(খণ্ড: ১) তাবসিরুল বাশার বি-তাহরিমিস সিহর (পৃষ্ঠা: -)
تبصير البشر بتحريم السحر   (علي بن غازي التويجري)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: تبصير البشر بتحريم السحر

المؤلف: علي بن غازي التويجري

بحث: منشور في مجلة الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة، العدد (126)، 1425 هـ

عدد الصفحات: 129

[ترقيم الصفحات موافق للمجلة المطبوعة]

تاريخ النشر بالشاملة: 12 ربيع الآخر 1445

জাদু হারাম হওয়া প্রসঙ্গে মানবজাতিকে সচেতনকরণ   (আলী বিন গাজী আত-তুয়াইজিরি)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


বই: জাদু হারাম হওয়া প্রসঙ্গে মানবজাতিকে সচেতনকরণ

লেখক: আলী বিন গাজী আত-তুয়াইজিরি

গবেষণা: মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় জার্নালে প্রকাশিত, সংখ্যা (১২৬), ১৪২৫ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৯

[পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত জার্নালের অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১২ রবিউস সানি ১৪৪৫

(খণ্ড: ১২৬) তাবসিরুল বাশার বি-তাহরিমিস সিহর (পৃষ্ঠা: ১১৩)
تبصير البشر بتحريم السحر

 

إعداد: د علي بن غازي التويجري

الأستاذ المساعد في كلية القرآن الكريم في الجامعة [الإسلامية]
যাদুর নিষিদ্ধতা প্রসঙ্গে মানবজাতিকে সচেতনকরণ

 

প্রস্তুতকরণে: ড. আলী বিন গাজী আত-তুওয়াইজরী

সহকারী অধ্যাপক, আল-কুরআন আল-কারীম অনুষদ, [ইসলামী] বিশ্ববিদ্যালয়
(খণ্ড: ১২৬) তাবসিরুল বাশার বি-তাহরিমিস সিহর (পৃষ্ঠা: ১১৫)
‌‌المقدمة

إن الحمد لله نحمده، ونستعينه، ونستهديه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.

{يا أيّها الذين آمنوا اتقوا الله حق تقاته ولا تموتن إلا وأنتم مسلمون} [آل عمران، الآية: 102]، {يا أيها الناس اتقوا ربكم الذي خلقكم من نفس واحدة وخلق منها زوجها وبث منهما رجالاً كثيراً ونساء واتقوا الله الذي تسآءلون به والأرحام إن الله كان عليكم رقيباً} [النساء: 1]، {يا أيها الذين آمنوا اتقوا الله وقولوا قولا سديداً. يصلح لكم أعمالكم ويغفر لكم ذنوبكم ومن يطع الله ورسوله فقد فاز فوزاً عظيماً} [الأحزاب: 70، 71]؛ أما بعد(1):

فقد أكمل الله لنا الدين، وأتم علينا النعمة، ورضي لنا الإسلام ديناً، كما قال تعالى: {اليوم أكملت لكم دينكم وأتممت عليكم نعمتي ورضيت لكم الإسلام ديناً} [المائدة: 3].

وأرسل إلينا رسولاً، هو أفضل الرسل، وخاتمهم، وأنصحهم لعباد الله، فبلغ رسالة ربه، ونصح أمته، وتركها على محجة بيضاء، ليلها كنهارها، لا يزيغ عنها إلا هالك، كما أخبر بذلك صلوات الله وسلامه عليه(2)؛ وما من شر إلا

--------------------------------------------

(1) هذه خطبة الحاجة التي كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يعلمها أصحابه، وجدير بالمسلم أن يفتتح بها كلامه أو كتابته، تأسياً برسول الله صلى الله عليه وسلم؛ وانظر في تخريجها ما كتبه العلامة الألباني في رسالة «خطبة الحاجة»، حيث جمع طرقها، وبين من أخرجها.

(2) وذلك فيما رواه أحمد في مسنده (4/ 126)، وابن ماجة في سننه (1/ 16)، حديث رقم: (43) في المقدمة، باب اتباع سنة الخلفاء الراشدين، والحاكم في مستدركه (1/ 96)، وقد صححه الألباني في الصحيحة، حديث رقم: (637)، ولفظه: «قد تركتكم على البيضاء، ليلها كنهارها، لا يزيغ عنها بعدي إلا هالك … » الحديث.
‌ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট হেদায়েত প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে হেদায়েত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম হওয়া ছাড়া মৃত্যুবরণ করো না} [আলে ইমরান, আয়াত: ১০২], {হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু নর ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের নিকট সাহায্য চাও এবং রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়তার ব্যাপারে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন} [নিসা: ১], {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য অর্জন করবে} [আহযাব: ৭০, ৭১]; অতঃপর(১):

নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের জন্য দ্বীনকে পূর্ণ করেছেন, আমাদের ওপর তাঁর নিয়ামত সম্পূর্ণ করেছেন এবং আমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করেছেন, যেমনটি মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম, তোমাদের ওপর আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম} [মায়েদাহ: ৩]।

এবং তিনি আমাদের নিকট একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যিনি রাসূলগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, তাঁদের সর্বশেষ এবং আল্লাহর বান্দাদের জন্য সর্বাধিক হিতাকাঙ্ক্ষী। তিনি তাঁর রবের রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন, তাঁর উম্মতকে নসিহত করেছেন এবং তাদের এক উজ্জ্বল শুভ্র রাজপথের ওপর রেখে গিয়েছেন, যার রাতও দিনের ন্যায় সুস্পষ্ট। ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া কেউ তা থেকে বিচ্যুত হয় না, যেমনটি তিনি (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) সংবাদ দিয়েছেন(২); এবং এমন কোনো মন্দ নেই যা থেকে

--------------------------------------------

(১) এটি হলো ‘খুতবাতুল হাজাহ’ যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের শিক্ষা দিতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণে একজন মুসলমানের জন্য তাঁর বক্তব্য বা লেখনী এর মাধ্যমে শুরু করা সমীচীন। এর তাহরিজ (تخريج) সম্পর্কে আল্লামা আলবানী তাঁর ‘খুতবাতুল হাজাহ’ নামক পুস্তিকায় যা লিখেছেন তা দেখুন, যেখানে তিনি এর সূত্রসমূহ (طرق) একত্রিত করেছেন এবং কারা এটি সংকলন (أخرج) করেছেন তা বর্ণনা করেছেন।

(২) এটি ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদ (৪/ ১২৬), ইবনে মাজাহ তাঁর সুনান (১/ ১৬), হাদিস নং: (৪৩), ভূমিকা পরিচ্ছেদ, ‘খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহ অনুসরণ’ অধ্যায় এবং হাকেম তাঁর মুসতাদরাক (১/ ৯৬)-এ বর্ণনা করেছেন। আলবানী আস-সহিহাহ-তে একে সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত করেছেন, হাদিস নং: (৬৩৭), এবং এর শব্দ হলো: “নিশ্চয়ই আমি তোমাদের এক উজ্জ্বল শুভ্র পথের ওপর রেখে যাচ্ছি, যার রাতও দিনের মতো স্পষ্ট, আমার পর ধ্বংসপ্রাপ্ত ছাড়া কেউ তা থেকে বিচ্যুত হবে না...” হাদিসটি শেষ পর্যন্ত।
(খণ্ড: ১২৬) তাবসিরুল বাশার বি-তাহরিমিস সিহর (পৃষ্ঠা: ১১৬)
حذرنا منه، ولا خير إلا دلنا عليه، ولا ترك شيئاً إلا بينه لنا، وذكر لنا منه علماً، كما قال أبو ذر رضي الله عنه: «لقد تركنا رسول الله صلى الله عليه وسلم وما يحرك طائر جناحيه إلا ذكرنا منه علماً»(1).

وكما قال حذيفة رضي الله عنه: «قام فينا رسول الله صلى الله عليه وسلم مقاماً ما ترك شيئاً يكون في مقامه ذلك إلى قيام الساعة إلا حدَّث به، حفظه من حفظه، ونسيه من نسيه … »(2).

وإن مما بينه لنا أمر التداوي والعلاج، فقال صلى الله عليه وسلم: «عباد الله تداووا»(3)، وقال: «ما أنزل الله داء إلا أنزل معه شفاء … »(4).

وإن من الشر الذي حذرنا منه، وحرم علينا فعله، ولم يأذن به «السحر»، ذلكم الداء الخطير الذي تعرفه البشرية قديماً، فهذا القرآن يحكيه عن سحرة فرعون مع موسى في غير ما آية في كتاب الله، وها هو يبرئ نبي الله سليمان منه، ويسنده للشياطين في قوله: {واتبعوا ما تتلوا الشياطين على ملك سليمان وما كفر

--------------------------------------------

(1) رواه أحمد في مسنده (5/ 153، 162)، ووكيع في الزهد (3/ 843)، حديث رقم:

(522)، وأورده الهيثمي في مجمع الزوائد (8/ 263)، وقال: «رواه أحمد، والطبراني، ورجال الطبراني رجال الصحيح، غير محمد بن عبد الله بن يزيد المقرئ، وهو ثقة، وفي إسناد أحمد من لم يسم».

(2) رواه مسلم في صحيحه (4/ 2217)، حديث رقم: (2891)، كتاب الفتن وأشراط الساعة، باب إخبار النبي صلى الله عليه وسلم فيما يكون إلى قيام الساعة.

(3) يأتي تخريجه في ص 29.

(4) يأتي تخريجه في ص 28.
তিনি আমাদের সেই অনিষ্ট থেকে সতর্ক করেছেন, এবং এমন কোনো কল্যাণ নেই যা তিনি আমাদের দেখিয়ে দেননি, এবং এমন কোনো বিষয় নেই যা তিনি আমাদের জন্য বর্ণনা করেননি, এবং তিনি আমাদের নিকট এর জ্ঞান উল্লেখ করেছেন, যেমন আবু যার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের এমন অবস্থায় রেখে গেছেন যে, একটি পাখি তার ডানা নাড়লেও তিনি আমাদের নিকট সে সম্পর্কে জ্ঞান (ইলম) উল্লেখ করেছেন»(১).

এবং যেমন হুযাইফাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের মাঝে এমন এক অবস্থানে দাঁড়িয়েছিলেন যে, কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু ঘটবে তাঁর সেই অবস্থানে থেকে তার কিছুই তিনি বর্ণনা করতে বাদ দেননি; যে তা মুখস্থ রাখার সে রেখেছে এবং যে তা ভুলে যাওয়ার সে ভুলে গেছে … »(২).

আর তিনি আমাদের নিকট যা কিছু বর্ণনা করেছেন তার মধ্যে একটি হলো ঔষধ গ্রহণ ও চিকিৎসার বিষয়টি, অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «হে আল্লাহর বান্দাগণ, তোমরা চিকিৎসা গ্রহণ করো»(৩), এবং তিনি বলেছেন: «আল্লাহ এমন কোনো রোগ অবতীর্ণ করেননি যার সাথে তিনি নিরাময় অবতীর্ণ করেননি … »(৪).

আর যে অনিষ্ট থেকে তিনি আমাদের সতর্ক করেছেন, যার আমল আমাদের জন্য হারাম করেছেন এবং যার অনুমতি দেননি তা হলো «যাদু», যা এক ভয়াবহ ব্যাধি যা মানবজাতি প্রাচীনকাল থেকেই চেনে। এই কুরআন আল্লাহর কিতাবের একাধিক আয়াতে মূসার সাথে ফেরাউনের যাদুকরদের কাহিনী বর্ণনা করেছে, এবং এটি আল্লাহর নবী সুলাইমানকে এ থেকে নির্দোষ ঘোষণা করেছে এবং একে শয়তানদের দিকে সম্পৃক্ত করেছে তাঁর এই বাণীতে: {এবং শয়তানরা সুলাইমানের রাজত্বকালে যা তিলাওয়াত করত তারা তার অনুসরণ করল এবং সুলাইমান কুফরি করেননি...

--------------------------------------------

(১) আহমদ এটি তাঁর মুসনাদ (৫/ ১৫৩, ১৬২) গ্রন্থে এবং ওয়াকি আয-যুহদ (৩/ ৮৪৩) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, হাদিস নম্বর:

(৫২২), আর আল-হাইসামি মাজমাউয যাওয়াইদ (৮/ ২৬৩) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: «এটি আহমদ ও তাবারানি বর্ণনা করেছেন এবং তাবারানির বর্ণনাকারীগণ হলেন সহিহ (صحيح) গ্রন্থের বর্ণনাকারী, মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াযিদ আল-মুক্রি ব্যতীত, আর তিনি হলেন নির্ভরযোগ্য (ثقة); তবে আহমদের সনদ (إسناد)-এ এমন ব্যক্তি রয়েছেন যার নাম উল্লেখ করা হয়নি».

(২) মুসলিম এটি তাঁর সহিহ (৪/ ২২১৭) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, হাদিস নম্বর: (২৮৯১), ফিতনা ও কিয়ামতের আলামত অধ্যায়, কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু হবে সে সম্পর্কে নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সংবাদ প্রদান পরিচ্ছেদ।

(৩) এর তাখরিজ (تخريج) ২৯ পৃষ্ঠায় আসবে।

(৪) এর তাখরিজ (تخريج) ২৮ পৃষ্ঠায় আসবে।
(খণ্ড: ১২৬) তাবসিরুল বাশার বি-তাহরিমিস সিহর (পৃষ্ঠা: ১১৭)
سليمان ولكن الشياطين كفروا يعلمون الناس السحر وما أنزل على الملكين} [البقرة: 102].

وتجد كتب السنة ترويه واقعاً لرسول الله صلى الله عليه وسلم، وتجده اليوم وفي وقتنا الحاضر واقعاً مريرا ملموساً يعرفه العامة والخاصة، بل زاد وكثر وانتشر حتى صارت بعض القنوات الفضائية تعلن له، وتدعو إليه جهاراً نهاراً، ولا حول ولا قوة إلا بالله، علماً بأنه موجود قبل وجود هذه القنوات، لكنها مما زاد الطين بلة - كما يقال - حتى سقط في حبائله كثير من المسلمين، ووقعوا في حمأته، وربما استمرأه بعضهم نظراً لكثرة فعله واعتياده عليه، رغم وجود نصوص الكتاب والسنة الدالة على تحريمه، فلأجل ذلك رغبت أن أكتب في هذا الموضوع رجاء أن يعرف حرمته جاهل به، وتزول عن ذي شبهة فيه شبهته. وسميته: «تبصير البشر بتحريم

السحر».

 

ويمكن تلخيص أسباب الكتابة، و‌‌أهمية الموضوع في النقاط التالية:

1 - ما ورد من نصوص الوعيد في تحريم السحر، والتغليظ على فاعله ومرتكبه، معالِجاً أو معالَجاً.

2 - وجود السحر في حياة الناس وواقعهم، وانتشاره بينهم.

3 - كثرة الواقعين فيه، إما عن جهل، فيعلم الجاهل، وإما عن شبهة، فتزال عنه شبهته، وإما عن عمد وعلم، فتقام عليه الحجة.

4 - تلبيس دعاته على الناس، بإظهارهم أنهم من أهل الصلاح والدين، أو على الأقل أنهم من المعالجين بالأمور المباحة.

5 - جهل كثير من المسلمين بخطورته، وما يترتب على فعله، بل يظن كثير منهم أن التحريم خاص بالساحر فقط.

6 - ظن كثير من الناس أن إصابة الإنسان بالمرض تعتبر ضرورة تحل له ما حرم عليه.
...সুলাইমান (আ.), বরং শয়তানরাই কুফরি করেছিল; তারা মানুষকে জাদু শিক্ষা দিত এবং যা দুই ফেরেশতার ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল...} [আল-বাকারা: ১০২]।

আপনি সুন্নাহর কিতাবসমূহে পাবেন যে, এটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জীবনে একটি বাস্তব ঘটনা হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। আজ আমাদের বর্তমান সময়েও একে একটি তিক্ত ও দৃশ্যমান বাস্তব হিসেবে দেখা যায়, যা সাধারণ ও বিশিষ্ট—উভয় শ্রেণীর মানুষই অবগত। বরং এর প্রকোপ এতোটাই বৃদ্ধি পেয়েছে ও ছড়িয়ে পড়েছে যে, কিছু স্যাটেলাইট চ্যানেল এখন এর বিজ্ঞাপন দিচ্ছে এবং প্রকাশ্যে দিন-দুপুরে এর দিকে আহ্বান জানাচ্ছে। আর আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো উপায় বা শক্তি নেই। যদিও এই চ্যানেলগুলোর অস্তিত্বের আগে থেকেই এটি বিদ্যমান ছিল, কিন্তু এগুলো—যেমনটি বলা হয়ে থাকে—'আগুনে ঘি ঢালার' মতো কাজ করেছে। ফলে অনেক মুসলিম এর জালে আটকা পড়েছে এবং এর পঙ্কিলতায় নিপতিত হয়েছে। হয়তো অনেকে এর ব্যাপক প্রচলন ও অভ্যস্ততার কারণে একে সহজ মনে করতে শুরু করেছে, যদিও কুরআন ও সুন্নাহর অকাট্য দলিলসমূহ (نصوص) এর নিষিদ্ধতা (تحريم) নির্দেশ করে। এই কারণেই আমি এই বিষয়ে লেখার ইচ্ছা পোষণ করেছি, এই আশায় যে—যিনি এ সম্পর্কে জানেন না তিনি এর নিষিদ্ধতা সম্পর্কে জানবেন এবং যার মনে সংশয় রয়েছে তার সংশয় দূর হবে। আমি এর নামকরণ করেছি: ‘তাবসিরুল বাশার বি তাহরিমিস

সিহর’।

 

লেখার কারণসমূহ এবং বিষয়টির গুরুত্ব নিচের পয়েন্টগুলোর মাধ্যমে সারসংক্ষেপ করা যেতে পারে:

1 - জাদুর নিষিদ্ধতা (تحريم) এবং এর সম্পাদনকারী ও লিপ্ত ব্যক্তির ওপর—সে জাদুকর হোক বা চিকিৎসাপ্রার্থী—কঠোর হুঁশিয়ারি সম্বলিত যে সকল অকাট্য বর্ণনা (نصوص) এসেছে।

2 - মানুষের জীবন ও বাস্তবে জাদুর উপস্থিতি এবং তাদের মাঝে এর ব্যাপক প্রসার।

3 - এতে লিপ্ত ব্যক্তিদের আধিক্য; হয় অজ্ঞতাবশত—ফলে অজ্ঞ ব্যক্তিকে শিক্ষা দেওয়া হবে, নতুবা সংশয়ের কারণে—ফলে তার সংশয় দূর করা হবে, নতুবা ইচ্ছাকৃত ও জ্ঞানত—সেক্ষেত্রে তার ওপর অকাট্য প্রমাণ (حجة) প্রতিষ্ঠিত করা হবে।

4 - এর আহ্বানকারীদের পক্ষ থেকে মানুষের নিকট সত্য-মিথ্যা মিশ্রিত করে বিভ্রান্তি (تلبيس) সৃষ্টি করা; তারা নিজেদের নেককার ও দ্বীনদার হিসেবে প্রকাশ করে, অথবা অন্ততপক্ষে নিজেদের বৈধ (مباح) পন্থায় চিকিৎসা দানকারী হিসেবে জাহির করে।

5 - অনেক মুসলিমের এর ভয়াবহতা এবং এর পরিণাম সম্পর্কে অজ্ঞতা; বরং তাদের অনেকে মনে করে যে, নিষিদ্ধতা (تحريم) কেবল জাদুকরের জন্যই প্রযোজ্য।

6 - অনেক মানুষের এই ধারণা যে, কোনো ব্যক্তি রোগে আক্রান্ত হওয়া এমন এক নিরুপায় অবস্থা (ضرورة), যা তার জন্য নিষিদ্ধ বিষয়কে বৈধ করে দেয়।
(খণ্ড: ১২৬) তাবসিরুল বাশার বি-তাহরিমিস সিহর (পৃষ্ঠা: ১১৮)
7 - خطره على العقيدة، فمن مات على ذلك فهو على خطر عظيم، كما سيأتي بيان ذلك.

8 - أن إنكاره من النصح الواجب على كل مسلم لكل مسلم، ومن الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، فالسحر من أعظم المنكرات، وإنكاره من أعظم المعروف.

9 - ما بدأ يدب في نفوس كثير من الناس، من تعظيم السحرة، والخوف منهم، حتى بعض أولئك الذين لا يذهبون إليهم تجدهم يرهبون من الإخبار عنهم، وإبلاغ جهات الاختصاص عنهم. وهذا أمر له عاقبته الوخيمة، ونهايته السيئة، أسأل الله أن يحفظ على المسلمين إيمانهم، وأن يقيهم شر كل ذي شر.

 

‌‌خطة البحث

سيكون البحث في هذا الموضوع وفق الخطة التالية:

أولاً: مقدمة: تشتمل على أهمية وأسباب الكتابة في هذا الموضوع، وهي ما أسلفتها قريباً.

ثانياً: الفصل الأول: السحر تعريفه، وأدلته، وقوعه، وتحريمه، وخطره، وحكم إتيان الساحر؛ وتحته أربعة مباحث:

المبحث الأول: تعريف السحر لغة واصطلاحاً

المبحث الثاني: الأدلة على وقوع السحر، وتحريمه؛ وتحته مطلبان:

المطلب الأول: أدلة وقوع السحر

المطلب الثاني: أدلة تحريم السحر

المبحث الثالث: حكم إتيان الساحر للتداوي عنده

المبحث الرابع: خطر السحر على المجتمع
7 - আকিদাহর ওপর এর ঝুঁকি; সুতরাং যে ব্যক্তি এই অবস্থার ওপর মৃত্যুবরণ করবে সে চরম বিপদের সম্মুখীন হবে, যেমনটি সামনে আলোচিত হবে।

8 - এর প্রতিবাদ করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর অপর মুসলিমের প্রতি ওয়াজিব নসিহত এবং সৎ কাজের (المعروف) আদেশ ও অসৎ কাজের (المنكرات) নিষেধের অন্তর্ভুক্ত; কারণ জাদু অন্যতম শ্রেষ্ঠ গর্হিত কাজ (المنكرات) এবং এর প্রতিবাদ করা অন্যতম শ্রেষ্ঠ পুণ্যময় কাজ (المعروف)।

9 - অনেক মানুষের অন্তরে জাদুকরদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং তাদের ভয় পাওয়ার যে প্রবণতা শুরু হয়েছে—এমনকি যারা তাদের কাছে যায় না তাদেরও অনেককে দেখা যায় যে তারা জাদুকরদের ব্যাপারে তথ্য দিতে বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে ভয় পায়। এটি এমন একটি বিষয় যার পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ এবং শেষ পরিণতি অত্যন্ত মন্দ; আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন মুসলিমদের ঈমান রক্ষা করেন এবং প্রত্যেক অনিষ্টকারীর অনিষ্ট থেকে তাদের বাঁচিয়ে রাখেন।

 

‌‌গবেষণা পরিকল্পনা

এই বিষয়ের ওপর গবেষণা নিম্নোক্ত পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন হবে:

প্রথমত: ভূমিকা: এতে এই বিষয়ে লেখার গুরুত্ব এবং কারণসমূহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা আমি ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি।

দ্বিতীয়ত: প্রথম অধ্যায়: জাদু: এর সংজ্ঞা, এর প্রমাণাদি, এর সংঘটন, এর নিষিদ্ধতা, এর ঝুঁকি এবং জাদুকরের নিকট যাওয়ার বিধান (حكم); এর অধীনে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে জাদুর সংজ্ঞা

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: জাদু সংঘটিত হওয়ার এবং এর নিষিদ্ধতার প্রমাণাদি; এর অধীনে দুটি উপ-বিভাগ রয়েছে:

প্রথম উপ-বিভাগ: জাদু সংঘটিত হওয়ার প্রমাণাদি

দ্বিতীয় উপ-বিভাগ: জাদু নিষিদ্ধ হওয়ার প্রমাণাদি

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: চিকিৎসার উদ্দেশ্যে জাদুকরের নিকট যাওয়ার বিধান (حكم)

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: সমাজে জাদুর ঝুঁকি বা বিপদ
(খণ্ড: ১২৬) তাবসিরুল বাশার বি-তাহরিমিস সিহর (পৃষ্ঠা: ১১৯)
ثالثاً: الفصل الثاني: الحديث عن آية سورة البقرة، وهي قوله تعالى: {واتبعوا ما تتلوا الشياطين على ملك سليمان … }، وسأتناولها بالبحث تحت أربعة مباحث هي:

المبحث الأول: سبب نزول الآية، وتحقيق القول في ذلك.

المبحث الثاني: تفسير مفردات الآية، وبيان أقوال المفسرين إجمالاً

المبحث الثالث: دلالة الآية على حكم كفر الساحر، وتحقيق القول في ذلك.

المبحث الرابع: دلالة الآية على حكم تعلم السحر، وذكر أقوال المفسرين في ذلك، مع بيان الراجح.

رابعاً: الفصل الثالث: الآيات الواردة في السحر في قصة موسى مع فرعون، وتحته ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: تفسير تلك الآيات، وذكر أقوال المفسرين فيها.

المبحث الثاني: ذكر ما ورد عن بعض المفسرين في علاج السحر بقراءة بعض الآيات الواردة في هذه القصة، وبيان جوازه بالرقى الشرعية، وتحريم ما عدا ذلك.

المبحث الثالث: ذكر استدلال بعض المفسرين بقوله: {يخيل إليه من سحرهم أنها تسعى} على أنه لا حقيقة للسحر، ومناقشة ذلك، مع بيان الراجح في هذه المسألة.

خامساً: الخاتمة: وتتضمن جملة من الوصايا، فيما يتحصن به من السحر.

 

‌‌منهج البحث

يتلخص المنهج الذي سرت عليه في كتابة هذا البحث في النقاط التالية:
তৃতীয়ত: দ্বিতীয় অধ্যায়: সূরা বাকারার আয়াত সম্পর্কে আলোচনা, যা মহান আল্লাহর বাণী: {আর তারা অনুসরণ করল যা শয়তানরা সুলাইমানের রাজত্বকালে পাঠ করত...}, এবং আমি এটি চারটি পরিচ্ছেদের অধীনে আলোচনার মাধ্যমে তুলে ধরব, সেগুলো হলো:

প্রথম পরিচ্ছেদ: আয়াত নাযিলের প্রেক্ষাপট এবং এ বিষয়ে বক্তব্যের যাচাই (تحقيق)।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আয়াতের শব্দসমূহের ব্যাখ্যা এবং মুফাসসিরগণের বক্তব্যসমূহের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: জাদুকরের কুফরের বিধানের ওপর আয়াতের নির্দেশ এবং এ বিষয়ে বক্তব্যের যাচাই (تحقيق)।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: জাদু শেখার বিধানের ওপর আয়াতের নির্দেশ এবং এ বিষয়ে মুফাসসিরগণের বক্তব্য উল্লেখসহ অধিক গ্রহণযোগ্য (الراجح) মতের বর্ণনা।

চতুর্থত: তৃতীয় অধ্যায়: ফেরাউনের সাথে মূসা (আ.)-এর ঘটনায় জাদু সংক্রান্ত আয়াতসমূহ, এবং এর অধীনে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: সেই আয়াতসমূহের ব্যাখ্যা এবং এ বিষয়ে মুফাসসিরগণের বক্তব্য উল্লেখ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এই কাহিনীতে বর্ণিত কিছু আয়াত পাঠের মাধ্যমে জাদুর চিকিৎসার বিষয়ে কোনো কোনো মুফাসসির যা উল্লেখ করেছেন তার বর্ণনা, এবং শরয়ি রুকইয়াহর মাধ্যমে এর বৈধতা এবং এ ব্যতীত অন্য সবকিছুর নিষিদ্ধতা স্পষ্টীকরণ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আল্লাহর বাণী: {তাদের জাদুর প্রভাবে তার কাছে মনে হচ্ছিল যেন সেগুলো ছুটছে} দ্বারা জাদুর কোনো হাকিকত বা বাস্তবতা নেই বলে কোনো কোনো মুফাসসিরের দলীল গ্রহণের বিষয়টি উল্লেখ, এবং এর পর্যালোচনা ও এই মাসআলায় অধিক গ্রহণযোগ্য (الراجح) মতের বর্ণনা।

পঞ্চমত: উপসংহার: এতে জাদু থেকে সুরক্ষা লাভের জন্য একগুচ্ছ উপদেশের বর্ণনা রয়েছে।

 

‌‌গবেষণা পদ্ধতি

এই গবেষণাপত্রটি লেখার ক্ষেত্রে আমি যে পদ্ধতি অনুসরণ করেছি তা নিম্নে উল্লিখিত পয়েন্টগুলোতে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
(খণ্ড: ১২৬) তাবসিরুল বাশার বি-তাহরিমিস সিহর (পৃষ্ঠা: ১২০)
1 - عزو الآيات المستشهد بها إلى سورها، وذلك بذكر اسم السورة، ورقم الآية عند نهاية المستشهد به منها داخل المتن.

2 - تخريج الأحاديث من كتب السنة المعتمدة.

3 - التزمت في الاستدلال بذكر الأحاديث الصحيحة، مع بيان من صححها من أهل العلم، ما لم تكن في الصحيحين، أو أحدهما.

4 - تخريج الآثار، وعزوها إلى مصادرها.

5 - ترجمة الأعلام الواردة، ما لم تكن مشهورة، وما لم تكن ضمن إسناد، أو ضمن الكلام على درجة الحديث.

6 - ذيلت الرسالة بفهارس علمية على النحو التالي:

أ- فهرس الآيات القرآنية.

ب- فهرس الأحاديث النبوية.

ج- فهرس الأعلام.

د - فهرس المراجع والمصادر.

هـ - فهرس الموضوعات.

* * *
1 - উদ্ধৃত আয়াতগুলোকে সংশ্লিষ্ট সুরার সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা, আর তা হলো মূল পাঠের অভ্যন্তরে উদ্ধৃতির শেষে সুরার নাম এবং আয়াত নম্বর উল্লেখ করার মাধ্যমে।

2 - নির্ভরযোগ্য সুন্নাহ গ্রন্থসমূহ থেকে হাদিসগুলোর তাখরিজ (تخريج) করা।

3 - আমি দলিল উপস্থাপনের ক্ষেত্রে সহিহ (صحيح) হাদিসগুলো উল্লেখ করার নীতি অনুসরণ করেছি, সেই সাথে আলেমদের মধ্যে যারা সেগুলোকে সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত করেছেন তাদের নামও উল্লেখ করেছি—যদি না সেগুলো সহিহাইন বা এই দুটির কোনো একটিতে বর্ণিত হয়ে থাকে।

4 - আসার (آثار) সমূহের তাখরিজ (تخريج) করা এবং সেগুলোকে তাদের মূল উৎসের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা।

5 - উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গের জীবনী (ترجمة) সংকলন করা, যদি না তারা অতি প্রসিদ্ধ হন অথবা হাদিসের সনদ (إسناد) কিংবা হাদিসের মান সংক্রান্ত আলোচনার অন্তর্ভুক্ত হন।

6 - গবেষণাপত্রটির শেষে নিম্নোক্ত বৈজ্ঞানিক নির্ঘণ্টসমূহ যুক্ত করা হয়েছে:

ক- কুরআনের আয়াতসমূহের নির্ঘণ্ট।

খ- হাদিসে নববীর নির্ঘণ্ট।

গ- ব্যক্তিবর্গের নির্ঘণ্ট।

ঘ - তথ্যসূত্র ও মূল উৎসসমূহের নির্ঘণ্ট।

ঙ - বিষয়বস্তুর নির্ঘণ্ট।

* * *
(খণ্ড: ১২৬) তাবসিরুল বাশার বি-তাহরিমিস সিহর (পৃষ্ঠা: ১২১)
‌‌الفصل الأول: الفصل الأول: السحر تعريفه، وأدلته، وقوعه، وتحريمه، وخطره، وحكم إتيان الساحر

وتحته أربعة مباحث:

 

‌‌المبحث الأول: تعريف السحر لغة واصطلاحاً

‌‌السحر في اللغة:

يرد السحر في لغة العرب لعدة معاني ترجع إلى أصل واحد، وهو صرف الشيء عن حقيقته إلى غيره، ومنه قوله تعالى: {فأنى تسحرون} [سورة المؤمنون: 89]؛ أي تصرفون، ومنه قوله صلى الله عليه وسلم: «إن من البيان لسحراً»(1).

قال الأزهري(2) في تهذيب اللغة: «وأصل السحر صرف الشيء عن حقيقته إلى غيره»، وقال الفراء(3) في قوله: {فأنى تسحرون} [سورة المؤمنون: 89]:

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري في صحيحه من حديث ابن عمر في موضعين؛ الأول: في كتاب النكاح، باب الخطبة، انظر: فتح الباري (9/ 109)، حديث رقم: (5146)، والموضع الثاني في كتاب الطب، باب إن من البيان لسحرا، انظر: فتح الباري (10/ 247)، حديث رقم:

(5767)، ولفظه: «جاء رجلان من المشرق فخطبا، فعجب الناس لبيانهما، فقال النبي

صلى الله عليه وسلم: «إن من البيان لسحرا». وأخرجه مسلم في صحيحه (2/ 594)، حديث رقم:

(869)، كتاب الجمعة، باب تخفيف الصلاة والخطبة، من حديث عمار بن ياسر رضي الله عنه.

(2) هو محمد بن أحمد بن الأزهر الهروي، أبو منصور، أحد الأئمة في اللغة والأدب، مولده ووفاته في هراة بخراسان، نسبة إلى جده الأزهر، عني بالفقه أولاً، فاشتهر به، ثم غلب عليه التبحر في العربية، فرحل في طلبها، وقصد القبائل، وتوسع في أخبارهم، له كتاب تهذيب اللغة، وتفسير القرآن، وغيرهما، مات سنة 370 هـ. انظر ترجمته في: سير أعلام النبلاء

(16/ 315) وما بعدها، وبغية الوعاة (1/ 19)، والأعلام للزركلي (5/ 311).

(3) هو يحيى بن زياد بن عبد الله بن منظور الديلمي، أبو زكريا، المعروف بالفراء، إمام الكوفيين، وأعلمهم باللغة وفنون الأدب، ولد بالكوفة سنة 144 هـ، وانتقل إلى بغداد، مكثر في التأليف، ومن مؤلفاته: معاني القرآن، والمذكر والمؤنث، مات سنة 207 هـ.

انظر ترجمته في: سير أعلام النبلاء (10/ 118)، وبغية الوعاة (2/ 333)، والأعلام للزركلي (8/ 145).
‌‌প্রথম অধ্যায়: জাদু (سحر): এর সংজ্ঞা, প্রমাণাদি, বাস্তবতা, নিষিদ্ধতা, ভয়াবহতা এবং জাদুকরের নিকট গমনের বিধান

এর অধীনে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

 

‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ: জাদুর শাব্দিক (لغة) ও পারিভাষিক (اصطلاحاً) সংজ্ঞা

‌‌শাব্দিক (لغة) অর্থে জাদু:

আরবদের ভাষায় জাদু (سحر) শব্দটি এমন কয়েকটি অর্থে ব্যবহৃত হয় যা একটি মূল উৎসের দিকে ফিরে যায়, আর তা হলো কোনো বস্তুকে তার প্রকৃত অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় ফিরিয়ে দেয়া। এর মধ্য থেকেই মহান আল্লাহর বাণী: {فأنى تسحرون} [সুরা আল-মুমিনুন: ৮৯]; অর্থাৎ তোমরা কোথায় বিভ্রান্ত/বিমুখ হচ্ছ? এবং এর মধ্য থেকেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: «নিশ্চয়ই কোনো কোনো বাগ্মিতা জাদুর মতো প্রভাবশালী»(১)।

আল-আজহারি(২) 'তাহজিবুল লুগাহ' গ্রন্থে বলেন: «জাদুর মূল অর্থ হলো কোনো বস্তুকে তার বাস্তবতা থেকে অন্য দিকে ফিরিয়ে দেয়া», এবং আল-ফাররা(৩) মহান আল্লাহর বাণী: {فأنى تسحرون} [সুরা আল-মুমিনুন: ৮৯] এর বিষয়ে বলেন:

--------------------------------------------

(১) বুখারি এটি তার সহিহ বুখারি গ্রন্থে ইবনে উমরের হাদিস থেকে দুটি স্থানে বর্ণনা করেছেন; প্রথমটি: বিবাহ অধ্যায়, খুতবা অনুচ্ছেদ, দেখুন: ফাতহুল বারি (৯/১০৯), হাদিস নম্বর: (৫১৪৬), এবং দ্বিতীয় স্থানটি হলো চিকিৎসা অধ্যায়, 'নিশ্চয়ই কোনো কোনো বাগ্মিতা জাদুর মতো প্রভাবশালী' অনুচ্ছেদ, দেখুন: ফাতহুল বারি (১০/২৪৭), হাদিস নম্বর:

(৫৭৬৭), এবং এর শব্দ হলো: «পূর্বাঞ্চল থেকে দুজন ব্যক্তি এসে বক্তব্য দিলেন, এতে মানুষ তাদের বাগ্মিতায় মুগ্ধ হলো। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: 'নিশ্চয়ই কোনো কোনো বাগ্মিতা জাদুর মতো প্রভাবশালী'»। এবং মুসলিম এটি তার সহিহ মুসলিম গ্রন্থে (২/৫৯৪), হাদিস নম্বর:

(৮৬৯), জুমুআ অধ্যায়, নামাজ ও খুতবা সংক্ষিপ্তকরণ অনুচ্ছেদ, আম্মার বিন ইয়াসির (রাযিআল্লাহু আনহু) এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন।

(২) তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আল-আজহার আল-হারাবি, আবু মানসুর, ভাষা ও সাহিত্যের অন্যতম ইমাম (إمام)। তার জন্ম ও মৃত্যু খোরাসানের হেরাতে, যা তার দাদা আজহারের দিকে সম্বন্ধিত। তিনি প্রথমে ফিকহ শাস্ত্রের প্রতি মনোনিবেশ করেন এবং তাতে প্রসিদ্ধি লাভ করেন। এরপর তার ওপর আরবি ভাষার পাণ্ডিত্য প্রাধান্য পায়, ফলে তিনি এর সন্ধানে বিভিন্ন গোত্রের সান্নিধ্যে সফর করেন এবং তাদের ভাষাগত সংবাদ ও তথ্যাদি ব্যাপকভাবে সংগ্রহ করেন। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে 'তাহজিবুল লুগাহ', 'তাফসিরুল কুরআন' ইত্যাদি। তিনি ৩৭০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন তার জীবনী: সিয়ারু আলামিন নুবালা

(১৬/৩১৫) ও পরবর্তী অংশ, বুগিয়াতুল উয়াত (১/১৯), এবং আল-আলাম লিল-জিরিকলি (৫/৩১১)।

(৩) তিনি হলেন ইয়াহইয়া বিন জিয়াদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মানজুর আদ-দাইলামি, আবু জাকারিয়া, যিনি আল-ফাররা নামে পরিচিত। তিনি কুফাবাসীদের ইমাম (إمام) এবং ভাষা ও সাহিত্যের বিভিন্ন বিদ্যায় তাদের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানী। তিনি ১৪৪ হিজরিতে কুফায় জন্মগ্রহণ করেন এবং বাগদাদে স্থানান্তরিত হন। তিনি প্রচুর কিতাব রচনা করেছেন, তার রচনার মধ্যে রয়েছে: মাআনিল কুরআন, আল-মুযাক্কার ওয়াল মুয়ান্নাস। তিনি ২০৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

দেখুন তার জীবনী: সিয়ারu আলামিন নুবালা (১০/১১৮), বুগিয়াতুল উয়াত (২/৩৩৩), এবং আল-আলাম লিল-জিরিকলি (৮/১৪৫)।
(খণ্ড: ১২৬) তাবসিরুল বাশার বি-তাহরিমিস সিহর (পৃষ্ঠা: ১২২)
«معناه تصرفون»(1)، وقال يونس(2): «تقول العرب للرجل: ما سحرك عن وجه كذا وكذا، أي ما صرفك عنه»(3).

وقال أبو عبيد(4) في قوله صلى الله عليه وسلم: «إن من البيان لسحراً» كأن المعنى - والله أعلم - أنه يبلغ من ثنائه أنه يمدح الإنسان، فيصدق فيه حتى يصرف القلوب إلى قوله، ثم يذمه فيصدقه فيه، حتى يصرف القلوب إلى قوله الآخر، فكأنه قد

--------------------------------------------

(1) انظره في معاني القرآن له (2/ 241).

(2) هو يونس بن حبيب الضبي مولاهم البصري، أبو عبد الرحمن، يعرف بالنحوي، كان علامة بالأدب، وكان إمام نحاة البصرة في عصره، ولد سنة 94 هـ، أخذ عن عمرو بن العلاء، وسمع من العرب، روى عنه سيبويه، والكسائي، والفراء، قال أبو عبيدة: اختلفت إلى يونس أربعين سنة، أملأ كل يوم ألواحي من حفظه، له معاني القرآن: كبير وصغير، واللغات، والنوادر، وغيرها؛ مات سنة 182 هـ. انظر ترجمته في: سير أعلام النبلاء (8/ 191)، وبغية الوعاة (2/ 365)، والأعلام (8/ 261).

(3) انظر: تهذيب اللغة (4/ 290) مادة سحر.

(4) هو الإمام الحافظ المجتهد ذو الفنون، أبو عبيد، القاسم بن سلام بن عبد الله الهروي الأزدي الخزاعي مولاهم، ولد بهراة سنة 157 هـ، وتعلم بها، ورحل إلى بغداد، ومصر، صنف التصانيف المؤنقة التي سارت بها الركبان، منها: كتاب الأموال، وغريب الحديث، وفضائل القرآن، وغيرها كثير؛ مات بمكة، سنة 224 هـ.

انظر ترجمته في: سير أعلام النبلاء (10/ 490)، وبغية الوعاة (2/ 253)، والأعلام للزركلي (5/ 176).
«এর অর্থ হলো তোমরা বিমুখ হও»(১), এবং ইউনুস(২) বলেছেন: «আরবরা কোনো ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে বলে: তোমাকে অমুক অমুক বিষয় থেকে কিসে জাদুমুগ্ধ (বা বিমুখ) করেছে? অর্থাৎ তোমাকে তা থেকে কিসে ফিরিয়ে নিয়েছে»(৩)।

এবং আবু উবাইদ(৪) রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: «নিশ্চয়ই কোনো কোনো বাগ্মিতা জাদু (সদৃশ)» প্রসঙ্গে বলেছেন: যেন এর অর্থ হলো—আল্লাহই ভালো জানেন—বক্তা প্রশংসার এমন স্তরে পৌঁছে যায় যে, সে কোনো মানুষের প্রশংসা করে এবং তাতে সত্যনিষ্ঠতা প্রকাশ পায়, এমনকি সে মানুষের অন্তরকে তার কথার দিকে ফিরিয়ে নেয়। অতঃপর সে আবার তার নিন্দা করে এবং মানুষ তাতেও তাকে সত্যবাদী মনে করে, ফলে তাদের অন্তরকে তার দ্বিতীয় কথার দিকে ধাবিত করে। যেন সে ইতিপূর্বেই...

--------------------------------------------

(১) তাঁর রচিত মাআনিউল কুরআন গ্রন্থে দেখুন (২/ ২৪১)।

(২) তিনি হলেন ইউনুস বিন হাবীব আদ-দব্বী, তাদের আযাদকৃত গোলাম, বসরী, আবু আবদুর রহমান। তিনি ব্যাকরণবিদ হিসেবে পরিচিত। তিনি সাহিত্যে অগাধ পণ্ডিত ছিলেন এবং তাঁর যুগের বসরা অঞ্চলের ব্যাকরণবিদদের ইমাম (إمام) ছিলেন। তিনি ৯৪ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আমর বিন আল-আলা থেকে জ্ঞানার্জন করেছেন এবং আরবদের নিকট থেকে সরাসরি (ভাষা) শুনেছেন। তাঁর থেকে সিবওয়াইহ, কিসায়ী ও ফাররা বর্ণনা করেছেন। আবু উবাইদাহ বলেন: "আমি চল্লিশ বছর যাবৎ ইউনুসের নিকট যাতায়াত করেছি, প্রতিদিন তাঁর স্মৃতিশক্তি থেকে (শুনে) আমার শ্লেটগুলো পূর্ণ করতাম।" তাঁর রচিত গ্রন্থের মধ্যে মাআনিউল কুরআন (বড় ও ছোট), আল-লুগাত, আন-নাওয়াদির ও অন্যান্য গ্রন্থ রয়েছে; তিনি ১৮২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর জীবনী দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা (৮/ ১৯১), বুগইয়াতুল উয়াত (২/ ৩৬৫) এবং আল-আলাম (৮/ ২৬১)।

(৩) দেখুন: তহযীবুল লুগাহ (৪/ ২৯০), 'সحر' মূলশব্দ।

(৪) তিনি হলেন ইমাম (إمام), হাফিজ (حافظ), মুজতাহিদ (مجتهد) ও বহুবিদ্যায় পারদর্শী আবু উবাইদ কাসিম বিন সাল্লাম বিন আবদুল্লাহ আল-হারাউয়ী আল-আজদী আল-খুজায়ী, তাদের আযাদকৃত গোলাম। তিনি ১৫৭ হিজরিতে হারাত-এ জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই শিক্ষালাভ করেন। এরপর তিনি বাগদাদ ও মিশরে ভ্রমণ করেন। তিনি চমৎকার সব গ্রন্থ রচনা করেছেন যা দেশ-বিদেশে খ্যাতি লাভ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে: কিতাবুল আমওয়াল, গরীবুল হাদিস, ফাদাইলুল কুরআন এবং আরও অনেক। তিনি ২২৪ হিজরিতে মক্কায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর জীবনী দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা (১০/ ৪৯০), বুগইয়াতুল উয়াত (২/ ২৫৩) এবং যিরিকলীর আল-আলাম (৫/ ১৭৬)।
(খণ্ড: ১২৬) তাবসিরুল বাশার বি-তাহরিমিস সিহর (পৃষ্ঠা: ১২৩)
سحر السامعين بذلك(1).

وقال ابن الأثير(2): يعني: إن من البيان لسحراً، أي منه ما يصرف قلوب السامعين، وإن كان غير حق»(3).

 

‌‌السحر في الاصطلاح:

إن تعريف السحر بحد واحد جامع مانع غير ممكن، نظراً لكثرة أنواعه(4)، فمنه ما هو حقيقي، ومنه ما هو تخييل، ومنه ما هو مخادعة. قال العلامة محمد الأمين الشنقيطي(5) رحمه الله: «اعلم أن السحر في الاصطلاح لا يمكن حده بحد

--------------------------------------------

(1) انظر: غريب الحديث لأبي عبيد (1/ 228).

(2) هو المبارك بن محمد بن محمد بن محمد بن عبد الكريم، الشيباني، الجزري، أبو السعادات، مجد الدين، المحدث، اللغوي، الأصولي، ولد سنة 544 في جزيرة ابن عمر، ثم تحول إلى الموصل، فاتصل بأميرها، فكان من أخصائه، وأصيب بالفالج، وعجز عن الكتابة، وقيل بل ألف جميع كتبه بعد مرضه إملاءً على طلبته، له النهاية في غريب الحديث، وجامع الأصول، وجملة من المؤلفات، مات سنة 606 هـ.

انظر ترجمته في: سير أعلام النبلاء (21/ 488)، وبغية الوعاة (2/ 274)، والأعلام للزركلي (5/ 272).

(3) انظره في النهاية في غريب الحديث (2/ 346)، مادة سحر، وانظر في كل ما سبق تهذيب اللغة (4/ 290)، مادة سحر، ولسان العرب (4/ 348)، مادة سحر، وانظر: كتاب السحر للدكتور مسفر الدميني ص (11 - 14) حيث أورد معاني السحر لغة، واستخلص أن المعنى الأصلي للسحر هو: «الصرف»؛ وأرجع المعاني الأخرى إليه.

(4) انظر: التفسير الكبير للفخر الرازي (3/ 223 - 230)، حيث ذكر أن السحر ثمانية أقسام، وأوصلها د/ أحمد الحمد في كتابه: السحر بين الحقيقة والخيال (21 - 43) إلى ثلاثة عشر قسماً.

(5) هو العلامة المفسر السلفي محمد الأمين بن محمد المختار بن عبد القادر الجكني الشنقيطي، ولد في شنقيط عام 1325 هـ، وتعلم بها، وحج عام 1367 هـ، واستقر بالمدينة مدرساً، ثم انتقل إلى الرياض عام 1371 هـ مدرساً بالمعهد العلمي، ثم بكلية الشريعة واللغة العربية، ثم استقر بالمدينة مدرساً بالجامعة الإسلامية عام 1381 هـ، ووافاه الأجل بعد حج عام 1393 هـ بمكة المكرمة؛ له جملة من المؤلفات النافعة، منها: أضواء البيان في تفسير القرآن بالقرآن، دفع إيهام الاضطراب عن آي الكتاب، منهج ودراسات لآيات الأسماء والصفات.

انظر ترجمته في: الأعلام (6/ 45)، وعلماء ومفكرون ص (171) وما بعدها، وجهود الشيخ محمد الأمين الشنقيطي في تقرير عقيدة السلف للدكتور عبد العزيز الطويان.
এর মাধ্যমে তিনি শ্রোতাদের বিমোহিত করেছেন(1)。

ইবনুল আসীর(2) বলেন: “অর্থাৎ: ‘নিশ্চয়ই কিছু বাগ্মিতায় জাদু রয়েছে’; এর অর্থ হলো এর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা শ্রোতাদের হৃদয়কে সত্য থেকে বিমুখ করে দেয়, যদিও তা সত্য না হয়।”(3)。

 

‌‌পারিভাষিক অর্থে জাদু (السحر):

জাদুর (السحر) প্রকারভেদের আধিক্যের কারণে একে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ (جامع مانع) সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত করা সম্ভব নয়(4)। এর মধ্যে কিছু বাস্তবসম্মত, কিছু কল্পনাপ্রসূত এবং কিছু প্রতারণামূলক। আল্লামা মুহাম্মাদ আল-আমিন আশ-শানকিতী(5) (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: “জেনে রাখুন, পরিভাষায় জাদুকে (السحر) কোনো একটি নির্দিষ্ট সংজ্ঞায় সীমাবদ্ধ করা সম্ভব নয়...

--------------------------------------------

(1) দেখুন: আবু উবাইদ রচিত গারিবুল হাদিস (১/ ২২৮)।

(2) তিনি হলেন আল-মুবারক বিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল কারিম, আশ-শাইবানী, আল-জাযারি, আবুস সাআদাত, মাজদুদ্দিন, হাদিস বিশারদ (المحدث), ভাষাবিদ ও মূলনীতিবিদ (الأصولي)। তিনি ৫৪৪ হিজরিতে জাজিরাত ইবনে উমরে জন্মগ্রহণ করেন, এরপর মোসেলে স্থানান্তরিত হন এবং সেখানকার আমিরের সান্নিধ্য লাভ করে তাঁর বিশেষ ঘনিষ্ঠজনে পরিণত হন। তিনি পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়ে লিখতে অক্ষম হয়ে পড়েন। বলা হয় যে, তিনি অসুস্থ হওয়ার পর তাঁর সকল কিতাব ছাত্রদের নিকট শ্রুতিলিপি দিয়ে রচনা করেছেন। তাঁর রচিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে আন-নিহায়া ফি গারিবিল হাদিস, জামিউল উসুল এবং আরও অনেক গ্রন্থ। তিনি ৬০৬ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।

তাঁর জীবনী দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা (২১/ ৪৮৮), বুগইয়াতুল উয়াত (২/ ২৭৪) এবং আল-আলাম লিয-যিরিকলি (৫/ ২৭২)।

(3) এটি দেখুন আন-নিহায়া ফি গারিবিল হাদিস (২/ ৩৪৬), 'সহর' (سحر) শব্দমূল; এবং পূর্বোক্ত সকল বিষয়ের জন্য দেখুন তাহযিবুল লুগাহ (৪/ ২৯০), 'সহর' (سحر) শব্দমূল; লিসানুল আরব (৪/ ৩৪৮), 'সহর' (سحر) শব্দমূল; এবং দেখুন ড. মিসফির আদ-দুমাইনি রচিত কিতাবুস সিহর, পৃষ্ঠা (১১-১৪), যেখানে তিনি জাদুর শাব্দিক অর্থসমূহ উল্লেখ করেছেন এবং এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, জাদুর মূল অর্থ হলো: ‘বিমুখ করা’ (الصرف); এবং অন্যান্য অর্থসমূহকেও তিনি এর দিকেই ফিরিয়ে নিয়েছেন।

(4) দেখুন: ফখর রাযি রচিত আত-তাফসীরুল কাবীর (৩/ ২২৩-২৩০), যেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে জাদু আট প্রকার। ড. আহমদ আল-হামদ তাঁর ‘আস-সিহরু বাইনাল হাকিকাত ওয়াল খায়াল’ গ্রন্থে একে তেরো প্রকারে (২১-৪৩ পৃষ্ঠা) উন্নীত করেছেন।

(5) তিনি হলেন প্রখ্যাত মুফাসসির (المفسر) ও সালাফি (السلفي) আলেম আল্লামা মুহাম্মাদ আল-আমিন বিন মুহাম্মাদ আল-মুখতার বিন আব্দুল কাদির আল-জাকানি আশ-শানকিতি। তিনি ১৩২৫ হিজরিতে শানকিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানে শিক্ষা লাভ করেন। ১৩৬৭ হিজরিতে হজ পালন করেন এবং মদিনায় শিক্ষক হিসেবে বসবাস শুরু করেন। এরপর ১৩৭১ হিজরিতে রিয়াদে আল-মা’হাদ আল-ইলমি এবং পরবর্তীতে শরীয়াহ ও আরবি ভাষা অনুষদে শিক্ষক হিসেবে স্থানান্তরিত হন। এরপর ১৩৮১ হিজরিতে মদিনার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে স্থায়ী হন এবং ১৩৯৩ হিজরিতে হজ পালন শেষে মক্কাতুল মুকাররমায় মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর বেশ কিছু উপকারী গ্রন্থ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: আদওয়াউল বায়ান ফি তাফসীরিল কুরআন বিল কুরআন, দাফউ ইহামিল ইদতিরাব আন আইয়িল কিতাব এবং মানহাজ ওয়া দিরাসাত লি-আয়াতিল আসমা ওয়াস সিফাত।

দেখুন তাঁর জীবনী: আল-আলাম (৬/ ৪৫), উলামা ওয়া মুফাক্কিরুন পৃষ্ঠা (১৭১) এবং ড. আব্দুল আজিজ আত-তুওয়াইয়ান রচিত ‘জুহুদুশ শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমিন আশ-শানকিতি ফি তাকরিরি আকিদাতিস সালাফ’।
(খণ্ড: ১২৬) তাবসিরুল বাশার বি-তাহরিমিস সিহর (পৃষ্ঠা: ১২৪)
جامع مانع، لكثرة الأنواع المختلفة الداخلة تحته، ولا يتحقق قدر مشترك بينها، يكون جامعاً لها مانعاً لغيرها، ومن هنا اختلفت عبارات العلماء في حده اختلافاً متبايناً»(1).

ولذا سأقتصر على إيراد تعريفين مما ذكر في حده(2)، لأنهما يتناولان السحر الذي جاء القرآن والسنة بتحريمه، والتحذير منه، وذمه، وهو المتبادر للذهن عند إطلاق كلمة السحر، وهو المعني بهذا البحث، وهو الذي قد عظم في هذه الأزمنة خطره، وانتشر شره، ووقع في حمأته كثير من المسلمين.

والتعريفان هما:

الأول: عرفه ابن قدامة(3) في الكافي، بأنه: عزائم، ورقى، وعقد تؤثر في

--------------------------------------------

(1) انظر: أضواء البيان (4/ 444).

(2) لمعرفة المزيد مما قيل في تعريف السحر، انظر: السحر بين الحقيقة والخيال لأحمد الحمد ص (16 - 20)، وكتاب السحر بين الحقيقة والوهم لعبد السلام السكري ص (27 - 38).

(3) هو عبد الله بن أحمد بن محمد بن قدامة المقدسي، ثم الدمشقي، الحنبلي، موفق الدين، المشهور بابن قدامة، من أكابر فقهاء الحنابلة، ولد سنة 541 هـ بجماعيل، رحل في طلب العلم، وأكثر من التأليف في المذهب وغيره، من كتبه: المغني، والمقنع، والكافي، وغيرها؛ مات في دمشق سنة 620 هـ.

انظر ترجمته في: ذيل طبقات الحنابلة (2/ 133)، والمقصد الأرشد (2/ 133)، والأعلام للزركلي (4/ 67).
সার্বিক ও স্বতন্ত্র (جامع مانع), কারণ এর অধীনে অনেক বিচিত্র প্রকার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং তাদের মধ্যে এমন কোনো সাধারণ গুণ পাওয়া যায় না যা সবগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করবে এবং অন্যগুলোকে বাদ দেবে। এ কারণেই এর সংজ্ঞায় আলেমদের বক্তব্যগুলোর মধ্যে ব্যাপক বৈচিত্র্য দেখা যায়»(১).

তাই আমি এর সংজ্ঞায় বর্ণিত সংজ্ঞাগুলোর মধ্য থেকে দুটি উল্লেখ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব(২), কারণ সেগুলো এমন জাদু (السحر) নিয়ে আলোচনা করে যা কুরআন ও সুন্নাহ হারাম (تحريم) করেছে এবং সে সম্পর্কে সতর্ক করেছে ও নিন্দা জানিয়েছে। আর ‘জাদু’ (السحر) শব্দটি উচ্চারণ করলে এটিই সবার আগে মনে আসে এবং এই গবেষণায় এটিই উদ্দেশ্য। বর্তমান সময়ে এর বিপদ অত্যন্ত প্রকট হয়েছে, এর অনিষ্ট ছড়িয়ে পড়েছে এবং অনেক মুসলিম এর পঙ্কিলতায় নিপতিত হয়েছে।

সংজ্ঞা দুটি হলো:

প্রথমটি: ইবনে কুদামা(৩) আল-কাফি গ্রন্থে এর সংজ্ঞা দিয়েছেন যে, এটি হলো: কিছু মন্ত্র (عزائم), রুকইয়াহ (رقى) এবং গিট (عقد) যা প্রভাব বিস্তার করে...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আদওয়াউল বায়ান (৪/৪৪৪)।

(২) জাদুর সংজ্ঞার ব্যাপারে বর্ণিত অন্যান্য মতগুলো জানতে দেখুন: আহমদ আল-হামদ রচিত ‘আস-সিহরু বাইনাল হাকিকাত ওয়াল খায়াল’, পৃষ্ঠা (১৬-২০) এবং আব্দুস সালাম আস-সুক্কারি রচিত ‘আস-সিহরু বাইনাল হাকিকাত ওয়াল ওয়াহাম’, পৃষ্ঠা (২৭-৩৮)।

(৩) তিনি হলেন আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে কুদামা আল-মাকদিসি, অতঃপর আদ-দিমাশকি, আল-হানবালি, মুওয়াফফাকুদ্দীন, যিনি ইবনে কুদামা নামে প্রসিদ্ধ। তিনি হাম্বলি ফকিহদের অন্যতম প্রধান আলেম। ৫৪১ হিজরিতে জামায়িল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইলম অর্জনের জন্য দেশভ্রমণ করেছেন এবং মাযহাব ও অন্যান্য বিষয়ে প্রচুর গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাঁর কিতাবসমূহের মধ্যে রয়েছে: আল-মুগনি, আল-মুকনি, আল-কাফি ইত্যাদি। ৬২০ হিজরিতে দামেস্কে তিনি ইন্তেকাল করেন।

তাঁর জীবনী দেখুন: যাইলু তাবাকাতিল হানাবিলাহ (২/১৩৩), আল-মাকসাদুল আরশাদ (২/১৩৩) এবং আল-আলাম লিয-যিরিকলি (৪/৬৭)।
(খণ্ড: ১২৬) তাবসিরুল বাশার বি-তাহরিমিস সিহর (পৃষ্ঠা: ১২৫)
القلوب والأبدان، فيمرض، ويقتل، ويفرق بين المرء وزوجه(1).

وهذا التعريف أجمع ما قيل في حد السحر الحقيقي الذي أشرت إليه قريباً.

الثاني: عرفه ابن العربي(2) بأنه: كلام مؤلف، يعظم فيه غير الله تعالى، وتنسب إليه فيه المقادير والكائنات(3).

--------------------------------------------

(1) انظر: الكافي (4/ 164).

(2) هو محمد بن عبد الله بن محمد المعافري الإشبيلي المالكي، أبو بكر بن العربي، عالم مشارك في الحديث، والفقه، والأصول، وعلوم القرآن، ولد سنة 468 هـ في إشبيلية، ورحل إلى المشرق، وسمع من علمائه، له مؤلفات عديدة، منها: أحكام القرآن، والناسخ والمنسوخ، وغيرهما؛ مات سنة 543 هـ بالقرب من فاس، ودفن فيها.

انظر ترجمته في: سير أعلام النبلاء (20/ 197)، والأعلام للزركلي (6/ 230)، ومعجم المؤلفين (10/ 242).

(3) انظر: أحكام القرآن له (1/ 31).
অন্তর ও শরীরকে (প্রভাবিত করে), ফলে তা অসুস্থ করে, হত্যা করে এবং স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটায়(১)।

আর এই সংজ্ঞাটিই প্রকৃত জাদুর (السحر الحقيقي) সংজ্ঞার (حد) ক্ষেত্রে বর্ণিত সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ কথা, যার দিকে আমি ইতিপূর্বে ইঙ্গিত করেছি।

দ্বিতীয়: ইবনুল আরাবী(২) একে সংজ্ঞায়িত করেছেন যে: এটি এমন বিন্যস্ত বাক্য, যাতে আল্লাহ তাআলা ব্যতীত অন্যকে মহিমান্বিত করা হয় এবং যার দিকে তকদির ও সৃষ্টিজগতকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়(৩)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-কাফি (৪/ ১৬৪)।

(২) তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-মা'আফিরি আল-ইশবিলি আল-মালিকি, আবু বকর ইবনুল আরাবী; তিনি হাদিস, ফিকহ (الفقه), উসুল (الأصول) এবং কুরআন সংশ্লিষ্ট জ্ঞানসমূহে পারদর্শী একজন আলেম ছিলেন। তিনি ৪৬৮ হিজরিতে ইশবিলিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন এবং প্রাচ্যের দেশসমূহে সফর করে সেখানকার আলেমদের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেন। তাঁর বহু গ্রন্থ রয়েছে, তন্মধ্যে: আহকামুল কুরআন, আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ ইত্যাদি অন্যতম। তিনি ৫৪৩ হিজরিতে ফাস শহরের নিকটবর্তী স্থানে মৃত্যুবরণ করেন এবং সেখানেই তাঁকে সমাহিত করা হয়।

তাঁর জীবনী দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা (২০/ ১৯৭), আল-আলাম লিয-যিরিকলি (৬/ ২৩০) এবং মুজামুল মুআল্লিফীন (১০/ ২৪২)।

(৩) দেখুন: তাঁর রচিত আহকামুল কুরআন (১/ ৩১)।
(খণ্ড: ১২৬) তাবসিরুল বাশার বি-তাহরিমিস সিহর (পৃষ্ঠা: ১২৬)
‌‌المبحث الثاني: الأدلة على وقوع السحر، وتحريمه

وفيه مطلبان:

 

‌‌المطلب الأول: أدلة وقوع السحر

إن وقوع السحر وحصوله ثابت بالكتاب، والسنة، والإجماع، والواقع؛ وإليك بيان ذلك:

 

‌‌أولاً: من الكتاب:

1 - قال الله تعالى: {واتبعوا ما تتلوا الشياطين على ملك سليمان وما كفر سليمان ولكن الشياطين كفروا يعلمون الناس السحر وما أنزل على الملكين ببابل هاروت وماروت وما يعلمان من أحد حتى يقولا إنما نحن فتنة فلا تكفر فيتعلمون منهما ما يفرقون به بين المرء وزوجه وما هم بضارين به من أحد إلا بإذن الله ويتعلمون ما يضرهم ولا ينفعهم ولقد علموا لمن اشتراه ما له في الآخرة من خلاق ولبئس ما شروا به أنفسهم لو كانوا يعلمون. ولو أنهم آمنوا واتقوا لمثوبة من عند الله خير لو كانوا يعلمون}؛ [سورة البقرة: 102].

ودلالتها على وقوع السحر من عدة وجوه:

الأول: قوله: {يعلمون الناس السحر وما أنزل على الملكين ببابل}، هذا خبر من الله، وخبر ربنا لا يدخله خلف، ولا نسخ، ومن أصدق من الله قيلاً، وقد أخبر كما ترى أن الشياطين يعلمون الناس السحر، فدل على وجود السحر، إذ كيف يعلَّم ما لا وجود له، ولا وقوع.

الثاني: قوله: {وما يعلمان من أحد حتى يقولا إنما نحن فتنة فلا تكفر}، حيث أخبر أن الملكين يعلمان السحر، ولا يعلمانه لأحد إلا بعد نصحه بأن السحر كفر فلا تكفر، فكيف يعلم، ويوصف بالكفر ما لا وجود له.
‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: জাদু (سحر) সংঘটিত হওয়া এবং এটি হারাম হওয়ার দলীলসমূহ

এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

 

‌‌প্রথম অনুচ্ছেদ: জাদু (سحر) সংঘটিত হওয়ার দলীলসমূহ

জাদু (سحر) সংঘটিত হওয়া এবং এর অস্তিত্ব কুরআন, সুন্নাহ, ঐক্যমত (إجماع) এবং বাস্তবতার দ্বারা প্রমাণিত; নিম্নে এর বর্ণনা দেওয়া হলো:

 

‌‌প্রথমত: কুরআন থেকে:

১ - মহান আল্লাহ বলেন: {আর তারা সেই সবের অনুসরণ করল যা সুলাইমানের রাজত্বকালে শয়তানরা পাঠ করত। সুলাইমান কুফর (كفر) করেননি, বরং শয়তানরাই কুফর (كفر) করেছিল। তারা মানুষকে জাদু (سحر) শিক্ষা দিত এবং বাবেলে হারূত ও মারূত নামক দুই ফেরেশতার ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছিল তাও (শিক্ষা দিত)। তারা কাউকেই তা শিক্ষা দিত না যতক্ষণ না এই কথা বলত যে, ‘আমরা তো কেবল পরীক্ষা, কাজেই তুমি কুফর (كفر) করো না।’ এরপরও তারা তাদের কাছ থেকে এমন বিদ্যা শিখত যার দ্বারা তারা স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাত। অথচ আল্লাহর অনুমতি ছাড়া তারা তা দিয়ে কারো কোনো ক্ষতি করতে পারত না। তারা এমন বিষয় শিখত যা তাদের ক্ষতি করে এবং কোনো উপকারে আসে না। আর তারা নিশ্চিতভাবেই জানত যে, যে কেউ তা ক্রয় (গ্রহণ) করবে, পরকালে তার কোনো অংশ নেই। তারা যার বিনিময়ে নিজেদের বিকিয়ে দিয়েছে তা কতই না মন্দ, যদি তারা জানত! আর যদি তারা ঈমান আনত এবং তাকওয়া অবলম্বন করত, তবে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত প্রতিদান হতো অতি উত্তম, যদি তারা জানত।}; [সূরা আল-বাকারা: ১০২]।

জাদু (سحر) সংঘটিত হওয়ার ব্যাপারে এই আয়াতের নির্দেশনার কয়েকটি দিক রয়েছে:

প্রথমত: মহান আল্লাহর বাণী: {তারা মানুষকে জাদু (سحر) শিক্ষা দিত এবং যা দুই ফেরেশতার ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল}, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি সংবাদ। আর আমাদের রবের সংবাদের কোনো বৈপরীত্য ঘটে না এবং এতে কোনো রহিতকরণ (نسخ) প্রবেশ করে না। আর আল্লাহর চেয়ে সত্যবাদী আর কে আছে? তিনি সংবাদ দিয়েছেন—যেমনটি আপনি দেখতে পাচ্ছেন—যে শয়তানরা মানুষকে জাদু (سحر) শিক্ষা দিত। এটি জাদুর অস্তিত্বেরই প্রমাণ দেয়, কারণ যার কোনো অস্তিত্ব নেই বা যা সংঘটিত হয় না, তা কীভাবে শিক্ষা দেওয়া সম্ভব?

দ্বিতীয়ত: মহান আল্লাহর বাণী: {তারা কাউকেই শিক্ষা দিত না যতক্ষণ না বলত যে, আমরা তো কেবল পরীক্ষা, কাজেই তুমি কুফর (كفر) করো না}, এখানে তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, ফেরেশতাদ্বয় জাদু (سحر) শিক্ষা দিতেন, তবে এই নসিহত করা ছাড়া কাউকে তা শেখাতেন না যে, জাদু (سحر) হলো কুফর (كفر), সুতরাং তুমি কুফর (كفر) করো না। অতএব, যার কোনো অস্তিত্বই নেই, তাকে কীভাবে শিক্ষা দেওয়া যায় এবং কুফর (كفر) হিসেবে অভিহিত করা যায়?
(খণ্ড: ১২৬) তাবসিরুল বাশার বি-তাহরিমিস সিহর (পৃষ্ঠা: ১২৭)
الثالث: قوله: {فيتعلمون منهما ما يفرقون به بين المرء وزوجه}، فهو خبر عن نوع من أنواع السحر، يتعلمه المفتونون به، وهو التفريق بين المرء وزوجه، فهو شيء موجود، وملموس، وقد ابتلي به كثير من الناس.

الرابع: قوله: {وما هم بضارين به من أحد إلا بإذن الله}، فنفي الضرر منهم بالسحر لأحد إلا بإذن الله، ومشيئته، دليل على وقوعه إذا أذن الله به.

الخامس: قوله: {ويتعلمون ما يضرهم ولا ينفعهم}، فهو خبر من الله أن السحر ضرر لا نفع فيه، فهو شيء واقع، وملموس.

السادس: قوله: {ولقد علموا لمن اشتراه ما له في الآخرة من خلاق}، فإخباره جل وعلا أن من اشترى السحر، وعمل به، لا حظ له في الآخرة، يدل على أنه شيء واقع، وموجود.

السابع: قوله: {ولبئس ما شروا به أنفسهم لو كانوا يعلمون}، فذمه للسحر، وما استعاضوه لأنفسهم بدل الإيمان، دليل على أن ذلك موجود، وواقع.

الثامن: قوله: {ولو أنهم آمنوا واتقوا لمثوبة من عند الله خير لو كانوا يعلمون}، فسياق الآية مع ما قبله يدل على أن الله يحث المشترين أنفسهم بالسحر على اتقائه، والإيمان بالله، فكيف يتقون ما لا وجود له، ولا وقوع له؟.

2 - قصة موسى مع فرعون وسحرته، وقد وردت على سبيل البسط في أربعة مواضع من كتاب الله(1).

ومما ورد في هذه القصة مما يدل على وجود السحر، ووقوعه، ما يأتي:

وقوله: {فلما ألقوا سحروا أعين الناس واسترهبوهم}، [سورة الأعراف: 116].

--------------------------------------------

(1) في الأعراف، ويونس، وطه، والشعراء، وانظر تفسير تلك الآيات في مبحث خاص بها، كما سيأتي ص 73 - 98.
তৃতীয়: তাঁর বাণী: {অতঃপর তারা তাদের থেকে এমন বিষয় শিখত, যার দ্বারা তারা স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাত}, এটি জাদুর প্রকারভেদসমূহের মধ্য থেকে এক প্রকারের সংবাদ (خبر), যা এর দ্বারা মোহগ্রস্তরা শিক্ষা করে; আর তা হলো স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানো। সুতরাং এটি একটি বিদ্যমান ও বাস্তব বিষয় এবং অনেক মানুষ এর দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে।

চতুর্থ: তাঁর বাণী: {আর তারা আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত তা দিয়ে কারও কোনো ক্ষতি করতে পারত না}, এখানে আল্লাহর অনুমতি ও ইচ্ছা ব্যতীত জাদুর মাধ্যমে কারও ক্ষতি করার বিষয়টিকে নাকচ করা হয়েছে, যা আল্লাহর অনুমতি সাপেক্ষে জাদু সংঘটিত হওয়ার প্রমাণ।

পঞ্চম: তাঁর বাণী: {এবং তারা তা-ই শিখত যা তাদের ক্ষতি করে এবং তাদের কোনো উপকারে আসে না}, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত সংবাদ (خبر) যে জাদু কেবলই ক্ষতিকর, এতে কোনো উপকার নেই; সুতরাং এটি একটি বাস্তব ও দৃশ্যমান বিষয়।

ষষ্ঠ: তাঁর বাণী: {আর তারা অবশ্যই জানত যে, যে ব্যক্তি তা ক্রয় করবে, পরকালে তার জন্য কোনো অংশ নেই}, মহান আল্লাহর এই সংবাদ (خبر) প্রদান যে, যে ব্যক্তি জাদু ক্রয় করল এবং তা অনুযায়ী আমল করল, পরকালে তার কোনো অংশ নেই—এটি প্রমাণ করে যে তা একটি বাস্তব ও বিদ্যমান বিষয়।

সপ্তম: তাঁর বাণী: {আর তারা যার বিনিময়ে নিজেদের বিকিয়ে দিয়েছে তা কতই না মন্দ, যদি তারা জানত}, জাদুর প্রতি তাঁর এই নিন্দা এবং ঈমানের পরিবর্তে তারা নিজেদের জন্য যা বিনিময় হিসেবে গ্রহণ করেছে তার মন্দ দিকটি প্রমাণ করে যে তা বিদ্যমান ও বাস্তব।

অষ্টম: তাঁর বাণী: {আর যদি তারা ঈমান আনত এবং তাকওয়া অবলম্বন করত, তবে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত প্রতিদান অবশ্যই উত্তম হতো, যদি তারা জানত}, আয়াতের এই প্রেক্ষাপট পূর্ববর্তী আলোচনার সাথে মিলে এটিই নির্দেশ করে যে, আল্লাহ তাআলা যারা জাদুর বিনিময়ে নিজেদের বিকিয়ে দিয়েছে তাদেরকে তা পরিহার করতে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনতে উৎসাহিত করছেন; সুতরাং যার কোনো অস্তিত্ব বা বাস্তবতা নেই, তা থেকে তারা কীভাবে বেঁচে থাকবে?

2 - ফেরাউন ও তার জাদুকরদের সাথে মুসা (আ.)-এর কাহিনী, যা আল্লাহর কিতাবের চারটি স্থানে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে(1)।

এই কাহিনীতে যা বর্ণিত হয়েছে এবং যা জাদুর অস্তিত্ব ও তা সংঘটিত হওয়ার প্রমাণ বহন করে, তা নিম্নরূপ:

এবং তাঁর বাণী: {অতঃপর যখন তারা নিক্ষেপ করল, তখন তারা মানুষের চোখে জাদু করল এবং তাদেরকে আতঙ্কিত করে তুলল}, [সুরা আল-আরাফ: ১১৬]।

--------------------------------------------

(1) আল-আরাফ, ইউনুস, ত্বহা এবং আশ-শুআরা সূরায়; এই আয়াতসমূহের ব্যাখ্যা নির্দিষ্ট একটি পরিচ্ছেদে দেখুন, যা সামনে ৭৩ - ৯৮ পৃষ্ঠায় আসবে।
(খণ্ড: ১২৬) তাবসিরুল বাশার বি-তাহরিমিস সিহর (পৃষ্ঠা: ১২৮)
وقوله: {وجاءوا بسحر عظيم}، [سورة الأعراف: 116].

وقوله: {قال موسى أتقولون للحق لما جاءكم أسحر هذا ولا يفلح الساحرون}، [سورة يونس: 77].

وقوله: {فلما ألقوا قال موسى ما جئتم به السحر إن الله سيبطله}، [سورة يونس: 81].

وقوله: {فإذا حبالهم وعصيهم يخيل إليه من سحرهم أنها تسعى}، [سورة طه: 66].

قوله تعالى: {إنما صنعوا كيد ساحر}، [سورة طه: 69].

وقوله: {ولا يفلح الساحر حيث أتى}، [سورة طه: 69].

وقوله: {إنا آمنا بربنا ليغفر لنا خطايانا وما أكرهتنا عليه من السحر}، [سورة طه: 73].

هذا بعض ما ورد في تلك القصة، مما يدل على أن السحر حقيقة، علماً بأن القصة من أولها إلى آخرها تدل على ذلك، وعلى حصوله من سحرة فرعون.

3 - ورود كلمة السحر في القرآن، ومشتقاتها في قرابة ستين آية دليل على وجود السحر(1).

4 - قوله تعالى: {ومن شر النفاثات في العقد} [سورة الفلق: 4]، والنفاثات في العقد هن السواحر، كما جاء عن ابن عباس، والضحاك(2)(3)، وغيرهما، بل لم يذكر المفسرون غير هذا التفسير، ولهذا حكاه بعضهم اتفاقاً بين المفسرين(4).

--------------------------------------------

(1) انظر: المعجم المفهرس لألفاظ القرآن ص (439)، مادة سحر، وعلاج الأمور السحرية ص (23) وما بعدها، وفتح الحق المبين ص (171) وما بعدها.

(2) هو الضحاك بن مزاحم البلخي الخراساني النيسابوري، أبو القاسم، مفسر، صدوق كثير الإرسال، مات سنة (105) هـ. انظر ترجمته في: التقريب ص (459)، والأعلام (3/ 215).

(3) انظر: تفسير الطبري (30/ 227)، وتفسير ابن كثير (8/ 555)، والدر المنثور (8/ 690) وفتح الباري (10/ 236).

(4) انظر: السحر بين الحقيقة والخيال ص (73)، وانظر: أضواء البيان (9/ 638).
এবং তাঁর বাণী: {এবং তারা এক মহা জাদু প্রদর্শন করল}, [সুরা আল-আরাফ: ১১৬]।

এবং তাঁর বাণী: {মুসা বললেন, তোমাদের কাছে যখন সত্য এল, তখন কি তোমরা সে সম্পর্কে এ কথা বলছ? এ কি জাদু? অথচ জাদুকররা সফল হয় না}, [সুরা ইউনুস: ৭৭]।

এবং তাঁর বাণী: {অতঃপর যখন তারা নিক্ষেপ করল, মুসা বললেন, তোমরা যা নিয়ে এসেছ তা জাদু; নিশ্চয়ই আল্লাহ তা অসার করে দেবেন}, [সুরা ইউনুস: ৮১]।

এবং তাঁর বাণী: {হঠাৎ তাদের জাদুর প্রভাবে তাঁর (মুসার) কাছে মনে হতে লাগল যে, তাদের দড়ি ও লাঠিগুলো ছুটোছুটি করছে}, [সুরা ত্বহা: ৬৬]।

মহান আল্লাহর বাণী: {তারা যা করেছে তা তো কেবল জাদুকরের কৌশল}, [সুরা ত্বহা: ৬৯]।

এবং তাঁর বাণী: {জাদুকর যেখানেই আসুক না কেন, সে সফল হবে না}, [সুরা ত্বহা: ৬৯]।

এবং তাঁর বাণী: {নিশ্চয়ই আমরা আমাদের রবের প্রতি ঈমান এনেছি, যেন তিনি আমাদের অপরাধসমূহ এবং আপনি আমাদের যে জাদুর ওপর বাধ্য করেছেন তা ক্ষমা করে দেন}, [সুরা ত্বহা: ৭৩]।

সেই ঘটনার বর্ণনার কিছু অংশ এটি, যা প্রমাণ করে যে জাদুর বাস্তবতা রয়েছে। উল্লেখ্য যে, ঘটনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এটিই প্রমাণ করে এবং ফেরাউনের জাদুকরদের মাধ্যমে তা ঘটার প্রমাণ দেয়।

৩ - কুরআনে 'সেহর' (জাদু) শব্দ এবং এর বিভিন্ন রূপ প্রায় ষাটটি আয়াতে উল্লেখ হওয়া জাদুর অস্তিত্বের প্রমাণ(১)।

৪ - মহান আল্লাহর বাণী: {এবং গ্রন্থিতে ফুঁৎকারদানকারিণীদের অনিষ্ট থেকে} [সুরা আল-ফালাক: ৪]। এখানে 'গ্রন্থিতে ফুঁৎকারদানকারিণী' বলতে নারী জাদুকরদের বোঝানো হয়েছে, যেমনটি বর্ণিত হয়েছে ইবনে আব্বাস ও যাহহাক(২)(৩) থেকে; বরং মুফাসসিরগণ এই ব্যাখ্যা ব্যতীত অন্য কিছু উল্লেখ করেননি। এ কারণেই তাঁদের কেউ কেউ একে মুফাসসিরদের ঐকমত্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন(৪)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-মুজামুল মুফাহরাস লি আলফাজিল কুরআন, পৃ. ৪৩৯, মূলশব্দ 'সেহর'; ইলাজুল উমুর আস-সিহরিয়্যাহ, পৃ. ২৩ এবং পরবর্তী অংশ; ফাতহুল হাক্কিল মুবিন, পৃ. ১৭১ এবং পরবর্তী অংশ।

(২) তিনি হলেন যাহহাক বিন মুজাহিম আল-বালখি আল-খুরাসানি আন-নিসাবুরি, আবুল কাসিম, মুফাসসির; তিনি সত্যবাদী (صدوق), তবে অধিক বিচ্ছিন্নভাবে বর্ণনা (إرسال) করেন। তিনি ১০৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর জীবনী দেখুন: আত-তাকরিব, পৃ. ৪৫৯ এবং আল-আলাম (৩/২১৫)।

(৩) দেখুন: তাফসিরুত তাবারী (৩০/২২৭), তাফসির ইবনে কাসীর (৮/৫৫৫), আদ-দুররুল মানসুর (৮/৬৯০) এবং ফাতহুল বারী (১০/২৩৬)।

(৪) দেখুন: আস-সেহর বাইনাল হাকিকাহ ওয়াল খায়াল, পৃ. ৭৩; এবং দেখুন: আদওয়াউল বায়ান (৯/৬৩৮)।
(খণ্ড: ১২৬) তাবসিরুল বাশার বি-তাহরিমিস সিহর (পৃষ্ঠা: ১২৯)
ووجه الاستدلال أن الله أمر بالاستعاذة من شر السواحر، وهذا دليل على وقوع السحر، ووجوده، ومضرته، وإلا فكيف يأمر بالاستعاذة مما لا وجود له.

 

‌‌ثانياً من السنة:

1 - قصة سحر النبي صلى الله عليه وسلم، وقد أخرجها البخاري في صحيحه في سبعة مواضع(1)، ومسلم من حديث عائشة(2) رضي الله عنها، قالت: «كان رسول الله صلى الله عليه وسلم سحر حتى كان يرى أنه يأتي النساء، ولا يأتيهن، - قال سفيان(3): وهذا أشد ما يكون من السحر إذا كان كذا - فقال: يا عائشة: أعلمت أن الله قد أفتاني فيما استفتيه فيه؟، أتاني رجلان، فقعد أحدهما عند رأسي، والآخر عند رجلي، فقال الذي عند رأسي للآخر: ما بال الرجل؟، قال: مطبوب(4). قال: ومن طبه؟، قال: لبيد بن أعصم(5) رجل من بني زريق حليف ليهود، كان منافقاً،

--------------------------------------------

(1) وأرقام الأحاديث عنده: (3268، 3175، 5763، 5765، 5766، 6063، 6391)، كما في فتح الباري.

(2) وهذا اللفظ الذي سأسوقه قد اتفق عليه الشيخان، كما سترى توثيق ذلك عند تخريج الحديث.

(3) هو ابن عيينة كما في فتح الباري (10/ 243)، وعمدة القاري (14/ 744)، وهو سفيان بن عيينة بن أبي عمران ميمون الهلالي، أبو محمد، الكوفي، ثم المكي، ثقة حافظ، إمام حجة، إلا أنه تغير حفظه بآخره، وكان ربما دلس، لكنه عن الثقات، مات في رجب سنة ثمان وتسعين ومائة، وله إحدى وتسعون. انظر ترجمته في: التقريب ص (395).

(4) أي مسحور، يقال: طُب الرجل بالضم إذا سحر، كنوا عن السحر بالطب تفاؤلاً، كما يقال للّديغ سليم، وقال ابن الأنباري في الأضداد ص (230): الطب من الأضداد، يقال: الطب لعلاج السحر وغيره من الآفات والعلل، ويقال: الطب للسحر. وانظر: فتح الباري (10/ 239)، وعمدة القاري (14/ 740).

(5) هو لبيد بن الأعصم اليهودي من يهود بني زريق، وبنو زريق بطن من الخزرج، قال ابن حجر عنه: قيل: إنه يهودي، وقيل: حليف اليهود، وكان منافقاً، ويجمع بينهما بأن من أطلق أنه يهودي، نظر إلى ما في نفس الأمر، ومن أطلق عليه منافقاً نظر إلى ظاهر أمره، وقيل: يحتمل أنه قيل له يهودي، لكونه من حلفائهم، لا أنه على دينهم. انظر: فتح الباري (10/ 237).
দলিল পেশ করার পদ্ধতি হলো এই যে, আল্লাহ তাআলা যাদুকরদের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এটি যাদু সংঘটিত হওয়া, এর অস্তিত্ব এবং এর ক্ষতিকারক হওয়ার একটি প্রমাণ। অন্যথায়, যার কোনো অস্তিত্ব নেই তা থেকে আল্লাহ কেন আশ্রয় চাওয়ার নির্দেশ দিতেন।

 

‌‌দ্বিতীয়ত সুন্নাহ থেকে:

১ - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর যাদু করার ঘটনা। এটি বুখারি তাঁর সাহিহ গ্রন্থের সাতটি স্থানে বর্ণনা করেছেন(১) এবং মুসলিম আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা(২) থেকে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ করেছেন। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যাদু করা হয়েছিল, যার ফলে তাঁর মনে হতো যে তিনি তাঁর স্ত্রীদের নিকট গিয়েছেন অথচ তিনি যাননি। - সুফিয়ান(৩) বলেন: যাদুর প্রকোপ যখন এমন পর্যায়ে পৌঁছায় তখন তা অত্যন্ত প্রবল হয় - অতঃপর তিনি (নবীজি) বললেন: হে আয়েশা! তুমি কি জানো যে, আমি যে বিষয়ে আল্লাহর কাছে ফতোয়া (সমাধান) চেয়েছিলাম, তিনি আমাকে তার সমাধান দিয়েছেন? আমার নিকট দুজন ব্যক্তি আসলেন, তাঁদের একজন আমার মাথার কাছে এবং অন্যজন আমার পায়ের কাছে বসলেন। আমার মাথার কাছে বসা ব্যক্তি অন্যজনকে জিজ্ঞেস করলেন: এই লোকটির কী হয়েছে? তিনি বললেন: তাকে যাদু (مطبوب) করা হয়েছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: কে তাকে যাদু করেছে? তিনি বললেন: লাবিদ ইবনে আসম(৫), সে বনু জুরাইক গোত্রের এক ব্যক্তি এবং ইহুদিদের মিত্র ছিল, আর সে ছিল মুনাফিক,--------------------------------------------
(১) ফাতহুল বারী অনুসারে তাঁর কিতাবে হাদিস নম্বরসমূহ হলো: (৩২৬৮, ৩১৭৫, ৫৭৬৩, ৫৭৬৫, ৫৭৬৬, ৬০৬৩, ৬৩৯১)।

(২) যে শব্দে আমি হাদিসটি বর্ণনা করব তাতে শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) একমত হয়েছেন, যেমনটি হাদিসের তাখরিজ (تخريج) করার সময় এর নির্ভরযোগ্যতা দেখতে পাবেন।

(৩) তিনি হলেন ইবনে উইয়াইনা, যেমনটি ফাতহুল বারী (১০/ ২৪৩) এবং উমদাতুল কারী (১৪/ ৭৪৪)-তে উল্লেখ আছে। তাঁর পুরো নাম সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা ইবনে আবি ইমরান মাইমুন আল-হিলালি, আবু মুহাম্মদ, কুফিবাসী, অতঃপর মক্কাবাসী। তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة), হাফিজ (حافظ) এবং ইমাম ও হুজ্জাহ (إمام حجة)। তবে শেষ বয়সে তাঁর স্মৃতিশক্তির কিছুটা পরিবর্তন ঘটেছিল। তিনি কখনো কখনো তাদলিস (تدليس) করতেন, তবে তা কেবল নির্ভরযোগ্য (الثقات) বর্ণনাকারীদের মাধ্যমেই করতেন। তিনি ১৮৯ হিজরি সনের রজব মাসে একানব্বই বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর জীবনী দেখুন: আত-তাকরিব পৃ. (৩৯৫)।

(৪) অর্থাৎ যাদুকৃত (مسحور)। কাউকে যাদু করা হলে পেশ যোগে 'তুব্বা' (طُبَّ) বলা হয়। শুভ লক্ষণ হিসেবে যাদুর বিপরীতে 'তুব' (চিকিৎসা) শব্দ ব্যবহার করা হয়, যেমন দংশিত ব্যক্তিকে 'সালিম' (সুস্থ) বলা হয়। ইবনুল আম্বারি 'আল-আদদাদ' (الأضداد) পৃ. (২৩০)-এ বলেন: 'তুব' শব্দটি বিপরীতার্থক শব্দ (الأضداد) সমূহের অন্তর্ভুক্ত। যাদু এবং অন্যান্য রোগ-ব্যাধির চিকিৎসার ক্ষেত্রেও 'তুব' বলা হয়, আবার যাদুর ক্ষেত্রেও 'তুব' বলা হয়। দেখুন: ফাতহুল বারী (১০/ ২৩৯) এবং উমদাতুল কারী (১৪/ ৭৪০)।

(৫) তিনি হলেন বনু জুরাইক ইহুদিদের অন্তর্ভুক্ত লাবিদ ইবনে আসম আল-ইয়াহুদি। বনু জুরাইক হলো খাজরাজ গোত্রের একটি শাখা। ইবনে হাজার তাঁর সম্পর্কে বলেন: বলা হয়ে থাকে যে তিনি ইহুদি ছিলেন, আবার বলা হয় তিনি ইহুদিদের মিত্র ছিলেন এবং তিনি মুনাফিক ছিলেন। এই দুই মতের মধ্যে সমন্বয় এভাবে করা যায় যে—যাঁরা তাকে ইহুদি বলেছেন তাঁরা তাঁর অন্তরের বিষয়ের দিকে লক্ষ্য করেছেন, আর যাঁরা তাঁকে মুনাফিক বলেছেন তাঁরা তাঁর বাহ্যিক অবস্থার দিকে লক্ষ্য করেছেন। আরও বলা হয় যে, সম্ভব হতে পারে তাঁকে ইহুদি বলা হতো তাদের মিত্র হওয়ার কারণে, তাদের ধর্মাবলম্বী হওয়ার কারণে নয়। দেখুন: ফাতহুল বারী (১০/ ২৩৭)।
(খণ্ড: ১২৬) তাবসিরুল বাশার বি-তাহরিমিস সিহর (পৃষ্ঠা: ১৩০)
قال: وفيم؟، قال: في مشط(1) ومشاقة(2)، قال: وأين؟، قال: في جف طلعة ذكر(3)، تحت رعوفة(4) في بئر ذروان(5)، قالت: فأتى النبي صلى الله عليه وسلم البئر حتى استخرجه، فقال: «هذه البئر التي أريتها، وكأن ماءها نقاعة الحناء(6)، وكأن نخلها رؤوس الشياطين»، قال: «فاستخرج»، قالت: فقلت: أفلا؟ - أي تنشرت(7)؟، فقال:

--------------------------------------------

(1) المشط بضم الميم، ويجوز كسرها: الآلة المعروفة التي يسرح بها شعر الرأس واللحية. انظر: فتح الباري (10/ 239).

(2) هي ما يتقطع من الكتان - القطن - عند تخليصه، وتسريحه، وقيل: المشاقة: هي المشاطة، وهي ما يخرج من الشعر الذي يسقط من الرأس إذا سرح. انظر: فتح الباري (10/ 242)، وعمدة القاري (14/ 742).

(3) هو وعاء طلع النخل، وهو الغشاء الذي يكون على الطلع، ويطلق على الذكر والأنثى. انظر فتح الباري (10/ 240)، وعمدة القاري (14/ 740).

(4) الرعوفة: حجر يوضع على رأس البئر، لا يستطاع قلعه، يقوم عليه المستقي، وقيل: صخرة تنزل في أسفل البئر إذا حفرت، يجلس عليها الذي ينظف البئر، وقيل غير ذلك. انظر: فتح الباري (10/ 245)، وعمدة القاري (14/ 744).

(5) بئر في بني زريق. انظر: فتح الباري (10/ 240)، وعمدة القاري (14/ 740).

(6) نقاعة الحناء: أي أن لون ماء البئر مثل لون الماء الذي ينقع ويوضع فيه الحناء - فنقاعة الشيء آخره الذي يقوى فيه التغير. انظر: لسان العرب (8/ 359)، مادة نقع، وفتح الباري (10/ 241)، وعمدة القاري (14/ 740).

(7) أي تعالجت عن طريق النشرة، والنشرة هي حل السحر عن المسحور، وقيل: هو ضرب من العلاج. انظر: النهاية في غريب الحديث (5/ 54)، وفتح الباري (10/ 244)، والقول المفيد (1/ 553).
তিনি বললেন: "কিসের মধ্যে?" তিনি বললেন: "একটি চিরুনি(১) এবং তন্তুর(২) মধ্যে।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "কোথায়?" তিনি বললেন: "একটি শুষ্ক পুরুষ খেজুর গাছের পুষ্পমঞ্জুরির আবরণের(৩) ভেতরে, যারওয়ান কূয়ার(৫) তলার পাথরখণ্ডের(৪) নিচে।" তিনি (আয়েশা রা.) বললেন: অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই কূয়ার কাছে এলেন এবং সেটি বের করলেন। এরপর বললেন: «এটিই সেই কূয়া যা আমাকে (স্বপ্নে) দেখানো হয়েছে। এর পানি যেন মেহেদির নির্যাস(৬) এবং এর খেজুর গাছগুলো যেন শয়তানের মাথা।» তিনি বললেন: «অতঃপর তা বের করা হলো।» তিনি (আয়েশা রা.) বললেন: আমি বললাম: আপনি কি তা প্রকাশ করে দেবেন না? - অর্থাৎ আপনি কি এর দ্বারা নুশরাহ(৭) (যাদু বিনাশী চিকিৎসা) করবেন না? তিনি বললেন:

--------------------------------------------

(১) মুশত শব্দটি মিম বর্ণে পেশ দিয়ে, তবে যের দিয়ে পড়াও বৈধ: এটি একটি সুপরিচিত যন্ত্র যা দিয়ে মাথা ও দাড়ির চুল আঁচড়ানো হয়। দেখুন: ফাতহুল বারী (১০/২৩৯)।

(২) এটি হলো তিসি বা তুলা পরিষ্কার বা ধুনার সময় যা ছিঁড়ে পড়ে। মতান্তরে বলা হয়েছে: মুশাক্বাহ হলো চিরুনি দিয়ে মাথা আঁচড়ানোর পর চুল থেকে যা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। দেখুন: ফাতহুল বারী (১০/২৪২), উমদাতুল ক্বারী (১৪/৭৪২)।

(৩) এটি হলো খেজুরের পুষ্পমঞ্জুরির আধার বা আবরণ, যা পুষ্পমঞ্জুরির ওপর একটি পর্দার মতো থাকে; এটি পুরুষ ও স্ত্রী উভয় জাতীয় খেজুর গাছের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়। দেখুন: ফাতহুল বারী (১০/২৪০), উমদাতুল ক্বারী (১৪/৭৪০)।

(৪) রাউফাহ হলো কূয়ার মুখে বসানো এমন একটি পাথর যা সরানো যায় না এবং পানি সংগ্রহকারী ব্যক্তি তার ওপর দাঁড়ায়। মতান্তরে বলা হয়েছে: এটি কূয়ার গভীরে থাকা একটি পাথর যার ওপর কূয়া পরিষ্কারকারী ব্যক্তি বসে। এছাড়া আরও মত রয়েছে। দেখুন: ফাতহুল বারী (১০/২৪৫), উমদাতুল ক্বারী (১৪/৭৪৪)।

(৫) এটি বনু যুরাইক্ব গোত্রের একটি কূয়া। দেখুন: ফাতহুল বারী (১০/২৪০), উমদাতুল ক্বারী (১৪/৭৪০)।

(৬) মেহেদির নির্যাস: অর্থাৎ কূয়ার পানির রঙ ছিল এমন পানির মতো যাতে মেহেদি ভিজিয়ে রাখা হয়। কোনো বস্তুর 'নুকাআ' বলতে এর শেষ ঘন অংশকে বোঝায় যাতে গুণের পরিবর্তন তীব্রভাবে ফুটে ওঠে। দেখুন: লিসানুল আরব (৮/৩৫৯), শব্দমূল: নাকাআ; ফাতহুল বারী (১০/২৪১), উমদাতুল ক্বারী (১৪/৭৪০)।

(৭) অর্থাৎ নুশরাহ-এর মাধ্যমে চিকিৎসা করা। আর নুশরাহ হলো আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে যাদুর প্রভাব দূর করা। মতান্তরে এটি এক প্রকার চিকিৎসা। দেখুন: আন-নিহায়া ফী গারিবিল হাদিস (৫/৫৪), ফাতহুল বারী (১০/২৪৪), আল-কাওলুল মুফীদ (১/৫৫৩)।
(খণ্ড: ১২৬) তাবসিরুল বাশার বি-তাহরিমিস সিহর (পৃষ্ঠা: ১৩১)
أما والله، فقد شفاني، وأكره أن أثير على أحد من الناس شراً»(1).

فهذا السحر قد وقع لأكمل الخلق صلوات الله وسلامه عليه.

2 - ما اتفق عليه الشيخان من حديث أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اجتنبوا السبع الموبقات، قالوا: يا رسول الله، وما هن؟، قال: الشرك بالله، والسحر، وقتل النفس التي حرم الله إلا بالحق، وأكل الربا، وأكل مال اليتيم، والتولي يوم الزحف، وقذف المحصنات المؤمنات الغافلات»(2).

ووجه الشاهد من الحديث أن الله أمر باجتناب السبع الموبقات، ومن بينها السحر، وهذا دليل على وقوعه، ووجوده، إذ كيف يأمرنا باجتناب ما لا يقع، وما لا وجود له.

3 - ما اتفق عليه الشيخان من حديث سعد بن أبي وقاص رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «من تصبح سبع تمرات عجوة، لم يضره ذلك اليوم سم ولا سحر»(3).

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري في صحيحه، كتاب الطب، باب هل يستخرج السحر، انظر: فتح الباري (10/ 243)، حديث رقم: (5765)، ومسلم في صحيحه (4/ 1719)، حديث رقم: (2189)، كتاب السلام، باب السحر. وانظر اللؤلؤ والمرجان فيما اتفق عليه الشيخان (3/ 59)، حديث رقم: (1412).

(2) أخرجه البخاري في صحيحه، كتاب الوصايا، باب قول الله تعالى: {إن الذين يأكلون أموال اليتامى ظلماً}، انظر: فتح الباري (5/ 462)، حديث رقم: (2766)، ومسلم في صحيحه، (1/ 92)، حديث رقم: (89)، كتاب الإيمان، باب من الكبائر وأكبرها؛ وانظر اللؤلؤ والمرجان فيما اتفق عليه الشيخان (1/ 17)، حديث رقم: (56).

(3) أخرجه البخاري في صحيحه، كتاب الطب، باب الدواء بالعجوة للسحر؛ انظر: فتح الباري (10/ 249)، حديث رقم: (5769)، ومسلم في صحيحه (3/ 1618)، حديث رقم: (2047)، كتاب الأشربة، باب فضل تمور المدينة، وانظر: اللؤلؤ والمرجان فيما اتفق عليه الشيخان (3/ 24)، حديث رقم: (1327).
আল্লাহর কসম, নিশ্চয়ই তিনি আমাকে আরোগ্য দান করেছেন এবং আমি মানুষের মাঝে কোনো অনিষ্ট ছড়িয়ে দেয়া অপছন্দ করি।(১).

সুতরাং এই যাদু সৃষ্টির পূর্ণতম সত্তার (রাসূলুল্লাহ ﷺ) ওপর সংঘটিত হয়েছিল, তাঁর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।

২ - শায়খাইন (বুখারী ও মুসলিম) আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে হাদিসটির ওপর ঐক্যমত (متفق عليه) পোষণ করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: «তোমরা সাতটি ধ্বংসাত্মক বিষয় থেকে বেঁচে থাকো। তারা জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল, সেগুলো কী কী? তিনি বললেন: আল্লাহর সাথে অংশীদার সাব্যস্ত করা (শিরক), যাদু, আল্লাহ যা হারাম করেছেন এমন জীবনকে যথাযথ কারণ ছাড়া হত্যা করা, সুদ খাওয়া, ইয়াতীমের সম্পদ আত্মসাৎ করা, যুদ্ধের ময়দান থেকে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করা এবং সতী-সাধ্বী মুমিন উদাসীন নারীদের ওপর অপবাদ দেওয়া»(২).

হাদিসটি থেকে প্রমাণের দিক হলো, আল্লাহ তা'আলা সাতটি ধ্বংসাত্মক বিষয় থেকে বেঁচে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন, যার অন্যতম হলো যাদু। আর এটি যাদু সংঘটিত হওয়া ও এর অস্তিত্ব থাকার প্রমাণ। কেননা যা ঘটে না এবং যার কোনো অস্তিত্ব নেই, তা থেকে বেঁচে থাকার নির্দেশ তিনি কীভাবে দেবেন?

৩ - শায়খাইন (বুখারী ও মুসলিম) সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে হাদিসটির ওপর ঐক্যমত (متفق عليه) পোষণ করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বলতে শুনেছি: «যে ব্যক্তি প্রতিদিন ভোরে সাতটি আজওয়া খেজুর খাবে, সেই দিন বিষ বা যাদু তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না»(৩).

--------------------------------------------

(১) বুখারী এটি তাঁর সহীহ গ্রন্থে উদ্ধৃত (أخرجه) করেছেন, চিকিৎসা অধ্যায়, যাদু কি বের করা হবে পরিচ্ছেদ, দেখুন: ফাতহুল বারী (১০/ ২৪৩), হাদিস নম্বর: (৫৭৬৫); এবং মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে (৪/ ১৭১৯), হাদিস নম্বর: (২১৮৯), সালাম অধ্যায়, যাদু পরিচ্ছেদ। আরও দেখুন আল-লুলু ওয়াল মারজান ফীমা ইত্তাফাকা আলাইহিশ শায়খাইন (৩/ ৫৯), হাদিস নম্বর: (১৪১২)।

(২) বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে এটি উদ্ধৃত (أخرجه) করেছেন, অসিয়ত অধ্যায়, মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই যারা ইয়াতীমের সম্পদ জুলুম করে ভক্ষণ করে} পরিচ্ছেদ, দেখুন: ফাতহুল বারী (৫/ ৪৬২), হাদিস নম্বর: (২৭৬৬); এবং মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে (১/ ৯২), হাদিস নম্বর: (৮৯), ঈমান অধ্যায়, কবিরা গুনাহ ও তার মধ্যে বড়গুলো পরিচ্ছেদ; আরও দেখুন আল-লুলু ওয়াল মারজান ফীমা ইত্তাফাকা আলাইহিশ শায়খাইন (১/ ১৭), হাদিস নম্বর: (৫৬)।

(৩) বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে এটি উদ্ধৃত (أخرجه) করেছেন, চিকিৎসা অধ্যায়, যাদুর জন্য আজওয়া খেজুর দ্বারা চিকিৎসা পরিচ্ছেদ; দেখুন: ফাতহুল বারী (১০/ ২৪৯), হাদিস নম্বর: (৫৭৬৯); এবং মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে (৩/ ১৬১৮), হাদিস নম্বর: (২০৪৭), পানীয় অধ্যায়, মদীনার খেজুরের ফজিলত পরিচ্ছেদ। আরও দেখুন আল-লুলু ওয়াল মারজান ফীমা ইত্তাফাকা আলাইহিশ শায়খাইন (৩/ ২৪), হাদিস নম্বর: (১৩২৭)।
(খণ্ড: ১২৬) তাবসিরুল বাশার বি-তাহরিমিস সিহর (পৃষ্ঠা: ১৩২)
فهذا خبر الصادق المصدوق بأن العجوة تقي من ضرر السحر، فلو لم يكن السحر موجوداً واقعا كيف تقي من ضرر ما لا يقع، ولا يوجد(1).

 

‌‌ثالثا: الإجماع والواقع:

قال ابن القيم رحمه الله في معرض رده على القائلين أنه لا حقيقة للسحر:

«وهذا خلاف ما تواترت به الآثار عن الصحابة والسلف، واتفق عليه الفقهاء، وأهل التفسير، والحديث، وما يعرفه عامة العقلاء، والسحر الذي يؤثر مرضا، وثقلاً، وعقداً، وحبا، وبغضا ونزيفاً، وغير ذلك من الآثار - موجود، تعرفه عامة الناس، وكثير منهم قد علمه ذوقاً بما أصيب به منه»(2).

وقال القرافي(3) رحمه الله: «وكان السحر وخبره معلوماً للصحابة رضوان الله عليهم أجمعين، وكانوا مجمعين عليه قبل ظهور القدرية(4)(5).

--------------------------------------------

(1) لمزيد من البيان في موضوع التصبح بالتمر. انظر: الخاتمة حيث اشتملت على بعض ما يتحصن به من السحر، ومنه التمر، وذلك في ص 118.

(2) انظر: بدائع التفسير (5/ 411)، وبدائع الفوائد (2/ 227).

(3) هو أبو العباس، أحمد بن إدريس بن عبد الرحمن، شهاب الدين الصنهاجي القرافي، من علماء المالكية، مصري المولد والمنشأ والوفاة، له مصنفات جليلة منها: الفروق، والذخيرة، وغيرهما، مات بمصر سنة 684 هـ. انظر ترجمته في: الأعلام (1/ 94).

(4) القدرية: هم الذين خاضوا في القدر، وذهبوا إلى إنكاره، حيث يرون أن العباد يفعلون ما لا يريده الله، وما لم يقدره من أفعال الشر، مثل القتل، والزنا، وغير ذلك، ونفوا أن يكون الله قد قدر ذلك، ويجعلون العبد قادرا على ما لا يريده الله من هذه الأفعال، بل وخالق لأفعال نفسه، وممن يطلق عليهم هذا الاسم المعتزلة، ولعله الذي عناه القرافي رحمه الله، وانظر هذه الفرقة ومقالاتها. الفرق بين الفرق ص (18 - 19)، والملل والنحل (1/ 43).

(5) انظر: الفروق له (4/ 150)، وفتح الحق المبين ص (177).
এটি সত্যবাদী ও সত্যনিষ্ঠ সত্তার পক্ষ থেকে আসা সংবাদ (خبر) যে, আজওয়া খেজুর জাদুর ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। যদি জাদুর বাস্তবে কোনো অস্তিত্বই না থাকতো, তবে যা ঘটে না এবং যার কোনো অস্তিত্ব নেই তা থেকে এটি কীভাবে রক্ষা করতো?(1).

 

‌‌তৃতীয়ত: সর্বসম্মত ঐক্য (إجماع) এবং বাস্তবতা:

ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) জাদুর কোনো বাস্তবতা নেই—এমন দাবিদারদের খণ্ডন করতে গিয়ে বলেন:

«এটি সেই সব বর্ণনার (آثار) পরিপন্থী যা সাহাবী ও পূর্বসূরিদের (সালাফ) থেকে মুতাওয়াতির (تواتر) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে এবং যার ওপর ফকিহগণ, মুফাসসিরগণ ও হাদিস বিশারদগণ একমত হয়েছেন এবং যা সাধারণ বুদ্ধিমান মানুষ মাত্রই অবগত। আর যে জাদু রোগ-ব্যাধি, অবসাদ, গিঁট বা বন্ধন, ভালোবাসা, ঘৃণা, রক্তক্ষরণ এবং এ জাতীয় অন্যান্য প্রভাব সৃষ্টি করে—তার অস্তিত্ব বিদ্যমান। সাধারণ মানুষ এ সম্পর্কে জানে এবং তাদের অনেকে তা সরাসরি অভিজ্ঞতার মাধ্যমে জেনেছে যেহেতু তারা এতে আক্রান্ত হয়েছে।»(2).

আল-কারাফি(3) (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: «জাদু এবং এ সংক্রান্ত সংবাদ (خبر) সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-দের নিকট সুপরিচিত ছিল এবং কাদারিয়াহ (القدرية) সম্প্রদায়ের আবির্ভাবের পূর্বে তাঁরা এ বিষয়ে সর্বসম্মত ঐক্যমতে (إجماع) ছিলেন।»(4)(5).

--------------------------------------------

(1) সকালে খেজুর খাওয়ার বিষয়টি আরও বিস্তারিত জানতে দেখুন: উপসংহার, যেখানে জাদু থেকে বাঁচার কিছু উপায় বর্ণিত হয়েছে এবং খেজুর তার অন্তর্ভুক্ত, পৃ. ১১৮।

(2) দেখুন: বাদায়েউত তাফসির (৫/ ৪১১), এবং বাদায়েউল ফাওয়ায়িদ (২/ ২২৭)।

(3) তিনি হলেন আবুল আব্বাস, আহমদ বিন ইদ্রিস বিন আব্দুর রহমান, শিহাবুদ্দিন আস-সিনহাজি আল-কারাফি। তিনি মালিকি মাজহাবের একজন আলেম ছিলেন। মিশরে তাঁর জন্ম, লালন-পালন ও মৃত্যু হয়েছে। তাঁর শ্রেষ্ঠ কিছু রচনার মধ্যে রয়েছে: আল-ফুরুক, আজ-জাখিরাহ ইত্যাদি। তিনি ৬৮৪ হিজরিতে মিশরে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর জীবনী (ترجمة) দেখুন: আল-আলাম (১/ ৯৪)।

(4) কাদারিয়াহ (القدرية): তারা হলো ওই সকল লোক যারা তাকদির নিয়ে আলোচনায় লিপ্ত হয়েছে এবং তা অস্বীকার করার পথে পরিচালিত হয়েছে। তারা মনে করে যে, বান্দারা এমন কাজ করে যা আল্লাহ চান না এবং আল্লাহ যা অকল্যাণকর কাজ (যেমন: হত্যা, ব্যভিচার ইত্যাদি) হিসেবে নির্ধারণ করেননি। তারা অস্বীকার করে যে আল্লাহ তা নির্ধারণ করেছেন। তারা বান্দাকে এমন কাজের সক্ষম মনে করে যা আল্লাহ চান না, বরং তারা মনে করে বান্দা নিজেই তার নিজের কাজের স্রষ্টা। যাদের ওপর এই নাম প্রয়োগ করা হয় তাদের মধ্যে মুতাজিলা অন্যতম। সম্ভবত আল-কারাফি (রহিমাহুল্লাহ) তাদেরই বুঝিয়েছেন। এই ফিরকা ও তাদের মতবাদ সম্পর্কে দেখুন: আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক, পৃ. (১৮-১৯), এবং আল-মিলাল ওয়ান নিহাল (১/ ৪৩)।

(5) দেখুন: তাঁর রচিত আল-ফুরুক (৪/ ১৫০), এবং ফাতহুল হাক্কিল মুবিন, পৃ. (১৭৭)।
(খণ্ড: ১২৬) তাবসিরুল বাশার বি-তাহরিমিস সিহর (পৃষ্ঠা: ১৩৩)
‌‌المطلب الثاني: أدلة تحريم السحر

لقد جاءت النصوص الكثيرة من الكتاب والسنة بتحريم السحر، والتحذير منه، فمن ذلك:

1 - قوله تعالى: {وما يعلمان من أحد حتى يقولا إنما نحن فتنة فلا تكفر} [سورة البقرة: 102].

وجه الاستدلال: أن الله أخبر أن تعلم السحر كفر، وما كان تعلمه كفر، لا شك في تحريمه.

2 - قوله تعالى: {ويتعلمون ما يضرهم ولا ينفعهم} [سورة البقرة: 102].

وجه الاستدلال: أن الله أخبر أن المتعلمين السحر يتعلمون ما يضرهم، ولا ينفعهم، وقد جاءت هذه الشريعة بجلب المصالح، ودرء المضار والمفاسد، ولهذا من القواعد المقررة عند أهل العلم: «لا ضرر ولا ضرار»(1).

--------------------------------------------

(1) وهو نص حديث أورده النووي في الأربعين النووية، ثم قال: «وله طرق يقوي بعضها بعضاً»؛ انظر: جامع العلوم والحكم (2/ 207)، وقد أخرجه من حديث أبي سعيد الخدري رضي الله عنه الدارقطني في سننه (3/ 77)، (4/ 228)، والبيهقي في سننه (6/ 69)، والحاكم في مستدركه (2/ 57، 58)، وصححه، ووافقه الذهبي.

وأخرجه من حديث ابن عباس رضي الله عنهما أحمد في مسنده (1/ 313)، وابن ماجة في سننه (2/ 784)، حديث رقم: (2341).

وأخرجه من حديث عبادة بن الصامت رضي الله عنه أحمد في مسنده (5/ 326)، وابن ماجة في سننه (2/ 784)، حديث رقم: (2340).

قال أبو عمرو بن الصلاح: «هذا الحديث أسنده الدارقطني من وجوه، ومجموعها يقوي الحديث، ويحسنه، وقد تقبله جماهير أهل العلم، واحتجوا به»؛ وممن صححه الحاكم، ووافقه الذهبي، والألباني في الصحيحة، حديث رقم: (250)، وفي صحيح الجامع (2/ 1250)، حديث رقم: (5717).
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: জাদু হারাম হওয়ার দলিলসমূহ

কুরআন ও সুন্নাহর বহু বর্ণনা জাদু হারাম হওয়া এবং এ থেকে সতর্ক করার বিষয়ে এসেছে। তার মধ্যে রয়েছে:

১ - মহান আল্লাহর বাণী: {তারা কাউকে তা শেখাত না যতক্ষণ না এই কথা বলত যে, আমরা তো কেবল পরীক্ষা, সুতরাং তুমি কুফরি করো না।} [সূরা আল-বাকারাহ: ১০২]।

দলিল গ্রহণের পদ্ধতি: আল্লাহ তায়ালা সংবাদ দিয়েছেন যে জাদু শেখা কুফরি। আর যা শেখা কুফরি, তার হারাম হওয়ার বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

২ - মহান আল্লাহর বাণী: {আর তারা এমন কিছু শিখত যা তাদের ক্ষতি করে এবং তাদের কোনো উপকারে আসে না।} [সূরা আল-বাকারাহ: ১০২]।

দলিল গ্রহণের পদ্ধতি: আল্লাহ তায়ালা সংবাদ দিয়েছেন যে জাদু শিক্ষার্থীরা এমন কিছু শেখে যা তাদের ক্ষতি করে এবং তাদের কোনো উপকারে আসে না। অথচ এই শরিয়ত এসেছে কল্যাণ আনয়ন এবং ক্ষতি ও অনিষ্ট দূর করার জন্য। এ কারণেই আলেমদের নিকট সুপ্রতিষ্ঠিত একটি মূলনীতি হলো: «ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া যাবে না»(১)।

--------------------------------------------

(১) এটি একটি হাদিসের ভাষ্য যা ইমাম নববী আরবাঈন নববী-তে উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি বলেছেন: «এর একাধিক সূত্র (طرق) রয়েছে যা একে অপরকে শক্তিশালী করে»; দেখুন: জামিউল উলূম ওয়াল হিকাম (২/ ২০৭)। এটি আবু সাঈদ খুদরি (রা.)-এর বর্ণিত হাদিস থেকে দারা কুতনি তার সুনান-এ (৩/ ৭৭), (৪/ ২২৮), বায়হাকি তার সুনান-এ (৬/ ৬৯) এবং হাকেম তার মুস্তাদরাক-এ (২/ ৫৭, ৫৮) বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একে বিশুদ্ধ (صحيح) বলেছেন এবং ইমাম জাহাবি তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন।

ইবনে আব্বাস (রা.)-এর বর্ণিত হাদিস থেকে এটি আহমাদ তার মুসনাদ-এ (১/ ৩১৩) এবং ইবনে মাজাহ তার সুনান-এ (২/ ৭৮৪), হাদিস নং: (২৩৪১) বর্ণনা করেছেন।

উবাদাহ ইবনে সামিত (রা.)-এর বর্ণিত হাদিস থেকে এটি আহমাদ তার মুসনাদ-এ (৫/ ৩২৬) এবং ইবনে মাজাহ তার সুনান-এ (২/ ৭৮৪), হাদিস নং: (২৩৪০) বর্ণনা করেছেন।

আবু আমর ইবনুস সালাহ বলেছেন: «দারা কুতনি এই হাদিসটি বিভিন্ন সূত্রে (وجوه) সনদসহ বর্ণনা করেছেন (أسنده) এবং এগুলোর সমষ্টি হাদিসটিকে শক্তিশালী করে ও একে হাসান (حسن) পর্যায়ে উন্নীত করে; জুমহুর আলেমগণ একে গ্রহণ করেছেন এবং এর দ্বারা দলিল পেশ করেছেন»; আর যাঁদের মধ্যে হাকেম একে বিশুদ্ধ (صحيح) বলেছেন এবং ইমাম জাহাবি ও আলবানি আস-সহিহাহ-তে (হাদিস নং: ২৫০) এবং সহিহুল জামি-তে (২/ ১২৫০, হাদিস নং: ৫৭১৭) তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন।
(খণ্ড: ১২৬) তাবসিরুল বাশার বি-তাহরিমিস সিহর (পৃষ্ঠা: ১৩৪)
فما كان تعلمه ضرراً، لا نفع فيه، فهو محرم، لا يجوز تعلمه وتعليمه.

3 - قوله تعالى: {ولقد علموا لمن اشتراه ما له في الآخرة من خلاق} [سورة البقرة: 102]. والخلاق: النصيب.

وجه الدلالة: أن الله بين أن من اشترى السحر وفعله، لا حظ ولا نصيب له في الآخرة، والذي لا حظ له في الآخرة هو الكافر، فشيء هذه عاقبة أمره محرم لا شك فيه.

4 - قوله تعالى: {إنما صنعوا كيد ساحر ولا يفلح الساحر حيث أتى} [سورة طه: 69].

وقوله سبحانه: {ولا يفلح الساحرون} [سورة يونس: 77].

وجه الدلالة: أن الله نفى الفلاح عن الساحر، وعمل لا يفلح عامله محرم، لا يجوز فعله.

5 - قوله تعالى عن سحرة فرعون له حينما آمنوا، وتابوا من السحر: {إنا آمنا بربنا ليغفر لنا خطايانا وما أكرهتنا عليه من السحر} [سورة طه: 73].

فهم آمنوا بالله، وثبتوا على إيمانهم طمعاً في مغفرة الله لهم ذنوبهم، وما أُكْرِهوا عليه من السحر، فدل على أن السحر ذنب، وجرم عظيم، فيحرم فعله، ويجب اجتنابه.

6 - ما اتفق عليه الشيخان من حديث أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اجتنبوا السبع الموبقات، قالوا: وما هن، يا رسول الله؟، قال: الشرك بالله، والسحر … » الحديث(1).

وجه الاستدلال: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم عدّه من الموبقات التي توبق وتهلك صاحبها، وجعله قرين الشرك، فدل على أنه ذنب عظيم محرم، لا يجوز فعله.

--------------------------------------------

(1) قد سبق ذكره كاملاً، وتخريجه في ص (19).
সুতরাং যা শেখা ক্ষতিকর এবং যার মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই, তা হারাম (محرم); এটি শেখা এবং শেখানো বৈধ নয়।

৩ - মহান আল্লাহর বাণী: {আর তারা নিশ্চিতভাবে জানত যে, যে কেউ তা ক্রয় করবে, পরকালে তার জন্য কোনো অংশ নেই} [সূরা আল-বাকারাহ: ১০২]। আর 'খালাক' (خلاق) অর্থ হলো: অংশ বা ভাগ্য।

প্রমাণের ধরণ (وجه الدلالة): আল্লাহ তায়ালা স্পষ্ট করেছেন যে, যে ব্যক্তি জাদু ক্রয় করে এবং তা চর্চা করে, পরকালে তার জন্য কোনো অংশ বা ভাগ্য নেই। আর পরকালে যার কোনো অংশ নেই সে হলো কাফির। সুতরাং যে কাজের শেষ পরিণতি এমন, তা নিঃসন্দেহে হারাম (محرم)।

৪ - মহান আল্লাহর বাণী: {তারা যা করেছে তা তো কেবল জাদুকরের কৌশল। জাদুকর যেখানেই আসুক না কেন, সে সফল হবে না} [সূরা ত্বহা: ৬৯]।

এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর জাদুকররা সফল হয় না} [সূরা ইউনুস: ৭৭]।

প্রমাণের ধরণ (وجه الدلالة): আল্লাহ তায়ালা জাদুকরের সাফল্যকে নাকচ করেছেন। আর এমন আমল যার সম্পাদনকারী সফল হয় না তা হারাম (محرم), যা করা বৈধ নয়।

৫ - ফেরাউনের জাদুকরদের সম্পর্কে মহান আল্লাহর বাণী, যখন তারা ঈমান এনেছিল এবং জাদু থেকে তওবা করেছিল: {নিশ্চয়ই আমরা আমাদের রবের প্রতি ঈমান এনেছি যাতে তিনি আমাদের ভুল-ত্রুটি এবং আপনি আমাদের যে জাদুর ওপর বাধ্য করেছেন তা ক্ষমা করে দেন} [সূরা ত্বহা: ৭৩]।

তারা আল্লাহর ওপর ঈমান এনেছিল এবং তাদের গুনাহসমূহ ও যে জাদুর ওপর তাদের বাধ্য করা হয়েছিল তা থেকে আল্লাহর ক্ষমার আশায় তারা ঈমানের ওপর অবিচল ছিল। এটি প্রমাণ করে যে, জাদু একটি গুনাহ এবং গুরুতর অপরাধ। অতএব এটি করা হারাম (محرم) এবং তা থেকে বেঁচে থাকা ওয়াজিব (واجب)।

৬ - আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে হাদিসটির ব্যাপারে শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) ঐক্যমত পোষণ (متفق عليه) করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা সাতটি ধ্বংসাত্মক কাজ থেকে বেঁচে থাক। তারা জিজ্ঞাসা করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! সেগুলো কী? তিনি বললেন: আল্লাহর সাথে শরিক করা, জাদু...» হাদিস(১)।

প্রমাণের ধরণ (وجه الاستدلال): রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জাদুকে সেই ধ্বংসাত্মক বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত করেছেন যা এর লিপ্ত ব্যক্তিকে ধ্বংস করে দেয় এবং এটিকে শিরকের সমতুল্য করেছেন। এটি প্রমাণ করে যে, এটি একটি গুরুতর হারাম (محرم) গুনাহ, যা করা বৈধ নয়।

--------------------------------------------

(১) এটি পূর্বে পূর্ণাঙ্গভাবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং ১৯ পৃষ্ঠায় এর উৎস উদ্ঘাটন (تخريج) করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১২৬) তাবসিরুল বাশার বি-তাহরিমিস সিহর (পৃষ্ঠা: ১৩৫)
7 - ما رواه مسلم عن بعض أزواج النبي صلى الله عليه وسلم، قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم

«من أتى عرَّافاً، فسأله عن شيء، لم تقبل له صلاة أربعين ليلة»(1).

وجه الاستدلال: أن النبي صلى الله عليه وسلم أخبر أن مجرد سؤال الساحر يمنع قبول صلاة أربعين ليلة، وهذا دليل على أن هذا العمل حرام، لا يجوز، وكبيرة من كبائر الذنوب. قال شيخ الإسلام ابن تيمية: «فإذا كانت هذه حال السائل، فكيف بالمسؤول»(2).

8 - ومنها ما رواه أحمد، والحاكم وصححه، ووافقه الذهبي، عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من أتى كاهناً، أو عرَّافاً، فصدقه بما يقول، فقد كفر بما أنزل على محمد صلى الله عليه وسلم)(3).

ووجه الاستدلال به على التحريم ظاهر جداً، فإن عملا يؤدي بصاحبه إلى الكفر، لا يشك أحد في تحريمه. قال الشيخ سليمان بن عبد الله بن محمد بن عبد الوهاب(4): «وظاهر الحديث أنه يكفر متى اعتقد صدقه بأي وجه كان،

--------------------------------------------

(1) رواه أحمد في مسنده (4/ 68)، و (5/ 380)، لكن عنده زيادة: «فصدقه»، ومسلم في

(4/ 1751)، ح رقم: (2230)، كتاب السلام، باب تحريم الكهانة وإتيان الكهان.

(2) انظر: مجموع الفتاوى (35/ 193)، وفتح المجيد (2/ 488).

(3) أخرجه أحمد في مسنده (2/ 429)، والحاكم في مستدركه (1/ 8)، وصححه، ووافقه الذهبي؛ كما صححه الألباني أيضاً في إرواء الغليل (7/ 69)، ونقل تصحيحه أيضاً عن العراقي.

(4) هو سليمان بن عبد الله بن محمد بن عبد الوهاب، حفيد شيخ الإسلام المجدد محمد ابن عبد الوهاب، ولد في الدرعية، وكان بارعاً في التفسير والحديث والفقه والتوحيد، وشى به بعض المنافقين إلى إبراهيم باشا بعد دخوله الدرعية واستيلائه عليها، فأحضره إبراهيم، وأظهر بين يديه آلات اللهو والمنكر إغاظة له، ثم أخرجه إلى المقبرة، وأمر العساكر أن يطلقوا عليه الرصاص جميعاً، فمزقوا جسمه، وكان ذلك سنة 1233 هـ، وله ثلاث وثلاثون سنة. انظر ترجمته في: الأعلام للزركلي (3/ 129).
৭ - যা মুসলিম নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জনৈক স্ত্রীর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:

«যে ব্যক্তি কোনো গণকের কাছে এল এবং তাকে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করল, তার চল্লিশ রাতের সালাত কবুল করা হবে না»(১)।

দলিল গ্রহণের পদ্ধতি: নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সংবাদ দিয়েছেন যে, কেবল জাদুকরকে জিজ্ঞাসা করাই চল্লিশ রাতের সালাত কবুল হওয়া থেকে বাধা প্রদান করে। এটি এই আমলটি হারাম হওয়ার প্রমাণ; এটি বৈধ নয় এবং কবিরা গুনাহসমূহের একটি। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: «যদি প্রশ্নকারীর অবস্থা এমন হয়, তবে যাকে প্রশ্ন করা হয়েছে (অর্থাৎ গণক) তার অবস্থা কত ভয়াবহ হবে!»(২)।

৮ - এবং এর মধ্যে আরও রয়েছে যা আহমাদ ও হাকেম বর্ণনা করেছেন এবং হাকেম একে সহিহ (صحيح) বলেছেন এবং যাহাবি তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন, আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি কোনো জ্যোতিষী বা গণকের কাছে এল এবং সে যা বলে তা বিশ্বাস করল, সে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর যা নাজিল হয়েছে তা অস্বীকার করল»(৩)।

এর মাধ্যমে হারাম হওয়ার বিষয়ে দলিল গ্রহণের পদ্ধতিটি অত্যন্ত সুস্পষ্ট, কেননা যে কাজ তার সম্পাদনকারীকে কুফর পর্যন্ত নিয়ে যায়, তার হারাম হওয়ার ব্যাপারে কেউ সন্দেহ পোষণ করে না। শেখ সুলাইমান বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব(৪) বলেন: «হাদিসের বাহ্যিক অর্থ হলো সে যখনই যেকোনোভাবে তার সত্যতায় বিশ্বাস স্থাপন করবে, তখনই সে কাফির হয়ে যাবে,»

--------------------------------------------

(১) আহমাদ এটি তাঁর মুসনাদে (৪/ ৬৮) ও (৫/ ৩৮০) বর্ণনা করেছেন, তবে তাঁর বর্ণনায় «এবং তাকে বিশ্বাস করল» মর্মে অতিরিক্ত অংশ রয়েছে। এছাড়া মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন

(৪/ ১৭৫১) গ্রন্থে, হাদিস নম্বর: (২২৩০), কিতাবুস সালাম, পরিচ্ছেদ: গণকী করা এবং গণকের নিকট যাওয়া হারাম হওয়া।

(২) দেখুন: মাজমুউল ফাতাওয়া (৩৫/ ১৯৩) এবং ফাতহুল মাজিদ (২/ ৪৮৮)।

(৩) আহমাদ এটি তাঁর মুসনাদে (২/ ৪২৯) এবং হাকেম তাঁর মুস্তাদরাকে (১/ ৮) বর্ণনা করেছেন এবং একে সহিহ (صحيح) বলেছেন, আর যাহাবি তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন; যেমন আলবানীও একে ইরওয়াউল গালিল (৭/ ৬৯) গ্রন্থে সহিহ (صحيح) বলেছেন এবং তিনি ইরাকি থেকেও এর সহিহ (صحيح) হওয়ার কথা বর্ণনা করেছেন।

(৪) তিনি হলেন সুলাইমান বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, মুজাদ্দিদ শায়খুল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের পৌত্র। তিনি দিরইয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তাফসির, হাদিস, ফিকহ এবং তাওহিদ শাস্ত্রে অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন। দিরইয়ায় প্রবেশ ও তা আয়ত্ত করার পর কিছু মুনাফিক ইব্রাহিম পাশার কাছে তাঁর বিরুদ্ধে চোগলখুরি করে। ফলে ইব্রাহিম তাঁকে তলব করে এবং তাঁকে ক্ষুব্ধ করার জন্য তাঁর সামনে বাদ্যযন্ত্র ও বিভিন্ন অপকর্ম প্রদর্শন করে। এরপর সে তাঁকে কবরস্থানে নিয়ে যায় এবং সেনাদের আদেশ দেয় সবাই মিলে তাঁকে গুলি করতে, ফলে তারা তাঁর দেহ ছিন্নভিন্ন করে ফেলে। এটি ১২৩৩ হিজরি সনের ঘটনা, তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র তেত্রিশ বছর। দেখুন তাঁর জীবনী: যিরিকল্লি-র আল-আ’লাম (৩/ ১২৯)।
(খণ্ড: ১২৬) তাবসিরুল বাশার বি-তাহরিমিস সিহর (পৃষ্ঠা: ১৩৬)
لاعتقاده أنه يعلم الغيب»(1).

قلت: وهذا الوعيد في العراف، وهو كما قال الإمام أحمد: العراف: طرف من السحر، والساحر أخبث(2)، فكيف بالساحر والسحر؟.

9 - ما رواه البزار بسند جيد عن عمران بن حصين رضي الله عنه، قال:

قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ليس منا من تَطَيَّر، أو تُطُيِّر له، أو تكهن، أو تكهن له، أو سحر، أو سحر له، ومن أتى كاهناً فصدقه بما يقول، فقد كفر بما أنزل على محمد صلى الله عليه وسلم)(3).

ووجه دلالته على التحريم: شدة الوعيد الوارد فيه على من فعل ذلك، قال الشيخ عبد الرحمن بن حسن(4): «ليس منا» فيه وعيد شديد يدل على أن هذه الأمور من الكبائر(5).

--------------------------------------------

(1) انظر: تيسير العزيز الحميد ص (303).

(2) انظر: المرجع السابق ص (305).

(3) رواه البزار في مسنده حديث رقم: (3043)، والطبراني في الأوسط (4/ 302)، وجود إسناده المنذري في الترغيب والترهيب، وصححه لغيره الألباني؛ انظر: صحيح الترغيب (3/ 170)، وصححه أيضا في صحيح الجامع (2/ 956)، حديث رقم: (5435)، ورواه أيضا من حديث ابن عباس دون قوله: «ومن أتى كاهنا» الطبراني في الأوسط (4/ 302)، حديث رقم: (4262)، بإسناد حسنه المنذري في الترغيب والترهيب؛ انظر: صحيح الترغيب والترهيب (3/ 170).

(4) هو عبد الرحمن بن حسن بن محمد بن عبد الوهاب النجدي، حفيد شيخ الإسلام المجدد محمد بن الوهاب رحمهم الله جميعاً، ولد في الدرعية سنة 1193 هـ، وكان إماما مجاهداً، وعالما نحريراً، وبحراً زاخراً في العلم، له كتاب فتح المجيد شرح كتاب التوحيد لجده الشيخ محمد بن الوهاب، مات سنة 1285 هـ. انظر ترجمته في: عنوان المجد في تاريخ نجد (2/ 21)، والأعلام (3/ 304).

(5) انظر: فتح المجيد (2/ 491).
এই বিশ্বাসে যে সে অদৃশ্যের খবর জানে»(১).

আমি বলছি: এই সতর্কবাণী গণকের (العراف) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, আর ইমাম আহমাদ যেমনটি বলেছেন: গণনা করা (العراف) হলো জাদুর একটি অংশ, আর জাদুকর তার চাইতেও বেশি নিকৃষ্ট(২), তাহলে জাদুকর এবং জাদুর অবস্থা কী হবে?.

৯ - বাজ্জার উত্তম (جيد) সনদে ইমরান ইবনে হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয় যে কুলক্ষণ গ্রহণ করে অথবা যার জন্য কুলক্ষণ গ্রহণ করা হয়, অথবা যে গণতকারিতা করে অথবা যার জন্য গণনা করা হয়, অথবা যে জাদু করে অথবা যার জন্য জাদু করা হয়। আর যে ব্যক্তি কোনো গণকের (كاهناً) কাছে আসলো এবং সে যা বলে তা বিশ্বাস করল, সে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর যা নাযিল করা হয়েছে তা অস্বীকার করল»(৩).

এটি হারাম হওয়ার প্রমাণের দিকটি হলো: যে ব্যক্তি এই কাজগুলো করবে তার ব্যাপারে এতে কঠোর সতর্কবাণী বর্ণিত হয়েছে। শেখ আব্দুর রহমান বিন হাসান(৪) বলেন: «সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়» এর মধ্যে কঠোর ধমক রয়েছে যা প্রমাণ করে যে এই বিষয়গুলো কবিরা গুনাহের (الكبائر) অন্তর্ভুক্ত(৫).

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তায়সীরুল আযীযিল হামীদ, পৃষ্ঠা: (৩০৩)।

(২) দেখুন: পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা: (৩০৫)।

(৩) বাজ্জার তাঁর মুসনাদে এটি বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং: (৩০৪৩), এবং তাবারানি আল-আউসাত গ্রন্থে (৪/৩০২); মুনযিরি আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব গ্রন্থে এর সনদকে উত্তম (جيد) বলেছেন এবং আলবানি একে লি-গাইরিহি সহিহ (صححه لغيره) বলেছেন; দেখুন: সহিহ আত-তারগীব (৩/১৭০)। তিনি একে সহিহুল জামি' (২/৯৫৬), হাদিস নং: (৫৪৩৫) গ্রন্থেও সহিহ (صححه) বলেছেন। এটি ইবনে আব্বাসের হাদিস থেকেও বর্ণিত হয়েছে, তবে তাতে "আর যে ব্যক্তি গণকের কাছে আসলো" কথাটি নেই; তাবারানি আল-আউসাত (৪/৩০২), হাদিস নং: (৪২৬২) গ্রন্থে এটি এমন একটি সনদে বর্ণনা করেছেন যাকে মুনযিরি আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব গ্রন্থে হাসান (حسنه) বলেছেন; দেখুন: সহিহ আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব (৩/১৭০)।

(৪) তিনি হলেন আব্দুর রহমান বিন হাসান বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব আন-নাজদি, মুজাদ্দিদ শায়খুল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাবের নাতি—আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি রহম করুন। তিনি ১১৯৩ হিজরিতে দিরইয়াহতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন একজন সংগ্রামী ইমাম, বিজ্ঞ পণ্ডিত এবং ইলমের এক বিশাল সমুদ্র। তাঁর রচিত গ্রন্থ 'ফাতহুল মাজীদ' হলো তাঁর দাদা শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাবের কিতাবুত তাওহীদের ব্যাখ্যাগ্রন্থ। তিনি ১২৮৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর জীবনী দেখুন: উনওয়ানুল মাজদ ফি তারিখি নাজদ (২/২১) এবং আল-আলাম (৩/৩০৪)।

(৫) দেখুন: ফাতহুল মাজীদ (২/৪৯১)।
(খণ্ড: ১২৬) তাবসিরুল বাশার বি-তাহরিমিস সিহর (পৃষ্ঠা: ১৩৭)
10 - ما رواه أحمد، وأبو داود، وابن ماجة عن ابن عباس رضي الله عنهما، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من اقتبس شعبة من النجوم، فقد اقتبس شعبة من السحر، زاد ما زاد»(1).

دل الحديث على أن من تعلم شعبة من النجوم، فقد تعلم شعبة من السحر، والسحر معلوم تحريمه؛ قال شيخ الإسلام: «فقد صرح رسول الله صلى الله عليه وسلم بأن علم النجوم من السحر، وقد قال الله تعالى: {ولا يفلح الساحر حيث أتى} [سورة طه: 69]، وهكذا الواقع، فإن الاستقراء يدل على أن أهل النجوم لا يفلحون في الدنيا، ولا في الآخرة»(2).

11 - ما رواه مسلم عن معاوية بن الحكم(3) رضي الله عنه، قال: قلت: يا رسول الله، إني حديث عهد بجاهلية، وقد جاء الله بالإسلام، وإن منا رجالا يأتون الكهان؟، قال: «فلا تأتهم»(4).

--------------------------------------------

(1) رواه أحمد في مسنده (1/ 277، 311)، وأبو داود في سننه (4/ 16)، حديث رقم:

(3905)، كتاب الطب، باب في النجوم، وابن ماجة في سننه (2/ 1228)، حديث رقم: (3726)، كتاب الأدب، باب تعلم النجوم، وقد صححه شيخ الإسلام ابن تيمية في الفتاوى (25/ 193)، والنووي في رياض الصالحين ص (429)، حديث رقم: (1671)، والعراقي في تخريج الإحياء (4/ 117)، والألباني في صحيح أبي داود (2/ 739)، حديث رقم: (3305).

(2) انظر: مجموع الفتاوى (35/ 193)، وتيسير العزيز الحميد ص (296).

(3) هو معاوية بن الحكم السلمي، صحابي جليل، نزل المدينة. انظر ترجمته: في التقريب ص

(954)، والإصابة (6/ 111).

(4) رواه مسلم في صحيحه (1/ 381)، حديث رقم: (537)، كتاب المساجد ومواضع الصلاة، باب تحريم الكلام في الصلاة، ونسخ ما كان من إباحته.
10 - আহমদ, আবু দাউদ এবং ইবনে মাজাহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি জ্যোতির্বিদ্যার কোনো শাখা শিক্ষা করল, সে আসলে জাদুরই একটি শাখা শিক্ষা করল; সে যতটা বৃদ্ধি করবে (জাদুও) ততটাই বৃদ্ধি পাবে»(1).

এই হাদিসটি প্রমাণ করে যে, যে ব্যক্তি জ্যোতির্বিদ্যার কোনো শাখা শিখল, সে জাদুরই একটি শাখা শিখল; আর জাদুর নিষিদ্ধতা সর্বজনবিদিত। শাইখুল ইসলাম বলেন: «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন যে জ্যোতির্বিদ্যা জাদুর অন্তর্ভুক্ত। আর আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {জাদুকর যেখানেই আসুক না কেন, সে সফল হবে না} [সূরা ত্বহা: 69]। বাস্তব অবস্থাও তাই, কেননা পর্যবেক্ষণ (استقراء) নির্দেশ করে যে, জ্যোতিষীরা দুনিয়া ও আখিরাতে সফল হয় না»(2).

11 - মুসলিম মুয়াবিয়া ইবনুল হাকাম(3) (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি জাহেলিয়াত থেকে নিকট অতীতে (ইসলামে) এসেছি, আর আল্লাহ ইসলাম দান করেছেন। আমাদের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে যারা গণকদের কাছে যায়? তিনি বললেন: «তুমি তাদের কাছে যেয়ো না»(4).

--------------------------------------------

(1) আহমদ তার মুসনাদ (1/ 277, 311), আবু দাউদ তার সুনান (4/ 16), হাদিস নং:

(3905), কিতাবুত তিব্ব, জ্যোতির্বিদ্যা অধ্যায় এবং ইবনে মাজাহ তার সুনান (2/ 1228), হাদিস নং: (3726), কিতাবুল আদব, জ্যোতির্বিদ্যা শিক্ষা অধ্যায়ে এটি বর্ণনা করেছেন। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-ফাতাওয়া (25/ 193) গ্রন্থে, নববী রিয়াদুস সালিহীন পৃষ্ঠা নং (429), হাদিস নং: (1671)-এ, ইরাকি তাখরিজ (تخريج) আল-ইহয়া (4/ 117) গ্রন্থে এবং আলবানী সহিহ আবু দাউদ (2/ 739), হাদিস নং: (3305)-এ এটিকে সহিহ (صحح) বলে আখ্যায়িত করেছেন।

(2) দেখুন: মাজমুউল ফাতাওয়া (35/ 193), এবং তাইসিরুল আজিজিল হামিদ পৃষ্ঠা নং (296)।

(3) তিনি হলেন মুয়াবিয়া ইবনুল হাকাম আস-সুলামি, একজন সম্মানিত সাহাবী (صحابي), যিনি মদিনায় বসবাস করতেন। তার জীবনী (ترجمة) দেখুন: আত-তাকরিব পৃষ্ঠা নং

(954), এবং আল-ইসাবাহ (6/ 111)।

(4) মুসলিম তার সহিহ (1/ 381), হাদিস নং: (537), কিতাবুল মাসাজিদ ওয়া মাওয়াদিউস সালাত, সালাতে কথা বলা হারাম হওয়া এবং ইতিপূর্বে এর বৈধতা রহিত (نسخ) হওয়া অনুচ্ছেদে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১২৬) তাবসিরুল বাশার বি-তাহরিমিস সিহর (পৃষ্ঠা: ১৩৮)
وهذا نهي، والنهي يدل على التحريم.

12 - ما اتفق عليه الشيخان من حديث أبي مسعود الأنصاري(1)، رضي الله عنه: «أن رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن ثمن الكلب، ومهر البغي، وحلوان الكاهن»(2).

وحلوان الكاهن: مصدر من حلوته حلوانا إذا أعطيته، وأصله من الحلاوة، شبه كسب الحجام بالشيء الحلو من حيث إنه يأخذه سهلا، بلا كلفة، ولا مشقة(3).

ووجه الاستدلال به على التحريم: أن النبي صلى الله عليه وسلم نهى عن حلوان الكاهن، والنهي يقتضي التحريم، ولهذا أجمع العلماء على تحريمه، أفاده الحافظ ابن حجر، ثم قال: «لما فيه من أخذ العوض على أمر باطل»(4).

وهذا في كسب الكاهن الذي هو طرف من السحر، كما مر قريباً من قول الإمام أحمد(5)، فكيف بالساحر؟، وكيف بالسحر؟.

--------------------------------------------

(1) هو عقبة بن عمرو بن ثعلبة الأنصاري، أبو مسعود البدري، صحابي جليل، مات قبل الأربعين، وقيل بعدها، أخرج له الجماعة. انظر ترجمته في التقريب ص (685).

(2) أخرجه البخاري في صحيحه، كتاب البيوع، باب ثمن الكلب، وفي ثلاثة مواضع أخرى؛ انظر: فتح الباري (4/ 497)، حديث رقم: (2237)، ومسلم في صحيحه (3/ 1198)، حديث رقم: (1567)، كتاب المساقاة، باب تحريم ثمن الكلب، وحلوان الكاهن، ومهر البغي، وانظر: اللؤلؤ والمرجان فيما اتفق عليه الشيخان (2/ 147)، حديث رقم (1010).

(3) انظر: فتح الباري (4/ 498).

(4) انظر: المرجع السابق.

(5) انظر ص (24).
এটি একটি নিষেধাজ্ঞা, আর নিষেধাজ্ঞা হারাম (تحريم) হওয়ার প্রমাণ দেয়।

১২ - আবু মাসউদ আল-আনসারি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে হাদিসটির ওপর শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) একমত হয়েছেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুরের মূল্য, ব্যভিচারিণীর উপবৃত্তি এবং গণকের পারিশ্রমিক থেকে নিষেধ করেছেন»।

গণকের পারিশ্রমিক (হুলওয়ানুল কাহিন): এটি ‘হালোয়াতুহু হুলওয়ানান’ থেকে আগত একটি ক্রিয়ামূল, যখন আপনি তাকে কিছু প্রদান করেন; এর মূল উৎস হলো ‘হালাওয়াহ’ (মিষ্টতা)। গণকের উপার্জনকে মিষ্টি জিনিসের সাথে তুলনা করা হয়েছে কারণ সে এটি কোনো কষ্ট বা শ্রম ছাড়াই সহজে গ্রহণ করে।

এর মাধ্যমে হারাম (تحريم) হওয়ার স্বপক্ষে দালিলিক দিকটি হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গণকের পারিশ্রমিক থেকে নিষেধ করেছেন, আর নিষেধাজ্ঞা হারাম (تحريم) হওয়াকে অপরিহার্য করে। একারণেই উলামায়ে কেরাম এটি হারাম (تحريم) হওয়ার ব্যাপারে ঐক্যমত (إجماع) পোষণ করেছেন। হাফেজ ইবনে হাজার এটি উল্লেখ করেছেন, এরপর তিনি বলেন: «কেননা এতে একটি বাতিল বিষয়ের ওপর বিনিময় গ্রহণ করা হয়»।

এটি হলো গণকের উপার্জনের ক্ষেত্রে যা জাদুর (سحر) একটি অংশ, যেমনটি ইমাম আহমাদ-এর বক্তব্য থেকে ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। তাহলে জাদুকরের অবস্থা কী হবে? আর জাদুর (سحر) বিধানই বা কী হবে?

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন উকবাহ ইবনে আমর ইবনে সা'লাবা আল-আনসারি, আবু মাসউদ আল-বদরি, একজন মহান সাহাবী (صحابي)। তিনি ৪০ হিজরির পূর্বে মৃত্যুবরণ করেছেন, আবার বলা হয় তার পরেও। জামা'আত (ছয় প্রধান হাদিস গ্রন্থের ইমামগণ) তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। দেখুন: তাকরিবুত তাহজিব, পৃষ্ঠা (৬৮৫)।

(২) বুখারি এটি তাঁর সহিহ-তে বর্ণনা করেছেন, কিতাবুল বুয়ূ (ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায়), কুকুরের মূল্য অনুচ্ছেদ, এবং আরও তিনটি স্থানে; দেখুন: ফাতহুল বারি (৪/৪৯৭), হাদিস নম্বর: (২২৩৭), এবং মুসলিম তাঁর সহিহ-তে (৩/১১৯৮), হাদিস নম্বর: (১৫৬৭), কিতাবুল মুসাকাত, কুকুরের মূল্য, গণকের পারিশ্রমিক ও ব্যভিচারিণীর উপবৃত্তি হারাম (تحريم) হওয়া সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ। আরও দেখুন: আল-লু'লু ওয়াল মারজান ফী মা ইত্তাফাকা আলাইহিশ শাইখাইন (২/১৪৭), হাদিস নম্বর (১০১০)।

(৩) দেখুন: ফাতহুল বারি (৪/৪৯৮)।

(৪) দেখুন: পূর্বোক্ত উৎস।

(৫) দেখুন: পৃষ্ঠা (২৪)।
(খণ্ড: ১২৬) তাবসিরুল বাশার বি-তাহরিমিস সিহর (পৃষ্ঠা: ১৩৯)
‌‌المبحث الثالث: حكم إتيان الساحر للتداوي عنده

لقد جاء دين الإسلام بالعناية التامة بالأبدان، والمحافظة عليها من الأمراض والأسقام والأدواء، وذلك من خلال حثه على اتخاذ أسباب الوقاية والاحتراز من كل ما يضرها قبل أن يقع بها؛ ومن خلال حثه على التداوي والعلاج والاستشفاء بعد إصابتها بالضرر من مرض ونحوه.

فمن حثه على أخذ أسباب الوقاية:

1 - ما اتفق عليه الشيخان من حديث سعد بن أبي وقاص رضي الله عنه، قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «من تصبح سبع تمرات عجوة، لم يضره ذلك اليوم سم ولا سحر»(1).

2 - ما رواه البخاري، ومسلم عن أسامة بن زيد رضي الله عنه، قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «إذا سمعتم بالطاعون في أرض، فلا تدخلوها»(2).

3 - ما رواه أحمد، والبخاري معلقاً عن أبي هريرة رضي الله عنه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «فر من المجذوم فرارك من الأسد»(3).

--------------------------------------------

(1) تقدم تخريجه في ص (19).

(2) رواه البخاري في صحيحه، كتاب الطب، باب ما يذكر في الطاعون، انظر: فتح الباري

(10/ 189)، حديث رقم: (5728)، ومسلم في صحيحه (4/ 1737)، حديث رقم:

(2218)، كتاب السلام، باب الطاعون، والطيرة، والكهانة، ونحوها.

(3) رواه أحمد في مسنده (2/ 443)، والبخاري معلقاً في كتاب الطب، باب الجذام، انظر: فتح الباري (10/ 167)، حديث رقم: (5707)، والبغوي في شرح السنة (12/ 167)، حديث رقم: (3247)، وقال: حديث صحيح، وصححه الألباني في الصحيحة (2/ 428)، حديث رقم: (783).
‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ: চিকিৎসার উদ্দেশ্যে জাদুকরের কাছে যাওয়ার বিধান

ইসলাম ধর্ম শরীরের প্রতি পূর্ণ যত্ন নেওয়ার এবং একে বিভিন্ন রোগ-ব্যাধি ও অসুস্থতা থেকে রক্ষা করার বিধান নিয়ে এসেছে। এটি শরীরের ক্ষতি হওয়ার আগেই ক্ষতিকর বিষয়াদি থেকে সুরক্ষা ও সতর্কতা অবলম্বনের উপায়সমূহ অনুসরণের প্রতি উৎসাহিত করার মাধ্যমে এবং শরীরের রোগ বা ক্ষতি আক্রান্ত হওয়ার পর ঔষধ, চিকিৎসা ও আরোগ্য লাভের প্রতি উৎসাহিত করার মাধ্যমে এ গুরুত্বারোপ করেছে।

সুরক্ষার উপায়সমূহ অবলম্বনের প্রতি ইসলামি নির্দেশের উদাহরণ:

১ - শায়খাইন (বুখারি ও মুসলিম) সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে হাদিসটির ওপর একমত হয়েছেন; তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: «যে ব্যক্তি ভোরে সাতটি আজওয়া খেজুর খাবে, সেদিন কোনো বিষ বা জাদু তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না»(১)।

২ - ইমাম বুখারি ও মুসলিম উসামা ইবনে যায়েদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: «যখন তোমরা কোনো ভূখণ্ডে প্লেগ রোগের প্রাদুর্ভাবের কথা শুনবে, তখন সেখানে প্রবেশ করো না»(২)।

৩ - ইমাম আহমদ এবং বুখারি মুয়াল্লাক (معلقاً) হিসেবে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «কুষ্ঠরোগী থেকে সেভাবে পলায়ন করো, যেভাবে তুমি সিংহ থেকে পলায়ন করো»(৩)।

--------------------------------------------

(১) এর তাখরিজ (تخريج) ১৯ পৃষ্ঠায় অতিক্রান্ত হয়েছে।

(২) ইমাম বুখারি এটি তাঁর সহিহ-তে বর্ণনা করেছেন, কিতাবুত তিব (চিকিৎসা অধ্যায়), অনুচ্ছেদ: প্লেগ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে। দেখুন: ফাতহুল বারি

(১০/ ১৮৯), হাদিস নম্বর: (৫৭২৮); এবং ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ-তে (৪/ ১৭৩৭), হাদিস নম্বর:

(২২১৮), কিতাবুস সালাম, অনুচ্ছেদ: প্লেগ, কুলক্ষণ ও গণকবদ্যা এবং এই জাতীয় বিষয়াবলি।

(৩) ইমাম আহমদ এটি তাঁর মুসনাদে (২/ ৪৪৩) বর্ণনা করেছেন এবং বুখারি কিতাবুত তিব, অনুচ্ছেদ: কুষ্ঠরোগ-এ মুয়াল্লাক (معلقاً) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। দেখুন: ফাতহুল বারি (১০/ ১৬৭), হাদিস নম্বর: (৫৭০৭); এবং বাগাউয়ি এটি শারহুস সুন্নাহ-তে (১২/ ১৬৭) বর্ণনা করেছেন, হাদিস নম্বর: (৩২৪৭), এবং তিনি বলেছেন: এটি সহিহ (صحيح) হাদিস। আলবানি আস-সহিহাহ গ্রন্থে (২/ ৪২৮) একে সহিহ (صحيح) বলেছেন, হাদিস নম্বর: (৭৮৩)।
(খণ্ড: ১২৬) তাবসিরুল বাশার বি-তাহরিমিস সিহর (পৃষ্ঠা: ১৪০)
4 - ما رواه أحمد، وأبو داود، والترمذي، وغيرهم عن عثمان، رضي الله عنه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ما من عبد يقول صباح كل يوم ومساء كل ليلة: باسم الله الذي لا يضر مع اسمه شيء في الأرض، ولا في السماء، وهو السميع العليم، ثلاث مرات، لم يضره شيء»(1).

وغير ذلك من الأذكار التي جاء فيها الإخبار أن من قالها لم يصبه ضرر، أو لم يضره الشيطان، أو نحو ذلك، وهي مبثوثة في كتب الأذكار والسنة(2).

ومن حثه على التداوي والعلاج:

1 - ما رواه البخاري عن أبي هريرة، رضي الله عنه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ما أنزل الله من داء إلا أنزل معه شفاء»(3).

2 - ما رواه أحمد، ومسلم عن جابر بن عبد الله، رضي الله عنهما، أنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لكل داء دواء، فإذا أصيب دواء الداء برأ

--------------------------------------------

(1) أخرجه أحمد في مسنده (1/ 62، 66)، وأبو داود في سننه (4/ 323)، حديث رقم:

(5088)، كتاب الأدب، باب ما يقول إذا أصبح، والترمذي في سننه (5/ 465)، حديث رقم: (3388)، كتاب الدعوات، باب ما جاء في الدعاء إذا أصبح، وإذا أمسى، والحاكم في مستدركه (1/ 514)، وصححه، ووافقه الذهبي، وصححه الألباني أيضاً في صحيح ابن ماجة في سننه (2/ 332)، حديث رقم: (3869)، كتاب الدعاء، باب ما يدعو به الرجل إذا أصبح، وإذا أمسى.

(2) انظر مثلا: عمل اليوم والليلة للنسائي، والأذكار للنووي، والكلم الطيب لشيخ الإسلام ابن تيمية، والوابل الصيب لابن القيم، وتحفة الأخيار للشيخ ابن باز، وغيرها.

(3) رواه البخاري في صحيحه، كتاب الطب، أول باب فيه، انظر: فتح الباري (10/ 141)، حديث رقم: (5678)، وابن ماجة في سننه (2/ 1138)، حديث رقم: (3439)، كتاب الطب، أول باب فيه، وأخرجه أحمد في مسنده (1/ 377، 413، 453)، من حديث ابن مسعود، رضي الله عنه.
৪ - ইমাম আহমাদ, আবু দাউদ, তিরমিযী এবং অন্যান্যরা উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «এমন কোনো বান্দা নেই, যে প্রতিদিন সকালে এবং প্রতি রাতে সন্ধ্যায় তিনবার বলবে: 'আল্লাহর নামে, যাঁর নামের সাথে আসমান ও যমীনে কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ', তবে কোনো কিছুই তার ক্ষতি করতে পারবে না»(১)।

এ ছাড়াও আরও এমন অনেক যিকির রয়েছে যার ব্যাপারে সংবাদ এসেছে যে, যে ব্যক্তি সেগুলো পাঠ করবে তার কোনো ক্ষতি হবে না, অথবা শয়তান তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না কিংবা এই জাতীয় কিছু। এই যিকিরগুলো যিকিরের কিতাব এবং সুন্নাহর কিতাবসমূহে ছড়িয়ে রয়েছে(২)।

চিকিৎসা এবং আরোগ্য লাভের প্রতি তাঁর (রাসূলুল্লাহর) উৎসাহ প্রদান:

১ - ইমাম বুখারী আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আল্লাহ এমন কোনো রোগ অবতীর্ণ করেননি যার জন্য তিনি প্রতিষেধক বা আরোগ্য অবতীর্ণ করেননি»(৩)।

২ - ইমাম আহমাদ এবং মুসলিম জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «প্রত্যেক রোগেরই ঔষধ রয়েছে, অতঃপর যখন রোগের ঔষধ সঠিকভাবে প্রযুক্ত হয় তখন তা আরোগ্য লাভ করে...

--------------------------------------------

(১) ইমাম আহমাদ এটি তাঁর মুসনাদে (১/৬২, ৬৬), আবু দাউদ তাঁর সুনানে (৪/৩২৩), হাদিস নং: (৫০৮৮), কিতাবুল আদব, সকাল হলে যা বলবে সেই সম্পর্কিত অনুচ্ছেদে; তিরমিযী তাঁর সুনানে (৫/৪৬৫), হাদিস নং: (৩৩৮৮), কিতাবুদ দাওয়াত, সকাল ও সন্ধ্যায় যা বলা হবে সেই সম্পর্কিত অনুচ্ছেদে; এবং হাকেম তাঁর মুস্তাদরাকে (১/৫১৪) বর্ণনা করেছেন এবং একে সহীহ বলেছেন (صححه), আর যাহাবী তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন (وافقه)। আলবানীও একে সহীহ ইবনে মাজাহ-তে সহীহ (صححه) বলেছেন (২/৩৩২), হাদিস নং: (৩৮৬৯), কিতাবুদ দোয়া, সকালে ও সন্ধ্যায় মানুষ যা পাঠ করবে সেই সম্পর্কিত অনুচ্ছেদে।

(২) উদাহরণস্বরূপ দেখুন: নাসায়ীর আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ, নববীর আল-আযকার, শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর আল-কালিমুত তায়্যিব, ইবনুল কাইয়্যিমের আল-ওয়াবিলুস সয়্যিব, শায়খ ইবনে বাযের তুহফাতুল আখইয়ার এবং অন্যান্য কিতাব।

(৩) বুখারী এটি তাঁর সহীহ-এ বর্ণনা করেছেন, চিকিৎসা অধ্যায়, এর প্রথম অনুচ্ছেদ। দেখুন: ফাতহুল বারী (১০/১৪১), হাদিস নং: (৫৬৭৮); এবং ইবনে মাজাহ তাঁর সুনানে (২/১১৩৮), হাদিস নং: (৩৪৩৯), চিকিৎসা অধ্যায়, এর প্রথম অনুচ্ছেদ। ইমাম আহমাদ এটি তাঁর মুসনাদে (১/৩৭৭, ৪১৩, ৪৫৩) ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১২৬) তাবসিরুল বাশার বি-তাহরিমিস সিহর (পৃষ্ঠা: ১৪১)
بإذن الله عز وجل»(1).

3 - ما رواه أحمد، والبخاري عن ابن عباس، رضي الله عنهما، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «الشفاء في ثلاثة: في شرطة محجم، أو شربة عسل، أو كية من نار، وأنا أنهى أمتي عن الكي»(2).

4 - ما رواه أحمد، وأبو داود، والترمذي، وابن ماجة عن أسامة بن شريك(3)، رضي الله عنه، قال: كنت عند النبي صلى الله عليه وسلم، وجاءت الأعراب، فقالوا: يا رسول الله، أنتداوى؟، فقال: «نعم، عباد الله تداووا، فإن الله عز وجل لم يضع داء إلا وضع له شفاء، غير داء واحد»، قالوا ما هو؟، قال: «الهرم»(4).

لقد دلت هذه النصوص وغيرها على مشروعية التداوي بما أحله الله من الأدوية، أو الرقية، أو غيرها، دون التداوي بما حرمه الله، وفيما أباحه الله وأذن فيه الغنية والكفاية عما حرمه.

وإن مما حرمه الله الذهاب إلى السحرة، والمشعوذين، والكهان، فلا يجوز للمسلم في حال من الأحوال أن يأتيهم طلباً للشفاء والعلاج منهم، أو عندهم،

--------------------------------------------

(1) رواه أحمد في مسنده (3/ 335)، ومسلم في صحيحه (4/ 1729)، حديث رقم:

(2204)، كتاب السلام، باب لكل داء دواء، واستحباب التداوي.

(2) رواه أحمد في مسنده (1/ 246)، والبخاري في كتاب الطب، باب الشفاء في ثلاث، انظر: فتح الباري (10/ 143)، حديث رقم: (5680).

(3) هو أسامة بن شريك الثعلبي من بني ثعلبة بن يربوع، صحابي جليل، تفرد بالرواية عنه زياد بن علاقة. انظر ترجمته في: التقريب ص (124)، والإصابة (1/ 29).

(4) رواه أحمد في مسنده (4/ 278)، وأبو داود في سننه (4/ 3)، حديث رقم: (3855)، كتاب الطب، أول باب فيه، والترمذي في سننه (4/ 383)، حديث رقم: (2038)، كتاب الطب، باب ما جاء في الدواء والحث عليه، وقال: حسن صحيح، وصححه الألباني في صحيح ابن ماجة (2/ 252)، حديث رقم: (3436)، كتاب الطب، أول باب فيه.
আল্লাহ মহিমান্বিত ও পরাক্রমশালীর ইচ্ছায়»(১)。

৩ - ইমাম আহমদ ও ইমাম বুখারি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «আরোগ্য তিনটি জিনিসের মধ্যে নিহিত: শিঙা লাগানো, মধু পান করা অথবা অগ্নি দ্বারা ছ্যাঁকা দেওয়া; তবে আমি আমার উম্মতকে আগুনের ছ্যাঁকা দিতে নিষেধ করছি»(২)।

৪ - ইমাম আহমদ, আবু দাউদ, তিরমিযি ও ইবনে মাজাহ উসামা বিন শারীক(৩) (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট ছিলাম এবং কিছু বেদুইন লোক এল। তারা বলল: হে আল্লাহর রাসুল! আমরা কি চিকিৎসা গ্রহণ করব? তিনি বললেন: «হ্যাঁ, হে আল্লাহর বান্দাগণ! তোমরা চিকিৎসা গ্রহণ করো। কেননা মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ এমন কোনো রোগ সৃষ্টি করেননি যার আরোগ্য বা প্রতিষেধক তিনি তৈরি করেননি, একটি রোগ ব্যতীত।» তারা জিজ্ঞেস করল: সেটি কী? তিনি বললেন: «বার্ধক্য»(৪)।

এই সকল পাঠ্য এবং অন্যান্য প্রমাণাদি আল্লাহর হালালকৃত ঔষধ, রুকইয়া বা অন্য কিছুর মাধ্যমে চিকিৎসা গ্রহণের বৈধতা নির্দেশ করে। তবে আল্লাহ যা হারাম করেছেন তা দিয়ে চিকিৎসা করা যাবে না। আল্লাহ যা বৈধ করেছেন এবং অনুমতি দিয়েছেন, তার মধ্যেই হারামের বিকল্প হিসেবে প্রাচুর্য ও পর্যাপ্ততা রয়েছে।

আল্লাহ যা হারাম করেছেন তার মধ্যে অন্যতম হলো জাদুকর, ভণ্ড ও গণকদের নিকট যাওয়া। সুতরাং কোনো মুসলমানের জন্য কোনো অবস্থাতেই আরোগ্য লাভ বা চিকিৎসার উদ্দেশ্যে তাদের কাছে যাওয়া বৈধ নয়,

--------------------------------------------

(১) আহমদ তাঁর মুসনাদে (৩/ ৩৩৫) এবং মুসলিম তাঁর সহিহ-তে (৪/ ১৭২৯) বর্ণনা করেছেন, হাদিস নম্বর:

(২২০৪), কিতাবুস সালাম, প্রতি রোগের ঔষধ আছে এবং চিকিৎসা গ্রহণের মুস্তাহাব হওয়ার অধ্যায়।

(২) আহমদ তাঁর মুসনাদে (১/ ২৪৬) এবং বুখারি তাঁর চিকিৎসা অধ্যায়ে (কিতাবুত তিব্ব), আরোগ্য তিনটি জিনিসের মধ্যে নিহিত নামক অনুচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন। দেখুন: ফাতহুল বারী (১০/ ১৪৩), হাদিস নম্বর: (৫৬৮০)।

(৩) তিনি হলেন উসামা বিন শারীক আস-সালাবী, বনু সালাবা বিন ইয়ারবু গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। তিনি একজন মহান সাহাবী (صحابي)। যিয়াদ বিন ইলাকা এককভাবে তাঁর থেকে বর্ণনা (تفرد) করেছেন। তাঁর জীবনী দেখুন: আত-তাকরীব, পৃষ্ঠা (১২৪) এবং আল-ইসাবাহ (১/ ২৯)।

(৪) আহমদ তাঁর মুসনাদে (৪/ ২৭৮), আবু দাউদ তাঁর সুনানে (৪/ ৩), হাদিস নম্বর: (৩৮৫৫), চিকিৎসা অধ্যায় (কিতাবুত তিব্ব), এর প্রথম অনুচ্ছেদ; এবং তিরমিযি তাঁর সুনানে (৪/ ৩৮৩), হাদিস নম্বর: (২০৩৮), চিকিৎসা অধ্যায় (কিতাবুত তিব্ব), ওষুধ ও এর প্রতি উৎসাহ প্রদান সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ; তিনি বলেছেন: হাসান (حسن) সহিহ (صحيح)। আলবানী সহিহ ইবনে মাজাহ-তে (২/ ২৫২) একে সহিহ (صحيح) বলেছেন, হাদিস নম্বর: (৩৪৩৬), চিকিৎসা অধ্যায় (কিতাবুত তিব্ব), এর প্রথম অনুচ্ছেদ।
(খণ্ড: ১২৬) তাবসিরুল বাশার বি-তাহরিমিস সিহর (পৃষ্ঠা: ১৪২)
لدلالة النصوص الكثيرة على تحريم ذلك، والتي أوردناها في الفصل السابق، ومن أوضحها دلالة، وأصرحها في ذلك:

1 - ما رواه مسلم عن بعض أزواج النبي صلى الله عليه وسلم، أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «من أتى عرَّافاً، فسأله، لم تقبل له صلاة أربعين ليلة»(1).

فكيف يجوز إتيان من إتيانه، وسؤاله يذهب بأجر صلاة أربعين ليلة.

2 - ما رواه أحمد، والحاكم، وغيرهما، عن أبي هريرة، رضي الله عنه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من أتى كاهنا، أو عرافا، فصدقه بما يقول، فقد كفر بما أنزل على محمد صلى الله عليه وسلم)(2).

فكيف يجوز إتيان من إتيانه، وتصديقه في قوله كفر بالقرآن الذي أنزله الله على نبينا محمد صلى الله عليه وسلم.

3 - ما رواه مسلم عن معاوية بن الحكم، رضي الله عنه، قال: قلت: يا رسول الله، إني حديث عهد بجاهلية، وقد جاء الله بالإسلام، وإن منا رجالا يأتون الكهان؟، قال: «فلا تأتهم»(3).

فهذا نهي صريح عن إتيانهم، فكيف يقول أحد بجوازه؟.

4 - ما رواه أحمد، وأبو داود، عن جابر، رضي الله عنه، قال: «سئل رسول الله عن النشرة، قال: هي من عمل الشيطان»(4).

--------------------------------------------

(1) تقدم تخريجه في ص (23).

(2) تقدم تخريجه في ص (23).

(3) تقدم تخريجه في ص (25).

(4) أخرجه أحمد في مسنده (3/ 294)، وأبو داود سننه (4/ 6)، حديث رقم: (3868)، كتاب الطب، باب في النشرة، والحاكم في مستدركه (4/ 418)، وصححه، ووافقه الذهبي، وحسنه ابن حجر في الفتح (10/ 244)، وصححه الألباني في صحيح سنن أبي داود (2/ 733)، حديث رقم: (3277).
যেহেতু এর নিষিদ্ধতার স্বপক্ষে অসংখ্য বর্ণনা রয়েছে, যা আমরা পূর্ববর্তী পরিচ্ছেদে উল্লেখ করেছি, এবং সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে স্পষ্ট ও সুস্পষ্ট দলিলসমূহ হলো:

১ - ইমাম মুসলিম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোনো কোনো স্ত্রীর সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি কোনো গণকের (عرَّافاً) কাছে আসল এবং তাকে কিছু জিজ্ঞাসা করল, তার চল্লিশ রাতের সালাত কবুল করা হবে না»(১)।

সুতরাং এমন ব্যক্তির কাছে যাওয়া কীভাবে বৈধ হতে পারে যার কাছে যাওয়া এবং তাকে জিজ্ঞাসা করা চল্লিশ রাতের সালাতের সওয়াব নষ্ট করে দেয়?

২ - আহমাদ, হাকেম এবং অন্যরা আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি কোনো অতীন্দ্রিয়বাদী (كاهنا) অথবা গণকের (عرافا) কাছে আসল এবং সে যা বলে তা বিশ্বাস করল, তবে সে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তার সাথে কুফরি করল»(২)।

সুতরাং এমন ব্যক্তির কাছে যাওয়া কীভাবে বৈধ হতে পারে যার কাছে যাওয়া এবং তার কথা বিশ্বাস করা সেই কুরআনের প্রতি কুফরি করার শামিল যা আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর অবতীর্ণ করেছেন?

৩ - ইমাম মুসলিম মুআবিয়া ইবনুল হাকাম (রা.) হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি জাহেলিয়াত থেকে নিকট অতীতে মুক্ত হয়েছি এবং আল্লাহ ইসলাম দান করেছেন, আর আমাদের মাঝে এমন কিছু লোক আছে যারা অতীন্দ্রিয়বাদীদের (الكهان) কাছে যায়? তিনি বললেন: «তুমি তাদের কাছে যেও না»(৩)।

এটি তাদের কাছে যাওয়ার ব্যাপারে একটি স্পষ্ট নিষেধ, সুতরাং কেউ কীভাবে এর বৈধতার কথা বলতে পারে?

৪ - আহমাদ এবং আবু দাউদ জাবির (রা.) হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নশরাহ (النشرة) (জাদুটোনা নিরাময় পদ্ধতি) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: এটি শয়তানের কাজ»(৪)।

--------------------------------------------

(১) এর উৎস নির্দেশ (تخريجه) ২৩ পৃষ্ঠায় গত হয়েছে।

(২) এর উৎস নির্দেশ (تخريجه) ২৩ পৃষ্ঠায় গত হয়েছে।

(৩) এর উৎস নির্দেশ (تخريجه) ২৫ পৃষ্ঠায় গত হয়েছে।

(৪) আহমাদ এটি তাঁর মুসনাদ (৩/২৯৪) গ্রন্থে এবং আবু দাউদ তাঁর সুনান (৪/৬) গ্রন্থে বর্ণনা (أخرجه) করেছেন, হাদিস নং: (৩৮৬৮), চিকিৎসা অধ্যায়, নশরাহ অনুচ্ছেদ; এবং হাকেম তাঁর মুস্তাদরাক (৪/৪১৮) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং একে বিশুদ্ধ (صححه) বলেছেন এবং যাহাবী তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন; আর ইবনে হাজার আল-ফাতহ (১০/২৪৪) গ্রন্থে একে হাসান (حسنه) বলেছেন এবং আলবানী সহিহ সুনান আবু দাউদ (২/৭৩৩) গ্রন্থে একে বিশুদ্ধ (صححه) বলেছেন, হাদিস নং: (৩২৭৭)।