القسم: الفقه الحنبلي
الكتاب: فقه العبادات على المذهب الحنبلي
المؤلف: الحاجّة سعاد زرزور
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 503
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
বিভাগ: হাম্বলি ফিকহ
কিতাব: হাম্বলি মাযহাব অনুযায়ী ইবাদতের ফিকহ
লেখক: হাজ্জাহ সুয়াদ যারযুর
[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫০৩
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ সেই মহান ইমামের জন্য এমন এক কঠিন পরীক্ষার ফয়সালা করেছিলেন যে, তাঁর পিঠ চাবুকের আঘাতে দগ্ধ হয়েছিল এবং তাঁকে শিকল ও বেড়ি পরা অবস্থায় লৌহভার বহন করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এটি কেবল এজন্য হয়েছিল যে, তিনি আল-মামুন এবং তাঁর মনোনীত বিশিষ্ট আলেমগণ যে বিষয়ে লিপ্ত ছিলেন, তাতে লিপ্ত হতে অস্বীকার করেছিলেন।
جاء في كتاب المقفى للمقريزي أنَّ الإمام الشافعي رضي الله عنه وهو في مصر، رأى النبي صلى الله عليه وسلم في المنام فأخبره (أنَّ المحنة ستكون، وأن الإمام أحمد بن حنبل سيمتحن) قال الربيع بن سليمان فكتب الشافعي كتاباً وختمه، ثم قال لي: يا أبا سليمان انحدر بكتابي هذا إلى الإمام أحمد وأعطه له ولا تقرأ، فحملت الكتاب إلى العراق ووجدت الإمام أحمد يصلي سنة الفجر فلما انتهى من الصلاة قدمت له الكتاب فعرفني وقرأه. فلمَّا جاء عند موضع فيه. بكى، قلت له: ما يبكيك يا أبا عبد الله؟ قال لي: الشافعي يذكر لي أنَّ الرسول الله صلى الله عليه وسلم بشره أن سأمتحن!! وأنا أسأل الله سبحانه وتعالى أن يحقق ذلك قريباً.মাকরিজীর 'আল-মুকাফফা' কিতাবে বর্ণিত আছে যে, ইমাম শাফিঈ রাদিয়াল্লাহু আনহু মিশরে থাকাকালীন স্বপ্নে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে জানালেন যে, শীঘ্রই একটি ফিতনা বা পরীক্ষা আসবে এবং ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল তাতে পরীক্ষিত হবেন। রাবী বিন সুলাইমান বলেন, এরপর ইমাম শাফিঈ একটি চিঠি লিখলেন এবং তাতে মোহর মেরে আমাকে বললেন: হে আবু সুলাইমান, আমার এই চিঠিটি নিয়ে ইমাম আহমাদের কাছে যাও এবং তাঁকে এটি প্রদান করো, কিন্তু তুমি তা পাঠ করো না। আমি চিঠিটি নিয়ে ইরাকে পৌঁছলাম এবং ইমাম আহমাদকে ফজরের সুন্নাত নামাজ পড়তে দেখলাম। নামাজ শেষ হলে আমি তাঁকে চিঠিটি দিলাম। তিনি আমাকে চিনলেন এবং চিঠিটি পড়লেন। যখন তিনি চিঠির একটি নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছালেন, তখন তিনি কেঁদে ফেললেন। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম: হে আবু আব্দুল্লাহ, আপনি কাঁদছেন কেন? তিনি বললেন: শাফিঈ আমাকে জানাচ্ছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে সুসংবাদ দিয়েছেন যে আমি শীঘ্রই পরীক্ষিত হব!! আর আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি যেন তিনি শীঘ্রই এটি বাস্তবে রূপ দান করেন।
قال الربيع: فقلت للإمام: هذه بشرى فأين جائزتي؟ فخلع الإمام أحمد ثوبه الذي يلي جلده وأعطاه لي. فلمَّا رجعت إلى مصر رويت ما حدث للإمام الشافعي فوجدت الشافعي يتمنى لو ظفر بثوب الإمام أحمد.রাবী বলেন: আমি ইমামকে বললাম, এটি তো সুসংবাদ, তাহলে আমার পুরস্কার কোথায়? তখন ইমাম আহমাদ তাঁর শরীরের সাথে লেগে থাকা জামাটি খুলে আমাকে দিয়ে দিলেন। আমি যখন মিশরে ফিরে গিয়ে ইমাম শাফিঈর কাছে যা ঘটেছে তা বর্ণনা করলাম, তখন দেখলাম ইমাম শাফিঈ আকাঙ্ক্ষা করছেন যদি তিনি ইমাম আহমাদের সেই জামাটি পেতেন।
كانت هذه الرؤيا قبل أن تقع المحنة بسنوات، ولقد فعلت في نفس الإمام أحمد فعل السحر كما فعلت الرؤيا أخرى رآها هو بنفسه وحكاها لنا ابن عمه نبل بن إسحاق بن حنبل فقال:এই স্বপ্নটি পরীক্ষা শুরু হওয়ার কয়েক বছর আগের ঘটনা। ইমাম আহমাদের মনে এই স্বপ্নের প্রভাব ছিল জাদুকরী, যেমনটি ছিল অন্য আরেকটি স্বপ্নের প্রভাব যা তিনি নিজে দেখেছিলেন এবং তাঁর চাচাতো ভাই নুবল বিন ইসহাক বিন হাম্বল আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন:
"رأيت في المنام صديقاً اسمه علي بن عاصم" واستبشر الإمام بهذه الرؤيا الثانية استبشاراً كبيراً وقال: إنَّ عليا تفيد علو المنزلة، وعاصماً تفيد العصمة في الفتنة."আমি স্বপ্নে আলী বিন আসিম নামক এক বন্ধুকে দেখলাম।" ইমাম এই দ্বিতীয় স্বপ্নটিতে অত্যন্ত আনন্দিত হলেন এবং বললেন: 'আলী' নামটির অর্থ উচ্চ মর্যাদা, আর 'আসিম' নামটির অর্থ ফিতনা থেকে সুরক্ষা।⦗পৃষ্ঠা: ২৪⦘ بدأت المحنة سنة 218-هـ بورود كتاب المأمون، على عامله في بغداد، أن يجمع العلماء من قضاء وخطباء، ويسألهم عن القرآن، فمن لم يقل أنه مخلوق عزله، العلماء وامتثل الوالي أمر الخليفة فجمع العلماء، فأقروا جميعاً إلا أربعة منهم، فلجأ إلى الشدة، وأمر بوضعهم في الحبس وإثقالهم بقيود الحديد، فوافق اثنان، وبقي أحمد بن حنبل ومحمد بن نوح، فأمر المأمون بحملهما إليه، فشدهما الوالي في الحديد ووجههما إليه. وتوفي المأمون قبل أن يصلوا إليه، وهو بالرقة، كما توفي ابن نوح على الطريق فبقي أحمد رضي الله عنه وحده، وهكذا اختصرت فيه جبهة المحدثين الضخمة، وانصبت الأضواء كلها عليه، اتجهت الأنظار إليه، وتعلق نصر الجبهة بثباته، فإن هو انهزم انهارت جبهة المحدثين وتمت الغلبة للمعتزلة.
এ কারণে ইমাম আহমাদ এই মহান স্বপ্ন দুটির দ্বারা প্রফুল্ল ও আশাবাদী হলেন এবং মানসিকভাবে ও বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে লড়াই ও সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হলেন। ⦗পৃষ্ঠা: ২৪⦘ ২১৮ হিজরিতে বাগদাদে আল-মামুনের গভর্নরের কাছে প্রেরিত চিঠির মাধ্যমে এই পরীক্ষার সূচনা হয়। চিঠিতে নির্দেশ ছিল যে, বিচারক ও খতিবদের মতো আলেমদের একত্রিত করে তাঁদের কুরআন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে হবে। যে ব্যক্তি কুরআনকে 'মাখলুক' (সৃষ্ট) বলবে না, তাঁকে পদচ্যুত করতে হবে। গভর্নর খলিফার আদেশ পালন করলেন এবং আলেমদের সমবেত করলেন। চারজন ছাড়া বাকি সবাই খলিফার মত মেনে নিলেন। তখন গভর্নর কঠোর পন্থা অবলম্বন করলেন এবং তাঁদের কারাগারে বন্দি করে লোহার শিকল দ্বারা ভারাক্রান্ত করার নির্দেশ দিলেন। এরপর আরও দুজন খলিফার মতে সায় দিলেন, কেবল আহমাদ বিন হাম্বল এবং মুহাম্মদ বিন নুহ অটল রইলেন। আল-মামুন তাঁদের তাঁর কাছে নিয়ে আসার নির্দেশ দিলেন। গভর্নর তাঁদের লোহার শিকলে বেঁধে তাঁর কাছে পাঠালেন। কিন্তু তাঁরা পৌঁছানোর আগেই আল-মামুন রাক্কাহ নামক স্থানে মৃত্যুবরণ করেন। পথিমধ্যে মুহাম্মদ বিন নুহও ইন্তেকাল করেন। ফলে একা আহমাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু অবশিষ্ট রইলেন। এভাবেই মুহাদ্দিসদের বিশাল গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব কেবল তাঁর ওপর সংকুচিত হয়ে এল, সমস্ত আলোকবর্তিকা তাঁর ওপর নিপতিত হলো, সকলের দৃষ্টি তাঁর দিকে নিবন্ধিত হলো এবং এই পক্ষের বিজয় তাঁর অটল থাকার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ল। যদি তিনি ভেঙে পড়তেন, তবে মুহাদ্দিসদের পক্ষ ধসে পড়ত এবং মুতাজিলাদের বিজয় পূর্ণ হতো।
وولي المعتصم وكان رجلاً قوي الجسم يستطيع أن يصارع أسداً، ولكنه كان ضعيف العلم لا يستطيع أن يناظر أحداً، وكان يجلّ أخاه المأمون ويراه مثله الأعلى فسار على طريقته ولكنه إلا حتى جاوز الحدود.এরপর মুতাসিম ক্ষমতায় বসেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত শক্তিশালী দেহের অধিকারী, এমনকি সিংহের সাথে লড়াই করার ক্ষমতা রাখতেন। কিন্তু ইলমের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন দুর্বল, কারো সাথে বিতর্ক করার ক্ষমতা তাঁর ছিল না। তিনি তাঁর ভাই আল-মামুনকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করতেন এবং তাঁকে নিজের আদর্শ মনে করতেন। ফলে তিনি মামুনের পথেই চললেন, এমনকি তিনি সীমা অতিক্রম করে গেলেন।
ولبث الإمام أحمد في السجن، وبلغ به الضعف كل مبلغ، ومع ذلك فقد كان دائم العبادة، حاضراً مع الله. حدث ابنه بأن الإمام أحمد قرا عليه كتاب الإِرجاء وغيره في الحبس، وبأن رآه يصلي بأهل الحبس وعليه لقيد، فكان يخرج رجله من حلقة القيد، وقت الصلاة والنوم.ইমাম আহমাদ কারাগারে অবস্থান করতে থাকলেন এবং তিনি চরম দুর্বল হয়ে পড়লেন। তা সত্ত্বেও তিনি সর্বদা ইবাদতে মগ্ন থাকতেন এবং আল্লাহর সাথে আত্মিক সংযোগ রাখতেন। তাঁর পুত্র বর্ণনা করেছেন যে, ইমাম আহমাদ কারাগারে থাকাকালীন তাঁকে 'কিতাবুল ইরজা' ও অন্যান্য বিষয় পড়ে শুনিয়েছেন। তিনি তাঁকে দেখেছেন শিকল পরা অবস্থায় বন্দিদের ইমামতি করতে। নামাজের সময় এবং ঘুমের সময় তিনি শিকলের কড়া থেকে নিজের পা বের করে নিতেন।
وبعث المعتصم علماءه وقواده يناظرونه، فكان يرفض الدخول في المناظرة ويأبى الموافقة إلا بدليل من كتاب الله أو من سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم. وحمل إلى حضرة المعتصم. وجرت المناقشة إمامه، فكان يصرَّ على هذا الرد ويقول: "أعطوني شيئاً من كتاب الله أو من سنة رسوله". وجربوا أنواع الترغيب بالعطايا والمناصب، وأنواع الترهيب بالتعذيب الشديد. فلم يؤثر ذلك فيه أثراً.মুতাসিম তাঁর আলেম ও সেনাপতিদের তাঁর সাথে বিতর্ক করতে পাঠালেন। কিন্তু তিনি তর্কে লিপ্ত হতে অস্বীকার করলেন এবং আল্লাহর কিতাব অথবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর দলিল ছাড়া কোনো বিষয়ে একমত হতে চাইলেন না। তাঁকে মুতাসিমের দরবারে নিয়ে আসা হলো এবং খলিফার সামনে আলোচনা চলল। তিনি তাঁর জবাবে অটল থেকে বলছিলেন: "আমাকে আল্লাহর কিতাব অথবা তাঁর রাসূলের সুন্নাহ থেকে কিছু দিন।" তারা তাঁকে দান-দক্ষিণা ও উচ্চ পদের লোভ দেখিয়ে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করল এবং কঠোর শাস্তির ভয় দেখিয়ে দমন করতে চাইল। কিন্তু এর কোনোটিই তাঁর ওপর কোনো প্রভাব ফেলল না।
وبعثوا إليه بالعلماء يأتونه من باب التقية، فكان يقول لهم: "إن من قبلنا كانوا ينشرون بالمنشار فلا يرجعون". وأظهر مرة أنه لا يخاف السجن، ولكن ⦗পৃষ্ঠা: ২৫⦘ يخاف الضرب، يخشى ألاّ يحتمل فتهزم فكرته. فقال له أحد اللصوص وكان معه في السجن. "أنا ضربت عشرين مرة، يبلغ مجموعها آلاف الأسواط، فاحتملتها في سبيل الدنيا، وأنت تخاف أسواطاً في سبيل الله، إنما هما سوطان أو ثلاثة فلا تحس شيئاً" فهوَّن ذلك عليه.তারা তাঁর কাছে আলেমদের পাঠাল যাতে তারা তাঁকে 'তাকিয়া' বা কৌশল অবলম্বনের পথ দেখায়। কিন্তু তিনি তাঁদের বলতেন: "আমাদের পূর্ববর্তীদের করাত দিয়ে চিরে ফেলা হতো, তবুও তারা সত্য থেকে বিচ্যুত হতেন না।" তিনি একবার প্রকাশ করলেন যে তিনি কারাগারকে ভয় পান না, কিন্তু ⦗পৃষ্ঠা: ২৫⦘ তিনি প্রহার বা চাবুকের আঘাতকে ভয় পান। তাঁর আশঙ্কা ছিল যে তিনি হয়তো তা সহ্য করতে পারবেন না এবং এর ফলে তাঁর আদর্শ পরাজিত হবে। তখন তাঁর সাথে কারাগারে থাকা এক চোর তাঁকে বলল: "আমি বিশ বার প্রহার সহ্য করেছি, যার মোট সংখ্যা হাজার হাজার চাবুক। আমি দুনিয়ার স্বার্থে তা সহ্য করেছি, আর আপনি আল্লাহর পথে চাবুকের আঘাতকে ভয় পাচ্ছেন! আসলে এটি দুই বা তিনটি চাবুকের আঘাত মাত্র, এরপর আপনি আর কিছু অনুভব করবেন না।" এটি তাঁর কাছে বিষয়টি সহজ করে দিল।
ولما عجز المعتصم نصب آلة التعذيب ومدوه عليها وضربوه، فانخلعت كتفه من الضربة الأولى، وانبثق من ضهره الدم، فقام إليه المعتصم يقول: يا أحمد قل هذه الكلمة وأنا أفك عنك بيدي وأعطيك وأعطيك، وهو يقول: هاتوا آية أو حديثاً.মুতাসিম যখন অক্ষম হলেন, তখন তিনি নির্যাতনের যন্ত্র স্থাপন করলেন এবং তাঁকে তাতে ঝুলিয়ে প্রহার করা হলো। প্রথম আঘাতেই তাঁর কাঁধের হাড় সরে গেল এবং তাঁর পিঠ থেকে রক্ত ঝরতে লাগল। মুতাসিম তাঁর কাছে এসে বলতে লাগলেন: হে আহমাদ! এই কথাটি বলো, আমি নিজ হাতে তোমার বাঁধন খুলে দেব এবং তোমাকে অনেক অনেক কিছু দান করব। কিন্তু তিনি বলছিলেন: "একটি আয়াত বা একটি হাদিস নিয়ে আসুন।"
فقال المعتصم للجلاد: شد قطع الله يدك. فضربه أخرى فتناثر لحمه.মুতাসিম জল্লাদকে বললেন: "জোরে আঘাত করো, আল্লাহ তোমার হাত কেটে দিন।" সে তাঁকে আবার আঘাত করল, ফলে তাঁর শরীরের মাংস ছিটকে পড়ল।
وقال له المعتصم: لماذا تقتل نفسك مَن مِن أصحابك فعل هذا؟.মুতাসিম তাঁকে বললেন: "কেন তুমি নিজেকে হত্যা করছ? তোমার সাথীদের মধ্যে কে এমনটি করেছে?"
وقال له أحد العلماء وهو المروزي: ألم يقل الله تعالى: (ولا تقتلوا أنفسكم) .মারওয়াযী নামক এক আলেম তাঁকে বললেন: "আল্লাহ তাআলা কি বলেননি: 'তোমরা নিজেদের হত্যা করো না'?"
قال أحمد رضي الله عنه: يا مروزي فانظر أي شيء وراء الباب فخرج إلى صحن القصر فإذا جمع لا يحصيهم إلا الله معهم الدفاتر والأقلام. قال: أي شيء تعلمون؟আহমাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: "হে মারওয়াযী! দেখ দরজার ওপাশে কী আছে।" তিনি প্রাসাদের আঙিনায় গিয়ে দেখলেন আল্লাহর অগণিত বান্দা খাতা ও কলম নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "আপনারা কী করছেন?"
قالوا: ننظر ما يجيب به أحمد فنكتبه. فرجع. قال: يا مروزي أنا أضلّ هؤلاء كلهم؟তারা বলল: "আহমাদ কী জবাব দেন আমরা তা দেখার অপেক্ষায় আছি যাতে তা লিখে নিতে পারি।" তিনি ফিরে এলেন। ইমাম বললেন: "হে মারওয়াযী! আমি কি এই সব মানুষকে পথভ্রষ্ট করব?"
أقتل نفسي ولا أضل هؤلاء كلهم!.আমি বরং নিজেকে শেষ করে দেব তবুও এই সব মানুষকে পথভ্রষ্ট করব না!
ولمَّا عجز المعتصم قال لجلادين: اضربوا وشدوا. فكان يجيء الواحد فيضربه سيوطين، ثم يتنحى ويأتي الآخر، حتى خلعت كتفاه، وغطَّى الدم ظهره كله. ⦗পৃষ্ঠা: ২৬⦘মুতাসিম যখন ব্যর্থ হলেন, তখন জল্লাদদের বললেন: "প্রহার করো এবং কঠোরভাবে আঘাত করো।" একেকজন আসত এবং দুটি করে চাবুক মারত, তারপর সরে যেত এবং অন্যজন আসত। এভাবে তাঁর দুই কাঁধ সরে গেল এবং তাঁর পুরো পিঠ রক্তে রঞ্জিত হয়ে গেল। ⦗পৃষ্ঠা: ২৬⦘
وانقطعت تكة سراويله فكادت تسقط وينكشف. ورآه الناس يحرك شفتيه. فتقف السراويل مكانهم وسألوه بعد. فقال: قلت: يا رب إن كنت تعلم أني على الحق فلا تهتك لي ستراً.তাঁর লুঙ্গির ফিতা ছিঁড়ে গেল এবং তা খুলে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হলো। মানুষ দেখল তিনি তাঁর ঠোঁট নাড়াচ্ছেন। অমনি লুঙ্গিটি তার জায়গায় স্থির হয়ে থাকল। পরে লোকেরা তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন: "আমি বলছিলাম: হে আমার রব! আপনি যদি জানেন যে আমি সত্যের ওপর আছি, তবে আমার আব্রু নষ্ট করবেন না।"
حتى أشرف على الموت، وخاف المعتصم أن يثور الناس إن مات، فرفع عنه الضرب وسلمه لأهله، بعدما لبث في السجن والقيود ثمانية وعشرين شهراً. وأرادوا أن يسقوه شيئاً فأبي أن يفطر وهو فيما هو فيه من الهول. ولم يخرج حتى أعلن أنه سامح المعتصم وكل من حضر ضربه، وبقي أثر الضرب فيه وبقيت كتفه مخلوعة حتى مات.এমনকি তিনি মৃত্যুর সন্নিকটে পৌঁছে গেলেন। মুতাসিম ভয় পেলেন যে তিনি মারা গেলে মানুষ বিদ্রোহ করতে পারে। তাই তিনি প্রহার বন্ধ করলেন এবং তাঁকে তাঁর পরিবারের কাছে সোপর্দ করলেন। তিনি আঠাশ মাস কারাগার ও শিকলবন্দি অবস্থায় ছিলেন। তারা তাঁকে কিছু পান করাতে চাইলে তিনি রোজা ভাঙতে অস্বীকার করলেন, অথচ তিনি তখন চরম বিভীষিকার মধ্যে ছিলেন। তিনি ঘোষণা না করা পর্যন্ত বের হননি যে, তিনি মুতাসিম এবং যারা তাঁর প্রহারের সময় উপস্থিত ছিল সবাইকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। তাঁর শরীরে প্রহারের চিহ্ন অবশিষ্ট ছিল এবং মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর কাঁধটি সরে যাওয়া অবস্থাতেই ছিল।
على أن المحنة لم ترفع تماماً إلا أيام المتوكل، وكانت محنة حقاً، دامت نحواً من أربع عشرة سنة، تراخى عنه العذاب والتنكيل والاضطهاد في نصفها واستمر في سائرها.তবে মুতাওয়াক্কিলের যুগ না আসা পর্যন্ত এই পরীক্ষা বা ফিতনা পুরোপুরি দূর হয়নি। এটি ছিল এক বাস্তব অগ্নিপরীক্ষা, যা প্রায় চৌদ্দ বছর স্থায়ী হয়েছিল। এর অর্ধেক সময় তাঁর ওপর নির্যাতন ও নিপীড়ন শিথিল ছিল এবং বাকি সময়ে তা অব্যাহত ছিল।
وخرج الإِمام أحمد من هذه المحنة خروج السيف من الجلاء والبدر من الظلماء، وكان كما قال بعض معاصريه: "أُدخل الكبير فخرج ذهباً أحمر". ولم يزل بعد ذلك اليوم في صعود واعتلاء، حتى تواضعت القلوب على حبه وأصبح حبه شعار أهل السنة وأهل الصلاح، حتى نقل عن أحمد معاصريه أنه قال: "إذا رأيت الرجل يحب أحمد بن حنبل فاعلم انه صاحب سنة". وقال شاعر:ইমাম আহমাদ এই পরীক্ষা থেকে এমনভাবে বেরিয়ে এলেন যেমন শান দেওয়ার পর তলোয়ার বের হয় অথবা অন্ধকার থেকে পূর্ণিমার চাঁদ বের হয়। যেমনটি তাঁর সমসাময়িক কেউ কেউ বলেছিলেন: "এক বিশাল ব্যক্তিত্বকে ভেতরে প্রবেশ করানো হয়েছিল, আর তিনি খাঁটি সোনা হয়ে বের হয়ে এলেন।" সেই দিনের পর থেকে তিনি কেবল সম্মানের উচ্চ শিখরে আরোহণ করতে থাকলেন, এমনকি মানুষের অন্তর তাঁর ভালোবাসার ওপর একমত হলো এবং তাঁর ভালোবাসা আহলে সুন্নাত ও সৎকর্মশীলদের প্রতীকে পরিণত হলো। এমনকি ইমাম আহমাদের সমসাময়িকদের থেকে বর্ণিত আছে যে তারা বলতেন: "যখন দেখবে কোনো ব্যক্তি আহমাদ বিন হাম্বলকে ভালোবাসছে, তবে জেনে রেখো সে সুন্নাহর অনুসারী।" একজন কবি বলেছেন:
أضحى ابنُ محنةً مأمونةً * ويجبِّ أحمدَ يُعرفُ المُتَنَسِكُইবনে হাম্বল একটি নিরাপদ পরীক্ষায় পরিণত হয়েছেন * আর আহমাদের ভালোবাসার মাধ্যমেই ইবাদতকারীকে চেনা যায়।
وإذا رأيت لأحمد مُتنقِّصاً * فاعلم بأنَّ ستورُهُ ستهتكُযদি তুমি কাউকে দেখো যে আহমাদের দোষত্রুটি খুঁজছে * তবে জেনে রেখো তার পর্দা অবশ্যই উন্মোचित হবে।
وقال علي بن المدني أحد أئمة الحديث في عصره، ومن شيوخ البخاري:সেই যুগের অন্যতম হাদিস বিশারদ এবং ইমাম বুখারীর উস্তাদ আলী বিন আল-মাদীনী বলেন:
"إنَّ الله أعزَّ هذا الدين بأبي بكر الصديق يوم الردة، وبأحمد بن حنبل يوم المحنة"."নিশ্চয়ই আল্লাহ এই দ্বীনকে রিদ্দার (স্বধর্মত্যাগ) যুদ্ধের দিন আবু বকর সিদ্দীকের মাধ্যমে এবং পরীক্ষার (মিহনার) দিন আহমাদ বিন হাম্বলের মাধ্যমে শক্তিশালী করেছেন।"
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------