(খণ্ড: ১)
আত তালীকু আলা রিসালাতি হাক্বীক্বাতিত সিয়াম ওয়া কিতাবিস সিয়াম মিনাল ফুরুই ওয়া মাসায়িলা মুখতারাতিম মিনহু
(পৃষ্ঠা: -)
التعليق على رسالة حقيقة الصيام وكتاب الصيام من الفروع ومسائل مختارة منه القسم: الفقه العام
الكتاب: التعليق على رسالة حقيقة الصيام وكتاب الصيام من الفروع ومسائل مختارة منه
المؤلف: محمد بن صالح بن محمد العثيمين (ت 1421هـ)
عدد الصفحات: 282
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আত-তালিক আলা রিসালাতি হাকিকাতুস সিয়াম ওয়া কিতাবুস সিয়াম মিনাল ফুরু ওয়া মাসায়িল মুখতারা মিনহু বিভাগ: সাধারণ ফিকহ
বই: আত-তালিক আলা রিসালাতি হাকিকাতুস সিয়াম ওয়া কিতাবুস সিয়াম মিনাল ফুরু ওয়া মাসায়িল মুখতারা মিনহু
লেখক: মুহাম্মদ বিন সালিহ বিন মুহাম্মদ আল-উসাইমিন (মৃত্যু ১৪২১ হিজরি)
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৮২
[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আত তালীকু আলা রিসালাতি হাক্বীক্বাতিত সিয়াম ওয়া কিতাবিস সিয়াম মিনাল ফুরুই ওয়া মাসায়িলা মুখতারাতিম মিনহু
(পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم
تقديمإن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين وسلم تسليماً كثيراً.
أما بعد:
فإن من توفيق الله تعالى - وله الحمد والشكر - أن يسَّر لصاحب الفضيلة شيخنا العلامة محمد بن صالح العثيمين رحمه الله تعالى التعليق على رسالة «حقيقة الصيام» (1) لشيخ الإسلام تقي الدين أحمد بن عبد الحليم عبد السلام ابن تيمية الحراني المتوفي عام 728 هـ رحمه الله رحمة واسعة وأسكنه فسيح جناته وجزاه عن الإسلام والمسلمين خيراً.
ولقد كان من منهج صاحب الفضيلة شيخنا العلامة محمد بن صالح العثيمين رحمه الله أن يستقبل مواسم الخيرات بتدريس ما يخصها من أحكام، وما يتعلق بها من مسائل، حرصاً على اغتنام أوقاتها الفاضلة، وتقريراً لمعرفة آدابها، وتطبيق سنتها، إخلاصاً لوجه الله تعالى وإتباعاً لسنة نبيه صلى الله عليه وسلم فجاء هذا التعليق في شهر شعبان عام 1417هـ ضمن الدروس العلمية التي كان يعقدها فضيلته رحمه الله تعالى في جامعه بمدينة عنيزة.
ثم إنه - رحمه الله تعالى - تناول في دروسه العلمية التي عقدها في شهر شعبان عام 1419هـ التعليق على كتاب الصيام من الفروع للعلامة الفقيه المحدث شمس الدين محمد بن مفلح المقدسي المتوفي عام 763 هـ رحمه الله رحمة واسعة وأسكنه فسيح جناته وجزاه عن الإسلام والمسلمين خيراً.
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
উপস্থাপনানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক এবং অদ্বিতীয়, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং যারা কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সকলের ওপর অগণিত রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
অতঃপর:
মহান আল্লাহর তাওফীক—এবং সমস্ত প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা তাঁরই প্রাপ্য—যে, তিনি পরম শ্রদ্ধেয় আমাদের শাইখ আল্লামা মুহাম্মদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ)-এর জন্য শাইখুল ইসলাম তাক্বীউদ্দীন আহমাদ বিন আব্দুল হালীম আব্দুল সালাম ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানী (ওফাত ৭২৮ হি.)—আল্লাহ তাঁকে প্রশস্ত রহমতে সিক্ত করুন, জান্নাতুল ফেরদাউসে স্থান দিন এবং ইসলাম ও মুসলিমদের পক্ষ থেকে তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন—রচিত ‘হাক্বীক্বাতুস সিয়াম’ (১) নামক পুস্তিকার ওপর ব্যাখ্যামূলক আলোচনা সহজ করে দিয়েছেন।
পরম শ্রদ্ধেয় শাইখ আল্লামা মুহাম্মদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ)-এর কর্মপন্থা ছিল যে, তিনি কল্যাণময় মৌসুমগুলোকে সেগুলোর সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান এবং মাসআলাসমূহ পাঠদানের মাধ্যমে স্বাগত জানাতেন। এটি তিনি করতেন সেই ফযীলতপূর্ণ সময়গুলোর সদ্ব্যবহারের প্রতি গভীর আগ্রহ, সেগুলোর আদব অনুধাবন এবং সুন্নাহর সঠিক প্রয়োগের উদ্দেশ্যে, যা ছিল একান্তই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহর অনুসরণের নিমিত্তে। ফলে এই ব্যাখ্যামূলক আলোচনাটি ১৪১৭ হিজরীর শাবান মাসে উনাইজাহ শহরে শাইখের জামে মসজিদে পরিচালিত বৈজ্ঞানিক দরসসমূহের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
পরবর্তীতে তিনি—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—১৪১৯ হিজরীর শাবান মাসে তাঁর পরিচালিত দরসগুলোতে প্রখ্যাত ফক্বীহ ও মুহাদ্দিস (محدث) শামসুদ্দীন মুহাম্মদ বিন মুফলিহ আল-মাক্বদিসী (ওফাত ৭৬৩ হি.)—আল্লাহ তাঁকে প্রশস্ত রহমতে সিক্ত করুন, জান্নাতুল ফেরদাউসে স্থান দিন এবং ইসলাম ও মুসলিমদের পক্ষ থেকে তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন—রচিত ‘আল-ফুরূ’ গ্রন্থের ‘কিতাবুস সিয়াম’ (রোজা অধ্যায়)-এর ওপর তালীক্ব বা ব্যাখ্যামূলক আলোচনা পেশ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তালীকু আলা রিসালাতি হাক্বীক্বাতিত সিয়াম ওয়া কিতাবিস সিয়াম মিনাল ফুরুই ওয়া মাসায়িলা মুখতারাতিম মিনহু
(পৃষ্ঠা: ২)
وإنفاذاً للقواعد والتوجيهات التي قررها فضيلة شيخنا العلامة رحمه الله لإخراج مؤلفاته ودروسه، شرع القسم العلمي في مؤسسة الشيخ محمد بن صالح العثيمين الخيرية بإعداد تلك الدروس التي تضمنت التعليق على رسالة حقيقة الصيام وكتاب الصيام من الفروع وتجهزها للطباعة والنشر، ثم تفضل الشيخ الدكتور سامي بن محمد الصقير - أثابه الله - بالمراجعة.
كما يتضمن هذا الكتاب مسائل مختاره من الفروع محررة بقلم فضيلة شيخنا العلامة رحمه الله تعالى أثناء قراءته كتاب الصيام في شهر شعبان عام 1391 هـ مع زيادات عليها وتدوين مسائل الخلاف في المفطرات من الفروع.
نسأل الله تعالى أن يجعل هذا العمل خالصا لوجهه الكريم، موافقا لمرضاته، نافعاً لعباده، وأن يجزي صاحب الفضيلة شيخنا عن الإسلام والمسلمين خير الجزاء ويسكنه فسيح جناته ويجزل له الثواب، ويضاعف له الأجر يُوم الحساب، إنه سميع مجيب.
وصلى الله وسلم وبارك على عبده ورسوله، خاتم النبيين، وإمام المتبعين، وسيد الأولين والآخرين، نبينا محمد وعلى آله وأصحابه والتابعين لهم بإحسان إلى يوم الدين.
اللجنة العلمية
في مؤسسة الشيخ محمد بن صالح العثيمين الخيرية
10/8/1428 هـ
আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় শাইখ, বিজ্ঞ আলেম (العلامة) (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-এর কিতাব ও দরসসমূহ প্রকাশের লক্ষ্যে তাঁর নির্ধারিত নীতিমালা ও নির্দেশনার বাস্তবায়নে, শাইখ মুহাম্মদ বিন সালিহ আল-উসাইমিন চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশনের বৈজ্ঞানিক বিভাগ সেই সকল দরস প্রস্তুতির কাজ শুরু করেছে, যার মধ্যে 'হাকীকাতুস সিয়াম' পুস্তিকা এবং 'আল-ফুরু' গ্রন্থের 'কিতাবুস সিয়াম' অংশের ওপর আলোচনা অন্তর্ভুক্ত ছিল। অতঃপর শাইখ ড. সামি বিন মুহাম্মদ আস-সুকাইর (আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন) তা পরিমার্জন ও পর্যালোচনার কাজ সম্পন্ন করেছেন।
এই কিতাবটিতে 'আল-ফুরু' থেকে নির্বাচিত এমন কিছু মাসআলাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা আমাদের শ্রদ্ধেয় শাইখ, বিজ্ঞ আলেম (العلامة) (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) ১৩৯১ হিজরি সালের শাবান মাসে 'কিতাবুস সিয়াম' পাঠ করার সময় স্বহস্তে লিপিবদ্ধ ও পরিমার্জন করেছিলেন। সেই সাথে 'আল-ফুরু' গ্রন্থে বর্ণিত রোজা ভঙ্গের কারণসমূহের মতভেদপূর্ণ বিষয়গুলোও এতে সংযোজন করা হয়েছে।
আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই কাজটিকে একান্তই তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন, তাঁর পছন্দনীয় আমল হিসেবে গ্রহণ করেন এবং তাঁর বান্দাদের জন্য কল্যাণকর করেন। তিনি যেন আমাদের শাইখকে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন, তাঁকে জান্নাতের প্রশস্ত স্থানে আসীন করেন এবং বিচার দিবসে তাঁর সওয়াব ও প্রতিদান বহুগুণ বৃদ্ধি করেন। নিশ্চয়ই তিনি প্রার্থনা শ্রবণকারী ও কবুলকারী।
আল্লাহর সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও রাসূল, সর্বশেষ নবী, অনুসরণকারীদের ইমাম এবং আদি-অন্ত সকলের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব আমাদের নবী মুহাম্মাদ-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীবর্গ ও কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সকলের ওপর।
বৈজ্ঞানিক কমিটি
শাইখ মুহাম্মদ বিন সালিহ আল-উসাইমিন চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন
১০/০৮/১৪২৮ হিজরি
(খণ্ড: ১)
আত তালীকু আলা রিসালাতি হাক্বীক্বাতিত সিয়াম ওয়া কিতাবিস সিয়াম মিনাল ফুরুই ওয়া মাসায়িলা মুখতারাতিম মিনহু
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له.
ونشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، ونشهد أن محمداً عبده ورسوله صلى الله عليه وسلم تسليماً.
فصل فيما يفطر الصائم وما لا يفطرهوهذا نوعان: منه ما يفطر بالنص والإجماع، وهو الأكل والشرب والجماع، قال تعالى: {فالآن باشروهن وابتغوا ما كتب الله لكم وكلوا واشربوا حتى يتبين لكم الخيط الأبيض من الخيط الأسود من الفجر ثم أتموا الصيام إلى الليل} فأذن في المباشرة، فعقل من ذلك أن المراد الصيام من المباشرة، والأكل، والشرب، ولما قال أولا: {كتب عليكم الصيام كما كتب على الذين من قبلكم} كان معقولا عندهم أن الصيام هو الإمساك عن الأكل والشرب والجماع، ولفظ «الصيام» كانوا يعرفونه قبل الإسلام ويستعملونه، كما في «الصحيحين» عن عائشة رضي الله عنها أن يوم عاشوراء كان يوماً تصومه قريش في الجاهلية (1) .
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা ভিক্ষা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই।
আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমরা আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল, তাঁর ওপর অগণিত দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
পরিচ্ছেদ: যা রোজা ভঙ্গ করে এবং যা রোজা ভঙ্গ করে না প্রসঙ্গেএটি দুই প্রকার: যার মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা স্পষ্ট দলিল (نص) এবং ঐকমত্যের (إجماع) ভিত্তিতে রোজা ভঙ্গ করে; আর তা হলো আহার, পান এবং সহবাস। মহান আল্লাহ বলেন: {এখন তোমরা তাদের সাথে সহবাস করো এবং আল্লাহ তোমাদের জন্য যা লিখে রেখেছেন তা অন্বেষণ করো। আর তোমরা আহার করো ও পান করো যতক্ষণ না ফজরের সাদা সুতা কালো সুতা থেকে তোমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অতঃপর রাত পর্যন্ত রোজা পূর্ণ করো}। এখানে সহবাসের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা থেকে বোঝা যায় যে রোজার অর্থ হলো সহবাস, আহার এবং পান করা থেকে বিরত থাকা। আর যখন আল্লাহ প্রথমে বললেন: {তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল}, তখন তাদের নিকট এটি সুপরিচিত ছিল যে, রোজা হলো আহার, পান এবং সহবাস থেকে বিরত থাকা। 'সিয়াম' বা রোজা শব্দটি তারা ইসলামের পূর্ব থেকেই জানত এবং ব্যবহার করত। যেমন 'সহীহাইন'-এ আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, জাহেলি যুগে কুরাইশরা আশুরার দিন রোজা রাখত। (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তালীকু আলা রিসালাতি হাক্বীক্বাতিত সিয়াম ওয়া কিতাবিস সিয়াম মিনাল ফুরুই ওয়া মাসায়িলা মুখতারাতিম মিনহু
(পৃষ্ঠা: ৪)
وقد ثبت عن غير واحد أنه قبل أن يفرض شهر رمضان أمر بصوم يوم عاشوراء، وأرسل منادياً ينادي بصومه، فعلم أن مسمى هذا الاسم كان معروفاً عندهم.
وكذلك ثبت بالسنة واتفاق المسلمين أن دم الحيض ينافي الصوم، فلا تصوم الحائض لكن تقضي الصيام.
وثبت بالسنة أيضا من حديث لقيط بن صبرة: أن النبي صلى الله عليه وسلم قال له: «وبالغ في الاستنشاق إلا أن تكون صائما» فدل على أن إنزال الماء من الأنف يفطر الصائم، وهو قول جماهير العلماء (1) .
وفي «السنن» حديثان:
أحدهما: حديث هشام بن حسان، عن محمد بن سيرين، عن أبي هريرة رضي الله عنه-قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من ذرعه قيء وهو صائم فليس عليه قضاء، وإن استقاء فليقض» .
--------------------------------------------
একাধিক (غير واحد) বর্ণনাকারীর সূত্রে এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, রমজান মাসের রোজা ফরজ হওয়ার আগে আশুরার দিনে রোজা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি একজন ঘোষণাকারী পাঠিয়েছিলেন যিনি এই রোজার জন্য ঘোষণা দিচ্ছিলেন। এর মাধ্যমে জানা যায় যে, এই নামটির নামকরণের বিষয়টি তাদের নিকট সুপরিচিত ছিল।
অনুরূপভাবে সুন্নাহ এবং মুসলমানদের ঐকমত্য (إجماع) দ্বারা এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, ঋতুকালীন রক্ত রোজার পরিপন্থী। তাই ঋতুবতী নারী রোজা পালন করবেন না, তবে তিনি এই রোজার কাজা আদায় করবেন।
সুন্নাহর মাধ্যমে লাকীত ইবনে সাবরাহ বর্ণিত হাদিস থেকেও প্রমাণিত হয়েছে যে: নবী (সা.) তাঁকে বলেছিলেন: “নাক দিয়ে পানি টানার (استنشاق) ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন করো, তবে তুমি রোজা থাকা অবস্থায় এটি করো না।” এটি প্রমাণ করে যে, নাক দিয়ে পানি ভেতরে প্রবেশ করানো রোজাদারের রোজা ভঙ্গ করে দেয়, আর এটিই অধিকাংশ (جماهير) আলেমের অভিমত (১)।
সুনান গ্রন্থসমূহে এ বিষয়ে দুটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে:
তার মধ্যে একটি হলো: হিশাম ইবনে হাসসানের সূত্রে, মুহাম্মদ ইবনে সিরীন থেকে, আবু হুরায়রা (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত—তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “রোজা থাকা অবস্থায় যার অনিচ্ছাকৃত বমি হয়, তার ওপর কোনো কাজা নেই। তবে যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় বমি করে, সে যেন কাজা আদায় করে।”
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তালীকু আলা রিসালাতি হাক্বীক্বাতিত সিয়াম ওয়া কিতাবিস সিয়াম মিনাল ফুরুই ওয়া মাসায়িলা মুখতারাতিম মিনহু
(পৃষ্ঠা: ৫)
وهذا الحديث لم يثبت عند طائفة من أهل العلم، بل قالوا: هو من قول أبي هريرة، قال أبو داود: سمعت أحمد بن حنبل قال: ليس من ذا شيء. قال الخطابي: يريد أن الحديث غير محفوظ. وقال الترمذي: سألت محمد بن إسماعيل البخاري عنه، فلم يعرفه إلا عن عيسى بن يونس، قال: وما أُراه محفوظاً. قال: وروى يحيى بن [أبي] كثير، عن عمر بن الحكم: أن أبا هريرة كان لا يرى القيء يفطر الصائم (1) .
--------------------------------------------
এই হাদিসটি একদল আলেমদের নিকট প্রমাণিত (ثابت) নয়, বরং তাঁরা বলেছেন: এটি আবু হুরায়রা (রা.)-এর নিজস্ব উক্তি। আবু দাউদ বলেন: আমি আহমাদ ইবনে হাম্বলকে বলতে শুনেছি: এর কোনো ভিত্তি নেই। খাত্তাবি বলেন: তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে, হাদিসটি সংরক্ষিত (محفوظ) নয়। তিরমিজি বলেন: আমি মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল বুখারিকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি এটি ঈসা ইবনে ইউনুসের সূত্র ছাড়া চিনতে পারেননি; তিনি বলেন: আমি একে সংরক্ষিত (محفوظ) মনে করি না। তিনি আরও বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে [আবি] কাসির, উমর ইবনে আল-হাকাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আবু হুরায়রা (রা.) মনে করতেন বমি করা রোজাদারের রোজা ভঙ্গ করে না (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তালীকু আলা রিসালাতি হাক্বীক্বাতিত সিয়াম ওয়া কিতাবিস সিয়াম মিনাল ফুরুই ওয়া মাসায়িলা মুখতারাতিম মিনহু
(পৃষ্ঠা: ৬)
قال الخطابي: وذكر أبو داود: أن حفص بن غياث رواه عن هشام، كما رواه عيسى بن يونس. قال: ولا أعلم خلافا بين أهل العلم في أن من ذرعه القيء فإنه لا قضاء عليه، ولا في أن من استقاء عامداً فعليه القضاء، ولكن اختلفوا في الكفارة، فقال عامة أهل العلم: ليس عليه غير القضاء، وقال عطاء: عليه القضاء والكفارة، وحكي عن الأوزاعي، وهو قول أبي ثور.
قلت: وهو مقتضى إحدى الروايتين عن أحمد في إيجابه الكفارة على المحتجم، فإنه إذا أوجبها على المحتجم فعلى المستقيء أولى، لكن ظاهر مذهبه أن الكفارة لا تجب بغير الجماع، كقول الشافعي (1) .
والذين لم يثبتوا هذا الحديث لم يبلغهم من وجه يعتمدونه، وقد أشاروا إلى علته، وهو انفراد عيسى بن يونس، وقد ثبت أنه لم ينفرد به، بل وافقه عليه حفص بن غياث.
والحديث [الآخر] يشهد له، وهو: ما رواه أحمد، وأهل السنن - كالترمذي- عن أبي الدرداء: أن النبي صلى الله عليه وسلم قاء فأفطر، فذكرت ذلك لثوبان، فقال: صدق، أنا صببت له وضوءاً. لكن لفظ أحمد: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قاء فتوضأ. رواه أحمد عن حسين المعلم.
قال الأثرم: قلت لأحمد: قد اضطربوا في هذا الحديث، فقال: حسين المعلم يجوده. وقال الترمذي: حديث حسين أرجح شيء في هذا الباب.
--------------------------------------------
আল-খাত্তাবি বলেছেন: আবু দাউদ উল্লেখ করেছেন যে, হাফস ইবনে গিয়াস এটি হিশাম থেকে বর্ণনা করেছেন, যেভাবে ঈসা ইবনে ইউনুস এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি আলেমদের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো মতপার্থক্য জানি না যে, যার অনিচ্ছাকৃত বমি হয় তার ওপর কোনো কাজা (قضاء) নেই, এবং এ বিষয়েও নয় যে, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করে তাকে কাজা (قضاء) আদায় করতে হবে। তবে তারা কাফফারা (كفارة) নিয়ে দ্বিমত পোষণ করেছেন। অধিকাংশ আলেম বলেছেন: তার ওপর কাজা (قضاء) ছাড়া আর কিছু নেই। আতা বলেছেন: তার ওপর কাজা (قضاء) ও কাফফারা (كفارة) উভয়ই আবশ্যক। এটি আল-আওজায়ি থেকেও বর্ণিত হয়েছে এবং এটিই আবু সাওর-এর অভিমত।
আমি বলি: এটি ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত দুটি বর্ণনার (روايتين) একটির দাবি—যেটিতে তিনি শিঙা ব্যবহারকারীর ওপর কাফফারা (كفارة) ওয়াজিব করেছেন; কারণ তিনি যদি শিঙা ব্যবহারকারীর ওপর এটি ওয়াজিব করেন, তবে ইচ্ছাকৃত বমিকারীর ওপর তা আরও বেশি প্রযোজ্য। কিন্তু তাঁর মাযহাবের বাহ্যিক দিক হলো সহবাস ব্যতীত অন্য কোনো কারণে কাফফারা (كفارة) ওয়াজিব হয় না, যেমনটি ইমাম শাফিঈ-এর অভিমত (১)।
যারা এই হাদিসটিকে প্রমাণিত (ثابت) মনে করেননি, তাদের কাছে এটি নির্ভরযোগ্য কোনো মাধ্যমে পৌঁছায়নি এবং তারা এর ত্রুটি (علة) নির্দেশ করেছেন, যা হলো ঈসা ইবনে ইউনুসের একাকী বর্ণনা করা (انفراد)। অথচ এটি প্রমাণিত যে তিনি এতে একা নন, বরং হাফস ইবনে গিয়াস তার সাথে একমত হয়েছেন।
[অন্য] হাদিসটি এর সাক্ষ্য দেয়, আর তা হলো যা ইমাম আহমাদ এবং সুনান গ্রন্থকারগণ—যেমন তিরমিজি—আবু দারদা থেকে বর্ণনা করেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বমি করেছেন এবং রোজা ভেঙেছেন। আমি সাওবান-এর কাছে তা উল্লেখ করলে তিনি বললেন: তিনি সত্য বলেছেন, আমিই তাঁর ওজুর পানি ঢেলে দিয়েছিলাম। তবে আহমাদের পাঠ (لفظ) হলো: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বমি করলেন এবং ওজু করলেন। এটি ইমাম আহমাদ হুসাইন আল-মুয়াল্লিম থেকে বর্ণনা করেছেন।
আল-আছরাম বলেন: আমি ইমাম আহমাদকে বললাম: বর্ণনাকারীরা এই হাদিসে বিশৃঙ্খলা (اضطربوا) করেছেন। তিনি বললেন: হুসাইন আল-মুয়াল্লিম এটি উত্তমরূপে বর্ণনা (يجوده) করেছেন। তিরমিজি বলেছেন: হুসাইনের হাদিসটি এই অধ্যায়ে (باب) সবচেয়ে অগ্রগণ্য (أرجح)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তালীকু আলা রিসালাতি হাক্বীক্বাতিত সিয়াম ওয়া কিতাবিস সিয়াম মিনাল ফুরুই ওয়া মাসায়িলা মুখতারাতিম মিনহু
(পৃষ্ঠা: ৭)
وهذا قد استدل به على وجوب الوضوء من القيء، ولا يدل على ذلك، فإنه إذا أراد بالوضوء الوضوء الشرعي (1) فليس فيه إلا أنه توضأ، والفعل المجرد لا يدل على الوجوب، بل يدل على أن الوضوء من ذلك مشروع، فإذا قيل: إنه مستحب كان فيه عمل بالحديث.
وكذلك ما روي عن بعض الصحابة من الوضوء من الدم الخارج، ليس في شيء منه دليل على الوجوب، بل يدل على الاستحباب.
وليس في الأدلة الشرعية ما يدل على وجوب ذلك، كما قد بسط في موضعه، بل قد روى الدارقطني وغيره عن حميد عن أنس قال: احتجم رسول الله صلى الله عليه وسلم ولم يتوضأ، ولم يزد على غسل محاجمه.
ورواه ابن الجوزي في حجة المخالف ولم يضعفه، وعادته الجرح بما يمكن.
وأما الحديث الذي يروى: «ثلاث لا تفطر: القيء، والحجامة، والاحتلام» . وفي لفظ: «لا يفطرن، لا من قاء، ولا من احتلم، ولا من احتجم» ، فهذا إسناده الثابت: ما رواه الثوري وغيره، عن زيد بن أسلم، عن رجل من أصحابه، عن رجل من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم هكذا، رواه أبو داود، وهذا الرجل لا يعرف، وقد رواه عبد الرحمن بن زيد بن أسلم، عن أبيه، عن عطاء، عن أبي سعيد، عن النبي صلى الله عليه وسلم، لكن عبد الرحمن ضعيف عند أهل العلم بالرجال.
قلت: روايته عن زيد من وجهين مرفوعا لا يخالف روايته المرسلة، بل يقويها، والحديث ثابت عن زيد بن أسلم؛ لكن هذا فيه: «إذا ذرعه القيء» .
--------------------------------------------
এটি বমি থেকে অজু করা ওয়াজিব হওয়ার সপক্ষে দলিল হিসেবে পেশ করা হয়েছে, তবে এটি তা নির্দেশ করে না। কারণ এর মাধ্যমে যদি শরয়ি অজু উদ্দেশ্য হয়ে থাকে (১), তবে এতে কেবল এটাই প্রমাণিত হয় যে তিনি অজু করেছেন; আর কেবল কোনো সাধারণ কাজ ওয়াজিব হওয়ার ওপর দলিল হতে পারে না। বরং এটি নির্দেশ করে যে এ থেকে অজু করা বিধিবদ্ধ। সুতরাং যদি বলা হয় যে এটি মুস্তাহাব, তবে তা হাদিসের ওপর আমল হিসেবে গণ্য হবে।
অনুরূপভাবে শরীর থেকে রক্ত নির্গত হওয়ার কারণে অজু করা সম্পর্কে কিছু সাহাবী থেকে যা বর্ণিত হয়েছে, তার কোনোটিতেই ওয়াজিব হওয়ার প্রমাণ নেই, বরং তা মুস্তাহাব হওয়ার ওপর দলিল প্রদান করে।
আর শরয়ি দলিলসমূহের মধ্যে এমন কিছু নেই যা এটি ওয়াজিব হওয়ার প্রমাণ দেয়, যেমনটি এর সংশ্লিষ্ট স্থানে বিস্তারিত আলোচিত হয়েছে। বরং দারা কুতনি এবং অন্যান্যগণ হুমায়দ থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) সিঙ্গা লাগিয়েছেন কিন্তু অজু করেননি, কেবল সিঙ্গা লাগানোর ক্ষতস্থান ধৌত করার চেয়ে বেশি কিছু করেননি।
ইবনুল জাওজি এটি 'হুজ্জাতুল মুখালিফ'-এ বর্ণনা করেছেন এবং একে দুর্বল (ضعيف) সাব্যস্ত করেননি, অথচ তাঁর অভ্যাস হলো যেখানেই সম্ভব সেখানে জরাহ (جرح) বা ত্রুটি অন্বেষণ করা।
আর যে হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে যে: «তিনটি বস্তু রোজা ভঙ্গ করে না: বমি, সিঙ্গা লাগানো এবং স্বপ্নদোষ।» অন্য শব্দে আছে: «তারা যেন রোজা ভঙ্গ না করে; না বমি করা ব্যক্তি, না স্বপ্নদোষ হওয়া ব্যক্তি, আর না সিঙ্গা লাগানো ব্যক্তি।» এই হাদিসটির প্রমাণিত সনদ (إسناد) হলো যা সাওরি এবং অন্যান্যরা যায়িদ বিন আসলাম থেকে, তিনি তাঁর এক সঙ্গী থেকে, তিনি নবী (সা.)-এর এক সাহাবী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) এভাবে বলেছেন। আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন। এই ব্যক্তিটি অপরিচিত (لا يعرف), আর আব্দুর রহমান বিন যায়িদ বিন আসলাম এটি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি আবু সাঈদ থেকে, তিনি নবী (সা.) থেকে বর্ণনা করেছেন; কিন্তু রিজাল শাস্ত্রবিদদের (أهل العلم بالرجال) নিকট আব্দুর রহমান দুর্বল (ضعيف)।
আমি বলি: যায়িদ থেকে দুইভাবে বর্ণিত তাঁর মারফু (مرفوع) বর্ণনাটি তাঁর বিচ্ছিন্ন (مرسل) বর্ণনার বিরোধী নয়, বরং একে শক্তিশালী করে। যায়িদ বিন আসলাম থেকে হাদিসটি প্রমাণিত (ثابت); তবে এতে আছে: «যদি বমি তাকে পরাস্ত করে।»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তালীকু আলা রিসালাতি হাক্বীক্বাতিত সিয়াম ওয়া কিতাবিস সিয়াম মিনাল ফুরুই ওয়া মাসায়িলা মুখতারাতিম মিনহু
(পৃষ্ঠা: ৮)
[ورواه غير واحد عن زيد بن أسلم مرسلا، وقال يحيى بن معين: حديث زيد بن أسلم ليس بشيء، ولو قدر صحته لكان المراد من ذرعه القيء، فإنه قرنه بالاحتلام، ومن احتلم بغير اختياره كالنائم لم يفطر باتفاق الناس، وأما من استمنى فأنزل فإنه يفطر، ولفظ الاحتلام إنما يطلق على من احتلم في منامه] .
وأما حديث الحجامة، فإما أن يكون منسوخا، وإما أن يكون ناسخا لحديث ابن عباس أنه احتجم وهو محرم صائم أيضا، ولعل فيه القيء إن كان متناولا للاستقاءة هو أيضا منسوخ، وهذا يؤيد أن النهي عن الحجامة هو المتأخر، فإنه إذا تعارض نصان ناقل وباق على الاستصحاب، فالناقل هو الراجح في أنه الناسخ، ونسخ أحدهما يقوي نسخ قرينه.
وقد ظن طائفة، أن القياس أن لا يفطر شيء من الخارج، وأن المستقيء إنما أفطر؛ لأنه مظنة رجوع بعض الطعام، وقالوا: إن فطر الحائض على خلاف القياس (1) . وقد بسطنا في الأصول أنه ليس في الشريعة شيء على خلاف القياس الصحيح.
فإن قيل: فقد ذكرتم أن من أفطر عامداً بغير عذر كان فطره من الكبائر، وكذلك من فوت صلاة النهار إلى الليل عامداً من غير عذر كان تفويته لها من الكبائر، وأنها ما بقيت تقبل منه على أظهر قولي العلماء، كمن فوت الجمعة، ورمي الجمار، وغير ذلك من العبادات المؤقتة، وهذا قد أمره بالقضاء، وقد روي في حديث المجامع في رمضان أنه أمره بالقضاء؟
--------------------------------------------
[একাধিক বর্ণনাকারী যায়েদ বিন আসলাম থেকে এটি বিচ্ছিন্ন (مرسل) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইয়াহইয়া বিন মাইন বলেন: যায়েদ বিন আসলামের বর্ণিত হাদিসটি অকিঞ্চিৎকর (ليس بشيء)। আর যদি এর বিশুদ্ধতা (صحة) ধরে নেওয়া হয়, তবে তার দ্বারা উদ্দেশ্য হবে অনিচ্ছাকৃত বমি (ذرعه القيء), কারণ তিনি একে স্বপ্নদোষের (الاحتلام) সাথে তুলনা করেছেন। আর ঘুমের মধ্যে থাকা ব্যক্তির মতো যার অনিচ্ছায় স্বপ্নদোষ হয়, মানুষের ঐকমত্য (اتفاق) অনুযায়ী তার রোজা ভঙ্গ হয় না। কিন্তু যে ব্যক্তি হস্তমৈথুন করে বীর্যপাত ঘটায়, তার রোজা ভঙ্গ হবে। আর 'স্বপ্নদোষ' শব্দটি কেবল তার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হয় যে ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দেখে বীর্যপাত ঘটায়।] .
আর সিঙা (হিজামা) সম্পর্কিত হাদিসটির ক্ষেত্রে তা হয় রহিত (منسوخ) হবে, অথবা ইবনে আব্বাসের বর্ণিত হাদিসের জন্য রহিতকারী (ناسخ) হবে—যেটিতে উল্লেখ আছে যে তিনি ইহরাম ও রোজা অবস্থায় সিঙা লাগিয়েছিলেন। সম্ভবত বমি সম্পর্কিত বিষয়টিও, যদি তা ইচ্ছাকৃত বমির (استقاءة) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়, সেটিও রহিত (منسوخ)। এটিই জোরালো সমর্থন করে যে সিঙার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা পরবর্তী সময়ের। কেননা যখন এমন দুটি টেক্সট বা বর্ণনা পরষ্পরবিরোধী (تعارض) হয় যার একটি বিধান পরিবর্তনকারী (ناقل) এবং অন্যটি মৌলিক অবস্থার ওপর বহাল (باق على الاستصحاب) থাকার কথা বলে, তখন পরিবর্তনকারী বর্ণনাটিই রহিতকারী (ناسخ) হিসেবে প্রাধান্যযোগ্য (الراجح) হয়। আর এ দুটির একটি রহিত হওয়া তার সমজাতীয় অপরটির রহিত হওয়াকেও শক্তিশালী করে।
একদল মনে করেছেন যে, যৌক্তিক অনুমান (القياس) অনুযায়ী দেহ থেকে কোনো কিছু বের হওয়ার কারণে রোজা ভঙ্গ হওয়ার কথা নয়। আর ইচ্ছাকৃত বমিকারীর রোজা এজন্যই ভঙ্গ হয় যে এতে কিছু খাবার ভেতরে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তারা আরও বলেন: ঋতুবতী নারীর রোজা ভঙ্গ হওয়াটি যৌক্তিক অনুমানের (القياس) পরিপন্থী। অথচ আমরা মূলনীতি শাস্ত্রে (الأصول) বিস্তারিত আলোচনা করেছি যে, শরিয়তে সঠিক যৌক্তিক অনুমানের (القياس الصحيح) পরিপন্থী কোনো বিষয় নেই।
যদি প্রশ্ন করা হয়: আপনারা উল্লেখ করেছেন যে, কোনো ওজর ছাড়াই যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ভঙ্গ করে, তার এই কাজ কাবিরা গুনাহ বা মহাপাপের অন্তর্ভুক্ত। তেমনিভাবে কোনো ওজর ছাড়া দিনের নামাজকে ইচ্ছাকৃতভাবে রাত পর্যন্ত বিলম্বিত করাও মহাপাপ। আলেমদের দুই মতের মধ্যে অধিক স্পষ্ট মত অনুযায়ী, তার কাছ থেকে এই ইবাদত আর গ্রহণ করা হয় না; যেমন জুমুআ, জামরায় পাথর নিক্ষেপ এবং এই জাতীয় অন্যান্য নির্দিষ্ট সময়ের ইবাদতের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। অথচ তাকে কাজা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এবং রমজানে সহবাসকারী ব্যক্তির হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে তাকে কাজা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তালীকু আলা রিসালাতি হাক্বীক্বাতিত সিয়াম ওয়া কিতাবিস সিয়াম মিনাল ফুরুই ওয়া মাসায়িলা মুখতারাতিম মিনহু
(পৃষ্ঠা: ৯)
قيل: هذا إنما أمره بالقضاء لأن الإنسان إنما يتقيأ لعذر، كالمريض يتداوى بالقيء، أو يتقيأ لأنه أكل ما فيه شبهة، كما تقيأ أبو بكر من كسب المتكهن (1) ، وإذا كان المتقيئ معذورا كان ما فعله جائزا، وصار من جملة المرضى الذين يقضون، ولم يكن من أهل الكبائر (2) الذين أفطروا بغير عذر.
--------------------------------------------
বলা হয়েছে: তাঁকে এটি কাজা (قضاء) করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কারণ মানুষ মূলত কোনো ওজরের (عذر) কারণেই বমি করে থাকে, যেমন কোনো অসুস্থ ব্যক্তি বমি করার মাধ্যমে চিকিৎসা গ্রহণ করে, অথবা বমি করে কারণ সে সন্দেহযুক্ত কিছু ভক্ষণ করেছে, যেমন আবু বকর (রা.) গণকের উপার্জিত খাদ্য খেয়ে বমি করেছিলেন। আর যখন বমি কারী ব্যক্তি ওজর সম্পন্ন (معذور) হয়, তখন তার কাজটি বৈধ (جائز) বলে গণ্য হয় এবং সে সেই সকল অসুস্থ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায় যারা কাজা (قضاء) আদায় করে। সে সেই সব কবিরা গুনাহকারী (أهل الكبائر) দের অন্তর্ভুক্ত নয় যারা কোনো ওজর (عذر) ব্যতীত রোজা ভঙ্গ করেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তালীকু আলা রিসালাতি হাক্বীক্বাতিত সিয়াম ওয়া কিতাবিস সিয়াম মিনাল ফুরুই ওয়া মাসায়িলা মুখতারাতিম মিনহু
(পৃষ্ঠা: ১০)
وأما أمره للمجامع بالقضاء فضعيف، ضعفه غير واحد من الحفاظ، وقد ثبت هذا الحديث من غير وجه في «الصحيحين» من حديث أبي هريرة، ومن حديث عائشة، ولم يذكر أحد أمره بالقضاء، ولو كان أمره بذلك لما أهمله هؤلاء كلهم وهو حكم شرعي يجب بيانه، ولما لم يأمره به، دل على أن القضاء لم يبق مقبولا منه، وهذا يدل على أنه كان متعمداً للفطر، لم يكن ناسياً ولا جاهلا (1) .
والمجامع الناسي فيه ثلاثة أقوال في مذهب أحمد وغيره، ويذكر ثلاث روايات عنه: إحداها: لا قضاء عليه ولا كفارة، وهو قول الشافعي وأبي حنيفة، والأكثرين.
والثانية: عليه القضاء بلا كفارة، وهو قول مالك.
والثالثة: عليه الأمران، وهو المشهور عن أحمد.
--------------------------------------------
আর সহবাসকারীকে কাজা আদায় করার নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি দুর্বল (ضعيف); একাধিক হাফেজ একে দুর্বল (ضعيف) বলে অভিহিত করেছেন। আবু হুরায়রা ও আয়েশা (রা.)-এর বর্ণিত হাদিস হিসেবে এটি একাধিক সূত্রে সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম-এ বর্ণিত হয়েছে, অথচ তাদের কেউ নবী (সা.)-এর পক্ষ থেকে কাজা করার নির্দেশের কথা উল্লেখ করেননি। যদি তিনি এই নির্দেশ দিতেন, তবে তারা সকলেই তা উপেক্ষা করতেন না, অথচ এটি একটি শারয়ি বিধান যা স্পষ্ট করা ওয়াজিব ছিল। আর যেহেতু তিনি তাকে এর নির্দেশ দেননি, এটি প্রমাণ করে যে তার পক্ষ থেকে কাজা আর গ্রহণযোগ্য ছিল না। এটি আরও নির্দেশ করে যে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ভেঙেছিলেন, তিনি বিস্মৃত বা অজ্ঞ ছিলেন না।
আর বিস্মৃত অবস্থায় সহবাসকারীর ব্যাপারে ইমাম আহমাদ ও অন্যদের মাজহাবে তিনটি অভিমত রয়েছে এবং তাঁর থেকে তিনটি বর্ণনা উল্লেখ করা হয়: প্রথমত: তার ওপর কোনো কাজা নেই এবং কাফফারাও নেই। এটি ইমাম শাফেয়ী, ইমাম আবু হানিফা এবং অধিকাংশের অভিমত।
দ্বিতীয়ত: তার ওপর কাফফারা ছাড়াই কাজা আবশ্যক। এটি ইমাম মালেকের অভিমত।
তৃতীয়ত: তার ওপর উভয়টি (কাজা ও কাফফারা) আবশ্যক। এটি ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত প্রসিদ্ধ মত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তালীকু আলা রিসালাতি হাক্বীক্বাতিত সিয়াম ওয়া কিতাবিস সিয়াম মিনাল ফুরুই ওয়া মাসায়িলা মুখতারাতিম মিনহু
(পৃষ্ঠা: ১১)
والأول أظهر كما قد بسط في موضعه، فإنه قد ثبت بدلالة الكتاب والسنة أن من فعل محظوراً مخطئاً أو ناسياً لم يؤاخذه الله بذلك، وحينئذ يكون بمنزلة من لم يفعله، فلا يكون عليه إثم (1) ،، ومن لا إثم عليه، لم يكن عاصيا، ولا مرتكبا لما نهي عنه، وحينئذ فيكون قد فعل ما أمر به، ولم يفعل ما نهي عنه، ومثل هذا لا يبطل عبادته، إنما يبطل العبادات إذا لم يفعل ما أمر به، أو فعل ما حظر عليه.
--------------------------------------------
প্রথম মতটিই অধিকতর স্পষ্ট, যেমনটি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট স্থানে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। কেননা কিতাব ও সুন্নাহর দলিলাদি দ্বারা এটি প্রমাণিত যে, কেউ যদি ভুলবশত (مخطئ) অথবা বিস্মৃতিবশত (ناسي) কোনো নিষিদ্ধ কর্ম (محظور) করে ফেলে, তবে আল্লাহ তার জন্য তাকে পাকড়াও (مؤاخذة) করবেন না। এমতাবস্থায় সে ওই ব্যক্তির সমতুল্য হবে যে তা করেনি; ফলে তার ওপর কোনো গুনাহ (إثم) থাকবে না। আর যার ওপর কোনো গুনাহ নেই, সে অবাধ্য (عاصي) নয় এবং যা থেকে নিষেধ করা হয়েছে তাতে লিপ্তকারীও নয়। এমতাবস্থায় সে যা আদিষ্ট হয়েছিল তা পালন করেছে এবং যা থেকে নিষেধ করা হয়েছিল তা করেনি। এই জাতীয় বিষয় তার ইবাদতকে (عبادة) বাতিল করে না। ইবাদত (عبادة) কেবল তখনই বাতিল হয় যখন কেউ আদিষ্ট বিষয় পালন করে না অথবা নিষিদ্ধ কর্ম (محظور) সম্পাদন করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তালীকু আলা রিসালাতি হাক্বীক্বাতিত সিয়াম ওয়া কিতাবিস সিয়াম মিনাল ফুরুই ওয়া মাসায়িলা মুখতারাতিম মিনহু
(পৃষ্ঠা: ১২)
وطرد هذا أن الحج لا يبطل بفعل شيء من المحظورات، لا ناسياً، ولا مخطئاً، لا الجماعِ ولا غيرِه، وهو أظهر قولي الشافعي.
وأما الكفارة والفدية فتلك وجبت؛ لأنها بدل المتلف من جنس ما يجب ضمان المتلف بمثله، كما لو أتلفه صبي، أو مجنون، أو نائم ضمنه بذلك، وجزاء الصيد إذا وجب على الناسي والمخطئ فهو من هذا الباب، بمنزلة دية المقتول خطأ، والكفارة الواجبة بقتله خطأ بنص القرآن (1) وإجماع المسلمين.
--------------------------------------------
এর যুক্তিগত ধারাবাহিকতা হলো এই যে, ভুলে (ناسياً) বা ভুলবশত (مخطئاً) নিষিদ্ধ বিষয়সমূহের (محظورات) কোনোটি লিপ্ত হওয়ার মাধ্যমে হজ্জ বাতিল হবে না, চাই তা সহবাস হোক বা অন্য কিছু। এটি ইমাম শাফেঈ-এর দুটি মতের মধ্যে অধিকতর স্পষ্ট মত।
আর কাফফারা (كفارة) ও ফিদিয়া (فدية) ওয়াজিব হওয়ার কারণ হলো—তা বিনষ্টকৃত বস্তুর স্থলাভিষিক্ত, যা বিনষ্টের বিনিময়ে ক্ষতিপূরণ (ضمان) ওয়াজিব হওয়ার অন্তর্ভুক্ত; যেমন কোনো শিশু, পাগল বা ঘুমন্ত ব্যক্তি কোনো কিছু বিনষ্ট করলে তার ক্ষতিপূরণ (ضمان) দিতে হয়। আর শিকারের জরিমানা (جزاء الصيد) যদি বিস্মৃত ব্যক্তি (ناسي) ও ভুলকারীর (مخطئ) ওপর ওয়াজিব হয়, তবে তা এই অধ্যায়ভুক্ত এবং তা ভুলবশত (خطأ) নিহত ব্যক্তির রক্তপণ (دية) এবং কুরআনের অকাট্য বর্ণনা ও মুসলিমদের ঐক্যমতের (إجماع) ভিত্তিতে ভুলবশত হত্যার কারণে ওয়াজিব হওয়া কাফফারার (كفارة) সমপর্যায়ভুক্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তালীকু আলা রিসালাতি হাক্বীক্বাতিত সিয়াম ওয়া কিতাবিস সিয়াম মিনাল ফুরুই ওয়া মাসায়িলা মুখতারাতিম মিনহু
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وأما سائر المحظورات فليست من هذا الباب، وتقليم الأظفار، وقص الشارب، والترفه المنافي للتفث، كالطيب واللباس، ولهذا كانت فديتها من جنس فدية المحظورات، ليست بمنزلة الصيد المضمون بالبدل (1) .
فأظهر الأقوال في الناسي والمخطئ إذا فعل محظورا أن لا يضمن من ذلك إلا الصيد.
وللناس فيه أقوال:
هذا أحدها، وهو قول أهل الظاهر.
والثاني: يضمن الجميع مع النسيان، كقول أبي حنيفة وإحدى الروايتين عن أحمد، واختاره القاضي وأصحابه.
والثالث: يفرق بين ما فيه إتلاف كقتل الصيد والحلق والتقليم، وما ليس فيه إتلاف كالطيب واللباس، وهذا قول الشافعي وأحمد في الرواية الثانية، واختارها طائفة من أصحابه، وهذا القول أجود من غيره؛ لكن إزالة الشعر والظفر ملحق باللباس والطيب، لا بقتل الصيد، هذا أجود.
والرابع: أن قتل الصيد خطأ لا يضمنه، وهو رواية عن أحمد، فخرجوا عليه الشعر والظفر بطريق الأولى.
وكذلك طرد هذا أن الصائم إذا أكل أو شرب أو جامع ناسيا أو مخطئا فلا قضاء عليه، وهو قول طائفة من السلف والخلف.
ومنهم من يفطر الناسي والمخطئ كمالك.
وقال أبو حنيفة: هذا هو القياس، لكن خالفه لحديث أبي هريرة في الناسي.
ومنهم من قال: لا يُفْطِر الناسي، ويُفْطِر المخطئ، وهو قول أبي حنيفة والشافعي وأحمد، فأبو حنيفة جعل الناسي موضع استحسان، وأما أصحاب الشافعي وأحمد فقالوا: النسيان لا يفطر؛ لأنه لا يمكن الاحتراز منه، بخلاف الخطأ فإنه يمكنه أن لا يفطر حتى يتيقن غروب الشمس، وأن يمسك إذا شك في طلوع الفجر.
--------------------------------------------
আর অন্যান্য নিষিদ্ধ কার্যাবলি (المحظورات) এই অধ্যায়ভুক্ত নয়; যেমন নখ কাটা, গোঁফ ছাঁটা এবং পারিপাট্যহীনতার পরিপন্থী বিলাসিতা, যেমন সুগন্ধি ব্যবহার ও পোশাক পরিধান। এই কারণেই এগুলোর বিনিময় (فدية) অন্যান্য নিষিদ্ধ কার্যাবলির বিনিময়ের সমজাতীয়, যা প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে নিশ্চিতকৃত শিকারের (الصيد) পর্যায়ের নয় (1) ।
সুতরাং বিস্মরণকারী (الناسي) এবং ভুলকারী (المخطئ) ব্যক্তি যদি কোনো নিষিদ্ধ কাজ করে ফেলে, তবে শিকার (الصيد) ব্যতীত অন্য কোনো ক্ষেত্রে তার ওপর জরিমানা ওয়াজিব না হওয়া সম্পর্কিত মতটিই অধিকতর স্পষ্ট।
এ বিষয়ে আলেমদের একাধিক অভিমত রয়েছে:
এটি তাদের মধ্যে একটি, যা আহলে জাহেরের মত।
দ্বিতীয় মত: বিস্মরণ (النسيان) ঘটলেও সর্বাবস্থায় জরিমানা ওয়াজিব হবে, যেমনটি আবু হানিফার মত এবং আহমাদ থেকে বর্ণিত দুটি বর্ণনার (الروايتين) একটি; আর এটিই কাজী এবং তাঁর অনুসারীরা পছন্দ করেছেন।
তৃতীয় মত: যাতে বিনাশ (إتلاف) রয়েছে—যেমন শিকার করা, মুণ্ডন করা ও নখ কাটা—এবং যাতে বিনাশ নেই—যেমন সুগন্ধি ও পোশাক—এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য করা। এটি শাফেঈ ও আহমাদের দ্বিতীয় বর্ণনা (الرواية الثانية) এবং তাঁর অনুসারীদের একটি দল এটি গ্রহণ করেছেন। এই মতটি অন্যগুলোর চেয়ে উত্তম; তবে চুল বা নখ দূর করা সুগন্ধি ও পোশাকের পর্যায়ভুক্ত, শিকার করার মতো নয়—এটিই অধিকতর উত্তম।
চতুর্থ মত: ভুলবশত (خطأ) শিকার করলে জরিমানা ওয়াজিব হয় না; এটি আহমাদ থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা। ফলে এর ওপর ভিত্তি করে তারা চুল ও নখ কাটার বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে (بطريق الأولى) সমাধান করেছেন।
অনুরূপভাবে এই নিয়মের অনুসারী হলো—একজন রোজাদার যদি বিস্মরণবশত (ناسيًا) বা ভুলবশত (مخطئًا) পানাহার করে বা সহবাস করে, তবে তার ওপর কোনো কাজা (قضاء) নেই। এটি সালাফ ও খালাফদের একটি দলের অভিমত।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ বিস্মরণকারী ও ভুলকারীকে রোজার পরিপন্থী বলে গণ্য করেন, যেমন মালিক।
আবু হানিফা বলেন: এটিই হলো কিয়াস (القياس), কিন্তু তিনি বিস্মরণকারীর ক্ষেত্রে আবু হুরায়রা বর্ণিত হাদিসের কারণে এর বিরোধিতা করেছেন।
আবার কেউ কেউ বলেন: বিস্মরণকারী রোজা ভঙ্গ করবে না, তবে ভুলকারী ভঙ্গ করবে; এটি আবু হানিফা, শাফেঈ ও আহমাদের মত। এক্ষেত্রে আবু হানিফা বিস্মরণকারীর বিষয়টিকে ইসতিহসান (استحسان) হিসেবে গণ্য করেছেন। আর শাফেঈ ও আহমাদের অনুসারীরা বলেছেন: বিস্মরণ (النسيان) রোজা ভঙ্গ করে না, কারণ তা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়; ভুল করার (الخطأ) বিষয়টি এর বিপরীত, কারণ সূর্যাস্ত নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রোজা না ভাঙা এবং ফজর উদয় সম্পর্কে সন্দেহ থাকলে বিরত থাকা তার পক্ষে সম্ভব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তালীকু আলা রিসালাতি হাক্বীক্বাতিত সিয়াম ওয়া কিতাবিস সিয়াম মিনাল ফুরুই ওয়া মাসায়িলা মুখতারাতিম মিনহু
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وهذا التفريق ضعيف، والأمر بالعكس، فإن السنة للصائم أن يعجل الفطر ويؤخر السحور، ومع الغيم المطبق لا يمكن اليقين الذي لا يقبل الشك إلا بعد أن يذهب وقت طويل جداً يُفَوِّت المغرب، ويفوت معه تعجيل الفطور، والمصلي مأمور بصلاة المغرب وتعجيلها، فإذا غلب على ظنه غروب الشمس أمر (1) بتأخير المغرب إلى حد اليقين، فربما يؤخرها حتى يغيب الشفق وهو لا يستيقن غروب الشمس، وقد جاء عن إبراهيم النخعي وغيره من السلف - وهو مذهب أبي حنيفة - أنهم كانوا يستحبون في الغيم تأخير المغرب وتعجيل العشاء، وتأخير الظهر وتقديم العصر، وقد نص على ذلك أحمد وغيره، وقد علل ذلك بعض أصحابه بالاحتياط لدخول الوقت، وليس كذلك؛ فإن هذا خلاف الاحتياط في وقت العصر والعشاء، وإنما سُنَّ ذلك لأن هاتين الصلاتين يجمع بينهما للعذر، وحال الغيم حال عذر، فأخرت الأولى من صلاتي الجمع، وقدمت الثانية لمصلحتين:
إحداهما: التخفيف عن الناس حتى يصلوها مرة واحدة؛ لأجل خوف المطر، كالجمع بينهما مع المطر.
والثانية: أن يتيقن دخول وقت المغرب، وكذلك يجمع بين الظهر والعصر على أظهر القولين، وهو إحدى الروايتين عن أحمد، ويجمع بينهما للوحل الشديد والريح الشديدة الباردة ونحو ذلك في أظهر قولي العلماء، وهو قول مالك، وأظهر القولين في مذهب أحمد.
الثاني: أن الخطأ في تقديم العصر والعشاء أولى من الخطأ في تقديم الظهر والمغرب، فإن فعل هاتين قبل الوقت لا يجوز بحال، بخلاف تينك فإنه يجوز فعلهما في وقت الظهر والمغرب؛ لأن ذلك وقت لهما حال العذر، وحالُ الاشتباه حالُ عذرٍ، فكان الجمع بين الصلاتين مع الاشتباه أولى من الصلاة مع الشك.
--------------------------------------------
এবং এই বিভাজনটি দুর্বল (ضعيف), বরং বিষয়টি এর বিপরীত। কেননা রোযাদারের জন্য সুন্নাহ হলো দ্রুত ইফতার করা এবং সাহরি বিলম্ব করা। আর আকাশ যখন ঘন মেঘে ঢাকা থাকে, তখন দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়া ছাড়া এমন নিশ্চিত বিশ্বাস (يقين) অর্জন করা সম্ভব নয় যা সন্দেহাতীত হয়; আর এই দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার ফলে মাগরিবের ওয়াক্ত এবং সেই সাথে দ্রুত ইফতারের সুন্নাহও হাতছাড়া হয়ে যায়। অথচ মুসল্লি মাগরিবের সালাত আদায় এবং তা দ্রুত করার জন্য আদিষ্ট। সুতরাং যদি তার প্রবল ধারণা হয় যে সূর্য ডুবে গেছে, তখন তাকে (১) নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত মাগরিব বিলম্ব করার নির্দেশ দেওয়া হয়। ফলে সম্ভবত তিনি তা এতটা বিলম্ব করবেন যে লালিমা (শফক) অদৃশ্য হয়ে যাবে অথচ তিনি সূর্যাস্ত সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারবেন না। ইব্রাহিম নাখয়ি এবং অন্যান্য সালাফ থেকে বর্ণিত হয়েছে—যা ইমাম আবু হানিফারও মাযহাব—যে তাঁরা মেঘলা দিনে মাগরিব বিলম্ব করা ও এশা দ্রুত পড়া, এবং যোহর বিলম্ব করা ও আসর দ্রুত পড়াকে মুস্তাহাব মনে করতেন। ইমাম আহমাদ ও অন্যান্যরা এটি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর অনুসারীদের কেউ কেউ এর কারণ হিসেবে ওয়াক্ত প্রবেশের ব্যাপারে সতর্কতাকে উল্লেখ করেছেন, অথচ বিষয়টি তেমন নয়; কেননা এটি আসর ও এশার ওয়াক্তের ক্ষেত্রে সতর্কতার পরিপন্থী। মূলত এটি সুন্নাত হওয়ার কারণ হলো এই যে, ওজরের কারণে এই দুই সালাতকে একত্রিত করা (جمع) হয়। আর মেঘলা আবহাওয়া হলো ওজরের অবস্থা। তাই একত্রিত করা (جمع) হবে এমন দুই সালাতের প্রথমটিকে বিলম্ব করা হয়েছে এবং দ্বিতীয়টিকে এগিয়ে আনা হয়েছে দুটি কল্যাণের কারণে:
প্রথমটি: মানুষের কষ্ট লাঘব করা যাতে তারা বৃষ্টির আশঙ্কায় একবারেই সালাত আদায় করতে পারে, যেমনটি বৃষ্টির কারণে সালাত একত্রিত করার (جمع) ক্ষেত্রে করা হয়।
দ্বিতীয়টি: মাগরিবের ওয়াক্ত প্রবেশের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া। একইভাবে যোহর ও আসরও একত্রিত করা (جمع) যাবে আলেমদের দুটি মতের মধ্যে অধিক বিশুদ্ধ (أظهر) মত অনুযায়ী, যা ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত দুটি বর্ণনার একটি। আলেমদের অধিক বিশুদ্ধ (أظهر) মত অনুযায়ী তীব্র কাদা-পানি এবং তীব্র কনকনে শীতের বাতাসের কারণেও দুই সালাত একত্রিত করা (جمع) যাবে; এটি ইমাম মালিকের মত এবং ইমাম আহমাদের মাযহাবের অধিক বিশুদ্ধ (أظهر) মত।
দ্বিতীয় (কারণ): আসর ও এশা ওয়াক্তের আগে পড়ে ফেলার ভুলটি যোহর ও মাগরিব আগে পড়ে ফেলার ভুলের চেয়ে শ্রেয়। কারণ শেষোক্ত দুটি সালাত ওয়াক্তের আগে আদায় করা কোনো অবস্থাতেই জায়েয নয়; পক্ষান্তরে প্রথমোক্ত দুটি সালাত যোহর ও মাগরিবের ওয়াক্তে আদায় করা জায়েয, কারণ ওজরের সময় সেটিই এগুলোর জন্য ওয়াক্ত হিসেবে গণ্য হয়। আর বিষয়টি অস্পষ্ট থাকা একটি ওজর। সুতরাং সন্দেহের সাথে সালাত আদায়ের চেয়ে অস্পষ্টতার অবস্থায় দুই সালাত একত্রিত করা (جمع) উত্তম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তালীকু আলা রিসালাতি হাক্বীক্বাতিত সিয়াম ওয়া কিতাবিস সিয়াম মিনাল ফুরুই ওয়া মাসায়িলা মুখতারাতিম মিনহু
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وهذا فيه ما ذكره أصحاب المأخذ الأول من الاحتياط؛ لكنه احتياط مع تيقن الصلاة في الوقت المشترك، ألا ترى أن الفجر لم يذكروا فيها هذا الاستحباب، ولا في العشاء والعصر؟ ولو كان لعلم خوف الصلاة قبل الوقت لطرد هذا في الفجر، ثم يطرد في العصر والعشاء.
وقد جاء الحديث عن النبي صلى الله عليه وسلم بالتبكير بالعصر في يوم الغيم، فقال: «بكروا بالصلاة في يوم الغيم، فإنه من ترك صلاة العصر فقد حبط عمله» .
فإن قيل: فإذا كان يستحب أن يؤخر المغرب مع الغيم فكذلك يؤخر الفطور.
قيل: إنما يستحب تأخيرها مع تقديم العشاء، بحيث يصليهما قبل مغيب الشفق، فأما تأخيرها إلى أن يخاف مغيب الشفق فلا يستحب، ولا يستحب تأخير الفُطور إلى هذه الغاية، ولهذا كان الجمع المشروع مع المطر هو جمع التقديم في وقت المغرب، ولا يستحب أن يؤخر بالناس المغرب إلى مغيب الشفق، بل هذا حرج عظيم على الناس، وإنما شرع الجمع لئلا يحرج المسلمون.
এর মধ্যে প্রথম দৃষ্টিভঙ্গির প্রবক্তারা সতর্কতার (احتياط) যে বিষয়টি উল্লেখ করেছেন তা বিদ্যমান; তবে এটি এমন সতর্কতা (احتياط) যা যৌথ ওয়াক্তে সালাত আদায়ের দৃঢ় নিশ্চয়তার সাথে সংশ্লিষ্ট। আপনি কি লক্ষ্য করেননি যে, তাঁরা ফজর সালাতের ক্ষেত্রে এই পছন্দনীয় (استحباب) হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেননি এবং এশা ও আসরের ক্ষেত্রেও নয়? যদি ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগে সালাত আদায়ের আশঙ্কার কারণে এটি হতো, তবে ফজরের ক্ষেত্রেও এই নিয়মটি প্রযোজ্য হতো এবং পরবর্তীতে আসর ও এশার ক্ষেত্রেও তা অনুসৃত হতো।
মেঘলা দিনে আসরের সালাত দ্রুত আদায় করার ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদিস বর্ণিত হয়েছে; তিনি বলেছেন: "তোমরা মেঘলা দিনে সালাত দ্রুত আদায় করো, কারণ যে ব্যক্তি আসরের সালাত ত্যাগ করল, তার আমল বিনষ্ট হয়ে গেল।"
যদি প্রশ্ন করা হয়: মেঘলা দিনে যদি মাগরিব বিলম্বিত করা পছন্দনীয় (استحباب) হয়, তবে ইফতারও কি একইভাবে বিলম্বিত করা হবে?
উত্তরে বলা হবে: মাগরিবকে বিলম্বিত করা এবং এশাকে এগিয়ে এনে একত্রে আদায়ের (جمع) বিষয়টি তখনই পছন্দনীয় (استحباب) হয়, যখন গোধূলি রেখা (شفق) অদৃশ্য হওয়ার পূর্বেই উভয় সালাত আদায় করা যায়। কিন্তু গোধূলি রেখা (شفق) অদৃশ্য হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়া পর্যন্ত সালাত বিলম্বিত করা পছন্দনীয় (استحباب) নয় এবং ইফতারকেও এই সীমা পর্যন্ত বিলম্বিত করা পছন্দনীয় (استحباب) নয়। একারণেই বৃষ্টির সময় শরয়ি বিধান অনুযায়ী যে একত্রে আদায় (جمع) করার পদ্ধতি রয়েছে, তা হলো মাগরিবের ওয়াক্তে অগ্রিম একত্রে আদায় (جمع التقديم) করা। মানুষের জন্য মাগরিবকে গোধূলি রেখা (شفق) অদৃশ্য হওয়া পর্যন্ত বিলম্বিত করা পছন্দনীয় (استحباب) নয়, বরং এটি মানুষের জন্য চরম কষ্টদায়ক। আর মূলত একত্রে সালাত আদায়ের (جمع) বিধান এজন্যই প্রবর্তিত হয়েছে যাতে মুসলমানদের সংকটে পড়তে না হয়।
(খণ্ড: ১)
আত তালীকু আলা রিসালাতি হাক্বীক্বাতিত সিয়াম ওয়া কিতাবিস সিয়াম মিনাল ফুরুই ওয়া মাসায়িলা মুখতারাতিম মিনহু
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وأيضاً فليس التأخير والتقديم المستحب أن يفعلهما مقترنتين؛ بل أن يؤخر الظهر ويقدم العصر ولو كان بينهما فصل في الزمان، وكذلك في المغرب والعشاء بحيث يصلون الواحدة وينتظرون الأخرى، لا يحتاجون إلى ذهاب إلى البيوت ثم رجوع، وكذلك جواز الجمع لا يشترط له الموالاة في أصح القولين، كما قد ذكرناه في غير هذا الموضع (1) .
وأيضاً فقد ثبت في «صحيح البخاري» عن أسماء بنت أبي بكر قالت: أفطرنا يوما من رمضان في غيم على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم، ثم طلعت الشمس.
--------------------------------------------
আরও কথা হলো, মুস্তাহাব (পছন্দনীয়) বিলম্বকরণ এবং অগ্রিম আদায় করা এমন নয় যে, উভয়কে একদম মিলিতভাবে করতে হবে; বরং যোহরকে বিলম্বিত করা এবং আসরকে এগিয়ে আনা মুস্তাহাব, যদিও তাদের মধ্যে সময়ের ব্যবধান থাকে। একইভাবে মাগরিব ও এশার ক্ষেত্রেও, যাতে তারা একটি সালাত আদায় করার পর অন্যটির জন্য অপেক্ষা করতে পারে এবং তাদের বাড়িতে গিয়ে পুনরায় ফিরে আসার প্রয়োজন না হয়। তেমনিভাবে দুই সালাত একত্রে আদায় (جمع) বৈধ হওয়ার জন্য দুটি সালাতের মধ্যে পারম্পর্য (موالاة) রক্ষা করা শর্ত নয়—দুটি মতের মধ্যে অধিকতর বিশুদ্ধ (أصح) মত অনুযায়ী, যেমনটি আমরা অন্য স্থানে উল্লেখ করেছি (১) .
তাছাড়া সাহিহ বুখারিতে আসমা বিনতে আবু বকর (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে এক মেঘলা দিনে আমরা রমজান মাসে ইফতার করেছিলাম, তারপর সূর্য উদিত হলো।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তালীকু আলা রিসালাতি হাক্বীক্বাতিত সিয়াম ওয়া কিতাবিস সিয়াম মিনাল ফুরুই ওয়া মাসায়িলা মুখতারাতিম মিনহু
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وهذا يدل على شيئين: على أنه لا يستحب مع الغيم التأخير إلى أن يتيقن الغروب؛ فإنهم لم يفعلوا ذلك ولم يأمرهم به النبي صلى الله عليه وسلم، والصحابة مع نبيهم أعلم وأطوع لله ولرسوله ممن جاء بعدهم؛ والثاني: أنه لا يجب القضاء، فإن النبي صلى الله عليه وسلم لو أمرهم بالقضاء لشاع ذلك، كما نقل فطرهم، فلما لم ينقل ذلك دل على أنه لم يأمرهم به (1) .
فإن قيل: فقد قيل لهشام بن عروة: أمروا بالقضاء؟ قال: أو بد من القضاء؟
--------------------------------------------
এটি দুটি বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করে: প্রথমত, মেঘলা দিনে সূর্যাস্ত নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ইফতার বিলম্বিত করা মুস্তাহাব নয়; কেননা সাহাবীগণ তা করেননি এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও তাদের এমন নির্দেশ দেননি। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সান্নিধ্যে থাকা সাহাবীগণ তাদের পরবর্তী প্রজন্মের তুলনায় আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি অধিক জ্ঞানী এবং অনুগত ছিলেন। দ্বিতীয়ত: কাজা করা ওয়াজিব নয়; কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি তাদের কাজা করার নির্দেশ দিতেন, তবে তাদের ইফতারের বিষয়টি যেভাবে বর্ণিত হয়েছে, এই নির্দেশটিও ঠিক সেভাবেই প্রসিদ্ধি লাভ করত। যেহেতু তা বর্ণিত হয়নি, সেহেতু এটিই প্রমাণ করে যে তিনি তাদের এর নির্দেশ দেননি (১)।
যদি বলা হয়: হিশাম ইবনে উরওয়াহকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, "তাদের কি কাজা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল?" তিনি উত্তরে বললেন, "কাজা করা ছাড়া কি কোনো গত্যন্তর আছে?"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তালীকু আলা রিসালাতি হাক্বীক্বাতিত সিয়াম ওয়া কিতাবিস সিয়াম মিনাল ফুরুই ওয়া মাসায়িলা মুখতারাতিম মিনহু
(পৃষ্ঠা: ১৮)
قيل: هشام قال ذلك برأيه، لم يرو ذلك في الحديث، ويدل على أنه لم يكن عنده بذلك علم: أن معمرا روى عنه قال: سمعت هشاما قال: لا أدري أقضوا أم لا؟ ذكر هذا وهذا عنه البخاري، والحديث رواه عن أمه فاطمة بنت المنذر عن أسماء (1) .
--------------------------------------------
বলা হয়েছে: হিশাম এটি নিজের মত (رأي) অনুযায়ী বলেছেন, তিনি হাদিসে এটি বর্ণনা (رواية) করেননি। এটি যে তার এ বিষয়ে জ্ঞান না থাকার প্রমাণ তা হলো: মা'মার তার থেকে বর্ণনা (رواية) করেছেন যে তিনি বলেছেন: আমি হিশামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: "আমি জানি না তারা কাজা (قضاء) আদায় করেছিলেন কি না?" বুখারি তার থেকে এ উভয় বক্তব্যই উল্লেখ করেছেন। আর হাদিসটি তিনি তার মা ফাতিমা বিনতে মুনযির থেকে, তিনি আসমা (রা.) থেকে বর্ণনা (رواية) করেছেন (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তালীকু আলা রিসালাতি হাক্বীক্বাতিত সিয়াম ওয়া কিতাবিস সিয়াম মিনাল ফুরুই ওয়া মাসায়িলা মুখতারাতিম মিনহু
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وقد نقل هشام عن أبيه عروة أنهم لم يؤمروا بالقضاء، وعروة أعلم من ابنه (1) ، وهذا قول إسحاق بن راهويه، وهو قرين أحمد بن حنبل، ويوافقه في المذهب: أصولِه وفروعِه، وقولهما كثيرا ما يجمع بينه، والكوسج سأل مسائله لأحمد وإسحاق، وكذلك حرب الكرماني سأل مسائله لأحمد وإسحاق، وكذلك غيرهما؛ ولهذا يجمع الترمذي قول أحمد وإسحاق، فإنه روى قولهما من مسائل الكوسج، وكذلك أبو زرعة وأبو حاتم وابن قتيبة، وغير هؤلاء من أئمة السلف والسنة والحديث، كانوا يتفقهون على مذهب أحمد وإسحاق، يقدمون قولهما على أقوال غيرهما، وأئمة الحديث كالبخاري ومسلم والترمذي والنسائي وغيرهم هم أيضا من أتباعهما، وممن يأخذ العلم والفقه عنهما، وداود من أصحاب إسحاق.
وقد كان أحمد بن حنبل إذا سئل عن إسحاق يقول: أنا أسأل عن إسحاق؟! إسحاق يسأل عني (2) .
والشافعي وأحمد بن حنبل وإسحاق وأبو عبيد وأبو ثور ومحمد بن نصر المروزي وداود بن علي ونحو هؤلاء كلهم فقهاء الحديث رضي الله عنهم أجمعين.
--------------------------------------------
হিশাম তাঁর পিতা উরওয়াহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁদের কাযা করার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। আর উরওয়াহ তাঁর পুত্র অপেক্ষা অধিক জ্ঞানী (১)। এটি ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ-এর অভিমত, আর তিনি আহমাদ ইবনে হানবালের সমসাময়িক। তিনি তাঁর মাযহাবের মূলনীতি (أصول) ও শাখা (فروع) উভয় ক্ষেত্রেই তাঁর সাথে একমত পোষণ করেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাঁদের উভয়ের অভিমতকে একত্রে উল্লেখ করা হয়। কাউসাজ তাঁর মাসআলাগুলো আহমাদ ও ইসহাককে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, অনুরূপভাবে হারব আল-কিরমানিও তাঁর মাসআলাগুলো আহমাদ ও ইসহাককে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, এবং অন্যান্যরাও তেমনটি করেছিলেন। এই কারণেই তিরমিজি আহমাদ ও ইসহাকের অভিমতকে একত্রে সংকলন করেন, কেননা তিনি কাউসাজের মাসআলাসমূহ থেকে তাঁদের উভয়ের বক্তব্য বর্ণনা করেছেন। অনুরূপভাবে আবু যুরআ, আবু হাতিম, ইবনে কুতাইবা এবং সালাফ, সুন্নাহ ও হাদিসের ইমামগণের মধ্যে যারা রয়েছেন, তাঁরা আহমাদ ও ইসহাকের মাযহাব অনুযায়ী ফিকহ চর্চা করতেন। তাঁরা অন্য সবার অভিমতের চেয়ে তাঁদের উভয়ের অভিমতকে অগ্রাধিকার দিতেন। হাদিসের ইমামগণ যেমন বুখারি, মুসলিম, তিরমিজি, নাসায়ি ও অন্যান্যরাও তাঁদের অনুসারী (أتباع) ছিলেন এবং তাঁদের নিকট থেকেই ইলম ও ফিকহ গ্রহণ করতেন। দাউদ (আয-যাহিরি) ইসহাকের সাথী (أصحاب) বা শিষ্যদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
আহমাদ ইবনে হানবালকে যখন ইসহাক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হতো, তখন তিনি বলতেন: "আমাকে ইসহাক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে?! বরং ইসহাককে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা উচিত" (২)।
শাফিঈ, আহমাদ ইবনে হানবাল, ইসহাক, আবু উবাইদ, আবু সাওর, মুহাম্মাদ ইবনে নাসর আল-মারওয়াযি, দাউদ ইবনে আলী এবং তাঁদের ন্যায় ব্যক্তিবর্গ সকলেই ছিলেন হাদিসের ফকিহ (فقهاء الحديث), আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর সন্তুষ্ট হন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তালীকু আলা রিসালাতি হাক্বীক্বাতিত সিয়াম ওয়া কিতাবিস সিয়াম মিনাল ফুরুই ওয়া মাসায়িলা মুখতারাতিম মিনহু
(পৃষ্ঠা: ২০)
وأيضاً فإن الله قال في كتابه: {وكلوا واشربوا حتى يتبين لكم الخيط الأبيض من الخيط الأسود من الفجر} وهذه الآية مع الأحاديث الثابتة عن النبي صلى الله عليه وسلم تبين أنه مأمور بالأكل إلى أن يظهر الفجر، فهو مع الشك في طلوعه مأمور بالأكل، كما قد بسط في موضعه (1) .
--------------------------------------------
আরও আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে বলেছেন: {আর তোমরা পানাহার করো যতক্ষণ না ভোরের সাদা সুতা কালো সুতা থেকে তোমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়}। এই আয়াতটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সুসাব্যস্ত (ثابتة) হাদিসসমূহের সাথে এটিই স্পষ্ট করে যে, ফজর উদিত হওয়া পর্যন্ত তাকে পানাহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অতএব, ফজর উদিত হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ থাকা সত্ত্বেও তাকে পানাহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেমনটি তার নিজ স্থানে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে (১) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তালীকু আলা রিসালাতি হাক্বীক্বাতিত সিয়াম ওয়া কিতাবিস সিয়াম মিনাল ফুরুই ওয়া মাসায়িলা মুখতারাতিম মিনহু
(পৃষ্ঠা: ২১)
فصل في الكحل والحقنة وما يقطر في إحليله ومداواة المأمومة والجائفةوأما الكحل، والحقنة، وما يقطر في إحليله، ومداواة المأمومة، والجائفة، فهذه مما تنازع فيه أهل العلم: فمنهم من لم يفطر بشيء من ذلك، ومنهم من فطر بالجميع لا بالكحل، ومنهم من فطر بالجميع لا بالتقطير، ومنهم من لم (1) يفطر بالكحل، ولا بالتقطير، ويفطر بما سوى ذلك.
والأظهر أنه لا يفطر بشيء من ذلك، فإن الصيام من دين المسلمين الذي يحتاج إلى معرفته الخاص والعام، فلو كانت هذه الأمور مما حرمها الله ورسوله في الصيام ويفسد الصوم بها لكان هذا مما يجب على الرسول بيانه، ولو ذكر ذلك لعلمه الصحابة وبلغوه الأمة كما بلغوا سائر شرعه، فلما لم ينقل أحد من أهل العلم عن النبي صلى الله عليه وسلم في ذلك لا حديثا صحيحا ولا ضعيفا، ولا مسنداً ولا مرسلا، علم أنه لم يذكر شيئاً من ذلك (2) .
--------------------------------------------
সুরমা, এনিমা, মূত্রনালীতে ড্রপ প্রয়োগ এবং মা’মুমা ও জাইফা জখমের চিকিৎসা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদআর সুরমা, এনিমা, মূত্রনালীতে ড্রপ প্রয়োগ এবং মা’মুমা (মাথার গভীর জখম যা মস্তিষ্ক পর্যন্ত পৌঁছায়) ও জাইফা (শরীরের অভ্যন্তর পর্যন্ত পৌঁছানো জখম) জখমের চিকিৎসার বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে: তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেন যে, এগুলোর কোনোটি দ্বারাই রোজা ভঙ্গ হয় না। আবার তাঁদের কেউ কেউ সুরমা ছাড়া বাকি সবকিছুর মাধ্যমে রোজা ভঙ্গ হওয়ার ফতোয়া দিয়েছেন। কেউ কেউ ড্রপ দেওয়া ব্যতীত বাকি সবকিছুর মাধ্যমে রোজা ভেঙে যায় বলে মত দিয়েছেন। আবার কেউ কেউ সুরমা এবং ড্রপ দেওয়াকে রোজা ভঙ্গের কারণ মনে করেন না, তবে অন্য বিষয়গুলোর মাধ্যমে রোজা ভেঙে যায় বলে মনে করেন।
অধিকতর শক্তিশালী মত হলো, এগুলোর কোনোটির মাধ্যমেই রোজা ভঙ্গ হয় না। কারণ রোজা হলো মুসলিমদের দ্বীনের এমন একটি বিষয় যা সাধারণ এবং বিশিষ্ট—সবারই জানার প্রয়োজন হয়। যদি এই বিষয়গুলো এমন হতো যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল রোজার ক্ষেত্রে হারাম করেছেন এবং যার মাধ্যমে রোজা নষ্ট হয়ে যায়, তবে রাসূলের ওপর এটি স্পষ্ট করে বর্ণনা করা আবশ্যক ছিল। যদি তিনি তা উল্লেখ করতেন, তবে সাহাবীগণ অবশ্যই তা জানতেন এবং উম্মতের কাছে পৌঁছে দিতেন, যেমনটি তাঁরা তাঁর শরীয়তের অন্যান্য বিধান পৌঁছে দিয়েছেন। যেহেতু কোনো আলেমই এ ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোনো সহিহ (صحيح) বা দুর্বল (ضعيف) হাদিস এবং কোনো মুসনাদ (مسند) বা মুরসাল (مرسل) বর্ণনা করেননি, তাই এটি নিশ্চিতভাবে জানা যায় যে তিনি এ বিষয়ে কিছুই উল্লেখ করেননি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তালীকু আলা রিসালাতি হাক্বীক্বাতিত সিয়াম ওয়া কিতাবিস সিয়াম মিনাল ফুরুই ওয়া মাসায়িলা মুখতারাতিম মিনহু
(পৃষ্ঠা: ২২)
والحديث المروي في الكحل ضعيف رواه أبو داود في «السنن» ولم يروه غيره، ولا هو في «مسند أحمد» ولا سائر الكتب المعتمدة (1) .
قال أبو داود: حدثنا النفيلي ثنا علي بن ثابت حدثني عبد الرحمن بن النعمان ثنا معبد بن هوذة عن أبيه عن جده عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه أمر بالإثمد المُرَوَّح عند النوم، وقال: «ليتقه الصائم» .
قال أبو داود: وقال يحيى بن معين: هذا حديث منكر. قال المنذري: وعبد الرحمن قال يحيى بن معين: ضعيف، وقال أبو حاتم الرازي: هو صدوق، لكن من الذي يعرف أباه وعدالته وحفظه؟!
وكذلك حديث معبد قد عورض بحديث ضعيف، وهو ما رواه الترمذي بسنده عن أنس بن مالك قال: جاء رجل إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: اشتكيت عيني، أفأكتحل وأنا صائم؟ قال: «نعم» .
--------------------------------------------
সুরমা ব্যবহারের বিষয়ে বর্ণিত হাদিসটি দুর্বল (ضعيف)। এটি আবু দাউদ তাঁর 'সুনান'-এ বর্ণনা করেছেন এবং তিনি ছাড়া অন্য কেউ এটি বর্ণনা করেননি। এটি 'মুসনাদে আহমাদ' কিংবা অন্যান্য নির্ভরযোগ্য (معتمدة) কিতাবেও নেই।
আবু দাউদ বলেন: আমাদের নিকট নুফাইলি বর্ণনা করেছেন, তিনি আলী ইবনে সাবিত থেকে, তিনি বলেন যে আবদুর রহমান ইবনে নুমান আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি মাবাদ ইবনে হাওযা থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমানোর সময় সুগন্ধিযুক্ত ইসমদ সুরমা ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন এবং বলেছেন: "রোজাদার যেন এটি থেকে বেঁচে থাকে।"
আবু দাউদ বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে মাইন বলেছেন, এটি একটি অগ্রহণযোগ্য (منكر) হাদিস। মুনজিরি বলেন: আর আবদুর রহমান সম্পর্কে ইয়াহইয়া ইবনে মাইন বলেছেন যে তিনি দুর্বল (ضعيف)। আবু হাতিম আর-রাজি বলেন: তিনি সত্যবাদী (صدوق), তবে তাঁর পিতাকে কে চেনে এবং তাঁর ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) ও মুখস্থশক্তি (حفظ) সম্পর্কে কে জানে?!
তদ্রূপ মাবাদের হাদিসটি অপর একটি দুর্বল (ضعيف) হাদিসের মাধ্যমে বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছে, যা তিরমিজি তাঁর সনদে আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বললেন: আমি চোখে ব্যথা অনুভব করছি, আমি কি রোজা রাখা অবস্থায় সুরমা ব্যবহার করতে পারি? তিনি বললেন: "হ্যাঁ।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তালীকু আলা রিসালাতি হাক্বীক্বাতিত সিয়াম ওয়া কিতাবিস সিয়াম মিনাল ফুরুই ওয়া মাসায়িলা মুখতারাতিম মিনহু
(পৃষ্ঠা: ২৩)
قال الترمذي: ليس بالقوي، ولا يصح عن النبي صلى الله عليه وسلم في هذا الباب شيء. وفيه أبو عاتكة. قال البخاري: منكر الحديث (1) .
--------------------------------------------
তিরমিজি বলেছেন: তিনি শক্তিশালী নন (ليس بالقوي), এবং এই বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোনো কিছু বিশুদ্ধভাবে (صحيح) বর্ণিত হয়নি। এতে আবু আতিকা নামক বর্ণনাকারী রয়েছেন। বুখারি বলেছেন: তিনি প্রত্যাখ্যাত হাদিস বর্ণনাকারী (منكر الحديث) (১) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তালীকু আলা রিসালাতি হাক্বীক্বাতিত সিয়াম ওয়া কিতাবিস সিয়াম মিনাল ফুরুই ওয়া মাসায়িলা মুখতারাতিম মিনহু
(পৃষ্ঠা: ২৪)
والذين قالوا: إن هذه الأمور تفطر - كالحقنة ومداواة المأمومة والجائفة (1) - لم يكن معهم حجة عن النبي صلى الله عليه وسلم، وإنما ذكروا ذلك بما رأوه من القياس، وأقوى ما احتجوا به قوله: «وبالغ في الاستنشاق إلا أن تكون صائما» . قالوا: فدل ذلك على أن ما وصل إلى الدماغ (2)
--------------------------------------------
যারা বলেছেন: নিশ্চয়ই এই বিষয়গুলো রোজা ভঙ্গ করে—যেমন ডুশ (الحقنة), মাথায় গভীর ক্ষতের চিকিৎসা (مداواة المأمومة) এবং পেটের গভীর ক্ষতের চিকিৎসা (الجائفة) (১)—তাদের কাছে নবী (সা.)-এর পক্ষ থেকে কোনো প্রমাণ (حجة) নেই। বরং তারা তাদের দৃষ্টিতে যা অনুমানলব্ধ সাদৃশ্য (القياس) বলে মনে হয়েছে, তার ভিত্তিতেই এটি উল্লেখ করেছেন। তাদের পেশ করা সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণটি হলো তাঁর এই বাণী: «তুমি নাকে পানি দেওয়ার ক্ষেত্রে অতিরঞ্জিত করো, যদি না তুমি রোজাদার হও»। তারা বলেন: এটি প্রমাণ করে যে, যা মস্তিষ্কে (الدماغ) (২) পৌঁছায়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তালীকু আলা রিসালাতি হাক্বীক্বাতিত সিয়াম ওয়া কিতাবিস সিয়াম মিনাল ফুরুই ওয়া মাসায়িলা মুখতারাতিম মিনহু
(পৃষ্ঠা: ২৫)
يفطر الصائم إذا كان بفعله، وعلى القياس كل ما وصل إلى جوفه بفعله من حقنة وغيرها، سواء كان ذلك في موضع الطعام والغذاء أو غيره من حشو جوفه.
والذين استثنوا التقطير قالوا: التقطير لا ينزل إلى جوفه وإنما يرشح (1) رشحاً، فالداخل إلى إحليله كالداخل إلى فمه وأنفه (2) .
والذين استثنوا الكحل قالوا: العين ليست كالقبل والدبر، ولكن هي تشرب الكحل كما يشرب الجسم الدهن والماء (3) .
والذين قالوا الكحل يفطر قالوا: إنه ينفذ إلى داخله حتى يتنخمه الصائم؛ لأن في داخل العين منفذا إلى داخل الحلق (4) .
وإذا كان عمدتهم هذه الأقيسة ونحوها لم يجز إفساد الصوم بمثل هذه الأقيسة لوجوه:
--------------------------------------------
একজন রোজাদারের রোজা ভেঙে যাবে যদি তা তার নিজস্ব ক্রিয়াকলাপের মাধ্যমে হয়। আর কিয়াস (قياس) অনুযায়ী, তার নিজস্ব কর্মতৎপরতায় যা কিছু শরীরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করবে, তা ইনজেকশন (حقنة) হোক বা অন্য কিছু—চাই তা খাদ্য ও পুষ্টির স্থানে পৌঁছাক কিংবা শরীরের অন্য কোনো গহ্বরে—তা রোজা ভঙ্গ করবে।
আর যারা ড্রপ বা ফোঁটা দেওয়াকে ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য করেছেন তারা বলেন: ফোঁটা সরাসরি শরীরের অভ্যন্তরে যায় না, বরং তা কেবল চুইয়ে (১) প্রবেশ করে। সুতরাং মূত্রনালীতে যা প্রবেশ করে তা মুখ বা নাকে প্রবেশ করার মতোই (২)।
যারা সুরমাকে (كحل) ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য করেছেন তারা বলেন: চোখ লজ্জা স্থান বা মলদ্বারের মতো নয়, বরং চোখ সুরমা শুষে নেয় যেমন শরীর তেল ও পানি শুষে নেয় (৩)।
অন্যদিকে যারা বলেন সুরমা রোজা ভঙ্গ করে, তারা বলেন: এটি শরীরের ভেতরে প্রবেশ করে এমনকি রোজাদার তা কফ হিসেবেও অনুভব করতে পারে; কারণ চোখের ভেতর থেকে কণ্ঠনালীতে পৌঁছানোর পথ রয়েছে (৪)।
আর যদি তাদের মূল ভিত্তি এই কিয়াস (قياس) বা অনুরূপ যুক্তিগুলো হয়, তবে এই ধরণের কিয়াসের (قياس) ভিত্তিতে রোজা নষ্ট হওয়ার রায় দেওয়া কয়েকটি কারণে জায়েজ হবে না:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তালীকু আলা রিসালাতি হাক্বীক্বাতিত সিয়াম ওয়া কিতাবিস সিয়াম মিনাল ফুরুই ওয়া মাসায়িলা মুখতারাতিম মিনহু
(পৃষ্ঠা: ২৬)
أحدها: أن القياس وإن كان حجة إذا اعتبرت شروط صحته فقد قلنا في الأصول: إن الأحكام الشرعية كلها بينتها النصوص أيضا، وإن دل القياس الصحيح على مثل ما دل عليه النص دلالة خفية، فإذا علمنا بأن الرسول لم يحرم الشيء ولم يوجبه علمنا أنه ليس بحرام ولا واجب، وأن القياس المثبت لوجوبه وتحريمه فاسد، ونحن نعلم أنه
ليس في الكتاب والسنة ما يدل على الإفطار بهذه الأشياء التي ذكرها بعض أهل الفقه، فعلمنا أنها ليست مفطرة.
الثاني: أن الأحكام التي تحتاج الأمة إلى معرفتها لا بد أن يبينها الرسول صلى الله عليه وسلم بيانا عاما، ولا بد أن تنقلها الأمة، فإذا انتفى هذا علم أن هذا ليس من دينه، وهذا كما يعلم أنه لم يفرض صيام شهر غير رمضان، ولا حج بيت غير البيت الحرام، ولا صلاة مكتوبة غير الخمس، ولم يوجب الغسل في مباشرة المرأة بلا إنزال، ولا أوجب الوضوء من الفزع العظيم (1) ، وإن كان في مظنة خروج الخارج، ولا سن الركعتين بعد الطواف بين الصفا والمروة كما سن الركعتين بعد الطواف بالبيت (2) ، وبهذا يعلم أن المني ليس بنجس؛ لأنه لم ينقل عن أحد بإسناد يحتج به أنه أمر المسلمين بغسل أبدانهم وثيابهم من المني مع عموم البلوى بذلك، بل أمر الحائض أن تغسل قميصها من دم الحيض مع قلة الحاجة إلى ذلك، ولم يأمر المسلمين بغسل أبدانهم وثيابهم من المني.
--------------------------------------------
প্রথমত: কিয়াস যদিও একটি দলিল (حجة), যদি তার সঠিক হওয়ার শর্তসমূহ বিদ্যমান থাকে, তবুও আমরা উসুলশাস্ত্রে বলেছি যে: সমস্ত শরয়ি বিধানসমূহ নস বা মূল পাঠের মাধ্যমেও বর্ণিত হয়েছে। যদিও সঠিক (صحيح) কিয়াস নস বা মূল পাঠের ন্যায় নিগূঢ়ভাবে ইঙ্গিত প্রদান করে, তবুও যখন আমরা জানতে পারি যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো বস্তুকে হারাম করেননি এবং ওয়াজিবও করেননি, তখন আমরা বুঝতে পারি যে সেটি হারাম বা ওয়াজিব নয়। আর এর ওয়াজিব বা হারাম হওয়া প্রমাণকারী কিয়াসটি বাতিল। আমরা জানি যে, কিতাব ও সুন্নাহতে এমন কিছু নেই যা ফুকাহায়ে কেরামের উল্লিখিত ওই বস্তুগুলোর মাধ্যমে রোজা ভঙ্গের প্রমাণ দেয়; ফলে আমরা জানতে পারলাম যে সেগুলো রোজা ভঙ্গকারী নয়।
দ্বিতীয়ত: উম্মাহর জানার প্রয়োজন রয়েছে এমন বিধানসমূহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক স্পষ্টভাবে বর্ণিত হওয়া আবশ্যক এবং উম্মাহর মাধ্যমে তা বর্ণিত হওয়াও জরুরি। যখন এর অনুপস্থিতি দেখা যায়, তখন বোঝা যায় যে এটি দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত নয়। যেমন এটি জানা কথা যে, তিনি রমজান মাস ব্যতীত অন্য কোনো মাসের রোজা ফরজ করেননি, বাইতুল্লাহ ব্যতীত অন্য কোথাও হজ ফরজ করেননি এবং পাঁচ ওয়াক্ত ব্যতীত অন্য কোনো নামাজ ফরজ করেননি। তিনি বীর্যপাতহীন সঙ্গমে গোসল ওয়াজিব করেননি এবং প্রবল ভীতি (১) সঞ্চার হলে অজু ওয়াজিব করেননি যদিও তাতে অপবিত্রতা বের হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তিনি সাফা ও মারওয়ার সায়ীর পর দুই রাকাত নামাজ সুন্নত করেননি, যেমনটি তিনি বাইতুল্লাহর তাওয়াফের পর দুই রাকাত সুন্নত করেছেন (২)। এর মাধ্যমেই জানা যায় যে, বীর্য অপবিত্র নয়; কারণ সাধারণ মানুষের ব্যাপক সংশ্লিষ্টতা থাকা সত্ত্বেও এমন কোনো নির্ভরযোগ্য (يحتج به) সনদ (إسناد) দ্বারা কারও থেকে বর্ণিত হয়নি যে, তিনি মুসলমানদের তাদের শরীর ও কাপড় বীর্য থেকে ধোয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বরং তিনি ঋতুবতী নারীকে কম প্রয়োজন হওয়া সত্ত্বেও তার কামিজ থেকে ঋতুর রক্ত ধোয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, অথচ মুসলমানদের তাদের শরীর ও কাপড় বীর্য থেকে ধোয়ার নির্দেশ দেননি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তালীকু আলা রিসালাতি হাক্বীক্বাতিত সিয়াম ওয়া কিতাবিস সিয়াম মিনাল ফুরুই ওয়া মাসায়িলা মুখতারাতিম মিনহু
(পৃষ্ঠা: ২৭)
والحديث الذي يرويه بعض الفقهاء: «يغسل الثوب من البول والغائط والمني والمذي والدم» ، ليس من كلام النبي صلى الله عليه وسلم، وليس في شيء من كتب الحديث التي يعتمد عليها (1) ، ولا رواه أحد من أهل العلم بالحديث بإسناد يحتج به، وإنما روي عن عمار وعائشة من قولهما.
وغسل عائشة للمني من ثوبه وفركُها إياه لا يدل على وجوب ذلك، فإن الثياب تغسل من الوسخ والمخاط والبصاق، والوجوب إنما يكون بأمره، لاسيما ولم يأمر هو سائر المسلمين بغسل ثيابهم من ذلك، ولا نقل أنه أمر عائشة بذلك، بل أقرها على ذلك، فدل على جوازه أو حسنه واستحبابه، وأما الوجوب فلا بد له من دليل.
--------------------------------------------
কিছু ফকিহ কর্তৃক বর্ণিত হাদিসটি: «প্রস্রাব, মল, বীর্য, মজি এবং রক্ত থেকে কাপড় ধৌত করতে হবে», এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী নয় এবং এটি নির্ভরযোগ্য কোনো হাদিস গ্রন্থে বিদ্যমান নেই (১)। হাদিস শাস্ত্রের কোনো বিশেষজ্ঞ এটি এমন কোনো সনদ (إسناد) সহযোগে বর্ণনা করেননি যা দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য (يحتج به); বরং এটি কেবল আম্মার ও আয়েশা (রা.)-এর উক্তি হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।
আয়েশা (রা.) কর্তৃক কাপড় থেকে বীর্য ধৌত করা এবং তা ঘষে পরিষ্কার করা এর আবশ্যকতা (وجوب) নির্দেশ করে না; কারণ ময়লা, শ্লেষ্মা এবং থুতু পরিষ্কারের জন্যও কাপড় ধৌত করা হয়। কোনো বিষয়ের আবশ্যকতা (وجوب) কেবল তাঁর নির্দেশের মাধ্যমেই সাব্যস্ত হয়। বিশেষ করে যখন তিনি সাধারণ মুসলিমদের এই কারণে কাপড় ধৌত করার নির্দেশ দেননি এবং আয়েশা (রা.)-কেও তা করার আদেশ দিয়েছেন বলে বর্ণিত হয়নি। বরং তিনি তাঁর সেই কাজের ওপর মৌন সম্মতি দিয়েছেন, যা এর বৈধতা (جواز) অথবা এর উত্তম (حسن) ও মুস্তাহাব (استحباب) হওয়ার প্রমাণ দেয়। আর আবশ্যকতা (وجوب) প্রমাণের জন্য অবশ্যই দলিলের (دليل) প্রয়োজন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তালীকু আলা রিসালাতি হাক্বীক্বাতিত সিয়াম ওয়া কিতাবিস সিয়াম মিনাল ফুরুই ওয়া মাসায়িলা মুখতারাতিম মিনহু
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وبهذه الطرق يعلم أيضاً أنه لم يوجب الوضوء من لمس النساء، ولا من النجاسات الخارجة من غير السبيلين، فإنه لم ينقل أحد عنه بإسناد يثبت مثله أنه أمر بذلك، مع العلم بأن الناس كانوا لا يزالون يحتجمون ويتقيئون ويجرحون في الجهاد وغير ذلك، وقد قطع عرق بعض أصحابه ليخرج منه الدم وهو الفصاد، ولم ينقل عنه مسلم أنه أمر أصحابه بالتوضؤ من ذلك (1) .
وكذلك الناس لا يزال أحدهم يلمس امرأته بشهوة وبغير شهوة، ولم ينقل عنه مسلم أنه أمر الناس بالتوضؤ من ذلك، والقرآن لا يدل على ذلك؛ بل المراد بالملامسة الجماع كما بسط في موضعه (2) .
--------------------------------------------
وبهذه الطرق يعلم أيضاً أنه لم يوجب الوضوء من لمس النساء، ولا من النجاسات الخارجة من غير السبيلين، فإنه لم ينقل أحد عنه بإسناد يثبت مثله أنه أمر بذلك، مع العلم بأن الناس كانوا لا يزالون يحتجمون ويتقيئون ويجرحون في الجهاد وغير ذلك، وقد قطع عرق بعض أصحابه ليخرج منه الدم وهو الفصاد، ولم ينقل عنه مسلم أنه أمر أصحابه بالتوضؤ من ذلك (1) .
এই পদ্ধতিগুলোর মাধ্যমে আরও জানা যায় যে, তিনি (রাসূলুল্লাহ ﷺ) নারীদের স্পর্শ করার কারণে অজু ওয়াজিব করেননি, এবং দুই পথ (পায়খানা ও প্রস্রাবের রাস্তা) ব্যতীত অন্য কোনো স্থান থেকে নির্গত অপবিত্রতার কারণেও নয়। কেননা, তাঁর পক্ষ থেকে এমন কোনো সনদ (إسناد) বা যা তাঁর সমপর্যায়ের সাব্যস্ত (ثابت) তার মাধ্যমে এটি বর্ণিত হয়নি যে তিনি এর নির্দেশ দিয়েছেন। অথচ এটি জানা কথা যে, মানুষ তখন নিয়মিত হিজামা (সিঙা) করাতেন, বমি করতেন এবং জিহাদ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে আহত হতেন। এমনকি তাঁর কোনো কোনো সাহাবীর রক্ত বের করার জন্য রগ কাটা হয়েছিল—যাকে 'ফাসাদ' বলা হয়—কিন্তু কোনো বর্ণনাকারী তাঁর পক্ষ থেকে এটি বর্ণনা করেননি যে তিনি তাঁর সাহাবীদের এর কারণে অজু করার নির্দেশ দিয়েছিলেন (১)।
তদ্রূপ মানুষেরা সর্বদা তাদের স্ত্রীদের কামভাব নিয়ে অথবা কামভাব ছাড়া স্পর্শ করতেন, কিন্তু কোনো বর্ণনাকারী তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেননি যে তিনি মানুষকে এর জন্য অজু করার নির্দেশ দিয়েছেন। আর কুরআনও এর স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ বহন করে না; বরং 'মুলামাসাহ' (স্পর্শ) বলতে এখানে সহবাস বোঝানো হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট স্থানে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তালীকু আলা রিসালাতি হাক্বীক্বাতিত সিয়াম ওয়া কিতাবিস সিয়াম মিনাল ফুরুই ওয়া মাসায়িলা মুখতারাতিম মিনহু
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وأمره بالوضوء من مس الذكر إنما هو استحباب إما مطلقا وإما إذا حرك الشهوة (1) ،
--------------------------------------------
এবং লিঙ্গ স্পর্শ করার কারণে ওজু করার ব্যাপারে তাঁর নির্দেশটি মূলত মুস্তাহাব (استحباب) পর্যায়ের; চাই তা সাধারণভাবে হোক কিংবা যৌন উত্তেজনা (شهوة) সৃষ্টি হওয়ার ক্ষেত্রে হোক (১) ,
--------------------------------------------