(খণ্ড: ১) যাখীরাতুল উক্ববা ফী শারহিল মুজতবা (পৃষ্ঠা: -)
ذخيرة العقبى في شرح المجتبى   (محمد بن علي بن آدم الأثيوبي)

القسم: شروح الحديث


الكتاب: شرح سنن النسائي المسمى «ذخيرة العقبى في شرح المجتبى».

المؤلف: محمد بن علي بن آدم بن موسى الإثيوبي الوَلَّوِي

الناشر: دار المعراج الدولية للنشر (جـ 1 - 5)، دار آل بروم للنشر والتوزيع (جـ 6 - 40)

الطبعة: الأولى، 1416 - 1424 هـ

عدد الأجزاء: 42 (40 والفهارس)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 24 محرم 1436

যখীরাতুল উকবা ফী শারহিল মুজতাবা   (মুহাম্মাদ বিন আলী বিন আদম আল-ইথিওপীয়)

বিভাগ: হাদীসের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ


কিতাব: সুনানে নাসায়ীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ যার নাম «যখীরাতুল উকবা ফী শারহিল মুজতাবা»।

লেখক: মুহাম্মাদ বিন আলী বিন আদম বিন মূসা আল-ইথিওপীয় আল-ওয়াল্লাবী

প্রকাশক: দারুল মি'রাজ আল-আলামিয়্যাহ পাবলিকেশন (খণ্ড ১ - ৫), দারু আলি বুরূম পাবলিকেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন (খণ্ড ৬ - ৪০)

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৬ - ১৪২৪ হিজরী

খণ্ড সংখ্যা: ৪২ (৪০ খণ্ড ও নির্ঘণ্টসমূহ)

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৪ মুহররম ১৪৩৬

(খণ্ড: ١) যাখীরাতুল উক্ববা ফী শারহিল মুজতবা (পৃষ্ঠা: ١)
شرح سنن النسائي

المسمى ذخيرة العقبى في شرح المجتبى

لجامعة الفقير إلى مولاه الغني القدير

محمد بن الشيخ العلامة علي بن آدم بن موسى الإثيوبي الوَلَّوِي

المدرس بدار الحديث الخيرية بمكة المكرمة

عفا الله عنه وعن والديه آمين

--------------------------------------------

الناشر: دار المعراج الدولية للنشر (جـ 1 - 5)، دار آل بروم للنشر والتوزيع (جـ 6 - 40)

الطبعة: الأولى

جـ (1 - 5): 1416 هـ - 1996 م

جـ (6 - 7):1419 هـ - 1999 م

جـ (8 - 9): 1420 هـ - 1999 م

جـ (10 - 12): 1419 هـ - 2000 م

جـ (13 - 40): 1424 هـ - 2003 م
সুনানুন নাসায়ীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ

যাকে ‘যাখীরাতুল উকবা ফী শারহিল মুজতবা’ নামে অভিহিত করা হয়েছে

তাঁর অভাবমুক্ত সর্বশক্তিমান রবের মুখাপেক্ষী সংকলক

মুহাম্মদ বিন শায়খ আল-আল্লামা আলী বিন আদম বিন মুসা আল-ইথিওপি আল-ওয়াল্লাউই

মক্কা মুকাররামাহর দারুল হাদীস আল-খাইরিয়্যার শিক্ষক

আল্লাহ তাকে এবং তার পিতামাতাকে ক্ষমা করুন, আমীন

--------------------------------------------

প্রকাশক: দারুল মি'রাজ আল-দাউলিয়া পাবলিশিং (খণ্ড ১ - ৫), দারু আলি বুরূম পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন (খণ্ড ৬ - ৪০)

সংস্করণ: প্রথম

খণ্ড (১ - ৫): ১৪১৬ হিজরী - ১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দ

খণ্ড (৬ - ৭): ১৪১৯ হিজরী - ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দ

খণ্ড (৮ - ৯): ১৪২০ হিজরী - ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দ

খণ্ড (১০ - ১২): ১৪১৯ হিজরী - ২০০০ খ্রিষ্টাব্দ

খণ্ড (১৩ - ৪০): ১৪২৪ হিজরী - ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দ
(খণ্ড: ١) যাখীরাতুল উক্ববা ফী শারহিল মুজতবা (পৃষ্ঠা: ٢)
شرح سنن النسائي
সুনান আন-নাসায়ীর ব্যাখ্যা
(খণ্ড: ١) যাখীরাতুল উক্ববা ফী শারহিল মুজতবা (পৃষ্ঠা: ٣)
حقوق الطبع محفوظة

الطبعة الأولى

1416 هـ-1996 م

 

دار المعراج الدولية للنشر

الرياض 11421 - ص. ب. 858 - هاتف وفاكس 4026278

المملكة العربية السعودية

بيروت- ص. ب. 6366/ 14 - هاتف 831331 - فاكس 603333

القاهرة - ص. ب. 1289 - هاتف 3900318 - فاكس 3926250
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

প্রথম সংস্করণ

১৪১৬ হিজরি - ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ

 

দারুল মিরাজ ইন্টারন্যাশনাল পাবলিশিং

রিয়াদ ১১৪২১ - পি.ও. বক্স ৮৫৮ - টেলিফোন ও ফ্যাক্স ৪০২৬২৭৮

সৌদি আরব রাজ্য

বৈরুত - পি.ও. বক্স ১৪/৬৩৬৬ - টেলিফোন ৮৩১৩৩১ - ফ্যাক্স ৬০৩৩৩৩

কায়রো - পি.ও. বক্স ১২৮৯ - টেলিফোন ৩৯০০৩১৮ - ফ্যাক্স ৩৯২৬২৫০
(খণ্ড: ١) যাখীরাতুল উক্ববা ফী শারহিল মুজতবা (পৃষ্ঠা: ٤)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

طبعت بمطابع

الفاروق الحديثة للطباعة والنشر

خلف 60 شارع راتب باشا حدائق شبرا

ت: 647526 - 2055688 القاهرة
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

মুদ্রিত হয়েছে

আল-ফারুক আল-হাদিসা মুদ্রণ ও প্রকাশনা

৬০ রাতেব পাশা স্ট্রিটের পেছনে, হাদাইক শুবরা

টেলিফোন: ৬৪৭৫২৬ - ২০৫৫৬৮৮ কায়রো
(খণ্ড: ١) যাখীরাতুল উক্ববা ফী শারহিল মুজতবা (পৃষ্ঠা: ٥)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله الذي رفع أهل العلم درجات، وخص من بينهم أهل الحديث فَرَقَّاهم إلى أسمى الغايات، أكْرمْ بهم قوما صاروا مَنَار الهدى لأهل العنايات، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له الذي نشر على رؤوس أهل العلم راية قوله تعالى: {شَهِدَ اللَّهُ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ وَالْمَلَائِكَةُ وَأُولُو الْعِلْمِ قَائِمًا بِالْقِسْطِ} [آل عمران: آية 18]، فيالها مَنقَبَةً تعلو المنقبَات، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله الذي نَوَّهَ بشرف أهل الحديث حيث قال: "نضر الله امرأ سمع منا شيئاً فبلغه كما سمعه .. " الحديث(1). فيا فَوزَهم ما أعلاه بين الهبات، صلى الله عليه وسلم، صلاة وسلاماً دائمين ما دام صحيحُ دينه مَرفوع الرايات، وعلى آله الذين اقتفوا أثره فيما دَقَّ وجَلَّ فحسنت أحوالهم بذلك ونالوا الحسنى والزيادات، وعلى أصحابه الذين هم الرعيل الأول فيما تسلل من الأسانيد العاليات للأخبار الغاليات، وعلى من اهتدى بهديهم من ذوي العنايات، ولا سيما أهْلُ الحديث الذين بذلوا أنفسهم في طلبه وأرخصوا الغالي في نيله، فيا فوزهم بالدرجات العاليات.

أما بعد: فيقول أفقر الورى إلى عفو الله تعالى محمَّد ابن الشيخ علي ابن آدم الإتيوبي:

لما رأيت سنن الإِمام الحافظ الحجة أبي عبد الرحمن أحمد بن شعيب النسائي رحمه الله تعالى، المسماة بالمجتبى- بالباء أو المجتنى -بالنون- لم يقع لها شرح يَحُلّ ألفاظها حَقَّ حَلّ، ويبين معانيها أتمَّ تبيين، ويتكلم على رجال أسانيدها وغوامض متونها، ويستنبط منها الأحكام، إذ تحت كل حديث خبايا أسرار، وضمن كل أثر خفايا أنوار، وكيف لا؛ وهو

--------------------------------------------

(1) أخرجه الترمذي من حديث ابن مسعود رضي الله عنه بسند صحيح.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি জ্ঞানীদের মর্যাদা উচ্চকিত করেছেন এবং তাঁদের মধ্য থেকে হাদীস বিশারদদের বিশিষ্ট করেছেন; অতঃপর তাঁদেরকে পৌঁছে দিয়েছেন সর্বোচ্চ শিখরে। ধন্য সেই জাতি যারা সত্যানুসন্ধানীদের জন্য হেদায়াতের আলোকবর্তিকা হয়েছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি এক এবং অদ্বিতীয়, তাঁর কোনো অংশীদার নেই; যিনি জ্ঞানীদের শিরোপরিশোভিত করেছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: "আল্লাহ সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, নিশ্চয়ই তিনি ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই এবং ফেরেশতাগণ ও ন্যায়নিষ্ঠ জ্ঞানীগণও (এ সাক্ষ্য দিয়েছেন)।" [আল ইমরান: আয়াত ১৮]। আহ! এটি কতই না মহান বৈশিষ্ট্য যা সকল শ্রেষ্ঠত্বকে ছাড়িয়ে যায়। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, যিনি হাদীস বিশারদদের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করে বলেছেন: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও প্রফুল্ল রাখুন, যে আমাদের থেকে কোনো কথা শুনেছে অতঃপর তা হুবহু অপরের নিকট পৌঁছে দিয়েছে যেভাবে সে শুনেছে..." [হাদীস]। পার্থিব সকল অনুগ্রহের মধ্যে তাঁদের এই সফলতা কতই না সুউচ্চ! আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর ওপর বর্ষিত হোক চিরস্থায়ী দরুদ ও সালাম, যতক্ষণ পর্যন্ত তাঁর সত্য দ্বীনের ঝাণ্ডা সমুন্নত থাকবে। এবং তাঁর পরিবারবর্গের ওপর, যারা ক্ষুদ্র ও বৃহৎ সর্বক্ষেত্রে তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন, ফলে তাঁদের অবস্থা সুন্দর হয়েছে এবং তাঁরা লাভ করেছেন সর্বোত্তম কল্যাণ ও অধিকতর নেয়ামত। এবং তাঁর সাহাবীগণের ওপর, যারা ছিলেন মূল্যবান বাণীর উচ্চতরের সনদসমূহের ধারা বর্ণনায় প্রথম অগ্রবর্তী দল। এবং সত্যপিপাসুদের মধ্য থেকে যারা তাঁদের পথ অনুসরণ করেছেন তাঁদের ওপর; বিশেষত হাদীস বিশারদগণ, যারা হাদীস অন্বেষণে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং তা অর্জনে মহামূল্যবান সবকিছুই অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছেন। উচ্চতর মর্যাদায় তাঁদের এই কামিয়াবী কতই না চমৎকার!

অতঃপর, আল্লাহর ক্ষমার ভিখারি অধম সৃষ্টি মুহাম্মদ ইবনুল শায়খ আলী ইবনে আদম আল-ইথিওপি বলছেন:

যখন আমি দেখলাম যে, ইমাম, হাফেজ, হুজ্জাত আবু আবদুর রহমান আহমদ ইবনে শুআইব আন-নাসায়ী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর সুনান গ্রন্থটি—যার নাম আল-মুজতাবা (বা' সহযোগে) বা আল-মুজতানা (নুন সহযোগে)—এমন কোনো ব্যাখ্যাগ্রন্থ লাভ করেনি যা তার শব্দাবলির যথাযথ বিশ্লেষণ করে, অর্থগুলো পরিপূর্ণভাবে সুস্পষ্ট করে, সনদের বর্ণনাকারী ও মূল পাঠের জটিল বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করে এবং তা থেকে শরীয়তের বিধিবিধান উদ্ঘাটন করে। অথচ প্রতিটি হাদীসের গভীরে বহু রহস্য লুকায়িত এবং প্রতিটি বর্ণনার অন্তরালে অসংখ্য নূরের আভা বিদ্যমান। আর তা হবেই না কেন; যেহেতু এটি...

--------------------------------------------

(১) তিরমিজি এটি ইবনে মাসউদ (রা.)-এর বর্ণিত হাদীস থেকে সহীহ সনদে উদ্ধৃত করেছেন।
(খণ্ড: ١) যাখীরাতুল উক্ববা ফী শারহিল মুজতবা (পৃষ্ঠা: ٦)
كلام من أوتي جوامع الكلم واختُصر له الكلام اختصار(1) صلى الله عليه وسلم.

شمرت عن ساعد الجد تشميرا، ونبذت الكسل والملل وراء ظهري نبذاً مَريراً(2).

وناديت المعاني بأعلى صوتي جهارا، فلبتني من كل جانب مُحَبَّرة بعبارات المحققين بدَارًا.

فاستعنت بالله تعالى، وقلت: {وَمَا تَوْفِيقِي إِلَّا بِاللَّهِ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ أُنِيبُ} [هود: آية 88]. وسميته "ذخيرَةَ العُقْبَى، في شَرح المُجْتَبَى" وإن شئت قلت: "غَايَة المُنَى فى شَرْح المُجْتَنَى".

والله سبحانه أسأل أن يجعله خالصا لوجهه الكريم وسببا للفوز بجنات النعيم.

تنبيه: إني لست في الحقيقة مؤلفا ذا تحرير، ومصنفا ذا تحبير، وإنما لي مجرد الجمع لأقوال المحققين، والتعويل على ما أراه منها موافقا لظاهر النص المبين، فأنا جامع لتلك الأقوال، ومرتبٌ لها في كل ما يناسبها من الحديث، ثم النظرُ فيها، وفي تناسبها، حسب قربها وبعدها منه، والاعتمادُ على ما يترجح لدى فهمي القاصر، وذهني البليد الفاتر، فلذا لا أترك من الأقوال المروية في حكم كل حديث إلا ما غاب عني بدليله، إذا كان بجانبه دليل مذكور، وإن كنت أراه ضعيفا في نظري، فعسى أن يطَّلع عليه غيري، ويراه صحيحا، لدليل يُقَوِّيه، إما من نفس ذلك الحديث لم يظهر لي وجهه، أو نص آخر أقوى منه "فرب مُبَلَّغ أوعى من سامع".

--------------------------------------------

(1) وقف عليه بالسكون للتقفية.

(2) أي نبذًا قويا ومحكما، يقال: رجل مرير أي قوي، وأمر مرير: محكم. قاله في المعجم الوسيط.
সেই মহান সত্তার (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী, যাঁকে দান করা হয়েছে ব্যাপক অর্থবোধক সংক্ষিপ্ত বাক্য এবং যাঁর জন্য বক্তব্যকে করা হয়েছে সংক্ষেপিত(১)।

আমি দৃঢ় প্রচেষ্টার জন্য কোমর বেঁধেছি এবং অলসতা ও অবসাদকে চূড়ান্তভাবে পশ্চাতে নিক্ষেপ করেছি(২)।

আমি উচ্চৈঃস্বরে ভাব ও অর্থসমূহকে আহ্বান করেছি; ফলে তা মুহাক্কিক (গবেষক) উলামায়ে কেরামের অভিব্যক্তিতে সুশোভিত হয়ে অনতিবিলম্বে সকল দিক থেকে আমাকে সাড়া দিয়েছে।

অতঃপর আমি মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করেছি এবং বলেছি: {আমার তাওফীক কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই; আমি তাঁরই ওপর ভরসা করি এবং তাঁরই অভিমুখী হই} [হুদ: ৮৮]। আমি এই গ্রন্থটির নামকরণ করেছি "যাখিরাতুল উকবা ফী শারহিল মুজতাবা", আর আপনি চাইলে একে "গয়াতুল মুনা ফী শারহিল মুজতানা"-ও বলতে পারেন।

আমি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই কাজটিকে কেবল তাঁরই সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত করেন এবং নেয়ামতপূর্ণ জান্নাত লাভের মাধ্যম বানান।

সতর্কবার্তা: আমি প্রকৃতপক্ষে কোনো পরিমার্জিত মৌলিক লেখক বা সুনিপুণ রচয়িতা নই; বরং আমি কেবল মুহাক্কিকগণের উক্তিগুলো সংগ্রহ করেছি এবং স্পষ্ট দলিলের বাহ্যিক অর্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ মতের ওপর নির্ভর করেছি। আমি সেই উক্তিগুলোর সংকলক এবং প্রতিটি হাদীসের সাথে প্রাসঙ্গিকতা অনুযায়ী সেগুলোকে বিন্যস্ত করেছি। অতঃপর আমার সীমিত প্রজ্ঞা ও স্থবির মস্তিষ্কের বিচারবুদ্ধি অনুযায়ী হাদীসের সাথে সম্পর্কের নৈকট্য বা দূরত্বের ভিত্তিতে সেগুলোর ওপর দৃষ্টিপাত ও নির্ভরতা যাচাই করেছি। এই কারণে কোনো হাদীসের বিধান সম্পর্কে বর্ণিত কোনো উক্তিই আমি বাদ দেইনি, যদি না তার দলিল আমার অগোচরে থাকে; এমনকি যদি আমি কোনো দলিলকে আমার দৃষ্টিতে দুর্বল মনে করি তবুও তা উল্লেখ করেছি। কারণ হতে পারে অন্য কেউ এটি দেখবেন এবং কোনো শক্তিশালী প্রমাণের ভিত্তিতে একে সঠিক বলে গণ্য করবেন, যা হয়তো আমার কাছে প্রকাশিত হয়নি—হয়তো উক্ত হাদীস থেকেই এমন কোনো দিক বের হবে যা আমি বুঝিনি, কিংবা এর চেয়ে শক্তিশালী অন্য কোনো বর্ণনা থাকতে পারে। কেননা, "অনেক সময় যার কাছে সংবাদ পৌঁছানো হয়, সে শ্রবণকারীর চেয়েও অধিক অনুধাবনকারী হয়ে থাকে।"

--------------------------------------------

(১) অন্ত্যমিলের খাতিরে এখানে সুকুন দিয়ে থামা হয়েছে।

(২) অর্থাৎ সুদৃঢ় ও শক্তিশালী বর্জন। বলা হয়: 'রাজুলুন মারীর' মানে শক্তিশালী ব্যক্তি এবং 'امر مرير' (আমরুন মারীর) মানে সুদৃঢ় বিষয়। এটি 'আল-মু'জাম আল-ওয়াসীত'-এ বলা হয়েছে।
(খণ্ড: ١) যাখীরাতুল উক্ববা ফী শারহিল মুজতবা (পৃষ্ঠা: ٧)
تنبيه أخر: اعلم أيها الطالب للتحقيق -جعلك الله تعالى من أهل التوفيق- أنك سترى في هذا الشرح تكرارا وتطويلا، فإياك أن تلومني على هذا، فإن الشرح موضوع لهذا، واسمع ما قاله الإِمام النووي رحمه الله في أوائل شرحه لصحيح مسلم بعد ذكره لدقائق بعض الأسانيد، فقد قال رحمه الله: "ولا ينبغي للناظر في هذا الشرح أن يسأم من شيء من ذلك بما يجده مبسوطا واضحًا، فإني إنما أقصد بذلك -إن شاء الله الكريم- الإيضاح والتيسير والنصيحة لمطالعه، وإعانته، وإغناءه من مراجعة غيره في بيانه وهذا مقصود الشروح، فمن استطال شيئًا من هذا، وشبهه فهو بعيد من الإتقان، مباعد للفلاح في هذا الشأن، فَليُعَزِّ نفسَه لسوء حاله وليرجع عما ارتكبه من قبيح فعاله، ولا ينبغي لطالب التحقيق، والتنقيح، والإتقان، والتدقيق أن يلتفت إلى كراهة، أو سآمة ذوي البطالة، وأصحاب الغباوة والمهانة، والملالة، بل يفرح ما يجده من العلم مبسوطا، وما يصادفه من القواعد والمشكلات واضحًا مضبوطا، ويحمد الله الكريم على تيسيره، ويدعو لجامعه الساعي في تنقيحه وإيضاحه، وتقريره -وفقنا الله الكريم- لمعالي الأمور، وجنبنا بفضله جميع أنواع الشرور، وجمع بيننا وبين أحبابنا في دار الحبور والسرور، والله أعلم". انتهى ما قاله النووي في شرح مسلم ج 1 ص 152.

فعليك أيها الأخ العزيز أن تجعل نصيحة هذا الإمام المحقق نُصْب عينيك كلما استشعرت بشيء من التكرار والتطويل في هذا الشرح لتظفر بكنز عظيم -إن شاء الله تعالى- زادني الله تعالى وإياك حرصا على التحقيق، والغوص في علم الحديث فإنه البحر الخضَمُّ العميق، بمنه وكرمه آمين.

تنييه أخر: اعلم أنه توفر لدَيَّ من المراجع ما أستخلص منه الجواهر
অপর একটি সতর্কতা: হে সত্যানুসন্ধানী ছাত্র! আল্লাহ তাআলা আপনাকে তাওফীকপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত করুন—জেনে রাখুন যে, আপনি এই ব্যাখ্যাগ্রন্থে পুনরাবৃত্তি ও দীর্ঘসূত্রতা দেখতে পাবেন। এ কারণে আমাকে দোষারোপ করবেন না; কারণ ব্যাখ্যাগ্রন্থের মূল উদ্দেশ্যই হলো এটি। আর ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) সহীহ মুসলিমের ব্যাখ্যাগ্রন্থের শুরুতে কিছু সনদের সূক্ষ্ম বিষয়াদি উল্লেখ করার পর যা বলেছেন তা মনোযোগ দিয়ে শুনুন। তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "এই ব্যাখ্যাগ্রন্থের পাঠকের উচিত হবে না কোনো বিস্তারিত ও স্পষ্ট বর্ণনা দেখে বিরক্ত হওয়া। কেননা আমি এর মাধ্যমে—যদি মহান আল্লাহ চান—পাঠকের জন্য বিষয়টিকে স্পষ্ট করা, সহজ করা, উপদেশ প্রদান করা, তাকে সহায়তা করা এবং এই বিষয়ের বর্ণনায় অন্য কোনো কিতাবের মুখাপেক্ষিতা থেকে তাকে অভাবমুক্ত করার ইচ্ছা পোষণ করেছি। আর এটিই হলো ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহের মূল লক্ষ্য। সুতরাং যে ব্যক্তি এগুলোকে দীর্ঘ মনে করবে, সে নিপুণতা অর্জন থেকে দূরে এবং এই অঙ্গনে সফলতা অর্জন থেকে বিচ্যুত। তার উচিত তার নিজের মন্দ অবস্থার জন্য আক্ষেপ করা এবং তার কৃত এই গর্হিত আচরণ থেকে ফিরে আসা। আর সত্যানুসন্ধান, সংশোধন, পারদর্শিতা ও সূক্ষ্মতা অন্বেষণকারী শিক্ষার্থীর জন্য উচিত নয় অলস, নির্বোধ, হীনবল ও বিরক্তিবোধ সম্পন্ন ব্যক্তিদের অপছন্দ বা ক্লান্তির প্রতি ভ্রুক্ষেপ করা। বরং সে যা কিছু বিস্তারিত ইলম হিসেবে পাবে এবং যেসব মূলনীতি ও জটিল বিষয়ের স্পষ্ট ও সুসংহত সমাধান পাবে, তাতে আনন্দিত হবে। আর মহান আল্লাহর নিকট তাঁর সহজীকরণের জন্য শুকরিয়া আদায় করবে এবং কিতাবটির সংকলকের জন্য দুআ করবে, যিনি এর সংস্কার, বিশদ ব্যাখ্যা ও উপস্থাপনায় সচেষ্ট ছিলেন। মহান আল্লাহ আমাদের উচ্চতর কার্যাবলীর তাওফীক দান করুন এবং তাঁর অনুগ্রহে আমাদের সকল প্রকার অনিষ্ট থেকে রক্ষা করুন। আর জান্নাতে আমাদের ও আমাদের প্রিয়জনদের একত্রিত করুন। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।" শরহে মুসলিম, ১ম খণ্ড, ১৫২ পৃষ্ঠায় ইমাম নববীর বক্তব্য সমাপ্ত।

হে প্রিয় ভ্রাতা! আপনি যখনই এই ব্যাখ্যাগ্রন্থে কোনো প্রকার পুনরাবৃত্তি বা দীর্ঘসূত্রতা অনুভব করবেন, তখনই এই মুহাক্কিক ইমামের উপদেশকে আপনার চোখের সামনে রাখবেন, যাতে আপনি—ইনশাআল্লাহ—একটি মহান রত্নভাণ্ডার অর্জন করতে পারেন। আল্লাহ তাআলা আমাকে ও আপনাকে সত্যানুসন্ধান এবং ইলমে হাদীসের গভীরে ডুব দেওয়ার প্রতি আরও আগ্রহী করে দিন; কেননা এটি এক বিশাল ও অতল সমুদ্র। তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ায়, আমীন।

অপর একটি সতর্কতা: জেনে রাখুন যে, আমার নিকট এমন পর্যাপ্ত উৎস ও রেফারেন্স বিদ্যমান রয়েছে, যেখান থেকে আমি জ্ঞানগর্ভ রত্নসমূহ আহরণ করি।
(খণ্ড: ١) যাখীরাতুল উক্ববা ফী শারহিল মুজতবা (পৃষ্ঠা: ٨)
الحديثية، من المواد الإسنادية، والمتنية، والمصطلحية، واللغوية، والنحوية، والصرفية، والفقهية، وغيرها، مما يحتاج إليه الحديثي من فنون العلوم الشرعية، وهذا من فضل الله سبحانه وتعالى عليَّ.

بعض المراجع التي اعتمدت عليها في هذا الشرح:

فمن المراجع الإسنادية: تقريب التهذيب بل عليه معولي، لكونه مختصرًا يشتمل على تعريف الشخص بأوجز عبارة، وأدَقِّ إشارة للحافظ أبي الفضل شهاب الدين أحمد بن علي بن محمَّد بن حجر العسقلاني المتوفي سنة 852 هـ. فهذا الكتاب مادة التراجم في هذا الشرح لكونه مختصرًا حوى مقاصد أصله، بل فاق عليه في ذكر ما أهمل من التراجم، وزيادة فوائد ليست فيه مثل الضبط للأسماء وغيرها، وسأنقل مقاصد خطبته في آخر مقدمة هذا الشرح، ليعرف سَبْره(1)، ويشهر قدره.

وتهذيب التهذيب، ولسان الميزان، وتعجيل المنفعة، والإصابة في تمييز الصحابة، وهدي الساري في مقدمة فتح الباري، وكلها له.

وتذكرة الحفاظ، وميزان الاعتدال، وسير أعلام النبلاء، وكلها للحافظ الناقد، والمحقق السائد(2) شمس الدين أبي عبد الله محمَّد بن أحمد الذهبي المتوفي سنة 778.

وخلاصة تذهيب تهذيب الكمال للعلامة الحافظ صفي الدين أحمد ابن عبد الله الخزرجي، وطبقات الحفاظ للحافظ جلال الدين السيوطي المتوفي سنة 911.

والتاريخ الكبير للإمام البخاري ت 256، والجرح والتعديل للإمام

--------------------------------------------

(1) السَّبْر -بفتح، فسكون الهيئة الحسنة كما في "ق".

(2) أي السيد كما في "ق".
হাদিস সংক্রান্ত ইলম, ইসনাদ, মতন, পরিভাষা, ভাষা, নাহু (ব্যাকরণ), সরফ (শব্দতত্ত্ব), ফিকহ এবং অন্যান্য যা কিছু হাদিস বিশারদের শরয়ি জ্ঞানের বিভিন্ন শাখা থেকে প্রয়োজন হয়। এটি আমার প্রতি মহান আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ।

এই ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনায় আমি যেসব তথ্যসূত্রের ওপর নির্ভর করেছি তার কয়েকটি হলো:

ইসনাদ বিষয়ক তথ্যসূত্রসমূহের মধ্যে রয়েছে: হাফিজ আবুল ফজল শিহাবুদ্দিন আহমদ ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাজার আল-আসকালানি (মৃত্যু ৮৫২ হিজরি) রচিত 'তাকরীবুত তাহযীব'। বরং এটিই আমার প্রধান অবলম্বন, কারণ এটি সংক্ষিপ্ত এবং এতে অত্যন্ত সংক্ষেপ অথচ নিখুঁতভাবে রাবিদের পরিচয় প্রদান করা হয়েছে। এই কিতাবটিই আমার এই ব্যাখ্যাগ্রন্থের জীবনীমূলক আলোচনার মূল ভিত্তি। কারণ এটি সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও এর মূল গ্রন্থের উদ্দেশ্যসমূহ ধারণ করে আছে; বরং মূল গ্রন্থে যেসব জীবনী বাদ পড়েছিল তা উল্লেখ করার ক্ষেত্রে এটি আরও অগ্রগামী। এছাড়াও এতে নামের সঠিক উচ্চারণ নির্ধারণসহ অতিরিক্ত কিছু ফায়দা রয়েছে যা মূলে ছিল না। আমি এই ব্যাখ্যাগ্রন্থের ভূমিকা শেষে তাঁর ভূমিকার মূল বক্তব্যসমূহ উদ্ধৃত করব, যাতে তাঁর পদ্ধতির গভীরতা(১) উপলব্ধি করা যায় এবং তাঁর মর্যাদা স্পষ্ট হয়।

আরও রয়েছে 'তাহযীবুত তাহযীব', 'লিসানুল মিজান', 'তা'জিলুল মানফায়াহ', 'আল-ইসাবাহ ফি তাময়িযিস সাহাবাহ' এবং ফাতহুল বারীর ভূমিকা 'হাদিউস সারি'। এর সবগুলোই তাঁর (ইবনে হাজারের) রচনা।

এবং হাফিজ, সমালোচক ও প্রথিতযশা গবেষক(২) শামসুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আয-যাহাবি (মৃত্যু ৭৭৮ হিজরি) রচিত 'তাযকিরাতুল হুফফাজ', 'মিযানুল ই'তিদাল' এবং 'সিয়ারু আ'লামিন নুবালা'।

তথা আল্লামা হাফিজ সফিউদ্দিন আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-খাজরাজি রচিত 'খুলাসাতু তাযহিবি তাহযিবিল কামাল' এবং হাফিজ জালালুদ্দিন আস-সুয়ূতি (মৃত্যু ৯১১ হিজরি) রচিত 'তাবাকাতুল হুফফাজ'।

ইমাম বুখারি (মৃত্যু ২৫৬ হিজরি) রচিত 'আত-তারিখুল কাবীর' এবং ইমাম... রচিত 'আল-জারহু ওয়াত তা'দিল'

--------------------------------------------

(১) আস-সাবর: সিন বর্ণে জবর এবং বা বর্ণে সাকিন যোগে, এর অর্থ সুন্দর অবয়ব বা গঠন, যেমনটি 'ক্বামুস' গ্রন্থে এসেছে।

(২) অর্থাৎ নেতা বা প্রধান, যেমনটি 'ক্বামুস' গ্রন্থে রয়েছে।
(খণ্ড: ١) যাখীরাতুল উক্ববা ফী শারহিল মুজতবা (পৃষ্ঠা: ٩)
عبد الرحمن بن أبي حاتم ت 327. وتهذيب الأسماء واللغات. والإشارات إلى الأسماء المبهمات، كلاهُمَا للإمام النووي ت 676. والمختلف والمؤتلف، للحافظ أبي الحسن الدارقطني ت 385، والأسماء المبهمة في الأنباء المحكمة للخطيب البغدادي ت 463، والمغني في ضبط أسماء الرجال للعلامة الفتَّني، وغيرها مما له تعلق في بيان الإسناد.

ومن كتب المصطلح: مقدمة علوم الحديث للحافظ أبي عمرو بن الصلاح، والتقييد والإيضاح عليها للحافظ أبي الفضل العراقي، وتقريب النواوي، وشرحه التدريب للسيوطي، وألفية العراقي، وشرحها له، وفتح المغيث للحافظ شمس الدين السخاوي، وفتح الباقي للعلامة القاضي زكريا الأنصاري، وكلاهما شرحان للألفية أيضًا، وألفية السيوطي، وشرحها للشيخ محمَّد محفوظ الترمسي، المسمى بمنهج ذوي النظر، وشرحي عليها المسمى بفتح المعطي البر، في شرح ألفية الأثر، ولم يكمل ومختصره المسمى بإسعاف ذوي الوطر، بشرح ألفية الأثر، وقد كمل، والحمد لله، ونخبة الفكر وشرحها للحافظ ابن حجر، وحاشيتها لقط الدرر، والكفاية في علم الرواية للخطيب البغدادي، وهدي الساري المتقدم ذكره، ومقدمة تحفة الأحوذي، وغير ذلك.

ومن كتب شروح الحديث: فتح الباري، وهو أجَلُّ مَأخَذي، وعليه اعتمادي، وكيف لا؟ وقد بذل مؤلفه جهده في جمعه وتحقيقه، إلا فيما يزلّ به القلم، في خلال تحريره وتدقيقه.

فلقد كان مؤلفه حَذَام المحدثين في المتأخرين، كما وصفه بذلك بعض مشايخنا المحققين، بل كان إطلاق اسم الحافظ عليه كلمة إجماع،
আবদুর রহমান বিন আবি হাতিম (মৃত্যু ৩২৭ হি.); এবং ইমাম নববী (মৃত্যু ৬৭৬ হি.) রচিত তাহযীবুল আসমা ওয়াল লুগাত ও আল-ইশারাত ইলাল আসমা আল-মুবহামাত—উভয় গ্রন্থ; হাফিজ আবুল হাসান আদ-দারা কুতনী (মৃত্যু ৩৮৫ হি.) রচিত আল-মুখতালিফ ওয়াল মু'তালিফ; খতীব বাগদাদী (মৃত্যু ৪৬৩ হি.) রচিত আল-আসমা আল-মুবহামাহ ফিল আনবা আল-মুহকামাহ; আল্লামা আল-ফাত্তানী রচিত আল-মুগনী ফী দবতি আসমাইর রিজাল এবং সনদ বর্ণনার বিশ্লেষণের সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য গ্রন্থাবলী।

হাদীসের পরিভাষা বিষয়ক গ্রন্থাবলীর মধ্যে রয়েছে: হাফিজ আবু আমর বিন আস-সালাহ রচিত মুকাদ্দিমাহ উলূমিল হাদীস; এর ওপর হাফিজ আবুল ফজল আল-ইরাকী রচিত আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদহ; ইমাম নববীর তাকরীব এবং আল্লামা সুয়ূতী রচিত এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ তাদরীবুর রাবী; আলফিয়াতুল ইরাকী ও এর ওপর লেখকের নিজস্ব ব্যাখ্যাগ্রন্থ; হাফিজ শামসুদ্দীন আস-সাখাভী রচিত ফাতহুল মুগীস এবং আল্লামা কাযী যাকারিয়া আল-আনসারী রচিত ফাতহুল বাকী—এ উভয়টিই আলফিয়ার ব্যাখ্যাগ্রন্থ; আলফিয়াতুস সুয়ূতী এবং শায়খ মুহাম্মাদ মাহফূয আত-তারমাসি রচিত এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ মানহাজু যাউয়িন নাযার; এবং আলফিয়াতুল আসার-এর ওপর আমার নিজস্ব ব্যাখ্যাগ্রন্থ ফাতহুল মু'তিল বার, যা সম্পন্ন হয়নি, এবং এর সংক্ষিপ্তসার ইস'আফু যাউয়িল ওয়াতার, যা আল্লাহর অশেষ প্রশংসায় পূর্ণাঙ্গ হয়েছে; হাফিজ ইবনে হাজার রচিত নুখবাতুল ফিকার ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং এর টীকাগ্রন্থ লাকতুদ দুরার; খতীব বাগদাদী রচিত আল-কিফায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ; পূর্বে উল্লিখিত হাদয়ুস সারী এবং তুহফাতুল আহওয়াযীর ভূমিকা ও অন্যান্য গ্রন্থাবলী।

হাদীসের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে: ফাতহুল বারী, যা আমার প্রধান অবলম্বন ও মূল উৎস; আর কেনই বা তা হবে না? অথচ এর লেখক এটি সংকলন ও তাহকীক করার ক্ষেত্রে তাঁর সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন, তবে কেবল সেই সব ক্ষেত্র ব্যতীত যেখানে সূক্ষ্ম পর্যালোচনা ও পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণের সময় অসতর্কতাবশত কলম বিচ্যুত হয়েছে।

নিশ্চয়ই এর লেখক পরবর্তী যুগের মুহাদ্দিসগণের মাঝে একজন অকাট্য প্রামাণিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন, যেমনটি আমাদের কোনো কোনো গবেষক শিক্ষকগণ তাঁকে অভিহিত করেছেন। বরং তাঁকে এককভাবে 'হাফিজ' উপাধিতে ভূষিত করার বিষয়টি ছিল একটি সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত।
(খণ্ড: ١) যাখীরাতুল উক্ববা ফী শারহিল মুজতবা (পৃষ্ঠা: ١٠)
كما حققه بعض أهل الاطلاع. ولذا إذا ذكرت كلامه أطلقت عليه الحافظ فقط، لكونه معروفا به عند أهل الضبط. ومنها: عمدة القارى للعلامة بدر الدين أبي محمَّد محمود بن أحمد العيني، المتوفي سنة -855 - ، فهو أيضا من أجل المراجع، لما فيه من التحقيقات الإسنادية، والمتنية، والقواعد النحوية، واللغوية، والصرفية، والبلاغية، وغيرها، مما أودعه مؤلفه، فلقد كان رحمه الله تعالى بارعا في هذه الفنون، جاريا في مضمارها إلى المُنتهَى الميْمُون، فهذان الشرحان منهما استفدت، وعليها عولت، ولا سيما الأول، فإني إذا وجدته تكلم على الحديث لا أعدل إلى غيره، إلا إذا كان تحقيق غيره أحسن من تحقيقه.

ومنها إرشاد الساري، للعلامة القسطلاني، وشرح مسلم للإمام النووي، والمنهل العذب المورود في شرح سنن أبي داود للعلامة محمود محد خطاب السبكي، وتحفة الأحوذي للعلامة المباركفور، وعون المعبود للعلامة محمَّد شمس الحق، ونيل الأوطار للعلامة الشوكاني، وسبل السلام للعلامة الصنعاني، وتهذيب السنن للعلامة ابن القيم، ومعالم السنن للعلامة الخطابي، وزهر الربى للحافظ السيوطي، وشرح السندي، كلاهما على هذا الكتاب، وفيض القدير على الجامع الصغير للمناوي، والتمهيد للحافظ ابن عبد البر، وإحكام الأحكام للعلامة ابن دقيق العيد، وحاشيته العدة للصنعاني، وطرح التثريب للحافظ العراقي والمُحَلي في شرح المُجَلَّي لأبي محمَّد ابن حزم الظاهري وغيرها.

ومن كتب التخريجات: نصب الراية للحافظ الزيلعي، وتلخيص الحبير، وإتمام الدراية كلاهما للحافظ ابن حجر. وغيرها.

ومن سائر كتب الحديث: بقية الأمهات الست، وموطأ مالك، ومسند أحمد، ومسند الدارمي، وصحيح ابن خزيمة، وصحيح ابن حبان ومصنف عبد الرزاق، ومصنف ابن أبي شيبة، ومسند أبي يَعْلى،
যেমনটি কোনো কোনো অভিজ্ঞ গবেষক যাচাই করেছেন। তাই যখন আমি তাঁর কোনো বক্তব্য উল্লেখ করি, তখন কেবল 'আল-হাফিয' নামেই তাঁকে অভিহিত করি; কারণ সূক্ষ্মদর্শী পণ্ডিতদের নিকট তিনি এই নামেই সমধিক পরিচিত। আর উৎসসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো: আল্লামা বদরুদ্দিন আবু মুহাম্মদ মাহমুদ ইবনে আহমদ আল-আইনি (মৃত্যু ৮৫৫ হি.) রচিত 'উমদাতুল কারী'। এটিও অন্যতম শ্রেষ্ঠ আকর গ্রন্থ; কারণ এতে সনদ ও মতন সংক্রান্ত তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ এবং নাহু, লুগাত, সরফ ও বালাগাতসহ লেখক কর্তৃক সন্নিবেশিত বিভিন্ন শাস্ত্রীয় আলোচনা রয়েছে। তিনি (রহমতুল্লাহি আলাইহি) এই সকল বিদ্যায় অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন এবং এগুলোর চূড়ান্ত শিখরে উন্নীত হয়েছিলেন। মূলত এই দুটি ভাষ্যগ্রন্থ হতেই আমি উপকৃত হয়েছি এবং এগুলোর ওপরই নির্ভর করেছি, বিশেষত প্রথমটির ওপর। কেননা আমি যখন দেখি যে তিনি কোনো হাদীসের ওপর আলোচনা করেছেন, তখন আমি অন্য কারো দিকে প্রত্যাবর্তন করি না; তবে যদি অন্য কারো বিশ্লেষণ তাঁর বিশ্লেষণের চেয়ে অধিকতর সূক্ষ্ম ও উত্তম হয়, তবে ভিন্ন কথা।

আর সেগুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো আল্লামা কাসতালানি রচিত 'ইরশাদুস সারী', ইমাম নববী রচিত 'শরহে মুসলিম', আল্লামা মাহমুদ মুহাম্মদ খাত্তাব আস-সুবকী রচিত 'আল-মানহালুল আযবুল মাওরূদ ফী শারহি সুনানি আবী দাউদ', আল্লামা মুবারকপুরী রচিত 'তুহফাতুল আহওয়াযী', আল্লামা মুহাম্মদ শামসুল হক রচিত 'আউনুল মাবুদ', আল্লামা শাওকানী রচিত 'নাইলুল আওতার', আল্লামা সানআনী রচিত 'সুবুলুস সালাম', আল্লামা ইবনুল কায়্যিম রচিত 'তাহযীবুস সুনান', আল্লামা খাত্তাবী রচিত 'মাআলিমুস সুনান', হাফিয সুয়ূতী রচিত 'যাহরুর রুবা' এবং সিন্দি রচিত ভাষ্য—এই কিতাবটির ওপর এই উভয় গ্রন্থ, মানাবী রচিত জামেউস সগীরের ভাষ্য 'ফয়যুল ক্বাদীর', হাফিয ইবনে আব্দুল বার রচিত 'আত-তামহীদ', আল্লামা ইবনে দাক্বীকুল ঈদ রচিত 'ইহকামুল ইহকাম' এবং তাঁর ওপর সানআনী রচিত টীকাগ্রন্থ 'আল-উদ্দাহ', হাফিয ইরাকী রচিত 'তারহুত তাছরীব' এবং আবু মুহাম্মদ ইবনে হাযম যাহেরী রচিত 'আল-মুহাল্লা ফী শারহিল মুজাল্লা' ও অন্যান্য গ্রন্থ।

হাদীস যাচাই-বাছাই বা তাখরীজ বিষয়ক গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে: হাফিয যাইলায়ী রচিত 'নাসবুর রায়াহ' এবং হাফিয ইবনে হাজার রচিত 'তালখীসুল হাবীর' ও 'ইতামুদ দিরায়াহ' উভয় গ্রন্থ এবং অন্যান্য।

হাদীসের অন্যান্য কিতাবসমূহের মধ্যে রয়েছে: সিহাহ সিত্তার অবশিষ্ট গ্রন্থসমূহ, মুয়াত্তা মালেক, মুসনাদে আহমাদ, মুসনাদে দারেমী, সহীহ ইবনে খুযায়মাহ, সহীহ ইবনে হিব্বান, মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক, মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহ এবং মুসনাদে আবী ইয়া'লা।
(খণ্ড: ١) যাখীরাতুল উক্ববা ফী শারহিল মুজতবা (পৃষ্ঠা: ١١)
والمعاجم الثلاثة للطبراني، ومجمع الزوائد ومنبع الفوائد للهيثمي ومسند الطيالسي، وشرح السنة للبغوي، ومستدرك الحاكم، وغيرها.

ومن كتب الأطراف: تحفة الأشراف للحافظ أبي الحجاج المزي، بل عليه جُلُّ اعتمادي. والنُّكت الظراف للحافظ ابن حجر، ومفتاح كنوز السنة، وغيرها مما يمر عليك حين أعزو المنقول إليه مما غاب عني الآن رسمه، وسأفردها بجريدة شاملة للمراجع مرتبة على الحروف الهجائية مع بيان الطبعات، إن شاء الله تعالى.

وكذا فتاوى شيخ الإسلام ابن تيمية فإن فيها فوائد جمة. وكذا ما كتبه العلامة أحمد محمد شاكر من التحقيقات التي خدم بها كتب السنة فإنها نافعة جدًا.

وكذا كُتُب العلامة ناصر الدين الألباني فإنها ممتعة جدًا؛ لأن له اليد الطولى في معرفة الأحاديث تصحيحًا وتضعيفًا، كما تشهد بذلك كتبه القيمة، فقَلَّ من يُدانيه في هذا العصر الذي ساد فيه الجهل بهذا العلم الشريف، وصار جل اعتماد العلماء فيه على كلام من تقدم من الأعلام، وهذا وإن كان منهجًا قويمًا، إلا أن الأول هو الأساس الذي بني عليه السادة الأولون، من البحث والتنقيب، للوصول إلى ما هو الحق في هذا الحال، بدون تقليد، فإن ذلك شأن البليد، ولا يرضَى به إلا رديء الهمة، أو الجامد العنيد.

ومن كتب اللغة والإنساب: القاموس المحيط للمجد اللغوي، وشرحه تاج العروس للمرتضى، ولسان العرب لابن منظور، والمصباح المنير للفيومي، ومختار الصحاح للرازي، ونهاية ابن الأثير، وتهذيب الأسماء واللغات للنووي، وتعريفات الجرجاني، واللباب في تهذيب الإنساب لابن الأثير ومختصره لب اللباب للسيوطي، ومعجم البلدان
এবং তাবারানির তিনটি মু’জাম, হাইসামির মাজমাউয যাওয়াঈদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ, তায়ালিসির মুসনাদ, বাগাবীর শারহুস সুন্নাহ, হাকিমের মুস্তাদরাক এবং অন্যান্য গ্রন্থসমূহ।

আতরাফ বিষয়ক গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: হাফেজ আবুল হাজ্জাজ মিযযির তুহফাতুল আশরাফ, বরং এর ওপরই আমার নির্ভরতার সিংহভাগ। এবং হাফেজ ইবনে হাজারের আন-নুকাতুজ যিরাফ, মিফতাহু কুনুযিস সুন্নাহ এবং আরও অন্যান্য যা উদ্ধৃতি প্রদানের সময় আপনার নজরে আসবে কিন্তু বর্তমানে যেগুলোর শিরোনাম আমার স্মৃতিপটে নেই। ইনশাআল্লাহ তাআলা, আমি বর্ণানুক্রমিকভাবে সংস্করণসমূহের বিবরণসহ রেফারেন্সের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা আলাদাভাবে প্রদান করব।

অনুরূপভাবে শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যার ফাতাওয়া, কারণ এতে প্রচুর উপকারিতা রয়েছে। একইভাবে আল্লামা আহমদ মুহাম্মদ শাকির হাদিসের কিতাবসমূহের সেবায় যে সকল তাহকিক (গবেষণা) সম্পন্ন করেছেন সেগুলোও অত্যন্ত ফলপ্রসূ।

আর আল্লামা নাসিরুদ্দিন আলবানীর কিতাবসমূহ খুবই চিত্তাকর্ষক; কেননা হাদিসের শুদ্ধাশুদ্ধি নিরূপণে তার রয়েছে অগাধ পাণ্ডিত্য ও বিশেষ দক্ষতা, যা তার মূল্যবান গ্রন্থসমূহ সাক্ষ্য দেয়। বর্তমান যুগে খুব কম লোকই তার সমকক্ষ রয়েছেন, যখন এই মহান ইলম সম্পর্কে অজ্ঞতা ছেয়ে গেছে এবং এই শাস্ত্রে আলেমদের নির্ভরতা অধিকাংশ ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী মণীষীদের বক্তব্যের ওপর সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। যদিও এটি একটি সঠিক পদ্ধতি, তবে পূর্বসূরি ইমামদের মূল ভিত্তি ছিল গভীর অনুসন্ধান ও চুলচেরা বিশ্লেষণ, যাতে কোনো অন্ধ অনুকরণ ছাড়াই প্রকৃত সত্যে উপনীত হওয়া যায়। কেননা অন্ধ অনুকরণ হলো স্থবির মস্তিস্কের পরিচায়ক, আর হীনম্মন্য অথবা একগুঁয়ে জেদি ব্যক্তি ছাড়া কেউ এতে তুষ্ট থাকে না।

ভাষা ও বংশতত্ত্ব বিষয়ক গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: মাজদুদ্দিন লুগাভীর আল-কামুস আল-মুহিত, এবং মুরতাজা কর্তৃক এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ তাজুল আরুস, ইবনে মানযুরের লিসানুল আরব, ফায়য়ুমির আল-মিসবাহুল মুনির, রাজির মুখতারুস সিহাহ, ইবনুল আসিরের আন-নিহায়াহ, নববীর তাহযিবুল আসমা ওয়াল লুগাত, জুরজানির আত-তা'রিফাত, ইবনুল আসিরের আল-লুবাব ফি তাহযিবিল আনসাব এবং সুয়ুতি কর্তৃক এর সংক্ষিপ্তসার লুব্বুল লুবাব, ও মু’জামুল বুলদান।
(খণ্ড: ١) যাখীরাতুল উক্ববা ফী শারহিল মুজতবা (পৃষ্ঠা: ١٢)
لياقوت الحموي، وغيرها.

ومن كتب الفقه: الأوسط لابن المنذر والمجموع للنووي مع تكميلتيه، والمغني لابن قدامة المقدسي، وبداية المجتهد ونهاية المقتصد لابن رشد، وغيرها من كتب المحققين.

ومن كتب النحو والصرف: كتب ابن مالك كالكافية وشرحها، والتسهيل، وشرحه المساعد لابن عقيل، والخلاصة، وشروحها، ومغني اللبيب لابن هشام الأنصاري، وسائر كتبه، وشافية ابن الحاجب

وكافيته، ومؤلفات الجلال السيوطي في النحو وغيرها.

وبالجملة فقد يسر الله لي كل ما يحتاج إليه من رام الغوص في لجج هذا البحر الزاخر، واستخراج الدرر المكنونة والجواهر، فما بقي إلا بَذْلُ الجهد والعزم البَتَّار، والمثابرةُ على مطالعتها ليلَ نَهَار، ونقلُ ما يناسب كلَّ باب، وكل حديث من خلاصتها، وتنميق(1) ما يَرُوق(2) من جواهرها، واختصاصاتها.

والله تعالى الكريم أسأل أن يعينني على ذلك، ويبارك في أوقاتي لنيل ما هنالك، فإنه كرم مسؤول، وخير مأمول.

وقبل الشروع في المقصود ينبغي أن أذكر ترجمة المصنف، وتعريف كتابه، ليَعْرفَ قدرَه الخاصُّ والعام، ويُنشر فضلُهُ العام بين الأنام، وفي ذلك مسائلُ عديدة، ومَنَاهلُ جديدة، وخاتمة سديدة، ثم فصل الخطاب، ثم الشروع في المقصود المستطاب.

إن أريد إلا الإصلاح ما استطعت، وما توفيقي إلا بالله، عليه توكلت، وإليه أنيب.

--------------------------------------------

(1) يقال: نَمَقَ الكتاب: كتبه، ونَمَّقه تنميقًا: حسنه بالكتابة اهـ ق.

(2) مضارع رَاقَه الشيءُ يروقه: إذا أعجبه. كما أفاده في المصباح.
ইয়াকুত আল-হামাওয়ী রচিত এবং অন্যান্য কিতাব।

ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহের মধ্যে রয়েছে: ইবনুল মুনযিরের আল-আওসাত, আন-নববীর আল-মাজমু (এর পরিশিষ্টদ্বয়সহ), ইবনু কুদামা আল-মাকদিসীর আল-মুগনী, ইবনে রুশদ-এর বিদায়াতুল মুজতাহিদ ওয়া নিহায়াতুল মুকতাসিদ এবং অন্যান্য গবেষক আলিমদের কিতাবসমূহ।

নাহু ও সরফ শাস্ত্রের কিতাবসমূহের মধ্যে রয়েছে: ইবনে মালিকের কিতাবসমূহ—যেমন আল-কাফিয়া ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, আত-তাসহিল এবং ইবনে আকীলের এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ আল-মুসা’ইদ, আল-খুলাসা ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ, ইবনে হিশাম আল-আনসারীর মুগনিল লাবীব ও তাঁর অন্যান্য সকল কিতাব, ইবনুল হাজিবের শাফিয়া

ও তাঁর কাফিয়া, জালালুদ্দীন আস-সুয়ূতী রচিত নাহু শাস্ত্রের গ্রন্থাবলী ও অন্যান্য কিতাব।

সারকথা হলো, এই অগাধ সমুদ্রের উত্তাল তরঙ্গে যারা ডুব দিতে চায় এবং সেখান থেকে লুকায়িত মুক্তা ও মণি-মাণিক্য আহরণ করতে চায়, তাদের জন্য যা কিছু প্রয়োজন আল্লাহ তাআলা তা আমার জন্য সহজ করে দিয়েছেন। সুতরাং এখন কেবল প্রচেষ্টার প্রয়োগ, সুদৃঢ় সংকল্প, দিন-রাত এর অধ্যয়নে একাগ্রতা বজায় রাখা এবং এর নির্যাস থেকে প্রতিটি অধ্যায় ও প্রতিটি হাদিসের উপযোগী বিষয়সমূহ সংকলন করা এবং এর সারবস্তু ও বিশিষ্ট মণিমুক্তাগুলোকে সুবিন্যস্ত(১) ও মনোমুগ্ধকর(২) করে উপস্থাপন করাই অবশিষ্ট আছে।

আমি মহান দয়াময় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমাকে এ কাজে সহায়তা করেন এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য আমার সময়ের মধ্যে বরকত দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি যাঁর কাছে প্রার্থনা করা হয় তাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং যাঁর কাছে আশা করা হয় তাদের মধ্যে সর্বোত্তম।

মূল আলোচনায় প্রবেশের পূর্বে গ্রন্থকারের জীবনী এবং তাঁর কিতাবটির পরিচিতি তুলে ধরা সমীচীন, যাতে বিশিষ্ট ও সাধারণ নির্বিশেষে সকলে এর মর্যাদা উপলব্ধি করতে পারে এবং মানুষের মাঝে এর মহান ফযিলত ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে রয়েছে বহুবিধ মাসআলা, নতুন সব জ্ঞানের উৎস এবং একটি সঠিক উপসংহার; এরপর রয়েছে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং পরিশেষে কল্যাণকর মূল বিষয়ের আলোচনা।

আমি আমার সাধ্যমতো কেবল সংশোধনই কামনা করি। আর আমার তাওফীক কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে। তাঁরই ওপর আমি ভরসা করেছি এবং তাঁরই দিকে আমি প্রত্যাবর্তন করি।

--------------------------------------------

(১) বলা হয়: ‘নামাকা আল-কিতাব’ অর্থাৎ সে তা লিখেছে। আর ‘নাম্মাকাহু তানমীকান’ অর্থ হলো লেখনীর মাধ্যমে তা সুশোভিত করা। (দ্রষ্টব্য: আল-কামুসুল মুহীত)।

(২) ‘রা-কাহু’ শব্দের মুযারি (বর্তমান কাল) হলো ‘ইয়ারুকু’। এর অর্থ হলো যখন কোনো কিছু কাউকে বিমোহিত বা মুগ্ধ করে; যেমনটি ‘আল-মিসবাহ’ গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ١) যাখীরাতুল উক্ববা ফী শারহিল মুজতবা (পৃষ্ঠা: ١٣)
‌‌المسأله الأولى في ذكر ترجمة المصنف رحمه الله

قال الحافظ شمس الدين الذهبي في سير أعلام النبلاء 14/ ص 125:

الإمام الحافظ، المثبت، شيخ الإسلام، ناقد الحديث، أبو عبد الرحمن: أحمد بن شعيب بن علي بن سنان بن بحر، الخراساني، النسائي، صاحب السنن ولد بنسا، في سنة 215، وطلب العلم في صغره، فارتحل إلى قتيبة في سنة 230، فأقام عنده ببغلان(1) سنة، فأكثر عنه.

قال الجامع عفا الله عنه:

ونَسَأ بفتح النون والسين، كجبل مهموز، كما صرح به الإسنَوي(2)، وابن خلّكان، والسبكي، هي بلدة بخراسان، أفاده المرتضى في التاج في مادة نَسَأ وعلى هذا نظم بعضهم، فقال:

والنَّسَئيُّ نسْبَةٌ لنَسَأِ … مَدينّةٌ فِي الوَزْن مثْلُ سَبَأِ

وقال في اللباب: النسائي بفتح النون والسين وبعد الألف همزة وياء النسبة هذه النسبة إلى مدينة بخراسان، يقال لها نسا، وينسب إليها أيضًا نَسَويّ. اهـ.

وقال في معجم البلدان: كان سبب تسميتها بهذا الاسم أن المسلمين لما وردوا خراسان، قصدوها، فبلغ ذلك أهلها فهربوا، ولم يتخلف بها غير النساء، فلما أتاها المسلمون لم يروا بها رجلا، فقالوا هؤلاء نساء والنساء لا يقاتلن فننسأ أمرها الآن إلى أن يعود رجالهن، فتركوا

--------------------------------------------

(1) بغلان بفتح الباء وسكون الغين المعجمة، وفي آخره نون بلدة بنواحي بلخ.

(2) بكسر الهمزة منسوب إلى إسنا قرية بمصر.
প্রথম মাসআলা: গ্রন্থকারের (রহমতুল্লাহি আলাইহি) জীবনী আলোচনা প্রসঙ্গে

হাফেজ শামসুদ্দিন আয-যাহাবী তাঁর 'সিয়ারু আলামিন নুবালা' গ্রন্থে (১৪শ খণ্ড, ১২৫ পৃষ্ঠা) উল্লেখ করেছেন:

ইমাম, হাফেজ, সুদৃঢ় বর্ণনাকারী, শায়খুল ইসলাম, হাদিস সমালোচক, আবু আবদুর রহমান: আহমাদ ইবনে শুয়াইব ইবনে আলী ইবনে সিনান ইবনে বাহর, আল-খুরাসানি, আন-নাসায়ী, 'আস-সুনান' গ্রন্থের রচয়িতা। তিনি ২১৫ হিজরিতে নাসা শহরে জন্মগ্রহণ করেন এবং শৈশবকালেই ইলম অন্বেষণ শুরু করেন। তিনি ২৩০ হিজরিতে (ইমাম) কুতায়বার সান্নিধ্যে সফরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন এবং বাগলান(১) নামক স্থানে তাঁর নিকট এক বছর অবস্থান করেন ও তাঁর কাছ থেকে প্রচুর হাদিস সংগ্রহ করেন।

সংকলক (আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন) বলেন:

'নাসা' শব্দটি নূন এবং সীন বর্ণের ফাতহাহ (যবর) সহকারে, এর ওজন 'জাবাল' শব্দের ন্যায় এবং শেষে হামজা যুক্ত; যেমনটি ইসনাভি(২), ইবনে খাল্লিকান এবং সুবকি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। এটি খুরাসানের একটি শহর। মুরতাজা 'আত-তাজ' গ্রন্থে 'নাসা' (ন-স-আ) মূলধাতুর অধীনে এটি বর্ণনা করেছেন। এর ওপর ভিত্তি করে কেউ কেউ ছন্দাকারে বলেছেন:

আন-নাসায়ী হলো নাসা শহরের সাথে সম্পৃক্ত... এটি একটি শহর যার ওজন 'সাবা' শব্দের মতো।

'আল-লুবাব' গ্রন্থে বলা হয়েছে: 'নাসায়ী' শব্দটি নূন এবং সীন বর্ণের ফাতহাহ সহ এবং আলিফের পরে হামজা ও সম্বন্ধসূচক 'ইয়া' যোগে গঠিত। এই সম্বন্ধটি খুরাসানের একটি শহরের প্রতি, যাকে 'নাসা' বলা হয়। এর দিকে সম্বন্ধ করে 'নাসাওয়ি'-ও বলা হয়ে থাকে। [সমাপ্ত]

'মু'জামুল বুলদান' গ্রন্থে বলা হয়েছে: এই শহরের এই নামকরণের কারণ ছিল—মুসলিমরা যখন খুরাসানে আগমন করেন, তখন তারা এই শহরের দিকে অগ্রসর হন। এ খবর পেয়ে শহরের অধিবাসীরা পালিয়ে যায় এবং কেবল নারীরা (নিসা) ছাড়া সেখানে আর কেউ অবশিষ্ট ছিল না। মুসলিমরা যখন সেখানে পৌঁছালেন, তখন তারা কোনো পুরুষ দেখতে পেলেন না। তখন তারা বললেন, "এরা তো নারী (নিসা), আর নারীদের সাথে যুদ্ধ করা হয় না; তাই এখনকার মতো তাদের বিষয়টি স্থগিত (নুনাস্সিউ) রাখি যতক্ষণ না তাদের পুরুষরা ফিরে আসে।" অতঃপর তারা সেটি ছেড়ে চলে গেলেন...

--------------------------------------------

(১) 'বাগলান' শব্দটি বা-বর্ণের ফাতহাহ এবং গাইন-বর্ণের সুকুন যোগে, শেষে নূন রয়েছে; এটি বালখ অঞ্চলের নিকটবর্তী একটি শহর।

(২) হামজার কাসরাহ (ই) যোগে, যা মিশরের 'ইসনা' নামক গ্রামের অধিবাসী বা সেদিকের সম্বন্ধ নির্দেশ করে।
(খণ্ড: ١) যাখীরাতুল উক্ববা ফী শারহিল মুজতবা (পৃষ্ঠা: ١٤)
ومضوا، فسموا بذلك نسَاء، والنسبة الصحيحة إليها نسائي، وقيل: نسوي، أيضا، وكان من الواجب كسر النون. اهـ.

 

‌‌ميلاده

قد ذكرنا عن الذهبي أنه ولد سنة 215، وهذا ليس على وجه اليقين والجزم، بل سئل هو رحمه الله عن مولده، فقال: يشبه أن يكون سنة 215 هـ، وقيل: ولد سنة 214 هـ، وأصل الخلاف: هو ما نقل عن تلميذه أبي سعيد بن يونس، صاحب تاريخ مصر، قوله: رأيت بخطي في مسودتي أن مولده بنسا سنة 215، وقيل: 214. وذكر في الوافي بالوفيات للصفديّ جـ 6/ ص 416 أنه ولد سنة 225، قال الحافظ السخاوي: وهو غلط جزمًا، إما من الناسخ أو غيره.

 

‌‌رحلاته

كان رحمه الله في عصر الرحلة في طلب الحديث، وكانت عناية طلاب العلم آنذاك منقطعة في إحياء الحديث وغيره، وكان النسائي من نابهي الطلبة الذين كانت لهم رحلة طويلة، بدأ بمدن إقليمه خراسان، ثم دخل العراق، والشام، والحجاز، والجزيرة، ومصر التي جعلها سكنا له من بعدُ، وكان قد دخلها طالبا قبل أن يكون عالمًا، وفي بداية حياته كما يدل على ذلك قصته المشهورة، مع الحارث بن مسكين عالم مصر، وقاضيها، الحافظ، إذ دخل عليه النسائي في زيّ أنكره الحارث عليه، إذ كان يرتدي قلنسوة وقباء، وكان الحارث خائفا من أمور تتعلق بالسلطان، فخاف أن يكون عينا عليه فمنعه من الدخول إليه، مع الطلبة، فكان يجيء، ويقعد خلف الباب ويسمع ولذلك نجده يقول دائما: أخبرنا الحارث بن مسكين قراءة عليه، وأنا أسمع.

ومما يذكر لأبي عبد الرحمن: أن رحلته لم تقتصر على أخذ الحديث
তারা চলে গেলেন, ফলে সেই জায়গার নাম রাখা হলো 'নাসা' (Nasa)। আর এর সঠিক সম্বন্ধবাচক রূপ হলো 'নাসায়ী' (Nasa'i), আর কেউ কেউ 'নাসাভী'ও (Nasawi) বলেছেন। আর (ব্যাকরণগতভাবে) নুন বর্ণে কাসরা (জের) হওয়া আবশ্যক ছিল। সমাপ্ত।

 

‌‌তাঁর জন্ম

আমরা ইমাম যাহাবী থেকে বর্ণনা করেছি যে, তিনি ২১৫ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তবে এটি পুরোপুরি নিশ্চিত ও অকাট্য নয়; বরং তিনি (নাসায়ী) রহমাতুল্লাহি আলাইহিকে যখন তাঁর জন্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি বলেছিলেন: এটি ২১৫ হিজরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবার বলা হয়েছে: তিনি ২১৪ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। মতভেদের মূল কারণ হলো তাঁর ছাত্র আবু সাঈদ বিন ইউনুস—যিনি 'তারিখে মিসর'-এর রচয়িতা—তাঁর থেকে বর্ণিত উক্তি। তিনি বলেছেন: "আমি আমার পাণ্ডুলিপিতে নিজের হস্তাক্ষরে দেখেছি যে, তাঁর জন্ম নাসাতে ২১৫ হিজরিতে, আবার বলা হয়েছে ২১৪ হিজরি।" সাফাদীর 'আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত'-এর ৬ষ্ঠ খণ্ডের ৪১৬ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি ২২৩ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। হাফেজ সাখাবী বলেন: "এটি নিশ্চিতভাবে একটি ভুল, যা সম্ভবত নকলকারী বা অন্য কারও পক্ষ থেকে ঘটেছে।"

 

‌‌তাঁর ইলমি সফরসমূহ

তিনি রহমাতুল্লাহি আলাইহি এমন এক যুগে ছিলেন যখন হাদিস অন্বেষণের জন্য দেশ-বিদেশে সফরের প্রচলন ছিল এবং তৎকালীন ইলম অন্বেষণকারীদের মনোযোগ হাদিস ও অন্যান্য শাস্ত্রকে পুনরুজ্জীবিত করার প্রতি নিবদ্ধ ছিল। ইমাম নাসায়ী ছিলেন সেই মেধাবী ছাত্রদের অন্তর্ভুক্ত যারা দীর্ঘ ইলমি সফর করেছিলেন। তিনি প্রথমে নিজ অঞ্চল খোরাসানের শহরগুলো থেকে শুরু করেন, এরপর ইরাক, শাম, হিজাজ, জাজিরা এবং মিসরে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে তিনি মিসরকেই নিজের আবাসস্থলে পরিণত করেন। আলেম হওয়ার পূর্বে ছাত্রাবস্থায় এবং জীবনের শুরুর দিকেই তিনি সেখানে প্রবেশ করেছিলেন, যেমনটি মিসরের আলেম, বিচারক ও হাফেজে হাদিস হারিস বিন মিসকিনের সাথে তাঁর সেই প্রসিদ্ধ ঘটনা থেকে প্রতীয়মান হয়। ইমাম নাসায়ী যখন তাঁর নিকট গিয়েছিলেন, তখন তিনি এমন পোশাকে ছিলেন যা হারিস বিন মিসকিন অপছন্দ করেছিলেন; তিনি টুপি ও কাবা (এক প্রকার দীর্ঘ পোশাক) পরিহিত ছিলেন। হারিস সুলতান বা শাসক সংক্রান্ত বিষয়ে ভীত ছিলেন, তাই তিনি আশঙ্কা করলেন যে নাসায়ী হয়তো সরকারের কোনো গুপ্তচর। ফলে তিনি অন্য ছাত্রদের সাথে তাঁর নিকট প্রবেশ করতে তাঁকে বাধা দেন। এ কারণে তিনি আসতেন এবং দরজার আড়ালে বসে শুনতেন। তাই আমরা দেখতে পাই যে তিনি সর্বদা বলতেন: "হারিস বিন মিসকিন আমাদের নিকট পাঠ করে শুনিয়েছেন আর আমি তা শুনছিলাম।"

আবু আব্দুর রহমান (ইমাম নাসায়ী) সম্পর্কে আরও উল্লেখ করা হয় যে, তাঁর সফর কেবল হাদিস সংগ্রহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না...
(খণ্ড: ١) যাখীরাতুল উক্ববা ফী শারহিল মুজতবা (পৃষ্ঠা: ١٥)
فقط، بل أخذ كذلك علوم القرآن، والقراءة عن أهلها، ومنهم أحمد ابن نصر النيسابوري، وأبو شعيب السوسي(1).

 

‌‌شيوخه

قال الحافظ الذهبي رحمه الله تعالى: وسمع من إسحاق بن راهويه، وهشام بن عمار، ومحمد بن النضر بن مساور، وسويد بن نصر، وعيسى بن حماد زُغْبَة، وأحمد بن عبدة الضبي، وأبي طاهر بن السرح، وأحمد بن منيع، وإسحاق بن شاهين، وبشر بن معاذ العقدي، وبشر بن هلال الصواف، وتميم بن المنتصر، والحارث بن مسكين، والحسن بن الصباح البزار، وحميد بن مسعدة، وزياد بنَ أيوب، وزياد ابن يحيي الحساني، وسوار بن عبد الله العنبري، والعباس بن عبد العظيم العنبري، وأبي حصين عبد الله بن أحمد اليربوعي، وعبد الأعلي بن واصل، وعبد الجبار بن العلاء العطار، وعبد الرحمن ابن عبيد الله الحلبي ابن أخي الإمام، وعبد الملك بن شعيب بن الليث، وعبدة بن عبد الله الصفار، وأبي قدامة عبد الله بن سعيد، وعتبة بن عبد الله المروزي، وعلي بن حجر، وعلي بن سعيد بن مسروق الكندي، وعمار بن خالد الواسطي وعمران بن موسى القزاز، وعمرو بن زرارة الكلابي، وعمرو بن عثمان الحمصي، وعمرو بن علي الفلاس، وعيسى بن محمد الرملي، وعيسى بن يونس الرملي، وكثير بن عبيد، ومحمد بن أبان البلخي، ومحمد بن آدم المصيصي، ومحمد بن إسماعيل بن علية قاضي دمشق، ومحمد بن بشار، ومحمد بن زنبور المكي، ومحمد بن سليمان لُوَيْن، ومحمد بن عبد الله بن عمار، ومحمد بن عبد الله المخرمي، ومحمد بن عبد العزيز بن أبي رزمة،

--------------------------------------------

(1) انظر مقدمة تحقيق عمل اليوم والليلة للدكتور فاروق حمادة ص 15 - 16.
শুধুমাত্র তাই নয়, বরং তিনি কুরআন সংশ্লিষ্ট জ্ঞানসমূহ এবং কিরাতশাস্ত্রও এ বিষয়ে পারদর্শী ব্যক্তিদের নিকট থেকে অর্জন করেছেন; তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আহমদ ইবনে নাসর আল-নিসাবুরি এবং আবু শুআইব আল-সুসি(১).

 

‌‌তাঁর উস্তাদগণ

হাফিজ আল-জাহাবি (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) বলেন: তিনি হাদিস শ্রবণ করেছেন ইসহাক ইবনে রাহাওয়াইহ, হিশাম ইবনে আম্মার, মুহাম্মদ ইবনে নাদর ইবনে মাসাওয়ির, সুওয়াইদ ইবনে নাসর, ঈসা ইবনে হাম্মাদ জুগবাহ, আহমদ ইবনে আবদাহ আদ-দাব্বি, আবু তাহির ইবনে আস-সারহ, আহমদ ইবনে মানি‘, ইসহাক ইবনে শাহিন, বিশর ইবনে মুয়ায আল-আকাদি, বিশর ইবনে হিলাল আস-সাওওয়াফ, তামিমি ইবনে আল-মুনতাসির, আল-হারিস ইবনে মিসকিন, আল-হাসান ইবনে আস-সাব্বাহ আল-বাযযার, হুমাইদ ইবনে মাসআদাহ, যিয়াদ ইবনে আইয়ুব, যিয়াদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-হাসসানি, সাওয়ার ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আনবারি, আল-আব্বাস ইবনে আব্দুল আজিম আল-আনবারি, আবু হুসাইন আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ আল-ইয়ারবুয়ি, আব্দুল আলা ইবনে ওয়াসিল, আব্দুল জাব্বার ইবনে আল-আলা আল-আত্তার, আব্দুর রহমান ইবনে উবায়দুল্লাহ আল-হালাবি (যিনি ইমামের ভ্রাতুষ্পুত্র ছিলেন), আব্দুল মালিক ইবনে শুআইব ইবনে আল-লাইস, আবদাহ ইবনে আব্দুল্লাহ আস-সাফফার, আবু কুদামাহ আব্দুল্লাহ ইবনে সাঈদ, উতবাহ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-মারওয়াযি, আলী ইবনে হুজর, আলী ইবনে সাঈদ ইবনে মাসরুক আল-কিন্দি, আম্মার ইবনে খালিদ আল-ওয়াসিতি, ইমরান ইবনে মুসা আল-কাযযায, আমর ইবনে যুরারাহ আল-কিলাবি, আমর ইবনে উসমান আল-হিমসি, আমর ইবনে আলী আল-ফাল্লাস, ঈসা ইবনে মুহাম্মদ আর-রামলি, ঈসা ইবনে ইউনুস আর-রামলি, কাসির ইবনে উবাইদ, মুহাম্মদ ইবনে আবান আল-বালখি, মুহাম্মদ ইবনে আদম আল-মাসিসিসি, মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল ইবনে উলাইয়াহ (দামেস্কের বিচারক), মুহাম্মদ ইবনে বাশশার, মুহাম্মদ ইবনে যুনবুর আল-মাক্কি, মুহাম্মদ ইবনে সুলাইমান লুয়াইন, মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আম্মার, মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-মাখরামি এবং মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল আজিজ ইবনে আবু রাযমাহ-এর নিকট থেকে।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ডক্টর ফারুক হামাদাহ কর্তৃক সম্পাদিত ‘আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ’ গ্রন্থের ভূমিকা, পৃষ্ঠা ১৫ - ১৬।
(খণ্ড: ١) যাখীরাতুল উক্ববা ফী শারহিল মুজতবা (পৃষ্ঠা: ١٦)
ومحمد بن عبد الملك بن أبي الشوارب، ومحمد بن عبيد المحاربي، ومحمد بن العلاء الهمداني، ومحمد بن قدامة المصيصي الجوهري، ومحمد بن المثنى، ومحمد بن المصفى، ومحمد بن مَعْمر القَيْسي، ومحمد بن موسى الحرشي، ومحمد بن هاشم البعلبكي، وأبي المُعَافى محمَّد بن وهب، ومجاهد بن موسى، ومحمود بن غَيْلان، ومَخْلد بن حسن الحراني، ونصر بن علي الجهضمي، وهارون بن عبد الله الحمال، وهناد بن السَّري، والهيثم بن أيوب الطالَقَاني، وواصل بن عبد الأعلى، ووهب بن بيان، ويحيى بن درست البصري، ويحيى بن موسى خت، ويعقوب الدورقي، ويعقوب بن ماهان البناء، ويوسف ابن حماد المَعْنيّ، ويوسف بن عيسى الزهري، ويوسف بن واضح المؤدب، وخلق كثير، وإلى أن يروي من رفقائه. اهـ سير أعلام النبلاء جـ 14/ ص 126.

 

‌‌تلاميذه

قال الحافظ الذهبي: حدَّث عنه أبو بشر الدُّولابي، وأبو جعفر الطحاوي، وأبو علي النيسابوري، وحمزة بن محمَّد الكناني، وأبو جعفر أحمد بن محمَّد بن إسماعيل النحاس النحوي، وأبو بكر محمَّد ابن أحمد بن الحداد الشافعي، وعبد الكريم بن أبي عبد الرحمن النسائي، والحسن بن الخضر الأسيوطي، وأبو بكر أحمد بن السني، وأبو القاسم سليمان بن أحمد الطبراني، ومحمد بن معاوية بن الأحمر الأندلسي، والحسن بن رشيق، ومحمد بن عبد الله بن حيويه النيسابوري، ومحمد بن موسى المأموني، وأبيض بن محمَّد بن أبيض، وخلق كثير. اهـ سير جـ 14/ ص 127.
এবং মুহাম্মদ বিন আব্দুল মালিক বিন আবি আল-শাওয়ারিব, মুহাম্মদ বিন উবাইদ আল-মুহারিবি, মুহাম্মদ বিন আল-আলা আল-হামদানি, মুহাম্মদ বিন কুদামা আল-মাসিসি আল-জাওহারি, মুহাম্মদ বিন আল-মুসান্না, মুহাম্মদ বিন আল-মুসাফফা, মুহাম্মদ বিন মা’মার আল-কায়সি, মুহাম্মদ বিন মুসা আল-হারাশি, মুহাম্মদ বিন হাশিম আল-বালবাকি, আবু আল-মুআফা মুহাম্মদ বিন ওয়াহাব, মুজাহিদ বিন মুসা, মাহমুদ বিন গায়লান, মাখলাদ বিন হাসান আল-হাররানি, নাসর বিন আলী আল-জাহদামি, হারুন বিন আব্দুল্লাহ আল-হাম্মাল, হান্নাদ বিন আস-সারী, হাইসাম বিন আইয়ুব আত-তালাকানি, ওয়াসিল বিন আব্দুল আলা, ওয়াহাব বিন বায়ান, ইয়াহইয়া বিন দুরুস্ত আল-বাসরি, ইয়াহইয়া বিন মুসা খাত্ত, ইয়াকুব আদ-দাওরাকি, ইয়াকুব বিন মাহান আল-বান্না, ইউসুফ ইবনে হাম্মাদ আল-মানি, ইউসুফ বিন ঈসা আজ-জুহরি, ইউসুফ বিন ওয়াদিহ আল-মুয়াদ্দিব এবং আরও বহু সংখ্যক লোক; এমনকি তিনি তাঁর সমসাময়িক সাথীদের থেকেও বর্ণনা করেছেন। সমাপ্ত। সিয়ার আলামিন নুবালা, খণ্ড ১৪, পৃষ্ঠা ১২৬।

 

তাঁর ছাত্রবৃন্দ

হাফেজ আজ-জাহাবি বলেছেন: তাঁর নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন আবু বিশর আদ-দুলাবি, আবু জাফর আত-তহাবি, আবু আলী আন-নাইসাবুরি, হামজা বিন মুহাম্মদ আল-কিনানি, আবু জাফর আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আন-নাহাস আন-নাহবি, আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আহমদ বিন আল-হাদ্দাদ আশ-শাফিয়ি, আব্দুল কারিম বিন আবি আব্দুর রহমান আন-নাসায়ি, আল-হাসান বিন আল-খিদর আল-আসইউতি, আবু বকর আহমদ বিন আস-সুন্নি, আবুল কাসিম সুলায়মান বিন আহমদ আত-তাবারানি, মুহাম্মদ বিন মুয়াবিয়া বিন আল-আহমার আল-আন্দালুসি, আল-হাসান বিন রাশিখ, মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হাইউয়াহ আন-নাইসাবুরি, মুহাম্মদ বিন মুসা আল-মামুনি, আবইয়াদ বিন মুহাম্মদ বিন আবইয়াদ এবং আরও বহু সংখ্যক লোক। সমাপ্ত। সিয়ার, খণ্ড ১৪, পৃষ্ঠা ১২৭।
(খণ্ড: ١) যাখীরাতুল উক্ববা ফী শারহিল মুজতবা (পৃষ্ঠা: ١٧)
‌‌سلوكه وعقيدته

كان رحمه الله تعالى سالكا مسلك أهل الحديث عقيدة ومذهبا غير مقلد لأحد، كسائر أئمة الحديث، ويتبين ذلك في كتابه هذا، وسننبه عليه إذا مر بنا ذلك إن شاء الله تعالى، كما حققه العلامة المباركفوري في مقدمة تحفة الأحوذي، بل أئمة الحديث من أصحاب الأصول وغيرهم ليسوا مقلدين لأحد إلا من شاء الله من المتأخرين بل هم مجتهدون، ومتبعون للدليل، خلافَ ما يُثيره بعض الناس بأن فلانا شافعي، وفلانا حنبلي من غير تحقيق لذلك، بل بالظن والتخمين، ومَنْ تَتَبَّعَ عملهم في كتبهم يظهر له خلاف ما قاله هذا المثير، فمجرد موافقة أقوالهم في بعض المواضع لبعض أهل المذاهب لا يدل على التقليد، بل ذلك من اتفاق الآراء لاتفاق الدليل، وكذا كون بعضهم أخذ عن بعض المجتهدين، أو تلاميذهم، أو تلاميذ تلاميذهم، لا يدل على ذلك، كما أن الشافعي مثلا أخذ عن مالك رحمهما الله تعالى ولا يقتضي كونه مالكيا، وأحمد أخذ عن الشافعي رحمهما الله تعالى، ولا يقتضي ذلك كونه شافعيا، فكذا نقول ها هنا، من غير فرق. والله أعلم.

ولنرجع إلى المقصود: كان رحمه الله تعالى على مذهب أهل السنة والجماعة من إثبات صفات الله تعالى، كما وردت، وأن القرآن كلام الله تعالى، غير مخلوق.

قال قاضي مصر أبو القاسم عبد الله بن محمَّد بن أبي العوام السعدي: حدثنا أحمد بن شعيب النسائي، أخبرنا إسحاق بن راهويه، حدثنا محمد بن أعين، قال: قلت لابن المبارك: إن فلانا يقول: من زعم أن قوله تعالى: {إِنَّنِي أَنَا اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدْنِي} [طه: آية 14] مخلوق فهو كافر، فقال ابن المبارك: صدق، قال النسائي: بهذا أقول.
তাঁর কর্মপদ্ধতি ও আকিদা

আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন; তিনি আকিদা ও মাজহাবের ক্ষেত্রে আহলে হাদিসের পথ অনুসারী ছিলেন এবং হাদিসের অন্যান্য ইমামদের মতো কোনো বিশেষ ব্যক্তির অন্ধ অনুসারী (মুকাল্লিদ) ছিলেন না। তাঁর এই কিতাবে বিষয়টি সুস্পষ্ট হয়ে উঠবে এবং ইনশাআল্লাহ তাআলা আলোচনার প্রাসঙ্গিকতায় আমরা সেদিকে ইঙ্গিত করব, যেভাবে আল্লামা মুবারকপুরী তাঁর 'তুহফাতুল আহওয়াযী' গ্রন্থের ভূমিকায় এটি সবিস্তারে বর্ণনা করেছেন। প্রকৃতপক্ষে উসুল রচয়িতা ও অন্যান্য হাদিস বিশারদগণ পরবর্তী যুগের গুটিকয়েক ব্যক্তি বাদে অন্য কারও মুকাল্লিদ ছিলেন না; বরং তাঁরা ছিলেন মুজতাহিদ এবং দলিলের অনুসারী। অথচ একদল লোক কোনো প্রকার সুনির্দিষ্ট যাচাই-বাছাই ছাড়াই স্রেফ ধারণা ও অনুমানের ওপর ভিত্তি করে বলে বেড়ান যে, অমুক শাফেয়ি বা অমুক হাম্বলি; যা বাস্তব সত্যের পরিপন্থী। যে ব্যক্তি তাঁদের কিতাবসমূহে তাঁদের কর্মপদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করবে, তার কাছে এই বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের বক্তব্যের বিপরীত চিত্রটিই ফুটে উঠবে। কোনো কোনো মাসআলায় তাঁদের বক্তব্য কোনো মাজহাবের ইমামদের সাথে মিলে যাওয়া মানেই তাকলিদ বা অন্ধ অনুসরণ নয়; বরং এটি দলিলের ঐক্যের কারণে মতের ঐক্য মাত্র। একইভাবে তাঁদের কেউ কেউ কোনো মুজতাহিদ বা তাঁদের ছাত্র কিংবা ছাত্রদের ছাত্রদের নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করার অর্থ এই নয় যে তাঁরা তাঁদের মুকাল্লিদ। যেমন ইমাম শাফেয়ি রহ. ইমাম মালিক রহ.-এর নিকট থেকে শিক্ষা লাভ করেছেন, কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে তিনি মালেকি ছিলেন। আবার ইমাম আহমদ রহ. ইমাম শাফেয়ি রহ.-এর নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন, কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে তিনি শাফেয়ি ছিলেন। সুতরাং এখানেও আমরা কোনো পার্থক্য ছাড়াই একই কথা বলব। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

মূল প্রসঙ্গে ফিরে আসা যাক: তিনি (রহ.) আল্লাহর গুণাবলি বর্ণনার ক্ষেত্রে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আকিদা অনুযায়ী যেভাবে সেগুলো বর্ণিত হয়েছে ঠিক সেভাবেই তা সাব্যস্ত করার ওপর অটল ছিলেন এবং এ বিশ্বাস রাখতেন যে, কুরআন আল্লাহর কালাম, তা সৃষ্টি নয়।

মিসরের কাজি আবুল কাসিম আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবিল আওয়াম আস-সাদি বলেন: আমাদের নিকট আহমদ ইবনে শুআইব আন-নাসায়ি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের মুহাম্মদ ইবনে আয়ুন বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনুল মুবারককে বললাম, অমুক ব্যক্তি বলেন যে, আল্লাহ তাআলার এই বাণী: {নিশ্চয় আমিই আল্লাহ, আমি ব্যতীত অন্য কোনো ইলাহ নেই, অতএব আমারই ইবাদত করো} [সূরা ত্ব-হা: আয়াত ১৪] — যে ব্যক্তি একে 'সৃষ্টি' বলবে সে কাফির। তখন ইবনুল মুবারক বললেন: সে সত্য বলেছে। ইমাম নাসায়ি বলেন: আমিও এই একই কথা বলি।
(খণ্ড: ١) যাখীরাতুল উক্ববা ফী শারহিল মুজতবা (পৃষ্ঠা: ١٨)
‌‌ثناء الناس عليه

قال الحافظ الذهبي رحمه الله تعالى: وكان النسائي من بحر العلم مع الفهم والإتقان، والبصر، ونقد الرجال، وحسن التأليف، جَالَ في طلب العلم في خراسان والحجاز، ومصر، والعراق، والجزيرة، والشام، والثغور، ثم استوطن مصر، ورحل الحفاظ إليه، ولم يبق له نظير في هذا الشأن، وكان شيخا مَهيبا، مَليح الوجه، ظاهر الدم، حسن الشيبة.

وعن النسائي رحمه الله تعالى: قال: أقمت عند قتيبة بن سعيد سنة وشهرين، وكان يسكن بزُقَاق القناديل بمصر(1) وكان نَضرَ الوَجه، مع كبر السنن، يؤثر لباس البرود النوبية، والخضر، ويكثر الاستمتاع، له أربع زوجات، فكان يقسم لهن، ولا يخلو مع ذلك من سرية، وكان يكثر أكل الديوك، تُشترى له وتُسمن، وتُخصى. قال مرة بعض الطلبة: ما أظن أبا عبد الرحمن إلا أنه يشرب النبيذ، للنضرة التي في وجهه، وقال الآخر: ليت شعري ما يرى في إتيان النساء في أدبارهن، قال: فسئل عن ذلك؟ فقال: النبيذ حرام، ولا يصح في الدبر شيء، لكن حدث محمَّد بن كعب القرظي، عن ابن عباس، قال: "اسق حرثك حيث شئت" فلا ينبغي أن يتجاوز قوله.

قال الذهبي: قد تيقنا بطرق لا محيد عنها نهي النبي- صلى الله عليه وسلم عن أدبار النساء، وجزمنا بتحريمه، ولي في ذلك مصنف كبير(2).

وقال الوزير بن حنزابة(3): سمعمت محمَّد بن موسى المأموني

--------------------------------------------

(1) محلة بمصر مشهورة، سميت به لأنه كان فيها منازل الأشراف، وكانت على أبوابهم القناديل. أفاده ياقوت في معجمه ج 3 ص 145.

(2) سير أعلام النبلاءج 14، ص 128.

(3) بكسر الحاء المهملة وسكون النون بعدها زاي وهي المرأة القصيرة الغليظة، وهي هنا أم الفضل بن جعفر بن الفرات.
‌‌তাঁর সম্পর্কে মানুষের প্রশংসা

হাফেজ যাহাবী (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) বলেন: নাসায়ী ছিলেন ইলমের সমুদ্রস্বরূপ, সেইসাথে তাঁর ছিল গভীর প্রজ্ঞা, পারদর্শিতা, সূক্ষ্মদর্শিতা, বর্ণনাকারীদের সমালোচনা (জারহ-ওয়াত-তাদিল) এবং চমৎকার রচনাশৈলী। তিনি ইলম অর্জনের উদ্দেশ্যে খোরাসান, হিজাজ, মিসর, ইরাক, জাজিরা, শাম এবং সীমান্ত এলাকাগুলোতে ভ্রমণ করেছেন। অতঃপর তিনি মিসরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং হাদিস বিশারদগণ তাঁর কাছে ছুটে আসতেন। এই শাস্ত্রে তাঁর সমকক্ষ আর কেউ অবশিষ্ট ছিল না। তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রভাবশালী একজন শায়খ, লাবণ্যময় চেহারার অধিকারী, সতেজ মুখাবয়ব ও সুন্দর বার্ধক্যের অধিকারী।

ইমাম নাসায়ী (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি কুতাইবা বিন সাঈদের সান্নিধ্যে এক বছর দুই মাস অবস্থান করেছি। তিনি মিসরের 'যুকাকুল কানাদিল' (প্রদীপের গলি) নামক এলাকায় বসবাস করতেন(১)। তিনি বার্ধক্য সত্ত্বেও উজ্জ্বল চেহারার অধিকারী ছিলেন। তিনি নুবিয়ান চাদর ও সবুজ পোশাক পরিধান করা পছন্দ করতেন এবং জীবনের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য অধিক মাত্রায় গ্রহণ করতেন। তাঁর চারজন স্ত্রী ছিল এবং তিনি তাঁদের মধ্যে সময় বণ্টন করে দিতেন; এছাড়া তাঁর দাসীও ছিল। তিনি মোরগের মাংস খেতে খুব পছন্দ করতেন; তাঁর জন্য মোরগ কেনা হতো, সেগুলোকে হৃষ্টপুষ্ট করা হতো এবং খাসি করা হতো। একবার জনৈক ছাত্র বলল: আবু আব্দুর রহমানের চেহারার উজ্জ্বলতা দেখে আমার মনে হয় তিনি নবীয (এক প্রকার পানীয়) পান করেন। অপর একজন বলল: আমি যদি জানতাম স্ত্রীদের পায়ুপথ ব্যবহারের ব্যাপারে তাঁর অভিমত কী! বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: নবীয হারাম, আর পায়ুপথ ব্যবহারের ব্যাপারে সহিহ কোনো বর্ণনা নেই। তবে মুহাম্মাদ ইবনে কাব আল-কুরাযী ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "তোমার শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা সেচ দাও।" সুতরাং তাঁর এই উক্তির বাইরে যাওয়া সমীচীন নয়।

যাহাবী বলেন: আমরা অকাট্য সনদে নিশ্চিত হয়েছি যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্ত্রীদের পায়ুপথ ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন এবং আমরা এর হারাম হওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় মত পোষণ করি। এই বিষয়ে আমার একটি বৃহৎ কিতাব রয়েছে(২)।

উজির ইবনু হুনযাবাহ(৩) বলেন: আমি মুহাম্মাদ ইবনে মুসা আল-মামুনীকে বলতে শুনেছি...

--------------------------------------------

(১) মিসরের একটি বিখ্যাত মহল্লা; এর এই নামকরণের কারণ হলো সেখানে সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিদের বাসভবন ছিল এবং তাঁদের দরজায় প্রদীপ বা লণ্ঠন জ্বালানো থাকত। ইয়াকুত তাঁর মু'জাম গ্রন্থে (৩য় খণ্ড, ১৪৫ পৃষ্ঠা) এটি উল্লেখ করেছেন।

(২) সিয়ারু আ'লামিন নুবালা, ১৪শ খণ্ড, ১২৮ পৃষ্ঠা।

(৩) 'হা' বর্ণে কাসরা এবং 'নুন' বর্ণে সুকুন ও এরপর 'যা' বর্ণ। এর অর্থ হলো খর্বাকৃতির ও স্থূলকায় নারী। এখানে তিনি ফজল বিন জাফর বিন ফুরাতের মাতাকে বুঝিয়েছেন।
(খণ্ড: ١) যাখীরাতুল উক্ববা ফী শারহিল মুজতবা (পৃষ্ঠা: ١٩)
صاحب النسائي قال: سمعت قوما ينكرون على أبي عبد الرحمن النسائي كتاب الخصائص لعلي رضي الله عنه، وتَرْكَهُ فضائل الشيخين، فذكرت له ذلك، فقال: دخلت دمشق والمنحرف بها عن علي كثير، فصنفت كتاب الخصائص، رجوت أن يهديهم الله تعالى، ثم إنه صنف بعد ذلك فضائل الصحابة فقيل له: وأنا أسمع ألا تخرج فضائل معاوية رضي الله عنه؟ فقال: أيَّ شيء أخرج؟ حديث "اللهم لا تشبع بطنه"؟ فسكت السائل.

قال الذهبي: لعل أن يقال: هذه منقبة لمعاوية، لقوله صلى الله عليه وسلم "اللهم من لعنته، أو سببته، فاجعل ذلك له زكاة ورحمة".

قال مأمون المصري المحدث: خرجنا إلى طرسوس مع النسائي سنة الفداء، فاجتمع جماعة من الأئمة: عبدُ الله بنُ أحمد بن حنبل، ومحمد بن إبراهيم مربع، وأبو الآذان، وكيلَجَة(1) فتَشَاوَرُوا: من ينتقي لهم على الشيوخ؟ فاجمعوا على أبي عبد الرحمن النسائي، وكتبوا كلهم بانتخابه.

قال الحاكم: كلام النسائي على فقه الحديث كثير، ومن نظر في سننه تحير في حسن كلامه. وقال الحافظ أبو علي النيسابوري: أخبرنا الإمام في الحديث بلا مدافعة، أبو عبد الرحمن النسائي. وقال أبو طالب أحمد ابن نصر الحافظ: من يصبرُ على ما يصبر عليه النسائي؟ عنده حديث ابن لهيعة ترجمة ترجمة، يعني عن قتيبة، عن ابن لهيعة، قال: فما حدث بها. وقال أبو الحسن الدارقطني: أبو عبد الرحمن مقدم على كل من يُذْكَرُ بهذا العلم من أهل عصره. وقال الحافظ ابن طاهر: سألت سعد ابن علي الزنجاني عن رجل، فوثقه، فقلت: قد ضعفه النسائي، فقال:

--------------------------------------------

(1) كيلجة: بكسر الكاف وفتح اللام، محمد بن صالح بن عبد الرحمن البغدادي، أبو بكر الأنماطي، ثقة حافظ توفي سنة 271.
নাসায়ীর জনৈক সঙ্গী বলেন: আমি একদল লোককে আবু আবদুর রহমান নাসায়ীর সমালোচনা করতে শুনেছি আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বৈশিষ্ট্য (খাসাইস) বিষয়ক গ্রন্থ রচনা এবং শায়খায়ন (আবু বকর ও উমর)-এর ফযীলত বর্জন করার কারণে। আমি তাঁর কাছে বিষয়টি উল্লেখ করলে তিনি বললেন: আমি দামেস্কে প্রবেশ করে দেখলাম সেখানে আলীর প্রতি বিদ্বেষভাবাপন্ন লোকের সংখ্যা অনেক। তাই আমি ‘খাসাইস’ গ্রন্থটি সংকলন করলাম এই আশায় যে, আল্লাহ তাআলা হয়তো তাদের হিদায়াত দান করবেন। অতঃপর তিনি এরপর সাহাবায়ে কিরামের ফযীলত বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেন। তখন তাঁকে বলা হলো—আর আমি তা শুনছিলাম—আপনি কি মুয়াবিয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ফযীলত বর্ণনা করবেন না? তিনি বললেন: আমি কী বর্ণনা করব? এই হাদীসটি কি যে, “হে আল্লাহ, তার পেট যেন তৃপ্ত না হয়”? এরপর প্রশ্নকারী নীরব হয়ে গেলেন।

যাহাবী বলেন: সম্ভবত বলা যেতে পারে যে, এটি মুয়াবিয়ার জন্য একটি বিশেষ মর্যাদা; কেননা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “হে আল্লাহ, আমি যাকে লানত করেছি কিংবা গালমন্দ করেছি, আপনি সেটাকে তার জন্য পবিত্রতা ও রহমত বানিয়ে দিন।”

মুহাদ্দিস মামুন আল-মিসরী বলেন: আমরা ‘ফিদয়া’ বা মুক্তিপণের বছর নাসায়ীর সাথে তারসুসের উদ্দেশ্যে বের হলাম। সেখানে একদল ইমাম একত্রিত হলেন: আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্বল, মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহীম মুরবা‘, আবু আল-আযান এবং কায়লাজাহ(১)। তাঁরা পরামর্শ করলেন যে, শায়খদের নিকট থেকে কে তাঁদের জন্য হাদীস নির্বাচন করবেন? তাঁরা আবু আবদুর রহমান নাসায়ীর ব্যাপারে ঐক্যমতে পৌঁছালেন এবং তাঁরা সকলেই তাঁর নির্বাচনের ভিত্তিতে হাদীস লিপিবদ্ধ করলেন।

হাকিম বলেন: হাদীসের ফিকহ বা সূক্ষ্ম তত্ত্ব বিশ্লেষণে নাসায়ীর আলোচনা অনেক। যে ব্যক্তি তাঁর ‘সুনান’ গ্রন্থটি পর্যবেক্ষণ করবে, সে তাঁর বক্তব্যের চমৎকারিত্বে অভিভূত হবে। হাফেজ আবু আলী আন-নাইসাবুরী বলেন: হাদীস শাস্ত্রে আমাদের অবিসংবাদিত ইমাম আবু আবদুর রহমান নাসায়ী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। আবু তালিব আহমাদ ইবনে নাসর হাফেজ বলেন: নাসায়ী যে ধৈর্য ও কৃচ্ছ্রসাধন করেছেন, তা আর কে করতে পারে? তাঁর নিকট ইবনে লাহিয়াহর হাদীসগুলো প্রতিটি শিরোনাম অনুযায়ী বিদ্যমান ছিল—অর্থাৎ কুতাইবাহর সূত্রে ইবনে লাহিয়াহ থেকে—কিন্তু তিনি তা বর্ণনা করেননি। আবুল হাসান আদ-দারা কুতনী বলেন: আবু আবদুর রহমান তাঁর সমসাময়িক এই শাস্ত্রের সকল পণ্ডিতদের মধ্যে অগ্রগণ্য। হাফেজ ইবনে তাহির বলেন: আমি সাদ ইবনে আলী আয-যানজানীকে জনৈক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তাকে নির্ভরযোগ্য বলেন। তখন আমি বললাম: নাসায়ী তো তাকে দুর্বল বলেছেন। তিনি বললেন:

--------------------------------------------

(১) কায়লাজাহ: কাফ বর্ণে কাসরা এবং লাম বর্ণে ফাতহা যোগে; তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবনে সালিহ ইবনে আবদুর রহমান আল-বাগদাদী, আবু বকর আল-আনমাতী। তিনি একজন নির্ভরযোগ্য হাফেজ, যিনি ২৭১ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ١) যাখীরাতুল উক্ববা ফী শারহিল মুজতবা (পৃষ্ঠা: ٢٠)
يا بُنَيَّ إن لأبي عبد الرحمن شرطا في الرجال أشد من شرط البخاري ومسلم.

قال الحافظ الذهبي: صَدَقَ، فإنه لَيَّنَ جماعةً من رجال صحيحي البخاري ومسلم.

وقال محمَّد بن المظفر الحافظ: سمعت مشايخنا بمصر يصفون اجتهاد النسائي في العبادة بالليل والنهار، وأنه خرج إلى الفداء مع أمير مصر فوصف من شهامته وإقامته السنن المأثورة في فداء المسلمين، واحترازه عن مجالس السلطان الذي خرج معه والانبساط في المأكل، وأنه لم يزل كذلك دأبه إلى أن استشهد بدمشق من جهة الخوارج. وقال الدارقطني: كان أبو بكر بن الحداد الشافعي كثير الحديث، ولم يحدث عن غير النسائي. وقال: رضيت به حجة بيني وبين الله تعالى.

وقال الطبراني في معجمه: حدثنا أبو عبد الرحمن النسائي القاضي بمصر فذكر حديثا ..

وقال أبو عوانة في صحيحه: حدثنا أحمد بن شعيب النسائي قاضي حمصر، حدثنا محمَّد بن قدامة، فذكر حديثا.

قال الحافظ الذهبي: ولم يكن أحد في رأس الثلاثمائة أحفظ من النسائي، هو أحذق بالحديث وعلله ورجاله من مسلم، ومن أبي داود، ومن أبي عيسي، وهو جار في مضْمَار البخاري، وأبي زرعة، إلا أن فيه قليل تشيع، وانحراف عن خصوم الإمام علي، كمعاوية، وعمرو، والله يسامحه. اهـ سير. جـ 14/ ص 133.

وكان النسائي يصوم صوم داود عليه السلام يفطر يوما، ويصوم يوما، وقد تسلم القضاء في أكثر من بلد(1).

--------------------------------------------

(1) انظر تحقيق عمل اليوم والليلة ص 24.
হে বৎস! রাবীদের (বর্ণনাকারীদের) ক্ষেত্রে আবু আব্দুর রহমানের (ইমাম নাসাঈর) শর্ত বুখারী ও মুসলিমের শর্তের চেয়েও কঠোর।

হাফেজ যাহাবী বলেন: তিনি সত্য বলেছেন, কারণ তিনি বুখারী ও মুসলিমের সহীহদ্বয়ের একদল রাবীকে দুর্বল (লাইয়্যিন) সাব্যস্ত করেছেন।

হাফেজ মুহাম্মদ ইবনুল মুজাফ্ফার বলেন: আমি মিশরে আমাদের শায়খদের বলতে শুনেছি যে, তারা দিনরাত ইবাদতের ক্ষেত্রে নাসাঈর কঠোর পরিশ্রমের বর্ণনা দিতেন। আর তিনি মিশরের আমিরের সাথে ফিদা (যুদ্ধবন্দী বিনিময়)-এর অভিযানে বের হয়েছিলেন। তখন তারা তাঁর বীরত্ব, মুসলমানদের বন্দী বিনিময়ের ক্ষেত্রে সুন্নতে মাসূরার অনুসরণ, যে সুলতানের সাথে তিনি বের হয়েছিলেন তাঁর মজলিস পরিহার করা এবং পানাহারের ক্ষেত্রে সংযমী হওয়ার কথা বর্ণনা করেছেন। দামেস্কে খারেজীদের হাতে শহীদ হওয়ার আগ পর্যন্ত তাঁর এই অভ্যাস অব্যাহত ছিল। দারাকুতনী বলেন: আবু বকর ইবনুল হাদ্দাদ শাফেঈ অনেক হাদীসের অধিকারী ছিলেন, তবুও তিনি নাসাঈ ছাড়া আর কারো থেকে হাদীস বর্ণনা করতেন না। তিনি বলতেন: আমি আমার এবং মহান আল্লাহর মাঝে তাঁকে হুজ্জত (প্রমাণ) হিসেবে গ্রহণ করে সন্তুষ্ট হয়েছি।

তাবারানী তাঁর ‘মু’জাম’-এ বলেন: মিশরের বিচারক আবু আব্দুর রহমান নাসাঈ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, অতঃপর তিনি একটি হাদীস উল্লেখ করেন...

আবু আওয়ানা তাঁর ‘সহীহ’-তে বলেন: মিশরের বিচারক আহমদ ইবনে শুআইব নাসাঈ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে কুদামা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, অতঃপর তিনি একটি হাদীস উল্লেখ করেন।

হাফেজ যাহাবী বলেন: তিনশ হিজরীর প্রারম্ভে নাসাঈর চেয়ে বড় কোনো হাফেজ (হাদীস বিশারদ) ছিলেন না। তিনি হাদীস, হাদীসের সূক্ষ্ম ত্রুটি (ইলাল) এবং রাবীদের বিষয়ে মুসলিম, আবু দাউদ এবং আবু ঈসা (তিরমিযী) অপেক্ষা অধিক পারদর্শী ছিলেন। তিনি ইমাম বুখারী এবং আবু যুরআর সমপর্যায়ের ছিলেন; তবে তাঁর মধ্যে সামান্য শিয়াভাব এবং ইমাম আলীর প্রতিদ্বন্দ্বী যেমন মুআবিয়া ও আমরের প্রতি কিছুটা বিমুখতা ছিল—আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন। (সিয়ারু আলামিন নুবালা, খণ্ড ১৪, পৃষ্ঠা ১৩৩)

নাসাঈ দাউদ (আলাইহিস সালাম)-এর ন্যায় রোজা রাখতেন—একদিন রোজা রাখতেন এবং একদিন ভঙ্গ করতেন। তিনি একাধিক শহরে বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেছেন(১)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাহকীক আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ, পৃষ্ঠা ২৪।
(খণ্ড: ١) যাখীরাতুল উক্ববা ফী শারহিল মুজতবা (পৃষ্ঠা: ٢١)
وسئل عن اللحن في الحديث فقال: إن كان شيء تقوله العرب، وإن لم يكن لغةَ غير قريش فلا يُغير؛ لأنّ النبي صلى الله عليه وسلم كان يكلم الناس بكلامهم، وإن كان مما لا يوجد في لغة العرب فرسول الله صلى الله عليه وسلم لا يلحن. ذكره ياقوت في معجمه جـ 5/ ص 282.

 

‌‌وفاته

روى أبو عبد الله بن منده عن حمزة العقبي المصري وغيره: أن النسائي خرج من مصر في آخر عمره إلى دمشق، فسئل بها عن معاوية، وما جاء في فضائله؟ فقال: لا يرضى رأسا برأس حتى يفضل؟ قال: فما زالوا يدفعون في حضنيه(1) حتى أخرج من المسجد، ثم حمل إلى مكة فتوفي بها، كذا قال، وصوابه إلى الرملة.

قال الدارقطني: خرج حاجا فامتحن بدمشق، وأدرك الشهادة، فقال: احملوني إلى مكة، فحمل، وتوفي بها، وهو مدفون بين الصفا والمروة وكان وفاته في شعبان سنة 303، قال: وكان أفقه مشايخ مصر

في عصره وأعلمهم بالحديث، والرجال.

وقال أبو سعيد بن يونس في تاريخه: كان أبو عبد الرحمن النسائي إماما حافظا ثبتا خرج من مصر في شهر ذي القعدة من سنة 302، وتوفي بفلسطين في يوم الاثنين لثلاث عشرة خلت من صفر سنة 303.

قال الذهبي: هذا أصح، فإن ابن يونس حافظ يقظ، وقد أخذ عن النسائي، هو به عارف. اهـ سير جـ 14/ ص 133.

وقد ألف في ترجمته الحافظ المتقن أبو القاسم خلف بن عبد الملك بن بشكوال محدث الأندلس، ومؤرخها، المتوفي سنة 578 هـ جزءًا.

--------------------------------------------

(1) أي جنبيه، وفي شذرات الذهب: خصيتيه.
হাদিসের ব্যাকরণগত ভুল (লাহন) সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: "যদি তা এমন কিছু হয় যা আরবরা বলে থাকে, যদিও তা কুরাইশদের ভাষা না হয়, তবে তা পরিবর্তন করা যাবে না; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের সাথে তাদের নিজস্ব ভাষায় কথা বলতেন। আর যদি তা এমন কিছু হয় যা আরবদের ভাষায় মোটেও পাওয়া যায় না, তবে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো ব্যাকরণগত ভুল করতেন না।" ইয়াকুত তাঁর 'মুজাম' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন (খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ২৮২)।

 

‌‌তাঁর মৃত্যু

আবু আব্দুল্লাহ বিন মানদাহ, হামযাহ আল-উকবি আল-মিসরি এবং অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন যে: ইমাম নাসায়ী তাঁর জীবনের শেষ দিকে মিসর থেকে দামেস্কের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। সেখানে তাঁকে মুয়াবিয়া এবং তাঁর ফজিলত সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসগুলো নিয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়। তিনি উত্তরে বললেন: "তিনি (মুয়াবিয়া) কি সমানে-সমান অবস্থানে থাকাতেও সন্তুষ্ট নন যে তাঁকে শ্রেষ্ঠত্ব দিতে হবে?" বর্ণনাকারী বলেন: তারা অনবরত তাঁর দুই পাজরে(১) আঘাত করতে থাকে যতক্ষণ না তাঁকে মসজিদ থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর তাঁকে মক্কায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানেই তিনি ইন্তেকাল করেন। বর্ণনাটি এভাবেই এসেছে, তবে সঠিক তথ্য হলো তাঁকে ফিলিস্তিনের রামলায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

আদ-দারাকুতনি বলেন: তিনি হজ্জের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন এবং দামেস্কে পরীক্ষার (নির্যাতনের) সম্মুখীন হন ও শাহাদাত লাভ করেন। তিনি বলেছিলেন: "আমাকে মক্কায় নিয়ে চলো।" অতঃপর তাঁকে বহন করে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তিনি সেখানেই ইন্তেকাল করেন। তাঁকে সাফা ও মারওয়ার মধ্যবর্তী স্থানে সমাহিত করা হয়। তাঁর মৃত্যু হয়েছিল ৩০৩ হিজরির শাবান মাসে। তিনি (দারাকুতনি) আরও বলেন: তিনি তাঁর সমকালীন মিসরের শায়খদের মধ্যে সবচেয়ে বড় ফকিহ এবং হাদিস ও বর্ণনাকারীদের (রিজাল) বিষয়ে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ছিলেন।

আবু সাঈদ বিন ইউনুস তাঁর ইতিহাসে বলেন: আবু আব্দুর রহমান আন-নাসায়ী ছিলেন একজন ইমাম, হাফেজ এবং অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য (সাবত) ব্যক্তি। তিনি ৩০২ হিজরির যিলকদ মাসে মিসর থেকে বের হন এবং ৩০৩ হিজরির ১৩ সফর সোমবার ফিলিস্তিনে ইন্তেকাল করেন।

ইমাম আয-যাহাবি বলেন: এটিই অধিকতর সঠিক তথ্য, কারণ ইবনে ইউনুস একজন অত্যন্ত সচেতন হাফেজ ছিলেন এবং তিনি ইমাম নাসায়ী থেকে জ্ঞান অর্জন করেছিলেন, ফলে তিনি তাঁর সম্পর্কে সম্যক অবগত ছিলেন। (সিয়ারু আলামিন নুবালা, খণ্ড ১৪, পৃষ্ঠা ১৩৩)।

আন্দালুসের প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ ও ঐতিহাসিক হাফেজ আবু আল-কাসিম খালাফ বিন আব্দুল মালিক বিন বাশকুয়াল (মৃত্যু ৫৭৮ হিজরি) তাঁর জীবনী নিয়ে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ তাঁর দুই পাজরে; আর 'শাযারাতুয যাহাব' গ্রন্থে এসেছে: তাঁর অণ্ডকোষে।
(খণ্ড: ١) যাখীরাতুল উক্ববা ফী শারহিল মুজতবা (পৃষ্ঠা: ٢٢)
‌‌المسألة الثانية في ذكر مؤلفاته القيمة

كان رحمه الله كثير المؤلفات، له كتب كثيرة في الحديث والعلل وغير ذلك.

فمن أبرزها السنن التي تسمى المجتبى بالباء، أو المجتنى بالنون، المقصودة بكتابة هذا الجامع عليها، وسأفرد عليها الكلام فيما بعد إن شاء الله تعالى.

والسنن الكبرى، وخصائص علي، وعمل اليوم والليلة، وهما

داخلان في الكبرى في بعض النسخ، وكتاب التفسير في مجلد، والكنى، والضعفاء والمتروكون، والتمييز، ومعجم شيوخه، وكتاب الطبقات، وتصنيف في معرفة الأخوة والأخوات، ومسند حديث مالك ابن أنس، ومسند حديث الزهري بعلله، والكلام عليه، ومسند حديث شعبة بن الحجاج، ومسند حديث سفيان بن سعيد الثوري، وكتاب الإغراب، وهو مسند حديث شعبة وسفيان الثوري مما رواه شعبة ولم يروه سفيان، أو رواه سفيان ولم يروه شعبة من الحديث والرجال، ومسند حديث ابن جريج، ومسند حديث يحيى بن سعيد القطان، ومسند حديث فضيل بن عياض، وداود الطائي، ومفضل بن مهلهل الضبي، والجرح والتعديل، والجمعة، ومناسك الحج، وفضائل القرآن الكريم، وهو داخل في سننه الكبرى، وتسمية فقهاء الأمصار من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم ومن بعدهم من أهل المدينة، وتسمية من لم يرو عنه غير رجل واحد، وجزء من حديث عن النبي صلى الله عليه وسلم، ووفاة النبي صلى الله عليه وسلم وإملاآته الحديثية، ومسند منصور بن زاذان الواسطي، وشيوخ الزهري، وذكر من حدث عنه ابن أبي عروبة، ولم يسمع منه(1).

--------------------------------------------

(1) انظر مقدمة تحقيق عمل اليوم والليلة ص 28 - 38.
‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর মূল্যবান রচনাসমূহ প্রসঙ্গে

তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) প্রচুর গ্রন্থ প্রণেতা ছিলেন; হাদীস, ইলাল (হাদীসের সূক্ষ্ম ত্রুটি) এবং অন্যান্য বিষয়ে তাঁর অসংখ্য কিতাব রয়েছে।

সেগুলোর মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ হলো ‘আস-সুনান’, যা ‘আল-মুজতাবা’ (‘বা’ দিয়ে) অথবা ‘আল-মুজতানা’ (‘নুন’ দিয়ে) নামে পরিচিত; এই সংকলনটি রচনার মূল উদ্দেশ্যও সেটিই। ইনশাআল্লাহ তাআলা পরবর্তীতে আমি এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

আরও রয়েছে ‘আস-সুনানুল কুবরা’, ‘খাসাইসু আলী’ এবং ‘আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ’। এই শেষোক্ত কিতাব দুটি

কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে ‘আস-সুনানুল কুবরা’র অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া তাঁর রচনার মধ্যে রয়েছে: এক খণ্ডে ‘তাফসীর’ গ্রন্থ, ‘আল-কুনা’, ‘আদ-দুয়াফা ওয়াল মাতরুকুন’, ‘আত-তাময়্যীয’, তাঁর উস্তাদগণের জীবনী সংবলিত ‘মু’জাম’, ‘কিতাবুত তবাকাত’, ভাই ও বোনদের পরিচিতি বিষয়ক গ্রন্থ, ‘মুসনাদু হাদীসি মালিক ইবনে আনাস’, ‘মুসনাদু হাদীসিয যুহরী’—তার ত্রুটি ও সংশ্লিষ্ট আলোচনাসহ, ‘মুসনাদু হাদীসি শু’বাহ বিন হাজ্জাজ’, ‘মুসনাদু হাদীসি সুফিয়ান বিন সাঈদ আস-সাওরী’, ‘কিতাবুল ইগরাব’—যা মূলত শু’বাহ ও সুফিয়ান আস-সাওরীর বর্ণিত হাদীস ও রাবীদের এমন এক মুসনাদ যেখানে কেবল শু’বাহ বর্ণনা করেছেন কিন্তু সুফিয়ান করেননি অথবা সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন কিন্তু শু’বাহ করেননি। আরও রয়েছে ‘মুসনাদু হাদীসি ইবনে জুরাইজ’, ‘মুসনাদু হাদীসি ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কত্তান’, ‘মুসনাদু হাদীসি ফুযাইল বিন ইয়াদ’, দাউদ আত-তাঈ, মুফাযযাল বিন মুহালহিল আদ-দব্বী, ‘আল-জারহু ওয়াত তা’দীল’, ‘আল-জুমুআহ’, ‘মানাসিকুল হাজ্জ’, ‘ফাযাইলুল কুরআনুল কারীম’—যা তাঁর ‘আস-সুনানুল কুবরা’র অন্তর্ভুক্ত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী এবং তাঁদের পরবর্তী মদীনার অধিবাসী বিভিন্ন জনপদের ফকীহগণের নাম তালিকা, যাঁদের থেকে মাত্র একজন রাবী বর্ণনা করেছেন তাঁদের নাম তালিকা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদীসের একটি ‘জুয’ (খণ্ড), নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাত ও তাঁর হাদীস বিষয়ক ‘ইমলা’ (শ্রুতিলিপি) সমূহ, ‘মুসনাদু মনসুর বিন যাযান আল-ওয়াসিতী’, ‘শুয়ূখুয যুহরী’ এবং ইবনে আবি আরুবাহ যাঁদের থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন অথচ সরাসরি শ্রবণ করেননি তাঁদের উল্লেখ(১)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ‘আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ’র তাহকীককৃত পাণ্ডুলিপির ভূমিকা, পৃষ্ঠা ২৮-৩৮।
(খণ্ড: ١) যাখীরাতুল উক্ববা ফী শারহিল মুজতবা (পৃষ্ঠা: ٢٣)
‌‌المسألة الثالثة في بيان مذهبه في الجرح والتعديل، ومنهجه في التصنيف

كان رحمه الله من المتشددين في الجرح كما نص على ذلك غير واحد من الحفاظ، فقد تقدم قريبا أن سعد بن علي الزنجاني قال: إن لأبي عبد الرحمن النسائي شرطا في الرجال أشد من شرط البخاري ومسلم، وأن الذهبي قال: صدق، فإنه ليَّن جماعة من رجال الصحيحين.

وقد قسم الحافظ أبو الفضل بن طاهر المقدسي أحاديث المجتبى ثلاثة

أقسام، ومثله أبو داود: الأول الصحيح المخرج في الصحيحين، وهو أكثر كتابه. الثاني: صحيح على شرطهما. الثالث: أحاديث أبان عن علتها بما يفهمه أهل المعرفة.

وذكر الشيخ أبو عمرو بن الصلاح في مقدمته عن أبي عبد الله بن منده أنه سمع محمد بن سعد الباوردي بمصر يقول: كان من مذهب أبي عبد الرحمن النسائي أن يخرج عن كل من لم يجمع على تركه، قال ابن منده: ومثله أبو داود، وإلى ذلك أشار العراقي في ألفيته حيث قال:

والنَّسَئي يُخْرجُ مَنْ لَمْ يُجْمعُوا … عَلَيْه تَرْكًا مَذْهَب مُتَّسعُ

وقوله مذهب متسع، أي إن لم يرد به إجماعًا خاصًا، وذلك أن الحافظ ابن حجر رحمه الله قال: إن ذلك إجماع خاص، وذلك أن كل طبقة من نقاد الرجال لا تخلو من متشدد ومتوسط، فمن الأولى شعبة، والثوري، وشعبة أشدهما، ومن الثانية يحيى القطان، وابن مهدي، ويحيى أشدهما، ومن الثالثة: ابن معين، وأحمد، وابن معين أشدهما، ومن الرابعة أبو حاتم، والبخارى، وأبو حاتم أشدهما. فقال النسائي: لا يترك الرجل عندي حتى يجتمع الجميع على تركه، فهذا وثقه ابن مهدي، وضعفه يحيى القطان مثلا لا يُتْرَكُ لما عُرف من تشدد يحيى، ومَن هو
‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ: জারহ ও তা'দীল (সমালোচনা ও গুণাবলি বিশ্লেষণ) বিষয়ে তাঁর মাযহাব এবং সংকলন পদ্ধতিতে তাঁর মানহাজ বর্ণনা প্রসঙ্গে

তিনি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) 'জারহ' বা বর্ণনাকারীদের ত্রুটি বর্ণনার ক্ষেত্রে কঠোরপন্থীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যেমনটি একাধিক হাফিয স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সা'দ ইবন আলী আল-যানজানি বলেছেন: বর্ণনাকারীদের গ্রহণের ক্ষেত্রে আবু আবদুর রহমান আন-নাসায়ীর শর্ত ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিমের শর্তের চেয়েও অধিক কঠোর ছিল। আর ইমাম আয-যাহাবি বলেছেন: তিনি সত্যই বলেছেন, কারণ তিনি (নাসায়ী) সহীহাইন-এর একদল বর্ণনাকারীকে 'লাইয়্যিন' (শিথিল বা দুর্বল) সাব্যস্ত করেছেন।

হাফিয আবু আল-ফজল ইবন তাহির আল-মাকদিসি 'আল-মুজতবা'-এর হাদিসসমূহকে তিন ভাগে বিভক্ত করেছেন, যেমনটি আবু দাউদও করেছেন: প্রথমত: সেই সহীহ হাদিস যা সহীহাইন-এ সংকলিত হয়েছে এবং এটিই তাঁর কিতাবের অধিকাংশ। দ্বিতীয়ত: সেই সহীহ হাদিস যা ইমামদ্বয়ের (বুখারি ও মুসলিম) শর্তানুযায়ী। তৃতীয়ত: সেই সকল হাদিস যেগুলোর ইল্লত বা সূক্ষ্ম ত্রুটি তিনি এমনভাবে ব্যক্ত করেছেন যা বিশেষজ্ঞগণ বুঝতে পারেন।

শায়খ আবু আমর ইবন আস-সালাহ তাঁর 'মুকাদ্দিমাহ'-তে আবু আবদুল্লাহ ইবন মান্দাহর সূত্রে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি মিশরে মুহাম্মদ ইবন সা'দ আল-বাওয়ার্দিকে বলতে শুনেছেন: আবু আবদুর রহমান আন-নাসায়ীর মাযহাব বা নীতি ছিল—যাঁর পরিত্যাগের (তরক) বিষয়ে সর্বসম্মত ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়নি, তাঁর থেকে হাদিস গ্রহণ করা। ইবন মান্দাহ বলেন: আবু দাউদও তাঁর অনুরুপ ছিলেন। আল-ইরাকি তাঁর 'আলফিয়্যাহ'-তে এই দিকেই ইঙ্গিত করে বলেছেন:

নাসায়ী তাঁর হাদিস বর্ণনা করেন যার পরিত্যাগের বিষয়ে সকলে একমত হননি … এটি একটি প্রশস্ত মাযহাব।

তাঁর উক্তি "প্রশস্ত মাযহাব"-এর অর্থ হলো যদি এর দ্বারা কোনো বিশেষ ইজমা বা ঐকমত্য উদ্দেশ্য না করা হয়। হাফিয ইবন হাজার (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন: এটি মূলত একটি বিশেষ ইজমা। কেননা বর্ণনাকারীদের সমালোচকদের (নুক্কাদ) প্রত্যেক স্তরেই কঠোর এবং মধ্যপন্থী—উভয় প্রকারের বিশেষজ্ঞ ছিলেন। প্রথম স্তরের মধ্যে শু'বাহ ও সাওরি রয়েছেন, যাঁদের মধ্যে শু'বাহ অধিকতর কঠোর। দ্বিতীয় স্তরে ইয়াহইয়া আল-কাত্তান ও ইবন মাহদি রয়েছেন, যাঁদের মধ্যে ইয়াহইয়া অধিকতর কঠোর। তৃতীয় স্তরে ইবন মা'ইন ও আহমাদ রয়েছেন, যাঁদের মধ্যে ইবন মা'ইন অধিকতর কঠোর। চতুর্থ স্তরে আবু হাতিম ও আল-বুখারি রয়েছেন, যাঁদের মধ্যে আবু হাতিম অধিকতর কঠোর। এমতাবস্থায় ইমাম নাসায়ী বলেছেন: আমার নিকট কোনো ব্যক্তিকে ততক্ষণ পর্যন্ত বর্জন করা হবে না যতক্ষণ না তাঁর বর্জনের বিষয়ে সকলে একমত হন। উদাহরণস্বরূপ, যাঁকে ইবন মাহদি নির্ভরযোগ্য বলেছেন কিন্তু ইয়াহইয়া আল-কাত্তান দুর্বল বলেছেন, ইয়াহইয়ার কঠোরতা জানা থাকার কারণে সেই ব্যক্তিকে বর্জন করা হবে না, এবং যিনি...
(খণ্ড: ١) যাখীরাতুল উক্ববা ফী শারহিল মুজতবা (পৃষ্ঠা: ٢٤)
مثله في النقد؟ وإذا تقرر ذلك ظهر أن الذي يتبادر إلى الذهن من أن مذهب النسائي في الرجال مذهب متسع ليس كذلك، فكم من رجل أخرج له أبو داود، والترمذي تجنب النسائي إخراجَ حديثه، بل تجنب إخراج حديث جماعة من رجال الصحيحين.

قال الجامع عفا الله عنه:

هذا الذي نقله ابن الصلاح عن ابن منده عن محمَّد بن سعد من أن

مذهب النسائي أن يخرج عن كل من لم يجمع على تركه، وتشبيه ابن منده عمله بعمل أبي داود غير صحيح لمخالفته صنيعه في سننه، بل الصحيح ما تقدم عن سعد بن علي الزنجاني، ووافقه عليه الذهبي فإن من تتبع عمله في سننه يظهر له ذلك، فالنسائي أشد انتقاء بخلاف أبي داود. والله أعلم.

وكَتَبَ السيوطي رحمه الله في مقدمة شرحه لهذا الكتاب المسمى بزهر الربى على المجتبى، ما نصه:

قال الحافظ أبو الفضل بن طاهر في شروط الأئمة: كتاب أبي داود والنسائي ينقسم على ثلاثة أقسام:

الأول: الصحيح المخرج في الصحيحين.

الثاني: صحيح على شرطهما، وقد حكى أبو عبد الله بن منده: أن شرطهما إخراج أحاديث أقوام لم يجمع على تركهم إذا صح الحديث باتصال الإسناد من غير قطع، ولا إرسال فيكون هذا القسم من الصحيح إلا أنه طريق دون طريق ما أخرج البخاري ومسلم في صحيحيهما، بل طريقه طريق ما ترك البخاري ومسلم من الصحيح لما بينا أنهما تركا كثيرا من الصحيح الذي حفظاه.
সমালোচনায় কি তাঁর মতো কেউ আছে? যখন এটি সাব্যস্ত হলো, তখন এটি স্পষ্ট হয়ে গেল যে, রাবী বা বর্ণনাকারীদের ক্ষেত্রে ইমাম নাসায়ীর মাযহাব বা নীতি প্রশস্ত—মনে যে এমন ধারণার উদয় হয় তা সঠিক নয়। কত এমন বর্ণনাকারী রয়েছেন যাদের হাদীস ইমাম আবু দাউদ ও ইমাম তিরমিযী সংকলন করেছেন, অথচ ইমাম নাসায়ী তাদের হাদীস গ্রহণ করা থেকে বিরত থেকেছেন; এমনকি তিনি সহীহায়নের (বুখারী ও মুসলিম) একদল বর্ণনাকারীর হাদীস গ্রহণ করা থেকেও বিরত থেকেছেন।

সংকলক (আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন) বলেন:

ইবনে সালাহ, ইবনে মানদাহর সূত্রে এবং তিনি মুহাম্মদ ইবনে সা'দ থেকে যা বর্ণনা করেছেন যে,

ইমাম নাসায়ীর নীতি হলো এমন প্রত্যেকের থেকে হাদীস গ্রহণ করা যাদের ত্যাগের ব্যাপারে ঐক্যমত্য হয়নি, এবং ইবনে মানদাহ কর্তৃক তাঁর কর্মপদ্ধতিকে ইমাম আবু দাউদের কর্মপদ্ধতির সাথে তুলনা করা সঠিক নয়। কারণ এটি তাঁর 'সুনান'-এ অনুসৃত কর্মপন্থার বিরোধী। বরং সঠিক সেটিই যা পূর্বে সা'দ বিন আলী আল-যানজানী থেকে বর্ণিত হয়েছে এবং ইমাম যাহাবী তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন। কেননা যে ব্যক্তি তাঁর 'সুনান'-এ তাঁর কাজ অনুসরণ করবে, তার কাছে এটি স্পষ্ট হয়ে যাবে। কারণ ইমাম নাসায়ী বর্ণনাকারী নির্বাচনে অনেক বেশি কঠোর ছিলেন, যা ইমাম আবু দাউদের ক্ষেত্রে তেমন নয়। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

এবং ইমাম সুয়ূতী (রাহিমাহুল্লাহ) 'আল-মুজতাবা'র ওপর তাঁর রচিত 'যাহরুর রুবা' নামক ব্যাখ্যাগ্রন্থের ভূমিকায় যা লিখেছেন, তার মূল পাঠ নিম্নরূপ:

হাফেয আবুল ফজল বিন তাহের 'শুরুতুল আইম্মাহ' গ্রন্থে বলেন: আবু দাউদ ও নাসায়ীর কিতাব তিনটি ভাগে বিভক্ত:

প্রথম: সহীহ হাদীস যা সহীহায়নে (বুখারী ও মুসলিম) বর্ণিত হয়েছে।

দ্বিতীয়: যা তাদের উভয়ের শর্তানুযায়ী সহীহ। আবু আব্দুল্লাহ বিন মানদাহ বর্ণনা করেছেন যে, তাদের শর্ত হলো এমন একদল লোকের হাদীস বর্ণনা করা যাদের বর্জনের ব্যাপারে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়নি, যদি হাদীসটি নিরবচ্ছিন্ন সনদের মাধ্যমে বিশুদ্ধ হয়, যাতে কোনো প্রকার বিচ্ছিন্নতা বা ইরসাল (সনদের অসম্পূর্ণতা) না থাকে। ফলে এই অংশটি সহীহ হাদীসের অন্তর্ভুক্ত হবে, তবে এর মান ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম তাঁদের সহীহায়নে যা বর্ণনা করেছেন তার মানের নিচে হবে। বরং এর স্তর হবে ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিমের বর্জনকৃত সহীহ হাদীসগুলোর মতো। কারণ আমরা স্পষ্ট করেছি যে, তাঁরা তাঁদের মুখস্থ থাকা অনেক সহীহ হাদীস বর্জন করেছেন।
(খণ্ড: ١) যাখীরাতুল উক্ববা ফী শারহিল মুজতবা (পৃষ্ঠা: ٢٥)
الثالث: أحاديث أخرجاها من غير قطع منهما بصحتها، وقد أبانا علتها بما يفهمه أهل المعرفة، وإنما أودعا هذا القسم في كتابيهما لأنه رواية قوم لها(1) واحتجاجهم بها فأورداها وبينا سقمها لتزول الشبهة، وذلك إذا لم يجدا له طريقا غيره لأنه عندهما أقوى من رأي الرجال.

قال الجامع عفا الله عنه: هذا الكلام فيه نظر لأن أوله يدل على أنهما ما أوردا تلك الأحاديث إلا لبيان عللها، وآخره يدل على أنهما أورداها للاحتجاج بها حيث قال: إنها أقوى عندهما من رأي الرجال، وهذا تناقض، وأيضا فإن هذا الكلام لا يستقيم مع عمل النسائي إلا إذا أراد السنن الكبرى.

وقال ابن الصلاح: حكى أبو عبد الله بن منده أنه سمع محمَّد بن سعد الباوردي بمصر يقول: كان من مذهب أبي عبد الرحمن النسائي أن يخرج أحاديث من لم يجمع على تركه. قال الحافظ أبو الفضل العراقي: وهذا مذهب متسع(2). قال الحافظ أبو الفضل ابن حجر في نكته على ابن الصلاح: ما حكاه عن الباوردي أن النسائي يخرج أحاديث من لم يجمع على تركه، فإنه أراد بذلك إجماعا خاصا، وذلك أن كل طبقة من نقاد الرجال لا تخلو من متشدد ومتوسط: فمن الأولى شعبة وسفيان إلى آخر ما قدمناه في كلام الحافظ.

وقال أحمد بن محبوب الرملي: سمعت النسائي يقول: لما عزمت على جمع السنن استخرت الله تعالى في الرواية عن شيوخ كان في القلب

--------------------------------------------

(1) كذا النسخة، ولعل الصواب لأجل رواية قوم .. إلخ.

(2) قلت: بل هو كما قاله الحافظ من أن المراد إجماع خاص، وليس كما يتبادر إلى الذهن، هذا كله إن صح هذا المذهب منسوبا إلى النسائي، وإلا فعمله في سننه لا يتمشى عليه، ولا سيما المجتبى، بل ما نقل عنه الآتي قريبا ينافيه، فليس مذهبه مذهب تساهل بل هو لا يزال متشددا، ولا سيما في المجتبى، فتنبه.
তৃতীয়: এমন কিছু হাদিস যা তাঁরা সেগুলোর বিশুদ্ধতার ব্যাপারে নিশ্চিত না হয়েই বর্ণনা করেছেন। তাঁরা সেগুলোর ত্রুটি এমনভাবে স্পষ্ট করেছেন যা কেবল বিশেষজ্ঞরাই বুঝতে পারেন। তাঁরা তাঁদের কিতাবদ্বয়ে এই অংশটি কেবল একারণেই অন্তর্ভুক্ত করেছেন যে, একদল লোক এগুলো বর্ণনা করে(১) এবং এগুলো দ্বারা দলিল পেশ করে; তাই তাঁরা এগুলো উল্লেখ করেছেন এবং এগুলোর দুর্বলতা স্পষ্ট করেছেন যাতে সংশয় দূর হয়। আর এটি তাঁরা তখনই করেছেন যখন এর জন্য অন্য কোনো সূত্র পাননি, কারণ তাঁদের নিকট এটি মানুষের ব্যক্তিগত মতামতের তুলনায় অধিক শক্তিশালী।

সংকলক (আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন) বলেন: এই বক্তব্যে আপত্তির অবকাশ আছে; কারণ এর প্রথমাংশ ইঙ্গিত দেয় যে, তাঁরা এই হাদিসগুলো কেবল সেগুলোর ত্রুটি বর্ণনার জন্যই এনেছেন, অথচ শেষাংশ বলছে যে তাঁরা এগুলো দলিল হিসেবে ব্যবহারের জন্য এনেছেন—যেখানে বলা হয়েছে: এটি তাঁদের নিকট মানুষের রায়ের চেয়ে শক্তিশালী। এটি একটি স্ববিরোধিতা। অধিকন্তু, এই কথাটি নাসায়ীর কর্মপদ্ধতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, যদি না এর দ্বারা 'সুনান আল-কুবরা' উদ্দেশ্য করা হয়।

ইবনুস সালাহ বলেন: আবু আব্দুল্লাহ ইবনে মানদাহ বর্ণনা করেছেন যে, তিনি মিসরে মুহাম্মদ ইবনে সা'দ আল-বাওয়ারদীকে বলতে শুনেছেন: আবু আব্দুর রহমান আন-নাসায়ীর পদ্ধতি ছিল এমন ব্যক্তিদের হাদিস বর্ণনা করা যাদের বর্জন করার ব্যাপারে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়নি। হাফেজ আবুল ফজল আল-ইরাকী বলেন: এটি একটি প্রশস্ত পদ্ধতি(২)। হাফেজ আবুল ফজল ইবনে হাজার ইবনুস সালাহ-এর ওপর রচিত তাঁর 'নুকাত' গ্রন্থে বলেন: বাওয়ারদী থেকে বর্ণিত নাসায়ীর এই নীতি যে, তিনি এমন বর্ণনাকারীর হাদিস গ্রহণ করেন যাকে বর্জনের ব্যাপারে ইজমা হয়নি—এখানে তিনি একটি বিশেষ ইজমা বা ঐকমত্য বুঝিয়েছেন। কেননা বর্ণনাকারীদের সমালোচকদের প্রতিটি স্তরেই কঠোর এবং মধ্যপন্থী বিশেষজ্ঞ বিদ্যমান। প্রথম স্তরে রয়েছেন শু'বাহ এবং সুফিয়ান—যেভাবে আমরা ইতিপূর্বে হাফেজের বক্তব্যে উল্লেখ করেছি।

আহমাদ ইবনে মাহবুব আল-রামলি বলেন: আমি নাসায়ীকে বলতে শুনেছি: যখন আমি সুনান সংকলনের সংকল্প করলাম, তখন এমন কিছু শাইখের নিকট থেকে বর্ণনা করার ব্যাপারে আল্লাহর নিকট ইস্তিখারা করলাম যাদের ব্যাপারে অন্তরে দ্বিধা ছিল...

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে, সম্ভবত সঠিক পাঠ হবে: একদল লোকের বর্ণনার খাতিরে... ইত্যাদি।

(২) আমি (গ্রন্থকার) বলছি: বরং বিষয়টি হাফেজ যেমনটি বলেছেন—অর্থাৎ এখানে বিশেষ ঐকমত্য উদ্দেশ্য, যা সাধারণভাবে মনে উদয় হয় তা নয়। এই সবটুকুই তখন সঠিক হবে যদি এই পদ্ধতিটি নাসায়ীর দিকে সম্বন্ধ করা শুদ্ধ হয়; অন্যথায় তাঁর সুনানে বর্ণিত কর্মপদ্ধতি এর অনুকূলে যায় না, বিশেষ করে 'আল-মুজতাবা'র ক্ষেত্রে। বরং শীঘ্রই তাঁর থেকে যা বর্ণিত হবে তা এর পরিপন্থী। তাঁর মাযহাব বা নীতি শিথিলতাপূর্ণ নয়, বরং তিনি সর্বদা কঠোরতা বজায় রাখেন, বিশেষ করে 'আল-মুজতাবা'র ক্ষেত্রে। সুতরাং বিষয়টি খেয়াল রাখা উচিত।
(খণ্ড: ١) যাখীরাতুল উক্ববা ফী শারহিল মুজতবা (পৃষ্ঠা: ٢٦)
منهم بعض الشيء فوقعت الخيرة على تركهم فتركت جملة من الحديث كنت أعلو فيها عنهم. قال الحافظ أبو طالب أحمد بن نصر شيخ الدارقطني: مَن يَصبرُ على ما يَصبر عليه النسائي؟ كان عنده حديث ابن لهيعة ترجمة ترجمة فما حدث عنه بشيء. قال الحافظ ابن حجر: وكان عنده عاليا عن قتيبة عنه، ولم يحدث به لا في السنن ولا في غيرها.

وقال أبو جعفر بن الزبير: أولى ما أرشدُ إليه ما اتفق المسلمون على اعتماده: وذلك الكتب الخمسة، والموطأ الذي تقدمها وضعا، ولم يتأخر عنها رتبة، وقد اختلف مقاصدهم فيها، وللصحيحين فيها شفوف، وللبخاري لمن أراد التفقه مقاصد جميلة، ولأبي داود في حصر أحاديث الأحكام واستيعابها ما ليس لغيره، وللترمذي في فنون الصناعة الحديثية ما لم يشاركه غيره، وقد سلك النسائي أغمض تلك

المسالك وأجلها.

وقال الحسن المعافري: إذا نظرت إلى ما يخرجه أهل الحديث فما خرجه النسائي أقرب إلى الصحة مما خرجه غيره. وقال الإمام أبو عبد الله بن رُشَيد: كتاب النسائي أبدع الكتب المصنفة في السنن تصنيفا، وأحسنها ترصيفا، وكان كتابه جامعا بين طريقي البخاري ومسلم، مع حظ كثير من بيان العلل.

وبالجملة فكتاب السنن أقل الكتب بعد الصحيحين حديثًا ضعيفًا، ورجلا مجروحًا(1) ويقاربه كتاب أبي داود، وكتاب الترمذي، ويقابله من الطرف الآخر كتاب ابن ماجه فإنه تفرد فيه بإخراج أحاديث عن رجال متهمين بالكذب وسرقة الأحاديث، وبعض تلك الأحاديث لا تعرف إلا من جهتهم، مثل حَبيب بن أبي حَبيب كاتب مالك، والعلاء بن زيد،

--------------------------------------------

(1) وسيأتي في كلام السخاوي، أنه إنما أخروه عن أبي داود والترمذي لتأخره عنهما وفاة.
তাদের থেকে কিছুটা (সংশয় জেগেছিল), তাই তাদের বর্জন করাই শ্রেয় মনে হলো। ফলে আমি একগুচ্ছ হাদিস পরিত্যাগ করেছি যা তাদের মাধ্যমে আমার নিকট উচ্চ সনদে পৌঁছেছিল। হাফিজ আবু তালিব আহমাদ ইবনে নাসর—যিনি দারা কুতনীর উস্তাদ—বলেন: নাসায়ীর ন্যায় ধৈর্য কে ধারণ করতে পারে? তাঁর নিকট ইবনে লাহীআহর হাদিসগুলো অধ্যায় ভিত্তিক বিন্যস্ত ছিল, তবুও তিনি তাঁর থেকে কিছুই বর্ণনা করেননি। হাফিজ ইবনে হাজার বলেন: তাঁর কাছে কুতাইবাহর সূত্রে ইবনে লাহীআহর হাদিসগুলো উচ্চ সনদে ছিল, কিন্তু তিনি তা 'সুনান' বা অন্য কোনো গ্রন্থে বর্ণনা করেননি।

আবু জাফর ইবনুল জুবাইর বলেন: আমি যা অনুসরণের পরামর্শ দিই তার মধ্যে সর্বোত্তম হলো মুসলিম উম্মাহর সর্বসম্মত নির্ভরযোগ্য গ্রন্থসমূহ। আর সেগুলো হলো কুতুবে খামসাহ (পাঁচটি কিতাব) এবং মুয়াত্তা, যা রচনার দিক থেকে অগ্রগামী এবং মর্যাদার দিক থেকেও পিছিয়ে নেই। এগুলোতে তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ভিন্ন ভিন্ন ছিল। সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) এ ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী। যারা ফিকহী গভীরতা অর্জন করতে চান তাদের জন্য ইমাম বুখারীর চমৎকার লক্ষ্যসমূহ রয়েছে। আহকামের হাদিসসমূহ সীমাবদ্ধ ও সংকলন করার ক্ষেত্রে ইমাম আবু দাউদের এমন বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা অন্যদের নেই। হাদিসশাস্ত্রের বিভিন্ন সূক্ষ্ম বিদ্যায় ইমাম তিরমিযীর যে অংশ রয়েছে তাতে অন্য কেউ তাঁর অংশীদার নয়। আর ইমাম নাসায়ী এসকল পদ্ধতির মধ্যে সবচেয়ে সূক্ষ্ম ও

মহান পথটি অবলম্বন করেছেন।

হাসান আল-মা'আফিরী বলেন: আপনি যদি হাদিসবিশারদগণের সংকলিত হাদিসগুলোর দিকে তাকান, তবে দেখতে পাবেন ইমাম নাসায়ী যা বর্ণনা করেছেন তা অন্যদের বর্ণিত হাদিসের চেয়ে সহীহ হওয়ার ক্ষেত্রে অধিক নিকটবর্তী। ইমাম আবু আব্দুল্লাহ ইবনে রুশাইদ বলেন: সুনান গ্রন্থসমূহের মধ্যে ইমাম নাসায়ীর কিতাবটি রচনার বিন্যাসে সবচেয়ে উদ্ভাবনী এবং চমৎকার সাজানো। তাঁর কিতাবটি বুখারী ও মুসলিম উভয়ের পদ্ধতির সমন্বয়কারী এবং এতে হাদিসের ত্রুটি বর্ণনার ব্যাপক সমাবেশ ঘটেছে।

সারকথা হলো, সহীহাইন-এর পরে সুনান (নাসায়ী) গ্রন্থটিই দুর্বল হাদিস ও ত্রুটিপূর্ণ বর্ণনাকারীর দিক থেকে সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন(১) এর কাছাকাছি হলো আবু দাউদ ও তিরমিযীর কিতাব। পক্ষান্তরে এর বিপরীতে রয়েছে ইবনে মাজাহর কিতাব; কেননা তিনি এতে এমন বর্ণনাকারীদের থেকে হাদিস চয়নে একক হয়ে গেছেন যারা মিথ্যাচার ও হাদিস চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত। এসব হাদিসের কিছু কেবল তাদের মাধ্যমেই পরিচিত, যেমন মালিকের লেখক হাবীব ইবনে আবু হাবীব এবং আ’লা ইবনে যাইদ,

--------------------------------------------

(১) সামনে আল্লামা সাখাভীর বক্তব্যে আসবে যে, মূলত তাঁর মৃত্যু আবু দাউদ ও তিরমিযীর পরে হওয়ার কারণেই তারা এই গ্রন্থটিকে তাঁদের গ্রন্থের পরে স্থান দিয়েছেন।
(খণ্ড: ١) যাখীরাতুল উক্ববা ফী শারহিল মুজতবা (পৃষ্ঠা: ٢٧)
وداود بن المحبر، وعبد الوهاب بن الضحاك، وإسماعيل بن زياد السكوني، وعبد السلام بن يحيى أبي الجنوب، وغيرهم.

وأما ما حكاه ابن طاهر عن أبي زرعة الرازي أنه نظر فيه فقال: لعله لا يكون فيه تمام ثلاثين حديثا مما فيه ضعف فهي حكاية لا تصح، لانقطاع سندها، وإن كانت محفوظة فلعله أراد ما فيه من الأحاديث الساقطة إلى الغاية، أو كأنه ما رأى من الكتاب إلا جزاء منه فيه هذا القدر، وقد حكم أبو زرعة على أحاديث كثيرة منه بكونها باطلة أو ساقطة، أو منكرة، وذلك محكي في كتاب العلل لابن أبي حاتم.

وقال محمَّد بن معاوية الأحمر -الراوي عن النسائي- قال النسائي: كتاب السنن كله صحيح، وبعضه معلول، إلا أنه لم يبين علتة، والمتتخب المسمى بالمجتبى صحيح كله. وذكر بعضهم أن النسائي لما صنف السنن الكبرى أهداه إلى أمير الرملة، فقال له الأمير: أَكُلُّ ما في هذا صحيح؟ قال: لا، قال: فجرد الصحيح منه فصنف المجتبى، وهو بالباء الموحدة، قال الزركشي في تخريج الرافعي: ويقال: بالنون أيضا، وقال القاضي تاج الدين السبكي: سنن النسائي التي هي إحدى الكتب الستة هي الصغرى، لا الكبرى وهي التي يخرجون عليها الرجال، ويعملون الأطراف.

قال الجامع عفا الله عنه: في هذا الكلام نظر، فإن العلماء أدخلوا الكبرى في الأطراف أيضا، كما فعل أبو الحجاج المزي وغيره، وسيأتي مزيد بسط لذلك إن شاء الله تعالى.

وقال الحافظ أبو الفضل ابن حجر: قد أطلق اسم الصحة على كتاب النسائي أبو علي النيسابوري، وأبو أحمد بن عدي، وأبو الحسن الدارقطني، وأبو عبد الله الحاكم، وابن منده، وعبد الغني بن سعيد،
দাউদ বিন আল-মুহাব্বার, আবদুল ওয়াহহাব বিন আদ-দাহহাক, ইসমাঈল বিন যিয়াদ আস-সাকুনি, আবদুস সালাম বিন ইয়াহইয়া আবুল জুনুব এবং আরও অনেকে।

আর ইবনে তাহির আবু জুরআহ আর-রাজি থেকে যা বর্ণনা করেছেন যে, তিনি এটি পর্যবেক্ষণ করে বলেছিলেন: 'সম্ভবত এতে পূর্ণ ত্রিশটি হাদিসও হবে না যাতে দুর্বলতা রয়েছে'—এটি এমন এক বর্ণনা যা বিশুদ্ধ নয়, কারণ এর সূত্র (সনদ) বিচ্ছিন্ন। আর যদি এটি সংরক্ষিতও হয়ে থাকে, তবে সম্ভবত তিনি এর মধ্যকার সেই হাদিসগুলোকে বুঝিয়েছেন যেগুলো চূড়ান্ত পর্যায়ের ত্রুটিযুক্ত বা পরিত্যক্ত, অথবা সম্ভবত তিনি কিতাবটির কেবল একটি অংশ দেখেছিলেন যাতে এই পরিমাণ হাদিস ছিল। অথচ আবু জুরআহ এর অনেক হাদিসের ব্যাপারে বাতিল, পরিত্যক্ত কিংবা মুনকার হওয়ার হুকুম দিয়েছেন এবং তা ইবনে আবি হাতিমের 'কিতাবুল ইলাল'-এ বর্ণিত হয়েছে।

ইমাম নাসাঈর ছাত্র মুহাম্মদ বিন মুয়াবিয়া আল-আহমার বলেন, নাসাঈ বলেছেন: 'সুনান কিতাবটির পুরোটাই সহিহ, তবে এর কিছু অংশ ত্রুটিযুক্ত (মালুল), কিন্তু তিনি তার ত্রুটিগুলো স্পষ্ট করেননি। আর আল-মুজতবা নামক নির্বাচিত সংকলনটি সম্পূর্ণ সহিহ।' কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম নাসাঈ যখন 'আস-সুনানুল কুবরা' সংকলন করলেন, তখন তা রামলার আমিরের নিকট উপহার হিসেবে পাঠালেন। আমির তাকে জিজ্ঞেস করলেন: 'এর মধ্যে যা কিছু আছে তার সবই কি সহিহ?' তিনি বললেন: 'না'। আমির বললেন: 'তাহলে এর থেকে কেবল সহিহগুলো পৃথক করে দিন।' ফলে তিনি 'আল-মুজতবা' সংকলন করেন। এটি 'বা' বর্ণ যোগে (মুজতবা) লিখিত। যারাকাশি 'তাখরিজুল রাফিঈ'-তে বলেছেন: এটি 'নুন' বর্ণ যোগেও (মুনতাকা) বলা হয়। কাজী তাজউদ্দীন আস-সুবকি বলেন: 'সুনানে নাসাঈ যা ছয়টি গ্রন্থের (কুতুবে সিতাহ) অন্যতম, তা হলো আস-সুনানুল সুগরা, কুবরা নয়। আর এটিই সেই গ্রন্থ যার বর্ণনাকারীদের ওপর ভিত্তি করে জীবনীগ্রন্থ রচিত হয় এবং যার ওপর ভিত্তি করে আতরাফ গ্রন্থসমূহ সংকলন করা হয়।'

সংকলক (আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন) বলেন: এই বক্তব্যের ব্যাপারে পর্যালোচনার অবকাশ আছে, কেননা উলামায়ে কেরাম 'আস-সুনানুল কুবরা'কেও আতরাফ গ্রন্থসমূহের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যেমনটি করেছেন আবুল হাজ্জাজ আল-মিজ্জি ও অন্যান্যরা। ইনশাআল্লাহ এ বিষয়ে সামনে আরও বিস্তারিত আলোচনা আসবে।

হাফেজ আবুল ফজল ইবনে হাজার বলেন: আবু আলি আন-নাইসাবুরি, আবু আহমাদ বিন আদি, আবু হাসান আদ-দারাকুতনি, আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম, ইবনে মানদাহ এবং আব্দুল গনি বিন সাঈদ ইমাম নাসাঈর কিতাবের ওপর 'সহিহ' নাম প্রয়োগ করেছেন।
(খণ্ড: ١) যাখীরাতুল উক্ববা ফী শারহিল মুজতবা (পৃষ্ঠা: ٢٨)
وأبو يعلى الخليلي، وأبو علي بن السكن، وأبو بكر الخطيب وغيرهم.

وقال الخليلي في الإرشاد في ترجمة بعض الرواة الدينوريين: سمع من أبي بكر بن السني صحيح أبي عبد الرحمن النسائي.

وقال أبو عبد الله بن منده: الذين خرجوا الصحيح أربعة: البخاري، ومسلم، وأبو داود، والنسائي.

وقال السلفي: الكتب الخمسة اتفق على صحتهما علماء المشرق والمغرب.

قال النووي: مراده أن معظم كتب الثلاثة سوى الصحيحين يحتج به.

وقال الزركشي في نكته عَلى ابن الصلاح تسمية الكتب الثلاثة صحاحا: إما باعتبار الأغلب لأن غالبها الصحاح والحسان، وهي ملحقة بالصحاح، والضعيف منها ربما التحق بالحسن، فإطلاق الصحة عليها من باب التغليب. اهـ ما كتبه السيوطي في مقدمة شرحه. جـ 1/ ص 6.

وكتب محقق عمل اليوم والليلة للمصنف في دراساته فوائد حسنة أحببت إيرادها هنا وإن كان فيها طول لحسنها. قال بَعْدَ نقل ما تقدم عن الحافظ وغيره: فبهذا يظهر أن النسائي أخرج أحاديث الثقات فقط، والآخرون نص على ضعفهم كما يظهر من خلال سننه، فهذا تتبعناها وجدنا أنه يتوخى إخراج أقوى ما في الباب من الأحاديث ويعتمد العدالة والضبط في الحديث بقطع النظر عن المعتقد والاتجاه المذهبي، فقد روى عن الجُوزَجَاني مثلا، وفيه انحراف عن علي وأهل الكوفة، وهو -يعني النسائي- ميال إلى التشيع كما تقدم، وأخرج عن عمر بن سعد بن أبي وقاص المدني، وهو الذي كان أميرًا على الجيش الذي قتل الحسين ابن علي رضي الله عنهما، وكذلك وثق أسد بن وداعة، وهو ناصبي شديد النصب، كما روى عن الأجلح في اليوم والليلة، وكان مسرفا في
এবং আবু ইয়ালা আল-খালিলি, আবু আলী ইবন আস-সাকান, আবু বকর আল-খাতিব এবং অন্যান্যগণ।

এবং আল-খালিলি ‘আল-ইরশাদ’ গ্রন্থে দিনাওয়ারি জনৈক বর্ণনাকারীর জীবনীতে বলেছেন: তিনি আবু বকর ইবন আস-সুন্নি থেকে আবু আবদুর রহমান আন-নাসায়ির ‘সহিহ’ শ্রবণ করেছেন।

আবু আব্দুল্লাহ ইবন মানদাহ বলেছেন: যারা ‘সহিহ’ সংকলন করেছেন তারা চারজন: আল-বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ এবং আন-নাসায়ি।

আস-সালাফি বলেছেন: প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের আলিমগণ এই পাঁচটি কিতাবের বিশুদ্ধতার (সহিহ হওয়ার) বিষয়ে একমত হয়েছেন।

আন-নওয়াবি বলেছেন: তার উদ্দেশ্য হলো, সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম) ব্যতীত বাকি তিনটি কিতাবের অধিকাংশ বর্ণনা দলিল হিসেবে গ্রহণীয়।

আয-যারকাশি ইবন আস-সালাহর গ্রন্থের ওপর তার টীকা বা নুকতাহ-তে এই তিনটি কিতাবকে ‘সহিহ’ হিসেবে নামকরণের বিষয়ে বলেছেন: এটি হয়তো অধিকাংশের বিবেচনায়, কেননা এগুলোর অধিকাংশ বর্ণনাই সহিহ ও হাসান, যা সহিহর পর্যায়ভুক্ত; আর এগুলোর মধ্যে থাকা দুর্বল বর্ণনাগুলো অনেক সময় হাসান পর্যায়ে উন্নীত হয়। তাই এগুলোর ওপর ‘সহিহ’ শব্দের প্রয়োগ প্রাবল্যের ভিত্তিতে করা হয়েছে। ইমাম আস-সুয়ুতি তার ব্যাখ্যাগ্রন্থের ভূমিকায় যা লিখেছেন তা এখানেই সমাপ্ত। খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৬।

অত্র লেখকের ‘আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ’ গ্রন্থের মুহাক্কিক বা সম্পাদক তার গবেষণায় কিছু উত্তম ফায়েদা উল্লেখ করেছেন যা আমি এখানে উপস্থাপন করা পছন্দ করছি, যদিও তার চমৎকারিত্বের কারণে তা কিছুটা দীর্ঘ। হাফিজ (ইবন হাজার) ও অন্যদের থেকে পূর্বোক্ত উদ্ধৃতিগুলো প্রদানের পর তিনি বলেছেন: এর মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে, নাসায়ি কেবল নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের হাদিসই সংকলন করেছেন, আর অন্যান্য যাদের দুর্বলতার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যেমনটি তার সুনান থেকে প্রতীয়মান হয়—আমরা এটি অনুসন্ধান করে দেখেছি যে, তিনি সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ে সবচেয়ে শক্তিশালী হাদিসগুলো সংকলনের চেষ্টা করেন এবং হাদিসের ক্ষেত্রে বর্ণনাকারীর আকিদা ও মাযহাবি ঝোঁক বিবেচনা না করে বরং তার ন্যায়পরায়ণতা ও মুখস্থশক্তির ওপর নির্ভর করেন। উদাহরণস্বরূপ, তিনি আল-জুজাজানি থেকে বর্ণনা করেছেন, অথচ তার মধ্যে আলী (রা.) ও কুফাবাসীদের প্রতি বিরাগ ছিল; আর তিনি—অর্থাৎ নাসায়ি—শিয়া মতাদর্শের প্রতি কিছুটা অনুরাগী ছিলেন যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। তিনি ওমর ইবন সাদ ইবন আবি ওয়াক্কাস আল-মাদানি থেকেও হাদিস বর্ণনা করেছেন, যিনি সেই সেনাবাহিনীর সেনাপতি ছিলেন যেটি হুসাইন ইবন আলী (রা.)-কে শহীদ করেছিল। একইভাবে তিনি আসাদ ইবন ওয়াদায়াহকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন, অথচ তিনি ছিলেন একজন কঠোর নাসিবি (আলী রা.-এর বিদ্বেষী)। তদ্রূপ তিনি ‘আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ’ গ্রন্থে আজলাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, যিনি ছিলেন অত্যন্ত বাড়াবাড়ি করা...
(খণ্ড: ١) যাখীরাতুল উক্ববা ফী শারহিল মুজতবা (পৃষ্ঠা: ٢٩)
التشيع، وروى عن شمر بن عطية الأسدي في اليوم والليلة، وكان عثمانيا، وروايته عن الشيعة الحفاظ الضابطين، ولو كانوا مسرفين فكثيرة خصوصا في مسند علي كما يتبين لنا من خلال كتب الرجال؛ لأنّ المسند لم نره.

وإننا لنلاحظ أن القسم الثالث من الأحاديث التي أخرجها، وفيها ضعف كان يخرجها لأنه لم يجد غيرها، أو ذكرها لزيادة فيها على الأحاديث الصحيحة كما بين ذلك رحمه الله.

فانظر مثلا قوله: أخبرنا أبو حاتم السجستاني، قال: حدثنا عبد الله ابن رجاء، قال: حدثني سعيد بن سلمة، قال حدثني عمرو بن عمرو مولى المطلب بن عبد الله بن عبد المطلب، عن أنس بن مالك: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان إذا دعا قال: "اللهم إني أعوذ بك من الهم والحزن، والعجز، والكسل، والبخل، والجبن، وضلع الدين، وغلبة الرجال".

قال أبو عبد الرحمن: سعيد بن سلمة شيخ ضعيف، وإنما أخرجناه للزيادة في الحديث، وكان قد أخرجه بإسناد آخر من غير طريق سعيد بن سلمة. انظر المجتبى، 8/ 258.

وكما في حديث الخطبة قبل يوم التروية الذي رواه جابر بن عبد الله، وفيه إرسال علي رضي الله عنه إلى الموسم، وقراءة سورة براءة، وأبو بكر أمير الموسم، فعقب ذلك بقوله: قال أبو عبد الرحمن: ابن خثيم عبد الله بن عثمان بن خثيم ليس بالقوي في الحديث، وإنما أخرجت هذا لئلا يجعل ابن جريج عن أبي الزبير، وما كتبناه إلا عن إسحاق بن إبراهيم، ويحيى بنُ سعيد القطانُ لم يترك ابنَ خثيم ولا عبدُ الرحمن، إلا أن علي بن المديني قال: ابنُ خثيم منكرُ الحديث، وكان علي بن المديني خُلقَ للحديث.
শিয়া মতবাদ, এবং তিনি 'আল-ইয়াউম ওয়াল-লাইলাহ' গ্রন্থে শামার বিন আতিয়্যাহ আল-আসাদি থেকে বর্ণনা করেছেন, অথচ তিনি ছিলেন উসমানি (উসমানের সমর্থক)। হাফিয ও নির্ভরযোগ্য শিয়া বর্ণনাকারীদের থেকে তাঁর বর্ণনা গ্রহণ করার বিষয়টি—যদিও তারা চরমপন্থীও হন না কেন—তা বিপুল সংখ্যায় লক্ষ্য করা যায়, বিশেষ করে 'মুসনাদে আলী' গ্রন্থে, যা রিজাল শাস্ত্রের গ্রন্থগুলোর মাধ্যমে আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়; কারণ আমরা সেই মুসনাদটি দেখিনি।

আমরা লক্ষ্য করি যে, তাঁর সংকলিত হাদীসসমূহের তৃতীয় ভাগ যাতে কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে, তিনি সেগুলো সংকলন করেছেন কারণ তিনি তার পরিবর্তে অন্য কোনো হাদীস পাননি, অথবা সহীহ হাদীসগুলোর অতিরিক্ত কোনো বর্ধিত তথ্যের (যিয়াদাহ) কারণে তিনি তা উল্লেখ করেছেন, যেমনটি তিনি (রহিমাহুল্লাহ) নিজেই স্পষ্ট করেছেন।

উদাহরণস্বরূপ তাঁর এই উক্তিটি দেখুন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হাতিম আস-সিজিস্তানি, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে রাজা, তিনি বলেন: আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন সাঈদ বিন সালামাহ, তিনি বলেন: আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন মুত্তালিব বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুত্তালিবের মুক্তদাস আমর বিন আমর, আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন দুআ করতেন তখন বলতেন: "হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি দুশ্চিন্তা ও বিষণ্ণতা থেকে, অক্ষমতা ও অলসতা থেকে, কৃপণতা ও ভীরুতা থেকে, ঋণের বোঝা ও মানুষের দমন-পীড়ন থেকে।"

আবু আব্দুর রহমান বলেন: সাঈদ বিন সালামাহ একজন দুর্বল শায়খ (বর্ণনাকারী), আমরা তাঁর বর্ণনাটি কেবল হাদীসে বিদ্যমান অতিরিক্ত তথ্যের কারণে এনেছি। অথচ তিনি সাঈদ বিন সালামাহর পথ ব্যতিরেকে অন্য একটি সনদেও হাদীসটি বর্ণনা করেছিলেন। দেখুন: আল-মুজতাবা, ৮/ ২৫৮।

এবং যেমনটি ‘ইয়াওমুত তারবিয়া’র (৮ই জিলহজ) পূর্বের খুতবার হাদীসে এসেছে যা জাবির বিন আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন। এতে আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে হজ্জের মৌসুমে পাঠানো এবং সূরা বারাআত পাঠ করার উল্লেখ রয়েছে, যখন আবু বকর ছিলেন হজ্জের আমীর। এরপর তিনি মন্তব্য করেন: আবু আব্দুর রহমান বলেন: ইবনে খুসায়ম অর্থাৎ আব্দুল্লাহ বিন উসমান বিন খুসায়ম হাদীস শাস্ত্রে শক্তিশালী নন। আমি এই বর্ণনাটি কেবল এজন্যই এনেছি যাতে ইবনে জুরাইজের বর্ণনাকে আবু যুহাইরের বর্ণনার স্থলাভিষিক্ত মনে করা না হয়। আর আমরা এটি ইসহাক বিন ইব্রাহিম ছাড়া আর কারো সূত্রে লিপিবদ্ধ করিনি। ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তান কিংবা আব্দুর রহমান কেউই ইবনে খুসায়মকে বর্জন করেননি, তবে আলী ইবনুল মাদিনী বলেছেন: ইবনে খুসায়ম ‘মুনকারুল হাদীস’ (অগ্রহণযোগ্য হাদীস বর্ণনাকারী)। আর আলী ইবনুল মাদিনী যেন হাদীস শাস্ত্রের জন্যই সৃষ্টি হয়েছিলেন।