(খণ্ড: ১) আত-তাহযীরু মিন ওয়াসাইলিত তানসীর (পৃষ্ঠা: -)
التحذير من وسائل التنصير   (مجموعة من المؤلفين)

القسم: كتب عامة


الكتاب: التحذير من وسائل التنصير

المؤلف: اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء

الناشر: -

الطبعة: الأولى

عدد الصفحات: 22

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

খ্রিস্টানিকরণ পদ্ধতির বিরুদ্ধে সতর্কতা   (একদল লেখক)

বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ


গ্রন্থ: খ্রিস্টানিকরণ পদ্ধতির বিরুদ্ধে সতর্কতা

লেখক: বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটি

প্রকাশক: -

সংস্করণ: প্রথম

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২২

খণ্ড সংখ্যা: ১

[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]

শামেলা অ্যাপে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আত-তাহযীরু মিন ওয়াসাইলিত তানসীর (পৃষ্ঠা: -)
‌‌[المقدمة]

التحذير من وسائل التنصير
[ভূমিকা]

খ্রিষ্টানীকরণের মাধ্যমসমূহ সম্পর্কে সতর্কীকরণ
(খণ্ড: ১) আত-তাহযীরু মিন ওয়াসাইলিত তানসীর (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على المبعوث رحمة للناس أجمعين، خاتم الأنبياء والمرسلين، نبينا ورسولنا محمد، وعلى آله وصحبه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين. أما بعد:

فغير خافٍ على كل من نوّر الله بصيرته من المسلمين شدة عداوة الكافرين من اليهود والمتعصبين من النصارى وغيرهم للمسلمين، وتحالف قواهم واجتماعها ضد المسلمين ليردوهم، وليلبسوا عليهم دينهم
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

যাবতীয় প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সমস্ত মানুষের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরিত, নবী ও রাসুলগণের পরিসমাপ্তি দানকারী, আমাদের নবী ও রাসুল মুহাম্মাদ (সা.)-এর প্রতি এবং তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ ও কিয়ামত দিবস পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাঁদের প্রতি। অতঃপর:

আল্লাহ যে সকল মুসলিমের অন্তর্দৃষ্টি আলোকিত করেছেন, সেই সব মুসলিমদের কারোর কাছেই ইহুদি কাফির এবং খ্রিস্টান ধর্মান্ধ ও অন্যদের মুসলিমদের প্রতি চরম শত্রুতার বিষয়টি অস্পষ্ট নয়। তারা মুসলিমদেরকে তাদের দ্বীন থেকে বিচ্যুত করতে এবং তাদের নিকট দ্বীনকে সংশয়াচ্ছন্ন করে তুলতে নিজেদের শক্তিসমূহকে একীভূত ও জোটবদ্ধ করেছে।
(খণ্ড: ১) আত-তাহযীরু মিন ওয়াসাইলিত তানসীর (পৃষ্ঠা: ৪)
الحق - دين الإسلام - الذي بعث الله به خاتم أنبيائه ورسله محمدا صلى الله عليه وسلم إلى الناس أجمعين.

وإن للكفار في الصد عن الإسلام وتضليل المسلمين، واحتوائهم، واستعمار عقولهم، والكيد لهم، وسائل شتى، وقد نشطت دعواتهم، وجمعياتهم، وإرسالياتهم، وعظمت فتنتهم في زمننا هذا، فكان من وسائلهم ودعواتهم المضللة بعث نشرة باسم: " معهد أهل الكتاب في دولة جنوب أفريقيا " تُبعث للأفراد والمؤسسات
সত্য—ইসলাম ধর্ম—যা আল্লাহ তাঁর সর্বশেষ নবী ও রাসূল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মাধ্যমে সকল মানুষের নিকট প্রেরণ করেছেন।

নিশ্চয়ই কাফেরদের নিকট ইসলাম থেকে বিমুখ করা, মুসলিমদের বিভ্রান্ত করা, তাদের বশীভূত করা, তাদের চিন্তাজগতকে উপনিবেশিত করা এবং তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার নানাবিধ উপায় রয়েছে। বর্তমানে তাদের দাওয়াত, সংগঠন ও মিশনসমূহ অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে উঠেছে এবং এই যুগে তাদের ফিতনা প্রবল আকার ধারণ করেছে। তাদের বিভ্রান্তিকর প্রচারণা ও মাধ্যমসমূহের একটি হলো "দক্ষিণ আফ্রিকা রাষ্ট্রের আহলে কিতাব ইনস্টিটিউট" নামে একটি বুলেটিন প্রকাশ করা, যা বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নিকট প্রেরণ করা হয়।
(খণ্ড: ১) আত-তাহযীরু মিন ওয়াসাইলিত তানসীর (পৃষ্ঠা: ৫)
والجمعيات عبر صناديق البريد في جزيرة العرب - أصل الإسلام ومعقله الأخير - متضمنة برامج دراسية عن طريق المراسلة، وبطاقة اشتراك بدون مقابل في كتب (التوراة، والزبور، والإنجيل) ، وعلى ظهر هذه النشرة مقتطفات من هذه الكتب.

هذا، وإن من عاجل البشرى للمسلمين استنكار هذا الغزو المنظم، والتحذير منه بجميع وسائله، وكان من هذه المواقف المحمودة وصول عدد من الكتابات والمكالمات إلى اللجنة الدائمة للبحوث
আরব উপদ্বীপে—যা ইসলামের মূল উৎস এবং এর সর্বশেষ সুদৃঢ় ঘাঁটি—ডাকবাক্সের মাধ্যমে বিভিন্ন সংস্থা চিঠিপত্রের মাধ্যমে পাঠ্যসূচি এবং (তাওরাত, যাবুর ও ইনজিল) কিতাবসমূহের বিনামূল্যে সদস্যপদ কার্ড বিতরণ করছে; আর এই প্রচারপত্রের পৃষ্ঠদেশে এই কিতাবসমূহ থেকে কিছু উদ্ধৃতাংশ রয়েছে।

বস্তুত মুসলমানদের জন্য এটি একটি তাৎক্ষণিক সুসংবাদ যে, এই সুসংগঠিত আগ্রাসনের নিন্দা জানানো হচ্ছে এবং এর সকল মাধ্যম সম্পর্কে সতর্ক করা হচ্ছে। এসব প্রশংসনীয় পদক্ষেপের অংশ হিসেবে গবেষণার স্থায়ী কমিটির নিকট বেশ কিছু লিখিত পত্র ও টেলিফোন কল এসে পৌঁছেছে।
(খণ্ড: ১) আত-তাহযীরু মিন ওয়াসাইলিত তানসীর (পৃষ্ঠা: ৬)
العلمية والإفتاء من مجموعة من الغيورين آملين صدور بيان يوضح خطر هذه النشرات، ويحذر من هذه الدعوات الكفرية الخطيرة على المسلمين.

فنقول وبالله التوفيق: منذ أشرقت شمس الإسلام على الأرض وأعداؤه على اختلاف عقائدهم ومللهم يكيدون له ليلا ونهارا، ويمكرون بأتباعه كلما سنحت لهم فرصة؛ ليخرجوا المسلمين من النور إلى الظلمات، ويقوضوا دولة الإسلام، ويضعفوا سلطانه على النفوس،
গবেষণা ও ফতোয়া [বিভাগের] নিকট একদল ধর্মপ্রাণ ব্যক্তির পক্ষ থেকে এই আশায় [আবেদন পেশ করা হয়েছে] যেন এমন একটি বিবৃতি প্রকাশিত হয় যা এই প্রচারপত্রগুলোর বিপদ স্পষ্ট করবে এবং মুসলিমদের ওপর এই বিপজ্জনক কুফরি (كفرية) আহ্বানগুলো সম্পর্কে সতর্ক করবে।

অতঃপর আমরা আল্লাহর তৌফিক কামনা করে বলছি: যবে থেকে পৃথিবীতে ইসলামের সূর্য উদিত হয়েছে, তবে থেকেই এর শত্রুরা তাদের ভিন্ন ভিন্ন আকিদা (عقيدة) ও ধর্মাদর্শ (ملة) নির্বিশেষে দিন-রাত এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। যখনই তারা সুযোগ পায়, তখনই তারা এর অনুসারীদের বিরুদ্ধে চক্রান্তে লিপ্ত হয়; যাতে তারা মুসলিমদের আলো থেকে অন্ধকারের দিকে বের করে নিতে পারে, ইসলামের রাষ্ট্রকে সমূলে উৎপাটন করতে পারে এবং মানুষের হৃদয়ে এর প্রভাবকে দুর্বল করে দিতে পারে।
(খণ্ড: ১) আত-তাহযীরু মিন ওয়াসাইলিত তানসীর (পৃষ্ঠা: ৭)
ومصداق ذلك في كتاب الله تعالى إذ يقول: {مَا يَوَدُّ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ وَلَا الْمُشْرِكِينَ أَنْ يُنَزَّلَ عَلَيْكُمْ مِنْ خَيْرٍ مِنْ رَبِّكُمْ} [البقرة: 105] وقال سبحانه: {وَدَّ كَثِيرٌ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ لَوْ يَرُدُّونَكُمْ مِنْ بَعْدِ إِيمَانِكُمْ كُفَّارًا حَسَدًا مِنْ عِنْدِ أَنْفُسِهِمْ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمُ الْحَقُّ} [البقرة: 109] وقال جل وعلا: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ تُطِيعُوا فَرِيقًا مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ يَرُدُّوكُمْ بَعْدَ إِيمَانِكُمْ كَافِرِينَ} [آل عمران: 100]

وكان من أبرز أعداء هذا الدين: النصارى الحاقدون، الذين كانوا ولا يزالون
এর প্রমাণ আল্লাহ তাআলার কিতাবে বিদ্যমান, যেখানে তিনি ইরশাদ করেছেন: {আহলে কিতাব ও মুশরিকদের মধ্যে যারা কুফরি করেছে তারা চায় না যে, তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি কোনো কল্যাণ অবতীর্ণ হোক} [আল-বাকারাহ: ১০৫]। এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আহলে কিতাবের অনেকেই সত্য তাদের নিকট স্পষ্ট হওয়ার পর, নিজেদের অন্তরের হিংসাবশত আকাঙ্ক্ষা করে যে, তোমাদের ঈমান আনার পর যদি তারা তোমাদের পুনরায় কাফিরে পরিণত করতে পারত} [আল-বাকারাহ: ১০৯]। এবং প্রতাপশালী ও মহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ! যাদের কিতাব দেওয়া হয়েছে, তোমরা যদি তাদের কোনো দলের আনুগত্য করো, তবে তারা তোমাদের ঈমান আনার পর তোমাদের পুনরায় কাফিরে পরিণত করে ছাড়বে} [আল-ইমরান: ১০০]।

আর এই দ্বীনের অন্যতম প্রধান শত্রু ছিল সেই বিদ্বেষপরায়ণ নাসারাগণ, যারা অতীতেও ছিল এবং বর্তমানেও তা অব্যাহত রেখেছে।
(খণ্ড: ১) আত-তাহযীরু মিন ওয়াসাইলিত তানসীর (পৃষ্ঠা: ৮)
يبذلون قصارى جهدهم، وغاية وسعهم لمقاومة المد الإسلامي في أصقاع الدنيا، بل ومهاجمة الإسلام والمسلمين في عقر ديارهم، لا سيما في حالات الضعف التي تنتاب العالم الإسلامي كحالته الراهنة اليوم.

ومن المعلوم بداهة أن الهدف من هذا الهجوم هو زعزعة عقيدة المسلمين، وتشكيكهم في دينهم؛ تمهيدا لإخراجهم من الإسلام، وإغرائهم باعتناق النصرانية عبر ما يعرف خطأ بـ " التبشير "، وما هو إلا دعوة إلى " الوثنية " في النصرانية المحرفة التي
তারা বিশ্বের দিগন্তসমূহে ইসলামের জাগরণ প্রতিহত করতে এবং বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতির ন্যায় দুর্বলতার মুহূর্তগুলোতে খোদ তাদের নিজ আবাসে ইসলাম ও মুসলিমদের ওপর আক্রমণ করার নিমিত্তে তাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ও সামর্থ্যের সর্বোচ্চ সীমা ব্যয় করছে।

এটি স্বতঃসিদ্ধ যে, এই আক্রমণের উদ্দেশ্য হলো মুসলিমদের আকিদা বিচলিত করা এবং তাদের দ্বীন সম্পর্কে তাদের মনে সংশয় সৃষ্টি করা; যাতে তাদের ইসলাম থেকে বহিষ্কারের পথ প্রশস্ত হয় এবং ভুলবশত 'মিশনারি তৎপরতা' নামে পরিচিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের খ্রিস্টধর্ম গ্রহণে প্রলুব্ধ করা যায়, যা মূলত বিকৃত খ্রিস্টধর্মের 'পৌত্তলিকতার' দিকেই এক আহ্বান, যা...
(খণ্ড: ১) আত-তাহযীরু মিন ওয়াসাইলিত তানসীর (পৃষ্ঠা: ৯)
ما أنزل الله بها من سلطان، ونبي الله عيسى عليه السلام منها براء.

وقد أنفق النصارى أموالا طائلة وجهودا كبيرة في سبيل تحقيق أحلامهم في تنصير العالم عموما، والمسلمين على وجه الخصوص، ولكن حالهم كما قال الله سبحانه: {إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا يُنْفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ لِيَصُدُّوا عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ فَسَيُنْفِقُونَهَا ثُمَّ تَكُونُ عَلَيْهِمْ حَسْرَةً ثُمَّ يُغْلَبُونَ وَالَّذِينَ كَفَرُوا إِلَى جَهَنَّمَ يُحْشَرُونَ} [الأنفال: 36]

 

‌‌[وسائل وأساليب التنصير]

وقد عقدوا من أجل هذه الغاية مؤتمرات عدة: إقليمية، وعالمية، منذ قرن من
আল্লাহ এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ (سلطان) অবতীর্ণ করেননি এবং আল্লাহর নবী ঈসা আলাইহিস সালাম এ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত।

খ্রিস্টানরা সাধারণভাবে সমগ্র বিশ্বকে এবং বিশেষভাবে মুসলিমদের খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিতকরণের (تنصير) স্বপ্ন বাস্তবায়নে বিপুল অর্থ ও ব্যাপক প্রচেষ্টা ব্যয় করেছে। কিন্তু তাদের অবস্থা তেমনই হবে যেমনটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ইরশাদ করেছেন: {নিশ্চয়ই যারা কুফরি করেছে তারা আল্লাহর পথে বাধা দেওয়ার জন্য তাদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে। অচিরেই তারা তা আরও ব্যয় করবে, অতঃপর তা তাদের জন্য অনুতাপের কারণ হবে এবং শেষ পর্যন্ত তারা পরাজিত হবে। আর যারা কুফরি করেছে তাদের জাহান্নামের দিকে একত্রিত করা হবে।} [আল-আনফাল: ৩৬]

 

[খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিতকরণের (تنصير) মাধ্যম ও পদ্ধতিসমূহ]

তারা এই উদ্দেশ্য সাধনের জন্য এক শতাব্দী পূর্ব থেকে বেশ কিছু আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করেছে:
(খণ্ড: ১) আত-তাহযীরু মিন ওয়াসাইলিত তানসীর (পৃষ্ঠা: ১০)
الزمان، وإلى الآن توافد إليهم المنصرون العاملون من كل مكان لتبادل الآراء والمقترحات حول أنجع الوسائل وأهم النتائج، ورسموا لذلك الخطط ووضعوا البرامج، فكان من وسائلهم:

* إرسال البعثات التنصيرية إلى بلدان العالم الإسلامي، والدعوة إلى النصرانية من خلال توزيع المطبوعات من كتب ونشرات تعرف بالنصرانية، وترجمات للإنجيل، ومطبوعات للتشكيك في الإسلام، والهجوم عليه، وتشويه صورته أمام العالم.
সেই কাল হতে এবং বর্তমান সময় পর্যন্ত সকল প্রান্ত থেকে কর্মতৎপর মিশনারিরা তাদের নিকট সমবেত হয়েছে যাতে সবচেয়ে কার্যকর উপায় এবং গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল সম্পর্কে মতামত ও প্রস্তাবনা বিনিময় করা যায়। তারা এর জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে এবং বিভিন্ন কর্মসূচি সাজিয়েছে। তাদের গৃহীত মাধ্যমগুলোর অন্তর্ভুক্ত ছিল:

* মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোতে মিশনারি দল প্রেরণ এবং খ্রিস্টধর্মের পরিচয় সম্বলিত বই ও লিফলেট বিতরণ, ইঞ্জিলের অনুবাদ এবং ইসলামের ব্যাপারে সংশয় সৃষ্টি, এর ওপর আক্রমণ ও বিশ্ববাসীর সামনে ইসলামের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন প্রকাশনা বিতরণের মাধ্যমে খ্রিস্টধর্মের প্রতি আহ্বান জানানো।
(খণ্ড: ১) আত-তাহযীরু মিন ওয়াসাইলিত তানসীর (পৃষ্ঠা: ১১)
* ثم اتجهوا أيضا إلى التنصير بطرق مغلفة، وأساليب غير مباشرة ولعل من أخطر هذه الأساليب ما كان: عبر التطبيب، وتقديم الرعاية الصحية للإنسان: وقد ساهم في تأثير هذا الأسلوب عامل الحاجة إلى العلاج، وكثرة انتشار الأوبئة والأمراض الفتاكة في البيئات الإسلامية، خصوصا مع مرور زمن فيه ندرة الأطباء المسلمين، بل فقدانهم أصلا في بعض البلاد الإسلامية.

ومن تلك الأساليب أيضا التنصير عن
অতঃপর তারা প্রচ্ছন্ন পন্থায় এবং পরোক্ষ পদ্ধতিতে খ্রিস্টধর্ম প্রচারের (التنصير) দিকেও মনোনিবেশ করেছে। সম্ভবত এই পদ্ধতিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক ছিল: চিকিৎসাসেবা এবং মানুষের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের মাধ্যম। চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা এবং মুসলিম জনপদগুলোতে মহামারী ও প্রাণঘাতী রোগের ব্যাপক প্রাদুর্ভাব এই পদ্ধতির প্রভাব বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে; বিশেষ করে এমন এক যুগে যখন মুসলিম চিকিৎসকদের সংখ্যা ছিল অত্যন্ত নগণ্য, এমনকি কোনো কোনো মুসলিম দেশে তাঁদের একেবারেই পাওয়া যেত না।

আর সেই পদ্ধতিগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে... এর মাধ্যমে খ্রিস্টধর্ম প্রচার (التنصير)
(খণ্ড: ১) আত-তাহযীরু মিন ওয়াসাইলিত তানসীর (পৃষ্ঠা: ১২)
طريق التعليم: وذلك إما بإنشاء المدارس والجامعات النصرانية صراحة، أو بفتح مدارس ذات صبغة تعليمية بحتة في الظاهر، وكيد نصراني في الباطن، مما جعل فئاما من المسلمين يلقون بأبنائهم في تلك المدارس؛ رغبة في تعلم لغة أجنبية، أو مواد خاصة أخرى، ولا تسل بعد ذلك عن حجم الفرصة التي يمنحها المسلمون للنصارى حين يهدونهم فلذات أكبادهم في سن الطفولة والمراهقة حيث الفراغ العقلي، والقابلية للتلقي، أيا كان الملقي!!
শিক্ষাদান পদ্ধতি: এটি হয় সরাসরি খ্রিস্টীয় বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে, অথবা বাহ্যিকভাবে নিছক শিক্ষামূলক রূপধারী কিন্তু অভ্যন্তরীণভাবে খ্রিস্টীয় ষড়যন্ত্রে লিপ্ত বিদ্যালয়সমূহ খোলার মাধ্যমে। এর ফলে মুসলিমদের একটি বড় অংশ তাদের সন্তানদের ঐসব বিদ্যালয়ে পাঠাচ্ছে— কোনো বিদেশি ভাষা বা অন্য কোনো বিশেষ বিষয় শেখার আগ্রহে। এরপর মুসলিমরা খ্রিস্টানদের যে বিশাল সুযোগটি করে দিচ্ছে তার ব্যাপকতা সম্পর্কে আর প্রশ্ন করবেন না; যখন তারা শৈশব ও কৈশোরের বয়সে তাদের কলিজার টুকরো সন্তানদের তাদের নিকট উপহার হিসেবে সোপর্দ করছে, যখন তাদের মাঝে থাকে বুদ্ধিভিত্তিক শূন্যতা এবং যেকোনো কিছু গ্রহণের প্রবল মানসিকতা, চাই সেই প্রদানকারী যেই হোক না কেন!!
(খণ্ড: ১) আত-তাহযীরু মিন ওয়াসাইলিত তানসীর (পৃষ্ঠা: ১৩)
وأيا كان الملقى!! ومن أساليبهم كذلك التنصير عبر وسائل الإعلام: وذلك من خلال الإذاعات الموجهة للعالم الإسلامي، إضافة إلى طوفان البث المرئي عبر القنوات الفضائية في السنوات الأخيرة، فضلا عن الصحف والمجلات والنشرات الصادرة بأعداد هائلة. . وهذه الوسائل الإعلامية: المرئية، والمسموعة، والمقروءة كلها تشترك في دفع عجلة التنصير من خلال مسالك عدة:

أ - الدعوة إلى النصرانية بإظهار مزاياها الموهومة، والرحمة والشفقة بالعالم أجمع.
শ্রোতা বা গ্রহীতা যিনিই হোন না কেন!! তাদের অন্যতম একটি কৌশল হলো গণমাধ্যমের সাহায্যে খ্রিস্টানীকরণ: আর এটি সম্পন্ন করা হয় মুসলিম বিশ্বের প্রতি লক্ষ্য করে পরিচালিত রেডিও সম্প্রচারের মাধ্যমে, এর পাশাপাশি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোর মাধ্যমে দৃশ্যমান প্রচারণার যে প্লাবন বয়ে যাচ্ছে তার মাধ্যমে, তদুপরি বিপুল সংখ্যায় প্রকাশিত সংবাদপত্র, সাময়িকী এবং প্রচারপত্র তো রয়েছেই। এই সকল দৃশ্যমান, শ্রবণযোগ্য এবং পঠনযোগ্য গণমাধ্যমসমূহ বিভিন্ন পন্থায় খ্রিস্টানীকরণের চাকা সচল করতে একযোগে কাজ করে:

ক - খ্রিস্টধর্মের কাল্পনিক শ্রেষ্ঠত্ব এবং সমগ্র বিশ্বের প্রতি দয়া ও মমতা প্রদর্শনের মাধ্যমে এর প্রতি আহ্বান জানানো।
(খণ্ড: ১) আত-তাহযীরু মিন ওয়াসাইলিত তানসীর (পৃষ্ঠা: ১৪)
ب - إلقاء الشبهات على المسلمين في عقيدتهم وشعائرهم وعلاقاتهم الدينية.

جـ - نشر العري والخلاعة وتهييج الشهوات بغية الوصول إلى انحلال المشاهدين، وهدم أخلاقهم، ودك عفتهم، وذهاب حيائهم، وتحويل هؤلاء المنحلين إلى عباد شهوات، وطلاب متع رخيصة، فيسهل بعد ذلك دعوتهم إلى أي شيء، حتى لو كان إلى الردة والكفر بالله - والعياذ بالله - وذلك بعد أن خبت جذوة الإيمان في القلوب، وانهار حاجز الوازع الديني
খ - মুসলমানদের আকিদা, ধর্মীয় রীতিনীতি এবং তাদের ধর্মীয় সম্পর্কের বিষয়ে তাদের মাঝে সংশয় ও সন্দেহ নিক্ষেপ করা।

গ - নগ্নতা ও অশ্লীলতা ছড়িয়ে দেওয়া এবং কুপ্রবৃত্তি জাগ্রত করা, যার লক্ষ্য হলো দর্শকদের চারিত্রিক অবক্ষয় ঘটানো, তাদের নৈতিকতা ধ্বংস করা, তাদের সতীত্ব ধূলিসাৎ করা এবং তাদের লজ্জা-হায়া বিলীন করে দেওয়া। এর মাধ্যমে এই অবক্ষয়গ্রস্ত ব্যক্তিদের প্রবৃত্তির দাসে এবং সস্তা ভোগের অন্বেষীতে পরিণত করা হয়, যার ফলে পরবর্তীতে তাদের যেকোনো কিছুর দিকেই আহ্বান করা সহজ হয়ে যায়; এমনকি তা যদি ধর্মত্যাগ কিংবা আল্লাহর সাথে কুফরি করার মতো বিষয়ও হয়—আল্লাহর কাছে এ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আর এটি ঘটে মূলত অন্তরে ঈমানের শিখা নির্বাপিত হওয়ার পর এবং ধর্মীয় বিবেকের বাধার প্রাচীর ধসে পড়ার পর।
(খণ্ড: ১) আত-তাহযীরু মিন ওয়াসাইলিত তানসীর (পৃষ্ঠা: ১৫)
في النفوس.

* وهناك وسائل أخرى للتنصير يدركها الناظر ببصيرة في أحوال العالم الإسلامي، نتركها اختصارا، إذ المقصود ههنا التنبيه لا الحصر، وإلا فالأمر كما قال الله عز وجل: {وَيَمْكُرُونَ وَيَمْكُرُ اللَّهُ وَاللَّهُ خَيْرُ الْمَاكِرِينَ} [الأنفال: 30] وكما قال سبحانه: {يُرِيدُونَ أَنْ يُطْفِئُوا نُورَ اللَّهِ بِأَفْوَاهِهِمْ وَيَأْبَى اللَّهُ إِلَّا أَنْ يُتِمَّ نُورَهُ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ} [التوبة: 32]

 

‌‌[واجب المسلمين تجاه ذلك]

تلك مكائد المنصرين، وهذا مكرهم لإضلال المسلمين!! فما واجب المسلمين
অন্তরে।

* খ্রিস্টধর্ম প্রচারের আরও অনেক মাধ্যম রয়েছে যা মুসলিম বিশ্বের পরিস্থিতির প্রতি অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন পর্যবেক্ষক মাত্রই উপলব্ধি করতে পারেন। সংক্ষেপ করার খাতিরে আমরা সেগুলো উল্লেখ করছি না, যেহেতু এখানে উদ্দেশ্য হলো সতর্ক করা, কোনো পরিসংখ্যান প্রদান করা নয়। অন্যথায় বিষয়টি তেমনই যেমনটি আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেছেন: {তারা চক্রান্ত করে আর আল্লাহও কৌশল করেন; আর আল্লাহ হলেন শ্রেষ্ঠতম কৌশলী} [আনফাল: ৩০] এবং যেমনটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: {তারা তাদের মুখের ফুৎকারে আল্লাহর নূরকে নিভিয়ে দিতে চায়, কিন্তু আল্লাহ তাঁর নূরকে পূর্ণতা দান করা ছাড়া অন্য কিছু চান না, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে} [তাওবা: ৩২]

 

‌‌[এর প্রেক্ষিতে মুসলিমদের দায়িত্ব ও কর্তব্য]

এগুলোই হলো খ্রিস্টধর্ম প্রচারকদের ষড়যন্ত্র এবং মুসলিমদের বিভ্রান্ত করার জন্য তাদের অপকৌশল!! এমতাবস্থায় মুসলিমদের ওপর কী কর্তব্য বর্তায়?
(খণ্ড: ১) আত-তাহযীরু মিন ওয়াসাইলিত তানসীর (পৃষ্ঠা: ১৬)
تجاه ذلك؟ وكيف يكون التصدي لتلك الهجمات الشرسة على الإسلام والمسلمين؟ لا شك أن المسئولية كبيرة ومشتركة بين المسلمين؛ أفرادا وجماعات، حكومات وشعوبا للوقوف أمام هذا الزحف المسموم الذي يستهدف كل فرد من أفراد هذه الأمة المسلمة؛ كبيرا كان أو صغيرا، ذكرا أو أنثى، وحسبنا الله ونعم الوكيل، ويمكننا القول فيما يجب أداؤه على سبيل الإجمال - مع التسليم بأن لكل حال وواقع ما يناسبه من الإجراءات والتدابير الشرعية - ما يلي:

এর বিপরীতে কী করণীয়? এবং ইসলাম ও মুসলিমদের ওপর পরিচালিত সেই হিংস্র আক্রমণগুলোর মোকাবিলা কীভাবে করা হবে? এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মুসলিমদের ব্যক্তি ও গোষ্ঠী, সরকার ও জনগণ—সবার ওপরই এই বিষাক্ত অগ্রাভিযানের সামনে রুখে দাঁড়ানোর এক বিশাল ও যৌথ দায়িত্ব রয়েছে, যা এই মুসলিম উম্মাহর প্রতিটি সদস্যকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে; সে বড় হোক বা ছোট, পুরুষ হোক বা নারী। আল্লাহ-ই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক। যা পালন করা আবশ্যক সে সম্পর্কে সামগ্রিকভাবে নিম্নোক্ত কথাগুলো বলা যেতে পারে—এ কথা স্বীকার করে নিয়ে যে, প্রতিটি অবস্থা ও বাস্তবতার জন্য তার উপযোগী শারঈ (شرعية) ব্যবস্থা ও পদক্ষেপ রয়েছে—তাহলো নিম্নরূপ:

(খণ্ড: ১) আত-তাহযীরু মিন ওয়াসাইলিত তানসীর (পৃষ্ঠা: ১৭)
1 - تأصيل العقيدة الإسلامية في نفوس المسلمين من خلال مناهج التعليم، وبرامج التربية بصفة عامة، مع التركيز على ترسيخها في قلوب الناشئة خاصة، في المدارس ودور التعليم الرسمية والأهلية.

2 - بث الوعي الديني الصحيح في طبقات الأمة جميعا، وشحن النفوس بالغيرة على الدين وحرماته ومقدساته.

3 - التأكيد على المنافذ التي يدخل منها النتاج التنصيري من أفلام ونشرات
1 - শিক্ষা কারিকুলাম এবং সাধারণ শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে মুসলিমদের মানসপটে ইসলামি আকিদার ভিত্তি স্থাপন করা, বিশেষ করে সরকারি ও বেসরকারি স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নবীন প্রজন্মের হৃদয়ে তা বদ্ধমূল করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা।

2 - উম্মাহর সকল স্তরের মানুষের মাঝে সঠিক ধর্মীয় সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়া এবং দ্বীন, এর মর্যাদা ও পবিত্র বিষয়সমূহের প্রতি আত্মমর্যাদাবোধের মাধ্যমে মানুষের অন্তরকে উজ্জীবিত করা।

3 - চলচ্চিত্র এবং প্রচারপত্রের মতো যেসব পথ দিয়ে খ্রিস্টান মিশনারিদের প্রচারণা প্রবেশ করে, সেগুলোর বিষয়ে সজাগ থাকা ও গুরুত্বারোপ করা।
(খণ্ড: ১) আত-তাহযীরু মিন ওয়াসাইলিত তানসীর (পৃষ্ঠা: ১৮)
ومجلات وغيرها؛ بعدم السماح لها بالدخول، ومعاقبة كل من يخالف ذلك بالعقوبات الرادعة.

4 - تبصير الناس وتوعيتهم بمخاطر التنصير وأساليب المنصرين وطرائقهم؛ للحذر منها، وتجنب الوقوع في شباكها.

5 - الاهتمام بجميع الجوانب الأساسية في حياة الإنسان المسلم، ومنها الجانب الصحي والتعليمي على وجه الخصوص، إذ دلت الأحداث أنهما أخطر منفذين عبر من خلالهما النصارى إلى قلوب
এবং সাময়িকী ও অন্যান্য বিষয়াদি; সেগুলোর প্রবেশের অনুমতি না দেওয়া এবং এর বিধান লঙ্ঘনকারী প্রত্যেককে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে দণ্ডিত করা।

৪ - মানুষকে খ্রিস্টানীকরণের বিপদ এবং মিশনারিদের বিভিন্ন কৌশল ও পন্থা সম্পর্কে সচেতন ও সতর্ক করা; যেন সেগুলো থেকে সাবধান থাকা যায় এবং তাদের জালে আটকা পড়া থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

৫ - একজন মুসলিমের জীবনের সকল মৌলিক দিকের প্রতি গুরুত্বারোপ করা, বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের প্রতি; কারণ ঘটনাবলি প্রমাণ করেছে যে, এ দুটি হলো সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রবেশপথ যার মাধ্যমে খ্রিস্টানরা হৃদয়ে প্রবেশের সুযোগ পায়।
(খণ্ড: ১) আত-তাহযীরু মিন ওয়াসাইলিত তানসীর (পৃষ্ঠা: ১৯)
الناس وعقولهم.

6 - أن يتمسك كل مسلم في أي مكان على وجه الأرض بدينه وعقيدته مهما كانت الظروف والأحوال، وأن يقيم شعائر الإسلام في نفسه ومن تحت يده حسب قدرته واستطاعته، وأن يكون أهل بيته محصنين تحصينا ذاتيا لمقاومة كل غزو ضدهم يستهدف عقيدتهم وأخلاقهم.

7 - الحذر من قبل كل فرد وأسرة من السفر إلى بلاد الكفار إلا لحاجة شديدة؛
মানুষ এবং তাদের বিবেক-বুদ্ধি।

৬ - পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে বসবাসকারী প্রত্যেক মুসলিমের জন্য তার ধর্ম ও আকিদা (عقيدة)-র ওপর অবিচল থাকা আবশ্যক, পরিস্থিতি ও অবস্থা যা-ই হোক না কেন; এবং স্বীয় সাধ্য ও সক্ষমতা অনুযায়ী নিজের মধ্যে ও নিজের অধীনস্থদের মাঝে ইসলামের নিদর্শনসমূহ (شعائر) কায়েম করা; আর তার পরিবারের সদস্যদের আদর্শিকভাবে এমন সুরক্ষিত করা যাতে তারা তাদের আকিদা (عقيدة) ও নৈতিকতাকে লক্ষ্য করে পরিচালিত যেকোনো আগ্রাসন প্রতিহত করতে পারে।

৭ - অত্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত কাফিরদের ভূখণ্ডে ভ্রমণের ব্যাপারে প্রত্যেক ব্যক্তি ও পরিবারের সতর্ক থাকা;
(খণ্ড: ১) আত-তাহযীরু মিন ওয়াসাইলিত তানসীর (পৃষ্ঠা: ২০)
كعلاج، أو علم ضروري لا يوجد في البلاد الإسلامية، مع الاستعداد لدفع الشبهات والفتنة في الدين الموجهة للمسلمين.

8 - تنشيط التكافل الاجتماعي بين المسلمين والتعاون بينهم، فيراعي الأثرياء حقوق الفقراء، ويبسطون أيديهم بالخيرات والمشاريع النافعة لسد حاجات المسلمين، حتى لا تمتد إليهم أيدي النصارى الملوثة مستغلة حاجتهم وفاقتهم.
চিকিৎসা হিসেবে, অথবা এমন কোনো প্রয়োজনীয় জ্ঞান যা মুসলিম দেশগুলোতে বিদ্যমান নেই, সাথে সাথে মুসলিমদের প্রতি লক্ষ্য করে দ্বীনের ব্যাপারে উত্থাপিত সংশয় ও ফিতনা প্রতিহত করার প্রস্তুতি থাকা।

৮ - মুসলিমদের মাঝে সামাজিক সংহতি ও পারস্পরিক সহযোগিতাকে গতিশীল করা, ফলে বিত্তবানরা দরিদ্রদের অধিকারের প্রতি লক্ষ্য রাখবে এবং মুসলিমদের প্রয়োজন পূরণের লক্ষ্যে কল্যাণকর কাজ ও জনহিতকর প্রকল্পসমূহে অকাতরে দান করবে, যাতে তাদের অভাব ও দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে খ্রিস্টানদের কলুষিত হাত তাদের দিকে প্রসারিত হতে না পারে।
(খণ্ড: ১) আত-তাহযীরু মিন ওয়াসাইলিত তানসীর (পৃষ্ঠা: ২১)
وختاما: نسأل الله الكريم بأسمائه الحسنى وصفاته العلا أن يجمع شمل المسلمين، وأن يؤلف بين قلوبهم، ويصلح ذات بينهم، ويهديهم سبل السلام. وأن يحميهم من مكائد الأعداء، ويعيذهم من شرورهم، ويجنبهم الفواحش والفتن ما ظهر منها وما بطن، إنه أرحم الراحمين.

اللهم من أراد الإسلام والمسلمين بسوء فأشغله بنفسه، واردد كيده في نحره، وأدر عليه دائرة السوء، إنك على كل شيء قدير.
পরিশেষে: আমরা মহান আল্লাহর নিকট তাঁর সুন্দরতম নামসমূহ ও সুউচ্চ গুণাবলির উসিলায় প্রার্থনা করি যে, তিনি যেন মুসলিমদের বিচ্ছিন্নতাকে ঐক্যে রূপান্তরিত করেন, তাদের অন্তরসমূহের মধ্যে প্রীতি স্থাপন করেন, তাদের পারস্পরিক অবস্থার সংশোধন করেন এবং তাদেরকে শান্তির পথে পরিচালিত করেন। আর তিনি যেন তাদেরকে শত্রুদের ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করেন, তাদের অনিষ্ট হতে আশ্রয় দান করেন এবং তাদেরকে প্রকাশ্য ও গোপন যাবতীয় অশ্লীলতা ও ফিতনা থেকে দূরে রাখেন; নিশ্চয়ই তিনি পরম দয়ালু।

হে আল্লাহ! যে ব্যক্তি ইসলাম ও মুসলিমদের কোনো অনিষ্টের পরিকল্পনা করে, আপনি তাকে তার নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত রাখুন, তার চক্রান্ত তার নিজের ওপরই ফিরিয়ে দিন এবং তার ওপর অশুভ পরিণতির চক্র আবর্তিত করুন; নিশ্চয়ই আপনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান।
(খণ্ড: ১) আত-তাহযীরু মিন ওয়াসাইলিত তানসীর (পৃষ্ঠা: ২২)
سبحان ربك رب العزة عما يصفون، وسلام على المرسلين، والحمد لله رب العالمين.

اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء
আপনার প্রতিপালক, যিনি সম্মানের অধিকারী, তারা যা বর্ণনা করে তা থেকে তিনি পবিত্র। এবং রাসুলগণের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। আর সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটি