(খণ্ড: ১) তাহযিবুত তাহযিব - ত মাআরিফা (পৃষ্ঠা: -)
تهذيب التهذيب - ط المعرفة   (ابن حجر العسقلاني)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: تهذيب التهذيب

المؤلف: شهاب الدين أحمد بن علي الشهير بـ ابن حجر العسقلاني (773 - 852 هـ)

المحقق: خليل مأمون شيحا، عمر السلامي، علي بن مسعود

الناشر: دار المعرفة - بيروت

الطبعة: الأولى، 1417 هـ - 1996 م

عدد الأجزاء: 6

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 12 ربيع الآخر 1445

তাহযীবুত তাহযীব - দারুল মা'রিফাহ সংস্করণ   (ইবনে হাজার আল-আসকালানী)

বিভাগ: জীবনী এবং স্তরসমূহ


গ্রন্থ: তাহযীবুত তাহযীব

লেখক: শিহাবুদ্দীন আহমাদ ইবনে আলী, যিনি ইবনে হাজার আল-আসকালানী নামে পরিচিত (৭৭৩ - ৮৫২ হিজরী)

সম্পাদক: খলীল মামুন শীহা، উমর আস-সালামী، আলী ইবনে মাসউদ

প্রকাশক: দারুল মা'রিফাহ - বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৭ হিজরী - ১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৬

[গ্রন্থের পৃষ্ঠাসংখ্যা মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ১২ রবিউস সানী ১৪৪৫

(খণ্ড: ١) তাহযিবুত তাহযিব - ত মাআরিফা (পৃষ্ঠা: ٥)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌تقديم

الحمد لله ذي الإكرام والجلال، حمدًا كثيرًا على ممر الأزمان والأجيال، ثم الصلاة والسلام على من خصه الله بحسن الكمال، وعلى آله الذين بمحبتهم يكرم المرء بالوصال، وعلى أصحابه الذين آزروه ونصروه في كل حال، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم المآل.

أما بعد:

فإن الله سبحانه وتعالى قيد لحفظ سنة نبيه صلى الله عليه وسلم رجال صدق وهمة عالية وحمية قوية، قاموا بدراسة حملة العلم النبوي الشربف فرحلوا ونقدوا وكشفوا ونقبوا ليميزوا بين أهل الباطل وأهل الحق، فقيدوا من أجل ذلك علمًا عُرف بعد ذلك بالجرح والتعديل، كشفوا من خلاله زيف الأحاديث ودخيلها صحيحها وضعيفها، فنصروا هذا الدين القويم، نسأل الله عز وجل أن يتغمدهم برحمته الواسعة يوم القيامة.

لذلك فإننا نضع بين يدي إخواننا كتاب "تهذيب التهذيب" في علم الجرح والتعديل، والذي يُعد أكبر موسوعة في هذا المجال، لمؤلفه الإمام ابن حجر العسقلاني رحمه الله تعالى سائلين المولى سبحانه أن يتقبل منا عملنا المتواضع، وأن يغفر لمؤلفه ومحققه ومصححه وناشره ومالكه والناظر فيه إنه سميع الدعاء ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم.

وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين

 

أفقر خلق الله إلى رحمة الله

خليل بن مأمون شيحا

بيروت 25 أيلول 1995 م

الموافق 1 جماد الأول 1416 هـ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

‌‌ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা মহিমা ও সম্মানের অধিকারী আল্লাহর জন্য; যুগের আবর্তন ও প্রজন্মের পর প্রজন্মে তাঁর প্রতি অগণিত প্রশংসা। অতঃপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, যাঁকে আল্লাহ সুন্দরতম পূর্ণতা দ্বারা বিশিষ্ট করেছেন; এবং তাঁর পরিবারের ওপর, যাঁদের ভালোবাসার মাধ্যমে ব্যক্তি নৈকট্যের সম্মানে ভূষিত হয়; এবং তাঁর সাহাবীদের ওপর, যাঁরা সর্বাবস্থায় তাঁকে সাহায্য ও সহযোগিতা করেছেন; আর কিয়ামত পর্যন্ত যাঁরা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর নবীর (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) সুন্নাহ সংরক্ষণের জন্য এমন কিছু সত্যনিষ্ঠ, উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং প্রবল ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি নিয়োজিত করেছেন, যাঁরা পবিত্র নববী ইলমের বাহকদের বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করেছেন। তাঁরা দেশ-দেশান্তরে সফর করেছেন, চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছেন, সত্য উন্মোচন করেছেন এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান করেছেন যাতে বাতিলপন্থী ও সত্যপন্থীদের মধ্যে পার্থক্য করা যায়। এই মহৎ উদ্দেশ্যে তাঁরা এমন এক ইলম সংকলন করেছেন যা পরবর্তীতে ‘জারহ ওয়া তাদীল’ (সমালোচনা ও যাচাই শাস্ত্র) নামে পরিচিতি লাভ করেছে। এর মাধ্যমে তাঁরা হাদিসের কৃত্রিমতা ও প্রক্ষিপ্ত বিষয়গুলো এবং এর সহিহ ও জয়িফ বর্ণনাগুলোকে উন্মোচন করেছেন। এভাবে তাঁরা এই সুদৃঢ় দ্বীনকে রক্ষা করেছেন। আমরা আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা-র কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন কিয়ামতের দিন তাঁদেরকে তাঁর প্রশস্ত রহমতে আবৃত করে নেন।

তাই আমরা আমাদের ভাইদের হাতে ‘তাহজিবুত তাহজিব’ কিতাবটি তুলে দিচ্ছি, যা ‘জারহ ওয়া তাদীল’ শাস্ত্রের সর্ববৃহৎ বিশ্বকোষ হিসেবে বিবেচিত। এর লেখক হলেন ইমাম ইবনে হাজার আল-আসকালানি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)। আমরা মহান রবের কাছে প্রার্থনা করছি, তিনি যেন আমাদের এই নগণ্য আমল কবুল করেন এবং এর লেখক, গবেষক, সংশোধক, প্রকাশক, মালিক ও পাঠককে ক্ষমা করে দেন। নিশ্চয়ই তিনি প্রার্থনা শ্রবণকারী। আর সুউচ্চ ও মহান আল্লাহর সাহায্য ছাড়া আর কোনো শক্তি বা ক্ষমতা নেই।

আমাদের শেষ কথা হলো, সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

 

আল্লাহর রহমতের মুখাপেক্ষী তাঁর সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে নিঃস্ব

খলিল বিন মামুন শিহা

বৈরুত, ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দ

মোতাবেক ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪১৬ হিজরি
(খণ্ড: ١) তাহযিবুত তাহযিব - ত মাআরিফা (পৃষ্ঠা: ٧)
‌‌سندنا بكتاب "تهذيب التهذيب" للمؤلف ابن حجر رحمه الله

يقول الفقير راجي رحمة الرحمن، خليل بن مأمون شيحا اللبناني:

أروي كتاب "تهذيب التهذيب" للحافظ ابن حجر إجازة عن بقية السلف الصالح بالديار اللبنانية وشيخ الإسناد فيها المعمّر الشيخ محمد أمين الداعوق حفظه الله، عن السيد الشريف الشيخ محمد عبد الحي الكتاني، عن الشهاب أحمد بن صالح السويدي البغدادي، عن السيد مرتضى الزبيدي، عن محمد بن سنة، عن مولاي شريف، عن محمد بن أركماش، عن سيد الحفاظ أمير المؤمنين في الحديث الشريف شهاب الدين أحمد بن علي الشهير بابن حجر العسقلاني مؤلف الكتاب(1).

--------------------------------------------

(1) وهذا السند أعلى ما يوجد في الدنيا، فيكون بيني وبين الحافظ ابن حجر سبع وسائط.

‌‌ইমাম ইবনে হাজার রাহিমাহুল্লাহ রচিত "তাহযীবুত তাহযীব" গ্রন্থের প্রতি আমাদের সনদ

পরম করুণাময় আল্লাহর রহমতের প্রত্যাশী মুখাপেক্ষী বান্দা খলীল ইবনে মামুন শীহা আল-লুবনানি বলছেন:

আমি হাফেজ ইবনে হাজারের "তাহযীবুত তাহযীব" গ্রন্থটি ইজাযাহ সূত্রে লেবানন ভূখণ্ডের নেককার পূর্বসূরিদের অবশিষ্টাংশ এবং সেখানকার উচ্চ সনদধারী প্রবীণ শায়খ মুহাম্মদ আমীন আদ-দাঊক (আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন) থেকে বর্ণনা করছি; তিনি সায়্যিদ শরীফ শায়খ মুহাম্মদ আব্দুল হাই আল-কাত্তানি থেকে, তিনি শিহাব আহমাদ ইবনে সালিহ আস-সুওয়াইদি আল-বাগদাদি থেকে, তিনি সায়্যিদ মুরতাদা আয-যাবিদি থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে সুন্নাহ থেকে, তিনি মাওলায় শরীফ থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আরকამაშ থেকে, আর তিনি হাফেজদের সরদার ও হাদিসশাস্ত্রে আমিরুল মুমিনিন শিহাবুদ্দিন আহমাদ ইবনে আলী—যিনি ইবনে হাজার আল-আসকালানি নামে প্রসিদ্ধ এবং এই গ্রন্থের রচয়িতা—তার থেকে বর্ণনা করেছেন(১)।

--------------------------------------------

(১) এই সনদটি বর্তমানে বিশ্বে বিদ্যমান সর্বোচ্চ পর্যায়ের সনদ; এর ফলে আমার এবং হাফেজ ইবনে হাজারের মাঝে মাত্র সাতজন মধ্যস্থতাকারী রয়েছেন।

(খণ্ড: ١) তাহযিবুত তাহযিব - ত মাআরিফা (পৃষ্ঠা: ٩)
‌‌منهجنا في تحقيق الكتاب

إِنَّ الهَدَفَ الأَسَاسِي مِنْ التَّحْقِيقِ هُوَ أَنْ نُقَدِّمَ لِلْقَارِئِ وَالبَاحِثِ النَّصَّ بِشَكْلٍ صَحِيْحٍ وذلِكَ أَوْلًا، وثَانِيًا أَنْ نُسَهِّلَ عَلَيْهِما الاسْتِفَادَةَ مِنَ الْكِتَابِ بِشَكْلٍ أَفْضَلَ بِإِذْنِ اللهِ تَعَالَى.

وَيَتَلَخَّصُ الْمَنْهَجُ والخِطَّةُ بِمَا يَلِي:

قُمْنَا بِتَقْدِيمِ الْكِتَابِ بِنَبذَةٍ عَنْ:

1 - الإِسْنَادُ مِنَ الدِّيْنِ، واهْتِمَامُ الْأَئِمَّةِ بِرِجَالِ السَّنَدِ.

2 - اهْتِمَامُ الْأئِمَّةِ بِكُتُبِ رِجَالِ السِّتَّةِ.

3 - شَرْطُ مَنْ يُعْتَمَدُ قَوْلُهُ فِي الْجَرْحِ والتَّعْدِيلِ.

4 - ذِكْرُ مَنْ يُعْتَمَدُ قَوْلُهُ فِي الْجَرْحِ والتَّعْدِيلِ.

5 - مَشْرُوعِيَّةُ الْجَرْحِ والتَّعْدِيلِ وَأَنَّها لَيْسَتْ بِغِيْبَةٍ.

6 - أَلْفَاظُ الْجَرْحِ وَالتعْدِيْلِ ومَراتِبُهُمَا ودَرَجَاتُ أَلْفَاظِهِمَا مِنْ خِلَالِ كَتَابِ: "تهذيب التهذيب".

7 - تَرْجَمَةُ الْإِمَامِ الحَافِظِ ابْنِ حَجَرٍ العَسْقَلَانِيِّ.

8 - المَرَاجِعُ والمَصَادِرُ الَّتِي اعْتَمَدْنَا عَلَيْهَا فِي تَحْقِيقِ الكِتَابِ.

ب - اعْتَنَيْنَا بِنَصِّ: "تهذيب التهذيب"، فَقُمْنَا بمُقَابَلَتِهِ عَلَى كِتَابِ: "تهذيب الكمال"، وكِتَابِ: "تقريب التهذيب"، وكِتابِ: "خلاصة التذهيب"، وغَيْرِهِمْ.

ج - وَضَعْنَا لِلنَّصِّ عَلَامَات تَرْقِيْم؛ لِيَظْهَرَ بِشَكْلِهِ الصَّحِيْحِ.

د - مَيَّزْنَا الْآيَاتِ الكَرِيمَةَ بِوَضْعِهَا ضُمْنَ قَوْسَيْنِ مُزَهَّرَيْنِ هكَذا { … } إِنْ وُجِدَت.

هـ - مَيَّزْنَا الأَحَادِيْثَ النَّبَوِيَّةِ الشَّرِيفَةِ بِقَوْسَيْنِ هكَذا " … " إِنْ وُجِدَت.
কিতাবটি সম্পাদনায় আমাদের পদ্ধতি

সম্পাদনার মূল লক্ষ্য হলো প্রথমত পাঠক ও গবেষকের নিকট মূল পাঠ্যটিকে সঠিক রূপে উপস্থাপন করা এবং দ্বিতীয়ত মহান আল্লাহর ইচ্ছায় তাদের জন্য কিতাবটি থেকে উত্তমভাবে উপকৃত হওয়া সহজতর করা।

সম্পাদনা পদ্ধতি ও কর্মপরিকল্পনার সারসংক্ষেপ নিম্নরূপ:

আমরা কিতাবটির শুরুতে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর একটি সংক্ষিপ্ত ধারণা পেশ করেছি:

১ - সনদ দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত এবং সনদের বর্ণনাকারীদের প্রতি ইমামগণের গুরুত্বারোপ।

২ - কুতুবুস সিত্তা-র বর্ণনাকারীদের জীবনী বিষয়ক কিতাবসমূহের প্রতি ইমামগণের গুরুত্বারোপ।

৩ - জারহ ও তা'দীলের (বর্ণনাকারীর সমালোচনা ও প্রশংসা) ক্ষেত্রে যার বক্তব্য নির্ভরযোগ্য হওয়ার শর্তাবলি।

৪ - জারহ ও তা'দীলের ক্ষেত্রে যাদের বক্তব্য নির্ভরযোগ্য তাদের বিবরণ।

৫ - জারহ ও তা'দীলের বৈধতা এবং এটি যে গীবত (পরনিন্দা) নয় তার বর্ণনা।

৬ - "তাহযীবুত তাহযীব" কিতাবের আলোকে জারহ ও তা'দীলের শব্দাবলি, তাদের স্তর এবং শব্দসমূহের মর্যাদা।

৭ - ইমাম হাফেয ইবনে হাজার আসকালানী-র জীবনী।

৮ - কিতাবটি সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমরা যেসব রেফারেন্স ও উৎসগ্রন্থের ওপর নির্ভর করেছি।

খ - আমরা "তাহযীবুত তাহযীব"-এর মূল পাঠের প্রতি বিশেষ যত্নবান হয়েছি; তাই আমরা এটিকে "তাহযীবুল কামাল", "তাকরীবুত তাহযীব", "খুলাসাতুত তাযহীব" এবং অন্যান্য কিতাবের সাথে মিলিয়ে পাঠান্তর যাচাই করেছি।

গ - মূল পাঠ্যটি যেন তার সঠিক রূপে প্রকাশ পায়, সেজন্য আমরা বিরামচিহ্ন ব্যবহার করেছি।

ঘ - আমরা কিতাবে বিদ্যমান পবিত্র আয়াতসমূহকে বিশেষ বন্ধনীর { … } মাঝে রেখে পৃথক করেছি।

ঙ - আমরা কিতাবে বিদ্যমান সম্মানিত নববী হাদীসসমূহকে উদ্ধৃতি চিহ্নের " … " মাঝে রেখে পৃথক করেছি।
(খণ্ড: ١) তাহযিবুত তাহযিব - ত মাআরিফা (পৃষ্ঠা: ١٠)
و - اعْتَمَدْنَا عَلَى الْحَاصِرَتَيْنِ هكَذا [ … ] لِضَبْطِ الْخَطَإِ المَوْجُودِ فِي الطَّبْعَةِ الْهِنْدِيَّةِ، إِمَّا مِنْ "تهذيب الكمال"، أَوْ مِنْ غَيرِهِ.

ز - اسْتَدْرَكْنَا البَيَاضَ المَوْجُودَ فِي الطبْعَةِ الهِنْدِيةِ بِقَدْرِ الإِمْكَانِ بِرُجُوعِنَا إِلَى مَصَادِرِ الْكِتَابِ الَّتِي اعْتَمَدَ عَلَيْها المُؤَلِّفُ.

ح - وَضَعْنَا اسْمَ المُتَرْجَمِ لَهُ بِاللَّوْنِ الْأحمَر، لإِبْرَازِهِ عَنْ النَّصِّ.

ط - جَعَلْنَا كَلِمَة: "روى"، وَكَلِمَة: "روى عنه"، وكَلِمَة: "قلت" بِاللَّوْنِ الْأَحْمَر، وذلِكَ تَسْهِيْلًا لِلْبَاحِثِ فِي الْرُّجْوعِ إِلَى مَعْلُومَتِهِ.

ي - وَضَعْنَا عَلَى هَامِشِ صَفَحَاتِ الْكِتَابِ أَرْقَامَ صَفَحَاتِ الطبْعَةِ الهِنْدِيةِ، لِيَتَسَنَّى لِلْقَارِئِ الاسْتِفَادَةُ مِنَ الطَّبْعَتَيْنِ.

ك - وَضَعْنَا فِي أَعْلَى الصَّفَحاتِ تِرْوِيسَاتٍ تُسَاعِدُ البَاحِثَ وَالقَارِئَ فِي الرُّجُوعِ إِلَى الْكِتَابِ لِنَيْلِ مَطْلَبِهِ بِالسُّرْعَةِ المَطْلُوبَةِ.

ل - وَثَّقْنَا أَقْوَالَ أَئِمَّةِ الْجَرْحِ والتَّعْدِيلِ، الَّذِيْنَ اعْتَمَدَ عَلَيْهِمُ الْإِمَامُ ابْنُ حَجَرٍ فِي كِتَابِهِ، وذلِكَ بِالرُّجُوعِ إِلَى مَصَادِرِهِمُ الخَاصَّةِ بِهِمْ، وَالَّتِي أَلَّفُوهَا مِنْ أَجْلِ ذلِكَ.

فَإِنْ لَمْ نَجِدْ كُتُبَهُمْ - أَمْثَالُ الْإِمَامِ الحَاكِمِ أَبِي أَحْمَدَ، والْإِمَامِ ابْنِ القَطَّانِ، والإِمَامِ ابْنِ قَانِعٍ، وابْنِ يُونُسَ، وَغَيْرِهِمْ - لَمْ نُوَثِّقْهُمْ مِنَ الْكُتُبِ الْأخرَى، وَالَّتِي تَعْرِضُ أَقْوَالَهُمْ؛ لِأنَّا اعْتَبَرْنَا أَنَّ صَاحِبَ الْكِتَابِ أَوْلَى بِالرُّجُوعِ إِلَى كِتَابِهِ وَالْوُقُوفِ عَلَى قَوْلِهِ.

وَإِلَيْكَ شَرْحُ بَعْضِ الْأَسْمَاءِ الخَاصَّةِ بِالْكُتُبِ، وَالَّتِي وَرَدَتْ فِي الْهَامِشِ.

فَإِذا قُلْنَا فِي الْهَامِشِ:

1 - الجرح: أي: كتاب: "الجرح والتعديل" لابن أبي حاتم.

2 - الثقات: إذا وجد معه الجزء والصفحة فهو كتاب: "الثقات" لابن حبان.

3 - الثقات: إذا وجد رقم الصفحة فقط بدون الجزء فهو كتاب: "الثقات" للعجلي.

4 - المعرفة: أي: كتاب: "المعرفة والتاريخ" ليعقوب بن سفيان.

5 - الكامل: أي: كتاب: "الكامل في الضعفاء" لابن عدي.

6 - طبقات: إذا لم يقيد بـ "أل" التعريف فهو كتاب: "الطبقات" لابن سعد.
ও - ভারতীয় সংস্করণে বিদ্যমান ভুল সংশোধনের জন্য আমরা এই রূপ বন্ধনী [ ... ] ব্যবহার করেছি, যা হয় "তহজীবুল কামাল" থেকে অথবা অন্য কোনো উৎস থেকে নেওয়া হয়েছে।

য - লেখক যে সকল মূল উৎসের ওপর নির্ভর করেছেন, সেগুলোতে প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে আমরা ভারতীয় সংস্করণে বিদ্যমান শূন্যস্থানগুলো যথাসম্ভব পূরণ করেছি।

হ - মূল পাঠ থেকে পৃথক করে দেখানোর জন্য আমরা জীবনীকারদের নাম লাল রঙে লিখেছি।

ত - গবেষকদের জন্য কাঙ্ক্ষিত তথ্য খুঁজে পাওয়া সহজ করার লক্ষ্যে আমরা "বর্ণনা করেছেন", "তাঁর থেকে বর্ণনা করা হয়েছে" এবং "আমি বলেছি" শব্দগুলো লাল রঙে দিয়েছি।

ই - পাঠক যাতে উভয় সংস্করণ থেকে উপকৃত হতে পারেন, সেজন্য আমরা বইয়ের পৃষ্ঠার পার্শ্বটীকায় ভারতীয় সংস্করণের পৃষ্ঠা নম্বরগুলো বসিয়েছি।

ক - বইয়ের প্রতিটি পৃষ্ঠার ওপরে আমরা শিরোনাম যুক্ত করেছি, যা গবেষক ও পাঠকদের দ্রুত তাঁদের কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি খুঁজে পেতে সাহায্য করবে।

ল - ইমাম ইবনে হাজার তাঁর গ্রন্থে জারহ ও তা'দীল শাস্ত্রের যে সকল ইমামগণের উক্তির ওপর নির্ভর করেছেন, আমরা তাঁদের নিজস্ব গ্রন্থসমূহের দিকে প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে সেগুলোর উদ্ধৃতি যাচাই করেছি।

যদি আমরা তাঁদের মূল গ্রন্থগুলো খুঁজে না পাই—যেমন ইমাম হাকিম আবু আহমাদ, ইমাম ইবনুল কাত্তান, ইমাম ইবনু কানে', ইবনু ইউনুস এবং অন্যান্যদের—তবে আমরা অন্য কোনো গ্রন্থ থেকে সেগুলো যাচাই করিনি যা কেবল তাঁদের উক্তিগুলো উদ্ধৃত করে। কারণ আমরা মনে করি, একজন লেখকের উক্তি যাচাই করার জন্য তাঁর নিজস্ব গ্রন্থের দিকে প্রত্যাবর্তন করাই অধিকতর সমীচীন।

পার্শ্বটীকায় উল্লেখিত গ্রন্থসমূহের কিছু নির্দিষ্ট নামের ব্যাখ্যা নিচে দেওয়া হলো:

যদি আমরা পার্শ্বটীকায় বলি:

১ - আল-জারহ: অর্থাৎ ইবনে আবি হাতিমের "আল-জারহ ওয়াত-তা'দীল" গ্রন্থ।

২ - আস-সিকাত: যদি এর সাথে খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বর উল্লেখ থাকে, তবে সেটি ইবনে হিব্বানের "আস-সিকাত" গ্রন্থ।

৩ - আস-সিকাত: যদি খণ্ড নম্বর ছাড়াই শুধু পৃষ্ঠা নম্বর থাকে, তবে সেটি ইজলীর "আস-সিকাত" গ্রন্থ।

৪ - আল-মা'রিফাহ: অর্থাৎ ইয়াকুব বিন সুফিয়ানের "আল-মা'রিফাহ ওয়াত-তারীখ" গ্রন্থ।

৫ - আল-কামিল: অর্থাৎ ইবনে আদী-র "আল-কামিল ফী দুয়াফাউর রিজাল" গ্রন্থ।

৬ - তাবাকাত: যদি এর শুরুতে 'আল' যুক্ত না থাকে, তবে সেটি ইবনে সা’দের "আত-তাবাকাত" গ্রন্থ।
(খণ্ড: ١) তাহযিবুত তাহযিব - ত মাআরিফা (পৃষ্ঠা: ١١)
7 - الطبقات: إذا قيدناه بـ "أل" التعريف فهو كتاب: "الطبقات" لخليفة.

8 - التاريخ: إذا لم نذكر معه الصغير أو الكبير، يكون كتاب: "التاريخ" لخليفة.

9 - الدوري: أي: كتاب: "تاريخ ابن معين".

10 - الدارمي: أي: كتاب: "تاريخ الدارمي".

11 - العلل: إذا قيدناه بالجزء والصفحة، فهو كتاب: "العلل ومعرفة الرجال" لابن حنبل.

12 - العلل: إذا لم يقيد بالجزء والصفحة فهو كتاب: "العلل" لابن المديني.

حَاوَلْنَا بِشَكْلِ عَامٍ أَنْ نُمَيِّزَ أَسْمَاءَ الْكُتُبِ إِذَا تَشَابَهَتْ.

والله من وراء القصد.
7 - আত-তাবাকাত: যখন আমরা একে "আল" (নির্ধারক অব্যয়) দ্বারা নির্দিষ্ট করি, তখন এর দ্বারা খলীফার রচিত "আত-তাবাকাত" গ্রন্থটি উদ্দেশ্য হয়।

8 - আত-তারিখ: যদি আমরা এর সাথে 'আস-সগীর' (ছোট) বা 'আল-কাবীর' (বড়) উল্লেখ না করি, তবে এর দ্বারা খলীফার রচিত "আত-তারিখ" গ্রন্থটি উদ্দেশ্য হয়।

9 - আদ-দাওরী: অর্থাৎ, ইবনে মাঈনের রচিত "তারিখ" গ্রন্থ।

10 - আদ-দারেমী: অর্থাৎ, "তারিখে আদ-দারেমী" গ্রন্থ।

11 - আল-ইলাল: যখন আমরা একে খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বর দ্বারা নির্দিষ্ট করি, তখন এটি ইবনে হাম্বলের রচিত "আল-ইলাল ওয়া মা'রিফাতুর রিজাল" গ্রন্থ।

12 - আল-ইলাল: যখন এটি খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বর দ্বারা নির্দিষ্ট করা না হয়, তখন এটি ইবনে আল-মাদীনীর রচিত "আল-ইলাল" গ্রন্থ।

আমরা সাধারণভাবে একই ধরণের নামের গ্রন্থগুলোর মধ্যে পার্থক্য করার চেষ্টা করেছি।

আর আল্লাহই একমাত্র লক্ষ্য।
(খণ্ড: ١) তাহযিবুত তাহযিব - ত মাআরিফা (পৃষ্ঠা: ١٢)
‌‌الإسناد من الدّين واهتمام الأئمة برجال السّند

إِن الفِتَنَ الَّتِي مَرَّتْ بِهَا الْأمَّةُ - شَرَّفَها اللهُ تَعَالَى - كَانَ لَا بُدَّ لَها وَأَنْ تَهْتَمَّ بِالْإِسْنَادِ وَالسُّؤَالِ عَنْهُ مُبَكِّرًا - وَمَا ذلِكَ إِلَّا لِلذَّبِّ عَنْ هذا الدِّينِ القَويم - وخَاصّةَ في أَعْقَابِ الفِتَنِ الَّتِي ظَهَرَتْ مَعَ بِدَايَةِ خِلَافةِ الْإِمَامِ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رضي الله عنه، وبالْأَخَصِّ مَعَ نِهَايَةِ خَلَافةِ الْإِمَامِ عَليِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهُ، حَيْثُ اسْتُشْهِدَا غَدْرًا.

مِمّا أَدَّى إِلَى تَمَزُّقِ الْأمَّةِ وَتَفَرُّقِ رِجَالِها، فَفَشَى الكَذِبُ وظَهَرَ الوَضْعُ فِي حَدِيْثِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم.

فَعَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، قَالَ: لَمَّا أَحْدَثُوا تِلْكَ الْأَشْيَاءِ بَعْدَ عَلى رضي الله عنه، قَالَ رَجُل مِنْ أَصْحَابِ عَلِيٍّ: قَاتَلَهُمُ اللهُ، أَيُّ عِلْمٍ أَفْسَدُوا(1).

وَقَالَ ابْنُ سِيرِينَ: لَمْ يَكُونُوا يَسْأَلُونَ عَنِ الْإِسْنَادِ، فَلَمَّا وَقَعَتِ الفِتنَةُ، قَالُوا: سَمُّوا لَنَا رِجَالَكُمْ، فَيُنْظَرُ إلَى أَهْلِ السُّنَّةِ فَيُؤخَذُ حَدِيثُهُمْ، وَيُنْظَرُ إِلَى أَهْلِ الْبِدَعِ فَلَا يُؤْخَذُ حَدِيثُهُمْ(2).

وَلِذلِكَ أَصْبَحَ طَلَبُ الإِسْنَادِ وَالوُقُوفُ عَلَيْهِ مِنْ الدِّيْنِ وَخَصِيْصَةً فَاضِلَةً مِن خَصَائِصِ هذِهِ الْأُمَّةِ، وَسُنَّةً بَالِغَةً مِنَ السُّنَنِ.

قَال ابنُ سِيرِيْنَ: إِن هذَا الْعِلْمَ دَينٌ فَانْظُرُوا عَمَّنْ تَأَخُذُونَ دِينَكُمْ(3).

يَقُولُ الإِمَامُ السَّخَاوِيُّ(4) رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى: وَقَدْ رُوِّيْنَا مِنْ طَرِيقِ أَبِي

--------------------------------------------

(1) شرح صحيح مسلم: 1/ 40.

(2) المصدر السابق: 1/ 44.

(3) المصدر السابق: 1/ 44.

(4) فتح المغيث شرح ألفية الحديث: 3/ 3.

সনদ বা ইসনাদ দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত এবং বর্ণনাকারীদের প্রতি ইমামগণের গুরুত্বারোপ

উম্মাহ—যাকে আল্লাহ তাআলা সম্মানিত করেছেন—যে সকল ফিতনার মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত হয়েছে, তাতে শুরু থেকেই সনদ এবং এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসার প্রতি গুরুত্বারোপ করা অপরিহার্য ছিল; আর এটি ছিল এই সুদৃঢ় দ্বীনকে রক্ষার স্বার্থে। বিশেষ করে ইমাম উসমান বিন আফফান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর খিলাফতের শুরুর দিকে এবং সুনির্দিষ্টভাবে ইমাম আলী বিন আবি তালিব (কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু)-এর খিলাফতের শেষ দিকে প্রকাশিত ফিতনাগুলোর প্রেক্ষাপটে, যখন তাঁরা উভয়েই বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়ে শহীদ হন।

যার ফলে উম্মাহর ঐক্য বিনষ্ট হয় এবং এর ব্যক্তিবর্গ বিভক্ত হয়ে পড়ে। ফলে মিথ্যার প্রসার ঘটে এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদীসে জালিয়াতি বা বানোয়াট কথার অনুপ্রবেশ ঘটে।

আবু ইসহাক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন তারা আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর পরে ওইসব বিষয় উদ্ভাবন করল, তখন আলীর সঙ্গীদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বললেন: আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুন, তারা কী জ্ঞানই না নষ্ট করে দিল!(১)

ইবনে সিরীন বলেন: তারা সনদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন না, কিন্তু যখন ফিতনা প্রকাশ পেল, তখন তারা বললেন: তোমরা আমাদের কাছে তোমাদের বর্ণনাকারীদের নাম প্রকাশ করো। অতঃপর আহলে সুন্নাতদের প্রতি দৃষ্টি দেওয়া হতো এবং তাদের হাদীস গ্রহণ করা হতো, আর বিদআতীদের প্রতি দৃষ্টি দেওয়া হতো এবং তাদের হাদীস গ্রহণ করা হতো না।(২)

আর এই কারণেই সনদের অন্বেষণ ও সেটির ওপর গুরুত্ব প্রদান করা দ্বীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এই উম্মতের একটি শ্রেষ্ঠ বৈশিষ্ট্য ও একটি সুদূরপ্রসারী নীতিতে পরিণত হয়েছে।

ইবনে সিরীন বলেন: নিশ্চয় এই জ্ঞানই হলো দ্বীন, অতএব তোমরা লক্ষ্য করো কার নিকট থেকে তোমরা তোমাদের দ্বীন গ্রহণ করছ।(৩)

ইমাম সাখাবী (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা) বলেন: আমরা আবুর সূত্রে বর্ণনা করেছি...

--------------------------------------------

(১) শরহু সহীহ মুসলিম: ১/ ৪০।

(২) পূর্বোক্ত উৎস: ১/ ৪৪।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস: ১/ ৪৪।

(৪) ফাতহুল মুগীস শরহু আলফিয়াতিল হাদীস: ৩/ ৩।

(খণ্ড: ١) তাহযিবুত তাহযিব - ত মাআরিফা (পৃষ্ঠা: ١٣)
الْعَبَّاسِ(1) الدَّغُولِيِّ قَالَ: سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ حَاتِم بْنِ المُظَفَّرِ يَقُولُ: إِنَّ اللهَ أَكْرَمَ هذِهِ الأُمَّةَ وَشَرَّفَهَا وفَضَّلَها بِالإِسْنَادِ، وَلَيسَ لِأَحَّدٍ مِنَ الأمُمِ كُلِّها قَدِيمِهَا وحَدِيثِهَا إِسْنَادٌ، إنّما هو صُحُفٌ فِي أَيْدِيهِم، وقَدْ خَلَطُوا بِكُتِبِهِم أَخْبَارَهُمْ فَلَيسَ عِنْدَهُمْ تَمْيِيزٌ بَينَ مَا نَزَلَ مِنْ التَّوْرَاةِ والإِنْجِيلِ وبَيْنَ مَا أَلْحَقُوه بِكُتبِهم مِنَ الأخبَارِ الَّتِي أَخَذُوهَا عَنْ غَيْرِ الثِّقَاتِ.

وَهذِهِ الأُمَّةُ إنما تَنُصُّ الحَدِيثَ عَنِ الثِّقَةِ المَعْرُوفِ فِي زَمَانِهِ المَشْهُورِ بِالصِّدْقِ والْأَمَانَةِ عَنْ مِثْلِهِ حَتَّى تَنَاهَى أَخْبَارَهُمْ، ثمَّ يَبْحَثُونَ أَشَدَّ البَحْثِ حتَّى يَعْرِفُوا الْأَحْفَظَ فَالأَحْفَظَ، والْأَضْبَطَ فَالْأَضْبَطَ، والأَطْوَلَ مُجَالَسَةً لِمَنْ فَوْقَهُ مِمَّنْ كَانَ أَقَلَّ مُجَالسَةً، ثم يَكْتُبُونَ الحَدِيثَ مِنْ عِشْرِينَ وَجْهًا أَوْ أَكْثَرَ حتَّى يُهَذِّبُوهُ مِنَ الغَلَطِ والزَّلَلِ، ويَضْبِطُونَ حُرُوفَه ويَعُدُّوهُ عدًّا.

فَهذَا مِنْ أَفْضَلِ نِعَم اللهِ عَلَى هذِهِ الْأُمَّةِ فَلْيُوزع اللهُ شُكْرَ هذِهِ النِّعْمَةِ.

وَقَالَ أَبُو حَاتِمٍ الرَازِيُّ(2): لم يكُنْ في أُمَّةِ من الْأُمَّمِ مُنْذُ خَلَقَ اللهُ آدمَ أُمَّةٌ(3) يَحْفَظُونَ آثارَ الرُّسُلِ إلَّا فِي هذِهِ الأُمَّةِ.

وقَالَ أبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بن أَحْمَدَ(4): بَلَغَني أنّ الله خصَّ هذِهِ الأُمَّةَ بِثَلاثَةِ أَشْيَاءَ لم يُعْطِها مَنْ قَبْلَها: الإِسنادُ، [والأنسابُ، والإعرابُ](5).

وَعِنْدَ الْحَاكِمِ فِي تَرْجَمَةِ عَبدِ اللهِ بْنِ طَاهِرِ مِنْ تَارِيْخِهِ(6) بِسَنَدِهِ إِلَى إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيْمَ

--------------------------------------------

(1) هو الإمام المحدث أبو العباس محمد بن عبد الرحمن بن سابور الدغولي المتوفى سنة 325 هـ، انظر ترجمته في: تذكرة الحفاظ: 3/ 823.

(2) وهو الإمام الحافظ أبو حاتم محمد بن إدريس بن المنذر بن داود بن مهران الحنظلي الرازي المتوفى سنة 275 هـ، انظر ترجمته في تهذيب الكمال: 24/ 381.

(3) في شرح المواهب اللدنية: أمناء، 5/ 394.

(4) هو الحافظ الإمام القدوة أبو بكر محمد بن أحمد بن راشد بن معدان الثقفي الأصبهاني المتوفى سنة 309 هـ، انظر ترجمته في: تاريخ بغداد: 1/ 302، وسير أعلام النبلاء: 14/ 404، ومختصر تاريخ دمشق: 21/ 270، وتاريخ أصبهان: 2/ 243.

ولم أجد قوله هذا في هذه الكتب، ووجدتها فقط في كتاب شرح المواهب اللدنية: 5/ 395، وقال: أبو بكر محمد بن أحمد بن عبد الباقي بن منصور البغدادي المترفى سنة 489 هـ، ووَهَّمَ هذا شيخُنَا الحافظ عبدُ الفتاح أبو غدة - أطال الله تعالى لنا عمره - في حاشية كتابه: الإسناد من الدين وقال: والذي ظهر لي - أي: فضيلة الشيخ أبو غده - أنه هو: أبو بكر محمد بن أحمد بن راشد بن معدان الثقفي مولاهم الأصبهاني.

(5) بياض في الأصل، والتصويب من شرح المواهب اللدنية: 5/ 395.

(6) تاريخ نيسابور.

আল-আব্বাস(১) আদ-দাগুলি বলেন: আমি মুহাম্মাদ ইবন হাতিম ইবনুল মুজাফ্ফারকে বলতে শুনেছি: নিশ্চয়ই আল্লাহ এই উম্মতকে ইসনাদ (সনদ পরম্পরা) প্রদানের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন, বিশেষত্ব দিয়েছেন এবং শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। প্রাচীন বা আধুনিক কোনো জাতির মধ্যেই ইসনাদ নেই; বরং তাদের কাছে রয়েছে কেবল কিছু পাণ্ডুলিপি। তারা তাদের কিতাবগুলোতে নিজেদের সংবাদসমূহ মিশ্রিত করে ফেলেছে, যার ফলে তাদের কাছে তাওরাত ও ইনজিল থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছে আর তারা নির্ভরযোগ্য নয় এমন ব্যক্তিদের থেকে প্রাপ্ত যেসব বর্ণনা কিতাবসমূহে যুক্ত করেছে—এ দুয়ের মধ্যে পার্থক্য করার কোনো উপায় নেই।

আর এই উম্মত কেবল তাদের সমসাময়িক সত্যবাদিতা ও বিশ্বস্ততার জন্য সুপরিচিত নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির কাছ থেকে তার অনুরূপ ব্যক্তির সূত্রে হাদীস বর্ণনা করে, যতক্ষণ না তাদের বর্ণনাগুলো সমাপ্ত হয়। অতঃপর তারা অত্যন্ত কঠোরভাবে অনুসন্ধান চালায় যাতে তারা অধিকতর মুখস্থকারী, অধিকতর নির্ভুল বর্ণনাকারী এবং যারা তাদের উস্তাদদের দীর্ঘকাল সান্নিধ্যে ছিলেন তাদের সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারে। এরপর তারা একটি হাদীস বিশ বা তারও অধিক সূত্রে লিখে থাকে যাতে তারা সেটিকে ভুল ও বিচ্যুতি থেকে মুক্ত করতে পারে এবং তারা এর প্রতিটি বর্ণকে সূক্ষ্মভাবে পরীক্ষা করে ও তা গণনা করে রাখে।

এটি এই উম্মতের প্রতি আল্লাহর শ্রেষ্ঠ নেয়ামতসমূহের অন্তর্ভুক্ত, সুতরাং আল্লাহ যেন এই নেয়ামতের শুকরিয়া আদায়ের তাওফিক দান করেন।

আবু হাতিম আর-রাজি(২) বলেন: আল্লাহ তাআলা আদমকে সৃষ্টি করার পর থেকে এমন কোনো জাতি(৩) অতিবাহিত হয়নি যারা এই উম্মতের মতো রাসূলদের নিদর্শনসমূহ সংরক্ষণ করেছে।

আবু বকর মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ(৪) বলেন: আমার কাছে খবর পৌঁছেছে যে, আল্লাহ এই উম্মতকে তিনটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য দান করেছেন যা পূর্ববর্তী কাউকে দেওয়া হয়নি: ইসনাদ (সনদ), আনসাব (বংশবিদ্যা) এবং ইরাব (ব্যাকরণগত বিন্যাস)(৫)।

আল-হাকিমের নিকট তাঁর 'তারিখ'(৬) গ্রন্থে আবদুল্লাহ ইবন তাহিরের জীবনীতে তাঁর সনদসহ ইসহাক ইবন ইব্রাহিম থেকে বর্ণিত...

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন ইমাম মুহাদ্দিস আবু আব্বাস মুহাম্মাদ ইবন আবদুর রহমান ইবন সাবুর আদ-দাগুলি, মৃত্যু ৩২৫ হিজরী। দেখুন: তাযকিরাতুল হুফফাজ: ৩/৮২৩।

(২) তিনি হলেন ইমাম হাফিজ আবু হাতিম মুহাম্মাদ ইবন ইদ্রিস ইবনুল মুনযির ইবন দাউদ ইবন মিহরান আল-হানজালি আর-রাজি, মৃত্যু ২৭৫ হিজরী। দেখুন: তাহযীবুল কামাল: ২৪/৩৮১।

(৩) শারহুল মাওয়াহিব আল-লাদুন্নিয়া গ্রন্থে রয়েছে: 'বিশ্বস্ত ব্যক্তিগণ', ৫/৩৯৪।

(৪) তিনি হলেন হাফিজ ইমাম আবু বকর মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবন রাশিদ ইবন মাদান আস-সাকাফি আল-আসফাহানি, মৃত্যু ৩০৯ হিজরী। দেখুন: তারিখ বাগদাদ: ১/৩০২, সিয়ারু আলামিন নুবালা: ১৪/৪০৪, মুখতাসারু তারিখি দামিশক: ২১/২৭০, তারিখ আসফাহান: ২/২৪৩।

আমি তাঁর এই উক্তিটি উক্ত কিতাবসমূহে পাইনি, এটি কেবল শারহুল মাওয়াহিব আল-লাদুন্নিয়া (৫/৩৯৫) গ্রন্থে পেয়েছি। সেখানে বলা হয়েছে: আবু বকর মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবন আব্দুল বাকি ইবন মানসুর আল-বাগদাদি, মৃত্যু ৪৮৯ হিজরী। আমাদের শাইখ হাফিজ আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ—আল্লাহ তাঁর হায়াত দীর্ঘ করুন—তাঁর 'আল-ইসনাদু মিনাদ দ্বীন' কিতাবের টীকায় একে ভুল সাব্যস্ত করেছেন এবং বলেছেন: আমার কাছে যা স্পষ্ট হয়েছে—অর্থাৎ শাইখ আবু গুদ্দাহর নিকট—তা হলো তিনি হলেন: আবু বকর মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবন রাশিদ ইবন মাদান আস-সাকাফি আল-আসফাহানি।

(৫) মূলে এটি শূন্য ছিল, শারহুল মাওয়াহিব আল-লাদুন্নিয়া (৫/৩৯৫) থেকে এটি সংশোধন করা হয়েছে।

(৬) তারিখ নিশাপুর।

(খণ্ড: ١) তাহযিবুত তাহযিব - ত মাআরিফা (পৃষ্ঠা: ١٤)
الحَنْظَلِيِّ قَالَ: كَانَ عَبْدُ اللهِ بْنُ طَاهِرِ إِذَا سَأَلَنِي عَنْ حَدِيثٍ فذكَرْتُه لَهُ بِلَا إِسْنَاد، سَأَلَنِي عَنْ إِسْنَادِهِ، وَيَقُولُ: رُوَايَةُ الحَدِيْثِ بِلا إِسْنَادِ مِنْ عَمَلِ الزَّمْنَى، فَإِنَّ إسْنَادَ الحدِيثِ كَرامَة مِنَ اللهِ عز وجل لأمَّةِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم.

وَلِذَا قَالَ ابْنُ المُبَارَكِ(1): الإسْنَادُ مِنَ الدِّينِ [و] لَوْلَا الإِسْنَادُ لقالَ مَنْ شَاءَ: مَا شَاءَ(2).

وَفِي رِوَايَةٍ عَنْهُ(3): مَثَلُ الَّذِي يَطلُبُ أَمْرَ دِينِهِ بِلَا إِسْنَادِ، كَمَثَلِ الَّذِي يَرْتَقِي السَّطْحَ بِلَا سُلَّمِ.

وفي رِوَايةٍ عَنْهُ كما في مُقَدِّمةٍ مسلمٍ(4): بَيْنَنَا وبَيْنَ القَوْمِ القَوَائِمُ - يَعْنِي: الإِسْنَادُ(5) -.

وقَالَ أَيضًا لِمَنْ سَأَلَهُ(6) عَنْ حَدِيثٍ(7): عَنِ الحجَّاجِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم كَمَا فِي الْمُقَدِمَةِ(8) أَيضًا: إنَّ بَيْنَ الحجَّاجِ وبينَ النَّبيِّ مَفَاوِزَ(9) تَنْقَطِعُ فِيهَا أَعْنَاق المَطِيِّ.

وَعَنْ الشَّافِعِيِّ قَالَ: مَثَلُ الَّذي يَطْلُبُ الحَدِيثَ بلا إِسْنَادٍ كَمَثَلِ حَاطِبِ لَيْلٍ(10).

وَعَنْ الثَّوْرِيِّ(11) قَالَ: الإِسْنَادُ سِلَاحُ المُؤْمِنِ، فإِذَا لَمْ يَكُنْ مَعَهُ سِلاحٌ فَبِأَيِّ شَيْءٍ يُقَاتِلُ(12)؟

--------------------------------------------

(1) هو الإمام الثقة المحدث أبو عبد الرحمن عبد الله بن مبارك بن واضح الحنظلي المتوفى سنة 181 هـ، انظر ترجمته في: المعارف لابن قتيبة: 511، والولاة والقضاة: 368، والعبر: 1/ 232، 236، 270، وطبقات الصوفية: 7، 44.

(2) راجع تاريخ بغداد: 6/ 166، ومقدمة صحيح مسلم: 46، 47.

(3) انظر أيضًا: شرح المواهب اللدنية: 5/ 393.

(4) مقدمة صحيح مسلم: 1/ 48.

(5) والمراد من هذا الكلام: أي: إن جاء بإسنادٍ صحيحٍ قبلنا حديثه وإلا تركناه، فجعل الحديث كالحيوان، لا يقوم بغير إسناد، كما لا يقوم الحيوان بغير قوائم.

(6) والسائل هو: أبو إسحاق إبرهيم بن عيسى الطَّلَقَانيُّ.

(7) والحديث الذي سئل عنه هو: "إن من البِرِّ بعد البِرِّ، أَن تُصَلِّي لِأَبَوْيْكَ مَعَ صَلَاتِكَ وتَصُومَ لهما مَعَ صَوْمِكَ".

(8) مقدمة صحيح مسلم: 1/ 49.

(9) المفاوز: جمع مفازة، وهي الأرض القفر البعيدة عن العمارة وعن الماء، التي يخاف الهلاك فيها.

(10) شرح المواهب اللدنية: 5/ 393.

(11) هو الإمام المحدث أبو عبد الله سفيان بن سعيد بن مسروق الثوري الكوفي المتوفى سنة 161 هـ، انظر ترجمته في طبقات خليفة: 168، وسير أعلام النبلاء: 7/ 229، وتهذيب التهذيب: 11/ 155.

(12) المجروحين: 1/ 27.

আল-হানজালি বলেন: আবদুল্লাহ ইবন তাহির যখনই আমাকে কোনো হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন আর আমি সনদ (সূত্র) ছাড়াই তা তাঁর নিকট উল্লেখ করতাম, তখন তিনি আমাকে সেটির সনদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন এবং বলতেন: সনদবিহীন হাদিস বর্ণনা করা পঙ্গু বা অক্ষম ব্যক্তিদের কাজ। কেননা হাদিসের সনদ হলো মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের জন্য এক বিশেষ মর্যাদা স্বরূপ।

এই কারণেই ইবনুল মুবারক(১) বলেছেন: সনদ হলো দ্বীনের অংশ। যদি সনদ না থাকত, তবে যে যা ইচ্ছা তা-ই বলত(২)।

তাঁর থেকে বর্ণিত অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে(৩): যে ব্যক্তি সনদ ছাড়া নিজের দ্বীনের বিষয়াদি অনুসন্ধান করে, তার উদাহরণ হলো সেই ব্যক্তির মতো যে সিঁড়ি ছাড়াই ছাদে আরোহণ করে।

সহীহ মুসলিমের মুকাদ্দিমায় (ভূমিকা) বর্ণিত তাঁর অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে(৪): আমাদের এবং কওমের (লোকদের) মাঝে পার্থক্যকারী হলো 'পাগুলো'—অর্থাৎ সনদ(৫)।

মুকাদ্দিমায়(৮) আরও বর্ণিত হয়েছে যে, হজ্জাজ ইবন দীনার থেকে বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি হাদিস(৭) সম্পর্কে তাঁকে প্রশ্নকারীকে(৬) উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেছিলেন: নিশ্চয়ই হজ্জাজ এবং নবীর মাঝে এমন বিশাল জনমানবহীন প্রান্তর(৯) রয়েছে, যেখানে (তা পাড়ি দিতে গিয়ে) সওয়ারি উটের ঘাড় ভেঙে পড়বে।

ইমাম শাফিঈ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যে ব্যক্তি সনদ ছাড়াই হাদিস অন্বেষণ করে, তার উদাহরণ হলো সেই ব্যক্তির মতো যে রাতে কাঠ সংগ্রহ করে(১০)।

ইমাম সাওরী(১১) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: সনদ হলো মুমিনের হাতিয়ার। সুতরাং যখন তার সাথে হাতিয়ারই থাকবে না, তবে সে কী দিয়ে লড়াই করবে(১২)?

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন নির্ভরযোগ্য ইমাম ও মুহাদ্দিস আবু আবদুর রহমান আবদুল্লাহ ইবন মুবারক ইবন ওয়াদিহ আল-হানজালি, যিনি ১৮১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন তাঁর জীবনী: ইবন কুতাইবার আল-মাআরিফ: ৫১১, আল-উলাত ওয়াল কুদাত: ৩৬৮, আল-ইবার: ১/২৩২, ২৩৬, ২৭০ এবং তাবাকাতুস সুফিয়া: ৭, ৪৪।

(২) পর্যালোচনা করুন: তারিখ বাগদাদ: ৬/১৬৬ এবং মুকাদ্দিমা সহীহ মুসলিম: ৪৬, ৪৭।

(৩) আরও দেখুন: শারহুল মাওয়াহিব আল-লাদুননিয়া: ৫/৩৯৩।

(৪) মুকাদ্দিমা সহীহ মুসলিম: ১/৪৮।

(৫) এই কথার উদ্দেশ্য হলো: যদি কেউ সহীহ সনদ পেশ করে তবেই আমরা তার হাদিস গ্রহণ করব, অন্যথায় তা বর্জন করব। তিনি হাদিসকে চতুষ্পদ প্রাণীর মতো সাব্যস্ত করেছেন, যা সনদ (পা) ছাড়া দাঁড়াতে পারে না, যেমন কোনো প্রাণী পা ছাড়া দাঁড়াতে অক্ষম।

(৬) প্রশ্নকারী হলেন: আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবন ঈসা আত-তালাকানি।

(৭) যে হাদিসটি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছিল তা হলো: "নিশ্চয়ই কোনো নেক আমলের পর অন্য নেক আমল হলো এই যে, তুমি তোমার সালাতের সাথে তোমার পিতামাতার জন্যও সালাত আদায় করবে এবং তোমার সাওমের (রোজা) সাথে তাদের জন্যও সাওম পালন করবে।"

(৮) মুকাদ্দিমা সহীহ মুসলিম: ১/৪৯।

(৯) আল-মাফাউজ: 'মাফাজা' শব্দের বহুবচন। এটি এমন নির্জন ও জনশূন্য প্রান্তর যা লোকালয় এবং পানি থেকে অনেক দূরে অবস্থিত এবং যেখানে ধ্বংস হওয়ার ভয় থাকে।

(১০) শারহুল মাওয়াহিব আল-লাদুননিয়া: ৫/৩৯৩।

(১১) তিনি হলেন ইমাম ও মুহাদ্দিস আবু আবদুল্লাহ সুফিয়ান ইবন সাঈদ ইবন মাসরুক আস-সাওরী আল-কুফি, যিনি ১৬১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন তাঁর জীবনী: তাবাকাতু খলিফা: ১৬৮, সিয়ারু আলামিন নুবালা: ৭/২২৯ এবং তাহজিবুত তাহজিব: ১১/১৫৫।

(১২) আল-মাজরুহিন: ১/২৭।

(খণ্ড: ١) তাহযিবুত তাহযিব - ত মাআরিফা (পৃষ্ঠা: ١٥)
وقَالَ بَقِيَّةُ(1): ذَاكَرْتُ حَمَّادَ بْنَ زَيْدِ بِأَحَادِيثَ فَقَالَ: مَا أَجْودها لَوْ كَانَ لَهَا أَجْنِحَةٌ - يَعْنِي: الأسَانِيدَ(2) -.

وَقَالَ مَطَرٌ فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: {أَوْ أَثَارَةٍ مِنْ عِلْمٍ}(3) قَالَ: إِسْنَادُ الحَدِيْثِ. اهـ.

وَقَالَ عبْدُ اللهِ بْنُ إدريسَ: رُبَّما حَدَّثَ الأَعْمَشُ بِالحَدِيثِ ثُمَّ يَقُولُ: بَقِيَ رَأْسُ المَالِ: "حَدَّثَنِي فُلَانٌ قَالَ: حَدُّثَنَا فُلانٌ عَنْ فُلَان"(4).

وَحَدَّثَ بَقِيَّةُ، عَنْ عُتْبَةَ بْنِ أَبِي حَكِيْم: أَنَّه كَانَ عِنْدَ إسْحَاقَ بْنِ أَبِي فَرْوَةَ وَعِنْدَهُ الزُّهْرِي، قَالَ: فَجَعَلَ ابْنُ أَبِي فَرْوَةَ يَقُولُ: قالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم. فقَالَ لَهُ الزُّهْرِيُّ: قَاتَلَكَ اللهُ يا ابْنَ أَبِي فَرْوَةَ! ما أَجْرأَكَ عَلَى اللهِ لَا تُسْنِدُ حَدِيثَكَ؟ تُحَدِّثُنَا بِأَحَادِيْثَ لَيْسَ لَها خُطُمٌ ولَا أَزِمَّةٌ(5).

وقَالَ شُعْبَةُ: كُلُّ حَدِيثٍ لَيْسَ فيه حَدَّثَنا أَوْ أَخْبَرَنَا فَهُوَ خَلٌّ وبَقْلٌ(6).

وقَالَ أَبُو عَبْدِ اللهِ: فَلَوْلَا الإِسْنَادُ وَطَلَبُ هذِهِ الطَّائِفَةِ لَهُ وكَثْرَةُ مُوَاظَبَتِهِمْ عَلَى حِفْظِهِ لَدُرِسَ مَنَارُ الإِسْلَامِ ولَتَمَكَّنَ أَهْلُ الإِلْحَادِ والْبِدَعِ فِيهِ بِوَضْع الحَدِيْثِ وَقَلْب الأَسَانِيدِ، فَإِنَّ الأخَبَارَ إِذَا تَعَرَّتَ عَنْ وُجُودِ الأَسَانِيْدِ فِيهَا كَانَتْ بُتْرًا(7).

وَبِمَا أَنَّ الإِسْنَادَ مِنَ الدِّين، وَأَنَّ الشَّرْعَ لَا يَسْلَمُ إِلَّا بِهِ قَامَ أَئِمَّةٌ مِنَ الَّذِينَ يُحَافِظُونَ عَلَى الدِّينِ، وَيَقُومُونَ عَلَى نُصْرَتِهِ، وَيَذُبُّونَ عَنْ سُنَّةِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم الكَذِبَ وَالْوَضعَ، بَتَأْلِيفِ كُتُبٍ خَاصَّةٍ بِرِجَالِ الْكُتُبِ السِّتَّةِ، فَأَكْثَرُوا فِيهَا التَّوَالِيفَ، وَبَيَّنُوا أَحْوَالَ هؤُلَاءِ الرِّجَالِ - رِجَالِ السَّنَدِ - لِئَلَّا يُدْخَلَ مُضِلٌّ فِي السُنَنِ شَيْئًا يُضِلُّ بِهِ، وَإِلَيْكَ أَسْمَاءُ الْأَئِمَّةِ الَّذِينَ اهْتَمُّوا بِكُتُبِ الرِّجَالِ السِّتَّةِ.

--------------------------------------------

(1) وهو: الحافظ أبو مُحْمِد بقية بن الوليد بن صائد بن كعب بن حريز الكلاعي الحمصي المتوفى سنة 197 هـ، انظر في: طبقات ابن سعد: 7/ 469، وتذكرة الحفاظ: 1/ 289، والميزان: 1/ 331.

(2) شرح المواهب اللدنية: 5/ 393.

(3) سورة الأحقاف، الآية: 4.

(4) المجروحين: 1/ 27.

(5) معرفة علوم الحديث: ص 6.

(6) المحدث الفاضل: ص 517.

(7) معرفة علوم الحديث: ص 6.

বকিয়্যাহ(১) বলেন: আমি হাম্মাদ ইবনে যাইদের নিকট কিছু হাদিস নিয়ে আলোচনা করলাম। তিনি বললেন: কতই না চমৎকার হতো যদি এগুলোর ডানা থাকত! —অর্থাৎ: সনদসমূহ(২)।

মাতার মহান আল্লাহর বাণী: {অথবা জ্ঞানের কোনো অবশিষ্টাংশ}(৩) এর ব্যাখ্যায় বলেন: তা হলো হাদিসের সনদ। সমাপ্ত।

আবদুল্লাহ ইবনে ইদরিস বলেন: কখনো কখনো আমাশ হাদিস বর্ণনা করতেন, এরপর বলতেন: আসলি মূলধন বাকি রয়ে গেছে: "অমুক আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেছেন: অমুক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি অমুক থেকে..."(৪)।

বকিয়্যাহ বর্ণনা করেন উতবাহ ইবনে আবি হাকিম থেকে: তিনি ইসহাক ইবনে আবি ফারওয়ার নিকট ছিলেন এবং সেখানে যুহরিও উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন: ইবনে আবি ফারওয়া বলতে লাগলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন। তখন যুহরি তাকে বললেন: হে ইবনে আবি ফারওয়া, আল্লাহ তোমাকে ধ্বংস করুন! আল্লাহর ব্যাপারে তুমি কতই না দুঃসাহসী! তুমি তোমার হাদিসের সনদ বর্ণনা করছ না? তুমি আমাদের নিকট এমন হাদিস বর্ণনা করছ যার কোনো লাগাম বা রশি নেই(৫)।

শু'বাহ বলেন: যে হাদিসে "আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন" অথবা "আমাদের সংবাদ দিয়েছেন" কথাটি নেই, তা সিরকা ও শাকসবজি সদৃশ (সারশূন্য)(৬)।

আবু আব্দুল্লাহ বলেন: যদি সনদ না থাকত এবং এই জামাত (মুহাদ্দিসগণ) তা অনুসন্ধান না করত ও তা সংরক্ষণে নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা না চালাত, তবে ইসলামের আলোকবর্তিকা বিলুপ্ত হয়ে যেত এবং নাস্তিক ও বিদআতিরা হাদিস জাল করে ও সনদ পরিবর্তন করে এতে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ পেয়ে যেত। কেননা সংবাদসমূহ যখন সনদ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, তখন তা লেজকাটা বা অসম্পূর্ণ হয়ে যায়(৭)।

যেহেতু সনদ দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত এবং এর মাধ্যমেই শরীয়ত সুরক্ষিত থাকে, তাই দ্বীন রক্ষাকারী ইমামগণ—যারা দ্বীনের সাহায্যে দণ্ডায়মান এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ থেকে মিথ্যা ও জালিয়াতি দূর করেন—সিহাহ সিত্তার (ছয়টি কিতাব) বর্ণনাকারীদের নিয়ে বিশেষ কিতাব রচনার দায়িত্ব পালন করেছেন। তারা এ বিষয়ে অনেক গ্রন্থ সংকলন করেছেন এবং এই বর্ণনাকারীদের—অর্থাৎ সনদের ব্যক্তিদের—অবস্থা বর্ণনা করেছেন, যাতে কোনো পথভ্রষ্ট ব্যক্তি সুন্নাহর মধ্যে এমন কিছু প্রবেশ করাতে না পারে যার দ্বারা সে মানুষকে বিভ্রান্ত করবে। নিচে সেই ইমামগণের নাম দেওয়া হলো যারা সিহাহ সিত্তার বর্ণনাকারীদের বিষয়ক গ্রন্থাবলির প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন: হাফেজ আবু মুহাম্মদ বকিয়্যাহ ইবনে ওয়ালিদ ইবনে সায়িদ ইবনে কাব ইবনে হারীজ আল-কালাঈ আল-হিমসি, মৃত্যু ১৯৭ হিজরি। দেখুন: তাবাকাত ইবনে সাদ: ৭/৪৬৯, তাযকিরাতুল হাফেজ: ১/২৮৯, আল-মিযান: ১/৩৩১।

(২) শারহুল মাওয়াহিব আল-লাদুন্নিয়্যাহ: ৫/৩৯৩।

(৩) সূরা আল-আহকাফ, আয়াত: ৪।

(৪) আল-মাজরুহীন: ১/২৭।

(৫) মা'রিফাতু উলুমিল হাদিস: পৃষ্ঠা ৬।

(৬) আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল: পৃষ্ঠা ৫১৭।

(৭) মা'রিফাতু উলুমিল হাদিস: পৃষ্ঠা ৬।

(খণ্ড: ١) তাহযিবুত তাহযিব - ত মাআরিফা (পৃষ্ঠা: ١٦)
‌‌اهتمام الأئمة بكتب رجال الستّة (1)

اهْتَّمَ العُلَمَاءُ إِهْتِمَامًا شَدِيْدًا بالكُتُبِ السِّتَّةِ الَّتِي تَتَنَاوَلُ أَحَادِيْثَ رسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم والَّتي تُعْتَبَرُ دَوَاوِينَ الإِسْلَامِ، فَخَصُّوها بالْعِنَايَةِ تَدْقِيقًا ورِوَايَة، وما ذلِكَ إِلَّا لِبَيَانِ صَحِيْحِ الْحَدِيثِ مِنْ ضَعِيفِهِ، وَكَانَت نَتِيجَةَ ذلِكَ أَنْ أَلَّفُوا الْكُتُبَ الْمُخْتَصَةِ بأَحْوَالِ رِجَالِ هذِهِ الكُتُبِ، فأَظهَرُوا حَالَ كلِّ راوٍ عَلَى حِدَةٍ وبَيَّنُوا مَا لَهُ ومَا عَلَيْهِ مِنْ تَعْدِيلٍ وَتَجْرِيحٍ، ليُحَافِظُوا عَلَى سُنَّةِ نَبِيِّهِمْ صلى الله عليه وسلم مِنْ الْوَضعِ والْكَذِبِ.

والَّذينَ أَلَّفُوا فِي كُتُبِ الرِّجَالِ هُمْ:

1 - الإمَامُ المُحَدِّثُ حَافِظُ الشَّامِ أَبُو الْقَاسِمِ عَلِي بْنُ الْحَسَنِ بْنِ هِبَةِ اللهِ بْنِ عَسَاكِرِ الدِّمَشْقِيُّ، المُتَوَفَّى سَنَةَ 571 هـ(2)، أَلَّفَ كِتَابًا سَمَّاهُ: "المعجم المشتمل على ذكر أسماء شيوخ الأئمة النبل"(3).

2 - الحَافِظُ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبدُ الْغَنِيِّ بْنُ عَبدِ الْوَاحِدِ الْمَقْدِسِيُّ الحَنْبَلِيُّ المُتَوَفَّى سَنَةَ 600 هـ(4)، أَلَّفَ كِتَابًا سَمَّاهُ: "الكمال في أسماء الرجال"(5).

3 - الحَافِظُ المُتقِنُ جَمَالُ الدِّينِ أَبُو الْحَجَّاجِ يُوسُفُ بْنُ الزِكِيِّ عَبْدِ الرَّحْمنِ بْنِ يُوسُفَ

--------------------------------------------

(1) المراد بالكتب الستة: كتاب صحيح البخاري، وصحيح مسلم، وسنن الترمذي، وسنن أبي داود، وسنن النسائي، وسنن ابن ماجه.

(2) انظر ترجمته في: المنتظم: 10/ 261، وطبقات الشافعية للأسنوي: 2/ 95، والتقييد: ص 405، وذيل تاريخ بغداد للدمياطي: 19/ 186، وشذرات الذهب: 4/ 239.

(3) اقتصر فيه الإمام ابن عساكر على شيوخ أصحاب الستة دون الرواة الآخرين.

(4) انظر ترجمته في: التقييد: ص 370، والتكملة للمنذري: ت 778، وتذكرة الحفاظ: 4/ 1372، وشذرات الذهب: 4/ 345، والنجوم الزاهرة: 6/ 185.

(5) هذا الكتاب أول ما أُلِّفَ في رواة الكتب الستة حيث لم يقتصر على شيوخهم بل تناول جميع الرواة من شيوخ أصحاب الكتب الستة إلى التابعين إلى الصحابة رضوان الله تعالى عليهم.

কুতুবে সিত্তাহর রিজাল (বর্ণনাকারী) বিষয়ক গ্রন্থসমূহের প্রতি ইমামগণের গুরুত্বারোপ(১)

উলামাগণ কুতুবে সিত্তাহ বা ছয়টি কিতাবের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছেন, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীসসমূহকে ধারণ করে এবং যেগুলোকে ইসলামের মূল দলিল বা কোষাগার হিসেবে গণ্য করা হয়। তারা এগুলোর যাচাই-বাছাই ও বর্ণনার ক্ষেত্রে বিশেষ যত্ন নিয়েছেন; আর তা করা হয়েছে মূলত দুর্বল হাদীস থেকে সহীহ হাদীসকে পৃথক করার জন্য। এর ফলশ্রুতিতে তারা এই কিতাবসমূহের বর্ণনাকারীদের (রিজাল) অবস্থা নিয়ে বিশেষ গ্রন্থসমূহ রচনা করেছেন। তারা প্রতিটি বর্ণনাকারীর অবস্থা পৃথকভাবে তুলে ধরেছেন এবং তাদের বিষয়ে 'তাদীল' (গ্রহণযোগ্যতা) ও 'জারহ' (অগ্রহণযোগ্যতা) সংক্রান্ত যা কিছু রয়েছে তা বর্ণনা করেছেন, যাতে তারা তাদের নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহকে জালিয়াত ও মিথ্যা থেকে রক্ষা করতে পারেন।

আর যারা রিজাল শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহ রচনা করেছেন তারা হলেন:

১ - ইমাম, মুহাদ্দিস, হাফিয-ই-শাম আবুল কাসিম আলী ইবনুল হাসান ইবনু হিবাতিল্লাহ ইবনু আসাকির আদ-দিমাশকী, মৃত্যু: ৫৭১ হিজরী(২)। তিনি একটি কিতাব রচনা করেন যার নাম দিয়েছেন: "আল-মু'জামুল মুশতামিল আলা যিকরি আসমাই শুয়ুখিল আইম্মাতিন নুবাল"(৩)।

২ - হাফিয আবু মুহাম্মদ আব্দুল গনী ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসী আল-হাম্বলী, মৃত্যু: ৬০০ হিজরী(৪)। তিনি একটি কিতাব রচনা করেন যার নাম দিয়েছেন: "আল-কামাল ফী আসমাইর রিজাল"(৫)।

৩ - সুনিপুণ হাফিয জামালুদ্দীন আবুল হাজ্জাজ ইউসুফ ইবনুয যাকী আবদুর রহমান ইবনে ইউসুফ

--------------------------------------------

(১) কুতুবে সিত্তাহ বলতে বোঝানো হয়েছে: সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম, সুনানে তিরমিযী, সুনানে আবু দাউদ, সুনানে নাসাঈ এবং সুনানে ইবনে মাজাহ।

(২) তাঁর জীবনী দেখুন: আল-মুনতাযাম: ১০/২৬১, আল-আসনাবী রচিত তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ: ২/৯৫, আত-তাকয়ীদ: পৃষ্ঠা ৪০৫, আদ-দামিয়াতী রচিত যাইলো তারিখি বাগদাদ: ১৯/১৮৬, শাযারাতুয যাহাব: ৪/২৩৯।

(৩) ইমাম ইবনু আসাকির এতে কেবল কুতুবে সিত্তাহর লেখকগণের উস্তাদদের বর্ণনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছেন, অন্যান্য বর্ণনাকারীদের উল্লেখ করেননি।

(৪) তাঁর জীবনী দেখুন: আত-তাকয়ীদ: পৃষ্ঠা ৩৭০, আল-মুনযিরী রচিত আত-তাকমিলাহ: নং ৭৭৮, তাযকিরাতুল হুফফায: ৪/১৩৭২, শাযারাতুয যাহাব: ৪/৩৪৫, আন-নুজুমুয যাহিরাহ: ৬/১৮৫।

(৫) কুতুবে সিত্তাহর বর্ণনাকারীদের বিষয়ে এটিই প্রথম রচিত গ্রন্থ; যেখানে তিনি কেবল লেখকগণের উস্তাদদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং কুতুবে সিত্তাহর সকল বর্ণনাকারী—ছয় কিতাবের লেখকদের উস্তাদ থেকে শুরু করে তাবিঈ এবং সাহাবী (রাযিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুম) পর্যন্ত সবার আলোচনা করেছেন।

(খণ্ড: ١) তাহযিবুত তাহযিব - ত মাআরিফা (পৃষ্ঠা: ١٧)
المِزِيُّ، المُتَوَفَّى سَنَةَ 742(1) هـ، أَلَّفَ كِتَابًا سَمَّاهُ: "تهذيب(2) الكمال في أسماء الرجال"(3).

ثُمَّ جَاءَ الْعُلَمَاءُ بَعْدَ هذَا واعْتَنَوْا بِهذا الكِتَابِ، فَمِنْهُمْ مَنْ اخْتَصَرَهُ، ومِنْهُمْ مَنْ اسْتَدْرَكَ عَلَيهِ، ومِنْهُمْ مَنْ تَعَقَّبَهُ، ومِنْهُمْ مَنْ لَخَّصَة، وَإِلَيكَ مَنْ عُنِيَ بِهذا الكِتَابِ:

1 - الإِمَامُ جَمَالُ الدِّينِ أَبُو مُحَمَّدٍ رَافِعُ بْنُ أَبِي مُحَمَّدٍ هجرِسُ بْنُ شَافِعٍ السَّلَّاميُّ، المُتَوَفَّى سَنَةَ 718 هـ(4)، أَلَّفَ كِتابًا سَمَّاهُ: "الكنى المختصر من تهذيب الكمال في أسماء الرجال"(5).

2 - الإِمَامُ شَمْسُ الدِّينِ أَبُو عَبْدِ اللهِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ الذَّهَبِيُّ، المُتَوَفَّى سَنَةَ 748 هـ(6)، أَلَّفَ أَرْبَعَةَ كُتُبٍ سَمَّاهَا:

أ - "تذهيب التهذيب"(7).

ب - "الكاشف في معرفة من له رواية في الكتب الستة"(8).

ج - "المجرّد من تهذيب الكمال"(9).

--------------------------------------------

(1) انظر ترجمته في: تذكرة الحفاظ: 3/ 1498، وفوات الوفيات: 4/ 353، وطبقات الشافعية الكبرى: 10/ 395، وطبقات الشافعية: 2/ 464، والدارس: 1/ 35، والقلائد الجوهرية: 329، والبدر الطالع: 2/ 353، ومفتاح السعادة: 2/ 367.

(2) في الحقيقة إن كلمة تهذيب لا تعني الاختصار كما يفهمها البعض، بل هي تدل على التنقية والإصلاح.

(3) استدرك المزي في هذا الكتاب ما فات مؤلف كتاب "الكمال"، ثم دقق في الذين ذكرهم، وأضاف إلى كتابه هذا الرواة الذين لم يذكرهم صاحب "الكمال".

(4) انظر ترجمته في: الدرر الكامنة: 2/ 198، وشذرات الذهب: 6/ 52.

(5) اختصر فيه المؤلف القسم الأخير من كتاب: "تهذيب الكمال" الخاص بالكنى فقط.

(6) انظر ترجمته في: غاية النهاية: 2/ 71، وفوات الوفيات: 2/ 315، وطبقات الحفاظ: ص 521، وشذرات الذهب: 6/ 153، والوفيات لابن رافع: 2/ 55.

(7) حافظ الذهبي في كتابه هذا على ترتيب أصل كتاب "تهذيب الكمال"، وأضاف إلى مختصره ما رآه حرِيًّا بالإضافة، وعلق على كثير من تراجم الأصلى من حيث الرواية وضبط الأسماء بالوفيات.

ثم اختصره ولخصه الإمام صفي الدين أحمد بن عبد الله بن أبي خير بن عبد العليم الخزرجي المتوفى سنة 923 هـ، وسمّاه: "خلاصة تذهيب الكمال في أسماء الرجال".

(8) قال الذهبي في مقدمة الكاشف: هذا مختصر نافع في رجال الكتب الستة: الصحيحين والسنن الأربعة، مقتضبٍ من "تهذيب الكمال"، ولعله هو الكتاب الذي يذكرونه باسم "المقتضب من تهذيب الكمال" انظر أيضًا هدية العارفين: 2/ 154.

(9) ذكره السبكي في الطبقات: 9/ 105، وحاجي خليفة في كشف الظنون: 2/ 1593، والبغدادي في هدية العارفين: 2/ 154، اقتصر فيه على رجال الكتب الستة ورتبه على الطبقات.

মিযযি, যিনি ৭৪২(১) হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন, তিনি একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন যার নাম দিয়েছেন: "তহযীবুল(২) কামাল ফি আসমাইর রিজাল"(৩)।

অতঃপর এর পরবর্তী আলেমগণ এই কিতাবটির প্রতি মনোনিবেশ করেন। তাদের মধ্যে কেউ এটি সংক্ষেপ করেছেন, কেউ পরিশিষ্ট যুক্ত করেছেন, কেউ পর্যালোচনা করেছেন এবং কেউ সারসংক্ষেপ করেছেন। যারা এই কিতাবটি নিয়ে কাজ করেছেন তারা নিম্নরূপ:

১ - ইমাম জামালুদ্দীন আবু মুহাম্মাদ রাফে ইবনে আবি মুহাম্মাদ হাজরাস ইবনে শাফি আস-সাল্লামি, যিনি ৭১৮ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন(৪), তিনি একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন যার নাম দিয়েছেন: "আল-কুনা আল-মুখতাসার মিন তহযীবুল কামাল ফি আসমাইর রিজাল"(৫)।

২ - ইমাম শামসুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ আয-যাহাবি, যিনি ৭৪৮ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন(৬), তিনি চারটি গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং সেগুলোর নাম দিয়েছেন:

ক - "তাযহীবুত তহযীব"(৭)।

খ - "আল-কাশিফ ফি মা'রিফাতি মান লাহু রিওয়ায়াতুন ফিল কুতুবিস সিত্তাহ"(৮)।

গ - "আল-মুজাররাদ মিন তহযীবুল কামাল"(৯)।

--------------------------------------------

(১) তার জীবনী দেখুন: তাযকিরাতুল হুফফাজ: ৩/১৪৯৮, ফাওয়াতুল ওয়াফায়াত: ৪/৩৫৩, তাবাকাতুশ শাফিয়্যাহ আল-কুবরা: ১০/৩৯৫, তাবাকাতুশ শাফিয়্যাহ: ২/৪৬৪, আদ-দারিস: ১/৩৫, আল-কালাইদুল জাওহারিয়্যাহ: ৩২৯, আল-বদরুত তালি: ২/৩৫৩ এবং মিফতাহুস সাআদাহ: ২/৩৬৭।

(২) প্রকৃতপক্ষে 'তহযীব' শব্দটির অর্থ কেবল সংক্ষেপণ নয় যা কেউ কেউ বুঝে থাকেন, বরং এটি পরিশোধন ও সংশোধন নির্দেশ করে।

(৩) মিযযি এই কিতাবে "আল-কামাল" গ্রন্থের লেখকের যা বাদ পড়েছিল তা পরিশিষ্ট হিসেবে যুক্ত করেছেন, অতঃপর তিনি যাদের উল্লেখ করেছেন তাদের ব্যাপারে সূক্ষ্ম যাচাই-বাছাই করেছেন এবং "আল-কামাল" এর লেখক যে বর্ণনাকারীদের কথা উল্লেখ করেননি তাদের এই কিতাবে যুক্ত করেছেন।

(৪) তার জীবনী দেখুন: আদ-দুরারুল কামিনাহ: ২/১৯৮ এবং শাযারাতুয যাহাব: ৬/৫২।

(৫) লেখক এখানে "তহযীবুল কামাল" কিতাবের শুধুমাত্র উপনাম (কুনিয়া) সংক্রান্ত শেষ অংশটি সংক্ষেপ করেছেন।

(৬) তার জীবনী দেখুন: গায়াতুন নিহায়াহ: ২/৭১, ফাওয়াতুল ওয়াফায়াত: ২/৩১৫, তাবাকাতুল হুফফাজ: পৃ. ৫২১, শাযারাতুয যাহাব: ৬/১৫৩ এবং ইবনে রাফে রচিত আল-ওয়াফায়াত: ২/৫৫।

(৭) হাফেজ যাহাবি তার এই কিতাবে মূল গ্রন্থ "তহযীবুল কামাল" এর বিন্যাস বজায় রেখেছেন এবং তার সংক্ষেপিত সংস্করণে এমন বিষয়াবলী যুক্ত করেছেন যা তিনি যুক্ত করার যোগ্য মনে করেছেন। এছাড়া তিনি বর্ণনা এবং মৃত্যুসালের মাধ্যমে নামের সঠিক উচ্চারণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে মূল গ্রন্থের অনেক জীবনীর ওপর টীকা প্রদান করেছেন।

অতঃপর ইমাম সফিউদ্দীন আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি খাইর ইবনে আব্দুল আলীম আল-খাজরাজি (মৃত্যু ৯২৩ হি.) এটিকে সংক্ষেপ ও সারসংক্ষেপ করেছেন এবং এর নাম দিয়েছেন: "খুলাসাতু তাযহীবিল কামাল ফি আসমাইর রিজাল"।

(৮) যাহাবি 'আল-কাশিফ' এর ভূমিকায় বলেছেন: এটি কুতুবে সিত্তা (সহীহাইন ও সুনানে আরবাআ) এর বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে একটি উপকারী সংক্ষেপিত গ্রন্থ, যা "তহযীবুল কামাল" থেকে গৃহীত। সম্ভবত এটিই সেই কিতাব যেটিকে তারা "আল-মুকতাদাব মিন তহযীবুল কামাল" নামে উল্লেখ করেন। আরও দেখুন হাদিয়াতুল আরিফীন: ২/১৫৪।

(৯) সুবকি 'তাবাকাত' গ্রন্থে (৯/১০৫), হাজি খলিফা 'কাশফুয যুনুন' গ্রন্থে (২/১৫৯৩) এবং বাগদাদি 'হাদিয়াতুল আরিফীন' গ্রন্থে (২/১৫৪) এটি উল্লেখ করেছেন। এতে তিনি কেবল কুতুবে সিত্তার বর্ণনাকারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছেন এবং একে স্তরভিত্তিক (তাবাকাত) বিন্যস্ত করেছেন।

(খণ্ড: ١) তাহযিবুত তাহযিব - ত মাআরিফা (পৃষ্ঠা: ١٨)
د - "المقتضب من تهذيب الكمال"(1).

3 - الإِمَامُ أَبُو العَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ سَعْدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ العَسْكَرِيُّ الأَنْدَرَشِيُّ الصُّوفِيُّ، المُتَوَفَّى سَنَةَ 750 هـ(2)، أَلَّفَ كِتَابًا اختَصَرَ فِيهِ "تهذيب الكمال"(3).

4 - الإِمَامُ عَلَاءُ الدِّينِ أَبُو عَبْدِ اللهِ مُغُلْطَايُ بْنُ قلِيجِ بْنِ عَبْدِ اللهِ البَكْجَرِيُّ، المُتَوَفَّى سَنَةَ 762 هـ(4)، أَلَّفَ كِتَابًا سَمَّاهُ: "إكمال تهذيب الكمال في أسماء الرجال"(5).

5 - الإِمَامُ شَمْسُ الدِّينِ أَبُو المَحَاسِنِ مُحَمَّدُ بْن عَلِيِّ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ حَمْزَةَ الحُسَيْنِيُّ الدِّمَشْقِيُّ، المُتَوَفَّى سَنَةَ 775 هـ(6)، أَلَّفَ كِتَابًا سَمَّاهُ: "التذكرة في رجال العشرة"(7).

6 - الإِمَامُ عِمَادُ الدِّينِ أَبُو الفِدَاءِ إِسْمَاعِيْلُ بْنُ عُمَرَ بْنِ كَثِيرٍ الدِّمَشْقِي، المُتَوَفَّى سَنَةَ 774 هـ(8)، أَلَّفَ كِتَابًا سَمَّاهُ: "التكميل في الجرح والتعديل ومعرفة الثقات والضعفاء والمجاهيل"(9).

7 - الإِمَامُ عِمَادُ الدِّينِ أَبُو الْفِدَاءِ إِسْمَاعِيْلُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ بَرْدِس البَعَلْبَكِيُّ الحَنْبَلِيُّ،

--------------------------------------------

(1) لعله الكاشف الذي اقتضبه من تهذيب الكمال كما سبق.

(2) انظر ترجمته في: هدية العارفين 5/ 110.

(3) ذكره ابن حجر في الدرر: 1/ 145، وذكره السيوطي في بغية الوعاة: 1/ 309، وذكره حاجي خليفة في كشف الظنون: 2/ 1510.

(4) انظر ترجمته في: البداية والنهاية: 14/ 282، والدرر: 5/ 122، ولسان الميزان: 6/ 72، والنجوم الزاهرة: 6/ 197، وذيل طبقات الحفاظ: 365.

(5) ذكره السيوطي في ذيل طبقات الحفاظ: 366، وذكره ابن حجر في الدرر: 5/ 123، وذكره حاجي خليفة في كشف الظنون: 2/ 1510 وذكره السخاوي في الإعلان: 600.

استدرك فيه على المؤلف بعض ما فاته من المترجمين، وأكثر من الاستدراك على "تهذيب الكمال" في التمييز، وألف كتابه هذا بعد أن اطلع على: تحفة الأشراف وتهذيب الكمال للمزي.

(6) انظر ترجمته في: البداية والنهاية: 14/ 307، والأعلام: 7/ 178، والدرر: 4/ 179، ولحظ الألحاظ: 150.

(7) اختصر فيه "تهذيب الكمال" وحذف منه من ليس في الكتب الستة، وأضاف إليهم رجال الموطأ ورجال الإمام أحمد ورجال مسند الشافعي، ورجال مسند أبي حنيفة.

(8) انظر ترجمته في: الوافي بالوفيات: 9/ 182، والنجوم الزاهرة: 7/ 202، والدرر الكامنة: 1/ 373، وطبقات الشافعية لابن قاضي شهبة: 3/ 85، وطبقات المفسرين للداوودي: 1/ 111.

(9) جمع فيه كتابه هذا بين "تهذيب الكمال" للمزي، و"ميزان الإعتدال" لشيخه الذهبي مع زيادات وتحريرات عليهما، ذكره.

দ - "আল-মুক্তাদাব মিন তাহযিবিল কামাল"(১).

৩ - ইমাম আবুল আব্বাস আহমাদ বিন সাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আল-আসকারি আল-আন্দারাশি আস-সুফি, মৃত্যু ৭৫০ হিজরি(২), তিনি একটি কিতাব রচনা করেছেন যাতে তিনি "তাহযিবুল কামাল" সংক্ষেপ করেছেন(৩).

৪ - ইমাম আলাউদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুগুলতাই বিন ক্বিলিজ বিন আব্দুল্লাহ আল-বাকজারি, মৃত্যু ৭৬২ হিজরি(৪), তিনি একটি কিতাব রচনা করেছেন যার নাম রেখেছেন: "ইকমালু তাহযিবিল কামাল ফি আসমায়ির রিজাল"(৫).

৫ - ইমাম শামসুদ্দিন আবুল মাহাসিন মুহাম্মাদ বিন আলি বিন হাসান বিন হামযা আল-হুসাইনি আদ-দিমাশকি, মৃত্যু ৭৭৫ হিজরি(৬), তিনি একটি কিতাব রচনা করেছেন যার নাম রেখেছেন: "আত-তাযকিরাহ ফি রিজালিল আশারাহ"(৭).

৬ - ইমাম ইমাদুদ্দিন আবুল ফিদা ইসমাঈল বিন উমর বিন কাসির আদ-দিমাশকি, মৃত্যু ৭৭৪ হিজরি(৮), তিনি একটি কিতাব রচনা করেছেন যার নাম রেখেছেন: "আত-তাকমিল ফিল জারহি ওয়াত তা'দিল ওয়া মা'রিফাতিস সিক্বাত ওয়াদ দুয়াফা ওয়াল মাজাহিল"(৯).

৭ - ইমাম ইমাদুদ্দিন আবুল ফিদা ইসমাঈল বিন মুহাম্মাদ বিন বারদিস আল-বালাবাকি আল-হাম্বলি,

--------------------------------------------

(১) সম্ভবত এটি "আল-কাশিফ" কিতাবটি, যা তিনি পূর্বে উল্লিখিত নিয়মে "তাহযিবুল কামাল" থেকে সংক্ষেপ করেছেন।

(২) তাঁর জীবনী দেখুন: হাদিয়াতুল আরিফিন ৫/ ১১০।

(৩) ইবনে হাজার এটি "আদ-দুরার": ১/ ১৪৫-এ উল্লেখ করেছেন, সুয়ূতি "বুগইয়াতুল উয়াত": ১/ ৩০৯-এ উল্লেখ করেছেন এবং হাজি খলিফা "কাশফুয যুনুন": ২/ ১৫১০-এ এটি উল্লেখ করেছেন।

(৪) তাঁর জীবনী দেখুন: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ১৪/ ২৮২, আদ-দুরার: ৫/ ১২২, লিসানুল মিযান: ৬/ ৭২, আন-নুজুমুয যাহিরাহ: ৬/ ১৯৭ এবং যাইলু তাবাকাতিল হুফফাজ: ৩৬৫।

(৫) সুয়ূতি এটি "যাইলু তাবাকাতিল হুফফাজ": ৩৬৬-এ উল্লেখ করেছেন, ইবনে হাজার "আদ-দুরার": ৫/ ১২৩-এ উল্লেখ করেছেন, হাজি খলিফা "কাশফুয যুনুন": ২/ ১৫১০-এ এবং সাখাভি "আল-ই'লান": ৬০০-এ এটি উল্লেখ করেছেন।

এতে তিনি মূল লেখকের বাদ পড়া কিছু রাবির জীবনী সংযোজন করেছেন এবং "তাহযিবুল কামাল"-এর ওপর "তাময়িয" (পার্থক্য নিরূপণ) এর ক্ষেত্রে অনেক সংশোধন ও সংযোজন করেছেন। তিনি এই কিতাবটি আল-মিযযির "তুহফাতুল আশরাফ" ও "তাহযিবুল কামাল" দেখার পর রচনা করেছেন।

(৬) তাঁর জীবনী দেখুন: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ১৪/ ৩০৭, আল-আলাম: ৭/ ১৭৮, আদ-দুরার: ৪/ ১৭৯ এবং লাহযুল আলহায: ১৫০।

(৭) এতে তিনি "তাহযিবুল কামাল" সংক্ষেপ করেছেন এবং যারা কুতুবে সিত্তাহর রাবি নন তাদের বাদ দিয়েছেন। আর তাদের সাথে মুয়াত্তা, ইমাম আহমাদ, মুসনাদে শাফিঈ এবং মুসনাদে আবু হানিফার রাবিদের যুক্ত করেছেন।

(৮) তাঁর জীবনী দেখুন: আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত: ৯/ ১৮২, আন-নুজুমুয যাহিরাহ: ৭/ ২০২, আদ-দুরারুল কামিনাহ: ১/ ৩৭৩, ইবনে কাদি শুহবাহর তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ: ৩/ ৮৫ এবং দাউদির তাবাকাতুল মুফাসসিরিন: ১/ ১১১।

(৯) এই কিতাবে তিনি আল-মিযযির "তাহযিবুল কামাল" এবং তাঁর শাইখ যাহাবির "মিযানুল ইতিদাল"-কে একত্রিত করেছেন, সাথে উভয়ের ওপর অতিরিক্ত তথ্য ও পরিমার্জন যোগ করেছেন, যা তিনি উল্লেখ করেছেন।

(খণ্ড: ١) তাহযিবুত তাহযিব - ত মাআরিফা (পৃষ্ঠা: ١٩)
المُتَوَفَّى سَنَةَ 786 هـ(1)، أَلَّفَ كِتَابًا سَمَّاهُ: "بُغية الأريب في اختصار التهذيب"(2).

8 - الإِمَامُ سِرَاجُ الدِّينِ أَبُو عَلِي عُمَرُ بْنُ عَلِي بْنِ أَحْمَدَ الْأنْصَارِيُّ، المَعْرُوفُ بِابْنِ المُلَقِّنِ، المُتَوَفَّى سَنَةَ 804 هـ(3)، أَلَّفَ كِتَابًا سَمَّاهُ: "إكمال تهذيب الكمال في أسماء الرجال"(4).

9 - الإِمَامُ بُرْهَانُ الدِّينِ أَبُو الوَفَاءِ إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ خَلِيْل الطَّرَابُلُسِي، المَعْرُوفُ بِسِبْطِ ابْنِ العَجَمِيِّ، المُتَوَفَّى سَنَةَ 841 هـ(5)، أَلَّفَ كِتَابًا سَمَّاهُ: "نهاية السُّول في رواة الستة الأصول"(6).

10 - الإِمَامُ تَقِيُّ الدِّينِ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدٍ الدِّمَشْقِيُّ، المَعْرُوفُ بِابْنِ قَاضِي شُهْبَةَ، المُتَوَفَّى سَنَةَ 851 هـ(7)، أَلَّفَ كِتَابًا اخْتَصَرَ فِيْهِ كِتَابَ: "تهذيب الكمال"(8).

11 - الإِمَامُ الحَافِظُ المُتْقِنُ شِهَابُ الدِّيْنِ أَبُو الفَضْلِ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيّ الكِنَانِيُّ العَسْقَلَانِيُّ، المُتَوَفَّى سَنَةَ 852 هـ(9)، أَلَّفَ كِتَابًا سَمَّاهُ: "تهذيب التهذيب" وَهُوَ كِتَابُنَا هذَا، أَبْدَى الإِمَامُ فِي مُقَدِّمَتِهِ عِدَّةَ مُلَاحَظَاتٍ عَلَى كَتَابِ: "تهذيب الكمال" ثُمَّ بَيَّنَ مَنْهَجَهُ فِي كِتَابِهِ مِنْ خَلَالِ المُقَدِّمَةِ أَيْضًا.

ثُمَّ اخْتَصَرَ كِتَابَهُ: "تهذيب التهذيب" وَسَمَّاهُ: "تقريب التهذيب".

--------------------------------------------

(1) انظر ترجمته في: لحظ الألحاظ: 166، 167، والدرر: 1/ 404، وشذرات الذهب: 6/ 287.

(2) لم يحذف من رجاله شيئًا، بل حذف بعض الأنساب المشهورة.

(3) انظر ترجمته في: الضوء اللامع: 6/ 100، وذيل طبقات الحفاظ: 396، ولحظ الألحاظ: 197.

(4) اختصر فيه "التهذيب" وذيل عليه من رجال ستة كتب، هي: مسند الإمام أحمد، وصحيح ابن خزيمة، وصحيح ابن حبان، والمستدرك والسنن للدارقطني، والسنن للبيهقي، انظر بروكلمان: 1/ 164 باللغة الألمانية.

(5) انظر ترجمته في: البدر الطالع: 1/ 28، وذيل التقييد: 1/ 440، والدليل الشافي: 1/ 26، وشذرات الذهب: 7/ 237.

(6) جاء في مقدمة خلاصة تذهيب التهذيب: 6، 7، التي حققها فضيلة الشيخ الحافظ: عبد الفتاح أبو غدة حفظه الله ما نصه: وقد زينه - أي: سبط ابن العجمي - بالفوائد العلمية الحديثية النادرة، والضبوط المحررة الدقيقة للأسماء والكنى وذكره أبي الطيب في ذيل التقييد: 1/ 440.

(7) انظر ترجمته في: الضوء اللامع: 11/ 21، وشذرات الذهب: 7/ 269.

(8) ذكره حاجي خليفة في كشف الظنون: 2/ 1510.

(9) أفردنا له ترجمة خاصة به في أول هذا الكتاب.

মৃত্যু ৭৮৬ হিজরি(১), তিনি একটি কিতাব রচনা করেছেন যার নাম দিয়েছেন: "বুগইয়াতুল আরিব ফি ইখতিসারিত তাহজিব"(২).

৮ - ইমাম সিরাজুদ্দীন আবু আলী উমর বিন আলী বিন আহমাদ আল-আনসারী, যিনি ইবনুল মুলাক্কিন নামে পরিচিত, মৃত্যু ৮০৪ হিজরি(৩), তিনি একটি কিতাব রচনা করেছেন যার নাম দিয়েছেন: "ইকমালু তাহজিবিল কামাল ফি আসমায়ির রিজাল"(৪).

৯ - ইমাম বুরহানুদ্দীন আবুল ওয়াফা ইবরাহিম বিন মুহাম্মাদ বিন খলিল আত-তারাবুলুসি, যিনি সিবত ইবনুল আজামি নামে পরিচিত, মৃত্যু ৮৪১ হিজরি(৫), তিনি একটি কিতাব রচনা করেছেন যার নাম দিয়েছেন: "নিহায়াতুস সুল ফি রুওয়াতিস সিত্তাতিল উসুল"(৬).

১০ - ইমাম তাকিউদ্দীন আবু বকর বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আদ-দিমাশকি, যিনি ইবনে কাদি শুহবাহ নামে পরিচিত, মৃত্যু ৮৫১ হিজরি(৭), তিনি একটি কিতাব রচনা করেছেন যাতে তিনি "তাহজিবুল কামাল" কিতাবটিকে সংক্ষেপ করেছেন(৮).

১১ - নিপুণ হাফেজ ইমাম শিহাবুদ্দীন আবুল ফজল আহমাদ বিন আলী আল-কিনানি আল-আসকালানি, মৃত্যু ৮৫২ হিজরি(৯), তিনি একটি কিতাব রচনা করেছেন যার নাম দিয়েছেন: "তাহজিবুত তাহজিব", আর এটিই আমাদের এই কিতাব। ইমাম সাহেব এর ভূমিকায় "তাহজিবুল কামাল" কিতাবের ওপর বেশ কিছু পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন, অতঃপর ভূমিকার মাধ্যমেই তিনি তার কিতাবের পদ্ধতিও বর্ণনা করেছেন।

এরপর তিনি তার "তাহজিবুত তাহজিব" কিতাবটিকে সংক্ষেপ করেছেন এবং এর নাম দিয়েছেন: "তাক্বরিবুত তাহজিব" ।

--------------------------------------------

(১) তার জীবনী দেখুন: লাহজুল আলহাজ: ১৬৬, ১৬৭, আদ-দুরার: ১/৪০৪ এবং শাজারাতুজ জাহাব: ৬/২৮৭।

(২) তিনি এর বর্ণনাকারীদের মধ্য থেকে কিছুই বাদ দেননি, বরং কিছু প্রসিদ্ধ বংশধারা বাদ দিয়েছেন।

(৩) তার জীবনী দেখুন: আদ-দাওউল লামি‘: ৬/১০০, জাইলু তাবাকাতিল হুফফাজ: ৩৯৬, লাহজুল আলহাজ: ১৯৭।

(৪) তিনি এতে "তাহজিব" কে সংক্ষেপ করেছেন এবং আরও ছয়টি কিতাবের বর্ণনাকারীদের জীবনী এতে যোগ করেছেন, সেগুলো হলো: মুসনাদে ইমাম আহমাদ, সহিহ ইবনে খুজাইমা, সহিহ ইবনে হিব্বান, আল-মুসতাদরাক, সুনানে দারা কুতনি এবং সুনানে বায়হাকি; দেখুন ব্রোকলম্যান: ১/১৬৪ (জার্মান ভাষায়)।

(৫) তার জীবনী দেখুন: আল-বাদরুত তালি‘: ১/২৮, জাইলুত তাকয়িদ: ১/৪৪০, আদ-দালিলুশ শাফি: ১/২৬ এবং শাজারাতুজ জাহাব: ৭/২৩৭।

(৬) "খুলাসাতু তাজহিবিত তাহজিব" কিতাবের ভূমিকার (পৃষ্ঠা ৬, ৭) ভাষ্য অনুযায়ী, যা ফজিলাতুশ শাইখ হাফেজ আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ (আল্লাহ তাকে সংরক্ষণ করুন) তাহকিক করেছেন: "সিবত ইবনুল আজামি এই কিতাবটিকে বিরল হাদিস বিষয়ক ইলমি ফায়দা এবং নাম ও উপনামের (কুনিয়া) অত্যন্ত নিখুঁত ও সঠিক বিন্যাস দ্বারা সমৃদ্ধ করেছেন"। আবু তায়্যিব এটি "জাইলুত তাকয়িদ"-এ (১/৪৪০) উল্লেখ করেছেন।

(৭) তার জীবনী দেখুন: আদ-দাওউল লামি‘: ১১/২১ এবং শাজারাতুজ জাহাব: ৭/২৬৯।

(৮) হাজি খলিফা "কাশফুজ জুনুন"-এ (২/১৫১০) এটি উল্লেখ করেছেন।

(৯) আমরা এই কিতাবের শুরুতে তার জন্য একটি বিশেষ জীবনী অধ্যায় বরাদ্দ করেছি।

(খণ্ড: ١) তাহযিবুত তাহযিব - ত মাআরিফা (পৃষ্ঠা: ٢٠)
12 - الإِمَامُ تَقِيُّ الدِّينِ أَبُو الفَضْلِ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ فَهْدٍ الهَاشِمِيُّ المَكِيُّ الشَّافِعِيُّ، المُتَوَفَّى سَنَةَ 871 هـ(1)، أَلَّفَ كِتَابًا سَمَّاهُ: "نهاية التقريب وتكميل التهذيب بالتذهيب"(2).

وَلَمَّا أَلَّفُوا هذِهِ الْكُتُبَ كَانَ مِنْ الضَّرُورَةِ أَنْ يعْتَمِدُوا عَلَى أَقْوَالِ أَئِمَّةِ عِلْمِ الْجَرْحِ وَالتَّعْدِيلِ، حَتَّى يُظهِرُوا أَحْوَالَ الرِّجَالِ بِدِقَّةٍ، فَمِنْ هؤُلَاءِ الأئِمَّةِ مَنْ كَانَ مُتَشَدِّدًا بِحُكْمِهِ، وَمِنْهُمْ مَنْ كَانَ لَيِّنًا فِي حُكْمِهِ عَلَى الرِّجَالِ، وَمِنْهُمْ مَنْ كَانَ وَسَطًا فِي ذلِكَ، وإِلَيْكَ شرط مَنْ يُعْتَمَدُ قَوْلُهُ فِي الْجَرْحِ وَالتَّعْدِيْلِ.

--------------------------------------------

(1) انظر ترجمته في: الإعلان: 600.

(2) دمج فيه "تهذيب التهذيب" مع زيادات الذهبي في "تذهيبه" وزاد هو أيضًا فيه، وكذلك ذكره السخاوي في الإعلان: 600، وحاجي خليفة في كشف الظنون: 2/ 1510.

১২ - ইমাম তাকীউদ্দীন আবুল ফজল মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন ফাহদ আল-হাশিমী আল-মক্কী আশ-শাফিঈ, মৃত্যু ৮৭১ হিজরি(১), তিনি একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন যার নামকরণ করেছেন: "নিহায়াতুত তাকরীব ওয়া তাকমীলুত তাহযীব বিত-তাযহীব"(২)।

যখন তাঁরা এই গ্রন্থসমূহ রচনা করেছিলেন, তখন জারহ ও তা'দীল (রাবীদের সমালোচনা ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই) শাস্ত্রের ইমামগণের বক্তব্যের ওপর নির্ভর করা অপরিহার্য ছিল, যাতে তাঁরা বর্ণনাকারীদের অবস্থা সূক্ষ্মভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারেন। এই ইমামগণের মধ্যে কেউ কেউ রাবীদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কঠোর ছিলেন, আবার কেউ কেউ শিথিল ছিলেন, আর কেউ কেউ এ ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থী ছিলেন। নিচে তাদের শর্তাবলী আলোচনা করা হলো জারহ ও তা'দীলের ক্ষেত্রে যাদের বক্তব্য নির্ভরযোগ্য।

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনী দেখুন: আল-ই'লান: ৬০০।

(২) তিনি এতে "তাহযীবুত তাহযীব" গ্রন্থের সাথে ইমাম যাহাবীর "তাযহীব" গ্রন্থের অতিরিক্ত অংশসমূহ একত্রিত করেছেন এবং নিজেও তাতে আরও কিছু পরিবর্ধন করেছেন। একইভাবে সাখাবী "আল-ই'লান" (৬০০) গ্রন্থে এবং হাজী খলীফা "কাশফুজ জুনুন" (২/১৫১০) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।

(খণ্ড: ١) তাহযিবুত তাহযিব - ত মাআরিফা (পৃষ্ঠা: ٢١)
‌‌شرط من يعتمد قوله في الجرح والتعديل

قَالَ الإِمَامُ اللَّكْنَوِيُّ(1):

يُشْتَرَطُ فِي الجَارِحِ والْمُعَدِّلِ: العِلْمُ والتَّقْوَى والوَرَعُ، والصِدْقُ، والتَّجَنُّبُ عَنْ التَّعَّصُبِ، ومَعْرِفَةُ أَسْبَابِ الجَرْحِ والتَّزْكِيَةِ، ومَنْ لَيْسَ كَذلِكَ لَا يُقْبَلُ مِنْهُ الجَرْحُ والتَّزْكِيَةُ.

وقَالَ التَّاجُ السُّبْكِيُّ: مَنْ لَا يَكُونُ عَالِماَ بِأَسْبَابِهِمَا - أَيْ: الجَرْحِ والتَعْدِيلِ - لَا يُقبَلَانِ مِنْهُ لَا بِإِطْلَاقٍ وَلَا بِتَقْيِيدٍ.

وقَالَ الذَّهَبِيُّ(2): والْكَلَامُ فِي الرُّوَاةِ يَحْتَاجُ إِلَى وَرَعٍ تَامٍ، وَبَراءَةٍ مِنَ الْهَوَى والْمَيْلِ، وخِبْرَةٍ كَامِلَةٍ بِالْحَدِيثِ، وَعِلَلِهِ، ورِجَالِهِ.

وَقَالَ الْحَافِظُ ابْنُ حَجَرٍ(3): تُقْبَلُ التَّزْكِيَةُ مِنْ عَارِفٍ بِأَسْبَابِهَا، لَا مِنْ غَيْرِ عَارِفٍ، وَيَنْبَغِي أَنْ لَا يُقْبَلَ الجَرْحُ إِلَّا مِنْ عَدْلٍ مُتَيَقِّظٍ.

وقَالَ ابْنُ مُلَّا اللَّكنَوِيُّ(4): لَا بُدَّ لِلْمُزَكِّي أَنْ يَكُونَ عَادِلًا عَارِفًا بِأَسْبَابِ الْجَرْحِ والتَّعْدِيلِ، وأَنْ يَكُونَ مُنْصِفًا نَاصِحًا، لَا أَنْ يَكُونَ مُتَعَصَّبًا ومُعْجَبًا بِنَفْسِهِ، فَإِنَّه لَا اعُتِدَادَ بِقَوْلِ مُتَعَصِّبٍ.

ثُمَّ يَقُولُ الْإِمَامُ الذَّهَبِيُّ أَيْضًا: حَقٌّ عَلَى الْمُحَدِّثِ أَنْ يَتَوَرَّعَ فِيما يُؤَدِّيهِ، وأَنْ يَسْأَلَ أَهْلَ الْمَعْرِفَةِ والوَرَعِ لِيُعِينُوهُ عَلَى إِيْضَاحِ مَرْوِيَّاتِهِ، ولَا سَبِيْلَ إِلَى أَنْ يَصِيْرَ العَارِفُ - الَّذِي يُزَكِّي نَقَلَةَ الْأَخبَارِ ويُجَرِّحُهُمْ - جِهْبِذًا إِلَّا بِإِدْمَانِ الطَّلَبِ والفَحْصِ عَنْ هذَا الشَّأْنِ، وكَثْرَةِ

--------------------------------------------

(1) الرفع والتكميل: ص 67.

(2) الموقظة: ص 82

(3) شرح نخبة الفكر: ص 135.

(4) فواتح الرحموت: 2/ 154.

জারহ এবং তাদীল (সমালোচনা ও গুণকীর্তন) এর ক্ষেত্রে যাদের কথা গ্রহণযোগ্য তাদের শর্তাবলী

ইমাম লাখনভী বলেন(১):

জারহকারী (সমালোচক) এবং মুআদ্দিল (গুণকীর্তনকারী)-এর জন্য শর্ত হলো: জ্ঞান, তাকওয়া, পরহেজগারি, সত্যবাদিতা, গোঁড়ামি পরিহার করা এবং জারহ ও তাদীলের কারণসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান রাখা। যার মধ্যে এই গুণাবলি নেই, তার জারহ এবং তাদীল গ্রহণ করা হবে না।

তাজ সুবকী বলেন: যে ব্যক্তি জারহ ও তাদীল—অর্থাৎ সমালোচনা ও গুণকীর্তন—এর কারণসমূহ সম্পর্কে অবগত নয়, তার থেকে এই দুটি বিষয় গ্রহণ করা হবে না; তা সাধারণভাবে হোক বা শর্তযুক্তভাবে হোক।

ইমাম যাহাবী বলেন(২): বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে আলোচনা করার জন্য পূর্ণাঙ্গ পরহেজগারি, প্রবৃত্তি ও পক্ষপাতিত্ব থেকে মুক্ত থাকা এবং হাদিস, হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি (ইলাল) ও বর্ণনাকারীদের (রিজাল) সম্পর্কে পূর্ণ অভিজ্ঞতার প্রয়োজন।

হাফেজ ইবনে হাজার বলেন(৩): তাদীল (গুণকীর্তন) কেবলমাত্র এই শাস্ত্রের কারণসমূহ সম্পর্কে অবগত ব্যক্তির থেকেই গ্রহণ করা হবে, অনভিজ্ঞ ব্যক্তি থেকে নয়। আর জারহ বা সমালোচনা কেবলমাত্র সতর্ক ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারো কাছ থেকে গ্রহণ করা উচিত নয়।

ইবনে মোল্লা লাখনভী বলেন(৪): মুযাক্কি (গুণকীর্তনকারী)-কে অবশ্যই ন্যায়পরায়ণ এবং জারহ ও তাদীল এর কারণসমূহ সম্পর্কে অভিজ্ঞ হতে হবে। তাকে ইনসাফকারী ও কল্যাণকামী হতে হবে; গোঁড়া বা আত্মমুগ্ধ হওয়া চলবে না। কেননা কোনো গোঁড়া ব্যক্তির কথার কোনো গুরুত্ব নেই।

অতঃপর ইমাম যাহাবী আরও বলেন: মুহাদ্দিসের জন্য কর্তব্য হলো তিনি যা বর্ণনা করছেন সে ব্যাপারে পরহেজগারি অবলম্বন করা এবং অভিজ্ঞ ও পরহেজগার ব্যক্তিদের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা, যাতে তারা তার বর্ণিত বিষয়সমূহ স্পষ্ট করতে তাকে সহায়তা করেন। আর কোনো অভিজ্ঞ ব্যক্তি—যিনি সংবাদ বাহকদের গুণকীর্তন করেন বা সমালোচনা করেন—তিনি ততক্ষণ পর্যন্ত দক্ষ বিশেষজ্ঞ হতে পারেন না, যতক্ষণ না তিনি এই বিষয়ের অন্বেষণ ও অনুসন্ধানে নিরন্তর সাধনা এবং অধিক...

--------------------------------------------

(১) আর-রাফ' ওয়াত তাকমীল: পৃষ্ঠা ৬৭।

(২) আল-মুউকিজাহ: পৃষ্ঠা ৮২।

(৩) শারহু নুখবাতিল ফিকার: পৃষ্ঠা ১৩৫।

(৪) ফাওয়াতীহুর রাহমুত: ২/১৫৪।

(খণ্ড: ١) তাহযিবুত তাহযিব - ত মাআরিফা (পৃষ্ঠা: ٢٢)
المُذَاكَرَةِ والسَّهَرِ والتَّيَقُّظِ والفَهْمِ، مَعَ التَّقْوَى والدِّيْنِ الْمَتِيْنِ والْإِنْصَافِ، والتَّرَدُّدِ إِلَى العُلَمَاءِ والْإِتْقَانِ، وَإِلَّا تَفْعَلْ:

فدَعْ عَنْكَ الكِتَابَةَ لَسْتَ مِنْها … وَلَوْ سَوَّدْتَ وَجْهَكَ بِالْمِدَادِ

فَإِنْ آنَسْتَ مِنْ نَفْسِكَ فَهْمًا وصِدْقًا ودِيْنًا ووَرَعًا، وَإِلَّا فَلَا تَتَعَنَّ، وإِنْ غَلَبَ عَلَيْكَ الهَوَى والعَصبِيَّةُ لَرَأْيٍ ولِمَذْهَبٍ، فَبِاللهِ لَا تَتْعَبْ، وَإِنْ عَرَفْتَ أَنَّكَ مُخَلِّطٌ مُخَبِّطٌ مُهْمِلٌ لِحُدُودِ اللهِ، فَأَرِحْنَا مِنْكَ(1).

هذِهِ هَيَ الصِّفَاتُ الَّتِي يَجِبْ أَنْ يَتَحَلَّى بِهَا الجَارحُ والمُعَدِّلُ مِنْ أَجْلِ أَنْ يُقْبَلَ حُكمُهُم، وَإِلَيْكَ ذِكرُ مَنْ يُعْتَمَدُ قَوْلُهُ فِي الجَرْحِ والتَّعْدِيْلِ.

--------------------------------------------

(1) تذكرة الحفاظ: 1/ 4.

পাঠচর্চা, বিনিদ্র রজনী, সজাগ দৃষ্টি ও অনুধাবন; সেই সাথে তাকওয়া, সুদৃঢ় দ্বীনদারী, ন্যায়পরায়ণতা, আলেমদের সান্নিধ্য এবং বিষয়ের ওপর পারদর্শিতা অর্জন করা আবশ্যক। অন্যথায়:

লেখালেখি ছেড়ে দাও, তুমি এর যোগ্য নও … যদিও তুমি কালিতে নিজের মুখ কালো করে ফেলো।

যদি তুমি নিজের মধ্যে অনুধাবন ক্ষমতা, সত্যবাদিতা, দ্বীনদারী ও পরহেজগারি অনুভব করো (তবেই এ পথে চলো), অন্যথায় নিজেকে কষ্টে ফেলো না। আর যদি তোমার ওপর প্রবৃত্তি এবং কোনো মত বা মাযহাবের প্রতি অন্ধ পক্ষপাতিত্ব প্রবল হয়, তবে আল্লাহর দোহাই, নিজেকে পরিশ্রান্ত করো না। আর যদি তুমি জানো যে তুমি লক্ষ্যহীন সংমিশ্রণকারী এবং আল্লাহর বিধানসমূহের অবজ্ঞাকারী, তবে আমাদের তোমার থেকে মুক্তি দাও(১)।

এগুলোই সেই গুণাবলি যা জারহ ও তা'দীলকারীর (রাবীদের সমালোচনা ও সত্যায়নকারী) মধ্যে থাকা অপরিহার্য, যাতে তাদের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। আর এখানে তাদের কথা উল্লেখ করা হচ্ছে, জারহ ও তা'দীলের ক্ষেত্রে যাদের বক্তব্যের ওপর নির্ভর করা হয়।

--------------------------------------------

(১) তাযকিরাতুল হুফফায: ১/৪।

(খণ্ড: ١) তাহযিবুত তাহযিব - ত মাআরিফা (পৃষ্ঠা: ٢٣)
‌‌ذكر من يعتمد قوله في الجرح والتعديل

يَقُولُ الْإِمَامُ الذَّهَبِيُّ(1) رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى فِي مُقَدِّمَةِ رِسَالَتِهِ:

اعْلَمْ - هَدَاكَ اللهُ - أَنَّ الَّذِينَ قَبِلَ النَّاسُ قَوْلَهُمْ فِي الْجَرْحِ وَالتَّعْدِيْلِ، عَلَى ثَلَاثَةِ أَقْسَامٍ:

1 - قِسْمٌ تَكَلَّمُوا فِي أَكْثَرِ الرُّوَاةِ، كَابْنِ مَعِيْنٍ، وَأَبِي حَاتِمٍ الرَّازِيِّ.

2 - وَقِسْمٌ تَكلَّمُوا فِي كَثِيرٍ مِنَ الرُّوَاةِ، كَمالِكٍ وشُعْبَةَ.

3 - وَقِسْمٌ تَكَلَّمُوا فِي الرَّجُلِ بَعْدَ الرَّجُلِ، كَابْنِ عُيَيْنَةَ والشَّافِعِيِّ.

وَالكُلُّ أَيْضًا عَلَى ثَلَاثَةِ أَقْسَامٍ:

1 - قِسْمٌ مِنْهُمْ مُتَعَنِّتٌ فِي الْجَرْحِ، مُتَثَبِّتٌ فِي التَّعْدِيْلِ، يَغْمِزُ الرَّاوِيَ بَالْغَلْطَتَيْنِ والثَّلَاثِ، ويُلَيِّنُ بِذلِكَ حَدِيثَهُ.

فَهذَا إِذَا وَثَّقَ شَخْصًا فَعُضَّ عَلَى قَوْلِهِ بِنَاجِذَيْكَ، وتَمَسَّكْ بِتَوْثِيْقِهِ، وَإِذا ضَعَّفَ رَجُلًا فَانْظُرْ هَلْ وَافَقَهُ غَيْرُهُ عَلَى تَضْعِيْفِهِ، فَإِنْ وَافَقَهُ، وَلَمْ يُوَثِّقْ ذَاكَ أَحَدٌ مِنَ الْحُذَّاقِ، فَهُو ضَعِيْفٌ، وَإِنْ وَثَّقَهُ أَحَدٌ فَهذَا الَّذِي قَالُوا فِيْهِ لَا يُقْبَلُ تَجْرِيحُهُ إِلَاّ مُفَسَّرًا - يَعْنِي: لَا يَكْفِي أَنْ يَقُولَ فِيهِ ابْنُ مَعِيْنٍ مَثَلًا: هُو ضَعِيْفٌ، وَلَمْ يُوَضِّحْ سَبَبَ ضَعْفِهِ - وَغَيْرُهُ قَدْ وَثَّقَهُ، فَمَثَلُ هذا يَتَوَقَّفُ فِي تَصْحِيْحِ حَدِيْثِهِ وَهُوَ إِلَى الحُسْنِ أَقْرَبُ.

وابْنُ مَعِيْنٍ وَأَبُو حَاتِمٍ وَالجَوْزَجَانِيُّ مُتَعَنِّتُونَ.

2 - وَقِسْمٌ فِي مُقَابَلَةِ هؤُلَاءِ، كَأَبِي عِيسَى التَّرْمِذِيِّ، وَأَبِي عَبْدِ اللهِ الحَاكِمِ، وَأَبِي بَكْرٍ البَيْهَقِيِّ: مُتَسَاهِلُونَ.

3 - وَقِسْمٌ كَالْبُخَارِيِّ، وَأَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ، وأَبِي زُرْعَةَ، وَابْنِ عَدِيٍّ: مُعْتَدِلُونَ مُنْصِفُونَ.

--------------------------------------------

(1) ذكر من يعتمد قوله في الجرح والتعديل: 158.

যাঁদের কথা জরাহ ও তাদীলের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য তাঁদের আলোচনা

ইমাম আয-যাহাবী(১) রাহিমাহুল্লাহ তাআলা তাঁর পুস্তিকার ভূমিকায় বলেন:

জেনে রাখুন—আল্লাহ আপনাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করুন—যে জরাহ ও তাদীলের (সমালোচনা ও সত্যায়ন) ক্ষেত্রে মানুষ যাঁদের বক্তব্য গ্রহণ করেছে, তাঁরা তিন প্রকারের:

১ - একদল যারা অধিকাংশ বর্ণনাকারী সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, যেমন ইবনে মাঈন এবং আবু হাতিম আর-রাযী।

২ - আর একদল যারা অনেক বর্ণনাকারী সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, যেমন মালিক এবং শু'বাহ।

৩ - এবং একদল যারা নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি সম্পর্কে কদাচিৎ আলোচনা করেছেন, যেমন ইবনে উইয়াইনাহ এবং আশ-শাফিঈ।

আবার তাঁরা সকলেই তিন ভাগে বিভক্ত:

১ - তাঁদের একদল জরাহ বা সমালোচনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর এবং তাদীল বা নির্ভরযোগ্য ঘোষণার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সুক্ষ্ম ও সাবধানী; তাঁরা মাত্র দুই-তিনটি ভুলের কারণেও বর্ণনাকারীর সমালোচনা করেন এবং এর মাধ্যমে তাঁর বর্ণিত হাদিসকে দুর্বল হিসেবে গণ্য করেন।

এই স্তরের বিশেষজ্ঞ যখন কাউকে নির্ভরযোগ্য বলেন, তখন তাঁর কথাকে আপনি আপনার মাড়ির দাঁত দিয়ে আঁকড়ে ধরুন এবং তাঁর সত্যায়নকে মজবুতভাবে ধারণ করুন। আর যখন তিনি কাউকে দুর্বল বলেন, তখন দেখুন অন্য কেউ কি তাঁর এই দুর্বল সাব্যস্ত করার সাথে একমত পোষণ করেছেন? যদি অন্য কেউও একমত হন এবং পারদর্শী ইমামদের কেউ তাঁকে নির্ভরযোগ্য না বলেন, তবে তিনি দুর্বল। আর যদি কেউ তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেন, তবে এটি সেই ক্ষেত্র যেখানে বলা হয় যে, তাঁর সমালোচনা (জরাহ) কারণ ব্যাখ্যা করা ছাড়া গ্রহণযোগ্য নয়—অর্থাৎ: উদাহরণস্বরূপ ইবনে মাঈন কোনো বর্ণনাকারী সম্পর্কে কেবল বললেন যে 'তিনি দুর্বল' কিন্তু তাঁর দুর্বলতার কারণ স্পষ্ট করলেন না—অথচ অন্য কেউ তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন; এমন ক্ষেত্রে তাঁর হাদিসের বিশুদ্ধতার (সহীহ হওয়ার) ব্যাপারে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হবে, তবে তা 'হাসান' হওয়ারই নিকটবর্তী।

ইবনে মাঈন, আবু হাতিম এবং আল-জাওযাজানী হলেন জরাহ-তাদিলের ক্ষেত্রে কঠোরপন্থী।

২ - আর একদল এঁদের বিপরীত, যেমন আবু ঈসা আত-তিরমিযী, আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম এবং আবু বকর আল-বাইহাকী: তাঁরা শিথিল বা নরমপন্থী।

৩ - এবং আর একদল যেমন আল-বুখারী, আহমাদ বিন হাম্বল, আবু যুরআহ এবং ইবনে আদী: তাঁরা হলেন মধ্যপন্থী ও ন্যায়পরায়ণ।

--------------------------------------------

(১) যিকর মান ইউতামাদু কাওলুহু ফীল জরাহি ওয়াত তাদীল: ১৫৮।

(খণ্ড: ١) তাহযিবুত তাহযিব - ত মাআরিফা (পৃষ্ঠা: ٢٤)
فَأَوَّلُ مَنْ زَكَّى وَجَرَّحَ عِنْدَ انْقِرَاضِ عَصْرِ الصَّحَابَةِ:

1 - الشِّعْبِيُّ.

2 - وَابْنُ سِيرِينَ.

وَنَحْوُهُمَا، حُفِظَ عَنْهُمْ تَوْثِيْقُ أُنَاسٍ وَتَضْعِيفُ آخَرِين.

وَسَبَبُ قِلَّةِ الضُّعَفَاءِ فِي ذلِكَ الزَّمَانِ: قِلَّةُ مَتْبُوعِيهِمْ مِنَ الضُّعَفَاءِ إِذْ أَكْثَرُ المَتْبُوعِيْنَ صَحَابَةٌ عُدُوْلٌ، وَأَكْثَرُهُمْ مِنْ غَيْرِ الصَّحَابَةِ، بَل عَامَّتُهُمْ ثِقَاتٌ صَادِقُونَ، يَعُونَ ما يَرْوُونَ، وَهُمْ كِبَارُ التَّابِعِيْنَ، فَيُوجَدُ فِيهِمْ الوَاحِدُ بَعْدَ الوَاحِدِ فِيهِ مَقَالٌ، كَالْحَارِثِ الْأعوَرِ. وَعَاصِمِ ابْنِ ضَمْرَةَ وَنَحْوِهِمَا.

نَعَمْ فِيهِمْ عِدَّةٌ مِنْ رُؤُوسِ أَهْلِ البِدَعِ مِنَ الْخَوَارجِ، والشِّيْعَةِ، والقَدَرِيَّةِ، نَسْأَلُ اللهَ العَافِيَةَ، كَعَبْدِ الرَّحْمنِ بْنِ مِلْجَم، والمُخْتَارِ بْنِ أَبِي عُبَيْدٍ الكَذَّابِ، ومَعْبَدٍ الجُهَنِيِّ.

ثُمَّ كَانَ فِي المِئَةِ الثَّانِيَةِ فِي أَوَائِلِهَا جَمَاعَةٌ مِنَ الضُّعَفَاء، مِنْ أَوَسَاطِ التَّابِعِينَ وَصِغَارِهِمْ، مِمَنْ تُكُلِّمَ فِيْهِمْ مِنْ قِبَلِ حِفْظِهِمْ، أَوْ لِبِدْعَةٍ فِيهِمْ، كَعَطِيَّةَ العَوْفِيِّ، وَفَرْقَدِ السَّبَخِيِّ، وجَابِرِ الجُعْفِيِّ، وأَبِي هَارُونَ العَبَدِيِّ.

فَلَمَّا كَانَ عِنْدَ انْقِرَاضِ عَامَّةِ التَّابِعِيْنَ فِي حُدُودِ الْخَمْسِينَ وَمِئَةٍ، تَكَلَّمَ طَائِفَةٌ مِنَ الْجَهَابِذَةِ فِي التَّوْثِيْقِ وَالتَّضْعِيْفِ.

3 - فَقَالَ أَبُو حَنِيْفَةَ: مَا رَأَيتُ أَكْذَبَ مِنْ جَابِرٍ الجُعْفِيِّ.

4 - وَضَعَّفَ الْأعمَشُ جَمَاعَةَ، وَوُثِّقَ آخَرِيْنَ.

5 - وانْتَقَدَ الرِّجَالَ شُعْبَة.

6 - ومَالِكٌ.

ثُمَّ قَسَّمَ الْإِمَامُ الذَّهَبِيُّ أَسْمَاءَ رِجَالِ الَّذِيْنَ إِذَا تَكَلَّمُوا فِي الرِّجَالِ قُبِلَ قَوْلُهُمْ وَرُجِعَ إِلَى نَقْدِهِمْ إِلَى خَمْسٍ وَعِشْرِينَ طَبَقَةً.

سَنَذْكُرُ أَهَمَّ الرِّجَالِ فِي هذِهِ الطَّبَقَاتِ.
সাহাবীদের যুগের অবসানকালে সর্বপ্রথম যারা প্রশংসা (তাদীল) ও সমালোচনা (জারহ) করেছেন:

১ - শাবি।

২ - ইবনে সিরিন।

এবং তাঁদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ। তাঁদের থেকে একদল লোকের নির্ভরযোগ্যতা (তাওসিক) এবং অন্যদের দুর্বলতা (তাদয়িফ) বর্ণিত হয়েছে।

সেই যুগে দুর্বল বর্ণনাকারীর সংখ্যা কম হওয়ার কারণ হলো: যাদের থেকে হাদিস গ্রহণ করা হতো তাদের মধ্যে দুর্বলদের সংখ্যা ছিল নগণ্য। কারণ অধিকাংশ মتبু' (যাদের থেকে বর্ণনা নেওয়া হতো) ছিলেন ন্যায়পরায়ণ সাহাবী। আর সাহাবী নন এমন ব্যক্তিদেরও অধিকাংশ, বরং তাঁদের প্রায় সকলেই ছিলেন নির্ভরযোগ্য ও সত্যবাদী, যাঁরা যা বর্ণনা করতেন তা সঠিকভাবে অনুধাবন করতেন; আর তাঁরা ছিলেন জ্যেষ্ঠ তাবিঈ। তাই তাঁদের মধ্যে হারিছ আল-আওয়ার, আসিম ইবনে দামরা এবং তাঁদের সমপর্যায়ের হাতেগোনা দুই-একজন ছাড়া বিতর্কিত ব্যক্তি খুব কমই পাওয়া যায়।

হ্যাঁ, তাঁদের মধ্যে খারেজি, শিয়া এবং কাদরিয়াদের মতো বিদআতীদের কিছু প্রধান ব্যক্তি ছিল—আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি—যেমন আবদুর রহমান ইবনে মুলজাম, চরম মিথ্যুক মুখতার ইবনে আবি উবায়েদ এবং মাবাদ আল-জুহানি।

অতঃপর দ্বিতীয় হিজরি শতকের শুরুর দিকে মধ্যম ও কনিষ্ঠ স্তরের তাবিঈদের মধ্যে একদল দুর্বল বর্ণনাকারী প্রকাশ পায়, যাদের মুখস্থ শক্তির দুর্বলতা বা বিদআতের কারণে সমালোচনা করা হয়েছে। যেমন আতিয়্যাহ আল-আউফি, ফারকাদ আস-সাবখি, জাবির আল-জুফি এবং আবু হারুন আল-আবদি।

যখন ১৫০ হিজরির দিকে সাধারণ তাবিঈদের যুগের অবসান ঘটল, তখন একদল বিজ্ঞ হাদিস বিশারদ বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতা ও দুর্বলতা বিষয়ে আলোচনা শুরু করেন।

৩ - ইমাম আবু হানিফা বলেছেন: আমি জাবির আল-জুফির চেয়ে বড় মিথ্যাবাদী আর দেখিনি।

৪ - আমাশ একদলকে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন এবং অন্য কয়েকজনকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন।

৫ - শু'বাহ বর্ণনাকারীদের সমালোচনা করেছেন।

৬ - এবং মালিক।

অতঃপর ইমাম দাহাবী ঐ সকল ইমামদের নামসমূহকে পঁচিশটি স্তরে বিভক্ত করেছেন, বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে যাদের মন্তব্য গ্রহণযোগ্য এবং যাদের পর্যালোচনার ওপর নির্ভর করা হয়।

আমরা এই স্তরগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কথা উল্লেখ করব।
(খণ্ড: ١) তাহযিবুত তাহযিব - ত মাআরিফা (পৃষ্ঠা: ٢٥)
‌‌فمن الطبقة الأولى

1 - شُعْبَةُ بْنُ الحَجَّاجِ العَتَكِيُّ.

2 - وَأَبُو عَمْرٍو الأُوْزَاعِيُّ.

3 - وَهِشَامٌ الدِّسْتِوَائِيُّ.

4 - وَعَبدُ العَزِيزِ بْنُ أَبِي سَلَمَةَ، الْمَاجَشُونِ.

5 - وَمَالِكُ بْنُ أَنَسٍ الأَصْبَحِيُّ.

6 - وَحَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ.

7 - وَاللَّيثُ بْنُ سَعْدٍ.

8 - وَإِبْرَاهِيْمُ بْنُ طَهْمَانَ.

 

‌‌ومن الطبقة الثانية

1 - عَبْدُ اللهِ بْنُ المُبَارَكِ.

2 - وَسُفْيَانُ بْنُ عُيَينَةَ.

3 - وَإِسْمَاعِيلُ بْنُ عُلَيَّةَ.

4 - وَوَكِيعُ بْنُ الْجَرَّاحِ.

5 - وَبَقِيَّة بْنُ الوَلِيدِ.

6 - وَإِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ.

7 - وَعَبْدُ الْعَزِيْزِ الدَرَاوَرْدِيُّ.

8 - وَعَبْدُ اللهِ بْنُ نُمَيرٍ.
প্রথম স্তর থেকে

১ - শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ আল-আতাকি।

২ - এবং আবু আমর আল-আওযায়ী।

৩ - এবং হিশাম আদ-দাস্তাওয়ায়ী।

৪ - এবং আবদুল আযীয ইবনে আবি সালামাহ আল-মাজিশুন।

৫ - এবং মালিক ইবনে আনাস আল-আসবাহি।

৬ - এবং হাম্মাদ ইবনে সালামাহ।

৭ - এবং আল-লায়স ইবনে সা'দ।

৮ - এবং ইব্রাহীম ইবনে তাহমান।

 

এবং দ্বিতীয় স্তর থেকে

১ - আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক।

২ - এবং সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ।

৩ - এবং ইসমাঈল ইবনে উলাইয়্যাহ।

৪ - এবং ওয়াকি ইবনুল জাররাহ।

৫ - এবং বাকিয়্যাহ ইবনুল ওয়ালিদ।

৬ - এবং ইসমাঈল ইবনে আইয়াশ।

৭ - এবং আবদুল আযীয আদ-দারাওয়ারদি।

৮ - এবং আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর।
(খণ্ড: ١) তাহযিবুত তাহযিব - ত মাআরিফা (পৃষ্ঠা: ٢٦)
9 - وَفُضَيْلُ بْنُ عِيَاضٍ.

10 - وَيَحْيَى بْنُ سَعِيْدِ القَطَّانُ.

 

‌‌ومن الطبقة الثالثة

1 - عَبْدُ الرَّحْمنِ بْنُ مَهْدِيٍّ.

2 - وَأَبُو دَوُادَ سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الطَّيَالِسِيُّ.

3 - وَوَهْبُ بْنُ جَرِيْرٍ.

4 - وَعَبْدُ الرَّزَّاقِ بْنُ هَمَّامٍ.

5 - وَمُحَمَّدُ بْنُ إِدْرِيْسٍ الشَّافِعِيُّ.

6 - وَسَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، صَاحِبُ "السُّنَنِ".

7 - وَأَبُو الوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ.

8 - وَعَلِيُّ بْنُ الجَعْدِ.

وَفِي هذَا الْوَقْتِ وَقَبْلَهُ، صُنِّفَت "المَسَانِيدُ"، و"الْجَوَامِعُ"، و"السُّنَنُ"، وجُمِعَتْ كُتُبُ الْجَرْحِ والتَّعْدِيلِ والتَّارِيْخ وَغَيرَ ذلِكَ. وَبُيِّنَ حَالُ مَنْ هُوَ فِي الثِّقَةِ والتَّثَبُّتِ كَألأُسْطُوَانَةِ، وَمَنْ هُوَ فِي الضَّعْفِ واللِّيْنِ كَالرَّيْحَانَةِ.

 

‌‌ومن الطبقة الرابعة

وَهُمْ أَئِمَةِ الْجَرْحِ والتَعْدِيْلِ:

1 - يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ.

2 - وَأَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ.

3 - وَمُحَمَّدُ بْنُ سَعْدٍ.

4 - وَأَبُو خَيثَمَةَ زُهَيرُ بْنُ حَرْبٍ.

5 - وَعَلِيُّ بْنُ المَدَينِيُّ.
9 - ফুদ্বাইল ইবনে ইয়াদ।

10 - এবং ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান।

 

‌‌এবং তৃতীয় স্তর থেকে

1 - আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী।

2 - এবং আবু দাউদ সুলায়মান ইবনে দাউদ আত-তায়ালিসি।

3 - এবং ওয়াহাব ইবনে জারীর।

4 - এবং আব্দুর রাজ্জাক ইবনে হাম্মাম।

5 - এবং মুহাম্মাদ ইবনে ইদরীস আশ-শাফেয়ী।

6 - এবং সাঈদ ইবনে মানসুর, "আস-সুনান" গ্রন্থের রচয়িতা।

7 - এবং আবুল ওয়ালিদ আত-তায়ালিসি।

8 - এবং আলী ইবনে আল-জাদ।

এবং এই সময়ে এবং এর পূর্বে "আল-মাসানিদ", "আল-জাওয়ামে" এবং "আস-সুনান" গ্রন্থসমূহ সংকলিত হয়েছে এবং জারহ-তাদীল (সমালোচনা ও যাচাইকরণ), ইতিহাস ও অন্যান্য বিষয়ের কিতাবসমূহ সংগৃহীত হয়েছে। আর তাদের অবস্থা সুস্পষ্ট করা হয়েছে যারা বিশ্বস্ততা ও দৃঢ়তায় স্তম্ভের ন্যায়, এবং যারা দুর্বলতা ও শিথিলতায় কোমল লতার ন্যায়।

 

‌‌এবং চতুর্থ স্তর থেকে

তারা হলেন জারহ ও তাদীলের ইমামগণ:

1 - ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন।

2 - এবং আহমাদ ইবনে হাম্বল।

3 - এবং মুহাম্মাদ ইবনে সাদ।

4 - এবং আবু খাইসামা যুহায়ের ইবনে হারব।

5 - এবং আলী ইবনে আল-মাদিনী।
(খণ্ড: ١) তাহযিবুত তাহযিব - ত মাআরিফা (পৃষ্ঠা: ٢٧)
6 - وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ.

7 - وَإِسْحَاقُ بْنُ رَاهُوْيَهِ.

8 - وَأَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ البَغَوِيُّ، صَاحِبُ "المُسْنَدِ".

9 - وَخَلِيْفَةُ بْنُ خَيَّاطٍ.

10 - وَنَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الجَهْضَمِيُّ.

11 - وَهَارُونَ بْنُ سَعِيْدٍ الْأيْلِيُّ.

12 - وَهَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ.

13 - وَوَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ الوَاسِطِيُّ.

 

‌‌ومن الطبقة الخامسة

1 - مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ أَبُو عَبْدِ اللهِ البُخَارِيُّ.

2 - وَعَبْدُ اللهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمنِ الدَّارِمِيُّ السَّمَرْقَنْدِيُّ.

3 - وَإِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ الكَوْسَجُ.

4 - وَيَعْقُوبُ بْنُ شَيْبَةَ السَّدُوسِيُّ.

5 - وَأَبُو زُرْعَةَ الرَّازِيُّ.

6 - وَأَبُو حَاتِمٍ مُحَمَّدُ بْنُ إِدْرِيْسَ الرَّازِيُّ.

7 - وَعَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدٍ الدُّورِيُّ.

8 - وَأَبُو الحَسَنِ العِجْلِيُّ.

9 - وَأَبُو دَاوُدَ سُلَيْمَانُ بْنُ الأشَعَثِ السَجِسْتَانِيُّ.

10 - وَأَبُو الحُسَينِ مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ القُشَيْرِيُّ.

11 - وَيَعْقُوبُ بْن سُفْيَانَ الفَسْوِيُّ.

12 - وَعُثْمَانُ بْنُ سَعِيدٍ الدَّارِمِيُّ.
6 - এবং আবু বকর বিন আবি শায়বাহ।

7 - এবং ইসহাক বিন রাহওয়াইহ।

8 - এবং আহমদ বিন মানি আল-বাগাভি, "আল-মুসনাদ"-এর লেখক।

9 - এবং খলিফা বিন খাইয়াত।

10 - এবং নাসর বিন আলী আল-জাহদামি।

11 - এবং হারুন বিন সাঈদ আল-আয়লি।

12 - এবং হান্নাদ বিন আস-সারী।

13 - এবং ওয়াহব বিন বাকিইয়াহ আল-ওয়াসিতি।

 

‌‌এবং পঞ্চম স্তর থেকে

1 - মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আবু আব্দুল্লাহ আল-বুখারি।

2 - এবং আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আদ-দারিমি আস-সামারকান্দি।

3 - এবং ইসহাক বিন মনসুর আল-কাওসাজ।

4 - এবং ইয়াকুব বিন শায়বাহ আস-সাদুসি।

5 - এবং আবু যুরআহ আর-রাজি।

6 - এবং আবু হাতিম মুহাম্মদ বিন ইদরিস আর-রাজি।

7 - এবং আব্বাস বিন মুহাম্মদ আদ-দুরি।

8 - এবং আবুল হাসান আল-ইজলি।

9 - এবং আবু দাউদ সুলায়মান বিন আল-আশআদ আস-সাজাস্তানি।

10 - এবং আবুল হুসাইন মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ আল-কুশায়রি।

11 - এবং ইয়াকুব বিন সুফিয়ান আল-ফাসাভি।

12 - এবং উসমান বিন সাঈদ আদ-দারিমি।
(খণ্ড: ١) তাহযিবুত তাহযিব - ত মাআরিফা (পৃষ্ঠা: ٢٨)
‌‌ومن الطبقة السادسة

1 - مُحَمَّدُ بْنُ نَصْرٍ المَرْوَزِيُّ.

2 - وَعَبْدُ اللهِ بْنُ أَحْمَد بْنِ حَنْبَلِ الشَّيْبَانِيُّ.

3 - وَمُحَمَّدُ بْنُ يَزِيْدَ بْنِ مَاجَهْ القَزْوِيْنِيُّ.

4 - وَأَبُو عِيْسَى مُحَمَّدُ بْنُ عِيْسَى التِّرمِذِيُّ.

5 - وَأَبُو عَبْدِ الرَّحْمنِ أَحْمَدُ بْنُ شُعَيْبٍ النَّسَائِيُّ.

6 - وَبَقِيُّ بْنُ مَخْلَدٍ.

7 - وَأَبُو يَعْلَى المُوصِلِيُّ.

8 - وَأَبُو عُثْمَانَ سَعِيدُ بْنُ عَمْرٍو البَرْذَعِيُّ.

9 - وَالحَافِظُ أَسْلَمُ بْنُ سَهْلٍ الوَاسِطِيُّ بَحْشَل.

 

‌‌ومن الطبقة السابعة

1 - أَبُو بَكرِ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ خُزَيمَةَ.

2 - وَأَبُو القَاسِمِ عَندُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ البَغَوِيُّ.

3 - وَزَكَرِيَّا بْنُ يَحْيَى السَّاجِيُّ.

4 - وَأَبُو بِشْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَمَّادٍ الدُّولَابِيُّ.

5 - وَأَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللهِ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْجَارُودِ النَيْسَابُورِيُّ.

 

‌‌ومن الطبقة الثامنة

1 - أَبُو جَعْفَرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلامَةَ الطَّحَاوِيُّ، مُحَدِّثُ الحَنَفِيَةِ.

2 - وَأَبُو مُحَمَّدِ عَبْدُ الرَّحْمنِ بْنُ أَبِي حَاتِمٍ الرَّازِيُّ.

3 - وَحَافِظُ الْأَنْدَلُسِ قَاسِمُ بْنُ أصْبُغٍ بن مُحَمَّدٍ القُرْطُبِيُّ.

4 - وَثَابِتُ بْنُ حَزْمٍ.
এবং ষষ্ঠ স্তর হতে

1 - মুহাম্মদ ইবনে নাসর আল-মারওয়াযী।

2 - এবং আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্বল আশ-শায়বানী।

3 - এবং মুহাম্মদ ইবনে ইয়াযীদ ইবনে মাজাহ আল-কাযওয়ীনী।

4 - এবং আবু ঈসা মুহাম্মদ ইবনে ঈসা আত-তিরমিযী।

5 - এবং আবু আবদুর রহমান আহমাদ ইবনে শুআইব আন-নাসায়ী।

6 - এবং বাকী ইবনে মাখলাদ।

7 - এবং আবু ইয়ালা আল-মাওসিলী।

8 - এবং আবু উসমান সাঈদ ইবনে আমর আল-বারযাঈ।

9 - এবং হাফিয আসলাম ইবনে সাহল আল-ওয়াসিতী বাহশাল।

 

এবং সপ্তম স্তর হতে

1 - আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে খুযায়মাহ।

2 - এবং আবুল কাসিম আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-বাগাওয়ী।

3 - এবং যাকারিয়া ইবনে ইয়াহইয়া আস-সাজী।

4 - এবং আবু বিশর মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্মাদ আদ-দুলাবী।

5 - এবং আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে আলী ইবনুল জারুদ আন-নায়সাবুরী।

 

এবং অষ্টম স্তর হতে

1 - আবু জাফর আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সালামাহ আত-তাহাবী, হানাফীগণের মুহাদ্দিস।

2 - এবং আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান ইবনে আবি হাতিম আর-রাযী।

3 - এবং আন্দালুসের হাফিয কাসিম ইবনে আসবাগ ইবনে মুহাম্মদ আল-কুরতুবী।

4 - এবং সাবিত ইবনে হাযম।
(খণ্ড: ١) তাহযিবুত তাহযিব - ত মাআরিফা (পৃষ্ঠা: ٢٩)
‌‌ومن الطبقة التاسعة

1 - أَبُو الْحُسَينِ عَبْدُ البَاقِي بْنُ قَانِعٍ القَاضِي.

2 - وَأَبُو عَبْدِ اللهِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ بْنِ الْأَخْرَمِ.

3 - وَأَبُو سَعِيدٍ عَبْدُ الرَّحْمنِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ يُونُسَ، مُؤَرِّخُ مِضرَ.

4 - وَأَبُو حَاتِمِ مُحَمَّدُ بْنُ حِبَّانَ البِسْتِيْ.

5 - وَأَبُو أَحْمَدَ عَبْدُ اللهِ بْنُ عَدِيّ الجُرْجَانِيُّ.

6 - وَأَبُو عَلِيِّ سَعِيْدُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ السَّكَنِ.

7 - وَالحَاكِمُ أَبُو أَحْمَدَ مُحَمَّدُ بْنُ النَّيْسَابُورِيُّ.

وَمِنْ هذا الوَفتِ تَنَاقَصَ الحِفْظُ، وَقَلَّ الاعْتِنَاءُ بِالآثَارِ، ورَكَنَ الْعُلَمَاءُ إِلَى التَّقْلِيدِ، وَكَانَ التَّشَيُّعُ والإِعْتِزَالُ وَالبِدَعُ ظَاهِرَةً بِالْعِرَاقِ، لاسْتِيلَاءِ آلِ بُوَيهٍ ثُمَّ، وبِمِصْرَ وَالشَّامِ والمَغْرِبِ، لاسْتِيْلَاءِ بَنِي عُبَيْدٍ البَاطِنِيَّةِ.

 

‌‌ومن الطبقة العاشرة

1 - أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ عُمَرَ الدَّارَقُطْنِيُّ، وَحِيْدُ عَصْرِهِ، وَبِهِ خُتِمَ مَعْرِفَةُ الْعِلَلَ.

2 - وَأَبُو عَبْدِ المَلِكِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّرِ بْنِ عَبْدِ البَّرِ.

3 - وَأَبُو عُمَرَ أَحْمَدَ بْنُ سَعِيدِ بْنِ حَزْمٍ.

4 - وَأَبُو عَبْدِ اللهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ مِنْدَه العَبَدِيُّ.

5 - وَأَبُو عَبْدِ اللهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ الضَّبِّيُّ الحَاكِمُ.

وكَانَتِ السُّنَّةِ قَائِمَةَ الدَّوْلَةِ بالْأنْدَلُسِ وبِخُرَاسَانَ، وقَلَّ أَمْرُها وَضَعُفَ بِمِصْرَ والشَّامِ والمَغْرِبِ وبَالْعِرَاقِ، وَمَا ذَاكَ إِلَاّ لِظُهُورِ دَوْلَةُ الشِّيعَةِ والعَبِيْدِيَّةِ.

 

‌‌ومن الطبقة الحادية عشرة

1 - أَبُو نَصْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحُسَيْنِ الكَلَابَاذِيُّ.
‌‌এবং নবম স্তরের অন্তর্ভুক্ত

1 - আবু আল-হুসাইন আব্দুল বাকি বিন কানি আল-কাজি।

2 - এবং আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব বিন আল-আখরাম।

3 - এবং আবু সাইদ আব্দুর রহমান বিন আহমদ বিন ইউনুস, মিসরের ঐতিহাসিক।

4 - এবং আবু হাতিম মুহাম্মদ বিন হিব্বান আল-বিস্তি।

5 - এবং আবু আহমদ আব্দুল্লাহ বিন আদি আল-জুরজানি।

6 - এবং আবু আলি সাইদ বিন উসমান বিন আস-সাকান।

7 - এবং আল-হাকিম আবু আহমদ মুহাম্মদ বিন আন-নাইসাবুরি।

এবং এই সময় থেকে হিফজ (স্মৃতিশক্তি/সংরক্ষণ) হ্রাস পেতে থাকে, আসার (বর্ণনা)-এর প্রতি গুরুত্ব কমে যায় এবং উলামায়ে কেরাম তাকলিদ (অন্ধ অনুকরণ)-এর দিকে ঝুঁকে পড়েন। ইরাকে শিয়া মতবাদ, মুতাজিলা মতবাদ ও বিদআত প্রকাশ্য রূপ ধারণ করে, কারণ তখন সেখানে বনু বুওয়াইহ্-এর আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আর মিসর, শাম এবং মাগরিবে বাতিনি উবাইদিদের আধিপত্যের কারণেও অনুরূপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।

 

‌‌এবং দশম স্তরের অন্তর্ভুক্ত

1 - আবু আল-হাসান আলি বিন উমর আদ-দারা কুতনি, যিনি ছিলেন তাঁর যুগের অনন্য ব্যক্তিত্ব এবং যাঁর মাধ্যমে ইলমুল ইলাল (হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি বিষয়ক জ্ঞান)-এর সমাপ্তি ঘটে।

2 - এবং আবু আব্দুল মালিক আহমদ বিন মুহাম্মার বিন আব্দুল বার।

3 - এবং আবু উমর আহমদ বিন সাইদ বিন হাজম।

4 - এবং আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন মানদাহ আল-আবাদি।

5 - এবং আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আদ-দাব্বি আল-হাকিম।

আন্দালুস এবং খুরাসানে সুন্নাহর শাসন প্রতিষ্ঠিত ছিল, তবে মিসর, শাম, মাগরিব এবং ইরাকে সুন্নাহর প্রভাব হ্রাস পায় ও দুর্বল হয়ে পড়ে। এটি মূলত শিয়া এবং উবাইদি রাষ্ট্রের উত্থানের কারণেই হয়েছিল।

 

‌‌এবং একাদশ স্তরের অন্তর্ভুক্ত

1 - আবু নাসর আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন আল-কালাবাদি।
(খণ্ড: ١) তাহযিবুত তাহযিব - ত মাআরিফা (পৃষ্ঠা: ٣٠)
2 - وَأَبُو بَكرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَدٍ الخَوَارِزمِيُّ البَرْقَانِيُّ.

3 - وَأَبُو نَعِيمِ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ الأَصْبَهَانِيُّ.

4 - وَأَبُو القَاسِمِ حَمْزَةُ بْنُ يُوسُفَ السَّهْمِيُّ الجُرْجَانِيُّ.

5 - وَأَبُو القَاسِمِ هِبَةُ اللهِ بْنُ الحَسَنِ الطَبَرِيُّ اللَّالْكَائِيُّ.

 

‌‌ومن الطبقة الثانية عشرة

1 - أَبُو نَصْرٍ عُبَيدُ اللهِ بْنُ سَعِيدِ بْنِ حَاتِمٍ السِجْزِيُّ.

2 - وَأَبُو عَمْرو عُثمَانُ بْنُ سَعِيْدٍ الدَّانِيُّ.

 

‌‌ومن الطبقة الثالثة عشرة

1 - أَبُو بَكرِ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ ثَابِتٍ الخَطِيبُ.

2 - وَأَبُو بَكرٍ أَحْمَدُ بْنُ الحُسَينِ بْنِ عَلِيُّ البَيْهَقِيُّ.

3 - وَأَبُو عُمَرَ يُوسُفُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ البَّرِّ النميرِيُّ.

4 - وَأَبُو الْوَلِيدِ سُلَيْمَانُ بْنُ خَلْفٍ الْبَاجِيُّ.

 

‌‌ومن الطبقة الرابعة عشرة

1 - الأَمِيرُ أَبُو نَصْرٍ عَلِيُّ بْنُ هِبَةَ اللهِ بْنِ عَلِيُّ بْنِ مَاكُولَا.

2 - وَأَبُو مَسْعُودٍ سُلَيْمَانُ بْنُ إِبْرَاهِيمِ الأَصْبَهَانِيُّ.

 

‌‌ومن الطبقة الخامسة عشرة

1 - مُحْيِيِ السُّنَّةِ أَبُو مُحَمًدٍ الحُسَيْنُ بْنُ مَسْعُودٍ البَغَوِيُّ ابْنُ الفَرَّاءِ.

2 - وَأَبُو القَاسِمِ إِسْمَاعِيْلُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الفَضْلِ التَيْمِيُّ.

3 - وَأَبُو الوَلِيْدِ يُوسُفُ بْنُ عَبْدِ العَزِيزِ بْنِ الدَبَّاغِ.

4 - وَأَبُو القَاسِمِ عَلِيُّ بْنُ الحَسَنِ بْنِ هِبَةَ اللهَ بْنِ عَسَاكِرٍ.
2 - এবং আবু বকর আহমদ ইবন মুহাম্মদ আল-খাওয়ারিজমি আল-বারকানি।

3 - এবং আবু নুআইম আহমদ ইবন আবদুল্লাহ আল-আসবাহানি।

4 - এবং আবুল কাসিম হামযা ইবন ইউসুফ আস-সাহমি আল-জুরজানি।

5 - এবং আবুল কাসিম হিবাতুল্লাহ ইবন আল-হাসান আত-তাবারী আল-লালকাই।

 

‌‌এবং দ্বাদশ স্তর থেকে

1 - আবু নাসর উবায়দুল্লাহ ইবন সাঈদ ইবন হাতিম আস-সিজজি।

2 - এবং আবু আমর উসমান ইবন সাঈদ আদ-দানি।

 

‌‌এবং ত্রয়োদশ স্তর থেকে

1 - আবু বকর আহমদ ইবন আলি ইবন সাবিত আল-খতিব।

2 - এবং আবু বকর আহমদ ইবন আল-হুসাইন ইবন আলি আল-বাইহাকি।

3 - এবং আবু উমর ইউসুফ ইবন আবদুল্লাহ ইবন আবদিল বার আন-নামিরি।

4 - এবং আবুল ওয়ালিদ সুলাইমান ইবন খালাফ আল-বাজি।

 

‌‌এবং চতুর্দশ স্তর থেকে

1 - আল-আমির আবু নাসর আলি ইবন হিবাতুল্লাহ ইবন আলি ইবন মাকুলা।

2 - এবং আবু মাসউদ সুলাইমান ইবন ইবরাহিম আল-আসবাহানি।

 

‌‌এবং পঞ্চদশ স্তর থেকে

1 - মুহয়িস সুন্নাহ আবু মুহাম্মদ আল-হুসাইন ইবন মাসউদ আল-বাগাভি ইবনুল ফারা।

2 - এবং আবুল কাসিম ইসমাইল ইবন মুহাম্মদ ইবনুল ফাযল আত-তাইমি।

3 - এবং আবুল ওয়ালিদ ইউসুফ ইবন আবদিল আজিজ ইবন আদ-দাব্বাগ।

4 - এবং আবুল কাসিম আলি ইবন আল-হাসান ইবন হিবাতুল্লাহ ইবন আসাকির।
(খণ্ড: ١) তাহযিবুত তাহযিব - ত মাআরিফা (পৃষ্ঠা: ٣١)
‌‌ومن الطبقة السادسة عشرة

1 - أَبُو القَاسِمِ خَلفُ بْنُ عَبْدِ المَلِكِ بْنِ مَسْعُودِ بْنِ مُوسَى بْنِ بَشْكَوَالَ.

2 - وَأَبُو الفَرَجِ عَبدُ الرَّحْمنِ بْنُ عَلِيُّ بْنِ مُحَمَّدٍ البَكْرِيِّ بْنِ الجَوْزِيِّ.

3 - وَأَبُو مُحَمَّدٍ القَاسِمُ بْنُ عَلِيُّ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ عَسَاكِرٍ مُحَدِّثُ دِمَشْقَ.

 

‌‌ومن الطبقة السابعة عشرة

1 - الحَافِظُ تَقِي الدِّينِ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الغَنِيُّ المَقْدِسِي الحَنْبَلِيُّ.

2 - الحَافِظُ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ القَادِرِ بْنُ عَبْدِ اللهِ الرَّهَاوِيُّ.

 

‌‌ومن الطبقة الثامنة عشرة

1 - الحَافِظُ عِزُّ الدِّينِ أَبُو الحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ الجَزَرِيُّ بْنُ الأَثِيرِ.

2 - وَالحَافِظُ مَجْدُ الدِّينِ أَبُو عَبْدِ اللهِ مُحَمَّدُ بْنُ مَحْمُودِ بْنِ النَّجَارِ.

3 - وَمُعِينُ الدِّينِ أَبُو بَكْرِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الغَنِيُّ بْنِ نُقْطَةَ.

 

‌‌ومن الطبقة التاسعة عشرة

1 - الحَافِظُ زَكِيُّ الدِّينِ عَبْدُ العَظِيمِ بْنُ عَبْدِ القَوِيِّ المُنْذِرِيُّ المِصْرِيُّ.

2 - وَالحَافِظُ المُفْتِي تَقِيُّ الدِّينِ أَبُو عَمْرٍو عُثْمَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمنِ الشَّهْرَزُورِيُّ الشَّافِعِيُّ بْنُ الصَّلَاحِ.

3 - وَالحَافِظُ أَبُو بَكرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ سَيِّدِ النَّاسِ اليَعْمُرِيُّ.

4 - وَالعَلَامَةُ شِهَابُ الدِّينِ أَبُو القَاسِمِ عَبْدُ الرَّحْمنِ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ المَقْدِسِيُّ الشَّافِعِيُّ.

 

‌‌ومن الطبقة العشرون

1 - الإِمَامُ شَيْخُ الْإِسْلَامِ مُحْيي الدِّينِ أَبُو زَكَرِيَّا يَحْيَى بْنُ شَرَفِ بْنِ مُرّيِّ النَّوَاوِيُّ الشَّافِعِيُّ الحَافِظُ.
‌‌এবং ষোড়শ স্তরের ব্যক্তিবর্গ

১ - আবুল কাসিম খালাফ বিন আব্দুল মালিক বিন মাসউদ বিন মুসা বিন বাশকুওয়াল।

২ - এবং আবুল ফারাজ আব্দুর রহমান বিন আলী বিন মুহাম্মাদ আল-বাকরি ইবনুল জাওজি।

৩ - এবং আবু মুহাম্মাদ আল-কাসিম বিন আলী বিন আল-হাসান বিন আসাকির, দামেস্কের মুহাদ্দিস।

 

‌‌এবং সপ্তদশ স্তরের ব্যক্তিবর্গ

১ - আল-হাফিজ তাকিউদ্দীন আবু মুহাম্মাদ আব্দুল গনি আল-মাকদিসি আল-হাম্বলি।

২ - আল-হাফিজ আবু মুহাম্মাদ আব্দুল কাদির বিন আব্দুল্লাহ আল-রাহাবি।

 

‌‌এবং অষ্টাদশ স্তরের ব্যক্তিবর্গ

১ - আল-হাফিজ ইজ্জুদ্দীন আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মাদ আল-জাজারি ইবনুল আসির।

২ - এবং আল-হাফিজ মাজদুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন মাহমুদ বিন আন-নাজ্জার।

৩ - এবং মুইনুদ্দীন আবু বকর মুহাম্মাদ বিন আব্দুল গনি বিন নুকতাহ।

 

‌‌এবং ঊনবিংশ স্তরের ব্যক্তিবর্গ

১ - আল-হাফিজ জাকিউদ্দীন আব্দুল আজিম বিন আব্দুল কাবি আল-মুনজিরি আল-মিসরি।

২ - এবং আল-হাফিজ আল-মুফতি তাকিউদ্দীন আবু আমর উসমান বিন আব্দুর রহমান আশ-শাহরাজুরি আশ-শাফিয়ি ইবনুস সালাহ।

৩ - এবং আল-হাফিজ আবু বকর মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন সাইয়িদুন নাস আল-ইয়ামুরি।

৪ - এবং আল্লামা শিহাবুদ্দীন আবুল কাসিম আব্দুর রহমান বিন ইসমাইল বিন ইবরাহিম আল-মাকদিসি আশ-শাফিয়ি।

 

‌‌এবং বিংশ স্তরের ব্যক্তিবর্গ

১ - ইমাম শাইখুল ইসলাম মুহিউদ্দীন আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া বিন শরাফ বিন মুররি আন-নববী আশ-শাফিয়ি আল-হাফিজ।
(খণ্ড: ١) তাহযিবুত তাহযিব - ত মাআরিফা (পৃষ্ঠা: ٣٢)
2 - وَالْإِمَامُ أَبُو بَكْرِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيُّ القَسْطَلَانِيُّ.

3 - وَالحَافِظُ زَينُ الدِّينِ أَبُو الفَتْحِ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي بَكرٍ الأَنْبُيوزَدِيُّ الصَدَفِيُّ.

4 - وَالحَافِظُ العَلَّامَةُ قَاضِي الْقُضَاةِ تَقِيُّ الدِّينِ أَبُو الفَتحِ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيُّ بْنِ وَهْبِ بْنِ مُطِيع القُشَيْرِيُّ ابْنُ دَقِيقِ العِيْد.

 

‌‌ومن الطبقة الحادية والعشرون

1 - الحَافِظُ الحُجَّةُ جَمَالُ الدِّينِ أَبُو الحَجَّاجِ يُوسُفُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمنِ القُضَاعِيُّ الكَلْبِيُّ المِزِّيُّ.

2 - وَالحَافِظُ العَلَمُ تَقِيُّ الدِّينِ أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ عَبدِ الحَلِيمِ بْنِ عَبْدِ السَّلَامِ الحَرَّانِيُّ بْنُ تَيْمِيَةُ.

3 - وَالحَافِظُ قُطْبُ الدِّينِ عَبدُ الكَرِيْمِ بْنُ عَبْدِ النُّورِ بْنِ مُنَيِّرٍ الحَلَبِيُّ.

4 - وَالحَافِظُ المُفِيدُ شَمْسُ الدِّينِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمنِ بْنِ شَامَةَ.

 

‌‌ومن الطبقة الثانية والعشرون

1 - الإِمَامُ المُحَدِّثُ الحَافِظُ المُؤَرِّخُ شَمْسُ الدِّينِ مُحَمدُ بْنُ أَحْمَدَ الذَّهَبِيُّ.

2 - وَالإِمَامُ الحَافِظُ والمُحَدِّثُ عَبدُ الرَّحِيمِ بْنُ الحُسَينِ الأثَرِيُّ العِرَاقِيُّ.

 

‌‌ومن الطبقة الثالثة والعشرون

1 - الْإِمَامُ الحَافِظُ الحُجَّةُ شِهَابُ الدِّينِ أَبُو الفَضْلِ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ حَجَرٍ العَسْقَلَانِيُّ.

 

‌‌ومن الطبقة الرابعة والعشرون

1 - الْإِمَامُ الشَّيْخُ شَمْسُ الدِّينِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمنِ السَّخَاوِيُّ.

 

هؤُلَاءِ هُمْ بَعْضُ الأَئِمَّةِ الَّذِينَ قُبِلَ قَوْلُهُمْ فِي الجَرْح والتَّعْدِيْلِ، وكَانَ مِنَ الطَّبِيعِيِّ أَنْ يَحْكُمَ هؤُلَاءِ الأَئِمَّةِ عَلَى الرِّجَالِ مِنْ خِلَالِ أَلْفَاظٍ تَدَاوَلُوهَا فِيمَا بَينَهُمُ، وَلكِنْ لِكُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمْ مَدْلُولُهُ الخَاصُّ بِهِ، وَإِلَيْكَ مَشْرُوعِيَّةُ الْجَرْحِ وَالتَّعْدِيْلِ مِنَ الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ وَأَنَّهَا لَيسَتْ بِغِيْبَةِ.
২ - এবং ইমাম আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে আলী আল-কাসতালানি।

৩ - এবং হাফেজ জয়নুদ্দিন আবুল ফাতহ মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবি বকর আল-আনবিউযাদি আস-সাদাফি।

৪ - এবং হাফেজ আল্লামা কাজিউল কুজাত (প্রধান বিচারপতি) তকিউদ্দিন আবুল ফাতহ মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে ওয়াহাব ইবনে মুতি আল-কুশায়রি ইবনু দাকিকিল ঈদ।

 

‌‌এবং একুশতম স্তরের অন্তর্ভুক্ত

১ - হাফেজ হুজ্জাহ জামালুদ্দিন আবুল হাজ্জাজ ইউসুফ ইবনে আব্দুর রহমান আল-কুদায়ি আল-কালবি আল-মিযযি।

২ - এবং প্রখ্যাত হাফেজ তকিউদ্দিন আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে আব্দুল হালিম ইবনে আব্দুস সালাম আল-হাররানি ইবনু তাইমিয়্যাহ।

৩ - এবং হাফেজ কুতুবুদ্দিন আব্দুল কারিম ইবনে আব্দুন নূর ইবনে মুনাইর আল-হালাবি।

৪ - এবং হাফেজ আল-মুফিদ শামসুদ্দিন মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে শামাহ।

 

‌‌এবং বাইশতম স্তরের অন্তর্ভুক্ত

১ - ইমাম মুহাদ্দিস হাফেজ ঐতিহাসিক শামসুদ্দিন মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ আয-যাহাবি।

২ - এবং ইমাম হাফেজ ও মুহাদ্দিস আব্দুর রহিম ইবনুল হুসাইন আল-আসারি আল-ইরাকি।

 

‌‌এবং তেইশতম স্তরের অন্তর্ভুক্ত

১ - ইমাম হাফেজ হুজ্জাহ শিহাবুদ্দিন আবুল ফজল আহমাদ ইবনে আলী ইবনে হাজার আল-আসকালানি।

 

‌‌এবং চব্বিশতম স্তরের অন্তর্ভুক্ত

১ - ইমাম শেখ শামসুদ্দিন মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহমান আস-সাখাভি।

 

এরাই হলেন সেই ইমামগণের মধ্যে কতিপয়, জারহ ও তা'দিল (হাদিস বর্ণনাকারীদের সমালোচনা ও প্রশংসা) এর ক্ষেত্রে যাদের বক্তব্য গ্রহণযোগ্য। এটি স্বাভাবিক ছিল যে, এই ইমামগণ বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে এমন কিছু পরিভাষার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত দেবেন যা তাদের মধ্যে প্রচলিত ছিল, তবে তাদের প্রত্যেকের নিকট সেই পরিভাষাগুলোর নিজস্ব অর্থ বা তাৎপর্য রয়েছে। আর নিচে কুরআন ও সুন্নাহ থেকে জারহ ও তা'দিলের বৈধতা এবং এটি যে গিবত (পরনিন্দা) নয়, তা তুলে ধরা হলো।
(খণ্ড: ١) তাহযিবুত তাহযিব - ত মাআরিফা (পৃষ্ঠা: ٣٣)
‌‌مشروعية الجرح والتعديل وأنها ليست بغيبة

إِنَّ مَشرُوعِيَّةَ الجَرْحِ والتَّعْدِيْلِ مُسْتَنْبَطَةٌ مِنْ كِتَابِ اللهِ عز وجل، وَسُنَّةِ نَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم.

وَهُوَ قَائِمٌ عَلَى النُّصْحِ، فَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: "الدِّينُ النَّصِيحَةُ" قُلْنَا لِمَنْ يَا رَسُولَ اللهِ؟ قَالَ: "للهِ ولِرَسُولِهِ ولِكِتَابِهِ، ولِأَئِمَّةِ المُسْلِمِينَ وَعَامَّتِهِمْ"(1).

أَمَّا مَشرُوعِيَّتُهُ فِي كِتَاب اللهِ، فَحَيثُ أَنَّهُ عز وجل أَوْجَبَ عَلَيْنَا الكَشْفَ والتَّبْيينَ عِنْدَ زَجْرِ الْفَاسِقِ بِقَوْلِهِ: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَإٍ فَتَبَيَّنُوا}(2).

وَأَمَا مَشْرُوعِيَّتَهُ فِي سُنَّةِ نَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم، فَحَيْثُ أَنَّهُ قَالَ صلى الله عليه وسلم في الْجَرْحِ: "بِئْسَ ابْنُ العَشِيْرَةِ"(3)، و"بِئْسَ الخَطِيْبُ أَنْتَ"(4).

وأَنَّهُ قَالَ صلى الله عليه وسلم في التعْدِيلِ: "إِنَّ عَمْرًا بْنَ العَّاصِ مِنْ صَالِحِي قُرَيشٍ"(5)، و"إِنَّ عَبْدَ اللهِ رَجُلٌ صَالِحٌ"(6).

--------------------------------------------

(1) أخرجه ابن حبان في كتاب: السير، باب: طاعة الأئمة (الحديث: 7574)، وأخرجه أبو عوانة (الحديث: 1/ 37)، وأخرجه الطبراني في معجمه (الحديث: 1261)، وأخرجه الحميدي (الحديث: 837).

(2) سورة: الحجرات، الآية: 6.

(3) أخرجه البخاري في كتاب: الأدب، باب: لم يكن النّبيّ فاحشًا ولا متفحشًا (الحديث: 3132)، وأخرجه أبو داود في كتاب: الأدب، باب: في حسن العشرة (الحديث: 4791)، وأخرجه مالك في كتاب: حسن الحلق، باب: ما جاء في حسن الخلق (الحديث: 1720).

(4) أخرجه مسلم في كتاب: الجمعة، باب: رفع الصوت في الخطبة (الحديث: 2007) وأخرجه أبو داود في كتاب: الصلاة، باب: الرجل يخطب على قوس (الحديث: 1099)، وأخرجه النسائي في كتاب: النكاح، باب: ما يكره من الخطبة (الحديث: 3279).

(5) أخرجه الترمذي في كتاب: المناقب، باب: مناقب عمرو بن العاصي (الحديث: 3845).

(6) أخرجه البخاري في كتاب: فضائل الصحابة، باب: فضائل عبد الله بن عمر بن الخطاب (الحديث: 3740)، وأخرجه ابن حبان في كتاب: إخباره صلى الله عليه وسلم عن مناقب الصحابة، باب: ذكر السبب الذي من أجله قال صلى الله عليه وسلم هذا القول (الحديث: 7071)، وذكره ابن الأثير في "أسد الغابة": 3/ 341.

জারাহ ও তা’দীলের বৈধতা এবং এটি যে গীবত (পরনিন্দা) নয়

নিশ্চয়ই জারাহ ও তা’দীলের বৈধতা মহান আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ থেকে আহরিত।

আর এটি কল্যাণকামিতার (নাসিহাত) ওপর প্রতিষ্ঠিত। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "দ্বীন হচ্ছে কল্যাণকামিতা।" আমরা বললাম: কার জন্য হে আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেন: "আল্লাহর জন্য, তাঁর কিতাবের জন্য, তাঁর রাসূলের জন্য এবং মুসলিমদের ইমাম ও সাধারণ জনগণের জন্য।"(১)

আল্লাহর কিতাবে এর বৈধতার প্রমাণ হলো, যেখানে মহান আল্লাহ পাপাচারীকে ধমক দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের জন্য বিষয়টি যাচাই ও স্পষ্ট করা আবশ্যক করেছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: {হে মুমিনগণ! যদি কোনো পাপাচারী তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা যাচাই করে নাও।}(২)

আর তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহতে এর বৈধতার প্রমাণ হলো, যেখানে তিনি জারাহ বা সমালোচনার ক্ষেত্রে বলেছেন: "সে গোত্রের কতই না নিকৃষ্ট সন্তান!"(৩), এবং "তুমি কতই না নিকৃষ্ট বক্তা।"(৪)

আর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা’দীল বা প্রশংসার ক্ষেত্রে বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমর ইবনুল আস কুরাইশদের নেককার ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত।"(৫), এবং "নিশ্চয়ই আবদুল্লাহ একজন নেককার লোক।"(৬)

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন ইবনে হিব্বান ‘আস-সিয়ার’ কিতাবে, অধ্যায়: ইমামদের আনুগত্য (হাদিস: ৭৫৭৪); আবু আওয়ানা (হাদিস: ১/৩৭); তাবারানি তাঁর মু’জামে (হাদিস: ১২৬১); এবং আল-হুমাইদি (হাদিস: ৮৩৭)।

(২) সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত: ৬।

(৩) এটি বর্ণনা করেছেন বুখারী ‘আল-আদাব’ কিতাবে, অধ্যায়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অশ্লীলভাষী বা কটুভাষী ছিলেন না (হাদিস: ৩১৩২); আবু দাউদ ‘আল-আদাব’ কিতাবে, অধ্যায়: উত্তম মেলামেশা প্রসঙ্গে (হাদিস: ৪৭৯১); এবং মালিক ‘মুয়াত্তা’ গ্রন্থের ‘হুসনুল খুলুক’ কিতাবে, অধ্যায়: উত্তম চরিত্র প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে (হাদিস: ১৭২০)।

(৪) এটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম ‘আল-জুমুআ’ কিতাবে, অধ্যায়: খুতবায় আওয়াজ উঁচুকরণ (হাদিস: ২০০৭); আবু দাউদ ‘আস-সালাত’ কিতাবে, অধ্যায়: ধনুকের ওপর ভর দিয়ে খুতবা প্রদানকারী ব্যক্তি (হাদিস: ১০৯৯); এবং নাসায়ী ‘আন-নিকাহ’ কিতাবে, অধ্যায়: খুতবার যা অপছন্দনীয় (হাদিস: ৩২৭৯)।

(৫) এটি বর্ণনা করেছেন তিরমিযী ‘আল-মানাকিব’ কিতাবে, অধ্যায়: আমর ইবনুল আসের মর্যাদা (হাদিস: ৩৮৪৫)।

(৬) এটি বর্ণনা করেছেন বুখারী ‘ফাদায়িলুস সাহাবা’ কিতাবে, অধ্যায়: আবদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনুল খাত্তাবের মর্যাদা (হাদিস: ৩৭৪০); ইবনে হিব্বান ‘সাহাবীদের মর্যাদা সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সংবাদ প্রদান’ কিতাবে, অধ্যায়: যে কারণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই কথাটি বলেছিলেন (হাদিস: ৭০৭১); এবং ইবনুল আসির ‘উসদুল গাবাহ’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন: ৩/৩৪১।

(খণ্ড: ١) তাহযিবুত তাহযিব - ত মাআরিফা (পৃষ্ঠা: ٣٤)
إِلَى غَيرِ ذلِكَ مِنَ الأَحَادِيثِ النَّبَوِيَّةِ الشَّرِيفَةِ، الَّتِي تَدُّلُ دَلالةً وَاضِحَةً عَلَى مَشْرُوعِيَّةِ الْجَرْحِ والتَّعْدِيْلِ.

ومَعْ هذَا فَقَدْ أَجْمَعَ المُسْلِمُونَ عَلَى جَوَازِهِ، بَل عَدُّوهُ مِنَ الْوَاجِبَاتِ لِلْحَاجَةِ إِلَيْهِ.

فَإِن قُلْتَ: إِنَّ مَشرُوعِيَّةَ التَّعْدَيلِ فِي مَحَلِّهَا فَوَاضِحٌ، أَمَّا بِالنِّسْبَةِ لِلْجَرْح فَكَيْفَ تَسْتَطِيعُ أَنْ تَجمَعَ بَينَ الْمَشرُوعِيَّةِ وَبَينَ قَوْلِهِ تَعَالَى: {وَلَا يَغْتَبْ بَعْضُكُمْ بَعْضًا}(1)؟!.

قُلْتُ: المَشْرُوعِيَّةُ لَا تُنَافِي قَوْلَهُ تَعَالَى: {وَلَا يَغْتَبْ بَعْضُكُمْ بَعْضًا}؛ لِأَنَّ الغِيْبَةَ مِنْهَا مَا هُوَ مُحَرَّمٌ ومِنْهَا مَا هُوَ مُبَاحٌ، فَالْمُبَاحُ مِنَ الْغَيْبَةِ مَا كَانَ لِغَرَضٍ شَرْعِيٍّ لَا يُمْكِنُ الوُصُولُ إِلَيهِ إِلَّا بِهَا.

وَقَالَ الْإِمَامُ العِزُّ بْنُ عَبدِ السَّلَامِ رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى: الْقَدْحُ فِي الرُّوَاةِ وَاجِبٌ لِمَا فِيهِ مِنْ دَفْعِ إثبَاتِ الشَّرْعِ به لِمَا عَلَى النَّاسِ فِي ذلِكَ مِنَ الضَّرَرِ فِي التَّحْرِيمِ والتَّحْلِيْلِ وغَيْرِهِمَا مِنْ الأَحْكَامِ، وَكَذلِكَ كُلُّ خَيْرٍ يُجَوِّزُ الشَّرْعُ الاعْتِمَادَ عَلَيْهِ والرُّجُوعَ إِلَيْهِ … جرْحُ الشُّهُودِ عِنْدَ الحُكَّامِ فِيهِ مَفْسَدَةٌ وهَتْكُ أَستَارِهِمْ لكِنَّهُ وَاجِبٌ لِأَن الْمَصْلَحَةَ في حِفْظِ الْحُقُوقِ مِنْ الدِّمَاءِ والأَمْوَالِ، والأَعْرَاضِ والأَبْضَاعِ، والْأَنْسَابِ وسَائِرِ الْحُقُوقِ أَعَمُّ أَعْظَمُ(2).

ثُمَّ يُقَرِّرُ الْإِمَامُ القَرَافِيُّ رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى بَعْدَ أَنْ ذَكَرَ إِبَاحَةَ الْجَرْحِ والتَّعْدِيلِ فِي الشُّهُودِ أَمَامِ الْحَاكِمِ أَنَّهُ: يَجُوزُ وَضْعُ الْكُتُبِ فِي جَرْحِ المَجْرُوحِ مِنْهُمْ، والْإِخْبَارُ بِذلِكَ لِطَلَبَةِ العِلْمِ الحَامِلِينَ لِذلِكَ لِمَنْ يَنْتَفِعُ بِهِ، وَهذَا البَابُ أَوْسَعُ مِنْ أَمْرِ الشُّهُودِ؛ لِأَنَّهُ لَا يَختَصُّ بِحُكَّامٍ، بَل يَجُوزُ وَضعُ ذلِكَ لِمَنْ يَضْبِطُهُ وَيَنْقُلُهُ، وَإِنْ لَمْ تُعْلَمْ عَيْنُ النَّاقِلِ؛ لِأَنَّهُ يَجْرِي مَجْرَى ضَبْطِ السُّنَّةِ والأَحَادِيْثِ، وَطَالِبُ ذلِكَ غَيْرُ مُتَعَيِّنٍ(3).

ثُمَّ يَذكُرُ الْإِمَامُ الغَزَالِي(4) والْإِمَامُ النَّوَوِيُّ(5) سِتَةَ أَسْبَابٍ تُبَاحُ فِيْهَا الغِيْبَةُ وَهِيَ:

الْأَوَّلُ: التَّظَلُّمُ فَيَجُوزُ لِلْمَظلومِ أَنْ يَتَظَلَّمَ إِلَى السُّلْطَانِ والْقَاضِي وغَيرِهِما مِمَّنْ لَهُ وِلايَةٌ

--------------------------------------------

(1) سورة: الحجرات، الآية: 12.

(2) قواعد الأحكام: ص 97.

(3) الفروق: 4/ 206.

(4) إتحاف السادة المتقين: 9/ 332.

(5) رياض الصالحين: ص 397.

এ ছাড়াও আরও অনেক মর্যাদাশীল নববী হাদিস রয়েছে, যা জারহ (সমালোচনা) ও তাদিল (প্রশংসা)-এর বৈধতার ওপর সুস্পষ্ট প্রমাণ পেশ করে।

তা সত্ত্বেও মুসলমানরা এর বৈধতার ওপর ঐকমত্য পোষণ করেছেন, বরং এর প্রয়োজনীয়তার কারণে তারা এটিকে ওয়াজিব বা আবশ্যকীয় বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

যদি আপনি বলেন: তাদিল-এর বৈধতা তার নিজ স্থানে সুস্পষ্ট, কিন্তু জারহ-এর ক্ষেত্রে আপনি এর বৈধতা এবং মহান আল্লাহর এই বাণীর মধ্যে কীভাবে সমন্বয় করবেন যে: {তোমরা একে অপরের গীবত করো না}(১)?!

আমি বলব: এই বৈধতা মহান আল্লাহর বাণী {তোমরা একে অপরের গীবত করো না}-এর পরিপন্থী নয়; কারণ গীবত বা পরনিন্দার মধ্যে কিছু অংশ হারাম এবং কিছু অংশ মুবাহ বা বৈধ। আর বৈধ গীবত হলো সেটি, যা এমন কোনো শরয়ি উদ্দেশ্যে করা হয় যা তা ব্যতিরেকে অর্জন করা সম্ভব নয়।

ইমাম ইযযুদ্দীন ইবনে আবদুস সালাম রাহিমাহুল্লাহ তাআলা বলেছেন: বর্ণনাকারীদের সমালোচনা করা ওয়াজিব, কারণ এর মাধ্যমে শরীয়তের বিধান এমনভাবে সাব্যস্ত হওয়া থেকে প্রতিহত করা হয়, যার মধ্যে হালাল-হারাম ও অন্যান্য আহকামের ক্ষেত্রে মানুষের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তেমনিভাবে প্রতিটি কল্যাণকর বিষয় যার ওপর নির্ভর করা বা যার দিকে ফিরে যাওয়ার অনুমতি শরীয়ত প্রদান করে … বিচারকদের নিকট সাক্ষীদের সমালোচনা বা দোষত্রুটি বর্ণনার মধ্যে অনিষ্টতা ও তাদের গোপনীয়তা প্রকাশের বিষয় থাকলেও তা ওয়াজিব; কেননা জীবন, সম্পদ, সম্মান, বৈবাহিক সম্পর্ক, বংশ পরিচয় এবং অন্যান্য অধিকার রক্ষার কল্যাণ অধিক ব্যাপক ও মহত্তর(২)।

অতঃপর ইমাম কারাফী রাহিমাহুল্লাহ তাআলা বিচারকের সামনে সাক্ষীদের জারহ ও তাদিলের বৈধতা উল্লেখ করার পর এই সিদ্ধান্ত প্রদান করেন যে: তাদের মধ্যে যারা সমালোচিত বা দোষযুক্ত, তাদের সম্পর্কে কিতাব রচনা করা এবং ইলম অন্বেষণকারীদের এ বিষয়ে অবহিত করা জায়েয, যাতে তারা এটি অন্যের কাছে পৌঁছে দিয়ে উপকৃত হতে পারে। আর এই বিষয়টি সাক্ষীদের বিষয়ের চেয়েও অধিক ব্যাপক; কারণ এটি কেবল বিচারকদের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়, বরং এটি তাদের জন্য লিপিবদ্ধ করা জায়েয যারা তা মুখস্থ রাখবে ও বর্ণনা করবে, যদিও বর্ণনাকারীর পরিচয় সুনির্দিষ্ট না হয়; কেননা এটি সুন্নাহ ও হাদিস সংরক্ষণের পর্যায়ভুক্ত, আর এর অন্বেষণকারী কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি নয়(৩)।

অতঃপর ইমাম গাযালী(৪) এবং ইমাম নববী(৫) গীবত বৈধ হওয়ার ছয়টি কারণ উল্লেখ করেছেন, আর সেগুলো হলো:

প্রথম: অন্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেশ করা। সুতরাং মজলুম ব্যক্তির জন্য সুলতান, বিচারক বা এমন কর্তৃত্বশীল ব্যক্তির কাছে অভিযোগ পেশ করা জায়েয যার শাসন ক্ষমতা রয়েছে

--------------------------------------------

(১) সূরা: আল-হুজুরাত, আয়াত: ১২।

(২) কাওয়াইদুল আহকাম: পৃষ্ঠা ৯৭।

(৩) আল-ফুরুক: ৪/ ২০৬।

(৪) ইতহাফুস সাদাতিল মুত্তাকীন: ৯/ ৩৩২।

(৫) রিয়াদুস সালিহীন: পৃষ্ঠা ৩৯৭।

(খণ্ড: ١) তাহযিবুত তাহযিব - ত মাআরিফা (পৃষ্ঠা: ٣٥)
أَوْ قُدْرَة عَلى إِنْصافِهِ مِنْ ظَالِمِه، فَيَقُولُ: ظَلَمَني فُلانٌ بِكَذَا.

الثَّانِي: الاسْتِعَانَةُ عَلى تَغْييرِ الْمُنْكَرِ ورَدِّ الْعَاصِي إِلَى الصَّوابِ، فَيَقولُ لِمَنْ يَرْجُو قُدْرَتَهُ عَلَى إِزَالَةِ الْمُنْكَرِ: فُلان يَعْمَلُ كَذَا فَازْجُرْهُ عَنْهُ ونَحْوُ ذلِكَ. ويَكُونُ مَقْصودُهُ التَّوَصُّلَ إِلَى إِزَالَةِ الْمُنْكَرِ، فَإِنْ لَمْ يَقْصِدْ ذلِكَ كانَ حَرامًا.

الثَّالِثُ: الاسْتِفْتَاءُ، فَيَقولُ لِلْمُفْتِي: ظَلَمَنِي أَبِي أَوْ أَخِي أَوْ زَوْجِي أَوْ فُلانٌ بِكَذَا فَهَلْ لَهُ ذلِكَ؟ ومَا طَريقي في الْخَلَاصِ مِنْهُ وتَحْصِيلِ حَقِّي ودَفْعِ الظُّلْمِ ونَحْوِ ذلِكَ فَهذَا جَائِزٌ لِلْحَاجَةِ، وَلكِنِ الْأَحْوَطُ والْأَفْضَلُ أَنْ يَقولَ: مَا تَقولُ فِي رجُلٍ أَوْ شَخْصِ أَوْ زَوْجٍ كانَ مِنْ أَمْرِهِ كَذَا؟ فَإِنَّهُ يَحْصُلُ بِهِ الغَرَضُ مِنْ غَيْرِ تَعْيينٍ، ومَعَ ذلِكَ فَالتَّعيْينُ جَائِزٌ كما سَنَذْكُرُهُ في حَدِيثِ هِنْدٍ إِنْ شَاءَ اللهُ تَعالَى.

الرَّابعُ: تَحْذِيرُ الْمُسْلِمينَ مِنَ الشَّرِّ ونَصيحَتُهُمْ، وذلِكَ مِنْ وُجوهٍ:

مِنْها: جَرْحُ الْمَجْرُوحِينَ مِنَ الرُّواةِ والشُّهودِ، وذلِكَ جَائِزٌ بِإِجْماعِ الْمُسْلِمينَ بَلْ وَاجِبٌ للْحاجَةِ.

ومِنْها: الْمُشَاوَرَةُ في مُصاهَرَةِ إنْسانٍ أَوْ مُشارَكَتِهِ أَوْ إِيدَاعِهِ أَوْ مُعامَلَتِهِ أَوْ غَيْرِ ذلِكَ أَوْ مُجاوَرَتِهِ، ويَجِبُ عَلى المُشاوَرِ أَنْ لا يُخْفِي حَالَهُ بَلْ يَذْكُرُ الْمَساوِئَ الَّتي فِيهِ بِنِيَّةِ النَّصيحَةِ.

ومِنْهَا: إِذَا رَأَى مُتَفَقِّهًا يَتَرَدَّدُ إِلَى مُبْتَدِعٍ أَوْ فَاسِقٍ يَأْخُذُ عَنْهُ الْعِلْمِ وخَافَ أَنْ يَتَضَرَّرَ الْمُتَفَقِّهُ بِذلِكَ، فَعَلَيْهِ نَصيحَتُهُ بِبَيانِ حَالِهِ بِشَرْطِ أَنْ يَقْصِدَ النَّصيحَةَ، وهذَا مِمَّا يُغْلَطُ فِيهِ، وقَدْ يَحْمِلُ الْمُتَكَلِّمَ بِذلِكَ الْحَسَدُ ويُلَبِّسُ الشَّيْطانُ عَلَيْهِ ذلِكَ ويُخَيَّلُ إليْهِ أَنَّهُ نَصيحةٌ فَلْيَتَفَطَّنْ لِذلِكَ.

ومِنْهَا: أَنْ يَكونَ لَهُ وَلَايَةٌ لا يَقومُ بِها عَلى وجْهِها، إِمَّا بِأَنْ لا يَكونَ صَالِحًا لَها، وإِمَّا بِأَنْ يَكونَ فَاسِقًا أَوْ مُغَفَّلًا ونَحْوَ ذلِكَ، فَيَجِبُ ذِكْرُ ذَلكَ لِمَنْ لَهُ عَلَيْهِ ولايَةٌ عَافَةٌ لِيُزِيلَهُ ويُوَلِّيَ مَنْ يَصْلُحُ، أوْ يَعْلَمُ ذلِكَ مِنْهُ لِيُعامِلَهُ بِمُقْتَضَى حَالِهِ ولا يَغْتَرَّ بِهِ، وأَنْ يَسْعَى في أنْ يَحُثَّهُ عَلى الاسْتِقامَةِ أَوْ يَسْتَبْدِلَ بِهِ.

الْخَامِسُ: أَنْ يَكونَ مُجاهِرًا بِفِسْقِهِ أَوْ بِدْعَتِهِ كالمُجاهِرِ بِشُرْبِ الْخَمْرِ، ومُصادَرَةِ
অথবা জালেমের থেকে নিজের অধিকার আদায়ের ক্ষমতা রাখেন এমন কারো নিকট প্রতিকার চাওয়া; ফলে সে বলে: অমুক ব্যক্তি আমার ওপর এই এই জুলুম করেছে।

দ্বিতীয়: অন্যায় কাজ পরিবর্তন করা এবং পাপীকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার জন্য সাহায্য প্রার্থনা করা; ফলে সে এমন ব্যক্তির কাছে বলে যার অন্যায় দূর করার সক্ষমতা আছে বলে সে আশা করে: অমুক ব্যক্তি এই এই কাজ করছে, তাকে তা থেকে বিরত রাখুন—অথবা এই জাতীয় কিছু। এক্ষেত্রে তার উদ্দেশ্য হতে হবে অন্যায়টি দূর করার উপায় বের করা। যদি তার উদ্দেশ্য তা না হয়, তবে এটি হারাম হবে।

তৃতীয়: ফাতাওয়া তলব করা। সে মুফতির কাছে গিয়ে বলে: আমার বাবা অথবা আমার ভাই অথবা আমার স্বামী অথবা অমুক ব্যক্তি আমার ওপর এই এই জুলুম করেছে, তার জন্য কি তা করা বৈধ? এর থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার, আমার প্রাপ্য অধিকার আদায় করার এবং জুলুম প্রতিহত করার উপায় কী—এই জাতীয় বিষয়। প্রয়োজনে এটি বৈধ। তবে অধিকতর সতর্কতা এবং উত্তম হলো এভাবে বলা: আপনি এমন একজন ব্যক্তি বা স্বামী সম্পর্কে কী বলেন যে এই এই কাজ করেছে? কারণ এর দ্বারা নির্দিষ্ট কারো নাম উল্লেখ না করেই উদ্দেশ্য হাসিল হয়। তবুও কারো নাম নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা জায়েজ, যেমনটি আমরা ইনশাআল্লাহ তাআলা হিন্দের হাদিসে উল্লেখ করব।

চতুর্থ: মুসলিমদেরকে অকল্যাণ থেকে সতর্ক করা এবং তাদের নসিহত প্রদান করা। এটি কয়েকটি দিক থেকে হতে পারে:

তার মধ্যে একটি হলো: হাদিস বর্ণনাকারী এবং সাক্ষীদের মাঝে যারা ত্রুটিযুক্ত তাদের দোষ বর্ণনা করা। মুসলিমদের ঐকমত্যে এটি বৈধ, বরং প্রয়োজনের খাতিরে এটি ওয়াজিব।

তার মধ্যে আরও একটি হলো: কারো সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন, ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব, আমানত রাখা, লেনদেন করা অথবা প্রতিবেশী হওয়া ইত্যাদি বিষয়ে পরামর্শ করা। এক্ষেত্রে যার নিকট পরামর্শ চাওয়া হয়েছে, তার ওপর ওয়াজিব হলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অবস্থা গোপন না করা, বরং নসিহতের নিয়তে তার ভেতরে যে দোষত্রুটি আছে তা উল্লেখ করা।

তার মধ্যে আরও একটি হলো: যখন কেউ কোনো ইলম অন্বেষণকারীকে দেখে যে সে কোনো বিদআতি বা ফাসেক ব্যক্তির নিকট যাতায়াত করছে তার থেকে ইলম শিক্ষা করার জন্য এবং সে আশঙ্কা করে যে এর ফলে ইলম অন্বেষণকারী ক্ষতিগ্রস্ত হবে; তখন নসিহতের নিয়ত থাকার শর্তে তার কাছে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অবস্থা বর্ণনা করে তাকে নসিহত করা তার জন্য আবশ্যক। এটি এমন একটি বিষয় যেখানে প্রায়ই ভুল হয়ে থাকে। অনেক সময় বক্তাকে হিংসা এই কাজে প্ররোচিত করে এবং শয়তান তার কাছে বিষয়টিকে গোলমেলে করে দেয় এবং তার কাছে ধারণা দেয় যে এটি নসিহত; সুতরাং এ বিষয়ে তাকে সচেতন থাকতে হবে।

তার মধ্যে আরও একটি হলো: কারো এমন কোনো দায়িত্ব বা পদমর্যাদা রয়েছে যা সে যথাযথভাবে পালন করছে না; হয় সে সেটির জন্য যোগ্য নয়, অথবা সে একজন ফাসেক বা গাফেল (অসচেতন) ব্যক্তি কিংবা এই জাতীয় কিছু। এমতাবস্থায় উচ্চতর কোনো কর্তৃপক্ষের নিকট বিষয়টি উল্লেখ করা ওয়াজিব, যাতে তাকে সরিয়ে দিয়ে যোগ্য কাউকে নিয়োগ দেওয়া যায়, অথবা তিনি যেন তার প্রকৃত অবস্থা জানতে পারেন এবং সেই অনুযায়ী তার সাথে আচরণ করতে পারেন ও ধোঁকায় না পড়েন, আর তাকে সঠিক পথে চলার নির্দেশ দিতে পারেন অথবা তাকে পরিবর্তন করার ব্যবস্থা করতে পারেন।

পঞ্চম: প্রকাশ্যে পাপাচার বা বিদআতে লিপ্ত হওয়া; যেমন প্রকাশ্যে মদ্যপানকারী এবং মানুষের সম্পদ অন্যায়ভাবে জবরদখলকারী বা আত্মসাৎকারী...