(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু কিয়ামিল লাইলি ওয়া কিয়ামি রামাদান ওয়া কিতাবুল বিতর
(পৃষ্ঠা: -)
مختصر قيام الليل وقيام رمضان وكتاب الوتر القسم: كتب السنة
الكتاب: مختصر [قيام الليل وقيام رمضان وكتاب الوتر]
المؤلف: أبو عبد الله محمد بن نصر بن الحجاج المَرْوَزِي (ت 294هـ)
اختصرها: العلامة أحمد بن علي المقريزي
الناشر: حديث أكادمي، فيصل اباد - باكستان
الطبعة: الأولى، 1408 هـ - 1988 م
عدد الصفحات: 340
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 15 ربيع الأول 1433
কিয়ামুল লাইল, কিয়ামু রমাদান ও কিতাবুল বিতর-এর সংক্ষিপ্তসার বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
গ্রন্থ: সংক্ষিপ্ত [কিয়ামুল লাইল, কিয়ামু রমাদান ও কিতাবুল বিতর]
লেখক: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন নাসর বিন আল-হাজ্জাজ আল-মারওয়াযী (মৃত্যু ২৯৪ হিজরী)
সংক্ষেপ করেছেন: আল্লামা আহমাদ বিন আলী আল-মাকরিযী
প্রকাশক: হাদীস একাডেমি, ফয়সালাবাদ - পাকিস্তান
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৮ হিজরী - ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৪০
[গ্রন্থের নম্বরকরণ মুদ্রণ সংস্করণের অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু কিয়ামিল লাইলি ওয়া কিয়ামি রামাদান ওয়া কিতাবুল বিতর
(পৃষ্ঠা: -)
مختصر قيام الليل(المؤلف)
أبو عبد الله محمد بن نصر بن الحجاج المَرْوَزِي (202 - 294 هـ).
واختصر الكتاب:
أبو العباس أحمد بن علي بن عبد القادر بن محمد بن إبراهيم المقريزي (845 هـ).
(اسم الكتاب الذي طبع به، ووصف أشهر طبعاته):
طبع باسم: مختصر قيام الليل، اختصره الشيخ العلامة أحمد بن علي المقريزي (845 هـ).
وقد طبع المختصر أكثر من مرة:
1 - بمطبعة (رفاة عام لاهور) تحت إشراف الشيخ الحافظ عبد التواب الملتاني، وعليه بعض الحواشي المفيدة سنة (1320 هـ).
2 - طبعة باكستان تحت إشراف الشيخ عبد الشكور الأثري، فأعاد الطبعة السابقة، وعلق عليه بعض التعليقات النافعة سنة (1389 هـ). طبعة حجرية
3 - وأعيد نشر طبعة الشيخ عبد الشكور الأثري، بدون تغيير- في طبعة حديثة - باسم مختصر [قيام الليل وقيام رمضان وكتاب الوتر]، نشرته إدارة حديث أكادمي، فيصل آباد - باكستان
(توثيق نسبة الكتاب إلى مؤلفه)
ثبتت صحة نسبة هذا الكتاب إلى مؤلفه من خلال عدة أمور؛ من أهمها:
1 - نقل عنه واستفاد منه عدد من أهل العلم؛ منهم: الحافظ ابن حجر في تهذيب التهذيب (126)، والإصابة (4)، (579)، وشمس الحق آبادي في عون المعبود (475)، والمباركفوري في تحفة الأحوذي (3)، (962).
2 - نص على نسبته إليه الحاج خليفة في كشف الظنون (2).
(وصف الكتاب ومنهجه)
يعد هذا الكتاب من الأجزاء الحديثية التي تناولت ذكر الأحاديث والآثار المتعلقة بقيام الليل والأحكام المتعلقة به، وقد نهج المؤلف فيه منهجا يتلخص فيما يلي:
1 - جمع المصنف مادة الكتاب من نصوص الكتاب والسنة والآثار الواردة عن السلف الصالح، وتناول من خلالها الكلام على العديد من الأحكام الفقهية المتعلقة بقيام الليل، فبدأ بذكر حكم قيام الليل، وتناول الكلام على تفسير بعض الآيات المتعلقة بقيام الليل، وتعرض للأقوال المختلفة، وذكر الأحاديث المرغبة في قيام الليل، وغير ذلك مما يقف عليه قارئ الكتاب.
2 - ساق المؤلف الأحاديث والآثار مسندة، ونسب الأقوال إلى قائليها.
3 - قسم الموضوعات التي تناولها على أبواب، وجعل لكل باب ترجمة، وكان يصدر الباب بالأدلة القرآنية ما أمكن ذلك.
4 - كرر المصنف بعض الأحاديث والآثار.
هذا؛ وقد تلخَّص عمل المختصر في أمرين، بيَّنهما في مقدمة كتابه، وهما:
1 - حذف المكرر من الأحاديث المسندة والآثار.
2 - جمع كل ما في الكتاب من الأحاديث المسندة والآثار مع حذف الأسانيد.
[التعريف بالكتاب، نقلا عن موقع جامع الحديث]
কিয়ামুল লাইলের সংক্ষিপ্ত সার(লেখক)
আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে নাসর ইবনে হাজ্জাজ আল-মারওয়াযী (২০২ - ২৯৪ হি.)।
গ্রন্থটি সংক্ষিপ্ত করেছেন:
আবু আব্বাস আহমদ ইবনে আলী ইবনে আব্দুল কাদির ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আল-মাকরিযী (৮৪৫ হি.)।
(যে নামে বইটি মুদ্রিত হয়েছে এবং এর প্রসিদ্ধ সংস্করণসমূহের বিবরণ):
এটি মুদ্রিত হয়েছে: "কিয়ামুল লাইলের সংক্ষিপ্ত সার" (মুখতাসার কিয়ামুল লাইল) নামে, যা সংক্ষিপ্ত করেছেন আল্লামা শেখ আহমদ ইবনে আলী আল-মাকরিযী (৮৪৫ হি.)।
এই সংক্ষিপ্ত সংস্করণটি একাধিকবার মুদ্রিত হয়েছে:
১ - লাহোরের (রাফাহ-ই-আম) ছাপাখানা থেকে শেখ হাফেজ আব্দুল তাওয়াব আল-মুলতানির তত্ত্বাবধানে, এতে কিছু উপকারী টীকা রয়েছে (১৩২০ হি.)।
২ - পাকিস্তান সংস্করণ, শেখ আব্দুল শাকুর আল-আসারির তত্ত্বাবধানে; তিনি পূর্ববর্তী সংস্করণটি পুনরায় মুদ্রণ করেন এবং এতে কিছু উপকারী মন্তব্য সংযোজন করেন (১৩৮৯ হি.)। এটি একটি লিথোগ্রাফ সংস্করণ।
৩ - শেখ আব্দুল শাকুর আল-আসারির সংস্করণটি কোনো পরিবর্তন ছাড়াই একটি আধুনিক মুদ্রণে পুনরায় প্রকাশ করা হয়েছে— যার নাম: [কিয়ামুল লাইল, কিয়ামে রমজান ও বিতর গ্রন্থের সংক্ষিপ্ত সার], এটি ফয়সালাবাদ, পাকিস্তানের হাদিস একাডেমি প্রকাশ করেছে।
(লেখকের প্রতি গ্রন্থটির সম্বন্ধের প্রামাণিকতা)
কয়েকটি বিষয়ের মাধ্যমে লেখকের প্রতি এই গ্রন্থের সম্বন্ধের সঠিকতা প্রমাণিত হয়েছে; তার মধ্যে অন্যতম হলো:
১ - আলেমদের একটি বড় দল এটি থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন এবং উপকৃত হয়েছেন; তাদের মধ্যে রয়েছেন: হাফেজ ইবনে হাজার ‘তাহযিবুত তাহযিব’ (১২৬) ও ‘আল-ইসাবাহ’ (৪/৫৭৯) গ্রন্থে, শামসুল হক আজিমাবাদী ‘আউনুল মাবুদ’ (৪৭৫) গ্রন্থে এবং মুবারকপুরী ‘তুহফাতুল আহওয়াযী’ (৩/৯৬২) গ্রন্থে।
২ - হাজী খলিফা ‘কাশফুয যুনুন’ (২) গ্রন্থে এটি তাঁর রচনা বলে উল্লেখ করেছেন।
(গ্রন্থের বিবরণ ও পদ্ধতি)
এই গ্রন্থটি হাদিসের সেই অংশগুলোর অন্তর্ভুক্ত যাতে কিয়ামুল লাইল সম্পর্কিত হাদিস ও আছার (পূর্বসূরিদের বর্ণনা) এবং এ সংক্রান্ত বিধিবিধান আলোচিত হয়েছে। লেখক এতে এমন একটি পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন যার সারসংক্ষেপ নিম্নরূপ:
১ - গ্রন্থকার কুরআন, সুন্নাহ এবং সালাফে সালেহীন থেকে বর্ণিত আছারের মাধ্যমে গ্রন্থের বিষয়বস্তু সংকলন করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি কিয়ামুল লাইল সংক্রান্ত বহু ফিকহী মাসআলা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি কিয়ামুল লাইলের বিধান বর্ণনার মাধ্যমে শুরু করেছেন এবং কিয়ামুল লাইল সংশ্লিষ্ট কিছু আয়াতের তাফসির নিয়ে আলোচনা করেছেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন মতামত তুলে ধরেছেন এবং কিয়ামুল লাইলের প্রতি উৎসাহ প্রদানকারী হাদিসসমূহ উল্লেখ করেছেন এবং আরও অনেক বিষয় যা পাঠক গ্রন্থে দেখতে পাবেন।
২ - লেখক হাদিস ও আছারসমূহ সনদসহ বর্ণনা করেছেন এবং বিভিন্ন উক্তি এর প্রবক্তাদের দিকে সম্বন্ধ করেছেন।
৩ - আলোচিত বিষয়গুলোকে তিনি বিভিন্ন অধ্যায়ে বিভক্ত করেছেন এবং প্রতিটি অধ্যায়ের শিরোনাম দিয়েছেন। যথাসম্ভব কুরআনী দলিল দিয়ে অধ্যায় শুরু করতেন।
৪ - গ্রন্থকার কিছু হাদিস ও আছার পুনরাবৃত্তি করেছেন।
সংক্ষিপ্ত করার ক্ষেত্রে কাজ দুটি বিষয়ে সীমাবদ্ধ ছিল, যা তিনি তাঁর গ্রন্থের ভূমিকায় স্পষ্ট করেছেন:
১ - সনদযুক্ত হাদিস ও আছারের পুনরাবৃত্তি বাদ দেওয়া।
২ - গ্রন্থের সমস্ত সনদযুক্ত হাদিস ও আছার সনদ বাদ দিয়ে একত্রিত করা।
[গ্রন্থ পরিচিতি, জামেউল হাদিস ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত]
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু কিয়ামিল লাইলি ওয়া কিয়ামি রামাদান ওয়া কিতাবুল বিতর
(পৃষ্ঠা: ٢١)
قِيَامُ اللَّيْلِ لِمُحَمَّدِ بْنِ نَصْرٍ الْمَرْوَزِيِّبِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ،الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، وَصَلَاتُهُ وَسَلَامُهُ عَلَى مُحَمَّدٍ خَاتَمِ النَّبِيِّينَ وَآلِهِ أَجْمَعِينَ. أَمَّا بَعْدُ، فَإِنِّي اخْتَصَرْتُ فِي هَذَا الْجُزْءِ كِتَابَ قِيَامِ اللَّيْلِ، تَأْلِيفُ الْإِمَامِ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدِ بْنِ نَصْرٍ الْمَرْوَزِيِّ رحمه الله، عَلَى أَنِّي أَحْذِفُ الْمُكَرَّرَ مِنَ الْأَحَادِيثِ الْمُسْنَدَةِ وَالْآثَارِ وَأُورِدُ جَمِيعَ مَا فِيهِ مِنَ الْأَحَادِيثِ الْمُسْنَدَةِ بَأَسَانِيدِهَا وَجَمِيعِ الْآثَارِ مَعَ حَذْفِ أَسَانِيدِهَا، وَاللَّهَ أَسْأَلُهُ الْإِعَانَةَ عَلَى إِتْمَامِهِ وَالتَّوْفِيقَ لِلْعَمَلِ بِهِ إِنَّهُ قَرِيبٌ مُجِيبٌ
মুহাম্মাদ ইবনে নাসর আল-মারওয়াযীর কিয়ামুল লাইলপরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং তাঁর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর সকল পরিবার-পরিজনের ওপর। অতঃপর, আমি এই খণ্ডে ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে নাসর আল-মারওয়াযী (রহিমাহুল্লাহ) রচিত কিয়ামুল লাইল কিতাবটি সংক্ষেপ করেছি এই শর্তে যে, আমি বর্জন করব মুসনাদ হাদীস ও আছারসমূহের পুনরাবৃত্তি এবং এতে বিদ্যমান সকল মুসনাদ হাদীসকে তাদের সনদসহ এবং সকল আছারকে তাদের সনদ বাদ দিয়ে উল্লেখ করব। আমি আল্লাহর কাছে এটি সম্পন্ন করার জন্য সাহায্য এবং এর ওপর আমল করার তৌফিক প্রার্থনা করছি; নিশ্চয়ই তিনি অতি নিকটে, প্রার্থনা কবুলকারী।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু কিয়ামিল লাইলি ওয়া কিয়ামি রামাদান ওয়া কিতাবুল বিতর
(পৃষ্ঠা: ٢١)
بَابُ حُكْمِ قِيَامِ اللَّيْلِ قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ نَصْرٍ الْمَرْوَزِيُّ بِسَمَرْقَنْدَ: قَالَ اللَّهُ تبارك وتعالى: {يَا أَيُّهَا الْمُزَّمِّلُ، قُمِ اللَّيْلَ إِلَّا قَلِيلًا، نِصْفَهُ أَوِ انْقُصْ مِنْهُ قَلِيلًا، أَوْ زِدْ عَلَيْهِ وَرَتِّلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا، إِنَّا سَنُلْقِي عَلَيْكَ قَوْلًا ثَقِيلًا} [المزمل: 2]
পরিচ্ছেদ: কিয়ামুল লাইলের বিধান। সমরকন্দে আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন নাসর আল-মারওয়াযী বলেছেন: আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা ইরশাদ করেছেন: {হে বস্ত্রাবৃত! রাতে সালাতে দাঁড়ান সামান্য অংশ ব্যতীত। অর্ধেক রাত অথবা তার চেয়ে কিছুটা কম করুন। অথবা তার ওপর বৃদ্ধি করুন এবং কুরআন তিলাওয়াত করুন সুস্পষ্ট ও সুবিন্যস্তভাবে। নিশ্চয়ই আমি আপনার প্রতি এক গুরুভার বাণী অবতীর্ণ করব।} [আল-মুয্যাম্মিল: ২]
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু কিয়ামিল লাইলি ওয়া কিয়ামি রামাদান ওয়া কিতাবুল বিতর
(পৃষ্ঠা: ٢١)
ثنا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ الْمِقْدَامِ بْنِ شُرَيْحِ بْنِ هَانِئٍ، عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ شُرَيْحٍ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا أَخْبَرَتْ شُرَيْحًا، أَنَّهَا كَانَتْ إِذَا عَرَكَتْ قَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يَا بِنْتَ أَبِي بَكْرٍ، شُدِّي عَلَى وَسَطِكِ»، فَكَانَ يُبَاشِرُهَا مِنَ اللَّيْلِ مَا شَاءَ اللَّهُ حَتَّى يَقُومَ لِصَلَاتِهِ، وَقَلَّ مَا كَانَ يَنَامُ مِنَ اللَّيْلِ كَمَا قَالَ اللَّهُ لَهُ: {قُمِ اللَّيْلَ إِلَّا قَلِيلًا} [المزمل: 2] "
ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াযীদ ইবনুল মিকদাম ইবনে শুরাইহ ইবনে হানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মিকদাম ইবনে শুরাইহ থেকে বর্ণিত, আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত যে, তিনি শুরাইহকে অবহিত করেছেন যে, তিনি যখন ঋতুবতী হতেন তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে বলতেন: «হে আবু বকরের কন্যা, তোমার কোমরে (কাপড়) শক্ত করে বেঁধে নাও», অতঃপর তিনি রাতের বেলা তাঁর সাথে আলিঙ্গন করতেন যতক্ষণ আল্লাহ ইচ্ছা করতেন, যতক্ষণ না তিনি তাঁর সালাতের জন্য দণ্ডায়মান হতেন। আর তিনি রাতে খুব সামান্যই নিদ্রা যেতেন যেমন আল্লাহ তাঁকে বলেছিলেন: {রাত্রিতে দণ্ডায়মান হোন, সামান্য অংশ ব্যতীত} [মুয্যাম্মিল: ২]
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু কিয়ামিল লাইলি ওয়া কিয়ামি রামাদান ওয়া কিতাবুল বিতর
(পৃষ্ঠা: ٢١)
حَدَّثَنَا أَبُو هَمَّامٍ الْوَلِيدُ بْنُ شُجَاعٍ، وَبَحْرُ بْنُ نَصْرٍ، قَالَا: ثنا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي ⦗ص: 22⦘ مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ أَبِي الزَّاهِرِيَّةِ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، قَالَ: حَجَجْتُ، فَدَخَلْتُ عَلَى عَائِشَةَ رضي الله عنها، فَسَأَلْتُهَا عَنْ خُلُقِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَتْ: " كَانَ خُلُقَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْقُرْآنُ. وَسَأَلْتُهَا عَنْ قِيَامِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِاللَّيْلِ، فَقَالَتْ: أَمَا تَقْرَأُ: يَا أَيُّهَا الْمُزَّمِّلُ؟ قُلْتُ: بَلَى، قَالَتْ: فَهُوَ قِيَامُهُ "
আমাদের নিকট আবু হাম্মাম আল-ওয়ালিদ ইবনে শুজা এবং বাহর ইবনে নাসর বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট ইবনে ওয়াহাব হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন ⦗পৃষ্ঠা: ২২⦘ মুয়াবিয়া ইবনে সালিহ, তিনি আবু আয-যাহিরিয়্যাহ থেকে, তিনি জুবায়ের ইবনে নুফায়ের থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি হজ পালন করলাম এবং আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর নিকট প্রবেশ করলাম। অতঃপর আমি তাঁকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চরিত্র সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চরিত্র ছিল আল-কুরআন।" আমি তাঁকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর রাতে দণ্ডায়মান হওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: তুমি কি পাঠ করো না: 'হে বস্ত্রাবৃত!'? আমি বললাম: অবশ্যই। তিনি বললেন: "এটাই ছিল তাঁর রাতে দণ্ডায়মান হওয়া।"
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু কিয়ামিল লাইলি ওয়া কিয়ামি রামাদান ওয়া কিতাবুল বিতর
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
حَدَّثَنَا عَبَّاسُ بْنُ الْوَلِيدِ النَّرْسِيُّ، ثنا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، ثنا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفَى، عَنْ سَعْدِ بْنِ هِشَامٍ، حَدَّثَنَا أَنَّهُ، طَلَّقَ امْرَأَتَهُ ثُمَّ دَخَلَ الْمَدِينَةَ لِيَبِيعَ عَقَارًا لَهُ بِهَا، ثُمَّ يَجْعَلَهُ فِي الْكُرَاعِ وَالسِّلَاحِ، ثُمَّ يُجَاهِدَ الرُّومَ حَتَّى يَمُوتَ. قَالَ: فَلَمَّا قَدِمْتُ الْمَدِينَةَ لَقِيتُ رَهْطًا مِنَ الْأَنْصَارِ، أَوْ قَوْمِهِ، فَحَدَّثَهُمْ، فَحَدَّثُوهُ أَنَّ رَهْطًا مِنْهُمْ سِتَّةً أَرَادُوا ذَلِكَ فِي حَيَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَنَهَاهُمْ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ لَهُمْ: «أَلَيْسَ لَكُمْ فِيَّ أُسْوَةٌ؟»، فَلَمَّا حَدَّثُوهُ حَدِيثَهُمْ هَذَا أَشْهَدَهُمْ عَلَى رَجْعَةِ امْرَأَتِهِ، ثُمَّ أَتَانَا فَأَخْبَرَنَا أَنَّهُ انْطَلَقَ إِلَى عَائِشَةَ رضي الله عنها. قَالَ: فَأَتَيْتُ عَلَى حَكِيمِ بْنِ أَفْلَحَ، فَاسْتَلْحَقْتُهُ فَجَاءَ مَعِي، فَاسْتَأْذَنَّا فَدَخَلْنَا عَلَيْهَا. فَقَالَتْ: أَحَكِيمٌ؟ وَعَرَفَتْهُ. قَالَ: نَعَمْ. قَالَتْ: مَنْ هَذَا مَعَكَ؟ قَالَ: سَعْدُ بْنُ هِشَامٍ. قَالَتْ: مَنْ هِشَامٌ؟ قَالَ: ابْنُ عَامِرٍ نِعْمَ الْمَرْءُ كَانَ وَكَانَ أُصِيبَ يَوْمَ أُحُدٍ قُلْتُ: يَا ⦗ص: 23⦘ أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ، أَنْبِئِينِي عَنْ خُلُقِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم. قَالَتْ: أَلَسْتَ تَقْرَأُ الْقُرْآنَ؟ قُلْتُ: بَلَى، قَالَتْ: فَإِنَّ خُلُقَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ الْقُرْآنُ. قَالَ: فَهَمَمْتُ أَنْ أَقُومَ فَلَا أَسْأَلُهَا عَنْ شَيْءٍ أَوْ فَلَا أَسْأَلُ أَحَدًا عَنْ شَيْءٍ فَبَدَا لِي، فَقُلْتُ: يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ، أَنْبِئِينِي عَنْ قِيَامِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم. قَالَتْ: أَلَسْتَ تَقْرَأُ هَذِهِ السُّورَةَ: يَا أَيُّهَا الْمُزَّمِّلُ؟ قُلْتُ: بَلَى. قَالَتْ: فَإِنَّ اللَّهَ افْتَرَضَ الْقِيَامَ فِي أَوَّلِ هَذِهِ السُّورَةِ فَقَامَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابُهُ حَوْلًا حَتَّى انْتَفَخَتْ أَقْدَامُهُمْ وَأَمْسَكَ اللَّهُ خَاتِمَتَهَا اثْنَيْ عَشَرَ شَهْرًا فِي السَّمَاءِ ثُمَّ أَنْزَلَ اللَّهُ التَّخْفِيفَ فِي آخِرِ هَذِهِ السُّورَةِ، فَصَارَ قِيَامُ اللَّيْلِ تَطَوُّعًا بَعْدَ فَرِيضَةٍ " وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنه فِي قَوْلِهِ: " {قُمِ اللَّيْلَ إِلَّا قَلِيلًا} [المزمل: 2] أَمَرَ اللَّهُ نَبِيَّهُ صلى الله عليه وسلم وَالْمُؤْمِنِينَ بِقِيَامِ اللَّيْلِ إِلَّا قَلِيلًا، فَشَقَّ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ ثُمَّ خَفَّفَ عَنْهُمْ وَرَحَمَهُمْ وَأَنْزَلَ بَعْدَ هَذَا: {عَلِمَ أَنْ سَيَكُونُ مِنْكُمْ مَرْضَى} [المزمل: 20] الْآيَةَ. فَوَسَّعَ اللَّهُ لَهُ وَلَمْ يُضَيِّقْ. قَالَ: كَانَ بَيْنَ الْآيَتَيْنِ سَنَةٌ: {يَا أَيُّهَا الْمُزَّمِّلُ قُمِ اللَّيْلَ} [المزمل: 2] وَ {فَاقْرَءُوا مَا تَيَسَّرَ} إِلَى آخِرِ السُّورَةِ "، وَعَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رضي الله عنه، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بَعَثَهُمْ فِي جَيْشٍ وَأَمَّرَ عَلَيْهِمْ أَبَا عُبَيْدَةَ رضي الله عنه وَقَدْ كَانَ كَتَبَ عَلَيْهِمْ قِيَامَ اللَّيْلِ فَكَانُوا يَقُومُونَ حَتَّى انْتَفَخَتْ أَقْدَامُهُمْ فَأَصَابَهُمْ فِي ذَلِكَ الْوَجْهِ جُوعٌ شَدِيدٌ. قَالَ: وَوَضَعَ اللَّهُ عَنْهُمْ قِيَامَ اللَّيْلِ «، وَعَنِ الْحَسَنِ رحمه الله» أَنَّ اللَّهَ لَمَّا أَنْزَلَ هَذِهِ السُّورَةَ وَكَانَ بَيْنَ أَوَّلِهَا وَآخِرِهَا سَنَةٌ: يَا أَيُّهَا الْمُزَّمِّلُ حَتَّى بَلَغَ {فَمَنْ شَاءَ اتَّخَذَ إِلَى رَبِّهِ سَبِيلًا} [المزمل: 19] ثُمَّ أَنْزَلَ اللَّهُ بَعْدَ سَنَةٍ {إِنَّ رَبَّكَ يَعْلَمُ أَنَّكَ تَقُومُ أَدْنَى مِنْ ثُلُثَيِ اللَّيْلِ وَنِصْفَهُ وَثُلُثَهُ وَطَائِفَةٌ مِنَ الَّذِينَ مَعَكَ} [المزمل: 20] قَالَ: لَا وَاللَّهِ مَا كُلُّ الْقَوْمِ قَامَ بِهَا. قَالَ: {وَاللَّهُ يُقَدِّرُ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ عَلِمَ أَنْ لَنْ تُحْصُوهُ فَتَابَ عَلَيْكُمْ} [المزمل: 20]. فَبَكَى الْحَسَنُ عِنْدَ ذَلِكَ. وَقَالَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي جَعَلَ قِيَامَ اللَّيْلِ تَطَوُّعًا بَعْدَ فَرِيضَةٍ: {عَلِمَ أَنْ سَيَكُونَ مِنْكُمْ مَرْضَى وَآخَرُونَ يَضْرِبُونَ فِي الْأَرْضِ يَبْتَغُونَ مِنْ فَضْلِ اللَّهِ} [المزمل: 20] حَتَّى بَلَغَ {فَاقْرَءُوا مَا تَيَسَّرَ مِنْهُ} وَقَالَ: وَلَا بُدَّ مِنْ قِيَامِ اللَّيْلِ قَالَ: {وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ} [البقرة: 43]. ⦗ص: 24⦘ قَالَ فَرِيضَتَانِ لَا صَلَاحَ لِلْأَعْمَالِ إِلَّا بِهِمَا "، وَعَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ: " لَمَّا نَزَلَتْ يَا أَيُّهَا الْمُزَّمِّلُ قُمِ اللَّيْلَ إِلَّا قَلِيلًا قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابُهُ حَوْلًا حَتَّى انْتَفَخَتْ أَقْدَامُهُمْ وَسُوقُهُمْ، حَتَّى نَزَلَتْ {إِنَّ هَذِهِ تَذْكِرَةٌ فَمَنْ شَاءَ اتَّخَذَ إِلَى رَبِّهِ سَبِيلًا} [المزمل: 19] حَتَّى بَلَغَ {فَاقْرَءُوا مَا تَيَسَّرَ مِنَ الْقُرْآنِ} "، وَعَنْ قَتَادَةَ فِي قَوْلِهِ: " {يَا أَيُّهَا الْمُزَّمِّلُ قُمِ اللَّيْلَ إِلَّا قَلِيلًا نِصْفَهُ أَوِ انْقُصْ مِنْهُ قَلِيلًا أَوْ زِدْ عَلَيْهِ وَرَتِّلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا} [المزمل: 1] افْتَرَضَ اللَّهُ قِيَامَ اللَّيْلِ فِي أَوَّلِ هَذِهِ السُّورَةِ. فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابُهُ حَوْلًا فَأَمْسَكَ اللَّهُ خَاتِمَتَهَا فِي السَّمَاءِ أَثْنَيْ عَشَرَ شَهْرًا، ثُمَّ أَنْزَلَ اللَّهُ التَّخْفِيفَ فِي آخِرِهَا، فَصَارَ قِيَامُ اللَّيْلِ تَطَوُّعًا مِنْ بَعْدِ فَرِيضَةٍ. قَالَ: {عَلِمَ أَنْ سَيَكُونَ مِنْكُمْ مَرْضَى وَآخَرُونَ يَضْرِبُونَ فِي الْأَرْضِ يَبْتَغُونَ مِنْ فَضْلِ اللَّهِ} [المزمل: 20] الْآيَةُ فَنَسَخَتْ هَذِهِ الْآيَةُ مَا كَانَ قَبْلَهَا "، وَعَنْ مُجَاهِدٍ فِي قَوْلِهِ: {فَاقْرَءُوا مَا تَيَسَّرَ مِنْهُ} قَالَ: «رَخَّصَ لَهُمْ فِي قِيَامِ اللَّيْلِ»، وَعَنْ عِكْرِمَةَ: " {يَا أَيُّهَا الْمُزَّمِّلُ قُمِ اللَّيْلَ إِلَّا قَلِيلًا} [المزمل: 1] قَالَ: " لَبِثُوا بِذَلِكَ سَنَةً فَشَقَّ عَلَيْهِمْ وَتَوَرَّمَتْ أَقْدَامُهُمْ ثُمَّ نَسَخَتْهَا آخِرُ السُّورَةِ قَوْلُهُ: {فَاقْرَءُوا مَا تَيَسَّرَ مِنْهُ}. وَعَنْ عَطَاءٍ فِي قَوْلِهِ: {كَانُوا قَلِيلًا مِنَ اللَّيْلِ مَا يَهْجَعُونَ} [الذاريات: 17]. قَالَ: ذَلِكَ إِذَا أُمِرُوا بِقِيَامِ اللَّيْلِ إِلَّا قَلِيلًا كَانُوا يَحْتَجِرُونَ احْتِجَارًا بِالصَّلَاةِ. فَقَالَ رَجُلٌ لِعَطَاءٍ مِنَ الْجُوعِ؟ قَالَ: بَلْ لِلَّهِ كَانَ أَبُو ذَرٍّ يَحْتَجِرُ، ثُمَّ يَأْخُذُ الْغِطَاءَ فَيَتَعَبَّدُ عَلَيْهَا حَتَّى نَزَلَتِ الرُّخْصَةُ: {فَاقْرَءُوا مَا تَيَسَّرَ} إِلَى {وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ} [المزمل: 20] قَالَ: الْمَكْتُوبَةُ "، وَسَأَلَ رَجُلٌ عِكْرِمَةَ: إِنِّي أَتَعْلَمُ الْقُرْآنَ وَيَقُولُونَ لَا تُوَسِّدْهُ. فَقَالَ لَهُ: «إِنَّكَ أَنْ تَنَامَ عَالِمًا خَيْرٌ مِنْ أَنْ تَنَامَ جَاهِلًا»
আমাদের কাছে আব্বাস ইবনুল ওয়ালিদ আল-নারসি বর্ণনা করেছেন, তিনি ইয়াজিদ ইবনে যুরাই‘ থেকে, তিনি সাঈদ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি যুরারাহ ইবনে আওফা থেকে, তিনি সাদ ইবনে হিশাম থেকে। তিনি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাঁর স্ত্রীকে তালাক দেন, তারপর মদিনায় প্রবেশ করেন যেন সেখানে তাঁর স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করতে পারেন এবং তার অর্থ ঘোড়া ও সমরাস্ত্রের পেছনে ব্যয় করে রোমানদের বিরুদ্ধে জিহাদ করতে পারেন যতক্ষণ না তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি বলেন: যখন আমি মদিনায় আসলাম, তখন আনসারদের একটি দল বা তাঁর কওমের লোকদের সাথে আমার সাক্ষাৎ হলো। তিনি তাদের কাছে বিষয়টি বর্ণনা করলেন। তখন তারা তাঁকে জানাল যে, তাঁদের মধ্য থেকে ছয়জনের একটি দল রাসূলুল্লাহ (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর জীবদ্দশায় এরূপ ইচ্ছা করেছিল, কিন্তু আল্লাহর নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) তাঁদেরকে তা থেকে নিষেধ করেন এবং তাঁদেরকে বলেন: «তোমাদের জন্য কি আমার মাঝে উত্তম আদর্শ নেই?», যখন তারা তাঁকে এই কাহিনী শোনাল, তখন তিনি তাঁদেরকে তাঁর স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়ার (রুজু‘) সাক্ষী রাখলেন। তারপর তিনি আমাদের কাছে আসলেন এবং জানালেন যে, তিনি আয়েশা (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন)-এর কাছে গিয়েছিলেন। তিনি (সাদ) বলেন: আমি হাকিম ইবনে আফলাহর কাছে আসলাম এবং তাঁকে সাথে নিলাম। তিনি আমার সাথে আসলেন। আমরা অনুমতি চাইলাম এবং তাঁর (আয়েশার) কাছে প্রবেশ করলাম। তিনি বললেন: হাকিম নাকি? তিনি তাঁকে চিনতে পারলেন। তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তোমার সাথে ইনি কে? তিনি বললেন: সাদ ইবনে হিশাম। তিনি বললেন: হিশাম কে? তিনি বললেন: আমেরের পুত্র। আয়েশা বললেন: তিনি কতই না উত্তম ব্যক্তি ছিলেন, তিনি উহুদ যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেছিলেন। আমি বললাম: হে ⦗পৃষ্ঠা: ২৩⦘ মুমিনদের জননী, আমাকে রাসূলুল্লাহ (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর চরিত্র সম্পর্কে জানান। তিনি বললেন: তুমি কি কুরআন পড়ো না? আমি বললাম: অবশ্যই পড়ি। তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর চরিত্র ছিল কুরআন। তিনি (সাদ) বলেন: আমি উঠে চলে যাওয়ার উপক্রম করলাম এবং ভাবলাম তাঁকে আর কিছু জিজ্ঞেস করব না বা কাউকে আর কিছু জিজ্ঞেস করব না। কিন্তু পরে আমার মনে হলো, তাই আমি বললাম: হে মুমিনদের জননী, আমাকে রাসূলুল্লাহ (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর রাতের সালাত (কিয়াম) সম্পর্কে জানান। তিনি বললেন: তুমি কি এই সূরাটি পড়ো না: হে চাদর আবৃত? আমি বললাম: অবশ্যই পড়ি। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ এই সূরার শুরুতে রাতের সালাত (কিয়াম) ফরজ করেছিলেন। ফলে আল্লাহর নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) এবং তাঁর সাহাবীগণ এক বছর যাবত (রাতে) দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করলেন, এমনকি তাঁদের পা ফুলে গিয়েছিল। আর আল্লাহ বারো মাস পর্যন্ত এই সূরার সমাপ্তি অংশ আসমানে আটকে রেখেছিলেন। তারপর আল্লাহ এই সূরার শেষে লাঘব (সহজতা) নাযিল করলেন। ফলে রাতের সালাত ফরজ হওয়ার পর নফল ইবাদতে পরিণত হলো।
এবং ইবনে আব্বাস (আল্লাহ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হোন) থেকে আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণিত: "{রাতের কিছু অংশ ছাড়া দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করো} [মুযযাম্মিল: ২] আল্লাহ তাঁর নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) এবং মুমিনদের অল্প সময় ছাড়া সারা রাত দাঁড়িয়ে সালাত আদায়ের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এটি মুমিনদের জন্য কষ্টকর হয়ে পড়েছিল, ফলে তিনি তাঁদের প্রতি রহমত স্বরূপ তা সহজ করে দেন এবং এরপর নাযিল করেন: {তিনি জানেন যে তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ অসুস্থ হতে পারে} [মুযযাম্মিল: ২০] আয়াতের শেষ পর্যন্ত। এভাবে আল্লাহ তাঁদের জন্য প্রশস্ততা দান করেছেন এবং সংকীর্ণতা রাখেননি। তিনি বলেন: {হে চাদর আবৃত, রাতে সালাতে দাড়াও} [মুযযাম্মিল: ২] এবং {অতএব তোমরা কুরআন থেকে যতটুকু সহজ ততটুকু পড়ো} থেকে সূরার শেষ পর্যন্ত—এই দুই আয়াতের মাঝে এক বছরের ব্যবধান ছিল।"
এবং জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণিত যে, নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) তাঁদের একটি সেনাবাহিনীতে প্রেরণ করেন এবং আবু উবাইদাহ (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন)-কে তাঁদের আমির নিযুক্ত করেন। তিনি তাঁদের ওপর রাতের সালাত (কিয়াম) পালনের অপরিহার্যতা লিখে দিয়েছিলেন। ফলে তাঁরা সালাতে দাঁড়িয়ে থাকতেন এমনকি তাঁদের পা ফুলে গিয়েছিল এবং সেই অভিযানে তাঁরা চরম ক্ষুধার সম্মুখীন হয়েছিলেন। তিনি বলেন: অতঃপর আল্লাহ তাঁদের থেকে রাতের সালাতের সেই বাধ্যবাধকতা তুলে নেন।
এবং হাসান (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত করুন) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহ যখন এই সূরা নাযিল করেন এবং এর শুরু ও শেষের মাঝে এক বছরের ব্যবধান ছিল: "হে চাদর আবৃত" থেকে "{অতএব যে ইচ্ছা করে সে তার রবের দিকে পথ অবলম্বন করুক}" [মুযযাম্মিল: ১৯] পর্যন্ত। এরপর এক বছর পর আল্লাহ নাযিল করেন: "{নিশ্চয়ই তোমার রব জানেন যে তুমি রাতের দুই-তৃতীয়াংশের কাছাকাছি সময়, কখনো অর্ধেক রাত এবং কখনো এক-তৃতীয়াংশ রাত ইবাদতে দাঁড়িয়ে কাটাও এবং তোমার সাথে যারা আছে তাদের একটি দলও}" [মুযযাম্মিল: ২০]। তিনি (হাসান) বললেন: না, আল্লাহর কসম, কওমের সবাই তা পালন করতে পারেনি। তিনি (আল্লাহ) বললেন: "{আর আল্লাহ রাত ও দিনের পরিমাপ করেন। তিনি জানেন যে তোমরা এর সঠিক হিসাব রাখতে পারবে না, তাই তিনি তোমাদের প্রতি ক্ষমাশীল হয়েছেন}" [মুযযাম্মিল: ২০]। তখন হাসান কেঁদে ফেললেন। তিনি বললেন: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি রাতের সালাতকে ফরজ করার পর নফল করেছেন: "{তিনি জানেন যে তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ অসুস্থ হতে পারে, আর কেউ কেউ আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধানে পৃথিবীতে ভ্রমণ করবে}" [মুযযাম্মিল: ২০] যতক্ষণ না পৌঁছেছে "{অতএব তোমরা কুরআন থেকে যতটুকু সহজ ততটুকু পাঠ করো}"। তিনি আরও বললেন: রাতের সালাত অবশ্যই পালনীয়। তিনি বললেন: "{আর তোমরা সালাত কায়েম করো এবং যাকাত প্রদান করো}" [বাকারা: ৪৩]। ⦗পৃষ্ঠা: ২৪⦘ তিনি বলেন: এই দুটি এমন ফরজ যে এগুলো ছাড়া আমলের কোনো কল্যাণ নেই।
এবং আবু আবদুর রহমান আল-সুলামি থেকে বর্ণিত: "যখন 'হে চাদর আবৃত, রাতের অল্প অংশ ছাড়া সালাতে দাঁড়াও' নাযিল হলো, তখন রাসূলুল্লাহ (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) এবং তাঁর সাহাবীগণ এক বছর যাবত (রাতে) দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করলেন এমনকি তাঁদের পা ও গোড়ালি ফুলে গিয়েছিল। যতক্ষণ না নাযিল হলো: {নিশ্চয়ই এটি একটি উপদেশ, অতএব যার ইচ্ছা সে তার রবের দিকে পথ অবলম্বন করুক} [মুযযাম্মিল: ১৯] থেকে {অতএব তোমরা কুরআন থেকে যতটুকু সহজ ততটুকু পাঠ করো} পর্যন্ত।"
এবং কাতাদাহ থেকে আল্লাহর বাণী সম্পর্কে বর্ণিত: "{হে চাদর আবৃত, রাতের অল্প অংশ ছাড়া সালাতে দাঁড়াও, অর্ধেক রাত কিংবা তার চেয়ে কিছু কম করো, অথবা তার চেয়ে বৃদ্ধি করো এবং স্পষ্টভাবে ধীরে ধীরে কুরআন পাঠ করো}" [মুযযাম্মিল: ১-৪]। আল্লাহ এই সূরার শুরুতে রাতের সালাত ফরজ করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) এবং তাঁর সাহাবীগণ এক বছর যাবত (রাতে) দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করলেন। আল্লাহ এর সমাপ্তি অংশ বারো মাস আসমানে আটকে রেখেছিলেন। এরপর আল্লাহ এর শেষে লাঘব (সহজতা) নাযিল করলেন। ফলে রাতের সালাত ফরজ হওয়ার পর নফল হয়ে গেল। তিনি বলেন: "{তিনি জানেন যে তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ অসুস্থ হতে পারে এবং অন্যরা আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধানে জমিনে ভ্রমণ করবে}" [মুযযাম্মিল: ২০]। এই আয়াত তার পূর্ববর্তী বিধানকে রহিত করে দিয়েছে।
এবং মুজাহিদ থেকে {অতএব তোমরা কুরআন থেকে যতটুকু সহজ ততটুকু পাঠ করো} সম্পর্কে বর্ণিত, তিনি বলেন: "তিনি তাঁদেরকে রাতের সালাতের ক্ষেত্রে শিথিলতার অনুমতি দিয়েছেন।"
এবং ইকরিমা থেকে বর্ণিত: "{হে চাদর আবৃত, রাতের অল্প অংশ ছাড়া সালাতে দাঁড়াও} [মুযযাম্মিল: ১] সম্পর্কে তিনি বলেন: "তাঁরা এক বছর এভাবে কাটিয়েছিলেন, যা তাঁদের জন্য কষ্টকর হয়েছিল এবং তাঁদের পা ফুলে গিয়েছিল। অতঃপর সূরার শেষাংশ এটি রহিত করে দেয়, আল্লাহর বাণী: {অতএব তোমরা কুরআন থেকে যতটুকু সহজ ততটুকু পাঠ করো}।"
এবং আতা থেকে আল্লাহর বাণী সম্পর্কে বর্ণিত: "{তারা রাতের খুব অল্প অংশই নিদ্রায় অতিবাহিত করত}" [যারিয়াত: ১৭]। তিনি বলেন: "তা ঐ সময়ের কথা যখন তাঁদেরকে অল্প সময় ছাড়া সারা রাত দাঁড়িয়ে সালাত আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তাঁরা সালাতের জন্য নিজেদের কঠোর পরিশ্রমে আবদ্ধ রাখতেন।" এক ব্যক্তি আতাকে জিজ্ঞেস করল: ক্ষুধার কারণে? তিনি বললেন: "না, বরং আল্লাহর জন্য। আবু যার (সালাতের জন্য) কঠোর পরিশ্রম করতেন, এরপর একটি চাদর নিতেন এবং তার ওপর ইবাদত করতেন যতক্ষণ না শিথিলতা নাযিল হলো: {অতএব তোমরা সহজটুকু পাঠ করো} থেকে {এবং সালাত কায়েম করো} [মুযযাম্মিল: ২০] পর্যন্ত।" তিনি বললেন: "অর্থাৎ ফরজ সালাত।"
এবং এক ব্যক্তি ইকরিমাকে জিজ্ঞেস করল: আমি কুরআন শিখছি কিন্তু লোকেরা বলে যে কুরআনকে বালিশ বানিয়ে (অবহেলা করে) ঘুমিও না। তিনি তাঁকে বললেন: "নিশ্চয়ই তোমার একজন আলেম হিসেবে ঘুমানো একজন জাহেল হিসেবে ঘুমানোর চেয়ে উত্তম।"
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু কিয়ামিল লাইলি ওয়া কিয়ামি রামাদান ওয়া কিতাবুল বিতর
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قُلْتُ لِأَبِي أُسَامَةَ: أَحَدَّثَكُمْ عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنِ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ بَعَثَ بَعْثًا ذَوِي عُدَّةٍ فَاسْتَقْرَأَ كُلَّ رَجُلٍ مِنْهُمْ فَأَتَى عَلَى رَجُلٍ مِنْ أَحْدَثِهِمْ سِنًّا. فَقَالَ: مَا مَعَكَ يَا غُلَامُ؟ قَالَ: مَعِي كَذَا وَمَعِي كَذَا وَمَعِي سُورَةُ كَذَا وَمَعِي سُورَةُ الْبَقَرَةِ. فَقَالَ رَجُلٌ مِنْ أَشْرَافِهِمْ: وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا مَنَعَنِي أَنْ أَتَعَلَّمَ الْقُرْآنَ إِلَّا خَشْيَةَ أَنْ لَا أَقُومَ بِهِ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «تَعَلَّمُوا الْقُرْآنَ وَاقْرَءُوهُ وَإِنْ لَمْ تَقُومُوا بِهِ فَإِنَّ مَثَلَ الْقُرْآنِ لِمَنْ تَعَلَّمَهُ فَقَرَأَهُ وَقَامَ بِهِ كَمَثَلِ جِرَابٍ مَحْشُوٍّ مِسْكًا يَفُوحُ رِيحُهُ فِي كُلِّ مَكَانٍ وَمَثَلَ مَنْ تَعَلَّمَهُ وَرَقَدَ وَهُوَ فِي جَوْفِهِ كَمَثَلِ جِرَابٍ أُوكِئَ عَلَى مِسْكٍ» وَعَنْ أَبِي رَجَاءٍ قُلْتُ: لِلْحَسَنِ رحمه الله: مَا تَقُولُ فِي رَجُلٍ قَدِ اسْتَظْهَرَ الْقُرْآنَ كُلَّهُ عَنْ ظَهْرِ قَلْبِهِ وَلَا يَقُومُ بِهِ إِنَّمَا يُصَلِّي الْمَكْتُوبَةَ؟ قَالَ: " لَعَمْرُ اللَّهِ ذَاكَ إِنَّمَا يَتَوَسَّدُ الْقُرْآنَ. قُلْتُ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {فَاقْرَءُوا مَا تَيَسَّرَ مِنْهُ} قَالَ: نَعَمْ وَلَوْ خَمْسِينَ آيَةً "، وَقَالَ مَعْمَرٌ قُلْتُ لِابْنِ طَاوُسٍ: " هَلْ كَانَ أَبُوكَ رُبَّمَا نَامَ اللَّيْلَ حَتَّى يُصْبِحَ؟ قَالَ: رُبَّمَا أَتَى عَلَيْهِ ذَاكَ " ⦗ص: 26⦘ وَعَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ رحمه الله: أَتَيْتُ سَلْمَانَ فَقُلْتُ لَأَنْظُرَنَّ كَيْفَ صَلَاتُهُ؟ فَكَانَ يَنَامُ مِنَ اللَّيْلِ ثُلُثَهُ. وَقَالَ: " حَافِظُوا عَلَى هَذِهِ الصَّلَوَاتِ الْمَكْتُوبَاتِ فَإِنَّهُنَّ كَفَّارَاتٌ لِهَذِهِ الْجِرَاحَاتِ مَا لَمْ تُصِبِ الْقِبْلَةَ. فَإِذَا صَلَّى النَّاسُ الْعِشَاءَ كَانُوا عَلَى ثَلَاثَةِ مَنَازِلَ، مِنْهُمْ مَنْ لَهُ وَلَا عَلَيْهِ. وَمِنْهُمْ مَنْ عَلَيْهِ وَلَا لَهُ، وَمِنْهُمْ مَنْ لَا عَلَيْهِ وَلَا لَهُ. فَقُلْتُ: مَنْ عَلَيْهِ وَلَا لَهُ؟ قَالَ: رَجُلٌ صَلَّى الْعِشَاءَ، فَاغْتَنَمَ غَفْلَةَ النَّاسِ وَظُلْمَةَ اللَّيْلِ، فَرَكِبَ رَأْسَهُ فِي الْمَعَاصِي، وَرَجُلٌ اغْتَنَمَ غَفْلَةَ النَّاسِ وَظُلْمَةَ اللَّيْلِ، فَرَكِبَ رَأْسَهُ وَقَامَ يُصَلِّي، فَذَاكَ لَهُ وَلَا عَلَيْهِ، وَرَجُلٌ نَامَ فَذَاكَ لَا عَلَيْهِ وَلَا لَهُ. وَقَالَ لَهُ رَجُلٌ: إِنِّي لَا أُطِيقُ الصَّلَاةَ بِاللَّيْلِ، فَقَالَ: لَا تَعْصِ اللَّهَ بِالنَّهَارِ وَلَا عَلَيْكَ أَنْ لَا تُصَلِّي بِاللَّيْلِ " وَقَالَ رَجُلٌ لِابْنِ عُمَرَ: إِنِي أُحِبُّ التَّهَجُّدَ وَالصَّلَاةَ لِلَّهِ وَلَا أَقْدِرُ عَلَيْهَا مَعَ الضَّعْفِ. فَقَالَ: ارْقُدْ يَا ابْنَ أَخِي مَا اسْتَطَعْتَ وَاتَّقِ اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتَ. وَقَالَ سُفْيَانُ: «شَرُّ حَالَاتِ الْمُؤْمِنِ أَنْ يَكُونَ نَائِمًا وَخَيْرُ حَالَاتِ الْفَاجِرِ أَنْ يَكُونَ نَائِمًا؛ لِأَنَّ الْمُؤْمِنَ إِذَا كَانَ مُسْتَيْقِظًا فَهُوَ مُتَحَلٍّ بِطَاعَةِ اللَّهِ خَيْرٌ لَهُ مِنْ نَوْمِهِ، وَالْفَاجِرُ إِذَا كَانَ مُسْتَيْقِظًا فَهُوَ مُتَحَلٍّ بِمَعَاصِي اللَّهِ فَنَوْمُهُ خَيْرٌ لَهُ مِنْ يَقَظَتِهِ»
ইসহাক বিন ইব্রাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমি আবু উসামাকে বললাম: আব্দুল হামিদ বিন জাফর কি আল-মাকবুরি হতে, তিনি আতা হতে, তিনি আবু হুরায়রা হতে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হতে আপনাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি একটি সুসজ্জিত বাহিনী প্রেরণ করলেন এবং তাদের প্রত্যেক ব্যক্তির তিলাওয়াত পরীক্ষা করলেন। তিনি তাদের মধ্যে বয়সের দিক থেকে সর্বকনিষ্ঠ এক ব্যক্তির নিকট আসলেন এবং বললেন: "হে যুবক, তোমার সাথে (হিফজে) কী আছে?" সে বলল: "আমার সাথে অমুক অমুক সূরা আছে এবং আমার সাথে সূরা আল-বাকারাহ আছে।" তখন তাদের মধ্যকার এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি বললেন: "আল্লাহর কসম, হে আল্লাহর রাসূল! কুরআন শিখতে আমাকে এই ভয় ছাড়া আর কিছুই বাধা দেয়নি যে, আমি তা নিয়ে রাতে দাঁড়িয়ে (সালাত আদায় করে) তার হক আদায় করতে পারব না।" রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "তোমরা কুরআন শেখো এবং তা পাঠ করো। যদিও তোমরা তা নিয়ে (রাতে) দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতে না পারো। কারণ যে ব্যক্তি কুরআন শিখেছে, তা পাঠ করেছে এবং তা নিয়ে (সালাতে) দাঁড়িয়েছে, তার উদাহরণ হলো সুগন্ধি কস্তুরীপূর্ণ এমন একটি থলের মতো, যার সুঘ্রাণ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। আর যে ব্যক্তি তা শিখেছে কিন্তু ঘুমিয়ে থেকেছে অথচ তা তার অন্তরে রয়েছে, তার উদাহরণ হলো এমন কস্তুরীর থলের মতো যার মুখ বেঁধে রাখা হয়েছে।" আবু রাজা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি হাসান (রাহিমাহুল্লাহ)-কে বললাম: "এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে আপনার মতামত কী যে পুরো কুরআন মুখস্থ করেছে কিন্তু তা নিয়ে (রাতে) দাঁড়ায় না, বরং কেবল ফরয সালাতগুলো আদায় করে?" তিনি বললেন: "আল্লাহর জীবনের কসম, সে তো কুরআনকে বালিশ বানিয়ে নিয়েছে (অর্থাৎ অবহেলা করছে)।" আমি বললাম: আল্লাহ তাআলা তো বলেছেন: {কুরআন থেকে যতটুকু সহজ হয় ততটুকু পাঠ করো}। তিনি বললেন: "হ্যাঁ, তা যদি পঞ্চাশটি আয়াতও হয়।" মামার বলেন, আমি ইবনে তাউসকে বললাম: "আপনার পিতা কি কখনো কখনো সারা রাত সকাল পর্যন্ত ঘুমাতেন?" তিনি বললেন: "মাঝে মাঝে তাঁর সাথে এমনটি হতো।" ⦗পৃষ্ঠা: ২৬⦘ তারিক বিন শিহাব (রাহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি সালমানের নিকট আসলাম এবং বললাম: "আমি অবশ্যই দেখব তাঁর সালাত কেমন।" তিনি রাতের এক-তৃতীয়াংশ ঘুমাতেন। তিনি (সালমান) বললেন: "তোমরা এই ফরয সালাতগুলোর হিফাযত করো, কেননা এগুলো যখমগুলোর (ছোট গুনাহর) কাফফারা স্বরূপ যতক্ষণ না কিবলা আক্রান্ত হয় (অর্থাৎ বড় গুনাহ বা রক্তপাত না ঘটে)। অতঃপর মানুষ যখন ইশার সালাত আদায় করে, তখন তারা তিনটি স্তরে বিভক্ত হয়: তাদের মধ্যে কেউ এমন যার জন্য নেকি আছে কিন্তু গুনাহ নেই; কেউ এমন যার ওপর গুনাহ আছে কিন্তু নেকি নেই; আর কেউ এমন যার ওপর গুনাহও নেই এবং নেকিও নেই।" আমি বললাম: "কার ওপর গুনাহ আছে কিন্তু নেকি নেই?" তিনি বললেন: "সেই ব্যক্তি যে ইশার সালাত আদায় করল, অতঃপর মানুষের অসতর্কতা ও রাতের অন্ধকারকে সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করল এবং পাপাচারের পথে ধাবিত হলো; আর সেই ব্যক্তি যে মানুষের অসতর্কতা ও রাতের অন্ধকারকে সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করল এবং সালাতে দাঁড়িয়ে গেল, তা তার জন্য নেকি এবং তার কোনো গুনাহ নেই; আর যে ব্যক্তি ঘুমিয়ে পড়ল, তার ওপর গুনাহও নেই এবং নেকিও নেই।" এক ব্যক্তি তাঁকে বলল: "আমি রাতে সালাত আদায় করতে সক্ষম হই না।" তিনি বললেন: "দিনে আল্লাহর নাফরমানি করো না, তাহলে রাতে সালাত আদায় না করলেও তোমার কোনো ক্ষতি নেই।" জনৈক ব্যক্তি ইবনে উমরকে বললেন: "আমি তাহাজ্জুদ ও আল্লাহর উদ্দেশ্যে সালাত পছন্দ করি, কিন্তু শারীরিক দুর্বলতার কারণে সক্ষম হই না।" তিনি বললেন: "হে ভাতিজা, যতটুকু পারো ঘুমাও এবং যতটুকু পারো আল্লাহকে ভয় করো।" সুফিয়ান বলেছেন: "মুমিনের নিকৃষ্টতম অবস্থা হলো যখন সে ঘুমিয়ে থাকে এবং পাপাচারী ব্যক্তির সর্বোত্তম অবস্থা হলো যখন সে ঘুমিয়ে থাকে; কারণ মুমিন যখন জাগ্রত থাকে তখন সে আল্লাহর আনুগত্যে ভূষিত থাকে যা তার ঘুমের চেয়ে উত্তম, আর পাপাচারী যখন জাগ্রত থাকে তখন সে আল্লাহর নাফরমানিতে লিপ্ত থাকে, তাই তার ঘুম তার জাগরণের চেয়ে উত্তম।"
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু কিয়ামিল লাইলি ওয়া কিয়ামি রামাদান ওয়া কিতাবুল বিতর
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، أَخْبَرَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، ثنا الْأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: جَاءَ النُّعْمَانُ بْنُ قَوْقَلٍ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: إِنِّي أَحْلَلْتُ الْحَلَالَ وَحَرَّمْتُ الْحَرَامَ وَأَدَّيْتُ الْمَكْتُوبَاتِ. أَأَدْخُلُ الْجَنَّةَ؟ قَالَ: «نَعَمْ». وَفِي لَفْظٍ قَالَ النُّعْمَانُ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: أَرَأَيْتَ إِنْ صَلَّيْتُ الْمَكْتُوبَاتِ وَأَحْلَلْتُ الْحَلَالَ وَحَرَّمْتُ الْحَرَامَ وَلَمْ أَزِدْ عَلَى ذَلِكَ شَيْئًا أَأَدْخُلُ الْجَنَّةَ؟ قَالَ: «نَعَمْ» وَقَالَ قَتَادَةُ: " {يَا أَيُّهَا الْمُزَّمِّلُ} [المزمل: 1] هُوَ الَّذِي يُزَمِّلُ ثِيَابَهُ " ⦗ص: 27⦘ وَعَنْ عِكْرِمَةَ قَالَ: " زَمَّلْتُ هَذَا الْأَمْرَ فَقُمْ بِهِ: وَ {يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ} [المدثر: 1] دَثَّرْتُ هَذِهِ الْأَمْرَ فَقُمْ بِهِ " وَعَنْ أَبِي عُبَيْدٍ قَرَأَ أَبُو جَعْفَرٍ وَنَافِعٌ وَعَاصِمٌ وَأَبُو عَمْرٍو وَالْكِسَائِيُّ الْمُزَّمِّلُ وَالْمُدَّثِّرُ بِالتَّشْدِيدِ وَالْإِدْغَامِ وَكَذَلِكَ نَقْرَأُهُمَا وَعَلَيْهِمَا الْأُمَّةُ وَالْمُزَّمِّلُ الْمُلْتَفُّ بِثَوْبِهِ. وَقَالَ الشَّافِعِيُّ: سَمِعْتُ مَنْ أَثِقُ بِخَبَرِهِ وَعِلْمِهِ يَذْكُرُ أَنَّ اللَّهَ أَنْزَلَ فَرْضًا فِي الصَّلَاةِ ثُمَّ نَسْخَهُ بِفَرْضٍ غَيْرِهِ، ثُمَّ نَسَخَ الثَّانِي بِالْفَرْضِ فِي الصَّلَوَاتِ الْخَمْسِ. قَالَ: كَأَنَّهُ يَعْنِي قَوْلَ اللَّهِ: {يَا أَيُّهَا الْمُزَّمِّلُ قُمِ اللَّيْلَ إِلَّا قَلِيلًا نِصْفَهُ أَوِ انْقُصْ مِنْهُ قَلِيلًا أَوْ زِدْ عَلَيْهِ} [المزمل: 2] ثُمَّ نَسْخَهُ فِي السُّورَةِ مَعَهُ بِقَوْلِهِ: {إِنَّ رَبَّكَ يَعْلَمُ أَنَّكَ تَقُومُ أَدْنَى مِنْ ثُلُثَيِ اللَّيْلِ وَنِصْفَهُ وَثُلُثَهُ} [المزمل: 20] إِلَى قَوْلِهِ: {فَاقْرَءُوا مَا تَيَسَّرَ مِنَ الْقُرْآنِ} فَنَسَخَ قِيَامَ اللَّيْلِ أَوْ نِصْفَهُ أَوْ أَقَلَّ أَوْ أَكْثَرَ بِمَا تَيَسَّرَ. قَالَ: وَيُقَالُ نَسَخَ مَا وَصَفَ فِي الْمُزَّمِّلِ بِقَوْلِ اللَّهِ: {أَقِمِ الصَّلَاةَ لِدُلُوكِ الشَّمْسِ} [الإسراء: 78] زَوَالُهَا إِلَى {غَسَقِ اللَّيْلِ} [الإسراء: 78] الْعَتَمَةُ {وَقُرْآنَ الْفَجْرِ إِنَّ قُرْآنَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُودًا وَمِنَ اللَّيْلِ فَتَهَجَّدْ بِهِ نَافِلَةً لَكَ} [الإسراء: 78] فَأَعْلَمَهُ أَنَّ صَلَاةَ اللَّيْلِ نَافِلَةٌ لَا فَرِيضَةٌ، وَالْفَرَائِضُ فِيمَا ذَكَرَ مِنْ لَيْلٍ وَنِهَارٍ. قَالَ: فَفَرَائِضُ الصَّلَوَاتِ خَمْسٌ وَمَا سِوَاهَا تَطَوُّعٌ. وَعَنْ أَبِي عُبَيْدٍ قَرَأَ أَبُو جَعْفَرٍ وَشَيْبَةُ وَنَافِعٌ وَأَبُو عَمْرٍو: {نِصْفَهُ وَثُلُثَهُ} [المزمل: 20] بِالْخَفْضِ وَكَانَ ابْنُ كَثِيرٍ وَعَاصِمٌ وَالْأَعْمَشُ وَحَمْزَةُ وَالْكِسَائِيُّ يَقْرَأُونَهَا نَصَبًا {نِصْفَهُ وَثُلُثَهُ} [المزمل: 20] غَيْرَ أَنَّ ابْنَ كَثِيرٍ كَانَ يُخَفِّفُ ثُلُثَهُ. وَقَالَ وَقِرَاءَتُنَا الَّتِي نَخْتَارُهَا الْخَفْضُ لِقَوْلِهِ: {عَلِمَ أَنْ لَنْ تُحْصُوهُ} [المزمل: 20] فَكَيْفَ تَقْدُرُونَ عَلَى أَنْ تَعْرِفُوا نِصْفَهُ مِنْ ثُلُثِهِ وَهُمْ لَا يَحْصُونَهُ. قَالَ الشَّافِعِيُّ: فَتَأَوَّلَ أَبُو عُبَيْدٍ أَنَّ قَوْلَهُ: {عَلِمَ أَنْ لَنْ تُحْصُوهُ} [المزمل: 20]: لَنْ تَعْرِفُوهُ ذَهَبَ إِلَى الْإِحْصَاءِ فِي الْعَدَدِ. وَقَالَ غَيْرُ أَبِي عُبَيْدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ بِالْعَرَبِيَّةِ، إِنَّمَا قَوْلُهُ: {لَنْ تُحْصُوهُ} [المزمل: 20]: لَنْ تُطِيقُوهُ. وَقَالَ تَقُولُ الْعَرَبُ مَا أَحْصَى كَذَا، أَيْ مَا أُطِيقُهُ. وَقَالَ وَمِنْهُ قَوْلُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: «اسْتَقِيمُوا وَلَنْ تُحْصُوا»، أَيْ لَنْ تُطِيقُوا أَنْ تَسْتَقِيمُوا فِي كُلِّ شَيْءٍ يَقُولُ: «سَدِّدُوا وَقَارِبُوا» ⦗ص: 28⦘ عَنْ أَبِي صَالِحٍ لَمَّا نَزَلَتْ: " {إِنَّ رَبَّكَ يَعْلَمُ أَنَّكَ تَقُومُ أَدْنَى مِنْ ثُلُثَيْ} [المزمل: 20] إِلَى قَوْلِهِ: {عَلِمَ أَنْ لَنْ تُحْصُوهُ} [المزمل: 20] قَالَ: قَالَ جِبْرِيلُ: أَشُقَّ عَلَيْكُمْ؟ قَالَ: «نَعَمْ». قَالَ: {وَمَا مِنَّا إِلَّا لَهُ مَقَامٌ مَعْلُومٌ، وَإِنَّا لَنَحْنُ الصَّافُّونَ، وَإِنَّا لَنَحْنُ الْمُسَبِّحُونَ} [الصافات: 164] "، وَعَنْ قَتَادَةَ: «إِنَّ رَبَّكَ يَعْلَمُ أَنَّكَ تَقُومُ أَدْنَى مِنْ ثُلُثَيِ اللَّيْلِ وَمِنْ نِصْفِهِ وَأَدْنَى مِنْ ثُلُثِهِ» وَقَالَ مُجَاهِدٌ: " تَقُومُ أُدْنِيَ مِنْ ثُلُثَيِ اللَّيْلِ وَتَقُومُ نِصْفَهُ أَوْ ثُلُثَهُ {وَاللَّهُ يُقَدِّرُ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ عَلِمَ أَنْ لَنْ تُحْصُوهُ} [المزمل: 20] " وَعَنِ الْحَسَنِ وَقَتَادَةَ: {عَلِمَ أَنْ لَنْ تُحْصُوهُ} [المزمل: 20]، لَنْ تُطِيقُوهُ قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ نَصْرٍ قَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ فِي قَوْلِهِ: {قُمِ اللَّيْلَ إِلَّا قَلِيلًا} [المزمل: 2] أَيْ صَلِّ اللَّيْلَ إِلَّا شَيْئًا يَسِيرًا مِنْهُ تَنَامُ فِيهِ وَهُوَ الثُّلُثُ. ثُمَّ قَالَ: نِصْفَهُ أَيْ قُمْ نِصْفَهُ أَوِ انْقُصْ مِنَ النِّصْفِ قَلِيلًا أَيِ الثُّلُثَ أَوْ زِدْ عَلَى النِّصْفِ إِلَى الثُّلُثَيْنِ. فَلَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ قَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَطَائِفَةٌ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ مَعَهُ وَأَحَدَّ الْمُسْلِمُونَ أَنْفُسِهِمْ بِالْقِيَامِ عَلَى الْمَقَادِيرِ حَتَّى شَقَّ ذَلِكَ عَلَيْهِمْ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ {إِنَّ رَبَّكَ يَعْلَمُ أَنَّكَ تَقُومُ أَدْنَى مِنْ ثُلُثَيِ اللَّيْلِ وَنِصْفَهُ وَثُلُثَهُ} [المزمل: 20] أَيْ وَتَقُومُ نِصْفَهُ وَثُلُثَهُ وَسَائِرَ أَجْزَائِهِ. {عَلِمَ أَنْ لَنْ تُحْصُوهُ} [المزمل: 20] أَيْ لَنْ تُطِيقُوا مَعْرِفَةَ حَقَائِقِ ذَلِكَ، وَالْقِيَامَ فِيهِ عَلَى هَذِهِ الْمَقَادِيرِ فَتَابَ عَلَيْكُمْ {فَاقْرَءُوا مَا تَيَسَّرَ مِنَ الْقُرْآنِ} رَخَّصَ لَهُمْ فِي أَنْ يَقُومُوا مَا أَمْكَنَ وَخَفَّ بِغَيْرِ مُدَّةٍ مَعْلُومَةٍ وَلَا مِقْدَارٍ. قَالَ: ثُمَّ نَسَخَ هَذِهِ بِالصَّلَوَاتِ الْمَكْتُوبَاتِ. قَالَ: وَلَوْ قَرَأْنَا: {أَدْنَى مِنْ ثُلُثَيِ اللَّيْلِ وَنِصْفِهِ وَثُلُثِهِ} [المزمل: 20] بِالْخَفْضِ دَلَّ ذَلِكَ عَلَى أَنَّهُ كَانَ رُبَّمَا قَامَ أَقَلَّ مِنْ ثُلُثَيِ اللَّيْلِ وَفِي هَذِهِ مُخَالَفَةٌ لِمَا أُمِرَ بِهِ لَأَنَّ اللَّهَ قَالَ لَهُ: {قُمِ اللَّيْلَ إِلَّا قَلِيلًا نِصْفَهُ أَوِ انْقُصْ مِنْهُ قَلِيلًا} [المزمل: 2] إِلَى الثُّلُثِ وَلَمْ يَأْمُرْهُ أَنْ يَنْقُصَ مِنَ الثُّلُثِ شَيْئًا. قَالَ: فَذَهَبَ الشَّافِعِيُّ فِي الْحِكَايَةِ الَّتِي حَكَاهَا وَغَيْرُهُ إِلَى أَنَّ اللَّهَ افْتَرَضَ قِيَامَ اللَّيْلِ فِي أَوَّلِ سُورَةِ الْمُزَّمِّلِ عَلَى الْمَقَادِيرِ الَّتِي ذَكَرَهَا، ثُمَّ نَسَخَ ذَلِكَ فِي آخِرِ السُّورَةِ وَأَوْجَبَ قِرَاءَةَ مَا تَيَسَّرَ فِي قِيَامِ اللَّيْلِ فَرْضًا، ثُمَّ نَسَخَ فَرْضَ قِرَاءَةِ مَا تَيَسَّرَ بِالصَّلَوَاتِ الْخَمْسِ. ⦗ص: 29⦘ وَأَمَّا سَائِرُ الْأَخْبَارِ الَّتِي ذَكَرْنَاهَا عَنْ عَائِشَةَ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَغَيْرِهِمَا فَإِنَّهَا دَلَّتْ عَلَى أَنَّ آخِرَ السُّورَةِ نَسَخَتْ أَوَّلَهَا، فَصَارَ قِيَامُ اللَّيْلِ تَطَوُّعًا بَعْدَ فَرِيضَةٍ بِنُزُولِ آخِرِ السُّورَةِ، فَذَهَبُوا إِلَى أَنَّ قَوْلَهُ {فَاقْرَءُوا مَا تَيَسَّرَ} اخْتِيَارٌ لَا إِيجَابُ فَرْضٍ. وَقَالَ: وَهَذَا أَوْلَى الْقَوْلَيْنِ عِنْدِي بِالصَّوَابِ، وَكَيْفَ يَجُوزُ أَنْ يَكُونَ الصَّلَوَاتُ الْخَمْسُ نَسَخَتْ قِيَامَ اللَّيْلِ، وَالصَّلَوَاتُ الْخَمْسُ مَفْرُوضَاتٌ فِي أَوَّلِ الْإِسْلَامِ، وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِمَكَّةَ، فُرِضَتْ عَلَيْهِ لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِهِ، وَالْأَخْبَارُ الَّتِي ذَكَرْنَاهَا تَدُلُّ عَلَى أَنَّ قَوْلَهُ: {فَاقْرَءُوا مَا تَيَسَّرَ مِنَ الْقُرْآنِ} إِنَّمَا نَزَلَ بِالْمَدِينَةِ وَنَفْسُ الْآيَةِ تَدُلُّ عَلَى ذَلِكَ، قَوْلُهُ: {عَلِمَ أَنْ سَيَكُونُ مِنْكُمْ مَرْضَى وَآخَرُونَ يَضْرِبُونَ فِي الْأَرْضِ يَبْتَغُونَ مِنْ فَضْلِ اللَّهِ وَآخَرُونَ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ} [المزمل: 20]، وَالْقِتَالُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ إِنَّمَا كَانَ بِالْمَدِينَةِ. وَكَذَلِكَ قَوْلُهُ: {وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ} [المزمل: 20] الزَّكَاةُ إِنَّمَا فُرِضَتْ بِالْمَدِينَةِ وَفِي حَدِيثِ جَابِرٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بَعَثَهُمْ فِي الْجَيْشِ وَقَدْ كَانَ كُتِبَ عَلَيْهِمْ قِيَامُ اللَّيْلِ، وَبَعْثُهُ الْجُيُوشَ لَمْ يَكُنْ إِلَّا بَعْدَ قُدُومِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ قَالَ: وَيُقَالُ لِمَنْ أَوْجَبَ الْقِيَامَ بِاللَّيْلِ فَرْضًا بِمَا قَلَّ أَوْ كَثُرَ احْتِجَاجًا بِقَوْلِهِ: {فَاقْرَءُوا مَا تَيَسَّرَ مِنْهُ}، خَبِّرْنَا عَنْهُ إِذَا لَمْ يُخَفِّفْ عَلَيْهِ وَلَمْ يَتَيَسَّرْ أَنْ يَقْرَأَ بِشَيْءٍ هَلْ تُوجِبُ عَلَيْهِ أَنْ يَتَكَلَّفَ ذَلِكَ وَإِنْ لَمْ يُخَفِّفْ وَلَمْ يَتَيَسَّرْ. فَإِنْ قَالَ: نَعَمْ، خَالَفَ ظَاهِرَ الْكِتَابِ وَأَوْجَبَ عَلَيْهِ مَا لَمْ يُوجِبْهُ اللَّهُ. وَإِنْ قَالَ: لَا يَجِبُ عَلَيْهِ تَكَلُّفُهُ ذَلِكَ إِذَا لَمْ يَتَيَسَّرْ، وَيُخَفِّفُ، فَقَدْ أَسْقَطَ فَرْضَهُ، وَلَوْ كَانَ فَرْضًا لَوَجَبَ عَلَيْهِ خَفَّ أَوْ لَمْ يَخِفَّ كَمَا قَالَ: {انْفِرُوا خِفَافًا وَثِقَالًا} [التوبة: 41] وَقَوْلُهُ: {مَا تَيَسَّرَ} [المزمل: 20] يَدُلُّ عَلَى أَنَّهُ نَدْبٌ وَاخْتِيَارٌ وَلَيْسَ بِفَرْضٍ. قَالَ: وَقَدِ احْتَجَّ بَعْضُ أَصْحَابِ الرَّأْيِ فِي إِيجَابِ الْقِرَاءَةِ فِي الصَّلَوَاتِ الْمَكْتُوبَاتِ بِقَوْلِهِ: {فَاقْرَءُوا مَا تَيَسَّرَ مِنَ الْقُرْآنِ} فَأَسْقَطُوا فَرْضَ قِرَاءَةِ فَاتِحَةِ الْكِتَابِ مُتَأَوِّلِينَ لِهَذِهِ الْآيَاتِ فَقَالُوا: إِنَّمَا عَلَيْهِ أَنْ يَقْرَأَ مَا تَيَسَّرَ مِنَ الْقُرْآنِ، وَلَا عَلَيْهِ أَنْ لَا يَقْرَأَ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ. ثُمَّ نَاقَضُوا فَقَالُوا: لَابُدَّ أَنْ يَقْرَأَ بِثَلَاثِ آيَاتٍ فَصَاعِدًا أَوْ بِآيَةٍ طَوِيلَةٍ نَحْوَ آيَةِ الدِّينِ أَوْ آيَةِ الْكُرْسِيِّ. فَإِنْ قَرَأَ بِآيَةٍ قَصِيرَةٍ نَحْوَ قَوْلِهِ {مُدْهَامَّتَانِ} [الرحمن: 64] وَ {لَمْ يَلِدْ} [الإخلاص: 3]، لَمْ يَجُزْ وَلَيْسَتْ هَذِهِ الْآيَةُ مِنَ الْقِرَاءَةِ فِي الصَّلَوَاتِ الْمَكْتُوبَاتِ فِي شَيْءٍ. إِنَّمَا نَزَلَتِ الْآيَةُ عَلَى مَا أَعْلَمْتُكَ بِقِيَامِ اللَّيْلِ، وَإِنَّمَا أُخِذَتِ ⦗ص: 30⦘ الْقِرَاءَةُ فِي الصَّلَوَاتِ الْمَكْتُوبَاتِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم كَمَا أُخِذَ عَدَدُ الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ وَسَائِرُ مَا فِي الصَّلَاةِ عَنِ النَّبِيِّ عليه السلام. وَلِذِكْرِ الْقِرَاءَةِ فِي الصَّلَوَاتِ الْمَكْتُوبَاتِ كِتَابٌ غَيْرُ هَذَا سَنَحْكِي اخْتِلَافَ النَّاسِ وَاحْتِجَاجَاتِهِمْ فِيهَا هُنَالِكَ. وَمَا أَدْخَلْنَا عَلَى الطَّائِفَةِ الْأُولَى فِي إِيجَابِهِمْ قِرَاءَةَ مَا تَيَسَّرَ فِي قِيَامِ اللَّيْلِ دَاخِلٌ عَلَى أَصْحَابِ الرَّأْيِ بِأَنْ يُقَالَ لَهُمْ: خَبِّرُونَا عَمَّنْ لَمْ يَتَيَسَّرْ عَلَيْهِ قِرَاءَةُ شَيْءٍ مِنَ الْقُرْآنِ فِي الصَّلَاةِ وَلَمْ يُخَفِّفْ، هَلْ تُوجِبُونَ عَلَيْهِ أَنْ يَتَكَلَّفَ مِقْدَارَ مَا حَدَّدْتُمْ مِنْ قِرَاءَةِ ثَلَاثِ آيَاتٍ أَوْ آيَةٍ طَوِيلَةٍ. وَإِنْ ثَقُلَ ذَلِكَ عَلَيْهِ وَلَمْ يَتَيَسَّرْ؟ فَإِنْ قَالُوا: نَعَمْ. قِيلَ: فَمِنْ أَيْنَ أَوْجَبْتُمْ عَلَيْهِ قِرَاءَةَ مَا لَمْ يَتَيَسَّرْ عَلَيْهِ؟ وَإِنَّمَا أَمَرَ اللَّهُ بِقِرَاءَةِ مَا تَيَسَّرَ فِي زَعْمِكُمْ، وَيُلْزِمُكُمْ أَنْ تُجِيزُوا لِلْمُصَلِّي إِذَا افْتَتَحَ الصَّلَاةَ أَنْ يَقُولَ أَلْفًا وَيَرْكَعَ وَيَقُولُ: لَمْ يَتَيَسَّرْ عَلَيَّ أَكْثَرُ مِنْ ذَلِكَ. فَإِنْ أَجَازُوا ذَلِكَ خَالَفُوا السُّنَّةَ وَخَرَجُوا مِنْ قَوْلِ أَهْلِ الْعِلْمِ. قَوْلُهُ: {وَرَتِّلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا} [المزمل: 4] عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: بَيِّنْهُ تَبْيِينًا وَقَالَ لَهُ رَجُلٌ: إِنِّي سَرِيعُ الْقِرَاءَةِ أَقْرَأُ الْبَقَرَةَ فِي مَقَامٍ. فَقَالَ: لَأَنْ أَقْرَأَ الْبَقَرَةَ فَأُرَتِّلُهَا وَأَقْدِرُهَا أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَقْرَأَ الْقُرْآنَ كَمَا تَقُولُ وَقَرَأَ عَلْقَمَةُ عَلَى عَبْدِ اللَّهِ وَكَانَ حَسَنَ الصَّوْتِ. فَقَالَ: رَتِّلْ فِدَاكَ أَبِي وَأُمِّي. فَإِنَّهُ زَيْنُ الْقُرْآنِ. قَالَ عَلْقَمَةُ: صَلَّيْتُ مَعَ ابْنِ مَسْعُودٍ مِنْ أَوَّلِ النَّهَارِ إِلَى انْصِرَافِهِ مِنَ الْفَجْرِ فَكَانَ يُرَتِّلُ وَلَا يَرْجِعُ وَيُسْمِعُ مَنْ فِي الْمَسْجِدِ وَعَنْ قَتَادَةَ: بَلَغَنَا أَنَّ عَامَّةَ قِرَاءَةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم كَانَتِ الْمَدَّ وَعَنْ مُجَاهِدٍ: {وَرَتِّلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا} [المزمل: 4]. قَالَ: تُرْسِلُ فِيهِ تَرْسِيلًا، وَفِي رِوَايَةٍ قَالَ: بَعْضُهُ عَلَى إِثْرِ بَعْضٍ وَعَنْ حَفْصَةَ رضي الله عنها. كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ بِالسُّورَةِ فَيُرَتِّلُهَا حَتَّى تَكُونَ أَطْوَلَ مِنْ أَطْوَلِ مِنْهَا
আমাদের কাছে ইসহাক হাদীস বর্ণনা করেছেন, আমাদেরকে আবু মুয়াবিয়া সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আল-আ’মাশ থেকে, তিনি আবু সুফিয়ান থেকে, তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নুমান ইবনে কওকাল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বললেন: আমি হালালকে হালাল হিসেবে গ্রহণ করেছি, হারামকে হারাম হিসেবে বর্জন করেছি এবং ফরয সালাতসমূহ আদায় করেছি। আমি কি জান্নাতে প্রবেশ করব? তিনি বললেন: «হ্যাঁ»। অন্য এক বর্ণনায় আছে, নুমান রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললেন: আপনি কি মনে করেন, যদি আমি ফরয সালাতসমূহ আদায় করি, হালালকে হালাল জানি এবং হারামকে হারাম জানি এবং এর ওপর অতিরিক্ত কিছু না করি, তবে কি আমি জান্নাতে প্রবেশ করব? তিনি বললেন: «হ্যাঁ»। আর কাতাদাহ বলেন: "{হে বস্ত্রাবৃত}" [আল-মুযযাম্মিল: ১] এর অর্থ হলো সেই ব্যক্তি যে নিজের পরিধেয় বস্ত্র মুড়ি দিয়ে থাকে। ⦗পৃষ্ঠা: ২৭⦘ ইকরিমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি এই বিষয়টি গুটিয়ে নিয়েছি (চাদর আবৃত করার মতো), সুতরাং আপনি এর জন্য দাঁড়ান: এবং {হে চাদর পরিহিত}" [আল-মুদ্দাসসির: ১] আমি এই বিষয়টি ঢেকে দিয়েছি, সুতরাং আপনি এর জন্য দাঁড়ান"। আবু উবাইদ থেকে বর্ণিত যে, আবু জাফর, নাফি, আসিম, আবু আমর এবং আল-কিসাঈ 'আল-মুযযাম্মিল' এবং 'আল-মুদ্দাসসির' শব্দ দুটি তাশদীদ ও ইদগামসহ পাঠ করেছেন এবং আমরাও সেভাবেই পাঠ করি, আর উম্মতের আলেমগণ এর ওপরই রয়েছেন। আল-মুযযাম্মিল অর্থ হলো কাপড়ে আবৃত ব্যক্তি। ইমাম শাফিঈ বলেন: আমি এমন একজনের কাছে শুনেছি যার সংবাদ ও জ্ঞানের ওপর আমি আস্থা রাখি, তিনি উল্লেখ করেছেন যে আল্লাহ তাআলা সালাতের একটি বিধান ফরয করেছিলেন, অতঃপর তা অন্য একটি ফরযের মাধ্যমে রহিত করেছেন, এরপর দ্বিতীয়টি রহিত করে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরয করেছেন। তিনি বলেন: এর দ্বারা যেন তিনি আল্লাহর এই বাণীকে উদ্দেশ্য করেছেন: {হে চাদর আবৃত! রাতে সালাতে দাঁড়ান, তবে রাতের অল্প অংশ বাদ দিয়ে; রাতের অর্ধেক অথবা তার চেয়ে কিছু কম করুন, অথবা তার চেয়ে কিছু বৃদ্ধি করুন} [আল-মুযযাম্মিল: ২-৪] অতঃপর আল্লাহ এই সূরার মধ্যেই তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে তা রহিত করেছেন: {আপনার পালনকর্তা জানেন যে, আপনি রাতের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ, অর্ধেক ও এক-তৃতীয়াংশ ইবাদতে দাঁড়িয়ে অতিবাহিত করেন} [আল-মুযযাম্মিল: ২০] তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: {অতএব কুরআনের যতটুকু তোমাদের জন্য সহজ হয় ততটুকু পাঠ করো}। এভাবে তিনি সারারাত অথবা অর্ধেক রাত কিংবা তার কম বা বেশি সময় দাঁড়িয়ে থাকাকে যতটুকু সহজ হয় ততটুকু দ্বারা রহিত করেছেন। তিনি বলেন: আরও বলা হয় যে, সূরা মুযযাম্মিলে যা বর্ণিত হয়েছে তা আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে রহিত হয়েছে: {সালাত কায়েম করো সূর্য ঢলে পড়ার সময় থেকে} [আল-ইসরা: ৭৮] অর্থাৎ এর জাওয়াল বা পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়া থেকে {রাতের অন্ধকার পর্যন্ত} [আল-ইসরা: ৭৮] অর্থাৎ রাতের গভীর অন্ধকার পর্যন্ত {এবং ফজরের কুরআন পাঠ, নিশ্চয় ফজরের কুরআন পাঠ সাক্ষীস্বরূপ হয়ে থাকে। আর রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ পড়ো, যা তোমার জন্য অতিরিক্ত (নফল) হিসেবে} [আল-ইসরা: ৭৮-৭৯]। ফলে আল্লাহ তাঁকে জানিয়ে দিলেন যে, রাতের সালাত নফল, ফরয নয়; আর ফরয সালাতসমূহ রাত ও দিনের সেই সময়ের মধ্যে যা তিনি উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: সুতরাং ফরয সালাত হলো পাঁচটি, আর তা ছাড়া অন্য সব সালাত হলো নফল। আবু উবাইদ থেকে বর্ণিত যে, আবু জাফর, শাইবা, নাফি এবং আবু আমর পাঠ করেছেন: {তার অর্ধেক ও এক-তৃতীয়াংশ} [আল-মুযযাম্মিল: ২০] জের (খফয) দিয়ে; আর ইবনে কাসীর, আসিম, আল-আ’মাশ, হামযাহ এবং আল-কিসাঈ এগুলো জবর (নসব) দিয়ে {তার অর্ধেক ও এক-তৃতীয়াংশ} পাঠ করতেন, তবে ইবনে কাসীর 'থুলুথাহু' (এক-তৃতীয়াংশ) শব্দটিকে হালকা বা পাতলা করে পড়তেন। তিনি বলেন: আমরা যে পাঠটি পছন্দ করি তা হলো জের (খফয) দিয়ে পড়া, কারণ আল্লাহর বাণী হলো: {আল্লাহ জানেন যে তোমরা তা গণনা করে শেষ করতে পারবে না} [আল-মুযযাম্মিল: ২০]। সুতরাং তোমরা কীভাবে অর্ধেক থেকে এক-তৃতীয়াংশ পৃথক করে পরিমাপ করতে সক্ষম হবে যেখানে তারা তা গণনা করতেই সক্ষম নয়। ইমাম শাফিঈ বলেন: আবু উবাইদ আল্লাহর এই বাণীর: {তিনি জানেন যে তোমরা তা গণনা করে শেষ করতে পারবে না} এই ব্যাখ্যা করেছেন যে: তোমরা তা জানতে পারবে না, তিনি এখানে সংখ্যার গণনার দিকে গিয়েছেন। আর আবু উবাইদ ছাড়া অন্য ভাষাবিদ আলেমগণ বলেছেন: {তোমরা তা গণনা করতে পারবে না} এর অর্থ হলো: তোমরা এর সামর্থ্য রাখবে না। তিনি বলেন: আরবরা বলে থাকে 'আমি এটি গণনা করতে পারছি না', অর্থাৎ আমি এর সামর্থ্য রাখছি না। তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই বাণীও একই অর্থবোধক: «তোমরা দৃঢ় থাকো, তবে তোমরা কখনো তা পুরোপুরি পারবে না (গণনা করতে পারবে না)», অর্থাৎ সব বিষয়ে অটল থাকার সামর্থ্য তোমাদের হবে না। তিনি বলেন: «তোমরা সঠিক পথে চলো এবং নিকটবর্তী হও»। ⦗পৃষ্ঠা: ২৮⦘ আবু সালিহ থেকে বর্ণিত, যখন এই আয়াত নাযিল হলো: "{নিশ্চয় আপনার পালনকর্তা জানেন যে আপনি রাতের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সময় দাঁড়িয়ে থাকেন}" [আল-মুযযাম্মিল: ২০] এই বাণী পর্যন্ত: {তিনি জানেন যে তোমরা তা গণনা করে শেষ করতে পারবে না}। তিনি বলেন: জিবরাঈল (আ.) বললেন: এটি কি আপনাদের জন্য কষ্টকর হয়েছে? নবী (সা.) বললেন: «হ্যাঁ»। তখন জিবরাঈল বললেন: {আমাদের প্রত্যেকেরই নির্দিষ্ট স্থান রয়েছে। আর আমরা অবশ্যই কাতারবদ্ধ হয়ে থাকি এবং আমরা অবশ্যই আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করি} [আস-সাফফাত: ১৬৪-১৬৬]। কাতাদাহ থেকে বর্ণিত: "{নিশ্চয় আপনার পালনকর্তা জানেন যে আপনি রাতের দুই-তৃতীয়াংশের কিছু কম, তার অর্ধেক এবং তার এক-তৃতীয়াংশ সময় সালাতে দাঁড়িয়ে থাকেন}"। মুজাহিদ বলেন: "আপনি রাতের দুই-তৃতীয়াংশের কাছাকাছি সময় দাঁড়িয়ে থাকেন, এবং আপনি তার অর্ধেক বা এক-তৃতীয়াংশ সময় দাঁড়ান; {আর আল্লাহ রাত ও দিনের পরিমাপ নির্ধারণ করেন। তিনি জানেন যে তোমরা তা নির্ভুলভাবে গণনা করতে পারবে না}" [আল-মুযযাম্মিল: ২০]। হাসান ও কাতাদাহ থেকে বর্ণিত: {তোমরা তা গণনা করতে পারবে না} মানে হলো তোমরা এর সামর্থ্য রাখবে না। মুহাম্মদ ইবনে নাসর বলেন, কোনো কোনো আলেম আল্লাহর বাণী: {রাতের কিছু অংশ ছাড়া বাকি সময় সালাতে দাঁড়ান} [আল-মুযযাম্মিল: ২] এর ব্যাখ্যায় বলেন যে, রাতের সামান্য সময় ছাড়া বাকি সময় সালাত আদায় করুন যাতে আপনি ঘুমাবেন, আর তা হলো রাতের এক-তৃতীয়াংশ। অতঃপর তিনি বললেন: {অর্ধেক সময়} অর্থাৎ অর্ধেক সময় সালাত পড়ুন অথবা অর্ধেক থেকে সামান্য কমিয়ে দিন অর্থাৎ এক-তৃতীয়াংশ করুন অথবা অর্ধেকের চেয়ে বাড়িয়ে দুই-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত করুন। যখন এই আয়াত নাযিল হলো, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং মুমিনদের একটি দল তাঁর সাথে সালাতে দাঁড়াতেন এবং মুসলমানরা এই নির্দিষ্ট সময়গুলো মেনে চলার জন্য নিজেদের ওপর কঠোরতা আরোপ করতেন, এমনকি তা তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়ল। তখন আল্লাহ নাযিল করলেন: {নিশ্চয় আপনার পালনকর্তা জানেন যে আপনি রাতের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ, তার অর্ধেক ও এক-তৃতীয়াংশ সময় সালাতে দাঁড়ান} [আল-মুযযাম্মিল: ২০] অর্থাৎ আপনি এর অর্ধেক, এক-তৃতীয়াংশ এবং অন্যান্য অংশে সালাতে দাঁড়ান। {তিনি জানেন যে তোমরা তা গণনা করে শেষ করতে পারবে না} অর্থাৎ তোমরা এই সময়গুলোর প্রকৃত হিসাব রক্ষা করতে এবং এই নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী সালাত আদায়ে সক্ষম হবে না, তাই তিনি তোমাদের ক্ষমা করলেন {অতএব কুরআনের যতটুকু তোমাদের জন্য সহজ হয় ততটুকু পাঠ করো}। তিনি তাদের জন্য যতটুকু সম্ভব ততটুকু সালাতে দাঁড়ানোর অনুমতি দিলেন এবং কোনো নির্দিষ্ট সময় বা পরিমাপ নির্ধারণ না করে বিষয়টি সহজ করে দিলেন। তিনি বলেন: অতঃপর তিনি একে ফরয সালাতসমূহের মাধ্যমে রহিত করেছেন। তিনি বলেন: যদি আমরা {রাতের দুই-তৃতীয়াংশের কম এবং তার অর্ধেক ও এক-তৃতীয়াংশ} জের (খফয) দিয়ে পাঠ করি, তবে তা প্রমাণ করে যে তিনি মাঝে মাঝে রাতের দুই-তৃতীয়াংশের কম সময় সালাতে দাঁড়াতেন, আর এটি তাকে যা আদেশ করা হয়েছিল তার পরিপন্থী হতো। কারণ আল্লাহ তাঁকে বলেছিলেন: {রাতের অল্প অংশ বাদ দিয়ে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করুন, অর্ধেক রাত অথবা তার চেয়ে সামান্য কম} [আল-মুযযাম্মিল: ২-৩] এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত; কিন্তু তিনি তাকে এক-তৃতীয়াংশ থেকে কমানোর আদেশ দেননি। তিনি বলেন: ইমাম শাফিঈ এবং অন্যান্যের বর্ণনা অনুযায়ী মত হলো যে, আল্লাহ তাআলা সূরা মুযযাম্মিলের শুরুতে নির্দিষ্ট পরিমাপে রাতের সালাত ফরয করেছিলেন, এরপর সূরার শেষ দিকে তা রহিত করে রাতের সালাতে যতটুকু সহজ হয় ততটুকু কুরআন পাঠ করা ফরয করেন। অতঃপর যতটুকু সহজ হয় ততটুকু কুরআন পাঠের ফরয বিধানটিকে পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের মাধ্যমে রহিত করেন। ⦗পৃষ্ঠা: ২৯⦘ আর আয়েশা, ইবনে আব্বাস ও অন্যদের থেকে আমরা যে অন্যান্য বর্ণনা উল্লেখ করেছি, তা প্রমাণ করে যে সূরার শেষ অংশ প্রথম অংশকে রহিত করেছে। ফলে সূরার শেষ অংশ নাযিল হওয়ার পর রাতের সালাত ফরয থাকার পর নফল হয়ে যায়। তারা এই মত পোষণ করেছেন যে, {যা সহজ হয় তা পাঠ করো} এই নির্দেশটি একটি পছন্দমূলক বিষয়, এটি ফরয বা আবশ্যিক কোনো বিধান নয়। তিনি বলেন: আমার মতে এটিই সঠিক হওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য মত। আর পাঁচ ওয়াক্ত সালাত কীভাবে রাতের সালাতকে রহিত করতে পারে, যেখানে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ইসলামের শুরুতেই ফরয হয়েছিল যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কায় ছিলেন; মিরাজের রাতে তা তাঁর ওপর ফরয করা হয়েছিল। আর আমাদের বর্ণিত হাদীসগুলো প্রমাণ করে যে, {কুরআনের যতটুকু সহজ হয় ততটুকু পাঠ করো} এই আয়াতটি মদীনায় নাযিল হয়েছে। আয়াতের বক্তব্যই এর প্রমাণ দেয়, যেমন আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ জানেন যে তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ অসুস্থ হবে, কেউ কেউ আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধানে দেশভ্রমণ করবে এবং কেউ কেউ আল্লাহর পথে যুদ্ধে লিপ্ত হবে} [আল-মুযযাম্মিল: ২০]। আর আল্লাহর পথে যুদ্ধ তো কেবল মদীনায় শুরু হয়েছিল। একইভাবে তাঁর বাণী: {সালাত কায়েম করো এবং যাকাত প্রদান করো} [আল-মুযযাম্মিল: ২০]। যাকাত তো মদীনায় ফরয হয়েছে। জাবিরের হাদীসে আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন তাদের যুদ্ধের অভিযানে পাঠিয়েছিলেন, তখন তাদের ওপর রাতের সালাত ফরয ছিল; আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মদীনায় আগমনের পরেই কেবল যুদ্ধের দল পাঠানো শুরু হয়েছিল। তিনি বলেন: যারা {কুরআনের যতটুকু সহজ হয় ততটুকু পাঠ করো} আয়াতের ভিত্তিতে রাতের সালাতকে কম হোক বা বেশি হোক ফরয মনে করেন, তাদের বলা হবে: আমাদের বলুন, যদি কারো কাছে কুরআন পাঠ সহজ না হয় এবং সে কিছুই পাঠ করতে সক্ষম না হয়, তবে কি আপনি তাকে কষ্ট করে হলেও তা পাঠ করা আবশ্যক করবেন যদিও তা সহজসাধ্য না হয়? যদি তিনি বলেন: হ্যাঁ, তবে তিনি কুরআনের বাহ্যিক অর্থের বিরোধিতা করলেন এবং তার ওপর এমন কিছু আবশ্যক করলেন যা আল্লাহ আবশ্যক করেননি। আর যদি তিনি বলেন: না, সহজ না হলে কষ্ট করে পড়া আবশ্যক নয়, তবে তো তিনি এর ফরয হওয়ার বিষয়টিই বাতিল করে দিলেন। কারণ এটি যদি ফরয হতো তবে তা সহজ হোক বা কঠিন, তা আদায় করা আবশ্যক হতো, যেমনটি আল্লাহ বলেছেন: {তোমরা হালকা বা ভারী অবস্থায় বের হও} [আত-তাওবাহ: ৪১]। আর {যা সহজ হয়} এই কথাটি প্রমাণ করে যে এটি একটি পছন্দনীয় (মুস্তাহাব) বিষয়, ফরয নয়। তিনি বলেন: রায়পন্থীদের (যুক্তিপন্থী) কেউ কেউ ফরয সালাতসমূহে কিরাআত (কুরআন পাঠ) আবশ্যক করার ক্ষেত্রে এই আয়াতের {কুরআনের যতটুকু সহজ হয় ততটুকু পাঠ করো} মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন। তারা এই আয়াতের ভুল ব্যাখ্যা করে সূরা ফাতিহা পাঠ করার ফরয বিধানকে বাতিল করে দিয়েছেন এবং বলেছেন: তার ওপর কুরআনের যতটুকু সহজ হয় ততটুকু পাঠ করাই আবশ্যক, সূরা ফাতিহা না পড়লেও কোনো অসুবিধা নেই। এরপর তারা নিজেরাই নিজেদের কথার বিরোধিতা করে বলেছেন: তাকে অবশ্যই তিনটি আয়াত বা তার বেশি অথবা দীর্ঘ একটি আয়াত যেমন আয়াতুল কুরসী বা ঋণের আয়াত পাঠ করতে হবে। যদি সে ছোট একটি আয়াত যেমন {মুদহাম্মাতান} [আর-রাহমান: ৬৪] অথবা {লাম ইয়ালিদ} [আল-ইখলাস: ৩] পাঠ করে তবে তা জায়েয হবে না। অথচ এই আয়াতের সাথে ফরয সালাতসমূহে কিরাআত পাঠের কোনো সম্পর্ক নেই। এই আয়াতটি আমি আপনাকে যেমনটি জানিয়েছি রাতের সালাত সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। আর ফরয সালাতসমূহে ⦗পৃষ্ঠা: ৩০⦘ কিরাআত পাঠের বিধান তো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছ থেকেই নেওয়া হয়েছে, যেমন রুকু, সিজদা এবং সালাতের অন্যান্য বিষয়গুলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে। ফরয সালাতসমূহে কিরাআত পাঠের বিষয়ে ভিন্ন একটি কিতাব রয়েছে, সেখানে আমরা মানুষের মতভেদ ও তাদের যুক্তিগুলো আলোচনা করব। প্রথম দলের ওপর আমরা যে আপত্তি করেছি যে তারা রাতের সালাতে যতটুকু সহজ হয় ততটুকু কুরআন পাঠ করাকে ফরয বলেছেন, সেই একই আপত্তি রায়পন্থীদের ওপরও বর্তাবে। তাদের বলা হবে: আমাদের এমন ব্যক্তি সম্পর্কে বলুন যার জন্য সালাতে কুরআনের কিছুই পাঠ করা সহজসাধ্য নয়, আপনারা কি তার ওপর আপনাদের নির্ধারিত সেই তিনটি আয়াত বা দীর্ঘ একটি আয়াত পাঠ করা আবশ্যক করবেন যদিও তা তার জন্য অত্যন্ত ভারী ও কঠিন হয়? যদি তারা বলে: হ্যাঁ, তবে তাদের প্রশ্ন করা হবে: যে ব্যক্তি সামর্থ্য রাখে না তার ওপর তা কীভাবে আবশ্যক করলেন? অথচ আল্লাহ আপনাদের দাবি অনুযায়ী কেবল সহজটুকুই পাঠ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এর ফলে আপনাদের জন্য এটি জায়েয বলা আবশ্যক হয়ে দাঁড়াবে যে, কোনো মুসল্লি সালাত শুরু করে কেবল 'আলিফ' বলে রুকুতে চলে যাবে এবং বলবে যে এর বেশি আমার জন্য সহজ ছিল না। যদি তারা একে জায়েয বলে, তবে তারা সুন্নাহর বিরোধিতা করবে এবং আলেমদের মত থেকে বিচ্যুত হবে। আল্লাহর বাণী: {আর কুরআন পাঠ করুন সুবিন্যস্তভাবে ও স্পষ্টভাবে (তারতীলসহ)} [আল-মুযযাম্মিল: ৪]। ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একে স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করুন। জনৈক ব্যক্তি তাঁকে বলল: আমি খুব দ্রুত কুরআন পড়ি, এক বৈঠকে পুরো সূরা বাকারা পড়ে ফেলি। তিনি বললেন: আমি সূরা বাকারা পড়ব এবং তা স্পষ্টভাবে সুবিন্যস্তভাবে বুঝে পড়ব, এটি আমার কাছে আপনার মতো করে দ্রুত পড়ার চেয়ে অধিক প্রিয়। আলকামা ইবনে মাসউদের সামনে কুরআন পড়লেন, তাঁর কণ্ঠ ছিল অত্যন্ত সুন্দর। ইবনে মাসউদ বললেন: আমার বাবা-মা আপনার ওপর উৎসর্গ হোক, আপনি স্পষ্টভাবে সুবিন্যস্তভাবে পড়ুন, কারণ এটিই কুরআনের সৌন্দর্য। আলকামা বলেন: আমি ইবনে মাসউদের সাথে দিনের শুরু থেকে ফজর শেষ হওয়া পর্যন্ত সালাত পড়েছি, তিনি স্পষ্টভাবে পড়তেন, তাড়াহুড়ো করতেন না এবং মসজিদে উপস্থিত সকলকে শোনাতেন। কাতাদাহ থেকে বর্ণিত: আমাদের কাছে পৌঁছেছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অধিকাংশ কিরাআত ছিল দীর্ঘ (মাদ্দ) করে পড়া। মুজাহিদ থেকে বর্ণিত: {আর কুরআন পাঠ করুন সুবিন্যস্তভাবে ও স্পষ্টভাবে}। তিনি বলেন: অর্থাৎ ধীরস্থিরভাবে বিরতি দিয়ে পাঠ করা। অন্য এক বর্ণনায় তিনি বলেন: একটার পর একটা স্পষ্টভাবে পাঠ করা। হাফসা (রা.) থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোনো সূরা পাঠ করার সময় এত স্পষ্টভাবে সুবিন্যস্তভাবে পড়তেন যে, সেই সূরাটি তার চেয়ে দীর্ঘ সূরার চেয়েও বেশি দীর্ঘ হয়ে যেত।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু কিয়ামিল লাইলি ওয়া কিয়ামি রামাদান ওয়া কিতাবুল বিতর
(পৃষ্ঠা: ٣١)
ثنا إِسْحَاقُ، أَخْبَرَنَا الْوَلِيدُ، ثنا زَائِدَةُ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنِ ابْنِ حُذَيْفَةَ، عَنْ حُذَيْفَةَ، رضي الله عنه، أَنَّهُ صَلَّى مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيْلَةً فَقَرَأَ بِالطُّوَالِ قِرَاءَةً لَيْسَتْ بِالْخَفِيضَةِ وَلَا الرَّفِيعَةِ وَيُحَسِّنُ وَيُرَتِّلُ ثُمَّ رَكَعَ " قَوْلُهُ {إِنَّا سَنُلْقِي عَلَيْكَ قَوْلًا ثَقِيلًا} [المزمل: 5] قَالَ الْحَسَنُ: «الْعَمَلُ بِهِ ثَقِيلٌ» وَفِي رِوَايَةٍ قَالَ: «ثَقِيلًا فِي الْمِيزَانِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ» وَقَالَ قَتَادَةُ: «تَثْقُلُ وَاللَّهِ فَرَائِضُهُ وَحُدُودُهُ» وَفِي رِوَايَةٍ قَالَ: " لَيْسَ يَعْنِي قِرَأَةً وَلَكِنْ فَرَائِضَهُ وَسُنَنَهُ قَدْ تَأَوَّلَ بَعْضُهُمْ أَنَّهُ أَرَادَ ثِقَلَ الْوَحْيِ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حِينَ كَانَ يَنْزِلُ عَلَيْهِ
ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-ওয়ালিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, যায়িদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল মালিক বিন উমাইর থেকে, তিনি ইবনে হুজাইফা থেকে এবং তিনি হুজাইফা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি এক রাতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে সালাত আদায় করেছেন। তখন তিনি (রাসূলুল্লাহ) দীর্ঘ সূরাসমূহ তিলাওয়াত করছিলেন; তিলাওয়াত খুব নিচু স্বরেও ছিল না আবার খুব উচ্চ স্বরেও ছিল না, বরং তিনি অত্যন্ত সুন্দর ও স্পষ্টভাবে তিলাওয়াত করছিলেন। অতঃপর তিনি রুকু করলেন। "মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আমি আপনার প্রতি এক ভারী কথা অবতীর্ণ করব} [সূরা আল-মুজ্জাম্মিল: ৫]। আল-হাসান বলেন: 'এর ওপর আমল করা ভারী'। অন্য এক বর্ণনায় তিনি বলেছেন: 'কিয়ামতের দিন মিযানে তা অত্যন্ত ভারী হবে'। কাতাদাহ বলেন: 'আল্লাহর কসম, এর ফরযসমূহ এবং সীমারেখাসমূহ অত্যন্ত ভারী'। অন্য এক বর্ণনায় তিনি বলেন: 'এর দ্বারা তিলাওয়াত করা উদ্দেশ্য নয়, বরং এর ফরয ও সুন্নতসমূহ উদ্দেশ্য'। কেউ কেউ ব্যাখ্যা করেছেন যে, এর দ্বারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর ওহী অবতীর্ণ হওয়ার সময়কার ওহীর ভারকে বোঝানো হয়েছে।"
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু কিয়ামিল লাইলি ওয়া কিয়ামি রামাদান ওয়া কিতাবুল বিতর
(পৃষ্ঠা: ٣١)
ثنا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، أَخْبَرَنِي هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا أُوحِيَ إِلَيْهِ وَهُوَ عَلَى نَاقَتِهِ وَضَعَتْ جِرَانَهَا فَمَا تَسْتَطِيعُ أَنْ تَتَحَرَّكَ حَتَّى يُسْرَى عَنْهُ " وَعَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ يَزِيدَ قَالَتْ: نَزَلَتْ سُورَةُ الْمَائِدَةِ وَأَنَا آخُذُ بِزِمَامِ نَاقَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْعَضْبَاءِ. فَكَادَتْ مِنْ ثِقَلِهَا أَنْ تَنْدَقَّ عَضُدُ النَّاقَةِ
মুহাম্মদ ইবনে রাফি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুর রাজ্জাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি মা’মার থেকে, হিশাম ইবনে উরওয়াহ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন তাঁর উটনীর পিঠে থাকা অবস্থায় ওহী প্রাপ্ত হতেন, তখন সেটি তার গর্দান জমিনে রেখে দিত, ফলে ওহীর অবস্থা কেটে না যাওয়া পর্যন্ত সেটি নড়াচড়া করতে সক্ষম হতো না। এবং আসমা বিনতে ইয়াজিদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: সূরা আল-মায়িদাহ নাযিল হয়েছিল এমতাবস্থায় যখন আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর 'আল-আদবা' নামক উটনীর লাগাম ধরে ছিলাম; ওহীর ভারের প্রচণ্ডতায় উটনীটির বাহু ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু কিয়ামিল লাইলি ওয়া কিয়ামি রামাদান ওয়া কিতাবুল বিতর
(পৃষ্ঠা: ٣١)
ثنا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، ثنا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، رضي الله عنها قَالَتْ: سَأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم رَجُلٌ فَقَالَ: كَيْفَ يَأْتِيكَ الْوَحْيُ يَا نَبِيَّ اللَّهِ؟ قَالَ: " يَأْتِينِي أَحْيَانًا وَلَهُ صَلْصَلَةٌ كَصَلْصَلَةِ الْجَرَسِ فَيَنفْصَمُّ عَنِّي وَقَدْ وَعَيْتُ وَذَلِكَ أَشَدُّ عَلَيَّ. وَيَأْتِينِي أَحْيَانًا فِي صُورَةِ الرَّجُلِ أَوْ قَالَ: الْمَلَكِ فَيُخْبِرُنِي فَأَعِي مَا يَقُولُ " وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رضي الله عنه: كَانَ إِذَا نَزَلَ عَلَيْهِ الْوَحْيُ غَشِيَهُ عُرِقَ أَوْ بُهِرَ
আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে রাফি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবদুর রাজ্জাক বর্ণনা করেছেন, হিশাম ইবনে উরওয়া আমাদের সংবাদ দিয়েছেন তাঁর পিতার নিকট থেকে, তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করে বললেন, হে আল্লাহর নবী! আপনার নিকট ওহী কীভাবে আসে? তিনি বললেন: "কখনো কখনো তা আমার নিকট ঘণ্টার ঝনঝনানি শব্দের ন্যায় আসে এবং তা সমাপ্ত হওয়ার পর আমি তা আয়ত্ত করে ফেলি; আর এটিই আমার নিকট সবচাইতে কষ্টদায়ক হয়। আবার কখনো কখনো ফেরেশতা মানুষের আকৃতিতে আমার নিকট আসেন, অতঃপর তিনি আমাকে যা বলেন তা আমি আয়ত্ত করে ফেলি।" এবং আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: যখন তাঁর উপর ওহী অবতীর্ণ হতো, তখন তিনি ঘর্মাক্ত হয়ে যেতেন অথবা হাঁপিয়ে উঠতেন।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু কিয়ামিল লাইলি ওয়া কিয়ামি রামাদান ওয়া কিতাবুল বিতর
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
ذِكْرُ التَّرْغِيبِ فِي قِيَامِ اللَّيْلِ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ عز وجل قَالَ اللَّهُ تبارك وتعالى لِنَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم {وَمِنَ اللَّيْلِ فَتَهَجَّدْ بِهِ نَافِلَةً لَكَ عَسَى أَنْ يَبْعَثَكَ رَبُّكَ مَقَامًا مَحْمُودًا} [الإسراء: 79] وَقَالَ: {وَاذْكُرِ اسْمَ رَبِّكَ بُكْرَةً وَأَصِيلًا وَمِنَ اللَّيْلِ فَاسْجُدْ لَهُ وَسَبِّحْهُ لَيْلًا طَوِيلًا} [الإنسان: 26]. وَقَالَ: {وَمِنَ اللَّيْلِ فَسَبِّحْهُ وَأَدْبَارَ السُّجُودِ} [ق: 40]. وَقَالَ: {وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ حِينَ تَقُومُ وَمِنَ اللَّيْلِ فَسَبِّحْهُ وَإِدْبَارَ النُّجُومِ} [الطور: 48] وَقَالَ: {إِنَّمَا يُؤْمِنُ بِآيَاتِنَا الَّذِينَ إِذَا ذُكِّرُوا بِهَا خَرُّوا سُجَّدًا وَسَبَّحُوا بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَهُمْ لَا يَسْتَكْبِرُونَ} [السجدة: 15] {تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ خَوْفًا وَطَمَعًا وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ} [السجدة: 16]. وَقَالَ: {إِنَّ نَاشِئَةَ اللَّيْلِ هِيَ أَشَدُّ وَطْئًا وَأَقْوَمُ قِيلًا، إِنَّ لَكَ فِي النَّهَارِ سَبْحًا طَوِيلًا} وَمَدَحَ قَوْمًا فَقَالَ: {كَانُوا قَلِيلًا مِنَ اللَّيْلِ مَا يَهْجَعُونَ، وَبِالْأَسْحَارِ هُمْ يَسْتَغْفِرُونَ} [الذاريات: 17] وَقَالَ: {وَالْمُسْتَغْفِرِينَ بِالْأَسْحَارِ} [آل عمران: 17] وَقَالَ: {أَمَّنْ هُوَ قَانِتٌ آنَاءَ اللَّيْلِ سَاجِدًا وَقَائِمًا يُحْذَرُ الْآخِرَةَ وَيَرْجُو رَحْمَةَ رَبِّهِ} [الزمر: 9]. وَقَالَ: {يَتْلُونَ آيَاتِ اللَّهِ آنَاءَ اللَّيْلِ وَهُمْ يَسْجُدُونَ} [آل عمران: 113]
মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর কিতাব থেকে রাতে সালাত আদায় (কিয়ামুল লাইল) করার প্রতি উৎসাহ প্রদানের আলোচনা। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেছেন: {এবং রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ আদায় করুন, যা আপনার জন্য এক অতিরিক্ত কর্তব্য। আশা করা যায় আপনার প্রতিপালক আপনাকে প্রশংসিত স্থানে (মাকামে মাহমুদ) উঠাবেন।} [আল-ইসরা: ৭৯] এবং তিনি বলেছেন: {আর আপনি সকাল ও সন্ধ্যায় আপনার প্রতিপালকের নাম স্মরণ করুন। এবং রাতের কিছু অংশে তাঁকে সিজদাহ করুন এবং রাতের দীর্ঘ সময় তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করুন।} [আল-ইনসান: ২৬]। এবং তিনি বলেছেন: {আর রাতের কিছু অংশে তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করুন এবং সিজদাহর পরেও।} [ক্বাফ: ৪০]। এবং তিনি বলেছেন: {আর যখন আপনি দাঁড়ান তখন আপনার প্রতিপালকের সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করুন। এবং রাতের কিছু অংশে তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করুন এবং তারকারাজি অস্তমিত হওয়ার সময়ও।} [আত-তূর: ৪৮] এবং তিনি বলেছেন: {কেবল তারাই আমার আয়াতসমূহের ওপর ঈমান আনে যাদেরকে যখন এর মাধ্যমে উপদেশ দেওয়া হয়, তখন তারা সিজদায় লুটিয়ে পড়ে এবং তাদের প্রতিপালকের সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করে আর তারা অহংকার করে না।} [আস-সাজদাহ: ১৫] {তাদের পার্শ্বদেশ শয্যা হতে পৃথক থাকে, তারা তাদের প্রতিপালককে ডাকেন ভয় ও আশা নিয়ে এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক দান করেছি তা থেকে তারা ব্যয় করে।} [আস-সাজদাহ: ১৬]। এবং তিনি বলেছেন: {নিশ্চয়ই রাতে জেগে ওঠা প্রবৃত্তি দলনে অধিক কার্যকর এবং তা বাকস্ফূর্তিতে অধিক সুদৃঢ়। নিশ্চয়ই দিনের বেলা আপনার জন্য রয়েছে দীর্ঘ কর্মব্যস্ততা।} এবং তিনি এক কওমের প্রশংসা করে বলেছেন: {তারা রাতের সামান্য অংশই নিদ্রায় অতিবাহিত করত। এবং তারা শেষ রাতে ক্ষমা প্রার্থনা করত।} [আয-যারিয়াত: ১৭] এবং তিনি বলেছেন: {এবং যারা শেষ রাতে ক্ষমা প্রার্থনাকারী।} [আল-ইমরান: ১৭] এবং তিনি বলেছেন: {যে ব্যক্তি রাতের প্রহরে সিজদাবনত হয়ে ও দাঁড়িয়ে ইবাদত করে, পরকালকে ভয় করে এবং তার প্রতিপালকের রহমত আশা করে।} [আয-যুমার: ৯]। এবং তিনি বলেছেন: {তারা রাতের প্রহরে আল্লাহর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করে এবং তারা সিজদাহ করে।} [আল-ইমরান: ১১৩]
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু কিয়ামিল লাইলি ওয়া কিয়ামি রামাদান ওয়া কিতাবুল বিতর
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
وَمَدَحَ {وَعِبَادُ الرَّحْمَنِ الَّذِينَ يَمْشُونَ عَلَى الْأَرْضِ هَوْنًا وَإِذَا خَاطَبَهُمُ الْجَاهِلُونَ قَالُوا سَلَامًا، الَّذِينَ يَبِيتُونَ لِرَبِّهِمْ سُجَّدًا وَقِيَامًا} وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قَيْسٍ أَنَّهَ سَمِعَ عَائِشَةَ رضي الله عنها وَذُكِرَ عِنْدَهَا قَوْمٌ يَزْعُمُونَ أَنَّهُمْ إِذَا أَدُّوا الْفَرَائِضَ لَا يُبَالُونَ أَنْ يَتَزَيَّدُوا. فَقَالَتْ: لَعَمْرِي لَا يَسْأَلُهُمُ اللَّهُ إِلَّا عَمَّا افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ، وَلَكِنَّهُمْ قَوْمٌ يُخْطِئُونَ بِالنَّهَارِ. وَإِنَّمَا أَنْتُمْ مِنْ نَبِيِّكُمْ وَنَبِيُّكُمْ مِنْكُمْ، فَمَا رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَرَكَ قِيَامَ اللَّيْلِ إِلَّا أَنْ يَمْرَضَ فَيُصَلِّي وَهَوَ جَالِسٌ، ثُمَّ نَزَعَتْ بِكُلِّ آيَةٍ فِي الْقُرْآنِ يُذْكَرُ فِيهَا قِيَامُ اللَّيْلِ وَعَنْ عَلْقَمَةَ وَالْأَسْوَدِ: إِنَّمَا التَّهَجُّدُ بَعْدَ نَوْمَةٍ وَعَنْ عَمْرِو بْنِ غَزِيَّةَ الْأَنْصَارِيِّ أَنَّهُ قَالَ: يَحْسِبُ أَحَدُكُمْ أَنَّهُ إِذَا قَامَ مِنَ اللَّيْلِ فَصَلَّى حَتَّى يُصْبِحَ أَنَّهُ قَدْ تَهَجَّدَ. إِنَّمَا التَّهَجُّدُ الصَّلَاةُ بَعْدَ رَقْدَةٍ. ثُمَّ الصَّلَاةُ بَعْدَ رَقْدَةٍ. ثُمَّ الصَّلَاةُ بَعْدَ رَقْدَةٍ. فَتِلْكَ كَانَتْ صَلَاةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعَنْ أَبِي إِسْحَاقَ {نَافِلَةً لَكَ} [الإسراء: 79] قَالَ: لَيْسَ هِيَ نَافِلَةٌ لِأَحَدٍ إِلَّا لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَعَنْ مُجَاهِدٍ {وَمِنَ اللَّيْلِ فَتَهَجَّدْ بِهِ نَافِلَةً لَكَ} [الإسراء: 79] قَالَ: النَّافِلَةُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم خَاصَّةً مِنْ أَجْلِ أَنَّهُ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَمَا تَأَخَّرَ. فَمَا عَمِلَ مِنْ عَمَلٍ سِوَى الْمَكْتُوبَةِ فَهُوَ لَهُ نَافِلَةٌ مِنْ أَجْلِ أَنَّهُ لَا يَعْمَلُ ذَلِكَ فِي كَفَّارَةِ الذُّنُوبِ فَهِيَ نَوَافِلُ لَهُ وَزِيَادَةٌ، وَالنَّاسُ يَعْمَلُونَ مَا سِوَى الْمَكْتُوبَاتِ لِذُنُوبِهِمْ فِي كَفَّارَتِهَا، فَلَيْسَ لِلنَّاسِ نَوَافِلُ، إِنَّمَا هِيَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم خَاصَّةً وَعَنِ الْحَسَنِ: لَا تَكُونُ نَافِلَةُ اللَّيْلِ إِلَّا لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَعَنْ قَتَادَةَ: {نَافِلَةً لَكَ} [الإسراء: 79] قَالَ: تَطَوُّعًا وَفَضِيلَةً لَكَ
এবং তিনি প্রশংসা করেছেন (এই বলে): {আর দয়াময় আল্লাহর বান্দা তারাই যারা জমিনের উপর নম্রভাবে চলাফেরা করে এবং যখন অজ্ঞ ব্যক্তিরা তাদের সম্বোধন করে কথা বলে, তখন তারা বলে 'সালাম'; আর যারা তাদের রবের উদ্দেশ্যে সেজদাবনত হয়ে ও দণ্ডায়মান অবস্থায় রাত অতিবাহিত করে।} আব্দুল্লাহ ইবনে কায়স হতে বর্ণিত যে, তিনি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-কে বলতে শুনেছেন, যখন তাঁর নিকট এমন একদল লোকের কথা উল্লেখ করা হলো যারা ধারণা করে যে, তারা যখন ফরজসমূহ আদায় করে ফেলে, তখন এরপর আরও অতিরিক্ত আমল করার বিষয়ে তারা পরোয়া করে না। তখন তিনি বললেন: "আমার জীবনের কসম! আল্লাহ তাদের নিকট কেবল তা-ই জিজ্ঞাসা করবেন যা তিনি তাদের ওপর ফরজ করেছেন, কিন্তু তারা এমন এক কওম যারা দিনের বেলায় পাপ করে ফেলে। নিশ্চয়ই তোমরা তোমাদের নবীর অনুসারী আর তোমাদের নবী তোমাদেরই। আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে কখনও রাতের নামাজ বর্জন করতে দেখিনি, কেবল অসুস্থ অবস্থায় ছাড়া—তখন তিনি বসে নামাজ পড়তেন।" এরপর তিনি কুরআনের প্রতিটি আয়াত তিলাওয়াত করলেন যাতে রাতের নামাজের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আলক্বামাহ এবং আসওয়াদ হতে বর্ণিত: তাহাজ্জুদ হলো কেবল ঘুমের পরের নামাজ। আমর ইবনে গাজিয়া আল-আনসারী হতে বর্ণিত যে, তিনি বলেন: "তোমাদের কেউ হয়তো মনে করে যে, সে যখন সারা রাত জেগে সুবহে সাদেক পর্যন্ত নামাজ আদায় করল, তবে সে তাহাজ্জুদ আদায় করে ফেলেছে। প্রকৃতপক্ষে তাহাজ্জুদ হলো একবার ঘুমের পর নামাজ, এরপর আবার ঘুমের পর নামাজ, এরপর আবার ঘুমের পর নামাজ। এটাই ছিল রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নামাজ।" আবু ইসহাক হতে {আপনার জন্য অতিরিক্ত হিসেবে} [বনী ইসরাঈল: ৭৯] এর ব্যাখ্যায় বর্ণিত, তিনি বলেন: এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ব্যতীত অন্য কারো জন্য 'নাফিলা' (অতিরিক্ত বিশেষ মর্যাদা) নয়। মুজাহিদ হতে {আর রাতের কিছু অংশ তাহাজ্জুদ আদায় করুন যা আপনার জন্য অতিরিক্ত} [বনী ইসরাঈল: ৭৯] এর ব্যাখ্যায় বর্ণিত, তিনি বলেন: এই 'নাফিলা' বা অতিরিক্ত ইবাদতটি বিশেষভাবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জন্য; কারণ তাঁর পূর্বের ও পরের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে। সুতরাং ফরজ নামাজ ব্যতীত তিনি যা আমল করতেন তা ছিল তাঁর জন্য 'নাফিলা' (অতিরিক্ত), কারণ তিনি তা গুনাহের কাফফারা হিসেবে করতেন না, বরং তা ছিল তাঁর জন্য বিশেষ ফজিলত ও মর্যাদা বৃদ্ধি। পক্ষান্তরে অন্য মানুষরা ফরজ ব্যতীত যে আমল করে, তা করে তাদের গুনাহের কাফফারা স্বরূপ। সুতরাং সাধারণ মানুষের জন্য তা 'নাফিলা' নয়, বরং এটি বিশেষভাবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জন্যই। হাসান (বসরী) হতে বর্ণিত: রাতের 'নাফিলা' কেবল নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জন্যই ছিল। কাতাদাহ হতে {আপনার জন্য অতিরিক্ত হিসেবে} [বনী ইসরাঈল: ৭৯] এর ব্যাখ্যায় বর্ণিত, তিনি বলেন: এটি ছিল আপনার জন্য নফল এবং বিশেষ শ্রেষ্ঠত্ব স্বরূপ।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু কিয়ামিল লাইলি ওয়া কিয়ামি রামাদান ওয়া কিতাবুল বিতর
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
ثنا أَبُو هَاشِمٍ زِيَادُ بْنُ أَيُّوبَ، ثنا وَكِيعٌ، ثنا الْأَعْمَشُ، عَنْ شِمْرِ بْنِ عَطِيَّةَ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِذَا تَوَضَّأَ الرَّجُلُ خَرَجَتْ ذُنُوبُهُ مِنْ سَمْعِهِ وَبَصَرِهِ وَرِجْلَيْهِ، وَإِنْ جَلَسَ جَلَسَ مَغْفُورًا لَهُ ⦗ص: 34⦘» قَالَ أَبُو أُمَامَةَ: إِنَّمَا كَانَتِ النَّافِلَةُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ وَكِيعٌ: يَعْنِي {وَمِنَ اللَّيْلِ فَتَهَجَّدْ بِهِ نَافِلَةً لَكَ} [الإسراء: 79] قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ نَصْرٍ: وَقَدْ رُوِّينَا عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ سَمَّى مَشْيَهُ إِلَى الْمَسْجِدِ وَصَلَاتَهُ بَعْدَ وَضُوئِهِ نَافِلَةً
আবু হাশিম যিয়াদ ইবনে আইয়ুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ওকী' আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমাশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শিমর ইবনে আতিয়্যাহ থেকে, তিনি শাহর ইবনে হাওশাব থেকে, তিনি আবু উমামাহ থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: «যখন কোনো ব্যক্তি ওযু করে, তখন তার শ্রবণেন্দ্রিয়, দৃষ্টিশক্তি এবং তার পা হতে তার পাপসমূহ বের হয়ে যায়; আর সে যখন বসে, তখন সে ক্ষমাপ্রাপ্ত অবস্থায় বসে। ⦗পৃষ্ঠা: ৩৪⦘» আবু উমামাহ বলেছেন: নফল (অতিরিক্ত সওয়াব) তো কেবল নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জন্যই ছিল। ওকী' বলেছেন: অর্থাৎ {রাত্রির কিছু অংশে তাহাজ্জুদ পড়ুন, এটি আপনার জন্য অতিরিক্ত} [আল-ইসরা: ৭৯]। মুহাম্মাদ ইবনে নাসর বলেন: আমাদের নিকট নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি তাঁর মসজিদের দিকে গমন এবং ওযুর পরবর্তী সালাতকে 'নাফিলা' (অতিরিক্ত) হিসেবে অভিহিত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু কিয়ামিল লাইলি ওয়া কিয়ামি রামাদান ওয়া কিতাবুল বিতর
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
ثنا يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ الصَّنَابِحِيّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِذَا تَوَضَّأَ الْعَبْدُ» فَذَكَرَ وَفِيهِ: ثُمَّ كَانَ مَشْيُهُ إِلَى الْمَسْجِدِ وَصَلَاتُهُ نَافِلَةً "
ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি মালিক থেকে, তিনি যায়েদ ইবনে আসলাম থেকে, তিনি আতা ইবনে ইয়াসার থেকে, তিনি আবদুল্লাহ আস-সানাবিহি থেকে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যখন কোনো বান্দা অজু করে» অতঃপর তিনি (পুরো হাদিস) উল্লেখ করলেন এবং তাতে রয়েছে: «অতঃপর তার মসজিদের দিকে হেঁটে যাওয়া এবং তার সালাত অতিরিক্ত (পুণ্য) হিসেবে গণ্য হবে»।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু কিয়ামিল লাইলি ওয়া কিয়ামি রামাদান ওয়া কিতাবুল বিতর
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
ثنا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، ثنا الْمُعَلَّى بْنُ أَسَدٍ، ثنا بَشَّارُ بْنُ الْحَكَمِ أَبُو زَيْدٍ الضَّبِّيُّ، ثنا ثَابِتٌ، عَنْ أَنَسٍ، رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «طَهُورُ الرَّجُلِ لِصَلَاتِهِ يُكَفِّرُ اللَّهُ بِطَهُورِهِ ذُنُوبَهُ وَتَبْقَى صَلَاتُهُ نَافِلَةً لَهُ» وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رضي الله عنه إِنَّ اللَّهَ فَرَضَ عَلَيْكُمْ خَمْسَ صَلَوَاتٍ بِاللَّيْلِ وَالنَّهَارِ، لَكُمْ بِهِنَّ خَمْسُونَ حَسَنَةً، فَمَنْ كَانَ مُقَارِفًا فَثَلَاثُونَ، وَتَبْقَى عِشْرُونَ، فَإِنْ آبَ فَأَرْبَعُونَ وَيَبْقَى لَهُ عَشْرُ حَسَنَاتٍ ثُمَّ النَّوَافِلُ بَعْدُ، كَمَا يَنَالُ الْمَقَاسِمَ فَإِنَّ الرَّجُلَ يُصِيبُ مِنْ نَفْلِهِ أَفْضَلَ مِنْ سَهْمِهِ قَالَ: فَقَدْ سَمَّى ابْنُ مَسْعُودٍ التَّطَوُّعَ نَوَافِلَ مِنَ النَّاسِ كُلِّهِمْ لَمْ يَخُصَّ بِذَلِكَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم دُونَ غَيْرِهِ، وَهَذَا الْمَعْرُوفُ فِي اللُّغَةِ؛ أَنَّ كُلَّ تَطَوُّعٍ نَافِلَةٌ مِنَ النَّاسِ كُلِّهِمْ
আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুআল্লা ইবনে আসাদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট বাশশার ইবনে হাকাম আবু যায়েদ আদ-দাব্বি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট সাবিত বর্ণনা করেছেন, আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «সালাতের জন্য কোনো ব্যক্তির পবিত্রতা অর্জন; আল্লাহ তার সেই পবিত্রতার মাধ্যমে তার পাপসমূহ মোচন করে দেন এবং তার সালাত তার জন্য নফল (অতিরিক্ত সওয়াব) হিসেবে অবশিষ্ট থাকে।» এবং ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর দিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করেছেন, যার বিনিময়ে তোমাদের জন্য পঞ্চাশটি নেকি রয়েছে। সুতরাং যে ব্যক্তি পাপে লিপ্ত হয়, তার জন্য ত্রিশটি [নেকি চলে যায়] এবং বিশটি অবশিষ্ট থাকে। অতঃপর যদি সে তাওবা করে ফিরে আসে, তবে চল্লিশটি [নেকি হয়] এবং তার জন্য দশটি নেকি অবশিষ্ট থাকে। এরপর যা রয়েছে তা হলো নফল (অতিরিক্ত), যেমন গনিমতের মাল বণ্টনের ক্ষেত্রে প্রাপ্তি ঘটে থাকে; কেননা কোনো ব্যক্তি তার নফল (অতিরিক্ত অংশ) থেকে তার মূল অংশের চেয়েও শ্রেষ্ঠ কিছু লাভ করতে পারে। তিনি বলেন: ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু সকল মানুষের নফল ইবাদতকেই ‘নফল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন, তিনি একে কেবল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জন্য নির্দিষ্ট করেননি। আর ভাষাগতভাবে এটিই সুপরিচিত যে, সকল মানুষের প্রতিটি নফল বা অতিরিক্ত ইবাদতই হলো ‘নফল’।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু কিয়ামিল লাইলি ওয়া কিয়ামি রামাদান ওয়া কিতাবুল বিতর
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
وَأَمَّا الْخَبَرُ الَّذِي عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، فَإِنَّ عَبَّاسَ بْنَ وَلِيدٍ النَّرْسِيَّ أَخْبَرَنَا، قَالَ: ثنا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، ثنا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، أَنَّهُ حَدَّثَ أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِنَّ الْوُضُوءَ يُكَفِّرُ مَا قَبْلَهُ، ثُمَّ تَصِيرُ الصَّلَاةُ نَافِلَةً» قِيلَ لَهُ: أَنْتَ سَمِعْتَ ذَاكَ مِنْ نَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم؟ قَالَ: نَعَمْ، غَيْرُ مَرَّةٍ وَلَا مَرَّتَيْنِ وَلَا ثَلَاثٍ وَلَا أَرْبَعَ وَلَا خَمْسٍ
আর আবু উমামা থেকে বর্ণিত বিবরণের ক্ষেত্রে, আব্বাস ইবন ওয়ালীদ আন-নারসী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইয়াযীদ ইবন যুরাই‘ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, কাতাদাহ থেকে, তিনি শাহর ইবন হাওশাব থেকে, তিনি আবু উমামা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই ওযু তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মোচন করে দেয়, অতঃপর সালাত নফল হিসেবে গণ্য হয়।» তাকে বলা হলো: আপনি কি তা আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে শুনেছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, একবার নয়, দুইবার নয়, তিনবার নয়, চারবার নয় এবং পাঁচবারও নয়।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু কিয়ামিল লাইলি ওয়া কিয়ামি রামাদান ওয়া কিতাবুল বিতর
(পৃষ্ঠা: ٣٥)
بَابُ مَا جَاءَ فِي قَوْلِهِ {تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ} [السجدة: 16]
অধ্যায়: আল্লাহর বাণী {তাদের পার্শ্বদেশ শয্যা ত্যাগ করে} সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে [আস-সাজদাহ: ১৬]
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু কিয়ামিল লাইলি ওয়া কিয়ামি রামাদান ওয়া কিতাবুল বিতর
(পৃষ্ঠা: ٣٥)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، ثنا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، سَمِعْتُ عُرْوَةَ بْنَ النَّزَّالِ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، قَالَ: أَقْبَلْنَا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْ غَزْوَةِ تَبُوكَ فَلَمَّا رَأَيْتُهُ خَالِيًا قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَخْبِرْنِي بِعَمَلٍ يُدْخِلُنِي الْجَنَّةَ. قَالَ: «بَخٍ بَخٍ، لَقَدْ سَأَلْتَ عَنْ عَظِيمٍ، وَأَنَّهُ لَيَسِيرٌ عَلَى مَنْ يَسَّرَهُ اللَّهُ عَلَيْهِ، تُقِيمُ الصَّلَاةَ الْمَكْتُوبَةَ، وَتُؤْتِي الزَّكَاةَ الْمَفْرُوضَةَ، وَتَلْقَى اللَّهَ لَا تُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا، أَوَلَا أَدُلُّكَ عَلَى أَبْوَابِ الْجَنَّةِ، الصَّوْمُ جُنَّةٌ، وَالصَّدَقَةُ بُرْهَانٌ، وَقِيَامُ الرَّجُلِ فِي جَوْفِ اللَّيْلِ يُكَفِّرُ الْخَطِيئَةَ»، وَتَلَا هَذِهِ الْآيَةَ {تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ خَوْفًا وَطَمَعًا وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ} [السجدة: 16] " وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: إِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ مُدَّتِ الْأَرْضُ مَدَّ الْأَدِيمِ، وَزِيدَ فِي سَعَتِهَا كَذَا وَكَذَا، وَجُمِعَ الْخَلَائِقُ بِصَعِيدٍ وَاحِدٍ جِنُّهُمْ وَإِنْسُهُمْ وَيُنَادِي مُنَادٍ: سَتَعْلَمُونَ الْيَوْمَ مَنْ أَصْحَابُ الْكَرَمِ لِيَقُمِ الْحَمَّادُونَ لِلَّهِ عَلَى كُلِّ حَالٍ، فَيَقُومُونَ فَيُسَرَّحُونَ إِلَى الْجَنَّةِ، ثُمَّ يُنَادِي مُنَادٍ الثَّانِيَةَ سَتَعْلَمُونَ الْيَوْمَ مَنْ أَصْحَابُ الْكَرَمِ: لِيَقُمِ الَّذِينَ كَانَتْ جُنُوبُهُمْ تَتَجَافَى عَنِ الْمَضَاجِعِ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ خَوْفًا وَطَمَعًا فَيَقُومُونَ وَيُسَرَّحُونَ إِلَى الْجَنَّةِ. ثُمَّ يُنَادِي مُنَادٍ الثَّالِثَةَ: سَتَعْلَمُونَ الْيَوْمَ مَنْ أَصْحَابُ الْكَرَمِ لِيَقُمِ الَّذِينَ كَانَتْ {لَا تُلْهِيهِمْ تِجَارَةٌ وَلَا بَيْعٌ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ وَإِقَامِ الصَّلَاةِ وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ يَخَافُونَ يَوْمًا تَتَقَلَّبُ فِيهِ الْقُلُوبُ وَالْأَبْصَارُ} [النور: 37] فَيَقُومُونَ فَيُسَرَّحُونَ إِلَى الْجَنَّةِ. ⦗ص: 36⦘ فَإِذَا أَخَذَ هَؤُلَاءِ الثَّلَاثَةَ خَرَجَ عُنُقٌ مِنَ النَّارِ لَهُ عَيْنَانِ بَصِيرَتَانِ وَلِسَانٌ فَصِيحٌ فَيَقُولُ: إِنِّي وُكِّلْتُ بِثَلَاثَةٍ؛ بِكُلِّ جَبَّارٍ عَنِيدٍ فَيَلْقُطُهُمْ مِنَ الصُّفُوفِ لَقْطَ الطَّيْرِ حَبَّ السِّمْسِمِ، فَيَحْشُرُ بِهِمْ فِي جَهَنَّمَ. ثُمَّ يَخْرُجُ الثَّانِيَةَ فَيَقُولُ: إِنِّي وُكِّلْتُ بِمَنْ آذَى اللَّهَ فَيَلْقُطُهُمْ مِنَ الصُّفُوفِ لَقْطَ الطَّيْرِ حَبَّ السِّمْسِمِ فَيُحْبَسُ بِهِمْ فِي جَهَنَّمَ. ثُمَّ يَخْرُجُ الثَّالِثَةَ فَيَقُولُ: إِنِّي وُكِّلْتُ بِأَصْحَابِ التَّصَاوِيرِ فَيَلْقُطُهُمْ مِنَ الصُّفُوفِ لَقْطَ الطَّيْرِ حَبَّ السِّمْسِمِ، فَيُحْشَرُ بِهِمْ فِي جَهَنَّمَ. فَإِذَا أَخَذَ مِنْ هَؤُلَاءِ ثَلَاثَةً وَمِنْ هَؤُلَاءِ ثَلَاثَةً، نُشِرَتِ الصُّحُفُ وَوُضِعَتِ الْمَوَازِينُ وَدُعِيَ الْخَلَائِقُ لِلْحِسَابِ وَعَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ وَرَبِيعَةَ الْجُرَشِيِّ بِمَعْنَاهُ
মুহাম্মদ ইবনে বাশার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মদ ইবনে জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, শু’বাহ আল-হাকাম থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি উরওয়াহ ইবনে আন-নাজ্জালকে মু’আয ইবনে জাবাল থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তাবুক যুদ্ধ থেকে ফিরছিলাম। যখন আমি তাঁকে একাকী পেলাম, তখন বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন একটি আমল সম্পর্কে বলুন যা আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে। তিনি বললেন: «সাবাশ! সাবাশ! তুমি এক মহান বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছ। আর এটি তার জন্য সহজ যাকে আল্লাহ এটি সহজ করে দেন। তুমি ফরয সালাত কায়েম করবে, নির্ধারিত যাকাত প্রদান করবে এবং আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে এমতাবস্থায় যে তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরীক করবে না। আমি কি তোমাকে জান্নাতের দরজাসমূহ সম্পর্কে জানাব না? সিয়াম হচ্ছে ঢাল, সদকা হচ্ছে দলিল (প্রমাণ), আর রাতের গভীরে মানুষের নামায গোনাহ মিটিয়ে দেয়», অতঃপর তিনি এই আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন: {তাদের পার্শ্বদেশ শয্যা হতে আলাদা থাকে, তারা তাদের রবকে ভয় ও আশার সাথে ডাকে এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তা হতে তারা ব্যয় করে} [আস-সাজদাহ: ১৬]। এবং ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত: কিয়ামতের দিন যখন জমিনকে চামড়া প্রসারিত করার ন্যায় প্রসারিত করা হবে এবং এর প্রশস্ততা এতটা বৃদ্ধি করা হবে, আর সমস্ত মাখলুককে—জ্বিন ও ইনসান—এক ময়দানে সমবেত করা হবে, তখন একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করবেন: আজ তোমরা জানতে পারবে কারা সম্মানের অধিকারী। আল্লাহর সকল অবস্থায় প্রশংসাকারীগণ যেন দাঁড়ায়। তখন তারা দাঁড়াবে এবং তাদেরকে জান্নাতের দিকে যেতে দেওয়া হবে। অতঃপর ঘোষণাকারী দ্বিতীয়বার ঘোষণা করবেন: আজ তোমরা জানতে পারবে কারা সম্মানের অধিকারী: তারা যেন দাঁড়ায় যাদের পার্শ্বদেশ শয্যা হতে আলাদা থাকত এবং তারা তাদের রবকে ভয় ও আশার সাথে ডাকত। তখন তারা দাঁড়াবে এবং তাদেরকে জান্নাতের দিকে যেতে দেওয়া হবে। অতঃপর ঘোষণাকারী তৃতীয়বার ঘোষণা করবেন: আজ তোমরা জানতে পারবে কারা সম্মানের অধিকারী। তারা যেন দাঁড়ায় যাদেরকে {ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ, সালাত কায়েম ও যাকাত প্রদান হতে বিমুখ করত না, তারা সেই দিনকে ভয় পায় যেদিন অন্তর ও দৃষ্টিসমূহ উল্টে যাবে} [আন-নূর: ৩৭]। তখন তারা দাঁড়াবে এবং তাদেরকে জান্নাতের দিকে যেতে দেওয়া হবে। ⦗পৃষ্ঠা: ৩৬⦘ যখন এই তিন দলকে নিয়ে নেওয়া হবে, তখন জাহান্নাম হতে একটি ঘাড় বের হবে যার দু’টি তীক্ষ্ণ দৃষ্টিসম্পন্ন চোখ এবং একটি স্পষ্টভাষী জিহ্বা থাকবে। সেটি বলবে: আমাকে তিন প্রকার ব্যক্তির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে; প্রত্যেক উদ্ধত হঠকারীর জন্য। অতঃপর সে তাদেরকে কাতারসমূহ হতে এমনভাবে ছিঁড়ে নিয়ে যাবে যেমন পাখি তিল বা শস্যদানা খুঁটে নেয়। এরপর তাদেরকে নিয়ে সে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। অতঃপর দ্বিতীয়বার সে বের হবে এবং বলবে: আমাকে তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যারা আল্লাহকে কষ্ট দিয়েছে। অতঃপর সে তাদেরকে কাতারসমূহ হতে এমনভাবে ছিঁড়ে নিয়ে যাবে যেমন পাখি তিল বা শস্যদানা খুঁটে নেয় এবং তাদেরকে নিয়ে জাহান্নামে অবরুদ্ধ হবে। অতঃপর তৃতীয়বার সে বের হবে এবং বলবে: আমাকে ছবি তৈরিকারীদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অতঃপর সে তাদেরকে কাতারসমূহ হতে এমনভাবে ছিঁড়ে নিয়ে যাবে যেমন পাখি তিল বা শস্যদানা খুঁটে নেয় এবং তাদেরকে নিয়ে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। যখন এদের মধ্য থেকে তিন দলকে এবং ওদের মধ্য থেকে তিন দলকে নিয়ে নেওয়া হবে, তখন আমলনামাগুলো খুলে দেওয়া হবে, পাল্লাসমূহ স্থাপন করা হবে এবং সৃষ্টির হিসাব-নিকাশের জন্য ডাক দেওয়া হবে। আর উকবাহ ইবনে আমির ও রাবিয়াহ আল-জুারাশি থেকেও একই মর্মে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু কিয়ামিল লাইলি ওয়া কিয়ামি রামাদান ওয়া কিতাবুল বিতর
(পৃষ্ঠা: ٣٦)
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي الدُّنْيَا، ثنا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، ثنا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ يَزِيدَ، قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِذَا جَمَعَ اللَّهُ الْأَوَّلِينَ وَالْآخِرِينَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ نَادَى مُنَادٍ لِيَقُمِ الَّذِينَ كَانَتْ تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ فَيَقُومُونَ وَهُمْ قَلِيلٌ، ثُمَّ يُحَاسَبُ سَائِرُ النَّاسِ» وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: أَنَّهُ لَفِي التَّوْرَاةِ لَقَدْ أَعَدَّ اللَّهُ لِلَّذِينَ تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ مَا لَمْ تَرَ عَيْنٌ وَلَمْ تَسْمَعْ أُذُنٌ وَلَمْ يَخْطُرْ عَلَى قَلْبِ بَشَرٍ، وَمَا لَا يَعْلَمْهُ مَلَكٌ وَلَا مُرْسَلٌ قَالَ: وَنَحْنُ نَقْرَأُ {فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ أَعْيُنٍ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} [السجدة: 17]⦗ص: 37⦘ وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: كَانَ عَرْشُ اللَّهِ عَلَى الْمَاءِ، فَاتَّخَذَ لِنَفْسِهِ جَنَّةً، ثُمَّ اتَّخَذَ أُخْرَى فَأَطْبَقَهَا بِلُؤْلُؤَةٍ وَاحِدَةٍ. ثُمَّ قَالَ: وَمِنْ دُونِهِمَا جَنَّتَانِ لَا يَعْلَمُ الْخَلْقُ مَا فِيهِمَا. ثُمَّ قَرَأَ: {فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ أَعْيُنٍ} [السجدة: 17] تَأْتِيهِمْ فِيهَا كُلَّ يَوْمٍ تُحْفَةٌ
ইবন আবিদ দুনইয়া আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, সুয়াইদ বিন সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী বিন মুশহির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান বিন ইসহাক থেকে, তিনি শাহর বিন হাওশাব থেকে, তিনি আসমা বিনতে ইয়াজিদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যখন আল্লাহ কিয়ামতের দিন পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলকে একত্রিত করবেন, তখন একজন ঘোষণাকারী আহ্বান করবেন যেন তারা দাঁড়ায় যাদের পার্শ্বদেশ শয্যা থেকে পৃথক থাকত; তখন তারা দাঁড়াবেন এবং তারা সংখ্যায় অল্প হবেন, এরপর অবশিষ্ট মানুষের হিসাব গ্রহণ করা হবে»। আর আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: তাওরাতে এটি লিপিবদ্ধ আছে যে, যাদের পার্শ্বদেশ শয্যা থেকে পৃথক থাকত তাদের জন্য আল্লাহ এমন কিছু প্রস্তুত করে রেখেছেন যা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শোনেনি এবং কোনো মানুষের অন্তরেও তা উদিত হয়নি, আর কোনো ফেরেশতা বা প্রেরিত রাসূলও তা জানেন না। তিনি বলেন: আর আমরা পাঠ করি {কেউ জানে না তাদের জন্য তাদের কৃতকর্মের বিনিময়স্বরূপ নয়নপ্রীতিকর কী পুরস্কার লুকিয়ে রাখা হয়েছে} [আস-সাজদাহ: ১৭]। ⦗পৃষ্ঠা: ৩৭⦘ আর ইবন আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত: আল্লাহর আরশ পানির উপরে ছিল, অতঃপর তিনি নিজের জন্য একটি জান্নাত তৈরি করলেন, এরপর অন্য একটি জান্নাত তৈরি করলেন এবং সেটিকে একটি মাত্র মুক্তা দ্বারা আবৃত করলেন। এরপর তিনি বললেন: সেই দু’টি ব্যতীত আরও দু’টি জান্নাত রয়েছে যার মধ্যে কী আছে তা সৃষ্টিজগত জানে না। অতঃপর তিনি পাঠ করলেন: {কেউ জানে না তাদের জন্য নয়নপ্রীতিকর কী লুকিয়ে রাখা হয়েছে} [আস-সাজদাহ: ১৭], সেখানে প্রতিদিন তাদের নিকট উপহার আসবে।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু কিয়ামিল লাইলি ওয়া কিয়ামি রামাদান ওয়া কিতাবুল বিতর
(পৃষ্ঠা: ٣٧)
ثنا يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي أَبُو صَخْرٍ، أَنَّ أَبَا حَازِمٍ، حَدَّثَهُ، قَالَ: سَمِعْتُ سَهْلَ بْنَ سَعْدٍ السَّاعِدِيَّ، يَقُولُ: شَهِدْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مَجْلِسًا وَصَفَ فِيهِ الْجَنَّةَ حَتَّى انْتَهَى. ثُمَّ قَالَ فِي آخِرِ حَدِيثِهِ: «فِيهَا مَا لَا عَيْنٌ رَأَتْ وَلَا أُذُنٌ سَمِعَتْ وَلَا خَطَرَ عَلَى قَلْبِ بَشَرٍ» ثُمَّ قَرَأَ هَذِهِ الْآيَةَ {تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ خَوْفًا وَطَمَعًا وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ أَعْيُنٍ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} [السجدة: 17] " قَالَ أَبُو صَخْرٍ فَأَخْبَرْتُهَا مُحَمَّدَ بْنَ كَعْبٍ الْقُرَظِيَّ فَقَالَ: أَبُو حَازِمٍ حَدَّثَكَ بِهَذَا؟ قُلْتُ: نَعَمْ. فَتَبَسَّمَ ثُمَّ قَالَ: إِنْ ثَمَّ لَكَيِّسًا كَثِيرًا، أَنَّهُمْ يَا هَذَا أَخْفَوُا اللَّهَ عَمَلًا وَأَخْفَى لَهُمْ ثَوَابًا، فَلَوْ كَانُوا قَدِمُوا عَلَيْهِ قَدْ قَرَّتْ تِلْكَ الْأَعْيُنُ وَعَنْ مُجَاهِدٍ وَالْحَسَنِ {تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ} [السجدة: 16] هُوَ قِيَامُهُمْ مِنَ اللَّيْلِ قَالَ مُجَاهِدٌ: يَقُومُونَ يُصَلُّونَ مِنَ اللَّيْلِ وَعَنِ الضَّحَّاكِ قَالَ: هُمْ قَوْمٌ لَا يَزَالُونَ يَذْكُرُونَ اللَّهَ إِمَّا فِي الصَّلَاةِ وَإِمَّا قِيَامًا وَإِمَّا قُعُودًا، وَأَمَّا إِذَا اسْتَيْقَظُوا مِنْ مَنَامِهِمْ هُمْ قَوْمُ لَا يَزَالُونَ يَذْكُرُونَ اللَّهَ
ইউনুস ইবনে আবদিল আলা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবন ওয়াহাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু সাখর আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, আবু হাজিম তাঁর কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি সাহল ইবনে সাদ আল-সা’ইদীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে এক মজলিসে উপস্থিত ছিলাম যেখানে তিনি জান্নাতের বর্ণনা দিচ্ছিলেন যতক্ষণ না তিনি তা শেষ করলেন। এরপর তিনি তাঁর আলোচনার শেষে বললেন: «সেখানে এমন কিছু আছে যা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শোনেনি এবং কোনো মানুষের অন্তরেও তা উদিত হয়নি» এরপর তিনি এই আয়াতটি পাঠ করলেন {তাদের পার্শ্বদেশ বিছানা থেকে আলাদা থাকে, তারা তাদের প্রতিপালককে ভয় ও আশার সাথে ডাকে এবং আমি তাদের যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে তারা ব্যয় করে। সুতরাং কোনো প্রাণই জানে না তাদের জন্য তাদের আমলের বিনিময়স্বরূপ চোখের শীতলকারী কী নিয়ামত লুকিয়ে রাখা হয়েছে।} [আস-সাজদাহ: ১৭] আবু সাখর বলেন, আমি এটি মুহাম্মদ ইবনে কাব আল-কুরাযীকে জানালাম, তখন তিনি বললেন: আবু হাজিম কি তোমাকে এটি বর্ণনা করেছেন? আমি বললাম: হ্যাঁ। তখন তিনি মুচকি হাসলেন এবং বললেন: নিশ্চয়ই এর মধ্যে প্রভূত প্রজ্ঞা রয়েছে; হে ব্যক্তি, তারা আল্লাহর জন্য নিজেদের আমল গোপন করেছিল, আর আল্লাহ তাদের জন্য প্রতিদান গোপন রেখেছেন। তারা যখন তাঁর নিকট উপস্থিত হবে, তখন সেই চোখগুলো শীতল হবে। আর মুজাহিদ ও হাসান থেকে বর্ণিত {তাদের পার্শ্বদেশ বিছানা থেকে আলাদা থাকে} [আস-সাজদাহ: ১৬] এর অর্থ হলো তাদের রাতে জাগ্রত হওয়া। মুজাহিদ বলেন: তারা রাতে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে। আর যাহহাক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: তারা এমন এক কওম যারা সর্বদা আল্লাহর যিকির করে, চাই সালাতে হোক অথবা দাঁড়িয়ে কিংবা বসে। আর যখন তারা তাদের ঘুম থেকে জাগ্রত হয়, তখনও তারা এমন এক কওম যারা সর্বদা আল্লাহর যিকির করতে থাকে।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু কিয়ামিল লাইলি ওয়া কিয়ামি রামাদান ওয়া কিতাবুল বিতর
(পৃষ্ঠা: ٣٨)
ذِكْرُ مَنْ قَالَ التَّجَافِي عَنِ الْمَضَاجِعِ هِيَ الصَّلَاةُ بَيْنَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ قَالَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ فِي قَوْلِ اللَّهِ {تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ} [السجدة: 16] قَالَ: يُصَلُّونَ مَا بَيْنَ هَاتَيْنِ الصَّلَاتَيْنِ، الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عِيسَى: كَانَ نَاسٌ مِنَ الْأَنْصَارِ يُصَلُّونَ مَا بَيْنَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ فَنَزَلَتْ فِيهِمْ: {تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ} [السجدة: 16] وَعَنِ ابْنِ الْمُنْكَدِرِ وَأَبِي حَازِمٍ قَالَا: {تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ} [السجدة: 16] هِيَ صَلَاةُ مَا بَيْنَ الْمَغْرِبِ وَصَلَاةِ الْعِشَاءِ، صَلَاةُ الْأَوَّابِينَ
যারা বলেন যে 'শয্যা হতে পার্শ্বদেশ পৃথক রাখা' বলতে মাগরিব ও এশার মধ্যবর্তী সালাত বোঝায়, তাদের বর্ণনা। আনাস বিন মালিক আল্লাহর বাণী {তাদের পার্শ্বদেশ শয্যা হতে পৃথক থাকে} [আস-সাজদাহ: ১৬] সম্পর্কে বলেন: তারা এই দুই সালাত—অর্থাৎ মাগরিব ও এশা—এর মধ্যবর্তী সময়ে সালাত আদায় করতেন। আব্দুল্লাহ বিন ঈসা থেকে বর্ণিত: আনসারদের কিছু লোক মাগরিব ও এশার মধ্যবর্তী সময়ে সালাত আদায় করতেন, ফলে তাদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হলো: {তাদের পার্শ্বদেশ শয্যা হতে পৃথক থাকে} [আস-সাজদাহ: ১৬]। ইবনুল মুনকাদির ও আবু হাযিম থেকে বর্ণিত, তারা বলেন: {তাদের পার্শ্বদেশ শয্যা হতে পৃথক থাকে} [আস-সাজদাহ: ১৬] হলো মাগরিব ও এশা সালাতের মধ্যবর্তী সালাত, যা 'আওয়াবীন'-এর সালাত।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু কিয়ামিল লাইলি ওয়া কিয়ামি রামাদান ওয়া কিতাবুল বিতর
(পৃষ্ঠা: ٣٨)
ذِكْرُ مَنْ قَالَ التَّجَافِي عَنِ الْمَضَاجِعِ هِيَ صَلَاةُ الْعِشَاءِ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ: {تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ} [السجدة: 16] قَالَتْ: عَنْ صَلَاةِ الْعَتَمَةِ وَعَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ: انْتِظَارُ الصَّلَاةِ الَّتِي تُدْعَى الْعَتَمَةَ قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ نَصْرٍ: وَالْأَخْبَارُ الَّتِي ذَكَرْنَاهَا عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم تَدُلُّ عَلَى خِلَافِ هَذِهِ الْمَقَالَةِ قَوْلُهُ: {كَانُوا قَلِيلًا مِنَ اللَّيْلِ مَا يَهْجَعُونَ} [الذاريات: 17]. عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ فِي قَوْلِهِ: {كَانُوا قَلِيلًا مِنَ اللَّيْلِ مَا يَهْجَعُونَ} [الذاريات: 17] قَالَ: مَا أَقَلُّ لَيْلَةٍ تَمُرُّ بِهِمْ يَنَامُونَ فِيهَا حَتَّى يُصْبِحُوا لَا يُصَلُّونَ فِيهَا، وَفِي رِوَايَةٍ: قَلِيلًا كَانُوا يَنَامُونَ وَعَنِ الْحَسَنِ وَابْنِ نَجِيحٍ: مَدُّوا الْعَقِبَ إِلَى آخِرِ اللَّيْلِ، وَكَانَ الِاسْتِغْفَارُ فِي السَّحَرِ. قَالَ ابْنُ أَبِي نَجِيحٍ: كَانُوا قَلِيلًا مَا يَنَامُونَ لَيْلَةً حَتَّى الصَّبَاحِ وَعَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ: كَانُوا لَا يَنَامُونَ كُلَّ اللَّيْلِ. وَفِي لَفْظٍ: قَلِيلًا مَا يَرْقُدُونَ لَيْلَةً حَتَّى الصَّبَاحِ لَا يَتَهَجَّدُونَ وَعَنِ الضَّحَّاكِ: كَانَ الْمُتَّقُونَ قَلِيلًا وَكَانُوا مِنَ اللَّيْلِ مَا يَقُومُونَ وَمِنْهُ مَا يَنَامُونَ.
যারা বলেছেন যে, "শয্যা ত্যাগ করা" দ্বারা ইশার সালাত উদ্দেশ্য, তাদের আলোচনা। উম্মে সালামাহ থেকে বর্ণিত: {তাদের পার্শ্বদেশ শয্যা ত্যাগ করে} [আস-সাজদাহ: ১৬] তিনি বলেন: এটি ইশার সালাত সম্পর্কে। আর আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণিত: এটি হচ্ছে সেই সালাতের জন্য অপেক্ষা করা যাকে আতামা (ইশা) বলা হয়। মুহাম্মদ ইবনে নাসর বলেন: মুআজ ইবনে জাবাল কর্তৃক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত যে হাদীসগুলো আমরা উল্লেখ করেছি, তা এই বক্তব্যের বিপরীত অর্থ প্রদান করে। মহান আল্লাহর বাণী: {তারা রাত্রির সামান্য অংশই ঘুমিয়ে কাটাত} [আজ-জারিয়াত: ১৭]। ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত মহান আল্লাহর এই বাণী {তারা রাত্রির সামান্য অংশই ঘুমিয়ে কাটাত} [আজ-জারিয়াত: ১৭] প্রসঙ্গে তিনি বলেন: এমন রাত্রি খুব কমই অতিবাহিত হতো যাতে তারা ভোর হওয়া পর্যন্ত ঘুমিয়ে কাটাতেন এবং তাতে সালাত আদায় করতেন না; অন্য এক বর্ণনায় আছে: তারা সামান্যই ঘুমাতেন। হাসান ও ইবনে নাজীহ থেকে বর্ণিত: তারা শেষ রাত পর্যন্ত সালাত দীর্ঘায়িত করতেন এবং শেষ রাতে ইস্তিগফার করতেন। ইবনে আবি নাজীহ বলেন: তারা এমন রাত্রি খুব কমই পেতেন যেখানে সকাল পর্যন্ত ঘুমাতেন। মুজাহিদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: তারা সারা রাত ঘুমাতেন না। অন্য শব্দে বর্ণিত আছে: এমন রাত্রি খুব কমই হতো যাতে তারা ভোর পর্যন্ত ঘুমিয়ে কাটাতেন এবং তাহাজ্জুদ পড়তেন না। দাহহাক থেকে বর্ণিত: মুত্তাকীগণ সংখ্যায় অল্প ছিলেন, তারা রাতের কিছু অংশ ইবাদতে দাঁড়িয়ে কাটাতেন এবং কিছু অংশ ঘুমাতেন।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু কিয়ামিল লাইলি ওয়া কিয়ামি রামাদান ওয়া কিতাবুল বিতর
(পৃষ্ঠা: ٣٩)
وَفِي رِوَايَةٍ: قَالَ اللَّهُ: {إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي جَنَّاتٍ وَعِيُونٍ آخِذِينَ مَا آتَاهُمْ رَبُّهُمْ إِنَّهُمْ كَانُوا قَبْلَ ذَلِكَ مُحْسِنِينَ كَانُوا قَلِيلًا} [الذاريات: 16] يَقُولُ: الْمُحْسِنُونَ {كَانُوا قَلِيلًا} [الذاريات: 17] هَذِهِ مَفْصُولَةٌ ثُمَّ اسْتَأْنَفَ فَقَالَ: {مِنَ اللَّيْلِ مَا يَهْجَعُونَ} [الذاريات: 17] الْهُجُوعُ النَّوْمُ {وَبِالْأَسْحَارِ هُمْ يَسْتَغْفِرُونَ} [الذاريات: 18]. قَالَ: يَقُومُونَ فَيُصَلُّونَ. يَقُولُ: كَانُوا يَقُومُونَ وَيَنَامُونَ، كَمَا قَالَ اللَّهُ لِمُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم: {إِنَّ رَبَّكَ يَعْلَمُ أَنَّكَ تَقُومُ أَدْنَى مِنْ ثُلُثَيِ اللَّيْلِ وَنِصْفَهُ وَثُلُثَهُ} [المزمل: 20] فَهَذَا نَوْمٌ وَهَذَا قِيَامٌ: {وَطَائِفَةٌ مِنَ الَّذِينَ مَعَكَ} [المزمل: 20] كَذَلِكَ يَقُومُونَ ثُلُثًا وَنِصْفًا وَثُلُثَيْنِ. يَقُولُ: يَنَامُونَ وَيَقُومُونَ وَعَنْ إِبْرَاهِيمَ فِي قَوْلِهِ: {كَانُوا قَلِيلًا مِنَ اللَّيْلِ مَا يَهْجَعُونَ} [الذاريات: 17] قَالَ: مَا يَنَامُونَ وَعَنْ مُطَرِّفٍ قَالَ: لَا يَأْتِي عَلَيْهِمْ لَيْلَةٌ إِلَّا قَامُوا فِيهَا. وَفِي لَفْظٍ: إِلَّا صَلَّوْا فِيهَا وَعَنِ الْحَسَنِ: كَابَدُوا قِيَامَ اللَّيْلِ وَعَنْ مُسْلِمِ بْنِ يَسَارٍ قَالَ: قَلَّمَا يَأْتِي عَلَى الْمُؤْمِنِ لَيْلَةٌ لَا يَقُومُ فِيهَا وَعَنْ أَنَسٍ فِي قَوْلِهِ: {كَانُوا قَلِيلًا مِنَ اللَّيْلِ مَا يَهْجَعُونَ} [الذاريات: 17]. قَالَ: كَانُوا يَتَيَقَّظُونَ يُصَلُّونَ مَا بَيْنَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ وَعَنْ مُطَرِّفٍ: كَانَ لَهُمْ قَلِيلٌ مِنَ اللَّيْلِ لَا يَهْجَعُونَهُ، كَانُوا يُصَلُّونَ وَعَنِ الْحَسَنِ وَالزُّهْرِيِّ: كَانُوا يُصَلُّونَ كَثِيرًا مِنَ اللَّيْلِ وَعَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ: كَانُوا لَا يَنَامُونَ عَنِ الْعِشَاءِ وَعَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ: كَانُوا لَا يَنَامُونَ حَتَّى يُصَلُّوا الْعَتَمَةَ وَعَنْ عَطَاءٍ: كَانَ ذَلِكَ إِذْ أُمِرُوا بِقِيَامِ اللَّيْلِ إِلَّا قَلِيلًا وَعَنْ قَيْسِ بْنِ عَطَاءٍ: إِنَّمَا كَانَتْ هَذِهِ الْآيَةُ فَرِيضَةً قَبْلَ أَنْ يَفْرِضَ الصَّلَاةَ. فَلَمَّا فُرِضَتِ الصَّلَاةُ نَسَخَتْهَا {قَلِيلًا مِنَ اللَّيْلِ مَا يَهْجَعُونَ} [الذاريات: 17] قَوْلُهُ: {إِنَّ نَاشِئَةَ اللَّيْلِ هِيَ أَشَدُّ وَطْئًا وَأَقْوَمُ قِيلًا}، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: نَاشِئَةُ اللَّيْلِ قِيَامُ اللَّيْلِ وَفِي رِوَايَةٍ {إِنَّ نَاشِئَةَ اللَّيْلِ} [المزمل: 6] قَالَ: هُوَ بِلِسَانِ الْحَبَشَةِ نَشَأَ قَامَ. وَمِثْلُهُ عَنْ أَبِي مَيْسَرَةَ وَسَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: اللَّيْلُ كُلُّهُ نَاشِئَةٌ وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ قَالَا: إِذَا أَنْشَأْتَ اللَّيْلَ فَإِنَّمَا هُوَ نَاشِئَةُ اللَّيْلِ، كُلُّهُ نَاشِئَةٌ وَعَنْ مُجَاهِدٍ: {نَاشِئَةَ اللَّيْلِ} [المزمل: 6] قَالَ: أَيْ سَاعَةٌ تَهَجَّدَ فِيهَا مُتَهَجِّدٌ مِنَ اللَّيْلِ وَعَنِ الضَّحَّاكِ: {نَاشِئَةَ اللَّيْلِ} [المزمل: 6] يَعْنِي اللَّيْلَ كُلَّهُ
অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয়ই মুত্তাকিরা থাকবে জান্নাতসমূহ ও ঝর্ণাধারায়, তাদের প্রতিপালক তাদের যা দিয়েছেন তা তারা গ্রহণ করবে। নিশ্চয়ই তারা এর পূর্বে ছিল সৎকর্মশীল। তারা ছিল অল্প...} [আয-যারিয়াত: ১৬-১৭] তিনি বলেন: সৎকর্মশীলরা {ছিল অল্প} [আয-যারিয়াত: ১৭] এটি একটি পৃথক বাক্য, এরপর তিনি পুনরায় শুরু করে বলেন: {রাতের সামান্য অংশেই তারা ঘুমাত} [আয-যারিয়াত: ১৭]। 'আল-হুজু' মানে হলো ঘুমানো। {এবং শেষ রাতে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করত} [আয-যারিয়াত: ১৮]। তিনি বলেন: তারা ইবাদতের জন্য দাঁড়াতেন এবং সালাত আদায় করতেন। তিনি বলেন: তারা ইবাদতের জন্য দাঁড়াতেন এবং ঘুমাতেন, যেমনটি আল্লাহ মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলেছেন: {নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক জানেন যে, তুমি রাতের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এবং তার অর্ধেক ও তার এক-তৃতীয়াংশ ইবাদতে দাঁড়িয়ে অতিবাহিত করো} [আল-মুযযাম্মিল: ২০]। সুতরাং এটি হলো ঘুমানো এবং এটি হলো দাঁড়ানো: {এবং তোমার সাথে থাকা একটি দলও} [আল-মুযযাম্মিল: ২০] একইভাবে তারা এক-তৃতীয়াংশ, অর্ধেক এবং দুই-তৃতীয়াংশ সময় দাঁড়াতেন। তিনি বলেন: তারা ঘুমাতেন এবং ইবাদতের জন্য দাঁড়াতেন। আর ইব্রাহিম থেকে তাঁর এই বাণী প্রসঙ্গে বর্ণিত: {তারা রাতের সামান্য অংশেই ঘুমাত} [আয-যারিয়াত: ১৭], তিনি বলেন: তারা ঘুমাতেন না। মুতাররিফ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: তাদের ওপর এমন কোনো রাত আসত না যে রাতে তারা ইবাদতের জন্য দাঁড়াতেন না। অন্য শব্দে এসেছে: যে রাতে তারা সালাত আদায় করতেন না। হাসান থেকে বর্ণিত: তারা রাত জেগে ইবাদত করার কষ্ট সহ্য করতেন। মুসলিম ইবনে ইয়াসার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: মুমিনের ওপর খুব কমই এমন রাত আসত যে রাতে তিনি ইবাদতের জন্য দাঁড়াতেন না। আনাস থেকে তাঁর এই বাণী প্রসঙ্গে বর্ণিত: {তারা রাতের সামান্য অংশেই ঘুমাত} [আয-যারিয়াত: ১৭]। তিনি বলেন: তারা জাগ্রত থাকতেন এবং মাগরিব ও এশার মধ্যবর্তী সময়ে সালাত আদায় করতেন। মুতাররিফ থেকে বর্ণিত: তাদের জন্য রাতের এমন সামান্য অংশই ছিল যাতে তারা ঘুমাতেন না, তারা সালাত আদায় করতেন। হাসান এবং যুহরি থেকে বর্ণিত: তারা রাতের অধিকাংশ সময় সালাত আদায় করতেন। আবু আল-আলিয়া থেকে বর্ণিত: তারা এশা পর্যন্ত ঘুমাতেন না। মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে আল-হুসাইন থেকে বর্ণিত: তারা 'আতমা' (এশা) সালাত না পড়া পর্যন্ত ঘুমাতেন না। আতা থেকে বর্ণিত: এটি তখন ছিল যখন তাদের সামান্য অংশ ব্যতীত পুরো রাত জেগে ইবাদত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কায়েস ইবনে আতা থেকে বর্ণিত: এই আয়াতটি সালাত ফরজ হওয়ার আগে ফরজ ছিল। এরপর যখন সালাত ফরজ করা হলো, তখন তা {তারা রাতের সামান্য অংশেই ঘুমাত} [আয-যারিয়াত: ১৭] আয়াতটিকে রহিত করে দিল। তাঁর বাণী: {নিশ্চয়ই রাতের বেলা জেগে ওঠা প্রবৃত্তি দমনে অধিকতর কার্যকর এবং বাক্য উচ্চারণে অধিকতর সঠিক}, ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: 'নাশিআতাল লাইল' হলো রাতে ইবাদতের জন্য দাঁড়ানো। অন্য বর্ণনায় {নিশ্চয়ই রাতের প্রারম্ভ} [আল-মুযযাম্মিল: ৬] সম্পর্কে তিনি বলেন: এটি হাবশি ভাষায়; 'নাশাআ' মানে হলো 'দাঁড়ালো'। অনুরূপ বর্ণনা আবু মাইসারা এবং সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকেও বর্ণিত হয়েছে। ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত: পুরো রাতই হলো 'নাশিআহ'। ইবনে আব্বাস ও আবদুল্লাহ ইবনে আয-যুবায়ের থেকে বর্ণিত, তাঁরা বলেন: যখনই তুমি রাতে জাগ্রত হবে, সেটিই 'নাশিআতাল লাইল'; এর পুরোটাই 'নাশিআহ'। মুজাহিদ থেকে বর্ণিত: {রাতের প্রারম্ভ} [আল-মুযযাম্মিল: ৬] প্রসঙ্গে তিনি বলেন: অর্থাৎ রাতের যেকোনো সময় যখন কোনো তাহাজ্জুদ আদায়কারী তাহাজ্জুদ পড়ে। যাহহাক থেকে বর্ণিত: {রাতের প্রারম্ভ} [আল-মুযযাম্মিল: ৬] মানে হলো পুরো রাত।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু কিয়ামিল লাইলি ওয়া কিয়ামি রামাদান ওয়া কিতাবুল বিতর
(পৃষ্ঠা: ٤٠)
وَعَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ قُرَّةَ: قِيَامُ اللَّيْلِ وَعَنِ الْحَسَنِ وَالضَّحَّاكِ: نَاشِئَةَ اللَّيْلِ بَعْدَ الْعِشَاءِ الْآخِرَةِ وَعَنْ أَبِي مِجْلَزٍ مِثْلُهُ وَعَنْ ثَابِتٍ: كَانَ أَنَسٌ يُصَلِّي مَا بَيْنَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ. فَقِيلَ لَهُ: مَا هَذِهِ الصَّلَاةُ؟ قَالَ: أَمَا سَمِعْتُمْ قَوْلَ اللَّهِ {إِنَّ نَاشِئَةَ اللَّيْلِ} [المزمل: 6]؟ هَذِهِ نَاشِئَةُ اللَّيْلِ وَعَنْ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ: نَاشِئَةَ اللَّيْلِ مَا بَيْنَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ وَعَنِ ابْنِ الْمُنْكَدِرِ وَأَبِي حَازِمٍ: نَاشِئَةَ اللَّيْلِ مَا بَيْنَ صَلَاةِ الْمَغْرِبِ وَصَلَاةِ الْعِشَاءِ قَوْلُهُ {هِيَ أَشَدُّ وَطْئًا وَأَقْوَمُ قِيلًا}. عَنِ الْأَعْمَشِ، قَرَأَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ: {وَأَقْوَمُ قِيلًا} [المزمل: 6]، «وَأَصْوَبُ قِيلًا»: فَقِيلَ لَهُ: يَا أَبَا حَمْزَةَ، إِنَّمَا هِيَ أَقُومُ قِيلًا. قَالَ: أَلَيْسَ أَقُومُ وَأَصْوَبُ وَأَهْيَأُ وَاحِدٌ وَعَنِ الْحَسَنِ فِي قَوْلِهِ: {أَشَدُّ وَطْئًا وَأَقْوَمُ قِيلًا}. قَالَ: اثْبُتْ فِي الْقِرَاءَةِ وَأَقْوَى عَلَى الْقِرَاءَةِ وَعَنْ مُجَاهِدٍ: {أَشَدُّ وَطْئًا}. قَالَ: مُوَاطَأَةً لِلْقَوْلِ وَأَفْرَغَ لِلْقَلْبِ وَعَنِ الضَّحَّاكِ: قِرَاءَةُ الْقُرْآنِ بِاللَّيْلِ أَثْبَتُ مِنْهُ بِالنَّهَارِ وَأَشَدُّ مُوَاطَأَةً بِاللَّيْلِ مِنْهُ بِالنَّهَارِ وَعَنْ قَتَادَةَ: {هِيَ أَشَدُّ وَطْئًا} يَقُولُ: أَثْبَتُ فِي الْخَيْرِ، {وَأَقْوَمُ قِيلًا} [المزمل: 6] يَقُولُ: وَأَحْفَظُ لِلْخَيْرِ وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: أَنَّ الْقُرْآنَ وَحْشٌ فَاسْتَخْلُوا بِهِ قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ نَصْرٍ: وَقَدْ أَنْكَرَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ بِالْعَرَبِيَّةِ أَنْ تَكُونَ النَّاشِئَةُ بِلِسَانِ الْحَبَشَةِ لِقَوْلِ اللَّهِ: {إِنَّا جَعَلْنَاهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا} [الزخرف: 3]. وَقَالَ: بَلْ هِيَ بِلِسَانِ الْعَرَبِ وَهِيَ مَأْخُوذَةٌ مِنْ قَوْلِهِ: {أَوْ مَنْ يُنَشَّأُ فِي الْحِلْيَةِ}، وَمِنْ قَوْلِهِ {إِنَّا أَنْشَأْنَاهُنَّ إِنْشَاءً} [الواقعة: 35] أَيِ ابْتَدَأْنَاهُنَّ. وَيُقَالُ: نَشَأَتْ تَنْشَأُ نَشْئًا أَيِ ابْتِدَأَتْ وَأَقْبَلَتْ شَيْئًا بَعْدَ شَيْءٍ وَأَنْشَأَهَا اللَّهُ فَنَشَأَتْ وَأَنْشَأَتْ فَكَأَنَّهُ قَالَ: إِنَّ سَاعَاتِ اللَّيْلِ النَّاشِئَةَ. وَمِنْهُ قَوْلُهُ: {وَلَقَدْ عَلِمْتُمُ النَّشْأَةَ الْأُولَى} [الواقعة: 62] يُرِيدُ: ابْتِدَاءَ خَلْقِهِمْ
মুআবিয়া ইবনে কুররাহ থেকে বর্ণিত: (নাশিয়াহ বলতে) রাতের ইবাদত উদ্দেশ্য। হাসান ও দাহহাক থেকে বর্ণিত: রাতের উদ্ভব বা উন্মেষ হলো শেষ এশার সালাতের পরের সময়। আবু মিজলায থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। সাবিত থেকে বর্ণিত: আনাস মাগরিব ও এশার মধ্যবর্তী সময়ে সালাত আদায় করতেন। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো: এটি কোন সালাত? তিনি বললেন: তোমরা কি আল্লাহর বাণী শোনোনি—"নিশ্চয়ই রাতের উদ্ভব" [আল-মুয্যাম্মিল: ৬]? এটিই হলো রাতের উদ্ভব। আলী ইবনে হুসাইন থেকে বর্ণিত: রাতের উদ্ভব হলো মাগরিব ও এশার মধ্যবর্তী সময়। ইবনে মুনকাদির এবং আবু হাজিম থেকে বর্ণিত: রাতের উদ্ভব হলো মাগরিবের সালাত ও এশার সালাতের মধ্যবর্তী সময়। আল্লাহর বাণী: "তা পদদলনে কঠোরতর এবং বাকস্ফূর্তিতে অধিকতর সঠিক"। আমাশ থেকে বর্ণিত: আনাস ইবনে মালিক "অধিকতর সঠিক বাক্য" এর স্থলে "অধিকতর যথাযথ বাক্য" পাঠ করতেন। তাকে বলা হলো: হে আবু হামযাহ, এটি তো "অধিকতর সঠিক বাক্য"। তিনি বললেন: অধিকতর সঠিক, অধিকতর যথাযথ এবং অধিকতর উপযুক্ত কি একই অর্থবোধক নয়? হাসান থেকে আল্লাহর বাণী: "তা পদদলনে কঠোরতর এবং বাকস্ফূর্তিতে অধিকতর সঠিক" সম্পর্কে বর্ণিত। তিনি বলেন: কিরাআতের ক্ষেত্রে এটি অধিকতর সুদৃঢ় এবং কিরাআতের জন্য অধিকতর শক্তিশালী। মুজাহিদ থেকে "পদদলনে কঠোরতর" সম্পর্কে বর্ণিত। তিনি বলেন: বক্তব্যের সাথে হৃদয়ের সামঞ্জস্য এবং মনের একাগ্রতার জন্য অধিকতর উপযোগী। দাহহাক থেকে বর্ণিত: রাতে কুরআন পাঠ দিনের তুলনায় অধিকতর সুদৃঢ় এবং দিনের তুলনায় রাতে কথা ও অন্তরের সামঞ্জস্য অধিকতর প্রবল হয়। কাতাদাহ থেকে বর্ণিত: "তা পদদলনে কঠোরতর"—অর্থাৎ কল্যাণের পথে অধিকতর সুদৃঢ়; "এবং বাকস্ফূর্তিতে অধিকতর সঠিক"—অর্থাৎ কল্যাণের জন্য অধিকতর হেফাযতকারী। ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত: নিশ্চয়ই কুরআন বুনো প্রাণীর ন্যায় (যা সহজেই পালিয়ে যায়), তাই এর সাথে নির্জনে সময় কাটাও। মুহাম্মদ ইবনে নাসর বলেন: আরবি ভাষার কতিপয় বিশেষজ্ঞ 'নাশিয়াহ' শব্দটি হাবশি (আবিসিনিয়ান) ভাষা থেকে উদ্ভূত হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন, কারণ আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয়ই আমি একে আরবি কুরআন বানিয়েছি" [আয-যুখরুফ: ৩]। তিনি বলেন: বরং এটি আরবি ভাষারই শব্দ এবং এটি আল্লাহর বাণী: "অথবা যে অলঙ্কারের মধ্যে লালিত-পালিত হয়" এবং আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয়ই আমি তাদেরকে বিশেষভাবে সৃষ্টি করেছি" [আল-ওয়াকিআ: ৩৫]—অর্থাৎ আমি তাদের সূচনা করেছি—থেকে গৃহীত। বলা হয়ে থাকে: কোনো কিছু শুরু হওয়া এবং একের পর এক উপস্থিত হওয়া অর্থে এই শব্দের ব্যবহার হয়। আর আল্লাহ তা সৃষ্টি করেছেন বিধায় তা অস্তিত্ব লাভ করেছে এবং বিকশিত হয়েছে। যেন তিনি বুঝাতে চেয়েছেন: নিশ্চয়ই রাতের সময়গুলো একটির পর একটি উদ্ভূত হয়। আর এ থেকেই তাঁর বাণী: "তোমরা তো প্রথম সৃষ্টি সম্পর্কে অবগত আছ" [আল-ওয়াকিআ: ৬২]—অর্থাৎ তাদের সৃষ্টির সূচনা।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু কিয়ামিল লাইলি ওয়া কিয়ামি রামাদান ওয়া কিতাবুল বিতর
(পৃষ্ঠা: ٤٠)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، ثنا أَبُو نُعَيْمٍ، ثنا شَرِيكٌ، عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ شُرَيْحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا رَأَى نَاشِئًا فِي السَّمَاءِ اسْتَقْبَلَهُ حَيْثُ كَانَ وَإِنْ كَانَ فِي الصَّلَاةِ ⦗ص: 41⦘ وَفِي رِوَايَةٍ: إِذَا رَأَى نَاشِئًا مِنْ أُفُقِ السَّمَاءِ تَرَكَ عَمَلَهُ وَإِنْ كَانَ فِي صَلَاةٍ وَأَقْبَلَ يَدْعُو قَالَ وَأَمَّا قَوْلُهُ: {هِيَ أَشَدُّ وَطْئًا} فَإِنَّ الْقُرَّاءَ اخْتَلَفُوا فِي قِرَاءَةِ هَذَا الْحَرْفِ. فَقَرَأَ أَبُو جَعْفَرٍ وَشَيْبَةُ وَنَافِعٌ وَابْنُ كَثِيرٍ وَعَاصِمٌ وَالْأَعْمَشُ وَحَمْزَةُ وَالْكِسَائِيُّ {وَطْئًا} بِفَتْحِ الْوَاوِ وَسُكُونِ الطَّاءِ مَقْصُورَةٌ. وَكَانَ ابْنُ عَامِرٍ وَابْنُ مُحَيْصِنٍ وَأَبُو عَمْرٍو يَقْرَؤُهَا (وِطَاءً) مَكْسُورَةَ الْوَاوِ وَمَمْدُودَةَ الطَّاءِ قَالَ أَبُو عُبَيْدٍ: وَهَذِهِ أَحَبُّ إِلَيَّ لِأَنَّ التَّفْسِيرَ يُصَدِّقُهَا. فَإِنَّمَا هِيَ مُوَاطَأَةُ السَّمْعِ وَالْبَصَرِ إِيَّاهُ إِذَا قَامَ يُصَلِّي فِي ظُلْمَةِ اللَّيْلِ وَقَالَ غَيْرُ أَبِي عُبَيْدٍ مَنْ قَرَأَهَا {وَطْئًا} أَرَادَ شِدَّةَ الْوَطْءِ أَيْ أَنَّ الصَّلَاةَ فِي سَاعَاتِ اللَّيْلِ أَشَدُّ وَأَثْقَلُ عَلَى الْمُصَلِّي مِنَ الصَّلَاةِ فِي سَاعَاتِ النَّهَارِ، وَهُوَ مِنْ قَوْلِهِمِ اشْتَدَّتْ عَلَى الْقَوْمِ وَطْأَةُ سُلْطَانِهِمْ إِذَا ثَقُلَ عَلَيْهِمْ مَا يُلْزِمُهُمْ وَيَأْخُذُهُمْ بِهِ. فَأَعْلَمَ اللَّهُ نَبِيَّهُ صلى الله عليه وسلم أَنَّ الثَّوَابَ فِي قِيَامِ اللَّيْلِ عَلَى قَدْرِ شِدَّةِ الْوَطْأَةِ وَثِقَلِهَا. وَمَنْ قَرَأَ (وِطَاءً) فَهُوَ مَصْدَرٌ لِوَاطَأْتُ فُلَانًا عَلَى كَذَا وَكَذَا مُوَاطَأَةً وَوِطَاءً {وَأَقْوَمُ قِيلًا} [المزمل: 6] أَيْ أَخْلُصُ لِلْقَوْلِ لِأَنَّ اللَّيْلَ تَهْدَأُ عَنْهُ الْأَصْوَاتُ وَيَنْقَطِعُ فِيهِ الْحَرَكَاتِ فَيُخْلَصُ الْقَوْلُ وَلَا يَكُونُ دُونَ تَسْمَعُهُ وَتَفْهَمُهُ حَائِلٌ قَوْلُهُ: {إِنَّ لَكَ فِي النَّهَارِ سَبْحًا طَوِيلًا} [المزمل: 7]. قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: النَّوْمُ وَالْفَرَاغُ وَقَالَ الضَّحَّاكُ، وَمُجَاهِدٌ، وَالرَّبِيعُ بْنُ أَنَسٍ، وَقَتَادَةُ: فَرَاغًا طَوِيلًا وَعَنْ مُجَاهِدٍ فِي قَوْلِهِ: {وَتَبَتَّلْ إِلَيْهِ تَبْتِيلًا} [المزمل: 8] قَالَ: أَخْلِصْ لَهُ الْمَسْأَلَةَ وَالدُّعَاءَ وَقَالَ مَرَّةً: أَخْلِصْ إِلَيْهِ إِخْلَاصًا، وَعَنِ الضَّحَّاكِ مِثْلُهُ. وَعَنْ قَتَادَةَ: أَخْلِصْ لَهُ الدَّعْوَةَ وَالْعِبَادَةَ قَوْلُهُ: وَ {آنَاءَ اللَّيْلِ} [آل عمران: 113] قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: آنَاءَ اللَّيْلِ: جَوْفُ اللَّيْلِ وَقَالَ الْحَسَنُ فِي قَوْلِهِ: {أَمَّنْ هُوَ قَانِتٌ آنَاءَ اللَّيْلِ} [الزمر: 9] قَالَ: سَاعَاتُ اللَّيْلِ سَاجِدًا وَقَائِمًا. قَالَ: يُرِيحُ رَأْسَهُ بِقَدَمِهِ وَقَدَمَيْهِ بِرَأْسِهِ وَفِي رِوَايَةٍ: {آنَاءَ اللَّيْلِ} [آل عمران: 113]. قَالَ: مِنْ أَوَّلِهِ وَأَوْسَطِهِ وَآخِرِهِ، عَنْ قَتَادَةَ: {أُمَّةٌ قَائِمَةٌ يَتْلُونَ آيَاتِ اللَّهِ آنَاءَ اللَّيْلِ وَهُمْ يَسْجُدُونَ} [آل عمران: 113]. يَقُولُ: قَائِمَةٌ عَلَى كِتَابِ اللَّهِ وَفَرَائِضِهِ وَحُدُودِهِ ⦗ص: 42⦘ يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَيُسَارِعُونَ فِي الْخَيْرَاتِ وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ: {لَيْسُوا سَوَاءً مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ أُمَّةٌ قَائِمَةٌ} [آل عمران: 113] قَالَ: لَا يَسْتَوِي أَهْلُ الْكِتَابِ وَأَمَةُ مُحَمَّدٍ يَتْلُونَ آيَاتِ اللَّهِ. قَالَ: صَلَاةُ الْعَتَمَةِ، هُمْ يُصَلُّونَهَا، وَمَنْ سِوَاهُمْ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ لَا يُصَلِّيهَا وَقَالَ مُجَاهِدٌ: {أُمَّةٌ قَائِمَةٌ} [آل عمران: 113]. قَالَ: أُمَّةٌ عَادِلَةٌ وَعَنْ مَنْصُورٍ {يَتْلُونَ آيَاتِ اللَّهِ آنَاءَ اللَّيْلِ} [آل عمران: 113] قَالَ: سَمِعْنَا مَا بَيْنَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ
মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু নুআইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শারীক আমাদের নিকট মিকদাম ইবনে শুরাইহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন আকাশে কোনো মেঘের আনাগোনা দেখতেন, তখন তিনি যেখানেই থাকতেন তার মুখোমুখি হতেন, এমনকি যদি তিনি সালাতরত থাকতেন তবুও ⦗ص: 41⦘ এবং অন্য একটি বর্ণনায় রয়েছে: যখন তিনি আকাশের দিগন্তে কোনো মেঘের উদয় দেখতেন, তখন তিনি তাঁর কাজ ছেড়ে দিতেন, এমনকি যদি তিনি সালাতরত থাকতেন তবুও; এবং তিনি সেদিকে মনোনিবেশ করে দোয়া করতে থাকতেন। তিনি বলেন: আর মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই রাতের জাগরণ পদদলনে (প্রভাব বিস্তারে) অত্যন্ত প্রবল} প্রসঙ্গে পাঠপদ্ধতির ইমামগণ এই শব্দের পাঠে দ্বিমত পোষণ করেছেন। আবু জাফর, শায়বাহ, নাফি, ইবনে কাসির, আসিম, আ'মাশ, হামজাহ এবং কিসায়ি এটি 'ওয়াত-আন' পাঠ করেছেন ওয়াও-এর উপরে জবর এবং ত্ব-এর উপরে সুকুন যোগে সংক্ষিপ্ত করে। অন্যদিকে ইবনে আমির, ইবনে মুহাইসিন এবং আবু আমর এটিকে 'উইত্ব-আন' পাঠ করতেন ওয়াও-এর নিচে যের এবং ত্ব-এর পরে আলিফ যোগে দীর্ঘ করে। আবু উবায়েদ বলেন: এই পাঠটিই আমার নিকট অধিক পছন্দনীয়, কারণ এর ব্যাখ্যা একেই সমর্থন করে। এটি মূলত রাতের অন্ধকারে যখন কেউ সালাতে দাঁড়ায়, তখন তার শ্রবণ ও দর্শনের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধানকারী। আবু উবায়েদ ব্যতীত অন্যান্যরা বলেছেন যে, যারা 'ওয়াত-আন' পাঠ করেছেন, তারা এর দ্বারা 'ওয়াত'-এর তীব্রতা বুঝিয়েছেন। অর্থাৎ রাতের বেলার সালাত দিনের বেলার সালাতের তুলনায় সালাত আদায়কারীর নিকট অধিক কঠিন ও ভারী। এটি আরবদের প্রচলিত কথা 'জনগণের উপর তাদের শাসকের কঠোরতা তীব্র হয়েছে' থেকে এসেছে, যখন তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব তাদের নিকট ভারী ও কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। অতঃপর আল্লাহ তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জানিয়েছেন যে, রাতের সালাতের সওয়াব এর কষ্ট ও ভারের তীব্রতা অনুযায়ী হবে। আর যারা 'উইত্ব-আন' পাঠ করেছেন, তা 'মুওয়াতাআত' (সামঞ্জস্য বিধান করা) ক্রিয়ামূল থেকে আগত। {এবং কথায় অধিক সঠিক} [মুয্যাম্মিল: ৬] অর্থাৎ কথার জন্য অধিক একনিষ্ঠ; কারণ রাতে শব্দসমূহ নিস্তব্ধ থাকে এবং নড়াচড়া বন্ধ হয়ে যায়, ফলে কথা হয় একনিষ্ঠ এবং তা শোনা ও বোঝার মাঝে কোনো অন্তরায় থাকে না। তাঁর বাণী: {নিশ্চয়ই দিনে তোমার জন্য রয়েছে দীর্ঘ কর্মব্যস্ততা} [মুয্যাম্মিল: ৭]। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: এর অর্থ ঘুম ও অবসর। যাহহাক, মুজাহিদ, রাবি ইবনে আনাস এবং কাতাদাহ বলেন: দীর্ঘ অবসর। মুজাহিদ থেকে আল্লাহর বাণী: {এবং তাঁর প্রতি একনিষ্ঠভাবে মগ্ন হও} [মুয্যাম্মিল: ৮] সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: কেবল তাঁরই কাছে চাওয়া ও দোয়া করাকে একনিষ্ঠ করো। তিনি অন্য একবার বলেছেন: তাঁর দিকে পরিপূর্ণভাবে একনিষ্ঠ হও। যাহহাক থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। কাতাদাহ থেকে বর্ণিত: কেবল তাঁরই জন্য আহ্বান ও ইবাদতকে একনিষ্ঠ করো। আল্লাহর বাণী: এবং {রাতের প্রহরগুলোতে} [আল ইমরান: ১১৩]। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: রাতের প্রহরসমূহ বলতে রাতের গভীর অংশ বুঝানো হয়েছে। হাসান (বসরী) আল্লাহর বাণী {যে ব্যক্তি রাতের প্রহরগুলোতে অনুগত থাকে} [যুমার: ৯] সম্পর্কে বলেন: রাতের বিভিন্ন মুহূর্ত সে সিজদারত ও দণ্ডায়মান অবস্থায় কাটায়। তিনি বলেন: সে তার মাথাকে পায়ের মাধ্যমে এবং তার দুই পা-কে মাথার মাধ্যমে বিশ্রাম দেয়। অন্য এক বর্ণনায় 'রাতের প্রহরসমূহ' সম্পর্কে তিনি বলেন: রাতের শুরু, মধ্য এবং শেষ ভাগ। কাতাদাহ থেকে বর্ণিত: {আহলে কিতাবদের মধ্যে একটি দল আছে যারা সত্যের উপর দণ্ডায়মান থাকে, তারা রাতের প্রহরগুলোতে আল্লাহর আয়াতসমূহ পাঠ করে এবং তারা সিজদা করে} [আল ইমরান: ১১৩]। তিনি বলেন: তারা আল্লাহর কিতাব, তাঁর ফরজ বিধান এবং তাঁর নির্ধারিত সীমার উপর প্রতিষ্ঠিত থাকে ⦗ص: 42⦘ তারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান আনে এবং তারা নেক কাজে দ্রুত ধাবিত হয়। ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত: {তারা সকলে সমান নয়; আহলে কিতাবের মধ্যে একদল আছে যারা সত্যের উপর দণ্ডায়মান} [আল ইমরান: ১১৩]। তিনি বলেন: আহলে কিতাব এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উম্মত সমান নয় যারা আল্লাহর আয়াত পাঠ করে। তিনি বলেন: এটি হলো এশার সালাত, তারা তা আদায় করে, কিন্তু আহলে কিতাবদের অন্য কেউ তা আদায় করে না। মুজাহিদ বলেন: {একটি দল যারা দণ্ডায়মান} [আল ইমরান: ১১৩]। তিনি বলেন: তারা একটি ন্যায়নিষ্ঠ জাতি। মনসুর থেকে {তারা রাতের প্রহরগুলোতে আল্লাহর আয়াতসমূহ পাঠ করে} [আল ইমরান: ১১৩] সম্পর্কে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা শুনেছি এটি হলো মাগরিব ও এশার মধ্যবর্তী সময়।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু কিয়ামিল লাইলি ওয়া কিয়ামি রামাদান ওয়া কিতাবুল বিতর
(পৃষ্ঠা: ٤٢)
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَا: أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " لَا حَسَدَ إِلَّا فِي اثْنَتَيْنِ: رَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ الْقُرْآنَ فَهُوَ يَقُومُ بِهِ آنَاءَ اللَّيْلِ وَآنَاءَ النَّهَارِ، وَرَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ مَالًا فَهُوَ يُنْفِقُهُ آنَاءَ اللَّيْلِ وَآنَاءَ النَّهَارِ " وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَيَزِيدِ بْنِ الْأَخْنَسِ، وَلَفْظُهُ: «لَا تَنَافُسَ بَيْنَكُمْ إِلَّا فِي اثْنَتَيْنِ»، فَذَكَرَ مِثْلَ مَعْنَاهُ، وَفِيهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ قَوْلُهُ: {وَالَّذِينَ يَبِيتُونَ لِرَبِّهِمْ سُجَّدًا وَقِيَامًا} [الفرقان: 64] قَالَ الْحَسَنُ: {الَّذِينَ يَمْشُونَ عَلَى الْأَرْضِ هَوْنًا} [الفرقان: 63]. قَالَ: بِالْوَقَارِ وَالسَّكِينَةِ: {وَإِذَا خَاطَبَهُمُ الْجَاهِلُونَ قَالُوا سَلَامًا} [الفرقان: 63] يَقُولُ: حُلَمَاءُ لَا يَجْهَلُونُ وَإِنْ جُهِلَ عَلَيْهِمْ حَلُمُوا، ذَلَّتْ وَاللَّهِ الْأَبْدَانُ وَالْأَبْصَارُ حَتَّى حَسِبَهُمُ الْجَاهِلُ مَرْضَى، وَاللَّهِ مَا بِالْقَوْمِ مَرَضٌ، وَأَنَّهُمْ لَأَصِحَّاءُ الْقُلُوبِ وَلَكِنْ دَخَلَهُمْ مِنَ الْخَوْفِ مَا لَمْ يَدْخُلْ غَيْرَهُمْ، وَمَنَعَ مِنْهُمُ الدُّنْيَا عِلْمُهُمْ بِالْآخِرَةِ. هَذِهِ أَخْلَاقُهُمُ الَّتِي انْتَشَرُوا بِهَا فِي النَّاسِ وَهُمُ الَّذِينَ يَبِتُونَ لِرَبِّهِمْ سُجَّدًا وَقِيَامًا. أَسْهَرُوا وَاللَّهِ الْأَعْيُنَ وَهَضَمُوا فِي الْآخِرَةِ كُلَّ شَيْءٍ، وَاللَّهِ مَا تَعَاظَمَ فِي أَنْفُسِهِمْ شَيْءٌ طَلَبُوا بِهِ الْجَنَّةَ، وَقَالُوا حِينَ دَخَلُوا الْجَنَّةَ: {الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَذْهَبَ عَنَّا الْحَزَنَ إِنَّ رَبَّنَا لَغَفُورٌ شَكُورٌ} [فاطر: 34]، ثُمَّ يَقُولُ: وَاللَّهِ لَقَدْ كَابَدُوا فِي الدُّنْيَا أَحْزَانًا شَدِيدَةً وَخَوْفًا شَدِيدًا، وَاللَّهِ مَا أَحْزَنَهُمْ مِنْ أَحْزَانِ النَّاسِ شَيْءٌ، أَبْكَاهُمُ الْخَوْفُ مِنَ النَّارِ، وَأَنَّ اللَّهَ لَنْ يَجْمَعَ عَلَى الْمُؤْمِنِ خَوْفَ الدُّنْيَا وَخَوْفَ الْآخِرَةِ، فَعَجِّلُوا الْخَوْفَ حَتَّى تَلْقَوْا رَبَّكُمْ. ⦗ص: 43⦘ وَكَانَ يَقُولُ: يَا ابْنَ آدَمَ عِفَّ عَنْ مَحَارِمِ اللَّهِ تَكُنْ عَابِدًا، وَارْضَ بِمَا قَسَمَ اللَّهُ لَكَ تَكُنْ غَنِيًّا، وَأَحْسِنْ جِوَارَ مَنْ جَاوَرَكَ مِنَ النَّاسِ تَكُنْ مُسْلِمًا، وَصَاحِبِ النَّاسَ بِالَّذِي تُحِبُّ أَنْ يُصَاحِبُوكَ بِهِ تَكُنْ عَدْلًا. وَإِيَّاكَ وَالضَّحِكَ فَإِنَّ كَثْرَةَ الضَّحِكِ تُمِيتُ الْقَلْبَ. إِنَّهُ قَدْ كَانَ بَيْنَ أَيْدِيكُمْ أَقْوَامٌ يَجْمَعُونَ كَثِيرًا وَيَبْنُونَ شَدِيدًا وَيَأْمَلُونَ بَعِيدًا، فَأَيْنَ هُمْ؟ أَصْبَحَ جَمْعُهُمْ بُورًا، وَأَصْبَحَ أَمَلُهُمْ غُرُورًا، وَأَصْبَحَتْ مَسَاكِنُهُمْ قُبُورًا. يَا ابْنَ آدَمَ، إِنَّكَ مُرْتَهَنٌ بِعِلْمِكَ وَآتٍ عَلَى أَجَلِكَ وَمَعْرُوضٌ عَلَى رَبِّكَ، فَخُذْ مِمَّا فِي يَدَيْكَ لِمَا بَيْنَ يَدَيْكَ عِنْدَ الْمَوْتِ يَأْتِيكَ الْخَيْرُ. يَا ابْنَ آدَمَ، طَإِ الْأَرْضَ بِقَدَمَيْكَ فَإِنَّهَا عَنْ قَلِيلٍ قَبْرُكَ. يَا ابْنَ آدَمَ، إِنَّكَ لَمْ تَزَلْ فِي هَدْمِ عُمْرِكَ مُنْذُ سَقَطْتَ مِنْ بَطْنِ أُمِّكَ. يَا ابْنَ آدَمَ، خَالِطِ النَّاسَ وَزَائِلْهُمْ خَالِطْهُمْ بِبَدَنِكَ وَزَائِلْهُمْ بِقَلْبِكَ وَعِلْمِكَ. يَا ابْنَ آدَمَ، تُحِبُّ أَنْ تُذْكَرَ بِحَسَنَاتِكَ وَتَكْرَهُ أَنْ تُذْكَرَ بِسَيِّئَاتِكَ وَتُبْغِضُ عَلَى الظَّنِّ وَتَغْتَمُّ عَلَى الْيَقِينِ. وَكَانَ يَقُولُ: إِنَّ الْمُؤْمِنِينَ لَمَّا جَاءَتْهُمْ هَذِهِ الدَّعْوَةُ مِنَ اللَّهِ صَدَّقُوا بِهَا وَأَفْضَى يَقِينُهَا إِلَى قُلُوبِهِمْ خَشَعَتْ لِلَّهِ قُلُوبُهُمْ وَأَبْدَانُهُمْ وَأَبْصَارُهُمْ، كُنْتُ وَاللَّهِ إِذَا رَأَيْتُهُمْ رَأَيْتُ قَوْمًا كَأَنَّهُمْ رَأْيُ عَيْنٍ. وَاللَّهِ مَا كَانُوا بِأَهْلِ جَدَلٍ وَلَا بَاطِلٍ وَلَكِنَّهُمْ جَاءَهُمْ أَمْرٌ عَنِ اللَّهِ فَصَدِّقُوا بِهِ فَنَعَتَهُمُ اللَّهُ فِي الْقُرْآنِ أَحْسَنَ نَعْتٍ قَالَ: {وَعِبَادُ الرَّحْمَنِ الَّذِينَ يَمْشُونَ عَلَى الْأَرْضِ هَوْنًا} [الفرقان: 63]. قَالَ الْحَسَنُ: وَالْهَوْنُ فِي كَلَامِ الْعَرَبِ اللِّينُ وَالسَّكِينَةُ وَالْوَقَارُ {وَإِذَا خَاطَبَهُمُ الْجَاهِلُونَ قَالُوا سَلَامًا} [الفرقان: 63] قَالَ: حُلَمَاءُ لَا يَجْهَلُونُ وَإِنْ جُهِلَ عَلَيْهِمْ حَلُمُوا يُصَاحِبُونَ عِبَادَ اللَّهِ نَهَارَهُمْ بِمَا يَسْمَعُونَ. قَالَ: ثُمَّ ذَكَرَ لَيْلَهُمْ خَيْرَ لَيْلٍ فَقَالَ: {وَالَّذِينَ يَبِيتُونَ لِرَبِّهِمْ سُجَّدًا وَقِيَامًا} [الفرقان: 64] يَنْتَصِبُونَ لِلَّهِ عَلَى أَقْدَامِهِمْ وَيَفْتَرِشُونَ وُجُوهَهُمْ سُجَّدًا لِرَبِّهِمْ تَجْرِي دُمُوعُهُمْ عَلَى خُدُودِهِمْ فَرَقًا مِنْ رَبِّهِمْ. قَالَ الْحَسَنُ لِأَمْرٍ مَا سَهِرُوا لَيْلَهُمْ وَلِأَمْرٍ مَا خَشَعُوا نَهَارَهُمْ. قَالَ: {الَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا اصْرِفْ عَنَّا عَذَابَ جَهَنَّمَ إِنَّ عَذَابَهَا كَانَ غَرَامًا} [الفرقان: 65] قَالَ: وَكُلُّ شَيْءٍ يُصِيبُ ابْنَ آدَمَ ثُمَّ يَزُولُ عَنْهُ فَلَيْسَ بِغَرَامٍ إِنَّمَا الْغَرَامُ اللَّازِمُ مَا دَامَتِ السَّمَوَاتُ وَالْأَرْضُ. قَالَ: صَدَقَ الْقَوْمُ وَاللَّهِ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ فَعَمِلُوا وَأَنْتُمْ تَتَمَنَّوْنَ فَإِيَّاكُمْ وَهَذِهِ الْأَمَانِيَّ رَحِمَكُمُ اللَّهُ، فَإِنَّ اللَّهَ لَمْ يُعْطِ عَبْدًا بِأُمْنِيَّتِهَ خَيْرًا فِي دُنْيَا وَلَا آخِرَةٍ. ⦗ص: 44⦘ وَكَانَ يَقُولُ: يَا لَهَا مِنْ مَوْعِظَةٍ لَوْ وَافَقَتْ مِنَ الْقُلُوبِ حَيَاةً. قَالَ: لَقَدْ صَحِبْتُ أَقْوَامًا يَبِيتُونَ لِرَبِّهِمْ فِي سَوَادِ هَذَا اللَّيْلِ سُجَّدًا وَقِيَامًا يَقُومُونَ هَذَا اللَّيْلَ عَلَى أَطْرَافِهِمْ تَسِيلُ دُمُوعُهُمْ عَلَى خُدُودِهِمْ، فَمَرَّةً رُكَّعًا وَمَرَّةً سُجَّدًا يُنَاجُونَ رَبَّهُمْ فِي فِكَاكِ رِقَابِهِمْ، لَمْ يَمِلُّوا طُولَ السَّهَرِ لِمَا خَالَطَ قُلُوبَهُمْ مِنْ حُسْنِ الرَّجَاءِ فِي يَوْمِ الْمَرْجِعِ، فَأَصْبَحَ الْقَوْمُ بِمَا أَصَابُوا مِنَ النَّصَبِ لِلَّهِ فِي أَبْدَانِهِمْ فَرِحِينَ، وَبِمَا يَأْمَلُونَ مِنْ حُسْنِ ثَوَابِهِ مُسْتَبْشِرِينَ، فَرَحِمَ اللَّهُ امْرَأً نَافَسَهُمْ فِي مِثْلِ هَذِهِ الْأَعْمَالِ وَلَمْ يَرْضَ لِنَفْسِهِ مِنْ نَفْسِهِ بِالتَّقْصِيرِ فِي أَمْرِهِ وَالْيَسِيرِ مِنْ فِعْلِهِ فَإِنَّ الدُّنْيَا عَنْ أَهْلِهَا مُنْقَطِعَةٌ وَالْأَعْمَالَ عَلَى أَهْلِهَا مَرْدُودَةٌ. ثُمَّ يَبْكِي حَتَّى تَبْتَلَّ لِحْيَتُهُ بِالدُّمُوعِ وَعَنِ الْأَحْنَفِ بْنِ قَيْسٍ أَنَّهُ كَانَ جَالِسًا يَوْمًا فَعَرَضَتْ لَهُ هَذِهِ الْآيَةُ: {لَقَدْ أَنْزَلْنَا إِلَيْكُمْ كِتَابًا فِيهِ ذِكْرُكُمْ أَفَلَا تَعْقِلُونَ} [الأنبياء: 10]. فَانْتَبَهَ فَقَالَ: عَلَيَّ بِالْمُصْحَفِ، لِأَلْتَمِسَ ذِكْرِي الْيَوْمَ حَتَّى أَعْلَمَ مَعَ مَنْ أَنَا وَمَنْ أُشْبِهُ، فَنَشَرَ الْمُصْحَفَ فَمَرَّ بِقَوْمٍ {كَانُوا قَلِيلًا مِنَ اللَّيْلِ مَا يَهْجَعُونَ، وَبِالْأَسْحَارِ هُمْ يَسْتَغْفِرُونَ، وَفِي أَمْوَالِهِمْ حَقٌّ لِلسَّائِلِ وَالْمَحْرُومِ} [الذاريات: 18]، وَمَرَّ بِقَوْمٍ: {تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ خَوْفًا وَطَمَعًا وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ} [السجدة: 16]. وَمَرَّ بِقَوْمٍ: {يَبِيتُونَ لِرَبِّهِمْ سُجَّدًا وَقِيَامًا} [الفرقان: 64]. وَمَرَّ بِقَوْمٍ: {يُنْفِقُونَ فِي السَّرَّاءِ وَالضَّرَّاءِ وَالْكَاظِمِينَ الْغَيْظَ وَالْعَافِينَ عَنِ النَّاسِ وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ} [آل عمران: 134]. وَمَرَّ بِقَوْمٍ: {يُؤْثِرُونَ عَلَى أَنْفُسِهِمْ وَلَوْ كَانَ بِهِمْ خَصَاصَةٌ وَمَنْ يُوقَ شُحَّ نَفْسِهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} [الحشر: 9]. ⦗ص: 45⦘ وَمَرَّ بِقَوْمٍ: {يَجْتَنِبُونَ كَبَائِرَ الْإِثْمِ وَالْفَوَاحِشَ وَإِذَا مَا غَضِبُوا هُمْ يَغْفِرُونَ} [الشورى: 37]، {وَالَّذِينَ اسْتَجَابُوا لِرَبِّهِمْ وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَأَمْرُهُمْ شُورَى بَيْنَهُمْ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ} [الشورى: 38]. قَالَ: فَوَقَفَ ثُمَّ قَالَ: اللَّهُمَّ لَسْتُ أَعْرِفُ نَفْسِي هَهُنَا ثُمَّ أَخَذَ فِي السَّبِيلِ الْآخَرِ. فَمَرَّ بِقَوْمٍ: {إِذَا قِيلَ لَهُمْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ يَسْتَكْبِرُونَ وَيَقُولُونَ أَئِنَّا لَتَارِكُوا آلِهَتَنَا لِشَاعِرٍ مَجْنُونٍ} [الصافات: 35]. وَمَرَّ بِقَوْمٍ: {إِذَا ذُكِرَ اللَّهُ وَحْدَهُ اشْمَأَزَّتْ قُلُوبُ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ وَإِذَا ذُكِرَ الَّذِينَ مِنْ دُونِهِ إِذَا هُمْ يَسْتَبْشِرُونَ} [الزمر: 45] وَمَرَّ بِقَوْمٍ يُقَالُ لَهُمْ {مَا سَلَكَكُمْ فِي سَقَرٍ قَالُوا لَمْ نَكُ مِنَ الْمُصَلِّينَ وَلَمْ نَكُ نُطْعِمُ الْمِسْكِينَ وَكُنَّا نَخُوضُ مَعَ الْخَائِضِينَ وَكُنَّا نُكَذِّبُ بِيَوْمِ الدِّينِ حَتَّى أَتَانَا الْيَقِينُ} [المدثر: 42]. قَالَ فَوَقَفَ ثُمَّ قَالَ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَبْرَأُ إِلَيْكَ مِنْ هَؤُلَاءِ. قَالَ: فَمَا زَالَ يُقَلِّبُ الْوَرَقَ وَيَلْتَمِسُ حَتَّى وَقَعَ عَلَى هَذِهِ الْآيَةِ: {وَآخَرُونَ اعْتَرَفُوا بِذُنُوبِهِمْ خَلَطُوا عَمَلًا صَالِحًا وَآخَرَ سَيِّئًا عَسَى اللَّهُ أَنْ يَتُوبَ عَلَيْهِمْ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ} [التوبة: 102] فَقَالَ: اللَّهُمَّ هَؤُلَاءِ وَقَالَ عُمَرُ بْنُ ذَرٍّ: لَمَّا رَأَى الْعَابِدُونَ اللَّيْلَ قَدْ هَجَمَ عَلَيْهِمْ وَنَظَرُوا إِلَى أَهْلِ الْغَفْلَةِ قَدْ سَكَنُوا إِلَى فُرُشِهِمْ وَرَجَعُوا إِلَى مَلَاذِهِمْ مِنَ النَّوْمِ، قَامُوا إِلَى اللَّهِ فَرِحِينَ مُسْتَبْشِرِينَ بِمَا قَدْ وَهَبَ لَهُمْ مِنْ حُسْنِ عَادَةِ السَّهَرِ وَطُولِ التَّهَجُّدِ، فَاسْتَقْبَلُوا اللَّيْلَ بِأَبْدَانِهِمْ وَبَاشَرُوا الْأَرْضَ بِصِفَاحِ وُجُوهِهِمْ فَانْتَقَى عَنْهُمُ اللَّيْلُ وَمَا انْقَضَتْ لَذَّتُهُمْ مِنَ التِّلَاوَةِ وَلَا مَلَّتْ أَبْدَانُهُمْ مِنْ طُولِ الْعِبَادَةِ، فَأَصْبَحَ الْفَرِيقَانِ وَلَّى عَنْهُمُ اللَّيْلُ بِرِبْحٍ وَغَبْنٍ، أَصْبَحَ هَؤُلَاءِ قَدْ مَلُّوا النَّوْمَ وَالرَّاحَةَ وَأَصْبَحَ هَؤُلَاءِ مُتَطَلِّعِينَ إِلَى مَجِيءِ اللَّيْلِ لِلْعَادَةِ، شَتَّانَ مَا بَيْنَ الْفَرِيقَيْنِ. فَاعْمَلُوا أَنْفُسَكُمْ رَحِمَكُمُ اللَّهُ فِي هَذَا اللَّيْلِ وَسَوَادِهِ فَإِنَّ الْمَغْبُونَ مَنْ غُبِنَ خَيْرَ النَّهَارِ وَاللَّيْلِ، وَالْمَحْرُومَ مَنْ حُرِمَ خَيْرَهُمَا، إِنَّمَا جُعِلَا سَبِيلًا لِلْمُؤْمِنِينَ إِلَى طَاعَةِ رَبِّهِمْ وَوَبَالًا عَلَى الْآخَرِينَ لِلْغَفْلَةِ عَنْ أَنْفُسِهِمْ، فَأَحْيُوا أَنْفُسَكُمْ بِذِكْرِ اللَّهِ. فَإِنَّمَا تَحْيَى الْقُلُوبُ بِذِكْرِ اللَّهِ. كَمْ مِنْ قَائِمٍ لِلَّهِ فِي هَذَا اللَّيْلِ قَدِ اغْتَبَطَ بِقِيَامِهِ فِي ظُلْمَةِ حُفْرَتِهِ. وَكَمْ مِنْ نَائِمٍ فِي هَذَا اللَّيْلِ قَدْ نَدِمَ عَلَى طُولِ نَوْمِهِ عِنْدَمَا يَرَى مِنْ كَرَامَةِ اللَّهِ لِلْعَابِدِينَ غَدًا فَاغْتَنِمُوا مَمَرَّ السَّاعَاتِ وَاللَّيَالِي وَالْأَيَّامِ رَحِمَكُمُ اللَّهُ
ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া এবং ইসহাক ইবনে ইবরাহীম আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: সুফিয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি যুহরী থেকে, তিনি সালিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "কেবল দুই ব্যক্তির ক্ষেত্রে ঈর্ষা (গিবতাহ) করা যায়: এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ কুরআন দান করেছেন এবং সে তা নিয়ে রাত ও দিনের প্রহরে প্রহরে সালাতে দাঁড়ায়; আর অন্য এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ সম্পদ দান করেছেন এবং সে তা রাত ও দিনের প্রহরে প্রহরে (সদকা হিসেবে) ব্যয় করে।" এই মর্মে আবু হুরায়রা ও ইয়াযীদ ইবনে আখওয়াস থেকেও হাদীস বর্ণিত হয়েছে, যার শব্দ বিন্যাস হলো: «তোমাদের মধ্যে কেবল দুই বিষয়ে প্রতিযোগিতা হতে পারে», এরপর তিনি একই অর্থের বর্ণনা উল্লেখ করেন। এতে আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস-এর উক্তিও রয়েছে: {এবং যারা তাদের রবের উদ্দেশ্যে সিজদাবনত হয়ে ও দাঁড়িয়ে রাত অতিবাহিত করে} [আল-ফুরকান: ৬৪]। হাসান (বসরী) বলেছেন: {যারা জমিনের ওপর নম্রভাবে চলাফেরা করে} [আল-ফুরকান: ৬৩]। তিনি বলেন: গাম্ভীর্য ও প্রশান্তির সাথে। {এবং যখন মূর্খরা তাদের সম্বোধন করে, তখন তারা বলে—সালাম} [আল-ফুরকান: ৬৩]। তিনি বলেন: তারা অত্যন্ত সহনশীল, মূর্খতা প্রদর্শন করে না; আর যদি তাদের সাথে মূর্খতা করা হয়, তবে তারা সহনশীলতা প্রদর্শন করে। আল্লাহর কসম, তাদের দেহ ও দৃষ্টি অবনত হয়ে গিয়েছিল, এমনকি মূর্খ লোকেরা তাদের অসুস্থ মনে করত। আল্লাহর কসম, তাদের কোনো রোগ ছিল না, বরং তারা ছিল সুস্থ হৃদয়ের অধিকারী। কিন্তু তাদের অন্তরে এমন এক ভীতি প্রবেশ করেছিল যা অন্যদের অন্তরে প্রবেশ করেনি এবং আখিরাত সম্পর্কে তাদের জ্ঞান তাদের দুনিয়া বিমুখ করে দিয়েছিল। এগুলিই ছিল তাদের চরিত্র যা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং তারাই ছিল সেই সব লোক যারা তাদের রবের উদ্দেশ্যে সিজদাবনত হয়ে ও দাঁড়িয়ে রাত অতিবাহিত করত। আল্লাহর কসম, তারা তাদের চোখগুলোকে বিনিদ্র রাখত এবং আখিরাতের কামনায় সব কিছুকে তুচ্ছ জ্ঞান করত। আল্লাহর কসম, জান্নাত লাভের আশায় তারা কোনো বড় ত্যাগকেই নিজেদের কাছে বড় মনে করেনি। যখন তারা জান্নাতে প্রবেশ করল, তখন তারা বলল: {সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের থেকে দুঃখ-দুর্দশা দূর করেছেন; নিশ্চয়ই আমাদের রব পরম ক্ষমাশীল ও অতি গুণগ্রাহী} [ফাতির: ৩৪]। এরপর তিনি বলেন: আল্লাহর কসম, তারা দুনিয়াতে কঠোর দুঃখ ও কঠোর ভয়ের সাথে সংগ্রাম করেছিল। দুনিয়াদারদের কোনো দুঃখই তাদের ব্যথিত করত না; বরং জাহান্নামের ভয়ই তাদের কাঁদিয়েছিল। নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো মুমিনের জন্য দুনিয়ার ভয় ও আখিরাতের ভয়কে একত্রিত করবেন না। সুতরাং তোমরা তোমাদের রবের সাথে সাক্ষাত না করা পর্যন্ত এই ভয়কে ত্বরান্বিত করো। ⦗পৃষ্ঠা: ৪৩⦘ তিনি আরও বলতেন: হে আদম সন্তান! আল্লাহর হারামকৃত বিষয়গুলো থেকে বিরত থাকো, তবেই তুমি প্রকৃত ইবাদতকারী হতে পারবে। আল্লাহ তোমার ভাগ্যে যা নির্ধারণ করেছেন তাতে সন্তুষ্ট থাকো, তবেই তুমি ধনী হতে পারবে। তোমার প্রতিবেশীর সাথে সদ্ব্যবহার করো, তবেই তুমি প্রকৃত মুসলিম হতে পারবে। মানুষের সাথে তেমন আচরণ করো যেমন আচরণ তুমি তাদের কাছ থেকে প্রত্যাশা করো, তবেই তুমি ন্যায়পরায়ণ হতে পারবে। অতিরিক্ত হাসি থেকে বেঁচে থাকো, কারণ অতিরিক্ত হাসি অন্তরকে মৃত করে দেয়। তোমাদের পূর্ববর্তী এমন কিছু জাতি ছিল যারা প্রচুর সম্পদ জমা করেছিল, মজবুত অট্টালিকা নির্মাণ করেছিল এবং সুদূরপ্রসারী আশা পোষণ করত; কিন্তু এখন তারা কোথায়? তাদের সঞ্চয় ধ্বংস হয়ে গেছে, তাদের আশা প্রতারণায় পরিণত হয়েছে এবং তাদের আবাসস্থল কবরে রূপান্তরিত হয়েছে। হে আদম সন্তান! তুমি তোমার আমলের কাছে দায়বদ্ধ, তোমার মৃত্যু নির্ধারিত সময়ে আসবে এবং তুমি তোমার রবের সামনে উপস্থাপিত হবে। সুতরাং তোমার হাতে যা আছে তা থেকে মৃত্যু আসার আগেই সংগ্রহ করে নাও যা তোমার সামনে থাকবে; তবেই তোমার কল্যাণ হবে। হে আদম সন্তান! তোমার দুই পা দিয়ে জমিনের ওপর বিচরণ করো, কারণ অচিরেই এটি তোমার কবর হবে। হে আদম সন্তান! মায়ের গর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর থেকে তুমি ক্রমাগত তোমার হায়াত ধ্বংস করে চলেছ। হে আদম সন্তান! মানুষের সাথে মেলামেশা করো কিন্তু তাদের থেকে পৃথক থাকো; তোমার দেহ নিয়ে মেলামেশা করো আর অন্তর ও জ্ঞান নিয়ে তাদের থেকে পৃথক থাকো। হে আদম সন্তান! তুমি তোমার নেক আমলের আলোচনা পছন্দ করো আর মন্দ আমলের আলোচনা অপছন্দ করো; অথচ তুমি ধারণার বশবর্তী হয়ে ঘৃণা পোষণ করো আর নিশ্চিত বিষয়ের ওপর দুঃখ করো। তিনি আরও বলতেন: মুমিনদের কাছে যখন আল্লাহর পক্ষ থেকে এই আহ্বান এল, তারা তা সত্য বলে বিশ্বাস করল এবং তার দৃঢ় বিশ্বাস তাদের অন্তরে পৌঁছে গেল। ফলে আল্লাহর উদ্দেশ্যে তাদের অন্তর, দেহ ও দৃষ্টি অবনত হয়ে গেল। আল্লাহর কসম, যখন আমি তাদের দেখতাম, মনে হতো যেন আমি তাদের স্বচক্ষে দেখছি। আল্লাহর কসম, তারা বিতর্ক বা বাতুলতায় লিপ্ত ছিল না, বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের কাছে এক আদেশ এসেছিল যা তারা সত্য বলে মেনে নিয়েছিল। তাই আল্লাহ কুরআনে তাদের সর্বোত্তম গুণের বর্ণনা দিয়েছেন: {আর রহমানের বান্দা তারা, যারা জমিনের ওপর নম্রভাবে চলাফেরা করে} [আল-ফুরকান: ৬৩]। হাসান বলেন: আরবের ভাষায় 'হাওন' অর্থ হলো কোমলতা, প্রশান্তি ও গাম্ভীর্য। {এবং যখন মূর্খরা তাদের সম্বোধন করে, তখন তারা বলে—সালাম} [আল-ফুরকান: ৬৩]। তিনি বলেন: তারা সহনশীল, মূর্খতা করে না এবং তাদের সাথে মূর্খতা করা হলেও তারা সহনশীল থাকে। তারা দিনের বেলায় আল্লাহর বান্দাদের সাথে সদ্ব্যবহার করে। তিনি বলেন: এরপর তিনি তাদের রাতের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন এটিই সর্বোত্তম রাত: {আর যারা তাদের রবের উদ্দেশ্যে সিজদাবনত হয়ে ও দাঁড়িয়ে রাত অতিবাহিত করে} [আল-ফুরকান: ৬৪]। তারা আল্লাহর উদ্দেশ্যে তাদের পায়ের ওপর ভর দিয়ে দাঁড়ায় এবং তাদের রবের উদ্দেশ্যে সিজদাবনত হয়ে জমিনে তাদের মুখমন্ডল বিছিয়ে দেয়; তাদের রবের ভয়ে তাদের গাল বেয়ে অশ্রু ঝরতে থাকে। হাসান বলেন: কোনো এক বিশেষ কারণে তারা তাদের রাতকে বিনিদ্র রাখত এবং বিশেষ এক কারণে দিনের বেলা বিনীত থাকত। আল্লাহ বলেন: {যারা বলে: হে আমাদের রব, আমাদের থেকে জাহান্নামের আযাব সরিয়ে দিন; নিশ্চয়ই এর আযাব হলো অবিচ্ছেদ্য} [আল-ফুরকান: ৬৫]। তিনি বলেন: আদম সন্তানকে যা কিছু স্পর্শ করে এবং পরে দূরীভূত হয় তা 'গারাম' (অবিচ্ছেদ্য) নয়। গারাম তো কেবল তা-ই যা আসমান ও জমিন বিদ্যমান থাকা পর্যন্ত স্থায়ী হবে। তিনি বলেন: আল্লাহর কসম, সেই জাতি সত্য বলে মেনে নিয়েছিল, যিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই; তাই তারা আমল করেছিল, আর তোমরা কেবল আশা পোষণ করো। হে আল্লাহ তোমাদের প্রতি দয়া করুন, তোমরা এই মিথ্যা আশা থেকে বেঁচে থাকো। কারণ আল্লাহ কোনো বান্দাকে কেবল তার আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে দুনিয়া বা আখিরাতের কোনো কল্যাণ দান করেন না। ⦗পৃষ্ঠা: ৪৪⦘ তিনি বলতেন: আক্ষেপ! এটি কতই না চমৎকার উপদেশ হতো যদি তা জীবন্ত কোনো অন্তরে পৌঁছাত। তিনি বলেন: আমি এমন সব সম্প্রদায়ের সাহচর্য পেয়েছি যারা এই রাতের অন্ধকারে তাদের রবের জন্য সিজদাবনত ও দণ্ডায়মান অবস্থায় রাত কাটাত। তারা তাদের পায়ের অগ্রভাগের ওপর ভর দিয়ে সারা রাত দাঁড়িয়ে থাকত, তাদের গাল বেয়ে অশ্রু প্রবাহিত হতো। কখনো রুকুতে আবার কখনো সিজদায় তারা তাদের গর্দান মুক্তির জন্য তাদের রবের সাথে গোপনে মুনাজাত করত। ফিরে যাওয়ার দিনের (কিয়ামতের) সুপ্রত্যাশা তাদের হৃদয়ে এমনভাবে মিশে গিয়েছিল যে, তারা দীর্ঘ রজনী জাগরণেও ক্লান্ত হতো না। ফলে সেই সম্প্রদায় আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তাদের দেহে যে কষ্ট পৌঁছাত তাতেই তারা আনন্দিত হতো এবং তাঁর পুরস্কারের উত্তম আশায় তারা প্রফুল্ল থাকত। সুতরাং আল্লাহ সেই ব্যক্তির ওপর রহমত বর্ষণ করুন যে এই জাতীয় আমলের ক্ষেত্রে তাদের সাথে প্রতিযোগিতা করে এবং নিজের পক্ষ থেকে অর্পিত দায়িত্ব পালনে অবহেলা বা সামান্য আমল করে তুষ্ট থাকে না। কারণ দুনিয়া তার অধিবাসীদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এবং আমলসমূহ আমলকারীর কাছেই ফেরত আসবে। এরপর তিনি কাঁদতেন এমনকি অশ্রুতে তাঁর দাড়ি ভিজে যেত। আহনাফ ইবনে কাইস সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তিনি একদিন বসে ছিলেন, তখন তাঁর সামনে এই আয়াতটি এল: {আমি তোমাদের প্রতি এমন এক কিতাব নাযিল করেছি যাতে তোমাদের আলোচনা রয়েছে; তোমরা কি বুঝবে না?} [আল-আম্বিয়া: ১০]। তিনি সজাগ হয়ে বললেন: আমার কাছে কুরআন নিয়ে এসো, যাতে আমি আজ আমার আলোচনা খুঁজে দেখি এবং জানতে পারি আমি কাদের সাথে আছি আর কার মতো। তিনি কুরআন খুললেন এবং এক সম্প্রদায়ের বর্ণনা পেলেন যারা: {রাতের সামান্য অংশই তারা ঘুমে অতিবাহিত করত এবং শেষ রাতে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করত এবং তাদের ধন-সম্পদে যাঞ্চাকারী ও বঞ্চিতদের অধিকার ছিল} [আয-যারিয়াত: ১৭-১৯]। এরপর তিনি এমন এক সম্প্রদায়ের বর্ণনা পেলেন যাদের: {শয্যা হতে তাদের পার্শ্বদেশ আলাদা থাকে, তারা তাদের রবকে ডাকে ভয়ে ও আশায় এবং আমি তাদের যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে তারা ব্যয় করে} [আস-সাজদাহ: ১৬]। এরপর তিনি এমন এক সম্প্রদায়ের বর্ণনা পেলেন যারা: {তাদের রবের উদ্দেশ্যে সিজদাবনত হয়ে ও দাঁড়িয়ে রাত অতিবাহিত করে} [আল-ফুরকান: ৬৪]। তিনি আরও এক সম্প্রদায়ের বর্ণনা পেলেন যারা: {সুসময়ে ও দুঃসময়ে ব্যয় করে এবং ক্রোধ সংবরণকারী ও মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল; আর আল্লাহ মুহসিনদের ভালোবাসেন} [আল ইমরান: ১৩৪]। এরপর তিনি এমন এক সম্প্রদায়ের বর্ণনা পেলেন যারা: {নিজেদের ওপর অন্যদের অগ্রাধিকার দেয়, যদিও তারা অভাবগ্রস্ত হয়। আর যাদেরকে মনের কার্পণ্য থেকে রক্ষা করা হয়েছে, তারাই সফলকাম} [আল-হাশর: ৯]। ⦗পৃষ্ঠা: ৪৫⦘ তিনি আরও এক সম্প্রদায়ের বর্ণনা পেলেন যারা: {বড় বড় গুনাহ ও অশ্লীল কাজ থেকে বেঁচে থাকে এবং যখন রাগান্বিত হয় তখন তারা ক্ষমা করে দেয়} [আশ-শুরা: ৩৭]। {এবং যারা তাদের রবের আহ্বানে সাড়া দেয়, সালাত কায়েম করে, তাদের কাজ নিজেদের মধ্যে পরামর্শের ভিত্তিতে হয় এবং আমি তাদের যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে} [আশ-শুরা: ৩৮]। তিনি থেমে গেলেন এবং বললেন: হে আল্লাহ! আমি তো এখানে নিজেকে খুঁজে পাচ্ছি না। এরপর তিনি অন্য পথ ধরলেন। তিনি এমন এক সম্প্রদায়ের বর্ণনা পেলেন: {যাদের যখন বলা হতো যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তখন তারা অহংকার করত এবং বলত: আমরা কি এক পাগল কবির জন্য আমাদের উপাস্যদের ত্যাগ করব?} [আস-সাফফাত: ৩৫-৩৬]। তিনি আরও এক সম্প্রদায়ের বর্ণনা পেলেন: {যখন কেবল আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা হয়, তখন যারা পরকালে বিশ্বাস করে না তাদের অন্তর সংকুচিত হয়ে যায়; আর যখন আল্লাহ ছাড়া অন্য উপাস্যদের নাম নেওয়া হয়, তখন তারা আনন্দিত হয়} [আয-যুমার: ৪৫]। তিনি আরও এক সম্প্রদায়ের বর্ণনা পেলেন যাদের বলা হবে: {তোমাদের কিসে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত করল? তারা বলবে: আমরা সালাত আদায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না, আমরা মিসকীনদের খাবার দিতাম না, আমরা অনর্থক আলোচনাকারীদের সাথে লিপ্ত থাকতাম এবং আমরা বিচার দিবসকে অস্বীকার করতাম, যতক্ষণ না আমাদের নিকট নিশ্চিত বিষয় (মৃত্যু) উপস্থিত হয়েছে} [আল-মুদ্দাসসির: ৪২-৪৭]। তিনি থেমে গেলেন এবং বললেন: হে আল্লাহ! আমি এদের থেকে আপনার কাছে পানাহ চাই। তিনি পাতা উল্টাতে থাকলেন এবং খুঁজতে থাকলেন যতক্ষণ না তিনি এই আয়াতের ওপর পৌঁছালেন: {আর অন্য কিছু লোক আছে যারা তাদের পাপ স্বীকার করেছে, তারা একটি নেক আমলের সাথে অন্য একটি মন্দ আমল মিশিয়ে ফেলেছে; আশা করা যায় আল্লাহ তাদের তাওবা কবুল করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু} [আত-তাওবাহ: ১০২]। তখন তিনি বললেন: হে আল্লাহ! এরাই হলো সেই লোক। উমর ইবনে যার বলেছেন: যখন ইবাদতকারীরা দেখল যে রাত তাদের গ্রাস করে নিয়েছে এবং তারা দেখল যে গাফেল লোকেরা তাদের বিছানায় শান্ত হয়ে আছে এবং ঘুমের স্বাদ গ্রহণ করছে, তখন তারা আনন্দের সাথে আল্লাহর দিকে দাঁড়িয়ে গেল সেই বিনিদ্র রজনী এবং দীর্ঘ তাহাজ্জুদের অভ্যাসের কারণে যা আল্লাহ তাদের দান করেছেন। তারা তাদের শরীর নিয়ে রাতকে গ্রহণ করল এবং জমিনে তাদের কপাল রাখল। রাত তাদের থেকে বিদায় নিল কিন্তু তাদের তিলাওয়াতের স্বাদ শেষ হলো না এবং দীর্ঘ ইবাদতে তাদের শরীর ক্লান্ত হলো না। ফলে উভয় দল সকাল করল; রাত তাদের কাছ থেকে লাভ এবং লোকসান নিয়ে বিদায় নিল। এক দল সকাল করল এই অবস্থায় যে তারা ঘুম ও বিশ্রামে ক্লান্ত, আর অন্য দল সকাল করল অভ্যাসের কারণে রাতের অপেক্ষায়। এই দুই দলের মধ্যে কতই না ব্যবধান! হে আল্লাহ তোমাদের ওপর রহম করুন, এই অন্ধকার রাতে তোমরা নিজেদের আমল করো। কেননা প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত তো সেই যে দিন ও রাতের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়েছে এবং বঞ্চিত সেই যে উভয়ের কল্যাণ থেকে মাহরুম হয়েছে। এগুলো মুমিনদের জন্য তাদের রবের আনুগত্যের পথ হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে এবং অন্যদের জন্য নিজেদের সম্পর্কে উদাসীনতার কারণে এক দুর্ভোগ হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে। সুতরাং আল্লাহর যিকিরের মাধ্যমে তোমাদের নিজেদের জীবিত করো; কারণ আল্লাহর যিকিরের মাধ্যমেই অন্তর জীবিত হয়। এই রাতে আল্লাহর জন্য দাঁড়িয়ে থাকা কত মানুষ কবরের অন্ধকারে নিজের সেই কিয়ামের জন্য ঈর্ষার পাত্র হবে! আর এই রাতে কত ঘুমন্ত ব্যক্তি দীর্ঘ ঘুমের জন্য আগামীকাল লজ্জিত হবে যখন সে ইবাদতকারীদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে সম্মান দেখতে পাবে। সুতরাং হে আল্লাহ তোমাদের ওপর রহম করুন, এই ঘণ্টা, রাত এবং দিনগুলোর অতিবাহিত হওয়ার সুযোগ গ্রহণ করো।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু কিয়ামিল লাইলি ওয়া কিয়ামি রামাদান ওয়া কিতাবুল বিতর
(পৃষ্ঠা: ٤٦)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، ثنا سَعِيدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، ثنا حُيَيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْمَعَافِرِيُّ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " الْقُرْآنُ وَالصِّيَامُ يَشْفَعَانِ لِلْعَبْدِ، يَقُولُ الْقُرْآنُ: رَبِّ مَنَعْتُهُ النَّوْمَ بِاللَّيْلِ فَشَفِّعْنِي فِيهِ، وَيَقُولُ الصِّيَامُ: رَبِّ إِنِّي مَنَعْتُهُ الطَّعَامَ وَالشَّهَوَاتِ بِالنَّهَارِ فَشَفِّعْنِي فِيهِ، فَيُشَفَّعَانِ " وَعَنِ الْحَسَنِ رحمه الله قَالَ: قُرَّاءُ الْقُرْآنِ ثَلَاثَةُ أَصْنَافٍ: صِنْفٌ اتَّخَذُوهُ بِضَاعَةً. وَصِنْفٌ أَقَامُوا حُرُوفَهُ، وَضَيَّعُوا حُدُودَهُ، وَاسْتَطَالُوا بِهِ عَلَى أَهْلِ بِلَادِهِمْ، وَاسْتَدَرُّوا بِهِ الْوُلَاةَ، وَقَدْ كَثُرَ هَذَا الضَّرْبُ مِنْ حَمَلَةِ الْقُرْآنِ لَا كَثَّرَهُمُ اللَّهُ. وَصِنْفٌ عَمَدُوا إِلَى دَوَاءِ الْقُرْآنِ فَوَضَعُوهُ عَلَى دَاءِ قُلُوبِهِمْ فَاسْتَشْعَرُوا الْخَوْفَ وَرَكَدُوا فِي مَحَارِسِهِمْ وَخَبُّوا فِي بَرَانِسِهِمْ فَأُولَئِكَ اللَّهُ يَنْصُرُ بِهِمْ عَلَى الْأَعْدَاءِ وَيَسْقِي بِهِمُ الْغَيْثَ فَوَاللَّهِ لَهَذَا مِنْ حَمَلَةِ الْقُرْآنِ أَقَلُّ مِنَ الْكِبْرِيتِ الْأَحْمَرِ. قَالَ: وَاللَّهِ لَقَدْ رَأَيْتُ أَقْوَامًا وَصَحِبْتُ طَوَائِفَ مِنْهُمْ مَا كَانُوا يَفْرَحُونَ بِشَيْءٍ مِنَ الدُّنْيَا أَقْبَلَ وَلَا يَأْسَفُونَ عَلَى شَيْءٍ مِنْهَا أَدْبَرَ. وَلَهِيَ أَهْوَنُ فِي أَعْيُنِهِمْ مِنْ هَذَا التُّرَابِ. كَانَ أَحَدُهُمْ يَعِيشُ خَمْسِينَ أَوْ سِتِّينَ سَنَةً لَمْ يُطْوَ لَهُ ثَوْبٌ، وَلَمْ يُنْصَبَ لَهُ قِدْرٌ وَلَا جَعَلَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْأَرْضِ شَيْئًا ⦗ص: 47⦘ قَطُّ، وَلَا أَمَرَ فِي بَيْتِهِ بِصَنْعَةِ طَعَامٍ قَطُّ. فَإِذَا كَانَ اللَّيْلُ فَقِيَامٌ عَلَى أَطْرَافِهِمْ يَفْتَرِشُونَ وُجُوهَهُمْ تَجْرِي دُمُوعُهُمْ عَلَى خُدُودِهِمْ يُنَاجُونَ رَبَّهُمْ فِي فِكَاكِ رِقَابِهِمْ، كَانُوا إِذَا عَمِلُوا الْحَسَنَةَ ذَابُوا فِي شُكْرِهَا وَسَأَلُوا اللَّهَ أَنْ يَقْبَلَهَا، وَإِذَا عَمِلُوا السَّيِّئَةَ أَحْزَنَتْهُمْ وَسَأَلُوا اللَّهَ أَنْ يَغْفِرَهَا. فَمَا زَالُوا كَذَلِكَ وَعَلَى ذَلِكَ، فَوَاللَّهِ مَا سَلِمُوا مِنَ الذُّنُوبِ وَلَا نَجَوْا إِلَّا بِالْمَغْفِرَةِ. وَإِنَّكُمْ أَصْبَحْتُمْ فِي أَجَلٍ مَنْقُوصٍ وَعَمَلٍ مَحْفُوظٍ، وَالْمَوْتُ وَاللَّهِ فِي رِقَابِكُمْ وَالنَّارُ بَيْنَ أَيْدِيكُمْ فَتَوَقَّعُوا قَضَاءَ اللَّهِ فِي كُلِّ يَوْمٍ، وَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ هِلَالٍ الثَّقَفِيُّ رحمه الله: لَا تَشْهَدُ عَلَيَّ شَمْسٌ بِأَكْلٍ أَبَدًا، وَلَا يَشْهَدُ عَلَيَّ لَيْلٌ بِنَوْمٍ أَبَدًا، فَأَقْسَمَ عَلَيْهِ عُمَرُ فِي الْأَضْحَى وَالْفِطْرِ أَنْ يُفْطِرَهُمَا، وَكَانَ شَدَّادُ بْنُ أَوْسٍ إِذَا دَخَلَ فِرَاشَهُ كَانَ فِي فِرَاشِهِ بِمَنْزِلَةِ الْقَمْحَةِ فِي الْمِقْلَاةِ عَلَى النَّارِ وَكَانَ يَقُولُ: اللَّهُمَّ إِنَّ النَّارَ مَنَعَتْ مِنِّي النَّوْمَ، فَيَقُومُ إِلَى الصَّلَاةِ فَيُصَلِّي حَتَّى يُصْبِحَ، وَقَفَلَ أَبُو رَيْحَانَةَ مِنْ غَزْوٍ فَلَمَّا انْتَهَى إِلَى أَهْلِهِ تَعَشَّى، ثُمَّ قَامَ إِلَى مَسْجِدِهِ، فَلَمْ يَزَلْ قَائِمًا يُصَلِّي حَتَّى أَذَّنَ الْمُؤَذِّنُ. فَلَمَّا سَمِعَ الْمُؤَذِّنَ شَدَّ عَلَيْهِ ثِيَابَهُ لِيَغْدُو إِلَى الْمَسْجِدِ، فَأَقْبَلْتُ عَلَيْهِ امْرَأَتُهُ فَقَالَتْ: يَغْفِرُ اللَّهُ لَكَ، قَدْ مَكَثْتَ فِي غَزْوَتِكَ مَا مَكَثْتَ ثُمَّ انْصَرَفْتَ، أَمَا كَانَ لَنَا مِنْكَ حَظٌّ أَوْ نَصِيبٌ إِذْ قَدِمْتَ؟ فَقَالَ لَهَا: بَلَى، وَاللَّهِ لَقَدْ كَانَ لَكِ حَظٌّ، وَلَوْ ذَكَرْتُ ذَلِكَ لَانْصَرَفْتُ إِلَيْكِ وَلَكِنْ لَمْ تَخْطُرِي لِي عَلَى بَالٍ. فَقَالَتْ: مَا الَّذِي شَغَلَكَ عَنِّي؟ قَالَ: لَمْ يَزَلْ قَلْبِي فِيمَا وَصَفَ اللَّهُ فِي جَنَّتِهِ مِنْ نَعِيمِهَا وَأَرْوَاحِهَا وَكَرَامَاتِهَا فَلَوْ خَطَرْتِ لِي عَلَى بَالٍ لَانْصَرَفْتُ إِلَيْكِ وَلَوْ ذَكَرْتُ ذَلِكَ لَفَعَلْتُ، وَكَانَ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ مِهْرَاسٌ فِيهِ مَاءٌ فَيُصَلِّي مَا قُدِّرَ لَهُ ثُمَّ يَصِيرُ إِلَى الْفِرَاشِ فَيَغْفَى إِغْفَاءَ الطَّيْرِ ثُمَّ يَقُومُ فَيَتَوَضَّأُ فَيُصَلِّي، ثُمَّ يَرْجِعُ إِلَى فِرَاشِهِ، فَيَغْفَى إِغْفَاءَ الطَّيْرِ ثُمَّ يَقُومُ فَيَتَوَضَّأُ وَيُصَلِّي، ثُمَّ يَرْجِعُ ثُمَّ يَثِبُ فَيَتَوَضَّأُ فَيُصَلِّي. يَفْعَلُ ذَلِكَ فِي اللَّيْلَةِ أَرْبَعَ مِرَارًا أَوْ خَمْسًا، وَعَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: كَانَ ابْنُ عُمَرَ لَا يَنَامُ مِنَ اللَّيْلِ إِلَّا قَلِيلًا، ⦗ص: 48⦘ وَكَانَ ابْنُ الزُّبَيْرِ لَا يَنَامُ بِاللَّيْلِ، وَكَانَ يَقْرَأُ الْقُرْآنَ فِي لَيْلَةٍ، وَكَانَ يُحْيِي الدَّهْرَ أَجْمَعَ فَكَانَ يُحْيِي لَيْلَةً قَائِمًا حَتَّى يُصْبِحَ، وَلَيْلَةً يُحْيِيهَا رَاكِعًا حَتَّى الصَّبَاحِ، وَلَيْلَةً يُحْيِيهَا سَاجِدًا حَتَّى الصَّبَاحِ
মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাঈদ ইবনে আবি মারইয়াম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে ওয়াহাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হুয়াই ইবনে আব্দুল্লাহ আল-মাআফিরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুর রহমান আল-হুবুলি থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "কুরআন ও রোজা বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। কুরআন বলবে: হে রব, আমি তাকে রাতে ঘুমানো থেকে বিরত রেখেছি, তাই তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। আর রোজা বলবে: হে রব, আমি তাকে দিনে আহার ও প্রবৃত্তি থেকে বিরত রেখেছি, তাই তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। অতঃপর তাদের সুপারিশ কবুল করা হবে।" এবং হাসান রহমাতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: কুরআন পাঠকারীরা তিন প্রকার: এক প্রকার একে পণ্য হিসেবে গ্রহণ করেছে। আরেক প্রকার এর অক্ষরগুলো ঠিক রেখেছে কিন্তু এর সীমারেখা নষ্ট করেছে, এবং এর মাধ্যমে তারা নিজ দেশের অধিবাসীদের ওপর দম্ভ প্রকাশ করে এবং শাসকদের থেকে সুবিধা গ্রহণ করে। কুরআন বহনকারীদের মধ্যে এই শ্রেণির মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, আল্লাহ তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি না করুন। এবং একদল কুরআনের ওষুধকে তাদের অন্তরের রোগের ওপর প্রয়োগ করেছে, ফলে তারা আল্লাহর ভয়কে অন্তরে গেঁথে নিয়েছে এবং তাদের ইবাদতগাহগুলোতে স্থির হয়েছে ও তাদের চাদরে নিবিষ্ট হয়েছে। আল্লাহ তাদের মাধ্যমেই শত্রুদের বিরুদ্ধে সাহায্য করেন এবং তাদের মাধ্যমেই বৃষ্টি বর্ষণ করেন। আল্লাহর কসম, কুরআন বহনকারীদের মধ্যে এই দলটি 'লাল গন্ধক' (অত্যন্ত দুর্লভ বস্তু)-এর চেয়েও কম। তিনি বলেন: আল্লাহর কসম, আমি এমন সব কওমকে দেখেছি এবং তাদের বিভিন্ন দলের সান্নিধ্য লাভ করেছি, যারা দুনিয়ার কোনো কিছু লাভ করলে আনন্দিত হতো না এবং যা হারিয়ে যেত তার জন্য আফসোস করত না। তাদের চোখে দুনিয়া ছিল এই ধূলিকণার চেয়েও তুচ্ছ। তাদের একেকজন পঞ্চাশ বা ষাট বছর বেঁচে থাকতেন কিন্তু কখনও তাদের জন্য কোনো বাড়তি কাপড় ভাঁজ করা হয়নি, তাদের জন্য কখনও রান্নার হাঁড়ি চড়ানো হয়নি, জমিন ও নিজের মাঝে কখনও কোনো কিছু (বিছানা) বিছাননি ⦗পৃষ্ঠা: ৪৭⦘ এবং কখনও তার ঘরে খাবার তৈরির নির্দেশ দেননি। যখন রাত হতো, তারা তাদের পায়ের ওপর দাঁড়িয়ে যেতেন, সিজদায় তাদের মুখমণ্ডল বিছিয়ে দিতেন, গণ্ডদেশ বেয়ে চোখের পানি গড়িয়ে পড়ত, তারা তাদের রবের কাছে নিজেদের জাহান্নাম থেকে মুক্তির জন্য মুনাজাত করতেন। তারা যখন কোনো নেক কাজ করতেন, তখন তার শুকরিয়া আদায়ে বিগলিত হতেন এবং আল্লাহর কাছে তা কবুল করার প্রার্থনা করতেন। আর যখন কোনো মন্দ কাজ করতেন, তখন তা তাদের ব্যথিত করত এবং আল্লাহর কাছে তা ক্ষমা চাইতেন। তারা সর্বদা এভাবেই এবং এই অবস্থার ওপরই অটল ছিলেন; আল্লাহর কসম, তারা গুনাহ থেকে মুক্ত ছিলেন না, তবে কেবল আল্লাহর ক্ষমার মাধ্যমেই তারা মুক্তি পেয়েছেন। আর তোমরা তো এমন এক সময়ে আছো যেখানে আয়ু ফুরিয়ে আসছে এবং আমল সংরক্ষিত হচ্ছে। আল্লাহর কসম, মৃত্যু তোমাদের ঘাড়ে চেপে আছে এবং জাহান্নাম তোমাদের সামনেই উপস্থিত, তাই প্রতিদিন আল্লাহর ফয়সালার অপেক্ষা করো। আর আব্দুল্লাহ ইবনে হিলাল আস-সাকাফি রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: সূর্য যেন কখনো আমাকে আহার করা অবস্থায় না দেখে এবং রাত যেন কখনো আমাকে ঘুমানো অবস্থায় না দেখে। অতঃপর উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতরের দিন রোজা ভাঙার শপথ করালেন। শাদ্দাদ ইবনে আউস যখন তার বিছানায় যেতেন, তখন আগুনের ওপর কড়াইয়ের গমের দানার মতো ছটফট করতেন এবং বলতেন: হে আল্লাহ, জাহান্নামের আগুন আমার ঘুম কেড়ে নিয়েছে। এরপর তিনি সালাতে দাঁড়িয়ে যেতেন এবং সকাল হওয়া পর্যন্ত সালাত পড়তেন। আবু রায়হানা কোনো এক যুদ্ধ থেকে ফিরে আসলেন। যখন তিনি পরিবারের কাছে পৌঁছালেন, রাতের খাবার খেলেন এবং তারপর তার মসজিদে (সালাতের স্থানে) দাঁড়িয়ে গেলেন। মুয়াজ্জিন আজান দেওয়া পর্যন্ত তিনি সালাত পড়তেই থাকলেন। যখন তিনি মুয়াজ্জিনের আজান শুনলেন, তখন মসজিদের দিকে যাওয়ার জন্য কাপড় পরে নিলেন। তখন তার স্ত্রী তার কাছে এসে বললেন: আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন, আপনি আপনার যুদ্ধে যতদিন থাকার থাকলেন, তারপর ফিরে আসলেন; আপনি আসার পর আমাদের কি আপনার কাছে কোনো পাওনা বা অংশ ছিল না? তিনি তাকে বললেন: অবশ্যই, আল্লাহর কসম, তোমার পাওনা ছিল। আমি যদি তা মনে রাখতাম তবে তোমার দিকেই ফিরে আসতাম, কিন্তু তুমি আমার মনে আসোনি। স্ত্রী বললেন: কিসে আপনাকে আমার কথা ভুলিয়ে রেখেছিল? তিনি বললেন: আল্লাহ তাঁর জান্নাতে যে নেয়ামত, আরাম ও মর্যাদার বর্ণনা দিয়েছেন, আমার অন্তর তাতেই মগ্ন ছিল। যদি তুমি আমার মনে আসতে তবে আমি তোমার দিকে ফিরে আসতাম, আর আমি যদি তা মনে রাখতাম তবে তাই করতাম। আব্দুল্লাহ ইবনে উমরের একটি পানির পাত্র ছিল। তিনি সাধ্যমতো সালাত পড়তেন, তারপর বিছানায় যেতেন এবং পাখির তন্দ্রার মতো সামান্য তন্দ্রাচ্ছন্ন হতেন। এরপর পুনরায় উঠে অজু করতেন এবং সালাত পড়তেন। এরপর আবার বিছানায় ফিরে সামান্য তন্দ্রাচ্ছন্ন হতেন। এরপর পুনরায় উঠে লাফ দিয়ে দাঁড়াতেন এবং অজু করে সালাত পড়তেন। তিনি এক রাতে চার বা পাঁচ বার এমনটি করতেন। সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ইবনে উমর রাতে খুব সামান্যই ঘুমাতেন। ⦗পৃষ্ঠা: ৪৮⦘ আর ইবনুল জুবাইর রাতে ঘুমাতেন না। তিনি এক রাতেই পুরো কুরআন পাঠ করতেন। তিনি সারাজীবনই ইবাদতে জিন্দা রাখতেন; এক রাত তিনি সকাল পর্যন্ত দাঁড়িয়ে কাটাতেন, এক রাত সকাল পর্যন্ত রুকু অবস্থায় কাটাতেন এবং এক রাত সকাল পর্যন্ত সিজদাবনত অবস্থায় কাটাতেন।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু কিয়ামিল লাইলি ওয়া কিয়ামি রামাদান ওয়া কিতাবুল বিতর
(পৃষ্ঠা: ٤٨)
حَدَّثَنَا عَبْدُ الْأَعْلَى بْنُ حَمَّادٍ، ثنا أَبُو عَاصِمٍ الْعَبَّادَانِيُّ، عَنْ زِيَادٍ الْجَصَّاصِ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ ابْنَ عُمَرَ رضي الله عنه اعْتَمَرَ أَيَّامَ ابْنِ الزُّبَيْرِ رضي الله عنه، فَقَالَ: لَا تَأْخُذُوا بِي عَلَيْهِ فَإِنِّي أَكْرَهُ أَنْ أُرَاهُ مَصْلُوبًا. فَقَالَ لَنَا سَالِمٌ: خُذُوا بِنَا عَلَيْهِ حَتَّى نَنْظُرَ مَا يَقُولُ، فَلَمَّا هَجَمْنَا عَلَيْهِ قَالَ: أَلَمْ أَنْهَكُمْ عَنْ هَذَا؟ ثُمَّ دَنَا مِنْهُ فَقَالَ: رَحِمَكَ اللَّهُ يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الزُّبَيْرِ، وَاللَّهِ مَا عَلِمْتُكَ إِلَّا كُنْتَ صَوَّامًا قَوَّامًا بَرًّا بِوَالِدَيْكَ، وَاللَّهِ لَقَدْ أَفْلَحَتْ أُمَّةٌ تَكُونُ أَنْتَ شَرَّهَا. ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْنَا فَقَالَ: إِنَّ أَبِي أَخْبَرَنِي أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «إِنَّ اللَّهَ يُعَجِّلُ لِلْمُؤْمِنِ عُقُوبَةَ دِينِهِ فِي الدُّنْيَا» وَاللَّهِ إِنِّي لَأَرْجُو أَنْ لَا يُعَذِّبَكَ اللَّهُ يَا ابْنَ الزُّبَيْرِ بَعْدَهَا أَبَدًا «. قَالَهَا مَرَّتَيْنِ» وَقَالَ عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ: مَا رَأَيْتُ مُصَلِّيًا أَحْسَنَ صَلَاةً مِنَ ابْنِ الزُّبَيْرِ وَقَالَ مَالِكُ بْنُ دِينَارٍ: قَالَتِ الْمَرْأَةُ الَّتِي نَزَلَ عَلَيْهَا عَامِرُ بْنُ عَبْدِ قَيْسٍ: مَا لِلنَّاسِ يَنَامُونَ وَلَا تَنَامُ؟ قَالَ: إِنَّ جَهَنَّمَ لَا تَدَعُنِي أَنْ أَنَامَ. وَكَانَ إِذَا قَامَ مِنَ اللَّيْلِ يَقُولُ: أَبَتْ عَيْنَايَ أَنْ تَذُوقَ طَعْمَ النَّوْمِ مَعَ ذِكْرِ النَّارِ، وَقَالَتْ بِنْتُ الرَّبِيعِ لِأَبِيهَا: يَا أَبَتَاهُ مَا لِي أَرَى النَّاسَ يَنَامُونَ وَلَا أَرَاكَ تَنَامُ؟ قَالَ: يَا بُنَيَّتَاهُ إِنَّ أَبَاكِ يَخَافُ الْبَيَاتَ وَقَالَتْ أُمُّ عُمَرَ بْنِ الْمُنْكَدِرِ لِعُمَرَ: إِنِّي لَأَشْتَهِي أَنْ أَرَاكَ نَائِمًا. فَقَالَ: يَا أُمِّي وَاللَّهِ إِنَّ اللَّيْلَ لِيَرُدَّ عَلَيَّ فَيُهَوِّلُنِي فَيَنْقَضِي عَنِّي وَمَا قَضَيْتُ مِنْهُ إِرَبِي
আবদ আল-আলা ইবনে হাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু আসিম আল-আব্বাদানি থেকে, তিনি যিয়াদ আল-জাসসাস থেকে, তিনি সালিম ইবনে আবদিল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ইবনে উমর (রা.) ইবনে আল-যুবায়ের (রা.)-এর শাসনামলে উমরাহ পালন করেছিলেন। তিনি বললেন: তোমরা আমাকে তাঁর কাছে নিয়ে যেও না, কারণ আমি তাঁকে শূলে চড়ানো অবস্থায় দেখা অপছন্দ করি। সালিম আমাদের বললেন: তোমরা আমাদের তাঁর কাছে নিয়ে চলো যাতে আমরা দেখতে পারি তিনি কী বলেন। অতঃপর যখন আমরা তাঁর কাছে হঠাৎ উপস্থিত হলাম, তখন তিনি বললেন: আমি কি তোমাদের এ কাজ থেকে নিষেধ করিনি? এরপর তিনি তাঁর (ইবনে আল-যুবায়ের) নিকটে গিয়ে বললেন: হে আবদুল্লাহ ইবনে আল-যুবায়ের! আল্লাহ আপনার ওপর রহম করুন। আল্লাহর কসম, আমার জানামতে আপনি অত্যন্ত রোজা পালনকারী, রাতে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে ইবাদতকারী এবং পিতামাতার প্রতি অত্যন্ত সদাচারী ছিলেন। আল্লাহর কসম, সেই জাতি অবশ্যই সফল হয়েছে যার মধ্যে আপনি ছিলেন সবচেয়ে নিকৃষ্ট ব্যক্তি। এরপর তিনি আমাদের দিকে ফিরে বললেন: নিশ্চয়ই আমার পিতা আমাকে অবহিত করেছেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনের অপরাধের শাস্তি দুনিয়াতেই ত্বরান্বিত করেন।" আল্লাহর কসম, হে ইবনে আল-যুবায়ের! আমি আশা করি এর পর আল্লাহ আপনাকে আর কখনোই শাস্তি দেবেন না। তিনি কথাটি দুইবার বললেন।
আমর ইবনে দিনার বলেছেন: আমি ইবনে আল-যুবায়েরের চেয়ে সুন্দরভাবে সালাত আদায়কারী আর কাউকে দেখিনি।
মালিক ইবনে দিনার বলেছেন: আমের ইবনে আবদ কায়স যার বাড়িতে অবস্থান করেছিলেন সেই নারীটি তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন: মানুষের কী হয়েছে যে তারা ঘুমায় কিন্তু আপনি ঘুমান না? তিনি বললেন: নিশ্চয়ই জাহান্নাম আমাকে ঘুমাতে দেয় না। তিনি যখন রাতে ইবাদতে দাঁড়াতেন তখন বলতেন: জাহান্নামের স্মরণের কারণে আমার দুই চোখ ঘুমের স্বাদ নিতে অস্বীকার করছে।
রাবি'-এর কন্যা তার পিতাকে বললেন: হে প্রিয় আব্বাজান! মানুষের কী হয়েছে যে আমি তাদের ঘুমাতে দেখি কিন্তু আপনাকে ঘুমাতে দেখি না? তিনি বললেন: হে আমার প্রিয় কন্যা! তোমার পিতা রাতের আকস্মিক আজাবকে ভয় পান।
উমর ইবনুল মুনকাদিরের মা উমরকে বললেন: আমি তোমাকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখার বড়ই আকাঙ্ক্ষা করি। তিনি বললেন: হে মা! আল্লাহর কসম, রাত যখন আমার ওপর সমাগত হয়, তখন তা আমাকে এমন আতঙ্কিত করে যে, আমার প্রয়োজন মেটার আগেই রাত শেষ হয়ে যায়।