু দাউদকে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তাঁকে বুন্দারের ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন। আল-বুখারীর নিকট তাঁর কেবল একটি হাদিস রয়েছে। তবে আন-নাসায়ী 'আস-সুনান আল-কুবরা'-তে তাঁর থেকে দণ্ডবিধি, তালাক এবং অন্যান্য বিষয়ে বেশ কিছু হাদিস বর্ণনা করেছেন।

 

•‌‌ নাসায়ী -‌‌ আহমাদ ইবন সাইয়ার ইবন আইয়ুব আবু হাসান আল-মারওয়াযী আল-ফকিহ।

তিনি আফফান, আবদান, সুলাইমান ইবন হারব, ইয়াহইয়া ইবন বুকাইর এবং অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন।

আর তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন আন-নাসায়ী, আল-বুখারী (আল-জামি' ব্যতীত অন্য গ্রন্থে); আল-জামি'-এ তিনি মুহাম্মাদ ইবন আবু বকর আল-মুকাদ্দামী থেকে নাম উল্লেখ না করে জনৈক আহমাদ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং বলা হয়েছে যে তিনি তিনিই (অর্থাৎ আহমাদ ইবন সাইয়ার)। এছাড়াও বর্ণনা করেছেন আবু আমর আল-মুস্তামলী, ইবন আবু দাউদ, মুহাম্মাদ ইবন নাসর আল-ফকিহ, ইবন সাঈদ, মুহাম্মাদ ইবনুল মুনযির শাকার, আবুল আব্বাস আল-মাহবুবী, হাজিব আত-তুসী এবং অন্যান্যরা।

আন-নাসায়ী বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য। অন্য স্থানে বলেছেন: তাঁর মধ্যে কোনো সমস্যা নেই।

ইবন আবু হাতিম বলেছেন: আমি আমার পিতাকে তাঁর অকুন্ঠ প্রশংসা করতে এবং ফিকহ ও ইলমের সাথে তাঁর কথা উল্লেখ করতে দেখেছি।

আদ-দারা কুতনী বলেছেন: তিনি শাম ও মিশরে ভ্রমণ করেছেন এবং গ্রন্থ রচনা করেছেন। 'আখবারে মারওয়্' (মারওয়ার সংবাদ) বিষয়ে তাঁর একটি বই রয়েছে এবং তিনি হাদিসে নির্ভরযোগ্য।

ইবন আবু দাউদ বলেছেন: তিনি হাদিসের হাফিযদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

আল-হারবী বলেছেন: আমরা তাঁকে মর্যাদা ও পরহেজগারির জন্য চিনতাম।

তিনি ২৬৮ হিজরির রবিউস সানি মাসের মাঝামাঝি সোমবার রাতে ইন্তেকাল করেন। ইবন মাকুলা উল্লেখ করেছেন যে তিনি সত্তর বছর তিন মাস জীবিত ছিলেন।

আমি বলছি: ইবনুল বাইয়ি' বলেছেন: মারওয়ার আমাদের কিছু শিক্ষক আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর যুগে তাঁকে ইবনুল মুবারকের সাথে তুলনা করা হতো।

ইবন হিব্বান 'আস-সিকাত'-এ বলেছেন: তিনি হাদিস সংগ্রহকারী এবং এ উদ্দেশ্যে দেশভ্রমণকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, সাথে ছিলেন অত্যন্ত সজাগ ও পারদর্শী। তিনি মাযহাবের প্রতিরক্ষা এবং বিদআতিদের ওপর কঠোরতা আরোপ করতেন। সমাপ্ত। তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি খুরাসানে ইমাম শাফিঈর ফিকহ নিয়ে আসেন, যা তিনি আর-রাবি' এবং অন্যদের কাছ থেকে গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর 'ফুতুহু খুরাসান' নামক একটি গ্রন্থ রয়েছে।

ইবন আসাকির বলেছেন: তাঁর জ্ঞানার্জনের সফর ছিল সুদূরপ্রসারী।

 

•‌‌ ‌‌আহমাদ ইবন শাবওয়াইহ তিনি হলেন আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন সাবিত আল-খুযাঈ আল-মারওয়াযী।

 

•‌‌ বুখারী, বুখারী (আল-আদাব আল-মুফরাদ), নাসায়ী -‌‌ আহমাদ ইবন শাবীব ইবন সাঈদ আল-হাবতী আবু আব্দুল্লাহ আল-বাসরী।
(খণ্ড: ١) তাহযিবুত তাহযিব - ত রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ٢٦)
روى عن أبيه، ويزيد بن زريع، وعبد الله بن رجاء المكي، وغيرهم.

وعنه البخاري، وأبو داود، والنسائي بواسطة أبي الحسن الميموني، والذهلي، وأبو زرعة، وأبو حاتم، وجماعة آخرهم محمد بن علي زيد الصائغ.

قال أبو حاتم: صدوق.

وقال ابن أبي عاصم: مات سنة (229).

قلت: ذكر أبو علي الغساني أن أبا داود روى عنه في كتاب الزهد أيضا.

وقال ابن عدي: قبله أهل العراق، ووثقوه، وكتب عنه علي بن المديني.

وذكره ابن حبان في الثقات.

وقال أبو الفتح الأزدي: منكر الحديث غير مرضي.

قلت: لم يلتفت أحد إلى هذا القول بل الأزدي غير مرضي، ثم رأيت في التمهيد في ترجمة سعد بن إسحاق، قال أبو عمر أحمد بن شبيب عن أبيه متروك، فكأنه تبع الأزدي، فإنه إنما أنكر عليه حديث سعد بن إسحاق الذي أشار إليه أبو عمر، والله أعلم.

 

•‌‌ م -‌‌ أحمد بن شعيب بن علي بن سنان بن بحر بن دينار أبو عبد الرحمن النسائي القاضي الحافظ صاحب (كتاب السنن).

سمع من خلائق لا يحصون يأتي أكثرهم في هذا الكتاب، وروى القراءة عن أحمد بن نصر النيسابوري، وأبي شعيب السوسي.

وعنه ابنه عبد الكريم، وأبو بكر أحمد بن محمد بن إسحاق بن السني، وأبو علي الحسن بن الخضر الأسيوطي، والحسن بن رشيق العسكري، وأبو القاسم حمزة بن محمد بن علي الكناني الحافظ، وأبو الحسن محمد بن عبد الله بن زكريا بن حيويه، ومحمد بن معاوية بن الأحمر، ومحمد بن قاسم الأندلسي، وعلي بن أبي جعفر الطحاوي، وأبو بكر أحمد بن محمد بن المهندس(1)؛ هؤلاء رواة كتاب السنن عنه، وأبو بشر الدولابي، وهو من أقرانه، وأبو عوانة في صحيحه، وأبو جعفر الطحاوي، وأبو بكر بن الحداد الفقيه، وأبو جعفر العقيلي، وأبو علي بن هارون، وأبو علي النيسابوري الحافظ، وأمم لا يحصون.

قال ابن عدي: سمعت منصور الفقيه، وأحمد بن محمد بن سلامة الطحاوي يقولان: أبو عبد الرحمن إمام من أئمة المسلمين.

وقال محمد بن سعد الباوردي: ذكرت النسائي لقاسم المطرز فقال: هو إمام أو يستحق أن يكون إماما.

وقال أبو علي النيسابوري: سألت النسائي، وكان من أئمة المسلمين ما تقول في بقية، وقال في موضع آخر: أخبرنا النسائي الإمام في الحديث بلا مدافعة.

وقال في موضع آخر: رأيت من أئمة الحديث أربعة في وطني وأسفاري اثنان بنيسابور محمد بن إسحاق، وإبراهيم بن أبي طالب، والنسائي بمصر، وعبدان بالأهواز.

وقال مأمون المصري: خرجنا إلى طرسوس فاجتمع من الحفاظ عبد الله بن أحمد، ومرتع، وأبو الآذان كيلجة، وغيرهم، فكتبوا كلهم بانتخاب النسائي.

وقال أبو الحسين بن المظفر: سمعت مشايخنا بمصر يعترفون لأبي عبد الرحمن النسائي بالتقدم والإمامة، ويصفون من اجتهاده في العبادة بالليل والنهار، ومواظبته على الحج والجهاد(2)، وإقامته للسنن المأثورة، واحترازه عن مجالس السلطان، وأن ذلك لم يزل دأبه إلى أن استشهد.

وقال الحاكم: سمعت علي بن عمر الحافظ غير مرة يقول: أبو عبد الرحمن مقدم على كل من يذكر بهذا العلم من أهل عصره.

وقال مرة سمعت علي بن عمر يقول: النسائي أفقه مشايخ مصر في عصره، وأعرفهم بالصحيح والسقيم، وأعلمهم بالرجال، فلما بلغ هذا المبلغ حسدوه فخرج إلى الرملة فسئل عن فضائل معاوية فأمسك عنه، فضربوه في الجامع فقال: أخرجوني إلى مكة فأخرجوه، وهو عليل، وتوفي مقتولا شهيدا.

--------------------------------------------

(1) لم يذكره المزي في الرواة عن النسائي، وقال الذهبي في السيرة 16 - 462: "أخطأ من قال: إنه سمع من النسائي".

(2) في "تهذيب الكمال"، والاجتهاد.
তিনি তাঁর পিতা, ইয়াজীদ বিন জুরাই, আবদুল্লাহ বিন রাজা আল-মাক্কী এবং অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন।

আর তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন বুখারী, আবু দাউদ, আবু আল-হাসান আল-মায়মুনীর মাধ্যমে নাসাঈ, আয-যুহলী, আবু জুরআহ, আবু হাতিম এবং একটি জামাত বা দল, যাদের মধ্যে সর্বশেষ হলেন মুহাম্মদ বিন আলী যাইদ আস-সাইগ।

আবু হাতিম বলেন: তিনি সত্যবাদী।

ইবনে আবি আসিম বলেন: তিনি ২২৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: আবু আলী আল-গাসসানী উল্লেখ করেছেন যে, আবু দাউদ তাঁর থেকে 'কিতাবুয যুহদ'-এও বর্ণনা করেছেন।

ইবনে আদী বলেন: ইরাকবাসীরা তাঁকে গ্রহণ করেছেন এবং নির্ভরযোগ্য বলেছেন, আর আলী বিন আল-মাদীনী তাঁর থেকে (হাদিস) লিখেছেন।

ইবনে হিব্বান তাঁকে 'আছ-ছিকাত' (নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের তালিকা) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

আবু আল-ফাতহ আল-আযদী বলেন: তিনি মুনকারুল হাদীস (অগ্রহণযোগ্য হাদিস বর্ণনাকারী) এবং সন্তোষজনক নন।

আমি বলছি: এই উক্তির প্রতি কেউ ভ্রুক্ষেপ করেননি, বরং আল-আযদী নিজেই সন্তোষজনক নন। এরপর আমি 'আত-তামহীদ' গ্রন্থে সাদ বিন ইসহাকের জীবনীতে দেখেছি যে, আবু উমর বলেছেন: আহমদ বিন শাবীব তাঁর পিতার সূত্রে (তাকে) মাতরুক (পরিত্যজ্য) বলেছেন; মনে হচ্ছে তিনি আল-আযদীকে অনুসরণ করেছেন। কেননা তিনি কেবল সাদ বিন ইসহাকের সেই হাদিসটির কারণেই তাঁকে অস্বীকার করেছেন যেটির দিকে আবু উমর ইঙ্গিত করেছেন। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

 

•‌‌ ম -‌‌ আহমদ বিন শুআইব বিন আলী বিন সিনান বিন বাহর বিন দীনার আবু আবদুর রহমান আন-নাসাঈ, তিনি ছিলেন কাজী, হাফেজ এবং 'কিতাবুস সুনান'-এর রচয়িতা।

তিনি অগণিত লোকের নিকট থেকে শুনেছেন যাদের অধিকাংশের কথা এই গ্রন্থে আসবে। তিনি আহমদ বিন নাসর আন-নাইসাবুরী এবং আবু শুআইব আস-সূসীর নিকট থেকে কিরাত বর্ণনা করেছেন।

আর তাঁর থেকে (বর্ণনা করেছেন) তাঁর পুত্র আবদুল করীম, আবু বকর আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ইসহাক ইবনে আস-সুন্নী, আবু আলী আল-হাসান বিন আল-খিদর আল-আসয়ূতী, আল-হাসান বিন রাশীক আল-আসকারী, হাফেজ আবু আল-কাসিম হামযাহ বিন মুহাম্মদ বিন আলী আল-কিনানী, আবু আল-হাসান মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন জাকারিয়া বিন হাইয়ুওয়াহ, মুহাম্মদ বিন মুয়াবিয়া বিন আল-আহমার, মুহাম্মদ বিন কাসিম আল-আন্দালুসী, আলী বিন আবি জাফর আত-তহাবী এবং আবু বকর আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-মুহান্দিস(১); এঁরা হলেন তাঁর নিকট থেকে 'সুনান' গ্রন্থের বর্ণনাকারী। এছাড়াও আবু বিশর আদ-দুলাবী—যিনি তাঁর সমসাময়িক ছিলেন, আবু আওয়ানাহ তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে, আবু জাফর আত-তহাবী, ফকীহ আবু বকর বিন আল-হাদ্দাদ, আবু জাফর আল-উকায়লী, আবু আলী বিন হারুন, হাফেজ আবু আলী আন-নাইসাবুরী এবং অগণিত মানুষ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।

ইবনে আদী বলেন: আমি মানসূর আল-ফকীহ এবং আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন সালামাহ আত-তহাবীকে বলতে শুনেছি যে, আবু আবদুর রহমান মুসলিমদের ইমামদের মধ্যে একজন ইমাম।

মুহাম্মদ বিন সাদ আল-বাওয়ারদী বলেন: আমি কাসিম আল-মুতাররিজের কাছে নাসাঈর কথা উল্লেখ করলে তিনি বলেন: তিনি একজন ইমাম অথবা ইমাম হওয়ার যোগ্য।

আবু আলী আন-নাইসাবুরী বলেন: আমি নাসাঈকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম—আর তিনি ছিলেন মুসলিমদের অন্যতম ইমাম—আপনি বাকিয়্যাহ সম্পর্কে কী বলেন? তিনি অন্য এক স্থানে বলেছেন: হাদিসশাস্ত্রে অবিসংবাদিত ইমাম নাসাঈ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন।

তিনি অন্য এক স্থানে আরও বলেছেন: আমি স্বদেশে এবং প্রবাসে হাদিসের চারজন ইমামকে দেখেছি; নিশাপুরে দুইজন—মুহাম্মদ বিন ইসহাক এবং ইব্রাহিম বিন আবি তালিব, মিসরে নাসাঈ এবং আহওয়াজে আবদান।

মামুন আল-মিসরী বলেন: আমরা তারসূসে গেলাম, সেখানে হাফেজ আবদুল্লাহ বিন আহমদ, মুরতা', আবু আল-আযান কাইলাজাহ এবং অন্যান্যরা একত্রিত হলেন। তাঁরা সবাই নাসাঈর করা নির্বাচনের ভিত্তিতে (হাদিস) লিখলেন।

আবু আল-হুসাইন বিন আল-মুজাফফর বলেন: আমি মিসরে আমাদের শায়খদের বলতে শুনেছি, তাঁরা আবু আবদুর রহমান আন-নাসাঈর শ্রেষ্ঠত্ব ও ইমামত স্বীকার করতেন এবং দিবা-রাত্রি ইবাদতে তাঁর পরিশ্রম, হজ্জ ও জিহাদে তাঁর ধারাবাহিকতা(২), মাছুর সুন্নাহগুলোর প্রতিষ্ঠা এবং সুলতানের মজলিস থেকে তাঁর বেঁচে থাকার বর্ণনা দিতেন; আর শহীদ হওয়ার আগ পর্যন্ত এটাই তাঁর অভ্যাস ছিল।

হাকেম বলেন: আমি হাফেজ আলী বিন উমরকে একাধিকবার বলতে শুনেছি যে, আবু আবদুর রহমান তাঁর সমসাময়িকদের মধ্যে এই ইলমে (হাদিসশাস্ত্রে) আলোচিত প্রত্যেকের চেয়ে অগ্রগণ্য।

তিনি একবার বলেছিলেন, আমি আলী বিন উমরকে বলতে শুনেছি: নাসাঈ ছিলেন তাঁর সময়ের মিসরের শায়খদের মধ্যে সবচেয়ে বড় ফকীহ, সহীহ ও যয়ীফ হাদিস সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জ্ঞাত এবং রাবীদের (বর্ণনাকারীদের) ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি অভিজ্ঞ। যখন তিনি এই উচ্চমর্যাদায় পৌঁছালেন, তখন তারা তাঁর প্রতি ঈর্ষান্বিত হলো। ফলে তিনি রামলায় চলে গেলেন। সেখানে তাঁকে মুয়াবিয়ার ফজিলত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বিরত থাকেন। তখন তারা তাঁকে জামে মসজিদে মারধর করল। তিনি বললেন: আমাকে মক্কায় নিয়ে চলো। অতঃপর তাঁকে রুগ্ন অবস্থায় মক্কায় নিয়ে যাওয়া হলো এবং তিনি নিহত হয়ে শহীদ হিসেবে মৃত্যুবরণ করেন।

--------------------------------------------

(১) আল-মিযযী নাসাঈর বর্ণনাকারীদের মধ্যে তাঁর কথা উল্লেখ করেননি। আয-যাহাবী আস-সিয়ার (১৬/৪৬২) গ্রন্থে বলেছেন: "যে ব্যক্তি বলেছে তিনি নাসাঈর নিকট থেকে শুনেছেন সে ভুল করেছে।"

(২) 'তহযীবুল কামাল' গ্রন্থে রয়েছে: "পরিশ্রম"।
(খণ্ড: ١) তাহযিবুত তাহযিব - ত রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ٢٧)
وقال الدارقطني أيضا: سمعت أبا طالب الحافظ يقول: من يصبر على ما يصبر عليه أبو عبد الرحمن، كان عنده حديث ابن لهيعة ترجمة ترجمة فما حدث بها، وكان لا يرى أن يحدث بحديث ابن لهيعة.

وقال الدارقطني: كان أبو بكر بن الحداد الفقيه كثير الحديث، ولم يحدث عن أحد غير أبي عبد الرحمن النسائي فقط.

وقال رضيت به حجة بيني وبين الله تعالى.

وقال أبو بكر المأموني: سألته عن تصنيفه كتاب الخصائص فقال: دخلت دمشق، والمنحرف بها عن علي كثير، فصنفت كتاب الخصائص رجاء أن يهديهم الله، ثم صنف بعد ذلك كتاب فضائل الصحابة، وقرأها على الناس، وقيل له، وأنا حاضر: ألا تخرج فضائل معاوية فقال: أي شيء أخرج! اللهم لا تشبع بطنه! وسكت، وسكت السائل.

وقال النسائي: يشبه أن يكون مولدي في سنة (215)، لأن رحلتي الأولى إلى قتيبة كانت في سنة (30)، أقمت عنده سنة وشهرين.

وقال ابن يونس: قدم مصر قديما، وكتب بها وكتب عنه، وكان إماما في الحديث ثقة ثبتا حافظا، وكان خروجه من مصر في ذي القعدة سنة (302)، وتوفي بفلسطين يوم الاثنين لثلاث عشرة خلت من صفر سنة (303).

قلت: قال الذهبي في مختصره: عاش ثمانيا وثمانين سنة، وكأنه بناه على ما تقدم من مولده فهو تقريب.

 

•‌‌ ‌‌أحمد بن شيبان الرملي أبو عبد المؤمن.

سمع سفيان بن عيينة، وعبد المجيد بن عبد العزيز بن أبي رواد، ومؤمل بن إسماعيل، وعبد الملك الجدي، وغيرهم.

روى عنه يوسف بن موسى، وابن أبي حاتم. وقال صدوق.

قلت: ذكره في الكمال، ولم يذكر من روى عنه من الستة فحذفه المزي لذلك.

وقال العقيلي في الضعفاء: لم يكن ممن يفهم الحديث، وحدث بمناكير.

وقال ابن حبان في الثقات: يخطئ.

وقال صالح الطرابلسي: ثقة مأمون أخطأ في حديث واحد. انتهى

. واسم جده الوليد بن حيان القيسي الراوي، ومن شيوخه محمد بن جعفر غندر، ومن الرواة عنه ابن خزيمة، وابن الجارود، ومحمد بن المنذر بن سعيد، وأبو العباس الأصم، وكانت وفاته سنة (275).

 

•‌‌ خ د تم -‌‌ أحمد بن صالح المصري أبو جعفر الحافظ المعروف بابن الطبري.

كان أبوه من أهل طبرستان.

روى عن عبد الله بن وهب، وعنبسة بن خالد، وابن أبي فديك، وابن عيينة، وعبد الرزاق، وغيرهم.

روى عنه البخاري، وأبو داود، والترمذي بواسطة، ومحمد بن عبد الله بن نمير، وعمرو بن محمد الناقد، وأبو موسى، ومحمود بن غيلان، وهم من أقرانه، وأبو زرعة، والذهلي، وصالح جزرة، وابن وارة، ويعقوب بن سفيان، وأبو الأحوص العكبري، وإسماعيل سمويه، وموسى بن سهل الرملي، وغيرهم، وأبو بكر بن أبي داود خاتمة أصحابه.

وروى عباس العنبري عن رجل عنه، وسمع منه النسائي، ولم يحدث عنه.

قال أبو نعيم: ما قدم علينا أحد أعلم بحديث أهل الحجاز منه.

وقال أبو زرعة: سألني أحمد: من خلفت بمصر قلت: أحمد بن صالح، فسر بذكره.

وقال يعقوب بن سفيان الفسوي: كتبت عن ألف شيخ وكسر كلهم ثقات، ما أحد منهم أتخذه عند الله حجة إلا أحمد بن صالح بمصر، وأحمد بن حنبل بالعراق.

وقال البخاري: ثقة صدوق ما رأيت أحدا يتكلم فيه بحجة، كان أحمد بن حنبل، وعلي، وابن نمير، وغيرهم يثبتون أحمد بن صالح، وكان يحيى يقول سلوا أحمد فإنه أثبت.

وقال صالح بن محمد: لم يكن بمصر أحد يحسن الحديث، ويحفظ غير أحمد بن صالح، وكان جامعا يعرف الفقه، والحديث، والنحو، وكان يذاكر بحديث الزهري، ويحفظه.

وقال ابن نمير: حدثنا أحمد بن صالح، وإذا جاوزت الفرات فليس تجد مثله.
আদ-দারাকুতনী আরও বলেন: আমি আবু তালিব আল-হাফিজকে বলতে শুনেছি: আবু আব্দুর রহমান (নাসাঈ) যা সহ্য করেছেন, তা কে সহ্য করতে পারে? তাঁর নিকট ইবনে লাহিয়াহ-এর হাদিসগুলো অধ্যায় ভিত্তিক বিন্যস্ত ছিল, কিন্তু তিনি তা বর্ণনা করেননি। তিনি ইবনে লাহিয়াহ-এর হাদিস বর্ণনা করা সমীচীন মনে করতেন না।

আদ-দারাকুতনী বলেন: আবু বকর ইবনুল হাদ্দাদ আল-ফকিহ প্রচুর হাদিসের অধিকারী ছিলেন, অথচ তিনি আবু আব্দুর রহমান আন-নাসাঈ ব্যতীত অন্য কারও থেকে হাদিস বর্ণনা করেননি।

তিনি বলেন: আমি আমার এবং মহান আল্লাহর মাঝে তাঁকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করে সন্তুষ্ট হয়েছি।

আবু বকর আল-মামুনী বলেন: আমি তাঁকে তাঁর রচিত ‘আল-খাসাইস’ কিতাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন: আমি দামেস্কে প্রবেশ করে দেখলাম সেখানে আলীর প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারী অনেক লোক রয়েছে। তাই আমি এই আশায় ‘আল-খাসাইস’ কিতাবটি রচনা করলাম যে আল্লাহ হয়তো তাদের হিদায়াত দেবেন। এরপর তিনি ‘ফাদায়িলুস সাহাবা’ কিতাবটি রচনা করেন এবং তা মানুষের সামনে পাঠ করেন। আমি উপস্থিত থাকাকালীন তাঁকে বলা হলো: আপনি কি মুয়াবিয়ার ফজিলতসমূহ বর্ণনা করবেন না? তিনি বললেন: আমি কী বর্ণনা করব! হে আল্লাহ, আপনি তাঁর পেট পূর্ণ করবেন না! এরপর তিনি চুপ হয়ে গেলেন এবং প্রশ্নকারীও চুপ হয়ে গেল।

আন-নাসাঈ বলেন: সম্ভবত আমার জন্ম ২১৫ হিজরি সালে। কারণ কুতাইবাহ-এর নিকট আমার প্রথম সফর ছিল ২৩০ হিজরিতে, সেখানে আমি এক বছর দুই মাস অবস্থান করি।

ইবনে ইউনুস বলেন: তিনি প্রাচীনকালে মিশরে আগমন করেন, সেখানে হাদিস লেখেন এবং তাঁর নিকট থেকেও হাদিস লেখা হয়। তিনি হাদিস শাস্ত্রে ইমাম, নির্ভরযোগ্য, সুদৃঢ় ও হাফিজ ছিলেন। ৩০২ হিজরির জিলকদ মাসে তিনি মিশর ত্যাগ করেন এবং ৩০৩ হিজরির তেরোই সফর সোমবার ফিলিস্তিনে মৃত্যুবরণ করেন।

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: আয-যাহাবী তাঁর সংক্ষিপ্ত সারে (মুখতাসার) বলেছেন: তিনি আটাশি বছর বেঁচে ছিলেন। মনে হয় তিনি পূর্বোক্ত জন্মতারিখের ওপর ভিত্তি করেই এটি বলেছেন, যা একটি অনুমান মাত্র।

 

•‌‌ ‌‌আহমদ বিন শাইবান আর-রামলী আবু আব্দুল মুমিন।

তিনি সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ, আব্দুল মাজিদ বিন আব্দুল আজিজ বিন আবি রাওয়াদ, মুয়াম্মাল বিন ইসমাইল, আব্দুল মালিক আল-জাদী প্রমুখ থেকে হাদিস শুনেছেন।

তাঁর থেকে ইউসুফ বিন মুসা এবং ইবনে আবি হাতিম বর্ণনা করেছেন। ইবনে আবি হাতিম বলেন, তিনি সত্যবাদী (সাদুক)।

আমি বলছি: ‘আল-কামাল’ গ্রন্থে তাঁর উল্লেখ রয়েছে, কিন্তু সিত্তাহ-এর (ছয় কিতাবের) মধ্যে তাঁর থেকে কে বর্ণনা করেছেন তা উল্লেখ নেই, তাই আল-মিযযী এটি বাদ দিয়েছেন।

আল-উকাইলি ‘আয-যুয়াফা’ (দুর্বল বর্ণনাকারীদের তালিকা) গ্রন্থে বলেন: তিনি হাদিস বোঝার মতো ব্যক্তি ছিলেন না এবং তিনি আপত্তিকর (মুনকার) হাদিস বর্ণনা করেছেন।

ইবনে হিব্বান ‘আত-সিক্বাত’ (নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের তালিকা) গ্রন্থে বলেছেন: তিনি ভুল করতেন।

সালেহ আত-তরাবুলসী বলেন: তিনি নির্ভরযোগ্য ও আমানতদার, তবে একটি হাদিসে ভুল করেছেন। সমাপ্ত।

তাঁর দাদার নাম ওয়ালিদ বিন হাইয়ান আল-কাইসী। তাঁর শাইখদের মধ্যে মুহাম্মদ বিন জাফর গুন্দার অন্যতম। তাঁর থেকে বর্ণনাকারীদের মধ্যে ইবনে খুযাইমাহ, ইবনুল জারুদ, মুহাম্মদ বিন মুনযির বিন সাঈদ এবং আবুল আব্বাস আল-আসাম রয়েছেন। তাঁর মৃত্যু ২৭৫ হিজরিতে।

 

•‌‌ খ দ তম -‌‌আহমদ বিন সালেহ আল-মিসরী আবু জাফর আল-হাফিজ যিনি ইবনে তাবারি নামে পরিচিত।

তাঁর পিতা তবারিস্তানের অধিবাসী ছিলেন।

তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব, আনবাসাহ বিন খালিদ, ইবনে আবি ফুদাইক, ইবনে উয়াইনাহ, আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ থেকে বর্ণনা করেছেন।

তাঁর থেকে বুখারি, আবু দাউদ, তিরমিযী (মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে), মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন নুমাইর, আমর বিন মুহাম্মদ আন-নাক্বিদ, আবু মুসা, মাহমুদ বিন গাইলান (যারা তাঁর সমসাময়িক ছিলেন), আবু যুরআহ, আয-যুহলী, সালেহ জাযারাহ, ইবনে ওয়ারাহ, ইয়াকুব বিন সুফিয়ান, আবু আহওয়াস আল-উকবারী, ইসমাইল সামাওয়াইহ, মুসা বিন সাহল আর-রামলী প্রমুখ বর্ণনা করেছেন। আবু বকর বিন আবি দাউদ ছিলেন তাঁর সর্বশেষ ছাত্র।

আব্বাস আল-আনবারী জনৈক ব্যক্তির মাধ্যমে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। আন-নাসাঈ তাঁর নিকট হাদিস শুনলেও তাঁর থেকে বর্ণনা করেননি।

আবু নুয়াইম বলেন: হিজাজবাসীদের হাদিস সম্পর্কে তাঁর চেয়ে অধিক জ্ঞানী কেউ আমাদের কাছে আসেনি।

আবু যুরআহ বলেন: ইমাম আহমদ আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন: তুমি মিশরে কাকে রেখে এসেছ? আমি বললাম: আহমদ বিন সালেহকে। তাঁর নাম শুনে ইমাম আহমদ আনন্দিত হলেন।

ইয়াকুব বিন সুফিয়ান আল-ফাসাবী বলেন: আমি এক হাজারের বেশি শাইখের নিকট হাদিস লিখেছি যারা সকলেই নির্ভরযোগ্য ছিলেন, কিন্তু আমি আল্লাহ তাআলার কাছে দলিল হিসেবে গ্রহণ করার মতো মিশরের আহমদ বিন সালেহ এবং ইরাকের আহমদ বিন হাম্বল ব্যতীত আর কাউকে পাইনি।

ইমাম বুখারি বলেন: তিনি নির্ভরযোগ্য ও সত্যবাদী, আমি কাউকে তাঁর বিরুদ্ধে অকাট্য প্রমাণসহ কথা বলতে দেখিনি। আহমদ বিন হাম্বল, আলী, ইবনে নুমাইর প্রমুখ আহমদ বিন সালেহকে নির্ভরযোগ্য বলতেন। ইয়াহইয়া বলতেন: আহমদকে জিজ্ঞাসা করো, কারণ তিনি অধিক নির্ভরযোগ্য।

সালেহ বিন মুহাম্মদ বলেন: মিশরে আহমদ বিন সালেহ ব্যতীত হাদিসের সমঝদার ও হাফিজ আর কেউ ছিল না। তিনি ফিকহ, হাদিস ও নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রে পণ্ডিত ছিলেন। তিনি যুহরীর হাদিস নিয়ে আলোচনা করতেন এবং তা মুখস্থ রাখতেন।

ইবনে নুমাইর বলেন: আমাদের নিকট আহমদ বিন সালেহ হাদিস বর্ণনা করেছেন। ফোরাত নদী পার হয়ে গেলে তাঁর মতো দ্বিতীয় কাউকে খুঁজে পাবে না।
(খণ্ড: ١) তাহযিবুত তাহযিব - ত রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ٢٨)
وقال العجلي: ثقة صاحب سنة.

وقال أبو حاتم: ثقة كتبت عنه.

وقال أبو داود: كان يقوم كل لحن في الحديث.

وقال محمد بن عبد الرحمن بن سهل: كان من حفاظ الحديث رأسا في العلل، وكان يصلي بالشافعي، ولم يكن في أصحاب ابن وهب أعلم منه بالآثار.

وقال أبو سعيد بن يونس: ذكره النسائي فرماه، وأساء الثناء عليه.

وقال حدثنا معاوية بن صالح، سمعت يحيى بن معين يقول: أحمد بن صالح كذاب يتفلسف.

قال أبو سعيد: ولم يكن عندنا بحمد الله كما قال النسائي، ولم يكن له آفة غير الكبر.

وقال عبد الكريم بن النسائي عن أبيه ليس بثقة، ولا مأمون، تركه محمد بن يحيى، ورماه يحيى بالكذب.

وقال ابن عدي: كان النسائي سيئ الرأي فيه، وينكر عليه أحاديث منها عن ابن وهب، عن مالك، عن سهيل، عن أبيه، عن أبي هريرة رضي الله عنه رفعه: الدين النصيحة.

قال ابن عدي: وأحمد بن صالح من حفاظ الحديث، ومن المشهورين بمعرفته، وحدث عنه البخاري، والذهلي، واعتمادهما عليه في كثير من حديث الحجاز، وكلام ابن معين فيه تحامل، وأما سوء ثناء النسائي عليه، فسمعت محمد بن هارون بن حسان البرقي يقول: هذا الخراساني يتكلم في أحمد بن صالح، وحضرت مجلس أحمد فطرده من مجلسه فحمله ذلك على أن يتكلم فيه.

قال: وهذا أحمد بن حنبل قد أثنى عليه، وحديث الدين النصيحة، قد رواه عن ابن وهب يونسُ بن عبد الأعلى، وحدث به عن مالك محمدُ بن خالد بن عثمة.

وقال الخطيب: احتج بأحمد جميع الأئمة إلا النسائي، ويقال: كان آفة أحمد الكبر، ونال النسائي منه جفاء في مجلسه، فذلك السبب الذي أفسد الحال بينهما.

قال أبو سعيد بن يونس: ولد بمصر سنة (170).

وقال البخاري وغير واحد: توفي في ذي القعدة سنة (248).

قلت: وقال الخليلي: اتفق الحفاظ على أن كلام النسائي فيه تحامل.

 

وقال أبو حاتم بن حبان في كتاب الثقات: كان أحمد بن صالح في الحديث وحفظه عند أهل مصر كأحمد بن حنبل عند أهل العراق، ولكنه كان صلفا تياها، والذي يروى عن معاوية بن صالح عن يحيى بن معين، أن أحمد بن صالح كذاب، فإن ذاك‌‌ أحمد بن صالح الشمومي شيخ كان بمكة يضع الحديث، سأل معاوية عنه يحيى، فأما هذا فهو يقارن ابن معين في الحفظ، والإتقان. انتهى.

ويقوي ما قاله ابن حبان، أن يحيى بن معين لم يرد صاحب الترجمة، ما تقدم عن البخاري أن يحيى بن معين ثبت أحمد بن صالح المصري صاحب الترجمة.

وقال أبو جعفر العقيلي: كان أحمد بن صالح لا يحدث أحدا حتى يسأل عنه، فجاءه النسائي، وقد صحب قوما من أصحاب الحديث ليسوا هناك، فأبى أحمد أن يأذن له، فكل شيء قدر عليه النسائي أن جمع أحاديث قد غلط فيها ابن صالح فشنع بها، ولم يضر ذلك ابن صالح شيئا هو إمام ثقة.

 

•‌‌ تمييز - أحمد بن صالح الشمومي المصري نزيل مكة.

روى عن أبي صالح كاتب الليث، وعبد الله بن نافع، ويحيى بن هاشم، وغيرهم.

روى عنه محمد بن إبراهيم بن مقاتل، وإسحاق بن أحمد الخزاعي، وغيرهما.

ذكره ابن حبان في الضعفاء فقال: يأتي عن الأثبات بالمعضلات، تجب مجانبة ما روى لتنكبه الطريق المستقيم في الرواية، ولم يكن أصحاب الحديث يكتبون عنه، وإنما يوجد حديثه عند من كان يكتب عنه بمكة من الرحالة، وأخرج أبو نعيم في الحلبة من طريقه حديثا، وقال: غريب لم نكتبه إلا من حديث الشمومي، والحمل فيه عليه.

ولهم شيخ آخر مكي يقال له.

 

•‌‌ تمييز -‌‌ أحمد بن صالح السواق.

روى عن مؤمل بن إسماعيل، وموسى بن معاذ ابن أخي ياسين المكي.

روى عنه الحسن بن الليث المروزي، وأبو جعفر
আল-ইজলি বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য এবং সুন্নাহর অনুসারী ছিলেন।

আবু হাতিম বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য, আমি তাঁর থেকে হাদিস লিখেছি।

আবু দাউদ বলেছেন: তিনি হাদিসের প্রতিটি ভুল সংশোধন করতেন।

মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে সাহল বলেছেন: তিনি হাদিসের হাফেজদের মধ্যে অন্যতম এবং 'ইলাল' (হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি) শাস্ত্রে শীর্ষস্থানীয় ছিলেন। তিনি ইমাম শাফিঈর পেছনে নামাজ পড়তেন, আর ইবনে ওয়াহবের ছাত্রদের মধ্যে তাঁর চেয়ে অধিক ইলমসম্পন্ন কেউ ছিল না।

আবু সাঈদ ইবনে ইউনুস বলেছেন: ইমাম নাসাঈ তাঁর কথা উল্লেখ করে তাঁকে অভিযুক্ত করেছেন এবং তাঁর সমালোচনা করেছেন।

তিনি বলেছেন, মুয়াবিয়া ইবনে সালিহ আমাদের বর্ণনা করেছেন, আমি ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনকে বলতে শুনেছি: আহমদ ইবনে সালিহ একজন মিথ্যাবাদী এবং সে দর্শন চর্চা করে।

আবু সাঈদ বলেছেন: আল্লাহর প্রশংসায়, আমাদের কাছে তিনি নাসাঈর বর্ণনার মতো ছিলেন না। অহংকার ছাড়া তাঁর অন্য কোনো ত্রুটি ছিল না।

নাসাঈর পুত্র আবদুল কারীম তাঁর পিতার সূত্রে বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য নন এবং বিশ্বস্তও নন। মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া তাঁকে বর্জন করেছেন এবং ইয়াহইয়া তাঁকে মিথ্যাবাদী বলে অভিযুক্ত করেছেন।

ইবনে আদি বলেছেন: নাসাঈ তাঁর সম্পর্কে বিরূপ ধারণা পোষণ করতেন এবং তাঁর বর্ণিত কিছু হাদিস প্রত্যাখ্যান করতেন। সেগুলোর মধ্যে ইবনে ওয়াহব, মালিক, সুহাইল, তাঁর পিতা এবং আবু হুরায়রা (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত একটি মারফু হাদিস রয়েছে: "দীন হলো কল্যাণকামিতা (নসিহত)।"

ইবনে আদি বলেছেন: আহমদ ইবনে সালিহ হাদিসের হাফেজদের অন্তর্ভুক্ত এবং এই শাস্ত্রে সুপরিচিতদের একজন। ইমাম বুখারি ও যুহলি তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং হিজাজের অনেক হাদিসের ক্ষেত্রে তাঁরা তাঁর ওপর নির্ভর করতেন। ইবনে মাঈনের বক্তব্যটি ছিল পক্ষপাতদুষ্ট। আর নাসাঈর বিরূপ মন্তব্যের বিষয়ে আমি মুহাম্মদ ইবনে হারুন ইবনে হাসান আল-বারকিকে বলতে শুনেছি: এই খোরাসানি (নাসাঈ) আহমদ ইবনে সালিহ সম্পর্কে কথা বলছেন, অথচ আমি আহমদের মজলিসে উপস্থিত ছিলাম যখন তিনি তাঁকে (নাসাঈকে) মজলিস থেকে বের করে দিয়েছিলেন। সেই ক্ষোভ থেকেই তিনি তাঁর সম্পর্কে এমন মন্তব্য করেছেন।

তিনি বলেন: এই আহমদ ইবনে হাম্বল তাঁর প্রশংসা করেছেন। আর "দীন হলো কল্যাণকামিতা" হাদিসটি ইবনে ওয়াহব থেকে ইউনুস ইবনে আবদিল আলা এবং মালিক থেকে মুহাম্মদ ইবনে খালিদ ইবনে উসমাহও বর্ণনা করেছেন।

আল-খতিব বলেছেন: নাসাঈ ছাড়া সমস্ত ইমাম আহমদকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন। বলা হয়, আহমদের একমাত্র দোষ ছিল অহংকার। নাসাঈ তাঁর মজলিসে রূঢ় আচরণের শিকার হয়েছিলেন, আর এটাই তাঁদের মধ্যকার সম্পর্কের অবনতির কারণ।

আবু সাঈদ ইবনে ইউনুস বলেছেন: তিনি ১৭০ হিজরিতে মিসরে জন্মগ্রহণ করেন।

ইমাম বুখারি ও আরও অনেকে বলেছেন: তিনি ২৪৮ হিজরির জিলকদ মাসে মৃত্যুবরণ করেন।

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: আল-খালিইলি বলেছেন, হাফেজরা একমত হয়েছেন যে নাসাঈর মন্তব্যটি পক্ষপাতদুষ্ট ছিল।

 

আবু হাতিম ইবনে হিব্বান 'কিতাবুস সিকাত'-এ বলেছেন: মিসরবাসীদের কাছে হাদিস ও হিফজের ক্ষেত্রে আহমদ ইবনে সালিহ তেমন ছিলেন, যেমন ইরাকবাসীদের কাছে আহমদ ইবনে হাম্বল। তবে তিনি কিছুটা দাম্ভিক ছিলেন। মুয়াবিয়া ইবনে সালিহ সূত্রে ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন থেকে আহমদ ইবনে সালিহকে মিথ্যাবাদী বলার যে বর্ণনা পাওয়া যায়, তিনি হলেন আহমদ ইবনে সালিহ আল-শুমুমি, যিনি মক্কার একজন শায়খ ছিলেন এবং হাদিস জাল করতেন। মুয়াবিয়া ইয়াহইয়াকে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। আর আলোচ্য ব্যক্তি (আহমদ ইবনে সালিহ আল-মিসরি) হিফজ ও নিখুঁত বর্ণনার ক্ষেত্রে ইবনে মাঈনের সমপর্যায়ের। (সমাপ্ত)।

ইবনে হিব্বানের এই বক্তব্যকে যা শক্তিশালী করে তা হলো, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন আলোচ্য ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করেননি; কারণ ইতিপূর্বে বুখারি থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন মিসরীয় আহমদ ইবনে সালিহকে নির্ভরযোগ্য বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন।

আবু জাফর আল-উকাইলি বলেছেন: আহমদ ইবনে সালিহ কারও পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তার কাছে হাদিস বর্ণনা করতেন না। নাসাঈ তাঁর কাছে এসেছিলেন এমন কিছু হাদিস অন্বেষণকারীর সাথে যারা যোগ্য ছিল না। আহমদ তাঁকে অনুমতি দিতে অস্বীকার করেন। ফলে নাসাঈর পক্ষে যতটুকু সম্ভব ছিল ইবনে সালিহর ভুল করা হাদিসগুলো একত্র করে সেগুলোর বদনাম রটানো, তিনি তাই করেছেন। কিন্তু এতে ইবনে সালিহর কোনো ক্ষতি হয়নি, কারণ তিনি একজন নির্ভরযোগ্য ইমাম।

 

•‌‌ পার্থক্যকরণ - আহমদ ইবনে সালিহ আল-শুমুমি আল-মিসরি, যিনি মক্কায় বসবাস করতেন।

তিনি লাইসের লেখক আবু সালিহ, আবদুল্লাহ ইবনে নাফি, ইয়াহইয়া ইবনে হাশিম এবং অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন।

তাঁর থেকে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে মুকাতিল, ইসহাক ইবনে আহমদ আল-খুজাই এবং অন্যরা বর্ণনা করেছেন।

ইবনে হিব্বান 'আদ-দুয়াফা' গ্রন্থে তাঁর উল্লেখ করে বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের সূত্রে অত্যন্ত জটিল ও অগ্রহণযোগ্য বর্ণনা নিয়ে আসতেন। তাঁর বর্ণিত হাদিস বর্জন করা আবশ্যক, কারণ তিনি বর্ণনার ক্ষেত্রে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছিলেন। হাদিস বিশারদগণ তাঁর থেকে হাদিস লিখতেন না। তাঁর হাদিস কেবল মক্কায় ভ্রমণকারী তাদের কাছে পাওয়া যায় যারা তাঁর থেকে হাদিস লিখেছিল। আবু নুয়াইম 'আল-হিলইয়া' গ্রন্থে তাঁর সূত্রে একটি হাদিস বর্ণনা করে বলেছেন: এটি গরিব (অপরিচিত), আমরা এটি শুমুমির হাদিস ছাড়া অন্য কোনো সূত্রে লিখিনি এবং এর দায়ভার তাঁর ওপরেই বর্তায়।

তাদের মক্কার আরও একজন শায়খ আছেন যাকে বলা হয়।

 

•‌‌ পার্থক্যকরণ -‌‌ আহমদ ইবনে সালিহ আস-সাওয়াক।

তিনি মুআম্মাল ইবনে ইসমাইল এবং ইয়াসিন আল-মাক্কির ভ্রাতুষ্পুত্র মুসা ইবনে মুয়াজ থেকে বর্ণনা করেছেন।

তাঁর থেকে হাসান ইবনে লাইস আল-মারওয়াযি এবং আবু জাফর বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ١) তাহযিবুত তাহযিব - ত রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ٢٩)
محمد بن أحمد بن نصر، وأبو محمد بن صاعد، وغيرهم.

قال ابن أبي حاتم عن أبي زرعة: صدوق لكنه يحدث عن الضعفاء والمجهولين.

وقال ابن أبي حاتم: روى عن مؤمل أحاديث في الفتن توهن أمره، وضعفه الدارقطني في غرائب مالك. ذكرته مع الشمومي للتمييز.

 

•‌‌ س -‌‌ أحمد بن صالح البغدادي.

عن يحيى بن محمد عن ابن عجلان، يحدث في الطهارة من ترجمة أبي الزناد عن الأعرج عن أبي هريرة رضي الله عنه في البول في الماء الدائم.

وعنه النسائي.

هكذا هو في المجتبى من رواية ابن السني عنه، وقيل إنه محمد بن صالح كيلجة، وسيأتي.

 

قلت: لفظه في كتاب الغسل للنسائي: أخبرنا أحمد بن صالح البغدادي قال: حدثنا يحيى بن محمد، ويحيى بن محمد هو أبو زكير.

قال الذهبي: إن كيلجة لم يدرك يحيى بن محمد، وهو كما قال، فيتعين أن يكون غيره ممن هو أقدم من كيلجة، وقد ذكر النسائي في شيوخه أحمد بن صالح البغدادي فقال ثقة، ولم يذكره الخطيب في تاريخ بغداد، وهو على شرطه، وذكر ابن النجار في الذيل أحمد بن صالح البغدادي. روى عن بشر بن الحارث الحافي. روى عنه إسحاق بن الجراح الأذني، ثم أسند من طريق ابن أبي داود عن إسحاق عن بشر عن مالك شيئا من كلامه، ولم يزد على ذلك، وقد ذكر ذلك الدارقطني في الرواة عن مالك عن ابن أبي داود بلاغا، فلا أستبعد أن يكون هو شيخ النسائي.

 

•‌‌ خ د س -‌‌ أحمد بن الصباح النهشلي أبو جعفر بن أبي سريج الرازي المقرئ. وقيل اسم أبيه عمر بغدادي.

روى عن ابن علية، ووكيع، ومروان بن معاوية، وشبابة، ويزيد بن هارون، ويحيى بن سعيد، وغيرهم.

وعنه البخاري، وأبو داود، والنسائي وقال ثقة، وأبو زرعة، وأبو حاتم وقال صدوق، وابن خزيمة، ومحمد غير منسوب قيل هو الذهلي، ويعقوب بن شيبة. وقال كان ينزل المخرم، ونزع إلى الري فمات بها، وكان ثقة ثبتا أحد أصحاب الحديث، وأبو بكر بن أبي داود، وآخرون.

قلت: نقل الخطيب أنه قرأ القراءات على الكسائي.

وقال ابن حبان في الثقات: يغرب على استقامته.

وقال غيره مات بعد البخاري، ومن خط الذهبي مات بعد الأربعين ومائتين، وكذا كتب ابن سيد الناس على حاشية الكمال.

 

•‌‌ خ ت -‌‌ أحمد بن أبي الطيب سليمان البغدادي أبو سليمان المعروف بالمروزي.

روى عن إسماعيل بن مجالد، ومصعب بن سلام الكوفي، وابن المبارك، وهشيم وغيرهم.

وعنه البخاري، والترمذي بواسطة، والذهلي، وأبو زرعة، ويعقوب بن شيبة، وأبو بكر الأثرم، وغيرهم.

قال ابن أبي حاتم: سألت أبا زرعة عنه فقال: هو بغدادي الأصل خرج إلى مرو، ورجع إلينا، وكتبنا عنه، وكان حافظا. قلت: هو صدوق. قال: على هذا يوضع.

وقال أبو حاتم: ضعيف الحديث.

قلت: لكن الذي في كتاب ابن أبي حاتم أحمد بن سليمان بن أبي الطيب. وقال أدركه أبي، ولم يكتب عنه، وكذا ذكره ابن حبان في الثقات.

وقال أبو عوانة في صحيحه: حدثنا أحمد بن إبراهيم البغدادي، حدثنا أحمد بن أبي الطيب ثقة، حدثنا أبو إسحاق الفزاري فذكر حديثا،

وله في البخاري حديث واحد في فضل أبي بكر رضي الله عنه، وقد أخرجه أيضا من حديث يحيى بن معين بمتابعة أحمد هذا(1).

--------------------------------------------

(1) قال الحافظ في "التقريب": مات في حدود الثلاثين، يعني ومئتين.
মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন নাসর, আবু মুহাম্মদ বিন সায়িদ এবং অন্যান্যগণ।

ইবনে আবি হাতিম আবু জুরআ থেকে বর্ণনা করেন: তিনি সত্যবাদী, তবে তিনি দুর্বল ও অজ্ঞাত ব্যক্তিদের থেকে হাদীস বর্ণনা করেন।

ইবনে আবি হাতিম বলেন: তিনি মুয়াম্মাল থেকে ফিতনা সম্পর্কিত এমন কিছু হাদীস বর্ণনা করেছেন যা তার অবস্থানকে দুর্বল করে দেয়। ইমাম দারাকুতনি 'গরাইবে মালিক'-এ তাকে দুর্বল বলেছেন। আমি পার্থক্যের জন্য শুমুমির সাথে তার কথা উল্লেখ করেছি।

 

•‌‌ সিন -‌‌ আহমদ বিন সালিহ আল-বাগদাদি।

ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ থেকে, তিনি ইবনে আজলান থেকে বর্ণনা করেন; তিনি পবিত্রতা অধ্যায়ে আবুয যিনাদের সূত্রে আরায থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে আবদ্ধ পানিতে প্রস্রাব করা প্রসঙ্গে হাদীস বর্ণনা করেন।

তার থেকে ইমাম নাসায়ি বর্ণনা করেছেন।

ইবনে আস-সুন্নির বর্ণনায় 'আল-মুজতাবা'-তে এভাবেই আছে। বলা হয় যে তিনি মুহাম্মদ বিন সালিহ কাইলাজাহ, যার আলোচনা সামনে আসবে।

 

আমি বলছি: নাসায়ির 'কিতাবুল গোসল'-এ তার পাঠ এভাবে রয়েছে: আহমদ বিন সালিহ আল-বাগদাদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন। আর ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ হলেন আবু যুকাইর।

ইমাম যাহাবি বলেন: কাইলাজাহ ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদকে পাননি। বিষয়টি তেমনই যেমন তিনি বলেছেন। সুতরাং এটি নিশ্চিত যে তিনি কাইলাজাহ অপেক্ষা প্রাচীন অন্য কেউ। ইমাম নাসায়ি তার উস্তাদদের মধ্যে আহমদ বিন সালিহ আল-বাগদাদির উল্লেখ করেছেন এবং তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। খতিব বাগদাদি তাকে 'তারিখে বাগদাদ'-এ উল্লেখ করেননি, অথচ তিনি তার শর্তানুযায়ী ছিলেন। ইবনে নাজ্জার 'আয-যাইল'-এ আহমদ বিন সালিহ আল-বাগদাদির কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বিশর বিন হারিস আল-হাফি থেকে বর্ণনা করেছেন। তার থেকে ইসহাক বিন জাররাহ আল-আযানি বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি ইবনে আবি দাউদের সূত্রে ইসহাক থেকে, তিনি বিশর থেকে, তিনি ইমাম মালিকের কিছু কথা সনদসহ বর্ণনা করেছেন। এর অতিরিক্ত কিছু তিনি বলেননি। ইমাম দারাকুতনি 'আর-রুওয়াত আন মালিক'-এ ইবনে আবি দাউদ থেকে তা অসম্পূর্ণ সনদ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাই আমি অসম্ভব মনে করি না যে তিনিই নাসায়ির উস্তাদ।

 

•‌‌ খা দাল সিন -‌‌ আহমদ বিন আস-সুবাহ আন-নাহশালি আবু জাফর বিন আবি সুরাইজ আর-রাজি আল-মুকরি। কারো মতে তার পিতার নাম উমর বাগদাদি।

তিনি ইবনে উলাইয়্যাহ, ওয়াকি, মারওয়ান বিন মুআবিয়াহ, শাবাবাহ, ইয়াযিদ বিন হারুন, ইয়াহইয়া বিন সাঈদ এবং অন্যান্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন।

তার থেকে বুখারি, আবু দাউদ ও নাসায়ি বর্ণনা করেছেন এবং তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। এছাড়া আবু জুরআ এবং আবু হাতিমও তার থেকে বর্ণনা করেছেন এবং আবু হাতিম তাকে সত্যবাদী বলেছেন। আরও বর্ণনা করেছেন ইবনে খুজাইমাহ, মুহাম্মদ (যার পরিচয় উল্লেখ নেই, বলা হয় তিনি যুহলি) এবং ইয়াকুব বিন শাইবাহ। তিনি বলেন: তিনি মুখরাম এলাকায় বাস করতেন, পরে রাইতে চলে যান এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। তিনি নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় এবং হাদীস শাস্ত্রের অন্যতম ইমাম ছিলেন। আবু বকর বিন আবি দাউদ এবং অন্যান্যরাও তার থেকে বর্ণনা করেছেন।

আমি বলছি: খতিব উল্লেখ করেছেন যে তিনি কিসায়ির কাছে কিরাত পাঠ করেছেন।

ইবনে হিব্বান 'আস-সিকাত'-এ বলেন: তার দৃঢ়তা সত্ত্বেও তিনি মাঝে মাঝে বিরল বর্ণনা নিয়ে আসতেন।

অন্যরা বলেছেন তিনি ইমাম বুখারির পরে ইন্তেকাল করেছেন। ইমাম যাহাবির হস্তলিপি অনুযায়ী তিনি ২৪০ হিজরির পরে ইন্তেকাল করেন। ইবনে সাইয়্যিদুন নাসও 'আল-কামাল'-এর টীকায় এমনই লিখেছেন।

 

•‌‌ খা তা -‌‌ আহমদ বিন আবিত তায়্যিব সুলাইমান আল-বাগদাদি আবু সুলাইমান, যিনি আল-মারওয়াযি নামে পরিচিত।

তিনি ইসমাইল বিন মুজালিদ, মুসআব বিন সাল্লাম আল-কুফি, ইবনুল মুবারক, হুশাইম এবং অন্যান্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন।

তার থেকে বুখারি এবং তিরমিযি (মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে), যুহলি, আবু জুরআ, ইয়াকুব বিন শাইবাহ, আবু বকর আল-আছরাম এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।

ইবনে আবি হাতিম বলেন: আমি আবু জুরআকে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন: তার মূল নিবাস বাগদাদ, পরে তিনি মারওয়াতে চলে যান এবং আমাদের নিকট ফিরে আসেন। আমরা তার নিকট থেকে লিখেছি। তিনি হাফিয ছিলেন। আমি বললাম: তিনি সত্যবাদী। তিনি বললেন: তার মর্যাদা এমনই।

আবু হাতিম বলেন: হাদীস বর্ণনায় তিনি দুর্বল।

আমি বলছি: তবে ইবনে আবি হাতিমের কিতাবে আহমদ বিন সুলাইমান বিন আবিত তায়্যিব নাম পাওয়া যায়। তিনি বলেন: আমার পিতা তাকে পেয়েছেন কিন্তু তার থেকে কিছু লেখেননি। ইবনে হিব্বান 'আস-সিকাত'-এ তাকে এভাবেই উল্লেখ করেছেন।

আবু আওয়ানা তার সহীহ গ্রন্থে বলেন: আহমদ বিন ইবরাহিম আল-বাগদাদি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আহমদ বিন আবিত তায়্যিব আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি নির্ভরযোগ্য। তিনি বলেন: আবু ইসহাক আল-ফাযারি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, অতঃপর তিনি একটি হাদীস উল্লেখ করেন।

বুখারিতে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর মর্যাদা সম্পর্কে তার বর্ণিত একটি মাত্র হাদীস রয়েছে। তিনি এই হাদীসটি ইয়াহইয়া বিন মায়িনের বর্ণনার অনুসরণে এই আহমদের সূত্রেও উদ্ধৃত করেছেন।

--------------------------------------------

(১) হাফিয ইবনে হাজার 'আত-তাকরিব'-এ বলেছেন: তিনি ২৩০ হিজরির কাছাকাছি সময়ে ইন্তেকাল করেন।
(খণ্ড: ١) তাহযিবুত তাহযিব - ত রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ٣٠)
•‌‌ س -‌‌ أحمد بن أبي طيبة واسمه عيسى بن سليمان بن دينار الدارمي أبو محمد الجرجاني. قاضي قومس.

روى عن عنبسة بن الأزهر القاضي بجرجان، ومالك، والليث، ويونس بن أبي إسحاق، وغيرهم.

وعنه الحسين بن عيسى الدامغاني، وإسحاق بن إبراهيم الإستراباذي، وعمار بن رجاء، وغيرهم.

وفي كتاب ابن عدي: حدث بأحاديث أكثرها غرائب.

وقال أبو حاتم: يكتب حديثه.

قال البخاري: مات سنة (203).

قلت: وقال الخليلي: ثقة تفرد بأحاديث.

وذكره ابن حبان في الثقات.

 

•‌‌ ق -‌‌ أحمد بن عاصم بن عنبسة العباداني أبو صالح. نزيل بغداد.

وروى عن بشير بن ميمون أبي صيفي، وسعيد بن عامر الضبعي، والفضل بن العباس، وغيرهم.

روى عنه عباس، وابن أبي الدنيا، وغيرهما.

قلت: ذكره ابن حبان في الثقات.

 

•‌‌ خ -‌‌ أحمد بن عاصم أبو محمد البلخي.

روى عن حيوة بن شريح، وسعيد بن عفير، وعبد الرزاق، وغيرهم.

روى عنه البخاري في كتاب الرقاق حديثا هو في رواية المستملي عن الفربري، وروى عنه أيضا في كتاب الأدب المفرد، وعبد الله بن محمود الجوزجاني.

وقال البخاري: مات قبل الأضحى بثلاثة أيام سنة سبع وعشرين ومائتين.

قلت: كان مشهورا بالزهد، وأما أبو حاتم الرازي فقال مجهول،

وقد ذكره ابن حبان في الثقات. وقال روى عنه أهل بلده، وله أخبار في الحلية، وفي رسالة القشيري، وفي الزهد، وغيره.

ثم ظهر لي أن الزاهد غيره، وهو أنطاكي لا بلخي، والله أعلم.

 

•‌‌ خ -‌‌ أحمد بن عبد الله بن أيوب الحنفي أبو الوليد بن أبي رجاء الهروي.

هكذا نسبه البخاري في التاريخ، وسمى الحاكم جده واقد بن الحارث، ونسبه إلى بني حنيفة، ولم يذكر أيوب.

روى عن ابن عيينة، وأبي أسامة، ويحيى القطان، وغيرهم.

وعنه البخاري، وأبو زرعة، وأبو حاتم، وقال صدوق، والدارمي، وأحمد بن حفص النيسابوري، وغيرهم.

قال الحاكم: إمام عصره بهراة في الفقه والحديث، وطلب مع أحمد بن حنبل، وكتب بانتخابه عن الشيوخ.

وقال ابن عساكر: مات سنة (232) زاد غيره في النصف من جمادى الآخرة.

قلت: قال النسائي: في شيوخه أحمد بن عبد الله يعرف بابن أبي رجاء كتبت عنه بالثغر، وهو ثقة لا بأس به.

وذكره ابن حبان في الثقات.

 

•‌‌ م ت س -‌‌ أحمد بن عبد الله بن الحكم بن فروة الهاشمي.

المعروف بابن الكردي أبو الحسين البصري.

روى عن مروان بن معاوية، ومحمد بن جعفر غندر، وغيرهما.

وعنه مسلم، والترمذي، والنسائي وقال ثقة، والبزار، والقاسم المطرز.

وقال ابن أبي عاصم: مات سنة سبع وأربعين ومائتين.

قلت: وقال ابن حبان في الثقات: مستقيم الحديث.

 

•‌‌ خ د -‌‌ أحمد بن عبد الله بن سهيل الغداني.

يأتي في أحمد بن عبيد الله بالتصغير.

 

•‌‌ خ د ت س -‌‌ أحمد بن عبد الله بن أبي شعيب مسلم الحراني أبو الحسن القرشي مولاهم.

روى عن موسى بن أعين الجزري، والحارث بن عمير البصري، وزهير بن معاوية، ومسكين بن بكير، وغيرهم.

وعنه أبو داود، والبخاري، والترمذي، والنسائي بواسطة، والدارمي، ومحمد غير منسوب قيل إنه ابن
স - আহমদ বিন আবি ত্বাইবা এবং তাঁর নাম হলো ঈসা বিন সুলাইমান বিন দিনার আদ-দারিমি আবু মুহাম্মদ আল-জুরজানি। তিনি কুমুসের বিচারক ছিলেন।

তিনি আনবাসা বিন আল-আযহার (যিনি জুরজানের বিচারক ছিলেন), মালিক, আল-লাইস, ইউনুস বিন আবি ইসহাক এবং অন্যান্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন।

আর তাঁর থেকে আল-হুসাইন বিন ঈসা আদ-দামাগানি, ইসহাক বিন ইব্রাহিম আল-ইস্তরাবাযী, আম্মার বিন রাজা এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।

ইবনে আদীর কিতাবে বর্ণিত হয়েছে: তিনি অনেক হাদীস বর্ণনা করেছেন যার অধিকাংশই হলো ‘গারীব’ (অপরিচিত)।

আবু হাতিম বলেন: তাঁর হাদীস লিখে রাখা যায়।

বুখারী বলেন: তিনি ২০৩ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।

আমি বলছি: আল-খলীলী বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য, এককভাবে কিছু হাদীস বর্ণনা করেছেন।

ইবনে হিব্বান তাঁকে ‘আছ-ছিকাত’ (নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

 

•‌‌ ক -‌‌ আহমদ বিন আসিম বিন আনবাসা আল-আববাদানি আবু সালিহ। তিনি বাগদাদে বসবাস করতেন।

তিনি বশীর বিন মাইমুন আবু সাইফি, সাঈদ বিন আমির আদ-দুবাই, আল-ফজল বিন আল-আব্বাস এবং অন্যান্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন।

তাঁর থেকে আব্বাস, ইবনে আবিদ দুনিয়া এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।

আমি বলছি: ইবনে হিব্বান তাঁকে ‘আছ-ছিকাত’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

 

•‌‌ খ -‌‌ আহমদ বিন আসিম আবু মুহাম্মদ আল-বালখী।

তিনি হাইওয়াহ বিন শুরাইহ, সাঈদ বিন উফাইর, আব্দুর রাজ্জাক এবং অন্যান্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন।

তাঁর থেকে ইমাম বুখারী ‘কিতাবুর রিকাক’-এ একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন, যা আল-ফিরাররী থেকে আল-মুস্তামলীর বর্ণনায় এসেছে। এছাড়াও বুখারী তাঁর থেকে ‘আল-আদাবুল মুফরাদ’-এ বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে আব্দুল্লাহ বিন মাহমুদ আল-জুযজানীও বর্ণনা করেছেন।

বুখারী বলেন: তিনি ২২৭ হিজরীর ঈদুল আযহার তিন দিন আগে মৃত্যুবরণ করেন।

আমি বলছি: তিনি যুহদ বা দুনিয়াবিমুখতার জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন। তবে আবু হাতিম আর-রাযী বলেছেন যে তিনি ‘মাজহুল’ (অজ্ঞাত)।

ইবনে হিব্বান তাঁকে ‘আছ-ছিকাত’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন যে তাঁর শহরের লোকেরা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। ‘হিলইয়াতুল আউলিয়া’, ‘রিসালা আল-কুশাইরী’, ‘কিতাবুয যুহদ’ ও অন্যান্য গ্রন্থে তাঁর সম্পর্কে সংবাদ বর্ণিত হয়েছে।

পরবর্তীতে আমার কাছে এটি প্রতিভাত হয়েছে যে, ঐ যাহিদ (দুনিয়াবিমুখ ব্যক্তি) অন্য একজন; তিনি আন্তাকী (আন্তাকিয়ার অধিবাসী), বালখী নন। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

 

•‌‌ খ -‌‌ আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আইয়ুব আল-হানাফি আবু আল-ওয়ালিদ বিন আবি রাজা আল-হারাবী।

ইমাম বুখারী তাঁর ‘আত-তারীখ’ গ্রন্থে বংশ পরিচয় এভাবেই দিয়েছেন। আল-হাকিম তাঁর দাদার নাম ওয়াকিদ বিন আল-হারিস উল্লেখ করেছেন এবং তাঁকে বনু হানিফা গোত্রের দিকে সম্বন্ধ করেছেন, কিন্তু তিনি আইয়ুবের নাম উল্লেখ করেননি।

তিনি ইবনে উয়াইনাহ, আবু উসামাহ, ইয়াহইয়া আল-কাত্তান এবং অন্যান্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন।

আর তাঁর থেকে বুখারী, আবু যুরআহ, আবু হাতিম (যিনি তাঁকে সত্যবাদী বলেছেন), আদ-দারিমি, আহমদ বিন হাফস আন-নাইসাবুরী এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।

আল-হাকিম বলেন: তিনি ফিকহ ও হাদীস শাস্ত্রে হেরাতে তাঁর যুগের ইমাম ছিলেন। তিনি আহমদ বিন হাম্বলের সাথে জ্ঞান অন্বেষণ করেছেন এবং তাঁরই পছন্দের ভিত্তিতে শায়খদের থেকে হাদীস লিখেছেন।

ইবনে আসাকির বলেন: তিনি ২৩২ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। অন্যরা জুমাদাল আখিরাহ মাসের মাঝামাঝি সময়ের কথা উল্লেখ করেছেন।

আমি বলছি: নাসায়ী তাঁর শিক্ষকদের বর্ণনায় বলেছেন: আহমদ বিন আব্দুল্লাহ, যিনি ইবনে আবি রাজা নামে পরিচিত, আমি তাঁর থেকে সীমান্ত অঞ্চলে হাদীস লিখেছি। তিনি নির্ভরযোগ্য, তাঁর মধ্যে কোনো সমস্যা নেই।

ইবনে হিব্বান তাঁকে ‘আছ-ছিকাত’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

 

•‌‌ ম ত স -‌‌ আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-হাকাম বিন ফারওয়াহ আল-হাশিমী।

যিনি ইবনুল কুর্দি নামে পরিচিত, আবু আল-হুসাইন আল-বসরী।

তিনি মারওয়ান বিন মুয়াবিয়া, মুহাম্মদ বিন জাফর গুন্দার এবং অন্যান্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন।

আর তাঁর থেকে মুসলিম, তিরমিযী, নাসায়ী (যিনি তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন), আল-বাযযার এবং আল-কাসিম আল-মুতাররিয বর্ণনা করেছেন।

ইবনে আবি আসিম বলেন: তিনি ২৪৭ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।

আমি বলছি: ইবনে হিব্বান ‘আছ-ছিকাত’ গ্রন্থে বলেছেন: তিনি হাদীস বর্ণনায় সঠিক ও অবিচল।

 

•‌‌ খ দ -‌‌ আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন সুহাইল আল-গাদানি।

তাঁর বিবরণ ‘আহমদ বিন উবাইদুল্লাহ’ এর অধীনে ক্ষুদ্রার্থক নামে আসবে।

 

•‌‌ খ দ ত স -‌‌ আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আবি শুআইব মুসলিম আল-হাররানি আবু আল-হাসান আল-কুরাশি, তাঁদের মুক্তদাস।

তিনি মুসা বিন আইয়ুন আল-জাযারি, আল-হারিস বিন উমাইর আল-বসরী, যুহাইর বিন মুয়াবিয়া, মিসকিন বিন বুকাইর এবং অন্যান্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন।

তাঁর থেকে আবু দাউদ, বুখারী, তিরমিযী এবং মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে নাসায়ী, আদ-দারিমি এবং মুহাম্মদ (যার বংশ পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি, বলা হয় তিনি ইবনে...) বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ١) তাহযিবুত তাহযিব - ত রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ٣١)
إبراهيم البوشنجي، وقيل الذهلي، وقيل أبو حاتم(1)، وقيل ابن النضر النيسابوري. وروى عنه أيضا أحمد بن إبراهيم بن فيل، وأبو زرعة، والصغاني، والمغيرة بن عبد الرحمن الحراني، وابن ابنه أبو شعيب عبد الله بن الحسن الحراني، ومحمد بن جبلة الرافقي، وغيرهم.

قال أبو حاتم: ثقة صدوق.

وقال محمد بن يحيى بن كثير: مات سنة (33)، وقيل: بل مات سنة (40)، وقيل: سنة (41).

قلت: وذكره ابن حبان في الثقات، وجزم بالأول(2).

وقال أبو شعيب: مات جدي سنة (31)، وذكره ابن منده في شيوخ البخاري.

 

•‌‌ خ د س -‌‌ أحمد بن عبد الله بن علي بن سويد بن منجوف السدوسي المنجوفي.

وقد ينسب إلى جده.

روى عن أبي داود الطيالسي، وروح بن عبادة، والأصمعي، وغيرهم.

وعنه (خ د س)، وأبو عروبة، وابن أبي داود، وابن خزيمة، وابن صاعد، وغيرهم.

قال النسائي: صالح.

قال ابن عساكر: مات سنة (252).

قلت: ذكره ابن حبان في الثقات.

وقال ابن إسحاق الحبال: بصري ثقة.

 

•‌‌ س -‌‌ أحمد بن عبد الله بن علي بن أبي المَضَاء المصيصي من المصيصة.

روى عنه النسائي. وقال ثقة. مات بسر من رأى سنة (248).

وقال المزي: ذكره ابن عساكر في الشيوخ النبل، ولم أقف على روايته عنه.

قلت: ذكره النسائي في أسماء شيوخه.

 

•‌‌ ت س ق -‌‌ أحمد بن عبد الله بن محمد بن عبد الله بن أبي السفر سعيد بن يُحمِد الهمداني أبو عبيدة الكوفي.

روى عن حجاج بن محمد، وابن نمير، وأبي أسامة، وغيرهم.

وعنه الترمذي، والنسائي، وابن ماجه، وأبو حاتم، وابن صاعد، والسراج، والحسين بن إسماعيل المحاملي.

قال أبو حاتم: شيخ.

وقال مطين: مات سنة (258).

قلت: وروى عنه أبو داود في كتاب بدء الوحي له.

وقال النسائي: ليس بالقوي، وذكره ابن حبان في (الثقات).

 

•‌‌ د ق -‌‌ أحمد بن عبد الله بن ميمون بن العباس بن الحارث التغلبي أبو الحسن بن أبي الحواري الدمشقي الغطفاني الزاهد.

كوفي الأصل.

روى عن ابن نمير، وسليم بن مطير،

وابن عيينة، والوليد بن مسلم، وحفص بن غياث، وأبي معاوية، وخلق.

وعنه أبو داود، وابن ماجه، وبقي بن مخلد، وأبو زرعة، وأبو حاتم، وابن أبي داود، وسليمان بن أيوب بن حذلم، ومحمود بن سميع صاحب كتاب الطبقات، ومحمد بن خريم البزاز، وسعيد بن عبد العزيز الحلبي، وأبو بكر الباغندي، وخلق آخرهم أحمد بن سليمان بن زبان.

قال ابن معين: أظن أهل الشام يسقيهم الله به الغيث.

وقال ابن أبي حاتم: سمعت أبي يحسن الثناء عليه، ويطنب في مدحه.

قال أحمد: مولدي سنة (164).

وقال أبو زرعة الدمشقي: توفي مدخل رجل سنة (246).

زاد عمرو بن دحيم: في يوم الأربعاء لثلاث بقين من جمادى الآخر.

قلت: قال أبو داود: ما رأيت أحدا أعلم بأخبار النساك منه، وكناه ابن حبان في الثقات أبا العباس.

--------------------------------------------

(1) وقيل أبو حاتم، ليست في "تهذيب الكمال".

(2) ذكر ابن حبان أنه توفي سنة (230 هـ)، انظر "الثقات": 8/ 15.
ইব্রাহিম আল-বুশানজি, কারও মতে আয-যুহলি, কারও মতে আবু হাতিম(১), আবার কারও মতে ইবনুন নাযর আন-নাইসাবুরি। তার থেকে আরও বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন ইব্রাহিম বিন ফীল, আবু যুরআহ, আস-সাগানি, আল-মুগিরা বিন আব্দুর রহমান আল-হাররানি, তার নাতি আবু শুআইব আব্দুল্লাহ বিন আল-হাসান আল-হাররানি, মুহাম্মদ বিন জাবালাহ আর-রাফেকি এবং আরও অনেকে।

আবু হাতিম বলেন: তিনি নির্ভরযোগ্য ও অত্যন্ত সত্যবাদী।

মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বিন কাসির বলেন: তিনি ২৩৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। কারও মতে তিনি ২৪০ হিজরিতে, আবার কারও মতে ২৪১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: ইবনে হিব্বান তাকে 'আস-সিকাত' (নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণের তালিকা) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং প্রথম মতটির (মৃত্যু সাল) ব্যাপারে দৃঢ়তা ব্যক্ত করেছেন(২)।

আবু শুআইব বলেন: আমার দাদা ২৩১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন। ইবনে মানদাহ তাকে ইমাম বুখারির শায়খদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

 

•‌‌ খ দ স -‌‌ আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আলী বিন সুওয়াইদ বিন মানজুফ আস-সাদুসি আল-মানজুফি।

কখনও কখনও তাকে তার দাদার দিকে সম্বন্ধ করে ডাকা হয়।

তিনি আবু দাউদ আত-তায়ালিসি, রাওহ বিন উবাদাহ, আল-আসমাঈ এবং আরও অনেকের থেকে বর্ণনা করেছেন।

তার থেকে বর্ণনা করেছেন (খ দ স: বুখারি, আবু দাউদ, নাসাঈ), আবু আরুবাহ, ইবনে আবু দাউদ, ইবনে খুযাইমাহ, ইবনে সায়েদ এবং আরও অনেকে।

নাসাঈ বলেন: তিনি নেককার মানুষ।

ইবনে আসাকির বলেন: তিনি ২৫২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন।

আমি বলছি: ইবনে হিব্বান তাকে 'আস-সিকাত' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

ইবনে ইসহাক আল-হাব্বাল বলেন: তিনি বসরাবাসী এবং নির্ভরযোগ্য।

 

•‌‌ স -‌‌ আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আলী বিন আবিল মাদা আল-মাসসিসি, মাসসিসার অধিবাসী।

নাসাঈ তার থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। তিনি ২৪৮ হিজরিতে 'সাররা মান রাআ' (সামাররা)-তে মৃত্যুবরণ করেন।

আল-মিযযি বলেন: ইবনে আসাকির তাকে 'আশ-শুয়ুখুন নুবল' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, তবে তার থেকে তার (ইবনে আসাকিরের) বর্ণনার ব্যাপারে আমি অবগত নই।

আমি বলছি: নাসাঈ তাকে তার শায়খদের নামের তালিকায় উল্লেখ করেছেন।

 

•‌‌ ত স ক -‌‌ আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আবুস সাফার সাঈদ বিন ইউহমিদ আল-হামদানি আবু উবাইদাহ আল-কুফি।

তিনি হাজ্জাজ বিন মুহাম্মদ, ইবনে নুমাইর, আবু উসামাহ এবং আরও অনেকের থেকে বর্ণনা করেছেন।

তার থেকে বর্ণনা করেছেন তিরমিযি, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, আবু হাতিম, ইবনে সায়েদ, আস-সাররাজ এবং আল-হুসাইন বিন ইসমাইল আল-মাহামিলি।

আবু হাতিম বলেন: তিনি একজন শায়খ।

মুতাইয়ান বলেন: তিনি ২৫৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

আমি বলছি: আবু দাউদ তার 'বাদউল ওহী' কিতাবে তার থেকে বর্ণনা করেছেন।

নাসাঈ বলেন: তিনি খুব শক্তিশালী (রাবী) নন। ইবনে হিব্বান তাকে 'আস-সিকাত' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

 

•‌‌ দ ক -‌‌ আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মাইমুন বিন আল-আব্বাস বিন আল-হারিস আত-তাগলিবি আবুল হাসান ইবনে আবিল হাওয়ারি আদ-দিমাশকি আল-গাতফানি আয-যাহিদ।

তিনি মূলত কুফার অধিবাসী।

তিনি ইবনে নুমাইর, সুলাইম বিন মুতায়ের,

ইবনে উইয়াইনাহ, আল-ওয়ালিদ বিন মুসলিম, হাফস বিন গিয়াস, আবু মুআবিয়া এবং এক বিশাল দল থেকে বর্ণনা করেছেন।

তার থেকে বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, বাকি বিন মাখলাদ, আবু যুরআহ, আবু হাতিম, ইবনে আবু দাউদ, সুলাইমান বিন আইয়ুব বিন হাযলাম, 'তাবাকাত' কিতাবের লেখক মাহমুদ বিন সামি, মুহাম্মদ বিন খুরাইম আল-বাযযার, সাঈদ বিন আব্দুল আজিজ আল-হালাবি, আবু বকর আল-বাগিন্দি এবং এক বিশাল দল, যাদের মধ্যে সর্বশেষ হলেন আহমদ বিন সুলাইমান বিন যাবান।

ইবনে মাঈন বলেন: আমার ধারণা, আল্লাহ তার অসীলায় সিরিয়াবাসীদের বৃষ্টি দান করেন।

ইবনে আবু হাতিম বলেন: আমি আমার পিতাকে তার ভূয়সী প্রশংসা করতে শুনেছি এবং তিনি প্রশংসায় অনেক অতিরঞ্জন করতেন।

আহমদ বলেন: আমার জন্ম ১৬৪ হিজরিতে।

আবু যুরআহ আদ-দিমাশকি বলেন: তিনি ২৪৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

আমর বিন দুহায়ম আরও যোগ করেছেন: জুমাদাল আখিরা মাসের তিন দিন বাকি থাকতে বুধবার দিনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

আমি বলছি: আবু দাউদ বলেছেন, 'আমি তার চেয়ে ইবাদতকারীদের অবস্থা সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী কাউকে দেখিনি'। ইবনে হিব্বান 'আস-সিকাত' গ্রন্থে তার উপনাম আবুল আব্বাস বলে উল্লেখ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) 'কারও মতে আবু হাতিম'—এই অংশটি 'তাহজিবুল কামাল' গ্রন্থে নেই।

(২) ইবনে হিব্বান উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ২৩০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন। দেখুন 'আস-সিকাত': ৮/১৫।
(খণ্ড: ١) তাহযিবুত তাহযিব - ত রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ٣٢)
وقال مسلمة بن قاسم الأندلسي: شامي ثقة.

 

•‌‌ ‌‌أحمد بن عبد الله بن واقد بن الحارث بن عبد الله بن أرقم الحنفي. أبو الوليد الهروي تقدم في أحمد بن عبد الله بن أيوب.

 

•‌‌ ق -‌‌ أحمد بن عبد الله بن يوسف العرعري.

روى عن يزيد بن أبي حكيم.

وعنه ابن ماجه.

قلت: قال الذهبي في مختصره: ليس بمعروف.

 

•‌‌ ع -‌‌ أحمد بن عبد الله بن يونس بن عبد الله بن قيس التميمي اليربوعي الكوفي.

وقد ينسب إلى جده.

روى عن الثوري، وابن عيينة، وزائدة، وعاصم بن محمد، وابن أبي الزناد، وإسرائيل، والليث، ومالك، وخلق.

روى عنه البخاري، ومسلم، وأبو داود، والباقون بواسطة، وأبو بكر بن أبي شيبة، وحجاج بن الشاعر، وعبد بن حميد، وأبو زرعة، وأبو حاتم، وصاعقة، ويوسف بن موسى، والحارث بن أبي أسامة، وإسماعيل سمويه، وإسحاق الحربي، وإبراهيم الجوزجاني، وخلق.

قال أحمد بن حنبل لرجل: اخرج إلى أحمد بن يونس فإنه شيخ الإسلام.

وقال أبو حاتم: كان ثقة متقنا آخر من روى عن الثوري.

وقال النسائي: ثقة.

وقال البخاري: مات بالكوفة في ربيع الآخر سنة (227)، زاد غيره ليلة الجمعة لخمس بقين من الشهر، وهو ابن أربع وتسعين سنة.

قلت: تعقب الذهبي قول أبي حاتم(1): إنه آخر من روى عن الثوري، بأن علي بن الجعد تأخر بعده.

وقال عثمان بن أبي شيبة: كان ثقة وليس بحجة.

وقال ابن سعد: كان ثقة صدوقا صاحب سنة وجماعة.

وقال العجلي: ثقة صاحب سنة.

وقال أبو حاتم: كان من صالحي أهل الكوفة، وسنييها، وذكره ابن حبان في (الثقات).

وقال أبو عبيد الآجري عن أبي داود سمعته يقول: مات الأعمش، وأنا ابن (14) سنة، ورأيت أبا حنيفة، ومسعرا، وابن أبي ليلى يقضي خارج المسجد من أجل الحيض.

قال أبو داود: كان مولده سنة (34).

وقال مطين: سنة (133).

وقال ابن قانع: كان ثقة مأمونا ثبتا.

وقال ابن يونس: أتيت حماد بن زيد فسألته أن يملي علي شيئا من فضائل عثمان رضي الله عنه، فقال: من أين أنت؟ قلت: من أهل الكوفة. فقال: كوفي يطلب فضائل عثمان، والله لا أمليتها عليك إلا وأنا قائم، وأنت جالس.

وقال أبو داود: هو أنبل من ابن أبي فديك.

 

•‌‌ د -‌‌ أحمد بن عبد الجبار بن محمد بن عمير بن عطارد بن حاجب بن زرارة التميمي العطاردي أبو عمر الكوفي.

روى عن حفص بن غياث، وأبي بكر بن عياش، وأبي معاوية، ويونس بن بكير وغيرهم.

وعنه أبو داود فيما قيل، قال المزي: لم أقف على ذلك، ولا ذكره صاحب الشيوخ النبل، وأبو علي الصفار، والمحاملي، وأبو سهل بن زياد القطان، والبغوي، وابن داود، ورضوان بن جالينوس، وابن البجيري، وأبو عوانة، والأصم، وخلق.

قال ابن أبي حاتم: كتبت عنه، وأمسكت عن الرواية عنه لكثرة كلام الناس فيه.

وقال مطين: كان يكذب.

وقال أبو أحمد الحاكم: ليس بالقوي عندهم تركه ابن عقدة.

وقال ابن عدي: رأيت أهل العراق مجمعين على ضعفه، وكان ابن عقدة لا يحدث عنه، وذكر أن عنده عنه قمطرا على أنه لا يتورع أن يحدث عن كل أحد.

قال ابن عدي: ولا يعرف له حديث منكر، وإنما ضعفوه،

--------------------------------------------

(1) الذي تعقب أبا حاتم هو المزي نفسه، كما ذكر الذهبي في "تذهيب التهذيب".
এবং মাসলামাহ ইবনে কাসিম আল-আন্দালুসি বলেছেন: তিনি শামি ও নির্ভরযোগ্য।

 

•‌‌ ‌‌আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ওয়াকিদ ইবনুল হারিস ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আরকাম আল-হানাফি। আবু ওয়ালিদ আল-হারাউই। আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আইয়ুবের আলোচনায় তাঁর কথা আগে অতিক্রান্ত হয়েছে।

 

•‌‌ ক -‌‌ আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ আল-আরআরি।

তিনি ইয়াযিদ ইবনে আবি হাকিম থেকে বর্ণনা করেছেন।

তাঁর থেকে ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন।

আমি বলি: যাহাবি তাঁর 'মুখতাসার' গ্রন্থে বলেছেন: তিনি পরিচিত নন।

 

•‌‌ আ -‌‌ আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইউনুস ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে কাইস আত-তামিমি আল-ইয়ারবুয়ি আল-কুফি।

কখনো কখনো তাঁকে তাঁর দাদার দিকে নিসবত করা হয়।

তিনি সাওরি, ইবনে উইয়াইনাহ, যাইদাহ, আসিম ইবনে মুহাম্মাদ, ইবনে আবিয যিনাদ, ইসরাঈল, লাইস, মালিক এবং আরও অসংখ্য বর্ণনাকারী থেকে বর্ণনা করেছেন।

তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ এবং বাকিরা মধ্যস্থতার মাধ্যমে; এছাড়াও আবু বকর ইবনে আবি শাইবাহ, হাজ্জাজ ইবনুল শায়ির, আবদ ইবনে হুমাইদ, আবু যুরআহ, আবু হাতিম, সায়িকাহ, ইউসুফ ইবনে মুসা, আল-হারিস ইবনে আবি উসামাহ, ইসমাইল সামুওয়াইহ, ইসহাক আল-হারবি, ইব্রাহিম আল-জাওযাজানি এবং আরও অনেকে।

আহমাদ ইবনে হাম্বল এক ব্যক্তিকে বলেছিলেন: তুমি আহমাদ ইবনে ইউনুসের কাছে যাও, কারণ তিনি শায়খুল ইসলাম।

وقال আবু হাতিম বলেছেন: তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য ও অত্যন্ত দক্ষ, সাওরি থেকে বর্ণনাকারীদের মধ্যে সর্বশেষ।

নাসায়ি বলেছেন: নির্ভরযোগ্য।

বুখারি বলেছেন: তিনি ২২৭ হিজরির রবিউস সানি মাসে কুফায় মৃত্যুবরণ করেন; অন্য বর্ণনাকারীরা অতিরিক্ত যোগ করেছেন যে, মাসের পাঁচ দিন বাকি থাকতে জুমার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়, তখন তাঁর বয়স ছিল চুরানব্বই বছর।

আমি বলি: যাহাবি আবু হাতিমের বক্তব্যের (১) ওপর এই বলে আপত্তি তুলেছেন যে—তিনি সাওরি থেকে বর্ণনাকারীদের মধ্যে সর্বশেষ ছিলেন—আসলে আলি ইবনুল জাদ তাঁর পরেও জীবিত ছিলেন।

উসমান ইবনে আবি শাইবাহ বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য ছিলেন কিন্তু দলিলযোগ্য (হুজ্জাত) নন।

ইবনে সাদ বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য, সত্যবাদী এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের অনুসারী ছিলেন।

ইজলি বলেছেন: নির্ভরযোগ্য সুন্নাহর অনুসারী।

আবু হাতিম বলেছেন: তিনি কুফাবাসীদের মধ্যে সৎকর্মশীল ও সুন্নিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। ইবনে হিব্বান তাঁকে 'আত-সিকাত' (নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের তালিকা) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

আবু উবাইদ আল-আজুরি আবু দাউদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি তাঁকে বলতে শুনেছি—আমাশ যখন মারা যান তখন আমি ১৪ বছরের কিশোর, এবং আমি আবু হানিফা, মিসআর ও ইবনে আবি লায়লাকে দেখেছি। তিনি (ইবনে আবি লায়লা) মাসিকের কারণে মসজিদের বাইরে ফয়সালা প্রদান করতেন।

আবু দাউদ বলেছেন: তাঁর জন্ম ছিল ১৩৪ হিজরিতে।

মুতাইয়িন বলেছেন: ১৩৩ হিজরি।

ইবনে কানি বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য, বিশ্বস্ত ও সুদৃঢ় ছিলেন।

ইবনে ইউনুস বলেছেন: আমি হাম্মাদ ইবনে যাইদের কাছে আসলাম এবং তাঁকে উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ফজিলত সম্পর্কে কিছু লিখে দেওয়ার অনুরোধ করলাম। তিনি বললেন: তুমি কোত্থেকে এসেছ? আমি বললাম: কুফাবাসীদের পক্ষ থেকে। তিনি বললেন: একজন কুফি হয়ে উসমানের ফজিলত তালাশ করছ! আল্লাহর কসম, আমি তোমাকে তা লিখে দেব না যতক্ষণ না আমি দাঁড়িয়ে থাকি আর তুমি বসে থাক।

আবু দাউদ বলেছেন: তিনি ইবনে আবি ফুদাইক অপেক্ষা অধিক মর্যাদাবান।

 

•‌‌ দ -‌‌ আহমাদ ইবনে আব্দুল জাব্বার ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে উমায়ের ইবনে আতারিদ ইবনে হাজিব ইবনে যুরারাহ আত-তামিমি আল-আতারিদি আবু উমর আল-কুফি।

তিনি হাফস ইবনে গিয়াস, আবু বকর ইবনে আইয়াশ, আবু মুয়াবিয়া, ইউনুস ইবনে বুকাইর এবং অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন।

কথিত আছে যে, তাঁর থেকে আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন, কিন্তু মিযযি বলেছেন: আমি এর স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ পাইনি, এমনকি 'আশ-শুয়ুখ আন-নুবলা'র লেখকও এটি উল্লেখ করেননি। এছাড়াও তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন আবু আলি আস-সাফফার, আল-মাহামিলি, আবু সাহল ইবনে যিয়াদ আল-কাত্তান, আল-বাগাভি, ইবনে দাউদ, রিদওয়ান ইবনে জালিনুস, ইবনুল বুজাইরি, আবু আওয়ানাহ, আল-আসাম এবং আরও অনেকে।

ইবনে আবি হাতিম বলেছেন: আমি তাঁর থেকে লিখেছি, কিন্তু মানুষের সমালোচনার আধিক্যের কারণে তাঁর থেকে বর্ণনা করা বন্ধ রেখেছি।

মুতাইয়িন বলেছেন: তিনি মিথ্যা বলতেন।

আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেছেন: তাঁদের নিকট তিনি শক্তিশালী নন, ইবনে উকদাহ তাঁকে বর্জন করেছেন।

ইবনে আদি বলেছেন: আমি ইরাকবাসীদের তাঁর দুর্বলতার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করতে দেখেছি; ইবনে উকদাহ তাঁর থেকে বর্ণনা করতেন না এবং উল্লেখ করেছেন যে তাঁর কাছে তাঁর বর্ণনার একটি বড় স্তূপ রয়েছে, তবে তিনি সবার থেকে বর্ণনা করতে কুণ্ঠাবোধ করতেন না।

ইবনে আদি বলেছেন: তাঁর কোনো মুনকার (পরিত্যক্ত) হাদিস জানা নেই, তবে তাঁরা তাঁকে দুর্বল বলেছেন,

--------------------------------------------

(১) যিনি আবু হাতিমের ওপর আপত্তি তুলেছেন তিনি স্বয়ং মিযযি, যেমনটি যাহাবি 'তাযহিবুত তাহযিব' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ١) তাহযিবুত তাহযিব - ত রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ٣٣)
لأنه لم يلق من يحدث عنهم.

وقال الأصم: سألت أبا عبيدة ابن أخي هناد بن السري عن العطاري فقال ثقة.

وقال أبو بكر بن صدقة، سمعت أبا كريب يقول: قد سمع أحمد بن عبد الجبار من أبي بكر بن عياش.

وقال حمزة السهمي: سألت الدارقطني عنه فقال: لا بأس به أثنى عليه أبو كريب.

وسئل عن مغازي يونس فقال: مروا إلى غلام بالكناس سمع معنا مع أبيه.

وقال الخطيب: وقد روى العطاردي عن أبيه عن يونس أوراقا فاتته من المغازي، وهذا يدل على تثبته،

وأما قول المطين إنه كان يكذب، فقول مجمل إن أراد به وضع الحديث فذلك معدوم في حديث العطاردي، وإن أراد به أنه روى عمن لم يدركه فباطل، لأن أبا كريب شهد له بالسماع من أبي بكر بن عياش، وقد مات قبل شيوخه إلا ابن إدريس فإنه مات قبل ابن عياش بسنة، ويجوز أن يكون أبوه بكر به، والله أعلم.

قيل: إن مولد أحمد سنة (177).

وقال أحمد بن كامل: مات سنة (71).

وقال ابن السماك: مات في شعبان سنة (272) بالكوفة.

قلت: وكذلك قال ابن المنادي، وابن عقدة، وأبو الشيخ، والقراب.

وقال ابن حبان في الثقات: ربما خالف، ولم أر في حديثه شيئا يجب أن يعدل به عن سبيل العدول إلى سنن المجروحين.

وقال الخليلي: ليس في حديثه مناكير لكنه روى عن القدماء فاتهموه لذلك،

وفي سؤالات الحاكم للدارقطني: واختلف فيه شيوخنا، ولم يكن من أهل الحديث، وأبوه ثقة.

 

•‌‌ ت س ق(1) -‌‌ أحمد بن عبد الرحمن بن بكار بن عبد الملك بن الوليد بن بسر بن أرطاة أبو الوليد البسري العامري الدمشقي.

نزيل بغداد.

روى عن الوليد بن مسلم، وعبد الرزاق، وعِراك بن خالد بن يزيد المري، وغيرهم.

وعنه الترمذي، وابن ماجه، ومطين، ويعقوب بن شيبة، والدارمي، وأبو القاسم البغوي، وأبو يعلى، وجماعة.

قال أبو حاتم: رأيته يحدث، ولم أكتب عنه، وكان صدوقا.

وقال النسائي: صالح.

وروى أبو بكر الباغندي عن إسماعيل بن عبد الله السكري قال: لم يسمع أبو الوليد البسري من الوليد بن مسلم شيئا، ولم أره عنده، وقد أقمت تسع سنين، وكنت أعرفه شبه قاص، وإنما كان محللا يحلل النساء للرجال، ويعطى الشيء ليطلق، ولو شهد عندي، وأنا قاض على تمرتين لم أجز شهادته.

قال الخطيب: ليس حاله عندنا ما ذكره [الباغندي عن] هذا الشيخ، بل كان من أهل الصدق، وقد حدث عنه النسائي، وحسبك به.

قال البغوي: مات سنة (246) قال الخطيب: وهذا القول وهم.

وقال ابن قانع وغيره: مات سنة (48) زاد غيرهما: يوم الثلاثاء لثلاث بقين من رمضان.

قلت: وذكره ابن حبان في (الثقات).

 

•‌‌ د -‌‌ أحمد بن عبد الرحمن بن عبد الله بن سعد بن عثمان الدشتكي المقرئ الملقب بحمدان.

روى عن أبيه، ومحمد بن سعيد بن سابق، وغيرهما.

وعنه أبو داود، وابنه عبد الله أبو سعيد، وعلي بن الحسين بن الجنيد، وأبو حاتم. وقال كان صدوقا.

قلت: الذي ذكره ابن أبي حاتم، والشيرازي في الألقاب، والسمعاني، والرشاطي كلاهما في الأنساب، وصاحب الكمال أن لقبه حمدون، وإنما تبع المزي في قوله حمدان صاحب الشيوخ النبل، وحمدون أصح، والله أعلم.

--------------------------------------------

(1) انظر حاشيتنا على ترجمة أحمد بن بكار الدمشقي.
কারণ তিনি যাদের থেকে বর্ণনা করেছেন তাঁদের সাথে সাক্ষাৎ করেননি।

আসস্ম বলেন: আমি হান্নাদ ইবনে সারীর ভ্রাতুষ্পুত্র আবু উবাইদাহকে উতারিদী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: তিনি বিশ্বস্ত।

আবু বকর ইবনে সাদাকাহ বলেন: আমি আবু কুরাইবকে বলতে শুনেছি: আহমদ ইবনে আব্দুল জাব্বার আবু বকর ইবনে আইয়াশ থেকে শুনেছেন।

হামজা আস-সাহমী বলেন: আমি আদ-দারাকুতনীকে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: তাঁর মধ্যে কোনো সমস্যা নেই, আবু কুরাইব তাঁর প্রশংসা করেছেন।

ইউনুসের 'মাগাজি' (যুদ্ধাভিযান বিষয়ক গ্রন্থ) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: কুনাশ-এর সেই বালকের কাছে যাও যে তাঁর পিতার সাথে আমাদের সাথে (হাদিস) শুনেছে।

খতিব বলেন: উতারিদী তাঁর পিতার মাধ্যমে ইউনুস থেকে মাগাজির এমন কিছু পৃষ্ঠা বর্ণনা করেছেন যা তিনি সরাসরি শুনতে পাননি, আর এটি তাঁর নির্ভরযোগ্যতার প্রমাণ দেয়।

আর মুতাইনের উক্তি সম্পর্কে যে তিনি মিথ্যা বলতেন—এটি একটি অস্পষ্ট উক্তি। তিনি যদি এর দ্বারা হাদিস জাল করা বুঝিয়ে থাকেন, তবে উতারিদীর হাদিসে তার কোনো অস্তিত্ব নেই। আর যদি তিনি বুঝিয়ে থাকেন যে তিনি এমন কারো থেকে বর্ণনা করেছেন যার সাক্ষাৎ তিনি পাননি, তবে সেটিও মিথ্যা; কারণ আবু কুরাইব তাঁর আবু বকর ইবনে আইয়াশ থেকে শোনার সাক্ষ্য দিয়েছেন। তিনি তাঁর শিক্ষকদের আগেই মারা গেছেন ইবনে ইদ্রিস ব্যতীত, যিনি ইবনে আইয়াশের এক বছর আগে মারা যান। এমন হতে পারে যে তাঁর পিতা তাঁকে শৈশবে নিয়ে গিয়েছিলেন। আল্লাহই ভালো জানেন।

বলা হয়েছে: আহমদের জন্ম ১৭৭ হিজরি সালে।

আহমদ ইবনে কামিল বলেন: তিনি ২৭১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

ইবনুস সাম্মাক বলেন: তিনি কুফায় ২৭২ হিজরির শাবান মাসে মৃত্যুবরণ করেন।

আমি বলছি: ইবনুল মুনাদী, ইবনে উকদাহ, আবুশ শাইখ এবং আল-কাররাবও অনুরূপ বলেছেন।

ইবনে হিব্বান 'আস-সিকাত' গ্রন্থে বলেন: মাঝেমধ্যে তিনি বিরোধিতা করতেন, তবে তাঁর হাদিসে আমি এমন কিছু দেখিনি যার কারণে তাঁকে নির্ভরযোগ্যদের পথ থেকে সরিয়ে বিতর্কিতদের কাতারে ফেলতে হবে।

খলীলী বলেন: তাঁর হাদিসে কোনো মুনকার (অগ্রহণযোগ্য) বিষয় নেই, তবে তিনি প্রাচীন শিক্ষকদের থেকে বর্ণনা করেছেন বলে লোকেরা তাঁকে এ কারণে অভিযুক্ত করেছে।

আল-হাকিমের আদ-দারাকুতনীকে করা প্রশ্নাবলীতে এসেছে: আমাদের শাইখরা তাঁর বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেছেন; তিনি আহলে হাদিস ছিলেন না, তবে তাঁর পিতা নির্ভরযোগ্য ছিলেন।

 

•‌‌ তি স ক(১) -‌‌ আহমদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে বাক্কার ইবনে আব্দুল মালিক ইবনে ওয়ালিদ ইবনে বুসর ইবনে আরতাহ আবু ওয়ালিদ আল-বুসরী আল-আমিরী আদ-দিমাশকী।

বাগদাদের অধিবাসী।

তিনি ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম, আব্দুর রাজ্জাক, ইরাক ইবনে খালিদ ইবনে ইয়াযীদ আল-মুররী এবং অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন।

তাঁর থেকে তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, মুতাইন, ইয়াকুব ইবনে শায়বাহ, আদ-দারেমী, আবুল কাসিম আল-বাগাওয়ী, আবু ইয়ালা এবং একদল রাবী বর্ণনা করেছেন।

আবু হাতেম বলেন: আমি তাঁকে হাদিস বর্ণনা করতে দেখেছি, তবে তাঁর থেকে কিছু লিখিনি; তিনি সত্যবাদী ছিলেন।

আন-নাসায়ী বলেন: উত্তম (সালেহ)।

আবু বকর আল-বাগান্দী ইসমাইল ইবনে আব্দুল্লাহ আস-সুককারী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবু ওয়ালিদ আল-বুসরী ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম থেকে কিছুই শোনেননি এবং আমি তাঁকে তাঁর কাছে দেখিনি; অথচ আমি নয় বছর সেখানে অবস্থান করেছি। আমি তাঁকে অনেকটা কিচ্ছাকার হিসেবে চিনতাম। তিনি মূলত ছিলেন একজন মুহাল্লিল, যিনি অর্থের বিনিময়ে নারীদের স্বামীদের জন্য হালাল করে দিতেন এবং তালাক দেওয়ার জন্য কোনো কিছু গ্রহণ করতেন। তিনি যদি আমার কাছে বিচারক হিসেবে দুইটা খেজুরের ব্যাপারেও সাক্ষ্য দিতেন, আমি তা গ্রহণ করতাম না।

খতিব বলেন: আমাদের নিকট তাঁর অবস্থা এই শাইখ যা বর্ণনা করেছেন তেমন নয়, বরং তিনি সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। আন-নাসায়ী তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন, আর এটাই তাঁর জন্য যথেষ্ট।

বাগাওয়ী বলেন: তিনি ২৪৬ হিজরিতে মারা যান। খতিব বলেন: এই উক্তিটি ভুল।

ইবনে কানি এবং অন্যরা বলেন: তিনি ২৪৮ হিজরিতে মারা যান। অন্যরা যোগ করেছেন: রমজানের তিন দিন বাকি থাকতে মঙ্গলবার।

আমি বলছি: ইবনে হিব্বান তাঁকে 'আস-সিকাত' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

 

•‌‌ দা -‌‌ আহমদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে সা’দ ইবনে উসমান আদ-দাশতাকেকী আল-মুকরী, যাঁর উপাধি হামদান।

তিনি তাঁর পিতা, মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ ইবনে সাবিক এবং অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন।

তাঁর থেকে আবু দাউদ, তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ, আলী ইবনুল হুসাইন ইবনুল জুনাইদ এবং আবু হাতেম বর্ণনা করেছেন। তিনি (আবু হাতেম) বলেছেন, তিনি সত্যবাদী ছিলেন।

আমি বলছি: ইবনে আবু হাতেম, আলকাবে আশ-শিরাজী, সামআনী ও রাশাতী উভয়ে আনসাব গ্রন্থে এবং সাহিবে কামাল যা উল্লেখ করেছেন তা হলো—তাঁর উপাধি 'হামদুন'। আল-মিযযী তাঁকে 'হামদান' বলার ক্ষেত্রে 'শুয়ুখুন নুবল' এর লেখকের অনুসরণ করেছেন, তবে 'হামদুন' নামটিই অধিক সঠিক। আল্লাহই ভালো জানেন।

--------------------------------------------

(১) আহমদ ইবনে বাক্কার আদ-দিমাশকীর জীবনীর উপর আমাদের টীকা দেখুন।
(খণ্ড: ١) তাহযিবুত তাহযিব - ত রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ٣٤)
•‌‌ م -‌‌ أحمد بن عبد الرحمن بن وهب بن مسلم القرشي مولاهم المصري بحشل أبو عبيد الله ابن أخي عبد الله بن وهب.

أكثر عن عمه، وروى عن الشافعي، وإسحاق بن الفرات، وبشر بن بكر، وغيرهم.

وعنه مسلم، وابن خزيمة، وابن بجير، وأبو حاتم، وأبو بكر بن أبي داود، وابن جرير، والساجي، والباغندي، وغيرهم.

قال ابن أبي حاتم: سألت محمد بن عبد الله بن عبد الحكم عنه فقال: ثقة ما رأينا إلا خيرا، قلت سمع من عمه؟ قال: إي والله.

وقال أيضا سمعت أبي يقول: سمعت عبد الملك بن شعيب بن الليث يقول: أبو عبيد الله ابن أخي ابن وهب ثقة.

وقال ابن أبي حاتم، عن أبي زرعة: أدركناه، ولم نكتب عنه، قال: وسمعت أبا زرعة، وأتاه بعض رفقائي فحكى عن أبي عبيد الله ابن أخي ابن وهب أنه رجع عن تلك الأحاديث، فقال أبو زرعة: إن رجوعه مما يحسن حاله، ولا يبلغ به المنزلة التي كان من قبل.

قال، وسمعت أبي يقول: كتبنا عنه، وأمره مستقيم ثم خلط بعد ثم جاءني خبره أنه رجع عن التخليط، وسئل أبي عنه بعد ذلك فقال: كان صدوقا.

وقال ابن الأخرم: سمعت ابن خزيمة، وقيل له لم رويت عن ابن أخي ابن وهب، وتركت سفيان بن وكيع فقال: لأن أحمد لما أنكروا عليه تلك الأحاديث رجع عنها إلى آخرها إلا حديث مالك عن الزهري عن أنس: إذا حضر العشاء، فإنه ذكر أنه وجده في درج من كتب عمه في قرطاس، وأما سفيان بن وكيع فإن وراقه أدخل عليه أحاديث فرواها، فكلمناه فلم يرجع عنها فاستخرت الله وتركته.

وقال ابن عدي: رأيت شيوخ مصر مجمعين على ضعفه، ومن كتب عنه من الغرباء لا يمتنعون من الرواية عنه، وسألت عبدان عنه فقال: كان مستقيم الأمر في أيامنا، ومن لم يلق حرملة اعتمد عليه في نسخ حديث ابن وهب.

قال ابن عدي: ومن ضعفه أنكر عليه أحاديث، وكثرة روايته عن عمه، وكل ما أنكروه عليه محتمل، وإن لم يروه غيره عن عمه، ولعله خصه به.

وقال أبو سعيد بن يونس: توفي في شهر ربيع الآخر سنة (264)، ولا تقوم بحديثه حجة.

وقال هارون بن سعيد الأيلي: هو الذي كان يستملي لنا عند عمه، وهو الذي كان يقرأ لنا.

قلت: ذكر أبو علي الجياني البخاري روى في الجامع عن أحمد غير منوسب عن ابن وهب، وأنه أبو عبيد الله هذا، وقد وهم الحاكم أبو عبد الله هذا القول.

وقال ابن الأخرم: نحن لا نشك في اختلاطه بعد الخمسين، وإنما ابتلي بعد خروج مسلم من مصر.

وقال الدارقطني: تكلموا فيه فمما أنكر عليه حديثه عن عمه عن عيسى بن يونس الآتي في ترجمة نعيم بن حماد، فإن الحديث المذكور إنما يعرف به، وسرقه منه جماعة ضعفاء، فرووه عن عيسى بن يونس، فلما حدث به أحمد عن عمه أنكروه عليه، وحديثه عن عمه عن عبد الله بن عمر، وابن عيينة، ومالك عن حميد عن أنس، أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يجهر ببسم الله الرحمن الرحيم في الفريضة، وحديثه عنه عن مخرمة عن أبيه عن نافع عن ابن عمر مرفوعا: إذا كان الجهاد على باب أحدكم فلا يخرج إلا بإذن أبويه، وحديثه عنه عن حيوة عن أبي صخر عن أبي حازم عن أبي صالح عن أبي هريرة مرفوعا: يأتي على الناس زمان يرسل إلى القرآن فيرفع من الأرض.

تفرد أحمد برفعه، وحديثه عنه عن مالك عن نافع عن ابن عمر مرفوعا: إن الله زادكم صلاة إلى صلاتكم، وهي الوتر. وهو حديث موضوع على مالك، وقد صح رجوع أحمد عن هذه الأحاديث التي أنكرت عليه، ولأجل ذلك
মিম - আহমাদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে ওয়াহাব ইবনে মুসলিম আল-কুরাশি, তাদের মুক্তদাস, মিসরীয়, বাহশাল, আবু উবাইদুল্লাহ, আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাবের ভ্রাতুষ্পুত্র।

তিনি তার চাচার থেকে প্রচুর বর্ণনা করেছেন এবং শাফিঈ, ইসহাক ইবনে আল-ফুরাত, বিশর ইবনে বকর ও অন্যান্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন।

তার থেকে বর্ণনা করেছেন মুসলিম, ইবনে খুজাইমাহ, ইবনে বুজাইর, আবু হাতিম, আবু বকর ইবনে আবি দাউদ, ইবনে জারির, আস-সাজি, আল-বাগিন্দি এবং অন্যান্যরা।

ইবনে আবি হাতিম বলেন: আমি মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আব্দুল হাকামকে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: তিনি নির্ভরযোগ্য, আমরা তার মাঝে কল্যাণ ছাড়া আর কিছু দেখিনি। আমি বললাম: তিনি কি তার চাচার থেকে শুনেছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আল্লাহর কসম।

তিনি আরও বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: আমি আব্দুল মালিক ইবনে শুআইব ইবনে আল-লাইসকে বলতে শুনেছি: ইবনে ওয়াহাবের ভ্রাতুষ্পুত্র আবু উবাইদুল্লাহ নির্ভরযোগ্য।

ইবনে আবি হাতিম আবু জুরআ থেকে বর্ণনা করেন: আমরা তাকে পেয়েছি কিন্তু তার থেকে (হাদিস) লিখিনি। তিনি (ইবনে আবি হাতিম) বলেন: আমি আবু জুরআকে বলতে শুনেছি—তার কাছে আমার কিছু সঙ্গী এসে ইবনে ওয়াহাবের ভ্রাতুষ্পুত্র আবু উবাইদুল্লাহ সম্পর্কে বর্ণনা করল যে, তিনি সেই হাদিসগুলো থেকে ফিরে এসেছেন। তখন আবু জুরআ বললেন: তার ফিরে আসা এমন একটি বিষয় যা তার অবস্থাকে উন্নত করে, তবে এটি তাকে সেই স্তরে পৌঁছাবে না যেখানে তিনি আগে ছিলেন।

তিনি (ইবনে আবি হাতিম) বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: আমরা তার থেকে লিখেছি এবং তার বিষয়টি সঠিক ছিল, এরপর তিনি তালগোল পাকিয়ে ফেলেন (বিঘ্নিত হন)। পরবর্তীতে আমার কাছে খবর আসে যে তিনি সেই তালগোল পাকানো থেকে ফিরে এসেছেন। এরপর আমার পিতাকে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: তিনি সত্যবাদী ছিলেন।

ইবনুল আখরাম বলেন: আমি ইবনে খুজাইমাহকে বলতে শুনেছি—যখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো: কেন আপনি ইবনে ওয়াহাবের ভ্রাতুষ্পুত্র থেকে বর্ণনা করেন কিন্তু সুফিয়ান ইবনে ওয়াকি'কে বর্জন করেছেন? তিনি বললেন: কারণ আহমাদকে যখন সেই হাদিসগুলোর ব্যাপারে অভিযুক্ত করা হয়েছিল, তিনি সেগুলোর শেষটি পর্যন্ত সব কটি থেকে ফিরে এসেছিলেন; কেবল মালিকের সেই হাদিসটি ব্যতীত যা তিনি জুহরি থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন: "যখন রাতের খাবার উপস্থিত হয়..."। কারণ তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এটি তার চাচার কিতাবসমূহের মাঝে একটি কাগজে পেয়েছেন। আর সুফিয়ান ইবনে ওয়াকি'র বিষয়টি হলো, তার লেখক (ওয়াররাক) তার কিতাবে কিছু হাদিস ঢুকিয়ে দিয়েছিল যা তিনি বর্ণনা করেছেন। আমরা তার সাথে কথা বলেছি কিন্তু তিনি তা থেকে ফিরে আসেননি, তাই আমি আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করে তাকে বর্জন করেছি।

ইবনে আদি বলেন: আমি মিসরের শায়খদের দেখেছি তারা তার দুর্বলতার ব্যাপারে একমত। আর যারা বহিরাগতদের মধ্যে তার থেকে লিখেছেন, তারা তার থেকে বর্ণনা করতে দ্বিধা করেন না। আমি আবদানকে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন: আমাদের সময়ে তার বিষয়টি সঠিক ছিল; আর যারা হারমালাকে পাননি, তারা ইবনে ওয়াহাবের হাদিসের কপির ক্ষেত্রে তার ওপর নির্ভর করতেন।

ইবনে আদি বলেন: যারা তাকে দুর্বল বলেছেন তারা কিছু হাদিসের কারণে তার প্রতিবাদ করেছেন এবং তার চাচার থেকে প্রচুর বর্ণনার কারণেও। তবে তারা তার বিরুদ্ধে যা কিছু আপত্তি করেছেন তা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও তিনি ছাড়া অন্য কেউ তার চাচার থেকে তা বর্ণনা করেননি। হতে পারে তিনি তাকেই সেই হাদিসগুলো দ্বারা খাস করেছিলেন।

আবু সাঈদ ইবনে ইউনুস বলেন: তিনি ২৬৪ হিজরীর রবিউল আখের মাসে মৃত্যুবরণ করেন এবং তার হাদিস দ্বারা দলিল প্রতিষ্ঠিত হয় না।

হারুন ইবনে সাঈদ আল-আইলি বলেন: তিনিই আমাদের জন্য তার চাচার কাছে পাঠ করে শোনাতেন এবং তিনিই আমাদের জন্য পড়তেন।

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: আবু আলী আল-জায়ানি উল্লেখ করেছেন যে, বুখারি তার 'জামে' গ্রন্থে আহমাদ নামে ইবনে ওয়াহাব থেকে একজনের বর্ণনা এনেছেন যার পরিচয় উল্লেখ করেননি, এবং তিনি হলেন এই আবু উবাইদুল্লাহ। তবে হাকিম আবু আবদুল্লাহ এই বক্তব্যে ভ্রমে পতিত হয়েছেন।

ইবনুল আখরাম বলেন: ২৫০ হিজরীর পর তার বিভ্রান্ত হওয়ার ব্যাপারে আমাদের কোনো সন্দেহ নেই, আর মুসলিমের মিসর ত্যাগ করার পরই তিনি এতে আক্রান্ত হন।

দারাকুতনি বলেন: লোকেরা তাকে নিয়ে কথা বলেছে। তার যে সকল হাদিস প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হলো: তার চাচার সূত্রে ঈসা ইবনে ইউনুস থেকে বর্ণিত সেই হাদিসটি যা নুআইম ইবনে হাম্মাদের জীবনীতে আসবে। কারণ এই হাদিসটি কেবল তার মাধ্যমেই পরিচিত এবং একদল দুর্বল বর্ণনাকারী এটি তার থেকে চুরি করে ঈসা ইবনে ইউনুসের সূত্রে বর্ণনা করেছে। সুতরাং যখন আহমাদ এটি তার চাচার সূত্রে বর্ণনা করলেন, তখন তারা এটি অস্বীকার করল। এছাড়া তার চাচার সূত্রে আবদুল্লাহ ইবনে উমর, ইবনে উয়াইনাহ ও মালিক থেকে, তিনি হুমাইদ থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণিত হাদিস: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরজ নামাজে বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম উচ্চস্বরে পড়তেন।" এছাড়া তার চাচার সূত্রে মাখরামাহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত হাদিস: "যদি তোমাদের কারো দরজায় জিহাদ উপস্থিত হয়, তবে সে যেন পিতামাতার অনুমতি ব্যতীত বের না হয়।" এছাড়া তার চাচার সূত্রে হাইওয়াহ থেকে, তিনি আবু সাখর থেকে, তিনি আবু হাজিম থেকে, তিনি আবু সালেহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত হাদিস: "মানুষের ওপর এমন এক সময় আসবে যখন কুরআনের নিকট (দূত) পাঠানো হবে এবং তা জমিন থেকে উঠিয়ে নেওয়া হবে।"

আহমাদ এটি মারফু হিসেবে বর্ণনায় একক হয়ে গেছেন। এছাড়া তার চাচার সূত্রে মালিক থেকে, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত হাদিস: "আল্লাহ তোমাদের নামাজের সাথে একটি নামাজ বৃদ্ধি করেছেন, আর তা হলো বিতর।" এটি মালিকের নামে একটি জাল হাদিস। তবে এটি প্রমাণিত যে, আহমাদ সেই হাদিসগুলো থেকে ফিরে এসেছিলেন যেগুলোর জন্য তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল এবং সেই কারণেই...