(খণ্ড: ১)
আল আরবাউনাল ওয়াদআনিয়া লিইবনি ওয়াদআন
(পৃষ্ঠা: -)
الأربعون الودعانية لابن ودعان القسم: كتب السنة
الكتاب: الأربعون الودعانية - مخطوط
المؤلف: محمد بن علي بن عبيد الله بن أحمد بن صالح بن سليمان بن ودعان الموصلي، أبو نصر (ت 494هـ)
ملاحظات:
1- هذه هي النسخة المسندة من الكتاب، والمطبوع محذوف الأسانيد.
2- قال الذهبي في كتابه المغني في الضعفاء، عن ابن ودعان مؤلف هذا الكتاب: صاحب تلك الأربعين الموضوعة، حط عليه السلفي، هالك متهم بالكذب.
أعده للشاملة: أحمد الخضري
[الكتاب مخطوط]
عدد الصفحات: 41
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইবন ওয়াদ'আন রচিত আল-আরবাউন আল-ওয়াদআনিয়্যাহ বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
গ্রন্থ: আল-আরবাউন আল-ওয়াদআনিয়্যাহ - পাণ্ডুলিপি
লেখক: মুহাম্মাদ ইবন আলী ইবন উবায়দুল্লাহ ইবন আহমাদ ইবন সালিহ ইবন সুলায়মান ইবন ওয়াদ'আন আল-মাওসিলী, আবু নাসর (মৃত ৪৯৪ হিজরি)
বিশেষ দ্রষ্টব্য:
১- এটি হলো এই গ্রন্থের সনদযুক্ত সংস্করণ, আর মুদ্রিত সংস্করণে সনদসমূহ বাদ দেওয়া হয়েছে।
২- আয-যাহাবী তাঁর 'আল-মুগনি ফিজ-যুয়াফা' গ্রন্থে এই কিতাবের লেখক ইবন ওয়াদ'আন সম্পর্কে বলেছেন: তিনি সেই জাল চল্লিশ হাদিসের সংকলক, আস-সালাফি তাঁর সমালোচনা করেছেন, তিনি ধ্বংসপ্রাপ্ত এবং মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত।
শামেলাহ-র জন্য প্রস্তুত করেছেন: আহমাদ আল-খুদরি
[গ্রন্থটি পাণ্ডুলিপি]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪১
শামেলাহ-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল আরবাউনাল ওয়াদআনিয়া লিইবনি ওয়াদআন
(পৃষ্ঠা: ১)
الكتاب: الأربعون الودعانية - مخطوط
المؤلف: أبو نصر محمد بن علي بن ودعان القاضي
المتوفى: 494 هـ
ملاحظات:
1- هذه هي النسخة المسندة من الكتاب، والمطبوع محذوف الأسانيد.
2- قال الذهبي في كتابه المغني في الضعفاء، عن ابن ودعان مؤلف هذا الكتاب: صاحب تلك الأربعين الموضوعة، حط عليه السلفي، هالك متهم بالكذب.
গ্রন্থ: আল-আরবাউন আল-ওয়াদ'আনিয়াহ - পাণ্ডুলিপি
লেখক: আবু নাসর মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে ওয়াদ'আন আল-কাদি
মৃত্যু: ৪৯৪ হিজরি
বিশেষ দ্রষ্টব্য:
১- এটি গ্রন্থটির সনদসহ সংস্করণ, আর মুদ্রিত সংস্করণে সনদসমূহ বাদ দেওয়া হয়েছে।
২- ইমাম আয-যাহাবি তার 'আল-মুগনি ফি আদ-দুয়াফা' গ্রন্থে এই গ্রন্থের লেখক ইবনে ওয়াদ'আন সম্পর্কে বলেছেন: সেই জাল করা চল্লিশ হাদিসের সংকলক; আস-সিলাফি তাকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেছেন; তিনি ধ্বংসপ্রাপ্ত এবং মিথ্যাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত।
(খণ্ড: ১)
আল আরবাউনাল ওয়াদআনিয়া লিইবনি ওয়াদআন
(পৃষ্ঠা: ১)
(ق 1) أربعين حديثاً للنبي
ومئة حكمة علي ووصية النبي له
وألف ومائة حديث وفي ذم الدنيا ومدح الآخرة.
أخبرنا أبو سعيد الآمدي قال: حدثنا أبو محمد عبد الله بن أحمد القاضي عن أبيه قال: حدثنا أبو علي الحسن بن الصباح البزار قال: حدثنا سفيان بن عيينة عن عمرو بن عبد دينار عن عبد الله بن عمر قال: قال: رسول الله صلى الله عليه وسلم (من نقل عني إلى من لم يلحقني من أمتي أربعين حديثاً كتب في زمرة العلماء ، وحشر في جملة الشهداء) وقد خرجت أسانيد لهذه الأحاديث وقعت لي ، وجمعتها حتى كملت أربعين حديثاً ، وتبعت السماعات إلى أن صحت رجاء المثوبة من الله تعالى بموضع الانتفاع بها والتأدب بآداب الله تعالى ونبيه صلى الله عليه وسلم.
(ق 2) والمعين عليه والمخلص من بيعاته والمتجاوز عما وقع في ذلك من زلل أو خطأ وبه أستعين وهو حسبي ونعم الوكيل.
(পৃষ্ঠা ১) নবীর চল্লিশটি হাদীস
এবং আলীর একশত প্রজ্ঞা ও তাঁর প্রতি নবীর অসিয়ত
এবং এক হাজার একশত হাদীস যা দুনিয়ার নিন্দা ও আখেরাতের প্রশংসা প্রসঙ্গে।
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাঈদ আল-আমিদী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ আল-কাদী, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আলী আল-হাসান ইবনুল সাবাহ আল-বায্যার, তিনি সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা থেকে, তিনি আমর ইবনে দীনার থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (আমার উম্মতের মধ্য থেকে যারা আমার সাক্ষাৎ পায়নি, তাদের কাছে যে ব্যক্তি আমার পক্ষ থেকে চল্লিশটি হাদীস পৌঁছে দেবে, তাকে আলেমদের দলভুক্ত হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হবে এবং শহীদদের অন্তর্ভুক্ত করে পুনরুত্থিত করা হবে)। আর আমি এই হাদীসগুলোর যে সনদগুলো পেয়েছি তা চয়ন করেছি এবং চল্লিশটি হাদীস পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত তা জমা করেছি। আমি শ্রবণের পরম্পরা অনুসরণ করেছি যতক্ষণ না তা সঠিক প্রমাণিত হয়েছে; মহান আল্লাহর নিকট থেকে সওয়াবের আশায়, এর দ্বারা উপকৃত হওয়ার এবং মহান আল্লাহ ও তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শিষ্টাচারে ভূষিত হওয়ার উদ্দেশ্যে।
(পৃষ্ঠা ২) এবং তিনিই এর উপর সাহায্যকারী, এর দায়বদ্ধতা থেকে মুক্তিদানকারী এবং এতে ঘটে যাওয়া যেকোনো পদস্খলন বা ভুল ক্ষমাশীল। আমি তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি, আর তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং উত্তম কর্মবিধায়ক।
(খণ্ড: ১)
আল আরবাউনাল ওয়াদআনিয়া লিইবনি ওয়াদআন
(পৃষ্ঠা: ২)
الحديث الأول
حدثنا أبو عبد الله الحسين بن محمد الصيرفي البغدادي قال: حدثنا الحسين بن عصمة الأهوازي قال: حدثنا أبو بكر محمد بن بشار الأهوازي قال: حدثنا أبي قال: حدثنا أبو سلمة موسى بن أبي إسماعيل قال: حدثنا حماد بن سلمة عن ثابت البناني عن أنس بن مالك قال: خطبنا رسول الله صلى الله عليه وسلم على ناقته الجدعاء فقال: أيها الناس كان الموت على غيرنا كتب وكان الحق فيها على غيرنا وجب ، وكان الذين نشيع من الأموات سفر عما قليل إلينا راجعون (ق 3) تبؤ بهم أحداثهم ، ونأكل تراثهم كأنا مخلدون بعدهم ، نسينا كل واعظة وأمنا كل جانحة ، طوبى لمن شغله عيبه عن عيوب الناس ، طوبى لمن أنفق مالاً اكتسبه من غير معصية ، وجالس أهل الفقه والحكمة وخالط أهل الذلة والمسكنة ، طوبى لمن ذلت نفسه ، وحسنت خلقه ، وطابت سريرته ، وعزل عن الناس شره ، طوبى لمن أنفق الفضل من ماله وأمسك الفضل من قوله ووسعته السنة ، ولم تشبهوه البدعة.
প্রথম হাদিস
আবু আবদুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ আস-সাইরাফি আল-বাগদাদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-হুসাইন ইবনে ইসমা আল-আহওয়াজি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে বাশার আল-আহওয়াজি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু সালামা মুসা ইবনে আবি ইসমাঈল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাম্মাদ ইবনে সালামা সাবিত আল-বুনানি থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর কানকাটা উটনীর ওপর আরোহণ করে আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন। তিনি বললেন: "হে লোকসকল! যেন মৃত্যু আমাদের ব্যতীত অন্য কারও জন্য অবধারিত করা হয়েছে এবং সত্য (হক) আমাদের ব্যতীত অন্য কারও ওপর আবশ্যক করা হয়েছে। আর যাদের আমরা বিদায় দিয়ে আসি তারা যেন সেই মুসাফির যারা শীঘ্রই আমাদের কাছে ফিরে আসবে (পৃষ্ঠা ৩)। আমরা তাদের কবরে নামিয়ে দিই এবং তাদের পরিত্যক্ত সম্পদ এমনভাবে ভোগ করি যেন আমরা তাদের পর চিরস্থায়ী হব। আমরা সকল উপদেশবাণী ভুলে গেছি এবং সকল বিপদে নিজেদের নিরাপদ ভাবছি। সৌভাগ্য তার জন্য, যাকে নিজের দোষত্রুটি অন্য মানুষের দোষচর্চা থেকে বিমুখ রাখে। সৌভাগ্য তার জন্য, যে পাপাচারহীনভাবে উপার্জিত সম্পদ ব্যয় করে, ফিকহ ও হিকমতওয়ালাদের (প্রজ্ঞা সম্পন্ন ব্যক্তিদের) সংস্পর্শে থাকে এবং বিনয়ী ও অভাবী লোকদের সাথে মেলামেশা করে। সৌভাগ্য তার জন্য, যার আত্মা বিনয়ী হয়েছে, যার চরিত্র সুন্দর হয়েছে, যার গোপন দিক বা অন্তর পবিত্র হয়েছে এবং যার অনিষ্ট থেকে মানুষ নিরাপদ থাকে। সৌভাগ্য তার জন্য, যে তার প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ ব্যয় করে এবং অনর্থক কথাবার্তা থেকে বিরত থাকে, আর সুন্নাহ যাকে ধারণ করে এবং বিদআত যাকে গ্রাস করে না।"
(খণ্ড: ১)
আল আরবাউনাল ওয়াদআনিয়া লিইবনি ওয়াদআন
(পৃষ্ঠা: ৩)
الحديث الثاني
أخبرنا أبو الحسين بن احمد الصواف رحمه الله قال: حدثنا علي بن قاسم قال: حدثنا علي بن غسان البصري الشيباني ، أبو المعمر قال: (ق 4) حدثنا احمد بن زهير قال: حدثنا موسى بن معاذ قال: حدثنا يحيى بن عبد الحميد قال: حدثنا قيس بن الربيع عن الحسن بن الصباح عن خليفة بن الحصين ، قال: سمعت قيس بن عاصم المنقري يقول: قدمت على النبي صلى الله عليه وسلم في وفد بني تميم فقال: لي: اغتسل بماء وسدر ، ففعلت ثم عدت إليه فقلت يا رسول الله عظنا عظة ننتفع بها فقال:ل: يا قيس إن مع العز ذلاً وإن مع الحياة موتاً وإن مع الدنيا آخرة وإن لكل شيء حسيبا وعلى كل شيء رقيباً ، وإن لكل حسنة ثواباً ، ولكل سيئة عذاباً ، ولكل اجل كتاباً ، إنه لابد ياقيس من قرين يدفن معك وهو حي وتدفن معه وأنت ميت فإن كان كريماً أكرمك وإن كان لئيماً أسلمك (ق 5) ثم لا يحشر إلا معك ولا تبعث إلا معه ولا تسل إلا عنه ، ولا تجعله إلا صالحاً ، فإنه إن كان صالحاً لم تأنس إلا به وإن كان فاحشاً لم تستوحش إلا منه ، وهو فعلك.
দ্বিতীয় হাদিস
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন বিন আহমাদ আল-সাওয়াফ (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন), তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী বিন কাসিম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী বিন গাসসান আল-বাসরি আল-শায়বানি, আবু আল-মুয়াম্মার, তিনি বলেন: (পৃষ্ঠা ৪) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন যুহাইর, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসা বিন মুয়াজ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন আব্দুল হামিদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাইস বিন আল-রাবি, তিনি হাসান বিন আল-সাবাহ থেকে, তিনি খলিফা বিন আল-হুসাইন থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি কাইস বিন আসিম আল-মিনকারিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি বনু তামীম গোত্রের একটি প্রতিনিধি দলের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলাম। তিনি আমাকে বললেন: "তুমি পানি ও কুলপাতা দিয়ে গোসল করো।" আমি তা করলাম এবং পুনরায় তাঁর কাছে ফিরে আসলাম। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের এমন কিছু উপদেশ দিন যা দ্বারা আমরা উপকৃত হতে পারি। তখন তিনি বললেন: "হে কাইস! নিশ্চয়ই সম্মানের সাথে লাঞ্ছনা রয়েছে, জীবনের সাথে মৃত্যু রয়েছে এবং দুনিয়ার সাথে আখিরাত রয়েছে। প্রত্যেক বস্তুরই একজন হিসাব গ্রহণকারী এবং প্রত্যেক বিষয়ের ওপর একজন পর্যবেক্ষক রয়েছে। প্রত্যেক নেক আমলের জন্য সওয়াব এবং প্রত্যেক পাপের জন্য শাস্তি রয়েছে। আর প্রত্যেকটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য একটি নির্ধারিত লিপি রয়েছে। হে কাইস! অবশ্যই তোমার সাথে এমন একজন সঙ্গী থাকবে যাকে তোমার সাথে দাফন করা হবে এমতাবস্থায় যে সে জীবিত, আর তুমি তার সাথে দাফন হবে এমতাবস্থায় যে তুমি মৃত। যদি সে মহানুভব হয় তবে সে তোমাকে সম্মানিত করবে, আর যদি সে নীচ হয় তবে সে তোমাকে একাকী বিপদে ফেলে চলে যাবে (পৃষ্ঠা ৫)। অতঃপর হাশরের ময়দানে তাকে কেবল তোমার সাথেই উঠানো হবে এবং তুমিও কেবল তার সাথেই পুনরুত্থিত হবে। আর তোমাকে কেবল তার সম্বন্ধেই জিজ্ঞাসা করা হবে। অতএব, সেই সঙ্গীকে সৎ ছাড়া অন্য কিছু করো না। কারণ সে যদি সৎ হয় তবে তুমি কেবল তার মাধ্যমেই প্রশান্তি পাবে, আর যদি সে কদর্য হয় তবে তুমি কেবল তার কারণেই আতঙ্কিত হবে। আর সেই সঙ্গী হলো তোমার আমল বা কর্ম।"
(খণ্ড: ১)
আল আরবাউনাল ওয়াদআনিয়া লিইবনি ওয়াদআন
(পৃষ্ঠা: ৪)
الحديث الثالث
حدثنا أبو بكر بن أحمد بن النحاس رحمه الله قال: حدثنا أحمد بن الحسين الواعظ قال: حدثنا أبو محمد عبد الله بن جعفر بن درسيوه قال: حدثنا عليب بن عبد العزيز قال: حدثنا أبو عبيد القاسم بن سلام قال: حدثنا عبد الله بن المبارك قال: حدثنا محمد بن أبي عون عن عبد الله بن مره عن أبي الدرداء قال: خطبنا رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم جمعه فقال: (أيها الناس توبوا قبل أن تموتوا وبادروا بالأعمال (ق 6) الصالحة قبل أن تشغلوا ، وصلوا الذي بينكم وبين ربكم تسعدوا ، وأكثروا الصدقة ترزقوا ، وأمروا بالمعروف تحصنوا ، وانهوا عن المنكر تنصروا. أيها الناس إن أكيسكم أكثركم للموت ذكراً وأحزمكم أحسنكم له استعداداً ، ألا وإن من علامات العقل ، التجافي عن دار الغرور والإنابة إلى دار الخلود والتزود لسكنى القبور ، والتأهب ليوم النشور.
তৃতীয় হাদীস
আবু বকর বিন আহমদ বিন আন-নাহাস (রহিমাহুল্লাহ) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমদ বিন আল-হুসাইন আল-ওয়ায়িজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ বিন জাফর বিন দারসুওয়াইহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলীব বিন আব্দুল আজিজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু উবাইদ আল-কাসিম বিন সালাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ বিন আল-মুবারক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ বিন আবি আউন আব্দুল্লাহ বিন মুররাহ থেকে, তিনি আবু দারদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জুমার দিনে আমাদের সামনে খুতবা দিলেন এবং বললেন: "হে লোকসকল! তোমরা মৃত্যুবরণ করার আগে তওবা করো এবং ব্যস্ত হয়ে পড়ার আগে সৎকাজের (পৃষ্ঠা ৬) দিকে দ্রুত অগ্রসর হও। আর তোমাদের ও তোমাদের রবের মধ্যবর্তী সম্পর্ককে জুড়ে দাও, তবেই তোমরা সৌভাগ্যবান হবে। অধিক পরিমাণে সদকা করো, তবেই তোমরা রিযিকপ্রাপ্ত হবে। সৎকাজের আদেশ দাও, তবেই তোমরা সুরক্ষিত থাকবে। আর অসৎকাজ হতে নিষেধ করো, তবেই তোমরা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে। হে লোকসকল! নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে সবচাইতে বুদ্ধিমান সেই ব্যক্তি যে মৃত্যুকে বেশি বেশি স্মরণ করে, এবং তোমাদের মধ্যে সবচাইতে বিচক্ষণ সেই ব্যক্তি যে তার জন্য সর্বোত্তম প্রস্তুতি গ্রহণ করে। জেনে রেখো, বুদ্ধিমত্তার অন্যতম লক্ষণ হলো প্রতারণার ঘর থেকে বিমুখ হওয়া, চিরস্থায়ী আবাসের দিকে মনোনিবেশ করা, কবরে বসবাসের জন্য পাথেয় সংগ্রহ করা এবং পুনরুত্থান দিবসের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা।"
(খণ্ড: ১)
আল আরবাউনাল ওয়াদআনিয়া লিইবনি ওয়াদআন
(পৃষ্ঠা: ৫)
الحديث الرابع
حدثنا أبو بكر النحاس رحمه الله قال: حدثنا علي بن وسيم قال: حدثنا عبد الله بن إبراهيم بن محمد بن عرفة قال: حدثنا العباس بن محمد قال: حدثنا عثمان بن عمرو بن فارس قال: حدثنا شعبة عن (ق 7) عطاء بن السائب عن سعيد بن جبير عن ابن عباس قال: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول في خطبته: (أيها الناس إن لكم معالم فانتهوا إلى معالمكم ، وإن لكم نهاية فانتهوا إلى نهايتكم ، غن المؤمن بين مخافتين بين أجل قد مضى لا يدري ما الله صانع فيه ، وبن أجل قدر لا يدري ما اله قاض فيه فيأخذ العبد لنفسه من نفسه ومن دنياه لآخرته ومن الشيبة قبل الكبر ، ومن الحياة قبل الموت فوالذي نفس محمد بيده ما بعد الموت من مستعتب ، ولا بعد الدنيا دار إلا الجنة والنار.
চতুর্থ হাদীস
আবু বকর আন-নাহহাস রহিমাহুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী ইবনে ওয়াসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আরাফাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্বাস ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উসমান ইবনে আমর ইবনে ফারিস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শু'বাহ (পৃষ্ঠা ৭) আতা ইবনে আস-সাইব থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর খুতবায় বলতে শুনেছি: "হে লোকসকল! তোমাদের জন্য কিছু নিদর্শন রয়েছে, সুতরাং তোমরা তোমাদের নিদর্শনের দিকে ধাবিত হও। আর তোমাদের জন্য একটি সমাপ্তি বা গন্তব্য রয়েছে, সুতরাং তোমরা তোমাদের সেই গন্তব্যের দিকে অগ্রসর হও। নিশ্চয়ই মুমিন ব্যক্তি দুটি ভয়ের মাঝে অবস্থান করে; এক হলো অতিক্রান্ত হয়ে যাওয়া সময়, যার ব্যাপারে আল্লাহ কী করবেন তা সে জানে না। আর অন্যটি হলো নির্ধারিত সময়, যার ব্যাপারে আল্লাহ কী ফয়সালা করবেন তাও সে জানে না। সুতরাং বান্দার উচিত নিজের কল্যাণে নিজের থেকে গ্রহণ করা, দুনিয়া থেকে আখিরাতের পাথেয় সংগ্রহ করা, বার্ধক্যের শুভ্রতা হতে জরাগ্রস্ত হওয়ার পূর্বে এবং মৃত্যুর পূর্বে জীবন থেকে পাথেয় গ্রহণ করা। সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ রয়েছে! মৃত্যুর পর সন্তুষ্টি অর্জনের আর কোনো অবকাশ নেই, আর দুনিয়ার পর জান্নাত ও জাহান্নাম ছাড়া আর কোনো আবাস নেই।"
(খণ্ড: ১)
আল আরবাউনাল ওয়াদআনিয়া লিইবনি ওয়াদআন
(পৃষ্ঠা: ৬)
الحديث الخامس
حدثنا أبو الحسن علي بن محمد المؤدب رحمه الله قال: حدثنا علي بن الطيب قال: حدثنا أبو موسى (ق 8) جعفر بن أدهم بن الهادي قال: حدثنا احمد بن سلام بن عم صالح الدقاق قال: حدثنا أحمد بن منيع قال: حدثنا أبو معاوية عن الأعمش عن أبي سعيد الخدري قال: قال: رسول الله صلى الله عليه وسلم في خطبته: (إنه لا خير في العيش إلا لعالم ناطق أو مستمع واع أيها الناس إنكم في زمان هدنة وإن السير بكم سريع وقد رأيتم الليل والنهار كيف يبليان كل حديد ، ويقربان كل بعيد ، ويأتيان بكب موعود فقال: له المقداد بن الأسود: يا نبي الله وما الهدنة قال: دار بلاء وانقطاع فإذا التبست عليكم الأمور كقطع الليل المظلم فعليكم بالقرآن فإنه شافع مشفع وشاهد مصدق فمن جعله إماماً قاده إلى الجنة ومن جعله خلفه ساقه إلى النار ، وهو أوضح دليل إلى خير سبيل من قال: به صدق (ق 9) ومن عمل به أجر ومن حكم به عدل.
পঞ্চম হাদীস
আবু হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-মুয়াদ্দিব (রহিমাহুল্লাহ) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী ইবনুত তাইয়িব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু মুসা (পৃষ্ঠা ৮) জাফর ইবনে আদহাম ইবনুল হাদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনে সালাম ইবনে আম্মি সালিহ আদ-দাক্কাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনে মানি’ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু মুয়াবিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আ’মাশ থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর খুতবায় বলেছেন: (নিশ্চয়ই জীবনযাপনের মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই কেবল কথা বলায় পারদর্শী আলিম অথবা মনোযোগী শ্রোতা ব্যতীত। হে লোকসকল! নিশ্চয়ই তোমরা অবকাশের যুগে আছো এবং তোমাদের সফর অত্যন্ত দ্রুত। তোমরা তো রাত ও দিনকে দেখেছ যে, তারা কীভাবে প্রতিটি লৌহ বা শক্ত বস্তুকে জীর্ণ করে দেয়, প্রতিটি দূরবর্তী বিষয়কে নিকটবর্তী করে এবং প্রতিটি প্রতিশ্রুত বিষয়কে উপস্থিত করে।) তখন মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ তাঁকে বললেন: হে আল্লাহর নবী! অবকাশ (হুদনাহ) কী? তিনি বললেন: এটি পরীক্ষা ও নিঃশেষ হওয়ার ঘর; সুতরাং যখন বিষয়গুলো অন্ধকার রাতের টুকরোর ন্যায় তোমাদের উপর অস্পষ্ট হয়ে পড়বে, তখন তোমরা কুরআনকে আঁকড়ে ধরো। কারণ তা এমন এক সুপারিশকারী যার সুপারিশ কবুল করা হয় এবং এমন এক সাক্ষী যাকে সত্য বলে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। যে ব্যক্তি একে নিজের ইমাম বানাবে, তা তাকে জান্নাতের দিকে পরিচালিত করবে; আর যে ব্যক্তি একে নিজের পেছনে রাখবে, তা তাকে জাহান্নামের দিকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাবে। এটি সর্বোত্তম পথের উজ্জ্বলতম পথপ্রদর্শক। যে ব্যক্তি এর দ্বারা কথা বলবে সে সত্য বলবে (পৃষ্ঠা ৯), যে ব্যক্তি এর দ্বারা আমল করবে সে প্রতিদান পাবে এবং যে ব্যক্তি এর দ্বারা ফয়সালা করবে সে ন্যায়বিচার করবে।
(খণ্ড: ১)
আল আরবাউনাল ওয়াদআনিয়া লিইবনি ওয়াদআন
(পৃষ্ঠা: ৭)
الحديث السادس
حدثنا أبو بكر محمد بن احمد النحاس رحمه الله قال: حدثنا ابن الخارجي قال: حدثنا محمد بن يحيى قال: حدثنا عبد الله ابن المغيرة قال: حدثنا عفان بن مسلم قال: حدثنا حماد بن سلمة عن أيوب عن نافع عن ابن عمر قال: قال: رسول الله صلى الله عليه وسلم (لا يكمل عبد الإيمان بالله حتى يكون فيه خمس خصال التوكل على الله ، والتفويض إلى الله ، والتسليم لأمر الله ، والرضا بقضاء الله ، والصبر على بلاء الله ، إنه من أحب لله وأبغض لله ، وأعطى لله فقد استكمل الإيمان.
ষষ্ঠ হাদিস
আবু বকর মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আন-নাহহাস (রাহিমাহুল্লাহ) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ইবনুল খারিজি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আব্দুল্লাহ ইবনুল মুগিরাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আফফান বিন মুসলিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: হাম্মাদ বিন সালামাহ আইয়ুব থেকে, তিনি নাফি থেকে এবং তিনি ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: (কোনো বান্দার আল্লাহর প্রতি ঈমান ততক্ষণ পূর্ণ হয় না, যতক্ষণ না তার মধ্যে পাঁচটি বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকে: আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল (ভরসা) করা, আল্লাহর কাছে সবকিছু সোপর্দ করা, আল্লাহর নির্দেশের প্রতি আত্মসমর্পণ করা, আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকা এবং আল্লাহর পরীক্ষায় ধৈর্য ধারণ করা। নিশ্চয়ই যে আল্লাহর জন্য ভালোবাসল, আল্লাহর জন্য ঘৃণা করল এবং আল্লাহর জন্য দান করল, সে ঈমান পূর্ণ করল।)
(খণ্ড: ১)
আল আরবাউনাল ওয়াদআনিয়া লিইবনি ওয়াদআন
(পৃষ্ঠা: ৮)
الحديث السابع
حدثنا الشيخ الإمام رحمه الله قال: قال: حدثنا نصر بن احمد قال: حدثنا أبو يعلى قال: حدثنا القاضي (ق10) أحمد بن كامل قال: حدثنا أبو قلامة قال: حدثنا الحسين بن حفص الأصفهاني قال: حدثنا سفيان الثوري عن سهل بن صالح عن أبيه عن أبي هريرة قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول في خطبته (أيها الناس إن العبد لا يكتب في المسلمين حتى يسلم الناس من يده ولسانه ولا ينال درجة المؤمنين حتى يأمن جاره برائقه ، وجاره برادره ، ولا يعد من المتقين حتى يدع ما لا بأس به حذاري مما به الناس. أيها الناس أنه من خاف البيان أدلج ومن أدلج في المسير وصل وإنما تعرفون عواقب أعمالكم ، أو قد طويت صحائف آجالكم ، أيها الناس إن نية المؤمن خير من عمله ، ونية الفاسق شر من عمله.
সপ্তম হাদিস
শায়খ ইমাম (রাহিমাহুল্লাহ) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নাসর বিন আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু ইয়ালা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কাজী (পৃষ্ঠা ১০) আহমদ বিন কামিল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু কিলামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হুসাইন বিন হাফস আল-ইসফাহানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান আস-সাওরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাহল বিন সালিহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তাঁর খুতবায় বলতে শুনেছি: "হে লোকসকল! কোনো বান্দাকে ততক্ষণ পর্যন্ত মুসলিমদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় না, যতক্ষণ না মানুষ তার হাত ও জিহ্বা থেকে নিরাপদ থাকে। আর সে মুমিনদের স্তরে পৌঁছাতে পারে না, যতক্ষণ না তার প্রতিবেশী তার অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকে এবং তার প্রতিবেশী তার মন্দ আচরণ থেকে নিরাপদ থাকে। আর তাকে মুত্তাকিদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হয় না, যতক্ষণ না সে ক্ষতির আশঙ্কায় এমন বিষয়ও বর্জন করে যাতে মূলত কোনো দোষ নেই। হে লোকসকল! যে ব্যক্তি পরিণামের ভয় করে সে রাতের শুরুতেই পথ চলে, আর যে রাতের শুরুতে পথ চলে সে গন্তব্যে পৌঁছে যায়। তোমরা কেবল তোমাদের আমলের পরিণাম সম্পর্কেই জানতে পারবে, অথবা তোমাদের জীবনের আমলনামাগুলো ইতিপূর্বেই গুটিয়ে নেওয়া হয়েছে। হে লোকসকল! মুমিনের নিয়ত তার আমলের চেয়ে উত্তম, আর ফাসিকের নিয়ত তার আমলের চেয়েও নিকৃষ্ট।"
(খণ্ড: ১)
আল আরবাউনাল ওয়াদআনিয়া লিইবনি ওয়াদআন
(পৃষ্ঠা: ৯)
الحديث الثامن
(ق11) حدثنا محمد بن صدقة البزار رحمه الله ، قال: حدثنا عبد الله بن القاسم الصواف ، قال: حدثنا محمد بن القاسم قال: حدثنا أبي قال: حدثنا علي بن حرب ، قال: حدثنا أسباط بن محمد عن هشام بن حسان عن عكرم عن ابن عباس قال: قال: رسول الله صلى الله عليه وسلم: (من انقطع إلى الله كفاه الله كل مؤونة فيها ، ومن انقطع إلى الدنيا وكله الله إليها ، ومن جاول أمراً بمعصية كان أبعد له مما جاول ، وأقرب مما اتقى ، ومن طلب محامد الناس بمعاصي الله عاد حامده منهم دان ، ومن أرضى الناس بسخط الله وكله الله إليهم ، ومن أرضى الله بسخط الناس كفاه شرهم ، ومن أخلص فيما بينه وبين الله كفاه الله ما بينه وبين الناس ومن أحسن سريرته أصلح الله علاء نيته. (ق12) ومن عمل لآخرته كفاه الله.
অষ্টম হাদিস
(পৃষ্ঠা ১১) মুহাম্মদ ইবনে সাদাকা আল-বাযযার (রহিমাহুল্লাহ) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে কাসিম আস-সাওয়াফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে কাসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী ইবনে হারব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আসবাত ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট হিশাম ইবনে হাসসান থেকে, তিনি ইকরামা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি পূর্ণ নিবিষ্ট হয়, আল্লাহ তার সকল প্রয়োজন মিটিয়ে দেন। আর যে ব্যক্তি দুনিয়ার প্রতি আসক্ত হয়, আল্লাহ তাকে দুনিয়ার হাতেই সোপর্দ করেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর নাফরমানির মাধ্যমে কোনো উদ্দেশ্য হাসিল করতে চায়, সে যা প্রত্যাশা করে তা থেকে আরও দূরে নিক্ষিপ্ত হয় এবং যা থেকে বাঁচতে চায় তার আরও নিকটবর্তী হয়। যে ব্যক্তি আল্লাহর অবাধ্য হয়ে মানুষের প্রশংসা প্রত্যাশা করে, তাদের মধ্যকার সেই প্রশংসাকারীই তার নিন্দুকে পরিণত হয়। যে ব্যক্তি আল্লাহর অসন্তুষ্টির বিনিময়ে মানুষকে সন্তুষ্ট করে, আল্লাহ তাকে মানুষের হাতেই ছেড়ে দেন। আর যে ব্যক্তি মানুষের অসন্তুষ্টির বিনিময়ে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করে, আল্লাহ তাকে মানুষের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান। যে ব্যক্তি নিজের ও আল্লাহর মধ্যবর্তী সম্পর্ককে একনিষ্ঠ করে, আল্লাহ তার ও মানুষের মধ্যবর্তী বিষয়ের জন্য যথেষ্ট হয়ে যান। যে ব্যক্তি নিজের গোপন অবস্থাকে সুন্দর করে, আল্লাহ তার প্রকাশ্য অবস্থাকে সংশোধন করে দেন। (পৃষ্ঠা ১২) আর যে ব্যক্তি তার পরকালের জন্য আমল করে, আল্লাহ তার সকল বিষয়ের জন্য যথেষ্ট হয়ে যান।"
(খণ্ড: ১)
আল আরবাউনাল ওয়াদআনিয়া লিইবনি ওয়াদআন
(পৃষ্ঠা: ১০)
الحديث التاسع
حدثنا طاهر بن محمد بن سيف رحمه الله ، قال: حدثنا عبد الله بن القاسم قال: حدثنا أحمد بن كامل بن خلف قال: حدثنا أبو قلامة قال: حدثنا بشر بن عمر الهراني قال: حدثنا شعبة عن الحكم عن نافع عن ابن عمر قال: قال: رسول الله صلى الله عليه وسلم: (رحم الله عبداً تكلم فعلم أو سكت فسلم إن اللسان أملك شيء للإنسان ، ألا وإن كلام العبد كله عليه لا له إلا ذكر الله أو أمر بمعروف أو نهي عن منكراً أو إصلاح بين مؤمنين فقال: معاذ بن جبل: يا رسول الله أفنؤاخذ بما نتكلم به قال: وهل يكب الناس على مناخرهم في النار إلا حصائد (ق 13) ألسنتهم ، فمن أراد السلامة فليحفظ ما جرى به لسانه ، وليحرس ما انطوى عليه جنانه ، وليحسن عمله ، وليقصر أمله ، ثم لم تمض أيام حتى نزلت هذه الآية {لا خير في كثير من نجواهم إلا من أمر بصدقة أو معروف أو إصلاح بين الناس.
নবম হাদিস
তাহের ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাইফ (রহিমাহুল্লাহ) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনুল কাসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমদ ইবনে কামিল ইবনে খালাফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু কিলামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বিশর ইবনে উমর আল-হাররানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শু'বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাকাম থেকে, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: (আল্লাহ সেই বান্দার ওপর রহম করুন যে কথা বলে জ্ঞান দান করল অথবা চুপ থেকে নিরাপদ থাকল। নিশ্চয়ই জিহ্বা মানুষের সর্বাধিক নিয়ন্ত্রণাধীন বস্তু। জেনে রেখো, আল্লাহর জিকির, সৎকাজের আদেশ, অসৎকাজের নিষেধ অথবা মুমিনদের মধ্যে মীমাংসা করা ব্যতীত বান্দার সকল কথা তার বিপক্ষেই যাবে, তার সপক্ষে নয়। তখন মু'আজ ইবনে জাবাল বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আমরা যা কথা বলি তার জন্য কি আমাদের পাকড়াও করা হবে? তিনি বললেন: মানুষের জিহ্বার উপার্জিত ফসল ছাড়া আর কি তাদেরকে তাদের নাকের ভরে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করবে? (পৃষ্ঠা ১৩), সুতরাং যে ব্যক্তি নিরাপত্তা চায়, সে যেন তার জিহ্বা দিয়ে যা নির্গত হয় তা হিফাযত করে, আর তার অন্তরে যা নিহিত আছে তা যেন পাহারা দেয়, এবং তার আমলকে যেন সুন্দর করে, আর তার আকাঙ্ক্ষাকে যেন সংক্ষিপ্ত করে। অতঃপর কয়েক দিন অতিবাহিত না হতেই এই আয়াতটি নাজিল হলো: {তাদের অধিকাংশ গোপন পরামর্শে কোনো কল্যাণ নেই, তবে যে ব্যক্তি সদকা, সৎকাজ কিংবা মানুষের মধ্যে শান্তি স্থাপনের নির্দেশ দেয়, তার কথা ভিন্ন}।
(খণ্ড: ১)
আল আরবাউনাল ওয়াদআনিয়া লিইবনি ওয়াদআন
(পৃষ্ঠা: ১১)
الحديث العاشر
حدثنا أبو الحسين أحمد بن الحسين الواعظ رحمه الله قال: حدثنا أبي قال: حدثنا محمد بن الحسين قال: حدثنا سليمان الثوري ، عن أبي إسحاق عن أبي برده عن أبي موسى قال: قال: رسول الله صلى الله عليه وسلم (لا تسبق الدنيا فنعمت مطية المؤمن عليها يبلغ الخير وبها ينجو من الشر ، أنه إذا قال: العبد (ق 14) لعن الله الدنيا، قالت الدنيا لعن الله أعصانا لربه) .
দশম হাদীস
আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু আল-হুসাইন আহমদ ইবনুল হুসাইন আল-ওয়ায়িজ (রাহিমাহুল্লাহ), তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সুলাইমান আস-সাওরি, আবু ইসহাক থেকে, তিনি আবু বুরদাহ থেকে, তিনি আবু মুসা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (তোমরা দুনিয়াকে গালি দিও না, কারণ মুমিনের জন্য এটি কতই না চমৎকার বাহন, যার ওপর চড়ে সে কল্যাণে পৌঁছায় এবং যার মাধ্যমে সে অনিষ্ট থেকে মুক্তি পায়। নিশ্চয়ই যখন কোনো বান্দা (পৃষ্ঠা ১৪) বলে: আল্লাহ দুনিয়াকে লানত করুন, তখন দুনিয়া বলে: আমাদের মধ্যে যে তার রবের প্রতি সবচেয়ে বেশি অবাধ্য, আল্লাহ তাকে লানত করুন।)
(খণ্ড: ১)
আল আরবাউনাল ওয়াদআনিয়া লিইবনি ওয়াদআন
(পৃষ্ঠা: ১২)
الحديث الحادي عشر
حدثنا محمد بن صدقة البزاز رحمه الله قال: حدثنا عبد الله بن القاسم ، قال: حدثنا محمد بن إسماعيل المكتب ، قال: حدثنا أحمد بن إسماعيل الوزان قال: حدثنا محمد بن حميد ، قال: حدثنا جرير عن الأعمش عن أبي صالح عن ابن عباس قال: قال: رسول الله صلى الله عليه وسلم (أكثروا ذكر هادم اللذات ، فإنكم إن ذكرتموه في ضيق وسعه عليكم ورضيتم به فأجرتم ، وإن ذكرتموه في غنى بغضه إليكم فجذيتم به ، فأثبتم أن المنايا قاطعات للآمال والليالي مدنيات الآجال ، وإن المؤمن بين يومين يوم قد مضى وأحصى فيه عمله ، (ق 15) فختم عليه ، ويوم قد بقي لا يدري لعله لا يصل إليه ، وإن العبد عند خروج نفسه وحلول رمسه يرى جزاء ما أسلف وقلة عناً ما خلف ، ولعله من باطل جمعه ، ومن حق منعه.
একাদশ হাদিস
মুহাম্মদ ইবনে সাদাকা আল-বায্যায (রহিমাহুল্লাহ) আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে আল-কাসিম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-মাকতাব আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনে ইসমাইল আল-ওয়াযযান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে হুমাইদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জারীর আমাদের কাছে আ'মাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা স্বাদ বিনষ্টকারীকে (মৃত্যুকে) অধিক পরিমাণে স্মরণ করো। কেননা, যদি তোমরা সংকীর্ণতার সময় তা স্মরণ করো, তবে তা তোমাদের জন্য প্রশস্ত হয়ে যাবে এবং তোমরা তাতে সন্তুষ্ট হবে ও সওয়াব লাভ করবে। আর যদি সচ্ছলতার সময় তা স্মরণ করো, তবে তা তোমাদের কাছে (পার্থিব বিলাসিতাকে) অপ্রিয় করে তুলবে এবং এর ফলে তোমরা প্রতিদান পাবে। তোমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করো যে, মৃত্যু হলো সকল আশা-আকাঙ্ক্ষাকে ছিন্নকারী এবং রাতসমূহ হলো নির্ধারিত আয়ুষ্কালকে নিকটবর্তীকারী। আর নিশ্চয়ই মুমিন ব্যক্তি দুটি দিনের মাঝে অবস্থান করে: একটি দিন যা গত হয়ে গেছে এবং তাতে তার আমলসমূহ গণনা করা হয়েছে, (পৃষ্ঠা ১৫) অতঃপর তা সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। আর অন্যটি হলো অবশিষ্ট দিন, যে সম্পর্কে সে জানে না যে সম্ভবত সে তাতে পৌঁছাতে পারবে কি না। আর নিশ্চয়ই বান্দা তার প্রাণ বিয়োগের সময় এবং কবরে প্রবিষ্ট হওয়ার সময় তার পূর্ববর্তী কাজের প্রতিদান এবং সে যা পেছনে ছেড়ে এসেছে তার অসারতা দেখতে পায়। অথচ সম্ভবত সে তা অবৈধ পন্থায় জমা করেছিল এবং তার পাওনা হক আদায় থেকে বিরত ছিল।"
(খণ্ড: ১)
আল আরবাউনাল ওয়াদআনিয়া লিইবনি ওয়াদআন
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الحديث الثاني عشر
أخبرنا أبو الحسن علي بن محمد المؤدب رحمه الله قال: حدثنا علي بن وسيم قال: حدثنا محمد بن القاسم قال: حدثنا عبيد بن عبد الواحد قال: حدثنا ابن أبي مريم عن ابن فروخ عن أسامة عن عكرمة عن ابن عباس قال: قال: رسول الله صلى الله عليه وسلم (أيها الناس إن الرزق مقسوم ، لن يعدو امرؤ ما كتب له ، فاحملوا في الطلب وإن العمر محدود لن يجاوز احد ما قدر له فبادروا قبل نفاذ الأجل ، (ق 16) والأعمال محصية لن تهمل منها صغيرة ولا كبيرة فأكثروا من صالح العمل (أيها الناس إن في القنوع لهيعة ، وإن في الاقتصاد لبلغة ، وإن في الزهد لراحة ، ولكل عمل جزاء ، وكل آت قريب.
দ্বাদশ হাদীস
আবু আল-হাসান আলী বিন মুহাম্মদ আল-মুয়াদ্দিব (রাহিমাহুল্লাহ) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আলী বিন ওয়াসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন আল-কাসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উবাইদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে আবি মারইয়াম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে ফাররুখ থেকে, তিনি উসামাহ থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: হে লোকসকল! নিশ্চয়ই রিযিক বণ্টিত, কোনো ব্যক্তি তার জন্য যা লিখিত হয়েছে তা অতিক্রম করতে পারবে না। সুতরাং তোমরা অন্বেষণের ক্ষেত্রে উত্তম পন্থা অবলম্বন করো। আর নিশ্চয়ই আয়ু সীমিত, কেউ তার জন্য যা নির্ধারিত হয়েছে তা অতিক্রম করবে না। অতএব আয়ু শেষ হওয়ার পূর্বেই তোমরা দ্রুত ধাবিত হও, (পৃষ্ঠা ১৬) এবং আমলসমূহ সংরক্ষিত হচ্ছে, ছোট কিংবা বড় কোনো কিছুই উপেক্ষা করা হবে না। অতএব তোমরা সৎ আমল বৃদ্ধি করো। হে লোকসকল! নিশ্চয়ই অল্পে তুষ্টির মধ্যে প্রশস্ততা রয়েছে, আর পরিমিতব্যয়িতার মধ্যে পর্যাপ্ততা রয়েছে, এবং দুনিয়াবিমুখতার মধ্যে রয়েছে প্রশান্তি। আর প্রতিটি আমলের জন্য প্রতিদান রয়েছে, এবং আগত প্রতিটি বিষয়ই নিকটবর্তী।
(খণ্ড: ১)
আল আরবাউনাল ওয়াদআনিয়া লিইবনি ওয়াদআন
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الحديث الثالث عشر
حدثنا الشيخ الغمام رحمه الله قال: حدثنا عبد الله بن القاسم ، قال: حدثنا أبو العباس العمري قال: حدثنا أبو خليفة الفضل ابن الحباب قال: حدثنا سليمان بن حرب قال: حدثنا جرير بن حازم قال: حدثنا قتادة عن أنس بن مالك قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول في بعض خطبه ومواعظه ، أما رأيت المأخوذين على الغرة والمزعجين بعد الطمأنينة ، (ق 17) الذين أقاموا على الشبهات ، وجنحوا إلى الشهوات ، حتى اتتهم رسل ربهم ، ولا ما كانوا أملوا أدركوا ، ولا إلى ما وانهم رجعوا قدموا على ما عملوا ، وندموا على ما خلفوا ولم يغن الندم ، وقد جف القلم ، فرحم الله امرءاً قدم خيراً وانفق قصداً ، وقال: صدقاً ، وملك دواعي شهواته ، ولم تملكه وعصى أمره نفسه فلم تهلكه.
ত্রয়োদশ হাদিস
শায়খ আল-গাম্মাম (রহিমাহুল্লাহ) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনুল কাসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবুল আব্বাস আল-উমরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু খলিফা আল-ফাদল ইবনুল হুবাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুলাইমান ইবনে হারব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জারীর ইবনে হাযিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কাতাদা আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তাঁর কোনো এক খুতবা ও নসিহতে বলতে শুনেছি: “তুমি কি তাদের দেখনি যারা অসতর্ক অবস্থায় পাকড়াও হয়েছে এবং প্রশান্তির পর বিচলিত হয়ে পড়েছে, (পৃষ্ঠা ১৭) যারা সংশয়ের ওপর অটল ছিল এবং প্রবৃত্তির দিকে ঝুঁকে পড়েছিল, শেষ পর্যন্ত তাদের রবের প্রেরিত দূতগণ তাদের নিকট উপস্থিত হলেন? তারা যা আশা করেছিল তা অর্জন করতে পারেনি, আর যেখান থেকে তারা এসেছিল সেখানে ফিরে যেতেও পারেনি। তারা যা আমল করেছিল তার সম্মুখীন হলো এবং যা পেছনে ফেলে এসেছিল তার জন্য অনুতপ্ত হলো, কিন্তু সেই অনুশোচনা কোনো কাজে আসেনি, আর কলম শুকিয়ে গেছে। সুতরাং আল্লাহ সেই ব্যক্তির ওপর রহম করুন, যে কল্যাণকে অগ্রিম প্রেরণ করেছে, পরিমিত ব্যয় করেছে, সত্য কথা বলেছে, নিজের প্রবৃত্তির তাড়নাকে নিয়ন্ত্রণ করেছে এবং প্রবৃত্তি তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি, আর সে নিজের নফসের হুকুম অমান্য করেছে ফলে নফস তাকে ধ্বংস করতে পারেনি।”
(খণ্ড: ১)
আল আরবাউনাল ওয়াদআনিয়া লিইবনি ওয়াদআন
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الحديث الرابع عشر
أخبرنا أبو نصر احمد بن المظفر..... رحمه الله قال: حدثنا السليل.... قال: حدثنا أبو عبيد الله إبراهيم بن..... حدثنا عبد الكريم بن الهيثم قال: حدثنا أبو اليمان قال: حدثنا شعيب (ق 18) عن أبي سلمة عن أبي هريرة قال: قال: رسول الله صلى الله عليه وسلم أيها الناس لا تعطوا غير أهلها فتظلموها ولا تمنعوها أهلها فتظلموهم ، ولا تعاقبوا ظالماً فيبطل فضلكم ولا تراؤا الناس فيحبط أعمالكم ولا تمنعوا الموجود فيقل خيركم ، أيها الناس إن الأشياء ثلاثة أمر استبان رشده فاتبعوه ، وأمر استبان غيه فاجتنبوه ، وأمر اختلف عليكم فردوه إلى الله ، أيها الناس ألا أنبئكم بأمرين خفيفين مؤنتهما عظيم أجرهما لم يلق الله بمثلها لصمت ، وحسن الخلق.
চতুর্দশ হাদীস
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু নাসর আহমদ ইবনুল মোজাফফর... আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আস-সালীল..., তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু উবায়দুল্লাহ ইবরাহিম ইবনে..., আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুল কারীম ইবনুল হাইসাম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু ইয়ামান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন শুআইব (পৃষ্ঠা ১৮), তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: হে লোকসকল! তোমরা অপাত্রে দান করো না, অন্যথায় তোমরা তার প্রতি জুলুম করবে; আর তার হকদারদের থেকে তা আটকে রেখো না, অন্যথায় তোমরা তাদের প্রতি জুলুম করবে। তোমরা জালেমকে এমনভাবে শাস্তি দিও না যাতে তোমাদের মর্যাদা নষ্ট হয়ে যায়। মানুষের সামনে প্রদর্শনের জন্য আমল করো না, অন্যথায় তোমাদের আমলসমূহ বরবাদ হয়ে যাবে। আর যা বিদ্যমান আছে তা দিতে কার্পণ্য করো না, অন্যথায় তোমাদের কল্যাণ কমে যাবে। হে লোকসকল! নিশ্চয়ই বিষয়সমূহ তিন প্রকার: এমন বিষয় যার সঠিক পথ সুস্পষ্ট, তাই তোমরা তা অনুসরণ করো; এমন বিষয় যার ভ্রষ্টতা সুস্পষ্ট, তাই তোমরা তা বর্জন করো; আর এমন বিষয় যা তোমাদের নিকট অস্পষ্ট, তা তোমরা আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে দাও। হে লোকসকল! আমি কি তোমাদের এমন দুটি বিষয়ের সংবাদ দেব না যা পালনে সহজ কিন্তু তার প্রতিদান অত্যন্ত মহান? এ দুটির মতো আর কোনো আমল নিয়ে কেউ আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে না: নীরবতা এবং সচ্চরিত্র।
(খণ্ড: ১)
আল আরবাউনাল ওয়াদআনিয়া লিইবনি ওয়াদআন
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الحديث الخامس عشر
......... بن علي بن بخشل رحمه الله........... عثمان بن سعدان (ق 19) الدقاق قال: أخبرنا إسماعيل بن حماد بن زيد عن أيوب بن درهم القاضي قال: حدثنا سليمان بن حرب قال: حدثنا حماد بن زيد عن أيوب عن نافع عن ابن عمر قال: خطبنا رسول الله صلى الله عليه وسلم خطبة ذرفت منها العيون ووجلت لها القلوب فكان ما ضبطت منه أن أفضل الناس من تواضع عن رفعة ، وزهد عن غيبة ، وأنصف عن قوة ، وحلم عن قدرة ، وإن أفضل الناس عبد أخذ من الدنيا الكفاف ، وصاحب فيها العفاف ، وتزود للرحيل ، وتأهب المسير ، ألا وإن أعقل الناس عبد عرف ربه فأطاعه ، وعرف عدوه فعصاه ، وعرف دار إقامته فأصلحها ، وعلم سرعة رحلته (ق 20) فتزود لها ألا وإن خير الزاد ما صحبته التقوى ، وخير العمل ما تقدمته النية ، وأعلى الناس منزلة عند الله تعالى أخوفهم منه.
পঞ্চদশ হাদিস
......... বিন আলী বিন বাখশাল (রাহিমাহুল্লাহ)........... উসমান বিন সা'দান (পৃষ্ঠা ১৯) আদ-দাক্কাক বললেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাইল বিন হাম্মাদ বিন যায়েদ, আইয়ুব বিন দিরহাম আল-কাদি থেকে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুলাইমান বিন হারব, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ বিন যায়েদ, আইয়ুব থেকে, তিনি নাফি’ থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের উদ্দেশে এমন এক ভাষণ প্রদান করলেন যাতে চক্ষুসমূহ অশ্রুসিক্ত হলো এবং অন্তরসমূহ প্রকম্পিত হলো। আমি তা থেকে যা সংরক্ষণ করতে পেরেছি তা হলো, নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ সেই ব্যক্তি যে উচ্চমর্যাদা থাকা সত্ত্বেও বিনয় অবলম্বন করে, অগোচরেও দুনিয়াবিমুখ থাকে, সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ন্যায়বিচার করে এবং ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সহিষ্ণুতা প্রদর্শন করে। আর মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ সেই বান্দা যে দুনিয়া থেকে কেবল প্রয়োজনমাফিক গ্রহণ করে, তাতে পবিত্রতা রক্ষা করে চলে, পরকালের যাত্রার জন্য পাথেয় সংগ্রহ করে এবং প্রস্থানের প্রস্তুতি গ্রহণ করে। জেনে রেখো, মানুষের মধ্যে সর্বাধিক বুদ্ধিমান সেই বান্দা যে তার রবকে চিনেছে অতঃপর তাঁর আনুগত্য করেছে, তার শত্রুকে চিনেছে অতঃপর তার অবাধ্যতা করেছে, তার চিরস্থায়ী আবাসস্থল চিনেছে অতঃপর তা সংস্কার করেছে এবং তার প্রস্থানের ক্ষিপ্রতা সম্পর্কে জেনেছে (পৃষ্ঠা ২০) অতঃপর তার জন্য পাথেয় সংগ্রহ করেছে। জেনে রেখো, নিশ্চয়ই সর্বোত্তম পাথেয় হলো সেই বস্তু যার সাথে তাকওয়া থাকে, সর্বোত্তম আমল হলো যার শুরুতে নিয়ত থাকে এবং মহান আল্লাহর নিকট মর্যাদার দিক থেকে সর্বোচ্চ স্তরের মানুষ হলো তাদের মধ্যে যে তাঁকে সবচেয়ে বেশি ভয় করে।
(খণ্ড: ১)
আল আরবাউনাল ওয়াদআনিয়া লিইবনি ওয়াদআন
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الحديث السادس عشر
أخبرنا طاهر بن محمد بن سيف رحمه الله قال: حدثنا علي بن وسيم قال: حدثنا جعفر بن إبراهيم قال: حدثنا عبد الكريم بن الهيثم قال: حدثنا أبو اليمان عن شعيب عن أبي الزناد عن عبد الرحمن الأعرج عن أبي هريرة قال: قال: رسول الله صلى الله عليه وسلم: (إنما يؤتى الناس سوم القيامة من إحدى ثلاث أما من شبهة في الدين ارتكبوها او شهوة لذة أثروها أو غضبة لحمية اعملوها ، فإذا لاحت لكم شبهة (ق 21) فأجلوها باليقين ، وإذا عرضت لكم شهوة فأقمعوها بالزهد ، وإذا عنت لكم غضبة فادرؤوها بالعفو ، غنه ينادي مناد يوم القيامة من له على الله أجر فليقم فيقوم العافون عن الناس ألم تر إلى قوله تعالى {فمن عفا وأصلح فأجره على الله} .
ষোড়শ হাদিস
তাহের ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাইফ (রহিমাহুল্লাহ) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আলী ইবনে ওয়াসিম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: জাফর ইবনে ইবরাহিম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আব্দুল কারীম ইবনুল হাইসাম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল ইয়ামান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন শুআইব থেকে, তিনি আবুল জিনাদ থেকে, তিনি আব্দুর রহমান আল-আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "কিয়ামতের দিন মানুষের বিপর্যয় কেবল তিনটি বিষয়ের কোনো একটির কারণে ঘটবে: হয় দ্বীনের ক্ষেত্রে কোনো সংশয় যা তারা লিপ্ত হয়েছে, অথবা লালসার কোনো কামনা যা তারা অগ্রাধিকার দিয়েছে, অথবা গোত্রীয় আভিজাত্যের কোনো ক্রোধ যা তারা চরিতার্থ করেছে। অতএব, যখন তোমাদের সামনে কোনো সংশয় প্রকাশিত হবে (পৃষ্ঠা ২১), তখন তোমরা দৃঢ় বিশ্বাসের মাধ্যমে তা বিদূরিত করবে; যখন তোমাদের মাঝে কোনো লালসা জাগ্রত হবে, তখন দুনিয়াবিমুখতার মাধ্যমে তা দমন করবে; আর যখন কোনো ক্রোধের উদ্রেক হবে, তখন ক্ষমার মাধ্যমে তা প্রতিহত করবে। কেননা কিয়ামতের দিন একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করবেন: 'আল্লাহর কাছে যার প্রতিদান পাওনা রয়েছে সে যেন দাঁড়ায়'; তখন মানুষের প্রতি ক্ষমা প্রদর্শনকারীরা দাঁড়িয়ে যাবে। তোমরা কি মহান আল্লাহর বাণী লক্ষ্য করোনি: {অতঃপর যে ব্যক্তি ক্ষমা করল এবং আপস-নিষ্পত্তি করল, তার প্রতিদান আল্লাহর জিম্মায়।}।"
(খণ্ড: ১)
আল আরবাউনাল ওয়াদআনিয়া লিইবনি ওয়াদআন
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الحديث السابع عشر
أخبر أبو الموفق محمد بن محمد بن الحسن النيسابوري الشامي رحمه الله ، قال: حدثنا سلمة بن خلف ، قال: حدثنا إبراهيم بن محمد قال: حدثنا أحمد بن عبد الجبار العطاري قال: حدثنا وكيع بن الجراح عن الأعمش عن أبي الضحى عن مسروق قال: قال: عبد الله بن مسعود قال: قال: رسول (ق 22) الله صلى الله عليه وسلم يقول الله تعالى " يا بن آدم يؤتى كل يوم برزقك وانت تحزن وينقص كل يوم من عمرك وأنت تفرح ، أنت فيما يكفيك وأنت تطلب ما يطغيك لا بقليل تقنع ولا من كثير تشبع ".
সপ্তদশ হাদীস
আবূ আল-মুওয়াফফাক মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আল-হাসান আন-নাইসাবুরী আশ-শামী (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: সালামাহ বিন খালাফ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেছেন: ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আহমাদ বিন আব্দিল জাব্বার আল-আত্তারী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেছেন: ওয়াকী‘ বিন আল-জাররাহ আল-আ‘মাশ থেকে, তিনি আবূ আদ-দুহা থেকে, তিনি মাসরূক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ বলেছেন: আল্লাহর রাসূল (পৃষ্ঠা ২২) (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন) বলেছেন, মহান আল্লাহ বলেন: "হে আদমসন্তান! প্রতিদিন তোমার নিকট তোমার রিযিক পৌঁছে দেওয়া হয় অথচ তুমি চিন্তিত হও, আর প্রতিদিন তোমার জীবন থেকে আয়ু কমে যায় অথচ তুমি আনন্দিত হও। তোমার নিকট তা বিদ্যমান আছে যা তোমার জন্য যথেষ্ট, অথচ তুমি তা তালাশ করো যা তোমাকে সীমা লঙ্ঘনকারী করে তোলে। তুমি অল্পতে সন্তুষ্ট হও না এবং অধিক পেয়েও তৃপ্ত হও না।"
(খণ্ড: ১)
আল আরবাউনাল ওয়াদআনিয়া লিইবনি ওয়াদআন
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الحديث الثامن عشر
اخبرنا أبو الحسين بن السماك الواعظ رحمه الله قال: حدثنا ابن عرفة قال: حدثنا العباس بن محمد قال: حدثنا محمد بن كثير قال: حدثنا حماد بن سلمة قال: حدثنا ثابت بن أبي رافع عن أبي هريرة قال: بينما رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات يوم جالساً إذ رأيته ضحك حتى بدت ثناياه فقيل له مم تضحك يا رسول الله قال: رجلان من أمتي جثيا بين يدي ربي عز وجل قال: (ق 23) احدهما: يا رب خذ لي مظلمتي من أخي فقال: الله تعالى: أعط أخاك مظلمته فقال: يا رب ما بقي من حسناتي شيء فقال: يا رب فليحمل من أوزاري فاضت عينا رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم قال: إن ذلك اليوم يوم يحتاج الناس إلى أن يحمل عنهم أوزارهم ثم قال: قال: اله تعالى للطالب بحقه ارفع بصرك فانظر إلى الجنان فرفع رأسه فرأى ما أعجبه من الخير والنعمة فقال: لم هذا يا رب فقال: لم أعطاني ثمنه قال: ومن يملك ذلك يا رب قال: أنت قال: بماذا قال: بعفوك عن أخيك قال: يا رب فإني قد عفوت عنه ، قال: خذ بيد أخيك فأدخله الجنة ثم قال: رسول الله صلى الله عليه وسلم (فاتقوا الله وأصلحوا ذات (ق 24) بينكم) .
অষ্টাদশ হাদিস
আবু আল-হুসাইন বিন আস-সাম্মাক আল-ওয়ায়েজ (রহিমাহুল্লাহ) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবনে আরাফাহ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আব্বাস বিন মুহাম্মদ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন কাসির আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: হাম্মাদ বিন সালামাহ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: সাবিত বিন আবু রাফি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি বলেন: একদিন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বসা ছিলেন, এমতাবস্থায় আমি তাঁকে হাসতে দেখলাম এমনকি তাঁর সামনের দাঁতগুলো প্রকাশ পেয়ে গেল। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল, আপনি কী কারণে হাসছেন? তিনি বললেন: আমার উম্মতের দুইজন লোক মহান রব্বুল আলামীনের সামনে হাঁটু গেড়ে বসল। (পৃষ্ঠা ২৩) তাদের একজন বলল: হে আমার রব, আমার ভাইয়ের নিকট থেকে আমার পাওনা আদায় করে দিন। মহান আল্লাহ তাআলা বললেন: তোমার ভাইয়ের পাওনা তাকে দিয়ে দাও। সে বলল: হে রব, আমার নেক আমলগুলোর কিছুই অবশিষ্ট নেই। তখন (প্রথম ব্যক্তি) বলল: হে রব, তবে সে আমার পাপের বোঝা বহন করুক। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দুই চোখ বেয়ে অশ্রু প্রবাহিত হলো। অতঃপর তিনি বললেন: নিশ্চয়ই সেটি এমন এক দিন, যেদিন মানুষের নিজ নিজ পাপের বোঝা অন্যের দ্বারা বহন করিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন হবে। এরপর তিনি বললেন: আল্লাহ তাআলা পাওনা দাবিদার ব্যক্তিকে বললেন: তোমার দৃষ্টি উত্তোলন করো এবং জান্নাতসমূহের দিকে তাকাও। সে তার মাথা তুলল এবং এমন কল্যাণ ও নিয়ামত দেখল যা তাকে অভিভূত করল। সে বলল: হে রব, এটি কার জন্য? তিনি বললেন: যে ব্যক্তি আমাকে এর মূল্য প্রদান করবে তার জন্য। সে বলল: হে রব, এর মালিক হওয়ার সাধ্য কার আছে? তিনি বললেন: তোমার আছে। সে বলল: কিসের বিনিময়ে? তিনি বললেন: তোমার ভাইয়ের প্রতি তোমার ক্ষমার বিনিময়ে। সে বলল: হে আমার রব, আমি তাকে ক্ষমা করে দিলাম। তিনি বললেন: তোমার ভাইয়ের হাত ধরো এবং তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাও। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: (অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং তোমাদের (পৃষ্ঠা ২৪) নিজেদের মধ্যকার সম্পর্ক সংশোধন করো)।
(খণ্ড: ১)
আল আরবাউনাল ওয়াদআনিয়া লিইবনি ওয়াদআন
(পৃষ্ঠা: ২০)
الحديث التاسع عشر
حدثنا أبو الحسن علي بن عبد الواحد الشاهد رحمه الله قال: حدثنا أبو التفح العكبري الحافظ قال: حدثنا العباس بن محمد قال: حدثنا أبو عبد الله محمد بن زكريا الغلابي قال: حدثنا عبد الله ابن مسلمة بن قعنب قال: حدثنا مالك بن أنس قال: حدثنا إسحاق بن عبد الله بن أبي طلحة عن أنس بن مالك قال: قيل لرسول الله صلى الله عليه وسلم: من أولياء الله الذين لا خوف عليهم ولا هم يحزنون فقال: الذين نظروا إلى باطن الدنيا حين نظر الناس إلى ظاهر هات منها ما خشيوا أن بميتهم وتركوا منها وعلموا أن سيتركهم فما أعرضهم من نايلها عارض إلا رفضوه ، ولا خادعهم (ق 25) من رفعتها خادع إلا وضعوه ، خلقت الدنيا عندهم فما يجددونها يهدمونها فيبنون بها آخرون ، ويبعونها فيشترون بها ما بقي لهم نظروا إلى أهلها صرعى فدخلت بهم المثلات ، ولا يرون أماناً دون ما يرجون ولا خوفاً دون ما يجدون.
উনিশতম হাদিস
আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল হাসান আলী বিন আব্দুল ওয়াহিদ আশ-শাহিদ (রাহিমাহুল্লাহ), তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাফেজ আবুল ফাতহ আল-উকবারী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্বাস বিন মুহাম্মদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন যাকারিয়া আল-গালাবী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামাহ বিন কা'নব, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মালিক বিন আনাস, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক বিন আব্দুল্লাহ বিন আবি তালহা, আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিজ্ঞাসা করা হলো: আল্লাহর সেই সকল ওলী কারা, যাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না? তিনি বললেন: তারা হলেন সেই সব লোক যারা দুনিয়ার অভ্যন্তরীণ রূপের দিকে তাকিয়েছে যখন সাধারণ মানুষ এর বাহ্যিক চাকচিক্যের দিকে তাকিয়েছিল। তারা দুনিয়ার সেই সব বিষয়কে ভয় করেছে যা তাদের (ঈমানকে) মৃত করে দিতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করেছিল, এবং তারা তা বর্জন করেছে যা তারা জানত যে অচিরেই তাদের ছেড়ে চলে যাবে। দুনিয়ার ভোগবিলাসের যা কিছু তাদের সামনে এসেছে তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছে, এবং এর উচ্চমর্যাদার যা কিছু তাদের ধোঁকা দিতে চেয়েছে (পৃষ্ঠা ২৫) তারা তাকে তুচ্ছ জ্ঞান করেছে। তাদের কাছে দুনিয়া জীর্ণ হয়ে গেছে, তাই তারা একে নতুন করে সাজায় না; তারা একে ধ্বংস করে এবং এর বিনিময়ে তাদের আখিরাত নির্মাণ করে। তারা দুনিয়াকে বিক্রি করে দেয় এবং তার বিনিময়ে যা তাদের জন্য চিরস্থায়ী হবে তা ক্রয় করে। তারা দুনিয়াদারদের বিপর্যস্ত অবস্থায় দেখেছে, ফলে তাদের উপর দৃষ্টান্তসমূহ আপতিত হয়েছে। তারা যে জিনিসের আশা করে (আল্লাহর রহমত) তা ব্যতীত অন্য কিছুতে নিরাপত্তা দেখে না এবং যা তারা উপলব্ধি করে (আল্লাহর ভয়) তা ছাড়া অন্য কিছুকে ভয় পায় না।
(খণ্ড: ১)
আল আরবাউনাল ওয়াদআনিয়া লিইবনি ওয়াদআন
(পৃষ্ঠা: ২১)
الحديث العشرون
أخبرنا أبو الحسن عن بن محمد المؤدب رحمه الله قال: حدثنا علي بن القاسم قال: حدثنا إسماعيل بن محمد الصفار قال: حدثنا عبد الله بن روح المدائني قال: حدثنا شبانة بن سوار قال: حدثنا أبو زيد عبد الله بن العلاء قال: حدثنا القاسم بن عبد الرحمن (ق 26) إنما أنتم خلف ماضين وبقية متقدين كانوا أكثر منكم بسطة وأعظم سطوة أزعجوا عنها اسكن ما كانوا إليها وغدرت بهم أوثق ما كانوا بها فلم تغن عنهم قوة عشيرة ولا قبل منهم بذل فدية فارحلوا أنفسكم براد مبلغ قبل أن تؤخذ وأعلى فجأة ، وفد غفلتم عن الاستعداد.
বিংশতম হাদীস
আবুল হাসান আমাদের ইবন মুহাম্মদ আল-মুয়াদ্দিব (রহিমাহুল্লাহ) থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আলী বিন আল-কাসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ইসমাঈল বিন মুহাম্মদ আস-সাফফার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আবদুল্লাহ বিন রূহ আল-মাদায়িনী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: শাবানাহ বিন সাওয়ার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আবু যায়েদ আবদুল্লাহ বিন আল-আলা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: কাসিম বিন আবদুর রহমান (পৃষ্ঠা ২৬) বর্ণনা করেছেন: নিশ্চয়ই তোমরা অতীতদের উত্তরসূরি এবং পূর্ববর্তীদের অবশিষ্টাংশ। তারা শারীরিক শক্তিতে তোমাদের চেয়ে অধিক সামর্থ্যবান ছিল এবং প্রতাপে ছিল অধিক মহান। তারা যখন পার্থিব জীবনে সবচেয়ে বেশি স্থিতি অবস্থায় ছিল, তখনই তাদের সেখান থেকে উচ্ছেদ করা হলো; আর দুনিয়া তাদের সাথে তখনই বিশ্বাসঘাতকতা করল যখন তারা তার ওপর সবচেয়ে বেশি আস্থাশীল ছিল। তাদের আত্মীয়-স্বজনের শক্তি তাদের কোনো উপকারে আসেনি এবং তাদের থেকে কোনো মুক্তিপণও গ্রহণ করা হয়নি। সুতরাং হঠাৎ আক্রান্ত হওয়ার আগেই পর্যাপ্ত পাথেয় নিয়ে তোমরা নিজেদের যাত্রার প্রস্তুতি নাও; অথচ তোমরা প্রস্তুতির ব্যাপারে উদাসীন হয়ে আছ।
(খণ্ড: ১)
আল আরবাউনাল ওয়াদআনিয়া লিইবনি ওয়াদআন
(পৃষ্ঠা: ২২)
الحديث الحادي والعشرون
حدثنا أبو الحسين السماك قال: حدثنا اليرافي قال: حدثنا يحيى بن صالح قال: حدثنا محمد بن إسحاق بن يحيى عن الزهري عن سالم بن عبد الله عن عبد الله بن عمر قال: قال: رسول الله صلى الله عليه وسلم (كن في الدنيا كأنك غريب أو عابر سبيل واعدد نفسك في الموتى (ق 27) وإذا أصبحت نفسك فلا تحدثها بالمساء ، وإذا أمست فلا تحدثها بالصباح ، وخذ من صحتك لسقمك ، ومن شبابك لهرمك ، ومن فراغك لشغلك ، ومن حياتك لوفاتك فعنك لا تدري ما اسمك غداً.
একবিংশ হাদীস
আবু আল-হুসাইন আল-সাম্মাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-ইয়ারাফি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে সালিহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি যুহরী থেকে, তিনি সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "দুনিয়াতে তুমি এমনভাবে থাকো যেন তুমি একজন প্রবাসী অথবা একজন পথচারী। আর নিজেকে মৃতদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করো (পৃষ্ঠা ২৭)। যখন তুমি সকালে উপনীত হবে তখন নিজের নফসকে সন্ধ্যার কথা বলো না, আর যখন সন্ধ্যায় উপনীত হবে তখন সকালের কথা বলো না। তোমার অসুস্থতার জন্য সুস্থতা থেকে, তোমার বার্ধক্যের জন্য যৌবন থেকে, তোমার ব্যস্ততার জন্য অবসর থেকে এবং তোমার মৃত্যুর জন্য জীবন থেকে (পাথেয়) গ্রহণ করো; কেননা তুমি জানো না আগামীকাল তোমার নাম কী হবে।"
(খণ্ড: ১)
আল আরবাউনাল ওয়াদআনিয়া লিইবনি ওয়াদআন
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الحديث الثاني والعشرون
أخبرنا محمد بن علي بن بخشل رحمه الله قال: حدثنا الحسن بن محمد بن علي الصلحي بواسط قال: حدثنا محمد بن زكريا قال: حدثنا العباس بن محمد قال: حدثنا عيسى بن يزيد قال: حدثنا صالح بن كيسان ، وموسى بن عقبه جميعاً عن كريب عن ابن عباس مواعظة (أيها الناس (ق 28) لا تشغلنكم دنياكم عن آخرتكم ، ولا تؤثروا أهواؤكم على طاعة ربكم ، ولا تجعلوا أيمانكم ذريعة إلى معافيكم ، وحاسبوا أنفسكم قبل أن تحاسبوا ، ومهدوا لها تسعدوا وتزودوا للرحيل قبل أن تزعجوا وإنما هو موقف عدل واقتضاء حق وسؤال عن واجب ، ولقد أبلغ في الأعذار من تقدم الأنذار.
দ্বাবিংশতম হাদিস
মুহাম্মদ বিন আলী বিন বাখশাল (রহিমাহুল্লাহ) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-হাসান বিন মুহাম্মদ বিন আলী আস-সুলহী ওয়াসিত নামক স্থানে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন যাকারিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-আব্বাস বিন মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ঈসা বিন ইয়াযিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সালিহ বিন কায়সান এবং মুসা বিন উকবা উভয়ে কুরাইব থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে তাঁর উপদেশ বর্ণনা করেছেন: (হে লোকসকল! (পৃষ্ঠা ২৮) তোমাদের দুনিয়া যেন তোমাদের পরকাল থেকে বিমুখ করে না রাখে, আর তোমরা তোমাদের প্রবৃত্তির চাহিদাকে তোমাদের রবের আনুগত্যের ওপর প্রাধান্য দিও না। তোমরা তোমাদের শপথগুলোকে তোমাদের পাপের অজুহাত বানিও না। তোমরা নিজেদের হিসাব নেয়ার আগেই নিজেদের হিসাব গ্রহণ করো এবং আখেরাতের জন্য পথ সুগম করো, তবেই তোমরা সৌভাগ্যবান হবে। আর প্রস্থান করার আগেই পাথেয় সংগ্রহ করো, এর আগে যে তোমাদের অস্থির করে বিদায় করা হবে। নিশ্চয়ই তা হলো ন্যায়ের সাথে দণ্ডায়মান হওয়া, হকের দাবি পূরণ করা এবং ওয়াজিব (কর্তব্য) সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা। আর যে ব্যক্তি পূর্বেই সতর্ক করেছে, সে ওজর পেশের পথ বন্ধ করার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।)
(খণ্ড: ১)
আল আরবাউনাল ওয়াদআনিয়া লিইবনি ওয়াদআন
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الحديث الثالث والعشرون
حدثنا أبو نصر بن دامش بن عبد الله بن زيد النيسابوري رحمه الله قال: حدثنا الدارقطني قال: حدثنا محمد بن علي بن حبيش قال: حدثنا أبي ، قال: حدثنا أبو نعيم قال: حدثنا يزيد بن مروان قال: حدثنا عبد الرحمن بن أبي نعيم عن أبي سعيد الخدري قال: سمعت (ق 29) رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول عند منصرفه من أحد والناس محدقون به ، وقد استند إلى طلحة يعني شجرة (أيها الناس اقبلوا على ما كلفتموه من إصلاح آخرتكم ، وأعرضوا عما ضمن لكم من أمر دينكم ، ولا تستعملوا جوارح غذيت بنعمته في التعريض لسخطه بمعصيته ، واجعلوا شغلكم بالتماس مغفرته واصرفوا هممكم إلى التقريب إليه بطاعته ، إنه من بدأ بنصيبه من الدنيا فإنه نصيبه من الآخرة ، ولا يدرك منها ما يريد ، ومن بدأ بنصيبه من الآخرة وصل إليه نصيبه من الدنيا وأدرك من الآخرة ما يريد) .
তেইশতম হাদিস
আবু নাসর ইবনে দামিশ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে জাইদ আল-নিশাপুরি (রহিমাহুল্লাহ) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আদ-দারাকুতনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে হুবাইশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু নুয়াইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াজিদ ইবনে মারওয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুর রহমান ইবনে আবি নুয়াইম আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে ওহুদ থেকে ফেরার সময় বলতে শুনেছি (পৃষ্ঠা ২৯), এমতাবস্থায় যে মানুষ তাঁকে ঘিরে ছিল এবং তিনি একটি তালহা অর্থাৎ একটি গাছের ওপর হেলান দিয়ে ছিলেন (হে লোকসকল! তোমাদের পরকাল সংশোধনের জন্য তোমাদের যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সেদিকে মনোনিবেশ করো এবং তোমাদের দ্বীনের যে বিষয় তোমাদের জন্য নিশ্চিত করা হয়েছে তা থেকে বিমুখ থাকো। আল্লাহর নেয়ামত দ্বারা পুষ্ট অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসমূহকে তাঁর অবাধ্যতার মাধ্যমে তাঁর অসন্তুষ্টির কাজে ব্যবহার করো না। তাঁর ক্ষমা প্রার্থনায় নিজেদের ব্যস্ত রাখো এবং তাঁর আনুগত্যের মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য লাভের দিকে তোমাদের সংকল্পকে ধাবিত করো। নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি তার দুনিয়াবি অংশ দিয়ে কাজ শুরু করে, তবে তা-ই তার পরকালের অংশ (হয়ে দাঁড়ায়) এবং সে তা থেকে যা চায় তা পায় না। আর যে ব্যক্তি তার পরকালীন অংশ দিয়ে কাজ শুরু করে, তার নিকট দুনিয়ার অংশ পৌঁছে যায় এবং পরকাল থেকে সে যা চায় তাও সে লাভ করে)।
(খণ্ড: ১)
আল আরবাউনাল ওয়াদআনিয়া লিইবনি ওয়াদআন
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الحديث الرابع والعشرون
(ق 30) أخبرنا أبو الحسن محمد بن علي بن بخشل رحمه الله قال: حدثنا أبو أيوب بن يزيد قال: حدثنا محمد بن القاسم ، قال: حدثنا نصر بن عبد الملك قال: حدثنا زيد بن يحيى العروي قال: حدثنا عمرو بن جرير البلخي قال: حدثنا محمد بن عمر (إياكم وفضول المطعم فإن فضول المطعم يأسم القلب بالقسوة ويبطئ بالجوارح عن الطاعة ، ويصمم الهمم عن استماع الموعظة ، وإياكم وفضول النظر فإنه يبذر الهوى ، ويولد الغفلة ، ويختم على القلوب بطابع حب الدنيا وهو مفتاح كل سيئة ، وسبب إحباط كل (ق 31) حسنة.
চব্বিশতম হাদিস
(পত্র ৩০) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান মুহাম্মদ বিন আলী বিন বখশাল (রহিমাহুল্লাহ), তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আইয়ুব বিন ইয়াজিদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন কাসিম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন নাসর বিন আব্দুল মালিক, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জাইদ বিন ইয়াহইয়া আল-উরবি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর বিন জারির আল-বালখি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন উমর (তোমরা অতিরিক্ত আহার করা থেকে বেঁচে থাকো; কেননা অতিরিক্ত আহার অন্তরকে কঠোরতার মাধ্যমে পাপবিদ্ধ করে, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে ইবাদতের কাজে মন্থর করে দেয় এবং উপদেশ শ্রবণে সংকল্পকে বধির করে ফেলে। আর তোমরা অতিরিক্ত দৃষ্টিপাত থেকে বেঁচে থাকো; কারণ তা কুপ্রবৃত্তির বীজ বপন করে, উদাসীনতা জন্ম দেয় এবং অন্তরের ওপর দুনিয়ার ভালোবাসার মোহর মেরে দেয়। আর এটিই হলো প্রত্যেক মন্দের চাবিকাঠি এবং প্রত্যেক (পত্র ৩১) নেক আমল বিনষ্ট হওয়ার কারণ।
(খণ্ড: ১)
আল আরবাউনাল ওয়াদআনিয়া লিইবনি ওয়াদআন
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الحديث الخامس والعشرون
حدثنا أبو الحسين ابن السماك الواعظ رحمه الله قال: حدثنا جعفر الخلدي قال: حدثنا انس بن مالك من ولد أنس بن مالك خادم رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: حدثنا أبو رجاء قتيبة بن سعيد قال: حدثنا أبو عوانة عن السماك بن حرب عن مصعب بن سعد عن عبد الله بن عمر قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول (إنما هو خير يرجى أو شر يتقى ، وباطل عرف فاجتنب ، وحق تيقن فطلب ، وآخرة أظل أقبالها فسعى لها ودنيا أرف نفادها فاعرض عنها وكيف يعمل للآخرة من لا ينقطع عن الدنيا رغبته ولا تنقضي منها شهوته ، إن العجب كل العجب (ق 32) بمن صدق بدار البقاء وهو يسغي لدار الفناء وعرف أن رضا الله في طاعته وهو يسعى في مخالفته.
পঁচিশতম হাদিস
আবু আল-হুসাইন ইবনুল সাম্মাক আল-ওয়ায়িজ রহিমাহুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জাফর আল-খুলদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খাদেম আনাস ইবনে মালেকের বংশধর আনাস ইবনে মালেক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু রাজা কুতায়বা ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আওয়ানা আমাদের নিকট সিমাক ইবনে হারব থেকে, তিনি মুসআব ইবনে সাদ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই এটি এমন এক কল্যাণ যার আশা করা হয় অথবা এমন এক অকল্যাণ যা থেকে বেঁচে থাকা হয়; এবং এমন এক বাতিল যা চিনে পরিহার করা হয়, এবং এমন এক সত্য যা সুনিশ্চিতভাবে জেনে অন্বেষণ করা হয়; এবং এমন এক আখিরাত যার আগমন অতি নিকটে, তাই তার জন্য প্রচেষ্টা করা হয়, এবং এমন এক দুনিয়া যার বিলুপ্তি নিশ্চিত বলে জানা গেছে, তাই তা থেকে বিমুখ হওয়া হয়। আর সে ব্যক্তি কীভাবে আখিরাতের জন্য আমল করবে, দুনিয়ার প্রতি যার আকাঙ্ক্ষা ছিন্ন হয় না এবং যার প্রবৃত্তি নিঃশেষ হয় না। অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয় হলো সেই ব্যক্তি সম্পর্কে (পৃষ্ঠা ৩২), যে চিরস্থায়ী আবাসের প্রতি বিশ্বাস রাখে অথচ ক্ষণস্থায়ী আবাসের দিকে ঝুঁকে থাকে, এবং সে জানে যে আল্লাহর সন্তুষ্টি তাঁর আনুগত্যের মধ্যে নিহিত, অথচ সে তাঁর অবাধ্যতায় লিপ্ত থাকে।"
(খণ্ড: ১)
আল আরবাউনাল ওয়াদআনিয়া লিইবনি ওয়াদআন
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الحديث السادس والعشرون
اخبرنا أبو الحسن بن شهاب العكبي إجازة رحمه الله قال: حدثنا علي بن عيسى الجرحاني البصري قال: حدثنا سليمان بن أيوب الهاشمي قال: حدثنا سعيد بن عبد الرحمن المخزومي قال: حدثنا سفيان بن عيينة عن الزهري عن عطاء بن يزيد الليثي عن أبي أيوب الأنصاري قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول (حلوا أنفسكم بالطاعة وألبسوها قناع المخافة واجعلوا آخرتكم لأنفسكم وسعيكم لمستقركم واعلموا (ق 33) إنكم عن قليل راحلون وإلى الله مائرون ولا يغني عنكم هنالك إلا صالح عمل قدمتموه او حسن ثواب جزتموه ، إنكم غنما تقدمون على ما تقدمون على ما قدمتم وتجازون على ما أسلفتم ولا تخدعنكم زخارف دنيا دنية عن مراتب جنات علية وكأن قد كشف القناع فارتفع الارتياب ولا في كل امرء مستقره وعرف كل مثواه ومنقلبه.
ছাব্বিশতম হাদীস
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান বিন শিহাব আল-উকবারী ইজাজাতান (অনুমতিসূত্রে), আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন; তিনি বলেন: আলী বিন ঈসা আল-জুরাহানী আল-বাসরী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: সুলায়মান বিন আইয়ুব আল-হাশিমী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: সাঈদ বিন আবদুর রহমান আল-মাখজুমী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: সুফিয়ান বিন উয়াইনা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যুহরী থেকে, তিনি আতা বিন ইয়াযীদ আল-লাইসী থেকে, তিনি আবু আইয়ুব আল-আনসারী থেকে বর্ণনা করেন; তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি (তোমাদের নিজেদের আনুগত্যের মাধ্যমে সুশোভিত করো এবং একে আল্লাহ-ভীতির আবরণে আবৃত করো। তোমাদের আখিরাতকে তোমাদের নিজেদের প্রকৃত কল্যাণের জন্য এবং তোমাদের প্রচেষ্টাকে তোমাদের চিরস্থায়ী আবাসের জন্য নির্ধারিত করো। আর জেনে রাখো [পৃষ্ঠা ৩৩] যে তোমরা অচিরেই প্রস্থানকারী এবং আল্লাহর দিকেই ধাবমান। সেখানে তোমাদের অগ্রিম পাঠানো কোনো সৎকর্ম কিংবা তোমাদের অর্জিত কোনো উত্তম প্রতিদান ব্যতীত আর কিছুই উপকারে আসবে না। তোমরা কেবল তারই সম্মুখীন হবে যা তোমরা পূর্বে পাঠিয়েছো এবং তোমাদের কৃতকর্মেরই প্রতিদান দেওয়া হবে। এই নগণ্য পার্থিব জগতের চাকচিক্য যেন তোমাদের সুউচ্চ জান্নাতের মর্তবাসমূহ থেকে প্রতারিত না করে। যেন পর্দা উন্মোচিত হয়ে গেছে, সংশয় দূরীভূত হয়েছে এবং প্রতিটি মানুষ তার নিজস্ব গন্তব্যে স্থির হয়েছে এবং প্রত্যেকেই তার আবাস ও পরিণাম সম্পর্কে জেনে নিয়েছে।)
(খণ্ড: ১)
আল আরবাউনাল ওয়াদআনিয়া লিইবনি ওয়াদআন
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الحديث السابع والعشرون
أخبرنا أبو سعيد المنقري الملي رحمه الله قال: حدثنا شيخي أبو سعيد قال: حدثنا إبراهيم بن شريك قال: حدثنا احمد عبد الله بن يونس اليربوعي قال: حدثنا ابن أبي ذئب عن (ق 34) المقبري عن أبيه عن أبي هريرة قال: قال: رسول الله صلى الله عليه وسلم في خطبة خطبها (لا تكونوا ممن اختدعته العاجلة وغرته الأماني واستهوته الخدعة فركن إلى دار سريعة الزوال وشبكة الانتقال: أنه لم يبق من دنياكم هذه في جنب ما مضى إلا كإناخة راكب أو صرة حالب فعلى ما تعرجون ، وماذا تنتظرون فكأنكم والله قد أصبحتم فيه من الدنيا كأن لم يكن وما تصيرون إليه من الآخرة كان لم يزل ، فخذوا الأهبة لأزوف النقلة ، وأعدوا الزاد لقرب الرحلة ، واعلموا أن كل امرئ على ما قدم قادم ، وعلى ما خلف نادم) .
সাতাশতম হাদিস
আবু সাঈদ আল-মানকারি আল-মালি (রহিমাহুল্লাহ) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আমার শাইখ আবু সাঈদ হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইবরাহিম বিন শারিক হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আহমদ আব্দুল্লাহ বিন ইউনুস আল-ইয়ারবুয়ি হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে আবি যিব মাকবুরি থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর প্রদত্ত এক খুতবায় বলেছেন: (তোমরা তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না যাদেরকে এই ক্ষণস্থায়ী দুনিয়া ধোঁকায় ফেলেছে, মিথ্যা আশা যাদেরকে প্রলুব্ধ করেছে এবং প্রতারণা যাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছে; ফলে সে দ্রুত বিলীন হওয়া আবাসস্থল এবং স্থানান্তরের জালের প্রতি ঝুঁকে পড়েছে। জেনে রেখো, তোমাদের এই দুনিয়ার যা অতীত হয়ে গেছে তার তুলনায় যা অবশিষ্ট আছে তা কেবল একজন আরোহীর উট বসানোর সময় অথবা একজন দোহনকারীর ওলান বাঁধার সময়ের ন্যায়। সুতরাং তোমরা কিসের ওপর নির্ভর করছ এবং কিসেরই বা অপেক্ষা করছ? আল্লাহর শপথ! দুনিয়াতে তোমাদের অবস্থা যেন এমন যে যা গত হয়েছে তা যেন কখনো ছিলই না, আর আখিরাতে তোমরা যার দিকে ধাবিত হচ্ছ তা যেন সর্বদা বিদ্যমান ছিল। অতএব, আসন্ন প্রস্থানের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করো এবং নিকটবর্তী সফরের জন্য পাথেয় সংগ্রহ করো। আর জেনে রেখো যে, প্রত্যেক ব্যক্তি যা অগ্রিম পাঠিয়েছে তার নিকটই উপস্থিত হবে এবং যা পেছনে ফেলে এসেছে তার জন্য অনুতপ্ত হবে।)