(খণ্ড: ১) আদ দুররুল মানসূর ফিত তাফসীরি বিল মাসূর (পৃষ্ঠা: -)
الدر المنثور في التفسير بالمأثور   (الجلال السيوطي)

القسم: التفسير


الكتاب: الدر المنثور

المؤلف: عبد الرحمن بن أبي بكر، جلال الدين السيوطي (ت 911هـ)

الناشر: دار الفكر - بيروت

عدد الأجزاء: 8

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আদ-দুররুল মানসুর ফিত-তাফসির বিল-মাসুর   (আল-জালাল আস-সুয়ূতী)

বিভাগ: তাফসীর


গ্রন্থ: আদ-দুররুল মানসুর

লেখক: আবদুর রহমান বিন আবু বকর, জালালুদ্দীন আস-সুয়ূতী (মৃত্যু ৯১১ হিজরী)

প্রকাশক: দারুল ফিকর - বৈরুত

খণ্ড সংখ্যা: ৮

[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুলহিজ্জাহ ১৪৩১

(খণ্ড: ١) আদ দুররুল মানসূর ফিত তাফসীরি বিল মাসূর (পৃষ্ঠা: ٩)
‌‌مُقَدّمَة الْمُؤلف

بسم الله الرحمن الرحيم

الْحَمد لله: أَحْيَا بِمَا شَاءَ مآثر الْآثَار بعد الدُّثُور ووفق لتفسير كِتَابه الْعَزِيز بِمَا وصل إِلَيْنَا بِالْإِسْنَادِ العالي من الْخَبَر الْمَأْثُور وَأشْهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَحده لَا شريك لَهُ شَهَادَة تضَاعف لصَاحِبهَا الأجور وَأشْهد أَن سيدنَا مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله الَّذِي أَسْفر فجره الصَّادِق فمحا ظلمات أهل الزيغ والفجور صلى الله وَسلم عَلَيْهِ وعَلى آله وَصَحبه ذَوي الْعلم الْمَرْفُوع وَالْفضل الْمَشْهُور صَلَاة وَسلَامًا دائمين ممر اللَّيَالِي والدهور

وَبعد: فَلَمَّا ألفت كتاب ترجمان الْقُرْآن وَهُوَ التَّفْسِير الْمسند عَن رَسُول الله وَأَصْحَابه رضي الله عنهم وَتمّ بِحَمْد الله فِي مجلدات فَكَانَ مَا أوردته فِيهِ من الْآثَار بأسانيد الْكتب الْمخْرج مِنْهَا واردات رَأَيْت قُصُور أَكثر الهمم عَن تَحْصِيله ورغبتهم فِي الِاقْتِصَار على متون الْأَحَادِيث دون الْإِسْنَاد وتطويله فخلصت مِنْهُ هَذَا الْمُخْتَصر مُقْتَصرا فِيهِ على متن الْأَثر مصدرا بالعزو والتخريج إِلَى كل كتاب مُعْتَبر وسميته: الدّرّ المنثور فِي التَّفْسِير بالمأثور وَالله أسأَل أَن يُضَاعف لمؤلفه الأجور ويعصمه من الْخَطَأ والزور بمنه وَكَرمه إِنَّه الْبر الغفور
লেখকের ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি স্বীয় ইচ্ছায় বিলুপ্তির পর চিরায়ত ঐতিহ্যের নিদর্শনসমূহকে পুনর্জীবিত করেছেন এবং তাঁর মহাগ্রন্থের তাফসীর করার তাওফীক দান করেছেন এমন সব বর্ণিত খবরের মাধ্যমে যা সুউচ্চ সনদে আমাদের কাছে পৌঁছেছে। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই—এমন সাক্ষ্য যা এর প্রদানকারীর প্রতিদানকে বহুগুণ বৃদ্ধি করে। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, যাঁর সত্যের প্রভা বিচ্ছুরিত হয়ে বিভ্রান্ত ও পাপাচারীদের অন্ধকার দূরীভূত করেছে। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও উচ্চ জ্ঞান ও সুপ্রসিদ্ধ মর্যাদার অধিকারী সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক; এমন রহমত ও শান্তি যা রাত ও কালের আবর্তনে চিরকাল অব্যাহত থাকে।

অতঃপর: আমি যখন 'তরজুমানুল কুরআন' নামক কিতাবটি রচনা করলাম—যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণিত সূত্রভিত্তিক একটি তাফসীর এবং আল্লাহর প্রশংসায় তা কয়েক খণ্ডে সম্পন্ন হয়েছে—তখন আমি তাতে উদ্ধৃত আসারসমূহ মূল কিতাবসমূহের সনদসহ উল্লেখ করেছিলাম। কিন্তু আমি লক্ষ্য করলাম যে, অধিকাংশ মানুষের উদ্যম তা অর্জনে সীমিত এবং তারা দীর্ঘ সনদ বর্জন করে কেবল হাদীসের মূল পাঠের ওপর নির্ভর করতে আগ্রহী। তাই আমি তা থেকে এই সংক্ষেপিত সংকলনটি প্রস্তুত করেছি, যেখানে কেবল আসার বা বর্ণনার মূল পাঠ উল্লেখ করা হয়েছে এবং প্রতিটি নির্ভরযোগ্য কিতাবের উদ্ধৃতি ও সূত্র নির্দেশ করা হয়েছে। আমি এর নাম রেখেছি: ‘আদ-দুররুল মানসুর ফিত-তাফসীরিল মাসুর’ (বর্ণনাভিত্তিক তাফসীরের ক্ষেত্রে বিক্ষিপ্ত মুক্তোমালা)। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এর লেখকের প্রতিদান বহুগুণ বৃদ্ধি করে দেন এবং তাঁর অনুগ্রহ ও বদান্যতায় তাকে ভুল ও মিথ্যা থেকে রক্ষা করেন। নিশ্চয়ই তিনি পরম হিতৈষী ও ক্ষমাশীল।
(খণ্ড: ١) আদ দুররুল মানসূর ফিত তাফসীরি বিল মাসূর (পৃষ্ঠা: ١٠)
مُقَدّمَة سُورَة الْفَاتِحَة

أخرج عبد بن حميد فِي تَفْسِيره عَن إِبْرَاهِيم قَالَ: سَأَلت الْأسود عَن فَاتِحَة الْكتاب أَمن الْقُرْآن هِيَ قَالَ: نعم وَأخرج عبد بن حميد وَمُحَمّد بن نصر الْمروزِي فِي كتاب الصَّلَاة وَابْن الْأَنْبَارِي فِي الْمَصَاحِف عَن مُحَمَّد بن سِيرِين وَابْن الْأَنْبَارِي فِي الْمَصَاحِف أَن أبي كَعْب كَانَ يكْتب فَاتِحَة الْكتاب والمعوذتين واللهم إياك نعْبد واللهم [. . .] إياك نستعين وَلم يكْتب ابْن مَسْعُود شَيْئا مِنْهُنَّ

وَكتب عُثْمَان بن عَفَّان فَاتِحَة الْكتاب والمعوذتين

وَأخرج عبد بن حميد عَن إِبْرَاهِيم قَالَ: كَانَ عبد الله لايكتب فَاتِحَة الْكتاب فِي الْمُصحف وَقَالَ: لَو كتبتها لكتبت فِي أول كل شَيْء

وَأخرج الواحدي فِي أَسبَاب النُّزُول والثعلبي فِي تَفْسِيره عَن عَليّ رضي الله عنه قَالَ: نزلت فَاتِحَة الْكتاب بِمَكَّة من كنز تَحت الْعَرْش

وَأخرج ابْن أبي شيبَة فِي المُصَنّف وَأَبُو نعيم وَالْبَيْهَقِيّ كِلَاهُمَا فِي دَلَائِل النُّبُوَّة والواحدي والثعلبي عَن أبي ميسرَة عَمْرو بن شُرَحْبِيل أَن رَسُول الله قَالَ لِخَدِيجَة إِنِّي إِذا خلوت وحدي سَمِعت نِدَاء فقد وَالله خشيت أَن يكون هَذَا أمرا فَقَالَت: معَاذ الله

ماكان الله ليفعل بك

فوَاللَّه إِنَّك لتؤدي الْأَمَانَة وَتصل الرَّحِم وَتصدق الحَدِيث

فَلَمَّا دخل أَبُو بكر وَلَيْسَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم ثمَّ ذكرت خَدِيجَة حَدِيثه لَهَا وَقَالَت: إذهب مَعَ مُحَمَّد إِلَى ورقة فَلَمَّا دخل رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَخذ أَبُو بكر بِيَدِهِ فَقَالَ: انْطلق بِنَا إِلَى ورقة فَقَالَ: وَمن أخْبرك قَالَ: خَدِيجَة

فَانْطَلقَا إِلَيْهِ فقصا عَلَيْهِ فَقَالَ: إِذا خلوت وحدي سَمِعت نِدَاء خَلْفي يامحمد يامحمد

فَانْطَلق هَارِبا فِي الأَرْض

فَقَالَ: لاتفعل إِذا أَتَاك فَاثْبتْ حَتَّى تسمع مايقول ثمَّ ائْتِنِي
সূরা আল-ফাতিহার ভূমিকা

আবদ বিন হুমাইদ তাঁর তাফসিরে ইবরাহীম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আসওয়াদকে ফাতিহাতুল কিতাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, এটি কি কুরআনের অংশ? তিনি বললেন: হ্যাঁ। এবং আবদ বিন হুমাইদ, মুহাম্মদ বিন নাসর আল-মারওয়াযী 'কিতাবুস সালাত'-এ এবং ইবনুল আমবারী 'আল-মাসাহিফ' গ্রন্থে মুহাম্মদ বিন সীরীন থেকে বর্ণনা করেছেন যে, উবাই ইবনে কাব ফাতিহাতুল কিতাব, মুআউবিযাতাইন (সূরা ফালাক ও নাস) এবং 'হে আল্লাহ! আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি' ও 'হে আল্লাহ! [...] কেবল আপনারই সাহায্য প্রার্থনা করি' (কুনুতদ্বয়) লিপিবদ্ধ করতেন; কিন্তু ইবনে মাসউদ এগুলোর কোনটিই লিপিবদ্ধ করতেন না।

আর উসমান বিন আফফান ফাতিহাতুল কিতাব এবং মুআউবিযাতাইন লিপিবদ্ধ করেছিলেন।

আবদ বিন হুমাইদ ইবরাহীম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) মাসহাফে ফাতিহাতুল কিতাব লিখতেন না এবং তিনি বলতেন: "যদি আমি এটি লিখতাম, তবে প্রতিটি বিষয়ের শুরুতেই তা লিখতাম।"

ওয়াহিদী 'আসবাবুন নুযূল'-এ এবং সা’লাবী তাঁর তাফসিরে আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ফাতিহাতুল কিতাব মক্কায় আরশের নিচে অবস্থিত এক গুপ্তভাণ্ডার থেকে অবতীর্ণ হয়েছে।

ইবনে আবি শায়বা 'আল-মুসান্নাফ'-এ এবং আবু নুআইম ও বায়হাকী উভয়েই তাঁদের 'দালাইলুন নুবুওয়াত'-এ এবং ওয়াহিদী ও সা’লাবী আবু মায়সারা আমর বিন শুরাহবিল থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খাদিজাকে বললেন: "আমি যখন নির্জনে একা থাকি, তখন একটি আহ্বান শুনতে পাই। আল্লাহর কসম, আমি আশঙ্কা করছি এটি কোনো (গুরুতর) বিষয় হবে।" তিনি বললেন: "আল্লাহ রক্ষা করুন!"

"আল্লাহ কখনোই আপনার সাথে এমনটি করবেন না।"

"আল্লাহর কসম, নিশ্চয়ই আপনি আমানত রক্ষা করেন, আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখেন এবং সত্য কথা বলেন।"

অতঃপর যখন আবু বকর প্রবেশ করলেন তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেখানে ছিলেন না। তখন খাদিজা তাঁর নিকট রাসূলুল্লাহর কথাগুলো উল্লেখ করলেন এবং বললেন: "মুহাম্মদের সাথে ওয়ারাকার কাছে যান।" যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রবেশ করলেন, আবু বকর তাঁর হাত ধরলেন এবং বললেন: "চলুন আমাদের সাথে ওয়ারাকার কাছে।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "তোমাকে কে সংবাদ দিয়েছে?" তিনি বললেন: "খাদিজা।"

অতঃপর তাঁরা উভয়েই তাঁর কাছে গেলেন এবং তাঁর কাছে ঘটনা বর্ণনা করলেন। তিনি (রাসূলুল্লাহ) বললেন: "আমি যখন নির্জনে একা থাকি, তখন আমার পিছন থেকে একটি ডাক শুনতে পাই: হে মুহাম্মদ! হে মুহাম্মদ!"

"তখন আমি দৌড়ে পালিয়ে যাই।"

তিনি (ওয়ারাকা) বললেন: "এমন করবেন না। যখন তিনি আপনার কাছে আসবেন, তখন স্থির থাকুন যেন আপনি শুনতে পারেন তিনি কী বলছেন। এরপর আমার কাছে ফিরে আসুন।"
(খণ্ড: ١) আদ দুররুল মানসূর ফিত তাফসীরি বিল মাসূর (পৃষ্ঠা: ١١)
فَأَخْبرنِي فَلَمَّا خلا ناداه يَا مُحَمَّد قل {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم الْحَمد لله رب الْعَالمين} حَتَّى بلغ {وَلَا الضَّالّين} قَالَ: قل لاإله إِلَّا الله

فَأتى ورقة فَذكر ذَلِك لَهُ

فَقَالَ لَهُ ورقة: أبشر ثمَّ أبشر فَإِنِّي أشهد أَنَّك الَّذِي بشر بِهِ ابْن مَرْيَم وَأَنَّك على مثل ناموس مُوسَى وَأَنَّك نَبِي مُرْسل

وَأخرج أَبُو نعيم فِي الدَّلَائِل من طَرِيق إِبْنِ اسحق حَدثنِي بن يسَار عَن رجل من بني سَلمَة قَالَ: لما أسلم بني سَلمَة وَأسلم ولد عَمْرو بن الجموح قَالَت امْرَأَة عَمْرو لَهُ: هَل لَك أَن تسمع من ابْنك ماروي عَنهُ فَقَالَ: أَخْبرنِي مَا سَمِعت من كَلَام هَذَا الرجل

فَقَرَأَ عَلَيْهِ {الْحَمد لله رب الْعَالمين} إِلَى قَوْله {الصِّرَاط الْمُسْتَقيم} فَقَالَ: ماأحسن هَذَا وأجمله وكل كَلَامه مثل هَذَا فَقَالَ: ياأبتاه وَأحسن من هَذَا وَذَلِكَ قبل الْهِجْرَة

وَأخرج ابْن أبي شيبَة فِي المُصَنّف وَأَبُو سعيد بن الْأَعرَابِي فِي مُعْجَمه وَالطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط من طَرِيق مُجَاهِد عَن أبي هُرَيْرَة

أَن إِبْلِيس رن حِين أنزلن فَاتِحَة الْكتاب

وأنزلت بِالْمَدِينَةِ

واخرج وَكِيع وَالْفِرْيَابِي فِي تفسيريهما وَأَبُو عبيد فِي فَضَائِل الْقُرْآن وَابْن أبي شيبَة فِي المُصَنّف وَعبد بن حميد وَابْن الْمُنْذر فِي تَفْسِيره وَأَبُو بكر بن الْأَنْبَارِي فِي كتاب الْمَصَاحِف وَأَبُو الشَّيْخ فِي العظمة وَأَبُو نعيم فِي الْحِلْية من طرق عَن مُجَاهِد قَالَ: نزلت فَاتِحَة الْكتاب بِالْمَدِينَةِ

وَأخرج وَكِيع فِي تَفْسِيره عَن مُجَاهِد قَالَ: نزلت فَاتِحَة الْكتاب بِالْمَدِينَةِ

وَأخرج أَبُو بكر بن الْأَنْبَارِي فِي الْمَصَاحِف عَن قَتَادَة قَالَ: نزلت فَاتِحَة الْكتاب بِمَكَّة

وَأخرج ابْن الضريس فِي فَضَائِل الْقُرْآن عَن أَيُّوب أَن مجمد بن سِيرِين كَانَ يَقُول: يكره أَن يَقُول: أم الْقُرْآن

وَيَقُول: قَالَ الله (وَعِنْده أم الْكتاب) وَلَكِن فَاتِحَة الْكتاب

وَأخرج الدَّارَقُطْنِيّ وَصَححهُ وَالْبَيْهَقِيّ فِي السّنَن عَن أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِذا قَرَأْتُمْ {الْحَمد} فاقرؤا {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} إِنَّهَا أم الْقُرْآن وَأم الْكتاب والسبع المثاني {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} إِحْدَى آياتها
অতঃপর তিনি আমাকে সংবাদ দিলেন যে, যখন তাঁরা নির্জনে নিভৃত হলেন, তখন তিনি তাঁকে সম্বোধন করে বললেন, হে মুহাম্মদ! আপনি পাঠ করুন, 'পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা জগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য...' এভাবে 'পথভ্রষ্টদের পথে নয়' পর্যন্ত। তিনি বললেন: আপনি পাঠ করুন, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই।

অতঃপর তিনি ওয়ারাকার নিকট আসলেন এবং তাঁর কাছে বিষয়টি উল্লেখ করলেন।

ওয়ারাকা তাঁকে বললেন: সুসংবাদ গ্রহণ করুন, পুনরায় সুসংবাদ গ্রহণ করুন! কেননা আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনিই সেই ব্যক্তি যার সুসংবাদ মারইয়ামের পুত্র (ঈসা আ.) প্রদান করেছিলেন। আর আপনি মুসার নিকট আগত ওহীবাহক ফেরেশতার (নামূস) ন্যায় বার্তার অধিকারী এবং আপনি একজন প্রেরিত নবী।

আবু নুআইম 'আদ-দালায়িল' গ্রন্থে ইবনে ইসহাকের সূত্রে ইবনে ইয়াসার থেকে এবং তিনি বনু সালামার এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন বনু সালামা এবং আমর ইবনুল জামুহ-এর সন্তানেরা ইসলাম গ্রহণ করলেন, তখন আমরের স্ত্রী তাঁকে বললেন: আপনার কি আপনার পুত্রের নিকট থেকে তা শোনার ইচ্ছা আছে যা তার নিকট বর্ণিত হয়েছে? তিনি বললেন: এই ব্যক্তিটির বাণীর মধ্যে যা শুনেছ তা আমাকে বলো।

অতঃপর তিনি তাঁর সামনে 'সকল প্রশংসা জগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য' থেকে 'সরল পথ' পর্যন্ত পাঠ করলেন। তিনি (আমর) বললেন: এটি কতই না উত্তম ও চমৎকার! তাঁর সব কথাই কি এমন? তিনি বললেন: হে আব্বাজান! বরং এর চেয়েও উত্তম। আর এটি ছিল হিজরতের পূর্বের ঘটনা।

ইবনে আবি শায়বা তাঁর 'মুসান্নাফ' গ্রন্থে, আবু সাঈদ ইবনুল আরাবি তাঁর 'মুজাম' গ্রন্থে এবং তাবারানি তাঁর 'আল-আওসাত' গ্রন্থে মুজাহিদের সূত্রে আবু হুরাইরা থেকে বর্ণনা করেছেন যে:

যখন কিতাবের প্রারম্ভিকা (সূরা ফাতিহা) অবতীর্ণ হলো, তখন ইবলিস উচ্চস্বরে বিলাপ করে কেঁদেছিল।

আর এটি মদীনায় অবতীর্ণ হয়েছে।

ওকী এবং ফিরয়াবি তাঁদের তাফসীর গ্রন্থদ্বয়ে, আবু উবাইদ 'ফাযায়িলুল কুরআন' গ্রন্থে, ইবনে আবি শায়বা 'মুসান্নাফ' গ্রন্থে, আবদ ইবনে হুমাইদ, ইবনুল মুনযির তাঁর তাফসীর গ্রন্থে, আবু বকর ইবনুল আনবারি 'কিতাবুল মাসাহিফ' গ্রন্থে, আবুশ শাইখ 'আল-আজামাহ' গ্রন্থে এবং আবু নুআইম 'আল-হিলয়াহ' গ্রন্থে বিভিন্ন সূত্রে মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: ফাতিহাতুল কিতাব মদীনায় অবতীর্ণ হয়েছে।

ওকী তাঁর তাফসীরে মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: ফাতিহাতুল কিতাব মদীনায় অবতীর্ণ হয়েছে।

আবু বকর ইবনুল আনবারি 'আল-মাসাহিফ' গ্রন্থে কাতাদা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: ফাতিহাতুল কিতাব মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে।

ইবনে দুরীস 'ফাযায়িলুল কুরআন' গ্রন্থে আইয়ুব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, মুহাম্মদ ইবনে সিরিন বলতেন: একে 'উম্মুল কুরআন' বলা অপছন্দনীয়।

তিনি বলতেন: আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন— 'এবং তাঁর নিকট রয়েছে উম্মুল কিতাব (মূল কিতাব)', বরং একে 'ফাতিহাতুল কিতাব' বলা উচিত।

দারাকুতনি বর্ণনা করেছেন ও একে সহীহ বলেছেন এবং বায়হাকি তাঁর 'সুনান' গ্রন্থে আবু হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: তোমরা যখন 'আল-হামদু' (সূরা ফাতিহা) পাঠ করবে, তখন 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম' পাঠ করো। কেননা এটিই হলো কুরআনের জননী (উম্মুল কুরআন), কিতাবের জননী (উম্মুল কিতাব) এবং বারবার পঠিত সাতটি আয়াত (আস-সাবউল মাসানি)। আর 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম' এর অন্যতম একটি আয়াত।
(খণ্ড: ١) আদ দুররুল মানসূর ফিত তাফসীরি বিল মাসূর (পৃষ্ঠা: ١٢)
وَأخرج البُخَارِيّ والدارمي فِي مُسْنده وَأَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَابْن الْمُنْذر وَابْن أبي حَاتِم وَابْن أبي مرْدَوَيْه فِي تفاسيرهم عَن أبي هُرَيْرَة قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم {الْحَمد لله رب الْعَالمين} أم الْقُرْآن وَأم الْكتاب والسبع المثاني وَأخرج أَحْمد فِي مُسْنده وَابْن جرير وَابْن الْمُنْذر وَابْن أبي حَاتِم وَابْن مرْدَوَيْه فِي تفاسيرهم عَن أبي هُرَيْرَة عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَنه قَالَ لأم الْقُرْآن: هِيَ أم الْقُرْآن وَهِي فَاتِحَة الْكتاب وَهِي السَّبع المثاني وَهِي الْقُرْآن الْعَظِيم وَأخرج الثَّعْلَبِيّ عَن عبد الْجَبَّار بن الْعَلَاء قَالَ: كَانَ سُفْيَان بن عُيَيْنَة يُسَمِّي فَاتِحَة الْكتاب: الوافية

وَأخرج الثَّعْلَبِيّ عَن عفيف بن سَالم قَالَ: سَأَلت عبد الله بن يحيى بن أبي كثير عَن قِرَاءَة الْفَاتِحَة خلف الإِمَام فَقَالَ: عَن الكافية تسْأَل قلت: وَمَا الكافية قَالَ الْفَاتِحَة أما علمت أَنَّهَا عَن سواهَا ولايكفي سواهَا عَنْهَا

وَأخرج الثَّعْلَبِيّ عَن الشّعبِيّ أَن رجلا شكا إِلَيْهِ وجع الخاصرة فَقَالَ: عَلَيْك بأساس الْقُرْآن قَالَ: وَمَا أساس الْقُرْآن قَالَ: فَاتِحَة الْكتاب

وَأخرج الدَّارَقُطْنِيّ وَالْبَيْهَقِيّ فِي السّنَن بِسَنَد صَحِيح عَن عبد خير قَالَ: سُئِلَ عَليّ رضي الله عنه عَن السَّبع المثاني فَقَالَ {الْحَمد لله رب الْعَالمين} فَقيل لَهُ: إِنَّمَا هِيَ سِتّ آيَات فَقَالَ {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} آيَة

وَأخرج الطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط وَابْن مرْدَوَيْه فِي تَفْسِيره وَالْبَيْهَقِيّ عَن أبي هُرَيْرَة قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم {الْحَمد لله رب الْعَالمين} سبع آيَات {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} إِحْدَاهُنَّ وَهِي السَّبع المثاني وَالْقُرْآن الْعَظِيم وَهِي أم الْقُرْآن وَهِي الْفَاتِحَة الْكتاب

وَأخرج الدَّارَقُطْنِيّ وَالْبَيْهَقِيّ عَن أبي هُرَيْرَة أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذا قَرَأَ - وَهُوَ يؤم النَّاس - افْتتح {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} قَالَ أَبُو هُرَيْرَة: آيَة من كتاب الله اقرؤا إِن شِئْتُم فَاتِحَة الْكتاب فَإِنَّهَا الْآيَة المسابعة

وَأخرج ابْن الْأَنْبَارِي فِي الْمَصَاحِف عَن أم سَلمَة قَالَت قَرَأَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم الْحَمد لله رب الْعَالمين الرَّحْمَن الرَّحِيم مَالك يَوْم الدّين إياك نعْبد وَإِيَّاك نستعين اهدنا الصِّرَاط الْمُسْتَقيم صِرَاط الَّذين أَنْعَمت عَلَيْهِم غير المغضوب عَلَيْهِم وَلَا الضَّالّين} وَقَالَ: هِيَ سبع يَا أم سَلمَة
ইমাম বুখারি, দারেমি তাঁর 'মুসনাদ'-এ, আবু দাউদ, তিরমিজি, ইবনুল মুনজির, ইবনে আবি হাতিম এবং ইবনে আবি মারদুওয়াইহ তাঁদের তাফসিরসমূহে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: 'সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য' (আল-হামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন) হলো উম্মুল কুরআন, উম্মুল কিতাব এবং বারবার পঠিত সাতটি আয়াত (আস-সাবউল মাছানি)। ইমাম আহমদ তাঁর 'মুসনাদ'-এ এবং ইবনে জারির, ইবনুল মুনজির, ইবনে আবি হাতিম ও ইবনে মারদুওয়াইহ তাঁদের তাফসিরসমূহে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) উম্মুল কুরআন সম্পর্কে বলেছেন: এটি উম্মুল কুরআন, ফাতিহাতুল কিতাব, বারবার পঠিত সাতটি আয়াত এবং মহান কুরআন। আস-সা'লাবি আব্দুল জাব্বার ইবনে আলা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা ফাতিহাতুল কিতাবকে 'আল-ওয়াফিয়াহ' (পরিপূর্ণ) নামে অভিহিত করতেন।

আস-সা'লাবি আফিফ ইবনে সালিম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আমি আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসিরকে ইমামের পেছনে সূরা ফাতিহা পাঠ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তখন তিনি বললেন: তুমি কি 'আল-কাফিয়াহ' (পর্যাপ্ত) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছ? আমি বললাম: 'আল-কাফিয়াহ' কী? তিনি বললেন: তা হলো সূরা ফাতিহা। তুমি কি জানো না যে এটি অন্য সব কিছুর বিকল্প হয়, কিন্তু অন্য কোনো কিছু এর বিকল্প হতে পারে না?

আস-সা'লাবি আশ-শা'বি থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি তাঁর কাছে কোমরের ব্যথার অভিযোগ করল। তিনি বললেন: তোমার জন্য কুরআনের মূল ভিত্তি (আসাসুল কুরআন) আঁকড়ে ধরা আবশ্যক। লোকটি জিজ্ঞাসা করল: কুরআনের মূল ভিত্তি কী? তিনি বললেন: ফাতিহাতুল কিতাব।

দারা কুতনি এবং বায়হাকি তাঁদের 'সুনান'-এ সহিহ সনদে আব্দ খাইর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী (রা.)-কে বারবার পঠিত সাতটি আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: তা হলো 'সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য'। তাঁকে বলা হলো: এটি তো ছয়টি আয়াত। তিনি বললেন: 'পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি' (বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম) একটি আয়াত।

তাবারানি 'আল-আওসাত'-এ, ইবনে মারদুওয়াইহ তাঁর তাফসিরে এবং বায়হাকি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: 'সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য' সাতটি আয়াত বিশিষ্ট; 'পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি' সেগুলোর একটি। আর এটিই বারবার পঠিত সাতটি আয়াত, মহান কুরআন, উম্মুল কুরআন এবং ফাতিহাতুল কিতাব।

দারা কুতনি এবং বায়হাকি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.) যখন কিরাত পাঠ করতেন এবং মানুষের ইমামতি করতেন, তখন 'পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি' দ্বারা শুরু করতেন। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন: এটি আল্লাহর কিতাবের একটি আয়াত। তোমরা চাইলে ফাতিহাতুল কিতাব পড়ো, কারণ এটিই সপ্তম আয়াত।

ইবনুল আনবারি 'আল-মাসাহিফ'-এ উম্মে সালামা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) পাঠ করেছেন—'পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। তিনি পরম করুণাময়, অত্যন্ত দয়ালু। বিচার দিবসের মালিক। আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই সাহায্য চাই। আমাদের সরল পথ প্রদর্শন করুন। তাঁদের পথ, যাঁদের আপনি অনুগ্রহ করেছেন; তাঁদের পথ নয় যাঁদের ওপর ক্রোধ অবতীর্ণ হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট।' অতঃপর তিনি বললেন: হে উম্মে সালামা, এটি সাতটি আয়াত।
(খণ্ড: ١) আদ দুররুল মানসূর ফিত তাফসীরি বিল মাসূর (পৃষ্ঠা: ١٣)
وَأخرج أَحْمد وَالْبُخَارِيّ والدارمي وَأَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ وَابْن جرير وَابْن حبَان وَابْن مرْدَوَيْه وَالْبَيْهَقِيّ عَن أبي سعيد بن الْمُعَلَّى قَالَ: كنت أُصَلِّي فدعاني النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَلم أجبه فَقَالَ ألم يقل الله (اسْتجِيبُوا لله وَلِلرَّسُولِ إِذا دعَاكُمْ) (الْأَنْفَال الْآيَة 24) ثمَّ قَالَ: لأعلمنك أعظم سُورَة فِي الْقُرْآن قبل أَن تخرج من الْمَسْجِد فَأخذ بيَدي فَلَمَّا أردنَا أَن نخرج قلت: يارسول الله إِنَّك قلت لأعلمنك سُورَة فِي الْقُرْآن قَالَ {الْحَمد لله رب الْعَالمين} هِيَ السَّبع المثاني وَالْقُرْآن الْعَظِيم الَّذِي أُوتِيتهُ

وَأخرج أَبُو عبيد وَأحمد والدارمي وَالتِّرْمِذِيّ وَصَححهُ النَّسَائِيّ وَابْن خُزَيْمَة وَابْن الْمُنْذر وَالْحَاكِم وَصَححهُ وَابْن مرْدَوَيْه وَأَبُو ذَر الْهَرَوِيّ فِي فَضَائِل الْقُرْآن وَالْبَيْهَقِيّ فِي سنَنه عَن أبي هُرَيْرَة أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَخرج على أبي بن كَعْب فَقَالَ: ياأبي - وَهُوَ يُصَلِّي - فَالْتَفت أبي فَلم يجبهُ

فصلى أبي فَخفف ثمَّ انْصَرف إِلَى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: السَّلَام عَلَيْك يارسول الله فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: مامنعك أَن تجبني إِذْ دعوتك فَقَالَ: يارسول الله إِنِّي كنت فِي الصَّلَاة قَالَ: أفلم تَجِد فِيمَا أوحى الله إِلَى أَن (اسْتجِيبُوا لله وَلِلرَّسُولِ إِذا دعَاكُمْ لما يُحْيِيكُمْ) (الْأَنْفَال الْآيَة 24) قَالَ: بلَى

وَلَا أَعُود إِن شَاءَ قَالَ: أَتُحِبُّ أَن أعلمك سُورَة لم ينزل فِي التَّوْرَاة وَلَا فِي الإِنجيل وَلَا فِي الزبُور وَلَا فِي الْفرْقَان مثلهَا قَالَ: نعم يَا رَسُول الله: فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: كَيفَ تقْرَأ فِي الصَّلَاة فَقَرَأَ بِأم الْكتاب فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: وَالَّذِي نَفسِي بِيَدِهِ مَا أنزل فِي التَّوْرَاة وَلَا فِي الإِنجيل وَلَا فِي الزبُور وَلَا فِي الْفرْقَان مثلهَا وَإِنَّهَا السَّبع من المثاني

أَو قَالَ: السَّبع المثاني وَالْقُرْآن الْعَظِيم الَّذِي أَعْطيته

وَأخرج الدَّارمِيّ وَالتِّرْمِذِيّ وَحسنه وَالنَّسَائِيّ وَعبد الله بن أَحْمد بن حَنْبَل فِي زَوَائِد الْمسند وَابْن الضريس فِي فَضَائِل الْقُرْآن وَابْن جرير وَابْن خُزَيْمَة وَالْحَاكِم وَصَححهُ من طَرِيق الْعَلَاء عَن أَبِيه عَن أبي هُرَيْرَة عَن أبيّ بن كَعْب قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم مَا أنزل الله فِي التَّوْرَاة وَلَا فِي الإِنجيل وَلَا فِي الزبُور وَلَا فِي الْفرْقَان مثل أم الْقُرْآن

وَهِي السَّبع المثاني وَالْقُرْآن الْعَظِيم الَّذِي أُوتيت وَهِي مقسومة بيني وَبَين عَبدِي ولعبدي مَا سَأَلَ

وَأخرج مُسلم وَالنَّسَائِيّ وَابْن حبَان وَالطَّبَرَانِيّ وَالْحَاكِم عَن ابْن عَبَّاس قَالَ بَيْنَمَا

ইমাম আহমদ, বুখারী, দারেমী, আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে জারীর, ইবনে হিব্বান, ইবনে মারদুবাইহ এবং বায়হাকী আবু সাঈদ ইবনুল মুআল্লা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি সালাত আদায় করছিলাম, এমতাবস্থায় নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে ডাকলেন। আমি তাঁর ডাকে সাড়া দিলাম না। অতঃপর তিনি বললেন, আল্লাহ কি বলেননি: (তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ডাকে সাড়া দাও যখন তিনি তোমাদের আহ্বান করেন) (সূরা আল-আনফাল, আয়াত ২৪)? তারপর তিনি বললেন: মসজিদ থেকে বের হওয়ার পূর্বেই আমি অবশ্যই তোমাকে কুরআনের সবচেয়ে মহান সূরাটি শিখিয়ে দেব। অতঃপর তিনি আমার হাত ধরলেন। যখন আমরা বের হওয়ার উপক্রম করলাম, তখন আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি বলেছিলেন যে আমাকে কুরআনের একটি সূরা শিখিয়ে দেবেন। তিনি বললেন: তা হলো {আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন} (সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য), এটিই হলো বারবার পঠিত সাতটি আয়াত (সাবউল মাছানী) এবং মহান কুরআন যা আমাকে প্রদান করা হয়েছে।

আবু উবাইদ, আহমদ, দারেমী, তিরমিযী (যিনি একে সহীহ বলেছেন), নাসাঈ, ইবনে খুযাইমা, ইবনে মুনযির, হাকেম (যিনি একে সহীহ বলেছেন), ইবনে মারদুবাইহ, আবু যার আল-হারাবী তাঁর 'ফাদাইলুল কুরআন' গ্রন্থে এবং বায়হাকী তাঁর 'সুনান' গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উবাই ইবনে কাব (রা.)-এর নিকট আসলেন। তিনি তাঁকে ডাকলেন: হে উবাই! — এমতাবস্থায় তিনি সালাত আদায় করছিলেন। উবাই (রা.) তাঁর দিকে লক্ষ্য করলেন কিন্তু কোনো উত্তর দিলেন না।

অতঃপর উবাই (রা.) সংক্ষেপে সালাত শেষ করলেন এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট ফিরে এসে বললেন: আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক, হে আল্লাহর রাসূল! রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: যখন আমি তোমাকে ডাকলাম, তখন উত্তর দিতে তোমাকে কিসে বাধা প্রদান করল? তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি সালাত আদায় করছিলাম। তিনি বললেন: আল্লাহ আমার প্রতি যে ওহী নাযিল করেছেন, তাতে কি তুমি এটি পাওনি যে: (তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ডাকে সাড়া দাও যখন তিনি তোমাদের এমন কিছুর দিকে আহ্বান করেন যা তোমাদের জীবন দান করে) (সূরা আল-আনফাল, আয়াত ২৪)? তিনি বললেন: অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসূল!

এবং আমি আর এমনটি করব না, ইনশাআল্লাহ। তিনি বললেন: তুমি কি এটি পছন্দ করো যে আমি তোমাকে এমন একটি সূরা শিখিয়ে দেব যার সমতুল্য কোনো সূরা তাওরাত, ইঞ্জিল, যাবুর কিংবা কুরআনে (ফুরকান) অবতীর্ণ করা হয়নি? তিনি বললেন: হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল! তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: তুমি সালাতে কীভাবে পাঠ করো? তখন তিনি উম্মুল কিতাব (সূরা ফাতিহা) পাঠ করলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ নিহিত, তাওরাত, ইঞ্জিল, যাবুর কিংবা কুরআনে এর সমতুল্য কিছু নাযিল করা হয়নি। এটিই হলো বারবার পঠিত সাতটি আয়াত।

অথবা তিনি বলেছেন: বারবার পঠিত সাতটি আয়াত এবং মহান কুরআন যা আমাকে প্রদান করা হয়েছে।

দারেমী, তিরমিযী (যিনি একে হাসান বলেছেন), নাসাঈ, আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে হাম্বল 'যাওয়ায়েদুল মুসনাদ'-এ, ইবনে আদ-দুরইস 'ফাদাইলুল কুরআন'-এ, ইবনে জারীর, ইবনে খুযাইমা এবং হাকেম (যিনি একে সহীহ বলেছেন) আল-আলা'র সূত্রে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে এবং তিনি উবাই ইবনে কাব (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: আল্লাহ তাআলা তাওরাত, ইঞ্জিল, যাবুর এবং ফুরকানে উম্মুল কুরআনের সমতুল্য কিছু অবতীর্ণ করেননি।

আর এটিই হলো বারবার পঠিত সাতটি আয়াত এবং মহান কুরআন যা আমাকে প্রদান করা হয়েছে। এটি আমার এবং আমার বান্দার মধ্যে বিভক্ত, আর আমার বান্দা যা প্রার্থনা করবে তা-ই সে পাবে।

মুসলিম, নাসাঈ, ইবনে হিব্বান, তাবারানী এবং হাকেম ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, একদা যখন...

(খণ্ড: ١) আদ দুররুল মানসূর ফিত তাফসীরি বিল মাসূর (পৃষ্ঠা: ١٤)
رَسُول الله صلى الله عليه وسلم جَالس وَعِنْده جِبْرِيل إِذْ سمع نقيضا من السَّمَاء من فَوق فَرفع جِبْرِيل بَصَره إِلَى السَّمَاء فَقَالَ: يامحمد هَذَا ملك قد نزل لم ينزل إِلَى الأَرْض قطّ قَالَ: فَأتى النَّبِي فَسلم عَلَيْهِ فَقَالَ: أبشر بنورين قد أُوتِيتهُمَا لم يؤتهما نَبِي من قبلك

فَاتِحَة الْكتاب وخواتيم سُورَة الْبَقَرَة لن تقْرَأ حرفا إِلَّا أُوتِيتهُ

وَأخرج الطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط بِسَنَد ضَعِيف عَن أبي زيد وَكَانَت لَهُ صُحْبَة قَالَ كنت مَعَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم فِي بعض فجاج الْمَدِينَة فَسمع رجلا يتهجد وَيقْرَأ بِأم الْقُرْآن

فَقَامَ النَّبِي فاستمع حَتَّى خَتمهَا ثمَّ قَالَ: مَا فِي الأَرْض مثلهَا

وَأخرج أَبُو عُبَيْدَة وَأحمد وَالْبُخَارِيّ وَمُسلم وَأَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ وَابْن ماجة وَالْحَاكِم وَالْبَيْهَقِيّ عَن أبي سعيد الْخُدْرِيّ قَالَ: بعثنَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِي سَرِيَّة ثَلَاثِينَ رَاكِبًا فنزلنا بِقوم من الْعَرَب فسألناهم أَن يضيفونا فَأَبَوا فلدغ سيدهم فأتونا فَقَالُوا: فِيكُم أحد يرقي من الْعَقْرَب فَقلت: نعم أَنا

وَلَكِن لَا أفعل حَتَّى تعطونا شَيْئا قَالُوا: فَإنَّا نعطيكم ثَلَاثِينَ شَاة فَقَالَ: فَقَرَأت عَلَيْهَا {الْحَمد} سبع مَرَّات فبرأ فَلَمَّا قبضنا الْغنم عرض فِي أَنْفُسنَا مِنْهَا فَكَفَفْنَا حَتَّى أَتَيْنَا النَّبِي فَذَكرنَا ذَلِك لَهُ قَالَ أما علمت أَنَّهَا رقية اقتسموها واضربوا لي مَعكُمْ بِسَهْم

وَأخرج أَحْمد وَالْبُخَارِيّ وَالْبَيْهَقِيّ فِي سنَنه عَن ابْن عَبَّاس

أَن نَفرا من أَصْحَاب رَسُول الله مروا بِمَاء فِيهِ لديغ أَو سليم فَعرض لَهُم رجل من أهل الْحَيّ فَقَالَ: هَل فِيكُم من راق إِن فِي المَاء رجلا لديغا أَو سليما

فَانْطَلق رجل مِنْهُم فَقَرَأَ بِفَاتِحَة الْكتاب على شَاءَ فبرأ فجَاء بالشاء إِلَى أَصْحَابه فكرهوا ذَلِك وَقَالُوا: أخذت على كتاب الله أجرا حَتَّى قدمُوا الْمَدِينَة فَقَالُوا: يارسول الله أَخذ على كتاب الله أجرا فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِن أَحَق مَا أَخَذْتُم عَلَيْهِ أجرا

كتاب الله

وَأخرج أَحْمد وَالْبَيْهَقِيّ فِي شعب الإِيمان بِسَنَد جيد عَن عبد الله بن جَابر أَن رَسُول الله قَالَ لَهُ أَلا أخْبرك بأخير سُورَة نزلت فِي الْقُرْآن قلت: بلَى يَا رَسُول الله قَالَ: فَاتِحَة الْكتاب

وَأَحْسبهُ قَالَ: فِيهَا شِفَاء من كل دَاء

وَأخرج الطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط وَالدَّارَقُطْنِيّ فِي الْأَفْرَاد وَابْن عَسَاكِر بِسَنَد ضَعِيف عَن السَّائِب بن يزِيد قَالَ: عوذني رَسُول الله صلى الله عليه وسلم بِفَاتِحَة الْكتاب تفلا

وَأخرج سعيد بن مَنْصُور فِي سنَنه وَالْبَيْهَقِيّ فِي شعب الإِيمان عَن أبي سعيد الْخُدْرِيّ أَن رَسُول الله قَالَ فَاتِحَة الْكتاب شِفَاء من السم
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপবিষ্ট ছিলেন এবং তাঁর নিকট জিবরাঈল আলাইহিস সালাম উপস্থিত ছিলেন। হঠাৎ তিনি উপর থেকে আসমানে একটি শব্দ শুনতে পেলেন। জিবরাঈল আলাইহিস সালাম আসমানের দিকে দৃষ্টি উত্তোলন করলেন এবং বললেন: হে মুহাম্মদ! এই তো একজন ফেরেশতা অবতীর্ণ হয়েছেন, যিনি ইতিপূর্বে পৃথিবীতে কখনো অবতরণ করেননি। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: অতঃপর তিনি নবীর নিকট আসলেন এবং তাঁকে সালাম দিলেন। তারপর বললেন: আপনি এমন দুটি নূরের সুসংবাদ গ্রহণ করুন যা আপনাকে প্রদান করা হয়েছে, আপনার পূর্বে অন্য কোনো নবীকে তা প্রদান করা হয়নি।

সুরাতুল ফাতিহা এবং সূরা বাকারার শেষাংশ। আপনি এর প্রতিটি বর্ণ পাঠ করবেন আর আপনাকে তার প্রতিদান (বা প্রার্থিত বিষয়) প্রদান করা হবে।

তাবারানি 'আল-আওসাত'-এ দুর্বল সনদে আবু যায়েদ (রা.) হতে বর্ণনা করেছেন—যিনি একজন সাহাবী ছিলেন—তিনি বলেন: আমি মদীনার কোনো এক গলিতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম। তিনি এক ব্যক্তিকে শুনলেন যিনি তাহাজ্জুদ পড়ছিলেন এবং উম্মুল কুরআন (সূরা ফাতিহা) তিলাওয়াত করছিলেন।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে গেলেন এবং মনোযোগ সহকারে শুনতে লাগলেন যতক্ষণ না তিনি তা শেষ করলেন। অতঃপর বললেন: পৃথিবীতে এর কোনো সমতুল্য নেই।

আবু উবাইদাহ, আহমদ, বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, হাকেম এবং বায়হাকী আবু সাঈদ খুদরী (রা.) হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের ত্রিশজন আরোহীর একটি অভিযানে পাঠিয়েছিলেন। আমরা আরবের এক গোত্রের নিকট অবতরণ করলাম এবং তাঁদের নিকট মেহমানদারি প্রার্থনা করলাম। কিন্তু তাঁরা মেহমানদারি করতে অস্বীকার করল। অতঃপর তাঁদের নেতাকে (বিচ্ছু) দংশন করল। তারা আমাদের নিকট এসে বলল: আপনাদের মধ্যে কি এমন কেউ আছে যে বিচ্ছুর কামড়ের ঝাড়ফুঁক করতে পারে? আমি বললাম: হ্যাঁ, আমি।

তবে আমি ততক্ষণ তা করব না যতক্ষণ না আপনারা আমাদের কিছু (বিনিময়) প্রদান করেন। তাঁরা বলল: আমরা আপনাকে ত্রিশটি ছাগল প্রদান করব। তিনি বলেন: অতঃপর আমি তার ওপর সাতবার 'আল-হামদু' (সূরা ফাতিহা) পাঠ করলাম, ফলে সে সুস্থ হয়ে গেল। যখন আমরা ছাগলগুলো গ্রহণ করলাম, তখন আমাদের মনে এ নিয়ে দ্বিধা জাগল। ফলে আমরা বিরত থাকলাম যতক্ষণ না নবীর নিকট ফিরে আসলাম এবং তাঁর কাছে বিষয়টি উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন: তুমি কী করে জানলে যে এটি একটি ঝাড়ফুঁক (রুকইয়াহ)? তোমরা এগুলো বণ্টন করে নাও এবং তোমাদের সাথে আমার জন্যও একটি অংশ রেখো।

আহমদ, বুখারী এবং বায়হাকী তাঁর 'সুনান'-এ ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণনা করেছেন—

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল সাহাবী একটি জলাশয়ের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যেখানে একজন দংশিত বা অসুস্থ ব্যক্তি ছিল। এমতাবস্থায় ঐ জনপদের একজন লোক তাঁদের সামনে এসে বলল: আপনাদের মাঝে কি কোনো ঝাড়ফুঁককারী আছে? কারণ জলাশয়ের নিকট এমন একজন লোক আছে যাকে বিচ্ছু দংশন করেছে অথবা সে অসুস্থ।

তাঁদের মধ্য থেকে একজন লোক গেলেন এবং কতিপয় ছাগলের বিনিময়ে সুরাতুল ফাতিহা পাঠ করলেন, ফলে সে সুস্থ হয়ে গেল। তিনি ছাগলগুলো নিয়ে তাঁর সাথীদের নিকট আসলেন। কিন্তু তাঁরা বিষয়টি অপছন্দ করলেন এবং বললেন: আপনি কি আল্লাহর কিতাবের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করেছেন? অবশেষে তাঁরা মদীনায় পৌঁছে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! তিনি আল্লাহর কিতাবের বিনিময়ে পারিশ্রমিক নিয়েছেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তোমরা যে জিনিসের ওপর পারিশ্রমিক গ্রহণ করো, তার মধ্যে সর্বাধিক হকদার হলো—

আল্লাহর কিতাব।

আহমদ এবং বায়হাকী 'শুআবুল ঈমান'-এ উত্তম সনদে আবদুল্লাহ বিন জাবির (রা.) হতে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন: আমি কি তোমাকে কুরআনে অবতীর্ণ শ্রেষ্ঠ সূরাটি সম্পর্কে জানাব না? আমি বললাম: অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন: সেটি হলো সুরাতুল ফাতিহা।

এবং আমার ধারণা মতে তিনি বলেছিলেন: এতে রয়েছে প্রতিটি রোগের আরোগ্য।

তাবারানি 'আল-আওসাত'-এ, দারা কুতনী 'আল-আফরাদ'-এ এবং ইবনে আসাকির একটি দুর্বল সনদে সায়িব বিন ইয়াযিদ (রা.) হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুরাতুল ফাতিহা পাঠ করে এবং সামান্য থুতু দিয়ে আমাকে ঝাড়ফুঁক করেছিলেন।

সাঈদ বিন মানসুর তাঁর 'সুনান'-এ এবং বায়হাকী 'শুআবুল ঈমান'-এ আবু সাঈদ খুদরী (রা.) হতে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: সুরাতুল ফাতিহা হলো বিষের প্রতিষেধক।
(খণ্ড: ١) আদ দুররুল মানসূর ফিত তাফসীরি বিল মাসূর (পৃষ্ঠা: ١٥)
وَأخرج أَبُو الشَّيْخ بن حبَان فِي كتاب الثَّوَاب من وَجه آخر عَن أبي سعيد وَأبي هُرَيْرَة مَرْفُوعا

مثله

وَأخرج الدَّارمِيّ وَالْبَيْهَقِيّ فِي شعب الإِيمان بِسَنَد رِجَاله ثِقَات عَن عبد الْملك بن عُمَيْر قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَاتِحَة الْكتاب شِفَاء من كل دَاء

وَأخرج الثَّعْلَبِيّ من طَرِيق مُعَاوِيَة بن صَالح عَن أبي سلمَان قَالَ: مر أَصْحَاب رَسُول الله فِي بعض غزوهم على رجل قد صرع فَقَرَأَ بَعضهم فِي أُذُنه بِأم الْقُرْآن فبرأ فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم هِيَ أم الْكتاب وَهِي شِفَاء من كل دَاء

وَأخرج أَحْمد وَأَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ وَابْن السّني فِي عمل الْيَوْم وَاللَّيْلَة وَالْحَاكِم وَصَححهُ وَالْبَيْهَقِيّ فِي الدَّلَائِل عَن خَارِجَة بن الصَّلْت التَّمِيمِي عَن عَمه

أَنه أَتَى رَسُول الله ثمَّ أقبل رَاجعا من عِنْده

فَمر على قوم عِنْدهم رجل مَجْنُون موثق بالحديد فَقَالَ أَهله: أعندك ماتداوي بِهِ هَذَا فَإِن صَاحبكُم قد جَاءَ بِخَير قَالَ: فَقَرَأت عَلَيْهِ فَاتِحَة الْكتاب ثَلَاثَة أَيَّام فِي كل يَوْم مرَّتَيْنِ غدْوَة وَعَشِيَّة أجمع بزاقي ثمَّ أتفل فبرأ فأعطوني مائَة شَاة

فَأتيت النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَذكرت ذَلِك لَهُ فَقَالَ كل فَمن أكل برقية بَاطِل فقد أكلت برقية حق

وَأخرج الْبَزَّار فِي مُسْنده بِسَنَد ضَعِيف عَن أنس قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِذا وضعت جَنْبك على الْفراش وقرأت (فَاتِحَة الْكتاب وَقل هُوَ الله أحد) فقد أمنت من كل شَيْء إِلَّا الْمَوْت

وَأخرج الطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط بِسَنَد ضَعِيف عَن ابْن عَبَّاس قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم من قَرَأَ (أم الْقُرْآن) و (قل هُوَ الله أحد) (الْإِخْلَاص الْآيَة 1) فَكَأَنَّمَا قَرَأَ ثلث الْقُرْآن

وَأخرج عبد بن حميد فِي مُسْنده بِسَنَد ضَعِيف عَن ابْن عَبَّاس يرفعهُ إِلَى النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَاتِحَة الْكتاب تعدل بِثُلثي الْقُرْآن

وَأخرج الْحَاكِم وَصَححهُ وَأَبُو ذَر الْهَرَوِيّ فِي فضائله وَالْبَيْهَقِيّ فِي الشّعب عَن أنس قَالَ كَانَ صلى الله عليه وسلم فِي مسير لَهُ فَنزل فَمشى رجل من أَصْحَابه إِلَى جنبه فاتفت إِلَيْهِ النَّبِي فَقَالَ: أَلا أخْبرك بِأَفْضَل الْقُرْآن فَتلا عَلَيْهِ {الْحَمد لله رب الْعَالمين}
এবং আবুশ শাইখ ইবনে হিব্বান 'কিতাবুস সাওয়াব'-এ অন্য সূত্রে আবু সাঈদ এবং আবু হুরায়রা (রা.) থেকে মারফূ হিসেবে বর্ণনা করেছেন যে,

অনুরূপ।

এবং আদ-দারিমি ও আল-বায়হাকি 'শুআবুল ঈমান'-এ এমন এক সনদে বর্ণনা করেছেন যার বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য, আবদুল মালিক ইবনে উমায়ের থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "ফাতিহাতুল কিতাব (সুরা ফাতিহা) প্রতিটি রোগের আরোগ্য।"

এবং আস-সালাবি মুয়াবিয়া ইবনে সালেহর সূত্রে আবু সালমান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুলের সাহাবাগণ তাঁদের কোনো এক যুদ্ধে এমন এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যে মৃগী রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছিল। তখন তাঁদের একজন তার কানে 'উম্মুল কুরআন' (সুরা ফাতিহা) পাঠ করলেন, ফলে সে সুস্থ হয়ে গেল। তখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, "এটি উম্মুল কিতাব এবং এটি প্রতিটি রোগের আরোগ্য।"

এবং আহমাদ, আবু দাউদ, আন-নাসায়ি, ইবনে সুন্নি 'আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ'-তে, হাকিম (একে সহিহ বলেছেন) এবং আল-বায়হাকি 'দালাইল'-এ খারিজা ইবনে সলত আত-তামিমি থেকে এবং তিনি তাঁর চাচার সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে,

তিনি আল্লাহর রাসুলের নিকট আসলেন, অতঃপর তাঁর নিকট থেকে ফিরে যাচ্ছিলেন।

পথিমধ্যে তিনি এমন এক সম্প্রদায়ের পাশ দিয়ে গেলেন যাদের কাছে লোহার শিকলে বাঁধা একজন অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তি ছিল। তার পরিবার বলল, "আপনার কাছে কি এমন কিছু আছে যা দিয়ে এর চিকিৎসা করা যায়? কারণ আপনাদের সাথী (নবীজি) তো কল্যাণ নিয়ে এসেছেন।" তিনি বলেন: অতঃপর আমি তার ওপর তিন দিন পর্যন্ত প্রতিদিন দুবার—সকালে ও সন্ধ্যায়—সুরা ফাতিহা পাঠ করলাম। আমি (পড়ার সময়) লালা মুখে জমিয়ে থুতু দিচ্ছিলাম, ফলে সে সুস্থ হয়ে গেল। তখন তারা আমাকে একশত বকরি প্রদান করল।

অতঃপর আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বিষয়টি তাঁর কাছে উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন, "তুমি তা গ্রহণ করো। কারণ অনেক মানুষই মিথ্যা ঝাড়ফুঁকের বিনিময়ে গ্রহণ করে, কিন্তু তুমি সত্য ঝাড়ফুঁকের বিনিময়ে গ্রহণ করেছ।"

এবং আল-বাযযার তাঁর মুসনাদে একটি দুর্বল সনদে আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "যখন তুমি বিছানায় শয়ন করবে এবং 'ফাতিহাতুল কিতাব' (সুরা ফাতিহা) ও 'কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ' (সুরা ইখলাস) পাঠ করবে, তখন মৃত্যু ব্যতীত সব কিছু থেকে তুমি নিরাপদ হয়ে গেলে।"

এবং আত-তাবারানি 'আল-আওসাত'-এ একটি দুর্বল সনদে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "যে ব্যক্তি 'উম্মুল কুরআন' এবং 'কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ' পাঠ করল, সে যেন কুরআনের এক-তৃতীয়াংশ পাঠ করল।"

এবং আবদ ইবনে হুমাইদ তাঁর মুসনাদে একটি দুর্বল সনদে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন—যা তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পর্যন্ত উন্নীত করেছেন—"সুরা ফাতিহা কুরআনের দুই-তৃতীয়াংশের সমান।"

এবং হাকিম (একে সহিহ বলেছেন), আবু যার আল-হারাবি তাঁর 'ফাজায়েল'-এ এবং আল-বায়হাকি 'শুআবুল ঈমান'-এ আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক সফরে ছিলেন। তিনি এক স্থানে অবতরণ করলেন, তখন তাঁর সাহাবাদের এক ব্যক্তি তাঁর পাশে হাঁটতে লাগলেন। নবীজি তাঁর দিকে ফিরে বললেন, "আমি কি তোমাকে কুরআনের শ্রেষ্ঠ অংশ সম্পর্কে জানাব না?" অতঃপর তিনি তার সামনে পাঠ করলেন: {সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য}।
(খণ্ড: ١) আদ দুররুল মানসূর ফিত তাফসীরি বিল মাসূর (পৃষ্ঠা: ١٦)
وَأخرج ابْن الضريس فِي فَضَائِل الْقُرْآن وَالْبَيْهَقِيّ فِي الشّعب عَن أنس عَن النَّبِي قَالَ إِن الله أَعْطَانِي فِيمَا من بِهِ عَليّ أَنِّي أَعطيتك فَاتِحَة الْكتاب وَهِي من كنوز عَرْشِي ثمَّ قسمتهَا بيني وَبَيْنك نِصْفَيْنِ

وَأخرج إِسْحَق بن رَاهَوَيْه فِي مُسْنده عَن عَليّ

أَنه سُئِلَ عَن فَاتِحَة الْكتاب فَقَالَ: حَدثنَا نَبِي الله صلى الله عليه وسلم إِنَّهَا أنزلت من كنز تَحت الْعَرْش

وَأخرج الْحَاكِم وَصَححهُ وَابْن مرْدَوَيْه فِي تَفْسِيره وَأَبُو ذَر الْهَرَوِيّ فِي فضائله وَالْبَيْهَقِيّ فِي الشّعب عَن معقل بن يسَار قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَعْطَيْت سُورَة الْبَقَرَة من الذّكر الأول وَأعْطيت فَاتِحَة الْكتاب وخواتيم سُورَة الْبَقَرَة من تَحت الْعَرْش والمفصل نَافِلَة

وَأخرج الديلمي فِي مُسْند الفردوس عَن عمرَان بن حُصَيْن

فَاتِحَة الْكتاب وَآيَة الْكُرْسِيّ لايقرؤهما عبد فِي دَار فتصيبهم فِي ذَلِك الْيَوْم عين إنس أَو جن

أوخرج أَبُو الشَّيْخ فِي الثَّوَاب وَالطَّبَرَانِيّ وَابْن مرْدَوَيْه والديلمي والضياء الْمَقْدِسِي فِي المختارة عَن أبي أُمَامَة قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَربع أنزلن من كنز تَحت الْعَرْش لم ينزل مِنْهُ شَيْء غَيْرهنَّ أم الْكتاب وَآيَة الْكُرْسِيّ وخواتم سُورَة الْبَقَرَة والكوثر

وَأخرج ابْن الضريس عَن أبي أُمَامَة مَوْقُوفا

مثله

وَأخرج أَبُو نعيم والديلمي عَن أبي الدَّرْدَاء قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَاتِحَة الْكتاب تجزىء مَالا يجزىء شَيْء من الْقُرْآن

وَلَو إِن فَاتِحَة الْكتاب جعلت فِي كفة الْمِيزَان وَجعل الْقُرْآن فِي الكفة الْأُخْرَى لفضلت فَاتِحَة الْكتاب على الْقُرْآن سبع مَرَّات

وَأخرج أَبُو عبيد فِي فضائله عَن الْحسن قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم من قَرَأَ فَاتِحَة الْكتاب فَكَأَنَّمَا قَرَأَ التَّوْرَاة والانجيل والزبُور والْفرْقَان

وَأخرج الْبَيْهَقِيّ فِي شعب الإِيمان عَن الْحسن قَالَ: أنزل الله مائَة وَأَرْبَعَة كتب أودع علومها أَرْبَعَة مِنْهَا

التَّوْرَاة وَالْإِنْجِيل وَالزَّبُور وَالْفرْقَان ثمَّ أودع عُلُوم التوارة وَالْإِنْجِيل وَالزَّبُور وَالْفرْقَان ثمَّ أودع عُلُوم الْقُرْآن الْمفصل ثمَّ أودع الْمفصل فَاتِحَة الْكتاب

فَمن علم تَفْسِيرهَا كَانَ كمن علم تَفْسِير جَمِيع الْكتب الْمنزلَة

وَأخرج وَكِيع فِي تَفْسِيره وَابْن الْأَنْبَارِي فِي الْمَصَاحِف وَأَبُو الشَّيْخ فِي العظمة وَأَبُو
ইবনুদ দুরাইস ‘ফাযায়িলুল কুরআন’-এ এবং বায়হাকী ‘আশ-শুআব’-এ আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.) বলেছেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে যে সকল নিআমত দান করেছেন তার মধ্যে অন্যতম হলো তিনি বলেছেন, ‘আমি তোমাকে ফাতিহাতুল কিতাব দান করেছি’, যা আমার আরশের ধনভাণ্ডারসমূহের অন্তর্ভুক্ত। অতঃপর আমি তা আমার এবং তোমার মধ্যে দুই ভাগে বিভক্ত করেছি।”

ইসহাক ইবনে রাহওয়ায়হ তাঁর মুসনাদে আলী (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন

তাঁকে ফাতিহাতুল কিতাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: “আল্লাহর নবী (সা.) আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যে, এটি আরশের নিচের এক ধনভাণ্ডার থেকে নাযিল করা হয়েছে।”

হাকিম (একে সহীহ বলেছেন), ইবনে মারদুওয়াইহ তাঁর তাফসীরে, আবু যার আল-হারাওয়ী তাঁর ফাযায়িলে এবং বায়হাকী ‘আশ-শুআব’-এ মা’কিল ইবনে ইয়াসার (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “আমাকে আদি যিকির (লাওহে মাহফুয) থেকে সূরা আল-বাকারাহ দান করা হয়েছে, আর ফাতিহাতুল কিতাব এবং সূরা আল-বাকারার শেষাংশ আরশের নিচ থেকে দান করা হয়েছে, আর মুফাসসাল সূরাসমূহ অতিরিক্ত হিসেবে প্রদান করা হয়েছে।”

দাইলামী ‘মুসনাদুল ফিরদাউস’-এ ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন

ফাতিহাতুল কিতাব ও আয়াতুল কুরসী কোনো বান্দা ঘরে পাঠ করলে সেই দিন কোনো মানুষ বা জিনের কুদৃষ্টি তাদের স্পর্শ করতে পারবে না।

আবুশ শায়খ ‘আস-সাওয়াব’-এ, তাবারানী, ইবনে মারদুওয়াইহ, দাইলামী এবং যিয়া আল-মাকদিসী ‘আল-মুখতারা’-তে আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “চারটি জিনিস আরশের নিচের ধনভাণ্ডার থেকে নাযিল করা হয়েছে, যা ব্যতিরেকে সেখান থেকে আর কিছুই নাযিল করা হয়নি—উম্মুল কিতাব (সূরা ফাতিহা), আয়াতুল কুরসী, সূরা আল-বাকারার শেষাংশ এবং সূরা আল-কাওসার।”

ইবনুদ দুরাইস আবু উমামা (রা.) থেকে মাওকূফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন

অনুরূপ হাদীস।

আবু নুআইম ও দাইলামী আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “ফাতিহাতুল কিতাব এমন পর্যাপ্ততা দান করে যা কুরআনের অন্য কোনো অংশ করতে পারে না।

যদি ফাতিহাতুল কিতাবকে পাল্লার এক পাশে রাখা হয় এবং অবশিষ্ট কুরআনকে অন্য পাশে রাখা হয়, তবে ফাতিহাতুল কিতাব কুরআনের ওপর সাত গুণ শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করবে।”

আবু উবায়দ তাঁর ‘ফাযায়িল’-এ হাসান (রহ.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “যে ব্যক্তি ফাতিহাতুল কিতাব পাঠ করল, সে যেন তাওরাত, ইনজীল, যাবূর এবং ফুরকান (কুরআন) পাঠ করল।”

বায়হাকী ‘শুআবুল ঈমান’-এ হাসান (রহ.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: “আল্লাহ তাআলা একশত চারটি কিতাব নাযিল করেছেন এবং এগুলোর সমস্ত জ্ঞান এর মধ্যে চারটির মধ্যে নিহিত রেখেছেন—

তাওরাত, ইনজীল, যাবূর এবং ফুরকান। অতঃপর তিনি তাওরাত, ইনজীল, যাবূর ও ফুরকানের জ্ঞান কুরআনের মধ্যে নিহিত করেছেন। এরপর কুরআনের জ্ঞান মুফাসসাল সূরাসমূহের মধ্যে নিহিত করেছেন। আর মুফাসসাল সূরাসমূহের জ্ঞান ফাতিহাতুল কিতাবের মধ্যে নিহিত করেছেন।

অতএব, যে ব্যক্তি এর (সূরা ফাতিহার) তাফসীর অবগত হলো, সে যেন নাযিলকৃত সমস্ত কিতাবের তাফসীর অবগত হলো।”

ওয়াকী’ তাঁর তাফসীরে, ইবনুল আম্বারী ‘আল-মাসাহিফ’-এ, আবুশ শায়খ ‘আল-আজামাহ’-তে এবং আবু...
(খণ্ড: ١) আদ দুররুল মানসূর ফিত তাফসীরি বিল মাসূর (পৃষ্ঠা: ١٧)
نعيم فِي الْحِلْية عَن مُجَاهِد قَالَ: رن إِبْلِيس أَرْبعا

حِين نزلت فَاتِحَة الْكتاب وَحين لعن وَحين هَبَط إِلَى الأَرْض وَحين بعث مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم

وَأخرج ابْن الضريس عَن مُجَاهِد قَالَ: لما نزلت {الْحَمد لله رب الْعَالمين} شقّ على إِبْلِيس مشقة شَدِيدَة ورن رنة شَدِيدَة ونخر نخرة شَدِيدَة

قَالَ مُجَاهِد: فَمن أَن أَو نخر فَهُوَ مَلْعُون

وَأخرج ابْن الضريس عَن عبد الْعَزِيز بن ربيع قَالَ: لما نزلت فَاتِحَة الْكتاب رن إِبْلِيس كرنته يَوْم لعن

وَأخرج أَبُو عبيد عَن مَكْحُول قَالَ: أم الْقُرْآن قِرَاءَة وَمَسْأَلَة وَدُعَاء

وَأخرج أَبُو الشَّيْخ فِي الثَّوَاب عَن عَطاء قَالَ: إِذا أردْت حَاجَة فاقرأ بِفَاتِحَة الْكتاب حَتَّى تختمها تقضى إِن شَاءَ الله

وَأخرج ابْن قَانِع فِي مُعْجم الصَّحَابَة عَن رَجَاء الغنوي قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم استشفوا بِمَا حمد الله بِهِ نَفسه قبل أَن يحمده خلقه وَبِمَا مدح الله بِهِ نَفسه

قُلْنَا: وماذاك يَا نَبِي الله قَالَ (الْحَمد لله) و (قل هُوَ الله أحد) (الْإِخْلَاص الْآيَة 1) فَمن لم يشفه الْقُرْآن فَلَا شفَاه الله

وَأخرج أَبُو عبيد عَن أبي الْمنْهَال سيار بن سَلامَة أَن عمر بن الْخطاب سقط عَلَيْهِ رجل من الْمُهَاجِرين وَعمر يتهجد من اللَّيْل يقْرَأ بِفَاتِحَة الْكتاب لايزيد عَلَيْهَا وَيكبر ويسبح ثمَّ يرْكَع وَيسْجد

فَلَمَّا أصبح الرجل ذكر ذَلِك لعمر فَقَالَ عمر: لامك [لأمك] الويل

 

أليست تِلْكَ صَلَاة الْمَلَائِكَة قلت: فِيهِ أَن الْمَلَائِكَة أذن لَهُم فِي قِرَاءَة الْفَاتِحَة فَقَط فقد ذكر ابْن الصّلاح أَن قِرَاءَة الْقُرْآن خصيصة أوتيها الْبشر دون الْمَلَائِكَة وَأَنَّهُمْ حريصون على سَمَاعه من الْإِنْس

وَأخرج ابْن الضريس عَن أبي قلَابَة يرفعهُ إِلَى النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ: من شهد فَاتِحَة الْكتاب حِين يستفتح كَانَ كمن شهد فتحا فِي سَبِيل الله وَمن شهد حَتَّى تختم كمن شهد الْغَنَائِم حَتَّى تقسم

وَأخرج ابْن عَسَاكِر فِي تَارِيخ دمشق عَن شَدَّاد بن أَوْس قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِذا أَخذ أحدكُم مضجعه ليرقد فليقرأ بِأم الْقُرْآن وَسورَة

فَإِن الله يُوكل بِهِ ملكا يهب مَعَه إِذا هَب
নুয়াইম 'হিলয়াহ' গ্রন্থে মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবলিস চারবার উচ্চৈঃস্বরে বিলাপ করেছিল: যখন ফাতিহাতুল কিতাব অবতীর্ণ হলো, যখন তাকে অভিশপ্ত করা হলো, যখন তাকে পৃথিবীতে নিক্ষেপ করা হলো এবং যখন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নবী হিসেবে প্রেরণ করা হলো।

ইবনুয যুরাইস মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন {আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন} অবতীর্ণ হলো, তখন ইবলিসের জন্য তা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে দাঁড়াল এবং সে অত্যন্ত উচ্চস্বরে বিলাপ ও তীব্রভাবে আর্তনাদ করল।

মুজাহিদ বলেন: সুতরাং যে বিলাপ করে বা আর্তনাদ করে, সে অভিশপ্ত।

ইবনুয যুরাইস আব্দুল আজিজ ইবনে রাবি' থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন ফাতিহাতুল কিতাব অবতীর্ণ হলো, তখন ইবলিস সেভাবেই বিলাপ করল যেভাবে সে অভিশপ্ত হওয়ার দিন বিলাপ করেছিল।

আবু উবাইদ মাকহুল থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উম্মুল কুরআন হলো তিলাওয়াত, যাচ্ঞা এবং প্রার্থনা।

আবুশ শাইখ 'আস-সাওয়াব' গ্রন্থে আতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন তোমার কোনো প্রয়োজন দেখা দেয়, তখন ফাতিহাতুল কিতাব শেষ পর্যন্ত পাঠ করো, ইনশাআল্লাহ তা পূরণ হবে।

ইবনে কানি' 'মু'জামুস সাহাবা' গ্রন্থে রাজা আল-গানাবি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সৃষ্টির প্রশংসার পূর্বেই আল্লাহ যে কালামের মাধ্যমে নিজের প্রশংসা করেছেন এবং নিজের মাহাত্ম্য বর্ণনা করেছেন, তোমরা তা দ্বারা আরোগ্য কামনা করো।

আমরা বললাম: হে আল্লাহর নবী, সেটি কী? তিনি বললেন: (আলহামদু লিল্লাহ) এবং (কুল হুয়াল্লাহু আহাদ) (সুরা ইখলাস, আয়াত ১); সুতরাং কুরআন যাকে আরোগ্য দান করে না, আল্লাহ তাকে আরোগ্য দান করেন না।

আবু উবাইদ আবুল মিনহাল সাইয়ার ইবনে সালামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে জনৈক মুহাজির ব্যক্তি উপস্থিত হলেন যখন উমর রাতে তাহাজ্জুদ পড়ছিলেন। তিনি কেবল ফাতিহাতুল কিতাব পাঠ করছিলেন, এর অতিরিক্ত কিছু বাড়াচ্ছিলেন না, এবং তিনি তাকবির ও তাসবিহ পাঠ করে রুকু ও সিজদাহ করছিলেন।

সকাল হলে ওই ব্যক্তি উমরের কাছে বিষয়টি উল্লেখ করলে উমর বললেন: তোমার মায়ের জন্য দুর্ভোগ হোক!

 

ওটি কি ফেরেশতাদের সালাত নয়? আমি বলছি: এতে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, ফেরেশতাদের কেবল ফাতিহা পাঠের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কেননা ইবনুস সালাহ উল্লেখ করেছেন যে, কুরআন পাঠ করা মানুষের জন্য নির্ধারিত একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য যা ফেরেশতাদের দেওয়া হয়নি; আর তাঁরা মানুষের নিকট থেকে তা শোনার জন্য অত্যন্ত আগ্রহী থাকেন।

ইবনুয যুরাইস আবু কিলাবাহ থেকে মারফু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যে ব্যক্তি ফাতিহাতুল কিতাব পাঠ শুরু করার সময় উপস্থিত থাকে, সে যেন আল্লাহর পথে কোনো বিজয় অভিযানে উপস্থিত থাকল; আর যে এটি শেষ হওয়া পর্যন্ত উপস্থিত থাকে, সে যেন যুদ্ধলব্ধ সম্পদ বণ্টন হওয়া পর্যন্ত উপস্থিত থাকল।

ইবনে আসাকির 'তারিখে দামেশক' গ্রন্থে শাদ্দাদ ইবনে আওস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ ঘুমানোর জন্য বিছানায় যায়, সে যেন উম্মুল কুরআন এবং অন্য একটি সুরা পাঠ করে।

তাহলে আল্লাহ তার জন্য একজন ফেরেশতা নিযুক্ত করে দেন, যে তার সাথে জেগে ওঠে যখন সে জাগ্রত হয়।
(খণ্ড: ١) আদ দুররুল মানসূর ফিত তাফসীরি বিল মাসূর (পৃষ্ঠা: ١٨)
وَأخرج الشَّافِعِي فِي الْأُم وَابْن أبي شيبَة فِي المُصَنّف وَأحمد فِي مُسْنده وَالْبُخَارِيّ وَمُسلم وَأَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ وَابْن ماجة وَالْبَيْهَقِيّ فِي السّنَن عَن عبَادَة بن الصَّامِت

أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ لَا صَلَاة لمن لم يقْرَأ بِفَاتِحَة الْكتاب

وَأخرج الدَّارَقُطْنِيّ وَالْحَاكِم عَن عبَادَة بن الصَّامِت قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أم الْقُرْآن عوض عَن غَيرهَا وَلَيْسَ غَيرهَا عوضا عَنْهَا

وَأخرج أَحْمد وَالْبَيْهَقِيّ فِي سنه عَن أبي هُرَيْرَة قَالَ: أَمرنِي رَسُول الله قَالَ كل صَلَاة لايقرأ فِيهَا بِفَاتِحَة الْكتاب فَهِيَ خداع

وَأخرج مَالك فِي الْمُوَطَّأ وسُفْيَان بن عُيَيْنَة فِي تَفْسِيره وَأَبُو عبيد فِي فضائله وَابْن أبي شيبَة وَأحمد فِي مُسْنده وَالْبُخَارِيّ فِي جُزْء الْقِرَاءَة وَمُسلم فِي صَحِيحه وَأَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ وَابْن ماجة وَابْن جرير وَابْن الْأَنْبَارِي فِي الْمَصَاحِف وَابْن حبَان وَالدَّارَقُطْنِيّ وَالْبَيْهَقِيّ فِي السّنَن عَن أبي هُرَيْرَة قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم من صلى صَلَاة لم يقْرَأ فِيهَا بِأم الْكتاب فَهِيَ خداج فَهِيَ خداج ثَلَاث مَرَّات

غير تَامّ

قَالَ أَبُو السَّائِب: فَقلت ياأبا هُرَيْرَة إِنِّي أَحْيَانًا أكون وَرَاء الإِمَام

 

فغمز ذراعي وَقَالَ: اقْرَأ بهَا يَا فَارسي فِي نَفسك فَإِنِّي سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول: قَالَ الله عز وجل قسمت الصَّلَاة بيني وَبَين عَبدِي نِصْفَيْنِ فنصفها لي وَنِصْفهَا لعبدي ولعبدي مَا سَأَلَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: اقرؤا

 

يَقُول العَبْد {الْحَمد لله رب الْعَالمين} فَيَقُول الله: حمدني عَبدِي

وَيَقُول العَبْد {الرَّحْمَن الرَّحِيم} فَيَقُول الله: أثنى عَليّ عَبدِي

وَيَقُول العَبْد {مَالك يَوْم الدّين} فَيَقُول الله مجدني عَبدِي وَيَقُول العَبْد {إياك نعْبد وَإِيَّاك نستعين} فَيَقُول الله: هَذَا بيني وَبَين عَبدِي أَولهَا لي وَآخِرهَا لعبدي وَله ماسأل

وَيَقُول العَبْد {اهدنا الصِّرَاط الْمُسْتَقيم صِرَاط الَّذين أَنْعَمت عَلَيْهِم غير المغضوب عَلَيْهِم وَلَا الضَّالّين} فَيَقُول الله: هَذَا لعبدي ولعبدي مَا سَأَلَ

وَأخرج الدَّارَقُطْنِيّ وَالْبَيْهَقِيّ فِي السّنَن بِسَنَد ضَعِيف عَن أبي هُرَيْرَة قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول الله تَعَالَى: قسمت هَذِه الصَّلَاة بيني وَبَين عَبدِي نِصْفَيْنِ فَإِذا قَالَ العَبْد {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} يَقُول الله: ذَكرنِي عَبدِي

فَإِذا قَالَ {الْحَمد لله رب الْعَالمين} يَقُول الله: حمدني عَبدِي

فَإِذا قَالَ {الرَّحْمَن الرَّحِيم} يَقُول الله: أثنى عَليّ عَبدِي

فَإِذا قَالَ {مَالك يَوْم الدّين} يَقُول الله:
ইমাম শাফিঈ তাঁর 'আল-উম্ম' গ্রন্থে, ইবনে আবি শায়বা 'আল-মুসান্নাফ' গ্রন্থে, আহমাদ তাঁর 'মুসনাদ' গ্রন্থে, বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ এবং বায়হাকি 'আস-সুনান' গ্রন্থে উবাদাহ ইবনে সামিত (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে—

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি সুরা ফাতিহা পাঠ করল না, তার সালাত হবে না।"

দারা কুতনি ও হাকিম উবাদাহ ইবনে সামিত (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "উম্মুল কুরআন (সুরা ফাতিহা) অন্য সুরার স্থলাভিষিক্ত হয়, কিন্তু অন্য কোনো সুরা তার স্থলাভিষিক্ত হতে পারে না।"

আহমাদ এবং বায়হাকি তাঁর 'সুনান' গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে আদেশ করেছেন (এই মর্মে) যে, তিনি বলেছেন: "প্রত্যেক সালাত যাতে সুরা ফাতিহা পাঠ করা হয় না, তা অসম্পূর্ণ।"

ইমাম মালিক তাঁর 'মুওয়াত্ত্বা' গ্রন্থে, সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ তাঁর 'তাফসির' গ্রন্থে, আবু উবায়েদ তাঁর 'ফাদায়িল' গ্রন্থে, ইবনে আবি শায়বা, আহমাদ তাঁর 'মুসনাদ' গ্রন্থে, বুখারি 'জুযউল কিরাত' গ্রন্থে, মুসলিম তাঁর 'সহিহ' গ্রন্থে, আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, ইবনে জারির, ইবনে আম্বারি 'আল-মাসাহিফ' গ্রন্থে, ইবনে হিব্বান, দারা কুতনি এবং বায়হাকি 'আস-সুনান' গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি এমন কোনো সালাত আদায় করল যাতে উম্মুল কিতাব (সুরা ফাতিহা) পাঠ করা হয়নি, তবে তা অসম্পূর্ণ, তা অসম্পূর্ণ"—একথা তিনি তিনবার বলেছেন।

অর্থাৎ তা অপূর্ণাঙ্গ।

আবু সাইব বলেন: আমি বললাম, হে আবু হুরায়রা! আমি তো কখনো ইমামের পেছনে থাকি (তখন কী করব?)।

 

তখন তিনি আমার বাহুতে টিপ দিলেন এবং বললেন: হে পারস্যবাসী! তুমি মনে মনে তা পাঠ করো। কারণ আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি যে, মহান আল্লাহ বলেছেন: "আমি সালাতকে (সুরা ফাতিহাকে) আমার ও আমার বান্দার মধ্যে দুই ভাগে ভাগ করেছি। এর অর্ধেক আমার জন্য এবং অর্ধেক আমার বান্দার জন্য। আর আমার বান্দা যা চাইবে, তা-ই পাবে।" রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা পাঠ করো।"

 

বান্দা যখন বলে: {সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক}, তখন আল্লাহ বলেন: আমার বান্দা আমার প্রশংসা করল।

বান্দা যখন বলে: {যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু}, তখন আল্লাহ বলেন: আমার বান্দা আমার গুণগান করল।

বান্দা যখন বলে: {বিচার দিবসের মালিক}, তখন আল্লাহ বলেন: আমার বান্দা আমার মহিমা ঘোষণা করল। বান্দা যখন বলে: {আমরা একমাত্র আপনারই ইবাদত করি এবং একমাত্র আপনারই সাহায্য প্রার্থনা করি}, তখন আল্লাহ বলেন: এটি আমার ও আমার বান্দার মধ্যকার বিষয়; এর প্রথমাংশ আমার জন্য এবং শেষাংশ আমার বান্দার জন্য। আর আমার বান্দা যা চাইবে, তা-ই পাবে।

বান্দা যখন বলে: {আমাদেরকে সরল পথ প্রদর্শন করুন, তাদের পথ যাদেরকে আপনি নিয়ামত দান করেছেন, যারা রাগান্বিত নয় এবং যারা পথভ্রষ্ট নয়}, তখন আল্লাহ বলেন: এটি আমার বান্দার জন্য, আর আমার বান্দা যা চাইল তা-ই পাবে।

দারা কুতনি এবং বায়হাকি 'আস-সুনান' গ্রন্থে দুর্বল সনদে আবু হুরায়রা (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, মহান আল্লাহ বলেন: "আমি এই সালাতকে আমার ও আমার বান্দার মধ্যে দুই ভাগে ভাগ করেছি। যখন বান্দা বলে: {পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে}, তখন আল্লাহ বলেন: আমার বান্দা আমাকে স্মরণ করল।"

অতঃপর যখন সে বলে: {সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক}, তখন আল্লাহ বলেন: আমার বান্দা আমার প্রশংসা করল।

যখন সে বলে: {পরম করুণাময়, অতি দয়ালু}, তখন আল্লাহ বলেন: আমার বান্দা আমার গুণগান করল।

যখন সে বলে: {বিচার দিবসের মালিক}, তখন আল্লাহ বলেন:
(খণ্ড: ١) আদ দুররুল মানসূর ফিত তাফসীরি বিল মাসূর (পৃষ্ঠা: ١٩)
مجدني عَبدِي

فَإِذا قَالَ {إياك نعْبد وَإِيَّاك نستعين} قَالَ: هَذِه الْآيَة بيني وَبَين عَبدِي نِصْفَيْنِ وَآخر السُّورَة لعبدي ولعبدي ماسأل

وَأخرج ابْن جرير وَابْن أبي حَاتِم فِي تفسيرهما عَن جَابر بن عبد الله قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ الله: قسمت الصَّلَاة بيني وَبَين عَبدِي نِصْفَيْنِ وَله مَا سَأَلَ

فَإِذا قَالَ العَبْد {الْحَمد لله رب الْعَالمين} قَالَ: حمدني عَبدِي

وَإِذا قَالَ {الرَّحْمَن الرَّحِيم} قَالَ: أثنى عَليّ عَبدِي

ثمَّ قَالَ: هَذَا لي وَله مابقي

وَأخرج الطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط عَن أبي بن كَعْب قَالَ: قَرَأَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَاتِحَة الْكتاب ثمَّ قَالَ قَالَ ربكُم: ابْن آدم أنزلت عَلَيْك سبع آيَات

ثَلَاث لي وَثَلَاث لَك وَوَاحِدَة بيني وَبَيْنك

فَأم الَّتِي لي {الْحَمد لله رب الْعَالمين الرَّحْمَن الرَّحِيم مَالك يَوْم الدّين} وَالَّتِي بيني وَبَيْنك {إياك نعْبد وَإِيَّاك نستعين} مِنْك العباده وَعلي العون لَك

وَأما الَّتِي لَك {اهدنا الصِّرَاط الْمُسْتَقيم صِرَاط الَّذين أَنْعَمت عَلَيْهِم غير المغضوب عَلَيْهِم وَلَا الضَّالّين}

 

1 - سُورَة الْفَاتِحَة (مَكِّيَّة وآياتها سبع)
আমার বান্দা আমাকে মহিমান্বিত করেছে।

অতঃপর যখন সে বলে {আমরা একমাত্র আপনারই ইবাদত করি এবং একমাত্র আপনারই সাহায্য প্রার্থনা করি}, তখন তিনি বলেন: এই আয়াতটি আমার ও আমার বান্দার মধ্যে দুই ভাগে বিভক্ত, আর সূরার শেষাংশ আমার বান্দার জন্য, এবং আমার বান্দা যা প্রার্থনা করেছে তা-ই সে পাবে।

ইবনে জারীর এবং ইবনে আবি হাতিম তাঁদের তাফসীর গ্রন্থে জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন যে আল্লাহ তাআলা বলেন: আমি সালাতকে (সূরা ফাতিহাকে) আমার ও আমার বান্দার মধ্যে দুই ভাগে বিভক্ত করেছি এবং সে যা প্রার্থনা করবে তা-ই পাবে।

যখন বান্দা বলে {সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সকল জগতের প্রতিপালক}, তখন তিনি বলেন: আমার বান্দা আমার প্রশংসা করেছে।

যখন সে বলে {যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু}, তখন তিনি বলেন: আমার বান্দা আমার গুণগান করেছে।

অতঃপর তিনি বলেন: এটি আমার জন্য এবং অবশিষ্ট অংশ তার (বান্দার) জন্য।

তাবারানি 'আল-আওসাত' গ্রন্থে উবাই ইবনে কাব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফাতিহাতুল কিতাব তিলাওয়াত করলেন এবং বললেন, তোমাদের প্রতিপালক বলেছেন: হে বনী আদম, আমি তোমার প্রতি সাতটি আয়াত অবতীর্ণ করেছি।

তিনটি আমার জন্য, তিনটি তোমার জন্য এবং একটি আমার ও তোমার মাঝে।

যেগুলো আমার জন্য সেগুলো হলো: {সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সকল জগতের প্রতিপালক, পরম করুণাময়, অতি দয়ালু, বিচার দিবসের মালিক}। আর যেটি আমার ও তোমার মাঝে সেটি হলো: {আমরা একমাত্র আপনারই ইবাদত করি এবং একমাত্র আপনারই সাহায্য প্রার্থনা করি}; তোমার পক্ষ থেকে ইবাদত এবং আমার পক্ষ থেকে তোমার জন্য সাহায্য।

আর যেগুলো তোমার জন্য সেগুলো হলো: {আমাদেরকে সরল পথ প্রদর্শন করুন, তাদের পথ যাদেরকে আপনি নিয়ামত দান করেছেন, তাদের পথ নয় যারা আপনার ক্রোধের শিকার এবং যারা পথভ্রষ্ট}।

 

১ - সূরা আল-ফাতিহা (মক্কী এবং এর আয়াত সংখ্যা সাত)
(খণ্ড: ١) আদ দুররুল মানসূর ফিত তাফসীরি বিল মাসূর (পৃষ্ঠা: ١٩)
‌‌1 - قَوْله تَعَالَى: بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم

أخرج أَبُو عبيد وَابْن سعد فِي الطَّبَقَات وَابْن أبي شيبَة وَأحمد وَأَبُو دَاوُد وَابْن خُزَيْمَة وَابْن الْأَنْبَارِي فِي الْمَصَاحِف وَالدَّارَقُطْنِيّ وَالْحَاكِم وَصَححهُ وَالْبَيْهَقِيّ والخطيب وَابْن عبد الْبر كِلَاهُمَا فِي كتاب الْمَسْأَلَة عَن أم سَلمَة أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم كَانَ يقْرَأ {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم الْحَمد لله رب الْعَالمين الرَّحْمَن الرَّحِيم مَالك يَوْم الدّين إياك نعْبد وَإِيَّاك نستعين اهدنا الصِّرَاط الْمُسْتَقيم صِرَاط الَّذين أَنْعَمت عَلَيْهِم غير المغضوب عَلَيْهِم وَلَا الضَّالّين} قطعهَا آيَة آيَة وعددها عد الاعراب وعد بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم وَلم يعد عَلَيْهِم

وَأخرج ابْن أبي حَاتِم وَالطَّبَرَانِيّ وَالدَّارَقُطْنِيّ وَالْبَيْهَقِيّ فِي سنَنه بِسَنَد ضَعِيف عَن بُرَيْدَة قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لَا أخرج من الْمَسْجِد حَتَّى أخْبرك بِآيَة أَو سُورَة لم تنزل على نَبِي بعد سُلَيْمَان غَيْرِي

قَالَ: فَمشى وتبعته حَتَّى انْتهى إِلَى بَاب الْمَسْجِد فَأخْرج احدى رجلَيْهِ من أُسْكُفَّة الْمَسْجِد وَبقيت الْأُخْرَى فِي الْمَسْجِد

فَقلت بيني وَبَين نَفسِي: نسي ذَلِك

 

فَأقبل عَليّ بِوَجْهِهِ فَقَالَ: بِأَيّ شَيْء تفتتح الْقُرْآن إِذا افتتحت الصَّلَاة قلت {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} قَالَ: هِيَ هِيَ

 

ثمَّ خرج
১ - মহান আল্লাহর বাণী: পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

আবু উবাইদ, ইবনে সাদ 'তাবাকাত' গ্রন্থে, ইবনে আবি শাইবা, আহমাদ, আবু দাউদ, ইবনে খুযাইমা, ইবনে আল-আনবারি 'মাসাহিফ' গ্রন্থে, আদ-দারাকুতনি, আল-হাকিম (তিনি একে সহিহ বলেছেন), আল-বাইহাকি, আল-খতিব এবং ইবনে আবদিল বার্র—উভয়েই 'কিতাবুল মাসআলাহ'-তে উম্মে সালামাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম, আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন, আর-রহমানির রাহিম, মালিকি ইয়াওমিদ্দিন, ইয়্যাকা নাবুদু ওয়া ইয়্যাকা নাস্তাইন, ইহদিনাস সিরাতাল মুস্তাকিম, সিরাতাল্লাযিনা আনআমতা আলাইহিম, গাইরিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ দাল্লিন’—আয়াতগুলো একটি একটি করে আলাদা করে পাঠ করতেন। তিনি আরবের সাধারণ গণনা পদ্ধতি অনুসরণ করতেন; এতে তিনি ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম’-কে একটি স্বতন্ত্র আয়াত হিসেবে গণনা করতেন এবং ‘আলাইহিম’ শব্দে আয়াত বিরতি দিতেন না।

ইবনে আবি হাতিম, আত-তাবারানি, আদ-দারাকুতনি এবং আল-বাইহাকি তাঁর 'সুনান' গ্রন্থে একটি দুর্বল সনদে বুরাইদাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "আমি মসজিদ থেকে বের হব না যতক্ষণ না তোমাকে এমন একটি আয়াত বা সূরা সম্পর্কে অবহিত করি, যা সুলাইমান (আ.) ব্যতীত অন্য কোনো নবীর ওপর আমার আগে নাযিল হয়নি।"

তিনি বলেন: এরপর তিনি হাঁটলেন এবং আমিও তাঁর পিছু পিছু চললাম, অবশেষে তিনি যখন মসজিদের দরজায় পৌঁছালেন, তখন তাঁর এক পা মসজিদের চৌকাঠের বাইরে রাখলেন এবং অপর পা মসজিদের ভেতরে রয়ে গেল।

আমি মনে মনে বললাম: তিনি হয়তো বিষয়টি ভুলে গেছেন।

 

তখন তিনি আমার দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন: "তুমি যখন সালাত শুরু করো, তখন কুরআনের কোন আয়াত দিয়ে পাঠ আরম্ভ করো?" আমি বললাম, "বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম।" তিনি বললেন, "এটিই সেই আয়াত।"

 

এরপর তিনি বেরিয়ে গেলেন।
(খণ্ড: ١) আদ দুররুল মানসূর ফিত তাফসীরি বিল মাসূর (পৃষ্ঠা: ٢٠)
وَأخرج ابْن الضريس عَن ابْن عَبَّاس قَالَ {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} آيَة

وَأخرج سعيد بن مَنْصُور فِي سنَنه وَابْن خُزَيْمَة فِي كتاب الْبَسْمَلَة وَالْبَيْهَقِيّ عَن ابْن عَبَّاس قَالَ: اسْترق الشَّيْطَان من النَّاس

وَأخرج أَبُو عبيد وَابْن مرْدَوَيْه وَالْبَيْهَقِيّ فِي شعب الإِيمان عَن ابْن عَبَّاس قَالَ: أغفل النَّاس آيَة من كتاب الله لم تنزل على أحد سوى النَّبِي صلى الله عليه وسلم إِلَّا أَن يكون سُلَيْمَان بن دَاوُد عليهما السلام {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم}

وَأخرج الدَّارَقُطْنِيّ بِسَنَد ضَعِيف عَن ابْن عمر أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ كَانَ جِبْرِيل إِذا جَاءَنِي بِالْوَحْي أول مايلقي عَليّ {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم}

وَأخرج الواحدي عَن ابْن عمر قَالَ: نزلت {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} فِي كل سُورَة

وَأخرج أَبُو دَاوُد وَالْبَزَّار وَالطَّبَرَانِيّ وَالْحَاكِم وَصَححهُ وَالْبَيْهَقِيّ فِي الْمعرفَة عَن ابْن عَبَّاس قَالَ: كَانَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم لايعرف فصل السُّورَة - وَفِي لفظ خَاتِمَة السُّورَة - حَتَّى ينزل عَلَيْهِ {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} زَاد الْبَزَّار وَالطَّبَرَانِيّ فَإِذا نزلت عرف أَن السُّورَة قد ختمت واستقبلت أَو ابتدئت سُورَة أُخْرَى

وَأخرج الْحَاكِم وَصَححهُ وَالْبَيْهَقِيّ فِي سنَنه عَن ابْن عَبَّاس قَالَ: كَانَ الْمُسلمُونَ لايعرفون انْقِضَاء السُّورَة حَتَّى تنزل {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} فَإِذا نزلت عرفُوا أَن السُّورَة قد انْقَضتْ

وَأخرج أَبُو عبيد عَن سعيد بن جُبَير أَنه فِي عهد النَّبِي صلى الله عليه وسلم كَانُوا لايعرفون انْقِضَاء السُّورَة حَتَّى تنزل {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} فَإِذا نزلت علمُوا أَن قد انْقَضتْ سُورَة وَنزلت أُخْرَى

وَأخرج الطَّبَرَانِيّ وَالْحَاكِم وَصَححهُ وَالْبَيْهَقِيّ فِي شعب الْإِيمَان عَن ابْن عَبَّاس

أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذا جَاءَهُ جِبْرِيل فَقَرَأَ {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} علم أَنَّهَا سُورَة

وَأخرج الْبَيْهَقِيّ فِي شعب الإِيمان والواحدي عَن ابْن مَسْعُود قَالَ: كُنَّا لانعلم فصل مابين السورتين حَتَّى تنزل {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم}

وَأخرج الْبَيْهَقِيّ فِي شعب الإِيمان عَن ابْن عمر أَنه كَانَ يقْرَأ فِي الصَّلَاة {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} فَإِذا ختم السُّورَة قَرَأَهَا يَقُول: ماكتبت فِي الْمُصحف إِلَّا لتقرأ

وَأخرج الدَّارَقُطْنِيّ عَن أبي هُرَيْرَة قَالَ: قَالَ رَسُول الله عَلمنِي جِبْرِيل
ইবনে আদ-দোরইস ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম’ (পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে) একটি আয়াত।

সাঈদ ইবনে মানসুর তাঁর সুনানে, ইবনে খুযায়মাহ ‘কিতাবুল বাসমালাহ’-তে এবং বায়হাকি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শয়তান মানুষের নিকট থেকে এটি চুরি করে নিয়েছিল।

আবু উবায়েদ, ইবনে মারদুওয়াইহ এবং বায়হাকি ‘শুআবুল ঈমান’-এ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মানুষ আল্লাহর কিতাবের এমন একটি আয়াত সম্পর্কে গাফেল হয়ে আছে, যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ব্যতীত অন্য কারো ওপর অবতীর্ণ হয়নি—সুলাইমান ইবনে দাউদ (আলাইহিমাস সালাম) ছাড়া; আর তা হলো: ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম’।

দারা কুতনি একটি দুর্বল সনদে ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: জিবরাঈল যখন ওহি নিয়ে আমার নিকট আসতেন, তখন সর্বপ্রথম তিনি আমার নিকট যা পেশ করতেন তা হলো ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম’।

ওয়াহিদি ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: প্রত্যেক সূরার শুরুতে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম’ অবতীর্ণ হয়েছে।

আবু দাউদ, বাযযার, তাবারানি, হাকিম (যিনি একে সহিহ বলেছেন) এবং বায়হাকি ‘আল-মারিফা’ গ্রন্থে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূরার পার্থক্য—ভিন্ন শব্দে সূরার সমাপ্তি—বুঝতে পারতেন না যতক্ষণ না তাঁর ওপর ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম’ অবতীর্ণ হতো। বাযযার ও তাবারানি আরও বর্ণনা করেছেন যে, যখন এটি অবতীর্ণ হতো, তখন তিনি বুঝতে পারতেন যে সূরাটি শেষ হয়েছে এবং অন্য একটি সূরার মুখোমুখি হয়েছেন বা অন্য একটি সূরা শুরু হয়েছে।

হাকিম (একে সহিহ বলেছেন) এবং বায়হাকি তাঁর সুনানে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুসলমানরা সূরার সমাপ্তি বুঝতে পারতেন না যতক্ষণ না ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম’ অবতীর্ণ হতো। যখন এটি অবতীর্ণ হতো, তখন তারা বুঝতে পারতেন যে সূরাটি সমাপ্ত হয়েছে।

আবু উবায়েদ সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে তারা সূরার সমাপ্তি বুঝতে পারতেন না যতক্ষণ না ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম’ অবতীর্ণ হতো। যখন এটি অবতীর্ণ হতো, তখন তারা জানতেন যে একটি সূরা সমাপ্ত হয়েছে এবং অন্য একটি সূরা অবতীর্ণ হয়েছে।

তাবারানি, হাকিম (একে সহিহ বলেছেন) এবং বায়হাকি ‘শুআবুল ঈমান’-এ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন

যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট যখন জিবরাঈল আসতেন এবং ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম’ পাঠ করতেন, তখন তিনি জানতেন যে এটি একটি স্বতন্ত্র সূরা।

বায়হাকি ‘শুআবুল ঈমান’-এ এবং ওয়াহিদি ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা দুই সূরার মধ্যবর্তী পার্থক্য বুঝতে পারতাম না যতক্ষণ না ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম’ অবতীর্ণ হতো।

বায়হাকি ‘শুআবুল ঈমান’-এ ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি নামাজে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম’ পাঠ করতেন; অতঃপর যখন সূরা শেষ করতেন তখন পুনরায় এটি পাঠ করতেন এবং বলতেন: এটি মুসহাফে কেবল পাঠ করার জন্যই লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

দারা কুতনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, জিবরাঈল আমাকে শিখিয়েছেন...
(খণ্ড: ١) আদ দুররুল মানসূর ফিত তাফসীরি বিল মাসূর (পৃষ্ঠা: ٢١)
الصَّلَاة فَقَامَ فَكبر لنا ثمَّ قَرَأَ {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} فِيمَا يجْهر بِهِ فِي كل رَكْعَة

وَأخرج الثَّعْلَبِيّ عَن عَليّ بن يزِيد بن جدعَان أَن العبادلة كَانُوا يستفتحون الْقِرَاءَة ب {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} يجهرون بهَا

عبد الله بن عَبَّاس وَعبد الله بن عمر وَعبد الله بن الزبير

وَأخرج الثَّعْلَبِيّ عَن أبي هُرَيْرَة قَالَ: كنت مَعَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم فِي الْمَسْجِد إِذْ دخل رجل يُصَلِّي فَافْتتحَ الصَّلَاة وتعوذ ثمَّ قَالَ {الْحَمد لله رب الْعَالمين} فَسمع النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يارجل قطعت على نَفسك الصَّلَاة أما علمت أَن {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} من الْحَمد

فَمن تَركهَا فقد ترك آيَة

وَمن ترك آيَة فقد أفسد عَلَيْهِ صلَاته

وَأخرج الثَّعْلَبِيّ عَن عَليّ أَنه كَانَ إِذا افْتتح السُّورَة فِي الصَّلَاة يقْرَأ {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} وَكَانَ يَقُول من ترك قرَاءَتهَا فقد نقص وَكَانَ يَقُول هِيَ تَمام السَّبع المثاني

وَأخرج الثَّعْلَبِيّ عَن طَلْحَة بن عبيد الله قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم من ترك {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} فقد ترك آيَة من كتاب الله

وَأخرج الشَّافِعِي فِي الْأُم وَالدَّارَقُطْنِيّ وَالْحَاكِم وَصَححهُ وَالْبَيْهَقِيّ عَن معاوبة أَنه قدم الْمَدِينَة فصلى بهم وَلم يقْرَأ {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} وَلم يكبر إِذا خفض وَإِذا رفع

فناداه الْمُهَاجِرُونَ وَالْأَنْصَار حِين سلم: يَا مُعَاوِيَة أسرقت صَلَاتك أَيْن {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} وَأَيْنَ التَّكْبِير فَلَمَّا صلى بعد ذَلِك قَرَأَ {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} لَام الْقُرْآن وللسوره الَّتِي بعْدهَا وَكبر حِين يهوي سَاجِدا

وَأخرج الْبَيْهَقِيّ عَن الزُّهْرِيّ قَالَ: من سنة الصَّلَاة أَن تقْرَأ {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} وَإِن أول من أسر {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} عَمْرو بن سعيد بن الْعَاصِ بِالْمَدِينَةِ وَكَانَ رجلا حييا

أخرج أَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَالدَّارَقُطْنِيّ وَالْبَيْهَقِيّ عَن ابْن عَبَّاس قَالَ: كَانَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم يفْتَتح صلَاته ب {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم}

وَأخرج الْبَزَّار وَالدَّارَقُطْنِيّ وَالْبَيْهَقِيّ فِي شعب الإِيمان من طَرِيق أبي الطُّفَيْل قَالَ: سَمِعت عَليّ بن أبي طَالب وعمار يَقُولَانِ: أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم كَانَ يجْهر فِي
নামাজ, অতঃপর তিনি দাঁড়িয়ে আমাদের নিয়ে তাকবির দিলেন, এরপর তিনি প্রতিটি রাকাআতে যে অংশে উচ্চস্বরে পড়তে হয় সেখানে 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' পাঠ করলেন।

ছা'লাবী আলী ইবনে ইয়াযীদ ইবনে জাদ'আনের সূত্রে বর্ণনা করেন যে, 'আবাদিলাগণ (নামে আবদুল্লাহ এমন সাহাবীগণ) 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' এর মাধ্যমে কিরাআত শুরু করতেন এবং তারা এটি উচ্চস্বরে পাঠ করতেন।

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস, আবদুল্লাহ ইবনে উমর এবং আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের।

ছা'লাবী আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি মসজিদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম, এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি প্রবেশ করে নামাজ পড়তে শুরু করল। সে নামাজ শুরু করে আউযুবিল্লাহ পড়ল এবং এরপর বলল 'আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন'। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শুনে বললেন, হে ব্যক্তি! তুমি তোমার নিজের নামাজ অসম্পূর্ণ রাখলে। তুমি কি জানো না যে 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' আল-হামদ (সূরা ফাতিহা) এর অংশ?

সুতরাং যে ব্যক্তি তা বর্জন করল, সে একটি আয়াত বর্জন করল।

আর যে একটি আয়াত বর্জন করল, সে তার নামাজকে নষ্ট করল।

ছা'লাবী আলী (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি যখন নামাজে কোনো সূরা শুরু করতেন তখন 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' পাঠ করতেন। তিনি বলতেন, যে এটি পাঠ করা ত্যাগ করল সে (নামাজকে) ত্রুটিযুক্ত করল। তিনি আরও বলতেন, এটি হলো আস-সাবউল মাছানী (সাতটি বারবার পঠিত আয়াত)-এর পূর্ণতা।

ছা'লাবী তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' বর্জন করল, সে আল্লাহর কিতাবের একটি আয়াত বর্জন করল।

ইমাম শাফেয়ী তাঁর 'আল-উম্ম' গ্রন্থে এবং দারাকুতনী, হাকেম (যিনি একে সহীহ বলেছেন) ও বায়হাকী মুআবিয়া (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি মদীনায় এলেন এবং তাদের নিয়ে নামাজ পড়লেন। তিনি 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' পাঠ করেননি এবং উঠা-নামার সময় তাকবিরও বলেননি।

তিনি যখন সালাম ফিরালেন, তখন মুহাজির ও আনসারগণ তাঁকে ডেকে বললেন: হে মুআবিয়া! আপনি কি আপনার নামাজ চুরি করেছেন? 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' কোথায় গেল আর তাকবিরই বা কোথায় গেল? এরপর যখন তিনি নামাজ পড়লেন, তখন উম্মুল কুরআন (সূরা ফাতিহা) এবং তার পরবর্তী সূরার জন্য 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' পাঠ করলেন এবং সেজদায় যাওয়ার সময় তাকবির বললেন।

বায়হাকী ইমাম যুহরী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নামাজের অন্যতম সুন্নত হলো 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' পাঠ করা। মদীনায় সর্বপ্রথম যিনি 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' নিচুস্বরে পাঠ করেছিলেন তিনি হলেন আমর ইবনে সাঈদ ইবনুল আস; তিনি ছিলেন অত্যন্ত লজ্জাশীল ব্যক্তি।

আবু দাউদ, তিরমিযী, দারাকুতনী ও বায়হাকী ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' দ্বারা তাঁর নামাজ শুরু করতেন।

বাযযার, দারাকুতনী এবং বায়হাকী 'শুআবুল ঈমান'-এ আবু তুফাইলের সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আলী ইবনে আবি তালিব ও আম্মার (রা.)-কে বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উচ্চস্বরে পাঠ করতেন...
(খণ্ড: ١) আদ দুররুল মানসূর ফিত তাফসীরি বিল মাসূর (পৃষ্ঠা: ٢٢)
المكتوبات ب {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} فِي فَاتِحَة الْكتاب

وَأخرج الطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط وَالدَّارَقُطْنِيّ وَالْبَيْهَقِيّ عَن نَافِع

أَن ابْن عمر إِذا افْتتح الصَّلَاة يقْرَأ ب {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} فِي أم الْقُرْآن وَفِي السُّورَة الَّتِي تَلِيهَا وَيذكر أَنه سمع ذَلِك من رَسُول الله

وَأخرج الدَّارَقُطْنِيّ وَالْحَاكِم وَالْبَيْهَقِيّ عَن أبي هُرَيْرَة قَالَ: كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يجْهر ب {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} فِي الصَّلَاة

وَأخرج الدَّارَقُطْنِيّ وَالْحَاكِم وَالْبَيْهَقِيّ وَصَححهُ عَن نعيم المجمر قَالَ: كنت وَرَاء أبي هُرَيْرَة فَقَرَأَ {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} ثمَّ قَرَأَ (بِأم الْقُرْآن) حَتَّى بلغ {وَلَا الضَّالّين} قَالَ: آمين

وَقَالَ النَّاس: آمين

وَيَقُول كلما سجد: الله أكبر وَإِذا قَامَ من الْجُلُوس قَالَ الله أكبر وَيَقُول إِذا سلم: وَالَّذِي نَفسِي بِيَدِهِ إِنِّي لأشبهكم صَلَاة برَسُول الله صلى الله عليه وسلم

وَأخرج الدَّارَقُطْنِيّ عَن عَليّ بن أبي طَالب قَالَ: كَانَ النَّبِي يجْهر ب {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} فِي السورتين جَمِيعًا

وَأخرج الدَّارَقُطْنِيّ عَن عَليّ بن أبي طَالب قَالَ: قَالَ النَّبِي كَيفَ تقْرَأ إِذا قُمْت إِلَى الصَّلَاة قلت {الْحَمد لله رب الْعَالمين} قَالَ: قل {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم}

وَأخرج الدَّارَقُطْنِيّ وَالْبَيْهَقِيّ فِي شعب الإِيمان عَن جَابر قَالَ: قَالَ لي رَسُول الله صلى الله عليه وسلم كَيفَ تقْرَأ إِذا قُمْت إِلَى الصَّلَاة قلت: أَقرَأ {الْحَمد لله رب الْعَالمين} قَالَ: قل {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم}

وَأخرج الدَّارَقُطْنِيّ عَن ابْن عمر قَالَ: صليت خلف النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَأبي بكر وَعمر فَكَانُوا يجهرون ب {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم}

وَأخرج الدَّارَقُطْنِيّ عَن النُّعْمَان بن بشير قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أمني جِبْرِيل عليه السلام عِنْد الْكَعْبَة فجهر ب {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم}

وَأخرج الدَّارَقُطْنِيّ عَن الحكم بن عُمَيْر وَكَانَ بَدْرِيًّا قَالَ صليت خلف النَّبِي
কিতাবের শুরুতে 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম' পাঠের বর্ণনাসমূহ

তাবারানি তাঁর 'আল-আওসাত' গ্রন্থে, দারাকুতনি এবং বায়হাকি নাফে' থেকে বর্ণনা করেছেন যে

ইবনে উমর (রা.) যখন সালাত শুরু করতেন, তখন তিনি 'উম্মুল কুরআন' (সূরা ফাতিহা) এবং এর পরবর্তী সূরার শুরুতে 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম' পাঠ করতেন। তিনি উল্লেখ করতেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট থেকে এটি শুনেছেন।

দারাকুতনি, হাকেম এবং বায়হাকি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) সালাতে উচ্চৈঃস্বরে 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম' পাঠ করতেন।

দারাকুতনি, হাকেম এবং বায়হাকি নুআইম আল-মুজমির থেকে বর্ণনা করেছেন—এবং হাকেম একে সহীহ বলেছেন—তিনি বলেন: আমি আবু হুরায়রা (রা.)-এর পেছনে ছিলাম; তিনি 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম' পাঠ করলেন, অতঃপর 'উম্মুল কুরআন' পাঠ করলেন। যখন তিনি 'ওয়ালাদ দাল্লীন' পর্যন্ত পৌঁছালেন, তখন তিনি বললেন: আমীন।

এবং লোকেরাও বলল: আমীন।

তিনি প্রত্যেক সাজদাহর সময় বলতেন: আল্লাহু আকবার। এবং বসা থেকে দাঁড়ানোর সময়ও বলতেন: আল্লাহু আকবার। অতঃপর সালাম ফিরিয়ে বললেন: সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ! আমি তোমাদের মধ্যে সালাতের দিক থেকে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সবচেয়ে বেশি সদৃশ।

দারাকুতনি আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী (সা.) উভয় সূরার শুরুতেই উচ্চৈঃস্বরে 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম' পাঠ করতেন।

দারাকুতনি আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী (সা.) আমাকে বললেন, "তুমি যখন সালাতে দাঁড়াও তখন কীভাবে পাঠ করো?" আমি বললাম, 'আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন'। তিনি বললেন: "বলো—বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম।"

দারাকুতনি এবং বায়হাকি 'শুআবুল ঈমান' গ্রন্থে জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে বললেন, "তুমি যখন সালাতে দাঁড়াও তখন কীভাবে পাঠ করো?" আমি বললাম: আমি 'আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন' পাঠ করি। তিনি বললেন: "বলো—বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম।"

দারাকুতনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি নবী (সা.), আবু বকর এবং উমর (রা.)-এর পেছনে সালাত আদায় করেছি; তাঁরা 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম' উচ্চৈঃস্বরে পাঠ করতেন।

দারাকুতনি নুমান ইবনে বশীর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "কাবাগৃহের নিকট জিবরাঈল (আ.) আমাকে সালাতে ইমামতি করেছিলেন এবং তিনি উচ্চৈঃস্বরে 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম' পাঠ করেছিলেন।"

দারাকুতনি হাকাম ইবনে উমাইর (রা.)—যিনি বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবী ছিলেন—থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি নবী (সা.)-এর পেছনে সালাত আদায় করেছি...
(খণ্ড: ١) আদ দুররুল মানসূর ফিত তাফসীরি বিল মাসূর (পৃষ্ঠা: ٢٣)
صلى الله عيه وَسلم فجهر فِي الصَّلَاة {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} فِي صَلَاة اللَّيْل وَصَلَاة الْغَدَاة وَصَلَاة الْجُمُعَة

وَأخرج الدَّارَقُطْنِيّ عَن عَائِشَة أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم كَانَ يجْهر ب {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم}

وَأخرج أَبُو عبيد عَن مُحَمَّد بن كَعْب الْقرظِيّ قَالَ: فَاتِحَة الْكتاب سبع آيَات ب {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم}

وَأخرج ابْن أبي حَاتِم فِي تَفْسِيره وَالْحَاكِم فِي الْمُسْتَدْرك وَصَححهُ وَالْبَيْهَقِيّ فِي شعب الإِيمان وَأَبُو ذَر الْهَرَوِيّ فِي فضائله والخطيب الْبَغْدَادِيّ فِي تَارِيخه عَن ابْن عَبَّاس

أَن عُثْمَان بن عَفَّان سَأَلَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم عَن {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} فَقَالَ هُوَ اسْم من أَسمَاء الله تَعَالَى ومابينه وَبَين اسْم الله الْأَكْبَر إِلَّا كَمَا بَين سَواد الْعين وبياضها من الْقرب

وَأخرج ابْن جرير وَابْن عدي فِي الْكَامِل وَابْن مرْدَوَيْه وَأَبُو نعيم فِي الْحِلْية وَابْن عَسَاكِر فِي تَارِيخ دمشق والثعلبي بِسَنَد ضَعِيف جدا عَن أبي سعيد الْخُدْرِيّ قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَن عِيسَى بن مَرْيَم أسلمته أمه إِلَى الْكتاب ليعلمه فَقَالَ لَهُ الْمعلم: اكْتُبْ {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} قَالَ لَهُ عِيسَى: وَمَا باسم الله قَالَ الْمعلم: لَا أَدْرِي فَقَالَ لَهُ عِيسَى الْبَاء بهاء الله وَالسِّين سناؤه وَالْمِيم مَمْلَكَته {وَالله} إِلَه الْآلهَة والرحمن رحمان الدُّنْيَا وَالْآخِرَة والرحيم رَحِيم الْآخِرَة

وَأخرج ابْن أبي حَاتِم من طَرِيق جُوَيْبِر عَن الضَّحَّاك

مثل قَوْله

وَأخرج ابْن جريج وَابْن أبي حَاتِم عَن ابْن عَبَّاس قَالَ أول مَا نزل جِبْرِيل على مُحَمَّد قَالَ لَهُ جِبْرِيل {بِسم الله} يَا مُحَمَّد

يَقُول: اقْرَأ بِذكر الله: و {الله} ذُو الألوهية والمعبودية على خلقه أَجْمَعِينَ والرحمن الفعلان من الرَّحْمَة و {الرَّحِيم} الرفيق الرَّقِيق بِمن أحب أَن يرحمه والبعيد الشَّديد على من أحب أَن يضعف عَلَيْهِ الْعَذَاب

وَأخرج ابْن مرْدَوَيْه عَن ابْن عَبَّاس قَالَ: اسْم الله الْأَعْظَم

هُوَ الله

وَأخرج ابْن أبي شيبَة وَالْبُخَارِيّ فِي تَارِيخه وَابْن الضريس فِي فضائله وَابْن أبي حَاتِم عَن جَابر بن يزِيد قَالَ: اسْم الله الْأَعْظَم

هُوَ الله أَلا ترى أَنه فِي جَمِيع
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের নামাজ, ভোরের নামাজ এবং জুমার নামাজে উচ্চৈঃস্বরে 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম' পাঠ করতেন।

দারা কুতনী আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উচ্চৈঃস্বরে 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম' পাঠ করতেন।

আবু উবাইদ মুহাম্মদ ইবনে কাব আল-কুরাজি থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: সুরা ফাতিহা হলো 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম' সহ সাতটি আয়াত।

ইবনে আবি হাতিম তার তাফসিরে, হাকেম তার মুস্তাদরাকে (এবং একে সহিহ বলেছেন), বায়হাকি তার শুআবুল ঈমানে, আবু যার আল-হারাবি তার ফাজায়েলে এবং খতিব আল-বাগদাদি তার তারিখে ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন

যে, উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম' সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন: এটি আল্লাহ তাআলার নামসমূহের মধ্যে একটি নাম; এটি এবং আল্লাহর ইসমে আজমের (সবচেয়ে মহান নাম) মধ্যবর্তী দূরত্ব চোখের মণি ও তার শুভ্রতার মধ্যকার দূরত্বের মতোই নিকটবর্তী।

ইবনে জারির, ইবনে আদি 'আল-কামিল' গ্রন্থে, ইবনে মারদুওয়াইহ, আবু নুয়াইম 'হিলয়াতুল আউলিয়া' গ্রন্থে, ইবনে আসাকির 'তারিখে দামেশক' গ্রন্থে এবং সায়লাবি অত্যন্ত দুর্বল সূত্রে আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ঈসা ইবনে মারিয়ামকে তাঁর মা শিক্ষালাভের জন্য এক শিক্ষকের নিকট সমর্পণ করেন। শিক্ষক তাঁকে বললেন: লিখ 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম'। ঈসা তাঁকে বললেন: 'বিসমিল্লাহ' কী? শিক্ষক বললেন: আমি জানি না। তখন ঈসা তাঁকে বললেন: 'বা' হলো আল্লাহর উজ্জ্বলতা, 'সিন' হলো তাঁর মহিমা, এবং 'মিম' হলো তাঁর রাজত্ব। 'আল্লাহ' হলেন সকল উপাস্যের উপাস্য, 'আর-রহমান' হলেন দুনিয়া ও আখেরাতের করুণাময় এবং 'আর-রাহিম' হলেন আখেরাতের দয়ালু।

ইবনে আবি হাতিম জুওয়াইবিরের সূত্রে দাহহাক থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

অনুরূপ বক্তব্য।

ইবনে জুরাইজ এবং ইবনে আবি হাতিম ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: জিবরাঈল আলাইহিস সালাম যখন প্রথম মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট অবতরণ করেন, তখন তাঁকে বলেন: 'বিসমিল্লাহ' (আল্লাহর নামে শুরু করছি), হে মুহাম্মদ!

তিনি বলেন: আল্লাহর স্মরণের সাথে পাঠ করুন। আর 'আল্লাহ' হলেন সমস্ত সৃষ্টির উপর উলুহিয়াত ও উপাস্য হওয়ার অধিকারী। 'আর-রহমান' হলো রহমত থেকে আগত অতিশয় দয়া নির্দেশক শব্দ। আর 'আর-রাহিম' হলেন ঐ ব্যক্তির প্রতি কোমল ও দয়ালু যাকে তিনি দয়া করতে চান, এবং ঐ ব্যক্তির প্রতি বিমুখ ও কঠোর যার ওপর তিনি আজাব দ্বিগুণ করতে চান।

ইবনে মারদুওয়াইহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: আল্লাহর ইসমে আজম বা মহানতম নাম

হলো 'আল্লাহ'।

ইবনে আবি শায়বা, বুখারি তাঁর 'তারিখ' গ্রন্থে, ইবনে উদ-দুরাইস তাঁর 'ফাজায়েল' গ্রন্থে এবং ইবনে আবি হাতিম জাবির ইবনে ইয়াজিদ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: আল্লাহর ইসমে আজম বা মহানতম নাম

হলো 'আল্লাহ'; আপনি কি দেখছেন না যে এটি সমস্ত কিছুর মধ্যে বিদ্যমান।
(খণ্ড: ١) আদ দুররুল মানসূর ফিত তাফসীরি বিল মাসূর (পৃষ্ঠা: ٢٤)
الْقُرْآن يبْدَأ بِهِ قبل كل اسْم

وَأخرج ابْن أبي شيبَة وَابْن أبي الدُّنْيَا فِي الدُّعَاء الشّعبِيّ قَالَ: اسْم الله الْأَعْظَم

يَا الله

وَأخرج ابْن جرير عَن الْحسن قَالَ {الرَّحْمَن} اسْم مَمْنُوع

وَأخرج ابْن أبي حَاتِم قَالَ {الرَّحِيم} اسْم لايستطيع النَّاس أَن ينتحلوه

وَأخرج ابْن أبي حَاتِم عَن الضَّحَّاك قَالَ {الرَّحْمَن} لجَمِيع الْخلق و {الرَّحِيم} بِالْمُؤْمِنِينَ خَاصَّة

وَأخرج الْبَيْهَقِيّ فِي الْأَسْمَاء وَالصِّفَات عَن ابْن عَبَّاس قَالَ {الرَّحْمَن} وَهُوَ الرفيق {الرَّحِيم} وَهُوَ العاطف على خلقه بالرزق

وهما اسمان رقيقان أَحدهمَا أرق من الآخر

وَأخرج ابْن جرير عَن عَطاء الْخُرَاسَانِي قَالَ: كَانَ الرَّحْمَن فَلَمَّا اختزل الرَّحْمَن من اسْمه كَانَ {الرَّحْمَن الرَّحِيم}

وَأخرج الْبَزَّار وَالْحَاكِم وَالْبَيْهَقِيّ فِي الدَّلَائِل بِسَنَد ضَعِيف عَن عَائِشَة قَالَت: قَالَ لي أبي: أَلا أعلمك دُعَاء علمنيه رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ: وَكَانَ عِيسَى يُعلمهُ للحواريين - لوكان عَلَيْك مثل أحد ذَهَبا لقضاه الله عَنْك قلت: بلَى

قَالَ: قولي: اللَّهُمَّ فارج الْهم كاشف الْغم - وَلَفظ الْبَزَّار وَكَاشف الكرب - مُجيب دَعْوَة الْمُضْطَرين رَحْمَن الدُّنْيَا وَالْآخِرَة ورحيمها أَنْت ترحمني رَحْمَة تغنني بهَا عَمَّن سواك

وَأخرج ابْن أبي شيبَة عَن عبد الرَّحْمَن بن سابط قَالَ: كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَدْعُو بهؤلاء الْكَلِمَات ويعلمهن اللَّهُمَّ فارج الْهم وَكَاشف الكرب ومجيب الْمُضْطَرين ورحمن الدُّنْيَا وَالْآخِرَة ورحيمها أَنْت ترحمني فارحمني رَحْمَة تغنني بهَا عَمَّن سواك

وَأخرج ابْن أبي شيبَة عَن عبد الرَّحْمَن بن سابط قَالَ كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَدْعُو بهؤلاء الْكَلِمَات ويعلمهن

اللَّهُمَّ فارج الْهم وَكَاشف الكرب ومجيب الْمُضْطَرين ورحمن الدُّنْيَا وَالْآخِرَة ورحيمها ارْحَمْنِي الْيَوْم رَحْمَة تغنني بهَا عَن رَحْمَة من سواك
পবিত্র কুরআনের সূচনা হয় অন্য সব নামের আগে এই (আল্লাহ) নামের মাধ্যমে।

ইবনে আবি শাইবাহ এবং ইবনু আবুদ দুনিয়া 'আদ-দুআ' গ্রন্থে ইমাম শাবি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর মহানতম নাম (ইসমে আজম) হলো—

হে আল্লাহ!

ইবনে জারির হাসান বসরী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: 'আর-রহমান' এমন একটি নাম যা (সৃষ্টির জন্য) ব্যবহার করা নিষিদ্ধ।

ইবনে আবি হাতেম বর্ণনা করেছেন যে, 'আর-রহিম' এমন একটি নাম যা মানুষ নিজের জন্য দাবি করতে পারে না।

ইবনে আবি হাতেম দাহহাক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: 'আর-রহমান' সমস্ত সৃষ্টির জন্য এবং 'আর-রহিম' বিশেষভাবে মুমিনদের জন্য।

বায়হাকি 'আল-আসমা ওয়াস সিফাত' গ্রন্থে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: 'আর-রহমান' অর্থ হলো অত্যন্ত দয়ালু; আর 'আর-রহিম' অর্থ হলো রিজিকের মাধ্যমে নিজ সৃষ্টির প্রতি মমতা প্রদর্শনকারী।

এই নাম দুটি দয়ার পরিচায়ক, যার একটি অপরটি অপেক্ষা অধিকতর গভীর।

ইবনে জারির আতা আল-খুরাসানি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মূলত 'আর-রহমান' নাম ছিল, অতঃপর যখন তাঁর নাম থেকে 'আর-রহমান' শব্দটি পৃথকভাবে উল্লেখ করা হলো তখন তা 'আর-রহমান আর-রহিম' রূপে গণ্য হলো।

আল-বাজজার, আল-হাকিম এবং বায়হাকি 'আদ-দালাইল' গ্রন্থে একটি দুর্বল সনদে আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা (আবু বকর) আমাকে বললেন, আমি কি তোমাকে এমন একটি দোয়া শিখিয়ে দেব না যা রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে শিখিয়েছেন? তিনি বলতেন যে, ঈসা (আ.) এটি তাঁর হাওয়ারীদের (সাথীদের) শিখিয়ে দিতেন—যদি তোমার ওপর ওহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণের ঋণের বোঝাও থাকে, তবে আল্লাহ তোমার পক্ষ থেকে তা আদায় করে দেবেন। আমি বললাম, অবশ্যই (শিখিয়ে দিন)।

তিনি বললেন, তুমি বলো: হে আল্লাহ! আপনি দুশ্চিন্তা দূরকারী, দুঃখ-কষ্ট মোচনকারী—বাজজারের বর্ণনায় রয়েছে: বিপদ দূরকারী—অসহায়দের ডাকে সাড়া দানকারী, দুনিয়া ও আখেরাতের রহমান এবং রহিম; আপনি আমাকে এমন রহমত দান করুন যা আমাকে আপনি ছাড়া অন্য সকলের করুণা থেকে অমুখাপেক্ষী করে দেবে।

ইবনে আবি শাইবাহ আবদুর রহমান ইবনে সাবিত থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) এই বাক্যগুলোর মাধ্যমে দোয়া করতেন এবং তা শিক্ষা দিতেন: হে আল্লাহ! আপনি দুশ্চিন্তা দূরকারী, বিপদ মোচনকারী, অসহায়দের ডাকে সাড়া দানকারী এবং দুনিয়া ও আখেরাতের রহমান ও রহিম; আপনি আমার প্রতি দয়া করুন, সুতরাং আমাকে এমন রহমত দান করুন যা আমাকে আপনি ছাড়া অন্য সকলের দয়া থেকে অমুখাপেক্ষী করে দেবে।

ইবনে আবি শাইবাহ আবদুর রহমান ইবনে সাবিত থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) এই বাক্যগুলোর মাধ্যমে দোয়া করতেন এবং তা শিক্ষা দিতেন:

হে আল্লাহ! আপনি দুশ্চিন্তা দূরকারী, বিপদ মোচনকারী, অসহায়দের ডাকে সাড়া দানকারী এবং দুনিয়া ও আখেরাতের রহমান ও রহিম; আজ আমাকে এমন রহমত দান করুন যা আমাকে অন্য কারো রহমত থেকে অমুখাপেক্ষী করে দেবে।
(খণ্ড: ١) আদ দুররুল মানসূর ফিত তাফসীরি বিল মাসূর (পৃষ্ঠা: ٢٥)
وَأخرج الْبَيْهَقِيّ فِي شعب الإِيمان من طَرِيق ابْن سُلَيْمَان عَن الضَّحَّاك عَن ابْن عَبَّاس عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ إِن الله أنزل على سُورَة لم ينزلها على أحد من الْأَنْبِيَاء وَالرسل من قبلي

قَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم: قَالَ الله تَعَالَى: قسمت هَذِه السُّورَة بيني وَبَين عبَادي فَاتِحَة الْكتاب جعلت نصفهَا لي: وَنِصْفهَا لَهُم وَآيَة بيني وَبينهمْ فَإِذا قَالَ العَبْد {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} قَالَ الله: عَبدِي دَعَاني باسمين رقيقين

أَحدهمَا أرق من الآخر

فالرحيم أرق من الرَّحْمَن

وَكِلَاهُمَا رقيقان فَإِذا قَالَ {الْحَمد لله} قَالَ الله: شكرني عبدني وحمدني

فَإِذا قَالَ {رب الْعَالمين} قَالَ الله شهد عَبدِي أَنِّي رب الْعَالمين

رب الْإِنْس وَالْجِنّ وَالْمَلَائِكَة وَالشَّيَاطِين وَرب الْخلق وَرب كل شَيْء فَإِذا قَالَ {الرَّحْمَن الرَّحِيم} يَقُول مجدني عَبدِي

وَإِذا قَالَ {مَالك يَوْم الدّين} - يَعْنِي بِيَوْم الدّين: يَوْم الْحساب -

قَالَ الله تَعَالَى: شهد عَبدِي أَنه لَا مَالك ليومه أحد غَيْرِي

وَإِذا قَالَ {مَالك يَوْم الدّين} فقد أثنى عَليّ عَبدِي

{إياك نعْبد} يَعْنِي الله أعبد وأوحد {وَإِيَّاك نستعين} قَالَ الله: هَذَا بيني وَبَين عَبدِي إيَّايَ يعبد فَهَذِهِ لي واياي نستعين فَهَذِهِ لَهُ ولعبدي بعد ماسأل

بَقِيَّة السُّورَة {اهدنا} أرشدنا {الصِّرَاط الْمُسْتَقيم} يَعْنِي دين الْإِسْلَام لِأَن كل دين غير الْإِسْلَام فَلَيْسَ بِمُسْتَقِيم الَّذِي لَيْسَ فِيهِ التَّوْحِيد {صِرَاط الَّذين أَنْعَمت عَلَيْهِم} يَعْنِي بِهِ النَّبِيين وَالْمُؤمنِينَ الَّذين أنعم الله عَلَيْهِم بِالْإِسْلَامِ والنبوة {غير المغضوب عَلَيْهِم} يَقُول: أرشدنا غير دين هَؤُلَاءِ الَّذين غضِبت عَلَيْهِم وهم الْيَهُود {وَلَا الضَّالّين} وهم النَّصَارَى أضلهم اله بعد الْهدى فبمعصيتهم غضب الله عَلَيْهِم (وَجعل مِنْهُم القردة والخنازير وَعبد الطاغوت أُولَئِكَ شَرّ مَكَانا) (الْمَائِدَة الْآيَة 60) فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَة

يَعْنِي شَرّ منزلا من النَّار (وأض عَن سَوَاء السَّبِيل) (الْمَائِدَة الْآيَة 60) من الْمُؤمنِينَ

يَعْنِي أضلّ عَن قصد السَّبِيل المهدى من الْمُسلمين قَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم: فَإِذا قَالَ الإِمَام {وَلَا الضَّالّين} فَقولُوا آمينن يحبكم الله

قَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ لي يَا مُحَمَّد هَذِه نجاتك وَنَجَاة أمتك وَمن اتبعك على دينك من النَّار قَالَ الْبَيْهَقِيّ: قَوْله: رقيقان

قيل هَذَا تَصْحِيف وَقع فِي الأَصْل وَإِنَّمَا هُوَ رفيقان

والرفيق: من أَسمَاء الله تَعَالَى
ইমাম বায়হাকী তাঁর ‘শুআবুল ঈমান’ গ্রন্থে ইবনে সুলায়মানের সূত্রে দাহহাক থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে এবং তিনি নবী কারীম (সা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: আল্লাহ তাআলা আমার ওপর এমন একটি সূরা অবতীর্ণ করেছেন যা আমার পূর্ববর্তী অন্য কোনো নবী বা রাসুলের ওপর অবতীর্ণ করেননি।

নবী কারীম (সা.) বলেছেন: আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, আমি এই সূরা অর্থাৎ ফাতিহাতুল কিতাবকে আমার ও আমার বান্দাদের মধ্যে বণ্টন করেছি। এর প্রথমার্ধ আমার জন্য এবং দ্বিতীয়ার্ধ তাদের জন্য, আর একটি আয়াত আমার ও তাদের উভয়ের মাঝে। সুতরাং যখন বান্দা বলে, {পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি}, তখন আল্লাহ বলেন: আমার বান্দা আমাকে দুটি অত্যন্ত কোমল নাম ধরে ডেকেছে।

যার একটি অপরটি অপেক্ষা অধিক কোমল।

অর্থাৎ ‘আর-রাহীম’ শব্দটি ‘আর-রাহমান’ অপেক্ষা অধিক কোমল।

আর উভয়টিই অত্যন্ত দয়া ও কোমলতা প্রকাশ করে। অতঃপর যখন সে বলে, {সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য}, তখন আল্লাহ বলেন: আমার বান্দা আমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে এবং আমার প্রশংসা করেছে।

যখন সে বলে, {যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক}, তখন আল্লাহ বলেন: আমার বান্দা সাক্ষ্য দিল যে আমিই জগতসমূহের প্রতিপালক।

মানুষ, জিন, ফেরেশতা, শয়তান ও যাবতীয় সৃষ্টির প্রতিপালক এবং প্রতিটি বস্তুর প্রতিপালক। অতঃপর যখন সে বলে, {পরম করুণাময় দয়ালু}, তখন আল্লাহ বলেন: আমার বান্দা আমার মহিমা ঘোষণা করল।

আর যখন সে বলে, {বিচার দিবসের অধিপতি} —অর্থাৎ কিয়ামতের হিসাব-নিকাশের দিন—

তখন আল্লাহ তাআলা বলেন: আমার বান্দা সাক্ষ্য দিল যে, আজকের দিনের মালিক আমি ছাড়া আর কেউ নেই।

আর যখন সে বলে, {বিচার দিবসের অধিপতি}, তখন আমার বান্দা আমার গুণগান করল।

{আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি} অর্থাৎ আমি কেবল আল্লাহর ইবাদত করি ও তাঁকে এক বলে স্বীকার করি; {এবং কেবল আপনারই সাহায্য প্রার্থনা করি}। আল্লাহ বলেন: এটি আমার ও আমার বান্দার মধ্যে। সে কেবল আমারই ইবাদত করে, তাই এটি আমার জন্য; আর সে কেবল আমার কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করে, তাই এটি তার জন্য। আর আমার বান্দা যা প্রার্থনা করেছে তা সে লাভ করবে।

সূরার অবশিষ্ট অংশ: {আমাদের পথ প্রদর্শন করুন} অর্থাৎ আমাদের পরিচালিত করুন {সরল পথের দিকে} অর্থাৎ ইসলাম ধর্মের দিকে। কারণ ইসলাম ব্যতীত অন্য সকল ধর্মই বক্র, যাতে একত্ববাদ বা তাওহীদ নেই। {তাদের পথে, যাদের প্রতি আপনি অনুগ্রহ করেছেন} অর্থাৎ নবীগণ এবং মুমিনগণ, যাদের প্রতি আল্লাহ ইসলাম ও নবুওয়াতের মাধ্যমে অনুগ্রহ করেছেন।

{তাদের পথে নয় যারা অভিশপ্ত} অর্থাৎ যারা আপনার ক্রোধের শিকার হয়েছে তাদের ধর্ম ছাড়া অন্য পথে আমাদের পরিচালিত করুন; তারা হলো ইহুদি জাতি। {এবং যারা পথভ্রষ্ট নয়} তারা হলো নাসারা বা খ্রিস্টান সম্প্রদায়। সঠিক পথ পাওয়ার পর আল্লাহ তাদের পথভ্রষ্ট করেছেন। তাদের নাফরমানির কারণে আল্লাহ তাদের ওপর রাগান্বিত হয়েছেন এবং (তাদের মধ্য থেকে অনেককে বানর ও শূকরে রূপান্তরিত করেছেন এবং তারা শয়তানের উপাসনা করেছে; তারাই অবস্থানের দিক থেকে অত্যন্ত নিকৃষ্ট) (সূরা আল-মায়িদা, আয়াত: ৬০) দুনিয়া ও আখিরাতে।

অর্থাৎ জাহান্নামের নিকৃষ্টতম আবাস। (এবং তারা সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে) (সূরা আল-মায়িদা, আয়াত: ৬০) অর্থাৎ মুমিনদের পথ থেকে।

এর অর্থ হলো তারা মুসলমানদের প্রদর্শিত সঠিক সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে। নবী করীম (সা.) বলেছেন: যখন ইমাম {ওয়ালাদ দ্বল্লীন} বলবেন, তখন তোমরা আমীন বলো, তবে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন।

নবী কারীম (সা.) বলেছেন: আল্লাহ আমাকে বলেছেন, হে মুহাম্মদ! এটিই আপনার, আপনার উম্মতের এবং আপনার ধর্মের অনুসারীদের জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তির উপায়। ইমাম বায়হাকী বলেন: ‘রকীকান’ (কোমল) শব্দটির ক্ষেত্রে—

বলা হয়েছে যে, এটি মূল পাণ্ডুলিপিতে অনুলিখনজনিত ভুল হতে পারে; প্রকৃত শব্দটি হবে ‘রাফীকান’ (পরম বন্ধুসুলভ বা সহমর্মী)।

আর ‘আর-রাফীক’ আল্লাহ তাআলার পবিত্র নামসমূহের অন্যতম।
(খণ্ড: ١) আদ দুররুল মানসূর ফিত তাফসীরি বিল মাসূর (পৃষ্ঠা: ٢٦)
وَأخرج ابْن مرْدَوَيْه والثعلبي عَن جَابر بن عبد الله قَالَ: لما نزلت {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} هرب الْغَيْم إِلَى الْمشرق وسكنت الرّيح وهاج الْبَحْر وأصغت الْبَهَائِم بآذانها ورجمت الشَّيَاطِين من السَّمَاء وَحلف الله بعزته وجلاله أَن لَا يُسمى على شَيْء إِلَّا بَارك فِيهِ

وَأخرج وَكِيع والثعلبي عَن ابْن مَسْعُود قَالَ: من أَرَادَ أَن ينجيه الله من الزَّبَانِيَة التِّسْعَة عشر فليقرأ {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} ليجعل الله لَهُ بِكُل حرف مِنْهَا جنَّة من كل وَاحِد

وَأخرج الديلمي فِي مُسْند الفردوس عَن ابْن عَبَّاس مَرْفُوعا إِن الْمعلم إِذا قَالَ للصَّبِيّ قل {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} كتب للمعلم وللصبي ولأبويه بَرَاءَة من النَّار

وَأخرج ابْن السّني فِي عمل الْيَوْم وَاللَّيْلَة والديلمي عَن عَليّ مَرْفُوعا إِذا وَقعت فِي ورطة فَقل {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} لَا حول وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه الْعلي الْعَظِيم

فَإِن الله يصرف بهَا مَا يَشَاء من أَنْوَاع الْبلَاء

وَأخرج الْحَافِظ عَن عبد الْقَادِر الرهاوي فِي الْأَرْبَعين بِسَنَد صَحِيح عَن أبي هُرَيْرَة قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم كل أَمر ذِي بَال لَا يبْدَأ فِيهِ ب {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} أقطع

وَأخرج عبد الرَّزَّاق فِي المُصَنّف وَأَبُو نعيم فِي الْحِلْية عَن عَطاء قَالَ: إِذا تناهقت الْحمر من اللَّيْل فَقولُوا {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} أعوذ بِاللَّه من الشَّيْطَان الرَّجِيم

وَأخرج أَبُو الشَّيْخ فِي العظمة عَن صَفْوَان بن سليم قَالَ: الْجِنّ يستمتعون بمتاع الْإِنْس وثيابهم فَمن أَخذ مِنْكُم أَو وَضعه فَلْيقل {بِسم الله} فَإِن اسْم الله طَابع

وَأخرج أَبُو نعيم والديلمي عَن عَائِشَة قَالَت: لما نزلت {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} ضجت الْجبَال حَتَّى سمع أهل مَكَّة دويها فَقَالُوا: سحر مُحَمَّد الْجبَال فَبعث الله دخانا حَتَّى أظل على أهل مَكَّة فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم من قَرَأَ {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} موقنا سبحت مَعَه الْجبَال إِلَّا أَنه لايسمع ذَلِك مِنْهَا

وَأخرج الديلمي عَن ابْن مَسْعُود قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم من قَرَأَ {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} كتب لَهُ بِكُل حرف أَرْبَعَة آلَاف حَسَنَة ومحي عَنهُ أَرْبَعَة آلَاف سَيِّئَة وَرفع لَهُ أَرْبَعَة آلَاف دَرَجَة
ইবনে মারদুওয়াইহ এবং ছা'লাবী জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' অবতীর্ণ হলো, তখন মেঘমালা পূর্বদিকে পলায়ন করল, বায়ু শান্ত হলো, সমুদ্র উত্তাল হলো, চতুষ্পদ জন্তুরা কান পেতে তা শুনতে লাগল এবং আকাশ থেকে শয়তানদের বিতাড়িত করা হলো। আল্লাহ তাঁর সম্মান ও মহত্ত্বের কসম খেয়ে ঘোষণা করলেন যে, কোনো বিষয়ের ওপর তাঁর এই নাম নেওয়া হলে তিনি অবশ্যই তাতে বরকত দান করবেন।

ওয়াকী' এবং ছা'লাবী ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যে ব্যক্তি ইচ্ছা করে যে আল্লাহ তাকে উনিশজন (জাহান্নামের প্রহরী) জাবানিয়া থেকে রক্ষা করুন, সে যেন 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' পাঠ করে; যেন আল্লাহ এর প্রতিটি অক্ষরের বিনিময়ে তাকে তাদের প্রত্যেকের থেকে রক্ষার ঢাল স্বরূপ করে দেন।

দাইলামী 'মুসনাদুল ফিরদাউস'-এ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন, নিশ্চয়ই শিক্ষক যখন শিশুকে বলে 'বলো: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম', তখন শিক্ষক, শিশু এবং তার মাতা-পিতার জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তির পরোয়ানা লিখে দেওয়া হয়।

ইবনুস সুন্নী 'আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ' গ্রন্থে এবং দাইলামী আলী (রা.) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: তুমি যখন কোনো বিপদে পড়ো, তখন বলো 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম, লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়্যিল আজিম'।

কেননা এর মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর ইচ্ছানুযায়ী বিভিন্ন প্রকারের বালা-মুসিবত দূর করে দেন।

আল-হাফিজ আব্দুল কাদির আর-রুহাওয়ী তাঁর 'আরবাঈন' গ্রন্থে সহীহ সনদে আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন, 'যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম" দ্বারা শুরু করা হয় না, তা লেজকাটা (অর্থাৎ বরকতহীন)।'

আব্দুর রাজ্জাক তাঁর 'মুসান্নাফ' গ্রন্থে এবং আবু নুয়াইম 'হিলয়াহ' গ্রন্থে আতা (রহ.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন রাতে গাধার ডাক শুনতে পাও, তখন তোমরা বলো: 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম, আউজু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম'।

আবুশ শাইখ 'আল-আজমাহ' গ্রন্থে সাফওয়ান ইবনে সুলাইম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জিনেরা মানুষের আসবাবপত্র ও কাপড়-চোপড় ব্যবহার করে। সুতরাং তোমাদের কেউ যখন তা গ্রহণ করবে বা রাখবে, সে যেন 'বিসমিল্লাহ' বলে; কেননা আল্লাহর নাম হলো একটি মোহরস্বরূপ।

আবু নুয়াইম এবং দাইলামী আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' অবতীর্ণ হলো, তখন পাহাড়গুলো প্রকম্পিত হয়ে প্রচণ্ড শব্দ করল, এমনকি মক্কাবাসীরা সেই আওয়াজ শুনতে পেল। তারা বলল, 'মুহাম্মদ পাহাড়গুলোকে জাদু করেছে'। এরপর আল্লাহ এক প্রকার ধোঁয়া পাঠালেন যা মক্কাবাসীদের ওপর ছায়া ফেলল। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করলেন: 'যে ব্যক্তি পূর্ণ বিশ্বাসের সাথে "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম" পাঠ করবে, পাহাড়গুলোও তার সাথে তসবিহ পাঠ করবে, যদিও সে তা শুনতে পাবে না।'

দাইলামী ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: 'যে ব্যক্তি "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম" পাঠ করবে, তার জন্য প্রতিটি অক্ষরের বিনিময়ে চার হাজার নেকি লেখা হবে, তার চার হাজার গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া হবে এবং তার চার হাজার মর্যাদা বৃদ্ধি করা হবে।'
(খণ্ড: ١) আদ দুররুল মানসূর ফিত তাফসীরি বিল মাসূর (পৃষ্ঠা: ٢٧)
وَأخرج ابْن أبي شيبَة وَالْبُخَارِيّ وَالدَّارَقُطْنِيّ وَالْحَاكِم وَالْبَيْهَقِيّ فِي سنَنه عَن أنس بن مَالك أَنه سُئِلَ عَن قِرَاءَة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: كَانَت مدا ثمَّ قَرَأَ {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} يمد {بِسم الله} ويمد {الرَّحْمَن} ويمد {الرَّحِيم}

وَأخرج الْحَافِظ أَبُو بكر الْخَطِيب الْبَغْدَادِيّ فِي الْجَامِع عَن أبي جَعْفَر مُحَمَّد بن عَليّ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} مِفْتَاح كل كتاب

وَأخرج الْخَطِيب فِي الْجَامِع عَن سعيد بن جُبَير قَالَ: لايصلح كتاب إِلَّا أَوله {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} وَإِن كَانَ شعرًا

وَأخرج الْخَطِيب عَن الزُّهْرِيّ قَالَ: قَضَت السّنة أَن لايكتب فِي الشّعْر {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم}

وَأخرج ابْن أبي شيبَة وَأَبُو بكر بن أبي دَاوُد والخطيب فِي الْجَامِع عَن الشّعبِيّ قَالَ: كَانُوا يكْرهُونَ أَن يكتبوا أَمَام الشّعْر {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم}

وَأخرج الْخَطِيب عَن الشّعبِيّ قَالَ أَجمعُوا أَن لايكتبوا أَمَام الشّعْر {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} وَأخرج أبوعبيد وَابْن أبي شيبَة فِي المُصَنّف عَن مُجَاهِد وَالشعْبِيّ أَنَّهُمَا كرها أَن يكْتب الْجنب {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم}

وَأخرج أبونعيم فِي تَارِيخ أَصْبَهَان وَابْن اشتة فِي الْمَصَاحِف بِسَنَد ضَعِيف عَن أنس قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم من كتب {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} مجودة تَعْظِيمًا لله غفر الله لَهُ

وَأخرج الْبَيْهَقِيّ فِي شعب الإِيمان عَن عَليّ بن أبي طَالب قَالَ: تنوق رجل فِي {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} فغفر لَهُ

وَأخرج السلَفِي فِي جُزْء لَهُ عَن ابْن عَبَّاس قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لاتمد الْبَاء إِلَى الْمِيم حَتَّى ترفع السِّين

وَأخرج الْخَطِيب فِي الْجَامِع عَن الزُّهْرِيّ قَالَ: نهى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَن تمد {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم}

وَأخرج الْخَطِيب وَابْن اشتة فِي الْمَصَاحِف عَن مُحَمَّد بن سِيرِين

أَنه كَانَ يكره أَن يمد الْبَاء إِلَى الْمِيم حَتَّى يكْتب السِّين
ইবনে আবি শায়বাহ, বুখারী, দারা কুতনী, হাকেম এবং বায়হাকী তাঁর সুনান গ্রন্থে আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তিলাওয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বললেন: তা ছিল দীর্ঘায়িত (মাদ্দযুক্ত)। এরপর তিনি পাঠ করলেন "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম"; তিনি "বিসমিল্লাহ" শব্দে মাদ্দ করলেন, "আর-রহমান" শব্দে মাদ্দ করলেন এবং "আর-রাহিম" শব্দে মাদ্দ করলেন।

হাফেজ আবু বকর খতিব আল-বাগদাদী আল-জামি গ্রন্থে আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আলী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম" প্রতিটি কিতাবের চাবিকাঠি।

খতিব আল-জামি গ্রন্থে সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কোনো কিতাবই উপযুক্ত নয় যতক্ষণ না তার শুরুতে "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম" থাকে, এমনকি তা কবিতা হলেও।

খতিব জুহরি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুন্নাহর বিধান হলো কবিতার শুরুতে "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম" লেখা হবে না।

ইবনে আবি শায়বাহ, আবু বকর ইবনে আবি দাউদ এবং খতিব আল-জামি গ্রন্থে শাবি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তাঁরা কবিতার শুরুতে "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম" লেখাকে অপছন্দ করতেন।

খতিব শাবি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তাঁরা এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে কবিতার শুরুতে "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম" লেখা হবে না। আবু উবাইদ এবং ইবনে আবি শায়বাহ আল-মুসান্নাফ গ্রন্থে মুজাহিদ ও শাবি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁরা উভয়েই অপবিত্র (গোসল ফরজ হওয়া) ব্যক্তির জন্য "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম" লেখাকে অপছন্দ করতেন।

আবু নুয়াইম তারিখ আসবাহান গ্রন্থে এবং ইবনে আশতাহ আল-মাসাহিফ গ্রন্থে দুর্বল সূত্রে আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর মহিমা প্রকাশের উদ্দেশ্যে সুন্দর করে "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম" লিখবে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেবেন।

বায়হাকী শুআবুল ঈমান গ্রন্থে আলী ইবনে আবি তালিব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি অত্যন্ত নিখুঁত ও শৈল্পিকভাবে "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম" লিখেছিল, ফলে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হলো।

সালাফি তাঁর সংকলিত একটি অংশে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: সীন অক্ষরটি (উঁচু করে) স্পষ্ট না করে বা অক্ষরকে মীমের দিকে টেনে দীর্ঘ করো না।

খতিব আল-জামি গ্রন্থে জুহরি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম" টেনে দীর্ঘ করে লিখতে নিষেধ করেছেন।

খতিব এবং ইবনে আশতাহ আল-মাসাহিফ গ্রন্থে মুহাম্মদ ইবনে সিরিন থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি সীন অক্ষরটি না লেখা পর্যন্ত বা অক্ষরকে মীমের দিকে টেনে দীর্ঘ করতে অপছন্দ করতেন।
(খণ্ড: ١) আদ দুররুল মানসূর ফিত তাফসীরি বিল মাসূর (পৃষ্ঠা: ٢٨)
وَأخرج الديلمي فِي مشند الفردوس وَابْن عَسَاكِر فِي تارخ دمشق عَن يزِيد بن ثَابت قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِذا كتبت {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} فَبين السِّين فِيهِ

وَأخرج الْخَطِيب فِي الْجَامِع والديلمي عَن أنس عَن النَّبِي قَالَ إِذا كتب أحدكُم {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} فليمد الرَّحْمَن

وَأخرج الديلمي عَن مُعَاوِيَة قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يامعاوية ألق الدواة وحرف الْقَلَم وانصب الْبَاء وَفرق السِّين ولاتغور الْمِيم وَحسن الله وَمد الرَّحْمَن وجود الرَّحِيم وضع قلمك على أُذُنك الْيُسْرَى فَإِنَّهُ أذكر لَك

وَأخرج الْخَطِيب عَن مطر الْوراق قَالَ كَانَ مُعَاوِيَة بن أبي سُفْيَان كَاتب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَأمره أَن يجمع بَين حُرُوف الْبَاء وَالسِّين ثمَّ يمده إِلَى الْمِيم ثمَّ يجمع حُرُوف الله الرَّحْمَن الرَّحِيم ولايمد شَيْئا من أَسمَاء الله فِي كِتَابه ولاقراءته

وَأخرج أبوعبيد عَن مُسلم بن يسَار أَنه كَانَ يكره أَن يكْتب (بِمَ) حِين يبْدَأ قيسقط السِّين

وَأخرج أبوعبيد عَن ابْن عون أَنه كتب لِابْنِ سِيرِين (بِمَ) فَقَالَ: مَه

 

اكْتُبْ سينا

اتَّقوا أَن يَأْثَم أحدكُم وَهُوَ لايشعر

وَأخرج أبوعبيد عَن عمرَان بن عون

أَن عمر بن عبد الْعَزِيز ضرب كَاتبا كتب الْمِيم قبل السِّين

فَقيل لَهُ: فيمَ ضربك أَمِير الْمُؤمنِينَ فَقَالَ: فِي سين

وَأخرج ابْن سعد فِي طبقاته عَن جوَيْرِية بنت أَسمَاء

أَن عمر بن عبد الْعَزِيز عزل كَاتبا لَهُ فِي هَذَا كتب (بِمَ) وَلم يَجْعَل السِّين

وَأخرج ابْن سعيد عَن مُحَمَّد بن سِيرِين أَنه كَانَ يكره أَن يكْتب الْبَاء ثمَّ يمدها إِلَى الْمِيم حَتَّى يكْتب السِّين وَيَقُول فِيهِ قولا شَدِيدا

وَأخرج الْخَطِيب عَن معَاذ بن معَاذ قَالَ: كتبت عِنْد سوار {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} فممدت الْبَاء وَلم أكتب السِّين فَأمْسك يَدي وَقَالَ: كَانَ مُحَمَّد وَالْحسن يكرهان هَذَا

وَأخرج الْخَطِيب عَن عبد الله بن صَالح قَالَ: كتبت {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} وَرفعت الْبَاء فطالت فَأنْكر ذَلِك اللَّيْث وَكَرِهَهُ وَقَالَ: غيرت الْمَعْنى يَعْنِي لِأَنَّهَا تصير لاما
দায়লামি 'মুসনাদুল ফিরদাউস'-এ এবং ইবনে আসাকির 'তারিখে দামেশক'-এ ইয়াজিদ ইবনে সাবিত থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, "যখন তোমরা 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম' লিখবে, তখন এতে 'সীন' (হরফটি) সুস্পষ্ট করে লিখবে।"

আল-খতিব 'আল-জামে' গ্রন্থে এবং দায়লামি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, "তোমাদের কেউ যখন 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম' লেখে, তখন সে যেন 'আর-রহমান' শব্দটিকে দীর্ঘ করে লেখে।"

দায়লামি মুয়াবিয়া (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, "হে মুয়াবিয়া! দোয়াত সঠিক করো, কলম তির্যক করো, 'বা' খাড়া করো, 'সীন' এর দাঁতগুলো পৃথক করো, 'মীম' এর ঘর অস্পষ্ট করো না, 'আল্লাহ' শব্দটি সুন্দর করে লেখো, 'আর-রহমান' দীর্ঘ করো এবং 'আর-রাহিম' উত্তমরূপে লেখো। আর তোমার কলমটি বাম কানের ওপর রাখো, কারণ এটি তোমার জন্য অধিক স্মরণ উদ্রেককারী।"

আল-খতিব মাতার আল-ওয়াররাক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান (রা.) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের লেখক ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে 'বা' এবং 'সীন' হরফ দুটি একত্রিত করতে, এরপর 'মীম' পর্যন্ত দীর্ঘ করতে, অতঃপর 'আল্লাহ', 'আর-রহমান' এবং 'আর-রাহিম' শব্দগুলোর হরফগুলো একত্রিত করতে নির্দেশ দেন; এবং তিনি আল্লাহর নামসমূহের কোনো অংশ লেখায় বা পাঠে (অপ্রাসঙ্গিকভাবে) দীর্ঘ করতে নিষেধ করেন।

আবু উবায়দ মুসলিম ইবনে ইয়াসার থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (বিসমিল্লাহ) শুরু করার সময় 'সীন' বাদ দিয়ে শুধু 'বা' ও 'মীম' লিখতে অপছন্দ করতেন।

আবু উবায়দ ইবনে আউন থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ইবনে সিরিনের উদ্দেশ্যে 'সীন' বর্জন করে 'বা-মীম' লিখেছিলেন। তখন ইবনে সিরিন বললেন: "থামো! 

সীন লেখো।

তোমরা আল্লাহকে ভয় করো পাছে তোমাদের কেউ অজান্তেই পাপী হয়ে যায়।"

আবু উবায়দ ইমরান ইবনে আউন থেকে বর্ণনা করেছেন

যে, উমর ইবনে আবদুল আজিজ জনৈক লেখককে প্রহার করেছিলেন কারণ সে 'সীন' এর আগে 'মীম' লিখেছিল।

তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, "আমীরুল মুমিনীন আপনাকে কেন প্রহার করেছেন?" সে উত্তর দিল, "একটি সীন-এর কারণে।"

ইবনে সাদ তাঁর 'তাবাকাত' গ্রন্থে জুওয়াইরিয়াহ বিনতে আসমা থেকে বর্ণনা করেছেন

যে, উমর ইবনে আবদুল আজিজ তাঁর একজন লেখককে এই কারণে বরখাস্ত করেছিলেন যে, সে 'সীন' ব্যতিরেকে শুধু 'বা' ও 'মীম' লিখেছিল।

ইবনে সাঈদ মুহাম্মাদ ইবনে সিরিন থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি 'বা' লেখার পর 'সীন' না লিখে সরাসরি 'মীম' পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাওয়া অপছন্দ করতেন এবং এ ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর কথা বলতেন।

আল-খতিব মুয়াজ ইবনে মুয়াজ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি সাওয়ারের নিকট 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম' লিখলাম। আমি 'বা' বর্ণটিকে দীর্ঘ করলাম কিন্তু 'সীন' লিখলাম না। তখন তিনি আমার হাত চেপে ধরলেন এবং বললেন: "মুহাম্মাদ (ইবনে সিরিন) এবং হাসান (বসরি) এটি অপছন্দ করতেন।"

আল-খতিব আবদুল্লাহ ইবনে সালিহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম' লিখলাম এবং 'বা' বর্ণটিকে অনেক উঁচুতে টেনে দীর্ঘ করলাম। তখন লাইস ইবনে সাদ এটি প্রত্যাখ্যান করলেন এবং অপছন্দ করে বললেন: "তুমি অর্থ পরিবর্তন করে ফেলেছ," অর্থাৎ সেটি তখন 'লাম' বর্ণে পরিণত হয়ে যায়।
(খণ্ড: ١) আদ দুররুল মানসূর ফিত তাফসীরি বিল মাসূর (পৃষ্ঠা: ٢٩)
وَأخرج أبوداود فِي مراسيله عَن عمر بن عبد الْعَزِيز أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم مر على كتاب فِي الأَرْض فَقَالَ لفتى مَعَه مَا فِي هَذَا قَالَ {بِسم الله} قَالَ: لعن من فعل هَذَا لاتضعوا {بِسم الله} إِلَّا فِي مَوْضِعه

وَأخرج الْخَطِيب فِي تالي التَّلْخِيص عَن أنس مَرْفُوعا من رفع قرطاسا من الأَرْض فِيهِ {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} إجلالا لَهُ أَن يداس كتب عِنْد الله من الصديقين وخفف عَن وَالِديهِ وَإِن كَانَا كَافِرين

وَأخرج ابْن أبي دَاوُد فِي الْبَعْث عَن أم خَالِد بن خَالِد بن سعيد بن الْعَاصِ قَالَ: إِنِّي أول من كتب {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم}

وَأخرج الثَّعْلَبِيّ من طَرِيق الْكَلْبِيّ عَن أبي صَالح عَن ابْن عَبَّاس قَالَ قَامَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم بِمَكَّة فَقَالَ {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} فَقَالَت قُرَيْش: دق الله فَاك

وَأخرج أبوداود فِي مراسيله عَن سعيد بن جُبَير قَالَ كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يجْهر {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} بِمَكَّة وَكَانَ أهل مَكَّة يدعونَ مُسَيْلمَة الرَّحْمَن

فَقَالُوا: إِن مُحَمَّدًا يَدْعُو إِلَى إِلَه الْيَمَامَة فَأمر رَسُول الله بإخفائها فَمَا جهر بهَا حَتَّى مَاتَ

وَأخرج الطَّبَرَانِيّ من طَرِيق سعيد بن جُبَير عَن ابْن عَبَّاس قَالَ كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِذا قَرَأَ {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} هزأ مِنْهُ الْمُشْركُونَ وَقَالُوا: مُحَمَّد يذكر إِلَه الْيَمَامَة وَكَانَ مُسَيْلمَة يتسمى الرَّحْمَن

فَلَمَّا نزلت هَذِه الْآيَة أَمر رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَن لَا يجْهر بهَا

وَأخرج الطَّبَرَانِيّ عَن أنس أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم كَانَ يسر {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} وَأَبُو بكر وَعمر

وَأخرج ابْن أبي شيبَة وَالتِّرْمِذِيّ وَحسنه وَالنَّسَائِيّ وَابْن ماجة وَالْبَيْهَقِيّ عَن ابْن عبد الله بن مُغفل قَالَ: سمعني أبي وَأَنا أَقرَأ {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} فَقَالَ: أَي بني مُحدث صليت خلف رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَأَبُو بكر وَعمر وَعُثْمَان فَلم أسمع أحدا مِنْهُم جهر {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم}

وَأخرج ابْن أبي شيبَة عَن ابْن عَبَّاس قَالَ: الْجَهْر {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} قِرَاءَة الْأَعْرَاب

وَأخرج ابْن أبي شيبَة عَن إِبْرَاهِيم قَالَ: جهر الإِمَام {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم}
ইমাম আবু দাউদ তাঁর ‘মারাসিল’ গ্রন্থে উমর ইবন আবদুল আজিজ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভূমিতে পড়ে থাকা একটি লেখার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি তাঁর সাথে থাকা এক যুবককে জিজ্ঞাসা করলেন, “এতে কী আছে?” সে উত্তর দিল, “{বিসমিল্লাহ}।” তিনি বললেন: “যে ব্যক্তি এমন করেছে তার ওপর লানত। তোমরা {বিসমিল্লাহ}-কে তার উপযুক্ত স্থান ব্যতীত অন্য কোথাও রেখো না।”

আল-খতিব ‘তালি আত-তালখিস’ গ্রন্থে আনাস (রা.) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, যে ব্যক্তি ভূমি থেকে {বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম} সম্বলিত কোনো কাগজ তুলে নেয় এই সম্মানে যে যেন তা পদদলিত না হয়, আল্লাহর নিকট তাকে সিদ্দীকগণের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয় এবং তার পিতা-মাতার আজাব হালকা করা হয়, যদিও তারা কাফের হয়ে থাকেন।

ইবন আবি দাউদ ‘আল-বাআস’ গ্রন্থে উম্মে খালিদ বিনতে খালিদ ইবন সাঈদ ইবনুল আস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি (খালিদ) বলেছেন: “আমিই প্রথম ব্যক্তি যে {বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম} লিখেছি।”

আস-সালাবি কালবি-আবু সালিহ-ইবন আব্বাস সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মক্কায় দাঁড়িয়ে বললেন: {বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম}। তখন কুরাইশরা বলল: “আল্লাহ তোমার মুখ চূর্ণ করুন।”

ইমাম আবু দাউদ তাঁর ‘মারাসিল’ গ্রন্থে সাঈদ ইবন জুবায়ের থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মক্কায় উচ্চস্বরে {বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম} পাঠ করতেন, আর মক্কাবাসীরা মুসায়লিমাকে ‘আর-রহমান’ বলে ডাকত।

তারা বলল: “মুহাম্মদ ইয়ামামার উপাসকের দিকে আহ্বান জানাচ্ছে।” তখন রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে এটি চুপিচুপি পাঠ করার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং ইন্তেকাল পর্যন্ত তিনি আর তা উচ্চস্বরে পাঠ করেননি।

ইমাম তাবারানি সাঈদ ইবন জুবায়ের-ইবন আব্বাস সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন {বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম} পাঠ করতেন, তখন মুশরিকরা তাঁকে নিয়ে উপহাস করত এবং বলত: “মুহাম্মদ ইয়ামামার উপাসকের কথা স্মরণ করছে।” আর মুসায়লিমা নিজেকে ‘আর-রহমান’ নামে অভিহিত করত।

এরপর যখন এই আয়াত নাজিল হলো, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এটি উচ্চস্বরে পাঠ না করার নির্দেশ দেওয়া হলো।

ইমাম তাবারানি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং আবু বকর ও উমর (রা.) চুপিচুপি {বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম} পাঠ করতেন।

ইমাম ইবন আবি শাইবা, তিরমিজি (তিনি একে হাসান বলেছেন), নাসাঈ, ইবন মাজাহ এবং বায়হাকি আবদুল্লাহ ইবন মুগাফফাল (রা.)-এর পুত্র থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে {বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম} পড়তে শুনলেন এবং বললেন: “হে বৎস! এটি একটি নতুন বিষয় (বিদআত)। আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), আবু বকর, উমর এবং উসমান (রা.)-এর পেছনে সালাত আদায় করেছি, কিন্তু তাঁদের কাউকেই উচ্চস্বরে {বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম} পড়তে শুনিনি।”

ইবন আবি শাইবা ইবন আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: উচ্চস্বরে {বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম} পাঠ করা গ্রাম্য আরবদের পড়ার রীতি।

ইবন আবি শাইবা ইব্রাহিম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ইমামের উচ্চস্বরে {বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম} পাঠ করা।
(খণ্ড: ١) আদ দুররুল মানসূর ফিত তাফসীরি বিল মাসূর (পৃষ্ঠা: ٣٠)
بِدعَة

وَأخرج ابْن الضريس عَن يحيى بن عَتيق قَالَ: كَانَ الْحسن يَقُول: اكتبوا فِي أول الإِمَام {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} وَاجْعَلُوا بَين كل سورتين خطا
বিদআত

ইবনে আদ-দুরীস ইয়াহইয়া ইবনে আতিক হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাসান (বসরি) বলতেন, "তোমরা মূল পাণ্ডুলিপির (ইমাম) শুরুতে {পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে} লেখো এবং প্রত্যেক দুই সূরার মাঝে একটি রেখা টেনে দাও।"
(খণ্ড: ١) আদ দুররুল মানসূর ফিত তাফসীরি বিল মাসূর (পৃষ্ঠা: ٣٠)
‌‌2 - قَوْله تَعَالَى: الْحَمد لله (رب الْعَالمين)

أخرج عبد الرَّزَّاق فِي المُصَنّف والحكيم التِّرْمِذِيّ فِي نَوَادِر الْأُصُول والخطابي فِي الْغَرِيب وَالْبَيْهَقِيّ فِي الْأَدَب والديلمي فِي مُسْند الفردوس والثعلبي عَن عبد الله بن عَمْرو بن الْعَاصِ عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَنه قَرَأَ {الْحَمد} رَأس الشُّكْر فَمَا شكر الله عبد لايحمده

وَأخرج الطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط بِسَنَد ضَعِيف عَن النّواس بن سمْعَان قَالَ: سرقت نَاقَة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لَئِن ردهَا الله لأشكرن رَبِّي فَوَقَعت فِي حيّ من أَحيَاء الْعَرَب فيهم امْرَأَة مسلمة فَوَقع فِي خلدها أَن تهرب عَلَيْهَا فرأت من الْقَوْم غَفلَة فَقَعَدت عَلَيْهَا ثمَّ حركتها فصبحت بهَا الْمَدِينَة فَلَمَّا رأها الْمُسلمُونَ فرحوا بهَا وَمَشوا بمجئها حَتَّى أَتَوا رَسُول الله فَلَمَّا رأها قَالَ {الْحَمد لله} فانتظروا هَل يحدث رَسُول الله صلى الله عليه وسلم صوما أَو صَلَاة فظنوا أَنه نسي فَقَالُوا: يارسول الله قد كنت قلت لَئِن ردهَا الله لأشكرن رَبِّي

قَالَ: ألم أقل {الْحَمد لله}

وَأخرج ابْن جرير وَالْحَاكِم فِي تَارِيخ نيسابور والديلمي بِسَنَد ضَعِيف عَن الحكم بن عُمَيْر وَكَانَت لَهُ صُحْبَة قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِذا قلت {الْحَمد لله رب الْعَالمين} فقد شكرت الله فزادك

وَأخرج ابْن جرير وَابْن الْمُنْذر وَابْن أبي حَاتِم من طرق عَن ابْن عَبَّاس قَالَ {الْحَمد لله} كلمة الشُّكْر إِذا قَالَ العَبْد {الْحَمد لله} قَالَ الله شكرني عَبدِي

وَأخرج ابْن جرير وَابْن أبي حَاتِم عَن ابْن عَبَّاس قَالَ: {الْحَمد} هُوَ الشُّكْر والاستحذاء لله والاقرار بنعمه وهدايته وابتدائه

وَغير ذَلِك

وَأخرج ابْن أبي حَاتِم عَن ابْن عَبَّاس قَالَ: قَالَ عمر: قد علمنَا سُبْحَانَ الله ولاإله إِلَّا الله فَمَا الْحَمد قَالَ عَليّ: كلمة رضيها الله لنَفسِهِ وَأحب أَن تقال

وَأخرج ابْن جرير وَابْن أبي حَاتِم عَن كَعْب قَالَ {الْحَمد لله} ثَنَاء على الله
২ - মহান আল্লাহর বাণী: আলহামদুলিল্লাহ (রব্বিল আলামিন) [সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক]

আবদুর রাজ্জাক তাঁর 'মুসান্নাফ'-এ, আল-হাকিম আত-তিরমিজি 'নাওয়াদিরুল উসুল'-এ, আল-খাত্তাবি 'আল-গারিব'-এ, আল-বায়হাকি 'আল-আদাব'-এ, আদ-দাইলামি 'মুসনাদুল ফিরদাউস'-এ এবং আস-সালাবি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পাঠ করেছেন: "আলহামদু (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য) হলো কৃতজ্ঞতার মূল; যে বান্দা আল্লাহর প্রশংসা করে না, সে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।"

আত-তাবারানি 'আল-আওসাত'-এ একটি দুর্বল সনদে নাওয়াস ইবনে সামআন (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর একটি উষ্ট্রী চুরি হয়ে গিয়েছিল। তখন তিনি বললেন, "যদি আল্লাহ এটি ফিরিয়ে দেন, তবে আমি অবশ্যই আমার রবের শুকরিয়া আদায় করব।" উষ্ট্রীটি আরবদের একটি গোত্রে গিয়ে পৌঁছাল যেখানে একজন মুসলিম নারী ছিলেন। তাঁর মনে উষ্ট্রীটি নিয়ে পালিয়ে আসার সংকল্প জাগল। তিনি লোকদের অসতর্কতা লক্ষ্য করে সেটির পিঠে চড়ে বসলেন এবং সেটিকে হাঁকিয়ে দিলেন। ভোর হতে হতেই তিনি মদিনায় পৌঁছে গেলেন। মুসলমানরা যখন উষ্ট্রীটি দেখতে পেল, তারা আনন্দিত হলো এবং সেটির আগমনে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সমীপে উপস্থিত হলো। তিনি যখন সেটিকে দেখলেন, তখন বললেন, "আলহামদুলিল্লাহ (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য)"। উপস্থিত সাহাবায়ে কেরাম অপেক্ষা করতে লাগলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কোনো নতুন রোজা বা নামাজের ঘোষণা দেন কি না। তাঁরা ভাবলেন তিনি হয়তো ভুলে গেছেন। তাই তাঁরা বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তো বলেছিলেন যে, আল্লাহ যদি এটি ফিরিয়ে দেন তবে আপনি রবের শুকরিয়া আদায় করবেন।"

তিনি বললেন: "আমি কি 'আলহামদুলিল্লাহ' বলিনি?"

ইবনে জারির, আল-হাকিম 'তারিখে নাইসাবুর'-এ এবং আদ-দাইলামি একটি দুর্বল সনদে আল-হাকাম ইবনে উমাইর (রা.)—যিনি একজন সাহাবী ছিলেন—থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তুমি যখন 'আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামিন' বললে, তখন তুমি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করলে, ফলে তিনি তোমার নিয়ামত আরও বাড়িয়ে দেবেন।"

ইবনে জারির, ইবনুল মুনজির এবং ইবনে আবি হাতিম বিভিন্ন সূত্রে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আলহামদুলিল্লাহ" হলো কৃতজ্ঞতার বাক্য। বান্দা যখন বলে "আলহামদুলিল্লাহ", তখন আল্লাহ বলেন, "আমার বান্দা আমার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।"

ইবনে জারির এবং ইবনে আবি হাতিম ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আলহামদ" হলো কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন, আল্লাহর সমীপে বিনয় প্রকাশ এবং তাঁর নিয়ামত, হেদায়েত ও সৃজনশীলতার স্বীকৃতি প্রদান।

এবং এই জাতীয় আরও বর্ণনা রয়েছে।

ইবনে আবি হাতিম ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমর (রা.) বলেছিলেন, "সুবহানাল্লাহ এবং লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর তাৎপর্য তো আমরা জানলাম, কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ-এর মর্মার্থ কী?" তখন আলী (রা.) বললেন: "এটি এমন এক বাক্য যা আল্লাহ নিজের জন্য পছন্দ করেছেন এবং তিনি চান যে এটি উচ্চারিত হোক।"

ইবনে জারির এবং ইবনে আবি হাতিম কাব (রাহ.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, "আলহামদুলিল্লাহ" হলো আল্লাহর স্তুতি বা প্রশংসা।
(খণ্ড: ١) আদ দুররুল মানসূর ফিত তাফসীরি বিল মাসূর (পৃষ্ঠা: ٣١)
وَأخرج ابْن جرير وَابْن أبي حَاتِم عَن الضَّحَّاك قَالَ {الْحَمد} رِدَاء الرَّحْمَن

وَأخرج ابْن الْمُنْذر وَابْن أبي حَاتِم عَن أبي عبد الرَّحْمَن الجبائي قَالَ: الصَّلَاة شكر وَالصِّيَام شكر وكل خير تَفْعَلهُ لله شكر وَأفضل الشُّكْر {الْحَمد}

وَأخرج التِّرْمِذِيّ وَحسنه وَالنَّسَائِيّ وَابْن ماجة وَابْن حبَان وَالْبَيْهَقِيّ فِي شعب الإِيمان عَن جَابر بن عبد الله قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أفضل الذّكر لَا إِلَه إِلَّا الله وَأفضل الدُّعَاء {الْحَمد لله}

وَأخرج ابْن ماجة وَالْبَيْهَقِيّ بِسَنَد صَحِيح عَن أنس قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم مَا أنعم الله على عَبده نعْمَة فَقَالَ {الْحَمد لله} إلَاّ كَانَ الَّذِي أعْطى أفضل مِمَّا أَخذه

وَأخرج الْبَيْهَقِيّ فِي شعب الإِيمان عَن جَابر قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم مَا من عبد ينعم عَلَيْهِ بِنِعْمَة إلَاّ كَانَ {الْحَمد} أفضل مِنْهَا

وَأخرج عبد الرَّزَّاق وَالْبَيْهَقِيّ فِي الشّعب عَن الْحسن قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم مَا أنعم الله على عبد نعْمَة يحمد الله عَلَيْهَا إلَاّ كَانَ كَانَ حمد الله أعظم مِنْهَا كائنة مَا كَانَت

وَأخرج الْحَكِيم التِّرْمِذِيّ فِي نَوَادِر الْأُصُول عَن أنس قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لَو أَن الدُّنْيَا كلهَا بحذافيرها فِي يَد رجل من أمتِي ثمَّ قَالَ {الْحَمد لله} لَكَانَ الْحَمد أفضل من ذَلِك

وَأخرج أَحْمد وَمُسلم وَالنَّسَائِيّ عَن أبي مُوسَى الْأَشْعَرِيّ قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم الطّهُور شطر الْإِيمَان {وَالْحَمْد لله} تملأ الْمِيزَان وَسُبْحَان الله تملآن - أَو تملأ - مابين السَّمَاء وَالْأَرْض وَالصَّلَاة نور وَالصَّدَََقَة برهَان وَالصَّبْر ضِيَاء وَالْقُرْآن حجَّة لَك أَو عَلَيْك كل النَّاس يَغْدُو فبائع نَفسه فمعتقها أَو موبقها

وَأخرج سعيد بن مَنْصُور وَأحمد وَالتِّرْمِذِيّ وَحسنه وَابْن مرْدَوَيْه عَن رجل من بني سليم أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ سُبْحَانَ الله نصف الْمِيزَان وَالْحَمْد لله تملأ الْمِيزَان وَالله أكبر يمْلَأ مابين السَّمَاء وَالْأَرْض وَالطهُور نصف الْمِيزَان وَالصَّوْم نصف الصَّبْر

وَأخرج التِّرْمِذِيّ عَن عبد الله بن عمر قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم التَّسْبِيح نصف الْمِيزَان وَالْحَمْد لله تملؤه وَلَا إِلَه إِلَّا الله لَيْسَ لَهَا دون الله حجاب حَتَّى تخلص إِلَيْهِ
ইবনে জারীর এবং ইবনে আবি হাতিম দাহহাক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ‘আল-হামদু’ (সমস্ত প্রশংসা) হলো দয়াময় আল্লাহর চাদর।

ইবনুল মুনযির এবং ইবনে আবি হাতিম আবু আব্দুর রহমান আল-জুব্বায়ী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নামায হলো শোকর (কৃতজ্ঞতা), রোযা হলো শোকর এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তুমি যে কল্যাণকর কাজই করো না কেন তা শোকর; আর সর্বশ্রেষ্ঠ শোকর হলো ‘আল-হামদু’ (সমস্ত প্রশংসা)।

তিরমিযী (তিনি একে হাসান বলেছেন), নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, ইবনে হিব্বান এবং বায়হাকী ‘শুআবুল ঈমান’-এ জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: সর্বোত্তম যিকির হলো ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এবং সর্বোত্তম দুআ হলো ‘আল-হামদুলিল্লাহ’।

ইবনে মাজাহ এবং বায়হাকী একটি সহীহ সনদে আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ তাঁর বান্দাকে যে নিয়ামতই দান করুন না কেন, যদি বান্দা তাতে ‘আল-হামদুলিল্লাহ’ বলে, তবে সে যা প্রদান করল (শোকরিয়া হিসেবে) তা তার প্রাপ্ত নিয়ামত অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।

বায়হাকী ‘শুআবুল ঈমান’-এ জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে বান্দাকেই কোনো নিয়ামত দান করা হয়েছে, তার ‘আল-হামদু’ বলা সেই নিয়ামতের চেয়েও শ্রেষ্ঠ।

আব্দুর রাজ্জাক এবং বায়হাকী ‘শুআবুল ঈমান’-এ হাসান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ কোনো বান্দাকে এমন কোনো নিয়ামত দান করেননি যার জন্য সে আল্লাহর প্রশংসা করে, অথচ সেই হামদ বা প্রশংসা সেই নিয়ামতের চেয়ে মহান না হয়—নিয়ামতটি যা-ই হোক না কেন।

হাকীম তিরমিযী ‘নাওয়াদিরুল উসূল’-এ আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যদি সমগ্র দুনিয়া তার সমস্ত কিছুসহ আমার উম্মতের কোনো এক ব্যক্তির হাতে থাকে এবং এরপর সে বলে ‘আল-হামদুলিল্লাহ’, তবে এই ‘আল-হামদুলিল্লাহ’ বলা দুনিয়ার ওই সমস্ত কিছুর চেয়েও শ্রেষ্ঠ হবে।

আহমদ, মুসলিম এবং নাসাঈ আবু মুসা আল-আশআরী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: পবিত্রতা হলো ঈমানের অর্ধেক; ‘আল-হামদুলিল্লাহ’ মীযানকে (কিয়ামতের আমল মাপার পাল্লা) পূর্ণ করে দেয়; ‘সুবহানাল্লাহ’ ও ‘আল-হামদুলিল্লাহ’—উভয়টি অথবা প্রতিটি—আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যবর্তী স্থানকে পূর্ণ করে দেয়; নামায হলো নূর (আলো); সদকা হলো দলীল; ধৈর্য হলো জ্যোতি; এবং কুরআন তোমার পক্ষে অথবা তোমার বিপক্ষে প্রমাণ হবে। প্রতিটি মানুষ সকালেই বের হয় এবং নিজের সত্তাকে কেনাবেচা করে—হয় সে নিজেকে মুক্ত করে অথবা ধ্বংস করে।

সাঈদ ইবনে মানসূর, আহমদ, তিরমিযী (তিনি একে হাসান বলেছেন) এবং ইবনে মারদুওয়াই বনু সুলাইম গোত্রের জনৈক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‘সুবহানাল্লাহ’ হলো মীযানের অর্ধেক; ‘আল-হামদুলিল্লাহ’ মীযানকে পূর্ণ করে দেয়; ‘আল্লাহু আকবার’ আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যবর্তী স্থানকে পূর্ণ করে দেয়; পবিত্রতা হলো মীযানের অর্ধেক এবং রোযা হলো ধৈর্যের অর্ধেক।

তিরমিযী আব্দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তাসবীহ হলো মীযানের অর্ধেক এবং ‘আল-হামদুলিল্লাহ’ একে পূর্ণ করে দেয়; আর ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর জন্য আল্লাহর সামনে কোনো পর্দা নেই যতক্ষণ না তা সরাসরি আল্লাহর নিকট পৌঁছে যায়।
(খণ্ড: ١) আদ দুররুল মানসূর ফিত তাফসীরি বিল মাসূর (পৃষ্ঠা: ٣٢)
وَأخرج أَحْمد وَالْبُخَارِيّ فِي الْأَدَب الْمُفْرد وَالنَّسَائِيّ وَالْحَاكِم وَصَححهُ وَأَبُو نعيم فِي الْحِلْية وَالْبَيْهَقِيّ فِي شعب الإِيمان عَن الْأسود بن سريع التَّمِيمِي قَالَ قلت: يَا رَسُول الله أَلا أنْشدك محامد حمدت بهَا رَبِّي تبارك وتعالى قَالَ: أما أَن رَبك يحب الْحَمد

وَأخرج ابْن جرير عَن الْأسود بن سريع أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ لَيْسَ شَيْء أحب إِلَيْهِ الْحَمد من الله وَلذَلِك أثنى على نَفسه فَقَالَ {الْحَمد لله}

وَأخرج الْبَيْهَقِيّ عَن أنس عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ التأني من الله والعجلة من الشَّيْطَان وَمَا شَيْء أَكثر معاذير من الله وَمَا شَيْء أحب إِلَى الله من الْحَمد

وَأخرج ابْن شاهين فِي السّنة والديلمي من طَرِيق أبان عَن أنس قَالَ: قَالَ رَسُول الله التَّوْحِيد ثمن الْجنَّة و {الْحَمد لله} ثمن كل قِطْعَة ويتقاسمون الْجنَّة بأعمالهم

وَأخرج الْخَطِيب فِي تالي التَّلْخِيص من طَرِيق ثَابت عَن أنس مَرْفُوعا التَّوْحِيد ثمن الْجنَّة وَالْحَمْد وَفَاء شكر كل نعْمَة

وَأخرج أَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ وَابْن ماجة وَابْن حبَان وَالْبَيْهَقِيّ عَن أبي هُرَيْرَة قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم كل أَمر ذِي بَال لَا يبْدَأ فِيهِ بِحَمْد الله فَهُوَ أقطع

وَأخرج البُخَارِيّ فِي الْأَدَب الْمُفْرد عَن ابْن عَبَّاس قَالَ: إِذا عطس أحدكُم فَقَالَ {الْحَمد لله} قَالَ الْملك: رب الْعَالمين فَإِذا قَالَ رب الْعَالمين قَالَ الْملك يَرْحَمك الله

وَأخرج البُخَارِيّ فِي الْأَدَب وَابْن السّني وَأَبُو نعيم كِلَاهُمَا فِي الطِّبّ النَّبَوِيّ عَن عَليّ ابْن أبي طَالب قَالَ: من قَالَ عِنْد كل عطسة سَمعهَا {الْحَمد لله رب الْعَالمين} على كل حَال مَا كَانَ

لم يجد وجع الضرس وَالْأُذن أبدا

وَأخرج الْحَكِيم التِّرْمِذِيّ عَن وَاثِلَة بن الْأَسْقَع قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم من بَادر الْعَاطِس بِالْحَمْد لم يضرّهُ شَيْء من دَاء الْبَطن وَأخرج الْحَكِيم التِّرْمِذِيّ عَن مُوسَى بن طَلْحَة قَالَ: أوحى الله إِلَى سُلَيْمَان: إِن عطس عاطس من وَرَاء سَبْعَة أبحر فاذكرني

وَأخرج الْبَيْهَقِيّ عَن عَليّ قَالَ بعث رَسُول الله صلى الله عليه وسلم سَرِيَّة من أَهله فَقَالَ: اللَّهُمَّ لَك عليّ إِن رددتهم سَالِمين أَن أشكرك حقّ شكرك

فَمَا لَبِثُوا أَن جاؤا سَالِمين فَقَالَ
ইমাম আহমদ, বুখারী ‘আল-আদাবুল মুফরাদ’ গ্রন্থে, নাসাঈ, হাকেম—যিনি একে সহীহ বলেছেন—আবু নুয়াইম ‘হিলয়া’ গ্রন্থে এবং বায়হাকী ‘শুআবুল ঈমান’ গ্রন্থে আসওয়াদ ইবনে সারী’ আত-তামীমী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি আপনাকে সেই প্রশংসাবাক্যগুলো পড়ে শোনাব না যা দিয়ে আমি আমার বরকতময় ও সুউচ্চ রবের প্রশংসা করেছি? তিনি বললেন: নিশ্চয়ই তোমার রব প্রশংসা পছন্দ করেন।

ইবনে জারীর আসওয়াদ ইবনে সারী’ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহর কাছে প্রশংসার চেয়ে প্রিয় আর কিছু নেই, আর এই কারণেই তিনি নিজের প্রশংসা করেছেন এবং বলেছেন {সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য}।

বায়হাকী আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ধীরস্থিরতা আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং তাড়াহুড়ো শয়তানের পক্ষ থেকে। আল্লাহর চেয়ে অধিক ওজর কবুলকারী আর কেউ নেই এবং আল্লাহর কাছে প্রশংসার চেয়ে প্রিয় আর কিছুই নেই।

ইবনে শাহীন ‘আস-সুন্নাহ’ গ্রন্থে এবং দাইলামী আবানের সূত্রে আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তাওহীদ হলো জান্নাতের মূল্য এবং {সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য} হলো প্রতিটি খণ্ডের মূল্য; আর তারা তাদের আমল অনুযায়ী জান্নাত ভাগ করে নেবে।

খতীব ‘তালি আল-তালখীস’ গ্রন্থে সাবেতের সূত্রে আনাস (রা.) থেকে মারফূ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন: তাওহীদ হলো জান্নাতের মূল্য এবং আল্লাহর প্রশংসা হলো প্রতিটি নেয়ামতের কৃতজ্ঞতার পূর্ণতা।

আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, ইবনে হিব্বান এবং বায়হাকী আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা আল্লাহর প্রশংসা দ্বারা শুরু করা হয় না, তা অপূর্ণ বা বরকতহীন।

বুখারী ‘আল-আদাবুল মুফরাদ’ গ্রন্থে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তোমাদের কেউ যখন হাঁচি দেয় এবং বলে {সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য}, তখন ফেরেশতা বলেন: ‘যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক’। অতঃপর যখন সে বলে ‘বিশ্বজগতের প্রতিপালক’, তখন ফেরেশতা বলেন: ‘আল্লাহ তোমার ওপর দয়া করুন’।

বুখারী ‘আল-আদাব’ গ্রন্থে এবং ইবনে সুন্নী ও আবু নুয়াইম উভয়ে ‘তিব্বে নববী’ গ্রন্থে আলী ইবনে আবী তালিব (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: যে ব্যক্তি প্রতিটি হাঁচি শোনার সময় সব অবস্থায় বলবে {সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক},

সে কখনো দাঁত ও কানের ব্যথায় আক্রান্ত হবে না।

হাকীম তিরমিযী ওয়াছিলা ইবনুল আসকা’ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি হাঁচিদাতার আগেই প্রশংসার মাধ্যমে অগ্রণী হবে, তাকে পেটের কোনো ব্যাধি ক্ষতি করতে পারবে না। হাকীম তিরমিযী মূসা ইবনে তালহা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহ তাআলা সুলাইমান (আ.)-এর প্রতি ওহী পাঠালেন: যদি সাত সমুদ্রের ওপার থেকেও কোনো হাঁচিদাতা হাঁচি দেয়, তবে তুমি আমাকে স্মরণ করো।

বায়হাকী আলী (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পরিবারের একদল সৈন্য অভিযানে পাঠালেন এবং বললেন: হে আল্লাহ! আপনার কাছে আমার অঙ্গীকার রইল যে, যদি আপনি তাদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনেন, তবে আমি আপনার যথার্থ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করব।

অল্প সময় পরেই তারা নিরাপদে ফিরে এলো, তখন তিনি বললেন...
(খণ্ড: ١) আদ দুররুল মানসূর ফিত তাফসীরি বিল মাসূর (পৃষ্ঠা: ٣٣)
رَسُول الله صلى الله عليه وسلم {الْحَمد لله} على سابغ نعم الله فَقلت يَا رَسُول الله ألم تقل إِن ردهم الله أَن أشكره حق شكره فَقَالَ أَو لم أفعل

وَأخرج ابْن أبي الدُّنْيَا فِي كتاب الشُّكْر وَابْن مرْدَوَيْه وَالْبَيْهَقِيّ من طَرِيق سعد بن اسحق بن كَعْب بن عجْرَة عَن أَبِيه عَن جده قَالَ بعث رَسُول الله صلى الله عليه وسلم بعثاً من الْأَنْصَار وَقَالَ: إِن سلمهم الله وأغنهم فَإِن لله عَليّ فِي ذَلِك شكرا

فَلم يَلْبَثُوا أَن غنموا وسلموا فَقَالَ بعض أَصْحَابه: سمعناك تَقول إِن سلمهم الله وأغنهم فَإِن لله عَليّ فِي ذَلِك شكرا قَالَ: قد فعلت قلت: اللَّهُمَّ شكرا وَلَك الْفضل الْمَنّ فضلا

وَأخرج أَبُو نعيم فِي الْحِلْية وَالْبَيْهَقِيّ عَن جَعْفَر بن مُحَمَّد قَالَ: فقد أبي بغلته فَقَالَ: لَئِن ردهَا الله عليّ لأحمدنَّه بِمَحَامِد يرضاها فَمَا لبث أَن أَتَى بهَا بسرجها ولجامها فركبها فَلَمَّا اسْتَوَى عَلَيْهَا رفع رَأسه إِلَى السَّمَاء فَقَالَ {الْحَمد لله} لم يزدْ عَلَيْهَا فَقيل لَهُ: فِي ذَلِك

 

فَقَالَ: وَهل تركت شَيْئا أَو أبقيت شَيْئا جعلت الْحَمد كُله لله عز وجل

وَأخرج الْبَيْهَقِيّ من طَرِيق مَنْصُور بن ابراهيم قَالَ: يُقَال إِن {الْحَمد لله} أَكثر الْكَلَام تضعيفاً

وَأخرج أَبُو الشَّيْخ وَالْبَيْهَقِيّ عَن مُحَمَّد بن حَرْب قَالَ: قَالَ سُفْيَان الثَّوْريّ: {الْحَمد لله} ذكر وشكر وَلَيْسَ شَيْء يكون ذكرا وشكراً غَيره

وَأخرج ابْن أبي الدُّنْيَا وَأَبُو نعيم فِي الْحِلْية عَن عبد الله بن عَمْرو بن الْعَاصِ قَالَ: إِن العَبْد إِذا قَالَ: سُبْحَانَ الله فَهِيَ صَلَاة الْخَلَائق وَإِذا قَالَ {الْحَمد لله} فَهِيَ كلمة الشُّكْر الَّتِي لم يشْكر عبد قطّ حَتَّى يَقُولهَا وَإِذا قَالَ لَا إِلَه إِلَّا الله فَهِيَ كلمة الإِخلاص الَّتِي لم يقبل الله من عبد قطّ عملا حَتَّى يَقُولهَا وَإِذا قَالَ: الله أكبر مَلأ مابين السَّمَاء وَالْأَرْض وَإِذا قَالَ: لاحول وَلَا قوّة إِلَّا بِاللَّه قَالَ الله: أسلم واستسلم

 

2 - قَوْله تَعَالَى: (الْحَمد لله) رَبِّ الْعَالَمِينَ

أخرج الْفرْيَابِيّ وَعبد بن حميد وَابْن جرير وَابْن الْمُنْذر وَابْن أبي حَاتِم وَصَححهُ من طرق عَن ابْن عَبَّاس فِي قَوْله {رب الْعَالمين} قَالَ: الْجِنّ والإِنس
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর অফুরন্ত নিয়ামতের জন্য {সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর} বললেন। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি বলেননি যে, আল্লাহ যদি তাদের ফিরিয়ে আনেন তবে আমি যথাযথভাবে তাঁর শুকরিয়া আদায় করব? তিনি বললেন, "আমি কি তা করিনি?"

ইবন আবিদ দুনিয়া 'কিতাবুর শুকর'-এ এবং ইবন মারদুওয়াইহ ও বায়হাকী সা'দ ইবন ইসহাক ইবন কা'ব ইবন উজরাহ-এর সূত্রে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আনসারদের একটি সেনাদল পাঠালেন এবং বললেন: "যদি আল্লাহ তাদের নিরাপদ রাখেন এবং গনীমত দান করেন, তবে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আমার ওপর শুকরিয়া আদায় করা আবশ্যক হবে।"

অল্পকাল পরেই তারা গনীমত লাভ করলেন এবং নিরাপদ অবস্থায় ফিরে এলেন। তখন তাঁর জনৈক সাহাবী বললেন: আমরা আপনাকে বলতে শুনেছি যে, "যদি আল্লাহ তাদের নিরাপদ রাখেন এবং গনীমত দান করেন তবে আল্লাহর জন্য আমার ওপর শুকরিয়া আদায় করা আবশ্যক হবে।" তিনি বললেন: "আমি তা করেছি। আমি বলেছি: হে আল্লাহ! আপনার জন্য শুকরিয়া এবং আপনার জন্যই যাবতীয় অনুগ্রহ ও শ্রেষ্ঠত্ব।"

আবু নুআইম 'হিলয়াতুল আউলিয়া'-তে এবং বায়হাকী জাফর ইবন মুহাম্মদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমার পিতা তাঁর খচ্চরটি হারিয়ে ফেললেন। তখন তিনি বললেন: "যদি আল্লাহ এটি আমাকে ফিরিয়ে দেন, তবে আমি তাঁর এমন প্রশংসা করব যা তিনি পছন্দ করেন।" অল্পকাল পরেই সেটি জিন ও লাগামসহ ফিরিয়ে আনা হলো। তিনি তাতে আরোহণ করলেন এবং যখন সোজা হয়ে বসলেন, তখন আকাশের দিকে মাথা তুলে বললেন: {সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর}। তিনি এর অতিরিক্ত কিছু বলেননি। এ বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলে...

 

তিনি বললেন: "আমি কি কিছু বাদ দিয়েছি বা অবশিষ্ট রেখেছি? আমি তো সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য নিবেদন করেছি।"

বায়হাকী মানসুর ইবন ইব্রাহিমের সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: বলা হয় যে, {সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর} বাক্যটি সওয়াবের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি বহুগুণ বৃদ্ধিকারী কথা।

আবুশ শাইখ ও বায়হাকী মুহাম্মদ ইবন হারব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান সাওরী বলেছেন: {সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর} একই সাথে যিকির এবং শুকরিয়া। এটি ছাড়া অন্য কোনো বাক্য নেই যা একই সাথে যিকির ও শুকরিয়া হতে পারে।

ইবন আবিদ দুনিয়া এবং আবু নুআইম 'হিলয়াতুল আউলিয়া'-তে আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন কোনো বান্দা বলে: "আল্লাহ অতি পবিত্র", তখন তা হয় সৃষ্টির প্রার্থনা। যখন সে বলে {সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর}, তখন তা হয় শুকরিয়ার সেই বাক্য যা না বলা পর্যন্ত কোনো বান্দা কখনো প্রকৃত শুকরিয়া আদায় করতে পারে না। যখন সে বলে: "আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই", তখন তা হয় ইখলাসের সেই বাক্য যা না বলা পর্যন্ত আল্লাহ কোনো বান্দার আমল কবুল করেন না। যখন সে বলে: "আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ", তখন তা আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী স্থান পূর্ণ করে দেয়। আর যখন সে বলে: "আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো পরিবর্তন বা শক্তি নেই", তখন আল্লাহ বলেন: "বান্দা আত্মসমর্পণ করেছে এবং অনুগত হয়েছে।"

 

২ - মহান আল্লাহর বাণী: (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর) যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক।

ফিরইয়াবী, আবদ ইবন হুমাইদ, ইবন জারীর, ইবনুল মুনযির এবং ইবন আবি হাতিম ইবন আব্বাস (রাযি.) থেকে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং একে বিশুদ্ধ বলেছেন যে, {জগতসমূহের প্রতিপালক} বলতে তিনি 'জিন ও মানব জাতি' বুঝিয়েছেন।
(খণ্ড: ١) আদ দুররুল মানসূর ফিত তাফসীরি বিল মাসূর (পৃষ্ঠা: ٣٤)
وَأخرج عبد بن حميد وَابْن جرير عَن مُجَاهِد فِي قَوْله {رب الْعَالمين} قَالَ: الْجِنّ والإِنس

وَأخرج ابْن جرير عَن سعيد بن جُبَير مثله

وَأخرج ابْن جرير وَابْن أبي حَاتِم عَن ابْن عَبَّاس فِي قَوْله {رب الْعَالمين} قَالَ: إِلَه الْخلق كُله

السَّمَوَات كُلهنَّ وَمن فِيهِنَّ والأرضون كُلهنَّ وَمن فِيهِنَّ وَمن بَينهُنَّ مِمَّا يعلم وَمِمَّا لايعلم

وَأخرج الْحَكِيم التِّرْمِذِيّ فِي نَوَادِر الْأُصُول وَأَبُو يعلي فِي مُسْنده وَابْن عدي فِي الْكَامِل وَأَبُو الشَّيْخ فِي العظمة وَالْبَيْهَقِيّ فِي شعب الإِيمان والخطيب فِي التَّارِيخ بِسَنَد ضَعِيف عَن جَابر بن عبد الله قَالَ: قل الْجَرَاد فِي سنة من سني عمر الَّتِي ولي فِيهَا فَسَأَلَ عَنهُ فَلم يخبر بِشَيْء فَاغْتَمَّ لذَلِك فَأرْسل رَاكِبًا يضْرب إِلَى كداء وَآخر إِلَى الشَّام وَآخر إِلَى الْعرَاق يسْأَل هَل رُؤِيَ من الْجَرَاد شَيْء أَولا فَأَتَاهُ الرَّاكِب الَّذِي من قبل الْيمن بقبضة من جَراد فألقاها بَين يَدَيْهِ

فَلَمَّا رَآهَا كبر ثمَّ قَالَ: سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول خلق الله ألف أمة سِتّمائَة فِي الْبَحْر وَأَرْبَعمِائَة فِي الْبر فَأول شَيْء يهْلك من هَذِه الْأُمَم الْجَرَاد فَإِذا أهلكت تَتَابَعَت مثل النظام إِذا قطع سلكه

وَأخرج ابْن جريج عَن قَتَادَة فِي قَوْله {رب الْعَالمين} قَالَ: كل صنف عَالم

وَأخرج ابْن أبي حَاتِم وَأَبُو الشَّيْخ عَن تتبع الجهري قَالَ: الْعَالمُونَ ألف أمة

فستمائة فِي الْبَحْر وَأَرْبَعمِائَة فِي الْبر

وَأخرج ابْن جرير وَابْن أبي حَاتِم عَن أبي الْعَالِيَة فِي قَوْله {رب الْعَالمين} قَالَ: الإِنس عَالم وَالْجِنّ عَالم وَمَا سوى ذَلِك ثَمَانِيَة عشر ألف عَالم من الْمَلَائِكَة وللأرض أَربع زَوَايَا فِي كل زَاوِيَة ثَلَاثَة آلَاف عَالم وَخَمْسمِائة عَالم خلقهمْ لعبادته

وَأخرج الثَّعْلَبِيّ من طَرِيق شهر بن حَوْشَب عَن أبي كَعْب قَالَ: الْعَالمُونَ الْمَلَائِكَة وهم ثَمَانُون ثَمَانِيَة عشر ألف ملك مِنْهُم أَرْبَعمِائَة أَو خَمْسمِائَة ملك بالمشرق وَمثلهَا بالمغرب وَمثلهَا بالكتف الثَّالِث من الدُّنْيَا وَمثلهَا بالكتف الرَّابِع من الدُّنْيَا مَعَ كل ملك من الأعوان مَا لَا يعلم عَددهمْ إِلَّا الله

وَأخرج أَبُو الشَّيْخ وَأَبُو نعيم فِي الْحِلْية عَن وهب قَالَ: إِن لله عز وجل ثَمَانِيَة عشر ألف عَالم

الدُّنْيَا مِنْهَا عَالم وَاحِد
আবদ বিন হুমাইদ ও ইবনে জারির মুজাহিদ (রহ.) থেকে ‘রব্বুল আলামীন’ (সৃষ্টিজগতের প্রতিপালক) আয়াতাংশ প্রসঙ্গে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: (এখানে আলমীন বলতে) জিন ও মানবজাতিকে বোঝানো হয়েছে।

ইবনে জারির সাঈদ বিন জুবাইর (রহ.) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

ইবনে জারির ও ইবনে আবি হাতিম ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে ‘রব্বুল আলামীন’ আয়াতাংশ প্রসঙ্গে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: (এর অর্থ হলো) সমস্ত সৃষ্টির ইলাহ বা উপাস্য।

সমস্ত আকাশমণ্ডলী ও তন্মধ্যস্থ সবকিছু, সমস্ত পৃথিবী ও তন্মধ্যস্থ সবকিছু এবং তাদের মধ্যবর্তী যা কিছু জানা ও অজানা রয়েছে—(সবকিছুরই ইলাহ)।

হাকিম তিরমিজি 'নাওয়াদিরুল উসুল' গ্রন্থে, আবু ইয়ালা তাঁর 'মুসনাদ' গ্রন্থে, ইবনে আদি 'আল-কামিল' গ্রন্থে, আবুশ শাইখ 'আল-আজমাত' গ্রন্থে, বায়হাকি 'শুআবুল ঈমান' গ্রন্থে এবং খতিব (বাগদাদি) তাঁর 'তারিখ' গ্রন্থে একটি দুর্বল সনদে জাবির বিন আবদুল্লাহ (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: উমর (রাযি.)-এর শাসনকালের কোনো এক বছরে পঙ্গপালের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। তিনি এ সম্পর্কে খোঁজ নিলেন, কিন্তু কেউ কোনো তথ্য দিতে পারল না। এতে তিনি অত্যন্ত বিচলিত হলেন। তিনি এক আরোহীকে ইয়ামানে, আরেকজনকে শামে এবং অন্য একজনকে ইরাকে এই সংবাদ নেওয়ার জন্য পাঠালেন যে, সেখানে কোনো পঙ্গপাল দেখা গেছে কি না। ইয়ামান থেকে আগত আরোহী তাঁর কাছে এক মুষ্টি পঙ্গপাল নিয়ে এলেন এবং তা তাঁর সামনে রাখলেন।

তিনি তা দেখে তাকবির ধ্বনি দিলেন এবং বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি—আল্লাহ তাআলা এক হাজার সম্প্রদায় সৃষ্টি করেছেন, যার মধ্যে ছয়শ সমুদ্রে এবং চারশ স্থলে বাস করে। এই সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে পঙ্গপালই সর্বপ্রথম ধ্বংস হবে। যখন তারা ধ্বংস হয়ে যাবে, তখন অন্যান্যগুলোও সুতার মালা ছিঁড়ে যাওয়ার মতো একে একে ধ্বংস হতে থাকবে।

ইবনে জুরাইজ কাতাদা (রহ.) থেকে ‘রব্বুল আলামীন’ আয়াতাংশ প্রসঙ্গে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: প্রতিটি প্রজাতিই একেকটি ‘আলম’ বা জগত।

ইবনে আবি হাতিম ও আবুশ শাইখ তাতাব্বু আল-জুহরি থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: ‘আলমীন’ হলো এক হাজার সম্প্রদায়।

তন্মধ্যে ছয়শ সমুদ্রে এবং চারশ স্থলে।

ইবনে জারির ও ইবনে আবি হাতিম আবুল আলিয়াহ (রহ.) থেকে ‘রব্বুল আলামীন’ প্রসঙ্গে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: মানুষ একটি জগত, জিন একটি জগত এবং এছাড়া ফেরেশতাদের আঠারো হাজার জগত রয়েছে। পৃথিবীর চারটি প্রান্ত রয়েছে এবং প্রতিটি প্রান্তে তিন হাজার পাঁচশ করে জগত রয়েছে, যাদেরকে আল্লাহ তাঁর ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন।

সালাবি শাহর বিন হাওশাব-এর সূত্রে আবু কা’ব থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: ‘আলমীন’ হলো ফেরেশতাকুল, আর তারা আঠারো হাজার ফেরেশতা। তাদের মধ্যে চারশ বা পাঁচশ ফেরেশতা পূর্বে, অনুরূপ পশ্চিমে, অনুরূপ পৃথিবীর তৃতীয় প্রান্তে এবং অনুরূপ চতুর্থ প্রান্তে অবস্থান করেন। প্রত্যেক ফেরেশতার সাথে এমন বহু সাহায্যকারী রয়েছে যাদের সংখ্যা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না।

আবুশ শাইখ এবং আবু নুয়াইম ‘হিলইয়াতুল আউলিয়া’ গ্রন্থে ওয়াহাব (রহ.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: নিশ্চয়ই মহান আল্লাহর আঠারো হাজার জগত রয়েছে।

পুরো দুনিয়া বা পৃথিবী তার মধ্যে কেবল একটি জগত।
(খণ্ড: ١) আদ দুররুল মানসূর ফিত তাফসীরি বিল মাসূর (পৃষ্ঠা: ٣٥)
‌‌3 - قَوْله تَعَالَى: الرَّحْمَن الرَّحِيم

أخرج عبد بن حميد من طَرِيق مطر الْوراق عَن قَتَادَة فِي قَول الله {الْحَمد لله رب الْعَالمين} قَالَ: ماوصف من خلقه

وَفِي قَوْله {الرَّحْمَن الرَّحِيم} قَالَ: مدح نَفسه {مَالك يَوْم الدّين} قَالَ: يَوْم يدان بَين الْخَلَائق

أَي هَكَذَا فَقولُوا {إياك نعْبد وَإِيَّاك نستعين} قَالَ: دلّ على نَفسه {اهدنا الصِّرَاط الْمُسْتَقيم} أَي الصِّرَاط الْمُسْتَقيم {صِرَاط الَّذين أَنْعَمت عَلَيْهِم} أَي طَرِيق الْأَنْبِيَاء {غير المغضوب عَلَيْهِم} قَالَ: الْيَهُود {وَلَا الضَّالّين} قَالَ: النَّصَارَى

وَأخرج الدَّارَقُطْنِيّ وَالْحَاكِم وَالْبَيْهَقِيّ عَن أم سَلمَة أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَرَأَ فِي الصَّلَاة {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} فعدّها آيَة {الْحَمد لله رب الْعَالمين} آيَتَيْنِ {الرَّحْمَن الرَّحِيم} ثَلَاث آيَات {مَالك يَوْم الدّين} أَربع آيَات وَقَالَ: هَكَذَا {إياك نعْبد وَإِيَّاك نستعين} وَجمع خمس أَصَابِعه
৩ - মহান আল্লাহর বাণী: পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।

আবদ ইবনে হুমাইদ মাতার আল-ওয়াররাকের সূত্রে কাতাদাহ থেকে আল্লাহর বাণী {সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য} সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: এটি তাঁর সৃষ্টির বর্ণনা।

আর {পরম করুণাময়, অতি দয়ালু} সম্পর্কে তিনি বলেছেন: তিনি নিজের প্রশংসা করেছেন। {বিচার দিবসের মালিক} সম্পর্কে তিনি বলেছেন: সেই দিন যখন সৃষ্টিজগতের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করা হবে।

অর্থাৎ এভাবে বলো {আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি}। তিনি বলেন: তিনি নিজের পরিচয় প্রদান করেছেন। {আমাদেরকে সরল পথ প্রদর্শন করুন} অর্থাৎ সঠিক পথ। {তাদের পথ যাদের আপনি অনুগ্রহ করেছেন} অর্থাৎ নবীদের পথ। {যাদের ওপর আপনার ক্রোধ বর্ষিত হয়নি} তিনি বলেন: তারা হলো ইহুদি। {এবং যারা পথভ্রষ্ট নয়} তিনি বলেন: তারা হলো খ্রিস্টান।

আর দারা কুতনী, হাকেম এবং বায়হাকী উম্মে সালামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে {বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম} পাঠ করেছেন এবং একে একটি আয়াত হিসেবে গণনা করেছেন; {সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য} দুই আয়াত; {পরম করুণাময়, অতি দয়ালু} তিন আয়াত; {বিচার দিবসের মালিক} চার আয়াত। এবং তিনি বললেন: এইভাবে {আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি} এবং তিনি নিজের হাতের পাঁচটি আঙুল একত্রিত করলেন।