(খণ্ড: ১)
শারহুল ওয়ারাকাত - আব্দুল কারীম আল খুদাইর
(পৃষ্ঠা: -)
شرح الورقات - عبد الكريم الخضير القسم: أصول الفقه
الكتاب: شرح الورقات في أصول الفقه
مؤلف الأصل: أبو المعالي الجويني الملقب بإمام الحرمين (ت 478هـ)
الشارح: عبد الكريم بن عبد الله بن عبد الرحمن بن حمد الخضير
دروس مفرغة من موقع الشيخ الخضير
[الكتاب مرقم آليا، رقم الجزء هو رقم الدرس - 16 درسا]
تاريخ النشر بالشاملة: 7 محرم 1432
শারহুল ওয়ারাকাত - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর বিভাগ: উসূলুল ফিকহ
গ্রন্থ: শারহুল ওয়ারাকাত ফি উসূলিল ফিকহ (উসূলুল ফিকহ শাস্ত্রের আল-ওয়ারাকাতের ব্যাখ্যা)
মূল লেখক: আবু আল-মাআলী আল-জুওয়াইনী, উপাধি: ইমামুল হারামাইন (মৃত্যু: ৪৭৮ হিজরি)
ব্যাখ্যাকারক: আব্দুল কারীম বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান বিন হামাদ আল-খুদাইর
শাইখ আল-খুদাইরের ওয়েবসাইট থেকে শ্রুতলিপি মারফত সংকলিত পাঠসমূহ
[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে; খণ্ড সংখ্যা হলো পাঠের সংখ্যা - ১৬টি পাঠ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৭ মুহাররম ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
শারহুল ওয়ারাকাত - আব্দুল কারীম আল খুদাইর
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[شرح الورقات في أصول الفقه]ـ
مؤلف الأصل: أبو المعالي الجويني الملقب بإمام الحرمين (المتوفى: 478هـ)
الشارح: عبد الكريم بن عبد الله بن عبد الرحمن بن حمد الخضير
دروس مفرغة من موقع الشيخ الخضير
[الكتاب مرقم آليا، رقم الجزء هو رقم الدرس - 16 درسا]
[উসুলুল ফিকহের কিতাব ‘আল-ওয়ারাকাত’-এর ব্যাখ্যা]
মূল লেখক: আবু আল-মাআলি আল-জুওয়াইনি, উপাধি ইমামুল হারামাইন (মৃত্যু: ৪৭৮ হিজরি)
ব্যাখ্যাকার: আব্দুল কারিম বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান বিন হামাদ আল-খুদাইর
শাইখ আল-খুদাইরের ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত অডিও পাঠের প্রতিলিপি
[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, খণ্ড সংখ্যা হলো পাঠ সংখ্যা - ১৬টি পাঠ]
(খণ্ড: ১)
শারহুল ওয়ারাকাত - আব্দুল কারীম আল খুদাইর
(পৃষ্ঠা: ১)
شرح متن الورقات في أصول الفقه (1)
مبادئ العلوم- تعريف أصول الفقه
الشيخ/ عبد الكريم الخضير
السلام عليكم ورحمة الله وبركاته.
الحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم وبارك على عبده ورسوله، نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، أما بعد: فلا يخفى ما ورد من النصوص الشرعية من كتاب الله وسنة رسوله عليه الصلاة والسلام في مدح العلم ورفع أهله الدرجات في الدنيا والآخرة، والمراد بالعلم الممدوح في النصوص الشرعية هو العلم الشرعي المورث لخشية الله عز وجل: {إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاء} [(28) سورة فاطر].
هذا هو العلم الممدوح المذكور في نصوص الوحيين، الذي يورث الخشية لله عز وجل والذي يبعث على العمل الصالح، فالعلم الذي لا يبعث على العمل في الحقيقة ليس بعلم، فالعلم هو ما أورث العمل الصالح الموصل إلى رضوان الله عز وجل هذا هو العلم الممدوح في النصوص، ومن الأمثلة على ذلك: ما جاء في سورة الزمر من قوله -جل وعلا-: {أَمَّنْ هُوَ قَانِتٌ آنَاء اللَّيْلِ سَاجِدًا وَقَائِمًا يَحْذَرُ الْآخِرَةَ وَيَرْجُو رَحْمَةَ رَبِّهِ}، بعد ذلكم قال: {قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَالَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ} [(9) سورة الزمر]، فدل على أن أهل العلم هم الذين يتقون الله سبحانه وتعالى ويخشونه ويعملون بعلمهم، أما الذي لا يعمل بما علم هذا في الحقيقة ليس من أهل العلم، وإن حصل على شيءٍ من العلوم والمعارف، لكنه ليس بعالم، ولذا جاء في الحديث -وفيه كلام طويل لأهل العلم-: ((يحمل هذا العلم من كل خلفٍ عدوله))، فالعدول هم الذين يحملون العلم الشرعي، العدول الذين يعملون بالعلم هم العلماء، هم الذين يحملون العلم، وفي هذا دليل على أن ما يحمله بعض الفساق من العلوم والمعارف لا يسمى علماً على الحقيقة.
উসুলুল ফিকহের মাতন আল-ওয়ারাকাত-এর ব্যাখ্যা (১)
ইলমের মূলনীতিসমূহ - উসুলুল ফিকহের সংজ্ঞা
শায়খ আব্দুল কারীম আল-খুদাইর
আপনাদের ওপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও তাঁর বরকত বর্ষিত হোক।
সকল প্রশংসা সৃষ্টিকুলের পালনকর্তা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও রাসূল, আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর: আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূলের (তাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) সুন্নাহ হতে অসংখ্য শারয়ী দলীল ইলমের প্রশংসা এবং দুনিয়া ও আখিরাতে ইলম অন্বেষণকারীদের মর্যাদা বৃদ্ধির বিষয়ে বর্ণিত হয়েছে, যা অস্পষ্ট নয়। শারয়ী দলীলে যে ইলমের প্রশংসা করা হয়েছে, তা হলো সেই শারয়ী ইলম যা মহান আল্লাহর ভয় সৃষ্টি করে: "নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল আলেমরাই তাঁকে ভয় করে।" [সূরা ফাতির: ২৮]।
ওহীর দুই উৎস (কুরআন ও সুন্নাহ)-এর দলীলাদিতে বর্ণিত প্রশংসিত ইলম এটাই, যা মহান আল্লাহর প্রতি ভয় সৃষ্টি করে এবং সৎকর্মের দিকে ধাবিত করে। প্রকৃতপক্ষে যে ইলম আমলের দিকে ধাবিত করে না, তা ইলম নয়। ইলম হলো তাই যা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনকারী নেক আমলের পথপ্রদর্শক হয়; শারয়ী দলীলে এই ইলমেরই প্রশংসা করা হয়েছে। এর উদাহরণ হিসেবে সূরা আজ-জুমারে মহান আল্লাহর এই বাণী উল্লেখ্য: "যে ব্যক্তি রাতের প্রহরে সিজদাবনত হয়ে ও দাঁড়িয়ে ইবাদত করে, আখিরাতকে ভয় করে এবং তার রবের রহমত আশা করে (সে কি তার সমান যে তা করে না)?" এর পর তিনি বলেছেন: "বলুন, যারা জানে এবং যারা জানে না তারা কি সমান হতে পারে?" [সূরা আজ-জুমার: ৯]। এটি প্রমাণ করে যে, প্রকৃত আলেম তারাই যারা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাকে ভয় করেন, তাঁকে সমীহ করেন এবং তাদের অর্জিত জ্ঞান অনুযায়ী আমল করেন। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি তার জানা অনুযায়ী আমল করে না, সে প্রকৃতপক্ষে আলেমদের অন্তর্ভুক্ত নয়, যদিও সে কিছু জ্ঞান ও তথ্য অর্জন করে থাকে, কিন্তু সে আলেম নয়। এই কারণেই হাদীসে এসেছে—এবং এ নিয়ে আলেমদের দীর্ঘ আলোচনা রয়েছে—: "প্রত্যেক প্রজন্মের ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিরাই এই ইলম বহন করবে।" সুতরাং এই ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিরাই হলেন তারা যারা শারয়ী ইলম বহন করেন। ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিরা যারা ইলম অনুযায়ী আমল করেন তারাই আলেম, তারাই ইলম বহনকারী। এতে এ কথার প্রমাণ রয়েছে যে, কিছু পাপাচারী ব্যক্তি যে জ্ঞান ও তথ্যাদি ধারণ করে, তাকে প্রকৃতপক্ষে ইলম বলা হয় না।
(খণ্ড: ১)
শারহুল ওয়ারাকাত - আব্দুল কারীম আল খুদাইর
(পৃষ্ঠা: ২)
إذا عرفنا هذا فالعلم الممدوح المذكور مداره على كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، مداره على نصوص الوحيين الكتاب والسنة، فمنهما يؤخذ وعليهما المعول في تحصيله، وقد مضى الجيل الأول من الصحابة على ذلك فاقتصروا على نصوص الوحيين؛ لأنهم ليسو بحاجة إلى غيرهما؛ الكتاب عربي والرسول عليه الصلاة والسلام عربي فليسو بحاجة إلى تعلم العربية.
عاصروا النبي وعايشوه عليه الصلاة والسلام وعرفوا مقاصده وفهموا عنه ما أنزل عليه وما بيّنه في سنته عليه الصلاة والسلام فليسوا بحاجة إلى قواعد وضوابط تعينهم على فهم الكتاب والسنة، هي موجودة حاضرة في أذهانهم، لكنهم ليسو بحاجة إلى تدوين لها؛ لأنهم على علم واطلاع بها.
ومن أراد أن يعرف قدر السلف وعلم السلف وفضل علمهم على الخلف فليقرأ في رسالة الحافظ ابن رجب -رحمة الله عليه- التي أسماها: (فضل علم السلف على الخلف).
وإذا ارتفعت نفس الإنسان وعلت به عن قدره فليقرأ في (مقدمة موضح أوهام الجمع والتفريق) للخطيب؛ ليرى قدره ويعرف أقدار السلف.
أقول هذا؛ لئلا يقول قائل: هذه العلوم حادثة، وقد قيل، والتصنيف في هذه الأمور أمر طارئ حادث بعد عصر السلف.
أقول السلف ليسو بحاجة إلى مثل هذه القواعد وهذه الضوابط التي تعينهم على فهم الكتاب والسنة، فليسو بحاجة إلى مؤلفات في العربية؛ لأنهم عرب خلص أقحاح لا يحتاجون إلى شيءٍ من ذلك، لكن لما اتسعت رقعة البلاد ودخل الناس في دين الله أفواجاً، وخالط العربَ غيرُهم من الأمم احتاجوا أن يؤلفوا في العربية، وفي علوم الآلة كلها، وإن شئت فقل: علوم الوسائل التي منها ما نحن بصدد شرحه وهو أصول الفقه.
আমরা যখন এটি জানতে পারলাম, তখন উল্লেখিত প্রশংসিত ইলম (জ্ঞান) আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহর ওপর আবর্তিত। এর কেন্দ্রবিন্দু হলো ওহী তথা কিতাব ও সুন্নাহর ভাষ্যসমূহ। এই দুটি থেকেই ইলম গ্রহণ করা হয় এবং এগুলোর ওপরই ইলম অর্জনের প্রধান নির্ভরতা। সাহাবায়ে কেরামের প্রথম প্রজন্ম এই পথেই অতিবাহিত হয়েছেন, তাঁরা ওহীর ভাষ্যসমূহের ওপরই সীমাবদ্ধ ছিলেন; কারণ তাঁদের অন্য কিছুর প্রয়োজন ছিল না। কিতাব আরবি ভাষায় এবং রাসূল (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) নিজেও আরবি ভাষী ছিলেন, তাই তাঁদের আরবি ভাষা শেখার প্রয়োজন ছিল না।
তাঁরা নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর সমসাময়িক ছিলেন এবং তাঁর সান্নিধ্যে জীবন অতিবাহিত করেছেন। তাঁরা তাঁর উদ্দেশ্যসমূহ জানতেন এবং তাঁর ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছে এবং তিনি তাঁর সুন্নাহর মাধ্যমে যা বর্ণনা করেছেন, তা বুঝতে পারতেন। ফলে কিতাব ও সুন্নাহ বোঝার জন্য তাঁদের কোনো নিয়ম বা মূলনীতির প্রয়োজন ছিল না; সেগুলো তাঁদের মেধায় উপস্থিত ছিল। তবে সেগুলো লিপিবদ্ধ করার প্রয়োজনীয়তা তাঁদের ছিল না, যেহেতু এ বিষয়ে তাঁদের গভীর জ্ঞান ছিল।
আর যে ব্যক্তি সালাফদের মর্যাদা, তাঁদের জ্ঞান এবং পরবর্তী প্রজন্মের জ্ঞানের তুলনায় তাঁদের জ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে জানতে চায়, সে যেন হাফেজ ইবনে রজব (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর 'ফাযলু ইলমিস সালাফ আলাল খালাফ' নামক রিসালাটি পাঠ করে।
আর যদি মানুষের মনে অহংকার জন্মায় এবং সে নিজের মর্যাদা সম্পর্কে উচ্চ ধারণা পোষণ করে, তবে সে যেন খতীব বাগদাদীর 'মুযিহু আওহামিল জাময়ি ওয়াত তাফরিক' গ্রন্থের ভূমিকাটি পাঠ করে; যাতে সে নিজের অবস্থান উপলব্ধি করতে পারে এবং সালাফদের উচ্চমর্যাদা সম্পর্কে অবগত হতে পারে।
আমি এ কথা এজন্য বলছি যেন কেউ বলতে না পারে যে, এই শাস্ত্রগুলো নবউদ্ভাবিত। এমনটি বলাও হয়েছে যে, এসব বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করা সালাফদের যুগের পরবর্তী একটি নতুন বিষয়।
আমি বলছি, কিতাব ও সুন্নাহ বোঝার ক্ষেত্রে সহায়ক এই সকল নিয়ম ও মূলনীতির প্রয়োজন সালাফদের ছিল না। এমনকি আরবি ভাষার ওপর রচিত গ্রন্থের প্রয়োজনীয়তাও তাঁদের ছিল না; কারণ তাঁরা ছিলেন বিশুদ্ধ ও খাঁটি আরবি ভাষী, ফলে এসবের কোনো কিছুই তাঁদের দরকার ছিল না। কিন্তু যখন ভূখণ্ড বিস্তৃত হলো এবং মানুষ দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করল এবং আরবদের সাথে অনারব জাতির সংমিশ্রণ ঘটল, তখন তাঁদের আরবি ভাষা এবং অন্যান্য সহায়ক শাস্ত্র (উলূমুল আ-লাহ) রচনার প্রয়োজন দেখা দিল। আপনি চাইলে একে মাধ্যমীয় জ্ঞান (উলূমুল ওয়াসায়িল) বলতে পারেন, যার অন্যতম একটি হলো 'উসূলে ফিকহ', যা আমরা এখন ব্যাখ্যা করতে যাচ্ছি।
(খণ্ড: ১)
শারহুল ওয়ারাকাত - আব্দুল কারীম আল খুদাইর
(পৃষ্ঠা: ৩)
وعلى هذا إذا عرفنا أن هذه العلوم التي يسميها أهل العلم علوم الآلة التي هي مجرد وسائل لفهم المقاصد من نصوص الوحيين فلا ينبغي لطالب العلم أن يصرف كلَّ وقته لهذه العلوم، بل عليه -لا أقول ينبغي- بل عليه أن يأخذ منها بقدر ما يحتاج إليه في فهم الكتاب والسنة، وليس معنى هذا التقليل من شأن هذه العلوم، القدر الذي يتوقف عليه فهم الكتاب والسنة أمر لا بد منه سواء كان في علوم العربية، أو في أصول الفقه أو في علوم الحديث، أو في قواعد التفسير وعلومه، وغير هذه العلوم مما يحتاجه من يعاني نصوص الوحيين.
ومع هذا التوجيه وعدم إضاعة جميع الوقت في تحصيل هذه الوسائل .. ؛ لأن من الناس من يستهويه علم النحو مثلاً أو علم أصول الفقه فتجده في جميع مراحل عمره، في شبابه، في كهولته، في شيخوخته، إلى أن يموت وهو يقرأ ويقرئ ويدرس ويؤلف في النحو فقط.
إذا عرفنا أن هذا وسيلة لفهم الكتاب والسنة فكيف نقدمه على الغاية والمقصد، ومثله تجد مثلا ًالشخص يتدرج في علم النحو ويقرأ الأجرومية ثم القطر ثم الألفية ثم يطلع إلى ما فوق ذلك من شروح الألفية والمفصل وشروحه وكتاب سيبويه ثم ينتهي عمره على لا شيء، والنحو كما قال أهل العلم: كالملح في الطعام، معناه إذا زاد ضرَّ، لكنه لا بد منه.
ومثله أصول الفقه، تجد بعض الناس يقرأ الورقات ويقرأ شروح الورقات وما نظم فيها، وشروح المنظومات، ثم يطلع إلى مختصر التحرير أو التحرير مع شرحه، ثم الروضة مع شروحها ثم المستصفى ثم البحر المحيط وغيره ويفني عمره في ذلك، فلا إفراط ولا تفريط.
এই ভিত্তিতে, যখন আমরা জানতে পারলাম যে, জ্ঞান অন্বেষণকারীগণ যে সকল ইলমকে 'সহায়ক শাস্ত্র' (উলূমুল আ-লাহ) হিসেবে অভিহিত করেন—যা কেবল ওহীদ্বয়ের (কুরআন ও সুন্নাহ) ভাষ্য থেকে মূল উদ্দেশ্যসমূহ বোঝার মাধ্যম মাত্র—তখন একজন তালিবে ইলমের (জ্ঞান অন্বেষণকারীর) জন্য তার সমস্ত সময় এই শাস্ত্রগুলোর পেছনে ব্যয় করা সমীচীন নয়। বরং তার জন্য আবশ্যক—আমি কেবল 'উচিত' বলছি না, বরং বলছি 'আবশ্যক'—যে, কিতাব ও সুন্নাহ বোঝার জন্য যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু সে এখান থেকে গ্রহণ করবে। এর অর্থ এই শাস্ত্রগুলোর গুরুত্ব কমিয়ে দেখা নয়; বরং কিতাব ও সুন্নাহ অনুধাবন করার জন্য যতটুকু বিষয়ের ওপর নির্ভর করতে হয়, তা অর্জন করা অপরিহার্য—চাই তা আরবি ভাষা সংশ্লিষ্ট শাস্ত্র হোক, কিংবা উসূলে ফিকহ, উলূমুল হাদীস, তাফসীরের মূলনীতি ও সংশ্লিষ্ট জ্ঞানসমূহ, অথবা ওহীর ভাষ্যসমূহ নিয়ে গবেষণাকারীদের প্রয়োজনীয় অন্যান্য শাস্ত্র হোক।
এই নির্দেশনার পাশাপাশি এই সকল মাধ্যম অর্জনে সম্পূর্ণ সময় নষ্ট না করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ... কারণ কিছু মানুষ আছে যাদের কাছে উদাহরণস্বরূপ নাহু শাস্ত্র (ব্যাকরণ) কিংবা উসূলে ফিকহ অত্যন্ত আকর্ষণীয় মনে হয়। ফলে আপনি দেখবেন যে, সে তার জীবনের প্রতিটি স্তরে—যৌবনে, প্রৌঢ়ত্বে এবং বার্ধক্যে, এমনকি মৃত্যু অবধি—কেবল নাহু শাস্ত্রই পড়ছে, পড়াচ্ছে, অধ্যয়ন করছে এবং গ্রন্থ রচনা করছে।
যখন আমরা জানলাম যে এটি কিতাব ও সুন্নাহ বোঝার একটি মাধ্যম মাত্র, তবে কীভাবে আমরা একে মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের ওপর প্রাধান্য দেব? তদ্রূপ আপনি দেখবেন কোনো ব্যক্তি নাহু শাস্ত্রে ধাপে ধাপে অগ্রসর হচ্ছে; সে আজরূমিয়্যাহ পড়ছে, এরপর ক্বতর (আন-নাদা), এরপর আলফিয়্যাহ, অতঃপর এর চেয়ে উচ্চতর আলফিয়্যাহর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ, মুফাসসাল ও তার ব্যাখ্যাসমূহ এবং কিতাব সিবওয়াইহি পর্যন্ত অধ্যয়ন করছে; অথচ এরপর তার জীবন নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে কিন্তু (মূল লক্ষ্যে) কিছুই অর্জিত হচ্ছে না। আর নাহু শাস্ত্র সম্পর্কে আহলে ইলমগণ যেমনটি বলেছেন: এটি খাবারে লবণের ন্যায়; অর্থাৎ এটি বৃদ্ধি পেলে ক্ষতি করে, তবে এটি অপরিহার্য।
একই অবস্থা উসূলে ফিকহ শাস্ত্রের ক্ষেত্রেও; আপনি দেখবেন কোনো কোনো লোক আল-ওয়ারাক্বাত পড়ছে, ওয়ারাক্বাতের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ এবং এর পদ্যরূপগুলো ও সেগুলোর ব্যাখ্যাসমূহ পড়ছে। এরপর সে মুখতাসারুত তাহরীর কিংবা ব্যাখ্যাসহ আত-তাহরীর পড়ছে, তারপর আর-রাওদাহ ও তার ব্যাখ্যাসমূহ, এরপর আল-মুস্তাসফা, আল-বাহরুল মুহীত এবং আরও অন্যান্য গ্রন্থ অধ্যয়ন করছে এবং এভাবেই তার জীবন বিলীন করে দিচ্ছে। সুতরাং এখানে অতিরঞ্জন কিংবা শিথিলতা—কোনোটাই কাম্য নয়।
(খণ্ড: ১)
শারহুল ওয়ারাকাত - আব্দুল কারীম আল খুদাইর
(পৃষ্ঠা: ৪)
على طالب بالعلم أن يكون متوسطاً في أموره، لا يهمل هذه العلوم بالكلية، كما سمعنا بعض الدعاوى التي تدعو إلى ذلك فيقلل من شأن هذه العلوم، وجدت دعاوى تقلل من شأن العربية، ما أدري كيف يفهم الإنسان الكتاب والسنة وهو لا يعرف العربية، وجدت دعاوى تقلل من شأن أصول الفقه، وهو علم حادث ودخله ما دخله من علم الكلام، نعم، هو علم حادث أوجدته الحاجة، لكن أصوله حاضرة في أذهان الصحابة والتابعين، قد يقول قائل: أصول الفقه لو كان الناس بحاجةٍ إليه استغنى عنه الصحابة والتابعون، ولم يؤلف فيه حتى جاء الإمام الشافعي على رأس المائتين فألف -فكتب الرسالة- إذن هو حادث، نقول: لا، كان معلوم عند أهل العلم من الصحابة والتابعين في أذهانهم، لما وجدت الحاجة ودعت الضرورة إلى التأليف ألف فيه، ومثله الدعاوى التي تقال في علوم الحديث مثلاً، وتدعو إلى نبذ القواعد وغير ذلك، وهذا له مجال آخر.
ومثله أيضاً التقليل من شأن كتب الفقه، والاجتهاد والمطالبة بالاجتهاد والتفقه من الكتاب والسنة رأساً –مباشرةً- لأنهما الأصل، والأمر كذلك هما الأصل، لكن متى يتأهل الإنسان للاجتهاد؟
وهذا الكلام مبسوط في موضعٍ آخر والدورة مدتها قليلة، والإخوان يشيرون إلى أن إكمال الكتاب أمر مفضل عندهم، وإن كان على حساب نوعية الشرح؛ لأن هناك مسائل تحتاج إلى بسط، وتحتاج إلى توضيح وزيادة في ضرب الأمثلة، لكن كما أشار الإخوان لا بد من تكميل الكتاب؛ لأن من الإخوة ممن حضر من خارج البلاد، ولا يتسنى لهم حضور مجالس أخرى لإكمال الكتاب، وعلى كل حال سوف يكون الشرح متوسطاً -إن شاء الله- بقدر ما يحل إشكالات الكتاب ورموزه.
علم الأصول علم في غاية الأهمية، كيف يعرف الطالب الذي ينتسب لطلب العلم الشرعي، وكيف يفهم من كتاب الله وسنة نبيه عليه الصلاة والسلام ما يخاطب به من التكاليف -من الأوامر والنواهي- وهو لا يعرف العام والخاص، والمطلق والمقيد، والناسخ والمنسوخ، والمنطوق والمفهوم وغير ذلك من مباحث أهل العلم؟
ইলম অন্বেষণকারীর জন্য উচিত তার সকল বিষয়ে মধ্যপন্থা অবলম্বন করা। সে যেন এই সকল জ্ঞানকে পুরোপুরি অবহেলা না করে, যেমনটি আমরা কিছু দাবি শুনতে পাই যা এর প্রতি আহ্বান জানায় এবং এই জ্ঞানসমূহের গুরুত্ব কমিয়ে দেয়। আমি এমন কিছু দাবি পেয়েছি যা আরবি ভাষার গুরুত্বকে খাটো করে দেখে। আমি জানি না একজন মানুষ কীভাবে আল্লাহর কিতাব ও সুন্নাহ বুঝবে অথচ সে আরবি ভাষা জানে না। আমি উসূলুল ফিকহের গুরুত্ব কমিয়ে দেওয়ার কিছু দাবিও পেয়েছি, যে এটি একটি পরবর্তীকালে উদ্ভূত জ্ঞান এবং এতে ইলমুল কালামের যা কিছু প্রবেশ করার তা প্রবেশ করেছে। হ্যাঁ, এটি একটি উদ্ভূত জ্ঞান যা প্রয়োজনের তাগিদে সৃষ্টি হয়েছে, কিন্তু এর মূলনীতিসমূহ সাহাবী ও তাবেয়ীদের মনে উপস্থিত ছিল। কেউ হয়তো বলতে পারে: যদি মানুষের উসূলুল ফিকহের প্রয়োজন থাকত, তবে সাহাবী ও তাবেয়ীরা এটি ছাড়াই চলতেন এবং ইমাম শাফেয়ী দুইশ হিজরীর শুরুতে এসে যখন 'আর-রিসালাহ' লিখলেন, তার আগে পর্যন্ত এতে কোনো গ্রন্থ রচিত হয়নি; অতএব এটি একটি নতুন বিষয়। আমরা বলি: না, এটি সাহাবী ও তাবেয়ীদের মধ্যে ইলমের অধিকারীদের নিকট তাদের মনেই বিদ্যমান ছিল। যখন রচনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিল এবং আবশ্যকতা তৈরি হলো, তখন এতে গ্রন্থ রচনা করা হলো। অনুরূপ সেই সব দাবি যা হাদিস শাস্ত্রের জ্ঞান সম্পর্কে করা হয় এবং মূলনীতিসমূহ বর্জনের আহ্বান জানানো হয়, আর এটি ভিন্ন আলোচনার বিষয়।
অনুরূপভাবে ফিকহের কিতাবসমূহের গুরুত্ব কমানো এবং সরাসরি কিতাব ও সুন্নাহ থেকে ইজতিহাদ ও ফিকহ অর্জনের দাবি তোলাও একই পর্যায়ের; কারণ এই দুটিই হলো মূল। বিষয়টি তেমনই যে, কিতাব ও সুন্নাহই হলো মূল, কিন্তু একজন মানুষ কখন ইজতিহাদের জন্য যোগ্য হয়?
এই বিষয়ে অন্য জায়গায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে আর এই কোর্সের সময়সীমা সংক্ষিপ্ত। ভাইয়েরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে, কিতাবটি শেষ করাই তাদের কাছে অগ্রাধিকারযোগ্য বিষয়, যদিও তা ব্যাখ্যার গুণগত মানের বিনিময়ে হয়; কারণ এমন কিছু মাসআলা আছে যা বিস্তারিত আলোচনা, স্পষ্টীকরণ এবং অধিক উদাহরণের প্রয়োজন রাখে। কিন্তু ভাইয়েরা যেমনটি ইঙ্গিত দিয়েছেন, কিতাবটি শেষ করা আবশ্যক; কারণ অনেক ভাই দেশের বাইরে থেকে এসেছেন এবং কিতাবটি শেষ করার জন্য অন্য কোনো মজলিসে উপস্থিত হওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। যাই হোক, ব্যাখ্যাটি মধ্যম মানের হবে—ইনশাআল্লাহ—যতটুকু কিতাবের জটিলতা ও সংকেতসমূহ সমাধানের জন্য প্রয়োজন।
উসূল শাস্ত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জ্ঞান। শরয়ী ইলম অন্বেষণের সাথে সম্পৃক্ত একজন ছাত্র কীভাবে জানবে এবং কীভাবে সে আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর (তাঁর ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক) সুন্নাহ থেকে তার প্রতি নির্দেশিত শরয়ী বিধানসমূহ—আদেশ ও নিষেধসমূহ—বুঝবে, অথচ সে আম ও খাস, মুতলাক ও মুকাইয়্যাদ, নাসিখ ও মানসুখ, মানতুক ও মাফহুম এবং ইলমের অধিকারীদের অন্যান্য আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে জানে না?
(খণ্ড: ১)
শারহুল ওয়ারাকাত - আব্দুল কারীম আল খুদাইর
(পৃষ্ঠা: ৫)
فهذا العلم لا غنى لطالب العلم عنه البتة، يقول الشوكاني في مقدمة كتابه إرشاد الفحول: "وبعد: فإن علم أصول الفقه لما كان هو العلم الذي يأوي إليه الأعلام، والملجأ الذي يلجأ إليه عند تحرير المسائل وتقرير الدلائل في غالب الأحكام، وكانت مسائله المقررة وقواعده المحررة تؤخذ مسلمةً عند كثيرٍ من الناظرين كما تراه في مباحث الباحثين، وتصانيف المصنفين، فإن أحدهم إذا استشهد لما قاله بكلمةٍ من كلام أهل الأصول أذعن له المنازعون وإن كانوا من الفحول؛ لاعتقادهم أن مسائل هذا الفن وقواعده مؤسسةٌ على الحق الحقيق بالقبول، مربوطةٌ بأدلةٍ علميةٍ من المعقول والمنقول، تقصر عن القدح في شيءٍ منها".
الشوكاني يشيد بهذا العلم، ويشير إلى ما دخله مما كدره من مباحث علم الكلام، وأشار إلى أنه نقّح هذا العلم وهذّبه وحرّره، ولذا سمى كتابه: (إرشاد الفحول إلى تحقيق الحق من علم الأصول).
وعلم الأصول لا إشكال في أنه دخله كثير من مباحث علم الكلام مما طالِب العلم في غنية عنه، وجد محاولات لتنقية هذا العلم وتصفيته من هذه الشوائب، لكن يبقى أن أكثر كتب الأصول مشتملة على كثيرٍ من المباحث التي طالب العلم ليس بحاجةٍ إليها، بل صارت سبباً في صد كثيرٍ من طلاب العلم عن تحصيل هذا العلم؛ لأنها أمور معقدة والحاجة إليها ليست داعية، وهذا يلحق بما أشرنا إليه سابقاً أن طالب العلم ينبغي أن يكون متوسطاً في الأخذ من هذا العلم، يأخذ ما يحتاج إليه ويعتني به بقدر الحاجة، وما عدا ذلك مما اشتملت عليه مطولات هذا الفن يبقى لأناس .. ، لطائفةٍ مخصوصة تعتني بهذا العلم لبيانه وإيضاحه.
إذا عرفنا هذا فالجادة المطروقة عند أهل العلم البداءة في العلوم كلها بالمختصرات؛ لأن عقل الناشئة لا يحتمل المطولات، وجاء عن ابن عباس في بيان معنى الرباني: أنه هو الذي يعلم الناس بصغار العلم قبل كباره؛ ليتمكن الطالب المبتدئ من حفظ هذه المختصرات وفهمها، ثم بعد ذلك يرتقي إلى ما بعدها مما يناسب الطبقة الثانية من طبقات المتعلمين، وهكذا يرتقي بعد ذلك إلى ما يناسب الطبقة الثالثة وهكذا.
এই ইলম বা জ্ঞান অর্জন থেকে ইলম অন্বেষণকারীর (তালিবুল ইলম) বিরত থাকার কোনো উপায় নেই। শাওকানি তার ‘ইরশাদুল ফুহুল’ গ্রন্থের ভূমিকায় বলেন: “অতঃপর: উসুলুল ফিকহ যেহেতু এমন একটি ইলম যার দিকে শ্রেষ্ঠ পণ্ডিতগণ আশ্রয় গ্রহণ করেন এবং অধিকাংশ বিধানের ক্ষেত্রে মাসআলাসমূহ বিন্যাস ও দলীলসমূহ সুসংগত করার সময় এটিই হয় আশ্রয়স্থল; আর এর নির্ধারিত মাসআলা ও সম্পাদিত নিয়মাবলি অধিকাংশ গবেষকদের নিকট স্বতঃসিদ্ধ হিসেবে গৃহীত, যেমনটি আপনি গবেষকদের গবেষণা ও লেখকদের সংকলনে দেখতে পান। তাই তাদের কেউ যদি নিজের বক্তব্যের সপক্ষে উসুল শাস্ত্রবিদদের কোনো কথা দ্বারা দলিল পেশ করেন, তবে বিরোধীরা—তারা শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত হলেও—তার সামনে মাথা নত করে দেয়। কারণ তাদের বিশ্বাস হলো, এই শিল্পের মাসআলা ও নিয়মাবলি এমন সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত যা গ্রহণ করা অপরিহার্য এবং এগুলো বুদ্ধিভিত্তিক (মা’কুল) ও বর্ণনাভিত্তিক (মানকুল) এমন বৈজ্ঞানিক দলীলের সাথে যুক্ত, যার কোনো কিছুতে খুঁত ধরা সম্ভব নয়।”
শাওকানি এই ইলমের প্রশংসা করছেন এবং এতে ইলমুল কালামের যেসব আলোচনা ঢুকে একে ঘোলাটে করে ফেলেছে সেদিকে ইঙ্গিত করছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এই ইলমকে সংশোধন, পরিমার্জন ও বিন্যস্ত করেছেন। এজন্যই তিনি তার গ্রন্থের নাম রেখেছেন: ‘ইরশাদুল ফুহুল ইলা তাহকীকিল হাক্কি মিন ইলমিল উসুল’। উসুল শাস্ত্রের মধ্যে ইলমুল কালামের এমন অনেক আলোচনা ঢুকে পড়েছে যা থেকে ইলম অন্বেষণকারীর বেঁচে থাকা সম্ভব, এতে কোনো সন্দেহ নেই। এই ইলমকে সেসব আবর্জনা থেকে মুক্ত ও পরিচ্ছন্ন করার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। তবে বাস্তবতা হলো, উসুলের অধিকাংশ কিতাব এমন অনেক আলোচনার অন্তর্ভুক্ত যা ইলম অন্বেষণকারীর প্রয়োজন নেই। বরং এগুলো অনেক শিক্ষার্থীকে এই ইলম অর্জনে বাধা দেওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে; কারণ এগুলো জটিল বিষয় এবং এগুলোর প্রয়োজনীয়তা খুব একটা নেই। এটি সেই বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত যা আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, ইলম অন্বেষণকারীর উচিত এই ইলম গ্রহণের ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা। সে তার যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু গ্রহণ করবে এবং প্রয়োজনের খাতিরে সেদিকে মনোনিবেশ করবে। এ ছাড়া এই শাস্ত্রের দীর্ঘ কিতাবসমূহে যা কিছু রয়েছে, তা সেই বিশেষ শ্রেণির মানুষের জন্য যারা এই ইলমের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের দায়িত্ব পালন করেন।
আমরা যখন এটি জানলাম, তখন আলেমদের অনুসৃত পথ হলো সমস্ত ইলম বা শাস্ত্রের ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ (মুখতাসারাত) দিয়ে শুরু করা; কারণ নবীনদের মেধা দীর্ঘ ও বিস্তারিত আলোচনা ধারণ করতে পারে না। ‘রাব্বানি’ শব্দের অর্থ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হয়েছে যে: তিনি হলেন সেই ব্যক্তি যিনি মানুষকে বড় বড় ইলম শিক্ষার আগে ছোট ছোট ইলম শিক্ষা দেন; যাতে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থী এই সংক্ষিপ্ত বিষয়গুলো মুখস্থ ও অনুধাবন করতে সক্ষম হয়। এরপর সে পরবর্তী ধাপে উন্নীত হয় যা শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় স্তরের জন্য উপযুক্ত এবং এভাবে এরপর সে তৃতীয় স্তরের উপযোগী বিষয়ের দিকে ধাবিত হয়।
(খণ্ড: ১)
শারহুল ওয়ারাকাত - আব্দুল কারীম আল খুদাইর
(পৃষ্ঠা: ৬)
فأهل العلم قسموا المتعلمين إلى طبقات: المبتدئين، المتوسطين، المنتهين المحصلين، ولكل طبقةٍ كتب في كل فن، والشوكاني له كتاب في آداب الطلب وطبقات المتعلمين أشار إلى شيءٍ من ذلك.
وهذه المتون وهذا التدرج أمر عرفي اصطلاحي يختلف في كل بلدٍ عن البلد الآخر، فكل أهل بلد لهم عناية بكتب خاصة، كما أن لأهل كل مذهب عناية بكتب خاصة دون غيرها.
من أجود ما ألف للمبتدئين في هذا الفن: (كتاب الورقات) -الذي نحن بصدد شرحه- لإمام الحرمين أبي المعالي عبد الملك بن عبد الله بن يوسف بن محمد الجويني الشافعي المتوفى سنة ثمان وسبعين وأربعمائة.
قد يقول قائل: إن قراءتنا لمثل هذا الكتاب ترويج لكتب المبتدعة، الجويني من رؤوس الأشعرية -كما هو معروف- ومن المنظرين في المذهب والقائمين عليه -من أئمتهم- لكنه رجع عن مذهبه، والكتاب في الجملة خالٍ عن البدعة، وعلى طالب العلم أن يكون منصفاً في أقواله وأحكامه على الناس، فالحق يقبل ممن جاء به، نعم، إذا وجد نظيره لشخصٍ لم يتلبس بشيءٍ من المخالفات هذا هو الأصل، كما أن الأصل في الرواية أن تكون عن سنيٍّ لم يتلبس ببدعة، لكن إذا لم يوجد هذا الحديث وهذا الخبر إلا عند من رمي بنوعٍ من البدعة، فتحصيل مصلحة رواية هذا الخبر وحفظه للأمة مقدمة على هجر هذا المبتدع وترك الرواية عنه، وكتب السنة -بما في ذلك الصحيحين- طافحة بالرواية عن المبتدعة، فالحق يقبل ممن جاء به، وتفصيل رواية المبتدع وقبولها أو ردها مبسوط في كتب علوم الحديث، والذي دعانا إلى ذلك أن مؤلف هذا الكتاب كان متلبساً ببدعة.
وبعض الإخوان -وهذا من شدة حرصهم وغيرتهم على السنة ولا يظن بهم إلا خيراً- يرى أن يهجر كل ما جاء عن المبتدعة؛ ولهم في ذلك سلف، الإمام مالك -رحمة الله عليه- لا يجيز الرواية عن مبتدعٍ البتّة؛ إماتة لذكره وإخماداً لبدعته، لكن واقع كتب السنة كصحيح البخاري ومسلم وغيرهما من كتب السنة المعتمدة خُرِّجَ فيها لكثير من المبتدعة؛ وذكرنا أن تحصيل الفائدة المرتبة على الخبر الذي جاءنا من طريق هذا المبتدع -الذي هو ليس من الغلاة في بدعته ولا يدعو إليها- مقدم على مصلحة إماتته وإخماد بدعته.
জ্ঞানীরা জ্ঞানান্বেষণকারীদের কয়েকটি স্তরে বিভক্ত করেছেন: প্রাথমিক, মধ্যম এবং উচ্চতর বা সমাপ্তকারী শিক্ষার্থী। প্রতিটি স্তরের জন্য প্রতিটি শাস্ত্রে ভিন্ন ভিন্ন কিতাব রয়েছে। ইমাম শাওকানির 'আদাবুত তলাব ওয়া তবাকাতুল মুতাআল্লিমীন' নামক একটি কিতাব রয়েছে যেখানে তিনি এ বিষয়ের কিছু ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এই সকল মতন (মূলপাঠ) এবং ধাপসমূহ একটি প্রচলিত পারিভাষিক বিষয়, যা এক দেশ থেকে অন্য দেশে ভিন্ন হয়ে থাকে। প্রতিটি অঞ্চলের মানুষের বিশেষ কিছু কিতাবের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব থাকে, ঠিক যেমন প্রতিটি মাযহাবের অনুসারীরা অন্য কিতাবের তুলনায় নির্দিষ্ট কিছু কিতাবের প্রতি যত্নশীল হয়ে থাকেন।
এই শাস্ত্রে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য রচিত অন্যতম শ্রেষ্ঠ কিতাব হলো: 'কিতাবুল ওয়ারাকাত' —যা আমরা বর্তমানে ব্যাখ্যা করতে যাচ্ছি— এটি ইমামুল হারামাইন আবুল মাআলি আব্দুল মালিক ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ ইবনে মুহাম্মদ আল-জুয়াইনি শাফিঈর (মৃত্যু ৪৭৮ হিজরি) রচনা।
কেউ হয়তো বলতে পারেন: এই ধরণের কিতাব পাঠ করা বিদআতিদের কিতাব প্রচার করার নামান্তর। ইমাম জুয়াইনি আশআরিয়াহদের অন্যতম প্রধান নেতা ছিলেন —যেমনটি সুপরিচিত— এবং তিনি এই মাযহাবের একজন তাত্ত্বিক ও তাদের ইমামদের মধ্যে অন্যতম প্রধান ছিলেন। তবে তিনি তার সেই মতবাদ থেকে ফিরে এসেছিলেন এবং কিতাবটি সামগ্রিকভাবে বিদআত থেকে মুক্ত। একজন জ্ঞানান্বেষীর উচিত মানুষের ব্যাপারে তার কথা ও বিচারে ইনসাফপূর্ণ হওয়া। সুতরাং সত্য যার মাধ্যমেই আসুক না কেন, তা গ্রহণ করতে হবে। হ্যাঁ, যদি সমপর্যায়ের কোনো কিতাব এমন কারো থেকে পাওয়া যায় যিনি কোনো বিরোধপূর্ণ বিষয়ে লিপ্ত ছিলেন না, তবে সেটি গ্রহণ করাই মূল নীতি। যেমন বর্ণনার (রেওয়ায়েত) ক্ষেত্রে মূল নীতি হলো যে, তা এমন সুন্নির কাছ থেকে হতে হবে যিনি বিদআতে লিপ্ত নন। কিন্তু যদি কোনো হাদিস বা বর্ণনা এমন কারো নিকট ব্যতীত না পাওয়া যায় যার বিরুদ্ধে কোনো প্রকার বিদআতের অভিযোগ রয়েছে, তবে সেই বর্ণনাটি গ্রহণ করা এবং উম্মতের জন্য তা সংরক্ষণ করার যে কল্যাণ, তা সংশ্লিষ্ট বিদআতি ব্যক্তিকে বর্জন করা বা তার থেকে বর্ণনা ত্যাগ করার চেয়ে অধিক অগ্রগণ্য। সুন্নাহর কিতাবসমূহ —সহীহাইন (বুখারি ও মুসলিম) সহ— বিদআতিদের বর্ণনায় পরিপূর্ণ। সুতরাং সত্য যার মাধ্যমেই আসুক না কেন, তা গ্রহণ করতে হবে। বিদআতিদের বর্ণনা গ্রহণ বা বর্জনের বিস্তারিত আলোচনা ইলমে হাদিসের কিতাবসমূহে বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়েছে। আর এই আলোচনার প্রেক্ষাপট হলো এই কিতাবের লেখক বিদআতে লিপ্ত ছিলেন।
কিছু ভাই —এটি সুন্নাহর প্রতি তাদের প্রবল আগ্রহ ও আত্মমর্যাদাবোধের কারণে এবং তাদের সম্পর্কে কেবল সুধারণাই পোষণ করা হয়— মনে করেন যে, বিদআতিদের কাছ থেকে আসা প্রতিটি বিষয় বর্জন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে তাদের সালাফ বা পূর্বসূরিও রয়েছেন। ইমাম মালিক —রহমাতুল্লাহি আলাইহি— বিদআতি ব্যক্তির নাম মুছে ফেলার জন্য এবং তার বিদআতকে দমিত করার জন্য তাদের কাছ থেকে কোনো বর্ণনাই আদৌ জায়েজ মনে করতেন না। কিন্তু সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য গ্রন্থসমূহের বাস্তবতা যেমন সহীহ বুখারি, মুসলিম এবং অন্যান্য কিতাবসমূহে অনেক বিদআতি ব্যক্তির হাদিস উদ্ধৃত হয়েছে। আমরা ইতিপূর্বেও উল্লেখ করেছি যে, সেই বর্ণনার মাধ্যমে যে উপকার অর্জিত হয় যা আমাদের নিকট জনৈক বিদআতি ব্যক্তির মাধ্যমে পৌঁছেছে —যিনি তার বিদআতের ব্যাপারে চরমপন্থী নন এবং বিদআতের দিকে আহ্বানকারীও নন— সেই উপকারটি লাভ করা তাকে বর্জন করা এবং তার বিদআতকে দমিত করার চেয়ে অধিক প্রাধান্যযোগ্য।
(খণ্ড: ১)
শারহুল ওয়ারাকাত - আব্দুল কারীম আল খুদাইর
(পৃষ্ঠা: ৭)
هذا الكتاب المختصر الذي هو بقدر الكف في خمس ورقات بعد تأليفه اشتهر وانتشر في أقطار الأرض شرقاً وغرباً، وعني به العلماء، وشرحه واعتنى به العدد الكبير من أهل العلم، شرحوه ونظموه وحفظوه، وجعلوه الدرجة الأولى في سلم الصعود إلى هذا العلم.
فنذكر ممن شرحه ما تيسر: فشرحه جلال الدين المحلي المتوفى سنة أربع وستين وثمانمائة، شرحاً مختصراً جداً؛ اقتصر فيه على تحليل بعض الألفاظ، وهذا الشرح أيضاً صار له من القبول ما لا يتصور؛ فعني به العلماء فشرحوه، شرح من قِبل جمعٍ كثير من أهل العلم، شرحه ابن القاسم العبادي في شرحين كبير وصغير وكلاهما مطبوع، وشرحه الرعيني المعروف بالحطاب في شرحٍ متوسط، وعليه حاشية، على شرح الرعيني حاشية للشيخ محمد بن حسين الهدة السوسي التونسي، وهذا شرح مطبوع في تونس قديماً، ولعل كثير من طلاب العلم لا يعرفه، وممن شرَح شرْح المحلي علي بن أحمد التجاري، وشرحه أيضاً في حاشيةٍ مبسّطة الشيخ أحمد بن محمد الدمياطي ومحمد بن عبادة العدوي المالكي، وهناك حاشية لأحد المعاصرين أسماها: (النفحات على شرح الورقات) لأحمد بن عبد اللطيف الخطيب، وهناك حاشية أخرى لمعاصرٍ أخر تسمى: (الثمرات على الورقات) تأليف الخضر بن محمد اللجمي، هذه كلها شروح وحواشي على شرح المحلي.
ممن شرح الأصل شهاب الدين أبو العباس أحمد بن حمزة الرملي، واسمه (غاية المأمول في شرح ورقات الأصول)، وشرحه أيضاً كمال الدين محمد بن محمد بن عبد الرحمن المعروف بابن إمام الكاملية، وشرحه أيضاً أحمد بن عمر بن زكريا التلمساني واسم كتابه: (غاية المرام في شرح مقدمة الإمام).
من شروح المعاصرين شرح جيد في أسلوبٍ مناسب وواضح للمتعلمين، الشرح للشيخ عبد الله بن صالح الفوزان، شرح جيد مناسب ومتوسط ليس بالطويل الممل ولا بالمختصر القصير الاختصار المخل، ينبغي لطالب العلم أن يعتني به.
ممن نظم الورقات الشيخ شرف الدين يحيى العمريطي نظماً سهلاً سلساً، جاء في مطلع منظومته قوله:
قال الفقير الشرف العمريطي
… ذو العجز والتقصير والتفريط
الحمد لله الذي قد أظهرا
… علم الأصول للورى وأشهرا
على لسان الشافعي وهونا
… فهو الذي له ابتداءً دوّنا
এই সংক্ষিপ্ত বইটি, যা আয়তনে হাতের তালু পরিমাণ মাত্র পাঁচ পৃষ্ঠা, রচনার পর পৃথিবীর পূর্ব-পশ্চিম সব প্রান্তে প্রসিদ্ধি ও প্রসার লাভ করেছে। ওলামায়ে কেরাম এর প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন এবং বিজ্ঞ আলিমদের একটি বিশাল দল এর ব্যাখ্যা ও পরিচর্যা করেছেন। তাঁরা এটি ব্যাখ্যা করেছেন, পদ্যে রূপান্তর করেছেন এবং মুখস্থ করেছেন; তাঁরা একে এই শাস্ত্রের সোপানে আরোহণের প্রথম ধাপ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।
যারা এটি ব্যাখ্যা করেছেন তাদের মধ্য থেকে যা সহজসাধ্য তা উল্লেখ করছি: জালালুদ্দিন আল-মহল্লী (মৃত্যু ৮৬৪ হিজরী) এর একটি অতি সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা লিখেছেন; যাতে তিনি কেবল কিছু শব্দের বিশ্লেষণের ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন। এই ব্যাখ্যাটিও অকল্পনীয় জনপ্রিয়তা লাভ করেছে; ফলে ওলামায়ে কেরাম এর প্রতি গুরুত্ব দিয়ে এর ওপর টীকা লিখেছেন। আলিমদের একটি বড় জামাত এটি ব্যাখ্যা করেছেন। ইবনুল কাসিম আল-আব্বাদী এর ওপর বড় ও ছোট দুটি ব্যাখ্যা লিখেছেন এবং দুটিই মুদ্রিত। আর-রুয়াইনী—যিনি আল-হাত্তাব নামে পরিচিত—একটি মাঝারি মানের ব্যাখ্যা লিখেছেন এবং তার ওপর একটি হাশিয়া রয়েছে। আল-রুয়াইনীর ব্যাখ্যার ওপর হাশিয়াটি লিখেছেন শায়খ মুহাম্মদ বিন হুসাইন আল-হাদ্দাহ আস-সুসী আত-তিউনিসি। এটি প্রাচীনকালে তিউনিসিয়ায় মুদ্রিত একটি ব্যাখ্যা, সম্ভবত অনেক তলেবে ইলম এটি সম্পর্কে অবগত নয়। আল-মহল্লীর ব্যাখ্যার ওপর যারা হাশিয়া লিখেছেন তাদের মধ্যে আলী বিন আহমদ আত-তিজারি অন্যতম। এছাড়া শায়খ আহমদ বিন মুহাম্মদ আদ-দামইয়াতি এবং মুহাম্মদ বিন ইবাদাহ আল-আদাবী আল-মালিকী এর ওপর সহজবোধ্য হাশিয়া লিখেছেন। সমকালীন একজন আলিমের একটি হাশিয়া রয়েছে যার নাম: 'আন-নাফাহাত আলা শারহিল ওয়ারাখাত', যা আহমদ বিন আব্দুল লতিফ আল-খতিবের রচনা। অন্য একজন সমকালীনের আরেকটি হাশিয়া রয়েছে যার নাম: 'আত-সামারাত আলাল ওয়ারাখাত', এটি খিজির বিন মুহাম্মদ আল-লাজমীর রচনা। এ সবগুলিই আল-মহল্লীর ব্যাখ্যার ওপর বিভিন্ন ব্যাখ্যা ও হাশিয়া।
মূল গ্রন্থের ব্যাখ্যাকারীদের মধ্যে রয়েছেন শিহাবুদ্দিন আবুল আব্বাস আহমদ বিন হামজাহ আর-রামলী, তার কিতাবের নাম: 'গায়াতুল মামুল ফি শারহি ওয়ারাখাতিল উসুল'। এছাড়া কামালুদ্দিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান—যিনি ইবনে ইমাম আল-কামিলিয়্যাহ নামে পরিচিত—এটি ব্যাখ্যা করেছেন। আহমদ বিন উমর বিন যাকারিয়া আত-তিলিমসানিও এটি ব্যাখ্যা করেছেন এবং তার কিতাবের নাম: 'গায়াতুল মারাম ফি শারহি মুকাদ্দিমাতিল ইমাম'।
সমকালীন ব্যাখ্যাসমূহের মধ্যে শায়খ আব্দুল্লাহ বিন সালিহ আল-ফাওজানের ব্যাখ্যাটি শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত ও প্রাঞ্জল শৈলীর একটি উত্তম ব্যাখ্যা। এটি একটি ভালো, মানানসই ও মাঝারি মানের ব্যাখ্যা; যা বিরক্তিকর দীর্ঘও নয়, আবার অস্পষ্ট করে ফেলার মতো অতি সংক্ষিপ্তও নয়। তলেবে ইলমদের উচিত এর প্রতি গুরুত্ব দেওয়া।
যারা 'ওয়ারাখাত'কে পদ্যে রূপান্তর করেছেন তাদের মধ্যে শায়খ শারাফুদ্দিন ইয়াহইয়া আল-ইমরীতী অন্যতম, যা অত্যন্ত সহজ ও সাবলীল। তার পদ্যের শুরুতে তিনি বলেছেন:
নিঃস্ব শারাফ আল-ইমরীতী বলেন
… যিনি অক্ষমতা, ত্রুটি ও শিথিলতার অধিকারী।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি প্রকাশ করেছেন
… সৃষ্টির কাছে উসুল শাস্ত্রকে এবং একে প্রসিদ্ধ করেছেন।
শাফেয়ীর যবানে এবং একে সহজ করেছেন
… কারণ তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি এটি সংকলন করেছেন।
(খণ্ড: ১)
শারহুল ওয়ারাকাত - আব্দুল কারীম আল খুদাইর
(পৃষ্ঠা: ৮)
وتابعته الناس حتى صار
… كتباً صغار الحجم أو كبارا
وخير كتبه الصغارِ ما سمي
… بالورقات للإمام الحرمي
وقد سئلت مدةً في نظمه
… مسهلاً لحفظه وفهمه
فلم أجد مما سئلت بدّا
… وقد شرعت فيه مستمدا
من ربنا التوفيق للصواب
… والنفع في الدارين بالكتاب
هذا النظم نظم سهل وسلس يحفظ به هذا المتن؛ لأن النظم في الغالب هو الذي يثبت بخلاف النثر، والعمريطي تصدى لنظم كثير من المتون، نظم الأجرومية بنظمٍ أيضاً كذلك نزر سهل سلس، وهذا النظم أيضاً مشروح، شرحه شخص يدعى عبد الحميد قدس من أهل مكة.
وقبل البدء بشرح الكتاب نذكر المبادئ العشرة التي جرت العادة بذكرها قبل البدء في كل فن؛ ليتصور هذا الفن ويعرف، وتعرف أهميته وقيمته، وهذه المبادئ يجمعها قول الناظم:
إن مبادئ كل علم عشرة
… الحد والموضوع ثم الثمرة
ونسبة وفضله والواضع
… والاسم الاستمداد حكم الشارع
مسائل والبعض بالبعض اكتفى
… ومن درى الجميع حاز الشرفا
فأول هذه المبادئ الحد: والمراد بالحد التعريف وتعريف هذا العلم سيأتي في كلام المصنف.
الموضوع –موضوع هذا العلم-: الأدلة الشرعية إجمالاً لا تفصيلاً، وكيفية الإفادة منها وحال المستفيد منها.
والثمرة من هذا العلم: القدرة على استنباط الأحكام الشرعية من الأدلة، فالذي يضبط هذا العلم ويتقن علم الأصول لا شك أنه يستطيع أن يتعامل مع النصوص الشرعية ويعرف كيف يستنبط منها الأحكام.
ونسبته إلى غيره من العلوم التباين؛ فهو علم مستقل من وجه، وإن تداخلت بعض مباحثه ومسائله في علومٍ أخرى كما سيأتي ذكر ذلك إن شاء الله تعالى.
وفضله: كفضل غيره من علوم الشرعية التي جاء الحث على تعلمها وتعليمها في الكتاب والسنة؛ لأن الوسائل لها أحكام المقاصد.
وواضعه: الإمام محمد بن إدريس الشافعي -رحمه الله تعالى- في الرسالة –رسالته التي صنّفها في هذا العلم- وهي أيضاً تصلح أن تكون قاعدةً لكثيرٍ من مباحث علم .. ، علوم الحديث، وحكى الأسنوي وغيره الإجماع على ذلك، الإجماع على أن أول من صنف في الأصول الإمام الشافعي.
মানুষ একে অনুসরণ করেছে যতক্ষণ না তা ছোট বা বড় বহু কিতাবে পরিণত হলো।
আর তাঁর ছোট কিতাবগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো ইমামুল হারামাইন রচিত ‘আল-ওয়ারাকাত’।
দীর্ঘদিন যাবত আমাকে এটি কাব্যাকারে সাজানোর জন্য অনুরোধ করা হচ্ছিল, যাতে এটি মুখস্থ করা এবং বোঝা সহজ হয়।
অতঃপর আমি এই অনুরোধ উপেক্ষা করার কোনো উপায় খুঁজে পেলাম না এবং সাহায্য প্রার্থনা করে এতে ব্রতী হলাম।
আমাদের রবের নিকট সঠিক পথে চলার তাওফিক এবং এই কিতাবের মাধ্যমে ইহকাল ও পরকালে উপকারের প্রার্থনা করছি।
এই কাব্যটি অত্যন্ত সহজ ও সাবলীল, যার মাধ্যমে এই মূল পাঠটি মুখস্থ রাখা যায়; কারণ গদ্যের তুলনায় কাব্যই সাধারণত স্মৃতিতে বেশি স্থায়ী হয়। আল-ইমরিতি অনেক মূল পাঠকে কাব্যাকারে রূপ দেওয়ার কাজ করেছেন। তিনি আল-আজরুমিয়্যাহকেও অনুরূপ সহজ ও সাবলীল ছন্দে কাব্যাকারে সাজিয়েছেন। এই কাব্যটির ব্যাখ্যাগ্রন্থও রয়েছে; মক্কার অধিবাসী আব্দুল হামিদ কুদস নামক এক ব্যক্তি এর ব্যাখ্যা লিখেছেন।
কিতাবটির ব্যাখ্যা শুরু করার পূর্বে আমরা সেই দশটি মৌলিক বিষয় উল্লেখ করব, যা প্রতিটি শাস্ত্র আলোচনার শুরুতে উল্লেখ করার রেওয়াজ রয়েছে; যাতে এই শাস্ত্রটি সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া যায় এবং একে চেনা যায়, এবং এর গুরুত্ব ও মূল্য অনুধাবন করা যায়। এই মূলনীতিগুলো কাব্যকারের এই উক্তিতে সংকলিত হয়েছে:
নিশ্চয়ই প্রতিটি বিদ্যার মূল বিষয় দশটি: সংজ্ঞা, আলোচ্য বিষয় এবং এরপর এর ফলাফল।
অন্যান্য শাস্ত্রের সাথে এর সম্পর্ক, এর শ্রেষ্ঠত্ব, এর প্রবর্তক, এর নাম, এর উৎস এবং শরয়ি বিধান।
এর মাসআলাসমূহ; কেউ কেউ আংশিক জেনেই সন্তুষ্ট থাকেন, আর যে ব্যক্তি এর সবটুকু জানেন তিনি বিশেষ সম্মানের অধিকারী হন।
এই মূলনীতিগুলোর মধ্যে প্রথমটি হলো সংজ্ঞা: আর সংজ্ঞা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো শাস্ত্রের পরিচয়, যা অচিরেই লেখকের বক্তব্যে আসবে।
আলোচ্য বিষয়—এই শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয় হলো: সামগ্রিক শরয়ি দলিলসমূহ, বিস্তারিত দলিল নয়; এবং সেগুলো থেকে বিধান আহরণের পদ্ধতি এবং যিনি এগুলো থেকে বিধান আহরণ করবেন তাঁর অবস্থা।
এই শাস্ত্রের ফলাফল: দলিল থেকে শরয়ি বিধান আহরণ করার সক্ষমতা অর্জন করা। সুতরাং যে ব্যক্তি এই শাস্ত্রকে আয়ত্ত করবে এবং উসুল শাস্ত্রে পারদর্শী হবে, নিঃসন্দেহে সে শরয়ি নসসমূহের সাথে সঠিক আচরণ করতে পারবে এবং জানতে পারবে কীভাবে সেগুলো থেকে বিধান আহরণ করতে হয়।
অন্যান্য শাস্ত্রের সাথে এর সম্পর্ক হলো বৈচিত্র্য বা স্বাতন্ত্র্য; একদিক থেকে এটি একটি স্বাধীন শাস্ত্র, যদিও এর কিছু বিষয় ও মাসআলা অন্যান্য শাস্ত্রের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, যা ইনশাআল্লাহ তাআলা সামনে আলোচিত হবে।
এর শ্রেষ্ঠত্ব: অন্যান্য শরয়ি বিদ্যার মতোই এর শ্রেষ্ঠত্ব, যা শেখার এবং শেখানোর ব্যাপারে কুরআন ও সুন্নাহতে উৎসাহিত করা হয়েছে; কারণ উদ্দেশ্যের মাধ্যমগুলোও উদ্দেশ্যের বিধানেরই অন্তর্ভুক্ত।
এর প্রবর্তক: ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস আশ-শাফিঈ (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা), তিনি তাঁর ‘আর-রিসালা’ গ্রন্থে এটি প্রবর্তন করেন—যা তিনি এই শাস্ত্রে রচনা করেছেন। এটি ইলমে হাদিসের অনেক বিষয়ের মূল ভিত্তি হওয়ারও উপযুক্ত। আল-আসনাবি এবং অন্যান্যরা এ বিষয়ে ইজমা বা ঐক্যমত বর্ণনা করেছেন যে, উসুল শাস্ত্রে সর্বপ্রথম কিতাব রচনা করেছেন ইমাম শাফিঈ।
(খণ্ড: ১)
শারহুল ওয়ারাকাত - আব্দুল কারীম আল খুদাইর
(পৃষ্ঠা: ৯)
واسمه: علم أصول الفقه، اسم هذا العلم علم أصول الفقه، وهناك علم أصول الحديث، وعلم أصول الحديث يسمى مصطلح الحديث، ويسمى علوم الحديث، وهنا نقول: أصول الفقه، فهل نستطيع أن نقول: هذا علم مصطلح الفقه أو علم علوم الفقه، كما قلنا: علم مصطلح الحديث أو علم علوم الحديث؟؟
هذا العلم نظير لذلك العلم، سموه أصول الفقه، وهناك قالوا: أصول الحديث وعلوم الحديث ومصطلح الحديث، هل نستطيع أن نقول مصطلح الفقه؟ نسميه بمصطلح الفقه؟
العلماء قاطبةً اصطلحوا واتفقوا على هذه التسمية، بينما في العلم الآخر منهم من سماه مصطلح الحديث، ومنهم من قال: علوم الحديث، ومنهم من قال: علم دراية الحديث، أو علم الحديث درايةً، أو علوم الحديث، وغير ذلك من التسميات، لكن هنا قالوا: علم أصول الفقه، والمسألة اصطلاحية ولا مشاحاة في الاصطلاح، وإلا فهذا العلم نظير ذلك العلم.
لا مشاحّة في الاصطلاح: وهذه الكلمة يطلقها كثير من أهل العلم وهي بحاجة إلى قيد؛ فهناك من الاصطلاحات ما يشاحح صاحبه، وهناك من الاصطلاحات ما لا مشاحّة فيه، فإذا تضمّن الاصطلاح مخالفةً لما تقرر عند أهل أيِّ علمٍ من العلوم فإنه يشاحح فيه، إذا ترتب على هذا الاصطلاح مخالفة لنص شرعي، أو لأمرٍ مقرر عند أهل علمٍ من العلوم فإنه حينئذٍ يشاحح فيه.
لو قال قائل: أنا أصطلح لنفسي أن أسمي هذه الجهة الشمال .. ، أسمي الجنوب شمالاً، والشمال جنوب، نقول: لا مشاحة في الاصطلاح؟! أو أقول: السماء تحت والأرض فوق، وأبيّن في مقدمة الكتاب، نقول: لا مشاحة في الاصطلاح؟!
يشاحح في اصطلاحه، لكن لو قال: الشمال شمال والجنوب جنوب، لكن الناس، أو جمهور الناس على أن الشمال يوضع في رأس الخارطة، وأنا أبى أقلب الخارطة أخلي الجنوب فوق والشمال تحت، نقول: لا مشاحة من الاصطلاح؟ هل يغير من الواقع شيئاً؟
ما يغير من الواقع شيئاً، يعني لو جعل الجنوب في الخارطة فوق، قلب الخارطة، صار الجنوب فوق والشمال تحت، نقول: لا مشاحة في الاصطلاح.
لو قال قائل: أنا أؤلف الفرائض وأسمي أخ الأب خالاً، الناس يسمونه عمَّاً وأنا أسميه خالاً؟ وأسمي أخَ الأم عمَّاً وإن سماه الناس خالاً، نقول: لا مشاحة في الاصطلاح؟!
এবং এর নাম হলো: ইলমে উসূলুল ফিকহ। এই ইলমের নাম হলো ইলমে উসূলুল ফিকহ। একইভাবে ইলমে উসূলুল হাদীসও রয়েছে, আর ইলমে উসূলুল হাদীসকে মুসতালাহুল হাদীস বলা হয় এবং একে উলূমুল হাদীসও বলা হয়। এখানে আমরা বলছি: উসূলুল ফিকহ; তাহলে আমরা কি একে ইলমে মুসতালাহুল ফিকহ বা ইলমে উলূমুল ফিকহ বলতে পারি, যেমনটি আমরা ইলমে মুসতালাহুল হাদীস বা ইলমে উলূমুল হাদীস বলেছি?
এই ইলমটি সেই ইলমেরই সমান্তরাল। তারা এর নাম দিয়েছেন উসূলুল ফিকহ, আর সেখানে তারা বলেছেন: উসূলুল হাদীস, উলূমুল হাদীস এবং মুসতালাহুল হাদীস। আমরা কি মুসতালাহুল ফিকহ বলতে পারি? আমরা কি একে মুসতালাহুল ফিকহ নামে নামকরণ করতে পারি?
উলামায়ে কেরাম সর্বসম্মতভাবে এই নামকরণের ওপর ঐক্যমত পোষণ করেছেন। পক্ষান্তরে অন্য ইলমটির ক্ষেত্রে তাদের কেউ কেউ একে মুসতালাহুল হাদীস বলেছেন, কেউ বলেছেন উলূমুল হাদীস, কেউ বলেছেন ইলমে দিরায়াতুল হাদীস, অথবা ইলমুল হাদীস দিরায়াতান, অথবা উলূমুল হাদীস এবং এছাড়াও আরও বিভিন্ন নাম। কিন্তু এখানে তারা বলেছেন: ইলমে উসূলুল ফিকহ। বিষয়টি পারিভাষিক এবং পরিভাষার ক্ষেত্রে কোনো বিবাদ নেই; অন্যথায় এই ইলমটি সেই ইলমেরই সমরূপ।
পরিভাষার ক্ষেত্রে কোনো বিবাদ নেই: এই বাক্যটি অনেক আহলে ইলম ব্যবহার করেন, তবে এটি একটি শর্ত বা সীমাবদ্ধতার মুখাপেক্ষী। কিছু পরিভাষা এমন রয়েছে যেক্ষেত্রে তার প্রবক্তাকে বাধা দেওয়া হয় বা আপত্তি করা হয়, আবার কিছু পরিভাষা এমন যাতে কোনো বিবাদ নেই। সুতরাং কোনো পরিভাষা যদি কোনো শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞদের নিকট সুপ্রতিষ্ঠিত বিষয়ের পরিপন্থী হয়, তবে সেক্ষেত্রে আপত্তি করা হবে। যদি এই পরিভাষার ফলে কোনো শরয়ী দলীল বা কোনো শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞদের নিকট সুপ্রতিষ্ঠিত কোনো বিষয়ের বিরোধিতা করা হয়, তবে সেক্ষেত্রে অবশ্যই আপত্তি উত্থাপন করা হবে।
যদি কেউ বলে: আমি নিজের জন্য পরিভাষা স্থির করছি যে, আমি এই দিকটিকে উত্তর দিক বলব... আমি দক্ষিণকে উত্তর এবং উত্তরকে দক্ষিণ বলব, তখন কি আমরা বলব: "পরিভাষার ক্ষেত্রে কোনো বিবাদ নেই"?! অথবা আমি যদি বলি: আকাশ নিচে এবং জমিন উপরে, আর আমি বইয়ের ভূমিকায় তা বর্ণনা করে দিই, তবে কি আমরা বলব: "পরিভাষার ক্ষেত্রে কোনো বিবাদ নেই"?!
তার এই পরিভাষার ব্যাপারে আপত্তি করা হবে। কিন্তু সে যদি বলে: উত্তর উত্তরই এবং দক্ষিণ দক্ষিণই, তবে মানুষ বা অধিকাংশ মানুষের রীতি হলো উত্তর দিককে মানচিত্রের উপরের দিকে রাখা, আর আমি তা মানতে অস্বীকার করে মানচিত্রটি উল্টে দিলাম অর্থাৎ দক্ষিণকে উপরে এবং উত্তরকে নিচে রাখলাম, তবে কি আমরা বলব: "পরিভাষার ক্ষেত্রে কোনো বিবাদ নেই"? এটি কি বাস্তবতার কোনো পরিবর্তন ঘটাবে?
এটি বাস্তবতার কোনো পরিবর্তন ঘটায় না। অর্থাৎ সে যদি মানচিত্রে দক্ষিণকে উপরে রাখে এবং মানচিত্রটি উল্টে দেয়, ফলে দক্ষিণ উপরে এবং উত্তর নিচে চলে আসে, তবে আমরা বলব: পরিভাষার ক্ষেত্রে কোনো বিবাদ নেই।
যদি কোনো ব্যক্তি বলে: আমি মিরাস শাস্ত্রের ওপর গ্রন্থ রচনা করছি এবং সেখানে পিতার ভাইকে 'মামু' বলছি; অথচ মানুষ তাকে 'চাচা' বলে, কিন্তু আমি তাকে 'মামু' বলছি। আর মায়ের ভাইকে 'চাচা' বলছি যদিও মানুষ তাকে 'মামু' বলে— তবে কি আমরা বলব: "পরিভাষার ক্ষেত্রে কোনো বিবাদ নেই"?!
(খণ্ড: ১)
শারহুল ওয়ারাকাত - আব্দুল কারীম আল খুদাইর
(পৃষ্ঠা: ১০)
يشاحح في اصطلاحه؛ لأن هذا يخالف النصوص الشرعية، يخالف ما تقرر في علم الفرائض، وغير ذلك من الولايات التي هي للعصبة دون ذوي الأرحام، هذا مخالف لما تقرر في الشرع، لو قال: أهل بلدي يسمون أبا الزوجة خالاً وأنا أسميه عمَّاً أو العكس، نقول: لا مشاحة في الاصطلاح؟ أبو الزوجة سواء سمي خالاً أو عماً فيه فرق؟ لا مشاحة في الاصطلاح.
ولذا لما قسم البغوي -رحمه الله تعالى- كتابه المصابيح إلى الصحاح والحسان نوزع في اصطلاحه؛ لأنه يخالف ما تقرر في علوم الحديث؛ لأن في السنن ما هو صحيح، وفي السنن ما هو ضعيف، وقاعدته أن ما كان في الصحيحين فهو من الصحاح، وما كان من السنن فهو من الحسان، فهذه القاعدة مما ينبغي تقييدها، فلا تطلق:
والبغوي قسم المصابحَ
… إلى الصحاح والحسان جانحَا
أن الحسان ما رووه في السنن
… رد عليه بهما غير الحسن
فإذا خالف الاصطلاح ما تقرر شرعاً أو ما اتفق عليه أهل علم من العلوم فإنه يشاحح فيه.
استمداد هذا العلم: قالوا لثلاثة أشياء، في كتب الأصول يقولون: يستمد من اللغة العربية، وعلم الكلام، وتصور الأحكام، كيف يستمد من هذه العلوم؟ هم جعلوا علم الكلام من مصادر هذا العلم، من أي وجه؟ ما علاقة علم الكلام بعلم الأصول؟
الذين أقحموا علم الكلام في الأصول وملؤوا كتب الأصول بكثيرٍ من مباحث المنطق، بل بعضهم خصص المقدمة لعلم المنطق ليستعين بها على فهم ما سيأتي، وما سيرد في الكتاب من مباحث علم الكلام، هذا لا شك أنه أساء.
إذنً كيف يستمد علم الأصول من علم الكلام ونحن نقول: استمداده من علم التوحيد، ومن أي وجه يستمد علم الأصول من علم التوحيد؟
قالوا: لتوقف تصديق دلالة الأدلة الشرعية على معرفة الله عز وجل وعلى تصديق المبلغ عنه، وأيضاً يستمد هذا العلم من اللغة العربية؛ لأنها لغة الكتاب والسنة، فالاستدلال بهما يتوقف على فهم معانيهما، وبعض الناس يقلل من شأن اللغة العربية بالنسبة لطالب العلم الشرعي، وهو لا يعرف أن بعض المسائل التي اختلف فيها أهل العلم سبب الخلاف فيها الخلاف في إعرابها.
পরিভাষার ক্ষেত্রে আপত্তি করা হবে; কারণ এটি শরয়ী দলীলসমূহের পরিপন্থী, এটি ফারায়েয শাস্ত্রে যা নির্ধারিত হয়েছে তার পরিপন্থী এবং এর বাইরে অন্যান্য অভিভাবকত্বের ক্ষেত্রেও পরিপন্থী যা আসাবাদের (পিতার দিককার আত্মীয়) জন্য সাব্যস্ত, জাবিল আরহামদের (দূরবর্তী আত্মীয়) জন্য নয়। এটি শরিয়তে যা নির্ধারিত হয়েছে তার বিরোধী। যদি কেউ বলে: আমার এলাকার মানুষ স্ত্রীর পিতাকে 'মামা' বলে ডাকে আর আমি তাকে 'চাচা' বলি অথবা এর উল্টোটা করি, তবে কি আমরা বলব যে: পরিভাষার ক্ষেত্রে কোনো বিতর্ক নেই? স্ত্রীর পিতাকে 'মামা' বলা হোক বা 'চাচা', তাতে কি কোনো পার্থক্য আছে? পরিভাষার ক্ষেত্রে কোনো বিবাদ নেই।
আর একারণেই ইমাম বগভী (রাহিমাহুল্লাহ) যখন তাঁর কিতাব 'আল-মাসা-বিহ'-কে 'সহীহ' ও 'হাসান'—এই দুই ভাগে ভাগ করেছিলেন, তখন তাঁর পরিভাষার ব্যাপারে আপত্তি তোলা হয়েছিল; কারণ এটি ইলমে হাদীসে যা প্রতিষ্ঠিত তার পরিপন্থী। কেননা সুনান গ্রন্থসমূহের মধ্যে সহীহ হাদীসও রয়েছে, আবার যয়ীফ হাদীসও রয়েছে। তাঁর মূলনীতি ছিল যে, যা বুখারী ও মুসলিম তথা সহীহায়নে রয়েছে তা-ই 'সহীহ', আর যা সুনান গ্রন্থসমূহে রয়েছে তা-ই 'হাসান'। এই মূলনীতিটি সীমাবদ্ধ করা আবশ্যক, একে ঢালাওভাবে প্রয়োগ করা ঠিক নয়:
আর বগভী মাসাবীহকে বিভক্ত করেছেন
… সহীহ ও হাসানের দিকে ঝুঁকে
যে হাসান হলো তা-ই যা তারা সুনান গ্রন্থসমূহে বর্ণনা করেছেন
… তাঁর এই উভয় পরিভাষার ওপর অন্যগণ আপত্তি করেছেন
সুতরাং পরিভাষা যদি শরিয়তে নির্ধারিত কোনো বিষয়ের পরিপন্থী হয় অথবা কোনো শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণ যা একমত হয়েছেন তার বিরোধী হয়, তবে সেক্ষেত্রে আপত্তি উত্থাপন করা হবে।
এই ইলমের উৎস: তাঁরা বলেন, এটি তিনটি বিষয় হতে গৃহীত। উসূলে ফিকহের কিতাবসমূহে তাঁরা বলেন: এটি আরবী ভাষা, ইলমে কালাম এবং আহকামের সঠিক ধারণা থেকে গৃহীত। এই ইলমগুলো থেকে এটি কীভাবে গৃহীত হয়? তাঁরা ইলমে কালামকে এই শাস্ত্রের উৎসসমূহের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, কিন্তু কোন দিক থেকে? ইলমে কালামের সাথে উসূলে ফিকহের সম্পর্ক কী?
যারা উসূলে ফিকহের মধ্যে ইলমে কালামকে জোরপূর্বক প্রবেশ করিয়েছেন এবং উসূলে ফিকহের কিতাবগুলোকে মানতিকের (তর্কশাস্ত্র) বহু আলোচনায় পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন, এমনকি তাদের কেউ কেউ মানতিকের জন্য একটি বিশেষ ভূমিকাও নির্ধারণ করেছেন যাতে এর মাধ্যমে পরবর্তীতে যা আসবে এবং কিতাবে ইলমে কালামের যেসব আলোচনা উল্লিখিত হবে তা বুঝতে সহায়ক হয়—সন্দেহ নেই যে তারা অন্যায় করেছেন।
তাহলে কীভাবে উসূলে ফিকহ ইলমে কালাম থেকে গৃহীত হবে যেখানে আমরা বলছি: এর উৎস হলো ইলমে তাওহীদ? আর কোন দিক থেকে উসূলে ফিকহ ইলমে তাওহীদ থেকে গৃহীত হবে?
তারা বলেন: কারণ শরয়ী দলীলসমূহের নির্দেশনার সত্যতা নির্ভর করে মহান আল্লাহ তা'আলার পরিচয় লাভের ওপর এবং তাঁর পক্ষ থেকে যিনি বিধান পৌঁছে দেন তাঁর সত্যতা স্বীকার করার ওপর। এছাড়াও এই ইলম আরবী ভাষা থেকে গৃহীত; কারণ এটি কুরআন ও সুন্নাহর ভাষা। তাই এই দুই উৎস থেকে দলীল গ্রহণ করা তাদের অর্থ বোঝার ওপর নির্ভরশীল। অথচ কিছু মানুষ ইলমে দ্বীনের শিক্ষার্থীর জন্য আরবী ভাষার গুরুত্বকে খাটো করে দেখে, অথচ সে জানে না যে আলেমগণের মতপার্থক্যের অনেক বিষয়ের কারণ হলো ই'রাব বা ব্যাকরণগত অবস্থানের পার্থক্য।
(খণ্ড: ১)
শারহুল ওয়ারাকাত - আব্দুল কারীম আল খুদাইর
(পৃষ্ঠা: ১১)
((ذكاة الجنين ذكاةُ أمه)): قال بعضهم: ((ذكاةُ الجنين ذكاةَ أمه)): تبعاً لتغير الإعراب تغير الحكم، فالذي يقول: ذكاةُ الجنين -وهم الأكثر- ذكاةُ أمه، يقول: ذكاةُ الجنين هي ذكاةُ أمه فلا يحتاج إلى تذكية، والذي يقول: ذكاةُ الجنين ذكاةَ أمه، يقول هو منصوب على نزع الخافض، فتكون ذكاته كذكاة أمه فلا بد من تذكيته، عند أصحاب القول الأول لا يحتاج إلى تذكية، إذا ذكيت أمه وخرج من بطنها ميتاً خلاص ذكاة أمه تكفي، والذين يقولون: ذكاةُ الجنين ذكاةَ أمه يقولون: لا بد من تذكيته كذكاة أمه، والمسألة معروفة.
من أهل العلم من يقول: إن من يلحن في النصوص فإنه يدخل في حديث من كذب، ((من كذب عليّ متعمداً فليتبوأ مقعده من النار))، إذا قلت: إنما الأعمالَ بالنيات، هل قال الرسول عليه الصلاة والسلام: إنما الأعمالَ بالنيات أو تكون كذبت عليه حينئذٍ؟ لأنه قال: ((إنما الأعمالُ بالنيات))، وهكذا.
فشأن العربية في فهم نصوص الكتاب والسنة أمر لا يخفى على أحد، بل لا بد من العناية بعلم العربية؛ كي نفهم الكتاب والسنة.
مما يستمد .. ، أو يستمد أصول الفقه من الأحكام الشرعية، إيش معنى الأحكام الشرعية؟
هذا يريد رفع الصوت، وهذا يقول: صوتي ليس واضحاً .. مدري والله!
قالوا: مما يستمد منه علم الأصول الأحكام الشرعية، كيف يستمد الأصول من الفروع؟ كيف يستمد الأصول من الفروع؟
المراد أنه يستمد من تصور هذه الأحكام؛ ليتمكّن من إيضاح المسائل الأصولية بضرب الأمثلة الفرعية.
لا شك أن الاستمداد من هذه العلوم إنما ذكرها من ذكرها بعد أن نظر في واقع كتب الأصول، سبر كتب الأصول ونظر في واقعها وجدها مشتملة على هذه الأمور، لوجود الأمثلة من الأحكام الشرعية؛ لتوضيح المسائل الأصولية قالوا: إن الأصول مستمد من تصور هذه الأحكام.
لا شك أن الأصولي لا بد أن يكون على معرفة ودراية بكثيرٍ من المسائل الفرعية؛ ليتمكّن من توضيح هذا العلم.
وهل هذا العلم مأخوذ بعد النظر في الفروع؟
((ভ্রূণের জবেহ তার মায়ের জবেহ-ই)): কেউ কেউ বলেছেন: ((ভ্রূণের জবেহ তার মায়ের জবেহের মতো)): ব্যাকরণিক পরিবর্তনের অনুবর্তী হয়ে বিধানেরও পরিবর্তন ঘটে। সুতরাং যারা বলেন—এবং তারাই সংখ্যাগুরু—ভ্রূণের জবেহ (পেশ বা রাফ’ সহকারে) তার মায়ের জবেহ-ই, তারা বলেন: ভ্রূণের জবেহ মূলত তার মায়ের জবেহের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়ে যায়; ফলে সেটিকে আলাদাভাবে জবেহ করার প্রয়োজন নেই। আর যারা বলেন: ভ্রূণের জবেহ তার মায়ের জবেহের মতো (যবর বা নাসব সহকারে), তারা বলেন এটি উহ্য অব্যয় বা 'নজউল খাফিয' এর কারণে নাসব প্রাপ্ত হয়েছে; ফলে ভ্রূণের জবেহ হতে হবে তার মায়ের জবেহের ন্যায়, অর্থাৎ সেটিকেও অবশ্যই জবেহ করতে হবে। প্রথম মতাবলম্বীদের নিকট আলাদাভাবে জবেহ করার প্রয়োজন নেই; যদি মা-কে জবেহ করা হয় এবং তার গর্ভ থেকে সেটি মৃত অবস্থায় বের হয়, তবে মায়ের জবেহ-ই যথেষ্ট। আর যারা বলেন: "ভ্রূণের জবেহ তার মায়ের জবেহের মতো", তারা বলেন: তার মায়ের জবেহের ন্যায় একেও জবেহ করা আবশ্যক। বিষয়টি সুপরিচিত।
আলিমদের মধ্যে এমন কেউ কেউ আছেন যারা বলেন: যারা মূল পাঠে ভুল উচ্চারণ বা ব্যাকরণিক ত্রুটি করে, তারা সেই ব্যক্তির হাদিসের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায় যে মিথ্যারোপ করেছে: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যারোপ করল, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়"। আপনি যদি বলেন: "নিশ্চয়ই কর্মসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল" (আ’মালা শব্দে যবর দিয়ে), তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি "নিশ্চয়ই কর্মসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল" (আ’মালা শব্দে যবর দিয়ে) বলেছিলেন? নাকি আপনি তখন তাঁর ওপর মিথ্যারোপ করলেন? কারণ তিনি বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই কর্মসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল" (আ’মালু শব্দে পেশ দিয়ে)। এভাবেই বিষয়টি বুঝতে হবে।
সুতরাং কুরআন ও সুন্নাহর ভাষ্য অনুধাবনের ক্ষেত্রে আরবি ভাষার গুরুত্ব কারো কাছে অস্পষ্ট নয়; বরং কুরআন ও সুন্নাহ বোঝার জন্য আরবি বিজ্ঞানের প্রতি যত্নশীল হওয়া অপরিহার্য।
যা থেকে উপকরণ গ্রহণ করা হয়... অথবা উসূলে ফিকহ সংগৃহীত হয় শরয়ি আহকাম বা বিধানাবলি থেকে; শরয়ি আহকাম বা বিধানাবলি বলতে কী বোঝায়?
ইনি আওয়াজ বড় করতে বলছেন, আর উনি বলছেন: আমার কণ্ঠস্বর স্পষ্ট নয়... আল্লাহই ভালো জানেন!
তারা বলেছেন: যে বিষয়গুলো থেকে উসূল বিজ্ঞান উপকরণ গ্রহণ করে তা হলো শরয়ি আহকাম। উসূল কীভাবে ফুরু বা শাখা-প্রশাখা থেকে সংগৃহীত হতে পারে? উসূল কীভাবে ফুরু থেকে সংগৃহীত হতে পারে?
এর উদ্দেশ্য হলো—এই বিধানগুলোর ধারণা থেকে উপকরণ গ্রহণ করা; যাতে শাখা-প্রশাখার উদাহরণ প্রদানের মাধ্যমে উসূলের মাসআলাগুলো স্পষ্ট করা সম্ভব হয়।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই বিজ্ঞানগুলো থেকে উসূলের উপকরণ গ্রহণের বিষয়টি তারাই উল্লেখ করেছেন যারা উসূলের কিতাবসমূহের বাস্তব অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছেন। তারা উসূলের কিতাবসমূহ নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করেছেন এবং এগুলোর বাস্তব অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে দেখেছেন যে, কিতাবগুলো এই বিষয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে আছে। উসূলের মাসআলাগুলো স্পষ্ট করার জন্য শরয়ি বিধানাবলি থেকে উদাহরণ বিদ্যমান থাকার কারণে তারা বলেছেন: উসূলে ফিকহ এই বিধানগুলোর ধারণা থেকে সংগৃহীত।
নিঃসন্দেহে একজন উসূলবিদের জন্য বহু শাখা-প্রশাখা বা ফুরু সংক্রান্ত মাসআলা সম্পর্কে জ্ঞান ও প্রজ্ঞা থাকা আবশ্যক; যাতে তিনি এই বিজ্ঞানকে সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হন।
আর এই বিজ্ঞান কি ফুরু বা শাখা-প্রশাখা পর্যবেক্ষণের পর গ্রহণ করা হয়েছে?
(খণ্ড: ১)
শারহুল ওয়ারাকাত - আব্দুল কারীম আল খুদাইর
(পৃষ্ঠা: ১২)
يعني إذا نظرنا إلى جملة من الفروع وجدناها تنطوي أو تنضوي تحت أصلٍ واحد فاستنبطنا هذا الأصل من مجموع هذه الفروع، وهذا ما يعرف بالقواعد الأصولية، أو أن هذه الفروع مأخوذة من تلك الأصول؟ أو كل واحد مأخوذ من الثاني فيلزم عليه الدور؟
يعني مقتضى تسميتهم هذا العلم علم الأصول أن الفروع مأخوذة من هذه الأصول، وهو مقتضى الوجود، وأن هذا العلم وجد بعد معرفة الأحكام وتصور الأحكام، قلنا، أو قال بعضهم: إن هذا العلم مستمد من الأحكام الشرعية، نعم، لو قلنا: إن كل واحد مستمد من الثاني قلنا: يلزم عليه الدور، قلنا: يلزم عليه الدور.
لا شك أن المسائل والأحكام الشرعية مستمدة من كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم وهذا العلم -أعني علم الأصول- يعين على فهم الكتاب والسنة الذَيْنِ تستمد وتستنبط منهما الأحكام.
حكمه: حكم هذا العلم فرض كفاية، حكم تعلم هذا العلم فرض كفاية؛ كغيره من العلوم الشرعية، وقد يتعيّن على بعض الأشخاص إذا لم يوجد غيره ممن يستطيع القيام به ممن ينوء بهذا العلم، قد يتعين على بعض الأشخاص؛ لأن فروض الكفاية إذا لم يقم بها أحد أثم الناس، وإذا قام بها من يكفي سقط الإثم عن الباقين.
مسائل هذا العلم: مباحثه وقضاياه التي تذكر في كتبه مما يحتاج إليه.
ثم قال في البيت الأخير:
والبعض بالبعض اكتفى: يعني أن بعض الناس اكتفى ببعض هذه المبادئ، لكن من درى الجميع حاز الشرفا: كذا قيل، ويحتمل أن يكون المعنى: أن بعض الناس اكتفى ببعض مسائل العلم، بعض الناس اكتفى ببعض مسائل العلم دون بعض، أو ببعض العلوم دون بعض، ومن درى وعرف الجميع حاز من المسائل العلمية أو من العلوم .. ، قد حاز الشرف في الدنيا والآخرة، والأجر والثواب العظيم من الله سبحانه وتعالى.
بسم الله الرحمن الرحيم، الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، أما بعد: فقد قال إمام الحرمين عبد الملك بن عبد الله الجويني رحمه الله:
অর্থাৎ, আমরা যদি কতগুলো শাখা-উপশাখার (ফুরু) প্রতি লক্ষ্য করি এবং দেখি যে সেগুলো একটি মূলনীতির (আসল) অধীনে অন্তর্ভুক্ত, তখন আমরা সেই শাখাগুলোর সমষ্টি থেকে এই মূলনীতিটি উদ্ভাবন করি। এটিই উসূলী মূলনীতি হিসেবে পরিচিত। অথবা এই শাখাগুলো কি সেই মূলনীতিগুলো থেকে নেওয়া হয়েছে? নাকি প্রতিটি অপরটি থেকে নেওয়া হয়েছে, যার ফলে চক্রাকার আবর্তনের (দাওর) সৃষ্টি হয়?
অর্থাৎ, তাঁদের এই শাস্ত্রকে ‘ইলমুল উসূল’ (মূলনীতির শাস্ত্র) নামকরণ করার দাবি হলো শাখাগুলো এই মূলনীতিগুলো থেকে গৃহীত, আর এটাই অস্তিত্বের দাবি। আর এই শাস্ত্রটি বিধানসমূহ (আহকাম) জানা এবং বিধানসমূহের স্বরূপ অনুধাবনের পরে অস্তিত্ব লাভ করেছে। আমরা বলেছি, অথবা তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন: এই শাস্ত্রটি শরীয়তের বিধানগুলো থেকে গৃহীত। হ্যাঁ, যদি আমরা বলি যে প্রতিটি অপরটি থেকে গৃহীত, তবে আমরা বলব: এতে চক্রাকার আবর্তনের (দাওর) সৃষ্টি হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে, আমরা বলব: এতে চক্রাকার আবর্তনের সৃষ্টি হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, শরীয়তের মাসআলা এবং বিধানগুলো আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ থেকে গৃহীত। আর এই শাস্ত্র—অর্থাৎ ইলমুল উসূল—আল্লাহর কিতাব ও সুন্নাহ বুঝতে সাহায্য করে, যা থেকে বিধানগুলো গৃহীত ও উদ্ভাবিত হয়।
এর বিধান: এই শাস্ত্রের বিধান হলো ফরজে কিফায়া। এই শাস্ত্র শিক্ষা করার বিধান হলো ফরজে কিফায়া; অন্যান্য শরীয়তি শাস্ত্রের মতোই। তবে কোনো কোনো ব্যক্তির জন্য এটি ফরজে আইন (আবশ্যক) হয়ে যেতে পারে যখন অন্য কেউ এটি পালন করার মতো না থাকে যে এই শাস্ত্রের ভার বহন করতে সক্ষম। এটি নির্দিষ্ট ব্যক্তির ওপর আবশ্যক হতে পারে; কারণ ফরজে কিফায়া যদি কেউ পালন না করে তবে সকল মানুষ গুনাহগার হয়, আর যদি পর্যাপ্ত সংখ্যক লোক তা পালন করে তবে বাকিদের ওপর থেকে গুনাহ রহিত হয়ে যায়।
এই শাস্ত্রের মাসআলাসমূহ: এর সেই সকল আলোচনা এবং বিষয়বস্তু যা এর কিতাবসমূহে প্রয়োজনীয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
তারপর তিনি শেষ পঙ্ক্তিতে বলেছেন:
‘কেউ কেউ আংশিক নিয়ে তুষ্ট থাকে’: অর্থাৎ কিছু মানুষ এই মূলনীতিগুলোর কোনো কোনোটির মাধ্যমেই ক্ষান্ত থাকে। ‘কিন্তু যে ব্যক্তি সমস্ত বিষয় জানল সে সম্মান অর্জন করল’: এমনটিই বলা হয়েছে। এর অর্থ এমন হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে যে: কিছু মানুষ ইলমের কিছু মাসআলা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকে, কিছু মানুষ ইলমের কিছু অংশ গ্রহণ করে অন্যগুলো বর্জন করে, অথবা কিছু শাস্ত্র গ্রহণ করে অন্যগুলো ছেড়ে দেয়। আর যে ব্যক্তি এই সকল ইলমী মাসআলা বা শাস্ত্রসমূহ সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান লাভ করল, সে দুনিয়া ও আখেরাতে মর্যাদা এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার পক্ষ থেকে মহান প্রতিদান ও সওয়াব হাসিল করল।
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর: ইমামুল হারামাইন আব্দুল মালিক বিন আব্দুল্লাহ আল-জুওয়াইনী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
শারহুল ওয়ারাকাত - আব্দুল কারীম আল খুদাইর
(পৃষ্ঠা: ১৩)
هذه ورقات تشتمل على معرفة فصول من أصول الفقه، وذلك مؤلف من جزئين مفردين أحدهما: الأصول، والثاني: الفقه، فالأصل ما يبنى عليه غيره، والفرع ما يبنى على غيره، والفقه معرفة الأحكام الشرعية التي طريقها الاجتهاد.
يقول المؤلف -رحمه الله تعالى-:
بسم الله الرحمن الرحيم: المؤلف: افتتح الكتاب أو الرسالة المختصرة الموجزة بالبسملة؛ اقتداءً بالقرآن الكريم حيث افتتحت جميع سوره -عدا براءة- بالبسملة، وعملاً بحديث: ((كل أمرٍ ذي بال لا يبدأ فيه ببسم الله الرحمن الرحيم فهو أبتر)): هذا يستدل به كثير من أهل العلم على افتتاح ما يريدون افتتاحه بالبسملة أو الحمدلة، والحديث بجميع طرقه وألفاظه حكم عليه جمع من أهل العلم بالضعف وإن حسّن بعضهم لفظ الحمد، وهو مع ضعفه يستدل به الجمهور الذين يرون العمل بالضعيف في الفضائل وهذا منها، لكن القول المرجح أن الضعيف لا يعمل به لا في الأحكام ولا في الفضائل ولا في المغازي ولا في التفسير ولا في العقائد من باب أولى وهكذا، فالحديث ضعيف، لكن العمدة في ذلك الاقتداء بالقرآن الكريم.
جاء الأمر بالتسمية في مواضع: كالأكل والشرب والدخول والخروج وما أشبه ذلك، وليكن هذا منها، بل من أهمها.
لم يذكر المؤلف -رحمه الله تعالى- الحمدلة والتشهد والصلاة على النبي عليه الصلاة والسلام مبالغةً في الاختصار، ويحتمل أن يكون قد أتى بها لفظاً، يجاب عن صنيع المؤلف بأنه هداه إلى ذلك الاختصار الشديد، والاحتمال قائم في كونه جاء بهذه الأمور لفظاً، كما أجيب عن الإمام أحمد -رحمه الله تعالى- في تركه الصلاة على النبي عليه الصلاة والسلام في بعض المواضع عند رواية الحديث، قالوا: لعله يأتي بها لفظاً وإن لم يكتبها.
এটি এমন কিছু পৃষ্ঠা যা উসূলে ফিকহের বিভিন্ন পরিচ্ছেদের জ্ঞানকে অন্তর্ভুক্ত করে। এটি দুটি স্বতন্ত্র অংশের সমন্বয়ে গঠিত, যার একটি হলো 'উসূল' (মূলনীতি) এবং দ্বিতীয়টি হলো 'ফিকহ' (আইনতত্ত্ব)। 'আসল' বা মূল হলো যার ওপর অন্য কিছু ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে থাকে, আর 'ফার' বা শাখা হলো যা অন্য কিছুর ওপর ভিত্তি করে নির্মিত হয়। আর ফিকহ হলো এমন শরয়ী বিধানাবলির জ্ঞান যা ইজতিহাদের মাধ্যমে অর্জিত হয়।
লেখক (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেন:
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে: লেখক এই সংক্ষিপ্ত ও সারগর্ভ গ্রন্থ বা রিসালাটি বিসমিল্লাহর মাধ্যমে শুরু করেছেন; পবিত্র কুরআনের অনুসরণে, যেহেতু বারাআত (সূরা আত-তাওবাহ) ব্যতীত কুরআনের সকল সূরাই বিসমিল্লাহর মাধ্যমে শুরু হয়েছে। এছাড়া এই হাদিসের ওপর আমলস্বরূপ: "প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম দ্বারা শুরু করা হয় না, তা লেজকাটা (বরকতহীন)।" অনেক আলিম কোনো কিছু শুরু করার সময় বিসমিল্লাহ বা আলহামদুলিল্লাহ বলার ক্ষেত্রে এই হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেন। হাদিসটি এর সকল সূত্র ও শব্দসহ একদল আলিমের নিকট দুর্বল হিসেবে গণ্য, যদিও কেউ কেউ 'আল-হামদু' শব্দ সংবলিত বর্ণনাটিকে হাসান বলেছেন। হাদিসটি দুর্বল হওয়া সত্ত্বেও জুমহুর (অধিকাংশ) উলামায়ে কিরাম এটি দ্বারা দলিল পেশ করেন, যারা মনে করেন ফাযায়েলের ক্ষেত্রে দুর্বল হাদিস অনুযায়ী আমল করা যায় এবং এটিও তার অন্তর্ভুক্ত। তবে প্রাধান্যপ্রাপ্ত মত হলো, দুর্বল হাদিস অনুযায়ী আমল করা যাবে না—চাই তা আহকাম (বিধান), ফাযায়েল (মর্যাদা), মাগাযী (যুদ্ধবিগ্রহ), তাফসীর কিংবা আকীদা সংক্রান্ত বিষয়েই হোক না কেন, বরং আকীদার ক্ষেত্রে তা আরও বেশি প্রযোজ্য। সুতরাং হাদিসটি দুর্বল, তবে এ ক্ষেত্রে মূল ভিত্তি হলো পবিত্র কুরআনের অনুসরণ করা।
বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিসমিল্লাহ বলার নির্দেশ এসেছে: যেমন পানাহার, প্রবেশ করা, বের হওয়া এবং অনুরূপ অন্যান্য কাজ। এটিও (লেখা শুরু করা) যেন তার অন্তর্ভুক্ত হয়, বরং এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
লেখক (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) সংক্ষেপণের আধিক্যের কারণে আলহামদুলিল্লাহ, তাশাহহুদ এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরুদ পাঠের বিষয়টি উল্লেখ করেননি। এমন সম্ভাবনা রয়েছে যে তিনি এগুলো মুখে উচ্চারণ করেছিলেন। লেখকের এই কাজের উত্তরে বলা যায় যে, এই চরম সংক্ষিপ্ত করার বিষয়টি তাকে পরিচালিত করেছে। আর সম্ভাবনা বিদ্যমান যে তিনি এই বিষয়গুলো মুখে পাঠ করেছিলেন, যেমনটি ইমাম আহমাদ (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) সম্পর্কে উত্তর দেওয়া হয়েছে যখন তিনি হাদিস বর্ণনার সময় কিছু ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরুদ পড়ার বিষয়টি উল্লেখ করতেন না। তারা বলেন: সম্ভবত তিনি তা মুখে পাঠ করতেন যদিও তা লিখতেন না।
(খণ্ড: ১)
শারহুল ওয়ারাকাত - আব্দুল কারীম আল খুদাইর
(পৃষ্ঠা: ১৪)
فهذه: بسم الله الرحمن الرحيم، فهذه: في بعض النسخ: هذه، بدون الفاء، بسم الله الرحمن الرحيم، فهذه ورقات: وفي بعض النسخ: هذه ورقات، والفاء إن وجدت فهي واقعة في جواب (أما بعد) المقدرة التي يؤتى بها للانتقال من موضوعٍ إلى آخر، ومن أسلوبٍ آخر، أما بعد: فهذه ورقات تشتمل على معرفة فصول من أصول الفقه: فالفاء واقعة في جواب (أما بعد): وأما: حرف شرط، وبعد: قائم مقام الشرط، وجواب الشرط الفاء وما دخلت عليه، ما دخلت عليه الفاء.
والإتيان بـ (أما بعد): سنة ثبتت عن النبي عليه الصلاة والسلام في أكثر من ثلاثين حديثاً، فلا يليق بطالب العلم تركها، طالب العلم المؤتسي بالنبي عليه الصلاة والسلام عليه أن يلازمها.
أما بعد: ولا تقوم الواو مقام أما، وإن جرى كثير من المؤلفين والمتحدثين على الاقتصار عليها دون أما، وأشار بعض من ألف من المتأخرين أنها تقوم مقامها، كما في شرح المواهب للزرقاني وغيره؛ نظراً لشيوعها وكثرتها، وإلا فالأصل (أما بعد).
ولا حاجة ولا داعي للإتيان بـ (ثم) قبلها، فإذا قلت: الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على عبده ورسوله نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، أما بعد، ما تقول ثم أما بعد، لا داعي لـ (ثم)؛ لأنها لم ترد بها النصوص، ولا توجد في أساليب أهل العلم من المتقدمين، وإن وجدت في بعض نسخ تفسير الطبري، لكنه لا داعي ولا حاجة إليها؛ النصوص الثابتة عن النبي عليه الصلاة والسلام ((أما بعد)) بدون (ثم).
إن احتيج إلى (أما بعد) مرة ثانية للانتقال إلى موضعٍ آخر وأسلوب آخر عطفت على ما قبلها (ثم أما بعد)، إذا قلتها في الموضع الأول: (أما بعد) واحتجت إليها للفصل بين الموضوعين أو الأسلوبين تقول: (ثم أما بعد) لا بأس، وأهل العلم مختلفون في أول من قالها على ثمانية أقوال نجملها في قول الشاعر:
جرى الخلف أما بعد من كان بادئاً
… بها عدّ أقوال وداود أقرب
ويعقوب أيوب الصبور وآدم
… وقس وسحبان وكعب ويعرب
أقرب الأقوال أنه داود عليه السلام وأنها فصل الخطاب الذي أوتيه.
এটি: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। এটি: কিছু পাণ্ডুলিপিতে 'ফা' ব্যতীত কেবল 'এটি' রয়েছে। পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। এগুলো হলো কিছু পৃষ্ঠা: কিছু পাণ্ডুলিপিতে 'ফা' ব্যতীত কেবল 'এগুলো হলো কিছু পৃষ্ঠা' রয়েছে। আর 'ফা' অক্ষরটি যদি থাকে, তবে তা একটি উহ্য 'অতঃপর' (আম্মা বাদ)-এর জওয়াবে এসেছে, যা এক বিষয় থেকে অন্য বিষয়ে এবং এক বর্ণনাভঙ্গি থেকে অন্য বর্ণনাভঙ্গিতে উত্তরণের জন্য আনা হয়। অতঃপর: এগুলো হলো কিছু পৃষ্ঠা যা উসূলুল ফিকহ-এর কতিপয় অধ্যায়ের জ্ঞান সম্বলিত। এখানে 'ফা' অক্ষরটি 'অতঃপর' (আম্মা বাদ)-এর জওয়াবে এসেছে। আর 'আম্মা' হলো শর্তবাচক অব্যয় এবং 'বাদ' শর্তের স্থলাভিষিক্ত, আর শর্তের জওয়াব হলো 'ফা' এবং তার পরবর্তী অংশ যা 'ফা'-এর পরে দাখিল হয়েছে।
'অতঃপর' (আম্মা বাদ) বলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে ত্রিশটিরও বেশি হাদিসের মাধ্যমে প্রমাণিত একটি সুন্নাত। তাই ইলম অন্বেষণকারীর জন্য এটি বর্জন করা অনুচিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অনুসারী ইলম অন্বেষণকারীর উচিত এটি নিয়মিত পালন করা।
অতঃপর: 'ওয়াও' (এবং) বর্ণটি 'আম্মা'-এর স্থলাভিষিক্ত হয় না, যদিও অনেক লেখক ও বক্তা 'আম্মা' ব্যতীত কেবল এর ওপর সীমাবদ্ধ থাকার নীতি অনুসরণ করেছেন। পরবর্তী যুগের কিছু লেখক ইঙ্গিত দিয়েছেন যে এটি তার স্থলাভিষিক্ত হয়, যেমনটি যুরকানির 'শারহুল মাওয়াহিব' ও অন্যান্য গ্রন্থে রয়েছে; তাদের এই মতটি এর ব্যাপক প্রচলন ও আধিক্যের কারণে। অন্যথায় মূল পদ্ধতি হলো 'আম্মা বাদ' বলা।
এর আগে 'তারপর' (সুম্মা) যুক্ত করার কোনো প্রয়োজন বা অবকাশ নেই। সুতরাং আপনি যখন বলবেন: সকল প্রশংসা সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর জন্য, আর তাঁর বান্দা ও রাসূল আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক, অতঃপর (আম্মা বাদ); তখন 'তারপর অতঃপর' (সুম্মা আম্মা বাদ) বলবেন না। 'সুম্মা'-এর কোনো প্রয়োজন নেই; কারণ এটি কোনো দলিলে বর্ণিত হয়নি এবং পূর্ববর্তী আলেমদের বর্ণনাশৈলীতেও এটি পাওয়া যায় না। যদিও তফসির তাবারির কিছু পাণ্ডুলিপিতে এটি পাওয়া যায়, তবে এর কোনো প্রয়োজন বা অবকাশ নেই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে প্রমাণিত পাঠ হলো 'সুম্মা' ছাড়াই 'আম্মা বাদ'।
যদি অন্য কোনো বিষয়ে বা অন্য কোনো বর্ণনাভঙ্গিতে যাওয়ার জন্য দ্বিতীয়বার 'আম্মা বাদ' বলার প্রয়োজন হয়, তবে পূর্বেরটির সাথে সমন্বয় করে 'তারপর অতঃপর' (সুম্মা আম্মা বাদ) বলা যাবে। আপনি যদি প্রথম ক্ষেত্রে 'আম্মা বাদ' বলেন এবং পরে দুটি বিষয় বা পদ্ধতির মধ্যে পার্থক্যের জন্য এর প্রয়োজন হয়, তবে 'সুম্মা আম্মা বাদ' বলাতে কোনো অসুবিধা নেই। এটি সর্বপ্রথম কে বলেছেন, সে সম্পর্কে আলেমদের মাঝে আটটি মত রয়েছে, যা কবির এই উক্তিতে সংক্ষেপিত হয়েছে:
'আম্মা বাদ' সর্বপ্রথম কে শুরু করেছিলেন তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে
… এ বিষয়ে অনেকগুলো মত রয়েছে, তবে দাউদ-এর বিষয়টি অধিক নিকটতর
এবং ইয়াকুব, ধৈর্যশীল আইয়ুব ও আদম
… এবং কিসস, সাহবান, কাব ও ইয়ারুব
সবচেয়ে নিকটতর মত হলো তিনি দাউদ আলাইহিস সালাম এবং এটিই সেই 'ফাসলুল খিতাব' (সুস্পষ্ট ফয়সালাকারী বক্তব্য) যা তাঁকে প্রদান করা হয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
শারহুল ওয়ারাকাত - আব্দুল কারীম আল খুদাইর
(পৃষ্ঠা: ১৫)
و (بعد): قائم مقام الشرط، ظرف مبني على الضم؛ لحذف المضاف إليه مع كونه منوياً، ومعروف قبل وبعد والجهات الست لها ثلاث حالات، إن أضيفت أعربت، وإن قطعت عن الإضافة مع عدم نية المضاف إليه أعربت مع التنوين، وإن قطعت عن الإضافة مع نية المضاف إليه بنيت على الضم، {لِلَّهِ الْأَمْرُ مِن قَبْلُ وَمِن بَعْدُ} [(4) سورة الروم].
والإشارة فهذه: الأصل في المشار إليه أن يكون موجوداً حاضراً، فهذه: الإشارة هي إلى حاضر على كل حال، فإن كانت كتابة المقدمة بعد تأليف الكتاب صارت الإشارة إلى موجود في الأعيان، وإن كانت كتابة هذه المقدمة قبل تأليف الكتاب صارت الإشارة إلى حاضر في الذهن لا في الأعيان، يشير إلى ما في ذهنه من الكلام الذي سوف يفرغه في هذه الورقات.
فهذه ورقات تشتمل: ورقات جمع ورقة، جمع مؤنث سالم، وجموع السلامة من جموع القلة عند سيبويه، وعَبّر بذلك (هذه ورقات)؛ لأن هذا هو واقعها، هذه ورقات، عبر بذلك؛ لأن الواقع كذلك، ولكي ينشط القارئ لحفظها وفهمها ودرسها، كما قال تعالى في أيام الصيام: {أَيَّامًا مَّعْدُودَاتٍ} [(184) سورة البقرة]، فوصف الشهر بأنه أيام معدودات؛ تنشيطاً للمسلم على صيامها وتقليلاً لها.
فهذه ورقات تشتمل على معرفة فصول من أصول الفقه: تشتمل: تحتوي على معرفة، والمعرفة هي والعلم بمعنىً واحد عند جمع من أهل العلم، وفرق بعضهم بين المعرفة والعلم؛ لأن المعرفة تستلزم سبق الجهل، بخلاف العلم فإنه لا يستلزم سبق الجهل، ولذا يوصف الله سبحانه وتعالى بأنه عالم وعليم وعلَّام، ولا يوصف بأنه عارف؛ قالوا: لأن المعرفة تستلزم سبق الجهل، وجاء في الحديث: ((تعرف على الله في الرخاء يعرفك في الشدة)): قالوا هذا من باب المقابلة والمشاكلة في التعبير على أن دائرة الإخبار أوسع من دائرة الأسماء، إلى غير ذلك مما قاله أهل العلم.
على معرفة فصولٍ من أصول الفقه: فصول: جمع فصل، وهو اسم لطائفةٍ من المسائل العلمية، والفصل أو الفصول تندرج تحت الأبواب، ويندرج تحتها المسائل، والأبواب تندرج تحت الكتب.
এবং (এরপর): এটি শর্তের স্থলাভিষিক্ত এবং দম্মার (পেশ) ওপর ভিত্তি করে গঠিত অব্যয়; কারণ এর মুদাফ ইলাইহি (সম্বন্ধপদ) উহ্য রাখা হয়েছে এবং তার অর্থ মনে পোষণ করা হয়েছে। এটি সর্বজনবিদিত যে, 'আগে' (কাবলু), 'পরে' (বাদু) এবং ছয়টি দিক-নির্দেশক শব্দের তিনটি অবস্থা রয়েছে: যদি এগুলো মুদাফ (সম্বন্ধযুক্ত) হিসেবে ব্যবহৃত হয় তবে সেগুলো পরিবর্তনশীল (মু'রাব) হয়; আর যদি মুদাফ ইলাইহি উহ্য থাকে এবং তা মনে পোষণ করা না হয়, তবে তানউইনসহ পরিবর্তনশীল হয়; আর যদি মুদাফ ইলাইহি উহ্য থাকে কিন্তু তার অর্থ মনে পোষণ করা হয়, তবে তা দম্মার ওপর ভিত্তি করে অপরিবর্তনীয় (মাবনি) হয়। যেমন: {পূর্বের এবং পরের সকল ফয়সালা আল্লাহরই} [সূরা আর-রূম: ৪]।
আর ইশারা তথা 'এটি' (হা-যিহি): যাকে ইশারা করা হচ্ছে তার মূল নিয়ম হলো সেটি উপস্থিত বা বিদ্যমান থাকা। সুতরাং 'এটি' শব্দটি সর্বাবস্থায় উপস্থিত কোনো কিছুর প্রতি ইশারা করে। যদি কিতাব রচনার পর ভূমিকা লেখা হয়, তবে ইশারাটি হবে বাহ্যিক অস্তিত্বের প্রতি। আর যদি কিতাব রচনার পূর্বে এই ভূমিকা লেখা হয়, তবে ইশারাটি হবে মনের মধ্যে বিদ্যমান বিষয়ের প্রতি, বাহ্যিক কিছুর প্রতি নয়। লেখক তাঁর মনের মধ্যে থাকা সেই বক্তব্যের দিকে ইশারা করেন যা তিনি এই পৃষ্ঠাগুলোতে লিপিবদ্ধ করবেন।
'এগুলো কিছু পৃষ্ঠা যা অন্তর্ভুক্ত করে': 'ওয়ারাকাত' হলো 'ওয়ারাকাহ' (পৃষ্ঠা) শব্দের বহুবচন, যা স্ত্রীলিঙ্গবাচক নিয়মিত বহুবচন। সিবওয়াইহ-এর মতে এই জাতীয় বহুবচনগুলো অল্পতা নির্দেশক বহুবচন (জম' আল-কিল্লাত) হিসেবে গণ্য হয়। তিনি 'এগুলো কিছু পৃষ্ঠা' শব্দ দ্বারা এটি ব্যক্ত করেছেন কারণ এটিই এর বাস্তবতা। তিনি এটি এ কারণেও ব্যক্ত করেছেন যেন পাঠক এটি মুখস্থ করতে, বুঝতে এবং অধ্যয়ন করতে উৎসাহবোধ করে। যেমনটি আল্লাহ তাআলা সিয়ামের দিনগুলো সম্পর্কে বলেছেন: {গণনার কয়েকটি দিন} [সূরা আল-বাকারা: ১৮৪]। এখানে মাসটিকে 'গণনার কয়েকটি দিন' হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে মুসলিমদেরকে সিয়াম পালনে উৎসাহ দিতে এবং একে সহজ হিসেবে উপস্থাপন করতে।
'এগুলো কিছু পৃষ্ঠা যা উসূলুল ফিকহের কতিপয় অধ্যায়ের পরিচয়ের ওপর অন্তর্ভুক্ত': 'তাতামিলু' অর্থ হলো ধারণ করা বা 'পরিচয়' (মা'রিফাত) অন্তর্ভুক্ত করা। একদল আলিমের মতে 'মা'রিফাত' (পরিচয়) এবং 'ইলম' (জ্ঞান) একই অর্থবহ। তবে তাঁদের কেউ কেউ মা'রিফাত এবং ইলমের মধ্যে পার্থক্য করেছেন; কারণ মা'রিফাত অর্জনের পূর্বে অজ্ঞতা থাকা আবশ্যক হয়, পক্ষান্তরে ইলমের ক্ষেত্রে পূর্বে অজ্ঞতা থাকা আবশ্যক নয়। এই কারণেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাকে 'আলিম' (পরিজ্ঞাত), 'আলিম' (জ্ঞানী) এবং 'আল্লাম' (মহাজ্ঞানী) হিসেবে গুণান্বিত করা হয়, কিন্তু তাঁকে 'আরিফ' বলা হয় না। তাঁরা বলেন: কারণ মা'রিফাত বা পরিচয়ের আগে অজ্ঞতা থাকা অবধারিত। আর হাদিসে এসেছে: ((সুখের সময়ে তুমি আল্লাহর পরিচয় লাভ করো, তবে তিনি তোমাকে কষ্টের সময়ে চিনবেন)): তাঁরা বলেন, এটি বালাগাত বা অলঙ্কারশাস্ত্রের সামঞ্জস্য বিধানের অন্তর্ভুক্ত, অথবা এটি সংবাদ প্রদানের বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যা আল্লাহর নামসমূহের গণ্ডির চেয়েও প্রশস্ত। আলিমগণ এ জাতীয় আরও অনেক ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
'উসূলুল ফিকহের কতিপয় অধ্যায়ের (ফুসুল) পরিচয়ের ওপর': 'ফুসুল' শব্দটি 'ফাসল'-এর বহুবচন, যা কতগুলো ইলমি বিষয়ের সমষ্টির নাম। ফাসল বা অধ্যায়গুলো 'আবওয়াব' বা পরিচ্ছেদের অধীনে থাকে, আর ফাসল-এর অধীনে থাকে মাসআলাসমূহ। অন্যদিকে পরিচ্ছেদগুলো 'কিতাব' বা বইয়ের অধীনে থাকে।
(খণ্ড: ১)
শারহুল ওয়ারাকাত - আব্দুল কারীম আল খুদাইর
(পৃষ্ঠা: ১৬)
هذا التقسيم اصطلاحي عرفي من العرف الخاص عند أهل العلم، يؤلفون الكتب على هذا: كتاب يشتمل على كتب، وهذه الكتب تشتمل على أبواب، وهذه الأبواب تشتمل على فصول، والفصول على مسائل إلى غير ذلك، وهذا أغلبي إذ قد توجد الكتب والأبواب دون الفصول، وقد توجد الأبواب دون الكتب، وقد توجد الفصول دون الأبواب، وهكذا، لكن الغالب هكذا.
على فصولٍ من أصول الفقه: على فصول من أصول الفقه ..
بالنسبة للأسئلة يا إخوان: المتعلقة بالكتاب ومباحث الكتاب سوف نجيب عليها بإذن الله عز وجل وما عدا ذلك مما هو خارج الكتاب فالشيخ موجود، ولا يفتى ومالك في المدينة -كما قال أهل العلم- وليس لنا أن نتقدم بين يدي الشيخ فنجيب بحضرته، فالأمور التي تتعلق بالكتاب لا مندوحة لنا من الجواب عنها، لكن الذي لا علاقة له بالكتاب فالشيخ موجود أمدّ الله في عمره.
فعلى كل حال تفرز الأسئلة من قبل الإخوان ويجاب عنها في الدرس اللاحق -إن شاء الله تعالى- وهكذا سوف تكون الطريقة، إجابة اليوم تكون غداً وهكذا يفرزها الإخوان، ما يتعلق بالكتاب ومسائل الكتاب نجيب عنها، وما عدا ذلك يرجأ حتى يحضر الشيخ.
الآن الشيخ حضر وإلا .. ؟
طالب:. . . . . . . . .
انتهى الوقت وإلا .... ؟
طالب:. . . . . . . . .
وين الإخوان؟
طالب:. . . . . . . . .
ما لهم حد معين .. ؟
طالب:. . . . . . . . .
يعني نواصل على طول لما يجي الشيخ؟ .. يعني ما في فاصل
… من أجل الإخوان .. ؟
طالب:. . . . . . . . .
على كل حال ..
يقول المؤلف -رحمه الله تعالى-:
فهذه ورقات تشتمل على معرفة فصول من أصول الفقه، وذلك مؤلف من جزئين مفردين: يعني أن أصول الفقه .. ، هذه أو هذا التركيب مؤلف من جزئين مفردين، يعني أن هذا العلم المسمى بهذا الاسم المركب من هاتين الكلمتين المفردتين: أصول وفقه، فله حينئذٍ أكثر من تعريف، تعريف باعتبار جزئي المركب، وتعريف باعتباره علم على هذا الفن المعروف، تعريف باعتبار جزئي المركب؛ لأنه قال: وذلك مؤلف من جزئين مفردين: أصول وفقه، من جزئين: الجزء الأول أصول، والجزء الثاني الفقه، مفردين: ما المراد بالإفراد هنا؟
ما يقابل
… نعم؟
طالب:. . . . . . . . .
এই বিভাগটি হলো আহলে ইলমদের নিকট প্রচলিত বিশেষ এক পরিভাষাগত পদ্ধতি। তাঁরা এই রীতিতে কিতাবসমূহ সংকলন করেন: একটি কিতাব যা কয়েকটি কিতাবের (অধ্যায়) সমষ্টি, আর এই কিতাবগুলো কয়েকটি বাব (পরিচ্ছেদ) সম্বলিত, আর এই বাবগুলো কয়েকটি ফসল (অনুচ্ছেদ) সম্বলিত, আর ফসলগুলো কয়েকটি মাসয়ালা (বিষয়) সম্বলিত—ইত্যাদি। এটিই অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঘটে থাকে; কেননা কখনও কখনও ফসল ছাড়াই কিতাব ও বাব পাওয়া যায়, আবার কখনও কিতাব ছাড়াই বাব পাওয়া যায়, আবার কখনও বাব ছাড়াই ফসল পাওয়া যায়—এভাবেই বিন্যস্ত হয়। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিন্যাস এমনটাই থাকে।
উসুলুল ফিকহ-এর কয়েকটি অনুচ্ছেদের উপর: উসুলুল ফিকহ-এর কয়েকটি অনুচ্ছেদের উপর...
প্রশ্নের ব্যাপারে হে ভাইয়েরা: কিতাব এবং কিতাবের আলোচনার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর উত্তর আমরা ইনশাআল্লাহ প্রদান করব। এর বাইরে যা কিছু কিতাবের বহির্ভূত বিষয়, সেগুলোর জন্য শাইখ উপস্থিত রয়েছেন। আহলে ইলমগণ যেমন বলেন—'মদিনায় শাইখ মালিকের উপস্থিতিতে ফতোয়া দেওয়া যায় না'। শাইখের উপস্থিতিতে অগ্রসর হয়ে উত্তর দেওয়া আমাদের জন্য সমীচীন নয়। সুতরাং কিতাবের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর উত্তর দেওয়া আমাদের জন্য অপরিহার্য, কিন্তু যে বিষয়গুলোর সাথে কিতাবের কোনো সম্পর্ক নেই, তার জন্য শাইখ উপস্থিত আছেন, আল্লাহ তাঁর হায়াত বৃদ্ধি করুন।
যাহোক, ভাইদের পক্ষ থেকে প্রশ্নগুলো বাছাই করা হবে এবং পরবর্তী পাঠে সেগুলোর উত্তর দেওয়া হবে—ইনশাআল্লাহ। পদ্ধতিটি এভাবেই চলবে; আজকের উত্তর আগামীকাল দেওয়া হবে এবং এভাবেই ভাইয়েরা সেগুলো বাছাই করবেন। কিতাব ও কিতাবের মাসয়ালা সম্পর্কিত বিষয়গুলোর উত্তর আমরা দেব এবং অবশিষ্ট বিষয়গুলো শাইখ আসা পর্যন্ত স্থগিত রাখা হবে।
এখন শাইখ কি উপস্থিত হয়েছেন নাকি...?
ছাত্র: . . . . . . . . .
সময় কি শেষ হয়ে গেছে নাকি...?
ছাত্র: . . . . . . . . .
ভাইয়েরা কোথায়?
ছাত্র: . . . . . . . . .
তাদের কি নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই...?
ছাত্র: . . . . . . . . .
অর্থাৎ শাইখ আসা পর্যন্ত কি আমরা বিরতিহীনভাবে চালিয়ে যাব? মানে কি কোনো বিরতি নেই
… ভাইদের জন্য...?
ছাত্র: . . . . . . . . .
যাহোক...
লেখক (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেন:
এগুলো হলো কয়েকটি পাতা (পত্রিকা), যা উসুলুল ফিকহ-এর কয়েকটি অনুচ্ছেদের জ্ঞান সম্বলিত। আর তা দুটি একক অংশ দ্বারা গঠিত: অর্থাৎ উসুলুল ফিকহ... এই বাক্যটি বা এই যৌগিক নাম পদটি দুটি একক অংশ দ্বারা গঠিত। অর্থাৎ এই শাস্ত্রটি যা এই দুটি একক শব্দের সমন্বয়ে গঠিত যৌগিক নামে নামাঙ্কিত: উসুল ও ফিকহ। এমতাবস্থায় এর একাধিক সংজ্ঞা রয়েছে; একটি হলো এর যৌগিক অংশদ্বয়ের বিবেচনায় সংজ্ঞা, আর অন্যটি হলো এই সুপরিচিত শাস্ত্রের নাম হিসেবে এর সংজ্ঞা। যৌগিক অংশদ্বয়ের বিবেচনায় সংজ্ঞা; কারণ তিনি বলেছেন: "আর তা দুটি একক অংশ দ্বারা গঠিত: উসুল ও ফিকহ।" অর্থাৎ দুটি অংশ থেকে: প্রথম অংশটি হলো উসুল এবং দ্বিতীয় অংশটি হলো ফিকহ। একক (মুফরাদ): এখানে একক দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
যা এর বিপরীতে
… হ্যাঁ?
ছাত্র: . . . . . . . . .
(খণ্ড: ১)
শারহুল ওয়ারাকাত - আব্দুল কারীম আল খুদাইর
(পৃষ্ঠা: ১৭)
لا، يقابل الجمع أصول مفرد وإلا جمع؟
طالب: جمع.
كيف يقول من جزئين مفردين؟
طالب:. . . . . . . . .
كيف؟
طالب:. . . . . . . . .
يقول: وذلك مؤلف: مركب من جزئين: أصول وفقه، مفردين: كل واحد منهما مفرد، والإفراد هنا يقابل أيش؟
التركيب، التركيب الجملي؛ لأن كلمة أصول جمع، فلا يراد بالإفراد هنا ما يقابل التثنية والجمع؛ لأن كلمة أصول جمع.
ثم أخذ يعرف جزئي المركب، فبدأ بالأصل.
أصول: النسبة إلى هذا العلم، ماذا تقول في النسبة إلى هذا العلم، شخص معتني بهذا العلم أكثر من غيره من العلوم تسميه أيش؟
طالب: أصولي.
أصولي كذا؟ نعم؟ هاه؟ نعم؟
طالب:. . . . . . . . .
أصولي كذا؟ الياء ياء النسب مشددة ولا بد، ياء كيا الكرسي زيدت للنسب، والبحث ليس فيها، نعم، مشددة، فالنسبة إلى تيماء تيميِّ بالتشديد، وشيخ الإسلام ابن تيميَّة بالتشديد، لا شك أن الياء مشددة، لكن يبقى أن النسبة إلى الجمع حكمها .. ، أهل العلم ينصون على أن النسبة إلى الجمع شاذة، إذا أردت أن تنسب إلى كلمة هي في الأصل جمع تعيد الكلمة إلى مفردها ثم تنسب، إلا إذا كانت شهرة الجمع أقوى من شهرة المفرد، كالنسبة إلى الأنصار وإلى الأعراب، أو إذا كان الجمع لا واحد له من لفظه تنسب إلى الجمع.
فالأصل ما يبنى عليه غيره: الأصل الذي هو واحد الأصول ما يبنى عليه غيره، كأصل الجدار وأساسه الذي يبنى عليه، وأصل الشجرة التي تتفرع منه فروعها وأغصانها، {أَلَمْ تَرَ كَيْفَ ضَرَبَ اللهُ مَثَلاً كَلِمَةً طَيِّبَةً كَشَجَرةٍ طَيِّبَةٍ أَصْلُهَا ثَابِتٌ وَفَرْعُهَا فِي السَّمَاء} [(24) سورة إبراهيم]، فالأصل هو الأساس، وهو ما يبنى عليه غيره، ويقابله الفرع -يقابل الأصل الفرع- وهو ما يبنى على غيره: كبقية الجدار التي بنيت على الأصل وعلى الأساس، وكفروع الشجرة وأغصانها هي فروع.
ومنهم من يقول: إن الأصل ما منه الشيء، ما منه الشيء، فالأب أصل بالنسبة لولده، والولد فرع، ولذا يقولون في الوارثين أنهم أصول وفروع، وأيضاً حواشي.
والفرع ما يبنى على غيره والفقه:
… ، أخشى أن الشيخ يبي يجي وإلا
… ؟ الشيخ قرب، وإلا إيش صار عليه؟
طالب:. . . . . . . . .
هو بيجي من هنا؟
না, 'উসুল' শব্দটি কি একবচনের বিপরীতে নাকি এটি নিজেই বহুবচন?
ছাত্র: বহুবচন।
তাহলে কীভাবে বলা হয় যে এটি দুটি একক অংশ দ্বারা গঠিত?
ছাত্র:. . . . . . . . .
কীভাবে?
ছাত্র:. . . . . . . . .
তিনি বলছেন: আর তা সংকলিত: দুটি অংশ দ্বারা গঠিত: উসুল এবং ফিকহ, যা দুটি একক শব্দ: এদের প্রতিটিই একক শব্দ। আর এখানে 'একক' (ইফরাদ) বলতে কিসের বিপরীত বোঝানো হয়েছে?
সংযুক্তি বা বাক্যগঠনের বিপরীত; কারণ 'উসুল' শব্দটি নিজেই বহুবচন। সুতরাং এখানে 'একক' দ্বারা দ্বিবচন বা বহুবচনের বিপরীত অর্থ উদ্দেশ্য নয়; যেহেতু 'উসুল' শব্দটি একটি বহুবচন।
এরপর তিনি এই যৌগিক শব্দের অংশ দুটির সংজ্ঞা দিতে শুরু করলেন এবং 'আসল' (মূল) দিয়ে শুরু করলেন।
উসুল: এই শাস্ত্রের দিকে সম্বন্ধ করা। এই শাস্ত্রের দিকে সম্বন্ধ করার ক্ষেত্রে আপনি কী বলবেন? কোনো ব্যক্তি যদি অন্য শাস্ত্রের তুলনায় এই শাস্ত্রের প্রতি বেশি মনোযোগী হয়, তবে তাকে আপনি কী বলবেন?
ছাত্র: উসুলি।
এভাবে কি 'উসুলি'? হ্যাঁ? কী? হ্যাঁ?
ছাত্র:. . . . . . . . .
এভাবে কি 'উসুলি'? এখানে 'ইয়া' অবশ্যই সম্বন্ধবাচক তাশদীদযুক্ত হতে হবে, যেমন 'কুরসি' শব্দের 'ইয়া' যা সম্বন্ধের জন্য অতিরিক্ত যোগ করা হয়। বিষয়টি এখানে আলোচনার বিষয় নয়; হ্যাঁ, এটি তাশদীদযুক্ত হবে। যেমন 'তাইমা' এর দিকে সম্বন্ধ করলে তাশদীদসহ 'তাইমি' হয়, আর শায়খুল ইসলাম 'ইবনে তাইমিয়্যাহ' এর ক্ষেত্রেও তাশদীদসহ। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে 'ইয়া' টি তাশদীদযুক্ত। তবে বহুবচনের দিকে সম্বন্ধ করার বিধান হলো... ইলম অর্জনকারীগণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, বহুবচনের দিকে সম্বন্ধ করা বিরল। যদি আপনি এমন কোনো শব্দের দিকে সম্বন্ধ করতে চান যা মূলত বহুবচন, তবে শব্দটিকে তার একবচনে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়ে তারপর সম্বন্ধ করতে হয়। তবে যদি বহুবচন রূপটি একবচনের চেয়ে বেশি প্রসিদ্ধ হয়, যেমন 'আনসার' এবং 'আ’রাব' এর দিকে সম্বন্ধ করার ক্ষেত্রে, অথবা যদি সেই বহুবচন শব্দটির নিজস্ব কোনো একবচন রূপ না থাকে, তবে বহুবচনের দিকেই সম্বন্ধ করা হয়।
সুতরাং 'আসল' হলো তা-ই যার ওপর অন্য কিছু দাঁড়িয়ে থাকে। 'আসল' যা 'উসুল' শব্দের একবচন, তার অর্থ হলো যার ওপর অন্য কিছু গড়ে তোলা হয়। যেমন দেয়ালের মূল বা ভিত্তি যার ওপর তা নির্মিত হয়, এবং গাছের মূল যেখান থেকে এর শাখা-প্রশাখা নির্গত হয়। "তুমি কি দেখনি আল্লাহ কীভাবে উপমা দিয়েছেন? পবিত্র বাক্য হলো পবিত্র বৃক্ষের ন্যায়, যার মূল সুদৃঢ় এবং যার শাখা আকাশে বিস্তৃত।" [(২৪) সুরা ইব্রাহিম]। সুতরাং 'আসল' হলো ভিত্তি, যার ওপর অন্য কিছু দাঁড়িয়ে থাকে। আর এর বিপরীত হলো 'ফার' (শাখা)—আসলের বিপরীতে ফার—আর তা হলো যা অন্য কিছুর ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। যেমন দেয়ালের বাকি অংশ যা মূল বা ভিত্তির ওপর নির্মিত হয়েছে, এবং গাছের ডালপালা ও শাখা-প্রশাখা হলো এর শাখা।
তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন: 'আসল' হলো তা, যা থেকে কোনো কিছুর উদ্ভব হয়। সুতরাং পিতা তার সন্তানের জন্য 'আসল' (মূল), আর সন্তান হলো 'ফার' (শাখা)। এই কারণেই উত্তরাধিকারীদের ক্ষেত্রে তাঁরা বলেন যে তারা হলেন আসল (ঊর্ধ্বতন), ফার (অধস্তন) এবং পার্শ্ববর্তী (হাওয়াশি)।
আর 'ফার' (শাখা) হলো যা অন্য কিছুর ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। আর 'ফিকহ' হলো:
… , আমার ভয় হচ্ছে যে শায়খ হয়তো চলে আসবেন নতুবা
… ? শায়খ কি কাছে চলে এসেছেন, নাকি তাঁর কী হলো?
ছাত্র:. . . . . . . . .
তিনি কি এদিক থেকে আসবেন?
(খণ্ড: ১)
শারহুল ওয়ারাকাত - আব্দুল কারীম আল খুদাইর
(পৃষ্ঠা: ১৮)
طالب:. . . . . . . . .
طيب لا بأس ..
والفقه معرفة الأحكام الشرعية التي طريقها الاجتهاد: الفقه في اللغة الفهم، {يَفْقَهُوا قَوْلِي} [(28) سورة طه]، يعني: يفهموه.
معرفة الأحكام الشرعية: هل الفقه والمعرفة أو هو الأحكام؟
طالب:. . . . . . . . .
نعم، كيف؟
طالب:. . . . . . . . .
هل الفقه هو المعرفة للأحكام، أو هو الأحكام؟
طالب:. . . . . . . . .
هو يقول: معرفة الأحكام الشرعية: يخرج بذلك من الأحكام ما ليس بشرعي، فلا يدخل في الفقه، والأحكام جمع حكم، وسيأتي في بيان الأحكام التكليفية والوضعية تعريف الحكم.
معرفة الأحكام الشرعية التي طريقها الاجتهاد: المقصود بها المسائل الفرعية، ويخرج بذلك المسائل العقلية، والمسائل العقدية؛ لأنه ليس طريقها الاجتهاد.
التي طريقها الاجتهاد: حقيقةً فعلاً، أو بالقوة القريبة من الفعل، فالفقيه من يعرف جملةً صالحة من الأحكام الشرعية التي طريقها الاجتهاد بالفعل، أو بالقوة القريبة من الفعل، فالذي يعرف من الأحكام الشرعية بأدلتها بالفعل، وهي حاضرة في ذهنه يسمى فقيه، الأولى من يسمى الفقيه.
الذي لا يعرف الأحكام ليست حاضرة في ذهنه، لكنه يستطيع الوصول إلى معرفة هذه الأحكام بأدلتها، ويستطيع أن ينظر في أقوال أهل العلم ويوازن بينها وينظر في أدلتهم ويرجح، وإن لم تكن المسائل حاضرة في ذهنه، فإنهم يسمونه فقيه بالقوة القريبة من الفعل.
فالشخص الذي إذا سألته عن مسألة في الطهارة يفتح على أوائل الكتب مثلاً -أوائل كتب الفقه مثلاً- وينظر فيها ويتصورها وينظر في أدلتها، ومن خالف ومن وافق وأدلة الجميع ويوازن هذا فقيه، لكن إذا سألته عن مسألة في الطهارة بحث في أواخر الكتب وأوساطها هذا تسميه فقيه؟! لا بالفعل ولا بالقوة القريبة منه، هذا ليس بفقيه أصلاً.
فالإمام مالك -رحمه الله تعالى- لما سئل عن أربعين مسألة أو ثمان وأربعين مسألة، فأجاب عن جلّ هذه المسائل -أكثر من ثلاثين مسألة- قال: "لا أدري"، هل استطاع أحد أن يقول: إن الإمام مالك ليس بفقيه؟ هل يستطيع أحد أن يقول: الإمام مالك ليس بفقيه؟ لا يستطيع، كيف نقول: فقيه، وهو لا يعرف إلا الشيء اليسير من هذه المسائل، هو فقيه؛ لديه القدرة التامة والآلة المكتملة في استنباط الأحكام، فهو فقيه بالقوة حينئذٍ.
نقف على الأحكام السبعة، والله أعلم وصلى الله وسلم وبارك على عبده ورسوله نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
ছাত্র: . . . . . . . . .
ঠিক আছে, কোনো সমস্যা নেই..
আর ফিকহ হলো শরীয়তের এমন বিধানসমূহের জ্ঞান যার পথ হলো ইজতিহাদ: আভিধানিক অর্থে ফিকহ মানে হলো বুঝা, {যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে} [সূরা ত্বহা: ২৮], অর্থাৎ: তারা যেন তা বুঝে।
শরীয়তের বিধানসমূহের জ্ঞান: ফিকহ কি জ্ঞান ও মারিফাত নাকি এটি বিধানসমূহ?
ছাত্র: . . . . . . . . .
হ্যাঁ, কীভাবে?
ছাত্র: . . . . . . . . .
ফিকহ কি বিধানসমূহের জ্ঞান, নাকি এটি স্বয়ং বিধানসমূহ?
ছাত্র: . . . . . . . . .
তিনি বলছেন: শরীয়তের বিধানসমূহের জ্ঞান: এর মাধ্যমে ঐসব বিধান বাদ পড়ে যায় যা শারয়ী বা শরীয়তসম্মত নয়, তাই সেগুলো ফিকহের অন্তর্ভুক্ত হবে না। আর আহকাম (বিধানসমূহ) হলো 'হুকুম' শব্দের বহুবচন। সামনে 'আহকামে তাকলিফিয়া' (দায়িত্বারোপকারী বিধান) এবং 'আহকামে ওয়াদয়িয়া' (প্রাসঙ্গিক বিধান) বর্ণনার সময় হুকুমের সংজ্ঞা আসবে।
শরীয়তের বিধানসমূহের জ্ঞান যার পথ হলো ইজতিহাদ: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আনুষঙ্গিক (ফুরুয়ি) মাসয়ালাসমূহ। এর মাধ্যমে বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়সমূহ এবং আকিদাগত বিষয়সমূহ বাদ পড়ে যায়; কারণ এগুলোর পথ ইজতিহাদ নয়।
যার পথ হলো ইজতিহাদ: বাস্তবে কার্যকরভাবে, অথবা কার্যকর হওয়ার নিকটবর্তী সুপ্ত যোগ্যতার মাধ্যমে। সুতরাং ফকিহ হলেন তিনি, যিনি কার্যকরভাবে অথবা কার্যকর হওয়ার নিকটবর্তী সুপ্ত যোগ্যতার মাধ্যমে শরীয়তের এমন একগুচ্ছ বিধান জানেন যার পথ হলো ইজতিহাদ। অতএব, যিনি দলিল-প্রমাণসহ বাস্তবে শারয়ী বিধানসমূহ জানেন এবং সেগুলো তাঁর স্মৃতিতে উপস্থিত থাকে, তাঁকে ফকিহ বলা হয়; তিনিই ফকিহ হিসেবে অভিহিত হওয়ার অধিক হকদার।
আর যিনি বিধানগুলো জানেন না অর্থাৎ তাঁর স্মৃতিতে সেগুলো উপস্থিত নেই, কিন্তু তিনি দলিল-প্রমাণের মাধ্যমে এই বিধানগুলোর জ্ঞান অর্জনে সক্ষম এবং আলেমদের মতামতের ওপর দৃষ্টিপাত করে সেগুলোর মাঝে তুলনা করতে পারেন এবং তাঁদের দলিলসমূহ পর্যালোচনা করে প্রাধান্য (তারজিহ) দিতে পারেন, যদিও মাসয়ালাগুলো তাঁর স্মৃতিতে উপস্থিত নেই, তবে তাঁকে কার্যকর হওয়ার নিকটবর্তী সুপ্ত যোগ্যতাসম্পন্ন ফকিহ বলা হয়।
সুতরাং কোনো ব্যক্তিকে যদি আপনি পবিত্রতা (তাহারাত) বিষয়ক কোনো মাসয়ালা জিজ্ঞাসা করেন আর সে কিতাবের শুরুতে—উদাহরণস্বরূপ ফিকহের কিতাবসমূহের শুরুতে—তা খুঁজে বের করে, সেটি পর্যালোচনা করে এবং এর দলিলসমূহ দেখে, কারা এর বিরোধিতা করেছেন আর কারা একমত হয়েছেন এবং সবার দলিলসমূহ দেখে তুলনা করে, তবে সে ব্যক্তি একজন ফকিহ। কিন্তু যদি আপনি তাকে পবিত্রতার কোনো মাসয়ালা জিজ্ঞাসা করেন আর সে কিতাবের শেষে বা মাঝখানে তা খুঁজতে থাকে, তবে কি আপনি তাকে ফকিহ বলবেন?! না বাস্তবে, আর না তার নিকটবর্তী যোগ্যতায়—সে আদতে কোনো ফকিহ-ই নয়।
ইমাম মালিক—আল্লাহ তায়ালা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—যখন তাঁকে চল্লিশটি বা আটচল্লিশটি মাসয়ালা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি এগুলোর অধিকাংশেরই—ত্রিশটিরও বেশি মাসয়ালার—উত্তরে বলেছিলেন: "আমি জানি না"। কেউ কি বলতে পেরেছে যে, ইমাম মালিক ফকিহ নন? কেউ কি বলতে পারবে যে, ইমাম মালিক ফকিহ নন? কেউ তা পারবে না। আমরা কীভাবে তাঁকে ফকিহ বলি অথচ তিনি এই মাসয়ালাগুলোর খুব সামান্যই জানতেন? তিনি একজন ফকিহ; কারণ তাঁর মধ্যে বিধান আহরণ বা ইস্তিম্বাত করার পূর্ণ সক্ষমতা এবং যথাযথ সরঞ্জাম বিদ্যমান ছিল। এমতাবস্থায় তিনি যোগ্যতার দিক থেকে একজন ফকিহ।
আমরা সাতটি বিধানের (আহকামে সাবআ) আলোচনায় এসে থামছি। আল্লাহ সবচেয়ে ভালো জানেন। আল্লাহর বান্দা ও রাসূল আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১)
শারহুল ওয়ারাকাত - আব্দুল কারীম আল খুদাইর
(পৃষ্ঠা: -)
شرح الورقات - عبد الكريم الخضير القسم: أصول الفقه
الكتاب: شرح الورقات في أصول الفقه
مؤلف الأصل: أبو المعالي الجويني الملقب بإمام الحرمين (ت 478هـ)
الشارح: عبد الكريم بن عبد الله بن عبد الرحمن بن حمد الخضير
دروس مفرغة من موقع الشيخ الخضير
[الكتاب مرقم آليا، رقم الجزء هو رقم الدرس - 16 درسا]
تاريخ النشر بالشاملة: 7 محرم 1432
শারহুল ওয়ারাকাত - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর বিভাগ: উসুলুল ফিকহ
গ্রন্থ: উসুলুল ফিকহের শারহুল ওয়ারাকাত
মূল লেখক: আবু আল-মা'আলি আল-জুওয়াইনি, উপাধি ইমামুল হারামাইন (মৃত ৪৭৮ হিজরি)
ব্যাখ্যাকার: আব্দুল কারীম বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান বিন হামাদ আল-খুদাইর
শাইখ আল-খুদাইরের ওয়েবসাইট থেকে অনুলিখিত পাঠসমূহ
[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, খণ্ড সংখ্যা পাঠ সংখ্যার অনুরূপ - ১৬টি পাঠ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৭ মুহাররাম ১৪৩২
(খণ্ড: ২)
শারহুল ওয়ারাকাত - আব্দুল কারীম আল খুদাইর
(পৃষ্ঠা: ১)
شرح متن الورقات في أصول الفقه (2)
أنواع الحكم
الشيخ/ عبد الكريم الخضير
السلام عليكم ورحمة الله وبركاته.
يقول هذا: بعض طلاب العلم يقولون: إن متن الورقات لا يصلح للحفظ؛ لأنه يوجد فيه أخطاء في التعاريف، ويقول: الحل في ذلك أن نأخذ تعاريف الشيخ ابن عثيمين رحمه الله وتُحفظ، هل هذا الكلام صحيح؟
أقول: كتب العلماء التي هي الجادة في التحصيل عند أهل العلم لا بد من العناية بها، وما فيها من أخطاء لا تعدو أن تكون وجهات نظر، يصوبها البعض ويحكم عليها البعض الآخر بأنها خلاف الصواب، ومن يشرح هذه الكتب عليه أن يبيّن الخطأ من الصواب، ويبقى أيضاً أن هذا من وجهة نظره هو.
ولذا نجد في شراح الورقات وفي غيرها من الكتب التي ألفها أهل العلم، وليسو من أهل العصمة، فيها ما فيها، كل يؤخذ من كلامه ويرد إلا الرسول عليه الصلاة والسلام فالجادة التي اعتمدها أهل العلم وسلكها الأئمة المتقدمون في تربية أولادهم أو أبنائهم الطلاب وتنشئتهم على التحصيل العلمي لا بد من سلوكها، فيؤخذ مثل هذا المتن؛ لأنه أخصر متن في أصول الفقه، وألفاظه سهلة ميسرة.
وأما ما يكتبه المتأخرون وهم يكتبون بلغة العصر لا شك أنها كتب نافعة وجليلة ومفيدة، لكن ليتنبه طالب العلم أنه كلما قوي الأسلوب وصعب على الطالب أنه هو الذي يربي فيه ملكة الأخذ والرد والنقاش، وهو الذي يفتّق ذهنه، أما ما يكتبه المعاصرون فهم يكتبون بلغة العصر، وهذه ليس فيها إشكال في الجملة، كتب واضحة ومبسطة، فهذه في الغالب لا تحتاج إلى شرح، يفهمها الطالب بمفرده.
উসুলুল ফিকহের গ্রন্থ 'মাতনুল ওয়ারাকাত'-এর ব্যাখ্যা (২)
হুকুমের প্রকারভেদ
শাইখ/ আব্দুল কারীম আল-খুদাইর
আপনাদের উপর আল্লাহর শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।
একজন প্রশ্ন করেছেন: কতিপয় ইলম অন্বেষণকারী বলেন যে, 'মাতনুল ওয়ারাকাত' মুখস্থ করার উপযোগী নয়; কারণ এর সংজ্ঞাগুলোতে কিছু ভুল রয়েছে। তিনি আরও বলেন: এর সমাধান হলো শাইখ ইবনে উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ)-এর সংজ্ঞাগুলো গ্রহণ করা এবং সেগুলো মুখস্থ করা। এই কথাটি কি সঠিক?
আমি বলব: ইলম অর্জনের ক্ষেত্রে আলেমদের নিকট যে সকল কিতাব মূল ভিত্তি হিসেবে স্বীকৃত, সেগুলোর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা আবশ্যক। আর সেগুলোতে যে ভুলগুলোর কথা বলা হয়, সেগুলো নিছক কিছু দৃষ্টিভঙ্গি ছাড়া আর কিছু নয়। কেউ সেগুলোকে সঠিক মনে করেন, আবার কেউ সেগুলোকে ভুলের বিপরীত বলে রায় দেন। যিনি এ সকল কিতাবের ব্যাখ্যা করবেন, তাঁর দায়িত্ব হলো সঠিক ও ভুলের পার্থক্য স্পষ্ট করে দেওয়া। আর এটিও তাঁর নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গির আলোকেই হবে।
এজন্যই আমরা 'ওয়ারাকাত'-এর ব্যাখ্যাকারদের মাঝে এবং আলেমদের রচিত অন্যান্য কিতাবে এমন কিছু বিষয় পাই, কারণ তাঁরা তো নির্ভুল নন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছাড়া অন্য যে কারো কথাই গ্রহণ করা যেতে পারে অথবা বর্জন করা যেতে পারে। অতএব, ইলম অর্জনের ক্ষেত্রে সালাফে সালেহীন ও পূর্ববর্তী ইমামগণ তাঁদের সন্তানদের বা ছাত্রদের গড়ে তোলার জন্য যে মূল পথ ও পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন, তা অনুসরণ করা অপরিহার্য। তাই এ জাতীয় সংক্ষিপ্ত কিতাব গ্রহণ করা উচিত; কারণ এটি উসুলুল ফিকহের সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত একটি গ্রন্থ এবং এর শব্দাবলী অত্যন্ত সহজ ও সাবলীল।
আর পরবর্তী যুগের আলেমগণ বর্তমান সময়ের ভাষায় যা লিখছেন, নিঃসন্দেহে সেগুলো অত্যন্ত উপকারী, মহান এবং ফলপ্রসূ কিতাব। তবে ইলম অন্বেষণকারীর এ বিষয়টি খেয়াল রাখা উচিত যে, লিখনশৈলী বা ভাষা যত শক্তিশালী এবং শিক্ষার্থীর জন্য কিছুটা কঠিন হবে, ততই তা তার মাঝে গ্রহণ, বর্জন ও পর্যালোচনার যোগ্যতা তৈরি করবে এবং তার মেধাকে বিকশিত করবে। পক্ষান্তরে সমসাময়িক আলেমগণ বর্তমান যুগের ভাষায় লিখছেন, যাতে সাধারণত কোনো জটিলতা থাকে না; বইগুলো স্পষ্ট ও সহজবোধ্য। ফলে এগুলোর অধিকাংশেরই কোনো ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয় না, ছাত্ররা একাকী পড়লেই তা বুঝতে পারে।
(খণ্ড: ২)
শারহুল ওয়ারাকাত - আব্দুল কারীম আল খুদাইর
(পৃষ্ঠা: ২)
فعلى طالب العلم أن يتمرّن على كتب المتقدمين؛ لأنه إذا سار على الدرب والطريق والجادة المسلوكة، وحصل من العلم ما يؤهله لتعليم الناس، أو للقضاء وفصل الخصومات بينهم، أو لإفتائهم لا يأمن أن يعيّن في بلدٍ ليس فيه غيره ممن ينتسب إلى العلم، فقد يحتاج إلى مراجعة هذه الكتب، وهو لم يتعود على أساليب المتقدمين فيصعب عليه الإفادة منها، بخلاف كتب المتأخرين، وهذا واضح وظاهر في الدراسة النظامية؛ نجد كثير من الطلاب الذين اعتمدوا على المذكرات التي يكتبها الأساتذة يصعب عليهم كل شيء من العلم، ولا يستطيعون التعامل مع كتب أهل العلم، بينما الذين تربوا على الكتب التي ألفها المتقدمون بأساليب قوية متينة هم الذين في الغالب حصلوا واستفادوا؛ لأنه من اليسير جداً أن تنزل من الصعب إلى السهل، لكن العكس هذا صعب.
على كل حال ما كتبه الشيخ -رحمة الله عليه- جدير بالعناية والإفادة منه، لكن ما سلكه أهل العلم في تربية الناشئة على أسلوبٍ معين في التحصيل أمر لا بد منه.
يقول: جاء في بعض النسخ المطبوعة حديثاً ومقابلة على نسخٍ خطية ذكر الحمد والصلاة على النبي عليه الصلاة والسلام.
هذا موجود في بعض النسخ، هذا موجود في بعض النسخ الخطية، لكن أكثر النسخ مجردة من الحمد والشهادة والصلاة، حتى مجردة من (أما بعد)، ليس فيها إلا ذكر البسملة.
يقول: حديث: ((كل أمرٍ ذي بال لا يبدأ فيه ببسم الله فهو أبتر)): أليس قد حسنه بعض أهل العلم، كابن الصلاح وغيره؟
الذين حسّن من ألفاظه لفظ الحمد، ((كل أمرٍ ذي بال لا يبدأ فيه بحمد الله .. )) أما سائر ألفاظه وطرقه فهي ضعيفة.
هذا يريد إعادة المبادئ العشرة التي تطلب عند شرح كل كتاب؟
هذه موجودة في الشريط، وأظن الشريط يوزع اليوم أو .... متى؟
طالب: بعدما تنتهي الدورة؟
بعد الدورة، مو كل يوم بيومه؟
طالب:. . . . . . . . .
سوف يوزع بعد الدورة وهو موجود في غالب الشروح المختصرة.
يقول: نود لو لم يفصَّل في النحو؟
একজন জ্ঞান অন্বেষণকারীর (তালিবুল ইলম) উচিত পূর্বসূরিদের লিখিত কিতাবগুলোর ওপর অনুশীলন করা; কারণ তিনি যদি সেই পথ, পন্থা এবং প্রচলিত রাজপথ ধরে চলেন এবং এমন জ্ঞান অর্জন করেন যা তাকে মানুষকে শিক্ষা দেওয়ার, কিংবা বিচারকার্য পরিচালনা ও তাদের মধ্যকার বিরোধ মীমাংসা করার অথবা ফতোয়া দেওয়ার যোগ্য করে তোলে, তবে এমন কোনো জনপদে তার নিযুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে তিনি নিরাপদ নন যেখানে তিনি ছাড়া জ্ঞান সংশ্লিষ্ট আর কেউ নেই। তখন তার এই কিতাবগুলো পর্যালোচনার প্রয়োজন হতে পারে, অথচ তিনি পূর্বসূরিদের লিখনশৈলীর সাথে অভ্যস্ত নন, ফলে সেগুলো থেকে উপকৃত হওয়া তার জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। পরবর্তী যুগের লেখকদের কিতাবগুলোর বিষয়টি এর বিপরীত। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত স্পষ্ট ও প্রতীয়মান; আমরা অনেক শিক্ষার্থীকে দেখি যারা শিক্ষকদের তৈরি করা নোটের ওপর নির্ভর করে, তাদের জন্য ইলমের সবকিছুই কঠিন হয়ে পড়ে এবং তারা আলেমদের মূল কিতাবগুলো নিয়ে কাজ করতে পারে না। পক্ষান্তরে, যারা পূর্বসূরিদের রচিত শক্তিশালী ও সুদৃঢ় শৈলীর কিতাবগুলোর ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, তারাই সাধারণত সফল হয়েছে এবং উপকৃত হয়েছে; কারণ কঠিন থেকে সহজের দিকে আসা অত্যন্ত সহজ, কিন্তু এর বিপরীতটি করা অত্যন্ত কঠিন।
যাই হোক, শায়খ -তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক- যা লিখেছেন তা যত্ন সহকারে গ্রহণ ও তা থেকে উপকৃত হওয়ার যোগ্য, তবে নতুনদের জ্ঞান অর্জনে বিশেষ কোনো পদ্ধতিতে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আলেমগণ যে পথ অনুসরণ করেছেন, তা অপরিহার্য।
তিনি বলছেন: সম্প্রতি মুদ্রিত এবং পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখা কিছু কপিতে আল্লাহর প্রশংসা (হামদ) এবং নবী -তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক- এর ওপর দরূদ পাঠের কথা উল্লেখ রয়েছে।
এটি কিছু কপিতে বিদ্যমান, কিছু হাতে লেখা পাণ্ডুলিপিতেও রয়েছে; তবে অধিকাংশ কপিই হামদ, শাহাদাত ও দরূদ মুক্ত, এমনকি (আম্মা বা’দ) থেকেও মুক্ত, তাতে শুধু বিসমিল্লাহর উল্লেখ রয়েছে।
তিনি বলছেন: হাদিস: ((যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা বিসমিল্লাহ দিয়ে শুরু করা হয় না, তা লেজকাটা বা বরকতহীন)): কিছু আলেম কি একে হাসান বা গ্রহণযোগ্য বলেননি, যেমন ইবনুল সালাহ এবং অন্যরা?
যারা এর শব্দগুলোর মধ্য থেকে হাসান বলেছেন তারা ‘হামদ’ (আল্লাহর প্রশংসা) সংবলিত শব্দকে বলেছেন, ((যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা আল্লাহর প্রশংসা দিয়ে শুরু করা হয় না...))। তবে এর অন্যান্য শব্দ ও সূত্রগুলো দুর্বল।
ইনি কি প্রতিটি কিতাব ব্যাখ্যার সময় প্রয়োজনীয় সেই দশটি প্রাথমিক মূলনীতি পুনরায় আলোচনা করতে চাচ্ছেন?
এগুলো অডিও ক্যাসেটে রয়েছে, আর আমার মনে হয় ক্যাসেটটি আজ বিতরণ করা হবে অথবা... কখন?
ছাত্র: কোর্স শেষ হওয়ার পর?
কোর্স শেষ হওয়ার পর? প্রতিদিন কি দেওয়া হয় না?
ছাত্র: . . . . . . . . .
এটি কোর্স শেষে বিতরণ করা হবে এবং এটি অধিকাংশ সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোতে বিদ্যমান রয়েছে।
তিনি বলছেন: আমরা যদি নাহু (ব্যাকরণ)-এর বিস্তারিত আলোচনা না করতাম তবে ভালো হতো?
(খণ্ড: ২)
শারহুল ওয়ারাকাত - আব্দুল কারীম আল খুদাইর
(পৃষ্ঠা: ৩)
النحو عرض .. ، عارض لبيان أهمية النحو لطالب العلم، ولن نرجع إليه إلا عند الحاجة والضرورة القصوى، وعدم التفصيل والاستطراد جاء من كثيرٍ من الإخوان، وجاء ضده من بعضهم، وطلب بعضهم الاستطرادات والفوائد التي لا توجد في كثيرٍ من الشروح الموجودة بين أيديهم.
على كل حال هذه مسألة نعاني منها في كل الدروس، فمن الطلاب من يرى الاقتصار على تحليل اللفظ، وفهم الكتاب الذي بأيدينا، والاستطرادات لها موضع آخر، وبعض الإخوان يرى أن الفائدة في الاستطراد، وأما تحليل اللفظ فالكتاب مشروح بشروحٍ كثيرة.
يقول: أنا طالب علم وقرأت علم الفروع من مذهب الإمام مالك، ولكني رأيت كثيراً من طلبة العلم يقولون في هذا ليس بعلم!!
أقول: طالب العلم المبتدئ عليه أن يتفقّه على ما ذكره أهل العلم، وكل يعتني بالكتاب المعروف المشهور في بلده، وليس معنى هذا أنه إذا اعتنى بالكتاب الفقهي -كالزاد عندنا مثلاً أو العمدة أو الدليل، أو مختصر خليل عند المالكية أو المتون الأخرى في المذاهب الأخرى- ليس معنى هذا أنه يأخذ هذه الأحكام قضايا مسلمة وهذه الكتب دساتير لا يحاد عنها، لا، إنما تكون هذه الكتب كعناصر بحث يفهم الطالب المسألة ويتصورها ويستدل لها، وينظر من قال بها من أهل العلم وأدلتهم ومن خالف أدلتهم، ثم يوازن بين هذه الأدلة ويخرج بالقول الصحيح الراجح، فإذا أتم كتاباً على هذه الطريقة فإنه يدرك من الفقه ما لا يدركه غيره ممن ينادي بالتفقه رأساً من الكتاب والسنة.
طالب العلم إذا تأهل فرضه أن يتفقه من الكتاب والسنة ولا ينظر إلى أقوال الرجال، إلا من باب الاستئناس، أما إذا لم يتأهل طالب العلم فإن عليه أن يسلك ما سلكه أهل العلم، ولا نقول بالتقليد، لا، إنما نقول بالاتباع، يأخذ هذا الكتاب المختصر، ويتصور مسائل هذا الكتاب، ويستدل لهذه المسائل، ثم بعد ذلك ينظر من وافق ومن خالف وأدلة الجميع ويوازن، وحينئذٍ يكون قد أتقن هذا الفن ومعوله وعمدته في الأدلة.
يقول: هل يجوز أن نهجر المبتدعة وأفعالهم السّحَّار وأفعالهم؟
নাহু (ব্যাকরণ) একটি উপস্থাপনা... যা ইলম অন্বেষণকারীর নিকট নাহু-এর গুরুত্ব বর্ণনার উদ্দেশ্যে পেশ করা হয়েছে। আমরা একান্ত প্রয়োজন ও চূড়ান্ত আবশ্যকতা ব্যতীত এর দিকে ফিরে যাব না। বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও প্রসঙ্গের বাইরে আলোচনা না করার অনুরোধ অনেক ভাইদের পক্ষ থেকে এসেছে, আবার কেউ কেউ এর বিপরীতটাও চেয়েছে। কেউ কেউ এমন কিছু বিস্তারিত আলোচনা ও অতিরিক্ত ফায়দা দাবি করেছে যা বর্তমানে তাদের হাতে থাকা প্রচলিত ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহের অধিকাংশে পাওয়া যায় না।
যা-ই হোক, এটি এমন একটি বিষয় যা নিয়ে আমরা প্রতিটি দরসেই সমস্যার সম্মুখীন হই। শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেন কেবল শব্দের বিশ্লেষণ এবং হাতের কাছে থাকা কিতাবটি বোঝার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত, আর আনুষঙ্গিক আলোচনার স্থান ভিন্ন। আবার অন্য কিছু ভাই মনে করেন যে, আসল উপকারিতা তো আনুষঙ্গিক বিস্তারিত আলোচনার মধ্যেই নিহিত; আর শব্দের বিশ্লেষণের কথা যদি বলি, তবে কিতাবটির তো অনেক ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছেই।
তিনি বলছেন: আমি একজন ইলম অন্বেষণকারী এবং আমি ইমাম মালিকের মাযহাব অনুযায়ী ফিকহ শাস্ত্রের শাখাগত বিষয়সমূহ পড়েছি, কিন্তু আমি অনেক ইলম অন্বেষণকারীকে বলতে শুনেছি যে—এটি কোনো ইলমই নয়!!
আমি বলি: প্রাথমিক স্তরের ইলম অন্বেষণকারীর উচিত আহলে ইলমগণ যা উল্লেখ করেছেন সে অনুযায়ী ফিকহ শিক্ষা করা। প্রত্যেকে নিজ নিজ দেশে প্রচলিত ও প্রসিদ্ধ কিতাবের প্রতি যত্নশীল হবে। এর অর্থ এই নয় যে, সে যদি কোনো ফিকহী কিতাবের প্রতি মনোনিবেশ করে—যেমন আমাদের এখানে 'যাদ' (যাদুল মুস্তাকনি), 'উমদাহ' বা 'দালীল', অথবা মালিকীদের নিকট 'মুখতাসার খালীল' কিংবা অন্যান্য মাযহাবের অন্যান্য মূলপাঠ (মতুন)—তবে সে এই বিধানগুলোকে ধ্রুব সত্য হিসেবে গ্রহণ করবে কিংবা এই কিতাবগুলোকে এমন সংবিধান মনে করবে যা থেকে বিচ্যুত হওয়া যাবে না; বিষয়টি এমন নয়। বরং এই কিতাবগুলো গবেষণার উপাদান হিসেবে থাকবে, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থী মাসআলাটি বুঝবে, তা কল্পনা করবে এবং তার স্বপক্ষে দলীল খুঁজবে। সে দেখবে আহলে ইলমদের মধ্যে কারা এটি বলেছেন এবং তাদের দলীল কী, আর কারা তাদের দলীলগুলোর বিরোধিতা করেছেন। এরপর সে এই দলীলগুলোর মধ্যে তুলনা করবে এবং সঠিক ও শক্তিশালী মতটি বের করে আনবে। সে যদি এই পদ্ধতিতে একটি কিতাব সম্পন্ন করে, তবে সে ফিকহ সম্পর্কে এমন জ্ঞান অর্জন করবে যা ওই ব্যক্তি অর্জন করতে পারবে না যে সরাসরি কুরআন ও সুন্নাহ থেকে ফিকহ অর্জনের ডাক দেয়।
ইলম অন্বেষণকারী যখন যোগ্য হয়ে উঠবে, তখন তার জন্য ফরয হলো সরাসরি কুরআন ও সুন্নাহ থেকে ফিকহ অর্জন করা এবং সে ক্ষেত্রে মানুষের বক্তব্যের দিকে তাকাবে না, কেবল উদাহরণ বা সমর্থনের জন্য ছাড়া। কিন্তু ইলম অন্বেষণকারী যদি যোগ্য হয়ে না ওঠে, তবে তাকে অবশ্যই আহলে ইলমদের অনুসৃত পথ অবলম্বন করতে হবে। আমরা অন্ধ অনুকরণের কথা বলছি না, বরং আমরা বলছি অনুসরণের কথা। সে এই সংক্ষিপ্ত কিতাবটি গ্রহণ করবে, এর মাসআলাগুলো অনুধাবন করবে এবং এই মাসআলাগুলোর স্বপক্ষে দলীল খুঁজবে। এরপর সে দেখবে কে একমত হয়েছে আর কে দ্বিমত পোষণ করেছে এবং প্রত্যেকের দলীল পর্যবেক্ষণ ও তুলনা করবে। তখন সে এই শাস্ত্রে পারদর্শী হতে পারবে এবং দলীলের উপরই হবে তার মূল নির্ভরতা ও ভিত্তি।
তিনি জিজ্ঞাসা করছেন: বিদআতি ও তাদের কর্মকাণ্ড এবং জাদুকর ও তাদের কর্মকাণ্ডকে বর্জন করা কি জায়েয?
(খণ্ড: ২)
শারহুল ওয়ারাকাত - আব্দুল কারীম আল খুদাইর
(পৃষ্ঠা: ৪)
السحار لا شك أنهم كفرة فحدهم القتل فضلاً عن كونهم يذمون، ويخبر عنهم وعن أفعالهم ويحذر منهم، والمبتدعة من كفر ببدعته فحكمه حكمهم، من كانت بدعته مكفرة فحكمه حكم الكفار، ومن كانت بدعته مفسقة ولا تخرجه من الملة فحكمه حكم المسلمين، لكن إذا خشي من ضرره على المسلمين يحذر منه.
طالب:. . . . . . . . .
يقول: بماذا ينصح طالب العلم المبتدئ أن يقرأ في علم أصول الفقه؟
يقرأ في هذا الكتاب وما كتب حوله والمناقشات التي نوقش فيها المؤلف وما كتب على الكتاب، ثم ينتقل إلى ما هو أعلى منه، إما مختصر التحرير مع شرحه أو مختصر الروضة مع شرحه.
يقول: قلتم: إنه لا ينبغي الإفراط في تعلم أصول الفقه، فما المراحل التي ينبغي أن يسلكها في هذا العلم؟
ذكرنا أن المبتدئ يبتدئ بمثل هذا الكتاب ثم ينتقل بعده إلى مختصر الروضة مع شرحه أو مختصر التحرير مع شرحه، ثم إذا فهم هذه الكتب يبقى المسألة مراجعات، عند الحاجة يراجع الكتب المبسوطة.
يقول: هل من أخطأ في أي حديث ينطبق عليه حديث: ((من كذب .. ))؟
من أخطأ، من يعرى من الخطأ كما قال الإمام أحمد رحمه الله {رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِن نَّسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا} [(286) سورة البقرة]، لكن يذكر المثال الذي ذكرناه بالأمس أن من أخطأ في إعراب كلمة من حديث النبي عليه الصلاة والسلام يدخل .. ، هذا من باب التحذير والتحري والتثبت ونقل الحديث كما هو بفصه وبلفظه إن أمكن، وإلا فبمعناه.
يقول: ما دام هذا العلم وغيره من علوم الآلة وسيلة وعلى الطالب التوسط فيها فنرجو بيان ما يكفي دراسة المتوسط؟
ذكرنا هذا بالنسبة للأصول.
ويقول بالنسبة لعلم النحو؟
علم النحو يقرأ الآجرومية وتتمتها وما كتب عليهما، وإن نشطت نفسه لحفظ الألفية إذا كانت الحافظة تسعفه فهي خير زادٍ لطالب النحو.
يقول بعض طلبة العلم: إنه لا يسوغ أن يطلق لفظ الإمامة على من تلبس ببدعة كابن حجر والنووي والعز بن عبد السلام، وإذا قلنا: الإمام يطلق على علماء الحديث يقال: العلامة فلان النووي والحافظ ابن حجر .. ؟
জাদুকররা নিঃসন্দেহে কাফের, তাই তাদের শাস্তি হলো হত্যা, তাদের নিন্দা করার পাশাপাশি। তাদের সম্পর্কে এবং তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সংবাদ দিতে হবে এবং তাদের থেকে সতর্ক করতে হবে। আর বিদআতিদের মধ্যে যাদের বিদআত তাকে কুফুরিতে লিপ্ত করে, তার বিধান কাফেরদের বিধানের মতোই। যার বিদআত কুফুরি পর্যায়ের, তার বিধান কাফেরদের মতো। আর যার বিদআত ফাসেকির পর্যায়ের এবং তাকে মিল্লাত থেকে বের করে দেয় না, তার বিধান মুসলিমদের মতো। তবে যদি মুসলিমদের ওপর তার ক্ষতির আশঙ্কা থাকে, তবে তার ব্যাপারে সতর্ক করতে হবে।
ছাত্র: . . . . . . . . .
তিনি বলেন: একজন ইলম অন্বেষণকারী নবীন ছাত্রকে উসূলে ফিকহ শাস্ত্রে কী পড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়?
সে এই কিতাবটি এবং এর সংশ্লিষ্ট যা কিছু লেখা হয়েছে, লেখককে নিয়ে যে আলোচনা-পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং কিতাবটির ওপর যে টীকা লেখা হয়েছে তা পড়বে। এরপর সে এর চেয়ে উচ্চতর কিতাবের দিকে যাবে, যেমন এর ব্যাখ্যাসহ 'মুখতাসারুত তাহরির' অথবা এর ব্যাখ্যাসহ 'মুখতাসারুর রওদাহ'।
তিনি বলেন: আপনারা বলেছেন: উসূলে ফিকহ শেখার ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করা উচিত নয়, তাহলে এই বিদ্যায় কোন স্তরগুলো অনুসরণ করা উচিত?
আমরা উল্লেখ করেছি যে, নবীন ছাত্র এই কিতাবের মতো কিছু দিয়ে শুরু করবে, তারপর এর ব্যাখ্যাসহ 'মুখতাসারুর রওদাহ' অথবা এর ব্যাখ্যাসহ 'মুখতাসারুত তাহরির' পড়বে। এরপর যখন সে এই কিতাবগুলো বুঝে ফেলবে, তখন বিষয়টি হবে পর্যালোচনার মতো, প্রয়োজনে সে বিস্তারিত কিতাবগুলো দেখবে।
তিনি বলেন: যে ব্যক্তি কোনো হাদিসে ভুল করল, তার ওপর কি এই হাদিসটি প্রযোজ্য হবে: "যে ব্যক্তি (আমার ওপর) মিথ্যা আরোপ করল..."?
যে ভুল করেছে—ভুল থেকে কে মুক্ত আছে? যেমনটি ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ) পাঠ করেছেন: "হে আমাদের প্রতিপালক! যদি আমরা বিস্মৃত হই অথবা ভুল করি, তবে আমাদের পাকড়াও করবেন না।" [সূরা আল-বাকারা: ২৮৬]। তবে গতকাল আমরা যে উদাহরণটি উল্লেখ করেছি তা স্মরণ করা হয় যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিসের কোনো শব্দের ব্যাকরণগত ভুল করলে তা এর অন্তর্ভুক্ত হবে...। এটি সতর্কীকরণ, যাচাই-বাছাই, নিশ্চিত হওয়া এবং হাদিসটিকে অবিকল তার মূল শব্দে বর্ণনা করার অন্তর্ভুক্ত যদি সম্ভব হয়, অন্যথায় এর মর্মার্থ অনুযায়ী বর্ণনা করতে হবে।
তিনি বলেন: যেহেতু এই বিদ্যা এবং অন্যান্য সহায়ক বিদ্যাগুলো কেবল মাধ্যম মাত্র এবং ছাত্রের উচিত এতে মধ্যপন্থা অবলম্বন করা, তাই একজন মধ্যম স্তরের শিক্ষার্থীর জন্য কতটুকু পড়াশোনা যথেষ্ট তা ব্যাখ্যা করার অনুরোধ করছি।
আমরা উসূলের ক্ষেত্রে এটি উল্লেখ করেছি।
আর তিনি নাহু শাস্ত্রের ব্যাপারে কী বলেন?
নাহু শাস্ত্রে সে 'আজুরুমিয়্যাহ', এর পরিশিষ্ট এবং এগুলোর ওপর যা লেখা হয়েছে তা পড়বে। আর যদি তার আলফিয়্যাহ মুখস্থ করার আগ্রহ থাকে এবং তার স্মরণশক্তি তাকে সহায়তা করে, তবে এটি একজন নাহু শাস্ত্রের ছাত্রের জন্য সর্বোত্তম পাথেয়।
ইলম অন্বেষণকারী কোনো কোনো ছাত্র বলে থাকে: যারা বিদআতে লিপ্ত হয়েছে যেমন ইবনে হাজার, নববী এবং ইযয বিন আবদুস সালাম, তাদের ক্ষেত্রে 'ইমাম' শব্দ ব্যবহার করা সমীচীন নয়। আর আমরা যদি বলি: 'ইমাম' শব্দটি হাদিস বিশারদদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়, তবে বলা হবে: আল্লামা অমুক নববী এবং হাফেজ ইবনে হাজার...।
(খণ্ড: ২)
শারহুল ওয়ারাকাত - আব্দুল কারীম আল খুদাইর
(পৃষ্ঠা: ৫)
على كل حال هذه أمور نسبية، وقد يكون الإنسان إمام في باب وهو في الباب الآخر أقل منه في ذلك، فلا يمنع أن يقال: فلان إمام في باب كذا، إمام في النحو وإن كان ضعيفاً في باب الرواية، إمام في الحديث وإن كان ضعيفاً في باب العربية، وهكذا، الإمام أحمد قالوا: إنه إمام في السنة، إمام في الفقه، إمام في الزهد، إمام في الفقر رحمة الله عليه.
الكتاب الذي معنا سئل عنه كثيراً، في أسئلة
… !
كتاب أصول الفقه للشيخ عبد الوهاب خلاف كتاب جيد ومرتب ومنظم، إلا أنه لا يناسب المبتدئين، يعني من فهم هذا الكتاب وقرأ شروحه يقرأ في مثل كتاب الشيخ خلاف رحمه الله.
يقول: ما حكم خروج بعض المشايخ والدعاة لما يترتب على ذلك من الفتن والضلال بقصد الدعوة إلى الله؟
الخروج: إن كان المراد به الخروج عن هذه البلاد إلى بلاد الكفر مثلاً، فالسفر إلى بلاد الكفر معروف عند أهل العلم حكمه والإقامة فيها أيضاً -في بلاد الكفر- حكمها التحريم، والهجرة واجبة وباقية إلى قيام الساعة، حسب الإمكان إذا أمكن ذلك، وإلا فالله سبحانه وتعالى استثنى المستضعفين.
يقول ما حكم خروج بعض المشايخ والدعاة
… ؟
ما هو موضح، الخروج إلى بلاد الكفر، إلى غيرها من البلدان، الخروج في القنوات ابتلي الناس به أيضاً ووجد من ينتسب إلى العلم يخرج إلى الناس في هذه القنوات مما يكسبها الشرعية، على كل حال هذه أمور تحتاج إلى شيءٍ من البسط، ولعل الشيخ يعرض عليه مثل هذا السؤال.
يقول: هل البسملة في كتاب الله من السور أو من سورة الفاتحة أو كغيرها؟
السؤال ركيك، لكن الواضح أنه يسأل عن البسملة في الفاتحة، أهل العلم يختلفون هل البسملة آية في أوائل السور، بعد اتفاقهم على أنها آية من سورة النمل، واتفاقهم على أنها ليست بآية في أول سورة التوبة، والخلاف معروف.
والذي يراه شيخ الإسلام وبه يقول كثير من الحنفية أنها آية واحدة نزلت للفصل بين السور، وليست بآية في كل سورة، هي آية واحدة نزلت للفصل بين السور، ومنهم من يرى أنها آية في كل سورة، ومنهم من يرى أنها ليست بآية مطلقاً، والآية مبسوطة في كتب أحكام القرآن، وفي –أيضاً- كتب الفقه.
যাই হোক, এগুলো আপেক্ষিক বিষয়। কোনো ব্যক্তি এক বিষয়ে ইমাম হতে পারেন আবার অন্য বিষয়ে তাঁর অবস্থান তার চেয়ে কম হতে পারে। সুতরাং এটি বলতে কোনো বাধা নেই যে: অমুক ব্যক্তি এই বিষয়ে ইমাম। তিনি নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রে ইমাম হতে পারেন যদিও তিনি হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে দুর্বল হন; আবার হাদিস শাস্ত্রে ইমাম হতে পারেন যদিও তিনি আরবি ভাষার ক্ষেত্রে দুর্বল হন, এবং এভাবেই। ইমাম আহমাদ সম্পর্কে তারা বলেছেন: তিনি সুন্নাহর ইমাম, ফিকহের ইমাম, যুহদ (দুনিয়াবিমুখতা) এর ইমাম এবং দারিদ্র্যে অটল থাকার ইমাম, তাঁর প্রতি আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।
আমাদের সামনে থাকা কিতাবটি সম্পর্কে অনেক প্রশ্ন করা হয়েছে, কিছু প্রশ্ন হলো
… !
শাইখ আব্দুল ওয়াহহাব খাল্লাফ-এর উসুলুল ফিকহ কিতাবটি উত্তম, সুবিন্যস্ত এবং সুশৃঙ্খল। তবে এটি নতুনদের জন্য উপযুক্ত নয়। অর্থাৎ, যে ব্যক্তি এই কিতাবটি বুঝেছে এবং এর ব্যাখ্যাসমূহ পড়েছে, সে শাইখ খাল্লাফ (রহিমাহুল্লাহ)-এর কিতাবের মতো কিতাবগুলো পড়তে পারে।
প্রশ্নকারী বলছেন: কিছু শাইখ এবং দায়ীদের আল্লাহর পথে দাওয়াতের উদ্দেশ্যে (বিদেশে) বের হওয়ার হুকুম কী, যেখানে এর ফলে ফিতনা এবং বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে?
বের হওয়া: এর দ্বারা যদি উদ্দেশ্য হয় এই দেশ থেকে কুফরি দেশসমূহে গমন করা, তবে কুফরি দেশসমূহে সফরের হুকুম এবং সেখানে বসবাসের হুকুম আলেমদের নিকট পরিচিত। কুফরি দেশে বসবাস করা হারাম এবং হিজরত করা কিয়ামত পর্যন্ত ওয়াজিব ও অব্যাহত থাকবে সামর্থ্য অনুযায়ী, যদি তা সম্ভব হয়। অন্যথায়, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা অসহায়দের এর ব্যতিক্রম করেছেন।
প্রশ্নকারী বলছেন: কিছু শাইখ এবং দায়ীদের বের হওয়ার হুকুম কী
… ?
বিষয়টি স্পষ্ট নয়—এটি কি কুফরি দেশের দিকে বের হওয়া, না অন্য কোনো দেশের দিকে? আবার টিভি চ্যানেলে উপস্থিত হওয়ার মাধ্যমে বের হওয়া—মানুষ এতেও পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছে। আলেম হিসেবে পরিচিত কাউকে এই চ্যানেলগুলোতে বের হতে দেখা যায়, যা এগুলোকে বৈধতা দান করে। যাই হোক, এই বিষয়গুলোতে বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে, সম্ভবত শাইখের কাছে এই ধরনের প্রশ্ন পেশ করা হবে।
প্রশ্নকারী বলছেন: আল্লাহর কিতাবে বিসমিল্লাহ কি সূরাগুলোর অন্তর্ভুক্ত নাকি সূরা ফাতিহার অংশ নাকি অন্য কিছুর মতো?
প্রশ্নটি দুর্বলভাবে করা হয়েছে, তবে স্পষ্টত তিনি সূরা ফাতিহায় বিসমিল্লাহর অবস্থান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছেন। সূরা আন-নামল-এ বিসমিল্লাহ একটি আয়াত হওয়ার ব্যাপারে একমত হওয়ার পর এবং সূরা আত-তাওবার শুরুতে এটি আয়াত না হওয়ার ব্যাপারে একমত হওয়ার পর, সূরাগুলোর শুরুতে বিসমিল্লাহ কি একটি স্বতন্ত্র আয়াত কি না সে বিষয়ে আলেমগণ ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। এ বিষয়ে মতভেদ সুপরিচিত।
শাইখুল ইসলাম যে মতটি পোষণ করেছেন এবং অনেক হানাফী আলেম যা বলেছেন তা হলো—এটি সূরাগুলোর মাঝে পার্থক্য করার জন্য অবতীর্ণ একটি স্বতন্ত্র আয়াত। এটি প্রতিটি সূরার অংশ নয়; বরং এটি সূরাগুলোর মাঝে পার্থক্য করার জন্য অবতীর্ণ একটি একক আয়াত। তাদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেন এটি প্রতিটি সূরার একটি আয়াত, আবার কেউ কেউ মনে করেন এটি মোটেও (সূরার অংশ হিসেবে) আয়াত নয়। এ সংক্রান্ত আলোচনা আহকামুল কুরআন এবং ফিকহ শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ২)
শারহুল ওয়ারাকাত - আব্দুল কারীম আল খুদাইর
(পৃষ্ঠা: ৬)
هذا يسأل يقول: إنك ذكرت أنك ستذكر أحسن الطبعات للكتب؟ يعني في مقارنة شروح الكتب الستة، ولم تفعل؟
ذكرناها في مناسبات كثيرة، ذكرنا أفضل الطبعات في مناسباتٍ كثيرة، ولو الوقت يسعف ذكرنا الآن، لكن الوقت ضيق والله المستعان.
بسم الله الرحمن الرحيم، الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، أما بعد: فقد قال إمام الحرمين رحمه الله:
والأحكام سبعة الواجب والمندوب والمباح والمحظور والمكروه والصحيح والفاسد، فالواجب: ما يثاب على فعله ويعاقب على تركه، والمندوب: ما يثاب على فعله ولا يعاقب على تركه، والمباح: ما لا يثاب على فعله ولا يعاقب على تركه، والمحظور: ما يثاب على تركه ويعاقب على فعله، والمكروه: ما يثاب على تركه ولا يعاقب على فعله، والصحيح: ما يتعلق به النفوذ ويعتد به، والباطل: ما لا يتعلق به النفوذ ولا يعتد به.
الحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم وبارك على عبده ورسوله نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، يقول -رحمه الله تعالى-:
والأحكام سبعة: ثم ذكرها: الواجب والمندوب والمباح والمحظور والمكروه والصحيح والباطل.
الأحكام: جمع حكم والحكم مصدر حكم يحكم إذا قضى، ومعنى الحكم في الأصل المنع، ومنه حكمة الدابة؛ لأنها تمنعها، ومنه قول جرير:
أبني حنيفة أحكموا سفهاءكم
… إني أخاف عليكمُ أن أغضبا
الحكم في الاصطلاح: يعرفه بعض العلماء بأنه خطاب الله، خطاب الله المتعلق بأفعال المكلفين طلباً أو تخييراً أو وضعاً، خطاب الله المتعلق بأفعال المكلفين طلباً أو تخييراً أو وضعاً، فجعلوا الحكم نفس الخطاب، هذا تعريف أكثر الأصوليين، جعلوا الحكم نفس الخطاب {أَقِيمُواْ الصَّلَاةَ} [(43) سورة البقرة] هذا حكم، {لَا تَقْرَبُواْ الزِّنَى} [(32) سورة الإسراء] هذا حكم، {إِذَا حَلَلْتُمْ فَاصْطَادُواْ} [(2) سورة المائدة] هذا حكم، {أَقِمِ الصَّلَاةَ لِدُلُوكِ الشَّمْسِ} [(78) سورة الإسراء] هذا حكم، فجعلوا الحكم نفس الخطاب.
একজন প্রশ্ন করছেন: আপনি উল্লেখ করেছিলেন যে আপনি কিতাবসমূহের সর্বোত্তম সংস্করণগুলো উল্লেখ করবেন? অর্থাৎ কুতুবে সিত্তাহর ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর তুলনামূলক আলোচনায়, কিন্তু আপনি তা করেননি?
আমরা অনেক উপলক্ষে এগুলো উল্লেখ করেছি, অনেক সুযোগে সর্বোত্তম সংস্করণগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। যদি সময় থাকতো তবে এখনো উল্লেখ করতাম, কিন্তু সময় খুব সংকীর্ণ আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাওয়া হয়।
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা.), তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর: ইমামুল হারামাইন (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
বিধান সাতটি: ওয়াজিব, মানদুব, মুবাহ, মাহযুর, মাকরূহ, সহীহ এবং ফাসিদ। সুতরাং ওয়াজিব হলো: যা পালনে সওয়াব পাওয়া যায় এবং ত্যাগের কারণে শাস্তি পেতে হয়। মানদুব হলো: যা পালনে সওয়াব পাওয়া যায় কিন্তু ত্যাগের কারণে শাস্তি পেতে হয় না। মুবাহ হলো: যার পালনে সওয়াব নেই এবং ত্যাগের কারণে শাস্তিও নেই। মাহযুর হলো: যার ত্যাগের কারণে সওয়াব পাওয়া যায় এবং পালনের কারণে শাস্তি পেতে হয়। মাকরূহ হলো: যার ত্যাগের কারণে সওয়াব পাওয়া যায় কিন্তু পালনের কারণে শাস্তি পেতে হয় না। সহীহ হলো: যার সাথে কার্যকরিতা সম্পৃক্ত এবং যা গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। আর বাতিল হলো: যার সাথে কার্যকরিতা সম্পৃক্ত নয় এবং যা গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয় না।
সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং আল্লাহর শান্তি, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও রাসূল আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা.), তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর। তিনি (রহিমাহুল্লাহু তাআলা) বলেন:
বিধান সাতটি: তারপর তিনি সেগুলো উল্লেখ করেছেন: ওয়াজিব, মানদুব, মুবাহ, মাহযুর, মাকরূহ, সহীহ এবং বাতিল।
আহকাম (বিধানসমূহ): এটি হুকুম শব্দের বহুবচন। হুকুম শব্দটি হাকামা-ইয়াহকুমু ক্রিয়ামূল থেকে আগত যার অর্থ ফয়সালা করা। আর আভিধানিক অর্থে হুকুম মানে হলো বাধা প্রদান করা। এখান থেকেই পশুর লাগামকে হিকমাতুদ দাব্বাহ বলা হয়; কারণ এটি তাকে বাধা প্রদান করে। এ থেকেই জারীরের উক্তি:
হে বনী হানীফা! তোমাদের নির্বোধদের সংযত করো
… কেননা আমি তোমাদের ওপর রাগান্বিত হওয়ার ভয় করছি
পারিভাষিক অর্থে হুকুম: কোনো কোনো আলেম এর সংজ্ঞা দিয়েছেন যে, এটি আল্লাহর সম্বোধন; মুকাল্লাফ (শরয়ি দায়িত্বপ্রাপ্ত) ব্যক্তিদের কাজের সাথে দাবিকৃত, ঐচ্ছিক অথবা পরিস্থিতিগতভাবে সংশ্লিষ্ট আল্লাহর বাণী। তারা হুকুমকে খোদ সম্বোধন হিসেবে গণ্য করেছেন। এটি অধিকাংশ উসুলবিদের সংজ্ঞা। তারা হুকুমকে খোদ বাণী হিসেবে গণ্য করেছেন। যেমন: {তোমরা নামাজ কায়েম করো} [সূরা আল-বাকারা: ৪৩] এটি একটি বিধান, {তোমরা ব্যভিচারের কাছে যেও না} [সূরা আল-ইসরা: ৩২] এটি একটি বিধান, {যখন তোমরা ইহরাম মুক্ত হবে তখন শিকার করো} [সূরা আল-মায়িদাহ: ২] এটি একটি বিধান, {সূর্য ঢলে পড়ার পর নামাজ কায়েম করো} [সূরা আল-ইসরা: ৭৮] এটি একটি বিধান। তারা হুকুমকে খোদ বাণী হিসেবেই গণ্য করেছেন।
(খণ্ড: ২)
শারহুল ওয়ারাকাত - আব্দুল কারীম আল খুদাইর
(পৃষ্ঠা: ৭)
لكن الفقهاء جعلوا الحكم ما يقتضيه الخطاب، فجعلوا الحكم الوجوب المأخوذ من هذا الأمر في قوله -جل وعلا-: {أَقِيمُواْ الصَّلَاةَ}، وجعلوا الحكم تحريم الزنا المأخوذ من قوله تعالى: {لَا تَقْرَبُواْ الزِّنَى}، ولعل هذا أقرب.
والمراد بخطاب الله ما هو أعم مما جاء في القرآن فقط، بحيث يشمل ما جاء عن الله عز وجل على لسان نبيه عليه الصلاة والسلام فخطاب الله سواء كان في كتابه، أو على لسان رسوله عليه الصلاة والسلام كله خطاب من الله، والذي يجيء عن النبي عليه الصلاة والسلام هو من عند الله؛ {وَمَا يَنطِقُ عَنِ الْهَوَى* إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى} [(3 - 4) سورة النجم]، فالذي يقوله النبي عليه الصلاة والسلام ابتداءً، ولا ينبه على أنه خلاف مراد الله عز وجل هو خطاب الله عز وجل أما اجتهاده عليه الصلاة والسلام وله أن يجتهد- فإن وافق ما عند الله عز وجل وهذا هو الكثير الغالب- فهو من عند الله حقيقة، وإن أخطأ عليه الصلاة والسلام في اجتهاده نبّه على خطئه في ارتكابه خلاف الأولى، كما جاء في قصة الأسرى، أسرى بدر، المقصود أن ما يجيء من عند النبي عليه الصلاة والسلام هو من عند الله حقيقةً.
والمراد بأفعال المكلفين: ما يشمل الأفعال من جميع الجوارح، من أفعال القلوب وأفعال اللسان، أقوال اللسان والبدن.
طلباً: سواءً كان الطلب لفعل الشيء أو الطلب للكف عن شيء، وطلب الفعل يشمل الطلب الجازم وهو ما يعرف بالواجب، ويشمل الطلب من غير جزم فيشمل المندوب، وطلب الكف يشمل ما كان مع جزم فيدخل فيه المحظور، وما كان من غير جزمٍ فيدخل فيه المكروه.
أو تخييراً: من غير طلب لا فعل ولا كف، وهو غير مطلوب أصلاً، والمكلف مخير بين فعله وعدم فعله، وهذا هو المباح. أو وضعاً: فيدخل فيه ذلك الحكم الوضعي.
ما جاء من قولهم: خطاب الله المتعلق بأفعال المكلفين طلباً أو تخييراً هذا هو ما يعرف بالحكم التكليفي، أو وضعاً يشمل الحكم الوضعي، والوضع يشمل ما ستأتي الإشارة إليه من الصحيح والفاسد وغيرهما.
কিন্তু ফকীহগণ (আইনবিদগণ) সম্বোধনের দাবিকেই হুকুম (বিধান) হিসেবে গণ্য করেছেন। সুতরাং তারা মহান আল্লাহর বাণী "তোমরা সালাত কায়েম করো"-এর এই নির্দেশ থেকে গৃহীত 'ওয়াজিব' হওয়াকে হুকুম সাব্যস্ত করেছেন। আবার মহান আল্লাহর বাণী "তোমরা ব্যভিচারের কাছে যেও না" থেকে গৃহীত ব্যভিচারের 'হারাম' হওয়াকে হুকুম সাব্যস্ত করেছেন। সম্ভবত এটাই অধিকতর সঠিক।
আল্লাহর সম্বোধন দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যা কেবল কুরআনে অবতীর্ণ বিষয়ের চেয়েও ব্যাপক, যাতে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মুখে যা বর্ণিত হয়েছে তাও অন্তর্ভুক্ত থাকে। সুতরাং আল্লাহর সম্বোধন চাই তা তাঁর কিতাবে হোক অথবা তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মুখে হোক, সবই আল্লাহর সম্বোধন। আর যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয় তা আল্লাহর পক্ষ থেকেই; "আর তিনি প্রবৃত্তির তাড়নায় কথা বলেন না। তা তো কেবল ওহী, যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয়।" [সূরা আন-নাজম: ৩-৪]। সুতরাং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রাথমিকভাবে যা বলেন এবং যা মহান আল্লাহর উদ্দেশ্য পরিপন্থী বলে সতর্ক করা না হয়, তা মহান আল্লাহরই সম্বোধন। আর তাঁর ইজতিহাদ—এবং তাঁর ইজতিহাদ করার অবকাশ আছে—যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত বিষয়ের অনুকূলে হয়—আর এটাই অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঘটে থাকে—তবে তা প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর পক্ষ থেকেই। আর যদি তিনি তাঁর ইজতিহাদে কোনো ভুল করেন, তবে তাঁকে তাঁর ভুলের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে যে তিনি উত্তম পন্থার বিপরীত কাজ করেছেন, যেমনটি বদরের যুদ্ধবন্দীদের ঘটনায় বর্ণিত হয়েছে। উদ্দেশ্য হলো, যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে আসে তা প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর পক্ষ থেকেই।
'মুকাল্লাফ' (শরীয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তি)-দের কার্যাবলি বলতে যা বুঝানো হয়েছে: তা শরীরের সমস্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কাজকে অন্তর্ভুক্ত করে, যার মধ্যে অন্তরের কাজ, জিহ্বার কথা এবং দেহের অন্যান্য অঙ্গের কাজও রয়েছে।
দাবি হিসেবে: সেই দাবি কোনো কাজ করার জন্য হোক অথবা কোনো কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য হোক। কাজ করার দাবির মধ্যে রয়েছে সুনিশ্চিত দাবি, যা 'ওয়াজিব' হিসেবে পরিচিত, এবং সুনিশ্চিত নয় এমন দাবিও এর অন্তর্ভুক্ত, যা 'মানদুব' (মুস্তাহাব) হিসেবে গণ্য। আর বিরত থাকার দাবির মধ্যে রয়েছে যা সুনিশ্চিত, যার অধীনে 'মাহযুর' (নিষিদ্ধ/হারাম) অন্তর্ভুক্ত হয়, এবং যা সুনিশ্চিত নয়, যার অধীনে 'মাকরুহ' অন্তর্ভুক্ত হয়।
অথবা ইখতিয়ার (পছন্দ করার সুযোগ) হিসেবে: যা করা বা না করার কোনো দাবি নেই, বরং এটি আদতে কাম্য নয়, আর মুকাল্লাফ ব্যক্তি এটি করা বা না করার ব্যাপারে স্বাধীন; আর এটাই হলো 'মুবাহ' (বৈধ)। অথবা 'ওয়াদ' (নির্ধারণ) হিসেবে: যার মধ্যে 'হুকমে ওয়াদঈ' (প্রাসঙ্গিক বিধান) অন্তর্ভুক্ত হয়।
তাঁদের উক্তি থেকে যা প্রতীয়মান হয়: মুকাল্লাফদের কার্যাবলির সাথে সংশ্লিষ্ট আল্লাহর সম্বোধন, দাবি বা ইখতিয়ার হিসেবে; এটাই 'হুকমে তাকলিফী' (দায়িত্বারোপকারী বিধান) হিসেবে পরিচিত। অথবা 'ওয়াদ' হিসেবে, যা 'হুকমে ওয়াদঈ'কে অন্তর্ভুক্ত করে। আর 'ওয়াদ'-এর মধ্যে সহীহ (সঠিক), ফাসিদ (অকার্যকর) এবং অন্যান্য বিষয় যা সামনে উল্লেখ করা হবে, তাও অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ২)
শারহুল ওয়ারাকাত - আব্দুল কারীম আল খুদাইর
(পৃষ্ঠা: ৮)
إذا عرفنا هذا فالأحكام عند أهل العلم تنقسم إلى قسمين: أحكام تكليفية، وأحكام وضعية، أحكام تكليفية وأخرى وضعية، والأحكام التكليفية .. ، والأصل في التكليف أنه إلزام ما فيه كلفة ومشقة، هذا الأصل فيه، ولا شك أن الشرع فيه تكاليف وفيه ما يشق على النفوس؛ لأن الجنة حفّت بالمكاره، هذا هو السبب في تسمية الأحكام بالتكليف؛ لأن الجنة حفت بالمكاره، ولا يمنع أن يكون هذا التكليف .. ، يكون في بداية الأمر، ثم بعد ذلك يكون تلذذ بالطاعة، يعالج الإنسان نفسه على هذه التكاليف حتى تصير ديدناً لها فتتلذذ بها، وهذا معروف عند المسلمين قديماً وحديثاً، كثير من الناس يتلذذ بالطاعة، والرسول عليه الصلاة والسلام يقول: ((أرحنا يا بلال بالصلاة))، وحال أو لسان حال كثيرٍ من المسلمين يقول: أرحنا من الصلاة.
لا شك أن الصلاة تكليف على خلاف ما ترضاه النفس، لكن إذا اعتادها الإنسان وتعلق قلبه بها حدِّث ولا حرج من اللذة وانشراح الصدر في الصلاة، وجاهد السلف -بل كثير من الناس في القديم والحديث- جاهدوا أنفسهم من أجل قيام الليل، جاهدوا مدة ثم صار من شأنهم وديدنهم فتلذذوا به، وهكذا غير الصلاة من العبادات كالصيام في الهواجر من أشقّ الأمور على النفس، الصيام في الهواجر، لكنه من ألذ الأشياء عند من عوّد نفسه عليها وصار شأناً له وديدناً له والله المستعان، وقل مثل ذلك في سائر العبادات، كتلاوة القرآن، التلذذ بمناجاة الله عز وجل والخلوة به، والله المستعان، وهذا محروم منه كثير من الناس، والسبب انشغالهم بهذه الدنيا، والله المستعان.
আমরা যখন এটি জানলাম, তখন ইলম অন্বেষীগণের নিকট বিধানসমূহ দুই ভাগে বিভক্ত: তাকলিফি বিধান (আদেশ-নিষেধমূলক) এবং ওয়াদয়ি বিধান (পরিবেশগত বা শর্তমূলক)। তাকলিফি বিধান এবং অন্যটি ওয়াদয়ি বিধান। আর তাকলিফি বিধানসমূহ... মূলত তাকলিফ বা আদেশ-নিষেধের মূল অর্থ হলো এমন কিছু আবশ্যক করা যাতে শ্রম ও কষ্ট রয়েছে। এটাই এর মূল। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে শরীয়তে এমন সব দায়-দায়িত্ব রয়েছে যা নফসের জন্য কষ্টকর; কারণ জান্নাত দুঃখ-কষ্ট দ্বারা বেষ্টিত। আর একারণেই বিধানসমূহকে তাকলিফ নামে নামকরণ করা হয়েছে; কারণ জান্নাত দুঃখ-কষ্ট দ্বারা আবৃত। আর এটি অসম্ভব নয় যে, এই কষ্টকরতা... বিষয়ের শুরুতে থাকে, অতঃপর আনুগত্যের মাঝে স্বাদ অনুভূত হয়। মানুষ এই বিধানগুলোর ওপর নিজের নফসকে অভ্যস্ত করার সাধনা করে যতক্ষণ না তা তার মজ্জাগত অভ্যাসে পরিণত হয় এবং সে তা থেকে স্বাদ পায়। আর এটি প্রাচীনকাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত মুসলমানদের নিকট সুপরিচিত। অনেক মানুষই আনুগত্যের মাঝে স্বাদ আস্বাদন করেন। রাসূলুল্লাহ (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) বলতেন: "হে বিলাল! সালাতের মাধ্যমে আমাদের প্রশান্তি দাও।" পক্ষান্তরে অনেক মুসলমানের অবস্থা বা তাদের যবান যেন বলছে: "আমাদেরকে সালাত থেকে রেহাই দিয়ে বাঁচাও।"
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সালাত হলো নফসের ইচ্ছার বিপরীতে একটি কষ্টকর দায়িত্ব। কিন্তু যখন মানুষ এতে অভ্যস্ত হয়ে যায় এবং তার অন্তর এর সাথে মিশে যায়, তখন সালাতের মাধ্যমে যে স্বাদ এবং বক্ষ প্রশস্তি অর্জিত হয় তার বর্ণনা দিয়ে শেষ করা যাবে না। আর সালাফে সালেহীন—বরং অতীতে ও বর্তমানে অনেক মানুষই—কিয়ামুল লাইলের (রাতের নামায) জন্য নিজেদের নফসের সাথে কঠোর সাধনা করেছেন। তারা দীর্ঘকাল সংগ্রাম করেছেন, অতঃপর তা তাদের স্বভাবে ও অভ্যাসে পরিণত হয়েছে এবং তারা এতে স্বাদ পেতে শুরু করেছেন। সালাত ছাড়াও অন্যান্য ইবাদতের ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই রকম, যেমন প্রচণ্ড উত্তাপে রোজা রাখা নফসের কাছে অত্যন্ত কষ্টকর বিষয়গুলোর একটি। প্রচণ্ড উত্তাপে রোজা রাখা; কিন্তু যে ব্যক্তি নিজেকে এতে অভ্যস্ত করে নিয়েছে এবং এটি তার স্বভাবে পরিণত হয়েছে, তার কাছে এটি অত্যন্ত স্বাদময় একটি বিষয়। আল্লাহর সাহায্যই কাম্য। অন্যান্য সকল ইবাদতের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য, যেমন কুরআন তিলাওয়াত, মহান আল্লাহর সাথে একান্তে কথোপকথন এবং নির্জনতায় তাঁর সান্নিধ্যের স্বাদ আস্বাদন করা। আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাই। আর অনেক মানুষই এটি থেকে বঞ্চিত। এর মূল কারণ হলো এই দুনিয়াবি কাজে তাদের নিমগ্ন থাকা। আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি।
(খণ্ড: ২)
শারহুল ওয়ারাকাত - আব্দুল কারীম আল খুদাইর
(পৃষ্ঠা: ৯)
فالأحكام التكليفية خمسة استوعبها المؤلف فذكرها كلها، الواجب والمندوب والمباح والمحظور والمكروه، وطريق الحصر في الخمسة الاستقراء؛ لأن الطلب إما أن يكون طلباً للفعل أو الكف عنه أو للتخيير، فالأول إن كان جازماً على ما تقدم فهو الواجب، وإن كان من غير جزمٍ فهو المندوب، والثاني طلب الكف، إن كان مع جزمٍ فهو المحظور، وإن كان من غير جزم فهو المندوب، وإن كان الثالث الذي هو التخيير هو الإباحة، فالإباحة حكم شرعي؛ لأنها بخطابٍ من الله عز وجل على خلافٍ بين أهل العلم في ذلك، منهم من يقول: إن ذكر الإباحة وإدراجها ضمن الأحكام من باب تتميم القسمة؛ إذ ليست هي حكم، وليست بتكليف، وليس فيها كلفة ولا مشقّة، والذي يقول: إنها من التكليف وأدرجها في الأحكام التكليفية قال: إنها جاءت بخطابٍ من الله، وخطاب الله هو الحكم،
والأحكام الوضعية، والمراد بالحكم الوضعي: خطاب الشرع المتعلق بأفعال المكلفين لا بالاقتضاء ولا بالتخيير، والأحكام الوضعية كثيرة: السبب، والعلة، والشرط، والمانع، والرخصة، والعزيمة، والصحة، والفساد، وأما المؤلف فاقتصر منها على اثنين، وساقها مساقاً واحداً مع أحكام التكليف اختصاراً؛ لأن الكتاب ألف للمبتدئين، وهم لا يستوعبون ذكر جميع الأقسام.
وأنتم تلاحظون أن الكتب التي تؤلف بالتدريج -ولنأخذ على سبيل المثال مؤلفات الموفق ابن قدامة في الفقه- العمدة، المقنع، الكافي، المغني، فللمبتدئين العمدة، وللطبقة الذين يلونهم من المتوسطين المقنع، وللطبقة الثالثة الكافي، وللمنتهين المغني، وطريقتهم في التأليف أنهم يقتصرون على ما يحتاج إليه المبتدئ، ثم الطبقة الذين يلونهم، يذكرون ما ذكروه للمبتدئين، ويزيدون عليه مما يحتاجه المتوسطون، فهل المقنع مجرد من الأحكام الموجودة في العمدة؟ لا، وهل الكافي مجرد عما اشتمل عليه المقنع؟ لا، موجود فيه كل ما ذكر في هذه الكتب، والتكرار عند أهل العلم مقصود، ولذا يعمد بعض الناس إلى ذكر زوائد الكافي على المقنع مثلاً، أو ذكر زوائد المقنع على العمدة، هذه طريقة ما غابت عن بال أهل العلم حينما ألفوا هذه الكتب، إنما يستفيد الطالب من هذا التكرار.
يقول الناظم -رحمه الله تعالى-:
অতএব তাকলিফী বিধানসমূহ (শরীয়তের করণীয় ও বর্জনীয় নির্দেশসমূহ) পাঁচটি। লেখক এগুলো সবিস্তারে উল্লেখ করেছেন, যথা: ওয়াজিব (আবশ্যক), মানদুব (পছন্দনীয়), মুবাহ (বৈধ), মাহযুর (নিষিদ্ধ) এবং মাকরূহ (অপছন্দনীয়)। এই পাঁচটিতে সীমাবদ্ধ করার পদ্ধতি হলো ইস্তিকরা (বিশ্লেষণাত্মক অনুসন্ধান); কারণ শরীয়তের তলব বা দাবি হয় কোনো কাজ করার দাবি, অথবা তা থেকে বিরত থাকার দাবি, অথবা নির্বাচনের স্বাধীনতা। প্রথমটি (করার দাবি) যদি অকাট্য বা দৃঢ় হয়, তবে পূর্বে আলোচিত সংজ্ঞানুযায়ী তা ওয়াজিব। আর যদি অকাট্য না হয়, তবে তা মানদুব। দ্বিতীয়টি হলো বিরত থাকার দাবি; যদি তা অকাট্য হয় তবে তা মাহযুর (নিষিদ্ধ), আর যদি অকাট্য না হয় তবে তা মাকরূহ। আর তৃতীয়টি যা নির্বাচনের স্বাধীনতা দেয়, তা হলো ইবাহাত (বৈধতা)। সুতরাং ইবাহাত একটি শরয়ী বিধান; কারণ এটি মহান আল্লাহর সম্বোধন (খিতাব) দ্বারা প্রমাণিত, যদিও এ বিষয়ে আলিমগণের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন: ইবাহাত উল্লেখ করা এবং একে বিধানের অন্তর্ভুক্ত করা কেবল শ্রেণীবিন্যাস পূর্ণ করার খাতিরে; যেহেতু এটি প্রকৃতপক্ষে কোনো হুকুম নয় এবং এটি তাকলিফ (দায়িত্ব অর্পণ) নয়, এতে কোনো বাধ্যবাধকতা বা কষ্ট নেই। আর যারা বলেন যে এটি তাকলিফের অন্তর্ভুক্ত এবং একে তাকলিফী বিধানের মধ্যে গণ্য করেছেন, তাদের যুক্তি হলো: এটি আল্লাহর সম্বোধন থেকে এসেছে, আর আল্লাহর সম্বোধনই হলো বিধান বা হুকুম।
আর আহকামে ওয়াদয়িয়্যাহ (অবস্থাগত বিধানসমূহ); ওয়াদয়ী বিধান বলতে বুঝায়: শরীয়তের সেই সম্বোধন যা মুকাল্লাফ (দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি)-এর কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট, তবে তা দাবি বা নির্বাচনের স্বাধীনতার প্রেক্ষিতে নয়। ওয়াদয়ী বিধান অনেক প্রকার: সাবাব (কারণ), ইল্লত (নিমিত্ত), শর্ত (শর্ত), মানি' (প্রতিবন্ধক), রুখসাত (শিথিলতা), আযীমত (মূল বিধান), সিহ্হাত (সঠিকতা) এবং ফাসাদ (বাতিল হওয়া)। তবে লেখক সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে এগুলোর মধ্য থেকে মাত্র দুটির বর্ণনায় সীমাবদ্ধ থেকেছেন এবং সেগুলোকে তাকলিফী বিধানের সাথেই একই ধারায় আলোচনা করেছেন; কারণ বইটি নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য রচিত হয়েছে, আর তারা সমস্ত প্রকারের আলোচনা আত্মস্থ করতে সক্ষম হবে না।
আপনারা লক্ষ্য করবেন যে, বইগুলো ক্রমানুসারে রচিত হয়—উদাহরণস্বরূপ আমরা ফিকহ শাস্ত্রে মুয়াফ্ফাক ইবনে কুদামার গ্রন্থগুলোর কথা বলতে পারি—আল-উমদাহ, আল-মুকনি, আল-কাফি এবং আল-মুগনি। নবীনদের জন্য 'আল-উমদাহ', তাদের পরবর্তী স্তরের তথা মধ্যম স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য 'আল-মুকনি', তৃতীয় স্তরের জন্য 'আল-কাফি' এবং উচ্চতর স্তরের জন্য 'আল-মুগনি'। গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে তাদের পদ্ধতি হলো, তারা নবীনদের জন্য কেবল প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো উল্লেখ করেন; এরপর পরবর্তী স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য নবীনদের পাঠ্য বিষয়গুলো উল্লেখ করার পাশাপাশি মধ্যম স্তরের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো বৃদ্ধি করেন। তাহলে 'আল-মুকনি' কি 'আল-উমদাহ'-তে বিদ্যমান বিধানসমূহ থেকে মুক্ত? না। আর 'আল-কাফি' কি 'আল-মুকনি'-তে অন্তর্ভুক্ত বিষয়সমূহ থেকে মুক্ত? না; বরং এই বইগুলোতে উল্লিখিত সবকিছুই তাতে বিদ্যমান থাকে। আলিমগণের নিকট এই পুনরাবৃত্তি উদ্দেশ্যমূলক; এই কারণে কেউ কেউ যেমন 'আল-মুকনি'-এর তুলনায় 'আল-কাফি'-তে অতিরিক্ত বিষয়গুলো অথবা 'আল-উমদাহ'-এর তুলনায় 'আল-মুকনি'-তে অতিরিক্ত বিষয়গুলো সংকলনের উদ্যোগ নেন। আলিমগণ যখন এই বইগুলো রচনা করেছেন, তখন এই পদ্ধতিটি তাদের অগোচরে ছিল না; মূলত শিক্ষার্থী এই পুনরাবৃত্তি থেকেই উপকৃত হয়।
কাব্যকার—রাহিমাহুল্লাহু তা'আলা—বলেন: